Friday, June 13, 2025
নেতানিয়াহুর সময় কি ফুরিয়ে আসছে --আল জাজিরা
গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধ নিয়ে নেতানিয়াহু সরকারের সমালোচনাও বেড়ে চলেছে। আন্তর্জাতিক নেতাদের পাশাপাশি সাবেক ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীদের কাছ থেকেও তাঁর সরকারের বিরুদ্ধে গণহত্যা ও যুদ্ধাপরাধ সংঘটনের অভিযোগ আসছে।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েল ক্রমেই বেশি একঘরে হয়ে পড়ছে; কারণ, গাজায় দেশটির চাপিয়ে দেওয়া দুর্ভিক্ষের ছবি বিশ্ব গণমাধ্যমে ছেয়ে গেছে।
দেশের ভেতরও নেতানিয়াহুকে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়তে হচ্ছে। অনেকেই মনে করছেন, তিনি শুধু নিজের ক্ষমতা ধরে রাখতে এ যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করছেন।
আইনি দিক থেকে, দুর্নীতির মামলার বিচারে প্রসিকিউশন পক্ষ নেতানিয়াহুর জেরা শুরু করেছে। আর রাজনৈতিকভাবে, তাঁর জোট সরকার যেকোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে, এমন আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
নেতানিয়াহুকে দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে এতটা চাপে আগে কখনো দেখা যায়নি। তবে এটি কি সত্যিই ইসরায়েলের সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদি প্রধানমন্ত্রীর শেষ সময়? উঠেছে সেই প্রশ্ন। এর জবাব খুঁজে দেখা যাক—
নেতানিয়াহু এখন ইসরায়েলিদের মধ্যে অত্যন্ত অপ্রিয়, আর এই মোহভঙ্গ দিনে দিনে বাড়ছে।
নেতানিয়াহু ইসরায়েলিদের কাছে কতটা অজনপ্রিয়?
খুবই। এ অজনপ্রিয়তা ক্রমেই বেড়ে চলেছে।
নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে বহুদিন ধরেই অভিযোগ যে তিনি গাজায় যুদ্ধকে নিজের রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করছেন। গত মার্চে ইসরায়েল হামাসের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ভেঙে দিলে ও গাজায় আটক জিম্মিদের আরও ঝুঁকিতে ফেললে এ অভিযোগ নতুন করে জোর পায়।
গত মাসের শেষ দিকে ‘চ্যানেল ১২’–এর এক জরিপে দেখা যায়, বেশির ভাগ ইসরায়েলি মনে করেন, নেতানিয়াহু জিম্মিদের ফেরত আনার চেয়ে ক্ষমতা ধরে রাখাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।
ইসরায়েলের অধিকাংশ বিক্ষোভ ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় আটক হওয়া জিম্মিদের মুক্তির দাবিকে কেন্দ্র করে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নেতানিয়াহুর যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করার ফলে জিম্মিদের জীবনের ঝুঁকি যে বাড়ছে, সেটিও এ বিক্ষোভের আরেক কারণ।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে একটি ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যক ইসরায়েলি গাজার মানুষের ওপর তাঁদের সরকারের চাপিয়ে দেওয়া দুর্ভোগের বিরুদ্ধেও প্রতিবাদ জানাচ্ছেন।
দেশের একদল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক গাজার ধ্বংসযজ্ঞের নিন্দা জানিয়ে একটি খোলা চিঠি প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি, প্রতি শনিবার রাতে তেল আবিবে যে বড় পরিসরে যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভ হচ্ছে, সেখানে অনেকেই ফিলিস্তিনি শিশুদের আরও বেশি ছবি তুলে ধরছেন।
এমনকি সেনাবাহিনীর ভেতরও গাজা যুদ্ধ নিয়ে অসন্তোষ বাড়ছে।
যুদ্ধ করতে রিজার্ভ সেনাদের অস্বীকৃতি জানানোর খবর প্রকাশিত হওয়ার পর, বিভিন্ন বিভাগের বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তারা যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়ে খোলা চিঠি লিখেছেন।
নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সমালোচনা
সম্প্রতি ইসরায়েলের দুজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রকাশ্যে নেতানিয়াহুর সমালোচনা করেছেন।
১৯৯৯ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী থাকা সাবেক জেনারেল এহুদ বারাক টাইম সাময়িকীকে বলেন, জিম্মিদের মুক্তি ও যুদ্ধ থামাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় করা একটি চুক্তি গ্রহণ কিংবা রাজনৈতিক স্বার্থে ‘প্রতারণার যুদ্ধ’ চালিয়ে যাওয়া—এর একটিকে এখন অবশ্যই বেছে নিতে হবে নেতানিয়াহুকে।
২০০৬ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত দায়িত্বে থাকা এহুদ ওলমার্ট হারেৎজ পত্রিকায় লিখেছেন, গাজায় যুদ্ধাপরাধ সংঘটনের জন্য ইসরায়েল দায়ী এবং এখন এটি একটি ব্যক্তিগত রাজনৈতিক যুদ্ধ।
ডেমোক্র্যাটস পার্টির নেতা ও সাবেক জেনারেল ইয়াইর গোলান স্থানীয় রেডিও রেশেত বেত-এ বলেন, ‘একটি সুস্থ রাষ্ট্র সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে না, শিশুদের হত্যা করে না আর জনগণকে জোর করে উচ্ছেদ করে না।’
ইয়াইর এসব কথা বলেন ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ ও জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের এক বিশেষ পরিকল্পনার পরিপ্রেক্ষিতে। এ পরিকল্পনায় গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ করে সেখানে ইসরায়েলিদের বসতি গড়ার প্রস্তাব রয়েছে।
ওলমার্ট গত মঙ্গলবার আরও বলেন, ‘ট্রাম্পের উচিত নেতানিয়াহুকে স্পষ্ট করে বলা, “এবার যথেষ্ট হয়েছে।”’
নেতানিয়াহু জোটের জন্য হুমকি
বহু বছর ধরে ইসরায়েল একটি বিষয় নিয়ে বিভক্ত। তা হলো, আলট্রা-অর্থোডক্স (চরম রক্ষণশীল ধর্মীয়) ইহুদি তরুণদের সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করা। পূর্ণকালীন ধর্মীয় শিক্ষার্থী হলে সামরিক বাহিনীতে যোগ দেওয়া থেকে তাঁদের ছাড় দেওয়া হতো।
২০২৪ সালের জুনে ইসরায়েলের সুপ্রিম কোর্ট রায় দেন, আর এ ছাড় প্রযোজ্য হবে না। ধর্মনিরপেক্ষ ইসরায়েলিদের দীর্ঘদিনের দাবির ভিত্তিতে আদালত এ রায় দেন। এই ইসরায়েলিরা বৈষম্যমূলক নিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিলেন।
তবে নেতানিয়াহুর জোট সরকারের অংশীদার আলট্রা-অর্থোডক্স দুই দল—শ্যাস ও ইউনাইটেড তোরাহ জুদায়িজম (ইউটিজে) সুপ্রিম কোর্টের রায় উল্টে দিতে আইন পাস করা না হলে সরকার ভেঙে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে।
নতুন নির্বাচন হলে আইনসভায় আলট্রা-অর্থোডক্সদের প্রতি আরও সহানুভূতিশীল প্রতিনিধিত্ব আসবে কি না, সেটি স্পষ্ট নয়। তবে সাম্প্রতিক কিছু পদক্ষেপ, যেমন তাঁদের মধ্য থেকে আরও বেশিসংখ্যক শিক্ষার্থীকে সামরিক বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করার চিঠি পাঠানোর পরিকল্পনা এ বিতর্ককে সামনে নিয়ে এসেছে।
ইসরায়েল কীভাবে আন্তর্জাতিকভাবে একঘরে হলো
আরব ও ইউরোপীয় নেতারা এখন নেতানিয়াহু এবং গাজা যুদ্ধ নিয়ে ক্রমেই বেশি সমালোচনামুখর হয়ে উঠছেন। তবে এখন পর্যন্ত তাঁর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমর্থক হয়ে আছে যুক্তরাষ্ট্র ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
গত মাসের শুরুতে নেতানিয়াহু বলেন, গাজা থেকে উৎখাত হওয়া ফিলিস্তিনিরা সৌদি আরবে গিয়ে বসতি স্থাপন করতে পারে। তাঁর এ বক্তব্যে কড়া প্রতিক্রিয়া জানায় সৌদি আরব ও আরব লিগ।
একই মাসে কানাডা, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য এক যৌথ বিবৃতিতে গাজায় মানবিক দুর্দশাকে অসহনীয় বলে আখ্যায়িত করে। এই দেশগুলোর সবকটি আগে ইসরায়েলের গাজা যুদ্ধকে সমর্থন দিয়েছিল।
নরওয়ের সঙ্গে ২০২৪ সালের মে মাসে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া স্পেন ও আয়ারল্যান্ডও নেতানিয়াহু সরকারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
ইতিমধ্যে মঙ্গলবার যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, নিউজিল্যান্ড ও নরওয়ে একসঙ্গে ঘোষণা করেছে যে তারা স্মোট্রিচ ও বেন-গভিরের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে।
তবে নেতানিয়াহু কতদিন ট্রাম্পের সমর্থন ধরে রাখতে পারবেন, তা পরিষ্কার নয়। অনেকেই ধারণা করছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নেতানিয়াহুতে বিরক্ত হয়ে উঠছেন।
আইনি ঝামেলায় নেতানিয়াহু
২০১৯ সাল থেকে নেতানিয়াহু একাধিক দুর্নীতির মামলায় জড়িয়ে আছেন। দোষী প্রমাণিত হলে তাঁর ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।
২০২০ সালে শুরু হওয়া এ বিচারকার্য করোনা মহামারি ও সাম্প্রতিক গাজা যুদ্ধের কারণে বারবার বিলম্বিত হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, নিজের বিচার এড়াতে ইচ্ছাকৃতভাবে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত এবং এখন তা আরও জোরাল করছেন তিনি।
সমালোচকরা এ–ও বলছেন, ৭ অক্টোবরের হামলার সময় সরকারের ব্যর্থতার জবাবদিহি এড়াতে যুদ্ধ টেনে নিচ্ছেন নেতানিয়াহু।
তাহলে নেতানিয়াহুর সময় কি ফুরিয়ে এল
নেতানিয়াহুর পুরো রাজনৈতিক জীবনে বিতর্ক আর কেলেঙ্কারি লেগেই ছিল। এখন তাঁর বিরোধিতা ইসরায়েল ও পশ্চিমা দেশগুলোতেও বাড়ছে। তবু তিনি টিকে যেতে পারেন—এমনটাই বলছেন পর্যবেক্ষকেরা।
তবে টিকে থাকতে হলে নেতানিয়াহুর জন্য জরুরি হলো যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন ধরে রাখা; সেই সঙ্গে এমন একটি যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া, যা ট্রাম্প নিজেই শেষ করতে চাইছেন।
নেতানিয়াহুর একজন সাবেক সহযোগী মিচেল বারাক গত মাসে আল–জাজিরাকে বলেছেন, ‘আমি জানি না, উনি (ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী) এ পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন কি না।’
‘অনেকেই বলছেন, নেতানিয়াহুর সময় শেষ…এ কথা বহু বছর ধরে শোনা যাচ্ছে। আর উনি এখনো টিকে আছেন…কিন্তু আমি আর কোনো জাদু কৌশল দেখতে পাচ্ছি না, যা তাঁকে টিকিয়ে রাখবে’, বলেন মিচেল বারাক।
![]() |
| বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে অংশ নিচ্ছেন আন্দোলনকারীরা। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হাতে জিম্মি হওয়া ইসরায়েলিদের মুক্তির দাবিও জানান তাঁরা। তেল আবিব, ইসরায়েল, ২৪ মে ২০২৫ ছবি: রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গজনী অবকাশকেন্দ্র: গারো পাহাড়ের নৈসর্গে মুগ্ধ দর্শনার্থীরা by হারুন অর রশিদ দুদু
গতকাল বুধবার দিনব্যাপী এমনই চিত্র দেখা গেছে। এই পর্যটনকেন্দ্রের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য খুব সহজেই আকৃষ্ট করে দর্শনার্থীদের। গজনী অবকাশ পর্যটনকেন্দ্রটি পাহাড়, টিলা আর সমতল ভূমিতে সবুজের সমারোহ। শাল, গজারি, সেগুন, ছোট-বড় মাঝারি টিলা, লতাপাতার বিন্যাস প্রকৃতিপ্রেমীদের নিশ্চিত দোলা দিয়ে যায়। অন্যদিকে, জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পাহাড়ের বুকজুড়ে তৈরি সুদীর্ঘ ওয়াকওয়ে। হেঁটে পাহাড়ের স্পর্শ নিয়ে লেকের পাড় ধরে হেঁটে যাওয়া যায় এক পাহাড় থেকে অন্য পাহাড়ে। পড়ন্ত বিকেলে ছোট ছোট নৌকায় করে ঘোরার জন্য রয়েছে লেক। লেকের বুকে নৌকায় চড়ে পাহাড়ের পাদদেশে কফি আড্ডা আর গান এখানে আগত দর্শনার্থীদের জন্য আনন্দময় দৃশ্য তৈরি করে। আগত শিশু দর্শনার্থীদের জন্য চুকুলুপি চিলড্রেনস পার্কের পাশাপাশি এবার নতুন যুক্ত হচ্ছে শিশু কর্নার।
