Tuesday, May 25, 2010

২০২০ সালে দেশের গ্যাস মজুদ নিঃশেষ হবে না by বদরূল ইমাম

বাংলাদেশের বর্তমান গ্যাস মজুদ ২০২০ সাল নাগাদ শেষ হবে না। আর কোনো নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত না হলেও বর্তমান গ্যাসক্ষেত্রগুলোর হিসাবকৃত প্রমাণিত ও সম্ভাব্য মজুদ (২পি রিজার্ভ) ২০২০ সালের মধ্যে ফুরিয়ে যাবে না। এমনকি ২০২৫ সালেও দেশ গ্যাসশূন্য হবে না। ২০২০ সাল পর্যন্ত দেশের বড় গ্যাসক্ষেত্রগুলো—যেমন তিতাস, হবিগঞ্জ, বিবিয়ানা, কৈলাসটিলা—তাদের উৎপাদন অন্তত মধ্যম মাত্রায় বজায় রাখতে পারবে। তবে অনেক ছোট গ্যাসক্ষেত্র নিঃশেষ হয়ে যাবে এবং এ সময় নাগাদ দেশে গ্যাসের বিরাট ঘাটতি দেখা দেবে। প্রকৃতপক্ষে দেশে গ্যাসের চাহিদার সমপরিমাণ গ্যাস সরবরাহ ২০২০ সালের অনেক আগে থেকেই সম্ভব হবে না। পেট্রোবাংলার হিসাবমতে, ২০২০ সালে দেশের গ্যাসের চাহিদা হবে প্রতিদিন আনুমানিক ৩৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। কিন্তু সে সময় দেশে গ্যাস উৎপাদন ও সরবরাহের মাত্রা দৈনিক আনুমানিক ২০০০ মিলিয়ন ঘনফুট হবে বলে মনে করা হয়। ফলে গ্যাস ঘাটতি দেখা দিতে পারে দৈনিক আনুমানিক ১৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। ২০২০ সালের পর থেকে গ্যাসের উৎপাদনমাত্রা ক্রমাগত দ্রুত কমতে থাকবে এবং ২০২৫ সাল নাগাদ বর্তমানের অধিকাংশ গ্যাসক্ষেত্রে উৎপাদনে ধস নামবে এবং দেশ গ্যাসশূন্য হওয়ার পথে এগিয়ে যাবে।
বাংলাদেশে গ্যাসের এই ভবিষ্যৎ চিত্র অঙ্কনে দেশের বর্তমান জানা মজুদকে বিবেচনায় আনা হয়েছে মাত্র। ওপরের এ ভবিষ্যদ্বাণী পেট্রোবাংলা ও তার দ্বারা নিয়োগপ্রাপ্ত পরামর্শকদের বিশ্লেষণলব্ধ প্রতিবেদনগুলোর ওপর নির্ভর করে টানা হয়েছে। এ ধরনের ভবিষ্যৎ জ্বালানি চাহিদা-সরবরাহবিষয়ক বিশ্লেষণ, অনেকসংখ্যক অনিশ্চিত উপাদানের ওপর ভর করে সম্পাদন করতে হয় বিধায় তা সব ক্ষেত্রে সঠিক নাও হতে পারে। তবু এ ধরনের বিশ্লেষণ মোটামুটিভাবে ভবিষ্যৎ অবস্থার একটি বাস্তব ধারণা দিতে সক্ষম হয় বটে। দেশে ভবিষ্যতে নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার হলে এবং তা থেকে গ্যাস সরবরাহ শুরু হলে উপরিউক্ত চিত্রে পরিবর্তন আসবে, যা কিনা গ্যাসনির্ভর বাংলাদেশের ভয়াবহ সংকটকে লাঘব করতে সহায়ক হবে।
দেশে গ্যাসের চাহিদা কীভাবে বাড়বে এবং তা মেটাতে গ্যাস সরবরাহের অবস্থা কী হবে তা ভবিষ্যৎ গ্যাস-কর্মকাণ্ড বিশ্লেষণের অন্যতম প্রধান বিষয়। বর্তমানে দেশে গ্যাসের চাহিদা প্রতিদিন প্রায় ২৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এর বিপরীতে প্রকৃত উৎপাদন প্রতিদিন প্রায় ১৯৮০ মিলিয়ন ঘনফুট। অর্থাৎ বর্তমানে গ্যাস ঘাটতির পরিমাণ প্রতিদিন প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট। আগামী বছরগুলোতে গ্যাসের চাহিদা প্রতিবছর ১০ শতাংশ হারে বাড়বে মনে করা হয়। পেট্রোবাংলার সূত্রমতে, ২০১৫ সালে গ্যাসের চাহিদা হবে প্রতিদিন আনুমাণিক ২৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট, ২০২০ সালে ৩৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট এবং ২০২৫ সালে এ চাহিদা গিয়ে দাঁড়াবে প্রতিদিন প্রায় ৫৬০০ মিলিয়ন ঘনফুটে। আশঙ্কার কথা হলো, এ রকম ক্রমবর্ধমান চাহিদার বিপরীতে গ্যাস উৎপাদন চাহিদা অনুযায়ী বাড়তে থাকবে না। ফলে যদি নতুন মজুদ আবিষ্কার ও উৎপাদনে না আসে, তবে বর্তমানের দৈনিক ঘাটতি ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট বেড়ে গিয়ে ২০২০ সালে আনুমানিক ১৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট এবং ২০২৫ সালে আনুমানিক ৫০০০ মিলিয়ন ঘনফুট হতে পারে।
বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার হচ্ছে না কেন? দেশের ভূতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ ইঙ্গিত দেয়, দেশের ভূখণ্ডে ও সমুদ্রবক্ষে আরও নতুন গ্যাস পাওয়ার ভালো সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু তা খুঁজে বের করার জন্য যে অনুসন্ধান কার্যক্রম প্রয়োজন, বাংলাদেশে তার অভাব তীব্র। ভারত, পাকিস্তান বা মিয়ানমারের অনুসন্ধান কার্যক্রমের তুলনায় এ দেশের অনুসন্ধান কার্যক্রম অনেক কম তো বটেই, বরং বিশ্ব অনুসন্ধান ধারার যেকোনো মানদণ্ডে বাংলাদেশের অনুসন্ধান-কার্যক্রম নেহাতই অল্প। প্রতি ১০ বছরে বাংলাদেশে কটি করে অনুসন্ধান কূপ খনন করা হয় তার হিসাবটি নিলে বিষয়টি বোঝা যাবে। হিসাবটি এ রকম: ১৯৫০—১৯৫৯ সালে ১২টি, ১৯৬০—১৯৬৯ সালে নয়টি, ১৯৭০—১৯৭৯ সালে ১২টি, ১৯৮০—১৯৮৯ সালে ১২টি, ১৯৯০—১৯৯৯ সালে ১৬টি এবং ২০০০—২০০৯ সালে সাতটি।
অর্থাৎ প্রতি ১০ বছরে খননকৃত অনুসন্ধান-কূপের সংখ্যা গড়ে ১১টি, অর্থাৎ প্রতিবছর গড়ে মাত্র একটি। এ হিসাবটি যেকোনো দায়িত্বশীল গ্যাস অনুসন্ধানী ব্যক্তির জন্য হাস্যকর মনে হতে পারে। বিশেষভাবে লক্ষণীয়, ২০০০—২০০৯ সালে যখন পৃথিবীর অধিকাংশ তেল-গ্যাসের সম্ভাবনাময় এলাকায় অনুসন্ধানের তীব্রতা আগের তুলনায় বেশি, তখন বাংলাদেশে বছরে মোটে একটি থেকেও কম।
বাংলাদেশের ভূখণ্ডে আর কী পরিমাণ গ্যাস পাওয়ার আশা করা যায়? এ বিষয়ে তথ্যবিভ্রাট ঘটানোর জন্য দায়ী রপ্তানি করতে ইচ্ছুক কিছু বিদেশি গ্যাস কোম্পানি ও তাদের স্বার্থ রক্ষাকারী মার্কিন সরকারের দপ্তর। ২০০০ সালে মার্কিন সরকারের ইউএসজিএ বিভাগ বাংলাদেশে ৩০ বছরে ৩২ টিসিএফ গ্যাস পাওয়ার যে স্বপ্ন দেখিয়েছিল, তা আর এখন কেউ বিশ্বাস করে না। সম্প্রতি সম্পাদিত সার্ক রিজিওনাল এনার্জি ট্রেড স্টাডি ফোরামে বাংলাদেশ কান্ট্রি রিপোর্ট পর্বে যথার্থ মন্তব্য করা হয়, বাংলাদেশ ভূখণ্ডে নতুন গ্যাস আবিষ্কারের সম্ভাবনা রয়েছে, কিন্তু নতুন বড় আকারের গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারের সম্ভাবনা খুব কম। তাহলে সাগরবক্ষের অবস্থা কী রকম? বঙ্গোপসাগরে কর্মরত বিদেশি কোম্পানির কর্মকর্তারা তাঁদের অভিজ্ঞতার আলোকে মনে করছেন, বাংলাদেশের অগভীর সমুদ্রে গ্যাসের সম্ভাবনা ভালো, তবে এসব গ্যাসের মজুদ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ছোট আকারের হবে। বাকি থাকে গভীর সমুদ্রবক্ষ। বাংলাদেশ অনেক দেরি করে হলেও তার গভীর সমুদ্রবক্ষে অনুসন্ধান কাজ শুরু করার উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু এ অঞ্চল কেবলই অজ্ঞাত। সুতরাং এর সম্ভাবনা সম্পর্কে সঠিক মন্তব্য করা সম্ভবত কারও পক্ষে সম্ভব নয়।
নতুন গ্যাস আবিষ্কার যেমন গ্যাস-সংকটের ভবিষ্যৎ ভয়াবহতা লাঘব করতে সহায়ক হবে, গ্যাস বিনষ্ট করা বা গ্যাস ব্যবস্থাপনায় দায়িত্বহীনতা তেমনি বাংলাদেশের গ্যাস-সংকটের ভয়াবহতাকে তীব্রতর করবে। দুটি উদাহরণ উল্লেখযোগ্য—
ছাতক (পশ্চিম) গ্যাসক্ষেত্রটি স্বচ্ছ ও সরল প্রকৃতির গ্যাস-ভরপুর ক্ষেত্র, যা খনন ও উৎপাদন করে দেশের বর্তমান গ্যাস-সংকটকে অনেকটা সামাল দেওয়া যেত। একইভাবে তার সংলগ্ন ছাতক (পূর্ব) অপর একটি বৃহত্তর গ্যাসক্ষেত্র, যা উন্নয়ন করলে এই গ্যাস-সংকটের সময় আশীর্বাদ হয়ে দেখা দিত। আর এ ছিল দেশীয় গ্যাস কোম্পানির জন্য একটি রুটিন কাজ, যার জন্য দরকার ছিল কেবল একটি সরকারি আদেশ। কিন্তু সরকারি প্রশাসন যন্ত্র যখন চৌর্যবৃত্তি লালন করে, দুর্নীতিগ্রস্ত্র মন্ত্রিত্ব যখন ব্যক্তিস্বার্থে দেশের ও জনগণের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিতে কুণ্ঠা বোধ করে না, তখনই বুঝি এমনটি হয়। ভিনদেশি অযোগ্য নাইকো কোম্পানির দুষ্কর্মের জন্য ছাতক এখন মৃত। যে দেশ গ্যাসের জন্য হাহাকার করে, সেখানে গ্যাসের একটি বড় মজুদ—পুরো একটি গ্যাসক্ষেত্র—কেবল দুষ্টচক্রের কারসাজির কারণে বিনষ্ট হয়ে গেল—এর ব্যাখ্যা কী হতে পারে?
দ্বিতীয় উদাহরণটি তিতাস গ্যাসক্ষেত্র নিয়ে। তিতাস কেবল বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ গ্যাসক্ষেত্র নয়, বরং এই উপমহাদেশের অন্যতম বৃহৎ গ্যাসক্ষেত্রগুলোর একটি। কিছুদিন আগ পর্যন্তও তিতাস দেশের সর্বোচ্চ গ্যাস উৎপাদক ছিল। বিগত ছয় বছর তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের বিপুল পরিমাণ গ্যাস মাটি ফুঁড়ে অনিয়ন্ত্রিতভাবে বের হয়ে অনবরত বিনষ্ট হয়ে চলেছে। এ নিয়ে সংবাদমাধ্যম যথেষ্ট প্রচার করলে পেট্রোবাংলা একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি করে গ্যাস বের হওয়ার কারণ ও তার প্রতিকারের উপায় নির্ধারণ করতে নির্দেশ দেয়। অথচ তারপর আজ প্রায় দুই বছর সময় গেলেও তিতাস গ্যাস বিনষ্ট হওয়া থামাতে পেট্রোবাংলা কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেনি। তিতাস থেকে প্রতিদিন যে বিপুল পরিমাণ গ্যাস বিনষ্ট হয়ে চলেছে, তার পরিমাণ কত, কর্তৃপক্ষের কাছে তার কোনো হিসাব নেই। কেবল গ্যাস বিনষ্টই নয়, কূপের ভেতর যে সমস্যার কারণে এটি ঘটছে তা গ্যাসক্ষেত্রটির অন্তত একটি অংশকে বিপজ্জনক অবস্থায় নিয়ে গেছে, যার কারণে যেকোনো সময় গ্যাসক্ষেত্রে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। দেশের গ্যাস-সংকটের এই চরম দুর্দিনে তিতাস গ্যাসের এই ক্ষয় কেবল চেয়ে চেয়ে দেখা কর্তৃপক্ষের চরম দায়িত্বহীনতার সাক্ষ্য বহন করে।
বাংলাদেশে গ্যাস-সম্পদের ভবিষ্যৎ, তা ২০২০ সাল হোক বা ২০২৫ সাল, কিংবা আরও দূরবর্তী কোনো সময়, নির্ভর করবে ভূগর্ভ থেকে কতটা গ্যাস আবিষ্কার ও উত্তোলন করে সুষ্ঠুভাবে ব্যবহার করা যায় তার ওপর। আর এর জন্য গ্যাস কার্যক্রমে দক্ষ, একনিষ্ঠ ও সৎ ব্যবস্থাপনা অন্যতম প্রধান ভূমিকা পালন করবে।
বদরূল ইমাম: অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়; ভিজিটিং ফ্যাকাল্টি, রেজাইনা বিশ্ববিদ্যালয়।

