Sunday, April 13, 2025
যে ফিলিস্তিনি চিকিৎসকের সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাংলাদেশের নাম
সব সময়ই পরিকল্পনা ছিল যে বাংলাদেশে পড়াশোনা শেষ করে নিজ দেশ ফিলিস্তিনে ফিরব। তাই গত ডিসেম্বরে বরিশাল শের-ই–বাংলা মেডিকেল কলেজ থেকে চূড়ান্ত বর্ষের পড়াশোনা ও ইন্টার্নশিপ শেষ করে দেশে ফিরে আসি। আমরা যারা ফিলিস্তিন থেকে অন্য কোনো দেশে পড়তে যাই, তারা একান্ত প্রয়োজন ছাড়া কোনো ছুটিতে সাধারণত দেশে যাই না। কারণ, সব সময়ই ফিলিস্তিনে হামলা-সংঘাতের আশঙ্কা থাকে। আবার আমাদের অনেক সীমান্ত ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। তাই কোনো ধরনের সংঘাত বা বিশৃঙ্খলা শুরু হলে দেশে আটকে পড়ার ঝুঁকিও থাকে। একবার আটকা পড়লে পড়াশোনায় পিছিয়ে যেতে হয়। তাই সবাই একবারে পড়াশোনা শেষ করেই বাড়িতে ফেরে। আমিও ছয় বছর পর বাড়িতে এসেছি। তবে বাড়িতে ফিরলেও মনে স্বস্তি আসেনি।
ফিলিস্তিনের পাঠক্রম অনুযায়ী, এমবিবিএস ডিগ্রি সম্পন্ন করতে আমাকে আরও এক বছর ইন্টার্নশিপ করতে হবে। বাংলাদেশে থাকার সময় থেকেই আমার ইচ্ছা ছিল, ফিলিস্তিনের ওয়েস্টব্যাংকের জেনিন পাবলিক হসপিটালে ইন্টার্ন করব। একে এটা সরকারি হাসপাতাল, তার ওপর আমার গ্রাম থেকে এটাই সবচেয়ে কাছে। কিন্তু জেনিন সিটির অবস্থা আশঙ্কাজনক। ওই এলাকা এখন ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। প্রায় সময় গোলাগুলির খবর পাচ্ছি। গেল মাসেই জেনিন পাবলিক হসপিটালের সার্জারি বিভাগের প্রধান চিকিৎসক ইসরায়েলের হামলায় নিহত হয়েছেন। অগত্যা আমি ওয়েস্টব্যাংকের নাবুলুস শহরে ইন্টার্নশিপ করছি। আমার বাড়ি থেকে হাসপাতালে যেতে প্রায় দেড় ঘণ্টা সময় লাগে। তবে বেশ কিছুদিন ধরে ইসরায়েলের সেনারা ওয়েস্টব্যাংকের বিভিন্ন শহরের প্রবেশদ্বারগুলোয় কয়েক শ লোহার বেষ্টনী বসিয়ে দিয়েছেন। ইসরায়েলের সেনারা নিজেদের খেয়ালখুশিমতো বেষ্টনী খোলা বা বন্ধ রাখেন। তাই আমরা এখন আর নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারি না। পুরো এলাকা এখন বন্দিশিবির হয়ে গেছে। সড়ক বন্ধ থাকায় আমাকে প্রতিদিনই অনেকটা পথ ঘুরে বাড়িতে ফিরতে হয়।
আল্লাহর রহমতে আমার গ্রাম এখনো নিরাপদ আছে। এখানে কোনো হামলা বা গোলাগুলির ঘটনা ঘটেনি। তবে আগেই বলেছি, আমাদের এখন গ্রাম থেকে শহরে যেতেও বাধার মুখে পড়তে হয়। সব সময়ই আতঙ্কে থাকি। শহরে যাঁরা চাকরি বা ব্যবসা করতেন, তাঁদের অধিকাংশই বেকার হয়ে পড়েছেন। আয়-রোজগার না থাকায় তাঁদের জীবনযাত্রাও থমকে গেছে। এখানকার স্কুল-কলেজগুলো সীমিত পরিসরে চলছে। সপ্তাহের দুই থেকে তিন দিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সশরীর ক্লাস হয়। বাকি দিনগুলোয় অনলাইন ক্লাস হচ্ছে। আমার এক বোন স্কুলের, আরেক বোন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী। কিন্তু নিরাপত্তার ভয়ে তারা ক্লাসে যাওয়াই ছেড়ে দিয়েছে। ফিলিস্তিনের বর্তমান অবস্থা বিবেচনা করলে এসব চাওয়া আসলে বিলাসিতা। কারণ, আমাদের জীবনেরই তো এখন নিরাপত্তা নেই। গাজায় আমার বন্ধুদের দুর্বিষহ অভিজ্ঞতার কথা মনে করলেই ভার হয়ে আসে মন।
বরিশালে আমার মেডিকেল কলেজের এক ব্যাচ সিনিয়র মোর্তাজা পড়াশোনা শেষ করে এখন দেশে ফিরেছে। মোর্তাজার বাড়ি গাজায়। সেখানে আল-শেফা নামে একটি হাসপাতালে চাকরি করত মোর্তাজা। কিন্তু কয়েক দিন আগে মোর্তাজা ফোনে জাোয়, বোমা হামলায় ওদের হাসপাতালও গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। হাসপাতাল অন্যত্র সরিয়ে অস্থায়ীভাবে চিকিৎসাসেবা চালানো হচ্ছে।
অন্যদের কথা চিন্তা করলে আমি হয়তো তুলনামূলক ভাগ্যবান। কারণ, আমি যে হাসপাতালে কাজ করি, এখনো সেখানে যুদ্ধাহত কোনো রোগী চিকিৎসা নিতে আসেনি। আমি মনেপ্রাণে দোয়া করি, ফিলিস্তিনের কোনো হাসপাতালেই যেন আর যুদ্ধাহত কোনো রোগীর চিকিৎসা নিতে আসার মতো পরিস্থিতি তৈরি না হয়।
![]() |
| যুদ্ধবিধ্বস্ত ফিলিস্তিন। ছবি: এএফপি |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘লানাতুল আকদিস সামিন’ আতঙ্কে ইহুদিরা
ইহুদিদের ধর্মীয় ন্যায়শাস্ত্র তালমুদ-এ এই ভবিষ্যদ্বাণীটি ‘লা’নাতুল আকদিস সামিন’ বা ‘অষ্টম দশকের অভিশাপ’ হিসেবে পরিচিত। ভবিষ্যদ্বাণীটি নিয়ে ইসরায়েলের ইহুদিদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে আতঙ্ক।
গেল দুই হাজার বছরে বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় সার্বভৌম অনেক ইহুদি রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এর মধ্যে কিং ডেভিডের অর্থাৎ ইসলাম ধর্মের দাউদ নবীর রাজত্ব এবং হাসমোনিয়ান রাজত্ব ছাড়া আজ পর্যন্ত কোনো ‘ইহুদি রাজ্য’ ৮০ বছরের বেশি টেকেনি। তবে কিং ডেভিডের রাজত্ব ও হাসমোনিয়ান রাজত্ব ৮০ বছরের বেশি টিকে থাকলেও এই দুই রাজত্বের ভাঙন ধরেছিল ৮০ বছরের মাথায়। এরপর দুটো রাজত্বই টুকরো টুকরো হয়ে গিয়েছিল।
আজকের আধুনিক ইসরায়েলের জন্ম হয়েছিল ১৯৪৮ সালের ১৪ মে। ২০২৮ সালে ৮০ বছর পূরণ হবে তাদের। অর্থাৎ হাতে সময় আছে মাত্র ২ বছর। তালমুদের ভবিষ্যদ্বাণী সত্য হলে আর দুই তিন বছরের মধ্যেই ইসরায়েল রাষ্ট্রটি ভেঙে পড়বে।
যেহেতু ইসরায়েলের ইহুদি সম্প্রদায়ের লোকজন তাদের ধর্মগ্রন্থ তাওরাতে বিশ্বাসী ও তালমুদের আদেশ-নিষেধ সংক্রান্ত প্রত্যাদেশের অনুসারী, সেহেতু ইসরায়েলের বাসিন্দাদের একটি বিরাট অংশ ‘অষ্টম দশকের অভিশাপ’ নিয়ে নিজেদের মধ্যে সিরিয়াস আলাপ-আলোচনা করে থাকেন। অনেক ইহুদি ইসরায়েলের ওপর কোনো দুর্যোগ নেমে এলে কীভাবে সেখান থেকে সরে যাবেন, তা নিয়ে আলাপ-আলোচনা করছেন।
তারা এই ন্যাচারাল ফেনোমেনন বা প্রাকৃতিক প্রপঞ্চ অমোঘ নিয়মে নেমে আসতে পারে বলে বিশ্বাস করেন। এজন্য ইসরায়েল তাদের জন্য হুমকি এমন সব কিছু ধ্বংস করে টিকে থাকতে মরিয়া। বিশ্লেষকদের ধারণা- ইসরায়েল গাজা, লেবানন, সিরিয়া, জর্ডান, ইয়েমেনসহ সব জায়গায় অনেকটা আতঙ্কিত হয়ে হামলা চালাচ্ছে, যেন তারা ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচতে পারে। তবে তারা ন্যাচারাল ফেনোমেনন বা আল্লাহর পক্ষ থেকে নেমে আসা কোনো বিপদ থেকে নিজেদের রক্ষা করতে পারবে কি না তা নিয়ে শঙ্কিত।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ‘লা’নাতুল আকদিস সামিন’ অর্থাৎ ইহুদি রাষ্ট্র ভেঙে যাওয়ার সেই ভবিষ্যদ্বাণীটি অনেক বেশি আলোচিত হচ্ছে। এমনকি বছর দুই আগে ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এহুদ বারাক ইসরায়েল রাষ্ট্রের অস্তিত্ব বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন।
