Thursday, September 3, 2015

রাজধানীর রাস্তাঘাট স্মরণকালের করুণ দশা by খালিদ সাইফুল্লাহ

যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তা থেকে দক্ষিণ যাত্রাবাড়ী দয়াগঞ্জ সড়ক
পুরো এলাকার বেহাল অবস্থা : আবদুল্লাহ আল বাপ্পী
রাজধানীর সড়কগুলোর স্মরণকালের ভয়াবহ করুণ দশার সৃষ্টি হয়েছে। এতটা নাজুক অবস্থা নগরবাসী আগে কখনো দেখেনি। আর এই দশা শিগগিরই কাটছে না। মূল সড়ক থেকে অলিগলিÑ সর্বত্রই ছোট-বড় অসংখ্য খানাখন্দ তৈরি হওয়ায় জনজীবনে নেমে এসেছে চরম ভোগান্তি।
দুই সিটি করপোরেশন সপ্তাহ দুয়েক আগে ইট-বালু দিয়ে গর্ত সমান করার চেষ্টা করলেও আবার ভারী বৃষ্টিপাত হওয়ায় সড়কগুলো আগের অবস্থায় ফিরে গেছে। এর পাশাপাশি ওয়াসার খোঁড়াখুঁড়ি ভোগান্তির মাত্রা দিয়েছে আরো বাড়িয়ে। ঢাকার মেয়ররা সড়ক উন্নয়নে সরকারের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ পেলেও বিভিন্ন প্রক্রিয়া শেষ করে এ কাজ শুরু হতে কমপক্ষে তিন মাস লেগে যাবে। সে পর্যন্ত নগরবাসীকে দুর্ভোগ সঙ্গী করেই চলাচল করতে হবে।
সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা যায়, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে রাস্তা রয়েছে প্রায় দুই হাজার ১১৯ দশমিক ৭৪৯ কিলোমিটার। এর মধ্যে ঢাকা উত্তরে রয়েছে এক হাজার ৩৩৭ দশমিক ৯১৩ কিলোমিটার এবং দেিণ ৭৮১ দশমিক ৮৩৬ কিলোমিটার। ঢাকায় বড় বড় যান চলাচল করতে পারে এমন প্রধান সড়ক (প্রাইমারি, সেকেন্ডারি ও সংযোগ) রয়েছে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার। এর মধ্যে ঢাকা দেিণর বড় সড়ক ১৫৮ কিলোমিটার। বাকি প্রায় এক হাজার কিলোমিটার রাস্তা সরু-সঙ্কীর্ণ ও গলি। সিটি করপোরেশনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, ঢাকার ২১১৯ কিলোমিটার রাস্তার মধ্যে বর্তমানে হাজার কিলোমিটারের ওপর রাস্তা কম-বেশি খারাপ রয়েছে। তবে সম্প্রতি দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এক জরিপের মাধ্যমে ১৬৫ কিলোমিটার ভাঙাচোরা সড়কের তালিকা তৈরি করেছে। একইভাবে উত্তর সিটি করপোরেশনও তাদের খারাপ সড়কের তালিকা প্রস্তুত করেছে। তাদের মোট সড়কের প্রায় অর্ধেকই ভাঙাচোরা বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
রাজধানীর পল্টন মোড় ঘেঁষে সরকারের মূল কেন্দ্রস্থল সচিবালয় অবস্থিত। এ সচিবালয়ে বসেই মন্ত্রীরা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন। কিন্তু এ সচিবালয়ের পাশ ঘিরে পল্টন মোড় থেকে হাইকোর্ট মোড়, জিরো পয়েন্ট রোড, দৈনিক বাংলা সড়ক ও বিজয়নগর সড়কের প্রতিটি রাস্তার অবস্থাই শোচনীয়। পল্টন মোড়ের অবস্থা সবচেয়ে করুণ। গুরুত্বপূর্ণ এ মোড়ে অসংখ্য ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সপ্তাহ দুয়েক আগে এ গর্তগুলো ইট-বালু দিয়ে ভরাট করা হলেও ক’দিন না যেতেই আবারো একই রূপ ধারণ করেছে। এখান দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে পথচারীরা সমস্যায় পড়ছেন।
দেশের সব উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয় একনেকের সভায়। কিন্তু আগারগাঁওয়ের বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের বিপরীত পাশে অবস্থিত পরিকল্পনা কমিশনের ভবনের চার পাশের সড়কগুলোর চরম অবস্থা। প্রতিটি সড়কেই অসংখ্য বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে।
বাসাবো বৌদ্ধ মন্দির মোড় থেকে কালীবাড়ি সড়ক। স্থানীয় এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ছাড়াও অটোরিকশা, রিকশা, ভ্যান, প্রাইভেট গাড়িসহ বিভিন্ন ধরনের যান চলাচল করে। আর রাত হলেই সড়কটিতে মালবাহী ট্রাকের দাপট বেড়ে যায়। এ কারণে সড়কটির ওয়াসার পানির পাম্পের সামনের অংশ, কদমতলা মোড়সহ বিভিন্ন স্থানে পিচ উঠে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এবড়ো-খেবড়ো রাস্তা দিয়ে চলতে গিয়ে যাত্রীবাহী রিকশা প্রায়ই দুর্ঘটনায় পড়ছে। এ ছাড়া গর্তের কারণে পানি জমে পথচারীদের চলাচলে বিঘœ সৃষ্টি করছে। কাদা ছিটে পোশাক নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। যানজট সৃষ্টির অন্যতম কারণও এ গর্তময় সড়ক। সড়কটির মতোই আহমদবাগ থেকে মুগদা হাসপাতাল সড়কে অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। রাস্তার মাঝখানে খোলা ম্যানহোলের মধ্যে গাছের ডাল দিয়ে পথচারীদের সতর্ক করা হচ্ছে। শুধু এ দু’টি সড়কই নয়, টানা বর্ষণে রাজধানীর অধিকাংশ সড়কেরই এখন বেহাল দশা। রাজধানীর উত্তরা থেকে সদরঘাট, মিরপুর থেকে বাসাবো প্রায় সব এলাকার রাস্তায় তৈরি হয়েছে বড় বড় খানাখন্দ। কোথাও কোথাও পুরো রাস্তা ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। কোথাও রাস্তার গায়ের ছাল-বাকল উঠে গেছে। পানি জমা অংশগুলোর বিটুমিন-কার্পেটিং উঠে এবড়ো-খেবড়ো হয়ে গেছে সড়ক। ভিআইপি সড়ক থেকে রাজধানীর অলিগলির কোনোটিই বাদ যায়নি সর্বনাশ থেকে। পাড়া-মহল্লার রাস্তাগুলোর অবস্থা আরো শোচনীয়। দুই বছরও হয়নি কুড়িল ফাইওভার উদ্বোধন হয়েছে। এরই মধ্যে এর খিলক্ষেত প্রান্তে ব্রিজের ওপর বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। উত্তরার বিভিন্ন সেক্টরের ভেতরের রাস্তার অবস্থাও করুণ। সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে ৪ নম্বর সেক্টরে। উত্তরার অদূরে আজমপুর থেকে উত্তরখান ও আবদুল্লাহপুর থেকে উত্তরখান পর্যন্ত রাস্তাগুলো এখন যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। রামপুরা রোডের বিভিন্ন স্থানে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।
ফাইওভার নির্মাণের কারণে রাজারবাগ, মালিবাগ, মৌচাক থেকে রামপুরা পর্যন্ত সড়কে অসংখ্য বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। এক দিকে ফাইওভার নির্মাণজনিত সমস্যা তার ওপর ভাঙাচোরা সড়কের কারণে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে নগরবাসীকে। মৌচাক থেকে মগবাজার ওয়্যারলেস রেলগেট সড়কেরও বেহাল দশার সৃষ্টি হয়েছে। মালিবাগ মোড় থেকে রাজারবাগ মোড় পর্যন্তও একই অবস্থা। পুরো সড়কই চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপোযোগী হয়ে গেছে।
