Wednesday, October 30, 2024

বাংলাদেশে হাসিনার ‘ফ্যাসিস্ট’ দলের কোনো স্থান নেই: ড. ইউনূস

‘ফ্যাসিবাদের সকল বৈশিষ্ট্য’ প্রদর্শনের জন্য ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরাচারী নেত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগকে অভিযুক্ত করেছেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, দেশের রাজনীতিতে তাদের কোনো স্থান নেই। যুক্তরাজ্যভিত্তিক গণমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এমন মন্তব্য করেছেন ড. ইউনূস।

জুলাই-আগস্ট ছাত্রজনতা নেতৃত্বাধীন অভ্যুত্থানের পর যখন হাসিনার পতন হয়েছে তখন বাংলাদেশের প্রাচীন দল আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছেন ৮৪ বছর বয়সী শান্তিতে নোবেলজয়ী ড. ইউনূস।

তিনি আরও বলেছেন, এখনই তার সরকার ভারতে পালিয়ে যাওয়া শেখ হাসিনাকে দিল্লির কাছে ফেরত চাইবে না। কেননা এ বিষয়টি প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। ড. ইউনূস বলেছেন, নিশ্চিতভাবেই বাংলাদেশে স্বল্পমেয়াদে তার কোনো জায়গা হবে না, তার দল আওয়ামী লীগেরও কোনো জায়গা হবে না। কেননা তারা দেশের জনগণ এবং রাজনৈতিক কলকব্জা নিয়ন্ত্রণ করেছে। তারা নিজেদের সুবিধার জন্য রাষ্ট্রের সকল প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার করেছে। সুতরাং তাদের মতো কোনো ‘ফ্যাসিস্ট দল’ গণতান্ত্রিক ধারায় স্থান পাবে না।

রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তাদের আমলে হওয়া নির্বাচনে কারচুপি, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং শেখ হাসিনার ১৫ বছরের বেশি সময়ের শাসনামলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান দখলের অভিযোগ এনেছে। হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর তার দলকে রাজনীতি থেকে সাময়িক নিষিদ্ধের আলোচনাও শুরু হয়েছে। অনেকে বলছেন, রাজনীতিতে ফিরতে হলে আওয়ামী লীগকে সংস্কারের মধ্য দিয়ে আসতে হবে। আবার কারো কারে মতামত হচ্ছে ওই দলটিকে চিরতরে নিষিদ্ধ করা উচিত। এ নিয়ে বেশ বিতর্ক চলছে।

ড. ইউনূসের ধারণা আওয়ামী লীগ ভেঙে যেতে পারে। তবে তিনি এ বিষয়েও জোর দিয়েছেন যে, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে হাসিনার দলের কোনো ভাগ্য বদল হবে না। কেননা তারা কোনো বর্তমান সরকার ‘রাজনৈতিক সরকার নয়’। তিনি বলেছেন, আওয়ামী লীগ আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে কি-না তা নির্ধারিত হবে রাজনৈতিক দলগুলোর ‘ঐক্যমতের’ ভিত্তিতে। এক্ষেত্রে তাদের রাজনৈতিক অবস্থান কী হবে তা নির্ধারণ করতে হবে।

ভারতে হাসিনা কোথায় আছেন সে অবস্থান এখনও নিশ্চিত নয়। সাবেক এমপি ও আওয়ামী লীগের সাংগাঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে বলেছেন, তাদের দল যে কোনো সময় নির্বাচনে অংশ নিতে প্রস্তুত।

উল্লেখ্য, ২০০৬ সালে শান্তিতে নোবেল পান ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ক্ষমতায় থাকাকালীন ড. ইউনূসকে টার্গেট করেছিলেন হাসিনা। এতে ব্যাপক সমালোচিত হয়েছিলেন ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী।

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের মধ্যে দুইজন ছাত্রনেতা রয়েছেন। বাংলাদেশে নতুন নির্বাচনের পথ তৈরি করার পাশাপাশি পুলিশ, বিচার বিভাগ এবং জনপ্রশাসনসহ সংস্কারমূলক কাজের জন্য ১০টি কমিশন গঠন করেছে ড. ইউনূস সরকার।

ইতিমধ্যেই কোনো রাজনৈতিক দলে যোগ না দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ড. ইউনূস। এছাড়া তার কোনো রাজনৈতিক দল গঠনেরও ইচ্ছা নেই। তিনি বলেছেন, আমাদের কাজ হচ্ছে সংস্কার এজেন্ডাগুলো নিষ্পত্তি করা। নির্বাচনের প্রস্তুতি শেষ হলে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আবারও আলোচনায় বসব আমরা।

শেখ হাসিনার শাসনের পতনের ফলে তার সবচেয়ে বড় বিদেশি সমর্থক ভারতের সাথে সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে বাংলাদেশের। হাসিনাসহ তার দলের ৪৫ নেতার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এই আদালতের রায় ঘোষণার পরই ভারতের সঙ্গে হাসিনার প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে আলাপ শুরু করবে অন্তর্বর্তী সরকার।

ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে ড. ইউনূস বলেন, হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। এই মামলার রায় ঘোষণার পর ভারতের সঙ্গে প্রত্যার্পণ চুক্তির আওতায় তাকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে। আমি মনে করি না যে, রায় হওয়ার আগে এটা করার দরকার আছে।

আগস্টে হাসিনা পুত্র সজিব ওয়াজেদ জয় ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে বলেছেন, বিক্ষোভ দমনে তার মায়ের বিরুদ্ধে সহিংসতার যেসকল অভিযোগ আনা হয়েছে তা মিথ্যা। হাসিনা পুত্রের দাবি, যেহেতু শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের সত্যতা নেই তাই যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্তুত রয়েছেন তিনি।

হাসিনা দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়ার পর তার দলের অনেক নেতা-কর্মী দেশ ছেড়েছেন অথবা আত্মগোপনে রয়েছেন। ছাত্রজনতার অভ্যুত্থানের পর বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের হাতে আওয়ামী লীগের কিছু নেতাকর্মী হত্যার অভিযোগ উঠেছে। তবে এর সংখ্যা কত তা সঠিকভাবে জানা যায়নি।

ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ড. ইউনূসের সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ছাত্র-জনতার আন্দোলনে প্রায় ৮০০ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। তবে, হিন্দুদের ওপর ব্যাপক নৃশংসতা নিয়ে ভারত যে অভিযোগ করছে তার কোনো সত্যতা নিশ্চিত করেনি মানবাধিকার সংস্থাগুলো।

ইউনূস হিন্দুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার ‘কিছু ঘটনা’ এবং ‘খুব অল্প সংখ্যক প্রাণহানির কথা স্বীকার করেছেন। তবে তিনি যুক্তি দিয়েছিলেন যে, আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্টতার জন্য তাদের টার্গেট করা হয়েছিল, ধর্মের জন্য নয়।

ড. ইউনূস বলেছেন, বিদ্যুৎ, পানি এবং অন্যান্য অবকাঠামো প্রকল্পের ক্ষেত্রে দিল্লির সমর্থনের অভাব রয়েছে। তিনি নরেন্দ্র মোদিকে বাংলাদেশে স্বাগতম জানিয়েছেন। দুই প্রতিবেশীর যেমন সম্পর্ক থাকা উচিত তা সর্বোত্তম পন্থায় থাকতে হবে বলে মনে করেন ইউনূস।

mzamin

একেই বলে ভাগ্যের ফের!

সাইমন সিও-এর শৈশব কেটেছিল ম্যাকাও-এর কেন্দ্রস্থলে। শহরের সবচেয়ে বড় আবাসন হোটেল সেন্ট্রালের একদম নিকটে একটি পুরনো বিল্ডিংয়ে তিনি বসবাস করতেন। ১৯২৮ সালে চালু হবার পর হোটেল সেন্ট্রাল সেলিব্রিটি এবং কূটনীতিকদের জন্য জমায়েতের অন্যতম স্থান হয়ে ওঠে। ১৯৬০-এর দশকে ছোট্ট সিও-এর বড় হয়ে ওঠা এই হোটেলকে ঘিরেই। এটি প্রাক্তন পর্তুগিজ উপনিবেশের কয়েকটি জায়গার মধ্যে একটি ছিল যেখানে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ছিল, পুরনো টেনিমেন্ট ভবনগুলির তুলনায় এই হোটেল ছিল বেশ বিলাসবহুল। কিন্তু একদিন তাকে হোটেল থেকে বের  করে দেওয়া হয়।

সিও সিএনএন-কে বলছেন, তখন আমি ছোট ছিলাম, বিষয়টা বুঝিনি। আমি হোটেলের দিকে ইশারা করে শপথ করেছিলাম যে আমি একদিন এই হোটেল কিনবো।

যদিও বিশ্বজুড়ে অগণিত শিশু  অন্যায়ের মুখে একই রকম প্রতিজ্ঞা করেছে, তবে সিও এমন কয়েকজনের মধ্যে একজন যিনি বাস্তবে কাজটি করে দেখিয়েছিলেন। বর্তমানে ৬৫ বছর বয়সী ব্যবসায়ী সিও ১৯৯১ সালে তার নিজস্ব রিয়েল এস্টেট ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি, লেক হ্যাং গ্রুপ প্রতিষ্ঠা করেন। এবার  আসা যাক ২০২৪ সালে। সম্প্রতি ৯৬ বছরের সিওকে হোটেল সেন্ট্রালের নতুন মালিক হিসাবে ফিতা কাটতে দেখা গেছে। তিনি হোটেলটি কিনতে চাননি। সিও বলেছেন যে তিনি ম্যাকাওর হারিয়ে যাওয়া ইতিহাসের একটি অংশ পুনরুদ্ধার করতে চেয়েছিলেন, একটা সময় যা  তার হৃদয়ের কাছাকাছি ছিল। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ম্যাকাওর চারপাশে বিলাসবহুল রিসোর্ট কমপ্লেক্স এবং আকাশচুম্বী ভবনগুলি ক্রমাগত মাথাচাড়া দিয়েছে। বিপরীতে আভেনিদা দে আলমেদা রিবেইরো বরাবর বিস্তৃত গলি এবং পুরানো স্থাপত্য, যাকে  সান মা লো বলা হয় (ক্যান্টনিজে 'দ্য নিউ রোড' হিসাবে অনুবাদ করা হয়েছে)  অনেকটাই জৌলুস হারিয়েছে।

