Thursday, May 19, 2011

সাবিনার ১০ গোল

ম্যাচে গোল হয়েছে ১২টি। এর ১০টিই করেছেন সাবিনা খাতুন। জাতীয় মহিলা ফুটবলের আঞ্চলিক পর্বের খেলায় কাল সাবিনার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে সাতক্ষীরা ১২-০ গোলে বিধ্বস্ত করেছে সিরাজগঞ্জকে। বাকি দুই গোল হাসিবা ও টুম্পার। যশোর শামসুল হুদা স্টেডিয়ামে দিনের অন্য ম্যাচে নওগাঁ ৩-০ গোলে হারিয়েছে মাগুরাকে। বন্যা দুটি ও রুবিনা একটি গোল করেছেন। দিনাজপুর স্টেডিয়ামেও ছিল একক প্রদর্শনীর ম্যাচ। বগুড়াকে ৫-০ গোলে হারানোর ম্যাচে দিনাজপুরের সুধা করেছেন সব কটি গোল।

এসএসসিতে ফলাফলের উন্নতি ও শিক্ষার মান by মোহীত উল আলম

মাধ্যমিক পরীক্ষায় এবার আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে ভালো ফল এসেছে। শতকরা ৮২ জন পাস করেছে। প্রধানমন্ত্রী সন্তোষ প্রকাশ করে বলেছেন, আগামী দিনে শতভাগ পাস হতে হবে। ন্যায্য আশা। শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ ও তাঁর মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তরসহ স্কুলগুলোর শিক্ষকেরা মিলে জাতির একটি অত্যন্ত জরুরি বিষয়কে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। আমরা যতই অর্থনীতি, দারিদ্র্য, কৃষি, ব্যবসা, বাণিজ্য, শিল্পনীতি বা রাস্তাঘাট উন্নয়নের কথা বলি না কেন, জাতির জন্য আসল উন্নতির কাজ হলো শিক্ষাক্ষেত্র। যতগুলো প্রবচনভিত্তিক নীতিকথা আছে, যা আমরা জানি কিন্তু পালন করি না, তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ‘শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড’ কথাটি।
আগে এটাকে কথার কথা মনে করা হতো, কিন্তু এখন ক্রমশ আমরা এর গুরুত্ব দিতে পারছি। বিশ্ব-অর্থনীতির জালের মধ্যে ঢুকে পড়েছে বাংলাদেশ। তথ্যসাম্রাজ্যের মহাপ্রশস্ত সড়কে এখন তার যাওয়া-আসা। এর চাপ দেশের কিশোর-তরুণ সমাজের ওপর সর্বাধিক পড়বে, সেটাই স্বাভাবিক। প্রযুক্তিবান্ধব বিশ্বে ‘জ্ঞানই শক্তি’ কথাটি এখন বিরাট মন্ত্র। সে জন্য স্কুল পর্যায়ে শিক্ষার প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি বদলেছে, হয়েছে কার্যকারণনির্ভর। উচ্চশিক্ষার কেন্দ্রগুলোতে যে পরিমাণ উদাসীনতা, স্কুল পর্যায়ের শিক্ষায় ঠিক সে পরিমাণ মনোযোগ। এ জন্য স্কুল পর্যায়ে ফল এবার অতি সফল। প্রধান শিক্ষকেরা বলেছেন, স্কুলগুলোতে রীতিমতো লেখাপড়া হয়েছে, শিক্ষকেরা ক্লাস নেওয়ার প্রতি মনোযোগী ছিলেন এবং নকল হয়ইনি বলা যায়। এসব ইতিবাচক দিক হাওয়ায় মিলিয়ে যাওয়ার নয় বা শুধু একবার হয়েছে তা নয়, এগুলো সুব্যবস্থাপনা বজায় থাকলে বারবার হতে থাকবে এবং ভবিষ্যতে এর সুফল জাতি পাবে।
তবু যেকোনো ক্রমসফল ক্ষেত্র সম্পর্কে এর বিভিন্ন পর্যায় নিয়ে সচেতন হওয়া ও প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। এবারের এসএসসির অতীব উজ্জ্বল ফল কিছু প্রশ্নকে আবার নতুন করে সামনে তুলে এনেছে। এই প্রশ্নগুলোকে ব্যাখ্যা করা এবং সমাধানমূলক চিন্তা পেশ করার মানসে আজকের আলোচনার অবতারণা।
বিভিন্ন পত্রিকায় সুধীজনের দেওয়া বিভিন্ন মন্তব্য পড়ে মোটামুটি তিনটি প্রশ্নের আলোচনা করা যায়। প্রথম প্রশ্ন: বেশি শিক্ষার্থী পাস করার অর্থ মেধার উন্নতির পরিচয় কি না। অর্থাৎ, পরিমাণ ও গুণের মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্নটা। দ্বিতীয় প্রশ্ন: শিক্ষার্থীরা প্রচলিত ধারায় মুখস্থবিদ্যার ফলে ভালো ফল করেছে কি না। তৃতীয় প্রশ্ন: পরীক্ষার পদ্ধতি কী রকম ছিল।
প্রথম প্রশ্নটি, অর্থাৎ পরিমাণ ও গুণের মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে সংকট এক কথায় মানবসমাজের সবচেয়ে পুরোনো প্রশ্ন। এবং প্রশ্নটি নিষ্পন্নযোগ্যও নয়। কারণ, কোথায় পরিমাণের বহর গুণের বিকাশকে ব্যাহত করছে বা কোথায় সহায়তা করছে, সেই সীমারেখাটি জাতিতে জাতিতে, রাষ্ট্রে রাষ্ট্রে এত ভিন্নমাত্রায় কাজ করে যে কোনো একক সমীকরণ টানা যাবে না। কিন্তু বাংলাদেশ বেশি মানুষের দেশ, এখানে তাই ‘যত পরিমাণ বাড়বে, তত গুণ বাড়বে’ কথাটাতে বিশ্বাস করেই সব কাজে হাত দিতে হবে। ষাটের দশকের শেষ ভাগে চট্টগ্রাম শহরে হাতেগোনা স্কুলের মধ্যে চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল, মুসলিম উচ্চবিদ্যালয় ও ডাক্তার খাস্তগীর বালিকা উচ্চবিদ্যালয় ছিল, যেগুলোর শিক্ষার্থীরা খুব ভালো ফল করত। কিন্তু ৪০ বছর পর চট্টগ্রাম শহরে স্কুলের সংখ্যা চার গুণ বেড়েছে আর ভালো ফল করার শিক্ষার্থী বেড়েছে আট গুণ। হিসাবটা জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যার ভিত্তিতে। অর্থাৎ, শুধু সংখ্যা বেড়েছে বলে ভালো শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে তা নয়, আনুপাতিক হারেও বেড়েছে। আগে ১০০ জন পাস করা শিক্ষার্থীর মধ্যে একজন প্রথম শ্রেণী পেলে এখন সেই একই সংখ্যক শিক্ষার্থীর মধ্যে ৩০ জন পাচ্ছে জিপিএ-৪.৫, অর্থাৎ আগের প্রথম শ্রেণী। আর আগের স্ট্যান্ড করা বা মেধাতালিকায় স্থান দখল করা শিক্ষার্থীর সঙ্গে এখনকার জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর তুলনা করলে চিত্রটা আরও উজ্জ্বল দেখাবে। এবার প্রায় ১১ লাখ পাস করা শিক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে প্রায় ৭৭ হাজার শিক্ষার্থী। আনুপাতিক হার সাত শতাংশ। আগের তুলনায় খুবই উচ্চ।
