Wednesday, January 1, 2025

ইসরায়েলের কারাগার: কেউ বেরোচ্ছেন নির্যাতনের ক্ষত নিয়ে, কেউ ধর্ষণের শিকার বা মানসিক রোগী হয়ে

একসময় সুঠাম দেহের অধিকারী ও শক্তিশালী মানুষ ছিলেন মোয়াজাজ ওবাইয়েত। পরে ইসরায়েলি বাহিনী তাঁকে আটক করে ৯ মাস কারাগারে বন্দী করে রাখে। সদ্য বিদায় নেওয়া বছরের জুলাই মাসে সেখান থেকে মুক্তি পান তিনি। তবে অন্যের সহায়তা ছাড়া ফিলিস্তিনি এ শরীরবিদ হাঁটতে পারতেন না। তিন মাস পর গত অক্টোবরে তাঁকে আবারও ধরে নিয়ে গেছেন ইসরায়েলের সেনারা।

দ্বিতীয়বার আটক হওয়ার আগে পাঁচ সন্তানের বাবা ৩৭ বছর বয়সী মোয়াজাজ শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করান। পশ্চিম তীরের বেথলেহেম সাইকিয়াট্রিক হাসপাতালে পরীক্ষায় তীব্র পিটিএসডি রোগ ধরা পড়ে তাঁর। হাসপাতালটি থেকে রয়টার্সের সংগ্রহ করা চিকিৎসকদের নোট অনুযায়ী, ইসরায়েলের প্রত্যন্ত কেতজিয়ত কারাগারে থাকার সঙ্গে এ রোগের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।

নোটে বলা হয়, মোয়াজাজ ওবাইয়েত ‘শারীরিক ও মানসিকভাবে সহিংস আচরণ ও নির্যাতনের শিকার।’ তাঁর রোগের নানা রকম উপসর্গের একটি ভীষণ উদ্বেগ।

শুধু মোয়াজাজই নন, তাঁর মতো যেসব ফিলিস্তিনিই ইসরায়েলের কারাগার বা বন্দিশালাগুলোতে কাটিয়েছেন, তাঁদের কেউ পরে আর স্বাভাবিক অবস্থায় বের হননি। কারও দেহে রয়েছে নির্যাতনের ক্ষত। কাউকে বন্দী অবস্থায় ধর্ষণ করা হয়েছে। কেউবা বেরিয়েছেন মানসিক রোগী হয়ে।

দীর্ঘ এক বছরের বেশি সময় ধরে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের সঙ্গে লড়াইয়ে লিপ্ত ইসরায়েলি বাহিনী। ইসরায়েলের নারকীয় তাণ্ডবে পুরো গাজা একরকম ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। উপত্যকাটিতে নিহত হয়েছেন অর্ধলাখের কাছাকাছি মানুষ। মানবিক বিপর্যয়কর পরিস্থিতির মধ্যে সেখানে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠায় জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীরা।

অব্যাহত এ প্রচেষ্টার ধারাবাহিকতায় গাজায় যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠা হলে জিম্মিমুক্তির বিনিময়ে ইসরায়েল থেকে ছাড়া পেতে পারেন গাজা যুদ্ধ শুরুর আগে-পরে বন্দী হওয়া হাজারও ফিলিস্তিনি। এমন প্রেক্ষাপটে দেশটির কারাগারগুলোতে এসব বন্দীকে নির্যাতনের শিকার হয়ে থাকা এবং শারীরিক-মানসিক নিষ্ঠুরতার ক্ষত নিয়ে ফিরে আসার সম্ভাবনার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে।

এ প্রসঙ্গে ইসরায়েলের কারাগারে বন্দী ফিলিস্তিনি ও সাবেক বন্দীবিষয়ক ফিলিস্তিনি কমিশনের প্রধান কাদৌরা ফেয়ারস বলেন, ‘ভবিষ্যৎ কোনো চুক্তির আওতায় ইসরায়েলের কারাগার থেকে ফিলিস্তিনি বন্দীরা মুক্তি পেলে তাঁদের অনেককেই শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে দীর্ঘ মেয়াদে চিকিৎসা নেওয়ার প্রয়োজন হবে।’ ওবাইয়েতের ঘটনা সম্পর্কে তিনি অবগত আছেন বলে জানান কাদৌরি।

এ প্রতিবেদন তৈরি করতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজা যুদ্ধ শুরুর পর ইসরায়েলের হাতে আটক হওয়া ফিলিস্তিনিদের মধ্যে চারজনের সঙ্গে কথা বলেছে। চারজনের সবাইকে ‘অবৈধ’ সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ তুলে আটক করা হয়। কয়েক মাস কারাগারে আটকে রেখে কোনো রকম অপরাধে দোষী সাব্যস্ত বা আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করা ছাড়াই মুক্তি দেওয়া হয় তাঁদের।

এসব ফিলিস্তিনির প্রত্যেকেই বন্দী অবস্থায় মারধরের শিকার হওয়া, খাবার ও ঘুম থেকে বঞ্চনা এবং কঠিন পরিস্থিতিতে দীর্ঘসময় থাকতে বাধ্য হওয়ার কথা জানিয়েছেন। রয়টার্স তাঁদের এ বক্তব্য নিরপেক্ষভাবে যাচাই করতে পারেনি।

