Monday, July 8, 2019

নিরাপদ স্থানে সরানোর দাবিতে লিবিয়ায় শরণার্থীদের অনশন

লিবিয়ার তাজৌরা বন্দিশিবিরে আটক শরণার্থীরা সেখান থেকে সরানোর দাবিতে অনশন শুরু করেছেন। হামলায় বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিরা নতুন হামলার আশঙ্কায় বন্দিশিবির থেকে সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন। মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট মনিটর এ খবর জানিয়েছে।
গত মঙ্গলবার রাতে লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলির তাজুরার একটি অভিবাসী বন্দি শিবিরে হামলায়  ৬০ জনের মতো নিহত হয়। এই হামলার ঘটনা ঘটনা যুদ্ধাপরাধ হতে পারে বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘের এক কর্মকর্তা। নিহতদের বেশিরভাগই সাব-সাহারা অঞ্চলের নাগরিক এবং তারা লিবিয়া হয়ে ইউরোপ যাওয়ার চেষ্টায় ছিলেন। মঙ্গলবারের হামলায় আরও অন্তত ১৩০ জন আহত হয়েছেন। সরকার হামলার জন্য জেনারেল খলিফা হাফতারের অনুগত বাহিনীকে দায়ী করে। আর হাফতারের সেনারা উল্টো সরকারি সেনাদের ওপর দায় চাপায়।
বন্দি শিবিরে আটক শরণার্থীরা নতুন হামলার আশঙ্কা করছেন। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যাতে করে তাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয় সেজন্য তারা অনশন শুরু করেছেন।
জাতিসংঘ জানিয়েছে, বন্দি অভিবাসীদের শহরের নিরাপদ অংশে সরিয়ে নেবে। তবে বন্দিরা দীর্ঘ মেয়াদি সমাধানের বদলে সাময়িক সময়ের এই উদ্যোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন।
ত্রিপোলিভিত্তিক জাতিসংঘ সমর্থিত সরকার ও জেনারেল হাফতারের ভয়াবহ সংঘর্ষের মধ্যে এই অনশনের খবর এলো। এপ্রিলে হাফতার বাহিনী ত্রিপোলির দিকে অভিযান শুরুর পর থেকে সংঘর্ষে সহস্রাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন।
অভিবাসীদের এই অনশনে ইউরোপের অভিবাসননীতি নিয়ে বিতর্ক ফের উসকে দিয়েছে। ইউরোপে অভিবাসীদের সংখ্যা কমাতে ইউরোপীয় দেশগুলো অভিবাসীদের নিরাপদ প্যাসেজ না দিয়ে ত্রিপোলিতেই রাখতে চাইছে। ২০১৭ সালে দ্বিপক্ষীয় চুক্তির আওতায় লিবীয় কোস্টগার্ডকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। এই প্রশিক্ষণ ছিল সাগর থেকে ইউরোপগামী অভিবাসীদের উদ্ধার করে আটককেন্দ্রে রাখা।

স্লোভেনিয়ায় মেলানিয়ার নতুন ভাস্কর্য নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

স্লোভেনিয়ায় মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের নতুন একটি ভাস্কর্য উন্মোচন করা হয়েছে। নিজের জন্মশহর সেভনিকায় তা স্থাপন করা হয়েছে। মার্কিন শিল্পী ব্রাড ডাউনি স্থানীয় করাত শিল্পী আলেস জুপেভককে দিয়ে গাছের গুড়ি দিয়ে মেলানিয়ার এই ভাস্কর্য তৈরি করিয়েছেন। এতে আকাশের দিকে তাক করা হাত নিয়ে নীল রংয়ের কোট পরিহিত মার্কিন ফার্স্ট লেডি সাভা নদীর ওপর দিয়ে তাকিয়ে আছেন। তবে শহরের কোনও কোনও বাসিন্দার মতে ভাস্কর্যটির কোনও কিছুই মেলানিয়ার মতো নয়। আর তা মার্কিন ফার্স্ট লেডির মর্যাদাহানি ঘটিয়েছে।
মার্কিন ফার্স্টলেডির জন্ম ও বেড়ে ওঠা সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের দেশ স্লোভেনিয়ায়। সেখানকার সেভনিকা শহরে বেড়ে ওঠা এই ফ্যাশন মযেল ১৯৯৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। ২০০৫ সালে আবাসন ব্যবসায়ী ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বিয়ে করেন তিনি। ২০১৬ সালে ট্রাম্প মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে সেভনিকা শহর পর্যটকদের আকর্ষণে পরিণত হয়।
পর্যটকেরা শহরটিতে মেলানিয়া ট্রাম্পের প্রাথমিক জীবনের নানা অনুষঙ্গ খুঁজে ফিরতে শুরু করেন। এরই ধারাবাহিকতায় সেখানে মেলানিয়া ব্রান্ডের নানা পণ্যের ব্যবসা শুরু হয়। স্লিপার, কেক এবং ট্রাম্পের মতো দেখতে বার্গারও বিক্রি হতে শুরু করে শহরটিতে।
সেভনিকা শহরে মেলানিয়ার ভাস্কর্য স্থাপনের বিষয়ে মার্কিন শিল্পী ব্রাড ডাউনি বলেন এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে একটা বার্তা দিতে চেয়েছেন তিনি। কাটারিনা নামে এক পর্যটক ভাস্কর্য স্থাপনকে ভালো আইডিয়া আখ্যা দেন। তিনি বলেন, ‘মেলানিয়া স্লোভেনিয়ার হিরো। যুক্তরাষ্ট্রে তিনি এই দেশকে শীর্ষস্থানে নিয়ে গেছেন।
স্লোভেনিয়ায় মেলানিয়ার নতুন ভাস্কর্যটি স্থাপন করা হয়েছে

যেখানে মানুষকে ডাকা হয় ‘গরু’, এক হাত জায়গার মূল্য ৩ হাজার টাকা by জাবেদ রহিম বিজন

সেখানে মানুষকে ডাকা হয় ‘গরু’ বলে। একইভাবে বেচাবিক্রিও হয় তারা। শিশুদের রাখা হয় খাবার না দিয়েই! হাসপাতালের চেহারা আবাসিক হোটেলের মতো। এক কেজি গরুর মাংস বিক্রি হয় এক হাজার টাকা। আর মুরগির মাংসের কেজি ৭০০ টাকা। এক কেজি পুঁটি মাছের দাম ১৬০০ টাকা। এক হাত জায়গার মূল্য ৩ হাজার টাকা। আর একটি কম্বল পেতে দিতে হয় ৫ হাজার টাকা।
এই ভিন্ন জগতের ঠিকানা ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগার। উচ্চ পর্যায়ের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে এখানকার অনিয়ম-দুর্নীতির এক ভয়াবহ চিত্র। এর সঙ্গে জড়িত ২৬ কারারক্ষীকে এরই মধ্যে অন্যত্র বদলি করা হয়েছে।
বরখাস্ত করা হয়েছে আবদুল ওয়াহেদ নামে প্রধান কারারক্ষীকে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগারের অনিয়ম-দুর্নীতিসমূহ তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিল করার জন্যে কারা অনুবিভাগের যুগ্ম সচিব সৈয়দ বেলাল হোসেনের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি করা হয়। তিনি সুরক্ষা সেবা বিভাগের উপসচিব মো. মনিরুজ্জামানের সমন্বয়ে তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করেন। এই কমিটি গত ৬ই এপ্রিল ৫১ পৃষ্ঠার একটি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। তদন্তে বন্দি বেচাকেনা, সাক্ষাৎ বাণিজ্য, সিট বাণিজ্য, খাবার বাণিজ্য, চিকিৎসা বাণিজ্য
এবং জামিন বাণিজ্যের প্রমাণ মিলে। এ থেকে প্রতিদিন মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করে কারা কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং কারারক্ষীদের বিরুদ্ধে এ টাকা ভাগ-ভাটোয়ারা করে নেয়ার অভিযোগের সত্যতা পায় তদন্ত কমিটি।
তদন্ত প্রতিবেদনে কারাগারে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংগঠিত অনিয়ম-দুর্নীতির বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনে বন্দি বেচাকেনার বিষয়ে বলা হয়- ‘কারাগারে যখন বন্দিদের প্রথম আনা হয় তখন তাদের একটি কক্ষে রাখা হয়। যাকে আমদানি কক্ষ বলা হয়। এই কক্ষে থাকা বন্দিদের বলা হয় ‘গরু’। আমদানি কক্ষ থেকে বন্দিদের বিভিন্ন ওয়ার্ডে বিক্রি করা হয়ে থাকে। এসকল ওয়ার্ড নিয়ন্ত্রণ করে পুরাতন বন্দি ও কারারক্ষীরা। ওয়ার্ড থেকে কেউ কেউ হাসপাতালে চিকিৎসার নামে বিক্রি হয়ে থাকে। হাসপাতালে চিকিৎসার জন্যে মাসে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত প্রদান করতে হয়। হাসপাতাল ব্যতীত অপরাপর ওয়ার্ডে থাকতে গেলে ৫-৬ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয় বন্দিদের নিকট থেকে।
প্রতি ওয়ার্ডে একজন করে নিয়ন্ত্রক থাকে। কারা কর্মকর্তাদের অর্থ দিয়ে এসব ওয়ার্ডের নিয়ন্ত্রণ পুরনো বন্দিরা ক্রয় করে নেয়। যে সকল ওয়ার্ডের নিয়ন্ত্রকদের অর্থ প্রদান করতে কোনো বন্দি অক্ষম হয় বা অক্ষমতা প্রকাশ করে তখন বন্দিদের নির্যাতন করা হয়। তাদের ওয়ার্ডের বাথরুমে আটকে রাখা হয়। প্রতি ওয়ার্ডে এক হাত পরিমাণ জায়গা বরাদ্দের জন্যে ৩ হাজার টাকা প্রদান করতে হয়। ওয়ার্ডে মোটা কম্বল ও অতিরিক্ত কম্বল পেতে ৫ হাজার টাকা প্রদান করতে হয়। কারাগারে তল্লাশির সময় কোন গাঁজা, ইয়াবা বা অন্যকোনো প্রকার মাদকদ্রব্য পাওয়া গেলে তা বিনষ্ট না করে সর্ব প্রধান কারারক্ষী আবদুল ওয়াহেদের নিকট রাখা হয়। পরে কেউ প্রতিবাদ করলে তাদের বিরুদ্ধে এসকল মাদকদ্রব্য ব্যবহার করে শাস্তি দেয়া হয়। মাদক কারা অভ্যন্তরে প্রবেশের ক্ষেত্রে গেট অর্ডারগন এবং কারা অভ্যন্তরে ব্যবহারের জন্যে গোয়েন্দা কারারক্ষীগণ সম্পৃক্ত থাকে।’
কারাগার থেকে সরবরাহকৃত খাবার অত্যধিক নিম্নমানের উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয় ‘বন্দিদের সরবরাহকৃত রুটি পরীক্ষা করে দেখা গেছে প্রতিটি রুটি খাবার অযোগ্য। সিদ্ধ করা আটার রুটি কোনোভাবে গরম করে বন্দিদের দেয়া হয়। এখানে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে, কারাগারে মহিলা ওয়ার্ড পরিদর্শনকালে মহিলা বন্দিদের সঙ্গে আনুমানিক ৬ থেকে দেড় বছর বয়সী দুগ্ধপোষ্য শিশু ছিল। শিশুদের মায়েরা অভিযোগ করেন কারা কর্তৃপক্ষ প্রতিদিন শুধুমাত্র ছোট গ্লাসে একবার করে পানি মিশ্রিত নিম্নমানের দুধ শিশুদের দিয়ে থাকে। এছাড়া সারা দিনে আর কোনো খাবার দেয়া হয় না।’ প্রতিবেদনে তদন্ত কর্মকর্তারা বলেন, প্রধান কাররক্ষী আবদুল ওয়াহেদ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে কারা হাসপাতাল থেকে দুধ তার মাধ্যমে সরবরাহ করা হয় বলে স্বীকার করেন। এই অমানবিক আচরণে প্রধান কাররক্ষী আবদুল ওয়াহেদ জড়িত বলে প্রতিভাত হয়। এছাড়া কারাগারে নিম্নমানের খাবার সরবরাহের সঙ্গে সর্বপ্রধান কারারক্ষী, ডেপুটি জেলার, জেলার এবং জেল সুপার সরাসরি জড়িত।
কারা ক্যান্টিনের বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয় ‘কারাগারের নিয়ন্ত্রণে ২টি ক্যান্টিন পরিচালনা হয়। একটি কারাগারের ভেতরে, অন্যটি বাইরে অবস্থিত। কারাগারের বাইরের ক্যান্টিনে কোনো মূল্য তালিকা পাওয়া যায়নি। পরে কারাগারের অভ্যন্তরের ক্যান্টিন জেলার ও জেল সুপারসহ পরিদর্শন করা হয়। ক্যান্টিনের পরিবেশ অত্যন্ত নাজুক। ক্যান্টিনটিকে ছোটখাটো একটি বাজার বলে মনে হয়েছে। অসংখ্য বন্দি কেনাকাটার জন্যে ভিড় জমিয়েছে। একটি মূল্য তালিকা প্রদর্শন করা থাকলেও সকল পণ্যের মূল্য নির্ধারণ করা ছিল না। ওয়ার্ডে গিয়ে ক্যান্টিন থেকে বিক্রীত পণ্য সামগ্রীর মূল্যের বিষয়ে বন্দিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। বন্দিগণ কর্তৃক প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী পণ্য সামগ্রীর বিক্রয়মূল্যর তালিকা এবং কারা কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্ধারণকৃত মূল্য তালিকা প্রতিবেদনে পাশাপাশি উপস্থাপন করা হয়। যাতে দেখা যায় ২৫০ গ্রামের লেমন নামীয় পানির মূল্য ১৫ টাকা ধরা আছে। কিন্তু সেটি বিক্রি করা হচ্ছে ৩০ টাকা। মাম দেড় লিটার ও ফ্রেশ ২ লিটার পানির মূল্য ৩০ টাকা নির্ধারণ করা থাকলেও বিক্রি করা হচ্ছে ১৪০ টাকা। আকিজ বিড়ি প্রতি প্যাকেট ১৪ টাকার স্থলে ৩০ টাকা, সাড়ে ৩ টাকার ছোট শ্যাম্পু ৭ টাকা, স্টার সিগারেট (ছোট প্যাকেট) ৯১ টাকার স্থলে ১৫০ টাকা, বেনসন (ছোট প্যাকেট) ২০৯ টাকার স্থলে ৩০০ টাকা, গোল্ডলিফ সিগারেট (বড় প্যাকেট) ১৪৮ টাকার স্থলে ২২০ টাকা, চিঁড়া প্রতি কেজি ৪৪ টাকার বদলে ১০০ টাকা, চিনি প্রতি কেজি ৪৯ টাকার বদলে ১০০ টাকা, রুই মাছ এক কেজি ৩০০ টাকার বদলে ৭০০ টাকা, ডিম প্রতি পিস ৮ টাকার বদলে ২০ টাকা, আলু এক কেজি ২০ টাকার বদলে ৫০ টাকা, কাঁচামরিচ ৫০ টাকা কেজির বদলে ৪০০ টাকা, পেয়াজ প্রতি কেজি ২৪ টাকার বদলে ১২০ টাকা, সরিষার তেল ১৬ গ্রাম ১৬ টাকার স্থলে ৩৫ টাকা, ১০ গ্রাম গুঁড়া দুধ সাড়ে ১২ টাকার বদলে ৩০ টাকা, পুঁটি মাছ এক কেজি ২৫০-৩০০ টাকার বদলে ১৬০০ টাকা, ৩১ টাকা দামের ছোট লাক্স সাবান ৪০ টাকা, ১০ টাকার পরোটা ২০ টাকা, ১০ টাকায় বড় পুরির বদলে ছোট পুরি, ১০ টাকায় বড় লুচির পরিবর্তে ছোট লুচি, ১০ টাকায় বড় সিঙ্গাড়ার পরিবর্তে ছোট সিঙ্গাড়া, জর্দ্দা (ছোট) ১৭ টাকার বদলে ৩০ টাকা, সুপারি ৫০ গ্রাম ২০ টাকার স্থলে ৩৫ টাকা, ১১ টাকার রেজার ৩০ টাকা, ৩৮ টাকা দামের ছোট টুথপেস্ট ৬০ টাকা। এবিষয়ে প্রতিবেদনে আরো বলা হয় বন্দিগণ কর্তৃক ক্রয়কৃত মালামালের বিপরীতে মূল্য পিসি (প্রিজনার ক্যাশ) কার্ড থেকে কর্তন করা হয়। কিন্তু এক্ষেত্রে শুভংকরের ফাঁকি হলো পিসি কার্ডে পণ্য সামগ্রীর কোনো বর্ণনা দেয়া থাকে না। শুধুমাত্র কর্তনকৃত মোট টাকার পরিমাণ উল্লেখ করা থাকে। ফলে কোনো পণ্যের বিপরীতে পিসি কার্ড থেকে কত টাকা কর্তন করা হয়েছে তা নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। শুধুমাত্র মার্চ মাসে ক্যান্টিনের লাভ্যাংশ এবং অপরাপর উৎস থেকে কারাগারের আয় ছিল ৩১৮৬৬৯ টাকা। অথচ এ মাসে কারা কর্তৃপক্ষ কর্তৃক খরচ করা হয়েছে ৩৩৪৪৫৭ টাকা। ক্যান্টিন পরিচালনার নীতিমালা অনুযায়ী ক্যান্টিন থেকে লাভ্যাংশের অর্থ কারারক্ষী এবং বন্দিদের কল্যাণে খরচ করার কথা। কিন্তু এক্ষেত্রে তা করা হয়নি। প্রতি মাসেই খরচের ক্ষেত্রে কারা কর্তৃপক্ষ কর্তৃক আর্থিক বিধিবিধান ও পিপিআর ২০১৮ অনুসরণ করা হয়নি। জেলার এবং জেল সুপার ইচ্ছেম মাফিক কারা ক্যান্টিনের লাভ্যাংশ অর্থ খরচ করে থাকেন।
কারা হাসপাতালের বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়- ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া কারা হাসপাতালের ব্যবস্থাপনার বিষয়টি ব্যতিক্রমধর্মী মর্মে প্রতীয়মান হয়। হাসপাতালটিকে আবাসিক হোটেল বলে মনে হয়েছে। পরিদর্শনকালে তোলা হাসপাতালের ছবি পর্যালোচনা করলে বিষয়টি সহজেই অনুমেয় হবে। মাসিক ১০-২০ হাজার টাকার বিনিময়ে আর্থিকভাবে সচ্ছল/প্রভাবশালী বন্দিরা হাসপাতালে অবস্থান করে হাসপাতালটিকে তাদের নিজস্ব বাসাবাড়িতে পরিণত করেছে। পরিদর্শনের সংবাদ পেয়ে ১২টি বেডের বন্দিরা পালিয়ে যায়। ৯ জন বন্দিকে হাসপাতালে পাওয়া যায়। হাসপাতালের বিছানায় ও যত্রতত্র বন্দিদের ব্যবহৃত মালামাল ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল। কোনোভাবেই এটিকে হাসপাতাল বলা যায় না। হাসপাতালটিকে একটি আবাসিক মেস হিসেবে বর্ণনা করা যেতে পারে।’ প্রতিবেদনে বলা হয় কোর্টে হাজিরা দিয়ে বন্দিগণ কারাগারে ফেরত আসার সময় যদি তাদের সঙ্গে কোনো মালামাল থাকে তবে তা কারা ফটকে রেখে দেয়া হয়। কিছু অর্থ প্রদান করলে তা কারা অভ্যন্তরে নিয়ে যেতে দেয়া হয়। এমনকি বন্দিদের পরিধেয় জামা কাপড় কারা অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে হলেও টাকা দিতে হয়। প্রতিটি জামা-লুঙ্গি কারা অভ্যন্তরে নিতে ৩০ টাকা করে দিতে হয়। বন্দিদের সঙ্গে আত্মীয়স্বজন কারাগারে দেখা-সাক্ষাৎ করতে এলে বিড়ম্বনার শেষ নেই বলেও উল্লেখ করা প্রতিবেদনে। অফিস কলের মাধ্যমে সাক্ষাৎ করার সময় অফিসে অবস্থানের জন্যে আত্মীয় স্বজনকে বন্দিপ্রতি ৫০০ টাকা দিতে হয় এবং কারা অভ্যন্তর থেকে জানালা দিয়ে কথা বলার জন্যে বন্দিকে ১০০ টাকা প্রদান করতে হয়।
দর্শনার্থী কক্ষ থেকে সাক্ষাৎকারের ক্ষেত্রে মসজিদের জন্যে ১০ টাকা এবং কারা অভ্যন্তর থেকে কথা বলার জন্যে বন্দিপ্রতি ১০০ টাকা দিতে হয়। অফিস কল এবং সাক্ষাৎকালে টাকা আদায়ের সঙ্গে সর্বপ্রধান কাররক্ষী, প্রধান কারারক্ষী সরাসরি জড়িত থেকে টাকা সংগ্রহ করে থাকে এবং পরবর্তীকালে এই টাকা ডেপুটি জেলার, জেলার এবং জেল সুপারের মধ্যে ভাগভাটোয়ারা হয় বলে প্রতিবেদনে বলা হয়। এছাড়া সাক্ষাৎকালে সচ্ছল বন্দিদের মহিলা আত্মীয়দের ফোন নম্বর কারারক্ষীগণ কর্তৃক সংগ্রহ করা হয়। পরবর্তীকালে বন্দির মাধ্যমে টেলিফোন করে টাকা প্রদান না করলে নির্যাতন করা হবে মর্মে উল্লেখ করে বাড়ি থেকে অতিরিক্ত টাকা প্রেরণ করতে বাধ্য করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয় যেসকল বন্দিরা আদালত থেকে জামিনপ্রাপ্ত হয়ে থাকে তাদের মুক্তি পেতে হলে অনেক বেগ পেতে হয়। অর্থ প্রদান না করলে জামিননামা আটকিয়ে রেখে বন্দিদের মুক্তি বিলম্বিত করা হয়। জামিননামার মাধ্যমে বন্দিদেরকে মুক্তি পেতে হলে সর্বনিম্ন ১ হাজার টাকা কাররক্ষী হেলালের মাধ্যমে প্রদান করতে হয়।
বন্দিদের পিসি কার্ডের বিপরীতে আত্মীয়স্বজন কর্তৃক তাদের দৈনন্দিন খরচাদি মেটানোর জন্যে অর্থ জমা প্রদান করা হয়ে থাকে। পিসির টাকা জমা দেয়ার ক্ষেত্রে ১০% হারে টাকা জেল সুপারের ড্রাইভার হিসেবে দায়িত্ব পালনরত কারারক্ষী এবং পিসি লেখার কাজে নিয়োজিত কারারক্ষীদের মাধ্যমে আদায় করা হয়ে থাকে। কারা অভ্যন্তর ও বাইরে উৎপাদিত শাকসবজি ঠিকাদারের মাধ্যমে সরবরাহ করে অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়- ‘কারাগারের ভেতরে বিভিন্ন ওয়ার্ডের মধ্যবর্তী ও খালি জায়গায় বছরব্যাপী বিভিন্ন ধরনের সবজির আবাদ করা হয়ে থাকে। এছাড়া কারাগারের বাইরে বিদ্যমান জমিতে আলুসহ বিভিন্ন সবজির চাষাবাদ করা হয়ে থাকে। বন্দিদের দৈননন্দিন খাবারের জন্যে যে পরিমাণ সবজি প্রয়োজন হয় তার একটি অংশ উৎপাদিত এসকল সবজি থেকে মিটানো হয়ে থাকে। অবশিষ্ট সবজি ঠিকাদারের নিকট থেকে গ্রহণ করা হয়। সংশ্লিষ্ট রেকর্ড পর্যালোচনায় দেখা যায় প্রতিদিন চাহিদার বিপরীতে একটি অংশ কারাগারের উৎপাদিত ভাণ্ডার থেকে এবং অবশিষ্ট অংশ ঠিকাদার থেকে গ্রহণ করা হয়েছে। বন্দিদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে সকল বন্দিগণ এ মর্মে বক্তব্য প্রদান করেন যে তাদের খাবারে যে সবজি প্রদান করা হয় তা কারাগারের জমিতে উৎপাদিত সবজিসমূহ।
এক্ষেত্রে ঠিকাদারের নিকট থেকে কোনো সবজি গ্রহণ করা হয় না। মূলত প্রতিদিন ঠিকাদারের নিকট থেকে মাছ ও মাংশ গ্রহণ করা হয়ে থাকে। সবজির বিপরীতে সমস্ত অর্থ ঠিকাদারের মাধ্যমে জেলার এবং জেল সুপার কর্তৃক আত্মসাৎ করা হয়।’এই প্রতিবেদন দাখিলের পর তদন্ত কমিটির মতামত ও সুপারিশের আলোকে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্যে কারা মহাপরিদর্শকের পক্ষে অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক মো. বজলুর রশিদ ৫ই মে চট্টগ্রাম বিভাগের কারা উপমহাপরিদর্শককে নির্দেশ দিয়ে চিঠি পাঠান। যাতে ২৬ জন কারারক্ষীর নামের তালিকা দিয়ে তাদের কম গুরুত্বপূর্ণ কারাগারে বদলিপূর্বক বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করত বলা হয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগারের জেলার এ জি মাহমুদ ২৬ জন কারারক্ষীর বদলির কথা স্বীকার করে জানান বেনামি দরখাস্তের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত হয়। এই তদন্তের পর আইজি প্রিজনের নির্দেশে তাদের বদলি করা হয়েছে এবং একজনকে বরখাস্ত করা হয়েছে। জেলার আরো জানান, তার এবং জেল সুপারের বদলিরও প্রস্তাব হয়েছে। ওই তদন্ত কমিটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া ছাড়াও চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার এবং ঝিনাইদহ জেলা কারাগার পরিদর্শন করে। ওই সকল কারাগারে একই ধরনের অনিয়ম-দুর্নীতি পরিলক্ষিত হয় তাদের কাছে।

গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধিতে চাপে বাংলাদেশের পোশাক খাত -নিক্কেই এশিয়ান রিভিউর রিপোর্ট

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম উৎস হচ্ছে ক্রমবর্ধমান পোশাক শিল্প। পুরো এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত গতিতে বেড়ে উঠছে বাংলাদেশের পোশাক শিল্প রপ্তানি। কিন্তু সমপ্রতি বাংলাদেশ সরকারের গ্যাসের মূল্য রেকর্ড পরিমাণ বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত শিল্পটির বিকাশের জন্য হুমকিস্বরূপ।
প্রসঙ্গত, তরল প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি করতে যে পরিমাণ অর্থ খরচ হয় তার চেয়ে কম দামে সরবরাহ করে থাকে বাংলাদেশ সরকার। ওই লোকসান কমাতে সমপ্রতি শিল্পখাতে ব্যবহৃত গ্যাসের দাম গড়ে এক-তৃতীয়াংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। ২০২০ অর্থবছরের শুরু অর্থাৎ ১লা জুলাই থেকে এ মূল্যবৃদ্ধি কার্যকর হয়ছে।
এদিকে, ২৭ বছর বয়সী পোশাকজাত পণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান অনন্ত গার্মেন্ট প্রতি বছর ৩০ কোটি ডলারের বেশি পরিমাণ অর্থের পণ্য রপ্তানি করে। প্রতিষ্ঠানটির কর্মীর সংখ্যা ২৬ হাজার। তারা এইচ অ্যান্ড এম, গ্যাপ, লেভাই’স, মার্কস অ্যান্ড সেপন্সার, জ্যাক অ্যান্ড জোন্স ও জারার মতো ব্র্যান্ডের জন্য বোতাম, সোয়েটার, জ্যাকেটসহ নানাবিধ পণ্য তৈরি করে।
প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিক্কেই এশিয়ান রিভিউকে বলেছেন, গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির কারণে প্রতিষ্ঠানটির উন্নতির হার ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। ইতিমধ্যেই পণ্যের দাম উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে।
পোশাক শিল্পের নেতারাও একই ধরনের কথা বলছেন। বাংলাদেশ পোশাক শিল্প প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন- বিজিএমই’র প্রেসিডেন্ট রুবানা হক বলেন, পোশাক শিল্পের মোট খরচের ১.৫ শতাংশ খরচ হয় গ্যাস ব্যবহারে। সে হিসেবে গ্যাসের দাম ৩৮ শতাংশ বাড়ায় উৎপাদন খরচ বাড়ছে প্রায় ১ শতাংশ। এটা হয়তো শতাংশের হিসেবে খুব বেশি না, কিন্তু আমাদের পোশাক শিল্প হচ্ছে এমন একটি খাত যেখানে প্রতি পয়সার জন্য সংগ্রাম করতে হয়।
তিনি বলেন, অনিশ্চিত গ্যাস সরবরাহ, বাজারে অস্থিরতা ও পণ্যের দামের আচমকা উঠানামার মতো সমস্যার কারণেই নতুন উদ্যোক্তারা বিনিয়োগে ইচ্ছুক নন। এর মধ্যে আচমকা এই মূল্যবৃদ্ধি তাদের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ভেস্তে দিবে। এরকম মূল্যবৃদ্ধির ফলে আমাদের উৎপাদন খরচ বাড়াবে। ক্ষুদ্র ও মধ্য পরিসরের ব্যবসার জন্য পরিস্থিতি আরো কঠিন হবে।
২০২০ সালের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন দরকার পড়বে ৮৫ কোটি কিউবিক ফুট এলএনজি। এই হিসাবের ওপর নির্ভর করেই কর্তৃপক্ষ গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে। কিন্তু অনন্ত গার্মেন্টের মতো গ্যাস ব্যবহারকারী শিল্পগুলোর জন্য দাম বৃদ্ধি হয়েছে ৩৮ শতাংশ। এদিকে, ব্যক্তি মালিকানাধীন বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে ৪৩.৯৭ শতাংশ ও বাসাবাড়িতে ব্যবহৃত গ্যাসের দাম বেড়েছে প্রায় এক-চতুর্থাংশ। এই দাম বৃদ্ধির বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে ব্যবসায়ী, ভোক্তা অধিকার সংগঠন ও বিরোধী দলগুলো। বামপন্থি দলগুলো ৭ই জুলাই দেশব্যাপী হরতালের ডাক দিয়েছে। কিন্তু সরকার মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) এক বিবৃতিতে বলেছে, গ্যাস উৎপাদন, এলএনজি আমদানি, হস্তান্তর ও বন্টন খরচ এবং দেশের সামাজিক-অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিচারে এই মূল্যবৃদ্ধির প্রয়োজন ছিল। বিইআরসি চেয়ারম্যান মনোয়ার ইসলাম বলেছেন, আপনাদের জ্বালানির খরচ ও জ্বালানি না থাকার খরচের পার্থক্য বুঝতে হবে।
সরকারি তথ্য অনুসারে, এলএনজিসহ বাংলাদেশে প্রতিদিন উৎপাদিত গ্যাসের পরিমাণ হচ্ছে ৩ হাজার কোটি ঘন ফুট। কিন্তু দৈনিক চাহিদা হচ্ছে ৪ হাজার কোটি ঘন ফুট।
এদিকে, বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট আলমগীর শামসুল আলামিন বলেন, এই মূল্যবৃদ্ধি কোনোভাবেই ন্যায্য নয়। কেননা, গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থার তেমন কোনো উন্নতি হয়নি। তিনি জানান, এই মূল্যবৃদ্ধির জন্য যদি প্রধান পোশাকজাত পণ্য প্রস্তুতকারী শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয় তাহলে তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকরাও ব্যাপক আকারে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তিনি জানান, প্রতি বছর তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকরা তিন হাজার থেকে চার হাজার কোটি ডলার আয় করে। ব্যক্তি মালিকানাধীন বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের জন্য নির্ধারিত ৪৪ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি এই রপ্তানিকারকদের সরাসরি আঘাত হানবে। বাংলাদেশের ৯৯ শতাংশ পোশাকজাত পণ্য তৈরি কারখানায় এরকম বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে। আলামিন সতর্ক করে বলেন, শিল্পে প্রতিযোগিতার হার কমে গেলে প্রায় পাঁচ হাজার কারখানা থেকে কর্মীরা চাকরি হারাবে। এসব বিষয়ে সরকারে সঙ্গে আলোচনা করার চেষ্টা করছে তার সংগঠন।
সমপ্রতি বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের জন্য কিছুটা সু-খবর প্রকাশ পেয়েছে। চীনসহ অন্যান্য দেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্র শুল্কারোপ করায় গত ১১ মাসে দেশটিতে বাংলাদেশ থেকে রপ্তানির হার বেড়েছে ১৩ শতাংশ, যার আর্থিক মূল্য ৩ হাজার ১৭৩ কোটি ডলার।

