Friday, March 18, 2016

যম যে রাস্তা চিনে গেল! by আনিসুল হক

বাবা মারা গেছেন, ক্ষতি নেই, কিন্তু যম যে রাস্তা চিনে গেল! এই দেশে প্রচলিত পুরোনো কৌতুক! বাংলাদেশ ব্যাংকের টাকা অপহারকেরা নিয়ে গেছে ফিলিপাইনে, শ্রীলঙ্কায়, ব্যাংকের কম্পিউটার সিস্টেমের মধ্যে কোনো না কোনোভাবে ঢুকে অথবা হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে। প্রায় ৮০০ কোটি টাকা, তাতে ওই ৮০০ কোটি টাকাই কেবল ক্ষতি নয়, মূল সমস্যা হলো, এখানকার ব্যাংকের কম্পিউটার সিস্টেমে ঢোকা যে সহজ, তা সবাই জেনে গেছে বা হ্যাকাররা রাস্তা চিনে গেছে।
এরপর থেকে পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গা থেকে দরকারে-অদরকারে, কখনোবা নিছক তামাশা করার জন্য, বাংলাদেশ হ্যাকারদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে। তারা বাংলাদেশের নাম জেনে গেছে, জেনে গেছে যে বাংলাদেশের সাইবার নিরাপত্তাব্যবস্থা ঠুনকো।
হ্যাকাররা হ্যাকিং করতে পারে চারটা কারণে: এক. নিতান্তই মজা করার জন্য। খেলা হিসেবে। তাদের কে বলবে, ওহে বালকবৃন্দ, তোমাদের জন্য যা তামাশা, আমাদের জন্য তা জীবনমরণ সমস্যা। তোমাদের কাছে যা এক ডলার, আমাদের বহু পরিবারের তা এক দিনের আয়।
দুই. নামের জন্য। হ্যাকিং করে অনেকেই খ্যাতিমান হয়।
তিন. লাভের জন্য। যেমন, আমাদের টাকা নাকি চলে গেছে জুয়ার আসরে। ভালোই!
চার. শত্রুতা সাধনের জন্য। কোনো একজন, কোনো একদল মানুষ, কোনো একটা দেশ তো আমাদের ক্ষতি চাইতেই পারে।
কাজেই সদ্য পিতৃহারা ওই সন্তানের মতোই আমি রোদন করব, ৮০০ কোটি টাকা নিয়ে গেছে, বড় ক্ষতি সেটা নয়, বড় ক্ষতি হলো হ্যাকাররা রাস্তা চিনে গেছে।
নইলে আমাদের তো কয়েক হাজার কোটি টাকা হল-মার্কওয়ালারা নিয়ে গেছে, তখন আমাদের অর্থমন্ত্রী বলেছেন, হাজার কোটি টাকা কোনো টাকাই নয়। শেয়ার মার্কেট থেকে চুরি হয়েছে হাজার কোটি টাকা। সর্বশেষ খবর, ছয় বছরে তিতাস গ্যাস লিমিটেড থেকে নয়ছয় হয়েছে ৩ হাজার ১৩৮ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। ভাইরে, আমি নিতান্তই ছা-পোষা লেখক, আমার অবস্থা সেই দুই বৃদ্ধার মতো, যাঁরা হার্ডিঞ্জ ব্রিজের নিচে দাঁড়িয়ে গল্প করছিলেন, ‘বল তো, এই সেতু বানাতে কত টাকা খরচ হয়েছে?’ একজন বললেন, ‘এক হাজার টাকা।’ আরেকজন বললেন, ‘তুই একটা ফকিরনি, কম করে হলেও দশ হাজার টাকা।’ কত টাকায় হাজার কোটি টাকা হয়, আমি কল্পনাও করতে পারি না।
কিন্তু আমি চিন্তিত আমাদের সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে।
হ্যাকাররা আমার ই-মেইলে একটা মেইল পাঠাতে পারে। হয়তো আমার এক বন্ধুর নামে এল সেটা। বলল, তোমার বইয়ের একটা রিভিউ ছাপা হয়েছে। এই নাও, এই অ্যাটাচমেন্টটা খোলো। বা এই সাইটে গেলেই পাওয়া যাবে। আমি অ্যাটাচমেন্টটা বা সাইটটা খোলার সঙ্গে সঙ্গে আমার কম্পিউটারে বা মোবাইল ফোনে স্পাইওয়্যার ঢুকে যেতে পারে। এরপর আমি কী করি, কী লিখি, কী দেখি, সব আরেকজনের কাছে চলে যাবে। এমনকি আমার কম্পিউটারের ক্যামেরা বন্ধ থাকলেও সে সেটা চালু করে নিয়ে আমাকে দেখতে পাবে। হে প্রভু, আমাকে রক্ষা করো।
চোর পালালে বুদ্ধি বাড়ে। ৮০০ কোটি টাকার বিনিময়েও যদি আমরা বাংলাদেশের সাইবার নিরাপত্তা নিশ্ছিদ্র করার দিকে মন দিতে পারি, তাহলে কাজের কাজ হবে। ব্লেইম গেইমের চেয়েও সেটা বেশি জরুরি
সত্যি কথা বলতে কি, নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুসারে বছর ছয়েক আগে দালাই লামার কম্পিউটারে এবং দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অনেক দেশের রাষ্ট্রীয় বা সরকারি কম্পিউটারে এই ধরনের স্পাইওয়্যার ঢুকে গিয়েছিল। দক্ষিণ এশিয়ার দেশ বাংলাদেশে ঢুকেছিল কি না, সরকার আমাদের জানায়নি। আমরা জানি না।
এই দেশের অনেক দায়িত্বশীল কর্তার কম্পিউটারজ্ঞান কেমন? এই বিষয়ে যে কৌতুকটা জানি, তা আগে বলে নিই। কর্মচারী তাঁর কর্মকর্তাকে বললেন, স্যার, আমার বেতন তো ১০ হাজার টাকা। পে স্লিপে এসেছে ১ লাখ। আমি ৯০ হাজার টাকা ফেরত দিতে এসেছি।
‘না, না, আপনার টাকা নেওয়া হবে না। পে স্লিপ বানিয়েছে কম্পিউটার। কম্পিউটার কখনো ভুল করতে পারে না। যান।’
আপনারা ভাবছেন, দূর, তাও কি হয়?
