Monday, May 24, 2010

দীর্ঘমেয়াদি রূপকল্পের বাজেট by ফাহমিদা খাতুন

বাজেটকে ঘিরে জনজীবনে একদিকে যেমন থাকে আশা, তেমনি থাকে শঙ্কা। জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা ও শঙ্কার এই দোলাচলের পরিপ্রেক্ষিতে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য একটি বাজেট প্রণয়ন করা দুরূহ কাজ। আর এই কাজটি করতে গিয়ে সরকারকে শুধু একটি বছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব করতে হয় না, রাজনৈতিক অবস্থান থেকে শুরু করে সামগ্রিক উন্নয়ন-দর্শন এবং নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে রাজস্ব ও উন্নয়ন পদক্ষেপ নিতে হয়। বর্তমান সরকার ২০০৮ সালের নির্বাচনী ইশতেহার এবং দিনবদলের সনদে জনগণের জীবনে আর্থসামাজিক পরিবর্তনের লক্ষ্যে কতগুলো মাইলফলক ঘোষণা করেছে। এতে ২০১৩ সালে জাতীয় আয়ের বৃদ্ধির হার ৮ শতাংশ এবং ২০১৭ সালে ১০ শতাংশে উন্নীত করা, ২০১২ সালের মধ্যে খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ম্ভরতা অর্জন, ২০২১ সালে জিডিপিতে শিল্প খাতের অবদানের হার ৪০ শতাংশে নিয়ে যাওয়া, ২০১৩ সাল নাগাদ জাতীয় গ্রিডে অতিরিক্ত পাঁচ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ, ২০২১ সালে দারিদ্র্যের হার ১৫ শতাংশে নামিয়ে আনা, ২০১৪ সাল নাগাদ প্রত্যেক পরিবার থেকে অন্তত একজনের কর্মসংস্থান, ২০২১ সালের মধ্যে সবার জন্য আবাসন ইত্যাদি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই মাইলফলকগুলো অর্জন করার একটি হাতিয়ার হচ্ছে বাৎসরিক বাজেট। চলতি ২০০৯-১০ অর্থবছরের বাজেটে এ রকম কিছু লক্ষ্যমাত্রার প্রতিফলন ছিল। সেই ধারাবাহিকতায় ২০১০-১১ অর্থবছরের বাজেটেও সেগুলো বিদ্যমান থাকবে, সেটিই স্বাভাবিক।
তবে বর্তমান জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে কতগুলো বিষয় আগামী অর্থবছরের বাজেটে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দেবে। সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে বিনিয়োগে গতিশীলতা আনা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলসহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ। এই সবকিছু সামাল দিয়ে মোট জাতীয় উৎপাদন বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে হলে আগামী অর্থবছরে সরকারি ব্যয় বাড়াতে হবে। ২০০৮-০৯ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৫.৮৮ শতাংশ। আর ২০০৯-১০ অর্থবছরে তা ৬ শতাংশ প্রত্যাশা করা হচ্ছে। ২০১০-১১ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির হার বাড়াতে হলে যে বর্ধিত সরকারি ব্যয় প্রয়োজন তা মেটাতে গিয়ে বরাবরের মতো সরকারকে একটি ঘাটতি বাজেট প্রণয়ন করতে হবে। চলতি ২০০৯-১০ অর্থবছরে ঘাটতির পরিমাণ ছিল মোট বাজেটের ৫ শতাংশ। তবে ২০০৯-১০ অর্থবছরে প্রকৃত ঘাটতি এর চেয়ে কম হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যেহেতু আমাদের দেশে কখনো সরকারি ব্যয় পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয় না। অর্থনীতিতে প্রণোদনা সৃষ্টির মাধ্যমে আয় বাড়ানোর জন্য ঘাটতি বাজেট একটি কৌশল। আর বাজেট ঘাটতি জিডিপির ৫ শতাংশের মধ্যে রাখাটা সহনীয় বাজেট ঘাটতি বলে অনেক অর্থনীতিবিদের ধারণা। তবে যে বিষয়গুলো এর সঙ্গে যুক্ত সেগুলো হচ্ছে, প্রথমত, সরকারি ব্যয় কীভাবে বাড়ানো যায়। আমাদের দেশে বাজেটের আকার এখনো জিডিপির ১৬.৬ শতাংশ। পৃথিবীর বেশির ভাগ দেশেই এই হার ২০ শতাংশ বা তারও বেশি। উন্নয়ন বাজেট মোট জিডিপির মাত্র ৪.৪ শতাংশ। আমাদের জাতীয় সঞ্চয় হারের চেয়ে বিনিয়োগ হার অনেক কম। অন্যদিকে এডিপি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও আমরা ঐতিহাসিক শ্লথগতি অতিক্রম করতে পারছি না। চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে এডিপি বাস্তবায়নের হার হয়েছে ৪৪ শতাংশ। এই শ্লথগতির পাশাপাশি আরেকটি দুর্বলতা হলো অর্থবছরের শেষদিকে উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে তড়িঘড়ি করতে গিয়ে কাজের মানের সঙ্গে আপস করা।
সরকারি ব্যয় বাড়াতে গেলে যে অর্থের প্রয়োজন তার উৎস হবে বরাবরের মতোই দেশি ও বিদেশি। অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে ব্যাংক ও ব্যাংক-বহির্ভূত খাতগুলো থেকে ঋণ নেওয়া অন্যতম উপায়। তবে ব্যাংক থেকে অধিক পরিমাণে ঋণ নিলে ব্যক্তি খাত বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। কিন্তু বিদ্যুৎ ও গ্যাস-সংকট মোকাবিলা না করা গেলে ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগের জন্য ব্যাংক ঋণের চাহিদা সামনের দিনগুলোতে আশানুরূপভাবে নাও বাড়তে পারে। সরকারি ব্যয় মেটানোর অন্য উৎসটি হচ্ছে বিদেশি সাহায্য। তবে এই সাহায্য যদি অনুদান না হয় তাহলে তা ব্যয়সাপেক্ষ হয়ে থাকে। সরকারি ব্যয় বাড়ানোর সঙ্গে আরেকটি আশঙ্কার বিষয় যুক্ত থাকে, সেটি হলো মূল্যস্ফীতি। আগামী অর্থবছরে একদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, অন্যদিকে বর্ধিত সরকারি ব্যয়—এই দুইয়ের প্রভাব অভ্যন্তরীণ মূল্যস্ফীতির ওপর পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সে ক্ষেত্রে অন্যান্য পদক্ষেপের পাশাপাশি মুদ্রানীতির সুচিন্তিত ব্যবহার প্রয়োজন পড়বে।
সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক এ লক্ষ্যে ব্যাংকগুলোর তারল্য-রিজার্ভের হার বা সিআরআর বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতি কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে। বতর্মান পরিপ্রেক্ষিতে ক্ষণস্থায়ী পদক্ষেপ হিসেবে এটি সঠিক। আমাদের ঋণ সরবরাহের গতিধারা যদি আমরা দেখি তাহলে দেখব সুদের হার কম থাকলেই যে ঋণ সরবরাহ খুব বেশি বাড়ছে তা নয়। কেননা এখানে শুধু সুদের হার ছাড়াও বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দা, গ্যাস ও বিদ্যুতের অভাব, রাজনৈতিক পরিস্থিতি ইত্যাদি অনুষঙ্গ কাজ করেছে। অর্থনৈতিক মন্দার সময়ে বিশ্বব্যাপী সুদের হার কমিয়ে অর্থনীতিতে প্রণোদনা সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়েছিল। এখন আবার অর্থনীতি কিছুটা ইতিবাচক দিকে ঘুরে দাঁড়ানোর পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্বের অনেক দেশেই সুদের হার বাড়ানোর প্রবণতা চলছে। ভারতেও সম্প্রতি তারল্য রিজার্ভ হার বাড়ানো হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে ভালো ফসলের পরিপ্রেক্ষিতে খাদ্য মূল্যস্ফীতির চাপ কিছুটা কমে এলে সুদের হার পুনর্বিবেচনা করা যেতে পারে।
এ রকম একটি সামষ্টিক অর্থনৈতিক কাঠামোতে আগামী বছরের বাজেটের লক্ষ্য হতে হবে বরাবরের মতোই রাজস্ব আদায়ের মাধ্যমে সম্পদ সঞ্চালন এবং তার সর্বোচ্চ ব্যবহার। এ ক্ষেত্রে কর-জিডিপি হার বাড়ানোর বিকল্প নেই। রাজস্ব আয় বাড়ানোর পাশাপাশি বিনিয়োগ হার শতকরা ২৪ ভাগ থেকে বাড়িয়ে ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশে উন্নীত করতে হবে, যাতে সরকারের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮ থেকে ১০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা যায়। এ ক্ষেত্রে ২০০৯-১০ অর্থবছরের বাজেটে প্রস্তাবিত পিপিপির মাধ্যমে অর্থায়নের জন্য উপযোগী নীতিমালা, প্রাতিষ্ঠানিক এবং আইনি কাঠামো তৈরি করে বিনিয়োগ প্রচেষ্টায় গতিময়তা আনা প্রয়োজন।
অভ্যন্তরীণ সম্পদ সঞ্চালন প্রয়াসের ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, চলতি অর্থবছরের জুলাই-মার্চ পর্যন্ত রাজস্ব আদায় গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ১৮.৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা অন্যান্য বছরের তুলনায় মোটামুটি ভালো। আয়করের আদায় বৃদ্ধি পেয়েছে ২০ শতাংশের ওপর এবং মোট রাজস্বে প্রত্যক্ষ করের অংশ ২৪ শতাংশের ওপরে। চলতি অর্থবছরের জুলাই-মার্চ পর্যন্ত আমদানি শুল্ক গত বছরের একই সময়কালের চেয়ে মাত্র ৪.৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। আমদানি শুল্ক বৃদ্ধির হার গত দুই বছর থেকে কমে যাওয়ার একটি কারণ হচ্ছে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যমূল্য এবং জ্বালানি মূল্য কমে যাওয়া। চলতি অর্থবছরে আমদানি শুল্ক আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১০.৮ শতাংশ। অর্থবছরের বাকি তিন মাসে এই ফারাক পূরণ বেশ কঠিন হবে। তবে মূল্য সংযোজন কর বা মূসক চলতি অর্থবছরের মার্চ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে ২৭.১ শতাংশ, যা কি না পুরো অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি। এ ক্ষেত্রে আরও সুযোগ রয়েছে। যেমন, ইলেকট্রনিক ক্যাশ রেজিস্টার ব্যবহারের মাধ্যমে মূসক ফাঁকি দেওয়া বন্ধ করা যায়। আয়করের ক্ষেত্রে করযোগ্য আয় আছে যেমন মুদির দোকানি, কৃষক এবং অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত ব্যক্তিদের করের আওতায় আনা সম্ভব। তা ছাড়া বিভিন্ন উৎস যেমন পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের মাধ্যমে অর্জিত মুনাফা, জমি ইত্যাদি ক্ষেত্রেও আয়ের পরিমাণ অনুযায়ী কর আরোপ শুরু করা উচিত। রাজস্ব আয় বাড়ানোর জন্য কর প্রশাসনের জটিলতা দূর করে এর সংস্কার, জনবল বাড়ানো, জনবলের দক্ষতা বৃদ্ধি, কর ব্যবস্থাপনাতে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির ব্যবস্থা করার কথা বহুল উচ্চারিত।
সম্পদ সঞ্চালনের প্রয়াস বাড়ানো না গেলে শুধু অবকাঠামো নয়, সামাজিক খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো সম্ভব নয়। কেননা সীমিত সম্পদের মধ্যে ব্যয় ব্যবস্থাপনা করতে গিয়ে যে প্রাধিকার তালিকা তৈরি করতে হয় সেখানে আমাদের মতো স্বল্পোন্নত দেশে সামাজিক ব্যয় খাত সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। অথচ মানব সম্পদের উৎপাদনশীলতা বাড়িয়ে জিডিপির প্রবৃদ্ধি ঘটাতে হলে প্রয়োজন একটি স্বাস্থ্যবান, শিক্ষিত, প্রশিক্ষিত ও আধুনিক জনগোষ্ঠী। জাতিসংঘের মানব উন্নয়ন সূচকে ১৮২টি দেশের মধ্যে ২০০৯ সালে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৪৬তম। এর উন্নয়ন ঘটাতে হলে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে আরও বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। শিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বর্তমানে জিডিপির ৩.১ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে অন্তত ৫ থেকে ৬ শতাংশ করা প্রয়োজন। পাশাপাশি যেটি প্রয়োজন তা হচ্ছে এই ব্যয়ের গুণগত মান নিশ্চিত করা। শুধু স্কুলের খাতায় নামের তালিকা বৃদ্ধিই যথেষ্ট নয়, সেখান থেকে শিক্ষার্থীরা কী শিখছে সেদিকে বিশেষ দৃষ্টি দিতে হবে।
আধুনিক সমাজে জাতীয় বাজেট হচ্ছে সমাজের উন্নয়নের দলিল। আর গণতান্ত্রিক দেশে বাজেটের মাধ্যমে দেশের রাজস্ব-ব্যবস্থা পরিচালনার জন্য সরকার একটি আইনগত অধিকার পায়। যার ফলে সরকার জনগণের কাছ থেকে কর আদায় এবং জনগণের জন্য নানা উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে অর্থ ব্যয় করার পরিকল্পনা গ্রহণ করতে পারে। এটি করতে গিয়ে যে পদক্ষেপগুলো নেওয়া হয় তা সরাসরি মানুষের জীবনযাত্রার ওপর প্রভাব ফেলে। আমাদের মতো সীমিত সম্পদশালী দেশে সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে কীভাবে দারিদ্র্য বিমোচন ও সামাজিক ন্যায়বিচার করা যায়, একটি সুচিন্তিত বাজেটের লক্ষ্য হবে সেটিই।
ড. ফাহমিদা খাতুন: অর্থনীতিবিদ, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।