![]() |
| অবৈধ বসতি ছেড়ে ইসরায়েলিদের পালানোর একটি দৃশ্য। ছবি: সংগৃহীত |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আল-জাজিরার রিপোর্ট: নন্দনগরের হাসানের কাহিনী
প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ১৫টি মুসলিম পরিবার নন্দনগরকে নিজেদের বাড়ি বলে মনে করতেন। হাসানের জন্ম ও বেড়ে ওঠা এখানেই। তার পরিবার হিন্দুদের উৎসবের সময় আমন্ত্রণ পেতো। আবার তারাও ঈদে প্রতিবেশীদের আতিথেয়তা করতেন। হিন্দুদের শেষকৃত্যের জন্য কাঠ সংগ্রহ করেতেন আহমেদ। হিন্দু বন্ধুদের মৃতদেহ নিজে কাঁধে তুলেছেন। কিন্তু গত সেপ্টেম্বরে হিন্দু সম্প্রদায়ের এক মেয়ের যৌন হয়রানির অভিযোগের পর মুসলিমবিরোধী সহিংসতায় সবকিছু বদলে যায়। এর মূলে ছিল সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে মনোভাবের ব্যাপক পরিবর্তন। যা হাসান কোভিড-১৯ এর পর থেকে লক্ষ্য করেন। ঘৃণাপূর্ণ স্ল্লোগান এবং মিছিলের ফলে মুসলমানদের উপর শারীরিক আক্রমণ শুরু হয়। তাদের দোকানপাট ধ্বংস করা হয়। জীবনের ভয়ে শহরের মুসলিম সম্প্রদায় রাতের আড়ালে পালিয়ে যায়। কেবল হাসান ফিরে এসেছিলেন তার স্ত্রী, দুই মেয়ে এবং দুই ছেলেকে নিয়ে। দৃঢ়ভাবে বলেন, তিনি যে জায়গাটিকে নিজের বাড়ি বলে জানেন, সেখানেই কাজ করতে পারবেন। কিন্তু পরিবারটি আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিবেশীরা তাদের সঙ্গে কথা বলে না। হাসান আর প্রতিদিন সন্ধ্যায় আগের মতো নদীর ধারে হাঁটতে যান না। তার সন্তানদের এবং স্ত্রীকে কারও সঙ্গে দেখা করতে দেন না। আরও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার ভয়ে চিন্তিত তিনি। হাসান বলেন, আমি শুধু আমার দোকানে যাই এবং বাড়ি ফিরে আসি। এটাই এখন আমাদের জীবন। এই শহরে সারা জীবন কাটানোর পর আমার মনে হচ্ছে আমি একটা ভূত। আমি সম্পূর্ণ অদৃশ্য। কেউ আমার সঙ্গে কথাও বলছে না।
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি থেকে গাড়িতে নন্দনগর ১০ ঘণ্টার পথ। ভারত-চীন সীমান্তের কাছে অবস্থিত এই শহরটি নন্দাকিনী নদীর উপ-নদীগুলোর সঙ্গমস্থলে অবস্থিত এবং এর জনসংখ্যা প্রায় ২০০০। নন্দাকিনী নদী গঙ্গা নদীর ছয়টি উপ-নদীর মধ্যে একটি এবং হিন্দুদের কাছে এটি পবিত্র বলে বিবেচিত হয়। ১৯৭৫ সালে হাসানের দাদা পার্শ্ববর্তী উত্তর প্রদেশ রাজ্যের বিজনৌর জেলার নাজিবাবাদ শহর থেকে এখানে চলে আসেন। তাদের পরিবার এ শহরে বসতি স্থাপন করে। এক বছর পর হাসানের জন্ম হয়। তিনি স্মরণ করেন ২০২১ সাল পর্যন্ত জীবন মোটামুটি শান্তিপূর্ণ ছিল। করোনাভাইরাস মহামারির সময় হিন্দু উগ্র-ডানপন্থি গোষ্ঠীগুলোর ষড়যন্ত্র তত্ত্বের কারণে ভারতজুড়ে মুসলমানদের অপমান করা হয়। অভিযোগ করা হয় যে, মুসলিমরা ধর্মীয় রীতিনীতি এবং বিশাল সমাবেশের মাধ্যমে ইচ্ছাকৃতভাবে ভাইরাস ছড়িয়ে দেয়। উগ্র-ডানপন্থিরা এটিকে ‘করোনা জিহাদ’ বলে অভিহিত করে। হঠাৎ হাসানের মনে হয় তার হিন্দু বন্ধুরা দূরে সরে যাচ্ছেন। হাসান বলেন, কোভিড-১৯ এর আগে ঈদের সময় আমাদের বাড়িতে অনেক লোক আসতো। আর দীপাবলিতে বন্ধুদের কাছ থেকে অনেক আমন্ত্রণ পেতাম। কিন্তু কোভিডের পর এটা বন্ধ হয়ে গেল।
কিন্তু ২০২৪ সালের ১লা সেপ্টেম্বরের ঘটনাগুলো ছিল এক গুরুত্বপূর্ণ।
এক সপ্তাহ আগে ২২শে আগস্ট সেলুন খোলার সময় মোহাম্মদ আরিফ নামে এক মুসলিম খৌরকর্মীর বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ করেন এক হিন্দু ছাত্রী। এর ফলে আরিফ শিগগিরই শহর ছেড়ে পালিয়ে যান। ১লা সেপ্টেম্বর শহরের দোকানদার সমিতি ছাত্রীর উপর কথিত হয়রানির নিন্দা জানাতে এবং পুলিশি ব্যবস্থা নেয়ার দাবিতে সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত নেয়। শহরের অন্য মুসলিমদের সঙ্গে প্রতিবাদে অংশ নিয়েছিলেন হাসানও। তিনি বলেন, আমরা গিয়েছিলাম কারণ, অন্যথায় হিন্দুরা অভিযোগ করবে যে মুসলমানদের সংঘটিত অপরাধকে সমর্থন করি আমরা। তবে, লোকজন অল্প সময়ের মধ্যেই মুসলিমবিরোধী স্লোগান দিতে শুরু করে, সহিংসতার হুমকি দেয়। আমরা যখন বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে হাঁটছিলাম, তখন মুসলিমবিরোধী স্লোগান উঠছিল। নন্দ নগরের পুলিশ স্টেশনে সমাবেশটি পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের একটি দল ৩০ বছর বয়সী এক মুসলিম ব্যক্তি হারুণ আনসারীকে ধরে মারধর শুরু করে। হাসান বলেন, তাকে মারধরের ন্যায্যতা প্রমাণ করতে গিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের অনেকে অভিযোগ করেন যে, শহরের মুসলিমরা অভিযুক্ত আরিফকে পালিয়ে যেতে সাহায্য করেছে।
ঘটনার পর নাজিবাবাদে চলে যান আনসারী। সেখান থেকে এক ফোন সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আমার মাথায় একাধিক আঘাত লেগেছে। আমার শুধু মনে আছে জনতা আমাকে টেনে নিয়ে যাচ্ছিল। এরপর আর কিছুই আমার চোখে পড়েনি। আনসারীকে মারধর করার পর, হাসান সহ অন্য মুসলিমরা সমাবেশ থেকে পালিয়ে যান এবং নিজেদের ঘরে আটকে রাখেন। শত শত লোকের একটি দল এসে তাদের বাড়িগুলোতে পাথর ছুড়তে শুরু করে।
হাসান বলেন, মুসলিম পরিবারগুলো সাহায্যের জন্য পুলিশকে ফোন করতে থাকে। কিন্তু কেউ আসেনি। তিনি তার হিন্দু বন্ধুদেরও ফোন করেন। কিন্তু তারা হাসানের ফোনও ধরছিল না।
সন্ধ্যার দিকে ওইসব লোক চলে যায়। ততক্ষণ পর্যন্ত মুসলিম পরিবারগুলো ঘরের মধ্যেই অবরুদ্ধ ছিল। সেই রাতে ঘড়ির কাঁটা যখন মধ্যরাত পেরিয়ে গেল, হাসান চুপচাপ তার বাড়ির সামনের দোকানে ফিরে যান। দেখতে পান তার দোকানের শাটার ভাঙা এবং মচকে গেছে। ড্রাই-ক্লিন করা কাপড় রাস্তার ওপর ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। একটি শক্ত কাঠের টেবিলের ড্রয়ারে তিনি ৪০০,০০০ রুপির সঞ্চয়
তালাবদ্ধ করে রেখেছিলেন। তা ভেঙে গেছে- টাকা চুরি হয়ে গেছে। তিনি সন্তানদের বিয়ের জন্য সেই টাকা জমা করেছিলেন। তার দোকান, দ্য হাসান ড্রাইক্লিনার্সের নাম বোর্ডের টুকরোগুলো নন্দাকিনী নদীর তীরে ধ্বংসাবশেষের মতো ছুড়ে ফেলা হয়েছিল। হাসান বলেন, আমি সেই দিনটি কখনই ভুলবো না।
