Wednesday, March 19, 2014

নির্বাচন ও প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী

বাংলাদেশের সংবিধান সরকারি কর্মচারীদের প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী নামে আখ্যায়িত করেছে। কিন্তু বাস্তব সব অর্থে তাঁরা সরকারি কর্মচারী। কর্মকর্তাদের নিয়োগ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সুপারিশে হলেও তাঁদের পদায়ন, বদলি, পদোন্নতিসহ প্রায় সব বিষয় সরকারের ইচ্ছাতেই হয়। কর্মচারীদের তো নিয়োগ থেকে বরখাস্ত পর্যন্ত সব ক্ষমতাই সরকারের হাতে। কর্মকর্তা আর কর্মচারীনির্বিশেষে চাকরির মেয়াদ ২৫ বছর পুরো হলে ১৯৭৪ সালের গণকর্মচারী অবসর আইনের বিধান অনুসারে কোনো কারণ দর্শানো ব্যতিরেকে যে কাউকে অবসরে পাঠানো যায়। সুতরাং সংবিধানপ্রণেতাদের সদিচ্ছার সঙ্গে বাস্তবের ফারাক অনেক। তাই সরকার তাঁদের বিভিন্ন সময়ে ব্যবহার করে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য। আর এর অনেক কিছুই বেআইনি। তবে সরকার পরিবর্তন হলেও দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য ঘটে না। তাই সরকারের তল্পিবাহকের অপবাদটি তাঁদের বহন করতে হচ্ছে। এর ব্যাপ্তি গোটা বেসামরিক প্রশাসন। পরিসর সর্বোচ্চ থেকে সর্বনিম্ন। এর ফলে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা আইনানুগভাবে তাঁদের দায়িত্ব সম্পাদনে বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন বেশ কিছু ক্ষেত্রে। উল্লেখ্য, প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীর সংজ্ঞায় বেসামরিক কাজে নিযুক্ত সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ধরে নেওয়া হয়েছে। নির্বাচন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের অতি প্রয়োজনীয় একটি কার্যক্রম। সেটা জাতীয় বা স্থানীয় নির্বাচন যা-ই হোক, সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
নির্বাচন পরিচালনার মূল দায়িত্বে থাকে নির্বাচন কমিশন। সংবিধান অনুসারে কমিশন একটি স্বাধীন সংস্থা। এ বিধানটিও সংবিধানপ্রণেতারা সচেতনভাবে সংযোজন করেছেন। নিশ্চয়ই তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল, একটি স্বাধীন নির্বাচন কমিশনের অধীনে জনগণ ভোটাধিকার প্রয়োগে কোনো বাধার সম্মুখীন হবেন না। সক্ষম হবেন পছন্দমতো তাঁদের প্রতিনিধি নির্বাচনে। তবে একটি নির্বাচন পরিচালনায় বিপুলসংখ্যক জনবলের প্রয়োজনীয়তা থাকে। শুধু কমিশনের নিয়মিত জনবল দিয়ে তা সম্ভব নয়। তদুপরি আবশ্যক উপযুক্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা। নিরাপত্তার মূল দায়িত্ব পুলিশের। সহায়তা দেয় র‌্যাব, বিজিবি ও আনসার। প্রয়োজনকালে কমিশন সামরিক বাহিনীকেও তলব করে। তবে তারা মূলত স্ট্রাইকিং ফোর্সের কাজে ব্যবহূত হয়। প্রকৃতপক্ষে মাঠপর্যায়ে নির্বাচন পরিচালনার গুরুদায়িত্ব পালন করতে হয় স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশকে। এ ক্ষেত্রেও সংবিধানপ্রণেতারা বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়েছেন। তাঁরা কমিশনের কাছে এসব কর্মচারীকে নির্বাচনকালীন ন্যস্ত করার বিধান রেখেছেন। আইনে রয়েছে, নির্বাচন সময়কালে তাঁরা কমিশনের কর্মচারী। তাঁদের সামগ্রিক নিয়ন্ত্রণ তখন কমিশনের হাতে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন কিছু বলে। সাম্প্রতিক সময়ে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন চলছে। জানুয়ারির শুরুতে গেল জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সেই নির্বাচনটিতে প্রধান প্রধান কয়েকটি দলের অংশগ্রহণ ছিল না। তাই এর ফলাফল জনমতের প্রতিধ্বনি কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলার সুযোগ নেই। উল্লেখ্য, অর্ধেকের বেশি আসনে প্রার্থীরা নির্বাচিত হয়েছেন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। জনপ্রিয়তার মাপকাঠি যার যেটুকু থাকুক, সেই নির্বাচনটিতে ভোটারদের অংশগ্রহণ তেমন কিছু ছিল না বললে অত্যুক্তি হবে না। কমিশন প্রকাশিত ফলাফলে অবশ্য ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে।