তাল তাল হরতাল by ফারুক ওয়াসিফ

বিরোধী দলের বড় জনসভা মানেই বড় হরতালের ঘোষণা। দুটো যেন এক প্যাকেজের জিনিস, একটি হলেই অপরটি অবধারিত প্রায়। প্রায় দেড় বছর ঢাক-ঢাক গুড়গুড় করার পর ১৯ মের জনসভায় হঠাৎ সরকার পতনের হরতালের ডাক তাই যেন ‘হঠাৎ আলোর ঝলকানি’। বিএনপি তবুও ‘সহনশীল’, ১৬ মাস বিরোধী দলে থাকার বিড়ম্বনা সওয়ার পর হরতাল দিল। আওয়ামী লীগ তো বিএনপি ক্ষমতাসীন হওয়ার তিন মাসের মাথায়ই হরতালের অস্ত্র প্রয়োগ করে বসেছিল। হরতাল যেন এই দুই দলের পারস্পরিক উপহার। একজন ক্ষমতায় গেলে অন্যজনকে সান্ত্বনা বাবদ হরতালের অস্ত্রে সজ্জিত করে দেন। অপরজন তখন বিনা বিবেচনায় একেই মওকা মনে করে হরতাল-অস্ত্র প্রয়োগ করে নিজেই ধরাশায়ী হন। ধরাশায়ী বললাম এ কারণে যে গত দেড় দশকে আওয়ামী লীগ বা বিএনপির কোনো হরতাল জনপ্রিয় হয়েছে, কিংবা কোনো জরিপে তার পক্ষে ব্যাপক জনসমর্থন দেখা গেছে, তার প্রমাণ নেই। বরং উল্টো প্রমাণই বেশি। তবুও হরতাল দেওয়া হয় এবং দিনশেষে ‘তাল তাল হরতাল, সফল হলো হরতাল’ বলে স্লোগান দেওয়া হয়। এ প্রসঙ্গে একটি গল্প চলে আসে। গল্পটি এ রকম:
উলুখাগড়া নামক এক দেশ কোথাও ছিল। সে দেশে ছিলেন এক হঠাৎ নবাব। হঠাৎ নবাবের ইচ্ছাগুলোও যে হঠাৎ হঠাৎই হবে, তাতে আর বিস্ময় কী! একদিন নবাব মশায়ের এক বন্ধুর দেওয়া উপহারটি পরিধানের ইচ্ছা হলো। উলুখাগড়ার বন্ধুও যে-সে নন। তিনি বেনোবনের মহারাজা। মহারাজার দেওয়া উপহারসামগ্রীটি হাতে নিয়ে নবাব মুসিবতেই পড়লেন। এক জোড়া জরির জিনিস; সেটা কোথায় কীভাবে পরা যাবে, তা কেউ বলে দেয়নি। তাঁর রাজ্যে তিনিই সবচেয়ে বড় অভিজাত। লজ্জায় কাউকে জিজ্ঞেসও করতে পারেন না। যদি রটে যায়, নবাব দামি জিনিসের ব্যবহার জানেন না! এই ভয়ে তিনি নিজেই বুদ্ধির দৌড়ে নামলেন। বহু সাধ্য-সাধনা আর কসরতের পর নবাব ঠিক করলেন, উপহারটি তাঁর মুকুটের সঙ্গে দারুণ মানায়। অতএব, সেটাই ফাইনাল। তিনি বেনোবনের রাজার দেওয়া জরির উপহার জোড়ার একপাটি মুকুটে আটকে দরবারে দেখা দিলেন। সভাসদেরা সবাই যারপরনাই প্রশংসাই করল, জিন্দাবাদ উঠল। নবাবের দরবারে সেদিন বাবার সঙ্গে আসা এক বালকও ছিল। মুকুটের সঙ্গে বাঁধা জরির জিনিসটি দেখে তার বইয়ের ছবিতে দেখা কোনো এক সম্রাটের পায়ের জুতোর কথা মনে পড়ল। অনেক সময় বালকদের মুখে লাগাম থাকে না, এরও ছিল না। সে অকস্মাৎ মুখ ফসকে বলে ফেলে, ‘নবাব, নাগড়াই জুতা পায়ে না দিয়ে মাথায় পরেছেন কেন?’
জুতা মাথায় করে বওয়া যেমন হাস্যকর, জনসমর্থনহীন হরতালকে আশ্রয় করা রাজনৈতিক দলের জন্য তেমনই আহাম্মকি।
১৯ মের জনসভায় নতুন নির্বাচন দাবি করেছেন বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। কেন করেছেন? কারণ তাঁর ভাষায়, ‘এ সরকার অবৈধ’। সরকার অবৈধ হয় নির্বাচন অবৈধ হলে অথবা সংবিধান লঙ্ঘন করলে কিংবা বেশির ভাগ সাংসদদের সমর্থন হারালে। গত জাতীয় নির্বাচন অবৈধ হওয়ার অভিযোগ অর্থপূর্ণভাবে বিএনপি কখনো করেনি। সরকার যদি সংবিধানের গুরুতর লঙ্ঘন করেই থাকে, তাহলে সেটা সাব্যস্ত হওয়ার জায়গা সুপ্রিম কোর্ট, পল্টন ময়দান নয়। যত দূর জানা, বিএনপি বা আর কেউ এই অভিযোগ নিয়ে সর্বোচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়নি। আওয়ামী লীগের সুশাসন বা দুঃশাসন যা-ই চলুক, তা কিন্তু দলীয় সাংসদদের পূর্ণ সমর্থনের জোরেই চলছে। অতএব, সংসদ ভেঙে দেওয়ার কোনো বাস্তব কারণও রাষ্ট্রপতির সামনে উত্থাপিত হয়নি। সংসদ যদি একেবারে ব্যর্থই হবে, তাহলে সংসদ সদস্য হিসেবে বেতন-ভাতা সুবিধাদি নিতে তাঁরা অসুবিধা বোধ করেননি কেন? প্রশ্নটা যতটাই রাজনৈতিক ততটাই নৈতিক।
বিএনপির পক্ষ থেকে আওয়ামী লীগ সরকারকে ‘অকার্যকর’ ও ‘ব্যর্থ’ বলারও কোনো বিরতি নেই। এটা ঠিক যে চাল-ডাল-তেলসহ দ্রব্যমূল্য কমানোর যে প্রতিশ্রুতি শেখ হাসিনা দিয়েছিলেন, তা পূরণ হয়নি। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সমস্যা এ আমলে প্রকট। দলীয়করণ-সন্ত্রাস-ক্রসফায়ার ইত্যাদি তো বন্ধ হয়ইনি, বরং আরও বেড়েছে। সমস্যাসংকুল বাংলাদেশে যেকোনো সমস্যা নিয়েই আন্দোলন করে জনপ্রিয়তা অর্জন করা কঠিন নয়। সে রকম তেজস্ক্রিয় ইস্যুর অভাব বাংলাদেশে কখনো হয়নি। এ আমলেও তার ঘাটতি হওয়ার কোনো কারণ নেই। কিন্তু গত ১৬ মাসে এসব ইস্যুতে বিএনপি কি ধারাবাহিকভাবে অর্থপূর্ণ কোনো আন্দোলন করেছে? মৌখিক প্রতিবাদ ছাড়া বিদ্যুৎ-জ্বালানি-দ্রব্যমূল্য-সন্ত্রাস নিয়ে দলটি কি ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়ে জনগণের কাছে গিয়েছে? হাজির করেছে সমাধানের কোনো প্রস্তাব? হাওয়ার ওপর তাওয়া গরম করা যায় না।
বিদ্যুৎ-জ্বালানি প্রশ্নে আওয়ামী লীগ তা-ই করছে, যা বিএনপি তথা চারদলীয় জোট করে এসেছে। কেউই স্থায়ী সমাধানের দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ নেয়নি। এখনো নেওয়া হচ্ছে না। সন্ত্রাস-দখলদারির আজাব চারদলীয় জোট সরকারের আমলের থেকে এমন কী কম? বিএনপি দ্বিতীয় বৃহত্তম দল। যেকোনো বিষয়ে সত্যিকার কোনো গঠনমূলক আন্দোলন করা তাদের জন্য অসম্ভব ছিল না। বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নের জন্য ভুক্তভোগী ও বিশেষজ্ঞদের নিয়ে সমাধানের বাস্তব সুপারিশ তৈরি করতে পারত। পারত, তার পক্ষে জনসমর্থন আদায়ে প্রচার চালাতে। গ্যাসক্ষেত্রে বিপুল অনিয়ম ও লুটপাটের অভিযোগ রয়েছে। সেটা নিয়েও কোনো জাতীয় তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি তোলা যেত। সন্ত্রাস ও যৌন নিপীড়ন প্রশ্নে স্থানে স্থানে নাগরিক ও অভিভাবকদের নিয়ে নাগরিক কমিটি করে প্রতিরোধের বৃত্ত রচনা করতে পারত। প্রতিবছরের মতো এ বছরও কৃষক ফসলের ন্যায্য দাম পায়নি। প্রধান বিরোধী দল এসব দাবিদাওয়ার বেলায় আন্তরিক হলে জনগণের মধ্যে আলোড়ন আসত, আর সরকারের পক্ষে সত্যিকার সমালোচনা ও গঠনমূলক প্রস্তাবকে তুবড়ি মেরে উড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হতো না। তাতে দলেরও লাভ ছিল, লাভ হতো মানুষেরও। কিন্তু তারা তা করল না, তারা গেল সরাসরি সরকার পতনের হরতালীয় পথে। এ থেকেই বোঝা যায়, তাদের আগ্রহ যত না জনজীবনে শান্তি ও নাগরিক সেবার অধিকার প্রতিষ্ঠা করার দিকে, তার থেকে বেশি ক্ষমতার মসনদের দিকে। কবি রণজিৎ দাশের কবিতায় আছে, ‘যে দিকে দু’চোখ যায় চলে যাব/ সম্ভবত গড়িয়াহাটার দিকে।’ উভয় দলই কেবল ক্ষমতার গড়িয়াহাটা চিনেছে, জনগণের গণতন্ত্র ও মঙ্গল চেনেনি।
