Saturday, May 28, 2011

মোহামেডানে নির্বাচন হচ্ছেই

মোহামেডান পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচনে ৫২ জন মোট ৭১টি মনোনয়নপত্র কিনেছেন। সভাপতি পদে মনোনয়নপত্র কিনেছেন ৫ জন—মোসাদ্দেক আলী, লোকমান হোসেন ভুঁইয়া, সালাম মুর্শেদী, ওরিয়ন গ্রুপের চেয়ারম্যান ওবায়দুল করিম ও মেঘনা গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল।
মোসাদ্দেক আলী ও ওবায়দুল করিম শুধু সভাপতি পদে মনোনয়নপত্র তুলেছেন। অন্য তিনজন তুলেছেন পরিচালক পদেও। মোহামেডান-সংশ্লিষ্টদের ধারণা, শেষ পর্যন্ত মোসাদ্দেক আলী ও ওবায়দুল করিমই থাকছেন সভাপতি হওয়ার লড়াইয়ে। একক পরিষদ দেওয়ার উদ্যোগ থাকলেও শেষ পর্যন্ত সমঝোতা হয়নি। ৫ জুন ভোটাভুটি হচ্ছেই।
বর্তমান ক্লাব সভাপতি কুতুবউদ্দিন আহমেদ নির্বাচনে যাচ্ছেন না। বর্তমানে কুতুবউদ্দিনের নেতৃত্বে কাজ করা ১৬ জন পরিচালকের সবাই মনোনয়নপত্র কিনেছেন। পরিচালক পদে আর যাঁরা মনোনয়নপত্র কিনেছেন, তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন জাকারিয়া পিন্টু, মাহবুব আনাম, আনোয়ারুল হক হেলাল, বাদল রায়, খোন্দকার জামিলউদ্দিন, ছাইদ হাসান কানন, ইনকিলাব সম্পাদক এ এম এম বাহাউদ্দিন, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক প্রমুখ।

জাপানি বালক এবং আমরা by মোস্তাক আহমেদ ও ইসহাক চৌধুরী

প্রথম আলোয় ১৭ মে প্রকাশিত অধ্যাপক শেখ আবদুস সালামের লেখা ‘জাপানি বালক, তোমাকে স্যালুট’ পড়ে মুগ্ধ হলাম। সেই সঙ্গে জাপানি ন্যায়বোধ আর শ্রেয়বোধের নিখাদ কর্মতৎপরতার দুটো ছোট্ট ঘটনা যোগ করার জন্যই আমার এ লেখা। পত্রিকান্তরে প্রকাশ একটা, আর অন্যটা এক বন্ধুর নিজ অভিজ্ঞতা।
ঢাকা-চট্টগ্রাম সড়কপথে দাউদকান্দি-কাঁচপুরের মাঝে মেঘনা নদীর ওপর যে সেতুটি করা হয়েছে, তা জাপানি অর্থে নির্মিত। এ সেতুটি উদ্বোধন করেছিলেন তৎকালীন জাপানের প্রধানমন্ত্রী। উদ্বোধন করতে এসে এত বড় সেতুর এত কম প্রশস্ততা দেখে দেশে ফিরে গিয়ে নাকি জাপানি ইঞ্জিনিয়ারদের প্রতি উষ্মা প্রকাশ করেছিলেন। এত ব্যস্ত সড়কে, এত ব্যয়ে নির্মিত একটা সেতু এত অপ্রশস্ত কেন হবে—এটাই উষ্মার কারণ!
অধ্যাপক সালামের সেই বালকের কাহিনি বলতে গিয়ে আমার বন্ধু শোনালেন তাঁর নিজের অভিজ্ঞতার যে গল্প, সেটাতে পাওয়া যায় জাপানিদের নিখাদ শুদ্ধতার পরিচয়। আমার ওই বন্ধু বিশ্বখ্যাত এক শিপিং কোম্পানির চিফ ইঞ্জিনিয়ার। একবার জাহাজ নিয়ে জাপানের কোনো বন্দরে পৌঁছালে নিয়মমাফিক বন্দরের জাপানি টেকনিশিয়ানরা জাহাজের ইঞ্জিনে আসেন। চিফ ইঞ্জিনিয়ার তাঁদের কাজ তদারক করতে উপস্থিত হলে তাঁরা জানান, ‘চিফ, তোমার কষ্ট করে উপস্থিত থাকার প্রয়োজন নেই, তুমি না থাকলেও যা যা প্রয়োজন, আমরা করে দেব—নিশ্চিন্তে থাকো।’ আশ্বাস পেয়ে ইঞ্জিনিয়ার তাঁর রুমে চলে আসেন। কাজ শেষে এক টেকনিশিয়ান চিফ ইঞ্জিনিয়ারের সঙ্গে দেখা করে জানান, ‘চিফ, তোমার ইঞ্জিনরুমের এক মেশিনে একটি নাট নষ্ট ছিল, ওটা বদলে দিয়েছি, কিন্তু দুঃখিত, অরিজিনালটা ছিল স্টেইনলেস স্টিলের, আমাদের কাছে ও ধরনের নাট এখন নেই, তাই অন্য মানের একটি নাট লাগিয়ে দিলাম। তিন-চার সপ্তাহ পরে তুমি জাহাজ নিয়ে আবার এলে আমরা ওটা বদলে স্টেইনলেস স্টিলের নাট লাগিয়ে দেব।’ বন্ধু বললেন, ‘এটা যদি ওরা না বলত, তাহলে আমি হয়তো জানতেও পারতাম না।’ এবং অবাক ঘটনা, শ্রেয়বোধে শুদ্ধ জাপানি টেকনিশিয়ানরা তিন-চার সপ্তাহ পর জাহাজ নিয়ে ওই বন্দরে গেলে তাঁরা ওই নাট বদলে স্টেইনলেস স্টিলের নাট লাগিয়ে দিয়েছিলেন!
টোকিও ইলেকট্রিক পাওয়ার কোম্পানির (টেপকো) কর্মকর্তাদের ভূমিকম্প, সুনামি-আক্রান্তদের আশ্রয়শিবিরে গিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নের জন্য মাথা নিচু করে দুঃখ প্রকাশ করার ছবিও প্রথম আলোয় দেখলাম কিছুদিন আগে। মনে বড় আশা হয়, ওই বালকের মতো, ওই টেকনিশিয়ানদের মতো অথবা টেপকোর দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের মতো বেশ কিছু লোক যদি আমরা পেতাম!
প্রথম আলোকে অনুরোধ, এ ধরনের মানবিকতা, সিভিকভারচ্যু ও শ্রেয়বোধের পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তের ঘটনা ছাপিয়ে যেতে। এতে যদি কিছুমাত্র শুদ্ধতায় আমরা স্নাত হই, সেটাই হবে আমাদের পরম পাওয়া।
ইসহাক চৌধুরী, মণিপুরীপাড়া, তেজগাঁও, ঢাকা।
ishaq_52@yahoo.com

২.
জীবনে প্রতিটি আলোচনায় আমরা উদাহরণ প্রয়োগ করি। উদাহরণ ব্যতীত কোনো কিছুরই সঠিক শিক্ষা বা প্রয়োগ হয় না। গত ১৭ মে যাঁরা প্রথম আলোয় ‘জাপানি বালক, তোমাকে স্যালুট’ শীর্ষক কলামটি পড়েছেন, তাঁরা নিশ্চয়ই বুঝতে পারবেন, ঘটনাটি শুধুই একটি উদাহরণ নয়। মানুষের তরে মানুষ অথবা জীবনের জন্য জীবন—কথাগুলো আমরা সব সময় শুনি ও বলি। কিন্তু কতজন এই উক্তি পালন করি! আমরা গরিবের চাল-ডাল ভাগাভাগি করে খাই, গরিবের উন্নয়ন প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ করি। মানুষকে ঠকিয়ে খাওয়াই আজ মানুষের কাজ।
লেখক মূল গল্পে আসার আগে বেশ কয়েকটি উদাহরণ দিয়েছেন। ওই জাপানি বালকটির কাছে বাংলাদেশের এই উদাহরণগুলো ম্লান হয়ে গেছে। যে জাপান শতাব্দীর ভয়াবহ বিপর্যয়ের পরও পদ্মা সেতুর নির্মাণ-সহায়তা বাতিল করেনি, তার জনগণ হিসেবে ওই বালকটির এমন উদাহরণই সম্ভব। লেখাটি আমাদের অনেক ভাবিয়েছে। প্রতিদিন রাজনৈতিক দলের দলাদলি-জাতীয় কলাম যাঁরা পড়তে পড়তে ক্লান্ত, ওই কলামটি তাঁদের একটু শান্তি দিয়েছে, হয়তো বা কাঁদিয়েছে। অনেক পাঠকই হয়তো বা সেদিন ওই পুলিশ সদস্যের মতো কান্না লুকানোর জন্য চেষ্টা করেছিলেন। একটি বালক স্কুলের বারান্দা থেকে দেখল, তার বাবা গাড়ি করে তাকে নিতে আসছেন। কিন্তু চোখের পলকেই স্রোতের টানে তার বাবা উধাও, তেমনি উপকূলের একটি সুন্দর বাড়ি থেকে স্রোতের টানে ভেসে গেছে তার ভাইবোন। পরিবার হারানো হূদয়ভাঙা বালকটি খাবারের জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েছিল। কিন্তু তার খাবার পাওয়ার কোনো সম্ভাবনা ছিল না। একজন পুলিশ সদস্য তার কাহিনি শুনলেন এবং তাঁর নিজের খাবারের প্যাকেটটি তাকে দিলেন। কিন্তু বালকটি ঘটাল একটি অবাক কাণ্ড! সে খাবারের প্যাকেটটি যথাস্থানে রেখে এসে নিজের লাইনে দাঁড়াল। কিন্তু সে জানত, তার খাবার পাওয়ার সম্ভাবনা একেবারেই নেই। পুলিশ বালকটির এমন ঘটনার কারণ জানতে চাইলে সে যে জবাব দেয়, তাতে ওই পুলিশ সদস্য কেঁদে ফেলেছিলেন। আমি ঘটনাটি লিখলাম, কেননা আমাদের প্রত্যেকেরই এটা পড়া দরকার। মানুষ তার নিজের দেশের প্রতি, নিজের প্রতি কতটুকু কর্তব্যবোধ থাকলে এমন ঘটনা ঘটানো সম্ভব। পাঠকেরা, নিজের দেশকে কীভাবে ভালোবাসতে হয়, নিজের দেশের জনগণকে কীভাবে আপন করা যায়।
আমাদের দেশে প্রতিবছর বন্যাসহ অনেক প্রাকৃতিক দুর্যোগ হয়। এতে খাদ্য ও অন্যান্য সাহায্য আসে কিন্তু তার বেশির ভাগই চলে যায় মুষ্টিমেয় লোকের কাছে। সেই লোকগুলো ধনী শ্রেণীর, আবার শিক্ষিতও বটে। আমি তাঁদের বলব, আপনারা ওই বালকটির দিকে তাকান, যে মা-বাবা, বোন হারিয়েও হাসিমুখে দেশের জনগণের জন্য ক্ষুধা সহ্য করতে পারে, তবে আপনি কেন পারবেন না। আপনার দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিন। দামি গাড়িতে চড়ে আপনার সন্তানকে দামি স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠান। পথে নিশ্চয়ই আপনার সন্তানের মতো অন্য সন্তানদেরও দেখেন। তাদের কাছে যান না তাদের শরীরে গন্ধ বলে, তাদের সঙ্গে কথা বলেন না তাদের মুখে গন্ধ বলে, তাদের দাম দেন না তাদের গায়ে দামি কাপড় নেই বলে। অথচ ওরা আপনার সন্তান না হলেও আমাদের দেশের সন্তান। আর এই সন্তানদের যদি সুযোগ-সুবিধা না দেন, তবে আমরা কোনো দিন এই মানবতার জয়গান গাইতে পারব না।
মোস্তাক আহমেদ
শিক্ষার্থী, ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

