Tuesday, December 16, 2025

ট্রাম্প যেভাবে ইউরোপে সরকার ফেলার খেলায় মেতেছেন by জনাথন ফ্রিডল্যান্ড

আমরা আর কবে বুঝব? কয়েক মাস আগে আমি ঠাট্টা করে বলেছিলাম, সেক্স অ্যান্ড দ্য সিটি সিরিজের মিরান্ডা হবসের কাছ থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যাপারে ইউরোপের যে জিনিসটা শেখা ও বোঝা দরকার, তা হলো, ‘যে মানুষটি আপনাকে গুরুত্ব দিচ্ছে বলে ভাবছেন, সে আসলে আপনাকে পছন্দই করে না।’ গত সপ্তাহের ঘটনাগুলো দেখিয়ে দিল, আমার ঠাট্টার ছলে বলা সেই কথা আরও ভয়াবহভাবে সত্য। এখন আমাদের সামনে যে বিষয়টি স্পষ্ট তা হলো, ট্রাম্পের আমেরিকা ইউরোপের ব্যাপারে শুধু উদাসীন নয়; বরং স্পষ্টভাবে শত্রুভাবাপন্ন।

এর প্রভাব ইউরোপ মহাদেশের জন্য যেমন গুরুতর, তেমনি ব্রিটেনের জন্যও। অথচ আমাদের অনেক নেতা এখনো এই বাস্তবতা মানতে চান না। যুক্তরাষ্ট্রের শত্রুভাব সবচেয়ে স্পষ্টভাবে ধরা পড়েছে নতুন মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল বা এনএসএস নথিতে। এটি ২৯ পৃষ্ঠার একটি দলিল। এটি ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের পররাষ্ট্রনীতির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা। এখানে হতাশ করার মতো অনেক কিছু আছে। নথির সবচেয়ে চোখে পড়ার মতো বিষয় হলো, ইউরোপকে নিশানা করে ব্যবহার করা আক্রমণাত্মক ভাষা। খুব স্বাভাবিকভাবেই যুক্তরাষ্ট্রের চীন ও রাশিয়াকে প্রকৃত কৌশলগত হুমকি হিসেবে দেখার কথা। কিন্তু এ দুটি দেশ নিয়ে নথিতে আলোচনা করা হয়েছে সংক্ষেপে এবং ঠান্ডা ভঙ্গিতে।

অন্যদিকে ইউরোপের প্রসঙ্গে ট্রাম্প শিবিরের রক্ত যেন টগবগ করে ফুটেছে। ইউরোপের বিরুদ্ধেই সবচেয়ে তীব্র ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে। নথিতে বলা হয়েছে, অর্থনৈতিক স্থবিরতা, ‘মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর সেন্সরশিপ, রাজনৈতিক বিরোধীদের দমন, জন্মহার ভয়াবহভাবে কমে যাওয়া’ এবং সর্বোপরি অভিবাসন—এই সবকিছু মিলিয়ে ‘সভ্যতা নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা’ তৈরি হচ্ছে।

জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল নথিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, ইউরোপ যদি নিজেকে ‘২০ বছরের কম সময়ে অচেনা’ করে তোলে, তাহলে ট্রাম্প প্রশাসন চুপচাপ বসে থাকবে না। তারা সরাসরি লড়াইয়ে নামবে। তারা সেই সব কট্টর ডানপন্থী, অতিরাষ্ট্রবাদী দলকে সমর্থন দেবে, যাদের তারা ‘প্রতিরোধের’ প্রতীক হিসেবে দেখছে। নথিতে বলা হয়েছে, ‘দেশপ্রেমী ইউরোপীয় দলগুলোর প্রভাব বাড়ছে’—এটি বড় আশার বিষয়।

নথিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপকে তার ‘বর্তমান পথ সংশোধন’ করতে সাহায্য করবে; অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপে সরকার পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে। এ পথে তারা জার্মানির অলটারনেটিভ ফর জার্মানি, ফ্রান্সের ন্যাশনাল র‍্যালি এবং নিঃসন্দেহে যুক্তরাজ্যের রিফর্ম পার্টির মতো শক্তির পাশে দাঁড়াবে।

ট্রাম্পের সমর্থকেরা বলেন, মার্কিন প্রশাসনের ইউরোপের সঙ্গে সমস্যা নেই। সমস্যা হলো ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে। তাঁদের মতে, আলাদা সার্বভৌম রাষ্ট্রের একটি ইউরোপ ট্রাম্পের ওয়াশিংটনের কাছ থেকে উষ্ণ অভ্যর্থনা পেত। কাকতালীয়ভাবে এটিই ভ্লাদিমির পুতিনের বহুদিনের পছন্দ। তিনি দীর্ঘদিন ধরেই ইউরোপীয় ইউনিয়নকে দুর্বল করা বা ভেঙে দেওয়াকে কৌশলগত লক্ষ্য হিসেবে দেখেছেন।

ইউরোপের নেতারা এখনো পুরোপুরি এই সত্য মেনে নিতে পারেননি। ন্যাটোর প্রধান মার্ক রুতে বললেন, ‘রাশিয়া আবার ইউরোপে যুদ্ধ ফিরিয়ে এনেছে, আর আমরা পরের লক্ষ্য।’ কিন্তু তিনি বলেননি, এই নতুন যুদ্ধে ন্যাটোর সবচেয়ে শক্তিশালী সদস্য যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে রাশিয়ার পাশে দাঁড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনের ওপর মস্কোর পছন্দের অস্ত্রবিরতি মানতে চাপ দিচ্ছে। কিয়েভকে বলা হচ্ছে দনবাসের যে অংশ তারা নিয়ন্ত্রণ করছে, সেখান থেকেও সরে যেতে। কিন্তু কোনো নিশ্চয়তা নেই যে রুশ সেনারা সেখানে প্রবেশ করবে না। ট্রাম্প বলেন, ইউক্রেনকে ‘সমঝোতায় আসতে হবে’। কারণ, রাশিয়ার ‘হাত অনেক ওপরে’।

ন্যাটোর প্রধান যুদ্ধের সতর্কতা দিচ্ছেন, ইউরোপকে প্রস্তুত হতে বলছেন। কিন্তু একসময়ের মিত্র ও এখনকার শত্রু যুক্তরাষ্ট্রের বিষয়ে কিছু বলছেন না। ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার জেলেনস্কির পাশে থাকার কথা বলেন, কিন্তু ট্রাম্প যখন পুতিনের পাশে দাঁড়ান, তখন তিনি নীরব থাকেন। তবে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ইউরোপের এখন কথা বলার সময় এসেছে।

