Sunday, July 7, 2013

মেঘ দেখে কেউ করিসনে ভয় by শরীফুল ইসলাম খান

সাভারের রানা প্লাজা ধসের পর বাংলাদেশজুড়ে রফতানির ভবিষ্যৎ নিয়ে ভেঙে পড়েছি আমরা। বিশেষ করে কর্মের বৈরী পরিবেশ, শ্রমিকদের জঘন্যতম জীবন মান, সর্বনিম্ন মজুরি প্রদানের অজুহাত দেখিয়ে বিশ্বে আমাদের প্রধান প্রধান ক্রেতা কোম্পানি এবং ক্রেতা দেশ ভীষণ হইচই ফেলে দিয়েছে। অতি সম্প্রতি ওবামা প্রশাসন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধা স্থগিত করায় আমরা আমাদের রফতানির ভবিষ্যৎ দুশ্চিন্তায় আরও হতাশ হয়ে পড়েছি। একক দেশ হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আমাদের পণ্য রফতানির সবচেয়ে বড় দেশ হওয়ায় আমাদের অর্থনীতি শিকেয় উঠবে এ ধারণা নিয়ে কান্নাকাটি করছি। রাজনীতির দুই মেরুতেও চলছে কার দোষে আমরা রসাতলে যাচ্ছি সেটি নির্ণয়ে পাল্লা পাথরে মাপজোখ। বাস্তব প্রেক্ষাপট যদিও অনেকটা ভিন্ন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের যে গার্মেন্টস পণ্য রফতানি হয়, তার উপরে উচ্চ হারে শুল্ক বসিয়ে রেখেছে। যেখানে সে দেশে গড় শুল্ক হার ১% সেখানে আমাদের গার্মেন্টের শুল্ক হার ১৫%, অন্যদিকে যেসব পণ্যে জিএসপি সুবিধা বিদ্যমান সেসব পণ্য আমাদের দেশ থেকে মার্কিন মুল্লুকে রফতানি হয় সামান্য। তদুপরি বিশ্বের মুরুব্বি খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত সারাবিশ্বে আমাদের ইমেজ সংকটে ফেলে দিতে পারে, এ ভয় অমূলক নয়। অনেক ক্রেতা কোম্পানি ও দেশ এই সুযোগে আমাদের কোণঠাসা করে শ্রমিক সংঘ, শ্রমিক পরিবেশ, কারখানার কমপ্লায়েন্স ইত্যাদি বিষয় শুধরে দিতে চাইছেন। আমরাও টালমাটাল ও দিশেহারা অবস্থায় একটি বিরাট মনস্তাত্ত্বিক চাপ বহন করে বেড়াচ্ছি। রানা প্লাজা ধসের পর ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের মন্তব্য, আল জাজিরা, দ্য টেলিগ্রাফসহ কিছু পত্রিকার বিরূপ মন্তব্য, পোপ ফ্রান্সিসের উদ্বেগ, স্পেনের নাগরিকদের অভিনব কায়দায় প্রতিবাদ ইত্যাদি কারণে আমরা আরও বেশি নাজেহাল। উপরন্তু আমাদের রফতানি আয়ের যে বিরাট অংশ প্রবাসীদের রেমিটেন্স থেকে প্রেরিত হয়, সেই জনশক্তি রফতানিও হুমকির মুখে আছে। এর প্রধান বাজারগুলোর দরজা একে একে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে প্রবাসী বাংলাদেশীদের নানা অনৈতিকতা ও অনিয়মে জড়িয়ে যাওয়ার কারণে। সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, সৌদি আরব কার্যত বাংলাদেশ থেকে লোক নেয়া বন্ধ করে দিয়েছে। কিন্তু তাই বলে হুমড়ি খেয়ে মাটিতে শুয়ে পড়ব, সে রকমটি মনে না করে আমরা একটু ঘুরে দাঁড়াতে পারি।
এ কথা সত্য যে, বাংলাদেশের রফতানিতে নিয়োজিত শ্রমিকদের বেতন, ভাতা, প্রণোদনা এগুলো এখনও অতি নিু পর্যায়ে। কিন্তু আমরা দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন এনে সাম্প্রতিককালে আমাদের ইমেজের যে করুণ পরিণতি হয়েছে তা থেকে মুক্তি পাওয়ার দরজা আমরাই খুলতে পারি। আমাদের এই অর্থবছরেও রফতানির প্রবৃদ্ধি ১০.৬৭ ভাগ। বহির্বিশ্বে মন্দা, আমাদের বৈরী পরিস্থিতি এগুলো সত্ত্বেও এই অর্থবছরে মে মাস পর্যন্ত রফতানি প্রায় ২৪ বিলিয়ন ডলার। আমাদের রেমিটেন্সও ২০১২-১৩ অর্থবছরে ১১ মাসে ১৩৩৯.৫০ কোটি ডলার। যা গত অর্থবছরের পুরো সময় থেকে ৫৫.১৬ কোটি ডলার বেশি। স্বাধীনতা-পরবর্তীকাল থেকে অদ্যাবধি কোনো নেতৃত্বই কৃষি বা শিল্পে উন্নয়নের অবকাঠামো খুব একটা এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেননি। বরং আমাদের অবকাঠামো খুবই নাজুক। তা সত্ত্বেও ১৯৭২-৭৩ সালের রফতানির তুলনায় ২০১৩ সালের অক্টোবর পর্যন্ত আমাদের ৫২ থেকে ৫৩ গুণ রফতানি বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশের নেতৃত্ব, রাজনীতি ও সামাজিক ব্যবস্থার এই বেহাল পরিস্থিতিতে এ উন্নয়ন বিশ্বের কোনো উন্নত দেশের তুলনায় অনেক ভালো। এটা কোনো পরিমাণগত তথ্য হয় তো নয়, কিন্তু মনস্তাত্ত্বিক ভিত্তিতে সুদৃঢ়ভাবে এটা বলতে পারি। বিষয়টি পরিষ্কার হবে এভাবে- দক্ষিণ কোরিয়া ৬০ দশকের শুরুতে পূর্ব পাকিস্তানের মাথাপিছু আয় থেকেও পিছিয়ে ছিল। ৪০ বছরের মধ্যে তারা তাদের মাথাপিছু আয় বাড়িয়েছে বাংলাদেশের ৩৮ গুণ। রফতানিতেও প্রায় ৩৮/৪০ গুণ বেশি রফতানি করেছে (বিশ্ব উন্নয়ন রিপোর্ট-২০০৮ পর্যন্ত তথ্য অনুযায়ী)। এর মূলে ছিল প্রেসিডেন্ট পার্ক চুং হি ব্যক্তিগত পর্যায়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন দেশের রফতানিকে বাড়ানোর জন্য এবং এর অনুকূল পরিস্থিতি তৈরির জন্য। এই সময়ে তাদের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত ছিল প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলার, যেখানে বাংলাদেশের ছিল ৭.৫ বিলিয়ন ডলার বাণিজ্য ঘাটতি। আমাদের দুর্ভাগ্য স্বাধীনতার ঊষালগ্ন থেকে বিচক্ষণ কোনো নেতৃত্ব আমরা পাইনি, যিনি অর্থনীতির উন্নয়নে সরাসরি তদারকি করতে পেরেছেন এবং বাণিজ্য পরিবেশ তৈরি করতে পেরেছেন। তারপরও আমার আশাবাদ এখানেই, রাষ্ট্র বা সরকার আমাদের রফতানি উন্নয়নে তাদের ভূমিকা অতি নিম্ন পর্যায়ে রাখা সত্ত্বেও এ দেশের শ্রমিক, ব্যবসায়ী ও সাধারণরা অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে গেছে আমাদের দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে। পরিস্থিতি যদি ৪০/৫০ ভাগও অনুকূলে আসে বিশ্বে আমাদের রফতানি মাত্রা দাঁড়াবে অনেক উঁচুতে।
বিশ্ববরেণ্য নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস সম্প্রতি ব্লুমবার্গ টিভির সঙ্গে সাক্ষাৎকারে বলেছেন, মজুরি বৃদ্ধির কারণে আমাদের পোশাকের কিছু মূল্য বাড়লেও বিদেশী পোশাক ক্রেতারা আমাদের ছেড়ে যাবেন না। যদিও আমাদের রফতানি খাতে সাময়িক মনস্তাত্ত্বিক বিশ্বচাপ আছে, তা সত্ত্বেও আমাদের রফতানি টিকে থাকবে এবং তা ভালোভাবে। তবে আমাদের চারিত্রিক পরিবর্তন ও দৃষ্টিভঙ্গি প্রসারিত হওয়ার বিষয়টি এ ক্ষেত্রে খুবই জরুরি। আমি আগেই বলেছি সাভারে রানা প্লাজা ধসের পর আমরা কম্পিত ছিলাম আমাদের রফতানির ভবিষ্যৎ নিয়ে। এটা থেকে শিক্ষা নিয়ে কর্ম পরিবেশে নজর দেয়ার একটি সুযোগ আমাদের এসেছে। এটাকে উন্নত করতে পারলে আমাদের আরও সুযোগ আসবে। যে ইতিবাচক দিকগুলো আমাদের রফতানির ক্ষেত্রে আশার ঝলক, সেগুলো হচ্ছে- এইচএন্ডএম, ইন্ডিটেক্স, টেসকো ও প্রাইমার্কের মতো ইউরোপের বড় বড় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে নিরাপত্তা সহায়তা দিতে সম্মত হয়েছে। খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ওয়াল মার্ট বাংলাদেশে আগামী ৬ মাসে ২৭৯টি কারখানা পরিদর্শন করবে। নরওয়ে ইতিমধ্যে নিরাপত্তা সহায়তা হিসেবে ২৫ লাখ ডলার প্রদানের চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। ইইউ বাংলাদেশের কর্মসংস্থান ও অর্থনীতির ওপর বিরূপ প্রভাবের বিষয় বিবেচনায় এনে ইতিমধ্যে ঘোষণা দিয়েছে জিএসপি প্রত্যাহার না করার এবং মার্কিন রাষ্ট্রদূত জিএসপি ফের চালু হতে পারে বলে আশ্বাস দিয়েছে। এগুলো থেকে প্রতীয়মান, এদের কড়াকড়ি আরোপের বিষয়টি শিথিল হয়ে আসবে। এর অন্যতম কারণ বলে আমি মনে করি, আমাদের সস্তা মজুরি ও গুণগতমান এই সব নামিদামি প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিরাট ব্যবসায়িক সাফল্য এনে দিয়েছে। তামিলনাড়ুর তীরপুর আমাদের দেশের রফতানির বিকল্প হতে পারে এমন ভয়ও আমাদের ছিল। তীরপুর থেকে প্রায় ১৬ হাজার কোটি রুপির পোশাক সামগ্রী রফতানি হয় ইউরোপে। তাদের শিল্প পরিবেশ মানসম্মত কিন্তু তাদের মজুরি বাংলাদেশের তুলনায় অনেক বেশি এবং বিদ্যুতের কারণে আরও ৭ ভাগ মূল্যবৃদ্ধি ঘটতে পারে এটা জানার পর আমরা আশ্বস্ত হই।
সাভার ধসের পরে চায়না ন্যাশনাল গার্মেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি ফেংগ ডেউ বাংলাদেশের গার্মেন্ট খাতে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তাদের প্রতিনিধি বাংলাদেশে ৯টি গার্মেন্ট কারখানা পরিদর্শনের পর এ মতামত ব্যক্ত করেন। বর্তমান বিশ্ববাজারে তৈরি পোশাকের বাজার ৪৫০ বিলিয়ন ডলারের, তার মধ্যে চীনের বাজার প্রায় ৩১০ বিলিয়ন ডলার, বাংলাদেশের প্রায় ২২.৫ বিলিয়ন ডলার। ২০১২ সালের আগস্টের পর চীনে বাংলাদেশের রফতানি হয়েছে প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলার। ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের মোট বিনিয়োগের প্রায় ২০ ভাগ হবে চীনের। অন্যদিকে ১৯৭৮ সালে ১ সন্তান নীতি প্রণয়নের কারণে চীনে ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সী লোকের সংখ্যা ২০১১ থেকে কমতে শুরু করেছে। ২০১৬ সালের মধ্যে চীনে প্রায় ৮.৫ কোটি কর্মসংস্থান উদ্বৃত্ত হবে। চীনের সঙ্গে আমাদের কূটনৈতিক সম্পর্ক ভালো। দক্ষভাবে কৌশল খাটিয়ে চীনকে আমাদের অর্থনীতির উন্নয়নে বিরাট খাত হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব। বরং মার্কিননির্ভরতা আমাদের ভবিষ্যৎকে আরও অনিশ্চয়তায় ফেলতে পারে কারণ যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ঋণ প্রায় ১৬.৪ ট্রিলিয়ন ডলার যা দেশটির মোট দেশজ উৎপাদনের ১০০ শতাংশের বেশি। তাই যুক্তরাষ্ট্রের সামনে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি ফিসক্যাল ক্লিফ। জাপানের সঙ্গে চীনের বাণিজ্য সম্পর্ক বৈরিতায় পর্যবসিত হয়েছে, ফলে জাপান এশিয়া অঞ্চলে বিনিয়োগের কৌশল হিসেবে বাংলাদেশকে অগ্রগণ্য মনে করছে এবং বাংলাদেশের পোশাক ও চামড়া শিল্পে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। রাশিয়ায় আমাদের পণ্য যাচ্ছে বেলারুশ হয়ে শুল্কমুক্ত সুবিধায়। জাপান, অস্ট্রেলিয়া, ভারত ও ল্যাটিন আমেরিকা আমাদের নতুন রফতানি বাজার হতে পারে। ইতিমধ্যে তৈরি পোশাকের ১০ শতাংশ আসছে আমাদের নতুন বাজার থেকে। আমাদের চিংড়ি খাতে ২০১২-১৩ অর্থবছরে রফতানি আয় কমেছে ক্রেতা দেশের লোকদের দামি মাছ খাওয়ার ক্ষমতা কমে যাওয়ায়, কিন্তু আমাদের চিংড়ি রফতানির পরিমাণ হ্রাস পায়নি বরং বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতি কেজিতে ২ ডলার কমে যাওয়ায় গত বছর ১৪.১৬ শতাংশ রফতানি আয় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কমেছে। ভেন্নামি কম খরচে পাওয়া যায় বলে এদিকে ঝুঁকেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরো জোন। মাছের ক্ষেত্রে রেডি টু ইট বা খাদ্যের জন্য প্রস্তুত পদ্ধতিতে রফতানি করে এ ক্ষেত্রে ঘাটতি আমরা পূরণ করতে পারি। পাট খাতকে শক্তিশালী করার যথেষ্ট সুযোগ আমাদের রয়েছে। পাটের রফতানির শতভাগ বৈদেশিক মুদ্রা দেশে থেকে যায়। চামড়ায় ফিনিশড প্রোডাক্ট তৈরি করার মাধ্যমেও এ খাতে প্রবৃদ্ধি অর্জন করা যাবে।
আমাদের প্রক্রিয়াজাত চামড়া কিনে নিয়ে ইতালি, বেলজিয়াম পণ্য উৎপাদন করে ৭/৮ গুণ বেশি আয় করে। আমাদের মানবসম্পদ রফতানির ৪৯ থেকে ৫০ ভাগ অদক্ষ, ১৫ থেকে ১৮ ভাগ অর্ধদক্ষ এবং ৩০ ভাগের মতো দক্ষ, ৪ শতাংশের মতো রয়েছে পেশাজীবী, হজ ক্যাম্পের অনুকরণে তাদের প্রবাসে প্রেরণের আগে বা বিদেশে আমাদের দূতাবাসের মাধ্যমে চালচলন ও নীতি-নৈতিকতার ওপর ট্রেনিং দিয়ে ভালো ফলাফল পাওয়া যাবে। অদক্ষ শ্রমিকের ভাগ কমিয়ে এনে অর্থাৎ এদের দক্ষতা দিয়ে বিদেশে প্রেরণ করলে আমরা ভালো ফলাফল পেতে পারি। নার্সিং পেশার মতো পেশাকে উপযুক্ত ট্রেনিং দিয়ে উন্নত বিশ্বে প্রেরণে একটি বিরাট খাত তৈরি করা যেতে পারে। কৃষিতে কিছু পণ্য বাছাই করে রফতানি পণ্য হিসেবে উৎপাদন করতে হবে। তিল ইতিমধ্যে রফতানির একটি বিশেষ অংশ নিয়ে নিয়েছে। এ খাতে নজর দেয়া প্রয়োজন। বিশ্ববাজারে আমাদের বিপণন স্ট্র্যাটেজি তৈরি করতে হবে। এ ক্ষেত্রে বাংলার নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস হতে পারেন বিরাট একটি কৌশল। সারাবিশ্বের বহু উন্নত দেশ ওনার প্রতি শ্রদ্ধাশীল। রফতানি উন্নয়নে আরও বেশকিছু দিক রয়েছে। উপরের আলোচনায় যা তুলে ধরতে চেয়েছি তাতে আমাদের হতাশ হওয়ার কিছু নেই। বরং রফতানিতে আমরা সামনে বিরাট অর্জন করব। শুধু প্রয়োজন দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার মানসিকতাসম্পন্ন নেতৃত্ব।
শরীফুল ইসলাম খান : ব্যাংকার

