Friday, March 20, 2020

রাশিয়ার জার সাম্রাজ্যের ইতিকথা

রাশিয়ার ইতিহাসের কথা চিন্তা করলেই আমাদের চোখের সামনে ভেসে উঠে ১৯১৭ সালের বলশেভিক বিপ্লবের কথা, যেখানে বিপ্লবীরা একনায়ক স্বৈরাচারী জার সরকারের পতন ঘটিয়ে সমাজতন্ত্রের পত্তন করে। আমাদের মধ্যে এই জার সম্পর্কে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। কেউ কেউ জানেন যে জার ছিল একজন ব্যক্তি, আবার যারা আর একটু ভাল জানে তাদের আবার অনেকেই জানে না জার সাম্রাজ্যের পেছনের ইতিহাস। আর গতানুগতিক ধারার  ইতিহাসেও শেষের কয়েকজন ছাড়া বাকিদের বর্ণনা তেমনটা নাই বললেই চলে। আজকের পর্বে পাঠকদের জার সাম্রাজ্যের আদ্যোপান্ত জানানোর জন্যই এই আয়োজন।
সুপ্রিয় পাঠক চলুন তাহলে যাওয়া যাক মুল আলোচনায়-প্রায় ত্রয়োদশ শতকের গোঁড়ার দিক হতেই রাশিয়ান অঞ্চলে মঙ্গোলদের দৌরত্ব বেড়ে যায়। মঙ্গোল সম্রাট বাতু খানের হাতে রাশিয়ান শাসক তাদের গুরুত্বপূর্ন অঞ্চল হারায়। ফলে তাদের ক্ষমতা হ্রাস পেতে থাকে, একপর্যায়ে তাদের নিজস্ব প্রভাবাধীন অত্যন্ত সংকীর্ণ হয়ে পরে। তাদের একের পর এক শাসক পরিবর্তন হয় কিন্ত তাদের অবস্থার কোন উন্নতি হয় নি। কিন্তু পঞ্চদশ শতকের শেষের দিকে গ্র্যান্ড ডিউক ইভান তাতারদের বিতাড়িত করে এবং রাশিয়ার সীমানা সম্প্রসারিত করে। তার পরবর্তী সময়ে ১৫০৩ সালে ক্ষমতায় আসেন ভ্যাসেল ৩। তার সময়ে মস্কো আয়তন ও ক্ষমতায় আরো প্রভাবশালী হয়ে উঠে। তারপর ১৯৩৩ সালে ক্ষমতায় আসেন তার ছেলে তৃতীয় ইভান আর এই ইভানই প্রবর্তন করেন জার সাম্রাজ্যের। ‘জার’ শব্দের বাংলা অর্থ হল সম্রাট। ১৫৪৭ সালে তৃতীয় ইভান নিজেকে জার (সম্রাট) হিসেবে ঘোষণা করেন। তার পরবর্তী সময়ের শাসকগণ তার পদাঙ্ক অনুসরণ করে জার উপাধি গ্রহণ করে ফলে তাদের শাসক বংশই ইতিহাসে জার হিসেবে জায়গা দখল করে নেয়।
জারদের প্রতিষ্ঠাতা ইভান
জারদের প্রতিষ্ঠাতা ইভান 
জারদের ক্ষমতায় আসার পটভূমি
জারদের প্রতিষ্ঠাতা তৃতীয় ইভান ক্ষমতা গ্রহণের পর রাজ্য সীমা সম্প্রসারণে মননিবেশ করেন। তিনি মঙ্গোলদের অধিকৃত অঞ্চলে মস্কোর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি রণকৌশলের মাধ্যমে সুইডিশ ও পলিশদের পরাজিত করেন। এবং মস্কোকে আধুনিক করে গড়ে তোলেন। তিনি ১৫৮১ সালে মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর পূর্বে সাইবেরিয়া ও ইউরোপে তার আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করে যান। তার পরবর্তীতে ক্ষমতায় আসেন ফিউডর। এবং তার ক্ষমতার স্থায়িত্বকাল হয় ১৫৯৮ পর্যন্ত। ফিউডর ততটা সফল শাসক ছিলেন না। তার মৃত্যুর পর ক্ষমতায় আসেন ১ম বরিস তিনিও অপেক্ষাকৃত দুর্বল শাসক ছিলেন। তিনি ১৬০৫ সালে মৃত্যুবরণ করলে ক্ষমতায় আসেন তার নাবালক পুত্র ২য় ফিউডর। কিন্ত তাকে দুর্বৃত্তরা হত্যা করলে জার সাম্রাজ্যে বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পরে। উত্তপ্ত এই পরিস্থিতিতে ক্ষমতায় আসেন ২য় দীমিত্রী । কিন্ত তিনিও সম্পূর্ণ ব্যর্থ হন পরিস্থিতি মোকাবেলায়। ফলে সমগ্র রাশিয়া জুরে ছড়িয়ে পরে অর্থনৈতিক মন্দা, দেখা দেয় খাদ্য সঙ্কট, সর্বত্র ছড়িয়ে পরে হানাহানি, মারামারি, সন্ত্রাসী কার্যকলাপ ও নানা ধরনের রোগ, এর উপরে আবার পার্শ্ববর্তী শাসকদের আক্রমণ, ফলে পরিস্থিতি চলে শাসকের নিয়ন্ত্রণের বাহিরে। এরকম পরিস্থিতিতে প্রিন্স পুজারস্কি ও কোজমানিনের নেতৃত্বে ১৬১২ সালে গড়ে উঠে জাতীয় ঐক্য। এবং পলিশ সৈন্যদের দমন করেন।
তার পরবর্তীতে রুশরা সকল জাতির মতামতের ভিত্তিতে নতুন শাসক নিয়োগ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। এখানে বলে রাখা প্রয়োজন যে, রাশিয়া ছিল তখন বহু জাতি-ধর্মের মানুষের মিশ্রিত রাষ্ট্র। তাই সকল জাতির মতামতের ভিত্তিতে ১৬১৩ সালে শাসক হিসেবে নির্বাচিত হন রোমানব বংশের ১৬ বছর বয়সী তরুণ মিখাঈল রোমানব। আর এই রোমানবরাই ১৬১৩-১৯১৭ পর্যন্ত দীর্ঘ ৩০৪ বছর শাসনকার্য পরিচালনা করেন।
জারদের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা মিখাঈল।
জারদের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা মিখাঈল
