Monday, September 7, 2015

ভারতে বৃহত্তম হোটেল নেটওয়ার্ক বানাচ্ছেন একুশ বছরের রিতেশ

রিতেশ আগরওয়াল
এক রাতে দিল্লীর একটি ভবনে নিজের অ্যাপার্টমেন্টে ঢুকতে ব্যর্থ হয় আঠারো বছরের রিতেশ আগরওয়াল। ছোট্ট এই অঘটনটি তার জীবনই বদলে দেয়। ওই রাতে একটি হোটেলে থাকতে বাধ্য হয় সে এবং এমন অভিজ্ঞতার মুখে পড়ে যে অভিজ্ঞতা এর আগেও ভারতের বিভিন্ন হোটেলে থাকতে গিয়ে হয়েছে তার।
অভ্যর্থনাকারীকে দেখি ঘুমিয়ে আছে। রুমের সকেটগুলো কাজ করছে না। তোষক ছেড়া। বাথরুমের কল থেকে পানি পড়ছে। আর সবশেষে দেখলাম তারা ক্রেডিট কার্ড নিচ্ছে না। আমি ভাবলাম, এগুলোতে যদি আমার সমস্যা হয় তাহলে অন্যদেরও সমস্যা হচ্ছে। ভারতে কেন অল্প খরচে ভাল হোটেল পাওয়া যাবে না? বলছিলেন মি. আগরওয়াল।
চার বছর পর মি. আগরওয়ালের বয়স যখন একুশ তখন তিনি অয়ো রুমস নামের একটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রধান নির্বাহী।
এটি ৩৫টি শহরজুড়ে এক হাজার হোটেলের একটি নেটওয়ার্ক যার মাসিক আয় ৩৫ লাখ ডলার।
এই প্রতিষ্ঠানটি মূলত: ছোটছোট নামগোত্রহীন হোটেলগুলোর সেবামান উন্নত করে, কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেয় এবং অয়োর নাম ব্যবহার করতে দেয় এবং বদলে অয়ো রুমস ওই হোটেলটির আয়ের অংশীদার হয়।
ব্যবসার অংশ হিসেবে মি. আগরওয়াল একটি অ্যাপ তৈরি করেছেন যেটি ব্যবহার করে অতিথিরা হোটেলের কামরা বরাদ্দ নিতে পারবেন, হোটেলে যাবার পথ নির্দেশনা পাবেন এবং হোটেলে পৌঁছে রুম সার্ভিসের মতো সেবাগুলোও এই অ্যাপের মাধ্যমে পাবেন।
রিতেশ আগরওয়ালের এখন ইচ্ছে বিদেশেও তার এই সেবা পৌঁছে দেয়া।
- বিবিসি বাংলা

রাজধানীতে শিবিরের বিক্ষোভ

শিক্ষাঙ্গনে চলমান সন্ত্রাস, ছাত্র ও শিক্ষক নির্যাতনের প্রতিবাদে রাজধানীসহ সারাদেশে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে  ছাত্রশিবির। এ উপলক্ষে আজ সকাল ৮টায় কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক ইয়াসিন আরাফাতের নেতৃত্বে একটি মিছিল খিলগাঁও এলাকা থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। এসময় শাখা সভাপতি এম শামিম, সেক্রেটারী সিয়াম রেজাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। শিবিরের ঢাকা মহানগর পশ্চিম শাখা সকাল ১০টায় কেন্দ্রীয় সাহিত্য সম্পাদক মোবারক হোসেনের নেতৃত্বে একটি মিছিল মিরপুর এলাকা থেকে বের করে। সংগঠনের ঢাকা মহানগর উত্তর শাখা সকাল সাড়ে ৮টায় কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক আনিসুর রহমান বিশ্বাসের নেতৃত্বে একটি মিছিল বাড্ডা এলাকা থেকে বের করে। এসময় শাখা সভাপতি তারেক হোসেন,সেক্রেটারী জামিল মাহমুদসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সকাল ১১টায় যাত্রাবাড়ী এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করে শিবিরের ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখা। কেন্দ্রীয় সমাজসেবা সম্পাদক রাশেদুল হাসান রানার নেতৃত্বে মিছিলটি যাত্রাবাড়ী কোনাপাড়া থেকে শুরু হয়ে ফার্মের মোড়ে গিয়ে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। এসময় শাখা সভাপতি সাদেক বিল্লাহ, সেক্রেটারী রিয়াজ উদ্দিনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। একই সময় ঢাকা কলেজ শাখা সভাপতি মতিয়ার রহমানের নেতৃত্বে একটি মিছিল ধানমন্ডি থেকে শুরু হয়ে মিরপুর রোডে গিয়ে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। এসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেক্রেটারী আব্দুস শহীদ, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সেক্রেটারী আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল উপস্থিত ছিলেন। রাজধানীর খিলগাঁয়ের সমাবেশে শিবিরের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক ইয়াছিন আরাফাত বলেন, সরকার ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীদের খুন, হামলা, লুটপাট, চাঁদাবাজী, অস্ত্রবাজী ও শিক্ষকদের লাঞ্চিত করার লাইসেন্স দিয়ে দিয়েছে। তিনি বলেন, তারা সম্মানিত শিক্ষকদের গায়ে পর্যন্ত হাত তুলছে। সবই ঘটছে পুলিশ ও প্রশাসনের সামনে। ছাত্রলীগ সন্ত্রাসী আর পুলিশের ধারাবাহিক নৈরাজ্যের কারণে দেশের প্রতিটি ক্যাম্পাস এখন টর্চার সেলে পরিণত হয়েছে। ফলে লাখ লাখ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে পড়েছে।

মাথাপিছু ঋণ ১৩ হাজার ১৬০ টাকা, সর্বোচ্চ মুনাফা ইসলামী ব্যাংকের -সংসদে অর্থমন্ত্রী

বাংলাদেশের জনগণের মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ ১৩ হাজার ১৬০ টাকা। বৃহস্পতিবার সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এ তথ্য জানান। অর্থমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে তাঁর পক্ষে প্রশ্নের জবাবে দেন প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান।
এ সম্পর্কে নুরজাহান বেগমের প্রশ্নের জবাবে সংসদকে জানানো হয়, গত ৩০ জুন পর্যন্ত বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ ২ লাখ ৭ হাজার ২৬৫ কোটি টাকা।
এর আগে গত বছরের জুনে অর্থমন্ত্রী ২০১২-২০১৩ অর্থবছরের হিসাব দিয়ে সংসদে বলেছিলেন, বাংলাদেশের জনগণে মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ ১২ হাজার ৭০০ টাকা। এই হিসাবে বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ বেড়েছে ৪৬০ টাকা।
অর্থমন্ত্রী জানান, ১১টি উন্নয়ন সহযোগী ও দেশের কাছ থেকে বৈদেশিক ঋণ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১ লাখ ২ হাজার ৩৪৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা ঋণ নেওয়া হয়েছে বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে। এ ছাড়া এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিপি) থেকে ৬১ হাজার ৮৫০ কোটি ৫৬ লাখ টাকা, জাপান থেকে ১৯ হাজার ৩৭৬ কোটি ১৮ লাখ এবং চীন থেকে ৭ হাজার ৩৫৬ কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হয়েছে। বাকি ঋণ নেওয়া হয়েছে আইডিবি, ডেনমার্ক, ভারত, কুয়েত, দক্ষিণ কোরিয়া, ইফাদ ও অন্যান্যদের কাছ থেকে।
সর্বোচ্চ মুনাফা ইসলামী ব্যাংকের, লোকসানে বেসিক ব্যাংক
সরকারি দলের এম আবদুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে বৈদেশিক ঋণের সুদ বাবদ এক হাজার ৪১৯ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। সোহরাব উদ্দিনের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, ২০১৪ সালে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ এক হাজার ৬২১ কোটি ২১ লাখ টাকা মুনাফা করেছে ইসলামী ব্যাংক। লোকসানে আছে বেসিক ব্যাংক (১১০ কোটি ৭৯ লাখ টাকা), কৃষি ব্যাংক (১৮৫ কোটি ৬১ লাখ টাকা), আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক (২১ কোটি ৫৬ লাখ টাকা) ও ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান (৯৯ কোটি ৬৬ লাখ টাকা)।
নিজাম উদ্দিন হাজারীর প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ ২৫ হাজার ২০ দশমিক ৪৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০০৪ সালে এর পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৭০৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

সুনির্দিষ্ট তথ্য ছাড়া পশুবাহী ট্রাক থামানো যাবে না : আইজিপি

সুনির্দিষ্ট তথ্য ছাড়া হাইওয়েতে কোনো পশুবাহী ট্রাক থামানো যাবে না। যানজট নিরসন ও রাস্তার সার্বিক নিরাপত্তায় হাইওয়েতে ১৪টি ওয়াচ টাওয়ার বসানো হবে। এছাড়া কোরবানী উপলক্ষে কোনো অবৈধ হাট বসতে দেয়া হবেনা বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) একেএম শহীদুল হক। আজ সোমবার দুপুরে কোরবানীর ঈদের নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার বিষয়ে পুলিশের প্রস্তুতি সম্পর্কে জানাতে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
শহীদুল হক বলেন, পুলিশের সব রেঞ্জের ডিআইজি, মহানগর পুলিশের কমিশনারসহ বিভিন্ন কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক হয়েছে। সেখানে এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। পশুবাহী ট্রাকে কোনো ধরনের কোনো মহলের চাঁদাবাজি সহ্য করা হবে না বলেও সতর্ক করেন আইজিপি।
আইজিপি বলেন, রাস্তায় পশুবাহী ট্রাক থামিয়ে যাতে কোনো পক্ষই চাঁদাবাজি করতে না পারে পুলিশের পক্ষ থেকে সেটা নিশ্চিত করা হবে। নির্ভরযোগ্য তথ্য পেলে পুলিশ পশুর ট্রাক থামিয়ে চেক করতে পারবে। কিন্তু পশুবাহী ট্রাকের কাগজপত্র ঠিক আছে কি-না তা যাচাইয়ের অজুহাত দিয়ে কোনো পুলিশ সদস্য যাতে গাড়ি না থামায় সে জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। আর এ বিষয়টি পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সসহ প্রত্যেকটি ইউনিট থেকে মনিটরিংর করা হবে। তা ছাড়া, চাঁদাবাজি বন্ধে হাইওয়েতে গোয়েন্দা তৎপরতাও থাকবে।
কোরবানীর পশুর হাট সম্পর্কে আইজিপি বলেন, অবৈধ পশুর হাট বসতে দেয়া হবে না। তা ছাড়া, যেসব পশুর হাট নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব রয়েছে সেগুলোও বসতে দেয়া হবে না। পুলিশ পশুর হাটের নিরাপত্তা বিধান করবে যাতে কেউ নির্ধারিত সুযোগের চেয়ে অধিক কিছু হাসিল করতে না পারে।
গরু ব্যবসায়ীদের টাকা-পয়সা ব্যাংকের মাধ্যমে নেয়ার পরামর্শ দিয়ে আইজিপি বলেন, বড় অংকের টাকা আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে পুলিশের সহায়তা চাইলে নিরাপত্তা দেয়া হবে। প্রত্যেকটি গরুর হাটে জাল টাকা যাচাইয়ের জন্য মেশিন থাকবে, সিটি করপোরেশনও জাল টাকা শনাক্তের মেশিন বসাবে।
তিনি বলেন, যেসব স্থানে পশুর হাট বসালে মানুষের চলাফেরার প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয় দুই সিটি করপোরেশনের মেয়র সেসব স্থানে পশুর হাট বসতে দিবে না বলে জানিয়েছেন। আর গরুর চামড়া যাতে পাচার না হয় সেজন্য ঈদের দিন থেকে ঢাকার বর্হিমুখে পুলিশি চেক পোস্ট থাকবে। তাছাড়া, পুলিশের মোবাইল টিম কাজ করবে। তবে ঢাকার বাইরে থেকে ঢাকামুখী চামড়ার গাড়ি রাজধানীতে ঢুকতে পারবে।
আইজি বলেন, যানজট নিরসনে ও রাস্তার সার্বিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হাইওয়েতে ১৪টি ওয়াচ টাওয়ার বসানো হবে। এটি পুলিশ সদরদপ্তরসহ প্রত্যেকটি ইউনিট থেকে মনিটরিং করা হবে। আর যানজট নিরসনে ঢাকার সিটিং সার্ভিস বাইরের দূরপাল্লায় যেতে দেয়া হবে না।
সম্প্রতি সারাদেশে রেজিস্ট্রেশনবিহীন মোটরসাইকেল অভিযানের পরিসংখ্যান তুলে ধরে পুলিশ প্রধান বলেন, পুলিশ অভিযান চালিয়ে রেজিস্ট্রেশনবিহীন ৩৭ হাজার ৭৫১টি মোটরসাইকেল জব্দ করেছে। এর মধ্যে টাকা জমা দিয়ে ১১ হাজার ৩৬টি মোটর আর রেজিস্ট্রেশন হওয়ার পর ৩ হাজার ৫৫৬টি মোটরসাইকেল মালিক নিয়ে গেছে। তবে প্রসিকিউশন দেয়া হয়েছে ৪৪ হাজার ৮৫৫টি গাড়ির। প্রসিকিউশনের পরিপ্রেক্ষিতে জরিমানা আদায় হয়েছে ১ কোটি ৮৮ লাখ ৫৩ হাজার ৩১৭ টাকা। আর রেজিস্ট্রেশন বাবদ বিআরটিএ আদায় করেছে ১১১ কোটি ৭৪ লাখ ৮৯ হাজার ৮৭৬ টাকা।
প্রবাসী হেলফ ডেস্ক গঠন
পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে প্রায় ৮০ লক্ষ বাংলাদেশী অবস্থানের কথা উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, এসব প্রবাসীদের রেমিটেন্স কিংবা বৈদেশিক মুদ্রায় বাংলাদেশ অনেকটা এগিয়েছে। কিন্তু তারা বাংলাদেশে এলে কিংবা দেশে অবস্থানরত তাদের আত্মীয়-স্বজনরা বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হন। তাদের কোনো সমস্যা থাকলে তারা হাইকমিশনে জানায়। হাইকমিশন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে আবার সেখান থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আসে। পরে গতানুগতিক প্রক্রিয়ায় পুলিশের কাছে পৌঁছায়। কিন্তু তাদের সমস্যা দ্রুত সমাধান করতে স্পেশাল ক্রাইমের একজন অতিরিক্ত ডিআইজিকে প্রধান করে একটি ‘প্রবাসী হেলফ ডেস্ক’ গঠন করেছে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স। কোনো প্রবাসীর সমস্যা থাকলে তারা এই ০১৭৬৯-৬৯০০১৯ নম্বরে কিংবা expatriatehelp@police.gov.bd ই-মেইলে জানানোর জন্য প্রবাসীদের অনুরোধ করেন তিনি। যে কোনো প্রবাসী তাদের সমস্যার কথা বলার সাথে সাথে যেন তারা পুলিশি সেবা কিংবা প্রতারণা থেকে রক্ষা পায় সে ব্যাপারে দেশের প্রত্যেক জেলার পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আর দেশের প্রত্যেকটি জেলায় হেলফ ডেস্ক গঠন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
অজ্ঞান পার্টির তৎপরতা রোধ
ঈদ উপলক্ষে অজ্ঞান পার্টির তৎপরতা বেড়ে যায় মন্তব্য করেন আইজিপি বলেন, কিছুদিন আগেও বিষয়টি নিয়ে পরিবহন মালিক, শ্রমিকদের সাথে কথা হয়েছে। ডিএমপি প্রায় শতাধিক অজ্ঞান পার্টির সদস্যকে আটক করেছে। এনিয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে অডিও, ভিডিও সিডি করা হয়েছে, প্রত্যেকটি টার্মিনালে ব্যানার ও মাইকিংয়ের মাধ্যমে প্রচারনা করা হয়েছে। কিন্তু বাসের চালক-হেলপার যাত্রীদের সচেতনতামূলক পরামর্শ দিলে আর মানুষ সচেতন হলে অজ্ঞান পার্টির কবল থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।

