Sunday, February 3, 2019

বিকিনি মডেল যখন খুনি

প্রেমিকের সহায়তায় সাবেক স্বামীকে হত্যা করেছেন বিকিনি মডেল ও এক সময়ের মিস হাওয়াইয়ান ট্রপিক র‌্যাকুয়েল গায়েলে হাচিসন। এ অভিযোগে তাকে ৯ বছরের জেল দিয়েছে আদালত। এর মধ্যে ৫.৫ বছরের প্যারোল অযোগ্য জেল রয়েছে। র‌্যাকুয়েল গায়েলে হাচিসনের দাবি, তার সাবেক ওই স্বামী একজন শিশু নির্যাতনকারী। তাদের সামনে নিজেকে ভুতপ্রেত শিকারি হিসেনে নিজেকে পরিচয় দিতেন।
এ জন্য তিনি সাবেক ওই স্বামীকে তার বাড়িতে ডেকে নেন। তারপর এলোপাতাড়ি ঘুষি মারতে থাকেন তাকে। ‘এক্সিট মল্ড’ নামে একটি স্প্রে ছড়িয়ে দেন তার চোখে।
বাঁধেন পিঠমোড়া করে। ব্যবহার করেন বৈদ্যুতিক শক। তারপর তার প্রেমিক তাকে একটি গাড়ির বুটে প্রবেশ করান এবং সে অবস্থায় বিভিন্ন স্থানে চালিয়ে নিয়ে বেড়ান। এক পর্যায়ে নির্জন একটি স্থানে ফেলে দেন ওই মৃতদেহ। পরের দিন ওই মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ নিয়ে তদন্ত শুরু হয়। জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় র‌্যাকুয়েল গায়েলে হাচিসনকে। তিনি এক পর্যায়ে হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। তবে নিজেকে নির্ােষ দাবি করেন। তিনি বলেন, ওই সময় তিনি মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। তিনি তার সাবেক ওই স্বামীর কাছ থেকে শিশু নির্যাতনের স্বীকারোক্তি আদায়ের জন্য তাকে নির্যাতন করেছেন।
আদালতে যেসব প্রমাণ হাজির করা হয় তাতে বলা হয়েছে র‌্যাকুয়েল গায়েলে হাচিসন নিজেই একজন ‘শ্বেত জাদুকরী’। এর বিচারে এনএসডব্লিউ সুপ্রিম কোর্টের বিচারক পিটার হ্যামিল বলেছেন, হত্যাকান্ডের বিস্তারিত বর্ণনা শরীরকে হিম করে দেয়। যে নৃশংসতা ঘটানো হয়েছে তা অসহনীয়। আর এ অপরাধ ঘটানো হয়েছে একটি শিশুর সামনে। সেই শিশুটি পুরো হত্যাকান্ড প্রত্যক্ষ করেছে।
এ ঘটনায় এরই মধ্যে চার বছর জেল খেটেছেন র‌্যাকুয়েল গায়েলে হাচিসন। তার অর্থ আর প্রায় দেড় বছর পরে তিনি প্যারোলে মুক্তি পেতে পারেন।

গল্প: ঠিক দুপুরবেলা by লুনা রুশদী

গোরস্থানে বসে ভেজি বার্গার খাইতেছি। আচ্ছা, আমি তো সেমেটারি বলতে পারতাম অথবা কবরস্থান...গোরস্থান কেন বললাম? এর মধ্যে একটা গা ছমছম করা ভয় ভয়–টাইপ ভাব আছে, না? এই জায়গাটা অন্য রকম। বহু আগে এই এলাকার কবরস্থান ছিল এইখানে, ছড়ানো–ছিটানো কবরগুলি আছে। মাঝে মাঝে গাছ, দুই–একটা বেঞ্চ। এই অক্টোবরের শুরুতে মেলবোর্ন শীত থেকে ঝাড়া দিয়ে উঠতে শুরু করছে, অফিশিয়ালি যদিও বসন্ত শুরু হয় সেপ্টেম্বর মাসে। গাছগুলিতে নতুন পাতা, এলোমেলোভাবে মৌসুমি ফুলের বীজ ছিটানো হইছিল, এখন রং–বেরঙের ফুল ফুটে আছে শেওলা ধরা প্রাচীন কবরগুলিকে ঘিরে, দেখলেই ফররুখ আহমদের কবিতার লাইন মনে পড়ে ‘কাফনের পাশ দিয়ে বেজে চলে দৃঢ় পাখোয়াজ...’।

রাস্তার কাছাকাছি ঠিক ঢোকার মুখে বাচ্চাদের পার্কমতন, বিকালের দিকে আসে ওরা। দুপুরবেলায় কেউ আসে না। এটা বলতেছি গত তিন সপ্তাহের অভিজ্ঞতা থেকে। চাকরিটা ছাড়ার পরে বাসার কাউকেই বলি নাই, হুদাই অনেকগুলি কথা বলতে হবে, ভাল্লাগে না। তাই রোজ রোজ ঠিকঠাক তৈরি হয়ে বাসা থেকে বের হই। উল্টাপাল্টা চক্কর দিতে থাকি। কিন্তু দুপুরবেলায় আমার বর্তমান স্থায়ী ঠিকানা এইখানে। হাংরি জ্যাকস থেকে একটা ভেজি বার্গার আর এক কাপ কফি নিয়ে এইখানে এসে বসি, গাছের কচি সবুজ পাতার ফোকর থেকে দুপুরের রোদ ছেঁকে আসে আর কবরের চিড় ধরা সিমেন্টের ওপরে গড়াগড়ি খায়, পাতার ছায়া পড়ে, ঘাসের ওপর দিয়ে বাতাস সরতে থাকে, পাখিরা ঘোরেফেরে, ওড়ে, দোল খায়। এই সবই ভালো লাগে। মাটির ওপরের মানুষ থেকে মাটির নিচের মানুষেরা অনেক আরামদায়ক।

বোঝা বয়ে তিন মণ ওজনের একটা বই নিয়ে আসছি যদিও, কিছুই পড়ি নাই। ঘাসের ওপরে বই, তার ওপরে কফির টেক অ্যাওয়ে কাপ। টুং টাং করে মেসেজ আসতেছে ফেসবুক মেসেঞ্জারে। আমার অল্প পুরান প্রেমিক বেড়াতে গেছে অতি পুরান প্রেমিকের বাড়িতে—নিউইয়র্ক থেকে নিউ জার্সি। এরা দুইজনেই কবি। অতি পুরান এত দিনে বিয়ে করে সংসারি এবং এক বাচ্চার বাপ। অল্প পুরানও সেই পথে পা বাড়াইছে, আংটিবদল হয়ে গেছে। দেখলাম আমার প্রেমের এই একটা আছর আছে। প্রেম ছোটার সাথে সাথেই এরা একনিশ্বাসে বিয়ে করে ফেলে। আমি তাই নিজের পরিচয় দিতে পারি সমাজসেবী হিসেবে। যাদেরই বিবাহযোগ্য ছেলেরা বিয়ের বিষয়ে গাঁইগুঁই করতেছে, অথবা বিদ্রোহী হয়ে উঠতে চাইতেছে, তাদের আমার হাতে ছেড়ে দিলেই ঠিক করে দেব একদম।

অল্প পুরানের সাথে আমার যোগাযোগ মোটামুটি অব্যাহত, অবশ্য ফর্ম বদলাইছে। এখন বেশির ভাগ সময় তার বিয়ে নিয়ে আলাপ হয়, ফিঁয়াসের ছবি দেখি, বিবাহিত জীবন সম্পর্কে অভয় দিই; যেহেতু সে জীবনও আমি কাটাইছি কয়েক বছর। অতি পুরানের সাথে সরাসরি কথা না হইলেও একে অপরের ফেসবুক পোস্টে মাঝে মাঝে লাইক দিই।

অল্প পুরান লিখছে, অতি পুরান ঘরে ঢুকল।

লিখলাম, ওরে একটা চুমা দাও।

একটা হাসিমুখের ইমো দিলাম, আসলে হাসলাম না। ফোনটা নামায়ে রাখলাম, এর সাথে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কেমনে কথা বলতাম? এখন তো নাম দেখলেই হাই আসে! কফির কাপ থেকে ধোঁয়া উঠতেছে। সাধারণত হাংরি জ্যাকসের কফি হয় কুসুম গরম। আমি অর্ডার দেওয়ার সময় বলি এক্সট্রা হট দিতে, সেটাও অনেকেই পারে না। কফিতে চুমুক দিলাম, খুবই ভালো বানাইছে। তারপরে মুখের সামনে কাপ নিয়ে দেখলাম ধোঁয়ার আড়ালে দুনিয়া কেমন কাঁপতে থাকে, যেন তরল, বাষ্প হয়ে মিলাইতে চাইতেছে।

হঠাৎ দেখি একটু দূরে, চার–পাঁচটা কবরের ওই পাশে ঝোপের আড়াল থেকে একটা অবয়ব নড়তে নড়তে বড় হইতেছে, তখনো কফির ধোঁয়ার আড়াল থেকে দেখতেছিলাম বলে মনে হচ্ছিল চেরাগের দৈত্য বের হয়ে নিজের সাথেই ডিবেট করতেছে যে রূপ বদলায়ে কঠিন হবে, নাকি বায়বীয়ই থাকবে। কাপ নামায়ে খেয়াল করলাম একজন হেঁটে আসতেছে, মাঝে মাঝেই লম্বা গাছের আড়ালে চলে যাইতেছে, সূর্যের দিক থেকে আসতেছিল বলে চেহারা স্পষ্ট হচ্ছিল না। আরেকটু কাছে আসলে বুঝলাম গায়ের চামড়া বাদামি, তবে পোশাক রীতিমতো পশ্চিমা ফর্মাল অ্যাটায়ার—সাদা শার্ট আর কালো রঙের থ্রিপিস স্যুট, একটা বো টাইও আছে। এত সেজেগুজে এই দুপুরবেলায় কই থেকে আসতেছে সে? এ রকম কাপড় তো লোকে বিয়েতে পরে, নয়তো ফিউনেরালে। কাছেই অবশ্য একটা চার্চ আছে। তার চলাফেরায় একটা হারায়ে যাওয়া ভাব। একটু দুলে দুলে আলতো হাঁটতেছে, যেন সে একটা পাখি, যেন মাত্র হাঁটতে শিখছে।

হাঁটার ভঙ্গিতে জামিকে মনে পড়ল। একবার, তখনো তার সাথে প্রেম হয় নাই। ওর লেটেস্ট প্রেমিকার সাথে বেড়াতে গেছিল। গাড়ির ভেতরে সিগারেট ধরাইছে, প্রেমিকা তাকে আলটিমেটাম দিল, ‘আমি, না সিগারেট?’, জামি যথারীতি জবাব দিল, ‘সিগারেট।’ তত দিনে ওর এই সব কীর্তিকলাপে মেয়েটা যথেষ্টই অতিষ্ঠ। ওরে গাড়ি থেকে নামায়ে দিল সেই জিলংয়ের কাছে। শহর থেকে গাড়িতে এক ঘণ্টার রাস্তা, আমাদের বাসা থেকে দেড় ঘণ্টা। শীতের রাত্রি আর ততক্ষণে পাবলিক ট্রান্সপোর্ট বন্ধ হয়ে গেছে। জামি এদিক–সেদিক কয়েক ঘণ্টা চক্কর দিয়েও বের হওয়ার পথ না পেয়ে রাত দুইটার দিকে ফোন করে বলে, ‘জেবা, আমি তো হারায়ে গেছি, আমার বাসা কোথায়?’ তখন ওরেই ঠিকমতন চিনি না, ওর বাসা চিনব কেমনে?

অথচ মাত্র ঘুম ভেঙে ওর কণ্ঠস্বর শুনেই মনে মনে দেখতেছিলাম ও সেই পড়ে যাওয়ার ভঙ্গিতে হাঁটতে হাঁটতে হয়রান হয়ে রাস্তার মাঝখানে বসে পড়তেছে। ড্রাইভার হিসেবে আমি বেশ খারাপ, কোনোমতে চোখেমুখে পানি ছিটায়ে বের হলাম তারে উদ্ধার করতে। তখন তো আর জিপিএস ছিল না, আমি ম্যাপও দেখতে জানতাম না। এক শবার হারায়ে যখন ওরে খুঁজে পেলাম, তখন প্রায় ভোর, মহা আরামে একটা বাসস্টপের বেঞ্চে শুয়ে ঘুমাচ্ছিল। ডাক দিতেই চরম বিরক্ত মুখে চোখমুখ কুঁচকায়ে বলল, ‘ব্যাক্কল নাকি তুই? কাঁচা ঘুম থেকে এমনে উঠাইতে হয়? যাহ্​ চা নিয়া আয়!’ আমি টাশকি খেয়ে কতক্ষণ ওর দিকে তাকায়ে থেকে যখন সত্যিই চায়ের খোঁজ করতে রওনা দিছি, সে হাসতে হাসতে আমার হাত ধরে টেনে পাশে বসায়ে এক হাতে বেড় দিয়ে জড়ায়ে ধরল। মনে হচ্ছিল ওর কাঁধ আর গলার মাঝের খালি জায়গাটুকুতে আমার মাথাটা জিগ-স পাজলের মতন ক্লিক করে বসে গেছে। আমার পিঠে আলতো হাত বোলাচ্ছিল আর কপালে ওর খোঁচা খোঁচা দাড়ির ঘষা লেগে একটা গা শিরশির ভাব। শীতের সকালের শিশির আর ধুলা মেশানো অদ্ভুত একটা গন্ধ থাকে, যেন বহু আগের কোনো সময় বয়ে নিয়ে আসতেছে, সেই সাথে ওর গায়ের গন্ধ মিলে বেহুঁশ–বেহুঁশ লাগতেছিল। আত্মা কাঁপতেছিল আর তা সারা শরীরে ছড়ায়ে যাচ্ছিল...। মনে মনে ভাবলাম, এরে আমি সারা জীবন দেখেশুনে রাখব, হাঁটার সময় ধরে রাখব। অনেক পরে বুঝতে পারছি, আমার ভাবনাগুলি আমারই ছিল, যার যার হাঁটা সে নিজেই হাঁটে।

এতক্ষণে আমার একদম সামনে এসে দাঁড়াইছে লোকটা। দেখলাম ওয়েস্ট কোটে চেইন লাগানো একটা পকেটঘড়ি। এ রকম ঘড়ি শুধু সাদা–কালো ইংরেজি সিনেমায় দেখেছি। খুব বিনীত ভঙ্গিতে একদম পুরোনো দিনের ইংলিশে বলল, ‘আমি কি কিছুক্ষণ আপনার পাশে বসে আপনার সঙ্গলাভের আনন্দ পেতে পারি।’ আমি হেসে দিয়ে বললাম, ‘পেতে পারেন।’ বসতে বসতে তার নজর গেল আমার পাশে রাখা বইয়ের মলাটে, স্পষ্ট বাংলায় পড়ল মধ্যরাতের অশ্বারোহী। একটু চমকায়ে তাকাইলাম, ‘আপনি বাঙালি নাকি?’

‘হা হা, অর্ধেক, আমার মা ছিলেন কলকাতার আর বাবা পাঞ্জাবের। আমি বড় হইছি অমৃতসরে।’

একটু কোনাকোনিভাবে আমার পাশে বসছে। খুব পরিচ্ছন্ন দেখতে, ঘাসে হাত বুলাইতে থাকা আঙুলগুলি লম্বা লম্বা, সুন্দরভাবে নখ কাটা, কোথাও ময়লা নাই। গায়ের সাদা শার্টটা এতটাই ধবধব করতেছে যে মনে হয় লন্ড্রি ডিটারজেন্টের বিজ্ঞাপন। বসছে যেন ভাসতেছে, যেন তারে ভেদ করেই ওইপাশের গাছগাছালি নজরে আসবে। তার কাছ থেকে ঘাস, ফুল আর শেওলা মেশানো অদ্ভুত জলজ একটা গন্ধ পাইতেছিলাম।

‘তোমার নাম কী?’ লোকটা জানতে চাইল বাংলায়। কাছ থেকে দেখে বুঝলাম যত কম বয়সী মনে হইছিল ততটা না, অন্তত পঁয়তাল্লিশের ওপরেই হবে। চুলও পাকতে শুরু করছে, সল্ট অ্যান্ড পেপার। সে আমারে তুমি বলাতে বেশ ভালো লাগল।

‘জেবুন্নেসা, সবাই জেবা ডাকে।’

‘বাহ্, বাহ্শাহজাদী জেবুন্নেসা! কে ছিল জানো তো?’

‘আওরঙ্গজেবের মেয়ে।’

‘হ্যাঁ, আরেকটা পরিচয়ও ছিল তাঁর—কবি ছিলেন, সুফিয়ানা কবিতা লিখতেন।’

‘তাই নাকি? আপনি কবিতা পড়েন?’

‘পড়তাম তো, জেবুন্নেসার কবিতাও পড়েছি।’

‘বলেন তো...’

‘তাহলে একটা ঘটনা দিয়ে শুরু করি, এটা সেই মিড ১৬০০–এর কথা। তখনকার পারস্যদেশে কবিরা মুখে মুখে শায়েরি লিখত। মাঝে মাঝে একজনের শুরু করা মিসরা বা লাইন আরেকজন শেষ করতেন...’