কাজেই সংখ্যা বাড়লে গুণও বাড়ে। আমেরিকা ও চীনের কথা বলি, দুটো পরস্পরবিরোধী সমাজব্যবস্থা। কিন্তু শিক্ষার ক্ষেত্রে এই দুটো দেশেই সর্বাধিক শিক্ষার্থী এবং সর্বাধিক ভালো শিক্ষার্থীর সমাহার হয়েছে। একই নিঃশ্বাসে ভারতের কথাও বলা যেত। কিন্তু ভারত ও বাংলাদেশ শিক্ষার ক্ষেত্রে একই জাতীয় সমস্যায় ভুগছে। সেটা হলো, শিক্ষা গ্রহণে আগ্রহী বিপুল জনগোষ্ঠী থাকলেও শিক্ষা প্রদানের ব্যবস্থাপনা ও অবকাঠামোগত সুবিধা সেই ঘুণে ধরা ব্যবস্থার মধ্যে চলছে। শান্তিনিকেতনের বিশ্বভারতীর একজন অধ্যাপকের সঙ্গে আলাপ হচ্ছিল। তিনিও দেখলাম আমাদের মতো মনোকষ্টে ভুগছেন। বললেন, শান্তিনিকেতন অজপাড়াগাঁয়ে হওয়ায় আশপাশের স্কুল-কলেজ থেকে পাস করে শিক্ষার্থীরা ভর্তি হয়, যারা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার যোগ্য নয়। বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষকদেরও একটি জীবনব্যাপী চাপা হতাশা হচ্ছে, ঠিক যে মানের শিক্ষার্থী তাঁরা আশা করেন, সেই মানের শিক্ষার্থী পান না। তবে, বিশ্ববিদ্যালয়ের দিক থেকেও হতাশার উৎসের কথাটা শেষের দিকে বলব।
আমি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুরোধে একটি জেলা শহরের একটি সরকারি ডিগ্রি কলেজ পরিদর্শনে গিয়ে নিতান্ত হতাশায় পড়লাম। শ্রেণীকক্ষ থেকে শুরু করে শিক্ষকদের বসার কামরা, পয়ঃপ্রণালির হতশ্রী অবস্থা; তার ওপর আঘাত পেলাম যখন তাঁরা গ্রন্থাগারটি দেখালেন। সেখানে গ্রন্থাগারের নামে কয়েকটি তাক মুখোমুখি করে মাঝখানে কোনো জায়গা না রেখে দাঁড় করানো হয়েছে, যেটা অবশ্যই শিক্ষার্থীদের ব্যবহারের জন্য নয়, কেবল জায়গা করা হয়েছে, যাতে বাকি পরিসরে কলেজের বাতিল আসবাবপত্র রাখার সংকুলান করা যায়। বলা বাহুল্য, ওই কলেজে আন্ত-তড়িৎ তথ্য আদান-প্রদানের কোনো সুযোগ-সুবিধা নেই।
তার পরও, শর্তগুলো লেখার পর ওই কলেজকে আমি অনুমোদনের সুপারিশ করলাম এ জন্য যে, অন্তত আশা করা যায়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বর্তমানের শিক্ষাবান্ধব কার্যপ্রণালির প্রভাব এই কলেজেও পড়বে। তা ছাড়া জনগণ শিক্ষামুখী হোক—এই প্রেরণার সম্মুখে একটি কলেজ যে চলছে তাই সই—এ রকম মনে হলো। এটি একটি প্রামাণ্যচিত্র মাত্র। সারা দেশে এমন স্কুল-কলেজ রয়েছে শত শত। এগুলোর মধ্যে শক্ত ব্যবস্থাপনা, অবকাঠামো ও প্রযুক্তিগত সুবিধাদি বাড়ালে শিক্ষা প্রদান আরও সুশৃঙ্খল হবে এবং পাসের হার শতভাগের দিকে এগিয়ে যাবে, শিক্ষার্থীর গুণগত মানও বাড়বে। অন্যভাবে বলা যায়, একটি দেশের জনসংখ্যা কিন্তু বাস্তব সমস্যা নয়, সমস্যা হচ্ছে এই জনসংখ্যা নিয়ে ব্যবস্থাপনা, এদের একটি অর্থনৈতিক খরচ-এবং-লাভ পদ্ধতির মধ্যে নিয়ে আসা।
দ্বিতীয় প্রশ্ন: মুখস্থবিদ্যা। আগে আমাদের ধারণা ছিল, মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা মুখস্থ বাদ দিয়ে লেখাপড়া করবে। কিন্তু কিশোর-কিশোরীদের মানসিক গঠনের কথা চিন্তা করলে বলা যায়, এরা জীবন ও জগৎ সম্পর্কে কৌতূহলী হলেও এবং বেশ মৌলিক চিন্তা করতে পারলেও খুব কমসংখ্যক কিশোর-কিশোরী স্কুল পর্যায়ে মনের ভাব লিখে বা বলে প্রকাশ করতে পারে। ভাষাগত দক্ষতা আসলে ঠিক ওই অল্প বয়সে বেশির ভাগ শিক্ষার্থীর অর্জিত হয় না। ক্রিকেটে যেমন বারবার একই রকম শট নেটে প্র্যাকটিস করতে হয়, তেমনি যেকোনো বিষয়ে—সেটা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘বলাই’ গল্পের সারমর্ম হোক বা বিজ্ঞানী নিউটনের ‘তৃতীয় সূত্র’ হোক, একজন কিশোর বা কিশোরী এগুলো বারবার না পড়লে সে এগুলো পরীক্ষার খাতায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকাশ করতে পারে না। এ জন্য তাকে একই বিষয় বারবার পড়তে হয়। বারবার পড়তে পড়তে অনেকের মুখস্থ হয়ে যায়। তবে যে শিক্ষার্থীর, সে যে বয়সেরই হোক না কেন, কিছুমাত্র চিন্তা করার ক্ষমতা আছে, সে পরীক্ষার খাতায় হুবহু মুখস্থ লিখতে গিয়েও পারে না। তার চিন্তা থেকে নতুন শব্দ, নতুন বাক্য মুখস্থ করা অনুচ্ছেদের মধ্যে ঢুকে যায়। কিন্তু একই বিষয়ে বারবার পড়ার সুযোগ একটি শিক্ষাবর্ষে একজন শিক্ষার্থীর থাকতে হবে, তা না হলে বিষয়টা তার মন থেকে হারিয়ে যাবে। এ জন্য স্কুলের বইয়ের পাঠ্যসূচিতে বার্ষিকভাবে একই বিষয়, যেমন পদার্থের গুণ, সহজ থেকে ক্রমশ বিস্তারিতভাবে ক্লাসওয়ারি আলোচনা করার নিয়ম আছে। শিক্ষা গ্রহণ বা জ্ঞান বাড়ানোর ক্ষেত্রে পুনঃপুন পাঠের ব্যবস্থা একটি ন্যায্য ব্যবস্থা। এই অধীত জ্ঞানটি নতুন জ্ঞান সংযোজনের ক্ষেত্রে পাদভূমি হিসেবে কাজ করে। কিন্তু এই ভালো ফল করা কিশোর শিক্ষার্থীরা পরবর্তীকালে হারিয়ে যাচ্ছে কেন, তার কারণ তাদের মুখস্থবিদ্যা নয়, তার কারণ কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষাব্যবস্থার করুণ অবস্থা। বাংলাদেশে এই মুহূর্তে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের পড়াশোনার পরিবেশের সঙ্গে উচ্চমাধ্যমিক ও স্নাতক পর্যায়ের লেখাপড়ার পরিবেশের মধ্যে বেশ খানিকটা বিপরীতধর্মিতা লক্ষ করা যাচ্ছে। সম্প্রতি আমি একটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের একটি বর্ষের মৌখিক পরীক্ষা নিতে গিয়ে দেখলাম যে শ-খানেক শিক্ষার্থীর মধ্যে ৯০ জনই বোবার ভূমিকা পালন করল। কিন্তু এদের প্রায় সবারই নিচের দিকের পরীক্ষার ফল অতি উজ্জ্বল। অর্থাৎ, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ক্ষমার যোগ্য নয় এ ধরনের শিক্ষাবিহীন পরিবেশ বজায় আছে বলে ধারণা হচ্ছে। ব্যতিক্রম নিশ্চয় আছে বা থাকতে পারে।
শেষ প্রশ্নটি হলো পরীক্ষাপদ্ধতি নিয়ে। এ বিষয়ে ছোট্ট করে বলি। প্রশ্নপত্র হওয়া উচিত পাঠ্যক্রমে কী আছে সেটার ওপর নয়, কিন্তু ক্লাসে শিক্ষক পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত কোন বিষয়গুলো পড়িয়েছেন তার ওপর। অর্থাৎ, বিজ্ঞানের পাঠ্যক্রমে যদি ওজন স্তরের ওপর পরিচ্ছেদ থাকে, কিন্তু সেটা যদি সময়াভাবে ক্লাসে পড়ানো না হয়, তাহলে সে বিষয়ের ওপর প্রশ্ন থাকা উচিত নয়। পরীক্ষার উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থী কী জানে, সেটা বের করা; সে কী জানে না, সেটা বের করা নয়।
ড. মোহীত উল আলম: অধ্যাপক, ইংরেজি বিভাগ, ইউল্যাব, ঢাকা।
mohit_13_1952@yahoo.com

