Tuesday, September 1, 2015

সহপাঠিকে হত্যা করলো ৩ কিশোর, বিদেশি চ্যানেল দেখার কুফল by মোঃ শহীদুল হক সরকার

নাটোরে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণের দাবিতে এক মাদরাসা ছাত্রকে গলাকেটে হত্যা করেছে তার তিন কিশোর। ঘটনার শিকার ছাত্রের নাম মোঃ তানভীর (১১)। আজ মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে র‌্যাব-৫ শহরের আলাইপুর এলাকার আশরাফুল উলুম কওমী মাদরাসার পেছনের একটি সেপটিক ট্যাংক থেকে তার লাশ উদ্ধার করে।
ওই তিন কিশোরকে আটক করেছে পুলিশ। তারা হলো বাগাতিপাড়া উপজেলার নওপাড়া গ্রামের বাবুল হাসানের ছেলে বায়েজিদ হাসান (১৪), সিংড়া উপজেলার জোর মল্লিকা গ্রামের মোক্তার হোসেনের ছেলে হুমাইদ হোসেন (১৫) এবং ওই মাদরাসার সাবেক ছাত্র মোঃ নাঈম (১৫) নাটোর শহরের কালুর মোড় এলাকার আব্দুর রহিমের ছেলে।
র‌্যাব-৫ ও স্থানীয়রা জানায়, শহরের হাফরাস্তা বড়গাছা এলাকার ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম তুষারের একমাত্র ছেলে মোঃ তানভীর আলাইপুর এলাকার আশরাফুল উলুম কওমী মাদরাসায় পড়ালেখা করতো। গত ২৫ আগস্ট বিকেলে মাদরাসা থেকে বের হয়ে সহপাঠিদের সাথে খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয়। পরে মোবাইল ফোনে তার বাবা সাইফুল ইসলামের কাছে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। এ ব্যাপারে নিখোঁজ ছাত্রের বাবা নাটোর থানায় জিডি করে ও র‌্যাব-৫-কে জানায়। পরে মোবাইল ট্যাকিং এর মাধ্যমে র‌্যাব বায়েজিদ হাসান, হুমাইদ হোসেন ও নাঈমকে আটক করে। তাদের দেয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী আশরাফুল উলুম কওমী মাদরাসার পেছনের একটি সেপটিক ট্যাংক থেকে তানভীরের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
র‌্যাব-৫ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহবুব আলম জানান, আটক তিন কিশোর বিদেশি টিভি চ্যানেলের সিরিয়ালে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনা দেখে উৎসাহিত হয়ে তানভীরকে অপহরণের পরিকল্পনা করে। আটকের পর তারা জানায়, পরিত্যক্ত ঘরে নিয়ে গিয়ে তানভীরকে কাপড় দিয়ে গলা বেঁধে খুর দিয়ে গলাকেটে হত্যা করে। হত্যার লাশ তাদেরই মাদরাসার পেছনের একটি সেপটিক ট্যাংকিতে ফেলে গুম করে। পরে নতুন সিম কিনে একটি দিয়ে বিকাশ অ্যাকাউন্ট খোলে এবং অপরটি দিয়ে তানভীরের বাবার কাছে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপন দাবি করে। এক পর্যায়ে মোবাইল ট্যাকিং এর মাধ্যমে টানা ২২ ঘণ্টার অভিযান চালিয়ে র‌্যাব হত্যাকাণ্ডে জড়িত তিনজন কিশোরকে আটক এবং লাশ উদ্ধার করে।
তিন কিশোরের সহপাঠিকে অপহরণ ও হত্যার ঘটনায় নাটোরে চাঞ্চ্যলের সৃষ্টি হয়েছে।

‘জনসংখ্যা জিহাদ’ রুখতে না পারলে ভারত ইসলামী রাষ্ট্রে পরিণত হবে : তোগাড়িয়া

কথিত 'জনসংখ্যা জিহাদের' বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে না পারলে ভারত দ্রুত ইসলামী রাষ্ট্রে পরিণত হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্ব হিন্দু পরিষদের নির্বাহী প্রেসিডেন্ট প্রবীণ তোগাড়িয়া। ভারতের আদমশুমারি রিপোর্ট উল্লেখ করে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ বলেছে, জনসংখ্যা জিহাদের ফলে হিন্দু বিলুপ্ত হতে পারে, এজন্য সারা দেশে দুটি সন্তান আইন বাস্তবায়ন করা উচিত। আরএসএস মুখপত্র ‘অর্গানাইজার’-এ বিশ্ব হিন্দু পরিষদ নেতা প্রবীণ তোগাড়িয়া বলেন, ‘মুসলমান জনসংখ্যা একতরফা ভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে, অন্যদিকে হিন্দু জনসংখ্যা কমে যাচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘হিন্দু জনসংখ্যা দ্রুত বিলুপ্তির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে মুসলমানদের জনসংখ্যা পদ্ধতিগতভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।’
তোগাড়িয়া বলেন, ‘১৯৫১ সালে হিন্দু জনসংখ্যার হার ৮৪ শতাংশ থেকে বর্তমানে ৮০ শতাংশের নিচে চলে এসেছে। যদিও মুসলমানদের জনসংখ্যা এ সময়ে ১০ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৪ শতাংশের বেশি হয়ে গেছে।’ তিনি সারা দেশে ‘অভিন্ন দেওয়ানি বিধি’ চালু করার পক্ষে সাফাই দিয়েছেন।
বিশ্ব হিন্দু পরিষদের এই নেতা বলেন, ‘এখনই জনসংখ্যা জিহাদের বিরুদ্ধে না দাঁড়ালে ভারত দ্রুত ইসলামী রাষ্ট্রে পরিণত হয়ে যাবে। রাজনৈতিক চাপের পরওয়া না করে দুই সন্তান আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা উচিত।’ আদমশুমারির সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান একটি সতর্কতা বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি এর আগে বলেছিলেন, ‘যদি এরকম পরিস্থিতি চলতে থাকে তাহলে ভারত থেকে হিন্দু ওইভাবে সাফাই হয়ে যাবে যেরকম আফগানিস্তান এবং কাশ্মিরে হয়েছে। ৫ সেপ্টেম্বর সাধু সম্মেলনে এই বিষয়টি তোলা হবে বলেও জানান তোগাড়িয়া।
গত ২৮ আগস্ট বজরং দলের পক্ষ থেকে কানপুরে হিন্দু জনসংখ্যা বাড়ানোর জনজাগরণ কর্মসূচি পালন করা হয়। শিব সেনার আগ্রা শাখার পক্ষ থেকে এরইমধ্যে ঘোষণা করা হয়েছে পাঁচ সন্তানের জন্ম দেয়া হিন্দু পরিবারকে দুই লাখ টাকা করে পুরস্কার দেয়া হবে।
বিজেপি এমপি যোগী আদিত্যনাথ সম্প্রতি বলেছেন, ‘মুসলিমদের সংখ্যা যেভাবে বাড়ছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ওদের জনসংখ্যার ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে কেন্দ্রীয় সরকারকে অবিলম্বে ব্যবস্থা নিতে হবে।’
আদিত্যনাথ অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু করার পক্ষেও সাফাই গেয়েছেন।
২০০১ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত আদমশুমারি রিপোর্টে প্রকাশ, সারা দেশে মোট জনসংখ্যা ১২১.০৯ কোটি। এরমধ্যে হিন্দু জনসংখ্যা ৯৬.৬৩ কোটি। অন্যদিকে, মুসলিম জনসংখ্যা মাত্র ১৭ কোটি ২২ লাখ।
২০০১ সালে মুসলিম জনসংখ্যার বৃদ্ধির হার ছিল ২৯.৫২ শতাংশ। ২০১১ সালে এই বৃদ্ধির হার কমে ২৪.৬০-এ দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, ২০০১ সালে হিন্দু জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ছিল ১৯.৯২ শতাংশ। ২০১১ সালে এই বৃদ্ধির হার ১৬.৭৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে, মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ৫ শতাংশ কমেছে। অন্যদিকে, হিন্দু জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমেছে মাত্র ৩ শতাংশ।
হিন্দু এবং মুসলিমদের মধ্যে সংখ্যাগত দিক থেকে বিস্তর ব্যবধান থাকলেও এবং মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার আগের তুলনায় কমলেও হিন্দুত্ববাদীরা এ নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশ উত্তপ্ত করে তুলছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
সূত্র : রেডিও তেহরান