কিন্তু ১৯২০ সালে যখন রাস্তাটি প্রথম খোলা হয় তখনই এটি শহরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা ছিল। হোটেল সেন্ট্রাল পূর্বে প্রেসিডেন্ট হোটেল নামে পরিচিত ছিল। মিন্ট রঙের সাততলা হোটেলটি ম্যাকাওর প্রথম ভবন যেখানে একটি লিফট ছিল। ১৯৩২ সালে এটি শহরের প্রথম হোটেল হয়ে ওঠে যেখানে একটি দুই তলা ক্যাসিনো ছিল। এটি ১৯৩৮ সালে আট তলা এবং ১৯৪২ সালে ১১ তলায় সম্প্রসারিত হয়, যা এটিকে শহরের সবচেয়ে লম্বা হোটেলে পরিণত করে।

১৯৬০ এর দশকে প্রতিযোগিতা তীব্র হওয়ার সাথে সাথে হোটেল সেন্ট্রাল তার ঔজ্বল্য  হারাতে শুরু করে। হোটেল সেন্ট্রাল আমাকে ছোট্ট ছেলে থেকে  বৃদ্ধ হতে দেখেছে। সুতরাং  হোটেলটির সাথে আমার গভীর আবেগ জড়ি। আজ অবধি, হোটেল সেন্ট্রাল সান মা লো-তে সবচেয়ে উঁচু, বৃহত্তম ভবন হিসাবে বিদ্যমান। আমি অনুভব করেছি যে এই হোটেলের ম্রিয়মান দীপ্তিকে পুনরায় ফিরিয়ে আনা দরকার । তাই আমি এটি পুনরুদ্ধার করার দিকে মন দিয়েছিলাম সিএনএনকে বলছেন সিও।

সেই সুযোগটি অবশেষে ২০০০ সালে আসে, যখন হোটেলের দুই মালিক এটিকে বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নেন। ২০১৬ সালে সিও সাত বছরের অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আনুষ্ঠানিকভাবে হোটেলের নতুন মালিক হন। এটাই ছিল প্রথম ধাপ। প্রায় ১০০ বছরের পুরনো বিল্ডিং সংস্কার করা একটি চ্যালেঞ্জিং কাজ ছিল।  বিশেষ করে যেহেতু ১৯৩০-৪০ এর দশকে গড়ে ওঠা হোটেল সেন্ট্রালের মেঝেগুলি দৃঢ় ছিল না। হোটেল  বিল্ডিং এবং এর সংলগ্ন এলাকাটি একটি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যবাহী স্থান এবং এটি ইউনেস্কো-তালিকাভুক্ত ঐতিহাসিক কেন্দ্রের মধ্যে অবস্থিত।  যার অর্থ কোম্পানিটি তার ভিত্তিকে শক্তিশালী করার জন্য কিছু কাঠামো পরিবর্তন বা ধ্বংস করতে পারেনি।

সিওর- টিমকে হোটেল সেন্ট্রালের সংস্কারের জন্য একটি নতুন পাইলিং পদ্ধতি আবিষ্কার করতে হয়েছিল। হোটেল সেন্ট্রালে কাজ করার আগে চীনের একটি নির্মাণ সাইটে একাধিকবার তাদের নকশা পরীক্ষা করতে হয়েছিল। হোটেল বিল্ডিংয়ের আসল চেহারাটি পুনরায় তৈরি করতে ডিজিটাল স্কেচিংয়ের মতো নতুন উপকরণ এবং প্রযুক্তি ব্যবহার করেছেন তারা। অনেক সমস্যা কাটিয়ে উঠার পর, অবশেষে ২০১৯ সালে হোটেলের নির্মাণকাজ শুরু হয়। এর মাঝেই সামনে আসে  আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ কোভিড-১৯ । অবশেষে ২০২২ সালে  হোটেল সংস্কারের কাজ শেষ হয়। সিও বলেছেন যে, সংস্কারের  খরচ ছিল প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ম্যাকানিজ পাটাকা (প্রায় ৫০মিলিয়ন ডলার), যখন মোট বিনিয়োগ ছিল প্রায় ২.২ বিলিয়ন ম্যাকানিজ পাটাকা (বা প্রায় ২৭৪মিলিয়ন ডলার)।

নতুন সংস্কার করা হোটেল সেন্ট্রালে ১৯২০,৩০, ৪০ এর দশক থেকে অনুপ্রাণিত রেট্রো ইন্টেরিয়র ডিজাইন সহ ১১৪ টি কক্ষ রয়েছে। একটি কিপাও ভাড়া পরিষেবা অতিথিদের ঐতিহ্যবাহী পোশাকে হোটেলের পরিবেশের সাথে মেলে ধরার সুযোগ দেয়। হোটেলের নিচে  ‘ঐতিহাসিক সাংস্কৃতিক করিডোর’ নামে একটি প্রদর্শনী ইতিমধ্যেই জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত। এছাড়াও একটি ছোট শপিং মল, যা হোটেলের তিন তলায় চালু হবে, যদিও খোলার তারিখ এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। হোটেলটিতে একটি রেস্তোরাঁ, একটি বেকারি  থাকবে। সিও বলছেন, ‘আমরা আশা করি যে দর্শকদের ম্যাকাও সম্পর্কে একটি ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরবে হোটেল সেন্ট্রাল।’

সূত্র : সিএনএন

mzamin

জাবালিয়ায় হামাসের হাতে নিহত ইসরাইলের চার সেনা

গাজার উত্তরাঞ্চলে হামাসের সঙ্গে সংঘাতে মঙ্গলবার ইসরাইলের চার সেনা নিহত হয়েছেন। এছাড়া সেখানে এক কমান্ডার গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী। এছাড়া হামলা চালিয়ে উত্তর গাজার কয়েক ডজন ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে ইসরাইলি সেনারা। এ খবর দিয়েছে অনলাইন টাইমস অব ইসরাইল।

এতে বলা হয়, গাজার উত্তরাঞ্চলের বেইত লাহিয়া নামক শহরে মঙ্গলবার তীব্র হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। এতে সেখানে কয়েক ডজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে জাবালিয়া জনপদে হামাস যোদ্ধাদের তীব্র প্রতিরোধের মুখে নিহত হয়েছেন চার ইসরাইলি সেনা সদস্য। এছাড়া গুরুতর আহত হয়েছেন তাদের এক কমান্ডার। নিহত ইসরাইলি সেনারা হচ্ছেন- ক্যাপ্টেন ইয়েহোনাতান জয়েন ক্যারেন (২২), স্টাফ সার্জেন্ট নিসিম মেয়েতাল (২০), স্টাফ সার্জেন্ট আভিভ গিলবোয়া (২১) এবং স্টাফ সার্জেন্ট নাওর হাইমোভ (২২)। এরা সকলেই মাল্টিডোমেইন ইউনিটের সদস্য ছিলেন বলে জানিয়েছে আইডিএফ।

mzamin

আ.লীগ ভেবেছিল ক্ষমতা চিরস্থায়ী : আনু মুহাম্মদ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ও অর্থনীতিবিদ আনু মুহাম্মদ বলেছেন, আওয়ামী লীগ ভেবেছিল ক্ষমতা চিরস্থায়ী। জনগণকে কিছু শুধু দৃশ্যমান উন্নয়ন দেখিয়েছে। পরবর্তীতে কী হতে পারে, সেটা তারা ভাবেনি।

মঙ্গলবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষ্ঠিত ‘ফ্যাসিবাদ নিয়ে বোঝাপড়া’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন। জবি শিক্ষার্থীরা ত্রৈমাসিক ‘চিন্তক’ এই সেমিনারটির আয়োজন করে।

তিনি বলেন, আমাদের টাকায় বিভিন্ন উন্নয়ন যা হয়েছে- সে বিষয়ে আমাদের কোনো প্রশ্ন করার সুযোগ ছিল না। কত টাকায় হওয়ার কথা- কত টাকায় হলো সেটাও জানার বা প্রশ্ন করার অধিকার ছিল না আমাদের। তাদের কথা একটাই ছিল, বঙ্গবন্ধুর কন্যার দ্বারা কোনো ক্ষতি হবে না।

অর্থনীতিবিদ আনু মুহাম্মদ বলেন, আমরা বিগত বছরগুলোতে যে নির্বাচন দেখেছি তা কোনো নির্বাচন ছিল না। এটা ছিলো একটা স্বৈরাচারী ব্যবস্থা। তাছাড়া আমরা যখন দুর্নীতি, গুম, খুন নিয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলতাম, তখন তারাও স্বীকার করতো বিষয়গুলো কিন্তু ব্যবস্থাটা এমন ছিল যে এর বিরুদ্ধে কারও কিছু বলার ছিল না। কারণ এসব কার্যক্রম একটি স্বৈরাচারী ব্যবস্থার মধ্যে আটকে ছিল।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিষয়ে অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিষয়ে সতর্ক করতাম, তারা শুধু এটাই বলতো যে বঙ্গবন্ধুর কন্যার দ্বারা ক্ষতিকর কিছু হবে না।

অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে মাসিক সাম্যবাদের সম্পাদক ডা. জয়দ্বীপ ভট্টাচার্য বলেন, ফ্যাসিবাদ আসলে একটা ব্যবস্থা। এটা শুধু একটা দলের কাজ নয়। এখানে বিভিন্ন অনুষঙ্গের মাধ্যমে এই ধরণের একটি ব্যবস্থা গড়ে ওঠে। বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের পিছনে সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল বড় বড় ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট, ভারতীয় সাম্রাজ্যবাদ।

জয়দ্বীপ ভট্টাচার্য আরও বলেন, আমাদের কাঠামোটাই ফ্যাসিবাদের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। বর্তমান সরকারও এর ভেতর থেকে বের হতে পারছে না। আওয়ামী লীগ যে এত মানুষ হত্যা করেছে, তারপরও তাদের বিন্দু মাত্র অনুশোচনা নাই। আমরা দেখেছি সরকার নিপীড়নের জন্য পুলিশকে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করেছে। আমরা চাই সংবিধান এমনভাবে সংশোধন করা হউক, যাতে করে ভবিষ্যতে চাইলেই কেউ আমাদের হাতে হাতকড়া পড়াতে না পারে। একটা গণআন্দোলনকে জোরপূর্বক যাতে দমন না করা হয়। 

