Monday, March 30, 2026

নিজের শুক্রাণু ব্যবহার করে ‘শিশু প্রজনন খামার’ গড়ার পরিকল্পনা করেছিলেন এপস্টিন

প্রকাশ ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ঃ যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত যৌন নিপীড়নকারী জেফরি এপস্টিন ২০১৯ সালে নিউইয়র্কের কারাগারে মারা যান। অভিযোগ আছে, মৃত্যুর আগে এপস্টিন তাঁর ধনসম্পদ ও সামাজিক প্রভাবকে ব্যবহার করে এমন এক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করেছিলেন, যা অস্বস্তিকর। তিনি নিজের শুক্রাণু ব্যবহার করে অনেক অনেক সন্তানের জন্ম দিতে চেয়েছিলেন। আর এর মধ্য দিয়ে এপস্টিন এমন এক মানবগোষ্ঠী তৈরি করতে চেয়েছিলেন, যাদের মধ্যে তাঁর ডিএনএ থাকবে।

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনের অনুযায়ী, বছরের পর বছর ধরে এপস্টিন বিভিন্ন বিজ্ঞানী ও পরিচিত ব্যক্তিদের কাছে নিজের একটি ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন। এপস্টিন চাইতেন, নিউ মেক্সিকোতে অবস্থিত তাঁর বিশাল খামারে তাঁর শুক্রাণু ব্যবহার করে নারীরা গর্ভধারণ করুক এবং অনেক সন্তান হোক।

যাঁরা ব্যক্তিগতভাবে এ পরিকল্পনার কথা শুনেছিলেন, তাঁরা এটিকে ‘বেবি র‍্যাঞ্চ’ বা ‘শিশু প্রজনন খামার’ বলে উল্লেখ করেছেন। তবে তাঁর এ পরিকল্পনা বাস্তবে কখনো কার্যকর হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। হয়ে থাকলেও তা আইনত অপরাধ বলে বিবেচিত হবে কি না, তা–ও স্পষ্ট নয়।

বছরের পর বছর ধরে তদন্তকারী ও সাংবাদিকেরা দেখিয়েছেন, এপস্টিন তাঁর আর্থিক সাফল্য নিয়ে বাড়িয়ে বলতেন। তিনি তাঁর গ্রাহকদের পরিচয় ভুলভাবে উপস্থাপন করতেন। ব্যবসা ও বিজ্ঞানে নিজের ভূমিকার কথাও বাড়িয়ে বলতেন এপস্টিন। তবু অর্থ ও একনিষ্ঠ প্রচেষ্টায় তিনি রাজনীতি, অর্থনীতি ও শিক্ষাঙ্গনের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মধ্যে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছিলেন।

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এপস্টিন একই কৌশল ব্যবহার করে অভিজাত বিজ্ঞানী মহলেও ঢুকে পড়েছিলেন। বিশিষ্ট কয়েকজন বিজ্ঞানীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। এমন কয়েকজন বিজ্ঞানী হলেন নোবেলজয়ী পদার্থবিজ্ঞানী মারে গেল-মান, তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানী ও লেখক স্টিফেন হকিং, বিবর্তনবিজ্ঞানী স্টিফেন জে. গুল্ড এবং স্নায়ুতত্ত্ববিদ জর্জ এম চার্চ।

এপস্টিন বিজ্ঞানবিষয়ক বিভিন্ন সম্মেলন এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণার খরচ বহন করতেন। তিনি অনানুষ্ঠানিকভাবে কিছু বৈজ্ঞানিক সভারও আয়োজন করতেন। সেখানে ব্যয়বহুল খাবার খেতে খেতে বিজ্ঞানীরা তাঁদের মতামত ভাগাভাগি করতেন। পরে অনেক বিজ্ঞানী বলেছিলেন, বিভিন্ন কাজে তহবিল পাওয়ার আশায় তাঁরা এপস্টিনের অপরাধমূলক ইতিহাসের দিকে নজর দেননি।

এপস্টিন হার্ভার্ড বিশ্বিব্যালয়ের ইভোল্যুশনারি ডাইনামিকস প্রোগ্রাম-এ ৬৫ লাখ ডলারের অনুদান দিয়েছিলেন। এপস্টিনের অনুদানে যেসব কনফারেন্স হতো, সেগুলো যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিন আইল্যান্ডসে আয়োজন করা হতো। সেখানে উড়োজাহাজে করে অতিথিদের নিয়ে আসা হতো এবং তাঁর ব্যক্তিগত দ্বীপে তাঁদের জন্য বিনোদনের ব্যবস্থা করা হতো। একবার স্টিফেন হকিংসহ কয়েকজন বিজ্ঞানী এপস্টিনের চার্টার্ড সাবমেরিনে উঠেছিলেন।

হার্ভার্ডের মনোবিজ্ঞানী স্টিভেন পিঙ্কার বলেছেন, এপস্টিন একবার তাঁকে একটি অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। ওই বৈঠকে তাঁর সহকর্মী গণিতজ্ঞ ও জীববিজ্ঞানী মার্টিন নোয়াক এবং পদার্থবিজ্ঞানী লরেন্স ক্রাউসকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। ওই আলোচনা এপস্টিনের নিয়ন্ত্রণাধীন ছিল।

‘বেবি র‍্যাঞ্চ’ বা ‘শিশু প্রজনন খামার’

হার্ভার্ডের এক আলোচনা সভায় এপস্টিন দরিদ্র দেশগুলোতে খাদ্যসংকট কমানো ও স্বাস্থ্যসেবা বাড়ানোর উদ্যোগের সমালোচনা করেছিলেন। তাঁর দাবি ছিল, এ ধরনের উদ্যোগ জনসংখ্যা বাড়িয়ে দেবে।

হার্ভার্ডের মনোবিজ্ঞানী স্টিভেন পিঙ্কার ওই সভায় উপস্থিত ছিলেন। তিনি এপস্টিনের এই বক্তব্যের বিরোধিতা করেন। বিভিন্ন গবেষণা প্রতিবেদনে পাওয়া ফলাফলের ভিত্তিতে পিঙ্কার যুক্তি দেখিয়েছিলেন, শিশু মৃত্যুহার বেশি হলে বরং পরিবারগুলো বেশি সন্তান নেয়।

পিঙ্কারের ওই কথায় এপস্টিন নাকি বিরক্ত হয়েছিলেন। পরে পিঙ্কার এক সহকর্মীর কাছ থেকে জানতে পারেন, তাঁকে আর এপস্টিনের আয়োজিত সভায় আমন্ত্রণ জানানো হবে না।

২০০০–এর দশকের শুরুর দিকে এপস্টিন বিজ্ঞানী ও ব্যবসায়ীদের বলতেন, তিনি নিউ মেক্সিকোতে থাকা তাঁর সম্পদকে কাজে লাগাতে চান। সেখানকার সান্তা ফে শহরের কাছে তাঁর মালিকানাধীন ৩৩ হাজার বর্গফুটের একটি জোরো র‍্যাঞ্চ ছিল। তিনি সেটিকে এমন একটি কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন, যেখানে তাঁর শুক্রাণু ব্যবহার করে নারীদের গর্ভধারণ করানো হবে।

দুজন পুরস্কারপ্রাপ্ত বিজ্ঞানী এবং ধনকুবেরদের উপদেষ্টা হিসেবে পরিচিত এক ব্যক্তির বরাতে নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে বিভিন্ন নৈশভোজ ও সম্মেলনে এপস্টিন তাঁদের কাছে এই পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন।

এই ধারণা শুধু ব্যক্তিগত আলাপেই সীমাবদ্ধ ছিল না। একজন উপদেষ্টা বলেছেন, তিনি শুধু এপস্টিনের কাছ থেকেই নয়, ম্যানহাটানের এক অনুষ্ঠানে এক প্রভাবশালী ব্যবসায়ীর কাছ থেকেও এই পরিকল্পনার কথা শুনেছিলেন। যাঁরা এ বিষয়ে শুনেছিলেন, সবাই এটিকে অস্বস্তিকর ও অবাস্তব বলে উল্লেখ করেছেন।

নিজেকে নাসার বিজ্ঞানী হিসেবে পরিচয় দেওয়া এক নারী বলেন, এপস্টিন চাইতেন, র‍্যাঞ্চে যেকোনো সময় অন্তত ২০ জন নারী অন্তঃসত্ত্বা থাকুক। এপস্টিন ‘রিপোজিটরি ফর জার্মিনাল চয়েস’ নামের একটি স্পার্ম ব্যাংক (শুক্রাণু সংরক্ষণ কেন্দ্র) থেকে অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন। এ স্পার্ম ব্যাংক এখন আর চালু নেই।