মিখাঈল রোমানব (১৬১৩-৪৫)
মিখাঈল রোমানব বা ১ম মিখাইল ১৬১৩ সালে নির্বাচিতভাবে প্রথম জার হিসেবে শাসন ক্ষমতা গ্রহণ করেন। তিনি রাশিয়ার সামগ্রিক অবস্থাকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসেন। পোল্যান্ডসহ অন্যান্য শত্রু রাষ্ট্রের সাথে বিরোধের মীমাংসা করেন। সেনাবাহিনীকে সুসংহত করেন, সেনাবাহিনীকে কয়েকটি ডিভিশনে ভাগ করেন ও পদবি নির্ধারণ করেন। শাসন ব্যবস্থাকে আরো সুসংহত করার জন্য তিনি সমগ্র রাষ্ট্রকে কয়েকটি প্রদেশে ভাগ করেন। এবং সেখানে শাসক নিয়োগ করেন। প্রশাসন পরিচালনার জন্য আমলাদের নিয়োগ দান করেন। সর্বোপরি তিনি একজন দক্ষ প্রশাসক ও শাসক হিসেবে সুনাম অর্জন করেন। এই মহান শাসক ১৬৪৫ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
আলেক্সিস (১৬৪৫-৭৬)
১ম মিখাঈলেরর মৃত্যুর পর তার পুত্র ১ম আলেক্সিস ক্ষমতায় আসেন। তিনি ক্ষমতায় আসার পর কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ রদবদল করেন। তিনি ক্ষমতায় আসার পর সুবর্নয়া ইলজানিয়া নামে একটি আইন প্রণয়ন করেন যার ফলে তৎকালীন ৮০% কৃষক ভূমি দাসে পরিণত হয়। আর এই অবস্থা চলে বংশানুক্রমিক অর্থাৎ দাসের ছেলে দাস হবে। কেউ চাইলেও তার অবস্থান পরিবর্তন করতে পারত না। তারা সকল প্রকার মানবিক অধিকার বঞ্চিত ছিল। আলেক্সিসের এই অবৈধ আইনকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে এই হীন ব্যবস্থার পক্ষে খ্রিষ্টান চার্চরা তাদের অবস্থান গ্রহণ করেন। ফলে এটি সমাজ স্বীকৃতি পেয়ে যায়। এবং শুরু হয় জারদের অমানুষিক শাসনের পালা যা পরবর্তী ২০০ বছর পর্যন্ত বজায় থাকে। আলেক্সিস পলিশ ও লিথুনিয়ার বিরুদ্ধে জয় লাভ করলে রাশিয়ার প্রতিপত্তি বৃদ্ধি পায়। তাই রাশিয়া ইউক্রেন দখল করে নেয়। আলেক্সিসের অপশাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ দেখা দিলে তিনি তা কঠোর হস্তে দমন করেন। এবং বিদ্রোহীদের মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন। ১৬৭৬ সালে আলেক্সিস মৃত্যু বরন করেন।
আলেক্সিস পরবর্তী দুর্বল শাসকগণ (১৬৭৬-৮৯)
আলেক্সিসের মৃত্যুর পর ক্ষমতায় আসেন তৃতীয় ফিউডার। তিনি ১৬৭৬ থেকে ১৬৮২ সাল পর্যন্ত শাসন করে মাত্র ১৯ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। তার সময়ে সাম্রাজ্যে বিদ্রোহ দেখা দিলে তিনি তা কঠোর হস্তে দমন করেন।
তার মৃত্যুর পর ক্ষমতায় আসেন তার বোন সোফিয়া। সোফিয়া তার অপর দুই ভাই পঞ্চম ইভান ও ১ম পিটারের সহায়তায় শাসনকার্য পরিচালনা করেন। তার সময়ে দীর্ঘ দিনের বিরোধী শক্তি পলিশ ও লিথুনিয়াদের সাথে শান্তি চুক্তি করা হয়। এবং তুর্কি বিরোধী জোটে যোগদানসহ চীনের সাথে পারস্পরিক সহায়তা চুক্তি হয়। সোফিয়ার শাসন ক্ষমতা ১৬৮৯ পর্যন্ত স্থায়ী হয়।
প্রথম পিটার
প্রথম পিটার
প্রথম পিটার (১৬৮২-১৭২১)  
মূলত তার বোন সোফিয়ার সাথে সাথেই পিটারের শাসন কাল শুরু হয়। কারণ দুইজন দুই অঞ্চলের দায়িত্বে থাকলেও সোফিয়ার সকল কাজেই পিটার সাহায্য করতেন। কিন্ত ১৬৮৯ সালের পর সরাসরি সকল ক্ষমতার একক কেন্দ্র হন পিটার। তিনি ইউরোপের পক্ষ নিয়ে তুর্কিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন। তিনি রাশিয়াকে ইউরোপীয় ভাবধারায় নিয়ে আসেন। তার সময়ে শিক্ষা, বিজ্ঞান ও স্থাপত্য কলার ব্যাপক প্রসার লাভ করে। এবং ইউরোপের সাথে পাল্লা দিয়ে শিল্পকারখানার উন্নয়ন করেন। পোশাক পরিচ্ছদের ব্যাপারেও তিনি উদার নীতি গ্রহণ করেন। তার সময়ে নৌবাহিনীর উত্থান ও আধুনিকায়ন সূচিত হয়। তার সময়ে ২য় নার্ভার যুদ্ধ সংঘটিত হয় ও তাতে রাশিয়ানরা জয়লাভ করে। পিটার তার নামানুসারে তার রাজধানী সেন্ট পিটাসবার্গে স্থাপন করেন। এবং সেখানে বড় বড় প্রাসাদ নির্মাণ করেন যা তাকে অনন্য মর্যাদা দান করেছে। সর্বোপরি পিটার এ অঞ্চলের অন্যতম শক্তিধর শাসক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেন। ১৭২১ সালে সে নিজেকে “পিটার দ্যা গ্রেট” ও জাতীর পিতা হিসেবে ঘোষণা করেন। পিটার দ্যা গ্রেট ১৭২৫ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
