Monday, December 13, 2010

জানুয়ারিতে যুব হকি

জার্মান কোচ পিটার গেরহার্ড আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন, বাংলাদেশে আর আসবেন না। সুতরাং হকি ফেডারেশন চাইলেই তাঁকে আর পাবে না। যদিও কাল ফেডারেশনের সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে, গেরহার্ডের সঙ্গে চুক্তি নবায়ন করা হবে না। এশিয়ান গেমসে ব্যর্থতার জন্য ফেডারেশন কর্মকর্তাদের অভিযুক্ত করে গেরহার্ডের দেওয়া রিপোর্টও উড়িয়ে দিয়েছে ফেডারেশন।
গেরহার্ডের বিদায়ের পর ফেডারেশনের অনুমোদন ছাড়া কোনো খেলোয়াড়কে ভিসা না দিতে জার্মান দূতাবাসকে অনুরোধ করা হবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে। এশিয়ান গেমসে দলের সঙ্গে যাওয়া কর্মকর্তাদের কাছে রিপোর্ট চেয়েছে ফেডারেশন। গুয়াংজু থেকে আসার সময় ১৩-১৪টি লাগেছে কী এনেছেন ফেডারেশন কর্মকর্তারা? এ নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় জানানো হয়েছে, এশিয়ান হকি ফেডারেশনের দেওয়া ৪২০টি হকিস্টিক ছিল ওই সব লাগেজে। তা ছাড়া এশিয়ান হকি ফেডারেশনের নির্বাচনে শামসুল বারীকে সহসভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার অনুমতি দিয়েছে ফেডারেশন।
ঘরোয়া খেলা শুরুর ব্যাপারেও সিদ্ধান্ত হয়েছে। ২৪ ডিসেম্বর ১০টি দল নিয়ে শুরু হবে বিজয় দিবস হকি। জানুয়ারির মাঝামাঝি মাঠে গড়াবে জাতীয় যুব হকি। বিজয় দিবস টুর্নামেন্টের পরপরই শুরু হবে প্রথম ও দ্বিতীয় বিভাগ লিগ।

উদাহরণ গড়ছে আবাহনী

প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতির জন্য আজ ব্যাংকক যাচ্ছে আবাহনী। প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে দেশের বাইরে যাওয়ার সংস্কৃতি বাংলাদেশে ক্লাব ফুটবলে এত দিন ছিলই না। আবাহনী নতুন উদাহরণই গড়ছে।
পেশাদার ফুটবল লিগে হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়ন হয়েছে গত মৌসুমে, এবার আসামের বরদুলই ট্রফি জয়, তারপর ফেডারেশন কাপ পুনরুদ্ধার—আবাহনীর সময়টা ভালো কাটছে। ইরানি কোচ আলী আকবর পোরমুসলিমি চাইছিলেন, আবাহনীকে ইরানে নিয়ে কিছু প্রস্তুতি ম্যাচ খেলাতে। কিন্তু ইরানে বেশি খরচ ও আনুষঙ্গিক আরও কিছু সমস্যার কারণে ওই পরিকল্পনা বাদ দেওয়া হয়। থাইল্যান্ড ফুটবলের সবচেয়ে বড় কর্মকর্তা, ফিফার সদস্য এবং মহিলা কমিটির চেয়ারম্যান ওয়াউরি মাকুদির সহযোগিতায় শেষে ব্যাংকক যাওয়া সিদ্ধান্ত। দুজন খেলোয়াড় ছাড়া ৩০ সদস্যের দলে আছেন আর সবাই।
ব্যাংককে দুটি ম্যাচ খেলার কথা। তবে প্রতিপক্ষ সম্পর্কে এখনো জানে না আবাহনী। প্রতিপক্ষ যারাই হোক, এই সফরকে আসন্ন বাংলাদেশ লিগের প্রস্তুতি হিসেবেই দেখছেন আবাহনীর ম্যানেজার সত্যজিৎ দাস, ‘২৭ ডিসেম্বর লিগের প্রথম ম্যাচেই শেখ জামালের সঙ্গে আমাদের ম্যাচ হতে পারে। ব্যাংককে তারই একটা প্রস্তুতি হয়ে যাবে আমাদের। বলা যায়, আমরা একটু আগেই লিগ শুরু করে দিচ্ছি।’

আসুন, আমরা গর্বিত নাগরিক হই ব্য সালমা খান



প্রথম আলো বিগত এক যুগ ধরে শুধু বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন নয়, সেই সঙ্গে মানবিক চিন্তা বিকাশে ও উন্নত সমাজ বিনির্মাণে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করছে, যা সুশীল সমাজে প্রশংসিত হয়েছে। দশম বছর পূর্তিতে ‘বদলে যাও বদলে দাও’ স্লোগানের পর এ বছর এক যুগ পূর্তিতে প্রথম আলো আলোকিত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে হূদয় নিঙড়ানো এক অঙ্গীকারে সবাইকে উদ্বুদ্ধ করতে সচেষ্ট হয়েছে, ‘আসুন, মায়ের মতো দেশকে ভালো বাসি।’
প্রতিটি জাতিই দেশকে মায়ের সঙ্গে তুলনা করে, যে ভাষাতেই হোক, দেশমাতৃকার চরণে সবাই বিনম্র শ্রদ্ধায় মাথা ঠেকায়। কিন্তু দেশকে মায়ের মতো ভালোবাসা যদি অতি স্বাভাবিক ও সপ্রতিভ হয়, তাহলে দেশে দেশে আজকে এত হানাহানি, শোষণ, দুর্নীতি ও বঞ্চনা কেন? কটা দেশে শান্তি ও সমতা, মানবিক বোধ ও সুশাসন বিরাজ করছে?
ঐতিহাসিকভাবে বাংলাদেশের মানুষ দেশের জন্য কম ত্যাগ করেনি। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে পাকিস্তানবিরোধী আন্দোলন, ভাষাসংগ্রাম থেকে স্বাধীনতাসংগ্রাম—সবকিছুর পটভূমি ছিল দেশকে ভালোবাসার গভীর চেতনাবোধে। তা সত্ত্বেও স্বাধীনতার ৪০ বছর পর দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আমাদের মধ্যে এত হাতাশা কেন? সরকারি পরিসংখ্যান মোতাবেক মাথাপিছু আয় বাড়ছে, আর বৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে দারিদ্র্য। দুর্নীতি আর অপশাসনে আমরা এগিয়ে চলেছি পাগলা ঘোড়ার গতিতে, নারীর প্রতি সহিংসতা ক্রমবর্ধমান। এ সবকিছুর সঙ্গে রাজনীতির সাংঘর্ষিক রূপান্তর গণতন্ত্রকে করে তুলেছে বিপন্ন। অথচ এমন তো হওয়ার কথা নয়, কী অপার সম্ভাবনার দেশ আমাদের, যাকে নিয়ে আমাদের স্বপ্নের আর প্রত্যাশার শেষ নেই, যাকে আমরা মায়ের মতো ভালোবাসতে চাই।
আমার ধারণায় দেশকে ভালোবাসার প্রধান শর্ত হলো দেশের জন্য গর্ববোধ করা। দেশ আমাদের যতটুকু দিতে পেরেছে বিনম্র শ্রদ্ধার তা গ্রহণ করে দেশকে নিয়ে আমাদের প্রত্যাশা পূরণের সংগ্রামে নিজেকে আন্তরিকভাবে উৎসর্গ করা। স্বাধীনতার ৪০ বছরের খতিয়ানে যেমন রয়েছে আমাদের অপ্রাপ্তির হতাশা, তেমনি রয়েছে উজ্জ্বল অর্জন। পৃথিবীর সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ দেশ হওয়া সত্ত্বেও সামগ্রিক মানবসম্পদ উন্নয়নে বিশ্বের ১৬৯ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থান ১২৯। সেই সঙ্গে শিশুমৃত্যুর হার হ্রাসে, নারীশিক্ষার অগ্রগতিতে এবং গড় আয়ুষ্কাল বৃদ্ধিতে আমরা ভারতসহ এ অঞ্চলের অন্যান্য দেশকে পেছনে ফেলে এসেছি। সামান্য স্বার্থত্যাগ দেশের জন্য অপার ভালোবাসা আর অসীম গর্ববোধ থাকলে এই উপাদানগুলোই আমাদের নিয়ে যেতে পারে আকাঙ্ক্ষিত সামষ্টিক উন্নয়নের পথে, প্রত্যাশা পূরণের নবদিগন্তে।
তাহলে আমাদের সমস্যাটা কোথায়—আমরা কি দেশকে মায়ের মতো ভালোবাসতে পারিনি? আমার মনে হয়, দেশকে আমরা অনেকেই মায়ের মতো ভালোবাসি ঠিকই, কিন্তু দেশের নাগরিকত্ব নিয়ে গর্বিত অহংবোধ আমাদের মধ্যে আজও সৃষ্টি হয়নি। ইন্দোনেশিয়ায় থাকাকালে এমন অনেক বাংলাদেশি অভিবাসী পরিবারের সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ হয়েছে, যারা ঘরের ভেতর বাঙালিপনার আবেগে ভরপুর। কিন্তু বাইরে বেরোলে নিজেকে বাংলাদেশি বলে পরিচয় না দিয়ে ‘ভারতীয়’ পরিচয় দেয় এই অজুহাতে যে বাংলাদেশকে অনেকে চেনে না। কী চরম হীনম্মন্যতা!
এ প্রসঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ের ছোট কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ একটি সংবাদ উল্লেখ্য। এশিয়ান গেমসে অংশ নেওয়া বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও দেশের পতাকাখচিত ট্র্যাকস্যুট, জার্সি, প্যান্ট ও ব্লেজার দেওয়া হয়েছে। অথচ খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের মধ্যে গেমসের পোশাক পরার ক্ষেত্রে অনীহা দেখা গেছে এবং কাবাডি কোচ ও ক্রিকেটাররাও গেমসের পোশাক পরে খুব একটা বের হননি। বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তাদের মধ্যেও গেমসের পোশাক পরা নিয়ে ছিল অনীহা। কিন্তু ভারতীয় ক্রীড়াবিদেরা সর্বক্ষণ দেশের পতাকাখচিত পোশাক পরেন। ভারতীয় মহিলা কাবাডি দলের কোচ সুনীল বলেন, ‘এ পোশাক আমার গর্বের। গেমসের পোশাক দিয়ে দেশের পরিচয় তুলে ধরতে পারি।’ (আমাদের সময় ১৩.১১.১০)
আসলে মাকে ভালোবাসা অনেক সহজ। কারণ, মা শুধু দিয়ে যায়, বিনিময়ে মাকে কিছু দিতে হয় না। মাকে আমরা সহজাতভাবে, বিনা প্রচেষ্টায়, বিনা ত্যাগে ভালোবাসি, মা ততটা দায়িত্বপ্রসূত নয়, যতটা আবেগপ্রসূত। তাই দেখা যায়, চরম দুর্নীতিবাজ, শঠ ও জনস্বার্থবিরোধী লোকেরাও মাকে ভালোবাসতে কার্পণ্য বোধ করে না। কিন্তু দেশকে ভালোবাসতে হলে দেশের অসংখ্য অদেখা-অচেনা মানুষের ন্যায্যতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে, স্বার্থপরতা ত্যাগের বিনিময়ে একজন বাংলাদেশি হওয়ার অহংকারবোধ নিয়ে ভালোবাসতে হবে।
জন্মলগ্ন থেকেই আমরা জানি বাংলাদেশ একটি দরিদ্র দেশ। শুধু বাংলাদেশে জন্মানোর আত্মপরিচয়ের অহংকারবোধ থেকেই আমরা কঠিন যাত্রাপথ পরিক্রম করে এত দূর এসেছি। বর্তমান পরিপ্রেক্ষিতে সবাইকে নিয়ে সুখী-সমৃদ্ধ জীবনযাপন করতে হলে একদিকে দেশের মূল সমস্যা এবং অন্যদিকে দেশকে নিয়ে আমাদের অহংকারের প্রতীকগুলো আবিষ্কার করতে হবে। বাংলাদেশের উন্নয়নের প্রতিবন্ধকতাগুলো ঘোচানোর দায়িত্ব সবাইকে ভাগ করে নিতে হবে। যার যার স্থানে থেকে দায়িত্ব পালন করলেও উন্নত অর্থনীতি ও বিকশিত সমাজ গঠনের সংগ্রামটা হতে হবে সমষ্টিগতভাবে, যে সক্ষমতার পরিবেশ সৃষ্টির দায়িত্ব বর্তাবে সরকারের ওপর। একটা বৈষম্যহীন গর্বিত জাতি হিসেবে বিশ্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোই ছিল আমাদের স্বাধীনতার সবচেয়ে বড় স্বপ্ন। এ স্বপ্ন সফল করতে হলে দেশের প্রত্যেক নাগরিক, বিশেষ করে তরুণদের কাছে উন্মোচিত করে দিতে হবে সুযোগের দুয়ার। একদিকে যেমন তারুণ্যের অপচয় রোধে চাই সৃজনশীল পরিকল্পনা, অন্যদিকে দেখতে হবে তারা যাতে বেকারত্বের ঘেরাটোপে না পড়ে। এক বিরাট জনসংখ্যা নিয়ে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে সর্ব প্রথম জনসংখ্যা-বিস্ফোরণকে প্রধান জাতীয় সমস্যা হিসেবে বিবেচনা করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে সরকারকে। স্বল্প আয়তনের দেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধি রোধ করে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে দৃঢ়সংকল্প ভূমিকা পালন করতে হবে সরকারকে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যমতে, গত এক দশকে দেশে বেকারত্ব বেড়েছে ১ দশমিক ৬ শতাংশ। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা দেশজ উৎপাদিত দ্রব্যের বাজার না পেয়ে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে ব্যর্থ হচ্ছেন। সীমিত সম্পদে প্রস্তুতকৃত পণ্যের অভ্যন্তরীণ ও বিদেশি বাজার সংকুচিত হচ্ছে আর সেই সঙ্গে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের আমদানি বাড়ছে। এমনকি আমাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গেও আমাদের রয়েছে বিরাট বাণিজ্য ঘাটতি। ২০০৯-১০ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ভারতে রপ্তানির পরিমাণ ছিল মাত্র তিন কোটি ৩০ লাখ ডলার। বিপরীতে ভারত থেকে পণ্য আমদানি হয়েছে ৪০০ কোটি ডলারের। বহির্বাণিজ্য নীতি ও শুল্ক ছাড়াও এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জন্য প্রধান অন্তরায় ছিল দেশীয় পণ্যের প্রতি জনগণের অনাগ্রহ। গত দুই ঈদের বাজারে তাই ঢাকার গুলশান থেকে গাউছিয়া, এমনকি মফস্বলের ছোট বাজারগুলোও ছিল বিদেশি পণ্যে উপচে পড়া। অনেক দোকানিকে গর্বের সঙ্গে বলতে শুনেছি, ‘আমরা কোনো দেশীয় জিনিস দোকানে রাখি না।’
এখনো আমাদের শপিং মলগুলোতে গেলে অনায়াসে মনে করা যাবে যে আমরা বিদেশে কোথাও শপিং করছি। এ রকম দৃশ্য কি আমাদের প্রতিবেশী কোনো রাষ্ট্রে দেখা যাবে? আমাদের আশপাশের সব দেশই তাদের শিল্প সংরক্ষণ নীতিতে দৃঢ় এবং সেই সঙ্গে দেখা যায় তাদের জনগণ অধিক গর্ববোধ করে নিজের দেশের পণ্য ব্যবহার করতে। দেশজ সংস্কৃতি ও বিনোদন চাহিদার ক্ষেত্রেও অনেক সময় উদ্যোক্তাদের মধ্যে এ ধরনের আচরণ দেখা যায়, আমরা যার প্রতিবাদ করি না। অন্য দেশের সাধারণ মানের নাম না-জানা শিল্পীদের কোটি টাকা দিয়ে মনোরঞ্জনের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়, অথচ দেশের অনেক প্রতিভা অর্থাভাবে দারিদ্র্যের গহ্বরে হারিয়ে যায়। সেদিকে আমরা দৃষ্টিপাত করি না। এসবই দেশ নিয়ে আমাদের গর্ব ও অহংকারবোধের অভাব। নিজের কানা ছেলেকে ভালোবাসব, কিন্তু আঁচল দিয়ে ঢেকে রাখব, পাছে কেউ দেখে ফেলে—এ রকম মনোভাব থেকে মুক্তি পেতে হবে। বিশ্বায়নের যুগে অবশ্যই জানালাগুলো খুলে দেব মুক্ত বাতাস সঞ্চালনের জন্য, তবে সিংহ দুয়ার আগলে রাখব দেশের গর্বিত প্রহরী হিসেবে। আসুন, আমরা দেশের গর্বিত নাগরিক হই, স্বাধীনতার মাসে এই হোক আমাদের প্রতিজ্ঞা।
সালমা খান: অর্থনীতিবিদ, নারীনেত্রী।

