Tuesday, August 13, 2024
আমার অভয় শুনে হো হো করে হেসে দিলেন ইউনূস স্যার by শায়ের খান
কিন্তু টাকা ধার দিবেন কী করে ? বিজ্ঞানী নিজেই তো গরিব। গেলেন ব্যাংকারদের কাছে। গরিবের জন্য লোন শুনে ব্যাংক ম্যানেজাররা হাসতে হাসতে গড়িয়ে পড়লো। দুঃখ পেলেন বিজ্ঞানী। বাসায় এসে গুনে দেখেন আছে ২৭ ডলার । এটা দিয়েই শুরু করলেন জেদি তিনি। টাকার হিসেবে ২৭ ডলার ।
চট্টগ্রামের ছোট্ট গ্রাম জোবরা। এই গ্রামের কিছু গরিব নারীদের হাঁস-মুরগী পালনের জন্য টাকা ধার দিলেন । আর কি ম্যাজিক! সময়মতো সব মহিলা ধারের টাকা ফেরত দিতে লাগলো। ছোটো ছোটো খামার করে তারা লাভ করছে । স্বাবলম্বী হচ্ছে। ছড়িয়ে পড়তে লাগলো এই ডালপালা। গরিব সব একে একে নাই হতে লাগলো। আজ সারাবিশ্ব যে 'গ্রামীণ ব্যাংক' চেনে, এটা সেই জোবরা গ্রামে ২৭ ডলারের বপন করা বীজের বটবৃক্ষ। ডালপালা ছড়িয়ে তা ছায়া দিচ্ছে এশিয়া, আফ্রিকা, ইউরোপ, আমেরিকায় ।
আমি আবেগপ্রবণ মানুষ। ছোটোকালে ফুটবল খেলায় মোহামেডান জিতলে খুশিতে কাঁদতাম, হারলে দুঃখে । দেশের ভালো কিছু দেখলে খুশিতে আরো বেশি কাঁদি। ২০০৬ সালে যখন হঠাৎ সেই বিজ্ঞানী ও তাঁর গ্রামীণ ব্যাংক যৌথভাবে শান্তিতে নোবেল পুরষ্কার পেলো, আকাশের দিকে চেয়ে পাথর হয়ে গেলাম।
মুশকিল হয়েছিলো বিজ্ঞানীর পুরষ্কার নেয়ার দিন। নরওয়ের বিশাল রাজকীয় হলরুমে তিনি ঢুকলেন সাধারণ পোশাকে। দেখে মনে হচ্ছে একজন দরিদ্র প্রাইভেট টিউটর। সাথে শাড়িতে মাথায় কাপড় টানা এক সাধারণ নারী। গ্রামীণ ব্যাংকের পরিচালক। যেন প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষিকা। বেজে উঠলো রাজকীয় বিউগল। বাংলাদেশের এক প্রাইভেট টিউটর আর প্রাইমারি শিক্ষিকাকে ঢুকতে দেখে আমেরিকা- ইউরোপের বাঘা বাঘা রাজা - রাষ্ট্রপ্রধানরা গেলেন দাঁড়িয়ে। আর তা দেখে আমি দিলাম ঝরঝর করে কেঁদে। এর পরের বছর আমার একটা বই বের হলো- ফেড জিন্স আর বাদামি কোট। বইটা ইউনূস স্যারকে উৎসর্গ করলাম। উনার সাথে তখনও আমার দেখা হয়নি ।
২০১১ সালে আমাদের গল্পের বিজ্ঞানী হারালেন সব। তাঁর সারাজীবনে গড়া গ্রামীণ ব্যাংক ছিনিয়ে নিয়ে নেয়া হলো তাঁর কাছ থেকে। আমার হাত রাগে আস্তে আস্তে মুষ্টিবদ্ধ হতে লাগলো। এটাও আমার চরিত্র। যখন রাগ হই, নৃশংসতম দানব দানবীর সামনে দাঁড়াতে বিন্দুমাত্র ভয় পাই না।ইউনূস স্যারের জন্মদিন ২৮ জুনকে ঘিরে প্রতিবছর ৩দিন ধরে একটা উৎসব হয়- সোশ্যাল বিজনেস ডে। দেশি-বিদেশি অতিথিরা আসেন। এবারের ২০১১ সালের প্রোগ্রামটা স্পেশ্যাল। স্বৈরাচারের রোষানলে পড়ে সবহারা বিজ্ঞানীর অনুষ্ঠানের আয়োজকরা হোটেল সোনারগাঁও- এর বলরুমে অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে ।
গিয়ে উপস্থিত হলাম সেই অনুষ্ঠানে। বিজ্ঞানীকে নিয়ে সেই সময়টায় পরিস্থিতি থমথমে। দেশের বাঘা বাঘা সবাই ভয়ে এই প্রোগ্রাম এড়িয়ে চলছেন। চ্যানেল আই-এর ফরিদুর রেজা সাগর ভাই নিজে না এসে কর্মচারি দিয়ে কেক পাঠিয়েছেন। আমাদের জেনারেশনের মিডিয়ার কাউকে দেখলাম না। সরাসরি ইউনূস স্যারের কাছে গিয়ে সালাম দিলাম, পরিচয় দিলাম। স্যার বললেন- বসো। স্যারকে চাঙা করতে শক্ত হাতে হাত ধরে বললাম- 'ভয় পাবেন না স্যার, আমি পাশে আছি।' হো হো করে হেসে দিলেন বিজ্ঞানী। তাঁর দৃষ্টি ঈগলের চেয়ে শার্প। সন্দেহ করার বদলে আমাকে পছন্দ করলেন। আলাপ করলাম কিছুক্ষণ। আমাকে তাঁর ব্যক্তিগত ভিজিটিং কার্ড দিলেন। অফিসে আসতে বললেন। আসার আগে ফোন দিতে বললেন।
আমরা সারাদিন কাটালাম। খাওয়া-দাওয়া করলাম। দুপুরের দিকে ড. আসিফ নজরুল ভাইকে দেখি হনহন করে এসে বাইরে থেকে উঁকি দিচ্ছেন। বললাম- আরে আসিফ ভাই, কাকে খুঁজছেন? আসিফ ভাই মনে হলো চমকে বিব্রত হলেন। বললেন- 'না ইয়ে শায়ের কেমন আছেন, অমুক (সম্ভবত একজন সাংবাদিকের নাম বলেছিলেন) কি এখানে আছে?' বলেই উত্তরের আশা না করে দ্রুত পুলসাইডের দিকে চলে গেলেন। সেই অনুষ্ঠানে আসিফ ভাই সশরীরে ছিলেন না। তবে পরের বছর তিনি ইউনূস স্যারের সাথে ইউরোপে (সম্ভবত জার্মানি) সফরসঙ্গী হয়েছিলেন অন্য আরেক অনুষ্ঠানে। সেখানে স্পেনের রানী এসেছিলেন। বিষণ্ণ ইউনূস স্যারকে চাঙা করতে রাণী ড্রাম বাজিয়েছিলেন, সাথে স্যারও। ইউনূস স্যারের ড্রামে আঘাত করার বডি ল্যাঙ্গুয়েজে মনে হচ্ছিলো ড্রাম না, সম্ভবত কাউকে পেটাচ্ছেন।
আমাদের অনুষ্ঠানের দিন দুয়েক পর সাহস করে ইউনূস স্যারের ওপর একটা চমৎকার ব্যঙ্গ রচনা লিখি দৈনিক মানবজমিনে। এই লেখাটি বিশেষ কারণে উজ্জ্বল। সে সময়ে আর কোনো লেখক সাহস করেনি স্বৈরাচারের রোষানলে পড়া এই বিজ্ঞানীকে নিয়ে কিছু লিখতে। সেটাই ছিলো স্যারের দুঃসহ সেই দিনে তাঁকে নিয়ে প্রথম আর্টিকেল আর তা ছাপিয়ে দেন মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী ওরফে আমাদের প্রিয় মতি ভাই। লেখাটা এতোই সাড়া ফেলেছিলো যে, নিউইয়র্ক থেকে আমেরিকান লেডি, ফ্রান্স থেকে ফরাসী যুবক, ডেনমার্ক- নরওয়ে- সিঙ্গাপুর- সুইডেনসহ অনেক দেশ থেকে প্রবাসী বাংলাদেশিরা আমাকে বাহবা দিয়ে ই-মেইল পাঠাচ্ছিলেন। লেখাটা এখনো আমার সংগ্রহে আছে। সেই দুর্যোগপূর্ণ বছরগুলোয় (২০১১-২০১৩) আমি মাঝে মাঝেই ইউনূস সেন্টারে যেতাম। সেখানের কিছু চমৎকার অফিসিয়ালদের সাথে আড্ডা দিতে। এটাও আমার অভ্যাস। পছন্দের জায়গার মানুষদের সাথে আমি আড্ডা দিতে পছন্দ করি বিশেষ করে যখন তারা মানসিক চাপে থাকে। এরপর অবশ্য কিছু কারণে আর যাওয়া হয়নি।
মজার কথা দিয়ে শেষ করি। ইউনূস স্যারের সাথে আমার এরপর একাধিকবার দেখা হলেও উনাকে যে আমার বই উৎসর্গ করেছিলাম, সেটা মনেই ছিলোনা। তাঁকে এক কপি দেয়াও হয়নি। বই উৎসর্গের বিষয়ে আসিফ নজরুল ভাইয়ের সাথে আমার এক আজব অতীন্দ্রিয় যোগাযোগ আছে। আমি দু'জন বিখ্যাত মানুষকে বই উৎসর্গ করেছি। লেখক হুমায়ূন আহমেদকে আর ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূসকে। হুমায়ূন স্যারকে উৎসর্গ করা বই দিতে যখন বইমেলার স্টলে যাই, আসিফ নজরুল ভাইকে ক্রস করেছিলাম। তিনি পেয়েছেন হুমায়ূন স্যারের মেয়েকে। আর ইউনূস স্যারকে ২০১১-তে সান্ত্বনা দিতে গিয়ে সোনারগাঁও বলরুমে আসিফ ভাইকে উঁকি দিতে দেখতে পাই। তিনি পরের বছর পান স্পেনের রাণীকে। উনার উচিৎ এই অতীন্দ্রিয় কেমিস্ট্রির সুফল নিতে মাঝে মাঝে হাতে কোনো পাথর নিয়ে এসে আমার সাথে দেখা করা। আমি পাথরটা ছুঁলেই সেটা উনার জন্য সোনা হয়ে যাবে।
প্রিয় ইউনূস স্যার। আপনার আমার কাছে একটা পাওনা আর একটা দেনা আছে। পাওনাটা হলো ১৭ বছর আগে আপনাকে উৎসর্গ করা আমার বইটা। সেটা আপনাকে দিয়ে আমি দায়মুক্ত হতে চাই। আর আপনার দেনাটা হলো , আপনি ছিনতাই হওয়া গ্রামীণ ব্যাংক আবার আপনার কাছে ফিরিয়ে এনে আমাকে খুশিতে হাসিয়ে দেবেন। এবার হাসবো, কাঁদবো না । আপনি দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেয়ায় আমি যারপরনাই খুশি হয়েছি। দেশে নানা ঘটনা ঘটছে । চোখ কান খোলা রাখবেন। নেইল আর্মস্ট্রং চাঁদ জয় করতে পেরেছিলেন নাসার সদা জাগ্রত সুতীক্ষ্ণ ও দক্ষ বিজ্ঞানীদের সহায়তায়।
আপনাকে অভিনন্দন ও সালাম। আল্লাহ আমাদের সহায় হোন।
লেখক: নাট্যকার-ফিল্মমেকার
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আওয়ামী লীগের ভাঙা সাংস্কৃতিক বোমা ও নতুন বাংলাদেশ by কাজী জেসিন
রক্তের দাগ এখনও শুকায়নি, এরই মাঝে শুরু হয়েছে নতুন খেলা। গুম, খুন, হত্যার হোলি-খেলার মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকা আওয়ামী লীগ একই পথে আবারও এখন তাদের 'হারানো স্বর্গ' ফিরে পাবার লক্ষ্যে নানামুখি ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।
আওয়ামী লীগের মূল রাজনৈতিক পুঁজি বা 'সেলিং পয়েন্ট'র একটি ছিল 'মুক্তিযুদ্ধের চেতনা'।এই দলটি মধ্যবিত্ত জনগোষ্ঠীর একটি বড়ো অংশের মধ্যে এই বিশ্বাস একসময় সৃষ্টি করতে পেরেছিল যে, তারা মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তি।
