Monday, December 22, 2025

বন্দুক হামলায় নিহতদের স্মরণ অনুষ্ঠানে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রীকে দুয়ো

অস্ট্রেলিয়ার সিডনির বন্ডাই সমুদ্রসৈকতে নিহতদের স্মরণ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের ক্ষোভের মুখে পড়েন দেশটির প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবানিজ। এক সপ্তাহ আগে এ সৈকতে ইহুদিদের হানুক্কা উৎসবে দুই বন্দুকধারীর হামলায় ১৫ জন নিহত ও অনেকে আহত হয়েছিলেন।

ওই বন্দুক হামলার স্মরণে রোববার অস্ট্রেলিয়ায় জাতীয় শোক ঘোষণা করা হয়। নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়। সরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়।

১৪ ডিসেম্বর হামলা শুরু হয়েছিল স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪৭ মিনিটে। রোববার ঠিক একই সময়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

বন্ডাই সৈকতে আয়োজিত শোক অনুষ্ঠানে আলবানিজসহ দেশটির অন্য নেতারা অংশ নেন। হাজার হাজার মানুষের এ অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আশপাশের ভবনের ছাদে স্নাইপার এবং সমুদ্রে নৌ-পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

আলবানিজ বন্ডাই সৈকতে অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে দর্শকেরা দুয়োধ্বনি দিতে শুরু করেন। স্মরণ অনুষ্ঠানে বক্তাদের নামের তালিকায় আলবানিজের নাম ছিল না। কিন্তু একপর্যায়ে বক্তৃতার জন্য তাঁর নাম ঘোষণা করা হয়। তাঁর নাম ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে দর্শকসারি থেকে আবারও দুয়োধ্বনি ওঠে। অনুষ্ঠানের সামনের সারিতে বসা আলবানিজের মাথায় ইহুদিদের ঐতিহ্যবাহী টুপি ‘কিপ্পা’ দেখা গেছে।

গাজায় ইসরায়েলের নির্বিচার হামলার শুরুর পর থেকে অস্ট্রেলিয়ায় ইহুদিবিদ্বেষ বেড়েছে। এটা নিয়ে শুরু থেকে আলবানিজের মধ্য-বামপন্থী সরকার চাপে ছিল। বন্ডাই হামলার পর তা আরও বেড়েছে। অভিযোগ উঠেছে, বাড়বাড়ন্ত ইহুদিবিদ্বেষ নিয়ন্ত্রণে আলবানিজ সরকার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেয়নি।

কিন্তু সরকার বলেছে, তারা গত দুই বছরে ধারাবাহিকভাবে ইহুদিবিদ্বেষের নিন্দা জানিয়েছে এবং ঘৃণামূলক বক্তব্যকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করতে আইন পাস করেছে। ইহুদিবিদ্বেষ থেকে করা দুটি অগ্নিসংযোগের ঘটনায় তেহরানের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠলে চলতি বছরের শুরুতে ইরানের রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কার করে আলবানিজ সরকার।
অনুষ্ঠানের সূচনা বক্তৃতায় নিউ সাউথ ওয়েলসের জিউয়িশ বোর্ড অব ডেপুটিজের প্রেসিডেন্ট ডেভিড অসিপ বলেন, ‘আমরা নিরাপদ থাকার অনুভূতি হারিয়ে ফেলেছি…। গত সপ্তাহ আমাদের নিরাপদ থাকার অনুভূতি কেড়ে নিয়েছে।’

ইহুদি জনগোষ্ঠীর এই নেতা বলেন, ‘বন্ডাইয়ের এই ঘাসের মতো আমাদের জাতির গায়েও রক্তের দাগ লেগেছে। আমরা এক অন্ধকার জায়গায় এসে পড়েছি। কিন্তু বন্ধুরা, হানুক্কার শিক্ষা হলো—আলো ঘোরতর অন্ধকার স্থানকেও আলোকিত করতে পারে। একটি সাহসী পদক্ষেপ, আশার একটি আলোকচ্ছটা আমাদের পথ নির্দেশ করতে এবং দিশা দেখাতে পারে।’