জলাভূমিবাসীদের দুনিয়ায় আবার... by ওলে সোয়িঙ্কা

অনেক দেরিতে হলেও ২০১০ সাল তেলবিষয়ক বৈশ্বিক সচেতনতা সৃষ্টির বছর। এ বছরটা মনে করিয়ে দিল, তেল ব্যবসার সঙ্গে আমার পরিচয় বেশ পুরোনো। শুরুটা নাইজেরিয়া স্বাধীন হওয়ারও আগে। তখন এক অখ্যাত গ্রামে তেল পাওয়ার একটা ছোট খবর আমার নজরে আসে, দৈবক্রমে। গ্রামটির নাম অলোইবিরি।
আমি ব্রিটেনে পড়তে গিয়েছিলাম। সে সময় ব্রিটিশরা পৃথিবীর নানা জায়গায়, বিশেষত সাবেক উপনিবেশগুলোয় প্রাকৃতিক সম্পদের সন্ধান চালাচ্ছিল। তবে ধনী শিল্পোন্নত দেশগুলোর জ্বালানি সম্পদ অনুসন্ধানের সামান্যতম আবাসও আমি তখনো পাইনি। বিদেশিদের হাতে তেল তুলে দেওয়ার মাধ্যমে এজাতীয় সম্পদ কবজা করার প্রতিযোগিতা শুরুর কী তাৎপর্য থাকতে পারে গরিব দেশগুলোর জন্য, তা তখন আমার উপলব্ধির আওতার বাইরের বিষয়।
সেই খবর আমাকেও নাড়া দিয়েছিল। তা একদমই শিল্প ও বাণিজ্যের জায়গা থেকে নয়। মৌলিক বাণিজ্য-পণ্য পাম তেলের জায়গায় অশোধিত তেল চলে আসার পর কোন ধরনের রূপান্তর আসন্ন, তা নিয়ে আমি গভীর ভাবনায় পড়ে গিয়েছিলাম।
তখনো আমি একবারও নাইজার বদ্বীপে যাইনি। ১৯৫৪ সালে কলেজে পড়তে বিদেশে যাওয়ার আগে তো নয়ই। মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভূগোল বই থেকে জেনেছিলাম নাইজারের কথা। বইয়ে পড়েছিলাম, এ জায়গাটি ঘন ম্যানগ্রোভপূর্ণ জলাভূমি। আর লোককাহিনির মামি ওয়াটাতে পরিপূর্ণ (এরা অর্ধমানব, অর্ধমৎস্য মনোমুগ্ধকর প্রাণী, আমাদের দিককার মৎস্যকন্যা)! সেখানকার প্রাচীন জীবনছন্দের মধ্যে কল্পনায় আমি নানা অনাত্মীয়কে সন্নিবেশ করলাম। প্রথমে এল যাজক, বণিক আর ঔপনিবেশিক শক্তি; আর এখন তেল অনুসন্ধান।
সেই কল্পনার পেছনে যে ভাবনা কাজ করছিল, তা আমার নাটক দ্য সোয়াম্প ডুয়েলারস-এর বিষয় নয়। সেখানে বিষয়টি আনা হয়নি। নাটকে উঠে এল প্রকৃতির সঙ্গে আমার অমোঘ আলাপচারিতা। নাটকটির পটভূমিতে আমাদের সম্পদ নিয়ে বিদেশি রাষ্ট্রগুলোর হুড়াহুড়ির প্রভাব আর অর্থনৈতিক তাৎপর্যের এ ধরনের টিমটিমে উপস্থিতি ছিল শুধু।
আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদ নিয়ে এসব কায়কারবারের পরিণতি বুঝতে আরও কয়েক দশকের প্রয়োজন ছিল। পৃথিবীর এক অখ্যাত কোণে সুযোগসন্ধানীদের করপোরেট দায়িত্বহীনতার মধ্যেও একভাবে তাদের উৎসভূমি শিল্পোন্নত দেশগুলোতে তা ছড়িয়ে পড়ার ব্যাপার থাকে (যেমন ছড়ায় সমুদ্রবক্ষে জাহাজ থেকে নিঃসৃত তেলের আস্তরণ)—এই ফয়সালায় পৌঁছাতে তখনো আরও কিছু সময় দরকার ছিল।
ব্রিটেন থেকে নাইজেরিয়ায় ফিরে আমি প্রচলিত রীতির নাটকের ওপর গবেষণা শুরু করি। এই গবেষণার অংশ হিসেবে আমি দেশের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে ছুটে বেড়াই। তখন তেলের আহরণ পর্যায় অর্থাৎ খননকাজ চলছিল। তার জ্বলন্ত সাক্ষী হিসেবে আকাশে দেখা যেত তেল জ্বলছে দপ দপ করে। এক সড়ক নির্মাণ কোম্পানির বদৌলতে আকাশপথে দক্ষিণ-পূর্বাংশের এক মাথা থেকে আরেক মাথায় যাওয়ার সৌভাগ্য আমার হয়েছিল। তেলের আগুনের শিখা কোম্পানির মিশনের সংকেত বহন করত। সেই মিশন আসলে সেসব এলাকাকে শিল্পায়নের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া। এই প্রক্রিয়াকেই শুধু সহজ করে তুলছিল খনিজ তেল।
তবে ধীরে ধীরে সংবাদ চুইয়ে চুইয়ে বেরোতে বেরোতে হঠাৎ বিপুল বেগে বেরিয়ে আসে, তেলের নতুন অবয়বে। জলাভূমিবাসীদের দুনিয়া দখল হয়ে যায়।
বসতভিটা থেকে উচ্ছেদ, ভূমিদখল, ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়া, পরিবেশ ক্ষয়, জীবন-জীবিকা ধ্বংস—তেলের শিখা আর আকাশের নির্বিষ লেখাজোকা নয়, বরং অপরিণামদর্শিতা আর নিস্পৃহতার আগুন।
এক্সন ভালদেজ বিপর্যয়ের (১৯৮৯) বহু আগেই ১৯৭৫ সালে ডাচ উপকূলের অদূরে কোলোকোট্রোনিস নামের আরেক তেলবাহী জাহাজের গায়ে ফাটল ধরে। এবার যে তেল নির্গমন হলো, তাকে সতর্কবার্তা হিসেবে গণ্য করা যেত। কোলোকোট্রোনিস নামের মাঝে আমি শুনলাম অলোইবিরির এক আজব প্রতিধ্বনি।
যখন থেকে নাইজার বদ্বীপের পরিবেশ ধ্বংসের বিষয়টি জানা যেতে থাকল, তখনই আমি কোলোকোট্রোনিস বিষয়ে আদালতের কার্যবিবরণীর একটি কপি সংগ্রহ করি। আদালতের রায় জাহাজ কোম্পানির বিরুদ্ধে গিয়েছিল। বিস্তারিত খুঁটিনাটি ঘাঁটতে গিয়ে আমি হতবিহ্বল হয়ে পড়ি। জীবনে প্রথম দেখলাম, কোনো পাখি, কোনো পতঙ্গ কিংবা এক বর্গফুট চাষযোগ্য জমিও মূল্যায়িত হয় ডলারে, সেন্টে। উপলব্ধি করলাম, তেল নির্গমনের ক্ষেত্রে কত গাছগাছালি আর পশুপাখি মারা গেল, তার তালিকা করা শুধুই নৈমিত্তিক হিসাবরক্ষণ যজ্ঞ। তাতে মনে হয় যেন আফ্রিকা কিংবা তৃতীয় বিশ্বের অন্য দেশগুলোর ওপর কোনো প্রভাবই পড়েনি!
জলাভূমির দেশ থেকে এক প্রাণবন্ত বন্ধু ও লেখক এসে আমার দরজায় কড়া নাড়লেন, তাঁকে দেখে আমি যারপরনাই খুশি হলাম। তাঁর নাম কেন সারো উইওয়া। সঙ্গে নিয়ে এলেন সরকার ও তেল কোম্পানির উদ্দেশ্যে কতগুলো সংস্কার প্রস্তাব। দক্ষিণ-পূর্ব নাইজেরিয়ার ওগোনির মানুষের হয়ে লড়াই করে শহীদ হলেন কেন সারো উইওয়া। সেই হূদয়বিদারক বিদায়ের আগেই তিনি বিশ্ববিবেকে নাড়া দি্রেয় গেলেন।
নাইজার বদ্বীপ সারা দেশের জন্য যেন এক পুষ্টিকর জলখাবার। তাই সব অঞ্চল থেকেই তাতে চামচ ডোবানো হলো। বদ্বীপের স্থানীয় মানুষের জীবিকা অর্জনের পুরোনো পথ ধ্বংস হয়ে গেল। কেন সারো উইওয়ার মধ্য দিয়ে পরিবেশের প্রশ্ন হয়ে দাঁড়াল সারা দুনিয়ার আদিবাসী আর সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীরই প্রশ্ন। তারা তাদের জীবন ফেরত চাইল। আর চাইল যেন তাদের কণ্ঠও শোনা হয়।
কেন সারো উইওয়াকে আমি আশ্বস্ত করে বলেছিলাম, তাঁর প্রতি সব সময় আমার সমর্থন থাকবে।
এরপর লম্বা সময় পেরিয়ে চলে আসি ২০১০ সালের ২০ এপ্রিলে। মেক্সিকো উপসাগরে বিপুল তেল নির্গমনের খবর এল। যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতারা ক্ষুব্ধ হলেন। তাঁদের খাটো হাতাওয়ালা জামা পরিহিত প্রেসিডেন্ট ছুটে গেলেন ঘটনাস্থলে। কংগ্রেসের শুনানিতে জড়ো হলেন তেল কোম্পানির নির্বাহীরা। নানা অজুহাত খাড়া করতে চেষ্টা হলো। সারা দুনিয়ার গণমাধ্যমে বড় খবর হলো।
প্রায় অর্ধশতাব্দী আগে জলাভূমিবাসীদের এলাকা ভিজেছিল যে পরিমাণ তেলে, এবার মেক্সিকো উপসাগরে তেল নির্গমন তার ভগ্নাংশ মাত্র। এ বিষয়টা স্পষ্টতই বোঝা যাচ্ছিল। গণমাধ্যমও এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। বিপির প্রধান নির্বাহীর অনুশোচনামূলক অভিব্যক্তি যখন শুনলাম, আমার মন সরে গেল কেন সারা-উইওয়াতে। ছোটখাটো সেই মানুষটা, যাঁর মুখে ধরা থাকত পাইপ, অপ্রজ্বলিত।
জলাভূমিবাসীদের সেই জমিন, সেই নাজুক বাস্তুসংস্থানেই তাঁর মন পড়ে থাকত সব সময়। নাইজেরিয়ার সরকার আর তেল কোম্পানিগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা তাঁর হয়েছিল। অবশেষে জনগণ জেগে উঠে রুখে দাঁড়াল—নয়জন মানুষের জান কোরবান করে। ওগোনির সেই নয় বীর। কেন সারো উইওয়ার হয়ে আমি যেমন একধরনের গৌরবের বোধ অনুভব করেছিলাম, তিনিও কি তা-ই বোধ করতেন? নাকি তাঁর পথ আলাদা হয়ে যেত?

