Monday, January 28, 2019

পরমাণু অস্ত্র উন্নত করতে ৫০ হাজার কোটি ডলার খরচ করবে আমেরিকা

মার্কিন সরকার পরমাণু অস্ত্র উন্নত করা এবং তা সংরক্ষণের জন্য আরো ৫০ হাজার কোটি ডলার খরচের পরিকল্পনা নিয়েছে। আগামী এক দশকে পরমাণু অস্ত্রের পেছনে এ অর্থ খরচ করা হবে।
২০১৭ সালে প্রকাশিত রিপোর্টে এ খাতে খরচের যে হিসাব দেয়া হয়েছিল তার চেয়ে বয় বাড়ছে শতকরা ২৩ ভাগ। সে সময় বলা হয়েছিল এক দশকে পরমাণু অস্ত্রের উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ৪০ হাজার কোটি ডলার খরচ হবে কিন্তু এখন তা বাড়িয়ে ৪৯ হাজার ৪০০ কোটি ডলারে নেয়া হয়েছে। মজার বিষয় হচ্ছে- ২০১৭ সালে খরচের যে সম্ভাব্য হিসাব দেয়া হয়েছিল ২০১৫ সালের চেয়ে তা শতকরা ১৫ ভাগ বেশি ছিল। অর্থাৎ সব বারই পরমাণু অস্ত্রের উন্নয়নে সম্ভাব্য খরচের পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে।

আমেরিকার সামরিক বিষয়ক ম্যাগাজিন ডিফেন্স নিউজ এ খবর দিয়েছে। এ রিপোর্টে বলা হয়েছে- পরমাণু অস্ত্র খাতে সম্ভাব্য যে ব্যয়ের কথা বলা হয়েছে তা আমেরিকার এক দশকের মোট সামরিক বাজেটের শতকরা মাত্র ছয় ভাগ।
আমেরিকা যেসব পরমাণু অস্ত্র উন্নত করতে চায় তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- সাবমেরিন থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, যুদ্ধজাহাজ থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য নতুন ধরনের ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং প্লুটোনিয়াম পিট উৎপাদন বাড়ানো। পরমাণু অস্ত্র উন্নত করার কর্মসূচিতে বি-৮৩ বোমার মেয়াদ আগের চেয়েও দীর্ঘ করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।

ভক্তদের কাছে আপত্তিকর প্রস্তাব যুবতী জেন পার্কের

নিজের টিম জিতেছে। এই আনন্দ ধরে রাখতে পারছিলেন না ইউরো মিলিয়ন পুরস্কার বিজয়ী জেন পার্ক। তাই তিনি ভক্তদের কাছে আপত্তিকর প্রস্তাব পাঠিয়েছেন। রোববারের ফুটবল ম্যাচে হাইবারনিয়ান এফসি ৩-১ গোলে পরাজিত করে সেইন্ট মিরেনকে। ওই ম্যাচে হাইবারনিয়ানের পক্ষে দ্বিতীয় গোলটি করেন ড্যারেন ম্যাগ্রেগর। অমনি আনন্দে লাফিয়ে ওঠেন ২৩ বসন্তের যুবতী জেন পার্ক। টুইটারে তিনি তার ২৫০০০ ভক্ত বা অনুসারীর কাছে দুষ্টুমিতে ভরা এক প্রস্তাব দেন। যাকে বৃটিশ মিডিয়া ‘নটি প্রপোজাল’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।
ড্যারেন ম্যাগেগর গোল করার পর পরই জেন পার্ক টুইটারে ইংরেজিতে লিখে বসেন ‘রাইট হু ইজ ওয়ান্টিং পাম্পড’। তার এই বাক্যটির মধ্যে অশালীনতা খুঁজে পেয়েছেন টুইটার ব্যবহারকারীরা। আর একটি ট্যাবলয়েড পত্রিকা তো এ বাক্যটিকে ‘এক্স-রেটেড’ বলে অবিহিত করেছে। জেন পার্ক ওই প্রস্তাব দেয়ার পরই চারদিকে আলোচনা শুরু হয়ে যায়। এর পক্ষে বিপক্ষে কথা চলতে থাকে।
জেন পার্ক বৃটেনের খুবই জনপ্রিয় ‘লাভ আইল্যান্ড’ সিরিজের পরবর্তী পর্বে যোগ দেবেন বলে শোনা যাচ্ছে। ওই সিরিজটিতে যৌনতার একটি সুস্পষ্ট প্রভাব রয়েছে। শোনা গেছে, ওই শোতে তিনি থাকার বিষয়ে কথা বলেছেন আইটিভি-২ এর প্রযোজকের সঙ্গে।

কৌতূহল থেকে পর্নো আসক্তি by মোহাম্মদ ওমর ফারুক

শুরুটা কৌতূহল থেকে। ধীরে ধীরে তা পরিণত হয় আসক্তিতে। একসঙ্গে বন্ধু-বান্ধব মিলে বা বাসায় নিজের ঘরে নিরিবিলি পর্নো দেখছে কিশোর যুবকরা। প্রত্যেকের রয়েছে স্মার্টফোন-কম্পিউটার-ল্যাপটপ। স্বল্প খরচে ইন্টারনেটও পাচ্ছে তারা। হাজার হাজার পর্নোসাইটে প্রতি মিনিটে আপলোড হচ্ছে পর্নোগ্রাফি। শুধু ভিডিও পর্নোগ্রাফি নয়, অডিও পর্নোগ্রাফিও বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে তাদের কাছে। কানে হেডফোন দিয়ে শুনতে পারছে রগরগে বয়ান।
এ অবস্থায় কিশোর ও যুবকরা বেড়ে উঠছে বিকৃত মানসিকতা নিয়ে। যার প্রভাব পড়ছে সমাজে। বাড়ছে ইভটিজিং ও ধর্ষণের মতো ঘটনা। এ নিয়ে কথা হয় আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের সপ্তম এবং অষ্টম শ্রেণির কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে। তাদের মধ্যে বেশির ভাগই জানান,  বন্ধুদের কাছ থেকেই প্রথম পর্নো দেখার অভিজ্ঞতা হয় তাদের। এর মধ্যে কেউ কেউ জানান, স্মার্টফোন ব্যবহার করার সময় পর্নোসাইটের বিভিন্ন বিজ্ঞাপন দেখে তারা জীবনে প্রথম পর্নো দেখে। আবার কেউ ইউটিউবে বিদেশি ছবির বিভিন্ন দৃশ্য দেখে শুরু হয় পর্নোসাইটে ঢুঁ-মারার  আকাঙ্ক্ষা। 
সমাজবিজ্ঞানীরা মনে করছেন, বাংলাদেশে নানা কারণে যৌনতা সম্পর্কিত ব্যাপারগুলোকে ট্যাবু হিসেবে দেখা হয়।  যৌনতা যে খুব স্বাভাবিক ব্যাপার তা বাচ্চাদের শেখানো হয় না। যেহেতু তারা সঠিক যৌন শিক্ষা পায় না ও যৌনতাকে নিষিদ্ধ হিসেবে জানে তাই তারা নিষিদ্ধ পর্নোর দিকে ঝুঁকে পড়ে। আবার এসব শিশু যখন একবার আসক্তিতে পরিণত হচ্ছে তারা আর এ জায়গা থেকে বের হতে পারছে না। ফলে বিকৃত যৌন শিক্ষার মধ্য দিয়ে বেড়ে ওঠা এসব শিক্ষার্থীর পরিবার ও রাষ্ট্রের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। এক্ষেত্রে অভিভাবকদের সচেতনতার পাশাপাশি সরকারকে কঠোর হওয়ার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ও সমাজ এবং অপরাধ বিশ্লেষক তৌহিদুল হক বলেন, আগেও কিশোর ও যুবকদের পর্নো ছবির প্রতি আসক্ত ছিল, এখনো আছে। তবে আগে ছিল খুব ব্যয়বহুল আর এখন আগের তুলনায় অনেক সহজলভ্য হয়েছে। যার ফলে আসক্তির সংখ্যাটা দিনে দিনে বাড়ছে। তিনি বলেন, আসক্তদের কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায় পরিবার সদস্যরা এ ব্যাপারে জানতে পারলেও লোকলজ্জায় তাদের সন্তানদের কাউন্সেলিংয়ে দেয় না, সেটা একটি বড় সমস্যা। পর্নো আসক্ত বোঝার উপায় কি এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আসক্ত কিশোর বা যুবক একা থাকার চেষ্টা করবে। কাউকে দেখলে মোবাইল লুকিয়ে ফেলবে। স্বাস্থ্যহানি হবে। তার বিপরীত জেন্ডারের প্রতি সহনশীল আচরণ থেকে বিরত থাকবে। এসব বিষয়গুলো যদি পরিবারের কোনো কনিষ্ঠ সদস্যদের মধ্যে দেখা যায় তাহলে বুঝতে হবে সে পর্নো আসক্তিতে ভুগছে।
মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের এক গবেষণায় দেখা গেছে,পর্নোগ্রাফি দেখার কারণে কিশোররা পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারে না। যৌন সহিংসতার প্রতি আকৃষ্ট হয়, অশ্লীলতার চর্চা বেড়ে যায়। সামাজিক মূল্যবোধ নষ্ট হয়ে যায়, মনে ধর্ষণের ইচ্ছা জাগিয়ে তোলে। তাদের গবেষণায় দেখা যায়, রাজধানীতে স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের প্রায় ৭৭ ভাগ কোনো না কোনোভাবে পর্নোগ্রাফি দেখছে। ২০০৯ সালে শিশুদের পর্নো আগ্রহ নিয়ে এই ফাউন্ডেশনটি সর্বশেষ গবেষণা চালালেও এরপর আর এই বিষয়ে গ্রহণযোগ্য কোনো গবেষণা বা পরিসংখ্যান দেখা যায়নি।
মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা জানান, পর্নো আসক্তি ড্রাগের নেশা থেকে কোনো অংশে কম নয়, তা স্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে তাদের জীবনে। পর্নো দেখলে মস্তিষ্কের একটা ‘ফিল গুড’ রাসায়নিক তৈরি হয়। এর নাম ডোপামিন। একটানা পর্নো  দেখলে মস্তিষ্কে ডোপামিনের পরিমাণ বেড়ে যায়। তখন সামান্য ডোপামিনের ক্ষরণে উত্তেজনা তৈরি হয় না। আরো বেশি  ডোপামিনের জন্য মস্তিষ্কের আরো বেশি পর্নোর রসদ খোঁজে এবং আসক্তি বাড়িয়ে  তোলে। তাছাড়া, এসব দেখার কারণে কিশোর যুবকরা অলীক ফ্যান্টাসির জগতে চলে যায়। তারা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে পর্নো  দেখে একা একা, সমাজের চোখ এড়িয়ে। এর ফলে ধীরে ধীরে একটা অপরাধবোধ জন্ম নেয়। যা থেকে ভবিষ্যতে মানসিক  রোগও হতে পারে। আর এসব নানান কারণে মানসিকভাবে প্রতিবন্ধী হওয়ারও সম্ভাবনা থাকে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোরোগবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. ঝুনু শামসুন নাহার বলেন, মা-বাবার সঙ্গে সন্তানের দূরত্ব অন্যতম কারণ পর্নোসাইটগুলোর প্রতি আসক্তি বাড়া। স্কুলের শিক্ষক এবং মা-বাবার সঙ্গে সন্তানের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কই পারে এই আসক্তি থেকে তাদের বের করে আনতে। এই আসক্তি থেকে সন্তানদের বের করে না আনতে পারলে তাদের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে ঢেকে যাবে।
এই বিষয়ে সেভ দ্য চিলড্রেন-এর চাইল্ড প্রটেকশন অ্যান্ড চাইল্ড রাইটস গর্ভনেন্সের ডিরেক্টর আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, মূলত বিকল্প কোনো সুযোগ না থাকার কারণে পর্নে দেখার প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। তারা যখন মোবাইল ফোনে বিভিন্ন সাইটে প্রবেশ করে ঠিক তখনই বিভিন্ন পর্নোসাইটের বিজ্ঞাপন সামনে আসে। যার কারণে অনেক সময় এসব দেখেও পর্নোসাইটগুলোতে তারা প্রবেশ করে। গতবছর পর্নোগ্রাফিক সব ধরনের ওয়েবসাইট বন্ধ রাখতে বাংলাদেশ  টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন-বিটিআরসিকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এমন নির্দেশ দেয়ার পরও সহজে প্রবেশ করা যাচ্ছে নানান পর্নোসাইটগুলোতে। এই বিষয়ে বিটিআরসি’র চেয়ারম্যান জহুরুল হক বলেন, সবগুলো পর্নোসাইট বন্ধ করা কখনো সম্ভব না। আমরা বিভিন্ন সময় এসব বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করেছি। এটা পুরোপুরি সম্ভব না।