রিপোজিটরি ফর জার্মিনাল চয়েস নামে প্রতিষ্ঠানটি গঠনের উদ্দেশ্য ছিল, নোবেলজয়ীদের কাছ থেকে শুক্রাণু সংগ্রহ করা। কারণ, তারা বিশ্বাস করত, নোবেলজয়ীদের জিন মানবজাতিকে আরও শক্তিশালী করবে। তবে ১৯৯৯ সালে বন্ধ হয়ে যাওয়ার আগপর্যন্ত মাত্র একজন নোবেলজয়ী প্রতিষ্ঠানটিতে শুক্রাণু দান করেছিলেন।

এপস্টেইন নিজের দেহ সংরক্ষণ করে রাখার ইচ্ছা নিয়েও খোলাখুলি কথা বলতেন। তাঁর এক সহযোগী বলেন, এপস্টিন ‘ক্রায়োনিকস’ নিয়ে আলোচনা করতেন। এটি এমন একটি অপ্রমাণিত পদ্ধতি, যেখানে মৃত্যুর পর ভবিষ্যতে পুনরুজ্জীবনের আশায় দেহ হিমায়িত করে রাখা হয়। ওই ব্যক্তির মতে, এপস্টিন চেয়েছিলেন, তাঁর মাথা ও যৌনাঙ্গ সংরক্ষণ করা হোক।

সন্তান ও গোপনীয়তার অভিযোগ

এপস্টিন কখনো সন্তানের বাবা হয়েছিলেন কি না, এই প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর এখনো পাওয়া যায়নি। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এপস্টিন–সংক্রান্ত অনেক নথি প্রকাশ করেছে। সেখানে এমন কিছু বিষয়ের উল্লেখ রয়েছে, যা থেকে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি সম্ভবত সন্তানের বাবা হয়েছিলেন।

এর মধ্যে একটি ডায়েরির অংশ রয়েছে। সেখানে এক নারী লিখেছেন, তিনি ২০০২ সালের দিকে একটি কন্যাশিশুর জন্ম দেন। তখন তাঁর বয়স ছিল ১৬ বা ১৭ বছর। ওই নারীর দাবি, জন্মের কয়েক মিনিটের মধ্যেই শিশুটিকে তাঁর কাছ থেকে নিয়ে যাওয়া হয়। এপস্টিনের সাবেক সঙ্গী গিলেন ম্যাক্সওয়েল পুরো প্রক্রিয়াটি তত্ত্বাবধান করেছিলেন।

তবে এসব অভিযোগের সত্যতা আলাদা করে যাচাই করা হয়নি। কথিত শিশুটির কী হয়েছিল, তা–ও অজানা।

ওই নারীর আইনজীবীরা ডায়েরিটি ফেডারেল কৌঁসুলিদের কাছে দিয়েছিলেন। পরে তিনি ছদ্মনামে বিনিয়োগকারী লিওন ব্ল্যাকের বিরুদ্ধে মামলা করেন। সেখানে এপস্টিনের বাড়িতে ব্ল্যাক তাঁকে ধর্ষণ করেছেন বলে অভিযোগ করেন ওই নারী। ব্ল্যাক এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং মামলাটি এখনো বিচারাধীন।

এপস্টিনের কোনো সন্তান ছিল কিনা, তার কোনো প্রকাশ্য প্রমাণ নেই। তাঁর উইলেও সন্তানের কথা উল্লেখ নেই। কারিনা শুলিয়াক নামের এক নারী তাঁর সর্বশেষ বান্ধবী বলে পরিচিত। ওই নারীর জন্য তিনি তাঁর ব্যক্তিগত দ্বীপ, ম্যানহাটানের বাড়ি এবং ৫ কোটি ডলার রেখে যেতে চেয়েছিলেন।

এপস্টিনের নিউইয়র্কের বাড়ি থেকে পাওয়া একটি ভিডিওতে একটি টেবিলের ওপর ডিএনএ পিতৃত্ব পরীক্ষার নথি দেখা গেছে। ওই ভিডিও কবে ধারণ করা হয়েছে, তা উল্লেখ করা হয়নি।

২০১১ সালে যুক্তরাজ্যের লেখিকা সারা ফার্গুসন এক ই–মেইলে এপস্টিনকে একটি ছেলেসন্তান জন্ম দেওয়ার জন্য অভিনন্দন জানান। সারাহ ওই ই–মেইলে উল্লেখ করেছিলেন, তিনি ডিউক অব ইয়র্কের কাছ থেকে এ তথ্য পেয়েছিলেন। পরে ফার্গুসন ইঙ্গিত দেন, তাঁকে এই বার্তা পাঠাতে উৎসাহিত করা হয়েছিল। এরপর আর কিছু শোনেননি।

জেফরি এপস্টিন ও তাঁর সাবেক বান্ধবী গিলেন ম্যাক্সওয়েল
জেফরি এপস্টিন ও তাঁর সাবেক বান্ধবী গিলেন ম্যাক্সওয়েল। ছবি: এএফপি ফাইল ছবি

দক্ষিণ এশিয়ায় কেন ‘খ্রিষ্টান রাষ্ট্রের’ গুঞ্জন by আলতাফ পারভেজ

দক্ষিণ এশিয়ার কোনো দেশে খ্রিষ্টীয় বিশ্বাসের মানুষের সংখ্যা ১০ শতাংশও নয়। এমনকি শ্রীলঙ্কার বাইরে বাকি সাতটি দেশে ৫ শতাংশের নিচে। তারপরও এই অঞ্চলজুড়ে একটা খ্রিষ্টান রাষ্ট্রের গুঞ্জন আছে বহুদিন ধরে। এসব দেশের অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তি মাঝেমধ্যে এ গুঞ্জনের কথা এত গুরুত্ব দিয়ে বলেন যে তাতে আঁচ-অনুমানের শাখা-প্রশাখা আরও বাড়ে। প্রশ্ন হলো, বাস্তবে এ রকম একটা কল্পিত রাষ্ট্রের সত্যতা কতটুকু? নাকি এটা শুধু সংখ্যাগুরুদের জুজু দেখানোর রাজনৈতিক কৌশলমাত্র?

প্রায় ২ লাখ বর্গকিলোমিটারের বিশাল বলয়!

দক্ষিণ এশিয়ায় খ্রিষ্টান ধর্মের প্রচার ও প্রসার শুরু কেরালা, তামিলনাড়ুর দিকে। কেউ কেউ এ ক্ষেত্রে তক্ষশীলার কথাও বলে। পুরোনো তক্ষশীলা এখন পড়েছে পাকিস্তানের পাঞ্জাবে। এর মধ্যে কেরালায় এখন প্রায় ২০ শতাংশ জনসংখ্যা খ্রিষ্টান। তামিলনাড়ুতে সেটা ৬ শতাংশের মতো। পাকিস্তানে ১ শতাংশের কম।

খ্রিষ্টান রাষ্ট্রের গুঞ্জনটা অবশ্য এসব পরিসংখ্যান থেকে তৈরি হয়নি। এ গুঞ্জনের ভরকেন্দ্র দক্ষিণ এশিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় জনপদগুলো। মিয়ানমারের সন্নিহিত অঞ্চলও তাতে যুক্ত হয়েছে। উত্তর–পূর্ব জনপদগুলোর মধ্যে মেঘালয় (৭১ শতাংশ), মিজোরাম (৮৭ শতাংশ) এবং নাগাল্যান্ডে (৮৮ শতাংশ) খ্রিষ্টানরা সংখ্যাগরিষ্ঠ।

এই তিন জনপদ যে লাগোয়া, তা নয়, তবে কাছাকাছি। মিয়ানমারের চিন এস্টেট এদের কাছের জনপদ। চিন এলাকায় ৯৬ শতাংশ মানুষ একই ধর্মাবলম্বী।

দক্ষিণ এশিয়ায় চারটি জায়গা হলো খ্রিষ্টানপ্রধান। চারটি জায়গাতেই খ্রিষ্টধর্মাবলম্বী রাজনীতিবিদদের রাজ্য চালানোর অভিজ্ঞতা আছে। তবে জনপদগুলো আয়তনে ও লোকসংখ্যায় ছোট।

এই চারটি এলাকার পাশাপাশি মণিপুর ও অরুণাচলকেও যদি উল্লেখযোগ্যসংখ্যক খ্রিষ্টান জনসংখ্যার (৪১ ও ৩০ শতাংশ) কারণে কাছে টানা হয়, তাহলে বেশ বড় একটা বলয় তৈরি হয়। আয়তনে যা দুই লাখ বর্গকিলোমিটারও ছাড়িয়ে যায়।

ভিন্ন ভিন্ন নামে কাছাকাছি থাকা বেশ বড় একটি এলাকার জনবিন্যাসের এ রকম প্রবণতা নিশ্চিতভাবে চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার প্রধান তিন ধর্ম হিন্দু-মুসলমান-বৌদ্ধ ‘মুরব্বিদের’ এটা ভালোভাবে নজরে পড়েছে। মিজোরাম ও চিনসংলগ্ন বাংলাদেশের বান্দরবানের সীমান্তবর্তী উপজেলাগুলোয় (রুমা, থানচি, রোয়াংছড়ি) খ্রিষ্টধর্মাবলম্বীদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতির কারণে বিষয়টা ঢাকায়ও মনোযোগের বিষয় হয়েছে। বান্দরবানে খ্রিষ্টান জনসংখ্যা ১০ শতাংশের মতো।