নিউইয়র্ক টাইমস থেকে নেওয়া। ইংরেজি থেকে অনুবাদ: আহসান হাবীব
ওলে সোয়িঙ্কা: নাইজেরীয় ঔপন্যাসিক, কবি ও নাট্যকার। ১৯৮৬ সালে সাহিত্যে নোবেলজয়ী।

নেতা-নেত্রীদের সম্পদের হিসাব

প্রধানমন্ত্রী বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়ার বিপুল সম্পদের হিসাব ও উৎস জানতে চাওয়ার পরদিন বিএনপির মহাসচিব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের দেশে-বিদেশে সম্পদের উৎস জানতে চেয়েছেন। বিরাজমান রাজনীতির তপ্ত হাওয়ায় এ রকম পাল্টাপাল্টি অভিযোগ এবং তার ভাষা ও প্রকাশভঙ্গি সুস্থ মনোভাবের পরিচয় নয়। প্রধানমন্ত্রী সংসদে শুধু খালেদা জিয়ার সেনানিবাসের বাসার সম্পদের বিবরণ তুলে ধরে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। এই হিসাব বাড়িয়ে দেখানোর অভিযোগ বিএনপির মহাসচিব তুলতে পারেন। কিন্তু তিনি যে প্রধানমন্ত্রীর পিতা, পঁচাত্তরের নৃশংস হত্যাকাণ্ডে সপরিবারে নিহত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আয়করের টিআইএন নম্বর জানতে চেয়েছেন, তা সত্যিই নিন্দনীয়। এ ধরনের বক্তব্য জাতির জন্যও অবমাননাকর।
কিন্তু মন্দের যেমন কিছু ভালো দিক থাকে, তেমনি এখানেও একটা ভালো দিক বেরিয়ে এসেছে, তা হলো, যাঁরা দেশ পরিচালনা করেন, তাঁদের সম্পদের হিসাব জনসমক্ষে প্রকাশের প্রশ্ন। বিশেষভাবে লক্ষণীয় যে প্রশ্ন তোলা হয়েছে দলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের কাছ থেকে। আগেও বহুবার এ প্রশ্ন উঠেছে। কিন্তু ব্যাপারটা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার জন্য শুধু বাগ্যুদ্ধের অস্ত্র হিসেবেই ব্যবহূত হয়ে এসেছে। কাজের কাজ কিছুই হয়নি। অথচ বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। রাজনীতি যদি মানুষের জন্য হয়ে থাকে, তাহলে সেই মানুষকে আস্থায় নিয়ে সব নেতা-নেত্রীর সম্পদের পূর্ণ বিবরণ ও তার উৎস প্রকাশ করা উচিত।
প্রচলিত আইন অনুযায়ী, করযোগ্য আয় থাকলে আয়কর ও সেই সঙ্গে সম্পদ বিবরণী দেওয়া বাধ্যতামূলক। নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার জন্য সম্পদ বিবরণী দেওয়াও বাধ্যতামূলক। উপরন্তু আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয় দলই তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে সম্পদ বিবরণী প্রকাশের অঙ্গীকার করেছে। আওয়ামী লীগ তাদের ইশতেহারের ৫.৩ অনুচ্ছেদে বলেছে, ‘প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিসভার সদস্য এবং সংসদ সদস্য ও তাঁদের পরিবারের সম্পদের হিসাব ও আয়ের উৎস প্রতিবছর জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে।’ কিন্তু সেটা কথার কথা রয়ে গেছে। কয়েক মাস আগে শুধু অর্থমন্ত্রী তাঁর সম্পদের হিসাব প্রকাশ করে অন্যদেরও তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছেন মাত্র।
অন্যদিকে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের ৩ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘নির্বাচনের পর শপথ গ্রহণের ৩০ দিনের মধ্যে সকল নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিকে সম্পদের বিবরণী প্রকাশ করতে হবে।’ কিন্তু তাঁরাও এ ব্যাপারে নির্লিপ্ত। হিসাব দেওয়ার চেয়ে সরকারবিরোধী রাজপথের আন্দোলনেই তাঁরা এখন বেশি উৎসাহী। তাতে আপত্তি নেই, কিন্তু ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি পালনে তাঁদের এত অনীহা কেন? সহায়-সম্পদের ব্যাপারে গোপন করার কিছু না থাকলে তা প্রকাশ করতে আপত্তি কেন?
অপ্রীতিকর সত্য হলো, দেশের নেতা-নেত্রীদের সম্পদ নিয়ে মানুষের মধ্যে আলোচনা ও প্রশ্ন রয়েছে। সে কারণেই রাজনৈতিক দলগুলো তাদের ইশতেহারে সম্পদ বিবরণী প্রকাশের প্রতিশ্রুতি দেয়। সব কাজে স্বচ্ছতার কথা বলা হয়। কিন্তু বাস্তবে রাখঢাকই প্রধান। এ পরিস্থিতির অবসান দরকার। কথায় বলে, আপনি আচরি ধর্ম পরকে শেখাও। এখন প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেত্রী নিজেরা স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে নিজেদের সম্পদের হিসাব ও তার উৎস জনসমক্ষে প্রকাশ করুন। এরপর অন্য নেতারাও এগিয়ে আসুন। দেশে বা বিদেশে কার কত সম্পদ আছে, তা প্রকাশ করা হলে দেশে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে বিরাট সাহায্য হবে।

নতুন ক্ষেপণাস্ত্র-প্রতিরোধ ব্যবস্থা মোতায়েন করবে জাপান

উত্তর কোরিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের হুমকি মোকাবিলায় দেশজুড়ে বিমান ঘাঁটিগুলোতে অগ্রগামী প্রতিরোধক ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের পরিকল্পনা করছে জাপান। গতকাল শনিবার কিয়োডো নিউজ এ কথা জানায়।
পাঁচ বছরের প্রতিরক্ষা নীতিমালার আওতায় প্যাট্রিয়ট অ্যাডভান্সড ক্যাপাবিলিটি-৩ প্রতিরোধক ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করা হবে। আগামী সপ্তাহে এই নীতিমালা ঘোষণা করা হতে পারে। সরকারি ও প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে কিয়োডো নিউজ এ খবর জানায়।
ভূমি থেকে নিক্ষেপ করা ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার জন্য প্যাক-৩ ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। কিয়োডো নিউজ জানায়, জাপানের ছয়টি ঘাঁটিতে এই ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করা হবে।
গত মাসে দক্ষিণ কোরিয়ার একটি দ্বীপে উত্তর কোরিয়ার হামলার পর কোরীয় উপদ্বীপে উত্তেজনা এবং চীনের দ্রুত সামরিক শক্তি বৃদ্ধি ও নৌবাহিনীর কর্মকাণ্ড বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন ছাড়াও জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে প্রতিরক্ষা নজরদারি জোরদারে সাবমেরিনের সংখ্যা ১৬ থেকে বাড়িয়ে ২২টিতে উন্নীত করা হবে। নিরাপত্তাদানকারী জাহাজের সংখ্যা ৪৭ থেকে বাড়িয়ে ৪৮টি করা হবে।

যুক্তরাজ্যে স্ত্রী হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার স্বামীর জামিন মঞ্জুর

দক্ষিণ আফ্রিকায় মধুচন্দ্রিমায় গিয়ে স্ত্রীকে খুন করার অভিযোগে গ্রেপ্তার ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ ব্যবসায়ী শ্রিয়েন দিওয়ানির জামিন মঞ্জুর করা হয়েছে। লন্ডন হাইকোর্টের বিচারক আড়াই লাখ পাউন্ড নগদ জামানতের বিনিময়ে শ্রিয়েনের জামিন মঞ্জুর করেন। গত শুক্রবার দ্য টেলিগ্রাফ পত্রিকা এ তথ্য জানায়।
গত সপ্তাহে দক্ষিণ আফ্রিকার অনুরোধে শ্রিয়েনকে যুক্তরাজ্যে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে তাঁর বিরুদ্ধে নববিবাহিত স্ত্রী অ্যান্নিকে হত্যার ষড়যন্ত্র করার অভিযোগ আনা হয়। গত ১৩ নভেম্বর দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউনের কাছে গুগুলেথু নামে একটি স্থানে পরিত্যক্ত একটি ট্যাক্সিক্যাব থেকে অ্যান্নির গুলিবিদ্ধ মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।
দক্ষিণ আফ্রিকার আইনজীবীরা বলেন, শ্রিয়েনকে সন্দেহ করার যথেষ্ট ভিত্তি রয়েছে। এ ছাড়া এ মাসের শেষের দিকে দক্ষিণ আফ্রিকায় শ্রিয়েনকে হস্তান্তরের ব্যাপারে শুনানি হওয়ার কথা। কিন্তু জামিন দেওয়া হলে শ্রিয়েন আদালতে আত্মসমর্পণ না-ও করতে পারেন বলে আইনজীবীরা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

সরকারকে এইডস রোগীদের চিকিৎসা দিতে হবে

এইডস রোগীদের যথাযথ চিকিৎসা দেওয়ার জন্য সরকারকে নির্দেশ দিয়েছেন ভারতের সুপ্রিম কোর্ট।
সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি এস এইচ কাপাডিয়াসহ তিনজন বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ গত শুক্রবার বলেছেন, এইডস রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়া সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। কাজেই সরকারকে এ দায়িত্ব পালন করতে হবে। এ লক্ষ্যে প্রতিটি রাজ্যকেই কাজ করতে হবে।

মেক্সিকোয় মাদকচক্রের প্রধান নিহত

মেক্সিকো সরকার সে দেশের মাদক চোরাচালানিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে একটি সফলতা অর্জন করেছে। দেশটির কুখ্যাত ‘লা ফেমিলিয়া’ মাদক চোরাচালানি দলের প্রধান নাজারিও মরেনো গঞ্জালেস নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন।
সরকারের মুখপাত্র আলেজান্দ্রো পোয়ের গত শুক্রবার এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, পশ্চিমাঞ্চলীয় মিচোয়াকান রাজ্যের অ্যাপাটজিনগান শহরে গত বৃহস্পতিবার পুলিশের গুলিতে মারা গেছেন মরেনো গঞ্জালেস। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে গুলিবিনিময়ের ঘটনায় লা ফেমিলিয়ার আরও তিন সদস্য, পাঁচজন পুলিশ কর্মকর্তা ও তিনজন বেসামরিক ব্যক্তি নিহত হন।
মেক্সিকোর সরকারের ঘোষিত শীর্ষ ২৪ জন মাদক চোরাচালানির তালিকায় মরেনো গঞ্জালেসের নাম রয়েছে। তাঁর মাথার দাম ২৪ লাখ ডলার ঘোষণা করা হয়েছিল।

বন্যার্তদের জন্য এবার কার্যালয় ছেড়ে তাঁবুতে উঠছেন শাভেজ

বন্যায় আশ্রয়হীন হয়ে পড়া লোকজনের জন্য প্রাসাদের পর এবার নিজের কার্যালয় ছেড়ে দিচ্ছেন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হুগো শাভেজ। সে দেশের রাজধানী কারাকাসে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের বাগানে তাঁবু টানিয়ে আপাতত সেখানেই উঠবেন শাভেজ। সেখান থেকেই তিনি শাসনকাজ পরিচালনা করবেন। তাঁর কার্যালয়ে আশ্রয় দেওয়া হবে বন্যাদুর্গত ৮০টি পরিবারকে।
গত শুক্রবার প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের অদূরে একটি আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শনের সময় কার্যালয় ছেড়ে দেওয়ার এ ঘোষণা দেন শাভেজ।
লিবিয়ার নেতা মোয়াম্মার গাদ্দাফি গত বছর ভেনেজুয়েলা সফরের সময় শাভেজকে বেদুইনদের একটি তাঁবু উপহার দেন। ওই তাঁবুতেই থাকবেন শাভেজ। প্রসঙ্গত, গাদ্দাফি কোনো দেশে সফরে গেলে সেখানে এ ধরনের তাঁবু পেতে থাকেন।
শাভেজ বলেন, ‘আমাকে উপহার দেওয়া তাঁবু প্রাসাদের বাগানে টানানো হবে। আমি আপাতত সেখানেই উঠব। আর আমার কার্যালয়ে বন্যার্তদের থাকার ব্যবস্থা করা হবে।’
প্রবল বৃষ্টিপাতের ফলে সৃষ্ট বন্যায় ভেনেজুয়েলা এখন বিপর্যস্ত। গত এক দশকের মধ্যে সে দেশে এটা সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যা। বন্যায় ও ভূমিধসে অন্তত ৩০ জন প্রাণ হারিয়েছে। এ ছাড়া আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে লক্ষাধিক মানুষ। বন্যায় উদ্বাস্তু মানুষদের জন্য গত নভেম্বর মাসে নিজের প্রাসাদ ছেড়ে দেন তিনি। সেখানে ২৫টি পরিবারকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে।

পাকিস্তানে বড় ধরনের হামলার চেষ্টা ব্যর্থ

পাকিস্তানে বিস্ফোরকভর্তি একটি ট্রাক আটকের মাধ্যমে বড় ধরনের একটি হামলার চেষ্টা ব্যর্থ করে দেওয়া হয়েছে। গতকাল শনিবার দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে বিস্ফোরকভর্তি ওই ট্রাক আটক করে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, এতে বড় ধরনের হামলা প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে। ওই ট্রাকে প্রায় এক টন বিস্ফোরক ছিল। যা দিয়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালানো সম্ভব।
স্থানীয় পুলিশ-প্রধান দিলাওয়ার বাঙ্গাস জানান, হামলাকারীরা পবিত্র আশুরা উপলক্ষে কোহাত শহরে অনুষ্ঠেয় একটি ধর্মীয় শোভাযাত্রায় ট্রাকে করে বোমা নিয়ে হামলার পরিকল্পনা করছিল।

দুঃখ প্রকাশ করেছে পাকিস্তানের দ্য নিউজ ও এক্সপ্রেস ট্রিবিউন

ভারত সম্পর্কে ভুল তথ্য দিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করায় দুঃখ প্রকাশ করেছে পাকিস্তানের শীর্ষ স্থানীয় দুটি পত্রিকা দ্য নিউজ ও দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন। গত শুক্রবার দুঃখ প্রকাশ করে প্রথম পৃষ্ঠায় পত্রিকা দুটি বিবৃতি দেয়।
গত বৃহস্পতিবার উইকিলিকসের প্রকাশিত নথির বরাত দিয়ে পত্রিকা দুটির প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারত গুপ্তচরবৃত্তির মাধ্যমে পাকিস্তানের ওয়াজিরিস্তান ও বেলুচিস্তান অঞ্চলে জঙ্গিদের সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মার্কিন কূটনীতিকেরা ভারতের একজন জেনারেলকে সাবেক সার্ব নেতা স্লোবোদান মিলোসেভিচের সঙ্গে তুলনা করেছেন। ভারতের ওই জেনারেলের বিরুদ্ধে কাশ্মীরে গণহত্যা চালানোরও অভিযোগ তোলা হয়।
পাকিস্তানের পত্রিকায় এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর ব্রিটেনের গার্ডিয়ান পত্রিকায় বলা হয়, পাকিস্তানি পত্রিকাগুলো উইকিলিকসকে বিশেষ স্বার্থে প্রচারণার কাজে ব্যবহার করছে। প্রতিবেদনে ‘ভারতের বিরুদ্ধে উসকানির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ’ তুলে ধরতে ব্যর্থ হয়েছে পত্রিকা দুটি। উল্লেখ্য, উইকিলিকসের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে বিশ্বের আরও চারটি সংবাদপত্রের সঙ্গে একযোগে মার্কিন কূটনীতির গোপন বার্তা প্রকাশ করছে গার্ডিয়ান।
দুঃখপ্রকাশ করে দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন বলেছে, ইসলামাবাদভিত্তিক একটি অনলাইন সার্ভিস থেকে তারা এ তথ্য পেয়েছে। কিন্তু ওই তথ্য যাচাই-বাছাই না করে প্রকাশ করায় এই ভুল হয়েছে।
দ্য নিউজও একই অনলাইন সার্ভিস থেকে পেয়ে এই তথ্য প্রকাশ করে। এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের মতোই দুঃখ প্রকাশ করে প্রথম পাতায় বিবৃতি দিয়েছে দ্য নিউজ।