শুরুর মতো শেষটাও যেন ভালো হয় -চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন

তফসিল ঘোষণার পর থেকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকায় নির্বাচনী আমেজ লক্ষ করা গেলেও অন্যান্য বারের মতো হই-হুল্লোড় নেই, নেই রাস্তা বন্ধ করে মিছিল-সমাবেশ। এতে নির্বাচনী প্রচারের পুরোনো ধারণাও অনেকটা বদলে গেছে। প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র দাখিল থেকে শুরু করে প্রতিটি ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন আচরণবিধি পালনে যে কড়াকড়ি আরোপ করেছে, তা সুষ্ঠু পরিবেশ রক্ষায় সহায়ক হয়েছে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় আগের মতো বাস-ট্রাক ভর্তি করে লোক জড়ো করার অসুস্থ মহড়া এবার লক্ষ করা যায়নি। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় প্রার্থীদের সঙ্গে পাঁচজনের বেশি সমর্থক থাকতে পারবেন না বলে নির্বাচন কমিশন যে বিধান জারি করেছে, তাও তাঁরা মেনে নিয়েছেন। আচরণবিধি লঙ্ঘন হতে পারে—এই আশঙ্কায় তাঁরা প্রকাশ্যে কোনো সমাবেশেও যোগ দিচ্ছেন না, এটাও ভালো লক্ষণ।
কথা হলো, এ ধারা শেষ পর্যন্ত অক্ষুণ্ন থাকবে কি না। ভোট গ্রহণ পর্যন্ত প্রার্থীরা নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চললে নির্বাচন কমিশনের পক্ষে একটি অনুসরণীয় নির্বাচন অনুষ্ঠান অসম্ভব নয়। তবে সে ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্ব পালনে আন্তরিক হতে হবে। কোনো প্রকার গাফিলতির অবকাশ নেই।
নির্বাচনী বিধিমালা-২০১০-এর ৪ নম্বর ধারায় বলা আছে, ‘কোন প্রার্থী ভোট গ্রহণের নির্ধারিত তারিখের ২১ দিন পূর্বে কোন প্রকার নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করতে পারিবেন না।’ চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন হবে ১৭ জুন। প্রতীক বরাদ্দের পর সময় থাকবে মাত্র ১৪-১৫ দিন। এতে প্রার্থীরা প্রচারের সময় কিছুটা কম পেলেও তাঁদের আর্থিক সাশ্রয়ও হবে। জনগণকেও দুর্ভোগ পোহাতে হবে কম। ব্যস্ততম মহানগরে সভা-সমাবেশ হলে তার ভোগান্তি পোহাতে হয় নগরবাসীকেই। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির যুগে সভা-সমাবেশই নির্বাচনী প্রচারণার একমাত্র উপায় নয়; বেতার-টিভির মাধ্যমেও প্রার্থীরা ভোটারদের কাছে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরতে পারেন।
আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হওয়ার পরও প্রার্থী-সমর্থকেরা সংযত ও সহনশীল আচরণ করবেন—এটাই সবাই আশা করেন। উসকানিমূলক বক্তৃতা-বিবৃতি থেকেও তাঁদের বিরত থাকতে হবে। কেবল প্রচারণা নয়, সব ক্ষেত্রেই নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলতে হবে। অতীতে নির্বাচনের নামে পেশিশক্তি ও অঢেল অর্থের ব্যবহার লক্ষ করা গেছে। জবরদস্তিভাবে নির্বাচনী ফল পাল্টে দেওয়ার নজিরও কম নেই। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তার পুনরাবৃত্তি ঘটুক, তা কেউ চায় না। নির্বাচন-প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। নির্বাচনের সময় পুলিশ, বিডিআরের পাশাপাশি স্বল্প সময়ের জন্য সেনাসদস্য মোতায়েনের সিদ্ধান্ত সঠিক বলে মনে করি। তবে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা বিধানের পাশাপাশি ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ও নির্ভয়ে তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সেই নিশ্চয়তাও নির্বাচন কমিশনকে দিতে হবে।

রাশিয়ার তিনটি প্রতিষ্ঠানের ওপর থেকে অবরোধ প্রত্যাহার

রাশিয়ার তিনটি অস্ত্রনির্মাতা প্রতিষ্ঠানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গত শুক্রবার এ নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়। ইরানের কাছে অস্ত্র বিক্রি করায় এসব প্রতিষ্ঠনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল। দেশটির ফেডারেল রেজিস্টারে এ খবর প্রকাশিত হয়েছে ।
এতে বলা হয়, ইরানের ওপর জাতিসংঘের নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য যুক্তরাষ্ট্র যে খসড়া প্রস্তাব তৈরি করেছে, তাতে রাশিয়ার সমর্থন পাওয়ার পর এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হলো। এর আগে গত জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার আরও দুটি প্রতিষ্ঠানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়।

উদ্ধার করা অস্ত্র প্রদর্শন থাই সরকারের

সরকারবিরোধী দমন অভিযানে উদ্ধার করা বিপুল পরিমাণ অস্ত্রশস্ত্র ও বোমা গতকাল শনিবার বিদেশি কূটনীতিকদের সামনে প্রদর্শন করেছে থাইল্যান্ড সরকার। থাই কর্তৃপক্ষ বলছে, এসব অস্ত্র থাকসিনপন্থী লাল শার্ট পরা বিক্ষোভকারীদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
তবে বিদেশি সাংবাদিকেরা বলছেন, বিক্ষোভের সময় বিক্ষোভকারীদের হাতে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি খুব সামান্য অস্ত্র তাঁরা কদাচিৎ দেখেছেন। এখন এত বিপুল পরিমাণ অস্ত্র কোত্থেকে এল, সেটা বোধগম্য নয়।
থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে গত দুই মাসে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে ৮৬ জন নিহত ও এক হাজার ৯০০ জনের বেশি আহত হয়। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিষ্ঠুর আচরণ করার জন্য দেশে-বিদেশে যখন থাই সরকারের প্রচণ্ড সমালোচনা হচ্ছে, ঠিক সে সময় এসব অস্ত্র প্রদর্শন করা হলো।
গত বুধবার থাই সেনাবাহিনী বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত দমন অভিযান শুরু করে। সেনাদের বেপরোয়া হামলায় টিকতে না পেরে বিক্ষোভকারীরা ব্যাংকক ছেড়ে চলে যান এবং লাল শার্ট নেতারা আত্মসমর্পণ করেন। এ সময় সেনারা বিভিন্ন জায়গায় লুকিয়ে রাখা বিপুল পরিমাণ রাইফেল, বন্দুক, গ্রেনেড ও বাড়িতে তৈরি বোমা উদ্ধারের দাবি করে।
থাইল্যান্ডের শীর্ষস্থানীয় ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ প্রবনতিপ রোজানাসুনান বলেন, বিক্ষোভকারীরা দুই মাস ধরে যে স্থানগুলো অচল করে রেখেছিলেন, তার আশপাশ থেকে তাঁরা চারটি গাড়িবোমা খুঁজে পেয়েছেন।
তবে দুই সপ্তাহ ধরে বিক্ষোভস্থল থেকে যাঁরা নিয়মিত সংবাদ পাঠিয়েছেন, সেই সাংবাদিকেরা বলেছেন, বিক্ষোভকারীদের হাতে তাঁরা কদাচিৎ অস্ত্র দেখেছেন। তাও আবার সেগুলো ছিল দেশীয়ভাবে তৈরি।

