Thursday, March 5, 2026
ইসরায়েলের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার হুমকি ইরানের
বুধবার (৪ মার্চ) ইসরাইলের আধা সরকারি বার্তা সংস্থা আইএসএনএ ইরানের এক সামরিক কর্মকর্তার সূত্রে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
এদিকে, দেশটির ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল শেকারচি সতর্ক করে বলেছেন, যদি ইসরায়েল বৈরুতে ইরানি দূতাবাসে হামলা করে, তাহলে বিশ্বের সকল ইসরায়েলি দূতাবাসকে লক্ষ্যবস্তু বানানো হবে।
এ সময় তিনি আরও বলেন, ইসরায়েল নামের ‘অপরাধী রাষ্ট্রটি’ বারবার আন্তর্জাতিক সীমানা ও রীতিনীতির তোয়াক্কা না করার প্রমাণ দিয়েছে।
শেকারচি বলেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের ব্যাপক সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক বিবেচনাবোধ এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে সংযম প্রদর্শন করেছে তেহরান।
শেকারচি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ছাড়া বিশ্বের অন্য কোনও দেশের সঙ্গে ইরানের কোনও ধরনের শত্রুতা নেই।’
সূত্র : রয়টার্স

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
যুদ্ধে ইরানের নতুন কৌশলে যুক্তরাষ্ট্র কি ফাঁদে পড়ল
মাঠের পরিস্থিতিতে দেখা যাচ্ছে, এই অভিযান ইরানের শাসনব্যবস্থায় ধস নামানোর জন্য যে ধরনের জনরোষ বা অস্থিরতা তৈরি করবে বলে ধারণা করা হয়েছিল, বাস্তবে তা ঘটেনি। উল্টো চার দিনের মাথায় যুদ্ধ নতুন নতুন এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। ভেঙে পড়ার বদলে ইরানের ইসলামি শাসনব্যবস্থাও বেশ স্থিতিশীলই আছে। শুধু তা–ই নয়, শত্রুপক্ষের বিভিন্ন অবস্থানে পাল্টা আঘাতও হেনে যাচ্ছে দেশটি।
এই পরিস্থিতি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের আগের হিসাব নতুন করে মেলাতে বাধ্য করছে। বিশেষ করে ইরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন এবং তেহরানের আলোচনার প্রস্তাব মানার সম্ভাবনা নিয়ে তাদের আগের সব অনুমান এখন প্রশ্নের মুখে। আর সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর তেহরানও আলোচনার কোনো সম্ভাবনা দেখছে না।
এদিকে আঞ্চলিক দেশগুলোর কূটনৈতিক তৎপরতায় একদমই সাড়া দিচ্ছে না ইরান। পাশাপাশি যেসব দেশে মার্কিন ঘাঁটি ও সামরিক স্থাপনা আছে, তাদেরও প্রকাশ্য হুমকি দিচ্ছে দেশটি। বিষয়টি নিছক জেদ বা আদর্শিক অনমনীয়তা নয়, এটি তেহরানের একটি সুচিন্তিত রণকৌশলেরই প্রতিফলন। তেহরান মনে করছে, সাংঘর্ষিক পরিস্থিতির কাঠামোগত পরিবর্তন ছাড়া কোনো সমঝোতা বা যুদ্ধবিরতি শত্রুপক্ষকে ভবিষ্যতে আরও বড় হামলার সুযোগ করে দেবে।
দুটি বাস্তবমুখী পরিস্থিতি এই উদ্বেগকে আরও জোরালো করেছে। প্রথমত, খোদ মার্কিন প্রশাসনই স্বীকার করেছে যে এই যুদ্ধ স্বল্পস্থায়ী বা সীমিত না-ও হতে পারে। পেন্টাগনে মার্কিন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন বলেছেন, ‘অতিরিক্ত প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।’
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ অবশ্য শঙ্কা দূর করার চেষ্টা করে বলেছেন, ‘এটি ইরাক নয়, এটি অন্তহীন কোনো যুদ্ধও নয়।’ তবে একটি ‘অন্তহীন’ পরিস্থিতির সম্ভাবনা অস্বীকার করার এ প্রবণতাই প্রমাণ করে, দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের বিষয়টি এখন জন-আলোচনার অংশে পরিণত হয়েছে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কণ্ঠেও একই সুর। এই বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সেই যৌথ প্রচেষ্টাকেই প্রতিফলিত করে, যার মাধ্যমে তারা ক্রমবর্ধমান উদ্বেগ প্রশমিত করতে চায়। কারণ, তাদের অভিযানের প্রাথমিক সেই ‘শক অ্যান্ড অউ’ (আকস্মিক ও প্রচণ্ড আঘাত) পর্যায়টি প্রত্যাশিত কোনো সাফল্য এনে দিতে পারেনি।
তা ছাড়া ইসরায়েল যে ইরানে হামলা চালাবে এবং এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান যে ‘যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চড়াও হবে’—মার্কিন প্রশাসন তা আগে থেকেই জানত বলে স্বীকার করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। এই স্বীকারোক্তির পর তিনি অভিযানের পরিধি কমানোর বদলে বরং এর লক্ষ্য আরও বিস্তৃত করেছেন। রুবিও জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা সম্পূর্ণ নির্মূল করতে চায়। তিনি বলেন, ‘আমাদের নির্দিষ্ট লক্ষ্য রয়েছে এবং সেই লক্ষ্যগুলো অর্জন করতে যতটুকু সময় প্রয়োজন, আমরা ঠিক ততটুকুই করব।’
ইরানে ‘রাষ্ট্র পুনর্গঠন’ বা শাসন পরিবর্তনের কোনো পরিকল্পনা নেই বলে হেগসেথ যে মন্তব্য করেছিলেন, রুবিওর ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ওপর নতুন করে গুরুত্বারোপ সেই একই বিষয়কে সামনে আনছে। এটি স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তাদের প্রাথমিক কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনের পথ থেকে এখনো অনেক দূরে রয়েছে।
কৌশলগত সাফল্যের ফুলঝুরি কিংবা যুদ্ধের গতি বজায় রাখতে ক্ষয়ক্ষতির অতিরঞ্জিত পরিসংখ্যান প্রচার করা হলেও বর্তমান পরিস্থিতির এই বিশাল ব্যবধান নতুন কোনো প্রস্থানের পথ খোঁজার চাপ তৈরি করেছে।
ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে, ইরানে শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে হলে শেষ পর্যন্ত স্থল অভিযানের প্রয়োজন পড়বে।
এই পটভূমিতে ইরানের বিরোধী পক্ষ এবং কুর্দি গোষ্ঠীগুলোকে কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের বিষয়টি ওয়াশিংটনের পরিকল্পনায় যুক্ত হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। রুবিও যখন বলেন, ‘আমরা এই মুহূর্তে স্থল অভিযানের অবস্থানে নেই। তবে প্রেসিডেন্টের হাতে বিকল্প রয়েছে। তিনি কোনো সম্ভাবনাই উড়িয়ে দিচ্ছেন না,’ তখন এটিই ইঙ্গিত দেয় যে শুরুর দিকের কৌশলগত ঘাটতি পুষিয়ে নিতে যুক্তরাষ্ট্র আরও বড় ঝুঁকি নিতে এবং সম্ভবত দীর্ঘস্থায়ী একটি যুদ্ধে জড়াতে প্রস্তুত হচ্ছে।