তাহলে আমি আমার সেই অভিজ্ঞতাটা আরেকবার বলি। দুই যুগ আগের কথা। আমি বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা দিতে গিয়েছি ঢাকার একটা স্কুলে। প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্রেই সঠিক উত্তরে পেনসিল দিয়ে গোল্লা দিতে হয়, এটা পরে কম্পিউটারে পরীক্ষা করানো হয়। তো ওই উত্তরপত্রে পরীক্ষার্থীর স্বাক্ষরের একটা ঘর আছে। আমি তাতে বাংলায় স্বাক্ষর দিলাম, কারণ আমার স্বাক্ষর বাংলাতেই। একজন স্কুলশিক্ষক পরীক্ষক এসে আমাকে বললেন, নাম স্বাক্ষর ইংরেজিতে করতে হবে।
আমি বললাম, আমার সই তো বাংলা। ইংরেজি দেব কী করে।
তিনি বললেন, ইংরেজিতেই দিতে হবে, কারণ এই উত্তরপত্র দেখবে কম্পিউটার। আর কম্পিউটার বাংলা পড়তে পারে না।
আমি বললাম, প্রথম কথা কম্পিউটার বাংলা-ইংরেজি কিছুই পড়তে পারে না, আমরা রোল নম্বরটাও গোল্লা পূরণ করে লিখে দিয়েছি, সে সেটাই পড়বে। দুই নম্বর কথা, স্বাক্ষরের বাংলা-ইংরেজি কোনো কিছুই ব্যাপার না, বিদেশেও আমি এই সাইনই দিয়েছি।
তিনি বললেন, আপনার খাতা আমি জমা নেব না।
আমি বললাম, আপনাকে নিতেই হবে।
তিনি তখন পুলিশ ডেকে আনলেন, হলে একজন সন্ত্রাসী ঢুকে পড়েছে। যে পরিদর্শকের কথা শুনছে না।
আমার মনে হয়, দুই যুগ পরেও বহু বিভাগে বহু জায়গায় এই ধরনের কর্তাই নিয়োজিত আছেন, যাঁরা কম্পিউটার স্টার্ট দিতেও জানেন না।
আমার আশঙ্কা, হ্যাকিং করে বিমান ভুল পথে নেওয়া সম্ভব, সম্ভব ট্রেন আটকে দেওয়া, সবগুলো ব্যাংক লন্ডভন্ড করে দেওয়া, রাস্তার ট্রাফিক সংকেত উল্টাপাল্টা করে দেওয়া, আণবিক বোমার সুইচ টিপে দেওয়া। কাজেই সাইবার নিরাপত্তার বিষয়টাকে খুব গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে।
চোর পালালে বুদ্ধি বাড়ে। ৮০০ কোটি টাকার বিনিময়েও যদি আমরা বাংলাদেশের সাইবার নিরাপত্তা নিশ্ছিদ্র করার দিকে মন দিতে পারি, তাহলে কাজের কাজ হবে। ব্লেইম গেইমের চেয়েও সেটা বেশি জরুরি।
তা না হলে আমাদের ঘরে ঘরে ক্যামেরা চালু করে দেবে হ্যাকাররা, সব তথ্য নিয়ে যাবে, নিয়ে যাবে সব টাকাকড়ি। বিপন্ন করে তুলবে আমাদের দেশ ও রাষ্ট্রকে।
তখন এই গান গেয়ে কোনো লাভ হবে কি—খাঁচার ভিতর অচিন পাখি কেমনে আসে যায়, ধরতে পারলে ‘লোহার বেড়ি’ দিতাম পাখির পায়!
আনিসুল হক: সাহিত্যিক ও সাংবাদিক।

ড. আতিউর কিসের শাস্তি পেলেন? by মিজানুর রহমান খান

গত ১৬ মার্চ অনলাইনে বাংলাদেশ ব্যাংকের পদত্যাগী গভর্নর ড. আতিউর রহমানকে নিয়ে প্রকাশিত দুটি লেখার একটি মোক্ষম উত্তর দিয়েছেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের প্রবীণ সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। তাঁর পদত্যাগের বিষয়ে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, ‘সবাইকে একসঙ্গে খুশি করা যায় না। এটা বিরল আত্মত্যাগ এটাও যেমন ঠিক আবার তাঁকে গভর্নর রাখা যাবে না, এটাও ঠিক। দুইটা একসঙ্গে ঠিক হতে পারে না।’
অথচ নাসির উদ্দীন ইউসুফ ও নূহ-উল-আলম লেনিনের লেখায় একটি অভিন্ন সুর ছিল যে তিনি পদত্যাগ করে একটি ভালো নজির স্থাপন করেছেন। ইউসুফ সাহেব লিখেছেন, তিনি ‘দায়িত্ব’ নিয়ে পদত্যাগ করেছেন। আমার নিজেরও তেমনই ধারণা ছিল। এবং অনেক উচ্ছ্বাসভরে আমি একটি লেখার মুসাবিদা তৈরি করেছিলাম। কিন্তু সেই লেখা টেকেনি। আমি যদিও জানতাম যে রিজার্ভ হ্যাকড হওয়ার ঘটনায় ‘গোপনীয়তা’ রক্ষার অজুহাত দেখানোর জন্য অর্থমন্ত্রী তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে তাকে ‘স্পর্ধা’ (অডাসিটি) বলে অভিহিত করেছিলেন। তিনি যখন বাংলাদেশ ব্যাংকে পরিবর্তন আসছে জানিয়ে সংবাদ সম্মেলনের দিনক্ষণ স্থির করলেন, তখনই ইঙ্গিত পরিষ্কার ছিল। তারপরও আতিউর রহমান যখন সংবাদ সম্মেলনে ‘বীরের মতো’ প্রস্থানের দাবি করলেন, তখন আমি তাঁকে ‘বেনিফিট অব ডাউট’ দিতে চেয়েছি। কারণ, তিনি সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ছিলেন। অবশ্য সংবাদ সম্মেলনে তিনি এবার নিজেই দাবি করেছেন, ‘আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ২৮ বছর ধরে আমাকে তিলে তিলে গড়ে তুলেছেন’।
তৃণমূল থেকে উঠে আসা একজন মানুষ তিনি। নিজের মেধা ও যোগ্যতায় সমাজের তলানি থেকে এতটা উঁচুতে উঠেছেন। আমি খুব মুগ্ধ হয়েছিলাম, যখন এটা জানলাম যে তিনি বড় হয়ে তাঁর গ্রামের সেই বাজারে গিয়েছিলেন, যেখানে একদিন রীতিমতো খুচরা পয়সা ও টাকা জোগাড় করে তাঁর পড়াশোনার তহবিল জোগাড় হয়েছিল। সেই খবরের বিবরণ পড়ে আমি একটি দৃশ্য কল্পনা করেছি এবং আবেগে আপ্লুত হয়েছি। আতিউর রহমানের সই করা কড়কড়ে টাকার নোট। সেই টাকা এবং আতিউরকে ছুঁয়ে দেখে গর্বিত হচ্ছেন গ্রামের কোনো বয়োজ্যেষ্ঠ মানুষ, যিনি একদিন হয়তো বা একটি সিকি কি আধুলি আতিউর রহমানের জন্য দান করেছিলেন। আমি তাঁকে রোল মডেল ভেবেছি, নিশ্চয় তিনি রোল মডেল!
