Thursday, February 12, 2026
এপস্টিন নথিতে গোপন করা ছয় ব্যক্তির নাম প্রকাশ
খান্নার প্রকাশ করা ছয় ব্যক্তি হলেন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ব্র্যান্ড ভিক্টোরিয়াস সিক্রেটের প্রতিষ্ঠাতা লেসলি ‘লেস’ ওয়েক্সনার, সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক বহুজাতিক বন্দর ও লজিস্টিকস কোম্পানি ডিপিওয়ার্ল্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুলতান আহমেদ বিন সুলাইয়েম, ইতালির রাজনীতিবিদ নিকোলা কাপুতো। এ ছাড়া আরও তিনজন হচ্ছেন সালভাতোরে নুয়ারা, জুরাব মিকেলাদজে ও লিওনিক লিওনভ। তবে শেষের এই তিনজনের পরিচয় এখনো স্পষ্ট নয়।
খান্না বলেন, ‘দুই ঘণ্টায় যদি আমরা ছয়জনের নাম খুঁজে পাই, তাহলে ৩০ লাখ পৃষ্ঠার নথিতে আরও কত নাম গোপন রাখা হয়েছে, তা কল্পনা করুন।’ ক্যালিফোর্নিয়া থেকে নির্বাচিত এই ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি বলেন, নামগুলো চিহ্নিত করার পর বিচার বিভাগের কর্মকর্তারা নিজেদের ভুলের কথা স্বীকার করেন। তবে এখনো অনেক নাম গোপন রয়ে গেছে।
লেসলি ওয়েক্সনারের সঙ্গে এপস্টিনের দীর্ঘদিনের আর্থিক সম্পর্ক ছিল। নিউইয়র্ক টাইমস–এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়, এপস্টিনের আর্থিক উত্থানে ওয়েক্সনার বড় ভূমিকা রাখেন। সাম্প্রতিক নথিতে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা (এফবিআই) তাঁকে এপস্টিনের ‘সহষড়যন্ত্রকারী’ হিসেবে চিহ্নিত করেছিল বলে উল্লেখ রয়েছে। তবে তাঁর বিরুদ্ধে এপস্টিন–সম্পর্কিত কোনো ফৌজদারি অভিযোগ নেই।
প্রকাশিত নথিতে সুলতান আহমেদ বিন সুলাইয়েমের সঙ্গে এপস্টিনের ই–মেইল যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে। টমাস ম্যাসির দাবি, একটি ই–মেইলে এপস্টিনকে পাঠানো বার্তার প্রাপক ছিলেন তিনি। তবে তাঁর বিরুদ্ধেও কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়নি।
অন্য চারজন নিকোলা কাপুতো, সালভাতোরে নুয়ারা, জুরাব মিকেলাদজে ও লিওনিক লিওনভ—সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো জানা যায়নি।
এপস্টিন ২০০৮ সালে অপ্রাপ্তবয়স্ক এক মেয়েকে যৌনকাজে প্ররোচিত করার অভিযোগ স্বীকার করেন এবং ১৩ মাস কারাদণ্ড ভোগ করেন। ২০১৯ সালে নিউইয়র্কের একটি কারাগারে আত্মহত্যা করেন তিনি। তাঁর বিরুদ্ধে তখন যৌনকর্মী পাচারের মামলা চলছিল।
গত মাসের শেষ দিকে এপস্টিন–সংক্রান্ত ৩০ লাখ পৃষ্ঠার বেশি নথি প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ। এসব নথিতে বিভিন্ন ব্যক্তি এপস্টিনের সঙ্গে ই–মেইল, যোগাযোগ বা অন্য সূত্রে যুক্ত ছিলেন বলে উল্লেখ রয়েছে। তবে নথিতে কারও নাম থাকা মানেই অপরাধে জড়িত থাকার প্রমাণ নয়।
![]() |
| যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক নারীদের সৌন্দর্যপণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ভিক্টোরিয়াস সিক্রেটের প্রতিষ্ঠাতা লেসলি ‘লেস’ ওয়েক্সনার (বাঁয়ে) এবং ডিপি ওয়ার্ল্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুলতান আহমেদ বিন সুলাইয়েম। ফাইল ছবি: রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মিয়ানমারে নির্বাচন শেষে যে রাজনৈতিক মোড়বদল ঘটছে by আলতাফ পারভেজ
বাংলাদেশে নির্বাচনী প্রচারণার মধ্যেই মিয়ানমারে ভোট হয়ে গেল। তিন পর্যায়ে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচন শেষ হলো ২৫ জানুয়ারি। সশস্ত্র বাহিনীর অধীনে ও তত্ত্বাবধানেই এই নির্বাচন হয়। নতুন সরকার গঠন শেষে ‘তাতমা-দ’ নামে পরিচিত দেশটির সশস্ত্র বাহিনী দেশব্যাপী গেরিলা প্রতিরোধ দমনে নতুন অভিযানে নামবে বলে ধারণা করা হচ্ছে—যার একটা অংশ হতে পারে রাখাইন বা আরাকান প্রদেশে আরাকান আর্মির বিরুদ্ধেও। কাছাকাছি সময়ে বাংলাদেশেও নতুন সরকার দায়িত্ব নেবে।
নির্বাচন ও নতুন বেসামরিক সরকার গঠনের ডামাডোলের মধ্যে মিয়ানমারের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান গেরিলা প্রতিরোধযুদ্ধের সাংগঠনিক কাঠামোতেও একটা মোড়বদল ঘটছে এবং তার সঙ্গে গভীর যোগ রয়েছে ভূরাজনীতির, যা বাংলাদেশের সম্ভাব্য নতুন সরকারের মনোযোগ দাবি করছে।
নির্বাচনের মাধ্যমে জেনারেলদের ‘ছদ্ম সরকার’
যদিও এই ১ ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারে সামরিক বাহিনীর ক্ষমতা দখলের পাঁচ বছর পূর্তি হলো, তবে সামান্য ব্যতিক্রম ছাড়া দেশটি গত আট দশক সামরিক ছত্রচ্ছায়াতেই আছে। প্রধান রাজনীতিবিদ অং সান সু চি পাঁচ ধরে কারাগারে বন্দী। তাতমা-দ–এর ধরপাকড়ের মুখে তাঁর দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি বা এনএলডির প্রায় কোনো নেতা আর প্রকাশ্যে নেই।
চলমান সামরিক শাসনকে কিছুটা বেসামরিক আবরণ দিতেই সম্প্রতি নির্বাচন দেন জান্তাপ্রধান জেনারেল মিন অং হ্লাই। তবে নির্বাচনের আগে সামরিক শাসনের বিরোধিতাকারী রাজনৈতিক দলগুলোর নিবন্ধন বাতিল করে নেওয়া হয়। জান্তার অনুমোদন পাওয়া ছয়টি দল কেবল জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেয়। এনএলডির পাশাপাশি প্রধান আঞ্চলিক দল শান ন্যাশনালিস্ট লিগ ফর ডেমোক্রেসিও নির্বাচনে ছিল না।
মিয়ানমারের প্রশাসনিক কাঠামো সম্পর্কে অবহিত ব্যক্তিরা জানেন, নির্বাচন শেষে নতুন সরকারেও ক্ষমতার লাগাম জেনারেলদের হাতে থাকবে। আগামী মাসে নতুন সরকার দায়িত্ব নেবে বলে আশা করা হচ্ছে। বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী, যেকোনো বেসামরিক সরকারে স্বরাষ্ট্র, প্রতিরক্ষা ও সীমান্তবিষয়ক মন্ত্রণালয় সশস্ত্র বাহিনীর হাতে থাকে এবং পার্লামেন্টের উভয় কক্ষে ২৫ শতাংশ আসন সশস্ত্র বাহিনীর জন্য সংরক্ষিত রাখার নিয়ম। ফলে নতুন সরকারেও তাদের চূড়ান্ত প্রভাব থাকবে।
তা ছাড়া যে দলটি নির্বাচন শেষে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে, সেই ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি বা ইউএসডিপি প্রতিষ্ঠা হয়েছে সাবেক জেনারেলদের মাধ্যমেই ২০১০-এ। এখন দলটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন সাবেক পুলিশপ্রধান খিন ই। দলটি ২০২১–এর সামরিক অভ্যুত্থান সমর্থনও করেছিল।
এনএলডির নিবন্ধন বাতিল করিয়ে ইউএসডিপিকে পার্লামেন্টে প্রধান দল হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনী নির্বাচনী ব্যবস্থায়ও পরিবর্তন ঘটাল এবার। সংসদের একটা কক্ষে এবং প্রাদেশিক পরিষদগুলোতে আসনের একাংশ নির্বাচনে অংশ নেওয়া দলগুলোকে ভোটের সংখ্যানুপাতে বরাদ্দ করা হচ্ছে। ভোটে আসা সব দলকে পার্লামেন্টে কিছু আসন দিয়ে সন্তুষ্ট রাখার লক্ষ্যে এটা করা হলো। এ রকম সব উপায়ে সম্ভাব্য যে বেসামরিক শাসন শুরু হতে যাচ্ছে, তাতে ফেব্রুয়ারির পরও সেনাছাউনির প্রভাব আগের মতোই থাকবে। প্রতিবেশী দেশগুলোকেও তাই দ্বিপক্ষীয় বিষয়ে তাতমা-দ–এর জেনারেলদের সঙ্গেই বোঝাপড়ায় আসতে হবে।
নির্বাচনকালে শঙ্কার চেয়ে কম গোলযোগ হওয়ায় জেনারেলদের আন্তর্জাতিক পরিসরে অগণতান্ত্রিক ভাবমূর্তি আড়াল করার কিছুটা সুযোগ তৈরি হয়েছে। পশ্চিমের সংবাদমাধ্যমগুলো নির্বাচনকে ক্রমাগত ‘সাজানো’ হিসেবে উল্লেখ করলেও মিয়ানমারের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের মনোভাব ট্রাম্পের আমলে কিছুটা নমনীয় দেখা যাচ্ছে।
অস্তিত্বের সংকটে সু চির সমর্থক এনইউজি
মিয়ানমারে সশস্ত্র বাহিনীর প্রাদেশিক প্রতিপক্ষ বহু। জাতীয় পর্যায়ে বিরোধীপক্ষ মূলত নিষিদ্ধ এনএলডি। এই দল–প্রভাবিত দেশটির গণতন্ত্রপন্থী প্রবাসী সরকার (ন্যাশনাল ইউনিটি গভর্নমেন্ট বা এনইউজি) গত ২৮ ডিসেম্বর নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করে একটা বিবৃতি দেয়। সেখানে প্রত্যাখ্যানের কারণ হিসেবে বলা হয়, ২০২০–এর নির্বাচনে বিজয়ীদের কাছ থেকে ক্ষমতা কেড়ে নেওয়াকে তারা এখনো অবৈধ মনে করে। তা ছাড়া বর্তমান সংবিধানের অধীনে কোনো নির্বাচন মিয়ানমারের রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান করতে পারবে বলে মনে করে না তারা। ‘প্রবাসী সরকার’ নাগরিকদের প্রতি নির্বাচন বর্জনের আহ্বান জানিয়েছিল। তবে নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবেই শেষ হয়েছে, যদিও ভোটে উৎসাহ-উদ্দীপনা ছিল না।
সামরিক জান্তার নির্দেশমতো শ্রমিক-কর্মচারীদের ভোট দিতে বাড়িতে যাওয়ার পর্যাপ্ত ছুটি দেওয়া হয়। প্রশাসন নানাভাবে এ–ও জানিয়েছে, যেসব এলাকায় ভোট কম হবে, সেখানে প্রশাসনিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এনইউজির গেরিলাদের নিয়ন্ত্রণে দেশের কিছু কিছু এলাকা থাকলেও তাদের শক্তি এত বেশি ছিল না যে ব্যাপকভাবে সামরিক বাহিনীর নির্বাচনী কর্মসূচি প্রতিরোধ করতে পারে। সরকারের দাপ্তরিক দাবি, ৩৩০টি টাউনশিপের ২৬৫টিতে তারা নির্বাচন করিয়েছে। বাকিগুলো গেরিলানিয়ন্ত্রিত এলাকা বলে অনুমান করা হয়।
প্রবাসী জাতীয় ঐকমত্যের সরকার বলছে, তাদের ভাষায়, ‘প্রহসনমূলক’ এই নির্বাচন শেষেও সামরিক বাহিনীর প্রকাশ্য ও ছদ্ম শাসন উৎখাত এবং তাদের সংবিধান বাতিল করে ফেডারেলধর্মী মিয়ানমার গড়তে সব জাতিসত্তাকে নিয়ে গণতান্ত্রিক সংবিধান তৈরির রাজনৈতিক লক্ষ্যে কাজ চালিয়ে যাবে তারা।
পর্যবেক্ষকেরা অবশ্য মনে করছেন, সশস্ত্র বাহিনী যে নির্বাচন করে ফেলতে পারল, এটা প্রবাসী সরকারের জন্য বড় এক ধাক্কা। দীর্ঘ পাঁচ বছরেও জান্তার বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক সফলতা না আসায় জনগণ ভবিষ্যতে তাদের ব্যাপারে উৎসাহ না–ও দেখাতে পারে। ফলে তাদের সামনে এখন নতুন করে সংগ্রাম পুনর্গঠনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।
গেরিলা সংগ্রাম গঠন-পুনর্গঠনের নতুন পর্ব
মিয়ানমার গেরিলাযুদ্ধের দেশ হিসেবে পরিচিত। সব প্রদেশ ও বিভাগে কোনো না কোনো জাতির গেরিলা সংগঠন সক্রিয় সেখানে। তবে নির্বাচনের পর রাজনৈতিকভাবে পক্ষ দাঁড়াচ্ছে তিনটি—সশস্ত্র বাহিনী, বেসামরিক সরকার ও গেরিলা সংগঠনগুলো।
২০২১–এর আগে গৃহযুদ্ধের ভরকেন্দ্র ছিল প্রান্তিক সীমান্তপ্রদেশগুলো। কিন্তু এনএলডির কাছ থেকে নির্বাচনী ফল ছিনতাই করে তাকে নিষিদ্ধ করার পর জাতীয়ভাবে সু চির সমর্থক বামার তরুণেরাও গণতন্ত্র উদ্ধারে অস্ত্র হাতে নেন। এ রকম সব গেরিলা গোষ্ঠী নানাভাবে বিভক্ত। তাদের বিভক্ত রাখা এবং পরস্পরের বিরুদ্ধে লাগিয়ে রাখার ক্ষেত্রে সামরিক জান্তার পাশাপাশি গণচীনেরও পরোক্ষ, কিন্তু সক্রিয় ভূমিকা আছে।
জাতীয়ভাবে একক কোনো নেতৃত্বের অধীনে না থাকা এবং বিচ্ছিন্নভাবে কাজ করার ধারা গেরিলা সংগঠনগুলোকে অস্তিত্বের সংকটে ফেলেছে এখন। পরিস্থিতি সামলাতে অনেক অঞ্চলে এ রকম সংগঠনগুলো জান্তার সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তি করে টিকে আছে। ২০২৩ থেকে গেরিলাদের নিয়ন্ত্রণে থাকা অনেক এলাকা সম্প্রতি কেড়ে নিতেও সক্ষম হয়েছে তাতমা-দ। দৃঢ় সামরিক কমান্ড এবং চীন-রাশিয়া থেকে রসদের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ গেরিলাদের থেকে এগিয়ে রাখছে তাদের। তবে তাতমা-দ যেহেতু দেশটির মূল রাজনৈতিক সমস্যাগুলোর কোনো সমাধান দিতে পারছে না বা দিতে অনিচ্ছুক, সেই কারণে গৃহযুদ্ধ তুষের আগুনের মতো জ্বলছেই।