কেন বাড়ছে পরকীয়া? by রুদ্র মিজান

পরকীয়া সমাজের একেবারে নতুন উপাদান নয়। তবে বিশেষত বাংলাদেশের সমাজে এ ধরনের সম্পর্ক এতোটা সর্বগ্রাসী আগে কখনোই ছিল না। কিন্তু কেন বাড়ছে পরকীয়া? সমাজ বিজ্ঞানীরা মনে করেন, পুরুষের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এখন এগিয়ে যাচ্ছে নারী। মেশার সুবিধার কারণে অনেক সময় নারী-পুরুষের বন্ধুতা থেকে শুরু হয় পরকীয়ার। তথ্য-প্রযুক্তির সুবিধার কারণেও এই ধরনের অনৈতিক সম্পর্ক তৈরি হচ্ছে। মূল্যবোধের অবক্ষয়কেও একটি বড় কারণ মনে করেন সমাজ বিজ্ঞানীরা। ভিনদেশী টিভি চ্যানেলের বিভিন্ন প্রোগ্রাম ছাড়াও ইদানীং দেশে তৈরি অনেক নাটক-সিনেমাতেও পরকীয়াকে উৎসাহ দেয়া হচ্ছে। সমাজ বিজ্ঞানীরা বলছেন, পরকীয়ার কারণে পরিবার ভেঙে যায়। পারিবারিক ও সামাজিক সুখ নষ্ট হয়। একটি সমাজকে নষ্ট করে দেয়ার জন্য পরকীয়া বিষাক্ত ভাইরাসের মতোই কাজ করে বলে তারা মনে করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মাসুদা এম রশিদ চৌধুরী বলেন, আগে স্বামীকে খুশি রাখতে স্ত্রীরা ব্যস্ত থাকতেন। নারীরা সাধারণত তখন গৃহবধূ হিসেবেই ছিলেন। পুরুষের সঙ্গে সেভাবে মেলামেশার সুযোগ প্রায় ছিলো না। তবে পরকীয়া তখনও ছিলো। কিন্তু আধুনিকায়নের ফলে পরকীয়া বেড়েছে। এক গবেষণায় দেখা গেছে, ৯৮ ভাগ নারী নির্যাতনের অন্যতম কারণই হচ্ছে পরকীয়া। গণমাধ্যমের কারণে এখন পরকীয়ার বিষয়টি জানা যাচ্ছে বলে মনে করেন তিনি। পরকীয়া বেড়ে যাওয়া প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, নারীরা এখন শিক্ষিত হচ্ছেন। নানা পেশায় পুরুষের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কাজ করছেন। নারী-পুরুষ কাছাকাছি আসার কারণেই পরকীয়ার সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। সেইসঙ্গে তথ্য-প্রযুক্তির সুবিধাতো রয়েছেই। নারীরা এগিয়ে যাকÑ এটা সকলের চাওয়া। তাই বলে নিজের নৈতিকতা-শালীনতা বিসর্জন দিয়ে তা হতে পারে না। এ বিষয়ে নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন অধ্যাপক মাসুদা। দেশের শীর্ষস্থানীয় একটি ব্যবসায়ী সংগঠনের নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমি তখন ওই সংগঠনের পরিচালক। তখন দেখেছি ব্যবসা করার জন্য ব্যবসায়ী নেতা-পরিচালকদের সঙ্গে কিছু নারী যে আচরণ করতেন তা কোনভাবেই ভদ্রসমাজে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এরকম অনেক ক্ষেত্রেই স্বার্থের কারণে এ ধরনের সম্পর্কে জড়িয়ে যান অনেকে। আবার কিছু ক্ষেত্রে বিপদে পড়ে পরকীয়ায় জড়ান নারীরা। অনেক ক্ষেত্রে ব্ল্যাকমেইলের শিকার হন তারা। এছাড়া, অনেকেই এটাকে কোন অপরাধ মনে করেন না। যে কারণে বহুগামিতা বাড়ছে। এ জন্য এটাকে নৈতিক শিক্ষার অভাব বলে মনে করেন তিনি।
এছাড়া, ভিনদেশী সংস্কৃতি অনুসরণ-অনুকরণকে দায়ী করে অধ্যাপক মাসুদা বলেন, স্যাটেলাইটের কারণে সহজেই ভিনদেশী সংস্কৃতির প্রভাব পড়ছে। এর নেতিবাচক দিক অনুসরণ-অনুকরণ করা কোনভাবেই ঠিক না। গত ঈদে পাখি জামার প্রসঙ্গ তোলে ধরে তিনি বলেন, পাখি জামা না পেয়ে কেউ কেউ আত্মহত্যা করলো। এর চেয়ে খারাপ কি হতে পারে। তাদের পোশাক আর আমাদের পোশাকতো একই রকম না। তাদের সংস্কৃতি আর আমাদের সংস্কৃতি একই রকম না। এ জন্য পরিবারকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। নৈতিক শিক্ষা দিয়ে সন্তানদের বড় করতে হবে। নতুবা ভবিষ্যতে পরকীয়া বাড়বে। সংসার ভাঙনের হারও বাড়বে। পরিবার প্রথা আমাদের ঐতিহ্য-অহংকার। এই পরিবার প্রথাকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক রাশেদা ইরশাদ নাসির বলেন, মানুষ সহজাত প্রবৃত্তির পক্ষে। ক্রমান্বয়ে লজ্জা কমে যাচ্ছে। যে কারণে মানুষের বৈচিত্র্যময় গোপন ইচ্ছেগুলো সহজে প্রকাশ পাচ্ছে। অতীতের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, একসময় ডিভোর্স ছিলো খুব লজ্জার। কারও ডিভোর্স হলে তা গোপন রাখা হতো। যুগের পরিবর্তনে এখন অহরহ ডিভোর্স হচ্ছে। এতে কারও লজ্জা হচ্ছে না। একইভাবে পরকীয়াকে অনেকে সমর্থন করছেন। কিন্তু সমাজের জন্য তা  কোনভাবেই ভালো হতে পারে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। অধ্যাপক রাশেদা ইরশাদ নাসির বলেন, উন্নত বিশ্বের আধুনিকায়নের পার্শ¦প্রতিক্রিয়া হচ্ছে আমাদের দেশের পরকীয়া সম্পর্ক। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের মূল্যবোধের পরিবর্তন হচ্ছে। আগে শিশুদের যেভাবে শিক্ষা দেয়া হতো এখন সেভাবে দেয়া হচ্ছে না। এখন ব্যক্তি স্বাধীনতা প্রাধান্য পাচ্ছে। নারী-পুরুষ সবাই কমবেশি শিক্ষিত হচ্ছে। স্বনির্ভর হচ্ছে। তথ্য-প্রযুক্তির সুবিধা ভোগ করছেন তারা। এসব কারণেই পরকীয়া বাড়ছে বলে মনে করেন এই শিক্ষক। এসব থেকে সমাজকে মুক্ত করতে ব্যক্তি সচেতনতা প্রয়োজন মন্তব্য করে তিনি বলেন, চাই চাই ভাবের চেয়ে কার্যক্রমে সংযম থাকতে হবে। সন্তানরা যেন অনৈতিক দিকে পা না বাড়ায় সেভাবেই তাদের শিক্ষা দিতে হবে। নতুবা বিশৃঙ্খলা-অশান্তির আশঙ্কা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করেন অধ্যাপক রাশেদা ইরশাদ নাসির। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস মনে করেন পরকীয়াতে লজ্জার কিছু নেই। তিনি বলেন, মানসিক শান্তি-স্বস্তির জন্যই পরকীয়া মেনে নেয়া প্রয়োজন।

পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ কমাতে অ্যামনেস্টির নতুন প্রস্তাব

বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশে পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ কমানোর লক্ষ্যে নতুন একটি সুপারিশমূলক দিকনির্দেশনা প্রকাশ করেছে লন্ডন ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। আইনপ্রয়োগকারী কর্মকর্তাদের বলপ্রয়োগ ও আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার নিয়ে জাতিসংঘের মৌলিক নিতিমালা প্রণয়নের ২৫ বছর পূর্তিতে তা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এ সুপারিশ প্রকাশ করেছে অ্যামনেস্টি। এ নিয়ে অ্যামনেস্টির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশ সহ সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন দেশের উদাহরণ তুলে ধরা হয়। বলা হয়, বাংলাদেশে বিশেষ পুলিশ বাহিনীর কড়া পুলিশি অভিযানে মারাত্মক বলপ্রয়োগ করার ঘটনা ঘটেছে যেখানে অনেক প্রাণহানী হয়। এছাড়া ব্রাজিলে পুলিশের হাতে তরুন কৃষ্ণাঙ্গ হত্যাকান্ড, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নিরস্ত্র মানুষের ওপর পুলিশের গুলি চালানোর অনেকগুলো ঘটনা তুলে ধরা হয়। এছাড়াও বাহরাইন, বুরুন্ডি, কম্বোডিয়া, গ্রিস, স্পেন, তুরস্ক, ভেনেজুয়েলা ও ইউক্রেনের কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
প্রস্তাবিত নতুন এ দিকনির্দেশনায় বিশ্বের ৫৮টি দেশের জাতীয় আইন, আভ্যন্তরীন বিধি বিধান ও প্রশিক্ষণ নথিপত্র থেকে উদাহরণ উপস্থাপন করা হয়েছে। অ্যামনেস্টি বিশ্বের সরকারগুলোর প্রতি নতুন এ দিকনির্দেশনা ব্যবহার করার আহ্বান জানিয়েছে। নতুন এ দিকনিদের্শনার এক প্রণেতা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ড. আনিয়া বাইনার্ট বলেন, পুলিশকে যে চ্যালেঞ্জিং, এমনকি বিপজ্জনক দায়িত্ব পালন করতে হয়, তাতে কারো দ্বিমত নেই। কিন্তু প্রায়ই দেখা যায়, শুধু আইনগতভাবে বল প্রয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য একটি কাঠামো তৈরি করতে ব্যর্থ হয় সরকার ও আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষগুলো।