কিন্তু আমি অনেক আগেই অস্বস্তির সঙ্গে আতিউর রহমানের একটা পরিবর্তন দেখেছিলাম। আমি আগেকার শেরাটন–সংলগ্ন ভবনে তাঁর দপ্তরে অনেকবার গিয়েছি। তাঁর সাক্ষাৎকার নিয়েছি। তবে সেটা গত শতাব্দীর নব্বইয়ের দশকের গোড়ার কথা। তখন তিনি উজ্জ্বল বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখতেন এবং দেখাতেন। এবং আমার ভালো লাগত যে তিনি রাজনীতি–সচেতন। কিন্তু কোনো দলের অন্যায্য কোনো বিষয়কে প্রশ্রয় দিতেন না। একজন শিক্ষাবিদের দৃষ্টিভঙ্গি তাঁর মধ্যে অবশ্যই খুঁজে পেতাম। আর সেটাই ছিল ভরসার জায়গা। গভর্নর হওয়ার পর তাঁর সঙ্গে মাত্র একবার এক মিনিট কথা হয়েছিল। গভর্নরের পদে থেকে তিনি এমন সব বিষয় নিয়ে ব্যস্ততা দেখিয়েছেন যা গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু তাঁর কাজের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ ছিল না। ওই কাজ করার লোকের কোনো আকালও পড়েনি। অথচ তিনি গভর্নর পদের যে নির্দলীয় কৌলীন্য সেটা বজায় রাখতে বা জনগণের চোখে দৃশ্যমান করে তুলতে আগ্রহী ছিলেন না। পদমর্যাদার সঙ্গে বেমানান কাজ কতটা স্বেচ্ছায় আর কতটা চাপে পড়ে করেছেন, তা বলতে পারব না। অবশ্য একজন অর্থনীতিবিদ, আতিউর যাঁর স্নেহভাজন, আমাকে বলেছেন, ওই পদে তিনি তাঁর নিয়োগ পছন্দ করেননি। কারণ, গভর্নরের পদে এমন ব্যক্তির যাওয়া উচিত নয়, যিনি কোনো একটি দলের রাজনীতি বিষয়ে প্রগল্‌ভ।
আরও বহু কারণে আশাভঙ্গ ঘটলেও আমি ভাবতে প্রস্তুত ছিলাম যে একটা ন্যূনতম নৈতিকতার জোর না থাকলে আতিউর রহমান জাতির সামনে অনেকটা হলফ করেই নৈতিক সাহস প্রদর্শন করতেন না। কারণ, যা নয় তা বাস্তবের মতো জনসমক্ষে ফুটিয়ে তোলাটা একশ্রেণির রাজনীতিকের অভ্যাসগত। মানুষ তাঁদের হাসি ও কান্নাকে সেভাবেই দেখে থাকে। কিন্তু আতিউর রহমান শিক্ষক। তিনি কখনো পল্টনে বক্তৃতা করেননি। এখন আমরা নিশ্চিত হয়েছি যে তাঁকে পদত্যাগের জন্য সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছিল এবং তারপরও তিনি টিকে থাকার চেষ্টা করেছিলেন। যখন তিনি বুঝলেন তাঁকে আর কেউ রক্ষা করবে না, তখন তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। আমি অবশ্য একটি মিডিয়ায় আতিউর রহমানের দিল্লি সফরের ঔচিত্য নিয়ে তীক্ষ্ণ প্রশ্ন দেখেও বাতাস ঘুরে যাওয়াটা আঁচ করতে পেরেছিলাম। মন্ত্রীদের চাপের মুখে পদত্যাগ করানো একটা শাস্তি। সেই খবরের শিরোনাম হয়ে থাকে ‘মন্ত্রী অপসারিত’। কিন্তু মিডিয়ায় এই শিরোনাম আসেনি যে ‘গভর্নর অপসারিত’। যদিও ড. আতিউর মন্ত্রীদের মতোই প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটি ‘রীতিবহির্ভূত’ পদত্যাগপত্র দাখিল করেছেন।
তাঁর ‘সাহসী পদত্যাগ’ বিষয়ে ইউসুফ ও লেনিন সাহেবেরা যা বলেছেন, তাকে নির্বিবাদে মেনে নেওয়া যায় না। অবশ্য লেনিনের একটি মূল্যায়ন অনবদ্য। তিনি জনগণের মনের কথা বলেছেন। সেটা হলো, ‘ঘটনার জন্য যে-ই দায়ী হোক না কেন, প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে তিনি পদত্যাগ করে যে নজির স্থাপন করলেন, অন্যান্য ক্ষেত্রেও যদি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এ ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন, তাহলে আমাদের রাষ্ট্রীয়, সামাজিক, রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এটি একটি নতুন মাত্রা যুক্ত হবে।’ এ বিষয়ে সন্দেহের অবকাশ কম যে রাষ্ট্রীয় জীবনের বহু ক্ষেত্রে এ রকম ‘নতুন মাত্রা’ যুক্ত করাটা জরুরি হয়ে পড়েছে।
আমরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আর্থিক খাতে এই ধরনের চাপ প্রয়োগ এবং তা থেকে এ রকম ত্বরিত ফল আশা করব।
কিন্তু এটা বাস্তবে ঠিক এভাবে ঘটতে পারে তা হলফ করে বলা যাবে না। সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত যদিও বলেছেন যে দুটি বিষয় একসঙ্গে সত্য হতে পারে না। কিন্তু তদুপরি আমি বলব, আতিউর রহমানের জন্য একটি পয়েন্ট টিকে যাবে। সেটা হলো, এ রকম আরও অন্য ক্ষেত্র রয়েছে, যেখানে চাপ দেওয়া হবে না, আর যদি দেওয়াও হয়, তাহলে তাতে ত্বরিত ফল মিলবে তা বলা যাবে না।
আমার মনে হয়, এটা প্রমাণিত হয়েছে যে ‘দলীয় বিবেচনায়’ কোনো নির্দলীয় অবস্থানে তুলনামূলক কম দক্ষ ও যোগ্যতাসম্পন্নকে বসাতে নেই। আতিউর রহমানকে আমরা জনস্বার্থের বিপরীতে ‘দলীয় উদ্দেশ্য’ পূরণ করে চলতে দেখেছি। অস্ফুটে এক-আধটু আপত্তি তোলার সঙ্গে আমরা তাঁকে কয়েক হাজার কোটি টাকা লুটপাটের ঘটনাকে গা-সওয়া ব্যাপারে পরিণত করতে দেখেছি। এবং আমাদের কাছে এ রকম কোনো খবর নেই যে তিনি ওই লুটপাট ঠেকাতে ‘বীরের মতো’ কোনো উদ্যোগ নিয়েছিলেন কিংবা কখনো পদত্যাগ করতে উদ্যত হয়েছিলেন।