তবে, মুক্তিপ্রাপ্ত এসব বন্দীর বর্ণনার সঙ্গে ইসরায়েলি কারাগারে বন্দী নির্যাতন নিয়ে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার তদন্তে উঠে আসা তথ্যের মিল রয়েছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় গত আগস্টে এমনই একটি তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে গাজা যুদ্ধ শুরুর পর ইসরায়েলি কারাগারগুলোতে বন্দীদের ওপর ব্যাপক নির্যাতন চালানো, যৌন সহিংসতা ও ধর্ষণ এবং তাঁদের ভয়ানক অমানবিক পরিস্থিতিতে রাখার বর্ণনা দেওয়া হয়েছে।

বন্দী নির্যাতন ও ধর্ষণ নিয়ে প্রকাশিত এ প্রতিবেদনকে ‘গভীর উদ্বেগের’ বলে ওই সময় আখ্যায়িত করেছিল হোয়াইট হাউস।

এদিকে ফিলিস্তিনি বন্দীদের ওপর নির্যাতন চালানোর অভিযোগ নিয়ে রয়টার্স জানতে চাইলে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বলেছে, বন্দী নির্যাতনের অভিযোগের কয়েকটি খতিয়ে দেখছে তারা। কিন্তু কারাগারগুলোতে পরিকল্পিতভাবে বন্দী নির্যাতনের অভিযোগ তারা নাকচ করে দিয়েছে।

এ ছাড়া নির্যাতনের পৃথক পৃথক ঘটনার ওপর মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে ইসরায়েলের সেনাবাহিনী। দেশটির উগ্র-ডান জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গিভিরের কার্যালয় বলেছে, ইসরায়েলি কারাগারগুলোতে ‘সন্ত্রাসীদের’ যথাযথভাবে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী এসব কারাগার পরিচালিত হয়।

তাল স্টেইনার ইসরায়েলি অধিকার গ্রুপ পাবলিক কমিটি অ্যাগেইনস্ট টর্চার ইন ইসরায়েলের (পিসিএটিআই) নির্বাহী পরিচালক। তিনি বলেন, মুক্তি পাওয়া বন্দীরা নির্যাতনের যেসব বর্ণনা দিয়েছেন, সেসব অভিন্ন প্রকৃতির। তাঁদের এ ক্ষত সারা জীবন বয়ে বেড়াতে হতে পারে। এসব ঘটনা তাঁদের পরিবারগুলোকেও প্রায় এলোমেলো করে দিচ্ছে।

স্টেইনার আরও বলেন, ‘৭ অক্টোবরের পর ইসরায়েলের কারাগারাগুলোতে নির্যাতনের ঘটনার রীতিমতো বিস্ফোরণ ঘটেছে। ফিলিস্তিনি সমাজব্যবস্থায় এর বিপর্যয়কর প্রভাব পড়বে এবং ইতিমধ্যে, তা পড়তেও শুরু করেছে।’

ইসরায়েলি কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়া ফিলিস্তিনি বন্দী মোয়াজাজ ওবাইয়েত পশ্চিম তীরের হেবরন শহরের কাছে হাঁটছেন, ৮ জুলাই ২০২৪
ইসরায়েলি কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়া ফিলিস্তিনি বন্দী মোয়াজাজ ওবাইয়েত পশ্চিম তীরের হেবরন শহরের কাছে হাঁটছেন, ৮ জুলাই ২০২৪ ছবি: রয়টার্স

ফিলিস্তিনি বন্দী মোয়াজাজ ওবাইয়েতের সুস্থ অবস্থার এ ছবি পশ্চিম তীরের বেথলেহেম শহরের কাছে একটি শরীরচর্চা কেন্দ্র থেকে তোলা। ছবিটি কবে তোলা জানা যায়নি
ফিলিস্তিনি বন্দী মোয়াজাজ ওবাইয়েতের সুস্থ অবস্থার এ ছবি পশ্চিম তীরের বেথলেহেম শহরের কাছে একটি শরীরচর্চা কেন্দ্র থেকে তোলা। ছবিটি কবে তোলা জানা যায়নি। ছবি: রয়টার্সের সংগৃহীত

