Wednesday, April 1, 2015

আরও এক ব্লগার হত্যা: কিছু প্রশ্ন by আলী রীয়াজ

রাজধানীতে প্রকাশ্য দিবালোকে ওয়াশিকুর রহমান নামের একজন তরুণ ব্লগার ও অনলাইন লেখককে হত্যা করা হয়েছে। যারা হত্যা করেছে, তারা তাঁকে চিনত না। আততায়ীরা তাঁর বা তাঁর লেখার সঙ্গে পরিচিত ছিল, তা নয়। তাদের চিনিয়ে দেওয়া হয়েছে, বলা হয়েছে যে ধর্মের অবমাননা হয়েছে তাঁর লেখায়। এইটুকুই যথেষ্ট বলে বিবেচনা করে ওয়াশিকুর রহমানের ওপর নৃশংস হামলা চালিয়েছে, তাঁকে খুন করেছে জিকরুল্লাহ ও আরিফুল ইসলাম নামের দুই তরুণ। এই খবরে জন ডানের কবিতার পঙ্ক্তি মনে পড়ছে, ‘যেকোনো মানুষের মৃত্যু আমাকে ছোট করে, কেননা আমি মানবতার অংশ;/ আর তাই জিজ্ঞাসা করো না কার জন্যে বাজছে ঐ ঘণ্টাধ্বনি, সে বাজছে তোমার জন্যে’। যেকোনো মৃত্যুর মধ্যে আমি তাই আমার মৃত্যুর বার্তা শুনতে পাই। বারবার স্বদেশের মাটি থেকে যখন অপঘাতের মৃত্যুর খবর পাই, তার মধ্যে চার্চের ঘণ্টাধ্বনির মতো শুনতে পাই কেবল ব্যক্তির মৃত্যুর নয়, তার চেয়েও বেশি কিছুর মৃত্যুর সংবাদ।
হত্যা মাত্রই অমানবিক, মানবতাবিরোধী। যে হত্যা চিন্তার স্বাধীনতার বিরুদ্ধে, সে কেবল ব্যক্তির বিনাশ নয়। যে হত্যা ভিন্নমতের কারণে, তাকে কেবল ব্যক্তির হত্যা বলে বিবেচনা করা যাবে না। যে হত্যা, যে নিপীড়ন ব্যক্তির কণ্ঠরোধ করতে চায়—ধর্মের নামেই হোক কিংবা রাজনৈতিক আদর্শের নামেই হোক—তা সমাজে বহুত্ববাদিতার অবসান ঘটানোর লক্ষ্যে পরিচালিত। এটির আশু লক্ষ্য ব্যক্তি হলেও এর প্রধান লক্ষ্য ব্যক্তির চেয়েও বড়, তেমনি যে ব্যক্তি এই হত্যাকাণ্ড সংঘটন করল, তার চেয়েও বড় হলো কীভাবে তাকে প্ররোচিত করা হয়েছে, কে তাকে প্রণোদনা জুগিয়েছে, কারা তাকে সংগঠিত করেছে, কী পরিবেশ তাকে এই ধরনের ঘৃণ্য কাজের সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। ব্যক্তিকে আইনের মুখোমুখি করার পাশাপাশি এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হবে।
সমাজে হত্যা, হত্যার প্ররোচনা এবং তাকে স্বাভাবিকতায় রূপ দেওয়ার ঘটনা অসহিষ্ণুতার সাক্ষ্য। অসহিষ্ণুতা আরও অসহিষ্ণুতার জন্ম দেয়, এটাই অবশ্যম্ভাবী। আমি অসহিষ্ণু হলে আমার প্রতিপক্ষ সহিষ্ণু হবে, এই আশা বাতুলতা মাত্র। সহিষ্ণুতা চর্চার দায়িত্ব প্রথমেই আমার। আমার অসহিষ্ণুতা ধর্মের নামে, রাষ্ট্রের নামে, জাতীয়তার নামে হলে, সংখ্যাগরিষ্ঠতার যুক্তিতে হলে আমার প্রতিপক্ষ তার যুক্তি তৈরি করবে। কোনোটাই ‘যুক্তির কষ্ঠিপাথরে’ টিকল কি না, কে তার হিসাব করবে? রক্তের দাগ যুক্তির বিকল্প নয়; চাপাতি যুক্তির বিকল্প নয়; বুলেট যুক্তির বিকল্প নয়। অন্যের মত প্রকাশের অধিকার সীমিত করলে আমার মত প্রকাশের অধিকার সীমিত হবে। আমি একভাবে ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি করলে, হত্যার বৈধতা প্রদান করলে—আমার প্রতিপক্ষ অন্যভাবে ভয়ের সংস্কৃতি চাপিয়ে দেবে, সে আমাকে হত্যা করবে। আমাদের পারস্পরিক আক্রমণের সুযোগে অন্যরা তাদের অস্ত্র শাণাবে, ভয় দেখাবে, হত্যা করবে।
হত্যার বিচার যদি না হয়, আইনের শাসন যদি প্রতিষ্ঠা না পায়, তবে আরও হত্যার পথ উন্মুক্ত হয়। বিচারহীনতার ঐতিহ্য, ভয়ের সংস্কৃতি মানুষের শেষ পরিণতি হতে পারে না। অস্থির সময় কেবল অন্ধকারের শক্তিকেই সাহায্য করে। ধর্মের নামে যে উগ্রপন্থা, তা ধর্মের ও মানবিকতার আদর্শের বাহক নয়, হতে পারে না। ধর্মের নামে জারি করা উগ্রপন্থাকে মোকাবিলা করার পথ উদারনৈতিক আদর্শের চর্চা। উদারনীতি, সহিষ্ণুতা, আইনের শাসন ও মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার আদর্শিক লড়াইয়ে নৈতিক শক্তি হচ্ছে সবচেয়ে বড় শক্তি, এই শক্তি ছাড়া আর সব শক্তি যে কেউ সংগ্রহ করতে পারে; আপনি-আমি পারি, আপনার-আমার প্রতিপক্ষও পারে। শক্তি দিয়ে, বল প্রয়োগ করে, ভয় দেখিয়ে, হত্যা করে কোনো রাজনৈতিক আদর্শ বিজয়ী হতে পারে না; কোনো ধর্ম টিকে থাকতে পারে না, থাকেনি; কোনো রাষ্ট্র পরিচালিত হতে পারে না।
কিন্তু এই সত্যগুলোকে আমাদের চারপাশে প্রতিদিন অবমানিত হতে দেখি। বাংলাদেশের রাজনীতি ও সমাজের দিকে তাকিয়ে এটা স্পষ্ট যে সমাজে সহনশীলতা অপসৃত হয়েছে। যেকোনো সমাজে সহনশীলতা নিজে নিজেই অপসৃত হয় না; প্রত্যেক নাগরিক, বিশেষ করে যাঁরা নিজের অবস্থানকে চূড়ান্ত বলে দাবি করেন, তাঁর এই পরিণতি তৈরির ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে বললে অত্যুক্তি হবে না। ধর্মের নামে যাঁরা চূড়ান্ত কথা বলার চেষ্টা করেছেন, তাঁরা চিন্তার স্বাধীনতাকে, মত প্রকাশের অধিকারকেই কেবল দমন করছেন তা নয়; ধর্মেরও অবমাননা করছেন। কোনো ধর্ম তার পক্ষে চূড়ান্ত কথা বলার, বিচারের দায়িত্ব মানুষের ওপরে অর্পণ করেনি। যাঁরা ধর্মের নামে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে চান, তাঁদের ধর্মের এই শিক্ষার কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া আবশ্যক। আদর্শিক অন্ধত্বের কারণে যারা নিজেদের অবস্থানকে ঐশ্বরিক মর্যাদা প্রদান করেন, তাঁরা সমাজে এমন পরিস্থিতি তৈরি করেন, যেখানে ধর্মের নামে, জাতি-গোষ্ঠী-বর্ণের নামে বিভক্তিকরণ বৈধ রূপ লাভ করে। এই বিভক্তিকরণের পরিণতি বিষয়ে তাঁরা কি সচেতন?
বাংলাদেশের সমাজের দিকে তাকিয়ে বোধকরি এই প্রশ্ন তোলার সময় এসেছে যে তার মর্মমূলে কি এমন কোনো পরিবর্তন সংঘটিত হয়েছে যে দেশের নাগরিকেরা, বিশেষ করে তরুণেরা, এখন এই প্রশ্ন তুলতে অনীহ যে, কেন সে আরেকজনের স্বাধীন চিন্তার প্রতিবন্ধক হবে, কেন সে আরেকজন ভিন্নমতাবলম্বীকে নিপীড়ন করবে, কেন সে আরেকজনকে তার স্বাধীন চিন্তার জন্য হত্যা করবে? হত্যার দায় স্বীকার করেছে যে জিকরুল্লাহ ও আরিফুল ইসলাম, তাদের ভাষ্য অনুযায়ী তারা জানে না ওয়াশিকুর রহমান কে, তঁার বক্তব্য কী। কিন্তু তাদের জন্য এই বক্তব্য কেন যথেষ্ট যে ওয়াশিকুর ধর্মের অবমাননাকারী?
সমাজ, রাষ্ট্র, রাজনীতি ও শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যে স্বাধীন চিন্তার প্রতি শ্রদ্ধাবোধ তৈরির, ভিন্নমতাবলম্বীর অধিকার সুরক্ষার উদাহরণ কি ক্রমান্বয়ে এতটাই অনুপস্থিত হয়ে যাচ্ছে যে দেশে মতভিন্নতা মানেই হত্যা, মতভিন্নতা মানেই নিপীড়ন সবার কাছে গ্রহণযোগ্য বলে মনে হচ্ছে?
আসুন, আমরা সবাই মিলে একবার এই প্রশ্নগুলোর মুখোমুখি হই।
আলী রীয়াজ: যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির রাজনীতি ও সরকার বিভাগের অধ্যাপক।

ইরান–পাশ্চাত্য টানাপোড়েনের ১২ বছর, আলোচনা এক দিন বাড়ল

আলোচনার পূর্ণাঙ্গ অধিবেশন শুরুর আগে গতকাল পি-ফাইভ প্লাস নামে পরিচিত
ছয় বিশ্বশক্তি, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ইরানের নেতা ও আলোচকদের অপেক্ষা।
সুইজারল্যান্ডের লুজান শহরের বো রিভাজ প্যালেস হোটেলে এ আলোচনা হয় l
সুইজারল্যান্ডের লুজান শহরে ইরানের সঙ্গে ছয় বিশ্বশক্তির পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার শেষ সময় ছিল গতকাল মঙ্গলবার মধ্যরাত। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেননি আলোচকেরা। ফলে আলোচনার সময় আরও এক দিন বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। একটি সমঝোতার আশায় আজ বুধবারও আলোচনা চলবে। খবর এএফপি, বিবিসি ও রয়টার্সের। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ম্যারি হার্ফ গত রাতে এক বিবৃতিতে বলেন, ‘গত কয়েক দিনে আলোচনায় যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে। ফলে ভালো কিছুর জন্য আমরা আলোচনার মেয়াদ আরও এক দিন বাড়িয়ে দিচ্ছি।’
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, রাশিয়া ও চীন এবং জার্মানি আলোচনায় অচলাবস্থা দূর করতে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে চেষ্টা চালিয়ে আসছে। এ আলোচনার মূল লক্ষ্য, ইরানকে পারমাণবিক বোমা তৈরির সক্ষমতা অর্জন থেকে বিরত রাখা। বিনিময়ে তেহরানের অর্থনীতিকে কাবু করে ফেলা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অবরোধ প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে। আশা করা হচ্ছে, এমন একটি চুক্তি হলে বিতর্কিত পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ইরানের সঙ্গে পাশ্চাত্যের গত ১২ বছরের টানাপোড়েনের অবসান ঘটবে।
ইরান কী মাত্রা পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার গবেষণা চালাতে পারবে এবং দেশটির ওপর থেকে কখন সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে, এমন কিছু বিষয়ে মতপার্থক্য আলোচনার শেষ দিকে অগ্রগতি আটকে রেখেছিল। পারমাণবিক বোমা তৈরির জন্য ইউরেনিয়াম ধাতু খুব উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ করা দরকার।
ইরানের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘দুটি মূল প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে সময়সীমা এবং অবরোধ তুলে নেওয়া। দুই পক্ষই চুক্তির বিষয়বস্তু নিয়ে যুক্তি তুলে ধরছে। সার্বিকভাবে অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে।’
আলোচনায় যে সত্যিই অগ্রগতি হয়েছে এবং সম্ভাব্য একটি চুক্তি হতে পারে, তা বোঝা গেছে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ, জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফ্রাঙ্ক-ওয়াল্টার স্টাইনমেয়ার এবং ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ ফ্যাবিয়াসের কিছু তোড়জোড় দেখেই। স্টাইনমেয়ার ও ফ্যাবিয়াসের গতকাল বার্লিনে একটি সম্মেলনে যোগ দেওয়ার কথা থাকলেও তাঁরা তা বাতিল করেন। আর লাভরভ গতকালই মস্কো থেকে ছুটে গেছেন লুজানে। সেখানে আগে থেকেই আলোচনার টেবিলে আরও রয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাভেদ জারিফ, ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফিলিপ হ্যামন্ডসহ অন্য জ্যেষ্ঠ কূটনীতিকেরা। লুজানের উদ্দেশে মস্কো ছাড়ার আগে লাভরভ আশার কথা শুনিয়ে বলেছেন, ‘সম্ভাবনা সুউচ্চ। এবারের দফা আলোচনার ভবিষ্যৎ খারাপ নয়, বরং আমি বলব ভালো।’
কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, গতকাল দিনের প্রথম ভাগে লুজানে ব্যস্ত সময় কাঠিয়েছেন কারিগরি ও অবরোধবিষয়ক বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা সম্ভাব্য একটি চুক্তির ভিত্তি দাঁড় করাতে নথিপত্র আদান-প্রদান করেছেন। সেখানে মূলত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি রূপরেখা থাকবে। এটি হবে সম্ভাব্য একটি চূড়ান্ত চুক্তির ভিত্তি। আলোচনার সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তারা বলেছেন, একটা কিছু ঘোষণা করতে তাঁরা সক্ষম হবেন বলে আশা করছেন।
২০০২-২০০৪: ২০০২ সালের আগস্টে নাতাঞ্জ ও আরাকে ইরানের গোপন পারমাণবিক কেন্দ্র গড়ে তোলার খবর
২০০৫-২০০৮: কট্টরপন্থী আহমাদিনেজাদ ইরানের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর সাড়ে ৩ শতাংশ মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার ঘোষণা। জাতিসংঘের প্রথম দফা অবরোধ
২০০৯-২০১২: ২০০৯ সালের সেপ্টেম্বরে ফোর্দোয় পাহাড়ের নিচে আরেক পারমাণবিক স্থাপনার খবর। ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার মাত্রা বাড়িয়ে ২০ শতাংশ করার ঘোষণা দেয় তেহরান
২০১৩: উদারপন্থী হাসান রুহানি প্রেসিডেন্ট হয়ে বলেন, ইরান আলোচনায় বসতে ‘আন্তরিক’
২০১৪: স্থায়ী চুক্তির লক্ষ্যে ফেব্রুয়ারিতে সম্প্রসারিত আলোচনা শুরু। অন্তর্বর্তী চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধি।
২০১৫: একটি রূপরেখা চুক্তির জন্য বেঁধে দেওয়া ৩১ মার্চের সময়সীমাকে সামনে রেখে জানুয়ারিতে আলোচনা শুরু

নামেই সরকারি স্পর্শকাতর স্থাপনা, বিটিসিএলের সীমানাপ্রাচীর ঘেঁষে ফুটপাত দখল by আনোয়ার হোসেন

