Wednesday, April 15, 2026

মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্যবস্তু বানাতে চীনের গোয়েন্দা স্যাটেলাইট ব্যবহার করেছে ইরান: ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস

ইরান গোপনে একটি চীনা গোয়েন্দা স্যাটেলাইট সংগ্রহ করেছে। এর মাধ্যমে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলা যুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্যবস্তু বানানোর এক নতুন সক্ষমতা অর্জন করেছে দেশটি।

ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস (এফটি) আজ বুধবার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।

প্রতিবেদনটিতে ফাঁস হওয়া ইরানি সামরিক নথির বরাতে বলা হয়েছে, ‘টিইই–০১বি’ নামের এই স্যাটেলাইট চীনা কোম্পানি ‘আর্থ আই’ তৈরি ও উৎক্ষেপণ করেছিল।

চীন স্যাটেলাইটটি মহাকাশে পাঠানোর পর ২০২৪ সালের শেষের দিকে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) অ্যারোস্পেস ফোর্স এর নিয়ন্ত্রণ নেয়।

পত্রিকাটি আরও বলেছে, ইরানি সামরিক কমান্ডাররা এই স্যাটেলাইটকে গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দিয়েছিলেন। গত মার্চে ওইসব স্থানে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আগে এবং পরে এ স্যাটেলাইট থেকেই ছবি তোলা হয়েছিল।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চুক্তির অংশ হিসেবে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কোর বেইজিংভিত্তিক কোম্পানি ‘এমপোস্যাট’-এর গ্রাউন্ড স্টেশনগুলো ব্যবহারের সুযোগ পেয়েছে। এর মাধ্যমে তারা এশিয়া ও লাতিন আমেরিকাসহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে স্যাটেলাইটের তথ্য সংগ্রহ করতে পারছে।

তবে রয়টার্স এ খবরের সত্যতা যাচাই করতে পারেনি। হোয়াইট হাউস, সিআইএ, পেন্টাগন কিংবা চীনের কোনো দপ্তরই এ নিয়ে এখনো মুখ খোলেনি। এমনকি সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোও কোনো মন্তব্য করেনি।

এমপোস্যাটের সঙ্গে আইআরজিসির সম্পর্ক নিয়ে হোয়াইট হাউস সরাসরি কিছু বলেনি। তবে এ খবর ট্রাম্পের সেই হুঁশিয়ারির কথা মনে করিয়ে দিয়েছে, যেখানে তিনি বলেছিলেন, ইরানকে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিলে চীনের ‘বড় সমস্যা’ হবে। এদিকে, চীনা দূতাবাস একে ‘বানোয়াট অপপ্রচার’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে।

তথ্য বলছে, ১৩-১৫ মার্চ ওই স্যাটেলাইট সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান ঘাঁটির ছবি তুলেছিল এবং ১৪ মার্চ ট্রাম্প সেখানে মার্কিন বিমান আক্রান্ত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেন। এছাড়াও জর্ডান, বাহরাইন ও ইরাকের মার্কিন ঘাঁটিগুলোর ওপরও ঠিক হামলার সময়েই নজরদারি চালিয়েছিল এই স্যাটেলাইট।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স ও মিডল ইস্ট আই

https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla%2F2026-04-15%2F98l4vp9m%2Fsattelite.jpg?w=622&auto=format%2Ccompress&fmt=avif
ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি ও অন্যান্য লক্ষ্যবস্তুতে হামলার জন্য একটি চীনা গোয়েন্দা স্যাটেলাইট ব্যবহার করছে। ছবি: ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের ফেসবুক পোস্ট থেকে নেওয়া ছবির স্ক্রিনশট

মহাকাশেও বেঁচে থাকতে পারে এমন প্রাণী এই প্রথম পাওয়া গেল by আসহাবিল ইয়ামিন

ছবিটি দেখে মনে হতে পারে, এটি ভালুকের মতো দেখতে কোনো কার্টুন চরিত্র। তবে মজার ব্যাপার হলো, এটি কোনো কাল্পনিক প্রাণী নয়। মাইক্রোস্কোপের নিচে দেখা যায় এদের অদ্ভুত চেহারার আটটি পা। এই ছোট প্রাণীর ক্ষমতা শুনলে তুমি চমকে যাবে। এমন একটি প্রাণী কি কল্পনা করা যায়, যা প্রচণ্ড তাপ, হিমশীতল ঠান্ডা, তেজস্ক্রিয় বিকিরণ, এমনকি মহাশূন্যেও দিব্যি বেঁচে থাকতে পারে? এটি কল্পনা মনে হলেও, এটাই বাস্তব। এই অসাধারণ প্রাণীর নাম টার্ডিগ্রেড। কিন্তু কীভাবে এরা এই অবিশ্বাস্য ক্ষমতা পেল?

