Thursday, July 14, 2011

পাকিস্তানে ড্রোন হামলায় ৪৫ জঙ্গি নিহত

পাকিস্তানের ওয়াজিরিস্তানে মার্কিন চালকবিহীন বিমান (ড্রোন) থেকে তিন দফা ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কমপক্ষে ৪৫ জন সন্দেহভাজন জঙ্গি নিহত হয়েছে। স্থানীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তারা গতকাল মঙ্গলবার এ কথা জানান।
ওয়াশিংটনের পাকিস্তানকে ৮০ কোটি ডলারের সামরিক সাহায্য স্থগিত করার ঘোষণার পরদিনই যুক্তরাষ্ট্র এই হামলা চালাল। গত সোমবার রাত থেকে হামলা শুরু হয়। প্রথম দফায় উত্তর ওয়াজিরিস্তানের জঙ্গি-অধ্যুষিত একটি এলাকায় ড্রোন থেকে নয়টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। এতে সন্দেহভাজন ২৫ জন জঙ্গি নিহত হয়। স্থানীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তারা এ কথা জানান।
এর কয়েক ঘণ্টা পরই দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানে আরেকটি হামলা চালানো হয়। এতে পাঁচজন সন্দেহভাজন জঙ্গি নিহত হয়। গতকাল মঙ্গলবার সকালে আবারও উত্তর ওয়াজিরিস্তানে চালকবিহীন বিমান থেকে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানান, এই হামলায় ১৫ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে।
বাজুরে হামলায় নিহত ২: আফগান সীমান্তবর্তী পাকিস্তানের উপজাতি-অধ্যুষিত বাজুর জেলার গাবরি গ্রামের একটি কুটির লক্ষ্য করে ছোড়া কামানের গোলায় দুজন নারী নিহত এবং ১২ জন আহত হয়েছে।

রাজনৈতিক সংস্কার মেনে নিন

রাজনৈতিক সংস্কারের দাবি মেনে নিতে আরব বিশ্বের নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আহমেত দাভুতোগ্লুর সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এ আহ্বান জানান। গতকাল মঙ্গলবার ইরানি প্রেসিডেন্টের ওয়েবসাইটে এ কথা জানানো হয়।
আহমাদিনেজাদের বরাত দিয়ে ওয়েবসাইটে বলা হয়, ওই অঞ্চলের মানুষ সম-অধিকার, ভোটাধিকার, জানমালের নিরাপত্তা ও মর্যাদার যে দাবি তুলেছে, তা তাদের প্রাপ্য। কোনো সরকারই তাদের স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে পারে না।
ওয়েবসাইটে বলা হয়, ইরান মনে করে, আরব সরকারগুলো সংস্কার শুরু করে এবং দেশবাসীর দাবি পূরণ করেই শাসনব্যবস্থা বজায় রাখতে পারবে।

ডাইনোসর নিয়ে নতুন প্রদর্শনী শুরু হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে

যুক্তরাষ্ট্রে ডাইনোসর নিয়ে একটি নতুন প্রদর্শনী শুরু হতে যাচ্ছে। এতে এই দানব প্রাণী সম্পর্কে আরও অনেক তথ্য পাওয়া যাবে বলেমনে করা হচ্ছে।
আগামী শনিবার থেকে লস অ্যাঞ্জেলেসের ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামে শুরু হবে প্রদর্শনীটি। ওই দিন জাদুঘরে নবনির্মিত এক হাজার ৪০০ বর্গমিটার আয়তনের একটি গ্যালারিও চালু হচ্ছে। নাম দেওয়া হয়েছে ‘ডাইনোসর হল’। এ আয়োজনকে ২০১৩ সালে জাদুঘরটির শতবার্ষিকী উদ্যাপন উপলক্ষে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
জাদুঘরটির পরিচালক ও জাদুঘরের ডাইনোসর ইনস্টিটিউটের প্রধান লুই শিপে বলেন, ‘আমরা ডাইনোসর সম্পর্কে এখনো অনেক কিছু জানি না। এ জন্য এই আয়োজন।’
গ্যালারিতে স্টিভেন স্পিলবার্গের জুরাসিক পার্ক চলচ্চিত্রে দেখানো মাংসাশী ভয়ংকর দানব টি রেক্স প্রজাতির তিনটি বিভিন্ন বয়সী ডাইনোসরের কঙ্কালসহ বেশ কয়েকটি বড় নমুনা থাকছে।

