Tuesday, July 16, 2013

মেধাকেই প্রাধান্য দিতে হবে by মাহবুবুল হুদা জামেদ

সরকারি চাকরিজীবী, নবীনগর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। হঠাৎ করে কোটা পদ্ধতি বাতিল করা ঠিক হবে না। আর মুক্তিযোদ্ধা কোটা অবশ্যই রাখা প্রয়োজন। কারণ মুক্তিযোদ্ধারা এদেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান। তাদের প্রতি রাষ্ট্রের কিছু করণীয় আছে। তবে কোটা পদ্ধতিতে কিছুটা সংস্কার করা যেতে পারে। বিভিন্ন কোটার শতকরা হার কিছুটা কমিয়ে এনে তা মেধাবীদের জন্য সমন্বয় করা যেতে পারে।
মোঃ আবদুল হালিম
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা, ছাত্র
সরকারের চাকরিতে কোটা পদ্ধতি থাকার কারণে লাখ লাখ মেধাবী প্রার্থীর জীবন আজ ধ্বংস হচ্ছে। আবার কোটা পদ্ধতির সুযোগে মেধাবীর পরিবর্তে সরকার সমর্থক অযোগ্য প্রার্থীরা চাকরি পাচ্ছে। এ কারণে দেশ আজ ধ্বংসের দিকে চলে যাচ্ছে। তাই দেশ ও মেধাবী ছাত্রদের বাঁচাতে হলে কোটা পদ্ধতি অবশ্যই বাতিল করতে হবে।
গোলাম ইসা হোসাইন
চাকরি প্রত্যাশী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
আমি সরকারের এই কোটা পদ্ধতি সমর্থন করি না। কোটা পদ্ধতি তুলে দিয়ে মেধাবী প্রার্থীদের চাকরির ব্যবস্থা করলে তাতে দেশ ও দেশের মানুষ উপকৃত হবে।
নাঈম হাসান
লালমাটিয়া, চাকরি
কোটা পদ্ধতির কারণে মেধাবীরা চাকরি ক্ষেত্রে বঞ্চিত হয়। দেশ বঞ্চিত হয় মেধাবীদের সেবা থেকে, তাই আমি কোটা পদ্ধতি তুলে দেয়ার জন্য জোর দাবি করছি।
আবদুল জব্বার
বরিশাল, চাকরি
কোটা পদ্ধতির ফলে মেধাবীরা সুযোগ পাচ্ছে না। আমি কোটা পদ্ধতি তুলে দেয়ার জন্য সরকারের প্রতি অনুরোধ জানাই।
সুমন আহমেদ
চট্টগ্রাম, মেরিন ইঞ্জিনিয়ার
কোটা পদ্ধতির কারণে যোগ্য ও মেধাবী প্রার্থীরা সরকারি চাকরি থেকে বাদ পড়ে যাচ্ছে তাই কোটা পদ্ধতি না থাকাই উচিত। মেধাবীদের দেশের কাজে সুযোগ দেয়া প্রয়োজন।
ডা. নাদিরা জলিল
বিডিবিএল, ঢাকা, চাকরি
কোটা পদ্ধতি বাতিল করে সরকারি চাকরিতে মেধাবীদের পদায়ন করা জরুরি। কোটা পদ্ধতির সুবিধায় সরকারি চাকরিতে অমেধাবী, কমমেধাবী সর্বোপরি মেধাহীন লোকজন ঢুকে পড়ছে।
প্রমোশন পেয়ে পেয়ে তারা উচ্চপদস্থও হয়ে যাচ্ছে কিন্তু কার্যক্ষেত্রে যথাযথ ভূমিকা নিতে পারছেন না। প্রশাসন দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। এভাবে চললে দেশ ধ্বংস হয়ে যাবে। কোটা পদ্ধতি তুলে নিলে যোগ্য প্রার্থীরাই চাকরির সুযোগ পাবেন এবং দেশ রক্ষা পাবে।
আমীরুল
ময়মনসিহ, চাকরি
সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বহাল রাখা হোক। যেহেতু আমি একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান আমি চাই কোটা পদ্ধতি থাকুক।
হাসান কারার
কিশোরগঞ্জ, ছাত্র
কোটা পদ্ধতি বাতিল করুন। মেধাবীদের সুযোগ দিন।
নূর উন নবী অনতু
ভোলা, ছাত্র
কোটা পদ্ধতি তুলে নেয়ার সাম্প্রতিক যে আন্দোলন তাতে জামায়াত-শিবিরের লোকজনের আধিপত্য দেখা যাচ্ছে, যারা মূলত কোটাবিরোধী আন্দোলনের নামে নৈরাজ্য সৃষ্টির প্রয়াস পাচ্ছে। পাশাপাশি সরকারি দলের ছাত্র সংগঠনের কর্মীরা পাকিস্তান আমলের এনএসএফের সব পেটোয়া বাহিনীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। যা নিন্দার্হ।
কোটা পদ্ধতির ওপর সংসদীয় বিতর্ক এবং সিদ্ধান্ত কাম্য। বিষয়টি যেহেতু গুরুত্বপূর্ণ সেহেতু রাজনীতিবিদদের কাছ থেকে যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত আসা প্রয়োজন। তবে কোটা ১০ শতাংশের বেশি থাকা উচিত নয় বলেই আমি মনে করি।
সাজ্জাদ হোসেন
মাদারীপুর, সমাজকর্মী
অতীতের ইংরেজি শিখবো না শিখাবো না নীতি আর বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা জাতির মেধাশূন্যতার জন্য যথেষ্ট। চরমুগুরিয়ার একজন শিক্ষক আমাকে বলেন, এখন নকল করার প্রয়োজন হয় না। কুইজ টাইপের প্রশ্নের জন্য। তাই আÍঘাতী কোটা পদ্ধতি নিয়ে দুঃখ পাওয়ার কিছু নেই।
কাউসার আহমেদ
কুমিল্লা, শিক্ষকতা
সরকারি চাকরিতে নিয়োগের জন্য কোটা পদ্ধতি অবশ্যই বাতিল করতে হবে। কেননা কোটা পদ্ধতির কারণে সরকার সমর্থকরাই চাকরি পাচ্ছে। অপরদিকে লাখ লাখ মেধাবী প্রার্থী যোগ্যতা সত্ত্বেও চাকরি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
শফিউল্লাহ
কুমিল্লা, শিক্ষক
কোটা পদ্ধতি বাতিলের পক্ষে আমি। কোটা পদ্ধতির সুযোগে প্রশাসনে মেধাহীন লোক ঢুকে পড়ছে। দেশ মেধাশূন্যতায় পড়ছে। কোটা পদ্ধতি বাতিল হলে মেধাবীরা মূল্যায়িত হবে, দেশ উপকৃত হবে।
মোঃ বাছির চৌধুরী
কসবা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
আমরা চাই কোটা পদ্ধতি বাতিল করা হোক। তাতে মেধাবীরা অগ্রাধিকার পাবেন। কোটার কারণে মেধাবীরা বঞ্চিত হচ্ছে। তারা উপযুক্ত হওয়া সত্ত্বেও চাকরি পাচ্ছে না। ফলে জাতির মেধার অপচয় ঘটছে। জাতি মেধাশূন্যতায় ভুগছে।
মোঃ ফারুক আহমেদ
ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাকরি
কোটা প্রথা আমরা সমর্থন কখনোই করিনি। যদিও আমি চাকরিরত। বর্তমান সরকারের প্রতি অনুরোধ তারা যেন তাদের শেষ সময়ে কোটা প্রথা বাতিল করে মেধাবীদের মূল্যায়ন আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন।
মোহাম্মদ নাজমুল হোসাইন
ব্যাংকার, মোহাম্মদপুর, ঢাকা
সরকারি চাকরিতে দেশের অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জন্য কোটা সংরক্ষণ পদ্ধতিকে আমি সমর্থন করি। কিন্তু বর্তমানে বিসিএসের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরে যে অনুপাতে কোটা সংরক্ষিত হচ্ছে, তা কোনোভাবেই যৌক্তিক নয়। বিসিএস পরীক্ষাকে পুরোপুরি কোটামুক্ত করে অন্যান্য ক্ষেত্রে যৌক্তিক সংখ্যায় (সর্বোচ্চ ২০%) কোটা সংরক্ষণ করা যেতে পারে।
মোঃ সালাহ উদ্দিন
ব্যবসায়ী, পাকুন্দিয়া, কিশোরগঞ্জ
আমি কোটা পদ্ধতি বাতিল করার পক্ষে। কোটা পদ্ধতি থাকলে মেধার সঠিক মূল্যায়ন হবে না। এতে দেশ অনেক পিছিয়ে যাবে।
মোঃ আজহারুল ইসলাম
চাকরিজীবী, মহাখালী, ঢাকা
সরকারের প্রতি আমার অনুরোধ কোটা পদ্ধতি বাতিল করুন। দ্বিতীয় কথা চাকরিতে অবসর গ্রহণের বয়সসীমা দুই বছর বাড়ানো হয়েছে। কাজেই চাকরিতে প্রবেশের সীমা সর্বোচ্চ ৩০ থেকে বাড়িয়ে ৩২ বছর করা উচিত।
মোঃ হুমায়ূন কবীর ইনু
ব্যবসায়ী, আড়াইহাজার, নারায়ণগঞ্জ
কোটা পদ্ধতি সম্পূর্ণরূপে তুলে দেয়া উচিত। এ পদ্ধতি বহাল থাকলে প্রকৃত মেধাবীদের মূল্যায়ন হবে না। সবার জন্য সমান সুযোগ থাকা উচিত।
মকুল চন্দ্র ছাত্র, ফার্মগেট, ঢাকা
কোটা সম্পূর্ণরূপে উঠিয়ে দেয়া উচিত। দ্বিতীয়ত, আমাদের অনার্স-মাস্টার্স সম্পন্ন করতে ২৭-২৮ বছর চলে যায়। সরকার সরকারি চাকরিজীবীদের অবসর গ্রহণের বয়সসীমা দুই বছর বৃদ্ধি করেছে। অনুরূপভাবে চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমাও ৩০ বছর থেকে বাড়িয়ে ৩২ বছর করা উচিত।
এম আবদুল জলিল তালুকদার
পরিচালক, ঝালকাঠি চেম্বার অ্যান্ড কমার্স ইন্ড্রাস্টি
সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি থাকার প্রয়োজন মনে করি না। মেধা অনুযায়ী প্রার্থীদের নিয়োগ দেয়া উচিত। তা না হলে মেধাবী প্রার্থীরা চাকরি ক্ষেত্রে বঞ্চিত হবে। মেধাবীরাই যোগ্য ব্যক্তি আমি মনে করি। অবশ্যই সরকারের উচিত এক্ষেত্রে সুদৃষ্টি রাখা।
আলভি
ব্যাংক কর্মকর্তা, মিরপুর, ঢাকা