প্রধান দুটি দলের শ্রেণীচরিত্র by এরশাদ মজুমদার

আওয়ামী লীগের জন্ম হয়েছে ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন। প্রথমে দলটির নাম রাখা হয় আওয়ামী মুসলিম লীগ। মওলানা ভাসানী বলতেন, মুসলিম লীগ সরকারের মুসলিম লীগ, আর আওয়ামী মুসলিম লীগ হলো জনগণের দল। আওয়ামী মানে জনগণ। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার মাত্র ২২ মাসের মাথায় মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে কেন এই নতুন দলটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন মুসলিম লীগের কিছু নেতা। ওই সময়ে মওলানা সাহেবকে যাঁরা সহযোগিতা করেছিলেন, তাঁরা সবাই ছিলেন মুসলিম লীগের নেতা ও কর্মী। শুরুতেই পাকিস্তান সরকার ভাষার প্রশ্নে পূর্ব পাকিস্তানে জনপ্রিয়তা হারাতে শুরু করে। প্রদেশের মুসলিম লীগ নেতারা ছাত্র ও সাধারণ মানুষের সেন্টিমেন্ট বোঝার চেষ্টা করেননি। মূলত আওয়ামী মুসলিম লীগ যাত্রা শুরু করেছিল প্রদেশের মধ্যবিত্তদের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য। ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে প্রাদেশিক মুসলিম লীগের পতন হয়। আইয়ুবের আমলে মুসলিম লীগ বিশেষ সুবিধাভোগী দল হিসেবে আবার ক্ষমতায় আসে। ১৯৫৫ সালে মুসলিম শব্দটি বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগ করা হয়। ছোটখাটো অনেক সেক্যুলার দল আওয়ামী লীগের সঙ্গে একীভূত হয়। এমনকি নিষিদ্ধ কমিউনিস্ট পার্টির বহু সদস্য আওয়ামী লীগের সঙ্গে মিশে যায়। একসময় আওয়ামী লীগ কেন্দ্র ও প্রদেশে সরকার গঠন করে। প্রদেশের চিফ মিনিস্টার ছিলেন আতাউর রহমান খান ও কেন্দ্রে প্রধানমন্ত্রী ছিলেন সোহরাওয়ার্দী। এ সময় ফরেন পলিসি বা বিদেশবিষয়ক নীতি নিয়ে মওলানা সাহেবের সঙ্গে সরকারের দ্বিমত তৈরি হয়। সোহরাওয়ার্দী ছিলেন আমেরিকার সঙ্গে জোটবদ্ধ থাকার পক্ষে। কিন্তু মওলানা ভাসানী ছিলেন আমেরিকাবিরোধী নিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতির পক্ষে এবং একসময় তিনি নিখিল পাকিস্তানভিত্তিক বাম রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) গঠন করেন। তবে এ কথা ঠিক, ছয় দফা ঘোষণা করার পর থেকেই আওয়ামী লীগ পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিদের রাজনৈতিক দলে পরিণত হয়। সেভাবেই ১৯৭০ সালে নির্বাচনে বাঙালিদের একমাত্র রাজনৈতিক দল হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। দেশ স্বাধীন হওয়ার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত আওয়ামী লীগ এর একটি বুর্জোয়া রাজনৈতিক দল ছিল। স্বাধীনতার পর হঠাৎ করেই আওয়ামী লীগ সমাজতন্ত্রী দল হিসেবে পরিচিতি পেতে শুরু করে। পরে ছাত্রলীগের কিছু নেতা মিলে একটি বামঘেঁষা রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠা করেন—জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল বা জাসদ।
লেখাটি আমি শুরু করেছি প্রথম ১৬ এপ্রিল প্রথম আলোয় প্রকাশিত স্নেহভাজন বন্ধু সোহরাব হাসানের লেখা আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মিল-অমিল পড়ে এবং উৎসাহিত হয়ে। এই ফাঁকে একই বিষয়ে আমার মুরব্বি এবিএম মূসা ও সাহাবুদ্দিন সাহেবের লেখাও আমি পড়ে নিয়েছি। সুযোগ পেয়ে আমি নিজের সম্পর্কেও দুটো কথা বলে নিতে চাই। পাকিস্তান আমলে ছাত্র ইউনিয়ন করার কারণে আমার সঙ্গে মওলানা ভাসানীর দল ন্যাপের যোগাযোগ ছিল। আমরা যখন ছাত্র ইউনিয়ন করি, তখন তা অখণ্ড ছিল। ন্যাপও অখণ্ড ছিল। আমি তখন সংবাদ-এ চাকরি করি। অবজারভার-এর স্থায়ী চাকরি ছেড়ে অধিকতর রাজনৈতিক হওয়ার জন্য সংবাদ-এ যোগ দিয়েছিলাম। সম্পাদক ছিলেন জহুর হুসেন চৌধুরী। নির্বাহী সম্পাদক ছিলেন শহীদুল্লা কায়সার। ১৯৬৪-৬৫ সালের দিকে বাম রাজনীতি ভাগ হয়ে যায়। এক ভাগ চীনের সঙ্গে, আরেক ভাগ রাশিয়ার সঙ্গে। মওলানা সাহেব ছিলেন চীনের সঙ্গে। সংবাদ চলে যায় রাশিয়ার সঙ্গে। সংবাদ-এ তিন বছরের বেশি সময় থাকার পর আমি পূর্ণাঙ্গ রাজনীতি করার জন্য ফেনীতে চলে যাই। সেখানে গিয়ে আমি কৃষক আন্দোলন করার জন্য ফসল নামে একটি সাপ্তাহিক কাগজ বের করি। ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ পাঁচ বছর কৃষক আন্দোলন করে আমি ঢাকায় ফিরে আসি এবং দৈনিক পূর্বদেশ-এ সিনিয়র রিপোর্টার হিসেবে যোগ দিই। আমার মনে হয়েছে, রাজনীতিতে ডাবল স্ট্যান্ডার্ড অপরিহার্য, যা আমার পক্ষে অসম্ভব ছিল। ভাবলাম, কৃষকদের ঠকানো উচিত হবে না।
তিনটি লেখাতেই আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সম্পর্কে তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হয়েছে। মূল নিবন্ধের লেখক সোহরাব হাসান আওয়ামী লীগের পক্ষে অবস্থান নিয়ে এর গুণাবলি ও সীমাবদ্ধতা বর্ণনা করেছেন। সাহাবুদ্দিন সাহেবও খোলামেলাভাবে বিএনপির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। আমি বিষয়টি ওভাবে দেখছি না। আওয়ামী লীগ কী পরিস্থিতি ও পরিবেশে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তা দেখতে হবে। মূসা ভাই আরও অনেক বেশি ভালো বলতে পারবেন। তখন তিনি বাম ধারার প্রগতিশীল রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। সুতরাং এখানে প্রেক্ষাপটটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তখন প্রগতিশীল মুসলিম লীগ কর্মীদের সামনে অন্য আর কোনো পথ খোলা ছিল না। মওলানা ভাসানী বুঝতে পেরেছিলেন, মুসলিম লীগ জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। একটি নতুন রাজনৈতিক দল সময়ের দাবি ছিল। মুসলিম ছাত্রলীগের বাইরে মধ্যপন্থী চিন্তাধারার একটি ছাত্র সংগঠনের প্রয়োজন ছিল। গঠিত হলো ছাত্র ইউনিয়ন। শুরু থেকেই ছাত্র ইউনিয়ন ছিল বাম চিন্তাধারার সঙ্গে জড়িত। তখন কমিউনিস্ট পার্টি নিষিদ্ধ ছিল। কমিউনিস্টরা গোপনে কাজ করতেন।
১৯৭৫-এর আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর খন্দকার মোশতাক ৮৩ দিনের মতো ক্ষমতায় ছিলেন। ৬ নভেম্বর তিনি বিচারপতি সায়েমের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে বিদায় নেন। এর কিছুদিন পর জেনারেল জিয়া প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক ও রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। বলা যেতে পারে, এ সময় থেকে জেনারেল জিয়ার যুগ শুরু হয়। জিয়ার নাম এ দেশবাসী প্রথম শুনেছে ১৯৭১ সালের ২৭ মার্চ। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একজন অফিসার। আর মুসলিম লীগ কর্মীরা বঙ্গবন্ধুর নাম জানে ১৯৪৬ সালের আগে থেকে। পাকিস্তান হওয়ার পর তিনি একজন নামজাদা যুব নেতা। ১৯৪৯ সালের জুন মাসে আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হলে বঙ্গবন্ধু দলের যুগ্ম সম্পাদক নির্বাচিত হন। সুতরাং জেনারেল জিয়া আর বঙ্গবন্ধু কখনোই তুল্য ব্যক্তিত্ব নন। দুজন আলাদা পথের যাত্রী। কিন্তু ভাগ্য জিয়াকে রাজনীতিতে টেনে নিয়ে এসেছে। জিয়া যখন দল গঠনের উদ্যোগ নিলেন, তখন ন্যাপকে সঙ্গে নিয়ে যাদু মিয়া জেনারেল জিয়ার সঙ্গে হাত মেলান। এখনো বিএনপিতে সাবেক ন্যাপের নেতাদের প্রভাব বেশি। ন্যাপ ছাড়া বেশ কিছু ছোট দল ও নেতা বিএনপিতে আসে। এর মধ্যে মুসলিম লীগসহ কয়েকটি ইসলামি দলও ছিল।
দল দুটির ফারাক বা মিল-অমিল সোহরাব হাসান যেভাবে দেখেছেন, তাঁর সঙ্গে আমার তেমন দ্বিমত নেই। দুটোই বুর্জোয়া রাজনীতির তাঁবেদার। দুই দলই বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ ও এডিবির পূজারি। স্বাবলম্বী বাংলাদেশ গড়ার ব্যাপারে দুই দলেরই ব্যর্থতা রয়েছে। তবে আওয়ামী লীগের সাফল্য হলো, দলটি নিজের ইমেজ তৈরি করেছে সেক্যুলার প্রগতিশীল হিসেবে। বিএনপির তেমন ইমেজ নেই। দেশের একশ্রেণীর বুদ্ধিজীবী বিএনপিকে দক্ষিণপন্থী দল মনে করে। বিএনপি অবশ্য নিজেকে ইসলামপন্থী জাতীয়তাবাদী দল মনে করে। আওয়ামী লীগ জয় বাংলা বলে। বিএনপি বাংলাদেশ জিন্দাবাদ বলে। যদিও বিশ্ব ক্রিকেটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আইসিসির সভাপতি ও ভারতের মন্ত্রী বাংলাদেশ জিন্দাবাদ বলেছেন। আসলে এসব দেশের উন্নতির জন্য তেমন কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়। এসব লোক দেখানো ও লোক ঠকানো স্লোগান। সাধারণ মানুষ এতে খুশি হয় এবং ভোট দেয়। ভোটাররা মার্কা দেখেই সিল মারেন। মার্কা নিয়ে রাস্তায় মিছিল করেন। কোন দলের জন্ম কোথায়, তা নিয়ে কেউ ভাবে না। কোন দলের প্রতিষ্ঠাতা কে, তা নিয়েও তেমন ভাবে না। বঙ্গবন্ধু মারা যাওয়ার পরও তাঁর দল শক্তিশালী। বারবার ক্ষমতায় আসছে। বিএনপিও জিয়ার আমল থেকে অনেক বেশি শক্তিশালী। কোন দলে মাস্তান কত, কোন দল কেমন স্বজনপ্রীতি করে, কোন দল দলীয়করণ করে বা কোন আমলে কত খুন হচ্ছে, তাকে আমি কোনো মাপকাঠি করতে চাই না। এ ব্যাপারে দুই দলই এক। কেউ ২০ আর কেউ ১৮। আমরা এ দুই দলের ওপর নানা ধরনের গুণ ও দোষ আরোপ করি। আওয়ামী লীগ নিজেকে মুক্তিযুদ্ধের দল মনে করে। এটা তো ঠিক আছে। তখন তো বিএনপির জন্মই হয়নি। আমি মনে করি, বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি বড় দল হিসেবে বিকশিত হয়েছে। জনগণের জন্য সুবিধা হয়েছে। একবার চিন্তা করুন, বিএনপি না থাকলে দেশের রাজনীতির কী হতো? বিএনপিকে আমরা বলতে পারি দক্ষিণ-মধ্যপন্থী দল। মুসলিম লীগের আধুনিক সংস্করণ। আওয়ামী লীগ তো মুসলিম লীগ ছিলই। যদিও এখন তারা নিজেদের সেক্যুলার বাম-মধ্যপন্থী দল মনে করে। বুদ্ধিজীবী আর সুশীল সমাজ দল দুটিকে কীভাবে দেখছে, তা নিয়ে ভোটাররা মোটেও মাথা ঘামান না।
এরশাদ মজুমদার: সাংবাদিক।
ershadmz40@yahoo.com

সংসদে গিয়ে কথা বলুন

প্রধান বিরোধী দল বিএনপি জাতীয় সংসদের চলতি অধিবেশনে যোগদানের যে ইঙ্গিত দিয়েছে, তাকে আমরা স্বাগত জানাই। গত মঙ্গলবার পত্রিকান্তরে দলের একাধিক নেতা বলেছেন, দেশ ও জনগণের মঙ্গলের জন্য যা প্রয়োজন, তাঁরা তা-ই করবেন। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র সফরে আছেন। তিনি দেশে ফেরার পর ২৮ মে বিএনপি সংসদীয় দলের সভা অনুষ্ঠিত হবে। দেশবাসীর প্রত্যাশা, বিএনপির সংসদীয় দলের বৈঠকে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত হবে এবং দলটি সংসদে যোগ দিয়ে তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করবে। বিরোধী দলের সূত্রে জানানো হয়েছে, বাজেট অধিবেশনে যোগ দিলেও তারা ৯ জুন বাজেট পেশের দিন যাচ্ছে না। এ ধরনের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি অবশ্যই পরিত্যাজ্য। এর আগে বিরোধী দল সংসদে যোগদানের ব্যাপারে কিছু শর্তের কথাও বলেছিল। বিরোধীদলীয় নেত্রীর মামলা প্রত্যাহারসহ কিছু দাবি তারা সরকারের কাছে তুলে ধরেছে। এগুলো যোগদানের পূর্বশর্ত না করে সবকিছু নিয়েই সংসদে আলোচনা হতে পারে।
সংসদের চলতি অধিবেশনটি নানা কারণে তাৎপর্যপূর্ণ। এই অধিবেশনে ২০১১-১২ অর্থবছরের বাজেট অনুমোদন ছাড়াও সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাব পেশ করার কথা। বাজেট পেশের দিন সংসদে বিরোধী দল উপস্থিত থাকলে তা একটি ভালো দৃষ্টান্ত হতো। জাতীয় সংসদ কোনো দলের সম্পত্তি নয়, সমগ্র জাতির সম্পত্তি। বিরোধী দল কেন এই সংসদের ওপর তাদের হক ছেড়ে দেবে? সরকারি দলই বা কেন জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সংসদে আলোচনায় আগ্রহ দেখাবে না? চলতি অধিবেশনের শুরুতে স্পিকার আবদুল হামিদ সংসদে যোগদানের জন্য বিরোধী দলের প্রতি আবার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি সরকারি ও বিরোধী—উভয় দলকে সহনশীল হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। আমরাও মনে করি, সরকারি ও বিরোধী দলের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমেই সংসদ প্রাণবন্ত ও কার্যকর হতে পারে। বিরোধী দলের অনুপস্থিতিতে সংসদ নিষ্প্রাণ হয়ে ওঠে, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় থাকে অনালোচিত।
মাননীয় সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে সংবিধান সংশোধনের বিষয়টি সামনে এসেছে। সব পক্ষের মধ্যে আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে এটি হওয়া প্রয়োজন। কিন্তু বিরোধী দল বলেছে, তারা সংবিধান সংশোধন-প্রক্রিয়ায় অংশ নেবে না। সংবিধান সংশোধনের মতো জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তাদের এই নেতিবাচক মনোভাব সমর্থনযোগ্য নয়। বিরোধী দলের উচিত হবে সংবিধান সংশোধন বিষয়ে তাদের যুক্তিগুলো সংসদে তুলে ধরা। সরকারেরও কর্তব্য হবে বিরোধী দলকে কেবল সংখ্যার ভিত্তিতে বিচার না করে তাদের যুক্তিপূর্ণ বক্তব্য ও প্রস্তাব আমলে নেওয়া। দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেত্রী বিরোধী দল তথা দেশবাসীকে সে ধরনের আশ্বাসই দিয়েছিলেন। একগুঁয়েমি নয়, সমঝোতা ও সহিষ্ণুতার পথেই সমস্যার সমাধান খুঁজতে হবে।
নির্বাচনের আগে দুই প্রধান দলই জাতীয় সংসদকে রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু করার ওয়াদা করেছিল। আজ সেই ওয়াদা থেকে সরে আসার সুযোগ নেই। অব্যাহত সংসদ বর্জন কিংবা একতরফা সংসদ পরিচালনা—কোনোটিই দেশ ও জনগণের জন্য মঙ্গল বয়ে আনবে না।

