Friday, June 3, 2016

গুজরাট দাঙ্গার রায়ে খুশি নয় বাদী জাকিয়া জাফরি

ভারতে দীর্ঘ ১৪ বছর পর গুজরাট দাঙ্গার সেই ‘গুলবার্গ সোসাইটি হত্যাকাণ্ডের’ রায় হয়েছে। গুজরাট রাজ্যের আহমেদাবাদের গুলবার্গ সোসাইটির ওই হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় ২৪ জনকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন আদালত। আহমেদাবাদের বিশেষ আদালত বৃহস্পতিবার এই রায় দেয়। তবে এই রায়ে ‘সন্তুষ্ট নয়’ বলে জানিয়েছেন নিহত সাবেক কংগ্রেস এমপি এহসান জাফরির স্ত্রী জাকিয়া জাফরি। ২০০২ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি একদল উন্মত্ত জনতা গুলবার্গ সোসাইটি আবাসনে আগুন ধরিয়ে দেয়। গোধরা-পরবর্তী এই হামলায় প্রাণ হারান কংগ্রেস দলের সাবেক সংসদ সদস্য এহসান জাফরিসহ ৬৯ জন। এহসান জাফরির স্ত্রী জাকিয়া বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ ৬৩ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করতে চেয়ে সুপ্রিমকোর্টে আবেদন জানান। গুজরাট দাঙ্গার সময় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন মোদি।
এই হত্যাযজ্ঞ মামলায় অন্যতম অভিযুক্ত ছিলেন অসরতা আসনে বিজেপির বর্তমান এমপি বিপিন পটেল। ওই হত্যাকাণ্ডের সময়ও তিনি এমপি ছিলেন। তবে বিপিন পটেলকে বেকসুর খালাসের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বিশেষ আদালত জানিয়েছে, দোষীদের মধ্যে ১১ জনের বিরুদ্ধে হত্যাযজ্ঞের সঙ্গে প্রত্যক্ষ জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। অন্য ১৩ জনকে অন্যান্য অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। তবে ৩৬ জনকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়েছে। আগামী ৬ জুন আদালত দোষীদের সাজা ঘোষণা করবেন। গত বছরের ২২ সেপ্টেম্বর এই মামলার শুনানি শেষ হয়। শেষ শুনানির প্রায় আট মাস পর এই মামলার রায় ঘোষণা করলেন আমেদাবাদের বিশেষ আদালতের বিচারক পিবি দেশাই। এদিকে, এই রায়ে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন মামলা বাদী এবং এই হামলায় নিহত সাবেক সংসদ সদস্য এহসান জাফরির স্ত্রী জাকিয়া জাফরি। তিনি বলেন, ‘এই রায়ে আমি হতাশ।
গুলবার্গ সোসাইটি
গণহত্যা মামলা
১। ২০০২ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলায় নিহত হন ৬৯ জন।
২। সোসাইটির বাঙলো ও ফ্ল্যাটগুলোয় লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ
৩। এ গণহত্যায় ৬৬ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। এদের ছয়জন বিচারের আগে ও বিচার চলাকালীন মারা যান।
৪। ২০০৯ সালের ৭ সেপ্টেম্বর গুলবার্গ সোইসাইটি গণহত্যার বিচার শুরু হয়।
৫। এ মামলায় সাক্ষী ছিলেন ৩৩৮ জন। তাদের মধ্যে আটজন ছিলেন নারী।
৬। ২০১৫ সালের ২২ সেপ্টেম্বর শুনানি শেষ।
৭। ২ জুন ২০১৬ রায় প্রকাশ

মুস্তাফিজের ইংল্যান্ডে খেলার পক্ষে হাথুরু