বর্তমানে সব মিলিয়ে সরকারি চাকরির ৫৬ ভাগ কোটা প্রথার দখলে। বাকি ৪৪ ভাগ পদের জন্য সারাদেশের মেধাবীরা প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হন। আমার জানা মতে, বিশ্বের কোথাও এ ধরনের নিয়ম প্রচলিত নেই। জেলা কোটার ব্যাপারে বলা যায়, সংবিধানে বলা আছে, অনগ্রসর অংশ; এখানে কিন্তু অনগ্রসর বলা হয়নি। কাজেই জেলা কোটা অনুসরণ করা যুক্তিযুক্ত নয়। তারপর নারী কোটার ব্যাপারে বলা যায়, বর্তমানে শিক্ষাক্ষেত্রে নারী-পুরুষ সমান এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে নারীরা বেশি সুবিধা পাচ্ছে। তারপরও নারী কোটা অনুসরণ করার যুক্তি কী? উপজাতি কোটা অনুসরণ করার সময় শুধু চাকমাদের প্রাধান্য লক্ষ্য করা যায়। দেশে তো আরও প্রায় ৪৪-৪৫টি উপজাতি রয়েছে। কোটা প্রথার চাকমাদের প্রাধান্য দেয়ায় অন্যদের অধিকার খর্ব হচ্ছে নাকি? মুক্তিযোদ্ধা কোটার ব্যাপারে আমার বক্তব্য হল- মুক্তিযোদ্ধাদের আমরা সম্মান করি, শ্রদ্ধা করি। কিন্তু তারা নিজে তাদের সম্মানের পর এখন নাতি-পুতিরাও যদি এ সুযোগ ভোগ করতে থাকে তাহলে এদেশে জন্মগ্রহণ করাটাই কি আমাদের অপরাধ? তারা সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সময় অতিরিক্ত বয়সের সুবিধাও পাবে, আবার কোটা সুবিধাও ভোগ করবে এটা তো হতে পারে না। মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারকে সরকার যদি সাহায্য-সহযোগিতা করতে চায় তবে অন্যভাবে করুক। দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মেধাবীদের বঞ্চিত করে তা করতে হবে কেন?
কোটা যদি দিতে হয় তবে সমাজে অনেক অনগ্রসরমান জনগোষ্ঠী আছে যেমন হিজড়াসহ অন্য প্রতিবন্ধীদের কোটা প্রথার আওতায় আনা যেতে পারে। তাছাড়া বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্যও কোটা থাকতে পরে। আমার বিবেচনায় কোটা পদ্ধতির মাধ্যমে ১০ শতাংশের বেশি নিয়োগ দেয়ার বিধান কোনোমতেই থাকা উচিত নয়।
মোঃ ফারুক হোসেন
ব্যবসায়ী, কুমিল্লা
সংবিধান অনুযায়ী দেশের নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। সেই অধিকারের পরিপ্রেক্ষিতে কোটা পদ্ধতি তুলে দেয়া একান্তই অবশ্য করণীয়। কোটা পদ্ধতির কারণে মেধাবীরা সুযোগ বঞ্চিত হচ্ছেন। বিশেষ করে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ৩০ শতাংশ কোটা সংরক্ষণের বিপক্ষে আমি।
আমি মনে করি, এই কোটার অপব্যবহার করা হচ্ছে। মুক্তিযোদ্ধাদের মর্যাদা বজায় রাখতেই এটা তুলে দেয়ার সময় হয়েছে।
নূর মোহাম্মদ
চাকরি প্রত্যাশী, চাঁদপুর
মাস্টার্স পরীক্ষা সম্পন্ন করে গত ৩ বছরে আমি চাকরির জন্য ৫০টির অধিক পরীক্ষায় অংশ নিয়েছি। লিখিত পরীক্ষায় ভালো নম্বর পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েও কোটা পদ্ধতির কারণে এখনও চাকরির সোনার হরিণটি ধরতে পারিনি। আমার মতো আরও অনেক মেধাবী প্রার্থীও হন্যে হয়ে চাকরির পেছনে ছুটছেন। হয়তো কোটা পদ্ধতি না থাকলে আমার চাকরি এতদিনে হয়ে যেত।
মোঃ আলাউদ্দীন মিয়া
চিফ পারসোনেল অফিসার, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ
আমার বিবেচনায় মেধাবী কোটা ৮০ শতাংশ করা দরকার। আর উপজাতীয়দের জন্য ৫ শতাংশ কোটা জনসংখ্যার অনুপাতে রাখা প্রয়োজন। মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ৪০ বছর পর পূরণের লোক না পাওয়ায় সরকারি কাজে বিঘœ ঘটছে। মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের জন্য ৫ বা ১০ শতাংশ রাখা যেতে পারে। শুধু মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য। নারীদের জন্য ১০ শতাংশ আরও ৫-১০ বছর রাখা যেতে পারে। প্রতিবন্ধী কোটায় কার্যোপযোগী ক্ষেত্রে প্রায়োগিক বিবেচনায় ১ শতাংশ রাখা যেতে পারে। আমি ২৮ বছরের অভিজ্ঞতায় অনেক কোটার ভুল ব্যাখ্যা করে চাকরিতে নিয়োগ করার ঘটনা দেখেছি। তাই মেধাবীদের জন্য ৮০ শতাংশ রেখে বাকিটা কোটাভিত্তিক বণ্টন করা উচিত।
মোঃ আনু মিয়া
কুমিল্লা
আমার সন্তান আজ ৩ বছর ধরে চাকরির ইন্টারভিউ দিয়ে যাচ্ছ। কোটার কারণে চাকরি বঞ্চিত হচ্ছে। আমি চাই কোটা পদ্ধতি তুলে দিয়ে প্রকৃত মেধাবী ও যোগ্যদের চাকরি দেয়া হোক।
আবদুল কাইউম ঠাকুর
অতিরিক্ত সচিব, ধানমণ্ডি
সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিল হওয়া দরকার। কারণ কোটা পদ্ধতির ফলে অনেক মেধাবী ছাত্রছাত্রী পরীক্ষায় ভালো ফল করা সত্ত্বেও চাকরি পাওয়ার সুযোগ থেকে বাদ পড়ে যায়। এর ফলে মেধাবী ছাত্রদের মধ্যে হতাশা দেখা দেয়। যার ফলে মেধা বিকশিত হওয়ার সুযোগ সংকুচিত হয়। সুতরাং কোটা পদ্ধতি বাতিল হওয়া প্রয়োজন। কারণ মেধার এই অবমূল্যায়ন দেশের জন্য মঙ্গলজনক নয়।
দেলোয়ার হোসেন দেলু
নিউ খানপুর, নারায়ণগঞ্জ
প্রকৃতপক্ষে চাকরির নিয়োগে মেধা ও যোগ্যতাকে অগ্রাধিকার দেয়ার কোনো বিকল্প নেই। কোটা প্রথাকে অগ্রাধিকার দেয়ায় প্রকৃত যোগ্য ও মেধাবীরা বঞ্চিত হচ্ছেন। প্রশাসনে নিয়োগ পাচ্ছেন অযোগ্য ও কম মেধাবীরা। এটা কোনোমতেই কাক্সিক্ষত নয়। এর প্রভাব পড়ছে প্রশাসনসহ সামগ্রিকভাবে সরকারি কর্মক্ষেত্রে, যার প্রকাশ ঘটছে নানাভাবেই। তাছাড়া এর ফলে ক্যাডার সার্ভিসের প্রতি মেধাবীরা আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। এমনও দেখা গেছে, কোটায় প্রার্থী পাওয়া না গেলে পদ শূন্য থেকে যায়। এর ফলেও মেধাশূন্য হয়ে পড়েছে প্রশাসন। অর্থাৎ কোটার প্রাধান্য রাষ্ট্রের জন্য খারাপ ছাড়া ভালো কোনো ফল বয়ে আনছে না। কাজেই এটা যতটা সম্ভব পরিহার করাই মঙ্গল।
আমরা মনে করি, স্বাধীনতার ৪২ বছর পর বিসিএসের বর্তমান কোটা পদ্ধতি নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে। কারণ কোটা পদ্ধতির লক্ষ্য ছিল সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে সামনে এগিয়ে আনা। সেই কাজ করতে গিয়ে মেধাবী পরীক্ষার্থীদের বঞ্চিত করা যাবে না। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে পিএসসি ক্যাডার সার্ভিসে কোটা পদ্ধতির পুনর্বিন্যাসের যে উদ্যোগ নিয়েছিল, তা বাস্তবায়িত হলে পরীক্ষার্থীদের যেমন রাস্তায় নামতে হতো না, তেমনি জনপ্রশাসনের দক্ষতা ও যোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হতো না। আন্দোলনের নামে রাস্তা বন্ধ কিংবা গাড়ি ভাংচুর করার বিষয়টি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। শান্তিপূর্ণ উপায়ে প্রতিবাদ করতে সমস্যা কোথায়? জনজীবন ব্যাহত হয় এমন কোনো কর্মসূচি নেয়া অনুচিত। যারা রাষ্ট্রের জনপ্রশাসনের দায়িত্ব নিতে আগ্রহী, তাদের কাছ থেকে দেশবাসী বিশৃংখলা নয়, দায়িত্বশীল আচরণই প্রত্যাশা করে।
মোঃ শামীম বাহার খান
চাকরিজীবী, মনতলা, হবিগঞ্জ
সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিলের দাবিতে আন্দোলন সম্পূর্ণ অযৌক্তিক এবং তা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরুদ্ধে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবার নানাভাবে হয়রানি ও অবহেলিত হয়েছে মুক্তিযুদ্ধবিরোধীদের হাতে। বিগত জোট সরকারের আমলে নিয়োগে মুক্তিযোদ্ধার কোটা অনুসরণ করা হয়েছে নামে মাত্র।
কোটা পদ্ধতি বাতিল হলে গোটা জাতির জন্য একটা কলংকিত অধ্যায়ের সূচনা হবে এবং মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবার, প্রতিবন্ধী, মহিলা ও উপজাতীয়দের প্রতি অন্যায় করা হবে।
আমি মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি বর্তমান সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি কোটা অব্যাহত রাখার জন্য।

