Sunday, May 15, 2011

নিরাপত্তার হুমকিতে সেই কমান্ডোরা!

ওসামা বিন লাদেন হত্যার অভিযানে অংশ নেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের দুর্ধর্ষ সেনাদল নেভি সিলসের সেই কমান্ডোরা নিরাপত্তার হুমকিতে রয়েছেন। লাদেন হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে আল-কায়েদার জঙ্গিরা তাঁদের ও পরিবারের সদস্যদের ওপর প্রতিশোধমূলক হামলা চালাতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা। এ জন্য কমান্ডোদের নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। গত বৃহস্পতিবার দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী রবার্ট গেটস এ কথা বলেছেন।
কেনিয়ায় বসবাসরত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার দাদি সারাহ ওবামার ওপরও আল-কায়েদা জঙ্গিদের প্রতিশোধমূলক হামলার আশঙ্কা করা হচ্ছে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে দেশটির কর্তৃপক্ষ সারাহর বাসভবনের চারপাশে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে।
উত্তর ক্যারোলাইনা অঙ্গরাজ্যের ক্যাম্প লেজেউনে মেরিন সেনাদের উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার সময় রবার্ট গেটস বলেন, গত সপ্তাহে তিনি নেভি সিলসের ওই সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় কমান্ডোরা তাঁদের ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তার হুমকি নিয়ে আশঙ্কার কথা তাঁকে জানান।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘তাঁদের নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কী ধরনের উদ্যোগ নেওয়া যায়, বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি।’
২ মে পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদ শহরের একটি বাড়িতে ওই মার্কিন কমান্ডোরা অভিযান চালিয়ে আল-কায়েদাপ্রধান বিন লাদেনকে হত্যা করেন। এরপর লাদেন হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দেয় আল-কায়েদা।
লাদেন হত্যার অভিযান নিয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ না করার ব্যাপারে হোয়াইট হাউস সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কিন্তু বিভিন্ন গণমাধ্যমের সুবাদে তা আর গোপন থাকেনি। এদিকে কেনিয়ার কর্তৃপক্ষ বলেছে, ওবামার সৎদাদি সারাহর ওপরও হামলার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আফগানিস্তানের পুলিশে নারী সদস্য

‘আমি পুলিশ, আমি কোনো কিছুতেই ভয় পাই না। আমি পুরুষের মতোই কাজ করছি।’ এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন আফগান পুলিশের নারী সদস্য কারমেলা (৩৭)। সম্প্রতি আফগানিস্তানের গোলযোগপূর্ণ হেলমান্দ প্রদেশের তল্লাশি চৌকিগুলোতে দায়িত্ব পালনের জন্য কারমেলার মতো ১৬ জন নারীকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
নারী পুলিশেরা অস্ত্র, আত্মঘাতী হামলার উপকরণ কিংবা বিদ্রোহী কর্মকাণ্ডে সন্দেহে নারীদের দেহ তল্লাশি করে থাকেন। এ বাহিনীতে যোগ দেওয়ার জন্য তাঁদের প্রত্যেককে পরিবারের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হয়েছে।
দায়িত্ব পালনের সময় তাঁদের পরনে থাকে গাঢ় সবুজ রঙের পোশাক। এক বাহুতে থাকে আফগানিস্তানের পতাকাসংবলিত একটি ব্যাজ আর অপর বাহুতে থাকে পদবি চিহ্ন। তাঁদের অধিকাংশেরই মুখ কাপড় দিয়ে ঢাকা থাকে।
আফগান পুলিশের নারী সদস্যদের পর্যবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পুলিশ কর্মকর্তা মেলানি হুপার জানান, পুলিশের জ্যেষ্ঠ পুরুষ কর্মকর্তারা এটাকে খুব ভালোভাবে নিচ্ছেন না। তবে হেলমান্দের পুলিশ প্রশিক্ষণ একাডেমির প্রধান মোহাম্মদ রফিক জানান, পুলিশ বাহিনীতে আরও নারী সদস্য নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। কিন্তু আবাসন সংকট প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পুলিশ বাহিনীতে এখন নারী সদস্যের সংখ্যা এক হাজার ২০০-এর কাছাকাছি।

তালেবানের সঙ্গে আলোচনায় সমর্থন

ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং তালেবানের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে দেশে শান্তি ফিরিয়ে আনতে আফগান সরকারের উদ্যোগে সমর্থন জানিয়েছেন। গতকাল শুক্রবার আফগান পার্লামেন্টে দেওয়া মূল ভাষণে তিনি এ সমর্থন দেন।
মনমোহন বলেন, ‘আফগানিস্তান জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার যে উদ্যোগ নিয়েছে, আমরা তার সাফল্য কামনা করি।’ তিনি আরও বলেন, আফগান আইনপ্রণেতাদের উচিত বাইরের শক্তিগুলোর প্রভাবমুক্ত থেকে দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া। আর এ লক্ষ্যে গৃহীত পদক্ষেপের প্রতি ভারতের পূর্ণ শ্রদ্ধা থাকবে বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, ‘প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্কের ভিত্তিতে শান্তি প্রতিষ্ঠাই আমাদের লক্ষ্য।’
তালেবানের সঙ্গে কারজাই সরকারের শান্তি আলোচনার উদ্যোগ নিয়ে এর আগে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল দিল্লি। তাদের আশঙ্কা ছিল, এতে হয়তো দেশটির সরকারব্যবস্থায় তালেবান প্রভাব প্রকট হয়ে উঠবে।
আফগানিস্তানে ২০০১ সালে তালেবান সরকারের পতনের পর ভারত দেশটির অন্যতম প্রধান সাহায্যদাতা দেশ হয়ে ওঠে। কাবুলে দুই দিনের সফরে গিয়ে গত বৃহস্পতিবার মনমোহন দেশটির জন্য নতুন করে ৫০ কোটি ডলারের সহায়তা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন।

ইতালিতে স্থানীয় নির্বাচন কাল

ইতালিতে আগামী রবি ও সোমবার স্থানীয় নির্বাচনে ভোট নেওয়া হবে। এ নির্বাচন সামনে রেখে প্রচারণায় নেমেছেন প্রধানমন্ত্রী সিলভিও বেরলুসকোনি। যৌন কেলেঙ্কারিসহ নানা কারণে হারানো জনপ্রিয়তা ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করছেন তিনি।
আগামী রবি ও সোমবার এক হাজার ৩১০টি স্থানীয় প্রশাসনের (কমিউন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন) নির্বাচনে ভোট নেওয়া হবে। এ সংখ্যা মোট আসনের ১৬ শতাংশ।
বিশ্লষকেরা বলছেন, মিলান, লেতিজিয়া মোরাত্তিসহ প্রধান প্রধান শহরে বেরলুসকোনির মধ্য ডানপন্থী জোটের পরাজয় হতে পারে।
অপ্রাপ্ত বয়স্ক এক যৌনকর্মীর সঙ্গে যৌন কেলেঙ্কারির ঘটনায় বেরলুসকোনির জনপ্রিয়তায় ব্যাপক ধস নেমেছে।