ইংল্যান্ডের কাউন্টি দল সাসেক্সে মুস্তাফিজুর রহমান খেলবেন কীনা তা নিয়ে আলোচনা শেষই হচ্ছে না। আইপিএল শেষে মুস্তাফিজ এখন সাতক্ষীরায় গ্রামের বাড়িতে। একটি সূত্র জানায়, বুধবার তার এমআরআই রিপোর্টে সামান্য চোট ধরা পড়েছে। চিকিৎসকরা মনে করছেন এক সপ্তাহ বিশ্রাম নিলেই ঠিক হয়ে যাবেন তিনি। এমনকি এখনই মাঠে নামতে পারবেন তিনি। বুধবার রাতে ছুটি কাটিয়ে বাংলাদেশে এসেছেন কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে। এসেই কাল কোচ জানালেন, শরীর ফিট থাকলে ইংলিশ কাউন্টি দল সাসেক্সে খেলতে অবশ্যই যাওয়া উচিত তরুণ এই পেসারের। বৃহস্পতিবার বিসিবিতে কোচ হাথুরুসিংহে বলেন, ‘মুস্তাফিজ যদি দ্রুত উন্নতি এবং পারফর্ম করে, তাহলে সবচেয়ে বেশি উপকার বাংলাদেশের ক্রিকেটেরই। কাজেই ওর শরীরের যদি ক্ষতি না হয়, আমার মতে ইংল্যান্ডে গিয়ে খেলাই ওর জন্য ভালো হবে।’ তিনি বলেন, ‘পারফরম্যান্স ভালো করতে হলে ওই কন্ডিশনে খেলতে হবে। ওখানে না গেলে সেটা জানা যাবে না।’
বাংলাদেশের একজন ক্রিকেটারের জন্য ইংল্যান্ডের ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলার সুযোগ সবসময় আসে না। সে দিকটাও ভাবতে বলছেন কোচ। হাথুরুসিংহে বলেন, ‘বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের জন্য ইংল্যান্ডে খেলার সুযোগ পাওয়া বিরল। যদি চারজন ক্রিকেটার পাঠানোর সুযোগ থাকত, আমি চারজনই পাঠাতাম। শেখার সেরা উপায় এটিই।’ বিসিবি জানিয়েছিল, মুস্তাফিজুরের অবস্থা বুঝেই তাকে ইংল্যান্ডে পাঠানোর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। তবে চিকিৎসকরা বলছেন, এখনই তাকে মাঠে নামানোর মতো অবস্থা রয়েছে। ঘনিষ্ঠজনরা বলছেন, মুস্তাফিজ অবশ্য ইংল্যান্ডে যেতে রাজি নন। মুস্তাফিজের বোলিং নিয়ে কোচ বলেন, ‘আমরা সবাই জানি, তার রহস্য হয়তো খুব দ্রুতই সবাই বের করে ফেলবে। আমি তাকিয়ে আছি তার বুদ্ধিদীপ্ত ক্রিকেটের দিকে। আমরা তার লড়াইয়ে থাকার পথ খুঁজে বের করব। আমাদের চ্যালেঞ্জ তার খেয়াল রাখা, উন্নতি করানো এবং বাংলাদেশের জন্য তৈরি রাখা।’
এদিকে আগামী দুই-তিন বছর বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য দারুণ সময় বলেও মনে করছেন টাইগার কোচ। তিনি বলেন, ‘আমার ধারণা, আগামী ২-৩ বছর হবে বাংলাদেশ ক্রিকেটের সোনালি সময়। তামিম, সাকিব, মাশরাফি, মুশফিক, রিয়াদের মতো ক্রিকেটাররা এখন নিজেদের সামর্থ্যরে চূড়ায়। অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাদের ধারাবাহিকভাবে পারফর্ম করার সময় এখনই।’ আগামী ২ বছরে বেশক’টি টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ, যার অনেকগুলোই দেশের বাইরে। সামনের পথচলায় এটিকেই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ মানছেন হাথুরুসিংহে। তিনি বলেন, ‘সামনের সময়টুকু বাংলাদেশের জন্য যেমন রোমাঞ্চকর, তেমনি চ্যালেঞ্জিংও। কারণ আগামী দু’বছরে আমরা দেশের বাইরেই বেশি খেলব। আমার দায়িত্বের গত দু’বছরে দেশের মাটিতে নিজেদের কন্ডিশনেই বেশি খেলেছি আমরা। সামনের সময়টা তাই চ্যালেঞ্জিং হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের ক্রিকেটের উন্নতিটাও বোঝা যাবে।’ কোচকে নির্বাচক দলের সদস্য করার জন্য পরিকল্পনা করছে বিসিবি। এমন সিদ্ধান্তে হাথুরুসিংহেও জানালেন, নির্বাচক হলে খেলোয়াড়দের বুঝতে সহজ হবে তার।

শিল্পা শেঠির সংসারে ভাঙনের সুর!