পরিবার হারিয়ে অনিশ্চিত সময় পার করছে গাজার শিশুরা

পরিবারের সবাইকে হারিয়ে অনিশ্চিত সময় পার করছে গাজা উপত্যকার শিশুরা। ইসরাইলের বোমার আঘাতে মা, বোন, ভাইসহ পরিবারের সকলকে হারানো এমন এক শিশুর নাম জামাল। উপত্যকাটির আল মাওয়াসি শরণার্থী ক্যাম্পের তাঁবুতে দাদির সাহচর্যই তার একমাত্র সম্বল। মাসরি পরিবারের অন্যান্য শিশুদের সঙ্গে অনিশ্চয়তা এবং ভয়াবহ ঝুঁকির মধ্যে বেঁচে আছে শিশুটি। তার দাদি কাওথার আল মাসরি বলেছেন, ওই পরিবারের প্রতিটি শিশুর জীবনই এখন বেশ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এ খবর দিয়ে বিবিসি বলছে, দেড় মাস আগে গাজার উত্তরাঞ্চলীয় শহর বেইত লাহিয়ায় জামালের বাড়িতে বোমা হামলা চালায় ইসরাইল। এতে তার বাবা-মা এবং দুই চাচাতো ভাই নিহত হন। জামালের চাচাতো ভাইদের বয়স যথাক্রমে দুই এবং নয়। ওই হামলায় আরও নিহত হন জামালের চাচি এবং তার দুই মেয়ে। এর এক বছর আগে ইসরাইলি বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হয়ে কারাবন্দি হয়েছেন জামালের চাচা। হামলার পর যখন মাসরি পরিবারের শিশুগুলোকে উদ্ধার করা হচ্ছিল তখন তারা আহত এবং নিঃসঙ্গ অবস্থায় পড়েছিল। বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ১৪ হাজারের বেশি শিশু হত্যা করেছে ইসরাইল। এছাড়া তেল আবিবের হামলায় আহত হয়েছে হাজার হাজার শিশু। এখন পর্যন্ত পরিবারের সকলকে হারিয়ে নিঃসঙ্গ হয়েছে প্রায় ১৭ হাজার শিশু। এসব শিশুর রক্ষণাবেক্ষণের একমাত্র বাহন ছিল তাদের পরিবার। একা হয়ে পড়া শিশুদের কিছু নিজেদের নাম বলতে পারলেও অনেকেই জানেনা তাদের ঠিকানা। জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ জানিয়েছে তারা মাত্র ৬৩ শিশুকে তাদের পরিবারের কাছে তুলে দিতে পেরেছে। এখনও অনেক শিশু পরিবার ছাড়াই মানবেতর জীবন যাপন করছে। এমন পরিস্থিতি বিবেচনা করে বিশ্ব মানবাধিকার সংস্থাগুলো উদ্বেগ জানালেও হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরাইল। আর এতে প্রতিনিয়ত বাড়ছে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া শিশুর সংখ্যা।
mzamin

বিদায়ী বছরে প্রথম আলোয় প্রকাশিত আলোচিত যত ছবি

বাংলাদেশে ২০২৪ সালজুড়ে ঘটেছে আলোচিত নানা ঘটনা। তবে সবকিছুকে ছাপিয়ে গেছে জুলাই–আগস্টে ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থান। এ অভ্যুত্থানের মুখে টানা প্রায় ১৬ বছরের শাসনের পর প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে দেশ ছাড়েন শেখ হাসিনা। গঠন করা হয় অন্তর্বর্তী সরকার। এ ছাড়া ২০২৪ সালে ভয়াবহ সব অগ্নিকাণ্ড হয়েছে। ঝড়–বন্যা বাড়িয়েছে মানুষের দুর্ভোগ–ক্ষয়ক্ষতি। প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমারে চলমান সংঘাতের প্রভাবও পড়েছে বাংলাদেশে। এসব ঘটনায় বছরজুড়ে প্রথম আলোয় প্রকাশিত বেশ কিছু ছবি আলোচিত হয়েছে। চলুন, একনজরে দেখে নেওয়া যাক সেই ছবিগুলোর কয়েকটি।

১ / ১৭
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে বিক্ষোভরত ছাত্র–জনতার ওপর হামলা চালান আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের সদস্যরা। শহীদুল্লাহ হলের সামনে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ১৫ জুলাই
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে বিক্ষোভরত ছাত্র–জনতার ওপর হামলা চালান আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের সদস্যরা। শহীদুল্লাহ হলের সামনে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ১৫ জুলাই।
ছবি: সাজিদ হোসেন