২রা সেপ্টেম্বর হিন্দু উগ্র ডানপন্থি গোষ্ঠীগুলো আরও বড় একটি বিক্ষোভের আয়োজন করে। তারা অন্য শহরের লোকদেরও নন্দনগরে জড়ো হওয়ার আহ্বান জানায়। হারুণ বলেন, সেখানে হাজার হাজার মানুষ জমায়েত হয়। আর পুলিশ ছিল মাত্র ৬০-৭০ জন। আমাদের অভিযোগ সত্ত্বেও, অতিরিক্ত কোনো পুলিশ ডাকা হয়নি। মুসলিমদের বিরুদ্ধে ঘৃণামূলক বক্তব্যের জন্য পরিচিত হিন্দু উগ্র ডানপন্থি নেতা দর্শন ভারতীও সেদিন নন্দনগর পরিদর্শন করেন। হাসান বলেন, তার বক্তৃতার পর জনতা তাণ্ডব চালিয়ে আমাদের সম্পত্তি ভাঙচুর করে। তারা একটি অস্থায়ী মসজিদ ধ্বংস করে এবং একজন মুসলিম বাসিন্দার গাড়ি নদীতে ফেলে দেয়। নন্দনগরে তার সফর এবং পরবর্তী সহিংসতা সম্পর্কে আল-জাজিরার প্রশ্নের কোনো উত্তর দেননি ভারতী।
হাসান বলেন, জনতা যখন পাথর ছুড়ছিল, তখন শহরের মুসলিম পরিবারগুলো আমার বাড়ির উপরের তলায় লুকিয়েছিল। সেই দিনটির কথা মনে পড়লে এখনও আমার কাঁপুনি ধরে। তার বাড়িতে লোহার গ্রিল এবং একটি গেট রয়েছে। এটি একটি বহুতল ভবন, যা মুসলিম পরিবারগুলোর জন্য আশ্রয় নেওয়াকে আরও নিরাপদ করে তুলেছিল।
যৌন হয়রানির অভিযোগে অভিযুক্ত আরিফকে ১লা সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করার পর সেদিনই উত্তর প্রদেশ থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আরিফকে এক সপ্তাহের জন্য পুলিশ হেফাজতে পাঠানো হয় এবং তারপর জামিনে মুক্তি দেয়া হয়। তবে, পুলিশ মুসলিম পরিবারগুলোকে জানিয়ে দেয় যে, তারা আর তাদের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিতে পারবে না। অন্ধকারে অফিসাররা তাদেরকে পুলিশের গাড়িতে করে কাছের একটি শহরে নামিয়ে দেন। বেশির ভাগ মুসলিম পরিবারের জন্য, এটি ছিল নন্দনগরে জীবনের শেষ সময়। কিন্তু হাসানের জন্য নয়। তিনি বলেন, এটা আমার বাড়ি। আমার জন্ম, লালন-পালন, আমার জীবনের সবকিছু, আমার পরিচয় সহ সব কিছু উত্তরাখণ্ডে। আমার পুরো পরিবার উত্তরাখণ্ডে থাকে। আমি এখন কোথায় যাব?
হাসান ও তার পরিবার ২৬৬ কিলোমিটার (১৬৫ মাইল) দূরে অবস্থিত রাজ্যের রাজধানী দেরাদুনে চলে যান। সেখানে কয়েকদিন থাকার পর হাসান এবং নন্দনগরের বাসিন্দা ৪৮ বছর বয়সী মোহাম্মদ আইয়ুম ২৬শে সেপ্টেম্বর উত্তরাখণ্ড হাইকোর্টে সুরক্ষার আবেদন করেন। হাইকোর্ট চামোলি জেলার সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট অফ পুলিশ (এসএসপি)কে নির্দেশ দিয়েছেন, নন্দনগরে আইনশৃঙ্খলা কঠোরভাবে প্রয়োগ নিশ্চিত করতে এবং কোনো নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে।
হাসান বলেন, হাইকোর্ট আমাদের সুরক্ষা দেওয়ার পর ভেবেছিলাম আমি এখন নন্দনগরে যেতে পারি। কিন্তু ভয়ে অন্য কোনো মুসলিম পরিবার আমার সঙ্গে যেতে প্রস্তুত ছিল না। হাসানের ভাই নন্দনগরে একটি সেলুন চালাতেন। হাসান বলেন, কিন্তু তার বাড়িওয়ালা তাকে হুমকি দিয়েছিলেন যে- যদি তিনি তার দোকান খালি না করেন, তাহলে তিনি তার জিনিসপত্র ফেলে দেবেন। চামোলির একটি বৃহত্তর শহর গোপেশ্বরে বসবাসকারী অন্য আত্মীয়রা তার পরিবারকে কোনো সহায়তা দেননি। হাসান বলেন, অনেক চিন্তা-ভাবনার পর সিদ্ধান্ত নিলাম যে- আমাকে ফিরে যেতে হবে। কারণ আমার বাড়ি এবং দোকানসহ সবকিছুই নন্দনগরে।
হাসান আরও বলেন, তার স্ত্রী তার চেয়েও বেশি সাহসী। সে প্রথমে আমাদের বাচ্চাদের নিয়ে নন্দনগরে যায়। আমি পরে শহরে এসেছি। ভয় থাকা সত্ত্বেও, সে আমাকে বলেছিল যে- আমরা যদি ফিরে না যাই, তাহলে আমরা আমাদের জীবিকা হারাবো।
নিশ্চিতভাবেই পরিবারটি এখনও একটি দ্বিধার মুখোমুখি। হাসান তাদের মেয়ের স্কুল শেষ করার পর তার পরিবারকে দেরাদুনে স্থানান্তরিত করার কথা ভাবছেন। তবে তার স্ত্রী বিশ্বাস করেন, তারা যদি অন্য কোথাও চলে যান, তাহলে তাদের বাড়ি ও দোকান স্থানীয়রা দখল করবে। অবশেষে হাসান ১৬ই অক্টোবর নন্দনগরে পৌঁছান। দেখতে পান, হিন্দু সম্প্রদায়ের একজন ব্যক্তি তার দোকানের সামনে একটি ড্রাই-ক্লিনিং দোকান খুলেছেন। হাসান বলেন, তিনি নিজের দোকান মেরামত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু কোনো হিন্দু কর্মী সাহায্য করতে রাজি হননি। এতটাই আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে যে, কোনো কর্মী আমাদের দোকান মেরামত করতেও প্রস্তুত নয়। শ্রমিকরা আমাকে বলেছে, হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীগুলো তাদেরকে মুসলমানদের সাহায্য না করার নির্দেশ দিয়েছে।
হাসান নিজেই মেরামত করে অবশেষে তার দোকানটি খুলতে সক্ষম হন। কিন্তু কোনো গ্রাহক আসেনি। তিনি তার আগের নিয়মিত ক্লায়েন্টদের ফোন করেন। কিন্তু তারা তার দোকানে আসতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি বলেন, যে কেউ আসতো তাকে হুমকি দেয়া হতো। উল্টো দিকের ড্রাই-ক্লিনারের কাছে যেতে বলা হতো।
হাসানের পরিবারও নতুন নন্দনগরে সংগ্রাম করেছে, যেখানে তাদের ধর্ম তাদের আলাদা করে তুলেছে। তার ১৬ বছর বয়সী মেয়ে স্কুলে ‘তার ধর্মের কারণে’ ধমক খেয়েছে। তার এক সহপাঠী তাকে বলেছে, তাকে স্কুল থেকে বহিষ্কার করা উচিত। কারণ সে একজন মুসলিম।
হাসান এবং শহর ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া মুসলিমদের জন্য ন্যায়বিচার এখনও অধরা। ১লা সেপ্টেম্বরের হামলার পর উত্তরাখণ্ড পুলিশ নন্দনগর থানার প্রধান সঞ্জয় সিং নেগির পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করে। তিনি তার অভিযোগে লিখেছেন, আমি দেখলাম ২৫০-৩০০ জন লোক জোরে জোরে ‘একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়’কে গালিগালাজ করছে। আমি যখন তাদের থামানোর চেষ্টা করলাম, তারা আমাকে একপাশে ঠেলে দিলো। তারপর আমি আমার সিনিয়রদের ডেকে অতিরিক্ত পুলিশ চাই। তিনি এরপর লিখেছেন, ‘জনতা মুসলিমদের দোকান ভাঙচুর শুরু করে এবং একটি মসজিদও ভাঙচুর করে। উত্তেজিত জনতা একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছিল। এর ফলে এই পরিবারের মহিলা এবং শিশুরা ভয়ে চিৎকার করতে শুরু করে।’ নেগি লিখেছেন- জনতা লাঠি, বেলচা এবং লোহার রড বহন করছিল। তবুও, উত্তরাখণ্ড পুলিশ এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করেনি। আল- জাজিরা চামোলি জেলার পুলিশ সুপার সর্বেশ পানওয়ারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। কিন্তু কোনো সাড়া পায়নি।