কেরালা ও পুদুচেরিতে ক্ষমতাসীনেরা পরাজিত

পশ্চিমবঙ্গসহ ভারতের চারটি রাজ্য ও একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল গতকাল শুক্রবার ঘোষণা করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস জয়লাভ করেছে। এর মধ্য দিয়ে এই রাজ্যে বামফ্রন্টের ৩৪ বছরের শাসনের অবসান হয়েছে।
কেরালা ও পুদুচেরিতে ক্ষমতাসীন জোট পরাজিত হয়েছে। তামিলনাড়ুতে ক্ষমতাসীনেরা পরাজয়ের মুখে রয়েছেন। তবে আসামে মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈর নেতৃত্বে ক্ষমতাসীন কংগ্রেস জয়লাভ করেছে। তিনি তৃতীয়বারের মতো আসামের মুখ্যমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন।
কেরালা: পশ্চিমবঙ্গের মতো কেরালায় পরাজিত হয়েছে বাম জোট। জয়লাভ করেছে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ জোট। এই রাজ্যের বিধানসভার ১৪০ আসনের মধ্যে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ পেয়েছে ৭২টি আসন। আর বাম দলগুলোর জোট এলডিএফ ৬৮টি আসন পেয়েছে। ২০০৬ সালে এলডিএফ ৯৮ আসনে জয়ী হয়েছিল। ইউডিএফ পেয়েছিল ৪২টি আসন।
বাম জোট হারলেও বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী সিপিএম নেতা ভি এস অচ্যুতানন্দন হ্যাটট্রিক জয় পেয়েছেন। কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন জোটের জয়ের ফলে এখানে পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হতে পারেন ওমেন চণ্ডী, রমেশ চেন্নিথালা, কে মুরালিধরন, কে এম মানির মধ্যে যে কেউ।
তামিলনাড়ু: জয়ললিতার এআইএডিএমকের নেতৃত্বাধীন জোট জয়ী হয়েছে। গতকাল রাত সাড়ে আটটা পর্যন্ত ঘোষিত ফলাফলে জয়ললিতার জোট ১৬৫টি আসন পেয়েছে। এগিয়ে রয়েছে ৩৯টি আসনে। অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী এম করুণানিধির দল ডিএমকের নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ২৩টি আসন। এগিয়ে রয়েছে সাতটি আসনে। তামিলনাড়ু বিধানসভায় মোট আসন ২৩৪টি।
এখানে এম করুণানিধির সরকারের পতনের মূল কারণ টুজি স্পেকট্রাম কেলেঙ্কারি। ওই দুর্নীতির কারণে ডিএমকে নেতা ও কেন্দ্রীয় টেলিযোগাযোগমন্ত্রী এ রাজা পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। পরে দুর্নীতির দায়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ছাড়া করুণানিধির মেয়ে সাংসদ কানিমোঝিওর বিরুদ্ধেও ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। মূলত এসব দুর্নীতির কারণেই করুণানিধির ভরাডুবি হয়েছে।
আসাম: আসামে মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈর নেতৃত্বে কংগ্রেস ৭৬টি আসন পেয়ে জয়লাভ করেছে। ১২৬ আসনের আসাম বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে প্রয়োজন ৬৪ আসন। ফলে তরুণ গগৈ তৃতীয়বারের মতো আসামের মুখ্যমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন। এখানে এআইইউডিএফ ২০টি, বিওপিএফ ১৩টি আসন পেয়েছে। বাকি ১৩টি আসন পেয়েছে অন্যান্য দল।
পুদুচেরি: ভারতের একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পুদুচেরি। এখানে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী এন রাঙ্গাস্বামীর নেতৃত্বাধীন অল ইন্ডিয়া এনআর কংগ্রেস (এনআরসি) জোট জয়লাভ করেছে। ৩০ আসনের বিধানসভায় এনআরসি জোট ২০টি আসন পেয়েছে। এর প্রতিদ্বন্দ্বী মুখ্যমন্ত্রী ভি ভাইতিলিঙ্গমের নেতৃত্বাধীন কংগ্রেস-ডিএমকে জোট পেয়েছে ১০টি আসন।

‘পরিবর্তন চাই’ স্লোগানেই বাজিমাত

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেসের স্লোগান ছিল ‘পরিবর্তন চাই’। ৩৪ বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতায় ছিল বামফ্রন্ট। তাই জনগণও চাইছিল পরিবর্তন। আর সেই জোয়ারেই যেন পতন হলো বাম দুর্গের। বামফ্রন্টের নেতারাও মনে করেন, ‘পরিবর্তন চাই’ স্লোগানেই বাজিমাত হয়েছে মমতার।
বামফ্রন্টের প্রধান শরিক দল সিপিএমের পলিট ব্যুরোর সদস্য সীতারাম ইয়েচুরি বলেন, ‘টানা সাতটি নির্বাচনে জয়লাভ করে বামফ্রন্ট ৩৪ বছর পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতায় থাকার পর এবার পরাজিত হয়েছে। আমরা এ পরাজয় মেনে নিচ্ছি। জনগণের রায় মেনে নিয়েছি।’ তিনি আরও বলেন, জনগণ পরিবর্তন চাইছিল। তাদের সেই আকাঙ্ক্ষার ইতিবাচক ফল পেয়েছে তৃণমূল।
সীতারাম বলেন, বামফ্রন্টের শাসনই তৃণমূলের এই বড় জয় নিশ্চিত করেছে। জনগণকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘লোকসভা নির্বাচনের পর এখানে বামফ্রন্টের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা হয়েছে। এবার যাতে এমন কোনো ঘটনা না ঘটে, তাই সবাইকে ধৈর্য ধরে শান্ত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।’
সিপিএমের পলিট ব্যুরোর আরেক সদস্য বৃন্দা কারাতের কণ্ঠেও যেন সীতারামের কথারই প্রতিধ্বনি। বৃন্দা বলেন, ‘নির্বাচনের ফলাফলে জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটেছে। তারা পরিবর্তন চাইছিল। আমরা বিনয়ের সঙ্গে এই ফল মেনে নিচ্ছি। রাজ্যের দায়িত্বশীল বিরোধী দলই হব আমরা।’
রাজনৈতিক বিশ্লেষক সব্যসাচী বসু রায় চৌধুরী বলেন, পরিবর্তনকামী জনগণের জন্য এটা গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। ইতিহাসের অধ্যাপক নন্দিত দেব বলেন, তিন দশকেরও বেশি সময় পর এই পরিবর্তন এল বিপ্লবের মতো। আজ থেকে পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হলো।