ঢাকার অন্যতম বড় সমস্যা হকারদের অবৈধভাবে ফুটপাত দখল।
মানুষের চলার পথ দখল করে তাঁদের বেচাকেনায় প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ
পোহাতে হচ্ছে নগরবাসীর। বছরের পর বছর এভাবে চলে এলেও বিষয়টির
কোনো চূড়ান্ত সুরাহা নেই। গতকাল ফার্মগেট এলাকা থেকে তোলা ছবি
গুলিস্তানের রমনা টেলিফোন এক্সচেঞ্জ কম্পাউন্ড প্রথম শ্রেণির সরকারি স্পর্শকাতর স্থাপনা (কেপিআই-১)। এর ৬০ ফুটের মধ্যে কোনো স্থাপনা নির্মাণ করতে হলে অনুমতি নিতে হয়। কিন্তু সেখানকার সীমানাপ্রাচীর ঘেঁষে ফুটপাতের মধ্যে ২০১৩ সালের জুনে প্রকাশ্যে প্রায় ৫০টি দোকান গড়ে ওঠে।
বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল) চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন সেগুলো উচ্ছেদও করে। কিন্তু এখন ওই ফুটপাতে রীতিমতো পাকা ঘর করে চলছে দোকানদারি।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে কী নেই—বিরিয়ানির দোকান, সেলুন, ফলের দোকান, স্টেশনারি। সবই গড়ে উঠেছে সীমানাপ্রাচীরের দেয়াল ঘেঁষে। ইটের দেয়াল দেওয়া প্রতিটি দোকান আলাদা করা হয়েছে। ওপরে দেওয়া হয়েছে সিমেন্টের ছাউনি। স্থায়ী দোকানের পাশাপাশি ফুটপাতের ওপর আছে অস্থায়ী দোকানও। ফুটপাতের এই অংশে হাঁটার কোনো জায়গা অবশিষ্ট নেই। ফলে বাধ্য হয়ে পথচারীদের সড়ক ধরে হাঁটতে হচ্ছে।
দোকানিরা জানান, প্রতিটি দোকান থেকে প্রভাবশালী একটি গোষ্ঠী ৫ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত এককালীন (জামানত) নিয়েছে। মাসে মাসে ভাড়া দিতে হয়। বিটিসিএল ভবনের উত্তর-পূর্ব কোনায় একটি ফটক আছে। সেটির ঠিক মুখে ২০ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের কার্যালয় গড়ে তোলা হয়েছে। এখন ওই ফটকটি পুরোপুরিই বন্ধ।
সিটি করপোরেশন, দোকানদার ও বিটিসিএল কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এখানে দোকান নির্মাণের পেছনে রয়েছে যুবলীগ দক্ষিণের প্রভাবশালী একটি দল। এখান থেকে পুলিশ ও সিটি করপোরেশনের লোকজনও মাসোহারা পান।
সর্বশেষ ২২ মার্চও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে চিঠি দিয়ে উচ্ছেদের আকুতি জানিয়েছে বিটিসিএল। এর আগেও কয়েক ডজন চিঠি দেওয়ার কথা জানিয়েছেন সংস্থার কর্মকর্তারা।
জানতে চাইলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা খালিদ আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, টিঅ্যান্ডটি কার্যালয়ের পাশে একবার উচ্ছেদের পর উচ্চ আদালত থেকে নিষেধাজ্ঞা এনেছেন দোকান নির্মাণকারীরা। এ জন্য পুনরায় উচ্ছেদ করা যাচ্ছে না। অন্য স্থানগুলোতে তাঁরা উচ্ছেদ অভিযান চালান নিয়মিত। কিন্তু পরক্ষণেই আবার দখল হয়ে যাচ্ছে।
২০১২ সালের মার্চে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ নামে একটি সংগঠনের পক্ষ থেকে রাজধানীর জিরো পয়েন্ট থেকে সদরঘাট পর্যন্ত সড়ক ও ফুটপাত মুক্ত করার বিষয়ে রিট করা হয়। এ বিষয়ে রুলও জারি করেন হাইকোর্ট। এরপর আদালতের পৃথক বেঞ্চে হকার্স ফেডারেশনও রিট করে। আদালত হকারদের পুনর্বাসনের রুল দেন। কিন্তু ফুটপাত দখলমুক্ত কিংবা হকারদের পুনর্বাসন—কোনোটাই হয়নি।
ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, উচ্ছেদ করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পুনরায় হকাররা বসে যায়। গত ৫ জানুয়ারি থেকে অবরোধ-হরতাল শুরু হলে সিটি করপোরেশন কোনো উচ্ছেদ অভিযান চালায়নি। কারণ, এ সময় পুলিশ পাওয়া যাচ্ছে না।
সূত্র আরও জানায়, হকার সমিতিগুলো নির্বিঘ্নে দোকান করার জন্য ট্রেড লাইসেন্স দেওয়ার এবং পুনর্বাসনের দাবি জানিয়ে আসছে। এ বিষয়ে সিটি করপোরেশনের সঙ্গে একাধিক বৈঠকও হয়েছে। সিটি করপোরেশনও ট্রেড লাইসেন্স দেওয়ার চিন্তাভাবনা করছে।
সিটি করপোরেশন সূত্র জানিয়েছে, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার ফুটপাত আছে। আর ২০১৩ সালে ওয়ার্ক ফর বেটার বাংলাদেশের (ডব্লিউবিবি) ট্রাস্টের গবেষক মারুফ রহমানের সমীক্ষায় দেখা গেছে, ঢাকার ৪৪ শতাংশ সড়কে ফুটপাত নেই। আর বাকি যে ৫৬ শতাংশ অংশে ফুটপাত আছে, তার কোথাও ৫০ শতাংশ এবং কোথাও ২০ শতাংশ হকারদের দখলে। রাজধানীর গুলিস্তান, ফার্মগেট ও নিউমার্কেট এলাকায় সমীক্ষা চালান তিনি।
সমীক্ষা অনুসারে, যেখানে ফুটপাত আছে, তার ৮২ শতাংশ উঁচু-নিচু, ভাঙাচোরা কিংবা চলাচলের জন্য মসৃণ নয়।
সিটি করপোরেশন, পুলিশ ও হকার সমিতি—কারও কাছেই ঢাকার হকারের প্রকৃত সংখ্যা নেই। তবে এই তিন সংস্থার আনুমানিক হিসাব যোগ করলে ভাসমান, স্থায়ী ও অলিগলি মিলে হকারের সংখ্যা ১০ লাখের কম নয়। এর মধ্যে প্রায় আড়াই লাখ কোনো না কোনো সমিতির সদস্য।
সূত্র জানায়, রাজধানীর ফুটপাত ও সড়ক মিলে প্রায় ২০০ হকার স্পট বা স্থান আছে। এগুলোর প্রতিটির জন্য একজন করে লাইনম্যান রয়েছেন। নির্দিষ্ট এলাকার চাঁদা আদায় করেন লাইনম্যান। প্রতিটি লাইনম্যানের নির্ধারিত এলাকাকে নাম দেওয়া হয়েছে ‘ফুট’ হিসেবে। কয়েকটি ‘ফুটের’ দায়িত্ব থাকেন একজন ‘সর্দার’। সর্দারই মূলত চাঁদার ভাগ রাজনৈতিক প্রভাবশালী, পুলিশ ও সিটি করপোরেশনের যাদের যাদের দেওয়া দরকার, তা দেন।
আলাপ করে জানা গেছে, রাজধানীর গুলিস্তান এলাকায় ২৫টি ফুট রয়েছে। প্রতিটি ফুট থেকে আকার ও স্থানভেদে দৈনিক ৫০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা নেওয়া হয়। সরকার পরিবর্তন হলে সর্দার ও লাইনম্যানও পরিবর্তন হয়। বর্তমানে সবচেয়ে দাম বেশি ফুট হচ্ছে গুলিস্তান, মতিঝিল, নিউমার্কেট এলাকা এবং শান্তিনগর বাজারের সামনে।
ঢাকায় হকারদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে বিভিন্ন সময় গুলিস্তান, সদরঘাট, বঙ্গবাজার ও ধানমন্ডি এলাকায় একাধিক মার্কেট করা হয়েছে। কিন্তু প্রকৃত হকাররা পুনর্বাসিত হয়নি।
বাংলাদেশ হকার্স ফেডারেশনের সভাপতি এম এ কাসেম প্রথম আলোকে বলেন, বড় বড় মার্কেট হলেও হকাররা পুনর্বাসিত হয় না। অসাধু পুলিশ ও মাস্তানদের চাঁদা দিয়ে হকারদের আয় থাকে না। তাই তাদেরকে ট্রেড লাইসেন্স দেওয়া উচিত।

ব্যাকটেরিয়া দমনে হাজার বছরের পুরোনো দাওয়াই

অ্যান্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে লড়াই করে টিকে থাকতে সক্ষম জীবাণুকে ধ্বংসের প্রচেষ্টায় এবার হাজার বছরের পুরোনো এক পদ্ধতি ব্যবহারের কথা ভাবছেন বিজ্ঞানীরা। চোখের অসুখ সারাতে নবম শতকে ইংল্যান্ডের অ্যাংলো-স্যাক্সন জনগোষ্ঠী পেঁয়াজ-রসুন, ওয়াইন এবং গরুর পাকস্থলীর অংশ মিলিয়ে তৈরি করত কার্যকর মলম। খবর বিবিসির। যুক্তরাজ্যের একদল বিজ্ঞানী বিস্ময়ের সঙ্গে আবিষ্কার করেছেন, প্রাচীন ওই চিকিৎসাপদ্ধতি ব্যবহার করলে এমআরএসএ নামে পরিচিত মেথিসিলিন প্রতিরোধী স্ট্যাফাইলোকক্কাস অরিয়াস ব্যাকটেরিয়া প্রায় সম্পূর্ণ নির্মূল করা সম্ভব হচ্ছে। ব্রিটিশ লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত ‘বল্ডস লিচবুক’ নামের পুরোনো একটি ইংরেজি পাণ্ডুলিপিতে ওই চিকিৎসাপদ্ধতির বর্ণনা রয়েছে। জার্মান বংশোদ্ভূত অ্যাংলো-স্যাক্সন জাতির মানুষ পঞ্চম শতকে ইংল্যান্ডে পাড়ি জমিয়েছিল। ওই জনগোষ্ঠী নিয়ে গবেষণা করছেন যুক্তরাজ্যের নটিংহ্যাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ ক্রিস্টিনা লি। তিনি বল্ডস লিচবুক দেখে পেঁয়াজ-রসুন, ওয়াইন এবং গরুর পিত্ত মিশিয়ে ‘চোখের মলম’ তৈরির কৌশল বের করেন। সেটি অনুসরণ করে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল অণুজীববিজ্ঞানী মলমটি তৈরি করেন। পরে তা গবেষণাগারে উৎপাদিত এমআরএসএ ব্যাকটেরিয়ার ওপর প্রয়োগ করা হয়। এতে প্রায় ৯০ শতাংশ ব্যাকটেরিয়া দমন করা সম্ভব হয়। তাঁদের এ গবেষণার প্রতিবেদন বার্মিংহামে অনুষ্ঠেয় অণুজীববিজ্ঞান সমিতির বার্ষিক সম্মেলনে উপস্থাপন করা হবে।
ক্রিস্টিনা লি বলেন, ব্যাকটেরিয়া আবিষ্কারের বহু আগে থেকেই সম্ভবত এসব অণুজীব দমনের ব্যাপারে বিস্তারিত বৈজ্ঞানিক গবেষণা হয়েছিল। তাঁদের পরীক্ষায় এ রকমই ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

নাশিদকে ‘রাজনীতি থেকে তাড়াতে’ মালদ্বীপে আইন

কেউ আদালতে সাজা পেলেই রাজনৈতিক দলের সদস্যপদ হারাবেন এমন একটি আইন পাস করেছে মালদ্বীপের পার্লামেন্ট। সাবেক প্রেসিডেন্ট কারাবন্দী মোহাম্মদ নাশিদকে রাজনীতি থেকে তাড়ানোই এই আইন পাসের উদ্দেশ্য বলে সমালোচকদের অভিযোগ। খবর এপি ও আল-জাজিরার।
৮৫ আসনের পার্লামেন্টে সোমবার রাতে আইনটি ৪২-২ ভোটে পাস হয়। সাবেক প্রেসিডেন্ট নাশিদের দল মালদিভিয়ান ডেমোক্রেটিক পার্টির সদস্যরা এ আইনের বিরোধিতা করেন। তাঁরা আইনটির ওপর ভোটাভুটিতেও অংশ নেননি।
পার্লামেন্টে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ইয়ামিন আবদুল গাইয়ুমের দল প্রোগ্রেসিভ পার্টির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। এর সুযোগ নিয়ে তিনি বিরোধীদের দমন করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। মালদ্বীপের পার্লামেন্ট নতুন আরেকটি বিলও বিবেচনা করছে। সেটি পাস হলে সাবেক প্রেসিডেন্ট হিসেবে নাশিদের ভাতা এবং নিরাপত্তা সুরক্ষার ব্যবস্থাও বাতিল হয়ে যাবে।
এক মামলায় চলতি মাসেই ১৩ বছরের কারাদণ্ড হয় মোহাম্মদ নাশিদের। ক্ষমতায় থাকার সময় ২০১২ সালে একজন জ্যেষ্ঠ বিচারককে গ্রেপ্তারের আদেশ দেওয়ার অভিযোগে ওই মামলা হয়েছিল। নাশিদের সমর্থকদের ভাষ্য, আগামী ২০১৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে যাতে তিনি অংশ নিতে না পারেন, সেই উদ্দেশ্যেই ওই অভিযোগ আনা হয়েছিল।
মালদিভিয়ান ডেমোক্রেটিক পার্টির জ্যেষ্ঠ রাজনীতিক ইভান আবদুল্লাহ বলেন, তাঁদের দল সিদ্ধান্ত নিয়েছে, নতুন আইনটি তাঁদের ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না। বর্তমানে কারাবন্দী নাশিদই দলটির নেতা হিসেবে থাকবেন।
২০০৮ সালে ভারত মহাসাগরের ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্র মালদ্বীপের প্রথম গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হন মোহাম্মদ নাশিদ। এর মধ্য দিয়ে দেশটিতে মামুন আবদুল গাইয়ুমের ৩০ বছরের কঠোর শাসনের অবসান ঘটে।

নরেন্দ্র মোদির সফরেই তিস্তা ও সীমান্ত চুক্তি

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরেই তিস্তা ও সীমান্ত চুক্তিসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি সম্পাদন হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন লোকসভার স্পিকার সুমিত্রা মহাজন। গতকাল ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয়ে ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ আশ্বাস দেন। প্রতিনিধি দলের নেতা ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে তারা দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন। বৈঠকে সংসদ সদস্য মো. নবী নেওয়াজ, এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী, নুরুল ইসলাম মিলন, আবুল কালাম আজাদ, ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুন, কবি কাজী রোজী ও রাজী মো. ফখরুল উপস্থিত ছিলেন। সংসদ সচিবালয়ের গণসংযোগ থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ডেপুটি স্পিকার বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে ভারতের সহোযোগিতা ও সিপিএ নির্বাচনে বাংলাদেশকে সমর্থনসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে সহযোগিতার জন্য ভারতকে ধন্যবাদ জানান। তিনি এ ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। জবাবে ভারতের স্পিকার বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলকে আশ্বস্ত করে বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরকালে তিস্তা চুক্তি সম্পাদন, সীমান্ত  চুক্তিসহ আরও বেশ কয়েকটি বিষয়ে চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান। এ ছাড়াও ডেপুটি স্পিকার ভুটান ও মালদ্বীপের স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং দু’দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। এর আগে আইপিইউ’র কো-অর্ডিনেটিং কমিটি অব উইমেন পার্লামেন্টারিয়ান্সের শূন্য পদে সংসদ সদস্য বেগম ওয়াসেকা আয়েশা খান ও স্ট্যান্ডিং কমিটি অন পিচ অ্যান্ড সিকিউরিটির সদস্য পদে আবুল কালাম আজাদকে নির্বাচিত করা হয়। এদিকে সম্মেলন চলাকালে পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন অব ওআইসি কান্ট্রির (পিইউআইসি)  সঙ্গে বৈঠকে ডেপুটি স্পিকার বলেন, ইসলামের নামে সকল প্রকার সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ বন্ধ করতে হবে। ইসলাম সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদকে কখনও  সমর্থন করে না। সকল প্রকার সন্ত্রাস বন্ধে সংসদ সদস্যদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এ বিষয়ে সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও সিরিয়াসহ বিভিন্ন দেশে ইসলামের নামে উগ্রপন্থি সন্ত্রাসীরা নারী ও শিশুদের উপর যে নারকীয় হামলা চালাচ্ছে সেটা নিন্দনীয় অপরাধ। এসব সন্ত্রাস বন্ধে সকল ইসলামী রাষ্ট্রসমূহের এমপিদের এগিয়ে আসতে হবে। এ ধরনের সন্ত্রাসের বিপক্ষে বিশ্ব জনমত গড়ে তুলতে হবে।