চলতি বছরটা বলিউড তারকাদের জন্য মোটেও শুভ নয়। যতটা না সংসার গড়ছে, তার চেয়ে ভাঙছে বেশি। সেই ভাঙনের তালিকায় এবার উঠে এসেছে শিল্পা শেঠির নাম। গুজব রটেছে স্বামী ব্যবসায়ী রাজ কুন্দ্রের সঙ্গে নাকি এ নায়িকার দাম্পত্য সম্পর্ক ভালো যাচ্ছে না। যে কোনো সময় সেটা বিচ্ছেদে রূপ নিতে পারে। ব্যবসায়িক কাজে দিনের বেশিরভাগ সময় কেটে যায় রাজের। মাঝে বাসায়ও ফিরতে পারেন না। অফিসেই থেকে যান। এভাবেই স্ত্রী শিল্পার সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়েছে তার। শিল্পাও স্বামীর সঙ্গে আড়ি দিয়ে রেখেছেন।
দীর্ঘদিনের এ দূরত্ব শেষ পর্যন্ত বিচ্ছেদের দিকেই গড়াচ্ছে বলে শিল্পার ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে। প্রসঙ্গত, ২০০৯ সালে ভালোবেসে ব্যবসায়ী রাজ কুন্দ্রকে বিয়ে করেন শিল্পা। তাদের ঘরে ভিহান রাজ কুন্দ্র নামে চার বছর বয়সী এক পুত্রসন্তান রয়েছে। বিয়ের পর অভিনয় থেকে অনেকটা দূরে সরে গিয়ে স্বামী, সন্তান ও সংসারেই মনোযোগী শিল্পা। শুধু মাঝে মাঝে কিছু অনুষ্ঠানে দেখা যায় তাকে। সংসারের প্রতি এত মনোযোগী হওয়া সত্ত্বেও স্বামীকে কাছে না পাওয়ায় তার মধ্যে অভিমানের পাহাড় জমেছে। সেই অভিমান শেষ পর্যন্ত ক্ষোভে পরিণত হয়ে বিচ্ছেদের রূপ নিচ্ছে।

হিলারির ফাঁড়া কাটেনি

আগামী মঙ্গলবার, ৭ জুন নিউজার্সি ও ক্যালিফোর্নিয়াসহ মোট ছয়টি অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্রেটিক দলের দুই প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী বাছাই পর্যায়ে তাঁদের শেষ বড় ভোটযুদ্ধে অবতীর্ণ হবেন। এরপর বাকি থাকবে একমাত্র ডিস্ট্রিক্ট অব কলম্বিয়া, পরের মঙ্গলবার ১৪ এপ্রিল। কিন্তু তার আগেই দলের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী কে হবেন, সে কথা নিশ্চিত হয়ে যাবে। হিলারি ক্লিনটনই যে সেই প্রার্থী, সে বিষয়েও কোনো সন্দেহ নেই। দলের নির্বাচিত প্রতিনিধি ও দলীয় কর্মকর্তা, যাঁরা সুপার ডেলিগেট হিসেবে ভোটের অধিকার রাখেন, তঁারা বিপুল সংখ্যাধিক্যে হিলারির প্রতি তাঁদের সমর্থন ঘোষণা করেছেন। দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেলেও হিলারির ব্যাপারে মার্কিন জনগণের এক বিপুল অংশের মধ্যে এখনো সন্দেহ রয়ে গেছে। হাফিংটন পোস্ট–এর গৃহীত সর্বশেষ জনমত জরিপ অনুসারে, দেশের মাত্র ৪১ শতাংশ মানুষের তাঁর ব্যাপারে ইতিবাচক মনোভাব রয়েছে। তাঁর প্রতি নেতিবাচক, এমন মানুষের সংখ্যা ৫৫ শতাংশ। এক মাস ধরেই হিলারির জনপ্রিয়তার এই নিম্ন হিসাব অপরিবর্তিত রয়েছে।
হিলারির ব্যাপারে দেশের মানুষের সবচেয়ে বড় অভিযোগ, তাঁকে বিশ্বাস করা যায় না। ফক্স নিউজের এক জরিপ অনুসারে, দেশের মাত্র ৩১ শতাংশ মানুষ মনে করেন হিলারি সৎ ও বিশ্বাসযোগ্য। ডোনাল্ড ট্রাম্পের তুলনায় তাঁর মোদ্দা সমর্থন ভালো হলেও বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নে ট্রাম্প তাঁর তুলনায় অপেক্ষাকৃত ভালো অবস্থায় রয়েছেন। হিলারির জন্য সবচেয়ে ভয়ের কথা, দেশের স্বতন্ত্র ভোটার—যাঁরা ডেমোক্রেটিক