পালানোর ইচ্ছা ছিল না ওসামার

পাকিস্তানে ওসামা বিন লাদেনের ‘সহায়ক শক্তি’ ছিল। ওই সহায়ক শক্তির প্রতি বিন লাদেনের অগাধ আস্থা ছিল। এ কারণেই তিনি অ্যাবোটাবাদের ওই বাড়ি থেকে প্রয়োজনে পালানোর কোনো পরিকল্পনা করেননি। বিন লাদেনের কম্পিউটারে সংরক্ষিত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ শেষে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দারা এ ধারণা করছেন। গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে গতকাল শুক্রবার সিএনএনের এক খবরে এ কথা বলা হয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাস দমনবিষয়ক কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এপি জানিয়েছে, বাড়িতে ইন্টারনেট সংযোগ না থাকলেও বিন লাদেন তাঁর অনুসারীদের বিশেষ প্রক্রিয়ায় হাজার হাজার ই-মেইল করেছিলেন। তাঁর ই-মেইল চালাচালির এক বিশাল ভান্ডার উদ্ধার করা হয়েছে।
পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে বিন লাদেনের বাড়ি থেকে জব্দ করা কম্পিউটারসহ বিভিন্ন সরঞ্জামাদি বিশ্লেষণ শেষে ধারণা করা হচ্ছে, বিন লাদেন পালিয়ে যাওয়ার কোনো পরিকল্পনাই করেননি। এ ছাড়া কম্পিউটারের তথ্য-উপাত্ত নষ্ট করার কোনো প্রয়োজন বোধ করেননি তিনি।
এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে সিএনএন জানায়, লাদেনের গোপন আস্তানা থেকে বিপুল পরিমাণ সরঞ্জামাদি পাওয়া গেছে, যা কল্পনাতীত।
২ মে, অ্যাবোটাবাদ শহরের তিনতলার একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে মার্কিন নেভি সিলের কমান্ডাররা বিন লাদেনকে হত্যা করেন। এই অভিযানের সময় বাড়িটিতে বিন লাদেন ছাড়া মাত্র তিনজন পুরুষ সদস্য ছিলেন। তিনজন মাত্র সঙ্গী নিয়ে লাদেন কীভাবে নিজেকে নিরাপদ বোধ করতেন, এ প্রশ্ন যুক্তরাষ্ট্রের তদন্ত কর্মকর্তাদের বিস্মিত করেছে।
হোয়াইট হাউস দাবি করে আসছে, বিন লাদেনকে পাকিস্তানি সরকার সহায়তা দিয়েছে। তবে এ পর্যন্ত পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি ওবামা প্রশাসন। তবে গোয়েন্দারা মোটামুটি নিশ্চিত, দেশটির ভেতর আল-কায়েদার সহায়ক শক্তি ছিল।
অন্য এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে সিএনএন জানায়, বিন লাদেন কীভাবে তাঁর আল-কায়েদা সংগঠনের নেতৃত্ব দিতেন, এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে প্রাপ্ত গোয়েন্দা তথ্য আরও বিচার-বিশ্লেষণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে আরও কয়েক মাস লাগবে।
প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দাদের চোখে ধুলো দিয়ে আল-কায়েদার প্রধান বিন লাদেন ঠিকই তাঁর অনুসারীদের সঙ্গে ই-মেইলে যোগাযোগ রক্ষা করতেন। বছরের পর বছর তিনি হাজার হাজার ই-মেইল বার্তা পাঠিয়েছেন। ই-মেইল পাঠানোর ক্ষেত্রে বিন লাদেন অভিনব এক কৌশলের আশ্রয় নেন। তাঁর এ কৌশল নিয়মানুবর্তিতা ও বিশ্বাসের ভিতের ওপর গড়া ছিল।
বিন লাদেন তাঁর কম্পিউটারে বার্তা টাইপ করতেন। তারপর বৃদ্ধাঙ্গুলের সমান একটি ফ্ল্যাশ মেমোরি ড্রাইভে তা সংরক্ষণ করতেন। ওই ফ্ল্যাশ ড্রাইভ বিশ্বস্ত বার্তাবাহককে দিতেন। বার্তাবাহক দূরের কোনো সাইবার ক্যাফেতে গিয়ে ওই ড্রাইভ থেকে বিন লাদেনের বার্তাটি কপি করতেন। পরে তা পাঠিয়ে দিতেন। কমান্ডোরা অন্তত ১০০ ফ্ল্যাশ মেমোরি ড্রাইভ উদ্ধার করেছেন।

মায়ের জন্য ভালোবাসা

বয়স মাত্র ১০ বছর। সদ্য কারামুক্ত মাকে দেখতে আকুল বলিভিয়ার এই বালক কোচাবাম্বায় যাওয়ার উদ্দেশে গোপনে খনিজ পদার্থবাহী একটি ট্রাকে চড়ে বসে। কিন্তু কে জানত, এই ট্রাক তাকে নিয়ে যাবে ভিন দেশে। মাকে দেখতে কোচাবাম্বায় যেতে বলিভিয়ার অরুরো শহর থেকে ট্রাকে উঠেছিল ফ্রাঙ্কলিন ভিলসা।
তিন দিন তিন রাত এক ফোঁটা পানি, খাবার না খেয়ে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে তিন হাজার মিটার উঁচু দুর্গম আন্দিজ পর্বত পাড়ি দিয়ে ফ্রাঙ্কলিন যখন নামে, তখন আরেক দেশ, চিলি। এ সময়ে সে পাড়ি দিয়েছে ৫০০ কিলোমিটার দুর্গম পাহাড়ি পথ। ক্ষুধা-তৃষ্ণায় কাতর ফ্রাঙ্কলিন চিলির রাজধানী সান্তিয়াগো থেকে এক হাজার ১০০ মাইল উত্তরে ইকুইকিউয়ের উপকণ্ঠে আলতো হোস পিসিও শহরের রাস্তায় নেমে হতবিহ্বল। কী করবে বুঝতে পারছে না।
পরে ইকুইকিউ কর্তৃপক্ষ শিশুটিকে স্থানীয় একটি পরিবারের সঙ্গে থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছে। পরিবারের কর্ত্রী মার্গারিতা ফ্লরস শিশুটিকে নেওয়ার আগে প্রচারমাধ্যমগুলোকে বলেন, ‘আমি একজন মা এবং হতে পারে, শিশুটির মা দুর্দশা ভোগ করছেন।’
চিলির টিভিএনকে ফ্রাঙ্কলিন বলেছে, ‘আমি আর কিছুই চাইনি। শুধু মাকে দেখতে চেয়েছিলাম।’ শিশুটির এই আকুতি নাড়া দিয়ে গেছে দুই দেশের মানুষের হূদয়কে। দুই দেশের কর্তৃপক্ষই মা ও ছেলের মিলন ঘটাতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিয়েছে। ফ্রাঙ্কলিনের মায়ের দেশ ত্যাগের ওপর নিষেধাজ্ঞা আছে। তাই ছেলেটিকেই ফিরিয়ে নিতে ইতিমধ্যে চিলি গেছেন বলিভিয়ার এক কর্মকর্তা। চিলির এটিবি টেলিভিশন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে মা ও ছেলের মধ্যে কথা বলা ও পর্দায় দুজনের দেখার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে। ছেলে মাকে বলছিল, ‘আমি তোমাকে দেখতে চাই। আমি কেবল কোচাবাম্বায় যেতে চেয়েছিলাম। তুমি দ্রুত এসে আমাকে নিয়ে যাও মা।’ কাঁদতে কাঁদতে মা বললেন, ‘আমি কারাগারে ছিলাম। এখন আমি মুক্ত। আর আমি তোমাকে তোমার বাবা বা ভাইদের কাছে রেখে কোথাও যাব না। তুমি আমার কাছেই থাকবে।

মহিলা ক্লাব ক্রিকেট

মহিলা ক্লাব ক্রিকেটে জিতেছে আবাহনী ও দিপালী যুব সংঘ। কাল বিকেএসপিতে আবাহনী (১১.১ ওভারে ৫৩/৪) ৬ উইকেটে কলাবাগানকে (২৫.৪ ওভারে ৫২) হারিয়েছে। আবাহনীর লতা মন্ডল ৭ রানে ৪ উইকেট নিয়ে হয়েছেন ম্যাচ-সেরা।
ধানমন্ডি ক্রিকেট মাঠে দিপালীও (২১.১ ওভারে ১১২/৪) ৬ উইকেটে জিতেছে ওরিয়েন্টের (৪০ ওভারে ১১১) বিপক্ষে। অপরাজিত ৪৬ রান করে ম্যাচ-সেরা হয়েছেন জয়ী দলের আইরিন সুলতানা।

