Thursday, March 11, 2010

দল না পেয়ে ওদের অবসর

হকির বিশেষ দলবদলের জন্য তাঁরা এসেছিলেন ফেডারেশনে। কিন্তু দলবদল তো দূরের কথা, তাঁদের সঙ্গে দেখা করার জন্য কোনো ক্লাব কর্মকর্তার ছায়াও খুঁজে পাওয়া গেল না ফেডারেশনের বারান্দায়। তখনো তাঁরা অপেক্ষায়, কেউ না কেউ হয়তো আসবেন তাঁদের দলে নিতে। কিন্তু কোনো ক্লাব থেকে সাড়া না পেয়ে জাতীয় দল থেকে অবসরই নিয়ে ফেললেন পুলভুক্ত ছয় হকি খেলোয়াড় মশিউর রহমান (বিপ্লব), জাহিদ বিন তালিব (শুভ), খন্দকার হাসান, আবদুস সাজ্জাদ (জন), মোশারফ হোসেন (কুটি) ও রিমন কুমার ঘোষ।
জাতীয় দলের অধিনায়ক মশিউরের আক্ষেপ, ‘এভাবে চালিয়ে যাওয়া সম্ভব না। পুলের গ্যাঁড়াকলে পড়ে এখন পর্যন্ত কোনো দল পাইনি। আবাহনীর কাছ থেকে প্রস্তাব পেলেও চুক্তির অঙ্কটা আগের বছরের চেয়ে কম। তা ছাড়া আমি একা গেলে বাকিদের কী হবে? এসব ভেবেই আমরা সবাই অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলাম।’ পুলের খেলোয়াড়দের জন্য একটা কিছু ব্যবস্থা করা হবে—এমনই আশ্বাস দিয়েছিলেন ফেডারেশন সাধারণ সম্পাদক খোন্দকার জামিলউদ্দিন। কিন্তু তিনি কাল বললেন, ‘আমার কিছুই করার নেই।’ তবে আগামী বছর থেকে এই পুলপ্রথা তুলে দিতে চান তিনি, ‘আমি আগামী কার্যনির্বাহী সভায় প্রস্তাব তুলব ভবিষ্যতে যেন পুল না রাখা হয়। পুলের জটিলতায় পড়ে খেলোয়াড়দের জীবন নষ্ট হোক, সেটা আমি চাই না। ফেডারেশন সভাপতিকে রাজি করিয়েছি। আশা করছি আগামী মৌসুম থেকে পুলপ্রথা থাকবে না।’

শেয়ারবাজারে বড় দরপতন

দেশের শেয়ারবাজারে দরপতন অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে কমছে লেনদেনের পরিমাণও। আর এসব পতনের ধাক্কা সবচেয়ে বেশি লেগেছে তুলনামূলক ভালো মৌলভিত্তির কোম্পানির ওপর।
এভাবে বাজার পড়তে থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ গতকাল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে। এ সময় তারা এসইসি ও ডিএসইর বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকে।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) বিভিন্ন সময় নেওয়া পদক্ষেপের প্রভাবেই বাজার পড়ছে। কিন্তু এ ব্যাপারে এসইসি একেবারেই নির্বিকার। তারা অবিলম্বে সংকট উত্তরণের কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
বাজার পরিস্থিতি: ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গতকাল মঙ্গলবার লেনদেনের পরিমাণ চলতি বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। লেনদেন হয়েছে ৬২৯ কোটি টাকার শেয়ার। অর্থাত্ এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে স্টক এক্সচেঞ্জটির লেনদেন এক হাজার কোটি টাকার বেশি কমেছে।
ডিএসইতে গতকাল সাধারণ মূল্যসূচক ৮৬ পয়েন্ট কমে পাঁচ হাজার ৪০০ পয়েন্টে নেমে এসেছে। গত এক মাসে এটিই সর্বনিম্ন সূচক।
এদিন মিউচুয়াল ফান্ড ছাড়া কোনো খাতই তেমনভাবে দাঁড়াতে পারেনি। সব খাতের অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারের দাম কমেছে। ডিএসইতে গতকাল মোট ২৪৩টি কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এদের মধ্যে দাম বেড়েছে ৪৯টির, কমেছে ১৭৮টির দাম।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) গতকাল ১৬১ কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ৩৪টি কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে। কমেছে ১১৯টির দাম। চারটি কোম্পানির শেয়ারের দাম ছিল অপরিবর্তিত। সিএসইতে সার্বিক সূচক ১৬৯ দশমিক ১৪ পয়েন্ট কমে ১৫ হাজার ৭০৭ পয়েন্টে নেমে এসেছে। আর লেনদেন হয়েছে ৬৪ কোটি টাকার।

তিন বছরে ২৫ কোটি ডলারের মূলধন সংগ্রহ

২০২০ সালের মধ্যে বিশ্বের ১০০ কোটি সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দেওয়া ও পরিবেশের ক্ষতি প্রতিরোধে একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার করেছে টেকসই ব্যাংকগুলোর আন্তর্জাতিক জোট গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ব্যাংকিং অন ভ্যালুজ (জিএবিভি)।
এ লক্ষ্যে আগামী তিন বছরের মধ্যে ২৫ কোটি ডলারের নতুন মূলধন সংগ্রহের অঙ্গীকার ঘোষণা করেছে জোটটি। এই অর্থ জোটের বিশ্বব্যাপী পরিবেশবান্ধব প্রকল্প (গ্রিন প্রজেক্টস) ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জন্য ২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ক্লিনটন গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভে নেওয়া ২০০ কোটি ডলারের ঋণ বিতরণ কর্মসূচিতে স্থান পাবে।
জিএবিভির দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক সম্মেলন শেষে রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে গতকাল মঙ্গলবার এসব অঙ্গীকারের কথা জানানো হয়। এ সময় আরও বলা হয়, সমাজের যে জনগোষ্ঠী অর্থায়ন সুবিধা পায়নি, তাদের সে সুযোগ করে দেওয়ায় এ অঙ্গীকারের মূল লক্ষ্য। যাতে তারা টেকসই আর্থিক উন্নয়নের সুযোগ পায়।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন জিএবিভির সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ফজলে হাসান আবেদ, যুক্তরাজ্যের শোরব্যাংক করপোরেশনের প্রতিনিধি লরি জে স্পেঞ্জার, পেরুর মিবাঙ্কোর প্রতিনিধি লুইস ফিলিপ ডারকানো এবং ব্র্যাক ব্যাংকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ এ (রুমী) আলী।
ফজলে হাসান আবেদ বলেন, ‘সত্যিকারভাবে বিশ্বে শতকোটি মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে জেএবিভির প্রতিশ্রুতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে জলবায়ুর পরিবর্তন রোধের ব্যাপারেও এটি একটি ভিন্ন ধরনের উদ্যোগ।’ তিনি বলেন, নৈতিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে পরিচালিত টেকসই ব্যাংকগুলোর পক্ষে আগামী ১০ বছরে বিশ্বের প্রতি ছয়জন মানুষের মধ্যে অন্তত একজনের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটানো সম্ভব।
এক প্রশ্নের জবাবে ফজলে হাসান আবেদ বলেন, তাঁরা আশা করেন, বিশ্বে সত্যিকার অর্থেই নৈতিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়—এমন আদর্শের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ব্যাংক জিএবিভি জোটের সদস্য হবে। সেই সঙ্গে নতুন নতুন টেকসই ব্যাংকের আবির্ভাব ঘটবে। তাঁর ধারণা, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে জোটে ব্যাংকের সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়ে যাবে।
লুইস ফিলিপ বলেন, ‘টেকসই ব্যাংকগুলোর জন্য এখন অধিক পরিমাণে অর্থ সংগ্রহ ও বিনিয়োগ করা প্রয়োজন। যাতে আমরা ভবিষ্যতে এই অর্থ পরিপূর্ণ সম্ভাবনা ও মাত্রায় কাজে লাগাতে পারি। বিশ্বের জন্য এটি একটি অপরিহার্য প্রতিশ্রুতি।’
লরি জে স্পেঞ্জার বলেন, ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগকারী, বর্তমান একক গ্রাহক, প্রাতিষ্ঠানিক ও নতুন বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে এসব অর্থ সংগ্রহ করা হবে, যা ভবিষ্যতে বিশ্বব্যাপী সুবিধাবঞ্চিত মানুষকে জিএবিভির সেবা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যয় করা হবে বলে তিনি জানান।
এক প্রশ্নের জবাবে লরি জে স্পেঞ্জার বলেন, বর্তমানে বিশ্বের ২০টি দেশে এসব ব্যাংকের মোট ৭০ লাখ গ্রাহক রয়েছে। এ ছাড়া জিএবিভির সদস্য ব্যাংকগুলোর সম্মিলিত স্থিতিপত্রে রয়েছে এক হাজার ৪০০ কোটি ডলারেরও বেশি পরিমাণ অর্থ।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, জিএবিভির সদস্য ব্যাংকগুলো অব্যাহতভাবে লাভজনক অবস্থায় রয়েছে। এমনকি বৈশ্বিক অর্থনীতিতে সংকটের পরিস্থিতিতেও এসব ব্যাংকের দ্রুত বিকাশ ঘটেছে। বিশ্ব ব্যাংকিং খাতে তাদের কার্যক্রম খুবই দৃশ্যমান। কারণ, তারা যে মুনাফা অর্জন করে, তা আর্থিক খাত, জনগোষ্ঠী ও পরিবেশের স্বার্থে কাজে লাগায়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, জেএবিভির সম্মেলনে একযোগে কাজ করার মাধ্যমে টেকসই ব্যাংকিং ব্যবস্থার সম্প্রসারণের বিষয়ে জোর দেওয়া হয়েছে। এতে বিশ্বব্যাপী টেকসই ব্যাংকিংয়ের প্রভাব ছড়িয়ে দেওয়া, যৌথ উদ্যোগে মূলধন সংগ্রহ বাড়ানো ও একটি কাঠামো তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এর ফলে নতুন প্রজন্মের টেকসই ব্যাংকের প্রতিশ্রুতিশীল ব্যাংকাররা জিএবিভির লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারবে। এই জোটের সদস্য ব্যাংকগুলো এমন একটি ব্যবসায়িক মডেলের উন্নয়ন ঘটানোর পরিকল্পনা করছেন, যা বিশ্বের সবচেয়ে জরুরি সামাজিক ও পরিবেশবিষয়ক সমস্যাগুলোর সমাধানের বিষয়কে গুরুত্ব দেবে।
এর আগে গত ৬ মার্চ অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত জিএবিভির তিন দিনব্যাপী সম্মেলনের উদ্বোধন করেন। এতে বিশ্বের ১১টি শীর্ষস্থানীয় ব্যাংকের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বাংলাদেশে এ সম্মেলনের আয়োজক প্রতিষ্ঠান জোটটির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ব্র্যাক ব্যাংক।
জিএবিভি হচ্ছে বিশ্বের কিছু সফল ব্যাংকের সমন্বয়ে গঠিত একটি জোট, যারা পরিবেশ, কম সুবিধা পাওয়া ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠী এবং খাতগুলোর জন্য অধিকতর টেকসই ভবিষ্যত্ বিনির্মাণের লক্ষ্যে অর্থায়ন করে থাকে। নেদারল্যান্ডের রাজকুমারী প্রিন্সেস ম্যাক্সিমা ও ইউএনইপির নির্বাহী পরিচালক অ্যাচিম স্টেইনার ২০০৯ সালের মার্চে এই জোটের প্রতিষ্ঠা করেন।

