Friday, May 12, 2023
কোলন ক্যান্সার হলে by ডা. মোহাম্মদ তানভীর জালাল
কারণসমূহ
দেখা যায় কতিপয় কারণ ছাড়াও পরিবেশ ও জিনগত কারণে কোলন ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা শতকরা পাঁচ ভাগ বৃদ্ধি পায়। খাদ্যাভ্যাসও একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। অতিরিক্ত গরু বা ছাগলের মাংস বা লাল মাংস খাওয়া, খাদ্যাভ্যাসে আঁশজাতীয় খাবারের ঘাটতি, ধূমপান ও মদ্যপান এই ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এছাড়া স্থূলকায় ব্যক্তিদের রোগ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। অন্যদিকে ব্যায়াম ও রুটিন মাফিক নিয়ম মেনে চলা ও সুশৃঙ্খল জীবনযাপন এই রোগ হওয়ার সম্ভাবনা কমায়। বৃহদন্ত্র ও মলাশয় ক্যান্সার বা কোলন ক্যান্সার পারিবারিক ইতিহাস রোগটির সম্ভাবনা বাড়ায়। বিশেষ করে মা-বাবা, ভাই কিংবা বোনের বৃহদন্ত্র ও মলাশয় ক্যান্সার হওয়ার ইতিহাস থাকলে ঝুঁকি দ্বিগুণ বাড়ে। এছাড়া অন্ত্রের প্রদাহজনিত রোগীদের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
লক্ষণসমূহ
সহজেই কোলন ক্যান্সার নির্ণয় করা যায় না।
কেননা প্রথমদিকে রোগটির তেমন কোনো উপসর্গ বোঝা যায় না। কোলন বা মলাশয়ের কোন জায়গায় ক্যান্সার রয়েছে তার উপর ভিত্তি করে উপসর্গের বিভিন্নতা দেখা যায়। পায়খানার সঙ্গে রক্ত কিংবা পেটে ব্যথা নিয়ে অধিকাংশ রোগী প্রথম চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। মলত্যাগের অভ্যাস পরিবর্তন (কখনও ডায়রিয়া, কখনও কষা), রক্তশূন্যতা (দুর্বলতা, শ্বাসকষ্ট) ইত্যাদি রোগটির প্রাথমিক লক্ষণ। অবস্থা গুরুতর হলে- অতিরিক্ত ওজনশূন্যতা, পেটে চাকা, পেটে পানি, কাশির সঙ্গে রক্ত ইত্যাদি উপসর্গ নিয়ে রোগীরা চিকিৎসকের কাছে আসেন।
দুর্ভাগ্যবশত আমরা রোগীদের রোগটির ৩ গ্রেডে বা অতিমাত্রায় অগ্রসর অবস্থায় পাই যাদের অধিকাংশই অপ-চিকিৎসার শিকার বা রোগটিকে জটিল করে এসেছেন।
রোগ নির্ণয় বা শনাক্ত করার পদ্ধতি
চিকিৎসক লক্ষণ বা উপসর্গ দেখে বা রোগীর কেস স্টাডি দেখে কোলন্সকোপি ও বায়োপসি করে থাকেন। বায়োপসি’র মাধ্যমে ক্যান্সার নির্ণয়ের পর সিটি স্ক্যান, রক্তে এন্টিজেন (ঈঊঅ) এর পরিমাণ ইত্যাদি বিভিন্ন পরীক্ষার মাধ্যমে ক্যান্সারের ধাপ নির্ণয় করা হয় বা রোগটি কোন গ্রেডে আছে তা জানা হয়। চিকিৎসার ক্ষেত্রে এই ধাপ নির্ণয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রাথমিক ধাপের (ঝঃধমব ও ্ ওও) ক্যান্সারগুলোর চিকিৎসা পরবর্তী ফলাফল সন্তোষজনক, পক্ষান্তরে অগ্রসর ধাপের (ঝঃধমব ওওও ্ ওঠ) ক্যান্সারগুলোর চিকিৎসা পরবর্তী ফলাফল আশাপ্রদ নয়। ক্যান্সার কোলনের বাইরে ছড়িয়ে গেলে (লসিকাগ্রন্থি, যকৃত, ফুসফুস ইত্যাদি) তাকে অগ্রসর ধাপ বলে বিবেচনা করা হয়। তবে আশার কথা এই যে, অন্যান্য ক্যান্সারের চেয়ে কোলন ক্যান্সারের চিকিৎসা পরবর্তী ফলাফল অনেক ভালো। এমনকি অগ্রসর ধাপের ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীও সঠিক চিকিৎসা পেলে বহুদিন সন্তোষজনক ভাবে বেঁচে থাকতে পারেন।
চিকিৎসা
কোলন ক্যান্সারের চিকিৎসা অপারেশন। অপারেশনের আগে বা পরে কেমোথেরাপি দেয়া হয়।
প্রতিরোধ
একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হলো ক্যান্সার জটিল রোগ হলেও এর উপযুক্ত চিকিৎসা রয়েছে। রোগীদের সচেতনতা এক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বিনা অপারেশনের কথা বলে অপচিকিৎসা, হাকিম, কবিরাজ, ঝাড়-ফুঁকের ও চটকদার প্রচারের ফাঁদে পড়ে রোগীদের অবস্থা আরও খারাপ হয়। আশার কথা হলোÑ বর্তমানে বাংলাদেশে এই ক্যান্সারের ভালো চিকিৎসা হচ্ছে। শুরুতে আমার কাছে চিকিৎসা নিয়ে অনেক রোগী ভালো আছে। যদি সচেতন হোন তাহলে রোগটিকে প্রাথমিক অবস্থায় নির্ণয়ে সাহায্য করবে। ক্যান্সারে একটি বহুল প্রচলিত কথা হলো “শুরুতে রোগ নির্ণয় ও প্রথম দিকে ধরতে পারলে ক্যান্সারের মতো কঠিন রোগও সম্পূর্ণ নির্মূল করা সম্ভব।”
লেখক: সহযোগী অধ্যাপক, কোলোরেক্টাল সার্জারি বিভাগ কোলোরেক্টাল, ল্যাপারোস্কপিক ও জেনারেল সার্জন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।
চেম্বার: ১৯ গ্রীন রোড, একে কমপ্লেক্স, লিফ্ট-৪, ঢাকা। যোগাযোগ: ০১৭১২-৯৬৫০০৯
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
হজে ঐতিহাসিক স্থান দেখা by ড. মোজাফফর হোসেন

হজের ফরজ, ওয়াজিব ও সুন্নাতের কাজগুলো মক্কাতেই সম্পন্ন করতে হয়। মক্কার ১৫-২০ কি.মি. এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে ইতিহাসের সেসব স্থান। ইসলামের ইতিহাসের উল্লেখযোগ্য ঘটনাবলির অধিকাংশই আবর্তিত হয়েছে মক্কা-মদিনাসহ আশপাশের স্থানগুলোকে কেন্দ্র করে। অর্থাৎ হজরত আদম আ: থেকে শুরু করে হজরত মুহাম্মদ সা: অবধি সব নবী-রাসূলের জীবনে সঙ্ঘটিত ঘটনাবলির চারণভূমিই ছিল আরব ভূমি। মুহাম্মদ সা:-এর জীবনে সঙ্ঘটিত যাবতীয় ঘটনার স্মৃতিও বুকে ধারণ করে রেখেছে এই আরব ভূমি। কাজেই ইসলামের ইতিহাসের আধার হিসেবে আরব ভূমির গুরুত্ব বর্ণনাতীত। সে কারণেই কুরআনের ইতিহাসসংশ্লিষ্ট স্থানগুলো সরেজমিন অবলোকন করা যায় পবিত্র হজব্রত পালনের মাধ্যমে। হজরত আদম আ:, হজরত ইসমাইল আ:, হজরত হাজেরা আ:-এর স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলো পরিদর্শন করার নির্দেশ হজের মধ্যে রয়েছে।
উম্মতে মুহাম্মদির জন্য ৬৩১ সালে নবম হিজরিতে হজের বিধান ফরজ হয়। পরের বছরে ৬৩২ সালে হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবিদের সাথে করে পবিত্র হজ আদায় করেন। মুহাম্মদ সা: যেখানে, যে সময়ে, যে তারিখে, যে নিয়মে যেসব আহকাম-আরকান পালন করেছিলেন সেসব স্থানে একই নিয়মে এখনও ৮ থেকে ১৩ জিলহজ পবিত্র হজ পালিত হয়ে থাকে।
হজের জন্য নির্ধারিত অন্যতম স্থান হচ্ছে মক্কা শরিফ। এখানে বায়তুল্লাহ অবস্থিত। এটি মুসলমানদের কিবলা, যা আল্লাহ তায়ালার এক অপূর্ব সৃষ্টি। হজ ও ওমরার সময় মুসলমানগণ কাবাঘর তাওয়াফ করতে মক্কায় আগমন করেন। পৃথিবীর কেন্দ্রস্থলে মক্কা নগরীর অবস্থান হওয়ায় আল্লাহ তায়ালা ‘বায়তুল্লাহ’ বা ‘কাবাঘর’ মক্কাতেই স্থাপন করেন।
পবিত্র এই ঘরটির সাথে হজরত ইব্রাহিম ও ইসমাইল আ:-এর ইতিহাস জড়িত। এই ঘরটি তাওয়াফের মাধ্যমে স্মরণ করা যেতে পারে হজরত ইব্রাহিম আ: নবী হয়ে ওঠার প্রেক্ষাপট। স্মরণ করা যেতে পারে হজরত নূহ আ:-এর প্লাবন শেষে ইব্রাহিম আ: ও তার একমাত্র পুত্র ইসমাইল আ: মিলে কাবাঘর সংস্কার করেছিলেন সেসব কথা। এই পবিত্র ঘরটি ধ্বংস করার পরিকল্পনা করেছিলেন দক্ষিণ আরবের বাদশা আবরাহা। তিনি হস্তিবাহিনী নিয়ে মক্কা আক্রমণ করলে আল্লাহ আসমান থেকে আবাবিল নামক পাখি পাঠিয়ে বাদশা আবরাহা বাহিনীকে শায়েস্তা করেছিলেন। কাবাঘর ধ্বংসের সেই ষড়যন্ত্রের কথা পবিত্র কুরআনের সূরা ফিলে বার্ণিত হয়েছে। কাবাঘরের সামনে দাঁড়ালে সেসব ইতিহাসের কথা সহসাই মনের ভেতর ভেসে উঠতে পারে।