এবার ওবামার ‘খুব কাছে’ আরেক অনাহূত অতিথি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্যে হোয়াইট হাউসে বারাক ওবামার আয়োজিত প্রথম নৈশভোজে অনাহূত অতিথির অনুপ্রবেশ ব্যাপক আলোড়ন তৈরি করে। ওই বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই গত বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে আবারও অনাহূত অতিথির উপস্থিতি ধরা পড়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের খুব কাছেই ছিল ওই অনাহূত অতিথি। তবে এবারের অনাহূত অতিথি কোনো মানুষ নয়, কাঠবেড়ালি জাতীয় প্রাণী।
গত বৃহস্পতিবার বিকেলে হোয়াইট হাউসের রোজ গার্ডেনে সাংবাদিকদের সামনে বক্তব্য দেওয়ার সময় ওবামার পেছনে ডান পাশের ঝোপ থেকে উঁকি দেয় ওই প্রাণীটি। সাংবাদিকেরা ছবি তুলতে শুরু করলে প্রাণীটি লাফ দিয়ে বের হয়ে প্রেসিডেন্টের মঞ্চ পার হয়ে ওবামার বাঁ দিকের ঝোপে ঢুকে পড়ে। তবে ওই সময় ওবামা প্রাণীটির উপস্থিতি টের পেয়েছিলেন কি না বোঝা যায়নি। বক্তব্য শেষ করে তিনি সরাসরি হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে চলে যান।
ওবামা চলে যাওয়ার পর সাংবাদিকদের মধ্যে বিতর্ক শুরু হয় প্রাণীটি কী ছিল? ইঁদুর না বেড়াল, নাকি কাঠবেড়ালি? ওয়াশিংটন স্টেট ডিপার্টমেন্ট অব ফিস অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফের কর্মী রাসেল লিংক বলেন, ‘প্রাণীটি ইঁদুর ছিল—এমন সম্ভাবনা আমি আংশিকভাবে বাতিল করছি। আমার ধারণা, এটি একটি বড় জলো ইঁদুর।’
গত নভেম্বরে হোয়াইট হাউসের নৈশভোজে সালাহি দম্পতির প্রবেশের ঘটনায় সেখানকার নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ওই ঘটনার জের ধরে হোয়াইট হাউসের তৎকালীন সোশ্যাল সেক্রেটারি ডেজিরি রজার্স পদত্যাগ করেন।

আফগানিস্তান সফরে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইলিয়াম হগ গতকাল শনিবার আফগানিস্তানে সফরে গেছেন। তাঁর সঙ্গে প্রতিরক্ষামন্ত্রী লিয়াম ফক্স ও আন্তর্জাতিক উন্নয়নমন্ত্রী এন্ড্রু মিচেলও যান। ব্রিটেনে নতুন জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর এটাই তাঁদের প্রথম আফগানিস্তান সফর। এর আগে গত শুক্রবার জার্মানির প্রেসিডেন্ট হোর্স্ট কোহলার আকস্মিক সফরে আফগানিস্তান যান। ব্রিটিশ ও জার্মান নেতাদের আফগানিস্তান সফরের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে সেখানে অবস্থানরত নিজ নিজ দেশের সেনাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করা এবং দেশটির বর্তমান অবস্থা স্বচক্ষে দেখা।
ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে বলা হয়েছে, সফরকালে হগসহ তিন মন্ত্রী আফগান প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাইয়ের সঙ্গে দেখা করার কথা। তাঁরা আফগানিস্তানে অবস্থানরত ১০ হাজার ব্রিটিশ সেনার ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করবেন।
লন্ডন থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে হগ বলেছেন, আফগানিস্তান নিয়ে তাঁরা বেশ দ্বিধাদ্বন্দ্বে আছেন। এ জন্য এ ইস্যুটিকে তাঁরা জরুরি ভিত্তিতে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, আফগানিস্তানে তাঁদের সময়, শক্তি ও অর্থ ব্যয় হচ্ছে। তাই গুরুত্বপূর্ণ এই মন্ত্রীরা আফগানিস্তানের ব্যাপারে একটা বোঝাপড়ায় উপনীত হবেন। সেখানে সফল হওয়ার জন্য নতুন কৌশল নির্ধারণ করবেন।
এদিকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী ফক্স টাইমস সংবাদপত্রকে বলেছেন, যত দ্রুত সম্ভব তিনি আফগানিস্তান থেকে ব্রিটিশ সেনা ফিরিয়ে নিতে চান। তিনি বলেন, তাঁদের এটা মানতে হবে যে আফগানিস্তানে তাঁদের সেনা সীমিত। তাই তিনি দ্রুত সেনাদের দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার পক্ষে। ফক্স আরও বলেন, তাঁরা আন্তর্জাতিক পুলিশ নয়। তাঁরা আফগানিস্তান গেছেন যাতে ব্রিটেন ও বিশ্বের অন্যান্য দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়। স্বার্থ সংরক্ষিত হয়। আফগানিস্তানে বর্তমানে ১০ হাজার ব্রিটিশ সেনা আছে। বিভিন্ন হামলা ও দুর্ঘটনায় ২০০১ সাল থেকে এ পর্যন্ত ২৮৬ জন ব্রিটিশ সেনা হতাহত হয়েছেন। আফগানিস্তানে বিদেশি সেনাদের ওপর হামলা বেড়ে যাওয়ায় চিন্তায় পড়ে গেছে ব্রিটেনের নতুন সরকার। ডেভিড ক্যামেরন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর গত সপ্তাহে তিনি আফগান প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাইয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কোনো রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে এটা ছিল তাঁর প্রথম বৈঠক।
বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, আফগানিস্তানকে ব্রিটেন কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে, এ বৈঠকই তার প্রমাণ। ব্রিটেনের নতুন কনজারভেটিভ-লিবারেল ডেমোক্র্যাটস জোট সরকার গত সপ্তাহে দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশের জাতীয় নিরাপত্তার কথা চিন্তা করেই আফগানিস্তানে সেনা রাখার অঙ্গীকার করে। তবে ক্যামেরন সরকার জনস্বার্থে প্রতিরক্ষা খাতে ২৫ শতাংশ ব্যয় কমানোর ঘোষণা দেওয়ায় এর প্রভাব আফগানিস্তানে অবস্থানরত ব্রিটিশ সেনাদের ওপর পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে জার্মানির প্রেসিডেন্ট হোর্স্ট কোহলার শুক্রবার অপ্রত্যাশিত সফরে আফগানিস্তান যান। তিনি মাজার-ই শরিফে অবস্থানরত জার্মান সেনাদের সঙ্গে দেখা করেন। আফগানিস্তানে ন্যাটো নেতৃত্বাধীন বহুজাতিক বাহিনীতে বর্তমানে ৪৫০০ জার্মান সেনা কাজ করছেন। জার্মানির পার্লামেন্ট গত ফেব্রুয়ারিতে আফগানিস্তানে সেনা মোতায়েনের মেয়াদ বৃদ্ধি করে অতিরিক্ত ৮৫০ জন সেনা পাঠানোর বিষয়টি অনুমোদন করে।

কাচজিনস্কির মৃত্যুর খবর এখনো জানেন না তাঁর মা

পোল্যান্ডের প্রয়াত প্রেসিডেন্ট লেস কাচজিনস্কির মৃত্যুর খবর এখনো জানেন না তাঁর মা। গতকাল শনিবার তাঁর যমজ ভাই জারোস্ল কাচজিনস্কি এ কথা জানান। ছয় সপ্তাহ আগে রাশিয়ায় এক বিমান দুর্ঘটনায় নিহত হন লেস কাচজিনস্কি।
বহুল প্রচারিত সুপার এক্সপ্রেস পত্রিকাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জারোস্ল কাচজিনস্কি (৬০) বলেন, ‘মা এখনো জানেন না যে লেস মারা গেছে।’ আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জারোস্ল কাচজিনস্কি।
সাবেক এই রক্ষণশীল প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘অনেক দিন ধরে মায়ের মানসিক অবস্থা খারাপ। তিনি আমাকে লেস বলেই মনে করছেন, যা আগে কখনো ঘটেনি।’
লেস ও জারোস্ল কাচজিনস্কির মা জাডউইং কাচজিনস্কি (৮৪) দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে হাসপাতালে রয়েছেন।
জারোস্ল জানান, তাঁর মায়ের মানসিক অবস্থা এখন আগের চেয়ে ভালো। তিনি বলেন, ‘সামনের দিনগুলোতে আমি মাকে সত্যি কথাটি জানাব।’
নির্বাচনের চার সপ্তাহ আগে নেওয়া জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, জারোস্ল কাচজিনস্কি নির্বাচনে ৩০ থেকে ৩৬ শতাংশ ভোট পেতে পারেন।

