Sunday, July 13, 2014

গাজায় স্থল অভিযানের প্রস্তুতি

গাজার পশ্চিমাঞ্চলে জাতিসংঘের একটি গুদামে আগুন
নেভানোর চেষ্টা করছেন ফিলিস্তিনের দমকল বাহিনীর
কর্মীরা। গতকাল ইসরায়েলি বাহিনীর বিমান
হামলায় ওই গুদামে আগুন ধরে যায়।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের নির্বিচারে বিমান হামলা চলছেই। গতকাল শনিবার এই হামলা পঞ্চম দিনে পড়েছে। এদিন আরও ৩০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়। এ নিয়ে পাঁচ দিনে নিহতের সংখ্যা দাঁড়াল ১৩৫ জনে। এদের মধ্যে বহু নারী ও শিশু রয়েছে। জাতিসংঘ বলেছে, নিহত ব্যক্তিদের তিন-চতুর্থাংশের বেশিই বেসামরিক নাগরিক। এদিকে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের প্রতি গাজা ভূখণ্ডে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ। সংস্থাটির ১৫ সদস্যরাষ্ট্রই যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবসংক্রান্ত একটি বিবৃতি গতকাল অনুমোদন করেছে। তারা শান্তি পুনঃস্থাপন ও শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরুর তাগিদ দিয়েছে। খবর এএফপি ও বিবিসির। mঅব্যাহত বিমান হামলার মধ্যে এবার স্থল অভিযানের জোর প্রস্তুতি শুরু করেছে ইসরায়েল। শুক্রবার দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গাজায় হামলা চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। গাজা ছাড়া পশ্চিম তীরেও হামলার খবর পাওয়া গেছে। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ গতকাল জানায়, বিমান হামলা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি এবার সম্ভাব্য স্থল হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা। এর অংশ হিসেবে সীমান্তে ট্যাংক ও গোলন্দাজ বাহিনীর সমাবেশ করা হয়েছে।
ইতিমধ্যে মন্ত্রিসভার অনুমোদিত ৪০ হাজার সংরক্ষিত সেনার ৩৩ হাজার সদস্য পাঠানো হয়েছে। গতকাল সকালে সীমান্ত অভিমুখে আরও সশস্ত্র যান দেখা গেছে। সম্ভাব্য স্থল অভিযানের ব্যাপারে আজ রোববার ইসরায়েল একটা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ঘোষণা করতে পারে বলে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আভিগদর লিবারম্যান জানান। শুক্রবার গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘এ মুহূর্তে আমরা (অভিযানের) প্রথম ধাপ...বিমান হামলায় রয়েছি। আমার আশা, পরবর্তী ধাপ নিয়ে আমরা কাল (গতকাল শনিবার) বা এর পরদিন (আজ) একটা সিদ্ধান্ত নিতে পারব।’ গতকালও গাজার বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ব্যাপক বোমাবর্ষণ করে ইসরায়েল। জবাবে ফিলিস্তিনের হামাস অন্যান্য দিনের মতোই ইসরায়েলের অভ্যন্তরে রকেট নিক্ষেপ করে। রকেট হামলায় দুই ইসরায়েলি গুরুতর আহত হয় বলে খবর পাওয়া গেছে। ইসরায়েলের দাবি, গতকাল তারা ‘৬০টি সন্ত্রাসী লক্ষ্যবস্তুতে’ বিমান হামলা চালিয়েছে। গত পাঁচ দিনে হামলা চালানো হয়েছে সাকল্যে এক হাজার ১৬০ বার। আর হামাস প্রথম চার দিনে ছুড়েছে ৬৮৯টি রকেট। গতকাল তাদের ছোড়া দুটি রকেট ইসরায়েলের বীরসেবা এলাকায় আঘাত হানে। ইসরায়েল দাবি করেছে, তাদের হামলার লক্ষ্যবস্তু হলো, হামাসের সশস্ত্র সদস্য, তাঁদের ব্যবহৃত ঘাঁটি ও সংগঠনটির গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের বাসভবন।