গেরিলাদের জন্য এখনকার সময়টা ভাটার মতো। সেটা বিবেচনায় নিয়ে গত কয়েক মাসে দেশজুড়ে এ রকম সংগঠনগুলো সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক পর্যালোচনায় নেমেছে। তারই ফল হিসেবে ছোট ছোট ১৯টি গেরিলা সংগঠনের একটি জোটের আত্মপ্রকাশ ঘটেছে গত ১৫ ডিসেম্বর। এটা সরকারবিরোধী বহুল আলোচিত ‘থ্রি ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্স’–এর বাইরের ঘটনা, যা পর্যবেক্ষকদের বিশেষ মনোযোগ কাড়ছে।
এসআরএর আত্মপ্রকাশ
মিয়ানমারজুড়ে তিন ধারার গেরিলা সংগঠন রয়েছে এ মুহূর্তে। কেন্দ্রীয় সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে রয়েছে কিছু দল। এর মধ্যে আবার দুটি উপধারা আছে। একদল বহুকাল ধরে যুদ্ধবিরতিতে আছে। যেমন শান প্রদেশের ওয়া আর্মি। আবার কিছু কিছু দল সম্প্রতি যুদ্ধবিরতিতে গেছে, মূলত চীনের চাপে। যেমন তাঙ ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি বা টিএনএলএ (কিছুদিন আগেও টিএনএলএ থ্রি ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্সের সদস্য হিসেবে সরকারের সঙ্গে সংঘাত ছিল)।
দ্বিতীয় একগুচ্ছ গেরিলা দল আছে, যারা কেন্দ্রীয় আর্মির সঙ্গে ব্যাপক যুদ্ধে লিপ্ত। যেমন আরাকান আর্মি, কাচিন আর্মি। ভারত–সংলগ্ন চিন প্রদেশের কিছু কিছু সংগঠনও এ রকম লড়াইয়ে আছে। প্রবাসী সরকার–সমর্থিত বিভিন্ন এলাকার পিপলস ডিফেন্স ফোর্সগুলোকেও এই তালিকায় রাখা যায়। এর বাইরেও দেশজুড়ে সরকারবিরোধী ছোট ছোট অনেক গেরিলা সংগঠন গড়ে উঠেছে ২০২১–এর পর থেকে। তৃতীয় ধারার এই গ্রুপগুলো গত ১৫ ডিসেম্বর জোটবদ্ধ হওয়ার ঘোষণা দিয়ে বিশেষ নজর কেড়েছে। ‘স্প্রিং রেভোল্যুশন অ্যালায়েন্স’ বা এসআরএ নাম নিয়েছে তারা।
এসআরএ যে দেশটির সরকারবিরোধী খ্যাতনামা প্রাদেশিক গেরিলা সংগঠনগুলোকে বাদ দিয়েই গড়ে উঠেছে—সেটা বেশ অভিনব। থ্রি ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্সের কোনো সদস্য এই জোটে নেই। এসআরএ বলছে, তারা জোটবদ্ধ হওয়ার আগে কাচিন আর্মি, আরাকানি আর্মিসহ সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত বড় সংগঠনগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে নিয়েছে। এই জোট তাতমা-দ–বিরোধী সামরিক প্রতিরোধ সমন্বয় করতে আগ্রহী এবং একই সঙ্গে তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে নাগরিক সুবিধার বিকল্প কাঠামো (মোবাইল ক্লিনিক, স্কুল ইত্যাদি) গড়ে তুলতে চায়।
এসআরএর আওতায় সম্মিলিতভাবে ১০ থেকে ১৫ হাজার সদস্য রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এর কেন্দ্রীয় পরিচালনা কমিটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন ৪২ বছর বয়সী খ্রিষ্টান কারেন খুন বেদু। তিনি কাইয়া প্রদেশের কারেননি ডিফেন্স ফোর্সের একজন নেতা। ব্রিটেনসহ ইউরোপীয় অনেক দেশের রাজনৈতিক চাপে ২০১২ সালে কারাগার থেকে ছাড়া পেয়েছিলেন বেদু। তাঁর ভাষায়, বিচ্ছিন্ন লড়াই একটা কৌশলগত সংকট। এসআরএ–ভুক্তরা পারস্পরিক গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং অন্যান্য কাঠামোগত সহায়তায় চুক্তিবদ্ধ হয়েছে। প্রত্যেকের এলাকায় বেসামরিক প্রশাসন পরিচালনায় সম্পদ লেনদেনও তাদের সমঝোতায় রয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় ধীরে ধীরে তারা একক কমান্ডের অধীনে বিকল্প ফেডারেল সেনাবাহিনী গড়ার দিকে যেতে চায়।
মিয়ানমারে গণতন্ত্রপন্থী প্রবাসী সরকারের ঘোষিত একটা লক্ষ্য, ফেডারেল রাজনৈতিক ব্যবস্থার পাশাপাশি একই ধাঁচের কেন্দ্রীয় সেনাবাহিনী গঠন। এসআরএ এনইউজির রাজনৈতিক লক্ষ্যের সঙ্গে সমন্বয় করে চলতে আগ্রহী বলে মনে হচ্ছে। তবে নতুন এই গেরিলা জোট পুরোপুরি এনইউজি–নিয়ন্ত্রিত নয়।
অনেকের ধারণা, সামনের দিনগুলোতে এনইউজি রাজনৈতিক-সামরিক সংগ্রামে নেতৃত্ব দিতে অসমর্থ হলে এসআরএ সেই জায়গা দখল করবে এবং কাচিন, কারেন, রাখাইন ও চিনদের পুরোনো সংগঠনগুলোও সম্ভবত তা–ই চাইছে। কিছু ইউরোপীয় শক্তিও মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক সংগ্রামের এ রকম পুনর্বিন্যাসে উৎসাহী—যেখানে অং সান সু চির মতো পুরোনো বামার একক নেতৃত্বের বদলে বহু জাতিসত্তার সংগঠকদের যৌথ নেতৃত্ব জান্তাকে চ্যালেঞ্জ করবে। এসআরএ জোট সামরিকভাবে চীনকে প্রতিপক্ষ হিসেবে বিবেচনা করছে, যা ভূরাজনৈতিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। মিয়ানমারের গেরিলা সংস্কৃতিতে এটা বেশ নতুন ঘটনা।
নতুন সংঘাতের শঙ্কায় আরাকান
কাচিন, রাখাইন বা কারেনসহ মিয়ানমারের দক্ষিণ-পশ্চিম এলাকার বড় গেরিলা সংগঠনগুলো যে জাতীয়ভাবে এসআরএ জোট গড়ে ওঠায় সবুজ সংকেত দিয়েছে, তার কিছু বাস্তব কারণ রয়েছে। নতুন সরকার গঠন শেষ হলেই কেন্দ্রীয় সেনাবাহিনী সব অঞ্চলে বিরুদ্ধবাদীদের লক্ষ্য করে সামরিক অভিযানে নামবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে বিশেষ আতঙ্ক রয়েছে আরাকানে; যদিও এই প্রদেশের বড় অংশ আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে, কিন্তু রাজধানী সিত্তিউই, শিল্পশহর চাইয়াকফুসহ দক্ষিণের ২-৩টি গুরুত্বপূর্ণ টাউনশিপের পতন ঘটাতে পারেনি তারা। আবার উত্তরে মংডুর দিকের রোহিঙ্গাদের প্রতিরোধসংগ্রামও মোকাবিলা করতে হচ্ছে তাদের। বাংলাদেশ–সংলগ্ন সীমান্তচৌকিগুলোতে গত বছর কেন্দ্রীয় সশস্ত্র বাহিনীর জওয়ানদের ফেলে যাওয়া অস্ত্রপাতি পেয়ে অনেক রোহিঙ্গা উপদল এখন বেশ উজ্জীবিত অবস্থায় আছে।
এসব কারণে আরাকান আর্মির জন্য সামনের সময়টা খুব চ্যালেঞ্জিং। কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে এনইউজির অনুগতও নয় তারা। ফলে তাতমা-দ–এর ভবিষ্যৎ আক্রমণের মুখে টিকে থাকার চেষ্টায় নামা সব প্রদেশের ছোট-বড় গেরিলা সংগঠনগুলোর মধ্যে সমন্বয়ে যুক্ত আছে তারাও। এসআরএর গঠন সেই লক্ষ্যেই। এতে দেশটির কেন্দ্রীয় বামার অঞ্চলের সঙ্গে প্রান্তিক অন্য জাতির প্রদেশগুলোর গেরিলাদের যোগাযোগের কাঠামো গড়ে উঠল। তবে খুন বেদুর মতো তরুণদের নেতৃত্ব সব জাতিসত্তার সশস্ত্র ধারার পুরোনো নেতারা মেনে নেবেন কি না, সেই বিষয়ে অনিশ্চয়তা আছে। আবার সামরিকভাবে টিকে থাকার পাশাপাশি আরাকানসহ সর্বত্র তাতমা-দ–বিরোধীদের অর্থনৈতিকভাবে টিকে থাকার বিষয়ও বড় প্রশ্ন হিসেবে আছে।
* আলতাফ পারভেজ, গবেষক
- মতামত লেখকের নিজস্ব
| মিয়ানমারে জাতীয় নির্বাচনের সময় একটি কেন্দ্র ঘুরে দেখছেন দেশটির জান্তা সরকারের প্রধান মিন অং হ্লাইং। ছবি : এএফি |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মানুষের কাছে ভোট কেন এত বড় উৎসব by মনোজ দে
শেষ দিনের নির্বাচনী প্রচারণায় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী নির্বাচনে কোনো কারসাজি হয় কি না, সে উদ্বেগ জানিয়েছে। তারেক রহমান বলেছেন, ভোটের অধিকার কেড়ে নিতে একটি পক্ষ ষড়যন্ত্র করছে। শফিকুর রহমান বলেছেন, নির্বাচন হাইজ্যাক করার চিন্তা করছে একটি পক্ষ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘প্রশাসনিক ক্যু’, ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
কিন্তু ভোটের ছুটির এক দিন আগে মঙ্গলবার সকাল থেকেই বাস, ট্রেন ও লঞ্চে করে ঠাসাঠাসি ভিড়ে ঢাকাসহ বড় শহরগুলো থেকে মানুষ যেভাবে ভোট দিতে বাড়ির দিকে যাচ্ছেন, তাতে উৎসবের চিত্রই মনে করিয়ে দেয়। চার দিনের সঙ্গে অনেকে বাড়তি ছুটি নিয়ে পরিবারের সবাইকে নিয়ে গ্রামে ফিরেছেন। ঈদের ছুটির মতোই অনেককে বাড়ি ফিরতে বাড়তি ভাড়া গুনতে হয়েছে।
ঢাকার ভেতরে চলাচল করা বাসগুলো ছুটেছে দূরপাল্লার পথে। মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকেই ঢাকা কার্যত ‘গরিবের টেসলার’ নগরীতে পরিণত হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে ফাঁকা ভোটের আগের ঢাকার সঙ্গে ঈদের ছবির ঢাকা বলে ফেসবুকে ছবি ও ভিডিও দিয়েছেন। আজ বুধবার সকালে মৌচাক থেকে কারওয়ান বাজারে অফিস আসার পথে ষাটোর্ধ্ব ‘টেসলাচালক’ বলেন, ‘একানব্বইয়ের পর কোনো নির্বাচনে এমন ফাঁকা ঢাকা তিনি দেখেননি।’
বাংলাদেশের মানুষের কাছে ভোট প্রকৃতপক্ষেই উৎসব। আবার পাঁচ বছর পর এক দিনের জন্য নিজের মর্যাদা, ক্ষমতা ফিরে পাওয়ার দিন। সারা বছর বাজারে গিয়ে ভালো মাছটা দেখেও কিনতে না পারার গ্লানি, চিকিৎসা নিতে গিয়ে ঋণগ্রস্ত হয়ে যাওয়ার বোঝা, সন্তানকে ভালো স্কুলে পড়াতে না পারার বেদনা, রাস্তাঘাটে চলতে গিয়ে অপমান-লাঞ্ছনার শিকার হওয়ার ক্ষোভ—এ সবকিছুর জবাব দেওয়ার একটা সুযোগ পাঁচ বছর পরই তো তাঁদের সামনে আসে।
বাংলাদেশে সর্বশেষ ভালো আর প্রতিদ্বন্দ্বিতার নির্বাচন হয়েছে ২০০৮ সালের ডিসেম্বর মাসে। সেই নির্বাচনের সময় যাঁদের বয়স দু-তিন বছর, তাঁরা এবারে নির্বাচনে প্রথম ভোটার। বলতে গেলে জনম থেকেই তাঁরা দেখেননি নির্বাচন আসলে কেমন হয়। আওয়ামী লীগ আমলে পরপর তিনটি একতরফা, রাতের ভোট ও আমি-ডামির নির্বাচন হয়েছে। সেখানে দেশের সব মানুষই ফলাফল। নতুন ভোটার এবং আগের তিনটি নির্বাচনে ভোট না দিতে পারা ভোটার মিলিয়ে (১৮-৩৩ বছর পর্যন্ত) প্রায় সাড়ে চার কোটি ভোটার। ১২ কোটি ৭৬ লাখ ভোটারের ৩ ভাগের ১ ভাগ। ফলে অনেক আসনেই এই ভোট না দিতে পারা ও প্রথমবার ভোট দিতে ভোটাররা যে বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠবেন, সেটা বলাই বাহুল্য।
চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আগপর্যন্ত দেশে রাজনৈতিক পরিবর্তন হতে পারে—এটা বিশ্বাস করা লোকের সংখ্যা খুব কমই ছিল। দেশের বড় অংশের মানুষ ভেবে নিয়েছিলেন, হাসিনার কর্তৃত্ববাদী শাসন এ দেশের নিয়তি। সেই বিশ্বাসটা প্রবল আঘাতে ভেঙে দিয়েছিল জেন-জি প্রজন্ম। প্রায় দেড় হাজার ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগ জনগণের মধ্যে পরিবর্তনের বিশাল আকাঙ্ক্ষা তৈরি করে।
তরুণ প্রজন্ম রাজনীতিতে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা তৈরি করলেও এবারে নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা মূলত বিএনপি ও জামায়াতের মতো পুরোনো ধারার রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেই হচ্ছে। আমাদের দেশে পরিবার থেকেই সাধারণত রাজনৈতিক বিশ্বাসের ভিত তৈরি হয়। তবে এবারে তরুণ ভোটাররা মূলত ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে কোন দল পরিবর্তনের কতটা পক্ষে অবস্থান করছে, সেটা বিবেচনায় নেবেন। ৬ কোটি ২৮ লাখ নারী ভোটারের বড় একটা অংশের মধ্যেও কোন দল নারীর ক্ষেত্রে রক্ষণশীল আর কোন দল নারীর পরিবর্তনের সঙ্গী সেই বিবেচনা কাজ করবে।
দুই.
এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে বড় শঙ্কা তৈরি হয়েছিল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে। অভ্যুত্থানের পর থেকেই পুলিশি ব্যবস্থা ছিল ভঙ্গুর। গত বছরের অক্টোবর, নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় টার্গেটেড হত্যাকাণ্ড বেড়ে যায়। এর মধ্যেই ১১ ডিসেম্বর তফসিল ঘোষণা করা হয়। এর ঠিক এক দিন পর ঢাকা আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির মাথায় খুব কাছ থেকে গুলি করা হয়। সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। ঢাকায় প্রথম আলো, ডেইলি স্টার, ছায়ানট ও উদীচী কার্যালয়ে সন্ত্রাসী হামলা চালানে হয়। কার্যালয়গুলো আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় জনমনে সংশয় ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে ব্যবহার করে যেভাবে সহিংসতা তৈরি করা হয়েছিল, তাতে অনেকের মনেই নির্বাচন নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছিল।
তফসিল ঘোষণার পর দেশে রাজনৈতিক সহিংসতাও বেড়ে যায়। ৬০ দিনে ২৩৭ সহিংস ঘটনায় ১৭ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন প্রায় ১ হাজার ১০৯ জন। আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হওয়ার পরও ২২ জানুয়ারি নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হওয়ার পর থেকেই পুরো দৃশ্যপট পাল্টে যায়। রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকদের প্রচার-প্রচারণায় সারা দেশেই উৎসবের আবহ তৈরি হয়। বিএনপি ও জামায়াতের প্রধান নেতৃত্ব সারা দেশে নির্বাচনী প্রচারণায় চষে বেড়ান।
তারেক রহমান ১৯ দিনে ৬৪টি জনসভায় বক্তব্য দেন। শফিকুর রহমান ১৯ দিনে ৬২টি জনসভায় বক্তব্য দেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও তাঁরা দুজন সাক্ষাৎকার দেন। দুই রহমানের বক্তব্যগুলো দলীয় নেতা-কর্মীদের বাইরে সাধারণ মানুষের মধ্যে আগ্রহ ও আলোচনার জন্ম দেয়। ভোটারদের মধ্যে আগ্রহ-উদ্দীপনা তৈরি করতে রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা নিশ্চিত করেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ কী ভূমিকা নেয়, তা নিয়েও জনমনে সংশয় তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে গত নভেম্বর মাসে গণ-অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনার রায়কে কেন্দ্র করে অনলাইনে ডাকা আওয়ামী লীগের কর্মসূচি ঘিরে ঢাকাসহ সারা দেশে যেভাবে চোরাগোপ্তা ককটেল হামলা ও বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছিল, তাতে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সহিংসতা হয় কি না, সেই সংশয় ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত বিদেশ থেকে দলটির নেতাদের কেউ কেউ ভোট বর্জনের কথা বললেও মাঠে কোনো কর্মসূচি দেখা যায়নি। বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, এবারের ভোটে অনেক আসনেই জয়-পরাজয় নির্ধারণে আওয়ামী লীগের ঐতিহ্যবাহী ভোটাররা বড় ভূমিকা রাখবেন।
ভোটে বিএনপি, জামায়াত—যারই জয় হোক না কেন, এবারের নির্বাচন আমাদের ৫৪ বছরের ভঙ্গুর গণতন্ত্র ও বিভাজিত সমাজকে মেরামতের বড় সুযোগ। মঙ্গল ও বুধবার বাস, ট্রেন, লঞ্চে করে সাধারণ মানুষ যেভাবে ঈদের ছুটির মতোই বাড়ির পানে ছুটেছেন, তাতে আবারও আমাদের মনে করিয়ে দেয়, দেশটাকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে তাঁরা কতটা আন্তরিক আর মরিয়া। রাজনৈতিক দলগুলো কি জনগণের এই অতিসাধারণ চাওয়াটাকে সামান্য সম্মান জানাতে শিখবে না?
* মনোজ দে, প্রথম আলোর সম্পাদকীয় সহকারী
- মতামত লেখকের নিজস্ব
| ভোটের আগে মানুষ ট্রাকে, পিকআপভ্যানে ছুটছে বাড়িতে। ছবি : প্রথম আলো |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ভোটগ্রহণের সময় শেষ, অপেক্ষা গণনার
দুটি জেলায় ককটেল বিস্ফোরণসহ বিচ্ছিন্ন কয়েকটি ঘটনা ছাড়া সার্বিকভাবে ভোট ছিল শান্তিপূর্ণ। নির্বাচন চলাকালে পৃথক ঘটনায় অসুস্থ হয়ে চার ব্যক্তির মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর দিক থেকে কিছু অভিযোগ এসেছে।
আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টায় দেশের ২৯৯টি সংসদীয় আসনে একযোগে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলে।
তবে যদি কোনো কেন্দ্রে অপেক্ষমাণ ভোটারের দীর্ঘ সারি থাকে, তাহলে বিকেল সাড়ে চারটার পরও তাঁদের ভোট নেওয়া হবে। ভোটগ্রহণ শেষে শুরু হবে ভোট গণনা। এখন ফলাফলের অপেক্ষা।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দেড় বছর পর একটি নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আজ ভোট দিলেন দেশের ভোটারেরা।
একই সঙ্গে ভোটারেরা গণভোটের মাধ্যমে সংবিধানের বেশ কিছু মৌলিক পরিবর্তন আনার প্রস্তাবের পক্ষে-বিপক্ষে ‘হ্যাঁ’-‘না’ ভোট দিয়ে নিজেদের মত জানালেন। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে তা হবে সংবিধানের মৌলিক সংস্কার বাস্তবায়ন হবে।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ভোটের লাইন, সেদিনের–এদিনের by সারফুদ্দিন আহমেদ
লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষগুলোকে দেখলে মনে হয় না তাঁরা কোনো নাটকের চরিত্র। তাঁরা খুব সাধারণ—কারও হাতে মোবাইল, কারও কাঁধে ঝোলানো ব্যাগ, কারও চোখে সকালের অন্যমনস্কতা। কেউ তরুণ, কেউ যুবক, কেউ মাঝবয়সী।
কারও মুখে উত্তেজনার রং নেই। বরং আছে এক ধরনের প্রশান্তি—যেন তাঁরা জানেন, আজকের কাজটি খুব বড় নয়, অথচ খুব গভীর।
কেন্দ্রের সামনে দিয়ে সেনাবাহিনীর কয়েকটি গাড়ি ধীর গতিতে চলে গেল। গাড়ির শব্দও যেন চাপা। চারপাশে কোনো হাউকাউ নেই। ভোটের সকাল যেন এক ধরনের ধ্যানমগ্নতা ধারণ করেছে।
এই লাইনটির দিকে আমার দৃষ্টি আটকে ছিল অন্য কারণে। কারণ ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি, প্রায় একই সময়ে, একই জায়গায় দাঁড়িয়ে আমি আরেকটি লাইন দেখেছিলাম। দৈর্ঘ্যে প্রায় একই। বাহ্যিকভাবে একই রকম সুশৃঙ্খল। কিন্তু ভেতরে-ভেতরে সম্পূর্ণ আলাদা।
সেদিন লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা মুখগুলো ছিল বেশির ভাগই তরুণ। চেহারায় ছিল এক ধরনের প্রস্তুতি, কিন্তু তা ভোটারের নয়—ডিউটির। যেন তাঁরা এসেছেন উপস্থিত থাকার দায়িত্ব নিয়ে। লাইন থাকবে, লাইন শেষ হবে না—এই দায়বদ্ধতা নিয়ে।
সেদিন লাইনের পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা এক পরিচিতজনকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, ‘ভোট দিবেন?’
তিনি বলেছিলেন, ‘হ, দিমু।’
বলেছিলাম, ‘ভোটার তো বেশি দেখছি না।’
তিনি একটু হেসে বলেছিলেন, ‘অহনও আসে নাই, তয় আইসা পড়ব।’
আমি সরে যাচ্ছিলাম। তিনি কানে কানে বলেছিলেন, ‘ভোটার তো আসবে না, বোঝেন না! আমরা আছি কয়জন, কারণ আমাগো থাকতে অইবো। লাইন থাকব। লাইন শেষ হইবো না।’
সেদিন লাইন ছিল, কিন্তু ভোটার ছিল না। উপস্থিতি ছিল, কিন্তু অংশগ্রহণ ছিল না। এক ধরনের অনুকরণ ছিল, অথচ তার ভেতরে প্রাণ ছিল না।
আজকের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা মুখগুলোতে প্রাণ আছে। এখানে কেউ ‘লাইন রক্ষা’ করতে আসেননি; প্রত্যেকে নিজের একটি চিহ্ন রাখতে এসেছেন।
মানুষ যখন ভোটকেন্দ্রে দাঁড়ায়, তখন সে কেবল একটি প্রতীকে সিল দেয় না; সে নিজের অস্তিত্বে সিল দেয়।
কদমতলা পূর্ব বাসাবো স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্র, খিলগাঁওয়ের তালতলা প্রাইম স্কুল অ্যান্ড কলেজ—একই ছবি। ছোট ছোট লাইন, স্বল্প সময়ের অপেক্ষা, কোনো উত্তেজনা নেই। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের এজেন্টরা পাশাপাশি বসে আছেন। চোখে সন্দেহের আগুন নয়, বরং সতর্কতার সংযম।
পাশের ঢাকা-৮ আসনকে ঝুঁকিপূর্ণ বলা হচ্ছিল। মির্জা আব্বাস ও নাসির উদ্দিন পাটোয়ারির তীব্র ভাষণের রেশ তখনো তাজা। কিন্তু শাহজাহানপুরের কয়েকটি কেন্দ্রে গিয়ে দেখি, ধানের শিষ ও অন্য প্রতীকের অফিস পাশাপাশি। যেন প্রতিদ্বন্দ্বিতা আছে, শত্রুতা নেই।
একজন মাঝবয়সী রিকশাওয়ালা আমাকে কেন্দ্রগুলো ঘুরিয়ে দেখাচ্ছিলেন। জিজ্ঞেস করলাম, ‘আপনার ভোট কোথায়?’
বললেন, ‘ঢাকায়। বেলা বারোটার পর দিমু।’
বললাম, ‘পরিবেশ কেমন লাগছে?’