এ কাঠামোটি যেমন ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের ভুল হিসাব-নিকাশের ফসল, তেমনি এটি ইরানের নিজস্ব কৌশলগত পরিবর্তনেরও ফলাফল।
ইসরায়েলের ওপর মাঝেমধ্যে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর পরিবর্তে ইরান এখন তাদের রক্ষণব্যূহকে ক্লান্ত করে দেওয়ার জন্য দীর্ঘমেয়াদি ও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইরানের এই কৌশল যেমন অভাবিত ছিল, তেমনি চমকপ্রদ ছিল খামেনিকে লক্ষ্য করে চালানো সেই শুরুর দিককার ‘ডিক্যাপিটেশন স্ট্রাইক’ বা শীর্ষ নেতৃত্ব নির্মূলের হামলাটিও।
ইরানের নতুন যুদ্ধকৌশল
ইরানের কৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। তেহরান সম্ভবত এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সরাসরি সমর্থন থাকায় কেবল ইসরায়েলের ওপর ক্ষয়ক্ষতি চালিয়ে কোনো চূড়ান্ত রাজনৈতিক ফাটল ধরানো সম্ভব নয়। এর পরিবর্তে, তারা এখন এমন এক কৌশল বেছে নিয়েছে, যার লক্ষ্য হলো পুরো অঞ্চলে যুদ্ধের ব্যয় ও ঝুঁকি বাড়িয়ে দেওয়া।
তবে এই রণকৌশল তেহরানের জন্যও বেশ কিছু বড় সীমাবদ্ধতা তৈরি করেছে। খবর পাওয়া গেছে, দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতা নিশ্চিত করতে এবং ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তারা এখন নিজেদের অভ্যন্তরীণ হিসাব-নিকাশ করছেন। দেশটির একজন সামরিক কর্মকর্তা বর্তমান পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে অকপটে বলেন, ‘হামলার প্রথম ধাক্কার পর নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। আঞ্চলিক সামরিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে মূল কেন্দ্রের সংযোগ তখন ভেঙে পড়েছিল।’
ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘বিকল্প পরিকল্পনা নিয়ে আগে থেকে ব্রিফিং পাওয়া ইউনিটগুলো নিজ নিজ এলাকায় নিজস্ব উদ্যোগে কাজ শুরু করেছিল। দ্বিতীয় দিন সকালের মধ্যে আবার সমন্বয় প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয় এবং আমরা তার ফল পেতে শুরু করি। তবে বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর মধ্যে এখনো বেশ কিছু গোষ্ঠী রয়েছে, যাদের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন।’
ওই কর্মকর্তা আরও যোগ করেন, ‘বহুস্তরীয় পরিকল্পনার মাধ্যমে আমরা সবকিছু আবার আগের অবস্থায় ফিরিয়ে এনেছি। আমাদের যে সক্ষমতা রয়েছে, তাতে এই অঞ্চলে কয়েক মাস যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব। আমরা আমাদের নেতাকে হারিয়ে সবচেয়ে বড় মূল্যটি চুকিয়েছি; কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের এই যুদ্ধের মূল্য দিতে হবে আরও অনেক বেশি। তাদের লক্ষ্য ছিল সুনির্দিষ্ট ও স্পষ্ট। তবে তারা যে সামরিক সম্পদগুলোকে অবজ্ঞা করেছিল বা খেয়াল করেনি, সেগুলো দিয়েই আমরা অন্তত আরও দুই মাস এই মাত্রার প্রতিরোধ বজায় রাখতে পারব। আমাদের মজুত এবং পরিকল্পনা এখনো অটুট।’
প্রকৃতপক্ষে যুদ্ধের দ্বিতীয় দিন থেকেই ইরান যুক্তরাষ্ট্রের ওপর দৃশ্যমান ক্ষয়ক্ষতির বোঝা চাপিয়ে দিতে শুরু করে। যদিও ‘শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন’-এর বাগাড়ম্বর একেবারে উবে যায়নি, তবে এর ওপর আগের সেই জোর এখন অনেকটাই স্তিমিত। বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে ওয়াশিংটনের অবস্থান এবং বিশ্বজুড়ে তাদের বিশ্বাসযোগ্যতা এখন বড় ধরনের পরীক্ষার মুখে।
সহ্যের পরীক্ষা
এই সহ্যক্ষমতার পরীক্ষার প্রাথমিক লক্ষণগুলো ইতিমধ্যে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে থাকা অন্তত ছয়টি মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ইরানের উপর্যুপরি হামলা ওই অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে যেসব উপসাগরীয় দেশ মার্কিন সামরিক স্থাপনা ও ঘাঁটি পরিচালনা করছে, তারা এখন নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে।
ধারণা করা হচ্ছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতার তাদের প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের কিছু নির্দিষ্ট মজুত দ্রুত ফুরিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে এবং তারা জরুরি সহায়তা চেয়েছে।
ইরান এই সংঘাতকে কেবল ইসরায়েল-ইরান অক্ষের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখছে না, বরং তারা পুরো মধ্যপ্রাচ্যে বিস্তৃত মার্কিন নিরাপত্তা বলয়ের স্থায়িত্বের পরীক্ষা নিচ্ছে।
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে আমিরাত ও কাতারের নেতাদের সাম্প্রতিক আলোচনায় এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। খবর বেরিয়েছে, আমিরাত জানিয়েছে যে তারা ক্ষুব্ধ, কারণ ইরানের ওপর হামলার জন্য তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার না করা সত্ত্বেও তাদের হামলার শিকার হতে হয়েছে। পুতিন আমিরাতের এই অসন্তোষের বার্তাটি তেহরানের কাছে পৌঁছে দেবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।
এটি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ইরান অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদেশগুলোর নেটওয়ার্ক ছিন্নভিন্ন করে দিচ্ছে। একই সঙ্গে উপসাগরীয় দেশগুলোকে তেহরান এই কঠোর বার্তা দিচ্ছে, ইরান যদি যুদ্ধের এই পর্যায়টি পার করে দিতে পারে, তবে ভবিষ্যতে তারা ওই দেশগুলোর ওপর আরও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি চাপিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।
ইরানের এই নতুন রণকৌশল মূলত উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন নিরাপত্তা বলয়ের রাজনৈতিক ও কৌশলগত ভিতকে এক কঠিন পরীক্ষার মুখে ফেলেছে। একই সঙ্গে এটি ইউরোপের কাছে ওয়াশিংটনের সেই চিরচেনা বার্তাটিকেও জটিল করে তুলছে, যেখানে তারা দাবি করে আসছিল যে বৈশ্বিক নিরাপত্তায় মার্কিন উপস্থিতি অপরিহার্য।
