Sunday, May 31, 2026

২০২৪ সালে যক্ষ্মায় মারা গেছে ১২ লাখের বেশি মানুষ: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, ২০২৪ সালে বিশ্বজুড়ে যক্ষ্মায় (টিবি) ১২ লাখ ৩০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। যা আগের বছরের তুলনায় ৩ শতাংশ কম। বুধবার প্রকাশিত সংস্থাটির বার্ষিক যক্ষ্মা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর টিবি রোগীর সংখ্যাও প্রায় ২ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আল জাজিরা।

এতে বলা হয়, এটি কোভিড-১৯ মহামারির পর প্রথমবারের মতো যক্ষ্মা সংক্রমণ ও মৃত্যুহার কমার ঘটনা। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালে  ৮৩ লাখ মানুষ নতুনভাবে শনাক্ত হওয়ার পর যক্ষ্মার চিকিৎসা পেয়েছেন। যা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। চিকিৎসা সফলতার হারও বেড়ে ৬৮ শতাংশ থেকে ৭১ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।

তবে ডব্লিউএইচও সতর্ক করেছে, আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়ায় এই অগ্রগতি হুমকির মুখে পড়তে পারে। সংস্থার মহাপরিচালক টেড্রস আধানম গেব্রেইসুস বলেন, এই ঘাটতি আমাদের অর্জিত কঠিন সাফল্যগুলোকে উল্টে দিতে পারে।
২০২৪ সালে যক্ষ্মা প্রতিরোধ, শনাক্তকরণ ও চিকিৎসায় ব্যয় হয়েছিল ৫.৯ বিলিয়ন ডলার। যা ২০২৭ সালের মধ্যে নির্ধারিত বার্ষিক ২২ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্যের তুলনায় অনেক কম। টেড্রস বলেন, যক্ষ্মা প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় সাম্প্রতিক অগ্রগতি অবশ্যই ইতিবাচক, তবে এটিকে বিজয় বলা যায় না। এখনও প্রতিবছর এক মিলিয়নের বেশি মানুষ এই প্রতিরোধযোগ্য ও নিরাময়যোগ্য রোগে মারা যাচ্ছেন। এটি একেবারেই অগ্রহণযোগ্য।
২০১৫ সালের তুলনায় ২০২৪ সালে যক্ষ্মাজনিত মৃত্যু ২৯ শতাংশ কম হলেও ডব্লিউএইচও-এর লক্ষ্য ছিল ২০২৫ সালের মধ্যে তা ৭৫ শতাংশ এবং ২০৩০ সালের মধ্যে ৯০ শতাংশ কমানো।

ডব্লিউএইচও-এর টিবি, এইচআইভি ও সংশ্লিষ্ট সংক্রমণবিষয়ক বিভাগের পরিচালক তেরেজা কাসায়েভা সতর্ক করে বলেন, দীর্ঘমেয়াদে আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে গেলে ২০২৫ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে অতিরিক্ত ২০ লাখ মানুষ মারা যেতে পারে এবং আরও ১ কোটি মানুষ নতুনভাবে টিবিতে আক্রান্ত হতে পারে। সংস্থাটি বড় ধাক্কা খায় যখন ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ডব্লিউএইচও থেকে সরে যায়। ফলে এর প্রস্তাবিত বাজেটে ২১ শতাংশ কাটছাঁট করতে হয়।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের বিদেশি সহায়তা বিশেষ করে ইউএসএইডের অর্থায়ন কমানোর সিদ্ধান্তে বৈশ্বিক টিবি চিকিৎসা কার্যক্রম নিয়ে নতুন উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, গত বছর আন্তর্জাতিক সহায়তার কারণে ৩৬ লাখ ৫০ হাজার মানুষের জীবন যক্ষ্মা থেকে রক্ষা করা সম্ভব হয়েছিল।

mzamin

পৃথিবীকে বাঁচাতে এই ১০ সবুজ উদ্ভাবন ভূমিকা রাখতে পারে

বিশ্বে মানুষের কর্মকাণ্ড, বিশেষ করে দূষণ ও জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা বৈশ্বিক উষ্ণতাকে ত্বরান্বিত করছে। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও টেকসই ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করাটা এখন জরুরি অগ্রাধিকারের বিষয়। আর জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার ক্ষেত্রে সবুজ বা পরিবেশবান্ধব উদ্ভাবনগুলো বড় পদক্ষেপ হিসেবে কাজ করছে। এগুলো পৃথিবীকে বাঁচাতে সহায়ক হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মেধাস্বত্ব–বিষয়ক আইনি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান শেইজার ওলসেন বিশ্বে উল্লেখযোগ্য ১০টি সবুজ উদ্ভাবনের তালিকা করেছে। ওই তালিকা অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ উদ্ভাবন সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।