জবিতে ‘ফ্যাসিবাদ নিয়ে বোঝাপড়া’ শীর্ষক সেমিনারে উপস্থিত অতিথিরা। ছবি : কালবেলা
জবিতে ‘ফ্যাসিবাদ নিয়ে বোঝাপড়া’ শীর্ষক সেমিনারে উপস্থিত অতিথিরা। ছবি : কালবেলা

হিজবুল্লাহর নয়া প্রধান নাইম কাসেম

নয়া প্রধানের নাম ঘোষণা করেছে লেবাননের যোদ্ধা গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। ইসরাইলের হাতে নিহত হিজবুল্লাহর সাবেক প্রধান হাসান নাসরাল্লাহর স্থলাভিষিক্ত হলেন নাইম কাসেম। এক বিবৃতিতে হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, শুরা কাউন্সিলের মতামতের ভিত্তিতে নতুন এই প্রধানের নাম ঘোষণা করল সংগঠনটি। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আল জাজিরা।

এতে বলা হয়, কাসেমকে ডেপুটি লিডারের পদ থেকে হিজবুল্লাহর নতুন প্রধান হিসেবে মনোনীত হয়েছেন। তিনি দীর্ঘদিন হাসান নাসরাল্লাহর সেক্রেটারি জেনারেলের দায়িত্ব পালন করেছেন। সেপ্টেম্বরে বিমান হামলা চালিয়ে লেবাননের বৈরুতে হাসান নাসরাল্লাহকে হত্যা করে ইসরাইল। কার্যত এর পর থেকেই হিজবুল্লাহর প্রধানের পদটি খালি হয়ে যায়। সেসময় থেকে সংগঠনটির ভারপ্রাপ্ত লিডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন হিজবুল্লাহর নবনির্বাচিত এই প্রধান।

লেবাননে ইসরাইলি হামলার পর থেকে হিজবুল্লাহর বেশ কয়েকজন উচ্চ পর্যায়ের নেতাকে টার্গেট করেছে ইসরাইল। এরমধ্যে ছিলেন নাসরাল্লাহর আপন চাচাতো ভাই এবং সম্ভাব্য উত্তরসূরি হাশেম সাফিউদ্দিন। তিনিও ইসরাইলের হামলায় নিহত হয়েছেন। হত্যার বেশ কয়েকদিন পর সাফিউদ্দিনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ইসরাইলি সেনারা। হিজবুল্লাহর বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, সংগঠনটির লক্ষ্য অর্জনে তাদের মৌলিক বিধিমালা অনুযায়ী নাইম কাসেমকে হিজবুল্লাহর প্রধানের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। সংগঠনটি মনে করে মানবকল্যাণের লক্ষ্য অর্জনে তাদের কাজে আল্লাহই নতুন এই প্রধানের অভিভাবক।
নাইম কাসেম, লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ১৯৫৩ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তার রাজনৈতিক সক্রিয়তা লেবাননের শিয়া আমাল আন্দোলনের মাধ্যমে শুরু হয়। তিনি ১৯৭৯ সালে ইরানের ইসলামি বিপ্লবের পরিপ্রেক্ষিতে দলটি ত্যাগ করেন, যা অনেক তরুণ লেবাননের শিয়া কর্মীদের রাজনৈতিক চিন্তাভাবনাকে রূপ দেয়। পরে ১৯৮২ সালে লেবাননে ইসরাইলি আগ্রাসনের প্রতিক্রিয়ায় ইরানের বিপ্লবী গার্ডদের সমর্থনে প্রতিষ্ঠিত হিজবুল্লাহ গঠনের দিকে পরিচালিত সভায় অংশ নিয়েছিলেন তিনি।
হিজবুল্লাহর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য নাইম কাসেম। ইসলামিক রিলিজিয়াস এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি। এছাড়া মুস্তাফা স্কুলের পরামর্শদাতা হিসেবেও হিজবুল্লাহর নতুন এই প্রধান। ১৯৯১ সালে তিনি ডেপুটি সেক্রেটারি পদের দায়িত্বে আসেন। 

mzamin

আরজি করের গ্লাভসে থাকা লাল দাগ রক্তের নয়! by সেবন্তী ভট্টাচার্য্য

কলকাতার আরজিকর হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনকাণ্ডের  প্রতিবাদে যখন অনশনে বসেছিলেন জুনিয়র চিকিৎসকদের প্রতিনিধিরা, তখনই উঠে আসে এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। হাসপাতালের ট্রমা কেয়ার সেন্টারে রাখা সিলড গ্লাভসে রক্ত মিলেছে বলে অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনায় শোরগোল শুরু হয়। অভিযোগের পর তদন্ত কমিটি গঠন করে স্বাস্থ্যভবন। তবে এখন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফে দাবি করা হয়েছে, গ্লাভসে যে লাল দাগ দেখা গেছে তা নাকি রক্তের নয়! অর্থাৎ, গ্লাভসে কোনও রক্তের দাগই মেলেনি। মঙ্গলবার আরজিকর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফে স্বয়ং সুপার সপ্তর্ষি চট্টোপাধ্যায় জানালেন, গ্লাভসের লাল দাগ রক্তের নয়। বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগের ল্যাবে হওয়া পরীক্ষায় এই প্রমাণ মিলেছে বলে জানান তিনি।তবে লাল রং কী ভাবে গ্লাভসে এল, তা খতিয়ে দেখতে সেগুলি ফরেন্সিক ল্যাবে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। ঘটনার সূত্রপাত প্রায় তিন সপ্তাহ আগে। আর জি করের ট্রমা কেয়ারে কর্মরত এক ইন্টার্ন অভিযোগ করেছিলেন, চিকিৎসা করার সময় তিনি রক্তমাখা গ্লাভসটি দেখতে পান। ওইদিন সকালে একজন এইচআইভি রোগীর রক্ত নেওয়ার জন্য গ্লাভস নেন। প্যাকেট থেকে বের করতে গিয়ে তাতে রক্তের দাগ দেখে তিনি ভাবেন, প্রথম গ্লাভসটা হয়তো কোনও কারণে নোংরা ছিল। সেই গ্লাভস ফেলে অন্যটা নিতে গিয়েও দেখেন একই অবস্থা। সিলড প্যাকেটের প্রায় প্রত্যেকটি গ্লাভসই নোংরা।

নার্স জানিয়েছিলেন, সকালে ওই গ্লাভসের প্যাকেটটি খোলা হয়। চিকিৎসকদের দাবি, এমন রক্তমাখা গ্লাভস হাতে পরে চিকিৎসা করলে রোগীদের শরীরে সংক্রমণ হতে পারে। বিশেষত হেপাটাইসিস কিংবা এইচআইভি-র মতো রোগ ছড়াতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তাঁরা। অভিযোগকারীর দাবি ছিল, এর আগেও আরজি কর হাসপাতালে এমন ঘটনা ঘটেছে। দিনের পর দিন এই ধরনের অপরিষ্কার গ্লাভস হাসপাতালে আনা হয়েছে। কর্তৃপক্ষকে জানিয়েও কোনও লাভ হয়নি। মাঝে বেশ কিছু দিন নোংরা গ্লাভসের জোগান বন্ধ থাকলেও আবার সেই একই জিনিস শুরু হয়েছে। জুনিয়র ডাক্তারদের তরফে অভিযোগ পেয়েই তদন্তের নির্দেশ দেন রাজ্যের স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণস্বরূপ নিগম। সেন্ট্রাল মেডিক্যাল স্টোরকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া। ওই রক্তমাখা গ্লাভসগুলি আলাদা করে সরিয়ে রাখতেও বলা হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে আন্দোলনরত জুনিয়র চিকিৎসকরাও  গর্জে ওঠেন। অভিযোগ করেন নার্সরাও। ডা. আসফাকুল্লা নাইয়া বলেন, 'স্টেরাইল গ্লাভস না দিয়ে ইউজড গ্লাভস দেওয়া এটার মানে কী? এটার মানে একটা গ্লাভস রিপিটেডলি ইউজ করলে পরের বার গ্লাভসের টাকাটা যে বেঁচে যায়, সেই টাকাটা কোনও বাবুদের পকেটে যায়।'  চাঞ্চল্যকর দাবি করেন নার্সরাও। বলেন, ইদানিং নাকি হাসপাতালে অনেক ব্যবহৃত সিরিঞ্জও আসছে।