ইয়াবা ও দেহব্যবসা: সিলেটে এসআই রোকন গ্রেপ্তার, বন্দিদশা থেকে উদ্ধার দুই শিশু

‘ভয়ঙ্কর অপরাধী’ সিলেট পুলিশের এসআই রোকন উদ্দিন। এতদিন অপরাধ আস্তানাগুলোতে ‘হাওয়া’য় ভাসছিল তার নাম। তরুণীদের ব্ল্যাকমেইল করে ইয়াবা ব্যবসায় জড়িত ও জোরপূর্বক দেহব্যবসায় জড়ানোর অভিযোগ ছিল তার বিরুদ্ধে। অবশেষে বহুল আলোচিত এসআই রোকনউদ্দিন ভুইয়া র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছে। রোববার রাতে যখন র‌্যাব তাকে গ্রেপ্তার করে তখন তার কাছে দীর্ঘদিন ধরে থাকা ‘রক্ষিতা’ রিমা বেগমও গ্রেপ্তার হয়েছে।
সিলেট নগরীর মুন্সিপাড়ার বাসিন্দা এসআই রোকন উদ্দিন। তার পিতা ওই এলাকার মৃত আব্দুল রশিদ। বর্তমানে ৭ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন লালাবাজারে কর্মরত সে। এর আগে সিলেটের জেলা ও মেট্রোপলিটন পুলিশের বিভিন্ন থানায় দায়িত্ব পালন করে।
এক দাপুটে পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত। গত বছর সিলেট নগরীর মিরাবাজার এলাকায় অপরাধ আস্তানার নিয়ন্ত্রক রোকেয়া ও তার ছেলে নিহত হওয়ার ঘটনার পর হাওয়াপাড়ায় বসবাসকারী আরেক মক্ষীরানী হালিমা বেগমের নামও শোনা গিয়েছিল। ওই হালিমা বেগমের সঙ্গেও এসআই রোকনের সম্পর্কের কথা তখন উঠে আসে আলোচনায়। এরপর থেকে বেশ কিছু দিন নীরব ছিল সিলেটের এসব অপরাধ আস্তানা।
সূত্র জানায়, এসআই রোকনের সঙ্গে গ্রেপ্তার হওয়া রিমা বেগমও সিলেটের আরেক ‘মক্ষীরানী’। অপরাধ জগতে পরিচিত মুখ। এক সময় সিলেটের বিভিন্ন ফ্ল্যাট বাড়িতে থেকে ইয়াবা ব্যবসা ও পতিতাবৃত্তি করলেও কয়েক মাস ধরে সে স্বামী পরিচয় দিয়ে রোকনের সঙ্গেই বসবাস করছিল। আটক রিমা নেত্রকোনার খালিয়াজুড়ি থানার আটগাঁও গ্রামের মৃত মফিজুল মিয়ার মেয়ে। দুই বছর আগে কাজের সন্ধানে সিলেটে আসা রিমা বেগম এক সময় হালিমার সঙ্গে নগরীর হাওয়াপাড়া এলাকায় বসবাস করতো। সিলেটের মিরাবাজারের রোকেয়া বেগমের বাসায়ও তার অবাধ যাতায়াত ছিল। বর্তমানে দাড়িয়াপাড়া মেঘনা এ-২৬/১ ভাড়া বাসায় এসআই রোকনের স্ত্রী পরিচয় দিয়ে বসবাস করছিল। গত রোববার রাতে র‌্যাব সদস্যরা অভিযান চালিয়ে রোকন ও রিমাকে গ্রেপ্তার করে। এই বাসায় তারা প্রায় এক বছর ধরে বসবাস করছিল বলে জানান এলাকাবাসী।
র‌্যাব জানায়, রোকন ও রিমার কাজ দুটো। এর মধ্যে একটি হচ্ছে ইয়াবা ব্যবসা। আর অপরটি হচ্ছে তরুণীদের দিয়ে দেহ ব্যবসা। সিলেট নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ফ্ল্যাট বাড়িতে পতিতাবৃত্তির মক্ষীরানীদের কাছে তারা নিয়মিত নারী সরবরাহ করতো। পাশাপাশি ইয়াবার ডিলার হিসেবে পরিচিত তারা। রোকন নিজের প্রভাব খাটিয়ে তার নেটওয়ার্কে থাকা মহিলাদের পুলিশি ঝামেলা থেকে রক্ষা করতো। সাম্প্রতিক সময়ে তারা কিশোরগঞ্জের তামান্না আহমদ তমা ও সিলেটের গোলাপগঞ্জের দীপা নামের দুই শিশুকে তাদের বাসায় এনে রাখে এবং সেখানে বন্দি রেখে তাদের জোরপূর্বক ইয়াবা ব্যবসা ও পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করে। একই সঙ্গে তাদের ওপর নির্যাতনও চালানো হয়।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার রাতে র‌্যাব সদস্যরা দাড়িয়া পাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে রোকন ও রিমাকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তাদের আস্তানা থেকে ওই দুই শিশুকে উদ্ধার করে। উদ্ধারের পরপরই র‌্যাবের কাছে এসআই রোকন ও তার রক্ষিতার অপরাধ নেটওয়ার্কের পুরো কাহিনী বেরিয়ে আসে। র‌্যাব অভিযানকালে আটকদের রুম তল্লাশি করে ৬০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করে। এদিকে, গ্রেপ্তারের পর র‌্যাব সদস্যরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর তাদের কোতোয়ালি থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। কোতোয়ালি থানার সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার সাদেক কাউসার দস্তগীর জানিয়েছেন, রোকন ও রিমার বিরুদ্ধে মাদক ও মানবপাচারের অভিযোগে দুটি মামলা করা হয়েছে। গতকাল তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