ইরানের ‘যুদ্ধব্যয় চাপিয়ে দেওয়া’ কৌশলের সবচেয়ে বিপজ্জনক হাতিয়ার হিসেবে রয়ে গেছে জ্বালানি খাত এবং সামুদ্রিক বাণিজ্য। হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোতে হামলা চালানো হতে পারে—ইরানের এমন হুমকিতে বিশ্ববাজার ও বিমা কোম্পানিগুলোর মধ্যে চরম অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়েছে। এর ফলে তেল ও গ্যাসের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। এরই মধ্যে সৌদি আরব তাদের বৃহত্তম তেল শোধনাগার এবং কাতার বিশ্বের বৃহত্তম তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদন কেন্দ্রটি বন্ধ করে দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে জ্বালানি তেলের দাম নাগালের মধ্যে রাখা একটি বড় অগ্রাধিকার। কিন্তু উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের এই ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এখন ওয়াশিংটনের সেই অগ্রাধিকারের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে লিপ্ত হয়েছে। তেহরানের রণকৌশলটি অত্যন্ত সোজাসাপ্টা—যুক্তরাষ্ট্রের ওপর সামরিক ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা সীমিত থাকলেও বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থা এবং নৌ–বাণিজ্যে বিঘ্ন ঘটিয়ে তারা ওয়াশিংটনের ওপর এক বিশাল রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করতে চায়।
যুদ্ধের এই ব্যয় যত বাড়বে, আলোচনার টেবিলে ইরানের দর–কষাকষির সক্ষমতাও ততটাই শক্তিশালী হবে; যদি সংঘাতটি রাষ্ট্রকেন্দ্রিক থাকে এবং অনিয়ন্ত্রিত কোনো গোষ্ঠী সংঘাতের দিকে মোড় না নেয়।
ইরানে অভ্যন্তরীণ সংঘাত
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর বারবার জনরোষ তৈরির আহ্বান সত্ত্বেও ইরানের ভেতরে সরকারবিরোধী কোনো বড় ধরনের গণ-অভ্যুত্থান এখনো দৃশ্যমান হয়নি।
তবে এর মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে—মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কুর্দি নেতাদের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র সম্ভবত এখন সেই বিকল্প পথেই হাঁটতে শুরু করেছে, যা ইসরায়েলি মহলে দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত ছিল। তা হলো ‘অভ্যন্তরীণ অস্থিতিশীলতা’ তৈরি।
ইসরায়েলি একটি সূত্র বলেছে, ‘উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের আজেরি, কুর্দি, লুর এবং সুন্নি গোষ্ঠীগুলোর দীর্ঘদিনের ক্ষোভ তেহরানের প্রতি। অনেক দিক থেকেই তারা প্রস্তুত। একবার রূপরেখা স্পষ্ট হয়ে গেলে তাদের সংগঠিত করা সম্ভব। আমরা আমেরিকানদের বলেছি যে এটি যুদ্ধের খরচ অনেক কমিয়ে দেবে।’
ইরানি কর্মকর্তারা অবশ্য এই কৌশলকে ‘দিবাস্বপ্ন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। পশ্চিম ইরানের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘ইসরায়েল এর আগেও এই গোষ্ঠীগুলোর সদস্যদের ইরানে অনুপ্রবেশ করানোর চেষ্টা করেছে। আমরা ইরাকের পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছি।’
ওই ইরানি নিরাপত্তা কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের হামলা শুরু হওয়ার মুহূর্ত থেকেই আমরা এই সম্ভাবনাটি নজরে রাখছিলাম এবং প্রতিরোধমূলক হামলা চালিয়েছি। যেসব কুর্দি গোষ্ঠীর সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ রয়েছে, আমরা তাদের সতর্ক করে দিয়েছি। ইসরায়েলের উচিত এই অঞ্চলের সংখ্যালঘু গোষ্ঠীগুলোর কাছে বিভ্রম বা অলীক স্বপ্ন বিক্রি বন্ধ করা।’
ইরান কেবল ইরাকের মার্কিন ঘাঁটিগুলোতেই হামলা চালায়নি, বরং তারা ইরানি কুর্দি গোষ্ঠীগুলোর (কেডিপিআই এবং প্যাক) সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ক্যাম্পগুলোতেও আঘাত হেনেছে। খবর পাওয়া গেছে, ইরবিলের কাছে অন্তত পাঁচটি ক্যাম্পে এই হামলা চালানো হয়েছে। তবে ইসরায়েল পশ্চিম ইরানে যে ‘প্রক্সি গ্রাউন্ড’ বা ভাড়াটে স্থলশক্তিকে সক্রিয় করতে চাইছে, তা শেষ পর্যন্ত কতটা কার্যকর হবে, তা এখনো অনিশ্চিত।
যাহোক, এ ধরনের যেকোনো উত্তেজনা নতুন আঞ্চলিক সংকটের জন্ম দেবে, বিশেষ করে তুরস্ক এবং প্রতিবেশী অন্য দেশগুলোর ওপর এর প্রভাব হবে সুদূরপ্রসারী। ইরানের অভ্যন্তরীণ সংঘাত যদি আরও ছড়িয়ে পড়ে, তবে সে ক্ষেত্রে এসব দেশের প্রতিক্রিয়া এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও বহুমুখী সংকটের দিকে ঠেলে দেবে।
পরিশেষে বর্তমান পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে, এই যুদ্ধের গতিপথ তাৎক্ষণিক কোনো সামরিক সাফল্য দিয়ে নির্ধারিত হবে না, বরং তা নির্ধারিত হবে কার ওপর কতটা ক্ষয়ক্ষতির বোঝা জমছে, তার ভারসাম্যের ওপর। যুক্তরাষ্ট্র এই সংঘাতকে একটি দীর্ঘমেয়াদি এবং প্রাণঘাতী লড়াই হিসেবে দেখছে। এর বিপরীতে ইরান সুপরিকল্পিতভাবে সময়ক্ষেপণ করছে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে বহুমুখী চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে পাল্টা জবাব দিচ্ছে।
উপসাগরীয় দেশগুলোর সামরিক ঘাঁটিতে হামলা, কূটনৈতিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত, হরমুজ প্রণালিকেন্দ্রিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যে বিঘ্ন ঘটানো—সবই একটি বৃহত্তর কৌশলের অংশ। ইরানের লক্ষ্য হলো এই আঞ্চলিক সামরিক সংঘাতকে এমন একটি সংকটে রূপান্তর করা, যা সরাসরি আন্তর্জাতিক মিত্রজোট, বিশ্ব অর্থনীতি এবং অভ্যন্তরীণ রাজনীতিকে সজোরে আঘাত করবে।
মূল প্রশ্নটি এখন আর কেবল ইরানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এই সংঘাতের ফলে ওয়াশিংটনের যে সামরিক সক্ষমতা প্রকাশ পেয়েছে এবং যেসব দুর্বলতা উন্মোচিত হয়েছে, তা চীনের বিরুদ্ধে তাদের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত সময়সূচিকে কতটা প্রভাবিত করবে? এর চেয়েও বড় প্রশ্ন হলো—চীন যদি আরও বড় পরিসরে একই ধরনের ‘কস্ট-ডিস্ট্রিবিউশন’ বা যুদ্ধব্যয় চাপিয়ে দেওয়ার কৌশল গ্রহণ করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র তার মোকাবিলা করবে কীভাবে?
