Monday, October 30, 2017

সিঙ্গাপুর চলে আসবে অন্ধ্রে? -বিবিসি

ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্যের সরকার সে রাজ্যের মোট ১২৩টি কৃষক পরিবারকে সিঙ্গাপুর দেখে আসার জন্য সেখানে পাঠাচ্ছে। এই কৃষকদের প্রায় কেউই এর আগে কোনো দিন তাদের রাজ্যের বাইরে পা রাখেননি।
মোট চারটি দলে ভাগ হয়ে এই কৃষকরা সিঙ্গাপুরে যাচ্ছেন, তার প্রথম ব্যাচটিকে সোমবার রওনা করিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু।
না, এই কৃষকরা কোনো লটারি জিতে বা সরকারি প্রকল্পের পুরস্কার পেয়ে সিঙ্গাপুরে যাচ্ছেন না।
তারা অন্ধ্রের নতুন রাজধানী গড়ে তোলার জন্য তাদের উর্বর কৃষিজমি সরকারের হাতে তুলে দিয়েছেন, তার প্রতিদানেই তাদের সিঙ্গাপুর বেড়াতে পাঠাচ্ছে রাজ্য সরকার।
এই নতুন রাজধানী শহরের নাম রাখা হয়েছে অমরাবতী।
অন্ধ্র সরকার বলছে, অত্যাধুনিক এই নতুন শহরটি গড়ে তোলা হবে একেবারে সিঙ্গাপুরের আদলে, আর সে জন্যই রাজধানীর জন্য জমি দিয়েছেন যে কৃষকরা তাদের সিঙ্গাপুর দেখিয়ে আনা হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু জানিয়েছেন, "কৃষকরা যে জমি দিয়েছেন তাতে আমরা কী ধরনের শহর তৈরি করব, কী ধরনের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সেখানে থাকবে সেগুলো নিজের চোখে যাতে তারা দেখে আসতে পারেন তার জন্যই আমাদের এই উদ্যোগ।"
২০১৩ সালে অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্য ভাগ করে তেলেঙ্গানা আর অন্ধ্র - এই দুটো আলাদা রাজ্য গঠন করা হয়।
পুরনো রাজধানী হায়দ্রাবাদ যেহেতু আগামীতে পুরোপুরি তেলেঙ্গানার ভাগে পড়ছে, তাই অন্ধ্রের জন্য নতুন রাজধানী তৈরির প্রয়োজন হয়ে পড়ে।
অন্ধ্রের গুন্টুর এলাকার প্রায় পঁচিশ হাজার কৃষক নতুন রাজধানী গড়ার জন্য তাদের মোট প্রায় পঁয়ত্রিশ হাজার একর জমি রাজ্য সরকারের হাতে তুলে দিয়েছেন।
এই জমির জন্য এককালীন মূল্য ছাড়াও সরকার তাদের প্রতি বছর ক্ষতিপূরণ দিয়ে যাবে।
এই পঁচিশ হাজার কৃষকের মধ্যে থেকেই অনেক যাচাই-বাছাই করে মাত্র সোয়া শ'র মতো লোককে সিঙ্গাপুর ভ্রমণের জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে।
সিঙ্গাপুরের বিমানভাড়া অবশ্য এই কৃষকরাই দিচ্ছেন, কিন্তু তাদের চারতারা হোটেলে থাকা-খাওয়া সহ চারদিন শহরে বেড়ানোর যাবতীয় খরচ-খরচা অন্ধ্রপ্রদেশ সরকারই বহন করছে।
আজ প্রথম ব্যাচে যারা রওনা হলেন, তাদের মধ্যে ছিলেন ভেলাগাপুডি গ্রামের ইদুপালাপতি সীতারামাইয়া।
অমরাবতীর জন্য নিজের ১০ একর জমি দিয়েছেন তিনি, বিনিময়ে প্রতি বছর ৫ লক্ষ রুপি করে ক্ষতিপূরণ পাবেন।
৬৫ বছর বয়সী সীতারামাইয়া বলছিলেন, "আমাদের দেয়া জমিতে কী ধরনের শহর হবে সেটা তো একবার গিয়ে দেখে আসা দরকার। আমরা সেখানে থাকতে পারি বা না-পারি, আমাদের ছেলেপুলেরা হয়তো একদিন সেখানে থাকতে পারবে!"
তবে সিঙ্গাপুরের পথে রওনা হওয়ার আগে সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে অনেকেই জানতে চেয়েছেন, তারা কত লক্ষ রুপি নগদ সঙ্গে নিয়ে যেতে পারবেন? ভারতীয় রুপিতে সিঙ্গাপুরে কেনাকাটা করা যাবে কি না ইত্যাদি।
বি নরসিমহার মতো কেউ কেউ আবার প্রশ্ন করেছেন, সিঙ্গাপুর থেকে তারা কতটা স্বর্ণ কিনে ভারতে আনতে পারবেন?