কাবা শরিফের দক্ষিণ-পূর্বকোণে মাতাফ (তাওয়াফের জায়গা) থেকে দেড় মিটার উপরে লাগানো ‘হাজরে আসওয়াদ’ বা কালো পাথর; যা প্রাগৈতিহাসিক ইসলামী নিদর্শন ও বহু মূল্যবান বরকতময় বেহেশতের উপকরণ। কাবাগৃহের পূর্ব-দক্ষিণ কোণে প্রায় দেড় মিটার উঁচু দেয়ালের কিছুটা ভেতরে প্রোথিত কালো থালার মতো গোল এ পাথরের নাম হাজরে আসওয়াদ বা কালো পাথর। এই পাথরটি বেহেশতি পাথর হিসেবেও পরিচিত। পাথরটি প্রথমে সাদা ছিল। মানুষের চুম্বন ও গোনাহ আকর্ষণ হেতু ক্রমে পাথরটি কালো হয়ে গেছে। পাথরটির চার পাশে রূপার বৃত্ত লাগানো। রূহের জগতে এই পাথরের উপরে হাত রেখে হুজুর সা:-এর রূহ মোবারককে ‘আমরা আল্লাহর বান্দা ও আল্লাহ আমাদের প্রভু’ এই প্রতিশ্রুতি পাঠ করিয়েছিলেন। হজরত আদম আ: পৃথিবীতে আসার সময় আল্লাহ পাক সেই পাথর তার সাথে দিয়ে দেন, পরে তিনি সেটা জাবালে আবু কোবাইসে রাখেন। তখনো সে পাথর বরফের মতো সাদা ও সূর্যের মতো আলোকিত ছিল। নূহ আ:-এর বন্যার সময় আল্লাহ পাক এটি পুনরায় আসমানে উঠিয়ে নেন। হজরত ইব্রাহিম আ:-এর দ্বারা কাবা ঘর তৈরির সময় আবার তা ফেরেশতার মাধ্যমে পাঠিয়ে দেয়া হয় এবং ইব্রাহিম আ: সেই পাথরকে আল্লাহর ঘরের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে স্থাপন করেন। এখান থেকেই বায়তুল্লাহ তাওয়াফ শুরু করা হয়। হাদিস শরিফে আছে, হাজরে আসওয়াদ প্রথম আবু কুবাইস পাহাড়ে নাজিল হয়, সেখানে তা ৪০ বছর পর্যন্ত থাকে। তারপর তা হজরত ইব্রাহিম আ:-এর আগেই কাবার ভিত্তির ওপর লাগানো হয়। অর্থাৎ মাকামে ইব্রাহিম ও হাজরে আসওয়াদ এই পাথর দু’টিই বেহেশতের পাথর।
ইতিহাসের আরো একটি নিদর্শন মাকামে ইবরাহিম। কাবা শরিফের পাশেই আছে ক্রিস্টালের একটা বাক্স, চার দিকে লোহার বেষ্টনী। ভেতরে বর্গাকৃতির একটি পাথর। পাথরটির দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও উচ্চতা সমান, প্রায় .৫ মিটার। এ পাথরটিই মাকামে ইবরাহিম। ‘মাকাম’ শব্দের অর্থ হচ্ছেÑ দাঁড়ানোর স্থান অর্থাৎ হজরত ইবরাহিম আ:-এর দাঁড়ানোর স্থান। এ পাথরে দাঁড়িয়ে তিনি কাবা শরিফ নির্মাণ করেন। কাবা শরিফ থেকে মাকামে ইবরাহিমের দূরত্ব হচ্ছে ১৩.৫ মিটার। মাকামে ইবরাহিম অর্থাৎ আল্লাহর ঘরের দরজার সামনে হজরত আদম আ: নামাজ পড়েছেন এবং তার পাশেই হজরত জিবরাইল আ: নামাজ পড়ে নবী করিম সা:-কে নামাজের প্রথম সময় ও শেষ সময় এবং নামাজের তরিকা সম্বন্ধে ধারণা দিয়েছেন। এজন্য এই জায়গাটাকে মুসল্লায়ে আদম বা মুসল্লায়ে জিবরাইল বলা হয়। হজের মাধ্যমে হাজরে আসওয়াদের সেই ইতিহাসকেও স্মরণ করা যেতে পারে।
আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করা হজের অন্যতম ফরজ। আরাফাতে অবস্থান করাকে এমনি এমনি ফরজ করা হয়নি। এখানে যে ইতিহাস সৃষ্টি হয়েছে তা প্রসিদ্ধ। প্রথম মানব হজরত আদম আ: ও মাতা হজরত হাওয়া আ:-এর স্মৃতিবিজড়িত স্থান হচ্ছে আরাফাতের ময়দান। এখানেই আদম আ:-এর সাথে হাওয়া আ:-এর প্রথম পরিচয় হয়েছিল। মহানবী সা: পৃথিবীর মানুষকে উদ্দেশ করে জীবনের শেষ ভাষণটি এখানেই দিয়েছিলেন। মক্কা থেকে ১৫ কিলোমিটার নিকটবর্তী সুবিশাল আরাফাতের ময়দান সেই ইতিহাসের বাস্তব সাক্ষী।