ঢাকা ঘুমালে জেগে ওঠে যে বাজার by পিয়াস সরকার

বাঁশ বাজার। ঢাকার মানুষজন ঘর-দরজা বানাতে কিংবা মেরামত করতে ছুটে আসতো এ বাঁশ বাজারে। ঢাকায় তখনও গ্রামের ছোঁয়া। টিনের ঘর। বাঁশের পালা। কোথাও কোথাও ছনের ঘর। খুব কমই ছিল ইটের দালান। এক সময় এক মাড়োয়ারি ব্যবসায়ী ভারতের বিভিন্ন এলাকা থেকে ফল এনে ওই বাঁশ বাজারে বিক্রি শুরু করেন।
তিনি পাইকারি বেচতেন। তার কাছ থেকে ফল কিনে অন্যরা খুচরা বিক্রি করতেন। ওই মাড়োয়ারির নাম কাওরান সিং। সে সময় ক্রেতারা কাওরান সিংয়ের ফল নিতে উদগ্রীব হয়ে থাকতেন। আস্তে আস্তে মানুষ ওই বাঁশ বাজারকে ডাকতে শুরু করেন কাওরান সিংয়ের বাজার। কালক্রমে তা ছোট হয়ে কাওরান বাজার হিসেবে খ্যাতি পায়।
বর্তমানে রাজধানী ঢাকা জনসংখ্যার চাপে জর্জরিত। প্রতিনিয়ত বাড়ছে মানুষ। প্রায় দুই কোটি মানুষের বসবাস এই ঢাকা শহরে। ঢাকাও বিস্তৃত হয়েছে উত্তরে গাজীপুর, দক্ষিণে মুন্সীগঞ্জ, পূর্বে নারায়ণগঞ্জ ও পশ্চিমে মানিকগঞ্জ সীমান্ত পর্যন্ত। এই যে এতসব মানুষের খাদ্যপণ্য বিশেষ করে সবজি, ফলমূল, মাছসহ নানা পণ্যের জোগান দেয় এই কাওরান বাজার। আর এই কাওরান বাজারকে ঘিরে হাজার হাজার মানুষের জীবন-জীবিকা চলে অনায়াসে।
ইতিহাস বলে, সে সময় হাতিরঝিল ছিল ব্রহ্মপুত্র নদের সঙ্গে সংযুক্ত। আর সোনারগাঁও হোটেলের অংশে ছিল নদীর ঘাট। এই ঘাটে থামতো বাঁশ বোঝাই নৌকা। কাওরান বাজার থেকে ফার্মগেট যাবার সড়কটি ছিল ময়মনসিংহ যাবার একমাত্র সড়ক।
সমগ্র রাজধানী দিনে ব্যস্ত থাকলেও কাওরান বাজারের চিত্র তার ঠিক উল্টো। রাজধানীর ব্যস্ততা সাঙ্গ হওয়ার পরেই শুরু হয় এর গতি। আর এ গতির প্রকৃতি জানতে সরজমিন একরাত কাটানো হয় বাজারে।
রাত ৮টার দিকে কাওরান বাজার যেন কাকডাকা ভোর। ঘুমের আড়ষ্টতা ভেঙে জাগতে শুরু করে শ্রমিকরা। রাত ৯টা পর্যন্ত কিছুটা খোশ মেজাজেই থাকেন এখানকার জীবিকা খুঁজে নেয়া মানুষগুলো। বাজারের আড়তগুলোর ওপরে সাধারণত হয় শ্রমিকদের ঘুমানোর স্থান। সেই সঙ্গে মেঝেতে পাটি, কাঁথা, বস্তা বিছিয়ে ঘুমানোর স্থান রয়েছে। মাথার উপর রয়েছে ফ্যান। তবে এখন শীতকাল হওয়ায় সেই ফ্যানে জমেছে ধুলা। কিছু কিছু আড়তে ইন্টারনেট চালানোর জন্য রয়েছে রাউটার।
রাত ১০টা পর্যন্ত খাওয়া-দাওয়া, গোসলপর্ব সারেন তারা। গোসলের জন্য তাদের স্থান এই বাজারেই করা আছে। মোটরের মাধ্যমে পানি তুলে রাখা হয় একটি চৌবাচ্চাসদৃশ স্থানে। গোসলের জন্য তাদের গুনতে হয় ৫ টাকা। আর গোসল ও কাপড় কাচার জন্য কিনতে পাওয়া যায় অর্ধেক কাটা কাপড় কাচা সাবান। এই সাবান রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে সেখানেই। নাম লিখিয়ে রাখলে সেখানে সেই অবস্থাতেই রয়ে যায় সাবান।
রাত ৯টা থেকে ১০টা। এই সময়টাতে গোসল ও খাওয়ার পাশাপাশি সারি হয়ে বসে গল্প-গুজব করেন অনেকে। আলোচনায় স্থান পায় সমসাময়িক বিষয়। বর্তমানে বিপিএল নিয়ে যুদ্ধ চলে তাদের মাঝে। মোবাইল ফোনে ব্যস্ত মানুষের সংখ্যাও নেহায়েত কম নয়।
অন্য সবাই নিরাশ সময় কাটালেও ভ্যানচালকদের ব্যস্ততা বেশ নজর কাড়ে। পণ্য পরিবহনের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত এই ভ্যানে কেউ দিচ্ছেন চাকায় বাতাস, আবার কেউ দিচ্ছেন মবিল। এসব ভ্যান শুধুমাত্র চাকা গড়ানোর কাজে ব্যবহার হয়। কারণ এই ভ্যানে থাকে না কোনো চেইন, প্যাডেল, বেল।
রাত ১০টার পর থেকে আড়তগুলোতে জ্বলতে শুরু করে হালকা থেকে ভারি ভারি লাইট। মহাজন আসার আগে শুরু হয় আড়ত পরিষ্কারের কাজ। অনেকেই জ্বালান ধুপকাঠি। বাড়তে থাকে রাত। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে ব্যস্ততা। সবজি বোঝাই শাক-সবজি আর ফলমূলের ট্রাক এসে ভিড়ে মহাসড়ক ঘেঁষে। ভ্যানগুলো ঘিরে ধরে ওইসব ট্রাককে। মাল নামানো হয় ভ্যানে। তারপর ভ্যানগুলো বাজারের ভেতরে যার যার নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছে। একেকটি ভ্যান সাধারণত পেয়ে থাকেন ছোট বস্তার জন্য ১৫-২০ টাকা। বড় বস্তার জন্য ৩০-৫০ টাকা। দূরত্বভেদে এই মূল্য কমবেশিও হয়ে থাকে। সবজি-ফল, চাল ইত্যাদি বহনকারী ট্রাকগুলো নামে পেট্রোবাংলা বিল্ডিংয়ের গলিগুলোতে। আর মাছ বহনকারী ট্রাকগুলো পণ্য নামায় এফডিসি রেলক্রসিংয়ের গলিতে।
মোবাইলের স্ক্রিনে তখন তারিখ পাল্টে গেছে। রাত ১২টা। ফল, সবজি, মাছ, মুরগি ইত্যাদি পণ্যে বোঝাই হয়ে গেছে কাওরান বাজার। শীতের বাজার হওয়ার কারণে বিভিন্ন শাক-সবজির রংয়ে রঙিন। ধনে পাতার সবুজ রংয়ের সঙ্গে ছড়িয়ে দিচ্ছে মিষ্টি সুবাস। মিষ্টিকুমড়ার স্তূপ দেখে মনে হয় যেন লালমাটির পাহাড়। আবার শালগমের সুসজ্জিত স্তূপ দৃষ্টি কাড়ে সবার। লাল শাক, লাউ শাক, পুঁই শাকসহ লাউ, করলা, গাজর, টমেটো, কলা, বরই মিশে গেছে বাজারের লাল আলোর নিয়ন রূপে। আর মাছ বাজারের বেশ খানিক দূর থেকেও আসে মাছের উটকো গন্ধ। মাছের বাজারে মেলে দেশি-বিদেশিসহ সব ধরনের মাছ। আর মুরগি বাজারের নাম কিচেন মার্কেট। চিকেন মার্কেটের বিবর্তিত রূপ এই কিচেন মার্কেট। মার্কেটে মুরগি, হাঁস, রাজহাঁস, টার্কি, কবুতরের ডাকে এক শব্দের শোরগোল শুরু হয়ে যায়।
রাত ২টার দিকে দেখা মেলে আরেক শ্রেণির মানুষের। যারা ক্রয় করবেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা এসব পণ্য। এই বাজারে শ্রমিকের মাথার টুকরি কিংবা ভ্যানের চাকা থেকে সাবধান। পা ফেলার জো নেই। কিন্তু নিজ গতিতে চলছে বাজারের কার্যক্রম। যেখানে পা ফেলা দায় সেখানে চোখের পলকে পণ্য চলে যাচ্ছে একস্থান থেকে অন্য স্থানে।
রাত তখন ৩টা। মসজিদের সামনে দেখা মেলে সদ্য কথা ও হাঁটতে শেখা আনুমানিক ৩ বছরের এক শিশুর। শীতের রাত হলেও পরনে তার অর্ধ ছেঁড়া টি-শার্ট ও ময়লা জর্জরিত প্যান্ট। হাতে একটি ছেলা কলা। নাম তার রকি। আশেপাশে কোনো অভিভাবক না থাকলেও বেশ কয়েকজন শিশু খেলায় মগ্ন। তার বাবা-মা কই জানতে চাইলে রকি জানায়, তার বাবা-মা কাজ করছে। খোঁজার পর দেখা মিললো তার মায়ের। তার মা সারা রাত এখানেই কাজ করেন। বিভিন্ন শাকের অংশ কাটতে কাটতে তার মা রাঁখি জানান, প্রতিদিন রাতেই এখানে কাজ করেন তিনি। রকির বাবাও এই বাজারে শ্রমিকের কাজ করেন। থাকেন রেল লাইনের ধারের বস্তিতে।
পরিবারের অন্য কোনো সদস্য না থাকার কারণে বাধ্য হয়ে নিয়ে আসতে হয় শিশু সন্তানকে। সারা রাত কাজ করে তিনি আয় করেন গড়ে ২শ’ থেকে ৩শ’ টাকা। আর তার স্বামীর আয় হয় ৩শ’ থেকে ৫শ’ টাকা। এই আয়ে সুখে- শান্তিতেই চলছে তাদের সংসার। আর ছেলেকে ছেড়ে দিয়ে রাখার বিষয়ে জানান, এখানে অনেকের সন্তানই এভাবে ছেড়ে দেয়া থাকে। মসজিদের সামনে ফাঁকা স্থানে খেলাধুলা করে। আবার সেখানে পাটিও বিছিয়ে দেয়া আছে। ঘুম পেলে ঘুমিয়ে যায় তারা। রাত ২টা থেকে ৪টা। এই সময়টা পণ্য আসা ও স্তূপ করণ থেকে বিক্রির দৃশ্য বেশি চোখে পড়ে। রাত ২টা থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে আসতে শুরু করেছে পিকআপ, প্যাডেল-চেইন ওয়ালা ভ্যান কিংবা রিকশা। তারা ঢাকার মানুষের জন্য পণ্য নিয়ে যাবেন বিভিন্ন বাজারে। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারের পণ্য ক্রেতারা বাজারের টুকরি হাতে দাঁড়িয়ে থাকা ব্যক্তিদের ভাড়া করেন। তাদের ভাড়া পরিমাণ ও দূরত্ব ভেদে নির্ধারিত হয়। সাধারণত ৫০ টাকা থেকে শুরু করে ২শ’ টাকা হয়ে থাকে তাদের ভাড়া।
পাইকারি ক্রেতাদের সঙ্গে থাকেন তারা। দামাদামি করে কিনেন বিভিন্ন পণ্য। বাজারে পণ্য আসে কয়েক হাত ঘুরে। চলছে আলুর মৌসুম। বগুড়া জেলার কাহালুর বাসিন্দা ফিরোজ মিয়া। কাওরান বাজারে এসেছেন প্রায় ২৫ দিন যাবৎ। এলাকা থেকে ২-৩ দিন পর পর আসে আলুর ট্রাক। সেগুলো এখানে বিক্রির কাজ করেন তিনি। প্রতি বস্তা আলু কাওরান বাজারে ঢোকার সময় গুনতে হয় ৪০ টাকা। বগুড়া থেকে প্রতি বস্তা আলু কেনেন ৩০০ থেকে ৪০০ টাকায়। সেই আলুর বস্তা রাজধানীর পাইকাররা কেনেন ৫শ’ থেকে সাড়ে ৬শ’ টাকায়। অর্থাৎ বগুড়া থেকে আনা আলুর কেজি দাঁড়ায় ৭-১০ টাকা। কাওরান বাজারে ১২-১৫ টাকায়। পাইকারি বাজারে একজন ক্রেতা এই আলু ক্রয় করেন ১৮-২০ টাকায়।
রাত ৪টা। ইনসোমিনিয়ায় ভোগা ব্যক্তিটি যখন ওষুধ খেয়ে অনেক কষ্টে ঘুমিয়ে পড়েন। ঠিক সেই সময়েও ফার্মগেট থেকে কাওরান বাজারে ঢোকার জন্য অপেক্ষার প্রহর গোনে বেশকিছু ট্রাক। দেখে মনে হবে কর্মব্যস্ত দিনের অফিস শুরুর সময়ের দৃশ্য এটি।
দীর্ঘ পথ পাড়ি দেয়া ক্লান্ত ট্রাকচালক ও ট্রাকের সহকারীরা রাস্তার ধারে ট্রাক রাখেন। ট্রাক রেখে কিছু সময় নেন ঘুমানোর প্রস্তুতি। আবার অনেকে পণ্য নামিয়ে দিয়ে চলে যান সরাসরি। খাওয়া-দাওয়া শেষে আড়তের ওপর শোবার স্থান তাদের। রাজধানীতে অবস্থান নেয়া ট্রাকগুলোকে সকাল ৮টার আগেই ত্যাগ করতে হয় রাজধানী।
ভোরের আলো ফুটতে শুরু করেছে। ধীরে ধীরে কমছে কাওরান বাজরের আমেজ। আলো যত পড়ছে কাওরান বাজারে আসতে শুরু করছে নতুন একধরনের ক্রেতা। সারা রাত বেচা কেনার মধ্যে থেঁতলানো, পচা, কাটা পণ্য কিনতে এসেছেন কিছু ক্রেতা। তারা এগুলো নিয়ে বিক্রি করবেন তেজগাঁওয়ের ফকিন্নি বাজারে। এই বাজারের নিম্ন আয়ের মানুষরা বাজার মূল্য থেকে প্রায় অর্ধেক মূল্যে পান এসব পণ্য।
 আবার মাছের বাজারে সারা রাতই আসতে থাকে বরফের ট্রাক। ফজরের আজানের ঘণ্টাখানেক পরে শুরু হয় বাজার পরিষ্কারের কাজ। এরই মাঝে বাজারে চলে এসেছে বড় বড় বেশ কয়েকটি ট্রাক। বাজার পরিষ্কারের কাজে লেগে পড়েছেন প্রায় শতাধিক কর্মী।
বড় বড় ট্রাকগুলো ময়লাভর্তি করে নিয়ে যেতে থাকে। সকাল ১০টা হতেই ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে যায় পুরো কাওরান বাজার। এখন আবার ব্যস্ততা বাড়ছে খুচরা বিক্রেতাদের। রাতের টাটকা সবজি-মাছ কেনার জন্য ভিড় দেখা যায় এসব বাজারে। প্রতি পিস ফুলকপি এখানে বিক্রি হয় ১০-১৫ টাকায়। কিন্তু এই ফুলকপিগুলো বাজারে এসেছে ৭-৮ টাকায়। 
ভ্যানগুলোও ঘুমিয়ে আছে স্ট্যান্ডে। স্থান সংকুলানের জন্য ভ্যানগুলো রাখা হয় দাঁড় করিয়ে। একটির গায়ে আরেকটি লাগানো এসব ভ্যান সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকে এখানে। মহাজনরা টাকা পয়সার হিসাব করে বাসায় ফিরতে শুরু করেছেন। সারা রাতের ধকল শেষে আবার শ্রমিকদের ফের গোসলের পালা। গোসল ও খাওয়া শেষে ঘুমাতে যান অনেকে। কারণ রাতে আবার জেগে উঠতে হবে। ফিরতে হবে চির চেনা ব্যস্ততায়।

