Saturday, March 27, 2010

ইসলামে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব by মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান

স্বাধীনতা মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো জনগোষ্ঠীর জন্য এক বিশেষ নিয়ামত। প্রকৃতিগতভাবে মানুষ স্বাধীন। প্রত্যেক মানুষ মাতৃগর্ভ থেকে স্বাধীনভাবে জন্মগ্রহণ করে। এটাই মানুষের স্বাভাবিক প্রবৃত্তি। আল্লাহ তাআলা মানব জাতিকে সহজাত এমন প্রকৃতি দিয়ে সৃষ্টি করেছেন যে সে নিরঙ্কুশ কোনো সত্তার কাছে ছাড়া অন্য কারও কাছে নতি স্বীকার করতে চায় না।
আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতিনিধি হিসেবে সৃষ্টির সেরা জীবরূপে শ্রেষ্ঠত্বের মর্যাদা দিয়ে মানবজাতিকে অত্যন্ত সম্মানিত করেছেন। তাই মানুষ স্বাভাবিকভাবে এবং সংগত কারণে বহুলাংশে স্বাধীনচেতা। সহজে কোনো প্রকার দাসত্ব মেনে নিতে চায় না। সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক প্রভৃতি সব ধরনের পরাধীনতা ইসলামে সমর্থনীয় নয়। মানুষকে কোনো প্রকার দাসত্ব বা পরাক্রমশালী শত্রুর অত্যাচার ও পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ করা যাবে না—পবিত্র কোরআনের আয়াত থেকে এ চেতনা লাভ করা যায়। ইরশাদ হয়েছে, ‘যে মুক্ত করে তাদেরকে তাদের গুরুভার হতে ও শৃঙ্খল হতে যা তাদের ওপর ছিল, সুতরাং যারা তাঁর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে, তাঁকে সম্মান করে, তাঁকে সাহায্য করে এবং যে নূর তাঁর সাথে অবতীর্ণ হয়েছে এর অনুসরণ করে তারাই সফলকাম।’ (সূরা আল-আরাফ, আয়াত: ১৫৭)
ইসলামে স্বাধীনতার লক্ষ্য হলো মহান আল্লাহর দেওয়া জীবন বিধানের অনুগমন ও সর্বত্র এর প্রতিফলন। ইসলামের নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) একটি স্বাধীন ভূখণ্ড লাভের জন্য কঠোর সাধনা করেছিলেন। পৃথিবীতে চিরসত্য, ন্যায় ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে আল্লাহর আনুগত্যে সামষ্টিকভাবে সমর্পিত হওয়ার জন্য অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষার পর তিনি ও তাঁর সাহাবিরা মদিনায় হিজরতের মধ্য দিয়ে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র অর্জন করেছিলেন এবং মক্কা বিজয়ের মাধ্যমে সে স্বাধীনতার বিস্তৃতি ও পূর্ণতা অর্জিত হয়েছিল। জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করে চিন্তা ও মত প্রকাশের পূর্ণ সুযোগ প্রদান করে নবী করিম (সা.) ব্যক্তিস্বাধীনতাকে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয়ভাবে সর্বতোরূপে প্রতিষ্ঠা করেন। মহানবী (সা.)-এর কল্যাণমূলক আরব রাষ্ট্র সারা পৃথিবীর ইতিহাসে একটি চিরন্তন আদর্শের নমুনা হয়ে আছে।
ইসলাম মাতৃভূমির স্ব্বাধীনতা রক্ষার জোরালো তাগিদ দিয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সা.) হিজরত করার পর মদিনাকে নিজের মাতৃভূমি হিসেবে গণ্য করেন এবং দেশের স্ব্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করার জন্য সর্বাত্মক ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। তাঁর জীবনের অনেক প্রতিরোধ যুদ্ধ ছিল মদিনা রাষ্ট্রের সুরক্ষার জন্য।
ইসলাম স্বাধীনতার প্রতি শুধু উদ্বুদ্ধই করে না, বরং স্বাধীনতা অর্জন ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জীবনদানকে শাহাদাতের মর্যাদা প্রদান করে। ইসলামে এমন স্বাধীনতার মর্যাদা সম্পর্কে নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘একদিন ইসলামি রাষ্ট্রের সীমান্ত পাহারা দেওয়া পৃথিবী ও তার অন্তর্গত সবকিছুর চেয়ে উত্তম।’ অন্য একটি হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, ‘মৃত ব্যক্তির সব আমল বন্ধ হয়ে যায়, ফলে তার আমল আর বৃদ্ধি পেতে পারে না। তবে ওই ব্যক্তির কথা ভিন্ন যে ব্যক্তি কোনো ইসলামি রাষ্ট্রের সীমান্ত প্রহরায় নিয়োজিত থাকা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে। তার আমল কিয়ামত পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে থাকবে এবং কবরের প্রশ্নোত্তর থেকেও সে মুক্ত থাকবে।’ (তিরমিযি, আবু দাউদ)
প্রকৃতপক্ষে মানব সমাজ থেকে অন্যায়ের মূলোত্পাটন করা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ আহ্বান। সকল প্রকার শোষণ, নির্যাতন, অন্যায় ও অবিচারের মূলে রয়েছে জুলুম। পরাক্রমশালী শত্রুর অত্যাচার ও পরাধীনতার শৃঙ্খল অন্যায়ের দ্বারা ব্যক্তির স্বাধিকার হরণ করা হয়। পরাধীনতা জুলুমের ক্ষেত্র প্রসারিত করতে সাহায্য করে। অথচ ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং জুলুমের অবসান ঘটানো ইসলামের অন্যতম লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। তাই মানব জীবনে সার্বভৌম রাষ্ট্র অতীব প্রয়োজনীয়। স্বাধীন রাষ্ট্র ছাড়া সুশৃঙ্খল ও সুসংগঠিত সমাজ বা জনগোষ্ঠী তৈরি করা সম্ভব নয়।
বাংলাদেশসহ বিশ্বের ইতিহাসে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ মুক্তিসংগ্রাম, গণ-আন্দোলন, স্বাধীনতাযুদ্ধ বা কঠিনতম কর্মের মধ্যে আত্মদানকারী অসংখ্য দেশপ্রেমিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মহান নেতাদের নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা আছে। আমাদের দেশ ও মাতৃভূমিকে রক্ষার জন্য যাঁরা নিজেদের জীবন উত্সর্গ করেছেন তাঁদের মর্যাদা অতি মহান, অতি উচ্চে। তাঁরা দেশ ও জাতির গৌরব। ইসলামের দৃষ্টিতে তাঁরা শহীদ, শাহাদতের সর্বোচ্চ মর্যাদায় ভূষিত।
প্রকৃতপক্ষে মানব জীবনে স্বাধীনতা মহান আল্লাহর অপূর্ব দান। স্বাধীনতার জন্য শোকর আদায় করে শেষ করা যায় না। বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনকে সুসংহত করা ও সুরক্ষার দায়িত্ব আমাদের সবার। ১৯৭১ সালে যাঁরা আমাদের এ অমূল্য স্বাধীনতা অর্জনে পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষ অবদান রেখেছেন, সেসব শহীদ জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। সমগ্র জাতি তাঁদের কাছে চিরঋণী। সুখী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে আমাদের সবারই স্বাধীনতা রক্ষায় ও ফলপ্রসূকরণে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করতে হবে। যেকোনো দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে অংশগ্রহণ যত না গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়েও বেশি গুরুত্ব রাখে দেশগঠনে অংশীদার। এ ক্ষেত্রে জনগণের ভূমিকাকে খাটো করে দেখার অবকাশ নেই। তাঁরা নিজেদের অবস্থান থেকে দেশ, জাতি ও সমাজের জন্য সাধ্যানুযায়ী ভূমিকা রেখে যাচ্ছেন। জাতির প্রয়োজনে তাঁদের আরও সক্রিয় ভূমিকা সময়ের অনিবার্য দাবি। স্বাধীন দেশের ক্রান্তিলগ্নে সব ভেদাভেদ ভুলে দলমত সবার ঐক্য প্রয়োজন। আমাদের স্ব্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে সুরক্ষা করতে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার এগিয়ে আসা উচিত। তাই আসুন না সবাই মিলে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের এক সাগর রক্তের বিনিময়ে অর্জিত দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি একে অর্থবহ করতে ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা পালন করে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে নতুন সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ি।
ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান: সহকারী অধ্যাপক, ইসলামিক একাডেমী, দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়।