তিনি হেসে বললেন, ‘খুব আনন্দ হচ্ছে মামা। বহুতদিন পর ভোট দিবার পারতাছি। মারাত্মক আনন্দ হচ্ছে।’
এই ‘আনন্দ’ শব্দটির ভেতরেই রাজনীতির গভীরতম দর্শন লুকিয়ে আছে। মানুষ যখন বলে, ‘আমি ভোট দিতে পারছি’—তখন সে কেবল নাগরিক অধিকার প্রয়োগ করছে না; সে নিজের অস্তিত্বকে স্বীকৃতি দিচ্ছে।
মানুষ মাত্রই রাজনীতিবিদ—এই কথাটি আমরা প্রায়শই তাচ্ছিল্যের ভঙ্গিতে বলি। কিন্তু এর ভেতরে এক গভীর সত্য আছে। মানুষ যখন বাজারে দাম নিয়ে দর-কষাকষি করে, যখন সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবে, যখন রাস্তার নিরাপত্তা নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়—তখন সে রাজনীতির ভেতরেই থাকে। আসলে রাজনীতি কেবল সংসদ ভবনের দেয়ালের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি মানুষের দৈনন্দিন বেঁচে থাকার ভাষা।
ভোটার মাত্রই রাজনীতিবিদ—কারণ ভোট দেওয়ার মুহূর্তে সে রাষ্ট্রের সহ-নির্মাতা হয়ে ওঠে। সে সিদ্ধান্ত নেয়, কোন পথে তার সমাজ হাঁটবে। সে তার নীরবতার মধ্যেও একটি উচ্চারণ রেখে যেতে চায়।
সবুজ কানন এলাকার বিখ্যাত খলিল মিয়ার চায়ের দোকানে দাঁড়িয়ে এই কথাগুলো আরও স্পষ্ট হয়ে উঠল। খলিল ভাইকে বললাম, ‘কোনো ক্যান্ডিডেটের লোক নাই যে ভোটাররে ফাউ চা খাওয়াবে?’
খলিল ভাই হেসে বললেন, ‘না, সে চান্স নাই। আসেন, আমি আপনারে মাগনা চা খাওয়াই।’
চায়ের কাপে ভাসছিল ভোটের সকালের স্বপ্ন। স্থানীয় ভোটার ইলিয়াস হোসেন বললেন, ‘এখন পর্যন্ত যেভাবে ভোট হচ্ছে, তাকে সুষ্ঠু ভোট বলা যায়। আমি কোনো হইচই ছাড়াই ভোট দিতে পেরেছি—এটা আমাকে আনন্দ দিয়েছে।’
‘আনন্দ’—আবারও সেই শব্দ।
রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে মানুষের চাওয়ার তালিকা দীর্ঘ হতে পারে। কিন্তু অন্তত একটি জিনিস সে চায়—তার সিদ্ধান্তকে গুরুত্ব দেওয়া হোক। তার উপস্থিতি যেন কৃত্রিম না হয়।
সেদিনের লাইন ছিল একটি প্রহসনের প্রতীক। আজকের লাইনটি, ছোট হলেও, এক ধরনের প্রত্যাবর্তনের ইঙ্গিত।
গণতন্ত্র কখনো হঠাৎ করে জন্ম নেয় না; এটি ধীরে ধীরে মানুষের অভ্যাসে পরিণত হয়। আর সেই অভ্যাসের সূচনা হয় এমনই এক সকালে—যখন মানুষ নিঃশব্দে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকে, উত্তেজনা ছাড়া, ভয় ছাড়া, অভিনয় ছাড়া।
সকালের সেই ছোট্ট লাইনটি তাই কেবল ভোটের লাইন নয়। এটি মানুষের নিজের কাছে ফিরে আসার লাইন।
* সারফুদ্দিন আহমেদ, প্রথম আলোর সহকারী সম্পাদক।
- ইমেইল: sarfuddin2003@gmail.com
![]() |
| আজকের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা মুখগুলোতে সেই প্রাণ আছে। এখানে কেউ ‘লাইন রক্ষা’ করতে আসেননি; প্রত্যেকে নিজের একটি চিহ্ন রাখতে এসেছেন। ছবি: সারফুদ্দিন আহমেদ |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
দিনভর বজায় থাকুক ভোট নিয়ে উদ্দীপনা, ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন প্রধান
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলে ভোট পরিদর্শনের পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটাভুটি নিয়ে তিনি এ প্রতিক্রিয়া জানান।
সকাল সাড়ে সাতটায় ভোট গ্রহণ শুরু হলে সহকর্মীদের নিয়ে রাজধানীর বেইলি রোডের সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজ ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনে যান ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের (ইইউইওএম) প্রধান ইভার্স ইজাবস।
ইভার্স ইজাবস বলেন, আমরা একটি অংশগ্রহণমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন প্রত্যাশা করছি। সারা দেশে মোতায়েন করা পর্যবেক্ষকদের কাছ থেকে অনলাইনে প্রতিবেদন ও তথ্য পাচ্ছি।
ইইউইওএম প্রধান বলেন, ‘বাংলাদেশের এই ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন সারা দেশে ২০০ জনের বেশি পর্যবেক্ষক মোতায়েন করেছে। আমরা নিবিড়ভাবে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করছি এবং বাংলাদেশে একটি অংশগ্রহণমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন প্রত্যাশা করছি।’
ইভার্স ইজাবস বলেন, ‘আমরা পুরোপুরি নিরপেক্ষভাবে কাজ করছি। আমরা কোনো রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অংশ নিচ্ছি না। আমরা শুধু নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করছি এবং ১৪ ফেব্রুয়ারি এই নির্বাচন কীভাবে পরিচালিত হয়েছে, তা নিয়ে আমাদের প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশ করব।’
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট গ্রহণ শুরু হয় আজ সকাল সাড়ে সাতটায়। বেলা ১২টা পর্যন্ত প্রায় ১৩ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এ তথ্য অবশ্য ৩২ হাজার ৭৮৯ কেন্দ্রের। দেশের মোট ভোটকেন্দ্র ৪২ হাজার ৭৭৯।
| ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলে ভোট পরিদর্শনের পর ভোটাভুটি নিয়ে কথা বলছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান ইভার্স ইজাবস। ছবি: প্রথম আলো |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গাজীপুরের শ্রীপুরঃ কেন্দ্রে গিয়ে দেখলেন, ভোট দেওয়া হয়ে গেছে, দায়িত্বপ্রাপ্ত তিনজনকে প্রত্যাহার
এ ঘটনার পর ওই কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তাসহ তিনজনকে প্রত্যাহার করেছে নির্বাচন কমিশন। বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সজীব আহমেদ বিষয়টি প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন।
প্রত্যাহার হওয়া তিনজন হলেন সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা হারেছা খাতুন এবং পোলিং কর্মকর্তা মাসুম খান ও সালমা আক্তার। হারেছা গিলাশ্বর বালিকা দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক, সালমা দক্ষিণ ভাংনাহাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং মাসুম খানের কর্মক্ষেত্রের নাম জানা যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শী ও প্রিসাইডিং কর্মকর্তা সূত্রে জানা গেছে, ওই কেন্দ্রে লাকী বেগম নামের এক নারী ভোটার সকালে ভোট দিতে লাইনে দাঁড়ান। এক ঘণ্টা পর ভোট দেওয়ার জন্য ভোটকক্ষে গিয়ে দেখেন, তাঁর ভোট দেওয়া হয়ে গেছে। তিনি হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছিলেন। তখন তিনি বিষয়টি দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের জানান। পরে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে ওই কেন্দ্রে দায়িত্বরত তিনজনকে প্রত্যাহার করা হয়।
শ্রীপুর পাইলট সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের মহিলা ভোটকেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মো. সেলিম হোসেন বলেন, এ ঘটনায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এটা কীভাবে ঘটল, তা তদন্ত করে দেখা হবে।
সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা সজীব আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, একজন ভোটার অভিযোগ করেছিলেন। অভিযোগের ভিত্তিতে সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তাসহ তিনজনকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। পরে নির্বাচন কমিশনের নীতিমালা অনুযায়ী, ওই নারী ভোটারের ভোট ‘টেন্ডার ভোট’ হিসেবে নেওয়া হয়েছে।
![]() |
| গাজীপুরের শ্রীপুর পাইলট সরকারি উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে এক নারীর ভোটারের ভোট অজ্ঞাত একজন দিয়ে গেছেন। এ ঘটনায় সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তাসহ তিনজনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ছবি: প্রথম আলো |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
এএফপিকে তারেক রহমান: দেশে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফেরাতে হবে, যাতে মানুষ নিরাপদ থাকে
তারেক রহমানের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে মঙ্গলবার একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে এএফপি। তাতে বলা হয়, ২০২৪ সালে তরুণদের নেতৃত্বে অভ্যুত্থানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কর্তৃত্ববাদী শাসন উৎখাত হওয়ার পর যে রাজনৈতিক অস্থিরতা দেশকে ঘিরে ধরেছে, তার অবসানের জন্য আইনশৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা হবে তাঁর প্রথম অগ্রাধিকার।
তারেক রহমান সাক্ষাৎকারে বলেছেন, নির্বাচিত হলে তাদের কাজের তালিকার সবার উপরে থাকবে দেশের মানুষের অর্থনৈতিক দুর্দশা মোকাবিলা করা। আওয়ামী লীগের প্রায় দেড় দশকের শাসনামলে অর্থনীতিকে ধ্বংস করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। তারেক রহমান বলেন, ‘মেগা প্রকল্পের নামে আমরা কী দেখেছি, মেগা দুর্নীতি হয়েছে। অল্প কিছু ব্যক্তি ধনী হয়েছে। কিন্তু দেশের বাকি মানুষেরা, পুরো জনগোষ্ঠী কিছুই পায়নি।’
এই সংকট মোকাবিলায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্ব দেবেন বলে জানান তারেক রহমান। এ প্রসঙ্গে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, দেশে বিপুল সংখ্যায় বেকার রয়েছে। এই তরুণেরা যাতে চাকরি পায় সেজন্য ব্যবসা–বাণিজ্য বাড়াতে হবে।
দেশের নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ পেলে বাবা-মা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার চেয়ে ভালো কাজ করতে চান বলে উল্লেখ করেছেন তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ‘আমি তাদের চেয়ে ভালো করার চেষ্টা করব।’
এএফপিকে দেওয়া এই সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান সতর্ক করে দেন যে, ১৭ কোটি মানুষের এই দেশের ভবিষ্যৎ খুবই কঠিন হতে যাচ্ছে।
পূর্ববর্তী সরকারের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে অবহেলার অভিযোগ এনে তিনি বলেন, ‘অর্থনীতি ধ্বংস হয়ে গেছে। স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ধ্বংস করা হয়েছে, জ্বালানি খাত ধ্বংস করা হয়েছে।’
বিভিন্ন জরিপে তারেক রহমানের বিএনপি নির্বাচনী লড়াইয়ে এগিয়ে আছে। তবে দলটি জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোটের কাছ থেকে তীব্র চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে।
তারেক রহমান নিজ কার্যালয়ে এএফপিকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। এ সময় তিনি বলেন, নির্বাচনে বিএনপির বিপুল ব্যাবধানে জয়ী হওয়ার ব্যাপারে তিনি আত্মবিশ্বাসী।
তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা আশা করি, জনগণের কাছ থেকে একটি স্পষ্ট ম্যান্ডেট পাব— একটি বড় ম্যান্ডেট।’
বর্তমান দলীয় জোটের বাইরে নতুন কোনো জোট করার প্রয়োজন দেখছেন না উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘নিজেদের সরকার গঠনের জন্য আমরা পর্যাপ্ত আসন পাব।’
ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যে তারেক রাহমান বৈদেশিক সম্পর্ক নিয়ে সাবধানী মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘জনগণের স্বার্থ এবং আমার দেশের স্বার্থই সবার আগে।’
শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। গত বছরের নভেম্বরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এক সময় বাংলাদেশের দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য প্রশংসিত হলেও শেখ হাসিনার সরকার ভিন্নমত দমন এবং বিশেষ করে বড় আকারের অবকাঠামো প্রকল্প থেকে ব্যাপক চুরির অভিযোগে অভিযুক্ত।
এ বিষয়ে তারেক রাহমান বলেন, ‘আমরা মেগা প্রকল্পের নামে মেগা দুর্নীতি হতে দেখেছি। অল্প কিছু মানুষকে অনেক ধনী করা হয়েছে। কিন্তু দেশের বাকি অংশ, পুরো জনগোষ্ঠী নিঃস্ব হয়ে গেছে।’
তবে তারেক রাহমান আইন করে রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার বিরোধী বলে জানান।
তিনি বলেন, ‘অবশ্যই কেউ যদি কোনো ধরনের অপরাধে জড়িত থাকে, তাহলে তাদের আইন অনুযায়ী শাস্তি হতে হবে।’
![]() |
| নিজ কার্যালয়ে এএফপিকে সাক্ষাৎকার দেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ছবি: এএফপি |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নিজের তিন কর্মীকে বিনা দোষে আটকের অভিযোগ রুমিন ফারহানার
আজ সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে শাহবাজপুর উত্তর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রুমিন ফারহানা নিজের ভোট দেওয়ার পর সাংবাদিকদের এসব অভিযোগ করেন।
ভোট কেমন হচ্ছে জানতে চাইলে রুমিন ফারহানা বলেন, ভোট শুরু হয়েছে দুই ঘণ্টা হয়েছে। সারা দিনের ভোট বাকি। ফলে এখনই বলা যাবে না। তিনি অভিযোগ করে বলেন, আমার তিনজন কর্মীকে বিনা দোষে আটক করা হয়েছে। এ ছাড়া নয়টি ভোটকেন্দ্রে আমার এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি আমি পুলিশ আর্মি ও প্রশাসনকে জানিয়েছি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গতকাল রাত ১ টার পর আশুগঞ্জ উপজেলার নোয়াগাঁও পূর্ব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র থেকে আনোয়ার হোসেন মৃধা ও নূর আলমকে আটক করে পুলিশ। আর গত রাতে আশুগঞ্জ উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের সোহাগপুর আছিয়া সফিউদ্দীন আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্র থেকে যুবদলের বহিষ্কৃত নেতা নাছির মুন্সিকে আটক করে পুলিশ। তারা তিনজন রুমিন ফারহানার পক্ষের কর্মী।
জানতে সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মনজুর কাদের ভূইয়া প্রথম আলোকে বলেন, ভোট কেন্দ্রে নিরাপত্তার স্বার্থে তাদের আটক করা হয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে ৯ জন প্রার্থী থাকলেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আটজন। এখানে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানা ও বিএনপি জোটের প্রার্থী জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিবের মধ্যে। জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য জিয়াউল হক মৃধা গত রোববার নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান।
![]() |
| ভোট দিচ্ছেন রুমিন ফারহানা। ছবি: প্রথম আলো |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সাবেক প্রিন্স অ্যান্ড্রুর দুই মেয়ের সঙ্গেও তাহলে কুখ্যাত এপস্টিনের দেখাসাক্ষাৎ ছিল
সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসা কিছু ই–মেইল থেকে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, যৌন অপরাধের দায়ে দণ্ডিত মার্কিন ধনকুবের জেফরি এপস্টিনের সঙ্গে প্রিন্সেস বিয়াট্রিচ ও ইউজিনির যোগাযোগ ধারণার চেয়েও অনেক বেশি ছিল।
অপ্রাপ্তবয়স্কদের যৌনকর্মে বাধ্য করার অভিযোগে সাজা ভোগের পর মুক্তি পাওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই মায়ামিতে এপস্টিনের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নিয়েছিলেন দুই প্রিন্সেস। অন্য নথিতে দেখা যায়, নিজের পরিচিত ব্যক্তিদের সঙ্গ দেওয়া কিংবা বাকিংহাম প্যালেস ঘুরিয়ে দেখানোর ক্ষেত্রেও তাঁদের কাজে লাগিয়েছেন এপস্টিন।
বিয়াট্রিচের বয়স এখন ৩৭ আর ইউজিনির ৩৫ বছর। নতুন নথিগুলো তাঁদের ভবিষ্যৎকে একধরনের অনিশ্চয়তা ও কঠিন পরীক্ষার মুখে ঠেলে দিতে পারে।
রাজকীয় বিষয়াবলি বিশ্লেষক রিচার্ড পামার বলেন, এপস্টিনের সঙ্গে ওই মধ্যাহ্নভোজে যোগ দেওয়া নিয়ে এখন জনমনে নানা প্রশ্ন জন্মাবে।
তবে রাজপরিবার–বিষয়ক সাংবাদিক ভিক্টোরিয়া মারফি মনে করেন, ই–মেইলগুলো ‘অত্যন্ত অস্বস্তিকর’ হলেও রাজকুমারীদের প্রতি এখনো সাধারণ মানুষের সহানুভূতি আছে।
নিঃসন্দেহে, নিজের বাবার এমন একটি ছবি দেখা—যেখানে তাঁকে এক তরুণীর ওপর হামাগুড়ি দিতে দেখা যাচ্ছে, যেকোনো সন্তানের জন্যই অত্যন্ত বিব্রতকর।
তবে সাবেক প্রিন্স অ্যান্ড্রু সব সময় তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছেন। এ ছাড়া জেফরি এপস্টিন–সংক্রান্ত নথিতে নাম থাকা মানেই যে কেউ কোনো অপরাধে জড়িত ছিলেন, তা–ও নয়।
ইয়র্ক পরিবারের সম্মান যখন এভাবে ধুলায় মিশে যাচ্ছে, তখন রাজপরিবারে এই দুই রাজকুমারীর অবস্থান কোথায়—সে প্রশ্ন এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।
কেলেঙ্কারি থেকে নিজেদের দূরে রাখার চ্যালেঞ্জ
জেফরি এপস্টিন–সংক্রান্ত নথির সর্বশেষ সংস্করণে দুই প্রিন্সেসের নাম বারবার উঠে এসেছে।
মায়ামিতে সেই কথিত মধ্যাহ্নভোজের বিষয়ে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে প্রায়ই তাঁদের ‘দ্য গার্লস’ (মেয়েরা) বলে সম্বোধন করা হয়েছে। সে সময় ইউজিনির বয়স ছিল ১৯ এবং বিয়াট্রিসের ২১ বছর।
অ্যান্ড্রুকে নিয়ে লেখা বই ‘এনটাইটেলড’–এর লেখক অ্যান্ড্রু লনি বলেন, যখন তাঁদের এপস্টিনের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, তখন তাঁরা পাঁচ বছরের শিশু ছিলেন না; তাঁরা তখন প্রাপ্তবয়স্ক।
লনি আরও বলেন, তাঁরা পরিস্থিতির শিকার, এমন কথা বলে তাঁদের নির্দোষ প্রমাণের ব্যাপক চেষ্টা চলছে। কিন্তু বিষয়টি তেমন নয়, তাঁরা এর সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত।
তবে সাংবাদিক ভিক্টোরিয়া মারফি এ কথার সঙ্গে একমত নন। তাঁর মতে, রাজকুমারীরা ওই মধ্যাহ্নভোজে যাওয়া বা যেতে রাজি হওয়ার পেছনে যথেষ্ট যুক্তিসংগত কারণ ছিল।
মারফি বলেন, ‘এপস্টিনের সব অপরাধ প্রকাশ্যে আসায় খুব সহজেই দুই প্রিন্সেসের সমালোচনা করা হচ্ছে। কিন্তু সেই সময়ে যদি কেউ তাঁদের কোনো সতর্কবার্তা না দিয়ে থাকেন, তবে নিজেদের মায়ের আয়োজিত ওই সফরে তাঁরা কেন গিয়েছিলেন, তা সহজেই বোঝা যায়।’
একই সঙ্গে জেফরি এপস্টিনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণে কী কী বাড়তি সুবিধা পাওয়া যেত, সেই বিষয়ও এখন স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
এপস্টিন ও তাঁর সহকারীর মধ্যে চালাচালি হওয়া একটি ই–মেইল থেকে জানা যায়, তিনি সম্ভবত ইয়র্ক পরিবারের উড়োজাহাজভাড়ার টাকা পরিশোধ করেছিলেন। যেখানে ‘সব টিকিটের মোট দাম’ দেখানো হয়েছিল ‘১৪ হাজার ৮০ ডলার’।
তবে এই সুবিধা বা লেনদেন যে কেবল একপক্ষীয় ছিল, তা–ও নয়।
বিভিন্ন নথিপত্র থেকে জানা যায়, বেশ কয়েকবার জেফরি এপস্টিন সাবেক প্রিন্স অ্যান্ড্রুর স্ত্রী সারা ফার্গুসনকে অনুরোধ করেছিলেন, যেন তাঁর কন্যারা এপস্টিনের ঘনিষ্ঠ লোকজনের সঙ্গে দেখা করেন। এমনকি একবার জনৈক এক ব্যক্তিকে (নথিতে তাঁর নাম গোপন রাখা হয়েছে) বাকিংহাম প্যালেস ঘুরিয়ে দেখানোর জন্যও তিনি দুই প্রিন্সেসের সাহায্য চেয়েছিলেন।
একবার ফার্গুসন দুঃখ প্রকাশ করে এপস্টিনকে বলেন, তাঁর কন্যারা বাকিংহাম প্যালেসে নেই। তাঁরা কোথায় আছেন, সে ব্যাখ্যাও দেন। অন্য এক ই–মেইলে প্রিন্সেস ইউজিনির ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিষয়েও ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
কিছু ই–মেইলে এপস্টিনের পরিচিত ব্যক্তিদেরও রাজকুমারীদের নিয়ে কথা বলতে দেখা গেছে। এপস্টিনের এক বন্ধু তাঁকে পাঠানো এক ই–মেইলে লেখেন, ‘এইমাত্র “ডাচেস অব পোর্ক”-এর (সারা ফার্গুসনকে ব্যঙ্গ করে বলা নাম) সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি বিয়াট্রিসের সঙ্গে এক মধ্যাহ্নভোজে আছেন। আমি তাঁকে নিজের পরিচয় দিলাম। জানালাম, আমি তাঁর বাবাকে চিনি। তিনি চমৎকার মানুষ...পরে এ বিষয়ে বিস্তারিত কথা হবে।’
এ বিষয়ে সারা ফার্গুসনের প্রতিনিধিদের কাছে মন্তব্য চাওয়া হয়েছে।
তবে বিশ্লেষক পামারের মতে, ই–মেইলগুলোতে দুই প্রিন্সেসের নাম বারবার আসায় এই কলঙ্কজনক অধ্যায় থেকে তাঁরা নিজেদের দূরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছেন। তিনি বলেন, ইয়র্ক পরিবার ও এপস্টিনের মধ্যকার এই যোগসূত্র এড়িয়ে যাওয়ার কোনো উপায় নেই।
আড়ালে থাকার চেষ্টা
এই দুই বোনের কেউই রাজপরিবারের হয়ে সরাসরি কাজ করেন না। তাঁরা দুজনেই বিবাহিত এবং নিজেদের কর্মজীবন ও সন্তান নিয়ে ব্যস্ত। তবে রাজপরিবারের অন্য সদস্যদের মতো তাঁদেরও বেশ কিছু দাতব্য কার্যক্রম রয়েছে।
ইউজিনি ‘অ্যান্টি–স্ল্যাভারি কালেক্টিভ’ নামে একটি দাতব্য সংস্থার সহপ্রতিষ্ঠাতা, যা মূলত যৌনকর্মের জন্য পাচারের শিকার নারীদের নিয়ে কাজ করে। লেখক অ্যান্ড্রু লনি এটিকে ইউজিনির জন্য একটি ‘অবিশ্বাস্য রকমের অনুপযুক্ত’ কাজ বলে মন্তব্য করেছেন।
সংস্থাটির সর্বশেষ আর্থিক বিবরণী অনুযায়ী, তাদের অনুদান নাটকীয়ভাবে কমে গেছে। ২০২৪ সালে যা ছিল ১৫ লাখ পাউন্ড, ২০২৫ সাল নাগাদ তা নেমে এসেছে মাত্র ৪৮ হাজার পাউন্ডে। যদিও তাদের তহবিলে এখনো বড় অঙ্কের অর্থ জমা আছে।
তবে ২০২৫ সালে কোনো অনুষ্ঠান বা নিলাম থেকে দাতব্য সংস্থার কোনো আয় হয়নি। খাতসংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তি জানান, বর্তমানে কোনো হাই-প্রোফাইল অনুষ্ঠান করা খুবই কঠিন। স্বাভাবিকভাবেই তাঁরা এখন আড়ালে থাকার চেষ্টা করছেন।
এপস্টিন কেলেঙ্কারি নিয়ে বিবিসির পক্ষ থেকে একাধিকবার সংস্থাটির মন্তব্য চাওয়া হলেও তারা কোনো সাড়া দেননি। ইউজিনি যে স্যালভেশন আর্মির সঙ্গে কাজ করেন, তারা বেশ সতর্ক অবস্থান নিয়ে জানিয়েছে, ‘আমরা এই ঘটনাটি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি।’
পেশাগত জীবন ও বিতর্ক
দাতব্য কাজের বাইরে বিয়াট্রিস ‘বিওয়াই–ইকিউ’ নামের একটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। অন্যদিকে ইউজিনি মেফেয়ারের একটি আর্ট গ্যালারিতে পরিচালক হিসেবে কর্মরত। সম্প্রতি ওই গ্যালারি রাশিয়ার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়লেও ইউজিনির বিরুদ্ধে কোনো ব্যক্তিগত অভিযোগ ওঠেনি।
গত বছর যখন রাজকুমারীদের বাবা রাজকীয় উপাধি হারান, তখন বিয়াট্রিসকে সৌদি আরবে একটি বিনিয়োগ সম্মেলনে দেখা যায়। এ ছাড়া বিয়াট্রিস ও তাঁর স্বামী এডোয়ার্ডো মাপেলি মোজ্জি অ্যান্ড্রুর ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডেও জড়িত ছিলেন।
বিশ্লেষক পামার মনে করেন, রাজকীয় পদমর্যাদা এবং বাবা-মায়ের পরিচিতিকে কাজে লাগিয়েই বিয়াট্রিস তাঁর ক্যারিয়ার ও ব্যবসায়িক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছেন।
দুই রাজকুমারীর স্বামীরা আর্থিকভাবে সচ্ছল এবং তাঁদের দুজনেরই দুটি করে সন্তান রয়েছে। বিয়াট্রিস ও ইউজিনি রাজকীয় সম্পত্তিতে বসবাসের জন্য ভাড়া দেন বলে জানা গেছে। যদিও সেই ভাড়ার পরিমাণ বাজারমূল্যের সমান কি না, তা স্পষ্ট নয়।