ইন্দিরার উত্তরসূরি প্রিয়াঙ্কাকে নিয়ে রাজনীতিতে ঝড় by পরিতোষ পাল

এখনো তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে পা রাখেননি। শুধু ঘোষণা হয়েছে। কংগ্রেসের পদাধিকারী (এআইসিসির সাধারণ সম্পাদক) করা হয়েছে ছোট্ট এক বিবৃতির মাধ্যমে। দায়িত্ব দেয়া হয়েছে পূর্ব-উত্তর প্রদেশের। আর তারপর থেকেই রাজনীতিতে ঝড় বয়ে যাচ্ছে। প্রিয়াঙ্কাকে সবচেয়ে বেশি আলোচনার শিরোনাম করে তুলেছেন বিজেপি নেতারা। খোদ প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে বিজেপির ছোট-বড় নেতারা মন্তব্য করেছেন প্রিয়াঙ্কাকে নিয়ে। প্রিয়াঙ্কার চোখে-মুখে, হাসিতে, ব্যক্তিত্বে ইন্দিরা গান্ধীর সাদৃশ্য নিয়ে বিহারের উপ-মুখ্যমন্ত্রী বিজেপি নেতা সুশীল মোদি কিংবা মন্ত্রী বিনোদ নালরায়ণ ঝা রূপ নিয়ে যতই কটাক্ষ করুন না কেন, দেশের আম-জনতা প্রিয়াঙ্কাকেই ইন্দিরার উত্তরসূরি হিসেবে দেখতে চান।
উত্তর প্রদেশে স্লোগান শোনা যাচ্ছে, দুসরা ইন্দিরা গান্ধী আয়ি হ্যায়।
আবার গান্ধী-নেহরু পরিবারের ১১তম প্রতিনিধি হিসেবে সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দিতে যাওয়া ৪৭ বছরের প্রিয়াঙ্কাকে বিজেপির কাছ থেকে পরিবারতন্ত্রের আক্রমণও শুনতে হচ্ছে। রাজীব-সোনিয়ার কন্যা প্রিয়াঙ্কা এতদিন সক্রিয় রাজনীতিতে আসতে চাননি সংসারে মনোযোগ দেবেন বলে। তবে নেপথ্য থেকে কংগ্রেস রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন অনেক দিন ধরে। তবে এখন কেন প্রিয়াঙ্কা রাজনীতিতে আসতে রাজি হলেন, সে সম্পর্কে তার দাদা রাহুল গান্ধী বলেছেন, প্রিয়াঙ্কা এত দিন ওর সন্তানদের দিকেই বেশি নজর দিতে চাইত। তবে প্রিয়াঙ্কার দুই ছেলের মধ্যে বড় রাইহান এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া, আর মিরায়া বিশ্ববিদ্যালয়ে পা রাখার পথে। ফলে প্রিয়াঙ্কার এখন দম ফেলার ফুসরত হয়েছে। এখনই তাই রাজনীতিতে যোগ দেয়ার প্রশস্ত সময় ছিল, সেটা বোনের সঙ্গে আগেই যে দাদা রাহুল আলোচনা করেছিলেন, সে কথাও জানিয়েছেন।
তবে ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে রাজনীতিতে যোগ দিয়ে প্রিয়াঙ্কা নিজে কী বলেন, সে দিকেই তাকিয়ে রয়েছে সবাই। তবে এটা ঠিক যে, শাড়ি পরার স্টাইল, চুলের ছাঁট, মুখের হাসি, হাত নাড়ানোর ভঙ্গি সবেতেই ঠাকুমা ইন্দিরার ছাপ স্পষ্ট। ইন্দিরাও বলতেন, প্রিয়াঙ্কা অনেটাই আমার মতোই। খুবই সিরিয়াস। প্রিয়াঙ্কা নিজেও ঠাকুরমার সঙ্গে তার সাদৃশ্য অস্বীকার করেন না। একবার এক সাক্ষাৎকারে প্রিয়াঙ্কা নিজেই বলেছিলেন, আমি দেখতে হয়তো অনেকটাই আমার ঠাকুরমার মতো। ছোটবেলায় এমন একটা পরিবারে বড় হয়েছি যে পরিবারের কর্ত্রী ছিলেন তিনি। তাই তার প্রভাব তো আমার ওপর পড়েছেই। আর রাজনীতির সঙ্গে প্রিয়াঙ্কার মাখামাখি বাবা রাজীব গান্ধীর সঙ্গী হিসেবেই। ১৯৮৯ সালে রাজীব গান্ধীর হয়ে লোকসভা নির্বাচনে প্রচারে অংশ নিয়েছিলেন সতেরো বছরের প্রিয়াঙ্কা। দিল্লির জেসাস অ্যান্ড মেরি কলেজ থেকে সাইকোলজিতে স্নাতক। বিয়ে হয়েছে রবার্ট ভদ্রর সঙ্গে।
তাদের দুই ছেলে। স্বামী রবার্টের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠলেও অনেক চেষ্টাতেও তার আঁচ লাগানো যায়নি প্রিয়াঙ্কার গায়ে। বরং পরিবারের খাস তালুক বলে পরিচিত উত্তর প্র্রদেশে ১৯৯৯ সাল থেকেই প্রচার চালিয়ে আসছেন। গত একদশকে রায়বেরিলি ও আমেথিতে মা ও দাদার হয়ে নির্বাচনে অংশ নেয়ার পাশাপাশি সারা বছর ধরে সেখানে নানা সামাজিক কাজেও অংশ নিয়েছেন। ২০১৭ সালের উত্তর প্রদেশের বিধানসভা নির্বাচনে দলের নীতি নির্ধারকের ভূমিকায়ও থেকেছেন। আর ২০১৮ সালে কংগ্রেস অধিবেশনে রাহুল গান্ধীকে সভাপতি হিসেবে ঘোষণার সমস্ত প্রেক্ষাপট তৈরির কাজে যুক্ত ছিলেন প্রিয়াঙ্কা। তাই বিরোধীরা প্রিয়াঙ্কার রাজনীতির জ্ঞান নিয়ে বিদ্রুপ করলেও প্রিয়াঙ্কা ইতিমধ্যেই দলের মধ্যে প্রমাণ করে দিয়েছেন সাংগঠনিক ক্ষেত্রে তার দক্ষতা। মা সোনিয়া গান্ধীর অসুস্থতা ও দাদা রাহুলের ব্যস্ততার জন্য তার কাঁধে অলিখিতভাবে অনেক দায়িত্বই এসে পড়েছিল। সেই দায়িত্বের সাফল্যের নিরিখেই রাহুল বোনকে এবার সরাসরি সক্রিয় রাজনীতিতে এনে বিজেপিকে একটা ঝটকা দিয়েছেন। একই সঙ্গে ক্ষয়িষ্ণু দলকে উদ্দীপিত করেছেন। অন্যদিকে কংগ্রেসকে এড়িয়ে চলার জন্য যে বিরোধী নেতারা তৎপরতা শুরু করেছেন তাদেরও বার্তা দিয়েছেন, কংগ্রেস আবার শক্তিশালী হয়ে ওঠার লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়ার জন্য তৈরি।
অবশ্য তিনটি রাজ্যের সাম্প্রতিক নির্বাচনে কংগ্রেসের সাফল্যই রাহুলকে অনুপ্রাণিত করেছে বোন প্রিয়াঙ্কাকে সক্রিয় রাজনীতিতে নামানোর সঠিক সময় নির্ধারণে। উত্তর প্রদেশের যে অংশে প্রিয়াঙ্কাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে সেই অংশে তাদের পরিবারের প্রতি আনুগত্যে পরীক্ষিত আমেথি এবং রায়বেরিলি যেমন রয়েছে তেমনি রয়েছে বিজেপির প্রধানমন্ত্রী মোদীর বারানসী ও উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের গোরক্ষপুরও। তাই ঠাকুরমার ক্যারিশমার ঝলক প্রিয়াঙ্কা দেখাতে পারেন কি না সেদিকেই থাকবে সবার নজর।

মাটি খুঁড়ে প্রিয়জনদের খুঁজছেন যে নারীরা

মেক্সিকোয় একযুগে ৩৭ হাজারেরও বেশি মানুষ নিখোঁজ হয়েছে। তাদের স্বজনরা জানেনা আদৌ তারা বেঁচে আছে কিনা? তেমনই এক মা তার সন্তানের খোঁজে নিজেই নেমেছেন কোদাল হাতে। পরে যোগ দেন আরও অনেক নারী। ফটো সাংবাদিক আলেজান্দ্রো সিগারা ছবিতে তুলে এনেছেন তাদের কথা।

১। মেক্সিকোর সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেশটিতে ২০০৬ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৩৭ হাজার মানুষ গুম হয়েছে। যাদের সঙ্গে কি হয়েছে কিছুই জানা যায়নি।

২। অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা মিরনা নেরেয়দা মেদিনা একটি দলের খোঁজ পান যাদের নাম "সার্চার্স অব এল ফুয়ের্তে"। তারা মূলত নিখোঁজদের সন্ধানে কাজ করে।
চার বছর মিসেস মেদিনার ছেলে রবার্তো নিখোঁজ হন। রবার্তো এল ফুয়ের্তের একটি পেট্রোল স্টেশনে সিডি বিক্রির কাজ করতেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে গত ২০১৪ সালের ১৪ জুলাই একটি কালো পিক আপ পেট্রোল স্টেশনে থামে এবং রবার্তোকে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়।

৩। শুধুমাত্র সিনালোয়া রাজ্যে এ পর্যন্ত দুই হাজার ৭শ জনের নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ দায়ের হয়েছে। তবে প্রকৃত নিখোঁজের সংখ্যা এর চেয়ে আরও বেশি বলে জানা গিয়েছে। নিখোঁজদের বেশিরভাগ আর বেঁচে নেই বলে ধারণা করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত হতেই এই অনুসন্ধানী দলটি দিনের পর দিন প্রিয়জনের খোঁজে কবর খুঁড়ে চলছে।

৪। মিরিয়াম রেয়েস খুঁজছেন তার স্বামীকে যিনি ২০১৫ সাল থেকে নিখোঁজ। তিনি চান তাদের ছেলে জানুক যে বাবার সঙ্গে কি হয়েছে। অন্তত তার লাশটাকে যেন তারা কবর দিতে পারেন।

৫।এই অনুসন্ধানী অভিযানের যন্ত্রপাতি খুবই সাধারণ- মাটি খোড়ার কোদাল আর শক্ত মাটি আলাদা করতে হাতুড়ির মতো পিকেইক্স।

৬। স্থানীয়রা এই নারীদের বিভিন্ন তথ্য দিয়ে সহায়তা করেন, যেন তারা দ্রুত তাদের স্বজনদের বিষয়ে জানতে পারেন।

৭। কোথাও গোপন কবরের সন্ধান পেলেই সেই অনুসন্ধানী দলটি খোড়াখুড়ি শুরু করে। ৪১ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রাও তাদের পিছু হটাতে পারেনা। ছবির বামপাশের নারী জুয়ানা এস্কালান্তে তার ২৮ বছর বয়সী ছেলে আদ্রিয়ানের খোঁজে মাটি খুড়ছেন। মিসেস এস্তালান্তের ধারণা তার সন্তানকে কেউ অপহরণ করেছে।

৮। সিনালোয়া রাজ্যে অপহরণ খুব স্বাভাবিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কাউকে মুক্তিপনের জন্য, কাউকে পাচার করার জন্য আবার কাউকে জোরপূর্বক অপরাধ চক্রে সামিল হওয়ার জন্য অপহরণ করা হয়। উদ্দেশ্য হাসিল না হলে অনেককেই মেরে ফেলে লাশ গুম করে দেয় অপহরণকারীরা। তার সেই নিখোঁজদের স্বজনরা কখনো জানতেই পারেন না, তাদের প্রিয়জনের সঙ্গে কি হয়েছে।

৯। ২০১৪ সাল থেকে এ পর্যন্ত বিভিন্ন গোপন কবর খুঁড়ে দুই শতাধিক লাশ বের করেছেন এই নারী অনুসন্ধানীরা। এর মধ্যে যেসব দেহাবশেষ পাওয়া গিয়েছে তাদের পরিচয় সনাক্তের জন্য ডিএনএ পরীক্ষা করতে দেয়া হয়। পরীক্ষায় পরিচয় পাওয়া গেলে সেই খবর স্বজনদের কাছে পৌঁছে দেন এই নারীরা। এ পর্যন্ত উদ্ধার হওয়া অর্ধেকেরও বেশি লাশের পরিচয় তারা বের করতে পেরেছেন। মিনরা তার মতো আরেক মা'কে জড়িয়ে ধরে কাঁদছেন। এই নারী চার মাস আগে নিখোঁজ হওয়া ছেলের সন্ধান পেয়েছেন।
১০/ লুই আলফ্রেদো শ্যাভেজ ২০১৮ সালের ৩১শে জানুয়ারি নিখোঁজ হন। পরে ৩০শে মার্চ তার লাশ সনাক্ত হয়। লস মটিস শহরে লুইয়ের শেষকৃত্যে যোগ দেন তা র স্বজনরা।

১১। মেক্সিকোর সিনালোয়া রাজ্যের এক মা তাঁর নিখোঁজ সন্তানকে খুজে বের করতে নিজেই কোদাল হাতে মাঠে নেমেছেন। যেখানে কোন গোপন কবর দেখেন সেখানেই খোড়াখুড়ি করেন তিনি। কিছুদূর খোড়ার পর কোদালটি নাকের কাছে নিয়ে বোঝার চেষ্টা করেন যে সেখানে পঁচা লাশের গন্ধ আছে কিনা।

১২। ছেলে রবার্তোর খোঁজ পেতে মা মিরনার প্রায় তিন বছর লেগে যায়। ২০১৭ সালের ১৪ জুলাই রবার্তো নিখোঁজ হওয়ার তৃতীয় বার্ষিকী ছিল। সে বছর এক গোপন সূত্রে খবর পেয়ে অনুসন্ধানী দলটিকে নিয়ে দুর্গম পাহাড়ে যান মিসেস মিরনা। সেখানকার একটি কবর থেকে একটি দেহাবশেষের সন্ধান পান তারা। পড়ে সেই হাড়ের ডিএনএ পরীক্ষায় জানা যায় এটি রবার্তোরই লাশ।