অবশ্য আমাদের দেশে পদত্যাগ কে কবে করেছে বা দেখেছে। অথচ এটা গণতান্ত্রিক সমাজের জন্য অক্সিজেন। তবে দেখার বিষয় হলো, এটা একটা মন্দের ভালো ঘটনা। কারণ, শুধু চাপে কিংবা আধা চাপ বা আধা নৈতিকতায় জাতি একটি ‘ত্যাগ’ দেখেছে। একে একটা বড় রূপান্তরের আগমনী বার্তা হিসেবেও দেখা যেতে পারে। সেটা হলো, জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকতে বাধ্য হওয়া। বিএনপি বা বিরোধীদের কেউ সেভাবে পদত্যাগ চায়নি, কেউ হরতাল ডাকেনি। অথচ অঘটনটা ঘটেছে। আর আমরা এখন তা নিয়ে সম্ভবত একটা অনাবশ্যক তর্কে নেমেছি।
আতিউর রহমানের ‘তিলে তিলে রিজার্ভ’ গড়ার বিষয়ে লেনিন ঠিকই উষ্মা প্রকাশ করেছেন। এর সমস্যাটা আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে। আমার পানি, আমার পাখি, আমার মানুষ এসব বলা আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে আছে। ব্যক্তির বন্দনা করে অহরহ বক্তৃতা দেওয়া তার প্রমাণ। তবে লেনিন বলেছেন রিজার্ভ চুরির বিষয়ে শুধু ‘গোপনীয়তার কারণেই’ তাঁকে আতিউর রহমানের পদত্যাগ চাইতে হয়েছে। কিন্তু এই টাকাটা যদি পুরোটা উদ্ধার হতো বা গত ৫ ফেব্রুয়ারি চুরির দিনটিতেই তিনি প্রধানমন্ত্রীকে জানাতেন, তাহলেও তো প্রমাণিত হতো যে জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়েছে। তাহলে কি আর তাঁকে পদত্যাগ করতে হতো না? আতিউর রহমান তাহলে কেবল গোপনীয়তা রক্ষার ভুল কৌশল, নির্বুদ্ধিতা কিংবা ‘স্পর্ধা’ দেখানোর শাস্তি পেয়েছেন! তদন্তের পরও কি আমরা স্পষ্ট ধারণা পাব? ‘গোপনীয়তার’ বিষয়ে আমরা এখন যা জানি, সেটাই কি সবটুকু?
বাংলাদেশ পদ-পদবির দেশ, পদত্যাগের দেশ নয়। অথচ গণতন্ত্র চাইলে পদত্যাগ লাগবে। কারণ, পদ শূন্য না হলে নবাগতরা ঢুকবে কোন পথে। তাহলে প্রশ্ন থাকল, আমরা কবে একজন লাল বাহাদুর শাস্ত্রী পাব? ভারতের সাবেক রেলমন্ত্রী শাস্ত্রী এক রেল দুর্ঘটনার পর পদত্যাগ করেছিলেন। ‘স্বাধীনতা, এই শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো’, এই বিখ্যাত কবিতার কবি নির্মলেন্দু গ‌ুণের মতো কে কবে লিখবেন, ‘পদত্যাগ, এই শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো।’

অর্থ চুরির ঘটনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্মকর্তারা জড়িত -সাক্ষাৎকারে : অর্থমন্ত্রী by সোহরাব হাসান ও ফখরুল ইসলাম

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, রিজার্ভ থেকে অর্থ চুরির ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা অবশ্যই জড়িত। তাঁদের যোগসাজশ ছাড়া এ কাণ্ড হতে পারত না। গতকাল বৃহস্পতিবার প্রথমআলোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। সাক্ষাৎকারে উঠে আসে সাবেক গভর্নর আতিউর রহমানের পদত্যাগের পটভূমি, ব্যাংক ব্যবস্থাপনার অদক্ষতা ও অনিয়মের চিত্র। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সোহরাবহাসানফখরুলইসলাম
প্রথম আলো: রিজার্ভ চুরির ঘটনা জানার পর বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদত্যাগ করতে বাধ্য হলেন। ডেপুটি গভর্নরদেরও সরিয়ে দিলেন। খুব ত্বরিত ব্যবস্থা নিলেন বলে মনে হচ্ছে।
অর্থমন্ত্রী: হ্যাঁ। কিন্তু আমি খুব অবাক হয়েছি। আতিউর রহমান সংবাদ সম্মেলন করেছেন। তিনি একটুও লজ্জিত হননি।
প্রথম আলো: সংবাদ সম্মেলন করেছেন, না ব্যাখ্যা দিয়েছেন?
অর্থমন্ত্রী: ব্যাখ্যা না, সংবাদ সম্মেলনই করেছেন। বাড়িতে করেছেন এবং দুই দফা। একবার পদত্যাগের আগে, আরেকবার পদত্যাগের পর। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর কাছে তিনি ইনিয়ে-বিনিয়ে অনেক কথা বলেছেন। দুজন ডেপুটি গভর্নরের চাকরি গেছে তাঁর কারণে। বোঝাতে চাইলেন যে তিনি একা দায়ী নন। দুজনের বাইরে আরও কয়েকজনের চাকরি খাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তা আর হয়নি, হবেও না।
প্রথম আলো: নতুন গভর্নর তো নিয়োগ দিলেন। টাকা উদ্ধারে কী পদক্ষেপ নিচ্ছেন?
অর্থমন্ত্রী: টাকা আসলে উদ্ধার হবে কি না, আমি নিশ্চিত না। কিছু টাকা পাওয়া গেছে বরং শ্রীলঙ্কার কল্যাণে।
প্রথম আলো: চুরির ঘটনা জানার পর আতিউর রহমান কী করেছিলেন বলে আপনি শুনেছেন?