শিশু সায়মা হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা

আটক ধর্ষক হারুনুর রশিদ
সমবয়সী বন্ধুর সঙ্গে খেলতে যাওয়ার কথা বলে ঘর থেকে বের হয়েছিল ৭ বছর বয়সী শিশু সায়মা। একই ভবনের আট তলার ফ্ল্যাটে গিয়ে জানতে পারে তার বন্ধু ঘুমাচ্ছে। তাই না খেলেই সে লিফটে করে তার ছয় তলার ফ্ল্যাটে ফিরছিল। লিফটের মধ্যেই দেখা হয় তার সহপাঠীর বাবার খালাত ভাই হারুনুর রশিদের সঙ্গে। তখন হারুন সায়মাকে ভবনের ছাদ ঘুরিয়ে দেখানোর কথা বলে। আট তলার লিফট থেকে সে সায়মাকে ছাদে নিয়ে যায়। ছাদ থেকে আবার একই ভবনের নবনির্মিত নবম তলার একটি ফ্ল্যাটে নিয়ে ধর্ষণ করে। ধর্ষণের পর নিস্তেজ হয়ে পড়ে থাকে সায়মার দেহ।
হারুনুর রশিদ তাকে মৃত ভেবে ও পরবর্তীতে ধরা না পড়ার ভয়ে গলায় রশি পেঁছিয়ে মৃতদেহ ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কাছে গ্রেপ্তারের পর ধর্ষণ ও হত্যার লোমহর্ষক এই বর্ণনা দিয়েছে হারুনুর রশিদ।
ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে গতকাল এসব কথা জানিয়েছেন ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার আব্দুল বাতেন। এর আগে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও থেকে ডিবি পুলিশ হারুনুর রশিদকে গ্রেপ্তার করে। জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়ে বাতেন বলেন, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে সাড়ে ৬টার দিকে ঘটনাটি ঘটেছে। ওই দিন মাকে বলে শিশু সায়মা আট তলার ফ্ল্যাটে যায়। আট তলার ফ্ল্যাট মালিক পারভেজের সন্তান সায়মার সমবয়সী। তার সঙ্গে সায়মা প্রায়ই খেলাধুলা করে এবং ওই বাসায় যাতায়াত করত। ঘটনার দিন সায়মা ওই ফ্ল্যাটে যাওয়ার পর তার সহপাঠীর মা তাকে জানান সে ঘুমাচ্ছে পরে আসার জন্য। এই কথা শুনে সায়মা নিজের ঘরে যাবার জন্য লিফটে উঠে। তখন তার সঙ্গে দেখা হয় হারুনুর রশিদের।
সে তাকে ছাদ দেখানোর কথা বলে নয় তলার খালি ফ্ল্যাটে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করে। তখন সায়মা চিৎকার করলে সে তার মুখ চেপে ধর্ষণ করে। ব্যাপক ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে সায়মা নিস্তেজ হয়ে গেলে হারুন তার গলায় দড়ি পেঁছিয়ে টানতে টানতে রান্না ঘরে রেখে পালিয়ে যায়। পালিয়ে যাওয়ার সময় বাড়ির দারোয়ান তাকে দেখতে পায়। বাড়ির দারোয়ানের বক্তব্যের সূত্র ধরে তদন্ত শুরু করে ধর্ষক হারুনকে শনাক্ত ও পরবর্তীতে গ্রেপ্তার করা হয়।
আব্দুল বাতেন বলেন, হারুনুর রশিদ আট তলার একটি ফ্ল্যাটের মালিক পারভেজের খালাত ভাই। আগে সে নিয়মিত ওই বাসায় থেকে পারভেজের রঙের দোকানে কাজ করত। পহেলা জুলাই থেকে পারভেজ তাকে আর কাজে যেতে মানা করেন। কিন্তু আত্মীয় হওয়াতে সে আরও কয়েকদিন ওই বাসায় ছিল। আর এ সুযোগেই সে এরকম জগণ্য একটি কাজ করেছে। তিনি বলেন, ধর্ষণ শেষে হত্যা এ ধরণের ঘটনা অত্যন্ত কুরুচিকর। মানবতাবিরোধী অপরাধ। এ ধরনের অপরাধীরা ধর্ষণের পর যখন ভাবে সে বাঁচতে পারবে না তখনই হত্যার মত ঘটনা ঘটায়। এই ধর্ষককে শিশুটির বাবার করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠিয়ে রিমাণ্ড চাওয়া হবে। বাতেন বলেন, এ ঘটনায় ওই বাসার অনেককেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত হারুন ছাড়া আর কারো সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি। এ ব্যাপারে রিমান্ডে এনে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
শিশু সামিয়া আফরিন সায়মা নবাবপুরের ব্যবসায়ী আব্দুস সালামের ছোট মেয়ে। দুই ছেলে ও দুই মেয়ের মধ্যে সায়মা সবার ছোট। ওয়ারির বনগাঁও এলাকার ১৩৯/১ বাসায় পরিবারের সঙ্গেই থাকত। আর ওয়ারির সিলভার ডেল স্কুলে নার্সারিতে পড়ালেখা করত। শুক্রবার সন্ধ্যার পর থেকে তার কোন খোঁজ পাচ্ছিলেন না পরিবারের সদস্যরা। এরপর সন্ধ্যা ৭টার দিকে ভবনটির নয় তলার ফাঁকা ফ্ল্যাটের ভেতরে সায়মার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। তার গলায় রশি পেঁছানো ছিল ও মুখে ছিল রক্তের দাগ। রাত ৮টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে নিয়ে যায়। ময়নাতদন্ত শেষে ঢাকা মেডিকেলের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক সোহেল মাহমুদ সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, সায়মাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। বাহ্যিকভাবে তার গলায় রশি দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করার আলামত পাওয়া গেছে। এ ছাড়া তার ঠোঁটে কামড়ের চিহ্ন এবং গোপনাঙ্গে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
এদিকে মেয়েকে ধর্ষণ ও পরে হত্যার বিচার চেয়েছেন সামিয়ার বাবা আব্দুস সালাম। তিনি শিগগিরই ওই ধর্ষকের ফাঁসি চেয়েছেন। গতকাল ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে কান্নাজড়িত কন্ঠে তিনি বলেন, পরীর মত মেয়ে আমার। এই মেয়েকে যে কষ্ট দিয়ে মেরেছে তার ফাঁসি চাই। স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, মাগরিবের আজানের সময় আমি নামাজ পড়তে মসজিদে যাই। মসজিদ থেকে ফেরার সময় সাড়ে ৭টায় নাশতা কিনে বাসায় আসি। বাসায় এসে দেখি সায়মা নেই। আমি, আমার স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে সায়মাকে খুঁজতে শুরু করি। সবগুলো ফ্ল্যাটের সবস্থানে অনেক খোঁজাখুঁজি শেষেও তাকে পাওয়া যায়নি। পরে ৯ তলায় যাই। সেখানে দুটি ফ্ল্যাট আছে। একটি ফ্ল্যাট খোলা দেখে ভেতরে ঢুকে প্রথমেই আমার মেয়ের জুতা দুটি দেখতে পাই। এরপর মোবাইলের লাইট জ্বালিয়ে দেখি কিচেনের বেসিনের নিচে মেয়েকে ফেলে রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, খেলার কথা বলে বাইরে যাওয়ার সময় তার মা তাকে বাধা দেন। তখন সে বলেছিল ১০ মিনিটের জন্য সে ওই বাসায় যাচ্ছে। একটু খেলে এসে পড়া বুঝিয়ে দেবে।
আব্দুস সালাম আরও বলেন, সায়মার মৃত্যুতে গত তিন ধরে পরিবারের কেউ এক ফোটা পানিও মুখে দেয়নি। দেশবাসীর উদ্দেশ্য তিনি বলেন, যাদের মেয়ে বাচ্চা আছে তাদের যেন মা-বাবা আগলে রাখেন। এক মুহূর্তের জন্য আড়াল হতে দেয়া যাবে না। আর এসব নরপিচাশদের হাত থেকে মেয়েদের খেয়াল রাখতে হবে।
সামিয়া আফরিন সায়মা

এখানেও তাদের আগুন লাগানোর প্রচেষ্টা -মার্কিন কংগ্রেসম্যানের প্রস্তাবের সমালোচনায় প্রধানমন্ত্রী

মিয়ানমারের অস্থিতিশীল রাখাইন রাজ্যকে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্ত করতে মার্কিন কংগ্রেসম্যান ব্রাড শেরম্যান এর প্রস্তাবের কড়া সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ ধরনের প্রস্তাব গর্হিত কাজ উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা যেখানেই হাত দিয়েছে সেখানেই আগুন জ্বলছে, জঙ্গিবাদের সৃষ্টি হয়েছে। এখানেও তাদের আগুন লাগানোর প্রচেষ্টা। এটা কখনও গ্রহণযোগ্য না। বিকালে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
সাম্প্রতিক চীন সফরের বিষয়ে দেশবাসীকে অবহিত করতে প্রধানমন্ত্রী এ সংবাদ সম্মেলন করেন। প্রশ্নোত্তর পর্বে একজন সাংবাদিক মার্কিন কংগ্রেসম্যানের প্রস্তাবের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের যে সীমানা, ৫৪ হাজার বর্গমাইল জায়গা আমরা তাতেই খুশি। অন্যের জায়গা আমাদের সঙ্গে যুক্ত করা এটি আমরা সম্পূর্ণ অস্বীকার করি।
এটি আমরা চাই না। মিয়ানমার তার সার্বভৌমত্ব নিয়ে থাকবে। সেখানে বাংলাদেশের সঙ্গে তারা রাখাইন স্টেট জুড়ে দিতে চায় কেন? এই ধরনের কথা বলা অত্যন্ত গর্হিত কাজ, অন্যায় কাজ বলে আমি মনে করি। হতে পারে তারা খুব বড় দেশ। সেই দেশের একজন কংগ্রেসম্যান। কিন্তু তারা ভুলে গেছে তাদের অতীত। তাদের যখন গৃহযুদ্ধ লেগেই থাকত।  সেই অতীততো তাদের ভুলে যাওয়া উচিত না। সেই অতীত ভবিষ্যতেও আসবে না সেটা তারা কিভাবে ভাবে।
তিনি বলেন, রাখাইনে প্রতিনিয়ত সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। এই ধরনের একটা গোলমেলে বিষয় আমাদের সঙ্গে যুক্ত করবো কেন? এটি আমরা কখনও করবো না। তছাড়া আমাদের প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমার। মিয়ানমারে ঘটনা ঘটছে। সেখানকার মানুষ যখন আশ্রয় চেয়েছে মানবিক কারণে আমরা তাদেরকে আশ্রয় দিয়েছি। আশ্রয় দেয়ার অর্থ এটা না যে একেবারে রাষ্ট্রের একটা অংশ নিয়ে আসব। এই মানসিকতা আমাদের নেই। এটা আমরা চাই না।
প্রধানমন্ত্রী বলেন,  প্রত্যেকটা দেশ তার সার্বভৌমত্ব নিয়ে থাকবে সেটাই আমি চাই। এটাও চাই- একথা না বলে বরং মিয়ানমার যাতে তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নিয়ে যায় এই কংগ্রেসম্যান যেন সেটাই করেন। সেটাই হবে মানবিক দিক। এভাবে একটা দেশের ভেতরে গোলমাল পাকানো কোনমতেই ঠিক না। যেখানে তারা হাত দিয়েছে সেখানেইতো আগুন জ্বলছে। সেখানে শান্তি আসেনি বরং জঙ্গিবাদ সৃষ্টি হয়েছে। অশান্তির সৃষ্টি হয়েছে। আমাদের এই অঞ্চলটা আমরা একটু শান্তিপূর্ণভাবে আগানোর চেষ্টা করছি। এখানেও তাদের আগুন লাগানোর প্রচেষ্টা। এটা কখনও গ্রহণযোগ্য না।

নেশার টাকা না পেয়ে

নেশা করার জন্য স্ত্রীর কাছে টাকা চায় কোবাদ আলী। স্ত্রী আয়েশা খাতুন টাকা দিতে অস্বকৃতি জানালে এক পর্যায়ে কোবাদ হাসুয়া দিয়ে এলোপাথারি কোপাতে থাকে আয়েশা খাতুনকে। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান আয়েশা খাতুন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলার খড়গপুরে এই ঘটনা ঘটে। আজ সোমবার বেলা ২ টার দিকে ৪৭ বছর বয়সী সেই নারীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ সময় আহত হয় তার মেয়ে ও মেয়ের জামাই।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, আয়েশাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসলে মেয়ে হাবিবা খাতুন ও তার জামাই সাদেকুল ইসলামকেও হাসুয়া দিয়ে আঘাত করে মাদকাসক্ত কোবাদ আলী। তাদের প্রথমে ভোলাহাট উপজেলা কমপ্লেক্স ও পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ভোলাহাট থানার ওসি নাসির উদ্দীন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পরই পালিয়ে কোবাদ।
তাকে আটকের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।

নির্যাতনের পর ‘গো মাতা কি জয়’ স্লোগান দিতে বাধ্য করা হলো

হাটে পশু নিয়ে যাওয়ার সময় ভারতের মধ্যপ্রদেশের খান্ডা জেলায় একদল মানুষকে বেদম মারপিট করেছে গরু রক্ষাকারীরা। তাদেরকে রশি দিয়ে টাইট করে বেঁধে রাখা হয়। হাঁটুগেঁড়ে রাস্তার ওপর অবস্থান করানো হয়। বাধ্য করা হয় ‘গো মাতা কি জয়’ স্লোগান দিতে। এমন একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি। এতে বলা হয়, মহারাষ্ট্রের পশু কেনাবেচার একটি মেলা আয়োজন করা হয়েছে। ২৪ জনের একদল পুরুষ ওই মেলায় পশু নিয়ে যাচ্ছিলেন।
তাদের মধ্যে ছিলেন খান্ডা, সিহোরে, দেবাস ও হারডা জেলার লোকজন। ওই ২৪ জনের মধ্যে ৬ জন ছিলেন মুসলিম।
কিন্তু রোববার তারা গরু বিষয়ক নজরদারিকারীদের কবলে পড়েন। তাদের ওপর যে নির্যাতন চালানো হয় তা ধারণ করা হয়েছে একটি মোবাইল ফোনে। এতে দেখা যায়, সাদা শার্ট পরা একজন ওইসব ব্যক্তির খুব কাছে চলে যান মোবাইল ফোন হাতে, যাতে তাদের মুখ পরিষ্কারভাবে ভিডিওতে বোঝা যায়। ছবি যাতে পরিষ্কার আসে। এ সময় কমপক্ষে দু’জন রশি দিয়ে বেঁধে রাখা লোকজনকে পাহারা দিতে থাকে। বার্তা সংস্থা পিটিআইয়ের রিপোর্ট অনুসারে ওই এলাকায় গরু রক্ষা বিষয়ক নজরদারিকারীদের ১০০ সদস্য আছে। তারা সাভালিকেড়া গ্রামের। ওইসব ভিজিল্যান্টিরা অভিযোগ করেছে, এসব মানুষ ২০টি গবাদিপশুকে জবাই করার জন্য স্থানান্তর করছিল। এ জন্য তাদের ওপর শক্তি প্রয়োগ করা হয়েছে। তাদেরকে বেঁধে ফেলা হয়েছে। তারপর তাদেরকে ফেরত যাওয়ার পথে খালওয়া পুলিশ স্টেশনের সামনে দিয়ে প্যারেড করানো হয়েছে। জেলা পুলিশ সুপারিনটেন্ডেন্ট শিবদয়াল সিং বলেছেন, ওইসব মানুষ গবাদিপশু নিজেদের বলে দাবি করেন। কিন্তু তারা তাদের এ দাবি প্রমাণ করতে পারেন নি। ২৪ জনের মধ্যে একজনও তাদের দাবির পক্ষে প্রমাণ দেখাতে পারেন নি। তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে গো রক্ষাকারী ওইসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয় নি।