সংরক্ষিত নয়, নির্বাচন করেই আসুন by নুরুল ইসলাম বিএসসি

আমরা এবার সংসদে সংরক্ষিত মহিলা আসনের মাননীয় সংসদ সদস্যদের মুখ থেকে যে অশ্রাব্য কথাবার্তা শুনেছি, তাতে কানে আঙ্গুল না দিয়ে পারা যায়নি। এর চেয়ে বরং ওই দিন সংসদে না গেলেই ভালো ছিল। প্রত্যুত্তর দিতে গিয়ে সরকারদলীয় একজন মহিলা সদস্যও যে ভাষায় ও যে তত্ত্বে কথা বলেছেন, ওটাকেও সমর্থন করা যায় না। সংসদ একটি পবিত্র জায়গা। পবিত্র জায়গায় দাঁড়িয়ে যদি এমন শব্দ উচ্চারণ করা হয়, ‘চুদুরবুদুর’- তাহলে পবিত্রতা নষ্ট তো হয়ই, দেশের মানুষেরও সংসদের প্রতি ঘৃণা পোষণ ছাড়া অন্য পথ খোলা থাকে না। প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার জন্য শব্দগুলো ব্যবহার করা হয় বলে ধরে নিতে পারি। অথবা এমনও হতে পারে, তারা তাদের দৈনন্দিন জীবনেও ওরকম আচরণ করে থাকেন। আবার এমন উপসংহারেও আসা যায়, দলীয় প্রধানকে খুশি করার জন্য- আগামীতে যেন আবারও দয়ার এমপি হতে পারেন, তার জন্যই এই বাক্য প্রয়োগ। এতে করে দলীয় প্রধান খুশি হয়ে আগামীতে তাকেই নেবেন এবং তিনি ওই একই বাক্য প্রয়োগের জন্য তৈরি থাকবেন। মহিলাদের মধ্যে অনেকে সরাসরি নির্বাচন করে জিতে এসেছেন। পুরুষ, নারীর সম্মিলিত ভোটে নির্বাচিত মহিলাদের অনেকে আজ মন্ত্রী। যোগ্যতা থাকলে সরাসরি নির্বাচনে জিতে আসা যায়। আমরা নারী-পুরুষের সমান অধিকারের কথা বলি। সমান অধিকারই যদি হয়, প্রত্যেক দল থেকে অর্ধেক নারী অর্ধেক পুরুষকে মনোনয়ন দিয়ে নির্বাচন করালে কেমন হয়, দেখা দরকার।
সরাসরি ভোট না করে, জনগণের মুখোমুখি না হয়ে দলীয় প্রধানের ইচ্ছার ওপর (দয়ার ওপর) সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে নিজেদের মান যায়, আবার এরা এসে সংসদে নানা বাক্যবাণে সংসদকে মানুষের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলছেন।
এটা কোনো বিদ্বেষমূলক কথা নয় বা কারও প্রতি অসম্মান নয়। একসময় ছিল যখন নারীদের ক্ষমতায়নে বাধা ছিল। বর্তমান সময়ে নারীর ক্ষমতায়নে সব বাধা অপসারিত হয়েছে। এখন কেন ওই রকম আইন থাকবে?
জনসংখ্যার বিচারে সংসদকে ৪০০ আসনে উন্নীত করা দরকার। যখন ৩০০ আসনের কথা বলা ছিল, তখন জনসংখ্যা ছিল ১০/১২ কোটি, এখন জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ২০ কোটির কাছাকাছি। সুতরাং জনসংখ্যার বিচারে আসন বৃদ্ধি করলে এবং ওই সংখ্যার অর্ধেকে নারীদের সুযোগ করে দিলে দয়ার এমপির আর প্রয়োজন হওয়ার কথা নয়।
প্রতি মিনিটে সংসদে ৩০ হাজার কোটি টাকা খরচ হয়। কেউ যদি গবেষণা করেন, কত ঘণ্টা মন্দ কথায়, বাজে কথায় ব্যবহৃত হয়েছে, কত ঘণ্টা দলীয় প্রধানের স্তুতিতে, কত ঘণ্টা দেশের কাজে, দেশের উন্নয়নের কথায় ব্যয় করা হয়েছে- নিশ্চয়ই একটা বিরাট অংকের ফিগার বের হবে, যা ছিল অপ্রয়োজনীয়। এ রকম একটা গবেষণা গবেষকদের কাছ থেকে জাতি আশা করে।
দেশে হাজারও সমস্যা আছে। দেশের উন্নয়নের গতিপ্রকৃতি নির্ধারণের জায়গা সংসদ। সংসদে যদি এখনও আমরা ৪০ বছর ধরে ঘোষক নিয়ে বক্তৃতা করি এবং ওই সব বক্তৃতায় সময় ব্যয় করে জাতির কোটি কোটি টাকা নষ্ট করি, তাহলে জাতি দিশা পাবে কোথায়? জাতির পিতার একটি স্থায়ী সমাধান হয়েছে সংবিধানে, স্বীকৃতি এসেছে। ঘোষক নিয়েও যদি একটি প্রাণবন্ত আলোচনা সংসদে হয় এবং যে ফলাফল বের হবে তা বিএনপিসহ সবাই মেনে নেয়, তবেই স্থায়ী একটা সমাধান হতে পারে। ইতিহাস চলমান। ইতিহাসকে সাময়িক লাইনচ্যুত করা যায়। কিন্তু ইতিহাস যার যার জায়গা নিজেই নির্ধারণ করে দেয়। সুতরাং ইতিহাসের পাতা উল্টো দিকে ঘোরানোর কৌশল জাতিকে প্রগতির পথে চলতে বাধার সৃষ্টি করে, হানাহানি হয়।
হানাহানিমুক্ত বাংলাদেশই সবার কাম্য। ভৌগোলিক অবস্থানের বিচারে বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান। এটার গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পেত যদি আমরা বিগত ৪০ বছর এর উন্নয়নে কাজ করতাম। কিন্তু পারিনি। যা পারিনি তা আগামীতে পারব না, এমন কথা নেই। আমরা সবাই প্রগতিশীল বাংলাদেশ চাই।
নুরুল ইসলাম বিএসসি : সংসদ সদস্য ও কলাম লেখক

মিসরে সামরিক অভ্যুত্থান by বদরুদ্দীন উমর

তুর্কি সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে আরব জাতীয়তাবাদের সূত্রপাত হয় লেবাননে খ্রিস্টানদের দ্বারা। এরপর উত্তর আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মুসলমানদের মধ্যে তার বিকাশ ঘটে। এই জাতীয়তাবাদী আন্দোলনে ইসলামের রাজনৈতিক ব্যবহার শুরু হয় বিশ শতকের গোড়ার দিকে। এরপর মুসলিম ব্রাদারহুডের সাংগঠনিক কাঠামোর মধ্যে রাজনৈতিক আদর্শ হিসেবে দেখা যায় মুসলিম-আরব জাতীয়তাবাদ। পঞ্চাশের দশকের প্রথমদিকে রাজা ফারুককে উৎখাত করে জেনারেল নগিবের নেতৃত্বে রাজতন্ত্রের অবসান ঘটানো হলেও নতুন শাসন ব্যবস্থায় গণতন্ত্র বলে কোনো কিছু ছিল না। রাজতন্ত্রের পর মিসরে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল সামরিক শাসন, যা কর্নেল নাসের, সাদাত ও মোবারকের মতো সামরিক বাহিনীর কর্তাদের দ্বারা পরিচালিত ছিল। ২০১১ সালে মিসরে এক ব্যাপক গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে মোবারকের সরকার উচ্ছেদের এক বছর পর মিসরের ইতিহাসে প্রথমবার সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
মিসরে রাজতন্ত্র থাকার সময় সেখানে দুটি রাজনৈতিক দল সংগঠিত ছিল। একটি হল মুসলিম ব্রাদারহুড, অপরটি কমিউনিস্ট পার্টি। সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যে মিসর ও ইরানেই কমিউনিস্ট পার্টি বেশ শক্তিশালীভাবে সংগঠিত ছিল। এ দুই পার্টিই সোভিয়েত ইউনিয়নে ক্রুশ্চেভের শাসন শুরু হওয়ার সময়েই তার প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় কর্নেল নাসের এবং ইরানের শাহের ব্যাপক ও নিষ্ঠুর হামলার মাধ্যমে কার্যত ধ্বংস হয়। নাসের মুসলিম ব্রাদারহুডের ওপরও হামলা চালিয়ে তাকে প্রায় উচ্ছেদের পর্যায়ে নিয়ে যান। তবে পরবর্তীকালে মুসলিম ব্রাদারহুড যেভাবে আবার সংগঠিত হয়েছিল, কমিউনিস্ট পার্টি সেভাবে আর সংগঠিত হতে পারেনি। ইরানেও কমিউনিস্ট পার্টির অবস্থা দাঁড়িয়েছিল একই রকম।
২০১১ সালে উত্তর আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যে ‘আরব বসন্ত’ নামে কার্যত যে গণজাগরণ ও গণঅভ্যুত্থান শুরু হয়, তার একটা দিক হল, সেখানে কোনো দেশেই কোনো সংগঠিত পার্টির নেতৃত্বে তা ঘটেনি। ছোট ছোট কিছু গ্রুপ সেই আন্দোলনে কিছু ভূমিকা পালন করলেও তাতে কোনো রাজনৈতিক পার্টির নেতৃত্ব ছিল না। এদিক দিয়ে কিছুটা ব্যতিক্রম ছিল মিসর, যেখানে গণঅভ্যুত্থান সব থেকে ব্যাপক আকার ধারণ করেছিল এবং সব থেকে শক্তিশালী ছিল। ব্যতিক্রম হিসেবে মিসরে ছিল মুসলিম ব্রাদারহুড, যার ইতিহাস ছিল দীর্ঘদিনের। সামরিক শাসনামলে তাদের দাবিয়ে রাখা হলেও গুপ্ত সংগঠন হিসেবে তাদের অস্তিত্ব ছিল। প্রেসিডেন্ট সাদাতকে তারাই হত্যা করেছিল। ২০১১ সালের দিকে তাদের তৎপরতা শুধু গোপনে নয়, প্রকাশ্যেও ছিল। কাজেই মিসরের গণঅভ্যুত্থানের সময় মুলিম ব্রাদারহুডই ছিল একমাত্র সংগঠিত পার্টি, যার একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। এটাই হল অন্যতম প্রধান কারণ ২০১২ সালে তাদের প্রার্থী মোহাম্মদ মুরসির প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার। লেবাননের হিজবুল্লাহ ছাড়া উত্তর আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যে মুসলমানরা যে ধর্মীয় রাজনীতি করে, তার প্রধান রূপ হল সন্ত্রাসী। এবং এই সন্ত্রাসী মুসলিম রাজনীতির মূল সংগঠন হল আল কায়দা। বর্তমানে আল কায়দার প্রধান নেতা আয়মান জওয়াহেরি নিজে মিসরীয় এবং ওসামা বিন লাদেনের নেতৃত্বকালীন অবস্থায়ও তিনি ছিলেন আল কায়দার তাত্ত্বিক নেতা। তারা নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে কোনো দেশে ইসলামী শাসন প্রতিষ্ঠার চিন্তা করেন না। পদ্ধতিগতভাবে সন্ত্রাসই তাদের আশ্রয়। মুসলিম ব্রাদারহুড মিসরে নাসেরের সময় নিষিদ্ধ হওয়ার পর থেকে গুপ্ত সংগঠন হিসেবে কাজ করলেও তারা নির্বাচনী গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ফিরে এসে ২০১২ সালের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিল। এখন যেভাবে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তাদের দলীয় প্রেসিডেন্ট মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছে এবং তাদের ওপর সামরিক বাহনীর হামলা শুরু হয়েছে, তাতে তাদের পক্ষে সন্ত্রাসের পথে ফিরে যাওয়ার একটা সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। অন্তত তাদের একটা অংশ যে সন্ত্রাসবাদের দিকে চলে যাবে, এতে সন্দেহ নেই।
অন্য কোনো সংগঠিত রাজনৈতিক দল মিসরে শক্তিশালী না থাকার কারণে মুসলিম ব্রাদারহুড ২০১২ সালে ক্ষমতা দখল করলেও তার বিরুদ্ধে মিসরে ধর্মবিযুক্ত বিভিন্ন রাজনৈতিক গ্র“প ও ব্যাপক জনগণের প্রতিরোধও মিসরীয় পরিস্থিতির একটা উল্লেখযোগ্য দিক। মুরসি তার এক বছরের শাসনকালে মিসরে সামরিক শাসন আমলের কোনো সমস্যারই সমাধান করতে সক্ষম না হওয়ায় এবং তার দলের হাতেই ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করতে থাকার কারণে তার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ক্রমশ বৃদ্ধি পেতে থাকে। তার সরকারের এক বছর পূর্তির সময় এই বিক্ষোভ বিরাট আকার ও শক্তি নিয়ে তার পদচ্যুতির জন্য দাঁড়ায়। এই সুযোগ নিয়ে সামরিক বাহিনী গৃহযুদ্ধের আশংকার কথা বলে মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করে প্রধান বিচারপতিকে প্রেসিডেন্টের আসনে বসিয়ে এখন ক্ষমতা নিজেদের হাতে গ্রহণ করেছে। মিসরের যে সামরিক বাহিনী এভাবে ক্ষমতা দখল করেছে, তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শক্ত ঘাঁটছড়ায় বাঁধা। মিসরে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার বিরুদ্ধে মার্কিন সরকার তাদের ভাঁওতাপূর্ণ সমালোচনা করলেও এর পেছনে যে তারা খুব পরিকল্পিতভাবে কলকাঠি নেড়েছে তাতে সন্দেহ নেই। মোবারকের শাসনকালে তারা সামরিক বাহিনীর মাধ্যমে যেভাবে মিসর সরকারের ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ রাখত, এখনও তারা সেভাবেই নতুন সরকারের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখবে। তারা মিসরে এক ধরনের গৃহযুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি করে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করবে, যে অবস্থায় নতুন কোনো নির্বাচিত সরকার ক্ষমতাসীন হওয়া বিলম্বিত এবং আপাতত অসম্ভব হবে। মিসরে কী ধরনের সরকার থাকবে, সেটা মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিনিদের সর্বপ্রধান মক্কেল রাষ্ট্র ইসরাইলের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। এদিকে খেয়াল রেখেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মিসরের রাজনীতি যথাসম্ভব নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করবে।
একদিকে মার্কিন সরকারের উপরোক্ত স্বার্থ এবং অন্যদিকে বিপুলসংখ্যক মিসরীয়র ধর্মীয় রাজনীতির বিরোধিতা এবং একটি ধর্মবিযুক্ত শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা মুসলিম ব্রাদারহুডের ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তনের পথ বন্ধ করতে সক্ষম হলেও তারা মিসরের রাজনীতিতে নতুনভাবে সন্ত্রাসী তৎপরতা সংগঠিত করতে নিযুক্ত হবে। এ অবস্থায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক এল বারাদির মতো কোনো লোককে ক্ষমতায় বসিয়ে মিসরে ইরাকের মতো নৈরাজ্যিক পরিস্থিতি সৃষ্টি করার সম্ভাবনা যথেষ্ট।
বদরুদ্দীন উমর : সভাপতি, জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল

অর্থনীতিতে মাছের অবদান বাড়াতে হবে by মোঃ মাছুদুর রহমান

মাছে-ভাতে বাঙালি- এ ঐতিহ্য আমাদের অনেক পুরনো। উপমহাদেশের ভাটির দেশখ্যাত বাংলাদেশ ২ জুলাই থেকে মাছে মাছে ভরব দেশ, গড়ব সোনার বাংলাদেশ- এই প্রতিপাদ্য বিষয় নিয়ে দেশব্যাপী মৎস্য সপ্তাহ উদযাপন করছে। মাছে-ভাতের ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে এবং ১৬ কোটি মানুষের বিশুদ্ধ আমিষের চাহিদা পূরণে মানুষকে সচেতন করতে মৎস্য অধিদফতর এ আয়োজন করেছে।
খাদ্যগুণ বিচারে মাছ হল সবচেয়ে উত্তম খাদ্য। যারা এই মাছ উৎপাদন ও আহরণের জন্য রোদে পুড়ে, জলে ভিজে, জলদস্যু ও প্রাকৃতিক বিপর্যয়কে তুচ্ছ করে জীবন বাজি রেখে আমাদের প্রাণিজ প্রোটিনের শতকরা ৬০ ভাগ পূরণ করছেন- আমরা তাদের কথা বলতে, লিখতে কিংবা শুনতে অতটা পছন্দ করি না, যতটা পছন্দ করি মাছের স্বাদ নিতে। আমাদের ৪৭.০৪ লাখ হেক্টর অভ্যন্তরীণ এবং বিশাল সামুদ্রিক জলাশয়ে যারা দিনরাত হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনসহ খাদ্য নিরাপত্তায় অভাবনীয় ভূমিকা রেখে আসছেন, তাদের উৎসাহ ও পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করা জরুরি। আমরা অল্প সময়ের ব্যবধানে মধ্য আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার যে প্রত্যয় ব্যক্ত করেছি, তা অর্জনে মেধা, পরিশ্রম ও প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে আমাদের অব্যবহৃত সম্পদের কার্যকর ব্যবহারের মাধ্যমে। অনেক দেশ মাছ উৎপাদন করে তাদের অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখছে। আমাদেরও সেই সুযোগ আছে। শুধু প্রয়োজন এই ঐতিহ্যকে লালন ও পৃষ্ঠপোষকতা করা।
মাছের ঐতিহ্যের কথা বলতে গেলে ২৬০ প্রজাতির স্বাদু পানির মাছ, ৪৭০ প্রজাতির সামুদ্রিক ও উপকূলীয় মাছ, ২৪ ধরনের স্বাদু পানির এবং ৩৬ ধরনের লোনা পানির চিংড়ির কথা বলতে হয়। বলতে হয় মাছের সঙ্গে আমাদের কবিতা, গল্প আর উপন্যাসে ব্যবহৃত শ্লোক ও সাহিত্যের সম্পৃক্ততার কথা। মাছ শিকার নিয়ে হাজারো কল্পকাহিনী আমাদের ঐতিহ্যের অংশ হয়ে আছে। আমাদের তথাকথিত সভ্য সমাজ ব্যবস্থা আর ভোগ-বিলাসের নোংরা জলে সেই ঐতিহ্য মলিন হতে চলেছে। কারণ বিশুদ্ধ প্রোটিনের উৎস এবং তার চাষযোগ্য জলাভূমিকে আমরা নষ্ট করে ফেলছি।
বাজারে ফরমালিন বিহীন মাছ পাওয়া এখন একটা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মাছের চাহিদা ও মূল্য বৃদ্ধি এবং পর্যাপ্ত সরবরাহের অভাবে একশ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী দীর্ঘদিন মাছকে টাটকা দেখাতে এতে ক্ষতিকর ও বিষাক্ত ফরমালিন ব্যবহার করছে। এছাড়াও মাছ ও চিংড়িতে নিষিদ্ধ নাইট্রোফিউরান, ক্লোরামফেনিকল, অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল সাবস্ট্যান্স, অ্যানথালমিনটিক্স, মাইকোটক্সিন, অর্গানোক্লোরাইড পেস্টিসাইড এবং বিষাক্ত ভারি ধাতুসহ অন্যান্য ক্ষতিকর উপাদান পাওয়া গেছে। মাছকে আমরা বিশুদ্ধ প্রোটিনের নিরাপদ উৎস ও সহজপাচ্য হিসেবে জানি, অথচ উল্লিখিত বিষাক্ত উপাদানের কারণে মানুষ লিউকেমিয়া, ব্রেন ক্যান্সার, কিডনি জটিলতা, গ্যাস্ট্রো-ইন্টেস্টাইনাল ক্যান্সার, শ্বাসকষ্টসহ নানা জটিল রোগের ঝুঁকির মুখে পড়ছে। নারীর ক্ষেত্রে গর্ভপাত, মিসকারেজ, প্রসব জটিলতা ইত্যাদি দেখা দিচ্ছে।
মাছের অভয়াশ্রম হিসেবে একসময় দেশে সাত শতাধিক নদ-নদী ও অসংখ্য খাল-বিল ছিল। এসব জলাশয়ে দেশীয় ২৬০ প্রজাতির মাছ অবাধে বিচরণ করত আর প্রাকৃতিক প্রজনন ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহার করত। বর্ষা মৌসুম এলে গ্রামের বাড়িতে বাড়িতে মাছ প্রাপ্যতার এক মহাউৎসবের ধুম পড়ে যেত। অথচ বর্তমানে ২৩০টি নদ-নদীর যে তথ্য পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক পাওয়া যায়, তার মধ্যে একশর কাছাকাছি সংখ্যক নদীর অস্তিত্ব বিলীন হয়ে গেছে বলে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা থেকে জানা যায় । নদ-নদীর অস্তিত্ব সংকটের সঙ্গে সঙ্গে মাছের প্রজনন ক্ষেত্রগুলো নষ্ট হয়ে গেছে। একশর কাছাকাছি মাছের প্রজাতির সংকটাপন্ন অবস্থা, প্রকৃতিবিমুখ উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, জলবায়ুর পরিবর্তন, গ্রিনহাউজ অ্যাফেক্ট, বৈশ্বিক উষ্ণায়ন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি ইত্যাদি কারণে আমরা মাছের দেশে মাছের স্বাদ ভুলতে বসেছি।
বিশুদ্ধতম প্রোটিনের সবচেয়ে বড় উৎস হল মাছ। থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, চীন এমনকি ভারতও মাছ উৎপাদনে আমাদের দেশের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি এগিয়ে গেছে। নরওয়ে স্যামন মাছ চাষে যে বিল্পব ঘটিয়েছে, তা যুগান্তকারী। অথচ একই গোত্রীয় আমাদের ইলিশ মাছের চাষে তেমন উল্লেখযোগ্য সফলতা নেই।
বাংলাদেশ একসময় পাটজাত পণ্য রফতানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করত। কিন্তু সেই ঐতিহ্যকে আমরা ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়েছি। মাছ চাষকে আমরা এখনও বড় ধরনের শিল্প হিসেবে গড়ে তুলতে পারিনি। বাংলাদেশের রফতানি পণ্যের মধ্যে চিংড়ির অবস্থান দ্বিতীয়। ভাইরাসঘটিত রোগের কারণে এর উৎপাদন যে হারে বাড়ার কথা, সে হারে বাড়ছে না। চিংড়ি মূলত উন্নত দেশের মানুষ চড়া দামে আমাদের দেশ থেকে কিনে থাকে। চিংড়ি চাষ থেকে শুরু করে বিভিন্ন চ্যানেলের মাধ্যমে প্রোসেস হয়ে ক্রেতাদের হাতে পৌঁছে। চিংড়ি চাষে গুড অ্যাকুয়াকালচার প্র্যাকটিসে অনীহা এবং প্রসেসিং ইন্ডাট্রিজে হ্যাসাপ নীতির ত্র“টির কারণে রফতানিকৃত চিংড়িতে বিভিন্ন ধরনের বিষাক্ত উপাদানসহ ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস স্পোর পাওয়া যাচ্ছে। ফলে বিভিন্ন সময়ে বিদেশী ক্রেতারা এই মাছ কিনতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছে। বিদেশী ক্রেতারা এখন চিংড়ি ক্রয়ের জন্য ট্রেস্যাবিলিটি বাধ্যতামূলক করে দিয়েছে। তারা চিংড়ির সার্টিফিকেশন চাচ্ছে। এ বিষয়গুলো পুরোপুরিভাবে মানতে পারলে সহজেই এ শিল্পকে বৃহৎ শিল্পে পরিণত করা সম্ভব। চিংড়ি চাষেও পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। বর্তমানে দেশে হেক্টরপ্রতি চিংড়ির গড় উৎপাদন ৪০০-৬৫০ কেজি। বাংলাদেশে ২ লাখ ৭৬ হাজার হেক্টর জলাশয়ে চিংড়ির চাষ হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, চাষ পদ্ধতির উৎকর্ষ সাধনের মাধ্যমে চিংড়ির উৎপাদন সহজেই দ্বিগুণ করা সম্ভব।
বাণিজ্যিক ভিত্তিতে মাছ চাষকে জনপ্রিয় করার জন্য আমাদের বিশেষ ধরনের ভূমিকা পালন করতে হবে। বর্তমানে দেশের পুকুরে মাছের গড় উৎপাদন ৯.৬ কেজি/শতাংশ। এ উৎপাদনকে আমরা সহজেই দ্বিগুণ থেকে তিনগুণে নিয়ে যেতে পারি। বাণিজ্যিক ভিত্তিতে বিভিন্ন প্রকল্পের সহায়তায় এদেশের মানুষ সেমি-ইনটেন্সিভ পদ্ধতিতে শতাংশে ৩০-৪০ কেজি মাছ উৎপাদন করছে। এ পদ্ধতির আওতায় শুধু উৎপাদন এলাকা বাড়িয়ে দিলেই বর্তমানের চেয়ে অনেক বেশি উৎপাদন পাওয়া সম্ভব।
মানুষকে সচেতন করার এখনই সময়। গণমাধ্যম ও বুদ্ধিজীবীরা এ ব্যাপারে এগিয়ে আসবেন, মাছ চাষ পদ্ধতির প্রচার ও প্রসারে পৃষ্ঠপোষকতা বাড়াবেন, বড় বড় উদ্যোক্তারা মাছ চাষকে শিল্প হিসেবে অগ্রাধিকার দেবেন- মৎস্য সপ্তাহে এসবই আমাদের প্রত্যাশা।
মোঃ মাছুদুর রহমান : মৎস্য উন্নয়ন কর্মী

কেমন চলছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় by ড. সৈয়দ রাশিদুল হাসান

