Friday, April 1, 2011

মিয়ানমারে নতুন সরকারের কাছে জান্তার ক্ষমতা হস্তান্তর

মিয়ানমারের সামরিক জান্তা গতকাল বুধবার একটি নির্বাচিত বেসামরিক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেছে। এর মধ্য দিয়ে সে দেশে বেসামরিক শাসনের নতুন যুগের সূচনা হলো। অবসান ঘটল প্রায় দুই দশকের সামরিক শাসনের। গত নভেম্বরে বিতর্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে এই নতুন সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়।
জান্তাপ্রধান সিনিয়র জেনারেল থান সয়ের স্বাক্ষর করা নির্দেশের উদ্ধৃতি দিয়ে মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত ঘোষণায় বলা হয়, জান্তার স্টেট পিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কাউন্সিল (এসপিডিসি) বিলুপ্ত হয়েছে। থান সয়ে ১৯৯২ সাল থেকে জান্তাপ্রধান হিসেবে শক্ত হাতে মিয়ানমারের শাসন পরিচালনা করে আসছিলেন। গতকাল টিভিতে প্রচারিত খবরে তাঁর নাম উল্লেখ করার সময় কেবল ‘এসপিডিসির চেয়ারম্যান’ বলে পরিচয় দেওয়া হয়। এতে দৃশ্যত সেনাপ্রধানের পদ থেকে সরে গেলেন তিনি। জেনারেল মিন অং হলাইং নতুন সেনাপ্রধান হয়েছেন বলে খবরে জানা গেছে। তবে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে সেনাপ্রধানের দায়িত্ব পালন শুরু করেছেন কি না, তা জানা যায়নি।
মিয়ানমারের সরকারে এই পরিবর্তন সত্ত্বেও বিশ্লেষকেরা ধারণা করছেন, সেনাবাহিনী এখনো শক্ত হাতে ক্ষমতা ধরে রাখবে। সে ক্ষেত্রে আড়াল থেকে থান সয়ে ক্ষমতার কলকাঠি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। এসপিডিসি আগে স্টেট ল অ্যান্ড অর্ডার রিস্টোরেশন কাউন্সিল নামে পরিচিত ছিল। ১৯৮৮ সালে তারা দেশের ক্ষমতা দখল করে।
গতকালের টেলিভিশন ঘোষণায় বলা হয়, আইনপ্রণেতারা একজন নতুন প্রেসিডেন্ট, দুজন ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং ৩০ জন মন্ত্রীকে মনোনয়ন দিয়েছেন। এ সরকার আগামী পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকবে। ঘোষণায় বলা হয়, এত দিন আইন প্রণয়ন, বিচার বিভাগীয় ও প্রশাসনিক যে ক্ষমতা এসপিডিসি ভোগ করে আসছিল, আজ (বুধবার) থেকে তা স্থানীয় সরকার-পর্যায়ে চলে গেল।
নতুন যে বেসামরিক সরকার গঠন করা হয়েছে, এর সদস্যরা সাবেক বা বর্তমান সেনাসদস্য। সামরিক জান্তার ক্ষমতা প্রয়োগের হাতিয়ার এসপিডিসির সাবেক সদস্যরাই নতুন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো পেয়েছেন। প্রেসিডেন্ট, ভাইস প্রেসিডেন্ট, পার্লামেন্ট স্পিকারসহ দেশটির ১৪টি অঞ্চলের সরকারপ্রধানদের মধ্যে অধিকাংশ ওই সেনা সংস্থা থেকে আসা।

থাইল্যান্ডে বন্যায় ১১ জনের মৃত্যু

থাইল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলে ভয়াবহ বন্যায় ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে বিমানের একাধিক ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় দুটি অবকাশযাপন দ্বীপে পর্যটকসহ হাজার হাজার মানুষ আটকা পড়েছে।
গতকাল বুধবার কর্মকর্তারা জানান, কোহ সামুই ও কোহ তাও দ্বীপে পর্যটকসহ কয়েক হাজার মানুষ আটকা পড়েছে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে ওই দুটি দ্বীপে ফেরি চলাচল বাতিল করা হয়েছে।
ব্যাংকক এয়ারওয়েজ জানায়, গত দুই দিন ফ্লাইট বন্ধ থাকায় সামুই দ্বীপের বিমানবন্দর এবং বিভিন্ন হোটেলে প্রায় দুই হাজার লোক আটকা পড়েছে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া এবং বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় সামুই বিমানবন্দরে ৫০টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়।