‘হ্যাঁ এই রকম শুনছিলাম, মসজিদে কবিতার লাইন লিখে রেখে আসত, না?’

‘রাইট, তো একটা এ রকম লাইন ঘুরতে ঘুরতে জেবুন্নেসার কাছে চলে এল—দোররে আবলাক কিসি কাম দিদা মওজুদ...’

‘মানে?’

‘আবলাক একরকমের মুক্তা, বলা হচ্ছে, এত সুন্দর আর কী আছে পৃথিবীতে...। জেবুন্নেসাও মনে মনে লাইনটা ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখছেন—এ রকম ভাবতে ভাবতেই একবার স্নান শেষে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে চোখে সুরমা পরছিলেন, এক ফোঁটা পানি গড়িয়ে পড়ল গালে, আর তিনি পরের লাইন লিখলেন—মাগার আশেক বোতানে সুরমা আলুত...।’

‘সুরমা তো বুঝলাম...মাগার মানে কিন্তু...আর?’

‘সুরমা মেশানো প্রেমিকার চোখের পানি তার চেয়েও সুন্দর...’

‘হা হা, নিজেই নিজেরে দেখে মুগ্ধ? এইটা কি সত্যি ঘটনা?’

‘হতেই পারে। তাঁর পেন নেম ছিল মাখফি, মানে যে লুকানো থাকে। একবার তাঁর সাথে দেখা করার জন্য একদল কবি আসলেন সম্রাটের দরবারে। জেবুন্নেসা ছিলেন পর্দানশিন, তাঁদের সাথে দেখা না করে লিখে পাঠালেন, ‘দার সাকুনে মাখফি মানাম/ চুঁ বুঁয়ে গুল দার বুর্গে গুল/হার কে খাহি দিদারে মান/হার সাকুন দিদা মোরা/

জেব ও জিনাত বাস হামি নাম/নামে মান জেবুন্নেসাস্ত...।’

‘অর্থ বলেন।’

‘যেভাবে গোলাপের খুশবু লুকিয়ে থাকে ফুলের ভেতর, আমিও আমার কবিতার ভেতর আছি, যে আমায় দেখতে চায়, সে আমার কবিতা দেখুক। রূপ ও যৌবন মানেই আমি, আমার নাম জেবুন্নেসা!’

‘পুরাই তো দেখি আমার মতন কথাবার্তা।’

‘নামের কিছু ইম্প্যাক্ট তো থাকেই!’ হাসতে হাসতে বলল লোকটা। ততক্ষণে প্রায় বিকাল, আমি হাঁ করে দেখতেছিলাম তার চোখ কী সুন্দর ঝিকমিক করে, লম্বা চোখের পাপড়ি!

‘আপনার নাম কী?’

‘মহেন্দ্র, তবে এই দেশে লোকে আমার মিডল নেম ধরে ডাকত, কুমার।’

‘কই থাকেন আপনি?’

‘এখানেই তো।’

‘এত ড্রেসড আপ যে?’

‘হা হা, তোমার সাথে দেখা হবে জানতাম তো!’

‘বলছে! কী করেন আপনি এমনিতে?’

‘কিছুই না!’

‘বাহ, আমিও তো! হাত মিলান!’ সে একটু হেসে আমার হাত ধরল, ধরেই থাকল। কী ঠান্ডা আর নরম হাত, তার স্পর্শ শান্তির মতন আমার রক্তের ভেতরে মিশতেছিল।

‘আপনার বউ নাই?’

‘ছিল তো...অন্য আরেক জীবনে। অমৃতসরে ছিলাম তখন। তোমার কথা বলো।’

‘আমারও, সে অনেক অনেক দিন আগের কথা।’

‘তখন মানুষ কাঁচা মাংস খেত?’

‘না না, তার চেয়ে আরেকটু পরে, এই ধরেন জেবুন্নেসা মানে আমাকে তো আমার বাবা আওরঙ্গজেব বন্দী করে রাখছিলেন, না? তো আমি লুকায়ে লুকায়ে চলে আসলাম মেলবোর্ন...।’

‘তারপরে?’

‘মহা প্রেমে পড়লাম, বিয়ে করলাম...আমরা খুব গরিব ছিলাম, মানুষের ফেলে দেওয়া জিনিসপাতি নিয়ে এসে ঘরে তুলতাম। একটা টিভি ছিল এমন ঘোলা, ওইটাতে কিছুই ঠিকমতন বোঝা যাইত না। একবার জামির মামার বাসায় নরমাল টিভি দেখে পুরা তাজ্জব হয়ে গেছিলাম, আরে টিভি এমন হয়?’

‘১৬০০ সালে টিভি কোথায় পেলে?’

‘আহ্​ হা, নেভার লেট ট্রুথ গেট ইন দ্য ওয়ে অব অয়া গুড স্টোরি। আপনার বউয়ের কথা বলেন।’

‘তাকে ঠিকঠাক চেনার সুযোগই পাই নাই। ধরো সময়টা ছিল ১৯৩০–এর এদিক–সেদিক। তখনো ভারতে ইংরেজদের রাজত্ব। আমি মাত্র ডাক্তারি পাস করেছি, মহুয়া ছিল বাঙালি, আমার মায়ের বাচপানের বন্ধুর মেয়ে। তোমার মতোই দেখতে ছিল, এইরকম আহ্লাদি গোলগাল চেহারা, বড় বড় চোখ...সুন্দর হাসি...।’

‘আপনি বউয়ের কথা বলতেছেন না আমার সাথে ফ্লার্ট করতেছেন?’

‘এক ঢিলে দুই পাখি, হা হা! মহুয়াকে আমার খুব ভালো লাগত, তবে প্রেম বলতে যা বোঝায়, সে রকম কিছু ছিল না। তত দিনে আমার বাবা গত হয়েছেন। মায়ের উৎসাহে বিয়ে হলো। এক মাস অনেক রকম পারিবারিক আচার পালন করতে করতেই কাটল। এত লোকের মধ্যে নিজেরা কাছে আসার সুযোগই হচ্ছিল না।’

‘তারপর?’

‘একবার গেলাম মানালিতে, ওইখানে গুরুদুয়ারা আছে, সেখানে প্রার্থনার জন্য। সেই প্রথম আমাদের একসাথে কোথাও যাওয়া। তিনটা দিন স্বপ্নের মতন ছিল, সারা দিন ঘুরতাম, সারারাত প্রেম করতাম। মানালিতে শেষ দিনটা ভীষণ ঘোরাঘুরি করে দুজনেই ক্লান্ত হয়ে ঘরে ফিরে শুয়ে পড়লাম। মহুয়ার মাথা আমার কাঁধে, আমি ওর চুলে বিলি কাটছিলাম, ওর গায়ে লেবুর গন্ধের মতন একটা গন্ধে আমাকে আচ্ছন্ন করছিলাম। কখন ঘুমিয়ে পড়লাম, জানি না। সে–ই আমাদের একসাথে শেষ ঘুম...।’

‘মানে?’

‘মহুয়া আর উঠল না। ঘুমের ভেতর কখন চলে গেছে, আমি টের পাইনি, আমার ডাক্তারি বিদ্যা ওকে ধরে রাখতে পারল না...সেই সকালের প্রতিটা ঘটনা, প্রতিটা দৃশ্য এখনো আমি পরিষ্কার দেখতে পাই।

আমি তার মুখের দিকে তাকায়ে ছিলাম, কী রকম দুঃখী চেহারাটা, কিছুই বলতে পারলাম না আমি।’

‘বহু কষ্টে একটা গাড়ি জোগাড় করতে সারা দিন গেল। মানালি থেকে অমৃতসর বারো ঘণ্টার পথ গাড়ির পেছনের সিটে ওর মাথা কোলে নিয়ে আমি এসেছি। মনে হচ্ছিল ও ঘুমাচ্ছে আমার কোলে। চাঁদ ছিল, ওর মুখে আলো পড়ছিল...সব মনে আছে আমার।’

‘তারপরে?’

খুব অস্পষ্ট করে হাসল মহেন্দ্র, ‘এই তো, আমার মা বেঁচে ছিলেন আরও দশ বছর, আমিও তাঁর কাছে ছিলাম। তারপরে চলে আসলাম। তখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলছে, আমি ডাক্তার, আমাকে এদের দরকার ছিল।’

এতক্ষণে মনে পড়ল আমরা তো গল্প গল্প খেলতেছিলাম। সত্যি সত্যি এ রকম হয় নাকি?

‘শোনেন, বিকাল কিন্তু হয়ে যাইতেছে, এখন দলে দলে বাচ্চারা আসবে। চলেন উঠি। কালকে আসবেন?’

‘চেষ্টা করব, এই সব তো আমার হাতে না।’

‘আপনার ফোন নম্বরটা লিখে দেন এইখানে।’

বইটা আগায়ে দিলাম কলমসহ, সে–ও লিখল।

তারপরে আমার হাত ধরে টেনে তুলল। একসাথে হেঁটে কিছুদূর গিয়েই মনে পড়ল ফোনটা আনতে ভুলে গেছি। ‘একটু দাঁড়াবেন, ফোনটা আনি।’ মাথা ঝাঁকায়ে হাসল। আমি দৌড়ায়ে ফোন তুলে নিয়ে ফিরে দেখি কেউ নাই। আরে কই গেল? এদিক–ওদিক খুঁজলাম। বই খুলে নম্বর নিতে গিয়ে দেখি লেখা, ‘আমি ক্লান্ত প্রাণ এক...’। ওই দিক থেকে আসছিল না? হেঁটে গেলাম।

এইখানেও একটা কবর? এইটা তো দেখি নাই আগে! ঝোপঝাড়ে দূর থেকে দেখা যায় না। দেখি নামের ফলকে লেখা ‘এম কে সিং (১৮৯০—১৯৪৬)।

ভেনিজুয়েলায় আগাম নির্বাচনের প্রস্তাব মাদুরোর

অবশেষে আগাম নির্বাচন প্রস্তাব করেছেন ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো। তার কর্তৃত্বের বিরুদ্ধে শনিবার তীব্র বিক্ষোভ শুরু হয় দেশটিতে। এতে যোগ দিয়েছেন হাজার হাজার মানুষ। একজন সিনিয়র জেনারেল তার পক্ষ ত্যাগ করে যোগ দিয়েছেন বিরোধী শিবিরে। মাদুরোর ওপর দেশের ভিতরে ও বাইরে ক্রমশ বাড়ছে চাপ। এমন অবস্থায় তিনি শনিবার আগাম নির্বাচনের প্রস্তাব দিয়েছেন। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
মাদুরোর বিমানবাহিনীর একজন সিনিয়র জেনারেল ভিডিও বার্তায় তার প্রতি আনুগত্য অস্বকিার করেছেন।
তার ওই ভিডিও বার্তা শনিবার প্রকাশ করা হয়েছে। এতে ওই জেনারেল পার্লামেন্টের প্রধান, স্বঘোষিত অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হুয়ান গাইডোর প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেছেন। তবে সেনাবাহিনী এখনও সমর্থন করছেন মাদুরোকে। এটাই তার দৃশ্যত দেশের ভিতরে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও বড় শক্তি। দেশের ভিতরে অর্থনৈতিক সংকটের জন্য জনসমর্থন অনেকাংশে হােিয়ছেন মাদুরো। তবে তিনি নিজে যুক্তরাষ্ট্রের নির্দেশনায় অভ্যুত্থানের শিকার বলে দাবি করেছেন।
এমন অবস্থায় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উদ্দেশে নিকোলাস মাদুরো একটি বক্তব্য দিয়েছেন। তাতে তিনি বলেছেন, সরকার নিয়ন্ত্রিত শক্তিশালী ‘কনস্টিটিউয়েন্ট এসেম্বলি’তে এ বছরে ‘ন্যাশনাল এসেম্বলি’ বা পার্লামেন্টের আগাম নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক হতে পারে। শনিবার রাজধানী কারাকাসে প্রয়াত সমাজতান্ত্রিক নেতা হুগো শাভেজের প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রথম শপথ নেয়ার ২০তম বার্ষিকী স্মরণে সরকারপন্থিদের একটি র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়। তাতে বক্তব্য রাখেন মাদুরো। এতে তিনি বলেন, আপনারা নির্বাচন চান? আপনারা আগাম নির্বাচন চান? আমরা পার্লামেন্ট নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।
বর্তমানে ভেনিজুয়েলার পার্লামেন্টের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে বিরোধীদের হাতে। গত বছর অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিজয়ী হন নিকোলাস মাদুরো। এরপর এ বছর ১০ই জানুয়ারি তিনি দ্বিতীয় মেয়াদে শপথ নেন। কিন্তু ওই নির্বাচন বর্জন করেছিল বিরোধীরা। তাদের অভিযোগ, নির্বাচনে ব্যাপক হারে জালিয়াতি হয়েছে। তাই হুয়ান গাইডো একটি নতুন ও সুষ্ঠু প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আহ্বান জানিয়েছেন।  বিরোধীদলীয় একজন এমপি আরমান্দো আরমাস এক বিবৃতিতে বলেছেন, ২০২০ সালে পরবর্তী পার্লামেন্ট নির্বাচনের শিডিউল রয়েছে। সেই পার্লামেন্ট নির্বাচনের প্রস্তাব সামনে ঠেলে দেয়া আরেকটি প্ররোচণামূলক কর্মকান্ড। নিকোলাস মাদুরো ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নন আর। তাই এ দেশে কনস্টিটিউয়েন্ট এসেম্বলিরও কোনো বৈধতা নেই, কোনো মূল্য নেই।
উল্লেখ্য, ভেনিজুয়েলায় সেনাবাহিনীর খুবই সামান্য একটি অংশ সাম্প্রতিক মাসগুলোতে নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। তবে বিপুল সংখ্যক অথবা প্রায় পুরোটা সেনাবাহিনী তাকে সমর্থন করছে। এক্ষেত্রে বৃত্ত ভেঙে বেরিয়ে এসেছেন দেশটির বিমানবাহিনীর হাই কমান্ডের একজন জেনারেল ফ্রান্সিসকো ইয়ানেজ। তিনিই প্রথম দায়িত্বে থাকা একজন জেনারেল, যিনি হুয়ান গাইডোকে স্বকিৃতি দিয়েছেন। গত ২৩ শে জানুয়ারি নিজেকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা দেন গাইডো। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়োজিত ভেনিজুয়েলার প্রধান সামরিক অ্যাটাচেও মাদুরোর পক্ষ ত্যাগ করেছেন। জেনারেল ফ্রান্সিসকো ইয়ানেজ বলেছেন, ভেনিজুয়েলার মানুষ, সশস্ত্র বাহিনীর শতকরা ৯০ ভাগ সদস্য আর স্বৈরাচারের সঙ্গে নেই। তারা ভেনিজুয়েলার জনগণের সঙ্গে মিশে গেছেন। গণতান্ত্রিক পালাবদল ঘটবে শিগগিরই। তার এমন বক্তব্যের জবাবে বিমান বাহিনীর হাই কমান্ড ওই জেনারেলের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ এনেছে।
অন্যদিকে কারাকারে অনুষ্ঠিত র‌্যালিতে গাইডো তার সমর্থকদের বলেন, ফ্রান্সিসকো ইয়ানেজের পথ অনুসরণ করবেন আরো অনেকে। এমনটা আশা করেন তিনি। এর আগে ৩৫ বছর বয়সী শিল্প বিষয়ক প্রকৌশলী হুয়ান গাইডো নিজেকে প্রেসিডেন্ট দাবি করে সেনাবাহিনী ও সরকারি কর্মকর্তাদের তার প্রতি আনুগত্য আনার আহ্বান জানান। এক্ষেত্রে তারা যদি পক্ষ ত্যাগ করে তার দিকে অগ্রসর হয় তাহলে তাদেরকে সাধারণ ক্ষমা দেয়ার ঘোষণা দেন তিনি।