ইয়েমেনে আদিবাসীদের দখলে সরকারি ভবন

ইয়েমেনের একজন প্রভাবশালী বিরোধীদলীয় নেতার অনুগত আদিবাসীরা সরকারি বার্তা সংস্থা সাবার ভবনসহ বেশ কয়েকটি সরকারি ভবন দখল করে নিয়েছে। গতকাল বুধবার সরকারি সূত্র এ কথা জানায়। এদিকে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে আদিবাসীদের ভয়াবহ বন্দুকযুদ্ধে ৪৪ জন নিহত হয়েছে।
আদিবাসীরা জাতীয় বিমান সংস্থা ইয়েমেনিয়ার ভবন দখল করে নিয়েছে। তারা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সদর দপ্তরেও প্রবেশের চেষ্টা চালায়।
নিরাপত্তা বাহিনী ও প্রভাবশালী হাশিদ আদিবাসী জোটের প্রধান শেখ সাদিক আল-আহমারের অনুসারীদের মধ্যে গত সোমবার সানায় সংঘর্ষ বাধে। প্রেসিডেন্ট আলী আবদুল্লাহ সালেহ বিরোধীদের সঙ্গে একটি চুক্তিতে সই করতে অস্বীকৃতি জানানোর পর সংঘর্ষ বেধে যায়। চুক্তিটি সই হলে প্রেসিডেন্ট সালেহকে ৩০ দিনের মধ্যে ক্ষমতা ছাড়তে হবে।
প্রেসিডেন্ট সালেহ গৃহযুদ্ধের ব্যাপারে সতর্ক করে দেওয়ার একদিন পর আদিবাসীরা বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন সরকারি ভবন দখল করে নেয়।
বার্তা সংস্থা এএফপি, গত সোম ও মঙ্গলবার সারা দিন ধরে লড়াই চলে। সামান্য বিরতির পর গতকাল সকালে আবার সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে কমপক্ষে ৪৪ জন নিহত হয়েছে।

হিটলারের নাগরিকত্ব বাতিল

জার্মানির সাবেক একনায়ক এডলফ হিটলারের সম্মানসূচক নাগরিকত্ব বাতিল করেছে অস্ট্রিয়ার আমস্টেটেন শহর কর্তৃপক্ষ। গত মঙ্গলবার সেখানকার নগর পরিষদে ভোটাভুটির মাধ্যমে বড় ব্যবধানে এ প্রস্তাবটি পাস হয়। দেশটির রাজধানী ভিয়েনা থেকে প্রায় ১৪০ কিলোমিটার পশ্চিমে আমস্টেটেন শহরের অবস্থান।
শহরটির মেয়র হারবার্ট কাটজেনগ্রুবের বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সম্মতিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
১৯৩৯ সালে হিটলারকে সম্মানসূচক নাগরিকত্ব দিয়েছিল অস্ট্রিয়ার বেশ কয়েকটি শহর। পরে ১৯৪৫ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষে তা বাতিল করে বেশির ভাগ শহরের কর্তৃপক্ষ। তবে আমস্টেটেন শহরের সম্মানসূচক নাগরিকদের তালিকায় রয়ে গিয়েছিল হিটলারের নাম।

শান্তির লক্ষ্যে শর্ত সাপেক্ষে কিছু ভূমি ছাড়তে রাজি

ফিলিস্তিনের সঙ্গে শান্তি স্থাপনে ১৯৬৭ সালের আগের সীমানায় ফিরে না গেলেও কিছু ভূমি শর্ত সাপেক্ষে ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। মার্কিন কংগ্রেসে গত মঙ্গলবার দেওয়া এক ভাষণে নেতানিয়াহু এ ঘোষণা দেন। তবে তাঁর এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে ফিলিস্তিন।
নেতানিয়াহু বলেছেন, ‘ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় বসতে ইসরায়েল এক্ষুনি প্রস্তুত। আমি বিশ্বাস করি, আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের শান্তির জন্য একটা সুন্দর ভবিষ্যৎ রচনা করতে আমরা পারব। তবে আল-কায়েদার ফিলিস্তিনি সংস্করণ-সমর্থিত ফিলিস্তিনি সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসবে না ইসরায়েল।’
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে উদ্দেশ করে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আসুন, আমরা একসঙ্গে বসে সমঝোতা করি। হামাসের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে আমাদের সঙ্গে চুক্তি করুন।’ তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতের ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের আকারের ব্যাপারে আমাদের মনোভাব নমনীয়। পীড়াদায়ক হলেও ঐতিহাসিক এই শান্তি স্থাপনে কিছু ভূমি ছাড় দিতে আমি রাজি। ইসরায়েলের নেতা হিসেবে এটি আমার দায়িত্ব।’
তবে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বলেন, জেরুজালেমকে আর বিভক্ত হতে দেওয়া যাবে না। এটি ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবেই টিকে থাকবে। গত দুই দশকেও শান্তি চুক্তিতে পৌঁছাতে না পারার ব্যর্থতার জন্য ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে দায়ী করেছেন নেতানিয়াহু। তিনি বলেছেন, ‘আমি যা করেছি, প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসকে তা-ই করতে হবে। আমি আমার দেশের জনগণের হয়ে বলছি, একটি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র আমি মেনে নেব।’ তিনি বলেন, ‘সময় এসেছে মাহমুদ আব্বাসের জন্যও তাঁর দেশের জনগণের হয়ে কথা বলার। আপনি বলুন, “আমি একটি ইসরায়েলি রাষ্ট্র মেনে নেব।” দেখবেন, এই ছয়টি শব্দই ইতিহাস পাল্টে দেবে।’
নেতানিয়াহুর এ প্রস্তাব নাকচ করে দিয়ে ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের মুখপাত্র নাবিল আবু আরদাইনাহ বলেছেন, ‘সংকট নিরসনে নেতানিয়াহুর যে দৃষ্টিভঙ্গি, তা মধ্যপ্রাচ্য শান্তি আলোচনার প্রাক্কালে আরও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে।’ তিনি বলেন, ‘নেতানিয়াহু তাঁর ভাষণে কী বললেন না-বললেন, তাতে শান্তি আলোচনায় কোনো প্রভাব পড়বে না।’
এদিকে এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, সংকট নিরসনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ১৯৬৭ সালের আগের সীমানায় ফিরে যাওয়ার যে প্রস্তাব দিয়েছেন, তাতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর সমর্থন জানানো উচিত ছিল বলে বেশির ভাগ ইসরায়েলি মনে করেন।
গতকাল বুধবার দৈনিক মারিভ-এ প্রকাশিত এ জরিপে দেখা গেছে, ইসরায়েলের ১০ শতাংশ নাগরিক মনে করে, কোনো ধরনের রাখঢাক না রেখেই প্রেসিডেন্ট ওবামার প্রস্তাবের প্রতি সমর্থন জানানো উচিত ছিল নেতানিয়াহুর। আর ৪৬ দশমিক ৮ শতাংশ নাগরিক মনে করে, সমর্থন জানানো উচিত ছিল, তবে তা অবশ্যই ‘রাখঢাক’ করে। তবে ৩৬ দশমিক ৭ শতাংশ ইসরায়েলি বলেছে, শান্তিপ্রক্রিয়ার স্বার্থে ওবামার প্রস্তাবের বিরোধিতা করা উচিত ছিল নেতানিয়াহুর।
প্রেসিডেন্ট ওবামা গত বৃহস্পতিবার মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক এক ভাষণে এ প্রস্তাব দেন। তিনি ইসরায়েলকে ১৯৬৭ সালের যুদ্ধের আগের সীমানায় ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান। কিন্তু নেতানিয়াহু এ প্রস্তাব নাকচ করে দেন।

ওসামা হত্যায় মার্কিন অভিযান পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ

পাকিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশাররফ বলেছেন, আল-কায়দা নেতা ওসামা বিন লাদেনকে হত্যার জন্য পাকিস্তানের অভ্যন্তরে চালানো অভিযান ছিল প্রকৃত অর্থে ‘তাঁর দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’।
সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মোশাররফ বলেন, কোনো দেশের অন্য কোনো দেশে অনুপ্রবেশের অধিকার নেই।
চলতি সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছিলেন, আল-কায়দা বা তালেবানের শীর্ষ আরও কোনো কর্মকর্তার পাকিস্তানে অবস্থানের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেলে ওসামা বিন লাদেনকে হত্যার মতো আবার অভিযান চালাতে যুক্তরাষ্ট্র ইতস্তত করবে না।
প্রেসিডেন্ট ওবামার এই মন্তব্যকে ‘ঔদ্ধত্য’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন মোশাররফ। তিনি বলেন, ‘প্রকৃতপক্ষে কৌশলগতভাবে, আইনগতভাবে এটি যুদ্ধ। তাই আমি মনে করি, এটা দায়িত্বহীন বিবৃতি এবং এ ধরনের ঔদ্ধত্য জনসন্মুখে, বিশ্বের সামনে দেখানো উচিত নয়।’
এদিকে বিন লাদেনকে হত্যার অভিযানের সময় বিধ্বস্ত মার্কিন হেলিকপ্টারের ধ্বংসাবশেষ যুক্তরাষ্ট্রকে ফেরত দিয়েছে পাকিস্তান। গতকাল বুধবার পেন্টাগনের একজন কর্মকর্তা এ কথা জানান।
কর্নেল ডেভিড লাপান বলেন, বিধ্বস্ত হেলিকপ্টারের ধ্বংসাবশেষ যুক্তরাষ্ট্রকে ফেরত দেওয়া হয়েছে।
কর্মকর্তারা জানান, বিন লাদেনের আস্তানায় অভিযানকালে দ্রুত অবতরণ করতে গিয়ে হেলিকপ্টারটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ওসামাকে হত্যার পর মার্কিন বিশেষ বাহিনীর সদস্যরা ইচ্ছাকৃতভাবে হেলিকপ্টারটি উড়িয়ে দেয়।
হেলিকপ্টারটির স্পর্শকাতর প্রযুক্তি অন্য কারও হাতে চলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা ছিল যুক্তরাষ্ট্রের।

ত্রিপোলিতে ন্যাটোর আরও বিমান হামলা

লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলিতে গত মঙ্গলবার আবারও ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে সামরিক জোট ন্যাটো। ওই দিন ভোরে হামলা চালানোর পর রাতে আবারও এ হামলা চালানো হয়।
ন্যাটো গত ৩১ মার্চ লিবিয়া অভিযানের দায়িত্ব নেয়। এরপর লিবিয়ায় এটাই ন্যাটোর সবচেয়ে বড় অভিযান বলে মনে করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার দিবাগত রাতে মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে ছয়টি শক্তিশালী বিস্ফোরণে ত্রিপোলি প্রকম্পিত হয়ে ওঠে। লিবিয়ার নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির বাসভবন চত্বর বাব আল আজিজিয়ার কাছেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
লিবিয়ার কর্মকর্তারা দাবি করেন, মঙ্গলবার ভোরে চালানো বিমান হামলায় অন্তত ১৯ জন নিহত হয়। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে একে ‘ঔপনিবেশিক ক্রুসেডারদের’ হামলা বলে আখ্যা দেওয়া হয়। তবে রাতের হামলার ব্যাপারে লিবিয়া সরকারের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
ন্যাটোর একজন কর্মকর্তা বলেন, জুন মাসের শেষের দিকে বা জুলাই মাসের শুরুর দিকে গাদ্দাফির পতন হবে। গত ১৫ দিনে ন্যাটোর হামলায় গাদ্দাফি বাহিনী দুর্বল হয়ে গেছে। তারা এখন আত্মরক্ষার চেষ্টা করছে।

