Thursday, April 22, 2010

আমি বরং জেলে যাব, নির্বাসনে নয় -অপারেশন গ্রিন হান্ট by অরুন্ধতী রায়

দান্তেওয়াদার ঘটনার আগে ও পরে বলে কিছু নেই। (ভারতের মাওবাদী প্রভাবিত দান্তেওয়াদা এলাকায় আধাসামরিক নিরাপত্তা বাহিনী অভিযান চালাতে গেলে মাওবাদী গেরিলা যোদ্ধাদের আক্রমণে তাদের ৭৬ জন নিহত হন—অনুবাদক) আসলে সহিংসতার চক্রটি বড় হচ্ছে তো হচ্ছেই। মাওবাদীদের হাতে এত বিপুলসংখ্যক নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনা এটাই প্রথম নয়। ২০০৫-০৭ সালে ঘটা এ রকম বেশ কিছু ঘটনা নিয়ে আমি লিখেছি। আমি তাদের মধ্যে পড়ি না, যারা সিআরএফ জওয়ানেরা মারা যাওয়ায় উল্লসিত; আমি তাদেরও কেউ নই, যারা মাওবাদীদের নির্মূল করা দেখতে অধীর। আমাদের বুঝতে হবে, প্রতিটি মৃত্যুই বেদনাদায়ক। একটি ব্যবস্থা, একটি যুদ্ধ যখন জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়, তা হয়ে দাঁড়ায় গরিবের বিরুদ্ধে বড়লোকের যুদ্ধ। সেই যুদ্ধে বড়লোকেরা গরিবস্য গরিবদের লেলিয়ে দেয় গরিবদেরই বিরুদ্ধে। সিআরএফ জওয়ানেরা এ রকমই এক যুদ্ধের ভয়াবহ শিকার। কিন্তু তারা কেবল মাওবাদীদেরই শিকার নয়, তারা শিকার হয়েছে এমন এক ব্যবস্থার হাতে, যা চরিত্রগতভাবেই সহিংস। যাঁরা এর বিরুদ্ধে নিন্দার কারখানা খুলে বসেছেন, তাঁদের ওই সব নিন্দা অনেকটাই অর্থহীন। কারণ, যাঁদের মৃত্যুর নিন্দা তাঁরা করছেন, সেই নিহত ব্যক্তিদের প্রতি তাঁদের আসলেই সহানুভূতি নেই। তাঁরাই তো এই জওয়ানদের দাবার বোড়ের মতো ব্যবহার করেছেন।
সরকারের যুক্তি হলো, মাওবাদীদের ভাইরাসের মতো ঝাড়বংশে বিনাশ করে দরিদ্র এলাকায় হাসপাতাল, বিদ্যালয় ইত্যাদি গড়ে তোলা হবে। ভারতের অনেক গরিব এলাকায়ই তো হাসপাতাল, বিদ্যালয়, পুষ্টিবটিকা কর্মসূচিসহ অঢেল উন্নয়ন কার্যক্রম রয়েছে। তার পরও কি সেসব জায়গায় মাওবাদীরা নেই? আসলে সরকার স্কুলগুলোকে সেনাসদস্যদের ব্যারাক হিসেবে ব্যবহার করছে, যাতে বলতে পারে দেখো, মাওবাদীরা স্কুল ধ্বংস করে এবং তারা উন্নয়নের বিরুদ্ধে।
যে আমি ১০ বছর ধরে অহিংসা ও অহিংস আন্দোলন নিয়ে লিখে আসছি, সেই আমাকে সহিংসতার পক্ষে ভাবা অদ্ভুত। তবে অরণ্যে কিংবা ‘নর্মদা বাঁচাও আন্দোলন’সহ এ রকম অজস্র অহিংস আন্দোলন কোনো একপর্যায়ে সফল হলেও সার্বিকভাবে ফল দিচ্ছে না। অহিংসা, বিশেষত, গান্ধীবাদী অহিংসা হলো এমন এক থিয়েটার, যেখানে দর্শক প্রয়োজন। কিন্তু অরণ্যের ভেতরে, যেখানে আপনার অহিংস মার খাওয়া দেখার কেউ নেই, সেখানে মধ্যরাতে হাজার হাজার পুলিশ আদিবাসীদের গ্রাম ঘিরে ফেললে কী করতে পারে তারা? যার পেটে খাবারই নেই, সে কীভাবে অনশন ধর্মঘট করবে? যাদের কোনো টাকা নেই, তাদের কর দেওয়া বন্ধ বা বিদেশি বা দেশি পণ্য বর্জন করতে বলার কী অর্থ? তারা আক্ষরিকভাবেই সর্বহারা। অরণ্যের আদিবাসীদের সহিংসতাকে আমি পাল্টা-সহিংসতা হিসেবে দেখি। তারা চালাচ্ছে প্রতিরোধের সহিংসতা, আগ্রাসী সহিংসতা নয়। সরকার সেই সহিংসতা দমনে যতই অস্ত্র নামায়, ততই সেসব অস্ত্র চলে যায় মাওবাদী গণমুক্তি গেরিলা বাহিনীর কাছে। যেকোনো সমাজের জন্যই এ পরিস্থিতি ভয়ংকর। এই গরিবদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্র হাজার হাজার প্যারা-মিলিটারি বাহিনী পাঠাচ্ছে। ওই জঙ্গলে একে-৪৭ ও গ্রেনেড হাতে তারা কী করছে আসলে?
আসলে আদিবাসী এলাকায় রাষ্ট্রের কাঠামোগত সন্ত্রাস ‘গণহত্যার মতো’ পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে। আদিবাসীদের পুষ্টিহীনতা, তাদের দুর্দশা দেখে যেকোনো দায়িত্বশীল মানুষ বলবে, এদের ওপর থেকে এমন চাপ বন্ধ করুন, সহিংসতাও বন্ধ হয়ে যাবে। এই আদিবাসীরা সংখ্যায় অনেক দেশের জনসংখ্যার চেয়েও বেশি। এত বিপুল মানুষের অস্তিত্বকে খনি করার জন্য মুনাফার নামে, উন্নয়নের নামে ধ্বংসের কিনারে ঠেলে দেওয়ার যুদ্ধ তো আসলে দেশবাসীর বিরুদ্ধেই যুদ্ধ। রাষ্ট্রের এই আগ্রাসী যুদ্ধের সঙ্গে তাদের প্রতিরোধযুদ্ধের তুলনা অনৈতিক।
১৬ বছরের এক কিশোরী যদি দেখে যে সিপিআরএফের জওয়ানেরা তাদের গ্রাম জ্বালিয়ে দিচ্ছে, তার মা-বাবাকে মেরে ফেলছে; সেই মেয়েটিকে ধর্ষণ করে ফেলে রেখে গেলে সে যদি বলে, আমি ওদের বিরুদ্ধে লড়ব, তাহলে তাকে কী বলার রয়েছে? বন্দুক হাতে তাকে দেখে আমার মধ্যে ভয়ংকর অনুভূতি হবে। তার পরও নিজের ধ্বংস মেনে নেওয়ার চেয়ে এই রুখে দাঁড়ানো ভালো।
ভারত হলো এমন এক মুষ্টিমেয়তন্ত্র, যেখানে গণতন্ত্র মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্তদের স্বার্থ দেখছে। যে গণতন্ত্র গণমানুষের জন্য কাজ করে না, তা ভুয়া গণতন্ত্র। আমাদের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো শূন্যগর্ভ, এগুলো থেকে গরিবদের কিছু পাওয়ার নেই। নির্বাচন দেখুন, আদালত দেখুন, বিচারকদের দেখুন, দেখুন মিডিয়াকে। এর সবকিছুই বিরাট অংশের মানুষকে বাদ দিয়েই যা করার করে যাচ্ছে। কথা হলো, আপনি কোন প্রান্ত থেকে দেখছেন? আপনি যদি উঁচু থেকে দেখেন তো দেখবেন, কী মহান গণতন্ত্র আমাদের! কিন্তু দান্তেওয়াদা থেকে দেখলে এটা কোনো গণতন্ত্রই নয়। আমাদের এমন এক মুখ্যমন্ত্রী আছেন, যিনি বলেন যারা সালভা জুদামের বন্দিশিবিরে থাকতে রাজি হবে না, তারা সন্ত্রাসী। তার মানে, নিজের বাড়িতে হাঁস-মুরগি পালন করা বা খেতখামারি করাও সন্ত্রাসী কাজ?
অপারেশন গ্রিন হান্ট নিয়ে আমার বক্তব্য হলো: এক. সরকারকে বহুজাতিক খনি কোম্পানির সঙ্গে করা সব চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে, সব প্রকল্প স্থগিত ঘোষণা করতে হবে। দুই. উচ্ছেদ করা লাখ লাখ গ্রামবাসীকে পুনর্বাসিত করতে হবে। এবং তিন. অস্ত্রের ব্যবহার বন্ধ করতে হবে।
কারা এই মাওবাদী? তাদের আদর্শিক নেতারা ভারত রাষ্ট্রকে উচ্ছেদ করতে চায়। কিন্তু তাদের পথে যারা লড়ছে, তারা জানেই না রাষ্ট্র কী জিনিস? তার পরও এ মুহূর্তে উভয়ের লক্ষ্য একটি জায়গায় মিলে গেছে। আমি বলতে চাইছি, মাওবাদীরাই একমাত্র নয়, যারা ভারত রাষ্ট্রকে উচ্ছেদ করতে চায়। ‘হিন্দুত্ববাদী প্রকল্প’ আর করপোরেট প্রকল্পগুলো এরই মধ্যে ভারত রাষ্ট্রকে উচ্ছেদ করে এর ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিয়েছে। তাদের হাতে ভারতের সংবিধান গভীরভাবে নাজুক অবস্থায় রয়েছে।
অনেকের মধ্যে একটা মিথ্যা ধারণা রয়েছে যে খনি প্রকল্প হচ্ছে প্রবৃদ্ধির স্বার্থে। এভাবে অদ্ভুত পন্থায় প্রবৃদ্ধি বাড়তে দেখা যায়। কিন্তু এর সঙ্গে জনগণের সত্যিকার উন্নতির সম্পর্ক নেই। যেখানে একটি লোহার খনিতে প্রাইভেট কোম্পানির প্রতি পাঁচ হাজার টনের মুনাফা থেকে সরকার পায় মাত্র ২৭ রুপি, সেখানে একে প্রবৃদ্ধি বলা কঠিন। অথচ এর সবই করা হচ্ছে আদিবাসী ও কৃষকদের জীবনযাত্রা, পরিবেশ ও অর্থনীতিকে ধ্বংস করে। আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লড়াই করছেন এসব কোম্পানির স্বার্থরক্ষার জন্য। দুর্নীতি করুন কি না করুন, তিনি তাদেরই প্রতিনিধি।
আমার বিরুদ্ধে ছত্তিশগড়ে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা হয়েছে। ভীত না হওয়ার মতো হোমরাচোমরা কেউ নই আমি। আমাকে নিশানা করে আসলে তারা সবাইকে হুঁশিয়ার করতে চাইছে। তারা এখন যুদ্ধটাকে আরও তীব্র করবে। তারা এ দেশের সবচেয়ে দরিদ্রতম মানুষের ওপর স্বয়ংক্রিয় বিমানের হামলা চালাতে যাচ্ছে।
তার আগে তারা শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোকে নিশানা করেছে। এখন কেউ সরকারি দৃষ্টিভঙ্গির বিরোধিতা করলেই তাকে বলা হচ্ছে মাওবাদী। তারা পিপলস ইউনিয়ন ফর ডেমোক্রেটিক রাইটস সংস্থার কোবাদ গান্ধীর বিরুদ্ধে অভিযোগ খাড়া করেছে। জেলে পোরা হয়েছে শত শত নাম না জানা মানুষকে। অরণ্যের ভেতরের সশস্ত্র সংগ্রামী থেকে শুরু করে অরণ্যের বাইরের অহিংস কর্মীদের ওপর করপোরেটদের হিংসা ছড়ানো শুরু হয়েছে। পৃথিবীর আর কোথাও এত বড় আকারে এমনটি ঘটছে না।
যা-ই হোক, আমি এখানেই থাকব। কেননা, এ দেশের জনগণই এই মুহূর্তে ভারতের সবচেয়ে কঠিন সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে। আমি এর জন্য গর্বিত। এই প্রতিরোধের জন্য আমি তাদের স্যালুট জানাই। তাদের সমর্থনের জন্য আমি বরং জেলে যাব, কিন্তু সুইজারল্যান্ডে সুন্দর নির্বাসনে যাব না।
ভারতের সিএনএন-আইবিএন টিভি চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকার থেকে রূপান্তরিত।
কাউন্টারকারেন্টস থেকে সংক্ষেপিত ভাষান্তর: ফারুক ওয়াসিফ
অরুন্ধতী রায়: ভারতের প্রতিবাদী লেখক ও মানবাধিকারকর্মী।

