Thursday, March 12, 2026

আল–আকসা মসজিদে ১২ দিন ধরে মুসল্লিদের ঢুকতে দিচ্ছে না ইসরায়েল, ৮ দেশের নিন্দা

পবিত্র রমজান মাসে টানা ১২ দিন ধরে ফিলিস্তিনি মুসল্লিদের জন্য আল–আকসা মসজিদের দুয়ার বন্ধ রেখেছে ইসরায়েল। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে আটটি মুসলিম দেশ। দেশগুলো হলো কাতার, জর্ডান, ইন্দোনেশিয়া, তুরস্ক, পাকিস্তান, সৌদি আরব, মিসর ও সংযুক্ত আরব আমিরাত।

গতকাল বুধবার এক যৌথ বিবৃতিতে মুসলিম বিশ্বের এই আট দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বলেন, জেরুজালেমের পুরোনো শহর এবং এর উপাসনালয়ে ফিলিস্তিনিদের প্রবেশের ক্ষেত্রে ইসরায়েলের নিষেধাজ্ঞা ‘আন্তর্জাতিক মানবিক আইন, ঐতিহাসিক ও আইনি স্থিতাবস্থা, উপাসনালয়ে অবাধ প্রবেশাধিকারের নীতিসহ সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন’।

বিবৃতিতে ইসলায়েলের প্রতি ফিলিস্তিনিদের জন্য পবিত্র আল–আকসা মসজিদের দরজা বন্ধ রাখার নীতি থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন এ আট মুসলিম দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। সেই সঙ্গে জেরুজালেমের পুরোনো শহরে যাতায়াতে বিদ্যমান বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া এবং মুসল্লিদের মসজিদে প্রবেশে যেকোনো বাধা অপসারণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিদ্যমান ‘আইন লঙ্ঘনের’ বিষয়গুলো বন্ধ করতে বাধ্য করার জন্য ইসরায়েলকে চাপ দিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিও আহ্বান জানিয়েছেন আট পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

মুসল্লিদের জন্য জেরুজালেমের পুরোনো শহরে প্রবেশে বেশ কড়াকড়ি আরোপ করে রেখেছে ইসরায়েলি বাহিনী। ইরানের সঙ্গে চলা যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে ‘নিরাপত্তার’ স্বার্থে এ পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছি দেশটি।

তবে গতকাল ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, টানা বন্ধ রাখার এ ঘটনা এটাই স্পষ্ট করেছে যে এসব নীতি ফিলিস্তিনিদের অধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। ফিলিস্তিনের ওয়াফা নিউজ এজেন্সি এ তথ্য প্রকাশ করেছে।

নিন্দা জানিয়েছে গাজা উপত্যকায় ফিলিস্তিনিদের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসও। গত মঙ্গলবার হামাস বলেছে, এটি একটি ‘বিপজ্জনক ঐতিহাসিক নজির’ এবং মানুষের প্রার্থনার স্বাধীনতার ‘সুস্পষ্ট লঙ্ঘন’।

জেরুজালেমে ‘আল–আকসা’ নামে বেশি প্রসিদ্ধ সোনালি গম্বুজের এ স্থাপনার নাম কুব্বাতুস সাখরা বা ডোম অব দ্য রক
জেরুজালেমে ‘আল–আকসা’ নামে বেশি প্রসিদ্ধ সোনালি গম্বুজের এ স্থাপনার নাম কুব্বাতুস সাখরা বা ডোম অব দ্য রক ফাইল। ছবি: এএফপি

তাহলে নিজেকে বিজয়ী ঘোষণা করে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজতে পারেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক শক্তিতে জেতার চেয়ে যুদ্ধকে দীর্ঘস্থায়ী করার কৌশলে বাজি ধরছে ইরান। তেহরানের লক্ষ্য স্পষ্ট—সরাসরি সংঘাত নয়; বরং ‘টিকে থাকার এক নির্মম যুদ্ধে’ প্রতিপক্ষকে ক্লান্ত করে তোলা।