করাচিতে নৌবাহিনীর সেই ঘাঁটি থেকে কমান্ডার তাহিরকে প্রত্যাহার

পাকিস্তানের করাচিতে জঙ্গি হামলার শিকার নৌবাহিনীর বিমান ঘাঁটি থেকে কমান্ডার রাজা তাহিরকে গতকাল বুধবার প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। এই বিমান ঘাঁটিতে গত সোমবার জঙ্গিরা হামলা চালায়।
নৌবাহিনীর মুখপাত্র কমান্ডার সালমান আলী জানান, কমান্ডার খালিদ পারভেজকে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। রাজা তাহিরকে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হবে। এদিকে বিমান ঘাঁটিতে জঙ্গি হামলার দুদিনের মধ্যে এ পরিবর্তন আনা হলেও মুখপাত্র জানিয়েছেন, কমান্ডারের পদ থেকে রাজা তাহিরকে সরিয়ে নেওয়াটা নিয়মিত পরিবর্তনেরই অংশ।

মোবারক ও তাঁর দুই ছেলেকে বিচারের মুখোমুখি করা হবে

বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলির নির্দেশ দেওয়ার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মিসরের ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারক ও তাঁর দুই ছেলেকে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। দেশটির প্রসিকিউটর জেনারেল গত মঙ্গলবার এ কথা জানিয়েছেন।
প্রসিকিউটর জেনারেলের দপ্তর থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ৮৩ বছর বয়সী মোবারক ও তাঁর দুই ছেলের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, স্বজনপ্রীতি ও ঘুষ গ্রহণেরও অভিযোগ আছে।
প্রসিকিউটর জেনারেলের মুখপাত্র আদল এল-সাইদ বলেন, মোবারকের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা বাহিনী পাঠিয়ে বিক্ষোভকারীদের হত্যার যে অভিযোগ উঠেছে, তা প্রমাণিত হলে মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে। তবে অভিযোগের শুনানি শুরুর কোনো তারিখ এখনো ধার্য করা হয়নি।
মুখপাত্র আরও জানান, মোবারক ছাড়াও পুলিশের কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি করার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে। মোবারকবিরোধী আন্দোলন চলাকালে বিক্ষোভকারীসহ অন্তত ৮৪৬ জন নিহত হয়। ১৮ দিনের প্রচণ্ড গণবিক্ষোভের মুখে গত ১১ ফেব্রুয়ারি মোবারক ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হন।
মোবারক বর্তমানে মিসরের পর্যটন নগর শারম আল শেখে একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বন্দী আছেন। তাঁর দুই ছেলে আলা ও গামালকে কায়রোর তোরা কারাগারে আটক রাখা হয়েছে।

পরিবেশনা স্বত্ব পেল কলাম্বিয়া পিকচার্স

আল-কায়েদার নেতা ওসামা বিন লাদেন হত্যার ঘটনা নিয়ে নির্মাণাধীন একটি ছবির পরিবেশনা স্বত্ব পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা ও পরিবেশনা প্রতিষ্ঠান কলাম্বিয়া পিকচার্স। গত মঙ্গলবার ওই নির্মাতা প্রতিষ্ঠান সূত্রে এ কথা জানা যায়। ছবিটি পরিচালনা করবেন অস্কার বিজয়ী চলচ্চিত্র নির্মাতা ক্যাথরিন বিগেলো।
পরিবেশনা স্বত্ব লাভের খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে কলাম্বিয়া পিকচার্সের মূল প্রতিষ্ঠান সনি এন্টারটেইনমেন্টের কর্মকর্তা অ্যামি প্যাসকেল এক বিবৃতিতে বলেন, বিগেলো ও চিত্রনাট্যকার মার্ক বোয়েল ২০০৮ সাল থেকে ওসামাকে নিয়ে একটি ছবি তৈরির চিন্তাভাবনা করছিলেন। এখন তাঁরা সাম্প্রতিক ঘটনাবলি এই ছবিতে জুড়ে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছেন।
অ্যামি বলেন, ছবিতে ওসামাকে হত্যার নেপথ্য অভিযানের বিষয়টি তুলে ধরা হবে। সে ক্ষেত্রে ওসামার মৃত্যুর বিষয়টি মুখ্য হবে না।

আইএসআইয়ের দুজন কর্মকর্তা মুম্বাই হামলায় সহায়তা দেন

মুম্বাই হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক ডেভিড কোলম্যান হেডলি বলেছেন, মেজর ইকবাল ওরফে চৌধুরী খান ও মেজর সামির নামে পাকিস্তানের দুজন কর্মকর্তা তাঁকে হামলার ব্যাপারে প্রত্যক্ষ সহযোগিতা দিয়েছিলেন। তিনি বলেছেন, তাঁরা দুজনই পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের কর্মকর্তা। তাঁদের সঙ্গে বিশেষ করে মেজর ইকবালের ই-মেইলে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের একটি আদালতে হেডলি এসব কথা জানান।
রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলির বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে হেডলি জানান, পাকিস্তানের জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তাইয়েবা (এলইটি) নেতা ও জামাত-উদ-দাওয়ার (জেডইউডি) প্রধান হাফিজ সাঈদ তাঁকে জিহাদে উদ্বুদ্ধ করেন। হাফিজ সাঈদ তাঁকে বলেন, ‘জিহাদে এক সেকেন্ড সময় দেওয়া শত শত বছর ইবাদতে মশগুল থাকার চেয়ে উত্তম।’
হেডলি আদালতকে বলেন, এমনিতেই তিনি ভারতবিদ্বেষী ছিলেন। তিনি ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে গিয়ে ভারতীয় সেনাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু হাফিজ সাঈদ তাঁকে বলেন, যেহেতু তিনি মার্কিন নাগরিক, সেহেতু তাঁকে আরও গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যেতে পারে।
হেডলি বলেন, ২০০৪ সালে পাকিস্তানে লস্কর নেতা হাফিজ সাঈদ ও জাকিউর রহমান লাখভির সঙ্গে তাঁর কথা হয়। সেখানে তাঁরা মুম্বাই হামলার প্রাথমিক পরিকল্পনা করেন। ওই দুই জঙ্গি নেতা তাঁকে জানান, এ বিষয়ে আইএসআইয়ের সঙ্গে তাঁরা পরামর্শ করবেন। হেডলি আদালতকে বলেন, তিনি তখন জানতে পারেন, আইএসআই অর্থ ও অস্ত্র দিয়ে তাঁদের সাহায্য করছিল। তিনি বলেন, লাখভি তাঁকে জানান, আইএসআই কর্মকর্তা মেজর ইকবাল তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। এর পরই মেজর ইকবালের সঙ্গে তাঁর ই-মেইলে যোগাযোগ হয়।
তদন্ত কর্মকর্তারা বলেছেন, ইকবালের সঙ্গে মোট ২০ বার হেডলির ই-মেইল বার্তা চালাচালি হয়। এর মাধ্যমে তাঁরা মুম্বাই হামলার বিষয়ে নানা তথ্য আদান-প্রদান করেন। এ ছাড়া তাঁরা ভারতের উগ্রপন্থী সংগঠন শিব সেনার প্রধান বাল ঠাকরেকে হত্যা করা যায় কি না তা নিয়েও মতবিনিময় করেন।
২০০৮ সালের ২৬ নভেম্বর মুম্বাইয়ের দুটি হোটেল, রেলস্টেশনসহ বেশ কয়েকটি স্থাপনায় হামলায় ১৬৬ জন মারা যায়। ভারতের অভিযোগ, লস্কর-ই-তাইয়েবা ওই হামলা চালায়। ২০১০ সালের মার্চে যুক্তরাষ্ট্র থেকে পাকিস্তান যাওয়ার সময় হেডলিকে আটক করা হয়।

লিবিয়া অভিযান গাদ্দাফিকে পদত্যাগে বাধ্য করবে

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন, লিবিয়ায় অভিযান দেশটির নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফিকে পদত্যাগে বাধ্য করবে। তিনি স্বীকার করেন, লিবিয়ায় আকাশপথে ন্যাটোর অভিযানে সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এরপরও ধীরগতিতে অটলভাবে চালানো অভিযানে গাদ্দাফির পতন হবে। গতকাল বুধবার লন্ডনে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ওবামা এসব কথা বলেন।
ওবামা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে এবং তা আগের চেয়ে এখন জোরালো হয়েছে। তিনি বলেন, বেশ কিছু বিষয়ে ডেভিড ক্যামেরন ও তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি একই। সম্মেলনে ক্যামেরন বলেন, উভয় দেশের নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধির জন্য এই সম্পর্ক অত্যাবশ্যক। উভয় নেতা আবারও লিবিয়ার নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফিকে পদত্যাগের আহ্বান জানান।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘যেসব মানুষ গণতন্ত্রের জন্য লড়েছেন, তাঁদের জন্য সব রকমের সহায়তা দিতে আমরা অঙ্গীকারাবদ্ধ। যেসব নেতা গণতান্ত্রিক সংস্কার সমর্থন করেন, তাঁদের ক্ষেত্রেও আমরা একই অঙ্গীকার করেছি।’
আফগানিস্তান প্রসঙ্গে ওবামা বলেন, আমরা এখন নিরাপত্তার দায়িত্ব আফগান নেতৃত্বাধীন ব্যবস্থার কাছে হস্তান্তর করার পর্যায়ে রয়েছি। ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলের মধ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের ব্যাপারে ক্যামেরনের সঙ্গে তাঁর মতৈক্য হয়েছে বলে তিনি জানান।
সম্মেলনের আগে ওবামা ও ক্যামেরন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে বৈঠক করেন। এতে লিবিয়া ও আফগানিস্তানের যুদ্ধের বিষয় প্রাধান্য পায়। এ ব্যাপারে ক্যামেরন বলেন, বৈঠকে তাঁরা অনেক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। এর মধ্যে যেসব বিষয় প্রাধান্য পায়, তা হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি। ক্যামেরন বলেন, গাদ্দাফির ওপর আমাদের চাপ বাড়াতে হবে। তাঁকে অবশ্যই ক্ষমতা ছাড়তে হবে।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বলেন, আরব বিশ্বে আন্দোলনের পেছনে যেসব দেশের ভূমিকা রয়েছে, তাদের জন্য রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সহায়তা দিতে বড় ধরনের কর্মসূচি নিতে জি-৮ সম্মেলনে চাপ দেবে যুক্তরাষ্ট্র্র ও যুক্তরাজ্য। তিনি বলেন, ‘যাঁরা স্বাধীনতার পক্ষে কাজ করছেন, তাঁদের পাশে দাঁড়াব বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও আমি একমত হয়েছি।’

বিনিয়োগকারীরা এসইসিকে স্মারকলিপি দিয়েছে

পুঁজিবাজারে দরপতন ঠেকাতে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (এসইসি) ১৫ দফা দাবিসংবলিত স্মারকলিপি দিয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। আজ বৃহস্পতিবার বেলা সোয়া ১২টার দিকে বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের একটি প্রতিনিধিদল এসইসি চেয়ারম্যান বরাবর স্মারকলিপিটি দেয়।
বিনিয়োগকারীদের পক্ষ থেকে এসইসিকে দেওয়া স্মারকলিপিতে উল্লেখযোগ্য দাবিগুলো হচ্ছে, পুঁজিবাজারের পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এসইসি কর্তৃক লেনদেনে স্থগিতাদেশ জারি, বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক নির্ধারিত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি এসএলআর ও সিআরআরের হার কমানো, আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগের হার ২০ শতাংশ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ নির্ধারণ করা, দুর্নীতিবাজদের পুনরায় পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে বাধ্য করা, গত অর্থবছরে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো পুঁজিবাজার থেকে অর্জিত মুনাফা আবারও পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে বাধ্য করা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও কোম্পানির পরিচালকদের বোনাস ও রাইট শেয়ার থেকে প্রাপ্ত শেয়ার বিক্রিতে এক বছরের জন্য ‘লকইন’-এর ব্যবস্থা করা ও প্লেসমেন্টের টাকা দ্রুত ফেরত দিয়ে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের ব্যবস্থা করা।
এসইসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক এম খায়রুল হোসেনের কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার পর বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক মিজান-উর রশিদ চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিনিয়োগকারীদের পক্ষ থেকে দাবিগুলো এসইসিকে জানানো হয়েছে হয়েছে। বিস্তারিত আলোচনা শেষে এসইসির পক্ষ থেকে আমাদেরকে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে কিছু নীতিমালা তৈরি করা হচ্ছে। যা আগামী তিন মাসের মধ্যে কার্যকর করা হবে।’ তবে লেনদেন বন্ধ করার বিষয়ে এসইসি অপারগতা জানিয়েছে বলে তিনি জানান।
এছাড়া আইসিবি ইনভেস্টটর ফোরাম এসইসির চেয়ারম্যানের কাছে ১৬ দফা দাবি সম্বলিত একটি স্মারকলিপি দিয়েছে।