মাতৃভাষা, বাংলাদেশ এবং একজন ইরানি by হানিফ ইয়াজদাই

আমি হানিফ ইয়াজদাই, একজন ইরানি। এ বছর একুশে ফেব্রুয়ারিতে তোমরা সবাই মিলে মাতৃভাষা দিবস উদ্যাপন করেছ। তোমরা আবৃত্তি করেছ রবি ঠাকুর, নজরুল, জসীমউদ্দীনের কবিতা। তোমরা খালি পায়ে জড়ো হয়ে ফুল দিয়ে সাজিয়েছ স্বাধীনতার বেদী শহীদ মিনার।
তোমরা শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় স্মরণ করেছ সেই সব বাঙালি তরুণ-তরুণীকে যারা জীবন দিয়েছিল তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে, মাতৃভাষায় কথা বলার দাবিতে। আজ ইরানের তরুণেরা সংগ্রাম করছে। আমাদের অনেক দূর যেতে হবে। কোনো বিদেশি শাসক আমাদের মায়ের কণ্ঠ রোধ করছে না। কিন্তু ইরান সরকার আমাদের চিন্তা-চেতনাকে জব্দ করে দিচ্ছে। প্রতিহত করছে সব ভিন্ন মত। তুমি যদি তোমার কথা বলতে না পারো, তবে মাতৃভাষায় কথা বলার কি কোনো মানে আছে?
গত ছয় মাস ধরে আমি অসহায়ভাবে দেখছি জনগণের ওপর ইরান সরকারের আচরন। ওরা রাস্তায় গুলি করছে আমার বন্ধু ছাত্রদের, বন্দী করে নির্যাতন করছে সংবাদকর্মী ও মানবাধিকারের কর্মীদের। সম্প্রতি সরকার ‘আল্লার শত্রু’ ঘোষণা করে ফাঁসি দিয়েছে মোহাম্মদ রেজা আলী জামালি (৩৭) ও রাহমানিপৌরকে (২০)। তাঁদের বিচার করা হয়েছে গোপনে। এমনকি তাঁদের কোনো আইনজীবী নিয়োগ করতে দেওয়া হয়নি।
ড. ইবরাহিম ইয়াজদাই আমার দাদা। ৭৮ বছরের এই বৃদ্ধ সরকারের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তাঁর অহিংস লেখালেখি ও বক্তৃতার জন্য গত ২৮ ডিসেম্বর তেহরানের বাসা থেকে দ্বিতীয়বারের মতো গ্রেপ্তার হয়েছেন। তিনি এবং আরও শত শত বন্দী এখন ইভিন কারাগারে। এটা আমেরিকার গুয়ানতানামো কারাগারের ইরানি সংস্করণ ছাড়া আর কিছুই না।
গত গ্রীষ্মে বাংলাদেশে ছিলাম। ঠিক সেই সময় আমাদের নির্বাচনের নাটকগুলো প্রকাশিত হতে শুরু করে। আমার নিজেকে চরম অসহায়, হতাশ, ক্ষুব্ধ ও একা মনে হচ্ছিল। আমি দেশ থেকে অনেক দূরে, জাতির এক ঐতিহাসিক ক্রান্তিকালে। আমার ভেতরে বাংলাদেশ থেকেই কিছু একটা করার প্রচণ্ড উত্তেজনা। তখনো বাংলাদেশের স্বাধীনতার সংগ্রাম এবং গত ৩০ বছরের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের সংগ্রামের ইতিহাস কিছুই আমি জানি না। একদিন শহীদ মিনারের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় দেখলাম ব্যানার, ফেস্টুন নিয়ে শহীদ মিনার জুড়ে এক দল তরুণ। আমি তাদের কাছে জানতে চেয়েছিলাম তারা কারা। ‘আমরা কারখানার শ্রমিক, আমাদের অধিকারের দাবি জানাচ্ছি’। আমার খারাপ লাগছিল এবং তখনই এই ভেবে বিস্মিত হয়েছিলাম, ইরানে ঠিক এ ধরনের একটা প্রতিবাদে কীভাবে কাঁদানে গ্যাস ছোড়া ও লাঠিচার্জ করা হয়।
আমার এক বন্ধুর সঙ্গে পরের দিন রাতে জাতীয় সংসদ ভবনে যাই। তখন বাজেট বিতর্ক চলছিল। আমি ভিরমি খেয়েছিলাম সংসদে নারী সদস্যদের সংখ্যা দেখে। তাঁদের অনেক হিজাব ব্যবহার করছেন, অনেকে করছেন না। সবচেয়ে বিস্ময়কর তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান—পররাষ্ট্রমন্ত্রী থেকে প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং!
আমি অবাক হয়ে ভাবছিলাম, এমন একদিন আসবে যখন কোনো এক ইরানি বোন আমার সরকার পরিচালনা করবেন, অন্তত দেশের বাইরে আমাদের প্রতিনিধিত্ব করবেন। আমি সেই দিনের কথা ভাবছিলাম, যখন ইরানি নারী গ্রেপ্তারের ভয় ও নির্যাতন ছাড়াই তাদের অধিকারের জন্য আন্দোলন করবে। আমি ভাবছিলাম শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী বোন শিরিন এবাদির কথা। তিনি এখন কারাগারে বন্দী, সরকার এবাদিকে বাধ্য করছে তাঁর কার্যক্রম বন্ধ করার জন্য।
পরের সপ্তাহে আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘুরে বেড়ালাম। দেখলাম, তাদের ভাস্কর্য। ওগুলোতে কোনো মহান নেতা বা পরাক্রমশালী কারও জয়গান নয়, সংগ্রামী ছাত্র ও সাধারণ মানুষের প্রতিকৃতি। সমৃদ্ধ বাংলাদেশ, ব্যক্তিস্বাধীনতা এবং সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে যাঁরা জীবন দিয়েছিলেন। আমি ওইসব ভাস্কর্যের মুখে দেখতে পাই রাস্তায় নিহত নেদার মুখচ্ছবি, গ্রেপ্তার হওয়ার পরে হারিয়ে যাওয়া সোহরাবকে। আমি দেখেছিলাম মুক্তিবাহিনীর এক প্রতিকৃতির বুকে লেখা রয়েছে— ‘গণতন্ত্র মুক্তি পাক’। আর কত কাল আমাদের কণ্ঠ ইরানে বন্দী থাকবে?
অল্প কয়েকদিন পর ইরানে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে নির্মম আচরণের প্রতিবাদে জাতীয় জাদুঘরের সামনে এক স্বতঃস্ফূর্ত সমাবেশে জড়ো হয়েছিল ছাত্র, মানবাধিকারকর্মী ও বাংলাদেশের সচেতন মানুষ। তারা এটা করেছিল কোনো অনুমোদন ছাড়া, কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে ও কোনো ধরনের ঝামেলা ছাড়াই। ওই দিন আমার বাংলাদেশের ভাইবোনদের পাশে দাঁড়িয়ে ভাবছিলাম, আমাদের ভাগ্য কতটা ভিন্ন হতো যদি এই শান্তিপূর্ণ সমাবেশটা তেহরান জাতীয় জাদুঘরের সামনে হতো। আমার মনের মধ্যে একটা ছবি ভেসে উঠেছিল, জীবন বাঁচাতে ছুটে চলা আহত ছাত্রদের আর্তনাদ উপেক্ষা করে লাঠি, ছুরি নিয়ে সশস্ত্র বাসিজ মিলিশিয়ারা কাঁদানে গ্যাসের ধোঁয়ার মধ্যে আমাদের ধাওয়া করছে। দুঃশাসন ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে বাঙালি জাতির সংগ্রামের ইতিহাস কয়েক শ বছরের। এটাই উপযুক্ত সময় আমার ইরানের ভাইবোনদের কাছে বাংলাদেশের নারী-পুরুষ, সাধারণ মানুষের সংগ্রামের দৃষ্টান্তগুলো তুলে ধরার। আমি জাতীয় সংসদ ভবনের ভেতরে বসে মুক্ত ইরানের স্বপ্ন দেখছিলাম। আমি ইরানের স্বপ্ন দেখছিলাম যেখানে একজন নারী বসতে পারবেন দেশের সর্বোচ্চ অফিসে, থাকবে না কোনো উপাস্য, কোনো একনায়ক, মুদ্রা বা দেয়াল জুড়ে থাকবে না কোনো প্রতিকৃতি এবং বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মাণ হবে না কোনো মাজার। খোমেনি খুব সাধারণ জীবনযাপন কবরতেন। কিন্তু মৃত্যুর পরে একজন রাজার সঙ্গে তার খুব সামান্যই পার্থক্য করা যায়। আমি চমত্কৃত হয়েছিলাম বঙ্গবন্ধুর সাধারণ বাড়ি, শহীদ মিনারের ছোট আকৃতি সত্ত্বেও এগুলোর মহত্ত্ব ও গুরুত্ব দেখে। বাংলাদেশ ছোট, মার্জিত ও ভালোবাসায় পরিপূর্ণ।
আমি তোমাদের লিখছি আমাদের পাশে দাড়ানোর জন্য। আমি তোমাদের অনুরোধ করছি ইতিহাস সৃষ্টি করতে। তোমরা ইরানের নারী পুরুষদের জানিয়ে দাও তারা একা নয়। তোমার চিন্তার চেয়ে অনেক দুর যাবে তোমাদের প্রতিবাদ।
হানিফ ইয়াজদাই: একজন ইরানি ছাত্র।

শিক্ষককে তালা - ছাত্রলীগের লাগাম টেনে ধরুন

ক্ষমতাসীন দলের আশীর্বাদপুষ্ট বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা একের পর এক জবরদস্তির নজির স্থাপন করে চলেছেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের এক নেত্রীকে প্রভাষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করতে এক শিক্ষককে তাঁরা তালাবদ্ধ করে একটি কক্ষে আটকে রেখেছিলেন। শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস-আশ্রিত ছাত্র-সংগঠনের নেতা-কর্মীদের হাতে এ ধরনের ঘটনা আগেও বহুবার ঘটেছে। নতুন বছরের শুরুতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষককে তাঁদের হাতে প্রহূতও হতে দেখা গেছে। আর প্রতিনিয়ত ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের চাঁদাবাজি-টেন্ডারবাজি-দখলবাজি-মারপিট-ভাঙচুরের সংবাদ ছাপা হচ্ছে।
গত সোমবারের প্রথম আলোর এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়টির সমাজতত্ত্ব বিভাগের প্রভাষক পদে ছাত্রলীগের নেত্রী মুন্সী তানিয়া আফরারকে নিয়োগ দিতে বাধ্য করার কৌশল হিসেবে সংগঠনটির নেতা-কর্মীরা শিক্ষক হাসানুজ্জামান চৌধুরীকে তালা মেরে আটকে রাখেন। ছাত্রলীগের দাবি, তাঁরা অযোগ্য প্রার্থী নির্বাচনের প্রতিবাদ জানিয়েছেন। সেই নেত্রীকে নিয়োগ দেওয়া না হলে ক্যাম্পাস অচল করে দেওয়ার হুমকিও তাঁরা দিয়েছেন। তাঁদের এই ক্ষমতা পেশিশক্তির এবং এর উত্স সরকারে আসীন রাজনৈতিক দলের আশ্রয়-প্রশ্রয়।
নির্বাচক কমিটির কোনো সিদ্ধান্ত বা নির্বাচন-প্রক্রিয়া নিয়ে কারও কোনো অসন্তোষ থাকলে নিয়মতান্ত্রিক পথে এর প্রতিবাদ জানানোর সুযোগ আছে। কিন্তু পেশিশক্তি ব্যবহার করে, ভয় দেখিয়ে নিজেদের পক্ষে সিদ্ধান্ত নিয়ে আসার চেষ্টা আমাদের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী। এ রকম অনিয়মতান্ত্রিক পন্থা প্রতিবাদ জানানোর পথ হতে পারে না। এমন আচরণ বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকাণ্ডে নগ্ন হস্তক্ষেপের শামিল। তাই এ ব্যাপারে দায়িত্বশীল প্রতিটি রাজনৈতিক দলের সতর্ক হওয়া দরকার।
শিক্ষাঙ্গনের অশান্ত অবস্থা নিয়ে দেশের প্রধানমন্ত্রী নানা সময়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানালেও দখলদারি-মানসিকতার রাজনৈতিক আচরণ প্রতিকারে কার্যকর পদক্ষেপ খুব একটা দেখা যায়নি। এটা শুধু দুঃখজনকই নয়, হতাশারও। প্রশাসনকে নির্ভয়ে ও হস্তক্ষেপমুক্তভাবে কাজ করতে দিলে এসব লাগামহীন আচরণের প্রতিকার পাওয়া যেতে পারে। আমরা ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের এই উচ্ছৃঙ্খল আচরণের নিন্দা জানাই এবং দোষী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করি।

