Sunday, August 31, 2025
গাজা সিটিতে হাহাকার, আরও ৪৭ নিহত
এদিকে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২৪ ঘণ্টায় অপুষ্টির কারণে আরও ১০ জন মারা গেছেন। নিহতদের মধ্যে তিন শিশু রয়েছে। গাজা সিটিতে ইসরাইলি বাহিনী টানা তিনটি হামলা চালায়। এতে একটি অ্যাপার্টমেন্ট ধ্বংস হয়েছে। কমপক্ষে সাতজনকে হত্যা করা হয়েছে। আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে শিশুও রয়েছে। আল জাজিরার সাংবাদিক হানি মাহমুদ গাজা সিটি থেকে জানিয়েছেন, এ হামলায় চারপাশে ‘হাহাকার ও বিশৃঙ্খলা’ তৈরি হয়। তিনি বলেন, অনেক শিশু আহত হয়েছে। তারা সম্পূর্ণ রক্তে ভিজে হাসপাতালে পৌঁছেছে। আমরা দেখেছি এক শিশুর পিঠে আহত অন্যদের মাংস লেগে আছে।
মাহমুদ আরও বলেন, ইসরাইল গাজা সিটিকে যুদ্ধক্ষেত্র ঘোষণা করার পর এটি ছিল সর্বশেষ হামলা। সামরিক বাহিনী ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বিমান হামলা বাড়িয়েছে, যা মানুষকে আরও উচ্ছেদ হতে বাধ্য করছে। আমরা দেখছি মানুষ আশ্রয়ের জন্য হাহাকার করছে। ইসরাইলি হামলা থেকে পালিয়ে পরিবারগুলো নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরের কাছে এবং মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ এলাকায় নির্মম করুণ পরিস্থিতিতে অস্থায়ী তাঁবু গড়ে তুলছে। তাদের অধিকাংশই ইতিমধ্যেই একাধিকবার ঘরছাড়া হয়েছেন। ৫০ বছর বয়সী মোহাম্মদ মালুফ এপি’কে বলেন, তিনি ও তার নয় সদস্যের পরিবারকে উত্তর গাজার বেইত লাহিয়া থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। তিনি ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, আমাদের রাস্তায় ফেলে দেয়া হয়েছে। আমি কী বলব? কুকুরের মতো? আমরা কুকুর নই। কুকুরকে আমাদের চেয়ে ভালোভাবে রাখা হয়। আমাদের কোনো ঘর নেই। আমরা রাস্তায়। ভারী ইসরাইলি হামলা উত্তর গাজার জাবালিয়াকেও টার্গেট করেছে। এতে সেখান থেকে পালাতে বাধ্য হয়েছে মানুষ। মোহাম্মদ আবু ওয়ারদা আল জাজিরাকে বলেন, তিনি জাবালিয়া থেকে পালিয়ে গাজা সিটির পশ্চিম দিকে যাচ্ছেন। তবে ঠিক কোথায় যাবেন তা জানেন না।
তিনি বলেন, আমাদের এলাকা ছেড়েছি। কারণ সেখানে অবস্থা ভয়াবহ। আশা করছি একটা জায়গা পাব তাঁবু বসানোর জন্য। এখানে সবকিছুই নিরর্থক। আর কোনো জায়গাই নিরাপদ নয়। ইসরাইলিরা সর্বত্র হামলা করছে। ইসরাইলি বাহিনী আগস্টের শুরু থেকে গাজা সিটিতে ধারাবাহিক বোমাবর্ষণ চালাচ্ছে শহরটি দখল করার ও প্রায় ১০ লাখ ফিলিস্তিনিকে উচ্ছেদ করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে। শুক্রবার ইসরাইলি সেনারা জানায়, তারা আক্রমণের প্রাথমিক ধাপ শুরু করেছে এবং গাজার সবচেয়ে বড় শহরটিকে যুদ্ধক্ষেত্র ঘোষণা করেছে।
আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির প্রধান মিরজানা স্পোলজারিক এগার ইসরাইলের এই পদক্ষেপের নিন্দা করেন। তিনি বলেন, গাজা সিটির গণউচ্ছেদ অকল্পনীয় ও অবাস্তব। তিনি সতর্ক করে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে গাজা সিটির গণউচ্ছেদ নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণভাবে সম্ভব নয়। এটি বিশাল জনপদ স্থানান্তরের দিকে ঠেলে দেবে, যা গাজা উপত্যকার কোথাও সামলানো সম্ভব নয়। কারণ বেসামরিক অবকাঠামোর ব্যাপক ধ্বংস আর খাদ্য, পানি, আশ্রয় ও চিকিৎসার মারাত্মক সংকট রয়েছে।
![]() |
প্রথম আলোঃ গাজায় হামাসের সামরিক প্রধান মোহাম্মদ সিনওয়ার নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে সংগঠনটি। গতকাল শনিবার হামাসের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়। গত মে মাসে ইসরায়েল জানিয়েছিল, তাদের সেনা অভিযানে মোহাম্মদ সিনওয়ার নিহত হয়েছেন। যদিও তখন এ তথ্যের সত্যতা নিয়ে হামাসের পক্ষ থেকে কিছু বলা হয়নি। ওই ঘটনার কয়েক মাস পর এখন ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস আনুষ্ঠানিকভাবে মোহাম্মদ সিনওয়ারের নিহত হওয়ার খবর জানাল। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি তারা। শুধু আরও কয়েকজন কমান্ডারের সঙ্গে মোহাম্মদ সিনওয়ারের একটি ছবি প্রকাশ করে তাঁদের সম্পর্কে লেখা হয়েছে, ‘শহীদ’। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলার পরিকল্পনাকারী ও হামাসের সাবেক প্রধান ইয়াহিয়া সিনওয়ারের ছোট ভাই মোহাম্মদ সিনওয়ার। ২০২৪ সালের অক্টোবরে গাজার রাফায় ইয়াহিয়া সিনওয়ারও ইসরায়েলি সেনাদের হাতে প্রাণ হারান। তাঁর মৃত্যুর পর মোহাম্মদ সিনওয়ার গাজায় হামাসের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেন। # ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, এই ব্যক্তি হামাস নেতা মোহাম্মদ সিনওয়ার। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ২০২৩ সালের ১৭ ডিসেম্বর ছবিটি প্রকাশ করে। ছবি: রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘বিশ্বের সবচেয়ে নৈতিক’ ইসরায়েলি বাহিনী গাজায় আসলে কী করছে