জার্মানিতে আঙ্গেলা মেরকেলের জনপ্রিয়তায় ভাটা

জার্মানির চ্যান্সেলর আঙ্গেলা মেরকেল তাঁর দীর্ঘদিনের পরমাণুনীতি বাদ দিয়ে উল্টো নীতি অবলম্বন করায় নিজ দেশে জনপ্রিয়তা হারিয়েছেন। জাপানে ফুকুশিমার পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিপর্যয় দেখা দেওয়ার পর তাঁর জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়েছে। ৫৯ শতাংশ থেকে ৫৫ শতাংশে নেমে এসেছে জনপ্রিয়তা।
জার্মানির স্টার্ন সাময়িকীর পক্ষে জরিপ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ফোরসা এক জরিপ চালিয়ে এ তথ্য দিয়েছে।
ফোরসা বলেছে, মেরকেলের জনপ্রিয়তা চার শতাংশ কমে গিয়ে ৫৫ শতাংশে পৌঁছেছে। অন্যদিকে ২০০৯ সালের নির্বাচনে মেরকেলের কাছে পরাজিত সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির নেতা ফ্রাঙ্ক ওয়াল্টার স্টাইনমায়ার জনপ্রিয়তা এখন ৫৬ শতাংশ। অর্থাৎ ১ শতাংশ পিছিয়ে পড়েছেন মেরকেল।
জাপানে পরমাণু চুল্লিতে বিস্ফোরণের পরিপ্রেক্ষিতে গত মাসে মেরকেল বিদ্যুৎ উৎপাদন-সহায়ক সাতটি পুরোনো পরমাণু চুল্লি সাময়িকভাবে বন্ধ করার নির্দেশ দেন। বিকল্পব্যবস্থা হিসেবে তিনি নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎস আরও উন্নত করার নির্দেশ দেন। এর ফলে বিরোধী দলের পাশাপাশি মেরকেলের নিজের দলের নেতারাও ক্ষুব্ধ হন।

বিমানে নকল বোমার বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে যুক্তরাজ্য

কার্গো বিমানে নকল বোমা কীভাবে ঢুকল এবং বিনা তল্লাশিতে তা কীভাবে যুক্তরাজ্য থেকে তুরস্ক পর্যন্ত পৌঁছাল তা খুঁজে বের করতে তদন্ত শুরু হয়েছে।
প্রায় দুই সপ্তাহ আগে লন্ডন থেকে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে পৌঁছানো ইউপিএস কুরিয়ারের একটি কার্গো বিমান থেকে নকল বোমাটি উদ্ধার করা হয়। একটি কেকের প্যাকেটে ভরা ছিল নকল বোমাটি। উত্তর লন্ডনের ক্যামডেন এলাকায় ইউপিএসের কার্যালয়ের মাধ্যমে প্যাকেটটি পাঠান তুরস্কের এক নাগরিক। ওই কেকের প্যাকেটে ডেটোনেটর, কিছু তার ও সময় নিয়ন্ত্রক যন্ত্র পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় গত সপ্তাহে লন্ডন থেকে ২৬ বছর বয়সী এক যুবককে পুলিশ আটক করেছে। পুলিশ জোর দিয়ে বলেছে, এটি সন্ত্রাসী ঘটনা বলে তাদের সন্দেহ হচ্ছে না।
তবে ব্রিটিশ পরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিষয়টি তারা খুব গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, ‘সরকার বিষয়টি সম্পর্কে জানে এবং আমরা এটি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি। ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে। সবকিছু খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সব ধরনের ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করা হবে

সিরিয়ার বিরুদ্ধে বিদেশি শক্তির ‘ষড়যন্ত্র’ চলছে। যেকোনো মূল্যে সব ধরনের ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করা হবে। ষড়যন্ত্রকারীদের মোকাবিলা করা হবে। গতকাল বুধবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে সে দেশের প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ এসব কথা বলে সতর্ক করে দেন।
দেশটিতে ৫০ বছরেও বেশি সময় ধরে বলবৎ জরুরি আইন প্রত্যাহারের দাবিতে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে বিক্ষোভ চলছে। দেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় নগর দেরায় শত শত বিক্ষোভকারী ‘জরুরি আইন বন্ধ কর, মুক্তি চাই, চাই মর্যাদা’ এসব স্লোগান দেয়।
নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের অভিযানে এ সময়ের মধ্যে ৬০ জনেরও বেশি বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছে।
বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে গত মঙ্গলবার সিরিয়ার মন্ত্রিসভা পদত্যাগ করে। ওই দিনই সরকারের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রেসিডেন্ট বাশার। আশা করা হচ্ছিল, তিনি জরুরি আইন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেবেন।
সরকারবিরোধী আন্দোলন শুরু হওয়ার পর গতকাল প্রথমবারের মতো দেওয়া ভাষণে বলেন, বিদেশি শক্তির প্ররোচনায় দেশের জনগণ রাস্তায় নেমেছে। বিক্ষোভ করছে তারা। জনগণ ষড়যন্ত্রের শিকার। তবে সব ধরনের ষড়যন্ত্রই নস্যাৎ করা হবে। ষড়যন্ত্রকারীদের মোকাবিলা করা হবে। তিনি বলেন, দেরা নগর ছিল সিরিয়াবাসীর প্রাণ। ইসরায়েল এখন এই নগরকেই মুখ্য বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের পাঁয়তারা করছে।
বাথ পার্টি দেশের ক্ষমতা নেওয়ার পর ১৯৬৩ সালে জরুরি আইন জারি করে। এখন পর্যন্ত তা বহাল রয়েছে।