একজন তরুণ চিকিৎসককে বাঁচান -মানুষ মানুষের জন্য by শুভাগত চৌধুরী

মনটা খারাপ হয়ে গেল। আমার একজন ছাত্র, চিকিৎসক হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেতে চলেছে, তার বড় ভাই মো. ফজলে রাব্বী, তিনিও চিকিৎসক, ভয়ানক অসুস্থ। ক্রমে ক্রমে একদিন কখন যে তাঁর বড় ভাইয়ের লিভার নিষ্ক্রিয় হয়ে গেছে, ভালো করে বুঝতেও পারিনি। বারডেমে আমার ল্যাবে টেস্ট করানোর জন্য এসেছিল তাঁর বড় ভাইয়ের, রক্তের নমুনা আনা হলো, টেস্ট করা হলো, ফলাফল বড় উদ্বেগের ব্যাপার হয়ে দাঁড়াল। এর আগে চিকিৎসা হয়েছে ঢাকার বাইরে, এখন চিকিৎসা চলছে ঢাকার শ্রেষ্ঠ একটি প্রতিষ্ঠানে। সেখানকার চিকিৎসকেরা বলে দিয়েছেন, লিভারের যে অবস্থা, ট্রান্সপ্লান্ট করানো ছাড়া উপায় নেই। দেশে এখন ট্রান্সপ্লান্ট শুরু হয়নি, তাই ভারতের শ্রীগঙ্গারাম হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে তাঁকে।
কিন্তু এত টাকা কোথায় পাবে তারা। আমার যে ছাত্র চিকিৎসক, তার অর্থবিত্ত এত নেই, মাত্র পেশাগত জীবনের শুরু, আর তার চিকিৎসক ভাইয়ের সংগতি আরও কম। শিশুরোগ বিদ্যায় কনসালট্যান্ট হিসেবে প্রত্যন্ত স্থানে তাঁর পোস্টিং হয়েছিল। কয়েক মাস খুব কষ্ট গেছে শরীর ও মনে। এবার শিশুরোগ পেশা ছেড়ে দিয়ে তিনি মৌলিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর শিক্ষা নিচ্ছিলেন। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না। একদিন প্রবল জ্বর। জন্ডিস। বিলিরুবিন বেড়ে ৩৬। খুব দুর্বল ও কাহিল শরীর। মৃতপ্রায় অবস্থা। ঢাকায় নিয়ে আসা হলো। লিভারের কাজকর্ম ক্রমেই নিঃশেষ হয়ে আসছিল। বড় হাসপাতালে ভর্তি হলেন। এরপর চিকিৎসাও হলো, বড় বড় চিকিৎসকও দেখলেন। উন্নতি হলো না। অন্যান্য টেস্টের ফলাফল দুর্যোগের মুখোমুখি করেছে শরীরকে। আর এবার তো যেতে হবে বাইরে। চিকিৎসকেরা বললেন, ট্রান্সপ্লান্ট ছাড়া বাঁচার পথ নেই। বাঁচাতে হবে ভাইকে। কিন্তু অনেক টাকা। চিকিৎসক ভাই একা তো পারবে না। আমার ছাত্রটি বলল, ‘স্যার, আপনি কি একটু লিখবেন? কেউ যদি আমাদের ওর জীবন বাঁচাতে সাহায্য করে, বড় কৃতজ্ঞ থাকব আমরা। এত অর্থ কোথায় পাব, স্যার?’ বললাম, লিখব। জানি এমন মানুষ আছে যারা বিপন্ন মানুষের জন্য এগিয়ে আসে। এমন উপকারী মানুষ এ দেশে অনেক আছে। কেউ এমন ইচ্ছা প্রকাশ করলে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক লিমিটেড, শান্তিনগর শাখা, অ্যাকাউন্ট নম্বর ১০৮.১০১.২৭১৯৮১ হিসাবে অর্থসাহায্য জমা করতে পারেন। এটুকু সহানুভূতি মানুষ নিশ্চয়ই পেতে পারে। বিষণ্ন, ম্লান মুখে যদি একদিন হাসির ঝিলিক দেখা যেতে পারে এ জন্য...।
শুভাগত চৌধুরী: পরিচালক, ল্যাবরেটরি সার্ভিসেস, বারডেম; অধ্যাপক, ইব্রাহিম মেমোরিয়াল মেডিকেল কলেজ।