১ জুলাই অনেক ধুমধাম করে পালিত হল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। এদিন ছাত্রছাত্রীদের কলরবে ক্যাম্পাস ছিল উত্তাল। ভাবতে ভালোই লাগছিল, আর মাত্র সাত বছর পর আমরা আমাদের গৌরব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শততম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করব। তবে সব আনন্দের মাঝেও একফোঁটা কালিমা মেখে দেয় সম্প্রতি বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত কিছু তথ্য। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট অধিবেশন বসছে না- সংবাদপত্রে ফলাও করে ছাপা হয়েছে এমন খবর। মুক্তচিন্তার পাদপীঠ, গণতন্ত্রের সূতিকাগার, আমাদের ভাষা আন্দোলন আর মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী তারুণ্যের আধার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আজ কোথায় এসে দাঁড়িয়েছে!
বছর দেড়-দুয়েক আগে এই যুগান্তরেই লিখেছিলাম ‘অনির্বাচিত উপাচার্যদের হাত থেকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বাঁচান’। তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের প্রায় সব বড় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা ছিলেন অনির্বাচিত। এর মধ্যেই বেশক’টি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা নির্বাচিত হয়ে এলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এখন পর্যন্ত অনির্বাচিতই রয়ে গেছেন। গণতন্ত্রের সূতিকাগারে চলছে অগণতন্ত্রের চর্চা!
বিভিন্ন সংবাদপত্রে খবর বেরিয়েছে, উপাচার্যের আদেশক্রমে প্রথমবারের মতো এ বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট না বসিয়ে বিগত ৯২ বছরের ঐতিহ্যকে ভেঙে দেয়া হল। প্রথাগতভাবে সাধারণত প্রতিবছর জুন মাসের শেষে সিনেট অধিবেশন বসে। সিনেট সদস্যরা নির্বাচনের মাধ্যমে তিনজনকে নির্বাচিত করে একটি প্যানেল করেন। সেখান থেকেই মাননীয় চ্যান্সেলর একজনকে চার বছরের জন্য উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ প্রদান করেন। এছাড়া সিনেটের প্রধান কাজ হল আইন প্রণয়ন করা। সিন্ডিকেট কর্তৃক প্রণীত আইনগুলোকে স্ট্যাটিউট হিসেবে বৈধতা প্রদানই নয়, বরং সাংবাৎসরিক সব কর্মকাণ্ড নিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ আলোচনা করে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনায় কোথায় সর্বজনীনতা রক্ষা করা হয়নি, ভবিষ্যতে কী করা উচিত ইত্যাদি বিষয়ে সিনেটের সদস্যরা দিকনির্দেশনা দেন। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক প্রতিবেদন এবং বার্ষিক বাজেটও পাস করা হয় সিনেটে। এ কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেটকে দেশের ‘দ্বিতীয় পার্লামেন্ট’ বলা হয়। সিনেটের এত বড় মর্যাদাকে, এতদিনের ঐতিহ্যকে ধুলায় লুটিয়ে দেয়ার জন্য বর্তমান উপাচার্যের বিরুদ্ধে কোনো আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা যায় কি-না, তা ভেবে দেখার অবকাশ আছে। আর না হলে অন্তত এ কারণে তার নিজে থেকে পদত্যাগ করে কালিমার বোঝা মাথায় নিয়ে জাতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা উচিত।
ভাবতেও অবাক লাগে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেটের ১০৫টি পদের ৯৬টিই খালি পড়ে রয়েছে। সব পদই যে একই সঙ্গে খালি হয়েছে তা নয়। খালি পদগুলো অবিলম্বে পূরণ না করে গত চারটি বছর উপাচার্য কিভাবে নিশ্চিন্তে ছিলেন, জানি না। অথচ এর বিপরীতে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীর শূন্যপদ পূরণের ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের এতটুকু গাফিলতি দেখা যায়নি। বরং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন থেকে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি পদ সৃষ্টি করে এনে তা পূরণ করা হয়েছে দলীয় প্রার্থীদের দিয়ে। ফলে এ বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেটের পরিমাণ টাকার অংকে নাকি ৩১৫ কোটিতে দাঁড়িয়েছে। আমি হলফ করে বলতে পারি, এ বিপুল পরিমাণ অর্থের মাত্র দুই থেকে আড়াই ভাগ অর্থাৎ ৬-৭ কোটি টাকা খরচ হবে গবেষণা ও জ্ঞান সৃষ্টির কাজের জন্য। আর সম্ভবত (সম্ভবত বলছি এ কারণে যে, বাজেট দেখার সুযোগ আমাদের হয়নি) বেতনভাতা খাতেই খরচ হবে ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ অর্থাৎ প্রায় ২৫০ কোটি টাকা। এদিক থেকে আমাদের উপাচার্য তার দলের পক্ষে কাজটা ভালোই করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে তিনি দলীয় লোকদের পুনর্বাসনের কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
মানুষ বাইরে থেকে দেখে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভালোই চলছে। গত সাড়ে চার বছরে মেধার তোয়াক্কা না করে সম্পূর্ণ দলীয় বিবেচনায় সাড়ে তিনশ’রও বেশি শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধা লালনের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যকে করা হয়েছে ভূলুণ্ঠিত। একইভাবে প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও দলীয় বিবেচনায় শত শত যুবককে নিয়োগ দেয়া হয়েছে অফিসার কিংবা কর্মচারী হিসেবে। শুধু তাই নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রাতি বিষয়েও উপাচার্যের হস্তক্ষেপ লক্ষ্য করা গেছে। নিয়োগ, অর্থ বরাদ্দ, আবাসন বরাদ্দ, সাসপেনশন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আইন ১৯৭৩-এ বর্ণিত নিয়মনীতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ইচ্ছামাফিক বিভাগের চেয়ারম্যান নিয়োগ, এমবিএ প্রোগ্রামের পরিচালক নিয়োগ, অফিস প্রধানদের ক্ষমতা হরণ, তোষামোদকারী ব্যক্তিদের বিভিন্ন ক্ষমতায় বসানো, বিরোধী পক্ষের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ওপর কারণে-অকারণে ত্রাসের স্টিমরোলার চালানো এবং ক্ষেত্র বিশেষে বিরোধী শিক্ষকদের কাউকে কাউকে তোষণ করে বিরোধী পক্ষকে নিষ্ক্রিয় করে রাখাসহ হেন কোনো অনৈতিক কাজ নেই যা এই প্রশাসন করেনি। সহ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষের দৈনন্দিন কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার এবং তাদের অধিকার হরণের প্রতিবাদে উপাচার্যের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছিলেন সাবেক সহ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষ। প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে তাদের পদ থেকে বিদায় করা হয়েছিল অত্যন্ত অসম্মানজনকভাবে। যদিও তারা পরবর্তী সময়ে উচ্চতর পদে আসীন হয়ে প্রমাণ করেছেন সত্য ও সুন্দরের বিজয় অবশ্যম্ভাবী।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য আমার জানা মতে অত্যন্ত ভদ্র ও সজ্জন ব্যক্তি। আমার এখনও মনে পড়ে ১৯৯৫-৯৬ সালের দিকের একটি ঘটনার কথা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির নির্বাচনে আমি এবং তিনি দু’জনে দু’দল থেকে সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য মনোনীত হয়েছিলাম। যেদিন ভোট হয়, সেদিন আমরা দু’জনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাবের ঐতিহাসিক কড়ই গাছের নিচে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলাম, যে গাছটি কিছুদিন আগে কেটে ফেলা হয়েছে। আমরা ভিন্ন ভিন্ন দল করলেও আমাদের মধ্যে বেশ ভালো সম্পর্ক ছিল। তখনকার শিক্ষক রাজনীতি ছিল এমনটাই। এখনকার মতো জাতীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক দলগুলোর নগ্ন লেজুরবৃত্তি ছিল না। যাই হোক, আমাদের গল্প করা দেখে বেশ ক’জন সিনিয়র শিক্ষক এসে আমাদের বলেছিলেন, তোমরা দু’জনেই খুব ভালো মানুষ, দু’জনেই খুবই জনপ্রিয়। আমরা চাই না, তোমাদের কেউ হারুক। তাহলে কী করতে হবে? তারা বলেছিলেন, এক বছরের টার্মটা তোমরা দু’জনে ছয় মাস ছয় মাস করে ভাগ করে নাও। কিন্তু শিক্ষক সমিতির নীতিমালা তা অনুমোদন করে না। সেই নির্বাচনে আমি তার কাছে পরাজিত হয়েছিলাম স্বল্প ভোটের ব্যবধানে। আজ এত বছর পর সেই ভদ্র সজ্জন আরেফিন সিদ্দিকের স্বেচ্ছাচারিতা দেখে এবং সে কারণে তার জনপ্রিয়তার ধস দেখে আমি ব্যথিত হই। প্রশ্ন জাগে, মানুষের কি এতটাই পরিবর্তন হতে পারে?
কেন এ পরিবর্তন? এর উত্তর আমার জানা নেই। এটা কি শুধু ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করে রাখার জন্য? নিজের অবস্থান পাকাপোক্ত করার চেষ্টায় বর্তমান উপাচার্য যে ন্যায়-অন্যায় বিচার না করে যা মনে করছেন তা-ই করে যাচ্ছেন, সেটা সহজেই দৃশ্যমান। কেউ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মনীতি না মেনে, বিশ্ববিদ্যালয় আইনকে পদদলিত করে চার চারটি বছর নির্বাচন না দিয়ে দায়িত্বে বসে থাকবেন, সেটা বোধহয় মোটেই শোভনীয় নয়, কাম্যও নয়। কারণ আগেই বলেছি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গণতন্ত্রের সূতিকাগার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ অভিভাবক অনির্বাচিত থেকে স্বৈরাচারী কায়দায় এ প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব দেবেন, তা কখনোই মেনে নেয়া যায় না। ক্ষমতায় আরোহণের প্রথম বছরেই সিনেটের সব পদের নির্বাচন দিয়ে সিনেটের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়ে আসাটা কি তার জন্য খুব কষ্টকর ছিল? মোটেই না। কারণ এখন বিশ্ববিদ্যালয় সম্পূর্ণভাবে দলীয় রাজনীতি দ্বারা পরিচালিত। এ অবস্থায় সিনেটের কম্পোজিশন পূর্ণাঙ্গ করে নির্বাচন দিলে বর্তমান উপাচার্য তো তিনজনের প্যানেলেই থাকতেন। ধরে নিলাম, আন্তঃদলীয় কোন্দলের কারণে তিনি সর্বনিম্ন অর্থাৎ তিন নম্বরে অবস্থান করতেন। তাতে কী? মাননীয় চ্যান্সেলর তো তিনজনের মধ্যে তাকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দিতে পারতেন। ঠিক যেমনটি ঘটেছিল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের ক্ষেত্রে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘ফরেইন বডি’ হিসেবে সেখানে গিয়ে অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন যে প্রতিকূল অবস্থার মধ্যে থেকেও অনেক সাহস করে সিনেটের নির্বাচন দিয়ে জিতে এসে বৈধ উপাচার্য হয়েছেন, সেজন্য তাকে আমি ধন্যবাদ জানাই। শুধু তাই নয়, গণতান্ত্রিক ধারার প্রতি তার এ সম্মান প্রদর্শন দেখে ‘মাই হ্যাট’স অফ টু হিম’।
আরেফিন সিদ্দিক কি এমনটি করতে পারতেন না? তিনি গণতন্ত্রের পথে না হেঁটে গেলেন স্বৈরতন্ত্রের পথে। দলীয় শিক্ষক ও অন্যান্য সুহৃদ যারা ছিলেন, তাদের মাঝে তিনি অবিশ্বাসের মেঘ দেখতে পেলেন। ফলে আস্তে আস্তে তার দলের মানুষই সরে গেল তার কাছ থেকে। তার স্বেচ্ছাচারিতা তার দলের অনেকেই গ্রহণ করতে পারেননি। ফলে তিনি অনেকটাই একা হয়ে পড়লেন। এ অবস্থায় নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে তিনি দুটি কাজ করলেন- এক, দলের অনেক যোগ্য সিনিয়র শিক্ষককে বাদ দিয়ে জুনিয়র শিক্ষকদের কাছে টেনে নিয়ে তাদের বিশেষ সুবিধা দিলেন। এমনকি কাউকে কাউকে বয়সের তুলনায় এত গুরুদায়িত্ব দিলেন, যাতে তারা কেউ কখনোই উপাচার্যের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করার সাহস না পান। দুই, বিশ্ববিদ্যালয়ে তার বিরোধী পক্ষের দলকে যেভাবেই হোক হাতের মুঠোয় রেখে তার চার বছরের সময়টা যেন ভালোয় ভালোয় পার হয়ে যায় সেই ব্যবস্থা করলেন। বলা যায়, এ বিষয়ে তিনি শতভাগ সফলতা লাভ করেছেন। বিরোধী সাদা দলের শিক্ষকরা এ বিষয়ে অনেক কথাই বলেন, যেগুলো প্রকাশ করা যায় না। তবে সাদা দলের মুখথুবড়ে পড়া দলীয় কার্যক্রমে সিংহভাগ শিক্ষকই যে চরম অসন্তোষে ভুগছেন, সেটা আলাপ করলেই বোঝা যায়। তাদের ভাষায়, বিগত ছয়-সাত বছর ধরে দায়িত্বপ্রাপ্ত একই ব্যক্তি এই দলের আহ্বায়ক হিসেবে দল পরিচালনা করে দলটিকে অনেকটাই অকার্যকর করে রেখেছেন, কিংবা প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে সঠিক নেতৃত্ব দিতে ব্যর্থ হয়েছেন।
কথায় বলে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শান্ত তো সারাদেশ শান্ত, আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অশান্ত তো সারাদেশও অশান্ত। একটু খোলাসা করে বললে, সারাদেশ অশান্ত হলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শান্ত থাকলে দেশে কোনো আন্দোলন জমে ওঠে না, আবার সারাদেশ শান্ত থাকলেও এক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অশান্ত হলে দেশেও ছড়িয়ে পড়ে আন্দোলনের ঢেউ। জাতীয়তাবাদী চেতনায় বিশ্বাসী সাদা দল আন্দোলনের অনেক সুযোগ পাওয়া সত্ত্বেও রহস্যজনক কারণে তাদের ভূমিকা যথাযথভাবে পালন করতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে উপাচার্য আরেফিন সিদ্দিক সহজেই চার চারটি বছর পার করে এখন পঞ্চম বছরে পড়তে চলেছেন।
এত কথা বলার কারণ, আমি এখনও বিশ্বাস করি, আমাদের অতি ভদ্র উপাচার্য কখনোই গণতন্ত্রের বিপক্ষে ছিলেন না। বরং গণতান্ত্রিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক নির্বাচনে তিনি জিততে জিততে আজ এ পর্যায়ে এসেছেন। তবে উপাচার্য হওয়ার শেষ নির্বাচনটা তিনি করলেন না কেন- এটা আমাদের কাছে এক বিরাট প্রশ্ন। হয়তো তিনিই ভালো করে জানেন কেন করা গেল না এ নির্বাচন। তবে চার চারটি বছর তো পার হয়ে গেল অনির্বাচিতভাবেই, আর কতদিন? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দেশের আয়না। সারাদেশের চেহারা প্রতিফলিত হয় এ প্রতিষ্ঠানে। উল্টোভাবে বললে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক অবস্থা বলে দেয়, আগামীতে দেশে কী হতে যাচ্ছে। অনির্বাচিত আরেফিন সিদ্দিকের অবস্থান কী বলে দেয়? যারা রাজনীতি করেন, তাদের জন্য অনেক ইঙ্গিতই বহন করে বর্তমানের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
ড. সৈয়দ রাশিদুল হাসান : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক

দালাই লামার জন্মদিন নীরবে পালন করল তিব্বতিরা

দালাই লামা
চীনে বসবাসরত তিব্বতিরা গতকাল শনিবার নীরবে তাদের নির্বাসিত নেতা দালাই লামার ৭৮তম জন্মদিন পালন করেছে। চীন কর্তৃপক্ষ তাদের ধর্মীয় নেতাকে পছন্দ না করায় বরাবরই চীনের বিভিন্ন স্থানে অবস্থানরত তিব্বতিরা নীরবে-নিভৃতে তাঁকে স্মরণ করে থাকে। গতকাল চীনের পশ্চিম কিংহাই প্রদেশের চাবাচা কাউন্টির রাস্তাগুলো ছিল একেবারে শান্ত। চীনা কর্তৃপক্ষ সাময়িকভাবে তিব্বতিদের প্রতি নমনীয় রয়েছে। খোলামেলাভাবে ‘বিদ্রোহী’ নেতার জন্মদিন উদ্যাপন করলে পরিবেশ বিপন্ন হতে পারে—এমন আশঙ্কাতেই কোনো ঘটা করেনি তিব্বতিরা। কিংহাই প্রদেশের কুমবুম মঠের সন্ন্যাসী খেদ্রুব বলেন, ‘দালাই লামার জন্মদিন উদ্যাপনে বিশেষ দিনের জন্য অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই। আমরা প্রতিদিনই তা করি।’ রয়টার্স।

অযোধ্যাকে খুঁচিয়ে তুলল বিজেপি by সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়

নরেন্দ্র মোদিকে সামনে রেখে হিন্দুত্বকে হাতিয়ার করে বিজেপি যে দিল্লি দখলের যুদ্ধে নামছে, গতকাল শনিবার তা স্পষ্ট হয়ে গেল। মোদি যাঁকে উত্তর প্রদেশের নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছেন, গুজরাটের সেই বিতর্কিত সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ অযোধ্যায় গিয়ে ‘রাম জন্মভূমিতে’ রামমন্দির স্থাপনের অঙ্গীকার করে এলেন। অযোধ্যায় অমিত শাহ বলেন, রামের জন্মস্থানে ভব্য রামমন্দির তৈরি করাটা তাঁদের কর্তব্য। মোদিকে দলের প্রচার কমিটির প্রধান করার সময় লালকৃষ্ণ আদভানিসহ যাঁরা আপত্তি জানিয়েছিলেন, তাঁদের আশঙ্কাই সত্যি প্রমাণিত করলেন অমিত শাহ। এই মহলের অভিমত ছিল, মোদিকে ‘দলের মুখ’ করলে ফের হিন্দুত্ব মাথাচাড়া দেবে। দেশ বিভাজিত হয়ে যাবে ধর্মনিরপেক্ষ ও সাম্প্রদায়িক এই দুই শিবিরে। এর পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচনের আগে জোট ধরে রাখা ও ভোটের পর নতুন সঙ্গী পেতে বিজেপির অসুবিধা হবে, যেহেতু মোদির গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ। অমিত শাহের সফর ও বক্তব্যের পর পুরোনো মন্দির-মসজিদ বিতর্ক মাথাচাড়া দেওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কংগ্রেস দাবি জানিয়েছে, তাঁকে অবিলম্বে উত্তর প্রদেশ থেকে বের করে দেওয়া হোক। বিজেপি ও সংঘ পরিবার নরেন্দ্র মোদিকে দলের মুখপাত্র হিসেবে বেছে নিয়েছিল দুটি কারণে। প্রথমত, কট্টরপন্থী এমন একটা ভাবমূর্তি তাঁর গড়ে উঠেছে, দ্বিতীয়ত, গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তিনি উন্নয়নের প্রতীক হয়ে উঠেছেন। অর্থাৎ, সংঘ পরিবারের গড়ে তোলা হিন্দুত্বকে তিনি নতুন একটা মোড়কে পেশ করতে সফল। কাজেই, একদিকে হিন্দুত্ব, অন্যদিকে উন্নয়নকে হাতিয়ার করে মোদি দলকে ভোট বৈতরণি পার করাতে পারবেন বলে বিজেপির বিশ্বাস। এই উদ্দেশ্যে মোদিও অযোধ্যা থেকে প্রচার অভিযান শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু আদভানির আপত্তিতে সেই পরিকল্পনা বাতিল করেন। কিন্তু নিজে না গেলেও অমিত শাহকে অযোধ্যা পাঠিয়ে মন্দির বিতর্ককেই খুঁচিয়ে তুললেন। সেই সঙ্গে শুরু হয়ে গেল ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ বনাম ‘সাম্প্রদায়িক’ শিবিরের বাগ্যুদ্ধ। বিজেপির বিরোধিতায় মুখর হয়েছে কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি, জনতা দলসহ (সংযুক্ত) বামপন্থীরাও। মোদি কিন্তু নিজের পরিকল্পনায় অটল। শনিবার থেকেই জাতীয় স্তরে প্রচার শুরুর ক্ষেত্রে অযোধ্যার পাশাপাশি বেছে নিলেন বিহারকে। গুজরাটের রাজধানী গান্ধীনগরে বসে সন্ধ্যায় তিনি টেলিকনফারেন্সের মাধ্যমে বিহারের অন্তত দেড় হাজার দলীয় নেতা-কর্মীর সঙ্গে কথাবার্তা বলেন ও প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেন।