রেকর্ডের পথে রানী হামিদ

আরেকটি শিরোপার সুবাস পাচ্ছেন আন্তর্জাতিক মহিলা মাস্টার রানী হামিদ। আরলিন ডেভেলপার লিমিটেড ৩২তম জাতীয় দাবার শেষ রাউন্ডে আজ দিলারা জাহানকে হারালেই ১৮তম বারের মতো জাতীয় চ্যাম্পিয়ন হয়ে যাবেন তিনি।
আগের রাউন্ড পর্যন্ত পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থাকা আরেক আন্তর্জাতিক মহিলা মাস্টার শামীমা আক্তার লিজা শারমীন সুলতানার কাছে হেরে যাওয়াতেই রানী হামিদের চ্যাম্পিয়নের পথ সুগম হলো। কাল দশম রাউন্ডে রানী হারিয়েছেন মাসুদা বেগমকে।
১০ ম্যাচ শেষে সাড়ে ৮ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে এখন রানী হামিদ। এবার শিরোপা জিতলেই গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে তাঁর নাম লেখা হয়ে যাবে বলে দাবি রানী হামিদের। কাল জানালেন, ‘আমার জানামতে, দাবায় ১৭ বার জাতীয় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার ঘটনা আছে। ১৮ বার চ্যাম্পিয়ন হতে পারলে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ডের রেকর্ড বইতে নাম লেখানোর চেষ্টা করব।’
কাল দিনের অন্যান্য খেলায় নাজরানা খান জাহানারা হককে, মাহমুদা হক রোকসানা তিতলীকে, জাকিয়া সুলতানা নূপুরকে ও আরিফা খাতুন তানজিনা আক্তার তানিকে হারিয়েছেন।

স্বাধীনতা দিবস হকি

লিরিক স্বাধীনতা দিবস হকির ফাইনালে উঠেছে ওয়ারী ক্লাব ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। গতকাল প্রথম সেমিফাইনালে ওয়ারী ৬-১ গোলে বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে এবং দ্বিতীয় সেমিফাইনালে সেনাবাহিনী একই ব্যবধানে সাধারণ বীমাকে হারিয়েছে। ওয়ারীর পক্ষে রিপন ও পুস্কর দুটি করে গোল করেছেন, মানিক ও অজিত একটি করে। নৌবাহিনীর গোলটি সিহাবের। সেনাবাহিনীর পক্ষে মিলন তিনটি, মালেক দুটি ও সানোয়ার একটি গোল করেন। সাধারণ বীমার গোলটি রাজনের। ফাইনাল আগামীকাল বেলা সাড়ে তিনটায়।

হেরেও খুশি ফেদেরার

সর্বশেষ কোনো টুর্নামেন্টের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে ব্যর্থ হয়েছিলেন গত বছর রোমে। ঠিক এক বছর পর আবারও সেই রোমেই ব্যর্থ হলেন রজার ফেদেরার। পরশু রোম মাস্টার্সের তৃতীয় রাউন্ডে ফ্রান্সের রিচার্ড গ্যাসকুয়েটের কাছে ৪-৬, ৭-৬ (৭/২), ৭-৬ (৭/৪) গেমে হারলেন ১৬টি গ্র্যান্ড স্লামজয়ী সুইস তারকা।
তবে সময়ের আগেই টুর্নামেন্ট শেষ হয়ে যাওয়ায় অখুশি নন ফেদেরার। বরং ফ্রেঞ্চ ওপেনের আগে কিছুটা অবসর পেয়ে খুশিই সাবেক এক নম্বর, ‘আমি সত্যিই কয়েক দিনের বিরতি চাইছিলাম—দুই, তিন বা চার দিনের বিরতি পেয়ে আমি অবশ্যই খুশি। ফ্রেঞ্চ ওপেনের আগে শারীরিক ও মানসিকভাবে সতেজ থাকার জন্য এটার দরকার ছিল।’
ফেদেরার বিদায় নিলেও সেমিতে উঠেছেন রাফায়েল নাদাল। কাল ক্রোশিয়ার মারিন সিলিচকে ৬-১, ৬-৩ গেমে হারিয়ে নিশ্চিত করেছেন র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থাকাটাও। সেমিতে উঠেছেন ব্রিটেনের অ্যান্ডি মারেও । তৃতীয় রাউন্ডে সুইজারল্যান্ডের স্তানিসলাস ওয়ায়রিঙ্কাকে ৬-৪, ৬-১ গেমে হারিয়ে টানা ৩৬তম জয় পেয়েছেন নোভাক জোকোভিচ।

কার্তিক জেতালেন পাঞ্জাবকে

নিখাদ ব্যাটসম্যান হিসেবেই ভারতের হয়ে বেশ কিছু ম্যাচ খেলেছেন। এখন উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান হিসেবেও নেই সেরা তিনে! ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে সীমিত ওভারের ভারতীয় দলে জায়গা না পাওয়ায় নিশ্চয়ই ফুঁসছিলেন দীনেশ কার্তিক। এবারের আইপিএলে প্রথম ফিফটির জন্য তাই বেছে নিলেন কালকের দিনটিকেই। ৩৩ বলে ৬৯ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলে জেতালেন কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবকে। মাহেলা জয়াবর্ধনের ৫২ বলে ৭৬ ও ব্রেন্ডন ম্যাককালামের ২৭ বলে ৩২ কোচি টাস্কার্স কেরালাকে এনে দিয়েছিল ১৭৮ রানের বড় পুঁজি। কিন্তু এই রানটাকেও মামুলি বানিয়ে দেয় তৃতীয় উইকেটে কার্তিক ও শন মার্শের (৩০ বলে ৪২) ৫৭ বলে ১১১ রানের জুটি। পাঞ্জাব লক্ষ্যে পৌঁছে ৭ বল আর ৬ উইকেট হাতে রেখে।

ছুটি নিলেন সাফিনা

টেনিস থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ছুটি নিলেন দিনারা সাফিনা। গত বছর তাঁর মেরুদণ্ডে চিড় ধরা পড়ে। কিন্তু পিঠের ব্যথায় ভুগছেন আরও আগে থেকেই। ওই পিঠের ব্যথাকে চিরতরে ‘বিদায়’ দেওয়ার জন্যই টেনিস থেকে তাঁর সাময়িক সরে থাকার সিদ্ধান্ত। মহিলা টেনিসের সাবেক এক নম্বর খেলোয়াড় রাশিয়ান পত্রিকা স্পোর্ট এক্সপ্রেসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন এ কথা।
তবে পিঠের ব্যথা থেকে সেরে উঠলেই টেনিসে ফিরবেন নিশ্চিত করেছেন সাফিনা, ‘আমার টেনিসে ফেরাটা ৯৯ শতাংশ নিশ্চিত, কিন্তু আমি সুস্বাস্থ্য নিয়েই ফিরতে চাই। সেরে ওঠার জন্য যথেষ্ট সময় নিতে চাই, যাতে ক্যারিয়ারের শেষে পিঠ নিয়ে আর কখনো ভাবতে না হয়।’
২২ মে শুরু হতে যাওয়া ফ্রেঞ্চ ওপেন থেকে নিজের নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছেন সাফিনা। আগের দিনই সরে দাঁড়িয়েছেন আরেক সাবেক এক নম্বর সেরেনা উইলিয়ামস। ১৩টি গ্র্যান্ড স্লামজয়ী সেরেনার পায়ের সমস্যা এখনো পুরোপুরি সারেনি। সংশয় আছে ভেনাস উইলিয়ামসের খেলা নিয়েও। এঁদের হারিয়ে কিছুটা রং হারানো ফ্রেঞ্চ ওপেন পাচ্ছে না পুরুষ তারকা আর্জেন্টাইন ডেভিড নালবানডিয়ানকেও।