গত ১৬ মাসের মধ্যে বিএনপির প্রধান সক্রিয়তা ছিল টিপাইমুখে ভারতের বাঁধের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে জনমত গঠন করা। শেখ হাসিনার দিল্লি সফরের সময় সেটাই ছিল বিএনপির প্রধান সমালোচনার তীর। অথচ দিল্লিতে টিপাইমুখ ইস্যু আনুষ্ঠানিক এজেন্ডায় ছিল না। বরং ভারতের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে নিরাপত্তা, ট্রানজিট, বন্দর ও বাণিজ্যের মতো বিষয়ে। এসব চুক্তির অনেক শর্ত বাংলাদেশের স্বার্থের বিপক্ষে বলে অনেকের অভিমত। তাহলে এমন জাজ্বল্যমান জাতীয় স্বার্থ নিয়ে ঝোপ না পিটিয়ে তারা কেন সংসদে কথা তুলল না? চুক্তির বিভিন্ন দিক নিয়ে সংসদে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে দিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের চাপ তৈরি করলো না কেন? শেখ হাসিনা ভালো চুক্তি করেছেন না মন্দ চুক্তি করেছেন, সেটা তো তখন প্রমাণ হতো। এমন মোক্ষম সুযোগ বিএনপি ছাড়ল কেন? কেন সম্ভাব্য টিপাইমুখ বাঁধের আড়ালে অন্য সব সত্যিকার ইস্যুকে ঢেকে দিল? এটাই কি দেশপ্রেমিক জাতীয়তাবাদী দলের উচিত কাজ?
এসব কারণেই প্রশ্ন ওঠে, পল্টন ময়দানে বিএনপির এই হঠাৎ জাগরণের আসল মাজেজা কী? আমরা তাদের কোন কথাটাকে সত্য ধরব? সরকারের ব্যর্থতার জন্যই তারা নতুন নির্বাচন চায়, নাকি বিরোধী দল হিসেবে নিজেদের দায়িত্বহীনতা ঢাকার কৌশলই হলো এই নতুন ডামাডোল?
কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছিলেন, ‘চিনিলাম আপনারে/ আঘাতে আঘাতে/ বেদনায় বেদনায়।’ ক্ষমতাসীন দল ঠিক করেছে সন্ত্রাস, দুর্নীতি আর অনিয়মের আঘাতে আঘাতে তারা তাদের স্বরূপ চেনাবে। আর বিরোধী দলের ইচ্ছা, তাল তাল হরতালের কঠিন পথে দেশকে ঠেলে দিয়ে জনমনে বেদনার অক্ষয় ছাপ ফেলবে। তাদের জয় হোক।
ফারুক ওয়াসিফ: সাংবাদিক।
farukwasif@yahoo.com

আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে -আবারও প্রধানমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি

অপরাধবৃত্তির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের প্রতি আবারও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার রাজধানীতে আয়োজিত এক প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের বক্তৃতায় তিনি বলেন, ‘কোনো অন্যায়-অবিচার হলে আমরা ব্যবস্থা নেব। অন্যায় করলে আমি নিজ দলের লোকদেরও ছাড়ব না।’
প্রধানমন্ত্রীর নিজের দলের লোকদের প্রতি এই সতর্কতাই বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। এর মধ্যে এই ইঙ্গিত রয়েছে যে ক্ষমতাসীন দলের লোকজন নানা রকমের অন্যায়-অপরাধে লিপ্ত হচ্ছেন; নইলে প্রধানমন্ত্রীর নিজ দলের লোকদের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করার প্রয়োজন দেখা দিত না। প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যে বাস্তব অবস্থার স্বীকৃতি রয়েছে: দেশজুড়ে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, হত্যা, সন্ত্রাস, নানা ধরনের দখলবাজি, জবরদস্তির যেসব খবর সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হচ্ছে, সেগুলোর সঙ্গে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ও তার অনুসারী ছাত্র-যুব সংগঠনগুলোর একশ্রেণীর নেতা-কর্মীর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। কোথাও কোথাও সরকারি দলের লোকজন অন্যায়-অপরাধ করে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হলে তার মুক্তির জন্য মিছিল, এমনকি থানায় হামলা চালানোর খবরও বের হচ্ছে। কিন্তু এসব বিষয়ে কঠোর কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার খবর তেমন পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে এ ধরনের ঘটনা বন্ধ হচ্ছে না; বরং প্রায়ই এমন অন্যায়-অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে, যা সরকারের জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতি আরও বাড়িয়ে তুলছে।
লক্ষণীয় বিষয়, সরকারের কর্তাব্যক্তিরা সরকারি দল ও তার অনুসারী সংগঠনগুলোর একশ্রেণীর নেতা-কর্মীর অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিষয়টি অস্বীকার করছেন না; বরং স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীসহ একাধিক মন্ত্রী ও অন্য নেতারা বারবার এসব সম্পর্কে সতর্কবাণী উচ্চারণ করে চলেছেন, অত্যন্ত কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারিও ইতিপূর্বে একাধিকবার শোনা গেছে। পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে অপরাধীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার। কিন্তু তার ফলে অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি, ক্ষমতাসীন দল ও তার অনুসারী সংগঠনগুলোর দুর্বৃত্ত-স্বভাবের লোকজনের মধ্যে দুর্বৃত্তপনা পরিত্যাগের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। ফলে জনমনে এমন ধারণা সৃষ্টি হচ্ছে যে প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের কর্তাব্যক্তিদের এসব হুঁশিয়ারিতে আন্তরিকতার অভাব রয়েছে। তাঁরা মুখে বলছেন অন্যায়-অপরাধ যারা করবে, তারা যদি সরকারি দলের লোকজনও হয়, তবু তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। কিন্তু বাস্তবে তারা ছাড় পেয়ে যাচ্ছে। তাদের ক্ষেত্রে আইনের প্রয়োগ কমই ঘটছে, থানা-পুলিশ, আইন-আদালত তাদের ক্ষেত্রে যেন বা অকার্যকর হয়ে গেছে।
এই পরিস্থিতি গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। প্রধানমন্ত্রী বারবার সতর্ক করেই যাবেন, আর অন্যায়-অপরাধকারীরা নিজেদের কর্মকাণ্ড চালিয়েই যাবে—এই বৈপরীত্য মেনে নেওয়া যায় না। এর অর্থ দাঁড়ায়, আইনের শাসন অকার্যকর হয়ে যাওয়া, সুশাসনের বদলে অপশাসনের ভিত্তি দৃঢ়তর হওয়া। সরকারের হাতে আইন আছে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাও দুর্বল নয়। এখন মুখে মুখে সতর্কবাণী উচ্চারণ করা নয়, আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। সেই সিদ্ধান্তটি সরকারের কর্তাব্যক্তিদের নিতে হবে আন্তরিকভাবে। জনগণ কথা শুনতে চায় না, কাজ দেখতে চায়।