২ / ১৭
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের আটকের পর প্রিজন ভ্যানে করে নিয়ে যাওয়ার সময় সামনে দাঁড়িয়ে বাধা দেন শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান। হাইকোর্টের সামনে, ঢাকা, ৩১ জুলাই
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের আটকের পর প্রিজন ভ্যানে করে নিয়ে যাওয়ার সময় সামনে দাঁড়িয়ে বাধা দেন শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান। হাইকোর্টের সামনে, ঢাকা, ৩১ জুলাই।
ছবি: শুভ্র কান্তি দাশ
৩ / ১৭
আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলির সামনে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে পড়েন রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ। মডার্ন মোড়, রংপুর, ১৬ জুলাই
আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলির সামনে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে পড়েন রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ। মডার্ন মোড়, রংপুর, ১৬ জুলাই
ছবি: মঈনুল ইসলাম
৪ / ১৭
বিক্ষুব্ধ ছাত্র–জনতার দিকে বন্দুক তাক করে পুলিশের গুলি। শনির আখড়া, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা, ২০ জুলাই
বিক্ষুব্ধ ছাত্র–জনতার দিকে বন্দুক তাক করে পুলিশের গুলি। শনির আখড়া, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা, ২০ জুলাই
ছবি: তানভীর আহাম্মেদ
৫ / ১৭
রাজধানীর উত্তরার আজমপুরে সংঘর্ষের এক পর্যায়ে দুজনকে রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। ঢাকা, ৪ আগস্ট
রাজধানীর উত্তরার আজমপুরে সংঘর্ষের এক পর্যায়ে দুজনকে রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। ঢাকা, ৪ আগস্ট
ছবি: খালেদ সরকার
৬ / ১৭
আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করার পর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় দখল করে বিক্ষুব্ধ জনতা। ঢাকা, ৫ আগস্ট
আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করার পর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় দখল করে বিক্ষুব্ধ জনতা। ঢাকা, ৫ আগস্ট
ছবি: দীপু মালাকার
৭ / ১৭
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর জাতীয় সংসদ ভবন ঘিরে জনতার উল্লাস। ঢাকা, ৫ আগস্ট
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর জাতীয় সংসদ ভবন ঘিরে জনতার উল্লাস। ঢাকা, ৫ আগস্ট
ছবি: কবির হোসেন
৮ / ১৭
আকস্মিক বৃষ্টি ও বন্যার পানিতে ডুবে যায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের অনেক এলাকা। আটকে পড়ে বহু যানবাহন। পানির স্রোত থেকে বাঁচতে দড়ি ধরে মহাসড়ক পার হয়ে নিরাপদ স্থানের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করেন সাধারণ মানুষ। লালপোল এলাকা, ফেনী, ২২ আগস্ট
আকস্মিক বৃষ্টি ও বন্যার পানিতে ডুবে যায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের অনেক এলাকা। আটকে পড়ে বহু যানবাহন। পানির স্রোত থেকে বাঁচতে দড়ি ধরে মহাসড়ক পার হয়ে নিরাপদ স্থানের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করেন সাধারণ মানুষ। লালপোল এলাকা, ফেনী, ২২ আগস্ট
ছবি: জুয়েল শীল
৯ / ১৭
 দুর্বৃত্তদের দেওয়া আগুনে পুড়ে যায় বেনাপোল এক্সপ্রেসের তিনটি বগি। গোপীবাগ, ঢাকা, ৫ জানুয়ারি
দুর্বৃত্তদের দেওয়া আগুনে পুড়ে যায় বেনাপোল এক্সপ্রেসের তিনটি বগি। গোপীবাগ, ঢাকা, ৫ জানুয়ারি
ছবি: দীপু মালাকার
১০ / ১৭
টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রবেশ করে ঢলের পানি। নয়াখেল এলাকা, সিলেট, ৩১ মে
টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রবেশ করে ঢলের পানি। নয়াখেল এলাকা, সিলেট, ৩১ মে
ছবি: আনিস মাহমুদ
১১ / ১৭
 রাজধানীর বেইলি রোডে বহুতল ভবনে আগুন লাগার পর সেখানে আটকে পড়া লোকজনকে উদ্ধারে নামেন ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। ঢাকা, ১ মার্চ
রাজধানীর বেইলি রোডে বহুতল ভবনে আগুন লাগার পর সেখানে আটকে পড়া লোকজনকে উদ্ধারে নামেন ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। ঢাকা, ১ মার্চ
ছবি: শুভ্র কান্তি দাশ
১২ / ১৭
সদ্য ডিম ফুটে বের হওয়া ছানাদের খাবার খাওয়াচ্ছে মা ও বাবা দুধরাজ পাখি। দুধরাজ মূলত পুরুষ পাখিটি। স্ত্রী পাখিকে ডাকা হয় দুধরানি নামে। খয়েরসুতি এলাকা, সদর উপজেলা, পাবনা, ১৮ মে
সদ্য ডিম ফুটে বের হওয়া ছানাদের খাবার খাওয়াচ্ছে মা ও বাবা দুধরাজ পাখি। দুধরাজ মূলত পুরুষ পাখিটি। স্ত্রী পাখিকে ডাকা হয় দুধরানি নামে। খয়েরসুতি এলাকা, সদর উপজেলা, পাবনা, ১৮ মে
ছবি: হাসান মাহমুদ
১৩ / ১৭
মিয়ানমারের অভ্যন্তরে সংঘাতের জেরে দেশটি থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন অনেকে। তাঁদের মধ্যে ছিলেন মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্য, সেনাসদস্য ও সরকারি কর্মকর্তারা। থাইংখালী বাজার, উখিয়া, কক্সবাজার, ৭ ফেব্রুয়ারি
মিয়ানমারের অভ্যন্তরে সংঘাতের জেরে দেশটি থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন অনেকে। তাঁদের মধ্যে ছিলেন মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্য, সেনাসদস্য ও সরকারি কর্মকর্তারা। থাইংখালী বাজার, উখিয়া, কক্সবাজার, ৭ ফেব্রুয়ারি
ছবি: জুয়েল শীল
১৪ / ১৭
গুমের শিকার বাবা সোহেলের ছবি হাতে মানববন্ধনে শিশু সাফা। এ সময় কথা বলতে গিয়ে তার দুই চোখ বেয়ে ঝরে পড়ে অশ্রু। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, ঢাকা, ৩১ আগস্ট
গুমের শিকার বাবা সোহেলের ছবি হাতে মানববন্ধনে শিশু সাফা। এ সময় কথা বলতে গিয়ে তার দুই চোখ বেয়ে ঝরে পড়ে অশ্রু। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, ঢাকা, ৩১ আগস্ট
ছবি: তানভীর আহাম্মেদ
১৫ / ১৭
বাংলাদেশে শুধু পঞ্চগড় থেকেই কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার সুযোগ হয়। অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে নভেম্বর—প্রতিবছর এ সময়ে দেখা যায় কাঞ্চনজঙ্ঘার রূপ। সবচেয়ে ভালো দেখা যায় তেঁতুলিয়া উপজেলা থেকে। তবে কুয়াশার কারণে এ বছর খুব স্বল্প পরিসরে দেখা দিয়েছে কাঞ্চনজঙ্ঘা। পঞ্চগড়, ১১ অক্টোবর
বাংলাদেশে শুধু পঞ্চগড় থেকেই কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার সুযোগ হয়। অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে নভেম্বর—প্রতিবছর এ সময়ে দেখা যায় কাঞ্চনজঙ্ঘার রূপ। সবচেয়ে ভালো দেখা যায় তেঁতুলিয়া উপজেলা থেকে। তবে কুয়াশার কারণে এ বছর খুব স্বল্প পরিসরে দেখা দিয়েছে কাঞ্চনজঙ্ঘা। পঞ্চগড়, ১১ অক্টোবর
ছবি: হাসান মাহমুদ
১৬ / ১৭
ভর্তুকি মূল্যে টিসিবির পণ্য কিনতে সরবরাহকারীর কাছ থেকে আগে টোকেন সংগ্রহ করেন সীমিত আয়ের মানুষেরা। যাঁরা টোকেন পাবেন, তাঁরাই মূলত পণ্য কিনতে পারবেন। পণ্যের তুলনায় মানুষ বেশি হওয়ায় এমন ব্যবস্থা। মিরপুর ৬ নম্বর, ঢাকা, ৭ নভেম্বর
ভর্তুকি মূল্যে টিসিবির পণ্য কিনতে সরবরাহকারীর কাছ থেকে আগে টোকেন সংগ্রহ করেন সীমিত আয়ের মানুষেরা। যাঁরা টোকেন পাবেন, তাঁরাই মূলত পণ্য কিনতে পারবেন। পণ্যের তুলনায় মানুষ বেশি হওয়ায় এমন ব্যবস্থা। মিরপুর ৬ নম্বর, ঢাকা, ৭ নভেম্বর
ছবি: তানভীর আহাম্মেদ
১৭ / ১৭
রাজধানীর সেগুনবাগিচায় সচিবালয়ের ৭ নম্বর ভবনে আগুন লাগে। ২৭ নভেম্বর, ঢাকা
রাজধানীর সেগুনবাগিচায় সচিবালয়ের ৭ নম্বর ভবনে আগুন লাগে। ২৭ নভেম্বর, ঢাকা।
ছবি: মো. আবু তাহের