সাংহাইয়ে এক কুকুরনীতি কার্যকর

চীনের জনবহুল নগর সাংহাইয়ে গত রোববার থেকে এক কুকুরনীতি কার্যকর হয়েছে। এ নীতি অনুযায়ীকারও মালিকানায় একটির বেশি কুকুর থাকতে পারবে না। নিবন্ধন করাতে হবে প্রতিটি কুকুরের।
সরকারি হিসাবে আট লাখ পোষা কুকুর আছে সাংহাইয়ে। দিন দিন এ সংখ্যা আরও বাড়ছে।
দুই কোটি মানুষের শহরে আট লাখ কুকুরের উপস্থিতি নিয়ে বিপাকে পড়েছে সাংহাইয়ের বাসিন্দারা। সারাক্ষণ ঘেউ ঘেউ শব্দ, রাস্তাঘাটে বর্জ্য আর হামলার ঝুঁকিতে অতিষ্ঠ সাংহাইবাসী।
উপায়ান্তর না দেখে সাংহাইয়ের প্রাদেশিক সরকার এক কুকুরনীতি গ্রহণ করে।

জাপানি বালক, তোমাকে স্যালুট by শেখ আবদুস সালাম

স্পেনের রাজা জুয়ান কার্লোস এ বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিককে সম্মানসূচক অ্যাওয়ার্ড ‘কমান্ডার অব দি অর্ডার অব দ্য সিভিল মেরিট’-এ ভূষিত করেছেন। বাংলাদেশে নিযুক্ত স্পেনের রাষ্ট্রদূত উপাচার্যের বাংলোয় এসে এক অনাড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে আরেফিন সিদ্দিকের কাছে অ্যাওয়ার্ডটির পদক এবং সাইটেশন হস্তান্তর করেন। এই অ্যাওয়ার্ডটি যতটা গৌরবের ব্যক্তি আরেফিন সিদ্দিকের, ততটা গৌরবান্বিত হয়েছে বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষই। অধ্যাপক আরেফিনকে এটি প্রদান করা হয়েছে ‘সিভিক ভারচ্যু’ প্রমোট করায় তাঁর নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার জন্য। আরেফিন সিদ্দিককে আমাদের আন্তরিক অভিনন্দন।
পত্রপত্রিকায় যখন দেখি, কোনো বেতনহীন প্রাথমিক বা মাদ্রাসাশিক্ষকের করুণ জীবনকাহিনি দেখে কোনো ফেরিওয়ালা তাঁকে সাহায্যের জন্য অর্থদানে এগিয়ে আসেন কিংবা লাখ টাকাসহ ব্যাগ ফেলে কোনো রিকশা কিংবা অটোরিকশার আরোহী চলে গেছেন এবং ওই রিকশাওয়ালা বা অটোরিকশার চালক তাঁকে খুঁজে বের করে টাকাসহ তাঁর ব্যাগটি বাড়িতে গিয়ে পৌঁছে দিয়ে এসেছেন অথবা আগুনে পুড়ে মা-বাবা-ভাইবোন এবং সর্বস্ব হারানো এতিম মেয়েদের নিজেকে মা গণ্য করে এবং মায়ের দায়িত্ব নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তাঁদের ঘর সাজিয়ে দিয়েছেন, তখন স্বভাবতই আমাদের মন থেকে অমলিনতার ছাপ ক্ষণিকের জন্য হলেও বিদূরিত হয় এবং আমরা সিভিক ভারচ্যুর এক বিরল অস্তিত্বের সন্ধান পাই।
আমি ‘সিভিক ভারচ্যু’ কী, এর অস্তিত্ব ও পরিধি-পরিসর এবং পরিচর্যার জায়গাটি কোথায়, সেসব প্রশ্নের অনুসন্ধান এবং উত্তর পাওয়ার বিষয়টি খুঁজতে চেষ্টা করি। গত ২২ এপ্রিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মো. আনোয়ার হোসেনের মুখে এক গল্প শুনতে পাই। সুখ-বেদনা এবং একজন জাপানি বালককে নিয়ে এই গল্প খানিক সময়ের জন্য আমাকে রীতিমতো হতভম্ব করে দেয়; ওই জাপানি বালকটির প্রতি শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় মাথা নুইয়ে দেয়। পাঠকদের সেই গল্পটি জানানোর জন্যই এই লেখা। আনোয়ার হোসেন এ ঘটনাটি জেনেছেন তাঁদের গ্রুপের একটি ওয়েবসাইট থেকে। এটি আমাকে ই-মেইল করে পাঠান তিনি। এই মেইলটি ভিয়েতনামি বংশোদ্ভূত জাপানে এক ইমিগ্রান্ট পুলিশ সদস্য পাঠিয়েছেন তাঁর এক ভিয়েতনামি বন্ধুকে। ১৯ এপ্রিল তা ছাপা হয়েছে নিউ আমেরিকা মিডিয়ায়। আমি এই ই-মেইলটি বয়ান করতে চাই।
সম্প্রতি ঘটে যাওয়া জাপানি সুনামির কথা আমরা সবাই অবগত রয়েছি। জাপান দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এবং সার্বিক ধ্বংসের মধ্য দিয়ে উঠে আসা একালের পৃথিবীর অন্যতম শীর্ষ দেশ। অর্থনীতি, জ্ঞান-বিজ্ঞান, ঐতিহ্য, মানবিকতা, সিভিক ভারচ্যুর চর্চা—সবকিছুর জন্য অনুকরণীয় জাতি হিসেবে জাপানের অবস্থান অনেক ওপরে। সাম্প্রতিক সুনামি-পরবর্তী সময়ও জাপানের মানুষ এসব গুণ থেকে একবিন্দুও বিচ্যুত হয়নি। এ সময়ে জাপানের সুনামি আঘাতপ্রাপ্ত এলাকায় মানুষকে আমরা অসহায় দেখেছি, কিন্তু বেঁচে থাকার সংগ্রাম ও মানবিক অবস্থান থেকে সরে আসতে দেখিনি। দরিদ্র বাংলাদেশের পদ্মা সেতু নির্মাণে সাহায্যের অঙ্গীকার থেকেও তারা সরে যায়নি। যাবে কীভাবে? কারণ, জাপানের মানুষের মূল্যবোধ, সিভিক ভারচ্যুর চর্চা অসীম মনোনিবেশে প্রোথিত রয়েছে তাদের মনের গভীরে; মিশে গেছে জেনারেশনের মধ্যে নির্মিত এক মানবিক আত্মার মর্মমূলে। আমরা জানি, সুনামি-পরবর্তী জাপানে ফুকুশিমায় এখন দুর্গত ও পীড়িত মানুষকে বেঁচে থাকার জন্য খাদ্য, কাপড়, পানি ইত্যাদি সংগ্রহ করতে হচ্ছে লাইনে দাঁড়িয়ে। পারমাণবিক চুল্লি দুর্ঘটনার ২৫ মাইল দূরে একটি স্কুল প্রাঙ্গণে সেদিন একটি স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান দুর্গত ব্যক্তিদের লাইনে দাঁড়িয়ে আয়োজন করেছিল খাদ্য বিতরণ কর্মসূচির। সেদিন জাপানের একটি নয় বছরের বালক দাঁড়িয়েছিল এই খাবার সংগ্রহের লাইনে। খাবার ছিল সীমিত; কিন্তু লাইন ছিল দীর্ঘ। এই বালক একজন স্কুলছাত্র। সে দাঁড়িয়েছিল ওই লাইনের একেবারে শেষের দিকে। খাদ্য বিতরণের লাইন ঠিক রাখার কাজে নিয়োজিত ভিয়েতনামি বংশোদ্ভূত ওই ইমিগ্রান্ট পুলিশ সদস্য হঠাৎ বালকটিকে দেখতে পান। লাইনের শেষভাগে দাঁড়িয়ে বালকটি খাবার পাওয়ার অনিশ্চয়তা জেনেও খাবার বিতরণ পয়েন্টে জড়ো করা খাবারের দিকে তাকিয়ে থাকে। গায়ে শীত নিবারণের জন্য পরিধেয় বস্ত্র খুবই কম; একটি মাত্র টি-শার্ট এবং পায়ে দুটি মোজা। ক্ষুধা এবং শীত দুটোই তাকে পেয়ে বসেছে। হঠাৎ পুলিশ সদস্য বালকটির কাছে গিয়ে তার সম্পর্কে জানতে চাওয়ায় বালকটি জানাল, সুনামির সময় স্কুল ব্যালকনির তৃতীয় তলায় দাঁড়িয়ে সে দেখতে পেয়েছিল তার বাবা তাকে স্কুল থেকে নেওয়ার জন্য গাড়ি চালিয়ে রাস্তা থেকে স্কুলের দিকে ঢুকছেন। ছেলেটির বাবা ওই স্কুলের কাছেই একটি কারখানায় কাজ করতেন। অকস্মাৎ ছেলেটি প্রত্যক্ষ করল, তাদের গাড়িটি অন্যান্য গাড়ির সঙ্গে পানির টানে সাগরের দিকে ভেসে গেল। তারপর তার বাবা আর তাকে নিতে আসেননি...। ছেলেটি তার পরিবার সম্পর্কে জানাল যে তারা সমুদ্রপারে বিচ এলাকায় একটি সুন্দর বাড়িতে থাকত। মা, বাবা, সে এবং এক বোন। সুনামির পর বাড়িটি বিধ্বস্ত হয়ে যায়। মা ও বোনেরও কোনো খোঁজ নেই। ঘটনা শুনে পুলিশ সদস্য প্রায় বাক্রুদ্ধ। দুরবস্থা জেনে ওই পুলিশ সদস্য তাঁর নিজের গায়ের জ্যাকেটটি খুলে বালকটিকে পরিয়ে দিলেন। জ্যাকেটটি পরিয়ে দেওয়ার সময় পুলিশ সদস্যের কাছে থাকা তাঁর নিজের খাবারের প্যাকেটটি একপর্যায়ে বালকটির পায়ের কাছে পড়ে যায়। বালকটি তখন খাবারের প্যাকেটটির দিকে তাকিয়ে থাকে। এ অবস্থায় পুলিশ সদস্য প্যাকেটটি হাতে তুলে সেটি বালকটিকে নিতে বলেন। বালকটি প্যাকেটটি নিয়ে সোজা হেঁটে একেবারে খাবারের লাইনের শেষ প্রান্তে খাবার বণ্টন পয়েন্টে গিয়ে তা সেখানে রেখে আসে এবং পুনরায় লাইনে নিজ অবস্থানে এসে দাঁড়িয়ে পড়ে। পুলিশ সদস্য বালকটির কাছে সে এমনটি করল কেন তা জানতে চাইলেন। জবাবে বালকটি জানায়, ‘আমি দেখেছি, এখানে আমার চেয়ে ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা অনেক; যদি আমি খাবারের প্যাকেটটি ওখানে রাখি, তাহলে তারা খাবার সমভাবে বণ্টন করে নেবে।’ বালকটির এই অভাবনীয় বক্তব্য শুনে পুলিশ সদস্য কেঁদে ফেলেন। তাঁর ভাষায়, ‘এ কথা শোনার পর আমি কান্না ঢাকতে লোকচক্ষুর আড়ালে চলে যেতে ঘুরে দাঁড়ালাম।’
আসুন, আমরা সবাই মিলে জাপানি এই বালককে স্যালুট জানাই। তোমাকে কোটি কোটি স্যালুট হে জাপানি বালক! জয় হোক মানবতার, জয় হোক ‘সিভিক ভারচ্যু’ মুভমেন্টের।
ড. শেখ আবদুস সালাম: অধ্যাপক, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
salam@univdhaka.edu

অভিন্ন শত্রুর বিরুদ্ধে একসঙ্গে লড়াইয়ের আহ্বান

প্রভাবশালী মার্কিন সিনেটর জন কেরি এক অভিন্ন শত্রুর বিরুদ্ধে পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রকে একসঙ্গে লড়াই করে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। গতকাল সোমবার তিনি এ আহ্বান জানান। পাকিস্তানে একতরফা মার্কিন অভিযানে আল-কায়েদার নেতা ওসামা বিন লাদেন হত্যাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে ছড়িয়ে পড়া উত্তেজনা নিরসনে মার্কিন এই সিনেটর বর্তমানে পাকিস্তান সফর করছেন। ওসামাকে হত্যার পর উচ্চপর্যায়ে কোনো মার্কিন কর্মকর্তার এটিই প্রথম পাকিস্তান সফর।
সিনেটর কেরি সাংবাদিকদের বলেন, পাকিস্তানি নেতাদের সঙ্গে তাঁর গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, প্রেসিডেন্ট ওবামার সমর্থনেই আমি এখানে এসেছি। দুই দেশের মধ্যে যে অনাস্থা তৈরি হয়েছে, তা কাটিয়ে ওঠার একটি পথ অনুসন্ধানে তিনি আগ্রহী। জঙ্গিবাদের ক্ষেত্রে আমাদের অভিন্ন শত্রু থাকায় কৌশলগত দিক দিয়ে আমরা পরস্পর অংশীদারও। এ ক্ষেত্রে আমাদের উভয়েরই বড় ধরনের আত্মত্যাগ রয়েছে। এ আত্মত্যাগ এভাবে নষ্ট হতে দেওয়া যায় না।
পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানি বলেছেন, মার্কিন অভিযানে ওসামা বিন লাদেন নিহত হওয়ার পর ইসলামাবাদ ও ওয়াশিংটনের মধ্যে যে অবিশ্বাস গড়ে উঠেছে তা কাটিয়ে ওঠা দরকার।