গাজায় জাতিসংঘের ক্যাম্প জ্বালিয়ে দিয়েছে বন্দুকধারীরা

গাজায় জাতিসংঘ পরিচালিত একটি গ্রীষ্মকালীন ক্যাম্পে গতকাল রোববার আগুন লাগিয়ে দিয়েছে একদল মুখোশধারী বন্দুকধারী। তারা গাজার জাতিসংঘ ত্রাণ ও শরণার্থীবিয়ষক সংস্থার পরিচালককেও হুমকি দিয়েছে।
সংস্থার মুখপাত্র আদনান আবু হাসান জানান, হামলাকারীরা প্রথমে ক্যাম্পের একজন প্রহরীকে বেঁধে ফেলে। এ সময় তারা ক্যাম্পে আগুন লাগিয়ে দেয়। বন্দুকধারীরা গাজা উপকূলঘেঁষা মহাসড়কটি বন্ধ করে দেয়।
কোনো গোষ্ঠী হামলার দায়িত্ব স্বীকার করেনি।

ইন্দোনেশিয়ায় আগ্নেয়গিরি থেকে লাভা উদ্গিরণ

ইন্দোনেশিয়ার একটি আগ্নেয়গিরি থেকে ছাই ও লাভা উদিগরণ শুরু হয়েছে। আকাশের ২০০০ মিটার উচ্চতা পর্যন্ত এসব ছাই ও লাভা উঠছে। ছাইয়ে আকাশের বিশাল অংশ ঢেকে গেছে। লাভায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিস্তৃত জমির ফসল। তবে আশপাশের গ্রামের বাসিন্দাদের জন্য এখনো এটি হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়নি। দেশটির একজন কর্মকর্তা গতকাল রোবার এ কথা জানিয়েছেন।
বালির নিকটবর্তী লুমবুক দ্বীপে অবস্থিত মাউন্ট বারু জারি নামের এই আগ্নেয়গিরি থেকে উদিগরণ শুরু হয় শনিবার বিকেলে। রোববার বিকেল পর্যন্ত এতে তিন দফা উদিগরণ হয়। এর সঙ্গে থেমে থেমে চলে মৃদু কম্পন। আগ্নেয়গিরিটির অবস্থা পর্যবেক্ষণকারী কর্মকর্তা মুতাহারলিন জানান, ছাই ও লাভা আকাশের দেড় থেকে দুই হাজার মিটার উচ্চতা পর্যন্ত উঠছে

ইতালিতে প্রথম নারী ধর্মযাজক নিযুক্ত

ইতালিতে প্রথমবারের মতো ধর্মযাজক হিসেবে একজন নারী নিযুক্ত হয়েছেন। তাঁর নাম মারিয়া ভিট্টোরিয়া লংহিতানো (৩৫)। বিবাহিত এই নারী এর আগে শিক্ষকতা করতেন। শনিবার রোমে অ্যাঙ্গলিকান চার্চে তিনি ধর্মযাজক হিসেবে শপথ নেন। শপথ নেওয়ার পর লংহিতানো বলেছেন, নারী ছাড়া ক্যাথলিক চার্চের শিক্ষা অসম্পূর্ণ।
ভ্যাটিকানে ধর্মযাজক হিসেবে নারীরা নিষিদ্ধ হলেও অন্যান্য খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ে আগে থেকে নারী ধর্মযাজক নিয়োগের বিধান রয়েছে। লংহিতানো ইতালির ওল্ড ক্যাথলিক চার্চের অনুসারী। তিনি এখন থেকে ‘মাদার লংহিতানো’ হিসেবে পরিচিত হবেন। তিনি বলেন, ‘আমরা এমন এক কট্টর পুরোহিততান্ত্রিকতার কথা বলছি, যেখানে ধর্মযাজকের পদে শুধু পুরুষদেরই বিবেচনা করা হয়। এ কারণে চার্চে নারী ধর্মযাজক বিরোধী সাধারণ একটা নীতি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।’
বিবিসির ইতালির সাংবাদিক জানিয়েছেন, লংহিতানোকে ধর্মযাজক হিসেবে নিয়োগের পর অনেকে মন্তব্য করেছেন, বেশি করে নারী ধর্মযাজক নিয়োগ দেওয়া হলে চার্চে শিশু নির্যাতন কমে যাবে।

কান্দাহারে ন্যাটোর ঘাঁটিতে তালেবানের রকেট হামলা

আফগানিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর কান্দাহারে ন্যাটো বাহিনীর বিমানঘাঁটিতে গত শনিবার রাতে হামলা চালিয়েছে তালেবান জঙ্গিরা। এতে বেশ কয়েকজন সেনাসদস্য আহত হয়েছেন। হামলার কারণে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইউলিয়াম হগ শেষ মুহূর্তে ওই ঘাঁটি পরিদর্শনের সিদ্ধান্ত বাতিল করেন।
আফগানিস্তানে গত চার দিনে এটি তালেবান জঙ্গিদের দ্বিতীয় হামলার ঘটনা। এর আগে গত বুধবার বাগরামে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালায় জঙ্গিরা।
ন্যাটোর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল টড ভিসিয়ান জানান, শনিবার স্থানীয় সময় রাত আটটার দিকে রকেট ও মর্টার হামলা চালানো হয়। ন্যাটোর এক বিবৃতিতে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলা হয় এবং এতে সামরিক ও বেসামরিক কয়েকজন আহত হন। তাঁদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তবে আহতদের সংখ্যা নিশ্চিত করা যায়নি।
আফগান কর্মকর্তারা জানান, কান্দাহারের ওই ঘাঁটিতে পাঁচটি রকেট আঘাত হানে। এর একটি রকেট হেলিকপ্টার ঘাঁটিতে গিয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শী একজন সাংবাদিক জানান, হামলার সময় মাইকে সতর্কবার্তা ঘোষণা করে সবাইকে বাংকারে আশ্রয় নিতে বলা হয়।
তালেবানরা এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। তালেবানের মুখপাত্র ইউসেফ আহমাদি বলেন, ঘাঁটির দুই দিক থেকে এ হামলা চালানো হয়েছে। হামলায় ১৫টি রকেট ব্যবহার করা হয়েছে

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মহড়া, সমালোচনা করল লেবানন

ইসরায়েল গতকাল রোববার থেকে দেশজুড়ে পাঁচ দিনব্যাপী প্রতিরক্ষা মহড়া শুরু করেছে। জরুরি পরিস্থিতি নাগরিকেরা কীভাবে মোকাবিলা করবে, সে ব্যাপারে তাদের নানাভাবে সচেতন করার জন্যই এ মহড়ার আয়োজন করা হয়েছে। ইসরায়েলের প্রতিবেশী লেবানন এ মহড়ার সমালোচনা করেছে। ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ গেরিলারা এ মহড়ার জবাবে ইসরায়েল সীমান্তসংলগ্ন দক্ষিণ লেবাননে তাদের হাজার হাজার যোদ্ধা জড়ো করেছে।
এ বছর ইসরায়েলে এটি হচ্ছে এ ধরনের চতুর্থ মহড়া। এর নাম দেওয়া হয়েছে টার্নিং পয়েন্ট ফোর। এ মহড়া চলাকালে বিভিন্ন জায়গায় নাগরিকদের নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট নানা বিয়য়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। আপৎকালীন সময়ে কী করতে হবে, সে ব্যাপারে তাদের ধারণা দেওয়া হবে। আগামী বুধবার দেশজুড়ে একসঙ্গে ৯০ সেকেন্ডের জন্য সাইরেন বাজানো হবে। স্কুলের ছাত্ররাও এ মহড়ায় অংশ নেবে। সাইরেন বাজার সঙ্গে সঙ্গে ছাত্রদের নিরাপদ জায়গায় আশ্রয় নিতে সাহায্য করবেন শিক্ষকেরা।
ইসরায়েলের কর্মকর্তারা বলেছেন, এ মহড়া পূর্বপরিকল্পিত। কোনো রকম নিরাপত্তা হুমকি থেকে তাঁরা এর আয়োজন করেননি।
লেবাননের প্রধানমন্ত্রী সাদ হারিরি এ মহড়ার সমালোচনা করে বলেছেন, শান্তি-প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করার জন্যই এর আয়োজন করা হয়েছে।