বিশ্লেষকদের মতে, ফিলিস্তিনিদের হত্যা করা, নির্যাতন ও নির্বিচার আটক করা নতুন কিছু নয়। তবে দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিনিদের ওপর অমানবিক আচরণ, সেনাবাহিনীতে চরম ডানপন্থী মতাদর্শের অনুপ্রবেশ এবং জবাবদিহির অভাব ইসরায়েলি সেনাদের এমন অবস্থায় পৌঁছে দিয়েছে যে তাঁরা কোনো কারণ ছাড়াই যা খুশি তা–ই করতে পারছেন।
আমস্টারডাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এরেলা গ্রাসিয়ানি বলেন, ‘আমার কাছে এটা একেবারে নতুন একটি ঘটনা। আগেও পাথর ছোড়ার দায়ে সেনারা শিশুদের মারধর বা আটক করেছে। কিন্তু এবার বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিন্ন।’
২০০০ সালে দ্বিতীয় ইন্তিফাদার সময় ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর কর্মকাণ্ডের ওপর লেখালিখি করেছেন এরেলা। সেসব লেখায় তিনি দেখিয়েছেন, কীভাবে সেনাদের মধ্যে নৈতিক ‘অসাড়তা’ তৈরি হয়েছিল।
এরেলা বলেন, ‘আগে অন্তত কিছু নিয়মকানুন ছিল, যদিও সব সময় তা মানা হতো না। কিন্তু এখন সেটুকুও নেই।’
যুদ্ধ যেন খেলা
গাজা ও পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সেনাদের বর্বরতা নিয়ে অভিযোগ দীর্ঘদিনের।
অনেক ইসরায়েলি সেনা বিভিন্ন সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও পোস্ট করেছেন। সেসব ভিডিওতে দেখা গেছে, সেনারা ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর তল্লাশি করছেন। ঘরে থাকা নারীদের পোশাক পরছেন, এমনকি তাঁদের অন্তর্বাস নিয়ে মজা করছেন।
এমন অভিযোগও রয়েছে যে সেনারা লক্ষ্যভেদ অনুশীলনের জন্য বেসামরিক মানুষদের গুলি করেছেন। আবার কখনো কেবল একঘেয়েমি কাটানোর জন্য গুলি করেছেন।
ইসরায়েলি সেনাদের হাতে গাজায় শিশু হত্যার কিছু ঘটনার অনুসন্ধান করেছে বিবিসি। আগস্টের শুরুতে এ ধরনের ১৬০টি ঘটনা যাচাই-বাছাই করা হয়। এর মধ্যে ৯৫টি শিশুকে মাথায় কিংবা বুকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। আর এসব ঘটনায় শুধু আহত করার জন্য গুলি করা হয়েছে বলার কোনো সুযোগ নেই।
আরও অভিযোগ আছে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র–সমর্থিত গাজা হিউম্যানিটেরিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ) পরিচালিত ত্রাণ বিতরণকেন্দ্রগুলোতে জমায়েত হওয়া বেসামরিক মানুষকে গুলি করে হত্যা করছেন ইসরায়েলি সেনারা। লক্ষ্যভেদ অনুশীলনের জন্য এসব মানুষকে ব্যবহার করছেন তাঁরা।
যুক্তরাষ্ট্রের সার্জন নিক মেইনার্ড গত জুলাইয়ে তৃতীয়বারের মতো গাজা থেকে ফিরেছেন। তিনি বলেন, এসব ত্রাণ বিতরণকেন্দ্রকে আসলে মৃত্যুফাঁদ হিসেবে তৈরি করা হয়েছে।
নিক বলেন, ফাউন্ডেশনের ত্রাণ বিতরণকেন্দ্রে একটি পরিবারের জন্য কয়েক দিনের পর্যাপ্ত খাবার থাকে। কিন্তু কেন্দ্রের বাইরে অপেক্ষায় থাকা হাজারো মানুষের জন্য থাকে না। তারা হঠাৎ অপেক্ষমাণ মানুষের জন্য ত্রাণকেন্দ্রের ফটক খুলে দেয় এবং বিশৃঙ্খলা, মারামারি, এমনকি দাঙ্গা বাধতে দেয়। পরে এই অজুহাতে ভিড়ের মধ্যে গুলি চালায়।
নাসের হাসপাতালের চিকিৎসক এবং জরুরি চিকিৎসাকর্মীদের কাছে গুলির ধরন স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ওই হাসপাতালেই কাজ করতেন নিক মেইনার্ড। তিনি বলেন, ‘আমি ১২ বছর বয়সী একটি শিশুর অস্ত্রোপচার করছিলাম, যে পরে মারা গেছে।’
নিক বলেন, ‘গাজা হিউম্যানিটেরিয়ান ফাউন্ডেশনের একটি ত্রাণ বিতরণকেন্দ্রে শিশুটি গুলিবিদ্ধ হয়েছিল। পরে এ বিষয়ে জরুরি বিভাগে আমার এক সহকর্মীর সঙ্গে আলাপ হয়। তিনি আমাকে বলেন, তিনি ও অন্য চিকিৎসাকর্মীরা বারবার উন্ড গ্রুপিং বা একই ধরনের ক্ষতের স্পষ্ট প্রমাণ পেয়েছেন।’
উন্ড গ্রুপিং বলতে বোঝানো হচ্ছে, কোনো একদিন বহু মানুষ শরীরের একই স্থানে একই ধরনের ক্ষত নিয়ে হাসপাতালে এলেন। আবার পরদিন আরও বেশ কিছু মানুষ এলেন শরীরের অন্য অংশে একই ধরনের ক্ষত নিয়ে।
নিক মেইনার্ডের ধারণা, এর অর্থ হলো ইসরায়েলি স্নাইপাররা হয়তো খেলার ছলে, নয়তো নিজেদের নিশানা আরও শাণিত করার জন্য সাধারণ নাগরিকদের ব্যবহার করছেন। এ কথা তিনি আগেও স্কাই নিউজকে বলেছিলেন।
দায়বদ্ধতা নেই, নেই নিয়ন্ত্রণ