চার আনা নিয়ে ঢাকায় আসা ছেলেটি by পিয়াস সরকার

পঞ্চাশের মন্বন্তর। চলছে দুর্ভিক্ষ। কুমিল্লা জেলার লাকসাম উপজেলায় ১৯৪৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে দরিদ্র ঘরে জন্ম নেয় এক শিশু। নাম তার বদিউল আলম। এই একমাত্র সন্তানটি বাবা-মা’র অনেক প্রতীক্ষিত সন্তান।
ড. বদিউল আলম মজুমদার আজ কর্মগুণে নিজেকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়। তিনি একাধারে অর্থনীতিবিদ, উন্নয়নকর্মী, রাজনীতি বিশ্লেষক, স্থানীয় সরকার-নির্বাচন বিশেষজ্ঞ, নাগরিক সমাজের নেতৃস্থানীয় প্রতিনিধি। বর্তমানে তিনি ‘দি হাঙ্গার প্রজেক্ট’-এর গ্লোবাল ভাইস প্রেসিডেন্ট ও কান্ট্রি ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
এছাড়া নাগরিক সংগঠন ‘সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)’র প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক।
তার বাবা হাইস্কুল শেষ করতে পারেননি অর্থনৈতিক কারণে। বাবা কাজ করতেন নবাব ফয়জুন্নেসার এস্টেটে নায়েব হিসেবে। মায়ের জ্ঞান নাম-স্বাক্ষর পর্যন্ত সীমাবদ্ধ। ১৯৫৩ সালে গ্রামে ক্লাস টু’তে প্রথম লেখাপড়া শুরু করেন। এরপর লাকসাম হাইস্কুলে ভর্তি হন ক্লাস সেভেনে। আর নবাব ফয়জুন্নেসা কলেজ থেকে ১৯৬৪ সালে উচ্চ-মাধ্যমিক পাস করেন। এরপর সুযোগ পান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার। বাণিজ্য অনুষদে।
বদিউল আলম স্কুলজীবন থেকেই ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলনে যোগ দেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও ছাত্র রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। তার পাশের রুমে থাকতেন তোফায়েল আহমেদ। আব্দুল কুদ্দুস মাখন, খন্দকার মোশারফ হোসেন, মইন খান ছিলেন ব্যাচমেট। এখনকার জহুরুল হক হল তখন ছিল ইকবাল হল। সেই হলেই থাকতেন তিনি।
তিনি বলেন, আমি ঢাকায় যখন আসি তখন আমার পকেটে মাত্র ৪ আনা ছিল। হলে ক্যান্টিনের ছেলেদের পড়াতেন। এর মাধ্যমে বিনা পয়সায় খাবার খেতে পারতেন। পাশাপাশি করতেন টিউশনি।
বদিউল আলমের বাবা মারা যান ১৯৬৪ সালে। শেষনিঃশ্বাস ত্যাগের পূর্বে প্যারালাইসড হয়ে দীর্ঘদিন বিছানায় পড়েছিলেন। এই সময় জায়গা-জমি বিক্রি করে করাতে হয় চিকিৎসা। নিজে চলার পাশাপাশি মাকেও পাঠাতেন টাকা।
তিনি হলে সাহিত্য সম্পাদক নির্বাচিতত হন। ষাটের দশকের শেষ দিকে গণ-আন্দোলনের সময় ছিলেন ইকবাল হলের সাধারণ সম্পাদক। আন্দোলনে রাখেন বলিষ্ঠ ভূমিকা। বলেন, এই হল থেকেই মূলত আন্দোলন পরিচালিত হতো। ১৯৬৮ সালে প্রথম চাকরি শিক্ষক হিসেবে কায়েদে আযম কলেজে। বর্তমানে যে কলেজের নাম শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করেন ১৯৬৯ সালে। লেকচারার হিসেবে। আবার পরের বছরেই স্কলারশিপ নিয়ে উচ্চ শিক্ষার জন্য চলে যান আমেরিকায়। সেখানে করেন মাস্টার্স ও পিএইচডি।
আমেরিকায় যেতেও অনেক সমস্যার সম্মুখীন হন। ছাত্র রাজনীতি করার কারণে আটকে যায় পাসপোর্ট। এসময় তাকে সহযোগিতা করেন সাবেক রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবু সাইদ চৌধুরী, প্রফেসর হাবিবুল্লাহসহ আরো অনেকে। তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার গিয়ে ‘ক্যালরিমন্ট গ্রাজুয়েট স্কুল’ থেকে মাস্টার্স করেন এবং এরপর ‘কেস ওয়েস্টার্ন রিভেন্স ইউনিভার্সিটি’ থেকে অর্থনীতিতে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটোল ইউনিভার্সিটি, ওয়াশিংটন স্টেট ইউনিভার্সিটি ও সেন্ট্রাল ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটিতে ১৯৭৭ সাল থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত অধ্যাপনা করেন। পাশাপাশি তিনি মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ‘নাসা’-তেও কনসালটেন্ট ছিলেন।
বিদেশে গিয়েও দেশের প্রতি ভালোবাসা অক্ষুণ্ন ছিল। মুক্তিযুদ্ধের সময় আমেরিকার রাজনৈতিক সদস্যসহ বিভিন্ন ব্যক্তিদের কাছে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে অবস্থান নেয়ার জন্য প্রচারণা চালান। ১৯৯১ সালে ড. বদিউল আলম মজুমদার দেশে আসেন ছুটিতে। ছুটিতে এসে সিদ্ধান্ত নেন দেশে থেকে যাবেন। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, মার্ক টোয়েনের একটি বিখ্যাত উক্তি আছে। ‘মানুষের জন্য দুটো দিন গুরুত্বপূর্ণ- যেদিন তার জন্ম হয় এবং আরেকটা দিন যেদিন সে অনুধাবন করে কেন তার জন্ম হয়েছে।’ তিনি আরো বলেন, আমি ওখানে ভালোই ছিলাম। ফুল টাইম প্রফেসর ছিলাম। আমি বাংলাদেশে ছুটিতে এসে বাংলাদেশ ঘুরে বেড়িয়েছি। আমি চাইলে বিভিন্ন দেশে যেতে পারতাম। আমি অনুধাবন করি আমার দেশের জন্য অনেক কিছু করার আছে। গাড়ি বাড়ি সবকিছু রেখে চার সন্তানকে নিয়ে পা রাখেন মাতৃভূমিতে। প্রথম স্ত্রী ’৮৩ সালে এক সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। পরে তিনি আবার বিয়ে করেন।
দেশে এসে যোগ দেন ইউএসএআইডি’র একটি প্রজেক্টে প্রধান হিসেবে। তিনি বলেন, আমার সেসময় তিক্ত অভিজ্ঞতা হলো। আমার ওপর বিভিন্ন চাপ ছিল। দুর্নীতি না করায় তাদের সঙ্গে সেই সম্পর্ক আর টিকে থাকেনি। এরপর তিনি ১৯৯৩ সালে হাঙ্গার প্রজেক্টের সঙ্গে যুক্ত হন। দারিদ্র্য দূর করাই ছিল তার প্রধান লক্ষ্য। ওই বছরের শেষের দিকে করেন উজ্জীবক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে দেখলাম অনেক মানুষ কাজ করছে। কেউ গাছ লাগাচ্ছে, কেউ অন্যদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে, স্কুল গড়ে দিচ্ছে ইত্যাদি কাজে অংশগ্রহণ করতো।
আমরা দেখলাম তাদের মাধ্যমে অনেক কাজ হচ্ছে। তখন আমরা বেশ কিছু এলাকাকে হাঙ্গার ফ্রি জোন ঘোষণা করি। নীতি নির্ধারণে পরিবর্তন আনার জন্য ২০০২ সালে প্রফেসর মোজাফফর আহমেদসহ সৃষ্টি করলেন ‘সিটিজেন ফর ফেয়ার ইলেকশন’। ২০০৩ সালে স্থানীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে সৎ মানুষ নির্বাচিত করার লক্ষ্যে প্রার্থীদের প্রোফাইল তৈরি করেন। তবে এতে অনেকইে তথ্য গোপন করেন। যার ফলে আমরা তাদের মুখোমুখি বসানোর ব্যবস্থা করি। এরপর আমদের উপলব্ধি হলো শুধু নির্বাচন নিয়ে কাজ করলে হবে না। সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে। ২০০৩ সালে আমরা প্রতিষ্ঠানের নাম বদলে রাখি ‘সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)’।
সদ্য সমাপ্ত সংসদ নির্বাচন নিয়ে বদিউল আলম মজুমদারের মূল্যায়ন, এই নির্বাচন নিয়ে তো ব্যাপক প্রশ্ন রয়েছে। সবার জন্য সমসুযোগ সৃষ্টি হয়নি। অভিযোগ আছে নির্বাচনে কারচুপির। নির্বাচন কমিশন তার নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যদি নিরপেক্ষ আচরণ না করে তাহলে সুষ্ঠু নির্বাচন হওয়া সম্ভব নয়। অভিযোগ আছে বিরোধীদল সমসুযোগ পায়নি। তাদের ওপর হামলা হয়েছে, মামলা হয়েছে এবং ভোটকেন্দ্রে ভোট দিতে বাধা দেয়াসহ আগের রাতে ব্যালটপেপার ভরে রাখার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও টিআইবি’র রিপোর্টে ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। আমি মনে করি, বর্তমান সরকারের উচিত আলোচনার মাধ্যমে একটি সমাধানের পথ খুঁজে বের করা। নিয়মতান্ত্রিকভাবে ক্ষমতার রদবদল হয় এটা আমাদের কাম্য। তা নাহলে আমরা অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাবো। তিনি আরো বলেন, অভিযোগ আছে বহু লোক ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। তারা ক্ষুব্ধ। তাদের মধ্যে বঞ্চনাবোধ থেকে কেউ কেউ বিপদগামী হতে পারে।
ড. মজুমদার বলেন, বাংলাদেশ অমিত সম্ভবনার দেশ। ১৯৭১ সালে আমাদের চেতনার জোয়ার ঘটেছিল। আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলাম। বাংলাদেশ ও কোরিয়া ১৯৭০-৭১ সালের দিকে একই অবস্থানে ছিল। তাদের মাথাপিছু আয় ও আমাদের  মাথাপিছু আয় প্রায় একই ছিল ১শ’ ডলারের মতো। কিন্তু আমাদের এখনো ২ হাজার ছাড়ায়নি। তাদের এখন মাথাপিছু আয় ২৬-২৭ হাজার ডলার। বাংলাদেশ অনেক সম্পদশালী আর কোরিয়ার আছে কিছু নিম্নমানের কয়লামাত্র। বাংলাদেশের অনেক সম্পদ যেমন উর্বর মাটি। মিষ্টি পানি। উঠতি বয়সের কর্মক্ষম জনগণ। এছাড়াও আমারা কঠোর পরিশ্রমী, অল্পতে সন্তুষ্ট, বহু বিরূপ পরিবেশে রয়েছে কাজ করার ক্ষমতা। আমাদের দেশ থেকে বিদেশে গিয়ে অনেক লোক অর্থ পাঠাচ্ছে। আমাদের নারীরা তৈরিপোশাক শিল্পে ও কৃষকরা ব্যাপক অবদান রেখে যাচ্ছেন। কিন্তু আমরা সেই সম্ভবনাকে কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছি। এই সম্ভাবনা নষ্ট হওয়ার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, আমাদের নীতিগত সীমাবদ্ধতা, রাজনৈতিক স্বার্থপরতা, দুর্নীতি-দুর্বৃত্তায়ন, বিভক্তি, অপরাজনীতির কারণে এগিয়ে যেতে পারিনি। একটা বিভক্ত জাতি বেশি দূর এগিয়ে যেতে পারে না।
দুর্নীতির বিষয়ে দুদকের সাম্প্রতিক কার্যক্রমকে ইতিবাচক হিসেবেই তিনি দেখছেন। তিনি বলেন, দুদকের কাজ আরো বেগবান করতে হবে। অনেক দুর্নীতিবাজ তাদের আশপাশে রয়েছে। যদি কার্যকর ও বিশ্বাসযোগ্য ব্যবস্থা নিতে হয়ে তবে, প্রথম ঘর থেকেই ব্যবস্থা নিতে হবে। বর্তমানে সরকারি কর্মকর্তারাই এখন দলীয় নেতাদের মতো আচরণ করে। দলীয় নেতারাও সরকারের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে। এটা সুশাসনের জন্য বিরাট অন্তরায়। এসব বিষয়ে আমাদের নজর দিতে হবে। শুধু আর্থিক দুর্নীতি নয় সব দুর্নীতির ব্যাপারে সচেষ্ট হতে হবে। নিজের স্বপ্ন নিয়ে বলেন, আত্মনির্ভরশীল গণতান্ত্রিক, শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ। যেখানে সবার অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে। জনগণ সৃজনশীলতা প্রকাশের সুযোগ পাবে-  এটাই আমার আশা। আর এই প্রচেষ্টাতেই আমি ও আমার প্রতিষ্ঠান কাজ করে যাচ্ছে।




নতুন ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা করেছে ইরান

নতুন একটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে ইরান। দেশটিতে ইসলামিক বিপ্লবের বার্ষিকী উপলক্ষে এ পরীক্ষা চালানো হয়। নতুন ওই ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা কমপক্ষে ১৩৫০ কিলোমিটার। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রী  আমির হাতামি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেছেন, ওই ক্ষেপণাস্ত্রের নাম হোভেইজেহ। এর সফল পরীক্ষা চালানো হয়েছে। যথার্থভাবে এটি টার্গেটে আঘাত করেছে। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। ইরান ইচ্ছাকৃতভাবে তার ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ২০০০ কিলোমিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখেছে।
তবে ইসরাইল বা মধ্যপ্রাচ্যে পশ্চিমা স্বার্থে আঘাত করার মতো সক্ষমতা তাদের আছে। এ অবস্থায় ওয়াশিংটন তার মিত্ররা ইরানের বিরুদ্ধে তাদের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা বাড়ানোর অভিযোগ তুলেছে। তাদের অভিযোগ, এসব ক্ষেপণাস্ত্র ইউরোপের জন্য হুমকি।
সমুদ্রপথে যেসব ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয় সাধারণত সেগুলোকে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র বলা হয়। আমির হাতামি বলেছেন, এ ক্ষেপণাস্ত্র সম্ভাব্য স্বল্প সময়ে প্রস্তুত করা যায় এবং অনেক নিচু দিয়ে উড়ে যায়। তিনি ইরানকে তার প্রতিরক্ষা খাতে এই ক্ষেপণাস্ত্রকে একটি বড় াস্ত্র হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তার মতে, ২০১৫ সালে এ ধরণের ক্ষেপণাস্ত্রের ঘোষণা দেয় ইরান, যার পাল্লা ছিল ৭০০ কিলোমিটার। এগুলোকে সোমার গ্রুপের ফেলা হয়েছে। তারই অংশ হলো হোভিজেহ ক্ষেপণাস্ত্র।
১৯৭৯ সালে ইরানে ঘটে ইসলামিক বিপ্লব। তাতে পশ্চিমাপন্থি শাহ সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে ইরানের নাম হয়ে যায় ইসলামিক প্রতাজন্ত্র ইরান। তার বার্ষিকী উপলক্ষ্যে ১০ দিনের অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে দেশটিতে শুক্রবার থেকে। এর আগের দিন বৃহস্পতিবার ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা আয়াতুল্লাহ রুহুলুল্লাহ খামেনিইর সমাধিতে সমবেত হন কয়েক লাখ ইরানি।
মঙ্গলবার ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব এডমিরাল আলী শামখানি বলেছেন, ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা বাড়ানোর কোনো ইচ্ছাই নেই ইরানের। এএফপি লিখেছে, ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার উদ্যোগে ইরান তার পারমাণবিক চুক্তি করে। এর ফলে তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির থেকে সরে আসে। কিন্তু ইরান তার ব্যাপক বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির উন্নয়ন করছে বলে অভিযোগ আছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ওই পারমাণবিক চুক্তি বাতিল করে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে অবরোধ আরোপ করেন। কিন্তু ওই চুক্তিতেই আটকে থাকে ইউরোপিয় ইউনিয়নের দেশগুলো। তারা ইরানের বিরুদ্ধে দেয়া ট্রাম্পের অবরোধের সমালোচনা করে।

মাইকেলের প্রতিটি স্পর্শ আমাকে শিহরিত করেছে -গোপন প্রেমিকা বললেন

শানা মাঙ্গাতাল। তাকে বলা হয় পপ সম্রাট প্রয়াত মাইকেল জ্যাকসনের ‘গোপন’ প্রেমিকা। সম্প্রতি মাইকেল জ্যাকসনের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে, তার যৌন আসক্তি নিয়ে যে তথ্যচিত্র নির্মাণ হয়েছে এবং তা নিয়ে সমালোচনার ঝড় বইছে, তখন সেই শানা মুখ খুললেন। তিনি বললেন, নারীদের প্রতি মাইকেল জ্যাকসনের ছিল গভীর শ্রদ্ধা। তার যৌনজীবন নিয়ে যেসব গল্প বলা হচ্ছে তার সবই মিথ্যা। প্রয়াত মাইকেলের বিরুদ্ধে এমন সব অভিযোগকারীরাই আসলে মাইকেল জ্যাকসনকে ‘হত্যা’ করেছেন।
১৯৯০ এর দশকে ‘থ্রিলার’ গায়ক হিসেবে জনপ্রিয়তার শীর্ষে মাইকেল জ্যাকসন। ওই সময় তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে জড়িত ছিলেন শানা মাঙ্গাতাল।
তিনি বলেছেন, মাইকেল জ্যাকসন মেয়েদের ভালবাসতেন। তাই বাচ্চাদের প্রতি তার কোনোই যৌন আসক্তি ছিল না। তাকে যতটা শিশুদের প্রতি যৌন আসক্ত বলা হয় বা ভাবা হয়, তিনি আসলে তা নন। তিনি চমৎকার অভিজ্ঞ এবং বিস্ময়কর একজন প্রেমিক ছিলেন। তার সঙ্গে অন্য কোনো পুরুষকে কখনোই তুলনা করা যাবে না।
শানা মাঙ্গাতালের বয়স এখন ৪৮ বছর। তিনি স্মরণ করেছেন মাইকেল জ্যাকসনের সঙ্গে সেইসব দিনগুলোকে। ওই সময় মাইকেল জ্যাকসন তার সঙ্গে প্রেমের ভান করতেন। ফোনে তাকে যৌন আসক্তিমুলক গানের কথা শুনিয়ে তার মাঝে যৌন আসক্তি সৃষ্টির চেষ্টা করতেন। কখনো কখনো তিনি যুবতীদের সঙ্গে আপত্তিকর আচরণ করতেন। কিন্তু তার বিরুদ্ধে ছেলেদের যেসব অভিযোগ এসেছে তা বিশ্বাস করার মতো নয়।
মাইকেল জ্যাকসনের কোম্পানির ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে কাজ করেছেন শানা মাঙ্গাতাল। তিনি বলেছেন, উল্টো অনেক পিতামাতাই তাদের বাচ্চা ছেলেদের মাইকেলের কাছে পাঠিয়ে দিতেন তার সঙ্গে থাকতে। তাদেরকে বলতেন মাইকেল জ্যাকসনের সঙ্গে ঘুমাতে। একটি শিশু বেশি নজর পাচ্ছে এটা দেখলে অন্যরা ঈর্ষাণি¦ত হয়ে পড়তেন।
সম্প্রতি মাইকেল জ্যাকসনকে নিয়ে তথ্যচিত্র ‘লিভিং নেভারল্যান্ড’ প্রকাশ হয়েছে। এতে ওয়াডে রবসন এবং জেমস সেফচাক অভিযোগ করেছেন শিশু অবস্থায় তাদের সঙ্গে যৌন নির্যাতন করেছেন মাইকেল জ্যাকসন। এ নিয়ে বৃটেনের একটি ট্যাবলয়েড পত্রিকার অনলাইন সংস্করণের সঙ্গে কথা বলেছেন শানা মাঙ্গাতাল। তিনি মাইকেল জ্যাকসনের বিরুদ্ধে আনীত সব অভিযোগ পুরোপুরি বানচাল করে দিয়েছেন। বলেছেন, মাইকেল জ্যাকসন কখনোই শিশুদের প্রতি যৌন আসক্ত ছিলেন না। যে দু’জন এ অভিযোগ এনেছেন তারা ছিলেন মাইকেল জ্যাকসনের বেস্ট ফ্রেন্ড। তাদের ভীষণ যতœ নিতেন মাইকেল জ্যাকসন। কিন্তু মাইকেল কখনো ভাবেন নি তারাই তার বিরুদ্ধে এভাবে কথা বলতে পারে। বাস্তবে এ দু’জনকে একটি পৃথিবী উপহার দিয়েছেন মাইকেল। এ ধরণের যৌন নির্যাতনের অভিযোগই মাইকেলকে হত্যা করেছে।