পাকিস্তানে ট্রেন দুর্ঘটনায় শিশুসহ ১৪ জন নিহত

পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় পাঞ্জাব প্রদেশে গতকাল শনিবার এক ট্রেন দুর্ঘটনায় দুই শিশুসহ অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছে। ট্রেনের সঙ্গে মোটরচালিত যাত্রীবোঝাই একটি রিকশার সংঘর্ষে এ দুর্ঘটনা ঘটে। যাত্রীবাহী ওই ট্রেন করাচি থেকে পাঞ্জাবের রাজধানী লাহোর যাচ্ছিল। পথে একটি সড়ক ক্রসিংয়ে ট্রেনটির সঙ্গে রিকশাটির সংঘর্ষ হয়। এতে রিকশাটি দুমড়েমুচড়ে যায়। দুর্ঘটনার সময় রেলগেটে কোনো প্রতিবন্ধকতা ছিল না। স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা সালিম নিয়াজি বলেন, লাহোর থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে শেইখুপুরা এলাকার খানপুরে এ দুর্ঘটনা হয়। দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে অন্তত দুটি শিশু রয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। স্থানীয় হাসপাতালের জ্যেষ্ঠ চিকিৎসক মোহাম্মদ আসিম বলেন, ‘দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই নিহত হয় ১২ জন।’ পুলিশ জানায়, রিকশাটি অতিরিক্ত যাত্রী বহন করছিল এবং সড়ক ক্রসিং দিয়ে ট্রেনটি যাওয়ার মুহূর্তে সেটি রেললাইনের ওপর উঠে পড়ে। ক্রসিংটি দিয়ে যানবাহন চলাচল আটকানোর মতো দরজা বা এ কাজের জন্য কোনো লোক ছিল না। এএফপি।

স্নোডেনকে বিয়ের প্রস্তাব দিলেন চ্যাপম্যান

আনা চ্যাপম্যান
মার্কিন নজরদারির খবর ফাঁস করে হইচই ফেলা এডওয়ার্ড স্নোডেনকে (৩০) বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছেন রাশিয়ার সাবেক আলোচিত গুপ্তচর আনা চ্যাপম্যান। সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইট টুইটারে দেওয়া এক বার্তায় আনা এই প্রস্তাব দেন। ৩১ বছর বয়সী আনা টুইটারে লিখেছেন, ‘স্নোডেন, তুমি আমাকে বিয়ে করবে?’ আনার এই প্রস্তাবে ক্ষুব্ধ হওয়ার কথা স্নোডেনের মেয়েবন্ধু নৃত্যশিল্পী লিন্ডসে মিলের। একটি সূত্র বলেছে, লিন্ডসে মনে করেন, স্নোডেনের সঙ্গে তাঁর খাঁটি ভালোবাসার সম্পর্ক। তাঁদের এই সম্পর্ক আজীবন থাকবে। স্নোডেনের ‘অপরাধের’ ব্যাপারে লিন্ডসেকেও (২৮) জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে। সংশ্লিষ্টতা পেলে তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতে পারে। ২০১০ সালে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ঝড় তোলেন রুশ সুন্দরী আনা চ্যাপম্যান। গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে আরও নয়জনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র তাঁকে সে দেশ থেকে বের করে দেয়। দেশে ফিরেই তারকাখ্যাতি পেয়ে যান চ্যাপম্যান। সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের গোয়েন্দা সংস্থা কেজিবির জ্যেষ্ঠ এক এজেন্টের কন্যা আনা এরপর নিজেকে নানা কাজে জড়িয়ে ফেলেন। মস্কোয় রাশিয়ার ফ্যাশন উইকে ক্যাটওয়াক, একটি সাময়িকী সম্পাদনা, বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দেওয়া ও সর্বশেষ একটি ফাউন্ডেশন পরিচালনা করছেন আনা। যুক্তরাষ্ট্র গুপ্তচরবৃত্তি ও সরকারি তথ্য চুরির মামলা করেছে স্নোডেনের বিরুদ্ধে। মামলার আগেই স্নোডেন যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে হংকং চলে যান। গত ২৩ জুন সেখান থেকে রাশিয়ার শেরেমেয়িতেভো বিমানবন্দরে পৌঁছান। ওই বিমানবন্দরের ট্র্যানজিট এলাকাতেই অবস্থান করছেন স্নোডেন। মিরর।

উইলিয়াম-কেটের সন্তানের বিস্ময়কর বংশলতিকা

প্রিন্স উইলিয়াম ও তাঁর স্ত্রী কেটের অনাগত সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার আগেই তাঁর বংশলতিকা নিয়ে গবেষণায় ব্যস্ত হয়েছেন এ বিষয়ের বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা পাঁজিপুঁথি ঘেঁটে এমন সব তথ্য বের করছেন, যা রীতিমতো চমকপ্রদ। প্যারিসের এক সাধারণ অভিনেত্রী থেকে শুরু করে রুমানিয়ার ‘ড্রাকুলা’ প্রিন্স এবং স্পেনের সেভিলের এক সুলতানের রক্ত নাকি রয়েছে উইলিয়াম-কেটের সন্তানের শরীরে। ব্রিটিশ রাজসিংহাসনের উত্তরাধিকারী উইলিয়ামের বংশলতিকা ইউরোপের গথা বংশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। যুক্তরাজ্যের সব রাজা ছাড়াও গ্রিস, ডেনমার্ক, সুইডেন, রাশিয়া, অস্ট্রিয়া, স্পেন ও বেশ কয়েকজন জার্মান রাজা-রানির সঙ্গে গথা বংশের যোগসূত্র রয়েছে। ১৯১৭ সালের আগ পর্যন্ত ব্রিটিশ রাজপরিবারকে তাই স্যাক্সে-কোবার্গ-গথা বলেই ডাকা হতো। সে বছর জার্মানির সঙ্গে যুদ্ধে জড়ানোর পর উইন্ডসর নাম বেছে নেয় ব্রিটিশ রাজপরিবার। অন্যদিকে হবু মা কেট মিডলটনের পূর্বপুরুষদের মধ্যে বেশির ভাগই সাধারণ মানুষ। প্রয়াত রানিমাতা (রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের মা) ও প্রিন্সেস ডায়ানাও (উইলিয়ামের মা) জন্মসূত্রে রাজকুমারী ছিলেন না। কেট মিডলটনের বাবার দিকের পূর্বপুরুষেরা অপেক্ষাকৃত ধনাঢ্য ছিলেন। তবে তাঁর মায়ের পূর্বপুরুষদের বেশির ভাগই কর্মজীবী শ্রেণীর মানুষ। তাঁদের মধ্যে ছিলেন কয়লাখনির কর্মী, পাউরুটি প্রস্তুতকারী, এমনকি লন্ডনের রাস্তার ঝাড়ুদারও। আবার তাঁদের মধ্যে ছিলেন আর্থার লুপটন নামের একজন, যিনি কিনা অমর জার্মান কবি ও নাট্যকার গ্যেটেকে ইংরেজি শিখিয়েছিলেন। এই তালিকায় আছেন ১৮৮১ সালে লন্ডনের হলওয়ে কারাগারে বন্দী হওয়া এডওয়ার্ড টমাস গ্লাসবরো। আজ পর্যন্ত তাঁর কারাবন্দী হওয়ার কারণ রহস্যে ঘেরা। ব্রিটিশ রাজপরিবারের বংশলতিকায় আরও বিস্ময় আছে। ১৯১০ থেকে ১৯৩৬ পর্যন্ত রাজ্য শাসন করা পঞ্চম জর্জের স্ত্রী রানি মেরি ছিলেন রুমানিয়ার ট্রান্সসিলভানিয়া ও ওয়ালাচিয়ার প্রিন্সদের বংশধর। এক ফরাসি নারীর সূত্রে কেটের সন্তান হবে প্রয়াত ফরাসি প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া মিতেরাঁর জ্ঞাতিভাই। ওই নারী আবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট জর্জ ওয়াশিংটনের বংশধর। এএফপি।

এ যেন মর্মান্তিক এক ‘সোপ অপেরা’

দক্ষিণ আফ্রিকার অবিসংবাদিত নেতা নেলসন ম্যান্ডেলা হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন। এমন একটা সময়ে তাঁর উত্তরাধিকার নিয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে দ্বন্দ্ব প্রকট হয়ে উঠেছে। এ ঘটনাকে কেউ কেউ তুলনা করছেন টিভির সোপ অপেরার (ধারাবাহিক নাটক) সঙ্গে। বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলন করে ২৭ বছর কারাভোগ করেছেন ম্যান্ডেলা। মুক্তি পেয়ে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে নির্যাতনকারী সেই শ্বেতাঙ্গদের সঙ্গেই ঐকমত্য গড়ে তোলেন। এসবের মধ্য দিয়ে জীবন্ত কিংবদন্তি হয়ে ওঠেন। হয়ে ওঠেন দেশবাসী ছাড়াও বিশ্বের সবার কাছে শ্রদ্ধাভাজন। কিন্তু মৃত্যুর পর ম্যান্ডেলাকে কোথায় সমাহিত করা হবে, তা নিয়ে আইনি লড়াইয়ে নেমে ম্যান্ডেলার পরিবারের সদস্যরা তাঁর সুনামকেই ক্ষতিগ্রস্ত করছেন।এই দ্বন্দ্বের একদিকে রয়েছেন ম্যান্ডেলার নাতি মান্ডলা ম্যান্ডেলা এবং অন্যদিকে রয়েছেন তাঁর বড় মেয়ে ম্যাকাজিউ ও বর্তমান স্ত্রী গ্রাসা ম্যাশেল। এমভেজো গ্রামের প্রধান মান্ডলা ২০১১ সালে তাঁর বাবা, চাচা ও এক ফুফুর দেহাবশেষ কিছুটা দূরের কুনুগ্রামের সমাধিস্থল থেকে তুলে নিজ গ্রামে সমাহিত করেছিলেন। ম্যান্ডেলার বড় মেয়ে ও বর্তমান স্ত্রীসহ পরিবারের কয়েকজন আদালতে অভিযোগ করেন, মান্ডলা বেআইনিভাবে ওই কাজ করেছেন। তাঁদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আদালতের আদেশে গত বৃহস্পতিবার ম্যান্ডেলার ওই তিন সন্তানের দেহাবশেষ আবার কুনু গ্রামের পারিবারিক সমাধিতে সমাহিত করা হয়। এর আগে মান্ডলা এক সংবাদ সম্মেলনে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। পরিবারের অন্য সদস্যরা নেলসন ম্যান্ডেলার উত্তরাধিকার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ তোলেন তিনি। পারিবারিক দ্বন্দ্বের এ ঘটনায় দক্ষিণ আফ্রিকার সাধারণ নাগরিকদের অনেকেই ব্যথিত হয়েছেন। অনেকে এই দ্বন্দ্বকে মার্কিন টিভির একসময়ের জনপ্রিয় সোপ অপেরা ‘ডালাস’-এর সঙ্গে তুলনা করছেন। ওই নাটকে টেক্সাসের একটি ধনাঢ্য পরিবারের সদস্যরা উত্তরাধিকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিবাদে লিপ্ত হন। ডেইলি ম্যাভেরিক এক খবরে মান্ডলাকে ‘ডালাস’-এর অ্যান্টি হিরো জে আর ইউয়িং বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। পারিবারিক এ দ্বন্দ্বের পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় দ্য টাইমস পত্রিকায় এক চিঠিতে মাইকেল মোকোয়েনা নামের একজন লিখেছেন, দেশবাসী তাঁদের প্রিয় নেতার জন্য শ্রদ্ধাভরে অপেক্ষা করছেন। আর তাঁর পরিবারের সদস্যরা কিনা কলহে লিপ্ত। পারিবারিক দ্বন্দ্ব সবার সামনে তুলে ধরছেন। শান্তিতে নোবেলজয়ী আর্চবিশপ ডেসমন্ড টুটু গত বৃহস্পতিবার তিক্ত এ পারিবারিক দ্বন্দ্ব নিরসনের জন্য ম্যান্ডেলার পরিবারের সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান। এএফপি।

সহিংস পন্থায় শরিয়া আইন চালুর হুমকি

তুলনামূলকভাবে নতুন ইসলামপন্থী গোষ্ঠী আনসার আল-শরিয়া মিসরে তাদের কার্যক্রম চালুর ঘোষণা দিয়েছে। সংগঠনটি বলেছে, প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করার বিষয়টি ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার শামিল। সহিংসতা চালানোর মাধ্যমে মিসরে ইসলামি আইন চালু করারও হুমকি দিয়েছে তারা। মিসরের সিনাই অঞ্চলভিত্তিক জঙ্গিদের একটি অনলাইন ফোরামে গত শুক্রবার প্রকাশিত বিবৃতিতে এসব কথা বলা হয়েছে। অনলাইনে জঙ্গিদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণকারী যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংগঠন এসআইটিই সংগঠনটির ওই বিবৃতি সংগ্রহ করেছে। বিবৃতিতে আনসার আল-শরিয়া বলেছে, তারা অস্ত্র সংগ্রহ করে সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেবে। প্রেসিডেন্ট মুরসিবিরোধী বিক্ষোভের জের ধরে মিসরের সেনাবাহিনী ৩ জুলাই মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করে এবং সংবিধান স্থগিত ঘোষণা করে। সেনাবাহিনীর এ পদক্ষেপের কারণে মুসলিম ব্রাদারহুডের মতো স্বীকৃত গোষ্ঠীগুলোও জঙ্গি কার্যক্রমের দিকে ঝুঁকে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। এসআইটিই জানিয়েছে, বিবৃতিতে আনসার আল-শরিয়া বলেছে, সেনাবাহিনীর মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারের পতন, টেলিভিশন চ্যানেল বন্ধ করে দেওয়া, ইসলামপন্থী বিক্ষোভকারীরা নিহত হওয়াসহ যেসব ঘটনা ঘটেছে, তা ‘মিসরে ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা’র শামিল। এসব ঘটনার জন্য দেশের ধর্মনিরপেক্ষতাবাদে বিশ্বাসী, সাবেক স্বৈরশাসক হোসনি মোবারকের সমর্থক, মিসরীয় কপটিক খ্রিষ্টান সম্প্রদায়, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী ও সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের দায়ী করে ইসলামপন্থী গোষ্ঠীটি বলেছে, তারা দেশকে ‘ধর্মযুদ্ধের’ দিকে নিয়ে যাবে। গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করে বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, তারা দেশে শরিয়া আইনকে বিজয়ী করবে। ‘হামলাকারীদের বিরুদ্ধে লড়তে, ধর্ম রক্ষা করতে এবং আল্লাহর আইন চালু করতে’ অস্ত্র সংগ্রহ করে মুসলমানদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। রয়টার্স।

দুই চুক্তি স্থগিতের হুমকি ইইউর

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) তথ্য-উপাত্তসংক্রান্ত নীতিমালার প্রতি ওয়াশিংটন শ্রদ্ধাশীল না হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে থাকা দুটি চুক্তি স্থগিত করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইউরোপীয় দেশগুলোর জোটটি। চুক্তি দুটির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রকে ইউরোপের আর্থিক ও ভ্রমণসংক্রান্ত গোপন তথ্য-উপাত্ত সরবরাহ করা হয়ে থাকে। গত শুক্রবার ইইউর কর্মকর্তারা এ কথা জানিয়েছেন।  যুক্তরাষ্ট্রে নয়-এগারোর সন্ত্রাসবাদী হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ইইউর সঙ্গে চুক্তি দুটি স্বাক্ষর করা হয়। তথ্য-উপাত্ত আদান-প্রদানবিষয়ক চুক্তি দুটিকে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে বিবেচনা করে থাকে ওয়াশিংটন। যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ইইউ ও ইউরোপের ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের ওপর ব্যাপক নজরদারির অভিযোগের বিষয়ে ইইউ যে চুপচাপ বসে থাকবে না—প্রভাবশালী আঞ্চলিক জোটটির হুঁশিয়ারিতে তারই প্রতিফলন ঘটেছে। ইইউর অভ্যন্তরীণবিষয়ক কমিশনার সিসিলিয়া মামস্ট্রম গত বৃহস্পতিবার চুক্তি দুটির বাস্তবায়নের বিষয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি মন্ত্রী জ্যানেট নাপোলিটানো এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের সন্ত্রাসবাদ ও অর্থসংক্রান্ত গোয়েন্দা দপ্তরের আন্ডার সেক্রেটারি ডেভিড কোহেনকে চিঠি লিখেছেন। মামস্ট্রম চিঠিতে বলেন, ‘চুক্তি দুটি বাস্তবায়ন করতে গিয়ে আমরা নাগরিকদের অধিকার ক্ষুণ্ন হতে দিতে পারি না। আইনের সঙ্গে সঙ্গতি রেখেই আমরা চুক্তিগুলো বাস্তবায়ন করেছি। তবে চুক্তির গ্রহণযোগ্যতা এখন মারাত্মক ধাক্কা খেয়েছে এবং এর পুরোপুরি বাস্তবায়নের বিষয়টি আমরা পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য হচ্ছি।’ যুক্তরাষ্ট্র ও ইইউর সম্পর্ক ‘কঠিন সময়ের’ মধ্য দিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে মামস্ট্রম চিঠিতে আরও বলেন, ‘পারস্পরিক বিশ্বাস ও আস্থা বিরাট ধাক্কা খেয়েছে এবং আমি আশা করি, পারস্পরিক বিশ্বাস পুনস্থাপনে যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।’ চুক্তি দুটি পর্যালোচনার জন্য পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে অভ্যন্তরীণবিষয়ক কমিশনার মামস্ট্রম আগামী সপ্তাহেই ইইউর কর্মকর্তাদের একটি দলকে ওয়াশিংটনে পাঠাবেন। এদিকে ফ্রান্সের গোয়েন্দা সংস্থা সে দেশের নাগরিকদের ওপর ব্যাপক পরিসরে গোপন নজরদারি চালাচ্ছে মর্মে ওঠা অভিযোগ ফ্রান্সের কর্মকর্তারা উড়িয়ে দিয়েছেন। ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী জ্যাঁ-মার্ক এহোর মুখপাত্র লো মঁদ পত্রিকার কাছে ওই অভিযোগকে ‘অযথার্থ’ বলে অভিহিত করেছেন। ওবামা প্রশাসনের আহ্বান: ফোনে ব্যাপক আড়িপাতার বিষয়ে মতামত না দেওয়ার জন্য গত শুক্রবার ওবামা প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের ফরেন ইন্টেলিজেন্স সার্ভিলেন্স কোর্টের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন ওই আদালতের প্রতি আড়িপাতার বিষয়ে মতামত দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল। ওই আদালতে দেওয়া নথিপত্রে মার্কিন বিচার বিভাগের অভিযুক্ত ব্যক্তিরা বলেছেন, জনগণ গোপন নজরদারির বিষয়ে আদালত থেকে মতামত চাওয়ার অধিকার পেলে তার সম্ভাব্য ক্ষতি হতে পারে ‘বাস্তব ও উল্লেখযোগ্য’। রয়টার্স ও বিবিসি।