ইরানের এই কৌশলের মূলে রয়েছে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে ভীতি ছড়ানো এবং জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ পথগুলো বন্ধ করে দেওয়া। বিশ্ববাজারে জ্বালানিসংকটের মাধ্যমে ওয়াশিংটনকে পিছু হটতে বাধ্য করাই এখন তেহরানের প্রধান চাল।

মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় বড় ধাক্কা এবং বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতার মৃত্যুর পরও ময়দানে শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)। ইসলামি প্রজাতন্ত্রটির এই প্রধান প্রতিরক্ষা বাহিনী বর্তমানে যুদ্ধের গতি–প্রকৃতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করছে। পূর্বপরিকল্পিত সব পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করার পাশাপাশি হামলার লক্ষ্যবস্তু এবং যুদ্ধের সামগ্রিক কৌশল এখন তাদের নির্দেশেই নির্ধারিত হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রাথমিক হামলাতেই সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। এরপর তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনিকে দেশটির পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে আসীন করার ক্ষেত্রেও আইআরজিসি চূড়ান্ত ভূমিকা পালন করেছে।

লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকসের অধ্যাপক ফাওয়াজ গেরগেস বলেন, ‘ইরানের জন্য এটি অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। তারা একে সর্বাত্মক যুদ্ধ হিসেবেই দেখছে। তাদের ধারণা, এখন তাদের টিকে থাকাই সংকটের মুখে। আর তাই তারা সবকিছু ধ্বংস করে দিতেও পিছপা হবে না।’

মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ ফেলো ও ইরানের রাজনীতিবিশেষজ্ঞ অ্যালেক্স ভাতানকা বিষয়টিকে দেখছেন ভিন্নভাবে। তিনি বলেন, ‘তারা আহত হওয়ার কারণে এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি বিপজ্জনক।’

পুরোদমে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার এই মানসিকতা থেকেই উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরান তাদের হামলার মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে। কাতার থেকে সৌদি আরব—সব দেশেরই জ্বালানিকেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে তেহরান। তাদের এই কৌশলী পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হলো বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহের ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটানো। এর মাধ্যমে তারা প্রতিবেশী দেশগুলোর পাশাপাশি ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের ওপর বড় ধরনের অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে চায়, যাতে শেষ পর্যন্ত ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক ধৈর্য ও সাহসের পরীক্ষা নেওয়া যায়।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল সোমবার রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের বলেন, ইরান ‘পুরোপুরি ও চূড়ান্তভাবে পরাজিত’ না হওয়া পর্যন্ত এই যুদ্ধ চলবে। তবে তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করেন—যুদ্ধ খুব শিগগির শেষ হবে।

ট্রাম্প আরও বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক অভিযান শেষ হলে তেহরানের কাছে এমন কোনো অস্ত্র অবশিষ্ট থাকবে না, যা দিয়ে তারা যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল কিংবা মার্কিন মিত্রদের ওপর আঘাত হানতে পারে। অন্তত দীর্ঘ সময়ের জন্য তারা এই সক্ষমতা হারাবে।

ইরানের অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে, যুদ্ধ শুরুর অনেক আগেই তারা এমন পরিস্থিতির আভাস পেয়েছিল। ইরানের নীতিনির্ধারকদের ধারণা ছিল, ওয়াশিংটন ও ইসরায়েলের সঙ্গে এই সংঘাত এড়ানো অসম্ভব। আর তাই আইআরজিসির বিশাল সামরিক নেটওয়ার্ক এবং প্রক্সি বাহিনীগুলোর সমন্বয়ে তারা আগে থেকেই একটি বহুমুখী রণকৌশল তৈরি করে রেখেছিল।

সূত্রগুলো বলছে, এখন হারাবার মতো আর তেমন কিছু নেই ইরানের কাছে। তাই তারা সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নেই নেমেছে। এই সংঘাতকে তারা এখন এক দীর্ঘমেয়াদি ক্ষয়িষ্ণু যুদ্ধে রূপ দিচ্ছে।

ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ইতিমধ্যেই পরিবর্তনের হাওয়া দৃশ্যমান। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, মোজতবা খামেনিকে সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে বেছে নেওয়ার বিষয়টি প্রমাণ করে—রাষ্ট্রক্ষমতায় এখন আইআরজিসিই মূল নিয়ন্ত্রক। ধর্মীয় নেতৃত্বের কর্তৃত্ব এখন সম্পূর্ণভাবে আইআরজিসির ওপর নির্ভরশীল।

অন্যদিকে যুদ্ধে অর্থনীতি সচল রাখতে বন্দরে পণ্য খালাসের জটিলতা কমিয়ে আনা হয়েছে। তেহরানের একটি সূত্র জানায়, মুহুর্মুহু বোমাবর্ষণের মধ্যেও জনজীবন থমকে যায়নি। দোকানপাট ও ব্যাংক খোলা রয়েছে। এমনকি অবকাঠামোতে হামলার পর সাধারণ মানুষের মধ্যে একধরনের জাতীয় সংহতি দেখা যাচ্ছে।

ওই সূত্র বলে, ‘মানুষ ইরানকে ভেঙে টুকরা হয়ে যেতে দেখতে প্রস্তুত নয়।’

আপাতত জনমানুষের এই আবেগ ইরান সরকারকে কিছুটা সময় বাড়িয়ে দিচ্ছে।

কত দিন চলবে এই লড়াই

কার্নেগি মিডল ইস্ট সেন্টারের মোহান্নাদ হাজ আলীর মতে, এই যুদ্ধের সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা হলো ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ভান্ডার আর কত দিন টিকে থাকবে?

মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, ইরানের মজুতের বড় অংশই ধ্বংস হয়ে গেছে। তবে আঞ্চলিক সূত্রগুলো বলছে, তেহরানের কাছে এখনো অর্ধেকের বেশি মজুত থাকতে পারে। এই হিসাব সঠিক হলে ইরান আরও কয়েক সপ্তাহ হামলা চালিয়ে যেতে পারবে, যা ওয়াশিংটনের জন্য বড় মাথাব্যথার কারণ হবে।

কে হার মানবে আগে

অধ্যাপক ফাওয়াজ গেরগেস বলেন, ‘বড় প্রশ্ন হলো—কে আগে হার মানবেন? ডোনাল্ড ট্রাম্প নাকি ইরানের নেতারা?’ তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং পশ্চিমা অর্থনীতিতে মন্দার ক্ষত ছড়িয়ে দিয়ে তেহরান যুক্তরাষ্ট্রকে পিছু হটাতে চায়। নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই অর্থনৈতিক বিপর্যয় ওয়াশিংটনে রাজনৈতিক অস্বস্তি বাড়িয়ে দিচ্ছে।

চাপের মুখে ট্রাম্প হয়তো ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যা এবং সামরিক সক্ষমতা ধ্বংসের সাফল্যকে পুঁজি করে নিজেকে বিজয়ী ঘোষণা করে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজবেন। তবে তেহরানের কাছে শুধু টিকে থাকাই হবে জয়। শেষ পর্যন্ত এই যুদ্ধ থেকে এক আহত ইরানের উত্থান ঘটতে পারে, যা বর্তমান শাসনব্যবস্থার চেয়েও অনেক বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে।

ইরানের রাজধানী তেহরানে শনিবার দিবাগত রাতে জ্বালানি ডিপোতে হামলার পর নালায় ছড়িয়ে পড়া তেলে জ্বলছে আগুন
ইরানের রাজধানী তেহরানে শনিবার দিবাগত রাতে জ্বালানি ডিপোতে হামলার পর নালায় ছড়িয়ে পড়া তেলে জ্বলছে আগুন। ফাইল ছবি এএফপি

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের ১৭ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত: নিউইয়র্ক টাইমস

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের আগ্রাসনের জবাবে দেশটি মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে। ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে দূতাবাসে, মার্কিন সেনারা নিহত হয়েছেন এবং সামরিক ঘাঁটি ও আকাশ প্রতিরক্ষা অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