রিপাবলিকানদের সঙ্গে ওবামার সমঝোতার পক্ষে বিল ক্লিনটন

উচ্চ আয়ের লোকজনের জন্য কর রেয়াতের মেয়াদ বাড়ানো নিয়ে রিপাবলিকান দলের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সমঝোতার বিষয়টিকে সমর্থন করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন। গত শুক্রবার হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি ওবামার এ সিদ্ধান্তের সমর্থনে কথা বলেন। তাঁদের এই সংবাদ সম্মেলন নজিরবিহীন বলে উল্লেখ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম।
ওই দিন ওবামার ব্যক্তিগত আমন্ত্রণে হোয়াইট হাউসে যান বিল ক্লিনটন। সংবাদ সম্মেলনের জন্য তাঁদের পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি ছিল না। সেখানে অবস্থানরত সংবাদকর্মীরা যে যাঁর মতো ব্যস্ত ছিলেন। একান্ত বৈঠকে শেষে হঠাৎ ব্রিফিং কক্ষের দিকে এগিয়ে যান ওবামা ও ক্লিনটন। ব্রিফিং কক্ষের বন্ধ দরজা নিজেই খোলার চেষ্টা করেন ওবামা। শব্দ শুনে পাশের কক্ষ থেকে এগিয়ে আসেন প্রেস সেক্রেটারি রবার্ট গিবস।
এ সময় ওবামা জানান, তাঁরা কয়েকজন সংবাদকর্মীকে খুঁজছেন। এরপর হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা সংবাদকর্মীদের খোঁজে দৌড়ঝাপ শুরু করেন। খবর পেয়ে সংবাদকর্মীরা ব্রিফিং কক্ষে হাজির হন। প্রেসিডেন্ট ওবামা ছোট একটি বক্তৃতা দিয়েই মাইক্রোফোন ছেড়ে দেন বিল ক্লিনটনের হাতে। বিস্মিত সংবাদকর্মীদের সামনে বক্তৃতা শুরু করেন ক্লিনটন।
তিনি ওবামার রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের সমর্থনে বক্তব্য দেন। উচ্চ আয়ের লোকজনের জন্য কর রেয়াতের মেয়াদ বাড়ানো নিয়ে রিপাবলিকান দলের সঙ্গে ওবামার সমঝোতায় ক্ষুব্ধ উদারনৈতিক মহল। কিন্তু এই সমঝোতার ফলে দেশের অর্থনীতি কীভাবে উপকৃত হবে, দেশে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে, তা ব্যাখ্যা করেন বিল ক্লিনটন। তিনি বলেন, উচ্চ আয়ের লোকজনের জন্য কর রেয়াতের মেয়াদ বাড়ানো নিয়ে ওবামার সমঝোতা দেশের জন্য মঙ্গলজনক হবে।
ক্লিনটন উল্লেখ করেন, গত মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান দল জনসমর্থন পেয়েছে। রিপাবলিকানদের শক্তি বিবেচনা করেই রাজনৈতিক সমঝোতা করতে হবে।

পাকিস্তানে ৪৩টি জঙ্গিঘাঁটি আছে: ভারত

ভারত বলেছে, পাকিস্তানে অন্তত ৪৩টি জঙ্গিঘাঁটি আছে। এর মধ্যে পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরেই রয়েছে ২২টি। ওই ঘাঁটিগুলো থেকে জঙ্গিরা সীমান্ত পার হয়ে ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে নানা অপতৎপরতা চালায়। নয়াদিল্লির অভিযোগ, এসব জঙ্গিঘাঁটি স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে ইসলামাবাদ খুব একটা উদ্যোগ নেয়নি। উইকিলিকসের ফাঁস করা মার্কিন কূটনীতিকদের তারবার্তা থেকে এ তথ্য মিলেছে।
গত বছরের জুনে তৎকালীন মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জেনারেল জিম জোন্স ও ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী এ কে অ্যান্টনির বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা করা হয়। উইকিলিকসের ফাঁস করা ওই তথ্য ব্রিটেনের গার্ডিয়ান পত্রিকা প্রকাশ করেছে।
মার্কিন তারবার্তায় বলা হয়, ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল দীপক কাপুরও ওই বৈঠকে অংশ নেন। একপর্যায়ে তিনি বলেন, ২০০৮ সালে মুম্বাইয়ে সন্ত্রাসী হামলার পর পাকিস্তান ওই জঙ্গিঘাঁটিগুলোতে অভিযান চালায় ঠিকই, কিন্তু ঘাঁটিগুলো স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়নি। কিছু ঘাঁটি আবারও কার্যক্রম শুরু করে। তিনি আরও বলেন, ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরেও পাকিস্তানের জঙ্গিরা তৎপরতা চালায়। ইসলামাবাদের সহযোগিতা ছাড়া এসব তৎপরতা অব্যাহত রাখা অসম্ভব।
সেনাপ্রধান বলেন, দুই দেশের সীমান্ত এলাকায় প্রহরা জোরদার করা হয়েছে। এর পরও ১৫ থেকে ২০ শতাংশ জঙ্গি সীমানা অতিক্রম করতে সমর্থ হয়। কাপুর বলেন, ‘আমরা যদি তাদের (জঙ্গিদের) গ্রেপ্তার করতে পারি, তাহলে পাকিস্তানের সেনারা পারে না কেন?’
মার্কিন কূটনৈতিক তারবার্তায় উল্লেখ করা হয়, ওই বৈঠকে জিম জোন্স তখন জঙ্গিঘাঁটির এ বিষয়টি পাকিস্তানের সরকারের কাছে উত্থাপনের প্রতিশ্রুতি দেন। একপর্যায়ে তিনি সেনাপ্রধানের কাছে ভারত-পাকিস্তান সেনা আলোচনার অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রতিরক্ষামন্ত্রী অ্যান্টনি বলেন, মুম্বাই হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতি আসা দুরূহ।
জঙ্গিদের মদদের অভিযোগ বরাবরই প্রত্যাখ্যান করে আসছে ইসলামাবাদ।
নয়াদিল্লির অভিযোগ, পাকিস্তানের মাটিতে বসে মুম্বাই হামলার পরিকল্পনা করা হয়। ইসলামাবাদ এ ঘটনার তদন্ত করছে। ইতিমধ্যে ওই মামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তাইয়েবার সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নয়াদিল্লি বলছে, ইসলামাবাদের এ তদন্তে তারা সন্তুষ্ট নয়।
জোন্স বলেন, ‘মুম্বাই হামলার মতো আবারও কোনো সন্ত্রাসী হামলা এ অঞ্চলের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। আমরা একে অন্যের বিরুদ্ধে বিষিয়ে তুলতে জঙ্গিদের সুযোগ করে দিতে পারি না।’

বিদ্যুৎ ও বস্ত্র খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করল চীন

বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও বস্ত্র খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন চীনের শিল্প উদ্যোক্তারা।
বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) সঙ্গে গতকাল শনিবার বৈঠককালে সফররত চীনের জিংসু প্রদেশের উইশির একটি বাণিজ্য প্রতিনিধিদল তাদের আগ্রহের কথা জানায়।
রাজধানীর মতিঝিলে এফবিসিসিআইয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের প্রথম সহসভাপতি মো. জসিমউদ্দিন। এতে চীনের প্রতিনিধিদলের নেতা এবং সে দেশের জিন জিন প্রিন্টিং অ্যান্ড ডায়িং কোম্পানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান জো গু লিয়াং, জিয়াং ইন জিয়ানসেন টেক্সটাইল প্রিন্টিং মেশিনারি ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানির মহাব্যবস্থাপক হুয়াং হাউ জু, হুয়াং জিয়া নান প্রমুখ বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক এম এ মোমেন। এ ছাড়া চীনে বাংলাদেশের প্রবাসী ব্যবসায়ী শামসুল হক আলোচনায় অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক ওবায়দুর রহমান, গোলাম মোস্তফা তালুকদার, নাগিবুল ইসলাম, মো. রব্বানী জব্বার, নুরুল হুদা, মো. জালালউদ্দিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
স্বাগত বক্তব্যে এফবিসিসিআইয়ের প্রথম সহসভাপতি মো. জসিমউদ্দিন বলেন, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিপুল ঘাটতির মুখে রয়েছে। এই ঘাটতি কমাতে তিনি চীনের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশ থেকে অধিক পরিমাণ পণ্য কেনার আহ্বান জানান।
মো. জসিমউদ্দিন আরও বলেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগের পরিবেশ খুবই ভালো। তাছাড়া দেশের বর্তমান বিনিয়োগনীতিও যুগোপযোগী। এসব সুবিধা কাজে লাগাতে তিনি উদ্যোক্তাদের বিদ্যুৎ ও বস্ত্রসহ অন্যান্য খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিদ্যুৎসংকট রয়েছে। তাই সৌরবিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগে এগিয়ে এলে এফবিসিসিআই সব ধরনের সহায়তা দেবে।
প্রতিনিধিদলের নেতা জো গু লিয়াং বলেন, সফরকালে তাঁরা ব্যবসা ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছেন। সফর শেষে দেশে ফিরে উদ্যোক্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
প্রতিনিধিদলের সদস্য হুয়াং হাউ জু বলেন, বাংলাদেশে বস্ত্র খাত ছাড়াও তাঁর প্রতিষ্ঠান বিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী। তিনি বিদ্যুৎ খাতে বিশেষ করে সৌরবিদ্যুৎ ও বায়ুচালিত বিদ্যুৎ প্রকল্পে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেন।
প্রসঙ্গত, চীনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাংলাদেশের বড় ধরনের ঘাটতির মুখে রয়েছে। গত ২০০৯-১০ অর্থবছরে এই ঘাটতির পরিমাণ ছিল ৩৬৩ কোটি ৮৫ লাখ ডলার। আলোচ্য বছরে বাংলাদেশ চীনের বাজারে ১৭ কোটি ৮৬ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানির বিপরীতে ৩৮১ কোটি ৭১ লাখ ডলারের পণ্য আমদানি করেছে। এ ছাড়া ২০০৮-০৯ অর্থবছরে ঘাটতির পরিমাণ ছিল ৩৩১ কোটি ৯৩ লাখ ডলার। ওই অর্থবছরে বাংলাদেশ চীনে মাত্র নয় কোটি ৭০ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানির বিপরীতে সেই দেশ থেকে ৩৮১ কোটি ৭১ লাখ ডলারের পণ্য আমদানি করেছে।

প্রবাসী বন্ডে পুনর্বিনিয়োগ সুবিধা ফিরিয়ে আনা হচ্ছে

প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য জাতীয় সঞ্চয় পরিদপ্তর প্রবর্তিত বন্ডসমূহে পুনর্বিনিয়োগের সুবিধা বহাল রাখা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই জাতীয় সঞ্চয় পরিদপ্তর থেকে এসংক্রান্ত একটি সারসংক্ষেপ অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের (আইআরডি) সচিবের কাছে পাঠানো হয়েছে। শিগগির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে সঞ্চয় পরিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে।
চলতি অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে প্রবাসীদের বন্ডে পুনর্বিনিয়োগের সুবিধা রহিত করা হয়। এর ফলে গত ১ জুলাই থেকে বিনিয়োগ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আইআরডি সচিব ও এনবিআর চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন আহম্মেদ প্রথম আলোকে বলেন, বন্ডে পুনর্বিনিয়োগের সুবিধা বহাল রাখার বিষয়ে কাজ এগোচ্ছে। এসংক্রান্ত সারসংক্ষেপটি পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বন্ডে বিনিয়োগ হ্রাসের আশঙ্কা
জাতীয় সঞ্চয় পরিদপ্তর প্রবর্তিত বন্ডে বিনিয়োগ হ্রাসের আশঙ্কা করে পুনর্বিনিয়োগের সুবিধা বহাল রাখার পাশাপাশি সুদের হার আগের মতো রাখার অনুরোধ জানিয়েছে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। গত ৭ নভেম্বর প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন এক চিঠিতে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতকে এই অনুরোধ করেন।
চিঠি পাওয়ার পর গত ৮ নভেম্বর অর্থমন্ত্রী এসব বন্ডে পুনর্বিনিয়োগের সুবিধা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করার জন্য আইআরডি ও এনবিআর চেয়ারম্যানের কাছে তা পাঠিয়ে দেন। অর্থমন্ত্রীর পরামর্শের ভিত্তিতে সঞ্চয় পরিদপ্তর একটি সারসংক্ষেপ তৈরি করে আইআরডি সচিবের কাছে পাঠায়।
প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে বলা হয়েছে, অনেক বিনিয়োগকারী তাঁদের বন্ডের মেয়াদপূর্তির পর পুনর্বিনিয়োগের সুবিধা না থাকায় বৈদেশিক মুদ্রায় তা তাঁদের কর্মস্থলে নিয়ে যাচ্ছেন। এই ঘটনায় আশঙ্কা করা যায়, প্রবাসী কর্মীরা আগের বন্ডে বিনিয়োগ করে বৈধ পথে অর্থ পাঠাতে উৎসাহ পেতেন, এখন তাঁরা অবৈধ পথে অর্থ পাঠাতে উৎসাহিত হতে পারেন।
এদিকে গত ১৭ অক্টোবর জেদ্দায় বাংলাদেশ দূতাবাসের কনসাল জেনারেল নাজমুল ইসলামের সঙ্গে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেখা করে তিনটি বন্ডে পুনর্বিনিয়োগের সুবিধা এবং আগের সুদের হার রাখার দাবি করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে জেদ্দার কনসাল জেনারেল আইআরডি সচিবের কাছে চিঠি পাঠিয়ে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করেন।
চিঠিতে বলা হয়েছে, পুনর্বিনিয়োগের সুবিধা রহিত হওয়ায় ও ওয়েজ আর্নার্স ডেভেলপমেন্ট বন্ডে সুদের হার কমানোর ফলে প্রবাসীদের বিনিয়োগ-আগ্রহ হ্রাস পাচ্ছে। এ ছাড়া প্রবাসী-আয়প্রবাহ হ্রাস পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বর্তমানে সঞ্চয় পরিদপ্তরের অধীনে প্রবাসীদের জন্য চার ধরনের বন্ড চালু রয়েছে। এগুলো হলো ওয়েজ আর্নার্স ডেভেলপমেন্ট বন্ড, ইউএস ইনভেস্টমেন্ট ডলার বন্ড, ইউএস প্রিমিয়ার বন্ড ও বাংলাদেশ প্রাইজ বন্ড।
গত ১ জুলাই থেকে এসব বন্ডে পুনর্বিনিয়োগের সুবিধা রহিত করা হয়েছে এবং ওয়েজ আর্নার্স ডেভেলপমেন্ট বন্ডে সুদের হার ১২ থেকে কমিয়ে সাড়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে।
বন্ডে বিনিয়োগ পরিস্থিতি
জাতীয় সঞ্চয় পরিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) বন্ডে নিট বিনিয়োগ হয়েছে প্রায় ৯০ কোটি টাকা। গত বছর একই সময় নিট বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল প্রায় সাড়ে ৩০০ কোটি টাকা।
এ সময় সবচেয়ে জনপ্রিয় ওয়েজ আর্নার্স ডেভেলপমেন্ট বন্ডে নিট বিনিয়োগ হয়েছে ১৩০ কোটি টাকা। গত বছর একই সময় এই বন্ডে বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল প্রায় ৪০০ কোটি টাকা।
আর একই সময় ইউএস ডলার ইনভেস্টমেন্ট বন্ডে ৩০ কোটি টাকা আর প্রিমিয়াম বন্ডে ১২ কোটি টাকা নিট বিনিয়োগ হয়েছে।
তবে তিন বছর মেয়াদি জাতীয় বিনিয়োগ বন্ডের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় এ বছর মূল ও সুদ দুটোই পরিশোধ হচ্ছে। বন্ডে নিট বিনিয়োগের পরিমাণ কমে যাওয়ার আরেকটি কারণ এটি। চলতি অর্থবছর জাতীয় সঞ্চয় পরিদপ্তর প্রবর্তিত বন্ডসমূহে ৬১০ কোটি টাকার নিট বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।
এর আগে ওয়েজ আর্নার্স ডেভেলপমেন্ট বন্ড, ইউএস ডলার ইনভেস্টমেন্ট বন্ড ও ইউএস ডলার প্রিমিয়াম বন্ড—এই তিনটি বন্ডের মেয়াদপূর্তির পর স্বয়ংক্রিয় উপায়ে পুনর্বিনিয়োগ-সুবিধা ছিল। অর্থাৎ একজন বিনিয়োগকারী বন্ডের মেয়াদপূর্তির পর বিনিয়োগ উত্তোলন না করলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুনর্বিনিয়োগ হয়ে যেত। কিন্তু চলতি অর্থবছর থেকে বিনিয়োগকারীকে অবশ্যই পুরো বিনিয়োগ তুলে নতুন করে বিনি েয়াগ করতে হবে। আবার ওয়েজ আর্নার্স ডেভেলপমেন্ট বন্ড ছাড়া বাকি দুটি বন্ডের লভ্যাংশ করের আওতায় আনা হয়েছে।
এনবিআর কর্মকতারা বন্ডে পুনর্বিনিয়োগের সুবিধা রহিত করার পেছনে অন্যতম যুক্তি হিসেবে দাঁড় করিয়েছেন যে, এতে তাঁদের কর আদায় করা সহজ হয়। পুনর্বিনিয়োগ-সুবিধা অব্যাহত থাকলে প্রবাসীদের কাছ থেকে আয়কর কেটে রাখায় প্রক্রিয়াগত জটিলতা দেখা দেয়।
প্রসঙ্গত ব্যাংক সুদের হারের চেয়ে মুনাফা বেশি ও নিরাপদ হওয়ায় প্রবাসীরা এসব বন্ডে বিনিয়োগ করতে বেশি আগ্রহী।