১৩। মিরনা নিজের ছেলের সন্ধান পেলেও এখন তিনি অন্য নারীদের সহায়তা করে চলছেন তাদের স্বজনদের খুঁজে বের করার জন্য। ছবির ক্রন্দনরত এই নারী তার ছেলের নিখোঁজের খবর পুলিশকে জানাতে এসেছেন। ছয় বছর আগে তার ছেলে নিখোঁজ হলেও তিনি এরমধ্যে পুলিশের কাছে আসেননি। কারণ তিনি আশা করছেন, একদিন তার ছেলে জীবিত অবস্থায় নিশ্চয়ই ফিরে আসবে।

১৪। এই অনুসন্ধানী দলটির বেশিরভাগ সদস্য নারী। যাদের অধিকাংশের ছেলে নিখোঁজ হয়েছে। তবে পুরুষ সদস্যরাও এই দলের ভেতরে আছেন। তাদেরই একজন ডন পাঞ্চো। তিনি গত চার বছর ধরে তার ছেলে খুঁজছেন।

১৫। শুধু মা- বাবাদেরই নয় বরং শিশুদেরও এই নিখোঁজের ঘটনায় অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বিশেষ করে নিখোঁজের সন্তানরা বেড়ে হচ্ছে একটা অনিশ্চয়তার মধ্যে। তারা জানতেও পারেনা যে তাদের বাবা বা মায়ের সঙ্গে কি হয়েছে। ছবির নারী লুসিয়া গুয়াদালুপের ছেলে ২০১৬ সালে নিখোঁজ হন। তার নাতনিও হয়ে পড়ে বাবাহারা।

পর্নো তারকাদের মিলনমেলা

যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাস। নামের মধ্যেই যেন অন্য রকম এক উন্মাদনা। এই লাস ভেগাসে রাত নেমে এলে তা যেন সজীব হয়ে ওঠে। ক্যাসিনো, বার- সবকিছুতে উপচে পড়ে মানুষের ভিড়। এরই বাইরেও রয়েছে এক অন্ধকার জগৎ। স্থানীয়ভাবে তাকে সেইভাবে দেখা হয় না। আছে দেহপসারিণীদের বিকিকিনি। আলোতে ঝলসে উঠছেন কোনো বারে কোনো বিবস্ত্র নর্তকী।
এ আর নতুন কিছু নয়। তবে সেই লাস ভেগাসে এবার একত্রিত হয়েছেন কমপক্ষে ৫০০ পর্নো তারকা। আর জড়ো হয়েছেন ৫০,০০০ ভক্ত। বার্ষিক ‘এভিএন এডাল্ট এন্টারটেইনমেন্ট এক্সপো’ উপলক্ষে সেখানে বসেছে এই আসর। এতে যোগ দেয়া ভক্তদের সঙ্গে ওইসব পর্নো তারকারা শরীরকে উন্মুক্ত করে দিচ্ছেন। তাদের সঙ্গে ‘টোয়ার্ক’ নামের নাচ নাচছেন। নিতম্বদেশ দুলিয়ে যৌন উত্তেজক নাচকে এমন নামে ডাকা হয়। এ উৎসব শুরু হয়েছে শুক্রবার। এর ক্লাইম্যাক্স বা চূড়ান্ত দিন ছিল শনিবার। এ রাতেই সেখানে জমে ওঠার কথা সবচেয়ে রমরমা ব্যবসা। বৃটিশ একটি ট্যাবলয়েড পত্রিকার অনলাইন সংস্করণে এ খবর প্রকাশিত হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, টানা সাত বছরের মতো এবারও হচ্ছে এই উৎসব। যৌনতা বিষয়ক এই উৎসব বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বৃহৎ। লাস ভেগাসের হার্ড রক হোটেলে এবার বসে আসর। তাতে যোগ দেন বিশ্বের পর্নো তারকাদের মধ্যে বাছাই করা সুন্দরীদের মধ্যে আরো বেশি আকর্ষণীয় সুন্দরীকে। এমন তারকার মধ্যে রয়েছেন গিনা ভ্যালেন্টিনা, কিসা সিনস, জোয়ানা অ্যানজেল, জিল ক্যাসিডি, আবেলা ডেঞ্জার, মারলে ব্রিঙ্কস, কারমা আরএক্স, শেরিডান লাভ, টিয়া কাই, ভিকি চেজ, টিয়ানা ট্রাম্প, রিলে রেইড, আবিগেইল ম্যাক, কাটি মরগান, অ্যাথেনা ফারিস, এমিলি উইলিস, পর্নো ছবির প্রযোজক/পরিচালক হুয়ান জর্ডান প্রমুখ। এ উৎসবে পর্নো জগতের বিভিন্ন খাতে সেরাদের স্বীকৃতি দেয়ার কথা। তার মধ্যে আছে টাইটেল, ব্যক্তিবিশেষ, ভূমিকা রাখা কোম্পানিগুলো এবং এ খাতে অনবদ্য ভূমিকা রাখাদের। আয়োজকরা বলেছেন, এবারের উৎসবই হবে এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় অনুষ্ঠান। এ সময়ে পর্নো তারকাদের কাছ থেকে অটোগ্রাফ সংগ্রহ করবেন ভক্তরা।

নির্বাচন প্রশ্নে বৃটেনের অবস্থান অপরিবর্তিত

নির্বাচন প্রশ্নে বৃটেনের অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকাস্থ বৃটিশ হাইকমিশনার অ্যালিসন ব্লেইক। একই সঙ্গে তিনি বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সরকারের  সংলাপের নতুন উদ্যোগকে (চা চক্র) স্বাগত জানিয়েছেন। রোববার দুপুরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেনের সঙ্গে বৈঠকে তিনি নির্বাচন এবং সংলাপ প্রশ্নে বৃটিশ সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন। বৈঠক শেষে হাইকমিশনার গণমাধ্যমের মখোমুখি হন। পরে পররাষ্ট্রমন্ত্রীও সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। উভয়ের তরফে এটা নিশ্চিত করা হয়- তারা দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেছেন। বাংলাদেশ সরকারের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা এবং ক্রমাগত উন্নতির মধ্য দিয়ে ২০৪১ সালের মধ্যে পূর্ণাঙ্গভাবে ‘উন্নত রাষ্ট্র’ হওয়ার যে লক্ষ্যগুলো সরকার নির্ধারণ করেছে তা অর্জনে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে সর্বাত্মক সহযোগিতা দিয়ে যাবে। অবশ্য ব্লেক এটাও বলেন, চূড়ান্ত লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশকে আরো অনেক কাজ করতে হবে।
এ পর্যন্ত অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের যেসব অর্জন রয়েছে, বিশেষ করে সফলতার চমকপ্রদ যেসব কাহিনী রয়েছে তার জন্য সাধুবাদ জানান তিনি। ওই অর্জনের জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানান। বৃটিশ দূত উল্লেখ করেন, তার দেশ বরাবরই বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগী। ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং উন্নয়ন সহায়তা বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে অত্যন্ত চমৎকার সম্পর্ক রয়েছে। সামনের দিনে তারা এটি আরো বিস্তৃত, গভীর এবং বিকশিত করতে চান। যেকোনো সংকটে বৃটেন বাংলাদেশের পাশে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে শেষ পর্যন্ত তার দেশ বাংলাদেশের পাশে থাকবে। বৃটিশ দূতের কাছে প্রশ্ন ছিল পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় লন্ডনে থাকা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সুনির্দিষ্টভাবে কী কথা হয়েছে? বিষয়টি আদৌ আলোচনায় এসেছিল কি-না? জবাবে তিনি বিস্তারিত বা সরাসরি কোনো জবাব না দিলেও বলেন, আমরা আমাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সব বিষয়েই কথা বলেছি। এক প্রশ্নের জবাবে হাইকমিশনার বলেন, ৩০শে ডিসেম্বরে নির্বাচনের পরে বৃটিশ ফরেন অফিস মিনিস্টার যে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার দূত হিসাবে তিনি সেটি পুনরায় শেয়ার করেছেন। এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল বিষয়ক বৃটিশ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মার্ক ফিল্ড নির্বাচনের পরপরই এক বিবৃতিতে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণকে স্বাগত জানিয়েছিলেন।
একই সঙ্গে স্থিতিশীল, সমৃদ্ধ এবং গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার করেছিলেন। ওই নির্বাচনে যেসব অনিয়মের বিশ্বাসযোগ্য রিপোর্ট রয়েছে তার স্বচ্ছ তদন্ত চেয়েছিল বৃটেন। হাইকমিশনার রোববার এটি স্মরণ করে বলেন, তার দেশ আশাবাদী ওই তদন্ত দ্রুত সম্পন্ন হবে। নব নিযুক্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন উল্লেখ করে বৃটিশ দূত বলেন, আমরা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি বাণিজ্য ও সুশাসন নিয়ে আলোচনা করেছি। এ সময় তিনি জানান, সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধে, বাণিজ্যের উন্নয়নে এবং তৈরি পোশাক খাতে যুক্তরাজ্য বাংলাদেশকে ভবিষ্যতেও সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।   
ব্রেক্সিটের পরও সুবিধা অব্যাহত রাখার আহ্বান: এদিকে বৃটেনের কাছে ব্রেক্সিটের পরও বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সুবিধা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ.কে আব্দুল মোমেন। হাইকমিশনার অ্যালিসন ব্লেকের সঙ্গে বৈঠকে মন্ত্রী এটি চান বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নতুন সরকারের সঙ্গে যুক্তরাজ্য গঠনমূলকভাবে সম্পর্ক রাখবে। ২০২১ সালের মধ্যে উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশ ও ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য সহায়তা অব্যাহত রাখবে। বৃটিশ দূত মন্ত্রীকে জানান, যুক্তরাজ্যের বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে ব্যবসা করতে আগ্রহী, বিশেষ করে অবকাঠামো খাতে।
বিদেশে থাকা খুনি ও দণ্ডিতদের ফিরিয়ে আনা হবে: ওদিকে বৃটিশ দূতের বিদায়ের পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের বলেন, বিদেশে থাকা পলাতক সব খুনি ও দণ্ডিতদের দেশে ফিরিয়ে আনা হবে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয় কাজ করছে বলেও তিনি জানান। বৃটেনের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার জন্য যুক্তরাজ্যের ভূমিকা যথেষ্ট ইতিবাচক। তারাও চায় রোহিঙ্গারা নিরাপদে ও স্বেচ্ছায় দেশে ফিরে যাক। আসন্ন ভারত সফরে কি কি বিষয়ে আলোচনা হবে জানতে চাইলে ড. একে আব্দুল মোমেন বলেন, ভারতে আমার সফর হবে সৌহার্দ্যপূর্ণ ও সমপ্রীতির। সেখানে আলোচনার বিষয় এখনো চূড়ান্ত হয়নি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জার্মানি সফরের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সফরের বিষয়ে আলোচনা চলছে। সেখানে গেলে দেশটির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মের্কেলের সঙ্গে সাইড লাইনে বৈঠক হতে পারে বলেও জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

ভাষানচরে রোহিঙ্গা পুনর্বাসনে বিতর্ক, জাতিসংঘ যা চায়...