বিস্কুট-দৌড় এবং উপেক্ষিত জনসংখ্যা ইস্যু by আনিসুল হক

বিস্কুট-দৌড়ের সঙ্গে আমাদের সবারই কমবেশি পরিচয় আছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় সাধারণত এই খেলাটা হয়ে থাকে। একটা দড়ির সঙ্গে সুতোর সাহায্যে ঝুলিয়ে রাখা হয় অনেকগুলো বিস্কুট। দুজন শিক্ষক বা শিক্ষিকা দড়িটার দুই মাথা ধরে মাঠের মধ্যখানে দাঁড়িয়ে থাকেন। এক প্রান্তে বাচ্চারা লাইন ধরে দাঁড়ায়। তারপর যে-ই না বাঁশি বেজে উঠল, বাচ্চারা সবাই দৌড় ধরল বিস্কুটের দিকে। তাদের সবারই আবার হাত পেছন দিকে বাঁধা। তারা এবার আঙুরের মতো ঝুলতে থাকা বিস্কুট মুখে পোরার জন্য লাফাতে শুরু করল। শিক্ষক দুজনও দড়ি ধরে নাড়তে লাগলেন। বিস্কুটও নড়ছে। সেই বিস্কুট মুখে পোরা কি যা-তা কথা। তবুও কেউ না কেউ মুখে পুরে ফেলে। তারপর এক ঝটকায় সুতো ছিঁড়ে সে দৌড় ধরল শেষ গন্তব্য লাইনের দিকে।
পেছনে হাতবাঁধা বাচ্চারা যখন বিস্কুট মুখে পোরার জন্য লাফায়, তখন দর্শকেরা আনন্দে হাততালি দিয়ে ওঠে। কেউ বা হেসে গড়িয়ে পড়ে। অবশ্য যাদের ছেলেমেয়েরা এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে, তাদের পক্ষে হাসা কঠিন, প্রতিযোগিতার উত্তেজনায় তাদের চোয়াল শক্ত হয়ে আসে। বাংলাদেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডটা বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এই বিস্কুট-দৌড়ের মতো। আমাদের কিছু উন্নয়ন-সহযোগী আছে। তাদের হাতে থাকে দড়ি। সেই দড়িতে তারা সুতো দিয়ে তহবিল বেঁধে রাখে। আর আমাদের উন্নয়ন সংস্থাগুলো দৌড় ধরে সেই তহবিল বা ফান্ড মুখে পোরার জন্য। তারা যে খুব সহজে বিস্কুটোপম তহবিলটা গলাধঃকরণ করতে পারে, তা নয়। খুব সহজে লক্ষ্যেও পৌঁছাতে তারা পারে না। কী করব বলুন, আমাদের হাত-পা যে দাতাদের কাছে বাঁধা! তাদের এই যুক্তি তো আমাদের মানতেই হবে।
একেকবার একেকটা বিষয় নিয়ে খুব একটা হইচই শুরু হয়। কারণ কী? কারণ ওই বিষয়ে ব্যাপক তহবিল এসেছে। তো সবারই ওই বিষয়ে এক বা একাধিক প্রকল্প তৈরি হয়ে যায়! যখন যে বিষয়ে ফান্ড আসে, আর সেই তহবিলের অর্থপ্রবাহ যত দিন থাকে, তত দিনই ব্যাপক তৎপরতা। প্রকল্প শেষ তো ওই বিষয়ে আমাদের সব আগ্রহ, উদ্বেগ, ভালোবাসাও শেষ। এর আরেক নাম হয়তো মুরগি পোষা ভালোবাসা। যত দিন মুরগি ডিম দেয়, তত দিনই সে গৃহস্থের ভালোবাসা পায়; যেই ডিম দেওয়া বন্ধ, অমনি তাকে ধরে জবাই করে খেয়ে ফেলা শেষ।
কিছুদিন এই দেশে খুব হইচই হলো এইডস নিয়ে। এইডস নিয়ে আমাদের সচেতন হতে হবে, এতে কোনোই সন্দেহ নেই। সেই সচেতনতাটা হতে হবে স্থায়ী, কেবল যে কদিন তহবিল আসছে, সেই কদিনের জন্য তো নয়। তো যাদের কাছে অর্থ আসছে, তাঁরা এইডস নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন, যাঁদের কাছে আসছে না, তাঁদের মাথাব্যথা সেরে গেছে। আর্সেনিকের চিন্তায় অনেকেরই ঘুম হারাম হয়ে গিয়েছিল, কারণ তহবিল এসেছিল এই খাতে। এখনো আর্সেনিক আছে, সেই সমস্যা আছে, কেবল অনিদ্রা কেটে গেছে, কারণ হয়তো এ বিষয়ে আর তহবিল পাওয়া যাচ্ছে না। একেকবার একেক জিনিস নিয়ে বাজার গরম হয়ে ওঠে। কদিন গেল সবুজ ছাতা, তারপর এল সূর্যের হাসি। এখন কোথায় সবুজ ছাতা আর কোথায় সূর্যের হাসি, কে জানে। এখন ব্যাপক টাকার গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে। সরকারের বরাদ্দ করা ৭০০ কোটি টাকার জন্য হাজারো প্রকল্প প্রস্তাব জমা পড়েছে, শত শত তদবির আসতে শুরু করেছে—কাগজে পড়েছেন নিশ্চয়ই। এই প্রথম আলোতেই ছাপা হয়েছে।
তো বাংলাদেশে খুব জোরেশোরে শুরু হয়েছিল জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের কার্যক্রম। বেতারে-টেলিভিশনে রাস্তাঘাটে চলেছিল ব্যাপক প্রচারণা। পরিবার পরিকল্পনা সুবিধাও মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা পর্যন্ত করা হয়েছিল। তার সুফল দেখা দিয়েছিল। এই দেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমতে শুরু করেছিল। এখন আর বেতারে-টিভিতে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ বা পরিবার পরিকল্পনার কথা শুনিই না বললে চলে। আমাদের ছাত্রজীবনে তো স্কুলপাঠ্য গল্প ছিল, মোমেনরা সাত ভাই। এখন এই রকম কোনো গল্প আছে বলে আমার জানা নেই।
কিন্তু আমাদের জনসংখ্যা বেড়েই চলেছে। এখন জনসংখ্যা প্রায় ১৬ কোটি, ২০১৫ সালে হবে ১৮ কোটি। বাংলাদেশ পৃথিবীর সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ দেশগুলোর একটা। অস্ট্রেলিয়া আয়তনে বাংলাদেশের চেয়ে প্রায় ৬৫ গুণ বড়, বাংলাদেশের জনসংখ্যার ঘনত্বে যদি অস্ট্রেলিয়াতে লোক বসানো যায়, তাহলে পৃথিবীর সব লোক অস্ট্রেলিয়ার অর্ধেকটাতেই এঁটে যাবে, বাকি অর্ধেক অস্ট্রেলিয়া খালি পড়ে থাকবে। অথচ অস্ট্রেলিয়ার লোকসংখ্যা মাত্র দুই কোটির মতো। পৃথিবীর সব লোককে যদি বাংলাদেশের জনসংখ্যার ঘনত্বের হারে আমেরিকার যুক্তরাষ্ট্রে বসানো হয়, তাহলে আমেরিকার দুই-তৃতীয়াংশেই সবার জায়গা হয়ে যাবে, বাকি এক ভাগ খালি পড়ে থাকবে।
আর ঢাকার জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কোনো গণিতের সূত্র মানে না। উপকূলে আইলা-সিডরের পানি নামছে না, মানুষ চলে আসে ঢাকায়; নদীতে ভেঙে যাচ্ছে জনপদ, মানুষ চলে আসছে ঢাকায়; চরাঞ্চলে মঙ্গা, মানুষ চলে আসছে ঢাকায়। আবার সবার ছেলেমেয়েকে ঢাকায় পড়াতে হবে। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, গার্মেন্টস কলকারখানা, সেনানিবাস—সব এই ঢাকাতেই হতে হবে।
ঢাকার যানজট নিয়ে আমরা চিন্তিত। একদিন নিয়ম করে দিন, বলুন, আজ সবাইকে স্কুল-কলেজ, অফিস-আদালত, দোকান-কারখানায় যেতে হবে, কিন্তু কোনো যান চলবে না, দেখুন রাস্তায় মানবজট লাগে কি না! ফুটপাতে মানুষের জায়গা হয় না, যদি ফুটপাতে কোনো ফেরিওয়ালা না বসে, তবুও। লাখ লাখ লোক প্রতিটা মোড়ে রাস্তা পার হচ্ছে, ওই সব মোড়ে যানজট লাগবেই। এত মানুষকে বিদ্যুৎ-পানি-গ্যাস দেবেন, যানসুবিধা দেবেন, শিক্ষা-স্বাস্থ্য-বাসস্থান দেবেন, কীভাবে দেবেন, আল্লাহ জানেন।
আমরা জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আর কথা বলি না, কারণ এই বিষয়ে এখন আর দাতাদের তহবিল আসছে না। আর আমরা বিকেন্দ্রীকরণের নাম কেউ মুখেও আনছি না। আমাদের সবকিছু ঢাকামুখী! বন্দরনগর চট্টগ্রামকে খুব বাহারি একটা নাম দেওয়া হয়েছে, বাণিজ্যিক রাজধানী। কিন্তু আমাদের বণিকেরাও সব বাস করেন ঢাকায়, আমাদের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কেন্দ্রও ঢাকায়, এমনকি আমাদের পোশাক কারখানাগুলোও ঢাকায়। অথচ চট্টগ্রামকে সত্যিকারের বাণিজ্যিক রাজধানী করে গড়ে তুলে সেটাকেই বাণিজ্যের কেন্দ্র করে গড়ে তোলা উচিত। আমাদের একটা শিক্ষা শহর গড়ে উঠতে পারে। রাজশাহীর কথা একবার শুনেছিলাম এই বিষয়ে। হোক না রাজশাহী এবং আরও কোনো কোনো শহর শিক্ষার জন্য বিখ্যাত, যাকে আমরা ডাকব বাংলার ক্যামব্রিজ বা বোস্টন বলে। সেখানে অনেকগুলো বিশ্ববিদ্যালয় থাকবে, কলেজ থাকবে, প্রকৌশল বা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় থাকবে অনেকগুলো। আমাদের একটা চিকিৎসার জন্য বিখ্যাত শহর থাকতে পারে ঢাকার বাইরে। কিন্তু এখন কান ফুটো করতেও মানুষকে চলে আসতে হয় ঢাকায়। আমাদের সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী, নৌবাহিনী, পুলিশ, বিডিআর—সবকিছুর কেন্দ্র ঢাকায়। বিকেন্দ্রীকরণের কথা আমরা বেমালুম চেপে গেছি। অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থা কর্তৃপক্ষের সদর দপ্তর বরিশালে করা হয়েছিল, ওখানে কেউ যেতে চায় না, অগত্যা ওটা ফের ফিরিয়ে আনা হয়েছে ঢাকায়।
সত্য বটে, আমাদের জনসংখ্যাই আমাদের শক্তি। কিন্তু সংখ্যাকে শক্তি হিসেবে তৈরি করতে হলে তো তাকে শিক্ষা দিতে হবে, স্বাস্থ্য দিতে হবে। দক্ষ জনশক্তি আমাদের জন্য সত্যি বিশাল সম্পদ, কিন্তু অদক্ষ জনগোষ্ঠীর বিপুল সংখ্যা আমাদের জন্য সম্পদ নয়, বোঝা।
সরকারের উচিত আবার একটা আন্দোলন গড়ে তোলা। জনসংখ্যা বৃদ্ধি রোধের আন্দোলন। একটা বৈপ্লবিক কর্মসূচি হাতে নেওয়া—বিকেন্দ্রীকরণের বিপ্লব। আমাদের অবশ্যই স্থানীয় সরকারগুলোকে শক্তিশালী করতে হবে। আমাদের অবশ্যই উপজেলা পর্যায়ে মানসম্মত বিশেষজ্ঞ শিক্ষা-চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে। আর সাধারণ শিক্ষা ও চিকিৎসা সুপ্রতুল করতে হবে গ্রামগঞ্জ ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত।
এই সরকার অবশ্য দুটো কর্মসূচি হাতে নিয়েছে, এক বাড়ি এক খামার আর মঙ্গা এলাকায় প্রতিটি পরিবারের একজনকে কাজ দেওয়ার কর্মসূচি। এই সরকারের উন্নয়ন ভাবনায় গ্রামের কথা, গরিব মানুষের কথা, গরিব মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর কথা শুনতে পাই। এটা ভালো। শহরমুখী জনস্রোত অবশ্যই রোধ করতে হবে, আর অবশ্যই জনসংখ্যা বিস্ফোরণ রোধ করতে হবে। অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য যে এই বিষয়টাকে সরকারের, কিংবা নীতিনির্ধারকদের বা উন্নয়ন সংস্থাগুলোর অগ্রাধিকার তালিকায় আর দেখতে পাই না। আগে রেডিও খুললেই সুখী পরিবার ধরনের অনুষ্ঠান শুনতে পেতাম, এখন কোনো বেসরকারি চ্যানেলে কোনো দিন কাউকে পরিবার পরিকল্পনার কথা মুখে আনতে শুনি না, সরকারি টেলিভিশনেও আদৌ এই জাতীয় অনুষ্ঠান হয় কি না, আমাদের চোখে পড়ে না।
বাংলাদেশের উন্নয়নকে যদি ধরে রাখতে হয়, তাহলে অবশ্যই আমাদের জনসংখ্যাবিষয়ক একটা পরিকল্পনা, একটা লক্ষ্যমাত্রা থাকতে হবে। আর ঢাকাকে যদি দু-চার বছরের মধ্যেই পরিত্যক্ত নগর হিসেবে ঘোষণা না দেওয়ার ইচ্ছা থাকে, তাহলে অবশ্যই বিকেন্দ্রীকরণ করতে হবে।
আমাদের উন্নয়ন নীতি ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড যেন বিস্কুট-দৌড়ের নিয়ম দিয়ে পরিচালিত না হয়। খালি বিস্কুটের লোভে আমরা যেন লাফালাফি না করি।
মাঝেমধ্যে মনে হয়, আমাদের নীতিনির্ধারকেরা, আমাদের ভাগ্যনিয়ন্তারা হয়তো হাল ছেড়ে দিয়েছেন। তাঁরা বুঝে নিয়েছেন, এ দেশের আর কোনো ভবিষ্যৎ নেই। তাঁদের অনেকেই বিদেশে টাকাকড়ি জমাচ্ছেন, কেউ কেউ নাগরিকত্ব নিয়ে নিয়েছেন, ছেলেপুলেদের তো অবশ্যই বিদেশে পাঠিয়ে দিয়েছেন। লুটে শুষে দেশটাকে ছোবড়া বানানো হয়ে গেলে তাঁরা বিমানের সিটে বসে পড়বেন। কিন্তু আমাদের তো আরেকটা পাসপোর্ট নেই। দেশের নব্বই ভাগ লোকের এই দেশটাই শেষ ঠিকানা। কাজেই দেশটাকে বাঁচাতে হবে, মনুষ্য বসবাসের উপযোগী রাখতে হবে। আর তা যদি করতে হয়, তাহলে জনসংখ্যাটাকে আমাদের এক নম্বর ইস্যু হিসেবে সামনে আনতে হবে। বিকেন্দ্রীকরণ করতে হবে। নদনদী পাহাড় সমুদ্র কৃষিজমি বন পরিবেশ প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা করতে হবে। আবার প্রত্যেক মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলো মেটানোর জন্য ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এখনই নিতে হবে এবং পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ শুরু করে দিতে হবে। দাতারা যদি আমাদের বিস্কুট নাও দেয়, তবুও নিজের ভালো নিজেদেরই বুঝে নিতে হবে। আমরা এখনো নিশ্চয়ই অতটা পাগল হইনি যে নিজের ভালোটাও বুঝব না।
আনিসুল হক: সাহিত্যিক ও সাংবাদিক।

সীমান্তের ওপারে ফেনসিডিলের কারখানা -খুঁজে বের করতে হবে রাঘববোয়ালদেরও

দেশের তরুণ প্রজন্মের উল্লেখযোগ্য অংশ যে মাদক তথা ফেনসিডিলে আসক্ত হয়ে পড়ছে, তার অন্যতম কারণ এই ক্ষতিকর পণ্যটির সহজলভ্যতা। বাংলাদেশে ফেনসিডিলের কোনো কারখানা নেই। কিন্তু হাটবাজারে যত্রতত্র এ পণ্যটি পাওয়া যাচ্ছে প্রতিবেশী দেশটির কল্যাণে। পত্রিকার খবর অনুযায়ী, সীমান্তের কাছাকাছি ভারতীয় ভূখণ্ডে ফেনসিডিলের বহু কারখানা স্থাপন করেছেন সে দেশের ব্যবসায়ীরা। সম্প্রতি দুই দেশের সীমান্তরক্ষীদের বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বিএসএফের কাছে একটি তালিকাও হস্তান্তর করা হয়, যাতে সীমান্তবর্তী ভারতীয় ভূখণ্ডে ৩২টি ফেনসিডিলের কারখানার নাম-ঠিকানা রয়েছে।
ভারতে নেশাজাতীয় পণ্য হিসেবে ফেনসিডিলের ব্যবহার প্রায় শূন্যের কোঠায়। তার পরও সীমান্ত ঘেঁষে এসব কারখানা স্থাপনের একটাই উদ্দেশ্য—উৎপাদিত পণ্যটি বাংলাদেশে পাচার করা। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষীদের ব্যর্থতা তো আছেই; কিন্তু ভারতীয় সীমান্তরক্ষীরাই বা কী করছে? যেখানে নিরীহ বাংলাদেশিরা সীমান্ত পার হতেই বিএসএফের গুলি খাচ্ছে, সেখানে টনকে টন ফেনসিডিল সীমান্ত পার হয়ে বাংলাদেশে ঢুকছে কীভাবে? এর বেচাকেনা ও পাচারের সঙ্গে কারা জড়িত, তাও নিশ্চয়ই বিএসএফের অজানা নয়।
আসলে মাদক পাচারকারীদের সঙ্গে দুই দেশের সীমান্তরক্ষীদেরই আঁতাত রয়েছে, রয়েছে মোটা অঙ্কের অবৈধ লেনদেনও। এর আগে মাদকদ্রব্যের পাচার রোধে দুই দেশের মন্ত্রী ও কর্মকর্তা পর্যায়েও বহুবার বৈঠক হয়েছে এবং যৌথ ঘোষণা এসেছে। কিন্তু বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন নেই। সীমান্তে জঙ্গি ও বিচ্ছিন্নতাবাদী তৎপরতা বন্ধে বাংলাদেশ সর্বতোভাবে প্রতিবেশী দেশটিকে সহায়তা করেছে। মাদকদ্রব্য বা ফেনসিডিলের সমস্যাটি তার চেয়ে কম গুরুতর নয়। সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশ যুক্তিসংগতভাবেই আশা করতে পারে, উল্লিখিত কারখানাগুলো বন্ধে ভারত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।
এর পাশাপাশি দেশের ভেতর যাতে ফেনসিডিল বেচাকেনা না হতে পারে, সে ব্যাপারেও কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে। মাঝেমধ্যে দু-চারজন বাহক ও খুদে বিক্রেতাকে পাকড়াও করলে লাভ হবে না। এদের নেপথ্যের রাঘববোয়ালদের খুঁজে বের করে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে ভারত যাতে সীমান্তবর্তী ফেনসিডিলের কারখানাগুলো বন্ধ করে দেয়, সে জন্য কূটনৈতিক প্রয়াসও অব্যাহত রাখতে হবে।