গুঞ্জনের বহু কারণ

দক্ষিণ এশিয়ায় খ্রিষ্টান রাজ্যের গুঞ্জন কেবল এই বিশ্বাসীদের সংখ্যাগত বৃদ্ধির কারণে নয়; উল্লিখিত এলাকাগুলোর অনেক বৈশিষ্ট্যও এ বিষয়ে সহায়ক ভূমিকা রেখেছে। মেঘালয়, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড, চিন, মণিপুর, বান্দরবানের একাংশ এবং অরুণাচলের মধ্যে অনেক এলাকায় নানা ধরনের দাবিতে নিরস্ত্র-সশস্ত্র ব্যাপক আন্দোলন-সংগ্রাম চলছে।

কোথাও কোথাও সশস্ত্রতার ধরন অনেক ব্যাপক ও গভীর, কোথাও তা মৃদু, কিন্তু অগ্রাহ্য করার মতো নয়। এসব সশস্ত্রতার আবার প্রধান একটা ধরন দেখা যাচ্ছে, এ অঞ্চলের ‘রাষ্ট্র’গুলোর পরিচালকদের প্রতি আস্থার গভীর এক সংকট। এ রকম অনাস্থার পটভূমি তৈরি করেছে উপরিউক্ত প্রতিটি এলাকার উন্নয়ন-প্রান্তিকতা। ব্রিটিশরা চলে যাওয়ার পর থেকে এ রকম প্রতিটি জনপদের মানুষ নিজেদের ক্রমে সংকুচিত ও সীমিত গণ্ডিতে আবিষ্কার করছে। ফলে তাদের মধ্যে একধরনের আত্মরক্ষার বোধ বাড়ছে।

এসব জনপদের মানুষ জানে তারা কোনো দেশের কেন্দ্রীয় সরকারের নীতিসিদ্ধান্তকে খুব একটা প্রভাবিত করতে পারবে না। যেমন ৫৪৩ আসনের ভারতীয় লোকসভায় অরুণাচল-মণিপুর-মেঘালয়-মিজোরাম-নাগাল্যান্ড মিলে আসন ৯টি। অথচ সেখানে শুধু উত্তর প্রদেশের জন্য আসন ৮০টি। মিয়ানমারের পার্লামেন্টের (দুই কক্ষ মিলে) ৬৬৪ আসনে চিন এস্টেটের জন্য আসন আছে ২১টি। বাংলাদেশে ৩০০ আসনের পার্লামেন্টে বান্দরবানের জন্য আসন ১টি। যেহেতু আসন বণ্টিত হয় জনসংখ্যার হিস্যায়, তাই এই বাস্তবতাটা শিগগিরই বদলাবেও না। ফলে এসব জনপদের মানুষ জানে, নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় তাদের উপস্থিতি সীমিত থাকতে বাধ্য।

অতীতে বিশেষ করে ঔপনিবেশিক শাসনামলের আগে ও তার মধ্যে এসব জায়গার জাতিসত্তাগুলো সমতলের মানুষদের থেকে দূরে পাহাড়ি এলাকায় যে রকম ট্রাইবাল স্বশাসন ভোগ করেছে, তার ঘাটতিও তাদের মধ্যে একধরনের হতাশার বোধ তৈরি করে।

এখন নিজেদের চারপাশে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধদের সংখ্যাবৃদ্ধির মুখে তারা স্বধর্ম রক্ষার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করতে শুরু করেছেন। দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে বিভিন্ন সময় চার্চগুলোয় আক্রমণ এবং এই ধর্মবিশ্বাসীদের ওপর হামলার ঘটনাও উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় জনপদের মানুষদের আত্মরক্ষার বোধে একটা ধর্মীয় ধরন যুক্ত করেছে। একেই ভারত, মিয়ানমার ও বাংলাদেশের মূলধারার অনেক মানুষ খ্রিষ্টবলয় তৈরির চেষ্টা আকারে ভাবেন। এ রকম ভাবনার কারণ এটাও যে ওপরের এলাকাগুলোয় খ্রিষ্টান রাজনীতিবিদদের সঙ্গে চার্চের সম্পর্কও বেশ নিবিড়।

আবার কিছু কিছু এলাকায় খ্রিষ্টান জনসংখ্যার উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি এবং তার অতি প্রচারও কথিত গুঞ্জনের একটা উপাদান হয়েছে। তবে এরপরও ভারতে খ্রিষ্টান জনসংখ্যা ৩ শতাংশেরও কম। কিন্তু বিষয়টি আরএসএস পরিবারের কাছে এত স্পর্শকাতর যে খ্রিষ্টানমুখী ধর্মান্তরকরণ ঠেকাতে অন্তত ৯টি রাজ্যে ধর্মান্তরকরণবিরোধী আইন করা হয়েছে। সেখানে আরএসএস-বিজেপি পরিবারের অন্যতম সাংস্কৃতিক প্রতিপক্ষ হলো গির্জামণ্ডলী।

তবে ধর্মান্তরকরণ ও খ্রিষ্টান জনসংখ্যা বাড়ার প্রচার দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে অনেক সময় একপেশে চেহারাও নেয়। যেমন বাংলাদেশে অনেকে বান্দরবানের খ্রিষ্টান জনসংখ্যার বৃদ্ধি নিয়ে বলেন। কিন্তু শুমারির তথ্যে দেখা যায়, সেখানে ৯-১০ শতাংশ খ্রিষ্টানের বিপরীতে মুসলমান জনসংখ্যা প্রায় ৫৩ শতাংশ এবং সর্বশেষ দুটি শুমারির মধ্যে শেষোক্তরা প্রায় ৮ শতাংশ বেড়েছে। অথচ একই সময়ে খ্রিষ্টান জনসংখ্যা ১ শতাংশও বাড়েনি সেখানে।

কিন্তু খ্রিষ্টানরা কি নতুন দেশ চাইছে?

প্রশ্ন হলো, এত কিছুর মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার খ্রিষ্টান সমাজ বা উল্লিখিত জনপদগুলো কি কখনো ধর্মভিত্তিক নতুন কোনো রাষ্ট্রের দাবি তুলেছে? এর জন্য কোনো রাজনৈতিক আন্দোলন আছে? এ রকম দাবির সপক্ষে খ্রিষ্টান সমাজের বা গির্জামণ্ডলীর কোনো ইশতেহার আছে? সচরাচর এসব প্রশ্নের বিশ্বাসযোগ্য উত্তর পাওয়া যায় না।

তারপরও ক্রমাগত এ রকম দাবি ও গুঞ্জন উঠছে। সেটা ঘটছে মুখ্যত অখ্রিষ্টানদের তরফ থেকে। দক্ষিণ এশিয়ার প্রায় সব দেশে বিশেষ বিশেষ মতাদর্শের বিভিন্ন প্রচারমাধ্যমে মাঝেমধ্যেই বিষয়টি সক্রিয় হয়ে ওঠে। ভারতে ‘স্বরাজমার্গ’ নামে হিন্দুত্ববাদী একটা বিখ্যাত মিডিয়া এই ইস্যুতে বেশ এগিয়ে।

কৌতূহলোদ্দীপক হলো, ভারতের হিন্দুত্ববাদীদের মতো আশপাশের অন্যান্য দেশের বৌদ্ধ ও ইসলামপন্থী অনেক মহলও এ প্রচারণায় উৎসাহী। বিপরীত দৃষ্টিভঙ্গির সংস্থাগুলোর এ রকম একই ধরনের অবস্থান দক্ষিণ এশিয়ায় সামাজিক আর কোনো বিষয়ে তেমন দেখা যায় না। ভারতসহ সর্বত্র ভোট এলে দেখা যায়, খ্রিষ্টানরা প্রধানত মধ্যপন্থী কংগ্রেস বা মধ্য-বাম আঞ্চলিক দলগুলোকে ভোট দিচ্ছে। এটাও তাদের প্রতি ডানপন্থী প্রচারণা বাড়িয়ে দিয়ে থাকতে পারে।

খ্রিষ্টান রাষ্ট্রের গুঞ্জনকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে কথিত ওই রাষ্ট্রের জন্য ইউরোপ-আমেরিকার আগ্রহের কথাও বলা হয় প্রচারে। কিন্তু তার সপক্ষে কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায় না এখনো। কিন্তু এ রকম প্রচার খ্রিষ্টানদের জন্য নানাভাবে বিব্রত অবস্থা তৈরি করছে।