টার্ডিগ্রেডদের সাধারণত ‘পানি ভাল্লুক’ নামে ডাকা হয়। ১৭৭৩ সালে জার্মান বিজ্ঞানী জোহান অগস্ট এফ্রাইম গোয়েজ প্রথম এই প্রাণীকে আবিষ্কার করেন। তিনি এদের অদ্ভুত চেহারা ও ধীরগতির জন্য ‘ছোট পানি ভালুক’ নাম দেন। এর তিন বছর পর ইতালীয় জীববিজ্ঞানী লাজারো স্পালানজানি এদের ধীরগতি দেখে এই গ্রুপের নামকরণ করেন ‘টার্ডিগ্রেড’, যার অর্থ ধীরগতির পদচারী। বিজ্ঞানীরা এখন পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৩০০ প্রজাতির টার্ডিগ্রেড শনাক্ত করেছেন।

টার্ডিগ্রেড নিঃসন্দেহে পৃথিবী ও মহাকাশের সবচেয়ে আকর্ষণীয় প্রাণীদের একটি। এসব পানি ভালুকগুলো হিমালয়ের চূড়া থেকে গভীর সাগরের তলদেশ পর্যন্ত সব ধরনের কঠিন পরিস্থিতিতে বেঁচে থাকতে পারে। প্রতিকূল পরিস্থিতিতে, যেমন প্রচণ্ড তাপ, তীব্র ঠান্ডা বা শুষ্ক পরিবেশে টার্ডিগ্রেডরা নিজেদের শরীর থেকে প্রায় সব পানি বের করে দেয়। এতে এরা একটি শুকনো গুটিতে পরিণত হয়। এই বিশেষ অবস্থাকে বলা হয় ‘টন’। এ অবস্থায় এদের বিপাকক্রিয়া প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। যতক্ষণ না পরিস্থিতি আবার অনুকূল হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত এরা এ অবস্থায় থাকতে পারে। এরপর চারপাশের পরিবেশে সামান্য পানি পেলেই এরা আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসে। বিজ্ঞানীরা আগেই জানতেন যে টার্ডিগ্রেডরা ‘টন’ নামক এক বিশেষ অবস্থায় গিয়ে চরম পরিবেশে টিকে থাকতে পারে। কিন্তু তাঁরা জানতেন না, কীভাবে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়।

বিজ্ঞানীরা অবশেষে সেই রহস্যের সমাধান খুঁজে পেয়েছেন। ২০২৪ সালের ১৭ জানুয়ারি প্লস ওয়ান জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় এ–সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য জানান হয়। গবেষণাপত্রে জানান হয়েছে, যখন কোনো প্রতিকূল পরিবেশে পড়ে, তখন টার্ডিগ্রেডের কোষ থেকে কিছু রাসায়নিক পদার্থ নির্গত হয়। এসব পদার্থ সিস্টাইন নামের একটি অ্যামিনো অ্যাসিডের সঙ্গে বিক্রিয়া করে, যা টার্ডিগ্রেডের প্রোটিনের গঠন পরিবর্তন করে। এই পরিবর্তনের ফলেই প্রাণীটি সেই বিশেষ ‘টন’ অবস্থায় প্রবেশ করে, যা এটিকে চরম পরিস্থিতিতেও বাঁচিয়ে রাখে।

টার্ডিগ্রেডকে খালি চোখে দেখা গেলেও এদের আকার এতই ক্ষুদ্র যে তা সহজে চোখে পড়ে না। ওয়ার্ল্ড টার্ডিগ্রেডা ডেটাবেজ অনুসারে, এরা সাধারণত ০.০১ থেকে ১ মিলিমিটার পর্যন্ত লম্বা হয়। এই ছোট্ট প্রাণীর পুরো শরীর গঠিত মাত্র এক হাজার কোষ দিয়ে। যেখানে মানুষের শরীরে রয়েছে অসংখ্য ট্রিলিয়ন কোষ।