ব্যক্তিগতভাবে দুই বোন তাঁদের বাবা-মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ রাখলেও জনসমক্ষে তাঁদের থেকে দূরত্ব বজায় রাখছেন। পামার বলেন, নিজেদের ভাবমূর্তি রক্ষা করতে তাঁদের জনসমক্ষে বাবা-মায়ের থেকে আলাদা থাকতেই হবে। না হলে এ পরিস্থিতি তাঁদের জীবনকেও বিষাক্ত করে তুলবে।
![]() |
| প্রিন্সেস বিয়াট্রিচ, ইউজিনি ও তাঁদের বাবা সাবেক ব্রিটিশ প্রিন্স অ্যান্ড্রু (বাঁ থেকে) ছবি: এএফপি |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম প্রধানমন্ত্রী হয়ে কি ইতিহাস গড়তে পারবেন শাবানা মাহমুদ
স্টারমারের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ মিত্র ও বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদকে এখন লেবার পার্টির শীর্ষ পর্যায়ের একজন শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখা হচ্ছে। যদি কোনো কারণে দলের নেতৃত্বের লড়াই শুরু হয়, তবে তিনি হতে পারেন পরবর্তী কান্ডারি। আর এটি বাস্তবে রূপ নিলে এক অনন্য ইতিহাস গড়বেন তিনি; হবেন যুক্তরাজ্যের প্রথম মুসলিম প্রধানমন্ত্রী।
আলোচনার কেন্দ্রে নতুন সংকট
শাবানা মাহমুদকে ঘিরে এই নতুন আলোচনার প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে গত এক সপ্তাহের যুক্তরাজ্যের উত্তাল রাজনৈতিক পরিস্থিতি ঘিরে। ওয়াশিংটনে যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূত হিসেবে পিটার ম্যান্ডেলসনকে নিয়োগ দেওয়াকে কেন্দ্র করে সরকারের ভেতরে অস্থিরতা শুরু হয়। নিউইয়র্কের কারাগারে ২০১৯ সালে মারা যাওয়া কুখ্যাত যৌন নিপীড়ক জেফরি এপস্টিনের সঙ্গে ম্যান্ডেলসনের পুরোনো সম্পর্কের বিষয়টি নতুন করে সামনে আসায় লেবার পার্টির ভেতরেই তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
শাবানা মাহমুদ সম্পর্কে ৫টি জরুরি তথ্য
লেবার পার্টির জ্যেষ্ঠ নেতা ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: শাবানা মাহমুদ লেবার সরকারের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব। ২০২৫ সাল থেকে তিনি যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত তিনি।
পেশায় আইনজীবী নেশায় রাজনীতিবিদ: বার্মিংহামে জন্ম নেওয়া শাবানা অক্সফোর্ডের লিঙ্কন কলেজ থেকে ২০০২ সালে আইন বিষয়ে ডিগ্রি অর্জন করেন। রাজনীতিতে আসার আগে তিনি ব্যারিস্টার হিসেবে প্রশিক্ষণ নেন। এই আইনি পটভূমি তাঁকে একজন নিয়মানুবর্তী ও দক্ষ সংগঠক হিসেবে পরিচিতি দিয়েছে।
প্রথম দিককার মুসলিম নারী সংসদ সদস্যদের একজন: ২০১০ সালে শাবানা মাহমুদ যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে নির্বাচিত হন। রুশনারা আলী এবং ইয়াসমিন কোরেশির সঙ্গে তিনিও ছিলেন যুক্তরাজ্যের প্রথম তিন মুসলিম নারী এমপির একজন—যা সে দেশের রাজনীতিতে প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক।
অভিবাসন নিয়ে কঠোর অবস্থান: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে শাবানা মাহমুদ কঠোর অভিবাসন নীতি গ্রহণের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। স্থায়ী বসবাসের আবেদনের সময়সীমা ৫ বছর থেকে বাড়িয়ে ১০ বছর করার প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, যুক্তরাজ্যে স্থায়ীভাবে বসবাস কোনো ‘অধিকার নয়, বরং একটি বিশেষ সুযোগ’। তাঁর এই অবস্থান লেবার পার্টির ভেতরেও বেশ বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
ইতিহাস গড়ার হাতছানি: এপস্টিন-সংক্রান্ত কেলেঙ্কারির জেরে স্টারমারের ওপর চাপ বৃদ্ধি পেতে থাকায় লেবার পার্টির পরবর্তী নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনায় শাবানার নাম জোরালোভাবে উঠে আসছে। দলের নেতৃত্ব পেলে তিনি হবেন যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম প্রধানমন্ত্রী।
সম্প্রতি ওয়াশিংটনে যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূত হিসেবে পিটার ম্যান্ডেলসনের নিয়োগকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সংকটে রাজনৈতিক পরিস্থিতি ঘোলাটে হয়ে ওঠে। স্টারমারের চিফ অব স্টাফ মরগান ম্যাকসুইনি এই নিয়োগের দায়ভার কাঁধে নিয়ে পদত্যাগ করেছেন।
মূলত প্রধানমন্ত্রীকে সুরক্ষা দিতেই ম্যাকসুইনির এই পদক্ষেপ। কিন্তু এটি উল্টো সরকারের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন বাড়িয়ে দিয়েছে। লেবার পার্টির জনসমর্থন যখন তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে, তখন দলের অনেক নীতিনির্ধারক একান্ত আলোচনায় বলছেন, স্টারমারের টিকে থাকার সম্ভাবনা এখন ‘ফিফটি-ফিফটি’।
এমন এক টালমাটাল পরিস্থিতিতে সবার নজর এখন সম্ভাব্য উত্তরসূরিদের দিকে। আর এ ক্ষেত্রে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন শাবানা মাহমুদ।
কে এই শাবানা মাহমুদ
আইনজীবী থেকে পুরোদস্তুর রাজনীতিবিদ বনে যাওয়া শাবানা মাহমুদ লেবার পার্টির অন্যতম প্রভাবশালী নেতা। তাঁর বয়স ৪৫ বছর। বার্মিংহামে জন্ম নেওয়া এই রাজনীতিবিদের বাবা মাহমুদ আহমেদ, মা জুবায়দা। তাঁর পারিবারিক শিকড় মূলত পাকিস্তান ও পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরের মিরপুরে।
অক্সফোর্ডের লিঙ্কন কলেজ থেকে আইন বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের এক বছর পর শাবানা ‘বার ভোকেশনাল কোর্স’ সম্পন্ন করেন এবং রাজনীতিতে আসার আগে পুরোদস্তুর ব্যারিস্টার হিসেবে কাজ শুরু করেন। ২০১০ সালে তিনি প্রথমবার যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের সদস্য নির্বাচিত হন। রুশনারা আলী ও ইয়াসমিন কোরেশির পাশাপাশি তিনিও ছিলেন যুক্তরাজ্যের প্রথম দিককার নারী মুসলিম এমপিদের একজন।
লেবার পার্টির ভেতরে শাবানা মাহমুদ অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও বাগ্মী রাজনীতিবিদ হিসেবে সুপরিচিত। দলের ভেতরে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের একজন বিশ্বস্ত মিত্র হিসেবে পরিচিতি পাওয়া এই নেত্রী মূলত লেবার পার্টির কট্টর ডানপন্থী অংশের প্রতিনিধি হিসেবেই বেশি পরিচিত।
অভিবাসন নিয়ে কঠোর অবস্থান
২০২৫ সালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে শাবানা মাহমুদ সীমান্ত নিরাপত্তা, পুলিশ প্রশাসন এবং অভিবাসন খাত তদারক করছেন। আর এই দায়িত্ব পালন করতে গিয়েই তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান আরও স্পষ্ট ও কঠোর হয়ে উঠেছে।
বিশেষ করে অভিবাসন ইস্যুতে শাবানা কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। অধিকাংশ অভিবাসীর স্থায়ীভাবে বসবাসের আবেদনের ন্যূনতম সময়সীমা ৫ বছর থেকে বাড়িয়ে ১০ বছর করার প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। স্থায়ী আবাসনকে ‘অধিকার নয়, বরং একটি বিশেষ সুযোগ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
শাবানার মতে, জনগণের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনতে এই পদক্ষেপ জরুরি। তবে তাঁর এই অবস্থান লেবার পার্টির অনেক এমপি ও অভিবাসীর অধিকার রক্ষায় নিয়োজিত গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে অস্বস্তি সৃষ্টি করেছে।
অনেকে মনে করেন, একদিকে গাজা যুদ্ধ নিয়ে লেবার পার্টির অবস্থানের কারণে যেসব মুসলিম ও ফিলিস্তিনপন্থী ভোটার দলবিমুখ হয়েছেন, শাবানা মাহমুদ তাঁদের আবার দলের সঙ্গে যুক্ত করতে পারবেন। অন্যদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তাঁর কঠোর অবস্থান দেখে অনেকেই মনে করেন, তাঁর রাজনৈতিক দর্শন মূলত মধ্যপন্থী বা রক্ষণশীল ঘরানার। এই দ্বৈত অবস্থান শাবানার ব্যক্তিত্বে এক জটিল আবেদন তৈরি করেছে।
শাবানা মাহমুদ কেন আলোচনায়
কিয়ার স্টারমারের অবস্থান যত দুর্বল হচ্ছে, লেবার পার্টির এমপিরা ততই চুলচেরা বিশ্লেষণ করছেন—কে পারবেন দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে, জনমত জরিপে ধস ঠেকাতে এবং সাধারণ ভোটারদের কাছে নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিতে। মন্ত্রিসভায় জ্যেষ্ঠ পদ, আইনি পটভূমি ও ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করায় শাবানা মাহমুদ এখন সেই তালিকায় সবার ওপরের দিকে আছেন।
দলের নেতৃত্ব পরিবর্তনের জন্য বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী অন্তত ৮১ জন লেবার এমপির সমর্থন প্রয়োজন হবে। স্টারমারের অবস্থান আরও শোচনীয় হয়ে পড়লে এমন পরিস্থিতি তৈরি হবে। এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা আসেনি।
আলোচনায় আরও যাঁরা
প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের ওপর চাপ বাড়তে থাকায় উত্তরসূরি হিসেবে কেবল শাবানা মাহমুদ নন, লেবার পার্টির আরও বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার নামও আলোচনায় আসছে।
ওয়েস স্ট্রিটিং
৪৩ বছর বয়সী স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিংকে একজন দক্ষ বক্তা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। গাজা যুদ্ধসহ বিভিন্ন ইস্যুতে সরকারের প্রভাবশালী কণ্ঠস্বর তিনি। তাঁর প্রধানমন্ত্রী হওয়ার উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গুঞ্জন রয়েছে।
গত বছর সংবাদমাধ্যমে খবর এসেছিল, স্টারমারের মিত্ররা স্ট্রিটিংয়ের পক্ষ থেকে আসা সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ২০১৫ সালে পার্লামেন্টে আসা স্ট্রিটিং অবশ্য বরাবরই এসব গুঞ্জনকে ‘বাজে কথা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তবে তাঁর সরব উপস্থিতি তাঁকে আলোচনার কেন্দ্রেই রাখছে।
অ্যাঞ্জেলা রেনার
সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী ৪৫ বছর বয়সী অ্যাঞ্জেলা রেনার লেবার পার্টির প্রথাগত রাজনীতিকদের চেয়ে কিছুটা আলাদা। মাত্র ১৬ বছর বয়সে স্কুল ছাড়েন তিনি। বড় হয়েছেন সরকারি আবাসন প্রকল্পে। অল্প বয়সেই তিনি মা হন। ট্রেড ইউনিয়ন থেকে উঠে আসা রেনার ২০১৫ সালে এমপি নির্বাচিত হন।
তৃণমূলে ব্যাপক জনপ্রিয় রেনার ২০২০ সালে দলের উপনেতা হন। তবে গত বছর বাড়ি কেনা নিয়ে কর বিতর্কে জড়িয়ে সরকার থেকে পদত্যাগ করলে নেতৃত্বের দৌড়ে কিছুটা পিছিয়ে যান তিনি। ওই ঘটনার তদন্ত এখনো শেষ হয়নি। সম্প্রতি এপস্টিন–কেলেঙ্কারির পর তিনি দলের বিদ্রোহী এমপিদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
অ্যান্ডি বার্নহ্যাম
গ্রেটার ম্যানচেস্টারের জনপ্রিয় মেয়র ৫৬ বছর বয়সী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম দীর্ঘদিন ধরেই স্টারমারের সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে পরিচিত। তিনি অতীতে লেবার সরকারের সংস্কৃতি ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন।
তবে বার্নহ্যামের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে বড় বাধা হলো সাংবিধানিক প্রথা—যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীকে অবশ্যই একজন বর্তমান এমপি হতে হয়। চলতি বছরের শুরুতে একটি উপনির্বাচনে লেবার পার্টি তাঁকে প্রার্থী হতে বাধা দিলে তাঁর সম্ভাবনা আরও ক্ষীণ হয়ে পড়ে।