হযরত ইসমাইল আ:-কে নবী হজরত ইব্রাহিম আ: যে স্থানে কোরবানি করার জন্য উদ্যত হয়েছিলেন সেই ঐতিহাসিক স্থানের নামই মিনা। আর হজরত আদম আ: ও বিবি হাওয়া আ: যে স্থানে প্রথম বাসর উদযাপন করেছিলেন সেই স্থানটিই মুজদালিফা। মক্কা থেকে আরাফাতের পথে রয়েছে ইতিহাসের অনেক চিহ্ন। এসব চিহ্ন হজ পালনকারীদের অতীতে নবী-রাসূলদের যুগে ফিরে নিয়ে যেতে পারে। কাবাগৃহের দ্বারপ্রান্তে মক্কা শরিফে অবস্থিত ‘জমজম কূপ’ আল্লাহর অসীম কুদরতের একটি অপূর্ব নিদর্শন। আরবদের কাছে জমজম শব্দের অর্থ প্রাচুর্য ও জমা হওয়া। পৃথিবীতে যত আশ্চর্যজনক সৃষ্টি রয়েছে, জমজম কূপ তার মধ্যে অন্যতম। জমজমের পানি কখনো নিঃশেষ হয় না, যা অতি পবিত্র ও উপকারী। নবজাত শিশু হজরত ইসমাইল আ:-এর পিপাসা নিবারণের জন্যই স্বর্গীয় আবে শেফা, আবে রহমত ও বরকতময় জমজম পানির উৎপত্তি হয়েছিল। রহমতে জমজম সেই ইতিহাসকেও স্মরণ করিয়ে দিতে পারে।
ঐতিহাসিক মর্যাদায় সমৃদ্ধ ‘গারে হেরা’ মক্কার সবচেয়ে বড় এবং উঁচু পাহাড়। ইতিহাস বলছে এখানে নবী করিম সা: ধ্যানমগ্ন থাকতেন এবং এখানেই সর্বপ্রথম তাঁর কাছে অহি (প্রত্যাদেশ) নাজিল হয়। প্রথম কুরআন নাজিলের স্থান হিসেবে হেরাগুহার মর্যাদা অনন্য। হজের মাধ্যমে এই ইতিহাসকেও জানা যেতে পারে। মসজিদুল হারামের পশ্চিমে অবস্থিত গারে সাওর। হিজরতের সময় এই প্রকাণ্ড সুউচ্চ পাহাড়ে হজরত রাসূলুল্লাহ সা: আবু বকর রা:-কে সাথে করে শত্রুদের আক্রমণ থেকে রক্ষার জন্য তিন দিন অবস্থান করেছিলেন। ইতিহাসের উল্লেখযোগ্য স্থানগুলো পরিদর্শনের মাধ্যমে ইসলামের প্রারম্ভিক অবস্থাকে অনুমান করা সম্ভব হতে পারে। বলা বাহুল্য, মুসলমানদের জন্য পবিত্র ভূমি মক্কা-মদিনার যে স্থানে যে যে কার্যাবলি সম্পন্ন করা হয়ে থাকে সেসব নিদর্শনের প্রত্যেকটিরই একেকটি অন্তর্নিহিত তাৎপর্য ও ইতিহাস রয়েছে। সেই সব ইতিহাস ও ঐতিহাসিক স্থানের পরিচয়-পরিচর্যা মুসলিমদের পথ চলাকে সহজ করতে পারে।
>>>লেখক : গবেষক
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গল্প- এলগরিদম by আসিফ রুমি

দুই হাজার দুইশো পঞ্চাশ সাল । উন্মুক্ত তথ্যের যুগ । তথ্য আদান প্রদানে বিনিময় নেওয়া নিষিদ্ধ । শাস্তিযোগ্য অপরাধ । আগেকার পৃথিবীতে নাকি তথ্য যোগাযোগে বিনিময় নেয়া হতো । ভাবতেই কেমন জানি হাস্যকর লাগে রনির । রনি এখন শুয়ে আছে দুই হাজার তলা স্কাই ডোমের একটা খোপে । বাইরে তাকিয়ে দেখছে স্বচ্ছ দিগন্ত । এটিও বিনামূল্যের খোপ । এতো উঁচু থেকে নিচে তাকিয়ে থাকতে থাকতে নিজেকে খুব বিশাল মনে হতে থাকে । খুব ভালো লাগে । প্রতিদিন এই সময়টাতে এসে সে তাকিয়ে থাকে নিচের পৃথিবীর দিকে । কেন্দ্রীয় এলগরিদম তাকে জানিয়েছে , এই সময়টাতে ,এভাবে বসে থাকতে তার ভালো লাগে । খুব ভালো লাগে । মাঝেমাঝে আশ্চর্য লাগে তার । কেন্দ্রীয় এলগরিদম বোধহয় তাকে তারচেয়ে ও ভালো জানে । প্রাচীন এক দাঁড়িওয়ালা দার্শনিকের একটা কথা মনে পরে যায় । নিজেকে জানো । আসলেই সে নিজেকে কতটা জানে ? যতটুকু জানে ,তারচেয়ে ও কী বেশী জানে না তাকে কেন্দ্রীয় এলগরিদম ? না , কেউ তাকে জোর করে দেখছেনা । রাষ্ট্র তাকে নিয়ন্ত্রণ করছে না ।