ভয়েস ওভার আইপি উন্মুক্ত করে দিন by জাকারিয়া স্বপন

গত মাসে ভয়েস ওভার আইপির ওপর লেখা একটি বই প্রকাশ করেছে সিসকো সিস্টেম। আমার সঙ্গে বইটির সম্পর্ক হচ্ছে, এর তিনজন লেখকের একজন আমি। বইটিতে ভয়েস ওভার আইপি, ভিডিও ওভার আইপি, কোলাবোরেশন, ভবিষ্যতের যোগাযোগব্যবস্থা কেমন হবে, কোনদিকে এগোচ্ছে প্রযুক্তি ইতাদি বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। ইংরেজিতে লেখা বইটি বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাওয়া যাচ্ছে। একটি বিষয় এখানে উল্লেখ না করলেই নয় যে এই পৃথিবীতে সিসকো হলো ভয়েস ওভার আইপির লিডার। বইটি নিয়ে যখন প্রশংসা শুনতে শুরু করছি, তখন স্বাভাবিকভাবেই এক ধরনের ভালোলাগা কাজ করে। কিন্তু কয়েক দিন ধরে এটাই আমার জন্য বিড়ম্বনার বস্তু হয়ে দাঁড়িয়েছে। লোকজন আমাকে দাঁড় করিয়ে যে প্রশ্নগুলো জিজ্ঞেস করছে, তার কিছু নমুনা এখানে দিচ্ছি: ‘এই, আমি তো ভাবতাম তোমার দেশ মিয়ানমার বা উত্তর কোরিয়ার চেয়ে ভালো!’, ‘তোমরা এখনো এটা নিয়ে পড়ে আছো!’, ‘তোমরা কি পেছনের দিকে হাঁটছো নাকি?’, ‘তোমরা একের পর এক ফোন কোম্পানি কীভাবে বন্ধ করে দিতে পারো!’ এমন আরও অনেক প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হচ্ছে যখন কয়েকটি টেলিফোন কোম্পানি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আমার কাছে এর কোনো উত্তর থাকে না। মাথা নিচু করে থাকি।
সিসকোর মতো বড় বড় প্রতিষ্ঠান প্রতিনিয়ত নজর রাখছে, সারা পৃথিবীতে প্রযুক্তি খাতে কী হচ্ছে। বিশেষ একটি দলই আছে, যারা পৃথিবীর এই খবরগুলো একত্র করে পোস্ট করে প্রতিদিন। বর্তমান বাস্তবতায় বাংলাদেশের কোনো ঘটনাই বাইরের দেশের চোখ এড়িয়ে যায় না। এই ঘটনা খুবই নেতিবাচক একটি উদাহরণ তৈরি করল। এই দেশে যদি সত্যি সত্যি তথ্যপ্রযুক্তির ছোঁয়া আনতে হয়, তাহলে সিসকো, মাইক্রোসফট, ইয়াহু, গুগল, ইন্টেল, অ্যাপল, এইচপি ইত্যাদি বড় বড় প্রতিষ্ঠানের ডেভেলপম্যান্ট অফিস বাংলাদেশে আনতে হবে। এগুলো আনতে পারলেই দেখা যাবে, একটা বিশাল ইতিবাচক পরিবর্তন হতে শুরু করেছে। এখন এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের কেউ কেউ নিশ্চয়ই ভাবতে পারে, যে দেশ মুখের কথায় পাঁচটি ফোন কোম্পানি বন্ধ করে দিতে পারে, তারা না জানি আরও কত কিছুই পারে। ভিওআইপি নিয়ে যে সমস্যা দেখা দিয়েছে, ঠাণ্ডা মাথায় এর একটি সমাধান নিশ্চয়ই করা যেত।
আমরা মানি কিংবা না মানি, এটাই সত্যি যে এই পৃথিবীতে প্রযুক্তি ও তথ্যপ্রযুক্তিতে আমেরিকা হলো সবচেয়ে এগিয়ে। যোগাযোগব্যবস্থা এবং নতুন নতুন উদ্ভাবনীতে এই দেশের জুড়ি নেই। এই দেশের অনেক সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে, কিন্তু তথ্যপ্রযুক্তিতে এর আশপাশে আর কেউ নেই। তবে ভারত বেশ দ্রুত সামনে এগিয়ে আসছে বটে।
আমেরিকার সঙ্গে টেলিযোগাযোগব্যবস্থা পৃথিবীর সব দেশেরই ভালো। এমনও হয়েছে যে ঢাকা থেকে কলকাতার লাইন পাওয়া যাচ্ছে না; কিন্তু ঢাকা থেকে আমেরিকা হয়ে কলকাতায় কথা বলা যাচ্ছে। আমেরিকাকে ধরা হয় টেলিযোগাযোগের কেন্দ্রবিন্দু। সব দেশ এর সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করেছে। সেই হিসাবে আমেরিকা থেকে যে দেশে কথা বলতে যত বেশি খরচ হয়, তাকে আমরা ধরে নিতে পারি তত বেশি পিছিয়ে পড়া দেশ। কিছু উদাহরণ দিলে বিষয়টি বোঝা যাবে।
যেমন আমেরিকা থেকে ইউরোপের অনেক দেশে বিনা পয়সায় কথা বলা যায়। এর অর্থ হলো, এরা যোগাযোগব্যবস্থাকে এতই সহজ করে ফেলেছে যে নিজেদের আমেরিকার পাশাপাশি নিয়ে এসেছে। এরা যোগাযোগব্যবস্থা থেকে পয়সা বানানোর চেষ্টা করছে না; বরং এটাকে ব্যবহার করে অন্যান্য ক্ষেত্র থেকে মুনাফা করছে। দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখার অন্যান্য বিষয়কে প্রাধান্য দিচ্ছে। একটি দেশে বিদ্যুত্, পানি যেমন নিত্যনৈমিত্তিক বিষয়; টেলিযোগাযোগও তেমনি। এটাকে যত সহজ করা যায়, ততই মানুষের জন্য মঙ্গল। আমেরিকা থেকে আফ্রিকার দেশগুলোতে কলচার্জ খুব বেশি। এর অর্থ হলো, এরা তথ্যপ্রযুক্তিতে এখনো অনেক পিছিয়ে রয়েছে। এখন আমেরিকা থেকে ভারতে একটি ফিক্সড বিল দিয়ে যত খুশি কথা বলা যায়। কারণ ভারত এই প্রযুক্তিকে উন্মুক্ত করে দিয়েছে। আমরা এখনো সেই পুরোনো বেড়াজালে আটকা পড়ে আছি। কিছুতেই আমরা এই বন্ধন থেকে যেন মুক্ত হতে পারছি না।
পৃথিবীর যাবতীয় দেশ যখন ভয়েস ওভার আইপি উন্মুক্ত করে দিয়ে দেশকে সামনের দিকে নিয়ে যাচ্ছে, সেখানে আমরা কেন বারবার এটাকে পুঁজি করে পুরো দেশকে জিম্মি করে রাখছি? কার সুবিধার জন্য?
বিএনপি সরকার তার পুরো সময় এটাকে নিজেদের ব্যবসার কাজে ব্যয় করল। তত্ত্বাবধায়ক সরকার এসে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে এই সেবার লাইসেন্স দিল। এখন শুনছি এই সরকার আরও কিছু লাইসেন্স দেবে। কিন্তু জনগণের দাবি যদি হয় সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করে দেওয়া, তাহলে সমস্যাটা কোথায়! যখনই সরকার এটার ওপর বাড়তি কোনো ট্যারিফ রাখবে না, তখনই বিদেশ থেকে কথা বলার খরচ অনেক কমে যাবে। তখন আর কাউকে এটা নিয়ে চোর-পুলিশ খেলতে হবে না। এই সমস্যার চীরতরে একটা সমাধান হয়ে যেতে পারে।
সরকারের দিক থেকে বলা হয় যে সরকার রাজস্ব হারাবে। এখনো কি সরকার সঠিক রাজস্ব পাচ্ছে? এনবিআর যেমন যেকোনো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে কর আদায় করে, এটাও তাই। কয়েকটি দেশ ছাড়া পৃথিবীর সব দেশ এটাকে উন্মুক্ত করে দিয়েছে। এটাকে এভাবে বেঁধে রাখা যায় না। যে জিনিস বেঁধে রাখা যায় না, সেটাকে বাঁধতে গেলেই যত বিপত্তি।
আমাদের দেশের তরুণ গোষ্ঠীর কাজের তেমন একটু সুযোগ নেই। লাখ লাখ ছেলেমেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বেরিয়ে আসছে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে এই লাখ লাখ তরুণের কাজের সুযোগ তৈরি করে দেওয়া যায়। একটু খেয়াল করলে দেখা যাবে, এই জটিল প্রযুক্তি তারা পেটের ক্ষুধার তাড়নায় ঠিকই শিখে ফেলেছে। আমাদের ছেলেমেয়েরা যে প্রযুক্তি শিখতে পারে, এটাই কি তার বড় প্রমাণ নয়?
আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ডিজিটাল বাংলাদেশের কথা বলে দেশের মানুষকে স্বপ্ন দেখিয়েছেন। কিন্তু এখন যা হচ্ছে, সেটা অনেক ক্ষেত্রে তিন ফুট উঠে দুই ফুট নিচে নেমে যাওয়া। মাঝে মাঝে মনে হয় চার ফুট নিচেও নেমে যাচ্ছি। এই ভয়েস ওভার আইপি আমাদের সবার মুখে কালি মেখে দিয়েছে। জিজিটাল বাংলাদেশ বিষয়ে যাঁরা প্রধানন্ত্রীকে পরামর্শ দিচ্ছেন, যাঁরা এর স্বপ্নদ্রষ্টা, তাঁদের চিন্তাটা প্রশংসনীয়। কিন্তু বাস্তবায়নে আরও পরিপক্ব হওয়া জরুরি। প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ, আপনি দয়া করে তাঁদের ডেকে, এটাকে উন্মুক্ত করার প্রসঙ্গ নিয়ে আলোচনা করুন। এটি আমাদের ওপর একটি রাহুর মতো ভর করে বসে আছে। প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ, আপনি দেশকে সেই রাহুর হাত থেকে মুক্ত করার উদ্যোগ নিন।
সিলিকন ভ্যালি, যুক্তরাষ্ট্র
জাকারিয়া স্বপন: তথ্যপ্রযুক্তিবিদ।
zakariaswapan@hotmail.com

স্বাধীনতার মাস: মার্চ মাস by মুহম্মদ জাফর ইকবাল

এই মাসের ১৮ তারিখ সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের সদস্যরা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছিলেন। অনেক দিন থেকেই আমরা চাইছিলাম, তাঁরা এখানে আসেন, যাঁরা মুক্তিযুদ্ধের সময় যুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়েছেন, আমাদের ছাত্রছাত্রীরা নিজের চোখে তাঁদের দেখবে, সেটি খুব কম কথা নয়। তাঁদের আসা উপলক্ষে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে রীতিমতো উত্সবের একটা আমেজ চলে এসেছিল। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে খুব সুন্দর একটা শহীদ মিনার রয়েছে, প্রায় শখানেক সিঁড়ি ভেঙে টিলার ওপরে ওই শহীদ মিনারে যেতে হয়। কষ্ট করে কেউ যদি সেখানে যায়, চারপাশের দৃশ্য আর শহীদ মিনারটি দেখে সে মুগ্ধ হয়ে যায়।
সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের সদস্যরা ওই শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষ্ঠানটি শুরু করেছিলেন। আমরা ঠিক করে রেখেছিলাম, মুক্তিযুদ্ধের সময়ের এগারোটি সেক্টরকে স্মরণ করে এই বীর মুক্তিযোদ্ধাদের হাত দিয়ে এগারোটি গাছ লাগিয়ে রাখব, গাছগুলো যখন বড় হবে আমাদের ছাত্রছাত্রীরা তার ছায়ায় বসে মুক্তিযোদ্ধাদের একবার হলেও স্মরণ করবে!
সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের সদস্যরা খুব উত্সাহ নিয়ে গাছগুলো লাগালেন। যিনি যেই সেক্টরে যুদ্ধ করেছেন, তিনি সেই সেক্টরের গাছটি লাগলেন। (কার সেক্টরে কোন গাছটি পড়েছে, সেটি নিয়ে তাঁদের একধরনের ছেলেমানুষি আনন্দ হচ্ছিল, যেটি দেখে আমরাও খুব মজা পেয়েছিলাম।) আমরা গাছগুলো লাগিয়েছি বাংলাদেশের ম্যাপের সঙ্গে সাজিয়ে, কাজেই গাছগুলো দেখেই একজন বুঝতে পারবে মুক্তিযুদ্ধের সময় কোন সেক্টরটি কোন অঞ্চলে ছিল।
গাছ লাগানো শেষ হওয়ার পর আমরা তাঁদের নিয়ে গেলাম আমাদের মুক্তিযুদ্ধ কর্নারে। এটি হচ্ছে আমাদের লাইব্রেরির একটি কর্নার (আক্ষরিক অর্থেই এটি একটি কর্নার বা কোনা!), যেখানে মুক্তিযুদ্ধের ওপর প্রকাশিত প্রতিটি বই সংগ্রহ করে রাখা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের সময়ের পতাকা, পোস্টার, ছবি দিয়ে এ কর্নারটি সাজিয়ে রাখা হয়েছে, ছাত্রছাত্রীরা বসে মুক্তিযুদ্ধের বই পড়তে পারে। এ কর্নারটি নিয়ে আমাদের ভেতরে খানিকটা ছেলেমানুষি অহংকার আছে, কেউ বেড়াতে এলেই আমরা তাকে সেখানে নিয়ে যাই। কাজেই সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের সদস্যদেরও আমরা সেখানে নিয়ে গিয়েছি, তাঁদের ছবি তুলে রেখেছি, তাঁদের মন্তব্য কাগজে লিখিয়ে নিয়েছি। যখন আমরা কেউ থাকব না, তখনো তাঁদের ছবি কিংবা হাতের লেখা এখানে থাকবে—ভবিষ্যতের ছাত্রছাত্রীরা সেটি মুগ্ধ বিস্ময় নিয়ে দেখবে।
এরপর আমাদের সত্যিকারের অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে। আমাদের অডিটরিয়ামটি খুব ছোট। সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের সদস্যরা আসছেন বলে শহর থেকেও অনেকে চলে এসেছে, তাই অডিটরিয়ামে তিল ধারণের জায়গা নেই। সবচেয়ে দুঃখের ব্যাপার হলো, বেশির ভাগ ছাত্রছাত্রীই ভেতরে ঢোকার সুযোগ পেল না।
সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের সদস্যরা বক্তব্য রাখলেন, প্রশ্নের উত্তর দিলেন, যারা উপস্থিত ছিল তারা মন্ত্রমুগ্ধের মতো তাঁদের কথা শুনল। অনেকেই মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস পড়েছে, যাঁরা সেই ইতিহাসটি তৈরি করেছেন, তাঁদের মুখ থেকে সরাসরি ওই ইতিহাসের কথাগুলো শোনা শ্রোতাদের জন্য একটি অভূতপূর্ব অভিজ্ঞতা। কথার ফাঁকে ফাঁকে তাঁরা আমাদের যুদ্ধাপরাধীদের কথা মনে করিয়ে দিলেন, তাদের বিচার করে এই দেশকে গ্লানিমুুক্ত করার স্বপ্ন দেখিয়ে গেলেন।
তাঁরা সেদিন সন্ধ্যাবেলাতেই ফিরে গেলেন, পরদিন ছাত্রছাত্রীরা আমাদের কাছে ভিড় করে এল, যারা ছোট অডিটরিয়ামে ঢুকে অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারেনি, তাদের খুব মন খারাপ, অনেকেই রীতিমতো ক্ষুব্ধ। আবার একটি আয়োজন করা হবে বলে তাদের কোনোভাবে শান্ত করা হলো। নতুন প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধকে এ রকম গভীর মমতা দিয়ে গ্রহণ করেছে দেখে আমাদের খুব ভালো লাগে।