প্রধানমন্ত্রী পদে লড়বেন থাকসিনের বোন

থাইল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রার বোন য়িনগ্লাক সিনাওয়াত্রা দেশটির আসন্ন সাধারণ নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। আগামী ৩ জুলাই থাইল্যান্ডের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
গতকাল সোমবার রাজধানী ব্যাংককে অনুষ্ঠিত দলের সভায় য়িনগ্লাক (৪৩) সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি নিয়ম মেনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য প্রস্তুত। নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করার জন্যই আমি আপনাদের কাছে সুযোগ চাইছি। আমি চাই, আমার ভাইয়ের প্রতি আপনারা যেভাবে আস্থা রেখেছেন, সেভাবে আমার ওপরও আস্থা রাখুন।’
থাইল্যান্ডের প্রধান বিরোধী দল পুয়ে থাই পার্টির মনোনয়ন পাওয়ায় য়িনগ্লাক (৪৩) থাইল্যান্ডে প্রধানমন্ত্রী পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রথম নারী। তিনি একজন ব্যবসায়ী। তাঁর একটি সন্তান রয়েছে। সিনাওয়াত্রার ভাইবোনদের মধ্যে য়িনগ্লাক সবচেয়ে ছোট। থাকসিনের চেয়ে তিনি বয়সে ১৮ বছরের ছোট।

চার শীর্ষ খেমাররুজ নেতার বিচার শুরু হচ্ছে

১৯৭০-এর দশকে গণহত্যা ও অন্যান্য অপরাধের অভিযোগে খেমাররুজের সাবেক চার নেতার বিচার ২৭ জুন থেকে শুরু হচ্ছে। গতকাল সোমবার কম্বোডিয়ার জাতিসংঘ-সমর্থিত যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের পক্ষ থেকে এই তারিখ ঘোষণা করা হয়।
অভিযুক্ত চার নেতা হলেন, ‘ব্রাদার নাম্বার টু’ বলে পরিচিত নুয়ান চিয়া, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আয়োনগা সারি, তাঁর স্ত্রী ও সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী আয়েঙ্গ থিরিথ এবং সাবেক রাষ্ট্রপ্রধান খিউ সাম্পান।
এই চার নেতার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধসহ নানা ধরনের অভিযোগ রয়েছে। ১৯৭৫ সাল থেকে ১৯৭৯ সালের শাসনামলে নির্যাতন, খাবারের অভাব, অতিরিক্ত কাজসহ নানা কারণে প্রায় ২০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়।
ট্রাইব্যুনালের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি নথিতে বলা হয়, ‘২৭ জুন সোমবার প্রাথমিক শুনানি শুরু হবে।’ এ ছাড়া প্রত্যক্ষদর্শী ও বিশেষজ্ঞদের তালিকা নিয়েও আলোচনা করা হবে।

সিঙ্গাপুরে বিমানের জরুরি অবতরণ

ইঞ্জিনে আগুন ধরে যাওয়ায় গতকাল সোমবার ইন্দোনেশিয়াগামী ক্যাথে প্যাসিফিকের একটি বিমান সিঙ্গাপুরের চাঙ্গি বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করেছে। বিমানবন্দরের কর্মকর্তারা এ কথা জানান।
ক্যাথে প্যাসিফিক জানায়, এয়ারবাস এ৩৩০-৩০০ বিমানটিতে যাত্রী ছিল ১৩৬ জন। তাদের কেউ আহত হয়নি।
চাঙ্গি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের এক বিবৃতিতে বলা হয়, বিমানবন্দরের কর্মীরা বিমানের একটি ইঞ্জিনের আগুন নিভিয়ে ফেলেন। চাঙ্গি বিমানবন্দর থেকে জাকার্তার উদ্দেশে উড্ডয়ন করার কিছুক্ষণ পরই ইঞ্জিনে আগুন ধরে।

ত্রাণবাহী জাহাজ গাজায় ঢুকতে পারেনি

ইসরায়েলের বাধার মুখে গাজা ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে পারেনি মালয়েশীয় একটি ত্রাণবাহী জাহাজ। সংশ্লিষ্ট ত্রাণ কর্মকর্তা ও ইসরায়েলি সেনাবাহিনী সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
মালয়েশিয়াভিত্তিক সাহায্য সংস্থা পার্দানা গ্লোবাল পিস ফাউন্ডেশনের শামসুল আজহার বলেছেন, ফিলিস্তিনি নিরাপত্তা এলাকায় (সোমবার) সকাল ছয়টা ৫৪ মিনিটে এমভি ফিঞ্চ লক্ষ্য করে ইসরায়েলি সেনারা সতর্কতামূলক গুলি ছোড়ে। জাহাজটি পয়োনিষ্কাশনের কাজে ব্যবহূত পাইপ বহন করছিল। তিনি বলেন, ইসরায়েলি সেনারা বাধা দেওয়ার সময় জাহাজটি ফিলিস্তিনি নিরাপত্তা এলাকায় গাজা উপকূল থেকে প্রায় ৪০০ মিটার দূরে ছিল। জাহাজটি বর্তমানে মিসরের উপকূল থেকে ৩০ নটিক্যাল মাইল দূরে অবস্থান করছে।
মালদোভা পতাকাবাহী একটি জাহাজ মাঝপথে পাকড়াও করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর একজন মুখপাত্র। তিনি বলেন, এটি মিসরের এল-আরিশ বন্দরে কয়েক দিন ধরে নোঙর থাকার পর গাজা অভিমুখে যাচ্ছিল।
ইসরায়েলি মুখপাত্র বলেন, নৌবাহিনীর একটি টহল দল জাহাজটির সঙ্গে যোগাযোগ করে জানতে পারে, তাদের গন্তব্যস্থল গাজা উপকূল। এ সময় জাহাজটি ইসরায়েলি সমুদ্রসীমা অতিক্রম করলে তাদের ফিরে যেতে বলা হয়। কিন্তু তারা তা না শোনায় ফাঁকা গুলি ছোড়া হয়। পরে জাহাজটি এল-আরিশে ফিরে যায়।
পার্দানা গ্লোবাল পিস ফাউন্ডেশনের কান্ডারি মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ। দুই দশকজুড়ে ক্ষমতায় থাকাকালে ফিলিস্তিনি সংকট নিয়ে তিনি ছিলেন পশ্চিমা ও ইসরায়েলের কট্টর সমালোচক।

ত্রাণবাহী জাহাজ গাজায় ঢুকতে পারেনি

ইসরায়েলের বাধার মুখে গাজা ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে পারেনি মালয়েশীয় একটি ত্রাণবাহী জাহাজ। সংশ্লিষ্ট ত্রাণ কর্মকর্তা ও ইসরায়েলি সেনাবাহিনী সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
মালয়েশিয়াভিত্তিক সাহায্য সংস্থা পার্দানা গ্লোবাল পিস ফাউন্ডেশনের শামসুল আজহার বলেছেন, ফিলিস্তিনি নিরাপত্তা এলাকায় (সোমবার) সকাল ছয়টা ৫৪ মিনিটে এমভি ফিঞ্চ লক্ষ্য করে ইসরায়েলি সেনারা সতর্কতামূলক গুলি ছোড়ে। জাহাজটি পয়োনিষ্কাশনের কাজে ব্যবহূত পাইপ বহন করছিল। তিনি বলেন, ইসরায়েলি সেনারা বাধা দেওয়ার সময় জাহাজটি ফিলিস্তিনি নিরাপত্তা এলাকায় গাজা উপকূল থেকে প্রায় ৪০০ মিটার দূরে ছিল। জাহাজটি বর্তমানে মিসরের উপকূল থেকে ৩০ নটিক্যাল মাইল দূরে অবস্থান করছে।
মালদোভা পতাকাবাহী একটি জাহাজ মাঝপথে পাকড়াও করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর একজন মুখপাত্র। তিনি বলেন, এটি মিসরের এল-আরিশ বন্দরে কয়েক দিন ধরে নোঙর থাকার পর গাজা অভিমুখে যাচ্ছিল।
ইসরায়েলি মুখপাত্র বলেন, নৌবাহিনীর একটি টহল দল জাহাজটির সঙ্গে যোগাযোগ করে জানতে পারে, তাদের গন্তব্যস্থল গাজা উপকূল। এ সময় জাহাজটি ইসরায়েলি সমুদ্রসীমা অতিক্রম করলে তাদের ফিরে যেতে বলা হয়। কিন্তু তারা তা না শোনায় ফাঁকা গুলি ছোড়া হয়। পরে জাহাজটি এল-আরিশে ফিরে যায়।
পার্দানা গ্লোবাল পিস ফাউন্ডেশনের কান্ডারি মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ। দুই দশকজুড়ে ক্ষমতায় থাকাকালে ফিলিস্তিনি সংকট নিয়ে তিনি ছিলেন পশ্চিমা ও ইসরায়েলের কট্টর সমালোচক।

করাচিতে গুলি করে সৌদি কূটনীতিককে হত্যা

পাকিস্তানের বন্দর নগর করাচিতে গতকাল সোমবার বন্দুকধারীদের গুলিতে সৌদি আরবের একজন কূটনীতিক নিহত হয়েছেন। পাকিস্তানের পুলিশ ও ইসলামাবাদে সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত এ কথা জানিয়েছেন। কেউ এ হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেনি। তবে আল-কায়েদার প্রশিক্ষণ পাওয়া পাকিস্তানি তালেবান এই হামলাকে সমর্থন করে বিবৃতি দিয়েছে।
করাচির একজন পুলিশ কর্মকর্তা জানান, মোটরসাইকেলে করে আসা চারজন বন্দুকধারী অতর্কিতে গুলি চালালে গাড়িতে বসা ওই সৌদি কূটনীতিক নিহত হন। তিনি বলেন, ‘সৌদি কূটনীতিক নিজেই চালকের আসনে ছিলেন। সম্ভবত তিনি তাঁর বাসা থেকে কনস্যুলেটে যাচ্ছিলেন।’
প্রাদেশিক সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা শারফুদ্দিন মেমোন জানান, ‘নিহত ব্যক্তি সৌদি কনস্যুলেটের একজন কর্মকর্তা। আমরা হত্যাকাণ্ডের কারণ তদন্ত করে দেখছি।’
ইসলামাবাদে সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত আবদুল আজিজ আল-গাদের তাঁদের কূটনীতিককে হত্যার নিন্দা করেছেন। তবে তিনি নিহত কূটনীতিকের বিস্তারিত পদমর্যাদা প্রকাশ করেননি।
আবদুল আজিজ আল-গাদের বলেন, ‘আমরা পাকিস্তান কর্তৃপক্ষকে বিশ্বাস করি। আশা করি, তারা সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করে বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করাবে।’
মাত্র কয়েক দিন আগে ইসলামাবাদে সৌদি কনস্যুলেটে হামলাকারীরা দুটি হাত-গ্রেনেড নিক্ষেপ করেছিল। তাতে অবশ্য কেউ হতাহত হয়নি।