বা রিপাবলিকান বা অন্য কোনো দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন, তাঁরা এখন পর্যন্ত হিলারির দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে রেখেছেন। ফক্স জরিপেই দেখা গেছে, স্বতন্ত্র ভোটারদের মধ্যে ৮০ শতাংশ হিলারি ক্লিনটনের ব্যাপারে আস্থা রাখতে পারছেন না। হিলারি ক্লিনটনের শিবির থেকে অবশ্য বারবার বলা হচ্ছে, মনোনয়ন নিশ্চিত হওয়ার পর অবস্থা বদলে যাবে। বার্নি স্যান্ডার্সের প্রতি যেসব তরুণ ভোটাররা সমর্থন জানিয়েছেন, তারাও হিলারির প্রতি হাত বাড়াবেন। কারণ, ট্রাম্পকে প্রেসিডেন্ট না করার ব্যাপারে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে কোনো দ্বিধাদ্বন্দ্ব নেই।
জনমত জরিপেও সে কথা ধরা পড়েছে। রিপাবলিকান দলের মনোনয়ন নিশ্চিত করার পর ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কিঞ্চিৎ বেড়েছিল। পাশাপাশি হিলারির সঙ্গে তাঁর ব্যবধানও কমে এসে প্রায় সমানে সমান হয়ে এসেছিল। কিন্তু গত দুই সপ্তাহে একের পর এক বিতর্কে জড়িয়ে ট্রাম্প তাঁর সমর্থন খুইয়েছেন। একাধিক জনমত জরিপের সর্বশেষ গড় হিসাব অনুসারে হিলারি এই মুহূর্তে ৫ পয়েন্টে এগিয়ে আছেন। রিপাবলিকান কৌশলবিদেরা অবশ্য উল্টো কথা বলছেন। জুলাই মাসে রিপাবলিকান সম্মেলনে ট্রাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে দলের প্রার্থী ঘোষিত হওয়ার পর দলের মধ্যে তাঁর ব্যাপারে যে দ্বিধাদ্বন্দ্ব রয়েছে, তা বদলে যাবে। সব ধরনের রিপাবলিকান কোনো অবস্থাতেই আরেকজন ক্লিনটনকে হোয়াইট হাউসে দেখতে চান না। হিলারির বিজয় যে ওবামার তৃতীয় দফা, সে যুক্তি দেখিয়ে ইতিমধ্যে প্রচার অভিযান শুরু হয়েছে, তার প্রভাবেও দ্বিধাগ্রস্ত রিপাবলিকানরা দলের নির্বাচিত প্রার্থীর প্রতি সমর্থন জানাবেন। হিলারির জন্য সবচেয়ে প্রধান চ্যালেঞ্জ হবে, ফিলাডেলফিয়ায় দলের সম্মেলনে বার্নি স্যান্ডার্স ও তাঁর সমর্থকদের অসন্তোষ সামাল দেওয়া।
এ দেশের বামপন্থীরা, বিশেষত যাঁদের বয়স ৩০-এর নিচে, তাঁরা বিপুলসংখ্যায় স্যান্ডার্সের সমর্থনে এক রাজনৈতিক বিপ্লবের সূচনা করেছেন। হিলারি ও তাঁর ‘দুর্নীতিবাজ সুপার ডেলিগেটরা’ স্যান্ডার্সের কাছ থেকে নিশ্চিত বিজয় ছিনিয়ে নিয়েছেন, এই অভিযোগে হিলারির ব্যাপারে তাঁদের ক্রোধ ও অনাস্থা এখনো বিপুল। ইরাক প্রশ্নে হিলারি বুশ ও চেনির যুদ্ধাভিযানের পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন, সেই ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ তঁারা এখনো ভোলেননি। হিলারির ওয়াল স্ট্রিটের সঙ্গে মাখামাখি, যে কথা স্যান্ডার্স গত সাত-আট মাস অহোরাত্রি জপে গেছেন, তাও এই সাবেক ফার্স্টলেডির ব্যাপারে অবিশ্বাসের সৃষ্টি করেছে। স্যান্ডার্স সমর্থকদের নিজের পক্ষে টানার জন্য হিলারি গত কয়েক মাসে নানাভাবে নিজেকে বদলাতে চেষ্টা করেছেন। একসময় উন্মুক্ত বাণিজ্যের তিনি অন্যতম প্রবক্তা ছিলেন, এখন তিনি তার বিরুদ্ধে। একসময় আপত্তি জানালেও ঘণ্টাপ্রতি ১৫ ডলার ন্যূনতম বেতনের ব্যাপারেও তিনি সমর্থন জানিয়েছেন। স্যান্ডার্সের দেখাদেখি সরকারি কলেজে বিনা বেতনে পড়াশোনার সুযোগেরও পক্ষে তিনি।