২.
মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে এই গভীর মমতা, যুদ্ধাপরাধীদের জন্য এই তীব্র ঘৃণা কি সব ছাত্রছাত্রীর মধ্যে আছে? সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের আগমন উপলক্ষে কিছু পোস্টার তৈরি করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন শিক্ষা ভবন এবং হলগুলোয় টানিয়ে দেওয়া হয়েছিল। পোস্টারে যুদ্ধাপরাধীর বিকট চেহারা এবং নাকের ডগায় একটা ফাঁসির দড়ি ঝুলছে, সে রকম একটি ছবির সঙ্গে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশসংক্রান্ত কিছু কথা লেখা ছিল। পোস্টার লাগানোর পরদিন দেখা গেল, ছাত্রদের হলে লাগানো পোস্টারটি কে বা কারা ছিঁড়ে টুকরো টুকরো করে ফেলেছে। যার অর্থ ছাত্রদের এই হলে এমন কিছু ছাত্র আছে, যাদের কাছে যুদ্ধাপরাধীর বিচারের দাবিটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
এ ছাত্রগুলো কারা, সেটা অনুমান করার জন্য কারও রকেট সায়েন্টিস্ট হওয়ার প্রয়োজন নেই। যুদ্ধাপরাধীদের সঙ্গে একাত্ম অনুভব করে ছাত্রগুলো হচ্ছে জামায়াতে ইসলামী নামক রাজনৈতিক দলটির ছাত্রসংগঠন ছাত্রশিবিরের সদস্য। বিশ্ববিদ্যালয়ে তারা থাকে, আমি আলাদা করে তাদের কাউকেই চিনি না, কিন্তু আমি তাদের জন্য সব সময়েই একধরনের করুণা অনুভব করি। আমার কাছে মনে হয়, ছাত্রশিবিরের সদস্যরা হচ্ছে এ দেশের সবচেয়ে দুর্ভাগা শ্রেণী।
ছাত্রজীবনটা হচ্ছে স্বপ্ন দেখার সময়। এটি এমন একটি বয়স, যখন সবকিছুকেই রঙিন মনে হয়। এ সময়টিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রীরা লেখাপড়ার পাশাপাশি এক শ ধরনের কাজকর্ম করে। তারা গান গায়, কবিতা আবৃত্তি করে, নাটক করে, তারা কবিতা লিখে, কনসার্ট করে, আড্ডা মারে। তারা মোড়ের টংঘরে বসে চা খায়, তর্কবিতর্ক করে, প্রেম করে। সবকিছুর ওপর তারা দেশকে নিয়ে স্বপ্ন দেখে, দেশকে ভালোবাসে। যে মুক্তিযুদ্ধকে তারা দেখেনি, সেই মুক্তিযুদ্ধকে নিয়ে তারা গর্ব করে। মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান করে আর ভালোবাসে।
কিন্তু সেই ছাত্রটি যদি জামায়াতে ইসলামীর ছাত্রসংগঠন ছাত্রশিবিরের সদস্য হয়, তাহলে তাকে মাতৃভূমিকে ভালোবাসার সবচেয়ে সুন্দর অনুভূতিটিকে নিষ্ঠুরভাবে বুকের ভেতর থেকে মুছে ফেলতে হয়। তারা কেমন করে মাতৃভূমিকে ভালোবাসবে—আমাদের এই প্রিয় মাতৃভূমিটিকে তারা তো কখনোই চায়নি। তাদের দলের নেতারা হচ্ছে নিজামী-মুজাহিদীর মতো মানুষ, যারা একাত্তরে এ দেশের বদর বাহিনীর প্রধান ছিল। বদর বাহিনীর সদস্যরা আক্ষরিক অর্থে মুক্তিযোদ্ধাদের জবাই করেছে, যখন টের পেয়েছে সত্যি সত্যি দেশটা স্বাধীন হয়ে যাবে, তখন যেন দেশটি মাথা তুলে দাঁড়াতে না পারে, সে জন্য এ দেশের বুদ্ধিজীবীদের একজন একজন করে হত্যা করেছে। যে দলটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা চায়নি, স্বাধীনতা সংগ্রামের বিরোধিতা করেছে, ভয়ংকর যুদ্ধাপরাধ করেছে, সেই দলের নেতৃত্ব মেনে নিয়ে একজন তরুণ কেমন করে একটি সংগঠন করে, আমি কখনোই বুঝতে পারিনি।
জামায়াতে ইসলামী নামের রাজনৈতিক দলটি তাদের ছাত্রসংগঠনের সামনে দাঁড়িয়ে কীভাবে তাদের অনুপ্রাণিত করার চেষ্টা করে, আমি সেটা কল্পনা করার চেষ্টা করেছি, কখনোই বুঝতে পারিনি। তারা কি বলে, ‘আমরা সেই রাজনৈতিক দল যারা পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পাশাশাপাশি থেকে এ দেশের মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে যুদ্ধ করেছি, যেন কখনোই বাংলাদেশ স্বাধীন হতে না পারে। আমাদের মহান নেতা গোলাম আযম বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরও হাল ছেড়ে দেননি, পূর্ব পাকিস্তান রক্ষা কমিটি নাম দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোয় ঘুরে বেড়িয়েছেন। স্বাধীনতার পর মুক্তিযোদ্ধাদের ভয়ে আমাদের সব নেতা পালিয়ে পাকিস্তান চলে গিয়েছিলেন। পঁচাত্তরে শেখ মুজিবকে (তারা নিশ্চয়ই ভুলেও মুখে বঙ্গবন্ধু শব্দটি উচ্চারণ করে না!) হত্যা করার পর যখন জেনারেল জিয়াউর রহমান দালাল আইন বাতিল করে দিলেন, তখন আমরা দেশে ফিরে এসেছি! ইত্যাদি ইত্যাদি।’
এ কথাগুলো বলে কি তরুণ প্রজন্মকে উজ্জীবিত করা সম্ভব? তাহলে তারা কী বলে? কেমন করে বলে? এই প্রশ্নের উত্তর আমি মনে হয় কোনো দিনই জানতে পারব না।
তরুণ প্রজন্মের যারা জামায়াতে ইসলামী বা তাদের ছাত্রসংগঠনের রাজনীতি শুরু করেছে, তারা সম্ভবত আর কখনোই সেখান থেকে বের হয়ে একজন সাধারণ মানুষের মতো দেশকে ভালোবাসতে পারবে না। সারাটা জীবনই তাদের মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি প্রবল বিতৃষ্ণা অুনভব করে যেতে হবে। সারা দেশের মানুষ যাদের যুদ্ধাপরাধী হিসেবে ঘৃণা করে, তাদেরকে নেতা হিসেবে সম্মান করে কাটাতে হবে—কী ভয়ংকর একটা জীবন! যারা সেই জীবন বেছে নিয়েছে, তাদের বলার কিছু নেই। আশা করি, নতুন প্রজন্মের আর কেউ যেন সেই জীবন বেছে না নেয়।
আমার ব্যক্তিগত ধারণা, যখন যুদ্ধাপরাধীর বিচার শুরু হবে তখন একাত্তরের যে ভয়ংকর ইতিহাস বের হয়ে আসবে, সেটি নিজের কানে শোনার পর তরুণ প্রজন্মের আর কেউ জামায়াতে ইসলামীর কর্মী হওয়ার জন্য এগিয়ে যাবে না। এ দেশে মুসলিম লীগ নামে একসময় অত্যন্ত প্রতাপশালী রাজনৈতিক দল ছিল, তাদের হুংকারে, বাঘে-গরুতে এক ঘাটে জল খেত। এখন মাইক্রোস্কোপ দিয়ে খুঁজেও এ দেশে মুসলিম লীগ খুঁজে পাওয়া যায় না।
এ দেশে জামায়াতে ইসলামীর অবস্থা হবে সেই মুসলিম লীগের মতো!

৩.
মার্চ মাস আমাদের অগ্নিঝরা মাস। এই মাসে বাঙালিরা পাকিস্তানি মিলিটারির ভ্রুকুটি উপেক্ষা করে হাত মুষ্টিবদ্ধ করে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছিল। এই মাস হচ্ছে অসহযোগ আন্দোলনের মাস, সাত মার্চের মাস, বঙ্গবন্ধুর জন্ম মাস। এই মাস হচ্ছে গণহত্যাকে বুকপেতে নিয়ে স্বাধীনতার মাস। এ রকম চমত্কার একটি মাসে স্বাধীনতাবিরোধী রাজাকার আল-বদরদের নিয়ে কথা বলতে ভালো লাগে না। এই মাসে আমাদের ভবিষ্যত্ নিয়ে কথা বলতে ইচ্ছে করে, স্বপ্ন দেখতে ইচ্ছে করে।
আমার এখনো নতুন স্বাধীন হওয়া বাংলাদেশের কথা মনে পড়ে। কিসিঞ্জার আমাদের দেশটাকে তলাবিহীন ঝুড়ি হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন। সে দেশের জিডিপি এখন প্রায় সাত শ ডলার, তিন দিনে এ দেশে এক বিলিয়ন ডলার সৃষ্টি হয়। আমাদের বাজেটের প্রায় পুরোটাই আমাদের নিজেদের, মাত্র ৫ শতাংশ আসে বাইরের দেশ থেকে। একসময় বাইরের দেশের টাকায় দেশের বাজেট হতো বলে এই দেশে দাতাগোষ্ঠী (ইংরেজিতে ডোনার) বলে একটা শব্দ প্রচলিত ছিল। সেই দাতাগোষ্ঠীর সামনে এ দেশের হর্তাকর্তা, বিধাতারা নতজানু হয়ে থাকতেন। দাতাগোষ্ঠীরা কথায় কথায় আমাদের ধমক দিতেন, আমাদের কেমন করে দেশ চালাতে হবে, সেটা নিয়ে নসিহত করতেন। আমাদের রাজনৈতিক নেতারাও মাঝেমধ্যে নিজেদের মাঝে ঝগড়া করে দাতাগোষ্ঠীর কাছে নালিশ দিতে যেতেন।
এখন সেই অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, আমাদের বাংলাদেশের ডিকশনারি থেকে দাতাগোষ্ঠী বা ডোনার শব্দটা আনুষ্ঠানিকভাবে মুছে ফেলা দরকার। এখন এই দেশ বিদেশি কোনো দেশের দানের ওপর নির্ভর করে নেই, তা হলে কেন এখনো তাদের দাতাগোষ্ঠী বলে তোয়াজ করব?
আমি মনে করি, আমরা আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাথা তুলে দাঁড়াব। গোল্ডম্যান স্যাকস নামে একটি অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান পৃথিবীর সব দেশের সবকিছু বিবেচনা করে ভবিষ্যদ্বাণী করে। তারা বিআরআইসি নামে চারটি দেশের কথা বলেছিল (ব্রাজিল, রাশিয়া, ইন্ডিয়া ও চীন), যেগুলো বিশাল অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে পৃথিবীতে মাথা তুলে দাঁড়াবে। তাদের সেই ভবিষ্যদ্বাণী সত্য হয়েছে, সত্যি সত্যি এ দেশগুলো পৃথিবীর গুরুত্বপূর্ণ দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাদের পরের ভবিষ্যদ্বাণী হচ্ছে এন-১১ (নেক্সট ইলেভেন), যেখানে তারা পৃথিবীর এগারোটি দেশের নাম বলেছে, যেগুলো অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে মাথা তুলে দাঁড়াবে। এই এন-১১-এর মাঝে বাংলাদেশের নাম রয়েছে। শুধু যে বাংলাদেশের নাম রয়েছে তাই নয়, পৃথিবীজুড়ে যে মন্দা গেছে ওই দুঃসময়ে বাংলাদেশের ভূমিকা এত চমকপ্রদ ছিল যে বাংলাদেশ এখন এন-১১ তালিকার ওপর দিকে চলে এসেছে।
বাইরের পৃথিবীর মূল্যায়ন ছাড়াও কি আমরা নিজেরাও সেটা অনুভব করি না? এ দেশের বিশাল এক তরুণ প্রজন্ম রয়েছে, যারা দেশকে ভালোবাসে, যারা দেশকে গড়ে তুলতে চায়। যুদ্ধাপরাধীর বিচার আর ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্নকে বুকে ধারণ করে, তারা আওয়ামী লীগকে বিজয়ী করে দেশ চালানোর দায়িত্ব দিয়েছে। যদি এই তরুণ প্রজন্মকে একটুখানি পথ দেখিয়ে দেওয়া যায়, তাহলে আমরা এ দেশে ম্যাজিক করে ফেলতে পারব।
আমরা খুব আশা করে আছি, যাঁরা দেশকে পথ দেখাবেন, তাঁরা খবরের কাগজও নিয়মিত পড়বেন। তা হলেই তাঁরা জানতে পারবেন, দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সবচেয়ে বড় অন্তরায় কিন্তু সিডর, আইলা, বৈশ্বিক উষ্ণায়ন, জলবায়ু পরিবর্তন, বন্যা, খরা বা জঙ্গি নয়। সবচেয়ে বড় অন্তরায় হচ্ছে ছাত্রলীগ। প্রতিদিন খবরের কগজে সারা দেশে ছাত্রলীগের কর্মকাণ্ডের যে তালিকা ছাপা হয়, সেগুলো পড়লে হতবাক হয়ে যেতে হয়। আমি জানি না, আওয়ামী লীগের নেতারা জানেন কি না তাঁদের সরকারের সুবিশাল কালজয়ী একটা অর্জন কিন্তু মফস্বল শহরের কোনো একটি পুচকে ছাত্রলীগ নেতা স্কুলে যাওয়া একটা কিশোরীকে উত্ত্যক্ত করে শেষ করে দিতে পারে। কোনো গাণিতিক নিয়মে এই হিসাব মিলবে না কিন্তু এটাই সত্যি।
মার্চ মাস স্বাধীনতার মাস, আমি কোনো অসুন্দর কথা উচ্চারণ করতে চাইনি, তার পরেও অসুন্দর কথা রূঢ় কথা বলা হয়ে গেল। পাঠকেরা নিশ্চয়ই আমাদের ক্ষমা করে দেবেন।