আফগানিস্তান থেকে এক হাজার সেনা সরিয়ে নেবে ফ্রান্স

আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে ফ্রান্স। আগামী বছরের শেষ নাগাদ দেশটি চার হাজার সেনার এক-চতুর্থাংশ প্রত্যাহার করবে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নিকোলা সারকোজি গতকাল মঙ্গলবার সাংবাদিকদের এ কথা জানান।
প্রেসিডেন্ট সারকোজি গতকাল ঝটিকা সফরে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে পৌঁছান। কাবুলের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সারোবি এলাকার একটি সেনা ঘাঁটিতে যান তিনি। সেখানে ফ্রান্সের সেনাবাহিনীর জেনারেল তালেবানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের অগ্রগতি সম্পর্কে তাঁকে অবহিত করেন।
ঘাঁটিতে সারকোজি সাংবাদিকদের বলেন, যুদ্ধের সমাপ্তি টানা প্রয়োজন। অনির্দিষ্টকালের জন্য আফগানিস্তানে সেনা রাখার প্রশ্নই আসে না।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমরা ২০১২ সালের শেষ নাগাদ আমাদের মোট সেনার চার ভাগের এক ভাগ অর্থাৎ এক হাজার সেনা প্রত্যাহার করব।’
ফ্রান্সের মোট চার হাজার সেনার বেশির ভাগই সারোবি ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কাপসিয়া প্রদেশে মোতায়েন রয়েছে।
২০০৭ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর আফগানিস্তানে সারকোজির এটি তৃতীয় সফর। আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাইয়ের সঙ্গে তাঁর বৈঠক করার কথা রয়েছে।
২০০১ সালে আফগানিস্তান অভিযানের শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর নেতৃত্বে অংশ নেয় ফ্রান্স। এ পর্যন্ত আফগানিস্তানে বিভিন্ন অভিযানে অংশ নিতে গিয়ে ফ্রান্সের ৬৪ জন সেনা নিহত হয়েছে। এর মধ্যে চলতি বছর নিহত হয় নয়জন।

ঘটনা তদন্তের দাবি করেছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের শাসনামলে প্রশাসনের নির্দেশে যেসব নির্যাতন চলেছে, সেসব ঘটনার ফৌজদারি তদন্তের নির্দেশ দিতে প্রেসিডেন্ট ওবামার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। গতকাল মঙ্গলবার সংস্থাটির একটি প্রতিবেদন প্রকাশের পর এ আহ্বান জানানো হয়। এইচআরডব্লিউ জানিয়েছে, বুশের নির্দেশে নির্যাতন হয়েছে, এমন বেশকিছু প্রমাণও তাদের কাছে আছে।
এইচআরডব্লিউর ১০৭ পৃষ্ঠার এই প্রতিবেদনে জানানো হয়, নির্যাতনের অভিযোগ থেকে গা বাঁচাতে সাবেক এই মার্কিন প্রেসিডেন্ট হামলা এড়াতে বা আত্মরক্ষার্থে নির্যাতন করা হয়েছে বলে দাবি করছেন। সংস্থার পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্ট বুশ, তাঁর সরকারের ভাইস প্রেসিডেন্ট, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও সিআইএর প্রধানের বিরুদ্ধেও তদন্তের দাবি জানানো হয়।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের নির্বাহী পরিচালক কেনেথ রথ বলেন, বুশ, ডিক চেনি, ডোনাল্ড রামসফেল্ড ও জর্জ টেনেটের বিরুদ্ধে নির্যাতন এবং যুদ্ধাপরাধের অভিযোগের তদন্ত করার জোরালো ভিত্তি আছে। প্রেসিডেন্ট ওবামা এসব নির্যাতনকে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত না করে বাজে নীতি হিসেবে বিবেচনা করছেন।