এমন সব মনোরম দৃশ্য দেখতে ঈদের ছুটিতে পর্যটকের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। সরেজমিন দেখা গেছে, গজনী অবকাশের বিভিন্ন জায়গায় কেউ বা তুলছেন সেলফি, কেউ বা নিজ ও প্রিয়জনের ছবি ক্যামেরাবন্দি করছেন। চুকুলুপি চিলড্রেনস পার্ক ছিল সকাল থেকেই মুখর। শিশুর ভিড় বেড়ে যাওয়ায় পার্কের ফটকে লম্বা লাইন দেখা যায়। এ সময় শিশুদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে পার্কটি। বিভিন্ন রাইডে চড়ে ও খোলামেলা পরিবেশ পেয়ে আনন্দে মেতে ওঠে শিশুরা। শিশুদের সঙ্গে অনেক অভিভাবককেও আনন্দে মেতে উঠতে দেখা যায়।
গজনী বোট ক্লাবের বোটে চড়ে ঘুরে বেড়ানোর জন্যও পর্যটকের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। ঘুরতে আসা কয়েকজন জানান, গারো পাহাড় ও কৃত্রিম তৈরি বিভিন্ন রাইড দেখে তারা বিমোহিত। পরিবার-পরিজন ও বন্ধুবান্ধব নিয়ে তারা এসেছেন প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, এবার অন্যান্য ঈদের তুলনায় পর্যটকের সংখ্যা বেড়েছে। ঈদের দিন থেকে পর্যটক বেড়াতে আসছেন। এতে ভালো বেচাকেনা হচ্ছে। পর্যটনকেন্দ্রের বিভিন্ন রাইডের ইজারাদার ফরিদ মিয়া বলেন, ঈদের দিন থেকেই প্রচুর দর্শনার্থীর আগমন দেখা যাচ্ছে। আশা করছি, টানা ছুটির সব দিনেই দর্শনার্থীর আগমন ঘটবে।
ঝিনাইগাতী থানার ওসি মো. আল-আমীন বলেন, ঈদ উপলক্ষে গজনী অবকাশে দর্শনার্থী বেড়েছে। আগত দর্শনার্থীরা যাতে নির্বিঘ্নে ঘোরাফেরা করতে পারেন, সেজন্য ট্যুরিস্ট পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নিয়োজিত রয়েছেন।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বিমানের ধ্বংসাবশেষ থেকে হেঁটে হেঁটে বের হন এক যাত্রী
ভিডিওতে দেখা যায়, ধ্বংসস্তূপ ঘিরে স্থানীয় মানুষ এবং সাংবাদিকদের ভিড়। মানুষের শোরগোল এবং অ্যাম্বুলেন্সের শব্দে ভারি হয়ে উঠেছে দুর্ঘটনাস্থল। কিছুটা দূরে একাধিক অ্যাম্বুলেন্স দেখা যাচ্ছে। বেঁচে যাওয়া ওই যাত্রী আহত অবস্থায় খুড়িয়ে খুড়িয়ে অ্যাম্বুলেন্সের দিকে এগোচ্ছেন।
আহমেদাবাদ পুলিশ কমিশনার জি.এস. মালিক সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে জানান, ওই যাত্রী ১১এ নম্বর আসনে বসেছিলেন এবং তিনি এখন জীবিত ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
সরকারি যাত্রী তালিকা অনুযায়ী, ওই ব্যক্তির নাম বিশ্বেশ কুমার রমেশ এবং তিনি ব্রিটিশ নাগরিক। ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়, হাসপাতালে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন রমেশ এবং নিজের বোর্ডিং পাসও দেখিয়েছেন, যেখানে তার নাম ও আসন নম্বর ১১এ স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে।
দুর্ঘটনার সময়কার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে রমেশ বলেন, ‘উড্ডয়নের ৩০ সেকেন্ডের মধ্যেই এক তীব্র বিস্ফোরণের শব্দ হয়, আর সঙ্গে সঙ্গেই বিমানটি ভেঙে পড়ে। সবকিছু এত দ্রুত ঘটেছিল যে কিছু বুঝে ওঠার আগেই চারদিক অন্ধকার হয়ে যায়।’
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম রয়টার্স জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত দুই শতাধিক মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, তবে সরকারিভাবে মৃতের সংখ্যা এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
বিমানটি যে বিজে মেডিকেল কলেজের ছাত্রাবাসের ওপর ভেঙে পড়ে, সেখানে থাকা ৫০ থেকে ৬০ জন শিক্ষার্থীকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। ভারতের চিকিৎসকদের সংগঠন ফাইমা জানিয়েছে, এখনো ৫ জন শিক্ষার্থী নিখোঁজ রয়েছেন এবং অন্তত দুইজনকে আইসিইউতে রাখা হয়েছে।
এনডিটিভির খবরে জানা গেছে, দুর্ঘটনায় ছাত্রাবাসে থাকা পাঁচজন মেডিকেল ছাত্র নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে চারজন স্নাতক এবং একজন স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থী।
![]() |
| দুর্ঘটনাস্থল থেকে হেঁটে হেঁটে বের হতে দেখা যায় বিমানের যাত্রী বিশ্বেশ কুমার রমেশকে। ছবি: সংগৃহীত |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ইসরায়েলি অবরোধের প্রতিবাদে গাজার উদ্দেশে এবার ১৫০০ মানুষ
ফিলিস্তিনের গাজায় ত্রাণ প্রবেশ না করতে দেওয়ার প্রতিবাদে উপত্যকাটির দিকে রওনা দিয়েছেন অন্তত ১ হাজার ৫০০ মানুষ। তাঁদের মধ্যে অধিকারকর্মী ও ফিলিস্তিনের সমর্থকেরা রয়েছেন। গত মঙ্গলবার লিবিয়ার জাবিয়া শহরে পৌঁছান তাঁরা। সেখান থেকে তাঁদের মিসরের রাজধানী কায়রোয় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
ইসরায়েলের আগ্রাসনবিরোধী এই বিপুলসংখ্যক মানুষ যাত্রা শুরু করেন আলজেরিয়া থেকে। এরপর তিউনিসিয়া হয়ে লিবিয়ায় পৌঁছান তাঁরা। এরই মধ্যে তাঁরা মিসর সীমান্তের সালোম ক্রসিংয়ে পৌঁছাতে গাড়ি ও বাসে করে লিবিয়ার ত্রিপোলি, মিসরাতা ও সিরাত ও বেনগাজি শহর পাড়ি দিয়েছেন। এই মানুষগুলোর লক্ষ্য কায়রো থেকে গাজা সীমান্তের রাফা ক্রসিংয়ে পৌঁছানো।
১ হাজার ৫০০ জনের মধ্যে আলজেরিয়া ও তিউনিসিয়ার বাসিন্দা রয়েছেন। লিবিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আরও অনেকে যোগ দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। যাত্রায় অংশ নেওয়া আলজেরিয়ার বাসিন্দা জামিলা শারিতাহ বলেন, এই যাত্রায় তিউনিসিয়া ও লিবিয়া সহযোগিতা করছে। জায়েদ আল–হামামি নামের আরেকজন বলেন, গাজায় খাবার প্রবেশের জন্য রাফা ক্রসিং খুলে দিতে চাপ দেবেন তাঁরা।
এদিকে যাত্রায় যোগ দিতে ইচ্ছুক দুই শতাধিক অধিকারকর্মীকে কায়রো থেকে আটক করা হয়েছে বলে গতকাল বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন যাত্রার আয়োজকেরা। আয়োজকদের মুখপাত্র সাইফ আবুকেশেক এএফপিকে বলেন, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, নেদারল্যান্ডস, ফ্রান্স, স্পেন, মরক্কো ও আলজেরিয়ার নাগরিকেরা রয়েছেন। বিমানবন্দর ও হোটেল থেকে তাঁদের আটক করা হয়েছে।
এর আগে বুধবার আয়োজকেরা এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, আজ শুক্রবার গাজা অভিমুখে মূল যাত্রাটি শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের। এতে অংশ নেওয়ার জন্য ৪০টির বেশি দেশের প্রায় চার হাজার মানুষ কায়রোগামী বিভিন্ন উড়োজাহাজের টিকিট কেটেছেন। যাত্রা শুরুর পর তাঁরা গাড়িতে করে মিসরের সিনাই উপদ্বীপের আল–আরিশ শহরে পৌঁছাবেন। সেখান থেকে ৫০ কিলোমিটার হেঁটে রাফা ক্রসিংয়ে যাবেন। ১৯ জুন ফিরে আসার আগপর্যন্ত সেখানেই অবস্থান করবেন তাঁরা।
এই যাত্রায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের ‘জিহাদি বিক্ষোভকারী’ বলে আখ্যা দিয়েছে ইসরায়েল। তাঁদের সীমান্তে পৌঁছানো ঠেকাতে মিসরের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দেশটি। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ বলেছেন, সীমান্তে এই ব্যক্তিদের অবস্থান ইসরায়েলি সেনাদের নিরাপত্তা বিপদের মধ্যে ফেলবে। এমন কোনো কর্মকাণ্ডের অনুমতি দেওয়া হবে না।
ত্রাণ বিতরণকেন্দ্রের কাছে হামলায় নিহত ৪০
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় নির্বিচার হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। এতে প্রায় ৫৫ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া গাজায় খুবই সীমিত পরিমাণে ত্রাণ ঢুকতে দিচ্ছে ইসরায়েল। এতে সেখানে খাবারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে বুধবার একমুঠো খাবারের আশায় গাজার দুটি ত্রাণ বিতরণকেন্দ্রের কাছে গিয়ে ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে ৪০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
দুটি ত্রাণকেন্দ্রই পরিচালনা করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল–সমর্থিত বিতর্কিত ‘গাজা হিউম্যানিটেরিয়ান ফাউন্ডেশন’ (জিএইচএফ)। গাজার জরুরি পরিষেবা বিভাগ ‘সিভিল ডিফেন্সের’ বরাত দিয়ে এএফপি জানায়, বুধবার মধ্য গাজার ‘নেতজারিম করিডর’ এলাকায় একটি ত্রাণ বিতরণকেন্দ্রে প্রবেশের অপেক্ষায় থাকা ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা চালায় ইসরায়েল। এতে ৩১ জন নিহত ও প্রায় ২০০ আহত হন।
এ ছাড়া গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় রাফা এলাকায় ত্রাণকেন্দ্রের কাছে ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে ৯ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে আল–জাজিরা জানিয়েছে। গুলিবর্ষণের কথা স্বীকার করে এক বিবৃতি দিয়ে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী বলেছে, নেতজারিম করিডর এলাকায় রাতে সেনারা ‘সতর্কতামূলক গুলি’ চালিয়েছেন।
| ইসরায়েলি হামলায় নিহত এক ফিলিস্তিনির লাশ জড়িয়ে শিশুকন্যা ও স্বজনদের আহাজারি। গতকাল গাজা নগরীর আল-শিফা হাসপাতালে। ছবি: এএফপি |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ভারতে উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে নিহত ২৪০ জনের বেশি
বিধ্বস্ত হওয়া উড়োজাহাজটি ভারতীয় এয়ারলাইনস এয়ার ইন্ডিয়ার। বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় বেলা ১টা ৩৯ মিনিটে আকাশে ওড়ে উড়োজাহাজটি। গন্তব্য ছিল যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনের দক্ষিণে গ্যাটউইক বিমানবন্দর। এয়ার ইন্ডিয়া কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উড়োজাহাজে ২৩০ জন যাত্রী, ১০ ক্রু ও দুজন পাইলট ছিলেন। যাত্রীদের মধ্যে ভারতের ১৬৯ জন, যুক্তরাজ্যের ৫৩ জন, পর্তুগালের ৭ জন ও কানাডার ১ জন নাগরিক ছিলেন।
উড়োজাহাজের আরোহীদের মধ্যে ২৪১ জন নিহত হয়েছেন বলে বৃহস্পতিবার রাতে এয়ার ইন্ডিয়ার এক এক্স পোস্টে বলা হয়েছে।
আহমেদাবাদ বিমানবন্দরের উড়োজাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ বলেছে, উড়োজাহাজটি ২৩ নম্বর রানওয়ে থেকে আকাশে উড়েছিল। কয়েক সেকেন্ড পর উড়োজাহাজ থেকে জরুরি অবস্থার সংকেত পাঠানো হয়। এরপর সংকেত বন্ধ হয়ে যায়। তখন উড়োজাহাজটি ৬২৫ ফুট উচ্চতায় উঠেছিল বলে জানিয়েছে উড়োজাহাজ চলাচলের তথ্য প্রদানকারী ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও ও ছবিতে দেখা গেছে, উড়োজাহাজটি ওড়ার অল্প কিছুক্ষণের মধ্যে একটি আবাসিক এলাকায় আছড়ে পড়ে। এ সময় আগুন ও ধোঁয়ার বড় কুণ্ডলী সৃষ্টি হয়। যে ভবনে গিয়ে উড়োজাহাজটি আছড়ে পড়ে, সেটি বি জে মেডিকেল কলেজের একটি হোস্টেল। উড়োজাহাজের পেছনের অংশ ভবনটির ওপরে আটকে যায়। আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে উড়োজাহাজের ধ্বংসাবশেষ।