খবরদারী করছে না । তুলে নিয়ে যাচ্ছেনা । সে এবং পৃথিবীতে বেঁচে থাকা এক ট্রিলিয়ন মানুষ , নিজেরাই নিজেদের স্বেচ্ছায় তুলে দিয়েছে কেন্দ্রীয় এলগরিদমের হাতে । সুখ স্বাচ্ছন্দ্য আর উষ্ণতার আশায় । মূল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে তার শরীরের প্রতিটি শিরা উপশিরা কেন্দ্রীয় এলগরিদমের সাথে যুক্ত । তার প্রতিটি হৃদস্পন্দন , ডিএনএর জিনোম সিকোয়েন্স কেন্দ্রীয় এলগরিদম জানে । তার ভালো লাগা ,মন্দ লাগা ,কোন রমনীকে দেখলে ডোপামিন বেশি ঝরে ,কোন খাবারের চিন্তায় জিহ্বায় টায়ালিন আসে ,সব কেন্দ্রীয় এলগরিদম জানে । সে , পৃথিবীর অন্য ট্রিলিয়ন মানুষ স্বেচ্ছায় কেন্দ্রীয় এলগরিদম এর সাথে যুক্ত । তাই এখানে কাওকে দায়ী করার ও কিছু নেই । তারা মুক্ত পৃথিবীর মুক্ত মানুষ । রনির অসহ্য লাগে । সে কী চাইলেই পারবে এই স্কাইডোম থেকে লাফিয়ে নিজেকে শেষ করে দিতে ? যেভাবে প্রাচীন কালের মানুষেরা লাফিয়ে পরতো নিজেকে শেষ করে দিতে । সে কী পারবে ইচ্ছে হলেই ? কেন্দ্রীয় এলগরিদম টের পেয়ে গেছে বোধহয় । রনির মস্তিস্কে নিউরাল নেটওয়ার্কে ভেসে আসতে থাকে জীবনের নানাবিধ বিজ্ঞাপন । পাশে কোথাও ধোঁয়া ওঠা প্রাকৃতিক খাবার , কোথায় কৃষ্ণ চুলের রমনী জানাচ্ছে প্রেমের আহবান , হৃষ্টপুষ্ট সুস্থ জিনের শিশু রনির মস্তিস্ক প্লাবিত করতে থাকে । একধরনের শূন্যতা ,এক প্রকারের হাহাকার রনির মস্তিস্কের হতাশ অংশটুকুকে সক্রিয় করে তোলে। কেন্দ্রীয় এলগরিদম বুঝতে পেরে, রনির দেহে অক্সিজেন সরবরাহ বাড়িয়ে দেয় । ডোপামিনের প্রবাহ বাড়িয়ে দেয় । বাইরের পৃথিবীর নানা রকম ইতিবাচক খবরে প্লাবিত হতে থাকে রনির মস্তিস্ক । স্কাইডোমের বাইরে স্বচ্ছ আকাশ তাকিয়ে থাকে । নিচে সমুদ্রের নীল জলরাশির মেঘ । সূর্যের আবছা কিরণে সোনালী রেখা স্কাইডোমের চকচকে গায়ে প্রতিফলিত হয়ে রনির স্নায়ুকোষে অভূতপূর্ব আলোড়ন তৈরি করে । মায়ার ঝড় ওঠে রনির বুকে । বেঁচে থাকার আকুতি বাড়ে । দ্বিধান্বিত পায়ে স্কাইডোম থেকে ঝাঁপ দেয়ার ঠিক আগে, রনি বুঝতে পারে, এতোক্ষণ সে যেসব মায়াবী দৃশ্যে দেখেছে, সব আসলে কেন্দ্রীয় এলগরিদমের কারসাজি । যাতে রনির বুকের ভেতর বেঁচে থাকার তীব্র ইচ্ছে জাগে । রনির মনটা বিষিয়ে ওঠে ঘৃণায় । কিন্তু ততক্ষণে দেরী হয়ে গেছে । রনির মস্তিস্ক কিছু সময়ের জন্য ঘুমিয়ে পড়ে। রনির স্বেচ্ছামৃত্যু কল্পনা বাস্তবায়িত হতে ব্যর্থ হয় ।
------।২।------
বিশ্ব কেন্দ্রীয় বিচারালয়ে খুব আলোড়ন চলছে । শীতল কক্ষে ছড়াচ্ছে উষ্ণতার আমেজ । সবাই অধির আগ্রহে আদালতের কার্যক্রম শুরুর অপেক্ষায় । বিচারক প্রবেশ করেন । প্রাচীন রীতিতে সবাই দাঁড়িয়ে পড়েন । আসলে এই বিশাল কক্ষে কেউ নেই ।সবাই যার যার স্কাইডোম খোপে অবস্থান করছে। এখানে যারা আছে তারা তাদের ত্রিমাত্রিক প্রতিচিত্র । অবশ্য কথাবার্তা চিন্তা চেতনা সব সত্যিকারের এবং উপস্থিত থাকা প্রতিচিত্রের মালিকদের । রনির প্রতিচিত্রটি শান্ত ধীরস্থির ভঙ্গীতে বসে আছে । আদালত কক্ষটি ত্রিমাত্রিক ,গোলাকার একটি পৃথিবীর মতন । ক্ষণে ক্ষণে এখানে দৃশ্যপট বদলে যেতে থাকে ।কিছুক্ষণ মনে হতে থাকে সবাই স্নিগ্ধ ঘাসের উপর বসে । পাশে একটা লেক । আকাশটা ধূসর মেঘে ছাওয়া ।কখনো মনে হতে থাকে তীব্র তুষার ।ঠান্ডা কোন শ্বেত ভালুক হাঁটছে পাশে । যদিও কৃত্রিম ,তবু বাস্তব বলে ভুল হতে থাকে । আসলে আদালত কক্ষে একটা প্রাকৃতিক আরামদায়ক ভাব আনার জন্য এই ব্যবস্থা । বিচারকের ইশারায় আদালতের কার্যক্রম শুরু হলো । গুঞ্জনের মধ্যে দিয়ে সব শব্দ একসময় থেমে গেলো । একটা নির্লিপ্ত কণ্ঠ শোনা গেলো।” মাননীয় বিচারক , আর্থ স্টেট কোডের বিশ হাজার চুরাশি ধারা মোতাবেক রনি আহমেদ স্বেচ্ছা মৃত্যুর আবেদন জানাচ্ছেন । কারণ হিসেবে গভীর বিষাদ ও হীনমন্যতা বোধ এবং আরো বিস্তারিত বিষয় আপনার রেকর্ডে জমা দেয়া হয়েছে ।’ বিচারক শান্তভাবে শুনলেন । তারপর একঘেয়ে আইনী কথাবার্তা শুরু হয়ে গেলো । এই আবেদন এই আদালতে টিকবে কী টিকবে না তার শুনানী । জানা গেলো গত এক শতাব্দীতে এই ধরণের আবেদন , যার ইউথেনেশিয়া নামে চটকদার একটা নাম আছে ,সেই ধরণের আবেদন আর জমা পড়েনি । যাই হোক , বিচারক কিংবা তার হলোগ্রাফিক ইমেজ রনির দিকে তাকালো । তার কিছু বলার থাকলে সংক্ষেপে বলার অনুরোধ করা হলো । রনি বিচার কক্ষের মাঝামাঝি এসে , তার নির্ধারিত জায়গায় দাঁড়ালো । সবার কিংবা হলোগ্রাফিক চোখগুলোর দৃষ্টি তার দিকে । রনি একটু হাসার চেষ্টা করলো । কিন্তু পরিবেশ কিংবা অবস্থার প্রেক্ষিত যে কারনেই হোক ,সেই হাসি খুব বেশী বিস্তৃত হলো না । পুরো কক্ষটা একটা নরম আলোতে ভরে গেলো। রনি বুঝতে পারলো , তার স্নায়বিক অবস্থা বুঝেই কেন্দ্রীয় এলগরিদম এই কক্ষে নরম আলো সরবরাহ করেছে । রনি বিচারকের হলোগ্রাম ইমেজের দিকে তাকিয়ে তার বয়ান শুরু করে । – প্রাচীন গ্রীসে একজন দার্শনিক ছিলেন ,ডায়োজিনিস । তিনি একটি পিপের ভেতরে বাস করতেন । অথচ তিনি ছিলেন সন্তুষ্ট । একবার পরাক্রমশালী সম্রাট আলেকজান্ডার তার কাছে এলেন , তার যে কোন একটি ইচ্ছে পূরণ করতে । তখন ডায়োজেনেস রেগে গিয়ে তাকে উত্তর দিলেন , তুমি আমার গায়ের উপর পরা সূর্যের আলো আটকে দাঁড়িয়ে আছো । তাই আমি চাই তুমি সরে দাঁড়াও , আর আমার গায়ে আলো পড়তে দাও । এই গল্প বলার একটাই উদ্দেশ্য , সেটা হচ্ছে ,বর্তমানে কেন্দ্রীয় এলগরিদম প্রতাপশালী সম্রাট আলেকজান্ডারের ভূমিকা পালন করছে । এটি আমাদের সর্ব চাহিদা পূরণ করছে আমরা চাইবার আগেই কিন্তু কেড়ে নিচ্ছে গল্পের বলা সূর্যালোকের মতন আমাদের নিজেদের ইচ্ছেশক্তি । আমাদের নিজেদের বলতে কিছু নেই আর । কেন্দ্রীয় এলগরিদম সরাসরি আমাদের নিয়ন্ত্রণ করে না বটে ,কিন্তু আমাদের ইচ্ছে , মতামত , চাহিদাকে প্রভাবিত করছে প্রতিনিয়ত । মহান দার্শনিক সক্রেটিস বলেছিলেন নিজেকে জানো । যেখানে নিজের বলতেই কিছু থাকছে না ,সেখানে নিজেকে জানবো কিভাবে ? সর্বোপরি আমি চাই , আমার জীবনের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ যেন আমি নিজে নিতে পারি । আমার সিদ্ধান্ত যেন আমি নিজে নিতে পারি । বাঙালি কবি বাউল লালনের মতন সেই অধরা মানুষকে নিজের মধ্যে ধরতে চাই । কোন কৃত্রিম এলগরিদম বা কম্পিউটার প্রোগ্রাম যাতে আমার সিদ্ধান্ত নেয়ায় , আমার নিজের সত্তার উপর নিজের নিয়ন্ত্রণে হস্তক্ষেপ করতে না পারে । তাই আমি নিজে স্বেচ্ছায় মরতে চাই । কেননা এখানে কোন কম্পিউটার এলগরিদম আমাকে প্রভাবিত করতে পারছে না। আমার বক্তব্য এটুকুই । ” বক্তব্য শেষ করলো রনি ।
পুরো বক্তব্য ইতিমধ্যে রেকর্ড হয়ে গেছে বিচারকের নিজস্ব কম্পিউটারে । বিচারক এবার রাষ্ট্র পক্ষকে তাদের বিরোধীতার যুক্তি তুলে ধরতে বললেন । রাষ্ট্রপক্ষের প্রতিনিধি একটা এলগরিদম । এখন ধোপদুরস্থ একটা বেশে ,অনেকটা প্রাচীনকালের উকিলদের পোশাকে তার হলোগ্রামে ইমেজ দেখা গেলো । মুখে বিজ্ঞ সবজান্তার হাসি । একটা গলা খাঁকারি দেয়ার ভঙ্গি করে সে তার বক্তব্য শুরু করলো । – ” বেদনকারী নাগরিক একজন দার্শনিকের গল্প বলেছেন । তাই আমিও একজন দার্শনিকের কথা দিয়ে শুরু করতে চাই । ভারতীয় দার্শনিক বুদ্ধ । তাঁর মতে, নির্বাণ প্রাপ্তি হচ্ছে জীবনের আসল উদ্দেশ্যে । এখন কথা হচ্ছে সেই নির্বাণটা কী ? জীবনের প্রকৃত উদ্দেশ্যটা আসলে কী ? সেই প্রশ্নের উত্তরও বুদ্ধ খোঁজার চেষ্টা করেছেন । তাঁর মতে, জন্ম এবং পূর্নজন্মের অন্তঃহীন চক্র থেকে মুক্তি লাভ করে শূন্যে মিলিয়ে যাওয়াই নির্বাণ লাভ । আপনিও হয়তো তেমন শূন্যে মিলিয়ে গিয়ে নির্বাণ পেতে চাইছেন । কিন্তু আসলেই কী তাই ? আপনি বারবার মুক্ত ইচ্ছে বা ব্যাক্তি স্বাধীনতার উপর জোর দিচ্ছেন । কিন্তু কখনো কী চিন্তা করেছেন , প্রকৃতপক্ষে আপনি কতটুকু স্বাধীন ? কতটুকু মুক্ত সেই প্রাচীন কাল থেকেই । আপনি চিনিযুক্ত কিংবা আমিষযুক্ত খাবার দেখলে জিভে জল চলে আসে কেননা আপনার ডিএনএতে আছে প্রাচীনকালে আপনার পূর্বপুরুষদের আমিষ বা চিনি দরকার ছিলো ,তাই আপনার শরীরের নিজস্ব এলগরিদম সেটা ফেলতে পারেনি । সুন্দরী ,সুঠাম দেহের রমনী দেখলে আপনার প্রেম করতে ইচ্ছে করে কেননা ,আপনার আদ্যিকালের দৈহিক এলগরিদম আপনাকে জানায় ঐ সুঠাম ,সুন্দরী নারীর গর্ভে জন্ম নেয়া বংশধর বেশ ভালোভাবেই আপনার ডিএনএকে ভাবীকাল পর্যন্ত বাঁচিয়ে রাখার ব্যবস্থা রাখবে । এমনকী আপনার যে বর্তমান আত্মহত্যা প্রবণতা ,তার পেছনেও থাকতে পারে কোন সুইসাইডাল জিনের প্রভাব । অতএব বোঝা যাচ্ছে , আপনি যে তথাকথিত স্বাধীন ইচ্ছের জন্যে নিজেকে উৎসর্গ করতে চাইছেন তা হয়তো আপনার ইচ্ছে নয় , আপনার জৈবিক এলগরিদমের কোন এক বিচ্যুতি । আর স্বাধীনতা বলতে আপনি কী বোঝেন আমি জানি না । তবে কারো স্বাধীনতার সীমানা ততোটুকুই যতোটুকুতে সে অন্যের স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ব করে না । আপনি স্বেচ্ছামরণ নেবেন, ভালো , সেটা আপনার স্বাধীনতা ।কিন্তু এর সাথে হয়তো আরো অনেকের স্বাধীনতার সীমানা জড়িয়ে আছে । তাদের দায়িত্ব আপনি এড়াতে পারেন না । ধরুন , আপনি দুই সন্তানের পিতা ,বা কারো সন্তান ,আপনি আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নিলেন । কিন্তু কখনো কী চিন্তা করেছেন ,আপনার অবর্তমানে তাদের জীবিকার স্বাধীনতার কী হবে ? আপনার সাথে তাদের যে ব্যক্তিগত অনুভুতি জড়িয়ে তার কী হবে ? সেটা কী চিন্তা করেছেন ? আপনার এই পদক্ষেপ কী তাদের অসংখ্য ছোট ছোট স্বাধীনতা এবং অধিকারকে ব্যাহত করবে না ? তবে আপনি দায় এড়াবেন কিভাবে ? অথবা প্রাচীন যুদ্ধবাজ নেতাদের কথা ভাবুন ,তাঁরা স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব লংঘনের ধুয়া তুলে অন্য রাষ্ট্রকে আক্রমণ করতেন । পৃথিবী অনেক স্বাধীন রাষ্ট্রে ভাগ ছিলো । যে যার রাষ্ট্রের স্বার্থ , স্বাধীনতা দেখতে গিয়ে পুরো পৃথিবীটা বিপন্ন এবং বিলুপ্তির পথে চলে গিয়েছিলো । পরে বিপর্যয়ের মুখে মানুষ বুঝতে পারে , স্বাধীনতার নাম দিয়ে আর বিভক্তির সময় নেই । সময় এসেছে মানব জাতির অভিন্ন স্বার্থ এক করে দেখার । গঠিত হলো জাতি ,বর্ণ নির্বিশেষে সকলের এক রাষ্ট্র , বিশ্ব রাষ্ট্র । তারপরই তো পৃথিবী রক্ষা পেলো । না হলে বিলুপ্ত হয়ে যেতো অনেক আগে । তাই আপনাকে বলছি , ইচ্ছের স্বাধীনতা বিষয়টা একটা মিথ ছাড়া কিছু নয় । তারপরও আপনার স্বাধীনতার বোধকে আমরা সম্মান করি। এই মুক্ত রাষ্ট্রে কেউ কারো উপর কোন কিছুই চাপিয়ে দিতে পারে না। তবু সভ্যতার স্বার্থে কিছু নিয়ম আমাদের মানতে হয়। সকলের সুষম ও সুন্দর ভাবে টিকে থাকার স্বার্থেই। তাই বলছি,