অবিরাম শরণার্থীর স্রোত, দরজা খুললেও সংশয়ে ইউরোপ

শরণার্থীদের নিয়ে দরাজ হচ্ছে জার্মানি। দরাজ হচ্ছে ফ্রান্সও। কিন্তু বিপুল শরণার্থীর স্রোত কী ভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে তা নিয়ে ঐকমত্য পৌঁছতে পারেনি ইউরোপ। পাশাপাশি এই স্রোত থামারও কোনো লক্ষণ নেই। জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা মার্কল জানিয়েছেন, এ বছরে প্রায় আট লক্ষ শরণার্থীকে জায়গা দেওয়া হবে। শরণার্থীদের জন্য ব্যবস্থা করতে প্রায় ৬০০ কোটি ইউরো খরচ করা হবে বলে জানিয়েছেন মার্কল। এর মধ্যেই প্রায় ২০ হাজার শরণার্থী জার্মানিতে ঢুকেছেন। সোমবার আরও ১১ হাজার শরণার্থীর জার্মানিতে ঢুকতে পারেন। অন্য দিকে, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলান্দে জানিয়েছেন, ২৪ হাজার শরণার্থীকে জায়গা দেওয়া হবে। এর মধ্যেই ভ্যাটিকান থেকে পোপ ফ্রান্সিস ক্যাথলিক পরিবার, নানা চার্চ ও ধর্মীর প্রতিষ্ঠানগুলিকে শরণার্থীদের আশ্রয় দিতে বলেছেন। সব মিলিয়ে ইউরোপে শরণার্থীর সংখ্যা সাড়ে তিন লক্ষ ছাড়িয়ে গিয়েছে। ফলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, আর কত? শরণার্থীদের নিয়ে রবিবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৮টি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে কোনো ফল মেলেনি। জার্মানি ও ফ্রান্স শরণার্থীদের নিয়ে কোটা ব্যবস্থা চালু করতে চাইলেও পূর্ব ইউরোপের দেশগুলি রাজি হয়নি। ইউরোপের দক্ষিণপন্থী দলগুলি এই বিপুল শরণার্থীর চাপের বিরুদ্ধে প্রচার করতে শুরু করেছে। তাদের অভিযোগ, ছোট্ট আয়লানের মৃত্যুকে ব্যবহার করে ইউরোপের বিরুদ্ধে প্রচার চালানো হচ্ছে। তাদের প্রশ্ন, জর্ডন, লেবানন, তুরস্কের মতো দেশ শরণার্থীর চাপে হাঁসফাঁস করলেও সৌদি আরব, কুয়েত, সংযুক্ত আরব-আমীরশাহির মতো দেশ এই শরণার্থীদের নিয়ে কিছুই করছে না। এ বিষয়ে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না? পাশাপাশি, নানা সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে যে শরণার্থীদের মধ্যে আর্থিক ভাবে এগিয়ে থাকা শ্রেণির মানুষের সংখ্যাও ক্রমেই বাড়ছে। গ্রিস থেকে সার্বিয়া, হাঙ্গেরি, অস্ট্রিয়া হয়ে পশ্চিম ইউরোপের পথটি মুক্ত হয়ে যাওয়ায় পরে এই ধরনের শরণার্থীর সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। এই পথটি লিবিয়া হয়ে ভূমধ্যসাগর পেরিয়ে ইউরোপে ঢোকার থেকে নিরাপদ হওয়ায় এবং ইউরোপ আপাতত দরজা খুলে দেওয়ায় আরও শরণার্থী আসবে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা। ক’দিনের মধ্যেই প্রায় চার হাজার শরণার্থীকে নিয়ে বেশ কিছু নৌকা গ্রিসে পৌঁছবে বলে খবর। ফলে চাপ আরও বাড়বে বই কমবে না। শরণার্থীদের নিয়ে দোলাচলে ভুগছে ইউরোপের বেশ কিছু দেশ, যেমন হাঙ্গেরি। হাঙ্গেরির দক্ষিণপন্থী সরকার এমনিতে শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়ার বিরুদ্ধে। প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর ওর্বানের মতে, মুসলিম শরণার্থীদের এই স্রোত খ্রিস্টীয় মূল্যবোধের উপরে প্রভাব ফেলবে। তাই প্রথম দিকে শরণার্থী ভরা ট্রেন আটকে দিয়েছিল হাঙ্গেরির প্রশাসন। পরে তা ছেড়ে দেওয়া হয়। কিন্তু এর মধ্যেই সার্বিয়া ও হাঙ্গেরি সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দিচ্ছে হাঙ্গেরি। সেখানে শরণার্থীদের রাখার জন্য আলাদা ক্যাম্প করা হয়েছে, যেমন রোজকে শহরে। কুকুর সঙ্গে নিয়ে সশস্ত্র পুলিশ সেই সব ক্যাম্প পাহারা দিচ্ছে। সাংবাদিকদের ক্যাম্পের কাছে ঘেঁষতে দেওয়া হচ্ছে না। মানবাধিকার সংগঠনগুলি এই ব্যবস্থাকে অমানবিক আখ্যা দিয়েছে। কিন্তু উত্তরে অস্ট্রিয়ার সীমান্ত উন্মুক্ত করে দিয়েছে হাঙ্গেরি। রেলপথের পাশাপাশি অস্ট্রিয়া থেকে প্রায় ১০০টি গাড়ি নিয়ে স্বেচ্ছাসেবীদের একটি দল বুদাপেস্ট এসেছে। তারা সরাসরি শরণার্থীদের অস্ট্রিয়া নিয়ে যাচ্ছেন। এটি আইনবিরুদ্ধ বলে জানালেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি হাঙ্গেরির প্রশাসন। পাশাপাশি, দুর্নীতির অভিযোগও উঠছে। যেমন, অর্থের বিনিময়ে শরণার্থীদের সীমান্ত পার করিয়ে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।– সংবাদসংস্থা

উদ্বাস্তুরা যেভাবে সিরিয়া থেকে ইউরোপ যাচ্ছে

যুদ্ধের ভয়াবহতা, মৃত্যু এড়াতে মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়েই সিরিয়া ছাড়ছে অসংখ্য মানুষ৷ সব বাধা পেরিয়ে সবাই চাইছেন জার্মানি আসতে৷ জানেন কি, কত কঠিন তাদের জীবন? কতটা বন্ধুর মৃত্যুর বিভীষিকা ছেড়ে জীবনের পথ ধরা?
নিজের দেশ যখন ‘দোজখ’ ২০১১ সাল থেকে যুদ্ধ চলছে সিরিয়ায়৷ এ পর্যন্ত কমপক্ষে ২ লাখ ৪০ হাজার মানুষ মারা গেছে৷ সিরিয়া না ছাড়লে মৃতদের কাতারে কখন যে নাম লেখাতে হবে কে জানে! দেশ ছেড়ে কোথায় যাওয়া যায়? কোন জায়গাটা জীবন-জীবিকার জন্য সবচেয়ে বেশি নিরাপদ? ইউরোপ৷ তাই অনেকেই আসছেন ইউরোপে৷ ছবিতে দামেস্কের এক আবাসিক এলাকায় প্রেসিডেন্ট বাশারের অনুগত বাহিনীর হামলার পর ধ্বংসস্তূপের মাঝে এখনো কেউ বেঁচে আছেন কিনা দেখছেন সিরীয়রা৷
প্রথম গন্তব্য তুরস্ক
ইউরোপে যাওয়ার উদ্দেশ্যে প্রথমে তুরস্কে যায় সিরীয়রা৷ ইজমিরের কোনো হোটেলে উঠেই তাঁরা শুরু করেন মানবপাচারকারীদের মাধ্যমে সমুদ্রপথে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা৷ যাঁদের হোটেলে ওঠার সাধ্য নেই তাঁরা রাস্তার পাশে কিংবা পার্কে তাঁবু তৈরি করে দু-এক রাত কাটিয়ে নেন৷ ছবির এই মেয়েটির মতো ইউরোপে আসার আগে অনেক সিরীয়কেই ঘুমাতে হয় তুরস্কের রাস্তায়৷
গ্রিসের দিকে যাত্রা
তুরস্ক থেকে প্রায় সবাই ছোটেন গ্রিসের দিকে৷ অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত এই দেশটিতে শুধু ইউরোপে প্রবেশের জন্যই আসা৷ আসল লক্ষ্য পশ্চিম ইউরোপের উন্নত দেশগুলো৷ ছবিতে ডিঙ্গি নৌকায় তুরস্ক থেকে গ্রিসের কস দ্বীপের দিকে যাত্রা শুরু করা কয়েকজন সিরীয়৷
মানুষের নিচে মানুষ
কস দ্বীপ থেকে গ্রিসের মূল ভূখণ্ডের দিকে যাচ্ছে একটি ফেরি৷ ১০ ঘণ্টার যাত্রাপথ৷ কোনো জায়গা না পেয়ে যাত্রীদের আসনের নিচেই ঘুমিয়ে নিচ্ছে এক সিরীয় কিশোরী৷
রুদ্ধ সীমান্ত
কস দ্বীপ থেকে মেসিডোনিয়া হয়ে ইডোমেনি শহরে যান অনেকে৷ ‘বলকান রুট’ ব্যবহার করে অনেকে বাধ্য হয়ে সার্বিয়ার দিকেও যান৷ গত মাসে ‘জরুরি অবস্থা’ জারি করে শরণার্থীদের ঠেকাতে সেনাবাহিনীকে কাজে লাগানোরও ঘোষণা দেয় মেসিডোনিয়া৷ সহজে সীমান্ত পার হওয়া যাবে ভেবে শুরু হয় সার্বিয়ার দিকে যাত্রা৷ ছবির এই ট্রেনের মতো অনেক ট্রেনই গিয়েছে এমন মানুষবোঝাই হয়ে৷
বেলগ্রেডে বিশ্রাম
ইউরোপে অভিবাসন প্রত্যাশীদের জন্য সার্বিয়ার রাজধানী বেলগ্রেড যেন শুধুই বিশ্রামাগার৷ এ শহরে বিশ্রাম নিয়েই সবাই পা বাড়ান প্রকৃত গন্তব্যের দিকে৷ আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা আইওএম-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালের প্রথম ৬ মাসে সিরিয়া থেকে অন্তত ১ লাখ ৬০ হাজার মানুষ গিয়েছেন বেলগ্রেডে৷ এখানে বেলগ্রেডের এক পার্কে বিশ্রাম নিচ্ছেন কয়েকজন সিরীয় শরণার্থী৷
হাঙ্গেরিতে মানুষের ঢল
সার্বিয়া থেকে শরণার্থীরা যাচ্ছেন হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টে৷ বুদাপেস্টও ‘বিশ্রামালয়’৷ তবে হাঙ্গেরি অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম রোধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে৷হাঙ্গেরি সরকার চায় যাঁরা এসেছেন তারা সেখানেই নাম নথিভূক্ত করার কথা৷ তা করলে হাঙ্গেরিতেই থাকতে হবে৷ কিন্তু অভিবাসন প্রত্যাশীরা চান জার্মানি যেতে৷ ছবিতে এক কিশোরীর হাতে জার্মানির চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেলের ছবি৷
উষ্ণ অভ্যর্থনা
হাঙ্গেরি থেকে কয়েক হাজার অভিবাসন প্রত্যাশী চলে এসেছেন অস্ট্রিয়া এবং জার্মানিতে৷ নতুন ঠিকানায় এসে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন অনেকেই৷ অভিবাসনবিরোধী ডানপন্থি দলের শাসনাধীন দেশ হাঙ্গেরি থেকে বেরিয়ে আসতে পারাই তাঁদের জন্য সবচেয়ে বড় স্বস্তি৷ জার্মানিতে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ অন্যরকম৷ মিউনিখে শরণার্থীদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়ে বরণ করে নিয়েছেন জার্মানরা!
তারপর...
মিউনিখের কেন্দ্রীয় রেল স্টেশনে এক সিরীয় নারী অভিবাসনপ্রত্যাশীর কোলে সন্তানকে তুলে দিচ্ছেন এক জার্মান পুলিশ৷ সাধারণ জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবেই অভিবাসনপ্রত্যাশীদের বরণ করে নিয়েছে৷ কিন্তু রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়ে গেছে অভিবাসন ইস্যু নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা৷ এত বেশি অভিবাসনপ্রত্যাশীর আগমন অনেক ধরণের সমস্যা তৈরি করতে পারে বলে অনেকের আশঙ্কা৷
সূত্র : ডয়চে ভেলে।

‘দেশে ফের গুম-খুন শুরু হয়েছে’

দেশে ফের গুম-খুন শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সম্প্রতি চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৬  বিএনপি নেতাকর্মীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করলেও তাদের আদালতে পাঠানো হয়নি। অবিলম্বে তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেয়ারও দাবি জানিয়েছে দলটি। একইসঙ্গে সংঘটিত সব গুম-খুন ও বিচারবহির্ভূত হতাকাণ্ডের বিচারবিভাগীয় তদন্ত দাবি করেছে দলটি। আজ দুপুরে নয়াপল্টনস্থ বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে  আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন দলের মুখপাত্র ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন। তিনি বলেন, ২২শে আগস্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ঢাকায় আসার পথে রাজশাহীর তানোরের মুন্ডুমালা থেকে আবদুল লতিফের ছেলে বিএনপি কর্মী রব্বানী, শমসের আলীর ছেলে আবু আলী ও কাউসার আলীর ছেলে নুরুল ইসলামকে আটক করেছে পুলিশ। এরপর গত ২৩শে আগস্ট একই স্থান থেকে এনামুল হকের ছেলে আপেল ও ৩০শে আগস্ট শাহাবুদ্দিনের ছেলে বাবু এবং ফজলু  মোল্লার ছেলে টুটুলকে ঢাকার খিলক্ষেত থেকে আটক করেছে পুলিশ। তাদের সবার বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের রানীহাটি ইউনিয়নে। অবিলম্বে এসব নেতাকর্মীকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে  দেয়ার দাবি জানিয়ে রিপন বলেন,  আমরা গুম-খুনের ঘটনায়  বিচারবিভাগীয় তদন্তের দাবি জানাচ্ছি।  পাশাপাশি দোষীদেরকে আইনের আওতায় এনে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়ার আাহ্বান জানাচ্ছি।  তিনি বলেন, ছাত্রলীগের নেতা আরজু মিয়ার ক্রসফায়ারের ঘটনার পরপরই আমরা এ ব্যাপারে আশঙ্কার কথা জানিয়েছিলাম। আমরা বলেছিলাম, সরকারি দলের ক্যাডারদের লোক দেখানো কয়েকটি ক্রসফায়ারের পর তারা বিরোধীদল দমনে একে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করবে। আমাদের সে আশঙ্কা সত্যি পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, যখন আওয়ামী লীগের গায়ে লাগে তখন তাদের দলের নেতারা এর বিরুদ্ধে কথা বলে। আর বিএনপি সকল বিচারবহির্ভূত হত্যাকা- ও গুমের  প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে। রিপন বলেন, মহাজোট সরাকরের দোসর প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত সাবেক  স্বৈরাচার  এরশাদ রোববার বলেছেন, দেশ অন্ধকারে নিমজ্জিত। চারদিকে শুধু আতঙ্ক’। সরকারের অংশীদার যখন অভিযোগ তোলেন তখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিষয়টি বিবেচনায় নেয়া উচিত। এরশাদ যে অভিযোগ করেছেন সেই অভিযোগ থেকে সরকার বাঁচতে পারবে না। বিএনপির মুখপাত্র বলেন, সিরীয় শিশু আয়লান সারা বিশ্বকে নাড়া দিলেও বাংলাদেশে মায়ের গর্ভে শিশু গুলিবিদ্ধের ঘটনায় সরকারকে নাড়া দেয়নি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির এতটাই অবনতি হয়েছে যে তা সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে গেছে। দেশে শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে দাবি করে আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, গণমাধ্যমসহ কোন প্রতিষ্ঠানই বর্তমানে ভীতির বাইরে কাজ করতে পারছেন না। সামরিক মার্শাল ল’ সরকার যতটা সহ্য করতো বর্তমান সরকার তাও করে না। প্রতিবাদ করলেই গুম, গুলি করছে। তিনি বলেন, বিএনপির নেতকর্মীদেরকে আটকের দুই তিন মাস পর গ্রেপ্তার  দেখানো হয়। এটা সংবিধান স্বীকৃত নয়। এসব অধিকার সংবিধানে দেয়া নেই। সংবিধান লঙ্ঘন করে প্রতিনিয়ত আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এসব কাজ করে যাচ্ছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভাবমূর্তি ফিরিয়ে আনতে এই সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির ভাইস  চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী,  চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) মাহমুদুল হাসান, সাংগঠনিক সম্পাদক হারুনুর রশিদ, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক খায়রুল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

জামায়াতের সাবেক দুই এমপিসহ ১৩ নেতা গ্রেপ্তার

জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত নায়েবে আমির সাবেক এমপি অধ্যাপক মজিবুর রহমান ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি গোলাম পরওয়ারসহ ১৩ নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার দুপুরে পল্লবীর ১০ নম্বর সড়কের ১১ নম্বর লাইনে বাসায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। ওই বাসাটি হারুণ-অর রশিদ নামে এক জামায়াত নেতার। এসময় বাসা থেকে ২০টি হাতবোমা উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি পুলিশের।