শেয়ারবাজারে অশুভ-সংকেত

দেশের শেয়ারবাজারকে ঘিরে যেসব কর্মকাণ্ড জোরদার হয়ে উঠছে, তাতে এই বাজারের ভবিষ্যত্ নিয়ে গভীরভাবে চিন্তাভাবনার প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। গত কয়েক দিনে শেয়ারবাজার-সংক্রান্ত যেসব খবর প্রথম আলোসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, সেসব নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করলেই এর প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হয়। বোঝা যায়, বাজারের কিছু ঘটনা ও প্রবণতা গোটা বাজার সম্পর্কেই অশুভ-সংকেত দিচ্ছে।
একদিকে নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) অদক্ষ ও অপ্রতুল তদারকি, অন্যদিকে বিভিন্ন জুয়াবাজি-কারসাজি চক্রের সক্রিয়তা পুরো বাজারকে দীর্ঘমেয়াদি বিপদের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। পরিণতিতে একটা পর্যায়ে গিয়ে বাজারে আকস্মিকভাবে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটে হাজার হাজার মানুষ সর্বস্বান্ত হতে পারে। যে মূলধন বিনিয়োগ করে তারা কিছু লাভের প্রত্যাশায় এই বাজারমুখী হয়েছিল, তার প্রায় সবটাই খোয়া যেতে পারে।
গত কিছুদিনের শেয়ারবাজারের গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বাজারের বিভিন্ন শেয়ারকে কৃত্রিমভাবে ফুলিয়ে বিনিয়োগকারীদের প্রলুব্ধ করা হচ্ছে। কোনো প্রতিষ্ঠানের বাস্তব অবস্থা যা-ই থাকুক, ওয়েবসাইটসহ বিভিন্ন মাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে শেয়ার কিনতে প্রভাবিত করা হচ্ছে। অবস্থাটা এমন জায়গায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে, যেন মনে হয়, শেয়ারবাজার মানেই টাকা বানানোর অবারিত সুযোগ। জনমনে ধারণা দেওয়া হচ্ছে, চিন্তাভাবনা করে দীর্ঘ মেয়াদে বিনিয়োগ করা নয়, অল্প সময়ে বেচাকেনা করে দ্রুত মুনাফা তুলে নেওয়াই এখানে মুখ্য। এ ধরনের মিথ্যা প্রলোভন ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ীদের বিভ্রান্ত করে ফেলেছে। তাঁরা অনেকেই বুঝে উঠতে পারছেন না যে বাজারে সব সময় সব শেয়ারের দাম বাড়বে না বরং কমবেও। এবং কিছু শেয়ারের দাম যতটা অস্বাভাবিক দ্রুত হারে বেড়েছে, সেগুলো যদি ততটা দ্রুত হারে কমে, তাহলে অনেককেই বড় লোকসান
গুনতে হবে।
এ রকম একটা পরিস্থিতিতেও বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা এসইসির কর্মকাণ্ড দেখলে মনে হয়, বাজারকে স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল রাখার বিষয়ে তাদের তেমন কোনো আগ্রহ নেই। সরাসরি কোনো প্রতিষ্ঠানকে তালিকাভুক্ত না করার সিদ্ধান্ত থেকে পক্ষপাতদুষ্টভাবে সরে আসা, সব শেয়ারের অভিহিত মূল্য ১০০ টাকায় রূপান্তরের সিদ্ধান্ত গ্রহণ, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের পর্ষদ নির্বাচনে সরকারদলীয় প্রার্থীদের অবাধ সুযোগ করে দিতে অযৌক্তিক হস্তক্ষেপের মতো সব কর্মকাণ্ড এ সংস্থাটির গ্রহণযোগ্যতা তলানির দিকে নিয়ে গেছে।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, সরকারের উচ্চপর্যায় থেকেও শেয়ারবাজারের এই বিপজ্জনক বিষয়গুলো নিয়ে কোনোই ভাবান্তর নেই। এই সরকার ক্ষমতায় আসার প্রায় দেড় বছর হয়ে যাচ্ছে, ছিয়ানব্বইয়ের শেয়ার-কেলেংকারি মামলা নিষ্পত্তির কোনোই পদক্ষেপ নেয়নি। বরং রাজনৈতিক মদদে শেয়ার মামলার একাধিক আসামি এখন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে কর্তৃত্ব করছেন। গোটা শেয়ারবাজারকে বিভিন্নভাবে প্রভাবিত করছে। সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে এ বিষয়ে দ্রুত নজর দিয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে শেয়ারবাজার শেষ পর্যন্ত অনেক বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে। হয়ে যেতে পারে দেশের আর্থসামাজিক অবস্থার জন্য বিরাট ক্ষতি।

পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টা জোরদার করা হবে: উত্তর কোরিয়া

উত্তর কোরিয়া গতকাল মঙ্গলবার বলেছে, তারা পরমাণু অস্ত্র তৈরির ক্ষমতা অর্জনের চেষ্টা আরও জোরদার করবে।
দেশটি আরও বলেছে, তাদের শান্তির আহ্বান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা আমলে না নিয়ে উল্টো সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে দমানোর ব্যাপারেই বদ্ধপরিকর।
যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাবাহিনী প্রায় ৪০ হাজার সৈন্যের অংশগ্রহণে যৌথ সামরিক মহড়া শুরু করায় উত্তর কোরিয়া সামরিক সতর্কতার এই ঘোষণা দেয়।
উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এভাবে চলতে থাকলে উত্তর কোরিয়া তার পরমাণু শক্তি অর্জনের চেষ্টা আরও জোরদার করবে

ব্যাংককে অভিবাসী শ্রমিকেরা বিক্ষোভে অংশ নিলে জেল-জরিমানা

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে আগামী রোববারের সরকারবিরোধী সমাবেশে অংশগ্রহণের ব্যাপারে অভিবাসী শ্রমিকদের সতর্ক করে দিয়েছে সরকার। মঙ্গলবার শ্রম মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে, অভিবাসী শ্রমিকেরা ওই সমাবেশে অংশ নিলে তাঁদের জেল ও মোটা অঙ্কের টাকা জরিমানা করা হবে। খবর এএফপির।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রার সমর্থকেরা রোববার ব্যাংককে বিশাল সমাবেশের ডাক দিয়েছে। সরকার বলেছে, ওই সমাবেশে অভিবাসী শ্রমিকেরা যোগ দিলে তাঁদের প্রত্যেককে পাঁচ বছর জেল ও এক লাখ বাথ (তিন হাজার ১০০ ডলার) জরিমানা করা হবে। শ্রমমন্ত্রী পাইতুন কায়েথং বলেছেন, নিয়োগকর্তাদেরও ছাড়া হবে না। তাদের ওয়ার্ক পারমিট বাতিল ও শ্রমিকপ্রতি এক লাখ বাথ জরিমানা করা হবে।
লাল জামা পরে থাকসিনের সমর্থকেরা বিক্ষোভ করবেন। দুই সপ্তাহ আগে সুপ্রিম কোর্ট থাকসিনের অধিকাংশ সম্পদ বাজেয়াপ্ত করেন। এর প্রতিবাদেই মূলত ওই বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছে।

অনশন ভঙ্গ করেছেন শরৎ ফনসেকা

ফোনে মেয়ের সঙ্গে কথা বলার অনুমতি দেওয়ায় অনশন ভেঙেছেন শ্রীলঙ্কার সাবেক সেনাপ্রধান ও পরাজিত প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী শরৎ ফনসেকা। টেলিফোন সুবিধা না দেওয়ায় নৌবাহিনীর একটি বন্দিশিবিরে আটক ফনসেকা গত রোববার অনশন শুরু করেছিলেন। তাঁর দলীয় সূত্র গতকাল মঙ্গলবার এ কথা জানায়।
যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়নরত তাঁর দুই মেয়ের সঙ্গে এত দিন যে মোবাইল ফোনে কথা বলতেন, সেটির সংযোগ হঠাৎ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ায় অনশন শুরু করেছিলেন ফনসেকা।
গত জানুয়ারিতে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মাহিন্দা রাজাপক্ষের কাছে পরাজিত হওয়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে সরকারকে অস্থিতিশীল করে তোলার অভিযোগ ওঠে। নির্বাচনের দুই সপ্তাহ পর ৮ ফেব্রুয়ারি তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ফনসেকার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা না হলেও একজন সামরিক মুখপাত্র সোমবার সাংবাদিকদের বলেন, তদন্তকারীরা তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের পক্ষে তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহের কাজ শেষ করেছেন।