সাগর ও আকাশপথে শক্তি বাড়াচ্ছে চীন

চীন কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তাদের প্রথম বিমানবাহী জাহাজের পরীক্ষা চালানো শুরু করতে পারে। একই সঙ্গে দেশটি স্যাটেলাইটের উন্নয়নও করছে। গতকাল মঙ্গলবার বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়।
চীন কয়েক বছর ধরে প্রতিরক্ষা শক্তি বাড়িয়েই চলছে। এর অংশ হিসেবে তারা পুরোনো অনেক সামরিক সরঞ্জাম সরিয়ে নতুন নতুন সরঞ্জাম সংযোজন করছে।
১৯৯৮ সালে ইউক্রেনের কাছ থেকে প্রথম বিমানবাহী জাহাজ কেনে চীন। রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত একটি সংবাদপত্রের প্রতিবেদনে বলা হয়, জাহাজটি প্রশিক্ষণের কাজে ব্যবহার করা হবে। তবে অনেকের ধারণা, অভিযানেও জাহাজটি ব্যবহার করা হবে।
সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের তৈরি বিমানবাহী জাহাজ ‘ভ্যারিয়াগ’ ভাসমান ক্যাসিনো হিসেবে ব্যবহারের কথা ছিল। নৌবাহিনীর আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে প্রেসিডেন্ট হু জিনতাও এই জাহাজটি নৌবাহিনীকে দেওয়ার নির্দেশ দেন।
চীনের সামরিক ও রাজনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, এই জাহাজটি চলতি বছরই অভিযানে অংশ নিতে কাজ শুরু করতে পারে। চীনের ক্ষমতাসীন দল কমিউনিস্ট পার্টির ৯০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এ উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।
ইংরেজি ভাষায় প্রকাশিত চায়না ডেইলি পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘বিমানবাহী জাহাজ ভ্যারিয়াগ প্রাথমিকভাবে পাইলট ও ক্রুদের প্রশিক্ষণের জন্য ব্যবহার করা হবে। চলতি মাসের শেষের দিকে বা আগামী মাসের প্রথম দিকে বা চলতি বছরের শেষের দিকে সম্ভবত জাহাজটির প্রাথমিক পরীক্ষা শুরু হবে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, কবে নাগাদ জাহাজটি কাজে ব্যবহার করা হবে বা এর ঘাঁটি কোথায় হবে, তা নিশ্চিত নয়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সাংহাইয়ে আরেকটি বিমানবাহী জাহাজ তৈরি করা হচ্ছে। তবে প্রতিবেদনে এ ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
চীন সম্প্রতি দক্ষিণ চীন সাগরে আগ্রাসী ভাব প্রদর্শন করে চলেছে। ওই এলাকার সীমানা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে গত কয়েক বছরে চীনের সঙ্গে তাইওয়ান ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কয়েকটি দেশের সঙ্গে তাদের তিক্ত সম্পর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
চীন একটি ক্ষেপণাস্ত্র নিয়েও কাজ করছে। ওয়াশিংটন একটি বিমানবাহী জাহাজ তাইওয়ানের পাশে মোতায়েন করতে পারে। চীনের ওই ক্ষেপণাস্ত্র ওই জাহাজের জন্য মারাত্মক হুমকি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সুইডেনে প্রত্যর্পণ আদেশের বিরুদ্ধে অ্যাসাঞ্জের আপিল

ধর্ষণের অভিযোগে সুইডেনে ফেরত পাঠানো-সংক্রান্ত আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন সাড়া জাগানো ওয়েবসাইট উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ। গতকাল মঙ্গলবার তিনি লন্ডন হাইকোর্টে উপস্থিত হয়ে এ আপিল করেন।
মঙ্গলবার ছাড়াও বুধবার হাইকোর্টের দুই বিচারপতির সমন্বয়ে গড়া বেঞ্চে অ্যাসাঞ্জের আপিলের ওপর শুনানি হবে। এরপর রায় ঘোষণা করা হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। অ্যাসাঞ্জ আভাস দিয়েছেন, আদালতের রায় তাঁর বিরুদ্ধে গেলে তিনি দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ে নামবেন। এ জন্য তিনি প্রস্তুত। বিষয়টি সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়াতে পারে।
অ্যাসাঞ্জের আইনজীবী গারেথ পিয়ার্সের কার্যালয় থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, একই দিনে সিদ্ধান্ত দেওয়া হাইকোর্টের পক্ষে অস্বাভাবিক হতে পারে। এটাই স্বাভাবিক যে আদালত লিখিত আদেশ দেবেন।
কঠিন শর্তে জামিনে রয়েছেন জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ। গত ডিসেম্বর থেকে পূর্ব ইংল্যান্ডে এক বন্ধুর বাড়িতে বাস করছেন তিনি।

