Sunday, March 29, 2026
জাতিসংঘের পাল্টা ট্রাম্পের ‘শান্তি পর্ষদ’ কি নতুন বিশ্বব্যবস্থার ইঙ্গিত by মো. আবু হুরাইরাহ্
সুইজারল্যান্ডের বরফঢাকা দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) জাঁকজমকপূর্ণ মঞ্চে গত ২২ জানুয়ারি এক নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী হলো বিশ্ব। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর বহুল আলোচিত ‘বোর্ড অব পিস’ বা শান্তি পর্ষদ-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। উজ্জ্বল আলোকচ্ছটার নিচে কয়েক ডজন দেশের নেতার উপস্থিতিতে এ ঘোষণা এলেও, এর গভীরে লুকিয়ে আছে এক বড় ভূরাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত।
বিশ্লেষকেরা মার্কিন প্রেসিডেন্টের এ উদ্যোগকে শুধু একটি শান্তি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন না; বরং একে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী জাতিসংঘ কেন্দ্রিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে হটিয়ে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত ও বাণিজ্যিক প্রভাবাধীন নতুন ‘ঔপনিবেশিক কাঠামো’ হিসেবে বর্ণনা করছেন।
এ পর্ষদের উৎপত্তির পেছনে রয়েছে এক দীর্ঘ ও সুচতুর কূটনৈতিক পরিকল্পনা; যাকে অনেকে ‘বেইট-অ্যান্ড-সুইচ’ বা টোপ দেখিয়ে প্রতারণা হিসেবে দেখছেন। গত ১৮ নভেম্বর জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ‘রেজোল্যুশন ২৮০৩’ পাস হয়েছিল ১৩-০ ভোটে।
তখন বিশ্বনেতারা এবং ইউরোপ ও আরব দেশগুলো এ ভেবে ওই প্রস্তাবে সমর্থন দিয়েছিল যে এটি গাজায় ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতিকে একটি আন্তর্জাতিক বৈধতা দেবে, সেখানকার পরিস্থিতি স্থায়ীভাবে শান্ত করবে, উপত্যকাটিতে প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা কাঠামো তৈরি হবে এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় গাজার পুনর্গঠন ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এমনকি ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের প্রতি অন্তত নামমাত্র বা কাগুজে সমর্থন বজায় রাখার শর্তে এতে রাজি হয়েছিল অনেক দেশ।
কিন্তু দুই মাস যেতে না যেতেই দেখা যাচ্ছে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক চিত্র। ঘোষিত এ পর্ষদের যে সনদ (চার্টার) সদস্য দেশগুলোর কাছে পাঠানো হয়েছে; সেখানে ‘গাজা’ শব্দটির কোনো উল্লেখ পর্যন্ত নেই। এর পরিবর্তে পর্ষদকে ‘বিশ্বজুড়ে’ শান্তি ও সুশাসন প্রচারের ‘একটি স্থায়ী প্রতিষ্ঠান’ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, জাতিসংঘকে ব্যর্থ ও অকেজো সংস্থা হিসেবে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে কটাক্ষ করে শান্তি পর্ষদ নিজেকে আরও তৎপর ও কার্যকর হিসেবে জাহির করছে। ট্রাম্পের দাবি, এটি পূর্ণাঙ্গভাবে গঠিত হয়ে গেলে তাঁরা যা খুশি তা-ই করতে পারবেন এবং তা হবে জাতিসংঘের সমান্তরালে।
এ প্রসঙ্গে গত ২০ জানুয়ারি হোয়াইট হাউসে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, তাঁর প্রস্তাবিত শান্তি পর্ষদ জাতিসংঘের স্থলাভিষিক্ত হবে বলে তিনি মনে করেন কি না। জবাবে তিনি বলেন, ‘হতে পারে। জাতিসংঘ খুব একটা কাজের নয়।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, এ সংস্থার (জাতিসংঘ) সম্ভাবনা আছে, কিন্তু কোনো যুদ্ধ মীমাংসার জন্য তাদের কাছে যাওয়ার কথা তিনি কখনো ভাবেননি।
চেয়ারম্যান যখন সর্বেসর্বা
জাতিসংঘের ১৯৪৫ সালের সনদের মূল ভিত্তি ছিল, সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যকার সাম্য। কিন্তু ট্রাম্পের এ শান্তি পর্ষদের সনদ সম্পূর্ণ ব্যক্তিকেন্দ্রিক। এ সনদে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম অন্তত ৩৫ বার উল্লেখ করা হয়েছে; যা কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থার সনদের ক্ষেত্রে অত্যন্ত নজিরবিহীন।
আবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পই এ পর্ষদের একমাত্র চেয়ারম্যান ও ‘সর্বময় ক্ষমতা’র অধিকারী। সনদে তাঁকে একাধারে বিচারক, জুরি, দণ্ডদানকারী, অর্থ নিয়ন্ত্রক, এমনকি অর্থায়ন ও পর্ষদের প্রচারমূলক কাজের চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রণও তাঁর হাতে রাখা হয়েছে।
সনদ অনুযায়ী, চেয়ারম্যানের পদ শুধু তখনই শূন্য হতে পারে; যদি তিনি নিজে পদত্যাগ করেন অথবা পর্ষদের সদস্যরা তাঁকে সর্বসম্মতিক্রমে অযোগ্য ঘোষণা করে। এটি কার্যত অসম্ভব একটি প্রক্রিয়া। ট্রাম্প একাই যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন এবং তাঁর হাতে থাকবে নিরঙ্কুশ ভেটো ক্ষমতা।