বিমান হামলায় যারা নিহত হয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছে ‘কয়েক ডজন সন্ত্রাসী’। অন্যদিকে ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়, ‘অপারেশন প্রোটেকটিভ এজ’ নামে ইসরায়েলের এই অভিযানে পাঁচ দিনে প্রায় ১৩৫ জন প্রাণ হারিয়েছে। আহত হয়েছে প্রায় ৭৫০ জন। হতাহত ব্যক্তিদের অধিকাংশই নিরীহ বেসামরিক নাগরিক। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক সমন্বয় অফিসও এক পরিসংখ্যানে জানায়, গাজায় এ পর্যন্ত নিহত ব্যক্তিদের ৭৭ শতাংশ বেসামরিক নাগরিক। ফিলিস্তিনি চিকিৎসা কর্মকর্তারা বলেন, শুক্রবার দিবাগত রাতে গাজার বেইত লাহিয়া শহরে ইসরায়েলি বিমানের গোলা প্রতিবন্ধীদের পুনর্বাসনকেন্দ্র আঘাত হানে। গোলায় এ ভবনে চিকিৎসাধীন তিন কিশোরের দুজন প্রাণ হারায়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, জাবালিয়া উদ্বাস্তু শিবিরে হামলায় গতকাল নিহত হয়েছে তিনজন। এদের মধ্যে একজন ইসলামিক জিহাদের কর্মী। চিকিৎসকেরা জানান, বিমান হামলায় গতকাল নিহত হয় ১৬ জন। আরব লীগের আহ্বান: ফিলিস্তিনে চলমান ইসরায়েলি হামলার ঘটনায় বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। হামলা বন্ধে বিভিন্ন পর্যায়ে মধ্যস্থতারও চেষ্টা চলছে। হামলা বন্ধে গতকাল আরব লিগ নিরাপত্তা পরিষদে জরুরি বৈঠকের আহ্বান জানিয়েছে।

‘যে কারণে আমার ইসরায়েলি পাসপোর্ট পোড়াতে যাচ্ছি’

ইসরায়েলি এমপি আলিয়াত শেকাদ: ফিলিস্তিনি
নারী ও শিশু হত্যায় সমর্থন দিচ্ছেন
তিনি বয়সে তরুণী; সুন্দরী। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া কম্পিউটার প্রকৌশলী। বর্তমানে তিনি ইসরায়েলি পার্লামেন্টের সদস্যও। আজকে আমি যে আমার ইসরায়েলি পাসপোর্ট পুড়িয়ে ফেলতে যাচ্ছি, তার কারণও তিনি। কারণ, সুপ্রশস্ত চোখ সংবলিত ওই নিষ্পাপ মুখের আড়ালে মৃত্যুর দেবদূত ওত পেতে আছে। আলিয়াত শেকাদ ইসরায়েলি পার্লামেন্টে দেশটির অতি ডানপন্থী রাজনৈতিক দল জুইশ হোমের প্রতিনিধি। তার অর্থ, তিনি বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পাশেই আছেন। হয়তো আপনি ভাবতে পারেন, এটা সম্ভব নয়, সে জন্যই এ কথাটা বলা। গত সোমবার তিনি তাঁর ফেসবুক পাতায় লিখেছেন: ‘প্রতিটি সন্ত্রাসীর পেছনে রয়েছে ডজন ডজন নারী ও পুরুষ, যাদের ছাড়া তিনি সন্ত্রাসবাদে যুক্ত হতে পারেন না। তারা সবাই শত্রুপক্ষীয় যোদ্ধা...তাদের মধ্যে রয়েছে সেই সব নিহতের মায়েরাও, যারা তাদের সন্তানদের ফুল ও চুমু দিয়ে নরকে পাঠায়। তাদেরও তাদের সন্তানদের পরিণতি বরণ করা উচিত, এর চেয়ে ন্যায়বিচার আর কিছু নেই। বাড়িগুলোর মতো তাদেরও নিপাত যাওয়া উচিত। সেই বাড়িগুলো, যেখানে তারা সাপ লালন-পালন করেছে। তা না হলে আরও বাচ্চা সাপ সেখানে লালিত-পালিত হবে।’ এর এক সপ্তাহ আগের কথা। সময়টা ছিল ১৭ বছর বয়সী মোহাম্মদ আবু খাদিরকে অপহরণের পর জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যা করার ঠিক আগে। শেকাদ লেখেন: ‘এটা সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ নয়; চরমপন্থীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধও নয়, এমনকি ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে যুদ্ধও নয়। বাস্তবতা হচ্ছে, এটা দুজন মানুষের মধ্যে যুদ্ধ। শত্রু কে? ফিলিস্তিনি জনগণ। কেন?