ফুকুশিমার চারটি চুল্লি বন্ধের নির্দেশ

জাপানে গতকাল বুধবার ফুকুশিমার পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের চারটি চুল্লি বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে দেশের সব পরমাণু চুল্লি পরীক্ষার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পারমাণুবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তার মানের উন্নয়ন করার অঙ্গীকার করেছে সরকার।
সরকারি কর্মকর্তারা বলেন, সাগরের পানিতে তেজস্ক্রিয় আয়োডিনের মাত্রা প্রমাণ করে যে চুল্লি ফুটো হয়েছে। চলতি সপ্তাহে পরমাণুকেন্দ্রের মাটিতে প্লুটোনিয়াম পাওয়া যায়, যা এরই মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
মন্ত্রিপরিষদের প্রধান সচিব ইউকিয়ো এডানো এক ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘আমরা বর্তমানে এমন কোনো অবস্থানে নেই, যেখান থেকে বলতে পারি যে এই সময়ের মধ্যে আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারব।’
পরমাণুকেন্দ্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকা কোম্পানি টোকিও ইলেকট্রিক পাওয়ার কোম্পানি (টেপকো) বলেছে, অতিরিক্ত গরম হয়ে যাওয়া চুল্লিগুলোর পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে দীর্ঘ সময় লেগে যাবে। পরমাণু নিরাপত্তা তদারকির দায়িত্বে নিয়োজিত বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ফুকুশিমা পরমাণুকেন্দ্রে দুর্ঘটনার প্রেক্ষাপটে বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সমন্বিত বিধি প্রণয়ন করা হবে। এই বিপর্যয়ের আগে জাপানের ৫৫টি পরমাণু চুল্লি থেকে ৩০ শতাংশ বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হতো। ২০৩০ সালের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ ৫০ শতাংশে উন্নীত হবে বলে আশা করা হচ্ছিল।
বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী বানরি কায়েদা নয়টি আঞ্চলিক ইউটিলিটি কোম্পানিসহ অপর দুটি কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লেখা চিঠিতে এই অনুরোধ জানান। কোম্পানিগুলো জাপানের ৫০টিরও বেশি চুল্লি পরিচালনা করে থাকে। বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, কোনো বিলম্ব ছাড়াই বর্তমানে সচল সব পরমাণু চুল্লি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হবে। ভূমিকম্পের কারণে যেসব চুল্লি বন্ধ হয়ে গেছে কিংবা যেসব চুল্লি নির্মাণাধীন, সেসব চুল্লিও একই ধরনের পরীক্ষা ছাড়া চালু করা যাবে না।
এরই মধ্যে ফুকুশিমা পরমাণুকেন্দ্রের চারটি চুল্লি বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রের ১ থেকে ৪ নম্বর চুল্লি নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হওয়ার তিন সপ্তাহ পর টেপকোর পক্ষ থেকে এই ঘোষণা দেওয়া হলো