প্রবাসে নারী নির্যাতন: বিউটির শেকলবাঁধা জীবন by আল-আমিন নয়ন

বিউটি আক্তার (৪০)। বাড়ি মানিকগঞ্জ জেলার সিংগাইর উপজেলায়। পেশায় ছিলেন একজন  রেমিটেন্স যোদ্ধা, নারী গৃহকর্মী। ২০০৯ সালে গৃহকর্মীর কাজ নিয়ে লেবাননে গিয়ে ভালোই চলছিলো বিউটির জীবন। দেশের জন্য পাঠিয়েছিলেন রেমিটেন্স। এরপর কাতার যান। সেখানেও ভালো ছিলেন। নিয়মিত রেমিটেন্স পাঠাতেন।
কিন্তু জর্ডানে গিয়ে ভাগ্য সুপ্রসন্ন হয়নি তার। সেখানে নিয়োগকর্তার নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়ে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে দেশে ফিরতে হয় বিউটিকে। বিউটির মানসিক অবস্থা এতই খারাপ যে, সবসময় শেকল দিয়ে বেঁধে রাখতে হয় বিউটিকে। পরিবারের আর্থিক অবস্থা ভালো না থাকার কারণে চিকিৎসা করাতে পারছে না বিউটির পরিবার। বিউটি এখন পরিবারের বোঝা।
এ ধরনের মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে দেশে ফেরা ৪৩ নারীকে বিমানবন্দর থেকে পরিবার খুঁজে পেতে সহযোগিতা করে ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম। চিকিৎসা সহায়তা দেয়া হয় অনেককে, যারা আজ সুস্থ হয়ে পরিবারে সঙ্গে স্বাভাবিক জীবনযাপন করছেন।
বিউটিদের মতো রেমিটেন্স যোদ্ধাদের জন্য তো মন্ত্রণালয় আছে, আছে জনশক্তি ব্যুরো, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড, জেলা জনশক্তি অফিস। কিন্তু কেউ তো বিউটিদের খোঁজ-খবর রাখে না। এই প্রতিষ্ঠানগুলোর কী তাহলে বিদেশে কর্মী পাঠানোই দায়িত্ব? আর বসে বসে রেমিটেন্সের গল্প দেয়া। রেমিটেন্স যোদ্ধাদের অধিকার, মর্যাদা ও পূনর্বাসনে কি কোনই কাজ নেই তাদের? তাহলে কে দায়িত্ব  নেবে বিউটিদের?

হেডিংলির আকাশে ‘জাস্টিস ফর কাশ্মীর’, ভারতের তীব্র প্রতিবাদ

পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের ম্যাচে ‘জাস্টিস ফর বেলুচিস্তান’ লেখা ব্যানার আকাশে উড়ার পর আইসিসি আশ্বাস দিয়েছিল এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না আর। কিন্তু এক সপ্তাহের ব্যবধানে লিডসের হেডিংলিতেই কাশ্মীর স্বাধীনের দাবিতে আকাশে উড়লো আরো একটি ব্যানার। বিষয়টির নিয়ে তদন্ত করছে আইসিসি। ভারত ক্রিকেট বোর্ডও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবাদ জানিয়েছে আইসিসির কাছে।
হেডিংলিতে গতকাল রাউন্ড রবিনের শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে ভারত ও শ্রীলঙ্কা। তাদের খেলা শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ পরই একটি বিমানের সাহায্যে মাঠের উপর দিয়ে উড়তে দেখা যায় একটি ব্যানার, যেখানে লেখা ‘জাস্টিস ফর কাশ্মীর’। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশদের কাছ থেকে স্বাধীন হওয়ার পর ভারত ও পাকিস্তানকে ভাগ করে দেয়া হয় কাশ্মীর। দুই দেশই এর দখলদারিত্বের জন্য গত তিন দশক ধরে লড়াই করছে।
প্রায় এক লাখ মানুষের প্রাণহানি হয়েছে, যার অধিকাংশই বেসামরিক। ক্রিকেটের মধ্যে রাজনীতি ও বর্ণবৈষম্যের ব্যাপারে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে বিশ্বাসী আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল এই ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছে, ‘আবারো এমন ঘটনা ঘটায় আমরা খুবই হতাশ। আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপে কোনো ধরনের রাজনৈতিক বার্তা আমরা সহ্য করতে পারি না। আগের ঘটনার পর পশ্চিম ইয়র্কশায়ার পুলিশ আমাদের আশ্বস্ত করেছিল এমনটা আর ঘটবে না। কিন্তু আবারো হলো, তাতে আমরা খুবই অসন্তুষ্ট।’ গত শনিবার পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের ম্যাচে বেলুচিস্তান স্বাধীনের দাবিতে একটি ব্যানার উড়েছিল এই হেডিংলির আকাশে। ওইদিন দুই দেশের সমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতিও হয়েছে। পুলিশ বিষয়টি আমলে নিয়ে তদন্ত শুরু করেছিল। কিন্তু তার শেষ না হতেই ঘটলো নতুন আরো একটি ঘটনা। এদিকে ঘটনার দু’দিন পর ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) এই ঘটনার আনুষ্ঠানিকভাবে আইসিসির কাছে কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে। প্রথমে তারা ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা ব্যক্ত করেছে। ধোনি উইকেটকিপিং গ্লাভসে সেনাবাহিনীর বিশেষ চিহ্ন নিয়ে খেলায় আইসিসি সেটা তাকে খুলতে বাধ্য করেছিল – তাহলে এখানে কেন ব্যবস্থা নিতে এত দেরি হচ্ছে? আইসিসি সূত্রগুলো জানাচ্ছে, বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল ও ফাইনাল ম্যাচগুলোরে সময় স্টেডিয়ামের ওপর যাতে নো-ফ্লাই জোন বলবৎ করা হয়, তারা এখন সেটাই নিশ্চিত করতে চাইছে।

চালক ঘুমন্ত, দিল্লিতে বাস খাদে পড়ে নিহত ২৯

ঘুমন্ত চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললেন বাসের। অমনি তা যমুনা এক্সপ্রেসওয়ে থেকে ছিটকে ৫০ ফুট নিচে একটি বিশাল ড্রেনে পড়ল। সঙ্গে সঙ্গে এতে নিহত হলেন ২৯ জন। আহত হয়েছেন বিপুল সংখ্যক মানুষ। দিল্লির কাছে এ ঘটনা ঘটেছে আজ সকালে। ১৬৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এক্সপ্রেসওয়ে উত্তর প্রদেশের আগ্রার সঙ্গে নয়ডাকে সংযুক্ত করেছে। এই ৬ লেনের এক্সপ্রেসওয়েতে ওই বাসটি ৪৬ জন যাত্রীকে নিয়ে লক্ষ্ণৌ থেকে দিল্লি যাচ্ছিল। উত্তর প্রদেশ পুলিশ টুইটে বলেছে, লক্ষ্ণৌ থেকে দিল্লি আসার পথে একটি স্লিপার কোচ প্যাসেঞ্জার বাস যমুনা
এক্সপ্রেসওয়েতে দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, বাসটি আগ্রার কাছে নিয়ন্ত্রণ হারানের ঠিক পূর্ব মুহূর্তে চালক ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিলেন। এ সময় বাসটি ৫০ ফুট গভীর ড্রেনে পড়ে দুমড়ে মুচড়ে যায়। একটি ভিডিওতে দেখা যায়, উদ্ধারকারীরা সেই বাসের ভিতর থেকে মৃতদেহগুলো টেনে বের করছেন।
জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বলেছেন, আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগি আদিত্যনাথ। পাশাপাশি তিনি আহত ও নিহতদের পরিবারকে সব রকম সহযোগিতা দিতে কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন। এরই মধ্যে নিহতদের পরিবারকে ৫ লাখ রুপি করে ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছে উত্তর প্রদেশ রোডওয়েস। এ ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন রাজনৈতিক নেতারা। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং টুইটে বলেছেন, ‘বিজেপির সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ সিং ঘটনাস্থলে গিয়েছেন। নিহতদের প্রতি আমার শোকাহত। আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করি।’ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পিযুষ গয়াল বলেছেন উত্তর প্রদেশের এ দুর্ঘটনার কথা জেনে বেদনাহত। যারা প্রাণ হারিয়েছেন তাদের পরিবারের প্রতি আমার সমবেদনা। রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট টুইটে বলেছেন, যমুনা এক্সপ্রেসওয়েতে ট্রাজিক দুর্ঘটনার খবর শুনে আমি গভীরভাবে বেদনাহত। ওই দুর্ঘটনায় অনেক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।

দিনাজপুর নয়, রংপুরেই দেশের প্রথম লোহার খনি by সরকার মাজহারুল মান্নান

৫৩ বছরেও উত্তোলনের উদ্যোগ নেইদেশের প্রথম লোহার খনি দিনাজপুরে নয়, রংপুরের পীরগঞ্জের ভেলামারি পাথারে আবিষ্কৃত হয়েছিল ৫৩ বছর আগে। ১৯৬৫ সালে এই লোহার খনির অস্তিত্ব নিশ্চিত করে পাকিস্তান খনিজসম্পদ বিভাগ এবং ১৯৯৯ সালে পুনরায় খনন শুরু করেছিল জিওলজিক্যাল সার্ভে অব বাংলাদেশ-জিএসবি। সুদীর্ঘ ৫৩ বছর আগে এই লোহার খনিটির প্রথম সন্ধান পাওয়া গেলেও আজ পর্যন্ত উত্তোলনের কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি সরকার। আর দিনাজপুরের হাকিমপুরের ইসবপুরে লোহার খনির অস্তিত্বের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসে চলতি মাসের ১৪ জুন। কিন্তু সম্প্রতি সন্ধান পাওয়া লোহার খনির অস্তিত্বকে প্রথম বলে প্রচারণা পাওয়ায় ক্ষুব্ধ প্রথম লোহারখনি পাওয়া রংপুরের মানুষ। তারা অবিলম্বে পীরগঞ্জের ভেলামারি খনিকে প্রথম লোহার খনি স্বীকৃতি দিয়ে সেখান থেকে লোহা উত্তোলনের দাবি জানিয়েছেন।
জিওলজিক্যাল সার্ভে অব বাংলাদেশ-জিএসবি এবং পেট্রোবাংলা সূত্রে পাওয়া তথ্য মতে, রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার শানেরহাট ও মিঠিপুর ইউনিয়নের মাঝামাঝি বিশাল একটি এলাকার নাম ভেলামারি পাথার। এখানেই প্রথম অস্তিত্ব আবিষ্কার হয়েছে বিশ্বমানের লৌহ খনির। ওই সময়ে খনি এলাকা চিহ্নিতকরণে বর্ণিত পাথারের মাঝখানে একটি জমিতে কংক্রিটের ঢালাই করে রাখা হয় অনুসন্ধান করা চারটি কূপের মুখ। ৫৩ বছর ধরে খনিমুখে কংক্রিটের ঢালাই ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে আছে সেখানে।
জেসবি ও পেট্রোবাংলা সূত্র বলছে, ১৯৬৫ সালের ৬ সেপ্টেম্বর পাক-ভারত যুদ্ধের পর স্যাটেলাইটের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী তৎকালীন পাকিস্তান খনিজসম্পদ বিভাগের একদল বিশেষজ্ঞ বিমান ও গাড়িবহর নিয়ে এই ভেলামারি পাথারে আসে। প্রায় ছয় বর্গ কিলোমিটার আয়তনের এই পাথারে তারা লৌহ খনির অবস্থান নিশ্চিত করতে বিমানের নিচে একটি বিশাল শক্তিশালী চুম্বক ঝুলিয়ে দেন। এরপর বিমানটি নিচু দিয়ে পাথারের ওপর দিয়ে উড়ে যেতে থাকে। একপর্যায়ে বিমানের ঝুলন্ত চুম্বকটি ছোট পাহাড়পুর গ্রামের আবুল ফজল ও আব্দুল ছাত্তার নামে দুই ব্যক্তির মালিকানাধিন জমির ওপর এসে আকর্ষিত হয়। এই আকর্ষণ বিমানটিকে বারবার মাটির দিকে টেনে নিচে নামাতে চেষ্টা করে। পরে অন্যান্য পরীক্ষার পর পাকিস্তানের খনিজ বিজ্ঞানীরা এখানে লোহার খনির অস্তিত্ব সম্পর্কে নিশ্চিত হন। পরে উৎস হিসেবে ওই জমির ওপর কংক্রিটের ঢালাই করা চিহ্ন দিয়ে চলে যান। সূত্র জানায়, পরের বছর পাকিস্তান খনিজসম্পদ বিভাগ চিহ্নিত স্থানে খনন কাজ শুরু করেন। প্রায় আট মাস ধরে তারা ভেলামারী এলাকার পাশের কেশবপুর, ছোট পাহারপুর, প্রথম ডাঙ্গা, পবনপাড়া, সদরা কুতুবপুর পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকায় অসংখ্য স্থানে পাইপ বসিয়ে লোহার খনির সন্ধান নিশ্চিত করেন। অনুসন্ধানের সময় পাইপের ভেতর দিয়ে মাটির গভীরে বোমা বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। বোমার বিস্ফোরণে ওই এলাকার অনেক মাটির কুয়া ভেঙে যায়। পরে আবারো দ্বিতীয় দফায় পাইপের মাধ্যমে জরিপকাজ সম্পন্ন করা হয়।
১৯৬৭ সালের শেষের দিকে পাকিস্তান খনিজসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারাসহ একদল বিদেশী খনিজ বিশেষজ্ঞ রংপুরে আসেন। তারা অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতির বিশাল বহর ও পরিবার পরিজনসহ স্থানীয় পানবাজার হাইস্কুল মাঠে অস্থায়ীভাবে ক্যাম্প প্রতিষ্ঠা করে। প্রাপ্ত লোহার উপাদান উত্তোলন করেন।
মাটির ৯০০ ফুট নিচ থেকে ২২ হাজার ফুট পর্যন্ত পাইপ খনন করে তারা লোহার উন্নতমানের স্তরের সন্ধান পেয়েছেন। এর বিস্তৃতি প্রায় ১০ কিলোমিটার। প্রায় এক বছরের বেশি সময় ধরে ব্যাপক খনি অনুসন্ধান কাজ শেষ করে ভেলামারিতে স্থাপনকৃত চারটি মূল পাইপের উৎসমুখে কংক্রিটের ঢালাইয়ের মাধ্যমে বন্ধ করে খনি কর্মকর্তারা তাদের ক্যাম্প গুটিয়ে চলে যান। এ সময় তারা বলে যান লৌহ অপরিপক্ব আছে। আগামী ২০ থেকে ২৫ বছরের মধ্যেই এটি উত্তোলন সম্ভব। সে হিসাবে আরো ৩৭ বছর আগে লোহা খনিটি পূর্ণতা পেয়েছে।
বাংলাদেশ ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ অধিদফতর ১৯৯৯ সালের মাঝামাঝি সময়ে ভেলামারি পাথারে লোহার খনির অনুসন্ধান কাজ শুরু করেন। কিন্তু তারা পূর্বে আবিষ্কৃৃত লৌহ খনির উৎসমুখ ভেলামারি হতে প্রায় ৪ কিলোমিটার দূরে পাহারপুর গ্রামের পূর্বপ্রান্তে পরীক্ষামূলক খনন করে কোনো রিপোর্ট না দিয়েই চলে যান। ওই রিপোর্ট পরে পরিপূর্ণভাবে প্রকাশও করা হয়নি।
তবে জিএসবি সূত্র এ প্রতিবেদককে নিশ্চিত করেছে, সেখানে অনুসন্ধান চালিয়ে উন্নতমানের আয়রন কোর (লোহা আকরিক) পাওয়া গেছে। কিন্তু সেখানে আয়রন কোরের রিজার্ভ কম হওয়ায় লৌহ উত্তোলনের সিদ্ধান্তে আসতে পারেনি জিএসবি।
কারণ হিসেবে তারা বলেছেন, রিজার্ভের পরিমাণ ইকোনমিক্যালি ভায়াবোল না হওয়ায় সেখানে লৌহ উত্তোলন করা সম্ভব হচ্ছে না। যে পরিমাণ খরচ হবে তা রিজার্ভ দিয়ে পুষিয়ে নেয়া সম্ভব হবে না বলে জানিয়েছে জিএসবি। এরপর লৌহখনির অবস্থান ও উত্তোলনে আরো ব্যাপকভাবে কোনো অনুসন্ধান কিংবা উত্তোলনের কোনো উদ্যোগ নেয়নি জিএসবি। লৌহ খনিটি এখন প্রায় ৫৩ বছর পার করতে চলেছে।
ভূতাত্ত্বিক জরিপ বিভাগ থেকে পাওয়া তথ্য মতে, পীরগঞ্জের ভেলামারি পাথারের এই লোহার খনিটি এখন পরিপক্ব হয়েছে। কিন্তু পেট্রোবাংলা অনুসন্ধান চালিয়ে চলে যাওয়ার পর আর কোনো আওয়াজ উঠছে না।
পীরগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান সাবেক এমপি নুর মোহাম্মদ মণ্ডল নয়া দিগন্তকে জানান, আমাদের পীরগঞ্জের ভেলামারি পাথারেই লোহার খনি আবিষ্কার হয়েছে ৫৩ বছর আগে। সেটাই প্রথম লোহার খনি। দিনাজপুরের হাকিমপুরে লোহার খনির সন্ধান পাওয়া গেল এই মাসে। তাহলে প্রথম লোহার খনি কোনটা পীরগঞ্জ নাকি হাকিমপুরে। সেটা জেএসবিকে নিশ্চিত করে মিডিয়ায় বলতে হবে। তা না হলে মিডিয়ায় বিকৃত তথ্য যাচ্ছে। এই জনপ্রতিনিধি আরো জানান, আমাদের এই খনি থেকেই লোহা উত্তোলন প্রথমে শুরু করতে হবে। তারপর দিনাজপুরে। আমাদের খনি থেকে প্রথম লোহা উত্তোলন শুরুর ঘোষণা না দেয়া হলে আমরা পীরগঞ্জের সব শ্রেণিপেশার মানুষ প্রধানমন্ত্রীর কাছে যাবো।
ভূতত্ত্ববিদ পেট্রোবাংলার মহাব্যবস্থাপক এ বি এম কামরুজ্জামান পুলক নয়া দিগন্তকে জানান, জিওলজিক্যাল সার্ভে অব বাংলাদেশ-জিএসবি রংপুরের পীরগঞ্জের ভেলামারি পাথারে জরিপ চালিয়ে প্রথম আয়রন কোরের (লৌহ আকরিকের) অস্তিত্ব নিশ্চিত করেছে। কিন্তু আয়রন কোরের রিজার্ভ কম হওয়ায় সেখানে লৌহ উত্তোলনের সিদ্ধান্তে আসতে পারেনি জিএসবি। দিনাজপুরে জিএসবির জরিপ প্রাথমিক পর্যায়ে। তবে ধারণা করা হচ্ছে এখানে আয়রন কোরের পুরুত্বটা অনেক বেশি। এখানে রিজার্ভ অনেক থাকতে পারে।
রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. তুহিন ওয়াদুদ নয়া দিগন্তকে বলেন, ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদফতর ও পেট্রোবাংলার তথ্যানুযায়ী দেশে প্রথম লোহার খনির সন্ধান পাওয়া যায় রংপুরের পীরগঞ্জের ভেলামারির পাথারে। সেখানে পাকিস্তান সরকার এবং বাংলাদেশ সরকার কূপ খনন করে অনুসন্ধান চালিয়ে উৎস মুখ চিহ্নিতও করেছেন। কিন্তু দিনাজপুরে সন্ধান পাওয়া লোহার খনির অস্তিত্বকে প্রথম হিসেবে প্রচারণা পাওয়ায় প্রকৃত ইতিহাস ধামাচাপা পড়ে যাবে। জরিপ অনুযায়ী ভেলামারি পাথারের লোহার খনিটিই প্রথম।
রংপুরের পীরগঞ্জের ভেলামারি পাথারে লোহার খনির উৎসমূল নিশ্চিত হয়ে ৫৩ বছর আগে দেয়া কংক্রিটের ঢালাই - ছবি : নয়া দিগন্ত