বাংলাদেশ খ্রিষ্টান অ্যাসোসিয়েশনের নেতা অ্যালবার্ট ডি কস্টা কয়েক মাস আগে এ বিষয়ে এক বিবৃতিতে বলেছিলেন, খ্রিষ্টান রাষ্ট্রের প্রচার তাদের সঙ্গে অন্যান্য সম্প্রদায়ের দূরত্ব সৃষ্টির ঝুঁকি তৈরি করছে।

তারপরও যে এ রকম একটা প্রচারের পালে সম্প্রতি আরও বাতাস লেগেছে, তার কারণ মণিপুর ও চিন প্রদেশের ঘটনাবলি। মাসের পর মাস ধরে চলমান মণিপুর দাঙ্গায় হিন্দু মৈইতৈইদের হাতে খ্রিষ্টান কুকিরা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পার্শ্ববর্তী মিজোরামে তাদের প্রতি সহানুভূতির নীরব এক ঢেউ তৈরি হয়েছে। সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে যুদ্ধরত মিয়ানমারের চিন প্রদেশের স্থানীয়দের প্রতিও মিজোরামের অনুরূপ সহানুভূতি রয়েছে।

এই তিন জায়গার মানুষই ‘জো’ জাতির শাখা-উপশাখা। বান্দরবানের বম খ্রিষ্টানরাও একই জাতিসত্তার দূরবর্তী অংশীদার। উত্তর-পূর্বাঞ্চলজুড়ে জো সমাজের এ রকম ঘটনাবলিতে এতদঞ্চলে খ্রিষ্টান রাষ্ট্রের গুঞ্জন তীব্রতা পেলেও কার্যত এ ধারণা বাস্তবসম্মত না হওয়ার কারণ একই জনপদগুলোয় নাগাদের উপস্থিতি।

নাগারাও খ্রিষ্টান, কিন্তু জোদের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক খুব বেশি প্রীতিকর নয়। ফলে নাগাল্যান্ড, মণিপুরসহ আশপাশে কেবল খ্রিষ্টান ধর্মীয় বিশ্বাস সামনে রেখে নাগা ও কুকিরা (জো) একটা রাষ্ট্র গড়তে চাইবে বা পারবেন সেটা খুব কম রাজনৈতিক ভাষ্যকারের কাছে বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়।

এমনকি কেবল জো–অধ্যুষিত অঞ্চলগুলো নিয়ে কোনো রাষ্ট্রের ধারণাও মিজো নেতা জোরামথাংঙা কিছুদিন আগে (২১ জুন) প্রথম আলোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নাকচ করেছেন। তাঁর মতে, দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ‘জো’দের বিভক্তি অনাকাঙ্ক্ষিত হলেও এটা এখন এক বাস্তবতা। কারণ, তিনটি পৃথক রাষ্ট্রের সীমান্তে আছে তারা।

মিয়ানমারের গৃহযুদ্ধ অনিশ্চিত ভবিষ্যতের ইন্ধন দিচ্ছে

মিয়ানমারের চলতি গৃহযুদ্ধ এবং তার সম্ভাব্য পরিণতিও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় খ্রিষ্টান রাষ্ট্রের গুঞ্জনে একধরনের উসকানি হিসেবে কাজ করছে বলা যায়। এই গৃহযুদ্ধে সবচেয়ে সক্রিয় তিনটি প্রান্তিক অঞ্চল হলো দক্ষিণ-পূর্বের কারেন, উত্তরের কাচিন এবং পশ্চিমের চিন অঞ্চল। এই তিন এলাকায় গেরিলা যুদ্ধ সবচেয়ে বেশি সুসংগঠিত এবং এই তিন অঞ্চলে খ্রিষ্টান ধর্মবিশ্বাসের মানুষও অনেক।

এ রকম মনে করা হয় যে দেশটির কেন্দ্রীয় অঞ্চলে গণতন্ত্রপন্থীদের সশস্ত্র সংগ্রাম যদি বিজয়ী হয় তাহলে প্রান্তিক এলাকা যে বাড়তি স্বায়ত্তশাসন ভোগ করবে, সেটা অনেকটা স্বাধীন রাষ্ট্রের চেহারা নিতে পারে। আবার গণতন্ত্রপন্থীদের সংগ্রাম অনিশ্চিতভাবে দীর্ঘায়িত হলেও গেরিলা-দৃঢ়তা এ তিন অঞ্চলকে অনুরূপ চেহারা দিতে পারে।

মিয়ানমারের এ রকম সম্ভাবনায় ভারত উদ্বিগ্ন। সে কারণে তারা ওই দেশের সঙ্গে তার সীমান্ত অনেকটাই বন্ধ করে দিতে চায় বলে খবর বেরিয়েছে। সীমান্ত এলাকার ট্রাইবালরা অবশ্য এর ঘোর বিরোধী। কারণ, এতে তারা জাতিগতভাবে চিরস্থায়ীভাবে বিভক্ত হয়ে পড়ার শঙ্কায় পড়েছে।

উল্লেখ্য, ১৯৫০-এর এক চুক্তির বলে সীমান্তবর্তী ট্রাইবাল জনগোষ্ঠী পাসপোর্ট-ভিসাবিহীন একধরনের সাধারণ ভ্রমণ পাস নিয়ে অপর দেশের ১৬ কিলোমিটার ভেতর পর্যন্ত আসা-যাওয়া করতে পারে। শুরুতে চুক্তি অনুযায়ী ৪০ কিলোমিটার ভেতর পর্যন্ত এই সুবিধা ছিল। পরে কমিয়ে ১৬ কিলোমিটার করা হয় সেটা।

মিজোরাম, মণিপুর, নাগাল্যান্ড ও অরুণাচলের ১ হাজার ৬৪৩ কিলোমিটার সীমান্তজুড়ে এ সুবিধা রয়েছে। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার বলছে, তারা এ সুবিধা আর রাখতে চায় না। কারণ, এটা তাদের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য হুমকি।

অন্যদিকে এ ঘোষণার পর জো সংগঠনগুলো বলছে, এটা করার আগে ভারত-মিয়ানমার-বাংলাদেশে বিভক্ত হয়ে থাকা তাদের জাতির মানুষদের একত্র করে দেওয়া হোক। তা না হলে তারা এ রকম পদক্ষেপের বিরোধিতা করবে। জো-রিইউনিফিকেশন অর্গানাইজেশন (জো-রো) নামের একটা সংগঠন দেশ-বিদেশে এ বিষয়ে কথা বলছে। দক্ষিণ এশিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে খ্রিষ্টান রাষ্ট্রের গুঞ্জন বাড়ার এটাও এক কারণ।

তবে এ রকম যাবতীয় গুঞ্জন অতিক্রম করে সরেজমিনে আরও গভীরে মনোযোগ দিলে দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রায় সব পাহাড়ি উপত্যকায় ধর্মের বদলে একধরনের অর্থনৈতিক-সাংস্কৃতিক সার্বভৌমত্বের আকুতিই বেশি শোনা যায়। কিন্তু মূলধারার রাজনীতি তার স্বার্থেই যেন কেবল খ্রিষ্টান রাষ্ট্রের গুঞ্জনে বেশি আগ্রহী, সাংস্কৃতিক-অর্থনৈতিক সুশাসন বা স্বশাসনে নয়।

আলতাফ পারভেজ, দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাস বিষয়ে গবেষক

দক্ষিণ এশিয়ায় কেন ‘খ্রিষ্টান রাষ্ট্রের’ গুঞ্জন

ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া নিয়ে বিব্রত হচ্ছেন? by ডা. সাইফ হোসেন খান

লজ্জা ও দ্বিধার কারণে শরীরের নানা সমস্যার কথা আমরা অনেক সময় প্রকাশ করি না, চেপে যাই। বিশেষ করে প্রস্রাব নিয়ন্ত্রণের সমস্যা বা ব্লাডার নিয়ে কথা বলা আমাদের সমাজে এখনো একধরনের অস্বস্তির বিষয়। অথচ এ সমস্যা খুবই সাধারণ। সবচেয়ে বড় কথা, এর বেশির ভাগই প্রতিরোধযোগ্য বা নিয়ন্ত্রণযোগ্য। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, মূত্রথলি–সম্পর্কিত অনেক ভুল ধারণা বা ‘মিথ’ আজও ছড়িয়ে আছে আমাদের চারপাশে।

মিথ ১: আমার ব্লাডার ছোট, তাই বারবার প্রস্রাব হয়

অনেকে মনে করেন, ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া মানেই ব্লাডার ছোট। বাস্তবে বিষয়টি একেবারেই তা নয়। বেশির ভাগ মানুষের ব্লাডারের ধারণক্ষমতাই যথেষ্ট। সমস্যা হয় তখন, যখন ব্লাডার ঠিকভাবে সংকুচিত বা প্রসারিত হতে পারে না কিংবা মস্তিষ্ক থেকে সংকেত পেতে দেরি হয়। অর্থাৎ ছোট ব্লাডার নয়; বরং এর কার্যকারিতার সমস্যার কারণে ঘন ঘন প্রস্রাব হতে পারে।