আওয়ামী লীগ নেত্রী নিজে যুদ্ধাপরাধীর ঘরে তাঁর মেয়েকে বিয়ে দিয়ে, তাদেরকে নিজ পরিবারের সদস্য করে, বিচারের ব্যবস্থা করেছিলেন বিরোধী রাজনীতির কথিত যুদ্ধাপরাধীদের দেশে ও আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচিত এক বিচার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ধ্বজাধারী হয়ে নিজের দলের বাইরের প্রতিটি নাগরিককে তারা চিত্রিত করেছে রাজাকার হিসেবে। বিরোধীমতের সকলকে আখ্যা দেয়া হয়েছে পাকিস্তানের দোসর বলে।
মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বাণিজ্য করতে করতে রাজনৈতিক মুনাফায় ফুলে ফেঁপে ওঠা আওয়ামী লীগ বৈষম্যের বিরুদ্ধে দেশের মেধাবী তরুণ প্রতিবাদী ছাত্রদেরকেও অভ্যাসবসত রাজাকার বললে, কে আসলে একুশ শতকের রাজাকার, কে আসলে দেশ-বিরোধী শক্তি তা' দিনের আলোর মতো দেশের আপামর জনগোষ্ঠীর কাছে পরিষ্কার হয়ে যায়। জন্ম হয় এক নতুন বাংলাদেশের। উন্মোচিত হয় বাংলাদেশের জন্য এক নতুন দিগন্ত। আর আওয়ামী লীগ হারিয়ে ফেলে তাদের দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার করা পুঁজি, তাদের রাজনীতির মূল সেলিং পয়েন্ট। আর তাই ছাত্রদের মিছিলে সারাদেশ মুখরিত হয়ে ওঠে 'ভুয়া' শব্দে।
ছাত্রদের খুনের অপরাধ কাঁধে নিয়ে পরাজিত আওয়ামী লীগ এখন দেশের পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করার জন্য এবং দল হিসেবে টিকে থাকার জন্য ব্যাবহার করছে তাদের দ্বিতীয় পুঁজি - সাম্প্রদায়িকতা। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ছিল প্রায় ষোলো বছর। এই ষোলো বছরে বাংলাদেশ থেকে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর সংখ্যা কমেছে। পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে আমরা দেখি ২০১১ সালে ধর্মীয় এবং জাতিগত সংখ্যালঘুরা জনসংখ্যার ৯.৬১ শতাংশ ছিল, যার মধ্যে হিন্দু ছিল ৮.৫৪ শতাংশ, বৌদ্ধ ০.৬২ শতাংশ, খ্রিস্টান ০.৩১ শতাংশ এবং অন্যান্য ০.১৪ শতাংশ। আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনামলে ২০২২ সালের মধ্যে বাংলাদেশের হিন্দু জনসংখ্যা ৭.৯৫ শতাংশে নেমে আসে। তারপরেও এই দলটিই সংখ্যালঘুদের রক্ষার দাবি করে।
এছাড়া আমরা দেখেছি বিগত পনেরো বছরে হিন্দু, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের উপর অসংখ্য নিপীড়নের ঘটনা। শেখ হাসিনার অত্যন্ত বিশ্বস্ত এবং নানা সময়ে পুরস্কৃত পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ দখল করেছেন হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকদের শত শত বিঘা জমি। মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে গোপালগঞ্জের হিন্দুদের ‘শত শত বিঘা’ জমি দখলের অভিযোগ এনে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্ত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ওই এলাকা ঘুরে দেখার অনুরোধও জানিয়েছিলেন। শেখ হাসিনা কি হিন্দু সম্প্রদায়ের দখল হয়ে যাওয়া জমি ফিরিয়ে দিয়েছিলেন ? গোপালগঞ্জ শেখ হাসিনার নিজের নির্বাচনী এলাকা। তিনি নিজের এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা দিতেও কোনো উদ্যোগ নেন নি।
মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের ২০২১ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৩ সালের জানুয়ারি থেকে '২১-এর সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর ৩,৬৭৯টি আক্রমণ সংঘটিত হয়েছে।
২০১৯ সালে হিন্দু, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের অধিকার রক্ষায় কাজ করা প্রতিষ্ঠান 'শাড়ি'র পরিচালক প্রিয়া সাহা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করে বলেছিলেন, সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ৩৭ মিলিয়ন মানুষ নিখোঁজ। কারা তাদের গৃহহারা করেছে জানতে চাইলে প্রিয়া সাহা ইতঃস্তত করে মুসলিম ফান্ডামেন্টালিস্টদের কথা বলেন এবং তিনি এও বলেন যে, এই মৌলবাদীরা সবসময় রাজনৈতিক আশ্রয় পেয়েছে। তিনি বলেছিলেন বিচার না পাবার কথা। লক্ষ্য করতে হবে ২০১৯ সালে তিনি যখন এই কথা বলছেন তখন ইতোমধ্যে আওয়ামী শাসনামলের প্রায় ১০ বছর পেরিয়েছে। এর অর্থ এই দাঁড়ায় যে আওয়ামী শাসনামলে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী বেশি নিপীড়নের শিকার হয়েছে। আমি মনে করি, আজ আমাদের এই তথ্যগুলো ঘেঁটে দেখার সময় এসেছে। জানা দরকার, কেন প্রিয়া সাহাকে সেদিন ওবায়দুল কাদের মামলার হুমকি দিয়েছিলেন।
দ্বিতীয় যে ট্রাম কার্ডটি আওয়ামী লীগ ব্যবহার করে আসছে তা হলো 'অসাম্প্রদায়িকতা'। ভারত ও পাশ্চাত্যের ইসলামফোবিয়ার ফায়দা হাসিল করতে দৃশ্যপটে ইসলামী মৌলবাদকে তুলে ধরা এবং নিজেদের অসাম্প্রদায়িকতার বাহক হিসেবে হাজির করা তাদের আরেকটি কৌশল। সে অপকৌশলের অংশ হিসেবেই আওয়ামী লীগ এক ঢিলে দুই পাখি মেরে চলেছে বহু বছর ধরে। এখন যখন আমরা দেখি যে, বিভিন্ন মন্দিরে আওয়ামী লীগ নেতাদের আদেশে হামলা হচ্ছে, আওয়ামী লীগ কর্মীরা প্রতিবেশী হিন্দুর বাড়িতে হামলা করছে, গাড়ি পুড়িয়ে দিচ্ছে, আমাদের জানার সময় এসেছে বিগত সময়গুলোতে যখন আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় ছিল তখন কিভাবে ৩৭ মিলিয়ন (প্রিয়া সাহার তথ্যমতে) হিন্দু, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী গুম হয়েছে এবং কীভাবে অপরাধীরা রাজনৈতিক প্রশ্রয় পেয়েছে। কারা ছিল তারা? ক্ষমতাকে ব্যবহার করে ইসলামিস্টের মুখোশ পরে বিভিন্ন সংখ্যালঘুদের উপর হামলা, নিপীড়ন কারা করেছে- তা জানার সময় এসেছে এখন।
আমরা যা বিশ্বাস করি তার বেশিরভাগই ক্ষমতাবানদের তৈরি করা ন্যারেটিভ। আর এই বয়ানের বাইরের কিছু দেখলে তা আমাদের অবাক করে, এবং অনেকে তা ইগনোরও করেন, কারণ তাতে তাদের লাভ হয়। কিন্তু যত দ্রুত আমরা সত্যকে অনুধাবন করবো, যত তাড়াতাড়ি আমরা মিলনের সম্ভাবনাকে আলিঙ্গন করবো তত দ্রুত আমরা ক্ষত কাটিয়ে জাতি হিসেবে এগিয়ে যেতে পারবো।
দ্বিতীয় স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে সংযুক্ত হয়েছে এক নতুন দৃশ্য। মন্দির পাহারা দিচ্ছেন মাদ্রাসার ছাত্ররা। এই সৌহার্দ্য, এই দায়িত্ববোধ, এই ঐক্যের গুরত্ব অপরিসীম। বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিগত তিনটি মেয়াদে নগ্ন হস্তক্ষেপ করে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় রেখে নানান সুবিধা নিয়ে আসা ভারত এখন বাংলাদেশের সংখ্যালঘুর উপর নির্যাতনের কাহিনীকে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে বড় করছে। তারা মিথ্যা তথ্য প্রচার করে বাংলাদেশের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করছে। আওয়ামী লীগ ও ভারত উভয় মিলে যা করছে তা হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানদের জন্যই ভয়ানক ক্ষতিকারক।
বিগত ক’দিনে এ পর্যন্ত এমন কোনো প্রমাণ মেলেনি যেখানে আমরা দেখতে পাই যে, বাংলাদেশে কোনো প্রতিক্রিয়াশীল মুসলিম কোনো হিন্দু, বৌদ্ধ বা খ্রিষ্টান পরিবারের উপর হামলা করেছে। অথচ অনেকেই এটা প্রচার করতে ভালোবাসে যে, ইসলামিক আইন যারা পাঠ করছে তারাই প্রতিক্রিয়াশীল এবং তারাই হিন্দু, বৌদ্ধ বা খ্রিস্টানদের উপর হামলা করে। এই ইসলামোফোবিয়া থেকে বাংলাদেশের মানুষ বের হয়ে আসছে। গত ক’দিনে মাদ্রাসার ছাত্রদের লক্ষ্য করে আমি হিন্দু ধর্মাবলম্বী অনেককে বলতে শুনেছি: “এই ভাইরা আমাদের পাহারা দিয়েছেন।”
দেশে একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করে আওয়ামী লীগ তাদের দ্বিতীয় সেলিং পয়েন্টটাও হারিয়ে ফেলছে। দিনের আলোর মতো পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িকতার গুল্মে আগুন দিয়ে উত্তাপ ছড়াতে চায়। কিন্তু বাংলাদেশ ফিনিক্স পাখির মতো ছাই থেকে বেঁচে উঠছে। আমাদেরকে বাঁচতে হবে সবাইকে নিয়ে, সকলে মিলে, একসাথে। হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানদের বাঁচাতে সবাই এগিয়ে আসুন।আর একটি হিন্দু, বৌদ্ধ, বা খ্রিস্টান ভাইয়ের গায়ে যেনো কোনো আঘাত না আসে।আর একটি বোনের যেন আতংকে থাকতে না হয় একদিনও।