প্রায় সোয়া কোটি অবৈধ অভিবাসীর বৈধকরণের ব্যাপারেও তিনি আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। স্যান্ডার্স নিজে কি করবেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়, তবে ট্রাম্পকে পরাস্ত করার ব্যাপারে তাঁর আগ্রহ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। দলের নির্বাচনী ইশতেহারে তাঁর কর্মসূচি যদি অন্তর্ভুক্ত হয়, তাহলে স্যান্ডার্স সম্ভবত হিলারির প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করবেন। এমনকি হিলারির নির্বাচনী প্রচারণায় তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। স্যান্ডার্সে এখনো দো-মনা অবস্থা থাকলেও বামপন্থীদের কাছে অতি জনপ্রিয় অপর ডেমোক্রেটিক রাজনীতিক, সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন অত্যন্ত শক্তভাবে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। হিলারির প্রতি তিনিও নিজের সমর্থন প্রকাশ করেননি, কিন্তু ফিলাডেলফিয়ার সম্মেলনের পর সে অবস্থাও বদলাবে বলে ভাবা হচ্ছে। কোনো কোনো ডেমোক্রেটিক কৌশলবিদ আশা করছেন, হিলারি তাঁর ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে এলিজাবেথ ওয়ারেনকেই বেছে নেবেন। তাহলে সেটি হবে সত্যিকারের ‘ড্রিম টিম’।
হাসান ফেরদৌস: যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম আলোর বিশেষ প্রতিনিধি।

জিপিএ-৫ মান বিতর্ক এবং...

একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে প্রচারিত একটা প্রতিবেদন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে চলছে ভীষণ হইচই। ওই প্রতিবেদনে এবার মাধ্যমিক পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া কয়েকজন ছেলেমেয়েকে কিছু প্রশ্ন করা হয়। শিক্ষার্থীরা সেসব প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেনি। কখনো বা ভুল উত্তর দিয়েছে। পিথাগোরাস কে ছিলেন, তা তারা বলতে পারেনি। একজন বলেছে, পিথাগোরাস ছিলেন ঔপন্যাসিক। নিউটনের সূত্র কী, তারা কেউই বলতে পারেনি। জাতীয় সংগীতের রচয়িতা কে, এর উত্তরে একজন বলেছে, ‘কাজী নজরুল ইসলাম।’ বাকিরা পারেনি। স্বাধীনতা দিবস বলেছে ‘১৬ ডিসেম্বর’, বিজয় দিবস ‘২৬ ডিসেম্বর।’ বেশ সোজা প্রশ্ন, বেশ বিব্রতকর উত্তর। এই প্রতিবেদন দেখে প্রথমত একটা ধাক্কা লাগে। খানিকক্ষণ স্তব্ধ হয়ে থাকতে হয়। সংবিৎ ফিরে পেলে খ্যাতনামা সাংবাদিক জ. ই. মামুনের মতো প্রতিক্রিয়াও হতে পারে। মামুন ফেসবুক স্ট্যাটাসে বলেছেন, এটা ভালো সাংবাদিকতার উদাহরণ নয়; বরং এটা খারাপ সাংবাদিকতার লক্ষণ। আমার নিজেরও যা প্রতিক্রিয়া হয়েছিল, তা অনেকটা এ রকম: এই ছেলেমেয়ের পরিচয় টেলিভিশনে উন্মোচন করা ঠিক হয়নি। হঠাৎ করে টেলিভিশন ক্যামেরার সামনে আমরা অনেকেই জানা প্রশ্নের উত্তরও ভুলে যাই। মাথা একেবারে ফাঁকা ফাঁকা লাগে। দুই. সাধারণ জ্ঞান আদৌ কোনো জ্ঞানের প্রমাণ নয়; যা গুগল মুখস্থ করে রাখে, তা মনে রাখার কোনো মানে হয় না। আমি অনেক অসাধারণ সাধারণ জ্ঞানীকে জানি, যাঁরা বলে দিতে পারেন, বাংলা সাহিত্যের ‘ভোরের পাখি’ হলেন বিহারীলাল, কিন্তু এঁদের কেউ কোনো দিনও বিহারীলালের কবিতা এক লাইনও পড়ে দেখেননি।