উল্লেখ করা প্রাসঙ্গিক যে, এ ধরনের চিত্র আমরা অতীতেও দেখে অভ্যস্ত। যা-ই হোক, সংসদ নির্বাচনের পরপরই উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষিত হলো। নির্বাচনটি নির্দলীয় হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি। আইনের বিধান ভিন্নরূপ হলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচন বেশ আগে থেকেই রাজনৈতিক রূপ পেয়েছে। এবার হয়তো বা একটু বেশি মাত্রায়। কমিশন নির্লিপ্ত। মনে হচ্ছে, তারা এটাকে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্য বলে ধরে নিয়েছে। তবে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন ঘিরে শুরু হয় ব্যাপক রাজনৈতিক তৎপরতা। জনগণের অংশগ্রহণও হতে থাকে পর্যাপ্ত। আশা করা হয়েছিল, বিগত জাতীয় নির্বাচনের ঘাটতি কিছুটা হলেও এখানে পুষিয়ে যাবে। কিন্তু সব সময়ে যা হওয়া উচিত তা হয় না, অন্তত আমাদের দেশে। পাঁচটি পর্বে ভাগ করে এ নির্বাচন হচ্ছে। তিন পর্ব শেষ হলো। সন্ত্রাস, কেন্দ্র দখল, ব্যালট পেপারে গণহারে সিল মারা—এজাতীয় অনিয়ম ধারাবাহিকভাবে বেড়ে চলছে। বাড়ছে আচরণবিধি ভঙ্গের ঘটনা। স্থানীয় একটি ইংরেজি দৈনিক উপজেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে ১৪ মার্চ একটি খবরের শিরোনাম করেছে ‘নির্বাচন কমিশন সামগ্রিক নিয়ন্ত্রণে নেই। স্থানীয় প্রশাসন, ক্ষমতাসীন দল সুষ্ঠু নির্বাচনের পক্ষে বাধা’। খবরটির মূল প্রতিপাদ্য স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুসারে অনেক ক্ষেত্রেই কাজ করছে না। বরং তাদের কার্যক্রম স্থানীয় আইনপ্রণেতা ও ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের নির্দেশেই পরিচালিত হচ্ছে। মন্ত্রী, সাংসদদের অযাচিত হস্তক্ষেপ এই নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশকে ব্যাহত করছে বলেও খবরে উল্লেখ রয়েছে। নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের ঘটনা ক্রমবর্ধমান প্রতিদিনই খবরের কাগজে আসছে। কিন্তু উল্লেখযোগ্য কোনো বিষয়ে দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ কমিশন কিংবা তাদের পক্ষে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা নিয়েছেন, এমনটা জানা যায় না। বরং এজাতীয় একটি ক্ষেত্রে নড়াইলের লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি অসম্মানজনকভাবে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছেন বলে খবরের কাগজে দেখা যায়।
জানা যায়, তাঁর ‘এই হঠকারী’ কার্যক্রমের জন্য অনেক ঘাট মেনে রেহাই পেয়েছেন সরকারি দলের নেতাদের কাছ থেকে। অথচ তিনি আইনানুগ ব্যবস্থা নিয়েছিলেন বলেই গণমাধ্যমে জানা যায়। এ পরিস্থিতিতে কমিশন ও সেই জেলার ডিসি ও এসপি কী করলেন, তা জানার কৌতূহল অনেকের। তবে যেটা কাউকে বলে দিতে হবে না যে, এ ধরনের পদক্ষেপ সহসা নিতে আর কোনো কর্মকর্তার সাহসী হওয়ার কথা নয়। প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা আজ এজাতীয় অনেক ক্ষেত্রেই অসহায় অংশীদার। ক্ষেত্রবিশেষে তাঁদের কেউ কেউ এ ধরনের অনিয়মে সক্রিয় থাকেন বটে। জনগণ কিন্তু নির্বিঘ্নে তাঁদের পছন্দমতো ব্যক্তিকে ভোটটি দিতে চান। আর চান সেই ভোটের গণনায় প্রকৃত পরিস্থিতির প্রতিফলন ঘটবে। নির্বাচন কমিশনের আওতায় কর্মরত প্রজাতন্ত্রের সব কর্মচারীর দায়িত্ব এটা নিশ্চিত করা। কমিশনের কাছেও প্রত্যাশা সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সদিচ্ছার পাশাপাশি দৃঢ়তা। আর অবশ্যই এ কাজটা করবে তাদের আওতাধীন প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা। প্রভূত