২০২৪ সালের জুলাইয়ে ইসরায়েলি সাময়িকী +৯৭২-এর এক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, গাজায় বেসামরিক নাগরিকদের ওপর নির্বিচার গুলি চালাতে সেনাদের প্রায় কোনো বিধিনিষেধই ছিল না।
গাজায় মাসের পর মাস দায়িত্ব পালন করা এক ইসরায়েলি সেনা +৯৭২ সাময়িকীকে বলেন, ‘পুরোপুরি স্বাধীনতা ছিল। এমনকি যদি কোনো রকম হুমকি আছে বলে মনে হয়, তবে ব্যাখ্যার দরকার নেই—তুমি সরাসরি গুলি চালাতে পারো। আকাশে নয়; বরং তাদের শরীরের মূল অংশে গুলি চালানোর অনুমতি আছে।’
নাম গোপন রাখার শর্তে ওই সেনা আরও বলেন, সবাইকে গুলি করার অনুমতি আছে—হোক সে মেয়েশিশু কিংবা বৃদ্ধা।
অ্যাকশন অন আর্মড ভায়োলেন্সের (এওএভি) এক গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত ইসরায়েলি সেনাদের বিরুদ্ধে গাজা ও পশ্চিম তীরে সংঘটিত যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে সেনাবাহিনী যে ৫২টি ঘটনার তদন্ত শুরু করেছিল, তার ৮৮ শতাংশই থমকে গেছে বা দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া ছাড়াই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
এওএভি জানায়, এই ৫২টি ঘটনায় ১ হাজার ৩০৩ মানুষ নিহত ও ১ হাজার ৮৮০ জন আহত হন। এ ছাড়া আরও দুজন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। অথচ এত অভিযোগের মধ্যে মাত্র একজন দোষীকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এমনকি কোনো ঘটনার ভিডিও প্রমাণ থাকলেও জনমতের চাপ এবং মন্ত্রিসভার কিছু সদস্যের সরাসরি হস্তক্ষেপের কারণে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের শেষ পর্যন্ত দায়মুক্তি দেওয়া হতো। যেমন ইসরায়েলি এস্দি তাইমান নামে একটি কারাগারে এক ফিলিস্তিনি বন্দীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের ভিডিও প্রমাণ থাকার পরও দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
ইসরায়েলি সেনাদের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ নতুন নয়। ১৯৬৭ সালেই নাবলুস কারাগারে বন্দীদের ওপর ধারাবাহিক নির্যাতনের নথিপত্র প্রকাশ করেছিল রেড ক্রিসেন্ট।
তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেনাদের মধ্যে ফিলিস্তিনিদের প্রতি অমানবিক ভাষা ও দৃষ্টিভঙ্গি আরও তীব্র হয়েছে। গবেষকেরা বলছেন, ইসরায়েলি সেনারা এখন ফিলিস্তিনিদের মানুষই মনে করেন না।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীকে নিয়ে লেখা ‘অ্যান আর্মি লাইক নো আদার’ বইয়ের লেখক হাইম ব্রেসশিথ বলেন, এটি ঠিক এমন যেন একটা তুষারের গোলা পাহাড় বেয়ে গড়িয়ে পড়ছে, যার কোনো শেষ নেই।
হাইম বলেন, বছর বছর সহিংসতা আরও বাড়ছে। সাধারণ মানুষকে নিশানা হিসেবে ব্যবহার করাটা এখন ইসরায়েলি বাহিনীর কাছে স্বাভাবিক একটা বিষয়।
ইসরায়েলের পদাতিক বাহিনী সম্পর্কে বলতে গিয়ে এই লেখক বলেন, এটা নতুন একধরনের খেলা, রক্তের খেলা। আর এমন খেলা সব সময় নিচ থেকে শুরু হয়।
হাইম বলেন, এটা বিকৃত, খুনে স্বভাব আর ভীষণ অসুস্থ মানসিকতার প্রকাশ।
![]() |
| গাজা উপত্যকায় ইসরায়েল সেনাবাহিনীর অভিযান। ফাইল ছবি: রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মিয়ানমার: যুবহীন একটি দেশ
প্রথম ঢেউ
২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সামরিক অভ্যুত্থানের পর, দেশজুড়ে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। দাবি ছিল জান্তা সরকারকে নির্বাচিত বেসামরিক সরকারের কাছে ক্ষমতা ফিরিয়ে দিতে হবে। কিন্তু তাদের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের বিরুদ্ধে শাসকগোষ্ঠীর নৃশংস দমন-পীড়নের জেরে শত শত মানুষ নিহত বা গুরুতর আহত হয়, যাদের বেশিরভাগই তরুণ। হাজার হাজার বিক্ষোভকারীকে কারাগারে আটক করা হয় এবং কিছু মানুষকে নির্যাতনের পর মৃত্যুদণ্ড দেয় জান্তা। হাজার হাজার তরুণ জান্তার বিরুদ্ধে অস্ত্র হাতে নেওয়ার জন্য তাদের বাড়িঘর ছেড়েছিল, আবার অনেকে নিরাপত্তা এবং উন্নত সুযোগের সন্ধানে দেশ ছাড়ে। ২৬ বছর বয়সী এক তরুণ, যিনি ২০২৪ সালে সেনাবাহিনীর নিয়োগ এড়াতে ইয়াঙ্গুন থেকে ব্যাংককে পাড়ি জমান। তিনি বলছেন- অভ্যুত্থানের আগে প্রচুর তরুণ ছিল। এখন আমি আমার রাস্তায় আমার বয়সী কোনো লোক দেখতে পাই না। জান্তা সরকার অভ্যুত্থান-বিরোধী সমাবেশগুলোকে ব্লক করার জন্য ইন্টারনেট অ্যাক্সেস বন্ধ করে দেয়, যার ফলে অনলাইন পরিষেবার উপর নির্ভরশীল ব্যবসাগুলো ব্যাহত হয় এবং দেশের ব্যাংকিং কার্যক্রম মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হয়। কিছু সময়ের জন্য, মানুষ আর এটিএম থেকে নগদ টাকা তুলতে পারত না। যার ফলে ব্যাংকগুলোতে দৌড়ঝাঁপ শুরু হয় এবং অর্থনীতি শীঘ্রই ধসে পড়ে। দেশে দুর্দশার কারণে শীঘ্রই অনেক, বিশেষ করে তরুণ-তরুণীরা বিদেশে কাজ এবং আরও ভালো সুযোগের সন্ধানে দেশ ছাড়তে শুরু করে। দেশ ছাড়া তরুণ-তরুণীদের মধ্যে অনেকে এখন জাপান বা দক্ষিণ কোরিয়ায় কাজ করছে। বিশেষ করে কৃষি, নির্মাণ এবং পরিষেবা শিল্পে।