এই অর্থে, ইরান সংকট কেবল একটি আঞ্চলিক পরীক্ষাই নয়, বরং তা যুক্তরাষ্ট্রের সহ্যক্ষমতার সীমারও একটি পরীক্ষা।
![]() |
| ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বিধ্বস্ত ইসরায়েলের বেইত শেমেশ এলাকার কয়েকটি ভবন। ছবি: এএফপি |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে কী কী চাপে পড়বে ইসরায়েল
গত শনিবার ইরানে হামলা চালানোর পর থেকে ইসরায়েলকে বারবার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে পড়তে হয়েছে। ফলে দেশজুড়ে বিমান হামলার সতর্কবার্তা জারি, স্কুল বন্ধ এবং হাজার হাজার রিজার্ভ সেনাকে তলব করতে হয়েছে।
হাইফা ও তেল আবিবের মতো শহরগুলো টানা হামলার মুখে পড়ছে। জরুরি পরিষেবা হিমশিম খাচ্ছে। যে মাত্রার যুদ্ধ ইসরায়েলি সরকার অন্যদের ওপর চাপিয়ে দেয়, সেই মাত্রার যুদ্ধের সঙ্গে সে দেশের মানুষ অভ্যস্ত নয়। তাদের বোমা থেকে বাঁচতে বাংকার বা শেল্টারে আসা–যাওয়ার মধ্যেই সময় কাটছে।
আপাতত যুদ্ধ নিয়ে ইসরায়েলি জনগণের উৎসাহ বেশি দেখা যাচ্ছে। বড় বড় শহরে ইসরায়েলিদের সঙ্গে কথা বললে দেখা যায়, তারা এমন এক শত্রুর মোকাবিলা করতে মরিয়া, যাদের সম্পর্কে তাদের কয়েক দশক ধরে বলা হয়েছে, তারা (ইরান) ইসরায়েলকে ধ্বংস করতে বদ্ধপরিকর। কট্টর বামপন্থীরা ছাড়া সব রাজনৈতিক দলই সরকারের পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে।
ইসরায়েলি অর্থনীতিবিদ শির হেভার বলেন, যুদ্ধ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ইসরায়েলে সামরিক উন্মাদনার জোয়ার বয়ে গেছে।
ইসরায়েলের রাজনীতি নিয়ে খবর রাখা শির হেভার আরও বলেন, এবারের যুদ্ধ ২০২৫ সালের জুনের ১২ দিনের সংঘাতের মতো নয়। তখন মূলত ইসরায়েলিদের মনে আতঙ্ক ও অস্তিত্ব রক্ষার ভয় ছিল। তাঁদের ভয় ছিল, ইরান হয়তো ইসরায়েলকে ধ্বংস করে দেবে। এখন এই যুদ্ধ একরোখা সামরিক উন্মাদনা ও অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস।
শির হেভার বলেন, এমনকি যুদ্ধের গুটিকয় সমালোচকও প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে যুদ্ধটি ‘সংক্ষিপ্ত’ রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন। বিষয়টি যেন এমন, ইসরায়েল চাইলেই যুদ্ধ কবে শেষ হবে, সেটা ঠিক করতে পারবে।
যুদ্ধের প্রতি এই সমর্থনকে অনেকেই ইসরায়েলি সমাজের চরমপন্থার দিকে ঝুঁকে পড়ার অংশ হিসেবে দেখছেন। আগে যাঁরা প্রান্তিক পর্যায়ের উগ্র-ডানপন্থী রাজনীতিবিদ ছিলেন, তাঁরা এখন সরকারের কেন্দ্রে চলে এসেছেন। রাজনৈতিক মেরুকরণ এবং অর্থনৈতিক চাপে তরুণ ও মেধাবীরা দ্রুত দেশ ছেড়ে চলে যাচ্ছেন।
তেল আবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড্যানিয়েল বার-তাল বলেন, ‘আমাদের প্রায় জন্ম থেকেই শেখানো হয়, ইরান অশুভ। কিন্ডারগার্টেন, হাই স্কুল ও সেনাবাহিনী—সব জায়গাতেই এ ধারণাকে গেঁথে দেওয়া হয়।’
বার–তাল বলেন, ‘আমাদের কাছে এখন এমন এক প্রজন্ম আছে, যারা আগের চেয়ে বেশি যুদ্ধবাজ ও ডানপন্থী। নেতানিয়াহু আমাদের বলছেন, আমাদের এখন তলোয়ারের ওপর ভর করেই বাঁচতে হবে। এটি প্রমাণ করে, টিকে থাকার জন্য ইসরায়েলের শত্রুর প্রয়োজন।’
বোমা ও বন্দুক
যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে সামাজিক প্রভাবের বাইরেও ইসরায়েলকে সামরিক হিসাব-নিকাশ মাথায় রাখতে হবে।
সবচেয়ে জরুরি বিষয় হচ্ছে, ইরানের মতো বিশাল আয়তন ও সামরিক শক্তিধর প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ইসরায়েল বর্তমান মাত্রার যুদ্ধ কত দিন চালিয়ে নিতে পারবে, তা ঠিক করে নিতে হবে।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক হামজে আত্তার বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মতো মিত্রদের সমর্থনের ওপর বিষয়টি নির্ভর করবে। ইরানের ভান্ডার ফুরানোর আগেই ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিঃশেষ হয়ে যায় কি না, তার ওপর।
হামজে আত্তার আল–জাজিরাকে বলেন, ‘যুদ্ধের প্রথম তিন দিনে ইরান ইসরায়েলের দিকে ২০০-এর বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। পটভূমি বোঝার জন্য বলা যায়, এর আগে ১২ দিনের সংঘাতে ইরান প্রায় ৫০০ ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল। প্রতিবারই একটি ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে ইসরায়েলকে একটি ইন্টারসেপ্টর রকেট ছুড়তে হয়েছে। এটি সম্ভবত ইসরায়েলের একার পক্ষে সম্ভব নয়। যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্য ছাড়া তারা হয়তো এত দিনে তাদের আকাশসীমার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলত।’
ইসরায়েলের ভান্ডারে কত ইন্টারসেপ্টর রকেট আছে, সেটা তারা গোপন রাখে। তবে ১২ দিনের সংঘাতের সময় তাদের মজুত কমে আসছিল। এতে বোঝা যায়, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে উচ্চ মাত্রার প্রতিরক্ষা বজায় রাখা কঠিন হবে। সে ক্ষেত্রে ইন্টারসেপ্টর ব্যবহারে তাদের কৃচ্ছ্রসাধন করতে হতে পারে। তখন শুধু সামরিক ও রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষার দিকে নজর দিতে হতে পারে। এতে সাধারণ নাগরিকদের ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি বৃদ্ধি পেতে পারে।
আত্তার বলছেন, ইসরায়েলি ও মার্কিন সূত্রমতে, জুনে সংঘাতের পর থেকে ইরান প্রতি মাসে ১০০টি করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে। এর অর্থ তেহরান ইতিমধ্যে ক্ষেপণাস্ত্রের বড় মজুত গড়ে তুলেছে।
অর্থনৈতিক বিবেচনা
বিশ্লেষকেরা সতর্ক করে বলছেন, দুই বছরের বেশি সময় ধরে গাজায় চলা নির্বিচার হামলা ইসরায়েলের অর্থনীতির ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। গোলাবারুদের খরচ এবং কয়েক লাখ রিজার্ভ সৈন্যকে দীর্ঘ সময় মোতায়েন রাখা ইসরায়েলি রাজকোষের ওপর বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জানা গেছে, ২০২৪ সালে লেবানন ও গাজায় নির্বিচার হামলায় ইসরায়েলের ব্যয় ৩ হাজার ১০০ কোটি ডলারে পৌঁছেছিল। এই ব্যয় দেশটিকে গত কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বাজেটঘাটতির মুখে ফেলেছে। ২০২৫ সালের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এসব অভিযানে ব্যয় ৫ হাজার ৫০০ কোটি ডলারে ঠেকেছে।
অর্থনীতির ওপর এই চাপের কারণে ২০২৪ সালে বিশ্বের তিনটি প্রধান ক্রেডিট রেটিং সংস্থা ইসরায়েলের সার্বভৌম ক্রেডিট রেটিং কমিয়ে দিয়েছে।
শির হেভার বলেন, ইসরায়েল এখন ঋণসংকট, জ্বালানিসংকট, পরিবহনসংকট এবং স্বাস্থ্যসেবা সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
তবে এই অর্থনীতিবিদ সতর্ক করে দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইসরায়েলকে এমন উন্নত অস্ত্র সরবরাহ অব্যাহত রাখে, তাহলে অর্থনৈতিক সংকটও ইসরায়েলের এই আগ্রাসন থামানোর জন্য যথেষ্ট হবে।