তুমি যদি মাইক্রোস্কোপ দিয়ে টার্ডিগ্রেড দেখো, তাহলে এর ক্ষুদ্র দেহে কোনো হাড় দেখতে পাবে না। হাড়ের বদলে এদের একটি তরলে পরিপূর্ণ অংশ থাকে, যাকে বলে হিমোলিম্ফ। মানুষের রক্তের মতোই, এই হিমোলিম্ফ পুষ্টি উপাদানে ভরপুর। এদের মেরুদণ্ড না থাকলেও সম্পূর্ণ স্নায়ুতন্ত্র রয়েছে, যা মস্তিষ্ক থেকে শরীরের বিভিন্ন অংশে সংকেত পাঠায়। এটি মেরুদণ্ডী প্রাণীর মেরুদণ্ডের মতোই কাজ করে। এদের সম্পূর্ণ পরিপাকতন্ত্র থাকলেও কোনো সংবহন বা শ্বাসযন্ত্র নেই। পানি থেকে অক্সিজেন সরাসরি এদের ত্বকের মধ্য দিয়ে শরীরে প্রবেশ করে। শরীরের ভেতর পুষ্টি ও অক্সিজেন ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য এরা পেশিগুলো সংকুচিত করে।

টন অবস্থায় থাকা টার্ডিগ্রেডরা মাইনাস ২০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ১৪৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রা সহ্য করতে পারে। এরা বিকিরণ, ফুটন্ত তরল এবং সাগরের গভীরতম অংশের চেয়ে ছয় গুণ বেশি চাপ সহ্য করতে পারে। টন অবস্থায় থাকা কিছু টার্ডিগ্রেডকে উচ্চগতির বন্দুক থেকে গুলি করেও দেখা গেছে যে এরা প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৯০০ মিটার বেগে ছুটে যাওয়ার পরও বেঁচে থাকে।

টার্ডিগ্রেডের এই ক্ষমতা শুধু পৃথিবীর পরিবেশেই সীমাবদ্ধ নয়। বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে দেখেছেন যে এরা মহাকাশের ভয়ংকর অবস্থা সহ্য করতে পারে। ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা (ইসার) ২০০৭ সালে ফোটন-এম৩ নামের একটি মহাকাশ অভিযানে হাজার হাজার টার্ডিগ্রেডকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে এদের মহাকাশের শূন্যে, তীব্র সৌর বিকিরণ ও মহাজাগতিক রশ্মির মধ্যে ছেড়ে দেওয়া হয়। বিজ্ঞানীরা বিস্মিত হয়ে দেখেন যে পৃথিবীতে ফিরে আসার পর এদের বেশির ভাগই বেঁচে আছে। এমনকি বংশবৃদ্ধিও করেছে। পানিশূন্য অবস্থায় কিছু টার্ডিগ্রেড পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে ১০ দিন পর্যন্ত টিকে ছিল।

বেশির ভাগ টার্ডিগ্রেড উদ্ভিদ, শৈবাল ও ছত্রাকের কোষ থেকে তরল শুষে খেয়ে জীবন ধারণ করে। তবে কিছু প্রজাতির টার্ডিগ্রেড আছে যারা নেমাটোড এবং অন্য টার্ডিগ্রেডের মতো ক্ষুদ্র প্রাণীদেরও খায়। এদের নিয়ে এখনো গবেষণা শেষ হয়নি।

সূত্র: লাইভ সায়েন্স, সায়েন্টিফিল আমেরিকান, ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক

মহাকাশেও বেঁচে থাকতে পারে এমন প্রাণী এই প্রথম পাওয়া গেল
টার্ডিগ্রেডের এই ক্ষমতা শুধু পৃথিবীর পরিবেশেই সীমাবদ্ধ নয়। ছবি: পপুলার মেকানিকস

অ্যানি জাম্প ক্যানন: নারীদের বিজ্ঞানচর্চায় নাক সিটকানির জবাব by শাইখ সাফাত স্বাধীন