অভ্যুত্থানের পরের বছরগুলোতে, প্রায় ৩৫,০০০ তরুণ কোরিয়ায় কাজ করার জন্য প্রতি বছর ঊচঝ-ঞঙচওক পরীক্ষায় অংশ নেয়। জান্তার শ্রম মন্ত্রণালয়ের মতে, ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে নিয়োগ আইন কার্যকর হওয়ার পর, এই সংখ্যা বেড়ে ১০০,০০০-এরও বেশি হয়ে যায়। কিন্তু সবচেয়ে বড় অংশ কাজ করার জন্য থাইল্যান্ডে পালিয়ে গেছে। থাইল্যান্ডের শ্রম অধিকার কর্মী কো থার কিয়াওর মতে, এখন থাই সীমান্তবর্তী এলাকার প্রায় প্রতিটি স্কুলে মিয়ানমারের শিক্ষার্থী রয়েছে।
প্রতিকূল পরিবেশ
দেশে ফিরে, অনেক তরুণ শহরাঞ্চলে গোপনে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল। যার ফলে জান্তা প্রধান শহরগুলো- ইয়াঙ্গুন, মান্দালয় এবং নেপিদোয় বাঙ্কার ফাঁড়ি তৈরি করে এবং চেকপয়েন্ট স্থাপন করে নিরাপত্তা জোরদার করতে শুরু করে। নিরাপত্তা কর্মকর্তারা পথচারীদের ব্যাগ, মানিব্যাগ, স্মার্টফোন, এমনকি তাদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট বা কথোপকথন পরীক্ষা করে তাদের কাছ থেকে টাকা আদায় করে অথবা সন্দেহজনক কিছু পেলে তাদের গ্রেপ্তার করে। এই প্রতিকূল পরিবেশ আরও বেশি তরুণ-তরুণীকে দেশ ত্যাগে বাধ্য করেছে। গত বছর জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) মিয়ানমার যুব জরিপ অনুসারে, মিয়ানমারে থাকা তরুণদের প্রায় ২৫.১ শতাংশ জাপানে, ১৭.৬ শতাংশ থাইল্যান্ডে, ১৭.১ শতাংশ দক্ষিণ কোরিয়ায় এবং বাকিরা সিঙ্গাপুর, যুক্তরাষ্ট্র, মালয়েশিয়া, ইউরোপ, সংযুক্ত আরব আমিরাত, চীন, অস্ট্রেলিয়া এবং অন্যান্য দেশে অভিবাসন করতে চেয়েছিল। উচ্চশিক্ষিত তরুণদের মধ্যে প্রায় ৫৩ শতাংশের অভিবাসনের সম্ভাবনা ছিল, যা মেধা পাচারের গুরুতর উদ্বেগ তৈরি করেছে।
দ্বিতীয় ঢেউ
২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে, শাসকগোষ্ঠী সেনায় নিয়োগ আইন কার্যকর করে। যার ফলে ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী সকল পুরুষ এবং ১৮ থেকে ২৭ বছর বয়সী সকল নারীকে দুই বছরের জন্য সেনাবাহিনীতে চাকরি করতে বাধ্য করা হয়। এর ফলে তরুণদের মধ্যে একটা বড় অংশ দেশত্যাগ করতে শুরু করে। প্রতি মাসে হাজার হাজার মানুষ দেশ ছেড়ে চলে যায় এবং আরও অনেকে সশস্ত্র প্রতিরোধে যোগ দেয়। তরুণদের দেশ ত্যাগে বাধা দেওয়ার জন্য শাসকগোষ্ঠী ২৩ থেকে ৩১ বছর বয়সী পুরুষদের বিদেশে কাজ করার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এমনকি ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী ভ্রমণকারীদের বিমানবন্দরে আটকে দেয়। তবুও, হাজার হাজার মানুষ সীমান্ত পেরিয়ে পালিয়ে যেতে থাকে। তীব্র সৈন্য ঘাটতি মেটাতে জান্তা এখন রাস্তাঘাট, বাস এমনকি বাড়ি থেকে সুস্থ যুবকদের অপহরণ করতে বাধ্য হচ্ছে। এমনকি ইয়াঙ্গুন এবং মান্দালয়ের মতো বড় শহরগুলোতেও এই ঘটনা ঘটছে। জান্তার হিসাব অনুযায়ী, গত দেড় বছরে ১৫টি ব্যাচে আনুমানিক ৭৫,০০০ জনকে সামরিক চাকরিতে নিয়োগ করা হয়েছে। এর মধ্যে আনুমানিক ৬০ শতাংশকে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং ৩০ শতাংশকে লটারির মাধ্যমে অথবা বেতনভুক্ত হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। প্রতিরোধে যোগদানকারী সহকর্মীদের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য এই তরুণ সৈন্যদের সামনের সারিতে পাঠানো হয়। ইয়াঙ্গুনের একজন বাসিন্দা দ্য ইরাবতীকে জানিয়েছেন , সামরিক বাহিনীতে যোগদান এড়াতে আমার ২১ বছর বয়সী ভাগ্নে কাজের সন্ধানে অবৈধভাবে মালয়েশিয়া চলে যায়। সামরিক বাহিনীতে যোগদান এড়াতে তার ২০ বছর বয়সী ওপর এক ভাগ্নেকে পড়াশোনার জন্য থাইল্যান্ড যেতে বাধ্য করা হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, প্রতিবেশী একটি পরিবারও থাইল্যান্ডে স্থানান্তরিত হয়েছে। তাদের এক ছেলের সেনাবাহিনীতে যোগদানের বয়স হয়ে গিয়েছিলো। তার পরিচিত ২২ বছর বয়সী ওপর এক যুবক কারেন রাজ্যে একটি প্রতিরোধ গোষ্ঠীতে যোগ দিয়েছে।
শ্রমিকের ঘাটতি