![]() |
| যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলায় চারপাশে শুধুই ধ্বংসস্তূপ। এরই মাঝে ইরানের জাতীয় পতাকা হাতে এক ব্যক্তি। গতকাল মধ্য তেহরানে। ছবি: এএফপি |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ইরানে যুদ্ধ মোড় নিচ্ছে কোন দিকে by জেরেমি বোয়েন
যুদ্ধ পরিস্থিতি ক্রমশ অবনতির দিকে যাচ্ছে। আমার মুঠোফোনে একের পর এক নিউজ অ্যালার্ট আসছে। একটু আগেই মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পড়লাম। সেখানে বলা হয়েছে, কুয়েতের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে ‘ভুলবশত নিজেদের গুলিতে’ যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ইগল যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়েছে।
এই লেখা শেষ করার আগেই হয়তো আরও বেশ কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হবে। আর এখন যাঁরা বেঁচে আছেন, তাঁদের অনেকেই হয়তো মারা পড়বেন।
এই যুদ্ধ কখন বা কীভাবে শেষ হবে, সে সম্পর্কে ধারণা পাওয়ার সময় এখনো আসেনি। একবার যুদ্ধ শুরু হয়ে গেলে তা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। তবে যুদ্ধে লিপ্ত পক্ষগুলো কীভাবে এর সমাপ্তি টানতে চায়, তার কিছু সম্ভাব্য উপায় খুঁজে দেখ যাক।
ট্রাম্পের দৃষ্টিতে বিজয়ের সংজ্ঞা
ফ্লোরিডার বাসভবন মার-এ-লাগো থেকে এক ভিডিও বার্তায় যুদ্ধ শুরুর ঘোষণা দেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এর পর থেকেই তিনি বরাবরের মতো মার্কিন শক্তির ব্যাপারে চরম আত্মবিশ্বাস দেখিয়ে আসছেন। অন্য কোনো প্রেসিডেন্ট হলে হয়তো ওভাল অফিসের রেজোলিউট ডেস্কের সামনে বসে গম্ভীর মুখে এ ধরনের ভাষণ দিতেন।
কিন্তু ট্রাম্প পরেছিলেন একটি ওপেন-নেক শার্ট ও মাথায় ছিল সাদা রঙের বেসবল ক্যাপ, যা তাঁর চোখ পর্যন্ত ঢেকে রাখছিল। তিনি ইরানের বিরুদ্ধে দীর্ঘ অভিযোগের তালিকা তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, ইরান ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ট্রাম্প যেকোনো সময় তাঁর মত বদলাতে পারেন। তবে ওই ভাষণে তিনি তাঁর নিজের মতো করে বিজয়ের একটি সংজ্ঞা দাঁড় করিয়েছেন। এটি একটি তালিকার মতো:
‘আমরা তাদের সব ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করে দেব এবং তাদের ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনশিল্পকে ধূলিসাৎ করে দেব। এটি আবারও পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়া হবে।’
‘আমরা তাদের নৌবাহিনীকে ধ্বংস করে ফেলব।’
‘আমরা নিশ্চিত করব যেন এই অঞ্চলের সন্ত্রাসী প্রক্সি গোষ্ঠীগুলো আর কখনো মধ্যপ্রাচ্য বা বিশ্বকে অস্থিতিশীল করতে না পারে। তারা যেন আমাদের বাহিনীর ওপর হামলা চালাতে না পারে। তারা যেন আর আইইডি বা রাস্তার ধারের বোমা ব্যবহার করে অসংখ্য মার্কিন নাগরিকসহ হাজার হাজার মানুষকে হত্যা বা গুরুতর আহত করতে না পারে।’
ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান এমন সব ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে, যা যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে সক্ষম। যদিও এই দাবির পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা মূল্যায়ন পাওয়া যায়নি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট এটাও দাবি করেন, ইরান পারমাণবিক বোমা তৈরির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে, যা গত গ্রীষ্মে দেওয়া তাঁর নিজের বক্তব্যেরই বিরোধী। সেখানে তিনি বলেছিলেন যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ‘গুঁড়িয়ে’ দিয়েছে।
ট্রাম্প বিশ্বাস করেন, ইসরায়েলকে সঙ্গে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র তেহরান সরকারকে পঙ্গু করে দিতে পারবে।
যদি ইরান আত্মসমর্পণ না-ও করে, তবু তারা এমনভাবে বিপর্যস্ত হবে যে ইরানের জনগণের সামনে রাজপথে নেমে ক্ষমতা দখলের সবচেয়ে বড় সুযোগ তৈরি হবে। ইরানের কয়েক প্রজন্মের মধ্যে এমন সুযোগ আর আসেনি।
ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের কাজ শেষ হলে, আপনারা আপনাদের সরকারের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেবেন। এটা তখন আপনাদেরই হয়ে যাবে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এটাই হয়তো আপনাদের একমাত্র সুযোগ। বছরের পর বছর ধরে আপনারা যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্য চেয়েছেন, কিন্তু পাননি। আজ রাতে আমি যা করতে রাজি হয়েছি, অন্য কোনো প্রেসিডেন্ট তা করতে রাজি ছিলেন না। এখন আপনারা এমন একজন প্রেসিডেন্ট পেয়েছেন, যিনি আপনাদের কাঙ্ক্ষিত জিনিসটি দিচ্ছেন। তো চলুন দেখি আপনারা কীভাবে এতে সাড়া দেন।’
ইরানের জনগণকে সরাসরি উসকে দিলেও, শাসকগোষ্ঠী পরিবর্তনের দায়িত্বটা তাদের ঘাড়েই চাপিয়ে দিয়েছেন ট্রাম্প। এর মাধ্যমে, যদি (ইরানের) শাসকগোষ্ঠী টিকেও যায়, ট্রাম্পের জন্য এই দায় এড়ানোর একটি সম্ভাব্য পথ খোলা থাকবে।
তবে এটাকে পুরো প্রক্রিয়া শেষ করা যুক্তরাষ্ট্রের একটি নৈতিক দায়িত্ব হিসেবেও দেখা যেতে পারে। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট মনে করেন ‘সবকিছুতেই কোনো না কোনো চুক্তি করা সম্ভব’, তাঁকে এই নৈতিকতা কতটা প্রভাবিত করবে—সেটি একটি বড় প্রশ্ন।
শুধু আকাশপথে হামলা চালিয়ে কোনো সুসজ্জিত শত্রুর বিরুদ্ধে যুদ্ধে জয়ী হওয়া বা সরকার পরিবর্তনের কোনো নজির বিশ্বে নেই।
সাদ্দাম হোসেনকে ক্ষমতাচ্যুত করতে ২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও তাদের মিত্ররা ইরাকে বড় পরিসরে পদাতিক বাহিনী পাঠিয়েছিল।
২০১১ সালে লিবিয়ার কর্নেল মুয়াম্মার গাদ্দাফিকে ক্ষমতাচ্যুত করেছিল বিদ্রোহী বাহিনী। ন্যাটো ও উপসাগরীয় দেশগুলো তাদের অস্ত্র সরবরাহ করেছিল এবং আকাশপথে সুরক্ষা দিয়েছিল।
ট্রাম্প আশা করছেন, ইরানের জনগণ এই কাজটা নিজেরাই করতে পারবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই পরিকল্পনা একটি বিশাল বাজি। শুধু বোমা মেরে সরকার পতন ঘটানোর এই কৌশলের সফল হওয়ার সম্ভাবনা একেবারেই কম।
দেশটিতে কি পশ্চিমা-পন্থী কোনো অভ্যন্তরীণ অভ্যুত্থান হতে পারে? অসম্ভব নয়, তবে যুদ্ধের তৃতীয় দিনে দাঁড়িয়ে এটিকে বেশ অস্বাভাবিক বলেই মনে হচ্ছে।
বরং এর চেয়ে এটাই বেশি সম্ভব যে বর্তমানে যারা সরকার পরিচালনা করছেন তারা আরও মরিয়া হয়ে উঠবেন এবং আরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়বেন। তাঁরা নিজেদের আদর্শে বলীয়ান হয়ে এই বিশ্বাস নিয়ে লড়বেন যে—যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল বা আরব দেশগুলোর চেয়ে তাঁরা বেশি আঘাত সহ্য করতে সক্ষম।
তবে এই সংঘাতের সবচেয়ে বড় শিকার হবেন দীর্ঘকাল ধরে কষ্ট ভোগ করা সাধারণ ইরানি জনগণ। অথচ এ বিষয়ে তাঁদের কোনো মতামত দেওয়ার সুযোগ নেই।