* জনাথন ফ্রিডল্যান্ড, দ্য গার্ডিয়ান পত্রিকার একজন কলাম লেখক
- দ্য গার্ডিয়ান থেকে নেওয়া, ইংরেজি থেকে সংক্ষিপ্ত আকারে অনূদিত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

ইমরানের পতন ও আসিম মুনিরের উত্থান ভারতের যে বিপদ ডেকে আনছে by নাজিব জং

পাকিস্তান অদ্ভুত থমথমে অবস্থার মধ্যে আছে। ঝড় থেমে যাওয়ার পর যেমন এক ধরনের নীরবতা থাকে, কিন্তু তার মধ্যে আবার নতুন অস্থিরতার গন্ধ থাকে, পাকিস্তানে এখন সে রকম একটি পরিস্থিতি।

পাকিস্তানের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা ইমরান খান এখন আদিয়ালা জেলে বন্দী। ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির পুরো ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণে। শাহবাজ শরিফ নামমাত্র প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন।

এ অবস্থায় একটি ব্যর্থ গণতন্ত্রের জাহাজ সামনে এগোতে চেষ্টা করছে। ভারতের জন্য (যে দেশ মাত্র কিছুদিন আগে পেহেলগামে এক মারাত্মক সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছে এবং পরে ‘অপারেশন সিঁদুর’ নামে পাকিস্তানে সামরিক অভিযান চালিয়েছে) পাকিস্তানের এই অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা দূরের ঘটনা নয়। কারণ এটি দক্ষিণ এশিয়ার নড়বড়ে নিরাপত্তা ভারসাম্যের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে।

ইমরান খানের পতন পাকিস্তানের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নাটকীয় ঘটনা। দুর্নীতির মামলায় ইমরানের সাজা এবং তাঁর দলকে ভেঙে দেওয়ার নানা উদ্যোগ—এ সবকিছু দেশটিতে একটি জটিল পরিস্থিতি তৈরি করেছে।

তবু অদ্ভুতভাবে ইমরান এখনো পাকিস্তানের সবচেয়ে শক্তিশালী রাজনৈতিক প্রতীক। জেলে থাকায় তাঁর জনপ্রিয়তা কমেনি; বরং তিনি এমন এক রাজনৈতিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে ক্ষোভের প্রতীক হয়ে উঠেছেন, যেটিকে বহু মানুষ সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রিত বলে মনে করে।

যা বোঝা যাচ্ছে, তাতে আপাতত ইমরানের প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা নেই। কারণ নির্বাচনী প্রতীক হারিয়ে ইমরানের দল পিটিআই দুর্বল হয়ে পড়েছে। দলীয় কর্মীরা গ্রেপ্তার হয়েছেন। সভা-সমাবেশ বন্ধ। দলটির নেতা-কর্মীদের হয় চুপ করিয়ে দেওয়া হয়েছে, নয়তো সেনাবাহিনীর ঘনিষ্ঠদের দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।

ইমরানের দল পিটিআই যতই দমন-পীড়নের শিকার হোক, শহুরে তরুণ ও মধ্যবিত্ত জনগোষ্ঠী; বিশেষ করে পাঞ্জাব এবং খাইবার পাখতুনখাওয়ার তরুণেরা এখনো পিটিআইকেই ‘প্রতিষ্ঠানবিরোধী’ শক্তি মনে করেন।

ইমরানের দলকে দমন করে রাখার পেছনে রয়েছেন পাকিস্তানের প্রথম ‘চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস’ আসিম মুনির। দেশটির বর্তমান রাজনৈতিক ব্যবস্থার স্থপতি তিনিই। ইমরানের বিরুদ্ধে তাঁর অবস্থান কঠোর। অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিয়ে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি কঠিন। পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তা নীতি—সবকিছু একাই নিয়ন্ত্রণ করেন।

পাকিস্তানে বেসামরিক-সামরিক সম্পর্ক আগে থেকেই সেনাবাহিনীর দিকে ঝুঁকে ছিল। মুনির সেটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে পাকাপোক্ত করেছেন। শাহবাজ শরিফ এমন এক ম্যান্ডেটে সরকার চালাচ্ছেন যা জনগণের উচ্ছ্বাস থেকে নয়; বরং সেনাবাহিনীর কৌশলগত প্রয়োজন থেকে এসেছে। তিনি নির্বাচিত নেতার মুখোশ পরে বাস্তবে সেনাপ্রধানের নির্দেশনায় হাঁটছেন।

মুনির-শাহবাজের এই সমঝোতা কার্যকর হলেও ভেতরে-ভেতরে তা ভীষণ ভঙ্গুর। কারণ পাকিস্তানের অর্থনীতি ঋণে জর্জরিত, আইএমএফের কঠোর শর্তে নিঃশেষ, আর প্রবৃদ্ধি খুবই কম।

বাইরের দিকেও পাকিস্তানের সমস্যা বাড়ছে। আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের সঙ্গে ইসলামাবাদের সম্পর্ক দ্রুত খারাপ হয়েছে। পাকিস্তানের অভিযোগ, তেহরিক-এ-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)-কে তালেবান আশ্রয় দিচ্ছে। টিটিপির হামলাও বেড়েছে। জবাবে পাকিস্তান বিমান হামলা চালিয়েছে, সীমান্ত বন্ধ করেছে এবং লাখো অনথিভুক্ত আফগানকে ফেরত পাঠিয়েছে।

এদিকে ভারত কাবুলের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়িয়েছে। এটিও পাকিস্তানের জন্য এক ধরনের ভারসাম্যহীনতা তৈরি করছে।

চীন-পাকিস্তান ইকোনমিক করিডোর (সিপেক) এখনো পাকিস্তান-চীন সম্পর্কের কেন্দ্রবিন্দু। তবে চীন এখন অনেক বেশি সতর্ক এবং শর্তসাপেক্ষ। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র আবার পাকিস্তানের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছে মূলত সন্ত্রাসবাদবিরোধী সহযোগিতা এবং কৌশলগত কারণ থেকে। ওয়াশিংটনে শাহবাজ ও মুনিরের যৌথ উপস্থিতি থেকে বোঝা যাচ্ছে, এই সম্পর্ক সহযোগিতামূলক হলেও পুরোপুরি লেনদেননির্ভর।