কৃষকদের কারো কারো আবার দুশ্চিন্তা ছিল, সিঙ্গাপুরে গিয়ে সেখানকার স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে তারা কোন ভাষায় কথাবার্তা বলবেন।
অন্ধ্র সরকার তাদের আশ্বস্ত করে বলেছে অনুবাদের ব্যবস্থা থাকবে।
চারদিন চাররাতের সফরে তাদের সিঙ্গাপুর শহরের প্রায় সব দর্শনীয় স্থান এবং সিঙ্গাপুর আর্ট মিউজিয়াম ঘুরিয়ে দেখানো হবে।
সিঙ্গাপুর সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় এই অতিথিদের জন্য কয়েকটি ওয়ার্কশপেরও আয়োজন করছে।

শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি ওয়াশিংটনে, রচিত হচ্ছে নতুন ইতিহাস by মোহাম্মদ আবুল হোসেন

দৃশ্যত দম বন্ধ হয়ে আছে ওয়াশিংটন ডিসির। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায় রচিত হচ্ছে যাচ্ছে আজ সোমবার। হোয়াইট হাউজে হিম বাতাস। কার হাতে পড়ছে হাত কড়া! প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের জামাই ডারেড কুশনার, ছেলে ডনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র, সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইকেল ফ্লিন, নির্বাচনী প্রচারণায় ট্রাম্পের প্রচারণা বিষয়ক সাবেক ম্যানেজার পল ম্যানাফোর্ট নাকি অন্য কাউকে গ্রেপ্তার করা হবে রাশিয়া কানেকশনে! এ নিয়ে ওয়াশিংটনে শিহরণ। যুক্তরাষ্ট্র তথা সারা বিশ্ব সচকিত তাকিয়ে আছে, কি ঘটছে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে! কোন পরিণতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ভাগ্য- তা জানতে। এক কঠিন সমীকরণে দাঁড়িয়ে আছে পরিস্থিতি এখন।
যুক্তরাষ্ট্রে গত বছর নভেম্বরে অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ এবং এর সঙ্গে জড়িত ট্রাম্প টিমের গোপন তৎপরতা নিয়ে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেয়ার পর গত শুক্রবারই এ মামলায় প্রথম চার্জ গঠন করা হয়েছে। কিন্তু সেই চার্জ বা অভিযোগে কাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে, কি বলা হয়েছে- তা দৃশ্যত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পর্যন্তও জানতে দেয়া হয় নি। আজ সোমবার ফেডারেল গ্রান্ড জুরি প্রথমবারের মতো এ অভিযোগ অনুমোদন দেবেন। ফলে এক বা একাধিক জড়িত প্রভাবশালী ব্যক্তিকে কারাগারে যেতে হতে পারে। তা-ই যদি হয় তাহলে আইন মন্ত্রণালয়ের স্পেশাল কাউন্সেল রবার্ট মুয়েলার রাশিয়াগেট কেলেঙ্কারিতে নতুন একটি অধ্যায় যুক্ত করবেন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে। তা হবে হোয়াইট হাউচের জন্য বাস্তবেই এক বিপদজনক দুর্গতি। তবে রাশিয়া কানেকশন নিয়ে যেসব অভিযোগ উঠেছে, তা বরাবরই অস্বীকার করে এসেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তার টিম। এ নিয়ে তদন্ত করতে গিয়ে চাকরি হারিয়েছেন এফবিআইয়ের সাবেক পরিচালক জেমস কমি। তাকে বরখাস্ত করে ট্রাম্প প্রশাসন স্পেশাল কাউন্সেল নিয়োগ করেছে রবার্ট মুয়েলারকে। এর বাইরে তদন্ত হচ্ছে কংগ্রেশনাল কমিটি থেকে। তদন্ত হচ্ছে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার তরফ থেকে। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন আজ সোমবারই প্রথম ঘটতে যাচ্ছে। এতে যাকেই অভিযুক্ত করা হোক তাতে হোয়াইট হাউজ এক বিদঘুটে অস্বস্তিতে পড়বে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। কারণ, তারা এতদিন বলে এসেছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ ও ট্রাম্প টিমের জড়িত থাকার বিষয়ে বানোয়াট কাহিনীর জন্ম দিয়েছেন পরাজিত ডেমোক্রেট দলের প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন ও তার টিম। এর সত্যতা, যথার্থতা প্রমাণ হয়ে যাচে আজ। এর মধ্য দিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠ বৃত্ত ও এর বাইরে পারিবারিক বৃত্তে আঘাত লাগতে পারে। এমনকি তার প্রেসিডেন্সিও পড়তে পারে মারাত্মক ঝুঁকিতে। তবে সবকিছু নির্ভর করছে ওই রবার্ট মুয়েলারের ওপর। তার রিপোর্টে কাকে অভিযুক্ত করা হচ্ছে এবং তার প্রতিক্রিয়া কি তা আগামী কয়েকদিনের মধ্যে স্পষ্ট হয়ে যাবে। এমন অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়ার দিকে লক্ষ্য রাখবে যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্ববাসী। মুয়েলার ‘গোলায়’ কে ঘায়েল হবেন! এ নিয়ে যখন চারদিকে কান সচেতন, চোখ স্থির হয়ে আছে পত্রিকার পাতায়, অনলাইন সংবাদ মাধ্যমগুলোতে ব্রেকিং দেখার জন্য সবাই উদগ্রিব তখন অনেকেরই দৃষ্টিতে পড়েছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের একটি টুইট। তিনি রোববার এই টুইট করেছেন। তাতে তিনি লিখেছেন, দুষ্ট রাজনীতির জন্য যাদুবিদ্যার (উইচ হান্ট) এই ভয়াবহ বিষয়টি (যা দেশের জন্য খারাপ) ব্যবহার করছে ডেমোক্রেটরা। অন্যদিকে রিপাবলিকানরা তার বিরুদ্ধে ফাইট দিচ্ছেন, যা আগে কখনো হয় নি। আরেক টুইটে তিনি লিখেছেন, ডেমোক্রেটরা/ক্লিনটনরা অনেক বেশি দোষী। প্রকৃত সত্য এখন বেরিয়ে আসছে। কিছু একটা করুন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের অভিযোগ তদন্ত করতে গিয়ে বেশ কিছু বিষয়ে নজর দিয়েছেন রবার্ট মুয়েলার। খতিয়ে দেখা হয়েছে ট্রাম্পের সাবেক প্রচারণা বিষয়ক চেয়ারম্যান পল ম্যানাফোর্টের ব্যবসায়িক বিষয়। খতিয়ে দেখা হয়েছে প্রেসিডেন্টের নির্বাচনী টিমের সদস্যদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ। তদন্ত করা হয়েছে বরখাস্ত হওয়া সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইকেল ফ্লিনের বিষয়টি। রাশিয়ার