খ্যাপা ষাঁড়ের শহরে by তারেক মাহমুদ

এই যে এত দিন ইংল্যান্ডে আছেন, এতগুলো শহর ঘুরলেন, কোন শহরটা বেশি ভালো লাগল?
বিশ্বকাপ-যাযাবর হয়ে যাঁরা ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলসের এ শহর থেকে ও শহর চষে বেড়াচ্ছেন, তাঁদের সবাইকেই কখনো না কখনো প্রশ্নটা শুনতে হচ্ছে। যাঁর ব্যস্ততা ভালো লাগে, নীরবতা পছন্দ নয়, তিনি হয়তো বলছেন লন্ডন, নটিংহামের কথা। যাঁর কোলাহল পছন্দ নয়, ভিড়ভাট্টা ভালো লাগে না, তিনি বলবেন টন্টন বা কার্ডিফ। কিন্তু মাশরাফি বিন মুর্তজা বললেন, ‘আমার কোনো শহরই ভালো লাগে না।’
বার্মিংহামে এসে কয়েক দিনের ছুটি পেয়ে সে জন্যই হয়তো স্ত্রী-পরিবার নিয়ে স্নোডন নামের এক ছোট্ট শহরে ঘুরতে চলে গেছেন মাশরাফি। দেখে এসেছেন ইংল্যান্ডের গ্রাম, পাহাড়ি ঝরনা। ইংল্যান্ডের গ্রাম কেমন হয়, সেটি দেখার খুব শখ ছিল মাশরাফি ও তাঁর স্ত্রীর। বাড়ির সামনে নরম রোদে বসে কোনো বুড়ো-বুড়ি দম্পতি চায়ের পেয়ালায় চুমুক দিতে দিতে গল্প করছেন—এর চেয়ে সুন্দর দৃশ্য নাকি তাঁদের চোখে আর কিছুই হয় না।
মাশরাফির এ রকম মনে হওয়াই স্বাভাবিক। ক্রিকেটের সঙ্গে রাজনীতির ব্যস্ততা যোগ হয়েছে। নিরবচ্ছিন্ন অবসরের আর সুযোগ নেই। বিশ্বকাপে এসে তো চারদিকে আরও লোকে লোকারণ্য। সাংবাদিকদের ভিড়। সেলফি–শিকারিদের ভিড়। ভক্তদের নানা রকম আবদার। আইসিসির নিরাপত্তাকর্মীদের পাহারা। কোলাহল থেকে সরে পরিবার নিয়ে একটু অবসর কাটানো বিদেশেও তাই বড় পাওয়া মাশরাফির জন্য।
বার্মিংহামে ভারত এবং পাকিস্তানের মানুষ বেশি। বাংলাদেশিও কম নয়। ২ জুলাই বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচে গ্যালারিতে কোন দেশের সমর্থকদের উপস্থিতি বেশি হবে, এ নিয়ে নাকি এখানকার বাংলাদেশি ও ভারতীয়দের মধ্যে জোর প্রতিযোগিতা চলছে। মাশরাফির কাছে খবর আছে, ভারতীয় দর্শকদের মাঠে যাওয়া ঠেকাতে দারুণ এক ফন্দি এঁটেছেন বাংলাদেশিরা। তাঁরা নাকি দেড়-দুই গুণ দামের লোভ দেখিয়ে ভারতীয় সমর্থকদের কাছ থেকে যত পারা যায় টিকিট কিনে বাংলাদেশের লোকদের দিচ্ছেন। এভাবে যদি গ্যালারি দখলের যুদ্ধে ভারতকে হারানো যায়!
খেলায়ও ভারতকে হারাতে পারলে ভবিষ্যতে বার্মিংহামও হয়ে উঠতে পারে বাংলাদেশের প্রিয় ভেন্যু। তবে বিশ্বকাপ উপলক্ষে বাংলাদেশের যেসব খেলোয়াড়-সাংবাদিক এখানে এসেছেন, তাঁদের অনেকেরই এখন পর্যন্ত শহরটা পছন্দ হয়নি। ইংল্যান্ডের অন্যান্য শহরের তুলনায় সাজানো-গোছানো ভাবটা কম মনে হচ্ছে এখানে। যুক্তরাজ্যের দ্বিতীয় বৃহৎ শহর হলে কী হবে, বার্মিংহাম কেমন কাঠখোট্টা। কাজ ছাড়া এই শহরের মানুষ আর কিছু বোঝে না।
বার্মিংহামে বাংলাদেশ দল আছে হায়াৎ রিজেন্সিতে। হোটেলের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে সরু খাল। খালের পাড় ধরে এগিয়ে একটা টানেলের ভেতর দিয়ে চলে যাওয়া যায় সিটি সেন্টারে। মূলত বুলরিং শপিং সেন্টার আর গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল শপিং মল মিলিয়েই বার্মিংহাম সিটি সেন্টার। তবে গত দুই দিন সিটি সেন্টার এলাকা ঘুরে মনে হলো, কেনাকাটা যা–ই হোক না কেন, ওখানে এলে একবার খ্যাপা ষাঁড়ের সামনে মানুষ দাঁড়াবেই।
৬ টন ওজনের ব্রোঞ্জ দিয়ে বানানো একটা ষাঁড় দাঁড়িয়ে আছে সিটি সেন্টারের ঠিক মাঝখানে। সামনের এক পা তোলা, ঘাড়টা রাগতভাবে ঘোরানো, চোখে আক্রমণের হিংস্রতা। আকৃতিতে সত্যিকারের ষাঁড়ের দ্বিগুণ এই ষাঁড়ের কাগুজে নাম ‘দ্য গার্ডিয়ান’। সিটি সেন্টারে এসে খ্যাপা ষাঁড়ের পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তোলা রীতিমতো প্রথা হয়ে গেছে। কেউ কেউ আবার ছবি তুলতে এর পিঠেও চড়ে বসছেন। ইন্টারনেটে ‘দ্য গার্ডিয়ান’–এর খোঁজ করে জানা গেল, যুক্তরাজ্যের যেসব স্থাপনার সামনে দাঁড়িয়ে মানুষ সবচেয়ে বেশি ছবি তোলে, এটি তার মধ্যে তৃতীয়। এর আগে আছে শুধু পার্লামেন্ট হাউস এবং লন্ডন আই।
সিটি সেন্টারে খ্যাপা ষাঁড় কেন, সেটি ব্রোঞ্জের ওই ষাঁড়-মূর্তি দেখার পর থেকেই মনে উঁকি দিচ্ছিল। ইন্টারনেটে ঘেঁটে আর স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে যা বোঝা গেল তার সারমর্ম, সিটি সেন্টার এলাকাটি বহু বছর আগে ছিল ভুট্টার বাজার। এর ঠিক মাঝখানের ময়দানে হতো ষাঁড়ের লড়াই। খেপিয়ে তোলা ষাঁড়ের নাকে একপর্যায়ে লোহার রিং পরিয়ে বশে এনে সেটাকে জবাই করা হতো। সে ইতিহাসকে ধরে রাখতেই ২০০৩ সালে ওখানে বসানো হয় বিশালাকৃতির ব্রোঞ্জের ষাঁড়, যেটি এখন বার্মিংহামেরই ট্রেডমার্ক হয়ে গেছে। বুলরিং শপিং মল নামকরণও সে কারণেই।
খ্যাপা ষাঁড়ের শহরে যখন এসেই পড়েছেন, ব্যবসা নগরী বার্মিংহামের কোলাহল থেকে দূরে গিয়েও নিশ্চয়ই লড়াইয়ের ঘ্রাণ নাকে লেগেছে মাশরাফির। বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচটা তো শুধু বাংলাদেশের জন্য বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের পথ পরিষ্কারেরই উপলক্ষ নয়, গত কয়েক বছরে হয়ে ওঠা উপমহাদেশের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর ক্রিকেটযুদ্ধও।
বাংলাদেশ, ভারত কে কার নাকে রিং পরিয়ে প্রতিপক্ষকে মাটিতে নামায়, আপাতত সেটি দেখারই রোমাঞ্চকর অপেক্ষায় আছে খ্যাপা ষাঁড়ের শহর বার্মিংহাম।
বার্মিংহামে টিম হোটেলের বাইরে ঘুরে বেরোনোর এক ফাঁকে মাশরাফি। ছবি: প্রথম আলো

বৃক্ষমেলায় চার কেজির আম, লাখ টাকার ক্যাকটাস

স্টলে ক্যাকটাস দেখছেন দুই দর্শনার্থী
দুপুরের রোদে সবুজ পাতার মধ্যে লাল করমচাগুলো চকচক করছে। যেন সবুজের মাঝে সিঁদুর লাল বিন্দু! গাছে গাছে ধরে আছে আম, জাম, আলুবোখারা, লাল শরিফা, জামরুল, লটকন। আছে আনারসও।
আগারগাঁওয়ে বৃক্ষমেলায় গেলে দেখা মিলবে এমন দৃশ্যের। মেলার এমন সবুজ পরিবেশ টানছেও দর্শনার্থীদের। বিক্রেতারা বললেন, ইট-পাথরের বহুতল জঙ্গলের মধ্যে একটু প্রশান্তি পেতে অনেকে যেখানে পারছে, সেখানে গাছ লাগাচ্ছে। এ কারণে গাছ কিনতে প্রচুর মানুষ আসছে মেলায়। দেখতেও আসছে অনেকে।
আগারগাঁওয়ে বাণিজ্য মেলার মাঠে গত ২০ জুন বৃহস্পতিবার জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা শুরু হয়। আগামী ১৯ জুলাই পর্যন্ত এ মেলা চলবে। মেলায় ১০৪টি স্টলে নানা প্রজাতির ফুল, ফল, ওষধি, শোভাবর্ধনকারী গাছ বিক্রি হচ্ছে। আরও আছে গাছ লাগানোর ও পরিচর্যার সরঞ্জাম, বই, ফুলের টব, বীজ, সার। কেউ কেউ গাছ লাগানোর মাটিও বিক্রি করছেন।
মেলায় গ্রিন ওয়ার্ল্ড নার্সারির মো. তোরাব হোসেন বলেন, ঘরের সৌন্দর্য বাড়ানোর জন্য অনেকে এখন ইনডোর প্ল্যান্ট কেনেন। এসব গাছ শীতাতপনিয়ন্ত্রিত কক্ষে রাখা যায়। পানি দিতে হয় কম। দাম এক শ থেকে পাঁচ হাজার টাকার মধ্যে।
বৃক্ষমেলার পরিবেশ অন্য মেলার চেয়ে আলাদা বলে বন্ধুদের নিয়ে দল বেঁধে এসেছেন কলেজছাত্রী যারিন তাসনিম। তিনি বললেন, বৃক্ষমেলার পরিবেশই অন্য রকম। বন্ধুদের নিয়ে বেড়াতে ও গাছ কিনতে এসেছেন তাঁরা।
মেলা ঘুরে দেখা যায় প্রচুর বিদেশি গাছ। থাই শোভাবর্ধনকারী এলেরিয়াগাছ দেখতে দেশি আলুপাতার মতো। বৃক্ষমেলায় আছে থাইল্যান্ডের গ্রাফটিং করা থাই আম ‘ই টু আর টু’। আছে চার কেজি ওজনের আম ‘ফোর কেজি’। বিদেশি ‘গোল্ডেন বল’ ক্যাকটাসের দাম লাখ টাকার মতো। আরও আছে থাইল্যান্ড থেকে আনা ক্যাকটাস। বিক্রেতারা জানান, এগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ এবং যত্নে খরচ বেশি, তাই দামও বেশি।
মেলা ঘুরে দেখা যায়, মা-বাবার সঙ্গে শিশুরাও এসেছে। তারা বেশ আগ্রহ নিয়েই বিভিন্ন ধরনের গাছ দেখছে। গাছের ঝুলে থাকা ফল তাদের আনন্দ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
মেলায় দেখা গেছে, মালয়েশিয়ার মিল্ক কোকোনাট, গন্ধযুক্ত সাদা রঙের অ্যারোমেটিক জুঁই, মিসরীয় ডুমুর, থাই সফেদা, থাই পদ্ম, আমাজন লিলি, প্যারাডাইস, পয়েন, সৌদি খেজুরগাছ, গোল্ডেন বোতলব্রাশ আরও অসংখ্য রকমের গাছ। আছে পিচ, ডেউয়া, হানি ডিউ, চায়নিজ মাল্টা, থাই শসা। আরও আছে হরেক রকমের লতা ও গুল্মজাতীয় গাছ। হরেক রঙের এবং দামের ক্যাকটাস, অর্কিড, ঔষধি গাছ মিলবে মেলায়। আছে ঝুমকোলতা (থাই ফ্যাশন ফ্লাওয়ার), জুঁই, কামিনী, ক্যামেলিয়া ফুলের গাছ। ফলের মধ্যে আছে আমলকী, পেয়ারা, লেবু, জাম্বুরা, আমড়া, কামরাঙাসহ হরেক রকমের দেশি-বিদেশি ফল। এগুলোর দাম শুরু হয়েছে ১০০ টাকা থেকে। তবে যেসব গাছে ফল ধরেনি, সেগুলোর দাম আরেকটু কম।
বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) স্টলে আছে বিলুপ্তপ্রায় নাগলিঙ্গম, মহুয়া, পলাশের চারাগাছ। মেলায় পাওয়া যাচ্ছে সাওয়ারসপ (টক আতা), গাইনুরা, মিসরীয় ডুমুর, ভ্যানিলা অর্কিড, নীল গাছ, চুইঝালগাছ, জয়তুনগাছ (জলপাই)। এগুলোর পাশাপাশি বিভিন্ন দেশি জাতের আমগাছের চারা পাওয়া যাচ্ছে। ঘাসও কেনা যাবে মেলা থেকে।
নিজের ফ্ল্যাটের বারান্দায় ছোট মসলার বাগান করবেন আশা বারী। নিজের ছোট্ট সন্তানকেও এই কাজে যুক্ত করবেন। তার জন্য বিভিন্ন ধরনের মসলার গাছের চারা কিনছেন। একটি মসলার গাছ কিনবেন বলে দরদাম করছেন। লিভিং আর্ট নামের একটি স্টলে সালমা শিরিন সেই গাছের দাম হাঁকছেন। সালমা শিরিন জানালেন, এই গাছের পাতা যেকোনো মাংস রান্নার সময় ছিঁড়ে দিলে তা মসলার কাজ করবে।
মেলায় আছে মডেল সুন্দরবন। ‘সুন্দরবন কর্নার’ নামের ওই মডেল বন তৈরি করেছে বন বিভাগ। সেখানে বটগাছে ঝুলছে মাটির বানর। আরও আছে মাটির তৈরি বাঘ, চিত্রাহরিণ, কুমির ও বক। আছে কৃত্রিম নদীও। নদীর পাড়ে নৌকায় রাখা শুকনো গোলপাতার ডাল।
গত ২২ জুন শনিবার মেলায় গাছ কিনতে আসা মানুষের বেশ ভিড় দেখা গেছে। দর্শনার্থীদের প্রায় সবাইকে এক বা একাধিক গাছের চারা নিয়ে মেলা থেকে বের হতে দেখা যায়।
বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক শ্যামল কুমার ঘোষ জানান, মেলার প্রথম দিনে ১৪ হাজার ২২৮টি চারা বিক্রি হয়েছে ২২ লাখ ২৮ হাজার ৫০২ টাকায়।