mzamin

‘আবর্জনার দ্বীপ’ বিতর্ক পেনসিলভ্যানিয়ায়

নর্থ ফিলাডেলফিয়ার পাশেই ফেয়ারহিল। সেখানে পুয়ের্তো রিকোর সব চিহ্ন বিদ্যমান। যুক্তরাষ্ট্রের এই দ্বীপটির পতাকার রং লাল, সাদা ও নীল। এ ছাড়া এখানে ওখানে তাদের নানা রকম প্রতীক বিদ্যমান। ফিলাডেলফিয়া যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ফল নির্ধারণকারী ৭টি সুইং রাজ্যের অন্যতম। কিন্তু তাদেরকে নিয়ে রিপাবলিকান প্রার্থী ডনাল্ড ট্রাম্পের এক র‌্যালি থেকে কৌতুক করা হয়েছে। এটাকে পুয়ের্তো রিকোর নাগরিকরা, যাদের বেশির ভাগই বসবাস করেন ফিলাডেলফিয়ায়, তারা ভীষণভাবে আহত হয়েছেন। সোমবার স্থানীয় সময় সকালে ট্রাম্পের এক র‌্যালি থেকে কৌতুক অভিনেতা টনি হিঞ্চক্লিফ পুয়ের্তো রিকোকে অভিহিত করেছেন ‘আবর্জনার দ্বীপ’ হিসেবে। এতে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে এর অধিবাসীদের মধ্যে। অনেকে বলছেন, এর ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই সুইং স্টেটটি হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে রিপাবলিকানদের কাছ থেকে। অনলাইন বিবিসি বলছে, ওই এলাকায় বসবাস করেন কমপক্ষে ৯০ হাজার শক্তিধর পুয়ের্তো রিকান জনগণ। তারাই পেনসিলভ্যানিয়ার লাতিন সম্প্রদায়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আগামী ৫ই নভেম্বরের নির্বাচনে তাদের সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করছেন ডেমোক্রেট ও রিপাবলিকান উভয় দলের প্রার্থীরা। ২০২০ সালের নির্বাচনে শতকরা ১.১৭ ভাগ সংকীর্ণ মার্জিনের ব্যবধানে এই রাজ্যে জিতেছিলেন ডেমোক্রেট জো বাইডেন। স্থানীয় একজন বাসিন্দা ইভোন টোরেস মিরান্ডার উভয় দলের প্রার্থীদের বিষয়ে মোহভঙ্গ হয়েছে। তিনি বলেন, এই প্রচারণা তাদের নিজেদেরই ক্ষতি করছে। আমার কাছে বিষয়টি পাগলাটে মনে হচ্ছে। এমনকি যদি হিঞ্চক্লিফ ওই কৌতুক করে থাকেন, তবু আমি এটাকে এই সময়ে কৌতুক হিসেবে দেখছি না। আমরা পুয়ের্তো রিকান। আমাদের আত্মমর্যাদা আছে। আমাদের আলাদা গর্ব আছে। যখন কিছু বলবেন, তার আগে আপনাকে ভাবতে হবে কী বলছেন। এমন প্রতিক্রিয়ার পর ট্রাম্পের প্রচারণা শিবির দ্রুততার সঙ্গে হিঞ্চক্লিফের কৌতুক থেকে নিজেদের দূরত্ব বজায় রেখেছে। দলটির মুখপাত্র বলেছেন, ওই মন্তব্য ট্রাম্প বা তার প্রচারণা শিবিরের দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন ঘটায় না। ওদিকে কমালা হ্যারিস অনেক কৌতুক করেন। তিনি বলেছেন, ট্রাম্প মার্কিন নাগরিকদের বিভক্ত করার জন্য উস্কানি দিচ্ছেন। তার এ কথার প্রতিধ্বনি শোনা গেছে পুয়ের্তো রিকান সেলিব্রেটি ব্যাড বানি এবং অভিনেত্রী জেনিফার লোপেজের কণ্ঠে। তারা দু’জনেই রোববার সমর্থন দিয়েছেন কমালা হ্যারিসকে। একজন প্রচারণা কর্মকর্তা সিবিএসকে বলেছেন, এই যে বিতর্ক এটা ডেমোক্রেটদের জন্য একটি রাজনৈতিক উপহার। পুয়ের্তো রিকার অধিবাসীরা এই মতের সঙ্গে একমত। কমালা হ্যারিসের সমর্থক জেসি রামোস বলেন, ওই কৌতুকের ফল আসলে আমাদের পক্ষে আসবে। তিনি (হিঞ্চক্লিফ) আমাদেরকে জয় উপহার দিয়েছেন। তার কোনো ধারণা নেই যে, লাতিন সম্প্রদায় কীভাবে বেরিয়ে এসে কমালা হ্যারিসকে সমর্থন করছেন।

উল্লেখ্য, পুয়ের্তো রিকো হলো ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডের অধীন একটি দ্বীপ। তারা সরাসরি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোট দিতে পারেন না। কিন্তু তাদের যেসব সদস্য অভিবাসী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে আছেন তারা ভোট দিতে পারবেন।  পেনসিলভ্যানিয়া জুড়ে প্রায় ৬ লাখ বৈধ লাতিন ভোটার আছেন। তার মধ্যে কমপক্ষে চার লাখ ৭০ হাজারই পুয়ের্তো রিকান। যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি লাতিনোর বাস এখানে। ফলে এই রাজ্যে ভোটের ফল নির্ধারণে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। এ জন্য নর্থ ফিলাডেলফিয়া হলো কমালা হ্যারিসের বড় টার্গেট। তিনি রোববার ফেয়ারহিলে ফ্রেডি অ্যান্ড টনিস নামে পুয়ের্তো রিকান রেস্তরাঁয় প্রচারণার জন্য থামেন। এই অঞ্চলটিকে লাতিনো সম্প্রদায়ের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে দেখা হয়। একই দিনে পুয়ের্তো রিকোর জন্য নতুন একটি নীতির ঘোষণা দেন কমালা হ্যারিস। তিনি তাদের অর্থনৈতিক উন্নতির প্রতিশ্রুতি দেন। দুর্যোগে ত্রাণ সহায়তা উন্নত করার প্রতিশ্রুতি দেন। ২০১৭ সালে ঘূর্ণিঝড় মারিয়ার আঘাতের সময় ওই দ্বীপের মানুষকে পরিত্যক্ত এবং অবমাননা করেছেন ট্রাম্প এমন অভিযোগ করেন।
ওদিকে ফ্রেডি অ্যান্ড টনিস-এর মালিক ডালমা সান্তিয়াগো বলেন, পুয়ের্তো রিকো দ্বীপকে নিয়ে উপহাস করার ফলে নির্বাচনে কোনো ব্যবধান সৃষ্টি করবে কিনা সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন। তবে তিনি বিশ্বাস করেন, ফেয়ারহিলে বিষয়টি জোরালো কণ্ঠে এবং স্পষ্টভাবে উচ্চারিত হয়েছে। অন্য সম্প্রদায়ের মধ্যেও এর প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। তিনি বলেন, প্রতিজন মানুষের নিজস্ব মতামত আছে। তবে কেউই ওই অবমাননার কথা ভুলে যাবেন না। যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীতে দায়িত্ব পালন করা মোসেস সান্তানা বলেন, তিনিও নিশ্চিত নন ওই উপহাসের ফলে কি প্রভাব পড়বে। ফেয়ারহিলের সড়কের এক পাশে দাঁড়িয়ে সাক্ষাৎকার দেন সান্তানা। তিনি বলেন, সব রকম রাজনীতিকের বিষয়ে ওই এলাকায় উদ্বেগ আছে। অনেকেই বিশ্বাস করেন যুক্তরাষ্ট্রের দু’টি বড় দলই আর্থসামাজিক সমস্যা, অপরাধ এবং মাদকের অপব্যবহার সমাধানে ব্যর্থ হয়েছে।

মঙ্গলবার পেনসিলভ্যানিয়ার শহর অ্যালেনটাউনে প্রচারণা চালিয়েছেন ট্রাম্প। এই শহরে জনসংখ্যা প্রায় এক লাখ ২৫ হাজার। এর মধ্যে প্রায় ৩৩ হাজার পুয়ের্তো রিকান। কিন্তু সেখানে লাতিনো সম্প্রদায়, বিশেষ করে ট্রাম্পের সমর্থকরাও ওই কৌতুককে ভালোভাবে নেননি। তাদের মধ্যে আছেন রিপাবলিকান ভোটার জেসিনিয়া অ্যান্ডারসন। ফিলাডেলফিয়া থেকে প্রায় ২৪০ মাইল পশ্চিমে জন্সটাউনে বসবাস করেন এই পুয়ের্তো রিকান। তার জন্ম নিউ ইয়র্কে। একসময় সেনাবাহিনীতে দায়িত্ব পালন করেন। এখন বসবাস লোয়ার ইস্ট সাইডে। পেনসিলভ্যানিয়ায় ট্রাম্পের র‌্যালির বেশির ভাগেই তিনি উপস্থিত হয়েছেন। তিনি পর্যন্ত ওই কৌতুককে গভীরভাবে আক্রমণাত্মক হিসেবে দেখেছেন। তার সহচর রিপাবলিকানদেরকে চিন্তাভাবনা করে এবং সম্মান দিয়ে কথা বলার পরামর্শ দিয়েছেন। তবে তিনি নিজের ভোট অন্য কাউকে দেবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। 

mzamin

রেলের টিকিট প্রাপ্তি সহজ হচ্ছে, আসছে রুটে পরিবর্তন

রেলের রুট পরিবর্তন ও অনলাইন টিকিট পদ্ধতি সহজ করার কথা জানিয়েছেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. ফাওজুল কবির খান। তিনি বলেন, একটা প্রেজেন্টেশন হয়েছে। সেখান থেকে আমরা অনেক কিছু পেয়েছি। রেলের টিকিট পদ্ধতি নিয়ে একটা ডায়াগনস্টিক (পরীক্ষা-নিরীক্ষা) হয়েছে। এ ছাড়া রেলের রুট রেশনালাইজেশন করা হবে বলেও জানান উপদেষ্টা। মঙ্গলবার রাজধানীর রেল ভবনে বাংলাদেশ রেলওয়ের রুট রেশনালাইজেশন এবং ই-টিকিটিং ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার বিষয়ে এক আলোচনা সভায় এসব কথা জানান রেল উপদেষ্টা।

তিনি বলেন, চালডালের নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াসিম আলী, ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ডক্টর ফিজার আহমেদ ও আনিকা জারা বিভিন্ন বিষয় জানিয়েছেন। তাদের প্রেজেন্টেশনে দেখা গেল, কমলাপুর থেকে টিকিট চাইলেন সেখানে নেই। কিন্তু তেজগাঁও থেকে আছে। আবার ৭টার ট্রেনে টিকিট নাই কিন্তু ১০টার ট্রেনে আছে। তবে সেটির কী অবস্থা তা জানা যাচ্ছে না। রেলওয়ের অনলাইন টিকিট পদ্ধতির সহযোগী সহজকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, যাত্রী যেন এখন থেকে এটা দেখতে পান কখন, কোথায় কোন স্টেশন থেকে টিকিট আছে। সহজ বলেছে, আগামী দুই/তিন দিনের মধ্যে এটা ঠিক হবে। না হলে আপনারা অভিযোগ করবেন।