ইসরায়েল-ফিলিস্তিন পরোক্ষ আলোচনা

এক বছরের বেশি সময় পর প্রথম পরোক্ষ বৈঠক করেছে ফিলিস্তিন ও ইসরায়েল। ওয়াশিংটনে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ফিলিপ ক্রাউলি এ খবর নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত জর্জ মিশেলের মধ্যস্থতায় গত সোমবার এই পরোক্ষ বৈঠক হয়।
ক্রাউলি বলেন, আলোচনা কতটুকু ফলপ্রসূ হলো তা জানাতে সোমবারই মধ্যপ্রাচ্য থেকে ওয়াশিংটনে ফিরেছেন মিশেল। তিনি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনের কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। গত বছর গাজায় ২২ দিনের ইসরায়েলি অভিযানের পর দুই দেশের মধ্যে সব ধরনের আলোচনা বন্ধ হয়ে যায়।
এদিকে ইসরায়েল সরকার অধিকৃত পশ্চিম তীর এলাকায় বেইতার ইলিত প্রকল্পের আওতায় নতুন ১১২টি ভবন নির্মাণের অনুমতি দেওয়ায় ক্ষোভ জানিয়েছে ফিলিস্তিনি পক্ষ। এ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কিছুটা বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েন ফিলিপ ক্রাউলি। তিনি বলেন, ‘আবাসন প্রকল্পটি নিয়ে ইসরায়েলি পক্ষের সঙ্গে আমাদের আলোচনা হয়েছে। তারা জানিয়েছে, সাময়িক স্থগিতাদেশ ঘোষণার আগে ওই প্রকল্পটির কাজ শুরু হয়েছিল। ভবনগুলো ওই প্রকল্পের অংশ। নতুন করে বসতি স্থাপন কার্যক্রম চালানো হচ্ছে না।’
এক সফরে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ওই অঞ্চলে পৌঁছালে নতুন এই ভবন নির্মাণের অনুমতি দেওয়ার খবর প্রকাশ পায়। গত নভেম্বরে ইসরায়েল সরকার অধিকৃত এলাকায় আংশিকভাবে বসতি স্থাপন কার্যক্রমে স্থগিতাদেশ জারি করে।
এ ব্যাপারে ইসরায়েলে পরিবেশবিষয়ক মন্ত্রী গিলাদ এরদান বলেন, ‘গত বছরের শেষে সরকার বসতি স্থাপন কার্যক্রমে স্থগিতাদেশ জারি করে। তবে ১১২টি ভবন নির্মাণের অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। কারণ ওই স্থগিতাদেশ জারির আগেই এই প্রকল্পটি শুরু করা হয়েছিল।’
পশ্চিম তীরে মার্কিন দূত মিশেল ও ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের মধ্যে বৈঠক শেষে প্রধান ফিলিস্তিনি মধ্যস্থতাকারী সায়েব এরাকাত বলেন, ‘প্রেসিডেন্টের আলোচ্য সূচিতে এটাই (ভবন নির্মাণের অনুমতি) ছিল প্রথম বিষয়। প্রেসিডেন্ট বলেছেন, এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।’
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর অবশ্য ইসরায়েলের এই পদক্ষেপকে সমর্থন জানিয়েছে। মুখপাত্র ক্রাউলি বলেন, ‘আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে দুই পক্ষকেই পারস্পরিক স্বার্থের বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। দুই পক্ষেরই উচিত এমন কোনো পদক্ষেপ না নেওয়া, যা আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে বাধা তৈরি করে।’
সায়েব এরাকাত জানান, আনুষ্ঠানিক আলোচনা এখনো শুরু হয়নি। জর্জ মিশেল যুক্তরাষ্ট্র থেকে আবার আসার পর এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হবে। আগামী ১৬ মার্চ মিশেলের আবার মধ্যপ্রাচ্যে যাওয়ার কথা।
সোমবার ইসরায়েল ঘোষণা করেছে, তারা জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রধান ক্যাথেরিন অ্যাশটনকে গাজা পরিদর্শনের অনুমতি দেবে। গত বছরের সেনা অভিযানের পর থেকে গাজার ওপর কঠোর অবরোধ আরোপ করে রেখেছে ইসরায়েলি সরকার।

নাইজেরিয়ায় দাঙ্গায় নিহতদের গণকবর দেওয়া হলো

নাইজেরিয়ার মধ্যাঞ্চলে রোববারের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় নিহত ব্যক্তিদের গণকবর দেওয়া হয়েছে। দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় প্লাতেউ প্রদেশের রাজধানী জোস শহরে গত সোমবার তাদের কবর দেওয়া হয়। এদিকে সহিংসতা দমনে জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুনের আহ্বানের পরপরই সন্দেহজনক ১৯ হামলাকারীকে গ্রেপ্তার করেছে নাইজেরিয়ার পুলিশ।
গত জানুয়ারিতে একটি গরু চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুসলমানদের ওপর খ্রিষ্টানদের হামলায় শতাধিক মুসলমান নিহত হয়। ওই ঘটনার জের ধরে খ্রিষ্টানদের ওপর রোববারের এই হামলা চালায় মুসলমানেরা।
গ্রামবাসী জানায়, স্থানীয় সময় রোববার ভোররাত তিনটার দিকে ফিলানি সম্প্রদায়ভুক্ত মুসলমানরা আশপাশের পাহাড় থেকে খ্রিষ্টান অধ্যুষিত দোগো নাহাওয়া গ্রামে হামলা চালায়। তারা দলবেঁধে মশাল ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে গ্রামবাসীর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে হত্যাযজ্ঞ চালায়। এতে পাঁচ শতাধিক মানুষ নিহত হয়।
নাইজেরিয়ার পুলিশ জানিয়েছে, সহিংসতা দমনে জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুনের আহ্বানের পরপরই তারা সন্দেহজনক ১৯ হামলাকারীকে গ্রেপ্তার করেছে।
রাজধানী আবুজার ৩৫০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্ব দিকে জোস শহরের অবস্থান। জানুয়ারির দাঙ্গাসহ গত কয়েক বছরের সহিংসতায় শত শত মানুষ নিহত হয়েছে।
নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করে দাঙ্গাকারীদের শান্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন নাইজেরিয়ার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট গুডলাক জোনাথন। সেই সঙ্গে তিনি সহিংসতা দমনে শহরে সেনা মোতায়েনেরও নির্দেশ দিয়েছেন।

জাকার্তায় বন্দুকযুদ্ধে জঙ্গিনেতা দুলমাতিন নিহত

ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় গতকাল মঙ্গলবার দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে এক জঙ্গি নিহত হয়েছেন। নিরাপত্তা বাহিনী তাঁকে জেমাহ ইসলামিয়ার (জেআই) অন্যতম জ্যেষ্ঠ নেতা দুলমাতিন বলে দাবি করেছে। এএফপি ও বিবিসি।
প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে স্থানীয় টেলিভিশন জানায়, জাকার্তার পশ্চিমে পামুলাং শহরের একটি দোতলা মার্কেটে বেলা ১১টার দিকে পুলিশ অভিযান চালায়। এ সময় গুলির শব্দ শোনা যায়। পরে একজনকে অ্যাম্বুলেন্সে করে নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনাস্থল থেকে গ্রেপ্তার করা হয় অপর দুজনকে।
সন্ত্রাস-দমন পুলিশের প্রধান টিটো কারনাভিয়ান সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা নিশ্চিত, নিহত ব্যক্তি আচেহ প্রদেশে তত্পর জঙ্গি সংগঠনের সদস্য।’ তবে এ ব্যাপারে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।
পুলিশের একটি সূত্র দাবি করেছে, নিহত ব্যক্তি জঙ্গি সংগঠন জেমাহ ইসলামিয়ার অন্যতম জ্যেষ্ঠ নেতা দুলমাতিন। তিনি নিরাপত্তা বাহিনীর ‘মোস্ট ওয়ান্টেট’ তালিকায় ছিলেন।
নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ের সন্ত্রাস দমন বিভাগের প্রধান আনসাঈদ এমবাই বলেন, ‘দুলমাতিন সত্যিই নিহত হয়ে থাকলে এটা খুব ভালো খবর। আমাদের জন্য স্বস্তির বিষয়।’
দুলমাতিনের বিরুদ্ধে ২০০২ সালে ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপে ভয়াবহ বোমা হামলার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ আছে। ওই হামলায় বিদেশি পর্যটকসহ ২০২ ব্যক্তি নিহত হন।

স্কুলে যেতে শুরু করেছে চিলির শিশুরা

দক্ষিণ আমেরিকার দেশ চিলিতে ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর শিশুরা স্কুলে যেতে শুরু করেছে। গত কয়েক দিনের দুঃসহ স্মৃতি পেছনে ফেলে পুরোনো বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দে মেতে উঠেছে তারা। এদিকে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা ৪৯৭ জনে পৌঁছেছে। টাইমস অব ইন্ডিয়া।
রাজধানী সান্তিয়াগোতে সাবকেসিয়াক্স জুনিয়র হাইস্কুলে ছেলেকে নামিয়ে দিয়ে এক মা জানালেন, শিশুরা স্কুলে যেতে শুরু করেছে, এটা খুব ভালো বিষয়। তাদের মনোযোগ পড়াশোনার দিকেই ফেরানো উচিত। স্কুলে প্রবেশের আগে এক বালক জানায়, ভূমিকম্পের সময় সে প্রচণ্ড ভয় পেয়েছিল। বন্ধুদের কথা তার খুব বেশি মনে পড়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী মনিকা জিমেনেজ বলেন, ভয়াবহ এ দুর্যোগের পর শিশুদের ভালোবাসা ও আন্তরিকতার সঙ্গে বিদ্যালয়ে গ্রহণ করার জন্য শিক্ষকদের বলে দেওয়া হয়েছে। তাদের শেখানোর জন্য শিক্ষকদের অনেক বেশি আন্তরিক হতে হবে। সাবকেসিয়াক্স স্কুল পরিদর্শনের পর শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রায় ৮০ শতাংশ শিক্ষার্থী ক্লাসে উপস্থিত হয়েছে, যা খুব ইতিবাচক। আর যেসব স্কুল এখনো খোলা হয়নি, তাদের সময় দেওয়া হচ্ছে।
সান্তিয়াগোর মেয়র পাবলো জালাকুয়েট একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে জানান, ভূমিকম্পে অনেক বিদ্যালয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ব্যবহারের অনুপযোগী হওয়ায় বিদ্যালয়ের কার্যক্রম বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তর করা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে কয়েক সপ্তাহের জন্য শিক্ষা কার্যক্রম চালানো হবে। তবে প্রয়োজনে এ কার্যক্রম পুরো বছর চলতে পারে।
শিশুরা বিদ্যালয়ে ফেরা শুরু করলেও সেভাবে স্বাভাবিক হয়ে আসেনি চিলির জনজীবন। তাদের অভিভাবকদের এখনো খাদ্য ও পানির জন্য ছোটাছুটি করতে হচ্ছে। বিনিদ্র রাত কাটাতে হচ্ছে ধ্বংস হয়ে যাওয়া বাড়ির বাইরে বসে বসে।
ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির শিকার মাউল ও বিওবিও শহরের শিক্ষার্থীরা আপাতত বিদ্যালয়ে ফিরতে পারছে না। স্কুলে যাওয়ার জন্য তাদের মার্চের শেষ কিংবা এপ্রিলের শেষ পর্যন্তও অপেক্ষা করতে হতে পারে। দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর কনসেপসিওনের স্কুলগুলোও বন্ধ রয়েছে। শহরের ম্যাথোডিস্ট উচ্চবিদ্যালয় পুনর্গঠনের কাজ চলছে। সেখানে কর্মরত এক শ্রমিক জানান, বিদ্যালয়ের শরীরচর্চা কেন্দ্রের চারটি বিম ধসে গেছে। গ্রন্থাগার ও শ্রেণীকক্ষ ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
চিলির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্যাট্রিসিও রোসেন্দে বলেন, নতুন করে আরও ৪৫টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সব মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা ৪৯৭ জনে পৌঁছেছে। নিখোঁজদের সন্ধান চালানো হচ্ছে। গণপূর্তমন্ত্রী সার্জিও বিতার জানান, ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত ৪০টি সেতুসহ বিভিন্ন অবকাঠামো পুনর্নির্মাণে ১২০ কোটি ডলার প্রয়োজন।
চিলিতে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ৮ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। ভয়াবহ ওই ভূমিকম্পে দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর কনসেপসিওন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় রাজধানী সান্তিয়াগোসহ মাউল বিওবিও অঞ্চলে।