  • ‘’নারীর বিজ্ঞানের পথে চলতে চাওয়া মানেই, নারী হিসেবে তার ভেতরের সমস্ত সৌন্দর্য বাতিল করে দেয়া নয়।‘’
উক্তিটি যার, তাকে দেখলেই বোঝা যায় কথাটি কতটা সত্য। কিন্তু অ্যানি জাম্প ক্যানন নামের এই নারীর সৌন্দর্য দেখে যত মুগ্ধ হতে হয় তার চেয়েও বেশি অবাক হতে হয় সে সময় বিজ্ঞানে তার অবদান অবদান দেখে। নক্ষত্র শ্রেনীবিন্যাসের যে ধারা তিনি সেই উনিশ শতকের শেষের দিকে করে গেছেন সেটা এখন পর্যন্ত ব্যবহার হচ্ছে জ্যোতির্বিজ্ঞানে।
তবে অ্যানি ক্যাননের জীবন সম্পর্কে বিস্তারিত জানার আগে আসলে এটা জানা দরকার জ্যোতির্বিজ্ঞানে তার অবদান কতখানি তাৎপর্যপূর্ণ ছিল। জীববিজ্ঞান সম্পর্কে যাদের ধারনা আছে তারা এটা জানবেন যে শ্রেনীবিন্যাসের সুবিধা কতখনি। একইভাবে নক্ষত্র শ্রেণিবিন্যাসের এক পদ্ধতি আবিষ্কার করেন অ্যানি ক্যানন। তার এই পদ্ধতিতে নক্ষত্রের পৃষ্ঠের তাপমাত্রার ভিত্তিতে নক্ষত্রগুলোকে ইংরেজি O, B, A, F, G, K আর M এই অক্ষরগুলোকে দিয়ে বিন্যাস করা হয়। সবচেয়ে বেশি তাপমাত্রার নক্ষত্রগুলো O গ্রুপে আর সবচেয়ে কম তাপমাত্রারগুলো M গ্রুপে।
অ্যানি জাম্প ক্যানন; সৌন্দর্য্য আর বুদ্ধিমত্তার সহাবস্থান ছিল যার মাঝে
এখন কথা হল সেই সময়, যখন কি না আজকের মতন তেমন কোন প্রযুক্তিই ছিল না, তখন কি করে নক্ষত্রের এই তাপমাত্রা মাপা হত? আসলে নক্ষত্রের তাপমাত্রার সাথে নক্ষত্রের রঙের একটা সম্পর্ক আছে। সব থেকে উজ্জ্বল নক্ষত্রগুলো মূলত নীলচে রঙের হয়। আর তাপ যত কমতে থাকে রঙ তত নীল থেকে সাদা তারপর লালের দিকে যেতে থাকে। এই রঙগুলো দিয়েই মূলত বিন্যাসটা করা হত। অ্যানি ক্যাননের আবিষ্কার করা এই হাভার্ড সিস্টেম (HARVARD SYSTEM) পদ্ধতি এখন পর্যন্ত ব্যবহার হয়ে আসছে।
তবে অ্যানি ক্যানন এই পদ্ধতির আবিষ্কারের সূচনা এত সহজ ছিল না। অ্যানি জন্মগ্রহণ করেন ১৮৬৩ সালে আমেরিকার ডোভার শহরে। ছোটবেলায় রাতের আকাশে তাকিয়ে বিভিন্ন প্যাটার্ন বের করতে শিখেছিল মায়ের কাছ থেকে। মূলত মায়ের আগ্রহেই অ্যানির আগ্রহ জন্মে নক্ষত্রের প্রতি। আর সে আগ্রহ সাথে নিয়ে তিনি ম্যাসাচুসেটের ওয়েলসলি কলেজ থেকে শেষ করে গনিত, রসায়ন আর জীববিজ্ঞানের পাঠ।
হাভার্ডের মানমন্দিরে অ্যানি ক্যানন
১৮৮৪ সালে বাড়ি থেকে বের হবার এক দশক পরে পদার্থবিজ্ঞানে গ্রাজুয়েশন শেষ করেন। ১৮৯৩ সালের দিকে স্কারলেট ফিভার নামের এক অসুখে কানের সমস্যা দেখা দেয় এবং এর পর পরই তার শ্রবণশক্তি নষ্ট হতে থাকে। আর ঠিক এর পরের বছরই মায়ের মৃত্যুর পর তার ভবিষ্যৎ মোটামুটি অনিশ্চিত হয়ে যায়। এই সময় কিছুদিনের জন্য তিনি পদার্থবিজ্ঞানের শিক্ষকতাও করেন।