রেলের সচিব বা কর্মকর্তাদের কাছে অনেক টিকিটের তদবির আসে উল্লেখ করে ফাওজুল কবির বলেন, এ জন্য কিছু টিকিট আগেই বুক করে রাখা হয়। এটা চলবে না। কোনো সচিব বা কর্মকর্তার কথায় টিকিট রাখা যাবে না। সবার আগে সাধারণ জনগণের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। রেল কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। এটা জনগণের সম্পত্তি। রেলের সচিব, মন্ত্রীর জরুরি কাজ আছে বলে অন্যদের নেই, এমন তো নয়। আমরা দেশটাকে সাধারণ মানুষের কাছে ফিরিয়ে দিতে চাই। মৌখিক বা টেলিফোনে টিকিট বিতরণ বন্ধ হয়ে যাবে এখন থেকে। রেলের কালোবাজারিদের বিরুদ্ধে কঠিন ব্যবস্থা নেয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, যারা রেলের লোক তাদের বিরুদ্ধে কঠিন ব্যবস্থা নিবো। আমরা সমস্যার গোড়ায় যেতে চাই। সবাই বলে এই সরকার কিছু করে না। কিন্তু এটা সময় লাগবে।

আমরা গত এক মাসে সমস্যার গভীরে যাওয়ার চেষ্টা করছি।
রেলের রুট রেশনালাইজেশন করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, যেখানে যাত্রী নাই; সেখানে ট্রেন যাচ্ছে। আবার যেখানে যাত্রী আছে; সেখানে ট্রেন নাই। প্রবাসীরা যেসব জায়গায় যায় যেমন ঢাকা-সিলেট, ঢাকা চট্টগ্রাম এসব রুটে আলাদা ব্যবস্থা নিবো। আমাদের যথেষ্ট লোকমোটিভ বা কোচ নেই; সেগুলো নিয়ে কাজ করা হচ্ছে বলেও জানান উপদেষ্টা।

রেলের প্রকল্পগুলো নিয়ে রিভিউ চলছে উল্লেখ করে ফাওজুল কবির বলেন, অনেক প্রকল্প আগে হয়েছে; যেগুলো কম গুরুত্বপূর্ণ। সামনে রেলের প্রকল্প নিয়ে আমরা আরও বেশি সতর্ক আছি। আমরা সামনে এটা নিয়ে বসবো। কোনো প্রকল্প কেন বাদ দেয়া হয়েছে; সেটা আমরা জানাবো। রেল উপদেষ্টা ঠিকাদার প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, এখন যে কেউ বিড করতে পারে। সেই সুযোগ তৈরি করতে হবে। এতদিন দুই/তিন জন ঘুরেফিরে কাজ পাচ্ছিলো। এটা আর হবে না। সবাই কাজ পাবে। রেল ও সড়ককে সেই সুযোগ তৈরি করতে হবে।

mzamin


এসডো’র গবেষণা: শিশুদের খেলনায় বিষাক্ত সিসা, ঝুঁকিতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম

সামপ্রতিক এক গবেষণায় বাংলাদেশে শিশুদের ব্যবহৃত খেলনা ও অন্যান্য দৈনন্দিন ব্যবহৃত পণ্যে উচ্চ মাত্রায় সিসা শনাক্ত হয়েছে। যা স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। গতকাল সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন-এসডো এর রিপোর্ট প্রকাশ অনুষ্ঠানে এই উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ করা হয়। গবেষণার ফলাফল অনুযায়ী, ২৫০টি পণ্যের মধ্যে ১৫৭টি পণ্যেই সিসা শনাক্ত হয়েছে। যার মধ্যে ৫৯% পণ্যে ৯০ পিপিএমের অধিক মাত্রার সিসা রয়েছে, যাতে ১৩৭০ পিপিএম মাত্রা পর্যন্ত সিসার উপস্থিতি পাওয়া যায়। ‘দ্য সাইলেন্ট পয়জন: ট্রেসেস অফ লেড ইন চাইল্ডহুড ট্রেজার্স’ শীর্ষক এই গবেষণা এসডো’র ২০১৩ সালের গবেষণার ধারাবাহিকতা। যা শিশুদের খেলনায় সিসা, ক্যাডমিয়াম এবং থ্যালেটসের মতো ক্ষতিকর রাসায়নিকের উপস্থিতি প্রকাশ এবং এর মাধ্যমে শিশুদের সুরক্ষার বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরি করে। পরবর্তীতে ২০২৩ সালে ফিলিপাইনের ‘ব্যান টক্সিক্স’ নামক বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে অংশীদারিত্বে আবারো বাংলাদেশে শিশুদের খেলনা পরীক্ষা করা হয়। পুনরায় ২০২৪ সালে ‘ব্যান টক্সিক্স’-এর গবেষকগণ বাংলাদেশে এসে স্থানীয় বাজার থেকে সরাসরি শিশুদের পণ্য সংগ্রহ করেন এবং এক্স-রে ফ্লুরোসেন্স (ঢজঋ) মেশিন ব্যবহার করে সেগুলোতে সিসার মাত্রা বিশ্লেষণ করেন।

গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ ফলাফলসমূহ: শিশুদের খেলনায় উচ্চ মাত্রায় সিসা পাওয়া গেছে, যা ১.৬৮ পিপিএম থেকে ৩৭৯ পিপিএম পর্যন্ত বিস্তৃত। পরীক্ষিত ২৫০টি পণ্যের মধ্যে ১৫৭টি পণ্যেই সিসার উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে, যার মধ্যে ৯২টি পণ্যে সিসার পরিমাণ নিরাপদসীমা ৯০ পিপিএমের চেয়ে বেশি। একটি শিশুদের পানির মগে ১৩৮০ পিপিএম সিসা, ২৪৭ পিপিএম আর্সেনিক এবং ১৩৯০ পিপিএম ক্রোমিয়াম পাওয়া গেছে-প্রতিদিনের ব্যবহৃত একটি সাধারণ পণ্যে এই বিপজ্জনক রাসায়নিকের উপস্থিতি উদ্বেগজনক। শিশুদের ব্যবহৃত স্টেশনারি ব্যাগে ৫৮০ পিপিএম সিসা, ১২৮০ পিপিএম বেরিয়াম এবং ৮৮ পিপিএম পারদ পাওয়া গেছে-যা পড়াশোনার সরঞ্জামকেও স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পরিণত করেছে। একটি পুতুল সেটে ১৬০ পিপিএম সিসা এবং ১৫০০ পিপিএম ক্রোমিয়াম পাওয়া গেছে-যা শিশুর প্রিয় খেলনাকেও বিপজ্জনক করেছে। শিশুদের ব্যবহৃত একটি মগে ২২০ পিপিএম সিসা, ৩১৫ পিপিএম ক্যাডমিয়াম এবং ১৬৮০ পিপিএম ক্রোমিয়াম পাওয়া গেছে- যা দৈনন্দিন ব্যবহারে শিশুকে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে ফেলছে। একটি নামকরা শপিংমল থেকে সংগ্রহ করা একটি পুতুল সেটেও ৫০০ পিপিএম সিসা পাওয়া গেছে, যা প্রমাণ করে যে উচ্চমানের পণ্যও সিসা থেকে মুক্ত নয়।

একটি বর্ণমালা সেটের একটি উজ্জ্বল বর্ণমালার অক্ষরে ৬৬০ পিপিএম সিসা পাওয়া গেছে-যা শিক্ষার পণ্যকেও ঝুঁকিতে ফেলেছে। বিভিন্ন দেশ- যেমন ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, জাপান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, এবং অস্ট্রেলিয়ায় সিসার মাত্রার জন্য সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে, তবে বাংলাদেশে এ নিয়ে এখনো এমন কোনো আইন বা নিয়ম নেই। এসডো’র চেয়ারপারসন এবং  সাবেক সচিব সৈয়দ মার্গুব মোরশেদ বিষয়টির গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, শিশুদের পণ্যে সিসার উপস্থিতি একটি গুরুতর জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুরক্ষার জন্য আমাদের দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। এসডো’র মহাসচিব ড. শাহরিয়ার হোসেন খেলনার সুরক্ষা নিয়ে বলেন, খেলনা শিশুদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশে সহায়ক, কিন্তু যখন তাতে সিসার মতো বিষাক্ত পদার্থ থাকে, তখন তা ক্ষতিকর হয়ে ওঠে। এই খেলনাগুলো শিশুদের স্বাস্থ্য এবং বিকাশের উপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। নিরাপদভাবে বেড়ে ওঠার পরিবেশ নিশ্চিত করতে খেলনাগুলো সিসামুক্ত হওয়া জরুরি। এসডো’র নির্বাহী পরিচালক সিদ্দিকা সুলতানা শিশুদের স্বাস্থ্যের উপর সিসার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, রক্তে সিসার কোনো নিরাপদ মাত্রা নেই- যেকোনো পরিমাণে সিসা শরীরের জন্য ক্ষতিকর। শিশুদের ক্ষেত্রে এটি আরও ভয়াবহ। কারণ তাদের শরীর দ্রুত সিসা শোষণ করে, যা মানসিক ও শারীরিক বিকাশে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। এটি একটি স্বাস্থ্য সংকট, যার জন্য এখনই আইনি ব্যবস্থা প্রয়োজন। এসডো ইতিমধ্যে বিএসটিআই’র সঙ্গে এই বিষয়ে নীতিমালা তৈরিতে কাজ করছে। অনুষ্ঠানে মূল উপস্থাপনা করেন এসডো’র প্রোগ্রাম এসোসিয়েট শ্যানন ইফাত আলম।

mzamin

দুতের্তে ডেথ স্কোয়াড গড়েছিলেন গ্যাংস্টারদের নিয়ে

স্বীকার করলেন ফিলিপাইনের সাবেক প্রেসিডেন্ট রড্রিগো দুতের্তে। স্বীকার করলেন দেশটির সবচেয়ে বড় শহরগুলোর একটির মেয়র থাকার সময়ে অপরাধ দমনে তার ছিল ‘ডেথ স্কোয়াড’। মাদকের বিরুদ্ধে তার কথিত যুদ্ধের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরুর আগেই প্রথম সাক্ষ্যে তিনি বিষয়টি স্বীকার করে নেন। ৭৯ বছর বয়সী এই নেতা বলেন, গ্যাংস্টারদের নিয়ে তিনি গঠন করেছিলেন ওই স্কোয়াড। তাদেরকে তিনি নির্দেশ দিয়েছিলেন ওইসব ব্যক্তিকে হত্যা করতে। যদি তারা সেটা না করতো তাহলে তিনি ওই সদস্যকে হত্যা করবেন। এমন হুমকি দেয়ায় তার স্কোয়াড অপরাধী সন্দেহে, মাদকের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত সন্দেহভাজনদের হত্যা করিয়েছেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।