গুজরাটের শীর্ষ পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তা বিধি চৌধুরী বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে ২৪০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। তাঁরা এখনো নিহতের সংখ্যা যাচাই–বাছাই করছেন। উড়োজাহাজের এক যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জানিয়েছেন, সব মরদেহ উদ্ধারের পর ডিএনএ পরীক্ষা শেষে এই দুর্ঘটনায় নিহতের মোট সংখ্যা জানানো হবে।
ওই উড়োজাহাজের যাত্রী ছিলেন গুজরাটের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রুপানি। আহমেদাবেদর পুলিশ কমিশনার জি এস মালিক সাবেক এই মুখ্যমন্ত্রীর নিহত হওয়ার খবর রয়টার্সকে নিশ্চিত করেন।
এক যাত্রী জীবিত উদ্ধার
বিধ্বস্ত হওয়া উড়োজাহাজের যাত্রী বিশ্বাস কুমার রমেশকে (৪০) জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি উড়োজাহাজের জরুরি বহির্গমনের পাশে ‘১১–এ’ নম্বর আসনে ছিলেন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রমেশ ভারতের সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসকে বলেন, উড্ডয়নের ৩০ সেকেন্ড পর বিকট শব্দে উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হয়। চারপাশে মানুষের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। এ সময় কেউ একজন তাঁকে অ্যাম্বুলেন্সে তুলে হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন।
উড়োজাহাজের যাত্রীদের মধ্যে ২১৭ জন প্রাপ্তবয়স্ক, ১১টি শিশু ও দুটি নবজাতক ছিল। তাঁদের স্বজনেরা আহমেদাবাদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভিড় করছেন। এমনই একজন পুনম প্যাটেল। বার্তা সংস্থা এএনআইকে তিনি বলেন, ‘আমার ভাবি লন্ডনে যাচ্ছিলেন। এক ঘণ্টার মধ্যে খবর পাই, উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হয়েছে।’
‘আমার ছেলে দ্বিতীয় তলা থেকে লাফ দিয়েছে’
উড়োজাহাজটি যখন বিধ্বস্ত হয়, তখন বি জে মেডিকেল কলেজের হোস্টেলে দুপুরে খাওয়ার সময়। হোস্টেলটি আহমেদাবাদের মেঘানি অঞ্চলে একটি আবাসিক এলাকায় অবস্থিত। দুর্ঘটনার পর তোলা ছবিতে হোস্টেলের ক্যানটিনে টেবিলের ওপর খাবারের থালা ও গ্লাস ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে থাকতে দেখা গেছে।
দুর্ঘটনার পর ফেডারেশন অব অল ইন্ডিয়া মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (এফএআইএমএ) রয়টার্সকে জানিয়েছে, উড়োজাহাজ বিধ্বস্তের পর ৫০ থেকে ৬০ জন শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তাঁদের অন্তত দুজন নিবিড় পর্যবেক্ষণকেন্দ্রে (আইসিইউ) রয়েছেন। এখনো অনেকে নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁদের কেউ কেউ চিকিৎসকের স্বজন।
উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হওয়ার সময় বি জে মেডিকেল কলেজের এক শিক্ষার্থী খাবার খেতে ওই হোস্টেলে গিয়েছিলেন। তাঁর মা রামিলা এএনআইকে বলেন, ‘আমার ছেলে নিরাপদে আছে। তার সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। (উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হওয়ার সময় প্রাণে বাঁচতে) সে দ্বিতীয় তলা থেকে লাফ দিয়েছিল। এতে সে কিছুটা আহত হয়েছে।’
দুর্ঘটনার কারণ কী
বিধ্বস্ত হওয়া উড়োজাহাজটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং। ৭৮৭–৮ মডেলের উড়োজাহাজটি ‘ড্রিমলাইনার’ নামেও পরিচিত। যাত্রী পরিবহনের জন্য সবচেয়ে আধুনিক উড়োজাহজাগুলোর মধ্যে এটি একটি। যুক্তরাজ্যের ক্রানফিল্ড ইউনিভার্সিটির শিক্ষক গ্রাহাম ব্রাইথওয়েট বলেন, বিধ্বস্ত হওয়া এই উড়োজাহাজ ১১ বছর আগে প্রথম আকাশে উড়েছিল। বিশ্বে ৭৮৭ উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনা এই প্রথম।
উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হওয়ার পর বোয়িংয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করছে। এরই মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের দরে ধস নেমেছে। আর উড়োজাহাজের ইঞ্জিন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান জিই অ্যারোস্পেস বলেছে, উড়োজাহাজটির ককপিটের তথ্য বিশ্লেষণ করতে তারা একটি দল ভারতে পাঠাবে। উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হওয়ার কারণ খুঁজতে ভারতের সঙ্গে কাজ করবে যুক্তরাজ্যও।
বিধ্বস্ত উড়োজাহাজের প্রধান পাইলট ছিলেন ক্যাপ্টেন সুমিত সাবহারওয়াল ও সহকারী পাইলট ছিলেন ক্লাইভ কুন্ডার। ধারণা করা হচ্ছে, আকাশে ওড়ার পরপরই সেটিতে বড় যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। ফলে দ্রুত নিচে নামতে গিয়ে সেটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। ফ্লাইট সেফটি বিশেষজ্ঞ মার্কো চ্যান এনডিটিভিকে বলেন, উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হওয়ার সময় আবহাওয়া স্থিতিশীল ও আকাশ পরিষ্কার ছিল।
উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হওয়ার সময়ের ভিডিও বিশ্লেষণ করে যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ নিরাপত্তাবিশেষজ্ঞ অ্যান্টনি ব্রিকহাউস বলেন, ভিডিওতে দেখা গেছে, বিধ্বস্ত হওয়ার মুহূর্তে উড়োজাহাজের চাকা নিচে নামানো ছিল। অথচ এ সময় উড়োজাহাজ সাধারণত চাকা ওপরে তুলে নেয়। এটি দেখে মনে হবে, বিধ্বস্ত হওয়া উড়োজাহাজটি রানওয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল।
তবে আসলে উড়োজাহাজটিতে কী ঘটেছিল, তা জানতে বিস্তারিত তদন্তের প্রয়োজন পড়বে। আন্তর্জাতিক উড়োজাহাজ চলাচল আইন অনুযায়ী, এ ঘটনার তদন্ত করবে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। এতে সহায়তা করবে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড। কারণ, উড়োজাহাজটির ইঞ্জিন যু্ক্তরাষ্ট্রে তৈরি। তদন্তে উড়োজাহাজটির ধ্বংসাবশেষ, রক্ষণাবেক্ষণের তথ্য, ব্ল্যাকবক্স ইত্যাদি খতিয়ে দেখা হবে।
হিন্দুস্তান টাইমস–এর খবরে বলা হয়, বিধ্বস্ত উড়োজাহাজের একটি ব্ল্যাকবক্স ইতিমধ্যে উদ্ধার করা হয়েছে। আরেক ব্ল্যাকবক্স উদ্ধারে অভিযান চালানো হচ্ছে।
নিহত ব্যক্তিদের পরিবারকে এক কোটি করে রুপি দেবে টাটা
এয়ার ইন্ডিয়া টাটা গ্রুপের মালিকানাধীন একটি প্রতিষ্ঠান। উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হওয়ার পর গ্রুপটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিহত ব্যক্তিদের প্রতিটি পরিবারকে এক কোটি রুপি সহায়তা দেবে তারা। বৃহস্পতিরা সন্ধ্যায় টাটা গ্রুপের চেয়ারম্যান এন চন্দ্রশেখরন এ ঘোষণা দেন বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম ইকোনমিক টাইমস ও বিবিসি।
টাটা গ্রুপের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসার যাবতীয় ব্যয় বহন করবে তারা। পাশাপাশি দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত বি জে মেডিকেল কলেজের হোস্টেল পুনর্নির্মাণেও সহায়তা দেওয়া হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত বিবৃতিতে চন্দ্রশেখরন বলেন, ‘এই শোকের মুহূর্তে কোনো শব্দই যথেষ্ট নয়। আমরা নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি।’
১৯৩২ সালে জেআরডি টাটার হাত ধরে যাত্রা শুরু করে ভারতের প্রথম বেসরকারি বিমান সংস্থা ‘টাটা এয়ার সার্ভিসেস’। সেটিরই পরে নাম হয় এয়ার ইন্ডিয়া। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯৫৩ সালে ভারত সরকার এয়ারলাইনটি জাতীয়করণ করে। ২০২২ সালে এক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রায় ১৮ হাজার কোটি রুপিতে এয়ার ইন্ডিয়ার মালিকানা আবার টাটা গ্রুপের কাছে হস্তান্তর করে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার।
‘এই ঘটনা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না’
এয়ার ইন্ডিয়ার উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এক্সে এক পোস্টে মোদি লিখেছেন, ‘আহমেদাবাদের ট্র্যাজেডি আমাদের স্তব্ধ ও শোকাহত করেছে। এই হৃদয়বিদারক ঘটনা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না।’
উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন যুক্তরাজ্যের রাজা তৃতীয় চার্লস ও রানি ক্যামিলা। তাঁরা বলেছেন, এই ভয়াবহ মর্মান্তিক ঘটনার শিকার বিভিন্ন দেশের মানুষের পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের প্রতি বিশেষ প্রার্থনা ও গভীরতম সমবেদনা জানাচ্ছেন তাঁরা। এই ঘটনার পর যাঁরা সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন, তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছেন তাঁরা।
বিধ্বস্ত হওয়া উড়োজাহাজের যাত্রী ও তাঁদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। তিনি বলেন, ‘ব্রিটিশ নাগরিকদের বহন করা লন্ডন অভিমুখী উড়োজাহাজ ভারতের আহমেদাবাদ শহরে বিধ্বস্ত হওয়ার পর যেসব দৃশ্য সামনে আসছে, সেগুলো ভয়াবহ। উড়োজাহাজের যাত্রী ও তাঁদের পরিবারের প্রতি গভীর সহানুভূতি প্রকাশ করছি।’
উড়োজাহাজ বিধ্বস্তের ঘটনায় আরও শোক প্রকাশ করেছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ, ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি, চেক প্রজাতন্ত্রের প্রধানমন্ত্রী পিটার ফাইলা, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি, সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওং, অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবানিজ ও বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
![]() |
| বি জে মেডিকেল কলেজের একটি ছাত্রাবাসের ওপর আছড়ে পড়ে উড়োজাহাজটি। ভবনে আটকে যায় সেটির পেছনের অংশ। গতকাল ভারতের গুজরাটের আহমেদাবাদে। ছবি: রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
পাকিস্তান–আফগানিস্তান সম্পর্কের বরফ যেভাবে গলল by জাহিদ হোসেন
গত মাসে বেইজিংয়ে চীন, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকের পর এই ঘোষণা আসে। আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতে সবকিছু যেভাবে দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে, সেই প্রেক্ষাপটে এই অপ্রত্যাশিত পদক্ষেপকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতা নেওয়ার পর চীন, রাশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও উজবেকিস্তানের মতো কয়েকটি দেশ তালেবান প্রশাসনের রাষ্ট্রদূতকে তাদের দেশে স্বাগত জানিয়েছে।
পাকিস্তান এত দিন পর্যন্ত কাবুলে কনস্যুলেট পর্যায়ে উপস্থিতি বজায় রেখে চলেছিল। যা–ই হোক, এখন পর্যন্ত কোনো সরকারই আনুষ্ঠানিকভাবে তালেবান প্রশাসনকে স্বীকৃতি দেয়নি। এর একটি প্রধান কারণ হলো, নারীদের শিক্ষার অধিকার ও কাজের ওপর তালেবান সরকার কঠোর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। তালেবান নেতৃত্বে কট্টরপন্থীদের প্রভাব রয়েছে, ফলে তাদের রক্ষণশীল নীতির পরিবর্তনের সম্ভাবনা খুবই কম।
পাকিস্তানের সঙ্গে আফগানিস্তানের সম্পর্কের বরফ এমন এক সময়ে গলতে শুরু করল, যখন ভারত-পাকিস্তানের চার দিনের যুদ্ধে গোটা অঞ্চলে বড় ধরনের সংঘাত ছড়িয়ে দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছিল। সেই সময় নয়াদিল্লির সঙ্গে কাবুলের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হচ্ছিল। সে কারণেই অনেক বিশ্লেষক তালেবান প্রশাসন ভারতের দিকে ঝুঁকে পড়েছে বলে মনে করেছিলেন। কিন্তু বেইজিংয়ের বৈঠক পরিস্থিতির নাটকীয় পরিবর্তন আনে।
