Friday, June 7, 2024

জাতিসংঘ পরিচালিত স্কুলে হামলার বিষয়ে ইসরাইলের কাছে স্বচ্ছতা দাবি যুক্তরাষ্ট্রের

গাজায় জাতিসংঘ পরিচালিত স্কুলে ইসরাইলের হামলার স্বচ্ছতা দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ইসরাইলের দাবি, ওই স্কুলে হামাস নেতারা অবস্থান করছিলেন। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র নিহত হামাস নেতাদের পরিচয় প্রকাশ করতে বলেছে। এক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বৃহস্পতিবার সকালে গাজার বাস্তুচ্যুত মানুষদের ওই আশ্রয়স্থালে ইসরাইল বিমান থেকে হামলা চালায়। এতে কমপক্ষে ৩৫ জন নিহত জন।

স্থানীয় সাংবাদিকরা বলেছেন, একটি যুদ্ধবিমান থেকে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে ওই স্কুলের উপরের তলায়। নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরের ওই স্কুলে আশ্রয় নেয়া মানুষদের রক্তে তখন ভেসে যায় স্কুল ক্যাম্পাস। ওই স্কুলে হামাসের কোনো সদস্য থাকার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে হামাস। এর প্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র ওই আহ্বান জানিয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।

গাজায় এমন হামলা ঘন ঘন চালিয়েছে ইসরাইল।
কিন্তু তাদেরকে এমন স্বচ্ছতা বজায় রাখতে মার্কিন দাবি খুব বিরল। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার বলেছেন, ইসরাইল বলেছে ওই স্কুলে ২০ থেকে ৩০ জন হামাস সদস্য ছিলেন। তাদেরকে টার্গেট করেছে তারা। এসব হামাস সদস্য, যাদেরকে তারা হত্যা করেছে, তাদের নাম প্রকাশ করতে হবে। নাম প্রকাশ করতে চেয়েছে ইসরাইল। আমরাও তাই চাই। একই সঙ্গে এই ঘটনার  অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয় সম্পর্কেও বিস্তারিত জানাতে হবে।

ওদিকে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ডানিয়েল হাগারি হামাস ও ইসলামিক জিহাদ যোদ্ধাদের ৯ জনের নাম প্রকাশ করেছে। বলেছে, তারা হামলায় নিহত হয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, আরও তথ্য পাওয়ার পর তাদের নাম পরিচয় প্রকাশ করা হবে। ম্যাথিউ মিলার বলেন, ওই হামলায় ১৪টি শিশু নিহত হয়েছে বলে রিপোর্ট দেখতে পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তারা কোনো সন্ত্রাসী নয়।


 

জেলে ইমরান খানকে যে সুবিধা দেয়া হচ্ছে

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের নিঃসঙ্গ কারাভোগের দাবির বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে তথ্যপ্রমাণ জমা দিয়েছে পাকিস্তান সরকার। জাতীয় জবাবদিহিতা ব্যুরোর (এনএবি) আইন সংশোধনকে চ্যালেঞ্জ করে আপিলের শুনানিকালে বৃহস্পতিবার এসব তথ্যপ্রমাণ সুপ্রিম কোর্টে জমা দেয় সরকার। ইমরান খান বর্তমানে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা জেলে বন্দি আছেন। পাকিস্তান তেহরিকে ইনসাফ প্রধানও তিনি। তাকে ওই জেলখানায় কি কি সুবিধা দেয়া হচ্ছে সে সম্পর্কে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিয়েছে সরকার। এর মধ্যে রয়েছে তার কারাকক্ষের ছবি। ইমরান খান দাবি করেছেন তাকে নিঃসঙ্গ কারাগারে রাখা হয়েছে। তিনি ডিভিশন পাচ্ছেন না। এর জবাবে সরকার তাকে দেয়া সুবিধাগুলোর ছবি জমা দিয়েছে। তাতে দেখা যায় তাকে শরীরচর্চা করার জন্য একই এক্সারসাইজ বাইক, একটি  স্ট্রেচিং বেল্ট দেয়া হয়েছে।
আছে বই, একটি আলাদা রান্নাঘর, একটি বিশেষ মেন্যু, হাঁটার জন্য আছে একটি এক্সক্লুসিভ গ্যালারি, একটি রুম কুলার এবং একটি পড়ার টেবিল। জেলকক্ষে দেয়া সুবিধার শুধু ছবি এবং নামই আদালতে জমা দেয়নি সরকার, একই সঙ্গে তার সঙ্গে জেলে কে কে তার সাক্ষাৎ করতে গেছেন- তাদেরও নাম জমা দিয়েছে। এ শুনানির সময় জেল থেকে ভিডিও লিংকের মাধ্যমে যুক্ত হন ইমরান খানও। বৃহস্পতিবার আপিলের শুনানি করেন প্রধান বিচারপতি কাজী ফয়েজ ইসার নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের বড় একটি বেঞ্চ। শুনানিকালে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী খাজা হারিসকে তার মক্কেল ইমরান খানকে সাক্ষাৎ করাতে বলেন। ইমরান খান এনএবি’র আইন সংশোধনকে চ্যালেঞ্জ করেছেন। তার আবেদনের বিষয়ে এর আগে সুপ্রিম কোর্টের তিন সদস্যের বেঞ্চ এনএবি’র আইন সংশোধনকে বাতিল করে দেয়। তাদের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে কেন্দ্রীয় সরকার। শুনানিকালে গতকাল পাকিস্তান পিপলস পার্টির আইনজীবী ফারুক এইচ নায়েক সুপ্রিম কোর্টকে বলেন, ওই রায়ের বিভিন্ন পয়েন্ট লিখিতভাবে জমা দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্টের ওই রায়ের ওপর আমার যুক্তি লিপিবদ্ধ করেছি। প্রধান বিচারপতি ইসা জানতে চান ওই আইনজীবীর কাছে যে, তিনি কি জমা দেয়া ডকুমেন্টে আদালতের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করছেন। জবাবে নায়েক বলেন, তিনি বিচারক মানসুর আলি শাহের নোটকে সমর্থন করেন।


 

ভারতে লোকসভার এমপিরা এত্ত সুবিধা পান!