পিটারের পরবর্তী শাসকগণ (১৭২৫-১৮০১)
পিটারের পরবর্তী শাসকগণ ছিলেন অপেক্ষাকৃত দুর্বল তাদের সময় বড় ধরনের কোন পরিবর্তন সূচিত হয়নি। পিটারের পর ক্ষমতায় আসেন তার স্ত্রী ১ম ক্যাথরিন । ক্যাথরিন বেশীদিন ক্ষমতা ভোগ করতে পারেন নি। তিনি ১৭২৫-২৭ পর্যন্ত মাত্র ২বছর ক্ষমতায় ছিলেন।
তার পর ক্ষমতায় আসেন তার পুত্র ২য় পিটার। পিটারও খুব বেশি সফল ছিলেন না। তিনি মাত্র ১৪ বছর বয়সে ক্ষমতা গ্রহণ করেন। ফলে তার শাসনকাল দীর্ঘ হয়নি। তিনি মাত্র ৩ বছর ক্ষমতায় আসীন ছিলেন। অর্থাৎ ১৭৩০ সালে তিনি ক্ষমতা থকে অপসারিত হন।
তার পরবর্তীতে ক্ষমতায় আসেন তার চাচাতো বোন এনা। এনা ১৭৩০-১৭৪০ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিলেন। তিনি তার জার্মান প্রেমিক দ্বারা প্রভাবিত হন। এবং রাশিয়াকে ইউরোপীয় ভাবধারায় এগিয়ে নেয়ার জন্য ব্রতী হন। তার সময়ে রাশিয়ান প্রশাসন ড্যানিশ পর্যন্ত ছড়িয়ে পরে।
এনার পর ১৭৪০ সালে ক্ষমতায় আসেন ৬ষ্ঠ ইভান। কিন্ত তিনি সিংহাসন সুসংহত করতে পারেন নি। মাত্র ১ বছর ক্ষমতায় থেকে ১৭৪১ সালে তার মেয়ের হাতে নিহত ও ক্ষমতাচ্যুত হন।
ইভানের পর ক্ষমতায় আসেন এলিজাবেথ। তার ছিল বেশ কয়েকজন যুবক প্রেমিক তা সত্ত্বেও তিনি ছিলেন একজন দক্ষ শাসক। তার সময়ে ফ্রান্স ও অস্ট্রিয়ার সাথে রাশিয়ার জোট গড়ে উঠে। তিনি প্রুয়েশিয়ার সাথে দীর্ঘ সাত বছর যুদ্ধ পরিচালনা করেন। তার সময়ে সেন্ট পিটারসবার্গের বিখ্যাত উইন্টার প্যালেসের কাজ সমাপ্ত হয়। ১৭৬২ সালে তিনি পিটারসবার্গে মৃত্যুবরণ করেন।
এলিজাবেথের পর ক্ষমতায় আসেন ২য় ক্যাথরিন। তিনি ১৭৬২-৯৬ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিলেন। তার ক্ষমতায় আসার পূর্বে তার স্বামী অল্প কিছুদিন ক্ষমতায় ছিলেন।
১ম পিটারের পরবর্তীতে রাশিয়ার সিংহাসন দীর্ঘদিন ধরে ঐরকম যোগ্য শাসকের অভাব বোধ করছিল। আর সেই শূন্যতা পূরণ করার জন্যই আবির্ভাব হয় ২য় ক্যাথরিনের। ক্যাথরিনও পিটারের মতই “দ্যা গ্রেট” উপাধি ধারণ করেন। তিনি ছিলেন ফ্রেঞ্চের আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত। তিনি ক্ষমতায় আরোহণের পর ১ম পিটারের অসমাপ্ত কাজকে এগিয়ে নেয়ার অগ্রপথিক হিসেবে কাজ করেন। তার সময়ে প্রদেশগুলোর উপর কেন্দ্রের শক্ত কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়। রাশিয়ার সীমানা পূর্ব ইউরোপ থেকে মধ্যে ইউরোপ পর্যন্ত সম্প্রসারিত হয়। সর্বোপরি সমগ্র ইউরোপে প্রভাবশালী একজন শাসক হিসেবে তার নাম প্রতিষ্ঠা লাভ করে। তার সময়ে জ্ঞান-বিজ্ঞানে ব্যাপক উন্নতি লাভ করে। বিশেষ করে চিত্রকলা ও স্থাপত্য শিল্পে প্রভুত্ব উন্নতি সাধিত হয়। তার সময়ে রাশিয়ায় প্রথম জাদুঘর স্থাপিত হয়। কিন্ত ১৭৮৯ সালে ফরাসি বিপ্লব হলে তিনি শঙ্কিত হয়ে পড়েন। এবং উদারনীতির শাসন প্রতিষ্ঠায় মনোনিবেশ করেন। ১৭৯৬ সালের মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত প্রজারঞ্জক বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করেন। তিনি দাসদের প্রতি কিছু নরম নীতি গ্রহন করেন। এই মহীয়সী শাসক ১৭৯৬ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
২য় ক্যাথরিনের পর ক্ষমতায় আসেন তার পুত্র ১ম পল। পল ছিলেন সামরিক নিয়মকানুনে অতিমাত্রায় আচ্ছন্ন। তাই তিনি তার মায়ের সকল কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা শুরু করে দেন। তার নেতৃত্বে রাশিয়া যোগ দেয় ইউরোপীয় জোটে এবং ফরাসি বিপ্লবীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। কিন্ত এই যুদ্ধে রাশিয়ান বাহিনী পরাস্ত হয়। ১৮০১ সালে তিনি দুর্বৃত্তদের হাতে তার প্রাসাদেই নিহত হন।
প্রথম আলেকজান্ডার (১৮০১-২৫) 
পলের পর ক্ষমতায় আসেন তার ২৩ বছর বয়সী পুত্র ১ম আলেকজান্ডার। আলেকজান্ডার তার প্রপিতামাহী ক্যাথরিনকে তার শাসনের আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করে। এবং আধুনিক রাশিয়া গড়ার প্রত্যয় নিয়ে আগাতে থাকে। তার উপদেষ্টা হিসেবে মেধাবী মিখাঈলকে নিয়োগ করা হয় এবং তার নেতৃত্বে রাশিয়ার অর্থনীতি পুনর্ঘটিত হয় ও উদারনৈতিক সংবিধান প্রণয়ন করা হয়।