আফ্রিকান বিপ্লবী লেখক নগুগি ওয়া থিয়াঙ্গোর কথা, “সাম্রাজ্যবাদ সবচেয়ে বড় যে অস্ত্র প্রতিদিন সম্মিলিত প্রতিরোধের বিরুদ্ধে ব্যবহার করে তা হলো সাংস্কৃতিক বোমা। সাংস্কৃতিক বোমার প্রভাব হলো মানুষের নাম, তাদের ভাষা, তাদের পরিবেশ, তাদের সংগ্রামের ঐতিহ্য, তাদের ঐক্য, তাদের সক্ষমতা এবং শেষ পর্যন্ত নিজেদের ওপর বিশ্বাসকে ধ্বংস করা।” এরকম মানসিক নিয়ন্ত্রণ যে কোনো প্রভাবশালী শক্তি দ্বারা সম্পন্ন হতে পারে, যা আওয়ামী লীগ এতদিন ধরে করে এসেছে। আশার কথা হলো আওয়ামী লীগের সেই সাংস্কৃতিক বোমা ধ্বংস হয়ে গেছে।
বাংলাদেশ এক অন্ধকার গভীর গর্ত থেকে উঠে আসছে, আমাদের সন্তানসম ছাত্রদের প্রাণের বিনিময়ে। এ এক অদ্ভুত করুণ সত্য! মার্ক টোয়েন বলেছেন, "সত্য গল্পের চেয়েও অদ্ভুত, তবে তা সম্ভবত এজন্যই যে, গল্প সম্ভাবনার মধ্যে সীমাবদ্ধ; সত্য নয়।"
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সাবেক মুখ্য সচিবের সুস্থ ছেলে ঢাবিতে পড়েছেন প্রতিবন্ধী কোটায় by মুনির হোসেন
সূত্রমতে, ফারাবি এন এ রহমান ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের ‘গ’ ও ‘ঘ’ ইউনিটে ভর্তি আবেদন করেন। ভর্তি আবেদন ফরমে দুটি ইউনিটের কোনোটিতেই তিনি প্রতিবন্ধী কোটার পাশে টিক চিহ্ন দেননি। ওই বছরের ১৬ই অক্টোবর অনুষ্ঠিত ‘গ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় ১৪৫ দশমিক ৫৬ স্কোর পেয়ে ২ হাজার ৭৩৫তম মেধাক্রমে উত্তীর্ণ হন তিনি।
ইউনিটটিতে ভর্তিযোগ্য আসন ছিল ১ হাজার ১৭০টি। মেধাক্রম অনুযায়ী ফারাবির বিভাগ পাওয়ার কথা না। কিন্তু তিনি ভর্তি হয়েছেন শিক্ষার্থীদের পছন্দের শীর্ষে থাকা ফিন্যান্স বিভাগে। এক্ষেত্রে নিয়ম ভেঙে তার ভর্তি দেখানো হয়েছে ‘শ্রবণ প্রতিবন্ধী’ কোটায়। ফারাবির সহপাঠী, শিক্ষক ও পরিচিতজনরা জানিয়েছেন, তিনি কখনো শ্রবণ প্রতিবন্ধী ছিলেন না। তার চলাফেরা স্বাভাবিকই ছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক বলেন, আমি ওদের ব্যাচের কোর্স পড়িয়েছিলাম। ও ক্লাসে ভালোই রেসপন্স করতো। ওর প্রেজেন্টেশন দেখেছি। ক্লাসের বাইরেও সামনাসামনি ওর সঙ্গে কথা হয়েছে। ওর কানে কখনো হিয়ারিং এইড (শ্রবণ সহায়ক যন্ত্র) দেখতে পাইনি। তার আরেক সহপাঠী বলেন, সে আমাদের সঙ্গে স্বাভাবিক চলাফেরা করতো। তার মধ্যে শ্রবণ প্রতিবন্ধীর কোনো লক্ষণই ছিল না।
নিয়ম অনুযায়ী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোটায় ভর্তির বিষয়গুলো যাচাই-বাছাইয়ের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট অনুষদের। ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর প্রবেশপত্র দেখানো সাপেক্ষে নির্ধারিত ফরম সংগ্রহ করতে হয়। ওই ফরম পূরণ করে তার সঙ্গে প্রতিবন্ধী কোটা সঠিকতার সনদ জমা দিতে হয়। পরবর্তীতে ডিন অফিসের নির্দিষ্ট কমিটি কোটার বিষয়গুলো যাচাই-বাছাই করে কেন্দ্রীয় ভর্তি অফিসে কোটায় ভর্তির সুযোগ পাওয়া শিক্ষার্থীদের একটি আলাদা তালিকা পাঠায়। তার ভিত্তিতেই শিক্ষার্থীর রেজিস্ট্রেশন ও ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষে ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ থেকে কেন্দ্রীয় ভর্তি অফিসে পাঠানো প্রতিবন্ধী কোটায় ভর্তির সুযোগ পাওয়া শিক্ষার্থীদের তালিকায় রয়েছে ফারাবি এন এ রহমানের নাম। তাকে শ্রবণ প্রতিবন্ধী হিসেবে দেখানো হয়। ডিন অফিসের নির্দেশনার আলোকে ফারাবি রহমানের ভর্তি ও রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। তার ভর্তি ও রেজিস্ট্রেশন ফরমেও প্রতিবন্ধী কোটার বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্নের পর ফিন্যান্স বিভাগে কয়েকটি ক্লাসেও অংশ নেন ফারাবি। তবে ওই বছরের ৬ই নভেম্বর অনুষ্ঠিত সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের অধীন ‘ঘ’ ইউনিটের ফল প্রকাশের পর দৃশ্যপট বদলাতে শুরু করে। ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় ১৪৫ দশমিক ৫ স্কোর পেয়ে ১৫১তম মেধাক্রমে উত্তীর্ণ হন ফারাবি। যেহেতু ‘ঘ’ ইউনিটে প্রায় দেড় হাজারের মতো শিক্ষার্থীর আসন ছিল, তাই কোনো ধরনের কোটা সুবিধা ছাড়াই লোক প্রশাসন বিভাগে ভর্তির সুযোগ পান তিনি। তারই ধারাবাহিকতায় ফিন্যান্স বিভাগের ভর্তি বাতিলের আবেদন করেন ফারাবি। আবেদনপত্রে বলা হয়, ‘আমি ফারাবি এন. এ. রহমান, পিতা- মো. নজিবুর রহমান, ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষে ‘গ’ ইউনিটের মাধ্যমে শ্রবণ প্রতিবন্ধী কোটায় ফিন্যান্স বিভাগে ভর্তি হয়েছি। আমার শারীরিক সমস্যার কারণে ফিন্যান্স বিভাগে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয় বিধায় আমি আমার ভর্তি বাতিল করতে ইচ্ছুক। বর্তমানে আমি ‘ঘ’ ইউনিটের মাধ্যমে মেধাক্রম অনুযায়ী লোকপ্রশাসন বিভাগ পেয়েছি এবং ভর্তি আংশিক সম্পন্ন করেছি। সম্পূর্ণ ভর্তির কাজ শেষ করতে হলে আমার ফিন্যান্স বিভাগের ভর্তিটি বাতিল করতে হবে এবং ফিন্যান্স বিভাগের এসআইএফ (স্টুডেন্ট ইনফরমেশন ফরম) রেজিস্ট্রার অফিসে জমা দিতে হবে। অন্যথায় লোকপ্রশাসন বিভাগের নামে এসআইএফ প্রিন্ট হবে না। অতএব, আমার ফিন্যান্স বিভাগের ভর্তিটি বাতিল করে লোকপ্রশাসন বিভাগে ভর্তির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আপনাকে বিশেষভাবে অনুরোধ করছি।’ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের কাছে করা আবেদনপত্রটিতে মাধ্যম হিসেবে উল্লেখ করা হয় সংশ্লিষ্ট অনুষদের ডিন ও ফিন্যান্স বিভাগের চেয়ারম্যানকে। যদিও আবেদনপত্রে অনুষদের ডিনের সুপারিশ থাকলেও বিভাগীয় প্রধানের কোনো সুপারিশ ছিল না। এ বিষয়ে আবেদনপত্রে প্রশাসনিক ভবনের একজন কর্মকর্তা নোট দিয়ে বলেন, ‘চেয়ারম্যানের সুপারিশ বা মতামত নেই। বিভাগে টেলিফোন করে জানা যায়, ভর্তি বাতিল সম্পর্কে তারা অবহিত নয়।’ ত্রুটিপূর্ণ ওই আবেদনের মাধ্যমেই ফারাবির ফিন্যান্স বিভাগের ভর্তি বাতিল করে লোকপ্রশাসন বিভাগে ভর্তির সুযোগ করে দেয়া হয়। বিপত্তি ঘটে, লোকপ্রশাসন বিভাগে মেধাক্রমের ভিত্তিতে ভর্তির সুযোগ পেলেও তার রেজিস্ট্রশন প্রতিবন্ধী কোটায় থেকে যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ভর্তি অফিসের সঙ্গে যুক্ত একজন কর্মকর্তা বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একবার কোনো শিক্ষার্থীর রেজিস্ট্রেশন যে ক্যাটাগরিতে সম্পন্ন হয়। পরবর্তীতে অন্য ইউনিটে ভর্তি হলেও সেটিও আগের রেজিস্ট্রেশনের আলোকে করতে হয়। ফারাবির ক্ষেত্রেও একই বিষয়টি ঘটে। তবে সংশ্লিষ্ট দুইজন ডিন নানাভাবে ফারাবির রেজিস্ট্রেশন থেকে প্রতিবন্ধী কোটা বাদ দেয়ার চেষ্টা করেন। এমনকি তৎকালীন ভাইস চ্যান্সেলরের কাছেও এ বিষয়ে তদবির করেন। যদিও এ ধরনের কোনো সুযোগ না থাকায় সে অনুরোধ রাখা সম্ভব হয়নি।
এদিকে ভর্তি কার্যক্রমের মতো প্রশ্ন রয়েছে ফারাবির একাডেমিক ফলাফলেও। সহপাঠীদের ভাষ্য মতে, প্রথম বর্ষের দিকে ফারাবির ফলাফলের অবস্থা খুব বেশি ভালো ছিল না। যদিও রাষ্ট্রের প্রভাবশালী কর্মকর্তার সন্তান হিসেবে বিভাগে পরিচিতির পাশাপাশি ফলাফলও উন্নতি হতে থাকে। স্নাতক প্রথম বর্ষে ফারাবির সিজিপিএ ছিল ৩ দশমিক ২২। আর স্নাতক সম্পন্ন করেছেন ৩ দশমিক ৫৯ ফলাফল নিয়ে। স্নাতকোত্তরে এসে আরও ভালো ফল অর্জন করেছেন শেখ হাসিনা সরকারের সাবেক এই কর্মকর্তার ছেলে। স্নাতকোত্তর শ্রেণিতে তার সিজিপিএ ৩ দশমিক ৬৯।