অর্থমন্ত্রী: কী বলব। তিনি সংকটটির গভীরতাই বুঝতে পারেননি। আমার মনে হয়, তিনি চিন্তাই করতে পারেননি যে এটা একটা বড় ঘটনা। খবর পেয়েও তিনি দেশের বাইরে বাইরে ঘুরেছেন।
প্রথম আলো: দিল্লির বৈঠকে তো আপনারও যাওয়ার কথা ছিল।
অর্থমন্ত্রী: এটা মূলত অরুণ জেটলির (ভারতের অর্থমন্ত্রী) দাওয়াত ছিল। আমাকেও দাওয়াত দিয়েছিলেন তিনি। যাব চিন্তা করেও পরে যাইনি।
প্রথম আলো: আতিউর রহমানের সাফল্যও তো কিছু কম নয়...
অর্থমন্ত্রী: কেন্দ্রীয় ব্যাংকে তাঁর অবদান প্রায় শূন্য (অলমোস্ট জিরো)। তিনি খালি পৃথিবী ঘুরে বেড়িয়েছেন আর লোকজনকে অনুরোধ করেছেন বক্তৃতা দেওয়ার জন্য তাঁকে সুযোগ দিতে ও দাওয়াত দিতে। এখন বেরোচ্ছে এগুলো।
প্রথম আলো: গ্রিন ব্যাংকিং, কৃষকদের জন্য ১০ টাকার হিসাব খোলার সুযোগ ইত্যাদি তো সাফল্যই।
অর্থমন্ত্রী: এগুলো স্লোগান। তিনি খালি পিআরের (জনসংযোগ) কাজ করেছেন। এসব নিয়ে বাজারে অনেক কথাও আছে।
প্রথম আলো: আতিউর রহমান বলার চেষ্টা করেছেন যে বেসিক ব্যাংক, হল-মার্ক কেলেঙ্কারির ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে তিনি অর্থ মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ করেছিলেন।
অর্থমন্ত্রী: না, না। এগুলো ইতিমধ্যে বহুল আলোচিত বিষয়। বেসিক ব্যাংক পুরোনো বিষয়। বেসিক ব্যাংকের ওপর প্রথম নিরীক্ষা প্রতিবেদনটা ভালো ছিল। তারপর তো বাংলাদেশ ব্যাংকই সব ধামাচাপা দিয়ে দিল।
প্রথম আলো: আপনি কিন্তু বলেছিলেন বেসিক ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল হাই বাচ্চুর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন, পরে আর নেননি।
অর্থমন্ত্রী: হ্যাঁ, বলেছিলাম। ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এখনো হয়নি। যাই হোক। রাজনৈতিক ব্যাপার-স্যাপার সব আলাপ করা যায় না। তবে ব্যবস্থা ঠিকই নেওয়া হবে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বিষয়টা ঠিকভাবে দেখভাল করতে পারেনি। যখন আদালতে যাবে, আদালত ঠিকই সব জানতে চাইবে এবং তখন ওই লোকটার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা হবে।
প্রথম আলো: আর হল-মার্ক?
অর্থমন্ত্রী: হল-মার্ক বিষয়ে মামলা আছে। আমার মনে হয়, আমাদের উকিলরা বিষয়টিতে খুব একটা মনোযোগী নন।
প্রথম আলো: ব্যাংক-ব্যবস্থার সার্বিক নিরাপত্তার জন্য কী করছেন?
অর্থমন্ত্রী: কেন্দ্রীয় ব্যাংকে ব্যাপক সংস্কার দরকার। এর ব্যবস্থাপনা অদক্ষ। গভর্নরের কথা যদি বলি, তিনি জনসংযোগেই বেশি ব্যস্ত ছিলেন, ব্যাংক ব্যবস্থাপনায় নয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিচতলায় যে লেনদেন হয়, তার মুনাফার কোনো হিসাব থাকে না। বাংলাদেশ ব্যাংকের লোকেরা ভাগ করে নিয়ে যান। আতিউর কোনো দিন এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেননি।
প্রথম আলো: ব্যাংক-ব্যবস্থা থেকে যেখানে হাজার কোটি টাকা লোপাট হচ্ছে, সেখানে ৪-৫ হাজার টাকা তো তেমন কিছুই না।
অর্থমন্ত্রী: দৈনিক যাচ্ছে! বাংলাদেশ ব্যাংক হবে নির্জন জায়গা। আগে তাই দেখেছি। অথচ এখন তা বিরাট বাজার। নিচতলায় বিরাট কামরায় সরাসরি বাণিজ্যিক কার্যক্রম হচ্ছে; যা আগে করত সোনালী ব্যাংক।
প্রথম আলো: এ ব্যাপারে আতিউর রহমানকে কিছু বলেছেন কখনো?
অর্থমন্ত্রী: বহুবার বলেছি যে, তুমি ব্যাংকিংয়ে মনোযোগ দাও। কিছু বললেই তিনি বলতেন, আমি এটা করেছি, ওটা করেছি। দুই দিন আগেও তিনি বলেছেন, প্রায় ২৮ বিলিয়ন ডলার রিজার্ভের কৃতিত্ব তাঁর। রিজার্ভের কৃতিত্ব মূলত প্রবাসী শ্রমিকদের।
প্রথম আলো: বেশি রিজার্ভকেও তো অনেকে তেমন গুরুত্ব সহকারে দেখেন না।
অর্থমন্ত্রী: না, টাকা থাকলে ভালো হয়। তবে এ থেকে বিনিয়োগ করা গেলে আরও ভালো হতো। সেটা আমরা করতে পারিনি এখনো।
প্রথম আলো: রিজার্ভ ভালো বলেই কি আমরা নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু করার সাহস পেলাম?
অর্থমন্ত্রী: না। রিজার্ভের সঙ্গে পদ্মা সেতুর কোনো সম্পর্ক নেই। রিজার্ভ ভালো থাকলে প্রবাসীদের মনে আস্থা থাকে যে দেশে টাকা আছে। নইলে তাঁরা অন্য দেশেও টাকা হস্তান্তরের পথ বেছে নিতে পারেন।
প্রথম আলো: রিজার্ভ চুরির ঘটনা কি দেশে টাকা পাঠাতে প্রবাসীদের মনে আস্থার সংকট তৈরি করতে পারে?