মদ বিতরণে রাজি না হওয়ায় চাকরি হারালেন নওমুসলিম নারী

ইসলামী নিষেধাজ্ঞা মেনে মদ বিতরণে রাজী না হওয়ায় মার্কিন যাত্রীবাহী বিমান সংস্থা এক্সপ্রেসজেট এয়ারলাইন্সের এক নও মুসলিম মহিলা বিমান ক্রু’কে চাকরি থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। মার্কিন চাকরি সংক্রান্ত সম অধিকার কমিশনের কাছে এ আদেশের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন শ্যারি স্টানলি নামের ৪০ বছর বয়সী এ বিমান ক্রু । বিমান সংস্থাটি কর্মীদের ধর্মীয় অনুশাসনের প্রতি সম্মান দেখানোর নীতি বাতিল করার পর গত মাসে শ্যারি স্টানিলেকে ১২ মাসের প্রশাসনিক ছুটিতে যেতে বাধ্য করা হয়। এ নীতি অনুযায়ী ধর্মীয় নিষেধাজ্ঞার আওতায় এক্সপ্রেসজেটের কর্মীরা যাত্রীদের মদ বিতরণ থেকে বিরত থাকতে পারতেন।
এদিকে, ১২ মাসের ছুটি শেষ হওয়ার পর স্টানলিকে প্রশাসনিক ভাবে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হবে বলে আশংকা ব্যক্ত করেন কাউন্সিল অন আমেরিকা-ইসলামিক রিলেশন মিশিগানের আইনজীবী লিনা মারসি। মারসি জানান, স্টানলিকে তার পুরানো পদে ফিরিয়ে নেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে যাত্রীবাহী বিমান সংস্থাটিতে ধর্মীয় অনুশাসন পালনের নীতি পুনরায় চালু করার আহ্বানও জানানো হয়েছে বলে জানান তিনি। মার্কিন সংবিধানের দেয়া স্টানিলের অধিকার লঙ্ঘন করা হয়েছে উল্লেখ করে এ আইনজীবী বলেন, ধর্মীয় বিধি পালনের সুযোগ করে দিতে এক্সপ্রেসজেট এয়ারলাইন্সের আইনগত বাধ্য বাধকতা রয়েছে। এক্সপ্রেসজেট এয়ারলাইন্স তিন বছর ধরে কাজ করছেন স্টানলি এবং দু’বছর আগে ইসলাম গ্রহণ করেন তিনি।

দাউদকে ধরতে পাকিস্তানে অভিযানের ইঙ্গিত ভারতের

দাউদ ইব্রাহিমকে ধরতে অভিযান চালানোর বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে ভারত সরকারের। বেসরকারি টিভি চ্যানেল আজ-তাকে দেয়া বিশেষ এক সাক্ষাতকারে এ কথা বলেছেন দেশটির তথ্য প্রতিমন্ত্রী রাজ্যবর্ধন রাথোড়। এ খবর দিয়েছে ইন্ডিয়া টুডে ও টাইমস অব ইন্ডিয়া। রাজ্যবর্ধন বলেন, ভারতের শত্রুদের শান্তিতে থাকা উচিত নয়। তাদের জানা উচিত মোদি সরকার প্রতি মুহুর্তে তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়ার উপায় চিন্তা করছে। কি ধরণের পদক্ষেপ সরকার বিবেচনা করছে তা স্পষ্ট করেনটি তিনি। তবে তিনি বলেছেন, এগুলো টিভিতে আলোচনার বিষয় নয়। পদক্ষেপ নেয়া হয়ে তা সবাই জানতে পারবে। গোপন কোন অভিযান চালানো হবে কিনা সে প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমার সেটা করতে পারি কিন্তু সেক্ষেত্রে আগাম কোন প্রচারণা করা হবে না। অভিযানে পরও তা হতেও পারে নাও পারে। গোপন অভিযান হবে না বিশেষ অভিযান হবে সরকার কি সিদ্ধান্ত নিচ্ছে তার ওপর এটা নির্ভর করে। রাথোড় আরও বলেন, বিশেষ অভিযান পরিচালিত হবার পর জানানো হয়। এটা নির্ভর করে সরকার কখন সেটা করবে। কে জানে হয়তো এটা এখনই হচ্ছে বা হচ্ছে না। কিন্তু সেটা সবাই জানবে হওয়ার পরে। এদিকে, রাজ্যবর্ধনের ওই সাক্ষাতকার নিয়ে ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচার হওয়ার পর টুইটার বার্তায় ‘গোপন অভিযান’ সংক্রান্ত মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়েছেন তিনি। এক টুইটে তিনি বলেন, আমার বক্তব্য ভুলভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

যারা অস্ত্র বেচে, তারা খাবার দেয় না

ওই যে ছেলেটা সমুদ্রের পানির সঙ্গে ভেসে এসে বালিতে মুখ গুঁজড়ে পড়ে ছিল, ওকে মারতে আমাদের গত চার বছরে কম করে হলেও চার শো কোটি ডলার খরচা করতে হয়েছে!‌ কাজেই এই যে সারা পৃথিবীর বিবেক জাগ্রত হলো হঠাৎ, সেটা কিন্তু আমাদের জন্যে এবং তার খরচ নেহাত কম নয়। আমরা এ ব্যাপারে কখনো কোনো কার্পণ্য করি না বলেই বিশ্বের লোক বছরভর নিখরচায় এমন আমোদ পায়। বছরে গড়ে ১০০ কোটি ডলার করদাতাদের দেয়া ভাণ্ডার থেকে আমাদের নিঃশব্দে সরিয়ে ফেলতে হয়েছে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধটাকে চাঙ্গা রাখার জন্যে। তার ওপর আই এস জঙ্গিদের ওপর বিমান–হামলা করতে দিনে এক কোটি ডলার খরচ হয়। চার বছরে ঠিক ৬,৬৫০ বার এরকম মারমার কাটকাট বিমান হামলা চালিয়েছি, যার ৩৭%‌ সিরিয়ায় হয়েছে। তার পর আবার সিরিয়া থেকে আসা শরণার্থীদের দায়ভাগ নিতে হবে?‌ মামার বাড়ির আবদার আর কী!‌ ওই যে হাজার দেড়েক শরণার্থীকে জায়গা দিয়েছি, আরো সাড়ে ছ’‌হাজারের আবেদনপত্র গভীর সহানুভূতির সঙ্গে বিবেচনা করব বলেছি, সেটাই যথেষ্ট। ওদের চোদ্দোগুষ্টির ভাগ্য।
না, কোনো পুরনো কাসুন্দি ঘাঁটতে বসার সময় নেই কারো। কেউ বলছে না, মিথ্যে অজুহাতে আমেরিকা আর ব্রিটেন সাদ্দাম হোসেনের ইরাকে হামলা না চালালে আল–কায়দার গর্ভ থেকে এই নির্মম ইসলামিক স্টেট জঙ্গিদের জন্ম হতো না। কেউ বলছে না, সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার আর সংযুক্ত আরব আমির আমিরাতের মতো আমেরিকার ধামাধরা দেশেরা সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে লাগাতার মদত না দিয়ে গেলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতো না। কারণ এখন মূল সমস্যা সিরিয়ার বাস্তুচ্যুত ৪০ লাখ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয় খুঁজে দেয়া, যারা স্বদেশের গৃহযুদ্ধ এবং আইএস জঙ্গিদের দৌরাত্ম্য থেকে জান–মাল বাঁচাতে আশপাশের দেশগুলোতে শরণার্থী।
লেবানন, তুরস্ক, মিসর, জর্ডান এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরাকও প্রাণপণ চেষ্টা করে যাচ্ছে এই বেঘর পরিবারগুলোকে আশ্রয় দেয়ার। ৯৫%‌ সিরীয় উদ্বাস্তুর চাপ এই পাঁচটা দেশই সামলানোর চেষ্টা করছে। বাকি যে ৫%‌, তাদের জায়গা দিতেই নাকাল হচ্ছে ইউরোপ। এত তীব্র শরণার্থী–সঙ্কটের মোকাবিলা ইউরোপীয় দেশগুলোকে গত ৭০ বছরে কখনো করতে হয়নি। তবু এর মধ্যে জার্মানি কিছুটা সহানুভূতিশীল। তারা শরণার্থীদের জন্যে দরজা খুলে দিয়েছে এবং বলেছে, চলতি বছর শেষ হওয়ার আগে ৮ লাখ সিরীয় বাস্তুচ্যুত মানুষকে তারা জার্মানিতে থাকার সুযোগ করে দেবে। যেহেতু এই বিপুলসংখ্যক মানুষের জন্যে সরকারি ব্যবস্থা যথেষ্ট হবে না, তাই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, যাতে নাগরিকেরা নিজেদের বাড়তি থাকার জায়গা সাময়িকভাবে ছেড়ে দেন শরণার্থীদের জন্যে। বিনিয়োগ হিসেবে কিনে–রাখা বাড়তি ফ্ল্যাট থেকে শুরু করে ছুটি কাটানোর কটেজ, সবই এই কাজে লেগে যাবে। জার্মানির দেখাদেখি অস্ট্রিয়াও সিরীয় শরণার্থীদের চাপ ভাগ করে নিতে রাজি হয়েছে।
ইতিহাসের রসিকতাই বলতে হবে, ইউরোপের এই দুই দেশই বিদেশি অভিবাসনকারীদের ব্যাপারে অসহিষ্ণু বলে পরিচিত। এই দুই দেশেই উগ্র দক্ষিণপন্থী রাজনৈতিক শক্তি মাঝে মাঝেই মাথা তুলে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে। আর এরাই এখন সিরীয় শরণার্থীদের ব্যাপারে সবচেয়ে সহানুভূতিশীল। সেখানে ব্রিটেন, ফ্রান্স, ডেনমার্ক, বেলজিয়াম আর নেদারল্যান্ডস এমন একটা ভাব দেখাচ্ছে যেন তাদের শোয়ার ঘরে ভিখিরি ঢুকে পড়েছে!‌ অথচ ব্যাপারটা মোটেই এরকম নয় যে, সিরিয়ার সমস্যা, আমাদের কী!‌ বরং ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই চারটে দেশ এবং ব্রিটেন এত দিন সিরিয়ায় বিমান–হামলায় আমেরিকাকে সঙ্গ দিয়ে গেছে। আহা, দুষ্টু আই এস জঙ্গিদের নিকেশ করতে হবে না!‌ কিন্তু এখন উদ্বাস্তু–সমস্যার মুখে এরাই সবার আগে মুখ ঘুরিয়ে নিয়েছে।
এটা কিন্তু একটা লক্ষ‍্য করার মতো ব্যাপার। যে–দেশ যত বেশি অস্ত্র বেচেছে সিরিয়াকে, মদত জুগিয়েছে গৃহযুদ্ধে, তারাই এখন সবচেয়ে কম দায় নিতে চায়। ২০১১ সাল থেকে ৭৭০ কোটি ডলারের মারণাস্ত্র সিরিয়াকে বেচেছে আমেরিকা, দায় নিয়েছে ১৪৩৪ জন শরণার্থীর। বলেছে, খুব বেশি হলে ৮০০০ লোককে আশ্রয় দিতে পারবে ওরা। কানাডা ২৩০০ শরণার্থীকে জায়গা দিচ্ছে, অস্ত্র বেচেছে ৭০ কোটি ডলারের। ব্রিটেন এবং ওই চার ইইউ দেশ প্রায় ৯০ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রি করেছে, এখন চক্ষুলজ্জার খাতিরে আর অনেকটাই জার্মানির চাপে পড়ে কিছু দায়িত্ব নেবে। সবাই মিলে মোট ১৬ হাজার সিরীয়কে সাময়িক আশ্রয় দেবে। সাময়িকই। সিরীয়রা কেউ বিদেশের ফুটপাথে থাকতে চায় না। নিজেদের দেশেই ফিরে যেতে চায়। পারছে না, কী করবে!‌
তবে এই সঙ্কটকালে খুব ভালো চিনতে পারা গেছে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমির আমিরাত, কুয়েত, কাতারকে। এরা এক দিকে সিরিয়ার বাসার আল আসাদের সরকারকে মদত জুগিয়েছে, অন্য দিকে অস্ত্রে, অর্থে মদত করেছে গৃহযুদ্ধে নিয়োজিত বিভিন্ন সরকার–বিরোধী মিলিশিয়া গোষ্ঠীকে এবং একই সঙ্গে গোপন সমঝোতা আর সাহায্য চালু রেখেছে আই এস জঙ্গিদের জন্য। আর সিরিয়া থেকে শরণার্থীদের ঢল শুরু হতেই সবার আগে দরজা বন্ধ করে দিয়েছে এরা। জানিয়ে দিয়েছে, একজন লোকেরও দায় এরা নেবে না। এমনকি আরব দুনিয়ার যে ছোট দেশগুলো শরণার্থীদের দায়িত্ব নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে, তাদের খুচরো পয়সা দিয়েও সাহায্য করবে না বড়লোক বড়ভাইরা। যদিও সিরিয়ায় পাঠানো তাদের মানবিক ত্রাণসাহায্যের টাকা নানা ঘুরপথে শেষ পর্যন্ত আইএস জঙ্গিদের হাতে পৌঁছে যায় বলে খবর। এমন একটা অবিশ্বাসের পৃথিবীতে বেঁচে থেকেই বা কী করত বেচারি আয়লান কুর্দি!‌ বরং, ও মরে বেঁচেছে।
সূত্র : আজকাল