যুক্তরাজ্যে পুলিশের জন্য প্যাডেল-চালিত টহল গাড়ি

অপরাধ দমনের হাতিয়ার হিসেবে এবার প্যাডেল-চালিত টহল গাড়ির সংযোজন ঘটল যুক্তরাজ্যের পুলিশ বাহিনীতে। এই টহল গাড়িতে নীল রংয়ের উজ্জ্বল আলো ও পাগলা ঘণ্টির ব্যবস্থাও রয়েছে। পুলিশ বিভাগের কর্মকর্তারা আশা করছেন, নতুন এই যান সমাজবিরোধী কার্যকলাপ দমনে তাঁদের কাজে আসবে। যুক্তরাজ্যের হ্যাম্পশায়ার কনস্টাবুলারি বাহিনীর পুলিশ গাড়িটি ব্যবহার করা শুরু করেছে।
প্যাডেল-চালিত এই গাড়ির শক্তির মূল উৎস একটি ব্যাটারি। পাঁচটি গিয়ারবিশিষ্ট এই গাড়িটির সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ২০ মাইল। যুক্তরাজ্যের হ্যাম্পশায়ারের রিংউড কম্প্রিহেনসিভ স্কুলের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে গাড়িটি তৈরি করেছেন পিসি কিথ ওয়ালার নামে একজন বিজ্ঞানী। গাড়িটি তৈরি করতে তাঁর ৪০ ঘণ্টা সময় লেগেছে।
ওয়ালার বলেন, এ ধরনের কাজে শিশুদের যুক্ত করার মাধ্যমে তাদের জন্য কিছু করা হয়। এতে তারা সমাজবিরোধী আচরণ থেকে বিরত থাকে। আগামী ১১ জুলাই রিংউডে ব্রিটিশ পেডাল কার গ্রাঁ প্রিঁ প্রতিযোগিতায় তার এই গাড়ি নিয়ে অংশ নেওয়ার আশা প্রকাশ করেছেন ওয়ালার

মার্কিন সেনাদের হত্যা করুন: আওলাকি

মার্কিন বংশোদ্ভূত আল-কায়েদা নেতা আনওয়ার আল-আওলাকি ইরাক ও আফগানিস্তানে মোতায়েন করা মার্কিন সেনাদের হত্যা করতে মুসলমানদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। গতকাল রোববার একটি ইসলামি ওয়েবসাইটে পোস্ট করা সাক্ষাৎকারভিত্তিক ভিডিওটেপে তিনি এ আহ্বান জানান।
আনওয়ার আল-আওলাকিকে ইয়েমেনভিত্তিক আল-কায়েদা নেটওয়ার্কের প্রধান হিসেবে ধারণা করা হয়। মার্কিন কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যেই তাঁকে জীবিত অথবা মৃত অবস্থায় ধরার ঘোষণা দিয়েছে।
ইন্টারনেটে প্রকাশিত ৪৫ মিনিটের সাক্ষাৎকারে আনওয়ার বলেছেন, মার্কিন সেনারা যা করছে মৌখিক অথবা শারীরিকভাবে মুসলমানদের তার বিরোধিতা করা উচিত। গত নভেম্বরে টেক্সাসের একটি সামরিক ঘাঁটিতে নিদাল মালিক হাসান নামে মার্কিন বাহিনীর যে মনোচিকিৎসক গুলি করে ১৩ সেনাকে হত্যা করেন আনওয়ার তার প্রশংসা করেন। আনওয়ার বলেছেন, ‘নিদাল আমার শিষ্য। সে যা করেছে, তাতে আমি গর্বিত।’ তিনি বলেন, ‘নিদাল হাসান যা করেছে তার ব্যাপারে কার আপত্তি থাকতে পারে? সে তো সেসব সেনাকে হত্যা করেছে, যারা ইরাক ও আফগানিস্তানে যাওয়ার জন্য তৈরি হচ্ছিল। বর্তমান পরিস্থিতির পরিবর্তন না হলে আরও নিদাল হাসানের আত্মপ্রকাশ ঘটবে।’ নিদাল হাসান বেশ কয়েক দফায় আনওয়ারকে ই-মেইল করেছিলেন, তবে মার্কিন গোয়েন্দারা ওই বার্তাগুলো দেখে ফেলেন। গোয়েন্দারা বার্তাগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন।
সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী মার্কিন সেনাদের হত্যা করলে যুক্তরাষ্ট্রে মুসলমানদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে কি না প্রশ্ন করলে জবাবে আনওয়ার বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মুসলমানদের ভাবমূর্তি বাঁচানোর চেয়ে ইরাক ও আফগানিস্তানের লাখ লাখ মানুষের জীবন বাঁচানো আরও অনেক বেশি জরুরি।

ইথিওপিয়ায় জাতীয় নির্বাচনে ক্ষমতাসীনদের জেতার সম্ভাবনা

আফ্রিকার দেশ ইথিওপিয়ায় গতকাল রোববার জাতীয় নির্বাচনে ভোট নেওয়া হয়েছে। এতে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মেলেস জেনাবি আবারও নির্বাচিত হচ্ছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিরোধী দল স্বীকার করেছে, নির্বাচনে তাদের জেতার আশা নেই। তাদের অভিযোগ, ক্ষমতাসীন ইথিওপিয়ান পিপলস রেভল্যুশনারি ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইপিআরডিএফ) যেকোনো মূল্যে ক্ষমতা আঁকড়ে থাকতে চায়। এ জন্য তারা বিরোধী দলের নেতাদের ঢালাওভাবে বন্দী করছে।
তবে বিরোধী দলের অভিযোগ অস্বীকার করেছে ইপিআরডিএফ। তাদের মতে, ক্ষমতায় থাকতে তারা দেশের অর্থনীতিকে অনেকটা এগিয়ে নিয়েছে, রাস্তাঘাট ও অবকাঠামো তৈরি করেছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়িয়ে গ্রামে গ্রামে পৌঁছে দিয়েছে। এ কারণেই জনগণ আবারও তাদের পক্ষে রায় দেবে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রধান পর্যবেক্ষক দিজস বারম্যান জানান, তিনি রাজধানী আদ্দিস আবাবার বেশ কয়েকটি ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন। তাঁর কাছে সবকিছুই ‘ইতিবাচক’ মনে হয়েছে। তিনি জানান, স্থানীয় সময় বেলা ১১টার মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশ ভোটার ভোট দিয়েছেন। বারম্যান বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে।’
স্থানীয় সময় সকাল ছয়টায় ৪৩ হাজারেরও বেশি কেন্দ্রে ভোট নেওয়া শুরু হয়। ভোট শেষ হয় সন্ধ্যা ছয়টায়। আদ্দিস আবাবা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হিরপা কুমেলা জানান, ভোট নেওয়ার প্রক্রিয়া বেশ সুশৃঙ্খল ও গণতান্ত্রিক। এই নির্বাচনের ফল অব্যশই গ্রহণযোগ্য হবে।
ক্ষমাসীন দল ইপিআরডিএফ ২০০৫ সালে ক্ষমতায় আসে। ওই সময় ইপিআরডিএফের বিজয় ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে দেশটিতে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে।

লুইজিয়ানার সৈকতে তেল স্থানীয় জনগণ ক্ষুব্ধ

মেক্সিকো উপসাগর থেকে ভেসে আসা তেল যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যে জলাভূমি ও সৈকত এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। এতে স্থানীয় লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছে। এদিকে বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত তেলক্ষেত্রের ছিদ্রযুক্ত পাইপ মেরামতের কাজ পিছিয়ে পড়েছে।
তেলক্ষেত্রটির দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান ব্রিটিশ পেট্রোলিয়ামের (বিপি) গতকাল রোববার থেকে সেটি মেরামতের কাজ শুরু করার কথা ছিল। কিন্তু সমুদ্রপৃষ্ঠের পাঁচ হাজার ফুট নিচে ওই মেরামতের কাজ আগামী মঙ্গলবার সকালে শুরু করার কথা জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। গত শনিবার কর্মীরা দূরনিয়ন্ত্রিত ডুবোজাহাজ দিয়ে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সাগরতলে নিয়ে গেছেন।
বিপির মুখপাত্র জন কারি বলেন, ‘অনেকগুলো প্রস্তুতিমূলক কাজ করতে হবে সমুদ্রপৃষ্ঠে ও সমুদ্রপৃষ্ঠের নিচে। ‘টপ কিল’ নামের পদ্ধতি ব্যবহার করে ক্ষতিগ্রস্ত পাইপের ছিদ্র বন্ধ করার জন্য কাদা ও অন্যান্য উপকরণ ব্যবহার করা হবে।’
এদিকে তেলক্ষেত্র থেকে বেরিয়ে আসা বিপুল পরিমাণ তেল উপকূলীয় এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে। মার্কিন নৌবাহিনী, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও বিপি এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো তেল ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে সব ধরনের উদ্যোগ নিলেও তেল উপকূলের দিকে ছড়িয়ে পড়ছে। তেল লুইজিয়ানার উপকূল স্পর্শ করেছে এবং ফ্লোরিডা উপকূলের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। লুইজিয়ানার গ্র্যান্ড আইল সৈকতে তেলের প্রলেপ পড়ায় স্থানীয় লোকজন ক্ষোভ জানিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা সুসান ভিলিয়ার্স (৫২) বলেন, ‘সবাই ক্ষেপে আছে। কারণ তারা দ্রুত পদক্ষেপ দেখতে চাচ্ছে। তারা দেখছে, নৌযানগুলো তেল ঠেকাতে বাধা তৈরি করছে কিন্তু কোনো কাজ হচ্ছে না।’ স্বেচ্ছাসেবকেরা সৈকত এলাকা থেকে তেল পরিষ্কারের কাজ শুরু করেছেন। স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করতে আসা এরিক থমসন বলেন, ‘শনিবার সকাল ছয়টায় সৈকত খুবই নোংরা দেখাচ্ছিল। আমরা পরিষ্কার করি। দুপুরে ফিরে এসে দেখি পরিস্থিতি আগের মতোই।’
এদিকে শনিবারের সাপ্তাহিক বেতার ভাষণে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। তিনি বলেন, ‘আমি জানতে চাই, এ ধরনের তেল ছড়িয়ে পড়া প্রতিরোধের ব্যাপারে আমাদের কোনো আইন নেই, নাকি সেগুলোর প্রয়োগ হচ্ছে না? আমি আরও জানতে চাই, এই বিপর্যয় ঠেকাতে কোন পদ্ধতি কাজ করছে, কোনটি করছে না?’
গত মাসের শেষ দিকে মেক্সিকো উপসাগরে তেলক্ষেত্রে বিস্ফোরণের কারণে বিপুল পরিমাণ তেল সাগরে ছড়িয়ে পড়ে। এতে সাগরের জীববৈচিত্র্য ও উপকূলীয় এলাকার পরিবেশ হুমকির মুখে পড়েছে। তেল উপচেপড়া নিয়ন্ত্রণে এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এটি অন্যতম বড় তেল ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা।