সবুজ হয়ে উঠছে অ্যান্টার্কটিকা

সবুজ থেকে সবুজতর হচ্ছে অ্যান্টার্কটিকা। দক্ষিণ মেরুর বরফ ছাওয়া ধবল জমিনে দিন দিন বাড়ছে সবুজের এই বিস্তৃতি। নতুন এক গবেষণার ভিত্তিতে এই তথ্য তুলে ধরে একদল বিজ্ঞানী দাবি করেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বৈশ্বিক উষ্ণতা বাড়ার কারণে বদলে যাচ্ছে দক্ষিণ মেরুর হিমেল রাজ্যের পরিবেশ। যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলীয় বিজ্ঞানীরা এই গবেষণা চালান। বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী নেচার-এ সম্প্রতি এই গবেষণাবিষয়ক একটি নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে।
বিজ্ঞানীদের দেওয়া তথ্যমতে, অ্যান্টার্কটিকা বলতে বারো মাস জমাট বরফে ঢাকা যে মহাদেশটিকে বোঝাত, এখন সেখানে একচেটিয়া শুভ্রতা নেই। বড় গাছপালা বলতে যা বোঝায়, এখনো এর অস্তিত্ব সেখানে নেই। তবে ফুল হয় এমন দুটি উদ্ভিদ গত ৫০ বছরে বেশ ছড়িয়ে পড়েছে। এগুলো হচ্ছে ‘অ্যান্টার্কটিক হেয়ারগ্রাস’ নামে এক ধরনের দুর্বাঘাস। অন্যটি ‘অ্যান্টার্কটিক পার্লওর্ট’, যা এক ধরনের ছোটখাটো ঝুপালো গাছ। অ্যান্টার্কটিকার পশ্চিমাঞ্চলীয় উপদ্বীপ ও আশপাশের দ্বীপে রয়েছে এই উদ্ভিদ দুটি। এর মধ্যে হেয়ারগ্রাসের বিস্তার বেশ দ্রুত ঘটছে বলে বিজ্ঞানীদের দাবি।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, বৈশ্বিক উষ্ণতা বাড়ার কারণে বরফ গলে যাওয়ায় বিস্তৃত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে এসব উদ্ভিদ। যুক্তরাজ্যের ব্যাঙ্গর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী পল হিল বলেন, ‘অ্যান্টার্কটিকার কিছু এলাকা ক্রমেই সবুজ হচ্ছে। এই মহাদেশকে আমরা তুষার ও বরফের ভূমি মনে করে থাকি। কিন্তু গরমকালে অ্যান্টার্কটিক উপদ্বীপসহ আশপাশের দ্বীপগুলোতে বরফ গলে সবুজ উদ্ভিদ বেরিয়ে আসতে দেখা যাচ্ছে। বৈশ্বিক উষ্ণতা বাড়ার কারণে দক্ষিণ মেরুর গরমকাল আগের চেয়ে দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে, একই সঙ্গে ঠাণ্ডার তীব্রতাও কমে যাচ্ছে।’

মিশন ব্রাজিলে লড়বে বাংলাদেশ-পাকিস্তান

বিশ্বকাপ ফুটবলের বাছাইপর্বের প্রথম ধাপটা পেরোতে অন্তত বড় বাধা সামনে পাচ্ছে না বাংলাদেশ। পাকিস্তান আর যা-ই হোক বড় বাধা নয়।
র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের চেয়ে পাকিস্তানই এগিয়ে। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশ এখন পেছাতে পেছাতে ১৭৪। পাকিস্তান ১৭১। এশিয়ান র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশ ৩৮, পাকিস্তান ৩৪। এই দুই দল আগামী ২৯ জুন মুখোমুখি হবে বাংলাদেশে। দ্বিতীয় ম্যাচ পাকিস্তানে ৩ জুলাই। হোম অ্যান্ড অ্যাওয়েভিত্তিক দুটি ম্যাচের জয়ী দল যাবে দ্বিতীয় রাউন্ডে।
২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপে এশিয়ান অঞ্চলে এ রকম পাঁচটি ধাপ থাকছে। কাল কুয়ালালামপুরে হয়ে যাওয়া এশিয়ান দলগুলোর ড্র শেষে দেখা যাচ্ছে, এশিয়ান র্যাঙ্কিংয়ে ২৮-৪২ পর্যন্ত থাকা ১৮টি দল খেলবে প্রথম রাউন্ডে। দক্ষিণ এশিয়ান দলগুলোর মধ্যে সরাসরি দ্বিতীয় রাউন্ডে সুযোগ পেল ভারত।
এশিয়ান র্যাঙ্কিংয়ে ৬-২৭ নম্বরে থাকা ২২টি দল দ্বিতীয় রাউন্ডে খেলবে সরাসরি। যাদের সঙ্গে যোগ দেবে প্রথম রাউন্ড পেরোনো ৮ দল। বাংলাদেশ দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠলে প্রতিপক্ষ লেবানন। এ রাউন্ডের খেলা ২৩ ও ২৮ জুলাই।
তৃতীয় রাউন্ডে সরাসরি খেলছে এশিয়ান র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ পাঁচ—জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া, উত্তর কোরিয়া, বাহরাইন।