এখানে মুসলিমদের দোকানপাট লুটপাট করা হয় অথবা পুড়িয়ে দেয়া হয়। অনানুষ্ঠানিকভাবে অর্থনৈতিক বয়কট শুরু করা হয়। প্রায়শই মুসলমানরা শারীরিক সহিংসতারও সম্মুখীন হন। অতিসম্প্রতি, ধামির সরকার একটি অভিন্ন দেওয়ানিবিধি-এর নিয়মাবলী অবহিত করেছে- যা রাজ্যে মুসলিম এবং অন্য ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ধর্ম-ভিত্তিক ব্যক্তিগত আইন অনুসরণ করা থেকে বিরত রাখে। আদালত বেশ কয়েকবার হস্তক্ষেপ করেছে। কিন্তু কিছু কর্মী মনে করেন যে, তাদের আরও কিছু করা দরকার। হাসানকে হাইকোর্টে একটি আবেদন করতে সাহায্য করেছেন দেরাদুনের একজন কর্মী খুরশিদ আহমেদ। তিনি বলেন, আমাদের দেশের আদালত বুঝতে পারে না যে, মুসলিমরা বর্তমানে কতটা নিপীড়নের মুখোমুখি। নিপীড়ন সর্বক্ষেত্রেই রয়েছে- শারীরিক, মানসিক, আর্থিক।
তবুও হাসান আশার আলো খুঁজে পেয়েছেন।
সেপ্টেম্বরের সহিংসতার পাঁচ মাসেরও বেশি সময় পরে ১৯শে ফেব্রুয়ারি মুসলিম বিরোধী বিক্ষোভের নেতৃত্বদানকারী একজন হিন্দু ব্যক্তি হাসানের দোকানে আসেন। তার স্ত্রী সেই সময় তাদের দোকান পরিচালনা করছিলেন। হিন্দু ব্যক্তিটি একটি কোট এবং ট্রাউজার এনেছিলেন এবং জিজ্ঞাসা করেন যে- এগুলো কি দ্রুত ড্রাই-ক্লিন করা যেতে পারে কিনা। হাসানের স্ত্রী তখন তাকে জিজ্ঞাসা করেন, আপনি আমাকে বোন ডেকেছিলেন। আর আপনি চান মুসলিমরা চলে যাক?
লোকটি উত্তর দিলো- যা হয়েছে ভুলে যাও। তোমার কাজ খুব ভালো। তাই আমি তোমার কাছে এসেছি।
হাসান সেই ঘটনাটি মনে করে হেসে বলে, আমি এই দিনটি দেখেছি। কারণ আমি পালিয়ে যাইনি এবং লড়াই করেছি। তিনি বলেন, ভাঙা বন্ধুত্বের যন্ত্রণা এখনও কষ্ট দেয়।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
যুদ্ধবিরতি ভাঙার পর গাজায় ৫০০ শিশু হত্যা করেছে ইসরায়েল
গাজার স্থানীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলের নির্বিচার হামলায় এ পর্যন্ত প্রায় ৫১ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত সোয়া ১ লাখ মানুষ। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ১৫ হাজারের বেশি শিশু রয়েছে বলে চলতি মাসের শুরুর দিকে জানিয়েছিল জাতিসংঘ শিশু তহবিল—ইউনিসেফ। আহত হয়েছে ৩৪ হাজারের বেশি শিশু।
গাজায় চলমান নৃশংসতার মধ্যে গত ১৯ জানুয়ারি যুদ্ধবিরতি শুরু হয়। পরে সেই যুদ্ধবিরতি ভেঙে ১৮ মার্চ আবার হামলা শুরু করে ইসরায়েলি বাহিনী। শনিবার গাজা সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের পর থেকে গাজায় অন্তত ৫০০ শিশুকে হত্যা করা হয়েছে। এই সময়ে নিহত মোট ফিলিস্তিনির সংখ্যা দেড় হাজারের বেশি।
শনিবারও গাজার বিভিন্ন প্রান্তে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। উত্তর গাজার তুফা, মধ্য গাজার বেইত লাহিয়া এবং দক্ষিণে খান ইউনিসের কিজান আন-নাজ্জার ও আল মাওয়াসি এলাকায় আকাশপথে হামলা হয়েছে। এতে এক নবজাতকসহ ১৫ জন নিহত হয়েছেন। বেত লাহিয়ায় ইসরায়েলের হামলায় নিহত ওই শিশুর একটি হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। কয়েক ঘণ্টা পর মৃত্যু হয় তার।
গাজায় নারী ও শিশুরা ইসরায়েলের চালানো হামলার বড় লক্ষ্য বলে উল্লেখ করেছে জাতিসংঘ। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের (ইউএনএইচসিএইচআর) মুখপাত্র রাভিনা শামদাসানি শুক্রবার বলেছেন, ১৮ মার্চ থেকে ৯ এপ্রিল পর্যন্ত গাজায় ২২৪টি বিমান হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ৩৬টি হামলার ঘটনায় নিহত ব্যক্তিরা সবাই নারী ও শিশু।
জাতিসংঘের মুখপাত্রের এই তথ্যের পর ফিলিস্তিনি মানবাধিকার সংগঠন আল-হক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেছে, তারা এবং জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশন ইসরায়েলের দখল করা ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড এবং পূর্ব জেরুজালেমে তদন্ত করেছে। তাতে দেখা গেছে, ইসরায়েল উদ্দেশ্যমূলকভাবে নারী ও শিশুদের লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। আধুনিক ইতিহাসে কোনো সংঘাতে নারী, শিশু—এমনকি নবজাতকদের নিশ্চিহ্ন করার এমন তৎপরতা দেখা যায়নি।
আটকে ফেলা হচ্ছে ফিলিস্তিনিদের
ইসরায়েলের গত ১৮ মাসের হামলায় একাধিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছেন গাজার ২৩ লাখ বাসিন্দার অধিকাংশ। গত ১৯ জানুয়ারি যুদ্ধবিরতি শুরুর পর তাঁদের অনেকে নিজ এলাকায় ফেরা শুরু করেছিলেন। তবে ১৮ মার্চ ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি ভাঙার পর আবার গাজার বাসিন্দাদের এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। এই সময়ে নতুন করে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ৪ লাখের বেশি মানুষ।
জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থীবিষয়ক সংস্থার (ইউএনআরডব্লিউ) গত শুক্রবারের হিসাবে, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের পর থেকে গাজার বাসিন্দাদের এলাকা ত্যাগ করতে ২১টি নির্দেশনা দিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। তাঁদের এমন ক্ষুদ্র এলাকার মধ্যে আবদ্ধ করে ফেলা হচ্ছে, যেখানে পানি, খাবার, আশ্রয়ের মতো জীবন বাঁচানোর জন্য জরুরি পণ্য একেবারেই নেই বা খুব সামান্য পরিমাণে আছে।
শুক্রবারও গাজা নগরী ও খান ইউনিসের বিভিন্ন এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বাসিন্দাদের। গাজা নগরীর শুজাইয়া এলাকা ঘিরে রেখেছে ইসরায়েলের ট্যাংক। ওই এলাকায় অনেকেই আটকা পড়েছেন। সেখানকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, শুজাইয়ায় এখনো অবস্থান করা ব্যক্তিরা চলাচল করতে গেলে তাঁদের ওপর গুলি চালানো হচ্ছে। একই ধরনের ভয়াবহ চিত্র খান ইউনিসেও।
জাতিসংঘের ত্রাণ ও মানবিক সহায়তাসংক্রান্ত সংস্থা (ওসিএইচএ) জানিয়েছে, গাজার দুই-তৃতীয়াংশ এলাকা থেকে হয় বাসিন্দাদের তাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, না হয় ওই এলাকায় যেতে দেওয়া হচ্ছে না। বাকি একাংশে তাঁদের আবদ্ধ করা হচ্ছে। শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক বলেছেন, ‘এমন পরিস্থিতির পরিণতি হতে পারে প্রাণঘাতী।’
ঘিরে ফেলা হয়েছে রাফা
যুদ্ধবিরতি ভেঙে নতুন করে হামলা শুরুর পর গাজার বিভিন্ন এলাকা দখলে নিচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী। শনিবার ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্র্রী ইসরায়েল কাৎজ জানিয়েছেন, দক্ষিণ গাজার ‘মোরাগ করিডর’ অবরুদ্ধ করেছে দেশটির সামরিক বাহিনী। দক্ষিণ গাজার রাফা থেকে উপত্যকাটির বাকি এলাকাকে আলাদা করেছে এই পথ।