মগবাজার ওয়্যারলেস মোড় থেকে মধুবাগ সড়কটির অবস্থাও খারাপ। ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত তৈরি হওয়ায় সড়কটি দিয়ে যান ও জনসাধারণের চলাচলে মারাত্মক বিঘœ ঘটছে। বর্তমানে বর্ষাকাল চলায় ভোগান্তির মাত্রা বেড়েছে কয়েক গুণ। পুরো সড়ক কাদাপানিতে একাকার হয়ে গেছে। প্রায়ই দুর্ঘটনায় আহত হচ্ছেন যাত্রীরা। পোস্তগলা ব্রিজ থেকে করিমউল্লাহবাগ পর্যন্ত সড়কটির এতই ভগ্নদশা যে সম্প্রতি এক মহিলা রিকশা থেকে ছিটকে পড়ে ট্রাকের তলায় পিষ্ট হয়ে নিহত হন।
তেজগাঁও শিল্প এলাকার লাভ রোডের আহ্ছানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে দেখা গেছে, সেখানকার পুরো রাস্তাই ভেঙে তছনছ। স্থানীয়রা জানান, বৃষ্টি হলেই সেখানে ছোট ছোট জলাশয় তৈরি হয়। আহ্ছানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরকৌশল বিভাগের ছাত্র শরিফুল হাসান বলেন, বর্ষা মওসুমের শুরু থেকেই ওখানে এমন অবস্থা চলছে। সিটি করপোরেশন মেরামত না করায় দিন দিন রাস্তা ভাঙনের পরিমাণ বাড়ছে।
মৌচাক মোড়ে অবস্থিত জি ইন্টারন্যাশনালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিপ্লব বিশ্বাস ােভ প্রকাশ করে বলেন, এখানে এমনিতেই সর্বণ যানজট লেগে থাকে। তার ওপর রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে এলাকাটি কুৎসিত রূপ ধারণ করেছে। গুলশান-২ ওয়েস্টিন হোটেলের পেছনের সড়কটি পিচ উঠে এবড়ো-খেবড়ো হয়ে গেছে।
রাস্তা ভাঙাচোরার পাশাপাশি খোঁড়াখুঁড়ি ভোগান্তির মাত্রাকে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। ওয়াসা একটি প্রকল্পের অধীনে বছরজুড়ে পাইপ বসানোর কাজ করছে। ধানমন্ডি জিগাতলার বিভিন্ন সড়কে ওয়াসার পাইপ বসানোর কাজ চলছে। খনন করার পর ফেলে রাখা মাটি বৃষ্টিতে পুরো রাস্তায় ছড়িয়ে পড়ায় কাদাপানিতে একাকার হয়ে গেছে। এখানে একসাথে চারটি সড়কে কাজ চলায় এলাকাবাসীকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তাদের বাসা থেকে বের হওয়ারও উপায় থাকছে না। মিরপুরের পীরেরবাগে তিন মাস আগে কার্পেটিং করা রাস্তা কেটে একাকার করে ফেলেছে ওয়াসা। ফলে এ এলাকা এখন চলাচলের অযোগ্য।
সড়ক উন্নয়নের অংশ হিসেবে সিটি করপোরেশন বনানীর ১২/ই ব্লকের বাজার মার্কেটের পাশ দিয়ে ড্রেন নির্মাণ করছে। এ কারণে ওই সড়কে কাদাপানিতে একাকার হয়ে গেছে। একইভাবে ১৩/ই ব্লকের বিভিন্ন সড়কে দীর্ঘ দিন থেকে খোঁড়াখুঁড়ি করে ড্রেন নির্মাণ করা হচ্ছে। এ জন্য ওই এলাকার কয়েকটি সড়ক বন্ধও করে দেয়া হয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে এলাকাবাসীকে।
ভাঙা রাস্তার কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। রিকশা থেকে বাস সব ধরনের গাড়িই এর শিকার হচ্ছে। ভাঙা রাস্তার কারণে গাড়ির গতি কমে সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। মিরপুর থেকে মতিঝিল চলাচলকারী নিউভিশন গাড়ির এক চালক সহিদুল জানান, ভাঙা রাস্তা দিয়ে চলতে গিয়ে গাড়ির মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। টায়ার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে দ্রুত। পাতি ভেঙে যাচ্ছে। এতে গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণে ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। গাজীপুর-মতিঝিল-সায়েদাবাদ রুটে চলাচলকারী ছালছাবিল পরিবহনের চালক সাগর তীব্র ােভ প্রকাশ করে বলেন, হয় যানজট, না হলে রাস্তা খারাপ। একটা না একটা সমস্যা লেগেই থাকে। গাড়ি চালাতে গিয়ে মনমেজাজ ভালো থাকে না। যাত্রাবাড়ী-পল্লবী রুটে চলাচলকারী ইটিসি পরিবহনের চালক সোয়েব বলেন, খানাখন্দ ছাড়াও রাস্তার ওপর পড়ে থাকা ইট-পাথরের সুরকির ওপর দিয়ে গাড়ি চালালে টায়ারের বারোটা বেজে যায়। নতুন টায়ারগুলো পাথরের খোয়ায় লেগে কেটে যায়। আর একটা টায়ার নষ্ট হলেই ২০-৩০ হাজার টাকা গচ্চা। ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েতুল্লাহ বলেন, প্রতিদিনই হেলপার-ড্রাইভারদের কাছ থেকে রাস্তার অভিযোগ শুনতে শুনতে আমি হয়রান। এ কথা সিটি করপোরেশন ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে। উভয় প্রতিষ্ঠানই আশ্বাস দিয়েছে, শিগগিরই রাস্তাগুলো মেরামত করে দেবে।
দক্ষিণ সিটি করপোরেশন সম্প্রতি তাদের ১৬৫ কিলোমিটার ভাঙাচোরা রাস্তার তালিকা তেরি করেছে। এর পাশাপাশি ড্রেন নির্মাণ, নর্দমার উন্নয়নসহ সংশ্লিষ্ট খাতে ‘কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ইম্প্রুভমেন্ট অব রোড অ্যান্ড আদার ইনফ্রাস্টাকচার অব ফাইভ জোন আন্ডার ঢাকা সিটি করপোরেশন’ প্রকল্পের আওতায় সরকারের কাছে ৩০৯ কোটি ১৬ লাখ টাকার দাবি করেছিলেন মেয়র সাঈদ খোকন। কিন্তু সরকার তাদের ২৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। এ কারণে ক্ষতিগ্রস্ত সব সড়ক মেরামত করা সম্ভব হবে না বলে জানিয়েছেন ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো: আনছার আলী খান। তিনি বলেন, এ জন্য ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তার তালিকা কাটছাঁট করতে হবে।
উত্তর সিটি করপোরেশনে মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পরই আনিসুল হককে একনেক থেকে ২০০ কোটি টাকা দেয়া হয়। সড়ক, ড্রেন ও নর্দমা উন্নয়নে এ টাকা ব্যয় করার কথা রয়েছে। তবে টাকা বরাদ্দ করা হলেও এখন বৃষ্টি থাকায় রাস্তার উন্নয়নকাজ শুরু করতে পারছে না দুই সিটি করপোরেশন। কারণ বৃষ্টি বহাল থাকলে আবারো নষ্ট হয়ে যাবে। তা ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত এত বিপুলসংখ্যক সড়কের কাজ করতে দরপত্র আহ্বান ও ওয়ার্ক অর্ডার দিতে এখনো তিন মাস লেগে যাবে বলে দক্ষিণের প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আগামী ডিসেম্বর-জানুয়ারি নাগাদ প্রকল্পের কাজ শুরু করা যেতে পারে।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সৈয়দ কুদরত উল্লাহ বলেন, ডিএনসিসির পাঁচটি অঞ্চলের তিগ্রস্ত রাস্তার তালিকা তৈরি করা হয়েছে। আপাতত ভাঙাচোরা রাস্তাগুলোকে ব্যবহার উপযোগী রাখার জন্য ইটের খোয়া দিয়ে ম্যাকাডাম করে দেয়া হয়েছে। বৃষ্টি চলমান থাকায় এখনই কার্পেটিং করা যাচ্ছে না। শুষ্ক মওসুম শুরু হলে তখন রাস্তা মেরামত করা হবে।
তবে নগরবাসীর বক্তব্য শত শত কোটি টাকা যেন পানিতে ধুয়ে না যায়। তারা টেকসই রাস্তাঘাট চান। নতুন দুই মেয়র যাতে চুরি প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেন। নই এর দায় তাদের ঘাড়েই এসে পড়বে।