এড মিলিব্যান্ড
৫৬ বছর বয়সী জ্বালানিমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ডের রয়েছে দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা। তিনি এর আগে লেবার পার্টির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
তবে ২০১৫ সালের সাধারণ নির্বাচনে দলের পরাজয়ের পর মিলিব্যান্ড নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়ান। তিনি প্রকাশ্যে আবারও নেতৃত্বে ফেরার আকাঙ্ক্ষা অস্বীকার করলেও দলে তাঁর অবস্থান ও নীতিনির্ধারণী দক্ষতার কারণে অস্থির সময়ে বারবার তাঁর নাম উঠে আসছে।
![]() |
| ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ। ছবি: রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
যুদ্ধে মারা গেছেন ভেবে মৃতদেহ সৎকার করল পরিবার, দুই বছর পর মা পেলেন ছেলের ফোন
এমনকি ২০২৩ সালে পশ্চিম ইউক্রেনের একটি গ্রাম্য কবরস্থানে তাঁরা নাজার ভেবে একজনের মরদেহের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়াও করেছিলেন।
ওই ঘটনার প্রায় দুই বছর পর ঘটল সবচেয়ে বিস্ময়কর ঘটনা। সম্প্রতি সেই নাজারই তাঁর মাকে ফোন করেছেন। জানিয়েছেন, তিনি শারীরিকভাবে অত্যন্ত দুর্বল ও ক্লান্ত হলেও বেঁচে আছেন।
সম্প্রতি বন্দিবিনিময়ের আওতায় রুশ বন্দিশালা থেকে মুক্তি পেয়েছেন নাজার।
সেই সেনাসদস্যের মা নাতালিয়া বিবিসিকে বলেছিলেন, ‘আমার আবেগ খুব তীব্র ছিল।’ তিনি এখনো ঘোরের মধ্যে আছেন।
প্রথম সেই ফোনকল পাওয়ার পর পুরো পরিবারের যে আনন্দ, তা ভিডিওতে ধরা পড়েছে, যা দেখে যে কারও মন ছুঁয়ে যাবে।
নাতালিয়া তাঁর ছেলেকে জিজ্ঞাসা করেন, তিনি অক্ষত আছেন কি না। তিনি জানতে চাচ্ছিলেন, ‘তোমার হাত-পা সব ঠিক আছে তো?’ তিনি বলেছেন, ‘আমার সোনা বাচ্চা, আমি কত দিন ধরে তোমার অপেক্ষায় ছিলাম।’
ভিডিওর শেষের অংশে নাজারের চাচাতো বোন রোকসোলানাকে আনন্দে চিৎকার করতে ও লাফাতে দেখা যায়। নাতালিয়া বলেন, ‘বিষয়টি ছিল বেশ অদ্ভুত। কারণ, আমার ছেলে নিহত হয়েছিলেন। আমি নিজে তাঁর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় ছিলাম। অথচ এখন তাঁর কণ্ঠ শুনতে পাচ্ছি। একজন মায়ের সেই সময়ের অনুভূতিগুলো কী হতে পারে, আপনি কল্পনা করতে পারেন? আনন্দ! ভীষণ আনন্দ! আমি আমার চোখের পানি ধরে রাখতে পারছিলাম না।’
সমাধি থেকে নাজারের ফিরে আসার পুরো গল্প অকল্পনীয়। বিশেষ করে দেশ যখন যুদ্ধের এই ডামাডোলের মধ্যে, এমন সুসংবাদ ইউক্রেনীয়দের কাছে দারুণ খুশির।
২০২২ সালে যখন রাশিয়া পুরোমাত্রায় ইউক্রেন আক্রমণ শুরু করে, ৪২ বছর বয়সী নাজার সরাসরি রণক্ষেত্রে চলে যান। তিনি ইতিমধ্যে ২০১৪ সালে যুদ্ধ করেছিলেন। তাই তিনি ছিলেন অভিজ্ঞ।
নাজারের চাচাতো বোন বিবিসিকে বলেন, তাঁর মনে কোনো দ্বিধা ছিল না। তিনি তৎক্ষণাৎ যুদ্ধে চলে যান।
কিন্তু যুদ্ধের প্রথম বছরে মে মাসেই রণাঙ্গনে নিখোঁজ হন নাজার।
এরপর নাজারের মা রুশ ভাষায় কথা বলা এক ব্যক্তির কাছ থেকে একটি ফোন পান। সেই ব্যক্তি বলেন, নাজারকে বন্দী করা হয়েছে, কিন্তু ‘সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে’।
সেই রহস্যময় কণ্ঠটি নাজার কোথায় আছেন, কারা তাঁকে আটকে রেখেছে, কিংবা তিনি আহত কি না, সে সম্পর্কে কিছুই বলেনি। পরিবার বুঝে উঠতে পারছিল না, তাঁর কথাগুলো বিশ্বাস করবে কি না। আর সরকারিভাবেও নাজারের পরিবার কোনো খবর পাচ্ছিল না।
নাজারের পরিবারের এমন অবস্থা এক বছর চলেছিল। পরে নাতালিয়াকে জানানো হয়েছিল, তাঁর দেওয়া ডিএনএ নমুনা ব্যবহার করে দক্ষিণ-পূর্ব ইউক্রেনের একটি মর্গে একটি মৃতদেহ শনাক্ত করা হয়েছে।
রোকসোলানা ব্যাখ্যা করেন, দেহটি মারাত্মকভাবে পুড়ে গিয়েছিল। একটি পোড়া বাসের ভেতর থেকে তারা বেশ কয়েকটি মরদেহ খুঁজে পেয়েছিল। যখন তারা নিখোঁজ সৈনিকদের তালিকা দেখতে শুরু করল, তখন তথ্যটি মিলে যায়।
রোকসোলানা বলেন, তাঁরা সেই মরদেহটিকে নাজার হিসেবেই শনাক্ত করেন।
এরপর পরিবারটি সেই মরদেহ গ্রহণ করে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করে। পরিবারে নেমে আসে শোকের ছায়া।
এরপর গত সেপ্টেম্বরে নাতালিয়া জীবনের সবচেয়ে বড় চমকটি পান।
রাশিয়া থেকে মুক্তি পাওয়া এক ইউক্রেনীয় সেনা তাঁদের ফোন করে জানান, নাজার বেঁচে আছেন। তিনি তাঁকে কারাগারে দেখেছেন।
সে সময়ের অনুভূতি মনে করে রোকসোলানা বলেন, ‘আমরা স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিলাম, এটা বিশ্বাস করা অত্যন্ত কঠিন ছিল। কিন্তু তিনি কেনই–বা মিথ্যা বলবেন?’
তবুও নাজারের সঙ্গে সরাসরি কথা বলা বা তাঁকে দেখা ছাড়া, তাঁরা পুরোপুরি নিশ্চিত হতে পারছিলেন না।
অবশেষে চলতি সপ্তাহে, নাজার ফোন করেন, তিনি ইউক্রেনের মাটিতে ফিরেছেন।
নাতালিয়ার ছেলে দীর্ঘ ৩ বছর ৯ মাস নিখোঁজ ছিলেন।
যখন নাতালিয়ার পরিবারের সদস্যরা তাঁদের জীবনের সবচেয়ে বড় পুনর্মিলনের জন্য অপেক্ষা করছেন, তখন তাঁরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে নাজারের শেষকৃত্যের তথ্য সরিয়ে ফেলার চেষ্টা করছেন, যাতে তিনি (নাজার) কষ্ট না পান।
নাতালিয়ার পরিবারকে গ্রামের ‘নিহত বীরদের’ প্রদর্শনী থেকেও নাজারের ছবিটি নামিয়ে ফেলতে হয়েছে।
কীভাবে এমন মর্মান্তিক ভুল হলো, তা খতিয়ে দেখতে এখন তদন্ত চলছে।
কিন্তু এই মুহূর্তে পরিবারটির মনোযোগ দেওয়ার মতো আরও অনেক বিষয় রয়েছে।
নাজারের মা তাঁর সন্তানের প্রিয় সব খাবার রান্না করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
রোকসোলানা বলেন, ‘আমি চাই, আমাদের মতো অন্য পরিবারগুলোও এমন ইতিবাচক খবর পাক। সবার প্রিয়জনেরা যেন ঘরে ফিরে আসে।’
ইউক্রেনে বর্তমানে সরকারিভাবে প্রায় ৭০ হাজার মানুষ নিখোঁজ, যাঁদের বড় অংশই সেনাসদস্য। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ হয়তো যুদ্ধক্ষেত্রেই মারা গেছেন এবং তাঁদের মরদেহ উদ্ধার করাও সম্ভব হয়নি।
তবে অনেকে যুদ্ধবন্দী হিসেবে আটকে আছেন এবং তাঁদের পরিবারের কাছে নাজারের এই ফিরে আসা আশার ক্ষীণ আলো হয়ে থাকবে।
নাতালিয়া বলেন, ‘আমি চাই, সব নারী, মা ও সন্তান যেন আমাদের মতো এমন একটি ফোনকল আর এমন আনন্দের দেখা পান।’
নাতালিয়া বলেন, ‘আমি এখন শুধু আমার ছেলের অপেক্ষায় আছি, ওকে খুব শক্ত করে জড়িয়ে ধরতে। আমি ওকে অনেক ভালোবাসি।’
| বিবিসির প্রতিবেদনের একাংশের স্ক্রিনশট। Tausif Ahmed |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সবাই সরকারে চলে এলে দেশ চলবে কীভাবে : -ডয়চে ভেলেকে তারেক রহমান
প্রশ্ন: ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট৷ তো এই নির্বাচন কতটা সুষ্ঠু হবে বলে আপনি আশাবাদী?
তারেক রহমান: আমরা আশা করছি যে নির্বাচনটা সুষ্ঠু হবে। মানুষেরও তা–ই প্রত্যাশা। আমরা আশাবাদী।
প্রশ্ন: ১৭ বছর পর আপনি এই বাংলাদেশে এসেছেন। আপনি নির্বাসনে ছিলেন নানা কারণে। এই ১৭ বছর পর আসার পরে আপনার দল গোছানো নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার ক্ষেত্রে আপনার কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কোনটা ছিল?
তারেক রহমান: চ্যালেঞ্জটা হয়তো কিছুটা খুব সম্ভবত আমারই ছিল। এত বছর পরে এসেছি, আসার পরে মানুষের চোখেমুখে একটা প্রত্যাশা দেখেছি। এটা হলো রাজনৈতিক দিক, অন্যদিকে আসার পাঁচ দিন পরেই আম্মা মারা গেলেন। উনি অসুস্থ ছিলেন অনেক দিন ধরে। স্বাভাবিকভাবে এটাও একটা খুব কষ্টকর বিষয় আমাদের সবার জন্য। আমরা পরিবার যে একসাথে বসে নিজেদের কষ্টটা ভাগ করে নেব, সেই সুযোগটা বা সময়টা হয়নি। কারণ, আমরা একদম নির্বাচনের ডামাডোলের ভেতরে। একদিকে নির্বাচনী ডামাডোল অন্যদিকে ব্যক্তিগত বিষয়টা—দুটোর সামঞ্জস্য রেখে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া, এটাই আসলে আমার কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি যে হয়তো এই চ্যালেঞ্জটা মোটামুটিভাবে মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়েছি আমি।
প্রশ্ন: এবার তো অনেক ভোটার যাঁরা হচ্ছেন তরুণ এবং প্রথমবারের মতো ভোট দিতে যাচ্ছেন। গত তিনটি নির্বাচন বিতর্কিত নির্বাচন আপনি জানেন। ফলে মানুষের মধ্যে একটা বাড়তি আগ্রহ রয়েছে। তরুণদের আগ্রহী করতে বা তরুণদের কাছে পৌঁছাতে, আপনার দলের পক্ষ থেকে কি আলাদা করে বা বিশেষ করে কোনো কিছু করা হয়েছে, যেটাতে তরুণেরা একটু আকৃষ্ট হতে পারেন?
তারেক রহমান: দেখুন, আপনি যদি আমাদের মেনিফেস্টোটা দেখে থাকেন, যেটা আমরা কয়েক দিন আগে জাতির সামনে উপস্থাপন করেছি, সেখানে কিন্তু আমরা সমাজের তরুণদের জন্য, একইভাবে এখানে বয়স্ক যাঁরা আছেন, তাঁদের জন্য, একই সাথে দেশে যে ৪০ লাখ প্রতিবন্ধী আছেন, তাঁদের জন্য, একই সাথে বাংলাদেশের জনগোষ্ঠীর অর্ধেক যে নারী, তাঁদের ক্ষমতায়নের জন্য আমরা পরিকল্পনা রেখেছি, কর্মসূচি রেখেছি, বিশেষ করে শুধু তরুণদের জন্য না, সবার জন্য। কারণ, দেশটা গঠন করতে হবে সবাইকে নিয়ে।
প্রশ্ন: জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে এবং তার পর থেকে বাংলাদেশ এবং ভারতের মধ্যে সম্পর্কের ক্রমশ অবনতি হচ্ছে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিয়েছেন। এই যে সম্পর্ক এবং অতীতে দেখা গেছে যে গত এক দশকে অনেকে মনে করেন যে ভারতের সঙ্গে বিএনপির একটা দূরত্ব রয়ে গেছে এবং সেই দূরত্বটা ঘোচানো যায়নি। ভবিষ্যতে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে আপনার অবস্থান কী হবে?
তারেক রহমান: দেখুন, আপনি যেটা বললেন যে দেখা গেছে যে বিএনপির সাথে তাদের একটা দূরত্ব আছে। অবশ্যই আমরা যদি দেখি যে এমন কোনো চুক্তি হচ্ছে, যেটা বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থের পরিপন্থী, বাংলাদেশের স্বার্থের পরিপন্থী, সেটা যেকোনো দেশের সাথেই হোক না কেন তাদের সাথে স্বাভাবিকভাবেই দূরত্ব হবে। কারণ, আমি তো প্রতিনিধিত্ব করি আমার দেশের মানুষকে। কাজেই যেকোনো দুই দেশের মধ্যে যদি কোনো চুক্তি হয়, যেটা আমার দেশের স্বার্থের সাথে যাবে না, সে ক্ষেত্রে যে কারও সাথেই আমাদের এ রকম দূরত্ব হতে পারে।
প্রশ্ন: ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেখা যাচ্ছে যে চীনের একটা বাড়তি আগ্রহ আছে বাংলাদেশ নিয়ে। আপনাদের কি চীনের জন্য আলাদা কোনো নীতি বা কোনো পদক্ষেপ আছে?
তারেক রহমান: বর্তমান বিশ্বে যদি আমরা চিন্তা করি আমাদের সাথে বিভিন্ন দেশের সম্পর্ক থাকবে, আমরা একা বসবাস করতে পারব না। গ্লোবাল ভিলেজ বলা হয় এখন পৃথিবীকে। কাজেই আমাদের দেশের মানুষ বিভিন্ন দেশের সাথে ব্যবসা–বাণিজ্য করবে। আমাদের দেশের মানুষ বিভিন্ন দেশে যাবে চাকরি–বাকরি বিভিন্ন কারণে। কাজেই আমার দেশের স্বার্থ যেখানে বজায় থাকবে, দেশের মানুষের স্বার্থ যেখানে বজায় থাকবে, আমাদের সাথে তাদের সম্পর্ক ভালো হবে।
প্রশ্ন: একটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে আপনি কয়েক দিন আগেই বলেছেন যে বিএনপি কোনো রকম ঐক্যের সরকার বা জাতীয় সরকার গঠনের পরিকল্পনা নেই জামায়াতের সঙ্গে৷ কিন্তু জামায়াত বলছে যে তারা যদি সুযোগ পায় তারা বিএনপির সঙ্গে এখনো ঐক্যের সরকার করতে রাজি এবং তারা আমন্ত্রণ জানাবে। সে ক্ষেত্রে কি আপনি সেই আমন্ত্রণ গ্রহণ করবেন?