এ বিষয়ে জানতে ফারাবি এন এ রহমানের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রতিবেদকের পরিচয় শুনে ভুল নম্বর বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। অন্যদিকে তার পিতা এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান বলেন, ছেলের মেডিকেল কন্ডিশন থাকায় আমরা তাকে প্রথমে কোটায় ভর্তি করিয়েছিলাম। কিন্তু পরবর্তীতে যেহেতু মেধায় চান্স পেয়েছে তখন তাকে আবার কোটা ছাড়া ভর্তি করাতে চেয়েছি। আর এটা অনেক পুরনো বিষয় হওয়ায় এখন বলতে পারছি না কীভাবে ভর্তি ফরম পূরণ করা হয়েছে। আমার ছেলে মেধার ভিত্তিতে ভর্তি হয়েছে। সে ভালো ফলাফলও করেছে। তিনি বলেন, চিকিৎসা করায় এখন ছেলে সুস্থ হয়ে গেছে। আর পরবর্তী পরিস্থিতিতে আমাদের দেশ এগিয়ে যাচ্ছে এখন একজন ব্যক্তিকে ধরে এ ধরনের প্রতিবেদন না করাই উত্তম বলে মনে করি। আমাদের সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। অন্যদিকে অনিয়মে সহায়তাকারী সাবেক ডিন প্রফেসর শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও এ বিষয়ে সাড়া দেননি। জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকলে চরম অন্যায় হয়েছে। যেমন করে পুলিশের সাবেক আইজি বেনজীর আহমেদকে যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও ভর্তি করানো হয়েছে। এটা চরম অন্যায়, দুর্নীতি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তিকে দলমত নির্বিশেষে আমরা সব সময় স্বচ্ছতার মধ্যে দেখতে চাই। কিন্তু আওয়ামী লীগ যেভাবে সারা দেশে অনিয়ম করেছে এটাও তারই প্রমাণ। তা না হলে এ রকম কেন হবে? এনবিআরের চেয়ারম্যান তো চাইলে তার ছেলেকে টাকা পয়সা খরচ করে অন্য কোথাও পড়াতে পারতেন। কেন তিনি অনিয়মের আশ্রয় নিলেন। মিথ্যা তথ্য দিয়ে ভর্তি করানোর তীব্র নিন্দা জানাই। মূলত যখন ন্যায়বিচার, মূল্যবোধ, সততা থাকে না তখন এ ধরনের কাজ করা সম্ভব। আমি মনে করে যদি ঘটনা সত্য হয়ে থাকে তাহলে বর্তমান প্রশাসন বিষয়টির শাস্তি নিশ্চিত করবে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সিলেটে সাম্প্রদায়িক হামলা নিয়ে ধোঁয়াশা by ওয়েছ খছরু
এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- সাবেক এমপি এডভোকেট রঞ্জিত সরকারে গোপালটিলার বাসা, নগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি জগদীশ দাসের ফার্মেসি ও কার্যালয়, স্বেচ্ছাসেবক লীগ জেলার সিনিয়র সহ-সভাপতি পিযূষ কান্তি দে’র বাড়ি, সেক্রেটারি দেবাংশু দাশ মিঠুর বাড়িসহ কয়েকজন সিনিয়র ও জুনিয়র নেতার বাড়িঘরে হামলার ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, রাজনৈতিক কারণ থেকে সিলেটে সনাতন ধর্মাবলম্বী আওয়ামী লীগ নেতাদের বাসায় ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। তবে; কোথাও কোনো মন্দিরে সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনা ঘটেনি। সিলেট নগর পূজা উদ্যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক চন্দন দাস মানবজমিনকে জানিয়েছেন, সিলেটের কোথাও মন্দির কিংবা মণ্ডপে হামলার কোনো ঘটনার খবর আমাদের কাছে নেই। বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটেছে। সেগুলোকে সাম্প্রদায়িক হামলা বলা যৌক্তিক হবে না। তবে নগরের ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বিক্রম কর সম্রাটের দাড়িয়াপাড়াস্থ বাসায় হামলা হয়েছে। জানান, যাদের বাসায় হামলা হয়েছে সেগুলো রাজনৈতিক নেতার বাসা বা বাড়ি। নগরের ১২ নম্বর ওয়ার্ডের ভাঙ্গাটিকর এলাকায় জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের পীযূষের বাসায় হামলার ঘটনাকালে তার পারিবারিক মন্দির কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর রটেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কাউন্সিলর সিকন্দর আলী।
সার্বজনিন মন্দিরে কেউ হামলা করেনি। সেটি তার নেতৃত্বে স্থানীয় এলাকাবাসী রক্ষা করেছেন। জায়গা দখলের উদ্দেশ্যে নগরের জিন্দাবাজারে রাধা গোবিন্দ জিউর আখড়ায় বিএনপি নেতা এজাজ উদ্দিনের নেতৃত্বে ৮ই আগস্ট বিকালে একদল দুর্বৃত্ত হামলা চালিয়েছিল। সেবায়েত রাহুল দেবনাথ জানিয়েছেন, এজাজ দীর্ঘদিন দেবোত্তর সম্পত্তি দখলে রেখে হোটেল ‘ক্যাফে নূরজাহান’সহ আরও কিছু প্রতিষ্ঠান দখলে রেখেছেন। বৃহস্পতিবার দুষ্কৃতকারীদের নিয়ে হিন্দুদের মন্দিরের প্রধান গেটে তালা ঝুলিয়ে দেয় ও হিন্দুদের ঘরবাড়ি লুটপাট করার চেষ্টা করে এবং হিন্দু ব্যবসায়ীর দোকান দখল করতে এসে শাটার-এ তালা ঝুলিয়ে দেয়। পরে পাড়ার হিন্দুদের সম্মিলিত প্রতিক্রিয়ায় উদ্ধার হয়। পরবর্তীতে স্থানীয় বিএনপি নেতা ও সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় তালা খোলা হয়। ওখান থেকে সেনা সদস্যরা ৪ জনকে আটক করে নিয়ে যান। বিএনপি’র চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরসহ স্থানীয় বিএনপি নেতারা এলাকা পরিদর্শন করেছেন। তবে এটি কোনো সাম্প্রদায়িক হামলা নয় বলে দাবি করেছেন মন্দিরের সেবায়েত অংশ। মন্দিরের ভূমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে। সিলেট জেলার কোথাও মন্দির কিংবা সনাতন ধর্মীয় কোনো উপাসনালয়ে হামলার কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছেন পূজা উদ্যাপন পরিষদের জেলার সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট রঞ্জন ঘোষ। তিনি জানান, জকিগঞ্জ ও জৈন্তাপুরে ৩টি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে। ছাত্র-জনতার বিজয় আনন্দের দিন জকিগঞ্জের কালিগঞ্জে সজল নামে এক ব্যবসায়ীর মিষ্টির দোকান ও গুদাম লুটপাট করা হয়েছে। জকিগঞ্জ বাজারে সুজন দেব’র একটি জুয়েলারি দোকানে হামলা ও লুটপাটের খবর তাদের কাছে এসেছে।
একই সময় জৈন্তাপুরের হাজারী সেনগ্রামে স্কুল শিক্ষক দুলাল দেবের বাড়িতে হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে বলে জানান তিনি। ওই ৩ ঘটনায় আক্রান্তরা নির্দলীয় ব্যক্তি বলে দাবি করেন এডভোকেট রঞ্জন। তিনি জানান, সবকিছু স্বাভাবিক হলে তাদের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে আইনি উদ্যোগ নেয়া হবে। এদিকে দেশের বিভিন্ন স্থানে হিন্দুদের বাড়িঘর-মন্দিরে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, হামলা, লুটপাটের প্রতিবাদে সম্মিলিত সনাতনী ছাত্র সমাজের উদ্যোগে রোববার বিকালে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়। সেখান থেকে সরকারের কাছে ৮ দফা দাবি উপস্থাপন করা হয়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে সিদ্ব মাধব দাস এ সংক্রান্ত একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি গণমাধ্যমে প্রেরণ করেছিলেন। তিনি আবার সিলেট ইসকনের সংশ্লিষ্ট পুরোহিতও। গতকাল যোগাযোগ করা হলে সিদ্ব মাধব দাস মানবজমিনকে জানিয়েছেন, দেশব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে সিলেটে এটি পালন করা হয়েছে। বৃহত্তর সিলেটে ইসকনের ২০টি মন্দির রয়েছে। নগরের কাজলশাহ এলাকায় তাদের সবচেয়ে বড় মন্দির। এসব মন্দির কিংবা উপাসনালয়ে কোনো হামলা হয়নি।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত দেশের ৬২ দশমিক ৯ শতাংশ শিক্ষার্থী
চীনের নানজিং ইউনিভার্সিটির স্কুল অব দ্য এনভায়রনমেন্টের পিএইচডি শিক্ষার্থী মো. আবু বকর সিদ্দিকের তত্ত্বাবধানে বিখ্যাত উইলি পাবলিশারের ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল হেলথ সায়েন্স রিপোর্টের আগস্ট সংখ্যায় এ গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে। এ গবেষণায় মোট ৮ হাজার ৮৩২ জন কিশোর-কিশোরী অংশগ্রহণ করে। গবেষণার ফলাফল অনুযায়ী, ৬৩% শিক্ষার্থী ইন্টারনেট আসক্তিতে, ৭৬.৬% শিক্ষার্থী বিষণ্নতায় এবং ৬২.৯% শিক্ষার্থী পর্নোগ্রাফি আসক্তিতে ভুগছে। বিষণ্নতা এবং উদ্বেগজনিত লক্ষণগুলি ইন্টারনেট আসক্তির সঙ্গে উল্লেখযোগ্যভাবে সম্পর্কিত। গবেষণার বিষয়ে মো আবু বকর সিদ্দিক বলেন, গবেষণায় প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মেয়ে শিক্ষার্থীরা ছেলে শিক্ষার্থীদের তুলনায় বেশি বিষণ্নতায় ভুগছে। অপরদিকে, ছেলে শিক্ষার্থীরা মেয়ে শিক্ষার্থীদের তুলনায় পর্নোগ্রাফি আসক্তিতে বেশি ভুগছে। ইন্টারনেট আসক্তি, বিষণ্নতা এবং পর্নোগ্রাফি আসক্তির নেতিবাচক প্রভাব কিশোর-কিশোরীদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের উপর গভীরভাবে প্রভাব ফেলে।