অভিবাসী–সংকট আরও গভীর হচ্ছে

হাঙ্গেরির বুদাপেস্টের কেলেটি রেলওয়ে স্টেশন চত্বর থেকে
গতকাল অভিবাসন-প্রত্যাশীদের সরিয়ে দেয় পুলিশ।
এক ঘণ্টার কিছু বেশি সময় স্টেশন চত্বর বন্ধ রাখা হয়। পরে
তা খুলে দেওয়া হলেও অভিবাসীদের আর ঢুকতে দেওয়া হয়নি
মূলত মধ্যপ্রাচ্যসহ এশীয় দেশগুলো থেকে ইউরোপমুখী অভিবাসন-প্রত্যাশীদের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। ফলে ওই অঞ্চলে চলমান অভিবাসী-সংকট দিন দিন আরও গভীর হচ্ছে। গত সোমবার এক দিনেই অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় পৌঁছায় ৩ হাজার ৬৫০ জন অভিবাসী; যা এক দিনে ভিয়েনায় পৌঁছানো অভিবাসীর সংখ্যার রেকর্ড। খবর এএফপি ও রয়টার্সের।
যুদ্ধ, সংঘাত ও দারিদ্র্য থেকে বাঁচতে মূলত সিরিয়া, আফগানিস্তান, ইরাক, লিবিয়ার নাগরিকেরা নৌকায় সাগর পার হওয়াসহ বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ পথে ইউরোপে যাচ্ছে। আফ্রিকার দারিদ্র্যপীড়িত দেশ চাদ, নাইজার, সুদানসহ সাব-সাহারা অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের মানুষও হয়েছে পশ্চিম ইউরোপমুখী। ইউরোপের সমৃদ্ধ অর্থনীতির দেশগুলোতে ঢোকার পথ হিসেবে তারা ব্যবহার করছে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত (ইউ) দেশ হাঙ্গেরিকে। অনেক অভিবাসীরই লক্ষ্য ইউরোপের অন্যতম শীর্ষ অর্থনীতির দেশ জার্মানি।
অস্ট্রিয়ার পুলিশের মুখপাত্র প্যাট্রিক মাইরহোফার গতকাল মঙ্গলবার বলেন, সোমবার এক দিনেই ট্রেনযোগে ভিয়েনা পৌঁছায় ৩ হাজার ৬৫০ জন অভিবাসী। এ নগরে এক দিনে পৌঁছানো অভিবাসীর সংখ্যার ক্ষেত্রে এটি একটি রেকর্ড। মুখপাত্র বলেন, হাঙ্গেরি কর্তৃপক্ষ ভিসা না থাকা সত্ত্বেও অভিবাসীদের বুদাপেস্ট থেকে ছেড়ে দিচ্ছে।
অস্ট্রিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জোহানা মিকল-লেইটনার শরণার্থী আইন নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে জার্মানির প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। তিনি বলেন, শোনা যাচ্ছে, অভিবাসীদের নিজ দেশে নিতে জার্মানি ট্রেন পাঠাচ্ছে হাঙ্গেরিতে। তাই যত দ্রুত সম্ভব এ বিষয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে জার্মানিকে। এতে হাঙ্গেরিতে থাকা অভিবাসীদের কোনো ধরনের মিথ্যা আশ্বাস দিতে হবে না।
ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে বৈধ শ্রমিকের অবাধ চলাচলের ব্যবস্থা থাকায় সেখানে বিভিন্ন দেশে চলাফেরা সহজ। এ ছাড়া শেংগেন চুক্তিভুক্ত এক দেশের ভিসা থাকলেই চুক্তিভুক্ত অন্য দেশগুলোতে যাওয়া যায়।
হাঙ্গেরির বুদাপেস্টের প্রধান রেলস্টেশনে অভিবাসীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। এই পরিস্থিতিতে গতকাল একপর্যায়ে পুলিশ ওই স্টেশন চত্বর খালি করার সিদ্ধান্ত নেয়। ‘স্টেশন থেকে আর কোনো ট্রেন ছেড়ে যাবে না এবং কোনো ট্রেন এসে পৌঁছাবে না’—এমন ঘোষণা দিয়ে পাঁচ শর বেশি অভিবাসী নারী, পুরুষ ও শিশুকে সরিয়ে দেওয়া হয়। স্টেশনের মূল প্রবেশপথ এক ঘণ্টারও বেশি সময় বন্ধ করে রাখা হয়।
এর আগে সোমবার হাঙ্গেরির ওই স্টেশন থেকে বেশ কিছুসংখ্যক অভিবাসী জার্মানিগামী ট্রেনে উঠতে সক্ষম হয়। ট্রেনে ওঠার জন্য সারিতে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছিলেন সিরিয়া থেকে আসা পদার্থবিদ্যার ছাত্র ইহাব ইয়াসিন (১৮)। তিনি বলেন, ‘আমার বিশ্বাস হচ্ছে না, অবশেষে সত্যিই জার্মানি যাচ্ছি।’ জার্মানির কোন শহরে যাবেন, তা এখনো ঠিক করতে পারেননি ইয়াসিন। তবে হামবুর্গ হলে সবচেয়ে বেশি ভালো হয় বলে মনে করছেন। ইয়াসিন জানালেন, সিরিয়ার লাটাকিয়া শহর থেকে নানা পথ পেরিয়ে সাগর পাড়ি দিয়ে কয়েক দিন আগে হাঙ্গেরি পৌঁছান তিনি।
একই স্টেশনে ট্রেনে ওঠার জন্য অপেক্ষা করছিলেন একজন পাকিস্তানি। তিনি জানালেন দেশে একটি ছোট দোকান ছিল। তালেবান জঙ্গিরা প্রতি সপ্তাহে গিয়ে পয়সা না দিয়ে জিনিসপত্র নিয়ে যেত। তাই দেশ ছেড়েছেন।
হাঙ্গেরি বলছে, শুধু আগস্ট মাসেই ৫০ হাজার অভিবাসন-প্রত্যাশী দেশটিতে প্রবেশ করেছে। গড়ে প্রতিদিন দুই হাজারের মতো অভিবাসী ঢুকছে। এই সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে।
সব মিলিয়ে চলতি বছর এরই মধ্যে তিন লাখের বেশি অভিবাসন-প্রত্যাশী ইউরোপে পৌঁছেছে বলে তথ্য দিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর। আগের বছর এই সংখ্যা ছিল ২ লাখ ১৯ হাজার।

যুদ্ধের জন্য পাকিস্তান প্রস্তুত

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ বলেছেন, ইসলামাবাদ স্বল্প বা দীর্ঘ মেয়াদি যুদ্ধের জন্য সব সময়ই প্রস্তুত রয়েছে। ভারতীয় নেতৃবৃন্দ যুদ্ধ চাপিয়ে দিলে পাকিস্তান তার যথাযথ জবাব দিবেন বলে ঘোষণা করেন তিনি। চলতি সপ্তাহের গোড়ার দিকে ভারতের সেনাপ্রধান যে বক্তব্য দিয়েছিলেন তার জবাবে বৃহস্পতিবার এ কথা বলেন খাজা আসিফ।
খাজা আসিফ বলেন, বিশ্ব বিশেষ করে এ অঞ্চলে শান্তি স্থাপনের প্রতি পাকিস্তানের দৃঢ় বিশ্বাস রয়েছে কিন্তু একই সঙ্গে উস্কানির কঠোর জবাব দেযার জন্য প্রস্তুত রয়েছে ইসলামাবাদ। তিনি বলেন, ১৯৬৫ সালে লাহোর দখল করার ভারতীয় স্বপ্ন গুড়িয়ে দিয়েছিল পাক সেনাবাহিনী। ভবিষ্যতে একই কাজ করবে বলে জানান তিনি।
দেশের ভেতরে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে পাক বাহিনী নিয়োজিত রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রয়োজনে বহির্শক্তি শত্রুর মোকাবেলাও করবে।
সূত্র : রেডিও তেহরান।