দুই বন্দুকধারীর একজনকে নিরস্ত্র করেছিলেন আহমেদ আল আহমেদ নামের এক ব্যক্তি। গুলিবিদ্ধ আহমেদ এখন বীরের মর্যাদা পাচ্ছেন। স্মরণ অনুষ্ঠানে তাঁর বাবা উপস্থিত ছিলেন।

বন্দুক হামলা হয়েছিল হানুক্কা উৎসবের প্রথম দিন। রোববার ছিল ইহুদিদের বার্ষিক উৎসবটির অষ্টম ও শেষ দিন। হামলার স্মরণে ঘরে ঘরে মোমবাতি প্রজ্বলিত করতে নাগরিকদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছিল কর্তৃপক্ষ।

স্মরণ অনুষ্ঠানে হামলায় আহত ১৪ বছর বয়সী চায়া দাদোন বলেন, ‘একটি জাতি হিসেবে আমরা শক্তিশালী হচ্ছি। আমরা বিকশিত হচ্ছি। বিকশিত হতে গিয়ে আমরা কখনো কখনো আঘাত পাই...কিন্তু জীবন এগিয়ে চলে। তাহলে কেন আমরা সেরা জীবনটা যাপন করব না?’

অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার আগে দেশের আইনশৃঙ্খলা এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কার্যক্রম পর্যালোচনার ঘোষণা দেন আলবানিজ। এর আগে তিনি নিজেদের অস্ত্র আইন আরও কঠোর করারও ঘোষণা দিয়েছিলেন।

এদিকে রোববার সকালে সিডনি ও মেলবোর্নে অভিবাসনবিরোধী বিক্ষোভ হয়েছে। এ বিক্ষোভে মাত্র ২০০–এর মতো মানুষ অংশ নিয়েছেন। আলবানিজ এসব বিক্ষোভের সমালোচনা করেছেন।

বন্ডাই সৈকতের বন্দুক হামলায় অংশ নেওয়া দুজন সম্পর্কে বাবা–ছেলে। এর মধ্যে ৫০ বছর বয়সী সাজিদ আকরামকে আহত অবস্থায় গ্রেপ্তার করা হয়। আর তাঁর ২৪ বছর বয়সী ছেলে নাভিদ আকরাম ঘটনাস্থলে পুলিশের গুলিতে নিহত হন। সাজিদ আকরামের বিরুদ্ধে হত্যা, সন্ত্রাসবাদসহ ৫৯টি অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি এখন পুলিশ হেফাজতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla%2F2025-12-21%2Fe2vey95f%2FAustralias-Prime.JPG?rect=0%2C2%2C5014%2C3343&w=622&auto=format%2Ccompress&fmt=avif
অস্ট্রেলিয়ার সিডনির বন্ডাই সমুদ্রসৈকতে নিহতদের স্মরণ অনুষ্ঠানে দেশটির প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবানিজ। বন্ডাই সমুদ্রসৈকতে, ২১ ডিসেম্বর ২০২৫ ছবি: রয়টার্স

দেশের অস্থিরতায় কলকাতায় বাংলাদেশি পর্যটকরা দুশ্চিন্তায়

ঢাকা ও দেশের অন্যান্য শহরে নতুন করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার খবরে কলকাতার মধ্যাঞ্চলে অবস্থানরত অনেক বাংলাদেশি পর্যটকের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে- এই আশঙ্কায় অনেকেই দেশে ফেরার পরিকল্পনা সংক্ষিপ্ত করার কথাও ভাবছেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন টাইমস অব ইন্ডিয়া। এই পর্যটকদের বড় একটি অংশ চিকিৎসা ভিসায় কলকাতায় গিয়েছেন। তারা মারকুইস স্ট্রিট, ফ্রি স্কুল স্ট্রিট ও কলিন স্ট্রিট সংলগ্ন হোটেল ও গেস্টহাউসে অবস্থান করছেন। বাংলাদেশি পর্যটক, খাবারের দোকান, ট্রাভেল এজেন্সি ও মানি এক্সচেঞ্জের ঘনত্বের কারণে এলাকাটি অনানুষ্ঠানিকভাবে ‘মিনি বাংলাদেশ’ নামে পরিচিত।