তাদের জিজ্ঞাসা কর, তারাই এটা শুরু করেছে।’ সুতরাং কিশোর খাদির নির্মমভাবে নিহত হওয়ার আগেই তাকে শত্রু হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন শেকাদ। আর পরে কোনো অপরাধবোধ বা অনুশোচনা তো দূরের কথা, তিনি নির্দোষ নারী ও তাদের অনাগত সন্তানদের মৃত্যু কামনা করছেন। আজকের ইসরায়েলকে আর কোনোমতেই ভুক্তভোগী বলা যাবে না। বরং, তারা বর্তমান সংকটের সংঘটক। হ্যাঁ, হামাস সদস্যরা ভয়ংকর হত্যাকারী। তবে বাস্তব অবস্থা হচ্ছে, ইসরায়েলের ট্যাংক, বোমারু বিমান, কামান, পারমাণবিক অস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা আছে। অন্যদিকে সাধারণ গাজাবাসীর এক সপ্তাহ আগেও কিছু ছিল না; এখনো নেই। এমনকি হাসপাতাল ও স্কুলেও বোমা মারা হয়েছে। শেকাদ যা চেয়েছিলেন, তা পেয়েছেন: গাজায় নিহতের সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়ে গেছে। প্রতি চারজনে একজনই শিশু। অন্যদিকে হামাসের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও ইসরায়েলের একজনেরও প্রাণহানি হয়নি। আর গাজায় যখন বোমা-বৃষ্টি হচ্ছে, ইসরায়েলি তরুণ-তরুণীরা তখন টুইটারে তাদের স্বল্প-বসনের ‘সেলফি’ ছবি পোস্ট করতে ব্যস্ত; সঙ্গে রাজনৈতিক মতাদর্শ সংবলিত কথাবার্তা। একটি টুইটে লেখা, ‘সব আরব নিপাত যাও।’ আরেকটির ভাষা, ‘আরব, তোমরা সবাই পঙ্গু হয়ে তারপর বিরাট যন্ত্রণা নিয়ে মরবে।’ ‘দেব-প্রতিম এসব মুখ থেকে শয়তানের বাণী ওগরাতে দেখে আমি আমার ইসরায়েলি পাসপোর্ট এবং একটি ম্যাচ-বাক্স হাতে তুলে নিলাম।’ মিরা বার হিল্লেল: ইসরায়েলে জন্মগ্রহণকারী ফ্রিল্যান্স লেখক, ইন্ডিপেনডেন্ট থেকে নেওয়া।

ন্যাশনাল হেরাল্ড নিয়ে বিপাকে পড়তে পারেন সোনিয়া–রাহুল

সোনিয়া গান্ধী ও রাহুল গান্ধী
স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু প্রতিষ্ঠিত সংবাদপত্র ন্যাশনাল হেরাল্ড নিয়ে নতুন বিপত্তিতে পড়তে যাচ্ছেন কংগ্রেসপ্রধান সোনিয়া গান্ধী ও তঁার ছেলে রাহুল গান্ধী। ভারতের নতুন বাজেটে আয়কর আইনে একটি সংশোধনী প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ওই প্রস্তাব পাস হলে বিপত্তিতে পড়বেন তাঁরা। খবর টিএনএনের। আয়কর আইনের ওই সংশোধনীতে বলা হয়, কোনো দাতব্য ট্রাস্টের আয় বা সম্পত্তি থেকে যদি ওই ট্রাস্টের ট্রাস্টি বা এ ধরনের কেউ ব্যক্তিগত লাভ নেওয়ার জন্য আবেদন করেন—এ বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ নিশ্চিত হলে ওই ট্রাস্টের নিবন্ধন বাতিল করা যাবে। ট্রাস্টের নিবন্ধন বাতিল করার ক্ষমতা সরকারের সংশ্লিষ্ট ওই বিভাগের কর্মকর্তাদের দেওয়ারও প্রস্তাব করা হয়েছে। চলতি বছরের ১ অক্টোবর থেকে সংশোধিত আইন কার্যকর করার প্রস্তাব তোলা হয়েছে। ন্যাশনাল হেরাল্ডকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যে সোনিয়া ও রাহুলসহ কংগ্রেসের শীর্ষস্থানীয় ছয়জন নেতাকে জালিয়াতি ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে আগামী ৭ আগস্ট আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে৷ দিল্লির মহানগর হাকিম গোমতী মানোচা সম্প্রতি এই নির্দেশ দেন৷ ক্ষমতাসীন দল বিজেপির নেতা সুব্রামানিয়ান স্বামী কংগ্রেসনেত্রী সোনিয়া ও তাঁর ছেলের বিরুদ্ধে ন্যাশনাল হেরাল্ড গোষ্ঠীর সম্পত্তি হাতানো ও তছরুপের অভিযোগ আনেন৷ সেই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এই নির্দেশ দেন৷ ১৯৩৮ সালে জওহরলাল নেহরু এই সংবাদপত্র প্রতিষ্ঠা করেন৷ ২০০৮ সালে তা বন্ধ হয়ে যায়৷ স্বামীর অভিযোগ, হেরাল্ড গোষ্ঠীর সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় দুই হাজার কোটি রুপি৷ সোনিয়া-রাহুলেরা তা হাতিয়ে নিতে উদ্যোগী৷ এ জন্য রাহুল ইয়ং ইন্ডিয়া নামে একটি সংস্থা তৈরি করেন৷ মাত্র ৫০ লাখ টাকায় তাঁরা হেরাল্ডের সম্পত্তি নিতে চান৷
দিল্লির হেরাল্ড হাউসের একটা বড় অংশ তাঁরা ভারত সরকারের পাসপোর্ট ডিভিশনকে ভাড়া দিয়েছেন, যা কিনা আইনত তাঁরা পারেন না৷ স্বামীর আরও অভিযোগ, হেরাল্ড গোষ্ঠীকে কংগ্রেস ৯০ কোটি রুপির শর্ত ছাড়া ধার দিয়েছিল, যা কিনা কোনো রাজনৈতিক দল আইনত করতে পারে না৷ স্বামী এসব অভিযোগ প্রথম করেছিলেন ২০১২ সালে৷ সে সময় রাহুল একটি চিঠিতে অভিযোগগুলো অসত্য, ভিত্তিহীন ও সম্মানহানিকর বলে উল্লেখ করেছিলেন৷ তিনি মামলার হুমকিও দিয়েছিলেন৷ কংগ্রেসের পক্ষ থেকে তখন বলা হয়েছিল, ন্যাশনাল হেরাল্ড পত্রিকা পুনরুজ্জীবনে দল সুদহীন ধার দিয়েছিল৷ তাতে বাণিজ্যিক কোনো স্বার্থ ছিল না৷ এবার স্বামী মামলা করে দেওয়ায় কংগ্রেস নেতৃত্বকে তার জবাব দিতে হবে৷ রাহুলের বিরুদ্ধে সমন জারি: ভারতের মহারাষ্ট্রের ভিওয়াদির একটি আদালত কংগ্রেসের সহসভাপতি রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে সমন জারি করেছেন। চলতি বছরের শুরুতে লোকসভা নির্বাচন চলাকালে একটি নির্বাচনী প্রচারণায় রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) বিরুদ্ধে রাহুলের মন্তব্যের কারণে অভিযোগের ভিত্তিতে এই সমন জারি করা হয়েছে। খবর এনডিটিভি। গত ১৮ মার্চ আরএসএস কর্মী রাজেস কান্তে রাহুলের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে আদালত সমন জারি করেন। এর আগে ৬ মার্চ একটি নির্বাচনী প্রচারণায় রাহুল গান্ধী সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, ১৯৪৮ সালে মহাত্মা গান্ধী হত্যায় আরএসএসের ভূমিকা ছিল। আরএসএস যে মহাত্মা গান্ধী হত্যার সঙ্গে জড়িত ছিল, তা সরদার প্যাটেলের লেখায় উল্লেখ আছে। রাহুলের বিরুদ্ধে আরএসএস কর্মী রাজেস কান্তের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ভিবান্দির আদালত পুলিশের প্রতিবেদন চান। ওই প্রতিবেদন পড়ার পর আদালত রাহুলকে আগামী ৭ অক্টোবর আদালতে হাজির থাকতে সমন জারি করেন।

আন্তর্জাতিক চাপ মানবে না ইসরাইল