এখানে চীনের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকা যেমন স্পষ্ট, তেমনি দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও কূটনৈতিক সংবেদনশীলতা দেখানো হয়েছে। রাষ্ট্রদূত পর্যায়ে সম্পর্ক উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে ইতিবাচক পদক্ষেপ। এটি বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনার পথ খুলে দেয়।
তালেবান দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতায় ফেরার প্রথম কয়েক মাস বাদ দিলে দুই দেশের সম্পর্ক ক্রমেই অবনতি হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের সম্পর্ক বৈরিতায় রূপ নেয়। সীমান্ত সংঘর্ষ থেকে শুরু করে বাণিজ্য বন্ধ হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। কিন্তু সবচেয়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত জঙ্গিদের জন্য আফগানিস্তানের ভূমি ব্যবহার করতে দেওয়া। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই আফগান তালেবান কমান্ডারদের সহায়তায় নিষিদ্ধঘোষিত তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)-এর মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো সেখানে সক্রিয়।
কাবুলে তালেবান পুনরায় ক্ষমতায় ফেরার পর পাকিস্তানে টিটিপির হামলার সংখ্যা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। সশস্ত্র এই গোষ্ঠীগুলো এখন আগের চেয়ে আরও প্রশিক্ষিত ও উন্নত অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত। ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো বাহিনী আফগানিস্তান ছেড়ে যাওয়ার সময় এসব অস্ত্রশস্ত্র ফেলে গিয়েছিল। কিন্তু টিটিপির পুনরুত্থান এবং পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ক্রমাগত সন্ত্রাসী হামলার জন্য কেবল কাবুলকে দায়ী করা যাবে না।
পাকিস্তানের যে আত্মসমর্পণের নীতি, সেটাই মূলত টিটিপির উত্থানের পেছনে দায়ী। এর আগে আফগান তালেবান প্রশাসনের জোরাজুরিতেই পাকিস্তান সরকার নিষিদ্ধঘোষিত কয়েকটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে শান্তি আলোচনায় বসেছিল এবং হাজার হাজার সুসজ্জিত অস্ত্রধারী জঙ্গিকে দেশে ফেরার অনুমতি দিয়েছিল। এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই যে জঙ্গিরা সীমান্তের ওপারের সমর্থন পাচ্ছেন। কিন্তু জঙ্গিদের উত্থানের জন্য আমাদের ভুলে ভরা এবং অসংলগ্ন কৌশল প্রধানভাবে দায়ী।
পাকিস্তান কখনো কখনো আফগানিস্তানের ভেতরে সন্দেহভাজন জঙ্গি ঘাঁটিতে বোমাবর্ষণও করেছে। তবে এই ধরনের মরিয়া পদক্ষেপে ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন থেকেই গেছে। বরং দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দেয়।
পাকিস্তান সরকার অভিযোগ করেছে, কিছু জঙ্গি হামলার সঙ্গে আফগান নাগরিকেরাও জড়িত। যদিও তালেবান প্রশাসন সেটা অস্বীকার করেছে। পাল্টা প্রতিশোধ হিসেবে পাকিস্তান হাজার হাজার অবৈধ এবং এমনকি নথিভুক্ত আফগান নাগরিককে বহিষ্কার করেছে। তাদের অনেকেই পাকিস্তানে জন্মগ্রহণ করেছেন এবং দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তানে বসবাস করে আসছেন। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে প্রায় ৮ লাখ ৪৫ হাজার আফগান পাকিস্তান ছেড়েছেন। বর্তমানে পাকিস্তানে আনুমানিক ৩০ লাখ আফগান রয়েছেন। পাকিস্তান তাঁদের সবাইকে ২০২৫ সালের মধ্যে বহিষ্কারের পরিকল্পনা করছে। এটা পুরোপুরি অযৌক্তিক পদক্ষেপ। এই পদক্ষেপে কাবুলের সঙ্গে শুধু উত্তেজনা বেড়েছে।
এ ছাড়া ঘন ঘন সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়ার কারণে পাকিস্তানের প্রতি আফগানদের ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যও বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ভারত তালেবান সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথে এগিয়েছে। চলতি বছরের শুরুতে দুবাইয়ে ভারতীয় পররাষ্ট্রসচিব আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এই কূটনৈতিক যোগাযোগ রক্ষণশীল তালেবান সরকারের প্রতি ভারতের নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।
কোনো কোনো বিশ্লেষকের মতে, নয়াদিল্লি ও কাবুলের মধ্যে শীর্ষ পর্যায়ের এই যোগাযোগ কার্যত তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি দেওয়া। তালেবান প্রশাসন জানিয়েছে, তারা ভারতের সঙ্গে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করতে চায়। ভারতকে তারা ‘একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক ও অর্থনৈতিক শক্তি’ বলে অভিহিত করে।
দিল্লি-কাবুলের এই সম্পর্কের উন্নতি চীন ও পাকিস্তানকে উদ্বিগ্ন করে তোলে। কেননা, চীন অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে তালেবান প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বেইজিং সফরে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের ব্যাপারে পূর্বনির্ধারিত কোনো সিদ্ধান্ত ছিল না। আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী একই সময়ে বিশেষ আমন্ত্রণে বেইজিং গিয়েছিলেন। তবে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকটি আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ একটি ইতিবাচক ফল দিয়েছে।
এখন কাবুলকে চাপে রাখা জরুরি, যাতে তারা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদে তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে না দেয়। একই সঙ্গে ইসলামাবাদের উচিত কাবুল প্রশাসনের সঙ্গে বহুমাত্রিক সহযোগিতা বাড়ানো।
* জাহিদ হোসেন পাকিস্তানের লেখক ও সাংবাদিক
- দ্য ডন থেকে নেওয়া, ইংরেজি থেকে অনুবাদ মনোজ দে
![]() |
| চীনের মধ্যস্থতায় পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক। ছবি: চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আনুপাতিক উচ্চকক্ষই এখন সংস্কারের প্রধান চাওয়া এবং কেন? by সুবাইল বিন আলম ও জ্যোতি রাহমান
ওই সেমিনারে সব রাজনৈতিক দল, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও ঐকমত্য কমিশনের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। তাদের প্রস্তাবিত ৭ প্রস্তাবের অন্যতম মূল প্রস্তাব সংসদে একটি আনুপাতিক আসনবিন্যাস (প্রপোর্শনাল রেপরেসেনটেশন, বা পিআর) ভিত্তিক উচ্চকক্ষ গঠনের প্রস্তাব যা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংবিধানিক সংস্কার হিসেবে সবাই মনে করছি। পিআর নিয়ে আমাদের অনেক ধোঁয়াশা আছে, সেগুলা কাটানো জন্যই এই লেখা।
উচ্চকক্ষ কেন দরকার?
১৯৯১ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত আমাদের নির্বাচনী গণতন্ত্রে প্রধানমন্ত্রী হতে ১৫১ জন এমপি দরকার হয়। আর সাংবিধানিক কারণেই-সব ক্ষমতা একজন ব্যক্তির হাতে কেন্দ্রীভূত হয়। প্রধানমন্ত্রী কার্যত বাংলাদেশের রাজা বা রানি। সংসদে তেমন কার্যক্রম না থাকায় এমপিরা পুরোপুরি এলাকাভিত্তিক রাজনীতিতে জড়িয়ে যায় এবং সরকারি দলের এমপিরা হয়ে উঠে লোকাল নবাব, আর বিরোধীরা করে বিক্ষোভ আর ক্ষোভের রাজনীতি। এমপিদের নির্বাচিত হওয়ার মানদণ্ড এলাকাকেন্দ্রিক কর্মকাণ্ড, সংসদে আইন প্রণয়ন একেবারেই নয়।
ফলে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দেখা যায় যারা ভোটে জিতে আসেন তারা যে ভালো সংসদ সদস্য হবেন এমন নিশ্চয়তা নেই। ২০১১ সালে শেখ হাসিনা সংবিধান পরিবর্তন করার আগেই এ চিত্র স্পষ্ট ছিল। ২০১০-এর দশকের মাঝামাঝি, যখন হাসিনার কর্তৃত্ব চরমে, তখন বিএনপি সংসদে যোগ্য মানুষদের নিয়ে আসার জন্য একটি উচ্চকক্ষের প্রস্তাব তোলে-যারা এক্সিকিউটিভকে জবাবদিহির মধ্যে আনবে, আইন বিশ্লেষণ করবে ইত্যাদি।
বিএনপি কি বিশদ প্রস্তাব দিয়েছিল?
না, দেয়নি। এটা মনে রাখা দরকার-সে সময় বিএনপির সঙ্গে যুক্ত থাকলেই আটক করা হতো, নির্যাতন বা গুম হওয়ার ঝুঁকি ছিল। ফলে উচ্চকক্ষের ধারণাটি বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করা সম্ভব হয়নি। সদস্যরা কীভাবে নির্বাচিত হবেন, তাদের ক্ষমতা কী হবে-এসব পরে নির্ধারণ করার কথা ছিল। তখনকার মিডিয়া ও এই প্রস্তাবের মূল্য বুঝতে পারে নাই, ফলে তখন এই নিয়ে আলোচনাও হয় নাই। তাদের ৩১ দফা প্রস্তাবে ও একটি সাংবিধানিক সংস্কার কমিশন গঠনের কথা বলা হয়েছিল, যেটা এগুলো নির্ধারণ করবে। জাতীয় পার্টির ও একটা দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট আইনসভার প্রস্তাব ছিল-কিন্তু তা মূলত ফেডারেশনভিত্তিক সরকারের মতো।
পিআর-ভিত্তিক উচ্চকক্ষ কী?
বাংলাদেশের নির্বাচনী বাস্তবতায় দলীয় প্রতীকই ভোটারদের প্রধান বিবেচ্য। পিআর ভিত্তিক উচ্চকক্ষের উদ্দেশ্য হচ্ছে-এটা নিশ্চিত করা যে সাধারণ নির্বাচনে (অর্থাৎ নিম্নকক্ষের ৩০০ আসনে) যেসব দল যত ভোট পেয়েছে, উচ্চকক্ষে সে অনুযায়ী তাদের প্রতিনিধিত্ব থাকবে।
একটা উদাহরণ দিই ১৯৯১ সালে বিএনপি ৩১% ভোট আর আওয়ামী লীগ ৩০% ভোট পেয়েছিল। তাহলে যদি ১০০ সদস্যবিশিষ্ট পিআর উচ্চকক্ষ থাকত, তবে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ পেত ৩১ ও ৩০টি আসন (কিছুটা জটিলতা থাকলেও ধারণাটা এমনই)। ২০০১ সালে বিএনপির ভোট ৪১% এবং আওয়ামী লীগের ৪০ %, তাই একই অনুপাতে আসন হতো।
বিকল্প কী?
বেশ কয়েকটি বিকল্প আছে।
১. সরাসরি উচ্চকক্ষ সদস্য নির্বাচন। এখানে প্রশ্ন-৩০০ এমপির পাশাপাশি ১০০ উচ্চকক্ষ সদস্য কেন? একই ধরনের তাগিদ ও সীমাবদ্ধতা থাকলে, এই বিকল্প গ্রহণ করলে দেখা যাবে তারাও এলাকাভিত্তিক রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ছে। ফলে সেখানেও স্থানীয় সংঘাতই দেখা যাবে, ভালো আইনপ্রণয়ন নয়।
২. ফেডারেশন ভিত্তিক পদ্ধতিতে, উচ্চকক্ষের সদস্যরা অঞ্চল বা বিভাগের প্রতিনিধিত্ব করেন। কিন্তু বাংলাদেশ তো ফেডারেশন না। যুক্তরাষ্ট্র বা ভারতের মতো স্টেটভিত্তিক ভারসাম্য দরকার, আমাদের এখানে সেই বাস্তবতা বা প্রয়োজন নেই।
৩. সরকার নিজেই উচ্চকক্ষের সদস্য নিয়োগ দেবে। ইউরোপের কিছু দেশে, যেমন ব্রিটেনে হাউস অব লর্ডসে এমন ব্যবস্থা আছে। বিএনপি প্রস্তাবে হাউস অব লর্ডসের রেফারেন্স ছিল। কিন্তু বাংলাদেশে বংশানুক্রমিক অভিজাত শ্রেণি নেই, তাহলে কেন এমন ব্যবস্থা চাই? এটা তো আবার দুর্নীতি আর স্বজনপ্রীতির নতুন প্ল্যাটফর্ম হয়ে যাবে।
৪. বিএনপির আরেক প্রস্তাব ছিল-সংসদে যে দল যত আসন পেয়েছে, উচ্চকক্ষেও সেই অনুপাতে আসন পাবে। যেমন ১৯৯১-তে বিএনপি ১৪০ ও আওয়ামী লীগ ৯২ আসন পেয়েছিল, তাহলে উচ্চকক্ষে বিএনপি ৪৭ ও আওয়ামী লীগ ৩১ আসন পেত।
কোন কোন প্রস্তাব আলোচনায়?
দুটি মূল ধারণা আলোচনায় আছে। একটি হলো বিএনপির আসনভিত্তিক প্রস্তাব। আরেকটি হলো পিআর-ভিত্তিক উচ্চকক্ষ, যা নাগরিক কমিশন প্রস্তাব করেছে এবং অন্য বাকি প্রায় সব দল সমর্থন করেছে। পাশাপাশি, আলী রিয়াজ কমিশনের প্রস্তাব আছে-১০০ আসনের উচ্চকক্ষে ৫ জন রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত হবেন।
কোনটাকে কী ভালো বলতে পারি?