পাকিস্তানে ৮০০ ওয়েবসাইট বন্ধ

ধর্মীয় অবমাননাকর উপাদান থাকার অভিযোগে পাকিস্তানে ৮০০টি ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। গতকাল শনিবার একজন সরকারি কর্মকর্তা এ কথা জানান। পাকিস্তান টেলিযোগাযোগ কর্তৃপক্ষ (পিটিএ) সে দেশে ফেসবুক, ইউটিউব ও অন্যান্য ওয়েবসাইট ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। উইকিপিডিয়ার মতো অনেক জনপ্রিয় ওয়েবসাইটের ব্যবহারও নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।
ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারস অ্যাসোসিয়েশন অব পাকিস্তানের একজন মুখপাত্র ওয়াহাজ উস সিরাজ বলেন, সরকার ফেসবুক ও ইউটিউব বন্ধ করার আদেশ জারি করার পর কমপক্ষে ৮০০টি ভিন্ন ওয়েব পেজ ও ইউআরএল (ইউনিফরম রিসোর্স লোকেটর) বন্ধ করে দিয়েছে। ফেসবুকে মহানবী হজরত মোহাম্মদ (সা.) এর ব্যঙ্গচিত্র আঁকার প্রতিযোগিতার আয়োজন করায় গত বুধবার তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। এর একদিন পর ইউটিউবও বন্ধ করা হয়। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তে সে দেশের মুক্তচিন্তার মানুষেরা হতাশা জানিয়েছে।
গতকাল পিটিএর মুখপাত্র খুররম মেহরান বলেন, ‘সরকারের কাছ থেকে নির্দেশ পাওয়ার পর এসব ওয়েবসাইটের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে

মেক্সিকো উপসাগরে তেলক্ষেত্রে বিস্ফোরণ -তেল ছড়িয়ে পড়া তদন্তে কমিশন গঠন ওবামার

যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের কাছে মেক্সিকো উপসাগরে বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত তেলক্ষেত্র থেকে তেল ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা তদন্তে নিরপেক্ষ প্রেসিডেন্সিয়াল কমিশন গঠন করা হয়েছে। গত শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এ ঘোষণা দেন। একটি নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান দলের সদস্যদের সমন্বয়ে এ তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়েছে।
সাপ্তাহিক বেতার ভাষণে ওবামা বলেন, ‘এর আগে এ ধরনের ব্যাপক আকারের বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে হয়নি। এর মোকাবিলা করা আমাদের সামনে একটি নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।’ ভবিষ্যতে সাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ও আহরণের ক্ষেত্রে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো ও মোকাবিলা করার ব্যাপারে তেল কোম্পানিগুলোর জন্য সুপারিশ তৈরি করবে এই তদন্ত কমিশন।
ওবামা বলেন, ‘এই বিপর্যয় থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে আর কখনোই এমন দুর্ঘটনা না ঘটে।’ তিনি জানান, ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের গভর্নর ও সাবেক সিনেটর বব গ্রাহাম এবং এনভায়রনমেন্টাল প্রটেকশন এজেন্সির সাবেক প্রশাসক উইলিয়াম রেইলি সাত সদস্যের এই কমিশনে কো-চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। কমিশনের বাকি পাঁচ সদস্যের নাম পরে ঘোষণা করা হবে বলে জানান তিনি।
২০ এপ্রিল তেলক্ষেত্রে বিস্ফোরণ হওয়ার পর এ পর্যন্ত কমপক্ষে ছয় কোটি গ্যালনের বেশি তেল সাগরের পানিতে মিশেছে বলে জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। ওবামা বলেন, তেল ছড়িয়ে পড়া নিয়ন্ত্রণ করতে তাঁর প্রশাসন এক হাজার ১০০ নৌযান ও ২৪ হাজার কর্মীকে নিয়োজিত করেছে।
লুইজিয়ানার সৈকত বন্ধ ঘোষণা
মেক্সিকো উপসাগরে ছড়িয়ে পড়া তেল লুইজিয়ানার সাত মাইল দীর্ঘ সমুদ্রসৈকত স্পর্শ করতে শুরু করায় গত শুক্রবার শহরের মেয়র সৈকত এলাকা বন্ধ ঘোষণা করেন। এক বিবৃতিতে মেয়র ডেভিড ক্যামারডেলে বলেন, ‘২১ মে দুপুর থেকে সৈকত এলাকায় তেল শনাক্ত করা হয়েছে। জনসাধারণের জন্য সৈকত এলাকা বন্ধ থাকবে। শুক্রবার থেকেই পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু করা হবে।’ তবে স্থানীয় সাংবাদিকেরা জানিয়েছেন, এ ঘোষণার কোনো প্রভাব শুক্রবার দেখা যায়নি। লোকজনকে সৈকতে হাঁটাচলা করতে দেখা গেছে

কাকা-ফ্যাবিয়ানোকে নিয়ে নিঃশঙ্ক ব্রাজিল

বাঁ ঊরুর ইনজুরিতে মাস দুয়েক মাঠের বাইরে থাকার পর মৌসুমের শেষে দিকে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে মাঠে নেমেছেন, তবে কাকাকে নিয়ে শঙ্কাটা তবু কাটছিল না। শোনা যাচ্ছিল, বিশ্বকাপের আগে পুরোপুরি ফিট তিনি নাও হতে পারেন। একই শঙ্কা ছিল ব্রাজিলের মূল স্ট্রাইকার লুইস ফ্যাবিয়ানোকে নিয়েও। বাঁ পায়ের ইনজুরিতে এ মৌসুমে সেভিয়ার হয়ে মাত্র ২৩ ম্যাচ খেলতে পেরেছেন ফ্যাবিয়ানো। তবে কার্লোস দুঙ্গার জন্য সুখবর, বিশ্বকাপে পুরোপুরি ফিট কাকা-ফ্যাবিয়ানোকেই পাচ্ছেন তিনি। এএফপি।
গত পরশু দক্ষিণ ব্রাজিলের শহর কুরিতিবার নির্জন অঞ্চলে অনুশীলন শুরু করেছে পাঁচবারের বিশ্বজয়ীরা। কিন্তু অনুশীলন শুরু করতে পারেননি কাকা ও ফ্যাবিয়ানো। তবে পরশুই দুঙ্গাকে সুখবরটি দিয়েছেন ব্রাজিলের মেডিকেল প্রধান হোসে লুইস রুনকো, ‘দুজনেরই উন্নতি হচ্ছে, অনুমিত সময়ের মধ্যেই সুস্থ হয়ে যাবে। বিশেষ করে কাকার ক্ষেত্রে চিন্তার কোনো কারণই নেই। আগামী সপ্তাহেই অনুশীলন করবে ওরা।’
এই দুজন ছাড়া চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনাল খেলার জন্য অনুশীলন শুরু করতে পারেননি গোলরক্ষক হুলিও সিজার, রাইটব্যাক মাইকন, অধিনায়ক লুসিও। বিভিন্ন কারণে অনুপস্থিত আছেন আরও তিনজন। অনুশীলনে পুরোপুরি মনোযোগ দেওয়ার জন্য সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে ফুটবলারদের কথা বলা নিষিদ্ধ করেছেন দুঙ্গা ও ব্রাজিলিয়ান ফুটবল ফেডারেশন।