পাঁচ বছরে ৩৩ হাজার কোটি টাকা ঋণ দেবে এডিবি

আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশকে প্রায় ৩৩ হাজার কোটি টাকা (৪৭০ কোটি ডলার) দেওয়ার পরিকল্পনা করছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। এর মধ্যে ২৪০ কোটি ডলার দেওয়া হবে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ফান্ড (এডিএফ) হিসেবে। আর অর্ডিনারি ক্যাপিটাল রিসোর্স (ওসিআর) হিসেবে মিলবে ২৩০ কোটি ডলার।
২০১১-১৫ সালের এডিপি-প্রণীত কান্ট্রি পার্টনারশিপ স্ট্র্যাটেজির (সিপিএস) আওতায় এই অর্থ দেওয়া হবে। গতকাল বুধবার সিপিএস নিয়ে ঢাকায় অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) ও এডিবির মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এডিবির এই পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়।
ইআরডির সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভুঁইঞার সভাপতিত্বে পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি সম্মেলন কক্ষে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে এডিবির দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের উপমহাপরিচালক ক্যামেলা লুকসিন, আবাসিক পরিচালক থেবাকুমার কান্দিয়াহসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
আগামী পাঁচ বছরে ওসিআর হিসেবে যে ২৩০ কোটি ডলার দিতে চায় এডিবি, তা মূলত এক ধরনের বাণিজ্যিক ঋণ। এই ঋণের সুদ নির্ধারিত হয় লন্ডন আন্তব্যাংক হারে (লাইবর)। এ ধরনের ঋণের জন্য প্রায় ৫ শতাংশ সুদের পাশাপাশি এডিবি দশমিক ৭৫ শতাংশ কমিটমেন্ট চার্জ ও অন্যান্য মাশুল আরোপ করার মোট সুদের হার ৬ শতাংশের বেশি হয়।
তবে এডিএফ হলো এক ধরনের নমনীয় সুদের ঋণ। এর সুদের হার ১ থেকে দেড় শতাংশ। ইআরডি সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
বৈঠক সম্পর্কে ইআরডির সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভুঁইঞা প্রথম আলোকে জানান, মূলত বাংলাদেশের অর্থনৈতিক গতিশীলতা বজায় রাখতেই এডিবি এই বিশাল অঙ্কের সহায়তা কৌশল জানিয়েছে। তবে বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে সংস্থাটির বেশ কিছু পর্যবেক্ষণ রয়েছে।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, এডিবি অর্থনীতিতে চারটি বিষয়কে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে। এগুলো হলো—অবকাঠামো দুর্বলতা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, দক্ষ জনশক্তির অভাব ও দ্রুত নগরায়ণ। আর এডিবির মতে, বিশ্ববাজার পরিস্থিতি ও পরিবেশগত বিপর্যয়, প্রকল্প প্রণয়নে দুর্বলতা, দুর্বল শাসনব্যবস্থা—এই তিনটি ঝুঁকিতে রয়েছে বাংলাদেশের অর্থনীতি।
জানা গেছে, আগামী বছর পুঁজিবাজার (সিকিউরিটিজ ও বন্ড) উন্নয়নে আট কোটি ডলার দেবে এডিবি। বর্তমানে শেয়ারবাজারের তদারকির জন্য তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়নে কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে এডিবি।
শিক্ষা, গণপরিবহন, নগর অবকাঠামো ও জ্বালানি—এই চারটি খাতে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী এডিবি। এ ছাড়া কৃষি ও আর্থিক খাতেও বিনিয়োগ করতে চায় এডিবি।

পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতার প্রয়োজনে আইন পরিবর্তন করা হবে

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমান বলেন, বাজারে স্থিতিশীলতা আনতে কমিশন বা এসইসি যাবতীয় পদক্ষেপ নিয়েছে। যার মধ্যে বিদ্যমান আইনের যথাযথ প্রয়োগ ও প্রয়োজনীয় আইনের পরিবর্তনসহ বাজারসহায়ক অন্যান্য পদক্ষেপও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা অচিরেই পরিলক্ষিত হবে। আজ বৃহস্পতিবার বিকেল তিনটায় বর্তমান বাজার পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসইসির মুখপাত্র এসব কথা জানান।
সাইফুর রহমান বলেন, বাজারের সাম্প্রতিক গতিবিধি কমিশন গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং বাজারের স্থিতিশীলতা আনতে অর্থমন্ত্রী, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), বাংলাদেশ ব্যাংক, দুই স্টক এক্সচেঞ্জ ও মার্চেন্ট ব্যাংকের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষই বাজারে স্থিতিশীলতা আনতে কাজ করার পক্ষে সম্মত হয়েছে।
সাইফুর রহমান আরও জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনো বিনিয়োগকারী যেকোনো ধরনের পরামর্শ দিতে চাইলে তা লিখিত আকারে কমিশনে জানাতে পারবেন। কমিশন ওই পরামর্শ যথাযথ বিবেচনা করে তা বাস্তবায়নে যথাযথ পদক্ষেপ নেবে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সাইফুর রহমান বলেন, আসছে বাজেটে পুঁজিবাজারবান্ধব যা কিছু করা দরকার, সরকার তা করবে—এমনটাই আশা করা হচ্ছে।
এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে সিংগেল পার্টি এক্সপোজারের মেয়াদ ৩০ জুনের পরিবর্তে কিছু সময় বাড়ানো হবে বলে জানানো হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে কমিশন মনে করছে, বাজারে স্থিতিশীলতা আসতে পারে।

বিনিয়োগকারীদের অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ-সমাবেশ

সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসে আজ বৃহস্পতিবার পুঁজিবাজারের জন্য ভালোই কেটেছে। দুই এক্সচেঞ্জে সূচকের সঙ্গে বেড়েছে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচক ১০০ পয়েন্টের বেশি বেড়েছে। সঙ্গে বেড়েছে দুই শতাধিক শেয়ারের দাম। তবে আজ পুঁজিবাজারে অস্থিতিশীলতা ও দরপতনের প্রতিবাদে দুই স্টক এক্সচেঞ্জ কার্যালয়ের সামনে বিনিয়োগকারীরা অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ করেছেন।
দিনের লেনদেন শেষে আজ ডিএসইতে সূচক ১০৫.০৭ পয়েন্ট বেড়ে ৫,৩৯৭.৬১ পয়েন্টে দাঁড়ায়। আজ মোট ২৫৫টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে বেড়েছে ২৪১টির, কমেছে ১০টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে চারটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম। মোট লেনদেন হয়েছে ২৯৬ কোটি টাকার, যা গতকালের চেয়ে ২৮ কোটি টাকা কম।
আজ ডিএসইর সামনে অবস্থান কর্মসূচির সময় বিনিয়োগকারীরা অর্থমন্ত্রী ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে তাঁদের পদত্যাগ দাবি করেন। তাঁরা পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপও কামনা করেন। বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের ব্যানারে বিনিয়োগকারীরা এই কর্মসূচি ও বিক্ষোভ করেন। তবে এ সময় মতিঝিল এলাকায় যান চলাচল স্বাভাবিক ছিল।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ: ইনভেস্টর ফোরাম অব চিটাগাং আজ দুপুর ১২টার দিকে নগরের আগ্রাবাদ এলাকায় সিএসই কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করে।
সমাবেশে বক্তারা শেয়ারবাজার ধসের জন্য অর্থমন্ত্রী ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে দায়ী করে তাঁদের পদত্যাগ দাবি করেন। তা না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা দেওয়া হবে বলে জানানো হয়। এ ছাড়া অর্থ মন্ত্রণালয়, এসইসি, ডিএসই ও সিএসইর সমন্বয়ে শেয়ারবাজারকে দ্রুত আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার দাবিও জানানো হয়। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল আগ্রাবাদ এলাকা প্রদক্ষিণ করে।
ফোরামের আহ্বায়ক আসলাম হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক এম এ কাদের, সদস্যসচিব রানা বিশ্বাসসহ আরও অনেকে সমাবেশে বক্তব্য দেন।

মার্চেন্ট ব্যাংকে দেওয়া ঋণসীমা কমানোর মেয়াদ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ল

ব্যাংকগুলোর সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে মার্চেন্ট ব্যাংকে দেওয়া ব্যাংকের ঋণসীমা (সিঙ্গেল বরোয়ার লিমিট) ১৫ শতাংশের মধ্যে নামিয়ে আনার সময় বাড়ানো হয়েছে। নতুন সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ২০১১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। বাংলাদেশ ব্যাংক আজ বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সব তফসিলি ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এ নির্দেশনা দিয়েছে।
এর আগে এ সময়সীমা ছিল জুন ২০১১ থেকে আগস্ট ২০১১ পর্যন্ত। উল্লেখ্য, আগে মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো ব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান (সাবসিডিয়ারি) ছিল না। সে সময় ব্যাংকের মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো শেয়ারবাজারে যে বিনিয়োগ করত, তা সরাসরি ব্যাংকের বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করা হতো। ব্যাংক কোম্পানি আইন ১৯৯১ অনুসারে কোনো ব্যাংকের শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ ব্যাংকের মোট আমানতের ১০ শতাংশের বেশি হতে পারে না। কিন্তু ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুসারে মার্চেন্ট ব্যাংকিং ও ব্রোকারেজ কার্যক্রমকে পৃথক সহযোগী প্রতিষ্ঠান গঠনের মাধ্যমে পরিচালনা করার পদক্ষেপ নেয়। পৃথক সহযোগী প্রতিষ্ঠান হওয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংকের বিধি অনুসারে এসব প্রতিষ্ঠানে খাটানো তহবিল ঋণে পরিণত হয়েছে। অন্যদিকে বিধি অনুসারে কোনো ব্যাংক তার পরিশোধিত মূলধনের ১৫ শতাংশের বেশি একক কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দিতে পারে না। ব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রেও এই বিধি প্রযোজ্য হয়েছে। সে ক্ষেত্রে ইতিপূর্বে ১৫ শতাংশের বেশি ঋণ কমিয়ে আনতে সময় দেওয়া হয়েছিল জুন ২০১১ সাল থেকে আগস্ট ২০১১ পর্যন্ত। এখন তা বৃদ্ধি করে ডিসেম্বর করা হয়েছে।

ডিএসইতে ২৬ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন লেনদেন

দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) আজ বৃহস্পতিবার ২৬ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন লেনদেন হয়েছে।
বাজার-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বেশ কিছুদিন ধরে পুঁজিবাজারে একধরনের অস্থিরতা বিরাজ করছে। এর ফলে বিনিয়োগকারীরা, বিশেষ করে অনেক বড় বিনিয়োগকারী ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা বাজার থেকে দূরে রয়েছেন।
বাজার-সংশ্লিষ্টরা আরও বলেছেন, তারল্যসংকট লেনদেন কমার অন্যতম একটি কারণ। এ ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কিছু ছাড় দিলে, ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বড় বিনিয়োগকারীরা এগিয়ে আসলে তারল্যসংকট অনেকাংশে কমে যাবে বলে আশা করছেন তাঁরা।
ডিএসই সূত্রে জানা যায়, আজ ডিএসইতে ২৯৬ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। এর আগে ২০০৯ সালের ৩০ মার্চ স্টক এক্সচেঞ্জটিতে ২৭৫ কোটি টাকার লেনদেন হয়।
ব্রোকারেজ হাউস সূত্রে জানা যায়, বেশ কয়েক দিন ধরে হাউসগুলোতে বিনিয়োগকারীদের উপস্থিতি অনেক কমে গেছে। আবার অনেকে হাউসে এলেও লেনদেনে অংশ নিচ্ছেন না। এ ক্ষেত্রে বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন বলে মনে করছেন অনেকেই।
এ ব্যাপারে শেয়ারবাজার বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, বাজারে অস্থিরতার কারণে বিনিয়োগকারীরা এখন আর বাজারে আসতে চাচ্ছেন না। যার ফলে লেনদেন দিন দিন কমে যাচ্ছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণ না হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের বর্তমান সংকোচনশীল মুদ্রানীতি পরিবর্তন করে বিশেষ করে সিআরআর ও এসএলআর কমালে তারল্যপ্রবাহ অনেকাংশে বেড়ে যাবে।
বাজার বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক সালাহউদ্দিন আহমেদ খানও আজকের লেনদেন কমে যাওয়ার পেছনে তারল্যসংকটকেই দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, অব্যাহত দরপতনে অনেক বিনিয়োগকারী ঋণে আটকে আছেন, অনেকে আছেন লোকসানে। এ ছাড়া এখনো এসইসি পুনর্গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি। সব মিলিয়ে বিনিয়োগকারীরা এখন ইচ্ছা থাকলেও নতুন করে বিনিয়োগ করতে পারছেন না। এ অবস্থায় তারল্যপরিস্থিতি উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার পক্ষে মত দেন এই বাজারবিশ্লেষক। তাঁর মতে, বাংলাদেশ ব্যাংকের মূল্য সংকোচন নীতি সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে সংকোচনশীল করবে।
এ ব্যাপারে ডিএসইর জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আহসানুল ইসলাম বলেন, বাজারে মার্চেন্ট ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংকগুলোর ব্রোকারেজ হাউসের অংশগ্রহণ কমে যাওয়ায় বাজারে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। অনেক বিনিয়োগকারীরা মার্জিন ঋণ নিয়ে বিনিয়োগ করায় নতুন করেও বিনিয়োগ করতে পারছেন না।
এ ছাড়া নতুন বেশ কিছুদিন ধরে নতুন আইপিও বন্ধ থাকায় তার নেতিবাচক প্রভাব বাজারে পড়ছে। কেননা, অনেক বিনিয়োগকারী রয়েছেন, যাঁরা শুধু প্রাথমিক বাজারে বিনিয়োগ করে থাকেন।
আহসানুল ইসলাম বলেন, এ ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের চিহ্নিত করে তাঁদের ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা যেতে পারে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে তাঁদের বিশেষ ছাড় দেওয়া যেতে পারে। ক্ষতিগ্রস্তদের ফোর্সড সেলের ভীতি দূর করা ছাড়া নতুন আইপিও আসার ক্ষেত্রে অনাবাসী বাংলাদেশিদের মতো ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের বিশেষ ছাড় দেওয়া যেতে পারে।

দোকান কেন উঠবে?