খালি পেটে লবঙ্গ খেলে এত উপকার, জানতেন? by কে.এম লতিফুল হক

মসলা হিসেবে অনেক আগে থেকেই জনপ্রিয় লবঙ্গ। বিশেষ করে মাংসে ব্যবহৃত হয় বেশি। খিচুড়ি, পোলাও থেকে শুরু করে মসলা চায়েও আজকাল লবঙ্গ খাওয়ার চল আছে। কোথাও আবার আয়ুর্বেদিক ওষুধ তৈরিতে ব্যবহৃত হয় লবঙ্গ তেল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে এক–দুটি লবঙ্গ চিবালে অনেক উপকার। হৃদ্‌রোগ, ক্যানসারসহ জটিল সব রোগের বিরুদ্ধে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়িয়ে দেয় লবঙ্গ। এবার জেনে নেওয়া যাক, খালি পেটে লবঙ্গ খাওয়ার সুনির্দিষ্ট কিছু উপকার।

১. কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে

লবঙ্গ হজমে সহায়তা করে। একইভাবে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে অ্যাসিডিটি কমাতেও সাহায্য করে। লবঙ্গ হজম শক্তি বাড়ায়। পাচক রসের নিঃসরণ উন্নত করতে ও পেট ফাঁপা বা ফোলা কমাতে সাহায্য করে। লবঙ্গে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা অন্ত্রে অবাঞ্ছিত ব্যাকটেরিয়া মেরে ফেলতে সাহায্য করে।

২. মাথাব্যথা কমায়

ইউজেনল হলো লবঙ্গের বেদনানাশক বৈশিষ্ট্য। নিয়মিত খালি পেটে লবঙ্গ খেলে মাইগ্রেন ও মাথাব্যথা কমে।

৩. হাড় ভালো রাখে

লবঙ্গে ম্যাঙ্গানিজ ও ফ্ল্যাভোনয়েডের মতো উপাদান থাকে, যা হাড়ের ঘনত্ব বজায় রাখতে সাহায্য করে। এই উপাদানগুলো হাড়ের টিস্যু মেরামত করতে সাহায্য করে। একইভাবে জয়েন্টের ব্যথা কমায়। পাশাপাশি বয়স্ক ব্যক্তিদের পেশির ক্ষয় রোধ করতে সাহায্য করে।

৪. শীতে দাওয়াই

শীতজনিত সর্দি, ব্রঙ্কাইটিস, সাইনাস, ভাইরাল ইনফেকশন সবই কমাতে পারে লবঙ্গ। লবঙ্গের অ্যান্টিভাইরাল ও রক্ত পরিশোধন বৈশিষ্ট্য রক্তের বিষ কমায়। তাই শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

