সেই ব্রাদারহুডই এখন দ্বিধায়

মিসরের শাসনব্যবস্থা ইসলামি আইনে পরিচালিত হবে—এমন আকাঙ্ক্ষায় দশকের পর দশক পার করেছেন মুসলিম ব্রাদারহুডের সদস্যরা। এ কারণে নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়ে তখন প্রকাশ্যে সাংগঠনিক তৎপরতা চালাতে পারত না ব্রাদারহুড।


কিন্তু কীভাবে ওই আকাঙ্ক্ষা পূরণ করা যায় তা নিয়ে গোপনে চায়ের দোকান, মসজিদ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্রমাগত নিজেদের মধ্যে আলোচনা চালিয়ে গেছেন দলটির সদস্যেরা।
এক সময়কার নিষিদ্ধ সংগঠন ব্রাদারহুডের নেতা মোহাম্মদ মুরসি এখন ক্ষমতায়। তবে, ক্ষমতায় আসীন হওয়ার পরও দেশে কীভাবে ইসলামি শাসনব্যবস্থা কায়েম করা যায়, তা নিয়ে ব্রাদারহুডের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে বিতর্কের অবসান হয়নি। গোপন ওই বিতর্ক এখন প্রকাশ্যে উঠে এসেছে। চায়ের দোকানের সেই বিতর্ক এখন প্রেসিডেন্ট ভবন ও পার্লামেন্টে।
যদিও শাসনব্যবস্থার ইসলামীকরণ নিয়ে চলমান বিতর্ক শুধু ব্রাদারহুডের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। রাষ্ট্র্রক্ষমতায় মিসরের শক্তিশালী সেনাবাহিনীর প্রভাব ও ভূমিকা শাসন-কাঠামোর আমূল পরিবর্তনের বিষয়টিকে অনেকাংশেই প্রভাবিত করবে।
এ বিষয়ে যুক্তরাজ্যের ডারহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামি আন্দোলনের বিশেষজ্ঞ খলিল আল-আনানি বলেন, ‘সবকিছুই এখন ব্রাদারহুডের জন্য সমঝোতা ও আলোচনার বিষয়ে পরিণত হয়েছে।’ তিনি বলেন, ব্রাদারহুড বুঝতে পারছে, রাজনৈতিকভাবে তারা যে বিজয় অর্জন করেছে, তা বিপন্ন হয়ে উঠবে, যদি মানুষের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা খর্ব করা হয়। আবার একই সময়ে সমাজের রক্ষণশীল অংশকেও সন্তুষ্ট রাখার কথা ভাবতে হচ্ছে তাদের।
অন্যদিকে মিসরের ধর্মনিরপেক্ষ ও উদারপন্থী গোষ্ঠীগুলো আশঙ্কা করছে, ইসলামি শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করার জন্য ব্রাদারহুড মিসরের বিদ্যমান সমাজব্যবস্থার লাগাম টেনে ধরতে চাইবে। তারা পোশাক পরিধানের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ করবে, সংগীত ও চলচ্চিত্রমাধ্যমকে হত্যা করবে। নারী ও পুরুষের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি করবে।
অন্যদিকে, মিসরের খ্রিষ্টান সম্প্রদায় পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। যদিও প্রেসিডেন্ট মুরসি বিভিন্ন সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর মধ্যে সহাবস্থান ও সম্প্রীতি বজায় রাখার আশ্বাস দিয়েছেন।
এমনকি পর্যটন-ব্যবসার ভবিষ্যৎ নিয়েও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ীরা। মিসরের চাকরির বাজারে প্রতি আটটি নতুন কর্মসংস্থানের মধ্যে একটি পর্যটন খাতের।
প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসি নির্বাচনী প্রচারণার সময় ইসলামি আইন ‘শরিয়া’ চালু করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। শরিয়া চালু করার মতো অবস্থা মিসরে রয়েছে কি না, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।
তবে, ব্রাদারহুড বলছে, তারা ধর্মরাষ্ট্র চায় না। শক্তিশালী সামরিক পরিষদও চায় না মিসর ধর্মীয় রাষ্ট্রে পরিণত হোক। রয়টার্স।

No comments

Powered by Blogger.