নেতানিয়াহুর হিসাবনিকাশ
ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও ইরানিদের নিজেদের ভাগ্য নিজের হাতে তুলে নেওয়ার জন্য উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন।
তবে তারা যদি শাসকগোষ্ঠীর নিরাপত্তা বাহিনীকে পরাস্ত করতে না পারে, সে ক্ষেত্রে নেতানিয়াহুর প্রধান লক্ষ্য হবে ইরানের সামরিক সক্ষমতা গুঁড়িয়ে দেওয়া। একই সঙ্গে এই অঞ্চলে নতুন করে মিলিশিয়া বাহিনী গড়ে তোলার যে ক্ষমতা ইরানের রয়েছে, যা ইসরায়েলের জন্য হুমকি হতে পারে, সেটিও নষ্ট করতে চাইবেন তিনি।
কয়েক দশক ধরেই নেতানিয়াহু ইরানকে ইসরায়েলের সবচেয়ে ভয়ংকর শত্রু হিসেবে দেখে আসছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, ইহুদি রাষ্ট্রকে ধ্বংস করতে ইরানের শাসকেরা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে চান।
অন্যদিকে (ইরানের) শাসকগোষ্ঠীর কাছে বিজয়ের সংজ্ঞা হলো টিকে থাকা। আর এটি নিশ্চিত করতে তারা নিজেদের চারপাশে এক দুর্ভেদ্য সুরক্ষাবলয় তৈরি করেছে।
তাদের রয়েছে শক্তিশালী ও নির্মম নিরাপত্তা, দমন ও পীড়নমূলক এক বিশাল বাহিনী। গত জানুয়ারিতে নির্দেশ পেয়ে এই বাহিনীর সদস্যরাই রাস্তায় নেমে হাজার হাজার বিক্ষোভকারীকে হত্যা করেছিল।
এখন পর্যন্ত—এবং আমি বারবার বলছি, এই লেখাটি যখন লিখছি তখন যুদ্ধের মাত্র তৃতীয় দিন—ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর মনোবল ভেঙে পড়ার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না, যেমনটা ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে আসাদ (সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ) মস্কোতে পালিয়ে যাওয়ার পর তাঁর বাহিনীর ক্ষেত্রে ঘটেছিল।
প্রথাগত সশস্ত্র বাহিনী ও সুসজ্জিত পুলিশের পাশাপাশি দেশটিতে রয়েছে ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ডস কোর (আইআরজিসি)। দেশে ও দেশের বাইরে ইরান সরকারকে রক্ষা করার সুস্পষ্ট দায়িত্ব এই বাহিনীর ওপর ন্যস্ত।
এটি মূলত ‘ভেলায়েত-ই ফকিহ’ বা ইসলামি আইনবিদদের অভিভাবকত্বের পেছনে পেশিশক্তি হিসেবে কাজ করে। এটিই ইরানের ইসলামি বিপ্লবের মূল মতবাদ, যা শিয়া ধর্মীয় নেতাদের শাসনকে বৈধতা দেয়।
ধারণা করা হয়, আইআরজিসির ১ লাখ ৯০ হাজার নিয়মিত সেনা ও প্রায় ৬ লাখ অনিয়মিত সেনা রয়েছে। ধর্মীয় মতবাদের পাশাপাশি দেশের অর্থনীতির বড় একটি অংশও তারা নিয়ন্ত্রণ করে। তাই আনুগত্য ধরে রাখার পেছনে এই নেতাদের আদর্শিক কারণের পাশাপাশি আর্থিক কারণও রয়েছে।
আইআরজিসিকে সহায়তা করে ‘বাসিজ’ নামের একটি আধা-সামরিক স্বেচ্ছাসেবী বাহিনী। আনুমানিক সাড়ে চার লাখ সদস্যের এই বাহিনীর যেমন সরকারের প্রতি আনুগত্যের সুখ্যাতি রয়েছে, তেমনি তাদের বিরুদ্ধে দস্যুতার অভিযোগ রয়েছে।
২০০৯ সালের বিতর্কিত নির্বাচনের পর তেহরানে যখন বিক্ষোভ শুরু হয়, তখন সরকারের প্রতিরক্ষার প্রথম সারিতে আমি তাদের কাজ করতে দেখেছি। তারা রাস্তায় বিক্ষোভকারীদের হুমকি দিত এবং লাঠি ও রাবারের ডান্ডা দিয়ে ব্যাপক মারধর করত।
তাদের পেছনে থাকত ভারী অস্ত্রে সজ্জিত পুলিশ ও আইআরজিসির সদস্যরা। বাসিজ বাহিনীর দ্রুতগতির মোটরসাইকেল স্কোয়াডও ছিল, যারা শহরের যেকোনো প্রান্তে ভিন্নমত বা বিক্ষোভ দমাতে ছুটে যেত।
ডোনাল্ড ট্রাম্প আইআরজিসি ও বাসিজ বাহিনীকে অস্ত্র সমর্পণ করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। অন্যথায় তাদের নিশ্চিত মৃত্যুর হুমকি দিয়ে বলেছেন, ‘এর পরিণতি খুব একটা সুখকর হবে না।’
তবে ট্রাম্পের এই হুমকিতে ইরান সরকারের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের মত বদলানোর সম্ভাবনা খুবই কম।
কারণ, ইসলামি প্রজাতন্ত্র (ইরান) ও শিয়া ইসলাম শাহাদাতের (শহীদ হওয়ার) আদর্শে উদ্বুদ্ধ।
গত রোববার কয়েক ঘণ্টা ধরে সরকারিভাবে দাবি করা হচ্ছিল যে সর্বোচ্চ নেতা নিরাপদ ও সুস্থ আছেন। এরপর রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের এক সংবাদপাঠক কাঁদতে কাঁদতে খামেনির মৃত্যুর খবর ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, সর্বোচ্চ নেতা শাহাদাতের পবিত্র ও সুমিষ্ট সুধা পান করেছেন।
ইরান বিষয়ে অনেক জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক ধারণা করছেন, যখন পুরো বিশ্ব মনে করছিল যেকোনো মুহূর্তে হামলা হতে পারে, তখনো আয়াতুল্লাহ তাঁর জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টাদের নিয়ে তেহরানের বাসভবনে বৈঠক চালিয়ে গিয়েছিলেন। কারণ, তিনি নিজেই শাহাদাত বরণ করতে চেয়েছিলেন।
এই সরকারের প্রতি অনুগত একটি বড় বেসামরিক গোষ্ঠী রয়েছে। সর্বোচ্চ নেতা নিহত হওয়ার পর, ৪০ দিনের শোক পালনের প্রথম দিনেই তেহরানের রাস্তায় হাজার হাজার মানুষ নেমে আসে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বিমান হামলায় চারদিকে যখন ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠছিল, তখনো তাঁরা শহরের বিভিন্ন চত্বরে জড়ো হয়ে মোমবাতি ও মুঠোফোনের ফ্ল্যাশলাইট জ্বালিয়ে শোক প্রকাশ করেছেন।
খারাপ নজির
মার্কিনিরা বিশ্বাস করে যে এবার ইসরায়েলকে সঙ্গে নিয়ে তাদের বিপুল সামরিক শক্তি কোনো বড় ধরনের বিপর্যয় ছাড়াই শত্রুপক্ষের সরকার পরিবর্তন করতে পারবে।
তবে অতীতের নজিরগুলো মোটেও ভালো নয়। ২০০৩ সালে ইরাকের সাদ্দাম হোসেনকে ক্ষমতাচ্যুত করার ফলে সেখানে এক ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে এসেছিল। বছরের পর বছর ধরে চলা সেই যুদ্ধ উগ্রবাদী জিহাদি গোষ্ঠীগুলোর জন্ম দিয়েছে, যাদের অস্তিত্ব এখনো রয়ে গেছে।
লিবিয়া এমন একটি দেশ ছিল, যার তেলের মজুত দিয়ে এর ছোট জনসংখ্যার মানুষের পশ্চিমা মানের জীবনযাপন নিশ্চিত করা সম্ভব ছিল। কিন্তু গাদ্দাফিকে ক্ষমতাচ্যুত ও হত্যা করার ১৫ বছর পর দেশটি আজ একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত, দরিদ্র ও ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে।
যেসব পশ্চিমা দেশ তাঁর পতন ত্বরান্বিত করেছিল এবং এ নিয়ে উদ্যাপন করেছিল, দেশটি টুকরা টুকরা হয়ে যাওয়ার পর তারা খুব সহজেই নিজেদের দায় এড়িয়ে গেছে।
ইরান একটি বিশাল দেশ। এটি ইরাকের চেয়ে প্রায় তিন গুণ বড়। দেশটিতে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর ৯ কোটির বেশি মানুষের বসবাস।
যদি সত্যিই ইরান সরকারের পতন ঘটে, তবে এর পরিণতি হতে পারে চরম ভয়াবহ। এর ফলে যে বিশৃঙ্খলা, অরাজকতা ও রক্তপাত শুরু হবে, তা সিরিয়া ও ইরাকের সেই গৃহযুদ্ধকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে, যেখানে হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান ইরানের সামরিক সক্ষমতাকে গুঁড়িয়ে দিচ্ছে। এর ফলে তেহরান সরকার যদি টিকে-ও যায়, তবু মধ্যপ্রাচ্যের সমীকরণ পুরোপুরি বদলে যাবে।