৫. যকৃতের জন্য উপকারী

শুকনা লবঙ্গের কুঁড়ি লিভারে প্রতিরক্ষামূলক প্রভাব ফেলে। ভারতীয় পুষ্টিবিদ আরোশি গার্গের মতে, এটি নতুন কোষের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। লিভারকে ডিটক্স করে।

৬. রক্তে সুগার নিয়ন্ত্রণ করে

রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণেও ভূমিকা রাখে লবঙ্গ। ইনসুলিন নিঃসরণ উন্নত করে। বিটা কোষের কার্যকারিতা বাড়ায়।

৭. বমি বমি ভাব কমায়

যাঁরা মর্নিং সিকনেসে ভুগছেন, তাঁরা খালি পেটে লবঙ্গ চিবিয়ে খেলে উপকার পেতে পারেন। পুষ্টিবিদেরা জানান, যখন এটি মুখের লালার সঙ্গে মিশে যায়, তখন তা নির্দিষ্ট কিছু এনজাইম তৈরি করে, যা বমি বমি ভাব কমাতে সাহায্য করে।

৮. দাঁতের ব্যথা উপশমকারী

দাঁতের ব্যথা উপশমকারী হিসেবে যুগ যুগ ধরে লবঙ্গ ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এ জন্যই আজকাল অনেক টুথপেস্টের বিজ্ঞাপনে বলা হয় যে সেই টুথপেস্টে লবঙ্গও রয়েছে। ব্যথা উপশমকারী বৈশিষ্ট্যগুলোর পাশাপাশি এটি মুখ ও মাড়ির প্রদাহ কমায়। নিশ্বাসের দুর্গন্ধের সঙ্গে লড়াই করতে সহায়তা করে।

ঘুম থেকে ওঠার পর শ্বাস সতেজ করতে সাহায্য করে লবঙ্গ। এতে থাকা অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্যগুলো সারা দিন মুখের ভেতরের অংশ জীবাণুমুক্ত রাখতেও সহায়ক।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস 

খালি পেটে এক–দুটি লবঙ্গ চিবালে অনেক উপকার
খালি পেটে এক–দুটি লবঙ্গ চিবালে অনেক উপকার। ছবি: পেক্সেলস

ফিলিস্তিনের গাজায় তীব্র শীতে মরছে শিশুরা

তীব্র শীতে ফিলিস্তিনের গাজায় গত সপ্তাহে অন্তত পাঁচ শিশু মারা গেছে। সেখানকার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে। ১৫ বাস ধরে গাজায় হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল। প্রতিদিন সেখানে ইসরায়েলি হামলায় লোকজন প্রাণ হারাচ্ছেন। এর মধ্যে তীব্র শীত জেঁকে বসায় সেখানকার লোকজনের দুর্দশা আরও বাড়ছে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, গত রোববার নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে মারা যায় তিন সপ্তাহের কম বয়সী শিশু জুম্মা আল–বাতরান। মধ্য গাজার আল–আকসা শহীদ হাসপাতালে জুম্মা ও তার যমজ ভাই আলীকে জরুরিভাবে ভর্তি করা হয়। সোমবার মারা যায় আলী। ফিলিস্তিনের সংবাদ সংস্থা ওয়াফা এ তথ্য জানায়।

যমজ ওই দুই শিশুর জন্ম হয়েছিল নির্দিষ্ট সময়ের আগেই। গাজার বর্তমান পরিস্থিতিতে আবহাওয়াসংক্রান্ত রোগে সংক্রমিত হয়ে নিহতের তালিকায় এ দুটি শিশুর নামও যুক্ত হয়েছে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গাজায় মানবিক পরিস্থিতি আরও বিপর্যস্ত অবস্থায় পৌঁছে গেছে। সেখানে ইসরায়েলি বাহিনীর স্থল অভিযান ও বোমা হামলায় ৯০ শতাংশ মানুষকে অন্তত একবার বাস্তুচ্যুত হতে হয়েছে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজায় হামলা শুরু করে ইসরায়েলি বাহিনী। এর পর থেকে সেখানে নির্বিচারে হামলা চালিয়ে হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছে তারা। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, ইসরায়েলি বাহিনী হামাস যোদ্ধা ও বেসামরিক লোকজনের মধ্যে কোনো বাছবিচার করে না। গতকাল পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় ৪৫ হাজার ৫৪১ জন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া আহতের সংখ্যা ১ লাখ ৮ হাজার ৩৩৮ জনে পৌঁছেছে।

এর মধ্যে অন্তত ১৭ হাজার ৪৯২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

ইসরায়েলি এই হামলার মধ্যেই বিপর্যয়কর পরিস্থিতিতে জন্ম নেওয়া শিশুদের এখন তীব্র শীতের সঙ্গে লড়তে হচ্ছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, গাজার উপকূলের কাছে ঢালু তাঁবুর আশ্রয়শিবিরে হাজারো লোকজনকে আশ্রয় নিতে হয়েছে। সেখানে তাদের বৃষ্টি ও শীত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য যথেষ্ট কাপড় ও তাঁবু নেই। অনেকের কাছে তাঁবুও বিলাসপণ্যের মতো। অনেকের তাঁবু ছেঁড়াফাটা। তা দিয়ে ঠান্ডা আটকানো সম্ভব নয়।