মার্কিন নজরদারির প্রতিবাদ দুই চুক্তি স্থগিতের হুমকি ইইউর

গইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) তথ্য-উপাত্তসংক্রান্ত নীতিমালার প্রতি ওয়াশিংটন শ্রদ্ধাশীল না হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে থাকা দুটি চুক্তি স্থগিত করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইউরোপীয় দেশগুলোর জোটটি।

News Details - Full Banner_Above এ যেন মর্মান্তিক এক ‘সোপ অপেরা’

দক্ষিণ আফ্রিকার অবিসংবাদিত নেতা নেলসন ম্যান্ডেলা হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন। এমন একটা সময়ে তাঁর উত্তরাধিকার নিয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে দ্বন্দ্ব প্রকট হয়ে উঠেছে।

স্নোডেনকে বিয়ের প্রস্তাব দিলেন চ্যাপম্যান

মার্কিন নজরদারির খবর ফাঁস করে হইচই ফেলা এডওয়ার্ড স্নোডেনকে (৩০) বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছেন রাশিয়ার সাবেক আলোচিত গুপ্তচর আনা চ্যাপম্যান। সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইট টুইটারে দেওয়া এক বার্তায় আনা এই প্রস্তাব দেন।

অযোধ্যাকে খুঁচিয়ে তুলল বিজেপি by সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়

নরেন্দ্র মোদিকে সামনে রেখে হিন্দুত্বকে হাতিয়ার করে বিজেপি যে দিল্লি দখলের যুদ্ধে নামছে, গতকাল শনিবার তা স্পষ্ট হয়ে গেল। মোদি যাঁকে উত্তর প্রদেশের নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছেন, গুজরাটের সেই বিতর্কিত সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত

উইলিয়াম-কেটের সন্তানের বিস্ময়কর বংশলতিকা

প্রিন্স উইলিয়াম ও তাঁর স্ত্রী কেটের অনাগত সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার আগেই তাঁর বংশলতিকা নিয়ে গবেষণায় ব্যস্ত হয়েছেন এ বিষয়ের বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা পাঁজিপুঁথি ঘেঁটে এমন সব তথ্য বের করছেন, যা রীতিমতো চমকপ্রদ।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট নাগরিকেরা ইউনূসের অবদানে আমরা গর্বিত

নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ‘অনেকে বলেন, ড. ইউনূসকে সালাম দিতেও ভয় লাগে। কোন সময় কোন বিপদে পড়ি। কিন্তু আমাদের সমাজ এমন ছিল না। পরিবারের মধ্যেও ভিন্ন মত থাকে।

আড়াইহাজার ও গোপালদী পৌরসভা নির্বাচন মেয়র পদে আ.লীগের ২ ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী জয়ী

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার নবগঠিত আড়াইহাজার ও গোপালদী পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদের দুটিতেই আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। তাঁরা কেউই দলের সমর্থন না পেয়ে নির্বাচন করেন।

সোনাইমুড়ী পৌরসভায় মেয়র পদে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী জয়ী

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থী মোতাহের হোসেন টানা দ্বিতীয়বারের মতো মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি সোনাইমুড়ী পৌর বিএনপির সভাপতি।

খালেদা জিয়াকে শেখ হাসিনা ওয়াশিংটন টাইমসের বিরুদ্ধে কেন মামলা করছেন না?

মার্কিন দৈনিক ওয়াশিংটন টাইমস-এর বিরুদ্ধে বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়াকে মামলা করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পত্রিকাটি খালেদা জিয়ার সই জাল করে তাঁর নামে নিবন্ধ ছাপিয়েছে—বিএনপির নেতাদের তরফে এমন দাবি করায় প্রধানমন্ত্রী মামলা করার এ আহ্বান জানান।

এবার গাজীপুরেও চমক...

চার সিটি করপোরেশনের পর এবার গাজীপুরেও চমক। ১৮ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থী অধ্যাপক এমএ মান্নান বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন।

আন্তর্জাতিক বইমেলা শুরু ২৮ নভেম্বর ৩৩ সদস্যের কমিটি

আগামী ২৮ নভেম্বর থেকে ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ‘বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বইমেলা ২০১৩’ অনুষ্ঠিত হবে। মেলা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ মোস্তাফা জব্বারকে চেয়ারম্যান এবং পাঞ্জেরী

২২ বার জেলে গেছে গ্রিলকাটা রাজু by নূরুজ্জামান

চোখের পলকে ভবন বেয়ে উঠতে পারে। নামতে পারে স্পাইডারম্যানের গতিতে। তিন থেকে চার মিনিটের মধ্যে ঢুকে পড়ে বেডরুমে।

পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ আহত যুবকের মৃত্যু

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ আহত যুবক ইয়াছিন বেপারী (২২) গতকাল শনিবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

নিরাশ হবেন না, সুস্থ হতে সময় লাগে

প্রথম আলো ট্রাস্ট মাদকবিরোধী আন্দো-লনের উদ্যোগে মাদকবিরোধী পরামর্শ সহায়তা অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেছেন, অভিভাবকেরা কখনো নিরাশ হবেন না। অনেক পরিবারে হয়তো এই সমস্যা আছে। সুস্থ হতে সময় লাগে। সন্তানদের পর্যাপ্ত সময় দেওয়া উচিত।

‘ওই রাতের ব্যাপারটি অন্যরকম ছিল’

অভিনেত্রী মিতা নূরের রহস্যজক মৃত্যু নিয়ে নানা তথ্য প্রকাশিত হয়েছে গণমাধ্যমে। মিতা’র লাশের ময়নাতদন্তে আঘাতের

কুয়েত থেকে আসা বিমানে ৯ কোটি টাকার স্বর্ণ

হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর কুয়েত থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি উড়োজাহাজ থেকে অবৈধভাবে আনা ২১৭টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়েছে।

ছেলের চোখে শ্রেষ্ঠ মা মিতা নূর

আমার মা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মা। তিনি আমার দেখা সবচেয়ে সংবেদনশীল, বুদ্ধিমতী নারী। কিন্তু অনেক সংবাদ মাধ্যম তাকে ভুলভাবে তুলে ধরেছে।

কর্মসংস্থান কর্মসূচির টাকা আত্মসাৎ টাকা ফেরতের নির্দেশ অমান্য ব্যবস্থা নিতে পারেনি প্রশাসন

পটুয়াখালী সদর উপজেলায় অতিদরিদ্র ব্যক্তিদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির দুটি প্রকল্পে আত্মসাৎ করা প্রায় সাড়ে ছয় লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসন ছয় মাসেও কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি।

সেনাবাহিনীতে চাকরি দেওয়ার নামে ১০ লাখ টাকা আত্মসাৎ

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে চাকরির ভুয়া নিয়োগপত্র দিয়ে বরগুনার পাথরঘাটায় মতিউর রহমান নামের এক ব্যক্তি তিন চাকরিপ্রার্থীর কাছ থেকে ১০ লক্ষাধিক টাকা নিয়ে আত্মসাৎ করেছেন।

ইমার সঙ্গে নিরবের অনৈতিক সম্পর্ক?

পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া প্রতারক মডেল ইমার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন চিত্রনায়ক ও মডেল নিরব।

গোয়ালন্দ ঘাট পুলিশের বিরুদ্ধে ঘুষ নিয়ে গাড়ি পার করে দেওয়ার অভিযোগ

যানজটের সুযোগে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে ট্রাফিক পুলিশের বিরুদ্ধে ঘুষ নিয়ে সিরিয়াল ভেঙে গাড়ি ফেরিতে ওঠার সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিনে বেশ কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ফেরিসংকট এবং নদীতে

কুয়েতে বাংলাদেশীর যৌন বাণিজ্য

কুয়েতে এবার যৌন বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে এক বাংলাদেশী ও এক ভারতীয় নাগরিকের বিরুদ্ধে। ভারতীয় ওই নাগরিক ফিলিপাইনের এক গৃহপরিচারিকাকে ২০০ দিনারে বিক্রি করে দেয় বাংলাদেশী এক দালালের কাছে।

দাদা নাতনির বিয়ে

মুসালি মোহাম্মদ আল-মুজামায়ির বয়স ৯২। বৃহস্পতিবার তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করলেন। পাত্রী তারই নাতনি।

সানি লিওনকে চুমু দিতে হবে বলে ছবিই বাদ!

জিসম ২ ছবি দিয়ে বলিউডে পা রাখেন কানাডিয়ান পর্নস্টার সানি লিওন। এখন অনেক ছবিরই প্রস্তাব পাচ্ছেন তিনি।

নদীর পানি সর্বরোগের দাওয়াই! by কাজী আবদুল্লাহ

ক্যানসারে আক্রান্ত বিউটি বেগম (৩৫) নিজে কেমোথেরাপি নিচ্ছেন। অথচ মানুষকে নদীর ঘোলা পানি পান করে সর্বরোগ থেকে মুক্তির পরামর্শ দিচ্ছেন। স্বপ্নে আদিষ্ট হয়ে তিনি এমন পরামর্শ দিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

জ্বালানিবিহীন উড়োজাহাজ

সৌরশক্তিচালিত উড়োজাহাজের সাফল্যের পর এবার বিজ্ঞানীরা জ্বালানিবিহীন আকাশযান নিয়ে আসার ইঙ্গিত দিয়েছেন। কল্পকাহিনি নয়, বাস্তবেই এই জ্বালানিবিহীন উড়োজাহাজাজ উড়ে চলবে বছরের পর বছর।

প্রশ্ন-উত্তর



আমাদের দৈনন্দিন জীবনে রয়েছে নানা রকম স্বাস্থ্যসমস্যা। অনেক সময় ঘরে বসেই কিংবা জীবনধারা পরিবর্তনের মাধ্যমে এসব সমস্যার সমাধান সম্ভব। আপনার সমস্যা নিয়ে প্রশ্ন পাঠান। উত্তর দেবেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা। বয়স লিখতে ভুলবেন না।

প্রেমিকার সঙ্গে অভিমানে নিজের ‘পুরুষাঙ্গ’ কর্তন

প্রেমিকার সঙ্গে মান-অভিমান হতেই পারে। তাই বলে এত অভিমান! নিজের পুরুষাঙ্গ কর্তন!‘অভিমানে’র এমনই বিচিত্র ঘটনাটি তাইওয়ানের ঝিলং শহরের।

অসমান দাঁত ক্ষতিকরও বটে by অধ্যাপক অরূপ রতন চৌধুরী

দাঁতের অসমান অবস্থা বা আঁকাবাঁকা থাকাটা যে কেবল সৌন্দর্যহানি করে তা নয়, তা স্বাস্থ্যহানিও করতে পারে। দাঁতের এই অসমান অবস্থার জন্য প্রধান দুটি কারণ: দুধদাঁত স্বাভাবিক সময়ে না পড়া বা না ওঠা এবং চোয়ালের স্বাভাবিক গড়নে তারতম্য।

মিতা নূর নিয়মিত ঘুমের বড়ি খেতেন!

অভিনেত্রী মিতা নূরের মৃত্যু রহস্য যেন কাটছেই না। ১ জুলাই মিতা তার গুলশানের বাসায় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। আর এ আত্মহত্যার জট এখনো খুলেনি।

রকমারি মৌমাছির শত্রু বিদ্যুৎ

ওড়ার সময় মৌমাছির পাখনার সঙ্গে বাতাসে ভাসমান ক্ষুদ্র কণার সংঘর্ষে বিদ্যুতের সৃষ্টি হয়। এ বিদ্যুৎ মৌমাছির দেহে সঞ্চিত হয়। আর এই বিদ্যুতের কারণেই মৌমাছি মাকড়সার জালে সহজে আটকা পড়ে।

ভালো থাকুন রোজাদার ডায়াবেটিক রোগীরা যা করবেন? by ডা. নাজমুল কবীর কোরেশী

রমজান মাসে রোজাদারদের খাদ্যাভ্যাস ও সময়সূচিতে পরিবর্তন আসে। এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সুস্থ থাকার জন্য ডায়াবেটিক রোগীদেরও প্রয়োজন পূর্বপ্রস্তুতি। রমজান মাস শুরুর আগেই নিন সেই প্রস্তুতি।

উচ্চশিক্ষা বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বিতীয় দফা ভর্তি পরীক্ষা by গৌতম রায়

৩ জুলাই প্রথম আলোয় প্রকাশিত ‘দ্বিতীয় দফার ভর্তি চক্রে আসন শূন্য চার শতাধিক’ শিরোনামে প্রতিবেদনে মূলত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই বছরের তথ্য বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত টানা হয়েছে যে, দ্বিতীয় দফায় ভর্তির সুযোগ থাকায় প্রতিবছর বিশ্ববিদ্যালয়টিতে কয়েক শ আসন খালি থেকে যাচ্ছে।

আইনের কার্যকর প্রয়োগ জরুরি হরতালে শিশুদের ব্যবহার



সুযোগ-সুবিধাবঞ্চিত শিশু-কিশোরদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার মতো একটি গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিশাপ থেকে বাংলাদেশ বলা চলে মুক্তই ছিল। সাম্প্রতিক সময়ে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে কোমলমতি শিশু-কিশোরদের ব্যবহূত হতে দেখা গেছে।

পোশাকশিল্পের মালিকদের আরও সজাগ হতে হবে? ত্রুটিপূর্ণ ভবনগুলোতে কারখানা

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের একটি দল ১০২টি তৈরি পোশাক কারখানার ভবন পরিদর্শন করে যে চিত্র পেয়েছে, তাতে ইতি ও নেতি দুই-ই আছে।

পোশাকশিল্পের মালিকদের আরও সজাগ হতে হবে? ত্রুটিপূর্ণ ভবনগুলোতে কারখানা

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের একটি দল ১০২টি তৈরি পোশাক কারখানার ভবন পরিদর্শন করে যে চিত্র পেয়েছে, তাতে ইতি ও নেতি দুই-ই আছে।