ডিএসইতে দরপতনে আতঙ্কিত বিনিয়োগকারীরা

দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে আজ রোববার সপ্তাহের প্রথম দিনে আবারও দরপতনের ঘটনা ঘটেছে। গত বুধবার নজিরবিহীন দরপতনের রেশ কাটতে না কাটতেই আজও বড় ধরনের দরপতনে সাধারণ বিনিয়োগকারী বিশেষ করে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। তাঁরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, বাজার আবার ৯৬-এর অবস্থায় ফিরে না যায়। অপরদিকে বাজার-বিশ্লেষকেরা এ ঘটনাকে অস্বাভাবিক হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
ডিএসই সূত্রে জানা যায়, ডিএসইতে আজ ব্যাংক, বিমা, আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ প্রায় সব খাতের প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের উল্লেখযোগ্য দরপতন হয়েছে। এতে ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচক প্রায় ২৮৫ পয়েন্ট নেমে আসে, যা একদিনে ডিএসইর সাধারণ সূচকের সর্বোচ্চ পতন। এর আগে ১৯৯৬ সালের ৬ নভেম্বর এক দিনে ২৩৩ পয়েন্ট কমে যায়।
এর আগে গত বুধবার ডিএসইতে বড় ধরনের দরপতনের ঘটনা ঘটে। এ সময় সাধারণ সূচক ৫৪৭ পয়েন্ট নেমে যায়। এতে ক্ষুব্ধ ও আতঙ্কিত বিনিয়োগকারীরা ডিএসইর সামনের সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। দিন শেষে বাজার আবার ঘুরে দাঁড়ায়, এ দিন সূচকের পতন হয়েছিল ১৩৪ পয়েন্টের।
এদিকে ডিএসইতে বড় ধরনের দরপতনের রেশ কাটতে না কাটতেই আজকের দরপতনে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেক বিনিয়োগকারী এ ঘটনাকে ৯৬-এর আলামত হিসেবে চিহ্নিত করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিনিয়োগকারী প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার দেখা ডিএসইতে দরপতনে এটাই রেকর্ড। এমন অবস্থা এর আগে দেখিনি।’ তিনি আরও বলেন, ‘শেয়ারবাজারে এভাবে ধস নামতে থাকলে আমাদের পথে বসতে হবে।’
সাধারণ বিনিয়োগকারী নুর মোহাম্মাদ হোসেন জানান, হঠাত্ করে এ ধরনের দরপতনের ঘটনায় সাধারণ বিনিয়োগকারীরা চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। তিনি বলেন, ‘শেয়ারবাজারে এমন অবস্থা চলতে থাকলে বিনিয়োগ করা তো দূরে থাক, বিনিয়োগ উঠিয়ে আনব কি না, তা নিয়ে চিন্তায় পড়ে গেছি।’
আরেক বিনিয়োগকারী সাইফুল ইসলাম জানান, ‘শেয়ারবাজারে হঠাত্ করে দরপতনে আমার মতো ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরাই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’ তিনি বলেন, বাজারকে বাজারের গতিতে চলতে দেওয়া উচিত। জোর করে টেনে ধরা উচিত নয়।
পুঁজিবাজার-বিশ্লেষক ডিএসইর সাবেক প্রধান নির্বাহী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক সালাহউদ্দিন আহমেদ খান আজকের দরপতনকে অস্বাভাবিক উল্লেখ করে বলেন, ‘আজ ডিএসইতে দরপতনের উল্লেখযোগ্য কোনো কারণ দেখছি না এবং এর কোনো যথার্থ ব্যাখ্যাও খুঁজে পাচ্ছি না। এ ছাড়া এই দরপতনকে সংশোধনও বলতে পারছি না।’ তিনি বলেন, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) উচিত লেনদেনের তথ্য (ডেটা) পর্যালোচনা করে দেখা। তাঁর মতে, সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা এরই দাবি রাখে।

এলএনজি প্ল্যান্ট নির্মাণ করবে রাশিয়া ও জাপান

জাপান ও রাশিয়া যৌথভাবে তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) প্ল্যান্ট নির্মাণ করতে যাচ্ছে। রাশিয়ার ভ্লাদিভস্তোক বন্দরে এটি নির্মাণ করা হবে।
গতকাল শনিবার জাপানের ইয়োমুরি শিম্বুন পত্রিকার এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০১৭ সালে এলএনজি প্ল্যান্টটি উত্পাদনে যাবে। প্ল্যান্টের বার্ষিক উত্পাদনক্ষমতা হবে ৫০ লাখ মেট্রিক টনেরও বেশি। এ প্রকল্পে মোট বিনিয়োগের পরিমাণ কয়েক হাজার কোটি ডলার ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পত্রিকাটি আরও জানায়, প্ল্যান্ট নির্মাণে প্রাক জরিপকাজ শুরু করতে জাপান এ মাসের শেষের দিকে রাশিয়ার সর্ববৃহত্ গ্যাস প্রতিষ্ঠান গজপ্রমের সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করতে পারে। দেশ দুটি প্রস্তাবিত জায়গায় একটি রাসায়নিক প্ল্যান্ট নির্মাণেরও পরিকল্পনা করছে।
প্রসঙ্গত, রাশিয়া নিয়ন্ত্রিত কুরিল দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে মস্কো ও টোকিওর মধ্যে কূটনৈতিক বিরোধ দেখা দেওয়া সত্ত্বেও জাপানি সংবাদপত্রে এই সংবাদটি প্রকাশ করা হয়।

ভিক্টোরিয়ার বড় লিড

ইংল্যান্ড একাদশের বিপক্ষে ভিক্টোরিয়ার তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচটি কাল যেন রূপ নিয়েছিল টি-টোয়েন্টিতে। দ্বিতীয় ইনিংসে ভিক্টোরিয়ার লোয়ার-অর্ডার ব্যাটসম্যানরা কাল দ্বিতীয় দিনে মারকাটারি ব্যাটিং করেছেন। মাত্র ২৭ বলে ৭টি চার আর ৩ ছক্কায় অপরাজিত ৫৮ রানের ইনিংস খেলেছেন ক্লিন্ট ম্যাকাই। জেড হেরিক ১৯ বলে ৪০ করেছেন ৫টি চার আর দুটো ছয় হাঁকিয়ে। দিন শেষে ৬ উইকেটে ২৭৮ রান তোলা ভিক্টোরিয়ার লিড ছিল ৩১০ রানের। আজ শেষ দিনে ইংল্যান্ডকে এই বিশাল রান তাড়া করতে নামতে হবে।
এর আগে ইংল্যান্ড কাল নিজেদের প্রথম ইনিংস ঘোষণা করেছিল ২ উইকেটে ১৮৪ রান তুলে। আগের দিন ১৭ রানে অপরাজিত স্ট্রাউস আউট হয়েছেন ৬৬ রান করে। ৬০ রানে অপরাজিত ছিলেন ইয়ান বেল।

দ্বিতীয় বিভাগ ক্রিকেটের দলবদল

২০১০-১১ মৌসুমের দ্বিতীয় বিভাগ ক্রিকেট লিগের দুই দিনব্যাপী দলবদল শুরু হচ্ছে আজ। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে সিসিডিএম কার্যালয়ের সভাকক্ষে বিকেল ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দলবদল কার্যক্রম চলবে। অংশগ্রহণকারী দলগুলোসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করা হয়েছে।

ব্যাডমিন্টন দলের ভারত-যাত্রা

দুটি টুর্নামেন্ট খেলতে কাল ভারত গেছে বাংলাদেশ ব্যাডমিন্টন দল। ১৪-১৯ ডিসেম্বর হায়দরাবাদে ইন্ডিয়া গ্রাঁ প্রিঁ, ২১-২৫ ডিসেম্বর মুম্বাইয়ে হচ্ছে টাটা ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশনাল চ্যালেঞ্জ কাপ। দুটি টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন মোহাম্মদ জাবেদ, রইসউদ্দিন, আহসান হাবিব, এনায়েতউল্লাহ খান, এলিনা সুলতানা, শাপলা আক্তার, রোজিনা আক্তার ও দুলালী হালদার।

বাংলাদেশে আসা হচ্ছে না আকমল-মালিকের



ছোট হয়ে আসছে কামরান আকমল ও শোয়েব মালিকের পৃথিবী। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের ‘ইন্টেগ্রিটি কমিটি’র ছাড়পত্র না পাওয়ায় নিউজিল্যান্ড সফরের পাকিস্তান দলে জায়গা হয়নি তাঁদের। এবার বাংলাদেশে ক্লাব ক্রিকেট খেলতেও তাঁদের অনাপত্তিপত্র (এনওসি) দেয়নি ইন্টেগ্রিটি কমিটি। আপাতত তাই ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে খেলতে বাংলাদেশে আসা হচ্ছে না এই দুই তারকার।
১৪ ডিসেম্বর শুরু হতে যাওয়া ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে খেলানোর জন্য আকমলকে চুক্তিবদ্ধ করেছিল আবাহনী আর মালিকের সঙ্গে কথা পাকাপাকি হয়েছিল মোহামেডানের।
গত ইংল্যান্ড সফরের পর থেকেই পাকিস্তান দলের বাইরে এই দুজন। মালিককে বাদ দেওয়ার কারণ দেখানো হয়েছিল ফর্মে না থাকা। বারবার স্পট ফিক্সিং ও ম্যাচ পাতানোয় নাম আসায় আকমলের দলের বাইরে থাকা নিয়ে অনেক কানাঘুষা ছিল। তবে গত অক্টোবরে আইসিসি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পিসিবিকে জানানো হয়, আকমলকে দলে নিতে কোনো বাধা নেই। পরপর দুবার অনাপত্তিপত্র না দেওয়ায় এখন দুজনকে ঘিরেই সন্দেহের বেড়াজাল।
বাংলাদেশে আসতে না পারায় আকমল হতাশ, ‘বাংলাদেশে যাওয়ার ব্যাপারে খুবই আগ্রহী ছিলাম, কিন্তু বোর্ড আমাকে বলেছে শুধু কায়েদে আজম ট্রফিতেই মন দিতে। বাংলাদেশের প্রস্তাবটা দারুণ ছিল, কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে অনাপত্তিপত্র পেলাম না।’
চুক্তি হওয়ার পরও আকমলকে না পাওয়ায় অবশ্য খুব একটা ক্ষতি হচ্ছে না আবাহনীর। ক্লাবের কর্মকর্তা জালাল ইউনুস জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই তাঁরা নিশ্চিত করেছেন অস্ট্রেলিয়ার লি কার্সেলডাইন ও ভারতের যশপাল সিংকে। ৩৫ বছর বয়সী কুইন্সল্যান্ডের মারমুখী বাঁহাতি ব্যাটসম্যান কার্সেলডাইন আইপিএল খেলেছেন রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে। ২৯ বছর বয়সী যশপাল ব্যাটিং অলরাউন্ডার, ভারতের প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেট খেলেন সার্ভিসেস দলের হয়ে আর আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্সে।
ওদিকে মোহামেডানের ক্রিকেট কমিটির প্রধান লুৎফর রহমান জানিয়েছেন, শোয়েব মালিককে না পেলেও তাঁদের দলে খেলতে কালই ঢাকায় এসে পৌঁছেছেন উস্টারশায়ার ও ইংল্যান্ড ‘এ’ দলের ক্রিকেটার মঈন আলি। আজ আসার কথা শ্রীলঙ্কান ফারভিজ মাহারুফেরও।
১৪ ডিসেম্বর থেকে লিগ শুরুর কথা থাকলেও সিসিডিএম কেবল প্রথম দিনের ফিকশ্চারই দিয়েছে এখন পর্যন্ত। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ ক্লাবগুলো হতাশ আরও একটা কারণে। জিম্বাবুয়ে সিরিজের পর চার দিনের বিশ্রাম দেওয়ায় লিগের শুরুর দিকের ম্যাচগুলো খেলতে পারবেন না জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা।