মিথ ২: কেবল বয়স্ক বা নারীরাই ব্লাডারের সমস্যায় ভোগেন

এটিও সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। যদিও গর্ভধারণ, সন্তান জন্মদান ও হরমোন পরিবর্তনের কারণে নারীদের মধ্যে ব্লাডার ইনকন্টিনেন্স বা নিয়ন্ত্রহীন মূত্রথলির প্রবণতা কিছুটা বেশি, তবে পুরুষদেরও এ সমস্যা হতে পারে। বয়স বা লিঙ্গপরিচয় যা–ই হোক, জীবনযাত্রা, অতিরিক্ত ওজন, ধূমপান, এমনকি কিছু ওষুধও এর ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

মিথ ৩: পানি কম খেলে সমস্যা কমবে

অনেকেই ভাবেন, পানি কম খেলে প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাবে, ফলে ব্লাডারও ‘আরাম পাবে’। আসলে তা নয়। পানি কম খেলে প্রস্রাব ঘন হয়ে যায়, যা ব্লাডারকে আরও বেশি উত্তেজিত করে, বাড়িয়ে দেয় প্রস্রাবের চাপ। তাই প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি। অল্প অল্প করে, সারা দিনে সমানভাবে ভাগ করে পানি খেতে হবে।

মিথ ৪: কেগেল ব্যায়ামই একমাত্র সমাধান

কেগেল (প্রস্রাব নিয়ন্ত্রণের ব্যায়াম) ব্লাডারের চারপাশের মাংসপেশি মজবুত করতে দারুণ কার্যকর, তবে এটি একমাত্র সমাধান নয়। কিছু ক্ষেত্রে খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন, ক্যাফেইন ও অ্যালকোহল গ্রহণ কমানো, ওজন নিয়ন্ত্রণ বা ওষুধ প্রয়োজন হতে পারে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী থেরাপি বা ফিজিওথেরাপিও উপকার দিতে পারে।

মিথ ৫: আগে থেকেই প্রস্রাব করে নেওয়া ভালো অভ্যাস

অনেকে ঘর থেকে বের হওয়ার আগে বা দীর্ঘ পথ ধরার আগে প্রস্রাব করে নেন। কিন্তু সময়ের আগেই বারবার ব্লাডার খালি করলে শরীরের স্বাভাবিক সংকেতের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়। এতে ব্লাডার ছোট হয়ে যেতে পারে এবং পরে আরও ঘন ঘন প্রস্রাবের প্রবণতা দেখা দিতে পারে।

সচেতনতার শুরু নিজ থেকেই

‘ওভারঅ্যাকটিভ ব্লাডার’ বা অতি সক্রিয় মূত্রথলি এমন একটি অবস্থা, যেখানে মানুষ ঘন ঘন প্রস্রাবের চাপ বোধ করে, অনেক সময় ধরে রাখতে না পারার আশঙ্কা থাকে। শারীরিকভাবে এটি বিপজ্জনক না হলেও মানসিক ও সামাজিক জীবনে প্রভাব ফেলে। তবে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব। সঠিক জীবনযাপন, পর্যাপ্ত পানি পান, নিয়মিত ব্যায়াম, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং চিকিৎসকের পরামর্শে চিকিৎসা গ্রহণ—এসবই ব্লাডারকে সুস্থ রাখার মূল চাবিকাঠি।

মূত্রথলির সমস্যা কোনো লজ্জার বিষয় নয়; বরং এটি শরীরের একটি সংকেত। ভুল ধারণার বেড়াজাল থেকে বেরিয়ে এসে সচেতন হোন, সমস্যা থাকলে কথা বলুন, প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের সাহায্য নিন। কারণ, নিজের শরীর সম্পর্কে জানাই হলো সুস্থ জীবনের প্রথম পদক্ষেপ।

* ডা. সাইফ হোসেন খান, মেডিসিন কনসালট্যান্ট পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ধানমন্ডি

ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া মানেই ব্লাডার ছোট, বাস্তবে বিষয়টি একেবারেই তা নয়
ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া মানেই ব্লাডার ছোট, বাস্তবে বিষয়টি একেবারেই তা নয়। ছবি: পেক্সেলস

কুমিরের হঠাৎ এই খ্যাপা আচরণ কেন? by গওহার নঈম ওয়ারা

পরিবেশের তৈরি স্বাভাবিক খাদ্যশৃঙ্খলা নষ্ট করে রাতারাতি কিছু টাকা কামানো গেলেও আখেরে সেটা জলবায়ু পরিবর্তনের ভুক্তভোগীদের অভিযোজনে সাহায্য করবে না এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায়ও ভূমিকা রাখবে না। সুন্দরবনের পটভূমিতে চলমান অভিযোজন প্রক্রিয়ার সীমাবদ্ধতা নিয়ে লিখেছেন গওহার নঈম ওয়ারা

পরবর্তী জলবায়ু সম্মেলন কপ৩০ এ বছরের নভেম্বরে ব্রাজিলের বেলেমে অনুষ্ঠিত হবে। এই সম্মেলনের প্রধান আলোচ্যসূচি হবে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার জন্য জাতিসংঘের নেতৃত্বে বিভিন্ন দেশের মধ্যে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ, বিশেষত অভিযোজন ও জলবায়ু অর্থায়ন।

পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়েই মানুষ বেঁচে আছে শুরু থেকে। অনেক প্রতিকূলতা আর বিপর্যয়ের মধ্যেও টিকে যায় শুধু মানুষ, কেউ কেউ বলেন, ‘তেলাপোকাও’! মানুষ কেবল টিকে থাকেনি, সে তার বিকাশের পথও আজ অবধি চালু রেখেছে। বিকাশ রুদ্ধ হলেই বিনাশ ত্বরান্বিত হয়।

দুনিয়াজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের মাতম গবেষকদের স্পর্শ করার অনেক আগে থেকেই মানুষের এই পথপরিক্রমা জারি ছিল। বিকল্প জীবিকা আর বসতি খুঁজে নেওয়ার কাজ মানুষের মজ্জাগত। অভিযোজনের জ্ঞান তাকে গুহা থেকে গৃহে নিয়ে এসেছে। এনেছে জঙ্গল থেকে নগরে। কিন্তু গোল বেধেছে হঠাৎ গজিয়ে ওঠা অভিযোজন বিশেষজ্ঞদের তাড়াহুড়ো আর ব্র্যান্ডিং তৎপরতা নিয়ে। সে কথা বলতেই এই লেখার অবতারণা।

২.

সুন্দরবন বিশেষজ্ঞ ও বিশিষ্ট গণমাধ্যমকর্মী মোহসীন উল হাকিম গত ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ এক স্ট্যাটাসে লিখেছিলেন, ‘কাঁকড়া ধরে ফিরছিলেন সুব্রতরা। পথে বড় খাল করমজল। এখানে কুমির আছে। মাঝে মাঝেই আক্রমণ করে। গত বছর মারা গেল মোশাররফ। তাই সবাই বেশ সতর্ক। পাঁচজনের কাঁকড়াশিকারির দল। সবাই পার হয়ে গেলেন। সুব্রত ছোটখাটো মানুষ। ওঠার সময় পানিতে একটু খাবি খেয়ে দাঁড়িয়ে পড়লেন। এক মুহূর্ত। দুই পা একসঙ্গে কামড়ে ধরল বিশাল এক কুমির। সাথে সাথে সুব্রতর হাত ধরে ফেলল সহযাত্রীরা। শুরু হলো টানাটানি। চারজন মিলে প্রায় তিন মিনিট চেষ্টা করল। কিন্তু পানির নিচে থাকা কুমিরের শক্তির কাছে পরাস্ত হলো। সুব্রতকে নিয়ে গেল সুন্দরবনের কুমির।’

শুধু সুব্রত নন, ২০২৪ সালের ১৫ মে সুন্দরবন–সংলগ্ন ফকিরকোনা এলাকায় খাইরুল ইসলাম মোড়ল প্রাণ হারান কুমিরের আক্রমণে। একই বছর যুবক রাজু হাওলাদার নদীতে গোসল করতে গিয়ে কুমিরের কামড়ে আহত হন।

২০২৫ সালের ১১ মে শনিবার আবদুল কুদ্দুস কুমিরের আক্রমণে আহত হয়ে ভাগ্যক্রমে বেঁচে ফেরেন। কুদ্দুস ও হালিম দলবল নিয়ে ৩৫ থেকে ৩৬ বছর ধরে মাছ, কাঁকড়া শিকারে সুন্দরবনে যাতায়াত করেন, কিন্তু কুমিরের এ রকম মারমুখী আচরণ তাঁদের নজরে পড়েনি।