হাঙ্গেরিতে শরণার্থীদের বিক্ষোভ

শরণার্থীদের অস্ট্রিয়া ও জার্মানি যাওয়া ঠেকাতে রাজধানী বুদাপেস্টের প্রধান রেল স্টেশনটি বন্ধ করে দিয়েছে হাঙ্গেরি। মঙ্গলবার কয়েকশ’ শরণার্থীকে ট্রেনের টিকিট হাতে স্টেশনের বাইরে বিক্ষোভ করতে দেখা গেছে। হাঙ্গেরির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এক দেশ থেকে আরেক দেশে যাওয়ার ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) যে নিয়ম রয়েছে তারা সেটি প্রয়োগে কঠোর হয়েছেন। ইইউ’র নিয়ম অনুযায়ী সদস্য দেশগুলোতে যেতে হলে বৈধ পাসপোর্ট ও ভিসার প্রয়োজন হয়। মঙ্গলবার প্রায় এক হাজার শরণার্থীকে বুদাপেস্টের পূর্বে কেলেতি স্টেশন থেকে বের করে দেয়া হয়। এসময় স্টেশনটি বন্ধ এবং এখান থেকে কোনো ট্রেন ছেড়ে যাবে না বলে ঘোষণা করা হয়। পরে অবশ্য শরণার্থী ছাড়া অন্যদের জন্য স্টেশনটি খুলে দেয়া হয়।
শরণার্থীরা যাতে স্টেশনে প্রবেশ করতে না পারে সেজন্য প্রায় শতাধিক পুলিশ স্টেশনটি ঘিরে রেখেছে। এসময় সেখানে টিকিট হাতে তাদের বিক্ষোভ করতে দেখা যায়। মূলত সিরিয়া, আফগানিস্তান ও ইরিত্রিয়া থেকে আসা এসব শরণার্থীদের গন্তব্য অস্ট্রিয়া ও জার্মানি। অনেক শরণার্থী অভিযোগ করেন, তারা একশ’ ইউরো খরচ করে টিকিট কিনেছেন এবং অবিলম্বে তারা স্টেশনটি তাদের জন্য খুলে দেয়ার দাবি জানান। এদিকে অস্ট্রিয়ান পুলিশ জানিয়েছে, সোমবার রাজধানী ভিয়েনায় তিন হাজার ৬৫০ জন শরণার্থী হাঙ্গেরি থেকে এসে পৌঁছেছে। এদের অধিকাংশের গন্তব্য জার্মানি। ভিয়েনা স্টেশনে শত শত শরণার্থীর ভিড় : হাঙ্গেরীয় সীমান্তে কয়েক ঘণ্টা আটকে থাকার পর শত শত অভিবাসী ও শরণার্থী অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনা রেল স্টেশনে জড়ো হয়েছেন। অনেকে অন্য ট্রেনে জার্মানিতে প্রবেশের চেষ্টা করছেন। খবর বিবিসি। সোমবার উন্নত জীবনের আশায় কয়েক হাজার মানুষ রেলপথে অস্ট্রিয়ায় প্রবেশ করেছেন। দেশটির কর্তৃপক্ষ শরণার্থী আবেদনকারীদের সেদেশে ফেরত পাঠানোর জন্য হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্ট থেকে ভিয়েনাগামী কয়েকটি ট্রেনকে থামিয়ে দিয়েছে। অস্ট্রিয়ার রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বুদাপেস্ট থেকে ভিয়েনা রুটে অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে অব্যবস্থা লক্ষ্য করা গেছে। স্থানীয় পুলিশ জানায়, সোমবার মধ্যরাতে অন্তত এক হাজার মানুষ ভিয়েনার প্রধান রেল স্টেশনে এসে পৌঁছেছে। স্বেচ্ছাসেবীরা তাদের পানি ও খাদ্য সরবরাহ করেছেন। চলতি বছর অভিবাসীদের ইউরোপে পাড়ি জমানোর নতুন রেকর্ড গড়েছে। শুধু জুলাই মাসেই ১ লাখ ৭ হাজার ৫০০ শরণার্থী ইউরোপে প্রবেশ করেছেন।
সমুদ্রপথে ইউরোপে পাড়ি দিতে গিয়ে চলতি বছর দুই হাজারের বেশি মানুষ মারা গেছেন। মিউনিখ-ভিয়েনায় ট্রেনবোঝাই অভিবাসী হাঙ্গেরি সীমান্ত পার হওয়া শরণার্থীরা ট্রেনে চড়ে জার্মানির মিউনিখ ও অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় পৌঁছেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সোমবার রাতে (মঙ্গলবার) অভিবাসীদের একাংশ এই দুই শহরে পৌঁছেছে। বিশ্বজুড়ে মানবিক ও রাজনৈতিক বিপর্যয়ের শিকার এসব মানুষ চরম অনিশ্চয়তায় রয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দেশগুলোর উন্মুক্ত সীমান্ত পার হতে ভাগ্যের পরীক্ষা দিতে হচ্ছে তাদের। একই সঙ্গে ইইউ দেশগুলো অভিবাসীদের নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছে। হাঙ্গেরি তাদের দেশে ঢুকতে দিয়েছে ভাগ্যাহত অভিবাসীদের। এদের মধ্যে বেশির ভাগই এসেছে যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়া থেকে। মধ্যপ্রাচ্যের অন্য দেশের অভিবাসন প্রত্যাশীরাও রয়েছে। অনেক অভিবাসী সোমবার সন্ধ্যায় ভিয়েনায় পৌঁছায়। সেখান থেকে ট্রেনে করে তারা জার্মানির মিউনিখের পথে যাত্রা শুরু করে। ভিয়েনা পুলিশ অভিবাসীদের জন্য বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। সোমবার মধ্যরাতে যখন অভিবাসীরা মিউনিখ কেন্দ্রীয় স্টেশনে পৌঁছায়, তখন স্থানীয়রা তাদের স্বাগত জানিয়ে গান গেয়ে ওঠে। এর প্রতিক্রিয়ায় অভিবাসীরা বলতে থাকে, ‘জার্মানি, তোমাকে ধন্যবাদ।’ মিউনিখ পুলিশ জানিয়েছে, ট্রেনে প্রায় ৫০০ অভিবাসী এসেছে।

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় বড় বেশি দেরি হয়ে গেছে

‘জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বেশ দেরি হয়ে গেছে। যে সব কার্যক্রম চলছে তাও মন্থর গতিতে এগোচ্ছে। জলবায়ু সমস্যা সমাধানে আমাদের কার্যকরী নীতি গ্রহণ ও তা দ্রুত বাস্তবায়ন করা উচিত। কিন্তু তা আমরা করতে ব্যর্থ। যুক্তরাষ্ট্রের আলাকায় সোমবার আর্কটিক জাতির বৈঠকে ভয়াবহ জলবায়ু পরিবর্তনের দায় নিজেদের ঘাড়ে নিয়ে এসব কথা বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। খবর ইউএসএ টুডে এবং এএফপির। ওবামা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন আর ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ নয়। আমরা এখনই প্রতি মুহূর্তে এর অভিশাপে পুড়ছি।
আমাদের যা করার এখনই করতে হবে। উদাহরণ টেনে বলেন, বৈশ্বয়িক উষ্ণায়নের পরিণাম হল দাবানল, খরা, বন্যা- যা আমরা প্রতিনিয়ত দেখছি। আর এর কারণে দিনে দিনে বেড়ে চলছে শরণার্থীর সংখ্যা। হ্রাস পাচ্ছে প্রাকৃতিক সম্পদ এবং দেখা দিয়েছে আরও দ্বন্দ্বের সম্ভাবনা। এছাড়া আশংকাজনকভাবে ডেকে আনবে অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত সংকট। এসব ভয়াবহ পরিস্থিতি এড়াতে আসন্ন প্যারিস সম্মেলনে কার্বন নিঃসরনে বিশ্ববাসীর কাছে অঙ্গীকারবদ্ধ হতে আহ্বান জানিয়েছেন। এছাড়া যেসব জাতি আগেই গ্রিন হাউস গ্যাস ও কার্বন নিরসনের ব্যাপারে ওয়াদাবদ্ধ ছিল তাদের তা বাস্তবায়নের জন্যও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

আশ্রয়হীনরা শরণার্থী না অভিবাসী?