৪.
সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক একটা বিষয়, না বললেই নয়। পত্রপত্রিকায় লেখালেখির কারণে মন্ত্রিপরিষদ ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা এগিয়ে আনার পরিকল্পনাটি বাতিল করে দিয়েছে। দুটি কারণে বিষয়টিতে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। প্রথমত, এই সিদ্ধান্তে দেশের সব মানুষ বিশাল এক দুর্ভাবানার হাত থেকে মুক্তি পেয়েছে (তারা দুই হাত তুলে সরকারের জন্য দোয়া করেছে!)। দ্বিতীয়ত, এ বিষয়টিতে সরকার প্রমাণ করেছে যে তারা সাধারণ মানুষের কথা শুনতে রাজি আছে এবং সেই কথা যৌক্তিক মনে হলে তাদের সিদ্ধান্ত পাল্টাতেও রাজি আছে!
এটি বিশাল একটি ব্যাপার! সরকারকে এখন বহু দূরের কিছু মনে হয় না, খুব কাছকাছি কিছু মনে হয়।
২৪.৩.১০
মুহম্মদ জাফর ইকবাল: লেখক। অধ্যাপক শাহাজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

অব্যাহত খুন, অব্যাহত নিরাপত্তাহীনতা -জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন

মেয়েকে বখাটের সঙ্গে বিয়ে দিতে না চাওয়ায় ঢাকার গুলশানে নিজ বাড়িতে প্রকাশ্যে খুন হলো এক দম্পতি। এর দুই দিন আগে চট্টগ্রামে স্কুলছাত্র খুন হয়েছে তারই সহপাঠীদের হাতে। কদিন আগে খিলগাঁওয়ের এক দরিদ্র বসতিতে দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছিল এক কিশোরী। কেউ কি আর ঘরের মধ্যেও নিরাপদ নয়? প্রতিদিনের সংবাদপত্রে কেবল খুন আর খুনের খবর। বাংলাদেশে এখন কেউ খুন হচ্ছে আর কেউ খুনের খবর পড়তে পড়তে জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্কিত থাকছে।
আইন, সমাজতত্ত্ব আর নৈতিকতার মাপকাঠি যে সংকটে গিয়ে থই হারায়, সেটা এই লাগাতার খুনের ধারাবাহিকতা। অর্থের জন্য, জমির জন্য, প্রেমের জন্য, দলাদলির জন্য, তুচ্ছ ঝগড়াঝাঁটির জন্য; কত বিচিত্র কারণে প্রতিদিন মানুষ খুনের ঘটনা ঘটছে, তার ইয়ত্তা নেই। শিশু থেকে বৃদ্ধ, নারী থেকে পুরুষ—কেউই বাদ পড়ছে না। মানুষ খুন করার যত রকম পদ্ধতি আছে, সবই প্রয়োগ হচ্ছে। রাজনৈতিক কারণে এ রকম খুনোখুনির পরিস্থিতি তৈরি হলে বিপর্যয় নামে। সামাজিক স্তরে খুনের এই মহামারিকে মারাত্মক সামাজিক বিপর্যয়ের লক্ষণই বলতে হয়।
সহিংসতার সংস্কৃতি আর অসহিষ্ণুতার মনোভাব এতই ছড়িয়ে পড়েছে, যে-কেউ যেকোনো মুহূর্তে খুনের উন্মত্ততায় মাততে পারে, আবার কোনো মাথা-গরম ব্যক্তির হাতে খুনও হয়ে যেতে পারে যে-কেউ। পরিবারের আদরের সন্তানটি খুন হয়ে যেতে পারে, কিংবা হয়ে উঠতে পারে কারও খুনি। কী ভয়াবহ এই বাস্তবতা, তা কি দেশের কর্তাব্যক্তিরা উপলব্ধি করতে পারছেন?
খুন করে কেউ পার পাচ্ছে, কারও বা শাস্তিও হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে দুর্বল অভিযোগপত্র ও তদন্তের কারণে এবং প্রভাব-প্রতিপত্তি খাটিয়ে খুনিদের অনেকে রেহাই পেয়ে যায়। খুনি-অপরাধীরা রাজনৈতিক দলের কাছ থেকে আশ্রয়-প্রশ্রয়ও পেয়ে থাকে। একশ্রেণীর অসাধু পুলিশের শিথিলতা ও দুর্নীতির জন্যও অপরাধীদের নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয় না। তবে খেয়াল করার বিষয়, সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডগুলোর হোতাদের সবাই কিন্তু পেশাদার অপরাধী নয়।
যে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির গলদের জন্য আজ জীবনের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে, দ্রুত তার নিরাময় প্রয়োজন। সেটা দীর্ঘমেয়াদি কাজ। কিন্তু এই মুহূর্তে প্রতিটি খুনের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে বিচার নিশ্চিত করা জরুরি। পুলিশ এবং সামাজিক ও রাজনৈতিক নেতাদের নিজ নিজ এলাকায় সতর্ক থাকা দরকার। কোথাও কেউ নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কা করলে বা হুমকির মধ্যে থাকলে বিষয়টা গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নেওয়া দরকার। দরকার যত রকম বখাটে, সন্ত্রাসী, অস্ত্রধারী ক্যাডার ও অপরাধী আছে, তাদের হুঁশিয়ার করে দেওয়া যে অপরাধের দণ্ড সুনিশ্চিত।

মহান স্বাধীনতা দিবস -এখন প্রয়োজন সামনে এগিয়ে যাওয়া

আজ মহান স্বাধীনতা দিবস। বাঙালির ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ সময় ১৯৭১, শ্রেষ্ঠ ঘটনা স্বাধীনতাযুদ্ধ এবং শ্রেষ্ঠ অর্জন স্বাধীনতা। স্বাধীনতা এসেছিল দীর্ঘ সংগ্রাম ও রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে। আজ আমরা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি মুক্তিযুদ্ধের সব শহীদকে। গভীর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছি সব নারী ও পুরুষকে, যাঁরা নিজ নিজ অবস্থান ও সামর্থ্য অনুযায়ী প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে সম্ভব করে তুলেছিলেন স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাকে। স্বাধীনতাসংগ্রামের অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তাজউদ্দীন আহমদসহ প্রবাসী সরকারের নেতাদের স্মৃতির প্রতি আমাদের বিনম্র শ্রদ্ধা।
গতকাল ছিল পঁচিশে মার্চের রাত, ১৯৭১ সালের যে রাতে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। অপারেশন সার্চলাইট নামের এক বর্বর সামরিক অভিযানের মধ্য দিয়ে তারা শুরু করেছিল মানবতার ইতিহাসে জঘন্যতম এক গণহত্যা। সেই নৃশংস নির্বিচার গণহত্যার বিরুদ্ধে শুরু হয়েছিল এক সর্বাত্মক জনযুদ্ধ। আমাদের পুলিশ, ইপিআর, সেনাবাহিনী, আনসার, ছাত্র, শ্রমিক, কৃষক—সবাই মিলে এক হয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল প্রাণপণ এক যুদ্ধে, যার লক্ষ্য ছিল স্বাধীনতা, মুক্তি। দীর্ঘ নয় মাসের সেই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে আমরা হারিয়েছি ৩০ লাখ শহীদকে, দুই লাখ মা-বোনের ওপর চলেছিল সীমাহীন বর্বরতা। সেই সব শহীদ-পরিবারের সদস্যরা আজও বয়ে চলেছেন স্বজন হারানোর দুঃসহ বেদনা। তবে বেদনার বিপরীতে গৌরব আর আনন্দও আছে। ২৬ মার্চ থেকে যে স্বাধীনতাযুদ্ধ শুরু হয়েছিল, নয় মাস পর ১৬ ডিসেম্বর সেই যুদ্ধের সফল পরিণতিতে আমরা অর্জন করেছিলাম গৌরবের বিজয়। আজ আমাদের সেই সবকিছুই স্মরণ করার দিন।
আমরা এও ভুলতে পারি না যে গোটা বাঙালি জাতি যে পাকিস্তানি বর্বর হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে এক হয়ে দাঁড়িয়েছি সর্বাত্মক জনযুদ্ধে, সেই হানাদারদের দিকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছিল এ দেশের কিছু মানুষ। তারা শুধু পাকিস্তানি বাহিনীকে গণহত্যায় সহযোগিতাই করেনি, নিজেরাও অস্ত্র ধরেছিল মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে। রাজাকার, আলবদর, আলশামস বাহিনী সেদিন এই দেশের নিরীহ শান্তিপ্রিয় মানুষের ওপর চালিয়েছিল মানবতার বিরুদ্ধে নানা অপরাধ। স্বাধীনতার মাসে, স্বাধীনতা দিবসে তাই প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিষয়টিও। এ বিষয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক জনমত ছিল, এখন সে-জনমত আগের চেয়ে বেশি সোচ্চার হয়েছে। সরকারও যুদ্ধাপরাধের বিচারের উদ্যোগ নিয়েছে। সবাই আশা করছেন তাদের বিচার শিগগিরই শুরু করা হবে।
স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর ৩৯ বছর পেরিয়ে গেল। এখন আমাদের ভেবে দেখা উচিত, মুক্তিযুদ্ধে এত আত্মদান ও ত্যাগ-তিতিক্ষার পেছনে আমাদের যে লক্ষ্য ও স্বপ্নগুলো ছিল, সেসব কতটা পূরণ হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের প্রধান চেতনা ছিল গণতন্ত্র; আমাদের সমগ্র মুক্তিসংগ্রামের মর্মকথা ছিল অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক, সব ধরনের অন্যায়-অবিচার, বৈষম্য থেকে মানুষের মুক্তি। বলা বাহুল্য, সেই পথে আমরা বেশি দূর এগোতে পারিনি। আমাদের গণতন্ত্র এখনো ভঙ্গুর, অবিকশিত। অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে আমাদের কিছু অগ্রগতি নিশ্চয়ই হয়েছে; তবে সেই পথে মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন পূরণ করতে আরও অনেকটা পথ পাড়ি দিতে হবে। আমাদের গণতন্ত্রকে কার্যকর করতে হবে, রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে গণকল্যাণমুখী ধারায় এগিয়ে নিতে হবে। শাসনব্যবস্থার দক্ষতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।

কানাডার কুইবেকে নিষিদ্ধ হলো নেকাব

ফ্রান্সের পর এবার কানাডার কুইবেক প্রদেশে মুসলমান নারীদের নেকাব পরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। গত বুধবার এ সংক্রান্ত একটি বিল কানাডার পার্লামেন্টে পাস হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কোনো নারী নেকাব পরতে পারবেন না। এ ছাড়া চিকিত্সা ও গাড়ির বিমাসেবা নেওয়ার সময় নারীদের তাঁদের নেকাব খুলে চেহারা দেখাতে হবে।
কুইবেকের প্রধানমন্ত্রী (ভারতের রাজের মুখ্যমন্ত্রীর সমান) জ্যঁ চরেস্ট জানান, ‘সরকারি প্রতিষ্ঠানে নারী-পুরুষের সমতা ও ধর্মনিরপেক্ষতা বজায় রাখতে পদক্ষেপটি নেওয়ার প্রয়োজন ছিল।

সিঙ্গাপুরের মন্ত্রীদের ক্ষতিপূরণ দেবে নিউইয়র্ক টাইমস

সিঙ্গাপুরের রাজবংশের রাজনীতি নিয়ে প্রকাশিত একটি নিবন্ধে দেশটির প্রধানমন্ত্রী ও অপর দুই মন্ত্রী সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য করায় ক্ষতিপূরণ হিসেবে এক লাখ ১৪ হাজার মার্কিন ডলার দেবে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস কোম্পানি। প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের আইনজীবীরা গতকাল বৃহস্পতিবার এ কথা জানিয়েছেন।
পত্রিকাটির আন্তর্জাতিক সংস্করণ ইন্টারন্যাশনাল হেরাল্ড ট্রিবিউন (আইএইচটি) গত বুধবার এ ব্যাপারে দুঃখ প্রকাশ করেছে। ওই নিবন্ধে লেখা হয়, সিঙ্গাপুরের প্রতিষ্ঠাতা জনক লি কুয়ান ইউয়ের ছেলে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী লি সিন লুং মেধার ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রিত্ব পাননি। লি কুয়ান তাঁর ছেলের মন্ত্রিসভার একজন ঊর্ধ্বতন উপদেষ্টা। সিঙ্গাপুরের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বর্তমানে জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী গো চোকের কাছেও দুঃখ প্রকাশ করেছে।
গতকাল অনলাইন সংস্করণে নিউইয়র্ক টাইমস লিখেছে, তাদের পত্রিকায় হংকংয়ের কলাম লেখক ফিলিপ বোরিং লিখিত নিবন্ধটির মাধ্যমে সিঙ্গাপুর সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে বলে একটি অভিযোগ তারা পেয়েছে।
‘অল ইন দ্য ফ্যামিলি’ শিরোনামে বোরিংয়ের লেখা নিবন্ধটি গত মাসে আইএইচটিতে প্রকাশিত হয়।