শুক্রবার অনেক পর্যটকই জানান, দেশের পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে তা শুধু তাদের পরিবারের নিরাপত্তাই নয়, ভারত-বাংলাদেশের পারস্পরিক যাতায়াতকেও প্রভাবিত করতে পারে। এ নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন। শুক্রবার ভোরে পরিবারের এক সদস্যের চিকিৎসার জন্য কলকাতায় পৌঁছেছেন মুজিবুর রহমান। তিনি বলেন, কয়েক দিন ধরেই ঢাকার পরিস্থিতি উত্তপ্ত। আর নতুন করে সহিংসতা শুরু হওয়াটা ভীষণ চিন্তার।
অনেক পর্যটককে ট্রাভেল এজেন্টদের সঙ্গে ফেরার টিকিট এগিয়ে আনা বা পুনঃনির্ধারণ নিয়ে আলোচনা করতে দেখা গেছে। আবার কেউ কেউ হোটেলের সামনে বা চায়ের দোকানে ছোট ছোট দলে জড়ো হয়ে দেশের খবর নিয়ে আলোচনা করছেন এবং নিয়মিত পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।

বাংলাদেশ থেকে আসা আরেক পর্যটক সুমন মণ্ডল বলেন, আমি প্রার্থনা করছি আগামী দু’এক দিনের মধ্যে পরিস্থিতি শান্ত হোক। প্রায় ১৫ মাস ধরে চলা দীর্ঘ মন্দার পর অক্টোবর থেকে বাংলাদেশি পর্যটকের সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করে। জুলাই মাসে বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক চাপ ভ্রমণ কার্যক্রমকে মারাত্মকভাবে কমিয়ে দেয়। ফলে ‘মিনি বাংলাদেশ’-এর ব্যবসায়ীরা অস্তিত্ব সংকটে পড়েন। হোটেল, গেস্টহাউস, মানি এক্সচেঞ্জ কাউন্টার ও পরিবহন ব্যবসায়ীরা কেবল সম্প্রতি আবার কিছুটা স্বস্তি পেতে শুরু করেছিলেন। এর বড় কারণ ছিল চিকিৎসা পর্যটনের পুনরুদ্ধার।

শিশুসহ পরিবার নিয়ে ভ্রমণকারীদের ক্ষেত্রে এই অনিশ্চয়তা আরও বেশি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। খুলনার বাসিন্দা আমিন ইসলাম স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে কলকাতায় গিয়েছেন। তিনি বলেন, নিরাপত্তাই এখন তাদের সবচেয়ে বড় চিন্তা। নতুন করে সহিংসতা শুরু হওয়ায় ব্যবসায়ীরা এবং হোটেল মালিকরাও আশঙ্কা করছেন, সদ্য শুরু হওয়া এই নাজুক ব্যবসায়িক পুনরুদ্ধার আবারও ব্যাহত হতে পারে। অনেকের মতে, বুকিং বাতিল বা আগেভাগে ফিরে যাওয়া সরাসরি সেই ব্যবসায় প্রভাব ফেলবে, যা ব্যাপকভাবে বাংলাদেশি পর্যটকদের ওপর নির্ভরশীল।
কলিন স্ট্রিটের একটি গেস্টহাউসের একজন মালিক বলেন, আমরা আমাদের অতিথিদের আশ্বস্ত করছি যে কলকাতায় তারা সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং এখানে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। তবে দেশের অনিশ্চিত পরিস্থিতি স্বাভাবিকভাবেই তাদের পরিকল্পনা ও আমাদের ব্যবসার ওপর প্রভাব ফেলছে।