টৈটং উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সদস্য মওঃ লোকমান হাকিমের শোক সভা

পেকুয়া উপজেলাস্থ টৈটং উচ্চ বিদ্যালয়ের উদ্যোগে বিশিষ্ট সমাজসেবক জনপ্রতিনিধি মাওলানা লোকমান হাকিমের স্মরণে এক শোক সভা ও দোয়া মাহফিল স্কুল মাঠে গত ১ এপ্রিল প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক রাশেদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। শোক সভায় প্রধান আলোচক ছিলেন প্রিন্সিপাল ড. মো. সানাউল্লাহ। আরো বক্তব্য রাখেন টৈটং ইউপি চেয়ারম্যান জেড এম মোসলেম উদ্দিন, সাবেক চেয়ারম্যান মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ, কামাল হোসেন এম.কম., আলহাজ্ব আবদুল খালেক, ডা. নুরুল কবির, সাবেক ইউ.পি সদস্য মনজুর আলম প্রমুখ। দোয়া মাহফিল পরিচালনা করেন মাওলানা খাইরুজ্জামান গাজী। বক্তারা বলেন, মাওলানা লোকমান হাকিম নির্লোভ সমাজ উন্নয়ন কর্মী। তিনি আর্থিকভাবে সচ্ছল ছিলেন না। তবু তিনি টৈটং সহ স্থানীয় অঞ্চলগুলোর উন্নয়নের জন্য কাজ করে গেছেন। তিনি পরপর তিনবার ইউপি সদস্য নির্বাচিত হন এবং দুবার ভারপ্রাপ্ত ইউ.পি চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি বনকানন এলাকায় হেডম্যান হওয়া সত্ত্বেও কোন সম্পদ তিনি নিজের জন্য করে যান নাই। স্থানীয় শিা প্রতিষ্ঠানগুলোতে তিনি পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ছিলেন। এ আলোকিত মানুষটি গত ২৭ মার্চ অকালে চলে গেলেন। তাঁর চলে যাওয়ায় এলাকার জন্য যে তি হয়েছে তা পূরণীয় নয়। তিনি স্বশরীরে ইহজগত ত্যাগ করলেও তাঁর কর্ম জন্য তিনি এ অঞ্চলের মানুষের অন্তরে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকবে।

বাংলাদেশ সরকারের প্রতি সিভিকাস ও এএলআরসির ৩ সুপারিশ

বাংলাদেশে চলমান রাজনৈতিক সহিংসতা ও অস্থিতিশীলতার মধ্যে মৌলিক মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে গ্লোবাল সিভিল সোসাইটি অ্যালায়েন্স (সিভিকাস) ও এশিয়ান লিগ্যাল রিসোর্স সেন্টার (এএলআরসি)। ‘বাংলাদেশ: গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে আনুন ও ভিন্ন মতাবলম্বীদের ওপর নির্যাতন বন্ধ করুন’-শীর্ষক একটি বিবৃতিতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি ৩ দফা সুপারিশও করেছে সংগঠন দুটি। মতপ্রকাশের অধিকার চর্চা ও বিক্ষোভ সমাবেশ করার অভিযোগে বিধিবহির্ভূতভাবে আটক সব ব্যক্তিকে মুক্তি দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠন দুটি। শান্তিপূর্ণ সমাবেশে অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ অবিলম্বে বন্ধ ও এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত পরিচালনার আহ্বান জানানো হয়েছে। সাংবাদিক ও গণমাধ্যমগুলোর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সব অভিযোগ তুলে নেয়ারও আহ্বান জানানো হয় বাংলাদেশ সরকারের প্রতি। নিচে সংগঠন দুটির পক্ষ থেকে প্রকাশিত বিবৃতিটি তুলে ধরা হলো:
বাংলাদেশে চলমান রাজনৈতিক সহিংসতার মধ্যে মৌলিক মানবাধিকার ও গণতন্ত্রিক অধিকারের ওপর অপ্রশমিতভাবে হামলা অব্যাহত থাকায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে গ্লোবাল সিভিল সোসাইটি অ্যালায়েন্স (সিভিকাস) ও এশিয়ান লিগ্যাল রিসোর্স সেন্টার (এএলআরসি)।
সিভিকাসের কর্মপন্থা ও গবেষণা বিষয়ক প্রধান মানদ্বীপ তিওয়ানা বলেন, গণতান্ত্রিকভাবে ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শ প্রকাশের অধিকারের ওপর দমনাভিযান চালানোর মধ্য দিয়ে বর্তমানে বাংলাদেশ গুরুতর সাংবিধানিক সঙ্কটের সম্মুখীন। তিনি বলেন, গত বছরগুলোতে বাংলাদেশের যে স্থিতিশীলতা ও সাফল্য অর্জিত হয়েছে, সেটাকে নষ্ট করছে মুক্ত সুশীল সমাজের ওপর রাজনৈতিক দমননীতি ও নির্যাতন।
২০১৫ সালের ৫ই জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশের নেতৃস্থানীয় বিরোধী দলগুলোর সদস্যরা বড় আকারে বিক্ষোভ সমাবেশ ও সাধারণ ধর্মঘট (সড়ক অবরোধ, হরতাল) পালনের মধ্য দিয়ে ২০১৪ সালের জানুয়ারির বিতর্কিত জাতীয় নির্বাচনের বর্ষপূর্তি পালন করেছে। নিরাপত্তা বাহিনীসমূহ সভা-সমাবেশসমূহ ও অন্যান্য কর্মকা-ের মাধ্যমে আইন অমান্য করায় নিয়মিত ব্যবস্থা নিয়েছে। তা করতে তারা অতিরিক্ত ও কখনও কখনও মারাত্মক বলপ্রয়োগ, গণগ্রেপ্তার এবং সাংবাদিক ও মিডিয়া গ্রুপগুলোকে টার্গেট করে নির্যাতন চালিয়েছে।
গত ৫ই জানুয়ারি বিরোধী দলের ডাকা সভা-সমাবেশের জবাবে সরকার ঔপনিবেশিক যুগের ১৪৪ ধারা জারি করে রাজধানী ঢাকায় সব বিক্ষোভ সমাবেশ ও র‌্যালি নিষিদ্ধ করে। এ নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গ করায় বিধিবহির্ভূত গ্রেপ্তার ও বন্দি করা হয়েছে কমপক্ষে ১৪ হাজার বিরোধী দলীয় নেতা-কর্মীকে। জাতীয় পর্যবেক্ষক সংগঠনগুলো বলছে, গ্রেপ্তারকৃত অধিকাংশ মানুষই এখনও কারাবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। তার ওপর দেশজুড়ে বিরোধী দলসমূহ এবং নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের একের পর এক হামলায় প্রায় ১০০ জন নিহত হয়েছেন এবং আরও শত শত মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন।
অতি সম্প্রতি গত ১৭ই মার্চ কুড়িগ্রাম জেলায় পুলিশ ও হরতালের সমর্থক বিরোধীপন্থী কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে পুলিশ বিক্ষোভ-সমাবেশকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে গোলাবারুদ ও টিয়ার শেল ব্যবহার করেছে। সংঘর্ষের ঘটনার ওপর প্রতিবেদন প্রকাশ করায় টার্গেট করে কয়েকজন সাংবাদিক ও গণমাধ্যমের ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে। সরকার সম্প্রতি বিধিবহির্ভূতভাবে বহু ইলেক্ট্রনিক গণমাদ্যম ও সংবাদপত্র  বন্ধ করে দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে চ্যানেল ওয়ান, দিগন্ত টিভি, ইসলামিক টিভি ও দৈনিক সংবাদপত্র আমার দেশ। বিরোধী দলের আন্দোলনে সহানুভূতিশীল মনে করায় কয়েকজন সাংবাদিককে মিথ্যা অভিযোগে অল্প সময়ের জন্য আটক রাখা হয়েছে। ২০১৫ সালের ৬ই জানুয়ারি থেকে আটক রয়েছেন বেসরকারি টিভি চ্যানেল একুশে টেলিভিশনের (ইটিভি) সভাপতি আবদুস সালাম ও প্রধান নির্বাহী আবদুস সালাম। তার বিরুদ্ধে বিরোধী দলের বিশিষ্ট এক নেতার বক্তৃতা টেলিভিশনে প্রচারের অভিযোগ রয়েছে। ২০১৪ সালের ৬ই জানুয়ারি দৈনিক ইনকিলাবের ৩ সাংবাদিক রবিউল্লাহ রবি, রফিক মোহাম্মদ ও আহমেদ আতিককে তাদের অফিস থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিতর্কিত তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন, ২০০৬ (২০০৯ ও ২০১৩ সালে সংশোধিত)-এর আওতায় তাদের আটক করা হয়। ‘মিথ্যা ও বানেয়ায়াট’ খবর প্রচার করার অভিযোগে যে সাংবাদিকদের গ্রেপ্তর করা হয়েছিল, তাদের জামিনে মুক্তি দেয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা চলছে।
এএলআরসি’র নির্বাহী পরিচালক বিজো ফ্রান্সিস বলেছেন, বাংলাদেশে ক্রমবর্ধমান স্বেচ্ছাচারিতা মৌলিক অধিকার ও গণতন্ত্রীকরণের জন্য মারাত্মক হুমকি হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে। তিনি বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অধিকার খর্ব করা, সম্পৃক্ততা ও সভা-সমাবেশ এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের ওপর নির্যাতন বাংলাদেশকে একটি পরিবর্তনশীল ও অস্থিতিশীল অবস্থার মধ্যে দাঁড় করিয়েছে। এতে মৌলবাদী সংগঠনগুলোর বিস্তারে অবদান রাখতে পারে ও আঞ্চলিক নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে।
বাংলাদেশের সংবিধান ও আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, নাগরিকদের আইনসম্মত উদ্বেগ ও গণতান্ত্রিক অধিকারের পূর্ণ উপলব্ধি নিশ্চিতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানায় সিভিকাস ও এএলআরসি। একই সঙ্গে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো নিশ্চিতেও সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়:
১)    মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অধিকার চর্চা, সম্পৃক্ততা ও সভা-সমাবেশ  করার অভিযোগে বিধিবহির্ভূতভাবে আটক সব ব্যক্তিকে মুক্তি দেয়া।
২)    শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ-সমাবেশ ব্যাহত করতে অতিরিক্ত ও মারাত্মক বলপ্রয়োগ অবিলম্বে থামানো এবং এসব ঘটনায় তদন্ত করা।
৩)    স্বতন্ত্র সাংবাদিক ও গণমাধ্যমসমূহের বিরুদ্ধে রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সব অভিযোগ প্রত্যাহার করা।

ব্লগার হত্যা- জাতিসংঘ যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্সের উদ্বেগ

সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবীদের (ইনটেলেকচুয়াল) ওপর হামলায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্স। গতকাল ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে ওয়াসিকুর রহমানের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলা হয়, তার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র গভীরভাবে শোকাহত। এ ধরনের বর্বর ঘটনার ক্ষেত্রে ছাড় দেয়ার কোন সুযোগ নেই। এ ধরনের ঘটনা বিশ্বজনীন মানবাধিকার ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার ওপর আঘাত। বাংলাদেশে ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা ও সহিংসতার বিরুদ্ধে লড়াই করছে এমন মানুষের পাশে যুক্তরাষ্ট্র সব সময় রয়েছে। এদিকে ঢাকাস্থ ফ্রান্স দূতাবাসের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলা হয়, ব্লগার অভিজিৎ হত্যার এক মাসের মধ্যে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে তদন্ত করতে হবে। অনলাইনসহ মত প্রকাশের স্বাধীনতা রায় ফ্রান্সের অবস্থানের কথাও পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।
প্রায় এক মাসের কাছাকাছি সময়ে বাংলাদেশে সন্ত্রাসীদের হাতে খুন হলেন দুজন ব্লগার। এর আগে নিহত হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর হুমায়ূন আজাদ। এসব নিয়ে জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুনের মুখপাত্র ফারহান হকের কাছে সাংবাদিকরা নিয়মিত ব্রিফিংয়ের সময় প্রশ্ন তোলেন। তার জবাবে ফারহান হক ওই উদ্বেগের কথা জানান। তিনি বলেন, বিভিন্ন পর্যায়ের সাংবাদিক ও অন্য বুদ্ধিজীবীদের ওপর হামলা হচ্ছে। এটা ভয়াবহ এক উদ্বেগের বিষয়। এতে তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে নাগরিকদের মত প্রকাশের অধিকারসহ তাদের মৌলিক অধিকারের প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান জানিয়ে আসছে জাতিসংঘ। তার কাছে এক সাংবাদিক জানতে চান- এই পর্যায়ে জাতিসংঘের কোন শীর্ষ স্থানীয় কর্মকর্তা সংলাপের জন্য বাংলাদেশ সফরে যাবেন কিনা। জবাবে তিনি বলেন, এ পর্যায়ে কোন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বাংলাদেশ সফরে যাবেন কিনা তা আমার জানা নেই। তবে আমাদের উদ্বেগের বিষয়ে আমরা সচেতন। এখানে ওই ব্রিফিং প্রশ্ন- উত্তর আকারে তুলে ধরা হলো:
প্রশ্ন: বাংলাদেশ নিয়ে আমার প্রশ্ন। ওয়াসিকুর রহমান নামে আরও একজন ব্লগারকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ বিষয়ে জাতিসংঘের কি কোন প্রতিক্রিয়া  আছে? এ সম্পর্কিত আরও একটি বিষয়, বাংলাদেশে সংলাপের জন্য জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকো অথবা জেফ্রে ফেল্টম্যান অথবা জাতিসংঘের কোন কর্মকর্তার কোন উদ্যোগ আছে কিনা?
উত্তর: এ পর্যায়ে উচ্চপর্যায়ের কোন কর্মকর্তার বাংলাদেশ সফরের বিষয়ে আমার কাছে কোন তথ্য নেই। তবে আমাদের উদ্বেগের বিষয়ে আপনি জানেন। অবশ্যই বাংলাদেশের নাগরিকদের মত প্রকাশের স্বাধীনতাসহ তাদের মৌলিক অধিকারের প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান আমরা অব্যাহতভাবে জানিয়ে যাচ্ছি। বিভিন্ন পর্যায়ের সাংবাদিক ও বিভিন্ন পর্যায়ের বোদ্ধাদের ওপর হামলা হয়েছে এটা ভয়াবহ এক উদ্বেগের বিষয়।

নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিজয়ী মুহাম্মদু বুহারি

নাইজেরিয়ায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে গুডলাক জনাথনকে হারিয়ে বিরোধী প্রার্থী মুহাম্মদু বুহারি বিজয়ী হয়েছেন।
১৯৯৯ সালে দেশটিতে সামরিক শাসন শেষ হবার পর এই প্রথম কোন ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজিত হলেন।
মি. বুহারি তাকে ভোট দেয়ার জন্য নাইজেরিয়ানদের ধন্যবাদ জানিয়ে একটি বিবৃতি দিয়েছেন এবং বিপক্ষদলের ক্ষতি কিংবা তাদের সম্পদ ধ্বংস না করার জন্য তার সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার রাতেই গুডলাক জনাথন তার প্রতিপক্ষ মুহাম্মদু বুহারিকে টেলিফোন করে অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং পরাজয় মেনে নিয়েছেন।
অনানুষ্ঠানিক ফলাফলে দেখা যাচ্ছে সাবেক সামরিক শাসক, জেনারেল মুহাম্মদ বুহারি তার প্রতিপক্ষ থেকে প্রায় ২০ লক্ষ ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন।
মি. বুহারি এর আগে তিনবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ব্যর্থ হয়েছিলেন। এবার তিনি বেশ কয়েকটি বিরোধী দলীয় জোটের একজন প্রার্থী হিসেবে দাড়িয়েছিলন- যাদের মূল প্রতিশ্রুতি ছিল দুর্নীতি দমন এবং ইসলামপন্থী জঙ্গিগোষ্ঠি বোকো হারামকে পরাজিত করা।
নাইজেরিয়ার উত্তরাঞ্চল থেকে আসা মুসলিম জেনারেল মি. বুহারি ১৯৮৩ সালে এক অভ্যুত্থানে ক্ষমতা গ্রহণ করেছিলেন। পরবর্তীতে আরেকটি অভ্যুত্থানে তিনি ক্ষমতা থেকে বিদায় নেন এবং তিনবছর কারাবন্দী থাকেন।
পর্যবেক্ষকরা সাধারণভাবে নির্বাচনের প্রশংসা করেছেন, তবে ভোট কারচুপির কিছু অভিযোগও এসেছে।
নাইজেরিয়া থেকে বিবিসির সংবাদদাতা বলছেন, পুরো প্রক্রিয়াটি প্রমাণ করছে যে নাইজেরিয়াতে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ গভীরতর হচ্ছে, কারণ এর আগে দেশটি অভ্যুত্থান এবং নির্বাচন কারচুপির জন্যই বেশি পরিচিত ছিল।

বাংলাদেশ গুরুতর সাংবিধানিক সংকটের মুখোমুখি

বাংলাদেশে চলমান রাজনৈতিক সহিংসতা ও অস্থিতিশীলতার মধ্যে মৌলিক মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে গ্লোবাল সিভিল সোসাইটি অ্যালায়েন্স (সিভিকাস) ও এশিয়ান লিগ্যাল রিসোর্স সেন্টার (এএলআরসি)। ‘বাংলাদেশ: গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে আনুন ও ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর নির্যাতন বন্ধ করুন’-শীর্ষক একটি বিবৃতিতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি ৩ দফা সুপারিশও করেছে সংগঠন দুটি। মতপ্রকাশের অধিকার চর্চা ও বিক্ষোভ সমাবেশ করার অভিযোগে বিধিবহির্ভূতভাবে আটক সব ব্যক্তিকে মুক্তি দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে তারা। শান্তিপূর্ণ সমাবেশে অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ অবিলম্বে বন্ধ ও এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত পরিচালনার আহ্বান জানানো হয়েছে। সাংবাদিক ও গণমাধ্যমগুলোর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সব অভিযোগ তুলে নেয়ারও আহ্বান জানানো হয় বাংলাদেশ সরকারের প্রতি। নিচে সংগঠন দুটির পক্ষ থেকে প্রকাশিত বিবৃতিটি তুলে ধরা হলো:
বাংলাদেশে চলমান রাজনৈতিক সহিংসতার মধ্যে মৌলিক মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকারের ওপর অপ্রশমিতভাবে হামলা অব্যাহত থাকায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে গ্লোবাল সিভিল সোসাইটি অ্যালায়েন্স (সিভিকাস) ও এশিয়ান লিগ্যাল রিসোর্স সেন্টার (এএলআরসি)।
সিভিকাসের কর্মপন্থা ও গবেষণাবিষয়ক প্রধান মানদ্বীপ তিওয়ানা বলেন, গণতান্ত্রিকভাবে ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শ প্রকাশের অধিকারের ওপর দমনাভিযান চালানোর মধ্য দিয়ে বর্তমানে বাংলাদেশ গুরুতর সাংবিধানিক সঙ্কটের সম্মুখীন। তিনি বলেন, গত বছরগুলোতে বাংলাদেশের যে স্থিতিশীলতা ও সাফল্য অর্জিত হয়েছে, সেটাকে নষ্ট করছে মুক্ত সুশীল সমাজের ওপর রাজনৈতিক দমননীতি ও নির্যাতন।
২০১৫ সালের ৫ই জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশের নেতৃস্থানীয় বিরোধী দলগুলোর সদস্যরা বড় আকারে বিক্ষোভ সমাবেশ ও সাধারণ ধর্মঘট (সড়ক অবরোধ, হরতাল) পালনের মধ্য দিয়ে ২০১৪ সালের জানুয়ারির বিতর্কিত জাতীয় নির্বাচনের বর্ষপূর্তি পালন করেছে। নিরাপত্তা বাহিনীসমূহ সভা-সমাবেশ নিষেধাজ্ঞা ও অন্যান্য কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আইন অমান্য করার নিয়মিত ব্যবস্থা নিয়েছে। তা করতে তারা অতিরিক্ত ও কখনও কখনও মারাত্মক বলপ্রয়োগ, গণগ্রেপ্তার এবং সাংবাদিক ও মিডিয়া গ্রুপগুলোকে টার্গেট করে নির্যাতন চালিয়েছে।
গত ৫ই জানুয়ারি বিরোধী দলের ডাকা সভা-সমাবেশের জবাবে সরকার ঔপনিবেশিক যুগের ১৪৪ ধারা জারি করে রাজধানী ঢাকায় সব বিক্ষোভ সমাবেশ ও র‌্যালি নিষিদ্ধ করে। এ নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গ করায় বিধিবহির্ভূত গ্রেপ্তার ও বন্দি করা হয়েছে কমপক্ষে ১৪ হাজার বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীকে। জাতীয় পর্যবেক্ষক সংগঠনগুলো বলছে, গ্রেপ্তারকৃত বেশির ভাগ মানুষই এখনও কারাবন্দি। তার ওপর দেশজুড়ে বিরোধী দলসমূহ এবং নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের একের পর এক হামলায় প্রায় ১০০ জন নিহত হয়েছেন এবং আরও শত শত মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন।
সরকার সম্প্রতি বিধিবহির্ভূতভাবে বহু ইলেক্ট্রনিক গণমাধ্যম ও সংবাদপত্র  বন্ধ করে দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে চ্যানেল ওয়ান, দিগন্ত টিভি, ইসলামিক টিভি ও দৈনিক আমার দেশ। বিরোধী দলের আন্দোলনে সহানুভূতিশীল মনে করায় কয়েকজন সাংবাদিককে মিথ্যা অভিযোগে আটক রাখা হয়েছে। ২০১৫ সালের ৬ই জানুয়ারি থেকে আটক রয়েছেন বেসরকারি টিভি চ্যানেল একুশে টেলিভিশনের (ইটিভি) চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী আবদুস সালাম। তার বিরুদ্ধে বিরোধী দলের বিশিষ্ট এক নেতার বক্তৃতা টেলিভিশনে প্রচারের অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফিক ও রাষ্ট্রদ্রোহিতামূলক অনুষ্ঠান সম্প্রচারের অভিযোগ করা হয়েছে। ২০১৪ সালের ৬ই জানুয়ারি দৈনিক ইনকিলাবের ৩ সাংবাদিক রবিউল্লাহ রবি, রফিক মোহাম্মদ ও আহমেদ আতিককে তাদের অফিস থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিতর্কিত তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন, ২০০৬ (২০০৯ ও ২০১৩ সালে সংশোধিত)-এর আওতায় তাদের আটক করা হয়। ‘মিথ্যা ও বানোয়াট’ খবর প্রচার করার অভিযোগে যে সাংবাদিকদের গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, তাদের জামিনে মুক্তি দেয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা চলছে। এএলআরসি’র নির্বাহী পরিচালক বিজো ফ্রান্সিস বলেছেন, বাংলাদেশে ক্রমবর্ধমান স্বেচ্ছাচারিতা মৌলিক অধিকার ও গণতন্ত্রীকরণের জন্য মারাত্মক হুমকি হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে। তিনি বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অধিকার খর্ব করা, সম্পৃক্ততা ও সভা-সমাবেশ এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের ওপর নির্যাতন বাংলাদেশকে একটি পরিবর্তনশীল ও অস্থিতিশীল অবস্থার মধ্যে দাঁড় করিয়েছে। এতে মৌলবাদী সংগঠনগুলোর বিস্তারে অবদান রাখতে পারে ও আঞ্চলিক নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে।
বাংলাদেশের সংবিধান ও আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, নাগরিকদের আইনসম্মত উদ্বেগ ও গণতান্ত্রিক অধিকারের পূর্ণ উপলব্ধি নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানায় সিভিকাস ও এএলআরসি। একই সঙ্গে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো নিশ্চিতেও সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়:
মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অধিকার চর্চা, সম্পৃক্ততা ও সভা-সমাবেশ  করার অভিযোগে বিধিবহির্ভূতভাবে আটক সব ব্যক্তিকে মুক্তি দেয়া।
শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ-সমাবেশ ব্যাহত করতে অতিরিক্ত ও মারাত্মক বলপ্রয়োগ অবিলম্বে থামানো এবং এসব ঘটনায় তদন্ত করতে হবে।
স্বতন্ত্র সাংবাদিক ও গণমাধ্যমসমূহের বিরুদ্ধে রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সব অভিযোগ প্রত্যাহার করতে হবে।

তুরস্কে আদালত ভবনে আইনজীবীকে জিম্মি

তুরস্কের ইস্তাম্বুলে আদালত ভবনে একজন আইনজীবীকে জিম্মি করেছে অস্ত্রধারী একটি দল। একটি রাজনৈতিক হত্যা মামলার তদন্ত করছেন জিম্মি হওয়া এই আইনজীবী। তুরস্কের গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে আল-জাজিরা অনলাইন। মেহমেত সেলিম কিরাজ নামের এই আইনজীবীকে জিম্মি করে তার মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে রেখেছে জিম্মিকারীরা। তুরস্কের ব্রেকিং নিউজ নামের একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালে এ নিয়ে একটি ছবি পোস্ট করা হয়েছে।
একই খবর দিয়েছে রয়টার্স অনলাইন। আল-জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, ২০১৩ সালে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে পুলিশের আঘাতে আহত হয়ে ২৬৯ দিন কোমায় থাকার পর গত বছরের মার্চ মাসে মারা যান বারকিন এলভান নামে এক কিশোর বিক্ষোভকারী। ১৫ বছর বয়সী এলভানের হত্যা মামলা তদন্ত করছেন আইনজীবী মেহমেত সেলিম। তুরস্কের দোগান নিউজে জানানো হয়েছে, আদালত ভবনে গুলি ছোড়ার শব্দ শোনা গেছে। কট্টর বামপন্থী দল ডিএইচকেপি-সি মেহমেত সেলিমকে জিম্মি করেছে। নিজস্ব ওয়েবসাইটে এর দায় স্বীকার করেছে দলটি।

৩০ লাখ ভোটে এগিয়ে বুহারি

নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রায় ৩০ লাখ ভোটের বিশাল ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন সাবেক সেনা শাসক ও মুসলিম প্রার্থী মুহাম্মাদু বুহারি। মঙ্গলবার বেশিরভাগ রাজ্যের ভোট গণনা শেষে দেখা যায়, বর্তমান প্রেসিডেন্ট গুডলাক জনাথনের চেয়ে বেশিরভাগ রাজ্যেই ভোটে এগিয়ে রয়েছেন বুহারি। একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যেই তিনি প্রায় ১৭ লাখ ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। এর ফলে তিন দশক আগে সামরিক অভ্যুত্থানে ক্ষমতায় আসা বুহারির আবার ক্ষমতা আসার সম্ভাবনা তৈরি হল। এবারের নির্বাচনটি ছিল দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। জনাথনের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত দক্ষিণাঞ্চলীয় কয়েকটি রাজ্যে এখানও ভোট গণনা শেষ হয়নি। সেখানে কারচুপির মাধ্যমে তাকে বিজয়ী ঘোষণার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে আশংকা রয়েছে। এর মধ্যে অবশ্য বেশ কয়েকটি রাজ্যে বুহারিই এগিয়ে রয়েছেন।
নাইজেরিয়ায় ৩৬টি রাজ্য রয়েছে। এর মধ্যে ৫টির ফলাফল এখনও ঘোষণা করা হয়নি। বাকি যে রাজ্যগুলোর ফলাফল সরকারিভাবে ঘোষণা করা হয়েছে সেখানে বুহারি পেয়েছেন ১ কোটি ৩৪ লাখ ৩৬ হাজার ৫৭ ভোট। আর তার প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান প্রেসিডেন্ট জনাথন পেয়েছেন ১ কোটি ৬ লাখ ২ হাজার ৯৩২ ভোট। মঙ্গলবারই পূর্ণাঙ্গ ফলাফল প্রকাশিত হওয়ার কথা রয়েছে। অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট জনাথন পেয়েছেন ৩ লাখ ৩ হাজার ৩৭৬ ভোট। এদিকে নির্বাচন কমিশন ঘোষিত ফলাফলে দেখা যায়, উত্তরাঞ্চলীয় গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য কানোতে প্রায় ১৭ লাখ ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন বুহারি। বুহারি এখানে যে বেশি ভোট পাবেন তা আগেই অনুমান করা হয়েছিল। নাইজেরিয়ার আইন অনুসারে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে হলে মোট বৈধ ভোটের ৫০ শতাংশের বেশি এবং ৩৬টি রাজ্যের দুই-তৃতীয়াংশ রাজ্যে অন্তত ২৫ ভাগ ভোট পেতে হবে। অন্যথায় দ্বিতীয় দফা নির্বাচন হবে। বিবিসি, রয়টার্স।

মুম্বাই কোচ পন্টিং

কোচ হিসেবে ক্রিকেট ক্যারিয়ারে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করলেন অস্ট্রেলিয়ার রিকি পন্টিং। ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগের (আইপিএল) অষ্টম আসরকে সামনে রেখে সোমবার প্রথমবারের মতো পন্টিংয়ের তত্ত্বাবধানে অনুশীলন শুরু করল মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। পুরো দলকে একসঙ্গে না পেলেও কয়েকজন খেলোয়াড়কে নিয়ে কোচ হিসেবে নিজের প্রথম দিনের অনুশীলন সারেন পন্টিং। আগেই নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল, আইপিএলের অষ্টম আসরে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের কোচের দায়িত্ব পালন করবেন পন্টিং। আইপিএলের অষ্টম আসর বসবে ৮ এপ্রিল।
তাই মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সকে নিয়ে অনুশীলনে নেমে পড়লেন পন্টিং। প্রথম দিনের অনুশীলনে দলের সবাইকে পাননি তিনি। তবে যারা ছিলেন তাদের নিয়েই ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন পন্টিং। মুম্বাইয়ের নতুন দুই পেসার বিনয় কুমার ও অভিমন্যু মিথুনকে নিয়ে বেশি কাজ করেছেন পন্টিং। সময় দিয়েছেন আদিত্য তারে ও পার্থিব প্যাটেলকে। দলের সঙ্গে এখনও যোগ দেননি অধিনায়ক রোহিত শর্মা। দ্রুত অনুশীলনে যোগ দেবেন রোহিত। এবারের আসরের প্রথম দিন ৮ এপ্রিল বর্তমান চ্যাম্পিয়ন কলকাতা নাইটরাইডার্সের মুখোমুখি হবে মুম্বাই। খেলাটি হবে কলকাতার ইডেন গার্ডেনে। ওয়েবসাইট।

১৭ বছর পর...