ইয়াঙ্গুনের একটি পোশাক কারখানার প্রধান বলেন, যখন থেকে সেনায় বাধ্যতামূলক যোগদান আইন কার্যকর করা হয়েছে, তখন থেকে আমার কারখানায় কোনো যুবককে দেখিনি। তারা বিদেশে পালিয়ে গেছে। আমরা ১৮ থেকে ৩০ বছর বয়সী যুবকদের আকর্ষণীয় বেতন দেই, কিন্তু লোকেরা কেবল অল্প সময়ের জন্য থাকে এবং তারপর বিদেশে চলে যায়। ইয়াঙ্গুনের আরেক বাসিন্দা কো থান্ট জিন বলেন, ইয়াঙ্গুন শপিং মলে অনেক দোকান চাকরির জন্য শূন্যপদ ঘোষণা করছে। যা থেকে বিষয়টি স্পষ্ট । জিন বলছেন, নিয়োগ আইন কার্যকর হওয়ার পর থেকে, যে গ্যারেজে আমি আমার গাড়ি মেরামত করি সেখানেও তীব্র শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে। অনেক কর্মী নিয়োগ এড়াতে চাকরি ছেড়ে দিয়েছিলেন, আবার অনেকে ভালো বেতনের চাকরির জন্য চলে গেছেন। কখনও কখনও আমাকে গাড়ি মেরামত না করেই বাড়ি ফিরে যেতে হয় কারণ সেখানে কোনও মেকানিক নেই। এই বছর শ্রমিক দিবসে এক চিঠিতে জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং স্বীকার করেছেন যে, ব্যাপক অভিবাসনের কারণে দেশটি শ্রমিক সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে। ইরাবতী অঞ্চলের লাবুত্তা টাউনশিপের একজন কৃষক বলেছেন, এই বছর আমরা অর্ধেক কর্মী হারিয়েছি, সম্ভবত বাধ্যতামূলক নিয়োগ আইন বা অন্যান্য কারণে। আমি শুধু এটুকু বলতে পারি যে বেশিরভাগ তরুণ আর দেশে নেই। এর অর্থ কৃষিকাজে দ্বিগুণ সময় লাগছে এবং ফসল উৎপাদন হ্রাস পাচ্ছে। ৩১ বছর বয়সী একজন নারী অফিস কর্মী জানাচ্ছেন, ইয়াঙ্গুনে পরিস্থিতি এতটাই খারাপ যে সাধারণ মানুষ এখন সন্ধ্যা ৭টার পরেও ঘরে বসে থাকে। কনসক্রিপশন আইন এবং নিরাপত্তার অভাবের কারণে। প্রতিটি পরিবার তাদের প্রিয়জনদের নিরাপদে বাসায় ফিরে আসার জন্য প্রার্থনা করতে থাকে। তবুও ইয়াঙ্গুনের বার এবং নাইটক্লাবগুলোতে প্রায়শই ধনী এবং বিত্তশালী ব্যক্তিদের আনাগোনা লেগে থাকে। তবে আশার কথা একটাই -ইউএনডিপি জরিপে দেখা গেছে যে ৯০ শতাংশ তরুণ যারা চলে যেতে ইচ্ছুক ছিল তারা রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে বাসায় ফিরে আসতে ইচ্ছুক।
সূত্র : দ্য ইরাবতী

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
১২ হাজার বছর আগে তীক্ষ্ণ ফলার অস্ত্রে খুন হন এই ব্যক্তি, গোলকধাঁধায় বিজ্ঞানীরা
কঙ্কালটি সম্প্রতি উদ্ধার করা হয়েছে। ভিয়েতনামের গুহায় সেটি বেশ ভালো অবস্থায় পাওয়া গেছে। কঙ্কালটিতে ওই অঞ্চলের সবচেয়ে প্রাচীন মানুষের মাইটোকন্ড্রিয়াল ডিএনএ পাওয়া গেছে।
মাইটোকন্ড্রিয়াল ডিএনএ (এমটিডিএনএ) হচ্ছে একটি বিশেষ ধরনের ডিএনএ, যা কোষের মাইটোকন্ড্রিয়ায় থাকে। এটি সাধারণত মাতৃপরম্পরায় (মায়ের থেকে সন্তানে) হয়ে থাকে। বিজ্ঞানীরা এর মাধ্যমে মানুষের বংশ, পূর্বপুরুষ ও কীভাবে নির্দিষ্ট অঞ্চলের অভিবাসী হয়েছে, সেই ধারা সম্পর্কে জানতে পারেন।
ভিয়েতনামের গুহা থেকে উদ্ধার হওয়া কঙ্কালটি একজন পুরুষের, বয়স প্রায় ৩৫। কোয়ার্টজ (একধরনের স্ফটিক) দিয়ে তৈরি তীক্ষ্ণ ফলাযুক্ত কোনো অস্ত্র ছুড়ে তাঁর ঘাড়ে আঘাত করা হয়। এ থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, ওই সময়ে মানুষ অস্ত্র তৈরি করতে জানতেন।
তবে ওই ব্যক্তি আঘাত পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মারা যাননি। তাঁর আঘাতপ্রাপ্ত ঘাড়ের হাড় বিশ্লেষণ করে অতিরিক্ত টিস্যু বৃদ্ধি ও সংক্রমণের চিহ্ন পাওয়া গেছে, সম্ভবত সংক্রমণ থেকেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
গত মঙ্গলবার ‘প্রসিডিংস অব দ্য রয়্যাল সোসাইটি বি: বায়োলজিক্যাল সায়েন্সেস’ জার্নালে এ গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, আহত হওয়ার পর ওই ব্যক্তি খুব সম্ভবত কয়েক মাস বেঁচে ছিলেন। মারা যাওয়ার পর তাঁকে ‘থুং বিন ১’ নামের একটি গুহায় সমাহিত করা হয়। বর্তমানে ওই গুহাস্থলের নাম ‘ত্রাং আন ল্যান্ডস্কেপ কমপ্লেক্স’ এবং স্থানটি ইউনেসকো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ।
গবেষকেরা বলছেন, ওই ব্যক্তির আঘাতজনিত ক্ষতে পরে কী হয়েছিল, তা এখনো অজানা। তবে এ ঘটনা দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়ার মূল ভূখণ্ডে শিকারনির্ভর সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘর্ষের কারণে হতে পারে।
ওই ব্যক্তির আঘাত পাওয়া ও আহত হওয়ার পরও কিছুদিন বেঁচে থাকার ঘটনা ২৬ লাখ থেকে ১১ হাজার ৭০০ বছর আগে প্লাইস্টোসিন বা পুরাপলীয় যুগের শেষ দিকে এ অঞ্চলের মানুষের জীবনের একটি বিরল ছবি তুলে ধরেছে।