এক বিবৃতিতে ইসরায়েল কাৎজ বলেন, মোরাগ করিডর অবরুদ্ধ করার মধ্য দিয়ে রাফাকে ‘ইসরায়েলের নিরাপত্তা অঞ্চলে’ পরিণত করা হয়েছে। এটিই হামাসকে বিতাড়িত করার একমাত্র উপায়। এর মধ্য দিয়ে জিম্মিদের মুক্ত করা যাবে। ফলে যুদ্ধ শেষ হবে। আর হামাস যদি ইসরায়েলের কথায় কান না দেয়, তাহলে গাজার ‘বেশির ভাগ এলাকায়’ অভিযান চালাবে ইসরায়েল।
তবে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে একমত নন লন্ডনের কিংস কলেজের আন্তর্জাতিক নিরাপত্তাবিষয়ক প্রভাষক রবার্ট গেইস্ট পিনফোল্ড। আল-জাজিরাকে তিনি বলেন, ইসরায়েল যদিও বলছে হামাসকে পরাজিত করতে তারা মোরাগ করিডর সৃষ্টি করেছে, তবে এটি হলো গাজা নিয়ন্ত্রণে ইসরায়েলের একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। এই করিডরগুলোর মাধ্যমে তারা গাজার শহর এলাকাগুলো বিচ্ছিন্ন করতে চাইছে, যেন পরে ইচ্ছা অনুযায়ী এলাকাগুলো কাজে লাগানো যায়।
গাজার অবস্থা ‘বিপর্যয়কর’
গাজায় যুদ্ধবিরতি মধ্যেই ২ এপ্রিল থেকে উপত্যকাটিতে কোনো ত্রাণ প্রবেশ করতে দিচ্ছে না ইসরায়েল। এতে উপত্যকাটিতে খাবার, পানি, জ্বালানিসহ জরুরি পণ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিকে ‘বিপর্যয়কর’ বলে উল্লেখ করেছেন ওসিএইচএর কর্মকর্তা ওলগা চেরেভকো। আল-জাজিরাকে জাতিসংঘের এই কর্মকর্তা বলেন, ৪০ দিনের বেশি সময় ধরে তাঁদের হাতে কোনো ত্রাণ এসে পৌঁছায়নি। আগের মজুত প্রায় সব শেষ হয়ে গেছে। চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকট চলছে। উপত্যকাটির ৩৮টি হাসপাতালের মধ্যে ৩৪টিই ধ্বংস হয়ে গেছে।
গাজা কর্তৃপক্ষের হিসাবে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গাজার ৯০ শতাংশের বেশি পানি সরবরাহ অবকাঠামো ধ্বংস করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। সেগুলো মেরামত করতেও বাধা দিচ্ছে তারা। এ ছাড়া চলতি মাসের শুরুর দিকে গাজায় ইসরায়েলি প্রতিষ্ঠান মেকোরোত পানি সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে। এতে উপত্যকাটির ৭০ শতাংশ পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে।
এমন দুর্দশার মধ্যে শুক্রবার ইউএনআরডব্লিউএর প্রধান ফিলিপ লাজারিনি বলেছেন, ‘কিছু মানুষকে চাপে রাখার জন্য আপনি যদি অভাবে থাকা মানুষকে (সহায়তা) সরবরাহ বন্ধ করেন, তখন আপনি কিন্তু ত্রাণ সহায়তাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছেন।’ আর জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, ‘ত্রাণ ফুরিয়ে যাওয়ায় বিভীষিকার দ্বার আবার খুলে গেছে। গাজা এখন মানুষ হত্যার ক্ষেত্র এবং বেসামরিক লোকেরা অন্তহীন মৃত্যুফাঁদে আটকা পড়েছেন।’
| ফিলিস্তিনিদের এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। প্রাণ বাঁচাতে তাই পরিবার-পরিজন নিয়ে পালাচ্ছেন তাঁরা। ঘরবাড়ি ছাড়ার সময় স্কুলব্যাগে নিজেদের জিনিসপত্র গুছিয়ে নিয়েছে শিশুরা। গত শুক্রবার গাজা নগরীতে। ছবি: এএফপি |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ইসরায়েল এখন শেষ সময়ের সোভিয়েত ইউনিয়নের মতো by আবেদ আবু শাহদেহ
নাগরিকেরা ও সরকারি লোকেরা সবাই জানতেন যে সোভিয়েত ব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে গেছে এবং সেটা আর বাস্তবতার প্রতিফলন ঘটাতে পারে না। কিন্তু সবাই এমনভাবে চলতেন যেন কোথাও কোনো সমস্যা নেই।
বার্লিন প্রাচীর ভেঙে পড়বে অথবা সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে ১৫টি স্বাধীন রাষ্ট্র হবে অথবা যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা গমের ওপর রাশিয়াকে নির্ভর করতে হবে—সেটা খুব কম লোকই তখন কল্পনা করতে পেরেছিলেন।
অতীতে ফিরে তাকালে, সোভিয়েত ব্যবস্থা কেন ভেঙে পড়েছিল, সেটা চিহ্নিত করা আমাদের সবার জন্যই সহজ।
কিন্তু ইসরায়েলের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা বোঝা কতটা সহজ। সম্প্রতি গাজায় ১৫ জন চিকিৎসাকর্মীকে হত্যা করে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। একজন সেই ঘটনার মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করেন। ফলে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী যে বর্ণনা দিয়েছে, সেটা মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। এখন বিশ্ব এ ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
যাহোক, এ ঘটনা ইসরায়েলে কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি। ইসরায়েলের জনগণের মধ্যে এ ঘটনা খতিয়ে দেখার কোনো আগ্রহ নেই। তাদের কোনো নৈতিক আত্মদর্শন নেই। একমাত্র ব্যতিক্রম জিম্মিদের পরিবারের বেলায়। কিন্তু তারা শুধু তাদের প্রিয়জনদের কথাই বলছে। অথচ সেই মানুষগুলোর নামে গাজার ২০ লাখ মানুষের জীবনে যে প্রলয়ংকর দুর্দশা নেমে এসেছে, সেটা বেমালুম চেপে গেছে।
গাজায় চিকিৎসাকর্মীদের যেভাবে হত্যা করা হয়েছে, সেটা আমাদের কোনো কাল্পনিক সিনেমার গল্প বলেই মনে হয়। ইসরায়েলি সমাজ এমনভাবে চলছে যেন এসব ঘটনা ভিনগ্রহে ঘটছে।
ইসরায়েলি একজন রাজনীতিবিদও এ ঘটনার নিন্দা জানাননি অথবা প্রশ্ন তোলেননি। ইসরায়েলি সমাজ একটা জ্ঞানীয় অসংগতি দশায় বাস করছে। বাস্তবতা থেকে তারা বিচ্ছিন্ন।
গত বছর অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ইসরায়েলি শাখা গাজায় গণহত্যা নিয়ে সংস্থাটির নিজস্ব প্রতিবেদন গ্রহণে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। অথচ গাজায় হামলা চালিয়ে ইসরায়েল ৫০ হাজার ৮০০ জনের বেশি মানুষকে হত্যা করেছে। সেখানে ব্যাপকভাবে দুর্ভিক্ষ ছড়িয়ে পড়েছে।
সহিংসতার প্রতি ইসরায়েলি সমাজের গ্রহণযোগ্যতা অতিস্বাভাবিক বিষয়ে পরিণত হয়েছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে দিয়েছেন।
হাঙ্গেরি সফরের সময় ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে বুদাপেস্টের ইউনিভার্সিটি অব পাবলিক সার্ভিস সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করেছে। গণহত্যার স্থপতি এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সমন জারি করা ব্যক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি পাওয়ার জন্য স্পষ্টতই যোগ্য ব্যক্তি!