পেট্রলের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে নয়াদিল্লিতে সড়ক অবরোধ

পেট্রলের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে গতকাল সোমবার সকালে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির বিভিন্ন সড়কে অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। প্রধান বিরোধী দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এ কর্মসূচির ডাক দেয়। কর্মসূচি চলাকালে তীব্র যাটজটের সৃষ্টি হয়।
বিজেপির দিল্লি শাখার সভাপতি বিজয়েন্দ্র গুপ্ত এএফপিকে বলেছেন, ‘রাজধানীর অন্তত ১৪টি ব্যস্ত সংযোগ সড়কে শত শত দলীয় কর্মী অবরোধ সৃষ্টি করেন। এ কর্মসূচির মাধ্যমে আমরা পেট্রলের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদ ও দাম কমানোর দাবি জানাচ্ছি। কর্মসূচি পালনকালে আমাদের বেশ কয়েকজন কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। এ ছাড়া অনেককে জোর করে রাস্তা থেকে সরিয়ে দিয়েছে।’
গত শনিবার মধ্যরাতে ভারত সরকার প্রতি লিটার পেট্রলের দাম পাঁচ রুপি করে বৃদ্ধির ঘোষণা দেয়। গত ১১ মাসে অন্তত আটবার পেট্রলের দাম বাড়ানো হলো। বিশ্লেষকেরা বলছেন, পেট্রলের ওপর সরকারি ভর্তুকি কমানোর লক্ষ্যে এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
জাতীয় তেল কোম্পানির এক নির্বাহী কর্মকর্তার বরাত দিয়ে গতকাল হিন্দুস্তান টাইমস জানায়, ‘আমাদের করার কিছু নেই। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে আগামী মাসের শুরুর দিকে পেট্রলের মূল্য আরেক দফা বাড়ানো হতে পারে।’

গাদ্দাফির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হতে পারে

লিবিয়ার নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করতে পারেন আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালত (আইসিসি)। গতকাল সোমবার বিষয়টি বিবেচনা করার কথা জানান ওই আদালতের প্রধান কৌঁসুলি।
এদিকে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার লক্ষ্যে নতুন এক প্রস্তাব করেছে লিবিয়া। গত রোববার লিবিয়ার প্রধানমন্ত্রী বাগদাদি মাহমুদি সে দেশে সফররত জাতিসংঘের বিশেষ দূত আবদুল ইলাহ আল খতিবের কাছে এই প্রস্তাব করেন।
আইসিসির প্রধান কৌঁসুলি লই মরেনো ওকাম্পো বলেন, লিবিয়ায় মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি নিয়ে বিচারের ব্যাপারে তিনি প্রায় প্রস্তুত। এ ব্যাপারে যাঁদের নামে অভিযোগ উঠেছে, তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করতে তিনি প্রস্তুত। পরোয়ানা জারির ক্ষেত্রে গাদ্দাফির নাম এক নম্বরে থাকতে পারে।
এক বিবৃতিতে মরেনো ওকাম্পো বলেন, যাঁদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের ব্যাপারে যথেষ্ট ও জোরালো তথ্যপ্রমাণ জোগাড় করা হয়েছে।
যুক্তরাজ্যে চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ জেনারেল ডেভিড রিচার্ডস সে দেশের সানডে টেলিগ্রাফ পত্রিকায় বলেছেন, লিবিয়ার নেতা গাদ্দাফির বিরুদ্ধে আরও সামরিক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
লিবিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানা জানায়, ন্যাটোর বোমা হামলা বন্ধ করার লক্ষ্যে লিবিয়া অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার প্রস্তাব করেছে। একই সঙ্গে তারা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মেনে নেবে বলেও জানিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর উদ্ধৃতি দিয়ে বার্তা সংস্থাটি জানায়, লিবিয়া তার ভূখণ্ডের অখণ্ডতা ও জনগণের মধ্যে ঐক্য ধরে রাখার ব্যাপারে অঙ্গীকারবদ্ধ। আর বোমা হামলার হুমকিতে না থেকে গণতান্ত্রিক সংলাপের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং রাজনৈতিক ব্যবস্থার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার জনগণের আছে। মাহমুদি ন্যাটোর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক হত্যা, অবৈধভাবে নৌবন্দর অবরোধ, বেসামরিক স্থাপনায় বোমা হামলা ও অবকাঠামো ধ্বংস করার অভিযোগ তোলেন।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘের মুখপাত্র মার্টিন নেসার্কি বলেন, মাহমুদির সঙ্গে বৈঠক চলাকালে খতিব যুদ্ধবিরতির ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করেন এবং লিবিয়ার যুদ্ধকবলিত শহরগুলোতে প্রবেশাধিকার দাবি করেন।
আল খতিব লিবিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদেলাতি লাবিদি ও সরকারের সমর্থক বিভিন্ন গোষ্ঠীর নেতাদের সঙ্গেও আলোচনা করেন। কিন্তু অনেক চেষ্টা করেও তিনি গাদ্দাফির সঙ্গে দেখা করতে পারেননি। গত ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করার পর তাঁর সরকারের ওপর দুই দফা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।
গত রোববার জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন ও মাহমুদির মধ্যে টেলিফোনে কথা হলেও এ ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। যুদ্ধবিরতির ব্যাপারে মুন বারবার আহ্বান জানিয়ে আসছেন। এ নিয়ে গাদ্দাফির সঙ্গে তাঁর সংলাপও হয়েছে।

ব্যাংকের মোট ঋণের আড়াই শতাংশ কৃষি বা পল্লি খাতে দিতে হবে

আগামী ২০১১-১২ অর্থবছর থেকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে তাদের মোট ঋণের ২ দশমিক ৫ শতাংশ হারে কৃষি ও পল্লি খাতে ঋণ বিতরণের নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক গতকাল সোমবার বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর শীর্ষস্থানীয় নির্বাহীদের কাছে পাঠানো এক প্রজ্ঞাপনে এই নির্দেশনা দিয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বলছে, এতদিন ব্যাংকগুলো নিজেরা তাদের একটা লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে পাঠাত। পরে সেই ভিত্তিতে কৃষি বা পল্লি ঋণ বিতরণ করায় উদ্যোগী হতো ব্যাংকগুলো। কিন্তু এই লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়ন না হলেও তার জন্য ব্যাংকগুলোকে কোনো জবাবদিহির মধ্যে নেওয়া যেত না। এ কারণে এবার একটি যৌক্তিক নীতিমালা করে তা জারি করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক তার নির্দেশনায় বলেছে, অভ্যন্তরীণ খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পল্লি এলাকায় উৎপাদনমুখী কর্মকাণ্ড প্রসারের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দারিদ্র্য বিমোচনে কৃষি খাতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অথচ এ খাতে ঋণ ও অগ্রিমের জন্য সুবিধাভোগী পর্যায়ে কার্যত শুধু রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর ওপর নির্ভর করতে হয়। কারণ অনেক বেসরকারি ও বিদেশি ব্যাংকেরই কৃষি বা পল্লি খাতে কোনো বিনিয়োগ নেই। অনেকের নামমাত্র বিনিয়োগ থাকলেও তাদের মোট ঋণ ও অগ্রিমের তুলনায় এ পরিমাণ সন্তোষজনক নয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কৃষিঋণ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক এস এম মনিরুজ্জামান এ প্রসঙ্গে প্রথম আলোকে বলেন, কৃষি বা পল্লি খাতে ঋণ বিতরণের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে প্রবৃদ্ধি অর্জন করা ও অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির ভিত্তিকে শক্তিশালী করতে এ খাতে ঋণ বিতরণে যৌক্তিক নীতিমালার প্রয়োজন হয়ে পড়ে। সে কারণেই এ নীতিমালা করা হয়েছে।
আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন নীতিমালা কার্যকর হবে। এ ক্ষেত্রে বছর ভিত্তিতে কোনো ব্যাংক তার মোট ঋণের ২ দশমিক ৫ শতাংশ হারে কৃষি খাতে বিতরণে ব্যর্থ হলে অনর্জিত অংশের সমপরিমাণ অর্থ বাধ্যতামূলকভাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে এক বছরের জন্য জমা রাখতে হবে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক এই অর্থের ওপর ব্যাংক রেট বা বর্তমানে পাঁচ শতাংশ হারে সুদ দেবে।
পূর্ববর্তী অর্থবছরের ৩১ মার্চভিত্তিক মোট ঋণ ও অগ্রিমের সঙ্গে এটি হিসাব করা হবে। তবে রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংকগুলো কৃষি খাতে ইতিমধ্যেই এ পরিমাণের চেয়ে অনেক বেশি মাত্রায় ঋণ বিতরণ করায় এ নির্দেশনা এ ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রে কার্যকর হবে না। বেসরকারি ও বিদেশি ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রে এটি কার্যকর হবে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, কৃষিঋণ বিতরণ লক্ষ্যমাত্রা শতভাগ অর্জনের স্বার্থে প্রত্যেক ব্যাংক ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে নিজ নিজ আনুপাতিক হারে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের অগ্রগতি পর্যালোচনা করবে। ত্রৈমাসিকে আনুপাতিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কোনো ব্যাংক ব্যর্থ হলে অনর্জিত অংশ পরবর্তী ত্রৈমাসিকে বাংলাদেশ ব্যাংকে এক বছরের জন্য জমা রাখবে। জমা করা অর্থের ওপর পাঁচ শতাংশ হারে ব্যাংকগুলোকে সুদ দেওয়া হবে।
তবে কোনো ব্যাংকের ঋণ ও অগ্রিম বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের অন্য বিশেষ কোনো নির্দেশনা থাকলে কৃষিঋণ লক্ষ্যমাত্রার অনর্জিত অর্থ জমার বাধ্যবাধকতা শিথিল করা যেতে পারে।
সূত্র জানায়, চলতি অর্থবছর কৃষিঋণ নীতিমালা ও কর্মসূচিতে বিতরণ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হলেও কোনো ব্যাংকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যায়নি। যৌক্তিক নীতিমালা না থাকায় এটা করা সম্ভব হয়নি। সূত্রগুলো বলছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে আটটি বেসরকারি ব্যাংক তাদের লক্ষ্যমাত্রার ২০ শতাংশ ঋণও বিতরণ করতে পারেনি। যদিও বেসরকারি ও বিদেশি ব্যাংকের জন্য নিজস্ব শাখা ছাড়াও ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের (এমএফআই) মাধ্যমে ঋণ বিতরণের সুযোগ রয়েছে।