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, গাজা উপত্যকায় ফিলিস্তিনি জঙ্গিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান বন্ধে আন্তর্জাতিক চাপ প্রতিহত করা হবে। তিনি বলেন, ইসরাইল মঙ্গলবার থেকে সেখানে এক হাজারেরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করেছে এবং ২০১২ সালে চালানো অভিযানে যে শক্তি ব্যবহার করা হয়েছিল তা দ্বিতীয়বারের মতো এখন ব্যবহার করা হচ্ছে। ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা বলেছেন, ইসরাইলের বিমান হামলায় এখন পর্যন্ত ১২১ জন নিহত হয়েছে। শুক্রবার রাতে ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়, অভিযান শুরুর পর থেকে জঙ্গিরা ইসরাইল ভ"-খন্ড লক্ষ্যকরে প্রায় ৫২০ বার মর্টার ও রকেট হামলা চালায়। হামাস জঙ্গিরাও গাজা থেকে ইসরাইলে রকেট হামলা অব্যাহত রেখেছে। রকেট হামলায় ইসরাইলে ক্ষয়ক্ষতি ও লোকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
নেতানিয়াহু বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেলের সঙ্গে টেলিফোনে তার ‘খুবই ইতিবাচক’ আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘কোনো আন্তর্জাতিক চাপ আমাদের সর্বশক্তি প্রয়োগ করা থেকে বিরত রাখতে পারবে না।’ ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, ইসরাইলের সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত ৭৫০ জনের মতো আহত হয়েছে। আহতদের বেশিরভাগই বেসামরিক নাগরিক। ইসরাইল মঙ্গলবার থেকে গাজায় অপারেশন প্রোটেকটিভ এজ শুরু করেছে। জাতিসংঘের মানবিক সহায়তাবিষয়ক সমন্বয়ের কার্যালয় জানিয়েছে, গাজায় এ পর্যন্ত নিহতদের মধ্যে ৭৭ শতাংশই বেসামরিক নাগরিক। ইসরাইল বলেছে, নিহতদের মধ্যে ‘বেশ কয়েকজন সন্ত্রাসী’ রয়েছে। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার নাভি পিল্লাই বলেন, বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করার ওপর যে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা রয়েছে তা ইসরাইল সামরিক অভিযানের সময় মেনে চলছে কিনা সে ব্যাপারে ‘খুবই সন্দেহ’ রয়েছে। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, হামলার সময় শিশুসহ বেসামরিক নাগরিক হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে যা খুবই উদ্বেগজনক। ইসরাইল বারবার বলে আসছে, তারা বেসামরিক প্রাণহানির ঘটনা এড়ানোর চেষ্টা করছে। তবে তারা এও বলেছে, জঙ্গিরা প্রায়ই আবাসিক এলাকাগুলোতে তাদের ঘাঁটি গেড়ে অবস্থান নেয়। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র গাজায় একটি অস্ত্রবিরতি চুক্তিতে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে।
স্থলে আক্রমণ হলে সেনা
অপহরণ করব : হামাস