এই সরকারের পতন হলে বহু ইরানি, সম্ভবত বেশির ভাগ মানুষই উল্লাস প্রকাশ করবে। কিন্তু গায়ের জোরে একটি শাসকগোষ্ঠীকে সরিয়ে সেখানে শান্তিপূর্ণ ও সুসংহত একটি বিকল্প দাঁড় করানো হবে এক বিশাল চ্যালেঞ্জ।
ট্রাম্প বাজি ধরেছেন যে এটি সম্ভব এবং এই যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যকে আরও উন্নত ও নিরাপদ একটি জায়গায় পরিণত করবে। এমনটি ঘটার সম্ভাবনা খুবই চ্যালেঞ্জিং।
* বিবিসিঃ জেরেমি বোয়েন, বিবিসির আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক
| ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সংঘর্ষের মধ্যে একটি পুলিশ স্টেশনে আগুন জ্বলছে। তেহরান, ইরান, ২ মার্চ। ছবি: রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ইরান যুদ্ধে সহজ জয়ের উদ্ভট কল্পনা
ইরানে দুই দেশের যৌথ হামলা এবং দ্রুত ইরানের পাল্টা আঘাত দেখিয়ে দেয়, কূটনীতি কতটা অনিশ্চিত হয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সমঝোতা আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে এবং পরবর্তী সপ্তাহে আবার আলোচনা শুরু হবে বলে মধ্যস্থতাকারীরা ঘোষণা দেওয়ার পর ওই হামলা হয়। এতে স্পষ্ট হয় যে কূটনৈতিকভাবে এ সমস্যার সমাধান চাওয়া হয়নি। এখানে কূটনীতিকে মূলত যুদ্ধ পরিকল্পনাকে আড়াল করতে ব্যবহার করা হয়েছিল।
হামলার পর এটা অনুমান করা যায়, ওয়াশিংটন ও তেল আবিব কয়েক সপ্তাহ আগেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। হামলার প্রথম দিনেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ‘বিজয়’ ঘোষণার পথে থাকার কথা বলেন। যদিও তাঁরা বিজয় অর্জন করতে পারবেন কি না, সেটা অনিশ্চিত।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্ব এবং সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করার কথা বলে। সম্ভবত তারা আশা করেছিল, দ্রুতই এই যুদ্ধ শেষ করতে পারবে। ইসরায়েল দাবি করে, সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ ইরানের নেতৃত্বকে নির্মূল করে তারা ‘বিরাট সাফল্য’ অর্জন করেছে।
তবে এবারের হামলায় খামেনিসহ ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের বেশ কয়েকজন নিহত হলেও পাল্টা হামলা চালাতে সময় নেয়নি তেহরান। প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই জবাব দিয়েছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী। ইসরায়েলের বিভিন্ন শহরের পাশাপাশি ইরাক, কাতার, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে তারা।
যেভাবে ইরাক পাল্টা হামলা চালিয়েছে, তা এই ইঙ্গিত দেয় যে হামলা হবে বুঝতে পেরে তারা প্রতিশোধ পরিকল্পনাও প্রস্তুত করে রেখেছিল। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, ইরান কি যুক্তরাষ্ট্রকে এ অবস্থান থেকে টলাতে পারবে কি না। যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে এ যুদ্ধ নিয়ে দেশের ভেতরে ও আন্তর্জাতিক চাপের মুখে পড়েছে।
দেশের মধ্যে চাপে পড়বেন ট্রাম্প
মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে নতুন করে বিদেশে সংঘাতে জড়ানো নিয়ে তেমন আগ্রহ না থাকলেও ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেছেন। ‘ইউগভ’ ও দ্য ইকোনমিস্ট-এর সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ২৭ শতাংশ মার্কিন নাগরিক ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক শক্তি প্রয়োগের পক্ষে। মেরিল্যান্ড ইউনিভার্সিটির অপর একটি জরিপে এই সমর্থনের হার আরও কম, মাত্র ২১ শতাংশ।
এ যুদ্ধ ট্রাম্পের জন্য বড় ধরনের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক জটিলতা ডেকে আনতে পারে। ইরান যদি আত্মসমর্পণ না করে, তাহলে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট এক কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়বেন। হয় তাঁকে যুদ্ধের তীব্রতা বাড়িয়ে একটি দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে হবে আর নয়তো পিছু হটে ‘দুর্বল’ হিসেবে জনগণের সামনে হাজির হতে হবে।
সামনে মধ্যবর্তী নির্বাচন থাকায় ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে এ যুদ্ধ একটি বড় পরীক্ষা হয়ে দেখা দেবে। যুদ্ধ যদি প্রেসিডেন্টের পরিকল্পনা অনুযায়ী না এগোয়, তাহলে নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। যদি ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়, তাতে ট্রাম্পের রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হতে পারে। এমনকি কংগ্রেস ডেমোক্র্যাটদের দখলে গেলে ট্রাম্পের ওপর অভিশংসনের চাপ আরও বাড়তে পারে।
ট্রুথ সোশ্যালে ‘বিজয় ঘোষণা’ হতে পারে যুদ্ধ শেষের কৌশল
বিশ্লেষকদের কেউই মনে করছেন না যে এই যুদ্ধ অল্প সময়ে শেষ হবে। এর আগে গত বছর জুনে ১২ দিনের যুদ্ধ শেষ হয়েছিল যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে। ওই যুদ্ধের তুলনায় বর্তমান সংঘাত অনেক বেশি বিস্তৃত ও গভীর মনে হচ্ছে। পুরো অঞ্চলে ইরানের পাল্টা আঘাত ইঙ্গিত দেয় যে দেশটি সমঝোতার চেয়ে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ করতেই বেশি আগ্রহী।
ওয়াশিংটন ও তেল আবিব বর্তমানে দুটি সমস্যার মুখোমুখি। প্রথমত, এ অঞ্চলে অনিয়ন্ত্রিত অস্থিতিশীলতা তৈরি না করে কীভাবে তেহরানের ওপর চাপ বজায় রাখা যায়। দ্বিতীয়ত, দেশ দুটি ইরানের ‘শাসনব্যবস্থার পরিবর্তনকে’ নিজেদের চূড়ান্ত লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করেছে।
ইরানে হামলার ঘোষণা দেওয়ার সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট আভাস দেন, যুক্তরাষ্ট্র কেবল আকাশপথে হামলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে এবং কোনো স্থলসেনা মোতায়েন করবে না; বরং ইরান সরকারকে উৎখাতের দায়িত্ব তিনি দেশটির জনগণের ওপরই ছেড়ে দেন। তিনি বলেছিলেন, ‘আপনাদের স্বাধীনতার সময় ঘনিয়ে এসেছে।’ এ সময় ইরানিদের বিদ্রোহ করারও আহ্বান জানান ট্রাম্প।
দুই মাস আগে ইরানজুড়ে নজিরবিহীন গণবিক্ষোভের পর এ আহ্বান জানানো হয়। তবে ইরানি কর্তৃপক্ষ সেই সময় দমনের কঠোর পথ বেছে নিয়েছিল, যাতে কয়েক হাজার মানুষ নিহত হন। বর্তমানে দেশটিতে এ ধরনের বড় গণবিক্ষোভের সম্ভাবনা খুব কম বলেই মনে হচ্ছে। সেই দমন-পীড়নের ক্ষত এখনো সমাজে গভীরভাবে রয়ে গেছে এবং ইরান আপাতদৃষ্টিতে স্থিতিশীল।
এদিকে ইরানের নেতৃত্বকে নির্মূলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা সম্ভবত অব্যাহত থাকবে। এ ধরনের হামলা সফল হলেও সেটি সরকার পরিবর্তনে ভূমিকা রাখবে না।
শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পের জেনারেলরা হয়তো পরামর্শ দেবেন, দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া সুবিধাজনক হবে না, যা অনেকটা ১২ দিনের যুদ্ধের অভিজ্ঞতারই পুনরাবৃত্তি হবে। ট্রাম্পের জন্য এমন এক জয়হীন যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার পুরোনো কৌশল হতে পারে, (নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম) ট্রুথ সোশ্যালে বিজয় ঘোষণা করা এবং আলোচনার মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া।
তখন মূল চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে একটি যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা করা। আলোচনার নামে দুবার প্রতারিত হওয়ার পর তেহরান এবার নিজের অবস্থান আরও কঠোর করতে পারে। যদি বর্তমান সরকার টিকে থাকে, তবে নতুন করে আলোচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের মরিয়া ভাবকে কাজে লাগিয়ে তারা নিজেদের দাবি আদায় করে নিতে পারে। সেই অর্থে, আজকের কূটনৈতিক ব্যর্থতা আগামী দিনে ইরানকে শক্তিশালী অবস্থানে থেকে দর-কষাকষির সুযোগ করে দিতে পারে।
![]() |
| হামলার প্রথম দিনেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ‘বিজয়’ ঘোষণার পথে থাকার কথা বলেন। যদিও তাঁরা বিজয় অর্জন করতে পারবেন কি না, সেটা অনিশ্চিত। ছবি: রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে আরও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান
ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সতর্কবার্তা পাওয়ার পর নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কাউকে আশ্রয়কেন্দ্র থেকে বের না হতেও বলা হয়েছে।
ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্রতিহত করতে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কাজ করছে।
| ইসরায়েলের তেল আবিবে ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র। তেল আবিব, ইসরায়েল, ২৮ ফেব্রুয়ারি। ছবি: রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
র্যাব অবিলম্বে বিলুপ্ত করা দরকার, ডিজিএফআইও বিলুপ্ত করা হোক: ইকবাল করিম ভূঁইয়া
আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে শতাধিক মানুষকে গুম ও খুনের ঘটনায় সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় প্রথম সাক্ষী হিসেবে আজ সোমবার দ্বিতীয় দিনের মতো জবানবন্দিতে সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়া এ কথাগুলো বলেন। এর আগে গতকাল রোববার তিনি জবানবন্দি দেন।
সাবেক এই সেনাপ্রধান জবানবন্দিতে আরও বলেন, ‘আমি চাই র্যাব অবিলম্বে বিলুপ্ত করা দরকার এবং সেটি সম্ভব না হলে সামরিক সদস্যদের সামরিক বাহিনীতে ফিরিয়ে আনা উচিত। আমি আরও চাই ডিজিএফআইও বিলুপ্ত করা হোক। কারণ, এই সংগঠনটি আয়নাঘরের মতো অপসংস্কৃতি জন্ম দেওয়ার পরে টিকে থাকার বৈধতা হারিয়েছে।’
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ এই মামলার জবানবন্দি নেওয়া হচ্ছে। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল–১–এর অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
এ মামলার একমাত্র আসামি সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান। তিনি গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন। তাঁকে আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
আজকের জবানবন্দিতে সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়া বলেন, ‘এত কিছুর পরও যখন বুঝতে পারি ক্রসফায়ার থামছে না, তখন আমি ডিজিএফআই, বিজিবি এবং র্যাব থেকে অফিসার নিয়ে আসা ও পোস্টিং বন্ধ করে দিই। আমাকে অনেকে মনে করিয়ে দেন যে আমি যা করছি, তা বিদ্রোহের শামিল। আমার উত্তর একটাই ছিল যে হাশরের ময়দানে আমাকে আল্লাহর কাছে জবাব দিতে হবে। পোস্টিং বন্ধ করার প্রতিক্রিয়াও ছিল মারাত্মক। আমি প্রতিনিয়ত অফিসার পোস্টিং করার জন্য টেলিফোন পেতে থাকি। একসময় র্যাবের ডিজি বেনজীর আহমেদ আমার অফিসে আসেন এবং র্যাব অফিসার দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানান। তাঁকে কোনো কথা দিইনি।’
সাবেক এই সেনাপ্রধান জবানবন্দিতে আরও বলেন, ‘চট্টগ্রামে হোটেল র্যাডিসন উদ্বোধনের সময় তদানীন্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৈঠককালে আমাকে ডেকে নেন এবং র্যাব অফিসার দিতে বলেন। এই স্বল্পতার কারণে র্যাবে অফিসার দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানাই। আমার অবসর গ্রহণের আগপর্যন্ত এই চাপ অব্যাহত ছিল। কিন্তু আমি আমার সিদ্ধান্তে অটল ছিলাম।’
সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়া আরও বলেন, ‘র্যাবের কর্মকাণ্ডের কারণে আমার দায়িত্বকালীন সময়টি ছিল অত্যন্ত কষ্টদায়ক। কিছু করতে না পারার বেদনা আমাকে সব সময় আচ্ছন্ন করে রাখত। আজ সুযোগ এসেছে সেই করতে না পারার কাজটি সম্পন্ন করার। এতে সেনাবাহিনীর গৌরব ক্ষুণ্ণ হবে না, বরং সেনাবাহিনী গৌরবের উচ্চ শিখরে আসীন হবে। পুরো জাতি জানবে সেনাবাহিনী কখনো দোষী ব্যক্তিদের ছাড় দেয় না। এতে সেনাবাহিনীর গৌরব এবং সম্মানের সাইনবোর্ডের আড়ালে অফিসারদের অপকর্ম করে পার পেয়ে যাওয়ার প্রবৃত্তি দূর হবে।’
আজকে সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়ার জবানবন্দি শেষ হয়। পরে তাঁকে জেরা করা শুরু করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী আমিনুল গনি। জেরায় এক প্রশ্নের জবাবে সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়া বলেন, ‘হ্যাঁ, আমি একজন ডিহিউম্যানাইজড সেনা কর্মকর্তা। আমি আমার চাকরিজীবনের ৪০ বছরে শিখেছি কীভাবে মানুষ হত্যা করতে হয়। শুধু আমি নই, পৃথিবীর সব সেনাসদস্যকে এই একই প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।’
প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়ার জেরা আজকের মতো শেষ হয়েছে। ১৮ ফেব্রুয়ারি জেরার জন্য পরবর্তী দিন ধার্য করা হয়েছে।
![]() |
| সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) ইকবাল করিম ভূঁইয়া। ছবি: ইকবাল করিম ভূঁইয়ার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
-
▼
2026
(1265)
-
▼
March
(202)
-
▼
Mar 05
(7)
- ইসরায়েলের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার হুমকি ইরানের
- যুদ্ধে ইরানের নতুন কৌশলে যুক্তরাষ্ট্র কি ফাঁদে পড়ল
- যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে কী কী চাপে পড়বে ইসরায়েল
- ইরানে যুদ্ধ মোড় নিচ্ছে কোন দিকে by জেরেমি বোয়েন
- ইরান যুদ্ধে সহজ জয়ের উদ্ভট কল্পনা
- ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে আরও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান
- র্যাব অবিলম্বে বিলুপ্ত করা দরকার, ডিজিএফআইও বিলুপ...
-
▼
Mar 05
(7)
-
▼
March
(202)
- ► 2025 (3280)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...