অথঃ গাজীপুর সমাচার by ফারুক উদ্দিন অহমেদ

যা হওয়ার তাই হয়েছে। শেষ পর্যন্ত মরণপণ সংগ্রাম করেও আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সমর্থিত প্রার্থী গাজীপুর পৌর নির্বাচনে লক্ষাধিক ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন। গাজীপুরের আগে দেশের প্রধান চারটি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীরা শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়েছেন। তারও আগে চট্টগ্রাম ও নারায়ণগঞ্জে একই অবস্থা হয়েছে। চট্টগ্রামে ব্যক্তিগতভাবে মহিউদ্দিন চৌধুরী অত্যন্ত জনপ্রিয় হওয়া সত্ত্বেও দলের কারণে পরাজিত হয়েছেন। যেমন হয়েছেন রাজশাহীর লিটন ও বরিশালের হিরন। আর নারায়ণগঞ্জে ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং আওয়ামী লীগেরই নেত্রী হওয়া সত্ত্বেও সরকারি দল তাকে মনোনয়ন দেয়নি, দিয়েছিল একজন বিতর্কিত ব্যক্তিকে! ফলে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে আইভী জয়ী হয়েছেন অর্থাৎ সেখানেও আওয়ামী লীগেরই পরাজয় হয়েছে। সব সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে পরাজিত হয়েও এখনও আওয়ামী লীগ নেতারা নিজেদের দক্ষতা, সততা ও যোগ্যতার গান গাইছেন। অথচ এসব গুণ না থাকার কারণে তাদের উচিত ছিল আফসোস করা এবং লজ্জায় অবনতশির হওয়া! সব জায়গাতেই আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী এত বিশাল পরাজয়ের মুখোমুখি কেন হল- তা না খতিয়ে না দেখে দলের নেতারা ভোটারদের গালমন্দ করছেন এবং বিএনপি নেতাদের চরিত্র এমনকি জন্ম, জন্ম তারিখ ইত্যাদি নিয়ে নানা কথা বলছেন। বিএনপি আগে ভালো কাজ করেনি বলেই তো জনগণ তিন-চতুর্থাংশেরও বেশি ভোট দিয়ে আওয়ামী জোটকে ক্ষমতায় বসিয়েছিল। তারা আশা করেছিল, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে ত্যাগী নেতাদের দিয়ে সরকার গঠন করবে, দেশের ও দশের কল্যাণ করবে। কিন্তু দেখা গেল, অত্যন্ত জনপ্রিয় ও ত্যাগী নেতাদের কোণঠাসা করে রেলের কালো বিড়াল (তাও ঘাড় বাঁকিয়ে ব্যঙ্গ করে সারাদিন বকবক করা নির্লজ্জ নেতা!), যমুনা সেতুর দুর্নীতিগ্রস্ত রাঘববোয়াল এবং একগাদা ব্যর্থ বাম নেতা এবং বয়সের ভারে ন্যুব্জ ও বিকারগ্রস্ত কিছু লোককে দিয়ে মন্ত্রিসভা গঠন করা হল। এমন সব ব্যক্তিকে মন্ত্রী বানানো হল যারা সোনালী ব্যাংকের চার হাজার কোটি টাকা লুট হওয়ার পরও বললেন, ‘ওটা কিছুই না- রাবিশ।’ সরকারি ব্যাংকগুলোকে ব্যাপক অর্থে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণমুক্ত রেখেও বললেন, ‘এসব বাংলাদেশ ব্যাংকের দোষ।’ পৃথিবীর কোথাও ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান কোনোভাবেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণের বাইরে নেই- একথা বলে আইএমএফ যখন চাপ দিল, তখন ব্যাংক কোম্পানি আইনে কিছু পরিবর্তন আনলেন। তবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংকিং ডিভিশন বহাল থাকল। ওখানে থেকেই বিভিন্ন ব্যাংকের পরিচালক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগ করা হয়। তবে তা সাধারণত যোগ্যতা, সততা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে নয়, বরং দলীয় আনুগত্য ও ব্যক্তিগত চাটুকারিতার ভিত্তিতে, যা সবাই জানেন। আর এ কারণে ব্যাংকগুলোর বিশেষত সরকারি ব্যাংকগুলোয় দৈনদশা ও লুটপাট চলছে অবিরাম। কেউ এসব থামানোর কথা বলেন না বা চেষ্টা করেন না। কারণ ওভাবেই যে ওদের লাভ! যা হোক, অর্থ মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সব মন্ত্রণালয়ের যখন এই দশা- তখন জনগণ যাবে কোথায়? দুর্নীতি, দুঃশাসন, লুটপাট, অনাচারের কথা যিনিই বলেন, তার ওপরই খক্ষ নেমে আসে। অথচ এগুলো জানানোর জন্য তাকে ধন্যবাদ দিয়ে কিছুটা হলেও প্রতিকার করা হলে কতই না ভালো হতো! উল্টো দু’-তিনজন মন্ত্রী তো অনেককে দমন করার কথা বলেন, যা অত্যন্ত গর্হিত। এটা অগণতান্ত্রিকতা ও দাম্ভিকতারই বহিঃপ্রকাশ! আর আল্লাহ দাম্ভিকতা ভীষণ অপছন্দ করেন। তার ফলও এখন সবাই পাচ্ছেন।
বিভিন্ন সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে জনগণ সরকার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে, অনাস্থা জ্ঞাপন করেছে। তার মানে এই নয় যে, জনগণ বিএনপি দলীয় জোটকে মনের সুখে ভোট দিয়ে সমর্থন করেছে। এসব নির্বাচনের যে ফলাফল হয়েছে, তা হয়েছে মহাজোট সরকারের ব্যর্থতার জন্য, তাদের দোষে- ১৮ দলীয় জোটের গুণে নয়। বিএনপি জোট বিগত সময় মোটের ওপর কোনো ভালো কাজ করেনি, বরং দু’জন রাজাকারের গাড়িতে জাতীয় পতাকা লাগিয়েছিল! ভবিষ্যতে কী করবে, সাধারণ মানুষ জানে না। তবে বর্তমান সরকারও যে দু’-একটা ছাড়া মোটের ওপর কোনো ভালো কাজ করেনি, এটা মানুষ জানে। মানুষ হলমার্ক, শেয়ারবাজার কেলেংকারি, পদ্মা সেতু, বিশ্বজিৎ হত্যা, রানা প্লাজা ধস এবং ছাত্রলীগ-যুবলীগের অতুলনীয় মাস্তানি (এমসি কলেজের প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী দুটি হোস্টেল জ্বালিয়ে দেয়া, টেন্ডারবাজি এবং সরকারি কর্মচারী মারা, পুলিশকে মারা!) দেখে শংকিত। যেহেতু সরকার তথা আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোটের বিরুদ্ধে ভোট দিতে হবে এবং প্রতিদ্বন্দ্বী একটাই- বিএনপি, তাই মানুষ বিএনপি প্রার্থীদের এত বিপুল ভোটে বিজয়ী করেছে সর্বত্র।
আওয়ামী লীগ নেতারা তোতা পাখির মতো গদির মোহে ড. ইউনূসের মতো ব্যক্তির নিন্দা করেন। ব্যারিস্টার রফিক উল হক এবং ড. কামাল হোসেনের মতো লোকের নিন্দা করেন। কিন্তু তারা বোঝেন না, তাদের কেউই এদের সমতুল্য নয়! তারা বীরউত্তম বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীকেও তুলোধুনো করেন। কিন্তু বোঝেন না, দেশের মানুষ এদের চেনে, জানে ও বিরাট মূল্য দেয়। এত সব ভুলের পর ভালো কিছু তারা (মহাজোট নেতারা) আশা করেছিলেন কেন, বোধগম্য নয়। ‘দেশের মানুষ বোঝে না’- এটা বলা ও ভাবা যে কত বড় ভুল, তারা এখনও বুঝে উঠছেন না। যখন বুঝবেন, তখন হয়তো অনেক দেরি হয়ে যাবে। তাই অর্থহীন কথাবার্তা, আÍম্ভরিতা, পরনিন্দা, দুর্নীতি ও জঘন্য দলীয়করণের মনোভাব ছেড়ে দেশের কল্যাণে কাজ করা উচিত এবং একথা দুটি বড় দলের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। ভুল শোধরাতে যত বিলম্ব হয়, খেসারতের পরিমাণ তত বড় হয়- এটা মনে রাখাই বাঞ্ছনীয়।
ফারুকউদ্দিন আহমেদ : বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক অর্থনৈতিক উপদেষ্টা