মিসর ওবামা কেন চুপ? by রবার্ট ফিস্ক

পৃথিবীর ইতিহাসে এই প্রথম ঘটল: ক্যু হয়েছে কিন্তু তাকে স্বনামে ডাকা হচ্ছে না। ক্ষমতা নিয়েছে সেনাবাহিনী, গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্টকে উৎখাত করে বন্দী রাখা হয়েছে, সংবিধান স্থগিত, সরকারপন্থীরা গণহারে গ্রেপ্তার হচ্ছে, বন্ধ

বোনের বিয়ে ভাঙার পরদিন আত্মহত্যা করেন মিতা নূর by রেজোয়ান বিশ্বাস

সেদিন সব কিছু ঠিক ছিল। সুপাত্র। ছেলে পছন্দ হয়েছে বাবা-মাসহ পরিবারের সবার। বরপক্ষেরও কনেকে পছন্দ। কিন্তু হঠাৎ ঝড়ের গতিতে সব কিছু এলোমেলো হয়ে যায়। ছোট বোনের হবু স্বামীকে পছন্দ হয়নি মিতা নূরের।

পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ-সর্বনিম্ন দরদাতা হয়েও বঞ্চিত দেশি প্রতিষ্ঠান

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) বিদেশপ্রীতির কারণে সক্ষমতা সত্ত্বেও পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে দেশীয় মুদ্রণশিল্প প্রতিষ্ঠান। সর্বনিম্ন দরদাতা হওয়া সত্ত্বেও প্রচুর পরিমাণ মুদ্রণকাজ দেশীয় প্রতিষ্ঠানকে না দিয়ে সক্ষমতার অজুহাত দেখিয়ে দেওয়া হয়েছে দুটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে।

মিসরে সংঘর্ষে নিহত ৩৭, এলবারাদি প্রধানমন্ত্রী

গতকাল শনিবার ভোরে মিসরের রাজধানী কায়রোসহ প্রধান প্রধান শহরের সড়কগুলোর মোটামুটি অভিন্ন দৃশ্য ছিল। আর তা হলো এখানে-সেখানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা অসংখ্য গুলির খোসা, পরিত্যক্ত হাতবোমা, ইট-পাথর ও কাচের টুকরা।

মান্নানের যত অভিযোগ

ভোটকেন্দ্র দখল, পোলিং এজেন্টকে মারধর করে কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া, জাল ভোট দেওয়া, ক্ষমতাসীন দলের লোকজনের অবৈধ প্রভাব বিস্তার, প্রশাসনের সহযোগিতা না পাওয়াসহ নানা অভিযোগ করেছেন অধ্যাপক এম এ মান্নান।

তিন পৌরসভা নির্বাচন-বিএনপি ১, আ. লীগ ১, বিদ্রোহী ১

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী মোতাহের হোসেন মানিক, নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে আওয়ামী লীগ নেতা হাবিবুর রহমান এবং গোপালদী পৌরসভায় আওয়ামী লীগের 'বিদ্রোহী' প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন।

বাশার দারোগার দিকে অভিযোগের তীর by শাহীন আকন্দ

সময় তখন দুপুর ১২টা ২৪ মিনিট। গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের ঝুঁকিপূর্ণ ভাদুন উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেল নারী-পুরুষের সাতটি দীর্ঘ লাইন। প্রখর রোদ মাথায় নিয়ে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে অপেক্ষায় ভোটাররা।

সিইসির আহ্বান-পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখুন বিজয় মিছিলও করবেন না

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সব প্রার্থী ও তাঁদের সমর্থকদের জনগণের রায় মেনে নিয়ে গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য ধরে রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।

আত্মবিশ্বাস বাড়ল বিএনপির by মোশাররফ বাবলু

চার সিটি নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ের পর এবার গাজীপুরেও ১৮ দলীয় জোটের প্রার্থীর জয়ে বিএনপি এখন আত্মবিশ্বাসে টগবগ করছে। দলের নেতারা বলছেন, এবার জাতীয় নির্বাচন যদি নির্দলীয় সরকারের অধীনে হয়, তাহলে বিএনপির বিজয় সুনিশ্চিত।

অসহায় মানুষের পাশে by রবিউল ইসলাম

২৯ জুন। শনিবার। ঢাকা মেডিকেল কলেজের পরিচালকের কক্ষ। হুইল চেয়ারে করে একজন রোগীকে আনা হলো। একে একে আটজন রোগী। তাঁরা সবাই সাভার রানা প্লাজাধসে আহত।

শিক্ষার্থীদের নিয়ে আম উৎসব by আরিফুল ইসলাম

মাঝখানের দেড় কিলোমিটার শুধু বাংলাদেশের। এর দুই পাশেই ভারতীয় সীমানা। মাঝখানে নৌকা ভেড়াতে হবে। তাও সব জায়গায় ঘাট নেই। খাড়া পাড়। ভাঙছে। ঘুরে-ফিরে এক জায়গায় দুখানা নৌকা ভিড়ল।

অন্য রকম আড্ডা by সজীব মিয়া

সেদিন সন্ধ্যায় ঢাকার বেঙ্গল ক্যাফে ঠিক আর দশ দিনের মতো ছিল না। বাইরে বলা নেই কওয়া নেই আষাঢ়ের কান্না। এই কান্নার জল ফাঁকি দিয়ে অথবা মুছতে মুছতে যাঁরা ক্যাফেতে ঢুকছেন, তাঁরা বন্ধুসভা জাতীয় পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগরের বন্ধু।

লেখকবন্ধু ফারজানা by মাহফুজ শাহিন

পত্রিকার ছোটদের পাতায় তাঁর প্রথম লেখা ছাপা হয়। সেই থেকে লেখালেখি শুরু। তখন সবে চতুর্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থী।
একসময় প্রায় সব জাতীয় দৈনিকের ছোটদের পাতায় নিয়মিত লিখেছেন।

ফেরা by ইব্রাহীম রাসেল

বাতিটা নেভাও, ঘুমাব। মাথাটা ঝিমঝিম করছে। পারলে কপালটা একটু টিপে দাও। কিছুটা ক্লান্তিমাখা কণ্ঠে কথাগুলো বলল আনিতা। যাকে বলল সে আর কেউ নয়, আনিতার জীবনের সবকিছু জড়িয়ে যার বসবাস।

আওয়ামী লীগের বিপর্যয়ের কারণ by পাভেল হায়দার চৌধুরী

গাজীপুরেও পরাজিত হয়ে আওয়ামী লীগ হয়তো আবারও প্রমাণ করতে চাইবে, নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতির কোনো যৌক্তিকতা নেই। তবে সিটি নির্বাচনে অব্যাহত ফল বিপর্যয়ে ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীদের মনোবলে চরম ধাক্কা লেগেছে।

আ. লীগের 'দ্বিতীয় দুর্গ'ও বিএনপির by অমিতোষ পাল ও শরীফ আহমেদ শামীম

বড় বড় নাটকীয়তা, সংঘাতের আশঙ্কা আর জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে দেশের সবচেয়ে বড় সিটি করপোরেশন গাজীপুরের প্রথম নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত মেয়র পদপ্রার্থী অধ্যাপক এম এ মান্নান জয়লাভ করেছেন।

আ. লীগের 'দ্বিতীয় দুর্গ'ও বিএনপির by অমিতোষ পাল ও শরীফ আহমেদ শামীম

বড় বড় নাটকীয়তা, সংঘাতের আশঙ্কা আর জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে দেশের সবচেয়ে বড় সিটি করপোরেশন গাজীপুরের প্রথম নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত মেয়র পদপ্রার্থী অধ্যাপক এম এ মান্নান জয়লাভ করেছেন।

আ. লীগের 'দ্বিতীয় দুর্গ'ও বিএনপির by অমিতোষ পাল ও শরীফ আহমেদ শামীম

বড় বড় নাটকীয়তা, সংঘাতের আশঙ্কা আর জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে দেশের সবচেয়ে বড় সিটি করপোরেশন গাজীপুরের প্রথম নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত মেয়র পদপ্রার্থী অধ্যাপক এম এ মান্নান জয়লাভ করেছেন।

জান বাঁচানোর বিনিময়ে খুলির এক-তৃতীয়াংশ

যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের এক পানশালায় দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি বেধেছিল। ঠেকাতে গিয়ে উল্টো নিজের জানটাই হারাতে বসেছিলেন পেশায় রংমিস্ত্রি ও ডেকোরেটর আন্তোনিও লোপেজ চাজের।

কিয়াসং নিয়ে দুই কোরিয়ার বৈঠক

কিয়াসং শিল্পাঞ্চল পুনরায় চালুর ব্যাপারে উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে বৈঠক হয়েছে। গতকাল শনিবার সীমান্তবর্তী পানমুনজম গ্রামে এ আলোচনা হয়। তবে সেখানে কী কী কথা হয়েছে_তা এখনো জানা যায়নি।

ওমরাহর জন্য গেলে ১৫ দিনের মধ্যে সৌদি ছাড়তে হবে

ওমরাহ হজযাত্রীরা ১৫ দিনের বেশি সৌদি আরবে অবস্থান করতে পারবেন না। মক্কার মসজিদুল হারামের (গ্রান্ড মসজিদ) সম্প্রসারণ কাজের জন্য এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দেশটির হজ মন্ত্রণালয় বিষয়টি জানিয়েছে।

পাকিস্তানে অটো রিকশাকে ট্রেনের ধাক্কা, নিহত ১৪

পাকিস্তানের লাহোরে গতকাল শনিবার ট্রেন দুর্ঘটনায় দুটি শিশুসহ ১৪ জন মারা গেছে। করাচি থেকে পাঞ্জাবগামী ট্রেনটি একটি অটোরিকশাকে ধাক্কা দিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের সবাই অটোরিকশার যাত্রী।

নাইজেরিয়ায় স্কুলে হামলা, নিহত ৪২

নাইজেরিয়ার একটি আবাসিক স্কুলে অস্ত্রধারীর হামলায় শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ ৪২ জন নিহত হয়েছে। গতকাল শনিবার ইয়োবে প্রদেশের মামুদো শহরের একটি মাধ্যমিক স্কুলে এ হামলা হয়। ইসলামপন্থী জঙ্গিরা এ হামলা চালিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গল্প রঙের কল্পনা by মারুফা ইসহাক

এ-ক যে ছি-ল হা-তি। এক নিঃশ্বাসে নয়। প্রতিটা বর্ণের দিকে তাকিয়ে ঠেকতে ঠেকতে একটা লাইন পড়ে আনন্দে আটখানা হওয়ার অনুভূতি কি আমাদের মনে আছে? আমাদের সবার জীবনের প্রাথমিক বইগুলো কিন্তু এমনি করেই পড়তে শেখা।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রোগ্রামিংয়ে তিন তরুণ by সুমনকুমার দাশ

বিশ্বে প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিযোগিতা হচ্ছে এসিএম-আইসিপিসি কনটেস্ট। বিশ্বের বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের সেরা প্রতিযোগীরা সারা বছর ধরে মুখিয়ে থাকেন এ প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার জন্য।

ক্যাম্পাসের প্রিয় মুখ বিতর্কের বিশ্বমঞ্চে by মারুফ ইসলাম

পরদিন কর্মশালা। রাত জেগে তাই পড়াশোনা আর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র গোছগাছ করছেন রানা। ঘড়িতে কখন যে রাত একটা বেজে গেছে খেয়ালই নেই! যখন খেয়াল হলো, নিজেকে আবিষ্কার করলেন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের শিক্ষার্থী মাইকেলের পাশে।

এডুকেশন ইউকে এক্সিবিশন-২০১৩ লক্ষ্য এবার যুক্তরাজ্য by আফরিনা হোসেন

পুরোনো দিনে ‘বিলাত ফেরত’ কথাটা শুনলেই নাকি মানুষ অন্য চোখে তাকাত। মা-বাবা অনেক কষ্ট করে হলেও ইংল্যান্ডে ছেলেমেয়েদের পড়াতে পাঠাতেন। যুগ পাল্টেছে। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির যুগে পৃথিবীটা এখন ‘গ্লোবাল ভিলেজ’

এডুকেশন ইউকে এক্সিবিশন-২০১৩ লক্ষ্য এবার যুক্তরাজ্য by আফরিনা হোসেন

পুরোনো দিনে ‘বিলাত ফেরত’ কথাটা শুনলেই নাকি মানুষ অন্য চোখে তাকাত। মা-বাবা অনেক কষ্ট করে হলেও ইংল্যান্ডে ছেলেমেয়েদের পড়াতে পাঠাতেন। যুগ পাল্টেছে। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির যুগে পৃথিবীটা এখন ‘গ্লোবাল ভিলেজ’

এডুকেশন ইউকে এক্সিবিশন-২০১৩ লক্ষ্য এবার যুক্তরাজ্য by আফরিনা হোসেন

পুরোনো দিনে ‘বিলাত ফেরত’ কথাটা শুনলেই নাকি মানুষ অন্য চোখে তাকাত। মা-বাবা অনেক কষ্ট করে হলেও ইংল্যান্ডে ছেলেমেয়েদের পড়াতে পাঠাতেন। যুগ পাল্টেছে। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির যুগে পৃথিবীটা এখন ‘গ্লোবাল ভিলেজ’

সফলদের স্বপ্নগাথা জীবনের সাত শিক্ষা: টনি ব্লেয়ার

টনি ব্লেয়ারের জন্ম ৬ মে ১৯৫৩। তিনি লেবার পার্টির হয়ে ১৯৯৭ সাল থেকে ২০০৭ পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। কোলবাই কলেজের ২০১২ সালের সমাবর্তনে তিনি এই বক্তব্য দেন

সভাপ্রধান, সম্মানিত অতিথি, ভদ্রমহিলা ও ভদ্রমহোদয়গণ, কোলবাই কলেজে আসতে পারাটা আমার জন্য চমৎকার আনন্দের ও মর্যাদার ব্যাপার।

মিসরে অর্থ সহায়তা স্থগিতের আহবান ম্যাককেইনের

মিসরকে প্রতিবছর দিয়ে আসা আর্থিক সহায়তা স্থগিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা সরকারের প্রতি আহবান জানিয়েছেন সে দেশের প্রভাবশালী রিপাবলিকান সিনেটর জন ম্যাককেইন।

মুবারকের পুনর্বিচার-শুনানি ১৭ আগস্ট পর্যন্ত মুলতবি

মিসরের সাবেক প্রেসিডেন্ট হোসনি মুবারকের পুনর্বিচার মামলার শুনানি আগামী ১৭ আগস্ট পর্যন্ত মুলতবি করেছেন আদালত। গতকাল শনিবার এ মামলার শুনানি হয়। দুর্নীতি ও ২০১১ সালে সরকারবিরোধী আন্দোলনের সময় বিক্ষোভকারীদের হত্যার অভিযোগ মামলার পুনর্বিচার চলছে মুবারকের।

'অযোধ্যায় শিগগিরই রাম মন্দির বানাবে বিজেপি'

লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে জনপ্রিয়তার পাল্লা ভারী করতে বিভিন্ন পন্থা অনুসরণ করছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। গতকাল শনিবার উত্তর প্রদেশের অযোধ্যায় দলের সাধারণ সম্পাদক অমিত শাহ জানিয়েছেন, বিজেপি খুব শিগগির সেখানে রাম মন্দির স্থাপন করতে চায়।

পুলিশের ওয়েবসাইটে যৌন নির্যাতনকারীর নাম-ঠিকানা-ছবি

প্রথমবারের মতো যৌন নির্যাতনকারীদের ছবিসহ নাম-ঠিকানা প্রকাশ করেছে দিলি্লর পুলিশ। পুলিশের নিজস্ব ওয়েবসাইটের মাধ্যমে গত ৩০ বছরে যৌন নির্যাতনের মামলায় দোষী সাব্যস্ত ৬৬৮ জনের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

স্নোডেনকে আশ্রয় দিতে রাজি ভেনিজুয়েলা-নিকারাগুয়া

টেলিফোন ও ইন্টারনেটে যুক্তরাষ্ট্রের গোপন নজরদারির খবর ফাঁস করে হৈচৈ ফেলে দেওয়া এডওয়ার্ড স্নোডেনকে আশ্রয় দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে দেশ ভেনিজুয়েলা ও নিকারাগুয়া।

ম্যান্ডেলার সেরে ওঠার আশায় চিকিৎসকরা

নেলসন ম্যান্ডেলার লাইফ সাপোর্ট (কৃত্রিমভাবে শ্বাস-প্রশ্বাস দিয়ে বাঁচিয়ে রাখার সরঞ্জাম) খুলে দেওয়ার চিন্তা খারিজ করে দিয়েছেন চিকিৎসকরা। অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ চূড়ান্তভাবে বিকল না হলে তাঁরা এ রকম কোনো সিদ্ধান্ত নেবেন না।

সেনাবাহিনী এবার যথেষ্ট কৌশলী

মোহাম্মদ মুরসির ক্ষমতাচ্যুতির বিষয়ে সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে দ্বিধাবিভক্তি দেখা দিয়েছে মিসরে। মুরসির সমর্থকরা সেনাবাহিনীর ভূমিকাকে অভ্যুত্থান হিসেবে দেখছে।

মিসরে ক্ষমতার পালাবদলনতুন নেতৃত্বের সামনে চ্যালেঞ্জের পাহাড়

মিসরে প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসির পতনের পর তিন দিন পার হয়ে গেছে। মুরসি ও তাঁর দল মুসলিম ব্রাদারহুডের সমর্থকদের সঙ্গে বিরোধীদের সংঘাত, সেনাবাহিনী পরবর্তী পদক্ষেপ, বিশ্ব নেতাদের প্রতিক্রিয়া আতঙ্কজনক পরিবেশ তৈরি করে রেখেছে এখনো।

চলে গেলেন বিপুল ভট্টাচার্য-তাঁর অবদান অবিস্মরণীয়

স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের অন্যতম কণ্ঠশিল্পী বিপুল ভট্টাচার্য আর নেই। রাজধানীর আহমেদ মেডিক্যাল সেন্টারে তিনি শুক্রবার সকালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মানুষ মরণশীল। সবাইকে একদিন চলে যেতে হয়।

গাজীপুরে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন-রায় মেনে নিন

গতকাল শনিবার ছিল নবগঠিত গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচন। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত চার সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পর এই নির্বাচনটি শুধু গাজীপুরবাসী নয়, সারা দেশের মানুষের কাছেই ব্যাপক আগ্রহের বিষয় হয়ে উঠেছিল।

দৈনন্দিন বিজ্ঞান-কোমল পানীয় দেহের জন্য ক্ষতিকর!