প্রতিশ্রুতি রাখতে না পারায় হাতোইয়ামার দুঃখ প্রকাশ

জাপানের ওকিনাওয়া দ্বীপে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি স্থানান্তরের ব্যাপারে দেওয়া নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন সে দেশের প্রধানমন্ত্রী ইয়োকিয়ো হাতোইয়ামা। গতকাল রোববার ওকিনাওয়ার গভর্নর হিরোকাজু নাকাইমার সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে এ দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।
দ্বীপের বেশির ভাগ স্থানীয় লোকের মতো ওকিনাওয়ার গভর্নরও সেখানে মার্কিন সেনাদের উপস্থিতির বিরোধী। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া কঠিন। জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের সরকার বলছে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেখানে এই সামরিক ঘাঁটির প্রয়োজন রয়েছে।
গত বছর নির্বাচনী প্রচার চালানোর সময় হাতোইয়ামা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তিনি নির্বাচিত হলে এ বছরের মে মাসের মধ্যে ওই দ্বীপ থেকে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি স্থানান্তর করবেন। কিন্তু সম্প্রতি ওই প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসেন হাতোইয়ামা। তবে ঘাঁটিটি দ্বীপের কম জনবহুল উপকূলীয় জেলা হেনকোতে সরিয়ে নেওয়া হবে।
গতকাল স্থানীয় টেলিভিশনে প্রচারিত হাতোইয়ামা ও নাকাইমার বৈঠকের একটি অংশে হাতোইয়ামা বলেন, ‘ওকিনাওয়ার জনগণের কাছে আমি দুঃখ প্রকাশ করছি। কারণ, সামরিক ঘাঁটিটি স্থানান্তরের ব্যাপারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি আমি রক্ষা করতে পারিনি। জাপানে বিভিন্ন পর্যায়ে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সরকারের সঙ্গে বৈঠকের পর যে সিদ্ধান্ত নিয়েছি তা হলো, দ্বীপবাসীর কাছে আমার প্রস্তাব সামরিক ঘাঁটিটি হেনকো জেলায় স্থানান্তর করা হোক।’ এর জবাবে ওকিনাওয়ার গভর্নর বলেন, ‘আমি না বলে পারছি না, হেনকোতে সামরিক ঘাঁটি স্থানান্তরের এই প্রস্তাব দুঃখজনক ও কঠিন কাজ।’
এদিকে দ্বীপে হাতোইয়ামার সফরের সময় গতকাল বিক্ষোভ করেছে ক্ষুব্ধ ওকিনাওয়াবাসী। তারা স্লোগান দেয়, ‘ফিরে যাও হাতোইয়ামা’

অগ্রগতি ছাড়াই মধ্যপ্রাচ্যশান্তি আলোচনা শেষ

মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলের মধ্যে দ্বিতীয় দফা পরোক্ষ আলোচনা কোনো ধরনের অগ্রগতি ছাড়াই শেষ করেছেন মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক মার্কিন দূত জর্জ মিচেল।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, ফিলিস্তিনিদের প্রতি তাদের ইতিবাচক মনোভাব রয়েছে। তবে এ ব্যাপারে বিস্তারিত আর কিছু বলা হয়নি।
প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সঙ্গে গত বৃহস্পতিবার থেকে গতকাল রোববার পর্যন্ত কয়েক দফায় সাড়ে তিন ঘণ্টা বৈঠক করেন মার্কিন দূত মিচেল। গত সপ্তাহে তিনি ফিলিস্তিনি নেতা মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গে বৈঠক করেন।
পরোক্ষ এই আলোচনা চার মাস চলবে। এতে ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলের মধ্যে বিরাজমান সীমান্ত, জেরুজালেম ও শরণার্থী সমস্যা নিয়ে আলোচনা হবে।
আপাতত কোনো অগ্রগতি না হলেও পরোক্ষ এ আলোচনা উভয় পক্ষকে প্রত্যক্ষ আলোচনার দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশা প্রকাশ করছে।

ম্যাঙ্গালোরে বিধ্বস্ত বিমানের ব্ল্যাক বক্স উদ্ধার

ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের ম্যাঙ্গালোরে গত শনিবার বিধ্বস্ত হওয়া বিমানের ব্ল্যাক বক্স উদ্ধার করা হয়েছে। এই দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে ৮৭ জনকে শনাক্ত করে তাঁদের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
ম্যাঙ্গালোরের বাজপে বিমানবন্দর সূত্র জানায়, গতকাল রোববার দুর্ঘটনাস্থলের কাছ থেকেই ব্ল্যাক বক্সটি উদ্ধার করা হয়েছে। এটি নয়াদিল্লিতে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। সেখানে তদন্তকারীরা ব্ল্যাক বক্স থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করবেন।
হায়দরাবাদ থেকে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের একটি দল ম্যাঙ্গালোরে গিয়ে নিহতদের শনাক্ত করতে কাজ করছে। ম্যাঙ্গালোরের ওয়েনলক হাসপাতালের মর্গে রাখা নিহতদের ডিএনএ পরীক্ষা করে ইতিমধ্যে ৮৭ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। এসব মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এদের অনেকেরই শেষকৃত্য গতকাল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, বেশির ভাগ মরদেহ বিকৃত হয়ে যাওয়ায় ডিএনএ পরীক্ষা করা ছাড়া শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না। নিহতদের স্বজনেরা ডিএনএ পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে ভিড় করছেন। স্বজনদের আহাজারিতে হাসপাতাল চত্বরে শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।
দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া সাতজন ম্যাঙ্গালোরের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। হাসপাতাল সূত্র জানায়, তাঁরা সবাই আশঙ্কামুক্ত।
এয়ার ইন্ডিয়া মুম্বাইয়ের একজন মুখপাত্র জানান, নিহতদের স্বজনদের সর্বাত্মক সহায়তা দেওয়ার জন্য একটি দল গঠন করা হয়েছে। তাদের দুর্ঘটনাস্থলে যাওয়ার জন্য বিশেষ বিমানের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দুর্ঘটনা তদন্তে ভারতকে সহায়তার জন্য একটি দল সেখানে যাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে দুই লাখ ও আহত প্রত্যেককে ৫০ হাজার করে রুপি দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই থেকে ১৬০ আরোহী ও ছয়জন ক্রু নিয়ে বোয়িং-৭৩৭ বিমানটি গত শনিবার ম্যাঙ্গালোরের বাজপে বিমানবন্দরে অবতরণের সময় রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়ে। এতে ১৫৯ জন নিহত হয়। দুর্ঘটনায়নিহতরা সবাই ভারতের নাগরিক।