নিউজ ইন্টারন্যাশনাল ‘চিহ্নিত অপরাধীদের’ ব্যবহার করেছে: ব্রাউন

যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউন অভিযোগ করেছেন, সদ্য বন্ধ হওয়া পত্রিকা নিউজ অব দ্য ওয়ার্ল্ড-এর স্বত্বাধিকারী প্রতিষ্ঠান নিউজ ইন্টারন্যাশনাল জনগণের ব্যক্তিগত তথ্য বের করার জন্য ‘চিহ্নিত অপরাধীদের’ ব্যবহার করত। তাদের সঙ্গে গোপন অপরাধী চক্রের প্রত্যক্ষ আঁতাত ছিল।
গর্ডন ব্রাউন আরও অভিযোগ করেন, ওই কোম্পানির পত্রিকা সানডে টাইমস প্রতারণাপূর্ণ কৌশলের মাধ্যমে তাঁর ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করে তাঁকে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে চ্যান্সেলর পদে নামিয়ে আনার চক্রান্ত করেছিল। বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ব্রাউন এসব অভিযোগ করেন।
নিউজ ইন্টারন্যাশনাল বলেছে, ব্রাউনের এসব অভিযোগ তারা তদন্ত করে দেখবে।
সানডে টাইমস এর আগে প্রথম পৃষ্ঠায় ছাপানো এক প্রতিবেদনে দাবি করেছিল, ব্রাউন চ্যান্সেলর থাকাকালে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে মিডিয়া ব্যবসায়ী রবার্ট ম্যাক্সওয়েলের কাছ থেকে ‘পানির দরে’ একটি ফ্ল্যাট কিনে নিয়েছিলেন। ওই প্রতিবেদন প্রকাশের কিছুদিন পর গার্ডিয়ান পত্রিকা বলেছিল, ব্রাউনের আইনজীবীর কাছ থেকে তাঁর ব্যক্তিগত ফাইল হাতিয়ে নেওয়ার জন্য সানডে টাইমস একজন ভাড়াটে তথ্য সংগ্রাহক নিয়োগ করে। পরে অন্য এক ঘটনায় সেই তথ্য সংগ্রাহকের জেল হয়।
ব্রাউন বলেন, সানডে টাইমস-এর ওই প্রতিবেদনের দাবি ‘পুরোপুরি ভুল’ ছিল। এ ধরনের প্রতিবেদন ছাপিয়ে পত্রিকাটি তাঁকে চ্যান্সেলর পদে নামিয়ে আনার চক্রান্ত করেছিল।
ব্রাউন বলেন, তাঁর ছেলে ফ্রাসারের দেহে সিসটিক ফাইব্রোসিস রোগ ধরা পড়ার পর তিনি ও তাঁর পরিবার সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে খবরটি চেপে গিয়েছিলেন।