ক্ষমতার অধিকারী কমিশন। আর এই ক্ষমতার যথার্থ প্রয়োগ পরবর্তী অনিয়ম হ্রাসে সহায়ক হতে পারে। আলোচনা প্রাসঙ্গিক যে, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের মাঝপথে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দেড় মাস ছুটি ও বিদেশ গমন নানা প্রশ্নের অবতারণা করেছে। এ ধরনের একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে তাঁর উপস্থিতি আবশ্যক ছিল। কাজ আটকে থাকবে না, তবে নির্বাচনটি শেষ করার পর তিনি ‘ক্লান্তি দূর করতে বিশ্রামে যেতে পারতেন’। প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা এই দায়িত্ব পালনে অক্ষম নন, তা দেখা গেছে ১৯৯১, ১৯৯৬-এর জুন, ২০০১ আর ২০০৮-এর নির্বাচনে। আবার সেই কর্মচারীদের অক্ষমতাই দেখতে পাওয়া গেছে গত দুই দশকের একাধিক নির্বাচনে।
এর আগেও দুই ধরনের চিত্রই দেখেছেন দেশবাসী। দুই দশকের সাফল্য যেখানে সেটা হতে পারে তখনকার নির্দলীয় সরকারের অঙ্গীকারের ফল। পঞ্চদশ সংশোধনী জাতীয় নির্বাচনকালে সে ধরনের সরকারব্যবস্থার বিলুপ্তি ঘটিয়েছে। সুতরাং গণতন্ত্রকে কার্যকর রাখতে হলে জাতীয় নির্বাচনকালে এখন ক্ষমতাসীন সরকারকেই নির্দলীয় সরকারের মতো আচরণ করতে হবে। তা করতে হবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকালেও। বর্তমান সাংবিধানিক ব্যবস্থায় নির্বাচন কমিশনকে অনেক বেশি সক্রিয় হওয়ার আবশ্যকতাও আলোচনার অপেক্ষা রাখে না। দেশের সুদূরপ্রসারী বৃহত্তর স্বার্থকে বিবেচনায় না নেওয়া হলে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার বিকাশ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা অমূলক বলা যাবে না। আমাদের স্বাধীনতার চেতনা নিয়ে অনেক আলোচনা হয়। ওই চেতনা সবাইকে ধারণ করা উচিত। এ বিষয়ে কেউ দ্বিমত পোষণ করবে না। তবে সেই চেতনা বহুমাত্রিক। আর এর একটি অবশ্যই গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা। বঙ্গবন্ধুর ছয় দফা কর্মসূচি আমাদের স্বাধীনতাসংগ্রামের প্রস্তুতি পর্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। সেই ছয় দফার প্রথম দফাতেই সর্বজনীন ভোটাধিকারের ভিত্তিতে পার্লামেন্টারি শাসনব্যবস্থায় রাষ্ট্র পরিচালনার অঙ্গীকার রয়েছে। একে উপেক্ষা করার কোনো সুযোগ নেই। আর সর্বজনীন ভোটাধিকার নিশ্চিত করতেই স্বাধীন নির্বাচন কমিশনের ব্যবস্থা। পাশাপাশি তার এত ক্ষমতা। তবে অতি অবশ্যই এখানে সরকারের সদিচ্ছা অতি প্রয়োজনীয় একটি দিক। এটা থাকলে দু-একটি ব্যতিক্রম বাদে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা এমনিতেই নিরপেক্ষ হবেন। ব্যতিক্রমগুলোকে চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতাও কমিশনের রয়েছে। তবে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরাই নির্বাচন কমিশনের মূল হাতিয়ার। আর সুষ্ঠু নির্বাচন করার সক্ষমতা তাঁদের রয়েছে। ব্যর্থতার ইতিহাসও একেবারে কম নয়। কারণও সবার জানা। বিষয়টি প্রমাণিতও হয়েছে বারবার। ব্যর্থ কেউ হতে চায় না। আমাদেরও ব্যতিক্রম হওয়ার কথা নয়। তাই প্রয়োজন সাফল্যের পথে চলার দৃঢ় প্রত্যয়।
আলী ইমাম মজুমদার: সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব।
majumder234@yahoo.com

জেনারেল ও গণতন্ত্রের দ্বৈরথ

৯ মার্চের সকাল। ইয়াঙ্গুনের কেন্দ্রস্থলে শিল্প ও বণিক সমিতির ছিমছাম মিলনায়তনটি কয়েক শ সাংবাদিকের পদচারণে মুখরিত। তাঁরা এসেছেন মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নেত্রী শান্তিতে নোবেল বিজয়ী অং সান সু চিকে একনজর দেখার জন্য। তাঁর বত্তৃদ্ধতা শোনার জন্য। তাঁর পরনে ছিল হালকা মেরুন বর্মি লুঙ্গির ওপর সাদাকালো চেকের জামা। খোঁপায় বাঁধা সাদা ক্রিসেনথিমাম। হলভর্তি অভ্যাগতরা দাঁড়িয়ে ও হাততালি দিয়ে তাঁকে অভিবাদন জানালেন। তিনিও কিছুটা সামনে ঝুঁকে তার জবাব