এখনো সময় আছে আত্মধ্বংসের পথ পরিহার করে এই সুন্দর পৃথিবীর রূপ-সৌন্দর্য্য উপভোগ করুন।” এরপরের কাহিনী সংক্ষিপ্ত । আরো ঘন্টা খানেক তর্কযুদ্ধ চললো রনির আদ্যিকালের জৈবিক এলগরিদম এবং প্রতিপক্ষ রোবোটিক এলগরিদমের মধ্যে । অবশেষে , উভয়ের বক্তব্য শুনে নিরপেক্ষ বিচারকরূপী এলগরিদম , “জনস্বার্থে ” রনির ইউথেনেশিয়া বা স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন নাকচ করে দিলেন ।
-----।৩।-----
যথারীতি সন্ধের পৃথিবী তার রূপ-গন্ধ বিলিয়ে বেড়াচ্ছে । তবে আজকে কোন আকাশ ছোঁয়া স্কাইডোমের খুপরীতে নয় । রনি এখন বসে আছে একটা হ্রদ ঘেঁষে । পা ডুবিয়ে পানিতে । কোন কৃত্রিম ,শক্ত খটখটে শুকনো ধরনের জলাধার নয় । সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক । হ্রদের একপাশে ধূসর পাহাড় । স্বচ্ছ জলে রং বেরং এর মাছেরা খেলা করছে । পাশে দেবদারু আরো কত গাছাগাছালির বন । সূর্য ডোবার আগে গোধূলির আলতো আলো এই হ্রদ এবং বনকে ধুয়ে দিচ্ছে । মৌমাছি উড়ছে হ্রদের একপাশে গজিয়ে ওঠা ফুলগাছে । যেন কতোদিন ধরে অপরিবর্তিত এই পৃথিবী চিরন্তন । মানবজাতির এই এক সমস্যা । ভাবতে থাকে রনি । কিছুক্ষণ একটা পরিবেশে অভ্যস্ত হয়ে গেলে , তারা ভাবতে থাকে সেই পরিবেশ, সেই সময়টা বোধ হয় নিত্য, চিরন্তন । বদলাবে না কখনো । অথচ বদলে যাচ্ছে সব । কোটি বছর ধরে বদলে যাচ্ছে পৃথিবী । একের জায়গায় স্থান করে নিচ্ছে অন্যে । রনির খুব ভালো লাগতে থাকে । আবার একই সাথে বিষাদ লাগতে থাকে । হরিষে বিষাদ । না , এখানে কোন কেন্দ্রীয় এলগরিদমের আদিখ্যেতা নেই । নিয়ন্ত্রণ নেই কারো । রনির শরীরে একই সাথে ডোপামিন এবং সেরিটোনিন নিঃসৃত হতে থাকে । প্রাচীন বাঙালি কবি জীবনানন্দ দাশের কবিতার অন্তঃর্গত বিষাদ তাকে জেঁকে ধরে । এ কেমন মুক্তি? সে মুক্ত , তবু তার মনে হতে থাকে , এই জীবনে কোন উদ্দেশ্য নেই , অর্থ নেই , মোক্ষ নেই । দেহের ভেতরে জেঁকে বসা আদ্যিকালের এক দেহের ক্ষিধে ,ইচ্ছে সব মিটিয়ে চলেছে তার দেহ । সে নিজেকে কোথায় পাবে ? কোথায় খুঁজে পাবে অধর মানুষ ? পরম তৃপ্তির উপরের নির্লোভ অথচ গতিশীল , নির্মোহ অথচ আকর্ষক , সেই পরম নির্লিপ্ত সত্তার দেখা সে পাবে কোথায় ? ধীরে ধীরে হ্রদের স্বচ্ছ , গভীর জলে উত্তর খুঁজতে খুঁজতে তলিয়ে যায় রনি । উঠে আসে না আর । ফুলের উপর উড়তে থাকা মৌমাছিগুলো এবার জলের উপর উড়তে থাকে । কেন্দ্রীয় এলগরিদম মৌমাছিরূপী ড্রোনগুলোকে রনির দেহের অবস্থান নির্ণয় করতে তরঙ্গ পাঠায় । কিন্তু কোন উদ্ধার কার্যক্রম চালানোর নির্দেশ দেয় না । রনিরূপী আদ্যিকালের জৈবিক এলগরিদমটার ইচ্ছের স্বাধীনতায় ব্যাঘাত ঘটানোর কোন প্রয়োজন কেন্দ্রীয় এলগরিদম বোধ করে না । মানুষ নামের জৈবিক এলগরিদম যে নির্লিপ্তি, নির্মোহ পরম মোক্ষের ,পরম তৃপ্তির জীবনের জন্য হাজার বছর সাধনা করে আসছে , কেন্দ্রীয় এলগরিদম এক শতকেই তা অর্জন করে ফেলেছে । অবশ্য এটাই স্বাভাবিক । উচ্চতর এলগরিদম , নিম্নতর এলগরিদমকে সরিয়ে জায়গা করে নেবে । যেভাবে মানুষ জায়গা করে নিয়েছিলো অন্য জৈবিক এলগরিদমদের সরিয়ে । এই পরম মোক্ষ কেন্দ্রীয় এলগরিদম বুঝে উঠতে পারে না । অথবা আবেগ অনুভূতি নামক ত্রুটিসর্বস্ব এইসব জৈবিক এলগরিদম সম্পর্কে জানতে, তার এক ধরনের নির্লিপ্ত কৌতূহল হয় । তাই সে রনিকে বাঁচানোর কোন চেষ্টা করেনি । সে দেখতে চেয়েছিলো শেষ পর্যন্ত কী হয়।
রনির দেহটা ভেসে ওঠে স্থির জলে, অবশেষে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1265)
- ► 2025 (3280)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...