মুসলমানদের জন্য আসন সংরক্ষণের জন্য সময় বেঁধে দিলেন সোনিয়া

ভারতের ক্ষমতাসীন জোট সংযুক্ত প্রগতিশীল মোর্চার (ইউপিএ) চেয়ারপারসন ও কংগ্রেসপ্রধান সোনিয়া গান্ধী সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য আসন সংরক্ষণ-প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করার বিষয়ে সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন। তিনি আশ্বস্ত করেছেন, আগামী ছয় মাসের মধ্যে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জন্য আসন সংরক্ষণ-প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হবে। সম্প্রতি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ১৮ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ কথা বলেন।
২০০৯ সালের নির্বাচনে কংগ্রেস সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জন্য আসন সংরক্ষণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তারা বলেছিল, সরকারি চাকরি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ১৫ শতাংশ আসন সংখ্যালঘুদের জন্য সংরক্ষণ করা হবে। মুসলিম সম্প্রদায় নির্বাচনে কংগ্রেসকে সমর্থন করেছিল। বিজয়ের পর ক্ষমতাসীন দল এই প্রথম নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সময়সীমা ঘোষণা করল।
সোনিয়া গান্ধীর বক্তব্যে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা। সোনিয়ার আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁরা চলমান ‘সত্যাগ্রহ’ ও ‘জেলে ভরো’ আন্দোলন ছয় মাসের জন্য স্থগিত ঘোষণা করেছেন। রঙ্গনাথ মিশ্র কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়নের দাবিতে জমিয়ত ও অন্যান্য মুসলিম সংগঠন দেশব্যাপী এ আন্দালন করে আসছিল।
সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে দেখা করা প্রতিনিধিদলের মধ্যে জমিয়ত-উলামা-ই-হিন্দ, জামায়াত-ই-ইসলামি, অল ইন্ডিয়া মুসলিম পারসোনাল ল বোর্ড (এআইএমপিএলবি) এবং মহেশ ভাট ও স্বামী অগ্নিবেশের মতো ধর্মনিরপেক্ষ ব্যক্তিরা ছিলেন। প্রতিনিধিদলটি একই দাবিতে প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করে।
সংখ্যালঘুদের জন্য আসন সংরক্ষণের বিষয়ে গবেষণা ও সুপারিশ চেয়ে রঙ্গনাথ মিশ্র কমিশন গঠন করা হয়েছিল। কমিটি ২০০৭ সালে তাদের প্রতিবেদন সরকারের কাছে জমা দেয়। এতে সরকারি চাকরি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংখ্যালঘুদের জন্য ১৫ শতাংশ আসন সংরক্ষণ করার সুপারিশ করা হয়।
রঙ্গনাথ মিশ্র কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী কোনো আশ্বাস না দিলেও তিনি বলেছেন, তাঁর সরকার সমাজের পিছিয়ে পড়া অংশের অগ্রগতির জন্য সংরক্ষণ-নীতির সঙ্গে একমত।
শীর্ষ দুই নেতার সঙ্গে বৈঠকের পর জমিয়তের নেতা ও রাজ্যসভার সদস্য মাহমুদ মাদানি বলেছেন, ‘সোনিয়া গান্ধী আমাদের বলেছেন, সরকার সংরক্ষণ-নীতি বাস্তবায়নের বিষয়ে কাজ করছে। আমরা এ ব্যাপারে সময়সীমা দাবি করলে তিনি জানান, ছয় মাসের মধ্যে এটি সম্পন্ন করা হবে। আমরা তাঁর কথা মেনে নিয়েছি। তাঁর আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে চলমান আন্দোলন ছয় মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছে।’
দিল্লি সংখ্যালঘু কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ও এআইএমপিএলবির জ্যেষ্ঠ সদস্য কামাল ফারুকিও একই মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, ‘সোনিয়া গান্ধী বলেছেন, কংগ্রেস সংরক্ষণ-নীতিবিরোধী নয়। তবে এ নিয়ে কোনো সমস্যা সৃষ্টি করা উচিত নয়। পিছিয়ে পড়া মুসলমানদের জন্য আসন সংরক্ষণ করতে গিয়ে যেন কোনো সমস্যার সৃষ্টি না হয়, এখন সেই বিষয়ে কাজ চলছে।’

গোল করেই সুস্থতা বোঝালেন মেসি

ডিয়েগো ম্যারাডোনা বলেছেন, আর্জেন্টাইন ফুটবল ফেডারেশনও বলেছে—মেসির তেমন কিছুই হয়নি। এমনকি আর্জেন্টিনা দলের সিনিয়র খেলোয়াড় হুয়ান সেবাস্তিয়ান ভেরনও নিশ্চিত করেছেন, ‘মেসি ভালো আছে। স্রেফ একটা টোকা লেগেছে।’
তার পরও আর্জেন্টিনার ভক্তরা উদ্বিগ্ন। উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ, আর্জেন্টিনার অনুশীলনে হাভিয়ের মাচেরানোর সঙ্গে হাঁটুতে বাড়ি খেয়ে পড়ে গিয়েছিলেন। শেষমেশ সমর্থকদের উদ্বেগ কমাতে মেসি নিজেই আর্জেন্টিনা ফুটবল ফেডারেশনের ওয়েবসাইটে জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি ভালো আছেন, ‘স্রেফ একটা আঁচড় লেগেছিল।’
মুখের কথায় সমর্থকেরা সন্তুষ্ট না হলেও সমস্যা নেই। মেসি কাল একটা অনুশীলন ম্যাচে গোল করেই নিজের সুস্থতা প্রমাণ করেছেন। ম্যাচটি ছিল আর্জেন্টিনার যুবদলের বিপক্ষে। দুটো গোল করেছেন আর্জেন্টিনার আরেক তারকা স্ট্রাইকার কার্লোস তেভেজ। ম্যারাডোনার মুখে হাসি ফোটাতে একটা গোল করেছেন উইঙ্গার অ্যাঙ্গেল ডি মারিয়াও।
আক্রমণভাগের খেলোয়াড়েরা মিলে ম্যারাডোনাকে অন্তত একটা স্বস্তি এনে দিতে পারছেন। মেসি-তেভেজ-হিগুয়েইন-মিলিতোদের এই আক্রমণভাগকেই এবার বিশ্বকাপে সবচেয়ে ভয়ংকর বলা হচ্ছে। কিন্তু এদের দেখেও নাকি ভয় পাচ্ছেন না চিদি ওদিয়াহ।
ওদিয়াহর দল নাইজেরিয়াকে বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। স্বাভাবিক হিসেবে ওদিয়াহদের ভয় পাওয়ার কথা মেসিদের নাম শুনেই। কিন্তু সিএসকেএ মস্কোর এই ফুটবলার বলছেন, তাঁরা মেসিকে ভয় পাচ্ছেন না। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ভালো খেলার ক্ষমতা তাদের আছে, ‘সবাই মেসির কথা বলছে। শুধু মেসি কেন, ওদের দলে তেভেজ, আগুয়েরোর মতো খেলোয়াড়ও আছে। এটা ঠিক, ওরা একটা গ্রেট দল। কিন্তু আমরাও ভালো দল। আমরা আমাদের ফুটবল খেলব। আমার মনে হয়, আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ভালো খেলার জন্য যা দরকার, আমাদের আছে।’

।টেস্ট দলেও মরগান

প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে রেকর্ডটা বলার মতো নয়, গড় মাত্র ৩৬.৫৪। কিন্তু ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতে এউইন মরগান যা দেখিয়েছেন, ইংল্যান্ডের টেস্ট দলে ডাক পাওয়াটা ছিল স্রেফ সময়ের ব্যাপার। ওয়ানডে অভিষেক হওয়ার ঠিক এক বছর পর টেস্ট দলেও ডাক পেয়ে গেলেন এই ‘আইরিশ’। আয়ারল্যান্ডের পক্ষে ২৩টি ওয়ানডে খেলার পর গত বছরই জন্মভূমি ছেড়ে ইংল্যান্ডের হয়ে খেলছেন এই বাঁহাতি। লর্ডসে তাঁর টেস্ট অভিষেকটাও মোটামুটি নিশ্চিত, ১২ জনের দল থেকে বাইরে থাকার কথা একজন পেসারের। সেটা হতে পারেন আজমল শাহজাদই। নিয়মিত ক্রিকেটারদের মধ্যে দলে নেই পল কলিংউড ও স্টুয়ার্ট ব্রড। সামনের ব্যস্ত মৌসুমের কথা ভেবে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে ইংল্যান্ডের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক ও মূল পেসারকে।

ফুটবলারদের ডেকে নিয়ে সালাউদ্দিনের অনুরোধ

কর্মকর্তারা পাতানো খেলার জন্য চাপ দিলেও ফুটবলাররা যেন তা প্রত্যাখ্যান করেন—এটাই চান বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন। গতকাল বাফুফে অফিসে জাতীয় দলের ফুটবলারদের তিনি ডেকে নিয়েছিলেন এ কথাটা বলতেই।
ঘণ্টাখানেক ফুটবলারদের সঙ্গে কথা বলে সালাউদ্দিন জানিয়ে দেন, বাংলাদেশ লিগে এবার যেভাবে পাতানো খেলা চলছে তাতে ভবিষ্যতে পৃষ্ঠপোষক পাওয়াটাই কঠিন হয়ে যাবে। এই মৌসুম শেষে বাফুফের সবচেয়ে বড় পৃষ্ঠপোষক সিটিসেলের চলে যাওয়াটা প্রায় নিশ্চিত।
পাতানো ম্যাচ চলতে থাকলে ফুটবলাররা এখনকার মতো ১৫-১৬ লাখ টাকা পাবেন না বছরে। সালাউদ্দিনের ভাষায়, ‘পাতানো খেলা হতে থাকলে আগামী মৌসুমে ফুটবলাররা বড়জোর দুই-আড়াই লাখ টাকা পেতে পারে!’
‘আমি খেলোয়াড়দের বলেছি, ফুটবল খেলাটাকে তারা যেন একটা শিশুর মতো মনে করে। শিশুটিকে গলাটিপে মারলে তাদেরই ক্ষতি। কাজেই কর্মকর্তারা অনৈতিক কিছু বললে খেলোয়াড়েরা যেন প্রতিবাদ করে’—বলেছেন সালাউদ্দিন।
‘প্রমাণের অভাবে’ কার্যকর কিছু করা যাচ্ছে না বলে যুক্তি বাফুফের। সালাউদ্দিন বলছেন, ‘পত্রিকায় খবর হচ্ছে। লোকমুখে শুনছি। কিন্তু প্রমাণের অভাবে ধরা যাচ্ছে না। প্রমাণ করতে পত্রিকার প্রতিবেদন যথেষ্ট নয়। পুলিশ ব্যাপারটা দেখছে, ম্যাচ ভিডিও হচ্ছে। খেলোয়াড়দেরও এগিয়ে আসতে হবে। এক হাতে তো তালি বাজে না।’
খেলোয়াড়দের কাছে সালাউদ্দিন জানতে চান, ‘তোমরা পাতানো ম্যাচ খেলো?’ খেলোয়াড়েরা হ্যাঁ-না কোনোটাই বলেননি। জানা গেছে, তাঁরা পরোক্ষে স্বীকার করে নিয়েছেন, পাতানো খেলা হচ্ছে এবং এতে খেলোয়াড়দেরও দায় আছে।
ক্লাব কর্তাদের নির্দেশ থাকলে খেলোয়াড়েরা অসহায় হয়ে পড়েন। প্রতিবাদ করলে পারিশ্রমিক কাটা থেকে শুরু করে নানা শাস্তির ভয় থাকে। এর পরও খেলোয়াড়েরা প্রতিবাদ করলে অসৎ এবং ফুটবল ধ্বংস করে দেওয়া স্বার্থান্বেষী কর্মকর্তা নামধারীরা পিছিয়ে যেতে বাধ্য হতে পারেন। ফুটবলার, সালাউদ্দিন সবাই এ নিয়ে প্রায় একমত।
অধিনায়ক আমিনুল বলেছেন, ‘সালাউদ্দিন ভাইকে বলেছি, আমরাও শুনেছি, পাতানো ম্যাচ হচ্ছে। নইলে মাঠে দর্শক নেই কেন? খেলোয়াড়দেরও দায়িত্ব আছে এটা প্রতিরোধ করার। আশা করি, খেলোয়াড়েরা ভবিষ্যতে সেটা করবে।’