অর্থমন্ত্রী: সে রকম কিছু হবে না বলে আমার বিশ্বাস। তাঁরা ঠিকই বুঝবেন যে একটু অব্যবস্থাপনা হয়েছে, ধরাও হয়েছে।
প্রথম আলো: রিজার্ভ চুরির ঘটনা ঘটেছে ছুটির দিন শুক্রবারে, তাই পদক্ষেপ নিতে দেরি হয়েছে—আতিউর রহমানের এমন ব্যাখ্যাকে কীভাবে দেখবেন?
অর্থমন্ত্রী: সম্পূর্ণ ভুল ব্যাখ্যা। শুক্রবারেও লোক থাকবে না কেন? ফোন ধরা ও তথ্য দেওয়ার জন্য ছুটির দিনেও লোক থাকা উচিত।
প্রথম আলো: আপনার কি মনে হয়, এই ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদেরও যোগসাজশ রয়েছে?
অর্থমন্ত্রী: অবশ্যই। শতভাগ জড়িত। স্থানীয়দের ছাড়া এটা হতেই পারে না। ছয়জন লোকের হাতের ছাপ ও বায়োমেট্রিকস ফেডারেল রিজার্ভে আছে। নিয়ম হলো, প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়—এভাবে ষষ্ঠ ব্যক্তি পর্যন্ত নির্দিষ্ট প্লেটে হাত রাখার পর লেনদেনের আদেশ কার্যকর হবে।
প্রথম আলো: ঘটনার প্রায় এক মাসেও সরকারের শীর্ষ মহলে না জানানোর কারণ হিসেবে আতিউর রহমান নিজে বিভ্রান্ত (পাজল্ড) হয়ে পড়েছিলেন বলে ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
অর্থমন্ত্রী: এটাও ভুল। আমার নিয়োগ করা গভর্নর, অথচ তিনি সব সময়ই বলে এসেছেন, প্রধানমন্ত্রী তাঁকে নিয়োগ দিয়েছেন। এমনকি পদত্যাগপত্রও তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে দিয়েছেন। এটা তিনি পারেন না। তাঁর পদত্যাগপত্রটিও হয়নি। আমাদের দেশে তো ওইভাবে নিয়মকানুন মানা হয় না, অন্য দেশ হলে তো আমার অনুমতি ছাড়া তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখাই করতে পারতেন না।
প্রথম আলো: এটা কি ‘চেইন অব কমান্ড’ সমস্যা?
*আতিউর পদত্যাগে বাধ্য হয়েছেন
*কেন্দ্রীয় ব্যাংকে তাঁর অবদান প্রায় শূন্য।
*রিজার্ভের কৃতিত্ব তাঁর নয়, প্রবাসী শ্রমিকদের। ​তিনি কেবল জনসংযোগের কাজ করেছেন
*অর্থ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত নয়

অর্থমন্ত্রী: বটেই। তাঁকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দেননি, আমি নিয়োগ দিয়েছি। আমার কাছেই পদত্যাগপত্র দিতে হবে।
প্রথম আলো: সাত বছরে আতিউর কি আপনার পরামর্শ নিয়েছেন?
অর্থমন্ত্রী: নেননি, তবে আমিই পরামর্শ দিয়েছি। মুদ্রানীতি ও রাজস্বনীতি প্রণয়নের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের একটা ঝামেলা থাকে। এটা ভারতসহ সব দেশেই হয়। আর যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া সবাই মুদ্রানীতি প্রণয়নে হস্তক্ষেপ করে। বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বাধীনতা আছে। সে অনুযায়ী কাজও করেছে সব সময়। মুদ্রানীতি নিয়ে আতিউর যা করেছেন, আমি বরাবরই গ্রহণ করেছি।
প্রথম আলো: এ ক্ষেত্রে কি তাঁকে ক্রেডিট দেবেন?
অর্থমন্ত্রী: ওয়েল। দেব। তবে আমিও একটু বলে নিই। নিজের কথা নিজের বলা উচিত না। বাজেট ব্যবস্থাপনায় গত সাত বছরে আমি যা করেছি, এ ব্যাপারে এই মুহূর্তে আমার চেয়ে বিশেষজ্ঞ দ্বিতীয় ব্যক্তি পৃথিবীতে নেই।
প্রথম আলো: আপনার কথার সূত্র ধরে যদি বলি, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান প্রধান কাজ করা থেকে আতিউর অন্য কাজে বেশি মনোযোগী ছিলেন। এতে তো আপনার দায়ও চলে আসে। আপনার নিয়োগ করা গভর্নর...
অর্থমন্ত্রী: যত দূর জানি, আতিউর আর্থিকভাবে সৎ ব্যক্তি। তবে প্রায়ই অভিযোগ করতেন, তিনি স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেন না। খামোখা! এত বছরে বাংলাদেশ ব্যাংককে মাত্র তিন-চারটা নির্দেশনা দিয়েছি। একবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মিলে আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, শেয়ারবাজারে ওভার এক্সপোজার আরও কয়েক বছরের জন্য থাকবে। কিন্তু আতিউর ব্যাংক কোম্পানি আইনে সময়সীমা বেঁধে দিলেন এক বছর। আশ্চর্য কাণ্ড!
প্রথম আলো: ২০১৬-১৭ অর্থবছরের জন্য প্রাক্-বাজেট আলোচনা তো শুরু করেছেন...
অর্থমন্ত্রী: হ্যাঁ। গতবার লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছি। কারণ, এনবিআরের চেয়ারম্যান কোনো কাজ-কাম করেন না।
প্রথম আলো: এখনকার চেয়ারম্যান?
অর্থমন্ত্রী: হ্যাঁ। কিছুই করেন না তিনি। খালি বক্তৃতা দেন। তাঁরও পুরো আচরণ হচ্ছে জনসংযোগ করা। করুক, আপত্তি নেই। কিন্তু নিজের কাজটা তো করতে হবে। এক বছর হয়ে গেছে, অথচ এনবিআরের চেয়ারম্যান জানেনই না যে এনবিআর কীভাবে চলে।
প্রথম আলো: বাজেটে বরাদ্দ দেওয়া টাকাও যে খরচ হয় না...
অর্থমন্ত্রী: পয়সা আছে, কিন্তু খরচ করতে পারছে না—এটাও একটা সমস্যা। অন্য সব মন্ত্রণালয়ের দোষ রয়েছে এতে।
প্রথম আলো: কারণ কী, অদক্ষতা?
অর্থমন্ত্রী: আমার মনে হয়, গত সাত বছরের অর্জন সবাইকে অলস করে তুলেছে। মনোভাবটা এ রকম—আমরা তো ভালোই করছি। অর্থাৎ, মরিয়া ভাবটা আর নেই।
প্রথম আলো: অনেকে বলেন, দেশের বড় বড় প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধির পেছনে দুর্নীতি একটা উদ্দেশ্য। আপনি কী মনে করেন?