অনেকের কাছে কোমল পানীয় খুবই প্রিয়। কিন্তু কোমল পানীয় শরীরের জন্য ভালো নয়। সম্প্রতি ইউরোপের বিজ্ঞানীদের এক গবেষণায় বলা হয়েছে এর ক্ষতিকর দিকগুলো সম্পর্কে। অনেকেই জানি না কোমল পানীয় বা এনার্জি ড্রিংকসে আসলে কী থাকে।

ভালো থাকুন-মৃগীরোগী শিশুকে মানিয়ে নিতে সাহায্য করুন

একটি শিশু যখন মৃগীরোগী হিসেবে চিহ্নিত হয়, তখন তার মধ্যে মানসিক চাপ, অস্বস্তিকর অনুভূতি, হতাশা, রাগ প্রভৃতি সৃষ্টি হয়, তার আত্মবিশ্বাস কমে যায়। এ সময় শিশুকে মৃগীরোগের সঙ্গে মানিয়ে নিতে মা-বাবা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন।

ব্যক্তিত্ব-স্যার আর্থার কোনান ডয়েল

শার্লক হোমসের স্রষ্টা কোনান ডয়েল শুরুতে পেশায় ছিলেন চক্ষুচিকিৎসক। অর্থাৎ অপথালমোলজিতে পড়াশোনা করেছেন। এক সময় পোর্টসমাউথ অ্যাসোসিয়েশন ফুটবল ক্লাবের গোলরক্ষক ছিলেন। তখন তাঁর ছদ্মনাম ছিল এ সি স্মিথ।

পবিত্র কোরআনের আলো-প্রতিশোধ নয়, অত্যাচারী ভাইদের তিরস্কারও করেননি

৯১. কা-লূ তাল্লা-হি লাকাদ আ-ছারাকাল্লা-হু 'আলাইনা ওয়া ইন কুন্না- লা খা-তিঈনা। ৯২. কা-লা লা তাছরীবা 'আলাইকুমুল য়াওমা, য়াগফিরুল্লা-হু লাকুম, ওয়া হুওয়া আরহামুর রা-হিমীনা। সুরা ইউসুফ।

গ্রামের মানুষ জানে সরকার ব্যাপক উন্নয়ন করেছে

গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর বিজয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, 'গ্রামের মানুষ জানে এ সরকারের আমলে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে।'
তিনি বলেন, 'গাজীপুরের গার্মেন্ট খাতের উন্নয়নে জাইকা থেকে এক হাজার ৭০০ কোটি টাকা আসছে। গাজীপুরের জনগণ জানে এত বড় উন্নয়নের টাকা কে মেয়র হলে কার হাতে খরচ করা নিরাপদ হবে।' তিনি আরো বলেন, 'গাজীপুর সিটিতে বিএনপির মেয়র প্রার্থী এম এ মান্নান ধর্ম প্রতিমন্ত্রী হওয়ার পর সরকারি সম্পদ তসরুফের ব্যপারটি অস্বীকার করে বলেছেন, যদি আমি সরকারি সম্পদ চুরি করে থাকি তবে আমি কোনো দিন নির্বাচিত হতে পারব না। এর পর থেকে মান্নান পাঁচবার দাঁড়িয়ে একবারও পাস করতে পারেননি। এবার পাস করবেন কি না ভোটাররা বলতে পারবে।'
শুক্রবার রাতে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল বাংলাভিশনের সংবাদ পর্যালোচনাভিত্তিক টক শো ডিভাইন গ্রুপ নিউজ অ্যান্ড ভিউজ অনুষ্ঠানে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
সাংবাদিক গোলাম মোর্তজার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো আলোচনা করেন বিশিষ্ট সাংবাদিক ও কলামিস্ট মাহফুজুল্লাহ।
আলোচনার শুরুতে সঞ্চালক জানতে চান, চারটি সিটি নির্বাচনের পর এখন গাজীপুর সিটির নির্বাচন নিয়ে বড় দুই দলই বেশ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আজ সেখানে নির্বাচন। আপনারা তো গাজীপুরে বেশ কয়েকবার গেছেন। ভোটারদের সঙ্গে কথা বলেছেন। প্রতিক্রিয়া জানতে চাই, কিভাবে এ নির্বাচনটিকে দেখছেন।
জবাবে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য তোফায়েল আহমেদ দর্শক-শ্রোতাদের প্রীতি ও শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, 'গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন কোনো বিচ্ছন্ন ঘটনা নয়। কুমিল্লা, নারায়ণগঞ্জের মতো একটি সিটি করপোরেশন নির্বাচন। সরকার গাজীপুরকে এ জন্য পৌরসভা থেকে সিটি করপোরেশন করেছে, যাতে স্থানীয় লোকজন সর্বোচ্চ নাগরিক সুযোগ-সুবিধা পায়।' তিনি বলেন, 'বর্তমানে বাংলাদেশে মিডিয়া এত বেশি শক্তিশালী যে নির্বাচনে কারচুপি বা জাল ভোট দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।' তিনি বলেন, ছবিসহ ভোটার লিস্ট আছে। এখন আর একজনের ভোট আরেকজন দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।'
আলোচনার এ পর্যায়ে সঞ্চালক বলেন, 'গাজীপুর সিটির নির্বাচন নিয়ে পর্যবেক্ষণ কী বা কিভাবে এ নির্বাচনকে দেখছেন?'
জবাবে সাংবাদিক মাহফুজুল্লাহ বলেন, 'প্রধান বিরোধী দল বিএনপি গাজীপুর সিটি নির্বাচন নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে আছে।' তিনি বলেন, 'বিভিন্ন কারণে গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ। এর মধ্যে গত চারটি সিটিতে সরকারদলীয় প্রার্থী হেরে যাওয়ায় এ নির্বাচনটি সরকারের কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ।' তিনি বলেন, 'গাজীপুর সিটির নির্বাচন নিয়ে বিরোধী দলের উদ্বেগের কারণ রয়েছে।' এ সময় তিনি কালের কণ্ঠে সম্প্রতি গাজীপুরে একজন ঊর্ধ্বতন পুলিশ অফিসারের সঙ্গে সরকারদলীয় প্রার্থীর প্রচারণায় অংশগ্রহণ ও মানবজমিন পত্রিকায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালকের নেতৃত্বে সরকারি কর্মকর্তাদের আজমত উল্লার পক্ষে কাজ করার বিষয় উল্লেখ করে বলেন, 'এসব থেকে বোঝা যায় সেখানে নির্বাচন কমিশন তাদের দায়িত্ব ঠিকমতো পালন করতে পারছে না। তাই বিএনপি গাজীপুর নির্বাচন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করতেই পারে।' তিনি বলেন, 'নির্বাচন কমিশনই বলেছে, এখানকার ৬০ শতাংশ কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ। যদি তাই হয়, তবে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর আইনশৃঙ্খলার বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে আরো বেশি করে নজরে আনা উচিত ছিল।' এ সময় তিনি বলেন, 'গাজীপুরের নির্বাচনে সেনাবাহিনী নিয়োগ করা যেত।'
এ সময় তোফায়েল আহমেদ বলেন, 'না, এটা ঠিক না। প্রথমত সেখানে সেনাবাহিনী মোতায়েনের কোনো কারণ সৃষ্টি হয়নি। চারটি সিটি নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন না করে যদি বিরোধী দল চারটিতেই জয়ী হতে পারে, এখানে সেনা মোতায়েন করতে হবে কেন?' তোফায়েল আহমেদ বলেন, 'নির্বাচন কমিশন চাইলে গাজীপুরে সেনা মোতায়েন করতে সরকারের আপত্তি ছিল না।' তিনি বলেন, 'নির্বাচন কমিশন তো এর আগে কোথাও সেনা মোতায়েনের আবেদন করেনি। করলে সরকার ঠিকই ব্যবস্থা নিত।'
আলোচনার এ পর্যায়ে সঞ্চালক বলেন, 'কেন, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তো নির্বাচন কমিশন সেনা মোতায়েনের আবেদন করেছিল। কই সরকার তো সে সময় তাদের সে আবেদন রাখেনি?' জবাবে তোফায়েল আহমেদ বলেন, 'না, এটা ঠিক নয়। নারায়ণগঞ্জে নির্বাচন কমিশন সেনা মোতায়েনের কোনো আবেদন করেনি।'
আলোচনার এ পর্যায়ে অংশ নিয়ে সাংবাদিক মাহফুজুল্লাহ বলেন, 'তোফায়েল ভাই, আপনার হয়তো মনে নেই। সে সময় নির্বাচন কমিশন ঠিকই সেনা মোতায়েনের কথা বলেছিল। কিন্তু সরকার তা শোনেনি।' তিনি বলেন, 'এখন থেকে আর স্থানীয় নির্বাচন নির্দলীয় হওয়া উচিত নয়। কারণ দেখুন, গাজীপুর নির্বাচনে শুধু মার্কা ছাড়া সব কার্যক্রমই হয়েছে রাজনৈতিক দলের ব্যানারে।' তিনি বলেন, 'সরকারি ও বিরোধী দলের হেবিওয়েট নেতারা গাজীপুর সিটি করপোরেশন এলাকা চষে বেড়িয়েছেন।'
আলোচনার এ পর্যায়ে তোফায়েল আহমেদ বলেন, 'আজমত উল্লা তিন তিনবার টঙ্গী পৌরসভার নির্বাচিত মেয়র। তিনি সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে অতীতে জনগণের সেবা করেছেন। আগামীতেও করবেন। তাই আমার মনে হয়, গাজীপুর সিটিতে আজমত উল্লারই নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

প্রফেসর ইউনূস ও গ্রামীণ ব্যাংক by ড. মোহাম্মদ ভূঁইয়া

২০১০ সালের ডিসেম্বরে যখন বর্তমান বাংলাদেশি সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রফেসর ইউনূস ও গ্রামীণ ব্যাংকের বিরুদ্ধে অপপ্রচার শুরু করে, তখন দেশবাসী নীরব ও স্তম্ভিত দর্শকের ভূমিকা পালন করে।

মিসর কোন পথে by মুহাম্মাদ রুহুল আমিন

গত ৩০ জুন মিসরের গণতান্ত্রিক যাত্রার প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্‌যাপিত হয়েছে তাহরির স্কয়ারে সরকার ও বিরোধী দলের বিক্ষোভের রোষাগ্নি ছড়িয়ে। পরের দিন ১ জুলাই দেশটির অভিজাত সামরিক বাহিনী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মিসরের ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বচ্ছ মানচিত্র নির্মাণে সরকারকে আলটিমেটাম দেয়।

অনলাইন থেকে-স্নোডেনের রাজনৈতিক আশ্রয়

সিআইএর সাবেক কর্মকর্তা এডওয়ার্ড স্নোডেনকে কেন্দ্র করে অনিশ্চয়তা রয়েই গেছে। সপ্তাহকালেরও বেশি সময় ধরে তিনি বিমানবন্দরে ট্রানজিট এলাকায় অবস্থান করছেন। এটাই আপাতত মনে হচ্ছে। তাঁকে রাশিয়ার কোথাও দেখা যায়নি।

পোশাকশিল্প নিউইয়র্ক থেকে রানা প্লাজা by শওকত হোসেন

নিউইয়র্কের ট্রায়াঙ্গাল শার্টওয়েস্ট ফ্যাক্টরিতে মূলত মেয়েদের কাপড় তৈরি করা হতো। তৈরি পোশাকের এই কারখানা ছিল ওয়াশিংটন স্কয়ার পার্কের পাশে অ্যাশ বিল্ডিংয়ের অষ্টম, নবম ও দশম তলায়। কারখানায় কাজ করতেন ৫০০ শ্রমিক।

কালের পুরাণ আওয়ামী লীগ এখন কী করবে? by সোহরাব হাসান

দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হয়েছে। মানুষ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন। এক দিনের গণতন্ত্রের মালিক ভোটাররা পাঁচ বছরের জন্য যাঁকে নির্বাচিত করেছেন, তিনি আগামী পাঁচ বছর নগর শাসন করবেন।

মহাজোট নেতাদের প্রতিক্রিয়া প্রমাণিত হলো, এই সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে

নির্বাচনে ধর্মের ব্যবহার এবং বিএনপি-জামায়াত জোটের অর্থ ও পেশিশক্তির প্রভাবে গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আজমত উল্লা খানের পরাজয় হয়েছে বলে মনে করেন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট নেতারা।

দিনভর বিএনপির অভিযোগ, রাতে বলল ‘জনতার জয়’

গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে দিনভর নানা অভিযোগ ও শঙ্কা প্রকাশ করেছে বিএনপি। কিন্তু রাতে কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফলে বিএনপি-সমর্থিত মেয়র পদপ্রার্থী এগিয়ে থাকার পরিপ্রেক্ষিতে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন দলটির নেতারা।

গাজীপুর সিটি নির্বাচন জাতীয় নির্বাচনের আগাম সংকেত by শরিফুল হাসান ও মাসুদ রানা

নিশ্চিত জয়ের পথে এম এ মান্নান
মোট কেন্দ্র ৩৯২
প্রাপ্ত ফল: ২৮৩

সদরে অন্দরে'দীপ নিভে যায়' by মোস্তফা হোসেইন

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বসে আছে ছেলে। হঠাৎ চিৎকার। মাকে ডাকছে। বুয়েটে তার ইয়ারমেট এক ছাত্রী শাম্মা নাসরীন প্রেসক্লাবের সামনে বাসের ধাক্কায় গুরুতর আহত। বন্ধুরা স্ট্যাটাস দিয়েছে, রক্ত প্রয়োজন।

নিরাপদ খাদ্য আইনএ by এম এম শওকত আলী

বহু বছর ধরেই খাদ্য আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে বিশ্বব্যাপী বিতর্ক হচ্ছে। আপাতদৃষ্টিতে দেখলে খাদ্য নিরাপত্তার অর্থ সবাই যাতে সহজেই খাদ্য গ্রহণ করতে সক্ষম হয়। প্রকৃত অর্থ তা নয়।