গাজা উপত্যকায় বিদ্যুৎ নেই বললেই চলে। সেখানে জেনারেটর চালানোর মতো জ্বালানিও নেই। কম্বল, উষ্ণ কাপড়ের তীব্র সংকট। এমনকি আগুন জ্বালানোর কাঠও নেই।

গাজায় আশ্রয়হীনদের জন্য তৈরি একটি শিবির সম্প্রতি পরিদর্শন করেন জাতিসংঘের শিশু তহবিল ইউনিসেফের মুখপাত্র রোজালিয়া বোলেন। তিনি বলেন, ‘গাজার শিশুরা শীতে অবর্ণনীয় কষ্ট পাচ্ছে। তারা অসুস্থ ও আতঙ্কিত।’ রোজালিয়া বলেন, শিশুদের এখনো অনেকেই গরমের কাপড় পরে রয়েছে। সেখানে রান্নার গ্যাস নেই। তারা ময়লা আবর্জনা ও প্লাস্টিক জড়ো করে পোড়াচ্ছে।

গত শুক্রবার গাজায় তাপমাত্রা কমে যাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়। গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষার জরুরি দপ্তর থেকে আশ্রয়শিবিরে থাকা লোকজনকে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে। তাদের গরম পানি পান করার পাশাপাশি শরীর গরম রাখতে উষ্ণ কাপড় পরতে বলা হয়েছে। মা–বাবাকে শিশুদের শরীরের তাপমাত্রা খেয়াল করতে বলা হয়েছে। তাঁবুর নিচে কার্ডবোর্ড দিয়ে তা গরম রাখতে বলা হয়েছে।

তবে আশঙ্কার বিষয় হচ্ছে, সামনে বৃষ্টি শুরু হচ্ছে ও তাপমাত্রা আরও কমে গেলে এসব পদক্ষেপ তাদের কিছুতেই রক্ষা করতে পারবে না।

এদিকে ফিলিস্তিনে গত কয়েক দিনে হামলা জোরদার করেছে ইসরায়েল। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষ থেকে ইসরায়েলকে হাসপাতালে হামলা বন্ধে আহ্বান জানানো হয়েছে। গত সপ্তাহে ইসরায়েলের সেনারা দুটি হাসপাতালে হামলা করেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরিচালক তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুস বলেছেন, গাজার হাসপাতালগুলো আবার যুদ্ধক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। স্বাস্থ্যসেবা হুমকির মুখে। গত রোববার গাজা সিটির আল ওয়াফা হাসপাতালে হামলা চালিয়ে সাতজনকে হত্যা করে ইসরায়েলি বাহিনী। এ ছাড়া কামাল আদওয়ান হাসপাতাল থেকে ২৪০ জনকে ধরে নিয়ে গেছে।

তীব্র শীতে তাঁবুতে শিশুসন্তানদের নিয়ে এক ফিলিস্তিনি মা। গত রোববার গাজার খান ইউনিসে
তীব্র শীতে তাঁবুতে শিশুসন্তানদের নিয়ে এক ফিলিস্তিনি মা। গত রোববার গাজার খান ইউনিসে ছবি: এএফপি

দক্ষিণ এশিয়ায় স্বৈরতন্ত্রের উত্থান নিয়ে উদ্বেগ -টাইমস অব ইন্ডিয়ার রিপোর্ট

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। তাদের এই সিদ্ধান্তে বাংলাদেশের ক্ষমতার গতিতে এক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনে। এতে ইঙ্গিত মেলে যে, শেখ হাসিনার সরকারের প্রতি সমর্থনে ঘাটতি আছে। ভয়াবহ চাপ ও ব্যাপক অস্থিরতার মুখে শেখ হাসিনা ৫ই আগস্ট পালিয়ে ভারতে চলে যান। ২০২৪ সালে বিশ্বে ঘটে যাওয়া নির্বাচন ও তার পরবর্তী বিভিন্ন পরিবর্তন নিয়ে এক রিপোর্টে এসব কথা লিখেছে টাইমস অব ইন্ডিয়া। এতে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৭ই জানুয়ারি পঞ্চম দফায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন শেখ হাসিনা। অভিযোগ আছে, এই নির্বাচনে ব্যাপক জালিয়াতি ও সহিংসতা হয়েছে। জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে ২২৪ আসনে জয় পায় আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এমন অনেক প্রার্থী স্বতন্ত্র নির্বাচন করেন। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৬২ আসনে জয় পান। প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি এই নির্বাচন বর্জন করে। তাদের দাবি, নির্বাচনের পরিবেশ অবাধ ও সুষ্ঠু ভোটের অনুকূলে নয়। তাদের ভোট বর্জনের ফলে ভোটার উপস্থিতির ওপর বড় রকম প্রভাব ফেলে। বলা হয়, শতকরা মাত্র ৪১.৮ ভাগ ভোট পড়েছে। এটা বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম ভোট পড়ার অন্যতম। এতে শেখ হাসিনার প্রতি জনগণের অসন্তোষের প্রতিফলন ফুটে উঠেছে। শেখ হাসিনার জয়ের পর তার শাসনের বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রতিবাদ বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভকারীরা সুনির্দিষ্ট নীতিতে জবাব চাইতে থাকেন। কিন্তু দ্রুততার সঙ্গে তা দেশ জুড়ে শেখ হাসিনার সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে পরিণত হয়। সরকারের রাজনৈতিক নিষ্পেষণ ও অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে লাখো মানুষ র‌্যালিতে যোগ দেন। বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা রক্ষাকারীরা সহিংস দমনপীড়ন চালায়। এর ফলে হতাহতের ঘটনা ঘটে। কমপক্ষে ১৫০০ মানুষ নিহত হন। অন্য সময়গুলোতে সেনাবাহিনী যেমন পরিস্থিতিতে হস্তক্ষেপ করে ক্ষমতাসীন দলকে সমর্থন দেয়, এবার তা হয়নি। তারা প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করতে চায়নি।

পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়ে শেখ হাসিনা পালিয়ে ভারতে চলে যান। দীর্ঘ সময় তার ক্ষমতার নাটকীয় সমাপ্তি ঘটে এই বিদায়ে। সৃষ্টি হয় দেশে ক্ষমতার শূন্যতা। জোর দাবি ওঠে জবাবদিহিতা ও সংস্কারের। বাংলাদেশের গণতন্ত্র যেসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে তা জোর দিয়ে ফুটিয়ে তুলেছে ওই নির্বাচন। একইসঙ্গে দক্ষিণ এশিয়ায় স্বৈরতন্ত্রের উত্থানের বিষয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।  শেখ হাসিনার পতনের পর শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় এসেছে। নেতৃত্বের এই পরিবর্তন দক্ষিণ এশিয়ায়, বিশেষ করে বাংলাদেশি রাজনীতিতে ভারতের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিতে পারে। দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক গতিবিধি প্রভাবিত হতে পারে।

mzamin

সম্পদের নিরিখে ভারতের দরিদ্রতম মুখ্যমন্ত্রী মমতা

ভারতের ৩১ জন মুখ্যমন্ত্রীর মধ্যে ২৯ জনেরই সম্পদ কোটি রুপির উপরে। সবচেয়ে দরিদ্রতম মুখ্যমন্ত্রী হলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার সম্পদের পরিমাণ মাত্র ১৫ লাখ রুপি। জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লার সম্পদের পরিমাণ কোটি রুপির নিচে। এসোসিয়েশন ফর ডেমোক্র্যাটিক রিফর্মসের পক্ষ থেকে সোমবার দেশটির মুখ্যমন্ত্রীদের সম্পদের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, দেশের সবচেয়ে ধনী মুখ্যমন্ত্রী হলেন অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু। তার মোট সম্পদের পরিমাণ ৯৩১ কোটি রুপি। ঋণের পরিমাণ ১০ কোটি রুপি।  রিপোর্ট অনুযায়ী, ধনীদের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন অরুণাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী পেমা খাণ্ডু। তার মোট সম্পত্তির পরিমাণ ৩৩২ কোটি রুপি। ঋণের পরিমাণ ১৮০ কোটি। আর তালিকায় তৃতীয় স্থানে থাকা কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়ার সম্পত্তির পরিমাণ ৫১ কোটি রুপি। তার ঋণের পরিমাণ ২৩ কোটি রুপি। এদিকে দেশের শীর্ষ ১০ ধনীতম মুখ্যমন্ত্রীদের মধ্যে অন্যরা  হলেন, নাগাল্যান্ডের নেয়িফু রিও (৪৬ কোটি), মধ্যপ্রদেশের মোহন যাদব (৪২ কোটি), পুদুচেরির এন রঙ্গস্বামী (৩৮ কোটি), তেলঙ্গানার রেভন্থ রেড্ডি (৩০ কোটি), ঝাড়খণ্ডের হেমন্ত সোরেন (২৫ কোটি), আসামের হিমন্ত বিশ্ব শর্মা (১৭ কোটি),  মেঘালয়ের কনরাড সাংমা (১৪ কোটি),  ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহার মোট সম্পত্তির পরিমাণ ১৩ কোটি রুপি। 

এদিকে, গেরুয়া বসনধারী উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথও কোটিপতি। তার সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ৫৪ লাখ রুপি।

ডেমোক্র্যাটিক রিফর্মসের রিপোর্ট অনুযায়ী, দেশের সব রাজ্য এবং কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলের মুখ্যমন্ত্রীদের গড় সম্পত্তি পরিমাণ ৫২ কোটি ৫৯ লাখ রুপি। দেশটির ৩১ জন মুখ্যমন্ত্রীর সম্মিলিত সম্পত্তির পরিমাণ ১ হাজার ৬৩০ কোটি রুপি।

রিপোর্ট অনুযায়ী, দেশটির মুখ্যমন্ত্রীদের মাথাপিছু আয়ের গড় ১৩ লাখ ৬৪ হাজার ৩১০ রুপি। দেশটির গড় মাথাপিছু আয়ের তুলনায় যা ৭.৩ গুণ বেশি।  
মমতা ছাড়া কোটির গণ্ডি ছাড়াননি একমাত্র ওমর আবদুল্লাহ। এদিকে নিচ থেকে তৃতীয় স্থানে রয়েছেন কেরালার বাম মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন। তার মোট সম্পত্তির পরিমাণ ১ কোটি ১৮ লাখ রুপি। অন্য মুখ্যমন্ত্রীদের সম্পদের পরিমাণ এক থেকে দুই কোটি রুপির মধ্যে।

mzamin