এর আগে ২০১৫ সালে মধু কাটতে তালপট্টি এলাকায় গিয়ে বাঘের কবলে পড়লেও কুমিরের তাড়া খাননি কখনো। কুমিরের এ রকম আক্রমণাত্মক আচরণ সাম্প্রতিক বছরগুলোয় সুন্দরবনের পশ্চিমবঙ্গ অংশেও বেশ বেড়েছে। কুমিরের হামলায় সেখানকার মানুষ তটস্থ।

২০২৫ সালের ৪ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার দুপুরে সুনীল মণ্ডল সুন্দরবনের গোসাবা ব্লকের ট্রিবলিঘেরি লাগোয়া দত্ত নদে কাঁকড়া ধরতে যান। এলাকাটি পড়েছে পশ্চিমবঙ্গের সুন্দরবন কোস্টাল থানার লাহিড়িপুর পঞ্চায়েতের মধ্যে। কাঁকড়া ধরার সময় আচমকা পেছন থেকে কুমির সুনীলের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। তাঁকে টানতে টানতে নদীর মাঝখানে নিয়ে যায়।

৫০ বছরের সুনীল মণ্ডলকে আর জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। কুমিরের আক্রমণে নিহত ও আহতের তালিকা ক্রমে বাড়ছে। বাড়ছে বাঘ–বিধবার মতো কুমির–বিধবার সংখ্যা। কাঁকড়া ধরতে গিয়ে বা গ্রামের লাগোয়া নদীতে ঘরগৃহস্থালির কাজ করতে গিয়ে নারীরাও কুমিরের শিকার হচ্ছেন।

ওডিশা উপকূলের এক নারীকে কুমিরে টেনে নিয়ে যাওয়ার ভিডিও ২০২৩ সালের আগস্ট মাসে ভাইরাল হয়েছিল। ওডিশার জাজপুরের পালাতপুর গ্রামের সেই ঘটনা নদীর কাছেই উপস্থিত এক ব্যক্তি ভিডিও করেছিলেন বলে ঘটনাটি সবার সামনে এসেছিল, না হলে আর পাঁচটা নিখোঁজ ঘটনার সঙ্গে সেটাও সবাই গুলিয়ে ফেলতেন।

এদিকে দাকোপসহ সুন্দরবনের কাছাকাছি সব কটি লোকালয়ে কুমিরের আনাগোনার খবর আগের যেকোনো সময়ের থেকে এখন বেশি। বিশেষ করে নাগর নদী সংলগ্ন এলাকায় মানুষ কুমিরের উপস্থিতিতে আতঙ্কে রয়েছেন, যা তাঁদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা অনেকটা থামিয়ে দিয়েছে। দৈনন্দিন কাজে নদীর ব্যবহার নিয়ে ভয় বাড়ছে ক্রমে।

বাঁধের বাইরে আগেও সুতারখালীর (দাকোপ) মানুষ বসবাস করেছেন জোয়ার-ভাটার মধ্যেই। তাঁরা জীবিকার পথ খুঁজে নিয়েছেন।

৩.

কুমিরের হঠাৎ এই খ্যাপা আচরণ কেন?

করমজল বন্য প্রাণী প্রজনন ও পর্যটনকেন্দ্রের কর্মকর্তার কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সংবাদকর্মীদের জানান, খাবারের খোঁজে কিংবা আবাসসংকটে কুমিরগুলো পার্শ্ববর্তী নদীগুলোয় চলে আসছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুন্দরবনে কুমিরের খাদ্য, যেমন কাঁকড়া, মাছ ইত্যাদি কমে গেলে এরা মানুষের ওপর আক্রমণ করে। তা ছাড়া কাঁকড়ার খোঁজে মানুষ যখন কুমিরের এলাকায় প্রবেশ করেন, তখন কুমির তাঁদের নিজেদের আক্রান্ত মনে করে এবং আক্রমণ করে।

কুমিরের খাদ্যনিরাপত্তায় কেন ব্যাঘাত ঘটছে?

এই প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে আছে আমাদের জনপ্রিয় অভিযোজন প্রচেষ্টার মধ্যে। বাংলাদেশ–পশ্চিমবঙ্গের সুন্দরবন উপকূল থেকে ওডিশার বালেশ্বর ও ভদ্রক জেলায় একসময় ধুমসে চিংড়ির চাষ হতো।

নানা কারণে উপকূলে চিংড়ি চাষ মুখ থুবড়ে পড়েছে অনেক দিন। চিংড়ি আমাদের পরিবেশ, প্রতিবেশ ও প্রাণবৈচিত্র্যনির্ভর জীবন-জীবিকাকে ক্ষতবিক্ষত করছে নানাভাবে। উপকূলে চিংড়ি চাষ বা সাদা সোনার লাগামহীন আবাদ লবণাক্ততা বাড়িয়ে মানুষকে দেশান্তরি করেছে।

অভিযোজন ব্যবসায়ীরা এখন ‘সাদা সোনার বদলে কালো সোনার’ ধান্দা ধরিয়ে দিচ্ছেন মানুষের হাতে। বলার চেষ্টা করছেন, কালা সোনা মানে কাঁকড়ার চাষ পরিবেশ-প্রতিবেশ এবং জীবন ও জীবিকাবান্ধব। কথাটা কি ঠিক?

পরিবেশের তৈরি স্বাভাবিক খাদ্যশৃঙ্খলা নষ্ট করে রাতারাতি কিছু টাকা কামানো গেলেও আখেরে সেটা না জলবায়ু পরিবর্তনের ভুক্তভোগীদের অভিযোজনে সাহায্য করবে, না জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ভূমিকা রাখবে। কেউ কেউ বলছেন, কাঁকড়ার হ্যাচারি করে সুন্দরবনের কাঁকড়া সুরক্ষা সম্ভব।

চিংড়ি চাষের স্বর্ণযুগেও একই কথা বলা হয়েছিল। চিংড়ির হ্যাচারি হয়নি আর সাগরের চিংড়ি পোনা ধরাও বন্ধ হয়নি এক দিনের জন্যও। তার ওপর হ্যাচারিতে কাঁকড়ার বেঁচে থাকার রেকর্ড ৩ শতাংশের আশপাশেই থাকছে। তাই সুন্দরবনের আর উপকূলের কাঁকড়া ধরার কোনো বিকল্প নেই। নির্বিচার কাঁকড়া ধরার কারণে কুমিরের খাবারে টান পড়ছে, তাই তারাও খেপে উঠছে, মানুষকে তাড়া করছে, শিকার করছে কাঁকড়ার বদলে আস্ত মানুষ, গবাদি প্রাণী।

৪.

আমরা জানি, সাতক্ষীরা, খুলনা, কক্সবাজারে কাঁকড়া চাষ এবং আহরণ এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক কার্যক্রম। আন্তর্জাতিক বাজারে ডিমওয়ালা কাঁকড়ার চাহিদা অনেক বেশি। ফলে চাষি ও জেলেরা বেশি মুনাফার আশায় যত পারছেন ডিমওয়ালা কাঁকড়া রপ্তানির জন্য প্যাকেটে ভরে ফেলছেন।

গবেষকেরা বলছেন, ডিমওয়ালা কাঁকড়া রপ্তানির উন্মাদনা কাঁকড়ার প্রজনন চক্রে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে। ডিমওয়ালা কাঁকড়া প্রকৃতির পরবর্তী প্রজন্ম তৈরির মূল উৎস। এগুলো যদি রপ্তানির বাক্সে চলে যায়, তাহলে ডিম থেকে নতুন কাঁকড়া জন্মানোর সুযোগ কমে যায়। ফলে দীর্ঘ মেয়াদে কাঁকড়ার প্রাকৃতিক সংখ্যা কমে গিয়ে কুমিরের খাদ্যশৃঙ্খলে বিরূপ প্রভাব ফেলবে ও ফেলছে।

অভিযোজনের নামে চিংড়ির বদলে কাঁকড়া চাষের ব্যবসা শুরুর আগে জালে ডিমওয়ালা কাঁকড়া উঠলে বনজীবীরা সেগুলো ছেড়ে দিতেন। সেটাই ছিল প্রকৃতির সঙ্গে বসবাসের একটি জনপ্রিয় আচরণ। এখন মাদি কাঁকড়া ৮০০ টাকা থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা কেজি বিক্রি হয় সাতক্ষীরার কাঁকড়া মোকামে। মাদি কাঁকড়ার পেট ডিমে ভরে উঠলে সেটা বিক্রির উপযুক্ত হয়। তার মানে, কাঁকড়ার বংশবৃদ্ধির পথ রুদ্ধ হয়ে যাচ্ছে ক্রমেই।

এখন কাঁকড়ার সংখ্যা কমে যাওয়ায় কুমিরের জন্য সহজলভ্য খাদ্যসংকট দেখা দিচ্ছে। বিশেষত ছোট ও মাঝারি বয়সী কুমির কাঁকড়ার ওপর বেশি নির্ভরশীল। বলাবাহুল্য, খাদ্যের প্রাপ্যতা কমে গেলে কুমিরদের পর্যাপ্ত পুষ্টি পাওয়া দিন দিন কঠিন হয়ে যাবে। পুষ্টির সংকটে প্রজননক্ষমতা হ্রাস পায়, বেঁচে থাকার হার কমে যায়। নিরুপায় কুমির তাই মানুষের বসতিতে চলে আসছে। সমস্যা বাড়ছে।

৫.