যেকোনো সফল বহুপক্ষীয় সংস্থা যেখানে ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে চলে; সেখানে এ পর্ষদ চলবে একক নেতার ব্র্যান্ড ও ব্যক্তিগত কর্তৃত্বের ওপর ভিত্তি করে।
বিলিয়ন ডলারের সদস্যপদ: ‘পে-টু-প্লে’ ক্লাব
এই নতুন পর্ষদের সদস্যপদ পাওয়ার শর্ত অত্যন্ত বিতর্কিত এবং আর্থিক বৈষম্যে ভরা। এতে যোগ দিতে হলে সদস্য দেশগুলোকে নগদ ১ বিলিয়ন (১০০ কোটি) ডলার ‘হার্ড কারেন্সি’তে দিতে হবে। এটি অন্তত তিন বছর বা এর বেশি সময়ের সদস্যপদ নিশ্চিত করবে।
বিশ্লেষকেরা এ শর্তকে একটি ‘পে-টু-প্লে’ ক্লাব হিসেবে দেখছেন; যেখানে শুধু ধনী রাষ্ট্রগুলোই প্রাধান্য পাবে এবং দরিদ্র বা স্বল্পোন্নত দেশগুলো প্রান্তিক হয়ে পড়বে। ট্রাম্পের এ মডেলে ‘করদ রাষ্ট্রগুলো’ নগদ অর্থের বিনিময়ে তাঁর আনুগত্য স্বীকার এবং তাঁর ব্যক্তিগত অনুকম্পা লাভের চেষ্টা করবে।
ইতিমধ্যে, ইতালির মতো দেশের জন্য এ অর্থ পরিশোধ করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ, এর ফলে তাদের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ বাজেট বা জাতিসংঘের জন্য বরাদ্দকৃত বাজেট কাটছাঁট করতে হচ্ছে। অন্যদিকে, যারা এতে যোগ দিতে অস্বীকার করছে, যেমন ফ্রান্স; তাদের ওপর শাস্তিমূলক ট্যারিফ বা শুল্ক আরোপের হুমকি দেওয়া হয়েছে।
থাকছে নিজস্ব বাহিনী আইএসএফ
ট্রাম্পের এ পরিকল্পনায় শুধু কূটনৈতিক বা আর্থিক শর্তই নেই; বরং একটি নিজস্ব সামরিক কাঠামোও রাখা হয়েছে। প্রস্তাবিত ‘আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী (ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স/আইএসএফ) সরাসরি একজন মার্কিন মেজর জেনারেলের অধীনে পরিচালিত হবে।
এ বাহিনী জাতিসংঘের চিরাচরিত শান্তিরক্ষী বাহিনীর আদলে তৈরি হলেও এর মূল দর্শনে বিশাল পার্থক্য রয়েছে। যেখানে জাতিসংঘের বাহিনী ‘নিরপেক্ষতা’ এবং সব পক্ষের সম্মতির ভিত্তিতে কাজ করে; সেখানে ট্রাম্পের এ বাহিনী কোনো আন্তর্জাতিক আইনি ভিত্তি ছাড়াই মিত্র দেশগুলোর সমন্বয়ে একতরফা ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করবে।
মিত্রদের অনীহা ও বৈশ্বিক বিভাজন
ট্রাম্পের এ উদ্যোগ বিদ্যমান বহুপাক্ষিকতাবাদ ও আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিকে বড় ধরনের হুমকির মুখে ফেলেছে। ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্য ও কানাডার মতো ঘনিষ্ঠ মার্কিন পশ্চিমা মিত্ররা এ বোর্ড থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখছে।
ফরাসি কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, এ পর্ষদ জাতিসংঘের কার্যক্রমে মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটাবে। কানাডার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বে ট্রাম্প দুই দেশের সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ সেতু বন্ধের হুমকি পর্যন্ত দিয়েছেন। এটি পশ্চিমা মিত্রদের মধ্যে দ্বিধা ও আতঙ্ক বাড়িয়ে দিয়েছে।
তবে নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এ পর্ষদের ‘অসীম সম্ভাবনা’র প্রশংসা করে লিখেছেন, ‘শান্তি পর্ষদ ইতিহাসের সবচেয়ে প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক সংস্থা হিসেবে প্রমাণিত হবে।’
কিন্তু সমালোচকেরা এ পর্ষদকে ট্রাম্পের ‘সাম্রাজ্যবাদী এজেন্ডা’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেছেন, এটি কার্যত জাতিসংঘকে চ্যালেঞ্জ জানাতেই তৈরি করা হয়েছে।
হোয়াইট হাউস মোট ৫০টি দেশকে শান্তি পর্ষদে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানালেও এ পর্যন্ত ৩৫টি দেশ আগ্রহ দেখিয়েছে। এর মধ্যে ২৬টি দেশ প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে নাম লিখিয়েছে। অন্যদিকে ১৪টি দেশ আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেছে।
যোগ দেওয়া দেশের তালিকার কয়েকটি—আলবেনিয়া, আর্জেন্টিনা, আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, বাহরাইন, বেলারুশ, বুলগেরিয়া, মিসর, হাঙ্গেরি, ইন্দোনেশিয়া, ইসরায়েল, জর্ডান, কাজাখস্তান, কসোভো, মঙ্গোলিয়া, মরক্কো, পাকিস্তান, প্যারাগুয়ে, কাতার, সৌদি আরব, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, উজবেকিস্তান ও ভিয়েতনাম। লক্ষণীয় বিষয় হলো, এতে গণতান্ত্রিক দেশের সংখ্যা খুব কম।
এদিকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে আন্তর্জাতিক আইনের নির্ধারক নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্যের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রই শুধু এ পর্ষদে আছে। রাশিয়া জানিয়েছে, তারা প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করছে।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন মস্কোর জব্দকৃত মার্কিন সম্পদ থেকে ১ বিলিয়ন ডলার ‘ফিলিস্তিনিদের সহায়তায়’ দিতে প্রস্তুত।