আরও আশ্চর্যজনক বিষয় হচ্ছে সরকারি চাকরিজীবীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় এমন একটি ইনস্টিটিউটে দাঁড়িয়ে তিনি ‘ডিপ স্টেটের’ ক্ষমতা নিয়ে ইসরায়েলের আমলাতন্ত্রকে আক্রমণ করেন।
ডিপ স্টেট পরিভাষাটি ১৯৯০-এর দশকে তুরস্কে প্রথম চালু হয় বলে মনে করা হয়। গণতান্ত্রিক কাঠামোর আড়ালে জেনারেল ও আমলাতন্ত্রের পদস্থ কর্মকর্তাদের গোপন নেটওয়ার্ক বোঝাতে এই পরিভাষাটি ব্যবহার করা হয়। যাহোক, নেতানিয়াহু খুব ভালো করেই জানেন যে ইসরায়েলে ডিপ স্টেট বলে কিছু নেই। কারণ, এর প্রয়োজনই সেখানে নেই।
সেনাবাহিনী, পুলিশ ও উচ্চ আদালত—ইসরায়েলের এই তিনটি মূল প্রতিষ্ঠানের কথা ধরা যাক। ইসরায়েলের সেনাবাহিনীতে একটা ওলট–পালট চলছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের ব্যর্থতার পর বিশালসংখ্যক কমান্ডার হয় পদত্যাগ করেছেন অথবা তাঁদেরকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
পুলিশ বাহিনীতে উগ্র ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গাভিরের প্রভাব খতিয়ে দেখছে সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেত।
উচ্চ আদালতকে মাঝেমধ্যেই বামপন্থী ও উদারপন্থী এজেন্ডা প্রচারের জন্য অভিযুক্ত করা হয়। কিন্তু একেবারে মৌলিক প্রশ্ন যখন সামনে আসে, তখন উচ্চ আদালত কোনো ধরনের চিন্তাভাবনা না করেই এর আইনি বৈধতা দেয়। উদাহরণ হিসেবে বিতর্কিত জাতি-রাষ্ট্র আইনের কথা বলা যায়। এ আইন পাসের কারণে ফিলিস্তিনি নাগরিকদের চেয়ে ইহুদি নাগরিকদের শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করা হয়। এই আদালতই পশ্চিম তীরের বসতি স্থাপনকারীদের ভূমি দখলের বৈধতা দিয়েছে।
ইসরায়েলের নিরাপত্তা সংস্থার পদস্থ কর্মকর্তারা পেশাগতভাবেই রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। মোজে দায়ান থেকে শুরু করে আইজ্যাক রবিন, অ্যারিয়েল শ্যারনসহ আরও অনেকে সামরিক বাহিনী থেকে ক্ষমতার শীর্ষে আরোহণ করেছিলেন।
নেতানিয়াহু যখন আমলাতন্ত্রকে ধমক দিচ্ছেন, তখন আবার তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নিয়োগে হস্তক্ষেপ করার অভিযোগ উঠছে।
ইসরায়েলে যখন প্রতিষ্ঠানগুলো ভেঙে পড়ছে, তখন নেতানিয়াহু আঞ্চলিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠায় তাঁর উচ্চাকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে মরিয়া। কয়েক দিন আগেই নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্র সফর করে এসেছেন। সেই সফরে তিনি বারবার ইরানে হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে চাপ দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি ইসরায়েলের কৌশলগত স্বার্থে সিরিয়াকে ভাগ করে ফেলতে চাইছেন।
বৈশ্বিক স্থিতিশীলতায় বিপজ্জনক হুমকি তৈরি হবে এই বিবেচনায় আরব বিশ্ব ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় তীব্র বিরোধিতা করে এলেও নেতানিয়াহু গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ করার পরিকল্পনার কথা বারবার বলে যাচ্ছেন।
ইসরায়েলে এখন যা কিছু ঘটছে, তার কোনোটাই স্বাভাবিক নয়। কিন্তু এই উন্মাদনা অনির্দিষ্টকাল ধরে চলতে পারে না।
নেতানিয়াহুর বেপরোয়া আঞ্চলিক অভিযাত্রা শুধু মধ্যপ্রাচ্যকে অস্থিতিশীল করছে না, সেটা ইসরায়েলি সমাজকেও ভেতর থেকে ভেঙে ফেলছে।
* আবেদ আবু শাহদেহ জাফার রাজনৈতিক কর্মী
মিডল ইস্ট আই থেকে নেওয়া, ইংরেজি থেকে অনূদিত
![]() |
| ফিলিস্তিনের দখলকৃত ভূমিসহ ইসরায়েলের মানচিত্র |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গাজার জন্য কিছু করতে না পারায় কাকে দোষারোপ করব by এন এন তরুণ
২০২৫ সালের ৪ মার্চ পর্যন্ত গাজা যুদ্ধে ৫০ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু ঘটেছে। এ ছাড়া নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন ১৬৬ জন সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী, ১২০ জন শিক্ষাবিদ এবং ২২৪ জনের বেশি মানবিক সহায়তাকর্মী, যার মধ্যে ১৭৯ জন ছিলেন জাতিসংঘের অন্তর্গত।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ইসরায়েল প্রায় ১৮ হাজার শিশুকে হত্যা করেছে। আরও বহু শিশু ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছে। তাদের অধিকাংশই মৃত বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ১৭ হাজার শিশু মা–বাবা বা পরিবার-পরিজন থেকে আলাদা, নিঃস্ব, নিঃসঙ্গ, একাকী।
গাজা এখন আর কোনো জনপদ বা লোকালয় নয়, গাজা এখন একটি ধ্বংসস্তূপ, যেন মহাপ্রলয়ের শেষ চিহ্ন। এটা একদা ২৩ লাখ মানুষের বাসস্থান ছিল, তাঁদের অধিকাংশই আজ বাস্তুচ্যুত। এই প্রলয়ংকর হামলায় গাজায় প্রায় ৪০ হাজার শিশু মা–বাবাদের একজনকে অথবা উভয়কে হারিয়েছে। যেসব শিশু বেঁচে আছে, তাদের অনেকেই একাধিক যুদ্ধের মানসিক আঘাত বয়ে বেড়াচ্ছে। এদের প্রত্যেকেই জন্মের পর থেকেই ইসরায়েলি অবরোধের দমবন্ধ পরিবেশে বেড়ে উঠেছে, যেখানে তাদের জীবনের প্রতিটি দিনই নিপীড়নের ছায়ায় আচ্ছন্ন।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে ৭ এপ্রিল ছাত্রদের নেতৃত্বে সংগঠিত হলো বৈশ্বিক উদ্যোগ ‘দ্য ওয়ার্ল্ড স্টপস’, যা গাজার ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি গভীর আন্তর্জাতিক সংহতির প্রতিফলন, বিশেষভাবে শিশুদের ওপর বিপর্যয়কর প্রভাব তুলে ধরেছে। এই আন্দোলন শুধু ক্রমবর্ধমান মানবিক সংকটের দিকে মনোযোগ আকর্ষণই করেনি, বরং বৈশ্বিক হস্তক্ষেপের জরুরি প্রয়োজনের কথাও জোর দিয়ে বলেছে। ‘দ্য ওয়ার্ল্ড স্টপস’-এর মতো আন্দোলনের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী যে ক্ষোভ ও প্রতিবাদ উঠে এসেছে, তা এই নৃশংসতাকে স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে একটি সম্মিলিত নৈতিক অবস্থানকে প্রকাশ করে।
একই দিনে বাংলাদেশেও আমাদের ছাত্ররা পালন করল ‘দ্য ওয়ার্ল্ড স্টপস’ কর্মসূচি। একটা সময় ছিল যখন শুধু সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাই জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলন-সংগ্রামে সামিল হতো। ভ্যাটবিরোধী আন্দোলন দিয়ে শুরু হয়ে চব্বিশের গণ–অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে এই ধারণার অবসান ঘটে। জুলাই অভ্যুত্থানে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের অংশগ্রহণ ও ভূমিকা অতুলনীয়। আরেকটা লক্ষণীয় বিষয় হলো, আন্দোলনে তুলনামূলকভাবে বেশি সংখ্যায় ছাত্রীদের অংশগ্রহণ। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া সচ্ছল বা উচ্চ মধ্যবিত্তের মেয়েরাও এখন রাস্তায় নামছে, এটিও দারুণ উদাহরণ।