কেনটাকি বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হুগো রেসেস-সেন্টেনো ই-মেইলে এ বিষয়ে বলেন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার শেষ প্লাইস্টোসিন যুগের মানব কঙ্কাল পাওয়া তুলনামূলকভাবে বিরল। হোলোসিন যুগে মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সহিংসতার অনেক প্রমাণ রয়েছে, বিশেষ করে ওই সময়ে, যখন লোকজন খাদ্য উৎপাদনভিত্তিক অর্থনীতি গ্রহণ করেছে এবং সমাজে শ্রেণিপার্থক্য বেড়ে যায়। তবে প্লাইস্টোসিন যুগে এমন উদাহরণ কম। ধারণা করা হয়, প্লাইস্টোসিন যুগে মানুষ মূলত শিকারের ওপর নির্ভর করে জীবন ধারণ করত।
এই গবেষণা প্লাইস্টোসিন যুগে সহিংসতার বিরল উদাহরণে একটি নতুন সংযোজন বলে মনে করেন তিনি।
‘বিশাল এক চমক’
২০১৭ সালের ডিসেম্বরে গবেষকেরা ওই কঙ্কাল উদ্ধার করেন। তাঁরা সেটির নাম দিয়েছেন ‘টিবিএইচ১’। কঙ্কালের মাথার খুলি ভাঙা এবং চ্যাপ্টা হয়ে গেছে, কিন্তু খুলির বেশির ভাগ অংশই পাওয়া গেছে। এমনকি খুলিতে সব কটি দাঁতও আছে।
সেটির পেলভিস বা কোমরের হাড় ও মেরুদণ্ড ভাঙা। একটি আন্তর্জাতিক দলের সহযোগিতায় ‘টিবিএইচ১’–এর হাড়ের টুকরা টুকরা অংশ উদ্ধার করা হয়, যা চলে ২০১৮ সাল পর্যন্ত।
গবেষক দলটিকে খুবই সতর্কতার সঙ্গে হাড় উদ্ধারের কাজ করতে হয়েছে। কারণ, সেগুলো খুবই ভঙ্গুর অবস্থায় ছিল, গুহার পরিবেশও উপযুক্ত ছিল না বলে জানান প্রধান গবেষক ক্রিস স্টিম্পসন। তিনি যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামের গবেষক।
স্টিম্পসন সিএনএনকে বলেন, এটি উপ-উষ্ণমণ্ডলীয় অঞ্চল। তাই এখানে প্রচুর পানি, প্রচুর ক্যালসিয়াম কার্বনেট জমা হয়। ফলে এখানে মাটি বা পলি খুবই আঠালো।
খুলি ও কঙ্কালের হাড়ের আরও ক্ষতি এড়াতে গবেষক দল সেগুলোর চারপাশের পলিমাটি বড় বড় ব্লকের আকারে কেটে গুহা থেকে বের করে এনেছেন এবং পরে কয়েক মাস ধরে গবেষণাগারে সেগুলোকে একত্র করেছেন।
হাড়ে পর্যাপ্ত কোলাজেন না থাকায় কঙ্কালটির বয়স সঠিকভাবে নির্ধারণ করা যায়নি। তবে সমাধির কাছাকাছি কয়লার নমুনার রেডিওকার্বন পরীক্ষা করে কঙ্কালটির বয়স ১২ হাজার থেকে সাড়ে ১২ হাজার বছর বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কঙ্কালটি বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা সেটির এক পায়ের গোড়ালিতে সামান্য আঘাতের চিহ্ন দেখেছেন। তবে ঘাড়ে আঘাত পেয়ে মৃত্যুর আগে ওই ব্যক্তির সার্বিক স্বাস্থ্য ভালো ছিল।
মাইটোকন্ড্রিয়াল ডিএনএ বিশ্লেষণে গবেষক দল নিশ্চিত হয়েছে, ওই ব্যক্তি একজন পুরুষ ছিলেন এবং একটি স্থানীয় শিকারি সম্প্রদায়ের মাতৃপরম্পরার সঙ্গে সম্পর্কিত। এই শিকারি সম্প্রদায় ওই অঞ্চলে আসা প্রথম মানুষদের বংশধর।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ভালোভাবে সংরক্ষিত বরফ যুগের মানবকঙ্কাল পাওয়া খুবই বিরল। তাই প্রায় সম্পূর্ণ এই কঙ্কাল গবেষণাকাজের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এটির মধ্যে ডিএনএ পাওয়া গেছে।
স্টিম্পসন বলেন, ওই ব্যক্তির ঘাড়ের ‘সার্ভিক্যাল রিব’-এ আঘাতজনিত ক্ষতি পাওয়া গেছে। সার্ভিক্যাল রিব মানুষের ঘাড়ে থাকা একটি অতিরিক্ত হাড়। খুব অল্পসংখ্যক মানুষের শরীরে এ হাড় থাকে।
স্টিম্পসন বলেন, ওই ব্যক্তির সার্ভিক্যাল হাড়ে ক্ষত পাওয়াও (গবেষকদের জন্য) একটি বড় চমক।
সেখানে গবেষকদের জন্য আরও একটি চমক অপেক্ষা করছিল। সেটা হলো, আঘাতপ্রাপ্ত ঘাড়ের অতিরিক্ত হাড়ের কাছে একটি অস্বচ্ছ কোয়ার্টজের খণ্ড পাওয়া। কোয়ার্টজের ওই খণ্ডের দৈর্ঘ্য শূন্য দশমিক ৭ ইঞ্চি এবং ওজন প্রায় শূন্য দশমিক শূন্য ১৪ আউন্স (শূন্য দশমিক ৪ গ্রাম)।
ওই যুগে পাথরের অস্ত্রে সাধারণত যে ধরনের খোদাই–চিহ্ন দেখা যেত, (কোয়ার্টজের) ওই টুকরা তেমনভাবে খোদাই করা। গুহায় কোয়ার্টজের তৈরি অন্য কোনো যন্ত্র ছিল না।
তাই গবেষণায় ধরে নেওয়া হচ্ছে, ছুড়ে মারা অস্ত্রের ডগাটি সম্ভবত অন্য কোনো জায়গা থেকে আসা অচেনা বা বিশেষ প্রযুক্তি।
রেসেস-সেন্টেনো বলেন, যে অস্ত্রের আঘাতে ওই ক্ষত হয়েছে, সেটি সেখানে পাওয়া অন্যান্য অস্ত্র থেকে আলাদা। তাই এই গবেষণা ওই সময়ে ভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষদের মধ্যে সংঘাত হওয়ার সম্ভাবনাকে জোরালো করে তুলেছে।
তবে ঠিক কোন পরিস্থিতিতে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে, তা পুরোপুরি বোঝার জন্য গুহা প্রাঙ্গণ এবং ওই অঞ্চলে আরও প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণা দরকার বলে মনে করেন সেন্টেনো।
কোয়ার্টজের খণ্ডটির আকার দেখে গবেষকেরা ধারণা করছেন, এটি এমন একটি অস্ত্রের শীর্ষপ্রান্ত, যেটি ওই ব্যক্তির ঘাড়ের ডান পাশে বিদ্ধ হয়ে তাঁর ‘সার্ভিক্যাল রিব’ ভেঙে ফেলে। ওই আঘাত থেকেই শেষ পর্যন্ত তাঁর শরীরে প্রাণঘাতী সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে এবং তিনি মারা যান।