গাজায় ইসরাইল বাহিনী স্থল অভিযান শুরু করলে সৈন্য অপহরণের হুমকি দিয়েছে ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস। হামাসের মুখপাত্র ফাওজেহ রারহুম বলেন, ‘তেমন কোনো আক্রমণ হলে ইসরাইলের সৈন্য অপহরণের পথটা আরও সহজ হবে।’ তিনি বলেন, ‘তারা যদি স্থলযুদ্ধ শুরু করে, তবে তাদের অনেক সৈন্যকে অপহরণ করার পথ সহজ হবে। এর মাধ্যমে আটককৃত ফিলিস্তিনিদের মুক্ত করা হবে। যেমনটি অতীতে হয়েছিল।’ ২০০৬ সালে ইসরাইলির সৈন্য গিলাদ শালিতকে অপহরণ করে পাঁচ বছর পর ২০১১ সালে এক হাজার ফিলিস্তিনি বন্দিমুক্তির বিনিময়ে ছেড়ে দেয় হামাস। এদিকে, ইসরাইলের বিমান হামলা থেকে মুক্তি পেল না দাতব্য প্রতিষ্ঠান, মসজিদ। গাজা আক্রমণের পঞ্চম দিনে এক প্রতিবন্ধী দাতব্য প্রতিষ্ঠান ও মসজিদে বোমা নিক্ষেপ করা হয়।
গাজার উত্তরাঞ্চলে বেত লাহিয়ায় ‘চ্যারিটেবল অ্যাসোসিয়েশন ফর ডিজঅ্যাবলড’-এ ইসরাইল বিমান হামলা করলে দু’জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়। কুদরা জানা, পশ্চিম গাজার একটি মসজিদে বিমান হামলার পর ধ্বংসস্তূপ খুঁজে তিনজনের লাশ পাওয়া গেছে। ইসরাইল বলছে, এসব প্রতিষ্ঠান জঙ্গি উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে। দ্য গার্ডিয়ান, এএফপি। ৫২০ হামলায় নিহত ১২১ ইসরাইল মঙ্গলবার থেকে সেখানে এক হাজারেরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করেছে এবং ২০১২ সালে চালানো অভিযানে যে শক্তি ব্যবহার করা হয়েছিল তা দ্বিতীয়বারের মতো এখন ব্যবহার করা হচ্ছে দাতব্য প্রতিষ্ঠান, মসজিদে হামলা পশ্চিম গাজার একটি মসজিদে বিমান হামলার পর ধ্বংসস্তূপ খুঁজে তিনজনের লাশ পাওয়া গেছে। ইসরাইল বলছে, এসব প্রতিষ্ঠান জঙ্গি উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে

যেভাবে ফাইনালে আর্জেন্টিনা-জার্মানি

আজ পর্দা নামছে বিশ্বকাপের ২০তম আসরের। আর বাকি একটি ম্যাচ। ফাইনালে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি জার্মানি। ৩২টি দলের অংশগ্রহণে এ বিশ্বকাপের ৬৩ ম্যাচ সাক্ষী হয়েছে অনেক ঘটনা অঘটনের। সবকিছু ছাপিয়ে এখন সবার নজর মারাকানা স্টেডিয়ামের দিকে, আজ রাতে এ মাঠেই লড়বে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা আর মুলার-ক্লোসেদের জার্মানি। বিশ্বকাপের গ্র“পপর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছে গত আসরের চ্যাম্পিয়ন স্পেন, তিনবারের চ্যাম্পিয়ন ইতালি, ১৯৬৬ বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডকে। নকআউটে বিদায় নিতে হয় আরেক চ্যাম্পিয়ন উরুগুয়েকেও। এ বিশ্বকাপে উত্থান ঘটে কোস্টারিকা-কলম্বিয়ার মতো অপেক্ষাকৃত দুর্বল দুটি দলের। দুটি দলই অনেক বাঘা বাঘা দলকে কাবু করে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলে। গ্র“পপর্বে দু’একটি ‘অঘটন’ ঘটলেও উল্লেখযোগ্য ঘটনা ছিল, ২৪ জুন ইতালি-উরুগুয়ের ম্যাচে লুইস সুয়ারেজের কামড়কাণ্ড। ঘটনাটি এবারের বিশ্বকাপের এখন পর্যন্ত একমাত্র কেলেংকারি। এ ঘটনায় সুয়ারেজকে চার মাসের জন্য সব ধরনের ফুটবল থেকে নিষিদ্ধ করেছে ফিফা। এ বিশ্বকাপের আরেকটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা, ব্রাজিলের