মনে রাখতে হবে, কাঁকড়া শুধু কুমিরের খাদ্য নয়, ম্যানগ্রোভ বাস্তুতন্ত্রের মাটির গঠন ও পুষ্টি পুনঃচক্রের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। তাই অভিযোজনের নামে কালো সোনার কথা বলে নির্বিচার কাঁকড়া নিধন ও ডিমভরা কাঁকড়া রপ্তানিতে একদিকে কুমির যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়, অন্যদিকে পুরো ইকোসিস্টেমেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।

দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া প্রান্তিক মানুষের বাঁচার নিজস্ব উদ্যোগকে অভিযোজনের নামে হেলাফেলা করা যাবে কি?

১৯৮৮ সালের প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ের পর ঘরবাড়িহারা নিঃস্ব মানুষেরা দাকোপের কালাবগি গ্রামে নদীর চরে লম্বা খুঁটির ওপর ঝুলন্ত পাড়া গড়ে তোলেন। জোয়ারে ডুবে যাওয়া এসব চর আবার ভাটিতে ভেসে ওঠে। এটা ছিল তাঁদের অভিযোজন কৌশল। কাঁকড়াগাছের খুঁটি, শিরীষ কাঠের পাটাতন ও গোলপাতার বেড়া দিয়ে তৈরি করে নেন নিজেদের আবাস। ঘরেই চলে রান্না-খাওয়া, ঘুমানো। প্রতিটি ঘরের সঙ্গে রয়েছে ঝুলন্ত শৌচাগার।

এক–দুইটা করে বাড়তে বাড়তে ২০২২ সালে ঝুলন্ত পাড়ার ঘরের সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়ে যায়। সিডর ও আইলার আঘাতে বসতভিটা আর রাস্তা ভেঙে যাওয়ায় পাড়াটির পরিধি বাড়তে থাকে। আগে কুমির কালেভদ্রে ভদ্রা বেয়ে সুতারখালী নদীতে আসত। এখন কুমিরের এই আনাগোনা প্রতিদিনের ঘটনা। দূরে বা ভাটায় ভেসে ওঠা চরে ক্ষণিকের রোদ পোহানো নয়, রীতিমতো ঘরের নিচে রাতদিন জোয়ারে, ভাটায় ঘুরঘুর করছে কুমির।

উপকূলের ভাঙনের মুখে আরেক দল মানুষ ছোট ছোট নৌকায় বসবাস করছেন। বিরূপ প্রকৃতিকে মোকাবিলা করে জীবন–জীবিকা রক্ষার এটাও একটা প্রচেষ্টা, এটাও অভিযোজন। ‘মান্তা’ নামে পরিচিত এসব হাজার হাজার প্রান্তিক মানুষ পটুয়াখালী, বরগুনা, লক্ষ্মীপুর, ভোলা অঞ্চলে সারা বছর নৌকাতেই থাকেন।

এটাই এখন তাঁদের বাঁচার পথ। এককালের মৎস্যজীবী এসব মানুষ স্থলভাগের জমি-ঘর হারিয়ে নৌকাতেই আশ্রয় নিয়েছেন। সরকারি জনগণনা বা মৎস্য জরিপে তাঁদের আলাদা করে ধরা হয় না।

ইলিশ রক্ষার নামে ইলিশ শিকার বন্ধের সময় তাঁদের নৌকাতেও শিকল পরানো হয়, মানে ভাসতে দেওয়া হয় না। সরকারি খাতায় তাঁদের নাম না থাকায় তাঁরা কোনো আপৎকালীন খাদ্যসহায়তারও হকদার নন।

মজার ব্যাপার, তাঁরা তাঁদের ছোট ছোট নৌকা নিয়ে মোহনার এমন দূরে যেতে পারেন না, যেখানে ইলিশ থাকে। তাঁরা মাছ ধরেন ছোট ছোট খাঁড়িতে, নদীসংলগ্ন খাল–বিল আর শাখা নদীতে। ইলিশ রক্ষার প্রচেষ্টা থেকে তাঁদের রেহাই না দিলে এই মানুষগুলোর বাঁচার পথ থাকবে না।

ভবদহ অঞ্চলে জল বদ্ধতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার জন্য যাঁরা একসময় পুকুর আর ঘেরের প্রেসক্রিপশন দিয়েছিলেন, তাঁরা নিশ্চয় বুঝতে পারছেন, কী ক্ষতি তাঁরা করেছেন। জলাবদ্ধতা দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। বাড়ছে লম্বায়, বহরে।

ফসলের জমিতে ফল চাষে আয় বাড়লেও খাদ্য আর সামাজিক নিরাপত্তা লাটে উঠছে। গোলপাতা বাঁচানোর ভ্রান্ত পদক্ষেপের গলি দিয়ে এসবেসটারের কোলে চড়ে সুন্দরবনের জনপদে যে মরণবিষ ছড়িয়ে পড়ছে, তার কী হবে। এসব নিয়ে অভিযোজন–যজমানরা নিশ্চয়ই আলোচনা করবেন!

* গওহার নঈম ওয়ারা, লেখক গবেষক
- wahragawher@gmail.com
- মতামত লেখকের নিজস্ব

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নদীতেও কুমিরের দেখা মিলছে
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নদীতেও কুমিরের দেখা মিলছে। ফাইল ছবি : প্রথম আলো

৫০ বছরে কখনো হাসপাতালে যাননি শতবর্ষী নারী

চীনের একটি ছোট্ট গ্রামে বাস করেন ১০২ বছর বয়সী এক নারী। তাঁর জীবনযাপনের গল্প সম্প্রতি ইন্টারনেটে আলোড়ন তুলেছে, বহু মানুষের মন জয় করেছে।

ওই নারীর নাম জিন বাওলিং। তিনি চীনের ঝেজিয়াং প্রদেশের তাইঝৌয়ের একটি গ্রামে বসবাস করেন। তাঁর ছেলে, ছেলের বউ এবং নাতি–নাতনিরা নিয়মিত তাঁকে দেখতে যান।

হাসিখুশি স্বভাবের জিন গ্রামে বেশ জনপ্রিয়। গ্রামের বাসিন্দারা সবাই শতবর্ষী এই নারীকে ভালোবাসেন, আদর করে ‘ওল্ড বেবি’ ডাকেন।

তাইঝৌ ইভিনিং নিউজের খবর অনুযায়ী, শত বছর বয়স হলেও জিন এখনো খুবই বুদ্ধিদীপ্ত এবং শারীরিকভাবে সুস্থ। গত ৫০ বছরে তাঁকে কখনো হাসপাতালে যেতে হয়নি।

জিন প্রতিদিন সকাল ৯টায় ঘুম থেকে ওঠেন, হাতমুখ ধুয়ে বাগানে কিছুক্ষণ রোদ পোহান। সন্ধ্যা ৭টার ভেতর তিনি রাতের খাবার শেষ করে ঘুমাতে চলে যান। এর মাঝে দিনের বেলাতেও তিনি খানিকটা ঘুমিয়ে নেন।

তাঁর ছেলে হু হুয়ামেই বলেন, তিনি দিনে ১৫ ঘণ্টাও ঘুমিয়ে থাকতে পারেন।

জিন তাঁর খাবারের বিষয়েও খুব সচেতন। তাঁর সকালের নাশতায় থাকে ডাম্পলিং ও বান। দুপুর ও রাতের খাবারে সাধারণত নুডলস বা ভাত থাকে, মাংস তাঁর খুবই প্রিয়, তিনি প্রতিদিন মাংস খান। তাঁকে প্রতি বেলার খাবার একটি বড় বাটিতে পরিবেশন করা হয়।

প্রধান খাবারের পাশাপাশি জিন নাশতায় কেক, রুটি এবং বাদামি চিনি ও লাল খেজুর দিয়ে বানানো চা খান।

এ ছাড়া জিন দিনে তিনটি কমলা এবং দুটো ডিম খান। তবে তিনি সবজি খেতে খুব একটা পছন্দ করেন না। নিয়মিত তিনি রাইস ওয়াইন পান করেন।

হাঁটাচলা করতে জিনের অন্যের সহায়তা প্রয়োজন হয়। তবে তাঁর দৃষ্টিশক্তি এখনো তীক্ষ্ণ। তিনি এখনো মোজা বুনতে পারেন, জুতা মেরামত করতে পারেন।