ইরানে হামলার নির্দেশ দিয়েও প্রত্যাহার: কী হয়েছিল সেদিন?

তিনি জেনারেলদের কথা শুনলেন। তিনি কূটনীতিকদের কথা শুনলেন। এগিয়ে এলেন কংগ্রেস নেতারা। উপদেষ্টারাও পরামর্শ দিলেন। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প যার পরামর্শ শেষতক কানে নিলেন, তিনি আর কেউ নন, প্রেসিডেন্টের অন্যতম প্রিয় টিভি উপস্থাপক ফক্স নিউজের টাকার কার্লসন। ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের মত ছিল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা চালানো হোক। কিন্তু কার্লসন তার আগেই ট্রাম্পকে বলে রেখেছেন, তেহরানের উস্কানির বিপরীতে শক্তি প্রয়োগ পাগলামো বৈ কিছু হবে না। তিনি প্রেসিডেন্টকে আরো বলেছেন, যেই উগ্রপন্থিরা তাকে ইরানের ওপর হামলা করতে বলছে, তারা প্রেসিডেন্টের স্বার্থ দেখছে না।
কার্লসন ট্রাম্পকে এমনও বলেছেন যে, যদি সত্যি সত্যি তিনি ইরানের ওপর হামলা চালান, তাহলে নিজের পুনঃনির্বাচনের স্বপ্ন দেখা বাদ দিতে পারেন।
কার্লসনের উপদেশ কতটা কাজে লেগেছে বলা কঠিন। তবে ইরানে হামলা করা নিয়ে ট্রাম্পের নিজের মধ্যেও সংশয় ছিল। প্রেসিডেন্টের নিজের বক্তব্য অনুযায়ী, মাত্র ১০ মিনিট বাদেই তারই নির্দেশে ইরানে হামলা চালাতে প্রস্তুত হয়েছিল সব কিছু। কিন্তু শেষ অবধি এই হামলায় প্রায় ১৫০ জন মানুষ নিহত হতে পারে জেনে তিনি এই হামলা না চালানোর নির্দেশ দেন।
ব্যক্তি হিসেবে ট্রাম্পকে যতটাই আক্রমণাত্মক দেখাক, ট্রাম্প বেশ কয়েকবারই শক্তি প্রয়োগ করা থেকে বিরত থেকেছেন। তিনি মনে করেন, মধ্যপ্রাচ্যে উদ্দেশ্যহীন যুদ্ধে প্রচুর অর্থ আর মানুষের জীবন হারিয়েছে আমেরিকা। নিজের পূর্বসূরিদের ভুল আর পুনরাবৃত্তি করতে চান না তিনি।
টাকার কার্লসন সহ ইরান যুদ্ধ নিয়ে সংশয়বাদীরা মনে করেন, ইরানে হামলা চালানো হলে তাতে কোনো সহজ বিজয় তো আসবেই না, বরং এটি দ্রুতই একটি পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে রূপ নিতে পারে। নিজের নির্বাচনী প্রচারাভিযানে যুদ্ধের বিরুদ্ধে এত প্রতিশ্রুতি দিয়ে ফের নয়া এক যুদ্ধে লিপ্ত হওয়াটা হবে জনগণের কাছে দেয়া প্রতিশ্রুতির বরখেলাপ। সুতরাং, সন্ধ্যা নাগাদ যদিও দেশের শক্তিমত্তার জানান দিতে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নিতে অঙ্গীকার করেছিলেন ট্রাম্প, শেষ অবধি তিনি সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন। তিনি যুদ্ধবিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চারকে নিষ্ক্রিয় করার নির্দেশ দেন।
মার্কিন সিনেটের ফরেন রিলেশন্স কমিটির চেয়ারম্যান সিনেটর জিম রিশ বলেন, ‘যারা সামরিক পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসায় প্রেসিডেন্টের সমালোচনা করতে চান, আমি তাদের বলতে চাই, নিজেদের ভাগ্যবান ভাবুন। কেননা, আপনাকে সেই সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে না। আমি তাকে দেখেছি, তিনি এ নিয়ে কতটা ভয়াবহ অবস্থায় ছিলেন।’
কীভাবে ট্রাম্প একটি বিদেশি রাষ্ট্রে হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত নিলেন এবং পরবর্তীতে তা বাতিল করলেন, তার পূর্ণ কাহিনীর অনেকটাই রহস্যে ঘেরা। যারা সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট ছিলেন, তারাও এমনকি জানেন না কী হয়েছে। হামলার সিদ্ধান্ত যেদিন নেয়া হচ্ছিল, সেদিন শাসক দল ও সরকারের পক্ষ থেকে হামলা নিয়ে সাংঘর্ষিক বক্তব্য আসছিল। কিন্তু হোয়াইট হাউস থেকে কারও বক্তব্যের পক্ষে-বিপক্ষে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
কিন্তু একটি বিষয় সপষ্ট। আর তা হলো, পূর্বসূরি প্রেসিডেন্টদের চেয়ে ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া অনেকটাই আলাদা। এমনকি দেশের সর্বাধিনায়ক হিসেবে সবচেয়ে কঠিনতম সিদ্ধান্তটি গ্রহণের ক্ষেত্রেও তিনি ব্যতিক্রমী।
সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে কোনো প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার চেয়ে তিনি নিজের মনের সহজাত প্রবৃত্তির ওপরই বেশি জোর দেন। পুরো কক্ষভর্তি উপদেষ্টাদের বক্তব্য আমলে না নিয়ে একেবারেই ভিন্নজগতের মানুষের কাছে পরামর্শ চান। প্রায় ছয় মাস ধরে স্থায়ী কোনো প্রতিরক্ষামন্ত্রী নেই তার। ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রীও এই সপ্তাহে পদত্যাগ করেছেন। আর তার যেসব উপদেষ্টারা আছেন, তারা একে অপরকে টেক্কা দিতেই বেশি ব্যস্ত।
ইরানের কাছ থেকে বেশ কয়েকবার উস্কানি এলেও ট্রাম্প সামরিক প্রতিক্রিয়া দেখানোর ব্যাপারে নিরুৎসাহী ছিলেন। কিন্তু বৃহসপতিবার সকালে তার ঘুম ভাঙলো ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে আমেরিকান গোয়েন্দা ড্রোন বিধ্বংসের খবরে। সকাল ৭টা বাজেই হোয়াইট হাউসে সকালের নাস্তা করতে উপস্থিত ট্রাম্পের উগ্রপন্থি জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন। সঙ্গে ছিলেন ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্যাট্রিক শানাহান, যিনি তিন দিন আগে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছিলেন। আরো ছিলেন সেনা সচিব মার্ক টি এসপার যিনি শানাহানের স্থলে বসতে যাচ্ছেন। পাশাপাশি ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফসের চেয়ারম্যান জেনারেল জোসেফ এফ ডানফোর্ড জুনিয়র। তারা নিজেরাও ড্রোন কাণ্ড নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রেসিডেন্টকে সম্ভাব্য সামরিক হামলার নির্দেশ দেয়ার সুপারিশ করবেন। সকাল ১১টায় প্রেসিডেন্টের সামনে হামলার বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে হাজির হন তারা। সঙ্গে ছিলেন অন্যান্য জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তারা। সেই সভাতেই সম্ভাব্য হতাহতের সংখ্যা নিয়েও আলোচনা হয়। কিন্তু আগের মতোই, তখনও ট্রাম্প নিজের দলের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল হননি। এর বাইরে তিনি নিজের ঘনিষ্ঠ মিত্র সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের সঙ্গে আলোচনা করেন। গ্রাহামও তাকে সামরিক প্রতিক্রিয়ার বিষয়টি বিবেচনার পরামর্শ দেন। বিকাল ৩টায় হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন কক্ষে উভয় দলীয় কংগ্রেস নেতাদের সঙ্গে ট্রাম্প আলোচনা করেন এবং পরিস্থিতি সম্পর্কে তাদের অবহিত করেন। সেই বৈঠকে উপস্থিত কয়েকজন বলেছেন যে, তাদের মনে হয়েছিল প্রেসিডেন্ট হামলার নির্দেশ দেবেন।
উপসাগরীয় অঞ্চলে ট্যাংকারে হামলার পর থেকেই এই মাসজুড়ে ইরানের ওপর হামলার বিভিন্ন পন্থা নিয়ে কমপক্ষে এক ডজন বিকল্প প্রস্তুত রাখা হয়। সেখান থেকে আলোচনা করে দুইটি বিকল্প বিবেচনা করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী, টার্গেটের মধ্যে ছিল ইরানের রাডার ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। শুক্রবার প্রেসিডেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা দল সর্বসম্মতিক্রমে হামলার পক্ষে ছিল। তারা সকলেই চূড়ান্ত বিকল্প প্রেসিডেন্টের কাছে সুপারিশ করার সিদ্ধান্ত নেন। তবে জয়েন্ট চিফস অব স্টাফসের চেয়ারম্যান জেনারেল ডানফোর্ডই প্রথম সতর্কতা উচ্চারণ করেন। তিনি বলেন, হামলার কারণে মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকান বাহিনী ও মিত্রদের ওপর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। সন্ধ্যা ৬টায় পেন্টাগনে শানাহানের কার্যালয়ের বৈঠকে, যেখানে জেনারেল ডানফোর্ডও উপস্থিত ছিলেন সেখানে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী পম্পেও নিজের বক্তব্যে বলেন, ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে সেখানে তীব্র প্রভাব পড়ছে। তিনি সুনির্দিষ্ট সামরিক হামলার পক্ষে থাকলেও, তার মতে, নিষেধাজ্ঞার ফলে ইরানের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ছে, যেমনটা মার্কিন প্রশাসন প্রত্যাশা করেছিল। ট্রাম্পের সহযোগীদের কেউ কেউ উদ্বিগ্ন ছিলেন, যেই কৌশল কাজ করছে, সেটি আবার হামলার কারণে অকার্যকর হয়ে যায় কিনা। সন্ধ্যা ৭টায় সামরিক কর্মকর্তাদের জানানো হয়, হামলা চালানো হবে রাত ৯টা-১০টার মধ্যে। অথবা ইরানে সূর্যোদয়ের একটু আগে। কিন্তু আর এক ঘণ্টার মধ্যেই সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়। টুইটার মন্তব্যে ও এনবিসি নিউজকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প অবশ্য সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের কারণ হিসেবে মানুষের প্রাণহানি এড়ানোর ইচ্ছাকেই তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, আমি জেনারেলদের বললাম, হামলার আগে আমি কিছু বিষয় জানতে চাই। এই হামলায় কতজন মারা যাবে? জেনারেলরা জবাব দেন প্রায় ১৫০ জন মারা যাবে। ট্রাম্পের ভাষ্য, ‘আমি বিষয়টা নিয়ে এক সেকেন্ড ভাবলাম। তারপর বললাম, তারা একটি মনুষ্যবিহীন ড্রোন ভূপাতিত করেছে। কিন্তু আর মাত্র আধা ঘণ্টা পর ১৫০ জন মানুষ সে কারণে মারা যাবে। আমার এটা পছন্দ হয়নি। আমার মনে হয়নি, এটি আনুপাতিক প্রতিক্রিয়া হবে।’
তবে একজন কর্মকর্তা অবশ্য বলেছেন, ১৫০ জন মারা যাওয়ার বিষয়টি কোনো জেনারেল দেননি, দিয়েছেন একজন আইনজীবী। ওই কর্মকর্তা বলেন, সবচেয়ে ভয়ঙ্কর পরিস্থিতিতে হতাহত কেমন হবে তার খসড়া করেছিলেন পেন্টাগনের আইনজীবীরা। হামলা দিনে হবে নাকি সূর্যোদয়ের আগে হবে, তা এখানে আমলে নেয়া হয়নি। দিনে হলে মানুষ মারা যাবে বেশি, কিন্তু গভীর রাতে বা সূর্যোদয়ের আগে কম মারা যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এই হতাহতের সম্ভাব্য সংখ্যা ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী বা জেনারেল ডানফোর্ডের সঙ্গে আলোচনা না করেই প্রেসিডেন্টকে দেয়া হয়। আর তখনই তিনি সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন।
ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত সাবেক সেনা ভাইস চেয়ারম্যান জেনারেল জ্যাক কিয়েন বলেন, আরেকটি প্রসঙ্গও এখানে এসেছিল। প্রেসিডেন্টকে বলা হয়েছিল, ড্রোন হামলা আসলে ইরান ভুল করে চালিয়েছিল। ট্রাম্প নিজেও প্রকাশ্যে এমনটা হওয়ার কথা বলেছেন সেদিন। জেনারেল কিয়েন বলেন, প্রেসিডেন্ট কিছু তথ্য পেয়েছেন যে, ইরানের যেই কমান্ডার ওই ড্রোন ভূপাতিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, তার ওপর জাতীয় নেতারা অনেকেই হতাশ ও ক্ষুব্ধ ছিলেন। বিশেষ করে ইরানের অভিজাত কুদস ফোর্সের ক্ষমতাবান কমান্ডার কাশিম সোলেমানিও ক্ষুব্ধ হন।
জেনারেল কিয়েনের মতে, ইরান ভুল করেছে, তা জেনে প্রেসিডেন্ট হামলার সিদ্ধান্ত বাতিল করেছেন, তা নয়। তবে এটি তার সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব ফেলেছে। প্রেসিডেন্ট বেশি উদ্বিগ্ন ছিলেন হতাহতের সংখ্যা নিয়ে।
(নিউ ইয়র্ক টাইমসে ‘আর্জড টু লঞ্চ অ্যান অ্যাটাক, ট্রাম্প লিসেনড টু দ্য স্কেপটিকস হু সেইড ইট উড বি অ্যা কস্টলি মিসটেইক’ শীর্ষক প্রতিবেদনের সংক্ষিপ্ত অনুবাদ।)

আসামের কামাখ্যা মন্দিরে নরবলি হচ্ছে!