‘লিভ টুগেদার’ অবৈধ নয়

লিভ টুগেদার অবৈধ নয়—ভারতের সুপ্রিম কোর্ট গত মঙ্গলবার একটি আবেদনের ওপর শুনানিকালে এ মন্তব্য করেছেন। প্রাপ্তবয়স্ক অবিবাহিত তরুণ-তরুণীদের বিয়ের আগে যৌন সম্পর্ক এবং বিয়ে না করে একসঙ্গে থাকা অন্যায় নয়, বরং এই লিভ টুগেদার জীবনের অধিকারের মধ্যে পড়ে। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি কে জি বালা কৃষ্ণান, বিচারপতি দীপক বর্মা ও বিচারপতি ডি এস চৌহানকে নিয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ এ মন্তব্য করেন। বেঞ্চ বলেন, দুজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ ও নারী যদি একসঙ্গে বসবাস করতে চান, তাতে অন্যায় কোথায়?
দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেত্রী খুশবুর করা একটি আবেদনের ওপর শুনানিকালে এ কথা বলেছেন সুপ্রিম কোর্ট। ২০০৫ সালে খুশবু বেশ কয়েকটি সাময়িকীকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে বিয়ের আগে যৌন সম্পর্ককে সমর্থন করেছিলেন। খুশবুর ওই মন্তব্যের পর তাঁর বিরুদ্ধে ২২টি ফৌজদারি মামলা দায়ের হয়। সেই মামলাগুলোকে খারিজ করার প্রথম আবেদন জানানো হয় চেন্নাইয়ের হাইকোর্টে। হাইকোর্ট খুশবুর আবেদন খারিজ করলে তিনি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। খুশবুর আবেদনের শুনানির সময় সুপ্রিম কোর্ট এ মন্তব্য করলেও রায় দেওয়া স্থগিত রেখেছেন।

এখনো নিখোঁজ ১০, হাসপাতাল ও থানায় বিক্ষোভ

কলকাতার প্রাণকেন্দ্র পার্ক স্ট্রিটের বহুতল ভবন স্টিফেন কোর্টের ভয়াবহ আগুন নিভে গেলেও এখনো খোঁজ মেলেনি ওই ভবনের ১০ জনের। তাঁদের স্বজনেরা গতকাল বৃহস্পতিবার কলকাতার পিজি হাসপাতাল ও স্থানীয় থানায় বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে। অন্যদিকে গতকাল সকাল থেকে কলকাতা পৌরসভা ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কার করার কাজে নেমেছে। পুলিশ মনে করছে, ধ্বংসস্তূপ থেকে মিলতে পারে নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান।
গতকাল বিকেলে পিজি হাসপাতাল থেকে মৃত ব্যক্তির স্বজন ও কলকাতার বিভিন্ন স্তরের মানুষজন একটি শোকমিছিল বের করে। মিছিলে নিহত ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের ছবিসহ প্লাকার্ড বহন করা হয়। মিছিল শেষ হয় স্টিফেন কোর্ট চত্বরে।
এদিকে বুধবারই পুলিশ স্টিফেন কোর্টের কেয়ারটেকার ও তাঁর একজন সহকারীকে গ্রেপ্তার করে। আদালতে পাঠানো হলে আদালত তাঁদের ১৪ দিনের জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন। পুলিশ এখন বাড়ির মালিককে খুঁজছে।
এই অগ্নিকাণ্ডে মৃতের সংখ্যা সরকারিভাবে বলা হয়েছে ২৪। তবে বেসরকারি সূত্রে বলা হয়েছে ২৭। ২৪ জনের মধ্যে ২০ জনের স্বজনেরা মৃতদেহ গ্রহণ করলেও চারজনের বিষয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে। এসব মৃতদেহের একাধিক দাবিদার থাকায় সরকার তাঁদের ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ দিয়েছে।
কলকাতা হাইকোর্ট গতকাল এক নির্দেশে বলেছেন, আদালতের নির্দেশ ছাড়া এই বাড়ি ভাঙা যাবে না। যদিও কলকাতা পৌরসভা ঘোষণা দিয়েছিল, এই বাড়ির বেআইনি অংশ তারা ভেঙে ফেলবে।
বলা বাহুল্য, এই ভবনে ছিল ২০টি পরিবারের বাসগৃহ ও ৪৪টি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে: নেতানিয়াহু

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্য শান্তি আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে। গত বুধবার ইসরায়েল আর্মি রেডিওকে এ কথা বলেন তিনি। নেতানিয়াহু বলেন, ‘ইসরায়েলের সরকারগুলোর প্রচলিত নীতি ও শান্তি-প্রক্রিয়া শুরু করার বিষয়ে আমাদের আগ্রহের মধ্যে একটি ভারসাম্য খুঁজে পেয়েছি আমরা।’ তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে শীতল প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে।
গত মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এবং বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত জর্জ মিশেলের সঙ্গে বৈঠক করেন নেতানিয়াহু। তবে নেতানিয়াহুর সঙ্গে ওবামার বৈঠক নিয়ে তেমন কোনো উচ্ছ্বাস দেখায়নি হোয়াইট হাউস। বিশ্লেষকেরা বলছেন, সম্ভবত দুই পক্ষের বৈঠকে অনেক ক্ষেত্রেই মতের মিল হয়নি। সম্প্রতি অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেম এলাকায় ইসরায়েল নতুন বসতি স্থাপনের ঘোষণা দিলে দুই পক্ষের সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়।
বুধবার হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র রবার্ট গিবস বলেন, প্রেসিডেন্ট ওবামা ও প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর মধ্যে খোলাখুলি কথা হয়েছে। শান্তি-প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে আস্থা তৈরির জন্য কয়েকটি উদ্যোগ নিতে নেতানিয়াহুর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ওবামা। পাশাপাশি নতুন বসতি স্থাপনের বিষয়ে ইসরায়েলের ব্যাখ্যাও চেয়েছেন তিনি। আলোচনায় বেশ কিছু বিষয়ে মতৈক্য হয়েছে, আবার কয়েকটি বিষয়ে মতের অমিলও হয়েছে। তবে ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য বলেও উল্লেখ করেন গিবস।
ওবামার সঙ্গে বৈঠকের পর জর্জ মিশেলের সঙ্গে বৈঠক করেন নেতানিয়াহু। কিন্তু ওই বৈঠকেও মধ্যপ্রাচ্য শান্তি-প্রক্রিয়া নিয়ে কোনো অগ্রগতি হওয়ার সংকেত পাওয়া যায়নি। মিশেলের সঙ্গে নেতানিয়াহুর বৈঠক থেকে কী ফল আশা করছে যুক্তরাষ্ট্র, এমন প্রশ্নের জবাবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন বলেছেন, ‘আমরা আলোচনা অব্যাহত রেখেছি। ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনি পক্ষের মধ্যে আবার আলোচনা শুরু করানোই আমাদের লক্ষ্য।’
এদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘আমাদের ধারণা, আমরা একটি উপযুক্ত পথ খুঁজে পেয়েছি। এর মাধ্যমে মার্কিনরা আমাদের জাতীয় স্বার্থ অক্ষুণ্ন রেখেই শান্তি-প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে পারবে।’ ইসায়েলের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের আগে আস্থা গড়ে তোলার জন্য কোনো পদক্ষেপ ঘোষণা করতে পারছেন না নেতানিয়াহু।
ইসরায়েলি পক্ষ দাবি করেছে, একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে ওবামা-নেতানিয়হুর বৈঠক হয়েছে। কিন্তু বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের কর্মীরা বলছেন, দুই পক্ষের মধ্যে চলমান উত্তেজনা হ্রাস পায়নি। বৈঠকের পর কোনো সংবাদ সম্মেলন বা সাংবাদিকদের জন্য প্রশ্নোত্তর পর্ব আয়োজন করা হয়নি। এমনকি হোয়াইট হাউস এই বৈঠকের কোনো ছবি বা ভিডিওচিত্রও প্রকাশ করেনি। সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্রদেশের সরকারপ্রধানেরা হোয়াইট হাউসে এলে যে ধরনের স্বাগত জানানো হয়, নেতানিয়াহুর জন্য এবার সে ধরনের ব্যবস্থা রাখা হয়নি।

বিল ক্লিনটনের শার্টে হাত মুছলেন বুশ!

ক্ষমতা ছাড়ার পরও মার্কিন সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ বিভিন্ন কারণে সংবাদের শিরোনাম হচ্ছেন। তা তিনি হতেই পারেন। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলে কথা! তাঁর আমলেই নিউইয়র্কে টুইন টাওয়ারে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে। ইরাক ও আফগানিস্তানে যুদ্ধ তিনিই শুরু করেন। এবার তিনি সংবাদের শিরোনাম হয়েছেন একটু অন্য কারণে।
সম্প্রতি আরেক সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনসহ ভূমিকম্প বিধ্বস্ত ক্যারিবীয় দ্বীপরাষ্ট্র হাইতি পরিদর্শন করেন বুশ। তাঁদের এই সফর নিয়ে গুগল, ইয়াহুসহ জনপ্রিয় সার্চ ইঞ্জিনগুলোতে একটি ভিডিও ফুটেজ প্রচারিত হচ্ছে। এতে দেখা যায়, হাইতির রাজধানী পোর্ট অ প্রিন্সে দুর্গত মানুষের একটি শিবির পরিদর্শন করছেন এই সাবেক দুই প্রেসিডেন্ট। ওই শিবিরের দুর্গত এক ব্যক্তি করমর্দন করেন জর্জ বুশের সঙ্গে। কিন্তু এতে আগ্রহ নেই বুশের। তার পরও করমর্দন করতে হয়। এরপর বুশ করমর্দন করা তাঁর হাত মুছছেন পাশে থাকা ক্লিনটনের শার্টে।

বিমানযাত্রীরা গত বছর আড়াই কোটি ব্যাগ হারিয়েছে

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিমানবন্দরে গত বছর যাত্রীদের প্রায় আড়াই কোটি ব্যাগ হারিয়েছে। এসব ব্যাগ হারানোর ক্ষতিপূরণ হিসেবে বিভিন্ন বিমান সংস্থাকে আড়াই শ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার এয়ার ট্রান্সপোর্ট ইলেকট্রনিকস গ্রুপ-এসআইটিএ এই তথ্য প্রকাশ করেছে।
এই আড়াই শ কোটি ব্যাগের ৫২ শতাংশ হারিয়েছে বিমান পরিবর্তনের সময় ব্যাগগুলো ভুল জায়গায় রাখার কারণে।
যাত্রীরা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে না পৌঁছানোর কারণে ১৬ ভাগ ব্যাগ বিমানে তোলা সম্ভব হয় না। অবশিষ্ট ব্যাগগুলো হারিয়ে যায় টিকিটের ভুল, ট্যাগিং সমস্যাসহ নানা কারণে।

পশ্চিমবঙ্গে যৌথ বাহিনীর সঙ্গে মাওবাদীদের ব্যাপক সংঘর্ষ

পশ্চিমবঙ্গের মাওবাদী অধ্যুষিত পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার জঙ্গল মহলে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে মাওবাদীদের সঙ্গে পুলিশের যৌথ বাহিনীর ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। মাওবাদীরা ভুলাগেরা ও বনিশোলের জঙ্গলে আস্তানা গেড়েছে—এই খবর পাওয়ার পর গতকাল সকালে যৌথ বাহিনী ওই এলাকায় ঢুকে পড়ে। এ সময় মাওবাদীরা ধরমপুরে অন্তত তিনটি ভূমিমাইনের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে। এসব বিস্ফোরণের বিকট শব্দে ৪০ কিলোমিটার দূরের ঝাড়গ্রামের বাড়িঘরও কেঁপে ওঠে। মাওবাদীরা যৌথ বাহিনীর অগ্রযাত্রাকে বাধা দেওয়ার জন্য এলাকার বিভিন্ন সড়কে গাছ ফেলে অবরোধ সৃষ্টি করে। এসব অবরোধ সরিয়ে যৌথ বাহিনী জঙ্গল মহলে পৌঁছালে মাওবাদীরা ব্যাপক গুলিবর্ষণ শুরু করে। তবে হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
এদিকে মাওবাদীরা বুধবার গভীর রাতে একই জেলার শিলদায় সিপিএমের পার্টি অফিসে প্রথমে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় এবং ভূমিমাইনের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে সিপিএম অফিস উড়িয়ে দেয়। পরে এখান থেকে উদ্ধার করা হয় একটি ভূমিমাইন ও মাওবাদীদের পোস্টার।