আজমলের জবাব বিশু

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ধুঁকেছে স্পিনে। আর পাকিস্তান ধুঁকছে স্পিন-পেসের সম্মিলিত আক্রমণে। পাকিস্তানের তিন স্পিনার মিলে ৯ উইকেট নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে গুটিয়ে দিয়েছিল ২২৬ রানে। দ্বিতীয় দিনের চা-বিরতির সময় এই স্কোরটাকেও মনে হচ্ছিল অনেক বড়। পাকিস্তান যে ৬ উইকেটে ১১৩!
প্রভিডেন্সের মন্থর, অসমান বাউন্সের উইকেটে ব্যাটিং সহজ হবে না, জানাই ছিল। তবে এই দুর্দশার জন্য পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানদের দায়ও কম নয়। ড্যারেন স্যামির নিখুঁত লাইন-লেন্থ আর একটু এদিক-সেদিক করা বলে হাঁসফাঁস করলেন তাঁরা, অভিষিক্ত দেবেন্দ্র বিশুর লেগ স্পিনের ভাষা পড়তেও অবস্থা তথৈবচ। দ্বিতীয় ওভারে হাফিজকে (৪) হারানোর ধাক্কা সামলে দ্বিতীয় উইকেটে তৌফিক উমর ও আজহার আলী গড়েছিলেন ৫২ রানের জুটি। কিন্তু স্যামি-বিশুর যৌথ আক্রমণে হঠাৎ ধ্বংসস্তূপ পাকিস্তান—১ উইকেটে ৫৭ থেকে ৫ উইকেটে ৬৬! ১৪ রানের ছোট্ট একটা জুটির পর সালমানকেও তুলে নিয়েছেন বিশু। দারুণ এক ফ্লিপারে মিসবাহকে এলবিডব্লু করে টেস্টে শিকারের খাতা খুলেছেন, বিশুর বাকি দুই উইকেটও এলবিডব্লু। স্যামি নিয়েছেন ২ উইকেট।
বিশুর সাফল্য আরেকটা প্রশ্নও তুলে দিচ্ছে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের একাদশে কেন মাত্র একজন স্পিনার! হয়তো প্রভিডেন্সের উইকেট বেশি বিভ্রান্ত করেছিল স্বাগতিকদেরই। পাকিস্তান তো ঠিকই দুই বিশেষজ্ঞ স্পিনার আর একজন স্পিনিং-অলরাউন্ডারকে নিয়েছে। গত পরশু ইনিংস শুরুও করেছেন সেই অলরাউন্ডার—মোহাম্মদ হাফিজ। একটা ইতিহাসও সম্ভবত গড়ে ফেলেছে পাকিস্তান। ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে এর আগে একবার তবু স্পিনে আক্রমণের শুরু হয়েছিল, ১৯৬২ সালে ত্রিনিদাদ টেস্টের প্রথম দিনে নতুন বল হাতে নিয়েছিলেন ভারতীয় অলরাউন্ডার এম এল জয়সিমা। কিন্তু প্রথম দিন লাঞ্চের আগে ৩১ ওভারের ২৪ আর সারা দিনে ৯০ ওভারের ৬৮ ওভারই স্পিন—ক্যারিবিয়ানে আগে কখনো হয়নি বলায় ঝুঁকি মনে হয় খুব একটা নেই।
সবচেয়ে বেশি ভুগিয়েছে সাঈদ আজমলের ‘লেগ স্পিন’। অবাক হচ্ছেন? তাঁর অফ স্পিন বাঁহাতিদের জন্য এমনিতেই লেগ স্পিন, ডান হাতিদেরও অফ ব্রেকের চেয়ে দুসরাই বেশি করেছেন। লাঞ্চের আগে ৪ ওভারে ১৯ রান দিয়ে উইকেটশূন্য ছিলেন, পরে প্রান্ত বদল করে রাউন্ড দ্য উইকেটে এসে ক্রমাগত দুসরা করে গেছেন। আগের দিনের চারটির সঙ্গে কাল শেষ উইকেটটি নিয়ে করেছেন ক্যারিয়ার-সেরা বোলিং। বিশু যে আজমলের জবাব হওয়ার জন্য তৈরি, তখন কে জানত!

ওয়েস্ট ইন্ডিজে গম্ভীরের ভারত

গুঞ্জনটাই সত্যি হলো। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতে থাকছেন না মহেন্দ্র সিং ধোনি। অধিনায়কের সঙ্গে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে আরও দুই সিনিয়র ক্রিকেটার শচীন টেন্ডুলকার ও জহির খানকে। চোটের কারণে নেই বীরেন্দর শেবাগ ও আশিস নেহরাও। ক্যারিবিয়ানে সীমিত ওভারের ক্রিকেটের ভারতকে নেতৃত্ব দেবেন তাই গৌতম গম্ভীর। বাঁহাতি ব্যাটসম্যানের জন্য অবশ্য এই অভিজ্ঞতা প্রথম নয়, সিনিয়র ক্রিকেটারদের অনুপস্থিতিতে গত ডিসেম্বরেই নিউজিল্যান্ডকে ৫-০-তে হারিয়েছে ভারত গম্ভীরের নেতৃত্বে। বিশ্বকাপজয়ী দল থেকে বাদ পড়েছেন শ্রীশান্ত ও পীযূষ চাওলা।
আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো দায়িত্ব নেননি তবে এই দল নির্বাচনী সভায় ছিলেন ডানকান ফ্লেচারও। ভারতের কোচ হওয়ার পর কাল প্রথমবারের মতো সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখিও হয়েছেন গ্যারি কারস্টেনের উত্তরসূরি। বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের নতুন কোচ বলেছেন, তাঁর কোচিং দর্শন হবে ‘উপদেশ’ দেওয়া, ‘নির্দেশ’ নয়। ওয়েস্ট ইন্ডিজে অবশ্য থাকছেন না ফ্লেচার, কোচের দায়িত্ব পালন করবেন বোলিং কোচ এরিক সিমন্স।
ফ্লেচারকে নিয়োগ দেওয়ার মূল কারণ, তিনি কারস্টেনের মতোই। যতটা না ‘গুরু’, তার চেয়ে অনেক বেশি ‘বন্ধু’। ফ্লেচার জানালেন এই দর্শনের শিক্ষা কারস্টেনকে তিনিই দিয়েছেন, ‘ব্যাপারটা এমন নয় যে ভারতীয় ক্রিকেটারদের আমার ইচ্ছামতো খেলতে হবে। পুরো ব্যাপারটাই হলো উপদেশ দেওয়া, এটাকে মাঠে তুলে ধরার দায়িত্ব ক্রিকেটারদের। কারস্টেন আমার দর্শনই অনুসরণ করেছে। ভারতের দায়িত্ব নেওয়ার আগে সে আমার সঙ্গে কথা বলতে এসেছিল। আমি ওকে বলেছিলাম কীভাবে পরিস্থিতি সামলাতে হয়। আমার দর্শন ভারতের জন্য উপযোগী বলেই গ্যারি আমার নাম সুপারিশ করেছিল। আশা করি, এটাই ঠিক হবে।’
ফ্লেচারের মতে, সাফল্যের মূল চাবিকাঠি হলো পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, ‘কোচ হিসেবে ক্রিকেটারদের কাছ থেকে আমাকে শ্রদ্ধা আদায় করতে হবে, ক্রিকেটারদেরও আমার শ্রদ্ধা আদায় করতে হবে। এটা হলে কাজটা অনেক সহজ হয়ে যায়। অধিনায়ক ও কোচের পারস্পরিক শ্রদ্ধাটাও জরুরি। ভারতের কোচের প্রস্তাব পাওয়ার আগ থেকেই ধোনির সম্পর্কে আমার উচ্চ ধারণা ছিল। কয়েকটি কলামে আমি ওর অধিনায়কত্বের উচ্ছ্বসিত প্রশংসাও করেছি।’
চোট, বিশ্রাম ও বাদ পড়ায় বেশ কয়েকজন ক্রিকেটারের অনুপস্থিতিতেও অবশ্য নতুন চেহারা নিচ্ছে না ভারতীয় দল। কারণ, আনকোরা নতুন মুখ কেউ নেই, সুযোগ পাওয়া সবাই ‘পুরোনো’। ঘরোয়া ক্রিকেটের পারফরম্যান্স দিয়ে দলে ফিরেছেন রোহিত শর্মা ও এস বদ্রিনাথ। রঞ্জি ট্রফিতে এবার সেরা দুই রান সংগ্রহকারী বদ্রিনাথ (৯২২) ও রোহিত (৭৩২); আইপিএলেও দুর্দান্ত খেলছেন দুজন। উইকেটের পেছনে দাঁড়ানোর পাশাপাশি গম্ভীরের সঙ্গে ইনিংস ওপেন করবেন পার্থিব প্যাটেল। ফিরেছেন তিন পেসার—বিনয় কুমার, প্রাভিন কুমার ও ইশান্ত শর্মা। তৃতীয় স্পিনার হিসেবে জায়গা পেয়েছেন অমিত মিশ্র, দ্বিতীয় উইকেটকিপার ঋদ্ধিমান সাহা। ৪ জুন একমাত্র টি-টোয়েন্টি দিয়ে শুরু সিরিজে ৫টি ওয়ানডে খেলবে ভারত। তিন টেস্টের সিরিজের দল ঘোষণা হবে পরে।