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক by ইনাম আহমদ চৌধুরী

ঢাকা-গুয়াহাটি বাস সার্ভিসের ​উদ্বোধন অনুষ্ঠানে
শেখ হাসিনা, নরেন্দ্র মোদি ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর আমাদের পররাষ্ট্রনীতিতে বার্মা (বর্তমান মিয়ানমার) কিছুটা উপেক্ষিত হয়। স্বাধীনতাসংগ্রামের সময় শ্রীলঙ্কার মতো বার্মাও দৃশ্যত পাকিস্তানের পরোক্ষ সহযোগিতা করে। স্বাধীনতা-উত্তরকালে বার্মার স্বীকৃতি পাওয়া গেলেও আরাকান প্রদেশের আকিয়াবে কোনো কূটনৈতিক বা কনস্যুলার মিশন বাংলাদেশ স্থাপন করেনি। যদিও পাকিস্তান আমলে ওখানে একটি সক্রিয় মিশন সব সময়ই ছিল এবং ওখানে পোস্টিং জুনিয়র লেভেলে হলেও যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হতো। কায়সার রশীদ, আতাউল করিম, মুরাদ খায়েরীর মতো প্রতিশ্রুতিমান কূটনীতিকেরা ওখানে পদায়ন পেয়েছিলেন।
স্বাধীনতা-উত্তরকালে রাষ্ট্রদূত খাজা মোহাম্মদ কায়সারের মতো ঝানু ও বিচক্ষণ রাষ্ট্রদূতকে রেঙ্গুনে (বর্তমান ইয়াঙ্গুন) নিযুক্ত করা হলেও তাঁর মূল লক্ষ্য ও দায়িত্ব ছিল চীনের আস্থা অর্জন ও সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা। আরাকানের ঘনায়মান রোহিঙ্গা ও বাংলা-বার্মা সীমান্ত সমস্যাগুলোর তীক্ষ্ণ নজরদারি হয়তো তাঁর জন্য সম্ভব হয়নি। ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক স্থাপিত হলেও যেমনটি উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের গভীর ঐতিহাসিক ও ভৌগোলিক সম্পর্কের গুরুত্ব উভয় দেশের পররাষ্ট্রনীতির কার্যকরীকরণে প্রতিফলিত হয়নি। ভারতের কাছে বাংলাদেশের মূল প্রদেয় ছিল উত্তর-পূর্ব এলাকার সঙ্গে যোগাযোগের জন্য ট্রানজিট এবং বিচ্ছিন্নতাবাদীদের প্রতি সক্রিয় অসহযোগিতা। এবং তা তাদের অগ্রাধিকার তালিকায় অবশ্যই ছিল। কিন্তু বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগ বৃদ্ধি তাদের সক্রিয় বিবেচনাধীন ছিল না। বাংলাদেশের জন্য ওই ধরনের সম্পর্ক উন্নয়ন গুরুত্বপূর্ণ হলেও সেদিকে আমরা যথাযথ নজর দিইনি।
পাকিস্তান আমলে শিলং-এ সব সময়ই একটি সহকারী হাইকমিশন ছিল। এটা শুধু ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জন্য পাকিস্তান সরকারের মনিটরিং পোস্ট ছিল তা নয়, এলাকার জনগণের সঙ্গে বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগ প্রচেষ্টা (যা তখন ভারতীয় সরকার সুনজরে দেখত না) চলমান রাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিল। সেই সহকারী হাইকমিশনের কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করার সৌভাগ্য আমার হয়েছিল এবং তার পাঠানো কয়েকটি রিপোর্টে পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমান বাংলাদেশ) বাণিজ্যিক, অর্থনৈতিক এমনকি সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রেও অধিকতর সম্পর্ক উন্নয়নের ইতিবাচক দিকটি পরিষ্কারভাবে তুলে ধরা হয়েছিল। স্বাধীনতা-উত্তরকালে প্রয়োজনীয়তা না থাকায় এবং ভারত সরকারের অনুরোধে পাকিস্তান শিলংয়ে তাদের উপদূতাবাস গুটিয়ে নেয়, কিন্তু বাংলাদেশ শুধু শিলংয়ে নয়, সারা উত্তর-পূর্বাঞ্চলে কোনো কূটনৈতিক অবস্থান স্থাপন করেনি। শুধু আগরতলায় একটি ভিসা অফিস স্থাপিত হয়।
সম্প্রতি ভারত সরকারের অনুমোদনক্রমে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সর্ববৃহৎ রাজ্য আসামের রাজধানী গুয়াহাটিতে (রাজধানী এলাকার সরকারি নাম দিসপুর) উপদূতাবাস স্থাপনের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ নিয়েছে। অবশ্য বিনিময়ে সিলেট ও খুলনায় দুটি উপ বা সহকারী দূতাবাস স্থাপনের অনুমতি বাংলাদেশ ভারতকে দিয়েছে। বিলম্বিত হলেও গুয়াহাটিতে উপদূতাবাস স্থাপন বাংলাদেশের জন্য একটি অভিপ্রেত এবং ইতিবাচক পদক্ষেপ হবে। গুয়াহাটি থেকে এলাকার অন্য রাজ্যগুলো যেমন—অরুণাচল, মেঘালয়, নাগাল্যান্ড, মিজোরাম ও মণিপুরের সঙ্গে যোগাযোগ এবং স্বার্থ সংরক্ষণ তুলনামূলকভাবে সহজ হবে।
আসামে বাংলাভাষীর সংখ্যা অনেক। ১৯৪৭ সালের গণভোটে পাকিস্তানে যোগদানের পক্ষে রায় দিয়ে সিলেট আসাম থেকে বিযুক্ত হয়ে (খণ্ডিত করিমগঞ্জ বাদে) পূর্ববঙ্গের সঙ্গে যোগ দেয়। তা না হলে বর্তমান আসামে বাংলাভাষী এবং ধর্মাবলম্বী হিসেবে মুসলমানরা অন্য ধর্মাবলম্বীদের চেয়ে বেশি হতো। তাই ভারতের বিশেষ করে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জন্য সিলেটের গণভোট এবং তার ফলে আসাম থেকে বিযুক্ত হয়ে পাকিস্তানে যোগদানের তাৎপর্য অনেক এবং বহুধাবিস্তৃত।
বর্তমান আসামের ১২৬টি আসন সমন্বিত বিধানসভায় প্রায় সব নির্বাচনেই গড়পড়তা ২৫-২৬ জন মুসলমান বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মনোনয়নে নির্বাচিত হন এবং এঁদের মধ্যে অধিকাংশই বাংলাভাষী। তবে বর্তমানে অনেকেই অসমীয়া ভাষা রপ্ত করে আসামের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে একাত্ম হতে আগ্রহী। আসামের বিধানসভায় প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো হচ্ছে বর্তমানে কংগ্রেস, বিজেপি, অগপ (অহোম গণপরিষদ) এবং মাওলানা বদরুদ্দিন আজমল প্রতিষ্ঠিত এ-ইউ-ডি-এফ। বদরুদ্দিন আজমল বর্তমানে লোকসভারও সদস্য এবং বিধানসভায় তাঁর দলের ১৭-১৮ জন মনোনীত সদস্য আছেন। বদরুদ্দিন আজমলের পূর্বপুরুষ সিলেট থেকে গিয়ে আসামে অভিবাসী হয়েছিলেন। তিনি অবশ্য সম্পূর্ণভাবে ভারতীয় এবং সংখ্যালঘু সমন্বিত ভারতীয় স্বার্থের একজন অন্যতম প্রবক্তা। আসামে বর্তমানে তরুণ গগৈয়ের নেতৃত্বে কংগ্রেসি মন্ত্রিসভা। লোকসভায় বিজেপি আসাম থেকে সাতটি আসন পেয়েছে। বর্তমানে রাজনৈতিক অঙ্গনে অহোম গণপরিষদের প্রভাব ক্ষীয়মাণ। বদরুদ্দিন আজমলের এ-ইউ-ডি-এফ বেশ কয়েকটি আসন বিধানসভায় পেয়েছে।
১৯৪৭ সালের গণভোটের আগে প্রস্তুতির সময় খুব অল্প ছিল। তবু সিলেটের মুসলিম লীগ নেতারা খুব অল্প সময়েই সংঘবদ্ধ হয়ে ওঠেন, এবং আবদুল মতিন চৌধুরীকে সভাপতি ও আইনজীবী আবদুল হাফিজকে মহাসচিব করে একটি শক্তিশালী গণভোট পরিচালনা কমিটি গঠন করেন। কংগ্রেসপন্থী জাতীয়তাবাদী কয়েকজন মুসলিম নেতা ছাড়া আর সবাই নিবেদিতপ্রাণ ও ঐক্যবদ্ধ হয়ে পরিচালনা কমিটিকে সক্রিয় সহযোগিতা প্রদান করেন। বেঙ্গল থেকেও বহু মুসলিম লীগ ও তরুণ নেতা এসে নিঃস্বার্থভাবে অক্লান্ত পরিশ্রম করেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রচিত অসমাপ্ত আত্মজীবনীতে এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ আছে।
বস্তুতপক্ষে যোগেন্দ্রনাথ মণ্ডল আইনমন্ত্রী এবং সম্ভাব্য পাকিস্তান গণপরিষদের প্রথম সম্ভাব্য সভাপতি হিসেবে অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক ও সমতাভিত্তিক সমাজ সমন্বিত পাকিস্তানের প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেন। পরবর্তীকালে যার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা জিন্নাহ ১১ আগস্ট পাকিস্তানের গণপরিষদের প্রথম সভায় দিয়েছিলেন। নিম্নবর্ণের বা তফসিলি সম্প্রদায় হিন্দুদের প্রতি মণ্ডলের মূল বক্তব্য ছিল, নিম্নবর্ণের হিন্দুরা হাজার হাজার বছর ধরে বর্ণহিন্দু কর্তৃক নিগৃহীত। তাদের সামাজিক ও ধর্মীয় অধিকার অস্বীকৃত। অথচ মুসলমানদের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক সমতা ও পারস্পরিক মর্যাদাদানের ভিত্তিতে। তাদের কাছে কে মুখার্জি আর কে মণ্ডল, কে বামুন, কে কৈবর্ত, কে কায়েত আর কে শূদ্র, তার কোনো বাছবিচার বা পার্থক্য বোধ নেই। এই আবেদন খুবই কার্যকরী হয়। বস্তুতপক্ষে পাকিস্তানের পক্ষে অমুসলমান ভোটের সংখ্যা ছিল ৫১ হাজার ৭৬৭, যা অমুসলমানদের সর্বমোট ভোট ২ লাখ ৩৫ হাজার ৮০৮-এর ২২ শতাংশ। যেহেতু সিলেটে জমিয়তে হিন্দু পার্টির লোকজন (যার দুজন প্রতিনিধি কংগ্রেসি প্রাদেশিক সরকারে ছিলেন), মাওলানা হোসেন আহমদ মাদানীর অনুসারীরা, জাতীয়তাবাদী কংগ্রেসি মুসলমানরা এবং আসামের অন্যত্র সম্পত্তির মালিক মুসলমানদের মধ্যে প্রভাবশালী কেউ কেউ ভারতে থেকে যাওয়ার পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন। বহুসংখ্যক হিন্দু ভোট না পেলে সিলেটে পাকিস্তানপন্থীদের সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়ে বিজয় অর্জন দুঃসাধ্য হয়ে দাঁড়াত। সিলেটের জনগণ মাত্র ৫৫ হাজার ৫৭৮ ভোটের ব্যবধানে পাকিস্তানে যোগদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
বিশিষ্ট কংগ্রেস নেতা বসন্ত কুমার দাস (পরবর্তীকালে পাকিস্তান সরকারের মন্ত্রী) যুগ শক্তি পত্রিকায় উল্লেখ করেছিলেন, ‘যোগেন্দ্র মণ্ডলকে সিলেটে প্রচারের জন্য প্রেরণ ছিল জিন্নাহর একটি বিশেষ চালাকি।’ পাকিস্তানের বিরোধিতায় মুসলমানদের প্রতি কংগ্রেসের যুক্তি ছিল, আসামে মুসলমানরা বিশেষ করে সিলেটিরা খুবই সুপ্রতিষ্ঠিত। গভর্নর স্যার আকবর জায়দারী, জ্যেষ্ঠতম সিভিল সার্ভেন্ট এ এন কিদোয়াই আইসিএম, চিফ ইঞ্জিনিয়ার আলী আহমদ, বহু উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা, এমনকি খাসিয়া জৈন্তা হিলসের (যার কেন্দ্র ছিল শিলং) প্রথম ভারতীয় ডেপুটি কমিশনার সৈয়দ নবাব আলী—সবাই ছিলেন মুসলমান। বিশেষ করে সিলেটি মুসলমানরা তুলনামূলকভাবে যথেষ্ট প্রতিপত্তিশালী ছিলেন। এমতাবস্থায় অনিশ্চিত এবং অপরিচিত পাকিস্তানের পক্ষে ভোট দেওয়া সিলেটের মুসলিমদের জন্য মোটেই স্বার্থানুকূল হবে না, এই ছিল তাঁদের যুক্তি। তা ছাড়া আসামে ধর্মভিত্তিক সাম্প্রদায়িকতা ছিল না। তবে অসমীয়া হিন্দুরা, বিশেষ করে মুখ্যমন্ত্রী বরদলই ও জ্যেষ্ঠ নেতা বিষ্ণুরাম মেধী (কিন্তু অপ্রকাশ্যে) চেয়েছিলেন, সিলেট পাকিস্তানে চলে যাক। তা হলেই শুধু আসাম অসমীয়া হতে পারে। না হলে আসাম হয়ে যাবে বাংলাভাষী ও মুসলিমপ্রধান। ভোটবাক্সের প্রতীক হিসেবে লীগ নেতারা ‘দ্বিতীয়ার চাঁদ’ চাইলেও দেওয়া হয় ভাঙন ও আঘাতের প্রতীক ‘কুড়াল’ এবং ভারতের পক্ষে ভোটদানের নির্ধারিত বাক্সের প্রতীক দেওয়া হয় আবেদনসিক্ত ‘কুঁড়েঘর’।
দুই প্রধান দলের সম্মতিক্রমে ভোট গ্রহণ কেন্দ্রের সংখ্যা নির্ধারণ করা হয় ২৩৯। দুই দিন (৭ ও ৮ জুলাই) ভোটের জন্য প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে দুজন প্রিসাইডিং অফিসার এবং ১ হাজার ৪৩৪ জন পোলিং অফিসার নিয়োগের ব্যবস্থা করা হয়েছিল, যা ছিল বিশেষ কষ্টকর। তা ছাড়া হিন্দু-মুসলমান সমতা রক্ষারও একটা ব্যাপার ছিল। যাহোক, এটা নিঃসন্দেহে বলা যেতে পারে যে ব্যক্তিগত তীব্র মতামত থাকা সত্ত্বেও আরোপিত দায়িত্ব সম্পাদনে কর্মকর্তারা যথাসম্ভব নিরপেক্ষতা প্রদর্শন করেন। আজকে অবিশ্বাস্য মনে হবে, জাতি-ধর্মনির্বিশেষে কোনো দরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধেই পক্ষপাতিত্ব বা দায়িত্বে অবহেলার কোনো অভিযোগ কেউ আনতে পারেনি। চার মহকুমার জন্য চারজন ব্রিটিশ মেজর পর্যায়ের সামরিক অফিসার নিয়োগ এবং সিলেটে শিখ লে. কর্নেল মহিন্দর সিংকে সিলফোর্স নামক বাহিনীর অধিনায়কত্ব দেওয়া হয়। সামগ্রিক চার্জে ছিলেন ডেপুটি কমিশনার ব্রিটিশ ডামব্রেক। এখন শুনলে অবাক লাগে, শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য ২৩৯টি ভোটকেন্দ্রের প্রতিটিতে তিনজন করে নিরস্ত্র কনস্টেবল মোতায়েন করা হয়। শুধু ‘বিপজ্জনক’ বলে চিহ্নিত ৫০টি ভোটকেন্দ্রে অতিরিক্ত একজন এনসিও এবং ছয়জন সশস্ত্র কনস্টেবল মোতায়েন করা হয়।
নির্দিষ্ট সময়সূচি অনুযায়ী ভোট গ্রহণ হয়। লে. কর্নেল পিয়ারসনের নেতৃত্বে সঠিত ভাইসরয়ের প্রতিনিধিদলের প্রতিবেদনে একে শান্তিপূর্ণ, নিরপেক্ষ এবং গ্রহণযোগ্য বলে উল্লিখিত হয় এবং তা গৃহীত হয়। গণভোটের ফলাফল ১২ জুলাই টেলিগ্রামযোগে দিল্লিতে পাঠানো হয়। সমালোচকের ভাষায় গণভোটের ফলাফলের খবর জেনে অসমীয়া মুখ্যমন্ত্রী বরদলই তাঁর আনন্দ চাপতে না পেরে বলেই ফেলেছিলেন, ‘ভালাই হৈল। সিলট চলি গৈল।’ আসাম এখন প্রকৃতপক্ষে অসমীয়াদের হওয়ার সম্ভাবনার দিগন্ত উন্মোচিত হলো। সিলেট পাকিস্তানে এবং ঘটনাপ্রবাহে বাংলাদেশে এল বটে, তবে অঙ্গহানি হয়ে। সিরিল র্যা ডক্লিফের একান্ত সচিব সম্প্রতি প্রকাশিত তাঁর স্মৃতিচারণায় মারাত্মক অভিযোগ এনেছেন, রোয়েদাদে সংযোজিত র্যা ডক্লিফের দেশ বিভাগের মানচিত্রের কিছু সূক্ষ্ম কারচুপি ভারতের আনুকূল্যে দিল্লিতে করা হয়েছিল।
যা হয়ে গেছে তা অতীত এবং পরিবর্তনাতীত। ভবিষ্যতের কাঠামো তৈরি করার জন্যই অতীতের ঘটনাবলি এবং প্রেক্ষাপটের সম্যক ধারণা থাকা প্রয়োজন। যাতে বাস্তবতার ভিত্তিতে সবকিছু বিবেচনা করে আমরা এগোতে পারি। আমাদের রাষ্ট্রীয় ও জাতীয় স্বার্থ অবশ্যই রক্ষা করতে হবে। তবে এটা নিঃসন্দেহে বলা যায়, ঐতিহাসিক দিক থেকে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে আমাদের গভীর সম্পর্ক রয়েছে, অধিকতর যোগাযোগের মাধ্যমে তাকে ফলপ্রসূ করে তোলা বাঞ্ছনীয়। এসব পদক্ষেপের ইতিবাচক প্রতিফলন অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক, রাজনৈতিক, এমনকি সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রেও অবশ্যই পড়বে।
ইনাম আহমদ চৌধুরী: অর্থনীতিবিদ ও বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা।