এই পুরো ছবিতে সৌদি আরবও একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে কাজ করছে। বহু বছর ধরে সৌদি আরব পাকিস্তানের অর্থনৈতিক ত্রাতা হিসেবে কাজ করেছে। দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দর, অবকাঠামো, মসজিদ, মাদ্রাসা—বহু জায়গায় সৌদির অবদান আছে। এখনো তারা পাকিস্তানকে বিলম্বিত তেল মূল্য পরিশোধ সুবিধা দেয় আর রাজনৈতিক দিক থেকেও পাকিস্তানকে রক্ষা করে।

মুনির ও শাহবাজের জন্য সৌদির সমর্থন অত্যন্ত জরুরি। এটা না থাকলে আইএমএফের সঙ্গে শর্ত আরও কঠিন হতো। পাকিস্তানের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বিপজ্জনকভাবে কমে যেত। কিন্তু একই সময়ে সৌদি আরবের ভারতের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠতা প্রমাণ করে, পাকিস্তান আর আগের মতো সহজে সৌদির বন্ধুত্বের ওপর ভরসা করতে পারে না।

এই বিস্তৃত কূটনৈতিক পরিস্থিতি সরাসরি ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলছে। ভারতের কাছে পেহেলগাম হামলাটি ছিল এক গুরুত্বপূর্ণ সীমা অতিক্রমের ঘটনা। এরপর পাকিস্তানভিত্তিক গোষ্ঠীর ওপর ভারতীয় হামলা, পাকিস্তানের পাল্টা আঘাত এবং তারপর যুদ্ধবিরতি—সব মিলিয়ে এক কঠিন ‘নতুন স্বাভাবিক’ তৈরি হয়েছে। এখন এই অঞ্চলে সীমিত সামরিক সংঘর্ষ, ড্রোন যুদ্ধ, ক্ষেপণাস্ত্রভিত্তিক প্রতিরোধ—সবকিছুই পারমাণবিক হুমকির ছায়ার সঙ্গে পাশাপাশি চলছে।

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্ককে স্থিতিশীল রাখতে বহু বছর ধরে যে দুইটি বড় কূটনৈতিক চুক্তি কাজ করত তার একটি হলো সিন্ধু পানিচুক্তি, আরেকটি হলো শিমলা চুক্তি। তবে দুটো চুক্তিই এখন কার্যত অচল বা স্থগিত অবস্থায় রয়েছে। ফলে আগের মতো কোনো নিয়ম বা কাঠামো নেই যা দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়লে তা নিয়ন্ত্রণে রাখবে।

এখন অঞ্চলটি এমন এক কৌশলগত মুহূর্তে দাঁড়িয়ে, যা গত দুই দশকে দেখা যায়নি। পাকিস্তানের ভেতরের অস্থিরতা এমন একটি পরিবেশ তৈরি করেছে, যেখানে পররাষ্ট্রনীতি পরিকল্পিত নয়; বরং তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া-নির্ভর হয়ে পড়েছে। ভারতের জন্য এর মানে হলো, পাকিস্তান এখন শুধু একটি দুর্বল দেশ নয়, বরং এটি একটি অনিশ্চয়তার দেশ।

আর দক্ষিণ এশিয়ায় সরাসরি শত্রুতা যতটা বিপজ্জনক, অনিশ্চয়তা অনেক সময় তার চেয়েও বেশি ক্ষতিকর। ভারতের জন্য মূল চ্যালেঞ্জ হলো পাকিস্তানের নানা কথা, প্রচারণা বা হুমকির ভিড় থেকে কোনটি আসল বার্তা—তা ঠিকভাবে বোঝা।

ইসলামাবাদে যেসব রাজনৈতিক নাটক চলে, তার আড়ালে পাকিস্তান রাষ্ট্রের ভেতরে যে গভীর পরিবর্তন হচ্ছে, সেটাও আলাদা করে চিনতে হবে। ভারত যদি পাকিস্তানের বিশৃঙ্খলাকে নিজের জন্য সুবিধা মনে করে, সেটা ভুল হবে।

কারণ এমন একটি অনিরাপদ, অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল এবং রাজনৈতিকভাবে চাপে থাকা প্রতিবেশী দেশ যেকোনো সময় হঠাৎ এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে বসতে পারে যা তার বেসামরিক সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকে। সেই সিদ্ধান্তের ফল ভারতকে বড় ক্ষতির মুখে ফেলতে পারে।

ভারতের কাজ পাকিস্তানকে ঠিক করা নয়, বরং নিশ্চিত করা যে, পাকিস্তানের অস্থিরতা যেন ভারতের সীমান্তে সমস্যা না তৈরি করে এবং ভারতের বড় কৌশলগত উদ্দেশ্যগুলোকে যেন ব্যাহত না করে।

দিল্লিকে এখন নিশ্চিত করতে হবে, ভারত এখন ইন্দো-প্যাসিফিক, উপসাগরীয় অঞ্চল এবং আফগানিস্তানে যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে, পাকিস্তানের ভেতরের অস্থিরতা যেন সেই বড় কাজগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে।

দিল্লিকে মাথায় রাখতে হবে, ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক ভবিষ্যতে কোনো বড় চুক্তি বা নাটকীয় কূটনৈতিক সাফল্যে বদলে যাবে না। তাই দুই দেশের মধ্যে যে ঝুঁকি আছে, ভারত কত শান্তভাবে এবং বুদ্ধি দিয়ে তা সামলাতে পারে—তা দিয়েই ভারতকে সম্পর্কের প্রকৃতি ঠিক হবে।

* নাজিব জং, ভারতের জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া ইউনিভার্সিটির সাবেক উপাচার্য
- ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস থেকে নেওয়া, ঈষৎ সংক্ষেপিত অনুবাদ: সারফুদ্দিন আহমেদ

https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla%2F2025-12-11%2F6hadkxjc%2FWhatsApp-Image-2025-12-11-at-1.46.08-PM.jpeg?rect=0%2C0%2C1600%2C1067&w=622&auto=format%2Ccompress&fmt=avif
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, পাকিস্তানের চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস আসিম মুনির, পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। কোলাজ: প্রথম আলো

কুষ্টিয়ায় আমির হামজা: জামায়াত মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে ছিল না, ছিল ভারতের বিরুদ্ধে, এখন আমরা এটা জেনেছি

কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী আমির হামজা বলেন, ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ১৯৭১ সালের যে ভূমিকা, এত দিন পর্যন্ত যে মিথ্যা রচনা, আপনারা বদরুদ্দীন উমরের ইতিহাস পড়বেন। তাঁর লিখিত বইতে আমরা পড়েছি, মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে যে সমস্ত কল্পকাহিনি লেখা, এগুলো ১০০ ভাগের ৯০ ভাগ মিথ্যা। সুতরাং জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ ওই সময় যুদ্ধের বিরুদ্ধে ছিল না, তারা ছিল ভারতের বিরুদ্ধে। এখন আমরা এটা জেনেছি। এত দিন আমাদের এই সত্য জানতে দেওয়া হয়নি।’

আজ মঙ্গলবার সকালে বিজয় দিবস উপলক্ষে কুষ্টিয়ায় জামায়াত আয়োজিত বিজয় র‍্যালিতে অংশ নেওয়ার পর পৌরসভার বিজয় উল্লাস চত্বরে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন জামায়াতের এই প্রার্থী।

ইসলামি বক্তা হিসেবে পরিচিত আমির হামজা বলেন, ‘আজকের এই বিজয়ের র‍্যালি এই কারণে যে আমরা ১৯৭১ সালে এই দেশের স্বাধীনতার পক্ষে। ভারতের যে আগ্রাসন, এর বিরুদ্ধে ছিলাম। এ কারণে আমাদের এরা বিরোধী বানিয়ে রেখেছিল। আগামীর বাংলাদেশ আমরা ভারতের তাঁবেদারমুক্ত করে এ দেশে স্বাধীনচেতা হিসেবে আমরা চলতে চাই। আজকের এই র‍্যালির এটাই উদ্দেশ্য। আগামীতে দেশ ঐক্যবদ্ধ থাকবে, ইনশা আল্লাহ।’

জামায়াতের প্রার্থী আরও বলেন, ‘আমরা মনে হয়, দল–মত–জাতি–বর্ণ–ধর্মনির্বিশেষে এ দেশে যারাই জন্ম নেবে, তারাই যেহেতু সম্মানিত নাগরিক, সুতরাং সবাইকে নিয়ে আমরা আবার এই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। আমার মনে হয়, পেছনের ইতিহাস পেছন দিকে টানা ঠিক না। পেছনের সব ইতিহাস ভুলে আমরা নতুন ইতিহাস তৈরি করব। এখানে কোনো দল-মত না থাকাই ভালো। সবাই আমরা এক।’

এ সময় বিজয় র‍্যালিতে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি সুজা উদ্দীন জোয়ার্দ্দার, সহকারী সেক্রেটারি মাজহারুল হক, শহর জামায়াতের আমির এনামুল হকসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

আমির হামজার বক্তব্যের বিষয়ে মুক্তিযুদ্ধের কুষ্টিয়া জেলা ইউনিট কমান্ডের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘রাজনৈতিক বক্তব্য আমরা আমলে নিই না, আর এগুলো নিয়ে আমাদের সমালোচনা করারও প্রয়োজন পড়ে না। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস চির সত্য, সেটা সবাই জানে। উনি নির্বাচনে জেতার জন্য অনেক কিছু বলেন, আবার ক্ষমাও চান।’

https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla%2F2025-12-16%2Fklve67du%2FKushtiaAmir-hamza.jpg?rect=79%2C0%2C900%2C600&w=622&auto=format%2Ccompress&fmt=avif
বিজয় দিবস উপলক্ষে কুষ্টিয়ায় জামায়াত আয়োজিত বিজয় র‍্যালিতে অংশ নেওয়ার পর পৌরসভার বিজয় উল্লাস চত্বরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন জামায়াতের প্রার্থী আমির হামজা। ছবি: প্রথম আলো

ইউক্রেন-রাশিয়ার ওপর হতাশ ট্রাম্প, দনবাস নিয়ে নতুন প্রস্তাব

রাশিয়া ও ইউক্রেনের ওপর হতাশ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুদ্ধ থামাতে তাঁর পরিকল্পনায় দুই দেশকে রাজি করাতে না পারায় বেশ চটেছেন তিনি। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে নতুন প্রস্তাব পাওয়ার কথা জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। সেখানেও পূর্ব ইউক্রেনের দনবাস অঞ্চল রাশিয়ার হাতে তুলে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

প্রায় চার বছর ধরে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ চলছে। এ যুদ্ধ ঘিরে ট্রাম্পের অসন্তোষ নিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলাইন লেভিত। তিনি বলেন, এই যুদ্ধের দুই পক্ষকে নিয়েই ব্যাপক হতাশ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি এ নিয়ে আর কোনো আলোচনা করতে চান না। তিনি কাজ চান। তিনি চান এই যুদ্ধ যেন শেষ হয়।

চলতি বছর ক্ষমতায় বসার পর থেকে এই যুদ্ধ থামাতে কম চেষ্টা করেননি ট্রাম্প। সম্প্রতি ২৮ দফা শান্তি পরিকল্পনাও দিয়েছিলেন। তবে ওই পরিকল্পনা মস্কোঘেঁষা—এমন দাবি করে আপত্তি তুলেছিল কিয়েভ। পরে তা সংস্কার করে ২০ দফা করা হয়। যদিও সবশেষ এই পরিকল্পনা নিয়ে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে আলোচনা করে মার্কিন প্রতিনিধিরা কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেননি।
‘মুক্ত অর্থনৈতিক অঞ্চলের’ প্রস্তাব

রাশিয়া ও ইউক্রেনের সমঝোতায় সবচেয়ে বড় বাধা দনবাস অঞ্চল। এর প্রায় সবটুকু নিয়ন্ত্রণ করছে রুশ বাহিনী। যুদ্ধ বন্ধের বিনিময়ে পুরো দনবাসকে নিজেদের সঙ্গে যুক্ত করতে চায় রাশিয়া। তবে তা মানতে নারাজ ইউক্রেন। এরই মধ্যে গণভোটের মাধ্যমে ইউক্রেনের দনবাস, জাপোরিঝঝিয়া ও খেরসন অঞ্চলকে নিজেদের সঙ্গে যুক্ত করেছে রাশিয়া। তবে তা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পায়নি।