চীন এখনো তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেনি। ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য এই মুহূর্তে পর্ষদে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
ব্যবসায়িক বলয় ও ব্যক্তিগত স্বার্থের প্রভাব
পর্ষদের গঠন কাঠামো ও নেতৃত্বের তালিকা স্পষ্ট করছে যে এটি রাজনীতির চেয়ে ব্যবসায়িক স্বার্থ ও ‘ব্যক্তিগত ক্লাব’ সংস্কৃতিকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে।
সদস্য হিসেবে যাদের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে, তারা মূলত ট্রাম্পের ব্যক্তিগত মিত্র বা অর্থলগ্নি জগতের প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব। এ তালিকায় আছেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার, ধনাঢ্য আবাসন ব্যবসায়ী স্টিভ উইটকফ এবং মার্ক রোয়ান ও অজয় বাঙ্গার মতো ব্যক্তিরা।
জ্যারেড কুশনার জানিয়েছেন, এ পর্ষদের মাধ্যমে গাজার পুনর্গঠনে অর্থায়ন ও ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে কাজ করা হবে। তাঁর মতে, হামাসকে নিরস্ত্রীকরণ না করলে এ পুরো পরিকল্পনা থমকে যাবে।
আবার গাজার পুনর্গঠনে জাতিসংঘের সংস্থাগুলো হটিয়ে সেখানে ‘মুনাফাভিত্তিক ব্যবসায়িক উদ্যোগ’ চালুর ইঙ্গিত রয়েছে পর্ষদের সনদে।
যখন পর্ষদের বিলিয়ন ডলারের হিসাব আর প্রশাসনিক ছক নিয়ে তোলপাড় চলছে, তখন গাজার সাধারণ মানুষের জন্য কোনো বাস্তব পরিবর্তন আসেনি। ফিলিস্তিনিদের অংশগ্রহণের সুযোগ রাখা হয়েছে শুধু সর্বনিম্ন স্তরের ‘ন্যাশনাল কমিটি’তে।
অতিসম্প্রতি গাজার মূল প্রবেশপথ রাফাহ সীমান্ত খুলে দেওয়া হয়েছে। তবু গাজার মানুষ এখনো ইসরায়েলি বোমাবর্ষণ এবং খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনের শিকার হচ্ছেন। তাঁদের জন্য এ পরিস্থিতি দুঃসহ নরক যন্ত্রণার মতো। আর তাঁদেরই ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করছে ট্রাম্পের এই তথাকথিত শান্তি পর্ষদ।
বহুপাক্ষিকতার সংকট ও ভবিষ্যৎ
সমালোচকদের মতে, এ পর্ষদ আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে কোনো নির্দিষ্ট আইনি মর্যাদা বা জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা ছাড়াই গঠিত হয়েছে। এটি মূলত একটি ‘যুক্তরাষ্ট্র-কেন্দ্রিক ক্লাব’ তৈরির ঝুঁকি তৈরি করছে; যা ভিন্নমত পোষণকারী দেশগুলোকে কোণঠাসা করবে।
সাধারণত কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থা তৈরিতে বছরের পর বছর সময় লাগে, যেমন জাতিসংঘ গঠনে লেগেছিল চার বছর। কিন্তু ট্রাম্প মাত্র দুই মাসেই তাঁর ওই ‘চটপটে’ সংস্থাটি দাঁড় করিয়েছেন এবং দেশগুলোকে সিদ্ধান্ত নিতে খুব অল্প সময় দিয়েছেন।
পরিশেষে বলতে হয়, যদি এই পর্ষদ তার কাঠামো ও লক্ষ্যতে আমূল পরিবর্তন না আনে; অর্থাৎ ম্যান্ডেট স্পষ্ট করা এবং ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ না করে; তবে এটি কোনো ঐতিহাসিক উদ্যোগ হিসেবে নয়; বরং দাভোসের একটি ‘ফটো সেশন’ হিসেবেই ইতিহাসে থেকে যাবে।
এ ক্ষেত্রে স্বাভাবিকভাবেই ট্রাম্পের এ উদ্যোগ একটি সত্যিকারের কিছু গড়ার দুর্লভ সুযোগকে স্রেফ অপচয় করবে। মনে রাখতে হবে, টেকসই শান্তি আসে ক্ষমতার অংশীদারত্ব, কার্যকর নিয়মনীতি ও অন্তর্ভুক্তিমূলক কাঠামোর মাধ্যমে; এক নেতার ইমেজ কিংবা ইচ্ছার ওপর ভিত্তি করে তৈরি কোনো অতি-রাষ্ট্রীয় কাঠামোর মাধ্যমে নয়।
[তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, রয়টার্স, আল–জাজিরা, দ্য হিল ও রিনিউঅ্যাবল ম্যাটার]
![]() |
| সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) ৫৬তম বার্ষিক সম্মেলনের ফাঁকে বৈশ্বিক সংঘাত নিরসনে ‘শান্তি পর্ষদ’ গঠনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ সময় পর্ষদের সনদ তুলে ধরেন তিনি। ২২ জানুয়ারি ২০২৬, দাভোস, সুইজারল্যান্ড. ছবি: রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নামের আগে ‘ডক্টর’ লাগাতে মরিয়া কেন তাঁরা by ইমদাদুল হক তালুকদার
এমন চর্চা দেখা যায় অনেকের ক্ষেত্রে নামের আগে ডক্টরেট লাগানো নিয়ে। একটু অর্থবিত্তের মালিক আর একটা অনার্স-মাস্টার্স থাকলেই জনগণের কাছে নিজেকে জাহির করার জন্য নানা উপায়ে এই ‘ডক্টর’ শব্দটির জন্য মরিয়া হয়ে ওঠেন কিছু ব্যক্তি। এ তালিকায় রয়েছেন রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকসহ নানা পদধারী লোকজন। তাদের মধ্যেও অনেক যোগ্য ব্যক্তি আছেন নিশ্চয়ই, তাঁদের বাদ দিয়ে বাকিদের ক্ষেত্রে এ আলোচনা।