হুমকি-হামলার মুখে আইন প্রণেতারা by ইব্রাহীম চৌধুরী

যুক্তরাষ্ট্রে স্বাস্থ্যসেবা বিল পাস হওয়ার পর হুমকি ও হামলার মুখোমুখি হচ্ছেন আইন প্রণেতারা। গত বুধবার মার্কিন কংগ্রেসের কমপক্ষে ১০ জন সদস্য ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে তাঁদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন। এদিকে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার স্বাক্ষরের পর স্বাস্থ্যসেবা খাত সংস্কার বিল আইনে পরিণত হলেও এখন আবার বিলটিকে প্রতিনিধি পরিষদে ভোটাভুটির জন্য তোলা হবে। রিপাবলিকানরা আইনের দুটি ধারা নিয়ে আপত্তি তোলায় এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাট সদস্যদের নেতা স্ট্যানলি হয়ার বলেছেন, আইন প্রণেতাদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয়টি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিউইয়র্কের ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান লুইস স্লটারকে টেলিফোনে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এই আইন প্রণয়নের পক্ষে ভোট দেওয়ার কারণে কংগ্রেস সদস্যদের পরিবারের লোকজনকেও হত্যা করা হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়েছে। অজ্ঞাতপরিচয় হামলাকারীরা পাথর ছুড়ে কংগ্রেস সদস্য লুইসের নায়াগ্রা ফলসের কার্যালয় ভাঙচুর করেছে। অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্র্যাট দলীয় কংগ্রেস সদস্য গ্যাব্রিয়েল গিফোর্ড জানিয়েছেন, প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেওয়ার কারণে তাঁর কার্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের কংগ্রেস সদস্য টম পেরিলোর বসতবাড়ির গ্যাসের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে অজ্ঞাতনামা লোকজন। মিশিগান ও সাউথ ক্যারোলাইনার কংগ্রেস সদস্য বাই স্টুপ্যাক ও জেমস ফ্লাইবার্গ জানিয়েছেন, টেলিফোন ও ফ্যাক্সের মাধ্যমে তাঁদের হুমকি দেওয়া হয়েছে।
প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি বলেছেন, ‘আমরা পরিষ্কার করে বলতে চাই, হুমকি-ধমকির কোনো স্থান নেই এ দেশে। আমাদের মধ্যে মতপার্থক্য আছে। পক্ষে-বিপক্ষে জোরালো মতামত থাকার পরও ঐতিহাসিক এই আইন প্রণয়ণে সক্ষম হয়েছি আমরা।’
রিপাবলিকান দলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, তাদের দলের আইন প্রণেতাদেরও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এই আইনের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ার কারণে কেন্টাকি অঙ্গরাজ্যের রিপাবলিকান দলীয় সিনেটর জিম বানিংকে টেলিফোনে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে তাঁর কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে। হুমকি ও সহিংসতার নিন্দা জানিয়ে প্রতিনিধি পরিষদের রিপাবলিকান সদস্যদের নেতা জন বোয়েনার বলেন, ‘হুমকি ও সহিংসতা কোনো অবস্থায়ই গ্রহণযোগ্য নয়। তবে নাগরিকেরা স্বাস্থ্যসেবা খাত সংস্কার আইন নিয়ে ক্ষুব্ধ। ডেমোক্র্যাট দলের আইন প্রণেতারা জনগণের আকাঙ্ক্ষায় কর্ণপাত করেননি।’
আইন প্রণেতাদের ওপর হামলা ও হুমকি মোকাবিলায় মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইসহ অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থা মাঠে নেমেছে। তাঁদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গত বুধবার এফবিআইয়ের পক্ষ থেকে বিশেষ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। শীতকালীন ছুটিতে আইন প্রণেতারা নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় যাবেন। এ উপলক্ষে তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বাড়তি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এফবিআইয়ের মুখপাত্র পল ব্রেমেন বলেছেন, আইন প্রণেতাদের ওপর হামলার হুমকি ও সংহিসতা মোকাবিলায় শক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা পুরো পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য মাঠে নেমেছে বলে জানানো হয়েছে।
এদিকে মার্কিন সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা হ্যারি রেইডের মুখপাত্র জিম ম্যানলি বলেন, ‘এই আইন ঠেকাতে রিপাবলিকানরা অনেক খোঁজাখুঁজি করে সিনেটে অনুমোদন পাওয়া বিলের সঙ্গে প্রতিনিধি পরিষদে অনুমোদন পাওয়া বিলের দুটি ধারায় পার্থক্য খুঁজে পেয়েছেন। তাই আবার ভোটাভুটির জন্য বিলটিকে প্রতিনিধি পরিষদে পাঠাতে হবে।’ তিনি জানান, উচ্চশিক্ষা খাতসংশ্লিষ্ট দুটি ধারায় এই অসামঞ্জস্য পাওয়া গেছে। তবে এ ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু বলেননি ম্যানলি।
এখন বিলটির ওই দুটি ধারা বাতিল করে তা আবার সিনেটের অনুমোদন নিয়ে ভোটাভুটির জন্য প্রতিনিধি পরিষদে পাঠানো হবে। ম্যানলি বলেন, সিনেটে এই সংশোধনী দ্রুত অনুমোদন করানোর জন্য কাজ করছেন রেইড। তিনি বলেন, ‘আমার বিশ্বাস, প্রতিনিধি পরিষদ বিষয়টি ঠিকভাবেই সামলাতে পারবে এবং বিলটি আবার অনুমোদন করবে।’
স্বাস্থ্যসেবা খাত সংস্কার আইন নিয়ে মার্কিন সমাজ এখনো চরমভাবে বিভক্ত। এই আইনে নাগরিকদের জন্য স্বাস্থ্যবীমা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই আইনকে চ্যালেঞ্জ করে ইতিমধ্যে ডজনখানেক মামলা দায়ের হয়েছে। রক্ষণশীল আমেরিকানদের মতে, সরকার স্বাস্থ্যবীমা কেনার জন্য নাগরিকদের বাধ্য করতে পারে না। বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের মূল ভাবধারার লঙ্ঘন বলে কট্টর রক্ষণশীলদের অভিমত। জনগণকে এই আইনের সুফল বোঝাতে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাসহ ডেমোক্র্যাট দলের আইন প্রণেতারা এখন দেশজুড়ে আবার প্রচারণায় লেগেছেন। এই আইনের বিরুদ্ধে রক্ষণশীলদের প্রচারকে তাঁদের মোকাবিলা করতে হচ্ছে।

পাকিস্তানের পার্লামেন্টের যৌথ অধিবেশন বাতিল

পাকিস্তানের সংবিধানের ১৮তম সংশোধনীর লক্ষ্যে ডাকা আজ শুক্রবার পার্লামেন্টের যৌথ অধিবেশন শেষ মূহূর্তে বাতিল করা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি এ অধিবেশন ডেকেছিলেন। খবর দ্য নিউজ, দ্য ডন ও আরব নিউজের।
পাকিস্তানের ক্ষমতাসীন দল পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) ও বিরোধী দলের পূর্বপরিকল্পনামাফিক আজ পার্লামেন্টের যৌথ অধিবেশনে সংবিধান সংশোধনী বিলটি পেশ করার কথা ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশের নয়া নামকরণ এবং প্রধান বিচারপতি নিয়োগ প্রশ্নে ক্ষমতাসীন দল ও বিরোধী দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা না হওয়ায় আজকের অধিবেশন বাতিল করা হয়।
গতকাল সন্ধ্যায় পাকিস্তান মুসলিম লিগের (এন) নেতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ ইসলামাবাদে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, বিচারপতি নিয়োগ প্রশ্নে সরকারের সঙ্গে কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো যায়নি। একমাত্র সমঝোতার ভিত্তিতেই পার্লামেন্টে সংবিধান সংশোধনী বিল উঠতে পারে।
এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার সংবিধান সংস্কারবিষয়ক সংসদীয় কমিটির (পিসিসিআর) যে বৈঠক হওয়ার কথা ছিল, তা আজ শুক্রবার পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, প্রস্তাবিত সংবিধান সংশোধনী বিলে পাকিস্তানের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি সংশোধনীর প্রস্তাব করা হয়েছে। সংবিধান সংস্কারবিষয়ক এই বিলের বিপরীতে ১৫ থেকে ২০টি আপত্তি নোটিশ দেওয়া হয়েছে। ক্ষমতাসীন দল পিপিপি বাদে প্রায় সব দলের পক্ষ থেকেই এসব নোটিশ দেওয়া হয়। তবে নোটিশগুলোর বেশির ভাগই প্রাদেশিক স্বাধীনতা প্রসঙ্গে।
প্রায় নয় মাস কাজ করে সংবিধান সংশোধনবিষয়ক এই বিল প্রস্তুত করা হয়। এতে সামরিক বাহিনীর ক্ষমতা দখল বন্ধ, প্রদেশগুলোর স্বায়ত্তশাসন এবং নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীন ও শক্তিশালী করে বিভিন্ন বিষয় সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়েছে।
পিএমএলের (এন) বৈঠক
সংবিধান সংশোধনী বিল নিয়ে গতকাল ইসলামাবাদে বৈঠক করেছে প্রধান বিরোধী দল পাকিস্তান মুসলিম লিগ (এন)। কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ওই বৈঠকে দলের প্রধান নওয়াজ শরিফ, পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী শাহবাজ শরিফসহ জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সংবিধান সংশোধনবিষয়ক বিলে তাঁদেরও সমর্থন দেওয়ার কথা রয়েছে।

মুম্বাই ও দিল্লির জয়

১০ বলে জয়ের জন্য প্রয়োজন ৯ রান। ওই সময় মহেন্দ্র সিং ধোনির হাতে ক্যাচ দিলেন শচীন টেন্ডুলকার। কিন্তু এর আগে যা করার তা করে দিয়ে এসেছেন। ৫২ বলে ৭২ রান করে জয়ের ভিত গড়ে দিয়েছেন তিনি। তাঁর হাফ সেঞ্চুরিতে কাল ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে চেন্নাই সুপার কিংসকে ৫ উইকেটে হারাল মুম্বাই ইন্ডিয়ানস। এই জয়ে ৫ ম্যাচে ৪টিতে জিতে ৮ পয়েন্ট নিয়ে সবার ওপরে উঠে এল তারা।
প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ৩৮ রানে দুই উইকেট হারিয়ে ফেলে চেন্নাই। এরপর সুরেশ রায়না ও সুব্রামানিয়াম বদ্রিনাথের জোড়া হাফ সেঞ্চুরিতে চেন্নাই করে ১৮০ রান। ৫২ বলে ৭টি চার ও ৩ ছক্কায় অপরাজিত ৮৩ রান করেন রায়না। ৪৫ বলে ৫৫ রানে (৬টি চার) অপরাজিত বদ্রিনাথ। তৃতীয় উইকেটে সর্বোচ্চ অপরাজিত ১৪২ রানের জুটি গড়েন দুজন। কিন্তু এই রানকেও মামুলি বানিয়ে দেন টেন্ডুলকার ও শিখর ধাওয়ান। ৩৪ বলে ৫৬ করে ধাওয়ান আউট হলেও টেন্ডুলকার দলকে জয়ের কাছাকাছি নিয়ে যান। বাকি কাজটুকু সারেন ডোয়াইন ব্রাভো (৭ বলে ১৪)। এক ওভার বাকি থাকতেই ৫ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় তারা।
এর আগের ম্যাচে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুকে ১৭ রানে হারায় দিল্লি ডেয়ারডেভিলস। প্রথমে ব্যাট করে দিল্লি ৪ উইকেটে তোলে ১৮৩ রান। জবাবে ৯ উইকেটে ১৬৬ রান তুলতে পারে বেঙ্গালুরু। দিল্লির কেদার যাদব করেন সর্বোচ্চ অপরাজিত ৫০ রান।

কিশোর টেস্ট ক্রিকেটাররা

১৫ বছর বয়সেই যদি খেলতে হয় ওয়েস হলের বোলিং? কিংবা বোলিং করতে হয় গ্যারি সোবার্স-রোহান কানহাইদের! মুশতাক মোহাম্মদ জিজ্ঞেস করুন, অভিজ্ঞতাটা খুব ভালো বলতে পারবেন। ৫১ বছর আগে আজকের দিনটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে যখন টেস্ট ক্যাপ মাথায় উঠল পাকিস্তানের বিখ্যাত মোহাম্মদ ভাইদের একজন মুশতাকের বয়স ছিল মাত্র ১৫ বছর ১২৪ দিন। ভালো করতে পারেননি, দুই ইনিংসে করেছিলেন ১৪ ও ৪ রান, উইকেট পাননি একটিও। তবে সর্বকনিষ্ঠ টেস্ট ক্রিকেটারের রেকর্ড ঠিকই গড়েছিলেন। ১৪ বছর ২২৭ দিন বয়সে টেস্ট খেলে ১৯৯৬ সালে রেকর্ডটি ভেঙেছেন মুশতাকের স্বদেশি হাসান রাজা। যদিও রাজার আসল বয়স নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বারবার। ১৬ বছর ১৮৯ দিন বয়সে টেস্ট খেলেছেন আরেক পাকিস্তানি আকিব জাভেদ। শচীন টেন্ডুলকারের টেস্ট অভিষেক ১৬ বছর ২০৫ দিন বয়সে।