mzamin

গাজায় সংযম দেখানোর আহ্বান যুক্তরাষ্ট্র, মিশর, কাতার ও তুরস্কের

গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকা সত্ত্বেও ইসরাইলি হামলা অব্যাহত। এ জন্য সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শন এবং চুক্তির অঙ্গীকার রক্ষা করার আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, মিশর, কাতার ও তুরস্ক। যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ মিয়ামিতে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে এ কথা বলেন। শনিবার প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়, শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামি শহরে চার মধ্যস্থতাকারী দেশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে ১০ অক্টোবর কার্যকর হওয়া ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপ পর্যালোচনা করা হয়। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আল জাজিরা।

ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় এমন এক প্রেক্ষাপটে, যখন গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। গাজার ফিলিস্তিনি সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, শুক্রবার বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয় নেয়া একটি স্কুলে ইসরাইলি হামলায় কমপক্ষে ছয়জন নিহত হন। এতে করে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরাইলি গোলাবর্ষণে নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৪০০ জনে পৌঁছেছে। স্টিভ উইটকফ এক্সে দেয়া এক বিবৃতিতে বলেন, আমরা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনার প্রতিটি অংশের প্রতি আমাদের পূর্ণ অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করছি এবং সব পক্ষকে তাদের দায়িত্ব পালন, সংযম দেখানো এবং পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার সঙ্গে সহযোগিতা করার আহ্বান জানাচ্ছি।

mzamin


ইরানের বিরুদ্ধে নতুন হামলার সম্ভাবনা ইসরাইলের ট্রাম্পকে ব্রিফ করতে চান নেতানিয়াহু

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য নতুন হামলা নিয়ে অবহিত করার পরিকল্পনা করছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির যেকোনো সম্প্রসারণ এমন হুমকি তৈরি করতে পারে। এ জন্য দ্রুত পদক্ষেপ প্রয়োজন হতে পারে। এ বার্তাই ট্রাম্পকে দিতে চান নেতানিয়াহু। শনিবার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে এনবিসি নিউজ। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরাইলি কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন যে, জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ইরানের পারমাণবিক ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রগুলো আবার পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে তেহরান। একই সঙ্গে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির ওপর পুনরায় হামলার বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে ট্রাম্পকে ব্রিফ করার প্রস্তুতিও নিচ্ছে ইসরাইল। এনবিসি নিউজের বরাতে জানা যায়, যদিও ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো পুনর্গঠনের বিষয়টি উদ্বেগজনক, তবে ইসরাইলের দৃষ্টিতে আরও তাৎক্ষণিক হুমকি হচ্ছে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো পুনর্গঠন এবং ক্ষতিগ্রস্ত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মেরামতের উদ্যোগ। সূত্রগুলো জানিয়েছে, এ মাসের শেষদিকে ফ্লোরিডার মার-আ-লাগোতে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত আবাসনে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর মধ্যে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ওই বৈঠকে নেতানিয়াহু ইরানের ক্রমবর্ধমান ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে ইসরাইলের জন্য গুরুতর হুমকি হিসেবে তুলে ধরবেন এবং দাবি করবেন- এটি দ্রুত সামরিক পদক্ষেপের প্রয়োজন তৈরি করতে পারে। সূত্রদের মতে, নেতানিয়াহু যুক্তি দেবেন যে, ইরানের এসব কর্মকাণ্ড শুধু ইসরাইলের জন্য নয়, বরং পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতা ও যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের প্রতিও হুমকি। ইসরাইল যদি ইরানের বিরুদ্ধে আরও সামরিক অভিযান চালায়, সে ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সম্পৃক্ততা বা সহায়তার বিভিন্ন বিকল্পও তিনি ট্রাম্পের সামনে তুলে ধরতে পারেন। এদিকে ২৯শে ডিসেম্বর নেতানিয়াহুর সঙ্গে সম্ভাব্য বৈঠক নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো কিছু ঠিক করিনি, তবে তিনি আমার সঙ্গে দেখা করতে চান। ইসরাইলি কর্মকর্তারা ইতিমধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন যে, ট্রাম্প-নেতানিয়াহু বৈঠকটি ২৯শে ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার সময়সূচি নির্ধারিত রয়েছে।
mzamin