১৫ বিচারপতির শপথ -বিচারক বাছাই-প্রক্রিয়ায় অস্বচ্ছতা অগ্রহণযোগ্য

সুপ্রিম কোর্টের ১৫ অতিরিক্ত বিচারকের শপথ অনুষ্ঠানে আপিল বিভাগের বিচারপতিদের অনুপস্থিতি ছিল এক নজিরবিহীন ঘটনা। সম্প্রতি নিয়োগ পাওয়া ১৭ বিচারপতির মধ্যে ১৫ জনকে প্রধান বিচারপতি রোববার শপথবাক্য পাঠ করান। দুজনকে শপথ না পড়ানোর চেয়ে এবারের বিচারক বাছাইয়ে সার্বিক অস্বচ্ছতা অনেক বেশি উদ্বেগজনক।
উচ্চ আদালতের বিচারক নিয়োগে একটি জুডিশিয়াল কমিশন গঠনের কোনো বিকল্প নেই। উচ্চ আদালতের বিচারকাজ প্রজাতন্ত্রের সবচেয়ে জটিল ও সংবেদনশীল কাজ। এখানে বিশেষজ্ঞ-জ্ঞান, উঁচু নৈতিকতা, সততা ও নিষ্ঠা না থাকলে কারও উচিত নয় এই পদ লাভের আশা করা। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিচারক নিয়োগের প্রক্রিয়ায় মাঝেমধ্যেই দুর্ভাগ্যজনক সব ঘটনা ঘটেছে। বিচারক বাছাইয়ে রাষ্ট্র ব্যর্থ হলে সে রাষ্ট্রের বিচার বিভাগের স্বাধীনতা অন্তঃসারশূন্য হতে বাধ্য।
২০০৮ সালে হাইকোর্ট বিভাগের একটি বৃহত্তর বেঞ্চ বিচারক নিয়োগে একটি বিস্তারিত নীতিমালা তৈরি করে। ২০০৯ সালে আপিল বিভাগ তাতে কিছুটা সংশোধনী আনে। এই নীতিমালার মূল নির্দেশনা হলো, বিচারক নিয়োগ-প্রক্রিয়া শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অবশ্যই স্বচ্ছ হতে হবে। এই স্বচ্ছতা বিমূর্ত কোনো বিষয় নয়। কেউ একজন দাবি করলেই চলবে না যে বিচারক নিয়োগের প্রক্রিয়া স্বচ্ছ হয়েছে। আপিল বিভাগের রায় বলেছে, সবচেয়ে যোগ্য ব্যক্তিকে খুঁজে বের করতে হবে এবং সেই প্রক্রিয়াটির অবশ্যই লিখিত রূপ থাকতে হবে। আমরা সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলের বক্তব্য থেকে এটা অনুমান করতে অপারগ যে সবচেয়ে যোগ্য ব্যক্তিকে খুঁজে বের করার কোনো চেষ্টা আদৌ হয়েছিল। সে কারণে আমরা মনে করি, এবারের বিচারক বাছাই-প্রক্রিয়া আপিল বিভাগের নিজের বেঁধে দেওয়া নীতিমালা অনুযায়ী হয়নি। এটা ঠিক যে, নতুন নীতিমালায় প্রধান বিচারপতির পরামর্শকেই বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবে প্রধান বিচারপতির একক কর্তৃত্ব খাটানোর কোনো সুযোগ সেখানে রাখা হয়নি।
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি দুঃখজনকভাবে দলীয় রাজনৈতিক রেখায় বিভক্ত। বিচারক নিয়োগের প্রশ্নে তারা ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে। বিএনপি ও আওয়ামী লীগের সমর্থকেরা একই দিন পৃথক সংবাদ সম্মেলন করেছেন। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির বিএনপিপন্থী শীর্ষস্থানীয় নেতারা পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দুজন বিচারকের শপথ পাঠ না করাতে একটি অবস্থান নেন। কিন্তু তাঁরা সার্বিকভাবে বিচারক বাছাই-প্রক্রিয়ার বৈধতা কিংবা শুদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে ব্যর্থ হয়েছেন। আমরা দেখেছি যে বিএনপির আমলে বিচারক বাছাই-প্রক্রিয়াও ছিল যথেষ্ট অস্বচ্ছ। অযোগ্য ও অদক্ষ বিচারক নিয়োগের নিন্দা জানিয়ে সুপ্রিম কোর্ট বার তখন লিখিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিল। ওই সিদ্ধান্তপ্রণেতারাই পরে ১০ বিচারকের মামলায় বিচারক বাছাই-প্রক্রিয়া স্বচ্ছ করার প্রশ্নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। কিন্তু এবার একই ধরনের অস্বচ্ছ প্রক্রিয়া অনুসরণের পর সেই সরব মুখগুলো আশ্চর্যজনক নীরবতা পালন করেছেন।
আপিল বিভাগের বিচারকেরা কেন শপথ অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত থেকেছেন তা স্পষ্ট নয়, তবে বিচারক বাছাই-প্রক্রিয়ার সার্বিক প্রক্রিয়াগত অস্বচ্ছতা নিরসনে তাঁরা যথাযথ পদক্ষেপ নেবেন, সেটাই প্রত্যাশিত। বিচারপতি মো. আবদুল মতিন তাঁর দীর্ঘ রায়ে ২১টি দেশের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করে যথার্থই মন্তব্য করেছেন, সংসদীয় গণতান্ত্রিক বিশ্বের প্রবণতা হলো বিচারক বাছাইয়ে কমিশন গঠন করা। সংসদকে অবশ্যই এ-সংক্রান্ত বিলুপ্ত অধ্যাদেশের আদলে একটি আইন করতে হবে। ইতিমধ্যে সংসদীয় কমিটি যোগ্যতানির্ধারণী আইন করার যে উদ্যোগ নিয়েছে, তাকে আমরা স্বাগত জানাই। তবে আপিল বিভাগের রায় থাকা সত্ত্বেও বিচারক বাছাই যে স্বচ্ছ ও শুদ্ধ প্রক্রিয়ায় হলো না, তা মার্জনা করা যায় না।

সামরিক আদালতে শ্রীলঙ্কার সাবেক সেনাপ্রধান ফনসেকা

শ্রীলঙ্কার সাবেক সেনাপ্রধান শরত্ ফনসেকাকে গতকাল সোমবার সামরিক আদালতে হাজির করা হয়েছিল। চলতি মাসে পার্লামেন্ট নির্বাচনে সাংসদ নির্বাচিত হওয়ার পর এই প্রথম তিনি আদালতে হাজির হলেন।
জেনারেল ফনসেকার নেতৃত্বে সেনাবাহিনী গত বছর তামিল বিদ্রোহীদের যুদ্ধে পরাজিত করে। এর ফলে দেশটিতে প্রায় চার দশকের গৃহযুদ্ধের অবসান ঘটে। কিন্তু যুদ্ধের পরপরই প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপক্ষের সঙ্গে ফনসেকার মতপার্থক্য দেখা দেয়। ফনসেকা সেনাবাহিনী থেকে পদত্যাগ করেন। গত জানুয়ারি মাসে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করে রাজাপক্ষের কাছে তিনি হেরে যান। ওই নির্বাচনের ১২ দিন পর ফনসেকাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
দুটি অভিযোগে সামরিক আদালতে ফনসেকার বিচার হচ্ছে। এক. তিনি সামরিক কেনাকাটায় দুর্নীতি করেছেন। দুই. সেনাবাহিনী থেকে পদত্যাগ করার আগেই তিনি রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ফনসেকা।
৮ এপ্রিলের পার্লামেন্ট নির্বাচনে সাংসদ নির্বাচিত হওয়ার পর গতকালই প্রথম ফনসেকাকে শুনানির জন্য আদালতে হাজির করা হয়। রাজধানীতে নৌবাহিনীর সদর দপ্তরে অত্যন্ত গোপনীয়ভাবে ফনসেকার বিচার করা হচ্ছে।

বাগদাদের ভোট পুনর্গণনার নির্দেশ

ইরাকে গত মাসে অনুষ্ঠিত পার্লামেন্ট নির্বাচনে রাজধানী বাগদাদের ভোট পুনর্গণনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একটি প্যানেল গতকাল সোমবার এ নির্দেশ দিয়েছে।
নির্বাচন কমিশনার হামদিয়া আল হুসেইনি জানিয়েছেন, ভোট পুনর্গণনার কাজ শিগগিরই শুরু হবে। তবে গণনা শেষ হতে কত দিন লাগতে পারে সে বিষয়ে তিনি কিছু বলেননি।
গত ৭ মার্চ পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। কোনো দল বা জোটই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। প্রাথমিক ফলাফলে সামান্য ব্যবধানে পিছিয়ে আছে প্রধানমন্ত্রী নুরি আল-মালিকির শিয়া জোট স্টেট অব ল। ভোট পুনর্গণনার দাবিটি তারাই তুলেছিল।
মালিকির জোটের জ্যেষ্ঠ নেতা কামাল আল-সাদি বলেন, ‘আমরা আশা করছি ভোট পুনর্গণনা হলে ফলাফল পাল্টে যাবে এবং স্টেট অব ল লাভবান হবে।’
৩২৫ আসনের পার্লামেন্ট নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফলে ৯১ আসন পেয়ে প্রথম অবস্থানে আছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী আয়াদ আলাবির জোট। তারা সুন্নিদের ব্যাপক সমর্থন পেয়েছে। অন্যদিকে শিয়াদের সমর্থন পেয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে নুরি আল-মালিকির স্টেট অব ল। তাঁরা পেয়েছে ৮৯ আসন। ইরাকি ন্যাশনাল অ্যালায়েন্স পেয়েছে ৭০ আসন এবং সংখ্যালঘু কুর্দিদের জোট পেয়েছে ৫৮ আসন।