‘শরণার্থী’ নাকি ‘অভিবাসী’- সম্প্রতি আফ্রো-মধ্য এশিয়ায় যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশগুলোর আশ্রয়হীনদের ইউরোপমুখী যে ঢল নেমেছে তাদের শনাক্ত করতে এ শব্দ দুটি বিশ্ব গণমাধ্যমে বেশ তালগোল পাকিয়ে ব্যবহৃত হচ্ছে। ২৭ আগস্ট আন্তর্জাতিক শরণার্থী কমিশন ইউনাইটেড নেশন্স ফর হাইকমিশনার ফর রিফিউজিস/ ইউএনএইচসিআর এ দ্বিমুখী পরিচয়ের ব্যাপারে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। পাশাপাশি ওইসব আশ্রয়হীন জনসমষ্টির নিরাপদ আবাসের নিশ্চয়তার ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়েছে ইউরোপকে। ইউএনএইচসিআরের দেয়া ১৯৫১ সালের সংজ্ঞা অনুযায়ী- উন্নত জীবন, রুজি ও কর্মক্ষেত্রের আশায় যারা এক দেশ থেকে অন্য দেশে গমন করে তারা অভিবাসী। অপরদিকে যারা যুদ্ধ ও অত্যাচারের ভয়ে দেশ ছেড়ে অন্য দেশে আশ্রয়ের সন্ধানে যায় তাদের বলা হয় শরণার্থী। কমিশনের মতে, বিশ্বব্যাপী অত্যাচারের কারণে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ৬ কোটি। এর মধ্যে সামরিক যুদ্ধ ও ভীতির কারণে বাস্তুহারার সংখ্যা ১ কোটি ৯৫ লাখ (২০১৪ সাল পর্যন্ত)। যে কারণে বিষয়টি নিয়ে কমিশন উদ্বেগ প্রকাশ করছে তা হল,
ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে যেসব আশ্রয়প্রার্থী ইউরোপে পাড়ি জমিয়েছে তাদের সঙ্গে ওই অঞ্চলের দেশগুলোর স্ববিরোধী আচরণ। সংস্থাটির মতে, এ জনসমষ্টিকে অভিবাসী ও শরণার্থী দুটিই বলা যেতে পারে। কেননা তাদের মাঝে উভয়ের মিশ্রণ রয়েছে। সুতরাং ইউরোপ অভিমুখী এসব মানুষ অভিবাসী না শরণার্থী তা নিয়ে বিতর্ক থেকেই যাচ্ছে। এছাড়া তাদের অভিবাসী আখ্যা দিয়ে অনেকে সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দিচ্ছে। এসব কিছুই তারা করছে শরণার্থীদের প্রতি বাধ্যতামূলক কর্তব্য এড়াতে। এজন্য এসব মানুষের প্রেক্ষাপট আমলে নিয়ে উপযুক্ত মর্যাদা (শরণার্থী বা অভিবাসী) দিয়ে রাষ্ট্রগুলোর আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী আচারণবিধি তৈরি করা উচিত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে ইউএনএইচসিআর। কিন্তু বিবিসিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফিলিপ হ্যামন্ত বলেছেন, তাদের এসব অসহায় মানুষকে শরণার্থী বলতে রাজি হননি। তার মতে, ‘ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ঝাঁকে ঝাঁকে যে মানুষ এ দেশে আসছে তারা মূলত এখানে চাকরির সুবিধা ও উন্নত জীবনের আশায় আসছে।’

শিশুটির এমন মৃত্যুতেও কি ইউরোপের হৃদয় কোমল হবে না!

আমেরিকার নেতৃত্বাধীন পাশ্চাত্যের বাহিনী মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে যে সর্বগ্রাসী যুদ্ধ শুরু করেছে, তা থেকে রক্ষা পেতে লাখ লাখ মানুষ এখন ইউরোপে ছুটছে। কিন্তু ইউরোপ তাদের জন্য নিরাপদ পথে যাওয়ার দরজা বন্ধ করে দিয়েছে। এ কারণে তারা জীবন বাঁচাতে মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়েই সমুদ্রপথে ইউরোপ যাচ্ছে। কিন্তু প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনায় শত শত লোক মারা যাচ্ছে।
নৌকাডুবির শিকার এক শিশুর লাশ উপকূলে ভেসে ওঠার ছবিটি এখন প্রশ্ন সৃষ্টি করছে, এই দৃশ্য দেখেও কি ইউরোপিয়ানদের কঠোর হৃদয় একটুও গলবে না। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই প্রশ্ন ওঠেছে। তাদের মন গলাতে আর কী করতে হবে? আর কত মৃত্যু দেখতে হবে?
তুরস্কের এক বিচে ভেসে আসা শিশুটির লাশের ছবি ফেসবুকে শেয়ার হয়েছে ৮,৭১৫টি।
শিশুটি এক সিরীয় দম্পতির। তারা ১২ জন নৌকায় করে ইউরোপ পাড়ি দিচ্ছিল। কিন্তু নৌকাটি ডুবে যাওয়ায় অন্যদের সাথে শিশুটিও মারা যায়। স্রোতের টানে তা উপকূলে ভেসে আসে।
শিশুটির বয়স ৫ বছর। নাম গালিব। তার আরেকটি ভাই রয়েছে।