ভারতের তিন শহরে জঙ্গি হামলার আগাম সতর্কতা

ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কলকাতাসহ ভারতের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ শহরে জঙ্গি হামলার আগাম সতর্কতা জারি করেছে। এ কারণে এই তিনটি শহরের বিমানবন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। বাকি দুটি শহর হলো মুম্বাই ও বেঙ্গালুরু। জঙ্গি সংগঠন ইন্ডিয়ান মুজাহিদিনের প্রথম সারির নেতা সলমন আহমেদ গ্রেপ্তার হওয়ার পর পুলিশ জানতে পারে, তাদের পরবর্তী টার্গেট হচ্ছে কলকাতা, বেঙ্গালুরু ও মুম্বাই। ৫ মার্চ ওই জঙ্গিকে ভারত-নেপাল সীমান্ত এলাকায় গ্রেপ্তার করা হয়। আবার সোমবার বাংলাদেশ-পশ্চিমবঙ্গ সীমান্ত এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় ইন্ডিয়ান মুজাহিদিন গোষ্ঠীর আরও দুই ভারতীয় জঙ্গিকে। এদের বাড়ি উত্তর প্রদেশে। এরা পাকিস্তান থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে ভারতে ঢুকছিল। এসব জঙ্গিকে জেরা করে পুলিশ জানতে পারে, কলকাতাই এখন তাদের হামলার প্রধান লক্ষ্যবস্তু। এ খবর পাওয়ার পর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তিনটি শহরে কড়া সতর্কতা জারির নির্দেশ পাঠায়।
কলকাতা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (সদর) জাভেদ শামীম জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আগাম সতর্কতার বার্তাটি কলকাতার পুলিশ যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে পর্যালোচনা করে কলকাতার প্রতিটি থানায় সতর্কতা জারি করেছে।
পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতা শহরের জনবহুল এলাকা, বিমানবন্দর, বিপণিকেন্দ্র, চিত্তবিনোদন কেন্দ্র, ঐতিহাসিক স্থাপনা, ধর্মীয় স্থান, উদ্যান, হোটেল, রেলস্টেশন, পাতালরেল ও বাসস্টেশনে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। রাতে শহরের বিভিন্ন যানবাহন তল্লাসি শুরু হয়েছে। হোটেলে সন্দেহভাজনদের ব্যাপারে হোটেল কর্তৃপক্ষকে পুলিশে খবর দেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে কোনো জঙ্গি ছদ্মবেশে সীমান্ত পার হতে না পারে, সেদিকে নজর রাখতে।

অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পেলেন আরেক ধর্মপ্রচারক

ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত হাইতির ৩৩টি শিশু অপহরণের চেষ্টার অভিযোগ থেকে মার্কিন ধর্মপ্রচারক চারিসা কৌল্টারকে গতকাল সোমবার অব্যাহতি দিয়েছেন আদালত। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত তাঁকে মুক্তি দেন।
মুক্তি পাওয়ার পর কৌল্টার রয়টার্সকে বলেন, ‘কঠিন একটি অভিজ্ঞতার পর আমি শেষ পর্যন্ত বাড়ি যেতে পারছি।’
গত ২৯ জানুয়ারি হাইতি সরকার শিশু অপহরণের অভিযোগে ১০ জন মার্কিন ধর্মপ্রচারককে গ্রেপ্তার করে। পরে ফেব্রুয়ারি মাসে তাঁদের মধ্য থেকে আটজনকে মুক্তি দেওয়া হয়। তবে ধর্মপ্রচারক দলটির নেতা লরা সিলসবাই এখনো কারাগারে আছেন। বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই অন্যদের হাইতি থেকে বাইরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন বলে আরও একটি অভিযোগ আনা হয়েছে সিলসবাইয়ের বিরুদ্ধে। এ কারণে তাঁকে এখনো মুক্তি দেওয়া হয়নি।
সিলসবাই ও বাকি নয়জন ধর্মপ্রচারক আইডাহোর ব্যাপ্টিস্ট চার্চের সদস্য। তাঁরা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়াই হাইতি থেকে শিশুদের দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ ওঠে। তবে গ্রেপ্তার হওয়া ধর্মপ্রচারকেরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন। পরে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ফেব্রুয়ারি মাসে আটজন ও গতকাল একজনকে মুক্তি দেওয়া হয়।

ইয়ুধোইয়োনো অস্ট্রেলিয়ার সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মানে ভূষিত

ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট সুসিলো বামবাং ইয়ুধোইয়োনোকে অস্ট্রেলিয়ার সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মানে ভূষিত করেছে সে দেশের সরকার। তিন দিনের এক সফরে গতকাল মঙ্গলবার অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরায় পৌঁছান ইয়ুধোইয়োনো। এ সময় তাঁকে লালগালিচা শুভেচ্ছা জানানো হয়।
পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী কেভিন রাড বলেন, ইন্দোনেশিয়ার গণতন্ত্র ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্রেসিডেন্ট ইয়ুধোইয়োনোর অবদান প্রশংসনীয়। তিনি অস্ট্রেলিয়ার সত্যিকারের বন্ধু। তাঁর নেতৃত্বে প্রতিবেশী দুদেশের সম্পর্ক দৃঢ় হয়েছে। আমরা সন্ত্রাসবাদ, মানবপাচার এবং আন্তদেশীয় অপরাধ দমনে যৌথভাবে কাজ করছি।
ইয়ুধোইয়োনো আজ বুধবার অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্টের যৌথ অধিবেশনে ভাষণ দেবেন। অস্ট্রেলীয় পার্লামেন্টে ইন্দোনেশিয়ার কোনো প্রেসিডেন্টের জন্য এটাই হবে প্রথম ভাষণ দেওয়া। এ সম্পর্কে কেভিন রাড বলেন, এটি একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক’। ইয়ুধোইয়োনোর এ ভাষণের মধ্য দিয়ে পরিষ্কার হবে আমরা পারস্পরিক সম্পর্কোন্নয়নে কতটা সংকল্পবদ্ধ।
এ সফরে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে তাঁর দেশের ৮৫০ কোটি ডলারের দ্বিমুখী বাণিজ্য সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণের বিষয়ে আলোচনা করবেন। এ ছাড়া দুদেশের সীমান্ত নিরাপত্তা ও অবাধ বাণিজ্য চুক্তির বিষয়ে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার কথা রয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার বন্দর ব্যবহার করে কেউ যাতে অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে আশ্রয় প্রার্থনা করতে না পারে সে বিষয়েও আলোচনা করবেন ইয়ুধোইয়োনো।

ওসমানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে আরেক ছাত্রের আত্মহত্যা

তেলেঙ্গানা রাজ্য গঠন প্রক্রিয়া বিলম্বিত হওয়ায় অন্ধ্র প্রদেশের ওসমানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক ছাত্র আত্মহত্যা করেছেন। সাই কুমার নামের দ্বিতীয় বর্ষের ওই ছাত্র গতকাল মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়-চত্বরের ছাত্রাবাসে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। এ নিয়ে তেল্গোলা ইস্যুতে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনজন ছাত্র আত্মহত্যা করলেন।
তেলেঙ্গানা রাজ্য গঠনে বিলম্ব হওয়ায় আত্মহত্যার পথ বেছে নিলেন বলে এক চিরকুটে তিনি উল্লেখ করেছেন। তাঁর বাড়ি নালগোন্দা জেলায়।
পুলিশ জানায়, ছাত্রাবাসের কয়েকজন বন্ধু তাঁকে কক্ষের সিলিং ফ্যানে ঝুলে থাকতে দেখেন। হাসপাতালে নেওয়ার পর তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
এ ঘটনায় তেলেঙ্গানা রাজ্য গঠনের দাবিতে আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা ওসমানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে উত্তেজনা দেখা দেয়। বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী জড়ো হয়ে ‘জয় তেলেঙ্গানা’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত দেখে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ গতকালের ও আজকের সব পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করে।
তেলেঙ্গানা রাজ্যের দাবিতে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে এটি তৃতীয় আত্মহত্যার ঘটনা।

কান্দাহারে যুদ্ধ চূড়ান্ত পর্যায়ে: রবার্ট গেটস

আফগানিস্তানে তালেবানের মূল ঘাঁটি কান্দাহার প্রদেশের নিয়ন্ত্রণ নিতে মার্কিন সেনারা শিগগিরই চূড়ান্ত পর্যায়ের যুদ্ধে অংশ নেবেন বলে জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবার্ট গেটস।
মঙ্গলবার দক্ষিণ আফগানিস্তানে অবস্থিত ন্যাটো সেনা ঘাঁটির সেনাদের তিনি বলেন, শিগগিরই তাঁরা চূড়ান্ত লড়াইয়ে অংশ নেবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার নতুন আফগানিস্তান কৌশলের অংশ হিসেবে কান্দাহারের দখল নিতে আগামী কয়েক মাসে অতিরিক্ত আরও কয়েক হাজার সেনা পাঠাচ্ছে ন্যাটো।
কান্দাহারে নিয়োজিত প্রায় তিন হাজার কানাডীয় সেনাকে সাহায্য করতে গত বছর কয়েক হাজার মার্কিন সেনা যোগ দেন এবং ব্যাপক প্রাণহানির শিকার হয়। মার্কিন কমান্ডাররা জানান, প্রদেশের বেশির ভাগ অঞ্চল এখনো শক্তিশালী তালেবান জঙ্গিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
ওবামা প্রশাসন চায়, কান্দাহারে অভিযান চালিয়ে ওই অঞ্চল থেকে তালেবানদের বিতাড়িত করে আফগান সরকারের নিয়ন্ত্রণ পুনঃ প্রতিষ্ঠ করা। যাতে আগামী ২০১১ সালের মাঝামাঝি ন্যাটো বাহিনী আফগানিস্তান ছাড়তে পারে।
কান্দাহার শহর থেকে ৪৮ কিলোমিটার উত্তরে ন্যাটো সেনা ঘাঁটির সেনাদের উদ্দেশে গেটস বলেন, ‘আপনাদের প্রত্যেকেই কঠিন সফর পার করছেন। আপনারা এমন একটি অঞ্চলে এসেছেন, যার সম্পূর্ণই তালেবানদের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। আপনারা এর জন্য রক্ত দিয়েছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা এখন কান্দাহারের যেখানটায় আছেন, সেটি তালেবানবিরোধী অভিযানে চূড়ান্ত পর্যায়ের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি অঞ্চল। আবারও বলছি, আপনারাই এ যুদ্ধেও সামনে থেকে নেতৃত্ব দেবেন।’
গত বছর জুলাই মাসে এ অঞ্চলে ন্যাটো বাহিনীর ২২ জন সেনা নিহত হন এবং আহত হন ৬২ জন।

অনলাইনে বিক্রি হলো ‘বোতলভূত’