যশোরে যুবলীগের কর্মী খুন

মাত্র এক মাস আগে যশোর জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলনকে কেন্দ্র করে দলীয় কোন্দলে খুন হন ছাত্রলীগের এক কর্মী। আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের দুটি পক্ষের কোন্দলে তখন মুহুর্মুহু গুলি আর বোমাবর্ষণ চলে, শহরজুড়ে সৃষ্টি হয় ত্রাস। আর এবার গুলি করে ও বোমা মেরে হত্যা করা হয়েছে যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত একজনকে। আগের হত্যাকাণ্ডের মতোই এবারও সাংসদ খালেদুর রহমান টিটো ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদারের মধ্যকার বিরোধের জেরে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ক্ষমতাসীন দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের এমন সহিংস প্রকাশ শুধু সরকার ও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের জন্যই নয়, জনগণের জন্যও এক অশনিসংকেত।
বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতাসীন হয়েছে আওয়ামী লীগ। দিনবদলের অঙ্গীকার করে ক্ষমতায় এলেও দলের নেতা-কর্মী আর যুবলীগ ও ছাত্রলীগের লাগামহীন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে মনে হচ্ছে, পুরোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতির আবর্তেই রয়ে গেছে আওয়ামী লীগ। পুরোনো সেই রাজনীতির ছায়া বারবার দেখা যাচ্ছে দল এবং এর সহযোগীদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বেও। এসব দ্বন্দ্বের কেন্দ্রে আদর্শের লেশমাত্র নেই, আছে কেবল ক্ষমতা ও প্রভাব-প্রতিপত্তি নিশ্চিত করার আকাঙ্ক্ষা।
ব্যক্তি ও গোষ্ঠীস্বার্থের যে রাজনৈতিক সংস্কৃতি দেশে কায়েম আছে, তা বদলানোর তাগিদ আজ সর্বজনস্বীকৃত। দলীয় সংস্কৃতি ও নেতা-কর্মীদের আচরণ বদলানোর প্রয়োজনীয়তা বিষয়ে খোদ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামও সম্প্রতি বলেছেন, ‘দেশ বদলাতে হবে, তবে তার আগে আওয়ামী লীগকে বদলাতে হবে। আওয়ামী লীগ বদলালেই দেশ বদলে যাবে।’ তিনি আরও বলেছেন, নেতৃত্ব নির্বাচনে আওয়ামী লীগ রাজনীতিতে আমূল পরিবর্তন আনতে চায়। কিন্তু সেই বদলের লক্ষণ কই? আমাদের হতাশ না হয়ে উপায় থাকে না, যখন দলীয় কোন্দলে হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনা ঘটে। এই সংস্কৃতি বদলাতে সরকারের বিশেষ তৎপরতা দেখা যায় না, আর প্রধানমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি সত্ত্বেও সন্ত্রাস, খুন চলতেই থাকে।
কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা নিয়ে কেবল যশোরেই নয়, সারা দেশেই আওয়ামী লীগের ভেতর এ রকম দ্বন্দ্ব আছে। এসবের পেছনে নিজের বা নিজেদের আখের গোছানোর প্রশ্নটিই প্রধান। রাজনীতির এসব বিবাদ যখন যশোরের এই ঘটনার মতো সহিংস হয়ে ওঠে, তখন তা নাগরিক জীবনে অশান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এ দিকটিই জনগণের জন্য বিশেষ উদ্বেগের। তাই পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আগেই সরকার ও ক্ষমতাসীন দলের এ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার।

লাদেনের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট বন্ধ

আল-কায়েদা প্রধান ওসামা বিন লাদেনের নামে খোলা একটি অ্যাকাউন্ট বন্ধ করেছে সামাজিক যোগাযোগের সাইট ফেসবুক। ফেসবুকের মুখপাত্র অ্যান্ড্রু নোয়িইস গত রোববার এ তথ্য দিয়েছেন।
নোয়িইস জানান, বিখ্যাত ও কুখ্যাত মানুষদের নাম ব্যবহার করে অনেকেই ভুয়া অ্যাকাউন্ট খোলার চেষ্টা করেন। এমনও হতে পারে, অ্যাকাউন্টটি আল-কায়েদাপ্রধানের নামে অন্য কোনো ব্যক্তি খুলেছেন। আমরা এ ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধের চেষ্টা করছি। তিনি বলেন, ফেসবুকে লাদেনের সহস্রাধিক ভক্ত ছিলেন। তাঁরা নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন। সেখানে কট্টর ইসলামি চিন্তাধারার বেশ কিছু বক্তব্য ও অডিও রেকর্ডিং পোস্ট দেওয়া হয়। একপর্যায়ে অ্যাকাউন্টটি বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

জাতিসংঘ প্রতিবেদনে নাম আসায় সাত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

বেনজির ভুট্টোর হত্যাকাণ্ড নিয়ে জাতিসংঘ তদন্ত প্রতিবেদনে নাম আসায় সাত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে পাকিস্তান সরকার। তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের চার দিনের মাথায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো।
সরকার রাওয়ালপিন্ডির নগর পুলিশ কর্মকর্তা সৌদ আজিজ, সাবেক জেলা সমন্বয়কারী কর্মকর্তা ইরফান এলাহী, রাওয়ালপিন্ডি পুলিশের সাবেক আইজি চৌধুরী আবদুল মজিদ, পুলিশ সুপার আশফাক আনোয়ার এবং এসপি অপারেশনস ইয়াসিন ফারুক ও খুররম শাহজাদাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে। তাঁদের মধ্যে সৌদ আজিজ ওই সমাবেশে বেনজির ভুট্টোর নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন।
ওই কর্মকর্তাদের বরখাস্ত ছাড়াও বেসামরিক নিরাপত্তা বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার (অব.) জাভেদ ইকবাল চিমার সঙ্গে করা চুক্তি বাতিল করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হিসেবে চিমাই প্রথম সরকারিভাবে বেনজিরের মৃত্যুর খবর জানিয়েছিলেন। বেনজির হত্যাকাণ্ডের সময় তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি বিভাগ ন্যাশনাল ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট সেলের ডিজি ছিলেন।
কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে রাষ্ট্রপতির মুখপাত্র ফারহাতুল্লাহ বাবর জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে এ নির্দেশ এসেছে।
তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানির নির্দেশ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হয়েছে।’
এ ছাড়া জাতিসংঘ প্রতিবেদনে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রেহমান মালিক ও সিন্ধু প্রদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জুলফিকার মির্জাসহ ক্ষমতাসীন দল পিপিপির কয়েকজন নেতাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

যৌন হয়রানি নিরোধ নীতিমালা হচ্ছে না কেন by জোবাইদা নাসরীন

সামপ্রতিক সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে বেশ কিছু যৌন নিপীড়নের ঘটনা আবারও আলোচনায় এসেছে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি নিরোধ আইনের প্রয়োজনীয়তা দিন দিন তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন নিপীড়নবিষয়ক কয়েকটি ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে বেশ আলোচিত হয়েছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের একজন নারী-শিক্ষক তাঁরই সহকর্মী বিভাগীয় চেয়ারম্যান এক পুরুষ-শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ এনেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের এক ছাত্রী যৌন নির্যাতনের অভিযোগ করেছেন বিভাগীয় এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নৃবিজ্ঞান বিভাগের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধেও একই ধরনের অভিযোগ এনেছেন বিভাগীয় ছাত্রী এবং প্রথম দফায় তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সেই শিক্ষককে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠান (প্রথম আলো, ৮ এপ্রিল ২০১০)।
২০০৯ সালের ১৪ মে হাইকোর্ট এক যুগান্তকারী রায়ের মাধ্যমে যৌন হয়রানিকে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করে এ বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেন। এতে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রে আচরণবিধি তৈরি করার নির্দেশ দেওয়া হয়। এই পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন নিপীড়ন সেল গঠন এবং হাইকোর্টের দিকনির্দেশনা অনুযায়ী আচরণবিধি তৈরি করার নির্দেশ দেয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো বিশ্ববিদ্যালয় এই আচরণবিধি তৈরি করেনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ে কিংবা বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানির ক্ষেত্রে এজেন্ট বহুমুখী। ছাত্র কর্তৃক ছাত্রী নিপীড়ন, পুরুষ-শিক্ষক কর্তৃক ছাত্রী নিপীড়ন এবং পুরুষ-শিক্ষক কর্তৃক নারী-শিক্ষক নিপীড়নের ঘটনা এখন পর্যন্ত দেখা গেছে। ১৬ এপ্রিল প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদপত্রের বরাতে জানা যায়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের এক নারী-শিক্ষক তাঁর সহকর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন, এক বছর ধরে বিভাগের সভাপতি মুঠোফোনে ও সামনাসামনি নানা অশ্লীল মন্তব্য করে তাঁকে হয়রানি করে আসছেন। পত্রিকান্তরে আরও জানা যায়, এ বিষয়ে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে মৌখিক ও লিখিতভাবে পাঁচবার অভিযোগ করেছেন। কিন্তু এ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে বিনীত জিজ্ঞাসা, কেন একজন নারী-শিক্ষককে তাঁরই সহকর্মীর হয়রানি থেকে বাঁচার জন্য পাঁচবার অভিযোগ করতে হলো? এর আগের চারটি অভিযোগ কোথায় গেল, কেন সেগুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হলো না? এতবার অভিযোগ করার পরও অভিযুক্তকে কেন সহকারী প্রক্টর হিসেবে রাখা হলো? অভিযুক্ত শিক্ষক শিক্ষক-রাজনীতিতে প্রভাবশালী বলেই কি আগের চারটি অভিযোগ চাপা দেওয়া হলো? যে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে আন্দোলন হয়েছে এবং যৌন হয়রানিকে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করার দাবি উঠেছিল, সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য কীভাবে এ ধরনের অভিযোগের বিরুদ্ধে এত দিন ব্যবস্থা নিলেন না?
যৌন হয়রানি-সংক্রান্ত হাইকোর্টের রায় ও দিকনির্দেশনা অনুযায়ী এটি স্পষ্টতই যৌন হয়রানি। উল্লেখ্য, যে শিক্ষকের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে, তাঁর বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন মামলার কথা তাঁর বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরির নিয়োগকালে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় আলোচিত হয়েছিল। তবে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে পুরুষ-শিক্ষক কর্তৃক নারী-শিক্ষককে যৌন হয়রানির ঘটনাও এ-ই প্রথম নয়। প্রায় এক যুগ আগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে সরকার ও রাজনীতি বিভাগের একজন নারী-শিক্ষক সে সময়ের উপাচার্যকে জানিয়েছিলেন, তাঁকে যৌন হয়রানি করেছেন সেই বিভাগেরই এক পুরুষ-শিক্ষক। কিন্তু দাপুটে শিক্ষক-রাজনীতির কারণে সে সময় ওই ঘটনার কোনো সুরাহা মেলেনি।
শুধু জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়েই নয়, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়েই অনেক পুরুষ-শিক্ষক বিভিন্ন নারী-শিক্ষকের শরীর নিয়ে, উচ্চতা নিয়ে, এমনকি গায়ের রং নিয়ে নানা ধরনের অশ্লীল মন্তব্য করেন, যা একজন নারীর মর্যাদাবোধে আঘাত করে, তাঁকে আতঙ্কিত করে তোলে, সহকর্মীর প্রতি মর্যাদাবোধের বিপরীতে তাঁর থেকে নিরাপত্তাহীনতার বোধ তৈরি করে। একজন নারী-শিক্ষককে যদি তাঁর শরীর নিয়ে, উচ্চতা নিয়ে তাঁরই সহকর্মীর কটূক্তির ভয়ে সব সময় আতঙ্কগ্রস্ত থাকতে হয়, তাহলে তিনি কীভাবে স্বচ্ছন্দে কাজ করবেন?
অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নারী-শিক্ষকেরা পরবর্তী অধিকতর ঝামেলার ভয়ে এ ধরনের ঘটনার প্রতিবাদ করেন না। এমনকি কেউ কেউ করলেও এর কোনো প্রতিকার পান না। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরাজমান শিক্ষক-রাজনীতি ভোট হারানোর ভয়ে কোনো শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পক্ষে থাকে না। আবার এই অভিযুক্ত শিক্ষকেরাও কোনো না কোনো রাজনৈতিক দলের ছত্রচ্ছায়ায় থাকেন। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে শুধু তদন্ত কমিটি গঠন করেই চিরস্থায়ীভাবে আড়ালে নিয়ে যাওয়া হয় এ ধরনের অপরাধ। বিচারের পরিবর্তে অভিযোগের পাওনা হিসেবে অভিযোগকারীকেই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চলে যেতে হয়। যেসব শিক্ষার্থী যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছেন তাঁদের অনেককে নানা শাস্তিও পেতে হয়েছে। কিন্তু অভিযুক্ত শিক্ষক তাঁর একাডেমিক, রাজনৈতিক ও পুরুষতান্ত্রিক ক্ষমতা আর দাপট নিয়ে থাকছেন বহাল তবিয়তে। তাই এ ধরনের ঘটনা কমে তো না-ই বরং বাড়ছে। ছাত্রী থেকে সহকর্মী, কেউই নিরাপদ নন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো কোনো পুরুষ-শিক্ষকের হাত থেকে।
গত এক দশকে দেশের বিভিন্ন স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন শিক্ষকের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকেন্দ্রিক আলোচিত ১২টি যৌন হয়রানির (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চারটি, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে দুটি, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঁচটি, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি) ঘটনার মাত্র একটির ক্ষেত্রে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে (প্রথম আলো, ৮ এপ্রিল প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী)। কোনো কোনোটির ক্ষেত্রে তদন্ত কমিটি শেষ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি। দু-একটি ক্ষেত্রে নামমাত্র শাস্তি হয়েছে। এ বিষয়ে কোনো ধরনের দিকনির্দেশনা না থাকায় শাস্তির ক্ষেত্রে কোনো ধরনের নিয়ম মানা হচ্ছে না।
এখন পর্যন্ত কোনো বিশ্ববিদ্যালয় কেন যৌন হয়রানি নিরোধ নীতিমালা ও আচরণবিধি প্রণয়ন করেনি, সে বিষয়টি স্পষ্ট নয়। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তাব্যক্তির কাছে অনুরোধ, বর্তমানে সংঘটিত বিভিন্ন ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের পাশাপাশি অবিলম্বে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যৌন নিপীড়নবিরোধী নীতিমালা প্রণয়নের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় অন্তত নারীর জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করুন।
জোবাইদা নাসরীন: শিক্ষক, নৃবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
zobaidanasreen@gmail.com