অর্থমন্ত্রী: প্রথমত, এগুলোর জন্য অভিজ্ঞতা না থাকায় আমরা যথাযথ অনুমানটি (এস্টিমেট) করতে পারি না। সাধারণভাবে অনুমোদন দিয়ে দিই। দ্বিতীয়ত, আমাদের চরিত্রটা দুষ্ট। বড় প্রকল্প মানেই আমরা বড় দাও মারতে চাই।
প্রথম আলো: প্রতিরোধ করা যায় কীভাবে?
অর্থমন্ত্রী: ডিজিটাইজেশন। মুশকিল হচ্ছে, অনেকেরই ডিজিটাইজেশনের প্রতি বিরোধিতা আছে।
প্রথম আলো: রিজার্ভের অর্থ চুরির বিষয়টি নিয়ে সরকারকে যতটা সোচ্চার হতে দেখা গেছে, ব্যাংক খাত থেকে যে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট হয়েছে, সেগুলোর ক্ষেত্রে অতটা সোচ্চার হতে দেখা যায়নি, কেন?
অর্থমন্ত্রী: আসলে অন্য লুটপাট ধরার বিষয়ে কোনো নির্দেশক (ইনডিকেটর) নেই, যার মাধ্যমে তথ্য পেতে পারি।
প্রথম আলো: রিজার্ভ চুরির ঘটনায় যাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলো, তাঁদের মধ্যে নির্দোষ কেউ আছেন কি না...
অর্থমন্ত্রী: একমাত্র আসলাম আলম নির্দোষ। ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) হলো। সামান্য শাস্তি, কিন্তু বদনাম তো হলো। আমি আগের দিনই আসলামকে ডেকেছিলাম। বলেছি, তোমার ওপর খড়্গ আছে। কিন্তু তোমার কোনো দোষ নেই।
প্রথম আলো: বাংলাদেশ ব্যাংকের কাজকর্মে সংস্কার আনার কথা বলছিলেন। কে আনবে সংস্কার?
অর্থমন্ত্রী: নতুন গভর্নরকে ইতিমধ্যে বলেছি, তিনি যাতে একটু সময় নিয়ে হলেও একটা পর্যালোচনা করেন। এরপর উদ্যোগ নেব।
প্রথম আলো: বাংলাদেশ ব্যাংকের নিচতলার কাজগুলো কি আগের মতো সোনালী ব্যাংককে দিয়ে দেওয়া উচিত?
অর্থমন্ত্রী: আমি জানি না। তবে ফরাসউদ্দিন তদন্ত কমিটি এ ব্যাপারেও সুপারিশ করবে বলে আমি আশা করি।
প্রথম আলো: এনবিআরের চেয়ারম্যান কাজকর্ম করছেন না, এ দায় কি আপনারও নয়? আপনারই তো সংস্থা এনবিআর।
অর্থমন্ত্রী: তিনি এত বক্তৃতা দেন যে তাঁকে আসলে তথ্যসচিব বানিয়ে দেওয়া উচিত। সাবেক স্পিকার হুমায়ুন রশিদ চৌধুরীর একান্ত সচিব ছিলেন তো, তাঁরই প্রভাব পড়েছে এনবিআর চেয়ারম্যানের ওপর। আর আমার দায়ের কথা কী বলব। তাঁর সঙ্গে আছেন শক্তিশালী আমলা। আমি প্রধানমন্ত্রীকে বলেছি, তাঁকে নিয়ে কাজ করা মুশকিল। তিনি রাজনীতিবিদদের সঙ্গেও যোগাযোগ রক্ষা করে চলেন।
প্রথম আলো: নতুন গভর্নর সম্পর্কে কিছু বলুন।
অর্থমন্ত্রী: ভালো। তিনি আমার অর্থসচিব ছিলেন। আমি তাঁকে জানি। শিগগির কেন্দ্রীয় ব্যাংক চালানোও তিনি শিখে ফেলবেন।
প্রথম আলো: আপনাকে ধন্যবাদ।
অর্থমন্ত্রী: আপনাদেরও ধন্যবাদ।

দলীয় সম্মেলনে ট্রাম্পের ভবিষ্যৎ!

ডোনাল্ড ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এ পর্যন্ত রিপাবলিকান পার্টির চলমান বাছাই পর্বে বেশ ব্যবধানে এগিয়ে আছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর সমর্থকদের আশা, রিপাবলিকান পার্টির প্রাতিষ্ঠানিক নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করেই ডোনাল্ড ট্রাম্প দলের মনোনয়ন পাবেন। ট্রাম্প-সমর্থকেরা যতই আশাবাদী হন, দলটির মনোনয়ন নির্ভর করছে জুলাইয়ে অনুষ্ঠেয় রিপাবলিকান পার্টির জাতীয় সম্মেলনের ওপর। সেই সম্মেলন বিভক্তির হলে পিছিয়ে থাকা প্রার্থীদের সংগৃহীত ডেলিগেট ট্রাম্পের হিসাব উল্টে দিতে পারে বলেও বিশ্লেষকদের ধারণা। রিপাবলিকান পার্টির দলীয় মনোনয়নের লড়াইয়ে এর মধ্যেই ঝরে পড়েছেন বাঘা বাঘা সব প্রার্থী। জেব বুশের পর রিপাবলিকান দলের প্রাতিষ্ঠানিক প্রার্থী মারকো রুবিও ঝরে পড়ার পর ট্রাম্প-সমর্থকদের উদ্দীপনা আরও বেড়েছে। সমর্থকদের মতে, রিপাবলিকান দলের প্রাতিষ্ঠানিক নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করেই ডোনাল্ড ট্রাম্প রিপাবলিকান দলের মনোনয়ন পাবেন এবং ডেমোক্রেটিক পার্টির সম্ভাব্য প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনকে আসছে নভেম্বরে ধরাশায়ী করবেন। দলীয় বাছাই পর্বে রিপাবলিকান পার্টির প্রাতিষ্ঠানিকতাকে রীতিমতো চ্যালেঞ্জে ফেলে দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সমর্থকদের এমন আশাবাদ সত্ত্বেও খাঁটি রিপাবলিকান ঘরানার লোকজন মনে করছেন, ট্রাম্পকে অপেক্ষা করতে হবে আগামী জুলাই মাসে অনুষ্ঠেয় দলের জাতীয় সম্মেলন পর্যন্ত। আমেরিকার জটিল রাজনৈতিক মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় বাছাই পর্বের পর জাতীয় সম্মেলনে প্রার্থীর মনোনয়ন অনুমোদন করা হয়। এবারের সম্মেলন হবে ওহাইও রাজ্যের ক্লিবল্যান্ডে।