মূল উদ্দেশ্য যদি হয়-সংসদে ভালো মানুষদের আনা, তাহলে দুটি ব্যবস্থাই চলতে পারে (বা ব্যর্থও হতে পারে)। তবে পিআর ভিত্তিক উচ্চকক্ষ আরও কিছু বড় সুবিধা দিতে পারে। আমাদের নির্বাচনী ব্যবস্থায় ভোটের হার এবং আসনের মধ্যে অনেক ফারাক। ২০০৮-এ বিএনপি তাদের সবচেয়ে খারাপ পরাজয় দেখে, অথচ ৩২.৫ %-ভোট পায়, আর এর থেকে কম ভোটে তারা ১৯৯১ এ সরকার গঠন করে। তখন উচ্চকক্ষে পিআর থাকলে বিএনপি আরও ক্ষমতা নিয়ে বিরোধী দল হিসেবে থাকতে পারত।
পিআর উচ্চকক্ষ ভোটের অনুপাত অনুযায়ী জনমত প্রতিফলন করতে পারে, যা সংসদের আলোচনাকে আরও ভারসাম্যপূর্ণ করতে সাহায্য করবে।
উচ্চকক্ষের ক্ষমতা কতটুকু?
নাগরিক কোয়ালিশনের প্রস্তাব-উচ্চকক্ষ কোনো আইন প্রণয়ন শুরু করতে পারবে না, সেটা শুধু নিম্নকক্ষ করবে। তবে সংবিধানের ৮১ ধারার অর্থ বিল বাদে অন্য যেকোনো আইনে মতামত দিতে পারবে। সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে-দুই কক্ষের অনুমোদন লাগবে। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ-৪০% ভোট পেলেও দল দু-তৃতীয়াংশ আসন পেয়ে সংবিধান পাল্টে ফেলা সম্ভব, এটা ঠেকাতে পিআর উচ্চকক্ষ দরকার।
এই উচ্চ কক্ষের মূল দায়িত্ব নিম্নকক্ষের সঙ্গে একটি তদারকিমূলক সম্পর্ক তৈরি করা।
উচ্চকক্ষ কোনো বিলের বিষয়ে নিম্নকক্ষের সঙ্গে একমত না হলে সেই বিল আবার নিম্নকক্ষে ফিরে যাবে এবং সেখানে তা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। কিন্তু, সংবিধান সংশোধন, জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত চুক্তি এবং যুদ্ধ ঘোষণা-সংক্রান্ত বিলে নিম্ন কক্ষের সঙ্গে সঙ্গে উচ্চকক্ষের অনুমোদনের বাধ্যবাধকতা থাকবে।
সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলো জবাবদিহি নিশ্চিত করতে নিম্নলিখিত দায়িত্ব পালন করবে:
ক. সংবিধানিক ও জবাবদিহি নিশ্চিতকারী প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পর্যালোচনা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা
খ. জাতীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রকাশ্য শুনানির আয়োজন
গ. নির্বাহী সিদ্ধান্তসমূহের পর্যালোচনা।
এ ছাড়াও যদি রিয়াজ কমিশনের ন্যাশনাল কনস্টিটিউশন কাউন্সিল (এনসিসি) ব্যাপারে রাজনৈতিক দলেরা একমত না হয় তাহলে উচ্চ কক্ষের দায়িত্ব আর ও বাড়িয়ে দেওয়ার প্রস্তাবনা আছে। সাংবিধানিক সংস্থা (যেমন, নির্বাচন কমিশন, সরকারি কর্ম কমিশন, কন্ট্রোলার ও মহা হিসাব নিরীক্ষক দপ্তর) এবং জবাবদিহিমূলক অন্যান্য প্রতিষ্ঠান (যেমন, দুর্নীতি দমন কমিশন, মানবাধিকার কমিশন, স্থানীয় সরকার কমিশন, তথ্য কমিশন, এবং নতুন সংবিধানিক প্রতিষ্ঠান-যেমন স্থানীয় সরকার কমিশন, পুলিশ কমিশন, জন প্রশাসন কমিশন, শ্রম কমিশন, নারী কমিশন, ন্যায়পালের কার্যালয়, স্বাধীন সংস্কার বাস্তবায়ন কমিশন) এর নিয়োগসমূহ নির্বাহী বিভাগের মনোনয়নের ভিত্তিতে উচ্চকক্ষের অনুমোদনের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে।
সব জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান উচ্চকক্ষের স্থায়ী কমিটির কাছে দায়বদ্ধ থাকতে হবে। উচ্চকক্ষ যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সাংবিধানিক সংস্থা এবং স্বাধীন জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের অপসারণের ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবে।
উচ্চ আদালতের বিচারপতি নিয়োগ বিচারিক নিয়োগ কমিশনের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে এবং উচ্চকক্ষের স্থায়ী কমিটি শুধুমাত্র তাদের মনোনয়ন যাচাই করতে পারবে।
তবে অ্যাটর্নি জেনারেল ও প্রতিরক্ষা প্রধানসহ নির্বাহী বিভাগভুক্ত পদসমূহে সরকার নিয়োগ দেবে।
ভাবুন, যদি ভবিষ্যতের কোনো সরকার দুর্নীতিবাজ কাউকে কমিশনার বানাতে চায়-তখন ওপেন স্ক্রুটিনিতে একজন বিরোধী সদস্য তাঁকে আটকে দিতে পারবে।
এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, পিআর উচ্চকক্ষ নির্বাচনী সময়ের সরকার গঠনে (তত্ত্বাবধায়ক সরকার) একটি কৌশলগত প্ল্যাটফর্ম হতে পারে।
কী কী এখনো ঠিক হয়নি?
অনেক কিছুই এখনো নির্ধারণ হয়নি।
স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ভোটের কী হবে? তারা ৫-১০% ভোট পায়। এবার তো আওয়ামী লীগ প্রার্থীই দিতে নাও পারে, তখন ভোট স্বতন্ত্রদের যাবে-সেটা কীভাবে পি আর উচ্চকক্ষে যাবে?
আবার, কেমন ভোটে একটি দল উচ্চকক্ষে প্রবেশ করবে? প্রফেসর আলী রিয়াজ বলছেন-কমপক্ষে ১% পেতে হবে, অন্যথায় কোনো আসন নয়। বদিউল আলম মজুমদার সাহেব প্রস্তাব করেছেন ৩ %। কম রাখলে ছোট দল ঢুকে পড়বে, বেশি রাখলে আবার একদলীয় উচ্চকক্ষ হয়ে যাবে।
কমিটি গঠনের নিয়ম, কত আসনে আইন পাস হবে, প্রার্থী তালিকা কখন প্রকাশ হবে, প্রার্থীদের যোগ্যতা-এসব নিয়েও স্পষ্টতা দরকার।
তবে এই ব্যবস্থার আসল পরীক্ষা হবে বিরোধী সদস্যদের দিয়ে। তারা যদি ভবিষ্যতে নিম্ন কক্ষের এমপি হতে চায়, তাহলে এলাকাভিত্তিক কাজেই ডুবে যাবে-তখন পুরো ব্যবস্থাটাই ব্যর্থ হতে পারে।
পিআর উচ্চকক্ষ ম্যাজিক না। কিছুই ম্যাজিক না। গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখতে নাগরিক সচেতনতাই প্রধান। যদি অযোগ্য লোককে দল মনোনয়ন দেয়, তাহলে পুরো উচ্চকক্ষই অর্থহীন। তারপরও আশার জায়গা আছে-বিএনপি যে উচ্চকক্ষ প্রস্তাব করেছে, যা বোঝায় যে মানসম্মত আইনপ্রণেতা দরকার সেটা তারা বুঝতে পেরেছে। পরের আলোচনাতে আশা করব তাদের বাকি প্রশ্ন গুলোর উত্তর পেয়ে এই প্রস্তাবনাতেও রাজি হবে।
* সুবাইল বিন আলম ও জ্যোতি রাহমান নাগরিক কোয়ালিশনের সংগঠক
- মতামত লেখকদ্বয়ের নিজস্ব
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আহমেদাবাদ বিমান ট্র্যাজেডি: মিনিটেই প্রাণ গেল ২৪১ জনের
উড্ডয়নের কয়েক মিনিট পরই বিধ্বস্ত হয়েছে বিমানটি। দুর্ঘটনার বিষয়টি আঁচ করতে পেরে পাইলট এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (এটিসি)কে বিপদ সংকেত পাঠান। তবে ততক্ষণে বিমানের কন্ট্রোল আর তার হাতে ছিল না। ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, পাইলটের কাছ থেকে বিপদ সংকেত পেয়ে এটিসি যোগাযোগের চেষ্টা করে। কিন্তু তা সম্ভব হয়নি। তার পরই বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার খবর জানা যায়। বিমানটি রানওয়ে ২৩ থেকে ওড়ার এক মিনিটেরও কম সময়ের মধ্যে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এটিসি’র সঙ্গে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, বিধ্বস্ত হওয়ার আগে বিমানটি মাটি থেকে ৬২৫ ফুট উচ্চতায় ছিল। সেটি দ্রুতগতিতে নিচের দিকে নেমে আসতে শুরু করে। তারপরই সেটি মেঘানিনগরের কাছে মেডিকেল শিক্ষার্থীদের একটি ছাত্রাবাসে আছড়ে পড়ে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য বলছে, বিধ্বস্ত হওয়া বিমানটি ভিটি-এএনবি। বিমানটি এদিনই দিল্লি থেকে অহমেদাবাদে আসে। তারপর সেটি লন্ডনের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিল। কিন্তু তার আগেই দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। বিমানে থাকা যাত্রীদের ১১ জন শিশু বলে জানানো হয়েছে। এ ছাড়া লন্ডনের উদ্দেশ্যে অন্যান্য যাত্রীদের সঙ্গে আরোহী হয়েছিলেন গুজরাটের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রুপানি। জোন ওয়ান থেকে বিমানে তার বোর্ডিংয়ের সময় ছিল দুপুর ১২টা ১০ মিনিট। তার আসন নাম্বার ছিল ২ডি। বিজয় রুপানির ঘনিষ্ঠ প্রশান্ত বালা আনন্দবাজারকে জানিয়েছেন, তিনি বিজয়কে বিমানবন্দরে পৌঁছে দিয়ে এসেছেন। ওই বিমানে লন্ডনে যাওয়ার কথা ছিল তার। যাত্রীদের বিমান পর্যন্ত পৌঁছে দেয়ার বাসেও উঠেছিলেন বিজয়।
বলা হচ্ছে ভারতের ইতিহাসে এটিই বোয়িং বিমানের দুর্ঘটনা, যেখানে বিধ্বস্তের পর যাত্রীদের কেউই বেঁচে ফেরেননি। এ ঘটনায় শোক জানিয়েছেন বিশ্বনেতারা। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই দুর্ঘটনাকে হৃদয়বিদারক বলে উল্লেখ করেছেন। এক্সের পোস্টে তিনি বলেছেন, আহমেদাবাদের এই দুর্ঘটনা আমাদের হতবাক ও দুঃখিত করেছে। এটি এমন এক হৃদয়বিদারক ঘটনা যা ভাষায় প্রকাশ করা অসম্ভব। এই দুঃখের মুহূর্তে, বিমান দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত সকলের প্রতি আমি সমবেদনা প্রকাশ করছি। মোদি আরও লিখেছেন, ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার সঙ্গে যুক্ত মন্ত্রী এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমি যোগাযোগ করেছি। এক্সে এক পোস্টে বিমান আরোহীদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন বৃটেনের প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ের স্টারমার। এ ছাড়া দেশটি এ বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। বৃটেনের রাজা চার্লস বলেছেন, ওই দুর্ঘটনায় তিনি ও রানী ক্যামেলিয়া ‘নিদারুণভাবে হতবাক’। রাজ পরিবারের অফিসিয়াল এক্স অ্যাকাউন্টে চার্লসের বার্তা দিয়ে বলা হয়েছে, বিমানের যাত্রী, তাদের পরিবার ও বন্ধুদের জন্য প্রার্থনা ও সমবেদনা। জরুরি পরিষেবাগুলোর বীরত্বপূর্ণ প্রচেষ্টার প্রতি সম্মান জানিয়েছেন রাজা চার্লস। এ ছাড়া এই হৃদয়বিদারক ও বেদনাদায়ক সময়ে যারা সাহায্য এবং সমর্থন প্রদান করেছেন তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তিনি। নয়াদিল্লিতে অবস্থিত বৃটিশ হাইকমিশন এক্সের এক পোস্টে সমবেদনা জানিয়ে বলেছে, এই দুর্ঘটনায় সমবেদনা জানিয়েছেন বৃটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি। এক্সে এক পোস্ট দিয়ে তিনি বলেছেন, আহমেদাবাদে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় আমরা গভীরভাবে শোকাহত। যাত্রীদের প্রতি আমার সমবেদনা। আরও বলেছেন, ঘটনার কারণ উদ্ঘাটন ও জরুরি ভিত্তিতে সহায়তা প্রদানের উদ্দেশ্যে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করছে বৃটেন। ভারতে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত বলেছেন, ওই সংবাদ ‘হৃদয়বিদারক’। এসময় বিমানের যাত্রী, তাদের পরিবার ও ভারতীয় জনগণের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন তিনি। ভারতে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত থিয়েরি ম্যাথু বলেছেন, বিমান দুর্ঘটনার সংবাদে ফ্রান্স গভীরভাবে মর্মাহত। ফ্রান্সের পক্ষ থেকে বিমানে থাকা যাত্রী ও তাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন তিনি।