বিখ্যাত মনোবিদ আব্রাহাম মাসলোর তত্ত্বমতে, মানুষের যখন মৌলিক চাহিদা পূরণ হয়ে যায়, তখন সে খোঁজে নিরাপত্তা, এরপর সঙ্গ ও ভালোবাসা এবং এরপর খ্যাতি। পিএইচডি জিনিসটার সঙ্গে খ্যাতির কোনো সম্পর্ক নেই; অন্তত একাডেমিক দিক থেকে। এর সঙ্গে আসলে মাসলোর থিওরির আরও উচ্চপর্যায়ের সম্পর্ক। যেটিকে বলা হয় ‘সেলফ অ্যাকচুয়ালাইজেশন’। এ শব্দের অনুবাদ প্রায় অসম্ভব। তবে কাছাকাছি বললে এর অর্থ কিছুটা দাঁড়ায়, আত্মোপলব্ধির মাধ্যমে নিজেকে এমন স্তরে পৌঁছানো, যার মাধ্যমে ব্যক্তি এমন এক ফিলোসফিক্যাল বা দার্শনিক স্তরে পৌঁছান, যে জায়গায় তিনি চিন্তাগত দিক থেকে নিজের অন্তর্নিহিত শক্তিকে অর্থবহভাবে প্রকাশ ও চর্চা করেন; খ্যাতি যেখানে গৌণ। মুখ্য হলো আত্মসাধনা, আত্মোপলব্ধি।
পিএইচডির পুরো অর্থ হলো ‘ডক্টর অব ফিলোসফি’। কোনো ব্যক্তি যে বিষয়েই পিএইচডি অর্জন করুক না কেন, ডিগ্রির নাম ডক্টর অব ফিলোসফি! ডক্টর অব ফিজিকস বা ডক্টর অব ইকোনমিকস নয়। এর কারণ পিএইচডি কেবল ডিগ্রি নয়; এটি জ্ঞানের এমন স্তর, যেটি সম্পন্ন করার মাধ্যমে তিনি তাঁর বিশেষজ্ঞ এলাকায় নতুন জ্ঞান উৎপাদন করার সক্ষমতা অর্জন করেন। উন্নত দেশে কেবল যাঁরা একাডেমিয়াতে উচ্চতর গবেষণার মাধ্যমে জ্ঞানের জগতে অবদান রাখতে চান, তারাই কেবল পিএইচডির মতো জটিল, সময়সাপেক্ষ ও কষ্টসাধ্য পথে হেঁটে থাকেন। বাকিরা যাঁর যাঁর ফিল্ডে অনার্স বা বড়জোর মাস্টার্স করে চাকরির জগতে প্রবেশ করে নিজেকে অল্প বয়সে প্রতিষ্ঠিত করে নেন।
ওয়ার্ল্ড পপুলেশন রিভিউয়ের ২০২৩ সালে উন্নত দেশের জনগণের ২৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সী ব্যক্তিদের মধ্যে পিএইচডি ডিগ্রিধারীর শতকরা সংখ্যার তথ্য প্রকাশ করেছে। হিসাবে দেখা যায়, সুইজারল্যান্ড, লুক্সেমবার্গ ও স্লোভেনিয়া সর্বোচ্চ পিএইচডিধারী জনসংখ্যায় এগিয়ে, যা ৩ শতাংশ। এ সংখ্যা যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশে ২ শতাংশ এবং ফ্রান্স, স্পেন, বেলজিয়ামসহ অন্যান্য দেশে এ হার ১ শতাংশ। জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ায় এ সংখ্যা যথাক্রমে সর্বমোট ১৬ হাজার ও ১৩ হাজার। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের মতো জনবহুল বিশাল দেশে এ সংখ্যা মাত্র ২৪ হাজারের মতো। বাংলাদেশে এ সংখ্যা ৫১ হাজার ৭০৪ (বিবিএস, ২০২২)।
কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে উঠে আসছে ভুয়া পিএইচডি ডিগ্রির ভয়াবহ চিত্র। সরকারি হিসাবে যে সংখ্যক পিএইচডি ডিগ্রি রয়েছে, তার উল্লেখযোগ্য অংশই যেখানে মৌলিকত্বের প্রশ্নে প্রশ্নবিদ্ধ, সেখানে এই পুচ্ছশোভিত ভুয়া পিএইচডির ভার জাতিকে সইতে হচ্ছে করুণভাবে। এই ভুয়া পিএইচডি-পুচ্ছধারীদের ক্রমাগত বাহাদুরি প্রদর্শন, গণমানুষকে ধোঁকা দেওয়া, নানা ধরনের সামাজিক সুবিধা নেওয়া থেকে শুরু করে নানাভাবে ঠকিয়ে চলেছেন জাতিকে।
এই পুচ্ছধারীদের অনেকে প্রায়ই এই ডিগ্রি ব্যবহার করে কোনো আর্থিক বা পদের সুবিধা নিচ্ছেন না বলে জায়েজ করে থাকেন। আপাতদৃষ্টে দেশের প্রচলিত আইনেও এর প্রতিকার নেই বলেই ব্যাপক মতামত প্রচলিত রয়েছে। এর বিপক্ষে দুটি কথা বলা জরুরি।
যদি আমরা আইনের দার্শনিকতার (জুরিসপ্রুডেন্স) দিক থেকে এটিকে বিশ্লেষণ করি, তাহলে আইনের দর্শনের দুটি দিক থেকে এটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। প্রথমত, প্রতিশোধমূলক বা ন্যায়বিচারমূলক যুক্তির (রিট্রিবিউটিভিজম) দিক থেকে এটি নৈতিকতা ভঙ্গ করা, যা একাডেমিক মূল্যবোধ ও সমাজের প্রতি করা একটি নৈতিক অপরাধ, কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে যাঁরা পিএইচডি অর্জন করেন, তাঁদের অর্জিত মর্যাদার অপব্যবহার ও অবমাননা এবং প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার পবিত্রতা নষ্ট করা, যা আইনের দার্শিনকতার দৃষ্টিতে শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
অন্যদিকে ফলবাদী বা উপযোগবাদী যুক্তির (ইউটিলিটারিয়ানিজম ) আলোকে এ ধরনের অপরাধের বিচার নিশ্চিত হলে তা ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধপ্রবণতা ঠেকানো (ডিটারেন্স), অন্য অপরাধীদের ভীতি তৈরি করা (জেনারেল ডিটারেন্স) এবং সুনির্দিষ্ট ব্যক্তিকে এ ধরনের কাজ করা থেকে বিরত রাখা (স্পেসেফিক ডিটারেন্স), জনসাধারণের বিশ্বাস রক্ষা, মিথ্যা বিশেষজ্ঞদের থেকে সুরক্ষিত রাখা, যাতে যোগ্য ব্যক্তিদের ওপর মানুষের বিশ্বাস বজায় থাকে ইত্যাদি একাডেমিক নৈতিকতাকে সুরক্ষিত করবে। এ ছাড়া রাষ্ট্রব্যবস্থায় প্রতারণা বন্ধ করা বিচারব্যবস্থার একধরনের সহজাত কর্তব্যও বটে।