যুদ্ধ হলে ভারতের ভয়াবহ ক্ষতি হবে : পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী

পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধে নামলে এমন বড়সড় ক্ষতির মুখে পড়তে হবে, যা কয়েক দশক মনে রাখবে ভারত, এমনই হুঁশিয়ারি দিলেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাওয়াজা মুহম্মদ আসিফ। ভারত-পাক সীমান্তের কাছে শিয়ালকোটে কুন্দুনপুর গ্রামে একটি সংবাদ সম্মেলনে ভারতের উদ্দেশে কড়া বার্তা দিয়েছেন তিনি। তিনি বলেছেন, পাক-সেনাবাহিনী যেকোনো মূল্যে তাদের মাতৃভূমি রক্ষা করতে বদ্ধপরিকর।
আসিফের অভিযোগ, ভারত তাদের দেশে ‘সন্ত্রাসবাদ’কে মদত দিচ্ছে। তিনি বলেন, ভারতের আসল চেহারা প্রকাশ পেয়ে গেছে। তারা চায়, সীমান্তে সবসময়ই অব্যাহত থাকুক উত্তেজনা। ভারতের বিরুদ্ধে সীমান্তে বিনা উস্কানিতে গুলি চালানোর অভিযোগও তুলেছেন তিনি।
তিনি আরো বলেন, ভারতের এই ‘কাপুরুষোচিত কাজ’ পাকিস্তানবাসীদের মাতৃভূমির প্রতি টান আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাওয়াজা মুহম্মদ আসিফ
তার অভিযোগ, নিজেদের আভ্যন্তরীণ ব্যর্থতা ঢাকতে সীমান্তে উত্তেজনা ছড়াচ্ছে ভারত। গত সেপ্টেম্বরে জেনারেল অ্যাসেম্বলি-র মিটিংয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী তাদের দেশের ব্যাপারে ভারতের হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলেছিলেন। আসিফের দাবি, সেই অভিযোগ প্রমাণ করার উপযুক্ত তথ্যপ্রমাণ হাতে রয়েছে পাকিস্তানের।
উল্লেখ্য, গত ২৩ অগাস্ট পাকিস্তান-ভারত জাতীয় নিরাপত্তা (এনএসএ) পর্যায়ের বৈঠক বাতিল হয়ে যায়।

উত্তাল কুয়ালালামপুর

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাকের পদত্যাগের দাবিতে
গতকাল কুয়ালালামপুরের সেন্ট্রাল মার্কেট এলাকায় বিক্ষোভে
যোগ দেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ (মাঝে)। রয়টার্স
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাকের পদত্যাগের দাবিতে গতকাল রোববার দ্বিতীয় দিনের মতো বিক্ষোভে উত্তাল ছিল রাজধানী কুয়ালালামপুর। তবে পদত্যাগ না করার সিদ্ধান্তে অটল প্রধানমন্ত্রী নাজিব। বিক্ষোভের আয়োজকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন উপপ্রধানমন্ত্রী জাহিদ হামিদি। খবর এএফপি, বিবিসি ও আল-জাজিরার। প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে ৭০ কোটি মার্কিন ডলার আত্মসাতের অভিযোগে গত শনিবার থেকে দুই দিনের বিক্ষোভ শুরু করে মানবাধিকার সংগঠন বেরসিহ (মালয় শব্দটির অর্থ ‘পরিষ্কার’)। বিক্ষোভে যোগ দিয়েছেন মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদও। গতকাল দ্বিতীয় দিনে সকাল থেকে বিক্ষোভকারীরা পরিকল্পনামতো হলুদ শার্ট পরে কুয়ালালামপুরের ইনডিপেনডেন্স স্কয়ারে নতুন করে জড়ো হতে থাকে। পুলিশ বিভিন্ন সড়কের মুখ অবরোধ করে ওই স্কয়ার ও এর আশপাশে যোগ দিতে বাধা দেয় বিক্ষোভকারীদের। আয়োজকদের দাবি, নানা বাধা উপেক্ষা করে অন্তত দুই লাখ মানুষ বিক্ষোভে যোগ দিয়েছে। যদিও পুলিশ বলছে, বিক্ষোভকারীর সংখ্যা ২৯ হাজার। পুলিশের কঠোর অবস্থান সত্ত্বেও প্রথম দিনের মতো দ্বিতীয় দিনেও বিক্ষোভ ছিল শান্তিপূর্ণ। গতকাল দুপুর পর্যন্ত অপ্রীতিকর কোনো ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। বিক্ষোভকারীরা নাজিব রাজাকের বিকৃত ছবি, কার্টুন ও তাঁর পদত্যাগের দাবিসংবলিত স্লোগান লেখা ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে বিক্ষোভ করে। রোববার মধ্যরাত পর্যন্ত বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন আয়োজকেরা।
বিক্ষোভকারী আইনজীবী সাইমন টাম বলেন, ‘আমরা যত বেশি সম্ভব জনগণ জড়ো হয়ে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবির বার্তা সরকারের কাছে পৌঁছে দিতে চাই।’ শনিবার বিক্ষোভের প্রথম দিনেই হাজারো মানুষ রাজপথে নামে। ইনডিপেনডেন্স স্কয়ারে জড়ো হয়ে নাজিব রাজাকবিরোধী নানা স্লোগান দেয় তারা। সন্ধ্যার দিকে বিক্ষোভকারীর সংখ্যা কিছু কমে আসে। রাতেও ওই স্কয়ার ও এর আশপাশে ছিল অনেক বিক্ষোভকারী। রাতে আকস্মিকভাবে বিক্ষোভকারীদের সামনে হাজির হন সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ। তাঁকে দেখে উল্লাস প্রকাশ করে বিক্ষোভকারীরা। মাহাথির তাদের বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। গতকালও কুয়ালালামপুরের সেন্ট্রাল মার্কেট এলাকায় বিক্ষোভে যোগ দেন মাহাথির। এ সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রধানমন্ত্রী নাজিবের পদত্যাগ দাবি করেন তিনি। মালয়েশিয়ার আরও কয়েকটি শহরে বিক্ষোভের খবর মিলেছে। মালাক্কা থেকে ১২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মালয়েশিয়ার সরকারি গণমাধ্যমগুলো থেকে জানা যায়, পদত্যাগ না করার অবস্থানে অটল আছেন প্রধানমন্ত্রী নাজিব। তিনি বলেছেন, যারা হলুদ শার্ট পরে বিক্ষোভ করছে, তারা দেশের মুখে কালিমা লেপন করছে। নাজিব শুরু থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। উপপ্রধানমন্ত্রী জাহিদ হামিদি বিক্ষোভের আয়োজকদের শাস্তির আওতায় আনার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ‘তারা কী বলছে, আমরা সব শুনছি। তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহসহ বিভিন্ন আইনে অভিযোগ আনা হবে।’