পোস্টারবয় নেইমারের বিশ্বকাপ মিশন শেষ হওয়া। কোয়ার্টার ফাইনালে কলম্বিয়ার জুনিগারের রাফ ট্যাকলে মেরুদণ্ডের তৃতীয় কশেরুকায় আঘাত পেয়ে মাঠ ছাড়েন নেইমার। প্রথম সেমিফাইনালে জার্মানির বিপক্ষে ৭-১ গোলে বিধ্বস্ত হয়ে স্বাগতিক ব্রাজিলের বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয়ার ঘটনাও ছিল উল্লেখযোগ্য। এবার চোখ বুলানো যাক দুই ফাইনালিস্টের দুর্গম পথ পাড়ি দেয়ার দিকে
আর্জেন্টিনা
বিশ্বকাপে ‘এফ’ গ্রুপভুক্ত হয়ে খেলতে আসে আর্জেন্টিনা। গ্র“পে তাদের তিন প্রতিপক্ষ ছিল বসনিয়া, ইরান ও নাইজেরিয়া। ১৫ জুন প্রথমবার বিশ্বকাপে অংশ নেয়া বসনিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করে দু’বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। ওই ম্যাচে ২-১ গোলে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে আর্জেন্টাইনরা। দ্বিতীয় ম্যাচে একমাত্র গোলে জয় পায় ইরানের বিপক্ষে। আর শেষ ম্যাচে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে ৩-২ গোলে জিতে গ্র“প চ্যাম্পিয়ন হয়ে নকআউট পর্বে ওঠে আর্জেন্টিনা। ১ জুলাই দ্বিতীয় রাউন্ডে দলটি মুখোমুখি হয় সুইজারল্যান্ডের। অতিরিক্ত সময়ের একমাত্র গোলে জয় পেয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করে আর্জেন্টাইনরা। ৫ জুলাই কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামকে ১-০ গোলে হারিয়ে নিশ্চিত করে সেমিফাইনাল। আর বুধবার সেমিফাইনালে পেনাল্টি শুটআউটে ৪-২ গোলে নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে দুই যুগ পর ফাইনালে ওঠে আর্জেন্টিনা।
জার্মানি
ইউরোপীয় জায়ান্ট জার্মানির বিশ্বকাপ শুরু এবং ফাইনালে ওঠার দৃশ্যপট দুর্দান্ত। গ্র“পপর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচে পর্তুগালকে ৪-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করে দলটি। দ্বিতীয় ম্যাচে ঘানার সঙ্গে ড্র দলটির বাকি ম্যাচগুলোর পারফরম্যান্স নিয়ে চিন্তায় ফেলে দেয় সমর্থকদের। আবার তৃতীয় ম্যাচেও অপেক্ষাকৃত ‘দুর্বল’ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একমাত্র গোলে জিতে গ্র“প চ্যাম্পিয়ন হয়ে নকআউট পর্বে ওঠে তিন বারের চ্যাম্পিয়নরা। ৩০ জুন নকআউটে আলজেরিয়ার সঙ্গে নির্ধারিত সময়ে গোলশূন্য থাকে জার্মানরা। অতিরিক্ত সময়ে ২-১ গোলে জিতে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে তারা। ৪ জুলাই সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সকে একমাত্র গোলে হারিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে জার্মানরা। আর মঙ্গলবার স্বাগতিক ব্রাজিলকে ৭-১ গোলে বিধ্বস্ত করে ফাইনাল নিশ্চিত করে জার্মানরা। ওয়েবসাইট।

আদিত্যের সঙ্গে মাত্র তিন বছরের সম্পর্ক আমার

*আদিত্যের সঙ্গে প্রেমের বিষয়টি বরাবরই গোপন রেখেছিলেন কেন?