ভুয়া পিএইচডি রোধকল্পে বারবার হাইকোর্ট বিভাগ নানা ধরনের নির্দেশনা দিয়েছেন এবং সে অনুযায়ী ইউজিসিসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এগিয়ে যাচ্ছে এ বিষয়ে আইন ও বিধি প্রণয়নে। যুগান্তকারী এই কর্মযজ্ঞে যেন আইনের উল্লিখিত দার্শনিক দিক বিবেচনায় ভুয়া পিএইচডি ডিগ্রি ব্যবহার করে যেকোনো ব্যক্তি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ যে ধরনের সুবিধাই নিক না কেন, তার যথাযথ শাস্তি যাতে নিশ্চিত করা হয়, এটিই পরম প্রত্যাশা। অন্যথায় ভুয়া পিএইচডি ব্যবহার করে প্রত্যক্ষ সুবিধাভোগীদের ফেরানো গেলেও পুচ্ছধারীরা পতপত করে জাতির সামনে উড়িয়ে চলবেন পিএইচডির চকচকে নকল পুচ্ছ; বিভ্রান্ত করবেন জাতিকে, হেয় করবেন শিক্ষাব্যবস্থার মৌলিক দর্শন।
* ইমদাদুল হক তালুকদার, মানসিক জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ
- মতামত লেখকের নিজস্ব

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
প্রতিদিন কয়টি ফল খাওয়া ভালো? by ফাহমিদা মাহমুদ
শরীরের পর্যাপ্ত ভিটামিন ও খনিজ লবণের চাহিদা পূরণে প্রতিদিন ৪০০ গ্রাম শাকসবজি ও ফলমূল খেতে বলা হয়। এ ক্ষেত্রে প্রতিদিন দুটি করে মৌসুমি ফল (প্রতিটি ৫০ গ্রাম করে) খেতে হবে, যার একটিতে থাকবে সাইট্রাসের গুণাগুণ, অন্যটিতে ভিটামিন এ। টকজাতীয় ফলে ভিটামিন সি, ফলিক অ্যাসিড ছাড়াও অনেক গুরুত্বপূর্ণ খনিজ লবণ পাওয়া যায়, যেমন ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, ফসফরাস, আয়রন, ফলেট, ম্যাগনেশিয়াম।
এ ছাড়া ফলে আছে প্রচুর অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট। ভিটামিন সি, ফলেট, অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট রোগ প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে। সর্দি-কাশির সংক্রমণ ও ক্যানসারের ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি কোলাজেন উৎপাদন করে। ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ানোর পাশাপাশি রক্ষা করে চুলের কোষ। ফলের খনিজ লবণ, যেমন ক্যালসিয়াম, ফসফরাস হাড় ও চুলের গোড়া মজবুত করে। পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে হৃদ্রোগের ঝুঁকি কমায়, কিডনির পাথর প্রতিরোধে সহায়তা করে, পানিশূন্যতাও রোধ করে। হিমোগ্লোবিন গঠনসহ শক্তি ও কর্মক্ষমতা বাড়ায় আয়রন, মস্তিষ্কের কার্যকারিতা উন্নত করে, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা উন্নত করে। এ–জাতীয় ফলগুলো ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণেও ভালো ভূমিকা রাখে।
বর্তমানে বাজারে যে ফলগুলোয় এসব উৎস দেখা যায়, সেগুলো হলো:
আমড়া
১০০ গ্রাম আমড়ায় প্রায় ২৭০ মাইক্রোগ্রাম ক্যারেটিনয়েড, ৯২ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি, ১ গ্রাম ফাইবার ও ৫৫ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম থাকে।
আমলকী
১০০ গ্রামে প্রায় ৪৩৪ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি, ৭৩৪ মিলিগ্রাম জিংকসহ প্রায় ১৭৪ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম পাওয়া যায়। এ ছাড়া খুব সামান্য পরিমাণে আয়রন ও প্রায় ২৫ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম ও দশমিক ৮৫ গ্রাম ফাইবার পাওয়া যায়। প্রতিদিন অন্তত একটা করে আমলকী গ্রহণে ভিটামিন সির দৈনিক চাহিদা পূরণ সম্ভব।
জাম্বুরা
১০০ গ্রামে প্রায় ১২০ মাইক্রোগ্রাম ক্যারোটিনয়েড, ১০৫ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি ও ৩৭ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম থাকে।
জলপাই
১০০ গ্রামে প্রায় ১৯০ মাইক্রোগ্রাম ক্যারোটিনয়েড, ৩৯ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি ও ২২ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম ও ১.৬ গ্রাম ফাইবার থাকে।
পেয়ারা
১০০ গ্রামে প্রায় ১০০ মাইক্রোগ্রাম ক্যারোটিনয়েড, ২১০ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি, ১৬০ মিলিগ্রাম জিংকসহ প্রায় ৯১ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম ও সামান্য পরিমাণে ক্যালসিয়াম থাকে। এ ছাড়া পেয়ারায় প্রচুর পরিমাণে পেকটিন থাকে। পেকটিন হজমে সাহায্য করে, রক্তে শর্করার মাত্রা ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখতে পারে। প্রায় ৫.২ গ্রাম ফাইবার থাকে যা অন্ত্রে ভিসকোস জেল তৈরি করে। এটি অন্ত্রের ভালো ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
লেবু
এটি থেকে প্রায় সারা বছর ভিটামিন সি, এ পাওয়া যায়। ১০০ গ্রামে প্রায় ৪৭ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি থাকে। আয়রনসমৃদ্ধ খাবারের সঙ্গে ভিটামিন সি–সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে। কারণ, ভিটামিন সি আয়রন শোষণে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
পাকা কতবেল