জাপানে বিশাল ছাত্রবিক্ষোভ

জাপানে নতুন নিরাপত্তা বিলের প্রতিবাদ জানাতে
গতকাল রাজধানী টোকিওতে পার্লামেন্ট ভবনের
বাইরে জড়ো হয় হাজারো মানুষ। রয়টার্স
জাপানে নতুন একটি বিলের বিরুদ্ধে গতকাল রোববার দেশটির পার্লামেন্টের বাইরে বিশাল বিক্ষোভ হয়েছে। এই বিলে জাপানের সেনাদের আবার বিদেশে গিয়ে লড়াইয়ে অংশ নেওয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই বিক্ষোভের মধ্য দিয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের নিরাপত্তানীতির বিরুদ্ধে জনগণের অবিশ্বাসের চিত্র ফুটে উঠল। খবর এএফপি, বিবিসি ও রয়টার্সের। ফুকুশিমা বিদ্যুৎকেন্দ্র বিধ্বস্ত হওয়ার পর ২০১২ সালে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের পর টোকিওতে গতকাল সবচেয়ে বড় ধরনের বিক্ষোভ সমাবেশ হলো। আয়োজকেরা জানান, এতে বিভিন্ন বয়সের প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার লোক অংশ নেন। দেশজুড়ে একই ধরনের বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষে নতুন ওই বিলের সম্ভাব্য চূড়ান্ত অনুমোদন সামনে রেখে বড় ধরনের ওই বিক্ষোভ হলো। বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেন ছাত্র ও তরুণেরা। বিক্ষোভকারীরা জাপানের শান্তিপূর্ণ সংবিধান রক্ষার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তাঁরা ‘যুদ্ধের জন্য আইন নয়’, ‘এখনই বিল পরিত্যাগ করো’, ‘আবে পদত্যাগ করো’ প্রভৃতি লেখা-সংবলিত প্ল্যাকার্ড নিয়ে স্লোগান দেন। পার্লামেন্ট ভবনের মূল ফটকে বিক্ষোভকারীদের সংখ্যা এতটাই বেড়ে যায় যে পুলিশের পক্ষে তা নিয়ন্ত্রণ করা অসম্ভব হয়ে ওঠে। এরপর একে একে দল বেঁধে বিক্ষোভকারীরা সেখানে জড়ো হতে রাস্তায় নেমে পড়েন। পার্লামেন্ট ভবনের কাছের একটি পার্কও বিক্ষোভকারীদের দখলে চলে যায়। বিক্ষোভ সমাবেশে বিরোধী দলের নেতাসহ প্রখ্যাত সংগীতজ্ঞ রিউচি সাকামোতোও অংশ নেন। চার বছরের শিশু ছেলেকে নিয়ে সমাবেশে অংশ নেন ফ্রান্সে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ৪৪ বছর বয়সী নাওকো হিরামাতসু। তিনি বলেন, ‘টিভির সামনে বসে থেকে এবং শুধু অভিযোগ করে কোনো ফল হবে না।
আমি যদি অ্যাকশনে না যাই এবং এটা যদি বন্ধ করতে না পারি তবে ভবিষ্যতে আমি আমার সন্তানদের কাছে কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারব না।’ গত ১৬ জুলাই দেশটির পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ দেশের নিরাপত্তা আইনে পরিবর্তন-সংক্রান্ত দুটি বিতর্কিত বিল অনুমোদন দেয়। এই প্রস্তাবিত আইনের বিষয়ে জনমনে ক্ষোভ রয়েছে। আগামী মাসে চলতি অধিবেশনে ওই বিল পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষে চূড়ান্ত অনুমোদন হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর চলতি অধিবেশন শেষ হবে। ওই বিল অনুমোদিত হলে জাপানি সেনারা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর আবার বিদেশে গিয়ে লড়াইয়ে অংশ নিতে পারবে। দেশটির সংবিধান অনুযায়ী, আত্মরক্ষা ব্যতীত জাপান তার বাহিনী ব্যবহার করে কোনো সংঘাত সমাধান করতে পারবে না। তবে নতুন আইনে জাপানের মিত্ররা যদি হামলার সম্মুখীন হয় তবে ‘যৌথ আত্মরক্ষায়’ দেশটি তার বাহিনীকে ব্যবহার করার অনুমোদন দেবে। প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে বলেছেন, জাপানকে রক্ষায় এই পরিবর্তন জরুরি। তবে গণমাধ্যমের জরিপের ফল অনুযায়ী, জাপানের অর্ধেকের বেশি লোক এই বিলের বিরোধী। আবের বিরোধীরা বলছেন, এই বিল যুক্তরাষ্ট্রের চালানো দূরবর্তী যুদ্ধে জাপানকে শরিক করবে। অনেক আইনি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বিল সংবিধানবিরোধী। জাপানের বৃহত্তম বিরোধী দল ডেমোক্রেটিক পার্টি অব জাপানের প্রধান কাতসুয়া ওকাদা গতকালের বিক্ষোভ সমাবেশে অংশ নেন। তিনি বলেন, ‘সরকারকে আমাদের বোঝানো প্রয়োজন যে জনগণের ক্রোধ ও সংকট বোঝার ক্ষমতা রয়েছে। আসুন বিলটি পরিত্যাগ করতে একসঙ্গে কাজ করি।’ ওই বিলের বিরুদ্ধে রাস্তায় প্রায়ই ছোটখাটো বিক্ষোভ সমাবেশ হয়ে আসছে।

পাকিস্তানের পরমাণু ঘাঁটিতে হামলা করতে চেয়েছিলেন ইন্দিরা গান্ধী

১৯৮০ সালে কেন্দ্রে ক্ষমতায় ফিরে এসে পাকিস্তানের পরমাণু ঘাঁটিগুলির ওপর সামরিক আঘাত হানতে চেয়েছিলেন ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী। যাতে, পাকিস্তান পরমাণু অস্ত্র না তৈরি করতে সমর্থ হতে পারে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-র প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী এমনটাই জানা গিয়েছে। ১৯৮১ সালের ৮ সেপ্টেম্বর তৈরি হওয়া “ইন্ডিয়াজ রিঅ্যাকশন টু নিউক্লিয়ার ডেভেলপমেন্টস ইন পাকিস্তান”— শীর্ষক সিআইএ রিপোর্টে বলা হয়েছে, পাকিস্তানকে এফ-১৬ যুদ্ধবিমান বেচার জন্য অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এবছরের জুন মাসে সিআইএ-র ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হওয়া ১২-পাতার ওই ‘ডিক্লাসিফায়েড’ রিপোর্ট অনুযায়ী, পাকিস্তানের পরমাণু কর্মসূচির অগ্রগতি নিয়ে চিন্তিত ছিলেন ইন্দিরা গান্ধী। তিনি জানতে পেরেছিলেন, পরমাণু অস্ত্র তৈরি করা থেকে ইসলামাবাদ আর বেশি দূরে নেই। কারণ, সেই সময়ে পাক প্রশাসন অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে প্লুটোনিয়াম এবং এনরিচড (সমৃদ্ধ) ইউরেনিয়াম জোগাড় করার চেষ্টা চালাচ্ছিল। তাই দেশের আগাম সুরক্ষা হিসেবে পাকিস্তানে সামরিক অভিযান করার কথা ভাবছিলেন ইন্দিরা। সিআইএ নিজেদের রিপোর্টে লিখেছিল, আগামী দু-তিন মাসে যদি পরিস্থিতি না পাল্টায় তাহলে ইন্দিরা হয়ত পাকিস্তানে আঘাত হানবেন। যদিও, পাকিস্তানে হামলা করা থেকে নিজেকে পরে বিরত রাখেন ইন্দিরা গান্ধী। তার পরিবর্তে ইন্দিরা গান্ধী নিজের পরমাণু শক্তি বৃদ্ধি লক্ষ্যের সিদ্ধান্ত নেন। যার প্রেক্ষিতে, ১৯৮১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে রাজস্থানে থর মরুভূমিতে ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু হয়। মাত্র তিন মাসের মধ্যেই ৪০-কিলোটন শক্তির পরমাণু পরীক্ষার জন্য তৈরি হয়ে যায় ভারত। সিআইএ-র রিপোর্টে বলা হয়েছিল, পাকিস্তান পরমাণু পরীক্ষা করার এক সপ্তাহের মধ্যেই ভারতও পরীক্ষা করবে। তবে, পাকিস্তানও তখন পরীক্ষা না করায়, ভারতও করেনি।
সূত্র : এবিপি আনন্দ