এসময়ে ফ্রান্সে নেপোলিয়নের আবির্ভাব হয়। ফলে নেপোলিয়ন রাশিয়ার সাথে যুদ্ধে জরিয়ে পরে। নেপোলিয়ন রাশিয়ার বন্ধু রাষ্ট্র অষ্ট্রিয়া ও ফিনল্যান্ড আক্রমণ করে। কিন্ত ১৮০৭ সালে উভয়ের মধ্যে শান্তি চুক্তি স্থাপিত হয়। তার মধ্যবর্তী সময়ে রাশিয়া সুইডেন ও ফিনল্যান্ড আক্রমণ করে। ফলে নেপোলিয়নও ১৮১২ সালে পুনরায় রাশিয়াকে আক্রমণ করে। এতে ফ্রান্স ও রাশিয়ার মধ্যে ইতিহাসের অন্যতম রক্তাক্ত যুদ্ধ সংঘটিত হয়। এতে রাশিয়া পরাজিত হয় কিন্ত তার সেনাবাহিনী অক্ষত থাকে। নেপোলিয়ন ব্রিটেন ও পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রদের দ্বারা পরাজিত হলে রাশিয়াও শত্রু মুক্ত হয়। ফলে রাশিয়া আরো শক্তিশালী হয়ে উঠে। তাই রাশিয়া পোল্যান্ড, লিথুনিয়া, চেচনিয়া, আজারবাইজান, আর্মেনিয়া দখল করে নেয়। এবং এ অঞ্চল হতে অটোমানদের বিতাড়িত করে। ফলে সমগ্র ককেশাস অঞ্চলে রাশিয়ার একক আধিপত্য গড়ে উঠে। সর্বোপরি রাশিয়ার প্রতিপত্তি বৃদ্ধি পায়। ১৮২৫ সালে আলেকজান্ডার মৃত্যুবরণ করলে তার শাসনাবসান হয়।
প্রথম আলেকজেন্ডার
প্রথম আলেকজেন্ডার।
প্রথম নিকোলাস (১৮২৫-৫৫)
প্রথম আলেকজান্ডারের মৃত্যুর পর ১৮২৫ সালে ক্ষমতায় আসেন তার ভাই প্রথম নিকোলাস। তার ক্ষমতা আরোহণকালে রাশিয়া ছিল ইউরোপীয় ভাবধারায় প্রতিষ্ঠিত ও সুসংঘটিত সেনাবাহিনী সমৃদ্ধ একটি রাষ্ট্র। যেসকল সেনাবাহিনী নেপোলিয়নের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিল তাদের প্রভাব ছিল অত্যন্ত বেশী। ফলে এসকল সেনাবাহিনী ১ম নিকোলাস কে সহজভাবে মেনে নেয়নি। সুতরাং তারা সিক্রেট সোসাইটির মাধ্যমে পরিকল্পনা প্রণয়ন করে ও সেনাঅভ্যূত্থান করে। নিকোলাস তা কঠোর হস্তে দমন করেন। এবং নেতৃত্বদানকারীদের মৃত্যুদণ্ড দেন ও বাকিদের নির্বাসন দেয়া হয়। তিনি রাষ্ট্রীয় মূলনীতিকে তিনটি স্লোগানে আবদ্ধ করেন যথা– “অর্থোডক্স,একনায়কতন্ত্র ও জাতীয়তাবাদ”। সুতরাং তিনি রাষ্ট্রকে প্রতিষ্ঠা করেন- চার্চ, জার ও রাশিয়ান জাতীয়তাবাদের উপর।
ককেশাস সীমান্ত সমস্যা নিয়ে পার্সিয়ানদের সাথে সমস্যা দেখা দিলে রাশিয়ার সাথে তুর্কি অটোমানরা জরিয়ে যায়। কারণ তখন পার্সিয়া অটোমানদের অধীনে ছিল। এ যুদ্ধের ফলে পার্সিয়া তার বৃহৎ সীমানা হারায় ও জরিমানা দিতে হয়। তার সময়েই রাশিয়ান সমর্থনে গ্রিস স্বাধীনতা লাভ করে। ১৮৫৪ সালে খ্রিষ্টান নেতৃত্ব হস্তান্তরকে কেন্দ্র করে রাশিয়া পুনরায় অটোমানদের সাথে বিরোধে জরিয়ে পরে। রাশিয়া অন্যায়ভাবে মালদাবিয়া ও ওলেসিয়া দখল করে নেয় যা ছিল অটোমানদের অধীনে। ফলে রাশিয়া ও তুর্কিদের মধ্যে সংঘটিত হয় ক্রিমিয়ার যুদ্ধ। এ যুদ্ধে ব্রিটেন ও ফ্রান্সের সহায়তায় রাশিয়া জয় লাভ করে ও তুর্কিরা পরাজয় বরন করে অধিকৃত অঞ্চল ছেড়ে দেয়। তার সময়ে রেল ব্যবস্থার সম্প্রসারণ হয়। ১৮৫৫ সালে তার মৃত্যু হলে নিকোলাসের শাসনাবসান হয়।
দ্বিতীয় আলেকজান্ডার (১৮৫৫-৮১)
১ম নিকোলাসের মৃত্যুর পর ১৮৫৫ সালে ক্ষমতায় আসেন দ্বিতীয় আলেকজান্ডার। তিনি ক্ষমতায় আসর পর শাসনকার্য শুরু করেন অত্যন্ত চমকপ্রদভাবে। ১ম নিকোলাসের দ্বারা নির্বাসিত ডিসেম্বিষ্ট বিদ্রোহীদের নিজ দেশে ফিরিয়ে আনেন ও অন্যান্য বন্দিদের মুক্ত করে দেন। আলেকজান্ডারের সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল সার্ফ প্রথা বাতিল করা। তার পূর্ববর্তী সময়ে রাশিয়ার ৬০ ভাগের বেশি মানুষ ছিল সার্ফ। অর্থাৎ তাদের নূন্যতম মানবিক অধিকারও ছিল না। সার্ফরা ছিল তার মনিবের আজ্ঞাবহ। সার্ফ প্রথার উচ্ছেদ করার সাথে জমির উপর থেকে জমিদারদের দখলদারিত্বেরও অবসান হয়। কৃষকদের ঋণ দেয়া হয় যাতে তারা জমি ক্রয় করতে পারে। তিনি প্রদেশ গুলোতে প্রতিনিধিত্বমুলক শাসন ব্যবস্থার প্রবর্তন করেন। শাসন বিভাগ থেকে বিচার বিভাগকে আলাদা করেন। যদিও তার এই সার্ফ প্রথা বাতিল ও অন্যান্য সংস্কারের মধ্যে কিছু ত্রুটি ছিল। কিন্ত এটি নিঃসন্দেহে বলা যায় তার উদ্দেশ্য ছিল প্রকৃত অর্থেই জনকল্যাণকার। ১৮৮১ সালে তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়।