লিবিয়ার বিদ্রোহীদের অস্ত্র দেওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করেননি ওবামা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন, লিবিয়ার নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফিকে ক্ষমতা ছাড়তেই হবে। আর সে দেশের বিদ্রোহীদের অস্ত্র দিয়ে সহযোগিতার বিষয়টি নাকচ করে দেওয়া যাচ্ছে না। তবে রাশিয়া বলেছে, বিদ্রোহীদের অস্ত্র দেওয়া ঠিক হবে না। এদিকে পশ্চিমা বাহিনীর বর্বরোচিত হামলা বন্ধ করার জন্য বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন গাদ্দাফি। তাঁর বাহিনীর বোমা হামলার মুখে গতকাল বুধবার রাস লানুফ শহর থেকে হটে গেছে বিদ্রোহীরা।
লিবিয়া পরিস্থিতি নিয়ে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার এক দিন পর গত মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট ওবামা এবিসি, এনবিসি ও সিবিএস টিভি চ্যানেলে সাক্ষাৎকার দেন। সাক্ষাৎকারে ওবামা লিবিয়ায় সামরিক অভিযানের যৌক্তিকতা তুলে ধরেন। ওবামা বলেন, গাদ্দাফি ও তাঁর লোকজনের এখন বুঝতে বাকি নেই যে তাঁদের দিন শেষ হয়ে আসছে। গাদ্দাফির সহযোগীরা বিভিন্নভাবে ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়ানোর উপায় খুঁজছে। তবে গাদ্দাফির ক্ষমতা ত্যাগের বিষয় নিয়ে এখনই কোনো সমঝোতার সময় হয়ে ওঠেনি। গাদ্দাফিকেই প্রথম পরিষ্কার করতে হবে, দেশের জনগণ তাঁকে আর ক্ষমতায় দেখতে চায় না। ক্ষমতা ত্যাগের সিদ্ধান্তের পরই তাঁর প্রস্থানকৌশল নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যথাযথ পদক্ষেপ নেবে।
ওবামা বলেন, লিবিয়ায় বিদ্রোহীদের অস্ত্র সরবরাহ করতে চাইলে এখনই করা যায়। এর আগে বিকল্প উপায় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তবে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ গতকাল বলেন, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে গৃহীত প্রস্তাব অনুযায়ী লিবিয়ার বিদ্রোহীদের অস্ত্র সরবরাহের অধিকার কোনো দেশের নেই।
লাভরভ বলেন, ‘ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী সম্প্রতি জানিয়েছেন, লিবিয়ার বিদ্রোহীদের অস্ত্র সরবরাহের বিষয়ে মিত্রদের সঙ্গে আলোচনার জন্য ফ্রান্স প্রস্তুত। কিন্তু এর পরই ন্যাটোর মহাসচিব আন্দ্রে ফগ রাসমুসেন জানিয়েছেন, লিবিয়ার সাধারণ জনগণকে রক্ষার জন্যই সেখানে অভিযান চালানো হচ্ছে, তাঁদের অস্ত্র সরবরাহের জন্য নয়। রাশিয়া ন্যাটো মহাসচিবের সঙ্গে একমত।’
ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলাইন জুপ্পে গত মঙ্গলবার লন্ডনে লিবিয়া পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠকের সময় জানিয়েছিলেন, লিবিয়ার বিদ্রোহীদের অস্ত্র সরবরাহের বিষয়ে আলোচনার জন্য প্রস্তুত তাঁর দেশ।
তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন ওই বৈঠকের পর জানান, অস্ত্র সরবরাহের বিষয়ে বৈঠকে কোনো আলোচনা হয়নি।
এদিকে দেশের পূর্বাঞ্চলে কয়েকটি শহরের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে লিবিয়ার বিদ্রোহীরা। তারা রাসলানাফে পাশ্ববর্তী বিন জাওয়াদ শহরের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে লড়ে যাচ্ছে গাদ্দাফি বাহিনীর সঙ্গে। তবে রাস লানুফ ও বিন জাওয়াদ শহরের লড়াই চলছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। এ ছাড়া পশ্চিমে বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে থাকা মিসরাতা শহরেও আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে গাদ্দাফি বাহিনী। রাস লানুফ থেকে হটে যাওয়ার পর বিদ্রোহী যোদ্ধা ফজর মুফতাহ বলেন, ‘গাদ্দাফি বাহিনী আমাদের লক্ষ্য করে বেপরোয়া রকেট হামলা চালাচ্ছে। তারা রাস লানুফ শহরে ঢুকে পড়েছে।’