শানা মাঙ্গাতাল এখন লস অ্যানজেলেসের বিনোদন শিল্পের সঙ্গে কাজ করেন। ১৭ বছর বয়সে প্রথম মাইকেল জ্যাকসনের সঙ্গে তার সাক্ষাত হয়। এক পর্যায়ে তিনি মাইকেলের অফিসের রিসিপশনিস্ট হিসেবে কাজ করা শুরু করেন। তখন তার বয়স ২০ বছর। এরই মধ্যে তাদের মধ্যে গড়ে ওঠে প্রেমের সম্পর্ক। বেশ কয়েক মাস ফোনে এবং অফিসে তার সঙ্গে ডেটিং দিতে থাকেন মাইকেল। এরপরই প্রথমবার তাকে চুমু খান তিনি। শানা মাঙ্গাতাল ওই চুমুর প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমার সারা জীবনের স্বপ্ন যেন তখন সত্য হয়েছিল’। কিন্তু এর কয়েক সপ্তাহ পরেই একটি ম্যাগাজিনে চোখ আটকে যায় শানার। তিনি দেখতে পান এলভিস প্রিসলির মেয়ে লিসা মেরি প্রিসলির সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন মাইকেল। তা দেখে ‘হৃদয় ভেঙে যায় আমার’।
তারপরও বুকে আশা নিয়ে অপেক্ষায় থাকেন শানা। আশা করেন, একদিন মাইকেলের সঙ্গে তিনি একত্রিত হবে। অবশেষে কয়েক মাস পর লিসাকে ডিভোর্স দিলেন মাইকেল। এরপর লস অ্যানজেলেসের ইউনিভার্সেল সিটিতে ইউনিভার্সাল হিলটন হোটেলে শানাকে আমন্ত্রণ জানালেন মাইকেল জ্যাকসন। সেখানে তারা পপকর্ন খান। ছবি দেখেন। একবোতল ওয়াইন পান করেন। তারপর এক সঙ্গে রাত্রি যাপন করেন। ওই সময় তাদের এই সম্পর্কের কথা গোপন রেখেছিলেন শানা। চেয়েছিলেন আরো অন্তরঙ্গ হলে তবেই এ সম্পর্কের কথা প্রকাশ করবেন।
শানা বলেন, যখনই মাইকেল জ্যাকসন আমাকে স্পর্শ করতেন প্রতিবারই আমি শিহরিত হতাম। কাঁপতাম। আসলে আমি তো অনভিজ্ঞ ছিলাম। অন্য মেয়েদের যেমন থাকে আমার তেমন স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া ছিল না। তিনি আমাকে প্রস্তত করার জন্য সবই করতেন, যা ছিল বিস্ময়র। আমিও তো সব কিছু সেভাবেই চাইতাম। অবশ্যই মাইকেল জ্যাকসন ছিলেন অভিজ্ঞ। ওই রাতে আমরা সারারাত ঘুমাই নি। মাইকেল জ্যাকসন ছিলেন ভালবাসাময়, প্রেমময়। আমার মনে হয় আমার ইনোসেন্স তাকে আকৃষ্ট করেছিল আমার প্রতি। মনে হয়েছিল আমি যদি আগ্রাসি হই তাতে তিনি তার মতো করে আমার কাছে আসতে পারবেন না। ২০ বছর পরও তার প্রতি আমার অসীম ভালবাসা রয়েছে।

ধর্ষকের ইহাই পরিণতি, চিরকুট লিখে কারা হত্যা করছে

ধর্ষণের মামলায় অভিযুক্ত তৃতীয় এক ব্যক্তির মরদেহ গলায় 'স্বীকারোক্তিমূলক' চিরকুট লাগানো অবস্থায় পাওয়া গেছে গতকাল শুক্রবার। গত এক মাসের মধ্যে এরকম আরো দুটি ঘটনা ঘটেছে।
এর মধ্যে ঝালকাঠি জেলাতেই পাওয়া যায় দুটি মরদেহ এবং এগুলো একই ধর্ষণের মামলায় অভিযুক্ত দু'ব্যক্তির।
প্রথমে সজল জমাদ্দারের মরদেহ পাওয়া যায় ঝালকাঠি জেলার কাঁঠালিয়া উপজেলায় এক ধানক্ষেত থেকে। তার পর ছ'দিনের মাথায় একই ধর্ষণ মামলায় অভিযুক্ত দ্বিতীয় ব্যক্তি রাকিব মোল্লাহর মৃতদেহ পাওয়া যায় গলায় চিরকুট ঝোলানো অবস্থায় - রাজাপুরে একটি ইটের ভাটার পাশে।
দু'জনেরই গলায় ঝুলানো চিরকুটে লেখা ছিলো তাদের নাম, কোন ধর্ষণ মামলার তারা অভিযুক্ত এসব তথ্য। এছাড়া চিরকুটে আরও লেখা ছিল : 'ধর্ষকের ইহাই পরিণতি' এমন একটি বাক্য।
শাহিন জমাদ্দার কিসলু, যিনি নিহত এই দুই ব্যক্তির সম্পর্কে যথাক্রমে মামা ও চাচা হন, তিনি বিবিসি বাংলাকে বলেন, "এফআইআর হওয়ার আগেই সজলের লাশ পাওয়া যায় গত ২৬ জানুয়ারি । আর রাকিব উধাও হয় ২৫ তারিখ নবীনগর থেকে।"
তিনি অভিযোগ করেন - "আমার ভাইগ্না ও ভাতিজাকে নির্যাতন করে মারছে।"
"আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত হবে, তদন্তের পর বিচারে দোষী সাব্যস্ত হবে। তখন তাকে ফাঁসি দিক অথবা যাবজ্জীবন দিক সেটা আমরা মেনে নিতে পারি। কিন্তু এভাবে হলে তো আমরা সেটা মেনে নিতে পারি না" - বলেন শাহিন জমাদ্দার।
নিহত দু'জনই পাশের জেলা পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ার বাসিন্দা। তারা দু'জনেই একই এলাকার ১৩ বছর বয়সী এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত।
এখন প্রশ্ন উঠছে - একই অপরাধের সাথে যোগসূত্র থাকা দুই অভিযুক্তর মরদেহ একইভাবে পাওয়া গেল কিভাবে?
ঝালকাঠির পুলিশ বলছে, তারা বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করছেন, তবে তাদের নিজেদের মনেও এই একই প্রশ্ন।
ঝালকাঠি জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলছেন, "বিষয়টা নিয়ে আমাদেরও একটা প্রশ্ন। কারণ হল এরা আমাদের এই এলাকার কেউ না, এদের বাড়ি এখানে না, এখানকার কোন অপরাধের তারা জড়িত না,তাদের অপরাধের ঘটনাস্থল অন্য জেলায়। এখন আমরাও বোঝার চেষ্টা করছি এই লাশগুলো এখানে কিভাবে আসলো। কারা এগুলো করছে তা আমরা তদন্ত সাপেক্ষে বলতে পারবো।"বাংলাদেশে গত এক মাসে এ নিয়ে ধর্ষণে অভিযুক্ত তৃতীয় ব্যক্তির মরদেহ চিরকুট লাগানো অবস্থায় পাওয়া গেলো।
প্রথম ঘটনাটি ঘটেছিলো ঢাকার কাছে সাভারে। জানুয়ারির ১৮ তারিখ সেখানে ধর্ষণের 'স্বীকারোক্তিমূলক' চিরকুট গলায় ঝোলানো অবস্থায় একজন অভিযুক্তর মৃতদেহ পাওয়া যায়।
ঝালকাঠির প্রথমটি এবং সাভারের মরদেহটি গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া গেছে। সবশেষ শুক্রবার যেটি পাওয়া গেছে সেটির ময়নাতদন্ত চলছে। এমন ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মানবাধিকার কর্মী সুলতানা কামাল।
তিনি বলছেন, "এমন ঘটনায় ধর্ষণ তো কমাবেই না বরং এটাকে ঘিরে আরও অপরাধমূলক কাজের জন্ম হতে পারে। রাষ্ট্র যদি এই ধরনের কর্মকাণ্ড তৎক্ষণাৎ তৎপর হয়ে বন্ধ করতে না পারে, তাহলে তারা দায়বদ্ধ থাকবে জনগণের মধ্যে বিচার ব্যবস্থার প্রতি অনাস্থা সৃষ্টির জন্যে। সেটা খুবই একটা অশুভ লক্ষণ।"
তিনি বলছেন, "সাধারণ মানুষ এই ধরনের বিচার বহির্ভূত কর্মকাণ্ড সমর্থন করে যখন আইনের প্রতি সে আস্থা হারায়।"
তিনি আরও বলছেন, "সেই ক্লিন হার্ট অপারেশন থেকে শুরু করে ক্রসফায়ার দেখেছি, এনকাউন্টার বন্দুক-যুদ্ধ দেখেছি। জায়গায় জায়গায় মানুষের মরদেহ পাওয়া যাচ্ছে। আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এই ধরনের যে আচরণ রয়েছে সেটার সুযোগ নিয়ে বাইরের মানুষ এমন কাণ্ড ঘটাতে পারে এমন আশংকাও তৈরি হয়।"
তিনি বলছেন, একটি সভ্য সমাজে একজন মানুষের বিরুদ্ধে যত দুর্ধর্ষ অপরাধের অভিযোগ উঠুক না কেন, আইনি প্রক্রিয়াতে নিয়ে গিয়েই তাকে শাস্তি দেয়া যেতে পারে। আদালতের দায়িত্ব কার্যকর করার অধিকার কারো নেই।"
এমন হত্যাকাণ্ডের ঘটনা আইন নিজের হাতে তুলে নেয়া ও প্রতিহিংসা মূলক আরও ঘটনার জন্ম দিতে পারে বলে আশংকা প্রকাশ করেন তিনি। তবে সব মিলিয়ে কে এভাবে হত্যা করছে, আর একই পদ্ধতি অবলম্বন করে কেন মরদেহগুলো ফেলে রেখে যাওয়া হচ্ছে - সে নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
সূত্রঃ বিবিসি

বিশ্বে বাংলাদেশ নিয়ে গবেষণার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে - জবিতে ‘বাংলাদেশ ভবন’ বিষয়ে সেমিনারে বক্তারা

শান্তিনিকেতনে ‘বাংলাদেশ ভবন’ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সেখানে বাংলাদেশ বিষয়ক একাডেমিক অধ্যয়ন ও গবেষণার দ্বার বিশ্বের দরবারে উন্মোচিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ ভবন ইন বিশ্ব-ভারতী: দ্য হার্ট অফ প্রাক্টিসিং কালচার অ্যান্ড এডুকেশন অফ সাউথ এশিয়া’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তরা এ কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের সভাকক্ষে মার্কেটিং বিভাগ ও জবি রিসার্চ সোসাইটি যৌথভাবে প্রথমবারের মতো এ সেমিনারের আয়োজন করে।
বিশ্ব-ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ভারত সরকারের কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়) বিনয় ভবনের প্রাক্তন ডিন (অধ্যক্ষ) প্রফেসর ড. প্রহ্লাদ রায় সেমিনারের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, অনেক সাধারণ মানুষের ধারণা বাংলাদেশ ভবন মানে হল একটি বিল্ডিং যেখানে জাদুঘরের মত বিভিন্ন স্মৃতিবিজরিত স্মারক চিহ্ন বা সামগ্রী সংরক্ষিত থাকবে, প্রকৃতপক্ষে শান্তিনিকেতনে ভবন অর্থ অনুষদ বা ফ্যাকাল্টি। বলেন, এর মাধ্যমে বাংলাদেশ বিষয়ক একাডেমিক অধ্যয়ন ও গবেষণার দ্বার বিশ্বের দরবারে উন্মোচিত হল।
প্রফেসর ড. প্রহ্লাদ রায় বলেন, বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের অভ্যুদয়ে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধসহ পূর্বাপর সকল বিষয় এই ভবনের পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ ও ভারতের সাংকৃতিক আন্তঃসম্পর্ক বিনিময়ের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে বলেও মনে করে তিনি।
মার্কেটিং বিভাগের চেয়ারম্যান এবং জবি রিসার্চ সোসাইটির পৃষ্ঠপোষক প্রফেসর ড. হুমায়ূন কবির  চৌধুরীর সভাপতিত্বে সেমিনারে শুভেচ্ছা রাখেন বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও সোসাইটির মডারেটর শাহ মো. আরিফুল আবেদ। তিনি বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় হবে তরুণ গবেষকদের লীলাভূমি। ভারতে ‘বাংলাদেশ ভবন’ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ বিষয়ক বিদ্যা চর্চা ও গবেষণার পথ আরো প্রসারিত হবে।
সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মার্কেটিং বিভাগের সাবেক  চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. জহিরউদ্দীন আরিফ বলেন, মানবিক গুণ অর্জনের মাধ্যমে ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালিত করতে হলে শিল্প-সাহিত্যের সঙ্গে গভীর সংযোগ প্রয়োজন। সেমিনারে প্রধান আলোচক জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. চিন্ময় হাওলাদার প্রাচীন, মধ্য ও আধুনিক যুগের ইতিহাস পর্যালোচনা করে এপার বাংলা এবং ওপার বাংলার সাংস্কৃতিক অভিন্নতার কথা বলেন। লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী ও সোসাইটির আহ্বায়ক সালমান সোহেল সেমিনারটি সঞ্চালনা করেন।