ইরান ইস্যুতে সিনেটের সমর্থন পেলেন ওবামা

ইরানের পরমাণু কর্মসূচির বিষয়ে চুক্তি কার্যকর করার জন্য সিনেটে প্রয়োজনীয় সমর্থন পেয়েছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। তিনি ৩৪ জন সিনেটরের ভোট পেয়েছেন। ফলে বিরোধী রিপাবলিকান পার্টির সদস্যরা এটি আটকে দেয়ার জন্য প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ ভোট পাচ্ছেন না। এই চুক্তির অধীনে ইরান তার পরমাণু কর্মসূচি সীমিত করার বিষয়ে সম্মতি দিয়েছে। এ বিষয়ে এ মাসের শেষের দিকে কংগ্রেসে ভোট গ্রহণ হবে। যদিও এখনো যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস আপত্তি তুলতে পারে, কিন্তু সিনেটের এই সমর্থনের কারণে প্রেসিডেন্ট ওবামা সেই আপত্তি অগ্রাহ্য করতে পারবেন।
ভোটের আগে দুইপক্ষেই ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়। চুক্তির সমর্থনে ভোট দেয়ার জন্যে আহ্বান জানিয়েছেন আমেরিকান পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি। অন্যদিকে চুক্তির বিপক্ষে ভোট দিতে তদবির করে ওয়াশিংটনের ইজরায়েলপন্থী লবি। ইরানের সাথে ওই সমঝোতার প্রক্রিয়া শুরু হয় ২০০৬ সালে।
নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য দেশের সঙ্গে জার্মানিও আলোচনায় অংশ নেয়। এ বছরের জুলাই মাসে চূড়ান্ত সমঝোতা হয়।
এই সমঝোতার ফলে ইরান তার পারমানবিক কর্মসূচী সীমিত করবে। বদলে ইরানের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞাগুলো তুলে নেয়া হবে।

চরাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ুক উন্নয়নের আলো by জাহিদ রহমান