ক্লার্কের হাতেই অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়কত্ব

প্রত্যাশামতো মাইকেল ক্লার্কের হাতেই উঠল রিকি পন্টিংয়ের ছেড়ে যাওয়া অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়কত্বের ভার। ‘আমি অধিনায়কের পদ থেকে সরে যাচ্ছি’—গত পরশু ছোট্ট এক ঘোষণায় দীর্ঘ আট বছরের অধিনায়ক জীবনের সমাপ্তি টানেন পন্টিং। এর কয়েক ঘণ্টা পরই পন্টিংয়ের উত্তরসূরি হিসেবে মাইকেল ক্লার্কের নাম ঘোষণা করেছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। টেস্ট, ওয়ানডে—দুটো দলেরই নেতৃত্ব দেবেন আগামী পরশু ৩০-এ পা দিতে যাওয়া ক্লার্ক।
টেস্ট, ওয়ানডেতে—দুই দলেই সহ-অধিনায়ক শেন ওয়াটসন। টি-টোয়েন্টির অধিনায়কত্বটা থাকছে ক্যামেরন হোয়াইটের হাতেই।
আগামী মাসে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলতে সংক্ষিপ্ত এক সফরে বাংলাদেশে আসছে অস্ট্রেলিয়া। ৯-১৩ এপ্রিল, ঢাকার সিরিজ দিয়েই শুরু হচ্ছে ক্লার্ক যুগ। টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার ক্লার্ক যুগের সূচনা হবে আগামী আগস্টে শ্রীলঙ্কা সফর দিয়ে।
অধিনায়কত্ব ছাড়ার ঘোষণার সময়ই পন্টিং জানিয়ে দেন, দলের একজন সাধারণ সদস্য হিসেবে ক্রিকেট তিনি খেলে যেতে চান আরও অনেক দিন। তাঁর ইচ্ছাকে মূল্য দিয়েছেন নির্বাচকেরা। অধিনায়ক ও সহ-অধিনায়কের নাম ঘোষণার পরপরই ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া দিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ সফরের দল। ১৪ সদস্যের দলে আছেন রিকি পন্টিং।
নিজেদের মাঠে অ্যাশেজ হারের পর বিশ্বকাপে দীর্ঘ এক যুগের রাজত্বের অবসান—বাংলাদেশ সিরিজটা যেন তাঁদের কাছে চ্যালেঞ্জ! ১৪ সদস্যের দলেই তার প্রতিফলন। অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ দলের প্রায় সবাই আছেন। শুধু বিশ্বকাপে অনুজ্জ্বল জেসন ক্রেজাকে বাদ দিয়ে জেভিয়ার ডোহার্টিকে নিয়ে স্পিন আক্রমণে শক্তি বাড়িয়েছে। ক্রেজার সঙ্গে বাদ পড়েছেন ডেভিড হাসিও।