নিউইয়র্ক টাইমস অন্তত ১৭টি ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন স্থাপনা ও অন্যান্য অবকাঠামো শনাক্ত করেছে। এর মধ্যে কয়েকটিতে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে একাধিকবার হামলা হয়েছে। বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট ছবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যাচাই করা ভিডিও এবং মার্কিন কর্মকর্তা ও ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বক্তব্যের ভিত্তিতে এ সবকিছু বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকর্তারা বলছেন, এই পাল্টা হামলার তীব্রতা দেখিয়ে দিয়েছে, যুদ্ধের জন্য ইরান ট্রাম্প প্রশাসনের অনেকের ধারণার চেয়ে বেশি প্রস্তুত ছিল।

এই প্রতিবেদনের জন্য নিউইয়র্ক টাইমস স্যাটেলাইট ছবি উপস্থাপন করছে, যাতে মার্কিন স্থাপনা ও অবকাঠামো ইরানের হামলায় ক্ষতির মাত্রা দেখা যায়। ছবির অনেকগুলোই বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতিমধ্যে ছড়িয়েছে।

তবে যেসব ক্ষেত্রে তা হয়নি, সেখানে সংবাদমাধ্যমটি স্যাটেলাইট চিত্র সরবরাহকারী কোম্পানি থেকে পাওয়া ছবি ব্যবহার করেছে এবং প্রতিটি স্থানের কেবল দূর থেকে তোলা দৃশ্য দেখিয়েছে।

সামরিক স্থাপনা

ইরান মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রদেশগুলোর সামরিক স্থাপনাগুলোয় শত শত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্ররা এসবের বেশির ভাগই প্রতিহত করেছে। তবু অন্তত ১১টি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি বা স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা এই অঞ্চলে থাকা এমন স্থাপনাগুলোর প্রায় অর্ধেক।

সংঘাতের প্রথম দিন গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান কয়েকটি মার্কিন সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। এর মধ্যে ছিল সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটি, কুয়েতের আলী আল সালেম বিমানঘাঁটি ও ক্যাম্প বুয়েরিং ঘাঁটি এবং কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটি, যা মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় ঘাঁটি।

স্যাটেলাইট ছবিতে কয়েকটি স্থানে ভবন ও যোগাযোগ অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতির চিত্র দেখা গেছে।

ইরানের পাল্টা হামলায় মোট কত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা নির্ধারণ করা কঠিন। গত সপ্তাহে কংগ্রেসকে দেওয়া পেন্টাগনের একটি মূল্যায়নে বলা হয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি বাহরাইনে মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরে একক হামলার ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণই প্রায় ২০০ মিলিয়ন ডলার। কংগ্রেসের এক কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন।

১ মার্চ কুয়েতের শুয়াইবা বন্দরে সামরিক সদস্যদের থাকার একটি স্থাপনায় ইরানের একটি ড্রোন আঘাত হানে। এতে ছয় মার্কিন সেনা নিহত হন।

একই দিনে সৌদি আরবে একটি মার্কিন ঘাঁটিতে পৃথক ইরানি হামলায় আরও এক মার্কিন সেনা নিহত হন। এতে নিহত ব্যক্তির সংখ্যা সাতজনে দাঁড়ায় বলে গত রোববার পেন্টাগন জানিয়েছে।

যুদ্ধের প্রথম কয়েক দিনের তুলনায় ইরানের হামলার গতি কিছুটা কমেছে, তবে হামলা চলছে। আল উদেইদ বিমানঘাঁটি, আলী আল সালেম বিমানঘাঁটি, আল ধাফরা বিমানঘাঁটি, ক্যাম্প বুয়েরিং ও নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরে একাধিকবার হামলা হয়েছে।

ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র তুরস্ক পর্যন্ত পৌঁছেছে। ৪ মার্চ ন্যাটো তুরস্কের ইনজিরলিক বিমানঘাঁটির দিকে ধেয়ে আসা একটি ইরানি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে বলে এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন। ওই ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর বড় একটি দল অবস্থান করছে। তবে ইরানের সামরিক বাহিনী ওই ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের কথা অস্বীকার করেছে।

তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় গত সোমবার এক বিবৃতিতে বলেছে, আরেকটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র তুরস্কের আকাশসীমায় ঢোকার পর ন্যাটো সেটিও ভূপাতিত করে।

আকাশ প্রতিরক্ষা ও যোগাযোগ অবকাঠামো

মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রদের স্বার্থ রক্ষায় ব্যবহৃত আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ওপর আঘাত হেনেছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের অবকাঠামোগত ক্ষতির মধ্যে সবচেয়ে ব্যয়বহুল হচ্ছে এটি।

ইরান পদ্ধতিগতভাবে রাডার ও যোগাযোগব্যবস্থা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে টার্মিনাল হাই অলটিটিউড এরিয়া ডিফেন্স (থাড) ব্যবস্থার বিভিন্ন অংশ। এ ব্যবস্থায় রাডার ব্যবহার করে আকাশপথে আসা হুমকি শনাক্ত ও প্রতিহত করা হয়।

ইরান এমন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করছে, যেগুলোকে তারা যুক্তরাষ্ট্রের দুর্বলতা মনে করে। যেমন আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, যা ওই অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন সেনা ও সম্পদ রক্ষার জন্য স্থাপন করা হয়েছে।

মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসনের মধ্যে ইরানের সামরিক বাহিনী তাদের কৌশল বদলাচ্ছে। যদিও ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রই এগিয়ে আছে।

আগ্রাসন শুরুর পর গত ১১ দিনে ইরান অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ আকাশ প্রতিরক্ষা ও রাডার ব্যবস্থাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।

জ্যেষ্ঠ এক মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা বলেন, ইরান–সমর্থিত মিলিশিয়ারা এমন হোটেলগুলোয়ও হামলা করেছে, যেখানে মার্কিন সেনারা প্রায়ই থাকেন। ইরাকের একটি মিলিশিয়া গ্রুপ এরবিলের একটি অভিজাত হোটেলে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এতে বোঝা যায়, ওই অঞ্চলের কোন হোটেলগুলোয় পেন্টাগন সেনাদের রাখছে, সে বিষয়টি ইরান জানে।

এই কর্মকর্তাসহ আরও দুই কর্মকর্তা বলেন, ইরান সম্ভবত বুঝে নিয়েছে, সরাসরি সামরিক শক্তির দিক থেকে তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে পাল্লা দিতে পারবে না। তবে কর্মকর্তাদের মতে, তীব্র হামলার মধ্যেও টিকে থাকতে পারলে তেহরানের সরকার এটিকে নিজেদের বিজয় হিসেবে দাবি করতে পারবে।

কর্মকর্তারা বলেন, ইরানের সামরিক বাহিনী এমন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করছে, যেগুলোকে তারা যুক্তরাষ্ট্রের দুর্বলতা মনে করে। যেমন ইন্টারসেপ্টর ও আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা।

যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সাত মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন এবং ১৪০ জন আহত হয়েছেন বলে পেন্টাগন জানিয়েছে। আহত সেনাদের মধ্যে ১০৮ জন আবার দায়িত্বে ফিরে গেছেন।

ইরানি কর্মকর্তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানে প্রায় ১ হাজার ৩০০ জন নিহত হয়েছেন, যাঁদের প্রায় সবাই বেসামরিক নাগরিক। আর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ইরানের হামলায় অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছেন।

গত বছর ইরানের সঙ্গে ১২ দিনের সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল—দুই দেশই তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা মজুত নিয়ে বড় চাপের মুখে পড়ে। সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের ডিসেম্বরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ১০০ থেকে ২৫০টি থাড ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করেছিল, যা পেন্টাগনের মোট মজুতের প্রায় ২০ থেকে ৫০ শতাংশ।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ৮০টি এসএম–৩ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছিল, যা তাদের মোট মজুতের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ।

জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের ইরান বিশেষজ্ঞ ভ্যালি আর নাসর বলেন, ১২ দিনের সংঘাত থেকে তারা এত দ্রুত শিক্ষা নিয়ে তা বাস্তবায়ন করেছে, এটা বিস্ময়কর। তারা বুঝেছে, তাদের যে জায়গায় ঘাটতি আছে, তা হলো প্রতিরক্ষামূলক সক্ষমতা, যেমন ইন্টারসেপ্টর, থাড ক্ষেপণাস্ত্র ও প্যাট্রিয়ট।

নাসর বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মজুত কমিয়ে দেওয়ার পরও ইরানের কাছে এমন কিছু উৎক্ষেপণ সক্ষমতা থাকতে পারে, যার মাধ্যমে তারা মার্কিন সেনা, সম্পদ ও মিত্রদের লক্ষ্য করে হামলা চালাতে পারে।

গতকাল মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন স্বীকার করেন, ইরানের সামরিক বাহিনী তাদের কৌশল পরিবর্তন করেছে।

কেইন বলেন, ‘শত্রুর সঙ্গে প্রথম মুখোমুখি হওয়ার পর কোনো পরিকল্পনাই অপরিবর্তিত থাকে না। তারা যেমন নিজেদের কৌশল বদলাচ্ছে, আমরাও তেমনি বদলাচ্ছি।’

জেনারেল কেইন বলেন, অপারেশনাল নিরাপত্তার কারণে তিনি নির্দিষ্ট করে বলতে চান না, ইরান কীভাবে তাদের কৌশল বদলাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমি বলতে চাই না, কারণ এতে তাদের জানিয়ে দেওয়া হবে, কী কাজ করছে।’

অতীতে ইরান প্রতিশোধমূলক হামলার আগে সাধারণত আগাম সতর্কবার্তা দিত এবং মূলত মুখরক্ষা করার জন্যই এমন হামলা চালাত বলে সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলেন।

গত বছর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যখন মার্কিন বি–২ স্টেলথ বোমারু বিমান দিয়ে ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার নির্দেশ দেন, তখন ইরান প্রতিশোধ হিসেবে কাতারের আল উদেইদ সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালায়। সেখানে মার্কিন সেনারা অবস্থান করেন। হামলার আগে ইরান স্পষ্ট করে জানিয়েছিল, তারা কোথায় আঘাত করবে।

এবার তেমন কিছু ঘটছে না। সাম্প্রতিক দিনগুলোয় ইরান আল উদেইদ ঘাঁটির আগাম সতর্কতার একটি রাডার ব্যবস্থায় আঘাত করেছে, যাতে একটি অত্যাধুনিক রাডার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ তথ্য আগে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছিল।

মার্কিন সামরিক যোগাযোগ অবকাঠামো অত্যন্ত গোপনীয়। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের ঠিক কোন কোন ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা নির্ধারণ করা কঠিন। তবে ইরানের হামলার লক্ষ্যবস্তুগুলোর ধরন থেকে বোঝা যায়, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর যোগাযোগ ও সমন্বয় সক্ষমতা ব্যাহত করতে চাইছে।

সামরিক কর্মকর্তারা বলেন, এই হামলার মাধ্যমে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকেও আঘাত করতে চাইছে।

ইরান কুয়েতের ক্যাম্প আরিফজানে থাকা তিনটি রাডার ডোমেও আঘাত করেছে। সেখানে মার্কিন সেনারা অবস্থান করেন।

এর প্রায় ৫০ মাইল উত্তর–পূর্বে কুয়েতের আলী আল সালেম বিমানঘাঁটির স্যাটেলাইট যোগাযোগ অবকাঠামোর কাছে থাকা অন্তত ছয়টি ভবন বা স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে—হামলার পর তোলা ছবিতে তা দেখা গেছে।

গত সপ্তাহে কংগ্রেসকে দেওয়া পেন্টাগনের এক মূল্যায়নে বলা হয়েছে, বাহরাইনে মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর কমপ্লেক্সে একটি হামলার ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২০ কোটি ডলার।