গবেষণাপত্রে বলা হয়, আঘাতের অবস্থা, আকার ও ধরন দেখে বোঝা যায়, ছুড়ে মারা অস্ত্রটি ছোট, কিন্তু দ্রুতগতির ছিল। যদি সেটি বড় কিছু হতো, তাহলে আঘাত আরও ভয়াবহ হতো এবং সম্ভবত সে ক্ষেত্রে মৃত্যু সঙ্গে সঙ্গেই হতো।
আবার এমনও হতে পারে, স্থানীয় নন, বরং বাইরে থেকে আসা কোনো ব্যক্তির সঙ্গে সহিংস সংঘাতের ফলে ওই ব্যক্তি ঘাড়ে আঘাত পেয়েছেন।
ওই ব্যক্তি ঠিক কোন পরিস্থিতিতে আহত হয়েছিলেন এবং তাঁর জীবনের শেষ কয়েক সপ্তাহ কেমন কেটেছিল, তা বিজ্ঞানীরা এখন কেবল অনুমান করতে পারেন।
| ভিয়েতনামের একটি গুহা থেকে উদ্ধার হওয়া কঙ্কালের খুলি. ছবি: স্ক্রিনশট |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ফিলিস্তিনি সাংবাদিক হত্যা নিয়ে ইসরায়েলি সাংবাদিকেরা কি ভাবছেন by ওরি নির
বিপরীতে অদূরেই থাকা ইসরায়েলি সাংবাদিকেরা পুরোপুরি নীরব ছিলেন দুই বছর ধরে। সোমবারের হত্যাকাণ্ডের পর অবশ্য ইউনিয়ন অব জার্নালিস্ট ইন ইসরায়েল একটি বিরল—হোক তা দায়সারা—বিবৃতি দিয়ে সেই নীরবতা সামান্য ভঙ্গ করেছে। বিবৃতিতে তারা ‘গভীরভাবে শোকাহত’ বলে জানিয়েছে। তবে ফিলিস্তিনি সাংবাদিকদের প্রতি কোনো রকম সংহতি প্রকাশ করেনি, কোনো রকম সহমর্মিতা জানায়নি, সহকর্মী হিসেবে কোনো ক্ষোভ জানায়নি।
অনেক বছর আগে যখন হারেৎজ–এর প্রতিনিধি হিসেবে পশ্চিম তীর ও গাজার সংবাদ সংগ্রহের কাজ করতাম, তখন আমি ফিলিস্তিনি সাংবাদিকদের সঠিক, নির্ভরযোগ্য ও পেশাদার প্রতিবেদনের ওপর ভীষণভাবে নির্ভর করতাম। কোনো রকম আর্থিক প্রাপ্তিযোগ ছাড়াই তাঁরা তাঁদের সময় ও শ্রম ব্যয় করতেন ইসরায়েলি সাংবাদিকদের সহযোগিতা করার জন্য। তাঁরা বেশির ভাগই ছিলেন দেশপ্রেমী ও গর্বিত ফিলিস্তিনি, যাঁরা বিশ্বাস করতেন যে ফিলিস্তিনিদের কাহিনিগুলো ইসরায়েলি গণমাধ্যমের সাহায্যে ইসরায়েলি জনগণের সামনে তুলে ধরা গেলে তাঁদের অবস্থাটা জানানো যাবে।
আমি একাই নই। আমরা সহকর্মীরা, অন্যান্য ইসরায়েলি ও বৈশ্বিক গণমাধ্যমের পশ্চিম তীর ও গাজার প্রতিনিধিরা একই কাজ করেছেন। নাবুলেস নামের একজন ফিলিস্তিনি আমার সহকর্মী ছিলেন প্রথম ইন্তিফাদার সময়। তিনি ফিলিস্তিনি দৈনিক আল-কুদস–এর প্রতিনিধি হিসেবে পশ্চিম তীরের উত্তরাঞ্চলের ঘটনাগুলোর প্রতিবেদন তৈরি করতেন। সে সময় তিনি প্রায় প্রতি সন্ধ্যাতেই তিন থেকে চারজন ইসরায়েলি সাংবাদিকের ফোন পেতেন। তাঁদের তিনি সারা দিনের ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ দিতেন। অনেক সময় আমরা টেলিফোনেই শুনতে পেতাম যে তাঁর স্ত্রী তাঁর চার বাচ্চাকে ঘুম পাড়ানোর চেষ্টা করছেন। এভাবে তিনি বছরের পর বছর পারিবারিক সন্ধ্যাটা ত্যাগ করেছেন শুধু আমাদের সহযোগিতা করতে।
অনেক সময় আমাদের পেশাগত সম্পর্ক রূপান্তরিত হতো সত্যিকারের ব্যক্তিগত বন্ধুত্বে। আমরা তাঁদের ওপর নির্ভর করতাম খবর ও ঘটনাগুলো জানতে, তাঁরা আমাদের সহযোগিতার প্রত্যাশা করতেন ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার ক্ষেত্রে, ইসরায়েলি আমলাতন্ত্রের কাছে পৌঁছাতে, কিংবা শুধু ইসরায়েলি সমাজকে সম্যকভাবে বুঝতে। একটি ফিলিস্তিনি দৈনিকে আমার এক সহকর্মী মাঝেমধ্যেই আমাকে ফোন করে জটিল হিব্রু অভিব্যক্তির সহজ অর্থ জানতে চাইতেন।
আবার যখন ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ আমাদের সহকর্মী ফিলিস্তিনি সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অযৌক্তিক ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করত, আমরা তার প্রতিবাদ জানাতাম। প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশনকে (পিএলও) সমর্থন দেওয়ায় একবার পূর্ব জেরুজালেমের দৈনিক আল-শায়াব পত্রিকার সম্পাদক আকরাম হানিয়াকে বিতাড়িত করার সিদ্ধান্ত নেয় ইসরায়েল সরকার।
আমরা তখন এই সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি তুলে প্রচারণা চালাই। আর কোনো রকম সহিংসতায় যুক্ত থাকার অভিযোগ হানিয়ার বিরুদ্ধে ছিল না। তখন একাধিক ইসরায়েলি গোয়েন্দা কর্মকর্তা আমাকে বলেছিলেন যে তাঁর কাজকর্ম ভীষণভাবে রাজনৈতিক। সে সময় আমি ‘আমরা সবাই আকরাম হানিয়া’ নামে একটি নিবন্ধ লিখি হারেৎজ–এ।
এ ছাড়া তাঁর একটি ছোট গল্পও আরবি থেকে অনুবাদ করে হারেৎজ–এর সাহিত্য সাময়িকীতে ছেপেছিলাম। হানিয়াকে অবশ্য পূর্ব জেরুজালেম থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে তিনি ইসরায়েলের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় পিএলওর অন্যতম প্রধান সমঝোতাকারীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