অনেক আগে থেকেই অস্ট্রেলিয়ানরা মাইকেল ক্লার্কের মধ্যে খুঁজে ফিরছিল ভবিষ্যৎ অধিনায়কের ছায়া। পন্টিংয়ের অবর্তমানে মাঠের নেতৃত্ব পেয়ে তার প্রমাণও রেখেছেন ক্লার্ক। ২০০৯ সালে ইংল্যান্ডে অ্যাশেজ হারের পরই চোটের কারণে দেশে ফিরে আসেন পন্টিং। ক্লার্ক অস্ট্রেলিয়াকে জিতিয়ে আনেন ওয়ানডে সিরিজে। এবারও তাই। নিজেদের মাঠে অ্যাশেজ হারলেও ক্লার্কের নেতৃত্বে অস্ট্রেলিয়া ওয়ানডে সিরিজে উড়িয়ে দেয় ইংল্যান্ডকে। সাত ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ তারা জেতে ৬-১-এ!
ক্লার্ক এ পর্যন্ত অধিনায়কত্ব করেছেন ২৪টি ওয়ানডে ম্যাচে। যার ১৮টিতেই জিতেছে অস্ট্রেলিয়া। হেরেছে ছয়টিতে। তবে ক্লার্ক অধিনায়কত্বের বড় প্রমাণটা দিয়েছেন গত বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। আগের দুটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ব্যর্থ অস্ট্রেলিয়াকে শিরোপা জেতাতে না পারলেও তুলে ছিলেন ফাইনালে।
অধিনায়কত্ব ছেড়ে দেওয়ার সময়ই পন্টিং উত্তরসূরি হিসেবে সমর্থন করেন ক্লার্ককে। আনুষ্ঠানিকভাবে অধিনায়ক হওয়ার পর কাল তো ক্লার্ক পন্টিংয়ের প্রশংসায় পঞ্চমুখ, ‘গত কয়েক বছরে আমার অবর্তমানে যখন দায়িত্ব পালন করেছে, সে কোনো ভুল করেনি। তার টি-টোয়েন্টি রেকর্ডও সেটাই বলে।’
এত দিন যিনি ছিলেন তাঁর সহ-অধিনায়ক, এখন থেকে মাঠে সেই ক্লার্কের নির্দেশ মেনে চলতে হবে পন্টিংকে! পন্টিং বলছেন, এটা তাঁর জন্য কোনো ব্যাপারই নয়, ‘আমি জীবনে অনেক নির্দেশনাই পালন করেছি। আমি এটা স্বাভাবিকভাবেই পারব।’
আর ক্লার্ক বলছেন, ‘সবচেয়ে আগে যেটি বলব, অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক হওয়াটা দারুণ সম্মানের। তবে রিকিকে সরে যেতে দেখাটা ছিল বিস্ময়ের। আমি বুঝতেই পারিনি সে ছেড়ে যেতে পারে। তার এই সিদ্ধান্ত আমাকে খুবই বিস্মিত করেছে।’ তবে অধিনায়ক হিসেবে মাঠে পন্টিংয়ের সহযোগিতা পাবেন বলেই বিশ্বাস ক্লার্কের। অবশ্য এটাও বলে দিয়েছেন, ‘আমি নতুন রিকি পন্টিং হতে চাই না। কারণ, আমি রিকি নই। আমি আমি, আমি সবকিছু আমার মতো করেই চালাতে চাই।’ সিদ্ধান্ত নিতে পন্টিংয়ের প্রভাব থাকবে কি না প্রশ্নের জবাবে মজা করে বলেন, ‘আমি মনে করি না, রিকি রুমের মধ্যে হাতি হয়ে থাকবে।’
বাংলাদেশ সফরের অস্ট্রেলিয়া দল
মাইকেল ক্লার্ক (অধিনায়ক), শেন ওয়াটসন (সহ-অধিনায়ক), রিকি পন্টিং, ক্যালাম ফার্গুসন, ব্র্যাড হাডিন, জন হেস্টিংস, মাইক হাসি, মিচেল জনসন, ব্রেট লি, টিম পাইন, জেমস প্যাটিনসন, স্টিভ স্মিথ ও ক্যামেরন হোয়াইট।