২০১৬ সালের নির্বাচনে ভূমিধস জয় পেয়ে তিনি ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট হন। তবে তার আগে প্রতিশ্রুতি দেন, ডাভাও শহরে তিনি যেভাবে অপরাধবিরোধী অভিযান চালিয়েছেন, একইভাবে জাতীয় পর্যায়ে অভিযান চালাবেন।  প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে তিনি সেই কাজ শুরু করেন। হত্যা করা হয় কয়েক হাজার সন্দেহভাজনকে। মাদকের বিরুদ্ধে দেশ জুড়ে যুদ্ধে তিনি পুলিশের বিতর্কিত অভিযানে এসব মানুষকে হত্যা করান। এখন বিষয়টি তদন্ত করছে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)। সোমবার সিনেটে শুনানিকালে দুতের্তে বলেন, তিনি পুলিশ কর্মকর্তাদের উৎসাহিত করেছিলেন সন্দেহভাজনদের হত্যা করতে। যাতে তারা এই হত্যার ন্যায্যতা দিতে পারেন। বক্তব্যে দুতের্তে বলেন, আমার পলিসি নিয়ে প্রশ্ন করবেন না। কারণ, আমি ক্ষমাও চাইবো না। কোনো অজুহাতও দাঁড় করাবো না। যা করা উচিত ছিল, আমি তাই করেছি। আপনি বিশ্বাস করুন বা না করুন, যা করেছি তা আমার দেশের জন্য। আমি মাদককে ঘৃণা করি। তাই এ বিষয়ে কোনো ভুল করিনি। সন্দেহভাজনদেরকে হত্যা করতে পুলিশ প্রধানদের অনুমতি দেয়ার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন তিনি। তবে স্বীকার করেন, পুলিশ সদস্যদের দিয়ে নয়, ডেথ স্কোয়াড গঠন করা হয়েছিল গ্যাংস্টারদের নিয়ে। বলেন, আপনারা যদি চান তাহলে আমি এখনই স্বীকারোক্তি দিতে পারি। আমার ছিল সাত সদস্যের একটি ডেথ স্কোয়াড। তারা পুলিশ নয়। নিজের নির্দেশের পক্ষে অবিচল থেকে দুতের্তে বলেন, বহু অপরাধী তাদের বেআইনি কর্মকাণ্ড শুরু করেছে তিনি প্রেসিডেন্ট পদ থেকে সরে যাওয়ার পর। তার ভাষায়, যদি আমাকে আরেকবার সুযোগ দেয়া হয়, তাহলে তাদের সবার শিকড় উপড়ে ফেলবো।

২০২২ সালে তার ক্ষমতার মেয়াদ শেষ হয়। কিন্তু মাদকের বিরুদ্ধে যে অভিযান চালিয়েছেন এবং মানুষ হত্যা করেছেন তার তদন্তে প্রথমবার সোমবার তিনি উপস্থিত হন সিনেটে। তার বিরুদ্ধে যাদের অভিযোগ, তাদের কয়েকজনের সরাসরি মুখোমুখি দাঁড়ান এদিন দুতের্তে। ওইসব অভিযোগকারীর মধ্যে আছেন মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নিহতদের পরিবারের সদস্যরা। সাবেক সিনেটর লেইলা ডি লিমা। তিনি দুতের্তের কঠোর সমালোচক। মাদক বিষয়ক অভিযোগে তাকে সাত বছর জেলে কাটাতে হয়েছে। পরে সেই অভিযোগ প্রত্যাহার করা হয়েছে। ফিলিপাইন সরকারের হিসাবে মাদকের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে হত্যা করা হয়েছে কমপক্ষে ৬ হাজার ২৫২ মানুষকে। অধিকার বিষয়ক গ্রুপগুলো বলেছে, এর প্রকৃতসংখ্যা হতে পারে কয়েক লাখ। মানবাধিকার বিষয়ক জাতিসংঘের হাইকমিশনারের এক রিপোর্টে দেখা গেছে, দুতের্তে মাদকের বিরুদ্ধে দমনপীড়ন চালাতে পুলিশ কর্মকর্তাদের যে নির্দেশ দিয়েছেন তা তাদেরকে হত্যা করার অনুমোদন হিসেবে দেখা যেতে পারে। পুলিশ বলেছে, আত্মরক্ষা করতে গিয়ে বন্দুকযুদ্ধে তাদের কিছু সদস্যও নিহত হয়েছেন।

mzamin

মহাকাশ থেকেই দিওয়ালির শুভেচ্ছা সুনীতা উইলিয়ামসের, হোয়াইট হাউসে প্রদীপ জ্বালালেন বাইডেন

মহাশূন্যেই আটকে রয়েছেন সুনীতা উইলিয়ামস। তাই এবার  মহাকাশ থেকেই গোটা বিশ্বকে আলোর উৎসবে শুভেচ্ছা জানালেন  ভারতীয় বংশোদ্ভূত এই মহাকাশচারী । আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশন থেকে শেয়ার করা ভিডিওতে তিনি বলেন, আইএসএস থেকে দিওয়ালির শুভেচ্ছা। এই দিন নিজের বাবার সম্পর্কেও স্মৃতিচারণ করেন সুনীতা। তিনি বলেন, ছোট থেকেই তাঁর বাবা তাঁকে ভারতের বিভিন্ন উৎসব ও দিওয়ালি উদযাপন করতে শিখিয়েছিলেন। নিজের সংস্কৃতির কথা মনে রাখার শিক্ষা দিয়েছিলেন এভাবেই। তাঁর কথায়, এই বছর তিনি পৃথিবীপৃষ্ঠের ২৬০ মাইল উপর থেকে দিওয়ালি উদযাপনের সুযোগ পেয়েছেন। যা তাঁর কাছে এক অনন্য অভিজ্ঞতা । গত ৭ জুন আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে পাড়ি দিয়েছিলেন সুনীতা ও বুচ উইলমোর। উৎক্ষেপণের পরেই একাধিক যান্ত্রিক ত্রুটি ধরা পড়ে তাঁদের মহাকাশযানে। না ঘুমিয়ে নিজেরাই সেই ত্রুটি মেরামত করেন তারা। যাবতীয় সমস্যা পেরিয়ে গন্তব্যে পৌঁছে যায় তাঁদের মহাকাশযান। কিন্তু এর পর ফের ত্রুটি ধরা পড়ে।  স্টারলাইনারকে সুনীতাদের ছাড়াই ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনা করা হলেও দুই মহাকাশচারী আপাতত আটকে আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনে।

অন্যদিকে  হোয়াইট হাউসে বিগত বছরগুলির মতো ধূমধাম করে দীপাবলি উৎসবের সূচনা হল।  প্রেসিডেন্ট বাইডেন নিজে প্রদীপ জ্বালিয়ে উৎসবের সূচনা করেন।  সোমবার মহাকাশ থেকে ভিডিও কলে সেই অনুষ্ঠানে যোগ দেন সুনীতা। এই অনুষ্ঠানে যোগ দেন অন্তত ৬০০ জন ভারতীয় বংশোদ্ভূত। ওই অনুষ্ঠানে ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী কমালা হ্যারিসের প্রশংসা করেন বাইডেন। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনে দক্ষিণ এশিয়া থেকে সে দেশে যাওয়া মানুষদের অবদানের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। বাইডেন বলেন, “প্রেসিডেন্ট হিসাবে  হোয়াইট হাউসের সবচেয়ে বড় দীপাবলি উৎসবে যোগ দিতে পেরে আমি সম্মানিত। আমার কাছে এটা বড় বিষয়।”ভোটের প্রচারে ব্যস্ত থাকায় কমালা হোয়াইট হাউসের অনুষ্ঠানে থাকতে পারেননি। তিনি দীপাবলির অনুষ্ঠান করবেন কি না স্পষ্ট নয়।

সূত্র:  wionews

mzamin

নির্বাচনমুখী যাত্রা শুরু হয়ে গেছে

অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, সরকারের নির্বাচনমুখী প্রক্রিয়ার যে কাজ সেটি শুরু হয়ে গেছে। নির্বাচনমুখী যাত্রা শুরু হয়ে গেছে বলতে পারেন। নির্বাচন কমিশন  গঠনের সার্চ কমিটি হয়ে গেছে। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের স্বাক্ষর হওয়ার পর মঙ্গলবার অথবা বুধবারের মধ্যে প্রজ্ঞাপন হয়ে যাবে। মঙ্গলবার দুপুরে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্কের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন গঠন হয়ে গেলে ভোটার তালিকা করা হবে। ভোটার তালিকা নিয়ে প্রচুর প্রশ্ন ছিল। বিগত নির্বাচনগুলো এমনই ভুয়া নির্বাচন ছিল যে, ভোটার তালিকা নিয়ে মানুষ প্রশ্ন তোলেনি। এবার আমরা ভুয়া নির্বাচন করবো না। এবার সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করবো। ফলে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করতে হবে। এর জন্য কতোটা সময় লাগবে, সংস্কারের সঙ্গে নির্বাচনকে কীভাবে সম্পর্কিত করা হবে, এমন অনেক কিছুর ওপর নির্বাচনটি নির্ভর করে। প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে এই সরকার রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কথা বলে সব ঠিক করবেন। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও ১৪ দল অংশ নিতে পারবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আপনি যদি মনে করেন, যারা হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করেছে, ৪০-৫০ হাজার মানুষের অঙ্গহানি ঘটিয়েছে; এখনো এর পক্ষেই কথা বলছে; এখনো তাদের নেত্রী বিদেশে বসে হুমকি দিচ্ছে অবশ্য অডিও ক্লিপটি যদি সঠিক হয় ২৮৭ জনকে দেখে নেবে; আমার মনে হয় না বাংলাদেশের মানুষ এটা মেনে নেবে যে বিচার ও অনুশোচনা হওয়ার আগে তারা কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি চালাবে। তারা রাজনীতি করতে আসবে কি আবারো হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করার জন্য? তাদের কথা শুনে তো তেমনই মনে হয়। ফলে, এগুলো একটি প্রক্রিয়ার মধ্যদিয়ে আসবে। এত বড় আন্দোলনকে তারা এখনো বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে, এই আন্দোলনের নেতাদের কিশোর গ্যাং বলার চেষ্টা করে। এবং সুযোগ পেলে আরও মানুষকে হত্যা করার, দেখে নেয়ার হুমকি দেয়। এই দলের রাজনীতি করার অধিকার থাকা উচিত কিনা, সেই প্রশ্নটা বাংলাদেশের প্রতিটি বিবেকবান মানুষের কাছে রেখে গেলাম। আমাদের সরকার ইতিমধ্যে বলেছে, বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের বিষয়ে কি সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। সেটা দেখা যাবে বলে যোগ করেন তিনি।
mzamin