‘আপনি জিতে গেছেন হাদি’

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন অভিনেতা ইরফান সাজ্জাদ। তিনি ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘আপনি জিতে গেছেন হাদি।’

অভিনেতা ইরফান সাজ্জাদ হাদির উদ্দেশে লিখেছেন, ‘আপনি বলেছিলেন, সংসদ নির্বাচনে ৫০০ ভোটও যদি পান, তাহলে সেটাই আলহামদুলিল্লাহ! আর আজ লাখ লাখ মানুষ আপনাকে নিয়ে সংসদ ভবনের সামনে! বছরের পর বছর রাজনীতি করা কোনো রাজনীতিবিদ বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবেন, আপনি মরে গেলে আপনার জানাজায় এমন উপস্থিতি হবে বা আপনাকে এত মানুষ মনে রাখবেন?’

বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখেছিলেন হাদি। তিনি বলতেন তরুণ প্রজন্মের কথা, দেশের কথা। তাঁর রাজনীতি প্রসঙ্গে ইরফান সাজ্জাদ লিখেছেন, ‘রাজনীতি হোক মানুষের অধিকারের জন্য, দেশের জন্য! আবার বলি, আপনি জিতে গেছেন হাদি—দেশকে দেখিয়ে দিয়ে গেছেন। আল্লাহ আপনাকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুক।’

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির দাফন সম্পন্ন হয়েছে। হাদির জানাজায় অংশ নেন লাখো মানুষ। আজ শনিবার বেলা ৩টা ৫০ মিনিটের দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ–সংলগ্ন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে ওসমান হাদির দাফন সম্পন্ন হয়।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণার পরদিন ১২ ডিসেম্বর দুপুরে ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে ওসমান হাদিকে মাথায় গুলি করে দুর্বৃত্তরা। প্রথমে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর ওসমান হাদিকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত বৃহস্পতিবার তিনি মারা যান। তাঁর মরদেহ গতকাল সিঙ্গাপুর থেকে দেশে আনা হয়। রাখা হয় জাতীয় হৃদ্‌রোগ ইনস্টিটিউট হাসপাতালের মর্গে। শরিফ ওসমান বিন হাদির মৃত্যুতে আজ রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে।

হাদির মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন অভিনেতা ইরফান সাজ্জাদ
হাদির মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন অভিনেতা ইরফান সাজ্জাদ। ছবি: ফেসবুক

দূতকে হুমকি অস্বীকার দিল্লির, বিষিয়ে উঠছে সম্পর্ক

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে ক্রমেই উত্তেজনা বাড়ছে। দুই প্রান্তের সাম্প্রতিক নানা ঘটনা পরিস্থিতিকেই বিষিয়ে তুলেছে। শনিবার রাতে নজিরবিহীনভাবে দিল্লির নিরাপদ কূটনৈতিক জোনের বাংলাদেশ হাউজের গেটে গিয়ে বিক্ষোভ দেখায় একদল উগ্রপন্থি। তারা চাণক্যপুুরির একের পর এক নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেদ করে একেবারে রাষ্ট্রদূতের বাসভবনের সামনে (সড়কের ডিভাইডারে) গিয়ে অবস্থান নেয় এবং হাইকমিশনারের বাসভবন লক্ষ্য করে বাংলাদেশবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকে। তারা হাইকমিশনারকে উদ্দেশ্য করে উচ্চস্বরে গালমন্দ এবং নানা হুমকিও দেয়। ঢাকায় প্রাপ্ত রিপোর্ট বলছে এ ঘটনার সময় বাসভবনে থাকা বাংলাদেশ দূত এবং তার পরিবারের সদস্যরা চরম আতঙ্কের মধ্যে ছিলেন। শনিবার স্থানীয় সময় রাত ৯টার দিকে অখণ্ড হিন্দু রাষ্ট্রসেনার ব্যানারে একদল উগ্রপন্থি বাংলাদেশ হাউজের মূল ফটকে অবস্থান নেয়। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন।