কলার হাট কতুবপুর by মো.নজরুল ইসলাম

কুতুবপুর কলার বাজার। দেশের সবচেয়ে বড় কলার বাজার এটি। টাঙ্গাইলের সখীপুর, ঘাটাইল এবং ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া ও ভালুকা উপজেলার সীমান্তে এ বাজারটি বাজার। ঢাকা-সাগরদিঘী সড়কের কুতুবপুর নামক স্থানে রাস্তার দু’পাশে বসে দেশের এই বৃহৎ কলার হাট। এটি কলার রাজধানী হিসেবেও জনপ্রিয়তা পেয়েছে। সপ্তাহের দুদিন রোববার ও বুধবারে কুতুবপুর বাজারে হাট বসে। এ হাট থেকে প্রায় কোটি টাকার কলা রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যায়। কুতুববপুর বাজারের কলা ব্যবসায়ীরা জানান, এতদাঞ্চলের সবচেয়ে বড় কলার হাট টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার কুতুববপুর বাজার।
এখানে উপজেলার কুতুবপুর, বড়চওনা, দাড়িপাকা, শ্রীপুর, তৈলধারা, মুচারিয়া পাথার, শালগ্রামপুর, ঘাটাইল উপজেলার সাগরদিঘী, জোড়দিঘী, গারোবাজার,মধুপুর উপজেলার মহিষমারা,শালিকা,আশ্রা,নেদুরবাজার এবং ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার কৈয়াদি,ফুলবাড়িয়া উপজেলার ফুলতলা,এনায়েতপুরসহ বিভিন্ন উপজেলার উৎপাদিত কলা বিক্রি হয় এই হাটে। । জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে শনিবার বিকাল থেকে রোববার দুপুর ১২টা পর্যন্ত এবং মঙ্গলবার বিকাল থেকে বুধবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত কলা আমদানি হতে থাকে। কলাচাষি এবং ছোট ব্যবসায়ীরা এ হাটে কলা আমদানি করেন। এরপর তাঁদের কাছ থেকে পাইকারি ব্যবসায়ীরা সেগুলো কিনে ঢাকা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় নিয়ে বিক্রি করেন। কুতুবপুর হাটের কলার আড়তদার কালাম মিয়া জানান, প্রতি হাটে এখান থেকে ১২ থেকে ১৫ ট্রাক কলা দেশের বিভিন্ন স্থানে যায়। কলা ব্যবসাকে কেন্দ্র করে এখানে সাতটি আড়ত গড়ে উঠেছে। কুতুবপুর বাজার ব্যবসায়ী, আড়তদার ও স্থানীয়দের কাছে কলার রাজধানী হিসেবে পরিচিতিও পেয়েছে। গত ৩০ জানুয়ারি বুধবার কুতুবপুর হাট ঘুরে ব্যবসায়ী ও কলা বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এ বছর কলার দাম অনেকটা বেশি। প্রতি কাঁধি কলা এখন বিক্রি হচ্ছে ১শ’ থেকে ৫শ’ টাকা দরে। কলার কাঁধির ওপর নির্ভর করে দাম কমবেশি হয়ে থাকে বলে জানান কলা ব্যবসায়ী শাহাদত হোসেন। তিনি আরো জানান, এ বাজারের কলাগুলো খুবই উন্নত মানের এবং এখানকার কলার চাহিদা দেশের সর্বত্রই রয়েছে। এ কারণে এখানে কলার দামও একটু বেশি। ১৫ থেকে ১৮ ছড়ি মধ্যম মানের একটি কলার কাঁধ বিক্রি হয় অন্তত ৩শ’ টাকা দরে। এর চেয়ে ভালো মানের কলা বিক্রি হয় ৫শ’ টাকা পর্যন্ত।
কুতুবপুর (চারিবাইদা) গ্রামের কলাচাষি নবাব আলী এবং স্থানীয় দোকান্দার মো.রফিকুল ইসলাম জানান, দেশের মধ্যে এটিই সবচেয়ে বড় কলার হাট। অন্যান্য বাজারেই তুলনায় এ বাজারে বেশি কলা বিক্রি হয়। দামটাও কিছুটা ভালো পাওয়া যায়। এ কারণে কুতুবপুরে কলার আমদানিও বেশি হয়।
গারোবাজারের কলাচাষি হায়েত আলী জানান, এ বছর তিনি সাড়ে চার বিঘা জমিতে কলা চাষ করেছেন। প্রতি বিঘা জমিতে ৩শ’টি হিসাবে সাড়ে পাঁচ বিঘা জমিতে এক হাজার ৫শ’টি কলা গাছ লাগিয়েছেন। প্রতি বিঘা জমি থেকে অন্তত ৮০ হাজার টাকার কলা বিক্রি হবে বলে তিনি জানান। তিনি আরো জানান, প্রতি বিঘা জমিতে কলা চাষ করতে তাঁর ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। বাজার বণিক সমিতির সভাপতি মজিবুর রহমান ফকির বলেন, এ বাজারে সপ্তাহে প্রায় কোটি টাকার কলা বেচা-কেনা করা হয়। তাছাড়া এ বাজার জেলার মধ্যে অন্যতম বিখ্যাত কলার বাজার বলে খ্যাতি পেয়েছে।
বাজারের ইজারাদার মো.হারুন অর রশিদ জানান,ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে খাজনার হয়রানী না থাকায় বাজারের সুনাম বৃদ্ধি পেয়েছে। কাঁধিপ্রতি এক টাকা হারে খাজনা আদায় করা হয়। বাজারের কুলি শ্রমিক সর্দার মো.হায়দার আলী জানান, কাঁধিপ্রতি তিন টাকা হারে লেবারী নেয়া হয়।
কুতুবপুর রওশন উচ্চ বিদ্যালয়ের বিএসসি শিক্ষক মো.রফিকুল ইসলাম জানান,দেশের আর কোথাও এত বড় কলার হাট চোখে পড়েনা। সারা দেশেই কুতুবপুর বাজার কলার জন্য বিখ্যাত।

এই সহিংসতার শেষ কবে? by মরিয়ম চম্পা

মাত্র ১৫শ’ টাকার জন্য প্রাণ দিতে হলো ৭ বছরের শিশু হৃদয় হোসেন সিদ্দিককে। নিখোঁজের চারদিন পর হৃদয়ের বস্তাবন্দি লাশ রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। হৃদয় স্থানীয় জগৎমোহন স্কুলে প্লে গ্রুপের শিক্ষার্থী। গত ২৬শে জানুয়ারি বিকাল ৪টায় খেলার জন্য বাইরে যায় হৃদয়। সেখান থেকে পারিবারিকভাবে পরিচিত ইয়াসিন তাকে নিয়ে যায়। রাত হয়ে গেলে শিশুটি চিৎকার করতে থাকে। পরে শিশুটিকে জানায় তোমার বাবার কাছে ১৫শ’ টাকা পাবো। এটা পরিশোধ করলেই মুক্তি মিলবে।
তারপরও হৃদয় চিৎকার করায় মুখচেপে খুন করা হয় তাকে। সকালে কামরাঙ্গীরচর আলীনগর দুই নম্বর গলির ইলিয়াছের বাড়ির পাশের গলিতে একটি বস্তা পড়ে থাকতে দেখে এলাকাবাসী পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ বস্তার ভেতর থেকে হৃদয়ের মৃতদেহ উদ্ধার করে। পরে হৃদয়ের বাবা রমজান আলী মৃতদেহ শনাক্ত করেন।
প্রতিদিনের মতোই দুই সন্তানকে মোটরসাইকেলে নিয়ে স্কুলের উদ্দেশ্যে বের হয়েছিলেন সামসুদ্দিন ডালিম। সন্তানরাও বাবাকে জড়িয়ে ধরে বসেছিল। কিন্তু নিমিষেই সব মিইয়ে গেছে। ট্রাক চাপায় নিহত হয়ে তারা এখন না ফেরার দেশে। গুরুতর আহত হয়েছেন সামসুদ্দিন ডালিম। নিহত সন্তানদের মরদেহ উদ্ধার করে নেয়া হয়েছে মর্গে আর বাবাকে নেয়া হয়েছে হাসপাতালে। ঘটনাটি গত সোমবারের। ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের মোল্লারপুল এলাকায় ঘটে এ ঘটনা। ট্রাক  চাপায় নিহত সন্তানদের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে নিজেকে আর ধরে রাখতে পারেননি বাবা। তাদের মধ্যে আফসার হোসেন কেরানীগঞ্জের কসমো মেট্রোপলিটন স্কুল অ্যান্ড কলেজের তৃতীয় শ্রেণি আর ফাতিমা আফরিন একই স্কুলে পঞ্চম শ্রেণিতে লেখাপড়া করত। মোটরসাইকেলচালক বাবা সামসুদ্দিন ডালিমকে গুরুতর অবস্থায় ভর্তি করা হয়েছে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে ডেমরায় লিপস্টিক দিয়ে সাজিয়ে দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে দুই শিশুকে বাসায় ডেকে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা চালায় গোলাম মোস্তফা (৩০) ও আজিজুল বাওয়ানী (২৮)। ওই সময় শিশু দুটি চিৎকার করলে দু’জনকেই গলা টিপে হত্যা করে ঘাতকরা। এদিকে হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে মোস্তফা ও বাওয়ানী।
৫ই জানুয়ারি গেণ্ডারিয়ায় দুই বছর বয়সী এক শিশুকে খিচুড়ি খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ ওঠে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। নিম্নআয়ের পরিবারের ওই শিশুর মা সকালে মেয়েকে রেখে কাজে গিয়েছিলেন। খেলার জন্য শিশুটি ঘর থেকে বাইরে গিয়েছিল। ওই ফাঁকে পাশের বাসার অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশুকে খিচুড়ি দেয়ার লোভ দেখিয়ে বাসায় ডেকে নেয়। ধর্ষণ চেষ্টার সময় শিশুটি কান্নাকাটি করলে তাকে ছাদ থেকে ফেলে হত্যা করে। এ ঘটনায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে নিজের মেয়েই আদালতে সাক্ষী দিয়েছে।
২৯শে জানুয়ারি ফেনীতে খেলাধুলা নিয়ে সামান্য কথা কাটাকাটির জেরে আরাফাত হোসেন (১৩) নামের এক স্কুলছাত্রকে হত্যা করে মাটিতে লাশ পুঁতে ফেলার অভিযোগ উঠে। মো. সাব্বির হোসেন (১৫) নামের এক বখাটের বিরুদ্ধে এই হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্তের মা ও ভাইকে আটক করেছে পুলিশ। নিখোঁজের ১৬ ঘণ্টা পর দুপুরে শহরের পাঠানবাড়ী এলাকার জিবি টাওয়ারের পাশে পরিত্যক্ত খালি জায়গা থেকে মাটি চাপা অবস্থায় আরাফাতের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। আরাফাত হোসেন ফেনী পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজে ৭ম শ্রেণির ছাত্র ও কুয়েত প্রবাসী জসিম উদ্দিনের ছেলে।
তারা শহরের পাঠানবাড়ী এলাকার একটি ভাড়া বাসায় বেশ কিছুদিন ধরে বসবাস করে আসছিল। আরাফাতের মামা এরশাদ হোসেন জানান, পাঠানবাড়ী এলাকার বখাটে সাব্বিরের সঙ্গে সমপ্রতি তার ভাগিনা আরাফাত হোসেনের খেলাধুলা নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। এ ঘটনার জেরে সাব্বির গত রোববার সন্ধ্যায় আরাফাতকে খেলার মাঠ থেকে ডেকে অন্যত্র নিয়ে যায়। পরে ওই এলাকার জেবি টাওয়ারের পাশের পরিত্যক্ত নির্জন জায়গায় স্থানীয়রা বখাটে সাব্বিরকে দেখতে পেয়ে আরাফাতের বিষয়ে জানতে চায়। এ সময় সে দৌড়ে পালিয়ে যায়। পরে আরাফাতকে অনেক খোঁজাখুঁজির পর না পেয়ে স্বজনরা ফেনী মডেল থানায় অভিযোগ করেন। পরদিন পরিত্যক্ত জায়গার এক কোণে মাটিতে একটি পা দেখতে পেয়ে এলাকাবাসী পুলিশে খবর দেয়। নিহত আরাফাতের মামা দাবি করেন বখাটে সাব্বির আরাফাতকে হত্যা করে লাশ মাটিচাপা দেয়।
সাম্প্রতিক সময়ে যেসব ধর্ষণ, ধর্ষণ চেষ্টা ও হত্যাসহ নানা ঘটনা ঘটছে এর মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিশু এই ঘটনার শিকার। কেন এমন নির্মম নিষ্ঠুর ঘটনা ঘটছে? সমাজ বিশ্লেষকরা বলছেন, মানুষের বিকৃত রুচিবোধ, সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়, সামাজিক রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটই সব অপরাধের পেছনে ভূমিকা রাখছে। সংঘবদ্ধ সামাজিক প্রতিরোধ আর কঠোর আইন প্রয়োগ এ ধরনের বর্বরতা রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
চলতি বছরের প্রথম মাসে দেশব্যাপী গণমাধ্যমে আসা তথ্য অনুযায়ী এ পর্যন্ত নারী ও শিশু ধর্ষণ এবং ধর্ষণ চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে ২৯টি। এর মধ্যে শিশুর সংখ্যা ১৯টি। মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের দেয়া তথ্য অনুযায়ী ২০১৮ সালে নারী ও শিশু ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ১১৭৬টি। এর মধ্যে ৭৩২ জন নারী ও ৪৪৪ জন শিশু। আসকের ওই প্রতিবেদন বলছে, ৭৩২ জন নারীর মধ্যে ধর্ষণ পরবর্তী হত্যার শিকার হয়েছেন ৬৩ জন এবং আত্মহত্যা করেছেন ৭ জন।
চলতি বছর ‘শিশু অধিকার পরিস্থিতি ২০১৮’ শীর্ষক শিশু অধিকার ফোরাম একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশে শিশুর ওপর যৌন হয়রানির ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। গত বছর সারা দেশে যৌন হয়রানির শিকার হয়েছে ৮১২ শিশু। ২০১৭ সালে এই সংখ্যা ছিল ৮৯৪ জন। শিশু নির্যাতনের এই চিত্রকে উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন মানবাধিকার সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, কঠোর আইন প্রয়োগ নিশ্চিতের মাধ্যমে এই অবস্থা থেকে উত্তরণ সম্ভব।
মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক বলেন, শিশুরা বিভিন্নভাবে নির্যাতিত হচ্ছে, ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের শিকার হচ্ছে। কারণ হচ্ছে সমাজে এক শ্রেণির মানুষের প্রচণ্ডভাবে মূল্যবোধের অভাব থেকে। সামাজিক অস্থিরতার কারণে। আরেকটি বিষয় হচ্ছে অপরাধীরা অনেক সময় মাদকাসক্ত অবস্থায় থাকেন। তখন তাদের হিতাহিত জ্ঞান থাকে না। এখানে অনেকটা মাদকাসক্ত, পারিবারিক শত্রুতা, অর্থের লোভ ইত্যাদি কারণে এসব কাজ করে। যে কারণেই হোক না কেন আমি মনে করি অপরাধীকে চিহ্নিত করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। এটা প্রতিরোধে বিচারহীনতা বা বিচারের দীর্ঘসূত্রিতা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। এক্ষেত্রে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকেও এগিয়ে আসতে হবে। মোটকথা আমাদের প্রচণ্ড জনসচেতনতা তৈরি করতে হবে। এটাকে সামাজিক আন্দোলনে রূপ দিতে হবে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে শাস্তি দিয়ে মানুষকে বোঝাতে হবে যে অপরাধ করলে পার পাওয়া যায় না। শাস্তি পেতে হয়।
অপরাধ বিজ্ঞানি তৌহিদুল হক বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে শিশু নির্যাতন এবং হত্যার ঘটনাটি বেশি ঘটছে। যেটা আতঙ্কের। যদিও প্রত্যেকটি হত্যাকাণ্ডের আলাদা আলাদা প্রেক্ষাপট রয়েছে। ট্রাক চাপায় দুই শিশু নিহত হওয়ার ঘটনায় ট্রাফিক নিয়ম-শৃঙ্খলা এবং জনসচেতনতায় বড় একটি ঘাটতি রয়েছে। এছাড়া শিশু ধর্ষণ এবং ধর্ষণ পরবর্তী হত্যার পেছনে প্রধান কারণ হচ্ছে শিশুদের প্রতিবাদ করার সুযোগটা কম থাকে। অপরাধ বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয়, যাদের মধ্যে ধর্ষণের চিন্তা রয়েছে তাদের কাছে বিপরীত লিঙ্গের কাউকে পেলেই তার প্রতি সেই ‘রেইপ টেনডেনসি’র চিন্তা বা ভাবনা জাগ্রত হয়।
তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে মানুষের হিংস্রতা বেড়েছে। যুবসমাজ ও প্রাপ্তবয়স্করা ফেসবুক, টুইটার ইত্যাদি ব্যবহার করে বিভিন্ন অপ্রত্যাশিত বিষয়গুলো কোনো প্রকার বাধা ছাড়াই উপভোগ করছে। এক কিশোর অপর কিশোরকে মেরে তার লাশ লুকিয়ে রাখবে এই ভাবনাটা ১৫ থেকে ২০ বছর আগেও আমরা দেখিনি। এই অপ্রত্যাশিত হত্যাকাণ্ড প্রতিকারের উপায় হচ্ছে, প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সরকারকে একটি শৃঙ্খলা বা অর্ডার তৈরি করতে হবে। দ্বিতীয়ত সন্তানদের সঙ্গে বন্ধুসুলভ সম্পর্কের পরিবেশ তৈরি করতে হবে। তৃতীয়ত অভিভাবকরা সন্তানদের সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ কোনো আচরণ তৈরি করা থেকে বিরত থাকবেন। যাতে করে ১৮ বছর বয়সের আগ পর্যন্ত বাবা মায়ের সঙ্গে সব কথা তারা শেয়ার করে। আমাদের মূল সমস্যার জায়গা অর্থাৎ সামাজিকভাবে মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্কের জায়গাটি তৈরি করতে হবে। এসব ক্ষেত্রে সরকারের বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। এবং অপরাধ হওয়ার ৬ মাসের মধ্যে অপরাধীর বিচার সম্পন্ন করতে হবে। কারণ ৬ মাস পর বিচার করা আর না করা একই কথা।
সমাজ বিজ্ঞানী ড. নেহাল করিম বলেন, ইদানীং প্রাপ্ত বয়স্ক পুরুষ এবং নারীদের তুলনায় শিশুরা বেশি নির্যাতিত হচ্ছে। কারণ বড়দেরকে হত্যা বা নির্যাতন করতে গেলে আরো কয়েকজন ব্যক্তির সহযোগিতা লাগে। একা পারে না। অথবা মানুষ ভাড়া করতে হয়। কিন্তু একজন শিশুকে একটি মাত্র লজেন্স দিয়েই কাবু করা যায়। ঘর থেকে বের করা যায়। তাকে গুম, নির্যাতন, জিম্মি ইত্যাদি করে মুক্তিপণ আদায় করা যায়। আর সে কারণেই শিশুদের প্রতি পাশবিক অত্যাচার, ধর্ষণ এবং হত্যার ঘটনা বেশি ঘটছে। এ জন্য দায়ী সামাজিক মূল্যবোধ। এছাড়া জ্ঞান চর্চা এবং বোধশক্তির অভাবও এজন্য দায়ী। এসব অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধে সামাজিক মূল্যবোধ, মানবতাবোধ ইত্যাদির চর্চা করতে হবে। তাহলেই এগুলো প্রতিরোধ করা সম্ভব।