অপেক্ষা ১৮ দিন

বিশ্বকাপে রেকর্ড টানা ১৮ ম্যাচে গোল করেছে ব্রাজিল। বাছাইপর্ব উতরাতে টানা ১৮ বার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছে লুক্সেমবার্গ

যুক্তরাষ্ট্রে জিতল দু দলই

যুক্তরাষ্ট্রে ক্রিকেট ছড়াতে বেছে নেওয়া হয়েছিল ক্রিকেটের সবচেয়ে আকর্ষণীয় সংস্করণকে। কিন্তু বেসবল-বাস্কেটবলের দেশে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের শুরুটা আকর্ষণীয় হতে দিল না লাউডারহিলের মন্থর উইকেট।
পরশু প্রথম ম্যাচে ২০ ওভার খেলে মাত্র ১২০ রান করতে পেরেছিল টসজয়ী নিউজিল্যান্ড। এতেই জয় পায় ২৮ রানের। আর কাল দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে ৮১ রানেই অলআউট তারা। শ্রীলঙ্কা জিতল ৭ উইকেটে।
কাল নিউজিল্যান্ডের সর্বোচ্চ অপরাজিত ৩৬ রান করেন নাথান ম্যাককালাম। তাদের এত অল্প রানে বেঁধে দেওয়ার মূল কৃতিত্ব কুলাসেকারা ও মালিঙ্গার। দুজনই নিয়েছেন ৩টি করে উইকেট। মেন্ডিস ২টি ও ম্যাথুস ১টি উইকেট পেয়েছেন। জবাবে খেলতে নেমে ২৭ বল বাকি থাকতেই জয় তুলে নেয় শ্রীলঙ্কা। সর্বোচ্চ ৩৩ রানে অপরাজিত ছিলেন দিলশান।

পেনাল্টি-হতাশা ঘোচাতে

ইংল্যান্ডের দুঃস্বপ্নের নাম পেনাল্টি শ্যুট-আউট! ১৯৯০, ১৯৯৮ ও ২০০৬ বিশ্বকাপ, ১৯৯৬ ও ২০০৪ ইউরো—প্রতিবারই ইংল্যান্ড বিদায় নিয়েছে টাইব্রেকে হেরে। দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে ইংলিশরা তাই ভীষণ সতর্ক। তারা খোঁজ করছে টাইব্রেক উত্তরণের দাওয়াই। ড. গেইর জোরডেট নামের এক নরওয়েজিয়ান বিশেষজ্ঞের পরামর্শ চেয়েছে ইংল্যান্ড দল। এই প্রস্তাবে রাজিও হয়েছেন সারা জীবন বড় বড় বৈশ্বিক টুর্নামেন্টের ‘পেনাল্টি শ্যুট-আউট’ নিয়ে কাজ করা ক্রীড়াবিজ্ঞানের অধ্যাপক। রুনি-টেরিদের সাহায্যার্থে এফএর সাবেক নির্বাহী কর্মকর্তা ডেভিড ডেভিস উপস্থাপিত ‘স্পট অন’ নামে প্রামাণ্য অনুষ্ঠানে কয়েকটি নির্দেশক নিয়ে আলোচনাও করেছেন এরই মধ্যে।

লড়াই-ই করতে চান মিলিতো

বর্তমান বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার লিওনেল মেসি আছেন দলে। এই মৌসুমে বার্সেলোনার হয়ে ৫৩ ম্যাচে ৪৭ গোল করা মেসির পাশে আছেন রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ৩৯ ম্যাচে ২৯ গোল করা গঞ্জালো হিগুয়েইন। আছেন ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে ৪০ ম্যাচে ২৯ গোল করা কার্লোস তেভেজ।
দুর্দান্ত ফর্মে থাকা এই তিন ফরোয়ার্ডের সঙ্গে আছেন কোচ ডিয়েগো ম্যারাডোনার দুই প্রিয়পাত্র—‘জামাতা’ সার্জিও আগুয়েরো ও ‘বুড়ো’ মার্টিন পালের্মো। এর মধ্যে ডিয়েগো মিলিতোর জায়গা কোথায়!
জায়গা কেউ করে দেয় না, বানিয়ে নিতে হয়। মাদ্রিদে গত পরশু রাতে আরেক জোড়া গোল করে ম্যারাডোনাকে নিজের জায়গার জন্য একটা বার্তা পাঠিয়ে দিলেন। তবে এই বার্তার চেয়ে আপাতত সবচেয়ে বড় কাজটা করলেন, এক জোড়া গোলে ইন্টার মিলানকে ৪৫ বছর পর পরালেন ইউরোপ-শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট।
এই মৌসুমে ইন্টারের জয়ে মিলিতোর এমন ‘একক’ অবদান এই প্রথম নয়। কয়েক মৌসুম ধরে তিনি আলো ছড়াচ্ছিলেন ইতালিয়ান ও স্প্যানিশ লিগের ছোট দলের হয়ে। জেনোয়া থেকে তাঁকে নিয়ে আসে ইন্টার মিলান। ইন্টারে এসে কাজটা সোজা ছিল না। পায়ে গলাতে হয়েছে জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচের ছেড়ে যাওয়া বুট। তবে দায়িত্বটা এর চেয়ে ভালোভাবে বোধ হয় শেষ করা যেত না। স্যামুয়েল ইতোর সঙ্গে জুটি বেঁধে দারুণ সফল একটা মৌসুম শেষ করলেন মিলিতো।
আক্ষরিক অর্থেই ইন্টারকে তিনটি শিরোপা এনে দিয়েছেন। তাঁর গোলেই ইন্টার ইতালিয়ান কাপের ফাইনাল জিতেছে। তাঁর গোলেই মরিনহোর দল জিতেছে সিরি ‘আ’র শেষ ম্যাচ, যেটি আবার শিরোপা-নির্ধারক হয়ে দাঁড়িয়েছিল। শেষ পর্যন্ত ইন্টারকে ‘ট্রেবল’ এনে দিলেন তিনি পরশু রাতে।
‘আমি খুব খুশি, এমন অভিজ্ঞতা আগে হয়নি’ বলে নিজের উচ্ছ্বাসটা প্রকাশ করলেন। কিন্তু এমন অসাধারণ একটা মৌসুম কাটানোর পরও ইন্টারে ‘প্রিন্স’ খ্যাতি পেয়ে যাওয়া মিলিতো স্বভাবসুলভ বিনয়ী। এই অসামান্য জয়যাত্রার ষোলোআনা কৃতিত্ব তিনি দিচ্ছেন কোচ মরিনহোকে, ‘মরিনহোই বেশির ভাগ কৃতিত্বের দাবিদার। উনি একজন গ্রেট কোচ এবং এবারের সাফল্যের কৃতিত্ব তাঁরই পাওয়া উচিত।’
মরিনহোকে কৃতিত্ব মিলিতো দিতেই পারেন, তাঁর ওপর যে কোচ আস্থা রেখেছেন। এমন আর্জেন্টিনার হয়ে পাবেন তো? ম্যারাডোনা কি তাঁকে জায়গা দেবেন? ম্যারাডোনার আস্থাশীল না হতে পেরে প্রাথমিক দলেই জায়গা পাননি ডিয়েগোর ভাই, বার্সা ডিফেন্ডার গ্যাব্রিয়েল মিলিতো।
এসব আস্থা-অনাস্থায় ডিয়েগো মিলিতোর কিছু যায়-আসে বলে মনে হলো না। এই ৩০ বছর বয়সেও তিনি দলে জায়গা পাওয়ার জন্য লড়াই করতে রাজি আছেন। লড়াইটাই তাঁর কাছে ফুটবলের প্রতিশব্দ, ‘আমি সারা জীবন লড়াই করে এসেছি। সর্বোচ্চ উজাড় করে দেওয়ার জন্য লড়াই করেছি, কিছু শেখার জন্য লড়াই করেছি। এই ৩০ বছর বয়সে এসেও আমি সেটা করছি।’
এমন লড়াকুকে মাঠের বাইরে রাখলে ম্যারাডোনা বোধ হয় ভুলই করবেন।

এবার সোহরাওয়ার্দীর ৪ উইকেট

আগের ম্যাচে একাই লড়েছিলেন সোহরাওয়ার্দী শুভ, কাল সঙ্গে পেলেন সৈয়দ রাসেলকে। দুই বাঁহাতির বোলিং-নৈপুণ্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ‘এ’ দলের বিপক্ষে দ্বিতীয় চার দিনের ম্যাচের প্রথম দিনটি ভালোই কেটেছে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের। বিকেএসপিতে ৭ উইকেট হারিয়ে সফরকারীরা করেছে ২৩০ রান। ৭০ রান করে আউট হয়েছেন চ্যাডউইক ওয়ালটন, তবে ৭৪ রান নিয়ে এখনো নাজিমউদ্দিনের দলের বাধা হয়ে আছেন ব্রেন্ডন ন্যাশ। আগের টেস্টে ৯ উইকেট নেওয়া সোহরাওয়ার্দী কাল পেয়েছেন ৪টি, ৩টি পেয়েছেন পেসার রাসেল।
সংক্ষিপ্ত স্কোর: ওয়েস্ট ইন্ডিজ ‘এ’: ১ম ইনিংস: ৮৪ ওভারে ২৩০/৭ (ন্যাশ ৭৪*, ওয়ালটন ৭০; সোহরাওয়ার্দী ৪/৮১, রাসেল ৩/৩৮)।