রোববার বিকালে তিনি গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন। তাছাড়া পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তরফে পৃথক বিবৃতিও প্রচার করা হয়েছে। ওই ঘটনায় দিল্লির বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্রের বরাতে প্রেসনোটও ইস্যু করা হয়েছে। যেখানে এ সংক্রান্ত বাংলাদেশি মিডিয়ার রিপোর্টকে অতিরঞ্জন বলে দাবি করা হয়েছে। বাংলাদেশ দূতকে হুমকি দেয়ার বিষয়টি দিল্লি অস্বীকার করেছে। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা দিল্লির প্রেসনোটকে পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। এই বিক্ষোভ নিয়ে ভারতের দাবি দ্ব্যর্থহীনভাবে প্রত্যাখ্যান করে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা প্রশ্ন রাখেন দিল্লির সুরক্ষিত কূটনৈতিক এলাকায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতের বাসভবন পর্যন্ত বিক্ষোভকারীরা প্রবেশ করতে পারলো কীভাবে? এটাকে গুরুতর নিরাপত্তা ঘাটতি উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন- হাইকমিশনারের বাসভবনের সামনে জড়ো হওয়া বিক্ষোভকারীরা শুধু বাংলাদেশে একজন হিন্দু নাগরিক হত্যার ঘটনায় স্লোগান দেয়নি বরং অন্যান্য বক্তব্যও দিয়েছে। বাংলাদেশের সংবাদপত্রে প্রকাশিত এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন সঠিক দাবি করে উপদেষ্টা বলেন ২৫ বা ৩০ জনের একটা হিন্দু চরমপন্থি সংগঠনের একটা দল এতদূর পর্যন্ত আসতে পারবে কেন একটা স্যানিটাইজড এলাকার মধ্যে। তার মানে তাদের আসতে দেয়া হয়েছে। তাহলে যেভাবে তারা আসছে, আসতে পারার কথা না কিন্তু নরমালি এবং তারপরে সেখানে তারা দাঁড়িয়ে শুধু ওই হিন্দু নাগরিকের হত্যার প্রতিবাদে স্লোগান দিয়ে চলে গেছে তা না, তারা অনেক কিছু বলেছে সেটা আমরা জানি এবং আমাদের পত্রপত্রিকায় যে রিপোর্টটা আসছে সেটাকে তারা বলছে মিসলিডিং এটাও সত্য না। আমাদের পত্রপত্রিকায় মোটামুটি সঠিক রিপোর্টই এসেছে। আমরা যেটুকু তথ্য পেয়েছি আমার কাছে প্রমাণ নেই যে, হাইকমিশনারকে হত্যার হুমকি দিয়েছে। কিন্তু আমরা এটাও শুনেছি, তাকে হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছে।