এই ভূখণ্ড নিয়ে ট্রাম্পের নতুন এক প্রস্তাব সম্পর্কে বৃহস্পতিবার কথা বলেছেন জেলেনস্কি। কিয়েভে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, দনবাসে যেটুকু অঞ্চল ইউক্রেনের নিয়ন্ত্রণে আছে, ‘মুক্ত অর্থনৈতিক অঞ্চল’ গড়ে তোলার কথা বলেছে যুক্তরাষ্ট্র। ওই অঞ্চল থেকে ইউক্রেনের সেনাদের সরে যেতে হবে। সেখানে রুশ বাহিনীও প্রবেশ করবে না। তবে এই অঞ্চল কে শাসন করবে, তা বলা হয়নি।

এ ছাড়া নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী ইউক্রেনের দক্ষিণে যেসব অঞ্চলে রুশ সেনারা অবস্থান করছেন, তাঁরাও সরে যাবেন না বলে উল্লেখ করেছেন জেলেনস্কি। তবে দেশটির উত্তরাঞ্চলে নিজেদের দখল করা এলাকাগুলো ছেড়ে দেবে মস্কো। জেলেনস্কি বলেছেন, ইউক্রেনের কোনো ভূখণ্ড বিচ্ছিন্ন করার ক্ষেত্রে সে দেশের মানুষের মতামত বা গণভোটের প্রয়োজন।

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন এই প্রস্তাব নিয়ে আরও একটি আপত্তি তুলেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট। ইউক্রেনীয় সেনারা মূলত অবস্থান করছেন দনবাসের দোনেস্কের একটি ছোট অঞ্চলে। জেলেনস্কি বলেন, ‘যুদ্ধের অপর পক্ষ (রাশিয়া) কেন উল্টো দিকে একই দূরত্বে পিছিয়ে যাবে না?’ ট্রাম্পের শান্তি প্রস্তাব ঘিরে ‘অনেক বড় বড় প্রশ্নের এখনো’ সুরাহা হয়নি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
আগামী সপ্তাহ গুরুত্বপূর্ণ

ট্রাম্পের নতুন প্রস্তাবের পর এ নিয়ে ভিডিও কনফারেন্সে আলোচনা করেছে ইউক্রেনের ইউরোপীয় মিত্ররা। এরপর যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের কার্যালয় থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘এটি ইউক্রেন ও দেশটির মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি মুহূর্ত। এই সঙ্গে ইউরোপ-আটলান্টিক অঞ্চল ঘিরে আমাদের যে নিরাপত্তার বিষয় রয়েছে, তার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।’

ইউক্রেনের জন্য একটি ন্যায্য ও টেকসই শান্তির পথ খুঁজে পেতে আগামী সপ্তাহ খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে বৃহস্পতিবার উল্লেখ করেছেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি বলেন, টেকসই মানে এমন একটি শান্তিচুক্তি, যাতে ভবিষ্যৎ সংঘাতের এবং ইউরোপীয় নিরাপত্তা কাঠামো অস্থিতিশীল হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে না।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থামানোর প্রচেষ্টায় ইউরোপকে একপ্রকার দূরে সরিয়ে রাখার চেষ্টা করেছেন ট্রাম্প। তিনি তাঁর বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জামাতা জ্যারেড কুশনারের কূটনীতির মাধ্যমে রাশিয়ার ও ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধের বিষয়ে সরাসরি সমঝোতা করতে চান। একটি চুক্তির জন্য যদিও কোনো সময়সীমা বেঁধে দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র। তবে বড়দিনের আগেই একটি সমাধানে যাওয়ার ইচ্ছা ওয়াশিংটনের।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফাইল
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফাইল ছবি: রয়টার্স

বাংলাদেশে অস্বস্তিকর শূন্যতা

দ্য স্টেটসম্যানের সম্পাদকীয়ঃ ১২ই ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন এবং একই সঙ্গে জুলাই সনদ নিয়ে একটি গণভোটের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এই সনদের লক্ষ্য হলো নির্বাহী ক্ষমতার ভারসাম্য পুনর্গঠন, প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা সীমিত করা এবং স্বাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা। কিন্তু এই গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক মুহূর্তেও দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট গভীরভাবে অস্থির রয়ে গেছে। এখনও রাজনৈতিক অনেক বিষয় অনিষ্পন্ন অবস্থায়। ভারতের প্রভাবশালী দ্য স্টেটসম্যান ‘আনইজি ভ্যাকুয়াম’ শীর্ষক এক সম্পাদকীয়তে একথা লিখেছে। এতে আরও বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয়ভাবে বর্তমানে বাংলাদেশ এক ধরনের অস্বাভাবিকতার মুখোমুখি। ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দলগুলো কর্তৃত্ব ও দিকনির্দেশনা প্রতিষ্ঠায় হিমশিম খাচ্ছে। আর ক্রমবর্ধমান মেরুকরণ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

দীর্ঘদিন ধরে বিরোধী রাজনীতির প্রধান স্তম্ভ হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান প্রায় দুই দশক ধরে লন্ডনে স্বেচ্ছানির্বাসনে।  তার দেশে ফেরার ক্ষেত্রে আইনি ও নিরাপত্তাজনিত বাধাগুলো অনেকটাই দূর হয়েছে। উল্লেখ্য, আগামী ২৫শে ডিসেম্বর তিনি দেশে ফিরছেন বলে এরই মধ্যে বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

কিন্তু দেশে চলমান পরিস্থিতি ইসলামপন্থী দলগুলোর জন্য একটি উর্বর ক্ষেত্র তৈরি করেছে, বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামীর জন্য। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে স্থবিরতাকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের দৃঢ় ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করছে তারা। এর মাধ্যমে তারা এমন এক বয়ান তৈরি করছে, যা দেশের বহুত্ববাদী ও গণতান্ত্রিক চেতনার জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধসহ প্রতিষ্ঠিত ঐতিহাসিক বিষয়গুলোকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তারা মধ্যপন্থী রাজনীতির প্রতি জনআস্থা দুর্বল করার চেষ্টা করছে। এতে কেবল রাজনৈতিক নয়, বরং দেশের নৈতিক ও আদর্শিক ভিত্তিকেও আঘাত করা হচ্ছে।

একই সময়ে, কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে আধিপত্য বিস্তার করা আওয়ামী লীগও তীব্র বিশ্বাসযোগ্যতায় সংকটে পড়েছে। দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব নির্বাসনে, এবং জনগণের ক্ষোভ ও অসন্তোষের সঙ্গে যথাযথভাবে মোকাবিলা করতে না পারায় বর্তমান রাজনৈতিক প্রতিযোগিতায় দলটি প্রায় প্রান্তিক হয়ে পড়েছে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশে এরই মধ্যে এ দলটির কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে।