১০০ গ্রামে প্রায় ৬১ মাইক্রোগ্রাম ক্যারোটিনয়েড, প্রায় ৫৯ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম ও প্রায় ১৩ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি থাকে।
পাকা পেঁপে
পেঁপে প্রায় সারা বছরই পাওয়া যায়। পাকা পেঁপেতে প্রচুর ভিটামিন এ ও জিংক পাওয়া যায়। ১০০ গ্রাম পেঁপেতে আছে প্রায় ২৩৩০ মাইক্রোগ্রাম ক্যারোটিনয়েড, ২৯৩৩ মিলিগ্রাম জিংক, প্রায় ১৩৩ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম ও সামান্য পরিমাণে ক্যালসিয়াম পাওয়া যায়।
আনারস
১০০ গ্রামে প্রায় ৯.৩ গ্রাম শর্করা, ৯০ মাইক্রোগ্রাম ক্যারোটিনয়েড, ২৬ গ্রাম ভিটামিন সি ও খুব সামান্য পরিমাণে ক্যালসিয়াম থাকে। এ ছাড়া আনারসে ব্রোমেলিন নামে একপ্রকার আমিষ পরিপাককারী এনজাইম থাকে। বিশেষ অবস্থায় (যেমন কিডনি রোগ, ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্যহীনতা) পুষ্টিবিদ ও বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী এ ফল গ্রহণ করতে হবে।
সিনিয়র নিউট্রিশন অফিসার, সেন্টার ফর গ্লোবাল হেলথ রিসার্চ, বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি
![]() |
| কিডনি রোগ বা ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্যহীনতা থাকলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী ফল খেতে হবে। ছবি: গ্রাফিক্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বাজারে নকল ও মানহীন কনডম, জনস্বাস্থ্য হুমকিতে by পার্থ শঙ্কর সাহা
দোকানি যে কনডমটি বেচলেন, এর গায়ের নাম ‘ম্যান লাভ’। কিন্তু প্যাকেটের ভেতরে যে কনডম পাওয়া গেল, তার মোড়কে নাম লেখা ‘এক্সপ্রেশন’। দোকানিকে বিষয়টি দেখানোর পর তিনি বললেন, ‘এসব দেহি না ভাই। কুন নামে আছে হেইটা কে দেহে। জিনিস তো আছেই।’
দোকানি জানান, স্থানীয় কিছু ব্যবসায়ী কিছুদিন পরপর নানা ব্র্যান্ডের কনডম দিয়ে যায়। বাজারে প্রচলিত ভালো কোম্পানির চেয়ে এগুলোর দাম অনেক কম। তাই এগুলোর বিক্রিও ভালো। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে এসবের চাহিদা প্রবল।দেশের বাজার এখন এ রকম মানহীন ও নকল কনডমে ভরে গেছে।
জন্মনিয়ন্ত্রণ ও যৌনরোগ থেকে নিরাপদ থাকতেই মূলত কনডমের ব্যবহার হয়। স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনুমোদনহীন এসব কনডমে ‘মাইক্রোলিকেজ’ বা অতিক্ষুদ্র ছিদ্র থাকাটা খুবই স্বাভাবিক। আর তা যদি থাকে তবে কনডম ব্যবহারের মূল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হয়। এ ধরনের কনডম ব্যবহারের ফলে অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ যেমন হতে পারে, তেমনি যৌনবাহিত রোগ হওয়ারও আশঙ্কা আছে।
যৌনসংক্রামিত রোগ, যেমন সিফিলিস, গনোরিয়া, ক্ল্যামাইডিয়া, জেনিটাল হার্পিস, জেনিটাল ওয়ার্টস (এইচপিভি), হেপাটাইটিস বি ও সি ইত্যাদি রোগের সংক্রমণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর পেছনে অনিরাপদ যৌন সম্পর্কের কারণ আছে। আর সে ক্ষেত্রে এ ধরনের কনডমের ব্যবহারও ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
কনডমের মান
কনডম একধরনের মেডিক্যাল ডিভাইস হিসেবে চিহ্নিত। তাই অন্য যেকোনো ওষুধের অনুমোদনের মতোই এরও অনুমোদন দেয় সরকারের ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর (ডিজিডিএ)। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক মো. আকতার হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, অনুমোদিত কনডমের সংখ্যা কমে-বাড়ে। তবে এখন ২৬ কোম্পানির ৫৭টি ব্র্যান্ডের কনডম এখন চালু আছে। এর বাইরের অন্য কোনো কনডমের অনুমোদন নেই।
আকতার হোসেন জানান, অনুমোদিত কনডমগুলোর মধ্যে সোশ্যাল মার্কেটিং কোম্পানির (এসএমসি) যে আট ধরনের ব্র্যান্ড আছে, সেগুলোই বেশি চলে।
অনুমোদনহীন ব্র্যান্ডে বাজার সয়লাব হয়ে গেছে। সরকারি তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, বর্তমানে দেশের বাজারে পাওয়া যায় প্রায় ১৯০টি ব্র্যান্ডের কনডম। সরকারের তথ্য মেনে নিলে, অন্তত ১৪০টিই অনুমোদনহীন। অর্থাৎ এসব কনডমের কোনোটির পরীক্ষাও হয়নি, ডিজিডিএর অনুমোদন পায়নি।
আকতার হোসেন বলেন , কোনো কনডম দেশের বাজারে অনুমোদনের আগে সেগুলো তাঁদের অধিদপ্তরের পরীক্ষার জন্য জমা দিতে হয়। যে দেশ থেকে আনা হচ্ছে, সেসব দেশের ‘ফ্রি সেল সার্টিফিকেট’ দিতে হয়। অধিদপ্তরের ল্যাবে এসব পরীক্ষা করা হয়। তারপর অনুমোদন দেওয়া হয়।
অনুমোদনহীন কনডমের বিস্তার পর্যটন ও প্রত্যন্ত এলাকায়
উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এসব নকল ও মানহীন কনডমের বিস্তার বেশি প্রত্যন্ত অঞ্চল ও সীমান্ত এলাকায়। কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, সাতক্ষীরা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, কক্সবাজারের সীমান্তঘেঁষা এলাকা এসব পণ্য সহজলভ্য।
পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় সৈকতের কাছাকাছি এক মার্কেটের দোকানি বলছিলেন, নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত ভরা পর্যটনের মৌসুমে তাঁর দোকানসহ বিভিন্ন দোকানে কনডমের বিক্রি বেশি হয়। ওই দোকানির কথা, পরিচিত ব্র্যান্ডের বাইরে নানা ব্র্যান্ডের বিক্রি হয় তাঁর দোকানে। কম দামি ব্র্যান্ডের চাহিদাও আছে। অনেকেই মানের চেয়ে দামের দিকে বেশি দৃষ্টি দেয়। কম দামের কনডমগুলোতে লাভ বেশি থাকায় তাঁরা এসব বিক্রি করতে উৎসাহিত বোধ করেন। আবার সেগুলোর চাহিদাও আছে বলে জানান এই দোকানি।
কক্সবাজার শহরের এক ওষুধ ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলছিলেন, অল্প দামের কনডম শুধু দেশের মধ্যেই নয়, সীমান্ত পার হয়ে মিয়ানমারেও যায়। ওই সব দেশে বাংলাদেশের কনডমের চাহিদা আছে। ব্যবসায়ীর কথা, পর্যটনে এলে মানুষ মানের বাছবিচার কম করে।
যে দুই ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা হয়, তাঁরা কেউ নিশ্চিত নন—অনুমোদনহীন কনডমের কোনো ঝুঁকি থাকতে পারে। দেশের বাজারে যেহেতু বিক্রি হচ্ছে, তাই সেগুলোর মান ভালো বলেই মনে করেন তাঁরা।
তবে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরও গত বছর রাজধানীর মিটফোর্ড এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ অনুমোদনহীন কনডম উদ্ধার করে বলে জানান পরিচালক আকতার হোসেন। তিনি বলেন, ‘বাজারে এগুলো আছে। কিন্তু সব সময় আমরা পর্যবেক্ষণ করতে পারি না। এসব নিয়ে গণমাধ্যমও সচেতনতা সৃষ্টি করতে পারে।’
অনুমোদনহীন, নিম্নমানের কনডম কীভাবে বাজারে ছড়ায়
একাধিক ব্যবসায়ী জানান, অনেক ব্যবসায়ী চীনসহ কিছু দেশ থেকে পুরোনো বা মেয়াদোত্তীর্ণ ল্যাটেক্স বা রাবার দিয়ে তৈরি এসব মানহীন কনডম স্বল্প দামে কিনে নিয়ে এসে দেশেই মোড়কজাত করে দেশের বাজারে ছেড়ে দিচ্ছেন।
সেগুলোতে মাইক্রোলিকেজ থাকতে পারে, এখানে প্রয়োজনীয় লুব্রিকেন্ট কম থাকতে পারে, আবার রাবারের মানও নিম্ন হয় সাধারণত।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাইক্রোলিকেজ হলো কনডমের খুব সূক্ষ্ম ছিদ্র বা দুর্বল অংশ, যেখান দিয়ে ভাইরাস ও শুক্রাণু সহজেই প্রবেশ করতে পারে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চর্ম ও যৌন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. সমরেশ চন্দ্র হাজরা প্রথম আলোকে বলেন, মানহীন ও ত্রুটিপূর্ণ কনডমে মাইক্রোলিকেজ থাকতেই পারে। তিনি আরও বলেন, এর ফলে এইচআইভি ও অন্যান্য যৌন সংক্রমিত রোগ ছড়ানোর ঝুঁকি বাড়ে। অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণের সম্ভাবনা তৈরি হয়। ব্যবহারকারীর মধ্যে কনডমের প্রতি আস্থা কমে যায়, যা দীর্ঘ মেয়াদে আরও বড় জনস্বাস্থ্য সংকট তৈরি করতে পারে।
বাড়ছে যৌন সংক্রমিত রোগের সংখ্যা
দেশে এইচআইভির সংক্রমণ বেড়েছে গত ২০২৫ সালে। সে বছর ১ হাজার ৮১৯ জন নতুন করে এইচআইভিতে আক্রান্ত হন। আগের বছর ২০২৪ সালে এইচআইভি শনাক্ত ব্যক্তির সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৪৩৮। শুধু এইচআইভি নয়, এসটিডির (যৌনসংক্রমিত রোগ) প্রাদুর্ভাব বেড়ে গেছে।
এশিয়ান জার্নাল অব মেডিক্যাল প্রিন্সিপ্যালস অ্যান্ড ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিসে ২০২৩ সালে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেশে যৌনবাহিত রোগ বৃদ্ধির চিত্র উঠে আসে। ‘প্রিভিলেন্স, ট্রেন্ডস অ্যান্ড সোশিওডেমোগ্রাফিত ডিটারমিন্যান্টস অব সেক্সুয়ালি ট্রান্সমিটেডে ডিজিসেস ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক ওই গবেষণা হয় খুলনা বিভাগের দুই হাজারের বেশি মানুষের ওপর। গবেষণাপত্রে বলা হয়, ‘গনোরিয়া ও ক্ল্যামাইডিয়ার সংক্রমণের হার উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা এসব সংক্রমণ মোকাবিলায় লক্ষ্যভিত্তিক ও কার্যকর কৌশল গ্রহণের প্রয়োজনীয়তাকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।’
হাসপাতালে রোগী ভর্তি এবং প্রাইভেট প্র্যাকটিসের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ঢাকা মেডিক্যালের সহযোগী অধ্যাপক সমরেশ চন্দ্র হাজরা বলেন, যৌন সংক্রমিত রোগীর সংখ্যা বিশেষ করে সিফিলিসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। এর দুটো দিক হতে পারে, হয়তো আগের চেয়ে মানুষ এখন বেশি করে আসছে। আবার সামাজিক নানা পরিবর্তন এবং ঝুঁকিপূর্ণ জীবনযাপন ও সুরক্ষাসামগ্রীর সমস্যার কারণেও হতে পারে।
![]() |
| প্রতীকী ছবি |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
দ্রুত গতিতে সাবমেরিন নির্মাণ করছে চীন, দুশ্চিন্তায় কেন যুক্তরাষ্ট্র?