বিসিবি দোকান স্থানান্তরের জন্য জাতীয় ক্রীড়া পরিষদকে (এনএসসি) চিঠি দিচ্ছে। কিন্তু এনএসসি থেকে কোনো সাড়া নেই। শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের দোকানও তাই সরছে না। সরবে কীভাবে? আগে তো ঠিক করতে হবে দোকান-সংক্রান্ত বিষয়টি আসলে এনএসসির কোন বিভাগের আওতায় পড়ে। সেটি নিয়ে যে খোদ এনএসসির কর্মকর্তারাই সংশয়ে!
কাল এ ব্যাপারে এনএসসির পরিকল্পনা ও উন্নয়নবিষয়ক পরিচালক আবদুর রহমানের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তিনি বল ঠেললেন প্রশাসন বিভাগের কোর্টে, ‘দোকান-সংক্রান্ত বিষয়ে আমি কথা বলতে পারব না। প্রশাসন বিভাগের সঙ্গে কথা বলুন।’ প্রশাসন বিভাগের পরিচালক শেখ আতাহার হোসেনের কাছে গেলে তিনি বললেন উল্টো কথা, ‘নতুন দোকান বা দোকান স্থানান্তরের বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারব না। এ ব্যাপারে বিসিবির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে পি অ্যান্ড ডি (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) শাখা। তারাই ভালো জানবে।’ বলবেনই বা কীভাবে? মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে যে নতুন ১৬টা দোকান হয়েছে, সেটাই নাকি আনুষ্ঠানিকভাবে জানে না প্রশাসন বিভাগ! পরিকল্পনা ও উন্নয়নবিষয়ক পরিচালক অবশ্য বলেছেন, নতুন দোকানগুলোর পজেশন এনএসসি নতুন করে বিক্রি করবে।
অন্যদিকে শেখ আতাহার হোসেন কথা বলতে রাজি হলেন শুধু পুরোনো দোকান প্রসঙ্গে এবং যেটা বললেন তা শুনে আক্কেলগুড়ুম হতে পারে বিসিবির। ‘দোকান উঠবে কেন? স্টেডিয়াম থেকে দোকান উঠিয়ে দিতে হবে, এ রকম কোনো আলোচনাই হয়নি। স্টেডিয়াম লিজ দেওয়ার শর্তেও দোকান সরানোর কথা উল্লেখ নেই’—বলেছেন পরিচালক (প্রশাসন)। স্টেডিয়াম থেকে দোকান কেন সরানো যাবে না, তিনি সেটাও যুক্তি দিয়ে বোঝাতে চাইলেন, ‘বিসিবিকে স্টেডিয়ামের মালিকানা দেওয়া হয়নি। ব্যবহারের জন্য ১৫ বছরের বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে শুধু। এ ছাড়া এনএসসির কাছ থেকে মালিকেরা দোকানগুলো ৯৯ বছরের জন্য লিজ নিয়েছে। তারা আমাদের মাসে মাসে ভাড়া দিচ্ছে, তিন বছর পরপর চুক্তি নবায়ন করে ভাড়া বাড়ানোও হচ্ছে। দোকান ওঠাতে গেলে তারা আইনি পথে যাবে।’ দোকান রেখেই বিশ্বকাপের মতো একটা বড় টুর্নামেন্ট করে ফেলার পর এখন আর দোকান ওঠানোর কোনো প্রয়োজনও দেখছেন না তিনি।
দোকান সরানো প্রসঙ্গে বিশ্বকাপের আগে-পরে এনএসসির দুই রকম চেহারায় বিস্ময় প্রকাশ করে বিসিবির শীর্ষস্থানীয় এক কর্মকর্তা বলেছেন, ‘বিশ্বকাপের আগে এমন কথা ছিল না। অন্তত স্টেডিয়ামের পরিবেশ ঠিক রাখার জন্য যেসব দোকান সরানো জরুরি, সেগুলো নতুন জায়গায় স্থানান্তরের কথা বলেছিল এনএসসি।’

অস্ট্রেলিয়ানরা বিস্মিত নন!

যাঁকে লক্ষ্য করে ডিয়েগো ম্যারাডোনা বোমাটা ছুড়েছেন, সেই হুলিও গ্রন্ডোনা এখনো চুপ, মুখে রা পর্যন্ত করেননি আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি। কিন্তু ম্যারাডোনার সেই সময়ের সতীর্থরা বলেছেন, জ্ঞাতসারে কোনো পারফরম্যান্স-বর্ধক ড্রাগ তাঁরা নেননি। ‘কফির সঙ্গে ড্রাগ নেওয়ার’ অভিযোগ উড়িয়েই দিয়েছেন তাঁরা। আর অস্ট্রেলিয়ানরা ম্যারাডোনার মন্তব্যে মোটেও বিস্মিত নন, বরং এত দিন পর তাঁদের মনে হচ্ছে, আর্জেন্টাইনরা নিষিদ্ধ ড্রাগ নিয়েও থাকতে পারেন।
গ্রন্ডোনাকে খোঁচাতে গিয়েই ম্যারাডোনা টেনে বের করেছেন থলের বিড়াল। অভিযোগ করেছেন, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১৯৯৩ সালে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ফিরতি ম্যাচ খেলার আগে নিষিদ্ধ ড্রাগ নিয়েছিল পুরো আর্জেন্টিনা দল। ফিফার প্রভাবশালী কর্মকর্তা ও আর্জেন্টাইন ফুটবল সংস্থার (এএফএ) প্রধান গ্রন্ডোনাই স্বয়ং এই পরিকল্পনার অংশ ছিলেন। বুয়েনস এইরেসের ওই ম্যাচের আগে খেলোয়াড়দের ডোপ পরীক্ষা দিতে হয়নি বলেও দাবি ম্যারাডোনার।
ম্যারাডোনার এই দাবির সঙ্গে তাঁর সতীর্থরা একমত, আগের ১০টি ম্যাচে ডোপ পরীক্ষা হলেও ওই ম্যাচে হয়নি। তবে জেনে-শুনে তাঁরা ড্রাগ নিয়েছেন, এটি মানতে পারছেন না। মিডফিল্ডার হুগো পেরেজ বলেছেন, ‘আমরা জানতাম, ওই ম্যাচের কয়েক দিন আগে আমরা ডোপ টেস্টে অংশ নিইনি, কিন্তু আমাদের কাছে এটি গুরুত্বপূর্ণও ছিল না। আমরা স্রেফ খেলায় মনোযোগী ছিলাম। কিন্তু ড্রাগ নিয়ন্ত্রণ ছিল না বলে ডিয়েগো যা বলছে, এটা সত্য।’ পেরেজের কথা, এ বিষয়ে বিস্তারিত বলাটা কঠিন। কারণ, এটা অনেক আগের বিষয়। যদিও মনে করতে পারছেন যে খেলোয়াড়েরা পানি কিংবা কফি খেয়েছিলেন।
ডিফেন্ডার হোসে চামোতের দাবি, সেখানে ডোপ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা না থাকলেও অবৈধ কোনো বস্তু নেওয়া যে ‘অবৈধ’, সেটি তাঁরা জানতেন। ‘আমার ওই সবের প্রয়োজন ছিল না। মাঝেমধ্যে আমাদের ভ্রমণের জন্য ভিটামিন দেওয়া হতো। কিন্তু এর বেশি কিছু না। যদি দলকে দ্রুত দৌড়ানোর জন্য কোনো কিছু দেওয়া হয়েই থাকে, আমি অন্তত তার মধ্যে ছিলাম না’—লিব্রে পত্রিকাকে বলেছেন চামোত।
আরেক সতীর্থ ডিফেন্ডার হোর্হে বোরেল্লির দাবি, তিনি কফিই খাননি, ‘আমি কোনো “উত্তেজনাবর্ধক কফি”ই খাইনি। আমি স্রেফ চা এবং কোমল পানীয় পান করেছিলাম।’
ম্যারাডোনার সতীর্থদের ঠিক বিপরীত অবস্থানে অস্ট্রেলিয়ার সেই সময়ের অধিনায়ক পল ওয়েড। শুধু বুয়েনস এইরেসের ফিরতি ম্যাচেই নয়, সাবেক সকারু অধিনায়কের বিশ্বাস, আর্জেন্টাইনরা ‘প্রতারণা’ করে থাকতে পারেন দুটি ম্যাচেই। দ্য অস্ট্রেলিয়ানকে ওয়েড বলেছেন, ‘আমার মনে আছে, যখন আমরা ফিরতি ম্যাচটি খেলার জন্য সেখানে যাই, আর্জেন্টিনার সভাপতি বলেছিলেন, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয় ছাড়া অন্য কোনো কিছু ভাবাই যায় না। তিনি বলেছিলেন, তারা হারলে সেখানে জাতীয় শোক দিবস পালিত হবে।’
ওয়েড এর পরই বলেছেন, ‘যদি তারা ওই বস্তু (ড্রাগ) নিয়েও থাকে, আমি বিস্মিত হব না। তারা তুলনামূলক একটি অনগ্রসর দেশের সঙ্গে খেলছিল। এবং আমরা যদি তাদের হারিয়ে দিতাম, আপনি কল্পনা করতে পারেন, কী ঘটত?

দুই দলের দুই রকম চ্যালেঞ্জ

আজ কার্ডিফে যখন তিন টেস্ট সিরিজের প্রথমটি খেলতে নামবে ইংল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কা, তখন দু-দলের সামনেই থাকবে চ্যালেঞ্জ। ভিন্ন রকমের চ্যালেঞ্জ। অ্যান্ড্রু স্ট্রাউসের দলের চোখ এখন টেস্টের এক নম্বর স্থানটির দিকে। অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে অ্যাশেজ ধরে রাখা ইংল্যান্ডের লক্ষ্য ভারতের সঙ্গে পয়েন্টের ব্যবধানটা কমানো। শ্রীলঙ্কার সঙ্গে এই টেস্ট সিরিজের পরপরই চার টেস্টের সিরিজ ভারতের সঙ্গে।
অন্যদিকে, তিন বছর পর এই প্রথম উপমহাদেশের বাইরে টেস্ট খেলছে শ্রীলঙ্কা। মৌসুমের শুরুতে ইংল্যান্ডের পিচে লঙ্কান ব্যাটসম্যানদের টেকনিক ও বোলারদের শৃঙ্খলার চূড়ান্ত পরীক্ষা হবে এটি। তা ছাড়া মুরালিধরনকে হারানোর ধাক্কাটা তারা কীভাবে সামাল দেয়, সেটিও দেখার। মুরালি-পরবর্তী টেস্ট যুগে পাঁচটি টেস্ট খেলে একটিতেও না জেতা শ্রীলঙ্কা উল্টো হেরেছে একটিতে।
ইংল্যান্ডে শ্রীলঙ্কা সর্বশেষ টেস্ট খেলেছে ট্রেন্টব্রিজে, ২০০৬-এ। ওই টেস্টেরই দ্বিতীয় ইনিংসে মুরালির ৭০ রানে ৮ উইকেট শ্রীলঙ্কাকে এনে দিয়েছিল ১৩৪ রানের বড় জয়। তিন ম্যাচের সিরিজটির ফলাফল ছিল ১-১। মুরালির পর তারা হারিয়েছে লাসিথ মালিঙ্গাকেও। তার ওপর টেস্ট শুরুর আগেই চোট পেয়ে শেষ হয়ে গেছে প্রথম পছন্দের পেসার দিলহারা ফার্নান্ডো ও নুয়ান প্রদীপের সিরিজ। ফারভিজ মাহারুফকে ডেকে পাঠালেও খণ্ডিত বোলিং শক্তি নিয়ে লঙ্কানরা স্বাগতিকদের কতখানি পরীক্ষা নিতে পারে, সেটা দেখার বিষয়।
সফরকারীদের অন্তর্বর্তীকালীন কোচ স্টুয়ার্ট ল ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়াকে বর্ণনা করেছেন ‘এই পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন কাজ’ বলে। তবে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডকে ১০ উইকেটে হারানোর কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে স্টুয়ার্ট ল বলেছেন, ‘আমি খুব অবাক হব যদি ইংল্যান্ড আমাদের হালকাভাবে নেয়।’
ইংলিশ অধিনায়ক স্ট্রাউস অ্যাশেজ সাফল্যের কথা ভুলে লড়াইয়ের মন্ত্র জপছেন। বলছেন, তাঁদের সমস্ত মনোযোগ এখন বিশ্বসেরা হওয়ার দিকে। ‘এটি আমাদের জন্য খুবই ব্যস্ত ও কঠিন গ্রীষ্মের শুরু এবং সেই সঙ্গে বিশ্বের এক নম্বর হওয়ার পথে এগিয়ে যাওয়ার একটি সুযোগও’, সাংবাদিকদের কাল বলেছেন স্ট্রাউস।
হার্নিয়ার অস্ত্রোপচারের পর ফিরে এসেছেন কেভিন পিটারসেন। কথাবার্তায় অন্তত অনেক বেশি দায়বদ্ধ মনে হচ্ছে, ‘কিছু অর্জনের জন্য আমি আরও বেশি ক্ষুধার্ত। আমি টেস্টে ১০ হাজার রান করতে চাই, সেই লক্ষ্যের দিকে ৫৭০০ রান মোটেই যথেষ্ট নয়।’ ফর্মে আছেন অধিনায়ক। ইংল্যান্ড লায়ন্সের হয়ে সফরকারীদের বিপক্ষে ১৯৩ রান করে দলে ঢুকেছেন এউইন মরগান। বোলিংয়ে জেমস অ্যান্ডারসন, স্টুয়ার্ট ব্রড ও গ্রায়েম সোয়ানের সঙ্গে খেলার সম্ভাবনা আছে ক্রিস ট্রেমলেটেরও।