পাঁচ দশক পর যুক্তরাষ্ট্র-কিউবা সম্পর্ক স্বাভাবিক হলো by ম্যাথিউ লি ও পিটার ওরসি

লাল-সাদা তারকাখচিত কিউবার পতাকা তোলা হলো ওয়াশিংটনে কিউবার দূতাবাসে। গত সোমবারের এই প্রতীকী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সূচিত হলো যুক্তরাষ্ট্র ও কিউবার মধ্যকার সম্পর্কের এক নতুন স্নায়ুযুদ্ধোত্তর যুগ।
দীর্ঘ ৫০ বছরেরও বেশি সময় পর যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা এবং কিউবার মধ্যে ফেরি চলাচলের অনুমোদন দিল মার্কিন সরকার। ১৯৬০ সালে কিউবার উপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা  আরোপের পর থেকে দুই দেশের মধ্যে এই ফেরি সেবা বন্ধ  হয়ে যায়।কিন্তু ওয়াশিংটন গত বছরের ডিসেম্বর মাসে কিউবার সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুন:প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেয়। মিয়ামির ইউনাইটেড আমেরিকাস শিপিং সার্ভিসের প্রেসিডেন্ট যুসেফ হিনসন জানিয়েছেন,মার্কিন সরকার এখন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে  নিয়েছে এবং আমাদের কয়েকটি ফেরি কোম্পানীকে  লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন,”আজকের এই ঘোষণাটি একটি বড় পদক্ষেপ হয়ে থাকবে।যদি সব কিছু ঠিকটাক থাকে  তাহলে আমরা চলতি বছরের সেপ্টেম্বর নাগাদ ফেরি সেবা চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।” ফ্লোরিডার লুডারেডাল বন্দরের ফেরি পার্টনার হাভানা বলেছে, এটি একটি ঐতিহাসিক ঘটনা  ছিল জানিয়ে তাদের ফেসবুক পেজে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে ধন্যবাদ দিয়েছেন। এছাড়া তারা আরো লিখে,আমরা তার নেতৃত্বের জন্য গর্ববোধ করছি। সূত্র:বিবিসি
দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র ও কিউবার মধ্যে পূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্কের পুনরুজ্জীবন ২০ জুলাই থেকে কার্যকর হয়। রোববার দিবাগত মধ্যরাতে তা কার্যকর হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরে অনুষ্ঠিত ওই পতাকা উত্তোলন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ। মধ্যরাতে পূর্ণাঙ্গ কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের কয়েক ঘণ্টা পর এই অনুষ্ঠান হয়। দেশ দুটির মধ্যে ঐকমত্য হয়েছিল, ২০ জুলাই স্বাভাবিক সম্পর্ক পুনরায় শুরু হবে, এর মধ্য দিয়ে তা কার্যকর হলো। তার আগে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের লবিতে কোনো আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই কিউবার পতাকা তোলা হয়েছে, যেসব দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সম্পর্ক আছে, সেসব দেশের পতাকাগুলোর পাশাপাশি। আর ওয়াশিংটন ও হাভানায় যুক্তরাষ্ট্র ও কিউবার কূটনীতিকেরা সামাজিক মাধ্যমে এ নিয়ে যত পোস্ট দেওয়া হয়েছে ও তার হালনাগাদ এসেছে, সেগুলো টুকে রেখেছেন। দূতাবাসের বাইরে কয়েক শ মানুষ জড়ো হয়েছিল। কিউবার জাতীয় সংগীত বাজানো হলে তারা হর্ষধ্বনি দিয়েছে। তিনজন উর্দিপরা কিউবান সেনা পতাকা দণ্ডের সামনে দাঁড়িয়ে পতাকা তোলেন।
সেই ১৯৬১ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও কিউবার কূটনৈতিক সম্পর্কে ছেদ পড়ে। তবে ১৯৭০ সাল থেকে দেশ দুটির রাজধানীতে অন্য দেশের সার্ভিস ইন্টারেস্টস সেকশনের সীমিত উপস্থিতি ছিল। আর এখন তা পূর্ণাঙ্গ দূতাবাসে পরিণত হওয়ায় পাঁচ দশকের অনুসৃত মার্কিন নীতির অবসান ঘটল। আমেরিকা মহাদেশে সোভিয়েত সম্প্রসারণের অভিযোগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি কিউবার তরুণ বিপ্লবী ফিদেল কাস্ত্রোর সঙ্গে ঝামেলায় জড়িয়ে পড়লে যুক্তরাষ্ট্র এ নীতি গ্রহণ করে।
মধ্যরাতের কিছুক্ষণ পরই ওয়াশিংটনে কিউবার ইন্টারেস্টস সেকশন তাদের টুইটার অ্যাকাউন্টে ‘দূতাবাস’ লেখে। আর হাভানায় মার্কিন ইন্টারেস্টস সেকশন তাদের ফেসবুক ও টুইটার অ্যাকাউন্টের প্রোফাইল ছবি হালনাগাদ করে পোস্ট করে মার্কিন দূতাবাস, কিউবা। আর হাভানায় মার্কিন মিশনের উপপ্রধান কনরাড ট্রিবল টুইট করেন, ‘এইমাত্র হাভানার মার্কিন দূতাবাস থেকে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের অপস সেন্টারে প্রথম ফোন করলাম। ১৯৬১ সালের জানুয়ারি মাসে এই ব্যবস্থা ছিল না।’
যদিও দেশ দুটির মধ্যকার সম্পর্কের ক্ষেত্রে স্বাভাবিকীকরণের ব্যাপারটা এখন কেন্দ্রীয়, তা সত্ত্বেও তাদের মধ্যকার আদর্শিক পার্থক্য যোজন যোজন। আর অনেক বিষয়েরই সমাধান এখনো হয়নি। এর মধ্যে রয়েছে উভয় পক্ষের অর্থনৈতিক ক্ষতিপূরণের দাবি নিয়ে কণ্টকিত বিতর্ক, ৫৩ বছরের বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে হাভানার জোরারোপ। আবার যুক্তরাষ্ট্র দাবি করছে, কিউবার গণতন্ত্র ও মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নয়ন করতে হবে। কিন্তু রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থীসহ কয়েকজন মার্কিন আইনজীবী প্রতিজ্ঞা করেছেন, এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে না। আর কিউবার ব্যাপারে ওবামা যা যা করেছেন, সেখান থেকেও তাঁরা পিছু হটবেন বলেও জানিয়েছেন। তবে এ ঘটনার মধ্য দিয়ে এই কমিউনিস্ট দ্বীপরাষ্ট্রটির ব্যাপারে ওবামার নেতৃত্বাধীন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নীতির লক্ষণীয় পরিবর্তন হলো। ওবামা প্রথমবার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই কিউবার সঙ্গে ঐকমত্যে আসতে চাচ্ছিলেন, ধীরে ধীরে তিনি এই দ্বীপরাষ্ট্রে ভ্রমণ ও রেমিট্যান্স পাঠানোর ওপর বিধিনিষেধের গেরো আলগা করেছেন।
কিন্তু কিউবা গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ইউএস এজেন্সি ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টের কনট্রাক্টর অ্যালন গ্রসকে আটক করে রাখায় অনেক দিন ধরেই ওবামার উদ্যোগ সফল হচ্ছিল না। কয়েক মাসের গোপন আলোচনার পর গ্রসসহ কয়েকজন রাজনৈতিক বন্দীকে কিউবা গত ডিসেম্বরে মুক্তি দেয়। এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে সাজাপ্রাপ্ত কিউবার স্পাই রিঙের অবশিষ্ট সদস্যরাও মুক্তি পান। এরপর ১৭ ডিসেম্বর ওবামা ও রাউল কাস্ত্রো ঘোষণা দেন, দেশ দুটির মধ্যকার পূর্ণাঙ্গ কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনরায় শুরু হবে।
ওবামা কিউবা–বিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের নীতিকে ব্যর্থ আখ্যা দিয়ে বলেছেন, এতে কোনো অভীষ্ট অর্জন করা সম্ভব হয়নি। তিনি আরও বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র একই কাজ করে যাবে, আবার ফলও প্রত্যাশা করবে, তা হয় না। সে কারণেই তিনি বলেন, সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের প্রক্রিয়া দ্রুতগতিতে শুরু হবে। তবে যুক্তরাষ্ট্র কিউবাকে সন্ত্রাসের মদদদাতা রাষ্ট্রের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার আগ পর্যন্ত এ প্রক্রিয়া ধীরগতিতেই চলেছে। ১ জুলাই এসব বিষয়ের সুরাহা হওয়ায় দেশ দুটি কূটনৈতিক নোট চালাচালি শুরু করে। আর ঠিক হয়, ২০ জুলাই কূটনৈতিক সম্পর্ক পূর্ণাঙ্গরূপে পুনরুজ্জীবিত হবে।
১৬ স্ট্রিট ম্যানশনের দৃষ্টিনন্দন ভবনে সোমবারের ওই পতাকা উত্তোলন অনুষ্ঠানে কিউবা থেকে ৫০০ অতিথি এসেছিলেন। এর মধ্যে ছিল ৩০ সদস্যের কূটনীতিক, সাংস্কৃতিক ও অন্যান্য নেতা। সেখানে এত দিন সুইস দূতাবাসের অর্থানুকূল্যে ইন্টারেস্টস সেকশনের কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।
যদিও সোমবারের পতাকা উত্তোলন অনুষ্ঠানের শান শওকত হাভানায় মার্কিন সার্ভিস ইন্টারেস্টস সেকশনের চোখে পড়বে না, তা সত্ত্বেও সেখানকার শ্রমিকেরা মার্কিন কার্যালয়ের বাইরের দেয়াল ফুটো করে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা প্রতীকী চিহ্নসংবলিত কাগজ ঝুলিয়ে দিয়েছে। তারা নতুন বিজনেস কার্ড ও লেটারহেডে ‘দূতাবাস’ শব্দটি ছাপিয়ে সেই দেয়ালে ঝুলিয়ে দিয়েছে, ‘ইন্টারেস্টস সেকশন’ লেখেনি তারা। হাভানার সমুদ্রমুখী ম্যালকন বুলভার্ডে কাচের ছয়তলা ভবনটির বাইরে এতকাল পতাকার খুঁটিটি নিঃসঙ্গ দাঁড়িয়ে ছিল, সেই ভবনটি এখন সংস্কার করা হয়েছে, সেখানে বাঁধানো হাঁটাপথও বানানো হয়েছে।
গত সোমবারের আগের সপ্তাহের প্রতিটি দিন কর্মীরা দিনটি কবে আসবে, তার প্রহর গুনেছেন। কার্যালয়ের বেড়ায় তাঁরা হাতে আঁকা প্রতীকী চিহ্নসংবলিত কাগজ ঝুলিয়েছেন। স্প্যানিশ ভাষায় তাঁরা যা লিখেছেন, তার অর্থ দাঁড়ায় এ রকম: ‘ছয় দিনের মধ্যে আমরা দূতাবাস হব!’ আরও কত কী।
ইংরেজি থেকে অনুবাদ: প্রতীক বর্ধন; দ্য হাফিংটন পোস্ট থেকে নেওয়া
ম্যাথিউ লি: সাংবাদিক ও লেখক; পিটার ওরসি: সাংবাদিক।