ভারতে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় প্রধান উপদেষ্টার শোক, সহায়তার প্রস্তাব
এয়ার ইন্ডিয়ার বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার বিধ্বস্তের ঘটনায় গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে লেখা এক শোক বার্তায় তিনি বাংলাদেশের পক্ষ থেকে যেকোনো ধরনের সহায়তারও প্রস্তাব দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং শোক বার্তাটি গণমাধ্যমে শেয়ার করে। নরেন্দ্র মোদিকে লেখা বার্তায় ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ২৪২ জন যাত্রী নিয়ে আহমেদাবাদে এয়ার ইন্ডিয়া বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার মর্মান্তিক বিধ্বস্তের সংবাদে আমি গভীরভাবে মর্মাহত। ভয়াবহ এ দুর্ঘটনায় যেসব পরিবার তাদের প্রিয়জনকে হারিয়েছে আমরা তাদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। কঠিন এ সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত ও তাদের প্রিয়জনদের জন্য আমাদের প্রার্থনা ও সহানুভূতি রয়েছে। আমরা ভারতের সরকার ও জনগণের প্রতি সংহতি জানাচ্ছি এবং যেকোনো ধরনের পরিপূর্ণ সহায়তা করতে বাংলাদেশ প্রস্তুত আছে।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
শেখ হাসিনার বাবুর্চি মোশারফের সম্পদের পাহাড়
তিনি ২৭ বছর ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাসার বাবুর্চি ছিলেন। তবে ৫ই আগস্ট হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পর গা ঢাকা দেন মোশারফ। সমপ্রতি তার বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ দিয়েছেন বড় কামদিয়া গ্রামের কৃষক মো. চাঁনমিয়া ফকিরের ছেলে মো. সাগর মিয়া। এরপর থেকে বেরিয়ে আসছে তার নানা অপকর্ম, নিরীহ মানুষের ওপর অত্যাচার-জুলুম ও সম্পদের তথ্য। লিখিত অভিযোগে বলা হয়, বাবুর্চি মোশারফ বড় কামদিয়া গ্রামের বাসিন্দা। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় কৃষক চাঁনমিয়া ফকিরের বড় কামদিয়া ৮১ নম্বর মৌজার ৬১৮ নম্বর দাগের ৪৩ শতাংশ জমি জোরপূর্বক দখল করে বাড়ি নির্মাণ করে। বিভিন্ন সময় ওই জমি ছেড়ে দিতে বললে মোশারফ হুকমি-ধমকি ও মারপিট করে কৃষক চাঁনমিয়া ফকির ও তার পরিবারকে এলাকাছাড়া করে রাখেন। আওয়ামী সরকারের পতনের পর গত ১লা জুন কৃষক চাঁনমিয়ার পরিবারের দখল করা জমি উদ্ধার করতে গেলে মোশারফ তার লোকজন নানাভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দিচ্ছে।
ভুক্তভোগী কৃষক চাঁনমিয়া ফকিরের ভাতিজা সেন্টু ফকির বলেন, আমার চাচা একজন গরিব কৃষক। স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে হাসিনার বাবুর্চি মোশারফ তার ৪২ শতাংশ জমি দখল করে পাকাঘর নির্মাণ করে এবং ওই ঘরের চালের ওপর একটি নৌকা তৈরি করে টানিয়ে রাখেন। তখন আমরা পুলিশ-প্রশাসনের কাছে গিয়েও কোনো সমাধান পাইনি। বরং জমি দখল নিয়ে মুখ খুললেই আমাদেরকে মারধর করে ও মামলা দিয়ে এলাকাছাড়া করে রাখতেন মোশারফ। শুধু আমাদের পরিবার নয়, মোশারফ হাসিনার বাবুর্চি হওয়ায় পুরো বড় কামদিয়া গ্রামের সাধারণ মানুষের ওপর জুলুম-নির্যাতন চালিয়েছেন।
মোশারফের প্রতিবেশী মো. জামাল শেখ বলেন, মোশারফের বাবা অন্যের জমিতে শ্রমিকের কাজ করে সংসার চালাতেন। অভাবের সংসার হওয়ায় মোশারফ পড়ালেখাও করতে পারেনি। ছোট সময় থেকেই তিনি পাবনা শহরের একটি হোটেলের বাবুর্চির কাজ করতেন। তখন তিনি বাবার সম্পত্তির ভাগ পান মাত্র ৫ শতাংশ জমি। কিন্তু ১৯৯৬ সালে তিনি হাসিনার বাসার বাবুর্চির চাকরি পাওয়ার পর থেকে যেন আলাউদ্দীনের চেরাগ পেয়েছেন। বর্তমানে কামদিয়া গ্রামে ২ বিঘা জমির ওপর করেছেন বাড়ি। মাঠেও ৩ বিঘা জমি রয়েছে তার। তিনি আরও বলেন, ফরিদপুরের শহরের হাড়োকান্দি এলাকায় ১২ শতাংশ জমির ওপর একটি বাড়ি ও রাজবাড়ি রাস্তা মোড় এলাকায় ৮ শতাংশ জমির ওপর একটি বাড়ি রয়েছে তার। এ ছাড়া ঢাকা ও ফরিদপুর শহরে একাধিক ফ্ল্যাট-প্লট ও গাড়ি রয়েছে বলে আমাদের কাছে মোশারফ নিজেই বলেছেন। বর্তমান সরকারের গোয়েন্দা সংস্থা যদি অনুসন্ধান করে তাহলে মোশারফের অনেক অজানা তথ্য ও সম্পদের হিসাব বেরিয়ে আসবে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, শেখ হাসিনার বাবুর্চি হওয়ার সুবাদে সম্পদ গড়ার পাশাপাশি মোশারফ তার নিজ গ্রামের ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতে চেয়েছিলেন। সাধারণ মানুষের ওপর হামলা-মামলা ও তাদেরকে জিম্মি করে জমি দখল ও শালিস বাণিজ্য করার চেষ্টা করেছিলেন। তবে ওই গ্রামের যুবলীগ নেতা নুর ইসলাম তার প্রতিপক্ষ হওয়ায় তেমন সুবিধা করতে পারেননি তিনি। ২০১৫ সালে যুবলীগ নেতা নুর ইসলামের সমর্থকরা তাকে ধাওয়া দিয়ে এলাকাছাড়া করে দেন। এরপর তিনি নুর ইসলামের সঙ্গে মিলে ফের এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেন। বড় কামদিয়া গ্রামের বাসিন্দারা জানান, আওয়ামী লীগের ক্ষমতার বলে অন্ধ হয়ে গিয়েছিলেন মোশারফ। শুধু গ্রামবাসীর ওপর অত্যাচার করে ক্ষ্যান্ত হননি তিনি, নিজের পরিবারও রেহাই পায়নি তার কাছ থেকে। গত চার বছর আগে দুই মেয়ে ও এক ছেলেকে আটকিয়ে রেখে নিজের স্ত্রীকে জোর করে বাড়ি থেকে বের করে দেন। এখনো তার বাড়িতে স্ত্রী আসার আর সুযোগ পায়নি। এসব বিষয় বক্তব্য নেয়ার জন্য মোশারফের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ফোন নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। এমনকি তার গ্রামের বাড়িতে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। ফরিদপুর জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক হাসানউজ্জামান মানবজমিনকে বলেন, ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার বাসার একজন বাবুর্চি কতো টাকা বেতন পেয়েছেন? বেতন অনুযায়ী তার তো এত সম্পদের মালিক হবার কথা না। নিশ্চয় তিনি দুর্নীতির আশ্রয় নিয়েছেন। এখন তার সম্পদের বিষয়টি যেহেতু সামনে এসেছে, তাই তার সম্পদের বিষয়টি অবশ্যই সরকারের খতিয়ে দেখা উচিত বলে আমি মনে করি।
সালথা থানার ওসি মো. আতাউর রহমান মানবজমিনকে বলেন, জমি দখলের বিষয় নিয়ে তার বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগ তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
জুলাই আন্দোলন: এখনো স্বজনের খোঁজে তারা by সাজ্জাদ হোসেন
সোহেলের শ্যালক মহিউদ্দিন মানবজমিনকে বলেন, আমার বোনের পরিবার গাজীপুরের টঙ্গীতে থাকতো। গত ৫ই আগস্ট সকালে সোহেল শেখ ‘লংমার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচির ডাকে সাড়া দিয়ে গণভবনের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। পরে একটি অজ্ঞাত নাম্বার থেকে সোহেলের স্ত্রী আয়েশার নাম্বারে ফোন দিয়ে বলা হয় সোহেল পুলিশের গুলিতে আহত হয়েছে। তাকে উত্তরা ক্রিসেন্ট হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। ঐদিনই সোহেলের ভাই ক্রিসেন্ট হাসপাতালে গিয়ে খোঁজ করলে তাকে পায়নি। হাসপাতাল থেকে জানানো হয়, এখানে যারা গুরুতর আহত এবং নিহত হয়েছে, তাদের সবাইকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পরের দিন সোহেলের স্ত্রী ও তার দেবর ঢাকা মেডিকেল কলেজে গিয়ে তাকে খুঁজে পায়নি। এর পরেরদিন আমি বেওয়ারিশ লাশের সন্ধানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গ, আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের কার্যালয়, ক্রিসেন্ট হাসপাতাল সহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করে কোথাও পাইনি। তিনি বলেন, আমার বোন জামাই আটোরিকশা চালিয়ে যা আয় করতো তা দিয়েই চলতো তাদের সংসার। তার বৃদ্ধ বাবা-মায়ের পক্ষেও তাদের দায়িত্ব নেয়া সম্ভব না। বর্তমানে দুই সন্তানসহ আমার বোন আমাদের গ্রামের বাড়ি পিরোজপুরে আছেন। কিন্তু আমাদের পরিবারেও টানাপড়েন। আমার রাজমিস্ত্রি বাবার পক্ষেও এত জনের সংসার চালানো কঠিন। মহিউদ্দিন বলেন, উত্তরার একটি বেসরকারি সংস্থা থেকে ১০ হাজার টাকা ব্যতীত কোনো সহায়তা পায়নি আমার বোন। কয়েকবার জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাইন্ডেশনে যোগাযোগ করলেও নিখোঁজদের জন্য ফাইন্ডেশনের পক্ষে সহায়তা করা সম্ভব নয় বলে জানানো হয়।
এদিকে শনিরআখড়া পূর্ব কদমতলী ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা থেকে এইচএসসি পরীক্ষা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলো শহিদুল ইসলাম মিরাজ। পড়াশোনার খরচ জোগাতে কাপ্তান বাজারে একটি ফিল্টার তৈরির দোকানে চাকরি করতো সে। গত ২৭শে জুলাই পরিবারকে না জানিয়ে বাসা থেকে বের হয় মিরাজ। ঐদিন আর বাসায় ফেরেনি সে। অনেক খোঁজাখুঁজির পরেও মিরাজকে আর পাওয়া যায়নি। মিরাজের ভাই সাইফুল ইসলাম মৃদুল মানবজমিনকে বলেন, মিরাজের নিখোঁজের সময় যাত্রাবাড়ীতে তীব্র আন্দোলন চলছিল। আমরা মিরাজের খোঁজে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গ, আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের কার্যালয়ে গিয়ে বেওয়ারিশ লাশের তালিকা এবং সেখানে থাকা লাশের মধ্যেও মিরাজকে খুঁজেছি। কিন্তু কোথাও তাকে পাইনি। মৃদুলের প্রশ্ন, আর কতো অপেক্ষা করতে হবে তাদের। এখনো কেন ভাইয়ের লাশও পাবো না? আর কতো অপেক্ষা করলে আমার ভাইয়ের খোঁজ পাবো?