এ গবেষক আরও বলেন, গবেষণাটি ইন্টারনেট আসক্তি, বিষণ্নতা এবং পর্নোগ্রাফি আসক্তি হ্রাসে সমন্বিত মানসিক স্বাস্থ্য চিকিৎসা, ডিজিটাল লিটারেসি প্রোগ্রাম এবং পরিবার ও শিক্ষকদের অংশগ্রহণের প্রয়োজনীয়তার উপর গুরুত্বারোপ করেছে।
এ গবেষণায় অবদান রেখেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইরিন পারভিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মো. খালিদ সাইফুল্লাহ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আখের আলী, ইউনিভার্সিটি সাইন্স মালয়েশিয়ার আল মাহমুদ, যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস টেক ইউনিভার্সিটির মেহেদী হাসান, মালয়েশিার আলবুখারী ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শেখ মুযযাম্মিল হোসেন, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মোনিয়া মঞ্জুর, ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি চট্টগ্রামের যোবায়ের আহমেদ এবং ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব প্রিভেন্টিভ অ্যান্ড সোশ্যাল মেডিসিনের (নিপসম) মোহাম্মদ মেসবাহউর রহমান।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগ চাইলেন ইশরাক
সোমবার (১২ আগস্ট) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে এ দাবি করেন তিনি।
ইশরাক লিখেছেন, ‘অবিলম্বে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা সাখাওয়াত হোসেনের পদত্যাগ চাই।’
প্রসঙ্গত, সোমবার সকালে ছাত্র আন্দোলনের সময় আহত আনসার সদস্যদের চিকিৎসার খোঁজখবর নিতে ঢাকায় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) গিয়ে আওয়ামী লীগকে দল পুনর্গঠনের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনারা আপনাদের পার্টি রিঅর্গানাইজ করেন। এই পার্টির অনেক অবদান আছে বাংলাদেশে। এটা আমরা অস্বীকার করতে পারি না।’
তিনি বলেন, ‘লোক জড়ো করেন আর যাই করেন এমন কিছু করবেন না যাতে আপনাদের জীবন বিপন্ন হয়। এ দেশের পাবলিক এখনো আপনাদের গ্রহণ করতে আসেনি। আমি বরং মনে করি আপনারা আপনাদের পার্টি রিঅর্গানাইজ করেন। এই পার্টির অনেক অবদান আছে বাংলাদেশে। এটা আমরা অস্বীকার করতে পারি না। পার্টিকে রিঅর্গানাইজ করেন, পলিটিক্যাল পার্টির মতো যেভাবে থাকে। ইলেকশন এলে ইলেকশন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এই স্বপ্নটা যদি আপনারা দেখেন তাহলে কী করবেন আপনারা এই দেশটা আরেকজনের হাতে তুলে দেবেন না।’
এ সময় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘এদেশের লোক এত তাড়াতাড়ি ভুলে নাই। সময় দেন হয়তো ভুলে যাবে। কিন্তু এত তাড়াতাড়ি ভোলে নাই। কারণ যাকে নেতা ধরছিলেন সেই নেতারা এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যাকে ধরছে তাকে আমরা বাঁচাতে পারছি না। অনেক নেতাকে অনেকে বাঁচিয়েছে। আমরা জানি কে কোথায় আছে। কিন্তু ওটা না করে আপনারা বরং পার্টিকে, এটা অনেক বড় পার্টি। অ্যান্ড আই হ্যাভ লট অব রেসপেক্ট ফর আওয়ামী লীগ। এক সময় আমাদের মতো বাঙালিদের তাদের ভরসার জায়গা ছিল এই পার্টি। বাংলাদেশে ’৫২-এর আন্দোলন, ’৬৯-এর গণআন্দোলন, স্বাধীনতা- এটা পারসোনাল কোনো কারণে নষ্ট করবেন না। এটা জাতীয় সম্পদ।’
তিনি বলেন, ‘আপনারা আসুন যারা রেগুলার (রাজনীতি) করতে চান। এখানে মারামারি করে কোনো লাভ নেই। আরও কিছু লোকের মৃত্যু আমরা চাই না। অলরেডি ৪০০ থেকে ৫০০ হয়তো তারও বেশি মারা গেছে। উভয়পক্ষেই। পুলিশেরও একই অবস্থা হয়েছে, আনসারেরও এই অবস্থা হয়েছে।’
এর আগে বিকেলে রাজধানীর পুরান ঢাকার ইসলামপুরের ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় ইশরাক বলেন, ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক বিজয়কে ব্যর্থ করতে বিদেশ পালিয়ে যাওয়া শেখ হাসিনা ও তার ছেলে দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র করছে। সেই সঙ্গে দেশে বসেও একটি বিশেষ মহল পরিকল্পিতভাবে এ ষড়যন্ত্রে লিপ্ত আছে। রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও উপাসনালয়গুলোতে হামলার অপচেষ্টা করে, বিভিন্ন গুজব ছড়িয়ে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের চেষ্টা করছে দুর্বৃত্তরা। তাদের রুখে দিতে হবে।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনার পতন হলেও তার দোসররা নানা রকম চক্রান্তে লিপ্ত হয়েছে। বিচ্ছিন্নভাবে ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোতে নাশকতা সৃষ্টি করে সর্বসাধারণের গ্রহণযোগ্য ও বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় দল বিএনপিকে দায়ী করার ষড়যন্ত্র চলছে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সব ধরনের নাশকতা প্রতিহত করতে বিএনপি প্রস্তুত রয়েছে।
ইশরাক হোসেন আরও বলেন, দীর্ঘ ১৫ বছর এদেশের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে আমরা যে সফলতা পেয়েছি তার মর্যাদা ধরে রাখতে হবে। একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য সবাইকে ধৈর্য ধরতে হবে। দেশ রক্ষায় নিজেদের ত্যাগকে একটি আধুনিক ও উন্নত গণতান্ত্রিক সরকার গঠনে উৎসর্গ করতে হবে। বিএনপির প্রতি মানুষের প্রত্যাশা অনেক। জনগণের প্রত্যাশাকে সম্মান জানিয়ে নিজেদের লোভ-হিংসা পরিত্যাগ করতে হবে। বিএনপি একটি শান্তিপ্রিয় দল। দেশের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে বিএনপি নেতাদের দায়িত্ব পালনের আহ্বান করছি।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
শেখ হাসিনার আমেরিকা নাটক by শওকত মাহমুদ
দায়িত্বশীল সূত্র মতে তিনি বিদায়ের বহু আগে থেকেই অর্থাৎ ২০২২ সালেই যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ভারতের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সঙ্গে লিখিত চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন তার মসৃণ বিদায়ের জন্য। তাতে সই করেছিলেন শেখ হাসিনা পরিবারের একজন সদস্য। এতে তিনি কীভাবে কাদেরকে সঙ্গে নিয়ে এক বিমানে দিল্ল্লি হয়ে লন্ডন যাবেন আর বিদায়ের জন্য শর্তাবলী সবই ঠিক করা হয়েছিল। কিন্তু টালবাহানায় তিনি কালক্ষেপণ করে করে নির্বাচন সেরে ফেলেন। কিন্তু তার জন্য কল্পনারও অতীত আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে পরিস্থিতির আকস্মিক অবনতি হলে শেখ হাসিনা দ্রুত ভারতে পালান। এই অরাজনৈতিক অভ্যুত্থানটি ছিল নজিরবিহীন এবং পর্যবেক্ষকদের বিশ্বাস এতে কোনো বিদেশি সংশ্রব ছিল না। বরং ভারত আগাগোড়াই চেষ্টা করেছে এ থেকে শেখ হাসিনার সরকারকে রক্ষার।
হযরত নূহ (আ:) যখন তার জাতির মানুষকে মহান আল্লাহর কথা বলতে যেতেন তখন ওইসব লোকেরা কাপড় দিয়ে কান ঢেকে নিতো। কারণ শয়তান তাদের বলেছিল তারা হযরত নূহের কথা না শুনলে গোনাহ হবে না। কবি বরীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার ‘মুক্তধারা ’ নাটকে দুই গ্রামের মোড়লদের প্রতিযোগিতার এক কাহিনী এনেছেন।
মানুষ যাতে সত্য জানতে না পারে সে জন্য তাদের কান ঢাকা টুপি পরিয়ে দিয়েছিল। এটা দেখে এক ভিন্নমতাবলম্বী সংলাপ দিয়েছে এমন- ‘জগৎটা বাণীময় রে! যেখান দিয়ে শোনা বন্ধ করবি, সেখান দিয়ে মৃত্যুবাণ আসবে।’ মহান আল্লাহর স্মরণ থেকে যে সরে যায়, তার দৃষ্টির ওপর আল্লাহ পর্দা দিয়ে দেন। শেখ হাসিনা দম্ভের তাড়নায় সত্য জানতে চাননি, শুনতে চাননি। সে জন্য তার রাজনৈতিক মৃত্যুবাণ এসে যায়। তিনি শেষতক বিশ্বাস করেছেন চক্রান্তের খবর, ভাঙচুরের খবর, কিন্তু তার বাহিনীর যে গণহত্যা সেটা জেনেও না শোনার ভাণ করেছেন। এবং আরও খুনোখুনি কেন হচ্ছে না, তা নিয়ে চরম বিরক্তি প্রকাশ করেছেন। ইংরেজিতে একটা কথা আছে- A truth is always a compound of two half-truths and you never reach it because there is always more to say.