সেমিতে মাজেম্বেকে পেল ইন্টারন্যাসিওনাল

মেক্সিকো তো বটেই, ক্লাব বিশ্বকাপেও পরিচিত নাম পাচুকা। শক্তি-সামর্থ্যে কঙ্গোর টিপি মাজেম্বের চেয়ে এগিয়ে মেক্সিকোর এই ক্লাবটি। কিন্তু পরশু এই মাজেম্বের কাছেই হেরে ক্লাব বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নিতে হয়েছে পাচুকাকে। শেষ ৯ মিনিটে ১০ জনের দল হয়ে পড়া মাজেম্বে পাচুকাকে ১-০ গোলে হারিয়েছে মেনজা বেদির গোলে।
মেক্সিকো-বাধা পেরোনো কঙ্গোর দলটির সামনে এখন ব্রাজিলিয়ান বাধা। সেমিফাইনালে আগামী পরশু তাদের প্রতিপক্ষ ব্রাজিলের ক্লাব ইন্টারন্যাসিওনাল। শিরোপার অন্যতম দাবিদার ইন্টারন্যাসিওনালের শক্তি সম্পর্কে মাজেম্বের সেনেগালিজ কোচ লামিনে এন’দিয়ায়ে ভালোই জানেন। পাচুকার সঙ্গে ইন্টারন্যাসিওনালের তুলনা করে তিনি বলেছেন, ‘এরা পাচুকার চেয়ে এগিয়ে। তবে আমরাও ধাপে ধাপে এগোচ্ছি।’
মাজেম্বের কাছে হেরে যাওয়া পাচুকা এখন লড়বে পঞ্চম স্থানের জন্য। তাদের প্রতিপক্ষ এখনো ঠিক হয়নি। তবে শিরোপার দাবি নিয়ে এসে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই বিদায় নিতে হলো বলে ভীষণ হতাশ পাচুকার আর্জেন্টাইন কোচ পাবলো মারিনি, ‘এটা অবশ্যই একটা দুর্ঘটনা। আমরা মাজেম্বের সামর্থ্য জানতাম। তবে হেরে যাব, এটা কখনোই ভাবিনি।’

ট্রায়ালে তরুণদের দেখে খুশি রুবচিচ

কুয়েতের বিপক্ষে অলিম্পিক প্রাক-বাছাইয়ের জন্য বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ ফুটবল দল গঠনের মূল পর্বটা শেষ করলেন রবার্ট রুবচিচ। কমলাপুর স্টেডিয়ামে কাল ৫৬ জন খেলোয়াড়কে ভাগ করে দুটি নির্বাচনী ম্যাচে দেখলেন বাংলাদেশের ক্রোয়েশিয়ান কোচ।
দ্বিতীয় ম্যাচটি যখন শেষ, সন্ধ্যা নেমে গেছে। তরুণদের দেখে কেমন লাগল? ভবিষ্যতে এঁদের নিয়ে প্রত্যাশা পূরণ হবে? ‘এর আগেও বলেছি, বাংলাদেশের তরুণদের প্রতিভা আছে। দরকার এদের ভালো পরিচর্যা। আজ (কাল) যাদের ট্রায়ালে দেখলাম, এদের অনেককেই আমার পছন্দ হয়েছে’—খানিকটা পরিতৃপ্তি নিয়েই বলে গেলেন রুবচিচ।
বাফুফের সহসভাপতি ও জাতীয় দল ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রধান বাদল বায়ও খুশি ট্রায়ালে তরুণদের দেখে। কিন্তু এই খেলোয়াড়দের গড়ে তুলতে বাফুফে প্রয়োজনীয় সহায়তা কতটুকু দিতে পারে, তার ওপরই নির্ভর করছে সবকিছু। বাদল রায় সামর্থ্য অনুযায়ী সর্বোচ্চ সহায়তার প্রতিশ্রুতিই দিলেন, ‘বাফুফের পক্ষে যতটা করা সম্ভব করব। বর্তমান অবস্থায় ভালো প্রস্তুতির বিকল্প নেই।’
রুবচিচ জানিয়েছেন, দু-এক দিনের মধ্যে ২৫ জনের দল চূড়ান্ত করে ১৯ ডিসেম্বর থেকে চার দিনের ক্যাম্প হবে বিকেএসপিতে। ১৯ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধা, ২৩ ডিসেম্বর মোহামেডানের সঙ্গে ম্যাচ খেলার পরিকল্পনা আছে। রুবচিচের ঘুরেফিরে কথা একটাই, ‘প্রচুর ম্যাচ খেলতে হবে।’
এশিয়ান গেমসের দল থেকে এই ট্রায়ালে ছিলেন মিন্টু শেখ, তৌহিদুল, ইমতিয়াজ, মিঠুন, নেহাল। বাংলাদেশ লিগের নিয়মিত খেলোয়াড় ১৪ জন, প্রথম বিভাগের দুজন। ৯০ ভাগ খেলোয়াড়ই বয়সভিত্তিক দলে খেলেছেন।

হকির কমিটি বাতিলের দাবি

হকি ফেডারেশনের বর্তমান নির্বাচিত কমিটি বিলুপ্তি চেয়ে কাল সংবাদ সম্মেলন করেছেন বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা। মওলানা ভাসানী স্টেডিয়ামের এক পাশে হকির গোলপোস্টে ব্যানার টানিয়ে এই সংবাদ সম্মেলন হয়েছে। বর্তমান কমিটিকে অযোগ্য ও ব্যর্থ দাবি করে গ্রহণযোগ্য কমিটি গঠনের দাবি তুলেছেন এটির উদ্যোক্তারা।
মঞ্চে ছিলেন ফেডারেশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাজেদ আদেল, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক খাজা রহমতউল্লাহ এবং উত্তরা হকি ক্লাবের সভাপতি সুলতান উদ্দিন আহমেদ। রহমতউল্লাহ আবাহনীর এবং আদেল মোহামেডানের কর্মকর্তা। বর্তমান কমিটিকে তাড়াতে দুই ‘শক্র’ এখন এক।
এই দুজন স্বাক্ষরিত লিখিত বক্তব্যের সারসংক্ষেপ—জামিল প্রতারণা ও ধোঁকাবাজি করে ঐকমত্যের পরিষদ বাদ দিয়ে একক পরিষদ নিয়ে নির্বাচন করেছেন। তাঁর আড়াই বছরের মেয়াদে বর্তমান কমিটির অনিয়ম, অদক্ষতা ও ব্যর্থতায় হকির মান ক্রমান্বয়ে নিম্নমুখী। এই সময়ে প্রিমিয়ার, জুনিয়র, স্কুল হকি হয়েছে মাত্র একবার। জাতীয় হকি, যুব হকি, আদিবাসী প্রতিযোগিতা হয়নি।
আরও অভিযোগ—দুজন যুগ্ম সম্পাদক কয়েক মাস ধরে ফেডারেশনে আসেন না। ফেডারেশনের সভায় মাঝেমধ্যেই সাধারণ সম্পাদক উপস্থিত থাকেন না, থাকলেও সভার শেষ পর্যায়ে চা-চক্রে উপস্থিত হন। ফেডারেশনের সভায় কোরাম সংকট থাকায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত সভাপতির একক সিদ্ধান্তে হয়। আড়াই বছরে সাধারণ পরিষদের বার্ষিক সভা হয়নি। বিদেশি কোচ (পিটার গেরহার্ড) নিয়োগে অনভিজ্ঞতা ও ব্যর্থতা। কমিটির অদক্ষতা, ভুল পরিকল্পনা, স্বজনপ্রীতি ও ব্যর্থতার কারণে দেশের কোথাও হকি খেলা হচ্ছে না। তারই ফল এশিয়ান গেমসে চরম ভরাডুবি। ১৮ জন খেলোয়াড়ের সঙ্গে আটজন কর্মকর্তা! এর মধ্যে ফেডারেশনের টাকায় যাওয়া পর্যবেক্ষকও আছেন।
সংবাদ সম্মেলনে এসেছিলেন বর্তমান কমিটিরই সক্রিয় কর্মকর্তা আনভীর আদিল। ক্লাব কাপের ফাইনালের জের ধরে তাঁকে আদালত জরিমানা করেছেন, লিখিত বক্তব্যে এটা লেখা থাকায় রেগেমেগে তিনি সামনের আসন ছেড়ে পেছনে চলে যান। এ যেন বেইলি রোডের নাটক!
বর্তমান কমিটির যুগ্ম সম্পাদক ঊষার কর্মকর্তা আবদুর রশিদও হাজির। তিনিও কমিটি বাতিল চান? রশিদ বললেন, ‘নতুন কমিটি হলে এক পক্ষ সমর্থন দেবে, আরেক পক্ষ দেবে না! লাভ কী তাতে! আবাহনী, মোহামেডান, ঊষা, মেরিনার্স একমত হয়ে কিছু করলে হয়তো সমাধান আসতে পারে। নইলে হকি এভাবেই চলবে।’
তবে ‘এভাবে ফেডারেশন চলতে পারে না’ স্বীকার করে খোন্দকার জামিলউদ্দিন তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ উড়িয়ে দিলেন, ‘ফেডারেশনে কিছু সমস্যা আছে। তবে অনিয়ম সুনির্দিষ্টভাবে বলতে হবে। ফেডারেশনের সভায় অসুস্থতার কারণে মাত্র এক দিন ছিলাম না। স্কুল হকি ১০ বছর পর আমরাই করেছি। আমার বিরুদ্ধে অভিযোগের কোনো সারবত্তা নেই।’

সস্তা হয়ে গেছে ব্যাগি গ্রিন

বেশ কদিন পেরিয়ে গেলেও অ্যাডিলেডের শোক বোধ হয় কাটেনি। আর তাই এখনো সরব অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ক্রিকেটাররা। এত সুন্দর একটি কাঠামোর মধ্যে ক্রিকেটকে রেখেও কেন পথভ্রষ্ট হতে হলো, সেই কারণটা হন্যে হয়ে খুঁজছেন তাঁরা। কেউ কেউ এমনও বলছেন, অ্যাশেজ শেষ হওয়ার পর জরুরি একটা কমিটি গঠন করা উচিত, যে কমিটির কাজ হবে সাম্প্রতিক এই ব্যর্থতার কারণ বের করে ভবিষ্যতের পথনির্দেশ দেওয়া।
এমন একটা কমিটি গঠনের জোর দাবি জানিয়েছেন সাবেক উইকেটকিপার স্টিভ রিক্সন। সেই কমিটির প্রধান হিসেবে তিনি দেখতে চান সাবেক অধিনায়ক মার্ক টেলরকে। টেলরের ওই কমিটিই হবে অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটের উদ্ধারদাতা।
রিক্সন মনে করেন, অতি-আত্মবিশ্বাসের মেদ জমেছে এই দলটার গায়ে, ‘আমরা আসলে ভোঁতা হয়ে গেছি। সবকিছু সহজে পাচ্ছি তো তাই। তাই কঠোর পরিশ্রম করতে হচ্ছে না। আমাদের একটা কমিটি করার সময় চলে এসেছে। আমরা চাই, অস্ট্রেলীয় ক্রিকেট আবারও চূড়ায় পৌঁছাক। এখন তো একেবারে জঘন্য খেলা খেলছি আমরা। ওই কমিটির প্রধান হিসেবে মার্ক টেলর থাকতে পারে। ওর ক্রিকেট-মস্তিষ্ক ক্ষুরধার। স্টিভ ওয়াহও থাকতে পারে।’
সাবেক খেলোয়াড়দের বেশির ভাগই দোষ দিচ্ছেন অস্ট্রেলিয়ার কোচিং পদ্ধতির। জন বেনোর মতে, ছাড় পেতে পেতে এই ক্রিকেটাররা হাড়-আলসে হয়ে গেছে, ‘আশকারা পেয়ে পেয়ে এদের মাথায় উঠে বসার দশা। অনুশীলনে ক্যামেরা নিয়ে ভিডিও করা নয়, এই ক্রিকেটারদের দরকার সত্যিকারের অনুশীলন।’ কিম হিউজও একমত, ‘এই ক্রিকেটারদের আমরা মহা মূল্য রত্নের মতো আগলে রাখছি। ওদের আমরা যেন একেবারে যক্ষের ধন করে রেখেছি। মিচেল জনসনকে কেন শেফিল্ড শিল্ডের ম্যাচে না খেলিয়ে বিশ্রাম দেওয়া হলো আমার মাথাতেই ঢুকছে না।’
সাবেক ক্রিকেটারদের সমালোচনার তীর শুধু ক্রিকেটার আর কোচদের নয়, বিদ্ধ করেছে নির্বাচকদেরও। পার্থ টেস্টের আগে কোন বিচারে স্পিনার মাইকেল বিয়ারকে দলে নেওয়া হলো, সেটা যেমন মাথায় ঢুকছে না কারও কারও। পুরো ক্যারিয়ারটাই শেন ওয়ার্নের ছায়ায় কাটিয়ে দেওয়া স্টুয়ার্ট ম্যাকগিল যেমন বিয়ারের দলে সুযোগ পাওয়ার প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, ‘আমি বিস্মিত, হকচকিত। সত্যি বলছি, আমার বিশ্বাস হচ্ছে না।’ সত্যি বলতে কি বিশ্বাস হচ্ছে না বিয়ারেরও, এক বছর আগেও পুরোদস্তুর পেশাদার ক্রিকেটার ছিলেন না যিনি।
৫টি ফার্স্ট ক্লাস ক্যারিয়ারে এমন বাঘ-ভালুক কিছুই বিয়ার মারেননি। এই ২৬ বছর বয়সীকে ১২ জনের দলে নেওয়া হলো কোন যোগ্যতায় বা যুক্তিতে, সেটাই জানতে চান ম্যাকগিল। তবে কি এতটাই সস্তা হয়ে গেছে ব্যাগি গ্রিন টুপিটা!
খেলোয়াড়-কোচ-নির্বাচকদের পাশাপাশি অধিনায়ককেও ধোয়ার কথা। অবশ্য সাবেকদের বেশির ভাগই অধিনায়ক হিসেবে রিকি পন্টিংয়ের পাশেই থাকছেন। দু-চারজন যে মুণ্ডপাত করছে না এমনও নয়। চাইলেই পন্টিং বিনা বাক্যব্যয়ে সরে দাঁড়াবেন এমন ভাবাও ঠিক নয়। ১২০ বছরের ইতিহাসে প্রথম অস্ট্রেলীয় অধিনায়ক হিসেবে তিনটি অ্যাশেজ হারের মুখে দাঁড়িয়েও পন্টিং বলছেন, অধিনায়কের পদ থেকে সরে যাওয়ার কোনো ইচ্ছাই তাঁর নেই।