৩ নম্বর যে প্রশ্নটা উঠে এসেছে তা হলো, লক্ষাধিক জিপিএ-৫ পাওয়া ছাত্রছাত্রীর মধ্যে গোটা দশেক বেছে নিয়ে তাদের হঠাৎ হঠাৎ প্রশ্ন করে তার উত্তর না পাওয়াটাই জরিপ হিসেবে নির্ভরযোগ্য কি না। অর্থাৎ এই জরিপের স্যাম্পল সাইজ, স্যাম্পল বেছে নেওয়ার প্রক্রিয়া এবং প্রশ্ন করার পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এবং বলা হচ্ছে, একটা অযথাযথ প্রতিবেদনের মাধ্যমে আমাদের জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীরা অকারণ অবমাননার শিকার হচ্ছে কি না। এসব প্রশ্ন মাথায় রেখেও আমরা বলতে পারব, আমাদের শিক্ষার মান পড়ে গেছে। যা বেড়েছে তা পরিমাণগত। কিন্তু গুণগত উৎকর্ষের মাপকাঠিতে আমাদের শিক্ষার মান বেশ খারাপ। তার মানে কিন্তু এই নয়, আগে যতজন মেধাবী ভালো ছাত্র আমরা পেতাম, ততজন এখন আর নেই! তার মানে এই নয়, এই শিক্ষাকাঠামোর ভেতর দিয়ে বেরিয়ে আসা মানুষের মধ্য থেকে আমরা আর এফ আর খানের মতো প্রকৌশলী, আনিসুজ্জামানের মতো অধ্যাপক, এম আর খানের মতো চিকিৎসক আর পাব না! শিক্ষা একটা আশ্চর্য পরশমণি, যা কাঠ বা কয়লাকেও সোনা বানাতে পারে। এই লাখ লাখ ছেলেমেয়ের মধ্য থেকে অনেকেই চূড়া ছুঁতে পারবে। অনেক বড় হিমালয় রেঞ্জ আছে বলেই আমরা এভারেস্ট নামের উচ্চতম চূড়াটা পাই, আমাদের লাখ লাখ শিক্ষার্থীর মধ্য থেকে অবশ্যই আমরা অনেক মানুষ পাব, যারা বিশ্বদরবারে আমাদের মুখ উজ্জ্বল করবে। আমি ড. দীপঙ্কর তালুকদারের উদাহরণ বারবার দেব। তিনি পড়াশোনা শুরু করেছিলেন বরগুনার পাঠশালায়, তারপর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বরগুনা জিলা স্কুল, বরগুনা সরকারি কলেজ। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, সেখান থেকে ওয়াশিংটন স্টেট ইউনিভার্সিটি, আর জার্মানির আইনস্টাইন ইনস্টিটিউট। তিনি আমেরিকার সেই বিজ্ঞানী দলের একজন,
যাঁরা অভিকর্ষীয় তরঙ্গ শনাক্ত করতে পেরেছেন। যখন তিনি পড়তেন বরগুনার পাঠশালায়, যখন তাঁদের বাড়িতে খাবার ছিল না বলে তাঁর বড় ভাই স্কুল ছেড়ে রাস্তার ধারে বসে চাল-গম বিক্রি করছিলেন, তখন কে বলতে পারত, এই বালক একদিন যাবে আইনস্টাইন ইনস্টিটিউটে! কিন্তু তাই বলে প্রাথমিক বিদ্যালয় শেষ করে একজন শিক্ষার্থী সংবাদপত্র পাঠ করতে পারবে না, সাধারণ যোগ-বিয়োগ করতে পারবে না, নিজে থেকে এক পৃষ্ঠা লিখতে পারবে না, এটা হয় না। তেমনি বিজ্ঞানে মাধ্যমিক পাস করে একজন ছাত্র যদি বলতে না পারে নিউটনের তিনটা সূত্র কী, সেসব আসলে কী বোঝায়, তাহলে তো মাথায় হাত দেওয়া ছাড়া আর কিছু করার থাকে না। আমরা কি আমাদের শিক্ষার্থীদের নিয়ে বেশি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ফেললাম? যেমন সৃজনশীল প্রশ্নপদ্ধতি। নিশ্চয়ই আমাদের বিশেষজ্ঞরা বুঝে-শুনে, বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করে, ব্যাপক যাচাই-বাছাই করেই এই পদ্ধতি