বুয়েটের ছাত্রী হোমায়রা বিনতে নাসির লিখেছেন, ‘ফেসবুক ওয়ালে প্রতিবার ফিড রিফ্রেশ করলেই গাজাবাসীর ভাগ্য নামক নির্মম বাস্তবতার কাছে হেরে যাওয়া দেখে কিছু সময়ের জন্য আমি ক্ষুব্ধ হই ঠিক, কিন্তু আমার কথিত এমপ্যাথি একটা ক্রাই রিঅ্যাক্টের মাঝেই সীমাবদ্ধ। পুরোনো ডায়েরিতে নিজের কিছু নোট দেখে বর্তমান ‘আমি’কে খুব নিচ আর হীন মনে হচ্ছে।’
ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের ছাত্র ইরফান মজুমদার বলছেন, ‘মনে রাখতে হবে, মুসলমান হওয়ার জন্য ফিলিস্তিনিরা নিপীড়িত হচ্ছে না, তারা নিপীড়িত হচ্ছে কারণ তারা ফিলিস্তিনি। কোনো ধর্ম, মতবাদ, গির্জা, মসজিদ বা মন্দির মানবতার ঊর্ধ্বে নয়। মানবতা সবার ওপরে। ফিলিস্তিনের নিরপরাধ মানুষদের জন্য আশীর্বাদ রইল।’
ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির আরেক ছাত্রী নোশেন ফাইজা মিছিলের মধ্যে যমুনা টিভির সঙ্গে সাক্ষ্যাৎকারে বলেন, ‘আমরা এখানে এসেছি তীব্র প্রতিবাদ জানাতে। যেটা হচ্ছে, তা অসহনীয় এবং এটা আমরা সহ্য করব না।’ ফেসবুকে আপলোড করা এই ভিডিওর অসংখ্য ভিউ হয়েছে। ভিডিওটির নিচে তাঁর এক সহপাঠী লেখেন, ‘আই অ্যাম প্রাউড অব ইউ।’ ফাইজার প্রত্যুত্তর, ‘ভাই, প্রাউড হওয়ার কিছু নাই। আমি আনন্দিত যে আমি আমার ভয়েস রেইজ করতে পেরেছি।’
সত্যিই তো। আজ গাজা যখন মৃত্যুপুরী, শত শত শিশুর কবরের দেশ, অসংখ্য দুধের শিশু পিতামাতাহীন অনাহারে কান্নারত, তখন আমরা কী করে ঘরে থাকি? আশির দশকে কবি হেলাল হাফিজ অশুভ রাষ্ট্রশক্তির বিরুদ্ধে মিছিলে যাওয়ার অপরিহার্যতার কথা বলছিলেন এভাবে—
‘এখন যৌবন যার মিছিলে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়,
এখন যৌবন যার যুদ্ধে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়।’
এমন দুঃসময়ে কিছু একটা না করতে পারলে সারাটা জীবন অনুশোচনার আগুনে জ্বলতে হবে, তাই কবি আরেক কবিতায় সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেছেন—
‘মানব জন্মের নামে কলঙ্ক হবে
এ রকম দুঃসময়ে আমি যদি মিছিলে না যাই,
উত্তর পুরুষে ভীরু কাপুরুষের উপমা হবো
আমার যৌবন দিয়ে এমন দুর্দিনে আজ
শুধু যদি নারীকে সাজাই।’
ইসরায়েল ফিলিস্তিনি শিশুদের অনাহারকে যুদ্ধের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে, আর তা সমর্থন করছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রশ্ন হলো, এমন নৃশংস মানুষ কীভাবে হতে পারে, তার কারণটা বোঝা দরকার। দরকার সমাজতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ। সমাজতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ হলো, পুঁজির তাড়নাই সীমাহীন নৃশংসতায় রূপ নেয়। মার্কিন পুঁজিপতি অস্ত্রব্যবসায়ীরাই সরকারপ্রধানকে বা সরকারকে প্ররোচিত করেন যুদ্ধ বাধাতে ও জিয়িয়ে রাখতে, আগ্রাসন চালাতে ও আগ্রাসন চালাতে সহায়তা করতে। কারণ, তাঁরাই নিজের ও অন্য দেশের সরকারের কাছে এবং সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের কাছে অস্ত্র বিক্রি করেন।
সেই যুদ্ধ বা আগ্রাসন চালাতে গিয়ে যদি গর্ভবতী নারীকে, এমনকি শিশুকেও হত্যা করতে হয়, তাঁরা পিছপা হবে না। কারণ, মুনাফার লোভে তাঁরা উন্মত্ত। গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের ওপর হামাসের হামলার প্রতিক্রিয়ায় গাজায় ইসরায়েলি সেনাদের নির্বিচার আক্রমণ থেকে রক্ষা পেল না কিছুই—বসতবাড়ি, হাসপাতাল, নারী, এমনকি দুধের শিশুও। আর বিশ্ববাসী প্রত্যক্ষ করল পুঁজিবাদের নগ্ন চেহারা।
মনে রাখতে হবে, মৌলবাদের গায়ে ভর করে পুঁজিবাদ বেড়ে ওঠে। এই তত্ত্বের উৎকৃষ্ট প্রমাণ ভারতীয় জনতা পার্টি বা বিজেপি। দলটি মৌলবাদের চূড়ান্ত রূপ উগ্র পুঁজিবাদ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। তারা কৃষকদের জমি করপোরেট মালিকদের হাতে তুলে দিতে চায়। সামাণ্য ঋণের টাকা শোধ করতে না পারলে কৃষককে জেলে যেতে হয়, কিন্তু ধনী ব্যবসায়ীদের হাজার কোটি ঋণ মওকুফ করে দেয় বিজেপি সরকার। অতএব মৌলবাদ দিয়ে বিশ্বের অস্ত্রব্যবসায়ী পুজিবাদী আগ্রাসনকে প্রতিহত করা যাবে না। দেশে দেশে একটি করে সাম্যবাদী দলকে ক্ষমতায় আসতে হবে এবং তাহলেই সমতাভিত্তিক, ন্যায়ভিত্তিক একটি বিশ্বব্যবস্থা গড়ে ওঠবে।
বাংলাদেশেও অনেকে গাজার ঘটনাকে মুসলমানদের ওপর নিপীড়ন হিসেবে মনে করে থাকেন, কিন্তু আমি মনে করি আদতে এটি জাতিগত নিপীড়ন এবং একটি মানবিক সংকট। এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার জন্য মুসলমান হওয়ার দরকার নেই, দরকার একজন মানুষ হওয়ার। জাতি-ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সব মানুষের ব্যাপক প্রতিবাদ ছাড়া এ সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। প্রতিবাদটা হতে হবে পুঁজিবাদী সম্প্রসারণবাদের বিরুদ্ধে।
‘বিস্তীর্ণ দুপারের অসংখ্য মানুষের হাহাকার শুনেও নিঃশব্দে নীরবে বয়ে চলেছে’ বলে ভূপেন হাজারিকা গঙ্গাকে দোষারোপ করেছিলেন। নৈতিকতার স্খলন দেখেও, মানবতার পতন দেখেও নির্লজ্জ অলসভাবে গঙ্গা বয়ে চলেছে দেখে গণমানুষের এই শিল্পী বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তিনি অনুরোধ করছেন ‘সহস্র বরষার উন্মাদনার মন্ত্র দিয়ে লক্ষ জনেরে সবল সংগ্রামী, আর অগ্রগামী ক’রে তুলতে’। শিল্পী যথার্থই ব্যাখ্যা করেন, ‘ব্যক্তিকে ব্যক্তিকেন্দ্রিক হলে হবে না, আবার সমষ্টিকে ব্যক্তিত্বরহিত হলেও চলবে না।’ গাজা ইস্যুতেও আমরা মনে করি, দরকার বিশ্বব্যাপী সমষ্টির জাগরণ। কোনো একক ধর্মাবলম্বী মানুষের জাগরণে ফল হবে না।
গাজার শিশুদের হাহাকার শুনেও কিছু করতে না পারার জন্য কাকে দোষারোপ করব আমরা? কাকে অনুরোধ করব লাখো কোটি জনতাকে মানবতার মন্ত্রে উজ্জীবিত করে এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহে শামিল হতে? ছাত্রসমাজ পৃথিবীকেই অনুরোধ করছিল ক্ষণিকের জন্য থেমে যেতে, প্রতিবাদী হতে।
হয়তো একদিন স্বাধীন ফিলিস্তিন ভূখণ্ড হবে, আবার ভোর হবে, নতুন সূর্য উঠবে; কিন্তু দেখতে না দেখতেই পৃথিবীর আলো যাঁদের জন্য দপ করে নিভে গেল, সেই ইয়াজান, হিন্দ রজব, সাবরিন, ওয়েসাম, নাঈম, আলার মতো শিশুরা সেদিন থাকবে না। আর আমরা বেঁচে থাকব অপরাধবোধের তীব্র যন্ত্রণা নিয়ে এবং অবশেষে একদিন আমাদেরও ‘নদীগুলোকে বুকে রেখেই চলে যেতে হবে’ ওই শিশুদের পথে অনন্ত যাত্রায়!