সমস্যা আয়ুর্বেদিক

দলে ভালো মানের ফিজিও নিশ্চয়ই আছেন, ভারতেও সেরা চিকিত্সাসুবিধার কমতি নেই। বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ক্রিকেট বোর্ড চাইলে চিকিত্সার জন্য তাঁদের পাঠাতে পারত বিশ্বের যেকোনো জায়গাতেই। কিন্তু গৌতম গম্ভীর-আশিস নেহরা গেলেন কিনা শ্রীলঙ্কায়, সেটিও আবার আয়ুর্বেদিক চিকিত্সা নিতে! শেষ নয় এখানেই, দুজনেই গিয়েছেন চুপিচুপি, বোর্ডকে না জানিয়ে। দুজনেই বিসিসিআইয়ের চুক্তিবদ্ধ ক্রিকেটার, ব্যাপারটা তাই ভালোভাবে নেয়নি বোর্ডও। কারণ দর্শাও নোটিশ দিয়েছে দুজনকেই।
আধুনিক চিকিত্সার এই যুগে হঠাত্ করে ভারতের মতো দেশের দুই ক্রিকেটার কেন আয়ুর্বেদের শরণাপন্ন হলেন, ব্যাপারটা বুঝে উঠতে পারছেন না কেউই। হয়তো ইনজুরি কাটাতে মরিয়া হয়েই এমনটা করেছেন দিল্লি ডেয়ার ডেভিলসের দুই ক্রিকেটার। দলের অধিনায়ক হয়েও গম্ভীরকে বসে থাকতে হচ্ছে বাইরে। আর তাঁর দল কালকের আগে ৫ ম্যাচের ৩টিই হেরে ছিল নিচের দিক থেকে দুইয়ে। ১৭ মার্চ মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের বিপক্ষে ম্যাচের দ্বিতীয় ওভারেই হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে বাইরে চলে যান গম্ভীর। শিখর ধাওয়ানের সঙ্গে অদলবদল করে এ মৌসুমেই মুম্বাই ইন্ডিয়ানস ছেড়ে দিল্লিতে আসা নেহরা তো খেলতে পারেননি একটি ম্যাচও। প্রথম ম্যাচের আগেই অনুশীলনে পাঁজরের ইনজুরিতে পড়েন বাঁহাতি পেসার। বিসিআইয়ের চুক্তিতে ‘এ’ গ্রেডে থাকা গম্ভীর পান ৬০ লাখ রুপি, আর ‘বি’ গ্রেডে থাকা নেহরা ৪০ লাখ রুপি।

স্বাধীনতা কাপ হ্যান্ডবল

স্বাধীনতা কাপ হ্যান্ডবলের কালকের খেলায় বাংলাদেশ রাইফেলস ৩৭-২৮ গোলে হারিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশকে। পল্টন হ্যান্ডবল স্টেডিয়ামে দিনের অন্য ম্যাচে হকি ফেডারেশন সভাপতি যুবদল ৪০-১১ গোলে বাংলাদেশ আনসারকে হারিয়েছে।

রইল বাকি তিন

ক্যারিয়ারের প্রথম ও শেষ প্রথম শ্রেণীর ম্যাচে সেঞ্চুরি করেছিলেন। জীবনের ‘সেঞ্চুরি’টা অল্পের জন্য মিস করে ফেললেন রন হ্যামেন্স। গত বুধবার ৯৪ বছর বয়সে অ্যাডিলেডের এক নার্সিংহোমে মারা গেছেন হ্যামেন্স।
কিন্তু হঠাত্ করে এই রন হ্যামেন্সের মৃত্যু কেন ‘সংবাদ’ হয়ে উঠল? কারণ রন হ্যামেন্স ছিলেন স্যার ডন ব্র্যাডম্যানের সেই ‘দ্য ইনভিন্সিবল’ দলের সদস্য। হ্যামেন্সের মৃত্যুতে একটা ইতিহাসের নির্মাতা চলে গেলেন পৃথিবী ছেড়ে।
১৯৪৮ সালে স্যার ডন ব্র্যাডম্যানের নেতৃত্বে ইংল্যান্ডে যাওয়া অস্ট্রেলিয়া দলের সদস্য ছিলেন হ্যামেন্স। সেই সফরে প্রস্তুতি ম্যাচ, টেস্ট—কোনো ম্যাচেই হারেনি অস্ট্রেলিয়া। যদিও সেই সফরে মূল একাদশে থাকার সুযোগ হয়নি হ্যামেন্সের, তার পরও একটি ‘অপরাজেয়’ দলের সদস্য বলে কথা!
হ্যামেন্সের পর সেই দলের সদস্যদের মধ্যে বেঁচে রইলেন আর মাত্র তিনজন—স্যাম লক্সটন (৮৮), আর্থার মরিস (৮৮) ও নিল হার্ভে (৮১)। হ্যামেন্স অবশ্য শুধু ‘দ্য ইনভিন্সিবল’ দলের কারণে আলোচিত ছিলেন না। ৩টি টেস্ট খেলে ৮১ রান করা হ্যামেন্স ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বয়সী টেস্ট ক্রিকেটার।

আবারও সভাপতি হতে চান প্লাতিনি

ইউনিয়ন অব ইউরোপিয়ান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (উয়েফা) সভাপতির পদটি ধরে রাখতে চান মিশেল প্লাতিনি। আগামী বছর অনুষ্ঠেয় সংস্থার নির্বাচনে তাই আবারও অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছেন এই ফরাসি ফুটবল গ্রেট।
২০০৭ সালে উয়েফার সভাপতি নির্বাচিত হওয়া ৫৪ বছর বয়সী প্লাতিনি সংস্থার কার্যক্রমে ছোট ছোট দেশগুলোর আরও সুযোগ বাড়ানোর পক্ষে। ধনী ক্লাবগুলোর ফুটবলার ক্রয়ে ইচ্ছামতো দাম হাঁকানোর বিপক্ষেও তাঁর অবস্থান। ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপকে প্রথমবারের মতো সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নভুক্ত দেশে আয়োজনের সিদ্ধান্ত দিয়েছেন (২০১২ সালের ইউরো হবে ইউক্রেন ও পোল্যান্ডে)। সব মিলিয়ে ফিফা সভাপতি সেপ ব্ল্যাটারের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত প্লাতিনি উয়েফায় একটা বলিষ্ঠ ভূমিকাই রেখেছেন। ২০০৭ সালে উয়েফা নির্বাচনে তিনি হারিয়েছিলেন আগের সভাপতি লেনার্ট ইয়োহানসনকে। উয়েফা সভাপতি হিসেবে তাঁর কার্যক্রম উয়েফাভুক্ত দেশগুলো কেমন সমর্থন করছে, সেটা বোঝা যাবে আগামী বছরের নির্বাচনেই।

হাসি-ক্যাটিচের ‘ফিফটি’ ভেট্টোরির ‘সেঞ্চুরি’

শৈশবে দুজন দুদলে খেলতেন, কিন্তু এসব কি আর বন্ধুত্বে বাধা হতে পারে! বন্ধুত্ব সেই তখন থেকেই। পরে রাজ্যদলে একসঙ্গে খেলেছেন, খেলছেন জাতীয় দলেও। মাঠের বাইরেও দুজনের ঘনিষ্ঠতা দারুণ। মাইকেল হাসি ও সাইমন ক্যাটিচকে এক বিন্দুতে মিলিয়ে দিল ক্যারিয়ারের বড় এক অর্জনও, কাল হ্যামিল্টনে শুরু ট্রান্স-তাসমান ট্রফির সিরিজ নির্ধারণী টেস্টটা দুজনেরই ৫০তম টেস্ট। দুই বন্ধুর ‘হাফ সেঞ্চুরি’ একসঙ্গে হতে যাচ্ছে বলেই শুরুতে বলা, না হলে ড্যানিয়েল ভেট্টোরি তো দাঁড়িয়ে আরও বড় অর্জনের সামনে। কিউই ক্রিকেটের ‘সর্বেসর্বা’ কাল খেলতে নামছেন শততম টেস্ট। যদিও নিউজিল্যান্ডের হয়ে ৯৯তম, একটি টেস্ট খেলেছিলেন আইসিসি বিশ্ব একাদশের হয়ে।
দুজনেরই এখন ৩৪ চলছে (৮৬ দিনের বড় হাসি), কিন্তু শৈশবের দিনগুলো এখনো মন রাঙায় দুজনেরই। ১২ বছর বয়সেই নিজের গালভরা দাড়ি, আর তখনো হাসির কণ্ঠ ছিল বাচ্চাদের মতো—এসব মনে করে হেসেই বাঁচেন না ক্যাটিচ। আর হাসির মনে পড়ছে ক্যাটিচের মিডল্যান্ড-গিল্ডফোর্ড ক্লাবের কাছে নিজের দল ওয়ানারু বয়েজের হারের পরও উত্সব করার কথা, ‘অনূর্ধ্ব-১৩ টুর্নামেন্টের ফাইনাল ছিল সেটা, ক্যাটিচের মা বড় একটা কেক বানিয়ে এনেছিলেন। খেলা শেষে দুদলই ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম ওই চকলেট কেকের ওপর।’
টেস্ট দলে দুজনের সূচনায় কিন্তু আকাশ-পাতাল ব্যবধান। একসময় অস্ট্রেলিয়ার সেরা তরুণপ্রতিভা বলে বিবেচিত ক্যাটিচের টেস্ট অভিষেক হয়ে যায় ২০০১ সালে, ২৫ বছর বয়সে। টানা বছর চারেক খেলেছেন, ২০০৫ অ্যাশেজে জঘন্য পারফরম্যান্সের পর প্রশ্ন উঠে দলে জায়গা নিয়ে। নভেম্বরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ব্রিসবেন টেস্টে শূন্য করার পর দল থেকেই বাদ। ক্যাটিচের টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম অধ্যায়ের সমাপ্তি যেখানে, সেই ব্রিসবেন টেস্টেই অভিষেক হাসির। ঘরোয়া ক্রিকেটে রানের বন্যা বইয়ে দেওয়ার পরও বহু তপস্যায় অভিষেক, হাসি তাই সুযোগটাকে লুফে নিয়েছেন দুই হাতে। প্রথম ১৪ টেস্টের পর গড় ছিল ৮৬.৩৩, দলে জায়গা নিয়ে প্রশ্নই ওঠেনি কখনো।
ঘরোয়া ক্রিকেটে এক মৌসুমে রেকর্ড ১৫০৪ রান করার পর ২০০৮ সালে ক্যাটিচ আবার ফিরেছেন। জানালেন বন্ধুকে দেখেই পেয়েছিলেন দলে ফেরার লড়াইয়ের প্রেরণা, ‘তিন বছর আগেও ভাবতে পারিনি আবার টেস্ট খেলব। হাসির জন্য ব্যাপারটা ভিন্ন, চার বছর ধরেই সে অসাধারণ খেলছে। সত্যি বলতে, ওকে দেখেই আমি অনুপ্রাণিত। বছরের পর বছর পরিশ্রম করে গেছে, যখন সুযোগ পেয়েছে, কাজে লাগিয়েছে।’
এই দুজন মিলে যা খেলেছেন, কাল সেটা একাই পূরণ করতে যাচ্ছেন ভেট্টোরি। ১৯৯৭ সালে নিউজিল্যান্ডের সর্বকনিষ্ঠ টেস্ট ক্রিকেটার (১৮ বছর ১০ দিন) হিসেবে অভিষেক, ৩১ বছর ৫৯ দিন বয়সে কাল ছুঁতে যাচ্ছেন শতক।
এতসব উত্সবের উপলক্ষের মাঝেও একটু মন খারাপ হতে পারে ফিলিপ হিউজের। ওয়েলিংটনে ৭৫ বলে অপরাজিত ৮৬ করার পরও একাদশের বাইরে থাকতে হচ্ছে তাঁকে। যাঁর ইনজুরিতে সুযোগ পেয়েছিলেন সেই শেন ওয়াটসন কাল নেটে ব্যাটিং করেছেন কোনো সমস্যা ছাড়াই। নিউজিল্যান্ডে ব্যাটিং-অর্ডারের তিন নম্বর জায়গা নিয়ে লড়াই চলছে পিটার ইনগ্রাম ও ম্যাথু সিনক্লেয়ারের। ৬ নম্বরে খেলানো হবে ভেবেই ডাকা হয়েছিল তরুণ কেন উইলিয়ামসকে। তবে সেডন পার্কের সবুজ উইকেট অলরাউন্ডার জেমস ফ্রাঙ্কলিনকে ঢুকিয়ে দিতে পারে দলে।