উলফার একতরফা অস্ত্রবিরতি ঘোষণা

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামের বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী উলফা গতকাল মঙ্গলবার একতরফাভাবে অস্ত্রবিরতি ঘোষণা করেছে। সরকারের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনায় অংশ নিতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তারা এ অস্ত্রবিরতি ঘোষণা করে।
বিভিন্ন গণমাধ্যমে পাঠানো ই-মেইল বার্তায় উলফার চেয়ারম্যান অরবিন্দ রাজখোয়া বলেন, আসামের জনগণ চলমান সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধান চায়। তাদের সেই আকাঙ্ক্ষার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে উলফার জেনারেল কাউন্সিল সংঘাত বন্ধে ভারত সরকারের সঙ্গে আলোচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সঙ্গে উলফা অনির্দিষ্টকালের জন্য সব ধরনের সশস্ত্র অভিযান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি জানান, গত ২২ ফেব্রুয়ারি উলফার পঞ্চম জেনারেল কাউন্সিলের প্রস্তাব অনুযায়ী অস্ত্রবিরতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ই-মেইল বার্তায় আরও বলা হয়, উলফার সঙ্গে আলোচনায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পি চিদাম্বরম ও আসামের মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ অংশ নেবেন।
গত ডিসেম্বরে রাজখোয়াসহ উলফার কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় নেতাকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়। এর আগে সরকারের পক্ষে প্রধান আলোচক পি সি হালদারের সঙ্গে কয়েক দফা অনানুষ্ঠানিক আলোচনা হয় উলফার। চলতি বছরের শুরুর দিকে উলফার কয়েকজন প্রতিনিধি প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চিদাম্বরমের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
তবে উলফার কমান্ডার ইন চিফ পরেশ বড়ুয়া এই শান্তি আলোচনার বিরোধী। তিনি অন্তত ১০০ জন সশস্ত্র ক্যাডার নিয়ে চীন-ভারতের কোনো এক সীমান্তে লুকিয়ে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আসামের মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ উলফার অস্ত্রবিরতির ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি পরেশ বড়ুয়াকেও শান্তি প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। তবে পরেশ বড়ুয়ার প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তরুণ গগৈ বলেন, ‘পরেশ বড়ুয়ার জন্য আমরা অনির্দিষ্টকাল অপেক্ষা করব না। যদি তাঁর অংশ কোনো সমস্যা তৈরির চেষ্টা করে, তবে তা কঠোরভাবে দমন করা হবে।’
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সবচেয়ে বড় বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী উলফা ১৯৭৯ সাল থেকে আসামের স্বাধীনতার দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছে। ১৯৯০ সাল থেকে দাবি আদায়ে উলফা সক্রিয়ভাবে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ শুরু করে। একই সালে উলফার বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে ভারতের সেনাবাহিনী, যা এখনো চলছে। এই অভিযান ও উলফার সন্ত্রাসী কার্যকলাপে এ পর্যন্ত অন্তত ১৮ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। ২০০৯ সালের ৫ ডিসেম্বর উলফার চেয়ারম্যান রাজখোয়া গ্রেপ্তার হন। তিনি জামিনে মুক্ত হওয়ার পর উলফা কিছুটা নমনীয় হয়।

গুলিতে কারজাইয়ের ভাই নিহত তালেবানের দায় স্বীকার

আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাইয়ের ছোট ভাই আহমেদ ওয়ালি কারজাইকে গতকাল মঙ্গলবার গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। তালেবান এ হত্যাকাণ্ডের দায়িত্ব স্বীকার করেছে।
কান্দাহার প্রদেশের গভর্নরের মুখপাত্র জালমে আইয়ুবি বলেন, ‘আমি নিশ্চিত করছি যে আহমেদ ওয়ালিকে তাঁর কান্দাহারের বাড়িতে হত্যা করা হয়েছে।’ তিনি প্রাদেশিক পরিষদের প্রধান ছিলেন।
প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র ওয়াহেদ ওমর বিবিসিকে বলেন, প্রেসিডেন্টের সৎভাই আহমেদ ওয়ালি কারজাইকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। প্রাথমিক খবরে বলা হয়, আহমদ ওয়ালিকে কান্দাহারের বাড়িতে তাঁরই এক দেহরক্ষী গুলি করে হত্যা করে।
আফগান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সন্ত্রাসবাদবিরোধী বিভাগের প্রধান আবদুল গাফার সৈয়দজাদা বলেন, ওয়ালি কারজাইয়ের ঘনিষ্ঠজনদের কেউ এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে থাকতে পারে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে তিনি বলেন, ‘ওয়ালিকে তাঁর একজন দেহরক্ষী হত্যা করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বাইরের কেউ এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নয়।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কারজাই পরিবারের ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তি বলেন, বাড়িতে অতিথিদের আপ্যায়ন করার সময় এক দেহরক্ষী তাঁকে হত্যা করে। তবে একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, একজন অতিথি ওয়ালিকে গুলি করে হত্যা করেছে। আফগানিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা ‘ন্যাশনাল ডিরেক্টরেট অব সিকিউরিটি’র একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘বেলা সাড়ে ১১টার দিকে একজন অতিথি তাঁকে গুলি করে হত্যা করে। কোনো দেহরক্ষী তাঁকে হত্যা করেনি।’ ওই কর্মকর্তা জানান, দেহরক্ষীরা পরে ওই বন্দুকধারীকে হত্যা করেছে।
পারিবারিক বন্ধু আরও জানান, গুলিবর্ষণের ঘটনায় ওয়ালির আরও কয়েকজন অতিথি নিহত হন। এ ঘটনায় কতজন নিহত হয়েছেন, সে ব্যাপারে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
আফগানিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলের প্রভাবশালী ও বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব আহমদ ওয়ালির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ছিল। এ ছাড়া আফিম ব্যবসার সঙ্গেও তাঁর যোগাযোগ ছিল বলে অভিযোগ ছিল। তবে তিনি এসব অভিযোগ নাকচ করে দেন। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আফগানিস্তানে মোতায়েন আন্তর্জাতিক বাহিনী শোক প্রকাশ করেছে।
তালেবান এ হত্যাকাণ্ডের দায়িত্ব স্বীকার করেছে। এ ঘটনাকে এক দশকের যুদ্ধে বড় অর্জনগুলোর মধ্যে একটি হিসেবে অভিহিত করেছে তারা।
তালেবানের মুখপাত্র ইউসুফ আহমাদি বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, আহমদ ওয়ালিকে হত্যা করতে তাঁরা একজন বন্দুকধারী নিয়োগ করেন।

