Wednesday, June 9, 2010

খারাপের মধ্যে ভালো দেখছেন আনেলকা

সমুদ্রে ডুবতে বসা মানুষ নাকি খড়কুটো আঁকড়ে ধরে ভরসা পেতে চায়। নিকোলাস আনেলকাও কি তাই করছেন?
বিশ্বকাপের এই আগ মুহূর্তেও ফ্রান্স দল হার আর ড্রয়ের সমুদ্রে হাবুডুবু খাচ্ছে। বাছাইপর্ব পার হয়েছে তারা আয়ারল্যান্ডকে বিতর্কিত প্লে-অফে হারিয়ে। সর্বশেষ চীনের বিপক্ষেও প্রস্তুতি ম্যাচে হেরেছে ফ্রান্স।
এই খারাপ ফলের মধ্যেই আশা খুঁজে পাচ্ছেন ফরাসি স্ট্রাইকার আনেলকা। এতটাই যে, তাদের বিশ্বাস, ফ্রান্স ফাইনালে চলে যাবে। যুক্তিও আছে—খারাপ করছে বলে লোকে ফ্রান্সকে নিয়ে আশা করবে না। এটা নাকি ফ্রান্সের জন্য চাপমুক্ত থাকার এবং ভালো করার মহৌষধ, ‘চাপ ছাড়া খেলতে পারাটাই ভালো। প্রতিবার ফ্রান্সের ওপর চাপ থাকে আর আমরা ভালো করতে পারি না। এবার আমাদের নিয়ে কেউ আশা করছে না। আর এটাই আমাদের ফাইনালে পৌঁছে দিতে পারে। দেখা যাক, কী হয়!’
যুক্তিটা ফেলে দেওয়ার মতো নয়। তবে এসব যুক্তি সব ফ্রান্সের বেলায়ই শোনা যাচ্ছে। সেদিন শোনা গেল হোটেলের থাকার কারণে খারাপ করবে ফরাসিরা। এখন শোনা যাচ্ছে, খারাপ করছে বলে ভালো করবে

ফুটবল মাঠে লারা

একটা ক্ষেত্রে এই চারজনের মিল আছে—এঁরা সবাই গ্রেট। তার পরও ডানের তিনজনের বাঁ পাশের জনকে এক ফ্রেমে দেখতে পাওয়াটা অবাক করার মতোই। হেনরিক লারসন, রায়ান গিগস (বাঁ থেকে দ্বিতীয় ও চতুর্থ) এবং তাঁদের মাঝের অন্যজন ফুটবলার, কিন্তু ব্রায়ান লারা যে ক্রিকেটার! শুধু এঁরাই নন, কাল ওল্ড ট্রাফোর্ডে এসেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের চলচ্চিত্র তারকা উডি হ্যারেলসন, বক্সিং কিংবদন্তি জো কালজাঘেও। সবাইকে এক করেছিল একটি মহৎ উদ্যোগ। ইউনিসেফের তহবিল সংগ্রহের জন্য ওল্ড ট্রাফোর্ডে গত পরশু একটি প্রদর্শনী ম্যাচ খেলেছে ইংল্যান্ড ও অবশিষ্ট বিশ্ব একাদশ। ইংল্যান্ড দলে ছিলেন অ্যালান শিয়েরার, টেডি শেরিংহাম, নিকি বাট, ডেভিড সিম্যানের মতো সাবেকেরা। আর অবশিষ্ট বিশ্ব একাদশ দলে গিগস, লারা ছাড়াও ছিলেন জিনেদিন জিদান, ইয়েন্স লেম্যান, কালজাঘেরা। নির্ধারিত সময়ের খেলা ২-২ গোলে ড্র হওয়ার পর অবশিষ্ট বিশ্ব একাদশ জেতে টাইব্রেকারে। মূল উদ্দেশ্য যেটি ছিল, সফলও হয়েছে তাও। তারার মেলা দেখতে ভিড় জমিয়েছিল হাজারো দর্শক, সংগ্রহ হয়েছে ২০ লাখ পাউন্ড