কিন্তু অ্যানির মাথায় তখন নক্ষত্রের চিন্তা। ছোটবেলা থেকে আগ্রহ তো ছিলই আর এরপর বিভিন্ন সময় সে আগ্রহ বেড়েছে বৈ কমেনি। একটা ভাল দূরবীক্ষণ যন্ত্রের জন্যই তিনি আবার র‍্যাডক্লিফ কলেজে স্পেশাল ছাত্র হিসেবে ভর্তি হন। র‍্যাডক্লিফ কলেজ হাভার্ডের পাশে হওয়ায় সে সময় হাভার্ডের প্রফেসরেরা সেখানে এসে মাঝে মাঝে লেকচার দিতেন। সে সময়ই তিনি এডওয়ার্ড সি. পিকারিং নামের এক প্রফেসরের নজরে আসেন। এডওয়ার্ডই অ্যানিকে হাভার্ডের মানমন্দিরে তার অ্যাসিস্টেন্ট হিসেবে নিয়োগ দেন। মূলত সেখান থেকেই অ্যানির এই শ্রেণিবিন্যাসের চিন্তা আসে।
এভাবেই ফটোপ্লেট থেকে একের পর এক নক্ষত্রের শ্রেণিবিন্যাস করা হত সে সময়
অ্যানি ক্যানন তার কর্মজীবনে যে পরিমাণ নক্ষত্রের শ্রেণিবিন্যাস করেছেন সেটা পৃথিবীর যে কারো চেয়ে বেশি। তিনি একাই প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ নক্ষত্রের শ্রেণিবিন্যাস করেছেন, নতুন প্রায় ৩০০ নক্ষত্র, ৫ টা নোভা আর একটা বাইনারি আবিষ্কার করেন। প্রথম তিন বছরে তিনি প্রায় ৩০০০ নক্ষত্রের বিন্যাস করেন, কিন্তু কাজ করতে করতে শেষে এতই দক্ষ হয়ে ওঠেন যে একসময় প্রতি ঘন্টায় ২০০ নক্ষত্র নিয়ে কাজ করতে পারতেন, পুরোপুরি নির্ভুলভাবে। সাধারণ মানুষের তুলনায় প্রায় ১৬ গুন দ্রুততার সাথে তার চোখ কাজ করত। সবচেয়ে আশ্চর্যের ব্যাপার হল, শেষের দিকে অ্যানি শুধুমাত্র একটা আতস কাঁচ দিয়েই একবার মাত্র নক্ষত্রের স্পেশাল প্যাটার্ন দেখে মিনিটে প্রায় তিনটা করে নক্ষত্র বিন্যাস করতে পারতেন।
জ্যোতির্বিজ্ঞানে তার এই অবিশ্বাস্য এবং অসামান্য অবদানের জন্য অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন। বিশ্বের ইতিহাসে তিনিই প্রথম নারী যিনি অক্সফোর্ড থেকে এই সম্মান পান। এছাড়া আরো অনেক এওয়ার্ড পেয়েছেন। তার মাঝে সবথেকে উল্লখযোগ্য হেনরি ড্রাপার মেডেল। গবেষণা ছাড়াও তিনি ছিলেন আমেরিকার ন্যাশনাল উইমেন্স পার্টির সদস্য এবং একজন সাফ্রেজিস্ট (suffragist) যাদের কাজ ছিল জাতীয় নির্বাচনে নারীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার জন্য কাজ করা।
কিন্তু অ্যানি জাম্প ক্যাননের সবচেয়ে বড় সাফল্য জ্যোতির্বিজ্ঞানে না। তিনি সম্ভবত সবচেয়ে বেশি সম্মাননা এবং পুরষ্কার রেখে গেছেন পরবর্তী দিনের বিজ্ঞানমনষ্ক নারীদের অনুপ্রেরণার জন্য। হাভার্ডের ঐ প্রফেসরের এসিস্ট্যান্ট হিসেবে আরো অনেক নারীই কাজ করেছেন, মানমন্দিরের সকলে তাদের ‘আউট অফ দেয়ার প্লেস’ (Out of their place) বলে টিটকারি মেরেছে অনেক। তাই আজ হয়ত আরো অনেকের অবদানের সাথে বিজ্ঞানে ক্যাননের এই অবদানই, আজকের দিনের নারীদের বিজ্ঞানচর্চায় নাক সিটকানির জবাব দিচ্ছে।
হাভার্ডের মানমন্দিরে নক্ষত্র গননাকারীর দল, প্রথমদিকে যাদের টিটকারি দিতে ছাড়েনি কেউ। তাদের নেত্রী অ্যানি ক্যাননকে দেখা যাচ্ছে মাঝে