ছোটপর্দার নির্মাতা হিসেবে প্রয়াত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের সহধর্মিণী মেহের আফরোজ শাওন একযুগ পার করছেন। ২০০৩ সালে তিনি হুমায়ূন আহমেদের লেখা ‘পক্ষীরাজ’ নাটক নির্মাণ করেন। সেই থেকে এখন পর্যন্ত তিনি শতাধিক নাটক টেলিফিল্ম নির্মাণ করেছেন। তার মধ্যে দুটি ধারাবাহিক নাটকও রয়েছে।
একটি ‘কবি’ ও অন্যটি ‘একলা পাখি’। ১৯৯৮ সালে হুমায়ূন আহমেদের লেখা ‘এই বৈশাখে’ নিয়ে নাটক নির্মিত হয়। নির্মাতা হিসেবে তখন নাম ব্যবহৃত হয় ‘নুহাশ চলচ্চিত্র’র। দীর্ঘ ১৭ বছর পর চ্যানেল আইয়ের জন্য একই নাটকের রিমেক করছেন মেহের আফরোজ শাওন। এ প্রসঙ্গে শাওন বলেন, ‘১৭ বছর আগে এই বৈশাখে নাটকে আমি গান গেয়েছিলাম। হুমায়ূন আহমেদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েই বিশেষ এ নাটকটি নির্মাণ করছি। যারা নাটকে কাজ করেছেন প্রত্যেকেই যার যার চরিত্রে খুব ভালো অভিনয় করেছেন। আশা করি নাটকটি দর্শকের ভালো লাগবে।’

বাকস্বাধীনতার নতুন দরজা by মিজানুর রহমান খান

বাকস্বাধীনতা নিয়ে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক আলোচিত রায় আমাকে ১৯৯৬ সালের ১২ মে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের দেওয়া একটি অভিমতকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছে। নোটবই নিষিদ্ধকরণ আইন, ১৯৮০-কে বাকস্বাধীনতার পরিপন্থী হিসেবে চিহ্নিত করে হাইকোর্ট বাতিল করেছিলেন। এ মামলাটি নোটবই নিয়ে হলেও এতে বাকস্বাধীনতার সীমাসংক্রান্ত সাংবিধানিক প্রশ্ন জড়িত ছিল। এর সমর্থনে হাইকোর্ট সনদ দিয়েছিলেন। সেই সুবাদে আপিল বিভাগ এ বিষয়ে ৩: ১ ভোটে বিভক্ত রায় দেন। সংখ্যাগরিষ্ঠের রায়ে (যার ভিত্তি ছিল মূলত ভারতের সুপ্রিম কোর্টের একাধিক রায়) ১৯৮০ সালের আইনটি সাংবিধানিক বলে টিকে যায়। একমাত্র ভিন্নমত প্রদানকারী বিচারপতি লতিফুর রহমান রায় দেন যে এটা অসাংবিধানিক। কারণ, সংসদ ‘যুক্তিসংগত বাধানিষেধ’ না মেনে আইন করেছে। বিচারপতি লতিফুর রহমান লিখেছিলেন, ‘সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদের ওপর বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট এর আগে কী কী রায় দিয়েছিলেন, তা আমি খতিয়ে দেখলাম কিন্তু কিছুই পেলাম না।’ এরপর ১৯ বছর কেটে গেছে। কিন্তু ১৯ বছর পরেও তাঁর পর্যবেক্ষণ প্রাসঙ্গিক বলে মনে করি। এই সময়ে দেওয়া তেমন কোনো রায় আমাদের নজরে পড়েনি, যেখানে বাকস্বাধীনতা–সংক্রান্ত ৩৯ অনুচ্ছেদের প্রয়োগ ও ব্যাপ্তি বিস্তারিতভাবে আলোচিত হয়েছে। প্রচণ্ড রকম অস্পষ্টতার দোষে দুষ্ট ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৬৬ক ধারার বিরুদ্ধে করা মামলার (তসলিমা নাসরিন অন্যতম আবেদনকারী, তথ্যসূত্র ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস) কারণে ভারতবাসীরই কেবল নয়, আমাদের আশ্বস্ত হওয়ার একটা বিরাট কারণ সৃষ্টি হয়েছে। সেটা এই অর্থে যে বাংলাদেশ সংবিধানের চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং বাকস্বাধীনতা-সংক্রান্ত ৩৯ অনুচ্ছেদটা বুঝতে ১২৩ পৃষ্ঠার এই রায়টি একটি মোক্ষম হাতিয়ার হিসেবে কাজে দেবে। ভারতের সংসদের বিরাট দুর্বলতা চিহ্নিত হয়েছে এই রায়ে। কারণ, কোনো ফৌজদারি আইনের বিধানাবলি খুব বেশি ‘অস্পষ্ট’ হলে তা যে প্রচণ্ড কালাকানুনের নামান্তর, তা নতুন কথা নয়। ওই রায়ে বিচারকেরা ইতিপূর্বে (ষাটের দশক থেকে) নিজেদের আদালতের দেওয়া এত বেশি রায়ের বরাত দিয়েছেন, তা পড়ে আমরা বিস্মিত হই যে ভারতীয় আইনসভা কীভাবে এ রকম একটি আইন পাস করতে পারল।
তবে যেটা লক্ষণীয় সেটা হলো, ভারতের তথ্যমন্ত্রী দ্রুততার সঙ্গে ৬৬ক ধারা বাতিলের সিদ্ধান্তকে শিরোধার্য বলে মেনে নিয়েছেন। ওই ৬৬ক ধারাটির মায়ের পেটের আপন ভাই হলো বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা। না, আপন ভাই বললে ভয়াবহতা চাপা পড়বে। কারও মনে হতে পারে, তাহলে ভারতীয় আইনপ্রণেতারাও বাংলাদেশিদের মতো দায়িত্বহীন আইন পাস করতে পারেন। কিন্তু বিষয়টি পুরোপুরি তা নয়। বাংলাদেশে আমরা ৫৭ ধারা বাতিলের দাবিতে উচ্চকিত। কিন্তু কেউ কর্ণপাত করছে না। ভারতে এটা নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ৬৬ক ধারায় মামলা করার আগে সতর্কতা অবলম্বনে গাইডলাইন পাঠিয়েছিল। এখানে সবাই চুপ, এমনকি এর মূল রূপকার বিএনপি-জামায়াত চক্রও চুপ করে আছে।
বাংলাদেশি ৫৭ ধারা হলো ‘ ইলেকট্রনিক ফরমে মিথ্যা, অশ্লীল অথবা মানহানিকর তথ্য প্রকাশ’-সংক্রান্ত। এতে বলা আছে, ‘কোনো ব্যক্তি যদি ইচ্ছাকৃতভাবে ওয়েবসাইটে বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক বিন্যাসে এমন কিছু প্রকাশ বা সম্প্রচার করেন, যাহা মিথ্যা ও অশ্লীল বা সংশ্লিষ্ট অবস্থা বিবেচনায় কেহ পড়িলে, দেখিলে বা শুনিলে নীতিভ্রষ্ট বা অসৎ হইতে উদ্বুদ্ধ হইতে পারেন অথবা যাহার দ্বারা মানহানি ঘটে, আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটে বা ঘটার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়, রাষ্ট্র ও ব্যক্তির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় বা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে বা করিতে পারে বা এ ধরনের তথ্যাদির মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের বিরুদ্ধে উসকানি প্রদান করা হয়, তাহা হইলে তাহার এই কার্য হইবে একটি অপরাধ। এর দায়ে অনধিক চৌদ্দ বছর এবং অন্যূন সাত বছর কারাদণ্ডে এবং অনধিক এক কোটি টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন৷’ ভারতের আইনে শাস্তি ছিল মাত্র তিন বছরের। বিএনপি–জামায়াত করেছিল ১০ বছর। আর অধিকতর গণতন্ত্রী বলে দাবিদার আওয়ামী লীগ ২০১৩ সালে এতে সংশোধনী এনে ১০ বছরের সাজাকে ১৪ বছরে উন্নীত করেছে।
ভারতীয় বিচারকেরা ওই বিধানকে অসাংবিধানিক বলে বাতিল করে দিতে মার্কিন সংবিধান ও তাদের সুপ্রিম কোর্টের একাধিক রায়ের বরাত দিয়েছেন। বিচারপতি আর এফ নারিম্যান একটি মজার কথা লিখেছেন। তিনি বলেন, ‘এই আদালতের প্রতিটি উল্লেখযোগ্য রায়ে অটলান্টিকের ওপারের উদাহরণ হাজির করা হয়।’ এতে কোনো অসুবিধা নেই। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টেরও ভারতের সুপ্রিম কোর্টের রায়ের বরাত দেওয়া ছাড়া চলে না। তাই ভারতের সুপ্রিম কোর্টের ওই রায়ের আলোকে বলতে পারি, বাকস্বাধীনতার বিরুদ্ধে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের নেওয়া অবস্থান নৈতিক বিবেচনায় অসাংবিধানিক বলে নাকচ হয়ে যাওয়া উচিত। ভারতে বাতিল হওয়া ৬৬ক এর চেয়ে আমাদের ৫৭ ধারাটি বাকস্বাধীনতার প্রতি আরও বেশি ভয়ংকর।
ভারতের তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী রবিশংকর প্রসাদ রায়কে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, ‘যারা ক্ষমতায় থাকবে, তাদের অবশ্যই উদার হতে হবে।’ বাংলাদেশের মন্ত্রীরা ও সংশ্লিষ্টরা কি অচিরেই তাঁর কথার প্রতিধ্বনি তুলবেন? তথ্য কমিশনে ফোন করে তাঁদের একটা সমার্থক প্রতিক্রিয়া পাব, এই আশায় দিল্লিতে রায়টি ঘোষণার পরদিন (২৫ মার্চ) বেলা দেড়টায় ফোন করেছিলাম। কিন্তু প্রধান তথ্য কমিশনার মোহাম্মদ ফারুক ও তথ্য কমিশনার অধ্যাপক খুরশীদা জানালেন, তাঁরা বিষয়টি এখনো জানেন না। আপনারা কখনো কি ৫৭ ধারা সম্পর্কে কোনো অভিমত কোথাও রেখেছেন? বললেন, না।
এখানে স্মরণযোগ্য যে, ভারতের সুপ্রিম কোর্ট বলেছেন, ৬৬ক ধারা তথ্যের অধিকারের ওপর বিরাট হুমকি।
এটা আশা করার সময় যে ভারতের আদালত ও সরকারের অবস্থানের প্রতি নীতিগত সাড়া দিয়ে বিএনপি-জামায়াত প্রবর্তিত কালাকানুনকে বহাল রাখা এবং ২০১৩ সালে বাকস্বাধীনতার বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান নেওয়ার জন্য ক্ষমতাসীনেরা অনুশোচনা করবেন। আমরা খুব ধন্দে ছিলাম যে কে কাকে নকল করল? কারণ, ভারতের আইনে ৬৬ক ধারাটি কার্যকর হয় ২০০৯ সালের ২৭ অক্টোবর। আর বাংলাদেশে ৫৭ ধারাটি যুক্ত করা হয়েছিল ২০০৬ সালেই। তাহলে কি ভারত বাংলাদেশকে অনুসরণ করেছিল?
ওই রায়ে এর উত্তর পেয়ে অবাকই হলাম। ১৯৩৫ সালের ব্রিটিশ পোস্ট অফিস আইনের ১০(২)ক ধারায় বলা হয়েছিল, টেলিফোনের মাধ্যমে গ্রসলি অফেন্সিভ, ইন্ডিসেন্ট, অবসিন বার্তা পাঠানো যাবে না।
১৯৫৩ সালের ব্রিটিশ পোস্ট অফিস আইনের ৬৬ ধারায় এটি আবার প্রতিস্থাপিত হয়। আমাদের ৫৭ ধারাটি আসলে ব্রিটেনের এই ৬৬ ধারা থেকে নেওয়া। এটা একটা উদাহরণ যে একই বিধান ভারত ও বাংলাদেশ তাদের অভিন্ন ঔপনিবেশিক প্রভুর কাছ থেকে অঞ্জলি ভরে গ্রহণ করতে গিয়ে কে কেমন আচরণ করেছে। বাংলাদেশ তুঘলকি কাণ্ড ঘটিয়েছে। আমাদের নকলনবিশদের অপরিণামদর্শী উদ্ভাবন হলো, ওই ৫৭ ধারার মধ্যে ‘ধর্মীয় অনুভূতি, রাষ্ট্র ও ব্যক্তির ভাবমূর্তি ও আইনশৃঙ্খলা, নীতিভ্রষ্ট হওয়া’ ইত্যাদি বিষয় ঢোকানো। ব্রিটেন তা করেনি। ভারতের ৬৬ক-তেও এসব নেই। এমনকি সেখানে রাষ্ট্র ও ব্যক্তির কথা একদম অনুপস্থিত। সুতরাং যদি আমরা সরলীকরণ করি যে বাংলাদেশি শাসকেরা যা করেছেন, ভারতও পরে তা-ই নকল করেছে, তাহলে সেটা ভুল হবে।
১৯৫৩ সালের আইনে মানহানি ও অশ্লীল বার্তা পাঠানোর দায়ে এক মাস জেল বা ১০ পাউন্ড জরিমানার বিধান ছিল। ১৯৮১ সালের ব্রিটিশ টেলিকমিউনিকেশনস আইনের ৪৯ ধারায় আবার ওই বিধানের প্রতিস্থাপন ঘটে, যা ১৯৮৪ সালে পুনরায় ৪৩ ধারায় আসে। সবশেষ বিদ্যমান ২০০৩ সালের ব্রিটিশ টেলিকমিউনিকেশনস অইনের ১২৭ ধারায় অন্তর্ভুক্ত হয়। তবে এবারে খুব সংকীর্ণ করে (মিথ্যা, অশ্লীল ও মানহানিকর শব্দ বাদ দিয়ে) পাবলিক ইলেকট্রনিক কমিউনিকেশনস নেটওয়ার্কের অযথাযথ ব্যবহারকে দণ্ডনীয় করা হয়। নির্দিষ্টভাবে এতে কেবল ‘অত্যন্ত আক্রমণাত্মক, শিষ্টাচারবিরুদ্ধ, অশ্লীল ও ভীতিকর প্রকৃতির’ বার্তা আদান-প্রদানকে নিষিদ্ধ করা হয়। সুতরাং এটা পরিহাস যে বাংলাদেশ ও ভারত ২০০৩ সালের সংশোধিত বিধানকে নয়, বরং ১৯৩৫ বা ১৯৫৩ সালের ব্রিটিশ আইন থেকে আমদানির দিকে ঝুঁকেছে।
আগেই যেমনটা বলেছি, এটা বহুকাল থেকেই দেখার বিষয় যে বাংলাদেশ সংবিধানের ৩৯ (২) অনুচ্ছেদ যে কথা বলেছে তা নাগরিকেরা কীভাবে মেনে চলবে। কারণ, তার সামনে নিত্যনতুন শৃঙ্খল। তাকে ক্রমাগত কালো আইনের বেড়ি পরানো হচ্ছে। অনুমান করি আইন তৈরির সময় ৩৯(২) অনুচ্ছেদের দোহাই দিয়ে হয়তো মনের মাধুরী মিশিয়ে ৫৭ ধারা সৃষ্টি করা হয়েছে। সংবিধানের এই অনুচ্ছেদ আটটি বিষয়ে (রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, বিদেশি রাষ্ট্রের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, জনশৃঙ্খলা, শালীনতা, নৈতিকতা, আদালত অবমাননা, মানহানি ও অপরাধ সংঘটন) সম্পর্কে সংসদকে আইন করার এখতিয়ার দিয়েছে।
ভারতের সুপ্রিম কোর্টের রায় তাই আমাদের জন্য একটি নতুন দরজা উন্মোচন করে দিয়েছে। ৬৬ক ধারাটি বাতিল করার প্রধান যুক্তি হিসেবে বলা হয়েছে, এটি ভারতীয় সংবিধানের ১৯(১) ক এবং ১৯ অনুচ্ছেদের ২ দফার পরিপন্থী। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট ১৯৯৬ সালের ওই রায়ে (১৭ বিএলডি ৯৪) যথার্থই উল্লেখ করেছেন যে ভারতের ১৯ অনুচ্ছেদ এবং বাংলাদেশ সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদ সমতুল্য। আর এখন আমরা সুস্পষ্টভাবে জানলাম যেটা বিচারপতি নরিম্যান লিখেছেন, বাকস্বাধীনতা নিয়ন্ত্রণে এই আটটি (ভারতের সংবিধানেও অভিন্ন আটটি বিষয় উল্লেখিত) নির্দিষ্ট বিষয় ছাড়া রাষ্ট্র কোনো আইন তৈরি করতে পারবে না। আর আটটি বিষয়ে যেনতেন আইন করলেই হবে না, তাকে অবশ্যই ‘যুক্তিসংগত বাধানিষেধ’-এর শর্ত পূরণ করতে হবে, যার মূল কথা হলো, বাকস্বাধীনতার সীমা সংকোচনকারী যেকোনো বিধান অবশ্যই ‘সংকীর্ণতম’ হতে হবে। টুঁটি চেপে ধরা হাতটা উদ্ধত নয়, কুঁচকে থাকবে। সুতরাং ওই আটটি বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের তরফে খেয়ালখুশির জায়গা ভারতের রায়টি নিশ্চিতভাবেই রুদ্ধ করে দিয়েছে।
মিজানুর রহমান খান: সাংবাদিক৷
mrkhanbd@gmail.com