মাটিতে শারাপোভার দ্বিতীয়

জার্মানির ক্রিস্টিনা ব্যারোয়িসকে হারিয়ে ডব্লুটিএ স্ট্রাসবুর্গ শিরোপা জিতেছেন মেয়েদের সাবেক এক নম্বর তারকা মারিয়া শারাপোভা। ক্লে-কোর্টের এই টুর্নামেন্টের ফাইনালে শারাপোভা ৭-৬, ৬-১ ব্যবধানে হারিয়েছেন প্রথম ডব্লুটিএ ফাইনালে ওঠা ব্যারোয়িসকে।
এই নিয়ে ৩টি গ্র্যান্ড স্লামসহ ২২টি শিরোপা জিতলেন শারাপোভা। ২০০৮ সালের পর ক্লে-কোর্টে শারাপোভার এটিই প্রথম শিরোপা। আজ শুরু হতে যাওয়া ফ্রেঞ্চ ওপেনের দ্বাদশ বাছাই এই রুশ তারকা সর্বশেষ জিতেছেন ফেব্রুয়ারি মাসে, মেমফিসে।

এক মাঠে জয় অন্য মাঠে ড্র

বাংলাদেশ লিগে কাল নিজেদের মাঠে মুক্তিযোদ্ধাকে হারিয়েছে চট্টগ্রাম মোহামেডান (১-০)। বিরতির আগে লামিন করেছেন ম্যাচের একমাত্র গোল। এদিকে ঢাকায় ব্রাদার্স-শুকতারা ম্যাচে কেউ জেতেনি (০-০)।
ব্রাদার্স দুবার শুকতারার জালে বল ঠেলেও গোল পায়নি। দুবারই অফসাইডের বাঁশি বেজেছে। এ নিয়ে ব্রাদার্স ছিল ক্ষুব্ধ। তারা আপত্তি তুলেছে রেফারিং নিয়ে।
এই ড্রয়ে ২২ ম্যাচে ব্রাদার্সের পয়েন্ট হলো ২২। অবনমনের চিন্তা নেই দলটির। সমান ম্যাচে ১৬ পয়েন্ট পাওয়া শুকতারা এখনো রয়েছে অবনমনের খাঁড়ার নিচে। দুটি দল অবনমিত হবে, নিচের দিক থেকে নারায়ণগঞ্জের দলটি আছে দ্বিতীয় স্থানে।
পাঁচ জয় আর ৯ ড্রয়ে ২৪ পয়েন্ট পেল চট্টগ্রাম মোহামেডান। মুক্তিযোদ্ধারও পয়েন্ট ২৪। দুই দলই খেলেছে ২২টি করে ম্যাচ। গোল ব্যবধানে চট্টগ্রাম মোহামেডান পয়েন্ট তালিকার পঞ্চম স্থানে, এর পরই মুক্তিযোদ্ধা। সেরা ছয়েই শেষ পর্যন্ত থাকতে চায় এই দলগুলো। কেননা কোটি টাকার সুপার কাপ হবে (যদি হয়) সেরা ছয়টি দলকে নিয়ে।

২১৭২ কোটি টাকার ঘোড়ার ডিম

ঘোড়ার ডিমের দাম কত? না, হাসবেন না। গুরুত্বপূর্ণ এ প্রশ্নটি কদিন আগে ফুটবল-বিষয়ক একটি ব্লগে ছেড়ে দিয়েছিলেন ‘অ্যাংরি ফ্যান’ নামের এক ব্লগার। উত্তরটাও তিনিই দিয়েছিলেন। একটা ঘোড়ার ডিমের দাম ৩১৩ মিলিয়ন ডলার! ২১৭২ কোটি টাকা খরচ করে এই ঘোড়ার ডিম কিনল কে? রিয়াল মাদ্রিদ!
এতক্ষণে নিশ্চয়ই খোলাসা হয়ে গেছে, ওই ‘ক্ষুব্ধ সমর্থক’ আসলে রিয়ালের। আর ঘোড়ার ডিমের পেছনে এত টাকা খরচের প্রসঙ্গটা তিনি ব্যঙ্গ করে বলেছেন ‘দ্বিতীয় নক্ষত্রপুঞ্জের’ শিরোপাশূন্য প্রথম মৌসুমটার দিকে ইঙ্গিত করে।
রিয়াল সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ পড়েছেন যাকে বলে মহা ফাঁপরে। কোচ হোসে ম্যানুয়েল পেলেগ্রিনিকে ছাঁটাই করার জন্য চাপ আসছে। পরবর্তী রিয়াল কোচ হিসেবে হোসে মরিনহোর নাম শোনা যাচ্ছে জোরেশোরে। বিশেষ করে মরিনহো মানেই সাফল্য—এটা বেশ প্রতিষ্ঠিত। তা ছাড়া বার্সেলোনাকে আটকানোর সবচেয়ে ভালো দাওয়াই তো এই পর্তুগিজ কোচই জানেন।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত রিয়াল আবার কোচ পাল্টালে সেটি পেরেজের জন্য হবে স্ববিরোধিতা। কারণ দ্বিতীয় মেয়াদে সভাপতি হওয়ার আগে নির্বাচনী বৈতরণী তিনি পেরিয়েছিলেন ‘দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা’র কথা বলেই। ২০০৩ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত প্রথম দফায় সভাপতি থাকার সময় রিয়াল তিন বছরে কোচ পাল্টেছিল পাঁচবার! টানা দ্বিতীয় মৌসুম শিরোপা-খরায় কাটানোর পর পরিবর্তন অবশ্যম্ভাবী বলেই মন হচ্ছে। তবে দলবদলের মৌসুমে এখনো রিয়াল সেভাবে নড়েচড়ে বসেনি।
‘স্পেনের আর্সেন ওয়েঙ্গার’ হিসেবে যে পেলেগ্রিনিকে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছিল এক বছর আগে, তিনি কি শেষ পর্যন্ত অপাঙেক্তয় হয়ে পড়বেন? চাকরি নেওয়ার সময়ই পেলেগ্রিনি জানিয়ে দিয়েছিলেন, রিয়ালের মতো ক্লাবের দায়িত্ব নেওয়া মানেই মাথার ওপর সব সময় খড়্গ ঝুলে থাকা, এটা মেনে নিয়েই চ্যালেঞ্জটা তিনি নিচ্ছেন, ‘বড় ক্লাবগুলো প্রতি রোববারেই জিততে চায়। সেই চাওয়াটা পূরণ করতে না পারলে কাজ চালিয়ে যাওয়া মুশকিল। কিন্তু যারা দীর্ঘ মেয়াদে পরিকল্পনা করে তারাই ভালো ফল পায়।’ পেরেজও বলেছিলেন, ‘আমাদের লক্ষ্যই হলো একটা দুর্দান্ত দল গড়ে তোলা। শিরোপা জিততে না পারাই কিন্তু ব্যর্থতা নয়।’
কাকা-বেনজেমাদের নিয়ে যত গুঞ্জনই থাক, রিয়াল খেলোয়াড় তালিকায় বড় পরিবর্তন আনবে না বলেই মনে হচ্ছে। লিগের শেষ দিকে বার্সেলোনার পেছনে ভালোমতো ছোটার পর পেলেগ্রিনিকে আরও একটা সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। বিশেষ করে খোদ রিয়াল সমর্থকেরাই ঠিক নিশ্চিত নয়, মরিনহোকে আনার ফলাফল কতটা ইতিবাচক হবে। মূল কারণ মরিনহোর ‘রক্ষণশীল’ দুর্নাম। ওয়েবসাইটের জরিপগুলোয় ফলাফল দেখা যাচ্ছে, পক্ষে-বিপক্ষে ৫০-৫০ কিংবা ৬০-৪০ শতাংশ রায়।

