Saturday, May 30, 2026

পুকুরের মাছকে প্রতিদিন খাওয়ানো হয় ৫০০০ কেজি মরিচ

সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টঃ চীনের দক্ষিণাঞ্চলে মাছের একটি পুকুর এখন অনলাইনে ভাইরাল। পুকুরের মালিক জানিয়েছেন, তিনি প্রতিদিন তাঁর পুকুরের মাছগুলোকে নানা ধরনের ৫ হাজার কেজি মরিচ খাওয়ান। তাঁর দাবি, এতে মাছগুলো দেখতে আরও চকচকে হয় এবং স্বাদেও ভালো লাগে।

এই পুকুরটি চীনের হুনান প্রদেশের চাংশায় অবস্থিত। এই এলাকা চীনের ঝাল খাবারের জন্য বিখ্যাত। সম্প্রতি এই পুকুরের মাছকে মরিচ খাওয়ানোর ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে এটি ভাইরাল হয়ে যায়।

পুকুরটি দেখভাল করেন ৪০ বছর বয়সী মাছচাষি জিয়াং শেং ও তাঁর স্কুলজীবনের বন্ধু কুয়াং কে।

কুয়াং বলেন, পুকুরটির আয়তন প্রায় ১০ একর। আর এখানে ২ হাজারের বেশি মাছ আছে। এসব মাছকে নিয়মিত নানা ধরনের মরিচ খাওয়ানো হয়।

পুকুরের মালিক বলেন, ‘আমরা দিনে প্রায় ৫ হাজার কেজি মরিচ খাওয়াই। মানুষের খাওয়ার মতো একই মরিচই মাছকে খাওয়ানো যায়। এই মরিচের মধ্যে লম্বা ও ছোট দানাদার মরিচ রয়েছে। এই মরিচ খাওয়ার পর মাছের শরীরের গঠন আরও সুন্দর হয়, স্বাদ উন্নত হয়। আর আঁশগুলো ঝকঝকে সোনালি রঙের মতো দেখায়।’

কুয়াং আরও বলেন, ‘শুরুর দিকে মাছ মরিচ খেতে চাইত না। কিন্তু যখন ঘাস আর মরিচ একসঙ্গে দিই, তারা ঘাস না খেয়ে মরিচই খেতে পছন্দ করছে। আমরা ঝাল খেলে পানি খাই। তারা তো পানিতেই থাকে, তাই ঝাল লাগলে বেশি পানি খেয়ে নেয়।’

জিয়াং ব্যাখ্যা করে বলেন, মানুষের মতো মাছের স্বাদ গ্রহণের ক্ষমতা নেই। তারা মূলত ঘ্রাণের মাধ্যমে খাবার চেনে। তাই মরিচের ঝালে তাদের সমস্যা হয় না।

জিয়াং বলেন, মরিচে অনেক ভিটামিন থাকে, যেমনটা থাকে জলজ উদ্ভিদে। আর মাছ এগুলো খুব পছন্দ করে। মরিচ খাওয়ালে মাছের অন্ত্র সুস্থ থাকে এবং মানসিক চাপও কমে। মরিচে থাকা ক্যাপসাইসিন মাছের অন্ত্রের নড়াচড়া বৃদ্ধি করে। ফলে হজম ও পুষ্টি শোষণ ভালো হয় এবং মাছ দ্রুত বেড়ে ওঠে।

জিয়াং বলেন, তা ছাড়া মরিচ মাছের শরীরে পরজীবী লাগা থেকেও রক্ষা করে। সাধারণ খাবারের তুলনায় মরিচ খাওয়া মাছের মাংস অনেক নরম ও সুস্বাদু হয়।

কুয়াং বলেন, বিক্রি হয়নি বা নষ্ট হতে চলেছে, এমন মরিচ তাঁরা স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকে বিনা মূল্যে পান। এতে খরচ কমে ও ঘাস চাষের ঝামেলাও করতে হয় না।