**আমি আর ১০ জন অভিনেত্রীর মতো নই। প্রেম করব আবার সেটা মিডিয়ায় ফলাও করে প্রচার হবে। মূলত পরিবারের কথা চিন্তা করে বিষয়টি গোপন রাখতে চেয়েছি। আমি জানি মিডিয়ায় প্রচার হলে বিষয়টি ঘোলাটে হওয়ার আশংকা থাকে। ফলে আমার ভক্তদের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হওয়ার একটা শংকা বরাবরই ছিল।
*আপনার সঙ্গে আদিত্যের পরিচয় কবে থেকে?
**আমাদের প্রথম দেখা হয়েছিল ‘কুচ কুচ হোতা হ্যায়’ ছবির সেটে। সেটা করণ জোহরের মাধ্যমে। যদিও আদিত্য বলেছে আমার প্রথম ছবি ‘রাজা কি আয়েগি বারাত’-এর সময়। একটি রেস্তোরাঁয় ছবির প্রমোশনে গেলে সে আমাকে দেখতে পায়। অবশ্য আদিত্যের স্মৃতি শক্তি খুবই প্রখর। অনেক বছর আগের কথাও তার মনে থাকে।
*বিয়ের আগে আপনাদের জানা শোনা কত দিনের?
**বিয়ের তিন বছর আগে থেকে আমাদের মধ্যে যোগাযোগটা বেড়ে যায়। তখনই দু’জন দু’জনকে বুঝতে শিখেছি। ভালো লাগা, মন দেয়া-নেয়া শুরুও তখন থেকেই হয়। বিশেষ করে আদিত্যের যখন প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হয় তখন আমার কাছে মনে হয়েছে তার একাকীত্বে কেউ একজন পাশে থাকা উচিত। আর যেহেতু আমার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা ছিল তাহলে আমি থাকলেই বা দোষের কী।
*আদিত্যের বিচ্ছেদের আগে কি কখনও তার প্রতি রোমান্স কাজ করেছিল?
**কখনোই না। একজন ভালো বন্ধু ছাড়া তাকে অন্য চোখে কখনোই দেখিনি। কর্মক্ষেত্রে বরাবরই আমরা একে অপরের শুধুই বন্ধু ছিলাম। আদিত্যের বিচ্ছেদের পর হয়তো ওর প্রতি আমার ভালোলাগা কাজ করেছে। সেটা একসময় প্রণয়ে পরিণত হয়ে বিয়ে পর্যন্ত গিয়ে ঠেকেছে।
*আদিত্যের সঙ্গে রোমান্সের ব্যাপারে বিশেষ কারও অনুপ্রেরণা ছিল কি?
**আসলে প্রেম এমন একটা বিষয় যা কখনো কাউকে দেখে কিংবা কারও অনুপ্রেরণায় আসে না। এটা একান্তই মনের ব্যাপার। কাকে যে কখন ভালো লেগে যায় তা নিশ্চিত করে বলা যায় না।
*কী দেখে তার প্রেমে পড়েন?
**প্রতিটি মেয়েই একটি ছেলের কোনো না কোনো গুণাগুণ দেখে তার প্রেমে পড়ে। আমিও তার ব্যতিক্রম ছিলাম না। আদিত্য এমন একজন মানুষ যার মধ্যে শ্রদ্ধা-ভক্তির বিষয়গুলো অনেক প্রাধান্য পায়। এটা আমাকে খুব টেনেছে। এছাড়া সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন, মানুষের উপকার করাসহ অনেক ভালো গুণাবলী রয়েছে তার মধ্যে। আর ভালোবাসার মানুষের প্রতি যে শ্রদ্ধাবোধ সেটা সে খুব ভালো করে জানে।
*কে প্রথম প্রস্তাব দিয়েছিলেন? আপনি নাকি আদিত্য?
**অবশ্যই আদিত্য। সে সবসময় আমাকে বোঝানোর চেষ্টা করত। কিন্তু আমি প্রথম প্রথম একটু লজ্জা পেতাম। অবশ্য পরে যখন ঘনিষ্ঠতা বাড়ে সে লজ্জা অনেকখানি কেটে যায়। য় মারুফ কিবরিয়া