* এন এন তরুণ অর্থনীতির অধ্যাপক, ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ। সাউথ এশিয়া জার্নালের এডিটর অ্যাট লার্জ। ই–মেইল: nntarun@gmail.com
(লেখকের মতামত নিজস্ব)
![]() |
| ইসরায়েলি হামলায় নিহত শিশুর মরদেহ জড়িয়ে ফিলিস্তিনি নারীর আহাজারি। ছবি: রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মধ্যপ্রাচ্যে কেন মার্কিন ঘাঁটি, কোন কোন দেশে রয়েছে এসব ঘাঁটি
এমন এক পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা আজ শনিবার ওমানের রাজধানী মাসকাটে বৈঠক শুরু করেছেন। এই বৈঠক ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন চুক্তির আলাপ শুরুর জন্য গুরুত্বপূর্ণ। পশ্চিমাদের আশঙ্কা, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে চাইছে। কিন্তু ইরান এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, অন্য ১০টি দেশের মতো তারাও শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচি পরিচালনা করতে চায়।
ইরানে হামলা চালানোর ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুমকি নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো ইরানে হামলা চালানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে নিজেদের আকাশসীমা ব্যবহার করতে দেবে না বলে ঘোষণা দিয়েছে। কিন্তু অঞ্চলটির অনেক দেশেই যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের কোন কোন দেশে কত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি আছে, তাদের সক্ষমতা কেমন, তা সংক্ষেপে দেখে নেওয়া যাক।
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি
যুক্তরাষ্ট্র কয়েক দশক ধরে মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের সামরিক ঘাঁটি পরিচালনা করছে। এই অঞ্চলে সবচেয়ে বড় মার্কিন ঘাঁটি রয়েছে কাতারে। এটির নাম আল উদেইদ বিমান ঘাঁটি। ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ঘাঁটিতে বিপুলসংখ্যক মার্কিন সেনা রয়েছেন।
অঞ্চলটির আরও যেসব দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, সেগুলো হলো বাহরাইন, কুয়েত, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)।
এসব ঘাঁটিতে সাধারণ সময়ে প্রায় ৩০ হাজার মার্কিন সেনা থাকেন। কিন্তু বড় কোনো অভিযানের সময়ে তা কয়েক গুণ বাড়ানো হয়। ২০০১ সালে আফগানিস্তানে হামলা শুরুর পর ২০১১ সাল নাগাদ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ঘাঁটিতে মার্কিন সেনাসংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছিল এক লাখের বেশি। আর ২০০৩ সালে ইরাক হামলার পর ২০০৭ সালের মধ্যে এসব ঘাঁটিতে মার্কিন সেনাসংখ্যা দাঁড়িয়েছিল ১ লাখ ৬০ হাজারের বেশি।
উল্লিখিত দেশগুলোর বাইরে সিরিয়ার ছোট ছোট দু–একটি ঘাঁটিতে প্রায় দুই হাজার মার্কিন সেনা রয়েছেন, যাঁদের অধিকাংশই উত্তর–পূর্ব সিরিয়ায় অবস্থান করছেন।
ইরাকে রয়েছেন প্রায় আড়াই হাজার মার্কিন সেনা। যাঁদের একটি বড় অংশ থাকেন রাজধানী বাগদাদের তৃতীয় ইউএস ইউনিয়ন বা ফরোয়ার্ড অপারেটিং বেজে (এফওবি)।
মধ্যপ্রাচ্যে ট্রাম্পের শক্তি বৃদ্ধি
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সদর দপ্তর পেন্টাগন সম্প্রতি বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ট্রাম্প গত কয়েক সপ্তাহে সামরিক শক্তি বৃদ্ধির নির্দেশ দিয়েছেন। সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
গত মার্চে ভারত মহাসাগরের দ্বীপ দিয়েগো গার্সিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র–ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটিতে অতিরিক্ত ছয়টি বি–২ বোমারু বিমান মোতায়েন করেছে পেন্টাগন। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো নিজেদের আকাশসীমা ব্যবহার করতে না দিলে এখান থেকে ইরানে দ্রুত হামলা চালাতে পারবে যুক্তরাষ্ট্র।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেছেন, ‘আমরা যে দিয়েগো গার্সিয়ায় বোমারু বিমান মোতায়েন করেছি, সেটাকে কীভাবে ব্যাখ্যা করা হবে, সেটা ইরানের ওপর নির্ভর করছে।’
পেন্টাগন জানিয়েছে, তারা দিয়েগো গার্সিয়ায় নিজেদের সামরিক ঘাঁটিতে একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যাটালিয়ন প্যাট্রিয়টসহ অন্যান্য আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা পাঠিয়েছে। প্রয়োজনীয় অন্যান্য উড়োজাহাজও সেখানে পাঠানো হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটির পাশাপাশি বিপুল ক্ষমতাসম্পন্ন দুটি উড়োজাহাজবাহী যুদ্ধবিমান রয়েছে। প্রতিটিতে রয়েছে কয়েক হাজার সেনা ও বিপুলসংখ্যক যুদ্ধবিমান।
মধ্যপ্রাচ্যে যে কারণে মার্কিন সেনা
সুনির্দিষ্ট কোনো কারণে নয়; বরং ভিন্ন একাধিক কারণে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে সেনা মোতায়েন রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র।
ইরাকের মতো কিছু দেশে ইসলামিক স্টেট (আইএস) ও স্থানীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই করছেন যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা। কিন্তু গত কয়েক বছরে সেখানে অবস্থানকারী মার্কিন সেনাদের লক্ষ্য করে ইরানের সমর্থনপুষ্ট সেনারা হামলা চালিয়েছেন। ফলে তাঁদের ওপরও পাল্টা হামলা চালিয়েছেন মার্কিন সেনারা।
অঞ্চলটিতে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র জর্ডানে কয়েক শ মার্কিন প্রশিক্ষক অবস্থান করছেন। তাঁরা বছরজুড়ে ব্যাপক মহড়ার আয়োজন করে থাকেন।
কাতার ও ইউএইতে মূলত দেশ দুটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য মার্কিন সেনা রাখা হয়েছে। তাঁরা দেশ দুটির সেনাদের প্রশিক্ষণ দেন। দেশ দুটি মার্কিন সেনা রাখার আরেকটি উদ্দেশ্য হলো, অঞ্চলটি সামরিক কোনো অভিযানে প্রয়োজন হলে তাঁদের সহায়তা নেওয়া।
ট্রাম্প গত মাসে ইয়েমেনের হুতিদের ওপর বড় ধরনের বিমান হামলা চালিয়েছে। এসব বোমা হামলায় ব্যবহৃত যুদ্ধবিমানগুলো মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করেছে। তবে কোন কোন দেশ থেকে এসব উড়োজাহাজ উড্ডয়ন করেছে, তা প্রকাশ করা হয়নি।
মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিগুলো কি আক্রান্ত হয়
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থা বেশ উন্নত। ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা ঠেকানোর জন্য ঘাঁটিগুলোয় আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা রয়েছে। কাতার, বাহরাইন, সৌদি আরব ও কুয়েতের মতো দেশের মার্কিন ঘাঁটিগুলো সাধারণত আক্রান্ত হয় না।
ইরাক ও সিরিয়ার মার্কিন ঘাঁটিগুলো কয়েক বছর ধরে প্রায় সময় হামলার শিকার হয়ে আসছে।
২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরায়েলের হামলা শুরুর পর থেকে লোহিত সাগরের ইয়েমেন উপকূলে হুতিরা ১০০টির বেশি হামলা চালিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য পশ্চিমা পণ্যবাহী ও সামরিক জাহাজে এসব হামলা চালানো হয়েছে। গাজায় ইসরায়েলের হামলা বন্ধের দাবিতে এসব হামলা চালানো হচ্ছে বলে দাবি করেছে হুতিরা।
হুতিরা হামলায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে থাকে। ওই অঞ্চলের মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজ লক্ষ্য করেও হামলা চালিয়েছে তারা। তবে হুতিদের হামলায় কোনো মার্কিন রণতরি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1265)
-
▼
2025
(3280)
-
▼
April
(427)
-
▼
Apr 13
(7)
- যে ফিলিস্তিনি চিকিৎসকের সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাংলাদেশের...
- ‘লানাতুল আকদিস সামিন’ আতঙ্কে ইহুদিরা
- আল-জাজিরার রিপোর্ট: নন্দনগরের হাসানের কাহিনী
- যুদ্ধবিরতি ভাঙার পর গাজায় ৫০০ শিশু হত্যা করেছে ইসর...
- ইসরায়েল এখন শেষ সময়ের সোভিয়েত ইউনিয়নের মতো by আবেদ...
- গাজার জন্য কিছু করতে না পারায় কাকে দোষারোপ করব by ...
- মধ্যপ্রাচ্যে কেন মার্কিন ঘাঁটি, কোন কোন দেশে রয়েছে...
-
▼
Apr 13
(7)
-
▼
April
(427)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...