তৃতীয় আলেকজান্ডার (১৮৮১-৯৪)
২য় আলেকজান্ডারের মৃত্যুর পর ১৮৮১ সালে ক্ষমতায় আসেন ৩য় আলেকজান্ডার। ক্ষমতায় আসার পর তিনি প্রতিক্রিয়াশীল নীতি গ্রহণ করেন। তার পিতা যেহেতু নিলিষ্টদের হাতে নিহত হয়েছিলেন। তাই তিনি নিলিষ্টদের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করেন এবং তাদের বন্দি করেন। নিলিষ্টরা ছিল শিক্ষিত উদারপন্থী ও সংস্কারমনা তারা জারদের পতন ও তৎস্থলে উদারনৈতিক শাসকের জন্য লড়াই করছিল। আলেকজান্ডার শিক্ষাব্যবস্থাকে অতিমাত্রায় সরকারী করন করেন। কৃষকদের জোর পূর্বক সামন্তপ্রভূদের হয়ে কাজ করতে বাধ্য করেন। এবং সংবাদপত্রের উপর নজরদারি আরোপ করেন। তার সময়ে বাণিজ্যে ও রেল ব্যবস্থার কিছু উন্নতি হয়। তিনি অতিমাত্রায় রুশিকরণ নীতি গ্রহণ করেন। অন্যজাতির বিরুদ্ধে আগ্রাসী নীতি গ্রহণ করেন। ফলে জনগণ বিদ্রোহী হয়ে যান। এবং এলাকা ভিত্তিক সমিতি গড়ে তোলেন। ফলে ধীরে ধীরে নিবিষ্টরা সংঘটিত হয়ে যায়। ১৮৯৪ সালে ৩য় আলেকজান্ডার এই নিলিষ্টদের হাতেই নিহত হন।
২য় নিকোলাস
২য় নিকোলাস
দ্বিতীয় নিকোলাস (১৮৯৪-১৯১৭)
১৮৯৪ সালে ৩য় আলেকজান্ডারের পর ক্ষমতায় আসেন ২য় নিকোলাস। তিনি ছিলেন অপেক্ষাকৃত দুর্বল শাসক তাই তিনি তার স্ত্রী জারিনা ও রাজপুতিন নামে একজন উপদেষ্টার উপর নির্ভরশীল হয়ে পরেন। তিনিও ছিলেন রক্ষণশীল ও রুশীকরণ নীতির ধারক ফলে অন্যান্য জাতি বিদ্রোহী হয়ে পরে। তার সময়ে রাশিয়ান সমাজ ছিল অতি মাত্রায় সমস্যাপূর্ন কারণ অভিজাত শ্রেণীরাই সর্বময় ক্ষমতার মালিক ছিলেন। ২য় আলেকজান্ডারের সময়ে সার্ফ প্রথার উচ্ছেদ করলেও মীর নামক গ্রাম সমিতির জন্য তা ত্রুটিপূর্ন থেকে যায়। ফলে ২য় নিকোলাসের সময় তা আরো তীব্র আকার ধারণ করে। অন্যদিকে শিল্প সমাজের উত্থান হওয়ায় শ্রমিক শ্রেণী সেখানেও বঞ্চনার স্বীকার হয়। ফলে সর্বত্র বিদ্রোহ দানা বাধে।
১৯০৫ সালে রুশ-জাপান যুদ্ধে রুশরা পরাজিত হলে নিকোলাসের দুর্বলতা সামনে চলে আসে। এবং রাজ্যের সর্বত্র অভাব অনটন, দুর্দশা দেখা দিলে ১১ মার্চ শ্রমিক-কৃষক শ্রেণী ফাদার গ্যাপনের নেতৃত্বে জারের উইন্টার প্যালেসের দিকে অগ্রসর হন। তাদের এ শোভাযাত্রায় সেনাবাহিনী নির্বিচারে গুলি চালায়। এতে হাজার হাজার লোক নিহত হয়। ইতিহাসে এইদিনটি “ব্লাডি সানডে” পরিচিত। ফলে নিকোলাস অনেকটা কোণঠাসা হয়ে পরেন। তাই ১৯০৬ সালে প্রথম ডুমার অধিবেশন আহবান করেন। ফলে ডুমায় সীমিত পরিসরে জনপ্রতিনিধি যায়। এবং সেখানে তারা সমাজ, রাজনীতি, অর্থনীতি নিয়ে কথা বলার সুযোগ পায়। কিন্ত প্রধান সমস্যা ছিল এটি যে সেখানকার অধিকাংশ প্রতিনিধিই ছিল জারের আজ্ঞাবহ।
১৯১৪ সালে ১ম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে রাশিয়া তাতে যোগদান করে। কিন্ত জার্মানির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন যুদ্ধ করে ব্যাপক সৈনিকের প্রাণহানি ব্যতীত রাশিয়া কোন সফলতা লাভ করতে পারেনি। অপরদিকে জার্মানিতে দেখা দেয় চরম দুঃখ-দুর্দশা খাদ্য সংকট ও শ্রমিক অসন্তোষ ফলে বিদ্রোহ দানা বাধে। তাই ১১ ই মার্চ ১৯১৭ ব্লাডি সানডের ১২তম দিবসে হাজার হাজার কৃষক-শ্রমিক রাস্তায় নেমে আসে। ফলে শুরু হয় জায়গায় জায়গায় খণ্ডযুদ্ধ। জার তার সেনাবাহিনীকে বিপ্লবীদের বিরুদ্ধে নির্দেশ দিলে তারা জারের কথা অমান্য করে বিপ্লবীদের পক্ষ গ্রহণ করে। ফলে জার ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হয়। এবং বিপ্লবীরা ক্ষমতা দখল করে।
আর এভাবেই পতন হয় দীর্ঘকালের শাসনকারী জার সাম্রাজ্যের। বিপ্লবীদের মধ্যে হতে প্রতিনিধি নিয়ে ঘটিত হয় ডুমা প্রশাসন। তারা মাত্র কয়েকমাস শাসন পরিচালনা করেন। তারপরই সূচিত হয় অক্টোবরের মহান সেই বলশেভিক বিপ্লব। যার মধ্যদিয়ে রাশিয়ায় প্রতিষ্ঠিত হয় সমাজতন্ত্র।
তথ্যসুত্রঃ
১. http://missinglink.ucsf.edu/lm/russia_guide/historyofrussia.htm
২. http://familypedia.wikia.com/wiki/List_of_Russian_rulers
৩. https://www.youtube.com/watch?v=w0Wmc8C0Eq0

নির্যাতিত তাতারদের জন্য কে কথা বলবে?