ভাষানচরে রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসন প্রশ্নে জাতিসংঘ এবং বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে দ্বিমত দেখা দিয়েছে। রোহিঙ্গারা স্বেচ্ছায়, জেনে-শুনে ভাষানচরে যেতে চাইলেই কেবল তাদের স্থানান্তর করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। কক্সবাজারের রোহিঙ্গা পরিস্থিতি এবং সরজমিন ভাষানচর পরিদর্শন শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে জাতিসংঘের বিশেষ দূত ইয়াং হি লি এ অভিমত ব্যক্ত করেন। ঢাকায় ৭ দিনের সফরের সমাপনী লগ্নে শুক্রবার শেষ বিকালে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তিনি ।
ইয়াং হি লি সংবাদ সম্মেলনে রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনের জন্য প্রেরণের আগে কারিগরি ও মানবিক বিষয়াদি নিয়ে পরিপূর্ণ সমীক্ষা করার লক্ষ্যে জাতিসংঘকে অনুমতি দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি কাঠামোগত বিষয়ে ঐক্যমত সিদ্ধান্তে না পৌঁছানোর আগে কোনো রোহিঙ্গাকে ভাষানচরে না পাঠানোর তাগিদ দিয়েছেন। এদিকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন শুক্রবার ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে ভাষানচরে এক লাখের মতো রোহিঙ্গাকে পাঠানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। ঢাকা সফরকারী জাতিসংঘ রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন সহসাই হচ্ছে না- এমন শঙ্কাও ব্যক্ত করে গেছেন।
রোহিঙ্গাদের তৃতীয় দেশে যাওয়া কোনো সমাধান নয়: এদিকে সংবাদ সম্মেলনে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক সংস্থার বিশেষ দূত ইয়াং হি লি রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে নিরাপদে ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারকে চাপ দেয়ার জন্য আন্তর্জাতিক সমপ্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
এছাড়া মিয়ানমারে সংঘটিত অপরাধ বিচারের লক্ষ্যে কোনো অপরাধ আদালত গঠিত হতে পারে বলেও অভিমত প্রকাশ করেন।
শুক্রবার রাজধানীর হোটেল মেরিডিয়ানে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। গত ১৯শে জানুয়ারি ৭ দিনের সফরে বাংলাদেশে আসেন ইয়াং হি লি। সফর শেষে এই সংবাদ সম্মেলনে রোহিঙ্গাদের নিয়ে তার পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। জাতিসংঘের বিশেষ দূত ইয়াং হি লি বলেন, রোহিঙ্গারা নিজ দেশে ফিরে যেতে চান। তাদের সেখানেই নিরাপদে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য মিয়ানমারকেই উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে হবে। তিনি এ সময় রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে নিরাপদে ফিরিয়ে নেয়ার জন্য মিয়ানমারকে চাপ দেয়ার জন্য আন্তর্জাতিক সমপ্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে জাতিসংঘের এই বিশেষ দূত বলেন, রোহিঙ্গাদের তৃতীয় দেশে পাঠানো কোনো সমাধান নয়। তাদের নিজ দেশে ফিরে যাওয়াটাই সমাধান। তিনি বলেন, বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এখন নির্বাচনের পর রোহিঙ্গাদের ফেরাতে সরকারের নতুন করে পরিকল্পনা নেয়া প্রয়োজন। ইয়াং হি লি বলেন, সৌদি আরব ও ভারত থেকে অনেক রোহিঙ্গাই ফিরে আসছেন। তাদের অনেককেই ফিরতে বাধ্য করা হচ্ছে। তিনি রোহিঙ্গাদের সেখানে আশ্রয় দেয়ার জন্য আহ্বান জানান।  জাতিসংঘের বিশেষ দূত ইয়াং হি লি ১৪-১৮ই জানুয়ারি থাইল্যান্ড সফর করছেন।
থাইল্যান্ড থেকে বাংলাদেশ সফরে আসেন। বাংলাদেশ সফরকালে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন। ভাষানচরে রোহিঙ্গাদের জন্য নির্মিত ক্যাম্পও দেখে এসেছেন তিনি। এছাড়া পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেনসহ সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে  বৈঠক করেন। ইয়াং হি লি তার সমাপনী সংবাদ সম্মেলনে রোহিঙ্গা পরিস্থিতির বিস্তারিত তুলে ধরেন। উল্লেখ্য, জাতিসংঘ মহাসচিবের এই বিশেষ দূত রোহিঙ্গা পরিস্থিতি দেখতে মিয়ানমার সফরে যেতে চাইলেও মিয়ানমার সরকার তাকে সে দেশে প্রবেশে অনুমতি দিচ্ছে না। বার্মায় যেতে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে তিনি বরাবর বাংলাদেশেই আসেন রোহিঙ্গা পরিস্থিতি দেখতে-বুঝতে।

ডাকসু নির্বাচন: সিদ্ধান্তহীনতায় ছাত্রদল by কাফি কামাল

দিন-তারিখ ঘোষণার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের তৎপরতা চলছে জোরেশোরে। আগামী ১১ই মার্চ অনুষ্ঠেয় এ নির্বাচনের ভোটার তালিকা প্রণয়ন, প্রধান ও অন্যান্য রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগ, নির্বাচনী আচরণবিধির খসড়া প্রণয়নসহ সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। আজ বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের সভায় ডাকসুর গঠনতন্ত্র সংশোধনী ও নির্বাচনী আচরণবিধি চূড়ান্ত হবে। দীর্ঘ ২৮ বছর পর ডাকসু নির্বাচন আয়োজন নিয়ে জমজমাট এখন ক্যাম্পাস। কিন্তু ডাকসু নির্বাচন ইস্যুতে এখনও কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি ছাত্রদল।
কয়েকদিন আগে ডাকসু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভিসির আমন্ত্রণে ক্যাম্পাসে গিয়েছিলেন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান। সেখানে ভিসির সঙ্গে সকল ছাত্রসংগঠন ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে বিরোধী রাজনৈতিক দল বিএনপির সহযোগী সংগঠন ছাত্রদলের প্রতিনিধিত্ব করেন তিনি। পরে তার সঙ্গে কোলাকুলি করেছেন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বানী।
এ দৃশ্য সকল রাজনৈতিক সংগঠনের সহাবস্থানের একটি দৃশ্য হলেও ছাত্রদল নেতারা বলছেন, সেটা ছিল ক্ষণিকের। বাস্তবে ক্যাম্পাসে সকল ছাত্রসংগঠনের সহাবস্থানের ন্যূনতম পরিবেশ নেই। সে পরিবেশ তৈরিতে কোনো আন্তরিক উদ্যোগও নেই ছাত্রলীগের। এমন পরিস্থিতিতে, ডাকসু নির্বাচন ইস্যুতে এখনও সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি ছাত্রদল। তবে এ ইস্যুতে ইতিমধ্যে আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক কয়েকদফা বৈঠক করেছেন নেতারা। সংগঠনের একাংশ নির্বাচনে অংশগ্রহণের পক্ষে এবং অন্য অংশটি বিপক্ষে তাদের যুক্তিতর্ক তুলে ধরেছেন দলীয় ফোরামে। যারা বিপক্ষে তারা ৩০শে ডিসেম্বর জাতীয় নির্বাচনের উদাহরণ টেনে আনছেন। অন্যদিকে যারা অংশগ্রহণের পক্ষে তারা বলছেন, পরিবেশ ও ফলাফল যাই হোক নির্বাচনে  অংশগ্রহণের মাধ্যমে ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের রাজনীতিকে নতুন করে বিকশিত করার সুযোগটি হাতছাড়া করা ঠিক হবে না।
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি আলমগীর হাসান সোহান বলেন, আমরাও নির্বাচনে যেতে চাই। কিন্তু ছাত্রসংগঠনগুলো সহাবস্থানের পরিবেশ, রাজনীতি করার অধিকার কোনোটিই এখন বিরাজমান নয় ক্যাম্পাসে। এ সমস্যাগুলো সমাধানের উদ্যোগ না নিয়ে ডাকসু নির্বাচন আয়োজন খুব বেশি ফলপ্রসূ হবে না। সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে দলীয় ফোরামে আলোচনা চলছে। শিগগিরই একটি সিদ্ধান্ত আসবে। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক কাজী মোকতার হোসেন বলেন, ডাকসু নির্বাচন নিয়ে ছাত্রদলে আলাপ-আলোচনা হচ্ছে। এ নির্বাচন নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে দুই ধরনের মতামত আছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের অনমনীয় আচরণের কারণে ডাকসু নির্বাচনের পরিবেশ ও ফলাফল কি হবে তা নিয়ে সবাই সন্দিহান। ফলে এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে আসেনি ছাত্রদল। তিনি বলেন, ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি- এ নির্বাচনে অংশ নিয়ে কোনো লাভ হবে না। কোটা বিরোধী আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা ডাকসু নির্বাচনে অংশ নেবে ঘোষণা দেয়ার পর তাদের ওপর ছাত্রলীগ তাদের স্বভাবগত আচরণ করছে। অন্যদিকে ছাত্রদলের সঙ্গে ছাত্রলীগের বর্তমান আচরণ বাহ্যিক। তারা ছাত্রদলকে নির্বাচনে নিয়ে ৩০শে ডিসেম্বরের মতো নির্বাচন ও ফল অনুকূলে নিতে চায়। সেটাকে বৈধতা দেয়ার জন্যই ছাত্রদলের সঙ্গে মেকি এ আচরণ করছে। কেন্দ্রীয় সমাজসেবা সম্পাদক আবদুর রহিম বলেন, এখনও সাংগঠনিকভাবে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সকল ছাত্রসংগঠনের সহাবস্থানের যে দাবি ছাত্রলীগ এখন পর্যন্ত তার আন্তরিক কোনো উদ্যোগ নেয়নি। ফলে এক ধরনের দ্বিধাদ্বন্দ্ব বিরাজ করছে।
এদিকে ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রদলের অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত না হলেও তারা অংশ নিলে কাদের প্রার্থী করা হতে পারে সে নিয়ে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। ছাত্রদলের সম্ভাব্য ভিপি-জিএস-এজিএস প্রার্থীদের নাম আলোচিত হচ্ছে ক্যাম্পাসের আলাপ-আলোচনায়। ছাত্রদলের নেতারা জানান, নিয়মিত ছাত্র, সাধারণ ছাত্রদের কাছে জনপ্রিয় এবং তাদের ভোট ও সমর্থন কাড়তে সমর্থ হবেন, এমন নেতাদেরই প্রার্থী করা হবে। ছাত্রত্ব না থাকায় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির সিনিয়র নেতারা এ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। এমনকি হল শাখার সিনিয়র নেতারাও অংশ নিতে পারবেন না। ফলে নির্বাচনে অংশ নিলে হল শাখার জুনিয়র নেতাদেরই ছাত্রদলকে বেছে নিতে হবে। ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা জানান, ছাত্রদল ডাকসু নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে কারা প্রার্থী হবেন এটা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।
ক্যাম্পাসের আলোচনায় উঠে আসা ছাত্রদলের সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন- মাস্টার দা সূর্য সেন হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক তৌহিদুল ইসলাম, আবদুল খালেক, মো. কাইউম-উল-হাসান, আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মাহফুজ চৌধুরী, জিয়া হল ছাত্রদলের সদস্য মো. ইমন, ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সাইদুর রহমান রাফসান, ফজলুল হক মুসলিম হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য নুরে আলম ভূঁইয়া ইমন, মহসিন হলের মো. মিনহাজুল হক, শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য বোরহান উদ্দীন নয়ন, জিয়া হলের যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান অনিক, এসএম হলের আরএম ইমন, বিজয় একাত্তর হলের তানজিল হাসান, এএফ রহমান হলের মো. জারিফ রহমান ও মো. হাসিবুল হাসান রাসেল। ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা জানান, ডাকসু নির্বাচনে অংশগ্রহণে আগ্রহী ছাত্রদলের আলোচিতদের মধ্যে সূর্যসেন হলের যুগ্ম আহ্বায়ক তৌহিদুল ইসলাম সাধারণ শিক্ষার্থীদের কোটাবিরোধী আন্দোলন ও নিরাপদ সড়ক আন্দোলন, ডাকসু নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনসহ ক্যাম্পাসকেন্দ্রিক আন্দোলন কর্মসূচিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। মাহফুজ চৌধুরীসহ কয়েকজন প্রতিকূল পরিবেশেও ক্যাম্পাসে সক্রিয় ছিলেন।