ভাবছি, আমিও একটা সালাম দিই by সাহস রতন

ভাই ক্যামন আছেন? ‘বড়ভাই’ আপনাকে সালাম দিছেন। এরশাদীয় শাসনামলে এই সালাম দেয়ার রেওয়াজ শুরু হয় জোরেশোরে। ‘বড়ভাই’-এর পক্ষে এই সালাম ডাকপিয়নের মতো নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে পৌঁছে দিতো তার কোন শিষ্য। শুরুতে বেছে বেছে বিত্তশালীদেরকেই এই সালাম দেয়া হতো। ধীরে ধীরে তা সাধারণ মুদি দোকানি পর্যন্ত গড়িয়েছে। তখন সালাম দিয়ে নীরবে চাঁদাবাজি করতো স্থানীয় সন্ত্রাসীরা। সালাম- এর প্রতিউত্তর সময়মতো এবং পরিমিত আকারে বড়ভাইয়ের কাছে না পৌঁছালে অনেক ভোগান্তি পোহাতে হতো। অনেক সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনাও ঘটতো। এখন দিন বদলেছে। এখন সালাম আসে মোবাইল ফোনে। বাদবাকি সব আগের মতোই। এখন দেশে যা চলছে তাতে সাধারণ মানুষের জীবনে চরম অশান্তি বিরাজ করছে। লাগাতার হরতাল আর অবরোধ চলছে দুই মাস ধরে। প্রথমে অবরোধ দেয়া হলো। সাধারণ মানুষ পেটের দায়ে অবরোধের মধ্যেও ঘর থেকে বের হচ্ছে দেখে, অবরোধের মধ্যেই হরতালের ডাক দেয়া হলো। এখন চলছে লাগাতার অবরোধ, লাগাতার হরতাল। মনে হচ্ছে ভবিষ্যতে যে রাজনৈতিক কর্মসূচি আসবে ওই কর্মসূচির মধ্যে ঘর থেকে বের হলেই গুলি। এছাড়া আর কী ভাবতে পারি?
গত দুই মাস ধরে দেশব্যাপী যে অবস্থা চলছে এর সামান্যতম রেশও প্রভাবশালীদের ওপর পড়ে নি। যত মানুষ মারা পড়েছে কিংবা আগুনে ঝলসে গেছে এরা সবাই সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ। টিভি চ্যানেলে সরকারি দল কিংবা ২০দলীয় জোটের নেতাদের দেখে তো মনে হয় না তাদের কোন সমস্যা হচ্ছে। চকচকে ঝকঝকে পোশাকে দিব্যি ইন্টারভিউ দিয়ে বেড়াচ্ছেন। কিংবা এমনও হতে পারে, যাদের আমরা সচরাচর টিভিতে দেখি তারা সবাই খুব ভালো আছে। এর বাইরে আর সবার জীবন ম্যাড়ম্যাড়ে, অনিশ্চিত।
ইদানীং সরকারি দলের নেতারা এমনকি পুলিশ-র‌্যাবও বলছে, সাধারণ মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে এই সন্ত্রাসী কার্যক্রম বন্ধ করার জন্য। সেই পাকিস্তান আমল থেকে যত ধরনের রাজনৈতিক আন্দোলন হয়েছে তার সবক’টিতেই সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেছে। ’৫২, ’৬২, ’৬৯, ’৭১, ’৯০, ’৯৬ সব আন্দোলনে সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেছে বলেই সফলতা এসেছে। সব আন্দোলনে জয়ী হয়ে কোন একটি রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় বসেছে। বসেই তারা ভোল পাল্টে ফেলেছে। নিজেদের আখের গুছিয়েছে। চেলাচামুণ্ডাদের পকেট ভারী করার সুযোগ দিয়েছে। আর যাদের উপর ভর করে তারা ক্ষমতার গদি দখল করেছে সেই সাধারণ মানুষকে চরম অবহেলা করেছে। এই করতে করতে এরা মানুষের মন থেকে উঠে গেছে। সাধারণ মানুষ ভাবছে, ‘কি ঠ্যাকা পড়ছে আমার রাস্তায় গিয়ে প্রতিবাদ করার?’
সাহস রতন
জনগণের ট্যাক্সের টাকা দিয়ে সরকারি কর্মচারী-আমলাদের ভোগবিলাসের সুযোগ বৃদ্ধি করা হচ্ছে। জনগণের জন্য কী সুযোগ বৃদ্ধি করা হয়েছে? কই আমার বেতন তো গত একদশকে একবারের জন্যও বাড়েনি। তাইলে বাড়তি বাড়ি ভাড়া, গাড়ি ভাড়া, নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রীর বাড়তি দামটা আমি কোথা থেকে পাবো? এসব প্রশ্নের কোন জবাব নেই। শুনেছি কাগমারী সম্মেলনে মওলানা ভাসানী একবার পাকিস্তানিদের বলেছিলেন- ‘আসসালামালাইকুম।’ আমার পক্ষে অত বড় সালাম দেয়ার তো প্রশ্নই আসে না। তাও ভাবছি ছোট করে হলেও আমিও একটা সালাম দিই। তবে এটা চাঁদাবাজির জন্য নয়। এটা ট্যাক্স এবং ভোট না দেয়ার সালাম। এই সালামটা সেই রাজনীতিবিদদের উদ্দেশ্যে, যাদের কারণে আজ আমার মতো সাধারণ মানুষের জীবন বিপন্ন।
ভাইসব, আপনাদেরকে আসসালামালাইকুম!

বিপর্যস্ত রাজনৈতিক সংস্কৃতি by ড. আবদুল লতিফ মাসুম

রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রবক্তা পুরুষদ্বয়: গ্যাব্রিয়েল অ্যালমন্ড এবং সিডনি ভার্বা তাদের সুবিখ্যাত গ্রন্থ ‘দ্য সিভিক কালচার’(১৯৬৩) এ রাজনৈতিক সংস্কৃতির বিশ্লেষণ এবং বিভাজন করেছেন। লুসিয়ান ডব্লিউ পাই-এর ব্যাখ্যায় বলা যায়: একটি সমাজের রাজনৈতিক আচরণ, মূল্যবোধ এবং রীতি-নীতির সমষ্টিই ওই সমাজের রাজনৈতিক সংস্কৃতি। দীর্ঘকাল ধরে অনুসৃত বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি ‘সংকীর্ণ’ এ কথা বলা কঠিন। আজকের বাংলাদেশে আমরা যে সংস্কৃতির পরিচয় পাচ্ছি আসলেই কি তা আমাদের রাজনীতির মূলধারার প্রতিনিধিত্ব করে? আমাদের আচার-আচরণে এবং রাজনৈতিক কার্যকলাপে যে রাজনৈতিক সংস্কৃতি উপস্থাপিত হচ্ছে তা কি মৌলিক, না কৃত্রিম? সাম্প্রতিক গবেষণায় রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে: বাস্তব এবং আরোপিত। জনগণ আসলেই যা বিশ্বাস করে এবং ধারণ করে তা হচ্ছে ‘বাস্তব সংস্কৃতি’। অপরদিকে আরোপিত সংস্কৃতি হচ্ছে তা, যা শক্তি অথবা ভীতি প্রদশর্নের মাধ্যমে জনগণের ওপর চাপিয়ে দেয়া হয়। (অক্সফোর্ড ডিকশনারি অব সোসিওলজি: ২০০৯: ৫৭২) এই তত্ত্ব কথাটুকু মনে রাখলে আমাদের ইদানীং রাজনৈতিক আচরণ এবং উচ্চারিত শব্দাবলি বোঝা সহজতর হবে।
আমরা আচরণে না হলেও সংবিধান মোতাবেক একটি গণতান্ত্রিক সমাজে বসবাস করি। সংসদীয় গণতন্ত্র মানেই হচ্ছে বহুদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থা। এখানে রাজনৈতিক দল একটি অপরিহার্য অনুসঙ্গ। যে দল জনগণের সম্মতি লাভ করে তারা একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য শাসন করার অধিকার লাভ করে। জাতীয় সংসদে যারা সরকারের পরে বেশি আসন পায় তারা বিরোধী দলের মর্যাদা লাভ করে। বিরোধী নেত্রী আমাদের দেশেও মন্ত্রীর মর্যাদা পায়। আর সংসদে যেসব দলের আসন থাকে তাদেরকেও উপযুক্ত সম্মান দেয়া হয়। সম্মান দেয়া হয় এই কারণে যে বিরোধী মানে শত্রু নয়। একই রাজনৈতিক ব্যবস্থায় ভিন্নমত পোষণকারী মাত্র। আমাদের রাজনৈতিক বৈরিতা শত্রুতায় পর্যবসিত হতে দেখে সচেতন নাগরিক মাত্রই বিচলিত।
বিগত কয়েক সপ্তাহ ধরে আমাদের দেশে আন্দোলন চলছে। বিএনপি চেয়ারপারসন, ২০ দলীয় নেত্রী এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া অবরোধের ডাক দিয়েছেন। তার অনুসৃত রাজনীতি এবং রাজনৈতিক কৌশল বা কর্মসূচির সঙ্গে সবাই একমত হবেন- এটা নাও হতে পারে। প্রতিটি নাগরিকের অধিকার রয়েছে তার কর্মসূচির কঠোর সমালোচনা করার। নিত্যদিন চ্যানেলে এবং পত্র পত্রিকায় এসব সমালোচনাও লক্ষ্য করা যায়। বিশেষত বৈরী সরকারি দল আন্দোলনকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করবে- এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু যা অস্বাভাবিক তা হচ্ছে তার প্রতি আচরণ এবং আরোপিত শব্দাবলী।
---ক. বেগম খালেদা জিয়া ৩রা জানুয়ারি ২০১৫ যখন তার কার্যালয় থেকে সম্ভাব্য সমাবেশ স্থলে রওনা দেন তখন তাকে গেটে আটকে দেয়া হয়। শুধু তাই নয় পরদিন ইট বালুর ট্রাক দিয়ে তার কার্যালয় ঘিরে দেয়া হয়। শ’ শ’ পুলিশ মোতায়েন করা হয়, যাতে তিনি বের না হতে পারেন। এভাবে ২০ দিন তাকে অবরুদ্ধ রাখা হয়। সরকার থেকে বলা হয়, তার নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। একজন মন্ত্রী বলেন, ইট-বালু খালেদা জিয়া এনেছেন তার ভবন নির্মাণের জন্য।
---খ. একজন খ্যাতিমান মন্ত্রী প্রকাশ্যে ঘোষণা দেন, খালেদা জিয়ার বিদ্যুৎ, টেলিফোন এবং পানির লাইন কেটে দেয়া হবে। অনেকে এটাকে শুধু হুমকি মনে করলেও একদিন সত্যি সত্যিই বেগম খালেদা জিয়ার কার্যালয়ের বিদ্যুৎ, টেলিফোন এবং ইন্টারনেটের লাইন কেটে দেয়া হয়। লাইন কেটে দেয়া লোকেরা বলে থানার নির্দেশে তারা এ কাজ করেছে। গুলশান থানা বলে তারা কিছুই জানে না। মন্ত্রী বলেন, কর্মচারী এবং বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা ওই লাইন কেটে দিয়েছে। আর একজন মন্ত্রী ওই লাইন কেটে দেয়ার জন্য শ্রমিক কর্মচারীদের ধন্যবাদ জানান।
---গ. বেগম খালেদা জিয়ার কর্মসূচি দ্বারা এসএসসি পরীক্ষা ব্যাহত হলে শিশুদের দিয়ে তার কার্যালয়ের সম্মুখে মানববন্ধন করানো হয়। বারকয়েক ক্ষমতাসীন দলের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠন ঘেরাও-এর ঘোষণা দিয়ে ওই কার্যালয়ের অতি নিকটে পৌঁছে যায়। একজন যুবক তার কার্যালয়ে ইট নিক্ষেপ করলে তাকে পাগল বলে ছেড়ে দেয়া হয়। ঝাটা মিছিলকারীদেরকে তার কার্যালয়ের সম্মুখে অবস্থান করার অনুমতি দেয়া হয়। নৌপরিবহন মন্ত্রীর সরাসরি নেতৃত্বে শ্রমিক কর্মচারীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে এগুলে ককটেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এসব নিরাপত্তাহীনতার মাঝে যখন কার্যালয়ে কাটাতারের বেড়া দেয়া হয় তখন দায়িত্বশীল লোকেরা বিরূপ মন্তব্য করে।
---ঘ. সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এবং বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা রিয়াজ রহমান ওই কার্যালয়ে তার সঙ্গে দেখা করার পরপরই গুলিবিদ্ধ হন। আরেক উপদেষ্টা মোসাদ্দেক আলী, বেগম জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে গেলে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। এখন কেউ তার সঙ্গে দেখা করতে গেলে গেটে রক্ষিত রেজিস্ট্রারে স্বাক্ষর করতে বলে পুলিশ।
---ঙ. একপর্যায়ে বেগম খালেদা জিয়ার কার্যালয়ের খাবার বন্ধ করে দেয়া হয়। চ্যানেলে প্রচারিত ছবিতে দেখা যায় খাবার বহনকারী রিকশা ভ্যানটি কার্যালয়ের গেটে পৌঁছলে পুলিশ ভ্যানগাড়ি চালককে ভেতরে ঢুকতে দেয়নি। বরং একজন পুলিশ ভ্যানগাড়িতে উঠে বসে খাবারগুলো গুলশান থানায় নিয়ে যায়। অন্য একটি সংবাদ চিত্রে (দ্য ডেইলি স্টার, ১৬ই ফেব্রুয়ারি, শেষ পৃষ্ঠা) দেখা যায় আহূত খাবার ফুটপাতে রেখে দিয়ে সাদা পোশাকের একজন পুলিশ রিকশাওয়ালাকে তাড়িয়ে দেয়। জিজ্ঞাসিত হলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ বলে ‘উপরের নির্দেশ’। বিশিষ্ট কণ্ঠশিল্পী বেবী নাজনীন কোন এক সন্ধ্যায় বেগম খালেদা জিয়ার জন্য রান্না করা কিছু খাবার নিয়ে গেলে তাকে আটক করা হয়। স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী খাবার না নিতে দেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন। আওয়ামী লীগ নেতা ড. হাছান মাহমুদ  বলেন, খাবার নিয়ে বেগম খালেদা জিয়া নাটক করছেন। অবশেষে সংসদে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অফিসে থাকার কি যুক্তি তা আমরা বুঝি না। উনি অফিসে বসে আছেন। আবার কিছু দরদি দেখলাম লিখছে, ওনার খাবার যাচ্ছে না। অফিসে খাবার যাবে কেন? অফিসে আসবে, অফিস করবে, অফিস শেষে বাড়ি ফিরবে। বাড়িতে গিয়ে খাবার খাবে।’
এসব ঘটনাবলী এবং বক্তব্য রাজনৈতিক সংস্কৃতির কোন পর্যায়ের প্রতিনিধিত্ব করে সে বিষয়ে মন্তব্য করতে চাই না। শুধু এটুকু বলা যায় বাংলাদেশের মানুষকে বোকা ভাবার কোন কারণ নেই।
---চ. আচরণ সংস্কৃতি দেখলেন। উচ্চারণ আরও তীব্র এবং হিংস্র। ক্ষমতাসীন দলের মন্ত্রী, অর্ধমন্ত্রী এবং নেতা, পাতি নেতারা প্রতিদিন খালেদা জিয়াকে কটু কথা বলে যাচ্ছেন। সেসব ভাষা লিখলে দ্বিতীয়বার অন্যায় হবে ভেবে আর উল্লেখ করলাম না। এসব দেখে দেশে একজন প্রবীণ ব্যক্তিত্ব সৈয়দ আবুল মকসুদ মন্তব্য করেন, ‘অসুন্দর ভাষায় কাউকে গালাগাল দেয়া আর গায়ে হাত তোলার মধ্যে পার্থক্য কোথায়?” (প্রথম আলো, ১৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৫)।
বাংলাদেশের সমাজ সংস্কৃতি এবং জীবনবোধ সম্পর্কে যাদের ন্যূনতম ধারণা আছে উপর্যুক্ত ঘটনাবলী তাদেরকে নিঃসন্দেহে বিস্মিত করবে। এই সেই দেশ, যে দেশের মানুষ নিজে না খেয়ে পরকে খাওয়ায়। এই সেই দেশ, যে দেশের মানুষ অপরকে  সর্বোচ্চ মর্যাদা দেয়। এই সেই দেশ, যে দেশে গালাগালি হানাহানি মারামারি খুনোখুনিকে মানুষ ঘৃণা করে। হিংসা প্রতিহিংসা গ্রেপ্তারি বা হত্যার হুমকির মতো ঘটনাবলীকে সাধারণ মানুষ স্বাভাবিক মনে করে না। এ দেশের মানুষ মনে করে মানবিক আবেদন দিয়েই চলমান মানবিক বিপর্যয়কে অতিক্রম করতে হবে। বাংলাদেশের আবহমান লালিত সংস্কৃতির বিপরীতে প্রতিফলিত বর্তমান রাজনৈতিক সংস্কৃতি একটি আপাত, কৃত্রিম এবং আরোপিত ঘটনা হতে বাধ্য। রাজনৈতিক সংস্কৃতি বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ‘যখন একটি রাজনৈতিক সংস্কৃতি ভেঙে পড়ে বা সন্দেহ সঙ্কটে নিপতিত হয় তখন বৈধতার সঙ্কট সৃষ্টি হয়’। আর বাংলাদেশের সচেতন মানুষ মাত্রই জানেন আমরা এখন একটি বৈধতার সঙ্কট সময় অতিক্রম করছি। বৈধতার সঙ্কট সৃষ্টি হয় তখন, যখন রাজনৈতিক কর্তৃত্ব সত্যকে মিথ্যা বলে প্রচার করে, ব্যর্থতাকে চমক, প্রতারণা এবং ষড়যন্ত্র দিয়ে ঢেকে দিতে চায়। এ ধরনের রাজনৈতিক দুর্যোগ সহসাই নাগরিক সাধারণকে গোটা ব্যবস্থার প্রতি ক্ষিপ্ত করে তুলতে পারে। সুতরাং রাজনীতিক এবং আমলাদের উচিত আবহমান লালিত বাংলার সহজাত রাজনৈতিক সংস্কৃতির লালন-পালন, ধারণ-সংরক্ষণ এবং প্রতিস্থাপন- নিশ্চিত করা।