জিনের ছেলে মায়ের সুস্বাস্থ্যের পেছনে তাঁর সব সময় হাসিখুশি থাকার ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন।

হু বলেন, ‘তিনি কখনো কারও সঙ্গে ঝগড়া করেন না। যদি দেখেন কোনো সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে, তিনি সব ভুলে যান।’

হু সংবাদমাধ্যমকে আরও বলেন, তাঁর মা একজন সহজ–সরল গ্রামীণ গৃহিণী, যিনি পরিবারের সবাইকে নিয়ে মিলেমিশে থাকাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন। তাঁর সবচেয়ে বড় চাওয়া, পরিবারের শান্তি ও সুখ। তিনি চান তাঁর পরিবার সব সময় সুখে–শান্তিতে বসবাস করুক।

https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla%2F2026-03-14%2Fmgj05t8a%2FCapture.PNG?rect=0%2C0%2C807%2C538&w=622&auto=format%2Ccompress&fmt=avif
জিন বাওলিং। ছবি: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট

চিকিৎসায় লাখো রোগীর ভরসা মা ও শিশু হাসপাতাল by ফাহিম আল সামাদ

চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালে একজন রোগী মাত্র ১০০ টাকা খরচ করে চিকিৎসক দেখাতে পারেন। সেখানে চিকিৎসকেরা সরাসরি তাঁদের সেবা দেন। প্রয়োজন হলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে পাঠানো হয়, তবে এর জন্য বাড়তি টাকা লাগে না।

সন্তানের হঠাৎ জ্বরে আঁতকে ওঠেন মো. ইয়াসিন আরাফাত। তড়িঘড়ি করে বাসার কাছে চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালে ছুটে আসেন তিনি। চিকিৎসকদের জানান, ছেলে দুই দিন ধরে জ্বরে ভুগছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসক তাঁকে আশ্বস্ত করেন, তাঁর সন্তান ঠিক আছে। সাধারণ ফ্লুতে আক্রান্ত হয়েছে। বাসায় পরিচর্যা হলেও সুস্থ হয়ে যাবে।

সম্প্রতি নগরের আগ্রাবাদ এলাকায় চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের বহির্বিভাগের সামনে কথা হয় ইয়াসিনের সঙ্গে। বাবার কাঁধে মাথা দিয়ে আছে তিন বছরের শিশু রায়হান। ইয়াসিন জানান, পরিবার নিয়ে আগ্রাবাদ রঙ্গিপাড়া এলাকায় থাকেন তিনি। পেশায় ব্যবসায়ী। সন্তানের হঠাৎ জ্বরে ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়ার আতঙ্কে ভুগছিলেন। এখন নিশ্চিন্ত হয়েছেন।

ইয়াসিনের সঙ্গে কথা বলার সময় হাসপাতালের শিশু স্বাস্থ্য বহির্বিভাগে আরও ৩০ থেকে ৪০ জন অপেক্ষা করছিলেন। জ্বর, সর্দি-কাশি, ব্যথা—এসব সমস্যায় তাঁদের সবার শিশু আক্রান্ত। নগরের আগ্রাবাদ, চৌমুহনী, হালিশহর ও আশপাশের এলাকার বাসিন্দাদের জন্য কাছের হাসপাতাল এটি, যেখানে দ্রুত ও সহজে সেবা পান বলে জানিয়েছেন রোগীরা।

হাসপাতালের তথ্যানুযায়ী, হাসপাতালের বহির্বিভাগ ও অন্তর্বিভাগে মিলে প্রতিদিন গড়ে দুই হাজার রোগী হাসপাতাল থেকে সেবা নিচ্ছেন। এর মধ্যে বহির্বিভাগ থেকে সেবা নিচ্ছেন ১ হাজার ২০০ জনের বেশি। গত বছর মোট ৪ লাখ ৭১ হাজার রোগী হাসপাতালটির বহির্বিভাগ থেকে সেবা নিয়েছেন। সব মিলিয়ে রোগী ছিল ৭ লাখ ৩৯ হাজারের বেশি।

চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালে একজন রোগী মাত্র ১০০ টাকা খরচ করে চিকিৎসক দেখাতে পারেন। সেখানে চিকিৎসকেরা সরাসরি তাঁদের সেবা দেন। প্রয়োজন হলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে পাঠানো হয়, তবে এর জন্য বাড়তি টাকা লাগে না। তবে সরাসরি অধ্যাপককে দেখাতে চাইলে ৫০০ টাকা, সহযোগী অধ্যাপককে ৪০০ টাকা ও সহকারী অধ্যাপককে দেখাতে চাইলে ৩৫০ টাকা ফি দিতে হয় একজন রোগীকে।

হাসপাতালের প্রশাসন বিভাগের পরিচালক ডা. মো. নুরুল হক বলেন, কোনো রোগী যদি অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক কিংবা সহকারী অধ্যাপককে ফি দিয়ে দেখান, তাহলে এক সপ্তাহের মধ্যে আবার তিনি দেখাতে পারবেন। এর জন্য বাড়তি কোনো টাকা লাগবে না।

মূলত প্রায় ১০ হাজার আজীবন সদস্য, ৪০০ দাতা সদস্য ও সরকারি-বেসরকারি অনুদানে চলে বৃহৎ এই হাসপাতাল। প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনার জন্য আজীবন সদস্যদের মধ্য থেকে নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়। ভবিষ্যতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নতুন আরেকটি রেডিওথেরাপি মেশিন কেনার পরিকল্পনা করছে। এ ছাড়া এমআরআই ও মেমোগ্রাফি মেশিনও কেনার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

নগরের আগ্রাবাদ এলাকায় ১৯৭৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর চারতলা ভবনে যাত্রা শুরু হয়। সে শুরুর তিন বছরে রোগীর সংখ্যা ছিল সব মিলিয়ে ৩৫ হাজারের মতো। সে সময় প্রায়ই আগ্রাবাদ এলাকায় জোয়ারের পানির কারণে হাসপাতালের নিচতলায় গোড়ালিসমান পানি উঠত। এরপর চার দশক পেরিয়েছে। প্রায় ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০১৪ সালে ১৩ তলার নতুন হাসপাতাল ভবন নির্মাণ শুরু করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

২০২৩ সালে চট্টগ্রাম মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতাল নামে উদ্বোধন করা হয় সেই ভবন। বর্তমানে হাসপাতালের সব বিভাগ এ ভবনেই। পাশাপাশি ১৫০ শয্যার ক্যানসার ইনস্টিটিউটের ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে ২০২১ সালে। ১৩০ কোটি টাকা ব্যয়ের এই ইনস্টিটিউট ২০২৩ সালের ৫ নভেম্বর উদ্বোধন করা হয়। এখন পর্যন্ত ৮০০-এর মতো রোগী এখান থেকে রেডিওথেরাপি সেবা নিয়েছেন। প্রতিদিন এ সেবা নিচ্ছেন ৬০-৬৫ জন।

৪০০ চিকিৎসকসহ প্রায় ২ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন এখানে। হাসপাতালটিতে সাধারণ সব রোগের চিকিৎসাসহ ৩৪ শয্যার সিসিইউ, ৩০ শয্যার অত্যাধুনিক আইসিইউ, কার্ডিয়াক ইউনিট, নিওনেটলজি, শিশু আইসিইউ, নিউরোসার্জারি, মা-শিশুর জন্য বিশেষ ইউনিট, কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার ও শিশুবিকাশ কেন্দ্র রয়েছে। ক্যাথল্যাবে সব ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চিকিৎসার পাশাপাশি স্বাস্থ্য শিক্ষাতেও নানা উদ্যোগ তারা নিয়েছে। ২০০৫-০৬ সালে ৫০ আসনের চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হয়। বর্তমানে প্রতি ব্যাচে ১১৫ জন শিক্ষার্থী এমবিবিএস সম্পন্ন করছেন। ২০০৭ সালে প্রতিষ্ঠিত নার্সিং ইনস্টিটিউটে ডিপ্লোমা কোর্সে ৫০ জন এবং ২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠিত নার্সিং কলেজের বিএসসি অনার্স (নার্সিং) কোর্সে ৫০ জন ভর্তি করা হয় বছরে।

হাসপাতালের নির্বাহী কমিটির সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ মোরশেদ হোসেন বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি, যাতে রোগীদের সব ধরনের সুবিধা দিতে পারি। মা ও শিশু হাসপাতালের অধীন জেনারেল হাসপাতাল, ক্যানসার ইনস্টিটিউট, নার্সিং ইনস্টিটিউটসহ বেশ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমাদের পরিকল্পনা আছে আরও কিছু যন্ত্রপাতি কেনার। এ জন্য সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতা প্রয়োজন।’

চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন একজন চিকিৎসক। সম্প্রতি তোলা
চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন একজন চিকিৎসক। সম্প্রতি তোলা। ছবি: সৌরভ দাশ