নিউজিল্যান্ডে একটি নিলামে ওয়েবসাইটের মাধ্যমে দুটি বোতলে আটকানো ‘ভূত’ বিক্রি হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিক্রেতা ওয়েবসাইট ট্রেডমি এমন দাবি করেছে। ট্রেডমির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, একটি বোতলে একজন বৃদ্ধ এবং আরেকটি বোতলে একটি বালিকার ভূত আটকানো ছিল। বোতল দুটি দুই হাজার ৮৩০ ডলারে (এক হাজার ৯৭৮ মার্কিন ডলার) বিক্রি হয়েছে।
ওয়েবসাইট কর্তৃপক্ষ জানায়, ইলেকট্রনিক পণ্য বিক্রেতা একটি প্রতিষ্ঠানের নামে বোতল দুটি কেনা হয়েছে। অবশ্য এর আগে একজন ভুয়া নিলামকারীকে বাদ দেওয়া হয়। ওই নিলামকারী বোতল দুটির দাম পাঁচ হাজার ডলার পর্যন্ত তুলেছিলেন।
বোতল দুটি নিলামে তোলেন নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ শহরের বাসিন্দা অ্যাভি উডবারি। উডবারি বলেন, গির্জার একজন আধ্যাত্মিক শক্তিসম্পন্ন যাজক তাঁর বাড়ি থেকে ভূত দুটি মন্ত্রের মাধ্যমে বোতল দুটিতে আটকে ফেলেন। এরপর তিনি স্পিরিটভর্তি বোতল দুটি নিলামে তোলেন। তিনি জানান, ভূত দুটির যন্ত্রণায় তাঁর নাওয়া-খাওয়া বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।
উডবারি বলেন, ‘২০০৯ সালের ১৫ জুলাই ভূত দুটিকে বোতলে আটকানোর পর থেকে আমাদের আর ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে না।’ তিনি জানান, বোতলে আটকানো বৃদ্ধ লোকটির নাম লেস গ্রাহাম, যিনি ১৯২০ সালে উডের বাড়িতে মারা গেছেন। আর বালিকাটি এসেছিল ‘ওইজা বোর্ড’-এর মাধ্যমে আত্মা নামানোর একটি পরীক্ষা করার সময়।

আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যক্তি পর্যায়ে ছয় মাসের আমানত নিতে পারবে

অব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো এখন থেকে ব্যক্তির ক্ষেত্রে ছয় মাস মেয়াদের আমানত সংগ্রহ করতে পারবে। এত দিন পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানগুলো জনগণের কাছ থেকে সর্বনিম্ন এক বছর মেয়াদি আমানত নিতে পারত।
বাংলাদেশ ব্যাংক গতকাল মঙ্গলবার এক নির্দেশনায় নতুন এ সুযোগ তৈরি করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে গতকাল প্রতিষ্ঠানগুলোর শীর্ষ নির্বাহীদের কাছে এ বিষয়ের সার্কুলার পাঠানো হয়েছে।
সার্কুলারে আরও বলা হয়েছে, আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো জনগণের কাছ থেকে ছয় মাস বা এর বেশি যেকোনো মেয়াদে আমানত সংগ্রহ করলে তা ছয় মাস অতিক্রান্ত হওয়ার পর নির্দিষ্ট হারে মুনাফাসহ নগদায়ন করা (ভাঙানো) যাবে। এর আগ পর্যন্ত এক বছরের আগে আমানত নগদায়ন করা যেত না।
সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমানের সঙ্গে অব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর শীর্ষ নির্বাহীদের এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এই বৈঠকে শীর্ষ নির্বাহীরা ব্যক্তির কাছ থেকে এক বছরের জায়গায় ছয় মাস মেয়াদে আমানত এবং প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ছয় মাসের পরিবর্তে তিন মাস মেয়াদে আমানত নেওয়ার সুযোগ তৈরির দাবি করেন।
গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যক্তি আমানতের ক্ষেত্রে সুযোগ তৈরি করেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক মনে করছে, নতুন এই সুযোগের ফলে আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বিদ্যমান তহবিল সংকট কিছুটা কমে আসবে।
সাধারণত অব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের তহবিলের জন্য ব্যাংকের ওপর অনেকাংশে নির্ভর করে। ব্যাংক থেকে এসব প্রতিষ্ঠান উচ্চ সুদ দিয়ে অর্থ ধার করে থাকে।
আবার তারা আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজার থেকেও উচ্চ সুদে (কলমানি) ঋণ করে থাকে। এতে তাদের তহবিল-ব্যয় অনেক বেড়ে যায়।
এর ফলে প্রতিষ্ঠানগুলো লিজে যে অর্থ খাটায়, তার সুদের হারেও গিয়ে প্রভাব পড়ে।
এখন জনসাধারণের কাছ থেকে স্বল্প মেয়াদে আমানত নেওয়ার সুযোগ তৈরি হওয়ায় এসব ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। উপরন্তু, আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারেও অর্থ বিক্রির সুদের হার কমে আসতে পারে।
যোগাযোগ করা হলে বাংলাদেশ লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স কোম্পানিজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এবং লংকাবাংলা ফাইন্যান্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মফিজউদ্দিন সরকার প্রথম আলোকে বলেন, ‘এটা আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ইতিবাচক সিদ্ধান্ত। এতে ব্যক্তি আমানতকারীরা অধিক হারে তাদের কাছে অর্থ খাটাতে আগ্রহী হবেন। অন্যদিকে তাদের তহবিল-ব্যয় কমবে। যার সামগ্রিক প্রভাব ইতিবাচক।’

স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক ও গ্রিনডেল্টা ইনস্যুরেন্সের চুক্তি স্বাক্ষর

ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক ও গ্রিনডেল্টা ইনস্যুরেন্স কোম্পানির মধ্যে প্রিমিয়াম আদায়ের বিষয়ে সম্প্রতি একটি চুক্তি হয়েছে।
এই চুক্তি অনুযায়ী গ্রিনডেল্টা ইনস্যুরেন্স কোম্পানির পক্ষে গ্রাহকদের কাছ থেকে বিমার কিস্তি নিতে পারবে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক।
স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক ও সিকিউরড ল্যান্ডিংয়ের প্রধান তারেক রিয়াজ খান এবং গ্রিনডেল্টা ইনস্যুরেন্স কোম্পানির অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারজানা চৌধুরী নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এ চুক্তিতে সই করেন।

রূপায়ণ হাউজিং ও ইউনিট্রেন্ডের মধ্যে চুক্তি সই

রূপায়ণ হাউজিং এস্টেট লিমিটেড এবং বিজ্ঞাপনী সংস্থা ইউনিট্রেন্ড লিমিটেডের মধ্যে সম্প্রতি একটি চুক্তি হয়েছে।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে রূপায়ণ গ্রুপের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী খান, ভাইস চেয়ারম্যান সাদাত হোসেন সেলিম, উপদেষ্টা এ কে ফিরোজ আহমেদ ও উপব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মঞ্জুর আহমেদ এবং বিজ্ঞাপনী সংস্থা ইউনিট্রেন্ড লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও ক্রিয়েটিভ চিফ মুনির আহমেদ খান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জুলফিকার আহমেদ, সিওও তুষার দাস, সিএফও এ এস এম এনামুল হক এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

এক্সট্যাসি স্কুল হকি

এক্সট্যাসি জাতীয় স্কুল হকির চূড়ান্ত পর্বে কাল জিতেছে রাজশাহী কসবা স্কুল ও দিনাজপুর পৌরসভা স্কুল। মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে কসবা ১৪-০ গোলের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে বরগুনা জিলা স্কুলকে। দিনের অন্য ম্যাচে দিনাজপুর পৌরসভা হাইস্কুল ২-১ গোলে জিতেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় মাধ্যমিক কলেজের বিপক্ষে

শাস্তির মুখে আফ্রিদিরা

ভালো খেললে যেমন বোনাস মেলে, খারাপ খেললে তেমনি জরিমানাও করা উচিত। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) অনেক দিন ধরেই এমনটা ভেবে আসছে। এবার সেই ভাবনা বাস্তবে রূপ নেওয়ার অপেক্ষায়। গত অস্ট্রেলিয়া সফরে দলের ব্যর্থতার কারণ অনুসন্ধানে গঠিত পিসিবির তদন্ত কমিটির সুপারিশ বোর্ড সভাপতি ইজাজ বাটের হাতে এসে পৌঁছেছে। তাতে নাকি দলের পাঁচ খেলোয়াড় শহীদ আফ্রিদি, শোয়েব মালিক, রানা নাভেদ-উল-হাসান, কামরান ও উমর আকমলের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
ওয়াসিম বারির নেতৃত্বাধীন ছয় সদস্যের কমিটি গত সপ্তাহে তাদের প্রতিবেদন তৈরি করে বাটের হাতে তুলে দেয়। প্রতিবেদন পড়ার পর পরশু বাট মহসিন খানের নেতৃত্বাধীন নির্বাচক কমিটির সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে কমিটির সুপারিশগুলো সম্পর্কে আলোচনা করা হয়। বাট দোষী খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নেওয়ার পক্ষে অবস্থান নেন। এই খেলোয়াড়দের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ১৫ জনের দলে থাকা তাই নিশ্চিত নয়।
টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক আফ্রিদি আগামী মাসে ওয়েস্ট ইন্ডিজে অনুষ্ঠেয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলবেন কি না, সংশয় দেখা দিয়েছে তা নিয়েও। অবশ্য আফ্রিদি আর আকমল ভাইদের শুধু মোটা অঙ্কের জরিমানাও করা হতে পারে। আফ্রিদির অপরাধ, বল কামড়ে পাকিস্তানের ক্রিকেটের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা; আকমল ভাইদের অপরাধ, টিম ম্যানেজমেন্টের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া। এঁদের ২০-৩০ লাখ রুপি করে জরিমানার প্রস্তাব করেছে ওই কমিটি।
মালিক আর রানা নাভেদের জন্য আরও কঠোর শাস্তির সুপারিশ করা হয়েছে। এঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দলে কোন্দল তৈরির। এ বছর পুরো সময়ের জন্যই এই দুজনকে নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব করেছে কমিটি। বাট সব সুপারিশই বাস্তবায়নের পক্ষে। ক্রিকইনফোকে তিনি বলেছেন, ‘আমরা শাস্তি হিসেবে জরিমানা এবং নিষেধাজ্ঞা দুটোই দেওয়ার কথা ভাবছি। যে পদক্ষেপই নেওয়া হোক, সেটি হবে দৃষ্টান্তমূলক।’
সূত্র জানিয়েছে, অলরাউন্ডার আবদুল রাজ্জাক কিংবা মিহবাহ-উল হককে অধিনায়ক করে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দল গঠন করার কথা ভাবছে পিসিবি।