ম্যানচেস্টারে যুগল উৎসবের দিন?

পুরো ম্যানচেস্টার শহর আজ উৎসবের অপেক্ষায়। একদিকে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ১৯তম লিগ শিরোপা জয়ের অপেক্ষায়, তাদের নগর প্রতিদ্বন্দ্বী ম্যানচেস্টার সিটিও ৩৫ বছরের শিরোপা-খরা মুছে ফেলার একদম কাছাকাছি। লিগে আজ ব্ল্যাকবার্ন রোভার্সের সঙ্গে ড্র করলেই চ্যাম্পিয়ন হবে ম্যানইউ। আর মর্যাদার এফএ কাপ ফাইনালে ম্যান সিটির সামনে স্টোক সিটি। স্টোক সিটির জন্যও এটি একমাত্র লিগ কাপ শিরোপার বাইরে প্রথম বড় শিরোপা জেতার উপলক্ষ।
ম্যান সিটি নাকি ম্যানইউ—কারা বড় উৎসব করবে বলা মুশকিল। দুটো ট্রফিই দুই দলের জন্য হবে পরম পাওয়া। ওয়েম্বলিতে ফাইনাল জেতা ম্যান সিটির জন্য অনেক বড় গর্বের তো বটেই, ‘জাতে ওঠা’র যে চেষ্টা তারা করছে, সে পথে একধাপ এগিয়ে যাওয়াও হবে। আর লিগ শিরোপা হবে ম্যানইউর, বিশেষ করে অ্যালেক্স ফার্গুসনের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ।
২৫ বছর আগে ক্লাবের দায়িত্ব নেওয়ার সময়ই কোচ ফার্গুসন বলেছিলেন, একটা মিশন নিয়ে তিনি নামছেন, যে মিশনটা হলো লিভারপুলের রাজত্ব কেড়ে নেওয়া। ‘অল রেড’রা সেই সুদিন হারিয়ে ফেলেছে অনেক দিন হলো। কিন্তু এখনো ইংলিশ ফুটবলে সবচেয়ে বেশিবার লিগ জেতার রেকর্ডটায় নাম আছে তাদের। ১৮টি করে শিরোপা জিতেছে লিভারপুল ও ম্যানইউ। সিকি শতাব্দী আগে যে প্রতিজ্ঞা ফার্গুসন করেছিলেন, আজ বুঝি সেটি পূরণ হওয়ার দিন! এরপর আবার চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতার হাতছানিও আছে, যেটি হবে ফার্গুসনের ইউরোপীয় মুকুটের তৃতীয় পালক।
তবে এই ঔজ্জ্বল্যের উল্টো পাশে আঁধারও আছে। বলা হচ্ছে, স্যার ফার্গির সব কটি চ্যাম্পিয়ন দলের মধ্যে এই দলটাই নাকি সবচেয়ে অনুজ্জ্বল। এবার লিগের অনেকটা পথ ম্যানইউ আসলেই পাড়ি দিয়েছে দাপটহীন সব জয় দিয়ে। সেটা রায়ান গিগস স্বীকারও করছেন। কিন্তু ফার্গুসনের সবচেয়ে বিশ্বস্ত এই সৈনিক এটা মানতে নারাজ—এই দলটা বিবর্ণ, ‘সত্যি বলতে কি, এসব কথা নিয়ে আমরা মাথাই ঘামাই না। এটা ঠিক, মৌসুমের প্রথমার্ধে আমরা ঠিক দুর্দান্ত না খেলেও জিতছিলাম। দ্বিতীয়ার্ধে, বিশেষ করে ক্রিসমাসের পর থেকে আমরা দুর্দান্ত খেলছি। পারফরম্যান্স ছিল অসাধারণ।’
পরিসংখ্যানও তা-ই বলবে। ১৯৯৮-৯৯ মৌসুমে ফার্গুসনের দলটা ট্রেবল (লিগ-কাপ-চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপাত্রয়ী) জিতেছিল। সেই দুর্দান্ত দলটাও লিগে ৭৯ পয়েন্ট নিয়ে শেষ করেছিল। দুই ম্যাচ বাকি থাকতেই ফার্গুসনের এই দলের লিগে পয়েন্ট অর্জন ৭৬। শেষ দুই ম্যাচে ৪ পয়েন্ট পেলেই ট্রেবলজয়ী দলটাকেও ছাপিয়ে যেতে পারবে তারা। ব্ল্যাকবার্নের পর প্রতিপক্ষ ব্ল্যাকপুল—সেটা খুবই সম্ভব মনে হচ্ছে।
ফার্গুসন অবশ্য শিষ্যদের এই বলে সতর্ক করছেন, ‘ব্ল্যাকবার্ন আর ব্ল্যাকপুল দুটো দলই দুর্দান্ত। তাদের হালকাভাবে নিলে চলবে না। এতদূর আসার পর সেই ভুলটা করা বোকামি।’ এই সতর্কতার কারণ গাণিতিক সমীকরণে এখনো চেলসির আশা বেঁচে আছে। শেষ দুই ম্যাচে ম্যানইউয়ের হার আর চেলসির জয় এলে দুই দলের পয়েন্ট হয়ে যাবে সমান। সে ক্ষেত্রে শিরোপা নির্ধারক হয়ে দাঁড়াবে গোল ব্যবধান। হারলে যে গোল ব্যবধানে ম্যানইউর পিছিয়ে পড়ারই কথা।