‘কথা বললে গুলি করবো’ by সিদ্দিক আলম দয়াল

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ থানার ওসিসহ ৪ পুলিশের বিরুদ্ধে বাড়িতে ঢুকে নারীদের নির্যাতন, শী­লতাহানী ও ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এব্যাপারে মঙ্গলবার মনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে গাইবান্ধার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে মামলা দায়ের  করেছেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, গত ২৭শে মার্চ রাত ৮ টার দিকে গোবিন্দগঞ্জ থানার ওসি জাহিদুল ইসলাম, এসআই ফজলুর রহমান পুলিশ নিয়ে মহিমাগঞ্জ ইউনিয়নের দিরাই পশ্চিমপাড়া গ্রামের মুকুল মিয়ার বাড়িতে যান। এসময় মুকুল মিয়াসহ বাড়িতে কোন পুরুষ মানুষ না থাকায় বাড়ির বাসিন্দারা গেটে তালা লাগিয়ে ভেতরে প্রতিদিনের মতো কাজ করছিলেন। এসময় পুলিশ বাড়ির সামনে গিয়ে তাদের গেট খুলতে বলে। তারা গেট খুলতে রাজি না হওয়ায় এসআই ফজলুর রহমান পাশের বাড়ি থেকে লোহার শাবল নিয়ে এসে গেটের তালা ভেঙ্গে বাড়িতে প্রবেশ করে। মুকুল মিয়াকে না পেয়ে সেখানে তারা বাড়িতে থাকা নারীদের বেধড়ক মারপিট শুরু করে ।
অভিযোগে বাদী উল্লেখ করেন, পুলিশ তার ভাতিজির পড়নের কাপড় ধরে টানা হেচড়া করে এবং তার ব্লাউজ ছিড়ে ফেলে। এসআই ফজলুর রহমান তার স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেয় এবং ঘরে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। এ সময় ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে পুলিশ তার হাতে কামড়িয়ে দেয়। এসময় তাদের চিৎকারে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে এলে পুলিশের সঙ্গে তাদের তর্ক হয়। আশেপাশের লোকজন ঘটনার প্রতিবাদ করলে পুলিশ পিস্তল তাক করে গ্রামবাসীকে হুমকি দিয়ে বলে-কেউ কথা বললে গুলি করবো। এ ঘটনায় আজ মনোয়ারা বেগম আদালতে হাজির হয়ে মামলা দায়ের করেন। মামলার আইনজীবী হিসাবে সহযোগিতা করেন চৌধুরী নারগিস আকতার ।
নারী শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক অরুন কুমার সাহা মামলা গ্রহন করে চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট মোহসিনুল হককে তিন দিনের মধ্যে তদন্ত করে রিপোর্ট দাখিলের নির্দেশ দেন বলে গাইবান্ধার পাবলিক প্রসিকিউটর এডভোকেট শফিউল আলম সফি সাংবাদিকদের জানান।

শূন্য হৃদয়ে হাহাকার by শামীমুল হক

প্রাণ দিয়ে অভিজিৎ রায় বুঝিয়ে গেলেন বাকস্বাধীনতা শুধু কথার কথা। কেউ স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারে না। টুঁটি চেপে ধরা হয়। অভিজিৎ ব্লগে লিখে তার মতামত প্রকাশ করতেন। বই লিখে তা সবাইকে জানান দিতেন। এটাই ছিল তার অপরাধ। তিনি কোন দল বা গোষ্ঠীর ছিলেন না। তিনি কাউকে পরোয়াও করতেন না। করতেন না বলেই একাধিকবার হুমকি আসার পরও তিনি ভীতু কাপুরুষের মতো পালিয়ে থাকেন নি। নিজেকে গুটিয়ে নেননি। বরং তিনি বাস্তব চিত্র লিখে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। সঙ্গে সবাইকে এটাও জানিয়ে দিয়েছেন কোন কিছুতেই তাকে দমানো যাবে না। সত্যিই তাকে দমানো যায়নি। যখন যা বলার তীর্যক ভাষায় জবাব দিয়েছেন। কে খুশি হলো কিংবা কে অখুশি তাতে তার কিছু যায় আসেনি। শুধু তাই নয়, তিনি দেশের জন্য, মানুষের জন্য ভাবতেন নিরন্তর। তার প্রমাণ পাওয়া যায় মৃত্যুর আগে তার দেহ দান করে যাওয়ার ঘটনায়। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থীরা তার দেহ নিয়ে গবেষণা করবেন। আর এ গবেষণায় একেকজন শিক্ষার্থী হয়ে উঠবেন ডাক্তার। যারা দেশের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা দেবেন। রোগীকে পরম মমতায় আগলে ধরবেন। কে জানত যে মেডিক্যাল কলেজে তিনি দেহ দান করেছেন সেই মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ডাক্তাররাই তাকে মৃত বলে ঘোষণা দেবেন। যে আততায়ীরা তাকে কুপিয়েছে তারা মানুষ নয়, মানুষ নামের অমানুষ। এ হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানাই। প্রতিবাদ জানাই। একই সঙ্গে সবার মতো আমারও প্রশ্ন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো এমন নিরাপত্তায় ঘেরা জায়গায় কিভাবে হত্যাকারীরা অভিজিৎকে কুপিয়ে নির্বিঘ্নে চলে গেল? ঘটনার সময় তার স্ত্রী বন্যা বাঁচাতে গিয়েছিলেন। দুর্বৃত্তরা তাকেও রেহাই দেয়নি। কুপিয়েছে। বন্যাও আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে দিন কাটাচ্ছেন। শুধু অভিজিৎ কেন? এ পর্যন্ত এই ক্যাম্পাসেই ড. হুমায়ুন আজাদসহ অনেককে আততায়ীর হাতে প্রাণ দিতে হয়েছে। কিন্তু কোন হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন হয়নি আজও। অভিজিৎ খুন নিয়ে ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে। উদ্বেগ জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, জাতিসংঘ, ইইউ। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশ চাইলে তদন্তে সহায়তা দিতে প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র। যত উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠাই বিশ্বজুড়ে হউক না কেন, অভিজিৎ কি আর ফিরে আসবে? অভিজিতের কন্যা কি তার পিতাকে ফিরে পাবে? বৃদ্ধ পিতা অজয় রায় কি তার সন্তান হারানোর ব্যথা ভুলতে পারবেন? না, না, না। পুলিশের ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন। হত্যাকাণ্ডের সময় খুব কাছেই পুলিশ দাঁড়িয়েছিল। ঘটনা ঘটার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এখন তদন্তের ভার পড়েছে ডিবির হাতে। পুলিশের ভূমিকা নিয়ে অভিজিতের পিতাও প্রশ্ন তুলেছেন। কিন্তু ঘটনার পর চারদিন অতিবাহিত হচ্ছে। পুলিশ এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। পারেনি কোন ক্লু উদ্ধার করতে। শুধু জঙ্গি গোষ্ঠী  আনসারুল্লাহ’র উপর দায় চাপিয়ে যেন তাদের দায় শেষ করতে চাইছেন। এভাবে পুলিশ কতদিন  অন্যের উপর দায় চাপিয়ে পার পাবে।
শামীমুল হক
তাদেরও যে দায় আছে এটা কে তাদের বলে দেবে? কোন কোন ক্ষেত্রেতো পুলিশ অতিরিক্ত দায় কাঁধে তুলে নেয়। লক্ষ্মীপুরের ঘটনাই ধরা যাক। সেখানে যুবদল নেতাকে না পেয়ে তার বৃদ্ধ মাকে ৫দিন থানায় আটকে রাখে পুলিশ। এটা কোন ধরনের মানবতা। এখানে মানবাধিকার কি লঙ্ঘিত হচ্ছে না? হবিগঞ্জের শহরতলির এক গ্রামের এক ছাত্রদল নেতার বাড়িতে রাত ১২টার পর গিয়ে পুলিশ হাজির। কিন্তু পুলিশ তাকে বাড়িতে না পেয়ে তার মোটরসাইকেল নিয়ে চলে যায়। ছাত্রদল নেতার ভাবীকে তীর্যক ভাষায় বকাঝকা করে। শুধু তা নয়, ছাত্রদল নেতার ভাবীর  মোবাইল ফোনও নিয়ে যায়। সারা দেশ যেন এখন পুলিশি রাষ্ট্র হয়ে গেছে। পুলিশ আতঙ্ক সর্বত্র। সাধারণ মানুষও রাস্তায় চলতে গেলে পুলিশ আতঙ্কে আতঙ্কিত হয়ে থাকেন। কখন আবার তাকে ধরে নিয়ে যায়। কখন আবার ঝামেলায় পড়তে হয়। পুলিশ জনগণের সেবক এটা এখন শুধু স্লোগানে সীমাবদ্ধ। এভাবে চলতে থাকলে একদিন পুলিশ নামক এ পেশাকে মানুষ মন থেকে শ্রদ্ধা করবে না। বিষয়টি নিয়ে এখনই না ভাবলে ভবিষ্যৎ খুবই ভয়ঙ্কর হবে। পুলিশ হয়ে ওঠবে জনগণের প্রতিপক্ষ। এর আগেই পুলিশে শুদ্ধি অভিযান চালানো দরকার। জনগণের জানমাল রক্ষার দায়িত্ব তারা কিভাবে পালন করছে প্রত্যক্ষদর্শী যারা তারা ভালভাবেই টের পাচ্ছেন। এ থেকে জাতিকে দ্রুত মুক্তি দিতে হবে। অন্যথায় অভিজিৎরা প্রকাশ্যে খুন হবে, আর পুলিশ চেয়ে চেয়ে দেখবে। এটাই হবে নিয়ম। এটাই হবে নিয়তি। তাহলে প্রশ্ন, পুলিশে কি ভাল মানুষ নেই। অবশ্যই আছে, তা হাতেগোনা। এসব ভাল মনের পুলিশরা কোণঠাসা হয়ে আছে। তারা কোন রকমে দিন গুজরান করছে। সাধারণ মানুষ জানে, প্রকাশ্যে ঘুষ খাওয়া একমাত্র পুলিশ বিভাগেই চলছে। অন্য অনেক প্রতিষ্ঠানে ঘুষ নেয়া দেয়ায় রাখঢাক থাকলেও পুলিশ বিভাগে তা চলে ওপেন। যারা একবার পুলিশের খপ্পরে পড়েছেন তারাই এ ব্যাপারে ভাল জানেন। যাকগে সেসব কথা, অভিজিৎ হত্যাকাণ্ডে পুলিশ অবশ্যই তদন্ত করবে মন প্রাণ দিয়ে। সত্যিকার হত্যাকারীদের খুঁজে বের করে কাঠগড়ায় দাঁড় করাবে। অপরাধীরা শাস্তি পেলে অভিজিতের পরিবার একটু হলেও সান্ত্বনা পাবে। যতদিন না এর বিচার হবে ততদিন অভিজিতের স্বজনদের শূন্য হৃদয় হাহাকার করবে।