টেনিসে আরেকটি অকালমৃত্যু

২০০৭ সালে তাঁরা বিকেএসপি থেকে পাস করে বেরিয়েছিলেন। পরের বছর সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান বাংলাদেশের তরুণ টেনিস কোচ মাজহারুল ইসলাম (ইমন)। তাঁরই বন্ধু তাজমুল ইসলাম (রবিন) মারা গেলেন গত পরশু। তাজমুল টেনিস ফেডারেশনের সহকারী কোচ ছিলেন।
ডেভিস কাপ ও জুনিয়র ডেভিস কাপে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করা এই তরুণের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে টেনিস ফেডারেশন। মাত্র ২০ বছর বয়সে তাজমুলের মৃত্যু বাংলাদেশের টেনিসের জন্য আরেকটি ক্ষতি—বলেছেন টেনিস-সংশ্লিষ্টরা। টেনিস ফেডারেশন জানিয়েছে, তাজমুল আত্মহত্যা করেছেন বলে তাদের কাছে খবর।

বিশ্বকাপের আগে চাই আরেকটা সিরিজ

বিশ্বকাপের বাকি আরও দুই মাস। জিম্বাবুয়ে সিরিজটা আজ শেষ হয়ে যাওয়ার পর এই দুই মাস বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটাররা একরকম বসেই থাকবেন। মাঝে ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগ আছে। কিন্তু ঢাকার ক্রিকেটের যে মান, প্রিমিয়ার লিগে খেলাটা আর যা-ই হোক, বিশ্বকাপের জন্য আদর্শ ম্যাচ প্র্যাকটিসের জায়গা হতে পারে না।
বাংলাদেশের কোচ জেমি সিডন্স সে কারণেই বিশ্বকাপের আগে আরেকটা আন্তর্জাতিক সিরিজ খেলতে চান। অধিনায়ক সাকিব আল হাসানও বলছেন, বিশ্বকাপ প্রস্তুতির জন্য বাকি দুই মাসে আরও একটা আন্তর্জাতিক সিরিজ খেলতে পারলে মন্দ হয় না, ‘বিশ্বকাপের আগে আরেকটা আন্তর্জাতিক সিরিজ খেলতে পারলে ভালো হতো। তাহলে খেলার মধ্যে থাকা যায়, ম্যাচ প্র্যাকটিসটাও হয়।’ কোচ-অধিনায়কের দাবি মেনে বিসিবিও চেষ্টা করেছে জানুয়ারির শেষ দিকে বা ফেব্রুয়ারির প্রথম দিকে শ্রীলঙ্কা অথবা কানাডা দলকে বাংলাদেশে আনার। যদিও চেষ্টাটা বৃথা যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
জিম্বাবুয়ে সিরিজ শেষে ১৪ ডিসেম্বর বোর্ডের সঙ্গে বসবেন সিডন্স। সেখানে বাড়তি সিরিজ খেলার প্রসঙ্গটাও আসবে অন্যান্য আলোচনার সঙ্গে। ‘বিশ্বকাপের আগে দলের সব খেলোয়াড়কে একসঙ্গে পেলে ভালো হয়। যদিও আমি নিশ্চিত নই, ওই সময়ে তাঁদের একসঙ্গে পাব কি না। জানুয়ারির শেষ বা ফেব্রুয়ারির শুরুর দিকে একটা আন্তর্জাতিক সিরিজ খেলার ব্যবস্থা করা যায় কি না, সেটা বিবেচনা করে দেখতে আমি বোর্ডকে অনুরোধ করেছি’—বলেছেন সিডন্স।
কোচের অনুরোধে সাড়া দিয়ে এর মধ্যেই শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে বিসিবি। কিন্তু বিশ্বকাপের আগে অন্য দেশে না গিয়ে বাংলাদেশকেই নিজেদের মাটিতেই নিতে চায় শ্রীলঙ্কা। বাংলাদেশও যেহেতু বিশ্বকাপে সব ম্যাচ নিজেদের মাটিতে খেলবে, শ্রীলঙ্কার পাল্টা প্রস্তাবে রাজি হয়নি তারা। এর মধ্যেই বিশ্বকাপের আগে আগে বাংলাদেশে এসে সিরিজ খেলার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে কানাডা। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে প্রাথমিক চিঠি চালাচালিও হয়েছে। বিশ্বকাপের আগে বাংলাদেশে কানাডা দল একটা প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে। বিসিবি ওই সময়ই তাদের সঙ্গে সিরিজ আয়োজনে আগ্রহী বলে জানিয়েছেন ক্রিকেট পরিচালনা কমিটির প্রধান এনায়েত হোসেন, ‘বিশ্বকাপের আগে কোনো বড় দলের বিপক্ষেই সিরিজ খেলতে চাই আমরা। সেটা না হলে কানাডাও আসতে পারে। বিশ্বকাপে যেহেতু আমরা বাংলাদেশেই খেলব, তার আগে নিজেদের মাটিতে সিরিজ খেলাই ভালো।’
তবে বিশ্বকাপের আগে হোম সিরিজ খেলা নিয়ে উল্টো মত আছে বোর্ডে। বাংলাদেশে বিশ্বকাপের ভেন্যুগুলো এখনো প্রস্তুত নয় বলে বাড়তি সিরিজ আয়োজন করে ঝামেলা না বাড়ানোর পক্ষে অনেকেই।
কোচ-অধিনায়কের ইচ্ছা শেষ পর্যন্ত পূরণ না হলে আজ শেষ হওয়া জিম্বাবুয়ে সিরিজটাই বিশ্বকাপের আগে বাংলাদেশের শেষ সিরিজ। দল তাই এই সিরিজে অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছিল। কিন্তু অনুপযুক্ত মাঠ সিরিজের চতুর্থ ওয়ানডেটা হতে না দেওয়ায় পরিকল্পনা কাজে লাগানো গেল না। চতুর্থ ম্যাচে সিরিজ জয় হয়ে গেলে আজকের শেষ ম্যাচে আরেকটা সুযোগ পেতে পারতেন মোহাম্মদ আশরাফুল। এই সিরিজের আগে লম্বা সময় ধরে খেলার বাইরে থাকা মাশরাফি বিন মুর্তজা ও তামিম ইকবালের জন্যও শেষ পর্যন্ত আদর্শ প্রস্তুতি হলো না জিম্বাবুয়ে সিরিজে।
অধিনায়ক সাকিব আল হাসান অবশ্য অন্য কারণেও এই সিরিজকে বিশ্বকাপের আদর্শ প্রস্তুতি বলতে নারাজ, ‘এই সিরিজটা বিশ্বকাপের তিন মাস আগে খেললাম আমরা। এখানে মূলত নিজেদের দেখার ব্যাপারটাই বেশি ছিল। তিন মাস আগের সিরিজ দিয়ে তো আর বিশ্বকাপের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা যায় না।’
বিশ্বকাপ প্রস্তুতির জন্য এখন ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগই ভরসা। তবে আশার কথা, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অনেক বড় তারকাকে দেখা যেতে পারে এবারের লিগে। সেটা হলে বিশ্বকাপের আগে ভালো ক্রিকেট খেলার একটা সম্ভাবনা তো থাকেই বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের জন্য।
অন্য কোনো বিকল্প না থাকলে মাশরাফি-সাকিবরা প্রিমিয়ার লিগ থেকেই সর্বোচ্চ প্রস্তুতির সুবিধা তুলে নেবেন, এমন আশা জেমি সিডন্সের।

বৃষ্টি এড়িয়ে দৃষ্টিতে শুধুই জয়

প্রথম দিনটাই যা একটু ছিল। নইলে গত দুই দিন চট্টগ্রামে ক্রিকেটীয় পরিবেশ বলতে কিছু ছিল না। কাল সোনালি রোদের হাসিতে যখন সেই পরিবেশটা আবার ফিরল, আজকের শেষ ওয়ানডে নিয়ে আশাবাদী হওয়াই যায়। আবহাওয়ার পূর্বাভাসও বলছে, আজকের ম্যাচে বৃষ্টি হানা দেবে না।
বৃষ্টি আর অনুপযুক্ত মাঠ সিরিজের চতুর্থ ওয়ানডেটা হতে দেয়নি। সিরিজে তাই ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই পঞ্চম ওয়ানডে খেলতে নামছে বাংলাদেশ দল। এই সমীকরণ জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের আজকের ম্যাচে ছড়াচ্ছে বাড়তি উত্তেজনার রং। সিরিজ জিততে হলে আর পা হড়কানোর সুযোগ নেই, এ ম্যাচে জিততেই হবে সাকিব আল হাসানের দলকে। অন্যদিকে জিম্বাবুইয়ান প্রতিজ্ঞা—শেষ ম্যাচ জিতে সিরিজটা ২-২ ড্র করেই ফিরবে তারা।
খেলা না হোক, বিশ্রাম তো হলো! বাংলাদেশ কোচ জেমি সিডন্স তাই পরশুর ম্যাচটা না হওয়ার একটা ইতিবাচক দিক খুঁজে পেয়েছেন, ‘দুই দিনের বিশ্রাম পেয়ে সবাই অনেক ঝরঝরে এখন। আমরা ২-১-এ এগিয়ে আছি, চেষ্টা করব সিরিজটা ৩-১ ব্যবধানে জিততে এবং সেটার জন্য আমাদের ভালো ক্রিকেটই খেলতে হবে। জিম্বাবুয়ে খুবই ভালো দল, এটা ভুলে গেলে চলবে না।’ সিরিজ জয়ের ম্যাচের আগের দিন দুপুরে জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের মাঠ আর উইকেট দেখেও আশাবাদী তিনি, ‘উইকেট দেখে আজ (গতকাল) ভালোই মনে হয়েছে। আশা করি, ভালো ওয়ানডে উইকেট হবে। তবে মাঠের অনেক জায়গাই এখনো স্যাঁতসেঁতে। আরও কয়েক ঘণ্টা এ রকম রোদ আর বাতাস থাকলে আশা করি সেটাও ঠিক হয়ে যাবে।’
কোচ সিডন্সের মতো সিরিজ জয়ের আশাটা আছে বাংলাদেশ অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের মধ্যেও এবং কোচের মতো তিনিও হাঁটতে চান সতর্ক পায়ে, ‘সিরিজ জয় অসম্ভব নয়। তবে জিম্বাবুয়ে ভালো দল। ওদের হারাতে হলে আগের মতোই ভালো খেলতে হবে আমাদের।’ এই সতর্কতাটুকুর কারণেই হয়তো আজ আর কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষায় যাচ্ছে না বাংলাদেশ দল। ঢাকায় তৃতীয় ওয়ানডে জেতা দলটাকেই খেলানো হবে শেষ ম্যাচে।
জিম্বাবুয়ে দলের জন্য সুখবর—শেষ ম্যাচে তারা দলে পাচ্ছে কুঁচকির ইনজুরি থেকে ফেরা এলটন চিগুম্বুরাকে। সিরিজ ড্র করেই এই ফেরাটা উদ্যাপন করতে চাইছেন অধিনায়ক। ‘হারার চেয়ে সিরিজ ড্র করা ভালো। শেষ ম্যাচটা জিতলেই আমরা সেটা করতে পারি’—কাল বিকেলে অনুশীলন শেষে বলেছেন চিগুম্বুরা। বাংলাদেশের বিপক্ষে আরেকটি জয় অসম্ভব মনে করছেন না বোলিং কোচ হিথ স্ট্রিকও, ‘জেতা অসম্ভব নয়। বিশ্বকাপের আগে বাংলাদেশের মতো দলের বিপক্ষে ২-২-এ সিরিজ ড্র করা গেলে তার চেয়ে ভালো আর কী হতে পারে? বাংলাদেশের এই দলটাই কিছুদিন আগে নিউজিল্যান্ডকে ৪-০-তে হারিয়েছে। আমাদের জন্য ২-২ ড্রটাও তাই অনেক বড় ব্যাপার।’
সিডন্সের দৃষ্টিতে চট্টগ্রামের উইকেট ১৮০-২০০ রানের উইকেট। চিগুম্বুরা বলছেন, এখানে ২২০ রান পর্যন্ত অতিক্রমযোগ্য। দুজনের কথার সারমর্ম—এই উইকেটে রান তোলা কঠিন। জিম্বাবুয়ে সিরিজের শেষ দুই ম্যাচ চট্টগ্রামের বিশ্বকাপ ভেন্যু জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের জন্য তাই অনেক বড় পরীক্ষা হয়েই এসেছিল। ভেন্যু পুরোপুরি প্রস্তুত না হওয়ায় এবং আগের ম্যাচটা বৃষ্টিতে ভেসে যাওয়ায় সে পরীক্ষার ফলাফল এখনো পর্যন্ত স্থগিত। সিরিজের শেষ ম্যাচে এই মাঠ ফলাফল নিজের পক্ষে নিতে পারে কি না, সেটাই এখন দেখার।
চট্টগ্রামের দর্শকেরা বাংলাদেশ দলের মতো এই সিরিজে সাফল্য দেখতে চায় জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের মাঠ আর উইকেটেরও। তবে দুর্ভাগ্য, গ্যালারির কাজ পুরোপুরি শেষ না হওয়ায় মাত্র সাড়ে পাঁচ হাজারের মতো দর্শকই দেখতে পারবে এই ম্যাচ। হাজার দেড়েক সৌজন্য টিকিট বাদ দিয়ে বাকি সব টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে গতকালই। আজ স্টেডিয়ামের টিকিট কাউন্টারে তাই কোনো টিকিট মিলবে না।