ইরাক-সিরিয়ায় সোনার মুদ্রার প্রচলন আইএসের

ইরাক-সিরিয়াজুড়ে নিজেদের মুল্লুকে এবার নিজস্ব সোনার মুদ্রার প্রচলন করেছে ইসলামিক স্টেট (আইএস)। সোনার মুদ্রা ছাড়াও রূপা ও তামার মুদ্রা প্রচলনেরও দাবি করেছে আইএস। অনলাইনে এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে জঙ্গি সংগঠনটি। ভিডিওতে সংগঠনটি জানিয়েছে, ২১ ক্যারেটের একটি এক দিনার সোনার কয়েনের ওজন ৪ দশমিক ২৫ গ্রাম।
সোনার প্রচলিত দর অনুযায়ী আইএসের এক দিনারের এ মুদ্রার দাম ১৩৯ ডলার (১১ হাজার টাকা প্রায়)। কাগজের মুদ্রার সঙ্গে তুলনা করতে গিয়ে আইএস দাবি করেছে, তাদের এ মুদ্রার মান কখনোই নিুমুখী হবে না। ওয়ার্ল্ড বুলেটিন। ভিডিওতে দেখা যায়, আরবি ও ইংরেজিতে পারদর্শী একজন আইএস জঙ্গি মসুলের অধিবাসীদের সোনার মুদ্রাটি দেখাচ্ছে। মসুল দখলের এক বছরেরও বেশি সময় পর মুদ্রা প্রচলনের ঘোষণা এল আইএসের পক্ষ থেকে।

সিন্ডিকেটের কবলে বাজার

বাজারে চাহিদা, জোগান ও সরবরাহ ব্যবস্থার সবটাই এখন মুক্তবাজার অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণ করছে। এই বাজার ব্যবস্থায় এখন সরকারি হস্তক্ষেপ প্রায় শূন্যের কোটায়। আর মনিটরিং থাকলেও তাতে ‘ধরি মাছ না ছুঁই পানি’ এমন নীতি অবলম্বন করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে মুষ্টিমেয় সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেটের অস্তিত্বও সবার জানা। এরা গোয়েন্দা নজরদারিতেও চিহ্নিত। কিন্তু মুক্তবাজার অর্থনীতির দাপটে এই সিন্ডিকেট বরাবরই সুরক্ষিত। তাই নিয়ন্ত্রণহীন ব্যবসায়ীরা। এতে প্রায়শ অস্থির হয়ে উঠছে বাজার। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির দোহাই কিংবা যেনতেন ছুতোয় দাম বাড়ানোর প্রতিযোগিতা করছে এই চক্র। সম্প্রতি দেশে পেঁয়াজের বাজারে অসৎ ব্যবসার প্রতিযোগিতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এভাবে কিছু অসৎ ব্যবসায়ীর অনৈতিক তৎপরতার দায় সরকারকে বহন করতে হচ্ছে- যা সাধারণের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করছে। ওদিকে পণ্যের দাম সহনীয় রাখতে সরকার ব্যবসায়ীদের নানাভাবে নীতিগত সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে। তবে এই অসৎ ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্যের কারণে তা ভোক্তার পকেটে যাচ্ছে না। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাংলাদেশ বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ও গণতান্ত্রিক বাম মোর্চার সমন্বয়ক সাইফুল হক যুগান্তরকে বলেন, মুক্তবাজার অর্থনীতি মানে ব্যবসায়ীদের যা খুশি তা করার লাইসেন্স নয়। ভোক্তাকে দুর্ভোগে রেখে ব্যবসায়ীদের অনৈতিক মুনাফা করার সুযোগ দেয়া নয়। একটি সভ্য রাষ্ট্রে এই হীন তৎপরতা চলতে পারে না। তিনি আরও বলেন, বিশ্বের কোনো আধুনিক এমনকি পুঁজিবাদী অনেক দেশেও বাজার ব্যবস্থার ওপর সরকারের যথেষ্ট নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি থাকে। কারণ মুক্ত বাজারের দোহাই দিয়ে ক্রেতাদের সঙ্গে স্বেচ্ছাচারিতা চালানোর অবকাশ কারও নেই।
কিন্তু ব্যতিক্রম শুধু বাংলাদেশে। এ কারণেই আস্কারা পেয়ে বসেছে কিছু অসৎ ব্যবসায়ী। এরা সুযোগ পেলেই বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি ও ক্রেতার সঙ্গে স্বেচ্ছাচারি আচরণ করে। এক প্রশ্নের জবাবে এই বাম নেতা আরও বলেন, বাজার নিযন্ত্রণে সরকারিভাবে উদ্যোগের কথা বলা হয়। বাস্তবে এর বালাই নেই। লোক দেখানো দু-একটি কার্যক্রম পরিচালিত হলেও তাতে দমানো যায়নি অসৎ তৎপরতা। যদিও সরকারের বাজার সিন্ডিকেট চিহ্নিত করতে খুব বেশি বেগ পোহাতে হয় না। কিন্তু কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে এমন নজির নেই। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দাবি, দেশে পেঁয়াজের কোনো মজুদ সংকট নেই। চাহিদার তুলনায় মজুদ অনেক বেশি। যেসব পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে, সেগুলোও আন্তর্জাতিক বাজার থেকে কম মূল্যে কেনা হয়েছে। শুধু তাই নয়, আমদানিকৃত ৩ লাখ টন পেঁয়াজের কাস্টমস নিষ্পত্তি হয়েছে আন্তর্জাতিক বাজারে পেঁয়াজের দর বেড়ে যাওয়ার আগেই। বাস্তবতা হচ্ছে, এপরও বাজারে লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে দাম। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যধানে এর দাম কেজিপ্রতি ৪০ থেকে ৫০ টাকা বেড়েছে। আবার সরকারের এক দিনের হস্তক্ষেপে সেটি পাইকারি বাজারেই ২০ থেকে ৩০ টাকা কমেছে। অর্থাৎ সিন্ডিকেটের কবলে পড়েছে বাজার। এভাবে শুধু পেঁয়াজ নয়, আদা, রসুন, মসলা, চাল, চিনি, সবজিপণ্য কিংবা মাছ, মাংস ও ডিম সব ভোগ্যপণ্যেরই একই দশা। জানা গেছে, এমন পরিস্থিতিতে টনক নড়েছে সরকারের। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সামগ্রীর সরবরাহ ও মূল্য স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা, উৎপাদনকারী, পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ী এবং আমদানিকারকদের সমন্বয়ে জরুরি বৈঠক করতে যাচ্ছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। আজ রাজধানীর কারওয়ান বাজারের টিসিবি ভবনে এই রুদ্ধধার বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সভায় সভাপতিত্ব করবেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুনসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও এই বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন।