শ্রীলঙ্কার দুই বছরের সাধনা

আর একটা ম্যাচ। মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামের ফাইনাল। জিততে পারলেই দুই বছরের সাধনা সফল হবে শ্রীলঙ্কার। ওয়েবসাইট।
২০০৭ বিশ্বকাপের ফাইনালে দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন ভঙ্গ হয়েছিল অস্ট্রেলিয়ার হাতে। বৃষ্টি আর আলোকস্বল্পতা বড় বাধা হয়ে এসেছিল সেবার। যে করেই হোক স্বপ্নের বিসর্জন হয়েছে। ১৯৯৬ বিশ্বকাপ জয়ের পুনরাবৃত্তি ঘটাতে পারেনি। সেবার সুযোগ হাত ফসকে গেছে, আবারও সেই সুযোগ এসে দাঁড়িয়েছে দুয়ারে। কিন্তু এবারেরটা আর হাত গলিয়ে ফেলে দিতে চায় না কুমার সাঙ্গাকারার শ্রীলঙ্কা। এই জায়গায় এসে দাঁড়ানোর জন্য গত দুটি বছর যে সাধনা করে গেছে তারা।
নিউজিল্যান্ডকে ৫ উইকেটে হারিয়ে ফাইনালে ওঠার পর শ্রীলঙ্কা অধিনায়ক সাঙ্গাকারা বলেছেন, ‘ফাইনালে যেতে পারা আমাদের কাছে অনেক বড় ব্যাপার। ২০০৭ সালে ফাইনালে সুযোগ হারিয়েছি। দুই বছর ধরে আমরা এর জন্যই কঠিন পরিশ্রম করেছি।’
পরিশ্রমটা যে কত কাজে লেগেছে, তা পরশু নিউজিল্যান্ডের ম্যাচে একটু বেশিই যেন বুঝতে পেরেছে শ্রীলঙ্কা। নিউজিল্যান্ডের করা ২১৭ রান তাড়া করতে নেমে বিপদেই পড়ে গিয়েছিল শ্রীলঙ্কা। মিডল-অর্ডারে অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস আর সামারাবীরার দৃঢ়তায় জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে তারা। নিজের উঠোনে শ্রীলঙ্কা যে দুর্দমনীয় এটা সবাই জানে। কিন্তু ভারতের মাটিতে ফাইনাল জিততে শ্রীলঙ্কাকে কতটা আত্মপ্রত্যয়ী হতে হবে? গত বছরের শেষে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অনভ্যস্ত কন্ডিশনে সিরিজ জয়টা হতে পারে তাদের জন্য বড় অনুপ্রেরণা।
ম্যাচ শেষে অবশ্য নিউজিল্যান্ডকে কম রানে বেঁধে দিতে পারায় বোলারদেরও কৃতিত্ব দিয়েছেন সাঙ্গাকারা, ‘আপনার যদি বোলার না থাকে তাহলে তো আত্মবিশ্বাসই থাকবে না। আপনি বিশ্বের সেরা অধিনায়ক হতে পারেন, কিন্তু একা কিছুই জিততে পারবেন না।’
লাসিথ মালিঙ্গা দারুণ বোলিং করেছেন, অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস ভালো ব্যাটিং করার আগে মিডিয়াম পেস দিয়ে ভালোই ভুগিয়েছেন কিউই ব্যাটসম্যানদের। মুত্তিয়া মুরালিধরন শ্রীলঙ্কার মাটিতে নিজের শেষ ম্যাচে নিয়েছেন ২ উইকেট। শ্রীলঙ্কা অধিনায়ক তাঁকে দিলেন প্রাপ্য প্রশংসা, ‘এই টুর্নামেন্টে মুরালির কঠিন সময় যাচ্ছে। সে শতভাগ ফিট নয়। কিন্তু আজ সে যেভাবে বল করেছে, সেটা ছিল দারুণ। অ্যাঞ্জেলোরও পেশিতে টান পড়েছিল। কিন্তু নিজের কাজটা ঠিক সময়ে সে ঠিকই করেছে।’

মিসবাহর ওপর যত ক্ষোভ !

পাকিস্তানকে সেমিফাইনালে তোলার পথে একটা বড় অবদান রেখেছিলেন সহ-অধিনায়ক মিসবাহ-উল হক। প্রায় সবগুলো ম্যাচেই ভালো খেলে পরিণত হয়েছিলেন পাকিস্তানের মিডল অর্ডারের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যানে। গতকাল ভারতের বিপক্ষে সেমিফাইনালের মহারণেও করেছেন দলীয় সর্বোচ্চ ৫৬ রান। কিন্তু তার পরও রেহাই নেই ক্ষুব্ধ পাকিস্তানি সমর্থকদের হাত থেকে। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের বিপক্ষে ২৯ রানে হারটা কিছুতেই মেনে নিতে না পেরে তারা, সব দোষ চাপাচ্ছে মিসবাহর ঘাড়েই। তাদের অভিযোগ, মিসবাহ অনেক সময় ধরে উইকেটে থেকে শুধু সময় আর বলই নষ্ট করেছেন। আরেকটু হাত খুলে খেললেই বিশ্বকাপ ফাইনালে যাওয়ার আনন্দে ভাসতে পারত গোটা পাকিস্তান।
২৬ ওভার শেষে মাত্র ১০৬ রানে চার উইকেট হারানোর পর উইকেটে এসেছিলেন মিসবাহ। এরপর বাকি সময় পুরোটাই খেলেছেন এ ডানহাতি ব্যাটসম্যান। ৭৬ বলে ৫৬ রানের ধৈর্যশীল এক ইনিংস খেলে আউট হয়েছেন পাকিস্তানের শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে। ইসলামাবাদে ক্ষুব্ধ পাকিস্তানি সমর্থক শাকির বলেছেন, ‘আমরা মিসবাহর জন্যই হেরেছি। যখন তার আরও বড় একটা ইনিংস খেলার দরকার ছিল, তখন সে সেটা পারেনি। সে উইকেটে অনেক সময় নষ্ট করেছে।’
মিসবাহর ধীরগতির ব্যাটিংই পাকিস্তানকে ডুবিয়েছে বলে অভিযোগ করাচির প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলীর। তিনি বলেছেন, ‘হার-জিত খেলারই অংশ। পুরো খেলাটাতেই খুব প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে। কিন্তু মিসবাহ আর ইউনুস খান খুব অলসের মতো খেলেছে।’