তামিমের ব্যাটে বাংলাদেশের প্রত্যয়ী জবাব

সংক্ষিপ্ত স্কোর: বাংলাদেশ ১০৩/১* (২৩ ওভার); তামিম ইকবাল ৫১*, জুনায়েদ সিদ্দিকী ২৩* পফু ১/২৮; জিম্বাবুয়ে ১৮৮/৬ (৫০ ওভার), টাইবু ৬৫, অরভিন ৪৬; সাকিব ৩/৫৮, মাশরাফি ২/২১ টস: জিম্বাবুয়ে)
জিম্বাবুয়ের ১৮৮ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ইমরুল কায়েসের উইকেট হারিয়ে ধাক্কা খেলেও তামিম আর জুনায়েদ সিদ্দিকীর ১০০ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে ভালো অবস্থানে পৌছেছে বাংলাদেশ। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ২৩ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ এক উইকেটে ১০৩ রান। উইকেটে রয়েছেন তামিম ইকবাল ও জুনায়েদ সিদ্দিকী। তামিমের সংগ্রহ ৬৭ ও জুনায়েদের ২৭।
এর আগে, টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে ৫০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৮৮ রান সংগ্রহ করে জিম্বাবুয়ে। জিম্বাবুয়ের পক্ষে টাইবু সর্বোচ্চ ৬৫, ক্রেইগ অরভিন ৪৬ ও এলটন চিগুম্বুরা ২৩ রান করেন।
প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ের মুখে পড়ে জিম্বাবুয়ে। মাশরাফির করা প্রথম ওভারের প্রথম বলটি ছিল নো। নো বল থেকে পাওয়া ফ্রি হিটে কোথায় জিম্বাবুয়ে একাধিক রান তুলে নেবে, তা না, উল্টো ফ্রি হিটের বলেই সোহরাওয়ার্দীর হাতে রান আউট হয়ে যান ব্রেন্ডন টেইলর। ফ্রি হিট একদিনের ক্রিকেটে প্রচলিত হওয়ার পর এতে এর আগে কোনো ব্যাটসম্যান রান আউট হয়েছেন কিনা, সেটা নিয়ে পরিসংখ্যানবিদেরা গবেষণায় বসতে পারেন। ফ্রি হিট নাটক শেষ হওয়ার পরপরই অপ্রস্তুত জিম্বাবুইয়ান ব্যাটসম্যানদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন বাংলাদেশের দুই পেসার মাশরাফি বিন মুর্তজা ও শফিউল হাসান। সুনিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের মাধ্যমে জিম্বাবুয়ের ব্যাটসম্যানদের রীতিমতো বেঁধে ফেলেন তাঁরা। মজার ব্যাপার ছিল প্রথম পাওয়ার প্লেসহ ইনিংসের প্রথম ১৮ ওভার পর্যন্ত জিম্বাবুয়ের ব্যাটসম্যানরা কোনো বাউন্ডারি হাঁকাতে পারেননি। এটাও একদিনের ক্রিকেটে কোনো রেকর্ড কিনা, তা অবশ্য তাত্ক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। মাইক্রোম্যাকাস সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে নিজেকে হারিয়ে খোঁজা মাশরাফি তৃতীয় ম্যাচেই নিজেকে অনেকটা ফিরে পেয়েছিলেন। আজকের পঞ্চম ম্যাচে যেন সেখান থেকেই শুরু করলেন তিনি। মাশরাফি আট ওভার বল করে ২টি মেডেন দিয়ে ২১ রানের বিনিময়ে মাশরাফির সংগ্রহ ২ উইকেট। উইকেট টু উইকেট বল করে হ্যামিল্টন মাসাকাদজা ও দেবেংওয়াকে এলবিডাব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলেন তিনি। শফিউল উইকেটশূন্য থাকলেও পাঁচ ওভার বল করে তিনি রান দেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন বড্ড কৃপণ। তাঁর বল থেকে মাত্র সাত রান নিতে পেরেছেন জিম্বাবুয়ের বোলাররা।
২১ রানে ৩ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর জুঁটি বাধেন টাইবু ও অরভিন। এরা ৯৫ রানের জুঁটি গড়ে ধীরে ধীরে জিম্বাবুয়েকে বিপর্যয়কর পরিস্থিতি থেকে বের করে নিয়ে আসেন। অরভিন আউট হন ব্যক্তিগত ৪৬ রান।
বাংলাদেশের পক্ষে মাশরাফির ২ উইকেটের পাশাপাশি অধিনায়ক সাকিব ১০ ওভার বল করে ৫৮ রানের বিনিময়ে নিয়েছেন ৩ উইকেট। সিরিজে বাংলাদেশের সেরা বোলার আবদুর রাজ্জাক ১০ ওভার বল করে ৩১ রানের বিনিময়ে আজ কোনো উইকেট ঝুলিতে ভরতে পারেননি।

টেন্ডুলকারকে ছোঁয়া কার সাধ্য

এক দিন আগে শচীন টেন্ডুলকারের চেয়েও ভিভ রিচার্ডসকে এগিয়ে রেখেছেন ইমরান খান। রিচার্ডস নিজে অবশ্য তুলনায় গেলেন না। তবে টেন্ডুলকার যে অস্পর্শনীয় উচ্চতায় নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছেন, সেই কথা স্মরণ করিয়ে দিতে ভুললেন না। ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান কিংবদন্তির ভবিষ্যদ্বাণী, টেন্ডুলকারের রেকর্ড হয়তো কেউ ভাঙতে পারবে না কোনো দিনই।
‘ও তো পঞ্চাশটি টেস্ট সেঞ্চুরি প্রায় করেই ফেলল। এখন খেলাটি যেভাবে চলছে, তাতে এই রেকর্ড ভাঙা খুবই খুবই কঠিন হবে। সে বাকি সবার চেয়ে এগিয়ে’—আইসিসির বিশ্বকাপ আয়োজন উপলক্ষে ভারতে এসে বলেছেন রিচার্ডস।
একসময় মনে করা হতো রিকি পন্টিংয়ের কথা। কিন্তু গত কয়েক বছরে টেন্ডুলকার সেই ব্যবধানকে দুর্লঙ্ঘ করে ফেলেছেন। ক্রিকেটের সর্বকালের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান রিচার্ডস মনে করেন, পন্টিংয়ের পক্ষেও আর সম্ভব হবে না টেস্টে টেন্ডুলকারকে ছুঁয়ে ফেলা, ‘আমি তো কাউকেই দেখছি না যে ওর কাছাকাছি যাবে। রিকির কথা উঠতে পারে। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ায় এখনই তো অনেকে ওকে সরে যেতে বলছে। আমিও ঠিক নিশ্চিত নই ও আর কত দিন খেলে যাবে। আমার মতে, পারলে কেবল পন্টিংই পারবে টেন্ডুলকারের রেকর্ডের কাছাকাছি যেতে। কিন্তু টপকে যাওয়া হবে বলে মনে হয় না।’
খেলাটির প্রতি টেন্ডুলকারের ভালোবাসা, আত্মনিবেদন, সততা আর পরিশ্রমই তাঁকে এই পর্যায়ে নিয়ে এসেছে বলে মনে করেন রিচার্ডস। প্রায় দুই দশকের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে বিতর্ককে সব সময়ই পাশ কাটিয়ে এসেছেন। টেন্ডুলকার সতর্ক এখনো। সতর্ক বলেই অনায়াসে ২০ কোটি রুপির প্রস্তাবও পায়ে ঠেলতে পারেন। টেন্ডুলকারের সঙ্গে এই বিশাল অঙ্কের চুক্তি করতে চেয়েছিল একটি মদ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান। কিন্তু তিনি যে শতকোটি তরুণ-কিশোরের রোল মডেল, টেন্ডুলকার টাকার গন্ধে সেটি ভুলে যাননি। ভারতে অনেকেই তাই বাহবা দিচ্ছে তাঁকে।
এদিকে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে গিয়ে আরেকটু হলেই একটা দুঃসংবাদ শোনাতে বসেছিলেন টেন্ডুলকার। প্রস্তুতির সময় ভারতের তরুণ পেসার উমেশ যাদবের বাউন্সার আঘাত করেছিল টেন্ডুলকারের হেলমেটে। তাৎক্ষণিকভাবে ভারতীয় দলের সবাই ভয় পেয়ে গেলেও টেন্ডুলকার কোনো চোট পাননি বলেই জানা গেছে।

ম্যান সিটি ছাড়তে চান তেভেজ

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে এবারের মৌসুম শুরুর সময়ই ম্যানচেস্টার সিটি তাদের শিরোপা প্রত্যাশার কথা ঘোষণা করেছিল। বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ করে তারা দলে ভিড়িয়েছে মারিও বোলাত্তি, ইয়া তোরে ও জেরোম বোয়েটাংয়ের মতো তারকা খেলোয়াড়দের। লিগের শেষ ম্যাচে ওয়েস্ট হামকে ৩-১ গোলে হারিয়ে পয়েন্ট তালিকার দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে তারা। কিন্তু এই সুসময়েই ম্যান সিটিকে বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছেন আর্জেন্টাইন প্লে-মেকার কার্লোস তেভেজ। ইংল্যান্ডের একটি সংবাদপত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, জানুয়ারি মাসে অর্ধ-বাষিক দল বদলের মৌসুমেই তিনি নাকি অন্য কোথাও পাড়ি জমানোর ইচ্ছা পোষণ করেছেন। অবশ্য ক্লাব কর্তৃপক্ষ এখনো এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
২০০৯ সালে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড থেকে ২৬ মিলিয়ন পাউন্ডের বিনিময়ে ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দিয়েছিলেন তেভেজ। এরপর দুর্দান্ত পারফরমেন্স দেখিয়ে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই হাতে উঠিয়েছেন অধিনায়কত্বের বাহুবন্ধনী। ম্যান সিটির জার্সি গায়ে ৫০ ম্যাচে করেছেন ৩৩ গোল। কিন্তু এখানে যে তিনি খুব একটা নেই, সেই ইঙ্গিত অনেকবারই দিয়েছেন তেভেজ। এর আগেও দক্ষিণ আমেরিকার কোনো ক্লাবে ফিরে যাওয়ার কথা বেশ কয়েকবারই শোনা গেছে গৃহকাতর তেভেজের মুখে। এখন আবার নতুন করে তেভেজের ম্যান সিটি ছাড়ার খবরে নিশ্চয়ই নড়ে চড়ে বসবে ইউরোপের বড় বড় ক্লাবগুলো।

শেবাগকে নিয়ে বিশেষ পরিকল্পনা দক্ষিণ আফ্রিকার

ওয়েস্ট ইন্ডিজ কিংবদন্তি ভিভ রিচার্ডসকে বল করার সময় বুক কাঁপত না, এমন বোলার খুব কমই পাওয়া যাবে। বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে তিনি ছত্রভঙ্গ করে দিতেন প্রতিপক্ষের বোলিং আক্রমণ। সেই রিচার্ডসই এখনকার সময়ের সবচেয়ে বিধ্বংসী ব্যাটসম্যানের আসনে বসিয়েছেন বীরেন্দর শেবাগকে। তাঁর সাম্প্রতিক ফর্মটাও যেকোনো প্রতিপক্ষকে ঘাবড়ে দেওয়ার মতো। সদ্য শেষ হওয়া নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের পাঁচটি ইনিংসে ৯৯.৫০ গড়ে করেছেন ৩৯৮ রান। স্ট্রাইক রেট ৮৯.৩০। শেবাগকে রুখবার বিশেষ পরিকল্পনা তো দক্ষিণ আফ্রিকা করতেই পারে। ১৬ ডিসেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া টেস্ট সিরিজে শচীন টেন্ডুলকার, রাহুল দ্রাবিড় বা ভি ভি এস লক্ষ্মণের থেকেও শেবাগকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন দক্ষিণ আফ্রিকার কোচ কুরি ভন জিল।
এ বছরের শুরুতেই দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মাত্র তিন ইনিংসে ৯৯.৯৬ গড়ে ২৯০ রান করেছেন শেবাগ। ২০০৮ সালে তাঁর ক্যারিয়ার সেরা ৩০৪ বলে ৩১৯ রানের ইনিংসটাও এই দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষেই। তবে এসব কীর্তিই শেবাগ করেছেন দেশের মাটিতে। আর এটাতেই ভরসা পাচ্ছেন জিল। দক্ষিণ আফ্রিকার একটি দৈনিক পত্রিকাকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে তিনি বলেছেন, ‘আমাদের অবশ্যই শেবাগকে নিয়ে আলাদা কিছু পরিকল্পনা আছে। আমি জানি যে সে এর আগে আমাদের বিপক্ষে খুব ভালো ব্যাটিং করেছে। কিন্তু সেগুলো সবই ভারতে। আশা করছি, খুব দ্রুতই শেবাগ বুঝতে পারবে যে সে এখন দক্ষিণ আফ্রিকায়। আর এখানকার পিচ তাঁর দেশের মতো নিষ্প্রাণ নয়।’
শেবাগ যে তাঁর সাম্প্রতিক ফর্ম দক্ষিণ আফ্রিকায়ও ধরে রাখতে পারবেন, সে ব্যাপারে অবশ্য আশাবাদী ভারতের কোচ গ্যারি কারস্টেন। শেবাগকে দলের একজন অতুলনীয় খেলোয়াড় আখ্যা দিয়ে তিনি বলেছেন, ‘৩০ বা ৪০ রান করলেও সে সেটা এত তাড়াতাড়ি করে যে বোলাররা চাপের মুখে পড়ে যায়। অন্য ব্যাটসম্যানরাও এতে অনেক স্বাচ্ছন্দ্যে খেলতে পারে।’
দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে প্রথমবারের মতো সিরিজ জয়ের স্বপ্ন নিয়েই মাঠে নামবে ভারত। আর সেই স্বপ্ন পূরণে অনেকের চোখই থাকবে শেবাগের ব্যাটের দিকে। শেবাগ তাঁর স্বভাবসুলভ তাণ্ডবলীলা দক্ষিণ আফ্রিকায়ও চালাতে পারেন কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

খবর- চট্টগ্রাম ইপিজেডে সংঘর্ষে নিহত ৪

ন্যূনতম মজুরি কাঠামো বাস্তবায়ন নিয়ে বিক্ষোভের জের ধরে চট্টগ্রাম রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ এলাকায় (সিইপিজেড) শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষে তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন। এ ছাড়া সংঘর্ষ চলাকালে হার্ট অ্যাটাকে (হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে) মৃত্যু হয়েছে এক পথচারীর। তাঁর নাম রুহি দাশ (৪৫)। গতকাল রবিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে আহত হয়েছেন পুলিশ সদস্যসহ শতাধিক ব্যক্তি।

কৃষি আলোচনা- কয়টি বাড়ি কয়টি খামার হলো? by ড. মো. সদরুল আমিন

ত সেপ্টেম্বর মাসে প্রধানমন্ত্রী বেশ কয়েকজন মন্ত্রী ও সচিবকে নিয়ে এক হাজার ২০০ কোটি টাকার যে প্রকল্পটির পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনা দেখলেন ঘটা করে, তার নাম 'একটি বাড়ি একটি খামার'। এ খবর এবং এর ইতি-নেতি ফলোআপ খবর প্রকাশিত হয়ে চলছে। এতে কেউ মনে করতেই পারে যে কার্যক্রমটি দেশের কৃষককুলের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

আলোচনা- ড. ইউনূস : প্রতিটি বাংলাদেশির গৌরব by ড. মোহাম্মদ আলী ভূইয়া

ত ২৬ বছর যাবৎ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যাপনা করার সুবাদে পৃথিবীর ছয়টি মহাদেশের বহু দেশে যাওয়ার সুযোগ হয়েছে আমার। আনন্দের বিষয় এই যে প্রতিটি দেশে গিয়েই যখন বলেছি, আমি বাংলাদেশি আমেরিকান। তখন সবাই বলে উঠেছে, 'ও, তুমি ড. ইউনূসের দেশের মানুষ' এবং সেই সঙ্গে তারা এটাও বলেছে, তারা ইউনূসের জন্য কতটা গর্বিত। অধ্যাপক ইউনূস 'ক্ষুদ্রঋণের পিতা' এবং বাংলাদেশি হিসেবে সারা বিশ্বে পরিচিত।