১৯শে জুন আসামের গুয়াহাটির কামাখ্যা মন্দিরের পাশে এক নারীর মাথাকাটা দেহ পাওয়া গেছে। অনেকে আশঙ্কা করছেন ‘নরবলি’র নৃশংস প্রথার শিকার হয়েছিলেন ওই নারী। ঘটনাটি খতিয়ে দেখছে স্থানীয় পুলিশ। শহরের পুলিশ কমিশনার দীপক কুমার বলেন, হত্যাকান্ডটি দেখে মনে হচ্ছে এর পেছনে কুসংস্কার কাজ করেছে। অন্তত ঘটনাস্থল তেমনটাই ইঙ্গিত দেয়। সবকিছু ঠিকঠাক সাজানো ছিল; মৃত নারীর দেহ একটি চাদরে মোড়ানো ছিল আর তার পাশে ছিল এক বোতল পানি ও পূজার অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র।
দ্য স্ক্রল ডট ইন জানিয়েছে, কামাখ্যা মন্দির আগে থেকেই নানাকারণে বিতর্কিত। স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়, তান্ত্রিক চর্চার জন্য বেশ পরিচিত মন্দিরটি।
এসব চর্চার সঙ্গে প্রায়ই জুড়ে দেয়া হয় নরবলির কথা। তাই নতুন এই ঘটনা স্থানীয়দের মনে নরবলি হিসেবে বেশ মজবুত হয়ে উঠেছে। এমনকি হত্যার সময় বিবেচনাতেও এটি নরবলি হিসেবেই ইঙ্গিত দেয়। মন্দিরের দিনপঞ্জিকার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উৎসব ‘আম্বুবাচি মেলা’র ঠিক আগ দিয়ে খুন হয়েছেন ওই নারী। তার পাশে সাজিয়ে রাখা হয়েছে পূজার প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র। উল্লেখ্য, আম্বুবাচি মেলায় ওই মন্দিরে যোগ দেন অগণিত পূজারি ও সন্যাসী। এটি একটি বার্ষিক মেলা। দেবি কামাখ্যার ঋতুস্রাবের সময়কে উদযাপন করতে এর আয়োজন করা হয়। প্রচলিত ধারণা অনুসারে, বছরের এই সময়েই ঋতুস্রাব হয়ে থাকে দেবি কামাখ্যার। ওই সময় পুরো মন্দির বন্ধ করে রাখা হয়। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুসারে, দেবি কামাখ্যা তখন অপবিত্র থাকেন। অপর এক বিশ্বাস অনুসারে, দেবির ঋতুস্রাবের অপবিত্র রক্ত হচ্ছে জীবন ও জীবনীশক্তির অগ্রদূত। বন্ধ থাকার পর মন্দিরটি যখন ফের খুলে দেয়া হয় তখন দেবির পূজারিদের মধ্যে লাল কাপড় বিতরণ করা হয়। কাপড়টি দেবির রক্তের নিদর্শন হিসেবে দেখা হয়। সাধারণত তিন দিন পরই মন্দির খুলে দেয়া হয়। মন্দির কর্তৃপক্ষ জানায়, নরবলি কখনোই আম্বুবাচি মেলার অংশ ছিল না। মন্দিরটি পরিচালনা করেন ‘কামাখ্যা বরদেউরি সমাজ’ নামের একটি পারিবারিক দাতব্য সংস্থার সদস্যরা। দাতব্য সংস্থাটির এক সদস্য রাজিব শর্মা বলেন, বহু বছর ধরে কোনো নরবলির ঘটনা ঘটেনি। আগে কেবল দুর্গা পূজার সময় নরবলি দেয়া হতো।
ইতিহাস আর পুরা কথা
রাজিবের সঙ্গে একমত প্রকাশ করেন ‘কামাখ্যা: অ্যা সোশিও-কালচারাল স্টাডি’র লেখক নিহার রঞ্জন মিশরা। তিনি বলেন, কিছু লেখায় নরবলির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই চর্চা বহু আগেই থেমে গেছে। এ বিষয়ে ঐতিহাসিক নথিপত্রগুলোর স্পষ্ট করে কিছু লেখা নেই। তবে তার ধারণা, ১৫ শতাব্দীর দিকেই বন্ধ হয়ে গেছে নরবলি। কিন্তু সেটা নিশ্চিত করে বলা যাবে না।
এদিকে, অনেক মন্দির গবেষকরা দাবি করেন যে, কামাখ্যা মন্দিরে কখনোই নরবলি দেয়া হয়নি। গবেষক সুরিয়া দাস বলেন, ঐতিহাসিক নথিপত্র অনুসারে, কামাখ্যায় নরবলি দেয়ার কোনো প্রমাণ নেই। যদিও ‘কলিকা পুরাণ’-এ এমনটা উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু সেটি আধা-ইতিহাস। প্রসঙ্গত, কলিকা পুরাণ হচ্ছে হিন্দু ধর্মের দেবিকেন্দ্রিক শাক্ত প্রথার ১৮টি উপপুরাণের মধ্যে একটি। ওই পুরাণের ওপর ভিত্তি করে কামাখ্যা মন্দিরের অনেক ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করা হয়। পুরাণের একটি পঙ্ক্তি হচ্ছে- যখন কোনো মানুষকে বলি দেয়া হয়, দেবি ১০০০ বছরের জন্য তুষ্ট থাকে, আর যখন তিনটি নরবলি দেয়া হয় তখন দেবি ১ লাখ বছর পর্যন্ত তুষ্ট থাকে।
কিন্তু দাস জানান, কামাখ্যা মন্দিরে ওই পঙ্ক্তি কখনোই আক্ষরিকভাবে নেয়া হয়নি। সেখানে মানুষের বদলে ময়দা ও আটার তৈরি প্রতিমূর্তি ব্যবহার করা হতো। হয়তো তেমনটা এখনো হয়। কিন্তু মন্দিরের সব কাজকর্ম এত গোপনীয়তা আর রহস্যে ঢাকা যে, নিশ্চিত করে কিছু বলা কঠিন।
নরবলির অন্যান্য স্থান
আসামের বিভিন্ন মন্দিরে নরবলির চর্চা হয়েছিল বলে গুঞ্জন শোনা যায়। কিন্তু সেগুলোর মূল জায়গা কামাখ্যা মন্দির ছিল না। ঐতিহাসিক নথিপত্র অনুসারে, কামাখ্যার চেয়ে তাম্রেশ্বরি মন্দিরে নরবলির চর্চা ছিল নিয়মিত। চুতিয়া রাজবংশের আমলে মন্দিরটি স্থাপিত হয়। পরবর্তীতে ১৭৮০ সালের দিকে আহম রাজবংশ চুতিয়াদের পরাজিত করলে নরবলির চর্চা বন্ধ হয় সে মন্দিরেও। এখন সেটি প্রায় ধ্বংসের মুখে।
অপরাধ ঢাকতে সাজানো নরবলি
এদিকে, রাজিব শর্মার ধারণা, সাম্প্রতিক খুনটি কোনো নরবলি নয়, বরং পুলিশ ভুল পথে পরিচালিত করতে নরবলির মতো সাজানো হয়েছে। মন্দির বিষয়ক গবেষক অবন্তিকা পারাশার বলেন, দেখে মনে হচ্ছে এটা কোনো ভ-ের কাজ। কলিকা পুরাণের বরাত দিয়ে তিনি বলেন যে, কোনো নরবলি গ্রহণযোগ্য হওয়ার জন্য সেটি কোনো দাগহীন তরুণ যুবকের হতে হবে। খুব সম্ভবত এটি কোনো যৌন হামলা ও খুনের অপরাধ ঢাকার চেষ্টা।

১৭ জুলাই কূলভূষণ যাদব মামলার রায় শোনাবে আন্তর্জাতিক আদালত

১৭ জুলাই ভারতীয় নাগরিক কূলভূষণ যাদব মামলায় আন্তর্জাতিক আদালতে  রায়দানের সম্ভাবনা। কূলভূষণকে এর আগে মৃত্যুদণ্ডের নির্দেশ দেয় পাকিস্তানের সামরিক আদালত। অবসরপ্রাপ্ত ভারতীয় নৌসেনা আধিকারিক কূলভূষণ যাদবকে ২০১৭ সালের এপ্রিল মাসে গুপ্তচরবৃত্তি এবং সন্ত্রাসের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডের সাজা শোনায় পাকিস্তানের সামরিক আদালত। এরই বিরুদ্ধে ২০১৭ সালের মে মাসে আন্তর্জাতিক আদালতে আবেদন করে ভারত। পাশাপাশি কূলভূষণ যাদবের কনস্যুলার অ্যাক্সেস দিচ্ছে না পাকিস্তান, এই আবেদনও করা হয় আন্তর্জাতিক আদালতে। পাকিস্তানের সামরিক আদালতের রায়কে ভারত চ্যালেঞ্জ জানানোয় আন্তর্জাতিক আদালতের পক্ষ থেকে এই মামলা শেষ না হওয়া পর্যন্ত ৪৮ বছরের কূলভূষণ যাদবের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে এই মামলায় টানা চারদিনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়, যার মধ্যে ভারত ও পাকিস্তান উভয়ই তাদের বিস্তারিত আবেদন এবং প্রতিক্রিয়া জমা দেয়।
ভারতের পক্ষ থেকে গুরুত্বপূর্ণ দুটি বিষয় তুলে ধরা হয়, একটি হল রেজ্যোলিউশন প্রক্রিয়া ও অন্যটি হল ভিয়েনা চুক্তি লঙ্ঘন করে কনস্যুলার অ্যাক্সেস দিচ্ছে না পাকিস্তান।
আন্তর্জাতিক আদালতে ভারতীয় আইনজীবী কূলভূষণের মৃত্যুদণ্ড বাতিল করতে ও তার অবিলম্বে মুক্তি দাবি জানিয়ে বলেন, পাকিস্তানি সামরিক আদালতের রায় সম্পূর্ণ “ক্ষয়ক্ষতির মামলার” উপর ভিত্তি করে করা হয়েছিল এবং এটি যথাযথ প্রক্রিয়ার ন্যূনতম মান পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছিল।
পাকিস্তানের পক্ষ থেকে অভিযোগ করে বলা হয় ওই ভারতীয় নৌবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত আধিকারিক আসলে “গুপ্তচর’, কোনো ব্যবসায়িক উদ্দেশ্য নিয়ে তিনি সেদেশে যান নি।পাকিস্তান দাবি করে যে, ২০১৬ সালের ৩ মার্চ বালুচিস্তান প্রদেশ থেকে গ্রেফতার করে পাক নিরাপত্তারক্ষীরা, এবং কূলভূষণ যাদব  ইরান থেকে তাঁদের দেশে প্রবেশ করেন বলে জানানো হয়।
যদিও ভারত  দাবি করে যে নৌবাহিনীর থেকে অবসর নেওয়ার পর ব্যবসায়িক প্রয়োজনে তিনি ইরান গিয়েছিলেন। সেখান থেকেই তাঁকে অপহরণ করা হয় বলেও দাবি করেন ভারতীয় আইনজীবী।কূলভূষণ যাদবের এই ঘটনায় ভারতে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে বলেও আন্তর্জাতিক আদালতকে জানান তিনি।
আন্তর্জাতিক আদালতে দাঁড়িয়েই ভারতের কূলভূষণ যাদবের জন্যে ভারতের করা কনস্যুলার অ্যাক্সেসের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে পাকিস্তান। তাঁরা  দাবি করে যে এর মাধ্যমে আসলে নয়া দিল্লি “গুপ্তচর” কূলভূষণের দ্বারা সংগৃহীত তথ্য পেতে চায়।

বাংলাদেশের জন্য সুযোগ নিয়ে এসেছে সামার দাভোস by মোঃ এনামুল হাসান

বাংলাদেশ সাম্প্রতিককালে অসামান্য অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে, এবং এখন ২০২১ সালের মধ্যে মাঝারি আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার একটা সুযোগ তৈরি হয়েছে। এমনকি ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশের পর্যায়ে যাওয়ার স্বপ্নও দেখতে পারে তারা।
যদিও বিভিন্ন খাতে বিপুল অগ্রগতি অর্জন করেছে তারা, কিন্তু স্বপ্ন সত্য করার জন্য এখনও তাদের বহু পথ পাড়ি দিতে হবে। বিশ্বায়নের যুগে বাকি পৃথিবীর সাথে বহু চ্যালেঞ্জকে জয় করতে হবে তাদের।
প্রথমত, বিভিন্ন খাতে বাংলাদেশকে তাদের বৈশ্বিক সহযোগিতার মাত্রাকে আরও শক্তিশালী করতে হবে এবং অভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় অন্যান্য দেশের অভিজ্ঞতা থেকে শিখতে হবে।
ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের অ্যানুয়াল মিটিং অব দ্য নিউ চ্যাম্পিয়ন্স বা সামার দাভোস ফোরাম এখন অনুষ্ঠিত হচ্ছে চীনের উত্তরপূর্বাঞ্চলের লিয়াওনিং প্রদেশের ডালিয়ান শহরে। এটা একটা কার্যকর বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশ যেখানে তাদের অভিজ্ঞতা বিনিময় করতে পারে এবং বিশ্বের সাথে ব্যাপকভিত্তিক সহযোগিতা গড়ে তুলতে পারে।
বাংলাদেশের জনগণ মনে করছে, এই বৈঠক তাদের দেশের জন্য বড় সুযোগ নিয়ে এসেছে। এই ফোরামে বিশ্বের শতাধিক দেশের প্রায় ১৯০০ রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, স্কলার ও মিডিয়া প্রতিনিধিরা তাদের অভিজ্ঞতা বিনিময় করবেন এবং নতুন যুগে বিশ্বায়নের চ্যালেঞ্জগুলোর সমাধান খুঁজবেন।
এই ফোরামে যেহেতু অসামান্য প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ, বৈশ্বিক উষ্ণতা, ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, এবং বৈষম্য বৃদ্ধির মতো অভিন্ন বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে আলোচনা হবে, বাংলাদেশের তাই এখান থেকে অনেক কিছু শেখার রয়েছে।
এটা মাথায় রেখেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিভিন্ন খাতের ১০০ জন প্রতিনিধি দল নিয়ে এতে অংশ নিচ্ছেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর শেখ হাসিনা ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা ও এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান ক্লাউস শোয়াবের সাথে বৈঠক করেন। “কোঅপারেশান ইন দ্য প্যাসিফিক রিম” শীর্ষক এক প্যানেল আলোচনাতেও অংশ নেন তিনি।
বর্তমান সরকারের ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ শ্লোগানের অধীনে বাংলাদেশ ডিজিটালাইজেশানের ব্যাপারে ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জন করেছে। বিশ্বে এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ একটি রোল মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং ফোর্থ ইন্ডাস্ট্রিয়াল রেভল্যুশানের দ্রুত উত্থানের কারণে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।
সে কারণে সামার দাভোস বাংলাদেশের জন্য একটা সুবর্ণ সুযোগ হতে পারে কারণ এই ফোরামে এই ইস্যুতে সমাধান খোঁজার চেষ্টা করা হবে। এই বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মটি বাংলাদেশের জন্য একটি কার্যকর অস্ত্র হতে পারে যেটার মাধ্যমে প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় যুক্ত হয়ে প্রযুক্তিগত বিপ্লবের ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ অর্জন করতে পারে বাংলাদেশ এবং এর মাধ্যমে মানসম্পন্ন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে আগামীকে এগিয়ে নিতে পারে।
এই ফোরাম থেকে অর্জনের ব্যাপারে বাংলাদেশীরা আশাবাদী যেখানে বিভিন্ন অধিবেশনে ৫জি উন্নয়ন, পরিবেশ বিপর্যয়, পরবর্তী আর্থিক সঙ্কট সামলানো, বৈশ্বিক বাণিজ্যের উপর কর আরোপের উপায়, ও স্বচ্ছ অর্থ লেনদেনের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
এই বিষয়গুলো সবই কম বেশি বাংলাদেশের সাথে যুক্ত এবং এখানে যে কোন সমাধান থেকে বাংলাদেশ উপকৃত হতে পারবে। এই ফোরাম থেকে বাংলাদেশ আরও যেটা শেখার সুযোগ পেয়েছে, সেটা হলো নতুন বিশ্বায়নের যুগে কিভাবে অংশগ্রহণকারী ও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে মত ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে সাফল্য অর্জন করা যায় এবং এর মাধ্যমে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে এগিয়ে নেয়া যায়।