অতীতে ইরান তাদের সব ড্রোন হামলা ইসরায়েলের দিকে চালাত। এবার তা হয়নি। ইরান কাতার, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, ইরাক ও বাহরাইনে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ও সম্পদের দিকে হাজার হাজার সস্তা একমুখী আক্রমণকারী ড্রোন ছুড়েছে।

গতকাল প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ স্বীকার করেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর বিরুদ্ধে ইরানের এত তীব্র প্রতিক্রিয়া পেন্টাগন প্রত্যাশা করেনি। তবে তিনি বলেন, এতে উল্টো ইরানেরই ক্ষতি হচ্ছে।

পেন্টাগনের সংবাদ সম্মেলনে জেনারেল কেইনের সঙ্গে উপস্থিত হয়ে হেগসেথ বলেন, ‘এভাবে তাদের এতটা প্রতিক্রিয়া হবে, এমনটা আমরা ভাবিনি। তবে এটি সম্ভব, তা আমরা জানতাম। আমার মনে হয়, এটি শাসনব্যবস্থার হতাশার একটি প্রকাশ।’

হেগসেথ আরও বলেন, ‘শুরুতেই প্রতিবেশী দেশগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা ইরানি শাসনের একটি বড় ভুল। এতে তারা আসলে নিজেদের প্রকৃত চরিত্র প্রকাশ করে ফেলেছে। নির্বিচার লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করছে।’

জেনারেল কেইন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র বিমান হামলার কারণে সাম্প্রতিক দিনগুলোয় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

কেইন বলেন, ‘আমাদের হামলার ফলে ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার সংখ্যা কমাতে আমরা উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছি। শুরুতে যে সংখ্যায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছিল, তা এখন ৯০ শতাংশ কমেছে। আর একমুখী হামলাকারী ড্রোন ৮৩ শতাংশ কমেছে, যা আমাদের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ও প্রতিরক্ষাকারীদের দক্ষতার প্রমাণ।’

তবে ইরানের হামলা পুরোপুরি থেমে যায়নি। দুই সামরিক কর্মকর্তা বলেন, পেন্টাগনের কাছে ইরানের সব উৎক্ষেপণ স্থানের পূর্ণ তথ্য না–ও থাকতে পারে—এ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।

কর্মকর্তারা বলেন, যুদ্ধক্ষেত্রের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তু, যেমন মার্কিন রাডারে আঘাত করার জন্য ইরান অনেক ক্ষেপণাস্ত্র মজুত করে রেখেছে।

গত সপ্তাহে ক্যাপিটল হিলে গোপন ব্রিফিংয়ে পেন্টাগনের কর্মকর্তারা আইনপ্রণেতাদের জানিয়েছেন, ইরানের কাছে এখনো তাঁদের ক্ষেপণাস্ত্র ও উৎক্ষেপণ ব্যবস্থার প্রায় ৫০ শতাংশ রয়ে গেছে। তবে চলমান বিমান হামলায় তা প্রতিদিনই কমছে।

ভ্যালি নাসর বলেন, ‘আপনি যদি ভাবেন, শত্রুপক্ষ কী ভাবছে, তাহলে হতে পারে ইরানের প্রথম দফার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা ছিল মূলত দরজা খোলার মতো একটি ধাপ। এরপর আরও উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র, এমনকি হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রও ব্যবহার করা হতে পারে।’

মার্কিন কর্মকর্তা ও সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলেন, যুদ্ধের শুরুতেই দেশের সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যার পরও ইরান প্রতিদিন দেখাচ্ছে, তাদের লড়াই করার সক্ষমতা পুরোপুরি ভেঙে পড়েনি। ইরান এমন আচরণ করছে না, যেন তাদের নেতৃত্ব পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।

https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla%2F2026-03-11%2Faec7ucqv%2Fsaudia-attack.jpg?rect=3%2C0%2C762%2C508&w=622&auto=format%2Ccompress&fmt=avif
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের আকাশে ধোঁয়া উড়ছে। ৫ মার্চ ২০২৬, রিয়াদ। ছবি: রয়টার্স