পুকুরটি এখন মাছ ধরেন এমন স্থানীয় শৌখিন মানুষের কাছেও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এমনকি শহর থেকেও অনেকে মাছ ধরতে যাচ্ছেন সেখানে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একজন ব্যবহারকারী মজা করে লিখেছেন, ‘ঝালের জন্য বিখ্যাত হুনান প্রদেশে এমন ঘটনা ঘটছে বলে যখন শুনলাম, তখন সব বুঝে গেলাম—স্থানীয় পানি, স্থানীয় মাছ।’

আরেক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন, মাছ এখন মানুষের মতো হয়ে যাচ্ছে। কিছু জায়গায় মানুষই এত মরিচ খেতে পারে না।

তৃতীয় আরেক ব্যক্তি রসিকতা করে লিখেছেন, ‘এ যেন আগে থেকেই মসলা মাখানো মাছ। শুধু সামান্য সিচুয়ান মরিচ, আদা, রসুন আর পেঁয়াজকুচি দিলেই দেখতে যেমন সুন্দর হবে, খেতেও তেমন স্বাদ হবে।’

মরিচ
মরিচ। ফাইল ছবি

গোপনে শিল্পপতি জয়কে বিয়ে করেছিলেন জুহি by সুমন মাহমুদ

বলিউড অভিনেত্রী জুহি চাওলা তখন তাঁর ক্যারিয়ারের শীর্ষে। ‘কেয়ামত সে কেয়ামত তাক’, ‘ডর’, ‘হাম হ্যায় রাহি প্যায়ার কে’, ‘ইশক’-এর মতো সুপারহিট সিনেমায় অভিনয় করে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে ফেলেছেন। ঠিক তখনই জুহি সিদ্ধান্ত নেন, তিনি গোপনে বিয়ে করবেন। পাত্র কে, তা তো বুঝতেই পারছেন। ব্যবসায়ী জয় মেহতা। এরপর জুহি ও জয়ের একই ছাদের নিচে বসবাসের ৩০ বছর পেরিয়ে গেছে।

জয় মেহতা সব সময়ই মিডিয়াবিমুখ মানুষ। বলিউডের এক জনপ্রিয় তারকাকে বিয়ে করেও তিনি কখনো আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হতে চাননি; কিন্তু জুহির সঙ্গে বিয়ের খবর প্রকাশ্যে আসার পর থেকে জয়ের বিপুল সম্পদ ও ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য নিয়ে জনমনে যেন কৌতূহলের শেষ নেই। আজ ৫৭ পেরিয়ে ৫৮ বছরে পা রাখলেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী জুহি চাওলা। জন্মদিনে চলুন জেনে নিই জুহি আর জয়ের প্রেমের গল্প:

জুহি ও জয়ের প্রেমকাহিনি
বিয়েতে রাজি হওয়ার আগে জয়কে নাকি এক বছর অপেক্ষা করিয়েছিলেন, এক সাক্ষাৎকারে জুহি এমনটাই জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘বিয়ের আগে জয় প্রতিদিন আমাকে চিঠি লিখত। বিয়ের পর সেই অভ্যাস বন্ধ হয়ে যায় (হাসি)। তখন চিঠি আর কার্ডের যুগ ছিল, এখন সব ই–মেইল আর হোয়াটসঅ্যাপে চলে এসেছে। আমরা এক ডিনারে দেখা করেছিলাম। তার পর থেকেই সে আমার আশপাশে ঘুরঘুর করত। একবার আমার জন্মদিনে সে এক ট্রাক ভর্তি লাল গোলাপ পাঠিয়েছিল। আর আমি তাকে “হ্যাঁ” বলতে এক বছর সময় নিয়েছিলাম।’