সাবেক রাষ্ট্রদূত সের্গেই কিসলায়েক, ব্যাংকার সহ বিভিন্ন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের গোপন বৈঠক, যোগাযোগের বিষয়ে হাত দিয়েছেন মুয়েলার। এফবিআইয়ের সাবেক পরিচালক জেমস কমিও এসব অভিযোগের তদন্ত করছিলেন। কিন্তু তাকে বরখাস্ত করেন ট্রাম্প। এতে বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ করা হয়, বিচারে বাধা সৃষ্টি করতে ট্রাম্প এমনটি করেছেন। জেমস কমি যাতে রাশিয়া কানেকশন নিয়ে তদন্ত করতে না পারেন, তদন্তে ব্যাঘাত করে সে জন্য তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। জেমস কমিকে বরখাস্ত করার মধ্য দিয়ে বিচারে বাধা সৃষ্টি করেছেন কিনা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাও তলিয়ে দেখেছেন রবার্ট মুয়েলার। যদি সর্বশেষ এই অভিযোগটি সত্য প্রমাণিত হয় তাহলে চার্জশিট কার বিরুদ্ধে যাবে, কাকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে! এমন প্রশ্নে চোখ আকাশে তুলছেন বিশ্লেষকরা। আতঙ্ক দেখা দিয়েছে অনেকের মাঝে। রোববার ট্রাম্প নিজেই কিছু প্রশ্ন সৃষ্টি করেছেন, যার উত্তর হয়তো নতুন সপ্তাহে পাওয়া যেতে পারে। তা হলো, অভিযোগ যা-ই হোক, ট্রাম্প কি তার সরাসরি ক্ষোভ নিবৃত করতে পারবেন? আইনী ও রাজনৈতিক ঝুঁকিতে নিমগ্ন হওয়া থেকে রক্ষা করতে পারবেন? পারবেন স্পেশাল কাউন্সেল রবার্ট মুয়েলারের ওপর ক্ষোভ সামলাতে? রাশিয়া কানেকশনে অনেকবার ট্রাম্প নিজেকে গভীর ঝুঁকিতে ফেলে দিয়েছেন। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, তিনি জেমস কমিকে বরখাস্ত করে রবার্ট মুয়েলারকে নিয়োগ দিয়েছেন। একে অনেকে খাল কেটে কুমির আনার মতো বলে অভিহিত করেছেন। রোববার এনবিসি/ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের জনমত জরিপে দেখা গেছে ট্রাম্পের রাজনৈতিক পরিণাম ক্রমাগত খারাপের দিকে যাচ্ছে। এদিন তার জনপ্রিয়তা বা এপ্রুভাল রেটিং দাঁড়ায় শতকরা ৩৮ ভাগ। এটা তার প্রেসিডেন্সির মেয়াদে সর্বনি¤œ রেটিং। তার শীর্ষ পরামর্শক টাই কব পরিষ্কার করে বলেছেন, রোববার ট্রাম্পের টুইট কোনোভাবেই মুয়েলারকে ঘায়েল করতে করা হয় নি। সিএনএনের সাংবাদিক জেফ জেলেনি’কে তিনি বলেছেন, বরং অনেকেই বলতে পারেন প্রেসিডেন্টের রোববারের টুইট স্পেশাল কাউন্সেলের কর্মকান্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিল না। তিনি তাকে সহাযোগিতা করে গেছেন। এমন অবস্থায় ওয়াশিংটনে কথা ছড়িয়ে পড়েছে যে, যদি ট্রাম্প এবার জেমস কমির মতো মুয়েলারকেও বরখাস্ত করার চেষ্টা করতেন তাহলে তাতে যুক্তরাষ্ট্রে সৃষ্টি হতো সাংবিধানিক সঙ্কট। এতে ক্ষমতাসীন দল রিপাবলিকান নেতারা কংগ্রেসে কঠিন এক রাজনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়তেন। বলা হচ্ছে, এখনও ট্রাম্প সেই কাজটিই করতে পারেন। এর প্রেক্ষিতে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের সম্পাদকীয় পরিষদ ও রক্ষণশীল অনেক কলামনিস্ট স্পেশাল কাউন্সেল মুয়েলারকে পদত্যাগ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, রাশিয়া ‘নাটকে’ এফবিআইয়ের সুষ্ঠু তদন্ত তার অধীনে সম্ভব হবে না, ইতিহাস তাই বলে। তাহলে কি প্রথম অভিযোগটিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ওপর ফোকাস করা হবে না? এসব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে নানা বিশ্লেষণ। তবে নিউ ইয়র্ক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক এটর্নি প্রীত ভারারা বলছেন, সোমবার অভিযোগ প্রকাশ হওয়ার পর ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া কি হয় তার ওপরই নির্ভর করছে ‘নাটকের’ গুরুত্ব। তিনি বলেন, আমি কয়েকটি বিষয়ে গুরুত্ব দেবো। দেখবো ট্রাম্প কোনো প্রতিক্রিয়া দেখান কিনা। তিনি এমন কোনো কথা বলেন কিনা, যা তার বিরুদ্ধে ব্যবহার করা যায় ভবিষ্যতে। দ্বিতীয় যে বিষয়ে আমি দৃষ্টি দেবো তা হলোÑ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বিবাদী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছে গুরুতর কোনো বার্তা পাঠান কিনা। ওদিকে হোয়াইট হাউজ কিন্তু হিলারি ক্লিনটনকে ছেড়ে দিচ্ছে না। তিনি যখন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন তখন রাশিয়ার বিনিয়োগকারীদের কাছে একটি ইউরেনিয়াম ফার্ম বিক্রি করে দিয়েছিলেন। এ বিষয়টি বড় করে দেখাতে চাইছে হোয়াইট হাউজ।

বাগান থেকে কাপে আসার গল্প

সিলেটের শ্রীমঙ্গল উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে রয়েছে বেশ কিছু চা বাগান৷ সেসব বাগান থেকে চা কাপে আসতে বেশ কয়েক ধাপ পেরতে হয়। তার পরই মেলে শরীর-মনকে প্রশান্তি করা এই পানীয়। সেই গল্পই শুনুন এখানে-
চা বাগান
চা বোর্ডের হিসেবে পুরো বাংলাদেশে চা বাগান রয়েছে মোট ১৬২টি৷ তার মধ্যে শ্রীমঙ্গলের বাগানসহ মৌলভীবাজার জেলায় মোট বাগানের সংখ্যা ৯০টির মতো৷
চা শ্রমিক
সেই কাক ডাকা ভোরে উঠে চা শ্রমিকরা পাতা তুলতে শুরু করেন৷ যার চা পাতার ঝুলির ওজন বেশি হয়, তিনি পারশ্রমিক বেশি পান৷ তাই তাদের মধ্যে সব সময় থাকে এক ধরনের তাড়া কাজ করে৷
চা কন্যা
চা শ্রমিকদের মধ্যে নারীই বেশি৷ চা শ্রমিক, চা শিল্পী, চা কন্যা বা পাতিয়ালী – যে নামেই তাদের ডাকা হোক না কেন, তারা কঠোর পরিশ্রমী৷
এবার মাপার পালা
পাতা তোলার পর কে কতটা তুলেছেন তা মাপা হয় বাগানেরই কাছের ছোট এক কুটিরে৷ চা পাতার ওজন অনুপাতেই শ্রমিকরা তাদের পারিশ্রমিক পেয়ে থাকেন৷ পাতা মাপার পর এক ফাঁকে ঝটপট বাড়ি থেকে নিয়ে আসা নাস্তাটা তারা সেরে নেন৷ আবার যে বাগানে যেতে হবে!