শেষ দিনের রোমাঞ্চের অপেক্ষায়

কোনটি বেশি সহজ—২৪৬ রান করা, না ১০ উইকেট তুলে নেওয়া?
প্রশ্নটার উত্তর দেওয়ার জন্য দুই দলের ব্যাটিং-বোলিং শক্তি অবশ্যই বড় বিবেচনা। সঙ্গে অতি গুরুত্বপূর্ণ একটা তথ্য মনে রাখাও জরুরি, এই সমীকরণ পাঁচ দিনের ম্যাচের পঞ্চম দিনের।
চতুর্থ দিন বিকেলেও উইকেটের আচরণে ‘শেষ দিনের উইকেট’ নিয়ে ব্যাটসম্যানদের কোনো দুশ্চিন্তার কারণ খুঁজে পাওয়া গেল না। এ কারণেই জাতীয় লিগ ফাইনালের শেষ অঙ্কের আগে মনে হচ্ছে ‘অ্যাডভান্টেজ রাজশাহী’। তবে পাঁচ দিনের ম্যাচের শেষ দিন অনেক অভাবিত নাটক জমা রাখে। শুধু তো আর উইকেট নয়, রান তাড়া করার চাপটাও বাড়তি যোগ হয়। নিরাপদ থাকতে চাইলে এটা বলাই ভালো—আজ শেষ দিনের প্রথম ঘণ্টাই নির্ধারণ করে দেবে ম্যাচের গতিপথ।
কাল শেষ বিকেলে রাজশাহীর ১০.৪ ওভারের দ্বিতীয় ইনিংসে অন্তত দুটি উইকেট তুলে নিতে পারলেও সম্ভাবনার দিক থেকে সমতায় থাকত ঢাকা। উল্টো রাজশাহীর দুই ওপেনার তুলে ফেললেন ৫১ রান। এর আগে তিন ইনিংসে সর্বোচ্চ রান রেট সোয়া তিন, এই ইনিংসে এখন পর্যন্ত তা পৌনে পাঁচেরও বেশি।
শরীফের বলে জুনায়েদ সিদ্দিকের বিপক্ষে কট বিহাইন্ডের একটি জোরালো আবেদন ছাড়া রাজশাহী ড্রেসিংরুমের অস্বস্তিতে পড়ারও কোনো কারণ ঘটেনি। ৩৫ বলে ৩১ রানে অপরাজিত জুনায়েদ বরং ঢাকার জন্য বড় এক অস্বস্তি হয়ে এখনো উইকেটে বিরাজমান।
অথচ অস্বস্তিতে পড়ার কথা ছিল রাজশাহীরই। মেহরাব জুনিয়র ও আনামুলের জুটিতে রান বাড়ছিল আর সমানুপাতিক হারে রাজশাহীর দুশ্চিন্তা। কিন্তু ঢাকার লেট অর্ডার একেবারে ধসে পড়ায় সেটি আর থাকেনি। মাত্র ৩৯ রানে পড়েছে ঢাকার শেষ ৬ উইকেট। এ কারণেই আমানুলের ১১৮ ও মেহরাব জুনিয়রের ১১৬-এর ম্যাচ নির্ধারক হওয়ার বদলে শুধুই ব্যক্তিগত অর্জন হয়ে থাকার সম্ভাবনা এমন প্রবল হয়ে গেল।
আগের দিন শফিউলের বলে চোট পেয়ে অবসর নিতে বাধ্য হয়েছিলেন আনামুল। তখন রান ছিল ২০। কাল আবার নামলেন আগের দিনের স্কোরের সঙ্গে ২৮ রান যোগ হতেই মাহমুদউল্লাহ আউট হয়ে যাওয়ার পর। স্কোরবোর্ডে ৪ উইকেটে ১২৫। কিন্তু প্রথম ইনিংসে ৩৪ রানের ঘাটতি থাকায় আসলে সেটি ৮৯/৪। সেখান থেকে ২৯১ পর্যন্ত অবিচ্ছিন্ন দুজন। ৯০ রানে আনামুল রান আউট হওয়ার হাত থেকে প্রায় অলৌকিকভাবে রক্ষা পেয়েছেন, এ ছাড়া আউট হওয়ার আগে দুজনের ইনিংসেই কোনো খুঁত নেই। সাকলাইন সজীবের বলে আনামুল স্টাম্পড হওয়ার আগে হাতে ৫ উইকেট নিয়ে ঢাকা ২৫৭ রানে এগিয়ে। অথচ এর মাত্র ৮ ওভার পরই ইনিংস শেষ, লিডটাও ২৯৬-এর বেশি হতে পারল না। সাকলাইনের ক্লান্তিহীন বোলিং করে যাওয়ার পুরস্কার ১০৯ রানে ৫ উইকেট। রাজশাহীর বাকি পাঁচ বোলার মিলে করেছেন ৫৯.৩ ওভার, সাকলাইন একাই ৪৬!

উত্সবে মাতোয়ারা ন্যু ক্যাম্প

ন্যু ক্যাম্পে এখন উত্সবের রং। স্প্যানিশ লা লিগায় হ্যাটট্রিক শিরোপা জয়ের পর আনন্দে এখন ভাসছে গোটা বার্সেলোনা। উত্সবের মধ্যমণি হয়ে থাকা আর্জেন্টাইন সুপারস্টার লিওনেল মেসি এখন সমর্থকদের অভিনন্দনে সিক্ত।
খেলোয়াড়দের সঙ্গে সঙ্গে উত্সবে গা ভাসিয়েছেন ক্লাবের বড় কর্তারাও। কখনোবা শ্যাম্পেনে ঠোঁট ভিজিয়েছেন, কখনোবা বেসুরো গলায় গান গেয়ে একেকজন ভারিক্কি কর্তা হয়ে গেছেন শিশুদের মতো।
পুরো মৌসুম জুড়ে প্রচণ্ড পরিশ্রমের ফসল এই হ্যাটট্রিক শিরোপা। বার্সেলোনার অন্যতম শীর্ষ কর্তা পরিচালক জর্দি কার্দোনার বলেছেন, ‘এ সাফল্য আমাদের সবার মিলিত পরিশ্রমের ফসল। উত্সবের আনন্দ আমাদের সবার জন্য সত্যিই বিশেষ কিছু।’
বার্সার বর্তমান দল সম্পর্কে তিনি বলেছেন, ‘দলটি তো একঝাঁক বন্ধু নিয়ে গড়া। সবাই বাস করে সবার হূদয়ের কাছাকাছি। বন্ধুরা এক হয়ে কোনো কাজ করলে সাফল্য তো পায়ে লুটিয়ে পড়বেই।’
১৯৯৩ সালের পর স্প্যানিশ লা লিগায় এ প্রথমবারের মতো কোনো দল হ্যাটট্রিক শিরোপার স্বাদ পেল। এ সাফল্যকে স্মরণীয় করে রাখতে ন্যু ক্যাম্প স্টেডিয়ামে গতকাল আয়োজিত হয়েছিল জাঁকজমকপূর্ণ কনসার্টের। সেই কনসার্টে অংশগ্রহণ করেছিলেন বার্সেলোনাসহ স্পেনের অনেক নামকরা শিল্পীই। সেই সঙ্গে সমর্থকদের সঙ্গে নেচে-গেয়ে কনসার্ট উপভোগ করেন মেসি-জাভি-ইনিয়েস্তা-পুয়োলরা।
পেপ গার্দিওলার দলের অবশ্য এখনো দুটো খেলা বাকি। তবে এ মুহূর্তে লিগ শিরোপা জয়ের আনন্দের পাশাপাশি বার্সর চিন্তা চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনাল নিয়ে। ২৮ মে ওয়েম্বলিতে চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালের প্রথম লেগে কাতালানরা মুখোমুখি হবে স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনের ‘রেড ডেভিল’ ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের।
আপাতত এই লিগ উত্সবের আরও একটি দিক নিজেদের তাতিয়ে নেওয়া। উত্সবে মেতে ঝরঝরে হয়ে অপেক্ষা যে ইউরোপ সেরার লড়াইয়ে।
আসল উত্সবটা তোলা আছে, তখনকার জন্যই। ওটাই যে এখন বার্সেলোনাকে মানায় বেশি।