হাডিনের সেঞ্চুরিতে একপেশে ম্যাচ

হ্যামিল্টনের সেডন পার্ক এত দিন অস্ট্রেলিয়ার কাছে ছিল দুর্বোধ্য এক মাঠের নাম। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে এই মাঠে এর আগে টেস্ট-ওয়ানডে কোনোটিতেই জেতা হয়নি তাদের। সেই মাঠে কাল হেসেখেলে ৬ উইকেটের জয় পেল অস্ট্রেলিয়া। ম্যাচটাকে ‘সিরিজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ’ বলেছিলেন ড্যানিয়েল ভেট্টোরি। এই ম্যাচে হারলে সিরিজ জিততে শেষ দুটো ম্যাচ জিততেই হবে—এই সমীকরণের কারণে। সেই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটাই হয়ে গেল এখন পর্যন্ত সফরের সবচেয়ে একপেশে ম্যাচ।
বুঝতেই পারছেন, ভেট্টোরির কোনো চাওয়াই এই ম্যাচে পূরণ হয়নি। অন্যদিকে রিকি পন্টিংয়ের চাওয়ার পুরোটাই পূরণ করে দিয়েছে তাঁর সতীর্থরা। ভালো শুরুটাকে পুঁজি করে ব্যাটসম্যানরা বড় ইনিংস খেলতে পারেনি বলে প্রথম দুই ম্যাচ শেষে আক্ষেপ করেছিলেন পন্টিং। ক্যারিয়ার-সেরা ইনিংস খেলে অধিনায়কের আফসোস মেটালেন ব্র্যাড হাডিন।
এক বছর এক মাস পর ওয়ানডেতে সেঞ্চুরি পেলেন, একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে। সেঞ্চুরির পথে পন্টিংয়ের সঙ্গে দ্বিতীয় উইকেটে তাঁর ১৫১ রানের জুটি। ২৪৬ রানের মামুলি লক্ষ্যের পেছনে ছোটা অস্ট্রেলিয়া ম্যাচটা শেষ করে দিয়েছে আসলে ওখানেই।
টস জিতে ফিল্ডিং নিয়েছিলেন পন্টিং। ২১১ ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়ে ১১০ বার টস জিতেছেন, কিন্তু প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মাত্র ২৪ বার। এই ২৪ বারের ২০ বারই জিতেছে অস্ট্রেলিয়া।
২০তম জয় এল কাল। ৫৫ রানে প্রথম তিন ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে ফেলার ধাক্কা রস টেলর আর নিল ব্রুম মিলে সামলে ওঠার চেষ্টা করেছিলেন। ৭১ রানের জুটির পর ২০ রানের ব্যবধানে দুজনের বিদায় আবারও ঝামেলায় ফেলে দেয় নিউজিল্যান্ডকে। ষষ্ঠ উইকেটে স্টাইরিস-হপকিন্সের ৬৭ রানের জুটি আবারও কক্ষপথে ফেরায় স্বাগতিকদের। ৪০ ওভার শেষে নিউজিল্যান্ডের স্কোর ২০১/৫। কিন্তু আগের দুই ম্যাচের মতো শেষ ১০ ওভারে এবার আর ঝড় তুলতে পারেনি নিউজিল্যান্ড, উল্টো পরের সাত ওভারে ৪৪ রানে শেষ ৫ উইকেট হারিয়ে মাত্র ২৪৫ রানে অলআউট হয়ে যায় তারা। আগের ম্যাচে ঝড় তোলা ভেট্টোরি কাল রানের খাতা খোলার আগেই রানআউট।
নিউজিল্যান্ডও প্রথম উইকেটটা তুলে নিয়েছিল রানআউট করেই। ২৫ রানে শেন ওয়াটসনকে হারানোর পর পন্টিং-হাডিনের ওই জুটি। ১২১ বলে ৭টি চার আর ৫ ছক্কায় ১১০ রান করে চতুর্থ ব্যাটসম্যান হিসেবে হাডিন যখন ফেরেন, জয়ের জন্য অস্ট্রেলিয়ার দরকার ছিল মাত্র ১৬ রান। নির্বিঘ্নে সেই কাজটা সেরে ফেলেন ভোজেস আর হোয়াইট। ওয়েবসাইট।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
নিউজিল্যান্ড: ৪৬.২ ওভারে ২৪৫ (ম্যাককালাম ২৩, ইনগ্রাম ৫, গাপটিল ২১, টেলর ৬২, ব্রুম ২৪, স্টাইরিস ৪১, হপকিন্স ৪৫, ভেট্টোরি ০, বন্ড ১১, সাউদি ১, ম্যাসন ২*; হ্যারিস ৩/৪৮, বলিঞ্জার ১/৩৯, জনসন ৩/৪১, হরিজ ০/৪০, হোপস ০/৪৯, ওয়াটসন ২/২৬)। অস্ট্রেলিয়া: ৪৭.২ ওভারে ২৪৮/৪ (ওয়াটসন ১৫, হাডিন ১১০, পন্টিং ৬৯, হাসি ৯, হোয়াইট ২৫*, ভোজেস ১৩*; বন্ড ০/৪৩, সাউদি ১/৪৩, ম্যাসন ১/৬৮, ভেট্টোরি ১/৩৬, স্টাইরিস ০/৪৩, গাপটিল ০/১৩)। ফল: অস্ট্রেলিয়া ৬ উইকেটে জয়ী। ম্যান অব দ্য ম্যাচ: ব্র্যাড হাডিন।

হকি বিশ্বকাপের সেমিতে জার্মানি-নেদারল্যান্ড

হকি বিশ্বকাপে এশিয়ার আর কোনো প্রতিনিধি রইল না। নেদারল্যান্ডকে কাল ২-১ গোলে হারিয়েও সেমিফাইনালে যেতে পারল না দক্ষিণ কোরিয়া। সমান ১০ পয়েন্ট হয়েও গোল ব্যবধানে এগিয়ে থেকে পুল ‘এ’র দ্বিতীয় দল হিসেবে সেমিতে জায়গা করে নিল ডাচরা। কাল আগের ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে ৫-২ গোলে হারিয়ে এই গ্রুপ থেকে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে জার্মানি।
পুল ‘বি’ থেকে আগের দিনই সেমিফাইনালে উঠে গিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া আর ইংল্যান্ড। আগামীকাল প্রথম সেমিফাইনালে ইংল্যান্ড মুখোমুখি হবে জার্মানির। অস্ট্রেলিয়ার প্রতিপক্ষ নেদারল্যান্ড। স্বাগতিক ভারতের জন্য টুর্নামেন্টটা এখন সাত নম্বর হওয়ার লড়াই, পাকিস্তানের জন্য শেষ দল হওয়ার অপমান এড়ানো।

রিয়াল-মিলানের পরীক্ষার রাত

চ্যাম্পিয়নস লিগে আজ দুটি লড়াই। বার্নাব্যুতে রিয়াল মাদ্রিদ-অলিম্পিক লিওঁ, ওল্ড ট্রাফোর্ডে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড-এসি মিলান। এই চার দলকে এক সুতোয় বাঁধা কঠিন। বার্নাব্যু থেকে ওল্ড ট্রাফোর্ডের দূরত্বও কম নয়। তবে দু জায়গার লড়াই দুটো কিন্তু মিশে গেছে একই সূত্রে। দুটি ম্যাচেই আছে পেছন থেকে উঠে আসার প্রত্যয়। পার্থক্য শুধু বার্নাব্যুতে পেছন থেকে উঠে আসতে লড়বে স্বাগতিকেরা। আর ওল্ড ট্রাফোর্ডে এ কাজটা করবে সফরকারীরা।
এ ম্যাচের আগে রিয়াল ও মিলানের আরও একটি জায়গায় মিলে যাচ্ছে—দ্বিতীয় রাউন্ডের প্রথম লেগে দুটি দলই এক গোলে পিছিয়ে। লিওঁর মাঠে ০-১ গোলে হেরে এসেছে রিয়াল, আর মিলান ম্যানইউর কাছে নিজেদের মাঠে হেরেছে ২-৩ গোলে। তবে রিয়াল আর মিলান দু দলেই বিশ্বাস, চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ আটে উঠবে তারাই।
রিয়াল গোলরক্ষক ইকার ক্যাসিয়াসের দৃষ্টিটা শুধু শেষ আটেই আটকে থাকছে না। কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল পেরিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপার সোনালি ঝিলিকটাই দেখতে পাচ্ছেন তিনি। ম্যাচ-পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনটা ক্যাসিয়াস শুরুই করলেন এই দৃঢ় ঘোষণায়, ‘রিয়াল মাদ্রিদের লক্ষ্য শিরোপা। এ বছরে আবার আমাদের ইউরোপ শাসন করতে হবে।’
একটি চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপার হাহাকার রিয়ালের অনেক দিনের। সর্বোচ্চ নয়টি ইউরোপ-সেরার মুকুট শোভা পাচ্ছে তাদের ট্রফি-কেসে। কিন্তু সর্বশেষ জেতা ট্রফিটায় ধুলোই জমে গেছে। সেই ২০০১-০২ মৌসুমে নবম শিরোপা জয়ের পর থেকে প্রতিবারই দশম শিরোপার স্বপ্ন নিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগ শুরু করে রিয়াল। কিন্তু সেই স্বপ্ন তো পূরণ হয়ইনি, গত ছয় বছর পেরোতে পারেনি শেষ ষোলর বাধাই।
এবার ঘটনা অন্য রকম হবে বলেই বিশ্বাস রিয়ালের মহাতারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর, ‘সবাই জানে এই ক্লাবটি একটি চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপার জন্য কীভাবে অপেক্ষা করছে। নয়টি শিরোপা আছে, সবাই চায় দশম শিরোপা। এ বছরের ফাইনালটাও এখানে (বার্নাব্যুতে) হচ্ছে। আমি নিশ্চিত, আমরা শেষ ষোলর লড়াইটা পেছন থেকে এসে জিতে নিতে পারব। লিওঁকে বুঝিয়ে দিতে পারব, বার্নাব্যু আমাদের মাঠ।’
এসি মিলানের বিপক্ষে ম্যানইউও নিশ্চয়ই নিজেদের মাঠের এই সুবিধাটা পাবে। এসি মিলান কোচ লিওনার্দো এটা জানেন। তবে এই প্রতিবন্ধকতা জয় করেই শেষ ষোলোর লড়াইয়ে শেষ হাসি হাসতে চান এই ব্রাজিলিয়ান, ‘ওখানে গিয়ে আমাদের শুধু নিজেদের খেলাটা খেলতে হবে। সুযোগগুলো কাজে লাগাতে হবে। আর ধীরস্থির থাকতে হবে আমাদের।’
লিওনার্দো যা চাইছেন—পেছন থেকে উঠে এসে শেষ ষোলর বৈতরণী পার হওয়া, এটা পেতে হলে তাঁকে তাকিয়ে থাকতে হবে তাঁরই স্বদেশি রোনালদিনহোর দিকে। সম্প্রতি পুরোনো জাদু কিছুটা হলেও ফিরে পেয়েছেন এসি মিলানের প্লে-মেকার। রোনালদিনহো নিজেও তাই আত্মবিশ্বাসী। অ্যাডিডাসের বিজ্ঞাপনের সুরে ঘোষণা করে দিলেন, ‘অসম্ভব বলে কিছু নেই।’
পেছন থেকে উঠে আসার সঙ্গে দুই ম্যাচে আছে দুটি ফেরার গল্প। ২০০৩ সালে ম্যানইউ ছাড়ার পর এই প্রথম ওল্ড ট্রাফোর্ডে ফিরছেন মেজর লিগ সকারের দল এলএ গ্যলাক্সি থেকে ধারে মিলানে খেলতে যাওয়া বেকহাম। আর লিওঁ ছাড়ার পর এই প্রথম পুরোনো দলের মুখোমুখি হচ্ছেন করিম বেনজেমা।