কারখানায় যাচ্ছে পাতা
চার মাপার পর পাতা নেয়া হয় কারখানায়৷
মেশিনে প্রসেস করা চা
পাতা বহমান
কারখানায় পৌঁছানোর পর ছোট ছোট ব্যগে করে ইলেক্ট্রিক মেশিনের সাহায্যে ঘুরে ঘুরে পাতা যায় আরেক জায়গায়৷
ছড়ানো পাতা
এখানে পাতাগুলো ছড়িয়ে দিয়ে ভালো করে পরিস্কার করে বেছে নেয়া হয়৷
পাতার সোঁদা গন্ধ
পাতা পরিস্কারের পর নেয়া হয় মেশিনে৷ কয়েকটি মেশিনে একসাথে কাজ হয়৷ মেশিনে ‘প্রসেস’ হওয়ার সময় সবুজ পাতা কেমন যেন এক সোঁদা আর মিষ্টি গন্ধ ছড়ায়৷
বদলে যায় রঙ
এবার চা পাতা শুকানোর পালা৷ এরই মধ্যে এই মেশিনের গরম তাপে চা পাতার রঙ বদলে গিয়ে গাঢ় বাদামী হয়ে যায়৷ চা বাগানে ঘোরাঘুরির পর তৈরি গরম চায়ের গন্ধ, চেহারা আর হাত দিয়ে ধরে দেখার অনুভূতি কিন্তু চা প্রেমীদের কাছে দারুণ রোমাঞ্চকর!
গুণগত মান পরীক্ষা
গুড়ো চা শুকিয়ে যাওয়ার পর এবার গুণগত মান পরীক্ষার পালা৷ চা টেস্টের পর সব ঠিক থাকলেই কেবল তা বড় বড় বস্তায় ভরে প্যাকিং এবং রফতানির জন্য পাঠানো হয় চট্টগ্রামে৷
‘চা’ এলো কাপে
চট্টগ্রামের কারখানা থেকে প্যাকেট হয়ে বাজারে আসে চা৷ তারপর তো দুটি পাতা একটি কুঁড়ির সেই চা আমাদের কাপে৷ ‘চা’-এর তুলনা শুধু চা-ই৷

ভারতীয় সেনাবাহিনীকে শক্তিশালী করতে ব্যয়বহুল পরিকল্পনা

ভারতীয় সেনার পদাতিক বাহিনীকে অত্যাধুনিক অস্ত্রে সুসজ্জিত করতে প্রায় চল্লিশ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করা হবে। পুরোনো অস্ত্রের পরিবর্তে সেনাবাহিনীর হাতে প্রচুর পরিমাণে নয়া হালকা মেশিনগান, কারবাইন ও অ্যাসল্ট রাইফেল তুলে দেয়া হবে।
সেনাবাহিনীর প্রায় ৭ লাখ রাইফেল, ৪৪ হাজার লাইট মেশিনগান এবং ৪৪ হাজার ছয়শত কারবাইন প্রয়োজন। এরমধ্যে প্রথম দফায় সেনাবাহিনীকে ১০ হাজার মেশিনগান দেয়া হবে।
সামরিক সরঞ্জাম ক্রয় প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সেনাবাহিনী যৌথভাবে কাজ করছে।
পাকিস্তান ও চীনের সঙ্গে সীমান্ত উত্তেজনাসহ অতিরিক্ত নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে দ্রুত বিভিন্ন অস্ত্র কেনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
একটি সূত্রে প্রকাশ, সেনাবাহিনীর কী কী অস্ত্র কত পরিমাণে লাগবে খুব দ্রুত তার একটি তালিকা অনুমোদনের জন্য ডিফেন্স অ্যাকিউজেশন কাউন্সিলের (ডিএসি) কাছে পাঠানো হবে। ডিএসি অনুমোদন দিলেই সেনাবাহিনী ওই অস্ত্রশস্ত্র হাতে পাবে।
এরআগে ইছাপুর সরকারি রাইফেল ফ্যাক্টরিতে নির্মিত অ্যাসল্ট রাইফেল গত জুন মাসে সেনাবাহিনী কর্তৃক প্রত্যাখাত হয়েছিল। ওই বন্দুক ফায়ারিং পরীক্ষায় শোচনীয়ভাবে ব্যর্থ হয়েছিল।
পদাতিক বাহিনীর আধুনিকায়ন পরিকল্পনা সেনাবাহিনীর জন্য একটি বড় পদক্ষেপ এবং এরফলে বাহিনীর সামগ্রিক ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
সম্প্রতি শেষ হওয়া সামরিক কমান্ডারদের সম্মেলনে ওই ইস্যুতে গভীরভাবে আলোচনা হয়। এখানে সেনাবাহিনীর আধুনিকায়ন দেশের সামনে বর্তমান নিরাপত্তা ঝুঁকির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হওয়া উচিত বলে কর্মকর্তারা অনুভব করেন।
ওই সম্মেলনে প্রতিরক্ষামন্ত্রী নির্মলা সীতারমন বলেন, সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নের বিষয়টি সরকারের অগ্রাধিকারে রয়েছে এবং যুদ্ধ সামর্থ্যকে শক্তিশালী করতে সমস্ত ত্রুটিগুলো সমাধান করা হবে।
শক্তি বাড়লো ভারতীয় নৌবাহিনীর : এলো নতুন যুদ্ধজাহাজ
আরো সমৃদ্ধ হলো ভারতীয় নৌবাহিনী। বাহিনীর অস্ত্রভাণ্ডারে নয়া সংযোজন অ্যান্টি-সাবমেরিন যুদ্ধজাহাজ আইএনএস কিলতান। দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি চার অ্যান্টি-সাবমেরিন যুদ্ধজাহাজকে নৌবাহিনীতে যুক্ত করার যে প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে, আইএনএস কিলতান তার মধ্যে তৃতীয়।
গত ১৬ অক্টোবর বিশাখাপত্তনমের নেভাল ডকইয়ার্ডে এই যুদ্ধজাহাজকে আনুষ্ঠানিকভাবে নৌবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী নির্মলা সীতারামন।