এই শূন্যতা কেবল দলীয় দ্বন্দ্বের বিষয় নয়; এটি বাংলাদেশের রাজনীতির কেন্দ্র দখলের লড়াই- যে কেন্দ্র ঐতিহাসিকভাবে উদার, গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল কণ্ঠস্বরের প্রতিনিধিত্ব করেছে। এই অনিশ্চয়তাকে আরও ঘনীভূত করছে নতুন রাজনৈতিক দলগুলোর উত্থান, যারা মধ্যপন্থী-উদার রাজনৈতিক জায়গা দখলের চেষ্টা করছে।

এই নতুন দলগুলো বিএনপির সম্ভাব্য সমর্থনে ভাগ বসাতে চাইছে। আর ভাসমান ভোটাররা গভীর উদ্বেগ নিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। তারা নেতৃত্বের দৃশ্যমান উপস্থিতি, রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা ও আদর্শিক স্পষ্টতার মতো বিষয়গুলো বিবেচনা করছে- একটি অত্যন্ত মেরুকৃত পরিবেশে।

এই প্রেক্ষাপটে বিএনপির সামনে দ্বিমুখী চ্যালেঞ্জ। একদিকে, কেন্দ্রের দিকে তাদের মনোযোগ দেয়া; অন্যদিকে, নিজেদের রাজনৈতিক পরিচয় নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করা। দলটি পূর্বের ইসলামপন্থী মিত্রদের থেকে দূরত্ব তৈরি করে নিজেকে একটি উদার ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাচ্ছে। কিন্তু এই কৌশল অনেকটাই প্রতিক্রিয়াশীল- যে দৃঢ়তা ও আগ্রাসী বয়ান নির্মাণ প্রয়োজন, তা এতে অনুপস্থিত।

বিশেষ করে সেই ভাসমান ভোটাররা- যারা ইসলামপন্থী প্রভাব নিয়ে শঙ্কিত, আবার প্রচলিত দলীয় রাজনীতির প্রতিও সন্দিহান- তারা এখনো বিএনপির ওপর আস্থা রাখতে পারছে না। এর প্রভাব কেবল বাংলাদেশের ভেতরেই সীমাবদ্ধ নয়। রাজনৈতিক কেন্দ্র যদি ইসলামপন্থী আধিপত্যের দিকে সরে যায়, তবে তা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, সীমান্তপারের সহযোগিতা এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশের ওপর সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে।

অন্যদিকে, বিএনপি যদি নিজেদের অবস্থান সফলভাবে পুনর্গঠন করতে পারে এবং একটি বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, তবে তা বহুত্ববাদকে শক্তিশালী করবে এবং গণতান্ত্রিক মানদণ্ডকে আরও সংহত করতে পারে।

বাংলাদেশ আজ এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। নেতৃত্বের উপস্থিতি, রাজনৈতিক বয়ান নিয়ন্ত্রণ এবং আদর্শিক বিশ্বাসযোগ্যতা- এই তিনটি বিষয়ই নির্ধারণ করবে দেশের ভঙ্গুর রাজনৈতিক কেন্দ্র টিকে থাকবে, নাকি তা চরম মেরুকরণের কাছে নতি স্বীকার করবে।

আগামী কয়েক মাস কেবল কে দেশ শাসন করবে তা নির্ধারণ করবে না; বরং আগামী বহু বছরের জন্য বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক গতিপথ ও সামাজিক সংহতির ভিত্তিও গড়ে দেবে।

mzamin

‘পুরো দেশটাই একটা গভীর গর্ত, অজান্তেই আমরা এই গর্তে তলিয়ে যাচ্ছি’

প্রকাশ ১১ ডিসেম্বর ২০২৫ঃ গত ১০ ডিসেম্বর বুধবার দুপুরে রাজশাহীর তানোর উপজেলার কোয়েলহাট পূর্ব পাড়া গ্রামে সাজিদ নামের দুই বছরের একটি শিশু গভীর গর্তে পড়ে যায়। পরে বিকেল থেকে উদ্ধারকাজ শুরু করে ফায়ার সার্ভিস। ২৪ ঘণ্টা পরও শিশুটিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এ উদ্ধার অভিযানের দিকে তাকিয়ে আছে পুরো দেশ। সবার সঙ্গে শোবিজের বিভিন্ন অঙ্গনের তারকারাও প্রার্থনা করতে বলেছেন দেশের সবাইকে।

পুরোনো আরেকটি দুর্ঘটনার কথা মনে করিয়ে ওয়ারফেজ ব্যান্ডের ভোকাল পলাশ নূর তাঁর ফেসবুকে লিখেছেন, ‘আপনাদের মনে আছে কি না, জানি না, ঠিক আজ থেকে ১১ বছর আগে, ২০১৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর, ঢাকার শাহজাহানপুর রেলওয়ে কলোনিতে ৩৫০ ফুট গভীর পাইপে পড়ে ৪ বছরের ছোট্ট শিশু জিহাদ মৃত্যুবরণ করেছিল। হয়তো দুই দিন পর তার নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়েছিল।’
পলাশ আরও লিখেছেন, ‘গতকাল ঠিক তেমনই আরেকটি মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে রাজশাহীতে। ২ বছরের শিশু সাজিদ একই রকম একটি পাইপে পড়ে গেছে। দুই ঘটনার মধ্যে কী ভয়াবহ মিল! আল্লাহই জানেন, বাবুটির কী অবস্থা!! হে আল্লাহ, ওকে জীবিত অবস্থায় তার মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিন। আমিন।’

ছোট পর্দার অভিনেতা ইরফান সাজ্জাদ ফেসবুকে ক্ষোভ ঝেড়ে লিখেছেন, ‘একটা ১৫০ ফিট গভীর গর্ত! আহা দুই বছরের ছোট সাজিদ! এত বড় গর্ত করে যারা রাখলেন, দেশে হয়তো বিচার হবে না কিন্তু আখিরাতে কী জবাব দেবেন আল্লাহকে?? আমাদের পুরো দেশটাই একটা গভীর গর্ত! প্রতিনিয়ত আমরা আমাদের অজান্তেই এই গর্তে তলিয়ে যাচ্ছি! আমাদের বাঁচাবার কেউ নাই আল্লাহ ছাড়া।’
ইরফান সাজ্জাদ আরও লিখেছেন, ‘সাজিদ বাবা তুমি কিন্তু একা না, আমরা সবাই তোমার মতোই হারিয়ে যাব এ দেশে। একটা বাচ্চাকে গর্ত থেকে বের করার মতো উন্নত প্রযুক্তি নাই, একটা দেশ গড়া ভাবা যায়?’