এই জুটি ১৯৯৫ সালে বিয়ে করেন; কিন্তু সম্পর্কটি গোপন রাখেন। ২০০১ সালে প্রথম সন্তান জাহ্নবী মেহতা যখন জুহির গর্ভে, তখনই তাঁদের বিয়ের খবর প্রকাশ পায়।
বিয়ের খবর গোপন রাখার কারণ জানাতে গিয়ে চলচ্চিত্র সমালোচক ও সাংবাদিক রাজীব মাসান্দকে জুহি বলেন, ‘আমি তখন ঠিকমতো প্রতিষ্ঠিত হচ্ছিলাম, ক্যারিয়ার ভালোই চলছিল। তখনই জয় আমাকে প্রপোজ করে। আমি তো ভীষণ ভয় পেয়েছিলাম, আমার ক্যারিয়ার না হারিয়ে যায়! তাই ভেবেছিলাম, চুপচাপ বিয়ে করি আর কাজ চালিয়ে যাই।’

জয়ের মর্মান্তিক অতীত
জুহিকে বিয়ে করার আগে জয় বিয়ে করেন শিল্পপতি যশ বিড়লার বোন সুজাতা বিড়লাকে। কিন্তু ১৯৯০ সালে ভারতীয় এয়ারলাইনসের ফ্লাইট ৬০৫ দুর্ঘটনায় সুজাতা মারা যান। প্রথম স্ত্রীর এই মর্মান্তিক মৃত্যুর পর গভীর দুঃখে ভেঙে পড়েছিলেন জয়। সেই কঠিন সময়ে জুহি তাঁর পাশে দাঁড়ান এবং ধীরে ধীরে তাঁদের বন্ধুত্ব প্রেমে পরিণত হয়।

জয়ের বিলিয়ন ডলারের সাম্রাজ্য
জয় মেহতা মুম্বাইভিত্তিক বহুজাতিক দ্য মেহতা গ্রুপের চেয়ারম্যান। এর সদর দপ্তর গান্ধীনগরে। যুক্তরাষ্ট্র ও আফ্রিকায় এই কোম্পানির একাধিক শাখা রয়েছে। উত্তরাধিকার সূত্রে জয় তাঁর বাবা মহেন্দ্র এবং মা সুনয়না মেহতার কাছ থেকে এই ব্যবসা পেয়েছেন। তাঁর দাদা নানজি কালিদাস মেহতা ২০ শতকের গোড়ায় এই ব্যবসার সূচনা করেন। দ্য মেহতা গ্রুপ চিনিশিল্প, সিমেন্ট, প্যাকেজিং, ফুল চাষ, ইঞ্জিনিয়ারিং, বৈদ্যুতিক তার উৎপাদনসহ বহু খাতে ব্যবসা করে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে এই বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের মূল্য ২ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ১৭ হাজার ৫৫৫ কোটি রুপি)।

জয় আইপিএলের দল কলকাতা নাইট রাইডার্সের সহমালিক। ২০০৭ সালে শাহরুখ খানের সঙ্গে মিলে তিনি প্রায় ৬২৩ কোটি টাকায় দলটি কিনেছিলেন। ২০২৫ সালে এসে এর মূল্য বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৯ হাজার ১৩৯ কোটি রুপি।

জয় ও জুহির বিলাসবহুল সংগ্রহ
জয় ও জুহির গাড়ির বিশাল সংগ্রহ ছাড়াও রয়েছে একাধিক বিলাসবহুল সম্পত্তি। তাঁদের মুম্বাইয়ের বাসভবনটি একটি দৃষ্টিনন্দন দোতলা ডুপ্লেক্স, যা শ্রীলঙ্কার স্থপতি চান্না দাসওয়াত্তে ডিজাইন করেছেন। ২ হাজার ২০০ বর্গফুটের বাসভবনটির বারান্দা থেকে আরব সাগরের মনোরম দৃশ্য দেখা যায়। এ ছাড়া তাঁদের গুজরাটের পোর বন্দরে একটি ঐতিহ্যবাহী পৈতৃক বাড়িও রয়েছে।

তথ্যসূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

জয় মেহতা ও জুহি চাওলা। আইএমডিবি
জয় মেহতা ও জুহি চাওলা। আইএমডিবি