দিলেন। এই সেই সু চি, যিনি ১৯৮৮ সালে সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে গণবিদ্রোহের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। এই সেই সু চি, যিনি প্রায় ২১ বছর অন্তরীণ ছিলেন, যিনি ক্যানসার-আক্রান্ত স্বামীর মৃত্যুর পর তাঁকে শেষ বিদায় জানাতে পারেননি, যিনি ১৯৯৯ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেলেও নিজ হাতে তা গ্রহণ করতে পারেননি। বাইরে গেলে আর তাঁকে দেশে ফিরতে দেওয়া হতো না। তাই জনগণের সঙ্গে থাকারই সিদ্ধান্ত নিলেন দেশটির স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতা অং সানের কন্যা। মধ্যাহ্নভোজের পর সু চি মঞ্চে দাঁড়িয়ে সু ফাউন্ডেশনের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বললেন, শিক্ষাই পারে একটি জাতিকে সঠিক দিকনির্দেশনা দিতে, আর সুস্থ ও সবল জাতির জন্য চাই উপযুক্ত স্বাস্থ্যসেবা। সু চির এই কর্মসূচির সহায়তায় এগিয়ে এসেছেন সাবেক দুই মার্কিন ফার্স্ট লেডি হিলারি ক্লিনটন,
লরা বুশসহ অনেক বিশিষ্টজন। মিয়ানমারের আর্থরাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে সু চি বলেন, ‘এ অঞ্চলের একদা ধনী দেশটি নিঃস্ব ও দরিদ্র হয়েছে গণতন্ত্রহীনতার কারণেই। গণতন্ত্র ছাড়া আমরা আমাদের অধিকার ও স্বাধীনতা সংরক্ষণ করতে পারব না।’ মুক্ত গণমাধ্যমের গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে তিনি আরও বললেন, গণমাধ্যমকে অবশ্যই তার শক্তি ও প্রভাব সম্পর্কে সজাগ থাকতে হবে যে আরও বেশি স্বাধীনতা আরও বেশি দায়িত্ব বোধ দাবি করে। ৬ মার্চ সন্ধ্যায় ইয়াঙ্গুনে পৌঁছে আমরা নতুন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হই। দোকানে, হোটেলে, আড্ডায় যাঁদের সঙ্গেই কথা বলেছি, আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন সু চি। তাঁদের কাছে সু চি নেত্রী নন, অত্যন্ত আপনজন। বয়সীরা অনেকে ’৮৮ সালের গণ-আন্দোলনের কথা স্মরণ করেন। তাঁদের নিয়ে গঠিত হয়েছে অষ্টাশি প্রজন্ম; যাঁরা সেই গণ-আন্দোলনে নির্যাতিতদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। নিহতদের পরিবারকে স্মরণ করছেন। আর আমরা বাংলাদেশে নব্বইয়ের প্রজন্মকে ভুলে গেছি। গণতন্ত্রীরা স্বৈরাচারের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন। মিয়ানমারে সামরিক শাসনের শক্ত মুঠো আলগা হতে শুরু করে ২০০৮ সালে নতুন সংবিধান প্রণয়নের মধ্য দিয়ে; যদিও সেই সংবিধানটি গণতান্ত্রিক ছিল না। ২০১০ সালের নির্বাচন বর্জন করে সু চির ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি। তবে প্রেসিডেন্ট থিন চেন ২০১২ সালে উপনির্বাচনে অং সান সু চিসহ তাঁর দলের ৪৩ জন সদস্যকে জয়ী হওয়ার সুযোগ দেন। ৪৫টি আসনের উপনির্বাচনে এনএলডি ৪৩টিতে জয়ী হয়। এ নিয়ে সু চি কিছুটা বিতর্কিতও হন। অনেকের অভিযোগ, তিনি সামরিক শাসকদের সঙ্গে আপস করেছেন।
কিন্তু এ ছাড়া তাঁর করারই বা কী ছিল? ২১ বছর ধরে সু চি ও তাঁর দলের বহু নেতা নির্যাতন ভোগ করেছেন। একটি প্রজন্ম হারিয়ে গেছে। আর সু চি যদি সামরিক চক্রের সঙ্গে সমঝোতা করেও থাকেন, সেটি করেছেন তাঁর দেশ ও জনগণের জন্য। ব্যক্তিগত ফায়দা লাভের জন্য নয়। বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী ২৫ শতাংশ আসন সশস্ত্র বাহিনীর জন্য সংরক্ষিত এবং তাদের সম্মতি ব্যতিরেকে সংবিধান সংশোধন করা যাবে না। আর বর্তমান সংবিধানই সু চির প্রেসিডেন্ট হওয়ার পথে প্রধান বাধা। সংবিধানের ৫৯(এফ) ধারায় বলা আছে, মিয়ানমারের কোনো নাগরিক বিদেশি বিয়ে করলে কিংবা তাঁর সন্তান বিদেশি নাগরিক হলে তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অযোগ্য হবেন। সু চির দল চাইছে, নির্বাচনের আগেই সংবিধানের এই ধারা বাতিল করা হোক। এ ব্যাপারে সংসদীয় কমিটির কাছে দলের সাংসদেরা প্রস্তাবও দিয়েছেন। তবে সংবিধানের ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন প্রেসিডেন্ট। তাঁর সম্মতির ওপরই অং সান সু চির ভাগ্য নির্ভর করছে। তবে এনএলডি মনে করে যে নির্বাচনে তারা জয়ী হলে প্রেসিডেন্ট সংবিধান পরিবর্তনে বাধ্য হবেন। থিন চেন ইতিমধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন, পরবর্তী নির্বাচনে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না। ২০১৫ সালের নভেম্বরে মিয়ানমারে পার্লামেন্ট নির্বাচন। ইয়াঙ্গুনের সাংবাদিক ও পেশাজীবীরা জানিয়েছেন, নির্বাচনে সু চির এনএলডিই জয়ী হবে। কেননা ক্ষমতাসীনদের জনপ্রিয়তা তলানিতে এসে ঠেকেছে। যদিও গত তিন বছরে দেশে প্রচুর উন্নয়নকাজ হয়েছে,
মানুষের আয় ও কর্মসংস্থান বেড়েছে। কূটনীতিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সু চির ব্যাপারে ক্ষমতাসীন মহলে দ্বিমুখী চিন্তাভাবনা আছে। অপেক্ষাকৃত কট্টরপন্থীরা চাইছেন, বেসামরিক আদলে সেনাবাহিনী আরও পাঁচ বছরের জন্য ক্ষমতায় থাকুক। আর নরমপন্থীরা সসম্মানে বিদায় নেওয়ার পক্ষপাতী। তাঁরা মনে করেন, বেশি বাড়াবাড়ি করলে ১৯৮৮ সালের পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে। সেবার নে উইন বিতাড়িত হয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে যাঁরা এসেছিলেন, তাঁরাও ক্ষমতা ধরে রাখতে পারেননি। পালাবদল ঘটেছে। মিয়ানমারে এ পর্যন্ত দুবার সাধারণ নির্বাচন হলেও গণতন্ত্র আসেনি। সহজ ও স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় ক্ষমতার হাতবদলও ঘটেনি। তবে পর্যবেক্ষকদের মতে, আগে বিশ্ব থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন মিয়ানমারের শাসক চক্র যতটা কট্টর অবস্থান নিতে পেরেছে, এবার সেটি সম্ভব না-ও হতে পারে। সে ক্ষেত্রে অং সান সু চি হতে পারেন তাঁদের নিষ্ক্রমণের বিশ্বস্ত মিত্র। তাঁরা আশ্বস্ত হতে চাইবেন যে ক্ষমতার হাতবদলের পর তাঁদের ওপর নির্যাতন-অত্যাচার হবে না। মিয়ানমারের সংবিধানে স্বীকৃত ১৩৫টি সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠী স্বায়ত্তশাসনের দাবি করছে। কারেনসহ কেউ কেউ সশস্ত্র বিদ্রোহেও লিপ্ত আছে। নিপীড়নের পুরোনো কৌশলে তাদের নিবৃত্ত করা যাবে না বলেই সরকার তাদের সঙ্গে সংলাপে বসেছে। সীমিত স্বায়ত্তশাসন দিয়ে তাদের বশে রাখতে চাইছে বেসামরিক আদলের সামরিক সরকার। ২০১৫ সালের নির্বাচন সামনে রেখে মিয়ানমারে এখন চলছে নানামুখী সংস্কার তৎপরতা।
গণমাধ্যমগুলো ইতিমধ্যে সেই সংস্কারের সুযোগ নিয়ে সরকারের কঠোর সমালোচনা করেছে। অন্তত ইংরেজি সংবাদপত্রগুলো পড়ে তা-ই মনে হয়েছে। ইরাবতি পত্রিকার ইংরেজিমাধ্যমের সম্পাদক মিয়ানমার: এ নেশন লিভিং লাই-এ লিখেছেন, ‘বর্তমানে দেশটিতে সবাই গণতন্ত্র চায়, এমনকি যে জেনারেলরা অর্ধশত বছর ধরে গণতন্ত্রকে হত্যা করেছিলেন।’ সেনাবাহিনীর প্রধান জ্যেষ্ঠ জেনারেল মিন অং হেলিং থ্রি এ মিয়ো রেডিওর সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, তাঁরা ‘খাঁটি ও সুবিন্যস্ত’ গণতন্ত্র চান। ২০০৮ সালে জেনারেলরা কারচুপিপূর্ণ গণভোটের মাধ্যমে নিজেদের ক্ষমতা সংহত করেন এবং ২০১০ সালে সাধারণ নির্বাচনে তাঁদের সমর্থিত ইউনিয়ন সলিডারিটি পার্টি (ইউএসডিপি) ক্ষমতায় আসে। আবার এও সত্য, থিন চেন প্রেসিডেন্ট হওয়ার পরই রাজনীতি ও অর্থনীতিতে পরিবর্তন আনেন, রাজবন্দীদের ছেড়ে দেন এবং বিরোধী দল এনএলডিকে পার্লামেন্টে যাওয়ার ব্যবস্থা করেন। এত কিছুর পরও ইরাবতির সম্পাদক বর্তমান সরকারকে বেআইনি সরকারের বর্ধিত কাঠামো বলে মনে করেন। তাঁর মন্তব্য, ‘আমরা চাই একটি গণতান্ত্রিক সংবিধান, স্বাধীন ও সুষ্ঠু নির্বাচন এবং এমন একটি সরকার, যা সত্যিকারভাবেই জনগণের পছন্দসই।’