নাজিব সরে দাঁড়াক : মাহাথির

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাকের সরাসরি পদত্যাগ দাবি করেছেন দেশটির সাবেক জনপ্রিয় প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ। রোববার দ্বিতীয় দিনের মতো কুয়ালালামপুরে বিক্ষোভে উপস্থিত হয়ে মাহাথির বলেন, ‘আমি শুধু চাই নাজিব সরে দাঁড়াক।’ খবর মালয় মেইল অনলাইনের। আর্থিক কেলেংকারির জেরে নাজিবের পদত্যাগ ও নির্বাচনী ব্যবস্থার সংস্কার দাবিতে বিক্ষোভের ডাক দেয় মালয়েশিয়ার মানবাধিকার সংগঠন বেরসিহ। বেরসিহ-৪ নামের দু’দিনের এ বিক্ষোভ প্রতিবাদের তিন লক্ষাধিক মানুষ রাজধানী কুয়ালালামপুরে জড়ো হয়। এতে উপস্থিত হন মাহাথির মোহাম্মদ। তবে আয়োজকদের সব দাবির সঙ্গে একমত নন তিনি। মাহাথির বলেন, অনেক মানুষ আমার কাছে জানতে চায়, আমি বেরসিহ’র আন্দোলন সমর্থন করি কিনা। আমি চীনাদের পক্ষে কিনা। কিন্তু আমরা এখানে এসেছি, অন্য কোনো প্রসঙ্গে নয়। আমরা মালয়, চীনা, ভারতীয়, ইবান, কাদযান, যা-ই হোক না কেন, আমাদের একটাই দাবি নাজিবের পদত্যাগ।’ ৯০ বছর বয়সী মাহাথির আরও বলেন, ‘সুশাসন ফেরানোর একমাত্র পথ, নাজিবের পদত্যাগ। তিনি আমাদের আইনি সীমা লংঘন করেছেন।’ এর আগে মাহাথিরকে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন, ‘বেরসিহ-৪ কি পরিস্থিতি বদলাতে পারবে? গেম চেঞ্জার হবে?’ উত্তরে তিনি বলেন, ‘আমি জানি না, তবে এটাই সর্বশেষ বিকল্প হতে পারে।’ 
এদিকে, মালয়েশিয়ার সরকারবিরোধী বিক্ষোভের বিরুদ্ধে ট্রাম্প কার্ড দেখানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ক্ষমতাসীন নাজিব রাজাকের দল। আগামী অক্টোবরে ১০ লাখ সমর্থকের উপস্থিতিতে পাল্টা বিক্ষোভ হবে বলে জানিয়েছেন দলটির শীর্ষ স্থানীয় এক নেতা। সোমবার রয়টার্স এ খবর দিয়েছে। ক্ষমতাসীন ইউনাইটেড মালয় ন্যাশনাল অর্গানাইজেশনের (আমনো) একাংশের প্রধান জামাল ইউনুস বলেন, আগামী ১০ অক্টোবর সরকার সমর্থক ১০ লাখ রেড শার্ট কর্মী নিয়ে কুয়ালালামপুরে সমাবেশ করা হবে। এটা হবে বেরসিহ বিক্ষোভকারীদের জবাব। এতে প্রমাণিত হবে, নাজিবের প্রতি এখনও সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের সমর্থন রয়েছে। এদিকে, ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী আহমাদ জাহিদ হামিদি বিক্ষোভকারীদের হুশিয়ার করে বলেছেন, ‘আয়োজকদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ বিশ্লেষকরা বলছেন, বিরোধীদের বড় বিক্ষোভে নাজিব সরকার ধৈর্যহারা হয়ে পড়েছে বলে হামিদির এ বক্তব্যে প্রমাণিত হয়েছে। বারনামা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, হলুদ টি-শার্ট পরা নতুন করে ১২ বিক্ষোভকারীকে আটক করেছে সরকার। বিক্ষোভের আগে হলুদ টি-শার্ট নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। এদিকে কুয়ালালামপুরে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সময় কেনা খাবার খেয়ে ১৬ জন বিক্ষোভকারী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় পরিকল্পিতভাবে খাদ্যে বিষ মেশানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন আয়োজকরা। তারা এ ষড়যন্ত্রকে ‘পেছন থেকে ছুরিকাঘাত’ বলে অভিহিত করে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
‘মাহাথির চাইলে সব কিছুই সম্ভব’
মালয়েশিয়ার এখনও শেষ সিদ্ধান্ত এবং আশার জায়গা সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ। তিনি চাইলে সব কিছুই সম্ভব। শুধু তার মনকে স্থির করতে হবে। মালয়েশিয়ার প্রখ্যাত আইনজীবী ও অধিকার কর্মী দাতুক আম্বিগা রোববার এসব কথা বলেছেন। আম্বিগা দেশটির আগের নির্বাচনী সংস্কার গ্র“প বেরসিহ-২-এর সহ-সভাপতি ছিলেন। বর্তমানে জাতীয় মানবাধিকার সোসাইটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। মাহাথির মোহাম্মদ ১৯৮১ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। টানা ২২ বছর শাসন করে দেশকে অর্থনৈতিক উন্নয়নের শিখরে নিয়ে যান। মালয়দের কাছে তার ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে। যদিও তার শাসনামলে সরকাবিরোধী যেকোনো বিক্ষোভ শক্ত হাতে দমন করেছিলেন বলে সমালোচকরা বলে থাকেন। আর্থিক কেলেংকারি ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগে নাজিব রাজাকের পদত্যাগ দাবিতে বেরসিহ-৪-এর বিক্ষোভে মাহাথির মোহাম্মাদের পূর্ণ সক্রিয়তা আশা করে আম্বিগা বলেন, ‘মালয়েশিয়ার নাগরিক হিসেবে শুধু নয়, একজন প্রভাবশালী লোক হিসেবে আমাদের আন্দোলনে তাকে স্বাগতম। কিন্তু তার শুধু উপস্থিতিই আশা করি না। আমাদের দাবির সঙ্গে একমত হয়ে তা বাস্তবায়নে সক্রিয় হতে হবে। তিনি চাইলে মালয়েশিয়ায় অনেক কিছুই সম্ভব। দেশ এখনও স্বপ্ন দেখতে পারে।’ তিনি বলেন, ‘এটা স্পষ্ট হতে যাচ্ছে যে, যেকোনো কিছুই সম্ভব।’ বেরসিহ-৪ এর আয়োজনে বিক্ষোভকারীরা নাজিবের পদত্যাগসহ সরকারি অর্থব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনতে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার দাবি করেছে।