বিজ্ঞান গবেষণায় আমরা কেন পিছিয়ে আছি by এস এম মুজিবুর রহমান

২০১৫-১৬ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট নিয়ে নানা পর্যায়ে আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে, হচ্ছে ও ভবিষ্যতেও হবে। কিন্তু আমাদের আলোচনার বিষয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। গত ২৯ জুন প্রথম আলোর সম্পাদকীয়র শিরোনাম ছিল: ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট’। এতে বলা হয়েছে ১০০-এর কাছাকাছি বিভাগ ও ইনস্টিটিউশনের গবেষণার জন্য ধরা হয়েছে মাত্র সাড়ে চার কোটি টাকা, যা কি না পুরো বাজেটের ১ শতাংশ মাত্র। টাকার এই পরিমাণটা শুধু অপ্রতুলই নয়, একধরনের মশকরা আরকি! প্রাচ্যের অক্সফোর্ড নাম শুনলে যাঁরা খােমাখাই উদ্বেলিত হন, তাঁরাও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা বাজেটে খুবই মনঃক্ষুণ্ন² হবেন। যেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা বাজেটের এই করুণ অবস্থা, সেখানে বাংলাদেশের অন্যান্য সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থাটা কেমন হতে পারে সেটা সহজেই অনুমেয়। আর প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণা বাজেট প্রসঙ্গ না তোলাই ভালো।
‘বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল উদ্দেশ্য ডিগ্রি দেওয়া নয়, বরং জ্ঞান সৃষ্টি, নিরন্তর অনুশীলন গবেষণা’ এই লাইনটির সঙ্গে দ্বিমত পোষণের উপায় নেই। তবে গবেষণা বাজেটের পরিমাণ দেখে মনে হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে আসলেই শুধু ডিগ্রি দেওয়া, সৃজনশীল গবেষণা নয়। এই ধারণা মিথ্যা হলে আমি খুবই খুশি হতাম, কিন্তু সেটা হওয়ার নয়। যাক এবার একটি আনুমানিক সংখ্যায়নে আসা যাক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা বাজেট চার কোটি টাকা ও অন্যান্য সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা বাজেট ২ দশমিক ৫ কোটি টাকা হলে দেশের সর্বমোট ৩৭টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট হবে মাত্র ১২ মিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা শ্বেতহস্তী বাংলাদেশ পারমাণবিক শক্তি কমিশন ও বিসিএসআইআরসহ অন্যান্য খুচরা গবেষণা প্রতিষ্ঠানের গবেষণা ও উন্নয়ন বাজেট ৪৮ মিলিয়ন ডলার হলে বাংলাদেশের সর্বমোট গবেষণা বাজেট হবে ৬০ মিলিয়ন ডলার। এখন LHps://em.wikipedia.org/wiki থেকে নেওয়া একটি উপাত্ত থেকে কয়েকটি দেশের তালিকায় নমুনা তুলে দিচ্ছি; এই তালিকায় ১০০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের কোনো স্থান নেই!
এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান একটি লজ্জাজনক অবস্থায় আছে।
আজ বাংলাদেশ নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশের তালিকায় স্থান পেয়েছে, এটা আমাদের সবার জন্যই কিছুটা হলেও আনন্দের। তবে গড় আয় আমাদের মতো দরিদ্র দেশগুলোতে অনেকটাই শুভংকরের ফাঁকি বলে ধারণা করি। স্বল্পসংখ্যক ধনী মানুষের আয় আর বিশালসংখ্যক দরিদ্রের আয় গড় হিসাবে চালানোতে বড় ধরনের একটা ফাঁক থেকেই যায়। আমি মনে-প্রাণে বিশ্বাস করি, আজ ১ টাকা গবেষণা ও উন্নয়নে ব্যয় করলে আগামী দিনে ১০ টাকার সংস্থান হবে। আমাদের রাজনৈতিক নেতৃত্ব, যাঁরা আমাদের আগামী দিনের পরিকল্পনা তৈরি করেন, তাঁদের বোধের ওপরই নির্ভর করে আমাদের সার্বিক উন্নয়ন।
বাংলাদেশে মেধাবী লোকবলের অভাব নেই। মেধাবী এই লোকবলকে সঠিকভাবে ব্যবহার করলে মধ্যম আয়ের দেশ হতে আমাদের খুব বেশি সময় লাগবে না, অন্যথায় এটা একটা ফাঁপা স্লোগান হয়েই থাকবে।
প্রসঙ্গত, আমাদের নিকটতম প্রতিবেশী ভারতের উদাহরণ দিই (এটা অনুমান করার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই যে ভারত সব দিক দিয়ে আমাদের চেয়ে এগিয়ে আছে, বরং এর কয়েকটি রাজ্যের তুলনায় বাংলাদেশ সব দিক দিয়েই এগিয়ে আছে)। স্বাধীনতা লাভের বহু বছর আগে থেকেই তৎকালীন কংগ্রেস দলীয় ভিত্তিতেই ‘প্ল্যানিং কমিটি’ নামে একটি কমিটি গঠন করে, যা তাদের স্বাধীনতার পর ‘প্ল্যানিং কমিশন’-এ রূপ নেয়। ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগেই উল্লিখিত প্ল্যানিং কমিটির মাধ্যমে নেহরু মোটামুটিভাবে ভারতের ভবিষ্যৎ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির একটি রূপরেখা ঠিক করে রেখেছিলেন। উল্লেখ্য, ওই কমিটিতে তৎকালীন ভারতের নামকরা পণ্ডিত ব্যক্তিত্বদের আধিক্য ছিল, আমলাদের স্থান প্রায় ছিলই না বলা যায়। যতটা জানা যায়, ভবিষ্যৎ এই রূপকল্পে বিজ্ঞানের গবেষণা ও উন্নয়নে: (ক) ভারতের পারমাণবিক কমিশন গঠন ও এর কার্যক্রম চিহ্নিতকরণ, (খ) আইআইটিগুলোর রূপকল্প তৈরি করা, (গ) খাদ্যে ভারতের স্বনির্ভরতা অর্জন ও (ঘ) বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে গবেষণা ও উন্নয়ন রূপকল্পের একটা কাঠামো তৈরি করা। তৃতীয় বিশ্বের একটি উদাহরণ হিসেবে ভারতকেই নেওয়া যেত পারে, যার উন্নয়নে বিজ্ঞান গবেষণা একটি বড় ভূমিকা রেখেছে। বছর কয়েক আগে জাপানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে তথ্যপ্রযুক্তির চুক্তি করতে গিয়ে অকপটে বলেছেন, ভারতের সফট ও জাপানের হার্ডওয়্যারের মিলন হলে আমরা অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারব। আজ থেকে ৭০ বছর আগে ভারতের রাজনৈতিক দূরদর্শিতা বিশ্বপ্রযুক্তিতে একটি প্রজ্ঞাবান রূপকল্পের জন্ম দেয়, যার ফল ভারত আজ ভোগ করছে।
বাংলাদেশ প্রসঙ্গে ফিরে আসি। প্রায় সাড়ে ৩৮ বিলিয়ন ডলারের এক বড় আকারের বাজেট দিয়েছে বাংলাদেশ ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরের জন্য। নিম্ন মধ্যম আয়ের বাংলাদেশে এই বাজেট নিতান্ত কম নয়। তবে গবেষণা ও উন্নয়নে এই বাজেটের শতকরা কত অংশ ধরা হয়েছে তার সঠিক হিসাব আমার জানা নেই, তবে আমরা এই লেখার গোড়ার দিকে উল্লিখিত তা যদি ৬০ মিলিয়ন ডলার হয়ে থাকে, তবে ৩৮ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের এই বাজেটের একেবারেই নগণ্য অংশ সেটা। আর ১৫০ বিলিয়ন জিডিপির তুলনায় তা প্রায় শূন্যের কাছাকাছি!
আমরা জানি, নিম্ন মধ্যম আয়ের এই বাংলাদেশে স্বাভাবিক কারণেই আমাদের নুন আনতে পান্তা ফুরায়। এমন কঠিন বাস্তবতার মধ্যে আমাদের ঠিক করতে হবে আগামী দিনের বাংলাদেশ কোন দিকে যাবে। ২০১৫ সাল শেষ হওয়ার আগেই আমাদের আগামী দিনের রূপকল্পে যেসব বিষয় বিবেচনায় আনতে হবে তা হলো: (ক) বায়বীয় অর্থে নয়, যথার্থেই খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার লক্ষ্যে আয়ের উন্নত মানের কৃষি গবেষণা চালু করতে হবে। সাম্প্রতিক কালে পত্রপত্রিকায় পচা গমের খবরে এই সত্যই প্রতিষ্ঠিত হয় যে, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ এখনো আমরা হইনি। গোলাভরা ধানের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে হলে কৃষি, মৎস্য ও আমিষ খাবারের উৎপাদন যথার্থই বাড়াতে হবে উন্নত মানের গবেষণা ও উন্নয়নের মাধ্যমে। (খ) বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের অবস্থা ততটা ভালো নয়, যতটা আমরা প্রচার করি। বিশেষ করে বিদ্যুতের জন্য পারমাণবিক শক্তির বিকল্প দেখি না। সৌরবিদ্যুৎ, বায়ুবিদ্যুৎ—এসব একান্তই জোড়াতালি, এগুলো দিয়ে ১৬০ মিলিয়ন মানুষের চাহিদা পূরণ হবে না। কাজেই পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য আমাদের দক্ষ জনবল চাই। এই দক্ষ জনবল ও প্রযুক্তি ধার করে চলবে না, তা তৈরি করতে হবে আমাদেরই। কিন্তু এই জনবল ও প্রযুক্তি সৃষ্টির কোনো রূপকল্প আমাদের আছে কি? আমাদের বড় আকারের বাজেটে আছে কি তার জন্য কোনো বরাদ্দ? (গ) স্বাধীনতার প্রায় ৪৪ বছর পরও বাংলাদেশের একশ্রেণির মানুষ হাঁচি-কাশির চিকিৎসার জন্য উড়ে যাচ্ছেন ব্যাংকক-সিঙ্গাপুর। কেন আমরা পারিনি চিকিৎসাক্ষেত্রে দক্ষ জনবল তৈরি করতে? গবেষণা-উন্নয়নে কী পরিমাণ বাজেট ধরা আছে চিকিৎসাক্ষেত্রে? সরকারের উচ্চপর্যায়ের ও উচ্চ আয়ের মানুষেরা যেখানে উচ্চমূল্যে বিদেশে সুচিকিৎসা পাচ্ছেন, সেখানে সাধারণ মানুষের কথাও ভাবতে হবে। (ঘ) ৫০ বছর আগে ভারত তাদের আইআইটিগুলো চালু করে যে রাজনৈতিক প্রজ্ঞার পরিচয় রেখেছে, আজ তার ফল তারা পাচ্ছে। ভারতের আইআইটি ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এমআইটির গ্র্যাজুয়েটদের প্রায় এক পাল্লায় মাপা হচ্ছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৪৪ বছর পার হওয়ার পরও কি আমাদের এই রাজনৈতিক প্রজ্ঞার উদয় হবে না? (ঙ) আজ বাংলাদেশে ৩৭টি সরকারি ও ষাটেরও বেশি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। আমরা ধরে নিই, আমার উল্লিখিত (ক থেকে ঘ) বিষয়ে গবেষণা ও উন্নয়নের মূল ভূমি হলো বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। সেই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর তরুণ ও প্রবীণ গবেষকদের একটি মিলনক্ষেত্র কি ‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি’ (এনআইএসটি) নামের বহুমুখী গবেষণাগার করা যায় না, যেখানে গবেষকেরা আসবেন, প্রশিক্ষণ নেবেন ও দেবেন বছরব্যাপী? ইতালির ত্রিয়েস্তে শহরে আজ থেকে প্রায় ৫০ বছর আগে অধ্যাপক আবদুস সালাম বিজ্ঞানের বিশেষ শাখায় গবেষকদের যে মিলনক্ষেত্র তৈরি করে দিয়েছেন, তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলো আজ তার সুফল পাচ্ছে। একই রূপকল্পে সদিচ্ছা থাকলে আমরাও পারি জাতীয় পর্যায়ে এমন একটি প্রতিষ্ঠান করতে, যা আমাদের ভবিষ্যতের বাংলাদেশকে বিজ্ঞান গবেষণায় এগিয়ে নেবে।
আমি মনে-প্রাণে বিশ্বাস করি, বাংলাদেশে মেধাবী লোকবলের অভাব নেই। মেধাবী এই লোকবলকে সঠিকভাবে ব্যবহার করলে মধ্যম আয়ের দেশ হতে আমাদের খুব বেশি সময় লাগবে না, অন্যথায় এটা একটা ফাঁপা স্লোগান হয়েই থাকবে।
এস এম মুজিবুর রহমান: অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ, সুলতান কাবুস বিশ্ববিদ্যালয়, মাসকাট, ওমান।