ডি ভিলিয়ার্স ও আমলার সেঞ্চুরি

টি-টোয়েন্টির আমেজ নিয়েই শুরু হলো দক্ষিণ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ ওয়ানডে সিরিজ। গতকাল অ্যান্টিগাতে বৃষ্টির কারণে ৪৮ ওভারে পরিণত হওয়া সিরিজের প্রথম ম্যাচে হাশিম আমলা ও এবি ডি ভিলিয়ার্সের জোড়া সেঞ্চুরিতে দক্ষিণ আফ্রিকা করেছে ৭ উইকেটে ২৮০ রান। ওয়েবসাইট।
আমলা ও ডি ভিলিয়ার্স দুজনই করেছেন ১০২ রান করে। ডেভিড মিলার ১৬ বলে অপরাজিত ছিলেন ২৩ রান করে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে ৪০ রানে ৩ উইকেট নিয়েছেন ডোয়াইন ব্রাভো। ২টি করে উইকেট নিয়েছেন টেলর ও রামপল।
২৮১ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খেয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ৪ রানে ফ্লেচারের উইকেট হারানোর পর এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ৭.৩ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে ৪৪ রান তুলেছে তারা। ব্যাট করছিলেন গেইল (২৫) ও ব্রাভো (১৫)।

উড়ছে আজ লালদুর্গের নিশান

বিশ্বকাপ ফুটবলের এই ডামাডোলে টেনিস নিয়ে ভাববার সময় আছে! আছে মানে? ফুটবলের জোয়ারে গা ভাসাতে বিশুদ্ধ টেনিসপ্রেমীদের বয়েই গেছে! নাওয়া-খাওয়া ভুলে তাঁরা বরং বুঁদ হয়ে আছেন কখন শুরু হয় রোলাঁ গাঁরোর লড়াই, সেই অপেক্ষায়।
মঞ্চ প্রস্তুত। নিজ নিজ পরিকল্পনার ছক এঁকে প্যারিসের লালদুর্গে নামতে প্রস্তুত তারকারা। টেনিসপ্রেমীদের এই অপেক্ষায় যতি দিতে আজই শুরু হচ্ছে বছরের দ্বিতীয় গ্র্যান্ড স্লাম ফ্রেঞ্চ ওপেন। বছরের চারটি প্রধান টুর্নামেন্টেই বিশেষ হিসাব-নিকাশ সেরে কোর্টে নামেন তারকারা। তবে ফ্রেঞ্চ ওপেনের হিসাবটা একটু অন্যরকম। কারণ মাটির কোর্টের এই টুর্নামেন্টে ফেবারিট-তত্ত্ব বিশ্লেষণে একটু গুলিয়ে ফেলেন বোদ্ধারা।
এবারও যেমন নাদাল নাকি ফেদেরার ফেবারিট, সিদ্ধান্তে আসতে পারেননি কেউ। ২০০৫-২০০৮, টানা ৪ বছর লালদুর্গে জয়ী রাফায়েল নাদাল। ক্লে-কোর্টের সম্রাট নাদালের কারণেই ২০০৮ পর্যন্ত ফ্রেঞ্চ ওপেনের শিরোপা থেকে বঞ্চিত থাকতে হয়েছে সর্বকালের সেরার স্বীকৃতি পেয়ে যাওয়া রজার ফেদেরারকে। গতবার দূর হয়েছে তাঁর আক্ষেপ।
আগের বছরের দুঃস্মৃতি ভুলে নাদাল আবার ফিরে পেতে চাইছেন রাজত্ব। শুধু চাওয়া নয়, গত ৪০ দিনে তিন-তিনটি ক্লে-কোর্ট শিরোপা জিতে নিজেকে তৈরিও করে নিয়েছেন সাবেক নাম্বার ওয়ান। নোভাক জোকোভিচ, অ্যান্ডি মারেরাও নামবেন শিরোপার দাবি নিয়ে।
এবার বাড়তি আকর্ষণ যোগ করছেন জাস্টিন হেনিন। তাঁর ৭টি গ্র্যান্ড স্লামের ৪টিই ফ্রেঞ্চ ওপেন। ২০০৮ সালে অভিমানে সরে দাঁড়ানোর পর আবার ফিরেছেন কোর্টে। ফিরে ৫ মাসেই প্রমাণ করেছেন, লালদুর্গ দখলে তিনিও প্রস্তুত। শীর্ষ বাছাই সেরেনা খুব করেই চাইছেন রোলাঁ গাঁরোতে দ্বিতীয় শিরোপা-উত্সবে মাতবেন। কুজনেত্সভা, মারিয়া শারাপোভা, কিম ক্লাইস্টার্স, সার্বিয়ান জাঙ্কোভিচ-ইভানোভিচ, দিনারা সাফিনা, ভেনাস উইলিয়ামস, ক্যারোলিনা ওজনিয়াকি—এঁদের কেউও তো শিরোপা জিততে পারেন!

বড় পৃষ্ঠপোষক পেল কাবাডি

বাংলাদেশের কাবাডির জন্য কালকের দিনটি যেন ছড়িয়ে দিল নতুন দিনের বার্তা। প্রচারবহুল খেলাগুলোই যেখানে দীর্ঘমেয়াদি পৃষ্ঠপোষক তেমন পাচ্ছে না, সেখানে কাবাডি ফেডারেশন বড় এক পৃষ্ঠপোষককে নিজেদের সঙ্গে যুক্ত করে ফেলল।
হোটেল সোনারগাঁওয়ে কাল কাবাডি ফেডারেশনের সঙ্গে চুক্তি হলো বাংলাদেশ এডিবল অয়েল লিমিটেডের। এই প্রতিষ্ঠানের পণ্য মিজান সুপার রিফাইন পাম অলিন ২০১২ সাল পর্যন্ত কাবাডির ঘরোয়া টুর্নামেন্টগুলো পৃষ্ঠপোষণা করবে।
চলতি বছরের বাকি সময় কাবাডির অবশিষ্ট টুর্নামেন্ট বাবদ প্রতিষ্ঠানটি ফেডারেশনকে দেবে ১৩ লাখ টাকা। ২০১১ ও ২০১২ সালে দেবে ৬০ লাখ টাকা করে। এরপর দুই পক্ষের আলোচনা সাপেক্ষে চুক্তির মেয়াদ বাড়তে পারে। ২০১৮ সাল পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি কাবাডির সঙ্গে যুক্ত থাকবে বলে ফেডারেশন কর্মকর্তারা আশাবাদী।
পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে সই করেন বিক্রয় ও বিপণন বিভাগের প্রধান শোয়েব মো. আসাদুজ্জামান। কাবাডি ফেডারেশনের পক্ষে সাধারণ সম্পাদক মুনীর হোসেন।