প্রবর্তন করেছিলেন। এই পদ্ধতি কি পরীক্ষামূলকভাবে কোথাও চালু করে দেখা হয়েছিল তার ফল কী হয়? নাকি একবারে শিক্ষার্থীদের ওপরই প্রয়োগ করে দেখা হয়েছে? যা-ই হোক না কেন, এই সুন্দর প্রবর্তনটিকে বাংলাদেশের কোচিং সেন্টার, প্রাইভেট টিউটর এবং নোটবই, গাইডবইওয়ালারা মিলে ব্যবসা করার এক অব্যর্থ পদ্ধতিতে পরিণত করতে পেরেছে। সৃজনশীল পদ্ধতির উদ্দেশ্য ছিল যাতে ছাত্রছাত্রীদের অকারণে মুখস্থ করতে না হয়। তারা জিনিসটা বুঝবে। প্রশ্ন তেমনিভাবে করা হবে, যাতে ছেলেমেয়েরা বুঝল কি না, তা যাচাই করা যায়। কিন্তু এটাকে আমরা এক বিভীষিকা বানিয়ে ফেলেছি। বহু শিক্ষক ছাত্রছাত্রীদের হুমকি দিলেন, আমার কাছে পড়তে না এলে তোরা জানবি না যে পরীক্ষায় কী আসবে। শুধু তা-ই নয়, তিনি সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তরও তৈরি করে দেন, আর তিনি যা লিখে দিয়েছেন, তা না লিখে শিক্ষার্থীরা যদি নিজের মতো করে অন্য কিছু লেখে, তিনি তাকে আর নম্বর দিতে চান না। গাইডবইগুলোও তা-ই করল। সৃজনশীল প্রশ্নের নমুনা আর তার উত্তর ছাপাতে লাগল। এবং বিস্ময়কর ব্যাপার যে সেসব প্রশ্ন পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে কমনও পড়তে লাগল। কোচিং সেন্টারগুলোর পোয়াবারো। কী করে পরীক্ষা নামের বৈতরণি পার হওয়া যাবে, তার উপযুক্ত বটিকা তৈরি করে তা ছাত্রছাত্রীদের খাইয়ে তারা নিজেরা ফুলেফেঁপে উঠতে লাগল। অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের একটা উক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে। তিনি বলেছেন, সৃজনশীল পদ্ধতি কী,
তা বহু শিক্ষক নিজেরাই জানেন না। এ কথাও সত্যি। এ অবস্থায় গোদের ওপর বিষফোড়ার মতো দেখা দিল আরেক মহামারি। প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে যাওয়া। ছাত্রছাত্রীরা প্রশ্ন পেয়ে পরীক্ষার আগের দিন সংবাদপত্র অফিসে এবং ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালকে পাঠিয়ে দিল। পরের দিন তা মিলে গেলেও কর্তৃপক্ষ স্বীকার করল না যে প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। আমরা তখনই বলেছিলাম, এরপরে আর বাচ্চারা পড়বে কেন। তারা প্রশ্নপত্রের জন্য অপেক্ষা করবে। শুধু কি পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র? মেডিকেল কলেজের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্রও ফাঁস হয়েছিল। এসব নিয়ে অভিযান, গ্রেপ্তার ইত্যাদি ঘটনাও ঘটেছে। আমাদের স্বীকার করে নিতে হবে যে, শিক্ষার মান পড়ে গেছে এবং অবস্থা ভয়াবহ। আমরা খাদের কিনারে দাঁড়িয়ে আছি কিংবা খাদে পড়েই গেছি। এ জন্য আমরা কিছুতেই শিক্ষার্থীদের দায়ী করছি না। তারা অসহায় শিকার মাত্র। এ আমার পাপ, এ তোমার পাপ! আমরা, সংবাদমাধ্যমের কর্মীরা কিংবা সমাজকর্মীরা কোনো দিন কি কোনো প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গেছি, গিয়ে খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করেছি, সেখানে কী হচ্ছে! শিক্ষকেরা এসেছেন কি না, এলে তাঁরা কী পড়াচ্ছেন, আর বাচ্চারাই