কোনো সন্দেহ নেই, এসব সাংবাদিকের সবাই দেশপ্রেমী ফিলিস্তিনি। তাঁরা তাঁদের জনগণের স্বাধীনতাসংগ্রামের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে পেশাগতভাবে আমাদের মতো তাঁরাও সত্যের প্রতি অনুগত, ঘটনার প্রতি দায়বদ্ধ।
আমি জানি যে এগুলো অনেক আগের কথা। ৭ অক্টোবর (হামাসের ইসরায়েলের অভ্যন্তরে হামলা ও জিম্মি অপহরণ) এবং তার পর থেকে এত সব বিপর্যয়কর ঘটনা ঘটেছে যে ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনি সাংবাদিকদের মধ্যে দূরত্ব অনেক বেড়ে গেছে। হ্যাঁ, একদা যেমন ছিল, তাঁদের মধ্যকার সম্পর্ক আর তেমন নেই।
কিন্তু যখন ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে গত সোমবার পর্যন্ত ১৮৯ জন ফিলিস্তিনি সাংবাদিক গাজায় নিহত হয়েছেন, তখন এটা প্রত্যাশা করা কি অযৌক্তিক, ইসরায়েলি সাংবাদিকেরা কিছু একটা করবেন? কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্ট তো এসব হত্যাকাণ্ডের বেশির ভাগই নথিবদ্ধ করেছে।
এটাও কি খুব বেশি প্রত্যাশা হয়ে যায় যে গাজার একটি তাঁবুতে যখন এ মাসের প্রথম দিকে তাঁদেরই পাঁচজন সহকর্মীকে ইসরায়েল সরকার হত্যা করেছে, তখন ইসরায়েলি সাংবাদিকেরা সোচ্চার হয়ে উঠবেন? এমনকি যদি সরকারি ভাষ্য অনুসারে এই পাঁচজনের একজন হামাসের সঙ্গে জড়িত থেকে থাকেন, তাহলেও?
ইসরায়েলে বেশ কয়েকটি সাংবাদিক সমিতি সক্রিয় আছে। এ মাসের প্রথম দিকে আনাস আল-শরিফ ও তাঁর আল–জাজিরার সহকর্মীকে হত্যার প্রতিবাদে কেউ একটি বিবৃতি পর্যন্ত দেয়নি। ৭ অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত গাজায় এত সাংবাদিককে হত্যা করা হলো, মাত্র গুটিকয় এ বিষয়ে মুখ খুলেছে।
অথচ ইসরায়েলি গণমাধ্যম গাজার সাংবাদিকদের ওপর নির্ভর করে, খবর ও তথ্য সংগ্রহের জন্য তাঁদের ব্যবহার করে। তাহলে কি তাঁরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটা বিবৃতি দেওয়া ছাড়া আর বেশি কিছু করতে পারে না?
খুব অল্প কয়েকজন ইসরায়েলি ও আন্তর্জাতিক সাংবাদিক গাজা উপত্যকায় যেতে পারেন এবং তা ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) সঙ্গে। একমাত্র গাজার ফিলিস্তিনি সাংবাদিকেরাই এখন পর্যন্ত স্বাধীনভাবে সেখানে কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁরা নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ও জীবন বিসর্জন দিয়ে প্রকৃত তথ্য, ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করছেন। ইসরায়েলের সংবাদমাধ্যম, যারা গাজার পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ ও প্রতিবেদন প্রকাশ করতে চায়, গাজার ফিলিস্তিনি সাংবাদিক ছাড়া তারা অচল, অন্ধ।
উদ্বেগ প্রকাশ করা, কিছুটা সংহতি প্রদর্শন করা তো পেশাগত সহমর্মিতা বা খবর সংগ্রহের দায়বদ্ধতার চেয়ে বেশি কিছু। এটা তো মানবতার বিষয়।
গাজায় যেসব হাজার হাজার বেসামরিক ফিলিস্তিনিকে ইসরায়েল হত্যা করেছে, তাদের কারোর চেয়ে ফিলিস্তিনি সাংবাদিকদের রক্ত অধিকতর লাল নয়। অনেক সাংবাদিকই তাঁদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের বা কাজের সময় নয়; বরং নিজ বাসায় পরিবারের সঙ্গে নিহত হয়েছেন। তারপরও তাঁরা আমাদের সহকর্মী, সাংবাদিক।
আর তাই গাজায় তাঁদের সহকর্মীদের উপেক্ষা করার মধ্য দিয়ে ইসরায়েলি সাংবাদিকেরা নৈতিক অবমাননায় আরেক ধাপ এগিয়ে গেলেন। বিগত ৬৯০ দিনের বেশি সময় ধরে গাজার বেসামরিক নাগরিকদের চরম দুর্দশাকে ঠিকমতো তুলে না ধরা বা পুরোপুরি উপেক্ষা করার মধ্য দিয়ে তাঁরা পেশাগত নৈতিকতার যে অবমাননা করে চলেছিলেন, এটা তা আরও বাড়িয়ে দিল।
অথচ ফিলিস্তিনিদের ক্রমাগত বিমানবিকীকরণে ইসরায়েলি জনগণের সঙ্গে তাল না মিলিয়ে ইসরায়েলের সাংবাদিকদের তো উচিত ছিল মানবতা ও সহমর্মিতার একটি দৃষ্টান্ত স্থাপনের। আপনি হয়তো বলবেন যে এটা তো এক হাস্যকর সারল্যে পূর্ণ এক প্রত্যাশা। তবে আমি এটা মনে করতে চাই যে ইসরায়েলের মূলধারার গণমাধ্যম এখনো এই উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা প্রকাশে সক্ষম।
* ওরি নির, ওয়াশিংটনভিত্তিক ইসরায়েলি সাংবাদিক। হারেৎজ–এ প্রকাশিত তাঁর লেখাটি ইংরেজি থেকে বাংলায় রূপান্তর করেছেন আসজাদুল কিবরিয়া
| ইসরায়েলের হামলায় নিহত ফিলিস্তিনি সাংবাদিকের শেষকৃত্যে সহকর্মীরা। ছবি : রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1265)
- ▼ 2025 (3280)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)