অভিনেতা ইরফান সাজ্জাদ ও ওয়ারফেজ ব্যান্ডের ভোকাল পলাশ নূর
অভিনেতা ইরফান সাজ্জাদ ও ওয়ারফেজ ব্যান্ডের ভোকাল পলাশ নূর। ছবি কোলাজ

সমর্থকদের অভিযোগ: ইরানে নোবেলজয়ী নার্গেস মোহাম্মদীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে

ইরানের নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী ও নারী অধিকারকর্মী নার্গেস মোহাম্মদীকে ‘সহিংসভাবে গ্রেপ্তার’ করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। এ অভিযোগ করেছে তার প্রতিষ্ঠিত ‘নার্গেস ফাউন্ডেশন’। তারা জানিয়েছে, ৫৩ বছর বয়সী নার্গেস মোহাম্মদীকে ইরানের পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদে অন্যান্য অধিকারকর্মীদের সঙ্গে আটক করা হয়েছে। নোবেল কমিটি এ ঘটনাকে নার্গেস মোহাম্মদীর নির্মম গ্রেপ্তারে গভীর উদ্বেগজনক জানিয়েছে। তারা ইরানি কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে অবিলম্বে তার অবস্থান স্পষ্ট করতে, তার নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে এবং শর্তহীনভাবে তাকে মুক্তি দিতে। এ বিষয়ে ইরান কোনো মন্তব্য করেনি। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।

নারী নিপীড়নের বিরুদ্ধে আন্দোলন ও মানবাধিকার রক্ষায় ভূমিকার জন্য ২০২৩ সালে নার্গেস মোহাম্মদী নোবেল শান্তি পুরস্কার পান। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে চিকিৎসাজনিত কারণে তাকে তিন সপ্তাহের জন্য সাময়িকভাবে মুক্তি দেয়া হয়। তিনি ২০২১ সাল থেকে তেহরানের কুখ্যাত এভিন কারাগারে বন্দি ছিলেন। এরপর আবার কারাগারে ফেরার কথা ছিল, সেখানে তিনি একাধিক সাজা ভোগ করছিলেন। খবর অনুযায়ী, সর্বশেষ গ্রেপ্তারটি ঘটে যখন তিনি আইনজীবী খসরু আলিকর্দির স্মরণসভায় অংশ নিতে যান। আলিকর্দিকে গত সপ্তাহে তার কার্যালয়ে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। নরওয়েভিত্তিক সংগঠন ‘ইরান হিউম্যান রাইটস’ তার মৃত্যুর পরিস্থিতিকে ‘সন্দেহজনক’ বলে উল্লেখ করে স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়েছে। স্মরণসভায় আরও কয়েকজন অধিকারকর্মীকেও আটক করা হয়। সেখানে স্বৈরশাসকের মৃত্যু হোক ও ইরান দীর্ঘজীবী হোক- এমন স্লোগান দেয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে।

নার্গেস মোহাম্মদীর স্বামী তাগি রহমানি বিবিসি পার্সিয়ানকে বলেন, তারা নার্গেসকে সহিংসভাবে গ্রেপ্তার করেছে। ওই আইনজীবীর ভাই স্মরণসভায় উপস্থিত ছিলেন এবং তিনি গ্রেপ্তারের দৃশ্য প্রত্যক্ষ করেছেন। এই কাজ মানবাধিকার আইনের পরিপন্থী এবং একধরনের প্রতিশোধমূলক আচরণ। মাশহাদে ঘটনাটি ঘটেছে, যা উদ্বেগজনক। কারণ সাম্প্রতিক সময়ে রাষ্ট্রীয় দমনপীড়ন আরও তীব্র হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে নার্গেস মোহাম্মদী অভিযোগ করেন, জুনে ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির পর ইরানি কর্তৃপক্ষ দমননীতি আরও জোরদার করেছে।

গত সপ্তাহে টাইম ম্যাগাজিনে প্রকাশিত এক প্রবন্ধে তিনি লিখেছেন, ইরানি রাষ্ট্র ব্যক্তিগত ও জনজীবনের সব দিক নিয়ন্ত্রণ করছে। তিনি বলেন, নজরদারি, সেন্সরশিপ, নির্বিচার গ্রেপ্তার, নির্যাতন এবং স্থায়ী সহিংসতার হুমকিতে তাদের শান্তি বিঘ্নিত হচ্ছে। তিনি নোবেল কমিটিকেও জানিয়েছিলেন, শাসকগোষ্ঠীর এজেন্টদের কাছ থেকে পরোক্ষ পথে ও তার আইনজীবীদের মাধ্যমে তিনি হুমকি পেয়েছেন।

নোবেল কমিটির বিবৃতিতে বলা হয়, নার্গেস মোহাম্মদীর প্রতি পাঠানো হুমকিগুলো স্পষ্ট করে যে তার নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে, যদি না তিনি ইরানের ভেতরে সব ধরনের জনসম্পৃক্ততা এবং গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পক্ষে আন্তর্জাতিক তৎপরতা বা গণমাধ্যমে উপস্থিতি বন্ধে সম্মত হন। গত এক বছরে তিনি অবিচল থেকেছেন। বাধ্যতামূলক হিজাব পরতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন এবং সারা দেশে সহকর্মী অধিকারকর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। তার ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, জীবদ্দশায় নার্গেস মোহাম্মদীকে ১৩ বার গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাকে মোট ৩৬ বছরেরও বেশি কারাদণ্ড ও ১৫৪ বেত্রাঘাতের সাজা দেয়া হয়েছে।

mzamin

যৌন নিপীড়ক এপস্টেইনের সঙ্গে ট্রাম্পের আরও তিন নতুন ছবি প্রকাশ

কুখ্যাত যৌন নিপীড়ক প্রয়াত জেফরি এপস্টেইনের বাড়ি থেকে পাওয়া আরও ১৯টি ছবি গতকাল শুক্রবার প্রকাশ করা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে তিনটি ছবিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দেখা গেছে।