তীব্র মানসিক সমস্যায় ভুগছেন ইসরায়েলি সেনারা

গত বছরের ৭ অক্টোবর গাজার যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর, ইসরায়েলি সেনাদের মধ্যে তীব্র মানসিক স্বাস্থ্য সংকট দেখা দিয়েছে।

এ বিষয়ে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, প্রায় ৫,২০০ সেনা পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিজঅর্ডার (পিটিএসডি) নিয়ে চিকিৎসা গ্রহণ করছেন। যুদ্ধের পরবর্তী সময়ে মোট ১২,০০০ সেনা হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য গেছেন, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানসিক সমস্যা ভুগছেন।

এদিকে গাজা যুদ্ধে দানিয়েল নামে একজন সেনা, যিনি প্রথম দিকে যুদ্ধের উত্তেজনা ও সাহসিকতা অনুভব করেছিলেন। এখন তিনি গভীর মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। তিনি বলেন, ‘যুদ্ধের অভিজ্ঞতা আমাকে রাতে ঘুমাতে দেয় না। আমি আমার সহকর্মীদের চোখে ভয়ের ছায়া দেখতে পাই।’ এ ধরনের অনুভূতি অনেক সেনার ক্ষেত্রেই প্রতিফলিত হচ্ছে।

পুনর্বাসন কেন্দ্রে চিকিৎসা নিতে আসা সেনাদের মধ্যে ১৪ শতাংশ গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাদের মধ্যে ২৩ জন মাথায় আঘাত পেয়েছেন, ৬০ জনের অঙ্গহানি হয়েছে এবং ১২ সেনা দৃষ্টি হারিয়েছেন। এ ছাড়া, প্রায় ১,৫০০ সেনা দুবার পুনর্বাসন কেন্দ্রে গেছেন, অর্থাৎ তারা একবার চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হলেও আবার যুদ্ধের কারণে নতুন করে সমস্যায় আক্রান্ত হয়েছেন।

মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানান, যুদ্ধের ভয়াবহতা মানুষের মানসিক অবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলে। তারা জানাচ্ছেন, পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিজঅর্ডার সাধারণত যুদ্ধের পরবর্তী সময়ে দেখা দেয় এবং এটি ব্যক্তি বিশেষের দৈনন্দিন জীবনে গভীর প্রভাব ফেলে। তাদের মতে, সেনাদের মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষায় সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।

এদিকে, গাজার স্থানীয় জনগণও একইভাবে মানসিক সমস্যায় ভুগছে। যুদ্ধের ফলে আহত ও চিকিৎসাহীন অবস্থায় থাকা লোকজনের জীবনযাপন আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। মানবিক পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হচ্ছে, যা সামগ্রিকভাবে একটি গভীর মানবিক সংকটের ইঙ্গিত দেয়।

এ বিষয়ে মনোবিদরা বলছেন, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা, যে যুদ্ধ কখনো শেষ হয় না; এর ক্ষত এবং শোক প্রজন্মের পর প্রজন্ম বয়ে যায়। যুদ্ধের ফলে মানুষের মধ্যে যে মানসিক সমস্যা তৈরি হয়, তা মোকাবিলা করতে আমাদের সবার উচিত মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে একত্রিত হওয়া।

সূত্র : টাইমস অব ইসরায়েল

ছবি : সংগৃহীত

প্রেসিডেন্টের অপসারণ: আমেরিকা-সেনাসদর বৃহৎ রাজনৈতিক শক্তির সায় নেই

প্রেসিডেন্ট মো. সাহাবুদ্দিনকে অপসারণ ইস্যুতে রাজনৈতিক দলগুলোর সাড়া মিলছে না। এ ইস্যুতে সেনা প্রশাসন থেকেও মতামত দেয়া হয়েছে। অপসারণ ইস্যুতে সায় নেই বন্ধুরাষ্ট্র যুক্তরাষ্ট্রেরও। এমন অবস্থায় প্রেসিডেন্টকে অপসারণ করতে মাঠে নামা ছাত্র আন্দোলনের নেতারা কী করবেন?

সাহাবুদ্দিনের অপসারণ বা পদত্যাগের দাবিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করছে। ইতিমধ্যে প্রধান প্রধান দলগুলোর সঙ্গে তাদের বৈঠক সম্পন্ন হয়েছে। এসব বৈঠকে প্রেসিডেন্টকে অপসারণ করার বিষয়ে নিজেদের মত তুলে ধরেছেন ছাত্রনেতারা। বিপরীতে বেশির ভাগ দল প্রেসিডেন্ট অপসারণের পর সাংবিধানিক শূন্যতা তৈরির বিষয়টি সামনে এনেছে। এ ছাড়া অপসারণের পর বিকল্প কী হবে সেটা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি প্রেসিডেন্টকে অপসারণের বিপক্ষে। ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে সরাসরি সিদ্ধান্ত না জানিয়ে দলটির নেতারা দলীয় ফোরামের আলোচনার কথা বলেছিলেন। সর্বশেষ সোমবার দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকের আলোচনায় এই ইস্যুটি ছিল। বৈঠক সূত্র দাবি করেছে, এই মুহূর্তে প্রেসিডেন্টকে অপসারণে কোনো উদ্যোগ না নিতে স্থায়ী কমিটির নেতারা একমত হয়েছেন। নেতারা মনে করছেন, প্রেসিডেন্টকে অপসারণ করলে সাংবিধানিক শূন্যতা তৈরি হবে। এতে পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে। প্রেসিডেন্ট ইস্যুতে সরকারের কাছেও নানা পক্ষ থেকে বার্তা দেয়া হচ্ছে। এই মুহূর্তে ইস্যুটি নিয়ে না ভাবার পরামর্শ এসেছে এসব পক্ষ থেকে। বলা হচ্ছে, সরকারের সামনে অনেক কাজ। প্রেসিডেন্টকে অপসারণ করার উদ্যোগ নেয়া হলে যে পরিস্থিতি তৈরি হবে সেটা সামাল দেয়ার জন্য সরকারকে সময় ব্যয় করতে হবে। এতে তাদের মূল কাজ ব্যাহত হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স হেলেন লাফেভ গত বুধবার প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সূত্রের দাবি সাক্ষাতে চলমান নানা ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়। প্রেসিডেন্ট ইস্যুটিও আলোচনায় এসেছিল। এ ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের দূত তাদের নিজেদের অভিমত জানিয়েছেন। তারা মনে করেন, নানা গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ সামনে নিয়ে সরকার এগোচ্ছে। এই মুহূর্তে নতুন ইস্যু সামনে আনলে জটিলতা তৈরি হতে পারে।

সেনা প্রশাসনের তরফেও প্রধান উপদেষ্টাকে মতামত জানিয়ে দেয়া হয়েছে। সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা সফরের সময়ে সেনাসদরের একটি প্রতিনিধিদল প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে এ ইস্যুতে আলোচনা করেন বলে জানা গেছে। তারা জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্টকে অপসারণ করলে সাংবিধানিক শূন্যতা তৈরি হতে পারে। এর প্রেক্ষিতে পরিস্থিতি অন্যদিকে মোড় নিতে পারে। এমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি হোক তা তারা চান না।

রাজনৈতিক বিভিন্ন পক্ষ থেকেও প্রধান উপদেষ্টাকে মতামত জানানো হচ্ছে। ছাত্র আন্দোলনের নেতারা ড. ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করে জোরালো দাবি তুলেছিলেন প্রেসিডেন্টকে অপসারণের বিষয়ে। ওই বৈঠকে ছাত্রনেতারা সরকারের দোসর দাবি করে মো. সাহাবুদ্দিনকে অপসারণ করার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। নানামুখী চাপ থাকায় প্রফেসর ড. ইউনূস ওই বৈঠকে সরাসরি কোনো মত দেননি। বরং তিনি ছাত্রদের এ ইস্যুতে নমনীয় মনোভাব পোষণ করতে বলেন। অপসারণ ইস্যু নয়া সংকট বয়ে আনতে পারে- এটাও তাদের বলেছিলেন।

বৈঠকে তিনি রাজনৈতিক ঐকমত্যের বিষয়টি সামনে আনেন। এজন্য দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার পরামর্শ দেন ছাত্রনেতাদের। ওই বৈঠকের পরই রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নেয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটি। ইতিমধ্যে উল্লেখযোগ্য দলের সঙ্গে তাদের বৈঠক শেষ হয়েছে। সর্বশেষ গতকাল বাম গণতান্ত্রিক জোটের সঙ্গে ছাত্রনেতারা বৈঠক করেন। ওই বৈঠক শেষে জাতীয় নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী সাংবাদিকদের বলেন, তারা দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার শেষ পর্যায়ে এসেছেন। পুরো বিষয় নিয়ে তারা সরকারের কাছে সুপারিশ দেবেন। প্রেসিডেন্ট ইস্যুতে রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে একটি কাউন্সিল গঠনের পরামর্শ দেয়ার কথাও জানান তিনি। নাগরিক কমিটির এ নেতার সর্বশেষ বক্তব্য থেকেও এ ইস্যুতে তাদের নমনীয়তার ইঙ্গিত মিলে। এর আগে তারা বলে আসছিলেন, যেকোনোভাবেই হোক প্রেসিডেন্টকে সরে যেতে হবে।