ইতোমধ্যেই শিবালিক ক্লাস, কলকাতা ক্লাস, আইএনএস-কামোর্তা, আইএনএস-কাদমাত ভারতীয় নৌবাহিনীকে সমৃদ্ধ করেছে। এ বার সেই তালিকায় ঢুকে পড়ল আইএনএস কিলতান। নৌবাহিনীর নিজস্ব সংস্থা ডিরেক্টরেট অফ নেভাল ডিজাইনের তৈরি নকশায় এই যুদ্ধজাহাজ তৈরি করেছে কলকাতার গার্ডেনরিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স।
আইএনএস কিলতান দেশের প্রথম কোনো যুদ্ধজাহাজ যেখানে কার্বন ফাইবারের সুপারস্ট্রাকচার রয়েছে। এর ফলে আত্মগোপন করে থাকার ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। হ্রাস পাবে রক্ষণাবেক্ষণের খরচ। ১০৯ মিটার দীর্ঘ এই যুদ্ধজাহাজে চারটি ডিজেল ইঞ্জিন রয়েছে। ভবিষ্যতে এটিকে এসএএম সিস্টেমের সঙ্গে যুক্ত করা হবে এবং এতে রাখা হবে একটি এএসডব্লিউ হেলিকপ্টার। ১৩ জন অফিসার ও ১৭৮ জন নাবিকের একটি দল আইএনএস কিলতানের দায়িত্বে থাকবেন। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া।
ভারতের হাতে রয়েছে যেসব আক্রমণাত্মক মিসাইল :
১. পৃথ্বী: এটি একটি সার্ফেস টু সার্ফেস ব্যালিস্টিক মিসাইল
পৃথ্বী-১: রেঞ্জ- ১৫০ কিমি, বহন ক্ষমতা- ১০০০ কেজি পরমাণু ওয়ারহেড
পৃথ্বী-২: রেঞ্জ- ৩৫০ কিলোমিটার, বহন ক্ষমতা- ৩৫০-৭৫০ কেজি নিউক্লিয়ার ওয়ারহেড
২. ধনুষ: রেঞ্জ- ৩৫০ কিলোমিটার
৩. অগ্নি: এটি একটি লং রেঞ্জ ব্যালিস্টিক মিসাইল
অগ্নি-১: রেঞ্জ- ৭০০ কিলোমিটার, বহন ক্ষমতা- ৭৫০-১০০০ কেজি ওয়ারহেড
অগ্নি-২: রেঞ্জ- ২০০০ কিলোমিটার, বহন ক্ষমতা- ১০০০ কেজি নিউক্লিয়ার ওয়ারহেড
অগ্নি-৩: রেঞ্জ- ৩০০০ কিলোমিটার, বহন ক্ষমতা- ২০০০-২৫০০ কেজি ওয়ারহেড
অগ্নি-৪: রেঞ্জ- ৩৫০০ কিলোমিটার, বহন ক্ষমতা- ৮০০-১০০০ কেজি নিউক্লিয়ার ওয়ারহেড
অগ্নি-৫: রেঞ্জ- ৫৫০০-৫৮০০ কিলোমিটার, বহন ক্ষমতা- ১৫০০ কেজি নিউক্লিয়ার ওয়ারহেড
অগ্নি-৬: রেঞ্জ- ৬০০০-৮০০০ কিলোমিটার, বহন ক্ষমতা- ১০০০ কেজি নিউক্লিয়ার ওয়ারহেড
৪. K সিরিজের সাবমেরিন লঞ্চড মিসাইল
K-15: রেঞ্জ- ৭৫০ কিলোমিটার
K-4: রেঞ্জ- ৩০০০ কিলোমিটার
৫. আকাশ মিসাইল: রেঞ্জ- ২৫ কিলোমিটার, বহন ক্ষমতা- ৬০ কেজি ওয়ারহেড
৬. ত্রিশুল: রেঞ্জ- ৯ কিলোমিটার, বহন ক্ষমতা- ৫.৫০ কেজি ওয়ারহেড
৭. নাগ: রেঞ্জ- ৩-৭ কিলোমিটার, বহন ক্ষমতা- ৮ কেজি অ্যান্টি-ট্যাংক ওয়ারহেড
৮. ব্রহ্মোস: রেঞ্জ- ২৯০ কিলোমিটার
সূত্র: কলকাতা২৪ ডট কম

যৌন কেলেঙ্কারিতে বিলাতের রাজনীতিবিদরাও

যৌন কেলেঙ্কারির ছোঁয়া লেগেছে বৃটিশ রাজনীতিতেও। মন্ত্রী পর্যায়ের কয়েকজন, এমপির বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে’র মধ্যে। তিনি তার মন্ত্রী পরিষদে রদবদলও আনতে পারেন বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। ওদিকে বিরোধী লেবার দলনেতা জেরেমি করবিন অভিযুক্তদেরকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। অভিযোগ উঠেছে, কমন্স সেক্রেটারি ক্যারোলাইনা এডমন্ডসনকে দিয়ে নিজের জন্য সেক্স টয় কেনাতেন বৃটেনের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমন্ত্রী মার্ক গারনিয়ের।
এমনটা ফরেস্ট দাবি করার পর তা স্বীকার করেছেন গারনিয়ের। শুধু তা-ই নয়। তিনি ওই সেক্রেটারিকে ডাকতেন ‘সুগার টিটস’ বা ‘মিষ্টি ছুড়ি’ নামে। এ সবই স্বীকার করেছেন তিনি। লন্ডনের দ্য মেইলকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ওয়্যার ফরেস্ট থেকে নির্বাচিত ৫৩ বছর বয়সী কমন্স সেক্রেটারি ক্যারোলাইন এডমন্ডসন বলেছেন, তাকে নগদ অর্থ দিতেন বাণিজ্যমন্ত্রী গারনিয়ের। আর সোহো’তে সেক্স শপের বাইরে অপেক্ষায় থাকতেন তিনি। ওই দোকানের ভেতরে প্রবেশ করতেন এডমন্ডসন। তিনি মন্ত্রী গারনিয়েরের জন্য কিনে আনতেন সেক্স টয়। কিনেছেন দুটি ‘ভাইব্রেটর’। এডমন্ডসন আরো ফাঁস করে দিয়েছেন যে, ওই সময়কার পররাষ্ট্র বিষয়ক আন্ডারসেক্রেটারি ছিলেন গারনিয়ের। তিনি এডমন্ডসনকে বলেছেন, ওই দুটি সেক্স টয়ের একটি তার