উপদেষ্টা বলেন, সেটা কেউ একজন কথা বললো, সেটার মধ্যে হতে পারে। কিন্তু আমার কথা হলো যে, এ পর্যন্ত আসতে পারবে কেন? এসে এখানে হুমকি দিতে পারবে কেন? সাধারণত আমরা যখন কোনো প্রটেস্ট গ্রুপ যখন যায় সেটা আগে থেকে ইনফর্ম করা হয় এবং পুলিশ তাদেরকে একটু দূরে এক জায়গাতে আটকে দেয়। কখনো যদি কোনো কাগজপত্র দেয়ার থাকে দুইজন এসে দিয়ে যায়। এটা হলো নর্ম। সবখানেই এটা হয় আমাদের দেশেও হয়। এটা আমরা গ্রহণ করি না। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, দ্বিতীয়ত বিষয় হচ্ছে যে একজন বাংলাদেশি নাগরিক নৃশংসভাবে খুন হয়েছে। এটার সঙ্গে মাইনরিটিজের নিরাপত্তাকে একসঙ্গে করে ফেলার কোনো মানে হয় না। তিনি বাংলাদেশের নাগরিক যাকে হত্যা করা হয়েছে এবং অবিলম্বে বাংলাদেশের সরকার এই ব্যাপারে অ্যাকশন নিয়েছে। ইতিমধ্যে আপনারা জানেন যে বেশ কিছু অ্যারেস্ট করা হয়েছে। তো এ ধরনের ঘটনা যে শুধু বাংলাদেশে ঘটে তা নয়। এই অঞ্চলের সব দেশেই ঘটে এবং প্রত্যেক দেশের দায়িত্ব হচ্ছে সেক্ষেত্রে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেয়া। বাংলাদেশ নিচ্ছে অন্যদেরও উচিত সেরকম ব্যবস্থা নেয়া। প্রতিবাদে কীভাবে জানাবে ঢাকা জানতে চাইলে তিনি বলেন, দেখুন ফরমেট নিয়ে বরং আমরা আলাপ না করাই ভালো কারণ তারাও আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখে, আমরাও যোগাযোগ রাখি, যোগাযোগ আছে এবং আমরা যেটাকে বলার সেটা বলি, তার পরিপ্রেক্ষিতেই এই যে প্রেস নোট এসেছে, যে কারণে আমাদেরও এখন এটা একইভাবে ওপেনলি যেতে হচ্ছে। তিনি বলেন, আমরা ভরসা রাখছি যে ভারত যথাযথ নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেবে। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, এখানে ব্যাপারটা শুধু কিন্তু যে তারা এখানে এসেছে দুটো স্লোগান দিয়েছে তা না। এর ভেতরে কিন্তু একটা পরিবার বাস করে, হাইকমিশনার এবং তার পরিবার ওখানে বাস করে তারা থ্রেটেন ফিল করেছে এবং তারা কিন্তু আতঙ্কিত হয়েছে যে কারণ এডিকুয়েট সিকিউরিটি অফ ছিল, দুইজন গার্ড ছিল তারা চুপ করে দাঁড়িয়েছিল। কাজেই এটাকে আমরা মনে করি যে আরেকটু পৃথক করাটা সত্যিকারই ওই দেশের দায়িত্ব।

দিল্লিতে বাংলাদেশ দূতাবাসে নিরাপত্তা বেষ্টনী ভাঙার চেষ্টা হয়নি: ভারত সরকার
এদিকে দিল্লিস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে বিক্ষোভকারীরা সেখানকার নিরাপত্তা বেষ্টনী (ফেন্স) লঙ্ঘন করেনি বলে দাবি করেছে দেশটির  বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল। রোববার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ২০শে ডিসেম্বর রাতে বিক্ষোভের যে রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে তা নিয়ে মিডিয়ার প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ওই ঘটনা নিয়ে বাংলাদেশের কিছু মিডিয়ায় বিভ্রান্তিকর প্রপাগান্ডার বিষয়টি আমরা জেনেছি। প্রকৃত সত্য হলো, ২০শে ডিসেম্বর নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে ২০ থেকে ২৫ জন যুবক সমবেত হয়। তারা ময়মনসিংহে দীপু চন্দ্র দাসের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন। একইসঙ্গে বাংলাদেশে সব সংখ্যালঘুর নিরাপত্তা রক্ষার আহ্বান জানায়। কোনো সময়ই তারা নিরাপত্তা বেষ্টনী বা নিরাপত্তা পরিস্থিতি লঙ্ঘন করার উদ্যোগ নেয়নি। কয়েক মিনিট পরেই সেখানে থাকা পুলিশ ওই গ্রুপকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। সবার দেখার জন্য এ বিষয়ে ভিজ্যুয়াল প্রমাণ আছে। ভিয়েনা কনভেনশনের অধীনে বিদেশি মিশন/পোস্টের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ভারত। একই বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে আবর্তিত পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রেখেছে ভারত। জয়সওয়াল বলেন, বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন আমাদের কর্মকর্তারা। বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার বিষয়ে আমাদের দৃঢ় উদ্বেগের কথা অবহিত করেছেন তারা। (দীপু চন্দ্র) দাসের বর্বর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যারা জড়িত তাদেরকে বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানাই আমরা।