পুরুষরা যৌন সম্পর্ক স্থাপন করতে চান -একজন এসকর্টের বয়ান

মিশেলে স্মিথ। ৩৩ বছর বয়সী সিঙ্গেল মা। তার বসবাস পূর্ব লন্ডনে। তিনি একজন প্রশাসনিক সহকারী। তবে তার আরো একটি বড় পরিচয় আছে। তিনি একজন এসকর্ট। অর্থাৎ অর্থের বিনিময়ে অন্য পুরুষের সঙ্গ দিতে যান। তার দাবি অর্থের বিনিময়ে ১৮ থেকে ৭৫ বছর বয়সী পুরুষের সঙ্গে ‘আউটে’ গেলেও তাদের সঙ্গে কোনো যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন নি তিনি।
কিন্তু চাকরি করা একজন সিঙ্গেল নারী কেন এ পথ বেছে নিলেন? এর জবাব তিনি নিজেই দিয়েছেন। তার কাছে ছিল ক্রেডিট কার্ড। সেই কার্ডে তার ঋণ বা ডেবিট হয়ে গিয়েছিল ২৫০০০ পাউন্ড। এই অর্থ তিনি কোনোভাবেই যোগাড় করতে পারছিলেন না। তাই এসকর্ট হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। ফলে তিনি যেসব পুরুষের সঙ্গ দেয়া শুরু করলেন, তারা তাকে নগদ অর্থ ও নানা রকম উপহার দেয়া শুরু করলেন। এসব থেকে ৫ বছরে তিনি ডেবিট বা দেনা শোধ করেছেন ২০০০০ পাউন্ড। এ বিষয়ে তিনি নিজেই বলেছেন, টিনেজ বয়সে আমি ক্রেডিট কার্ডে ২৫০০০ পাউন্ড খরচ করেছি। এটা দেখতে পেলাম অনেকটা পরে। মাথা খারাপ হয়ে গেল। বুঝতে পারলাম না কি করবো। চিন্তায় চিন্তার অসুস্থ হয়ে গেলাম। রাতে ঘুম নেই চোখে। একটি অফিসে তখন সর্বনিন্ম বেতনে চাকরি করতাম। বাড়ি ভাড়া ছিল। বিল দিতে হতো। ফলে ওই ডেবিট বা অর্থ শোধ করার কোনো পথ ছিল না আমার। এক রাতে একজন বন্ধুকে বললাম এসব। সে আমাকে সহজে টাকা বানানোর পথ দেখালো। বললো- এসকর্ট হলে এটা সম্ভব। সে নিজেও জানালো নিজে এটা করছে। তা শুনে আমি বেপরোয়া হয়ে পড়লাম। ওই বান্ধবী আমাকে একটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিজ্ঞাপন দিতে বললো। আমি ছবি দিলাম। বললাম, ডেটিং দেয়ার জন্য আমার পর্যন্ত সময় আছে। খুব বেশি দেরি হলো না। বন্যার পানির মতো ক্লায়েন্ট আসতে লাগলো। এক রাতে একজন নারী এলেন। তিনি শুধু সঙ্গ চান। বাইরে যাবেন।
মিশেলে স্মিথ আরো বলেন, ক্লায়েন্টরা অনেক সময় নগদ অর্থ পরিশোধ করে না। তারা আমাকে উপহার দেন। বেশির ভাগ মানুষই আমাকে এক রাতের জন্য ১৫০ থেকে ২৫০ পাউন্ড পরিশোধ করেন। তবে এটা তাদের নিজেদের পছন্দের বিষয়। আমি সব কিছু পাই। স্বর্ণালঙ্কার থেকে শুরু করে পোশাক, শ্যাম্পেন সব। একজন পুরুষতো আমাকে একবার জেসিকা র‌্যাবিটের ডিজাইনের খুব দামী একটি ড্রেস দিয়েছিল। আমার সঙ্গে যেসব পুরুষ যোগাযোগ করে বা এসকর্ট হিসেবে আমাকে ভাড়া করেন তাদের বয়স ১৮ থেকে ৭৫ বছরের মধ্যে। একজন প্রায় ৭০ বছর বয়সী একজন পুরুষের স্ত্রী মারা যান সম্প্রতি। তিনি একটি সুন্দরী মুখ চান। যাকে বগলদাবা করে তিনি কিছু নিয়ে গল্প করতে পারেন। তিনি আমাকে অনেক কিছু উপহার দিয়েছেন।
মিশেলে স্মিথ বলেন, আমি ইয়াং। দেখতে খারাপ নই। আমার শরীরের গঠনও আকর্ষণীয়, যা পুরুষদের খুব পছন্দ। এ জন্য অনেকেই আমাকে পছন্দ করেন। আমাকে ১০০০ পাউন্ড দামে ডায়মন্ড উপহার দেয়া হয়েছে। পেয়েছি ৮০০ পাউন্ড দামের ড্রেস। ক্লায়েন্টরা আমাকে নিয়ে গিয়েছেন বা যান লন্ডনের দামি দামি রেস্তোরাঁয়। একবার এক রাতের জন্য একজন সুন্দর যুবক আমাকে ৫০০ পাউন্ডের বেশি দিয়েছিল। অনেক পুরুষ আছেন, যারা যৌন সম্পর্ক স্থাপন করতে চান। তারা অতিরিক্ত অর্থ দিতে চান। কিন্তু আমি সে প্রস্তাবে সায় দিই না। বড়দিনের সময়টাতে আমার খুব ব্যস্ত সময় যায়। তখন উপহার পাই বৃষ্টির মতো। আসে কানের দুল, ব্রেসলেট, গলার হার। নগদ অর্থ। ডিসেম্বরে আমি ২৫০০ পাউন্ডের বেশি। ব্যবসায়ীরা তো সুন্দরী নারীদের খোঁজেন। তাদেরকে তারা নিজের বাহুবন্ধনে আটকে রাখতে চান।

যে কারণে সৌদি আরব ছাড়তে চান অনেক তরুণী

রক্ষণশীল দেশ সৌদি আরবে নিজের বাড়িতে নির্যাতন এবং দমন পীড়নের অভিযোগ তুলে প্রতিবছর শত শত নারী পশ্চিমা দেশগুলোয় পালিয়ে যাচ্ছে। তাদের অনেকের পছন্দের জায়গাগুলোর একটি যুক্তরাজ্য।
বিবিসির হানান রেযাক এরকম কয়েকজন নারীর সঙ্গে কথা বলেছেন, যারা স্বাধীনতা আর উন্নত জীবনের আশায় সম্প্রতি যুক্তরাজ্যে এসেছেন।
কিছুদিন আগে সৌদি আরবে নিজের পরিবার থেকে পালিয়ে থাইল্যান্ডের একটি হোটেল কক্ষে দরজা বন্ধ করে বসেছিলেন রাহাফ মোহাম্মদ আল-কুনান, যে ঘটনা সারা বিশ্বের নজরে পড়েছিল। পরে তিনি কানাডায় আশ্রয় পান।
তার মতো দেশটির অনেক পরিবার থেকে প্রতিবছর কয়েকশো নারী পালিয়ে আসছেন আর অস্ট্রেলিয়া, কানাডা বা ইউরোপে।
কার্ডিফে এরকম একজন উনিশ বছর বয়সী তরুণীর পোশাক দেখে যুক্তরাজ্যের আর কোন তরুণীর সঙ্গে তার পার্থক্য পাওয়া যাবে না, যদিও তার পারফিউমটি সৌদি আরবের।
মনে করা যাক, তার নাম রাওয়ান।
তিনি বলছিলেন, কেন সবকিছু ছেড়ে সৌদি তরুণীরা এই পথ বেছে নিচ্ছেন?
''আমি একবছর আগে ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করেছি, কিন্তু আমার বাবা আমাকে জোর করে ধর্মীয় নিয়মকানুন পালন করতে বাধ্য করতেন, যদিও সেই ধর্মে আমি আর বিশ্বাসী নই। অভিভাবকত্ব আইনের কারণে আমার জীবন নিয়ন্ত্রণ করতেন আমার পিতা। তিনি সিদ্ধান্ত নিতেন কোথায় আমি থাকবো, কি পড়বো, কোথায় যাবো। সামান্য জিনিসের জন্যও তার কাছে চাইতে হতো, যা একজন নারী হিসাবে আমার কাছে অপমান বলে মনে হতো।''
সৌদি আরবের আইন অনুযায়ী, নারীদের জন্য পুরুষ অভিভাবকের সম্মতি বাধ্যতামূলক। যার মানে বিয়ে, পাসপোর্ট করা বা বিদেশ ভ্রমণ করতে হলে একজন পুরুষ অভিভাবকের অনুমতি লাগবে।
তিনি বাবা, স্বামী, ভাই বা কখনো সন্তান হতে পারেন।
গত বছর একজন নারীর কানাডায় পালিয়ে যাওয়া দেখে উৎসাহিত হন রাওয়ান। তবে পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে একটি ভ্রমণে যাওয়া পর্যন্ত তাকে ধৈর্য ধরতে হয়।
ফেরার পথে তারা যখন লন্ডনের হিথরো বিমানবন্দরে তারা ট্রানজিট নেন, সেই সময়টিকে তিনি পালানোর জন্য বেছে নেন।
''যখন আমরা হিথরো এলাম, আমার পরিবারের সদস্যরা বাথরুমে গেলো। আমি জানতাম, আমার হাতে পালানোর জন্য মাত্র কয়েক মিনিট সময় আছে, যখন বিমান বন্দরের কোন কর্মীর কাছে আমার শরণার্থী হিসাবে আশ্রয় চাওয়ার নোট তুলে দিতে হবে। যখন পুলিশ আমার পরিবারকে জানালো, তখন তারা আমাকে ফোন করে আমার ইচ্ছা বদলের চেষ্টা করেছিল। কিন্তু আমি তাদের ফোন ধরিনি।''
সৌদি আরব ছাড়তে চাওয়া এই তরুণীরা অনলাইন অ্যাপ্লিকেশন আর একটি নির্দিষ্ট ওয়েবসাইট ব্যবহার করে তাদের পালানোর ব্যাপারে আলোচনা করে।
এখন পর্যন্ত তিনশোর বেশি নারী এই ওয়েবসাইটে গিয়ে আশ্রয় আর পালানোর পথ বিষয়ে পরামর্শ চান।
ওই ওয়েবসাইটে গিয়ে দেখা গেল, শুধুমাত্র নারীরাই নয়, অনেক পুরুষও সৌদি আরব ছাড়তে চান।
এখন এসেক্সে বসবাসকারী এরকম একজন মোয়াদ আল-ও-তাইবি, যিনি রাজনৈতিক আর ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশের স্বাধীনতা না থাকার কারণে সৌদি আরব ছেড়েছেন ।
তিনি বলছেন, ''আমার পিতা ছিলেন অত্যন্ত কঠোর, যিনি আমাকে শারীরিক আর মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন। আমার এমন মানসিক সমস্যা হয়ে গিয়েছিল যে একসময় আত্মহত্যার কথাও চিন্তা করতাম। সৌদি সরকারের বিরুদ্ধে সবসময়েই আমি উচ্চকণ্ঠ ছিলাম, একপর্যায়ে আমি রাজনীতি নিয়ে কথাবার্তা রেকর্ড করি, যা আমার জীবন ঝুঁকিতে ফেলে দিয়েছিল। এখানে আসার পর সিদ্ধান্ত নিলাম, এরকম আরো যারা আসতে চায়, তাদের সহায়তা করবো। তাদের অনেকে কখনোই বিদেশে যায়নি। তাই আমি তাদের আবেদন করা থেকে আশ্রয় চাওয়ার পদ্ধতির সবকিছু বুঝিয়ে বলি।''
সৌদি আরব থেকে যুক্তরাজ্যে আশ্রয় প্রার্থীর সংখ্যা ২০১৪ সালের পর থেকে দ্বিগুণ হয়ে গেছে।
যদিও তাদের মাতৃভূমি, সৌদি আরবে গত কয়েক বছরে পরিবর্তন এসেছে। যেমন নারীদের গাড়ি চালনা, ভোট দেয়া আর স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নেয়ার মতো সুযোগ তৈরি হয়েছে। কিন্তু অনেকের জন্য এগুলো পর্যাপ্ত নয়।
যেমন রাওয়ান কার্ডিফে একা ঘুরে বেড়াতে এবং দোকানের পণ্য দেখে বেড়াতে ভালোবাসেন, সৌদি আরবে যে সুযোগ তিনি কখনোই পাননি।
এখানে তিনি ব্রিটিশ সরকারের কাছ থেকে সপ্তাহে ৫০ ডলার পান, যাতে তার চাহিদার অনেক কিছুই কেনা সম্ভব হয়না।
পরিবার থেকে পালিয়ে আসার জন্য তার কি কখনো আফসোস হয়?
রাওয়ানের একবাক্যের উত্তর, না।
কারণ তিনি জানেন, এখানে তার জীবনযাপন হয়তো কঠিন হবে, তা সত্ত্বেও রক্ষণশীল সৌদি রাজতন্ত্রের ভেতর তিনি আর যেতে চান না।