বহু নদ-নদীবেষ্টিত বাংলাদেশের একটি বড় অংশ চরভূমি হিসেবে পরিচিত, যেটাকে আমরা চরাঞ্চল বলে থাকি। চরাঞ্চল বলতেই আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে স্বল্প বসতির সঙ্গে বিস্তীর্ণ ভূমি। চোখের সীমানাজুড়ে ধু ধু ভূমি ছাড়া যেন আর কিছুই চোখে পড়ে না। তবে সব চর এলাকাতেই বিস্তৃত চরভূমি দেখা যায় না। এই বিস্তৃত চরভূমি দেখা যায় মূলত দ্বীপ-চরাঞ্চলে। বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের পদ্মা, যমুনা, তিস্তা, ধরলায় দ্বীপচর এলাকা তুলনামূলক বেশি। উপকূলীয় এলাকায়ও অনেক দ্বীপচর রয়েছে, যেখানে পৌঁছাতে অনেক সময় লাগে। দ্বীপচরের বৈশিষ্ট্য হলো, চরগুলো যেমন আয়তনে বড়, তেমনি মারাত্মক ভাঙনপ্রবণ এবং দুর্গম যোগাযোগব্যবস্থা। মূল ভূমি থেকে দ্বীপচর যোগাযোগবিচ্ছিন্ন এক জনপদ। বছরের বেশির ভাগ সময় আবার দ্বীপচরগুলো পানিবেষ্টিত থাকে। বন্যায় এই চরগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দ্বীপচরের মানুষ প্রধানত দুটি পেশার ওপর নির্ভরশীল—কৃষিকাজ ও মাছ ধরা। কৃষিকাজের বাইরে চরের বেশির ভাগ দরিদ্র মানুষ খাদ্যের চাহিদা মেটাতে মাছ ধরে। এর বাইরে দিনমজুরি, শ্রম বিক্রি এবং অন্যান্য মৌসুমিভিত্তিক কিছু পেশার ওপর স্বল্পসংখ্যক চরবাসী নির্ভরশীল।
দেশের দুর্গম চরাঞ্চল যে বরাবরই উন্নয়নবঞ্চিত, এটি নতুন করে বলা অপ্রয়োজন। বাংলাদেশের দুর্গম চরাঞ্চলগুলো আমাদের সবার দৃষ্টিসীমার বাইরের এক অংশ বলেই প্রতীয়মান। তাই অবহেলা, উপেক্ষা ও বঞ্চনার মাত্রাও এখানে সবচেয়ে বেশি। বহুকাল ধরেই চরাঞ্চলে মানুষ বসবাস করছে। চরে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যাও অনেক। দ্বীপচর, উপকূলীয় চর—সব মিলিয়ে ৫০-৬০ লাখ মানুষের বসবাস চর এলাকায়। বাংলাদেশের মোট ভূমির প্রায় ১০ শতাংশ চরভূমি বলে প্রতীয়মান। দেশের প্রায় ৩২টি জেলার শতাধিক উপজেলার অংশবিশেষ চরাঞ্চল। তীব্র নদীভাঙন, বন্যা, খরাসহ বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বেকারত্ব—এসব মোকাবিলা করেই বছরের প্রায় পুরো সময়টা ধরে চরের মানুষকে বেঁচে থাকতে হয়। ভৌগোলিক বিচার-বিশ্লেষণে চরাঞ্চল বাংলাদেশের উচ্চমাত্রার দারিদ্র্যপ্রবণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত।
চরে বসবাসরত মানুষের বৃহৎ অংশই অতিদরিদ্র। অতিদরিদ্র ব্যক্তিদের বড় অংশই খাদ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাসস্থানসহ সব ধরনের মৌলিক অধিকার থেকেই বঞ্চিত। সংবিধানে খাদ্য, বস্ত্র, শিক্ষাসহ যেসব চাহিদা অনুসৃত রয়েছে, তার কোনোটিই পায় না চরবাসী। তাই নিরন্তর দুঃখ-কষ্টের এক বঞ্চনাময় জীবন অতিবাহিত করতে হয় তাদের। অবশ্য এই বঞ্চনা এক দিনের নয়, দীর্ঘদিনের। ফসল উৎপাদনের সুযোগ কম থাকা, দুর্গম যোগাযোগব্যবস্থা, সরকারি সব ধরনের মৌলিক সেবার অপর্যাপ্ততা, কর্মসংস্থানের স্বল্পতা, পর্যাপ্ত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড না থাকা, খাদ্যাভাব, নদীভাঙনসহ বহুমুখী দুর্যোগপ্রবণ হওয়ার কারণেই চরে বসবাসরত মানুষকে সংগ্রাম করে বেঁচে থাকতে হয়। এ সংগ্রাম জন্মাবধি বললে ভুল হবে না। নদী ও জীবন প্রকল্পের গবেষণামতে, এখনো চরের ৬৫ শতাংশ মানুষ বছরের বিভিন্ন সময়ে কমবেশি খাদ্যকষ্টে ভুগে থাকে। ৯৫ শতাংশ মানুষ নিজ এলাকায় স্বাস্থ্য ও স্যানিটেশনসেবা পায় না। প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থার চিত্রও করুণ। একই সঙ্গে চর এলাকায় বাল্যবিবাহ ও নির্যাতনের হার সবচেয়ে বেশি। পরিবারে ও পরিবারের বাইরে স্বীকৃতি ও মর্যাদার প্রশ্নে চরের নারীরা এখনো অনেক পিছিয়ে। অথচ চরের কৃষি উৎপাদনে বড় ধরনের ভূমিকা পালন করেন নারীরাই।