হাইকমিশনের সামনে বিক্ষোভ নিয়ে দিল্লির দাবি প্রত্যাখ্যান ঢাকার: ওদিকে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে শনিবার বাংলাদেশ হাইকমিশনের বাসভবনের সামনে সংঘটিত বিক্ষোভের ঘটনাকে অনাকাঙ্ক্ষিত, অত্যন্ত দুঃখজনক ও অনভিপ্রেত বলে মন্তব্য করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ‘বিভ্রান্তিকর প্রচার’ চালানো হচ্ছে বলে ভারত যে দাবি করেছে তা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না বলে প্রত্যাখ্যান করেছে বাংলাদেশ। রোববার সন্ধ্যায় ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়ালের বক্তব্যের জবাবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে এই প্রতিক্রিয়া জানায়। শনিবার রাতে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ‘অখণ্ড হিন্দু রাষ্ট্রসেনা’র ব্যানারে বাংলাদেশের হাইকমিশনের সামনে এসে বিক্ষোভ করেছে একদল লোক। তারা প্রায় ২০ মিনিট ব্যানার নিয়ে বাংলাদেশ হাউসের সামনে অবস্থান করে এবং বাংলাদেশের বিরুদ্ধে নানা স্লোগান দেয়। এ সময় ২০ থেকে ২৫ জনের ওই বিক্ষোভকারীরা ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহকে হুমকিও দেয়। এ বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে বিভ্রান্তিকর প্রচার চালানো হচ্ছে বলে রোববার বিকালে দাবি করে ভারত। দিল্লিতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ওই বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ দূতাবাসের জন্য কোনো নিরাপত্তা ঝুঁঁকি তৈরি হয়নি।

ঢাকার বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দুষ্কৃতকারীদের হাইকমিশনের সীমানার ঠিক বাইরে তাদের কর্মকাণ্ড চালানোর সুযোগ দেয়া হয়। ফলে কমপ্লেক্সের ভেতরে অবস্থানরত কর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। এ ধরনের একটি সংঘটিত কর্মসূচি সম্পর্কে বাংলাদেশ হাইকমিশনকে আগাম কোনো তথ্য জানানো হয়নি। তবে আমরা ভারতে অবস্থিত বাংলাদেশের সব কূটনৈতিক মিশনের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়ে ভারত সরকারের প্রতিশ্রুতির কথা লক্ষ্য করেছি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ময়মনসিংহের ভালুকায় দীপু দাসকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনাকে ‘বিচ্ছিন্ন হামলা’ উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, ‘ভারত এ ঘটনাকে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছে। আমরা তাদের এমন প্রচেষ্টাকে প্রত্যাখ্যান করছি। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহভাজনদের বাংলাদেশ সরকার দ্রুত গ্রেপ্তার করেছে। দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশে সামপ্রদায়িক পরিস্থিতি ভালো। বাংলাদেশ বিশ্বাস করে, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এ অঞ্চলের সব সরকারেরই দায়িত্ব।

https://mzamin.com/uploads/news/main/195251_dut.webp