এমআই সিমেন্টকে তালিকাভুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়নি

এমআই সিমেন্টকে তালিকাভুক্ত করার ব্যাপারে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) নির্দেশনা থাকার পরও এ ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। সংস্থাটির পরিচালনা পর্ষদ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এসইসির নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করে এ ব্যাপারে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদের সভায় গতকাল সোমবার এমআই সিমেন্ট ছাড়াও বারাকাতউল্লাহ ইলেকট্রো ডায়নামিকস লিমিটড ও দুটি মিউচুয়াল ফান্ডের তালিকাভুক্তির বিষয়ে আলোচনা হয়। এ বৈঠকে আগামী বৃহস্পতিবার বারাকাতউল্লাহ ইলেকট্রো ডায়নামিকস লিমিটেডকে তালিকাভুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ ছাড়া ইবিএল ফার্স্ট এনআরবি মিউচুয়াল ফান্ড ও সাউথউস্ট ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড তালিকাভুক্ত হবে আগামী সোমবার।
যোগাযোগ করা হলে ডিএসইর ঊর্ধ্বতন সহসভাপতি আহসানুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘এমআই সিমেন্টের তালিকাভুক্তির নির্দেশনা আমরা বাতিল করিনি, আবার গ্রহণও করিনি। এ ব্যাপারে ডিএসইর সভাপতির নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল নবগঠিত এসইসির সঙ্গে পরবর্তী কার্যদিবসেই কথা বলবে। সেখানে কোম্পানিটিকে তালিকাভুক্তি দেওয়ার ব্যাপারে ডিএসইর অবস্থান তুলে ধরা হবে। এর ভিত্তিতে এসইসি যে নির্দেশনা দেয়, সেভাবেই সিদ্ধান্ত হবে।’
শেয়ারবাজারে ধসের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২০ জানুয়ারি বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে এমআই সিমেন্ট ও এমজেএল লিমিটেডের শেয়ার অতিমূল্যায়িত হয়েছে—এ কথা উল্লেখ করে তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়া স্থগিত করে সরকার। পরে সরকারের নির্দেশে শর্ত সাপেক্ষে তালিকাভুক্তির উদ্যোগ নেয় এসইসি।
এসইসির নির্দেশে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) শর্ত সাপেক্ষে এমআই সিমেন্টের তালিকাভুক্তি দিলেও ডিএসই কোম্পানিটির তালিকাভুক্তি দেয়নি।

এক মাস ধরে বন্ধ রয়েছে পাঁচ কোম্পানির লেনদেন

অস্বাভাবিক দাম বাড়ায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) তালিকাভুক্ত পাঁচটি কোম্পানির শেয়ার লেনদেন এক মাস ধরে বন্ধ রয়েছে। এত দিন কেটে গেলেও কর্তৃপক্ষ কোম্পানিগুলোর লেনদেন চালু করেনি। ফলে এসব কোম্পানিতে অর্থ লগ্নি করা বিনিয়োগকারীরা এক ধরনের অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন।
লেনদেন বন্ধ হওয়া কোম্পানিগুলো হলো—অলটেক্স অনলাইন, দুলামিয়া কটন, আনোয়ার গ্যালভানাইজিং, লিগেসি ফুটওয়্যার ও ন্যাশনাল টি কোম্পানি (এনটিসি)।
গত ১৮ এপ্রিল ডিএসইর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক খবরে জানানো হয়, অস্বাভাবিক দাম বাড়ার কারণে তালিকাভুক্ত অলটেক্স অনলাইন, দুলামিয়া কটন, আনোয়ার গ্যালভানাইজিং ও লিগেসি ফুটওয়্যারের শেয়ার লেনদেন সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
গত ২৪ এপ্রিল স্থগিত করা হয় এনটিসির লেনদেন। সেখানে আরও বলা হয়, প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারের দাম অস্বাভাবিক বাড়ার কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলায় তাদের শেয়ার লেনদেন স্থগিত করা হয়।
ডিএসই সূত্রে জানা যায়, গত মার্চের শুরুতে বস্ত্র খাতের ‘জেড’ ক্যাটাগরির কোম্পানি অলটেক্স অনলাইনের শেয়ারের দাম ছিল ১১০ টাকার মতো। সর্বশেষ প্রতিষ্ঠানটির প্রতিটি শেয়ার ৩৬০ টাকা ২৫ পয়সায় লেনদেন হয়। কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ারের অভিহিত মূল্য ১০০ টাকা।
বস্ত্র খাতের ‘জেড’ ক্যাটাগরির আরেক কোম্পানি দুলামিয়া কটনের শেয়ারের দাম গত মার্চের শুরুতে ছিল ১৬০ টাকার মতো, যা সর্বশেষ ৪৮১ টাকায় লেনদেন হয়। কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ারের অভিহিত মূল্য ১০০ টাকা।
প্রকৌশল খাতের একই ক্যাটাগরির কোম্পানি আনোয়ার গ্যালভানাইজিংয়ের শেয়ারের দাম মার্চের শুরুতে ছিল ২৪০-২৫০ টাকা, যা সর্বশেষ ৪৪০ টাকা ২৫ পয়সায় লেনদেন হয়।
অন্যদিকে, চামড়া খাতের ‘জেড’ ক্যাটাগরির কোম্পানি লিগাসি ফুটওয়্যারের শেয়ারের দাম গত মার্চে ছিল ২৫ টাকা। দেড় মাসে প্রতিষ্ঠানটির প্রতিটি শেয়ারের দাম দ্বিগুণ বেড়ে সর্বশেষ ৫০ টাকায় লেনদেন হয়।
এ ছাড়া গত ১৭ মার্চ খাদ্য ও সেবা খাতের ‘এ’ ক্যাটাগরির কোম্পানি এনটিসির প্রতিটি শেয়ারের দাম ছিল পাঁচ হাজার ৪০০ টাকা। এক সপ্তাহের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের দাম ৯০০ টাকা বেড়ে ২৪ গত এপ্রিল ছয় হাজার ৩০০ টাকায় লেনদেন হয়।
কয়েকজন বিনিয়োগকারী জানান, ডিএসই কর্তৃপক্ষ কোম্পানিগুলোর দাম বাড়ার কারণ তদন্ত করার কথা বলে লেনদেন বন্ধ করেছে। এক মাস অতিবাহিত হলেও এখনো লেনদেন চালু হয়নি। ফলে তাঁরা লেনদেন করতে পারছেন না। তাঁরা দ্রুত তদন্ত শেষ করে কোম্পানিগুলোর লেনদেন আবার চালুর দাবি করেন।
ডিএসইর জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আহসানুল ইসলাম বলেন, এ ব্যাপারে ডিএসইর ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেবে। কেননা এটি তাদের আওতাধীন।
তবে ডিএসইর একটি সূত্র জানায়, কোম্পানিগুলোর দাম বাড়ার কারণ নিয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে শিগগিরই লেনদেন শুরু হবে।

অধিকাংশ শেয়ারের দাম কমেছে

সপ্তাহের দ্বিতীয় লেনদেন দিবসে গতকাল সোমবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ারের দাম কমেছে। এদিন ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ২৫১ কোম্পানির মধ্যে দাম বেড়েছে ৯৩টির, আর কমেছে ১৫১টির। তবে বেশির ভাগ শেয়ারের দাম কমলেও বেড়েছে সাধারণ মূল্যসূচক ও লেনদেনের পরিমাণ।
চলতি মাসে প্রথমবারের মতো গতকাল ডিএসইতে লেনদেন ৬০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। এর আগে সর্বশেষ ২৮ এপ্রিল ডিএসইতে ৬৬৬ কোটি ৪৫ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছিল।
স্টক এক্সচেঞ্জটিতে গতকাল দিনভর শেয়ারের মূল্যসূচক ওঠা-নামা করেছে। এই ওঠা-নামার মধ্যে সাধারণ সূচক আগের দিনের চেয়ে মাত্র তিন পয়েন্টের মতো বেড়ে দিনশেষে পাঁচ হাজার ৭৯১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। যদিও লেনদেন শুরুর প্রথম ৩০ মিনিটের মধ্যে ডিএসইর সাধারণ সূচক আগের দিনের চেয়ে প্রায় ৭৩ পয়েন্ট বাড়ে। সেই অবস্থা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে আবার সূচক কমতে শুরু করে। বেলা একটায় সাধারণ মূল্যসূচক প্রায় ৯১ পয়েন্ট বেড়ে দিনের সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার ৮৭৯ পয়েন্টে পৌঁছায়। আর লেনদেন শেষ হওয়ার কয়েক মিনিট আগে সেটি দিনের সর্বনিম্ন পাঁচ হাজার ৭৭৭ পয়েন্টে নেমে আসে। এতে গতকাল সূচকের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন অবস্থানের মধ্যকার ব্যবধান দাঁড়ায় ১০২ পয়েন্ট।
ঢাকার বাজারে গতকাল দিনশেষে প্রায় ৬০৯ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়, যা আগের দিনের চেয়ে ৪৬ কোটি টাকা বেশি।
বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (এসইসি) নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগের মাধ্যমে সংস্থাটির পুনর্গঠনের কাজ শুরু হওয়ায় নিষ্ক্রিয় অনেক বিনিয়োগকারীর মধ্যে আস্থা ফিরতে শুরু করেছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান।
এসইসির নতুন চেয়ারম্যান খায়রুল হোসেন রোববার দায়িত্ব গ্রহণের পর সাংবাদিকদের বলেছিলেন, বাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরানো হবে তাঁর প্রধান কাজ।
ঢাকার বাজারের মতো চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) গতকাল লেনদেন হওয়া বেশির ভাগ শেয়ারের দাম কমেছে। সিএসইতে লেনদেন হওয়া ১৯৪টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বেড়েছে ৮৭টি, কমেছে ১০২টির এবং অপরিবর্তিত ছিল নয়টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম। বেশির ভাগ শেয়ারের দাম কমলেও লেনদেন এবং সূচক দুই-ই বেড়েছে। সিএসইতে গতকাল লেনদেন আগের দিনের চেয়ে দুই কোটি টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৩ কোটি টাকা। আর সার্বিক সূচক ১৭ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ১৬ হাজার ১৩৮ পয়েন্টে।
এদিকে ডিএসই সভাপতি শাকিল রিজভীর নেতৃত্বে সংস্থাটির একটি প্রতিনিধি দল গতকাল এসইসির নবনিযুক্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে তাঁর কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। এ সময় তাঁরা পুঁজিবাজারের উন্নয়নের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।