স্ত্রীর জন্য। অন্যটি হলো তার নিজের নির্বাচনী আসন ওয়েস্ট মিডল্যান্ডসে একজন নারী সহকারীর জন্য। রোববার এ খবর প্রকাশ হওয়ার পর বৃটেনজুড়ে হইচই সৃষ্টি হয়েছে। মুখে মুখে ঘুরছে এ কাহিনী। এ বিষয়ে মন্ত্রী গারনিয়ের বলেছেন, এ অভিযোগ আমি অস্বীকার করছি না। আমি অতটা অসৎ হতে যাবো না। উল্লেখ্য, মন্ত্রী গারনিয়ের তিন সন্তানের পিতা। তার বিরুদ্ধে ২০১০ সালে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছিল। তা কিন্তু তিনি অস্বীকার করেছেন। তিনি স্বীকার করেছেন, ওই সেক্স টয় দুটি তিনি কিনেছিলেন বড়দিনের দুপুরের খাবার পরে। আর টিভি শো ‘গ্যাভিন অ্যান্ড স্ট্যাসি’ নিয়ে রসালো আলোপচারিতার সময় তিনি এডমন্ডসনকে সুগার টিটস বলে আখ্যায়িত করেছিলেন। এরপরই তারা দুজন আলাদা হয়ে গিয়েছিলেন। তবে তার এ বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন এডমন্ডসন। তিনি বলেছেন, মন্ত্রী গারনিয়ের তাকে কমন্সের একটি বারের ভেতর সোহো’ সেক্স শপে গিয়ে কেনাকাটার প্রস্তাব দেন। সে এক রাতের কথা। তারপর পরের দিন তিনি ‘আমাকে বলেন চলো এটা প্রাকটিস করি’। ওদিকে যৌন কেলেঙ্কারি ঘিরে ধরেছে ক্ষমতাসীন কনজার্ভেটিভ পার্টির আরেক সিনিয়র এমপি স্টিফেন ক্রাব’কে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে, ২০১৩ সালে একটি চাকরির সাক্ষাৎকার দিতে তার কাছে এসেছিলেন ১৯ বছর বয়সী এক যুবতী। তিনি তাকে অশালীন এসএমএস দিয়েছিলেন। এ অভিযোগ স্বীকার করেছেন ৪৪ বছর বয়সী এই মন্ত্রী। তিনি বলেছেন, বোকামি করে তিনি ওই এসএমএস পাঠিয়েছিলেন। তবে ওই যুবতীর সঙ্গে তার কোনো শারীরিক সম্পর্ক ছিল না। তিনি বলেছেন, ওই যুবতীর সঙ্গে কয়েকবার সাক্ষাৎ হয়েছিল। তারা একসঙ্গে কফি পান করেছেন। একবার কমন্স বারে ওয়াইন পান করেছেন। তার ভাষায়, আমাদের মধ্যে এসএমএস বিনিময় হয়েছে। সেক্স নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি। তবে তা সিরিয়াস পরিণতির দিকে যায়নি। ওই যুবতীর এক বন্ধু ডেইলি টেলিগ্রাফকে বলেছেন, দু’সন্তানের পিতা ক্রাব যে এসএমএস পাঠিয়েছিলেন তা তিনি দেখেছেন। তার একটিতে তিনি ‘আমার বান্ধবীর সঙ্গে সেক্স করতে চেয়েছেন’। এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ক্রাব। বলেছেন, এমন যৌন উত্তেজক চ্যাটিংয়ের জন্য আমি দুঃখিত। যুক্তরাষ্ট্রে হলিউড প্রযোজক হারভে উইন্সটেনের যৌন কেলেঙ্কারি নিয়ে কৌতুক করেছেন বৃটেনের পরিবেশমন্ত্রী মাইকেল গভ। তিনি ওই কেলেঙ্কারি নিয়ে সামঞ্জস্যহীন মন্তব্য করায় বাধ্য হয়েছেন ক্ষমা চাইতে। এর পরই বৃটেনের রাজনীতিকদের এই যৌন অপরাধের বিষয়টি সামনে চলে এসেছে। হারভে উইন্সটেনের যৌন কেলেঙ্কারির খবর ছড়িয়ে পড়ার কয়েক দিনের মধ্যেই বৃটেনে তার ছোঁয়া লেগেছে। এর ফলে বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে’র মধ্যে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তিনি মনে করছেন, ওয়েস্টমিনস্টারে যৌন কেলেঙ্কারির কারণে তাকে মন্ত্রিসভা নতুন করে জরুরি ভিত্তিতে সাজাতে হতে হবে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী ও সিনিয়র কর্মকর্তাদের মধ্যে বৈঠক হয়েছে। এ বিষয়ে অবগত এমন সূত্র দ্য সান অন সানডে’কে বলেছেন, কিছু এমপি এমন সব অভিযোগে অভিযুক্ত এটাতো গত কয়েক বছর ধরেই ওপেন সিক্রেট। তাই রাজনীতিকদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ তাকে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করছে। শুক্রবার এমনটা বলেছেন তার একজন মুখপাত্রও। ওদিকে চুপ করে বসে নেই বিরোধী লেবার দলও। দল নেতা শনিবার এক বক্তব্যে সতর্ক করেছেন। তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন যেসব এমপির বিরুদ্ধে এমন যৌন অপরাধ ও নির্যাতনের অভিযোগ আছে তাদেরকে অবশ্যই জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে।

চাকরির সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে অপহরণ অতঃপর...