জরিমানার বিরুদ্ধে আফ্রিদির আপিল

আপিলের জন্য সময় ছিল ৩০ দিন, ১৫ দিনের মাথায়ই সুযোগটা নিয়ে নিলেন শহীদ আফ্রিদি। গত অস্ট্রেলিয়া সফরে বল টেম্পারিংয়ের জন্য গত ১০ মার্চ তাঁকে ৩০ লাখ রুপি জরিমানা করেছিল পিসিবি। পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক নির্বাচিত হওয়ার দুই দিন পরই জরিমানার বিরুদ্ধে আপিল করলেন পাকিস্তানি অলরাউন্ডার। শোনা যাচ্ছে, এক বছরের জন্য নিষিদ্ধ রানা নাভেদ এবং শোয়েব মালিকও আপিলের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এই তিনজন ছাড়াও অনির্দিষ্টকালের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে মোহাম্মদ ইউসুফ ও ইউনুস খানকে, আকমল ভাইদেরও করা হয়েছে ৩০ লাখ রুপি জরিমানা।
আফ্রিদির আপিলের খবর নিশ্চিত করেছেন পিসিবির চিফ অপারেটিং অফিসার ওয়াসিম বারি, ‘পিসিবি চেয়ারম্যান ইজাজ বাটের কাছে জরিমানার বিরুদ্ধে আপিল করেছে আফ্রিদি। এখন একজন অথবা তিনজন স্বাধীন বিচারক নিয়োগ দেওয়া হবে শুনানির জন্য।’ আপিলসংক্রান্ত ব্যাপারগুলো দেখার জন্য পিসিবি গত সপ্তাহে সুপ্রিম কোর্টের দুজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারক এবং হাইকোর্টের একজন সাবেক বিচারককে নিয়োগ দিয়েছে। আপিল নিয়ে আফ্রিদি শুধু বলেছেন, ‘হ্যাঁ, আমি আপিল করেছি।’

ক্লাব কাপ দিয়ে শুরু হচ্ছে হকি

সর্বশেষ প্রিমিয়ার হকি লিগ হয়েছিল ২০০৮ সালের জুনে। মাঝখানে পেরিয়ে গেছে ২১ মাস। স্থবিরতা কাটিয়ে অবশেষে শুরু হতে যাচ্ছে ঘরোয়া হকি। আগামী পরশু মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে শুরু হতে যাচ্ছে ক্লাব কাপ হকি, যাকে বলা হয় মৌসুমসূচক টুর্নামেন্ট। উদ্বোধনী খেলায় বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আবাহনীর মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ পুলিশ। আগামী ১২ এপ্রিল ফাইনাল। ক্লাব কাপ হকি শেষ হওয়ার তিন দিন পর শুরু হবে প্রিমিয়ার হকি লিগ।
হকি লিগ হওয়ার কথা ছিল গত বছর। কিন্তু দক্ষিণ এশীয় গেমসের (এসএ) প্রস্তুতির জন্য জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের নিয়ে যাওয়া হয় ইউরোপ সফরে। এর পর এসএ গেমসের জন্য লিগ পিছিয়ে দেওয়া হয়।
ক্লাব কাপ হকি শুরু হচ্ছে ঠিকই। কিন্তু এখনো পর্যন্ত দল পাননি জাতীয় দল থেকে সদ্য অবসর নেওয়া চার খেলোয়াড়। সংখ্যাটা মূলত ছিল ৬, কিন্তু মশিউর রহমান (বিপ্লব) ক্লাব পেয়েছেন, পাওয়ার সম্ভাবনা আছে রিমনের। সর্বশেষ জাতীয় দলের অধিনায়ক মশিউর তাঁর দল পাওয়ার ব্যাপারটা নিশ্চিত করেছেন কাল, ‘আবাহনী আমাকে নিয়েছে।’ রিমন জানিয়েছেন, সোনালী ব্যাংকের হয়ে তিনি খেলতে পারেন ক্লাব কাপে। পুল থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য জাতীয় দল থেকে অবসর নেওয়া বাকি চারজন মোশাররফ, সাজ্জাদ, জাহিদ (শুভ) ও হাসান এখনো দলের খোঁজে।
এবারের লিগে ‘ক’ গ্রুপে অংশ নিচ্ছে আবাহনী ও মোহামেডান, অ্যাজাক্স, মেরিনার্স, পুলিশ এবং ‘খ’ গ্রুপে সোনালী ব্যাংক, ঊষা, ওয়ারী ও সাধারণ বীমা। গ্রুপ পর্বেই দেখা হয়ে যাচ্ছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই ক্লাব আবাহনী ও মোহামেডানের।
কাল সংবাদ সম্মেলনে টুর্নামেন্ট বিষয়ে যাবতীয় তথ্য জানান ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক খোন্দকার জামিলউদ্দিন। উপস্থিত ছিলেন টুর্নামেন্টের পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান ঢাকা ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়াজ মোহাম্মদ খান, টুর্নামেন্ট কমিটির সম্পাদক আনভীর আদিল খান।

মেসিতে আরও মুগ্ধ ম্যারাডোনা

বিশ্বকাপের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, আর্জেন্টাইনদের চোখ ততই চকচক করে উঠছে। ২০১০ বিশ্বকাপে যিনি আর্জেন্টাইনদের আশা-ভরসার বড় প্রতীক, সেই লিওনেল মেসি যে দুর্দান্ত ফর্মে! ক্লাব বার্সেলোনার হয়ে গত চার ম্যাচের দুটিতে হ্যাটট্রিক; গোল করেছেন মোট ১০টি। বিশ্বকাপের আগে মেসির এই ফর্মটাই তো দেখতে চেয়েছে আর্জেন্টাইনরা। কোচ ম্যারাডোনা বলেই ফেললেন, সময়মতোই পরিণতি বোধ দেখাচ্ছেন মেসি।
শুরু থেকেই ম্যারাডোনার সঙ্গে চলে আসছে মেসির তুলনা। বার্সেলোনায় তাঁর উদ্ভাসিত পারফরম্যান্সের পর আরও বেশি তুলনা করা হচ্ছে ফুটবলের অমিত প্রতিভা ম্যারাডোনার সঙ্গে। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে ম্যারাডোনা একাই শিরোপা জিতিয়েছিলেন আর্জেন্টিনাকে। ফাইনালে তুলেছিলেন ১৯৯০ বিশ্বকাপে। মেসিও কি পারবেন? উত্তরটা সময়ের হাতেই, তবে ম্যারাডোনা মেসিতে মুগ্ধ, ‘এটা অসাধারণ। এ ব্যাপারে আমি সত্যিই খুব খুশি। পরিণতির দিকে লম্বা পা ফেলে এগোচ্ছে সে।’
বিশ্বকাপে ‘বি’ গ্রুপে নাইজেরিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া ও গ্রিসের সঙ্গে খেলবে আর্জেন্টিনা। ২৪ মে কানাডার সঙ্গে বুয়েন্স এইরেসে প্রীতিম্যাচ খেলেই দক্ষিণ আফ্রিকায় রওনা দেবে ম্যারাডোনার দল।

পিছিয়ে গেল পিসিএলের উদ্বোধন

আজমানের রামাদা হোটেলের লবিতে সদ্য অবসর নেওয়া হাবিবুল বাশারের সঙ্গে দেখা হতেই বললেন, ‘এটা তো আপনাদের দ্বিতীয় চট্টগ্রাম।’ প্রত্ত্যুত্তরে তাঁকে জানানো হলো, ‘এটা কিন্তু তৃতীয় বাংলাদেশও বটে।’ কীভাবে?
বাংলাদেশ সরকারের জনশক্তি রপ্তানি ব্যুরোর তথ্যমতে, এ বছর ১০ জানুয়ারি থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে ১৪ লাখ ১১ হাজার ৩৭৬ জন বাংলাদেশি শ্রমিক ছিল। সারা বিশ্বের মধ্যে সর্বোচ্চ ১৮ লাখ ৯৬ হাজার ৭৭৩ জন বাঙালি শ্রমিক রয়েছেন সৌদি আরবে। সে হিসাবে সৌদি আরব ‘দ্বিতীয় বাংলাদেশ’ ও আরব আমিরাত ‘তৃতীয় বাংলাদেশ’। হাবিবুল বাশার তথ্যটা জেনে হাসতে হাসতে ছুটলেন শারজা স্টেডিয়ামে প্র্যাকটিসের জন্য।
কিন্তু এত ছুটে কী লাভ হলো! পিসিএল তো পিছিয়ে গেল দুই দিন। উদ্বোধনের নতুন তারিখ, ২৮ মার্চ, রোববার। অব্যবস্থাপনা ও সমন্বয়হীনতার কারণেই পিসিএল আয়োজকদের এই সিদ্ধান্ত। এর আগে সম্প্রচারের দায়িত্বপ্রাপ্ত এটিএন বাংলার সঙ্গে মন-কষাকষিও হয়ে গেছে কর্তৃপক্ষের। কারণ এটিএনের টিভি ক্রুরা দু দুবার ঢাকা বিমানবন্দর থেকে ফিরে গেছেন। ভিসা না হওয়ায় প্রায় ৭০ জনের দলটি শারজায় আসতে পারেনি। এ ছাড়া এখনো চট্টগ্রাম থেকে শারজা পৌঁছায়নি আয়োজকদের মূল কর্ণধারেরা। পৌঁছায়নি তিনটি দলও।
তবে সকালে স্থানীয় আয়োজকেরা বারবার বলছেন, ‘কোনো সমস্যা নেই। সব ঠিক হয়ে যাবে।’ কাল পর্যন্তও কিন্তু কিছু ঠিক হয়নি।
তবে সকালে শারজা স্টেডিয়ামের ব্যবস্থাপক ইরশাদ খানের কথায়ও ছিল পিসিএল শুরু নিয়ে শঙ্কা, ‘উদ্যোক্তাদের আরও তত্পর হওয়া দরকার ছিল। তাদের সমন্বয়ে ঘাটতি রয়েছে। এখনো আয়োজনের অনেক বাকি।’
এদিকে এরই মধ্যে বিভিন্ন দলের হয়ে শারজা পৌঁছানো আশরাফুল, হাবিবুল, সানোয়ার, নাফিসরা বিভিন্ন দলের হয়ে গতকাল প্র্যাকটিস করেছেন শারজা স্টেডিয়ামে।
শারজা স্টেডিয়ামে শেষ এক দিনের আন্তর্জাতিক (ওডিআই) ম্যাচটি হয়েছে ২০১০ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি। আফগানিস্তান ও কানাডার মধ্যকার এ ম্যাচটি মাঠের দুই শতম ওয়ানডে। বিশাল এক ব্যানারে এ কথাটি ঝুলছে স্টেডিয়ামের এক কোণে। ২০ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার স্টেডিয়াম একসময় বিখ্যাত ছিল ত্রিদেশীয় সিরিজের জন্য। ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথের জন্য এখানকার দর্শকেরা উদগ্রীব হয়ে থাকত। কিন্তু সেই আসর বন্ধ হয়েছে প্রায় সাত বছর আগে।
তাই অব্যবস্থাপনা থাকলেও পিসিএল নিয়ে এখানকার প্রবাসী বাঙালিদের যেন জাগিয়ে দিয়েছে নতুন করে। যেমন আজমানের হামদান সেন্টারের দোকানি সাতকানিয়ার ওমর ফারুক, নয়ন, সুমনদের পিসিএল নিয়ে প্রচণ্ড উত্সাহী।
পিসিএলের স্থানীয় কো-চেয়ারম্যান আলমগীর জামানও আশায় বুক বেঁধেছেন, ‘বিভিন্ন প্রদেশের ২০টি বুথে টিকিট বিক্রি চলছে। আমরা সাড়াও পেয়েছি ভালো।’ তবে টিকিট বাজারে আসতে দেরি হয়েছে বলেও জানালেন টিকিট কমিটির এক কর্মকর্তা।
পিসিএলের বিলম্বিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটা সাজানো হয়েছে বাংলাদেশের ৩৯তম স্বাধীনতা দিবসকে স্মরণে রেখে। জাতীয় সংগীত ছাড়াও থাকছে শিশুদের ডিসপ্লে, মমতাজের গান, আফ্রিকান বাদকদলের বাজনা ইত্যাদি। এক ঘণ্টার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাংসদসহ থাকবেন আইসিসি ও বিসিবির প্রতিনিধিরা। উদ্বোধনের পর ছক্কা, চারের সঙ্গে উত্তাপ ছড়াবেন রাশিয়া থেকে উড়িয়ে আনা চিয়ার লিডাররা।