জেগে উঠল রাসেলের স্বপ্ন

মুক্তিযোদ্ধা, শেখ জামাল, আবাহনীর সঙ্গে নিজেদের নামটা আবার লিখিয়ে নিল শেখ রাসেল।
কদিন আগেও শিরোপার দৌড়ে নামটা ছিল না। বাংলাদেশ লিগের শিরোপা লড়াইয়ে শীর্ষ দল মুক্তিযোদ্ধার চেয়ে ৯ পয়েন্ট পিছিয়ে পড়েছিল রাসেল। মুক্তিযোদ্ধা গত দুটি ম্যাচে ৫ পয়েন্ট হারিয়েছে। রাসেল কোনো পয়েন্ট হারায়নি। এর ফলে দুই দলের ব্যবধানটা নেমে এসেছে ৪ পয়েন্টে।
আরামবাগের বিপক্ষে কাল ৩-১ জয় রাসেলের মৃত স্বপ্নকে আবার জাগিয়ে তুলেছে। রুশ স্ট্রাইকার এডওয়ার্ডের ২ গোলে সহজেই এসেছে এই জয়। এতে ১৭ ম্যাচে রাসেলের পয়েন্ট ৩৫। সমান ম্যাচে মুক্তিযোদ্ধার ৩৯। এক ম্যাচ কম খেলে শেখ জামালের ৩৭ এবং আবাহনীর ৩৫। কাগজের হিসাবে এখনো চতুর্থ স্থানেই আছে রাসেল। তবে ২২ ম্যাচের লিগের শেষ দিকে নাটকীয়তা ঘটবে না, কে বলতে পারে!
রাসেলের সামনে আবাহনী ও শেখ জামালের মতো দুই শিরোপাপ্রত্যাশী। জিততে পারলে রাসেল উঠে যাবে আরও ওপরের দিকে। যদিও জামাল সব ম্যাচ জিতলে তারাই চ্যাম্পিয়ন হয়ে যাবে। তবে সুযোগের অপেক্ষায় থাকা এবং নিজেদের কাজটা ঠিকঠাক করে যাওয়ার প্রেরণা নিয়েই কাল বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম থেকে ফিরল উজ্জীবিত রাসেল।
তিন ম্যাচ আগে রহমতগঞ্জের সঙ্গে ২-১ এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ড্র না করলে রাসেলের শিরোপার সম্ভাবনা জোরালো হতো আরও।
রাসেলের স্বপ্নটাকে ফিরিয়ে এনেছেন আসলে এডওয়ার্ড। লিগের দ্বিতীয় পর্বের শুরু থেকেই তাঁকে পাওয়া গিয়েছে। এডওয়ার্ড আসার পর থেকে গোলের জন্য খুব বেশি ভাবতে হচ্ছে না রাসেলকে। প্রতিপক্ষ সীমানায় তাঁর পায়ে বল পড়া মানেই বিপদ। কাল বাঁ দিক থেকে ঢুকে গড়ানো শটে প্রথম গোলটা করলেন ২৬ মিনিটে। ৩৯ মিনিটে সুবায়েরের গোলে ১-১ হওয়ার পর ৮ মিনিট পরই রাজুর ক্রসে দারুণ হেডে এডওয়ার্ড করে দিলেন ২-১। ৬৯ মিনিটে ডুকের গোলে ৩ পয়েন্ট নিশ্চিত করে ফেলে রাসেল।
টানা তৃতীয় জয়, লিগ শিরোপার লড়াইয়ে যোগ দেওয়া—শেখ রাসেল কোচ মাহমুদুল হক খুবই খুশি। ‘আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করে যাব। এটাই আমাদের আজকের অঙ্গীকার’—বললেন তিনি। ক্লাব সভাপতি নুরুল আলম চৌধুরী প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন, ‘আমরা নিজেদের উজাড় করে দেব।’
শেষ পর্যন্ত প্রতিশ্রুতি রাখতে পারে কি না শেখ রাসেল—সেটিই দেখার।

বার্সেলোনা না ম্যানইউ?

এই বার্সাই সেরা
মানের দিক দিয়ে সেরা না হয়েও সাফল্য পাচ্ছে এই ম্যানইউ—এমন একটা আলোচনা বেশ কিছুদিন ধরে চলছে। এই আলোচনায় অংশ নেবেন না সেটা আগেই বলেছেন। তবে সাগ্রহে লিওনেল মেসি জানালেন, তাঁর দেখা বার্সেলোনার এবারের দলটাই সেরা, ‘এটা নিশ্চিত, আমার খেলা দলগুলোর মধ্যে এই বার্সেলোনাই সেরা। দলের খেলোয়াড়দের অনেকেই মানের দিক দিয়ে কয়েক বছর আগে যেমন ছিল, এখনো তেমনই আছে। কিন্তু আমাদের সবারই বয়স ও অভিজ্ঞতা দুটোই বেড়েছে। গার্দিওলার মতো আমরা একজন সেরা কোচও পেয়েছি। তিনি সব সময় সেটাই করেন, যেটা তাঁর জন্য নয়, বরং দলের জন্য ভালো। বার্সেলোনা কীভাবে খেলে, কেমন আচরণ করে, সেটারই প্রতীক যেন তিনি।’
মেসির এই মন্তব্যের শেষ বাক্যটায় মরিনহো আর রিয়ালকে খোঁচা দেওয়ার ইঙ্গিত অনেকে খুঁজে পেতে পারেন। তবে অন্যকে হেয় না করেই নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের জয়গান গাইতে চান মেসি। চ্যাম্পিয়নস লিগে এখন পর্যন্ত ১১ গোল করা এই খুদে জাদুকর বলছেন, ফেবারিট-টেবারিটের হিসাব দিয়ে নয়; এবারও শিরোপা জিততে চান। কারণ, চ্যাম্পিয়নস লিগ ‘স্পেশাল’ একটা টুর্নামেন্ট, ‘বিশ্বকাপের পর চ্যাম্পিয়নস লিগই আমার কাছে সেরা টুর্নামেন্ট। বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়েরাই এখানে খেলে। সেরা দুটো দলই ফাইনালে উঠে আসে। আর তাই চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনাল খেলতে পারাটাই অনেক গর্বের।’ তিনটি শিরোপা জিততে পারা নিশ্চয়ই আরও বড় গর্বের। মেসির সামনে এখনো তৃতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়নস লিগ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুযোগ! ওয়েবসাইট।

রুনি আছে, সাবধান
মৌসুমে ৫২ গোল করেছেন, এর অনেক গোলের ছবিই ফ্রেমে বাঁধিয়ে রাখার মতো। চ্যাম্পিয়নস লিগেও ১১ গোল। স্বাভাবিকভাবেই ‘মেসি মেসি’ রব উঠেছে। ২০০৯ সালের ফাইনালটির মতো এবারও না মেসিতেই শেষ হয় ম্যানইউর আশা! তবে এরই ফাঁকে একজন খুব দামি একটা কথা বলেছেন। বলেছেন, ওদের দলেও ওয়েইন রুনি নামের একজন ‘ডেঞ্জারম্যান’ আছে। তাই সাবধান। এই সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেছেন রুনিরই একসময়ের ম্যানইউ-সতীর্থ জেরার্ড পিকে। গত মৌসুমে দুর্দান্ত খেলেছিলেন। কিন্তু বিশ্বকাপ থেকেই রুনি যেন হারিয়ে গিয়েছিলেন। এই মৌসুমের প্রথমার্ধ তাঁর জন্য বিস্মরণযোগ্য। মাঝে তো ম্যানইউ ছেড়ে যাওয়ার জন্য মরিয়াই হয়ে গেলেন। কিন্তু দুই মাস ধরে দুর্দান্ত ফর্মে আছেন। শুরুর হতাশাও রুনি শেষের আনন্দ দিয়ে মুছে ফেলতে চাইবেন। এএফপি।

ইতোর সমর্থন
ফাইনালে সেই দুই দল মুখোমুখি বলে ২০০৯ সালের স্মৃতি অনেকেরই মনের পর্দায় ভেসে আসছে। এই স্মৃতিও ভেসে আসছে, সেবার শুরুটা ম্যানইউ দারুণ করেছিল। কিন্তু প্রথম গোলের পরই ছবিটা পাল্টে যেতে থাকল। ম্যাচের লাগাম পুরোপুরি নিয়ে নিল বার্সা। সেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া গোলটা কিন্তু করেছিলেন স্যামুয়েল ইতো।
ক্যামেরুনিয়ান এই স্ট্রাইকার ওই মৌসুমের পরই বার্সা ছেড়ে গেছেন। আসলে অনেকটা তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধেই বার্সা ইন্টার মিলানে তাঁকে বিক্রি করে দিয়েছিল। তবে ইতো এখনো নিজেকে বার্সারই একজন ভাবেন। বার্সেলোনার হয়ে দুটো চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতা, দুটো ফাইনালেই দলের প্রথম গোলটি করা ইতো বলছেন, ‘আমি অবশ্যই চাই বার্সেলোনা জিতুক। তবে শেষ পর্যন্ত কী হয়, সেটি আগে বলা সম্ভব নয়। ২০০৯ সালের পর বার্সা, ম্যানইউ দুই দলই উন্নতি করেছে। আমি তাই একটা সুন্দর ফাইনালের প্রত্যাশাই করছি। মেসি তো নিঃসন্দেহে বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়। আর হাভিয়ের হার্নান্দেজও এই মৌসুমে দারুণ করেছে।’ বার্সার প্রতি সমর্থন দিয়েও কি একটু নিরপেক্ষতার ভারসাম্য আনতে চাইলেন ইতো? ওয়েবসাইট।

বলছেন লিনেকার
ইংল্যান্ডের সর্বকালের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকারদের একজন। আর একটা গোল করতে পারলে ববি চার্লটনের ইংলিশ রেকর্ড ৪৯ গোল ছুঁয়ে ফেলতেন। খেলা ছাড়ার পরও বিশেষজ্ঞ হিসেবে যথেষ্ট নামী গ্যারি লিনেকার। নিজেও তিনটি মৌসুম খেলেছেন বার্সেলোনায়। তবে লিনেকার এখানে নিরপেক্ষ বিশ্লেষক। একদিকে ম্যানইউ তাঁর দেশেরই দল, অন্যদিকে তাঁরই সাবেক ক্লাব—পক্ষপাতদুষ্ট হওয়াটা কঠিন।
তার পরও লিনেকারকে বার্সা-সমর্থক মনে হতে পারে। কারণ, ৫০ বছর বয়সী এই ‘তরুণ’ বলছেন, ‘বার্সেলোনা তাদের মতো খেলছে, ওরাই জিতবে। ইউনাইটেডকে জিততে হলে আসলে বার্সেলোনার একটা বাজে দিন যেতে হবে। যদিও নিজেদের দেশে খেলা বলে বড় সমর্থন ওরা পাবে। তা ছাড়া এখানে ফিরতি লেগও নেই—এটাও অনেক বড় সুবিধা।’ সেই সুবিধা শেষ পর্যন্ত ম্যানইউর কোনো কাজে নাও আসতে পারে। কারণ লিনেকারের মতে, এই বার্সেলোনা সর্বকালেরই সেরা দল হওয়ার সম্ভাবনার সামনে দাঁড়িয়ে।

হোম অব ক্রিকেটে ‘চাঁদের কলঙ্ক’