চাকরির ভাইভা দিতে গিয়ে রাজধানীতে অপহরণের শিকার হয়েছেন এক শিক্ষার্থী। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক তৎপরতার মুখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদয়ন স্কুলের সামনে ফুলার রোডে তাকে ফেলে যায় অপহরণকারীরা। শাহবাগ থানা পুলিশ তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। অপহৃত শিক্ষার্থীর নাম সোহেল রানা। তিনি সরকারি তিতুমীর বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ছাত্র। অপহরণকারী তার কাছ থেকে এটিএম কার্ড ছিনিয়ে নিয়ে বুথ থেকে টাকা তুলে নেয়।
দাবি করে ২ লাখ টাকা মুক্তিপণ। একইসঙ্গে কাছে থাকা নগদ অর্থসহ মোবাইল ফোন ও ম্যানিবাগ ছিনিয়ে নেয়। গতকাল সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত এসব ঘটনা ঘটে।
অপহৃতের স্বজনরা জানান, ফিন্যান্স বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র সোহেলের গ্রামের বাড়ি ঝালকাঠি জেলায়। বর্তমানে মগবাজার এলাকার নয়তলা ভবনের একটি মেসে থাকতেন। পড়ালেখার পাশাপাশি তিনি চাকরির খোঁজ করছিলেন। বিভিন্ন সময় তাই বিডিজবস্‌সহ বিভিন্ন চাকরির সাইটে চাকরিপ্রার্থী হিসেবে রেজিস্ট্রেশন করেন। ক’দিন আগে পল্টনের তোপখানা রোডের ট্রপিকানা টাওয়ারের ১৫ তলায় মার্কেন্টাইল ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠান থেকে তাকে ফোন দেয়। প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার সোহানুর রহমান জানান, ২৯ তারিখে তার মৌখিক পরীক্ষা নেয়া হবে। তাকে আরো জানানো হয়, তার নিজ জেলা ঝালকাঠির জন্য তারা লোক খুঁজছেন। তার কথা মতো গতকাল সকাল ৯টার দিকে তিনি ওই অফিসে মৌখিক পরীক্ষা দিতে যান। পরীক্ষা দিয়ে বের হওয়ার পর পল্টন মোড়ে সোহেলকে কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তি একটি মাইক্রোবাসে জোরপূর্বক তুলে নেয়। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ঘুরায়। তারা তার কাছ থেকে মানিব্যাগসহ নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয়। কাছে থাকা এটিএম কার্ড ছিনিয়ে নিয়ে বুথ থেকে টাকা তুলে নেয়। অপহরণকারীরা তার বন্ধুর কাছে ফোন করিয়ে ১০ হাজার টাকা পাঠাতে বলে। এছাড়া তার কাছে আরো ২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। এদিকে এ ঘটনায় সোহেলের স্বজনদের পক্ষ থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। শাহবাগ থানার এসআই শাহ আলম তখন ওই এলাকায় ডিউটি করছিলেন। তিনি জানান, তাকে জানানোর পর তার টিম নিয়ে তিনি ওই অফিসে যান। তার ব্যাপারে জানতে চাইলে অফিসের কর্মকর্তারা সোহেলের মৌখিক পরীক্ষা দিতে আসার ব্যাপারটি নিশ্চিত করেন। একইসঙ্গে তারা জানান, তিনি পরীক্ষা দিয়েই চলে গেছেন। পরে পুলিশি তৎপরতা শুরু হয়। পরে তাকে উদয়ন স্কুলের সামনে ফুলার রোডে ফেলে যায় অপহরণকারীরা। এসআই শাহ আলম বলেন, সেখান থেকে পথচারীরা তাকে রিকশায় তুলে দিলে তিনি প্রথমে পল্টন থানায় যান। এরপর সেখান থেকে এক বন্ধুর সঙ্গে করে শাহবাগ থানায় আসেন। এই পুলিশ কর্মকর্তা আরো বলেন, পল্টন মোড়ের মতো একটি ব্যস্ত জায়গা থেকে কিভাবে তুলে নিলো জানতে চাইলে সোহেল জানায়, তারা তাকে অস্ত্র দেখিয়েছিল। এজন্য ভয়ে চিৎকার দেয়নি। মাইক্রোবাসে তোলার পর তার চোখ বেঁধে ফেলে। মারধর করে। এরপর বিভিন্ন স্থানে ঘুরায়। শাহ আলম বলেন, অপহরণকারীরা তার কাছ থেকে ক্রেডিড কার্ড ছিনিয়ে নেয়। পরে একটি বুথ থেকে তার একাউন্টে থাকা ৫ হাজার টাকা তুলে নেয়। পুলিশের এই কর্মকর্তা আরো জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সোহেল রানার বন্ধু ঢাকা বিশ্বদ্যিালয়ের শিক্ষার্থী মেহেদি হাসান জানান, তার ভাইভা দেয়ার পর আজকেই (গতকাল) যোগদানের কথা বলে তার কাছে ২১ হাজার টাকা জামানত চাওয়া হয়। এরপর সোহেল বিষয়টি তার কাছে ফোন করে জানায়। তখন তিনি বুঝতে পারেন যে, সোহেল প্রতারণার ফাঁদে পড়েছে। পরে তিনি শাহবাগ থানায় গিয়ে বিষয়টি জানিয়ে ওই অফিসের দিকে রওনা দেন। এরইমধ্যে সোহেল অফিসের লোকজনকে না বলে বের হয়ে গেলে ওত পেতে থাকা অপহরণকারীরা তাকে অপহরণ করে। পরে সে ফোন করে তার কাছে ১০ হাজার টাকা বিকাশ করতে বলে। মেহেদি বলেন, মার্কেন্টাইল ইসলামী লাইফ ইন্সুরেন্স নামে ওই প্রতিষ্ঠানটি বিডিজবস্‌ থেকে নাম্বার নিয়ে তাকে ফাঁদে ফেলেছে। ফলে এখানে সাইবার ক্রাইম হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। সোহেলের এই বন্ধু আরো জানান, অপহরণকারীরা গাড়িতে তোলার পর তার কাছ থেকে বিভিন্ন বন্ধুদের নাম্বার নেয়। এছাড়া সোহেলের কাছে ২ লাখ টাকা দাবি করে। এই অপহরণের সঙ্গে মার্কেন্টাইল ইসলামী লাইফ ইন্সস্যুরেন্স নামে ওই প্রতিষ্ঠানটি জড়িত বলে মেহেদির ধারণা। এদিকে মার্কেন্টাইল ইন্সুরেন্সের অফিস সহকারী মনিরুজ্জামান জানিয়েছেন, পুলিশ আসার পর এবং এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা সোহানুর রহমানকে বরখাস্ত করেছে কর্তৃপক্ষ।

কেনেডি হত্যার গোপন দলিল- রবার্ট কেনেডির সঙ্গে প্রেম ছিল মেরিলিন মনরোর!