তিনি আরও বলেন, মিরাজের নিখোঁজের সময় যাত্রাবাড়ীতে ধরপাকড় চলছিল। থানায় গেলে সন্ধান মিলবে- এমন আশাবাদ তৈরি হয়েছিল। মিরাজের নিখোঁজের ব্যাপারে থানায় জিডিও করেছি। কিন্তু থানা কিংবা কারাগার কোথাও তার সন্ধান পাইনি। মৃদুল বলেন, আমাদের পরিবার আর্থিকভাবে তেমন সচ্ছল নয়। আমার বড় ভাই সাইফুল ইসলাম মিখিল জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাইন্ডেশনে মিরাজের নিখোঁজের তথ্য দিয়ে সহায়তা চায়। কিন্তু তারা জানায় এখনো জুলাই আন্দোলনে যারা নিখোঁজ হয়েছে সে ব্যাপারে সহায়তা দেয়ার কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
আন্দোলনে আরেক নিখোঁজ মোহাম্মদ হৃদয়ের গুলিবিদ্ধ হওয়ার ভিডিও ভাইরাল হলেও লাশ এখনো পর্যন্ত খুঁজে পায়নি তার পরিবার। গাজীপুরের কোনাবাড়ীর শরীফ জেনারেল হাসপাতালের সামনে হৃদয়কে কাছ থেকে পিঠে বন্দুক ঠেকিয়ে গুলি করে এক পুলিশ সদস্য। গুলিবিদ্ধ হৃদয়ের দেহটি একটি গলির দিকে টেনেহিঁচড়ে নিচ্ছে, এমন অমানবিক একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। এরপরের আর কোনো ফুটেজ নেই। নেই কোনো তথ্য। হৃদয়ের দুলাভাই মো. ইব্রাহিম বাদী হয়ে গত ২৬শে আগস্ট কোনাবাড়ী থানায় হৃদয়কে গুলি করে হত্যা ও লাশ গুমের অভিযোগে মামলা করেন।
সংসারের অভাব-অনটনের জন্য টাঙ্গাইলের হেমনগর ডিগ্রি কলেজে পড়াশোনার পাশাপাশি কোনাবাড়ীতে অটোরিকশা চালাতেন হৃদয়। কথা ছিল পরেরদিন গ্রমের বাড়িতে চলে যাবেন। কিন্তু তার আগেই ২০ বছর বয়সী হৃদয়কে পিঠে বন্দুক ঠেকিয়ে গুলি করে দেয় পুলিশ।
হৃদয়ের বড় বোন মোসাম্মৎ জেসমিন মানবজমিনকে বলেন, আমার একমাত্র ভাই হৃদয়। আমার বাবা অনেক বয়স্ক। তিনিও পেশায় রিকশাচালক। বাবা ঋণগ্রস্ত হয়ে যাওয়ায় হৃদয় ঢাকায় এসে অটোরিকশা চালাতো। বেশ কিছু টাকাও উপার্জন করেছিল। কিন্তু পুলিশ গুলি করে ভাইটারে মারছে, তার ভিডিও আছে। কিন্তু আমার ভাইটার লাশ আজও খুঁজে পাচ্ছি না। লাশ পাওয়া যায়নি বলে হৃদয়ের পরিবার আজও কোনো অনুদান পায়নি। শহীদের তালিকায়ও জায়গা হয়নি হৃদয়ের।
জুলাই আন্দোলনে নিহত ব্যক্তিদের চূড়ান্ত তালিকা প্রণয়ন করতে ‘গণ-অভ্যুত্থান সংক্রান্ত বিশেষ সেল’ গঠন করেছে সরকার। গণবিজ্ঞপ্তি দিয়ে নিহত, নিখোঁজ, বেওয়ারিশ লাশ হিসেবে যাদের দাফন করা হয়েছে, তাদের পরিচয় প্রমাণসহ স্বজনদের আবেদন করতে বলা হয়। কিন্তু এখনো নিখোঁজদের ব্যাপারে সেলের কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়নি।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান সংক্রান্ত বিশেষ সেলের দলনেতা ও যুগ্ম সচিব মো. মশিউর রহমান মানবজমিনকে বলেন, জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে যারা এখনো নিখোঁজ তাদের ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। তবে ছুটির পরে সেলের কাজ শুরু হলে দ্রুতই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ট্রাম্প কি যুক্তরাষ্ট্রকে পুলিশি রাষ্ট্রের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন by রবার্ট রাইখ
শুক্রবার সকালে, লস অ্যাঞ্জেলেসে অভিযান চালিয়েছে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই), ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস), এফবিআই এবং মাদকদ্রব্য প্রয়োগ প্রশাসনের (ডিইএ) ফেডারেল এজেন্টরা। তারা দুটি হোম ডিপো এবং একটি পোশাকের দোকানে অভিযান চালায়। তাদের উদ্দেশ্য ছিল কাগজপত্রবিহীন অভিবাসী কর্মীদের খুঁজে বের করা।
বিভিন্ন তথ্য অনুযায়ী, তারা ১২১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। অভিযানের সময় প্রতিবাদকারীরা ডিম ছুড়ে ও স্লোগান দিয়ে তাদের বাধা দেয়। দাঙ্গা পুলিশ ঢাল, লাঠি, মরিচগুঁড়া, রাবার বুলেট, কাঁদানে গ্যাসের শেল এবং ফ্ল্যাশ-ব্যাং গ্রেনেড ব্যবহার করে তঁাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
শনিবার ট্রাম্প পরিস্থিতি আরও সঙিন করে তোলেন। তিনি লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টিতে ন্যাশনাল গার্ডের কমপক্ষে দুই হাজার সৈন্য মোতায়েন করার নির্দেশ দেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অভিবাসন কর্মকর্তাদের কাজে বাধা দিলে তা ‘বিদ্রোহ’ বলে গণ্য করা হবে। হোয়াইট হাউসের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ স্টিফেন মিলার এই প্রতিবাদকে ‘বিদ্রোহ’ বলে আখ্যা দেন।
শনিবার সন্ধ্যায়, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সক্রিয় মেরিন সেনা মোতায়েনের হুমকি দেন। তিনি বলেন, ‘আইসিই এবং ফেডারেল আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ওপর সহিংস হামলাগুলোর উদ্দেশ্য আমরা জানি। এই হামলাগুলো করা হয়েছে আমাদের দেশ থেকে অপরাধী অবৈধ বিদেশিদের সরাতে বাধা দেওয়ার জন্য। এটি অপরাধী চক্র (বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন) দ্বারা পরিচালিত বিপজ্জনক আক্রমণ। একে আমরা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বিশাল ঝুঁকি বলে গণ্য করছি। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রশাসন ফেডারেল এজেন্ট এবং ফেডারেল স্থাপনাগুলোর বিরুদ্ধে সহিংসতা ও ধ্বংস সহ্য করবে না।’
আমরা ট্রাম্পের পুলিশি রাষ্ট্রের প্রথম ধাপ দেখছি।
গত সপ্তাহে সান দিয়েগো, মার্থাস ভিনিয়ার্ড ও বার্কশায়ারে অভিবাসনবিরোধী অভিযানের সময় অভিযানে বিক্ষোভ দেখা দেয়। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে যখন ফেডারেল এজেন্টরা কর্মীদের আটক করছিল, তখন লোকজন তাদের বাধা দেন।
ট্রাম্পের এই ধরপাকড় ফেডারেল আদালত পর্যন্ত পৌঁছেছে। আইসিই কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রের আদালতকক্ষের বাইরে জড়ো হচ্ছেন। বিচারকেরা যেসব অভিবাসীর মামলা খারিজ করে দিচ্ছেন, সেই অভিবাসীদের তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।
ইতিহাসে দেখা গেছে যে একবার একজন স্বৈরাচারী শাসক একটি পুলিশি রাষ্ট্রের কাঠামো তৈরি করলে, সেই একই কাঠামো যে কারও বিরুদ্ধে ব্যবহার করা যেতে পারে।
ট্রাম্প এবং তাঁর সরকার দ্রুত এমন একটি কাঠামো তৈরি করছেন পাঁচটি ধাপে। ১. তথাকথিত ‘বিদ্রোহ’, ‘অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ’ বা ‘আক্রমণের’ ভিত্তিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা। ২. সেই ‘জরুরি অবস্থা’ ব্যবহার করে দেশের অভ্যন্তরে বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে ফেডারেল এজেন্টদের ক্ষমতা প্রয়োগের জন্য ডেকে আনা। ৩. এই সামরিক এজেন্টদের নির্বিচার অপহরণ এবং বিনা ওয়ারেন্টে গ্রেপ্তার করার অনুমতি দেওয়া এবং যথাযথ প্রক্রিয়া ছাড়াই লোকদের আটকে রাখা। ৪. আটক ব্যক্তিদের জন্য কারাগারে অতিরিক্ত স্থান এবং আটককেন্দ্র তৈরি করা। ৫. অবশেষে পরিস্থিতি আরও অবনতি ঘটলে সামরিক আইন ঘোষণা করা।
আমেরিকা এখনো সামরিক আইনে পৌঁছায়নি। কিন্তু একবার চালু হলে, একটি পুলিশি রাষ্ট্রের কাঠামো আপনা–আপনিই গড়ে উঠতে থাকে। তখন অভ্যন্তরীণ মিলিশিয়া, ধরপাকড়, আটককেন্দ্র এবং সামরিক আইন একের পর এক আসতে থাকে।
বেসামরিক নিয়ন্ত্রণ যখন সামরিক নিয়ন্ত্রণে চলে যায়, তখন জাতি বিভক্ত হয়ে পড়ে। এক পক্ষ একে সমর্থন করে। আরেক পক্ষ এর বিরোধিতা করে। স্বৈরাচার উভয় দিকে ভয় ও রাগ উসকে দিয়ে নিজের অবস্থান সংহত করতে থাকে।
বর্তমানে ট্রাম্পের পুলিশি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রধান প্রতিরোধের দুটি উপায় আছে—ফেডারেল আদালতের দ্বারস্থ হওয়া এবং ব্যাপক শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করা। শনিবার ১৪ জুন, নো কিংস ডে অব অ্যাকশন পালিত হবে। এতে অনেক শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারীরা অংশ নেবেন। এসব আন্দোলনে আমেরিকার নাগরিকদের শান্তিপূর্ণ থাকা জরুরি।
এখন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এক ভয়ংকর হতাশাজনক সময়। কিন্তু এ–ও সত্য যে একজন স্বৈরাচারী শাসকের প্রতিষ্ঠা করা পুলিশি রাষ্ট্র উৎখাত করতে জনসংখ্যার মাত্র ৩ দশমিক ৫ শতাংশ প্রয়োজন।
● রবার্ট রাইখ সাবেক মার্কিন শ্রমমন্ত্রী, ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলেতে ইমেরিটাস অধ্যাপক
- গার্ডিয়ান থেকে নেওয়া ইংরেজির অনুবাদ
![]() |
| লস অ্যাঞ্জেলেসে অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযানের প্রতিবাদে বিক্ষোভে পুলিশের ধরপাকড়। ছবি: রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
পরিবর্তনের জন্য রাজনৈতিক দলগুলো কতটা প্রস্তুত by বুলবুল সিদ্দিকী
এ সুযোগকে যথাযথভাবে নিতে চাইলে প্রথমেই রাজনৈতিক দলগুলোকে জাতীয় স্বার্থে একটি ঐকমত্যে পৌঁছানোর জন্য ইতিবাচক ভূমিকা পালন করতে হবে, যে প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য থাকবে, সেটিই স্বাভাবিক; কিন্তু জাতীয় প্রশ্নে আবার একটি ঐকমত্যে পৌঁছানোর প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা থাকা ও তার চর্চার অভ্যাসও জরুরি। মতপার্থক্যের মধ্য দিয়েই আমরা একটি বৃহত্তর ঐক্যে পৌঁছাতে পারব। তাই বর্তমান প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক দলগুলোর জাতীয় স্বার্থে এক থাকার কোনো বিকল্প নেই।
জাতীয় স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করার এই তাগিদ আমরা রাজনৈতিক দলগুলোর নানা সময়ের বিবৃতির মধ্যে দেখতে পাই। একে কেবল তাদের বক্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে এর বাস্তবায়নের পথ দেখাতে হবে। নিজেদের মধ্যে সংলাপের মাধ্যমে জাতীয় স্বার্থসংবলিত বিষয়াবলি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চিহ্নিত করা জরুরি। এর সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর জনগণের প্রত্যাশা পূরণে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার করা প্রয়োজন। কেননা বিগত সময়ে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থতার পরিণতি ছিল গণবিচ্ছিন্নতা ও আস্থাহীনতা। ঐতিহাসিকভাবে বাংলাদেশের জনগণ সেই অর্থে কখনোই ক্ষমতার কেন্দ্রে ছিল না।
গণবিচ্ছিন্নতা নয়, বরং গণসম্পৃক্ততার ওপর অধিক জোর দেওয়া প্রয়োজন। আমাদের সব উন্নয়ন–পরিকল্পনা গণমানুষের চাহিদাকে কেন্দ্রে রেখে বাস্তবায়ন করার দিকে মনোযোগ দেওয়া জরুরি। বছরের পর বছর ধরে আমাদের যতটা উন্নয়ন সাধিত হয়েছে, তার সুফল খুব একটা দরিদ্র ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর দ্বারপ্রান্তে আমরা পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছি। সব সময় তথাকথিত উন্নয়নের সুফল কেবল একটি সুবিধাবাদী গোষ্ঠীর হাতের নাগালে ছিল। তাই আমাদের জন্য গণমানুষকেন্দ্রিক একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই। যার অনেক অবকাঠামো ও চর্চা আমাদের দেশে অনেক আগে থেকেই বিদ্যমান; কিন্তু সুশাসনের অভাবে তার সুফল আমাদের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী পাচ্ছে না।