এ কলংক আমাদের জাতীয় বিবেকের by মইনুল হোসেন

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদনে রাজনৈতিক দল এবং পুলিশকে দুর্নীতির শীর্ষ খাত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং দুর্নীতিতে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বিচার বিভাগ। দেশের শান্তি-শৃংখলার পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি সবার জন্যই উদ্বেগজনক, এমনকি যারা এ ব্যাপারে আত্মতৃপ্তিতে ভোগেন তাদের জন্যও। দুর্নীতির কথা বলতে গিয়ে সরকারি দল কিংবা বিরোধী দলের রাজনীতির মধ্যে কোনোরূপ পার্থক্য করা হয়নি। সামগ্রিকভাবে দুর্নীতির দ্বারা কলুষিত দলীয় রাজনীতির প্রতি জনগণ অসন্তোষ প্রদর্শন করেছে। জনতার ধারণায় পুলিশ এবং রাজনীতিবিদ সমান দুর্নীতিগ্রস্ত, এটা আমাদের সবার জন্য লজ্জার বিষয় হওয়া উচিত। বিচার বিভাগের দুর্নীতির বিস্তৃতির যে চিত্র তুলে ধরা হয়েছে তাও নিঃসন্দেহে দারুণ উদ্বেগের বিষয়। সরকার, পুলিশ এবং বিচার বিভাগ- সবাই মিলে যদি দুর্নীতিগ্রস্ত হয় তাহলে বুঝতে কষ্ট হওয়ার কথা নয় যে, সাধারণ মানুষকে দুর্নীতির সম্মিলিত চাপের কাছে অসহায়ভাবে নতিস্বীকার করে কী পরিমাণ দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। রাজনীতিবিদরা নয়, অনির্বাচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারই ২০০৭ সালে বিচার বিভাগকে স্বাধীন করেছিল। আমাদের গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় সংকট হচ্ছে আমাদের রাজনৈতিক নেতারা গণতন্ত্রের অর্থ কী এবং গণতন্ত্র কিভাবে কাজ করে সেটা না বুঝে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখলের মোহে গণতন্ত্রের বুলি কপচান। বিচার বিভাগ আইনগতভাবে স্বাধীন হওয়া সত্ত্বেও এর অন্তর্নিহিত দুর্বলতার কারণে বাইরের দুর্নীতির প্রভাব থেকে বিচার বিভাগকে রক্ষা করা যাচ্ছে না। বছরখানেক আগে প্রকাশিত বিচার বিভাগের দুর্নীতি সম্পর্কে অপর একটি মূল্যায়নের পরিপ্রেক্ষিতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সংশ্লিষ্ট সবার কাছ থেকে সহযোগিতা অনেকটা অসহায়ভাবে প্রত্যাশা করেছিল সুপ্রিমকোর্ট।
সব মামলার ক্ষেত্রে জামিন পাওয়ার ব্যাপারটিকে কঠিন করে তোলা উচিত নয়। কারও বিরুদ্ধে মামলা দিলেই তার বিরুদ্ধে আনীত অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে বলা যাবে না। মামলা দিলেই জামিন পাওয়া যাবে না এমন দাবি করা সুবিচারের কথা নয়। জামিন পাওয়ার অর্থ মুক্তি পাওয়া নয়। জামিন বিভিন্ন শর্তসাপেক্ষেও হতে পারে। অভিযুক্ত হলেই তার সব অধিকার হরণ করতে হবে, তাকে হাত-পা বেঁধে জেলে পুরতে হবে, এমন তো কোনো যুক্তি থাকতে পারে না। সেক্ষেত্রে ধরে নিতে হবে যে কোনো মামলায় জড়িত করা হলেই জামিন পাওয়া যাবে না। কোথায় কী ধরনের চাপ আছে তা বুঝতে হবে। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য সহজেই পুলিশ রিমান্ডে পাঠানোর ক্ষেত্রেও দুর্নীতির বড় ধরনের সুযোগ থাকে। তারপরও এই সহজ পন্থা অনুশীলন করার পেছনে কী যুক্তি থাকতে পারে তার সহজ ব্যাখ্যা দেয়া সম্ভব নয়। মনে হবে, কোর্ট-আদালতে স্বাধীন সুবিচারের চিন্তাভাবনা কাজ করছে না। তাই একজন অভিযুক্ত ব্যক্তি পদে পদে দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ডের অসহায় শিকার হচ্ছে। দুর্নীতির মামলাগুলোতেও অনেক অদৃশ্য দুর্নীতির কারবার চলছে। দুর্নীতির সুযোগ খুঁজতেই যেন সবাই ব্যস্ত- কে দোষী আর কে নিরপরাধ সেটা কোনো বিষয় নয়।
বিবেকের কাছে আবেদন করা ছাড়া বিচার বিভাগের দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিকার পাওয়ার কোনো প্রক্রিয়াগত উপায় নেই। সবকিছু দেখে শুনে কষ্টই পেতে হয়। যাদের রক্তে দেশ স্বাধীন হয়েছে সেই সাধারণ মানুষের জন্য সুবিচার বিধানে আমরা নানাভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছি। তাই বিচার বিভাগও দুর্নীতির শীর্ষে থাকার কলংক বহন করছে। এ কলংক আমাদের জাতীয় বিবেকের। আসলে আমাদের দরকার একটা সৎ ও অর্থবহ সাহসী সরকার, যে সরকার নিরপেক্ষ বিচারের মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং এর অর্থ উপলব্ধি করতে সক্ষম।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদনে রাজনীতিতে দুর্নীতির কথা উল্লেখ করায় বিস্মিত হওয়ার কিছু নেই। কারণ রাজনীতিতে দুর্নীতি যে শক্ত শেকড় গেড়ে বসেছে এবং রাজনীতি যে অর্থ কামানোর ভালো ব্যবসায়ে পরিণত হয়েছে সে কথা এখন সবার মুখে মুখেই উচ্চারিত হচ্ছে। একশ্রেণীর ব্যবসায়ীর কাছে দলীয় রাজনীতি জিম্মি হয়ে পড়েছে এবং অর্থ শক্তির কাছে সত্যিকারের রাজনীতিকরা আজ অসহায়। জনসেবার নীতি-মূল্যবোধ নিয়ে যদি রাজনীতি না করা যায় তাহলে রাজনীতি করতে হবে কেন, এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন অনেকেই। নেতৃত্বের পরিবর্তন ব্যবসায়ী রাজনীতিবিদদের কাছে গ্রহণীয় হতে পারে না। দুর্নীতিতে ভরা রাজনীতির ধারা যেমন চলছে, তেমনই অব্যাহত রাখাটাই এসব ব্যবসায়ী রাজনীতিকদের স্বার্থের অনুকূল। সুশাসন এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বদানের চ্যালেঞ্জকে গ্রহণ ও অর্থবহ করে থাকে রাজনীতিবিদরা, ব্যবসায়ীরা নয়।
রাজনীতিতে যদি দুর্নীতির লাভজনক ব্যবসা চালু রাখতে হয় তবে তাকে তো নিরাপদও করতে হয়। যেখানে রাজনীতিবিদরা নিজেরাই দুর্নীতির পক্ষে নিমজ্জিত, সেখানে সঙ্গতকারণে পুলিশের দুর্নীতিও উপেক্ষিত হবে, এটাই স্বাভাবিক। কোনো দুর্নীতিগ্রস্ত সরকার বিচার বিভাগের ভাবমূর্তি অমলিন ও স্বাধীনতা অক্ষুণ্ন রাখতে দিতে পারে না। দুর্নীতি দমন কমিশন যতই স্বাধীন হোক না কেন, সংস্থাটিকে দন্তহীন ব্যাঘ্র হিসেবে রাখা হবে যাতে করে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের বড় বড় দুর্নীতি আড়াল রাখা সম্ভব হয়।
রাজনীতি, পুলিশ এবং বিচার বিভাগকে দুর্নীতিগ্রস্ত করেই কেবল দুর্নীতির নেটওয়ার্ক সফলভাবে পরিপূর্ণতা লাভ করতে পারে। রাজনীতির দুর্নীতি হচ্ছে সব দুর্নীতির জননী। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বস্তুত সেই দুর্নীতির ভয়াবহ চিত্র ফুটিয়ে তুলেছে। এত অবিচার, এত বেশি অন্যায়ের কাছে আমরা এত সহজে নতজানু হয়ে আÍসমর্পণ করব, একটা সুশিক্ষিত ও সচেতন জাতি হিসেবে আমাদের কাছে তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। তবুও সব ধরনের অন্যায়-অবিচার বিনাবাধায় চলে আসছে বহুদিন ধরে। রাজনীতির উচ্চ পর্যায়ের দুর্নীতি কেবল অর্থ সংক্রান্ত নয়। চরম অসহিষ্ণু এবং হিংসাপ্রবণ রাজনীতির জন্য দায়ী রাজনীতির উচ্চ পর্যায়ের দুর্নীতি। রাজনীতিতে অত্যধিক হিংসার বিস্তার প্রত্যেকের জীবনকে অধিকতর ঝুঁকিপূর্ণ ও অনিরাপদ করে তুলেছে। এ রকম অবস্থা দেশের বিকাশমান অর্থনীতির জন্য উপযোগী, কিংবা জনগণের উন্নত জীবন বিকাশের অনুকূল হতে পারে না। সরকারি ভিআইপিদের নিরাপত্তা অধিকতর নিশ্চিত করার জন্য বিশেষ পুলিশি ব্যবস্থা নিলেই তারা নিরাপদে থাকবেন এমনটি ভাবা সুবিবেচনাপ্রসূত হতে পারে না। সমগ্র জাতির নিরাপত্তা বিধানের মধ্যে নেতা-নেত্রীদের নিরাপত্তা খুঁজতে হবে।
শিক্ষিত লোকেরা স্বাধীন ভূমিকা পালন না করার কারণে আমাদের দেশে গণতন্ত্র সহজেই অবক্ষয়ের শিকার হয়ে বিশাল ধাপ্পাবাজিতে পরিণত হয়েছে। তাদের বেশিরভাগই স্বেচ্ছা বন্দিত্ববরণ করে নিয়েছেন রাজনীতিকরণের সুবিধাভোগ করার আকর্ষণে। আমাদের নির্বাচনগুলো ভালো সরকার প্রাপ্তির গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের নিশ্চয়তা দেয় না। একটি ব্যর্থ এবং দুর্নীতিগ্রস্ত সরকারের জায়গায় অপর একটি ব্যর্থ ও দুর্নীতিগ্রস্ত সরকার আসছে এবং পৌনঃপুনিকভাবে একই ঘটনা ঘটে চলেছে। আমরা কেবল ব্যর্থতাই দেখে চলেছি, সুশাসনের জন্য কোনো স্তম্ভ তৈরি হতে দেখছি না। রাজনৈতিক নেতৃত্বকে দেখা হয় জাতির নৈতিক দিগদর্শন কম্পাস হিসেবে, যার কাছ থেকে জাতি লাভ করে সৎ ও সুন্দর জীবনের নির্দেশনা। যেসব প্রতিষ্ঠান সুশাসনের জন্য অপরিহার্য ভারসাম্য রক্ষা করে থাকে, রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষ আইনের শাসন তদারকি করে থাকে সেসব প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতির সুযোগ সৃষ্টি করে একদিকে সেগুলোকে ধ্বংস করা হয়েছে, অন্যদিকে আইনের প্রতি জনগণের শ্রদ্ধায় ক্ষয় ধরানো হয়েছে। এরকম পরিস্থিতি অবশ্যম্ভাবীরূপে দেশকে অরাজকতার পথেই ঠেলে দিচ্ছে এবং সামান্য অজুহাতে অনেকের মধ্যে আইন হাতে তুলে নেয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। আইনের প্রতি মানুষ তখনই শ্রদ্ধাশীল হয়, যখন তা সততার সঙ্গে পুলিশ কার্যকর করে এবং বিচার বিভাগের মাধ্যমে আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ নিশ্চিত থাকে।
গণতান্ত্রিক সুশাসনের জন্য অপরিহার্য এমন সব প্রতিষ্ঠান, যথা রাজনীতি, বিচার ব্যবস্থা এবং পুলিশকে তাদের শ্রদ্ধা ও সম্মানের সঠিক জায়গাটিতে ফিরিয়ে আনার দায়-দায়িত্ব আমাদের পালন করতেই হবে। রাজনীতির দুর্নীতিই পুলিশ ও বিচার ব্যবস্থায় দুর্নীতি ছড়াতে সাহস জোগাচ্ছে। সে কারণে শুরুতে দলের ব্যবসাদারি রাজনীতিতে পরিবর্তন আনতে হবে। ব্যবসাদারি রাজনীতি চলতে দিলে দেশে দুর্নীতির রাজত্বই চলবে। জনগণের নির্বাচন ব্যবসায়ী রাজনীতির হাতে প্রহসন হয়েই থাকবে। আর একের পর এক দুর্নীতির সরকারই আমাদের ভাগ্যে জুটবে।
তাই ব্যবসায়ী রাজনীতির তৈরি দুর্নীতির রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা অবশ্যই ভাঙতে হবে। নতুন প্রজন্মের জন্য সেই সুযোগ সৃষ্টির দায়িত্ব আমাদেরও। কারণ ব্যবসায়ী রাজনীতির দুর্নীতির দুর্গ নির্মাণে আমাদেরও ভূমিকা রয়েছে।
ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন : আইনজীবী ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ

ইরানে হামলার হুমকি দিলেন নেতানিয়াহু

নেতানিয়াহু
ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল একতরফা পদক্ষেপ নিতে পারে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গত রোববার এই হুমকি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, পরমাণু অস্ত্র তৈরির কর্মসূচিতে ইরান সাফল্যের ‘আরও কাছাকাছি’ পৌঁছে যাচ্ছে। এই উদ্যোগ বন্ধ করার লক্ষ্যে ইসরায়েল হয়তো যুক্তরাষ্ট্রের আগেই ব্যবস্থা নেবে। যুক্তরাষ্ট্রে এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ইরান চূড়ান্ত সীমার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে, তবে এখনো তা অতিক্রম করেনি। তারা বোমা তৈরি করে ফেলতে যাচ্ছে। কিন্তু ব্যাপারটা কোনোভাবেই ঘটতে দেওয়া যাবে না। এখন তাদের সেটা জানিয়ে দিতে হবে। ইসরায়েলি নেতা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় ইসরায়েলের হাতে সময় খুবই কম। তাই ইরানের বিতর্কিত কর্মসূচি বন্ধ করতে হয়তো ইসরায়েলকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। কারণ দেশটি তুলনামূলকভাবে বেশি অরক্ষিত হয়ে পড়বে। তাই যেকোনো মূল্যে ইরানকে রুখতে হবে, সম্ভবত মার্কিন উদ্যোগের আগেই। ইরানের ব্যাপারটি নিয়ে তিনি (নেতানিয়াহু) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওবামার সঙ্গে বহুবার আলাপ করেছেন। গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো, ইরানে নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতার পরিবর্তন হলেও পরমাণুনীতি বহাল থাকবে। কাজেই অবরোধ আরোপ করে দেশটিকে দমিয়ে রাখা সম্ভব না হলে সামরিক পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিতে হবে এবং এটিই হবে তাদের মোকাবিলার একমাত্র উপায়। ইরানের নতুন প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি আগামী ৩ আগস্ট দায়িত্ব নেবেন। তাঁর আমলেও দেশটির ইরানের পরমাণুনীতি পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই বলে নেতানিয়াহু মন্তব্য করেন। তুলনামূলক উদারপন্থী নেতা রুহানির সমালোচনা করে নেতানিয়াহু বলেন, ইরানের বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ‘আহমেদিনেজাদ নেকড়ের পোশাকে নেকড়ের ভূমিকা পালন করেছেন। কিন্তু রুহানির ভূমিকা হচ্ছে ভেড়ার পোশাকে নেকড়ের মতো। তিনি মুখে হাসি নিয়েই পারমাণবিক বোমা তৈরির উদ্যোগ অব্যাহত রাখবেন।’ পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ইরানের সঙ্গে বিশ্বের পরাশক্তি দেশগুলোর বিরোধ চলছে গত কয়েক বছর ধরে। ওই কর্মসূচির আড়ালে ইরান গোপনে পারমাণবিক বোমা তৈরি করছে বলে পশ্চিমা দেশগুলো সন্দেহ করে। তবে ইরান তাদের কর্মসূচিকে বরাবরই শান্তিপূর্ণ বলে দাবি করে অ সছে। এএফপি।

বুগতি হত্যা মামলায় মোশাররফকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ

পারভেজ মোশাররফ
বেলুচিস্তানের নেতা নওয়াব আকবর খান বুগতি হত্যা মামলায় পাকিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশাররফকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গতকাল সোমবার কোয়েটার সন্ত্রাসবিরোধী আদালত (এটিসি) এ নির্দেশ দেন। আদালত একই সঙ্গে মোশাররফকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেন। বেলুচ নেতা বুগতি হত্যা মামলায় গতকাল ওই আদালতে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। বেলুচিস্তানের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আফতাব খান শেরপাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন। শুনানির সময় এটিসির বিচারপতি মোহাম্মদ ইসমাইল সাবেক সেনাশাসক মোশাররফ ছাড়াও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শওকত আজিজ, বেলুচিস্তানের সাবেক গভর্নর ওয়েসিস আহমেদ ঘানিসহ মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তার ও আদালতের সামনে তাঁদের হাজির করার নির্দেশ দেন। ডন।

ভারতে বন্যায় নিখোঁজ ৫ হাজারেরও বেশি

ভারতের উত্তরাঞ্চলীয় রাজ্য উত্তরাখন্ডে গত মাসের বন্যায় অন্তত পাঁচ হাজার ৭৪৮ জন নিখোঁজ হয়েছে। তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করছে রাজ্যের কর্তৃপক্ষ। সরকার ওই নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবারগুলোকে ক্ষতিপূরণ দেবে। বন্যায় প্রায় ৬০০ জনের মৃত্যুর খবর আগেই নিশ্চিত করেছে সরকার। বন্যা ও ভূমিধস শুরু হওয়ার পর হিমালয় পর্বতের আশপাশের এলাকা থেকে অন্তত এক লাখ মানুষকে উদ্ধার করা হয়। চলতি বর্ষার শুরুতে উত্তরাখন্ড রাজ্যে যে পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়, তা গত ৮০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই বর্ষণে নদীগুলোর পানি বেড়ে গিয়ে রাজ্যের প্রায় সব গ্রামাঞ্চল প্লাবিত হয়। এ সময় আটকা পড়ে বহু পর্যটক। নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবারগুলোকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে বলে উত্তরাখন্ডের মুখ্যমন্ত্রী বিজয় বহুগুনা ঘোষণা দিয়েছেন। সরকারি কর্মকর্তারা বলেন, এই ক্ষতিপূরণের পরিমাণ হবে জনপ্রতি পাঁচ লাখ ভারতীয় রুপি। কর্মকর্তারা বলেছেন, মৃত ব্যক্তির প্রকৃত সংখ্যা হয়তো কখনোই জানা যাবে না। বহু মৃতদেহ ভেসে গেছে অথবা ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছে। বন্যাকবলিত বহু এলাকা এখনো যোগাযোগবিচ্ছিন্ন রয়েছে। স্থানীয় কেদারনাথ মন্দির অন্তত এক বছর জনসাধারণের জন্য বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। বিবিসি।

তামিল সংঘাত নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্র নিষিদ্ধ করল শ্রীলঙ্কা

ফ্লাইং ফিশ চলচ্চিত্রের পোস্টার
সরকারি বাহিনী ও তামিল বিদ্রোহীদের সংঘাত নিয়ে নির্মিত একটি চলচ্চিত্র নিষিদ্ধ করেছে শ্রীলঙ্কা সরকার। সরকারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, ছবিটিতে শ্রীলঙ্কা সরকার ও দেশটির সেনাবাহিনীকে অবমাননা করা হয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তার গণমাধ্যম শাখার মহাপরিচালক লক্ষ্মণ হুলুগাল্লা গতকাল সোমবার এ কথা জানান। ছবিটির নাম ফ্লাইং ফিশ। শ্রীলঙ্কার নির্মাতা সঞ্জিবা পুষ্পকুমারা ছবিটি পরিচালনা করেছেন। ২০১১ সালের এটির ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ারও হয়। ছবিটি নিষিদ্ধ হওয়ার ব্যাপারে সঞ্জিবার পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়াই ছবিটিতে সেনাবাহিনীর পোশাক ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ সরকারের। সে কারণেই এটি নিষিদ্ধ করা হয়েছে বলেন জানান হুলুগাল্লা। তিনি বলেন, ছবিটি নির্মাণের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এটির বিতরণ ও স্ক্রিনিং বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তামিল বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর এক চূড়ান্ত অভিযানের মধ্য দিয়ে ২০০৯ সালে দেশটির গৃহযুদ্ধের অবসান ঘটে। এই লড়াইয়ে সরকার ও বিদ্রোহী উভয় পক্ষই যুদ্ধাপরাধ করেছে বলে জাতিসংঘের দাবি। সংস্থাটির একটি তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারি ওই অভিযানে ৪০ হাজার তামিল বেসামরিক লোক নিহত হয়। তবে শ্রীলঙ্কা সরকার বরাবরই এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলে আসছে, অভিযানে বেসামরিক কেউ মারা যায়নি। দ্য হিন্দু।

মিসরে প্রধান খেলোয়াড় হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে সালাফিরা

নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসি ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর মিসরে যে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের কাজ চলছে, তাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে যাচ্ছে দেশটির সালাফিপন্থীরা। মুরসি-পরবর্তী মিসরের রাজনীতিতে এখন প্রধান খেলোয়াড় হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে অতি রক্ষণশীল এই ইসলামপন্থীরা। দীর্ঘ দমন-নিপীড়নের পথ পাড়ি দিয়ে এই পর্যায়ে আসতে হয়েছে সালাফিদের। সত্তর, আশি ও নব্বইয়ের দশকেও গোপনে কার্যক্রম চালাতে হয়েছে তাদের। সে সময় সংগঠনটির সদস্যরা মসজিদে জড়ো হলেও তাঁদের ওপর নজরদারি করা হতো। তবে ২০১১ সালের জানুয়ারি মাসের কথিত ‘আরব বসন্ত’ নামের বিপ্লবের পর মিসরে সবচেয়ে বড় উত্থান ঘটেছে কঠোর ইসলামি শরিয়াহ আইন চালুর পক্ষে অবস্থান নেওয়া সালাফিদেরই। গত এক বছর আরেক ইসলামপন্থী সংগঠন মুসলিম ব্রাদারহুড দেশটির ক্ষমতায় আসীন থাকলেও স্বৈরশাসক হোসনি মোবারক-পরবর্তী মিসরে সালাফিদের ভাগ্য সুপ্রসন্ন হয়েছে সবচেয়ে বেশি। হোসনি মোবারকের পতনের পরপরই সালাফিরা প্রথমবারের মতো রাজনৈতিক দল গঠন করে, যার নাম আল-নুর পার্টি। বিপ্লব-পরবর্তী প্রথম পার্লামেন্ট নির্বাচনে সালাফিরা দ্বিতীয় বৃহত্তম দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। মুসলিম ব্রাদারহুডের রাজনৈতিক শাখা ফ্রিডম অ্যান্ড জাস্টিস পার্টির (এফজেপি) পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসনে বিজয়ী হয় আল-নুর পার্টি। এর পর থেকে মিসরের রাজনীতিতে সালাফিদের প্রাধান্য লক্ষণীয়। মুসলিম ব্রাদারহুডের নেতৃত্বে প্রণীত সংবিধানে সালাফিরা সমর্থন দেয়। এরপর গত নভেম্বরে মুরসি যখন ডিক্রি জারির মাধ্যমে নিজের নির্বাহী ক্ষমতা সুসংহত করেন, সালাফিরা অতি দ্রুততার সঙ্গে তাতে সমর্থন দেয়। তবে সালাফিদের জন্য গত বছরটি ছিল পরীক্ষার বছর। ব্রাদারহুডের সঙ্গে তাদের সম্পর্কে ধীরে ধীরে টানাপোড়েন শুরু হতে থাকে। সংগঠনটির অনেকেই অভিযোগ তুলতে থাকেন, ব্রাদারহুড অন্য ইসলামপন্থীদের বাদ দিয়ে নিজের ক্ষমতা সুসংহত করছে। বিষয়টি নিয়ে সালাফিদের মধ্যে বিভাজন শুরু হয়। মুরসি-পরবর্তী মিসরে আল-নুর পার্টির রাজনৈতিক অবস্থান অনেকটা সুসংহত হয়েছে। বর্তমানে দেশটিতে যে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের কাজ চলছে, তাতে গুরুত্বপূর্ণ ‘খেলোয়াড়’ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে তারা। এ ক্ষেত্রে তারা যে রাজনৈতিক সুবিধা পাচ্ছে, তা মুরসির আমলে তাদের ছিল না। মিসরের চলতি রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে অন্তর্বর্তী নেতৃত্ব যেভাবে এগোচ্ছে, আল-নুর পার্টির নতুন অবস্থানের কারণে তাতে কোনো পরিবর্তন আসবে কি না, তা বলা কঠিন। তবে চলমান পরিস্থিতি মিসরে সালাফিপন্থীদের প্রথম ও সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দলটিকে তার অবস্থান শক্তিশালী করার সুযোগ করে দিয়েছে।