এটি সত্য, চরে যেমন হাজারো সমস্যা রয়েছে, তেমনি রয়েছে সম্ভাবনার শত দুয়ার। চরে রয়েছে বিস্তীর্ণ জমি এবং এক বিপুল জনগোষ্ঠী। যে জনগোষ্ঠী নিজেরাই চরাঞ্চলে সমস্ত ধরনের ফসল ফলাতে সক্ষম। কৃষিতে আমাদের বিরাট সাফল্য থাকলেও এটি সত্য, চরের সব আবাদি জমি অধিক উৎপাদনের আওতায় এখনো আনা সম্ভব হয়নি। আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তির সুবিধা না থাকায় চরাঞ্চলে বিস্তীর্ণ ভূমির তুলনায় কৃষি উৎপাদন অনেক কম। অথচ বিশেষজ্ঞদের ভাষায় চরের জমি হলো ‘হিডেন ডায়মন্ড’। চরের কৃষিজমিতে অধিক উৎপাদন করতে হলে প্রথমেই চরের কৃষককে বিভিন্ন ধরনের কৃষিসহায়তা, প্রশিক্ষণ, কৃষিপ্রযুক্তি প্রদানের বিকল্প নেই। চরের বিপুল জমিতে কৃষিপ্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে প্রতিবছর বিভিন্ন দেশ থেকে আমাদের যে পরিমাণ খাদ্য আমদানি করতে হয়, তা অনেকটাই কমে আসবে। একই সঙ্গে চরের অতিদরিদ্র মানুষের নিত্য যে খাদ্যনিরাপত্তাহীনতার মধ্যে বসবাস, সেটাও কমিয়ে আনা সম্ভব। কৃষির পাশাপাশি চর এলাকা গবাদিপশু পালনের জন্যও সবচেয়ে ভালো জায়গা। কৃষিব্যবস্থার উন্নতির পাশাপাশি চরাঞ্চলে যে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী রয়েছে, তাদের আত্মকর্মসংস্থানের জন্য ক্ষুদ্র আকারের বিভিন্ন ধরনের খামার ও উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে সেটাও চরের অর্থনীতিতে নতুন এক প্রবাহ তৈরি করবে।
সারা দেশে উন্নয়নের যে জোয়ার চলমান, চরাঞ্চলে উন্নয়নের সুবাতাস সেই অর্থে অনুপস্থিত। ডিএফআইডি, কনসার্ন ওয়ার্ল্ডওয়াইড, কেয়ার বাংলাদেশ, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন দাতাগোষ্ঠী ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংগঠনের সহযোগিতায় স্থানীয় উন্নয়ন সংগঠনগুলো বিভিন্ন চরে প্রকল্পভিত্তিক কিছু উন্নয়নমূলক কাজ করলেও তার মাত্রা বা ব্যাপ্তি যেমন বড় নয়, তেমনি স্থায়িত্বশীলতা নিয়েও প্রচুর প্রশ্ন রয়েছে। এদিকে সরকারের পক্ষ থেকে চরের মানুষের উন্নয়নে আজ পর্যন্ত সমন্বিত কোনো কর্মসূচি বা কর্মকৌশল ঠিক করা হয়নি। আর তাই গত অর্থবছরে (২০১৪-১৫) চরের মানুষের উন্নয়নে জাতীয় বাজেটে ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও তার একটি টাকাও খরচ করা হয়নি। এবারের বাজেটে (২০১৫-১৬) সে কথা স্বীকার করে নিয়েই বাজট বক্তৃতায় বলা হয়েছে, ‘গত বছরের বরাদ্দ অব্যবহৃত থাকা সত্ত্বেও এবারও ৫০ কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ রাখার প্রস্তাব করছি।’ এবারও চরের মানুষের উন্নয়নে বরাদ্দকৃত ৫০ কোটি টাকা ব্যবহার হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
চরবাসী এ দেশেরই মানুষ, কিন্তু কেন তারা অধিকারবঞ্চিত হয়ে থাকবে? কেন তারা চিরদিন বিস্তর বঞ্চনা আর উপেক্ষার গল্প হয়ে থাকবে? আমাদের সংবিধানের ১৯(১) ধারায়ও সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘সকল নাগরিকের জন্য সুযোগের সমতা নিশ্চিত করিতে সচেষ্ট হইবেন।’ চরবাসীর সার্বিক জীবনমান উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন প্রকল্পের বাইরে এখনো কার্যকর, দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বৈষম্য, উপেক্ষা আর বঞ্চনার বেড়াজাল থেকে চরবাসীকে মুক্ত করতে সরকারসহ সবাইকে এখনই সক্রিয় হতে হবে। শুধু এ-ই নয়, এসডিসি অর্জন করতে হলে চরগুলোকে অবশ্যই আলোকিত করা প্রয়োজন রয়েছে। চরের মানুষকে অবশ্যই উন্নয়নের মূলধারায় নিয়ে আসতে হবে। চরের সব দুঃখ, বঞ্চনা ও বৈষম্যের অবসান ঘটাতে হবে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, সরকারের নানামুখী উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণের কারণেই দারিদ্র্যের হার ৪০ থেকে ২৩ শতাংশে নেমে এসেছে। এই ধারাবাহিকতায় ২০১৮ সালের মধ্যে দেশে আর দরিদ্র জনগোষ্ঠী থাকবে না। কিন্তু দুর্গম চরাঞ্চলের উন্নয়নে এখনই একটি সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা না হলে দরিদ্র জনগোষ্ঠী নির্মূলের যে আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করা হয়েছে, সেটা পূরণ করা অসম্ভবই হবে। দুর্গম চরাঞ্চলে উন্নয়নের আলো ছড়িয়ে দিতে এখনই উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে নিয়ে সঠিক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা অত্যাবশ্যক।
জাহিদ রহমান: গবেষক, সদস্যসচিব, ন্যাশনাল চর অ্যালায়েন্স।
zahidrahman67@gmail.com