স্বরূপে রিয়াল : বার্সার কষ্টের জয়

লা লীগায় নিজেদের প্রথম ম্যাচে নবাগত স্পোর্টিং গিজনের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র যথেষ্ট বিব্রত করেছিল রিয়াল মাদ্রিদের নতুন কোচ রাফায়েল বেনিতেজকে। শুরুর সেই আক্ষেপ ঘুচিয়ে দ্রুত রিয়াল ফিরল রিয়ালে। বার্নাব্যু অভিষেকেই কাক্সিক্ষত প্রথম জয় পেয়ে গেলেন বেনিতেজ। শনিবার রিয়াল বেটিসকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। জোড়া গোল করেই সমালোচনার মোক্ষম জবাব দিয়েছেন গ্যারেথ বেল। জোড়া গোল করেছেন জেমস রদ্রিগেজও। অপর গোলটি করিম বেনজেমার। রিয়ালের স্বরূপে ফেরার রাতে টানা দ্বিতীয় জয় পেয়েছে চ্যাম্পিয়ন বার্সেলোনা। তবে অঘটন এড়াতে যথেষ্ট ঘাম ঝরাতে হয়েছে কাতালানদের। মালাগার বিপক্ষে বার্সা জিতেছে ১-০ গোলে। আক্রমণভাগের লাতিন ত্রিফলা মেসি, নেইমার ও সুয়ারেজকে ম্লান করে ন্যুক্যাম্পে বার্সার সারপ্রাইজ হিরো এক ডিফেন্ডার! ৭৩ মিনিটে ম্যাচের ভাগ্যানির্ধারণী একমাত্র গোলটি করেন টমাস ভারমায়েলেন। দৈত্যের জয়ের ধরনে ভিন্নতা থাকলেও মেসি ও রোনাল্ডো সমান্তরালেই আছেন। এবার দু’ম্যাচ শেষেও লা লীগায় গোলের খাতা খুলতে পারেননি ফুটবলের দুই দিকপাল!
সম্প্রতি মার্কার এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, রিয়ালের অধিকাংশ সমর্থক গ্যারেথ বেলকে বিক্রি করে দেয়ার পক্ষে। ফর্ম ও ফিটনেসের পাশাপাশি ওয়েলস তারকার আত্মনিবেদন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। পরশু রাতে আগুনে পারফরম্যান্সে যাবতীয় সমালোচনার জবাব দিয়ে দিলেন বেল। দুই মিনিটেই জেমস রদ্রিগেজের ক্রস থেকে বেলের নিখুঁত হেড খুুঁজে নেয় বেটিসের জাল। ৩৯ মিনিটে বুলেটগতির ফ্রিকিকে ব্যবধান বাড়ান রদ্রিগেজ। বেটিস অবশ্য ম্যাচে ফেরার সুযোগ পেয়েছিল। কিন্তু রুবেন কাস্ত্রোর পেনাল্টি শট রুখে দেন রিয়াল গোলকিপার কেইলর নাভাস। দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের লাগাম আরও শক্ত হাতে ধরে রিয়াল। ৪৭ মিনিটে বেলের ক্রস থেকে হেডে ব্যবধান ৩-০ করেন চোট কাটিয়ে ফেরা ফরাসি ফরোয়ার্ড বেনজেমা। তিন মিনিট পর কলম্বিয়ান সেনসেশন রদ্রিগেজের আরেকটি দর্শনীয় গোলে ম্যাচের ফল নিয়ে সব সংশয় মুছে যায়। ৮৮ মিনিটে বেটিসের কফিনে শেষ পেরেক ঠোকেন বেল। বার্নাব্যুতে গোল উৎসবের রাতে ন্যুক্যাম্পে গোল যেন সোনার হরিণে পরিণত হয়েছিল। গত মৌসুমে ন্যুক্যাম্প জয় করে ফিরেছিল মালাগা।
এবারও যখন অঘটনের শংকা প্রবল হয়ে উঠছিল, ঠিক তখনই বার্সেলোনার ত্রাণকর্তা হয়ে হাজির হন ভারমায়েলেন। খেলা শেষ হওয়ার ১৭ মিনিট আগে সুয়ারেজের ক্রস থেকে অমূল্য গোলটি করেন বেলজিয়ান ডিফেন্ডার। এর আগে বার্সার বিশ্বসেরা ফরোয়ার্ডলাইনের সামনে চীনের প্রাচীর হয়ে উঠেছিলেন মালাগা গোলকিপার কামেনি। চার মিনিটে সুয়ারেজের একটি গোল ফাউল ধরে বাতিল করে দেন রেফারি। বিরতির আগে মাসচেরানোর হেড পোস্ট কাঁপিয়ে ফিরে আসে। এরপর দুটি নিশ্চিত পেনাল্টি থেকে বঞ্চিত হয় বার্সেলোনা। আর মেসিকে তিনবার গোলবঞ্চিত করেন কামেনি। শেষ পর্যন্ত কাতালানদের উদ্ধার করেন ভারমায়েলেন। স্বস্তির জয়ের পর ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে পাড়ি জমানোর গুঞ্জন উড়িয় বার্সা ভক্তদের আরও নির্ভার করেছেন নেইমার। রিয়াল সমর্থকদের জন্যও একটি সুখবর আছে। ইংলিশ মিডিয়ার খবর অনুযায়ী, স্প্যানিশ গোলকিপার ডেভিড ডি গিয়ার ব্যাপারে ম্যানইউর সঙ্গে সমঝোতা হয়ে গেছে রিয়ালের। ৪০ মিলিয়ন ইউরো ট্রান্সফার ফি’তে দু’এক দিনের মধ্যেই রিয়ালে গোগ দেবেন ডি গিয়া। এএফপি/ওয়েবসাইট।

সাম্প্রতিক

প্রায় ১৬ বছর চলচ্চিত্রে অভিনয় করলেও প্রতিটি ছবিতে একই রকম গেটআপে শাকিব খানকে দেখতে অভ্যস্ত দর্শকরা। এবার গেটআপে পরিবর্তন আনছেন তিনি। এ মুহূর্তে থাইল্যান্ডে শুটিং করছেন বদিউল আলম খোকনের পরিচালনায় ‘রাজাবাবু’ ছবির। এ ছবিতে গানের দৃশ্যে ভিন্ন এক শাকিবকে দেখতে পাবেন দর্শকরা। ছবিতে শাকিব খানের বিপরীতে অভিনয় করছেন অপু বিশ্বাস ও ববি।