তত্ত্বাবধায়ক তথা জাতীয় সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবিতে বিএনপি’র নেতৃত্বে ২০২২ সালে আন্দোলনটা প্রায় গণঅভ্যুত্থানে রূপ নিচ্ছিল। বিভাগীয় গণসমাবেশগুলো জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছিল এবং সরকারের পেটোয়া বাহিনী ১৯ জনকে হত্যা করে। আমেরিকানরা তখন বেশি সজাগ হয়ে ওঠে। এর আগে থেকে হাসিনা সরকারের অধীনে জালিয়াতির নির্বাচন ও ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়ে তারা সজাগ ছিল। একটি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন ছিল তাদের প্রধান তাগাদা। মুখে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিকে সমর্থন না দিলেও হাসিনার বিদায়ের পর যে একটা অন্তর্বর্তী সরকার হবে এটা আমেরিকানরা নিশ্চিত করেছিল।
২০২২-এর শেষদিকে প্রবল আন্দোলনের মুখে লন্ডনে ও দুবাইয়ে শেখ হাসিনার নির্দেশে সজীব ওয়াজেদ জয় ওই তিন সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসে। একটি লিখিত সমঝোতা মুসাবিদা করা হয়। শেখ হাসিনা পদত্যাগ করবেন। এর আগে তার বিদায় বক্তৃতা রেকর্ড করা হবে। বঙ্গভবনে গিয়ে পদত্যাগপত্র সই করে আসার পর তিনি সোজা এয়ারপোর্ট যাবেন। তার বিদেশ যাওয়াটা এ জন্য তার পদত্যাগের ঘোষণার পর রাজপথে বিরোধী দল মহাসমারোহে নামবে। ১৮৭ জন পারিবারিক সদস্য, রাজনৈতিক সঙ্গী ও ব্যবসায়ী নিয়ে তিনি দিল্লি হয়ে লন্ডন যাবেন। তবে তার সঙ্গে তার নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারেক সিদ্দিকীর যাওয়া নিয়ে যুক্তরাজ্য প্রশ্ন তোলে। শেখ হাসিনা যাবার আগে রাষ্ট্রপতিকে একটা জাতীয় সরকার গঠনের জন্য বলবেন, যাতে আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন বিরোধী দলের প্রতিনিধিত্ব থাকে। অরাজনৈতিক তত্ত্বাবধায়ক সরকার হলে নোবেল বিজয়ী ড. ইউনূস যেন কোনোভাবেই না থাকেন তার নিশ্চয়তা তিনি চেয়েছিলেন। এ ক্ষেত্রে তার চয়েস ছিল একজন অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল। শেখ হাসিনার আরও শর্ত ছিল তিনি আবার দেশে ফিরবেন এবং নির্বাচনে অংশ নেবেন। এর মাঝে তার কোনো বিচার করা চলবে না এবং বিডিআর বিদ্রোহের বিচারের বিষয়ে তিনি নেতিবাচক ধারণা পোষণ করেন।
শেখ হাসিনাকে ২০২২ এর ৩০শে ডিসেম্বরের মধ্যে বিদায়ের দিন ঠিক করার জন্য বলা হয়। কিন্তু চতুর শেখ হাসিনা ইতিমধ্যে নিপীড়ন চালিয়ে এবং ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বিরোধী আন্দোলনকে স্তিমিত করতে সক্ষম হন। বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদে নিজস্ব লোক বসান। যাতে অন্তর্বর্তী সরকার হলেও তার লোকেরা ঠিকঠাক থাকে। আন্তর্জাতিক নানা ঘটনাও তাকে ফেভার করে। তখন তিনি পদত্যাগ করতে অস্বীকৃতি জানান। একই সঙ্গে বলে দেন, বিরোধী দল নির্বাচনের আগে পরিস্থিতি তৈরি করতে সক্ষম হলে তিনি ওই চুক্তি মানবেন। গত জাতীয় নির্বাচনের আগে বিএনপি নেতৃত্বাধীন বিরোধী দল ২৮শে অক্টোবরের ব্যর্থতার পর শান্তিপূর্ণ নির্বাচন-বয়কটে গেলে আমেরিকা সরে যায়। ভারত আমেরিকাকে বোঝাতে সক্ষম হয়- এখন শেখ হাসিনার বিকল্প নাই।
বাংলাদেশ প্রশ্নে ভারত আমেরিকার সিদ্ধান্ত মেনে নেয়ার অঙ্গীকার করলেও ভেতরে ভেতরে তারা চেয়েছে আমেরিকা যেন বাংলাদেশকে নিয়ে তেমন নাক না গলায়। শেখ হাসিনা যুক্তরাষ্ট্রের একটি জ্বালানি কোম্পানিকে বঙ্গোপসাগরের তেল-গ্যাস ব্লক দেয়ার নাটক সাজান। সাবেক প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টা এ লক্ষ্যে বেইজিংয়ের কিছু কাগজপত্র সাজান। ভারত এতেও আপত্তি জানায়। বরং উল্টো কামান দাগতে থাকেন যে, তারা বঙ্গোপসাগর চায়। বাংলাদেশ বিষয়ে ওয়াকিবহাল একটি মার্কিন সূত্র মতে, ভারত বাংলাদেশকে সব সময় নিজের বাড়ির পেছনের উঠান মনে করে। ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল, কোয়াড এবং বার্মা অ্যাক্টের ধারাবাহিকতায় যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে একটা কেন্দ্র রাষ্ট্র মনে করে। ভারতও একমত। ততটুকুই যতটুকু চীনকে মোকাবিলা করা যাবে। কিন্তু বাংলাদেশ থাকবে তাদের বলয়ে। যুক্তরাষ্ট্রে সর্বশেষ সফরের সময় শেখ হাসিনার সঙ্গে বাংলাদেশ দূতাবাসে প্রেসিডেন্ট বাইডেনের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সুলিভানের একটি গোপন বৈঠক হয়। তাতে উত্তপ্ত কথাবার্তা চলে। এক পর্যায়ে জ্যাক সুলিভান অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের কথা ওঠালে শেখ হাসিনা উত্তেজিত হয়ে পড়েন। জানান যে, বাংলাদেশে সকল রাজনীতি তার নিয়ন্ত্রণে। বিরোধী দলের আন্দোলন তিনি সামলাতে পারেন। এই বৈঠকের খবরটি ভারতীয় গণমাধ্যম প্রকাশ করে দেয়।
তুরস্কে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের সঙ্গে মার্কিনিদের আলোচনায় পূর্বের চুক্তি অনুসরণের কথা আসে। ওই দু’জন একমত হলেও শেখ হাসিনা বিশ্বাস করেছিলেন যে, ছাত্রদের কোটা বিরোধী আন্দোলন তিনি সামলে উঠবেন। সজীব ওয়াজেদ জয় তার মাতাকে শান্তিপূর্ণভাবে সরে আসার জন্য আগে থেকেই বলে আসছিল। তার ওপর মার্কিনিদের একটা বড় চাপ ছিল যে, যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের একটি আদালতে তার বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিংয়ের একটি মামলা করেছে এফবিআই। এ জন্য এখন তিনি যুক্তরাষ্ট্র যান না। এবার শেখ হাসিনাকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ছাত্রদের সমস্যা মিটিয়ে শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য চাপ অব্যাহত ছিল। সেনা নেতাসহ অনেকের সঙ্গেই তারা যোগাযোগ রাখছিলেন। হাসিনা চেয়েছিলেন একজন সাবেক জেনারেল তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নেতৃত্ব দিক। তিনি ভাষণ দেবেন এবং দ্রুত পরবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠানের আহ্বান জানাবেন। কিন্তু তা আর হতে পারেনি। আন্দোলনের ক্রম বেগবানতায় তার সমস্ত পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। আর বন্ধ হয়ে যায় পশ্চিমা দুয়ার।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে সুদূরপ্রসারী সংস্কার জরুরি: ফোরাম ফর বাংলাদেশ স্টাডিজের ওয়েবিনারে বক্তারা
সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, দেশে একটি অসহনীয় অবস্থা তৈরি হয়েছিল। তার ফল এই গণ-অভ্যুত্থান। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এসেছে ক্রান্তিকালীন সরকার হিসেবে-এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণ দেয়ার জন্য। তিনি আন্দোলন থেকে দুটি বার্তা পেয়েছেন। প্রথমত, যারা অন্যায় করেছে, মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে, তদন্তের মাধ্যমে তাদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে। দ্বিতীয়ত, ওই অবস্থার যাতে পুনরাবৃত্তি না হয়, সেজন্য সুদূরপ্রসারী সংস্কার করতে হবে। সাংবিধানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার করতে হবে। এগুলো সময়সাপেক্ষ ও জরুরি। তিনি বলেন, এই সংস্কারের জন্য রাজনৈতিক বন্দোবস্ত প্রয়োজন।
কিছু সংস্কার পরবর্তী সময়ে করতে হবে, যারা নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসবেন, তারা সেটি করবেন। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে একটি চুক্তিতে যেতে হবে, যাতে একটি জাতীয় সনদ তৈরি করা যায়। সুজন সম্পাদক বলেন, ছাত্ররাজনীতি বন্ধ নয়, লেজুড়বৃত্তিক ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করতে হবে। ছাত্রদের নেতৃত্বে যে গণবিস্ফোরণ হয়েছে, যে আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে, তা নস্যাৎ করার চেষ্টা শুরু হয়েছে। এদিকে সতর্ক থাকতে হবে। আগামী কয়েক দিন পরিস্থিতি ঘোলাটে করার অনেক চেষ্টা হবে। তিনি বলেন, স্বাধীনতার চেতনা থেকে দেশ যোজন যোজন দূরে। ১৯৯১ সালে চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে, এবার যেন ব্যর্থতা না আসে, সেজন্য ছাত্রসমাজ ও নাগরিক সমাজকে দায়িত্ব নিতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, জন-আকাঙ্ক্ষার মধ্য দিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন এই সরকার গঠিত হয়েছে। দুটি আকাঙ্খা-একটি হলো এই সরকার দ্রুত একটি নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তর করবে। অন্যটি হলো বড় রকমের পরিবর্তন আনতে হবে। সামগ্রিক কাঠামোগত পরিবর্তন প্রয়োজন। যারা সরকারে আছেন, তারা বলুক এই দুটি স্বপ্নের মধ্যে তারা কী করতে চান। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগে এই সরকারের মামলা করা জরুরি মন্তব্য করে আলী রীয়াজ বলেন, প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে যাওয়া যেতে পারে। যারা হত্যার নির্দেশ দিয়েছেন-আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া জরুরি। অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, এই সংবিধান রেখে জবাবদিহিমূলক কাঠামো তৈরি করা সম্ভব নয়। এই সংবিধানেই স্বৈরতন্ত্রের বীজ বপন করা আছে। এই সংবিধান রেখে চিরস্থায়ীভাবে স্বৈরতন্ত্রের বিলোপ হবে না। তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোকে জন-আকাঙ্ক্ষা ধারণ করতে হবে। ১৫ বছরে জঞ্জাল তৈরি হয়েছে। কাঠামো ভেঙে পড়েছে। তিনি প্রশ্ন রাখেন, পুনর্গঠন করতে তাড়াহুড়া কেন, দেশ বদলাতে চান না?
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, মানবাধিকার লঙ্ঘনের বহুমুখী ঘটনা ঘটেছে। দায়ীদের জবাবদিহি করতে হবে, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনে জাতিসংঘের সহায়তা নেয়া দরকার। তিনি বলেন, বাক্স্বাধীনতা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও তথ্যের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। সব কালো আইন বাতিল করতে হবে। দীর্ঘমেয়াদি কৌশল নির্ধারণ করে সংস্কার পরিকল্পনা করতে হবে। জনপ্রশাসন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, বিচার বিভাগ, সংসদ, নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন, তথ্য কমিশন, মানবাধিকার কমিশনসহ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো ঢেলে সাজানোর কোনো বিকল্প নেই। দুর্নীতির ঘটনাগুলো নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদের মধ্যে জবাবদিহি সম্পন্ন করতে হবে। শিক্ষা ও পেশাজীবী প্রতিষ্ঠানগুলোতে দলীয় অনুপ্রবেশ বন্ধ করতে হবে। ইফতেখারুজ্জামান বলেন, নির্বাচনের দাবি রাজনৈতিক দিক থেকে যৌক্তিক তবে ডকট্রিন অব নেসেসিটি থেকে এখনই তা কতটা যৌক্তিক তা নিয়ে ভাবতে হবে।
ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের রিসার্চ ফেলো মির্জা এম হাসান বলেন, এখন যে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারগুলোর দাবি করা হচ্ছে, সেগুলোর ভিত্তি ২০০৭-০৮ সালে করা হয়েছে। কিন্তু পরবর্তী সময়ে অনেক কিছু ধুয়েমুছে ফেলা হয়। এখন এমন কিছু করতে হবে, যাতে রাষ্ট্র ও সমাজের সম্পর্ক নতুন করে দাঁড়াতে পারে। গণতন্ত্র নিয়ে নতুন করে চিন্তা করতে হবে।
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ম তামিম বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ আসতে পারে রাজনৈতিক দল থেকে। রাজনৈতিক কর্তৃত্বের জন্য যেসব ব্যবস্থা আছে, সেগুলো তারা সহজে পরিবর্তন করতে চান না। ১৯৯১ ও ২০০৭-০৮ সালেও এ ধরনের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল; কিন্তু পরিবর্তন আসেনি। এর অন্যতম প্রধান কারণ বিচারহীনতা। অপরাধীদের বিচার করা যায়নি।
সাংবাদিক মনির হায়দারের সঞ্চালনায় ওয়েবিনারে ‘গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশ, এখন কী করতে হবে’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন টেকসই উন্নয়নবিষয়ক লেখক ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। প্রবন্ধে তিনি রাষ্ট্র সংস্কার, রাজনৈতিক বন্দোবস্ত, প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা, পরিসংখ্যান জালিয়াতি থামানো, অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, বৈদেশিক ও অভ্যন্তরীণ ঋণ পরিস্থিতি, ডিজিটাল অর্থনীতির নিরাপত্তা, মেধাভিত্তিক নিয়োগ বিষয়ে তার চিন্তাভাবনা তুলে ধরেন।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
শেখ হাসিনার সবচেয়ে বড় ভুল ক্ষমতাকে কেন্দ্রীভূত করা, গণতন্ত্রকে বিকশিত হতে না দেয়া -রেডিফকে হর্ষ ভি প্যান্ত
এ পর্যায়ে নতুন প্রশ্নে তার কাছে জানতে চাওয়া হয়- শেখ হাসিনার সময়কালে বাংলাদেশের নির্বাচন কি অবাধ ও সুষ্ঠু হয়েছিল? রাজনৈতিক বিরোধীদেরকে কি অবাধে অংশগ্রহণ করতে দেয়া হয়েছিল?