‘বড় কর্তাদের দোষ কেউ দেখে না’

ভারতের ট্রেনচালকেরা বলেছেন, দেশে ঘন ঘন ট্রেন দুর্ঘটনার জন্য অযথা তাঁদের দায়ী করা হয়। রেল ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা রাজনৈতিক ব্যক্তিদের কর্তব্যে অবহেলার বিষয়টি কেউ দেখে না।
ভারতে প্রতিদিন গড়ে এক কোটি ৮০ লাখ লোক রেল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে থাকেন। চালকদের অভিযোগ, দেশের রেল ব্যবস্থাপনা একসঙ্গে অনেক ঝুঁকির জটাজালে আবর্তিত। এর মধ্যে তাঁদের বিরামহীনভাবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাজ করে যাওয়ার ক্লান্তি রয়েছে; রয়েছে মৌলিক নিরাপত্তা সরঞ্জামের অভাব।
গত রোববার ভারতে দুটি পৃথক ট্রেন দুর্ঘটনায় ৬৯ জনের মৃত্যু হয়। আহত হয় প্রায় ২০০ জন যাত্রী। এর মধ্যে উত্তর প্রদেশে একটি ট্রেনের বেশ কয়েকটি বগি লাইনচ্যুত হয়। এ ছাড়া আসাম রাজ্যে রেললাইনে বিস্ফোরণের ঘটনায় অপর একটি ট্রেনের ১৩টি বগি লাইনচ্যুত হয়।
ভারতজুড়ে বিমানবন্দর অবকাঠামোর উন্নয়ন যখন তুঙ্গে, তখন দেশটির ব্রিটিশ আমলের রেলব্যবস্থা বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রায়ই হোঁচট খাচ্ছে। কয়েক দশক ধরে রেল খাতে বিনিয়োগ কমে যাওয়ায় পুরোনো রেল অবকাঠামোর তেমন কোনো উন্নয়ন হয়নি। এতে দিন দিন ট্রেনের গতি কমে যাচ্ছে। এই আধুনিক যুগেও হস্তচালিত ব্যবস্থার মাধ্যমে সংকেত নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। এ ছাড়া রেলপথের দুই পাশে নিরাপত্তাবেষ্টনী না থাকায় ট্রেনগুলো সহজেই জঙ্গিদের হামলার সহজ শিকার হচ্ছে।
অল ইন্ডিয়া লোকো রানিং স্টাফ অ্যাসোসিয়েশন (এআইএলআরএসএ) নামের একটি ইউনিয়নের কর্মী ও ট্রেনচালক কে পার্থসারথি বলেন, তিনি প্রতিদিন একটানা ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা ট্রেন চালান। তিনি বলেন, ‘এটা ক্লান্তিকর, বিশেষ করে যখন দ্রুতগামী ট্রেনে ঘন ঘন বিরতি পড়ে। এ সময় কয়েক সেকেন্ডের জন্যও যদি আমার চোখে তন্দ্রা আসে, তাহলে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।’
আহমেদাবাদের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্টের অধ্যাপক ও রেলওয়ে বিশেষজ্ঞ জি রাঘুরাম বলেন, দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে সরকারের উচিত আধুনিক নিরাপত্তা সরঞ্জাম কেনা এবং সংকেতব্যবস্থাকে যুগোপযোগী করা।