তাঞ্জানিয়াকে গোলে ভাসাল ব্রাজিল

ব্রাজিলের প্রস্তুতিটা ভালোই হচ্ছে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৩-০ জয়ের পর কাল তাঞ্জানিয়াকে ৫-১ গোলে হারাল কার্লোস দুঙ্গার দল।
অনেকেই হয়তো বলবেন, জিম্বাবুয়ে-তাঞ্জানিয়ার বিপক্ষে জয় আর এমন কি! বিশ্বের এক নম্বর দল র‌্যাঙ্কিংয়ে এক শরও নিচের দলের সঙ্গে তো জিতবেই। তবে ব্রাজিলের কাছে হয়তো কালকের জয়টিতে সবচেয়ে সুখবর ছিল—রবিনহো গোল পেয়েছেন।
পাঁচ গোলের দুটি করেছেন রবিনহো। বদলি হিসেবে নেমে দুটি করেছেন রামিরেস। একটি গোল কাকার। ১০ ও ৩৩ মিনিটে রবিনহো দলকে এগিয়ে দেওয়ার পর ব্যবধান বাড়িয়েছেন রামিরেস আর কাকা (৪-০)। ৮৬ মিনিটে ৪-১ করেন তাঞ্জানিয়ার আজিজ। ইনজুরি সময়ে ব্রাজিলের শেষ গোল করেছেন রামিরেস।
আর্জেন্টিনাকে সুপার ইগলদের সতর্কবার্তা: ৪৪ বছর পর আরেকটা চমক দেওয়ার আশায় দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ খেলতে এসেছে উত্তর কোরিয়া। কিন্তু বিশ্বকাপ শুরুর আগের শেষটা তাদের ভালো হলো না। জোহানেসবার্গে শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে নাইজেরিয়ার কাছে তারা হেরেছে ১-৩ গোলে।
‘বি’ গ্রুপের ‘কালো ঘোড়া’ নাইজেরিয়া ১৬ মিনিটে এগিয়ে গিয়েছিল এভারটন স্ট্রাইকার ইয়াকুবুর গোলে। ৬২ মিনিটে পেনাল্টি থেকে ব্যবধান বাড়িয়ে নেন ওবিন্না। পর পরই তায়ে সে জং এক গোল করে খেলায় ফিরিয়েছিলেন কোরিয়াকে। কিন্তু শেষ দিকে ওবাফেমি মার্টিনসের গোল বড় জয় নিশ্চিত করে নাইজেরিয়ার।
ম্যাচে হেরে ধাক্কা খেল উত্তর কোরিয়া। আর নাইজেরিয়ার জয়ে গ্রুপসঙ্গী আর্জেন্টিনা একটা সতর্কবার্তা পেল।
মেসিকে ভয় পাচ্ছেন না বলে জানিয়ে দিলেন নাইজেরিয়ান ডিফেন্ডার ড্যানি শিটু, ‘ডিফেন্ডার হিসেবে আমার দায়িত্বই হল বিপক্ষে আক্রমনভাগের খেলোয়াড়দের আটকানো। অবশ্যই তাদের (আর্জেন্টিনার) কিছু বিশ্বসেরা খেলোয়াড় আছে। মেসি বিশ্বসেরাদের একজন। কিন্তু আমিও আমার দলের প্রতিনিধিত্ব করছি। নাইজেরিয়া বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার গল্পের পার্শ্বচরিত্র হতে আসেনি।’

দুই বছর পর

কাল রাতে নিজেদের শেষ প্রস্তুতি ম্যাচ খেলে ফেলল ব্রাজিল। তানজানিয়ার বিপক্ষে। এই ম্যাচে গোলপোস্টের নিচে পরিচিত মুখটিকে দেখতে না পেয়ে ব্রাজিল সমর্থকেরা কি চিন্তিত? দুশ্চিন্তার কিছু নেই। জিম্বাবুয়ে ম্যাচে চোট পাওয়া হুলিও সিজারকে ব্রাজিল খেলায়নি বাড়তি সতর্কতার কারণেই। গত দুই বছরে এই প্রথম ব্রাজিল কোনো ম্যাচ খেলল এই গোলরক্ষককে ছাড়াই। সিজার-বিহীন ব্রাজিল সর্বশেষ ম্যাচটি খেলেছিল সেই ২০০৮ সালের জুনে, ভেনেজুয়েলার বিপক্ষে। অতন্দ্র গোলপ্রহরী ৩০ বছর বয়সী সিজার ব্রাজিলের এবারের শিরোপা-স্বপ্নের অন্যতম কারিগর। তাই তাঁকে নিয়ে সামান্য ঝুঁকি নিতেও রাজি নয় দল। অবশ্য জাতীয় দলে নিয়মিত সুযোগ পেতেন না তিনি নিজেও। দিদা যে তখন ছিলেন!