জবাবে তিনি বলেন- না, তাদেরকে তা দেয়া হয়নি। তার ও বিরোধীদের মধ্যে মতবিরোধ ছিল। অবশ্যই প্রথমদিকে যে নির্বাচন হয়েছিল সেই নির্বাচন তুলনামূলকভাবে অবাধ ছিল। কিন্তু তিনি যখন ক্ষমতায় এলেন মাঝে মাঝে বিরোধীদের পক্ষ থেকে তিনি নিজেকে কোণঠাসা বোধ করতে থাকেন। তার ওপর হামলাও হয়েছে। এতে তিনি মনে করতে পারেন যে, তিনি একটি কোণে আটকে আছেন। ফলে যখন বিরোধীদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার বিষয় এলো তখন তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিলেন, যা অনেক বেশি কঠিন হয়েছে। এর অর্থ হলো তিনি মনে করেছেন তার দল আওয়ামী লীগের যে সুযোগ থাকার কথা প্রকৃতপক্ষে বিরোধীদের তা থাকতে পারে না। এটা নিশ্চিত করেছেন। যেভাবে নির্বাচনগুলো হয়েছে তাতেও সমস্যা আছে। এসব কারণেও লোকজন তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। বিরোধীরাও কোনো না কোনো উপায়ে শেখ হাসিনার প্রতি খুব ক্ষুব্ধ ছিল। এই নির্বাচন নয়, এর আগের নির্বাচনে (২০১৮) ব্যাপক সহিংসতা হয়েছে। সেটাকে তিনি বিরোধীদের দমনের একটি অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করেছেন।
প্রশ্ন: তার ১৫ বছরের শাসনামলে সবচেয়ে বড় ভুল কি ছিল, যার জন্য ভারতের এই প্রতিবেশী দেশে অরাজকতা হয়েছে? দেশটির বর্তমান অবস্থা বর্ণনা করতে অরাজকতা কি উত্তম শব্দ হবে?
উত্তর: নির্দিষ্টভাবে এই মুহূর্তে বিশৃঙ্খল অবস্থা দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি কীভাবে নিয়ন্ত্রণে আনে অন্তর্বর্তী সরকার তার জন্য অপেক্ষা করতে হবে এবং দেখতে হবে। আওয়ামী লীগ দীর্ঘ ১৫ বছর ক্ষমতায় ছিল। এ সময়ে তারা কি কি প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করেছে তা জানতে হবে। ২০০৮ সাল থেকে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৫ বছর বাংলাদেশের ক্ষমতায় ছিল আওয়ামী লীগ। বাংলাদেশে অনেক প্রতিষ্ঠান থাকতে পারে, যেখানে আওয়ামী লীগের সমর্থকরা এখনো উপস্থিত থাকতে পারেন। তাহলে কীভাবে আপনি একটি নতুন প্রতিষ্ঠান মেরামত করবেন? আপনি কি আসলেই আওয়ামী লীগের সমর্থকদের চিহ্নিত করতে পারবেন এবং প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভেঙে দিতে পারবেন? আপনি কীভাবে প্রতিষ্ঠানগুলোকে গড়ে তুলবেন? এটা হবে একটি বড় ইস্যু। এটাই সমস্যাকে জোরালো করে তুলেছে, যার সমাধান করতে সক্ষম হননি হাসিনা। তার বিষয়ে ভারত যেটা মনে করতো তাহলো তিনি খুবই ভালো এবং তার কোনো ভুলই নেই। সম্ভবত তার ভুল এটাই যে, ভারত তাকে বিরোধীদের যেসব সুযোগ দেয়ার পরামর্শ দিয়ে এসেছে, তিনি তাতে কর্ণপাত করেননি। তবে এটা জোর দিয়ে বলা গুরুত্বপূর্ণ যে, তিনি যখন ১৫ বছর আগে ক্ষমতায় এসেছিলেন তখন বাংলাদেশের অবস্থা ভালো ছিল না। রাজনৈতিক পরিস্থিতি ছিল ঘোলাটে, মেরূকরণ করা। তখন উগ্রপন্থাও দেখা দিয়েছিল। বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ছিল না। অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ছিল ক্ষত-বিক্ষত। এখন ভুল নিয়ে কথা বলা সহজ। কিন্তু এটা স্বীকার করতে হবে তিনি বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা দিয়েছেন ১৫ বছরে। ফলে বাংলাদেশের অর্থনীতি দ্রুততার সঙ্গে উন্নয়নশীল বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়েছে। এটা তার অবদান। তবে অনেক বিষয়ে তিনি জনগণকে সম্পৃক্ত না করে সমস্যা সৃষ্টি করেছেন। সেই একই সমস্যা এখন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সমাধানে সক্ষম হয় কিনা তার জন্য আমাদেরকে অপেক্ষা করতে হবে।
প্রশ্ন: অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হয়েছেন শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। আপনি কি মনে করেন বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী এবং সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে যে রাজনৈতিক সহিংসতা হয়েছে তার প্রেক্ষিতে মসৃণ রাজনৈতিক ক্ষমতা হস্তান্তর হবে?
উত্তর: এই মুহূর্তে পরিস্থিতি খুবই ঘোলাটে। তাত্ত্বিকভাবে এটা শুনতে ভালোই লাগে যে, নোবেলজয়ী সরকার চালাচ্ছেন অথবা সরকারের প্রধান। কিন্তু রাজনীতি ভিন্ন বিষয়। রাজনীতিতে সব অংশীদারের বিষয়ে আপনাকে নজর রাখতে হয়। কীভাবে ফাটল ধরা অংশগুলোকে একসঙ্গে জোড়া দেয়া যাবে আমি জানি না।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মালি সীমান্তে ভয়াবহ ধর্ষণের শিকার নারীরা
এ সময় তাদেরকে চেকপয়েন্টে থামিয়ে দেয় সেনাবাহিনীর পোশাক পরা ৬ সশস্ত্র ব্যক্তি। আগের দিন পায়ে হেঁটে এই যাত্রা করেছিল ওই দলের নারী-পুরুষরা। তাদের পেটে খাবার নেই। হাঁটতে হাঁটতে ক্লান্ত, অবসন্ন তারা। কানি (১৭) বলেছে, ওই সেনাসদস্যরা নারী ও পুরুষদের আলাদা করে ফেলে। তাদের মধ্য থেকে তিনজন নির্দেশ দেয় দলে থাকা আমাদের চারজন মেয়েকে একটি ছোট্ট তাঁবুতে অবস্থান করতে। নাইজার সীমান্তের কাছে এই তাঁবু গড়ে তুলেছিল ওই সেনারা। তার ভেতর তারা অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে আমাদেরকে ধর্ষণ করে।
বর্তমানে নাইজেরিয়ার সীমান্তবর্তী শহর আওউরোউ’তে অবস্থান করছেন কানি ও অন্য কিছু শরণার্থী। কয়েক বছরে তারা সেখানে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। কানির পরনে রঙিন একটি পোশাক। মাথায় স্কার্ফ। তাকে দেখে ভয়ার্ত ও হতাশ মনে হয়। মাথা নিচু করে সে বলে, ওই ঘটনার পর কোনো পুরুষের হাতে অস্ত্র দেখলে সে ভীত শঙ্কিত হয়ে যায়। তার ভাষায়, পুলিশ এবং সেনাবাহিনী আমাকে ভীত করে তুলেছে। কারণ, তাদেরকে দেখলেই ওইসব ধর্ষকের কথা মনে ভেসে ওঠে।
এভাবে ধর্ষণের শিকার হয়েছে যেসব টিনেজ বা যুবতী তাদের একজন ১৭ বছরের কোম্বা (ছদ্মনাম)। সে বলেছে, আমরা দীর্ঘ সফর করেছি। খাবার এবং পানি ছিল না। ফলে আমরা ক্ষুধায় এবং ক্লান্তিতে ভেঙে পড়েছিলাম। এমন অবস্থায় আমাদেরকে ধর্ষণ করা হয়েছে। সেনাদের কাছে অনুনয় করেছি। কিন্তু তারা কোনো কথা কানে তোলেনি। এক পর্যায়ে তারা বন্দুক দিয়ে আমাদের প্রহার করতে থাকে। আমরা যেন কোনো কথা না বলি সে জন্য আঘাত করতে থাকে। পুরো সাক্ষাৎকারে কোম্বা অঝোরে কেঁদেছে। সে বলেছে, সীমান্তে আমার সঙ্গে যা হয়েছে তা যখনই মনে পড়ে আমি খুব ভীত হয়ে যাই। কানি’র মতো সেও এই এলাকায় একটি বাড়িতে বসবাস করছে। এই দুই টিনেজার মেয়ে মালির পূর্বাঞ্চলীয় ওটাগোনা থেকে একসঙ্গে নাইজারের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছিল। একইভাবে কমপক্ষে ১০ হাজার মালির নাগরিক সহিংসতা থেকে পালিয়ে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছে আওউরোউতে। এটি একটি পুরনো এলাকা। নাইজার নদী একে আলাদা করে একটি দ্বীপে পরিণত করেছে। এই শহরের বাইরের দিকে শুকনো এবং আবর্জনায় ভরা এলাকায় শরণার্থীদের জন্য নির্মিত তাঁবুতে তাদের কেউ কেউ বসবাস করে। অন্যরা শহরের ভেতরে স্থানীয় পরিবারগুলোতে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় পেয়েছে। সেখানে বেশির ভাগ পরিবার কৃষিকাজ করে। খাদ্যসামগ্রী এবং গবাদিপশু বিক্রি করে বাজারে। মূল শহরে কাজ খুঁজতে যাওয়ার আগে কিছুদিন স্থানীয় কৃষকদের কাজ করে দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছে কানি ও কোম্বা। তাদেরকে তারা থাকার সুযোগ দিয়েছে। এতে তারা বেশ খুশি হয়েছিল। তারপর তারা নতুন তৈরি ওইসব বসতিতে চলে গিয়েছে। কিন্তু এখন বুঝতে পারছে নাইজারে যাওয়া তাদের জন্য ভুল হয়েছে। কোম্বা বলেছে, মালি ছেড়ে আসার পর আমরা আরেক নরকে পড়বো এটা জানতাম না। যদি জানতাম কেউ আমাদেরকে ধর্ষণ করবে, তাহলে গ্রাম ছেড়ে মালিতেই অন্য কোনো সম্প্রদায়ের কাছে চলে যেতাম।
মালি থেকে নাইজারে গিয়েছেন ৪০ বছর বয়সী সাইদু কামারা। তিনি একজন পুরুষ। বর্তমানে ওই শহরে শরণার্থী হিসেবে বসবাস করেন। তিনি বলেন, সীমান্তে আমরা শুনতে পেয়েছি নারীদের আর্তনাদ। তারা ওইসব অস্ত্রধারীদের কাছে নিজেদের সম্ভ্রম রক্ষার জন্য অনুনয় বিনয় করতেন। এসবই আমরা শুনেছি। আমরা কিছুই করতে পারিনি।
কারণ, ওইসব লোকের হাতে অস্ত্র আছে। আমরা যদি নারীদের উদ্ধারের সাহস দেখাতে যাই তাহলে তারা গুলি করতো।
কোম্বা বলেছে, ওই অস্ত্রধারী সদস্যরা আমাদেরকে বলতো- তারা সীমান্ত অতিক্রম করে নাইজারে যেতে দেবে, যদি তাদের সঙ্গে আমরা শারীরিক সম্পর্কে মিলিত হই। তারা প্রতিটি মেয়েকে ধর্ষণ করার পর তাদেরকে সীমান্ত অতিক্রম করতে দিয়েছে। এ সময় পুরুষদের কাছে থাকা সব অর্থকড়ি কেড়ে নিয়েছে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