বিশ্বজুড়ে সংখ্যালঘু মুসলিমদের ওপর নির্যাতন একুশ শতকের অন্যতম মানবাধিকার বিপর্যয়। চীনে উইঘুর মুসলিমদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অধিকারকে কঠিনভাবে দমন করছে দেশটির সরকার। উইঘুরদের একটি অংশকে জোরপূর্বক কথিত পুনঃশিক্ষা কেন্দ্রে আটকে রাখা হয়েছে। আবার মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিমরা দেশটির সেনাবাহিনী দ্বারা ভয়াবহ নির্যাতনের মাথায় পার্শ্ববর্তী বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছে। ২০১৭ সালে প্রায় সাড়ে ৭ লাখ রোহিঙ্গা মুসলিম বাংলাদেশের কক্সবাজারে আশ্রয় নেয়। মুসলিমদের এসব জাতিগোষ্ঠীর ওপরে যে নির্যাতন চলছে তা বিশ্বজুড়ে গণমাধ্যমগুলোতে ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে। তবে এখনো এমন একটি জাতি রয়েছে যাদেরকে জাতিগতভাবে নিধন করা হচ্ছে। অথচ তাদের বিষয়ে কোনো আলোচনা নেই। বিশ্বের সেদিকে কোনো নজরও নেই। জাতিটি হচ্ছে ক্রিমিয়ার তাতার মুসলিমরা।
৫ বছর আগে রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পর থেকে ক্রিমিয়ার প্রায় আড়াই লাখ তাতারদের ওপর নেমে এসেছে ভয়াবহ দুর্যোগ। তাদেরকে কাজ, ভাষা ও সংবাদপত্রের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। তবে এটিই ক্রিমিয়ার তাতারদের ওপর নির্যাতনের প্রথম ঘটনা নয়। তাতার জাতি মূলত তুরস্ক থেকে এখানে এসেছে। গত এক শতাব্দী ধরে তাদের নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য জোরপূর্বক ধ্বংস করে দেয়া হচ্ছে। বর্তমানে রুশ শাসনে তাদেরকে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে অভিযুক্ত করা হচ্ছে।
ক্রিমিয়া দ্বীপে তাতাররা প্রথমে বাস করতে শুরু করেন ১৩ শতকে। তখন থেকেই বারবার তাতারদের ওপর বিভিন্ন গোষ্ঠী হামলা চালাতে থাকে। তবে এর পেছনে তাদের সংস্কৃতি বা ধর্ম কোনো কারণ ছিল না। তাদের কাছে ব্যাপক পরিমাণ পানির উৎস থাকায় তাদেরকে টার্গেট করা হয়। ক্রিমিয়া পুরোপুরিভাবে পানি দিয়ে ঘেরা। এর চারদিকে রয়েছে কৃষ্ণসাগর (ব্ল্যাক সি) ও আজভ সাগর। তাই সমুদ্রে সরাসরি প্রবেশের ইচ্ছে থেকে শতাব্দীর পর শতাব্দী ক্রিমিয়ার দিকে ক্ষুধার্থ চোখ ছিল রাশিয়ার।
সমস্যার সূচনা হয় ১৭৭০ সালে। সে সময় ক্যাথেরিন দ্যা গ্রেটের নেতৃত্বে ক্রিমিয়া দখল করে রাশিয়া। ক্রিমিয়া তখন অটোমান বা ওসমানীয় সাম্রাজ্যের অধীনে ছিল।  দখলের পর ক্রিমিয়ার প্রধান বন্দরগুলো ব্যবহারের সুযোগ পেয়ে যায় রাশিয়া। সেখানে রাজনৈতিক অনেক পরিবর্তন আনা হয়। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ক্রিমিয়ার শাসক তাতার খানকে উচ্ছেদ করে রুশ গভর্নরের হাতে শাসন ছেড়ে দেয়া। ক্যাথেরিন রুশ নাগরিকদের এই দ্বীপে এসে স্থায়ী আবাস গড়ার ব্যবস্থা করে দেন। ফলে প্রথমবারের মতো ক্রিমিয়া থেকে উচ্ছেদ হতে শুরু করেন তাতাররা। দ্বীপটির ৮৫ ভাগই ছিল তাতার জাতির।  ১৭৮৩ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্রিমিয়াকে নিজের অন্তর্ভুক্ত করে রাশিয়া। ফলে ৮ থেকে ১০ হাজার তাতারকে ওসমানীয় সাম্রাজ্যের অন্য কোথাও পালিয়ে যেতে হয়।
১৮৫৩ সালে রাশিয়া তার সাম্রাজ্য আরো বড় করার পরিকল্পনা নেয়। ফলে রুশদের থামাতে ওসমানীয়রা সৈন্য মোতায়েন শুরু করে। পরবর্তী দুই বছরে বৃটেন, ফ্রান্স ও সার্ডিনিয়া ওসমানীয়দের সঙ্গে যোগ দেয়। ইতিহাসে এটিই ক্রিমিয়া যুদ্ধ হিসেবে বিখ্যাত হয়ে আছে। এ যুদ্ধেই ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল একজন কিংবদন্তিতে পরিণত হন। এ যুদ্ধে রাশিয়া পরাজিত হয় এবং তাদের ক্ষোভ গিয়ে পড়ে তাতারদের ওপর। তৎকালীন জার সরকার তাতারদের অভিযুক্ত করে তুর্কিদের সাহায্য করার জন্য। শাস্তি হিসেবে তাতারদের ওপর রুশ ভাষা বাধ্যতামূলক করা হয়। সড়কের নাম বদলে রুশ নাম দেয়া হয়। দ্যা ক্রিমিয়ান তাতারস বই থেকে পাওয়া তথ্য থেকে জানা যায়, রুশ অত্যাচারে ১৮৫০ থেকে ১৮৬০ সালের মধ্যে মাত্র ১০ বছরেই ক্রিমিয়ায় তাতারদের সংখ্যা ২ লাখ ৭৫ হাজার থেকে ১ লাখ ৯৪ হাজারে নেমে আসে। বাকিরা একান্ত বাধ্য হয়ে তখন থেকে গিয়েছিল। তাতাররা রুশ শাসকদের বিশ্বাস করতো না।
এর ১ শতাব্দী পর আরো একজন রুশ শাসকের দৃষ্টি পড়লো ক্রিমিয়ার ওপর। সমাজতন্ত্র রাশিয়ার ভাগ্য পরিবর্তন করলেও তাতারদের জন্য তা দুর্ভোগই ডেকে এনেছিল। সোভিয়েত কমিউনিস্ট পার্টির সুপ্রিম লিডার জোসেফ স্তালিন তাতার বুদ্ধিজীবীদের সরিয়ে দিতে শুরু করলেন। এই বুদ্ধিজীবী সমপ্রদায় তাতারদের হারানো ঐতিহ্য, ভাষা ও সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনতে সচেষ্ট ছিল। ১৯২৭ সালে স্তালিন এদেরকে বুর্জোয়া জাতীয়তাবাদী হিসেবে আখ্যায়িত করেন। আলাদা করে ৪০ হাজার তাতারকে তিনি সাইবেরিয়ায় পাঠিয়ে দেয়ার নির্দেশ দেন।