ভারতে লোকসভা নির্বাচন শেষ। জোটবদ্ধভাবে এগিয়ে থাকা এনডিএ সরকার গঠনের পথে রয়েছে। পথ একেবারে ছেড়ে দেয়নি কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইন্ডিয়া জোটও। তারা এখনও পরাজয় স্বীকার করেনি। ফলে সরকার গঠন নিয়ে কিংমেকারদের সঙ্গে উভয় পক্ষের চলছে প্রকাশ্যে এবং গোপনে দেনদরবার, দর কষাকষি। এ লক্ষ্যে তারা এরই মধ্যে দিল্লি পৌঁছেছেন। চলছে দরদাম। কিংমেকাররা যেদিকে ঝুঁকবেন, সেই পাল্লাই ভারি হবে এবং সরকার গঠন করবে। তবে সব মিলে ২৯৩ আসনে এগিয়ে থাকায় এনডিএ জোট সরকার গঠনের ডাক দিয়েছে। সে লক্ষ্যে শনিবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেয়ার কথা ছিল নরেন্দ্র মোদির।
কিন্তু অদৃশ্য কারণে তা একদিন পিছিয়ে রোববার সন্ধ্যা করা হয়েছে। মনে করা হচ্ছে, মিত্রদের সঙ্গে দর কষাকষির জন্য এই সময়ক্ষেপণ। সে যা-ই হোক। নির্বাচিত এমপিরা কত বেতন পান এবং আনুষঙ্গিক আর কি কি ভাতা পান, তা এক নজরে দেখে নেয়া যাক। ভারতে লোকসভা নির্বাচনে নির্বাচিত একজন এমপি বেসিক হিসেবে এক লাখ রুপি পান। ২০১৮ সালে মূল্যবৃদ্ধি, মুদ্রাস্ফীতি এবং জীবন ধারনের খরচ বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এই বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে। এর বাইরে প্রতিটি আসনের জন্য একজন এমপি পান ৭০ হাজার রুপি। এই খরচ দিয়ে তিনি এলাকায় অফিস এবং অন্যান্য কাজ সম্পন্ন করেন। অফিস খরচ হিসেবে মাসে ৬০ হাজার রুপি পান একজন এমপি। এর মধ্যে আছে স্টেশনারি, টেলিযোগাযোগ স্টাফ বেতন ইত্যাদি। পার্লামেন্ট অধিবেশন চলাকালে এবং কমিটির মিটিংয়ের সময় একজন এমপি প্রতিদিন দুই হাজার রুপি এলাউন্স হিসেবে পান। অবস্থান, খাদ্য ও অন্য খরচ বাবদ এই অর্থ দেয়া হয়। একজন এমপি প্রতি বছর নিজের এবং তার পরিবারের সদস্যদের জন্য দেশের ভিতর বিনা ভাড়ায় ৩৪টি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে সফর করতে পারেন। সরকারি কাজ ও ব্যক্তিগত সফরের জন্য তারা ট্রেনে বিনামূল্যে ফার্স্ট ক্লাস সফরের সুযোগ পান। নিজের সংসদীয় এলাকার ভিতরে সফর করার জন্য তারা মাইলেজ হিসেবে এলাউন্স পান। ক্ষমতায় থাকা ৫ বছর সময়ের জন্য তাদেরকে উন্নত এলাকায় বিনামূল্যে আবাসন সুবিধা দেয়া হয়। সিনিয়রিটির ভিত্তিতে তারা বাংলো, ফ্লাট বা হোস্টেল রুম পান। যারা এসব সুবিধা নেবেন না তারা গৃহায়ন বাবদ মাসে দুই লাখ রুপি দাবি করতে পারেন। সেন্ট্রাল গভর্নমেন্ট হেলথ স্কিমের অধীনে তারা এবং পরিবারের সদস্যরা বিনামূল্যে চিকিৎসা নিতে পারেন। এর আওতায় থাকা বেসরকারি হাসপাতাল এবং সরকারি হাসপাতালে তারা এ সুবিধা নিতে পারেন। পার্লামেন্টের সাবেক একজন এমপি প্রতি মাসে পেনশন হিসেবে পান ২৫ হাজার রুপি। অতিরিক্ত সময় দায়িত্বে থাকলে মাসে দুই হাজার রুপি করে ইনক্রিমেন্ট পান। বছরে একজন  এমপি বিনামূল্যে এক লাখ ৫০ হাজার টেলিফোন কল করতে পারেন। অফিস এবং বাসায় উচ্চ গতির ইন্টারনেট সংযোগ পান বিনামূল্যে। ৫০ হাজার ইউনিট বিদ্যুত এবং চার হাজার কিলোলিটার পানি বছরে দেয়া হয় বিনামূল্যে।