অপচয় রোধে

ভারতের মুম্বাই শহরে এখন পানির তীব্র সংকট। আর তার ছাপ পড়েছে শহরের ৯৮৬টি শৌচাগারে। এসব শৌচাগারে এখন জলবিয়োগের জন্য এক রুপি, প্রাতঃকর্ম দুই রুপি আর স্নানের জন্য লাগবে ছয় রুপি। আগে এগুলোর জন্য ব্যয় হতো এর অর্ধেক অর্থ।
মুম্বাই পৌরসভা পানি-সংকটের কারণে পাবলিক শৌচাগারে পানির বরাদ্দ কমিয়ে দিয়েছে। শহরের শৌচাগারগুলো যাঁরা লিজ নিয়ে চালান, তাঁরা এ জন্য দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছেন। শুধু তা-ই নয়, প্রাতঃকর্ম বা স্নানের জন্য সময়সীমাও বেঁধে দেওয়া হচ্ছে। পানির অপচয় রোধে এমন ব্যবস্থা নিতে হচ্ছে বলে জানালেন শহরের বাইকুল্লা এলাকার এক শৌচাগারের পরিচালক।

নতুন কিরগিজ সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ

কিরগিজস্তানের ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট কুরমানবেক বাকিয়েভের সমর্থকেরা নতুন সরকারের বিরুদ্ধে নতুন করে প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে তুলেছেন। গতকাল সোমবার দেশের দক্ষিণাঞ্চলে অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে সমবেত হন বাকিয়েভের শত শত সমর্থক। এদিকে কাজাখস্তানের সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বাকিয়েভ ওই দেশ ত্যাগ করেছেন।
সরকারবিরোধী সহিংস আন্দোলনের মুখে গত ৭ এপ্রিল প্রেসিডেন্ট বাকিয়েভ পালিয়ে যান। কয়েক দিনের গোলযোগের পর তিনি কাজাখস্তানে নির্বাসনে যান। সেখানে গিয়ে তিনি পদত্যাগ করেন।
বাকিয়েভ পালিয়ে যাওয়ার পর সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী রোজা ওতুনবায়েভার নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করেছে। নতুন সরকার বলেছে, সরকারি নিরাপত্তা বাহিনী গোটা দেশ নিয়ন্ত্রণ করছে। কিন্তু দক্ষিণাঞ্চলে ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট বাকিয়েভের শক্ত ঘাঁটিতে অস্থিতিশীলতা সরকারের কর্তৃত্বকে হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।
সপ্তাহান্তে দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর জালালাবাদে আঞ্চলিক সরকারের কার্যালয় দখল করে নেন বাকিয়েভের সমর্থকেরা। গতকাল সকালে শহরের কেন্দ্রস্থলে সমবেত হন প্রায় দেড় হাজার সমর্থক।
সমবেত সমর্থকেরা স্লোগান দেন, ‘বাকিয়েভ আমাদের বৈধ প্রেসিডেন্ট।’ বিক্ষোভকারীদের অনেকের হাতে ছিল ব্যানার। ব্যানারে লেখা ছিল, ‘ক্ষমতা দখল করার জন্য বিরোধীরা রক্তপাত ঘটিয়েছে।’
এক খবরে বলা হয়েছে, জালালাবাদে আঞ্চলিক সরকারের কার্যালয়ে পুলিশের উপস্থিতি চোখে পড়েনি। বাকিয়েভের সমর্থকেরা মুক্তভাবে কার্যালয়ে ঢুকেছেন আর বের হয়েছেন। তবে সার্বিক পরিস্থিতি ছিল শান্তিপূর্ণ।
ওতুনবায়েভার নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গৃহযুদ্ধ এড়ানোর জন্য তারা বাকিয়েভকে পালাতে দিয়েছেন। দক্ষিণাঞ্চলে শক্তি প্রয়োগ করা হবে না বলে জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। সরকার বলেছে, পরবর্তী ছয় মাস সংবিধান সংস্কার ও অবাধ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রস্তুতির দিকে মনোযোগ থাকবে।
কিরগিজস্তানে অস্থিতিশীলতা যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া উভয় দেশের জন্যই উদ্বেগের বিষয়। কারণ সাবেক এই সোভিয়েত প্রজাতন্ত্রে উভয় দেশেরই সামরিক বিমানঘাঁটি রয়েছে।
ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর কুরমানবেক বাকিয়েভ কাজাখস্তানে পালিয়ে যান। তবে বর্তমানে তিনি কোথায় আছেন, তা পরিষ্কার নয়।

আমাদের অনেক কাজই জনপ্রিয় হয়নি: ওবামা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন, ‘অনেক কাজ আমরা করেছি, তবে এর অধিকাংশই জনপ্রিয় হয়নি। এ ছাড়া অনেক কাজ আমরা করার অপেক্ষায় আছি।’
গত সোমবার ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে সিনেটর বারবারা বক্সারের পুনর্নির্বাচনের জন্য তহবিল সংগ্রহ অনুষ্ঠানের এক বক্তব্যে ওবামা এ কথা বলেন।
ওবামা জানান, হোয়াইট হাউসের ঠিকানায় জনগণের অনেক চিঠি আসে। এর মধ্য থেকে বাছাই করা ১০টি চিঠি তিনি প্রতিদিন পড়েন। ওবামা বলেন, ‘অর্ধেক চিঠিতেই আমাকে “বোকা” বা “অপদার্থ” বলে সম্বোধন করা হয়। আর বাকি চিঠিতে থাকে সাধারণ নাগরিকদের প্রতিদিনের জীবনসংগ্রামের কাহিনি।’
প্রেসিডেন্ট ওবামা আরও বলেন, ‘পরিবর্তন কেন দ্রুত আসছে না—এ নিয়ে জনগণের মধ্যে তীব্র উত্কণ্ঠা আছে। মানুষকে আমি আবারও বলতে চাই—পরিবর্তন আসছে।’
জনগণের সমস্যা নিয়ে কাজ করার ক্ষেত্রে ডেমোক্রেটিক ও রিপাবলিকান পার্টির মধ্যে ঐক্যের অভাবই মূল সমস্যা বলে জানান ওবামা। তিনি বলেন, ‘আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে দ্রুত কিছু কাজ করতে চাই। এর মধ্যে অভিবাসন আইনের সংস্কার এবং অর্থনৈতিক অবস্থান পুনরুদ্ধারের বিষয়টি অন্যতম।’
নিজের অন্যতম মিত্র এবং সিনেটের পরিবেশবিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান বক্সারের জন্য ক্যালিফোর্নিয়ায় তহবিল সংগ্রহের অনেক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ওবামার লস অ্যাঞ্জেলেসে যাওয়ার কথা। সেখানে কয়েকজন তহবিল সংগ্রহকারীর সঙ্গে সাক্ষাত্ করবেন তিনি।
ক্যালিফোর্নিয়ার তিনবারের সিনেটর বক্সারকে এবার বেশ জোরালো প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি হতে হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। এর মধ্যে সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে রিপাবলিকান দলের দুজন বেশ ধনবান। একজন হলেন, হিউলেট-প্যাকার্ডের সাবেক প্রধান কার্লি ফিয়োরিনা এবং অন্যজন সাবেক কংগ্রেসম্যান টম চ্যাম্ববেল।
প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনের সব কটিতে এবং সিনেটের ১০০টি আসনের এক-তৃতীয়াংশ আসনে আগামী নভেম্বরে ভোট হবে। রিপাবলিকানরা আশা করছেন, যেসব আসন ডেমোক্র্যাটদের দখলে, সেখানে ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে ভোটারদের ক্ষুব্ধ মনোভাব কাজে লাগিয়ে তাঁরা ভালো করতে পারবেন।
স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে জনগণের সংশয় এবং অব্যাহত বেকারত্ব নিয়ে মানুষের ক্ষোভের কারণে জনরায় নিজেদের পক্ষেই আসবে বলে আশা রিপাবলিকানদের।