মুঠোফোনে পাহাড়ধসের পূর্বাভাস by অরুণ কর্মকার

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান অনুষদ ভবনের
পাঁচতলার ছাদে বসানো হয়েছে বৃষ্টি পরিমাপক যন্ত্র।
এটি একটি সার্ভারের সঙ্গে যুক্ত, যার মাধ্যমে
পাহাড়ধসের পূর্বাভাস দেওয়া যায় l ছবি: সৌরভ দাশ
বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর ও নরওয়ের জিওটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের যৌথ গবেষণা
পাহাড়ধসের আগাম খবর দেওয়ার একটি পদ্ধতি বের করেছে বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর (জিএসবি) ও নরওয়ের জিওটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট (এনজিআই)। এ পদ্ধতিতে মুঠোফোনে পাওয়া পূর্বাভাস কাজে লাগিয়ে ইতিমধ্যে পাহাড়ধসে প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
সাধারণত, ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে অল্প সময়ের মধ্যে আলগা শিলা ও মাটির ভেতরে পানি চুইয়ে প্রবেশ করে। এতে মাটি ও শিলার ভেতর পানির চাপ বাড়ে। একপর্যায়ে ভূমিতে ফাটল দেখা দেয় এবং মাধ্যাকর্ষণের প্রভাবে ধস শুরু হয়। মূলত এই বৃষ্টিপাতের পরিমাণ, তীব্রতা, সময় ও মাটির ধরনের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে পাহাড়ধসের আগাম খবর দেওয়া হয়।
২০০৭ সালের ১১ জুন চট্টগ্রামে পাহাড়ধসে প্রায় ১২৭ জন মারা যায়। এ ঘটনার পর পাহাড়ধসে প্রাণহানি রোধে জিএসবি এ গবেষণার উদ্যোগ নেয়। ২০১০ সালে পরীক্ষামূলকভাবে আগাম সতর্কতার যন্ত্র স্থাপন করা হয়। ২০১২ সালে চীনে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ল্যান্ডস্লাইড কনফারেন্সে এই পদ্ধতি সম্পর্কে গবেষণাপত্রটি উপস্থাপন করা হয়। গত বছর জার্মানির বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞান গবেষণা প্রকাশনা সংস্থা স্প্রিনজার এ নিবন্ধটি তাদের একটি সংকলনে প্রকাশ করেছে।
এ প্রকল্পের গবেষক জিএসবির অন্যতম পরিচালক এবং নগর ও প্রকৌশল ভূতত্ত্ব বিভাগের প্রধান রেশাদ মো. ইকরাম আলী প্রথম আলোকে বলেন, পাহাড়ধসের কারণ প্রধানত ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়গুলোর মাটির ধরন। এ জন্য চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলের অতীতের পাহাড়ধসের সময়কার বৃষ্টিপাতের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, কোনো দিন তিন ঘণ্টার মধ্যে ১০০ মিলিমিটার বৃষ্টি হলে পাহাড়ধসের আশঙ্কা তৈরি হয়। একইভাবে ২৪ ঘণ্টায় ২০০ মিলিমিটার কিংবা ৭২ ঘণ্টায় ৩৫০ মিলিমিটার বৃষ্টি হলেও একই আশঙ্কা থাকে। এসব তথ্য কম্পিউটারে সংরক্ষণ করা হয়, যা একটি সার্ভার এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও সংস্থার মোবাইল ফোন নম্বরগুলোর সঙ্গে যুক্ত। এই নেটওয়ার্কের আওতাধীন কোনো এলাকায় ওই পরিমাণ বৃষ্টি হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংকেত সংশ্লিষ্ট মুঠোফোন নম্বরে পৌঁছায়। এর ওপর ভিত্তি করে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন সম্ভাব্য বিপর্যয়ের আগেই স্থানীয় লোকজনকে নিরাপদ এলাকায় সরিয়ে নিতে পারে।
স্বয়ংক্রিয়ভাবে রাখা বৃষ্টিপাতের হিসাবের তথ্য প্রতি ১৫ মিনিট পরপর অনলাইনে সংরক্ষিত হয়। বৃষ্টিপাতের হিসাব রাখার স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রটি চালু রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যাটারির চার্জ হয় সৌরশক্তির মাধ্যমে।
পাহাড়ধসের পূর্বাভাস পেতে চট্টগ্রাম মহানগর, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, কক্সবাজার ও টেকনাফে (মোট চারটি স্থানে) যন্ত্র স্থাপন করা হয়েছে। বাংলাদেশ-নরওয়ে প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা কর্মসূচির আওতায় এসব যন্ত্র স্থাপন করা হয়েছে।
পূর্বাভাস নেটওয়ার্কের এলাকায় পাহাড়ধসের আশঙ্কার বার্তা নির্দিষ্ট কয়েকটি মুঠোফোন নম্বরে স্বয়ংক্রিয়ভাবে খুদে বার্তার (এসএমএস) মাধ্যমে পৌঁছায়। চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক কিংবা তাঁদের প্রতিনিধি; টেকনাফ ও হাটহাজারীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ, আবহাওয়া অফিস, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, রেড ক্রিসেন্ট, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়, জিএসবি ও এনজিআইয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ওই সংকেত পেয়ে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে পারেন।
কক্সবাজারে গণপূর্ত বিভাগের কার্যালয়ে স্থাপিত যন্ত্রটি গত ২৫ জুলাই পাহাড়ধসের আশঙ্কার সংকেত দিয়েছিল। তার ভিত্তিতে প্রশাসন ওই এলাকার পাহাড়ে বসবাসকারী লোকজনদের সরে যাওয়ার জন্য মাইকে প্রচার চালায়। এতে অনেকেই সরে যান। কিন্তু কিছু লোক সেখানে থেকে যায়। পরদিন সেখানে একটি পাহাড়ধসে পাঁচজন প্রাণ হারায়।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর মোবাইল ফোনে খুদে বার্তা আসে। সে অনুযায়ী তিনি সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে প্রচার চালান, লোকজনকে সতর্ক করা ও প্রয়োজনে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা নেন।
টেকনাফে যন্ত্রটি স্থাপন করা হয়েছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে। সেখান থেকে পাহাড়ধসের আশঙ্কার একটি সংকেত এসেছিল গত ২৬ জুলাই। পরদিন সেখানে পাহাড়ধস হয়। তবে লোকজন আগেই সরে যাওয়ায় কোনো প্রাণহানি হয়নি।
চট্টগ্রামে দুটি যন্ত্রের একটি বসানো হয়েছে সিটি করপোরেশন ভবনে। বাটালি পাহাড়সহ আশপাশের পাহাড়গুলোতে ধসের আশঙ্কা দেখা দিলে এই যন্ত্রের মাধ্যম তার পূর্বাভাস বা সংকেত পাওয়া যাবে। অন্যটি বসানো হয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান অনুষদ ভবনের পাঁচতলার ছাদে।
পাহাড়ধসের পূর্বাভাস পদ্ধতি যেভাবে কাজ করে
এ বিষয়ে ইকরাম আলী বলেন, আপাতত খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও রাঙামাটি শহরে তিনটি নেটওয়ার্ক স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে, যা নরওয়ের আর্থিক সহায়তায় হতে পারে। এরপর হয়তো সরকারি অর্থে আরও নেটওয়ার্ক স্থাপন করা হবে। একেকটি নেটওয়ার্ক স্থাপনে ছয় লাখ টাকার মতো খরচ হয়।
জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজাস্টার সায়েন্স অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট বিভাগের চেয়ারম্যান, সমন্বিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মসূচির (সিডিএমপি) সাবেক পরিচালক অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ কামাল প্রথম আলোকে বলেন, এই পদ্ধতি কার্যকরভাবে ব্যবহার করা গেলে পাহাড়ধসে প্রাণহানি ঠেকানো সম্ভব। অবশ্য কয়েক বছর আগে অযান্ত্রিকভাবে (ম্যানুয়ালি) এ পদ্ধতি সিডিএমপির পক্ষ থেকে চালু করা হয়েছিল বলে তিনি জানান।
তবে পদ্ধতিটি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট এলাকার জনগোষ্ঠীর সচেতনতা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন এই দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ। তিনি বলেন, পদ্ধতিটি কার্যকর হলেও মানুষ যদি পাহাড়ে যত্রতত্র বসবাস ও পাহাড় কাটার মতো কাজ চালিয়ে যায়, তাহলে প্রাণহানি ঠেকানো কঠিন হবে। এ জন্য সচেতনতা গড়ে তুলতে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ দরকার।

ছাত্রলীগের ‘আগাছা নির্মূল’ করতে বললেন প্রধানমন্ত্রী

ছাত্রলীগ থেকে ‘আগাছা’ নির্মূল করতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, আগাছা নির্মূল করে ছাত্রলীগের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস সমুন্নত রাখতে হবে। সোমবার বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান। খবর বাসসের।
শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধু বলতেন খাদ্যশস্য উৎপাদনের জন্য বাংলাদেশ একটি উর্বর দেশ। কিন্তু খাদ্যশস্যের সঙ্গে সঙ্গে আগাছাও জন্মায়। তাই ভালো শস্য উৎপাদনের জন্য আগাছা তুলে ফেলতে হবে।
শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর এই কথা অনুসরণ করে সংগঠনের মধ্যে থাকা আগাছা নির্মূল করার জন্য ছাত্রলীগের নেতৃত্বের প্রতি জোরালো আহ্বান জানান। একইসঙ্গে তিনি জনগণের আস্থা অর্জন করতে ছাত্রলীগের সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, একজন রাজনীতিবিদকে জানতে হবে কীভাবে ত্যাগের মাধ্যমে বাঁচতে হয়। ত্যাগ ছাড়া একজন রাজনীতিবিদ জনগণকে কিছুই দিতে পারেন না। তিনি বলেন, ‘একজন রাজনীতিবিদের জীবনে সবচেয়ে বড় অর্জন হচ্ছে জনগণের আস্থা, বিশ্বাস ও ভালোবাসা অর্জন। তোমরা যদি কারও কাছ থেকে ভালোবাসা পাও তাহলে তোমাদেরও উচিত তাকে ভালোবাসা দেওয়া। তুমি কী পেলে সেটা কোনো বিষয় নয়।’
আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের প্রকাশনা ‘মাতৃভূমি’র মোড়কও উন্মোচন করেন।
আলোচনায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, দলের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সুলতান শফি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ‘বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী’র অনুবাদক ফখরুল আলমও অংশ নেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসেন।
জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় বাংলাদেশ ছাত্রলীগের প্রকাশনা ‘মাতৃভূমি’র মোড়ক উন্মোচন করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ এ আলোচনা সভার আয়োজন করে। ছবি: ফোকাস বাংলা