বিশ্বকাপকে উপলক্ষ করে একটাও নতুন স্টেডিয়াম না পাওয়ার অতৃপ্তি আছে। আবার নতুন সাজে সেজে ওঠা তিনটি স্টেডিয়ামের আকর্ষণীয় চেহারা এক ধরনের তৃপ্তিও দেয়। ‘হোম অব ক্রিকেট’ মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামকে বলতে পারেন বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় পাওয়া। ভেতর-বাইরের চাকচিক্য, অত্যাধুনিক নিরাপত্তা-ব্যবস্থা ও সুযোগ-সুবিধা বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা ভেন্যুর স্বীকৃতি দিয়েছে এই স্টেডিয়ামকে।
কিন্তু এত সাজ-সজ্জা, এত আধুনিকায়ন—সবই যেন বিশ্বকাপকে ঘিরেই ছিল! বিশ্বকাপ শেষে ‘হোম অব ক্রিকেট’ ফিরে যাচ্ছে পুরোনো চেহারায় এবং এর মূল কারণ, স্টেডিয়াম কমপ্লেক্সের ভেতরের দোকানপাট। বিশ্বকাপের জন্য তিন মাসের মতো সব দোকান বন্ধ থাকলেও বিশ্বকাপ শেষে আবারও চালু হয়ে গেছে মহাসমারোহে। দোকানের সংখ্যা ৮৪, সবই আসবাবের। দোকানের বাইরেও ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে সেসব। বার্নিশের কাজ-টাজ ওখানেই হয়। সব মিলে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপ চলাকালীন ক্রিকেটীয় আবহটা এখন একেবারেই উধাও।
সবচেয়ে বেশি সমস্যা করছে একাডেমি ভবনের পাশের ১০-১১টি দোকান। এসব দোকানের জন্য চাইলেও মূল ফটকের ভেতরের এলাকাটিকে পুরোপুরি নিরাপদ রাখা যাচ্ছে না। বহিরাগতদের আসা-যাওয়ায় কোনো নিয়ন্ত্রণ না থাকায় সন্ধ্যার পর একাডেমি ভবনের আশপাশেই নেশাখোরদের আড্ডাও বসে বলে অভিযোগ। চুরি-টুরিও হচ্ছে। গ্যালারির টয়লেটে লাগানো বাতি, পানির কল নাই হয়ে যাচ্ছে।
বিসিবির উপমহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) নিজাম উদ্দিন চৌধুরী এসব স্বীকার করে বলেছেন, ‘আমরা স্টেডিয়াম এলাকার নিরাপত্তা বাড়িয়েছি। নিরাপত্তার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আনসার বাহিনীকে। স্টেডিয়াম কমপ্লেক্সের ভেতর স্থায়ী আনসার ক্যাম্প বসানোরও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’ স্টেডিয়াম ও বিসিবি অফিসের নিরাপত্তা রক্ষায় আনসার বাহিনীর সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে একটি বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থা। যদিও ক্রিকেট বোর্ডেরই এক কর্মচারীর অভিযোগ, ‘তারা আর কী চুরি ঠেকাবে? বাইরের মানুষের সঙ্গে তো তাদেরও খাতির জমে গেছে!’
দোকান থাকায় শুধু স্টেডিয়ামের পরিবেশই নষ্ট হচ্ছে না, ‘হোম অব ক্রিকেট’ পাচ্ছে না পূর্ণাঙ্গ চেহারা। মূল নকশা অনুযায়ী গ্যালারির নিচে ক্রিকেট জাদুঘর, ক্রিকেটার্স ক্যাফে, সুভ্যেনির শপ, গ্রন্থাগার, আর্কাইভ, সেলুন ইত্যাদি হওয়ার কথা থাকলেও সেসবের জায়গা দখল করে আছে দোকান। ‘হোম অব ক্রিকেটের’ অনুমোদিত নকশা মেনে সংস্কারের মাধ্যমে মিরপুর স্টেডিয়ামে যেসব পরিবর্তন আনার কথা, তার সবই এর মধ্যে হয়ে গেলেও হয়নি শুধু দোকান স্থানান্তরের কাজটি।
দোকান উচ্ছেদ বা স্থানান্তরের ক্ষমতা বিসিবির নেইও। ২০০৬ সালের ১৮ অক্টোবর বিসিবিকে পরবর্তী ১৫ বছরের জন্য স্টেডিয়াম ইজারা দিলেও দোকান মালিকদের কাছে পজেশন বিক্রি করেছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। তিন বছর পরপর চুক্তি নবায়ন করে দোকানগুলো থেকে প্রতি মাসে ভাড়াও তুলছে এনএসসি। বিসিবি একাধিকবার চিঠি দিয়ে দোকান উচ্ছেদ ও স্থানান্তরের ব্যাপারে এনএসসির দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। সর্বশেষ গত এপ্রিলের শেষ দিকে বিসিবির প্রধান নির্বাহী এনএসসির সচিব বরাবর পাঠানো চিঠিতে ব্যাখ্যা করে বলেছেন, বিশ্বকাপে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়াম অন্যতম সেরা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ভেন্যুর স্বীকৃতি পেয়েছে। স্টেডিয়ামের সুষ্ঠু রক্ষণাবেক্ষণ এবং নিরাপত্তার স্বার্থে যেন দোকানগুলো স্থানান্তরের ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কিন্তু এনএসসি আগের মতোই নিরুত্তর। উল্টো বিশ্বকাপের আগে প্লাজা গেটের বাইরে নির্মিত নতুন ১৬টি দোকানের পজেশন নতুন করে বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। অথচ কথা ছিল প্রেসবক্স এবং একাডেমি ভবনের পাশের দোকানগুলো স্থানান্তরিত হয়ে এখানে আসবে! একইভাবে করপোরেট বক্সের নিচের এবং ইনডোরের পাশের দোকানগুলো স্থানান্তরিত হয়ে যাওয়ার কথা স্টেডিয়ামের বাইরে দক্ষিণ-পূর্ব কোণে। কিন্তু সেখানে এখনো নতুন দোকান নির্মিতই হয়নি। পরিস্থিতি দেখে দোকান উচ্ছেদের দাবিতে বিসিবির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ক্রিকেটারদের নিয়ে মানববন্ধনের মতো প্রতীকে প্রতিবাদে যাওয়ার কথাও ভাবছেন বলে জানা গেছে।
বিসিবির বর্তমান সহসভাপতি আহমেদ সাজ্জাদুল আলম ২০০৬ সালে এনএসসির কাছ থেকে স্টেডিয়াম ইজারা নেওয়ার সময়ও বিসিবির উপদেষ্টা ছিলেন। ওই সময় বিসিবি-এনএসসি আলোচনায় দোকান স্থানান্তরের ব্যাপারে মতৈক্য হয়েছিল বলে তাঁর দাবি, ‘একটা আন্তর্জাতিক ভেন্যুর ভেতর দোকান থাকা যে সমস্যা, সেটা তখনো আলোচনা হয়েছিল এবং এনএসসি তাতে দ্বিমত পোষণ করেনি।’ তখনই কেন দোকান উচ্ছেদ করা যায়নি, সে ব্যাখ্যায় তিনি বলেছেন, ‘খোঁজ নিয়ে দেখা গেল, যাঁদের কাছে এনএসসি পজেশন বিক্রি করেছিল, তাঁরা এখন আর মালিক নন। বহু হাত ঘুরে মালিকানা বদলে গেছে। মানবিক দিক বিবেচনা করে তাই উচ্ছেদ না করে দোকান স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত হয়।’
সিদ্ধান্তটা যখন আজও বাস্তবায়ন হয়নি, তখন প্রশ্ন জাগে, ‘হোম অব ক্রিকেটে’ কি তাহলে ‘চাঁদের কলঙ্ক’ হয়েই থেকে যাবে এসব দোকান?

আর কখনোই পাকিস্তান যাব না: দিলশান

২০০৯ সালে লাহোরে ক্রিকেট খেলতে গিয়ে সন্ত্রাসী হামলার দুঃসহ স্মৃতি কখনোই ভুলতে পারবেন না শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটাররা। পরিবার-পরিজন, প্রিয় মানুষগুলোকে দেশে রেখে বিদেশ-বিভুঁইয়ে একাকী সন্ত্রাসীর বুলেট হামলার মুখে পড়ার সেই দুঃস্বপ্ন অনেকবারই মন থেকে মুছে ফেলার চেষ্টা করলেও তাঁরা তাতে ব্যর্থ হয়েছেন। লঙ্কান দলপতি তিলকরত্নে দিলশানের মন থেকেও সেই নারকীয় অভিজ্ঞতা মুছে যায়নি। আর মুছে যায়নি বলেই ভবিষ্যতে আর কখনোই পাকিস্তান যেতে চান না এই ব্যাট হাতে অসম্ভব মারকুটে এই ব্যাটসম্যান।
‘খেলোয়াড় হিসেবে ওটা ছিল এক দুঃসহ স্মৃতি। আমি কখনোই চাইব না ও রকম অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে।’ দিলশানের মন্তব্য।
পাকিস্তানে খেলতে যাওয়ার ব্যাপারে দিলশান আরও কঠোর। তিনি বলেছেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে আমি ভবিষ্যতে আর কখনোই পাকিস্তানে যেতে চাই না।’
পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড সে দেশে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট পুনরায় আয়োজনের প্রাণপাত প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। সে লক্ষ্যে তারা আগামী অক্টোবরে শ্রীলঙ্কাকে পাকিস্তানের মাটিতে তিন টেস্ট, পাঁচ ওয়ানডে ও একটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলার আমন্ত্রণ জানিয়েছে। তবে শ্রীলঙ্কা জানিয়ে দিয়েছে, তারা এখনোই ক্রিকেট খেলতে পাকিস্তানে যেতে আগ্রহী নয়। শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের সভাপতি ডি এস ডি সিলভা বলেছেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে নিরাপত্তার বিচারে আমরা পাকিস্তানে খেলতে যেতে পারি না।’ তিনি আরও বলেন, ‘পাকিস্তানের মাটিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আয়োজনের ব্যাপারে আইসিসিও কোনো ছাড়পত্র দেয়নি।’
অনেক আগে থেকেই নিরাপত্তা ইস্যুতে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ইংল্যান্ডের মতো দলগুলো পাকিস্তান সফর থেকে বিরত ছিল। উপমহাদেশের ভারত, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশ পাকিস্তান সফর করলেও ২০০৯ সালের মার্চে শ্রীলঙ্কার টিম বাসে সন্ত্রাসী হামলা হওয়ার পর পাকিস্তানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট এখন নির্বাসিত। পাকিস্তান তাদের হোম সিরিজগুলো খেলছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইংল্যান্ড নিউজিল্যান্ডের মাটিতে।
পাকিস্তানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফেরানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এ মুহূর্তে সহযোগী সদস্য দেশ আফগানিস্তান পাকিস্তান ‘এ’ দলের বিপক্ষে একটি সিরিজ খেলতে পাকিস্তান সফরে রয়েছে।

জমি হারালেন সৌরভ

এ উপমহাদেশে সরকার বদলের সঙ্গে সঙ্গেই অনেক পরিবর্তনের খেলা শুরু হয়ে যায়। এক সরকারের সিদ্ধান্ত অন্য সরকার এসে বাতিল করে দেয়—এ ঘটনা আমাদের চোখের সামনে অহরহ ঘটছে। পশ্চিমবঙ্গে রাজ্য সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গেও এই ‘বাতিলের’ খেলার শিকার হলেন পশ্চিমবঙ্গের গর্ব সাবেক ভারতীয় অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলি। কলকাতা সুপ্রিম কোর্ট আজ এক রায়ে সৌরভকে উপহার দেওয়া পশ্চিমবঙ্গের সাবেক বাম সরকারের একটি সিদ্ধান্ত বাতিল করে দিয়েছে। একই সঙ্গে কলকাতার অভিজাত সল্টলেক সিটিতে বরাদ্দ পাওয়া ৬৪ কাঠা জমি সরকারকে ফেরত দিতে সৌরভের সামনে দুই সপ্তাহ সময় বেঁধে দিয়েছে।
কলকাতার একটি মানবাধিকার সংস্থা সৌরভকে সল্টলেক সিটিতে ৬৪ কাঠা জমি বরাদ্দ দেওয়ার এ সরকারি সিদ্ধান্তের বিপক্ষে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেছিল। তবে, কিছুদিন আগেই হাইকোর্ট তাদের রায়ে সরকারি সেই সিদ্ধান্ত বহাল রাখার রায় দেন। সেই মানবাধিকার সংস্থা পুনরায় সুপ্রিম কোর্টে আপিল করলে আজ সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্টের সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করে এ রায় দিলেন।
একই সঙ্গে জমি বরাদ্দ নিতে এ জমির পেছনে সরকারি খাজনা বাবদ সৌরভের যে অর্থ খরচ হয়েছিল, সেই অর্থও সৌরভকে ফেরত দিয়ে দিতে সরকারের প্রতি আদেশ জারি করেছে কলকাতা হাইকোর্ট।

সিরিয়াকে বহিষ্কারের প্রতিবাদে দামেস্কে ব্যাপক বিক্ষোভ

আরব লিগ থেকে সিরিয়াকে বহিষ্কারের প্রতিবাদে দেশটির সরকার-সমর্থক জনতা গতকাল রোববার ব্যাপক বিক্ষোভ করেছে।
বিক্ষোভস্থল থেকে সাংবাদিকেরা জানান, মধ্য দামেস্কে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের সমর্থনে হাজার হাজার মানুষ স্লোগান দেয়। এ সময় জনতা জাতীয় পতাকা ও বাশারের প্রতিকৃতি বহন করে। সেবা বহরত স্কয়ারেও জনতা বাশারের পক্ষে স্লোগান দেয়। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, দামেস্কের ওমিয়াদ স্কয়ারেও বড় ধরনের বিক্ষোভ হয়েছে।
সিরিয়াকে আরব লিগ থেকে বহিষ্কারের ঘোষণা দেওয়ার পরপরই শত শত উত্তেজিত বিক্ষোভকারী দামেস্কে কাতার ও সৌদি আরবের দূতাবাসে হামলা চালায়। এ সময় একদল বিক্ষোভকারী কাতারের দূতাবাস ভবনের ছাদে গিয়ে সে দেশের পতাকা নামিয়ে দেয় এবং সেখানে সিরিয়ার পতাকা উত্তোলন করে। গত জুলাইয়ে কাতারের রাষ্ট্রদূত সিরিয়া ত্যাগ করেছেন।
সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এসপিএ জানায়, একদল বিক্ষোভকারী সৌদি দূতাবাসের অভ্যন্তরে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। এ সময় তারা দূতাবাস ভবন লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করে। সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এসপিএ জানায়, ‘দূতাবাসে হামলার ঘটনায় সৌদি আরব তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং সিরিয়ায় সব ধরনের সৌদি স্থাপনার নিরাপত্তার জন্য দেশটির সরকারকে দায়ী করেছে।’ গত আগস্টে সৌদি আরব সিরিয়া থেকে তাদের রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করে নেয়।
গত শনিবার মিসরের রাজধানী কায়রোতে আরব লিগের এক জরুরি সভায় সিরিয়াকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়। বৈঠকের পর এক বিবৃতিতে বলা হয়, সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের ওপর দমনপীড়ন বন্ধে আরব লিগ যে প্রস্তাব দিয়েছিল, তা বাস্তবায়ন না করা পর্যন্ত সিরিয়া আঞ্চলিক সংস্থাটির কোনো কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবে না। পরে বিশ্ব নেতৃবৃন্দ আরব লিগের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানানোর পর সিরিয়ায় ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়।
আরব লীগ থেকে সিরিয়াকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেছে ইরাক। একই সঙ্গে দেশটি দামেস্ককে সরকারবিরোধীদের সঙ্গে সংলাপ শুরু করারও আহ্বান জানিয়েছে। ইরাক সরকারের মুখপাত্র আলী আল-দাবাগ বলেন, ‘আরব লিগ থেকে সিরিয়াকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তটি অগ্রহণযোগ্য পন্থায় নেওয়া হয়েছে।’
আরব লিগের একমাত্র সদস্যদেশ হিসেবে ইরাক গত শনিবার সংস্থাটি থেকে সিরিয়ার বহিষ্কার প্রস্তাবের ওপর অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে অংশ নেওয়া থেকে বিরত থাকে। আরব লিগের সদস্যভুক্ত ২২টি দেশের মধ্যে ১৮টিই সিরিয়ার বহিষ্কারের পক্ষে ভোট দিয়েছে। তবে ইয়েমেন, লেবানন ও সিরিয়া প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দিয়েছে।