এই মেসি চাপও জিততে জানেন

২৪ বছরের এইটুকু কাঁধে কত বড় প্রত্যাশার পাহাড়! সবচেয়ে যে জিনিসটায় অনভ্যস্ত তিনি, সেই সমালোচনাও শুনতে হয়েছে। যে ছবিটা তাঁর কাছে একেবারেই অচেনা—শুনতে হয়েছে দর্শকদের দুয়ো। কিন্তু লিওনেল মেসি চাপে ভেঙে পড়েননি। হতাশার অন্ধকার থেকে তেড়েফুঁড়ে বেরিয়ে এসেছেন, মেঘের আড়াল থেকে যেভাবে বেরিয়ে আসে সূর্য।
কাল মেসির খেলা দেখে মুগ্ধ সবাই। সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ সার্জিও বাতিস্তা। কোচ হিসেবে খেলোয়াড়দের সবচেয়ে কাছে থেকে দেখেন। দেখেন বলেই জানেন, প্রতিটি সমালোচনা কীভাবে রক্তাক্ত করেছে মেসির হূদয়। বাইরে থেকে বালক বালক চেহারার মেসি ভেতরে ভেতরে এত শক্ত, সেটাও জানা হয়ে গেল বাতিস্তার।
কাল ম্যাচের পর বাতিস্তা বলেছেন, ‘ও দুর্দান্ত খেলল। এই ম্যাচের আগে আমরা দলগত আর খেলোয়াড়দের প্রত্যেকের মানসিক অবস্থা নিয়ে অনেক কথা বলেছি। আমাদের আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়া জরুরি ছিল। মেসিই দেখিয়ে দিল, এমন পরিস্থিতিতে কীভাবে ঘুরে দাঁড়াতে হয়। ও কখনোই হার মানতে চায় না।’
মেসি নিজে কী বলছেন? ‘এখন আমাদের জন্য অন্য এক কোপা শুরু হলো। আজ আমাদের যাঁরা সমর্থন দিয়েছেন তাঁদের প্রত্যেককে ধন্যবাদ জানাই। এত দিন আপনাদের এই ভালোবাসার অভাব আমরা তীব্রভাবে অনুভব করেছি। করডোবার (ম্যাচের ভেন্যু) মানুষের প্রতি আমি এবং আমরা কৃতজ্ঞ।’ সমালোচকদের দিয়েছেন ছোট্ট জবাব, ‘আর্জেন্টিনার ভালো আমাদের চেয়ে বেশি আর কেউই চায় না।’
বাতিস্তা আশাবাদী, এখন থেকে নতুন আর্জেন্টিনাকে দেখবে সবাই, ‘শুধু ব্যক্তিগতভাবেই নয়, দলগতভাবেও খেলোয়াড়েরা আসলে ভালো খেলেছে। কখনো কখনো সেটি ছিল দুর্দান্ত। প্রথম দুই ম্যাচে খুব ভালো খেলিনি আমরা। এ অবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে দলটা তাদের মানসিক শক্তি দেখিয়ে দিয়েছে। খেলোয়াড়দের সবার দৃষ্টিভঙ্গিও ছিল ইতিবাচক।’
চাপের মুখেই দলটা সেরা খেলা বের করে আনতে পেরেছে দেখেই কোচ সবচেয়ে খুশি, ‘আমরা সবাই জানতাম, এটা আমাদের জন্য ফাইনাল ম্যাচ। সৌভাগ্যবশত গোলও পেয়েছি আমরা। সেই মানের ফুটবল খেলেছি, যেটা আমরা খেলতে চাইছিলাম।’
সব মিলে ৩টি গোল করে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে গেছেন সার্জিও আগুয়েরো। তাঁর কথা, ‘এই জয়টা আমাদের ভীষণ দরকার ছিল। এটি আমরা দারুণ উপভোগ করছি। আমরা খুব, খুবই ভালো খেলেছি। আমরা গোলের দেখা পেয়েছি, যেটা আগের ম্যাচগুলোতেও পাওয়া উচিত ছিল। তবে সবচেয়ে বড় কথা, আমরা আজ দারুণ ফুটবল খেলেছি।’