বাড়ছে খুন-ধর্ষণ-পৈশাচিকতা : দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়াকে দায়ী করছেন বিশ্লেষকরা

বাংলাদেশে বাড়ছে খুন-ধর্ষণের ঘটনা। বাদ পড়ছে না শিশু থেকে বয়স্ক মানুষও। এসব ঘটনায় অপরাধীদের পৈশাচিকতা ও নির্মমতাও হার মানিয়েছে অতীতকে। যথা সময়ে বিচার না হওয়া, প্রকৃত অপরাধীর পার পেয়ে যাওয়া এবং অপরাধীদের প্রভাবশালী মহলের পৃষ্ঠপোষকতা বাড়িয়েছে অপরাধ। সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনা বিশ্লেষণ করে, এমন মত দিয়েছেন বিশ্লেষকরা।
সম্প্রতি বরগুনার রিফাত শরীফকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা নাড়া দিয়েছে দেশকে। স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নী বাধা দিয়েও বাঁচাতে পারেননি স্বামীকে। ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যার রেশ কাটতে না কাটতেই, এমন পৈশাচিক ঘটনায় স্তম্ভিত সাধারণ মানুষ। এছাড়া সিরাজগঞ্জের শিক্ষার্থী জাকিয়া সুলতানা রুপা, কুমিল্লার সোগাহী জাহান তনু, নার্স তানজিনা ও তানিয়াকে হত্যার মতো ঘটনাগুলো নৃশংসতা ও নির্মমতার চরম নজির সৃষ্টি করেছে।
জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক হেলালউদ্দিন আহমেদ বলেন, যখন কোন শিশু এই ধারণা নিয়ে বড় হয় যে, আশপাশের পরিবেশ তার প্রতিকূলে, মানুষে পেছনে ফেলে এগিয়ে যাওয়ায় জীবনের মূললক্ষ্য, তখন সে এ আগ্রাসী আচরণ করে। আবার যখন বিচারহীনতা দেখে; অপরাধ করার পর, দীর্ঘ সময়েও বিচার বা শাস্তির মুখে পড়তে হচ্ছে না দেখে কিংবা পেছন থেকে রক্ষা করবে এমন শক্তির সঙ্গে সংখ্যতা থাকলে, অপরাধ প্রবণতা বাড়ে। এজন্য ছোটবেলা থেকেই নৈতিকতার শিক্ষা দেয়া যেমন জরুরি, তেমনি অপরাধ করলে শাস্তি পেতে হবে, এটা নিশ্চিত করতে হবে।
রিফাত শরীফ হত্যার মূলনায়ক নয়ন বন্ডকে ক্রসফায়ারে হত্যার সমালোচনাও চলছে দেশজুড়ে। অনেকেই বলছেন, তাকে হত্যার মাধ্যমে পৃষ্ঠপোষকদের আড়াল করা হয়েছে। তাই অপরাধীকে বিচার বহির্ভূতভাবে হত্যা নয়, বিচারের মাধ্যমে শাস্তি দেয়া প্রয়োজন।
এদিকে, সরকার বিচারবর্হিভূত হত্যাকাণ্ড সমর্থন করে না, আত্মরক্ষার্থেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গুলি চালায় বলে দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। গত শুক্রবার সকালে রাজধানীর ধানমণ্ডিতে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিচারবহির্ভূত হত্যা আমরাও পছন্দ করি না, কিন্তু সবারই আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে। নয়নের ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে।
এদিকে, বেড়েই চলছে শিশুদের ওপর সহিংসতা আর নির্যাতন। বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত, শিশুদের ওপর মোট ২১৫৮টি সহিংসতা ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। এদের মধ্যে ৯৮৮ শিশু অপমৃত্যুর শিকার হয়েছে। খুন হয়েছে ২০৫ শিশু। ধর্ষণ বেড়েছে ৪১ শতাংশ। ছয় মাসে ৪৯৬ শিশু ধর্ষিত ও ৭২৬ শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে। ১৫টি জাতীয় দৈনিক পত্রিকার সংবাদ পর্যালোচনা করে এ প্রতিবেদন তৈরি করেছে শিশু অধিকার ফোরাম।

লালবাগে খাদেম হত্যার নেপথ্যে by আল-আমিন

লালবাগের আজিমপুরে মসজিদের ভেতরে খাদেম হত্যাকাণ্ডের ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে আর্থিক লেনদেন ও ব্যক্তিগত রেষারেষি। পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধানেও বেরিয়ে এসেছে এ তথ্য। মূলত এই দুই ক্লু সামনে রেখে তদন্ত শুরু করেছে তারা। এ ঘটনার মূল হোতা সন্দেহভাজন সাইফুলকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। তার গ্রামের বাড়িসহ বিভিন্নস্থানে অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। তাকে গ্রেপ্তার করতে পারলে ঘটনার অন্যসব কারণ এবং তার সঙ্গে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা আছে কী-না তা জানা যাবে। এ ঘটনায় আটক ৩ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রেখেছে পুলিশ। গত বুধবার রাত ১২ টার দিকে আজিমপুর কবরস্থান সংলগ্ন মেয়র হানিফ জামে মসজিদের দ্বিতীয় তলার একটি পরিত্যক্ত কক্ষে বস্তাবন্দি অবস্থায় খাদেম মো. হানিফের (৪৫) লাশ দেখতে পান ওই মসজিদের আরেক খাদেম।
খবর পেয়ে পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে মিডফোর্ড হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মসজিদের অন্য ৩ জন খাদেমকে আটক করে পুলিশ। সূত্র জানায়, নিহতের লাশের ময়নাতদন্তের চিকিৎসক সুরতহাল প্রতিবেদনে লিখেছেন, তার মাথাসহ বিভিন্নস্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। বাম পায়ের রগ কাটা ছিল। অত্যন্ত নৃশংসভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে লালবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নম্বর-৩।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা লালবাগ থানার ওসি (তদন্ত) মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, পলাতক মসজিদের খাদেম সাইফুলের সঙ্গে নিহত হানিফের টাকা লেনদেন এবং ব্যক্তিগত রেশারেশি ছিল। সেই সূত্র ধরে হানিফ খুন হয়ে থাকতে পারেন। যারা পুলিশের হেফাজতে আটক আছে তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয় বলে পুলিশের কাছে দাবি করেছেন। সন্দেহভাজন সাইফুল গ্রেপ্তার হলে আর কে এ খুনের ঘটনায় জড়িত এবং কেন তাকে হত্যা করা হয়েছে তা স্পষ্টভাবে জানা যাবে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও লালবাগ থানার এক এসআই মানবজমিনকে জানান, প্রায় ৭ বছর ধরে নিহত মসজিদের খাদেম হানিফ এবং পলাতক সাইফুল মসজিদের যাবতীয় কাজ দেখাশোনা করে আসছিলেন। মসজিদের মোট ৪ জন খাদেম এক রুমেই ঘুমাতেন। ৫ মাস আগে মসজিদের মুসুল্লীদের দেয়া ছোট দান বাক্সের টাকার হিসাব নিয়ে দুইজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়।
এছাড়াও কিছুদিন আগে তদের মধ্যে হাতাহাতিরও ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় একটি নালিশী বিচারে সাইফুলকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। তখন থেকে তাদের মধ্যে ব্যক্তিগত রেশারেশি ছিল। পুলিশ জানিয়েছে, আটককৃত আরও তিনজন খাদেম দাবি করেছে যে, ওই নৃশংস হত্যাকান্ডের বিষয়ে তারা কিছু জানে না। বুধবার এশার নামাজের পর পলাতক সাইফুল আর রুমে ঘুমাতে যায়নি। মসজিদের দ্বিতীয় তলায় পরিত্যক্ত রুমে হানিফকে সে হত্যা করে পালিয়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনাটি ঘটেছে এশার নামাজের পর থেকে রাত ১২ টার মধ্যে। কারণ তারা হানিফকে এশার নামাজ পড়তে মসজিদে দেখেছেন। এশার নামাজের পর দুইজন রুমে ঘুমাতে যান। কিন্তু, বাকি দুইজন ঘুমাতে যাননি। অপর দুইজন তাদের খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন। তার মধ্যে একজন খাদেম মসজিদের একটি পরিত্যক্ত কক্ষে বস্তাবন্দি হানিফের মরদেহ দেখতে পেলে পুলিশকে খবর দেন।
সূত্র জানায়, নিহত হানিফের শার্ট ছেঁড়া পেয়েছিল পুলিশ। পুলিশের ধারণা, খুনের আগে ওই কক্ষে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটেছে। ছোটখাটো বিষয় নিয়ে খুনের ঘটনা ঘটবে মসজিদের অন্য খাদেমেরা বিশ্বাস করতে পারছেন না। পুলিশ ইতিমধ্যে হানিফের পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা পেয়েছে। তাকে ধরার জন্য অভিযান চালানো হচ্ছে। ময়নাতদন্ত শেষ হওয়ার পর হানিফের লাশ পুলিশ তার পরিবারের মাঝে হস্তান্তর করেছে। নিহতকে গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়ার বাঁশবাড়িয়া এলাকায় দাফন করা হয়েছে।

বিচার-বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে বিভিন্ন বাহিনীকে সতর্ক করেছে আদালত by কাদির কল্লোল

বাংলাদেশে বরগুনা শহরে স্ত্রীর সামনে প্রকাশ্য দিবালোকে স্বামীকে কুপিয়ে হত্যার মামলার প্রধান অভিযুক্তের বিচার-বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড নিয়ে হাইকোর্ট আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্ক হতে বলেছে।
আইনজীবীরা জানিয়েছেন, আদালত বলেছে, বিচার-বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড আদালত সমর্থন করে না।
বরগুনার ঘটনার ব্যাপারে সেখানকার স্থানীয় প্রশাসনের যে প্রতিবেদন আদালতে পেশ করা হয়, তাতে বলা হয়, পুলিশ আত্ম-রক্ষার্থে গুলি চালিয়েছিল।
তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, কথিত বন্দুকযুদ্ধের নামে বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনাগুলোর কখনও তদন্ত হয় কিনা, তা জানা যায় না।
হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী বরগুনার পুলিশ প্রশাসন রিফাত শরিফকে কুপিয়ে হত্যার মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে প্রতিবেদন পেশ করে।
সেই প্রতিবেদনে মামলার প্রধান অভিযুক্ত সাব্বির আহমেদ নয়ন ওরফে নয়ন বন্ড কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ার ঘটনা তুলে ধরে তার পক্ষে যুক্তি দেয়া হয়।
ডেপুটি এটর্নি জেনারেল আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার বিবিসিকে বলেছেন, "আদালত বলেছেন, বিচার-বহির্ভূত যে হত্যাকাণ্ডগুলো হয়, সেগুলো উনারা পছন্দ করেন না, সমর্থন করেন না। আইনে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আত্মরক্ষায় গুলি করার যে সুযোগ দেয়া আছে, তার যেন অপপ্রয়োগ না হয় সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে বলেছে।"
"এই আত্মরক্ষার বিষয় সামনে রেখে যাতে কেউ অযাচিত বা উদ্দেশ্যমূলকভাবে এই বিচার-বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড না ঘটানো না হয় সেব্যাপারে সতর্ক থাকতে বলেছে আদালত," বলেন তিনি।
বরগুনায় রিফাত শরিফকে তার স্ত্রীর সামনে কুপিয়ে হত্যা করার ভিডিও থেকে নেওয়া
মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ছয় মাসে দেশের বিভিন্ন জায়গায় আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর সাথে কথিত বন্দুকযুদ্ধে কমপক্ষে ২০৪ জন নিহত হয়েছে এবং প্রতিটি ঘটনার ক্ষেত্রেই বাহিনীগুলো আত্মরক্ষায় গুলি চালানোর একই কথা বলে আসছে।
সম্প্রতি কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন, এমন দু'জনের পরিবারের সদস্যদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিবিসিকে বলেছেন, তাদের স্বজনদের মৃতদেহের ময়নাতদন্ত করা হয়েছিল। কিন্তু তাদের কোন মামলা করতে দেয়া হয়নি।
বিচার-বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডগুলোর কোন তদন্ত হয় কিনা সেই প্রশ্ন করে আসছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো।
আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক শিপা হাফিজা বলেন, বিভিন্ন সময় কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করেও তারা কোন জবাব পাননি।
"আমরা জানি না, বিচার-বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের কোন তদন্ত হয় কিনা। আমাদের একটা বড় দাবি, এগুলোর তদন্ত করা। আমরা বিভিন্ন ঘটনার ব্যাপারে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে জানতে চেয়েছি, কিন্তু জানতে পারি নি। আমার মনে হয়েছে, তারা আমাদের কোন জবাব দেবে না।"
তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান দাবি করেছেন, প্রতিটি ঘটনার তদন্ত করা হয়।
তিনি এটুকুই বলেছেন যে, তদন্তের ভিত্তিতে কোন সমস্যা চিহ্নিত হলে তাতে তারা ব্যবস্থা নিয়ে থাকেন।
"অবশ্যই তদন্ত হয়। এগুলো একজন ম্যাজিস্ট্রেটের আন্ডারে তদন্ত হয়। ম্যাজিস্ট্রেট তদন্ত হওয়ার পরে এগুলোর নিষ্পত্তি হয়। এবং তার তদন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়," বলেন মি. খান।
পুলিশ এবং র‍্যাবের ঊর্ধ্বতন একাধিক কর্মকর্তার সাথে কথা বললে তারাও এই একই বক্তব্য দেন। এর বাইরে আর কোন প্রশ্নের জবাব পাওয়া যায় না।
আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে বিচার-বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ বহু দিনের

লিবিয়ার গোলযোগপূর্ণ অবস্থার জন্য ন্যাটো দায়ী: পুতিন

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন
লিবিয়ার চলমান গোলযোগপূর্ণ অবস্থার জন্য মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটো সামরিক জোটকে দায়ী করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি বলেন, এই জোট লিবিয়াকে ধ্বংস করেছে।
ইতালির প্রধানমন্ত্রী গিসেপ্পে কোঁতের সঙ্গে রোমে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে পুতিন আরো বলেন, সিরিয়া থেকে উগ্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সদস্যরা লিবিয়ায় যাচ্ছে এবং এতে পারিস্থিতির আরো অবনতি ঘটবে। তিনি বলেন, লিবিয়ায় কীভাবে গোলযোগ সৃষ্টি হয়েছে তা স্মরণ করা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
পুতিন সরাসরি বলেন, “আপনারা কী স্মরণ করতে পারেন কে লিবিয়াকে ধ্বংস করেছে? এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ন্যাটো। ইউরোপীয় বিমান থেকে লিবিয়ায় বোমাবর্ষণ করা হয়েছিল।”
২০১১ সালে ন্যাটো বাহিনীর অভিযানের মুখে দীর্ঘদিনের শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফি ক্ষমতা থেকে উৎখাত ও নিহত হন। এরপর থেকেই দেশটিতে গোলযোগ চলছে। চলমান এ অবস্থা নিয়ে পুতিন বলেন, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব লিবিয়ায় রক্তপাত বন্ধ করা জরুরি। পাশাপাশি দ্রুত সংলাপ শুরু করা দরকার।
গাদ্দাফির পতনরে পর লিবিয়ায় টাানা গোলযোগ চলছে