আজ থেকে ৭৫ বছর আগের এই মাসেই এর শুরু হয়েছিল। ২য় বিশ্বযুদ্ধে তাতাররা নাৎসি বাহিনীর পক্ষ নিয়েছিল। জার্মানরা স্বাধীনতা দেয়ার লোভ দেখিয়ে তাতার মুসলিমদের দলে ভেড়ায়। হাজার হাজার তাতার সোভিয়েট রেড আর্মির বিরুদ্ধে নাৎসিদের হয়ে যুদ্ধ করে। ফলে ১৯৪৪ সালের ১৮ই মে স্তালিন আবারো তাতারদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং ক্রিমিয়ার সমুদ্র বন্দরগুলোর  নিয়ন্ত্রণ নেয়ার নির্দেশ দেন। স্তালিন তাতারদের ক্রিমিয়া থেকে সরিয়ে মধ্য এশিয়ার উজবেকিস্তানে সরিয়ে দিতে শুরু করেন। অসুখ ও না খেয়ে এদের মধ্যে অর্ধেক মারা গিয়েছিল পথেই। তবে কয়েক হাজার তাতার ইউরোপ ও তুরস্কে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
১৯৫৪ সালে সোভিয়েত নেতা নিকিতা ক্রুশ্চেভ ইউক্রেনকে ক্রিমিয়া উপহার দেন। এরপর ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে গেলে তাতাররা ক্রিমিয়ায় ফিরতে শুরু করে। তবে ততদিনে ক্রিমিয়ার বেশির ভাগ এলাকা রুশদের দ্বারা জনাকীর্ণ হয়ে গেছে। তারপরেও পুনরায় হারানো ঐতিহ্য ফিরে পেতে তাতাররা মেজলিস নামে নিজেদের রাজনৈতিক দল গঠন করে।
২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ক্রিমিয়ায় হামলা চালায় রাশিয়া। ইউক্রেন থেকে উপদ্বীপটির আংশিক দখল নিয়ে নেয়। ওই বছরই মার্চ মাসে ক্রিমিয়ার ভাগ্য নির্ধারণ করতে একটি গণভোটের আয়োজন করে রুশ সরকার- হয়তো ইউক্রেনের সঙ্গে থাকবে বা রাশিয়ান ফেডারেশনের অংশ হয়ে থাকবে। এই গণভোটের পর থেকেই তাতারদের ওপর রুশদের হয়রানি বেড়ে যায়। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অনুসারে, ওই গণভোট ছিল রুশদের অবৈধ ও সহিংস হামলা শাক দিয়ে মাছ ঢাকার মতো বিষয়। তাতাররা ওই গণভোটের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানায়। গ্রেপ্তার করা হয় বহু তাতার অধিকারকর্মী ও সাংবাদিককে। কেউ কেউ চিরদিনের জন্য নিখোঁজ হয়ে যান। আর কেউ কেউ প্রাণ হারান।
নিখোঁজ হওয়া সাংবাদিকদের একজন ছিলেন রেশাত আমেতভ। তিনি রুশ অধিগ্রহণের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছিলেন। তাকে ক্রিমিয়ার রাজধানী সিমফারোপলের কাউন্সিল অব মিনিস্টারস ভবনের সামনে থেকে অপহরণ করা হয়। দুই সপ্তাহ পর তার নির্যাতিত লাশ খুঁজে পাওয়া যায়। আজ অবধি তার হত্যার রহস্য উদ্‌ঘাটন করা হয়নি।
রুশ অধিগ্রহণের বছরগুলোতে তাতার পত্রিকা, রেডিও ও টিভি স্টেশনগুলোয় ভাঙচুর চালানো হয়। ক্রিমিয়ার ভাষাভিত্তিক সব পাঠদান নিষিদ্ধ করে দেয়া হয়। ২০১৪ সালের এপ্রিল মাসে ক্রিমীয় তাতার নেতা ও মেজলিস প্রধান মোস্তফা ঝেমিলেভ বিদেশ সফর শেষে ক্রিমিয়ায় প্রবেশ করতে চাইলে তাকে ঢুকতে দেয়া হয়নি। এরপর থেকে নির্বাসনে রয়েছেন তিনি। ২০১৬ সালের এপ্রিলে রুশরা মেজলিসকে বিপজ্জনক ও চরমপন্থি প্রতিষ্ঠান হিসেবে আখ্যায়িত করে নিষিদ্ধ করে। এরপর থেকে অগণিত তাতারকে সন্ত্রাসবাদ সমর্থনের অভিযোগে বা মুসলিম দলের সদস্য থাকায় গ্রেপ্তার করেছে রুশরা।
গত ডিসেম্বরে ঝেমিলেভ নিউ ইয়র্কস্থ আমেরিকান এসোসিয়েশন অব ক্রিমিয়ান তাতারে সফর করেন। সেখানে নির্বাসিত তাতারদের উদ্দেশে বলেন, ক্রিমিয়ার অবস্থা শোচনীয়। তিনি আরো জানান, সেখানে বাসরত তাতারদের পরবর্তী প্রজন্মের ভাগ্য নিয়ে তিনি শঙ্কিত। রুশরা তাদের ভুল বোঝাচ্ছে ও তাতার সংস্কৃতি, ভাষা, ইসলাম ধর্ম থেকে দূরে সরিয়ে নিচ্ছে। গত বছর রুশরা বিগ খান মসজিদ নতুন করে সাজিয়েছে। পুরনো টাইলস ও কাঠের কাজ সরিয়ে নেয়া হয়েছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত তাতাররা জানিয়েছে যে, তারা ক্রিমিয়ায় বাসরত তাদের পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে উদ্বিগ্ন। তারা সেখানে প্রতিনিয়ত নিপীড়িত হচ্ছে। অনেকের চাকরি চলে গেছে। তারা বেকার হয়ে জীবনযাপন করছে, নতুন চাকরি পাচ্ছে না। ব্যবসায়ীরা রুশ প্রতিহিংসার শিকার হওয়ার ভয়ে তাতারদের কাজে নিয়োগ দিচ্ছে না। তাতারদের ব্যবসা ও বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে। কখনো কখনো বাজেয়াপ্ত করে নেয়া হয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্রিমিয়ায় মানবাধিকার দিনদিন হ্রাস পাচ্ছে। রুশ ফেডারেশন কর্তৃপক্ষ ফোর্থ জেনেভা কনভেনশন ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘন করে ক্রিমিয়ার নাগরিকদের ওপর ক্রমাগতভাবে তাদের আইন চাপিয়ে দিচ্ছে। বর্তমানে ক্রিমিয়ায় তাতারদের সংখ্যা ফের ২ লাখ ৫০ হাজারে পৌঁছেছে। কিন্তু আঠারো শতকে যেখানে তারা ছিল উপদ্বীপটির মোট জনসংখ্যার ৮০ শতাংশ, সেখানে আজ তারা কেবল ১২ শতাংশ।