মরিনহোর শ্রদ্ধা, ফন গলের সমীহ

গুরু-শিষ্যের লড়াই শেষ হয়েছে কাল রাতেই। লুই ফন গল জিতলেন নাকি হোসে মরিনহো—এ খবরও নিশ্চয়ই আপনাদের জানা। তবে লড়াইয়ের আগেও লড়াই হয়। কথার লড়াই। আর মরিনহো যেখানে আছেন, সেখানে প্রতিপক্ষের উদ্দেশে বাক্যবাণ ছুড়বেন না, তা কী করে হয়! তবে আশ্চর্য ব্যতিক্রম, কাল মাদ্রিদের ফাইনালের আগে মরিনহো যথেষ্ট শ্রদ্ধা নিয়ে কথা বলেছেন। ফন গলও যথেষ্ট সমীহ দেখিয়েছেন মরিনহোকে।
কারণটা আন্দাজ করে নেওয়া যায়। মরিনহোর তাঁর একসময়ের ‘মাস্টার’রের প্রতি আজও শ্রদ্ধাবনত। পরশু সংবাদ সম্মেলনে পর্তুগিজ এই কোচ তো স্বীকার করেই নিলেন, ‘তিনি (ফন গল) দুর্দান্ত এক কোচ। তাঁর কাছ থেকে আমি অনেক কিছু শিখেছি। তাঁর সঙ্গে যে কয়েক বছর সময় কাটিয়েছি, নিঃসন্দেহে সেটি আমাকে আরও শাণিত করেছে। তিন বছর আমরা একসঙ্গে কাজ করেছি। তাঁর বাড়ি আর আমার বাড়ি ছিল মাত্র ৫০ মিটার দূরত্বে। তাই বলা চলে, দিনের প্রায় ২৪ ঘণ্টাই আমরা একসঙ্গে কাজ করতাম। আমার জন্য সেটি ছিল স্পেশাল একটা সম্পর্ক।’
ফন গলের কাছ থেকে শিখিয়েছেন, কিন্তু ফুটবল-দর্শনে দুজনে তো দুই মেরুর। ফন গল এখনো আক্রমণাত্মক ফুটবলে বিশ্বাসী। আর মরিনহোর নামের সঙ্গে জুটেছে অতিরক্ষণাত্মক অপবাদ। মরিনহো জানিয়েছেন, পরিশ্রমটাই শেষ কথা। এবং এই দর্শন তাঁকে শিখিয়েছেন ফন গলই, ‘আমি পশুর মতো খেটেছি ওর সঙ্গে কাজ করার সময়। আমার জন্য তার পরও সেটি ছিল আনন্দের। আমি তাঁর কাছ থেকে একটা জিনিস শিখেছি। সফল হতে গেলে আপনাকে কঠোর পরিশ্রম করতেই হবে।’
ফন গল নিজে কি এখনো মরিনহোকে তাঁর শিষ্য ভাবেন? একগাল হেসে এই ডাচ কোচ জানালেন, মরিনহো তো জনপ্রিয়তায় অনেক আগেই ছাপিয়ে গেছেন তাঁকে, ‘মরিনহোর প্রজন্মের কথা যদি বলেন, তবে ও-ই সবার সেরা।’ নিজেকে ‘মরিনহোর প্রজন্ম’ থেকে আলাদাই রাখতে চান ফন গল। তবে বার্সেলোনায় দুজনে একসঙ্গে কাজ করার সময়ই টের পেয়েছিলেন, তাঁর এই সহকারী অনেক দূর যাবে। নির্দ্বিধায় সেটি স্বীকার করে নিলেন ফন গল, ‘সহকারী হিসেবে ও ছিল অসাধারণ। প্রতিপক্ষের খুঁটিনাটি চমত্কার বিশ্লেষণ করে ফেলত। মাঝেমধ্যে আমি তো ওকে (কাপের অগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোয়) মূল কোচের দায়িত্বই ছেড়ে দিতাম।’
একদিক দিয়ে শিষ্যের চেয়ে গুরু এগিয়েই আছে। চেলসির কোচ থাকার সময় থেকেই এখন পর্যন্ত বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বেতন পাওয়া কোচ মরিনহোই। কাল একটা জায়গায় অবশ্য সমানে সমান থেকে লড়াইয়ে নেমেছিলেন দুজন। যে-ই শিরোপা জিতেছেন, ভিন্ন ভিন্ন দুটো দলের হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতা মাত্র তৃতীয় কোচ হিসেবে নাম লিখিয়েছেন ইতিহাসে। কে লেখালেন? গুরু? নাকি শিষ্য।

মেসির সামান্য ইনজুরি

কয়েক মিনিটের জন্য থমকে গিয়েছিল আর্জেন্টিনার অনুশীলন। নিঃশ্বাসও কি বন্ধ করে ফেলেছিলেন আর্জেন্টাইন কোচ-খেলোয়াড়েরা? নিঃশ্বাস বন্ধ না করলেও ডিয়েগো ম্যারাডোনা বলছেন, ভীষণ ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন তিনি।
আর এসব কিছুরই উত্স লিওনেল মেসির ছোট্ট একটা আঘাত। অনুশীলনে হ্যাভিয়ের মাচেরানোর সঙ্গে হাঁটুতে হাঁটুতে বাড়ি খেয়ে পড়ে গিয়েছিলেন। তাত্ক্ষণিক সবাই খুব ভয় পেয়ে গেলেও আর্জেন্টাইন ফুটবল ফেডারেশনের ওয়েবসাইটে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ‘এটা কিছুই নয়। তাঁর ডান হাঁটুতে স্রেফ একটু আঁচড় লেগেছে।’
ভয় পাওয়ারই কথা আর্জেন্টাইনদের! বার্সেলোনার হয়ে আরও একটা অসামান্য মৌসুম কাটিয়ে আসা মেসির পায়ের দিকেই যে তাকিয়ে আছে আর্জেন্টিনা। দেশটির ‘নতুন ম্যারাডোনা’ হয়ে আরেকটি ট্রফি এনে দিতে পারবেন কি না, তা প্রথমে নির্ভর করছে মেসির সুস্থ থাকার ওপর। আর্জেন্টাইন সমর্থকদের উদ্বেগ কমাতে আর্জেন্টিনা দলের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ‘মেসি ভালোই আছে, সামান্য একটু টোকা লেগেছে, আর কিছু না।’ এখন যে যা-ই বলুন, ম্যারাডোনা বলেছেন, তিনিসহ দলের সবাই-ই ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন।
ম্যারাডোনা ঘটনার সময় পেছন ফিরে ছিলেন। তারপর যেটুকু দেখেছেন বর্ণনা করেছেন, ‘আমরা সবাই ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। আমি ঘটনাটা দেখিনি। ওই সময় পেছন ফিরে ছিলাম। ও (মেসি) আর মাচি (মাচেরানো) হাঁটুতে বাড়ি খেয়েছিল। পরে আমি ফিরে দেখি মেসি দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু আসলে কিছুই হয়নি। একটু বরফ দিয়েছে। পরেই বলেছে, ও সোমবার খেলবে। ও মাঠেই থাকবে।’ সোমবার আর্জেন্টিনা কানাডার বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে বুয়েনস এইরেসে।