প্রশ্ন উঠেছে, মিয়ানমারের বর্তমান শাসক চক্র সংবিধান পরিবর্তন করতে রাজি হবে কি না? গত নভেম্বরে অং সান সু চি দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে আন্দোলনের জন্য প্রেসিডেন্ট, সেনাবাহিনীর প্রধান, পার্লামেন্টের স্পিকার এবং তাঁর মধ্যে চতুষ্পক্ষীয় বৈঠকের আহ্বান জানিয়েছিলেন। এখন পর্যন্ত ক্ষমতাসীনেরা সেই আহ্বানের ব্যাপারে স্পষ্ট কিছু বলেনি। পার্লামেন্টের স্পিকার ও ইউএসডিসির নেতা উ সান সু চির প্রতি কিছুটা নমনীয়। তাঁর ক্ষুব্ধ হওয়ার কারণ, তিনি জ্যেষ্ঠতম কর্মকর্তা হওয়া সত্ত্বেও তাঁর থেকে কনিষ্ঠ এক কর্মকর্তাকে সেনাপ্রধান করা হয়েছে। সম্প্রতি রাজধানী নেপিডোতে এক সংবাদ সম্মেলনে এই সেনা-কাম রাজনীতিক বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে যে দলই জয়ী হোক না কেন, তাঁর বিশ্বাস, শান্তি-প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে। তাঁর ভাষায়, ‘আমি বিশ্বাস করি না, আমরা যদি হেরে যাই, তাহলে বর্তমান শান্তি-প্রক্রিয়া এবং গণতন্ত্রায়ণ থেমে যাবে। আমরা একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানেরই চেষ্টা করছি। আমরা যদি হেরে যাই, আমরা নির্বাচনের ফল মেনে নেব।’ প্রেসিডেন্ট থিন চেনও একমত যে আন্তর্জাতিক মানের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হলে সংবিধান পর্যালোচনা ও পরিবর্তন করতে হবে। কিন্তু সেই কাজটি করতে তাঁরা কি প্রস্তুত?
আগামীকাল: বদলে যাচ্ছে মিয়ানমার
সোহরাব হাসান: কবি, সাংবাদিক।
sohrab03@dhaka.net

গণভোট মানবে না যুক্তরাষ্ট্র-ইইউ

ক্রিমিয়ার গণভোটের প্রাথমিক ফলাফল ঘোষণার পর
রোববার রাতে রাজধানী সিম্ফারপোলের লেনিন
স্কয়ারে রুশপন্থীরা উল্লাস করেন। ছবি: রয়টার্স
রাশিয়ায় যোগ দেওয়ার প্রশ্নে ক্রিমিয়ায় গত রোববার অনুষ্ঠিত গণভোটকে কখনোই স্বীকৃতি দেবে না যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ (ইইউ) আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। রোববার মস্কোর বিরুদ্ধে আরও অবরোধসহ নানা ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছে ইইউ ও যুক্তরাষ্ট্র। ইইউ ও যুক্তরাষ্ট্র এরই মধ্যে বৈঠক করে রাশিয়ার ও ইউক্রেনের রুশপন্থী বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং তাঁদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ক্রিমিয়ার জনগণ গণভোটে রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পক্ষে রায় দেন। এ ঘটনার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা টেলিফোনে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় ওবামা বলেন, ক্রিমিয়ার গণভোট কেবল ইউক্রেনের সংবিধানই লঙ্ঘন করেনি; তা অনুষ্ঠিত হয়েছে ভীতিকর পরিস্থিতির মধ্যে। হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘প্রেসিডেন্ট ওবামা জোর দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ক্রিমিয়ার গণভোটকে কখনোই স্বীকৃতি দেবে না।’ ফোনালাপে ওবামা রুশ প্রেসিডেন্টকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ‘রাশিয়াকে এই পদক্ষেপের জন্য চড়া মূল্য দিতে হবে। ইউরোপীয় অংশীদারদের সঙ্গে আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি।’
জবাবে পুতিন বলেন, গণভোট ‘আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদ অনুযায়ী’ সম্পূর্ণভাবে বৈধ। যেসব রুশ ও ইউক্রেনের নাগরিক ইউক্রেনের স্বার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতাকে হুমকির মুখে ফেলেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে, গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র তাঁদের ভিসা বাতিল করে। এ ছাড়া প্রেসিডেন্ট ওবামা একটি নির্বাহী আদেশ জারির ফলে রাশিয়ার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপের পথ প্রশস্ত করেছে। এদিকে ইউরোপের ২৮টি দেশের জোট ইইউর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা গতকাল বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে এক বৈঠকে রাশিয়া ও ইউক্রেনের রুশপন্থী ২১ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা ও তাঁদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইইউ ইতিমধ্যে রাশিয়ার সঙ্গে একটি অর্থনৈতিক চুক্তি ও ভিসায় কড়াকড়ি শিথিল করার ব্যাপারে আলোচনা স্থগিত করেছে। এসব বিষয়ে এখন আরও কঠোর হতে পারে তারা। যেসব ব্যক্তির সম্পদ বাজেয়াপ্ত ও ভিসা বাতিল করা হয়েছে, তাঁদের নামের তালিকা এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তবে ক্রিমিয়ায় গণভোট অনুষ্ঠানে যাঁরা ভুমিকা রেখেছেন, তাঁরাই এ তালিকায় রয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে। নতুন এ পদক্ষেপ নেওয়ার পরও যদি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন পিছু না হটে, তাহলে রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপের বিষয়টিও বিবেচনা করতে পারে ইইউ। এএফপি ও বিবিসি।

বিয়ে করা হলো না সহ-পাইলটের

ফারিক আবদুল হামিদ
মালয়েশিয়ার নিখোঁজ উড়োজাহাজের সহকারী পাইলট ছিলেন ফারিক আবদুল হামিদ। শিগগিরই বিয়ের পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি। উড়োজাহাজে এটিই হবে তাঁর শেষ যাত্রা, হয়তো কল্পনাই করেননি তিনি। ব্রিটেনের ডেইলি এক্সপ্রেস-এ গতকাল সোমবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। ২৭ বছর বয়সী ফারিক তাঁর দীর্ঘদিনের প্রেমিকা ক্যাপ্টেন নাদিরা রামলিকে বিয়ের পরিকল্পনা করেছিলেন। বিয়ের সবকিছু চূড়ান্তও ছিল। নাদিরা মালয়েশিয়ার সাবাহভিত্তিক বিমান সংস্থা এয়ারএশিয়ায় কাজ করেন। মালয়েশিয়া এয়ারলাইনসের (এমএএস) এক জ্যেষ্ঠ চালকের মেয়ে তিনি। ফারিকের সঙ্গে তাঁর নয় বছরের পরিচয়।
তাঁরা একই সঙ্গে লেঙ্গকাওয়ির উড়োজাহাজ চালনা প্রশিক্ষণ স্কুলে পড়াশোনা করেছেন। কয়েকটি সূত্রের বরাত দিয়েডেইলি এক্সপ্রেস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, ফারিকের মায়ের যত্ন নেওয়ার জন্য নাদিরাকে এক মাসের ছুটি দিয়েছে এয়ারএশিয়া। বর্তমানে তিনি ফারিকের মায়ের সঙ্গে কুয়ালালামপুরের একটি হোটেলে আছেন। ৮ মার্চ মধ্যরাতে (১২টা ৪১ মিনিট) মালয়েশিয়ার উড়োজাহাজটি ২৩৯ জন আরোহী নিয়ে নিখোঁজ হয়। পিটিআই।

উইকিলিকস কখনো বলেনি মোদি ‘দুর্নীতিগ্রস্ত নন’

নরেন্দ্র মোদি
ভারতের আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে প্রধান বিরোধী দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী নরেন্দ্র মোদি ‘দুর্নীতিগ্রস্ত নন’—এ কথা কখনোই বলেনি উইকিলিকস। বরং তাঁর সততার পক্ষে বিজেপিই ভুয়া সাফাই গেয়েছে। লাখ লাখ গোপন মার্কিন নথি ফাঁস করে বিশ্বব্যাপী হইচই ফেলে দেওয়া ওয়েবসাইট উইকিলিকস গতকাল সোমবার কয়েকটি টুইট বার্তায় এসব দাবি করে। কয়েকটি টেলিভিশন চ্যানেলের খবরে বলা হয়, আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে (উইকিলিকসের বরাত দিয়ে) বিজেপির কিছু পোস্টারেও মোদি দুর্নীতিগ্রস্ত নন—এমন বক্তব্যের প্রচারণা চালানো হয়েছে।
অবশ্য বিজেপি মুখে বলছে, তারা উইকিলিকসের দাবিকে তেমন গুরুত্ব দিচ্ছে না। দলটির পক্ষ থেকে কিছু পাল্টা টুইটও করা হয়। বিজেপি নেতা মুখতার আব্বাস নকভি এক টুইট বার্তায় বলেন, ‘মোদিজির সততার ব্যাপারে উইকিলিকস বা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের কাছ থেকে আমাদের কোনো সনদ প্রয়োজন নেই।’ গতকাল উইকিলিকসের টুইটে দাবি করা হয়, মোদি দুর্নীতিগ্রস্ত নন—উইকিলিকস এ কথা কখনো বলেনি। এতে বলা হয়, ‘...বরং তিনি (নরেন্দ্র মোদি) জনপ্রিয় হয়েছেন এ জন্য যে তাঁকে সৎ ব্যক্তি হিসেবে প্রচারণা চালানো হয়েছে। আর এ রকম প্রচারণা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সাধারণ নির্বাচনের আগে কংগ্রেস ও আম আদমি পার্টিকে (এএপি) গুজরাটের এই মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আক্রমণের যথেষ্ট সুযোগ এনে দিয়েছে।’ মোদির সততা নিয়ে এ বিতর্কের শুরু ২০০৬ সালে। উইকিলিকসের তথ্য অনুযায়ী, সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিক ও মুম্বাইয়ের তৎকালীন কনস্যুলার জেনারেল মিশেল এস ওয়েন মোদির সঙ্গে একটি বৈঠক করেন। ২০০২ সালের ভয়াবহ গুজরাট দাঙ্গার পর অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকের কয়েক মিনিটের মধ্যে উইকিলিকস একটি নথি প্রকাশ করে। এতে রাজকোট কংগ্রেস পার্টির নেতা মনোহর সিংয়ের বরাত দিয়ে মোদির সততার কথা তুলে ধরা হয় এ নথিতে। তবে গতকাল ওয়েবসাইটটির টুইটে বলা হয়, ‘মোদি দুর্নীতিবাজ নন এ মন্তব্য মনোহর সিংয়ের করা।’ হিন্দুস্তান টাইমস ও পিটিআই।

‘উপযুক্ত কনে’ পেলেই বিয়ে করবেন রাহুল

রাহুল গান্ধী
ভারতের ক্ষমতাসীন কংগ্রেস দলের ভাইস প্রেসিডেন্ট রাহুল গান্ধী বিয়ে নিয়ে অনেক দিন ধরে জল্পনা-কল্পনা চলছে। এবার তিনি নিজেই বিষয়টি খোলাসা করেছেন। বলেছেন, ‘উপযুক্ত কনে’ পেলেই কেবল বিয়ের পিঁড়িতে বসতে পারেন তিনি। ভারতের বার্তা সংস্থা পিটিআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেছেন রাহুল (৪৩)। গতকাল সোমবার সাক্ষাৎকারটি প্রকাশ করা হয়েছে। কখন বিয়ে করছেন, এমন প্রশ্নের জবাবে রাহুল বলেন, ‘এই প্রশ্নটি সব সময় ঘুরেফিরে এসেছে। এই মুহূর্তে আমি লোকসভা নির্বাচনী প্রচারণা নিয়ে ব্যস্ত। দুর্ভাগ্যবশত, আমি ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে খুব বেশি ভাবিনি।’ রাহুলকে জিজ্ঞেস করা হয়, এখন থেকে দুই বছর নাকি এক বছরের মধ্যে বিয়ে করবেন? এর জবাবে রাহুল বলেন, ‘যখন উপযুক্ত কনে পাব, তখনই বিয়ে করব।’ এরপর তাঁকে জিজ্ঞেস করা হয়, এর মানে আপনি এখনো উপযুক্ত কোনো পাত্রী পাননি?
এর জবাবে রাহুল আবারও বলেন, ‘উপযুক্ত পাত্রী পেলেই বিয়ে করব।’ প্রাণী পোষা রাহুলের শখ। এর বাইরে প্রচুর পড়াশোনা করেন বলেও জানান তিনি। নন-ফিকশন পড়েন খুব, এ ছাড়া ইতিহাস, ভূগোল, রাজনীতিসহ তাঁর কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত বিষয়ে বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য, আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও চীন সম্পর্কে পড়াশোনা করেন। তবে তাঁর বোন প্রিয়াঙ্কার মতো এত হিন্দি ছবি দেখেন না। হলিউডের মূল ধারার ছবি দেখে প্রায়ই হতাশ হন। বিশেষ কোনো নায়ক কিংবা নায়িকা রাহুলের পছন্দ নয়। ভালো অভিনয়কে মূল্যায়ন করেন তিনি। পিটিআই।

‘সভ্যতা ধ্বংস হচ্ছে’

মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা
বর্তমান সভ্যতা কয়েক দশকের মধ্যে ধ্বংস হতে চলেছে। অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা বৃদ্ধি এবং পৃথিবীর সম্পদের ওপর চাপ বাড়তে থাকায় ওই অবস্থার সৃষ্টি হবে। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার অর্থায়নে পরিচালিত এক বৈজ্ঞানিক গবেষণা থেকে এ কথা জানা গেছে। আগামী শতকে শিল্পোন্নত বিশ্বে কী ঘটতে চলেছে, তা বুঝে উঠতে তাত্ত্বিক মডেল ব্যবহার করে ওই গবেষণা চালানো হয়েছে। গণিতবিদেরা দেখতে পেয়েছেন, বর্তমান সভ্যতা খুবই দ্রুত ধ্বংসের পথে এগিয়ে চলেছে।
এর আগে ধ্বংস হওয়া রোমান সভ্যতা, হান সভ্যতা ও গুপ্ত সাম্রাজ্যের উদাহরণ টেনে গবেষকেরা বলেন, বিপর্যয়ের ব্যাপারে সতর্ক করার পরও শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দেখা যায়, সমাজের অভিজাত ব্যক্তিরা আগের মতোই সবকিছু করে যাচ্ছেন। কোনো কিছুই আমলে নিচ্ছেন না। a‘হিউম্যান অ্যান্ড নেচার ডায়নামিক্যাল’ বা হ্যান্ডি মডেল ব্যবহার করে গণিতবিদ সাফা মোতেশারি বলেন, সভ্যতা গড়ে ওঠা ও ভেঙে পড়ার প্রক্রিয়া ইতিহাসে পৌনঃপুনিক। একদল প্রকৃতি ও সামাজিক বিজ্ঞানী নিয়ে গবেষণাটি চালান মোতেশারি। দ্য ইনডিপেন্ডেন্ট।