মস্কোয় স্নোডেনকে ফাঁদে ফেলেছে যুক্তরাষ্ট্র: পুতিন

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন গতকাল সোমবার অভিযোগ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এডওয়ার্ড স্নোডেনকে মস্কোতে ফাঁদে আটকে রেখেছে। তবে তিনি এও বলেছেন, স্নোডেন যত শিগগির সম্ভব রাশিয়া ছেড়ে চলে যাবেন। যুক্তরাষ্ট্রের গোপন নজরদারি কার্যক্রমের তথ্য ফাঁস করে হইচই ফেলে দেওয়া সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা কর্মী স্নোডেন মস্কোর শেরেমেতেয়েভো বিমানবন্দরে গত শুক্রবার এক বৈঠকে মানবাধিকারকর্মী ও আইনজীবীদের আমন্ত্রণ জানানোর পর প্রেসিডেন্ট পুতিন তাঁকে নিয়ে এই প্রথম জনসমক্ষে কোনো মন্তব্য করলেন। স্নোডেন তখন বলেছিলেন, তিনি অস্থায়ীভাবে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করে মস্কোর কাছে আবেদন করবেন। পুতিন বলেন, যত শিগগির সুযোগ আসবে, স্নোডেন তত শিগগির নিশ্চিতভাবেই অন্য কোথাও চলে যাবেন। তিনি স্নোডেনকে রাশিয়া ত্যাগে বাধা দেওয়ার অভিযোগ করেন ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে। হংকং থেকে গত ২৩ জুন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা এনএসএর সাবেক কর্মী স্নোডেন রাশিয়ার ওই বিমানবন্দরে আসেন। এরপর তিনি এখনো বিমানবন্দরের ট্রানজিট এলাকায় অবস্থান করছেন। রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘তিনি কোনো নিমন্ত্রণ ছাড়া আমাদের ভূখণ্ডে এসেছেন। (প্রকৃত অর্থে) তিনি আমাদের দেশে আসেননি। তিনি অন্য দেশে যাচ্ছিলেন। কিন্তু যখনই তাঁর রাশিয়াতে আসার খবর প্রকাশ হলো, তখন আমাদের মার্কিন অংশীদারেরা এখান থেকে চলে যাওয়ার সব ফ্লাইট বন্ধ করে দিল।’ এদিকে স্নোডেন অস্থায়ীভাবে রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়ে এখনো রাশিয়ার কাছে আবেদন করেননি। দেশটির কর্মকর্তারা গতকাল এ কথা জানিয়েছেন। কর্মকর্তারা জানান, শুক্রবারের পর থেকে এ পর্যন্ত স্নোডেন আর কোনো প্রকাশ্য বিবৃতি দেননি। এমনকি রাশিয়ার কর্তৃপক্ষের কাছে রাজনৈতিক আশ্রয়ের ব্যাপারে কোনো আবেদনও করেননি। এএফপি।

রায় প্রত্যাখ্যান করে নিউইয়র্কসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ

যুক্তরাষ্ট্রে কৃষ্ণাঙ্গ তরুণ ট্রেভন মার্টিনকে হত্যার মামলায় আসামি জর্জ
জিমারম্যানকে খালাস দেওয়ায় বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ হয়েছে।
বিক্ষোভের এই ছবি ম্যানহাটান থেকে তোলা ষ ছবি: এএফপি
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে কৃষ্ণাঙ্গ তরুণ ট্রেভন মার্টিনকে গুলি করে হত্যার মামলায় স্থানীয় নাগরিক নিরাপত্তা সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবী জর্জ জিমারম্যানকে খালাস দেওয়ায় বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ হয়েছে। গত রোববার নিউইয়র্ক, সান ফ্রান্সিসকো, বোস্টন, শিকাগোসহ বিভিন্ন শহরে হাজারো মানুষ আদালতের এ রায় প্রত্যাখ্যান করে বিক্ষোভ করে। জিমারম্যান গত বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি নিরস্ত্র মার্টিনকে (১৭) গুলি করে হত্যা করেন। আদালতে তাঁর আইনজীবীরা যুক্তি দেখান, আত্মরক্ষার জন্যই জিমারম্যান গুলি করেছিলেন মার্টিনকে। আদালত বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে জিমারম্যানকে নির্দোষ বলে রায় দেন। মার্টিনকে গুলি করে হত্যার ঘটনাকে অনেকেই বর্ণবাদী আচরণ বলে অভিযোগ তোলেন। বিষয়টি নিয়ে ওই সময় ব্যাপক আলোচনা হয়। বিক্ষোভকারীরা মার্টিন হত্যাকাণ্ডকে বর্ণবাদী ঘটনা আখ্যা দিয়ে জিমারম্যানের শাস্তি দাবি করেন। গত রোববার রায় ঘোষণার পরপর তা প্রত্যাখ্যান করে বিক্ষোভ শুরু হয়। ওয়াশিংটন, ফিলাডেলফিয়া, আটলান্টা ও ফ্লোরিডায়ও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভকারীরা ক্যালিফোর্নিয়ার ওকল্যান্ডে গাড়ি ভাঙচুর করেন। রায়ের পর লস অ্যাঞ্জেলেসে বিক্ষোভ বের হলে সড়কে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। সেখানে কোনো অঘটন ঘটেনি। স্থানীয় গণমাধ্যমগুলোতে বলা হয়, অন্তত দেড় শ জন বিক্ষোভকারী একটি সড়ক অবরোধ করে যান চলাচল বন্ধ করে দেন। নিউইয়র্কে টাইমস স্কয়ারে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন হাজারো মানুষ। এ সময় একজন বিক্ষোভকারীর টি-শার্টে লেখা ছিল, ‘আমি কৃষ্ণাঙ্গ, দয়া করে আমাকে গুলি করবেন না।’ বিক্ষোভকারী কার্লি ভ্যানভুরিস বলেন, ‘মার্টিন হত্যাকাণ্ড অবশ্যই বর্ণবাদী ঘটনা। এটাকে অন্য কিছু বলা হলে তা মিথ্যা বলা হবে।’ এএফপি।

যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিক মিসরে

নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য মিসরের কর্তৃপক্ষকে চাপ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি বিল বার্নস গতকাল সোমবার কায়রো গেছেন। অন্যদিকে, দেশটির ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসি ও ব্রাদারহুডের সমর্থকেরা দেশজুড়ে নতুন করে গণবিক্ষোভের প্রস্তুতি নিচ্ছে। মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করার বিষয়ে নিজেদের অবস্থানের সাফাই গেয়েছেন মিসরের সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল আবদেল-ফাত্তাহ। তিনি বলেছেন, মুরসি জনগণের ভোটে ক্ষমতায় গিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছিলেন। বিচার বিভাগ, গণমাধ্যম, পুলিশ, জনমত ও সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে বিরোধে জড়িয়েছিলেন। গত রোববার একটি অডিটরিয়ামে সেনা কর্মকর্তাদের সামনে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ কথা বলেন। মিসরের প্রথম নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মুরসিকে ৩ জুলাই সেনাবাহিনী ক্ষমতাচ্যুত করার পর এই প্রথম কোনো মার্কিন শীর্ষ কূটনীতিক দেশটি সফরে গেলেন। সেনাসমর্থিত অন্তর্বর্তী সরকার মুরসিকে যেখানে আটক রেখেছে, সেখানে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। শীর্ষ ইসলামপন্থী ১৪ নেতার সম্পদ জব্দ করা হয়েছে। মিসরের নতুন নেতারা অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর ও নির্বাচনের পরিকল্পনার দিকে এগোচ্ছেন। মুরসিকে ক্ষমতায় পুনর্বহালের দাবিতে বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছে মুসলিম ব্রাদারহুড। গতকাল সারা দেশে গণবিক্ষোভ চলাকালে ইসরায়েলের সীমান্তর্বর্তী সিনাই উপত্যকায় গ্রেনেড হামলায় তিনজন কারখানা শ্রমিক নিহত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সেনা কর্মকর্তা ও বেসামরিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন বার্নস। সহিংসতা বন্ধে ও নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য তাঁদের চাপ দেবেন তিনি। ২০১১ সালে মোবারকবিরোধী আন্দোলনের সময় মুরসি ও তাঁর দলের কয়েকজন নেতার কারাগার থেকে পালানোর বিষয়ে তাঁদের গত রোববার জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়েছে। মিসরের ইতিহাসে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রথম প্রেসিডেন্ট মুরসিকে এক বছর দায়িত্ব পালনের পর সেনাবাহিনী ক্ষমতাচ্যুত করে। তবে তাঁকে ক্ষমতাচ্যুত করার এ ঘটনাকে সামরিক অভ্যুত্থান বলতে নারাজ যুক্তরাষ্ট্র। অভ্যুত্থান স্বীকার করলে মিসরে সামরিক খাতে প্রায় দেড় শ বিলিয়ন ডলার মার্কিন অনুদান বন্ধ করতে হবে। রোববার দুজন প্রভাবশালী রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম ও জন ম্যাককেইন অ্যাশটন বলেন, মুরসিকে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছে। মুরসিসহ বন্দী রাজনীতিবিদদের শিগগিরই মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানান তাঁরা। একই দিন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান ক্যাথেরিন অ্যাশটনও মিসরের রাজনৈতিক বন্দীদের শিগগিরই মুক্তি ও নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরে জন্য দেশটির নতুন নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তবে অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হাজেম আল-বেবলাউয়ির নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে ব্রাদারহুড। কট্টর ইসলামপন্থী দল আল-নুর দলের মুখপাত্র নাদের বক্কর এএফপিকে বলেছেন, তাঁরাও অন্তর্বর্তী সরকারে যোগ দেবেন না। কেবল কোনো নির্বাচিত সরকারে যোগ দেবে দলটি। উদারপন্থী বিশিষ্ট নেতা মোহাম্মদ এল বারাদি গত রোববার দেশটির পররাষ্ট্রবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন। আজ মঙ্গলবার কিংবা কাল বুধবার নতুন মন্ত্রিসভা ঘোষণা করা হতে পারে। এএফপি ও বিবিসি।