বা কী শিখছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে তুলকালাম হয়েছে। আমরা শুনেছি, শিক্ষক নিয়োগের প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। আমরা শুনেছি, লাখ লাখ টাকা খরচা করে কেউ কেউ শিক্ষক হয়েছেন। এগুলো অনেক নেতা-পাতিনেতার আয়ের প্রধান উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা কোনো দিনও ঘটনা তদন্ত করে দেখিনি। যাঁরা হবেন মানুষ গড়ার কারিগর, তাঁরা যদি ঘুষ দিয়ে নিয়োগ পান, তাঁরা কী শেখাবেন? তাঁদের নিজেদেরই বা জানাশোনা-বোঝার পরিধিটা কতটুকুন? দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, দলবাজি নিয়ে এ দেশে এখন আর কেউ কথা বলে না। এটাকে আমরা এখন খুবই স্বাভাবিক নিয়ম বলে ধরে নিয়েছি। এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগের সময় অনেক ক্ষেত্রে প্রধান বিবেচনা থাকে তিনি আমার দলের লোক কি না। শিক্ষক নিয়োগের সময়ও নিশ্চয়ই এটা অনেক জায়গায় মান্য করা হয়। প্রাথমিক থেকে বিশ্ব—সব বিদ্যালয়ের একটা দিক আছে—ভয়াবহ অন্ধকার। নিশ্চয়ই অনেক আলোকিত দিকও আছে। অন্ধকারে একটা আলোর কথা আমি বলতে পারব। প্রথম আলোর ভাষা প্রতিযোগ,
গণিত অলিম্পিয়াডে যে বাচ্চারা আসে, তারা তো পরীক্ষায় ভালো করে। সেখানে তো প্রশ্নপত্র ফাঁস হয় না, কেউ কারওটা দেখেও লেখে না। আর শিক্ষার্থীরা যে ধরনের প্রশ্ন করে, তাতে তাদের মেধার উৎকর্ষ দেখে সবাই বিস্মিত হয়ে যান। আমি এক ১২-১৩ বছরের কিশোরকে দেখেছিলাম, সে এসেছিল একটা মাদ্রাসা থেকে, বাংলা সাহিত্য ও ভাষা নিয়ে তার যে আগ্রহ, এবং তার যে জানাশোনার পরিধি, তা আমাদের মুগ্ধ করেছিল। গণিত অলিম্পিয়াডে যোগ দিতে এসেছিলেন একজন, কুষ্টিয়া থেকে। কুষ্টিয়াতেই তিনি শেষ করেছিলেন স্কুল ও কলেজ। গণিত অলিম্পিয়াডে ভালো করায় বাংলা মাধ্যমের সেই শিক্ষার্থী সরাসরি ভর্তি হলেন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে, উচ্চমাধ্যমিকের পরই। সম্প্রতি তিনি গ্র্যাজুয়েশন শেষ করেছেন। তাঁরা কয়েকজন বন্ধু মিলে একটা কোম্পানি দিয়েছেন, ছাত্রাবস্থাতেই, বিল গেটস কিংবা জাকারবার্গের মতোই এবং সান ফ্রান্সিসকোতে তাঁদের কোম্পানি। তাঁরা স্টার্টআপ কোম্পানি দিয়েছেন চলচ্চিত্র বিষয়ে। এটা তথ্যপ্রযুক্তি, অর্থনীতি মিলেমিশে করা একটা ব্যাপার। সেই ছেলেটির নাম তারিক আদনান মুন। তাঁর সাফল্যের গল্প রূপকথাকেও হার মানাবে। তিনিও কিন্তু জিপিএ-৫ পাওয়া। গণিত অলিম্পিয়াডের সাধারণ সম্পাদক মুনির হাসান আমাকে বলেছেন, তাঁদের পরীক্ষায় ছেলেমেয়েরা আগের চেয়ে ভালো করে এবং ভালো করা ছেলেমেয়েদের সংখ্যাও অনেক বেড়েছে। কাজেই বেশি হতাশ হব না। কিন্তু তাই বলে শিক্ষা খাতে বাজেট বাড়ানোর দাবিও ছাড়ছি না। এবং আমরা চাইব, শিক্ষার প্রতিটি স্তরে যাচাই-বাছাই করে দেখা হোক, আমরা কোথায় কোথায় ভুল করেছি, করছি। বোধ হয় খোলনলচে পাল্টানোর সময় হয়েছে। তা করতে হলে বালুতে মুখ গুঁজে থেকে সমস্যা অস্বীকার করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
আনিসুল হক: সাহিত্যিক ও সাংবাদিক।