যৌন অপরাধে দণ্ডিত এপস্টেইন সংশ্লিষ্ট নথিপত্র প্রকাশের নির্ধারিত সময়সীমা ঘনিয়ে আসার মধ্যে হাউস ওভার সাইট কমিটির ডেমোক্র্যাট সদস্যরা নতুন এই ১৯ ছবি প্রকাশ করলেন। কমিটির এই সদস্যরা বলেন, তাঁরা এপস্টেইনের বাড়ি (স্টেট) থেকে পাওয়া ৯৫ হাজারের বেশি ছবি পর্যবেক্ষণ করছেন।

এপস্টেইনের সঙ্গে ট্রাম্পের প্রকাশিত নতুন ছবিগুলোর একটি সাদা-কালো। তাতে দেখা যায়, ট্রাম্প বেশ কয়েকজন নারীর সঙ্গে হাসিমুখে দাঁড়িয়ে আছেন। ট্রাম্পের দুই পাশে সারি করে দাঁড়িয়ে থাকা ওই নারীদের মুখ আড়াল করা।

দ্বিতীয় ছবিতে দেখা যায়, ট্রাম্প এপস্টেইনের পাশে দাঁড়িয়ে আছেন। তৃতীয় ছবিতে একজন নারীর পাশে ট্রাম্পকে বসে থাকতে দেখা যায়। ছবিটি বেশ ঝাপসা আর নারীর মুখ আড়াল করা। ছবিতে ট্রাম্পের লাল টাই গলার সঙ্গে ঢিলেঢালা অবস্থায় ঝুলে রয়েছে।

ছবিগুলো কবে ও কোথায় তোলা হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়।

নতুন ছবির বিষয়ে গতকাল হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, সবাই এই ব্যক্তিকে চেনেন। পাম বিচের সব জায়গায় তাঁর বিচরণ ছিল। সবার সঙ্গে তাঁর ছবি আছে। বলতে গেলে, সেখানে প্রায় শত শত মানুষের সঙ্গে তাঁর ছবি আছে। তাই এটা কোনো বড় বিষয় নয়।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অ্যাবিগেইল জ্যাকসন বলেন, যাঁরা এপস্টেইনের শিকার হয়েছেন, তাঁদের জন্য ডেমোক্র্যাটরা এখন পর্যন্ত যা করেছেন, এর চেয়ে অনেক বেশি করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। তিনি আরও বলেন, ‘সংবাদমাধ্যমে শুধু ডেমোক্র্যাটদের বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি বন্ধের সময় হয়েছে। বরং ডেমোক্র্যাটদের প্রশ্ন করা শুরু করুন—এপস্টেইন দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পরও কেন তাঁর সঙ্গে তাঁরা সময় কাটাতে চাইতেন।’

কয়েক মাস ধরে এপস্টেইন কেলেঙ্কারি ট্রাম্পের জন্য রাজনৈতিক মাথাব্যথার কারণ হয়ে আছে। জটিল এ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার একটি কারণ ট্রাম্প নিজে। তিনিই একসময় এপস্টেইনকে নিয়ে ষড়যন্ত্রতত্ত্বগুলো সমর্থকদের মধ্যে প্রচার করেছিলেন।

এখন অনেক ট্রাম্প–সমর্থক বিশ্বাস করেন, তাঁর প্রশাসনের কর্মকর্তারা এপস্টেইনের সঙ্গে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সম্পর্ক আড়াল করছেন এবং ম্যানহাটানের একটি কারাগারে তাঁর মৃত্যুকে ঘিরে প্রকৃত ঘটনা প্রকাশ করছেন না।

২০১৯ সালে কারাগারের একটি কক্ষ থেকে এপস্টেইনের ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে বলা হয়, তিনি আত্মহত্যা করেছেন।

গত জুলাই মাসে মার্কিন বিচার বিভাগ বলেছে, এপস্টেইনের ঘটনায় কোনো তৃতীয় পক্ষ জড়িত থাকা নিয়ে তদন্ত শুরু করার মতো যথেষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

বিচার বিভাগ থেকে আরও বলা হয়, ‘ক্লায়েন্ট’–এর কোনো তালিকা কিংবা যৌনকর্মের জন্য নারীদের পাচারে জড়িত থাকতে পারেন—এমন কোনো ব্যক্তির নাম তারা খুঁজে পায়নি। এপস্টেইন কাউকে ‘ব্ল্যাকমেল’ করেছেন—এমন প্রমাণও তারা পায়নি।

গত শতকের নব্বইয়ের দশক থেকে এ শতাব্দীর প্রথম কয়েক বছর এপস্টেইনের সঙ্গে ট্রাম্পের বন্ধুত্ব ছিল। ট্রাম্প দাবি করেন, শিশু যৌন নিপীড়নের অপরাধে এপস্টেইন দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগেই তাঁদের ওই বন্ধুত্ব ছিন্ন হয়।

এপস্টেইনের যৌন নিপীড়ন ও যৌনকর্মী হিসেবে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের পাচার করা নিয়ে তিনি কিছু জানতেন না বলেও ট্রাম্প বারবার দাবি করেন।

নতুন প্রকাশিত ছবিতে সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন, ট্রাম্পের সাবেক সহকারী স্টিভ ব্যানন, একসময়ের শীর্ষ ধনী বিল গেটস, সাবেক অর্থমন্ত্রী ল্যারি সামার্সকেও দেখা গেছে।

এ ছাড়া কয়েক ধরনের যৌন খেলনা ও সাড়ে চার ডলারের ‘ট্রাম্প কনডম’ দেখা গেছে।

ডেমোক্র্যাটরা বলেছেন, তাঁরা যে হাজার হাজার ছবি পর্যবেক্ষণ করছেন, সেগুলোতে সম্পদশালী ও প্রভাবশালী পুরুষদের ছবিও রয়েছে, যাঁরা জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে সময় কাটিয়েছেন। এ ছাড়া নারীদের ও এপস্টেইনের বিভিন্ন সম্পদের ছবি রয়েছে। সামনে আরও ছবি প্রকাশ করা হবে।

নতুন প্রকাশিত এ সাদা-কালো ছবিতে ট্রাম্পকে বেশ কয়েকজন নারীর সঙ্গে হাসিমুখে ছবি তুলতে দেখা যাচ্ছে। ছবিটি ১২ ডিসেম্বর প্রকাশ করা হয়েছে
নতুন প্রকাশিত এ সাদা-কালো ছবিতে ট্রাম্পকে বেশ কয়েকজন নারীর সঙ্গে হাসিমুখে ছবি তুলতে দেখা যাচ্ছে। ছবিটি ১২ ডিসেম্বর প্রকাশ করা হয়েছে। ছবি: রয়টার্স