এ প্রসঙ্গে মাও সে-তুংয়ের একটি উদ্ধৃতি বেশ প্রাসঙ্গিক, ‘উন্নয়ন মানুষের ক্ষুধা ও দারিদ্র্য থেকে মুক্তি দিয়ে একটি সুন্দর জীবনের নিশ্চয়তা প্রদান করতে পারে।’ সেই মুক্তির স্বাদের প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবায়নের রূপরেখা জনগণের সামনে তুলে ধরতে পারলে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তাদের আস্থা অর্জন করা সহজ হবে।
এ বাস্তবতায় জাতীয় উন্নয়নের এমন একটি সমন্বিত রোডম্যাপ বা কর্মপরিকল্পনা গড়ে তুলতে হবে, যা আমাদের বাংলাদেশের মানুষের স্বপ্নকে প্রতিফলিত করবে। এ ক্ষেত্রে আমাদের একটি ‘বাংলাদেশি ড্রিম’ বা স্বপ্ন গড়ে তুলতে হবে, যেখানে গণমানুষের স্বপ্ন ও প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটাবে; যা আমরা অনেক উন্নয়নশীল দেশের প্রেক্ষাপটে দেখতে পাই, যারা তাদের উন্নয়নের রোডম্যাপ বাস্তবায়ন করে আজ বিশ্বদরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে।
আমরা সব সময় দেখি যে উন্নয়ন–পরিকল্পনায় জাতিগত প্রত্যাশার চেয়ে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের একক বা একপক্ষীয় স্বপ্ন বাস্তবায়ন করার তাগিদ দেখা যায়, যা বিশেষ করে বিগত দশকের দিকে তাকালেই পরিষ্কার হবে।
তাই রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্য থেকে যদি ঐকমত্যের ভিত্তিতে একটি সমন্বিত জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করা যায়, তা হবে এক অভূতপূর্ব বিষয়। এতে রাষ্ট্রীয় পরিসরে ক্ষমতার পালাবদল ঘটলেও মৌলিক উন্নয়ন–আকাঙ্ক্ষা ও কাঠামোর কোনো বদল ঘটবে না। ফলে উন্নয়নপ্রক্রিয়া কোনো পরিস্থিতিতেই বাধাগ্রস্ত হবে না। যদিও এটি সহজ বিষয় নয়, আবার কঠিন বলে আমরা তা বাস্তবায়ন করতে পারব না ভেবে হাত গুটিয়ে বসে থাকাও উচিত হবে না।
সাম্প্রতিক সময়ে দেখেছি, জাতীয় স্বার্থসংবলিত বিষয়, যেমন রাখাইনে মানবিক করিডর, চট্টগ্রাম বন্দর এবং সংস্কারবিষয়ক নানা খাতের ক্ষেত্রে বেশির ভাগ রাজনৈতিক দলগুলো একসঙ্গে তাদের অবস্থান ব্যক্ত করেছে। যদিও অন্তর্বর্তী সরকারের সব সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে এখনো একটি সমন্বিত ঐকমত্যে পৌঁছানো সম্ভব না হলেও অনেক বিষয়েই তারা একমত, যা প্রমাণ করে জাতীয় স্বার্থের ক্ষেত্রে একসময় একটি ঐকমত্যে পৌঁছানো সম্ভব। তবে এর জন্য সময় প্রয়োজন এবং মনে রাখা জরুরি যে সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া; তাই একটি স্বল্প সময়ে অন্তর্বর্তীব্যবস্থায় আমরা সব বিষয়ে একমত হতে পারব; সেই প্রত্যাশাও একটি উচ্চাভিলাষী আকাঙ্ক্ষা।
এর জন্য যেমন যথাযথ সময় প্রয়োজন, তেমনি আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোরও সেই ইতিবাচক মানসিকতারও প্রয়োজন। পৃথিবীর কোনো দেশই সংস্কারপ্রক্রিয়া এক দিনে বাস্তবায়িত করতে পারেনি। আমরা যদি প্রতিবেশী বন্ধুদেশ চীনের দিকে তাকাই, তাহলে দেখতে পাই ১৯৪৯ সালের বিপ্লবের পর থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত তাদের জাতীয় পরিসরে সংস্কারপ্রক্রিয়া ও সংলাপ জারি রেখেছে। তাদের সেই সংস্কার ছিল অগ্রাধিকার ও খাতভিত্তিক।
একটি নির্দিষ্ট সময়ের প্রেক্ষাপটে প্রয়োজনীয় ও অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সংস্কারযোগ্য খাতকে চিহ্নিত করতে হবে। এই প্রক্রিয়ায় যখন সবার অংশগ্রহণ ও অংশীদারত্ব থাকে, তখনই তা বাস্তবায়ন করা বাস্তবসম্মত, ফলপ্রসূ ও দীর্ঘ মেয়াদে স্থায়ী হয়।
বর্তমান এই সময়টায় দেশটাকে সত্যিকার অর্থেই বদলে দেওয়ার জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর সামনে এক অভাবনীয় সুযোগ তৈরি করেছে। তাদের উচিত হবে সেই বিষয় নিয়ে কাজ করা।
● বুলবুল সিদ্দিকী সহযোগী অধ্যাপক, রাজনীতি ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বিশ্বের ইতিহাসে ভয়াবহ ১০ উড়োজাহাজ দুর্ঘটনা
১. টেনেরিফ দুর্ঘটনা
বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ উড়োজাহাজ দুর্ঘটনা ঘটেছিল ১৯৭৭ সালের ২৭ মার্চ। স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের টেনেরিফ বিমানবন্দরে ওই দুর্ঘটনা ঘটে। নির্দেশনা নিয়ে বিভ্রান্তি এবং রেডিও যোগাযোগে বিঘ্ন হওয়ায় এই দুর্ঘটনা হয়।
ওই দিন বেশ কুয়াশা ছিল। এ কারণে রানওয়েতে ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন দুটি বোয়িং উড়োজাহাজের সংঘর্ষ হয়। এতে ৫৮৩ যাত্রীর প্রাণহানি ঘটে। তবে প্রাণে বেঁচে যান ৬১ জন।
২. জাপান
বিশ্বের ইতিহাসে আরেকটি ভয়াবহ উড়োজাহাজ দুর্ঘটনা ঘটে ১৯৮৫ সালের ১২ আগস্ট। জাপানের ইউয়েনো এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে গিরিখাতে উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হয়। এতে মারা যান ৫২০ জন। জীবিত ছিলেন মাত্র চারজন।
৩. দিল্লি
১৯৯৬ সালের ১২ নভেম্বর ভারতের দিল্লির কাছে ঘটে আরেকটি উড়োহাজ দুর্ঘটনা। হরিয়ানা রাজ্যের চরকি দাদড়ি এলাকায় মাঝ–আকাশে ওই দুর্ঘটনা ঘটেছিল।
ওই দিন সৌদি এয়ারলাইনসের একটি উড়োজাহাজের সঙ্গে কাজাখস্তান এয়ারলাইনসের আরেকটি উড়োজাহাজের মধ্য আকাশে সংঘর্ষ হয়। এতে মারা যান ৩৪৯ জন। নির্দেশনা লঙ্ঘন করার কারণে এ ঘটনা ঘটে।
৪. প্যারিস
১৯৭৪ সালের ৩ মার্চ ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের বাইরের একটি এলাকায় আরেকটি উড়োজাহাজ দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটে।
ওই দিন টার্কিশ ডিসি–১০ উড়োজাহাজের পেছনের কার্গো এলাকার দরজা ভেঙে পড়ে। এতে ৩৪৬ আরোহীর সবাই মারা যান। ওই দুর্ঘটনার পর উড়োজাহাজ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান তাদের কার্গোর নকশায় পরিবর্তন আনে।
৫. এয়ার ইন্ডিয়া
১৯৮৫ সালের ২৩ জুনের ঘটনা। আটলান্টিক মহাসাগরের আয়ারল্যান্ড উপকূলে সম্ভাব্য শিখ জঙ্গিদের বোমায় উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হয়। এতে মারা যান উড়োজাহাজের ৩২৯ আরোহীর সবাই। তাঁদের মধ্যে ২৬৮ জনই ভারতীয় বংশোদ্ভূত কানাডার নাগরিক।
৬. সৌদিয়া ফ্লাইট ১৬৩
১৯৮০ সালের ১৯ আগস্টের ঘটনা। পাকিস্তানের করাচি বিমানবন্দর থেকে সৌদি আরবের রিয়াদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হয়ে জেদ্দায় যাচ্ছিল উড়োজাহাজটি। রিয়াদে উড্ডয়নের পরই উড়োজাহাজটিতে আগুন লেগে যায়। মারা যান ৩০১ আরোহীর সবাই।
ওই উড়োজাহাজ ছিল লকহিড এল–১০১১ ট্রাইস্টার মডেলের।
৭. ইরান এয়ার
১৯৮৮ সালের ৩ জুলাইয়ের ঘটনা। পারস্য উপসাগরের আকাশে ইরান এয়ারের একটি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ গুলি করে ভূপাতিত করে যুক্তরাষ্ট্র। এতে মারা যান ২৯০ আরোহীর সবাই। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছিল, ভুল করে ওই গুলি করা হয়।
৮. ইরানের ইলিউশিন বিমান
২০০৩ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারির ঘটনা। ঘটনাস্থল ইরানের কেরমান এলাকা। খারাপ আবহাওয়ার কারণে বিধ্বস্ত হয় প্রভাবশালী বিপ্লবী গার্ড সদস্যদের বহনকারী উড়োজাহাজটি। মৃত্যু হয় ২৭৫ আরোহীর।
৯. আমেরিকান এয়ারলাইনস
১৯৭৯ সালের ২৫ মের ঘটনা। ঘটনাস্থল শিকাগো। বাঁ পাখা থেকে একটি ইঞ্জিন বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পর বিধ্বস্ত হয় উড়োজাহাজটি। মারা যান ২৭৩ আরোহীর সবাই।
১০. কোরিয়ান এয়ারলাইনস
১৯৮৩ সালের ১ সেপ্টেম্বরের ঘটনা। ঘটনাস্থল তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের মনোরন দ্বীপ। সোভিয়েত বাহিনী গুলি করে ভূপাতিত করে যাত্রীবাহী উড়োজাহাজটি। মারা যান ২৬৯ আরোহীর সবাই।
![]() |
| ১৯৮৫ সালের ১২ আগস্টে জাপানের ইউয়েনো এলাকায় উড়োজাহাজ দুর্ঘটনা ঘটে। ফাইল ছবি: রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
অলৌকিকভাবে বেঁচে যাওয়া যাত্রীর বর্ণনা: বিকট শব্দের পর প্লেনটি ভেঙে পড়ে
ভারতীয় গণমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস জানায়, কেন্দ্রীয় বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রী রাম মোহন নাইডু জানিয়েছেন, ঘটনাস্থল থেকে একজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। যিনি ওই বিমানের যাত্রী ছিলেন। তার আসন ক্রম ১১এ। তিনি ভারতীয় বংশোদ্ভূত বৃটিশ নাগরিক। ঘটনার পর প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায় আহত ওই যাত্রী হাঁটছেন। তার পরনের সাদা ট্রাউজার ও গেঞ্জিতে ময়লা লাগানো। শরীরের বিভিন্ন স্থান রক্তাক্ত। আহত এই যাত্রীর চিকিৎসা চলছে হাসপাতালে। সেখানে স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম তার সঙ্গে কথা বলেন। আহত ওই যাত্রী জানান, প্লেনটি উড্ডয়নের ৩০ সেকেন্ডের মধ্যেই নিচে নামতে শুরু করে। বিকট শব্দের পর এটি ভেঙে পড়ে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে এর আগে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি দাবি করেছিল, বিমান দুর্ঘটনায় এয়ার ইন্ডিয়ার বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনারের কোনো আরোহী বেঁচে নেই। বিমানটিতে মোট ২৪২ জন আরোহী ছিলেন। স্থানীয় পুলিশপ্রধান জিএস মালিকও জানিয়েছিলেন, উড়োজাহাজটিতে থাকা কোনো যাত্রীর বেঁচে থাকার সম্ভাবনা নেই। বার্তা সংস্থা এপির বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি। জিএস মালিক জানান, আবাসিক এলাকায় উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হওয়ায় কিছু স্থানীয় বাসিন্দারও মৃত্যু হতে পারে। তবে সব আরোহীর মৃত্যুর ব্যাপারে এখনো বিস্তারিত বা আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি। বৃহস্পতিবার দুপুরে আহমেদাবাদের সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল বিমানবন্দর থেকে বিমানটি যুক্তরাজ্যের লন্ডনের উদ্দেশ্যে উড্ডয়ন করে। এর কিছুক্ষণ পরই এটি আছড়ে পড়ে। বিমানটিতে ২৩২ জন সাধারণ যাত্রী এবং ১০ জন ক্রু ছিলেন। এর মধ্যে ১৬৯ জন ভারতীয়, ৫৩ জন বৃটিশ, ৭ জন পর্তুগিজ এবং একজন কানাডিয়ান ছিলেন।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1265)
-
▼
2025
(3280)
-
▼
June
(301)
-
▼
Jun 13
(14)
- নেতানিয়াহুর সময় কি ফুরিয়ে আসছে --আল জাজিরা
- গজনী অবকাশকেন্দ্র: গারো পাহাড়ের নৈসর্গে মুগ্ধ দর্শ...
- বিমানের ধ্বংসাবশেষ থেকে হেঁটে হেঁটে বের হন এক যাত্রী
- ইসরায়েলি অবরোধের প্রতিবাদে গাজার উদ্দেশে এবার ১৫০০...
- ভারতে উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে নিহত ২৪০ জনের বেশি
- পাকিস্তান–আফগানিস্তান সম্পর্কের বরফ যেভাবে গলল by ...
- আনুপাতিক উচ্চকক্ষই এখন সংস্কারের প্রধান চাওয়া এবং ...
- আহমেদাবাদ বিমান ট্র্যাজেডি: মিনিটেই প্রাণ গেল ২৪১ ...
- শেখ হাসিনার বাবুর্চি মোশারফের সম্পদের পাহাড়
- জুলাই আন্দোলন: এখনো স্বজনের খোঁজে তারা by সাজ্জাদ ...
- ট্রাম্প কি যুক্তরাষ্ট্রকে পুলিশি রাষ্ট্রের দিকে নি...
- পরিবর্তনের জন্য রাজনৈতিক দলগুলো কতটা প্রস্তুত by ব...
- বিশ্বের ইতিহাসে ভয়াবহ ১০ উড়োজাহাজ দুর্ঘটনা
- অলৌকিকভাবে বেঁচে যাওয়া যাত্রীর বর্ণনা: বিকট শব্দের...
-
▼
Jun 13
(14)
-
▼
June
(301)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)