জার্মানি বলে কথা

ফুটবল হচ্ছে এমন একটা খেলা, ৯০ মিনিট ধরে একটা বলের পেছনে ২২ জন খেলোয়াড় ছোটাছুটি করে এবং অবশেষে জার্মানিই জেতে।
১৯৯০ বিশ্বকাপে জার্মানির কাছে সেমিফাইনালে হেরে যাওয়ার পর তিতিবিরক্ত ইংলিশ স্ট্রাইকার গ্যারি লিনেকার করেছিলেন এই অমর উক্তি। সুযোগ পেলেই লিনেকারের কথাটা সত্যি প্রমাণে ব্যস্ত হয়ে ওঠে জার্মানি। খেলায় সৌন্দর্য নেই, যান্ত্রিক ফুটবল, শরীরনির্ভর খেলা—এতসব সমালোচনা জার্মান ফুটবল ঘিরে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত লিনেকারের কথাই গিয়ে সত্যি প্রমাণ হয়, ‘জার্মানিই জেতে।’
আর তাই, এবার যখন ফেবারিটদের তালিকায় জার্মানির নাম উচ্চারিত হচ্ছে না, তখন সর্বশেষ বিশ্বকাপজয়ী জার্মান অধিনায়ক লোথার ম্যাথাউস মনে করিয়ে দিচ্ছেন, ২০০২ বিশ্বকাপেও জার্মানিকে হিসাবের মধ্যে রাখেনি অনেকেই। তার পরও সেই জার্মানিই উঠে গিয়েছিল ফাইনালে।
জার্মানি ফেবারিট নয়—খোদ অধিনায়ক মাইকেল বালাকও বলছেন এই কথা। বাছাইপর্বে অপরাজিত থেকেই বিশ্বকাপের টিকিট পাওয়ার পরও চেলসি মিডফিল্ডার বলেছেন, ‘এই মুহূর্তে আমাদের ধারাবাহিকতার অভাব আছে। শিরোপার জন্য যথেষ্ট শক্তিশালী দল নেই আমাদের। বিশেষ করে প্রীতি ম্যাচগুলোতে আমরা খুবই খারাপ খেলছি। বিশ্বকাপের ড্রতেও ভাগ্য আমাদের পক্ষে ছিল না। কঠিন একটা গ্রুপ পড়েছে আমাদের জন্য, যেখানে প্রতিপক্ষগুলো অস্বস্তিকর এবং শারীরিকভাবে খুবই শক্তিশালী।’
‘ডি’ গ্রুপে জার্মানির তিন প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া, ঘানা আর সার্বিয়া। এই তিন দলের বিশ্বকাপ রেকর্ড অবশ্য বালাকের কথাকে সমর্থন করে না। তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপে খেলবে অস্ট্রেলিয়া, যাদের সর্বোচ্চ সাফল্য গত আসরে দ্বিতীয় রাউন্ডে যাওয়া। স্বাধীন একক রাষ্ট্র হিসেবে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলতে যাচ্ছে সার্বিয়া। ঘানার এটি দ্বিতীয় বিশ্বকাপ।
ফেবারিটের তকমা না থাকায় চাপমুক্ত হয়ে খেলার একটা সুবিধা আছে। কে জানে, বালাক সেই পথেই হাঁটছেন কি না। তাঁর চোখে ফেবারিট হলো ইংল্যান্ড, ‘দুর্দান্ত একটা দল ওদের। বেশ কজন খেলোয়াড় আছে অসাধারণ মানের। ফ্যাবিও ক্যাপেলোর মতো কোচও আছেন, দলের স্থিরতা এনেছেন যিনি।’ ফেবারিট হিসেবে ব্রাজিল, ইতালি, এমনকি ফ্রান্সের নামও উচ্চারণ করেছেন। কিন্তু জার্মানিকে ফেবারিট মানতে মোটেও রাজি নন তিনি, কারণ ‘এই মুহূর্তে আমাদের চেয়ে অনেকে ভালো দল আছে।’
জার্মানির মূল সমস্যা, তাদের খেলোয়াড়দের ফর্ম। দুই মূল স্ট্রাইকার লুকাস পোড্লস্কি আর মিরোস্লাভ ক্লোসা ভুগছেন গোল-খরায়। লিগে ২০ ম্যাচে মাত্র দুই গোল করেছেন পোড্লস্কি, ১৮ ম্যাচে এক গোল ক্লোসার। সবচেয়ে বড় সমস্যা গোলপোস্টের নিচের জায়গাটি নিয়ে। অলিভার কান আর জেন্স লেম্যানের পর বিশ্বস্ত কাউকে খুঁজেই পাচ্ছেন না কোচ জোয়াকিম লো। রবার্ট এনকের আত্মহত্যা পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে গত ম্যাচে রেনে এডলারের ভুলে গোল খেয়ে বসার পর তাঁকে নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন।
সমস্যা আছেই। তার পরও জার্মানিকে বাতিলের খাতায় ফেলে দেওয়া হবে মস্ত বড় বোকামি। সবচেয়ে বেশিবার ফাইনাল খেলেছে তারা। সবচেয়ে বেশিবার সেমিফাইনাল কিংবা সেরা চার হওয়া দলও। ১৯৮২ থেকে ১৯৯০—খেলেছে টানা তিনটি বিশ্বকাপের ফাইনালে। লিনেকারের কথাটাই বুঝি সত্যি, ‘... শেষে জার্মানিই জেতে।’

এতেই খুশি অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশকে কিছু করতে হলে স্পিনারদেরই করতে হবে, সিরিজের আগে থেকেই এ নিয়ে জোর আলোচনা। ওয়ানডে সিরিজের পর এই ধারণা প্রতিষ্ঠিতই হয়ে গেছে। টেস্ট সিরিজের ১৪ সদস্যের দলে তাই তিনজন বাঁহাতি স্পিনার, অফ স্পিনারও দুজন। অথচ টেস্ট সিরিজের আগে একমাত্র প্র্রস্তুতি ম্যাচে প্রতিপক্ষ দলে প্রথম সারির কোনো বাঁহাতি স্পিনারকেই পেল না ইংল্যান্ড। প্রস্তুতি ম্যাচ, কিন্তু ইংলিশদের প্রস্তুতিটা হলো তো?
‘প্রস্তুতি ম্যাচ সব সময়ই কাজে লাগে। আমাদের ব্যাটসম্যানরা উইকেটে অনেকটা সময় কাটিয়েছে। ট্রট-বেলরা প্রথম মাঠে নেমেই রান পেয়েছে। চার পেসার খেলানোটাও ছিল গুরুত্বপূর্ণ, ওদের দেখার সুযোগ পেলাম। প্র্যাকটিস যা হয়েছে, আমি সন্তুষ্টই’—বললেন ইংল্যান্ডের জিম্বাবুইয়ান কোচ অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার।
বাংলাদেশ ‘এ’ দলে কোনো বাঁহাতি স্পিনার তো খেলানো হলোই না, যে একজন পার্ট টাইমার ছিলেন, দ্বিতীয় ইনিংসে তাঁকে বোলিং করানো হয়েছে মাত্র এক ওভার। দ্বিতীয় ইনিংসে ইংল্যান্ডের ব্যাটিং করার জন্য যে পরিমাণ ছলাকলা করা হলো, তা কতটুকু কাজে লাগল, প্রশ্ন থাকতে পারে সেটা নিয়েই।
তবে এসব নিয়ে কিন্তু কোনো অভিযোগ, আফসোস বা আক্ষেপ নেই ইংল্যান্ড কোচের। মাশরাফি-আশরাফুল ছাড়া অনভিজ্ঞ বাংলাদেশ দল বা দলে কজন স্পিনার সেটা নিয়েও আগ্রহ নেই। ঘরের মাঠে বাংলাদেশের স্পিনারদের খেলাটা চ্যালেঞ্জিং হবে এটা মানছেন, কিন্তু এ নিয়ে ভাবছেন বলে মনে হলো না। লাঞ্চের সময় নেটে ৬ ওভার ও চা-বিরতির সময় তিন ওভার বোলিং করেছেন ইনজুরি আক্রান্ত স্টুয়ার্ট ব্রড। দলের মূল পেসারকে প্রথম টেস্টে পাবেন কি না বা অনিয়নসের ইনজুরি সারার লক্ষণ নেই, ফ্লাওয়ার চিন্তিত এসব নিয়েই।
প্রস্তুতি ম্যাচ থেকে অনেক ইতিবাচক দিক খুঁজে পেয়েছে ইংলান্ড, তবে জাতীয় দলের জন্য কী প্রেরণা দিতে পারল বাংলাদেশ ‘এ’ দল, সেটা জানা যায়নি। অধিনায়ক ছিলেন, কিন্তু এই ম্যাচে মোহাম্মদ আশরাফুলের এর চেয়েও বড় পরিচয় তো ছিল ‘পরীক্ষার্থী’! সেটাতে ব্যর্থ হওয়ার পর আর হয়তো কথা বলতে চাননি, পরে পাওয়া যায়নি ফোনেও। তবে মুখে কিছু না বললেও জাতীয় দলকে কিছু একটা কিন্তু দিতে পেরেছেন আশরাফুল। মেহরাবের সঙ্গে তাঁর পার্ট টাইম স্পিনের সাফল্য সাকিব-এনামুলদের জন্য বড় প্রেরণা হতে পারে টেস্ট সিরিজে।

রাজশাহীই পাচ্ছে শিরোপার সুবাস

এক দিন আগেই সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানানো হয়েছিল, জাতীয় লিগের ফাইনাল ম্যাচটি ড্র হলে আগের দুই রাউন্ডে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থাকা দল চ্যাম্পিয়ন হবে। কাল লিগের টেকনিক্যাল কমিটি সেই ভুল সংশোধন করে জানাল, শিরোপা নির্ধারণী সবকিছুই ফাইনাল-নির্ভর। জয়-পরাজয় হলে তো জেতা দলই চ্যাম্পিয়ন, ম্যাচ ড্র হলে শিরোপা পাবে ফাইনালের প্রথম ইনিংসে এগিয়ে থাকা দল।
বিসিবির টুর্নামেন্ট কমিটির ভ্রম সংশোধনের পর বদলে গেছে রাজশাহীর গেমপ্ল্যানও। প্রথম ইনিংসে ৭১ রানের লিড নেওয়া আছে। তাদের ‘জিতেই শিরোপা জয়ের’ লক্ষ্য তাই এখন অনেকটাই নমনীয়। কাল ম্যাচের চতুর্থ দিনশেষে দ্বিতীয় ইনিংসে ২ উইকেটে ১৭৭ রান তোলার পর অধিনায়ক খালেদ মাসুদের নতুন লক্ষ্য, ‘ফাইনালে জয় ছাড়া শিরোপা জিতবে না চট্টগ্রাম। আমরা তাদের সেই সুযোগ দেব না। লাঞ্চের আগে যদি বড় একটা লিড নিতে পারি তাহলেই কেবল ইনিংস ঘোষণা করব। ড্র হলেও তো শিরোপা আমাদেরই থাকবে।’
দুই ইনিংসে ২৪৮ রানের লিড নিয়ে আজ আবার ব্যাটিংয়ে নামবেন রাজশাহীর দুই ব্যাটসম্যান জহুরুল ইসলাম ও ফরহাদ হোসেন। ৪৫ রানে প্রথম উইকেট পড়ার পর দ্বিতীয় উইকেটে ওপেনার মোহাম্মদ সোহরাওয়ার্দীর সঙ্গে ১১৬ রানের জুটি গড়া জহুরুল দিনশেষে ৬৭ রানে অপরাজিত থেকে এখন লিগের সর্বোচ্চ স্কোরারও (৯১৫*)। এখনো এক ইনিংস কম খেলা চট্টগ্রামের ফয়সাল হোসেনকে (৮৮০) কালই টপকে গেছেন তিনি। এর আগে চট্টগ্রাম প্রথম ইনিংসে অলআউট হয়েছে ৩০১ রানে। রাজশাহীর সোহরাওয়ার্দী ৭৩ রানে নিয়েছেন ৪ উইকেট।