শারীরিক শিক্ষাও শিক্ষা by নাজমা আহমেদ

পড়াশোনার চাপ ও নানা কারণে শৈশবকাল যে লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলারও সময়, এটা এই প্রজন্মের সন্তানেরা জানে না। কিছুদিন আগেও বলতে গেলে প্রতিটি বাড়িতে উঠান বা অব্যবহৃত খোলা জায়গা থাকত। বিকেল হতে না হতেই ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা সেখানে খেলাধুলা করত। বড় বড় পাড়া-মহল্লায় মাঠ দেখা যেত। অতীতে মাঠবিহীন বিদ্যালয় কল্পনাই করা যেত না। কিন্তু বর্তমানে অনেক বিদ্যালয়ে মাঠের অস্তিত্বই দেখা যায় না।
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত শারীরিক শিক্ষা বিষয়টি আবশ্যিক বিষয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছে, যা আগে ছিল না। ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম শ্রেণির পাঠ্যসূচির অধ্যায়ের শিরোনাম একই, কিন্তু বিষয়বস্তু, বয়স ও শ্রেণি অনুযায়ী ভিন্ন আঙ্গিকে লেখা বিষয়গুলোও চমৎকার ও আকর্ষণীয়। অধ্যায়গুলো হলো: ক. শরীরচর্চা ও সুস্থ জীবন, খ. স্কাউটিং, গ. স্বাস্থ্যবিজ্ঞান পরিচিতি, ঘ. আমাদের জীবনে বয়ঃসন্ধিকাল, ঙ. জীবনের জন্য খেলাধুলা, চ. আউটডোর খেলাধুলা-ফুটবল, ক্রিকেট, অ্যাথলেটিকস দৌড়, দীর্ঘ লাফ, ইনডোর গেম, দাবা, ক্যারম বোর্ড।
২০১৫ সালে প্রথমবারের মতো এসএসসিতে শারীরিক শিক্ষা পরীক্ষা হতে যাচ্ছে। ১০০ নম্বরের পরীক্ষায় ২৫ নম্বর ব্যবহারিক। ৫ নম্বর ব্যবহারিক খাতার জন্য এবং বাকি ২০ নম্বরের মধ্যে ১২ নম্বর খেলা প্রদর্শন ও ৮ নম্বর শরীরচর্চা প্রদর্শন। লিখিত পরীক্ষায় ৭৫ নম্বর। অন্যান্য উত্তরের সঙ্গে খেলাসম্পর্কিত একটি উত্তর বাধ্যতামূলক। অর্থাৎ সে প্রশ্নের উত্তর সবাইকেই লিখতে হবে। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড শারীরিক শিক্ষা বিষয়টি আবশ্যিক বিষয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে শিক্ষার্থীদের কৌশলে শ্রেণিকক্ষ থেকে মাঠে এবং খাতায় পর্যন্ত নিয়ে গেছে। অন্যান্য বিষয়ের মতো শারীরিক শিক্ষা বিষয়টিও গুরুত্বসহকারে পড়তে হবে। শিক্ষার্থীদের খেলা সম্পর্কে জানতে হবে।
বাংলাদেশের শিক্ষকদের আর্থিক সম্মানী খুবই কম। বাধ্য হয়েই শিক্ষকেরা বাড়তি আয়ের জন্য প্রাইভেট টিউশনি বা কোচিং করান। এ ছাড়া অনেকে জেএসসি ও এসএসসির খাতা দেখেন, কিন্তু শারীরিক শিক্ষার শিক্ষকেরা এসব সুযোগ-সুবিধা থেকে বরাবরই বঞ্চিত ছিলেন। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড শারীরিক শিক্ষা বিষয়টি এসএসসি পর্যন্ত আবশ্যিক বিষয় করার ফলে বিষয়টির গুরুত্ব বহু গুণ বেড়ে গেছে। বাংলাদেশের আনাচকানাচে যেসব দক্ষ খেলোয়াড় লুকায়িত আছে, তাদের অতি সহজেই খুঁজে বের করা যাবে, যারা কিনা ভবিষ্যতে খেলার মাধ্যমে বাংলাদেশেও সুনাম বয়ে আনবে।
লেখক: নাগরিক, ঢাকা।

হতাশায় ৩০ লাখ শিক্ষিত বেকার by নুর মোহাম্মদ

রোববার সকাল ৯টা। ৩৪তম বিসিএসের ভাইভা দেয়ার জন্য অপেক্ষা করছিলেন আসাদুল্লাহ হাবিব। জানালেন, এটাই তার শেষ ভাইভা। এর আগে তিনবার বিসিএসের ভাইভা দিয়েও চাকরি হয়নি। তাই এবার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান থেকে স্নাতকোত্তর করা এ যুবকের চোখে-মুখে হতাশার চাপ। বেকারত্বের অভিশাপ নিয়ে দিনযাপন করা হাবিব বলেন, একটা কর্মসংস্থানই আমার শেষ আশা। শুধু হাবিব নয়, সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা শেষ করে বেকারত্বের বোঝা মাথায় নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন ৩০ লাখের বেশি শিক্ষিত বেকার। জীবনের চরম বাস্তবতা তাদের পিছু ছাড়ছে না। মুহূর্তে তাড়া করছে চাকরি না পাওয়ার হতাশা।
সংশ্লিষ্টরা বলছে, গত এক দশকে উচ্চশিক্ষায় বিনিয়োগ হয়েছে। কিন্তু কর্মসংস্থানে বিনিয়োগ হয়নি। সঙ্গে বাড়েনি উচ্চশিক্ষার গুণগত মানও। এই বিশাল শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের বিনিয়োগের বদলে বৃদ্ধি পেয়েছে বিদেশে টাকা পাচার। ফলে কর্মসংস্থানের অভাবে দিন দিন শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বাড়ছে। উচ্চশিক্ষিতদের মধ্যে একাডেমিক পড়াশোনার চেয়ে চাকরিমুখী পড়াশোনার প্রবণতা বাড়ছে। শাহবাগের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে সরজমিনে দেখা যায়, সকাল ৮টার আগেই গ্রন্থাগারে প্রবেশে বিশাল সারি। এ সারিতে দাঁড়ানো বেশিরভাগ শিক্ষার্থীই চাকরির পড়াশোনা নিয়েই ব্যস্ত।
সর্বশেষ আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও), বিশ্বব্যাংক, উন্নয়ন গবেষণাসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিবেদনে বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষিতের প্রায় অর্ধেকই বেকার এমন তথ্য দেয়া হয়েছে। বিশ্বখ্যাত সাময়িকী ইকোনমিস্ট-এর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের ৪৭ শতাংশ স্নাতকই বেকার বলে জানানো হয়। ঐ প্রতিবেদনে বলা হয়, গত এক দশকে বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষায় বিনিয়োগ বাড়লেও শিক্ষার গুণগত মান বাড়েনি। ফলে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বাড়ছে। প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বেশি উচ্চশিক্ষিত আছেন কেবল আফগানিস্তানে ৬৫ শতাংশ। এর বাইরে ভারতে এ হার ৩৩ শতাংশ, নেপালে ২০ শতাংশের বেশি, পাকিস্তানে ২৮ শতাংশ এবং শ্রীলঙ্কায় ৭ দশমিক ৮ শতাংশ।
আইএলও ‘বিশ্ব কর্মসংস্থান ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি-২০১৫’ শীর্ষক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ২০১৪ সালে বাংলাদেশে বেকারত্ব বৃদ্ধির হার ৪.৩৩ শতাংশ। এ ধারা অব্যাহত থাকলে চলতি বছরের শেষে বা আগামী বছর মোট বেকার দ্বিগুণ হবে বলে শঙ্কা প্রকাশ করে সংস্থাটি। বেকারত্বের এই ধারা অব্যাহত থাকলে ২০১৫ সালে মোট বেকারের সংখ্যা ৬ কোটিতে দাঁড়াবে। সংস্থাটির মতে, বেকারত্ব বাড়ছে এমন ২০টি দেশের তালিকায় বাংলাদেশের স্থান ১২তম। বেকারত্ব বৃদ্ধির হার ও মোট বেকারের সংখ্যার ব্যাপারে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সঙ্গে যোগাযোগ করে সাম্প্রতিক কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে বিবিএসের শ্রমশক্তি জরিপ অনুযায়ী ২০১০ সালে বেকারের সংখ্যা ছিল ২৬ লাখ। সংশ্লিষ্টদের মতে, এ সংখ্যা এখন ৩০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। দেশে মাত্র ২৬ লাখ মানুষ বেকার।
এদিকে উচ্চশিক্ষা বা স্নাতক পাস ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা সম্পর্কে ইউজিসির সর্বশেষ প্রকাশিত বার্ষিক প্রতিবেদন (২০১৩) বলা হয়, ২০১৩ সালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়সহ ৩৭টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৪ লাখ ১২ হাজার ৯০৪ জন শিক্ষার্থী স্নাতক শেষ করেছেন। আর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক শেষ করেছেন ৫৪ হাজার ১৬০ জন শিক্ষার্থী। সেই হিসেবে এক বছরে প্রায় সাড়ে ৪ লাখ  স্নাতক ডিগ্রিধারী বের হচ্ছেন। আর ২০১৩ সালে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন প্রথম শ্রেণীর চাকরিতে নিয়োগ দিয়েছে ১২ হাজারের কম। এক বছরে ব্যাংক, দ্বিতীয়-তৃতীয় শ্রেণীর সরকারি চাকরি ও বেসরকারি চাকরিতে দেড় লাখের বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়নি। ফলে প্রায় অর্ধেকের বেশি শিক্ষার্থীকেই চাকরির জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে। দিন যত যাচ্ছে এই সংখ্যা ততই বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বাংলাদেশ কর্ম কমিশন (পিএসসি) চেয়ারম্যান একরাম আহমেদ বলেন, শিক্ষিত তরুণ বেকার সংখ্যা নিয়ে যে ক’টি পরিসংখ্যান প্রকাশ হয়েছে সবক’টিতে উদ্বেগজনক চিত্র পাওয়া গেছে। শিক্ষিত জনগোষ্ঠীকে জনশক্তিতে পরিণত করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। কিন্তু এ কাজটি রাষ্ট্র যথাযথভাবে পালন করতে অনেকাংশে ব্যর্থ। পাবলিক-প্রাইভেট অংশীদারিত্বের কিছু প্রকল্পের মাধ্যমে শিক্ষিত তরুণদের কর্মসংস্থানের দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। না হয় একটি মহাদুর্ভোগ দেখা যাবে।
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) চেয়ারম্যান ড. একে আজাদ চৌধুরী বলেন, শিক্ষিত বেকার বাড়ার অন্যতম একটি কারণ বৈশ্বিক চাহিদা অনুযায়ী আমাদের প্রজন্মকে শিক্ষা দিতে না পারা। গতানুগতিক শিক্ষার বাইরে যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পাঠ্যসূচি প্রণয়ন করতেও আমরা ব্যর্থ। তিনি বলেন, অর্থনৈতিক গতি প্রকৃতির দিকে লক্ষ্য রেখে আমাদের পাঠ্যসূচি ও শিক্ষা দেয়া জরুরি।
অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলীকুজ্জমান বলেন, বিশ্বের চাহিদা অনুযায়ী আমাদের শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করতে পারছে না। একাডেমিক পড়াশোনার সঙ্গে চাকরির বাজারের বিরাট অসামঞ্জস্যতা থাকায় তারা একাডেমিকের চেয়ে চাকরিমুখী পড়াশোনায় বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। তবে শিক্ষিত বেকারত্ব হ্রাসে গুণগত উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত এবং আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। গতানুগতিক শিক্ষায় চাকরি বাজারের প্রবেশ করতে না পেরে বর্তমানে ব্যবসা প্রশাসন, ব্যবসায় শিক্ষার প্রতি ঝোঁক বাড়ছে। কমছে বিজ্ঞান শিক্ষার শিক্ষার্থী। ইউজিসির সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৩ সালে ব্যবসায় প্রশাসন বা ব্যবসায় শিক্ষায় অধ্যয়নরত আছেন মোট ১ লাখ ৩৪ হাজার ১১২ শিক্ষার্থী। প্রকৌশল ও কারিগরিতে ৯৪ হাজার ৪৮ জন শিক্ষার্থী থাকলেও কলা, বিজ্ঞান, সামাজিকবিজ্ঞান ও কৃষিতে উচ্চশিক্ষা নিচ্ছে এমন সংখ্যা খুবই কম। মূলত চাকরিমুখী পড়াশোনার প্রবণতার কারণে ব্যবসায় প্রশাসনে শিক্ষার্থী বাড়ছে বলে জানা যায়।

সভ্যতা গাছের প্রাণহানিও মেনে নেয় না by রফিকুজ্জামান রুমান

সারাবিশ্ব এগিয়ে চলেছে উন্নয়নের দিকে, অগ্রগতি ও প্রগতির দিকে। উন্নয়ন মানে শুধুমাত্র ‘অবকাঠামো’ নয়; উন্নয়ন মানে মানসিকতার উন্নয়ন, চেতনার উন্নয়ন, চিন্তার উন্নয়ন, সৃজনশীলতার উন্নয়ন, গণতন্ত্রের উন্নয়ন, পরমতসহিষ্ণুতার উন্নয়ন, সর্বোপরি মানবিকতার উন্নয়ন। এমনকি এই আমাদের দেশেই তো রাস্তার ধারের কিংবা পার্কের কোন গাছ কেটে ফেললে সমালোচনা হয়, গণমাধ্যমে রিপোর্ট হয়। সভ্যতা এখন শুধু মানুষের নয়; অহেতুক গাছের প্রাণহানিও মেনে নেয় না। জাহাজের তেলে সুন্দরবনের ক্ষতি দেখতে ছুটে আসে জাতিসংঘও। স্কুলে কোন শিশুকে শিক্ষক প্রহার করলে রাস্তায় মানববন্ধন হয় তার প্রতিবাদ। প্রগতির এমন বিকাশের সময় এ হতেই পারে না যে, পেট্রলবোমায়, গুলিতে সাধারণ মানুষ মারা যাবে অহরহ। অথচ নির্মম শিকার হচ্ছেন মানুষ। কেউ মারা যাচ্ছেন দুর্বৃত্তদের পেট্রলবোমায়, কেউ মারা যাচ্ছেন পুলিশের গুলিতে।
রফিকুজ্জামান রুমান
জনগণই প্রজাতন্ত্রের মালিক। রাজনৈতিক সরকার আজ আসে কাল যায়। কিন্তু রাষ্ট্র এবং তার জনগণ তো ধ্রুব। অস্বীকার করার উপায় নেই, বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি এমন উচ্চ মার্গে পৌঁছায়নি যে সব প্রতিষ্ঠান ‘রাজনীতিমুক্ত’ হয়ে যাবে। সেই আশা করাও হচ্ছে না। কিন্তু একেবারেই রাজনীতি করছেন না সাধারণ মানুষ- তারা কেন হয়রানির শিকার হবেন। আর যারা রাজনীতি করেন তাদেরকে গ্রেপ্তার করতে পারেন। কিন্তু বিনা বিচারে মেরে ফেলার সংস্কৃতি একেবারেই কাম্য নয়। কারণ বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী বিচার পাওয়ার অধিকার প্রতিটি নাগরিকেরই রয়েছে। অতিসম্প্রতি রাজধানীর কাজীপাড়ায় চার যুবকের মৃতদেহ পাওয়ার পরে পুলিশ বলেছে, গণপিটুনিতে তারা মারা গেছে। অথচ প্রায় সবগুলো পত্রিকায় রিপোর্ট হয়েছে, নিহতদের একজনের শরীরে ১৮টি, একজনের ১৬টি, আরেকজনের শরীরে ২১টি গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে। একজনের কথা পুলিশ স্বীকার করেছে যে, সে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মারা গেছে। প্রতিদিনই গ্রেপ্তার হচ্ছে অসংখ্য মানুষ, যাদের একটা বড় অংশই রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নয়। যারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করছে, যাত্রীবাহী বাসে পেট্রলবোমা মারার মতো ক্ষমার অযোগ্য পাপ যারা করছে, তাদেরকে অবশ্যই দমন করতে হবে। কিন্তু একজন সন্ত্রাসীরও বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে। সেই অধিকারকে নষ্ট করার অধিকার রাষ্ট্র কাউকে দেয়নি। রাষ্ট্রের জন্মের এক বছরের মধ্যে সংবিধান প্রণয়ন করে পৃথিবীর বুকে ইতিহাস সৃষ্টি করেছিল বাংলাদেশ। যে সংবিধানকে পৃথিবীর অন্যতম উন্নত সংবিধান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সংবিধানের প্রধানতম দাবি হচ্ছে এই, কারও বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিতে হলে- তা  কেবল আইনের অধীনেই হতে হবে।