স্কুল রাগবি কাল থেকে

আগামীকাল থেকে পল্টনে শুরু হচ্ছে কুলাইন এসি স্কুল রাগবি। ‘ক’ গ্রুপে খেলবে সেন্ট গ্রেগরি উচ্চবিদ্যালয়, নবাবপুর স্কুল, নবকুমার ইনস্টিটিউট, মাদারটেক স্কুল অ্যান্ড কলেজ। ‘খ’ গ্রুপে রহমতউল্লাহ মডেল হাইস্কুল, ক্যামব্রিজ হাইস্কুল, এসওএস শিশু পল্লী ও ইসলামবাগ স্কুল। ফাইনাল ২২ মে।
মাঠে খেলা নেই, নিয়মিত টুর্নামেন্টেরও কোনো খবর নেই। তার পরও বাংলাদেশে রাগবির ভবিষ্যৎ উজ্জ্বলই দেখছেন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মৌসুম আলী! তাঁর দাবি, মাঠ-সমস্যার কারণেই নিয়মিত খেলা চালানো যাচ্ছে না।
টুর্নামেন্টের পৃষ্ঠপোষকতা করছে আবরণী ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড। বাজেট ধরা হয়েছে এক লাখ ৬৫ হাজার টাকা। কাল তথ্যগুলো জানালেন ফেডারেশনের সভাপতি সাংসদ শাহ আলম। উপস্থিত ছিলেন পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম।

রেকর্ডের রোনালদো

ফুটবল-দেবতার চিত্রনাট্যে সাম্যবাদ থাকে! লিওনেল মেসিকে আরেকটা স্প্যানিশ লিগ জয়ের আনন্দে ভাসিয়েছেন, জাগ্রত রেখেছেন তাঁর আরেকটা চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের স্বপ্ন। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকেও অপূর্ণ রাখেননি। রিয়াল মাদ্রিদের পর্তুগিজ উইঙ্গারের হাতে তুলে দিয়েছেন ব্যক্তিগত অর্জনের ডালা।
টানা দুই হ্যাটট্রিকের পর রোনালদো পরশু আবারও গোল পেলেন—জোড়া গোল। এই দুই গোলে স্প্যানিশ লিগের ইতিহাসে সোনালি হরফে নাম লিখিয়ে নিলেন বিশ্বের সবচেয়ে দামি খেলোয়াড়। টেলমো জারা ও হুগো সানচেজের সঙ্গে তিনিও এখন এক মৌসুমে লিগের সর্বোচ্চ ৩৮ গোলের মালিক।
স্প্যানিশ ক্রীড়া দৈনিক মার্কার হিসাব অনুযায়ী অবশ্য এরই মধ্যে রেকর্ডটি ছাড়িয়ে গেছেন রোনালদো। গত ১৮ সেপ্টেম্বর রিয়াল সোসিয়েদাদের মাঠ থেকে ২-১ গোলে জিতে এসেছিল রিয়াল। সেই ২ গোলের একটি করেছিলেন অ্যাঙ্গেল ডি মারিয়া। অন্য গোলটি নিয়েই বিতর্ক। মার্কার দাবি, ওটা রোনালদোর গোল। রেফারি গোলটি দেয় পেপের নামে। স্প্যানিশ লিগের সেরা গোলদাতার পুরস্কার পিচিচি ট্রফিটা দেয় মার্কা।
যদি মার্কার হিসাবটা না-ও ধরা হয়, তবু রোনালদোর সামনে টেলমা জারা ও সানচেজকে পেছনে ফেলার সুযোগ আছে। লিগের সর্বশেষ ম্যাচটা রিয়াল খেলবে আলমেরিয়ার বিপক্ষে। সেই ম্যাচে একটি গোল পেলেই হয়!
স্প্যানিশ লিগের ইতিহাসে নিজের নাম লেখাতে পেরে দারুণ খুশি রোনালদো, ‘জারা ও সানচেজের গোলের রেকর্ড ছুঁতে পেরে আমি খুব খুশি।’ তবে এখানেই থামতে চান না পর্তুগিজ উইঙ্গার, ‘আলমেরিয়ার বিপক্ষে আমি আরও গোল চাই।’ তিনি সবচেয়ে খুশি অবশ্য ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে দল ৩-১ গোলে জিতেছে বলে, ‘কোচ, সমর্থক—আমরা সবাই মৌসুমের শেষটা ভালো চাইছি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে আমরা দারুণ এক জয় পেয়েছি।’
রোনালদো দল নিয়ে ভাবছেন, আর তাঁর সতীর্থরা সবাই খুশি তিনি ইতিহাস হতে পেরেছেন বলে। রিয়াল মাদ্রিদের মহাব্যবস্থাপক হোর্হে ভালদানো বলেছেন, ‘রোনালদোর জন্য আমরা সবাই খুব খুশি।’ পরশু ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে প্রথম গোল করা ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার মার্সেলোও কণ্ঠ মিলিয়েছেন ভালদানোর সঙ্গে।
খুশি নিশ্চয়ই রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক মেক্সিকান স্ট্রাইকার সানচেজও। তিনি তো চাইছিলেন তাঁর সাবেক দলের কারও হাতেই যেন রেকর্ডটা ওঠে, ‘আমি সব সময়ই এটা বলে এসেছি। আমার রেকর্ডটা কেউ ভাঙলে সে যেন মাদ্রিদেরই কেউ হয়। ক্রিস্টিয়ানো মাদ্রিদের খেলোয়াড়। আমি চাইব না, এটা মেসি ভাঙুক। এমন নয়, আমি ওকে ব্যক্তিগতভাবে অপছন্দ করি। আমি চাই না, কারণ সে বার্সেলোনার। জানি না ও পারবে কি না। তবে যে ফর্মে আছে, তাতে মনে হয়, ও পারবে।’
পরশু নিজেদের মাঠে দেপোর্তিভো লা করুনিয়ার বিপক্ষে জিততে পারেনি বার্সেলোনা। হোক না লিগ জেতা হয়ে গেছে বলে মেসি, জাভি, ইনিয়েস্তা, ভিয়াকে রেখে দ্বিতীয় দলই মাঠে নামিয়েছেন কোচ পেপ গার্দিওলা। তা বলে একটাও গোল করতে না পেরে কাতালানরা ম্যাচ শেষে করবে গোলশূন্য ড্রয়ে! তবে গার্দিওলা এই ড্রতে অখুশি নন, ‘যা হয়েছে তাতে আমি খুশি। শুধু একটু ভারসাম্যের অভাব ছিল আমাদের দলে।

দেড় বছর পর স্কোয়াশ টুর্নামেন্ট

সর্বশেষ টুর্নামেন্ট হয়েছিল গত বছর ফেব্রুয়ারিতে, এসএ গেমসের পর। প্রায় দেড় বছর পর আবার হচ্ছে আরেকটি স্কোয়াশ টুর্নামেন্ট—নাম গ্রামীণফোন ওপেন! ঢাকা ক্লাবে আগামী পরশু শুরু হয়ে শেষ হবে ৩১ মে।
প্রিমিয়ার, ‘এ’, ‘বি’, অনূর্ধ্ব-১৮ ও ঊর্ধ্ব-৪৫—এই পাঁচ বিভাগে অংশ নিচ্ছে ১৬টি ক্লাবের মোট ৭৬ জন খেলোয়াড়। কাল এক সংবাদ সম্মেলনে তথ্যগুলো জানালেন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সোহেল হামিদ। উপস্থিত ছিলেন পৃষ্ঠপোষক গ্রামীণফোনের হেড অব করপোরেট কমিউনিকেশনস তাহমীদ আজিজুল হক।
ফেডারেশনে স্থবিরতা, নিয়মিত খেলা নেই—এসবের একটি ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করলেন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক, ‘আমাদের শুধু একটা কক্ষই আছে, নিজস্ব কোনো কোর্ট নেই। কখনো ঢাকা ক্লাবে, কখনো গুলশান ক্লাবে খেলতে হয়। কোর্টের সমস্যার কারণেই এত দিন আমরা খেলা চালিয়ে যেতে পারিনি।’ তবে জানালেন এরই মধ্যে একটি জায়গা সরকার তাদের বরাদ্দ দিয়েছে, ‘বনানীতে আমরা ১২ কাঠা জায়গা পেয়েছি। যদিও রাজউক এই জায়গার জন্য দেড় কোটি টাকা দিতে বলেছে। স্কোয়াশের মতো ছোট ফেডারেশনের জন্য এটা অনেক টাকা।’