পরকীয়া আংশিক কবুল by ইব্রাহিম খলিল

অনেক অভিযোগ ডা. মিতুর বিরুদ্ধে। বেপরোয়া জীবনে অনেক পুরুষকেই কাছে টেনেছেন। বিয়ের আগে-পরে কোনো পরিবর্তন হয়নি তার। স্বামীর অগোচরে অন্য পুরুষের সঙ্গী হয়েছেন   দেশে-বিদেশে। গ্রেপ্তারের পর এসব বিষয়েই তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। গুরুত্বপূর্ণ অনেক তথ্য দিয়েছেন আলোচিত এই নারী। পরকীয়া ও বেপরোয়া জীবনের অনেক কথাই স্বীকার করেছেন মিতু। এই নারীর আমলনামার অনেকটাই এখন পুলিশের হাতে।
সেই সঙ্গে মিতুর ঘনিষ্ঠদের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। প্রয়োজনে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করবে পুলিশ।
গতকাল কয়েক দফা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুুলিশ। সকালে এ বিষয়ে চট্টগ্রাম মহানগরীর দামপাড়া পুলিশ লাইন্সের সদর দপ্তরে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে নন্দনকানন এলাকায় খালাতো ভাইয়ের বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে নগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের একটি দল। ডা. আকাশের আত্মহত্যার ঘটনায় মিতুসহ ছয়জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় মিতুর দুই বন্ধুকেও আসামী করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ভোর থেকেই দেশব্যাপী আলোচনায় ডাক্তার দম্পতি মোস্তফা মোরশেদ আকাশ ও তানজিলা হক চৌধুরী মিতু। একদিকে, ডা. আকাশের জন্য সমবেদনা অন্যদিকে প্রকাশ পাচ্ছে মিতুর প্রতি মানুষের ক্ষোভ। আলোচনায় মিতুর বেপরোয়া জীবন। বিয়ের আগেই মিতু সম্পর্কে জেনেছিলেন আকাশ। কিন্তু সামাজিক কারণে বিয়েটা মেনে নেন। ভেবেছিলেন অতীত ভুলে স্বামী-সংসার ও কাজ নিয়েই ব্যস্ত থাকবেন মিতু। সবকিছু জানার পরও স্ত্রী মিতুকে ভালোবাসতেন আকাশ। চাইতেন মিতু ফিরুক সঠিক পথে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নিজ স্ত্রীকে বেপরোয়া জীবন থেকে ফেরাতে না পেরে আত্মহত্যা করেন আকাশ। আত্মহত্যার আগে নিজেই মিতুর আমলনামা বর্ণনা করে গেছেন।
আকাশের আত্মহত্যার জন্য দায়ী করা হচ্ছে মিতুকে। এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (উত্তর) মো. মিজানুর রহমান বলেন, প্রাপ্ত তথ্য থেকে ডা. আকাশকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার দায়ে মিতুর বিরুদ্ধে মামলা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদে কিছু বিষয় স্বীকার করেছেন মিতু, আবার কিছু বিষয় এড়িয়ে গেছেন।
পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, ডা. আকাশ ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে মিতু, তার পরিবারের সদস্য ও বন্ধুদের ব্যাপারে অভিযোগ করেছেন। এসব বিষয় যাচাই করা হচ্ছে। আকাশের মৃত্যুর পেছনে যদি তাদের কারও ইন্ধন থাকে তবে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে।
পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার মিজানুর রহমান জানান, বছর তিনেক আগে প্রেম করে বিয়ে করেন ডা. মোস্তফা মোরশেদ আকাশ ও তানজিলা হক চৌধুরী মিতু। বিয়ের পরপরই মিতু তার মায়ের কাছে আমেরিকায় চলে যান। তখন থেকেই বিয়ে বহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগ নিয়ে দুজনের মধ্যে বিরোধ চলছিল। গত ১৩ই জানুয়ারি মিতু দেশে আসার পর এ নিয়ে বিরোধ আরও বেড়ে যায়। বুধবার রাতে এ নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়।  হাতাহাতিও হয় একপর্যায়ে। এরপর ফোনে খবর পেয়ে গাড়ি নিয়ে এসে মিতুকে নিয়ে যান তার বাবা আনিসুল হক। তার বাবা থাকেন নগরীর পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকায়। মিতু চলে যাওয়ার পরই আত্মহত্যা করেন আকাশ। মিতু বাবার বাসায় গেলেও পরে মিতুকে গ্রেপ্তার করা হয় নন্দনকানন এলাকায় খালাতো ভাইয়ের বাসা থেকে।
গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে মিতু তার বিরুদ্ধে স্বামীর পরকীয়ার সন্দেহের কথা স্বীকার করেন। এ নিয়ে বুধবার রাতে ঝগড়া ও হাতাহাতির কথাও স্বীকার করেন। কিন্তু হোটেলে রাত কাটানোসহ কিছু বিষয় নিয়ে রহস্যময় জবাব দিচ্ছেন। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী আমানত শাহ (র.) মাজার এলাকা থেকে মিতুর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি জব্দ করেছে পুলিশ। এদিকে ডা. মোস্তফা মোরশেদ আকাশের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও পুলিশ জব্দ করেছে। আত্মহত্যার আগে আকাশ তার ফেসবুকে স্ত্রী তানজিলা হক চৌধুরী মিতুর বিরুদ্ধে পরকীয়ার অভিযোগ ও বিভিন্ন ছবি সম্বলিত যে স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন তা ডিলিট করে দেয়া হয়েছে। এটি কে বা কারা করেছে, এ বিষয়টিও তদন্ত করছে পুলিশ। মোবাইলফোন দুটির ফরেনসিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে। সেইসঙ্গে মিতুর কললিস্টসহ বিভিন্ন তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে তদন্ত করা হবে চাঞ্চল্যকর এই আত্মহত্যার।
চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল বাশার জানান, ডা. আকাশ ইনজেকশনের মাধ্যমে শরীরে বিষ প্রয়োগ করে আত্মহত্যা করেছেন। তার শরীরের কোথাও বড় ধরনের আঘাতের চিহ্ন নেই। তবে বাম হাতে ইনজেকশনের সুইয়ের কয়েকটি দাগ রয়েছে। স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া করার পর ডা. আকাশ আত্মহত্যা করেন। এর আগে তিনি ফেসবুকে স্ত্রীর বিরুদ্ধে পরকীয়ার অভিযোগ এনে স্ট্যাটাস দেন। পর পুরুষের সঙ্গে স্ত্রীর অন্তরঙ্গ মুহূর্তের কিছু ছবিও ছিল তার ফেসবুক টাইমলাইনে। এসব তথ্য সংগ্রহ করেছে পুলিশ।
কে এই মিতু: মিতু কক্সবাজার জেলার কুতুবদিয়া উপজেলার আনিসুল হকের মেয়ে। মায়ের নাম সেলিনা শামীম। ছেলেমেয়েকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করেন মিতুর মা। বাবা থাকেন চট্টগ্রাম মহানগরীর পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকায়। ২০১৬ সালে ডা. তানজিলা হক চৌধুরী মিতুর সঙ্গে বিয়ে হয় ডা. মোস্তফা মোরশেদ আকাশের। এর আগে তিন বছর প্রেমের সম্পর্ক ছিল তাদের। আত্মহত্যার আগে নিজের ফেসবুক আইডির টাইমলাইনে মিতুর লাগামহীন জীবন সম্পর্কে লিখেছেন ডা. আকাশ। এমনকি বিভিন্ন ছেলেদের সঙ্গে ডা. মিতুর একান্ত মুহূর্তের কিছু ছবিও পোস্ট করেন তিনি। স্ত্রীর প্রতি আকাশের আবেগঘন স্ট্যাটাস এখন কাঁদাচ্ছে তার পরিবার, স্বজন থেকে শুরু করে পরিচিত-অপরিচিত অসংখ্য মানুষকে।
পুলিশ ও  স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তখন কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের ২০০৯-২০১০ সেশনের ছাত্রী তানজিলা চৌধুরী মিতু। ইন্টার্নশিপ করতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গেলে পরিচয় হয় আকাশের সঙ্গে। তারপর গড়ে ওঠে প্রেমের সম্পর্ক।
ছেলে হত্যার বিচার চান মা জোবাইদা: নিহত ডা. মোস্তফা মোরশেদ আকাশের বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে, ছেলের পোশাক, ফ্রেমে বন্দি ছবি বুকে নিয়ে কাঁদছেন আকাশের মা জোবাইদা। সামনে যাকে পাচ্ছেন তাকে জড়িয়ে ধরে ছেলে হত্যার বিচার চাচ্ছেন। তিনি বিলাপ করতে করতে মানবজমিনকে বলেন, দিনের পর দিন আমার ছেলেকে মানসিক অত্যাচর করে আসছিল মিতু। আমার ছেলে আত্মহত্যা করেনি, তাকে অত্যাচার করে হত্যা করা হয়েছে। আমি ছেলে হত্যার বিচার চাই। জোবাইদা বলেন, মিতুর মাও জড়িত, সে সবসময় মিতুকে খারাপ পরামর্শ দিতো। বিয়ের পর থেকে তাদের ঘরে অশান্তি। ওই মাইয়্যার (মিতু) অনেক ছেলের লগে সম্পর্ক ছিল। আমার আকাশ জেনেও বুকে কষ্ট নিয়ে ঘর করেছে।
তাদের এক নিকটত্মীয় বলেন, বাবার মৃত্যুর পর আকাশ গ্রামের বাড়িতে বলেছিল ‘মা তোমাকে শহরে নিয়ে যাব। দরকার হলে ভিক্ষা করে ডাক্তারি পড়ব।’ টিউশনি করে ডাক্তারি পাস করেছে আকাশ। দুই ভাইকে লেখাপড়া করিয়েছে। এক ভাইকে ডাক্তার বানিয়েছে। আরেক ভাইকে প্রকৌশলী। চান্দগাঁও আবাসিকের বি-ব্লকের ২ নম্বর রোডের ২০ নম্বর বাড়ির তিন তলার ফ্ল্যাটে মা, ছোটভাইকে নিয়ে থাকতেন আকাশ। ফ্ল্যাটটিতে আছে তিন বেড, কিচেন, ড্রইং ও ডাইনিং রুম। ড্রইং রুমের পাশের বেডরুমে স্ত্রীকে নিয়ে থাকতেন আকাশ।
চারপাশের দেয়ালে টাঙানো আছে চিকিৎসক দম্পতির কাঠের ফ্রেমে বন্দি একাধিক ছবি। তিনটি বেডরুমের প্রতিটিতেই আছে দামি আলমিরা, সোফা ও শোকেস। এসবে থরে থরে শোভা পাচ্ছে নানা রকমের শো-পিস।
আকাশের মা বলেন, এসব আমার ছেলের কেনা জিনিস। তিলে তিলে সংসার গড়েছে আমার ছেলে। এমবিবিএস পাশের সনদ এনে আমার গলায় ঝুলিয়ে দিয়ে আকাশ বলেছিল ‘মা এ সনদ তোমার। তুমি এটির হকদার’ যেভাবে হোক না কেন এফসিপিএস ডিগ্রি অর্জন করার ইচ্ছা ছিল তার। বাপরে ডিগ্রি তো আর তোমাকে নিতে দিল না। কাঁদতে কাঁদতে বলছিলেন আকাশের মা জোবাইদা।
তিনি বলেন, বউয়ে এত কিছু করলেও ইজ্জতের ভয়ে আমার ছেলে সব সহ্য করে নিয়েছে। ভেবেছিল বউ একদিন ভালো হয়ে যাবে। এ কারণে কাউকে কিছু খুলে বলত না। বাবার রেখে যাওয়া অভাবের সংসারের হাল ধরেছিল সে। ছোট ভাইদের লেখাপড়ার খরচ জুগিয়েছে। সবই করেছে আকাশ। আমার ছেলের সাজানো সংসার তছনছ করে দিয়েছে বউ। আমি ন্যায়বিচার চাই।
তিনি বলেন, মিতু যেটা চেয়েছে সেটা আমার ছেলে এনে দিয়েছে। তার কিছুই অপূরণ রাখেনি। আমার সোনার মানিককে কেমনে ভুলে থাকব।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার ভোর ছয়টা ২০ মিনিটে নগরীর চান্দগাঁও আবাসিকের বি-ব্লকের ২ নম্বর সড়কের ২০ নম্বর বাসা থেকে ডা. মোস্তফা মোরশেদ আকাশের লাশ উদ্ধার করে চান্দগাঁও থানা পুলিশ। ময়নাতদন্ত শেষে রাতে তার লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেছে বলে জানান চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জহিরুল হক ভুঁইয়া।
স্ত্রীসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা: চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক মোস্তফা মোরশেদ আকাশের (৩২) আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে তার স্ত্রী চিকিৎসক তানজিলা হক চৌধুরী মিতু ও তার বাবা-মা, বোন ও দুই প্রেমিকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। গতকাল সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও থানায় মৃত আকাশের মা জোবেদা খানম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। চান্দগাঁও থানার ওসি আবুল বাশার বলেন, ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরো তিন থেকে চারজনকে আসামি করে নিহত চিকিৎসকের মা মামলা করেছেন। মামলায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলায় আসামি হিসেবে মোস্তফা মোরশেদের স্ত্রী তানজিলা হক চৌধুরী মিতু, শ্বশুর আনিসুল হক চৌধুরী, শাশুড়ী শামীম শেলী, শ্যালিকা সানজিলা হক চৌধুরী, স্ত্রীর বন্ধু মাহবুবুল হক ও যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী ভারতীয় নাগরিক প্যাটেলের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

দুজনেরই আইনি ভাগ্য অনিশ্চিত

গণফোরাম তাদের নির্বাচিত দুই সংসদ সদস্যকে নিয়ে কী করবে, সেটা একটি বিরাট প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। একদল থেকে নির্বাচিত হওয়ার পরে ক্ষমতাসীন দলের মন্ত্রী হওয়া বাংলাদেশ রাজনীতিতে নতুন নয়। তবে তর্কটা গুরুত্ব বেশি পাচ্ছে এই কারণে যে দুজনকে নিয়ে কথা উঠেছে, তাদের একটা পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি আছে। রাজনীতিতে তারা যতটা সম্ভব নীতি-নৈতিকতার কথা বলেছেন। তাদের একজন সুলতান মোহাম্মদ মনসুর, অন্যজন মোকাব্বির খান।
দুজনের মধ্যে আবার সুলতান মোহাম্মদ মনসুরের অবস্থান অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আওয়ামী লীগের সাবেক বড় মাপের নেতা। আবার গণফোরামেও তিনি ছিলেন পাদপ্রদীপে। দুজনেই ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে এবং রাজনৈতিকভাবে ঘনিষ্ঠ।
নির্বাচনের পরেও যখনই কথা উঠেছে, তখনই সুলতান এবং মোকাব্বির উভয়ে বলেছেন, তারা ড. কামাল হোসেনের কথার বাইরে যাবেন না। দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলেছে, ড. কামাল হোসেন শুরু থেকেই সংসদে যাওয়ার পক্ষে ছিলেন। এমনকি তিনি তার ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে এ নিয়ে শলা-পরামর্শও করেন। তাদের মধ্যে যারা প্রত্যক্ষ রাজনীতিক, তারা সবাই ‘না’ করছেন। আর যারা রাজনীতি বিযুক্ত তারা ‘হাঁ’ বলেছেন। এই প্রক্ষাপটে ড. কামাল হোসেন গোড়াতে শপথ নেয়ার পক্ষে মত দিয়েছিলেন।
কিন্তু এই মনোভাব ব্যক্ত করার পরে তিনি প্রকৃত উভয় সংকট হাড়ে হাড়ে টের পান। কারণ, ৩০শে ডিসেম্বরের অবাক নির্বাচনী ফলাফলকে ‘বৈধতা’ দিতে রাজনীতির মাঠের সক্রিয় কুশলীবগণ যুক্তি দেন যে, বিএনপি বয়কট করলে সেখানে গণফোরামের যাওয়াটা ‘বেইমানি’ হবে। তাই তাদেরকেও বয়কট করতে হবে। এরপরে ড. কামাল হোসেন আর ঝুঁকি নিতে রাজি হননি। তিনি মনে করেন, সংসদ যাওয়াটা ইতিবাচক রাজনীতির অংশ। আবার দেশের প্রধান এবং প্রকৃত বিরোধী দলের সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামত উপেক্ষা করাটাও সমীচীন হবে না। বাংলাদেশের রাজনীতি পরিবারতন্ত্র এবং আবেগ নির্ভর। এর পরিণাম সব মহল যুগ যুগ ধরে বুঝতে পারলেও এই রূঢ় বাস্তবতাকে কেউ অস্বীকার করতে পারে না। সুতরাং অভিজ্ঞ রাজনীতিক হিসেবে ড. কামাল হোসেন বুঝে নিয়েছেন, ঐক্যফ্রন্টকে টিকিয়ে রাখা গণতন্ত্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বা সরকারের স্থিতিশীলতার জন্য সংসদে গিয়ে কয়েকটি আসন অলংকৃত করার থেকে ঐক্যফ্রন্টের ঐক্য টিকিয়ে রাখাটা বেশি দরকারি।
সংবিধান বিশেষজ্ঞরা একমত যে, ড. কামাল হোসেন শুধু রাজনৈতিক নয়, আইনগত দিকও বিবেচনায় নিয়ে থাকবেন। কারণ দলের নির্দেশ না মেনে শপথ নিলে গণফোরাম বহিষ্কার করবে। আর যদি নাও করে তাহলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামের সামনে ইসিকে চিঠি লেখা ছাড়া কোনো বিকল্প থাকবে না।
শপথ নেয়ার পথে মূল বাধা হলো: ১. গণফোরাম সভাপতি হিসেবে ড. কামাল চাইলেও দুজনকে বাঁচাতে পারবেন না। কারণ, সুলতান ধানের শীষে এবং মোকাব্বির সূর্যোদয় প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেছেন। তারা গণফোরামের সদস্য হিসেবেই ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হয়েছেন।
২. ড. কামাল হোসেন ঐক্যফ্রন্টের আনুষ্ঠানিক সভাপতি ছিলেন না। সুতরাং তাকে ঐক্যফ্রন্টের পক্ষে  কোনো মনেনায়নপত্রে সই দেয়ার জন্য উপযুক্ত নিয়মে ক্ষমতা  দেয়া হয়নি।
৩. সুলতানের জন্য দুটি কঠিন দেয়াল। তিনি গণফোরামের সদস্য। এখন সম্পর্ক নেই বললেই হবে না। আদালতে এটা সহজে প্রমাণ করা যাবে, তিনি সদস্য ছিলেন। তার ব্যালট পেপারই তার সাক্ষ্য দেবে। কারণ সেখানে ঐক্যফ্রন্ট নয়, গণফোরাম আছে। প্রতীকটি অবশ্য ধানের শীষ। সেটা দ্বিতীয় এবং আরো বড় বাধা। সুলতানের মনোনয়নপত্রে সই দিয়েছেন মির্জা ফখরুল। কিন্তু মোকাব্বিরের মনোনয়ন পত্রে সই দিয়েছেন গণফোরাম সম্পাদক মোস্তফা মোহসিন মন্টু।
৪. আইন উভয়ের ক্ষেত্রে দুই মহাসচিবকে সুযোগ দিয়েছে, তারা দলত্যাগ করেছেন গণ্য করে ইসিকে চিঠি দেয়া। কেউ বলছেন, সুলতান মনসুর স্বীকারোক্তি দিয়েছেন, তিনি গণফোরামের কেউ নন।
৫. সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে বলা আছে, কোনো নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরূপে মনোনীত হইয়া কোন ব্যক্তি সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হইলে তিনি যদি-উক্ত দল হইতে পদত্যাগ করেন, অথবা সংসদে উক্ত দলের বিপক্ষে ভোটদান করেন, তাহা হইলে সংসদে তাহার আসন শূন্য হইবে, তবে তিনি সেই কারণে পরবর্তী কোন নির্বাচনে সংসদ-সদস্য হইবার অযোগ্য হইবেন না।
তবে প্রশ্নটি চূড়ান্ত অর্থে ইসি নির্ধারণ করবে। কারণ, সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ বলেছে, এই সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুসারে কোনো সংসদ সদস্যের আসন শূন্য হইবে কি না, সে সম্পর্কে কোন বিতর্ক দেখা দিলে শুনানি ও নিষ্পত্তির জন্য প্রশ্নটি নির্বাচন কমিশনের নিকট প্রেরিত হইবে এবং অনুরূপ ক্ষেত্রে কমিশনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হইবে।    
দেখেশুনে অনেকে বলেন, তারা দলত্যাগ করে শপথ নিলে সংবিধান বা আইনকানুন ততটা নয়, দেশের চলমান রাজনীতিই হয়তো তাদের ভাগ্য ঠিক করবে। অতীতেও তেমন নজির তৈরি হতে দেখা গেছে। ক্ষমতাসীন দলের সাংসদদের কেউ যদি বলেন, আমি আওয়ামী লীগের কেউ নই। তাহলে যা ঘটবে, তা অন্য সবার ক্ষেত্রেও ঘটবে তা মনে করার কারণ নেই।

যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়ার পাল্টাপাল্টি

রাশিয়ার বিরুদ্ধে শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে ইন্টারমিডিয়েট রেঞ্জ নিউক্লিয়ার ফোর্সেস (আইএনএফ) চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। পাল্টা পদক্ষেপে গতকাল চুক্তিতে মস্কোর অংশীদারিত্ব বাতিল করার ঘোষণা দিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ক্রেমলিনের দাপ্তরিক ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা নিয়ে রাশিয়ায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী সের্গেই সোইগু’র সঙ্গে বৈঠকে বসে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। পরে এক বিবৃতিতে রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, আমরাও একই রকমের প্রতিক্রিয়া দেখাবো। চুক্তির মার্কিন অংশীদাররা ঘোষণা দিয়েছে যে, তারা চুক্তি থেকে নিজেদের অংশীদারিত্ব বাতিল করছে। তাই আমরাও অংশীদারিত্ব বাতিল করলাম। তারা গবেষণা ও প্রযুক্তিগত উন্নয়ন কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার কথা বলছে। আমরাও একই কাজ করবো।’ এর আগে, কয়েক মাস ধরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও তার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়ে আসছিলেন যে, যুক্তরাষ্ট্র আইএনএফ চুক্তি থেকে বেরিয়ে যেতে প্রস্তুত।
যদিও ওয়াশিংটন মস্কোর বিরুদ্ধে চুক্তির শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলা শুরু করে ২০১৪ সালে।  তখন থেকেই মস্কো অব্যাহতভাবে এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে।
১৯৮৭ সালে স্বাক্ষরিত আইএনএফ চুক্তি অনুসারে, তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্র নিজ দেশে স্বল্প ও মধ্যম পাল্পার পারমাণবিক অস্ত্র উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ করার সিদ্ধান্ত নেয়। অর্থাৎ দু’দেশ ৫০০ থেকে সাড়ে ৫ হাজার কিলোমিটার মাত্রার কোনো পারমাণবিক অস্ত্র উৎপাদন করবে না। কিন্তু শুক্রবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বলেন, রাশিয়া বছরের পর বছর এই চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করে চলেছে। এজন্য তাদের কোনো অনুশোচনাও নেই। রাশিয়ার এই লঙ্ঘন ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের লাখ লাখ মানুষকে হুমকির মুখে ফেলেছে। এর বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া আমাদের দায়িত্ব। বিশ্লেষকরা বলছেন, আইএনএফ চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরে যাওয়ার ফলে রুশ অস্ত্রের প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। যা ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোকে ঝুঁকির মুখে ফেলবে। তবে পম্পেও চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেয়ার ঘোষণা দেয়ার পরেও চুক্তি অব্যাহত রাখার সুযোগ ছিল। কেননা, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ঘোষণার দিন অর্থাৎ শুক্রবার থেকে রাশিয়াকে ১৮০ দিনের সময় বেঁধে দেয়া হয়। এই সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে চুক্তিতে ফিরে আসতে সম্মত করার জন্য রাশিয়াকে বলা হয়। তবে রাশিয়া যদি তেমন কোনো উদ্যোগ না নেয়, বা যুক্তরাষ্ট্র কোনোভাবেই চুক্তিতে ফিরতে রাজি না হয়, তাহলে ১৮০ দিন পর চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বেরিয়ে যাওয়া চূড়ান্ত হবে। 
প্রসঙ্গত, বর্তমানে রাশিয়ার হাতে থাকা ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সাধারণত রণতরী বা সাবমেরিন থেকে নিক্ষেপযোগ্য। সম্প্রতি দেশটি ভূমি থেকে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির প্রকল্প হাতে নিয়েছে। যা আইএনএফ চুক্তির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। কিন্তু দু’দেশই চুক্তি থেকে সরে যাওয়ার পাল্টাপাল্টি ঘোষণা দেয়ায় রাশিয়ার এই ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে কার্যত কোনো বাধা থাকলো না।
এদিকে, আইএনএফ চুক্তি থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দেয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করেছে চীন। শনিবার চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গেং সুয়াং বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই ঘোষণা প্রতিকূল ফল বয়ে আনবে। প্রভাবশালী দেশগুলোর মধ্যকার সম্পর্ক আরো সাবলীল করতে, আন্তর্জাতিক-আঞ্চলিক শান্তি বজায় রাখতে  ও বৈশ্বিক কৌশলগত ভারসাম্য-স্থিতিশীলতা রক্ষায় আইএনএফ চুক্তি তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে পারস্পরিক মতবিভেদ দূর করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে চীন। চীনা পররাষ্ট্র দপ্তরের এই বিবৃতি রাশিয়া আইএনএফ চুক্তি থেকে নিজেদের সরিয়ে নেয়ার ঘোষণা দেয়ার আগেই প্রকাশ করা হয়। আইএনএফ চুক্তির পরিবর্তে পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের জন্য চীন নতুন করে কোনো বহুপক্ষীয় চুক্তি করতে আগ্রহী কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে গেং সুয়াং বলেন, আইএনএফ চুক্তির বহুমুখীকরণের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক, সামরিকসহ অনেক জটিলতা রয়েছে। তাই চীন এই চুক্তির বহুমুখীকরণের বিরুদ্ধে। বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন চুক্তি না করে বিদ্যমান চুক্তি বহাল রাখা জরুরি।

সংসদে যাচ্ছি, সুস্থ হলেই শপথ নেবো -মানবজমিনকে সুলতান মনসুর

মৌলভীবাজার-২ আসন থেকে ঐক্যফ্রন্টের হয়ে নির্বাচিত সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ জানিয়েছেন, তিনি একাদশ সংসদের সদস্য হিসেবে শপথ নিচ্ছেন। সুস্থ হলেই শপথ নিতে যাবেন। তবে এ বিষয়ে কারও সঙ্গে তিনি সাংঘর্ষিক অবস্থানে নেই জানিয়ে ডাকসুর সাবেক এ ভিপি মানবজমিনকে বলেন, স্রেফ এলাকার   ভোটার ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের দাবির মুখে তিনি সংসদে যাচ্ছেন। নির্বাচনী এলাকার জনগণ এবং দেশের মানুষের পক্ষে তিনি সংসদে কথা বলবেন।
গণফোরাম ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট বিজয়ী প্রার্থীদের শপথ না নেয়ার সিদ্ধান্ত দিলেও কেন সংসদে যাচ্ছেন এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, শত প্রতিকূলতার মধ্যেও আমার নির্বাচনী এলাকার মানুষ আমাকে বিজয়ী করেছে। বলতে গেলে একটা যুদ্ধের মাধ্যমে তারা আমার বিজয় নিশ্চিত করেছে। যারা আমাকে ভোট দিয়েছেন তাদের দাবি আমি যেন সংসদে গিয়ে তাদের কথা বলি। এলাকার দল-মত নির্বিশেষে সবার এই দাবির প্রতি সম্মান দেখিয়ে আমি শপথ নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
এছাড়া আমার সামনে আর কোনো বিকল্প নেই। গণফোরাম ও ঐক্যফ্রন্টের সিদ্ধান্তের বাইরে সংসদে যোগ দেয়ার ক্ষেত্রে কোনো জটিলতা আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, না- এ ধরনের কোনো জটিলতা নেই। জটিলতা হবে না। সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ বা সমঝোতা করেছেন কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আমি এমপি হিসেবে শপথ নিচ্ছি। এ ধরনের প্রশ্ন বা আলোচনা আসবে কেন?
সংসদে কেমন ভূমিকা থাকবে এ প্রশ্নে সুলতান মনসুর বলেন, আমি এলাকার মানুষের পক্ষে কথা বলতে যাচ্ছি। তাদের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে চাই। পাশাপাশি দেশের মানুষের পক্ষে কথা বলবো। একজন সংসদ সদস্য হিসেবে যতটুকু ভূমিকা রাখা যায় তা রাখার চেষ্টা করবো।
উল্লেখ্য, একাদশ সংসদ নির্বাচনে প্রধান বিরোধী জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ৮ জন প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। তাদের মধ্যে সুলতান মনসুর ও মোকাব্বের খান গণফোরাম থেকে নির্বাচন করেন। প্রেসিডিয়াম সদস্য মোকাব্বের খান দলীয় প্রতীক উদীয়মান সূর্য প্রতীকে নির্বাচন করলেও সুলতান মনসুর নির্বাচন করেন ধানের শীষ প্রতীকে। গণফোরাম বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, দলের নির্বাচিতদের শপথ না নেয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত রয়েছে। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠকেও বিজয়ীদের শপথ না নেয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়।

ধর্ষকের পরিণতি ইহাই, ধর্ষকরা সাবধান: হারকিউলিস

ঝালকাঠিতে ছয়দিনের মাথায় আরো একজনের লাশ পাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ, যার গলায় ঝোলানো চিরকুটে লেখা রয়েছে ‘ধর্ষকের পরিণতি ইহাই’। চিরকুটে লেখা পরিচয় অনুযায়ী, নিহতের নাম রাকিব। সে দুই সপ্তাহ আগে ভাণ্ডারিয়ায় এক মাদ্‌রাসা ছাত্রীকে ধর্ষণের মামলার প্রধান আসামি রাকিব হাসান বলে পুলিশের ধারণা। শুক্রবার বেলা ১২টার দিকে রাজাপুর উপজেলার আঙ্গারিয়া গ্রামে একটি ইটভাটার পাশের মাঠ থেকে রাকিবের লাশ উদ্ধার করা হয় বলে রাজাপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জাহিদ হোসেন জানান। ঐ মামলার অপর আসামি হাসান সজল জোমাদ্দারকেও হত্যা করে গলায় চিরকুট বেঁধে লাশ ফেলে রাখা হয়েছিল ধানক্ষেতে। কে বা কারা তাদের হত্যা করে লাশ ফেলে গেছে, সে বিষয়ে কিছুই বলতে পারছে না পুলিশ। রাকিবের লাশের সঙ্গে চিরকুটে হত্যাকারী নিজের পরিচয় হিসেবে লিখে রেখে গেছে গ্রিক পুরানের বীর হারকিউলিসের নাম।
পরিদর্শক জাহিদ বলেন, রাকিবের মাথায়, মুখে ও পিঠে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। আর গলায় ঝোলানো চিরকুটে লেখা ছিল- “আমি পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ার ধর্ষক রাকিব।
ধর্ষকের পরিণতি ইহাই। ধর্ষকরা সাবধান! হারকিউলিস।” গত ১২ই জানুয়ারি সকালে ভাণ্ডারিয়া উপজেলার হেতালিয়া গ্রামে এক মাদ্‌রাসা ছাত্রীকে পানের বরজে নিয়ে দেলবেঁধে ধর্ষণ করা হয়। ওই ঘটনার পর মেয়েটির পরিবার গত ১৭ই জানুয়ারি ভাণ্ডারিয়া থানায় মামলা করে।
শিয়ালকাঠী ইউনিয়নের ভিটাবাড়ী গ্রামের আবুল কালামের ছেলে রাকিব হাসান (২৮) এবং নদমুলা গ্রামের আলম জোমাদ্দারের ছেলে সজল জোমাদ্দারকে (২৮) সেখানে আসামি করা হয়। গত ২৬শে জানুয়ারি কাঁঠালিয়া উপজেলার একটি ধানক্ষেত থেকে সজলের লাশ উদ্ধারের কথা জানায় পুলিশ। মাথায় গুলিবিদ্ধ ওই লাশের গলায় ঝুলানো চিরকুটে লেখা ছিলো- “আমার নাম সজল মাদ্‌রাসা ছাত্রীকে ধর্ষণ করার কারণে আমার এই পরিণতি।” পরিদর্শক জাহিদ জানান, রাকিবের লাশের বিষয়ে তারা ভাণ্ডারিয়া থানায় যোগাযোগ করেছেন। ভাণ্ডারিয়ার পুলিশই রাকিবের পরিচয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করবে।

কেন এত বিদেশপ্রীতি!

একটা সময়ে দেশীয় নাটকের সিংহভাগ দেশেই নির্মাণ হতো। সেসব নাটক দর্শকের কাছেও বেশ গ্রহণযোগ্যতা পেত। গল্পের প্রয়োজনে বছরের অল্পসংখ্যক নাটকের শুটিং দেশের বাইরে করতেন নির্মাতারা। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে দেখা যায় এর বিপরীত চিত্র। একদিকে নাটকের বাজেট সংকট। অন্যদিকে দেশের বাইরে টিভি নাটকের শুটিংয়ের প্রবণতা বাড়ছে। বিশেষ করে নেপাল, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড ও ইন্দোনেশিয়ার বালিতে প্রতি মাসেই দেশীয় টিভি নাটকের শুটিং হচ্ছে। অধিকাংশ নাটকেই একই লোকেশন ব্যবহার করা হচ্ছে।
এই সময়ে নাটক নির্মাণের চেয়ে নাট্য নির্মাতাদের বিদেশপ্রীতি বেশি বলেই অনেকেই মন্তব্য করছেন। নাটকের মান কেমন হবে সেটি বিবেচ্য বিষয় নয়, বিদেশে শুটিং করাতেই তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলছেন কেউ কেউ। বিদেশের মাটিতে অল্প সময়ে মধ্যে শেষ করা হয় একসঙ্গে অনেকগুলো নাটকের শুটিং। অল্প সময়ে শুটিং শেষ করা নিয়েও অনেক শিল্পী নেতিবাচক মন্তব্য করেন। তাদের ভাষ্য, অল্প সময়ে কোনো কিছু রান্না করলে সেটির স্বাদ কেমন হবে? বিদেশের মাটিতে দু’দিনের কাজ নির্মাতারা এক দিনে শেষ করতে চান। ফলে দেখা যায় কাজের কোয়ালিটি থাকছে না। তবে ভিন্নমত প্রকাশ করেন নির্মাতা সাখাওয়াত মানিক। সম্প্রতি ইন্দোনেশিয়ার বালিতে তিনি পাঁচটি নাটকের শুটিং করেন। বিদেশে শুটিং করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশে শিল্পীরা স্পটে আসতে দেরি করেন। সঠিক সময়ে সব শিল্পীকে একসঙ্গে পাওয়া যায় না। বিদেশের মাটিতে এই দুটি সমস্যা আমাদের হয় না। এছাড়া আনুষঙ্গিক আরো কিছু বিষয়ে দেশের চেয়ে সেখানে সুবিধা পাওয়া যায় বেশি। যার কারণে বিদেশে শুটিং করছেন এই সময়ের অনেক নির্মাতা। অভিনেতা-নির্মাতা সোহেল আরমান বলেন, বছরের শেষ সময়ে দেশের বাইরে আমার নাটকেরও শুটিং হয়েছে। আমি গল্পের প্রয়োজনেই শুটিং করেছি। তবে দেশের বাইরে শুটিং করলেই নাটকের মান বাড়বে এমনটা ঠিক নয়। দেশের মাটিতেই অনেক ভালো নাটক নির্মাণ করা সম্ভব। লোকেশনের কথা যদি বলা হয় তাহলে সেটিও আমাদের দেশে কম নেই। কিন্তু আমরা নির্দিষ্ট কয়েকটি স্পটের মধ্যেই সীমাবদ্ধ আছি। তিনি আরো বলেন, আমি মনে করি, নির্মাতাদের বিদেশ প্রীতি না হওয়া উত্তম। তবে আমি কিন্তু বিদেশের মাটিতে শুটিং করার বিপক্ষে বলছি না। যদি গল্প দেশের বাইরে শুটিং করা ডিমান্ড করে তাহলে অবশ্যই তা করার প্রয়োজন আছে। কারণ আমাদের এখন কোনো দিক থেকে পিছিয়ে থাকলে চলবে না।  বিদেশের শুটিং প্রসঙ্গে অভিনেতা ও নির্মাতা গাজী রাকায়েত বলেন, ভারতীয় সিরিয়ালগুলোতে দেখা যায় সেট তৈরি করে নাটক নির্মাণ করা হচ্ছে। একটা নাটকের গল্প অনুযায়ী সুন্দরভাবেই সেট তৈরি করা যায়। কিন্তু সেট তৈরি করে নাটক নির্মাণ আমাদের কমে গেছে। আমাদের কালজয়ী নাটকগুলো সেট তৈরি করেই নির্মিত হয়েছে। সেসব নাটক এখনো দর্শকের কাছে জনপ্রিয়। যদি একান্ত গল্পের প্রয়োজন হয় তাহলে দেশের মাটিতে শুটিং করা নিয়ে আমার কোনো আপত্তি নেই। আর যদি গল্পে প্রয়োজন না হয় তাহলে দেশের প্রতি নির্মাতাদের গুরুত্ব দিতে হবে। নাটক সংশ্লিষ্টদের মতে, টিভি নাটকের মধ্য দিয়ে দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো সাধারণ মানুষের পাশাপাশি সারা বিশ্ব দেখার সুযোগ পাবে। এছাড়া দেশের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে শুটিং করার সুস্থ পরিবেশ তৈরি করে দেওয়া প্রয়োজন প্রশাসনের-এমন অভিমত নাটক সংশ্লিষ্টদের।