সৌর প্যানেল

সূর্যের আলোকে বিদ্যুৎশক্তিতে রূপান্তরের ক্ষেত্রে সৌর প্যানেল যুগান্তকারী এক উদ্ভাবন। এটি কয়লা বা তেলের মতো অনবায়নযোগ্য শক্তির ওপর নির্ভরতা কমায়। মার্কিন প্রকৌশলী রাসেল ওহল ১৯৪১ সালে প্রথম সৌরকোষ উদ্ভাবন করেন। এটিকে আধুনিক সৌর ফটোভোলটাইক প্রযুক্তির ভিত্তি বলে বিবেচনা করা হয়।

উইন্ড টারবাইন বা বায়ুবিদ্যুৎ

এ ক্ষেত্রে বায়ুশক্তি ব্যবহার করে নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। এটি সবচেয়ে কার্যকর নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎসগুলোর একটি। ১৮৮৭ সালে চার্লস এফ. ব্রাশ প্রথম বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী উইন্ড টারবাইন নির্মাণ করেন।

বৈদ্যুতিক গাড়ি

বিদ্যুৎ–চালিত হওয়ায় এসব গাড়িতে জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার করা হয় না। এ ধরনের গাড়ির ব্যবহার পরিবেশে কার্বন নিঃসরণ কমায়।

১৮৩০-এর দশকে প্রথম পরীক্ষামূলক বৈদ্যুতিক গাড়ি তৈরি করেন স্কটল্যান্ডের উদ্ভাবক রবার্ট অ্যান্ডারসন। এরপর অনেকেই বৈদ্যুতিক গাড়ি নিয়ে কাজ করেছেন। আধুনিক বৈদ্যুতিক গাড়ি জনপ্রিয়তা পেয়েছে টেসলা ও প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইলন মাস্কের হাত ধরে।

ভার্টিক্যাল ফার্মিং

ভার্টিক্যাল ফার্মিং হলো এমন এক আধুনিক চাষপদ্ধতি, যেখানে কোনো উঁচু স্থাপনা বা কাঠামোর ওপর নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে উল্লম্বভাবে বা স্তরে স্তরে চাষ করা হয়। এ পদ্ধতিতে চাষ করতে সাধারণত মাটি লাগে না। পানি ও জমিও কম লাগে।

সাধারণত শহরের কাছাকাছি এলাকায় এ ধরনের চাষপদ্ধতি ব্যবহার করতে দেখা যায়। সেখানে পরিবহনের প্রয়োজন কম পড়ে এবং কার্বন নিঃসরণ কম হয়। মার্কিন অণুজীববিজ্ঞানী ডিকসন ডেসপোমিয়ার ২০০০-এর দশকের শুরুতে আধুনিক ভার্টিক্যাল ফার্মিংয়ের ধারণা প্রবর্তন করেন।

বায়োডিগ্রেডেবল প্লাস্টিক

এ ধরনের প্লাস্টিক প্রাকৃতিকভাবে ক্ষয় হয়। এগুলো পচনশীল হওয়ায় ভাগাড়ে বর্জ্যের পরিমাণ কমিয়ে আনে। বায়োডিগ্রেডেবল প্লাস্টিক মাটির সঙ্গে মিশে যায় বলে পরিবেশকে দূষিত করে না।

জার্মানিভিত্তিক বহুজাতিক রাসায়নিক কোম্পানি বিএএসএফের একটি দল প্রথম পূর্ণাঙ্গ বায়োডিগ্রেডেবল প্লাস্টিকগুলোর একটির উদ্ভাবক।