জাতিসংঘ, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন (ইইউ), ন্যাটো ও তুরস্ক ক্রিমিয়ায় রুশ অধিগ্রহণের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ও উপদ্বীপটিকে রাশিয়ার অংশ মানতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। ন্যাটো ক্রিমিয়াকে ইউক্রেনের অংশ ঘোষণা করেছে। গত বছর জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন রুশদের ক্রিমিয়া থেকে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রস্তাব পাস করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইইউ অবৈধ অধিগ্রহণের দায়ে রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। কিন্তু এসব পদক্ষেপের কোনোটিই পর্যাপ্ত নয়। রাশিয়া আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে। কিন্তু কেউ কোনো কঠোর পদক্ষেপ নেয়নি,  রুশদের জোরপূর্বক প্রত্যাহার তো দূরের কথা। উপরন্তু, রুশ কর্তৃক ক্রিমিয় তাতারদের সংস্কৃতি ও জাতিগত নিধনের ধীর প্রক্রিয়া রুখতেও কেউ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। উল্টো, পশ্চিমারা ও তাদের মানবাধিকার নিশ্চিতকরণের উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানগুলো নীরব ভূমিকাই পালন করেছে। তারা ক্রিমিয়া ও ক্রিমিয়ার তাতারদের বর্জন করেছে।
(এলমিরা বেরাসিল লিখিত প্রতিবেদনের সমপাদিত ভাবানুবাদ।)

আকাশে ভারতের চেয়ে এগিয়ে পাকিস্তান

ভারতীয় বিমানবাহিনী গত ফেব্রুয়ারি মাসে পাকিস্তানের বালাকোটের সন্ত্রাসী শিবিরে একটি সাহসী সফল হামলা চালাতে পারে; তবে পাকিস্তানি বিমানবাহিনীর তুলনায় অনেক ক্ষেত্রেই তারা পিছিয়ে।
সম্প্রতি ভারতের দ্য প্রিন্ট অনলাইনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ হলে ভারতের চেয়ে এগিয়ে থাকবে পাকিস্তানের বিমানসেনারা।
এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে জম্মু ও কাশ্মীরের পুলওয়ামায় ভয়াবহ আত্মঘাতী জঙ্গি হামলা ৪০ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ওই সময় দুই দেশের বিমানসেনাদের পক্ষ থেকে দাবি করে বলা হয়, তারা একে অপরের বিমান গুলি করে মাটিতে নামিয়েছে। ভারতের পক্ষ থেকে এও বলা হয় যে পাকিস্তানের বালাকোটে জঙ্গি আস্তানা গুঁড়িয়ে দিয়ে এসেছে ভারতের বিমানবাহিনীর সেনারা। যদিও এ হামলার পর হতাহত মানুষের সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক চলছে এখনো। এমন সময় এ প্রতিবেদন প্রকাশিত হলো।
যুদ্ধবিমান ও পাইলটে পাকিস্তানের চেয়ে পিছিয়ে ভারত
সামরিক শক্তিতে পাকিস্তানের চেয়ে ভারত অনেক এগিয়ে আছে বলে দেশটির নেতারা বলে বেড়ান। কিন্তু সম্প্রতি ভারতের দ্য প্রিন্ট পত্রিকা জানিয়েছে অন্য রকম তথ্য। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চ সূত্রের বরাত দিয়ে প্রিন্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের বিমানবাহিনী পাকিস্তানের চেয়ে লোকবলে পিছিয়ে আছে। ভারতের বিমানবাহিনীতে বর্তমানে প্রতিটি বিমানের জন্য পাইলটের সংখ্যা মাত্র দেড়জন করে। সেখানে পাকিস্তানের বিমানবাহিনীতে এ সংখ্যা আড়াইজন করে। এখানে পিছিয়ে আছে ভারত।
যুদ্ধে এগিয়ে থাকবে পাকিস্তান
পাইলটের লোকবলের সংখ্যায় এগিয়ে থাকার পর দিনে ও রাতের যুদ্ধে এগিয়ে থাকবে ভারতের অন্যতম প্রতিপক্ষ পাকিস্তান। দুই দেশের মধ্যে দিনে ও রাতে যুদ্ধ হলে ভালো অবস্থায় থাকবে পাকিস্তান। বিমানের পাইলট কম থাকায় চাপে থাকবে ভারতের বিমানবাহিনীর সেনাসদস্যরা। কারণ, যুদ্ধের কাজ চালাতে ভারতের পাইলটদের ক্লান্তি চলে আসবে। আর সংখ্যায় বেশি হওয়ায় উড্ডয়নের বেশি সুযোগ পাবেন পাকিস্তানের পাইলটেরা।
ভারতে বোমাবর্ষণ অনুশীলনের যথেষ্ট সুযোগ নেই
ভারতের ওয়েস্টার্ন এয়ার কমান্ড পাকিস্তান ও আংশিকভাবে চীনের আকাশপথের ওপরে নজরদারি চালায়। এদের একটিও ‘ফায়ারিং রেঞ্জ’ নেই, যা দ্বারা যুদ্ধের সময়ে শত্রুর আস্তানায় বা নিশানার ওপর বোমা ফেলার অনুশীলন করা যায়।
সামরিক শক্তিতে পাকিস্তানের চেয়ে ভারত অনেক এগিয়ে আছে—দেশটির রাজনৈতিক নেতারা বললেও এক প্রতিবেদনে এর উল্টোটাই বলা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
ভারতের বিমানসেনারা ‘সিমুলেশন’ বা কম্পিউটারে নকল যুদ্ধক্ষেত্রে বোতাম টিপে বোমা ফেলার অনুশীলন করেন, যা কখনো সত্যিকারের অনুশীলনের বিকল্প নয় বলে স্বীকার করেছে বিমানসেনাদের একটি সূত্র।
উচ্চতায় সমস্যা
চীনের সঙ্গে উত্তরে ও পূর্বে ভারতের যে সীমানা আছে, সেখানকার সমস্যা উচ্চতা। তবে উচ্চতায় বোমাবর্ষণ করার অনুশীলনের বিমান নেই ভারতের বিমানবাহিনীর। এর ফলে যুদ্ধ বাধলে কতটা সাফল্য তারা পাবে, তা নিয়ে সন্দেহ আছে ভারতের সামরিক বিশ্লেষকদের। ভারতের বিমানসেনাদের অনুমোদিত স্কোয়াড্রন শক্তি হচ্ছে ৪২। আর অফিসারদের সংখ্যা ১২ হাজার ৫০০। একেকটি স্কোয়াড্রনে ১৬ থেকে ২০টি যুদ্ধবিমান আছে। যদিও প্রতিবছর গড়ে মাত্র ২ শতাংশ হারে অনুমোদিত অফিসারের সংখ্যা কমেছে।
দীর্ঘদিন ধরে এই অভাব চলতে থাকায় এখন সমস্যা বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া এখন মিগের বদলে দুই আসনবিশিষ্ট এসইউ ৩০ এমকেই বিমান ভারতের বহরে যোগ হয়েছে। আর এতে ভারতের প্রয়োজন হয়ে পড়েছে আরও বেশি পাইলটের। সেখানেই লোকবলের অভাব ভারত বুঝতে পারছে বলে প্রিন্ট বিভিন্ন সূত্র থেকে জেনেছে।
যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ফ্রান্স ও ইসরায়েলের কাছ থেকে নানা অস্ত্র কেনে ভারত। ছবি: সংগৃহীত