ইউরোপের আকাশে আবার উড়তে শুরু করেছে বিমান

আগ্নেয়গিরির ছাইয়ের মেঘ কমতে শুরু করায় গতকাল মঙ্গলবার ইউরোপের আকাশে আবার বিমান চলাচল শুরু হয়েছে। টানা পাঁচ দিন কার্যত বন্ধ থাকার পর অনেক দেশে কমবেশি বিমান চলাচল করেছে। ফলে বিভিন্ন দেশে আটকে পড়া লোকজনের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসছে।
তবে এর মধ্যেই যুক্তরাজ্যের বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ আবার সতর্কতা জারি করে বলেছে, আইসল্যান্ড থেকে আগ্নেয়গিরির নতুন একটি ছাইয়ের মেঘ আবার ইউরোপের দিকে আসছে। এতে করে বিমান চলাচল পুরোদমে শুরুর ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
বিমান চলাচলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর বৃহত্তম সংকট মোকাবিলায় ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত (ইইউ) দেশগুলোর পরিবহনমন্ত্রী ও বিশেষজ্ঞরা গত সোমবার ভিডিও কনফারেন্স করেন। ওই আলোচনায় বিমান চলাচল শুরুর সিদ্ধান্ত হয়। এরপর মঙ্গলবার সকাল থেকে ইইউর ২৭টি দেশে বিমান চলাচল শুরু হয়।
গতকাল সকালে ফ্রান্সের প্যারিস, স্পেনের মাদ্রিদ এবং জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট থেকে বিমান ওঠানামা শুরু হয়। তবে এদিন অনেক ফ্লাইট বাতিল করা হয়। তখন আশা করা হয়, মঙ্গলবার দিনের মধ্যে ইউরোপের অনেক রুটেই বিমান চলাচল শুরু করা সম্ভব হবে।
এদিকে যুক্তরাজ্যের স্কটল্যান্ড থেকে গতকাল আবার বিমান উড্ডয়ন শুরু হয় এবং ইংল্যান্ডের উত্তরাংশ থেকে বিমান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। তবে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ জানায়, জাতীয় বিমান চলাচল সংস্থা ন্যাটস নতুন করে সতর্কতা জারি করায় তারা স্বল্পপাল্লার ফ্লাইটগুলো বাতিল করেছে।
উত্তর আয়ারল্যান্ডের বেলফাস্ট বিমানবন্দরের এক মুখপাত্র জানান, তাঁরা আশা করছেন শিগগির বিমান চলাচল শুরু করতে পারবেন। তবে এ জন্য তাঁরা ন্যাটসের পরামর্শের অপেক্ষায় আছেন।
নেদারল্যান্ডের পরিবহনমন্ত্রী ক্যামিয়েল ইউরলিংস জানান, তাঁর দেশে বিমান চলাচল শুরু হয়েছে। তবে পরিস্থিতির অবনতি হলে আবারও তা বন্ধ করা হতে পারে বলে তিনি সতর্ক করে দেন।
সুইজারল্যান্ড ও ইতালির উত্তরাংশেও গতকাল বিমান চলাচল শুরু হয়। ফ্রান্স তার কিছু রুটও চালু করে। সকাল থেকে বেলজিয়াম ও ডেনমার্কে বিমান চলাচল শুরু হয়। এ ছাড়া অস্ট্রিয়া, এস্তোনিয়া, হাঙ্গেরি ও তুরস্কও আবার বিমান চলাচল শুরু করেছে। তবে ফিনল্যান্ড, পোল্যান্ড ও নরওয়ে গতকালও আবারও বিমান চলাচল বন্ধ করে দেয়।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন বলেছে, বিমান চলাচল শুরুর বিষয়ে বিভিন্ন দেশের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। ইউনিয়নের পরিবহনবিষয়ক কমিশনের কর্মকর্তা হেলেন কেয়ার্নস জানান, সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় সমন্বয়ের বেশ অভাব। একেক দেশ একেকভাবে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।
জার্মানির হ্যানোভার থেকে আমাদের প্রতিনিধি সরাফ আহমেদ জানান, গত রোববার নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে ঘণ্টাখানেক পর আবার তা বলবত্ করায় সমালোচনার মুখে পড়েন জার্মান পরিবহনন্ত্রী রামস্যাউয়ার। তবে মন্ত্রী বলেছেন, বিমানপথ সম্পূর্ণ নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত তিনি নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখার পক্ষে।
ইইউ দেশগুলোর পরিবহনমন্ত্রীরা বিমান সংস্থাগুলোর চাপ ও সমালোচনার মুখে সোমবারের ভিডিও কনফারেন্সে বসেন। ইইউর পরিবহনবিষয়ক প্রধান সিম কার্লোস জানিয়েছেন, ওই বৈঠকে পরিবহনমন্ত্রীরা বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে বিমান চলাচল শুরুর সিদ্ধান্ত দেন।
তবে ইউরোপের আকাশের যেসব অংশে এখনো ছাইয়ের মেঘ ঘনীভূত আছে, বিমানগুলো সে এলাকা পরিহার করে চলবে।
আমাদের প্রতিনিধি আরও জানান, বার্লিনে বাংলাদেশ-জার্মানিবিষয়ক একটি সম্মেলনে যোগ দিতে এসে আটকা পড়েছেন সুলতানা কামালসহ বেশ কয়েকজন। তবে ওই সম্মেলনে যোগ দেওয়া বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিব সড়কপথে বার্লিন থেকে রোম হয়ে দেশে ফিরেছেন।
এদিকে গত বুধবার থেকে অগ্ন্যুৎপাত শুরু করা আইসল্যান্ডের এয়াকিউয়াতলুয়োকুটল আগ্নেয়গিরি মঙ্গলবার কিছুটা শান্ত ছিল। তিনটি জ্বালামুখ দিয়ে থেমে থেমে এখনো অগ্ন্যুৎপাত হলেও ছাইয়ের পরিমাণ কমে এসেছে।
পাঁচ দিন ধরে ইউরোপের আকাশে বিমান চলাচল বন্ধ থাকার কারণে সারা বিশ্বের লাখ লাখ ভ্রমণকারী বিভিন্ন স্থানে আটকা পড়েছে। বিমানপথে পরিবহন করা হয়, এমন পণ্যের সংকট শুরু হয়েছে। ইউরোপের আন্তদেশীয় ট্রেনগুলোতে যাত্রী বেড়ে যায় কয়েক গুণ। অতিরিক্ত ট্রেন চালিয়েও সংকট কাটানো যাচ্ছে না। বিভিন্ন স্থানে আটকে পড়া ভ্রমণকারীরা গাড়িসহ বিকল্প উপায়ে গন্তব্যে ফিরতে বাধ্য হচ্ছে। ফ্রান্সে একই সঙ্গে রেল ধর্মঘট শুরু হওয়ায় সে দেশে পরিবহনব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।
আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল সংস্থা (আইএটিএ) জানিয়েছে, বিশ্বের বিমান কোম্পানিগুলো প্রতিদিন গড়ে ২৭ কোটি মার্কিন ডলার লোকসান দিচ্ছে। বিরাট ক্ষতির মুখে স্ক্যান্ডিনেভিয়া এয়ারলাইনস তাঁদের আড়াই হাজার কর্মচারীকে ছাঁটাইয়ের নির্দেশ দিয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা গতকাল হাঁপানি ও ফুসফুসের অন্যান্য রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের অগ্ন্যুৎপাতের ছাই থেকে সাবধানে থাকার পরামর্শ দেয়।
বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, অতীতে আইসল্যান্ডেরই আরেক বড় অগ্ন্যুৎপাতের কারণে ইউরোপজুড়ে যে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ ও মহামারি হয়েছিল, তা থেকে শিক্ষা নিয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। বিষাক্ত গ্যাসেও সে সময় হাজার হাজার লোকের মৃত্যু হয়।

তৃতীয় পরমাণু বোমা পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে উত্তর কোরিয়া

তৃতীয় দফা পরমাণু বোমা পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে উত্তর কোরিয়া। আগামী মে অথবা জুন মাসে এ পরীক্ষা চালানো হতে পারে। অজ্ঞাতনামা কূটনৈতিক সূত্রকে উদ্ধৃত করে দক্ষিণ কোরিয়ার গণমাধ্যম ওয়াইটিএন এ কথা জানায়।
এক বছরেরও বেশি সময় ধরে আন্তর্জাতিক পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ আলোচনা বর্জন করে আসছে উত্তর কোরিয়া। আলোচনায় ফেরার জন্য বেশ কয়েকটি শর্ত বেঁধে দিয়েছে দেশটি। শর্তের অন্যতম বিষয়টি হলো, ২০০৯ সালের মে মাসে উত্তর কোরিয়ার সর্বশেষ দফা পরমাণু বোমা পরীক্ষার পর পিয়ংইয়ংয়ের ওপর জাতিসংঘের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে।
সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে ওয়াইটিএন জানায়, গত ফেব্রুয়ারি মাসে তৃতীয় দফা পরমাণু বোমা পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। এ পরীক্ষায় কিছু নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে, যা প্রথম দুই দফার পরীক্ষায় ব্যবহূত প্রযুক্তির চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তৃতীয় দফার পরমাণু বোমা পরীক্ষা পরমাণু অস্ত্র তৈরির ব্যাপারে উত্তর কোরিয়ার সামর্থ্যকে আরও সমৃদ্ধ করবে।
এ প্রতিবেদন সম্পর্কে মন্তব্য করার জন্য দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কোনো কর্মকর্তাকে পাওয়া যায়নি।
গত মাসে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে বিতর্কিত সমুদ্রসীমায় দক্ষিণ কোরিয়ার একটি জাহাজে বিস্ফোরণ এবং জাহাজটি ডুবে যাওয়ার পর কোরীয় উপদ্বীপে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। ওই ঘটনায় ৪৬ জন প্রাণ হারায়। উত্তর কোরিয়া জাহাজটিতে হামলা চালিয়েছে কি না, দক্ষিণ কোরিয়া তা খতিয়ে দেখছে।

কারজাই যাবেন যুক্তরাষ্ট্র সফরে, হিলারি কাবুলে

আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই এক রাষ্ট্রীয় সফরে যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছেন। সফরকালে তিনি ওয়াশিংটনে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সঙ্গে বৈঠক করবেন। এদিকে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন কাবুল সফর করবেন। মার্কিন শীর্ষ মুখপাত্র গত সোমবার এ তথ্য দিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের পাকিস্তান ও আফগানিস্তানবিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি রিচার্ড হলব্রুক জানিয়েছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা গত মাসে কাবুল সফরের সময় আফগান প্রেসিডেন্টকে ওয়াশিংটন সফরের আমন্ত্রণ জানান। এ আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন কারজাই। তিনি ১০ থেকে ১৪ মে ওয়াশিংটন সফর করবেন। তাঁর এই সফরকে ওবামাপ্রশাসন খুবই গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন হলব্রুক।
এদিকে কাবুল সম্মেলনে যোগ দিতে হিলারি ক্লিনটন আফগানিস্তান সফর করবেন। আগামী ২০ জুলাই ওই সম্মেলন হওয়ার কথা।

শ্রীলঙ্কায় স্থগিত কেন্দ্রগুলোতে ভোট গ্রহণ

শ্রীলঙ্কার পার্লামেন্ট নির্বাচনে দুটি জেলায় স্থগিত কেন্দ্রগুলোতে গতকাল মঙ্গলবার ভোট গ্রহণ করা হয়েছে। ৮ এপ্রিল অনুষ্ঠিত পার্লামেন্ট নির্বাচনে সহিংসতার কারণে নাওয়ালাপিতিয়া ও পূর্ব ত্রিঙ্কোমালি জেলার এই কেন্দ্রগুলোর ভোট বাতিল করা হয়।
ভোটকে কেন্দ্র করে আবারও যাতে সহিংসতা না ঘটে, নাওয়ালাপিতিয়া জেলায় এক হাজারেরও বেশি পুলিশ ও সেনা মোতায়েন করা হয়। নির্বাচন পর্যবেক্ষক দল জানিয়েছে, ভোট শান্তিপূর্ণ উপায়ে সম্পন্ন হয়েছে। বিরোধী দলের একজন এজেন্টকে সাময়িকভাবে একটি ভোটকেন্দ্রে প্রবেশে বাধা দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ ছাড়া কোথাও কোনো সহিংসতার খবর পাওয়া যায়নি।
গতকালের ভোটের ফলাফল যাই হোক, তাতে প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজা পক্ষের ক্ষমতাসীন দল ইউনাইটেড পিপলস ফ্রিডম অ্যালায়েন্সের (ইউপিএফএ) ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না। কারণ, ২২৫ আসনবিশিষ্ট পার্লামেন্টের নির্বাচনে সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে ইতিমধ্যেই ইউপিএফএ জয়লাভ করেছে।

ভারতের ডুবোজাহাজ বিধ্বংসী প্রথম যুদ্ধজাহাজ পানিতে ভাসল

ভারতের প্রথম ডুবোজাহাজ-বিধ্বংসী যুদ্ধজাহাজ ‘কার্মাতো’ পানিতে ভাসল গত সোমবার। যুদ্ধজাহাজটি তৈরি করেছে কলকাতার গার্ডেন রিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স (জিআরএসই)। এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভারতের কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা প্রতিমন্ত্রী এম এম পাল্লাম রাজু।
অত্যাধুনিক ওই যুদ্ধজাহাজ তৈরি করতে খরচ হয়েছে ৬০০ কোটি ডলার। সময় লেগেছে তিন বছর। যুদ্ধজাহাজটি টর্পেডো ছুড়ে ডুবোজাহাজ ধ্বংস করতে সক্ষম।
অনুষ্ঠানে প্রতিরক্ষা প্রতিমন্ত্রী পাল্লাম রাজু বলেন, ২০১৫ সালের মধ্যে আরও তিনটি পি-২৮ যুদ্ধজাহাজ পানিতে ভাসবে। সেগুলোও তৈরি করবে জিআরএসই।