নাসাকা ভেঙে দিল মিয়ানমার

মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (নাসাকা) ভেঙে দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট থেইন সেইন। রাখাইন রাজ্যে মুসলমান রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে নাসাকার বিরুদ্ধে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ম্যাগনাকার্টার ৮০০ বছর-এক জায়গায় হচ্ছে চার অনুলিপি

'ম্যাগনাকার্টা', যার অর্থ মহাসনদ। ইংল্যান্ডের সংবিধানের মূল ভিত্তি। এটি ইংল্যান্ডের মুক্তির মহাসনদ হিসেবেও পরিচিত। সামন্তবাদী ব্যারনদের দাবির মুখে এক অস্থির সময়ে দেশ পরিচালনায় একটি সংবিধানের প্রয়োজনীয়তা অনিবার্য হয়ে ওঠে।

'রাশিয়ায় আবেদন করেননি স্নোডেন'

ইন্টারনেট ও টেলিফোনে নজরদারি-সংক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্রের গোপন কর্মসূচির কথা ফাঁস করে দেওয়া এডওয়ার্ড স্নোডেন গতকাল সোমবার পর্যন্ত রাশিয়ায় আশ্রয় চেয়ে আবেদন করেননি।

শেষ টেলিগ্রাম রাহুলকে

ভারতে গত রবিবার ছিল টেলিগ্রাম সেবার শেষ দিন। স্থানীয় সময় রাত পৌনে ১২টায় কংগ্রেসের ভাইস প্রেসিডেন্ট রাহুল গান্ধীকে শেষ বার্তাটি পাঠিয়ে 'অবসরে' গেল টেলিগ্রাফ ব্যবস্থা।

উত্তরাখণ্ডে বন্যা-ভূমিধস-ওরা নিখোঁজ, না মৃত?

ভারতের উত্তরাখণ্ডে গত মাসের বন্যা ও ভূমিধসে নিখোঁজ পাঁচ হাজার ৭৪৮ জনকে এখনো নিখোঁজ বলা হবে, নাকি মৃতদের তালিকায় তাদের নাম তোলা হবে, তা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যের সূত্র ধরেই এ বিতর্কের সৃষ্টি।

অভ্যুত্থানের পক্ষে সাফাই সিসির-জনতা চেয়েছে বলেই মুরসিকে সরানো হয়েছে

মিসরে প্রথমবারের মতো গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করার সিদ্ধান্ত সঠিক বলে মন্তব্য করেছেন সেনাপ্রধান জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ এল-সিসি। তাঁর দাবি, জনগণের ভোটের অমর্যাদা করেছেন ইসলামপন্থী মুরসি।

ট্রেভন হত্যা মামলার রায়-যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বিক্ষোভের ঢেউ

ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের কৃষ্ণাঙ্গ কিশোর ট্রেভন মার্টিন হত্যা মামলার রায় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। নিউ ইয়র্ক, ওয়াশিংটন, শিকাগো, বোস্টনসহ ছোট-বড় সব শহরে সাধারণ মানুষজন রাস্তায় প্রতিবাদ মিছিলে নেমেছে।

ভূমি কর্মকর্তার বেতন স্কেল-স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার কাম্য

খাজনা হিসেবে ব্যাপকভাবে পরিচিত ভূমি উন্নয়ন কর আদায়, ভূমি মালিকানা সংক্রান্ত বিরোধের তদন্তকাজ, সরকারি ভূমির রক্ষণাবেক্ষণের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন ইউনিয়ন পরিষদ পর্যায়ে নিয়োজিত সহকারী ভূমি কর্মকর্তা ও উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তারা।

গোলাম আযমের শাস্তি-আশাহত হলো জাতি

জামায়াতের সাবেক আমির, একাত্তরের নৃশংস মানবতাবিরোধী অপরাধের 'মাস্টারমাইন্ড' গোলাম আযমের ৯০ বছর কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

দৈনন্দিন বিজ্ঞান-পারফিউম ব্যবহারে সতর্ক থাকুন

গরমে ঘামের দুর্গন্ধ থেকে মুক্তি পেতে একেকজন একেক ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকেন। এ ক্ষেত্রে আতর, সুগন্ধি, বডিস্প্রে, পারফিউম ইত্যদি ব্যবহার লক্ষ করা যায়। পারফিউম তৈরি বা সংগ্রহের জন্য রয়েছে অনেক উপায়।

ভালো থাকুন-রোজায় পাকস্থলীজনিত সমস্যা

রোজার সময় আরেকটি সাধারণ সমস্যা হচ্ছে 'পেটের গোলমাল'। অনেকেরই পাকস্থলীতে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। পেটে ব্যথা, ফাঁপা, জ্বালাপোড়া, গুড় গুড় করা, বদহজম, গ্যাস হওয়া প্রভৃতি সমস্যা প্রায়ই ঘটে।

যক্তিত্ব-সামুয়েল ইউসফ এগনন

এগনন জন্মগ্রহণ করেন ১৮৮৮ সালের ১৭ জুলাই গালিসিয়াতে। বর্তমানে তা ইউক্রেনের অংশ। তিনি ছিলেন হিব্রু ভাষার আধুনিক কথাসাহিত্যের অন্যতম অগ্রদূত। তিনি পরিচিত সাই এগনন নামে।

পবিত্র কোরআনের আলো-আল্লাহর সঙ্গে অংশীদারিত্বের বিশ্বাস গুরুতর জুলুম

১০৫. ওয়া কাআয়্যিম মিন আ-য়াতিন ফিস সামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদি য়ামুর্রূনা 'আলাইহা- ওয়া হুম 'আনহা মু'রিদোন। ১০৬. ওয়া মা- য়ু'মিনু আকছারুহুম বিল্লাহি ইল্লা ওয়া হুম মুশরিকূন। সুরা ইউসুফ।

'বিভক্তিটা কত দিন চলবে এটাই এখন দেখার বিষয়'

সরকারি চাকরিতে বিভিন্ন কোটা পদ্ধতির কারণে নিয়োগে যে বিভক্তি দেখা দিয়েছে, তা নিরসনে সরকারি কর্মকমিশনকে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক এস এম এ ফয়েজ বলেছেন,

আল্লামা শফীর অশালীন বচন ও ভোটের রাজনীতি by এ কে এম শাহনাওয়াজ

ছেলেবেলায় যখন স্কুলে পড়তাম, তখন মাঝেমধ্যে রাত জেগে ওয়াজ শুনতে যেতাম। শীতের শুরুতে চাদর গায়ে প্যান্ডেলের নিচে বসে ধর্মীয় আবেগ ও ভক্তি নিয়ে হুজুরদের বয়ান শুনতাম।

কথা সামান্যই-দুঃখিত, নির্বাচন নির্দলীয় হয় নাই by ফজলুল আলম

দেশে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন হয়ে গেল, কলামিস্ট, টক শো, খবর- সর্বত্র সেসব নিয়ে প্রচুর শব্দ ব্যয় হয়েছে, এই লেখার সময় পর্যন্ত বিদেশে বসে যা শুনলাম তাতে মনে হচ্ছে যে নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে সরকার তৃপ্ত, যদিও এর অন্য ব্যাখ্যা অনেকে করছেন।

অনলাইন থেকে-আশার বিরুদ্ধে আশা

'অবশেষে মিসর মুসলিম ব্রাদারহুডের দমনমূলক শাসন থেকে মুক্ত হলো!' কথাগুলো বলেছিলেন ড. মুনির হান্না আনিস। প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করে গ্রেপ্তারের পর লাখ লাখ মিসরীয়র মতো উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন তিনিও।

কল্পকথার গল্প-অভিমন্যু কিংবা কোনো এক গাছির গল্প by আলী হাবিব

কী হচ্ছে রাজনীতিতে? একটি পরিবর্তন কি আসন্ন? কী সে পরিবর্তন? নানাজনের নানা অভিমত। কারো কারো মতে, আওয়ামী লীগের বিদায়ঘণ্টা বেজে গেছে। বিএনপি ক্ষমতায় এলো বলে- এই ভেবে পুলকিত কেউ কেউ।

কালান্তরের কড়চা-বাংলাদেশের আইখম্যানের বিচার ও দণ্ড by আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী

অবশেষে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের পালের গোঁদা, জামায়াত নেতা গোলাম আযমের বিচারের রায় ঘোষিত হয়েছে। অবশ্যই এই অতি বৃদ্ধ বয়সে বিচারের সম্মুখীন হওয়া ও নিজের কৃতকর্মের বিচারের রায় নিজের কানে শুনতে হওয়ার জন্য সংবেদনশীল কিছু মানুষ অবশ্যই তাঁর প্রতি কিছুটা হলেও সহানুভূতিশীল হবেন।