কফির গন্ধে ধরা পড়ল পালানো বানর

যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ক্যারোলাইনার ছোট্ট শহর ইউটাভিলের এক মজার ঘটনা এখন সবার মুখে মুখে।

শহরের উৎসব ইউটাভিল ক্র্যাপি ক্ল্যাসিক অ্যান্ড ফল ফেস্টে সবাই যখন আনন্দে ব্যস্ত, তখন হঠাৎ খবর ছড়িয়ে পড়ে—একটা বানর নাকি রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছে।
টাউন ক্লার্ক কেইসি হিল প্রথমে ভাবলেন, এটা হয়তো কারও মজার গল্প।

পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় উঠে আসে প্রত্যক্ষদর্শীদের তোলা ছবি। ছবিতে দেখা যায়, একটি স্পাইডার বানর রাস্তায় দৌড়াচ্ছে।

তখন ব্যাপারটা সত্যি বলেই মনে হলো।

কিছুক্ষণ খোঁজার পর তাঁরা দেখেন, বানরটি বসে আছে এক নরসুন্দরের দোকানের গাড়ির পেছনে।

কেইসি হিল তখন শহরের মেয়র ব্র্যান্ডন ও তাঁর স্ত্রী লরাকে সঙ্গে নিয়ে বেরিয়ে পড়লেন বানর উদ্ধার অভিযানে।

কিছুক্ষণ খোঁজাখুঁজির পর তাঁরা দেখলেন, বানরটি বসে আছে এক নরসুন্দরের দোকানের গাড়ির পেছনে। কিন্তু তাঁরা এগোতেই বানরটি চমকে উঠে ছুটল সাউথ ক্যারোলাইনার ফার্স্ট ন্যাশনাল ব্যাংকের দিকে।

বানরটি আতঙ্কে চেঁচামেচি করছিল। তখন কেইসির মাথায় এল এক দারুণ কৌশল। তিনি নিজের গরম কফির কাপটা মাটিতে রেখে ঢাকনাটা খুলে দিলেন। তারপর একটু পিছিয়ে গেলেন।

কফির গন্ধে বানরটি এগিয়ে এল। কৌতূহলভরে কাপের ভেতর তাকাতেই কেইসি পা দিয়ে আলতো করে তার শরীরের সঙ্গে বাঁধা রশি চেপে ধরলেন। এভাবে বানর ধরা পড়ল।

অল্পক্ষণের মধ্যেই একজন নারী এসে জানালেন, বানরটি তাঁর পোষা। নাম এভা।

জানো কি, স্পাইডার বানর মূলত মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকার অরণ্যের প্রাণী। সাউথ ক্যারোলাইনায় এখনো বানর পোষার জন্য কোনো পারমিট লাগে না। তবে অঙ্গরাজ্যের আইনসভায় একটি বিল উত্থাপন করা হয়েছে, ভবিষ্যতে সব পোষা প্রাইমেটকে নিবন্ধন করতে হবে।

এভা নিজের মালিকের কোলে ফিরে গিয়ে নিশ্চয়ই ভাবছে, মানুষও যে কফিতে এমন ফাঁদ পাতে, তা কে জানত!

জানো কি

স্পাইডার বানরের হাত-পা এত লম্বা যে তারা গাছের ডাল থেকে ডালে দোল খেতে খেতে ঘণ্টায় প্রায় ৩৫ কিলোমিটার বেগে ছুটতে পারে।

তাদের লেজ খুব শক্তিশালী। পুরো শরীরের ওজন নিতে পারে লেজ।

তাদের প্রিয় খাবার ফল ও ফুল। মাঝেমধ্যে তারা পাতা আর ছোট পোকামাকড় খায়।বিজ্ঞানীরা বলেন, স্পাইডার বানরের স্মৃতিশক্তি খুব ভালো। তারা কোন গাছে কখন ফল পাকবে, সেটা মনে রাখতে পারে।

পালানো বানর
পালানো বানর। ছবি: ফেসবুক থেকে নেওয়া