হাইড্রোপাওয়ার ড্যাম বা জলবিদ্যুৎ বাঁধ

জলবিদ্যুৎ বাঁধ পদ্ধতিতে প্রবহমান পানির গতিশক্তিকে নবায়নযোগ্য বিদ্যুতে রূপান্তরিত করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে জলবিদ্যুৎ বাঁধ সম্পর্কে বলা হয়েছে, এ পদ্ধতিতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য বাঁধ দিয়ে নদীর পানি সংরক্ষণ করতে হয়। সে পানি একটি জলাধারে জমা রাখা হয়। ওই জলাধার থেকে পানি ছাড়া হলে তা একটি টারবাইনের (পাখাযুক্ত চাকা) মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয় ও টারবাইন ঘুরতে থাকে। এ সময় ঘূর্ণনরত টারবাইন একটি জেনারেটরকে সক্রিয় করে তোলে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়।

সৌরচালিত পানি পরিশোধন

এ ব্যবস্থায় সৌরশক্তি ব্যবহার করে পানি পরিশোধন করা হয়। বিশুদ্ধ পানির ঘাটতি পূরণের ক্ষেত্রে এটি একটি পরিবেশবান্ধব সমাধান। যেসব জায়গায় পানি শোধনের সরঞ্জাম সীমিত, সেখানে সৌর তাপ ব্যবহার করে পানির পরিশোধনের এই পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন অশোক গাদগিল। তিনি ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন পদার্থবিদ।

স্মার্ট থার্মোস্ট্যাট

স্মার্ট থার্মোস্ট্যাট হলো এমন একটি যন্ত্র, যা বাড়ির ভেতরকার তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। নেস্টের মতো থার্মোস্ট্যাটগুলো ব্যবহারকারী কেমন অভ্যস্ত, সেটি শিখে ফেলে এবং সে অনুযায়ী ঘর কতটুকু ঠান্ডা থাকবে বা কতটুকু গরম থাকবে, তা নিয়ন্ত্রণ করে। এতে শক্তির অপচয় কম হয়।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হোম অটোমেশন কোম্পানি নেস্ট ল্যাবস ২০১১ সালে প্রথম বাণিজ্যিক স্মার্ট থার্মোস্ট্যাট চালু করে।

অ্যালগি বায়োফুয়েল

শৈবাল থেকে বিকল্প এ জ্বালানি উৎপাদন করা হয়। এ জ্বালানি প্রচলিত জীবাশ্ম জ্বালানির তুলনায় পরিচ্ছন্ন। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে অ্যালগি বায়োফুয়েল প্রক্রিয়া সম্পর্কে লেখা হয়েছে, শৈবালকোষ সূর্যের আলো ব্যবহার করে ফটোসিনথেসিসের মাধ্যমে সরাসরি শক্তি তৈরি করে। এই প্রক্রিয়ায় সূর্যের আলো, পানি ও কার্বন ডাই–অক্সাইড কার্যকরভাবে অক্সিজেন ও শৈবাল জীবাশ্মে রূপান্তরিত হয়।

অনেক শৈবাল প্রজাতির দেহে প্রায় ৬০ শতাংশ পর্যন্ত শক্তিসমৃদ্ধ চর্বি থাকে। আর তা বের করে বায়োফুয়েল হিসেবে ব্যবহার করা যায়, যা তেলের বিকল্প। বাকি শৈবালকে সহজেই পশুখাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা যায়। কারণ, এতে প্রচুর প্রোটিন থাকে।
১০
প্লাস্টিকখেকো অণুজীব

এ ধরনের প্লাস্টিকখেকো অণুজীব বা মাইক্রোব প্লাস্টিককে ভেঙে ফেলে। এগুলো প্লাস্টিককে এমন উপাদানে পরিণত করে, যা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকারক নয়। প্লাস্টিক বর্জ্যজনিত দূষণ মোকাবিলায় এটি একটি উল্লেখযোগ্য উদ্ভাবন।

জাপানি বিজ্ঞানী শোসুকে ইয়োশিদার নেতৃত্বাধীন একটি দল ২০১৬ সালে এমন একটি ব্যাকটেরিয়া প্রজাতি আবিষ্কার করেন, যা পেট প্লাস্টিক ভাঙতে সক্ষম।
https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla%2F2025-11-12%2Fxl1c956f%2F1.jpg?w=620&auto=format%2Ccompress&fmt=avif