ত্রুটিপূর্ণ প্রক্রিয়া পোশাকখাতে অসন্তোষের কারণ

তৈরি পোশাক শ্রমিকদের মধ্যে মজুরি নিয়ে অসন্তোষের প্রধান অন্তরায় মজুরি কাঠামোর ত্রুটিপূর্ণ প্রক্রিয়া বলে জানিয়েছে ‘সেন্টার ফর ডায়ালগ পলিসি (সিপিডি)’। ঢাকার পার্শ্ববর্তী কয়েকটি এলাকার তৈরিপোশাক শ্রমিক ও মালিকদের ওপর করা পর্যালোচনায় এ তথ্য পাওয়া গেছে বলে সংস্থাটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। এছাড়া শ্রমিকদের কাছে বেতন বৃদ্ধির তথ্য ঠিকভাবে পৌঁছানোয় ঘাটতি রয়েছে বলেও সিপিডির পর্যালোচনায় উঠে এসেছে। গতকাল রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টার ইনে আয়োজিত ‘পোশাকখাতে সামপ্রতিক মজুরি বিতর্ক, কী শিখলাম?’ শীর্ষক সংলাপে সিপিডির করা গবেষণা পর্যালোচনা তুলে ধরেন গবেষক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম ও মোহাম্মদ আলী। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুন্সি। সিপিডির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান অর্থনীতিবিদ রেহমান সোবহানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের সঞ্চালনায় ছিলেন সিপিডির সম্মানীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। এছাড়া পোশাকশিল্প মালিক সংগঠনের নেতা এবং শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।
সিপিডির গবেষণা পর্যালোচনায় বলা হয়, সমপ্রতি নতুন মজুরি কাঠামো বাস্তবায়নের পর সেখানে কিছু অসঙ্গতি নিয়েই শুরু হয় শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ। যদিও সরকারের উদ্যোগে কয়েকটি মজুরি কাঠামোর গ্রেডে সংশোধন ও সংস্কার করলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
সংলাপে সিপিডি জানায়, ঢাকা, সাভার, আশুলিয়া, টঙ্গী, গাজীপুর অঞ্চলের ৬১ জন শ্রমিক, কারখানা মালিক ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এই প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। এছাড়া বেতনের দুই একটি গ্রেডের বেতন কাঠামো নিয়ে এখনও সমালোচনা রয়ে গেছে। এছাড়া সিপিডি পোশাক খাতের শ্রমিকদের অসন্তোষ দূর করতে বেশ কিছু সুপারিশ তুলে ধরেছে গবেষণা পর্যালোচনায়।
শ্রমিক অসন্তোষ দূর করতে একটি নির্দিষ্ট শ্রমিক প্রতিনিধি দল তৈরি করতে হবে বলে অনুষ্ঠানে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুন্সি। তিনি বলেন, তৈরিপোশাক খাতে শ্রমিকদের সব রকম অসন্তোষ দূর করতে হলে তাদের সব পক্ষ থেকে পাঁচজনের একটি প্রতিনিধিদল করা দরকার। যারা মালিক পক্ষসহ সরকারের সঙ্গে শ্রমিকদের প্রতিনিধিত্ব করবে। ভবিষ্যতে তাদের সঙ্গে কথা বলে আমরা সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা করব।
শ্রমিক নেতাদের পক্ষ থেকে জানানোর প্রেক্ষিতে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, কোনো শ্রমিকই অন্যায়ভাবে মামলায় জড়িয়ে না পড়ে সেদিক লক্ষ্য রাখতে হবে। বিনা কারণে যেন ঢালাওভাবে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দেয়া না হয়। এছাড়া কোনো শ্রমিককে যদি কোনো মালিক অন্যায়ভাবে ছাঁটাই করে সেটাও গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি বলেন, আমার কারখানার উদাহরণ টেনেই বলতে পারি একটি কারখানায় সকল শ্রমিক অন্যায়ে জড়ায় না। অল্পকিছু শ্রমিকের কারণে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অন্যদিকে দু-একটি কারখানার এমন অপ্রীতিকর ঘটনা এবং ত্রুটির কারণে অন্যান্য কারখানাগুলোকেও ইমেজ সংকটে পড়তে হয়।
মন্ত্রী বলেন, শ্রমিকদের বেতন বাড়ার কারণে উৎপাদন খরচ বাড়লেও বিদেশি ক্রেতারা সে তুলনায় পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি করছে না। ভবিষ্যতে বাড়বে এমন কোনো নিশ্চয়তাও নেই। এ নিয়ে আমাদের মতো একটি উন্নয়নশীল দেশে দীর্ঘমেয়াদে এই ব্যবসা করতে পারব কি-না তাও জানি না। ইফিসিয়েন্সি তো হঠাৎ করে বাড়বে না, বাড়ানোর জন্য তো চেষ্টা চলছে। আপনাদেরও সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, মালিকদের পক্ষ থেকে এবার বেতন কাঠমোতে সুপারিশ ছিল সর্বনিম্ন মজুরি সাত হাজার টাকা। তারা সব হিসাব মিলিয়ে এর বেশি পারবেন না বলেও জানিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর কাছে এটা নিয়ে যখন গেলাম তিনি আট হাজার টাকা করে দিলেন। এরপরে কারখানা মালিক শ্রমিক প্রতিনিধি মিলে এটা ঠিক করা হয়েছে। এছাড়া শ্রমিকদের অসন্তোষের পেছনে স্বার্থন্বেষী রাজনৈতিক দলের বি না কারণে অহেতুক বিবৃতিও রয়েছে বলে জানান। যেটা সাম্প্রতিক সময়ে দেখা গেছে।
আলোচনায় অংশ নিয়ে বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (এফবিসিসিআই) সভাপতি সফিউল ইসলাম শ্রমিক নেতাদের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ট্রেড ইউনিয়ন যেমন শ্রমিকের করার অধিকার রয়েছে, আবার না করারও অধিকার আছে। শ্রমিকদের এই অসন্তোষের পেছনে একটি গোষ্ঠী জড়িত থাকার কথা রয়েছে বলেও তিনি জানান। তিনি বলেন, রপ্তানিতে আমাদের চাহিদা কমছে। সব থেকে বড় ক্রেতা ইউরোপ এবং আমেরিকায় দরপতন হয়েছে। অথচ আমাদের উৎপাদন খরচ বেড়েই চলছে। এর বাইরে আমাদের প্রতিবেশী প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলো বসে আছে। তাদের রপ্তানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ কারণে বৈদেশিক ক্রেতাদের তেমন চাপ দেয়া যাচ্ছে না। তাহলে তারা অন্যদিকের বাজারে চলে যেতে পারে।
বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, আমরা বিভিন্নভাবে শ্রমিকদের সঙ্গে রেখে চলছি। আমাদের মালিকদের দুটি সংগঠন আর শ্রমিকদের সংগঠন রয়েছে শাতাধিক। যাদের অর্ধশতাংশের নিবন্ধন নেই। এরপরেও আমরা তাদেরও আলোচনায় ডাকি। তিনি বলেন, আমরা বিগত সময়ের বেতন নিয়ে শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা এবার বেতন নিয়ে খুশি। তাদের যে সামান্য অসন্তোষ ছিল তা এখন আর নেই। বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, আমি চাই শ্রমিকদের নূন্যতম বেতন।
এটাও চাই তাদের দক্ষতা দেখে বেতন দিতে। এরই মধ্যে রপ্তানিতে আমাদের ডিমান্ড কমেই চলছে। বেতন আমি ঠিক করলাম কিন্তু দিতে পারলাম না এটা হয় না। আলোচনায় আরও অংশ নেন সিপিডির ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, ডিসিসিআই’র সাবেক সভাপতি আসিফ ইব্রাহিম, শিল্প উদ্যোক্তা মুমীনুর রহমান, ফারুক আহমেদ, আরসাদ জামান দীপু, শহীদুল আজিম, শ্রমিক নেতা মন্টু ঘোষ, বাবুল আকতার, কাজী রুহুল আমিন, নুরুল ইসলাম প্রমুখ।

ডিসি বিপ্লবের রেকর্ড

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশে এ পর্যন্ত ২০ বার শ্রেষ্ঠ ডিসি মনোনীত হয়েছেন তেজগাঁও বিভাগের বিপ্লব কুমার সরকার। এ ছাড়া রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি হিসেবে ২০১৪ সালে পিপিএম ও ২০১৬ বিপিএম পদক পেয়েছেন। ২০১৯ সালে আবারো বিপিএম পদক পেতে যাচ্ছেন এ চৌকস পুলিশ কর্মকর্তা। ৪ঠা ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া পুলিশ সপ্তাহে তাকে এ পদক দেয়া হবে। পেশাগত মর্যাদার কারণে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কর্মকর্তাদের মধ্যে তাকে বলা হয় সেরাদের সেরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) আটটি বিভাগে বিভক্ত। এরমধ্যে নানা কারণেই অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ তেজগাঁও। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত সফলতার পরিচয় দিয়ে তেজগাঁও বিভাগ পুলিশকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিপ্লব কুমার সরকার।
তিনি মনে করেন, যেকোনো সেক্টরই হোক না কেন ঐকান্তিক প্রচেষ্টা থাকলে সফলতা আসবেই। কেউই একা সব কাজ করতে পারেন না। এজন্য দরকার টিমওয়ার্কিং, অদম্য চ্যালেঞ্জিং মানসিকতা ও ধৈর্য। তবে সর্বোপরি সমন্বয় করে কাজে সফলতা অর্জনই একজন পুলিশ অফিসারের আসল যোগ্যতা। ডিসি বিপ্লব কুমার সরকার ২০১৩ সালের ৭ই এপ্রিল থেকে দক্ষতার সঙ্গে নিজের দায়িত্ব পালন করে চলেছেন।
ডিএমপিতে এ পর্যন্ত ২০বার শ্রেষ্ঠ ডিসির পুরস্কার ও পিপিএম ও বিপিএম পদক পেয়েও সন্তুষ্ট নন নিজের সফলতা নিয়ে। তিনি চান আরো সফলতা। তেজগাঁও এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ডিসি হিসেবে সন্তুষ্ট কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে ডিসি বিপ্লব বলেন, তেজগাঁও এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সন্তুষ্টির সুযোগ নেই। ভালো অবস্থানে রয়েছি কিন্তু আত্মতৃপ্তিতে নেই। কারণ সফলতার শেষ নেই, আরো ভালো কিছু করার সুযোগ আমার রয়েছে।
আর আমি সে চেষ্টাটাই অব্যাহত রেখেছি। যতক্ষণ পর্যন্ত অপরাধমুক্ত করতে না পারবো ততক্ষণ চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। নতুন করে আবারো বিপিএম পদক পেতে যাচ্ছেন। আপনার অনুভূতি কি? তিনি বলেন, বিপিএম ও পিপিএম পদক পুলিশ সদস্য হিসেবে এক বড় অর্জন ও প্রাপ্তি। ২০১৪ সালে আমি প্রথম পিপিএম পদক পাই। এরপর ২০১৬ সালে বিপিএম পদক অর্জন করি। এবার আবারো বিপিএম পদক পেতে যাচ্ছি। যতদূর জেনেছি ফাইলটি বর্তমানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আছে। মূলত এক বছরের সফলতা ও ব্যর্থতার সার্বিক মূল্যায়ন করেই এই পদক দেয়া হয়। আবার নির্দিষ্ট কাজের ক্ষেত্রে ব্যাপক সফলতার কারণে দেয়া হয়ে থাকে। যেকোনো স্বীকৃতি কাজের আগ্রহ ও গতি বাড়িয়ে দেয়। পুলিশের সর্বোচ্চ এসব পদক আমাকে আনন্দিত করে।