১৫ বছরে ব্যাংক খাতে ৯২ হাজার কোটি টাকা লুট
সোমবার রাজধানীর ধানমণ্ডির কার্যালয়ে ‘ব্যাংকিং খাতে সুশাসন ফিরিয়ে আনতে করণীয়’ শীর্ষক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে সিপিডি নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন এসব তথ্য জানান। এ সময় সিপিডি’র বিশেষ ফেলো প্রফেসর মোস্তাফিজুর রহমান ও গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম উপস্থিত ছিলেন।
সিপিডি জানায়, গত ১৫ বছরে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরসহ প্রশাসনিক দায়িত্বপ্রাপ্তরা বিশেষ গোষ্ঠীকে সুবিধা দেয়ার জন্য অনেক নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়েছেন। যার ফলে একটি বিশেষ গোষ্ঠীকে হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণ দেয়া হয়েছে। এর সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির দাবি জানিয়েছে সিপিডি।
সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রশাসনিক দায়িত্ব যারা পালন করেছেন অর্থাৎ গত ১৫ বছরে গভর্নর যারা ছিলেন তারা যেসব নীতিমালা নিয়েছেন, ওইগুলো ব্যাংকিং নর্মসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তারা বিশেষ গোষ্ঠীকে সুবিধা দেয়ার জন্য অনেক নিয়মে ব্যত্যয় ঘটিয়েছেন। যার ফলে বিশেষ গোষ্ঠীকে হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণ দেয়া হয়েছে। এর প্রতিটি কেইস তদন্ত হওয়া উচিত। এর সঙ্গে যারা জড়িত ছিলেন তাদের শাস্তির আওতায় আনা প্রয়োজন। তিনি বলেন, খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়েই চলছে।
২০০৯ সালে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ২২ হাজার ৪৮১ কোটি টাকা। চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত যার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮২ হাজার ২৯৫ কোটি টাকা। ২০১৬ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি নিয়ে এখনো তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ করার জন্য সিআইডি ৭৯ বার সময় নিয়েছে। নতুন সময় ৪ঠা সেপ্টেম্বর। ভবিষ্যতে দেখা যাবে। আমরা চাই ওই তদন্ত প্রতিবেদন উন্মুক্ত করে দেয়া হোক।
সিপিডি নির্বাহী পরিচালক বলেন, বার বার পুনঃতফসিল করার কারণে ঋণখেলাপির পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে, এটা বন্ধ করতে হবে। ২০১২ সালের হলমার্কের ঋণ কেলেঙ্কারিতে দেখেছিলাম অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা দুর্বল ছিল, এখনো বিভিন্ন ব্যাংকে তা রয়ে গেছে। ২০২১ সালের তথ্যানুসারে ১১টি ব্যাংকের তথ্য-উপাত্ত গবেষণা করে বলেছিলাম শক্তিশালী প্রশাসক নিয়োগের সুপারিশ করছি। অনেকগুলো মৃতপ্রায়। এগুলো বেঁচে থাকার কথা নয়। ওইগুলো বন্ধ করা উচিত। যেগুলো দুর্বল রয়েছে, সেগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিবর্তন করে যথাযথভাবে ঠিক করতে হবে। তা না হলে সক্রিয় করা সম্ভব নয়।
ফাহমিদা খাতুন বলেন, অনেক আর্থিক মামলা আদালতে পড়ে আছে। ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আর্থিক আদালতে মামলার সংখ্যা ৭২ হাজার ৫০০টি। টাকার পরিমাণ ১ লাখ ৭৮ হাজার ২৭৭ কোটি টাকা। ২০০৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই করে আর্থিক কেলেঙ্কারি খুঁজে বের করা প্রয়োজন। আমাদের গবেষণায় দেখিয়েছিলাম ২৪টি আর্থিক কেলেঙ্কারি হয়েছে, যার পরিমাণ ৯২ হাজার ২৬১ কোটি টাকা।
ব্যাংকগুলো মার্জ হওয়ার পূর্বশর্ত হলো অডিট করে ফাইনান্সিয়াল অবস্থা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করে দেখা। পরিচালনা পর্ষদের সদস্য নেয়ার ক্ষেত্রে কিছু ক্যাটাগরি ঠিক করে দিতে হবে। ২০০৯ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত সরকার ১৫ হাজার ৭০৫ কোটি টাকা দুর্বল ব্যাংকগুলোকে পুঁজি হিসেবে দেয়া হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ে আর্থিক বিভাগ বাতিলের দাবি জানিয়ে সিপিডি বলছে, অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক বিভাগ অর্থাৎ এফআইডি রয়েছে। যার ফলে বাংলাদেশ ব্যাংক স্বাধীনভাবে তার কার্যক্রম করতে পারে না। এটা সৃষ্টি করার প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো ব্যাংকিং সেক্টরকে প্রভাবিত করা। আমরা মনে করি অন্যায়ভাবে ঋণ কিংবা ভুল সিদ্ধান্ত যেগুলো নেয়া হয়েছে, তার একটি তদন্ত হওয়া উচিত। আমাদের সুপারিশ এফআইডি বন্ধ করে দেয়া উচিত, এই বিভাগের কোনো প্রয়োজন নেই।
সিপিডি বলছে, বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে শক্তিশালী করতে হবে, বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বাধীনতা সমুন্নত রাখতে হবে এবং সময়মতো তথ্যের সততা ও সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে হবে। সিপিডি ব্যাংক খাতের স্বচ্ছতা আনতে একটি সুনির্দিষ্ট, সময় উপযোগী, স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও স্বাধীন ব্যাংকিং কমিশন গঠনের সুপারিশ করেছে। তারা বলছে, এই সংস্কার অবশ্যই রাজনৈতিকভাবে হতে হবে, কারণ স্বার্থান্বেষী মহল এতে বাধা তৈরি করবে। বেশ কয়েকটি ব্যাংকের অবস্থা সংকটজনক হলেও বেইলআউটের মাধ্যমে বাঁচিয়ে রাখা হয়েছে উল্লেখ করে সিপিডি বলেছে, ধসের দ্বারপ্রান্তে থাকা ব্যাংকগুলোকে বন্ধ করে দিতে হবে।
সিপিডি জানায়, কিছু ব্যাংক মৃতপ্রায়, আর অনেক ব্যাংক ‘ক্লিনিক্যালি ডেথ’ হয়েছে। তবে মৃতপ্রায় ব্যাংকগুলোকে ফের একবার সচল করার চেষ্টা করা যেতে পারে বলেও সুপারিশ করেছে সংস্থাটি। এসব ব্যাংক আর ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না। স্বাভাবিকভাবে এদের মরে যেতে দেয়া দরকার। সরকার এসব ব্যাংকগুলোকে অর্থ দিয়ে, মূলধন দিয়ে পুনর্ভরণ করে চালাচ্ছে। তৃতীয় ও চতুর্থ প্রজন্মের ব্যাংকগুলো ক্লিনিক্যালি ডেথ হয়ে গেছে। এক সময়ে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশে ভালো ব্যাংক ছিল। এটিকে দখলের পরে মুমূর্ষু হয়ে গেছে।
ব্যাংকিং খাতের সমস্যা চিহ্নিত ও সমাধানে তিন মাসের জন্য জন্য ব্যাংকিং কমিশন গঠন করার সুপারিশ করে সিপিডি বলেছে, ব্যাংক খাতে দ্বৈত প্রশাসন কমাতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ বন্ধ করতে হবে। এ বিভাগের জন্য সরকারি ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে নেই।
ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা খর্ব করা, নিয়মনীতি না মেনে বেসরকারি ব্যাংকের লাইসেন্স দেয়াকে ব্যাংকখাতের মূল সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে সিপিডি।
সিপিডি’র বিশেষ ফেলো প্রফেসর মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ছাত্রদের আন্দোলনে আমাদের নৈতিক সমর্থন ছিল। ছাত্রদের মুক্তির মিছিলে আমরা ছিলাম। যারা আত্মত্যাগ করেছে তাদের কাছে আমাদের এগুলো কিছুই না। আর্থিকখাতে দুর্নীতির শ্বেতপত্র তৈরি করতে হবে। ব্যাংকখাতে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। ব্যাংকিং খাতের দুষ্টু চক্র ভেঙে ফেলতে হলে ব্যাংক কমিশন গঠন করা প্রয়োজন।
সিপিডি’র গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ব্যাংকখাতের চ্যালেঞ্জগুলো আর্থিক খাতেও প্রযোজ্য। বাংলাদেশের পুঁজিবাজার অসুস্থ ও বিকলাঙ্গ। একইভাবে বীমা খাতও অগ্রহণযোগ্য অবস্থায় আছে। আর্থিক খাতে সুশাসনের জন্য ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক খাতগুলো বন্ধ করতে হবে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1266)
- ► 2025 (3280)
-
▼
2024
(2551)
-
▼
August
(446)
-
▼
Aug 13
(11)
- আমার অভয় শুনে হো হো করে হেসে দিলেন ইউনূস স্যার by ...
- আওয়ামী লীগের ভাঙা সাংস্কৃতিক বোমা ও নতুন বাংলাদেশ...
- সাবেক মুখ্য সচিবের সুস্থ ছেলে ঢাবিতে পড়েছেন প্রতিব...
- সিলেটে সাম্প্রদায়িক হামলা নিয়ে ধোঁয়াশা by ওয়েছ খছরু
- পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত দেশের ৬২ দশমিক ৯ শতাংশ শিক্ষার্থী
- স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগ চাইলেন ইশরাক
- শেখ হাসিনার আমেরিকা নাটক by শওকত মাহমুদ
- গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে সুদূরপ্রসারী ...
- শেখ হাসিনার সবচেয়ে বড় ভুল ক্ষমতাকে কেন্দ্রীভূত করা...
- মালি সীমান্তে ভয়াবহ ধর্ষণের শিকার নারীরা
- ১৫ বছরে ব্যাংক খাতে ৯২ হাজার কোটি টাকা লুট
-
▼
Aug 13
(11)
-
▼
August
(446)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...