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে চীন ১০টি পারমাণবিক সাবমেরিন সমুদ্রে নামিয়েছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র নামিয়েছে ৭টি। স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে এ তথ্য জানিয়েছে আইআইএসএস। উল্লেখ্য, বেইজিং তাদের নৌবহরের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করে না।
তথ্য মতে, এটি ২০১৬-২০২০ সময়কালের তুলনায় বড় পরিবর্তন। ওই সময় চীন মাত্র ৩টি সাবমেরিন যুক্ত করেছিল। যেখানে যুক্তরাষ্ট্র যুক্ত করেছিল ৭টি।
তবে পানিতে নামানো মানেই সক্রিয় বহরে অন্তর্ভুক্ত হওয়া নয়। ২০২৫ সালের শুরু পর্যন্ত চীনের সক্রিয় পারমাণবিক সাবমেরিন রয়েছে ১২টি। এর মধ্যে ৬টি ব্যালিস্টিক মিসাইলবাহী এবং ৬টি গাইডেড-মিসাইল বা আক্রমণাত্মক সাবমেরিন। বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের মোট সাবমেরিন রয়েছে ৬৫টি, যার মধ্যে ১৪টি ব্যালিস্টিক-মিসাইল সাবমেরিন।
চীনের কাছে আরও ৪৬টি প্রচলিত জ্বালানিচালিত সাবমেরিন রয়েছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের এমন কোনো সাবমেরিন নেই।
পারমাণবিক সাবমেরিন বহর বাড়াতে উত্তর চীনের হুলুদাওতে অবস্থিত বোহাই শিপবিল্ডিং হেভি ইন্ডাস্ট্রি কোং এর শিপইয়ার্ড ব্যাপকভাবে সম্প্রসারণ করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এখানেই চীনের নতুন প্রজন্মের সাবমেরিন নির্মাণ হচ্ছে।
বিশেষ করে দুটি টাইপ ০৯৪ ব্যালিস্টিক-মিসাইল সাবমেরিন সমুদ্রে নামানো হয়েছে। এগুলো পারমাণবিক অস্ত্রবাহী ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপে সক্ষম এবং চীনের স্থলভিত্তিক আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র ও বোমারু বিমানের পাশাপাশি ‘নিউক্লিয়ার ট্রায়াড’কে শক্তিশালী করছে।
অন্যদিকে, মার্কিন কংগ্রেসে জমা দেয়া এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র প্রতি বছর দুটি সাবমেরিন নির্মাণের লক্ষ্যমাত্রা থেকে পিছিয়ে আছে। ২০২২ সাল থেকে গড়ে বছরে ১.১ থেকে ১.২টি সাবমেরিন সরবরাহ করা হচ্ছে।
এছাড়া নতুন কলাম্বিয়া-ক্লাস সাবমেরিন নির্মাণ কর্মসূচিও অন্তত এক বছর পিছিয়ে রয়েছে। প্রথম ইউএসএস ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া ২০২৮ সালের আগে নৌবাহিনীতে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে, ২০৩০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণাত্মক সাবমেরিনের সংখ্যা নেমে ৪৭-এ দাঁড়াতে পারে। যা হবে ‘সবচেয়ে নিম্ন স্তর’। ২০৩২ সালের আগে সংখ্যা ৫০-এ উন্নীত হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
আইআইএসএস বলছে, সংখ্যায় এগোলেও চীনের সাবমেরিনের প্রযুক্তিগত মান এখনও যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের তুলনায় পিছিয়ে। বিশেষ করে শব্দ কম রাখার সক্ষমতায় (স্টেলথ) মার্কিন নৌবাহিনী এগিয়ে রয়েছে।
তবু সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, নৌযুদ্ধে প্রায়ই সংখ্যাগরিষ্ঠ বাহিনীই সুবিধা পায়। চীন ইতিমধ্যে বিশ্বের বৃহত্তম ডেস্ট্রয়ার, ফ্রিগেট ও অন্যান্য সারফেস কমব্যাট্যান্ট বহরের অধিকারী।
সব মিলিয়ে, চীনের দ্রুত সাবমেরিন নির্মাণ ও যুক্তরাষ্ট্রের ধীরগতির উৎপাদন ভবিষ্যতে সমুদ্রপথে কৌশলগত ভারসাম্যে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সূত্র: সিএনএন।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মঙ্গল গ্রহে যেখানে মানুষ অবতরণ করতে পারে
মঙ্গল গ্রহে মানুষ কোথায় অবতরণ করবে, তা নিয়ে সম্প্রতি একটি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের পরিচালিত এ গবেষণায় মঙ্গল গ্রহের অ্যামাজনিস প্লানিটিয়া এলাকাকে মানুষ অবতরণের জন্য উপযোগী বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। অ্যামাজনিস প্লানিটিয়ার তিনটি অঞ্চল উপযোগী হলেও এপি-৮ নামের অঞ্চল বেশি নিরাপদ বলে জানিয়েছেন গবেষকেরা।
মঙ্গল গ্রহে যেহেতু মানুষের বেঁচে থাকার জন্য পানি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, তাই বরফ বা পানির উৎসের আশপাশেই অবতরণ স্থল নির্বাচন করেছেন গবেষকেরা। আর এ ক্ষেত্রে বরফের উপস্থিতির সম্ভাবনা থাকায় এপি ৮ অঞ্চলকে সবচেয়ে বেশি উপযোগী বলে শনাক্ত করা হয়েছে।
গবেষক এরিকা লুজ্জি জানিয়েছেন, মঙ্গল গ্রহে মানুষ যেতে চাইলে পানিসহ জ্বালানির প্রয়োজন হবে। উচ্চ রেজল্যুশনের ছবি ও ভূতাত্ত্বিক মানচিত্র ব্যবহার করে মঙ্গল গ্রহের অ্যামাজনিস প্লানিটিয়াতে এপি ১, এপি ৮ ও এপি ৯ নামের তিনটি এলাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব এলাকার নিচে বরফ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তুলনামূলকভাবে সমতল ভূখণ্ড আছে সেখানে। তিনটি এলাকার মধ্যে এপি ৮ সবচেয়ে ভালো জায়গা।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
-
▼
2026
(1265)
-
▼
March
(202)
-
▼
Mar 29
(6)
- জাতিসংঘের পাল্টা ট্রাম্পের ‘শান্তি পর্ষদ’ কি নতুন ...
- নামের আগে ‘ডক্টর’ লাগাতে মরিয়া কেন তাঁরা by ইমদাদু...
- প্রতিদিন কয়টি ফল খাওয়া ভালো? by ফাহমিদা মাহমুদ
- বাজারে নকল ও মানহীন কনডম, জনস্বাস্থ্য হুমকিতে by প...
- দ্রুত গতিতে সাবমেরিন নির্মাণ করছে চীন, দুশ্চিন্তায়...
- মঙ্গল গ্রহে যেখানে মানুষ অবতরণ করতে পারে
-
▼
Mar 29
(6)
-
▼
March
(202)
- ► 2025 (3280)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...