প্রত্যাশা ছাড়িয়ে যাওয়া হার্নান্দেজ

গত গ্রীষ্মের প্রাক-মৌসুম অনুশীলনে একের পর এক শট নিচ্ছেন সদ্যই ক্লাবে যোগ দেওয়া এক মেক্সিকান তরুণ। আর গোলরক্ষককে ফাঁকি দিয়ে কাঁপিয়ে দিচ্ছেন জাল। দৃশ্যগুলো দেখে মুগ্ধ পল স্কোলস গুরু অ্যালেক্স ফার্গুসনের কাছে গিয়ে করে বসলেন এক ভবিষ্যদ্বাণী। বদলি হিসেবেই এই ছেলে ২০ গোল করবে!
ক্যারিয়ারের পুরোটাই ম্যানইউতে কাটিয়ে দেওয়া স্কোলসের চোখ দুটি যে জহুরি চিনতে ভুল করেনি, ফার্গুসন আজ বুঝতে পারছেন। সত্যি সত্যিই হাভিয়ের হার্নান্দেজের নামের পাশে ২০ গোল!
প্রথম মৌসুমেই তাঁকে নিয়ে ফার্গুসনের ভাবনা ও পরিকল্পনাকে ছাড়িয়ে গেছেন এই তরুণ। গত বিশ্বকাপের পরই মেক্সিকান ক্লাব গুয়াদালহারা থেকে তরুণ হার্নান্দেজকে ম্যানইউতে নিয়ে আসেন ফার্গুসন। তরুণ হিসেবে হার্নান্দেজকে নিয়ে প্রথম বছরেই ফার্গুসনের প্রত্যাশার সীমাটা এত বড় ছিল না। পরিকল্পনা ছিল আস্তে-ধীরে তাঁকে গড়ে তুলবেন।
কিন্তু বাস্তবে যে হার্নান্দেজকে পেলেন তাতে ফার্গুসন নিজেই বিস্মিত। পরিচয়, মানিয়ে নেওয়ার ব্যাপারস্যাপার দূরে সরিয়ে প্রথম বছরেই ম্যানইউতে হার্নান্দেজ প্রতিষ্ঠিত করেছেন নিজেকে। চলতি জুনেই ২৩-এ পা দিতে যাওয়া এই মেক্সিকান এখন ম্যানইউর মূল খেলোয়াড়দের একজন। মাত্র ৭০ লাখ পাউন্ড চুক্তির এই খেলোয়াড়ের কারণেই এখন ৩ কোটি পাউন্ডের দিমিতার বারবেতভকে সাইড বেঞ্চে বসিয়ে রাখছেন ফার্গুসন।
লিগ জয়ের উৎসব এরই মধ্যে করে ফেলেছে ম্যানইউ। এখন দৃষ্টিসীমায় তাদের আরেকটি শিরোপা—চ্যাম্পিয়নস লিগ। সব বাধা টপকে ফাইনালে উঠেছে তারা। আর এই সাফল্যের অন্যতম রূপকার হার্নান্দেজ। চেলসির বিপক্ষে শিরোপা নির্ধারণী হিসেবে বিবেচিত হওয়া ম্যাচে ৩৭ সেকেন্ডেই গোল করে চেলসিকে পেছনে ঠেলে দেন! শুধু এটাই নয়, মৌসুমজুড়েই ম্যানইউর কঠিন দিনগুলোয় ত্রাতার ভূমিকায় দেখা দিয়েছেন হার্নান্দেজ। প্রথমে বদলি হিসেবে মাঠে নামলেও এখন হার্নান্দেজকে ছাড়া ম্যানইউর প্রথম একাদশ যেন ভাবাই যায় না!
মেক্সিকো জাতীয় দলের তরুণ এই স্ট্রাইকারের ক্ষিপ্রতা দেখে কদিন আগে কিংবদন্তি পেলে পর্যন্ত তাঁকে ডেকেছেন ‘নতুন মেসি’ বলে। ম্যানইউ শিবিরে তো হার্নান্দেজ-প্রশংসার জোয়ার বইছে। মুগ্ধ ফার্গুসন বলছেন, ‘ও এসেই এমন করবে, এতটা প্রত্যাশা আমাদের ছিল না। আমরা ভেবেছিলাম, একটা বছর তাকে ক্লাবের সঙ্গে পরিচিত করিয়ে ইংলিশ ফুটবলের সঙ্গে ধাতস্থ করে আরও শক্তিশালী করে তুলব। ও এরই মধ্যে সবকিছু করে ফেলেছে। ও প্রতিদিনই নয়টায় আসে এবং সবার শেষে যায়। ছেলেটি খুবই নিবেদিতপ্রাণ।’
১২টি লিগ জেতা অভিজ্ঞ সতীর্থ রায়ান গিগস হার্নান্দেজের পারফরম্যান্স দেখে বিস্মিত, ‘প্রথম মৌসুমেই ২০ গোল করাটা অবিশ্বাস্য। হাভিয়েরের মতো গোল স্কোরার থাকলে সব সময়ই আপনার সুযোগ আসবে। মাঠ এবং মাঠের বাইরে ওর প্রভাবটা অসাধারণ। চেলসির বিপক্ষে গোলটিই ওর এই মৌসুম সম্পর্কে সবকিছু বলে দেয়।’
হার্নান্দেজের এখন নীরবে বসে প্রশংসা শুনে যাওয়ারই দিন!

ম্যারাডোনা এখন আল ওয়াসলের

চমক-জাগানিয়া একটি খবর তারা দিতে চেয়েছিল ২৪ ঘণ্টার মধ্যে। কিন্তু ২৪ ঘণ্টাও লাগল না। এর আগেই দুবাইয়ের ক্লাব আল ওয়াসল চমক দিল বিশ্বকে, জানিয়ে দিল ডিয়েগো ম্যারাডোনাই তাদের পরবর্তী কোচ। শুধু আলোচনা নয়, চুক্তিতে সইও করে ফেলেছে দুই পক্ষ। আসন্ন মৌসুমেই দুই বছরের জন্য আল ওয়াসলের দায়িত্ব নিচ্ছেন আর্জেন্টিনার সাবেক কোচ।
‘আমরা ম্যারাডোনার সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছে গেছি’—গতকাল জানিয়েছেন আল ওয়াসলের সহসভাপতি মারওয়ান বেন বায়াত।
দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপের পর ফেডারেশনের শর্তে রাজি না হওয়ায় আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের চাকরি হারান ৫০ বছর বয়সী ম্যারাডোনা। তার পর থেকেই এই ফুটবল কিংবদন্তি হন্যে হয়ে একটা চাকরি খুঁজছিলেন। গুঞ্জন ছড়িয়েছিল অনেক—ইংল্যান্ডের কোনো ক্লাবের দায়িত্ব নিচ্ছেন, ইরান জাতীয় দলের কোচ হচ্ছেন। সব গুঞ্জনেরই শেষ টেনে দিলেন ম্যারাডোনা সংযুক্ত আরব আমিরাত লিগের চতুর্থ স্থানে থাকা আল ওয়াসলের দায়িত্ব নিয়ে। গত মার্চে ব্রাজিলিয়ান কোচ সার্জিও ফারিয়াসকে বরখাস্ত করার পর ক্লাবটি খুঁজছিল নতুন কোচ। ম্যারাডোনার মধ্যে সমাধান খুঁজে পেল তারা। খেলোয়াড় ম্যারাডোনা বিশ্ব ফুটবলের এক বিস্ময়কর প্রতিভা, ১৯৮৬ সালে আর্জেন্টিনাকে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন করার পরের বারই নিয়ে গিয়েছিলেন বিশ্বকাপ ফাইনালে। কিন্তু কোচ ম্যারাডোনা খেলোয়াড় ম্যারাডোনার চেয়ে যোজন যোজন দূরে। ১৯৯৪ সালে অখ্যাত টেক্সটিল ম্যানডিও ক্লাবে তাঁর কোচিং ক্যারিয়ার শুরু। পরের বছর যোগ দেন রেসিং ক্লাবে। আর ২০০৮ সালের নভেম্বরে নেন আর্জেন্টিনার দায়িত্ব। অনেক চড়াই-উতরাই শেষে আর্জেন্টিনাকে মূল পর্বে তুলে কোয়ার্টার ফাইনালেও নিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানেই হলো তাঁর চরম বিপর্যয়, জার্মানির কাছে ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত হয়ে বিদায়!
আল ওয়াসলের সঙ্গে ম্যারাডোনাকে জড়িয়ে সংবাদটি প্রথম জানা গেছে গত শনিবার। দুই দিনের ব্যবধানেই হয়ে গেল আনুষ্ঠানিক চুক্তি। এবারের গুঞ্জনটি গুঞ্জন না হওয়ার একটা কারণ হতে পারে, ম্যারাডোনার নাকি দুবাই শহরটা খুবই পছন্দ, শহরটাকে নাকি তাঁর কাছে ‘স্বর্গ’ মনে হয়। তো সেই ‘স্বর্গে’ স্থায়ীভাবেই থাকার ব্যবস্থা হলো আর্জেন্টাইন ‘ফুটবল ঈশ্বরের’।

অলিম্পিক বিজয়ীর করুণ মৃত্যু

বারান্দা থেকে পড়ে মৃত্যুবরণ করেছেন স্যামুয়েল ওয়ানজিরু। মাত্র ২৪ বছর বয়সেই বিশ্ব ম্যারাথনে আলো ছড়িয়েছিলেন এই কেনিয়ান। সোনা জিতেছিলেন ২০০৮ বেইজিং অলিম্পিক ম্যারাথনে। প্রথম কেনিয়ান হিসেবে অলিম্পিক ম্যারাথনে সোনাজয়ী এই অ্যাথলেটের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে স্থানীয় পুলিশ।
রাজধানী নাইরোবি থেকে ১৫০ কিলোমিটার উত্তরে নিয়াহুরুরু শহরের নিজ বাড়ির তিনতলার বারান্দা থেকে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হন এই অ্যাথলেট। নাক-মুখ দিয়ে রক্ত বেরোচ্ছিল। স্থানীয় এক হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। দুর্ঘটনাবশত মৃত্যু হয়েছে না লাফটা রেগেমেগে দিয়েছিলেন, নাকি করেছেন আত্মহত্যাই, সেটা এখনো নিশ্চিত নয়। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে তদন্তের পর। তবে তদন্তের আগে দুই রকম তথ্য পেয়েছে পুলিশ।
তরুণ এই অ্যাথলেট নাকি মাতাল অবস্থায় বাড়িতে ফেরেন অন্য এক নারীকে সঙ্গে নিয়ে।
স্ত্রী ট্রিজা এনজেরি সেটা নিয়ে প্রশ্ন করতেই দুজনের বচসা হয়। তার পরই বারান্দা থেকে পড়ে যাওয়ার ঘটনা এবং ওয়ানজিরুর মৃত্যু। আবার এমনও শোনা যাচ্ছে, ওয়ানজিরুর স্ত্রী বাড়ি ফিরে স্বামীকে বিছানায় দেখেন অন্য এক নারীর সঙ্গে। ক্রুদ্ধ জেরি শোয়ার ঘরে তালা লাগিয়ে দৌড়ে বাইরে চলে যান। এরপর ওয়ানজিরু বারান্দা থেকে লাফ দেন। কয়েক মাস ধরেই দাম্পত্য কলহ চলছিল স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে।

মহিলা ফুটবলে শারমিনের হ্যাটট্রিক

কাল শামস উল হুদা স্টেডিয়ামে জাতীয় মহিলা ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ আঞ্চলিক পর্বের উদ্বোধনী দিনে শারমিন আক্তারের হ্যাটট্রিকে যশোর ৫-০ গোলে হারিয়েছে রাজবাড়ী জেলাকে। লিমা ৫, ৬৮ ও ৭৪ মিনিটে করেছেন গোল তিনটি। বাকি দুই গোল রেহানার। কাল খেলার উদ্বোধন করেন স্থানীয় সাংসদ খালিদুর রহমান।