১৯৬৪ সালের ১৫ই জুলাই। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই থেকে একটি চিঠি পাঠানো হলো তখনকার অ্যাটর্নি জেনারেল রবার্ট কেনেডির কাছে। তাতে তাকে বলা হলো, শিগগিরই একটি বই প্রকাশ হতে যাচ্ছে। তাতে দাবি করা হচ্ছে, হলিউডের চিরসবুজ নায়িকা মেরিলিন মনরোর সঙ্গে রবার্ট কেনেডির গোপন প্রেম আছে। কিন্তু ওই বইয়ে আরো দাবি করা হলো, ঘটনার নেপথ্যে অন্য কারণ। রবার্ট কেনেডি পর্দার অন্তরালে কমিউনিস্টদের সঙ্গে কাজ করছিলেন মেরিলিন মনরোকে হত্যা করার জন্য।
ওই চিঠিতে বলা হলো, ওই হত্যাকাণ্ডকে তখন আত্মহত্যা বলে ধামাচাপা দেয়া হয়েছিল। ওই বইয়ে আরো বলা হয়েছে, যে রাতে মেরিলিন মনরো মারা যান সে রাতে নিজের এপার্টমেন্টেই অবস্থান করছিলেন রবার্ট কেনেডি। এরপর গোয়েন্দা এজেন্টরা লিখেছিলেন যে, কেনেডিকে নিয়ে যে অভিযোগ করা হয়েছে তা মিথ্যা। কারণ, এটর্নি জেনারেল তখন প্রকৃতপক্ষে নিজের স্ত্রীর সঙ্গে অবস্থান করছিলেন সান ফ্রান্সিসকোতে। উল্লেখ্য, এটর্নি জেনারেল রবার্ট কেনেডি ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডির ছোটভাই। জন এফ কেনেডিকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। তারপর অসংখ্য ফাইল জমা হয় যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোতে। সেই হত্যাকাণ্ড নিয়ে বিপুল পরিমাণ ফাইল প্রকাশ করেছে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। তার একটিতে রবার্ট এফ কেনেডি সম্পর্কে এসব কথা বলা হয়েছে। ১৯৬৩ সালে হত্যা করা হয় যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডিকে। এর সঙ্গে জড়িত বলে শোনা যায় লি হারভে ওসওয়াল্ড, ওসওয়াল্ডের খুনি জ্যাক রুবি। কয়েক হাজার এমন নথি প্রকাশ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে এফবিআইয়ের সাক্ষাৎকার, সিআইএ ও অন্য সরকারি কর্মকর্তাদের তৎপরতা। দীর্ঘ সময় এসব রিপোর্টকে হিমঘরে বন্দি করে রাখা হয়েছিল। কিন্তু তা প্রকাশ করার পর বেরিয়ে আসছে অনেক নাম। তার মধ্যে রয়েছেন নায়িকা মেরিলিন মনরো থেকে শুরু করে দস্যু স্যাম গিয়ানকারান পর্যন্ত নাম। জন এফ কেনেডিকে ডালাসে হত্যার পর একটি যুগের অবসান ঘটে। তখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রকে নিরপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হতো। কিন্তু কেনেডিকে হত্যার মাধ্যমে তাদের ইতিহাসে কলঙ্ক লাগে। এ বিষয়ে সব রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়নি। জাতীয় নিরাপত্তার জন্য কমপক্ষে ১৮০ দিন কমপক্ষে ৩০০ দলিল প্রকাশ বিলম্বিত করার জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে অনুরোধ করেছে এফবিআই ও সিআইএ। প্রেসিডেন্ট তা অনুমোদন করেছেন। তবে প্রকাশিত দলিলের একটি নোট পাওয়া গেছে। তা ১৯৬৪ সালের মে মাসের। সাবেক সোভিয়েত নেতা নিকিতা ক্রুশ্চেভের একটি কথোপকথন রয়েছে তাতে। এতে তাকে বলতে শোনা যায়, তিনি বিশ্বাস করেন যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থা একেবারে অদক্ষ। তাই কোনো ষড়যন্ত্র ছাড়াই জন এফ কেনেডিকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি বিশ্বাস করেন, কেনেডি হত্যাকাণ্ডে ডালাস পুলিশ ডিপার্টমেন্টও জড়িত (এক্সেসরি) থাকতে পারে। সিআইএ সূত্র জানতে পারে যে, এই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে আমেরিকান রাইট উইং থাকতে পারে বলে চেয়ারম্যান ক্রুশ্চেভের কিছু অন্ধ ধারণা ছিল। যখন সূত্র বলে যে, ওসওয়াল্ড ও রুবি- দু’জনেই ছিলেন উন্মাদ। তারা নিজেরাই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, তখন ক্রুশ্চেভ সোজাসাপ্টা বলে দেন, তিনি এ কথা বিশ্বাস করেন না।