ডাকসু নির্বাচন: সহাবস্থানই বড় চ্যালেঞ্জ by মুনির হোসেন

সব ছাত্র সংগঠনের সহাবস্থান নিশ্চিত করাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল ছাত্র সংসদ নির্বাচনের প্রধান চ্যালেঞ্জ। আগামী ১১ই মার্চ অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ডাকসু নির্বাচনের জন্য এখনো ক্যাম্পাসে সহাবস্থান নিশ্চিত হয়নি বলে দাবি ছাত্রলীগ ছাড়া অন্যান্য ছাত্র সংগঠন ও কোটা আন্দোলনের নেতাদের। অবশ্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে- ‘ক্যাম্পাসে সহাবস্থান আছে। কোথাও যদি কোনো ধরনের ব্যত্যয় ঘটে, তবে সকলের সহযোগিতায়  সহাবস্থান নিশ্চিত করতে হবে।’
ডাকসু নির্বাচনকে সামনে রেখে ইতিপূর্বে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে ছাত্র সংগঠনগুলোর যতগুলো সভা হয়েছে সবগুলোতেই প্রধান আলোচ্য বিষয় ছিল সহাবস্থান নিশ্চিত করা। ছাত্রদলসহ বিরোধী ছাত্র সংগঠনগুলো ক্যাম্পাসে এখনো অবাধে ক্লাস-পরীক্ষা দিতে পারছেন না বলে অভিযোগ করেছেন। অন্যদিকে ছাত্রলীগের দাবি ক্যাম্পাসে সহাবস্থান আছে। সবাই স্বাভাবিকভাবে ক্যাম্পাসে চলাফেরা করছে। ক্লাস-পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে।
গতকাল দুপুরে ডাকসু নির্বাচনের জন্য গঠিত আচরণবিধি প্রণয়ন কমিটির আহ্বায়ক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. নাসরীন আহমাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতারা। এসময় তারা পাঁচটি দাবি করেন। দাবিসমূহের মধ্যে রয়েছে- ক্যাম্পাসে সহাবস্থান নিশ্চিত করে সকল শিক্ষার্থী যাতে নির্বিঘ্নে ক্যাম্পাসে চলাফেরা করতে পারে; কোনো রাজনৈতিক সংগঠন যাতে ক্যাম্পাসে সকলের সহাবস্থানে কোনো প্রকার বাধা সৃষ্টি না করতে পারে; সম্প্রতি যারা শিক্ষক; শিক্ষার্থীদের ওপর বিভিন্ন ভাবে হামলা চালিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ এবং হলে আবাসিক শিক্ষার্থীরা যাতে কোনো প্রকারের নির্যাতন বা ভয়ভীতির সম্মুখীন না হয় তা নিশ্চিত করা এবং নির্বাচন সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য এবং সুষ্ঠু করার লক্ষ্যে তফসিল ঘোষণার আগেই ক্যাম্পাসে নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করা।
এদিকে ডাকসু নির্বাচনের দিনক্ষণ চূড়ান্ত হওয়ার পর থেকে ক্যাম্পাসকেন্দ্রিক নিজেদের তৎপরতা বাড়িয়েছে ছাত্র সংগঠনগুলো। মধুর ক্যান্টিনে নিয়মিত সময় দিচ্ছে ছাত্রলীগ। ক্যাম্পাসে শোডাউন করছেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। বাম ধারার ছাত্র সংগঠনগুলো নিয়মিত মধুর ক্যান্টিনে হাজির থাকছেন। বারবার নিজেরা বসছেন ডাকসু নির্বাচনে অংশ নিলে তার করণীয় নিয়ে। বিভিন্ন ইস্যুতে ক্যাম্পাসে মিছিল মিটিংও অব্যাহত রাখছেন তারা। অন্যদিকে ছাত্রলীগ ও বামসমর্থিত ছাত্র সংগঠনের যখন দৃশ্যমান তৎপরতা তখন অনেকটা ভেতরে থেকে ডাকসু নির্বাচন নিয়ে কাজ করছে ছাত্রদল ও কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের প্ল্যাটফরম বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। মধুর ক্যান্টিন তো নয়ই, ক্যাম্পাসের আশেপাশে ঘেঁষতে পারছে না ছাত্রদল। মাঝে মাঝে টিএসসিকেন্দ্রিক দেখা মেলে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের। স্বল্প সময় থেকে অবস্থান পরিবর্তন করছে তারা। এ ছাড়াও সংগঠনটির নেতাকর্মীরা নির্বিঘ্নে ক্লাস-পরীক্ষায়ও অংশ নিতে পারছেন না বলে অভিযোগ করেছেন। একই অবস্থা কোটা আন্দোলনের নেতাদের। মাঝে মাঝে ক্যাম্পাসে আসলেও তাড়াতাড়ি সরতে হচ্ছে। টিএসসিকেন্দ্রিক তাদের তৎপরতা বেশি। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার বাংলা একাডেমিতে কোটা আন্দোলনের নেতা নুরুল হক নুরুসহ কয়েকজন নেতাকে অবরুদ্ধ করার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে। যদিও ছাত্রলীগ সে অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
ক্যাম্পাসে সহাবস্থান নেই বলে অভিযোগ করেন ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার সিদ্দিকী। তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের পরিবেশ এখনো তৈরি হয়নি। আমরা বার বার বলার পরও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সকলের জন্য সমান সুযোগ তৈরিতে ব্যর্থ হয়েছেন। আমাদের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসে যেতে পারছেন না। তারা বাধা পাচ্ছেন। নির্বাচনের জন্য প্রধান যে শর্ত সহাবস্থান, সেটি নিশ্চিত না হলে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান হবে না।’
বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক হাসান বলেন, ‘ডাকসু নির্বাচনের জন্য অন্যতম যে বিষয় সহাবস্থান সেটি নিশ্চিত হয়নি এখনো। আমরা এখনো ক্যাম্পাসে স্বাধীনভাবে চলাফেরা ও ক্লাস-পরীক্ষায় অংশ নিতে পারছি না। গত বৃহস্পতিবারও আমাদের কয়েকজন নেতাকর্মীকে বাংলা একাডেমিতে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছিল। আমরা বিষয়টি নিয়ে রোববারও আচরণবিধি প্রণয়ন কমিটির প্রধান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. নাসরীন আহমাদ ম্যামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি। তিনি আমাদের আশ্বস্ত করেছেন যে- কেউ বাধা দেবে না সকলেই নির্বিঘ্নে ক্লাস-পরীক্ষায় অংশ নেয়া ও চলাফেরা করতে পারবে।’
প্রগতিশীল ছাত্রজোটের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সমন্বয়ক ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সভাপতি সালমান সিদ্দিকী বলেন, ‘ক্যাম্পাসে নির্বাচন করার মতো এখনো কোনো পরিবেশ তৈরি হয়নি। ক্যাম্পাসসহ হলগুলোতে এখনো ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের আধিপত্য ও দখলদারিত্ব চলছে। আমরা বারবার বলার পরও প্রশাসন সকলের জন্য সমান সুযোগ তৈরি করেনি।’
সহাবস্থানের বিষয়ে ভিন্ন মত দিয়েছেন ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সনজিৎ চন্দ্র দাস। তিনি বলেন, ‘ক্যাম্পাসে সহাবস্থান আছে। সকলেই সমান সুযোগ পাচ্ছে। ক্লাস-পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। তিনি বলেন, কোনো আদুভাইকে তো আর আমরা ক্যাম্পাসে নিয়ে আসতে পারি না। আর কোটা আন্দোলনকারীরা তো হচ্ছে জঙ্গি। যারা আমাদের ভিসি স্যারের বাসায় সন্ত্রাস করেছে। তাদের যদি সাধারণ শিক্ষার্থীরা প্রতিহত করে তাহলে তো আমাদের আর কিছু করার নেই। তিনি বলেন, সহাবস্থানের বিষয়ে ছাত্রলীগ বাধা দিচ্ছে বলে যে অভিযোগ এসেছে তার ভিত্তি নেই।’
সহাবস্থানের বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানী বলেন, ‘ক্যাম্পাসে সহাবস্থান আছে। সকল শিক্ষার্থী নিয়মিত ক্লাস-পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। কোথায়ও বাধা দেয়ার অভিযোগ আমরা পায়নি। তবে কেউ যদি বাধা পায় তাহলে তারা যেন আমাদের অবহিত করে।’
উল্লেখ্য, দীর্ঘ ২৮ বছর পর আগামী ১১ই মার্চ জাতীয় নেতৃত্ব তৈরির কারখানা বলে পরিচিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল ছাত্র সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা রয়েছে। গত ২৩শে জানুয়ারি নির্বাচনের দিনক্ষণ চূড়ান্ত করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান। ২০১২ সালে ২৫ সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীর রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে গত বছর ছয় মাসের মধ্যে ডাকসু নির্বাচন দেয়ার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয় আদালত। এরপর রায়ের পক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আপিল করলে রায় স্থগিত ও চূড়ান্তভাবে প্রধান বিচারপতি ডাকসু নির্বাচনের নির্দেশ দিলে নির্বাচনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। বিভিন্ন সময় ডাকসু নির্বাচনের জন্য সাধারণ শিক্ষার্থী ও বামসমর্থিত ছাত্র সংগঠনগুলো আন্দোলন করলেও আলোর মুখ দেখেনি। তবে ২০১৭ সালের নভেম্বরে ওয়ালিদ আশরাফ নামে সান্ধ্য কোর্সের এক শিক্ষার্থীর আন্দোলন ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। কর্তৃপক্ষও ডাকসু নির্বাচনের দৃশ্যমান পদক্ষেপ হাতে নেয়।
ইতিমধ্যে নির্বাচনকে সামনে রেখে ব্যাপক কর্মযজ্ঞ হাতে নিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। দুই দফায় পরিবেশ পরিষদের অন্তর্ভুক্ত ছাত্র সংগঠনগুলোর সঙ্গে আলোচনা করেছেন ভিসি। নিয়োগ দেয়া হয়েছে প্রধান নির্বাচনী রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ ছয় রিটার্নিং কর্মকর্তাকে। গঠন করা হয়েছে ১৫ সদস্যের উপদেষ্টা পরিষদ ও সাত সদস্যের আচরণবিধি প্রণয়ন কমিটি। আচরণবিধি প্রণয়ন কমিটি খসড়া একটি আচরণবিধি প্রণয়ন করেছে। ১৪টি ধারায় বিভক্ত আচরণবিধিটি গত শুক্রবার ছাত্র সংগঠনগুলোর কাছে পাঠানোও হয়, যাতে আপত্তির বিষয়ে জানানো হয়।

জামিনে মুক্তি পেলেন ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন

বাংলাদেশের সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। আজ (রোববার) রাত ৯টার দিকে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের কারা হেফাজত থেকে তিনি মুক্তি পান।
ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মাহবুবুল ইসলাম বলেন, ‘আদালত থেকে জামিনের সত্যায়িত অনুলিপি কারাগারে জমা দেওয়ার পর যাচাই-বাছাই শেষে রোববার রাত ৯টার দিকে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। তিনি গত কয়েক দিন ধরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন ছিলেন।’
গত ১৩ জানুয়ারি হাইকোর্ট ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে ১৫টি মানহানির মামলায় ছয় মাসের জামিন দেন। এর মধ্যে ১৪টি মামলায় জামিন স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন জানায় রাষ্ট্রপক্ষ। সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টিকে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে করা মানহানির ১৪ মামলায় ব্যারিস্টার মইনুলকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রাখে আপিল বিভাগ। ওই আদেশের ফলে শেরপুর, কুড়িগ্রাম, ভোলা, ঝিনাইদহ, রাজবাড়ী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ, কক্সবাজার, মাগুরা, নড়াইল, চট্টগ্রাম, যশোর ও নেত্রকোনায় মইনুলের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মোট ১৪ মামলায় জামিনে মুক্তি পান তিনি।
জামিন স্থগিতের আবেদনের ওপর রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মমতাজ উদ্দিন ফকির এবং মইনুল হোসেনের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন।
গত বছরের ১৬ অক্টোবর একাত্তর টিভির একটি টক শোতে সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টি লাইভে যুক্ত হওয়া ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে প্রশ্ন করেন- ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে আপনি যে হিসেবে উপস্থিত থাকেন, আপনি বলেছেন আপনি নাগরিক হিসেবে উপস্থিত থাকেন। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই বলছেন, আপনি জামায়াতের প্রতিনিধি হয়ে সেখানে উপস্থিত থাকেন।’
এই বক্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে রেগে গিয়ে ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন বলেন, ‘আপনার দুঃসাহসের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ দিচ্ছি। আপনি চরিত্রহীন বলে আমি মনে করতে চাই। আমার সঙ্গে জামায়াতের কানেকশনের কোনো প্রশ্নই নাই। আপনি এই প্রশ্ন করেছেন, আমার জন্য অত্যন্ত বিব্রতকর। অন্য প্রশ্ন করেন। শিক্ষিতা ভদ্র মহিলা হিসেবে অন্য প্রশ্ন করেন।’
মাসুদা ভাট্টিকে প্রকাশ্যে সরাসরি অনুষ্ঠানে চরিত্রহীন বলায় দেশজুড়ে সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরে এ মন্তব্যের জন্য ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন ব্যক্তিগতভাবে মাসুদা ভাট্টির কাছে ফোন করেন এবং লিখিতভাবে ক্ষমা চান।
তবে, এত সন্তুষ্ট না হয়ে মাসুদা ভাট্টি নিজে বারিস্টার মইনুলের বিরুদ্ধে একটি মানহানির মামলা করেন। এ ছাড়া, দেশের বিভিন্ন জেলায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করেন। এ অবস্থায় রংপুরে করা মানহানির এক মামলায় গত বছরের ২২ অক্টোবর রাতে রাজধানীর উত্তরায় জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রবের বাসা থেকে মইনুল হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) কার্যালয়ে নেওয়া হয়। পরে আদালতে আনা হলে বিচারক তাকে জামিন না দিয়ে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এরপর তাকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে রংপুরের কারাগারে পাঠানো হয়।
মাসুদা ভাট্টি