১৮ থেকে ২১ জুলাই পর্যন্ত রিপাবলিকান পার্টির জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের বাছাই পর্বে ডোনাল্ড ট্রাম্প এককভাবে ১ হাজার ২৩৭টি ডেলিগেট সংগ্রহ করতে পারলে সম্মেলনে তাঁর মনোনয়ন প্রাপ্তি নিশ্চিত হতে পারে। বাছাই পর্বে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে ট্রাম্পকে সম্মেলনে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে। রাজ্যগুলোতে প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ডেলিগেট বরাদ্দ হয়ে থাকে। এসব ডেলিগেট জাতীয় সম্মেলনে উপস্থিত হয়ে ভোট দেন। অঙ্গরাজ্য থেকে আসা ডেলিগেটরা কীভাবে ভোট দেবেন, তা নিয়েও নানা জটিলতা রয়েছে। রাজ্য ভেদে নিয়মকানুন ভিন্ন। ডেলিগেটরা সম্মেলনে নির্বাচকমণ্ডলীর ইচ্ছা অনুযায়ী ভোট প্রদান করবেন। যেমন টেনেসির ডেলিগেটরা বিভক্তির সম্মেলনে দুই দফা নির্বাচকমণ্ডলীর ইচ্ছা অনুযায়ী ভোট দিতে বাধ্য। দ্বিতীয় দফা ভোটের পর প্রার্থী বাছাই না হলে এসব ডেলিগেট কোনো দায়বদ্ধতা ছাড়াই ভোট দিতে পারবেন। আইওয়া, টেক্সাস, ভার্জিনিয়া, মন্টানা, নেভাদা, পোর্টোরিকো এবং ওয়াশিংটন রাজ্যের ডেলিগেটরা একদফা নির্বাচকমণ্ডলীর ইচ্ছা অনুযায়ী ভোট দিতে বাধ্য। এরপর তাঁরা যেকোনো প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবেন। সাউথ ক্যারোলাইনার রিপাবলিকান ডেলিগেটরা প্রথম দফা ভোট দেবেন তাঁদের রাজ্য বাছাই পর্বে জয়ী প্রার্থীকে। এ পর্যায়ে প্রার্থীর মনোনয়ন নিশ্চিত না হলে এ রাজ্যের ডেলিগেটদের ভোট দিতে হবে তাঁদের রাজ্যে দ্বিতীয় বা তৃতীয় স্থান পাওয়া প্রার্থীকে। ট্রাম্প বৈশ্বিক ঝুঁকি: ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে তা হবে সবচেয়ে বড় ১০টি বৈশ্বিক ঝুঁকির একটি। ইকোনমিস্ট ইনটেলিজেন্স ইউনিটের গবেষণায় এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে বৈশ্বিক অর্থনীতি বিপর্যস্ত হতে পারে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যের ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছেড়ে যাওয়া বা দক্ষিণ চীন সাগরে সশস্ত্র সংঘাতের চেয়েও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ ট্রাম্পের আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়া।

‘হারানো’ স্মৃতি ফিরতে পারে

স্মৃতিভ্রংশ রোগ আলঝেইমারে আক্রান্ত ব্যক্তিরা মস্তিষ্কে জমা হওয়া স্মৃতি না-ও ‘হারাতে’ পারেন। যেটা হতে পারে তা হলো, এ নিয়ে সাধারণভাবে কিছু জটিলতার শিকার হতে পারেন তাঁরা। আর চিকিৎসায় তাঁদের সুস্থ করেও তোলা যেতে পারে। বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে এমনটাই জানাচ্ছেন। গবেষকেরা বলছেন, তাঁরা এমন এক সম্ভাব্য চিকিৎসাপদ্ধতি বের করতে সক্ষম হয়েছেন, যার সাহায্যে একদিন স্মৃতিভ্রংশের ভয়াবহতাকে সারিয়ে তোলা যেতে পারে। জাপানের এ চিকিৎসক গবেষক দলের নেতা নোবেল পুরস্কার বিজয়ী সুসুমু তোনগাওয়া বলেন, ইঁদুরের ওপর পরীক্ষা চালিয়ে তাঁরা দেখেছেন, নীল আলোর সাহায্যে এর মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট কিছু জায়গা উদ্দীপ্ত করে বিজ্ঞানীরা প্রাণীটির হারানো স্মৃতিকে ফেরাতে সক্ষম হয়েছেন। গত বুধবার গবেষণার এ ফলাফল প্রকাশিত হয় যুক্তরাজ্যভিত্তিক বিজ্ঞান সাময়িকী ন্যাচার-এ। এতে প্রমাণ উপস্থাপন করে বলা হয়, আলঝেইমার রোগে একজন ব্যক্তির নির্দিষ্ট স্মৃতি ধ্বংস হয়ে যায় না;
বরং এ অসুস্থতার কারণে স্মৃতিশক্তি অপ্রাপ্য হয়ে ওঠে। তোনগাওয়া বলেন, স্মৃতিশক্তির ব্যাপারে মানুষ ও ইঁদুরের মস্তিষ্ক অভিন্ন নীতিপ্রবণ। তাই প্রাণীটির ওপর গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, আলঝেইমারে আক্রান্ত রোগীদের রোগের প্রাথমিক স্তরে হলেও মস্তিষ্কে স্মৃতি রক্ষিত থাকতে পারে। অর্থাৎ, তাঁদের সুস্থ করে তোলা সম্ভব হতে পারে। তোনগাওয়ার গবেষক দল ইঁদুরের দেহে জিনগত পরিবর্তন এনে আলঝেইমারে আক্রান্ত রোগীর লক্ষণ ফুটিয়ে তোলেন। পরে তা নিরাময়ে চিকিৎসা পদ্ধতি প্রয়োগ করেন। আলঝেইমার মস্তিষ্কের একধরনের ক্ষয়িষ্ণু অবস্থা, যাতে বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষ আক্রান্ত। গবেষণাটি পরিচালনা করে আরআইকেইএন-এমআইটি সেন্টার ফর নিউরাল সার্কিট জেনেটিকস। এর পরিচালক তোনগাওয়া বলেন, আলঝেইমার রোগীদের জন্য এই গবেষণা এক সুখবর বয়ে আনবে। তবে এ ব্যাপারে এখনো অনেকটা কাজ বাকি আছে।