গায়ানা টেস্টে বোলার আধিপত্য

পুরোপুরিই বোলারদের আধিপত্য চলছে গায়ানা টেস্টে। অফস্পিনার সাইদ আজমলের দুর্দান্ত বোলিংয়ে প্রথম ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে মাত্র ২২৬ রানে গুটিয়ে দিয়ে শুরুটা ভালোভাবেই করেছিল পাকিস্তান। কিন্তু এরপর দ্বিতীয় দিনে ব্যাটিংয়ে নেমে মাত্র ১৬০ রানে গুটিয়ে গিয়ে প্রথম ইনিংস শেষ করেছে সফরকারীরা। ৬৬ রানে এগিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে আবারও পাকিস্তানি বোলারদের তোপের মুখে পড়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ১১ ওভার ব্যাট করে ৩৪ রান সংগ্রহ করতেই ২ উইকেট হারিয়েছে স্বাগতিকেরা।
প্রথম ইনিংসে উইন্ডিজের ২২৬ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে দ্বিতীয় ওভারেই ওপেনার মোহাম্মদ হাফিজের উইকেট হারায় পাকিস্তান। দ্বিতীয় উইকেটে দীর্ঘ সময় উইকেটে থাকেন তৌফিক উমর ও আজহার আলী। এ জুটি থেকে আসে ৫২ রান। দলীয় ৫৭ রানের মাথায় এ জুটি ভাঙেন উইন্ডিজ অধিনায়ক ড্যারেন স্যামি। ১৯ রান করে সাজঘরে ফেরেন তৌফিক। এরপর খুব অল্প সময়ের মধ্যেই একে একে ফিরে যান মিসবাহ-উল হক, আজহার আলী, আসাদ শফিক ও মোহাম্মদ সালমান। আজহারের ব্যাট থেকে আসে ৩৪ রান। তিনি ছাড়া বাকি কেউই দুই অঙ্কের কোটা পেরোতে পারেননি। সপ্তম উইকেটে ৫০ রানের জুটি গড়ে পাকিস্তানকে চরম বিপর্যয়ের হাত থেকে কিছুটা রক্ষা করেন উমর আকমল ও আবদুর রেহমান। উমর ৩৩ রান করে আউট হয়ে গেলেও আরেক প্রান্ত আগলিয়ে শেষ পর্যন্ত ৪০ রান করে অপরাজিত ছিলেন রেহমান। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে ৬৮ রান দিয়ে ৪ উইকেট নেন দেবেন্দ্র বিশু। মাত্র ২৭ রানের বিনিময়ে ৩টি উইকেট তুলে নেন রবি রামপল।
দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমেও শুরুতেই আবারও মোহাম্মদ হাফিজের শিকারে পরিণত হয়ে সাজঘরের পথ ধরেন উইন্ডিজ ওপেনার ডেভন স্মিথ। অষ্টম ওভারে ড্যারেন ব্রাভোকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে দিনটা ভালোভাবেই শেষ করেছেন সাইদ আজমল। ১৮ রান নিয়ে অপরাজিত আছেন আরেক উইন্ডিজ ওপেনার লেন্ডি সিমন্স। ৩ রান নিয়ে ব্যাট করছেন কোমার রোচ।

গেইল ঝড় চলছেই, কলকাতার হার

গেইল ঝড় যেন থামছেই না। আর এই ঝড়ের কবলে পড়ে আজ রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর কাছে ৪ উইকেটে হার মানতে হয়েছে কলকাতা নাইট রাইডার্সকে।
১১ ওভার খেলা চলার পর ম্যাচে বৃষ্টির হানা। কলকাতার সংগ্রহ তখন ৩ উইকেটে ৬৯ রান। বৃষ্টি থামার পর ২০ ওভারের ম্যাচ নেমে আসে ১৩ ওভারে। ২৪ বলে পাঠানের ৩৬ রানের ইনিংসের সুবাদে শেষ পর্যন্ত কলকাতার সংগ্রহ দাঁড়ায় ৪ উইকেটে ৮৯ রান।
‘বৃষ্টি আইন’ ডাকওয়ার্থ লুইস পদ্ধতিতে বেঙ্গালুরুর লক্ষ্য নির্ধারিত হয় ১০২ রান। লক্ষ্যটা সহজ ছিল না মোটেই। কিন্তু শুরুতেই ব্যাটে ঝড় তুলে জয়ের সুবাস এনে দেন ক্রিস গেইল। ১২ বলে ৩৮ রান—৬ চার, ২ ছয়! গেইল ঝড় থামার পর কেবল হাল ধরে রাখেন ব্যাটসম্যানরা। তিন বল বাকি থাকতেই নিশ্চিত হয় বেঙ্গালুরুর জয়, সংগ্রহ দাঁড়ায় ৬ উইকেটে ১০৫ রান।

টেস্ট দলে জায়গা চান যুবরাজ

অনেক দিন থেকেই ভারতের টেস্ট দলে জায়গা পাচ্ছেন না যুবরাজ সিং। বাজে ফর্মের কারণে মাঝে কিছুদিন বাদ পড়েছিলেন ওয়ানডে দল থেকেও। কিন্তু বিশ্বকাপে নজরকাড়া অলরাউন্ড পারফরমেন্স দিয়ে নিজের যোগ্যতা আবারও বেশ ভালো মতোই প্রমাণ করেছেন এ ভারতীয় অলরাউন্ডার। এবার ভারতের টেস্ট দলেও নিজের জায়গাটা পাকাপোক্ত করতে চাচ্ছেন তিনি। আগামী ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরেই টেস্ট দলে ঢোকার ইচ্ছা পোষণ করেছেন যুবরাজ।
গতকাল এক সাক্ষাত্কারে যুবরাজ বলেছেন, ‘আমি টেস্ট দলে পাকাপোক্ত জায়গা করে নিতে চাই। সীমিত ওভারের ক্রিকেটে ভালো পারফরমেন্সের পর আমার এ ইচ্ছাটা অনেক বেড়ে গেছে।’
আসন্ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে অধিনায়ক ধোনি, টেন্ডুলকারের সঙ্গে দলের মূল পেসার জহির খানকেও বিশ্রাম দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। আশিস নেহরাও থাকবেন না ইনজুরির কারণে। দলের প্রধান দুই পেসার অনুপস্থিতিতে ভারতের তরুণ পেসাররা নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণের একটা ভালো সুযোগ পাবে বলে মনে করছেন যুবরাজ। তিনি বলেছেন, ‘জহির খান ও আশিস নেহরার অনুপস্থিতিতে দলের পেস আক্রমণে কিছুটা অনভিজ্ঞতা থাকবে, কিন্তু এটা তরুণ বোলারদের জন্য একটা ভালো সুযোগ। আমাদের উচিত তাদেরকে সাহস জাগানো। আমি নিশ্চিত, তারা এখানে নিজেদের সেরা পারফরমেন্সটাই দিতে চাইবে।’
ধোনির অনুপস্থিতিতে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজে অধিনায়কত্বের দায়িত্ব পালন করবেন গৌতম গম্ভীর। উদ্বোধনী এই ব্যাটসম্যানের ওপরও পূর্ণ আস্থা রাখছেন যুবরাজ। বলেছেন, ‘গম্ভীর ইতিমধ্যেই নিজেকে এ কাজের যোগ্য বলে প্রমাণ করেছে। তাঁর নেতৃত্বে আমরা নিউজিল্যান্ডকে হোয়াইটওয়াশ করেছিলাম।’