দলগুলোর সঙ্গে আলোচনায় ছাত্রনেতাদের সঙ্গে প্রেসিডেন্টকে অপসারণের বিষয়ে একমত প্রকাশ করা হলেও প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন রাখা হয়। এ ছাড়া তাকে সরালে বিকল্প কী হবে- এটা নিয়েও ভাবতে বলা হয়েছে। যেসব দলের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে এর মধ্যে বিএনপি এখনই প্রেসিডেন্টকে অপসারণে সায় দেয়নি। বিএনপি’র জোটসঙ্গী ১২ দলীয় জোটের নেতারাও একই মনোভাব পোষণ করেছেন। জামায়াতে ইসলামী ছাত্রদের দাবির পক্ষে মত দিলেও সরাসরি কোনো অবস্থান জানায়নি। ইসলামী আন্দোলন প্রেসিডেন্টকে অপসারণের পক্ষে বললেও প্রক্রিয়া নিয়ে কিছুই বলেনি। প্রেসিডেন্টকে অপসারণ ইস্যুতে জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত বলে মত দেয় গণতন্ত্র মঞ্চ। তারা এও মনে করে, নৈতিক দায় থেকে প্রেসিডেন্টকে নিজে থেকে সরে যাওয়া উচিত ছিল। গণঅধিকার পরিষদের দুই পক্ষের সঙ্গেই আলোচনা করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা। বৈঠকে গণঅধিকারের পক্ষ থেকে প্রধান উপদেষ্টাকে রাজনৈতিক সংলাপ আহ্বানের পরামর্শ দেয়া হয়।

mzamin


ইসি গঠন: বিচারপতি জুবায়েরের নেতৃত্বে সার্চ কমিটি

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও অন্যান্য কমিশনার নিয়োগের সুপারিশ করতে সার্চ কমিটির প্রধান করা হচ্ছে আপিল বিভাগের বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীকে। গতকাল মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি মানবজমিনকে বলেন, সার্চ কমিটির প্রধান হবেন আপিল বিভাগের বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। অন্যদের নাম এখনই প্রকাশ করছি না। আজ (মঙ্গলবার) প্রজ্ঞাপন হচ্ছে না, তবে খুব শিগগিরই হবে। এর আগে গতকাল প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও অন্যান্য কমিশনার নিয়োগের সুপারিশ করতে  সার্চ কমিটির প্রধান হিসেবে আপিল বিভাগের বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীকে মনোনীত করেন প্রধান বিচারপতি। এ ছাড়া সদস্য হিসেবে হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানকে মনোনীত করা হয়েছে। মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ সুপ্রিম কোর্টের এই দুই বিচারপতির নাম সুপারিশ করে তা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠিয়েছেন।

নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ আইনানুযায়ী, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারদের শূন্যপদে নিয়োগ দেয়ার যোগ্যতা সম্পন্ন ব্যক্তিদের নাম সুপারিশ করার উদ্দেশ্যে ৬ (ছয়) জন সদস্যের সমন্বয়ে একটি অনুসন্ধান কমিটি গঠন করবেন প্রেসিডেন্ট। সদস্যের মধ্যে থাকবেন- প্রধান বিচারপতি কর্তৃক মনোনীত আপিল বিভাগের একজন বিচারক, যিনি অনুসন্ধান কমিটির সভাপতিও হবেন। এ ছাড়া প্রধান বিচারপতি কর্তৃক মনোনীত হাইকোর্ট বিভাগের একজন বিচারক, বাংলাদেশের মহা-হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের চেয়ারম্যান এবং প্রেসিডেন্ট কর্তৃক মনোনীত ২ (দুই) জন বিশিষ্ট নাগরিক, যাদের একজন হবেন নারী। নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, এ দু’জন হলেন পিএসসি’র সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক জিনাতুন নেসা তাহমিদা বেগম ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক অধ্যাপক সি আর আবরার।

অনুসন্ধান কমিটির দায়িত্ব ও কার্যাবলি: অনুসন্ধান কমিটি তার সভার কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করবে। তিন সদস্যের উপস্থিতিতে অনুসন্ধান কমিটির সভার কোরাম গঠিত হবে। সভায় উপস্থিত সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠের ভোটের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে এবং ভোটের সমতার ক্ষেত্রে সভায় সভাপতিত্বকারী সদস্যের দ্বিতীয় বা নির্ণায়ক ভোট দেয়ার ক্ষমতা থাকবে। আইনের ৪ ধারায় কমিটির দায়িত্ব ও কার্যাবলি নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, অনুসন্ধান কমিটি স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার নীতি অনুসরণ করে দায়িত্ব পালন করবে এবং এই আইনে বর্ণিত যোগ্যতা, অযোগ্যতা, অভিন্নতা, সততা ও সুনাম বিবেচনা করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার পদে নিয়োগ দেয়ার জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে সুপারিশ করবে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার পদে নিয়োগের উদ্দেশ্যে এই আইনে বর্ণিত যোগ্যতা সম্পন্ন ব্যক্তিদের অনুসন্ধান করবে এবং এজন্য রাজনৈতিক দল এবং পেশাজীবী সংগঠনের কাছ থেকে নাম আহ্বান করতে পারবে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের জন্য প্রতিটি শূন্যপদের বিপরীতে প্রেসিডেন্টের কাছে দুইজন ব্যক্তির নাম সুপারিশ করবে কমিটি। এই কমিটি গঠনের ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে সুপারিশ প্রেসিডেন্টের কাছে পেশ করবে। সার্চ কমিটি আইনে বর্ণিত যোগ্যতা-অযোগ্যতা বিবেচনা করে ইসি গঠনে ১০ জনের নাম প্রস্তাব করবেন। তাদের মধ্য থেকেই পাঁচজনকে নিয়ে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করেন প্রেসিডেন্ট। সার্চ কমিটির কাজে সাচিবিক সহায়তা দেবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। কমিটি গঠনের ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে ১০ জনের নাম সুপারিশ করে প্রেসিডেন্টের কাছে পেশ করার বিধান রয়েছে।

mzamin

বান্দরবানে হোটেল-রিসোর্ট রেস্টুরেন্ট বন্ধের আশঙ্কা

খরচ পোষাতে না পেরে বান্দরবানে অনির্দিষ্টকালের জন্য হোটেল-রেস্টুরেন্ট বন্ধ করে দেয়া হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন  হোটেল-রিসোর্ট-রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ীরা। হোটেল-রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা যায়। ব্যবসায়ীরা জানান, সেবার মাধ্যমে সামান্য লাভের আশায় জেলা জুড়ে  কয়েক শত লোক পর্যটন খাতে  বিনিয়োগ করেছেন। এসব বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অধিকাংশই ঋণগ্রস্ত। এদের সঙ্গে গণপরিবহন, চাঁদের গাড়ি, বার্মিজ স্টোর, ইঞ্জিনচালিত বোট, থ্রি হুইলার, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাসহ বিভিন্ন খাতে যুক্ত হয়ে জীবিকা নির্বাহ করছে অন্তত ২০ হাজারেরও অধিক মানুষ। যা সম্পূর্ণ পর্যটকনির্ভর। তবে ২০১৯ সাল থেকে করোনা ভাইরাস, বান্দরবানে ভয়াবহ বন্যা, সাম্প্রতিক সময়ে পাহাড়ের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন কুকি চিন-এর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে লাগাতারভাবে বান্দরবানের পর্যটন স্পটগুলোতে পর্যটক ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল। বিগত কয়েক মাস পূর্বে সীমিত পরিসরে কিছু পর্যটন স্পট পর্যটকদের ভ্রমণের জন্য খুলে দিলেও দেশের বিরাজমান রাজনৈতিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে কাঙ্ক্ষিত পর্যটক, ভ্রমণে আসতে পারেননি। ফলে এখানকার পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসাগুলোতে ব্যাপক ধস নামে। সর্বশেষ গত ৮ই অক্টোবর থেকে  ৩১শে অক্টোবর পর্যন্ত পর্যটকদের বান্দরবান ভ্রমণে নিরুৎসাহিত করেছে জেলা প্রশাসন। যার কারণে ব্যয়ভার মেটাতে না পেরে কর্মী ছাঁটাইসহ প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছে অনেক বিনিয়োগকারী।

হোটেল ডি’মোরের ম্যানেজার হ্যাপী মারমা জানান, তিন তারকামানের তাদের হোটেলটিতে দৈনিক অন্তত ৫০ হাজার টাকা খরচ আছে। পর্যটকের উপস্থিতি না থাকায়  তাদের হোটেলটি চলতি মাসের গত ৫ তারিখ থেকে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। রেস্টুরেন্ট মালিক সমিতির সভাপতি গিয়াস উদ্দীন মাস্টার জানান, দীর্ঘদিন ধরে পারিপার্শ্বিক কারণে পর্যটকের উপস্থিতি অশানুরূপ না থাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ীরা। খরচ পোষাতে না পারায় ইতিমধ্যে বেয়াই বাড়ি, গার্ডেনসিটি, কলাপাতাসহ জেলা সদরের প্রায় ২৫টি রেস্টুরেন্ট বন্ধ হয়ে গেছে। আগামী ৩১ তারিখের পর চলতি ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা না হলে আরও রেস্টুরেন্ট বন্ধ হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।

বান্দরবান আবাসিক হোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক  মো. জসিম উদ্দিন জানান, ২০১৯ সালের শেষের দিক থেকে ক্রমান্বয়ে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন বান্দরবান জেলার পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। ইতিমধ্যে হোটেলের চলমান খরচ বহন করতে না পারায় অনেক হোটেলের মালিকানা পরিবর্তন হয়েছে। বন্ধ করে দিয়েছে হোটেল ডি’মোর, লাভা তং, হোটেল হিলবার্ডসহ আরও কয়েকটি আবাসিক হোটেল। আগামী ৩১শে অক্টোবর পর্যন্ত পর্যটক ভ্রমণে দেয়া নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা না হলে অন্যান্য হোটেলগুলো বন্ধ করে দেয়া ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না। তিনি আরও বলেন, ৩১শে অক্টোবর পরবর্তী ভ্রমণের নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে হোটেল-রেস্টুরেন্টসহ পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে জেলাপ্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

mzamin