হাতে সাপ নিয়ে হাসপাতালে যুবক, অবশেষে মৃত

সরকারি হাসপাতালে দিনভর অনেকেই আসেন-বেরোন। সাধারণত হাতে থাকে অক্সিজেনের মাস্ক বা প্রেসক্রিপশন। কিন্তু রবিবার যে ঘটনা প্রত্যক্ষ করল ভারতের পশ্চিমমঙ্গ বীরভূমের মহম্মদ বাজার ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে, তা কার্যত বিরল। হাতে করে জ্যান্ত হাতে বিষধর সাপ নিয়ে হাসপাতালে ঢুকে পড়লেন এক যুবক। যা দেখে হুলস্থুল পড়ে গেল হাসপাতালে।
কিন্তু কেন এই যুবক হাতে জ্যান্ত সাপ নিয়ে হাসপাতালে ঢুকলেন? ঘটনা হল, ওই যুবককে( নাম স্বপন মাল) বিষধর সাপ কামড়েছিল। সেই সাপটিকে ধরে নিয়ে সোজা হাসপাতালে চলে যান স্বপন মাল। বীরভূমের মহম্মদবাজার থানার রাজ্যধরপুরে সাপ ধরতে গিয়ে বিষধর সাপের কামড় খান স্বপন। সাপটিকে ধরে সোজা তিনি হাজির হন মহম্মদ বাজার ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। প্রাথমিক চিকিত্‍সার পর তাকে রেফার করা হয় সিউড়ি সদর হাসপাতালে। সাপে কাটা স্বপন মাল ও বিষধর সাপ, দুজনকেই দেখতে ভিড় জমে যায় হাসপাতালে।
শেষ পর্যন্ত হাসপাতালেই মারা যান তিনি।

ব্যর্থতা নিয়েই বেঁচে আছি: সফিউল্লাহ

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক সেনাপ্রধান কে এম সফিউল্লাহ বলেছেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে তিনি রক্ষা করতে যেতে পারেননি। এটা তাঁর ব্যর্থতা। এই ব্যর্থতা নিয়েই তিনি বেঁচে আছেন।  সোমবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদ কার্যালয় প্রাঙ্গণে বঙ্গবন্ধুর ৪০ তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে জেলা পরিষদ আয়োজিত শোক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে কে এম সফিউল্লাহ এ মন্তব্য করেন। একইসঙ্গে তিনি বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পেছনে কারা জড়িত তা তদন্তের জন্য একটি কমিশন করা যেতে পারে বলেও মন্তব্য করেন।
সম্প্রতি আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম বঙ্গবন্ধু নিহত হওয়ার সময় তৎকালীন সেনাপ্রধান কে এম সফিউল্লাহর ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেন। সফিউল্লাহর সে সময়ের ভূমিকা নিয়ে গণমাধ্যমেও আলোচনা-সমালোচনা হয়।
আলোচনা সভায় সফিউল্লাহ বলেন, ‘১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট আমি বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলার কিছুক্ষণ পরেই বঙ্গবন্ধু নিহত হন। বঙ্গবন্ধুকে আমি রক্ষা করতে যেতে পারিনি—এই ব্যর্থতা নিয়েই আমি বেঁচে আছি।’ তিনি বলেন, ‘অনেকে বলেন, বিগ্রেডিয়ার জামিল বঙ্গবন্ধুকে বাঁচাতে যেতে পারলে আমি কেন গেলাম না? আমি সেদিন যদি একা ৩২ নম্বরে যেতাম, তাহলে আমার পরিণতিও জামিলের মতো হতো। আমি সেদিন মারা গেলে, যাঁরা আজকে আমার সমালোচনা করছেন তাঁরা খুশি হতেন। আমি বঙ্গবন্ধুকে রক্ষা করতে যেতে পারিনি, এটা আমার ব্যর্থতা। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচার হলেও সুষ্ঠু তদন্ত হয়নি। এই হত্যার পেছনে কারা জড়িত তা তদন্তের জন্য একটি কমিশন করা যেতে পারে।’
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পরের ঘটনাগুলোর বর্ণনা দিয়ে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য কে এম সফিউল্লাহ বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর পর খন্দকার মোশতাক ও জিয়াউর রহমানের ভূমিকা ছিল খুবই রহস্যজনক। মেজর ডালিম অস্ত্রের মুখে আমাকে রেডিও স্টেশনে নিয়ে গিয়ে মোশতাক সরকারের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করতে বাধ্য করেন। ১৫ থেকে ১৮ আগস্ট তিন দিন একই পোশাকে বঙ্গভবনে আমি প্রায় অবরুদ্ধ ছিলাম। এই সময় মোশতাকের কথাবার্তায় মনে হয়েছে সে তিন মাস আগে থেকেই সামরিক আইন জারির প্রস্তুতি নিচ্ছিল।’ তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু মোশতাককে খুবই বিশ্বাস করতেন। বঙ্গবন্ধুর বাবা শেখ লুত্ফর রহমান মারা যান ১৯৭৫ সালের ১৬ জানুয়ারি। বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যদের নিয়ে লঞ্চে টুঙ্গিপাড়া যান পিতার লাশ দাফন করতে। সেই লঞ্চে পরিবারের সদস্যদের বাইরে একমাত্র মোশতাকই ছিলেন। টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর পিতার লাশ দাফনের সময় মোশতাকও কবরে নামেন। লাশ দাফনের সময় মোশতাক কবর থেকে না উঠে চিত্কার করে লোকজনকে শুনিয়ে বলতে থাকেন, “আমার বাবা মরে গেছে। আমার বেঁচে থেকে কী হবে? আমাকে আমার বাবার সঙ্গে কবর দিয়ে দাও। ” এভাবে ধূর্ত মোশতাক বঙ্গবন্ধু পরিবারের আস্থা অর্জন করেন।’
কে এম সফিউল্লাহ আরও বলেন, ৭৫ এর ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যাকাণ্ডের সময় তৎকালীন সেনা গোয়েন্দা বিভাগ সেনা প্রধানের নিয়ন্ত্রণে নয়, সরাসরি রাষ্ট্রপতির তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হতো। বঙ্গবন্ধুকে হত্যাকাণ্ডের খবর জানার পর পর আমি ৪৬ বিগ্রেডকে নির্দেশ দিয়েছিলাম মুভ করার জন্য। কিন্তু তারা ব্যর্থ হয়। ১৫ আগস্ট রাতে সেনাবাহিনীর আর্মড এবং আর্টিলারি ব্যাটালিয়নের নৈশকালীন অনুশীলন ছিল। বঙ্গবন্ধুর ঘাতকেরা এই নৈশকালীন অনুশীলনের নাম করে ট্যাঙ্ক নিয়ে ধানমন্ডির পথে রওনা হয়। ফলে গোয়েন্দারাও কোনো সন্দেহ করেনি।
নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক আব্দুল হাইয়ের সভাপতিত্বে শোক সভায় আরও বক্তব্য দেন সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের ঢাকা বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, সোনারগাঁও থানা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শামসুল ইসলাম ভূঁইয়া, আওয়ামী লীগ নেতা ওয়াজেদ আলী খোকন প্রমুখ।