তারেক রহমান: আমরা কনফিডেন্ট যে ইনশা আল্লাহ বাংলাদেশের মানুষের রায় আমরা পাব৷ আমরা সরকার গঠনে সক্ষম হব—এককভাবে। সে ক্ষেত্রে তো কাউকে অপজিশনে থাকতে হবে। কারণ, একটা ব্যালেন্সড রাষ্ট্র যদি হতে হয়, ব্যালেন্সড সরকার যদি হতে হয়, তাদের সে ক্ষেত্রে অপজিশনে থাকতে হবে কাউকে। সবাই সরকারে চলে এলে কেমন করে দেশ চলবে?
প্রশ্ন: বাংলাদেশে প্রায় ১৩ কোটি ভোটার এবং তার অর্ধেকের মতোই নারী। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি যে রাজনৈতিক দলগুলো যে প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছেন, তার মধ্যে নারীর সংখ্যা খুবই কম এবং এটা নিয়ে একটা আলোচনা হচ্ছে দেশে–বিদেশে যে নারীকে কেন এতটা কম সুযোগ দেওয়া হচ্ছে ভোটের রাজনীতিতে? কারণ, যে জুলাই বিপ্লবের কথা বলা হয়, গণ–অভ্যুত্থানের কথা বলা হয়, সেখানেও তাঁরা বিশেষভাবে অবদান রেখেছেন। বিষয়টা কীভাবে দেখছেন?
তারেক রহমান: বিষয়টাকে আমি অন্যভাবে দেখি। বেগম খালেদা জিয়া যখন এর আগে দেশ পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন, তখন উনি একটি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছিলেন এবং সেটা হচ্ছে মেয়েদের শিক্ষাব্যবস্থা। ক্লাস ওয়ান থেকে টুয়েলভ পর্যন্ত উনি ফ্রি করে দিয়েছিলেন। এটি হচ্ছে নারী সমাজকে এমপাওয়ার করার প্রথম একটি পদক্ষেপ৷ অর্থাৎ আপনি একজনের শিক্ষার সুযোগ তৈরি করলেন। আমরা সরকার গঠন করতে সক্ষম হলে নারীদের এই শিক্ষার সুযোগটা আরও হায়ার ক্লাস পর্যন্ত আমরা নিয়ে যাব। এটা হলো এক নম্বর। দ্বিতীয়ত, আপনি নিশ্চয়ই শুনেছেন বা জানেন আমরা দেশের প্রত্যেক হাউসওয়াইফ–এর জন্য, বিশেষ করে শুরু করব প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর থেকে, আমরা একটি ফ্যামিলি কার্ড দিতে চাই, যার মাধ্যমে আমরা তাকে একটি রাষ্ট্র বা সরকার থেকে একটা সহযোগিতা দেব। এই ফ্যামিলি কার্ডটা যখন পাবে, মানসিকভাবে সে এমপাওয়ার্ড ফিল করবে এবং সহযোগিতা যখন বজায় থাকবে, আস্তে আস্তে অর্থনৈতিকভাবে সে স্বাবলম্বী হবে। একদিকে আমরা চেষ্টা করছি নারীদের শিক্ষার আলোয় আলোকিত করতে। একই সাথে আমরা তাদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলছি৷ আমরা শুধু কথার কথা বলে কিছু নমিনেশন বা কিছু গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় কিছু নারীকে দিয়ে দিলাম না৷ কিন্তু আপনি যদি সত্যিই নারীদের ক্ষমতায়নের কথা বলেন তা এভাবে আনতে হবে। তাদের শিক্ষা এবং অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে হবে। আমরা চাইছি শিক্ষার পাশাপাশি নারীকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলতে৷ তাহলে সে তার নিজ যোগ্যতাতেই যেকোনো পর্যায়ের নির্বাচন হোক—স্থানীয় হোক বা জাতীয় নির্বাচন, সে তার নিজ যোগ্যতাবলে নমিনেশন আদায় করেই নিতে সক্ষম হবে। বিষয়টিকে আমরা লংটার্মে নিয়ে যেতে চাইছি। ধীরে ধীরে স্থায়ীভাবে জিনিসটাকে গড়ে তুলতে চাইছি আমরা।
প্রশ্ন: আমরা যখন কথা বলি নারী ভোটারদের সঙ্গে, তাদের কারও কারও মধ্যে একধরনের ভয় বা উৎকণ্ঠাও কাজ করছে যে ১২ তারিখের পরে কী হবে, তারা কতটা নিরাপদ থাকতে পারবেন বা তাদের ওপরে কোনো ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ হবে কি না, তাদের জীবন সংকুচিত করার কোনোরকম পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না৷ এ রকম একধরনের ভয়, একধরনের উৎকণ্ঠা কাজ করছে৷ তাদের উদ্দেশে আপনার কি কোনো বার্তা আছে?
তারেক রহমান: আপনি যে বিষয়গুলো বললেন এটি অবশ্যই আমাদের পক্ষ থেকে নয়। এটি বাংলাদেশে কিছু কিছু অন্য রাজনৈতিক দল আছে যাদের বিভিন্ন কথাবার্তা বা সোশ্যাল মিডিয়াতে তাদের বিভিন্ন স্টেটমেন্টের মাধ্যমে এই ধারণাগুলো জন্ম নিয়েছে মানুষের মাঝে বা নারীদের মাঝে। আমরা সব সময়ই নারীদের এম্পাওয়ারমেন্ট এর কথা বলেছি৷ কারণ, আমরা যত যাই পরিকল্পনা করি না কেন, যখন দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী হয়ে থাকেন, তাদের আলাদা রেখে আমরা দেশকে সামনে নিতে পারব না। আমাদের সকলকে নিয়েই সেটি করতে হবে। সে জন্যই আমরা তাদের শিক্ষার আরও এমন ব্যবস্থা করতে চেয়েছি, যাতে তারা আরও উচ্চশিক্ষা লাভ করতে পারে সহজে। আমরা এমন ব্যবস্থা করতে চাইছি, যাতে তারা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারে৷ অর্থাৎ তাদের কনফিডেন্স আমরা আরও স্ট্রং করতে চাইছি৷ তাদের আত্মবিশ্বাসটা আমরা দৃঢ় করতে চাইছি৷ শুধু তা–ই নয়, আমরা এরই মধ্যে বলেছি যে আমরা দেশে সরকার গঠন করতে সক্ষম হলে আমরা দেশে এমন শিল্পও নিয়ে আসতে চাই, যেখানে নারীরা তাদের কর্মসংস্থান বেশি হবে। কর্মসংস্থানে নারীরা যাতে স্বাচ্ছন্দ্যে কাজ করতে পারে, সেই জন্য কেয়ার সেন্টারসহ অন্যান্য বিষয়গুলো আমরা নিশ্চিত করার চেষ্টা করব আমাদের পরিকল্পনার মধ্যে। আমরা এটাও বলেছি যে নারীরা যাতে নিরাপদে যাতায়াত করতে পারে, ঢাকা শহরসহ বড় শহরগুলোতে আমরা নারীদের জন্য ইলেকট্রিক বাস ইন্ট্রোডিউস করব, যেটা শুধু নারীরাই ব্যবহার করবে এবং সেই বাস পরিচালনাও করবে নারীরা। কাজেই আমাদের দলীয় অবস্থান থেকে আমরা পরিকল্পনা রেখেছি যেগুলো আমরা ইনশা আল্লাহ বাস্তবায়ন করব সুযোগ পেলে যাতে করে নারীরা তাদের জন্য যত বেশি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।
প্রশ্ন: গণ–অভ্যুত্থানের পর সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে৷ রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ এই নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না এবং কোনো কোনো বিশেষজ্ঞ এ রকম মত দিচ্ছেন যে আওয়ামী লীগ অংশ না নেওয়ায় এই নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হচ্ছে না। এই বিষয়টি আপনি কীভাবে দেখছেন?
তারেক রহমান: দেখুন এটা তো পুরো রাজনীতি৷ আমরা রাজনীতি করি মানুষের জন্য, মানুষের সমর্থন নিয়ে৷ কাজেই আমি মনে করি, রাজনীতিতে মানুষ যাকে গ্রহণ করবে তাকে কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না৷ আর যাকে মানুষ গ্রহণ করবে না, যত শক্তিই থাকুক না কেন, শক্তি প্রয়োগ করে সে ধরে রাখতে পারে না, ৫ অগাস্ট যার উদাহরণ৷
প্রশ্ন: দুর্নীতি দমনের যে উদ্যোগের কথা আপনি বলছেন এবং আপনার ম্যানিফেস্টোতে সেটা রয়েছে, ইশতেহারে রয়েছে৷ কিন্তু টিআইবি এবং একাধিক সংগঠন নানা রকম পরিসংখ্যান দিচ্ছে এবং তাতে দেখা যাচ্ছে যে বিএনপির বেশ কয়েকজন প্রার্থী ঋণখেলাপি৷ তারা আদালতের স্থগিতাদেশ নিয়ে তারপরে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন এবং অনেকে আছেন যাঁরা ঋণগ্রস্ত৷ এই বিষয়ে আপনার মতামত কী?
তারেক রহমান: দেখুন দুর্নীতি এবং ঋণগ্রস্ত বা ব্যাংক ডিফল্ট দুটো ভিন্ন জিনিস৷ আমাদের দলের লক্ষ নেতা–কর্মীর নামে বিগত স্বৈরাচার সরকার কেস দিয়েছিল৷ আমাদের দলের মধ্যে যাঁরা আছেন, যাঁরা আমাদের দলীয় রাজনীতির সাথে আছে, যারা ব্যবসা–বাণিজ্য করে তাদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয়েছে৷ তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে তাদের বঞ্চিত করা হয়েছে৷ তাদের ব্যবসা–বাণিজ্য চলতে দেওয়া হয়নি৷ তাদের বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে৷ তাঁদের ন্যায্য ব্যাংক লোন যেটা আছে সেটা তাঁদের দেওয়া হয়নি৷ কাজেই এ রকম একটি অবস্থার মধ্যে আমাদের লোকজন, আমাদের ব্যবসায়ীরা, আমাদের নেতা–কর্মীরা যাঁরা ব্যবসা–বাণিজ্য করতেন, তাঁদের জন্য তো এ রকম ডিফল্ট হওয়াটা খুব স্বাভাবিক ব্যাপার৷ দুর্নীতি এবং ডিফল্ট হয়ে যাওয়ার মধ্যে সম্পর্ক তো নেই৷ দুটো একদম ভিন্ন জিনিস৷
প্রশ্ন: সম্পূর্ণভাবে গণ–অভ্যুত্থানের কথা আপনি যেটা বলছেন যে বিএনপির অনেক নেতা–কর্মী হতাহত হয়েছেন বলে আপনার দল থেকে জানানো হয়েছে৷ গত ১৫-১৬ বছরে গুম খুনের শিকার হয়েছেন অনেকে৷ যারা ভুক্তভোগী, তাদের পরিবারকে বা তাদের বিচার নিশ্চিত করার জন্য আপনার কোনো পরিকল্পনা আছে কি?
তারেক রহমান: অবশ্যই আমাদের পরিকল্পনা আছে, কারণ আমাদের নেতা–কর্মীরা যে রকম গুম–খুনের শিকার হয়েছেন, অন্যান্য গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল যাঁরা আমাদের সাথে আন্দোলন–সংগ্রামে ছিলেন, তাঁরা গুম–খুনের শিকার হয়েছেন। হয়তো সংখ্যা কমবেশি হবে৷ এমনকি অনেক মানুষ আছেন, যাঁরা রাজনীতির সাথে জড়িত না৷ কিন্তু তাঁরা অত্যাচার–নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, গুম–খুনের শিকার হয়েছেন৷ এটি একটি অন্যায় ব্যাপার৷ একটি সভ্য দেশে মানুষ গুম হয়ে যাবে, দেশের মানুষ খুন হয়ে যাবে কিন্তু তার কোনো বিচার হবে না, এটা তো হতে পারে না৷ কাজেই দেশের আইন অনুযায়ী অবশ্যই প্রত্যেকটা মানুষ কারও সাথে যদি অন্যায় হয়ে থাকে, তাঁর বিচার পাওয়ার অধিকার আছে।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
-
▼
2026
(1265)
-
▼
February
(244)
-
▼
Feb 12
(13)
- এপস্টিন নথিতে গোপন করা ছয় ব্যক্তির নাম প্রকাশ
- মিয়ানমারে নির্বাচন শেষে যে রাজনৈতিক মোড়বদল ঘটছে by...
- মানুষের কাছে ভোট কেন এত বড় উৎসব by মনোজ দে
- ভোটগ্রহণের সময় শেষ, অপেক্ষা গণনার
- ভোটের লাইন, সেদিনের–এদিনের by সারফুদ্দিন আহমেদ
- দিনভর বজায় থাকুক ভোট নিয়ে উদ্দীপনা, ইইউ নির্বাচন প...
- গাজীপুরের শ্রীপুরঃ কেন্দ্রে গিয়ে দেখলেন, ভোট দেওয়া...
- এএফপিকে তারেক রহমান: দেশে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফেরা...
- নিজের তিন কর্মীকে বিনা দোষে আটকের অভিযোগ রুমিন ফার...
- সাবেক প্রিন্স অ্যান্ড্রুর দুই মেয়ের সঙ্গেও তাহলে ক...
- যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম প্রধানমন্ত্রী হয়...
- যুদ্ধে মারা গেছেন ভেবে মৃতদেহ সৎকার করল পরিবার, দু...
- সবাই সরকারে চলে এলে দেশ চলবে কীভাবে : -ডয়চে ভেলেকে...
-
▼
Feb 12
(13)
-
▼
February
(244)
- ► 2025 (3280)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...