গল্প- লঞ্চের আপার ক্লাসে বাচ্চা হাতি by মম হারুনর রশিদ

মুস্তফার কাঁধে পিআইএর বিমানের ছাপমারা একটি হলুদ পুরোনো রংচটা ছেঁড়া জিপারের ট্র্যাভেলিং ব্যাগ। সে দোলখোলার মোড়ে এসে রিকশা খুঁজতে থাকে। এখন বৃষ্টি নেই, আকাশ মেঘাচ্ছন্ন ও গুমোট। রাস্তাঘাট ভেজা, বিল্ডিংয়ের কার্নিশ ও দোকানগুলোর চাল থেকে ফোঁটা ফোঁটা বৃষ্টির জমে থাকা পানি পড়ছে। বৃষ্টির কারণে রিকশাচালকেরা ভাড়া হাঁকাচ্ছে দ্বিগুণ। একটি রিকশা দরদাম করে আইডব্লিউটিএ ঘাটের দিকে যেতে থাকে। পাওয়ার হাউসের মোড়ে এসে রিকশা আটকে যায়। যশোর রোড ধরে বিশাল মিছিল চলছে। হাজার হাজার শ্রমিক ছোট ছোট লাল পতাকা দুলিয়ে ও প্ল্যাকার্ড কাঁধে ছুটছে মিউনিসিপ্যাল পার্কের দিকে। তাদের স্লোগানে আকাশ-বাতাস মুখরিত।

গুরুপল্লির আশ্রমে ভর্তি না হয়েই by মুস্তাফা জামান আব্বাসী

গ্রামের মুসাফির বোলপুরে। অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে দেখছে ইতিহাসের পাতা থেকে বেরিয়ে আসা শান্তিনিকেতন। ক্ষিতিমোহন বাবু থাকতেন ‘দেহলী’-র পাশেই। তৈরি হচ্ছিল আরেকটি বাড়ি, যাতে কবিগুরুর স্ত্রী ও ছেলেমেয়েরা আশ্রমে এসে কবির সঙ্গেই বসবাস করতে পারেন। নাম তার ‘নতুন বাড়ি’। যেদিন গিয়ে উপস্থিত, সেদিন ‘দেহলী’-র সামনে দ্বারিকের দোতলার কাজ শুরু হয়েছে। বিশ্বভারতীর কলাভবনের পত্তন এখানেই। বিকেলবেলা খানিকটা বিশ্রাম নিয়ে যাই গুরুদেব সন্দর্শনে। মাঝখানের যে হল ঘরটি, সেখানেই কবি দর্শন দিতেন নতুন ছাত্রছাত্রী ও দুদিনের মুসাফিরদের।

মুক্তিযুদ্ধের ১০ বই by প্রথম আলো

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের অনন্য ইতিহাস নিয়ে রচিত হয়েছে অগণিত বই। এসব বইয়ে মুক্তিযুদ্ধ উপস্থাপিত হয়েছে নানাভাবে। এ বছর পূর্ণ হচ্ছে বাংলাদেশের স্বাধীনতার চার দশক। এ উপলক্ষে আমাদের বিশেষ আয়োজন মুক্তিযুদ্ধের ১০ বই
রুমির মায়ের দিনলিপি
এ জেড এম আবদুল আলী
একাত্তরের দিনগুলি: জাহানারা ইমাম \ জুন ২০০৫ \ সন্ধানী প্রকাশনী
শোককে শক্তিতে রূপান্তর করার কথা আমরা প্রায়ই বলে থাকি। একাত্তরের দিনগুলির লেখক জাহানারা ইমামের জীবনে এটি আমরা প্রত্যক্ষ করেছি।

মগ্নচৈতন্যের বর্ণময় অভিঘাত by সিলভিয়া নাজনীন

শিল্পের নান্দনিক ভূমিতে বিচরণের স্নিগ্ধ সকালে শিল্পী আবুল বার্ক আলভী বাঙালির শ্রেষ্ঠ সময় মুক্তিযুদ্ধ প্রত্যক্ষ করেছেন। দেশ, সমাজ ও জনমানুষের প্রতি তীব্র মমত্ববোধ ধারণ করে তিনি যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। মুক্তিযোদ্ধা শিল্পী আবুল বার্ক আলভী তাঁর শিল্পকর্মে সেই বিভীষিকাময় অভিজ্ঞতাকে ব্যক্ত না করে সবুজ-সুফলা দেশকে প্রতিনিয়ত মূর্ত করে চলেছেন। তাঁর অনুভূতির স্ফুরণ রেখা, রং, বুনট ও বিন্যাসে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তাঁর শিল্পচেতনায় মৃত্তিকা ও সবুজ প্রান্তর নিসর্গ বিমূর্ত প্রকাশবাদিতায় পরস্ফুটি হয়। বিধ্বংসী মনোভাবের বদলে স্নিগ্ধ প্রকৃতির অনুরণন নানা বিমূর্ত আঙ্গিকে বিন্যস্ত তাঁর চিত্রপটে।