সীমান্তের বিস্তীর্ণ অংশ ধুয়েমুছে একাকার বন্যার পানিতে

ভারতের আসামে বন্যা পরিস্থিতির অবনতির সাথে সাথে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের একটা বিস্তীর্ণ অংশ ধুয়েমুছে একাকার হয়ে গেছে। ধুবড়ির জেলা প্রশাসন ও সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর পক্ষ থেকে বিবিসিকে নিশ্চিত করা হয়েছে যে ওই জেলার বেশির ভাগ সীমান্ত-চৌকিই এখন পানির তলায়, ফলে বিএসএফ জওয়ানরা নৌকা-লঞ্চ বা কাছাকাছি উঁচু জায়গায় সরে যেতে বাধ্য হয়েছেন। ব্রহ্মপুত্রর পানি ক্রমাগতই বাড়ছে, ফলে ধুবড়ির নদী ও স্থল-সীমান্তে পরিস্থিতি খুব তাড়াতাড়ি স্বাভাবিক হওয়ার আশাও দেখা যাচ্ছে না। আসামের ধুবড়ি জেলায় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত মোট ১৩২ কিলোমিটার লম্বা, যার আবার প্রায় অর্ধেকটাই রিভারাইন বা নদী-সীমান্ত। বিশাল ব্রহ্মপুত্র নদী এই ধুবড়িতেই সীমান্ত পেরিয়ে ওপারে বাংলাদেশের কুড়িগ্রামে ঢুকেছে – আর এখন এই গোটা সীমান্ত এলাকাটাই প্রায় বন্যার পানিতে প্লাবিত।
সীমান্তে মোতায়েন ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বা বিএসএফের ১৭ ব্যাটেলিয়নের কমান্ডান্ট বি বি সিধরা বিবিসি-কে জানান, ‘ব্রহ্মপুত্রর পানি এখন বিপদসীমার ১ মিটার ওপর দিয়ে বইছে। আর অধিকাংশ সীমান্ত-চৌকিই এখন পুরোপুরি পানির নিচে ডুবে গেছে। ফলে অন্য বিকল্প ব্যবস্থা করে আমাদের জওয়ানদের লঞ্চ বা বড় নৌকার ওপর সরিয়ে নিতে হয়েছে।’
‘তবে সীমান্ত ছেড়ে যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না, তাই কাছাকাছি উঁচু জায়গা থেকে জওয়ানরা সীমান্তে নজর রাখছেন। যদিও এই রুটে চোরাচালান বা অনুপ্রবেশের অনেক চেষ্টা হয়ে থাকে, তার পরেও জল এখন এতটাই উঁচু যে মানুষ এই অবস্থায় সীমান্ত পেরোনোর সাহস পাবে না বলেই আমাদের ধারণা’, বলছিলেন তিনি।
সীমান্ত থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার ভেতরে পর্যন্ত এলাকায় আইন-শৃঙ্খলাও বিএসএফের দায়িত্বে, বাকিটা রাজ্য পুলিশের।
কিন্তু পানিতে পুরো এলাকা ভেসে যাওয়ায় এখন সে সব এলাকা-ভেদেরও আর অস্তিত্ব নেই।
ধুবড়ি জেলার পুলিশ সুপার দিগন্ত বোরা বলেন, ওই অঞ্চলের ভৌগলিক চরিত্রের কারণেই সীমান্তে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
জেলার পুলিশ প্রধান আরো বলেন, ‘তার পরেও আমি বলব, বন্যা হলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়নি। কয়েকটা গ্রামে বন্যার প্রভাব নিশ্চয় পড়েছে, তবে বহু মানুষ এখন নিজেদের বাড়িঘরেই আছেন।’
ওদিকে চৌকি-ছেড়ে চলে আসা সীমান্তরক্ষীদের জীবন যে বন্যায় দুর্বিষহ হয়ে উঠছে, সে কথা স্বীকার করছেন বিএসএফ কর্মকর্তারাও। ফলে সীমান্ত-পাহারার কাজ যে স্বাভাবিকভাবে চলতে পারছে না সেটাও বলার অপেক্ষা রাখে না।
কমান্ডান্ট সিধরা আরো বলেন, ‘জওয়ানদের জন্য এখন নৌকা বা লঞ্চের ওপরই কোনোমতে রান্নাবান্না করতে হচ্ছে। বোতলে ভরা খাবার পানি, এমন কী রান্নার পানিও জলপথে নিয়ে আসতে হচ্ছে ধুবড়ি শহর থেকে। কেউ কেউ অসুস্থও হয়ে পড়ছেন।’
এখন যতদিন না সেই বৃষ্টির পরিমাণ কমে বা ব্রহ্মপুত্রর পানি বিপদসীমার নিচে নেমে আসে, ততদিন ধুবড়ি জেলার বিস্তীর্ণ একটা অংশে আন্তর্জাতিক সীমান্ত থাকা না-থাকা কার্যত সমান হয়ে দাঁড়িয়েছে। সূত্র : বিবিসি

তারেকের পক্ষে লড়বেন ঢাকা বারের পাঁচ আইনজীবী!

আলোচিত সাত খুন মামলার অন্যতম আসামি র‌্যাবের সাবেক কর্মকর্তা লে. কর্নেল (অব্যাহতিপ্রাপ্ত) তারেক সাঈদের পক্ষে মামলা লড়তে চান ঢাকা আইনজীবী সমিতির পাঁচ সদস্য। রোববার তারা নারায়ণগঞ্জের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম এ এইচ এম শফিকুল ইসলামের আদালতে  এ-সংক্রান্ত একটি আবেদন করেন। নিয়মিত হাজিরার অংশ হিসেবে আসামিদের রোববার আদালতে আনার পর ঢাকা বারের সদস্য সারোয়ার মিয়া, আজিজুল হক ভূঁইয়া, আবদুস সালাম, এ এস এম দেলোয়ার হোসেন ও মৌসুমী আবেদনটি করেন। আদালত থেকে বের হয়ে আইনজীবী সারোয়ার মিয়া বলেন, “আদালতকে আমরা বলেছি, এ ঘটনায় নিহতদের মধ্যে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে নারায়ণগঞ্জের একজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী রয়েছেন। এ কারণে নারায়ণগঞ্জ বার থেকে কোনো আইনজীবী এ মামলায় কোনো আসামির পক্ষে আদালতে না দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। কিন্তু সংবিধান অনুযায়ী, প্রত্যেক ব্যক্তিরই আইনি লড়াইয়ের জন্য আইনজীবী নিয়োগের অধিকার রয়েছে। আমরা নারায়ণগঞ্জ বার থেকে একজন আইনজীবীকে আমাদের সঙ্গে অংশ নিতে বলেছি। আদালত আমাদের আশ্বস্ত করেছেন। পরবর্তী শুনানির দিন আগামী ৭ অক্টোবর শুনানিতে অংশ নিয়ে আমরা আসামি তারেক সাঈদের পক্ষে জামিনের আবেদন করব। এ ছাড়া আমরা আদালতে নকল তোলার জন্য আবেদন করেছি।” এদিকে নিয়মিত হাজিরার সময় তারেক সাঈদ আদালতকে বলেন, নারায়ণগঞ্জ বারের সভাপতি বাদীপক্ষের আইনজীবী। তার কারণে আইনি লড়াইয়ের জন্য তিনি কোনো আইনজীবী নিয়োগ করতে পারছেন না। এ ব্যাপারে মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ওই আইনজীবীরা আদালতে আবেদন দিলেও কোনো ওকালতনামা দাখিল করেননি। আর নারায়ণগঞ্জ আইনজীবী সমিতির বিরুদ্ধে তারা যে অভিযোগ করছেন, সেটিও সত্য নয়। তারা যে কাউকে আইনজীবী হিসেবে নিয়োগ দিতে পারেন। কিন্তু আইনজীবী নিয়োগ না দিয়ে বিভিন্ন ধরনের বক্তব্য দেয়ার কোনো কারণ নেই। সাখাওয়াত হোসেন অভিযোগ করেন, আসামিপক্ষ মামলাটি নারায়ণগঞ্জ আদালত থেকে অন্যত্র বদলি করার জন্য এবং বিশেষ সুবিধা পাওয়ার জন্য বিভিন্ন তৎপরতা শুরু করেছেন। মামলার পলাতক ১৩ আসামির মালামাল ক্রোকের জন্য আদালত পুলিশকে নির্দেশ দিলেও আটজনের মালামাল ক্রোক করা হয়েছে। গত তিন মাসেও বাকি আসামিদের মালামাল ক্রোক না করায় তিনি পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। ঠিকানা শনাক্ত না হওয়ায় বাকি পাঁচজনের মালামাল ক্রোক করা সম্ভব হয়নি বলে পুলিশ রোববার জানালে আদালত দ্রুত শনাক্ত করে তাদের মালামালও ক্রোক করার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে হাজিরা দেয়া আসামিদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। গত ২৭ এপ্রিল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংকরোডের ফতুল্লার শিবু মার্কেট এলাকা থেকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের তৎকালীন কাউন্সিলর নজরুল ইসলামসহ সাতজনকে অপহরণ করা হয়। এর তিন দিন পর শীতলক্ষ্যা নদীতে তাদের লাশ পাওয়া যায়। এই ঘটনায় নিহত নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি বাদী হয়ে একটি ও আইনজীবী চন্দন সরকারের জামাতা বিজয় কুমার পাল বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় আরেকটি মামলা করেন। গত ৯ এপ্রিল মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ মণ্ডল আদালতে নূর হোসেন, র‌্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তা লে. কর্নেল (অব্যাহতিপ্রাপ্ত) তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, মেজর (অব্যাহতিপ্রাপ্ত) আরিফ হোসেন ও লে. কমান্ডার (অব্যাহতিপ্রাপ্ত) এম এম রানাসহ ৩৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলার ৩৫ আসামির মধ্যে ২২ জন কারাগারে রয়েছেন। বাকি ১৩ জন পলাতক।

হাসিমুখে শরণার্থীদের ঘরে তুলল অস্ট্রিয়া-জার্মানি

সীমান্ত পেরিয়ে আসা হাজারো শরর্ণাথী ও অভিবাসন প্রত্যাশীদের হাসিমুখে ঘরে তুলে নিচ্ছে অস্ট্রিয়া ও জার্মানি। অস্ট্রিয়ায় ঢোকার পর স্বেচ্ছাসেবীরা তাঁদের স্বাগত জানান। সেখান থেকেই তাঁদের ভিয়েনা ও জার্মানির দক্ষিণাঞ্চলের মিউনিখে পাঠানো হয়।
বুদাপেস্ট থেকে ট্রেনে সিরীয় শরণার্থীরা স্থানীয় সময় আজ রোববার সকালে জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট পৌঁছান। এ সময় স্টেশনে তাঁদের স্বাগত জানাচ্ছেন শুভাকাঙ্ক্ষীরা। ছবি: রয়টার্স
বুদাপেস্ট থেকে ট্রেনে সিরীয় শরণার্থীরা স্থানীয় সময় আজ রোববার সকালে জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট পৌঁছান। এ সময় স্টেশনে তাঁদের স্বাগত জানাচ্ছেন শুভাকাঙ্ক্ষীরা। ছবি: রয়টার্স
ফ্রাঙ্কফুর্ট স্টেশনে বেলুন হাতে সিরিয়ার এক শরণার্থী শিশু। বেলুন দিয়ে তাকে সেখানে স্বাগত জানিয়েছেন শুভাকাঙ্ক্ষীরা। ছবি: রয়টার্স
ফ্রাঙ্কফুর্ট স্টেশনে বেলুন হাতে সিরিয়ার এক শরণার্থী শিশু। বেলুন দিয়ে তাকে সেখানে স্বাগত জানিয়েছেন শুভাকাঙ্ক্ষীরা। ছবি: রয়টার্স
স্থানীয় সময় গতকাল শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রায় ১০ হাজার অভিবাসন প্রত্যাশী অস্ট্রিয়ায় পৌঁছেছে। তবে তাঁদের ঢোকার ব্যাপারে কোনো বিধিনিষেধ আরোপ করেনি অস্ট্রিয়া।
অস্ট্রিয়ার ভিয়েনার একটি রেলস্টেশনে বাবল নিয়ে খেলছে সিরিয়ার কোবানি থেকে আসা এক শিশু। ছবি: রয়টার্স
অস্ট্রিয়ার ভিয়েনার একটি রেলস্টেশনে বাবল নিয়ে খেলছে সিরিয়ার কোবানি থেকে আসা এক শিশু। ছবি: রয়টার্স
বিপন্ন এই মানুষগুলোকে সাদরে বরণ করেছে জার্মানিও। দেশটির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা ম্যার্কেল বলেন, কোনো ধরনের শর্ত ছাড়াই জার্মানি তাঁদের দেশে ঢুকতে দেবে। তবে জার্মানি ও হাঙ্গেরি এও বলেছে অভিবাসন প্রত্যাশীদের নিয়ে মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি হওয়ায় সীমান্ত খুলে দেওয়া হয়েছে। এটি একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা। এরপরে আশ্রয়ের জন্য তাঁদের আবেদন করতে হবে।
বুদাপেস্ট থেকে ট্রেনে করে জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট যাচ্ছেন সিরীয় শরণার্থীরা। শীত থেকে বাঁচতে শুভাকাঙ্ক্ষীরা তাঁদের গরম কাপড় দিচ্ছেন। ছবি: রয়টার্স
বুদাপেস্ট থেকে ট্রেনে করে জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট যাচ্ছেন সিরীয় শরণার্থীরা। শীত থেকে বাঁচতে শুভাকাঙ্ক্ষীরা তাঁদের গরম কাপড় দিচ্ছেন। ছবি: রয়টার্স
ভিয়েনা যাওয়ার পথে ট্রেনে শিশুকে নিয়ে ঘুমিয়ে আছেন এক অভিবাসনপ্রত্যাশী মা। ছবি: রয়টার্স
ভিয়েনা যাওয়ার পথে ট্রেনে শিশুকে নিয়ে ঘুমিয়ে আছেন এক অভিবাসনপ্রত্যাশী মা। ছবি: রয়টার্স
গতকাল হাঙ্গেরি বাসে করে অভিবাসন প্রত্যাশীদের অস্ট্রিয়া পাঠানোর বন্দোবস্ত করে। এর আগে কয়েক দিন ধরেই বুদাপেস্টের স্টেশনে অপেক্ষায় ছিলেন অভিবাসনপ্রত্যাশীরা। তাঁদের সেখানে দিনের পর দিন অপেক্ষায় থাকতে হয়। ইউরোপগামী ট্রেনে উঠতে বাধা দেওয়ায় দেশটির কর্মকর্তাদের সঙ্গে কয়েক দফা হাতাহাতিও হয়। সিরীয় শরণার্থী আয়লানের নিথর দেহ তুরস্কের সাগরতীরে ভেসে আসার পর ইউরোপের অভিবাসন নীতি নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। এরপরই হাঙ্গেরি অবস্থান বদলায়। অস্ট্রিয়া ও জার্মানিও তাঁদের স্বাগত জানায়।
জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট একটি রেলস্টেশনে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের জন্য বিভিন্ন আকারের জুতো রাখা হয়েছে। ট্রেন থেকে নেমে যাতে অসুবিধায় না পড়েন তাই এ ব্যবস্থা। ছবি: রয়টার্স
জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট একটি রেলস্টেশনে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের জন্য বিভিন্ন আকারের জুতো রাখা হয়েছে। ট্রেন থেকে নেমে যাতে অসুবিধায় না পড়েন তাই এ ব্যবস্থা। ছবি: রয়টার্স