ইরাকে আল-কায়েদার দুই শীর্ষ নেতা নিহত

জঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদার ইরাক শাখার দুজন শীর্ষ নেতা নিহত হয়েছেন। ইরাকের সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, সোমবার এই দুজন শীর্ষ আল-কায়েদা নেতা ইরাকি বাহিনীর অভিযানের সময় নিহত হন। মার্কিন প্রশাসন তাঁদের নিহত হওয়াকে ইরাকে আল-কায়েদার কার্যক্রমের ওপর একটি বড় আঘাত হিসেবে অভিহিত করলেও বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, এতে জঙ্গি সংগঠনটির খুব সামান্যই ক্ষতি হয়েছে।
ইরাকের প্রধানমন্ত্রী নুরি আল মালিকি জানিয়েছেন, ইরাকি আল-কায়েদার শীর্ষ নেতা আবু আইয়ুব আল মাসরি ও আবু ওমর আল বাগদাদির মৃতদেহ একটি বাড়ির কাছে মাটি খুঁড়ে বের করা হয়। সে সময় সেখানে ইরাকি-মার্কিন যৌথ বাহিনীর অভিযান চলছিল।
আল-কায়েদার আত্মঘাতী বোমা হামলায় জর্জরিত ইরাকের জন্য এই দুই শীর্ষ আল-কায়েদা নেতার মৃত্যু একটি স্বস্তির কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। তাঁদের মৃত্যু আল-কায়েদার জন্য একটি বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এই দুই নেতার নিহত হওয়ার খবরে স্বস্তি প্রকাশ করে বলেছেন, এই দুই নেতার মৃত্যু আল-কায়েদার জন্য আপাতত ক্ষতির কারণ হতে পারে।

দুই কোটি চাকরি রক্ষা করেছে জি-২০

অর্থনৈতিক মন্দা মোকাবিলায় নেওয়া উদ্যোগের মাধ্যমে ২০০৯ ও ২০১০ সালে দুই কোটি ১০ লাখ চাকরি সৃষ্টি অথবা রক্ষা করেছে জি-২০-ভুক্ত দেশগুলো। গত সোমবার জাতিসংঘের সংস্থা আইএলও এ কথা জানায়।
একটি সমীক্ষায় মন্দা মোকাবিলায় নেওয়া বিশেষ ধরনের উদ্দীপনামূলক ব্যবস্থা থেকে যথাসময়ের আগে সরে না যাওয়ার জন্য জি-২০-ভুক্ত দেশগুলোর সরকারগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)। তবে আর্থিক সংহতির প্রয়োজনীয়তার কথা স্বীকার করা হয়েছে বিবৃতিতে।
মঙ্গলবার থেকে ওয়াশিংটনে শুরু হওয়া শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রীদের দুই দিনের সম্মেলনের জন্য এ সমীক্ষাটি তৈরি করা হয়েছে।
সমীক্ষাটির বিষয়ে আইএলওর এক বিবৃতিতে বলা হয়, অনেক দেশেই প্রবৃদ্ধি ও বেসরকারি খাতের চাহিদা এখনো নাজুক অবস্থায় রয়েছে। এতে আরও বলা হয়, কর্মসংস্থানের প্রবৃদ্ধি উল্লেখযোগ্য গতিবেগ অর্জন না করা পর্যন্ত চাকরি সৃষ্টি ও সামাজিক সুরক্ষাকে সমর্থন দেয় এমন ব্যবস্থাগুলো চালু রাখা উচিত।
অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার শুরু হওয়া সত্ত্বেও ২০০৮ সালের দ্বিতীয়ার্ধ থেকে চাকরির বাজারে শুরু হওয়া মন্দাবস্থা ২০১০ সালের প্রথম তিন মাসেও উচ্চমাত্রায় অব্যাহত ছিল বলে জানায় সংস্থাটি। বিবৃতিতে বলা হয়, উন্নয়নশীল ও অর্থনৈতিকভাবে উদীয়মান কয়েকটি দেশে অনানুষ্ঠানিক বেকারত্ব ও দারিদ্র্য বেড়েছে।
আইএলওর গবেষণায় দেখা যায়, অবাধ রাজস্বসংক্রান্ত উদ্দীপক কর্মপন্থা ২০০৯ সালে জি-২০-ভুক্ত দেশগুলোতে ৮০ লাখ চাকরি সৃষ্টি অথবা রক্ষা করেছে। ২০১০ সালে করেছে ৬৭ লাখ। এ ছাড়া অন্যান্য ব্যবস্থার কারণে ২০০৯ সালে ওই দেশগুলোতে সম্ভবত আরও ৬২ লাখ চাকরি সৃষ্টি অথবা রক্ষা পেয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনায় কড়া অভিবাসন আইন পাস হলো

যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের সিনেটে গত সোমবার একটি বিতর্কিত অভিবাসন বিল পাস হয়েছে। এই আইনকে মার্কিন অভিবাসন আইনগুলোর মধ্যে অন্যতম কঠোর হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
নতুন এই আইনের আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে বসবাস করছেন কি না, তা জানার জন্য যেকোনো ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে পুলিশ। বর্তমানে অন্য কোনো অপরাধের জন্য সন্দেহভাজন ব্যক্তির ক্ষেত্রেই কেবল পুলিশ এ ব্যবস্থা নিতে পারে। কেউ বৈধভাবে বসবাসের পক্ষে কাগজপত্র উপস্থাপন করতে না পারলে তাঁকে গ্রেপ্তারও করতে পারবে পুলিশ।
বিলটির পক্ষে ভোট পড়ে ১৭টি। আর বিপক্ষে ১১টি। গত সপ্তাহে কংগ্রেসের নিম্নকক্ষে বিলটি পাস হয়েছিল। গভর্নর জ্যান ব্রিউয়ারের এখন বিলটিতে স্বাক্ষর করার কথা। সমালোচকেরা নতুন এই আইন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁরা বলছেন, অনেক পুলিশ সদস্য এটিকে বর্ণবাদী উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতে পারেন।

ব্যাংককে সেনাবাহিনীর হুমকির মুখে পিছু হটল বিক্ষোভকারীরা

থাইল্যান্ডে সেনাবাহিনীর হুমকির মুখে সাময়িকভাবে পিছু হটেছে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীরা। ব্যাংককের বাণিজ্যিক এলাকায় বিক্ষোভের পরিকল্পনা বাতিল করেছে তারা। ওই এলাকায় বিক্ষোভ করলে কাঁদানে গ্যাস ও সরাসরি গুলি ছোড়া হবে—এমন হুমকির পর গতকাল মঙ্গলবার ওই পরিকল্পনা বাতিল করে বিক্ষোভকারীরা।
ক্ষমাতচ্যুত প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রার সমর্থকদের প্রায় চার সপ্তাহ ধরে চলা বিক্ষোভে রাজধানী ব্যাংককের অনেক এলাকায় অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তারা জোর করে বিভিন্ন বিপণিবিতান বন্ধ রাখতে ব্যবসায়ীদের বাধ্য করছে। বিক্ষোভের কারণে দেশটিতে পর্যটক কমে গেছে। সব মিলিয়ে বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়েছে দেশটি।
সেনাবাহিনীও বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। সেনাবাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল সানসার্ন কায়েকুমনার্ড বলেন, ‘বাণিজ্যিক এলাকায় বিক্ষোভ করতে গেলে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা তাদের ঠেকাতে প্রথমে কাঁদানে গ্যাস ছুড়বে। এতে ঠেকানো না গেলে চূড়ান্ত পদক্ষেপ হিসেবে বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হবে।’ ১০ এপ্রিলের সহিংসতার কথা উল্লেখ করে এর জন্য দায়ী রাজনৈতিক দুই পক্ষকে ‘সন্ত্রাসী’ বলে আখ্যা দেন সানসার্ন। সেনাপ্রধান অনুপং পাওজিনতার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভা শেষে বেরিয়ে সানসার্ন বলেন, গোয়েন্দাদের কাছ থেকে আমরা খবর পেয়েছি সন্ত্রাসীরা অস্ত্র, হাতবোমা ও অ্যাসিড নিয়ে প্রস্তুতি নিয়েছে।
জাতীয় নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত উপপ্রধানমন্ত্রী সুথেপ থাউগসুবান বিক্ষোভ ঠেকাতে ব্যাংককের বিভিন্ন স্থানে নিয়োজিত সেনাদের নিজেদের নিরাপত্তায় প্রয়োজনে গুলি করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, যেকোনো পরিস্থিতিতে সরকার প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেবে। দেশের সম্পদ ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমাতে খুব সতর্কভাবে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বিক্ষোভকারীদের নেতা নাট্টাওট সাইকুয়ার বলেন, বিক্ষোভকারীরা বাণিজ্যিক এলাকা সিলমে বিক্ষোভ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিক্ষোভ ঠেকাতে সরকার ওই এলাকায় হাজার হাজার সশস্ত্র সেনা মোতায়েন করেছে। তারা সব সড়ক দখল করে রেখেছে। আমরা বিক্ষোভ কর্মসূচির জন্য আপাতত কোনো বিকল্প পরিকল্পনাও করছি না। নাট্টাওট আরও বলেন, বড় ধরনের বিক্ষোভে যেতে হলে আমাদের শক্তি অর্জন করতে হবে। কারণ, ওই পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনী আমাদের ওপর আক্রমণ চালাবে।
সোমবার রাতে এক টেলিভিশন ভাষণে প্রধানমন্ত্রী অভিজিৎ ভেজ্জাজিভা বলেন, সরকার ও দেশের জনগণ যত দ্রুত সম্ভব এই বিক্ষোভের অবসান চায়। সরকার বিক্ষোভে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমানোর চেষ্টা করছে।
ব্যাংককে প্রায় চার সপ্তাহ ধরে চলা বিক্ষোভে এ পর্যন্ত ২৫ জন নিহত ও ৮০০ জন আহত হয়েছেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন ২০০৬ সালে এক সামরিক অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হন। সম্প্রতি দেশটির সর্বোচ্চ আদালত থাকসিন সিনাওয়াত্রার ১৪০ কোটি ডলারের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁর সমর্থকেরা পার্লামেন্ট ভেঙে দিয়ে নতুন নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন শুরু করে।

তোরেসের কণ্ঠে আশা আর হতাশা

দেশকে নয়, ক্লাবকেই বেশি প্রাধান্য দেন—ফুটবলারদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ হামেশাই ওঠে। ‘আমি ক্লাবের চেয়ে দেশকে বেশি ভালোবাসি’—ফুটবলারদেরও কাতর কণ্ঠে দাবি করতে শোনা যায়। কিন্তু ফার্নান্দো তোরেসের বেলায় ঘটেছে খানিকটা অন্য ব্যাপার। তাঁকে যে শুনতেও হচ্ছে উল্টো অভিযোগ! স্পেনের হয়ে বিশ্বকাপ খেলতে চান বলেই নাকি মৌসুম শেষ হওয়ার আগে অস্ত্রোপচার করিয়েছেন তোরেস। লিভারপুলের ২৬ বছর বয়সী স্ট্রাইকারকে তাই জোর গলাতেই বলতে হলো, ক্লাবের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে তিনি শুধু দেশের কথা ভাবেননি!
গত বৃহস্পতিবার ইউরোপা লিগে বেনফিকার বিপক্ষে ম্যাচে ইনজুরিতে পড়েন তোরেস। অস্ত্রোপচার করাতে হবে কি হবে না—সেটি জানতে বার্সেলোনায় নিজের ব্যক্তিগত চিকিৎসকের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতে বিপর্যস্ত বিমানব্যবস্থার কারণে শেষ পর্যন্ত বাস ও ট্রেনে করে বার্সেলোনা যেতে হয়ে এই স্প্যানিশ স্ট্রাইকারকে। ব্যক্তিগত চিকিৎসক র‌্যামন কুগাত সব দেশে অস্ত্রোপচার করানোর সিদ্ধান্তই নেন। সেই অস্ত্রোপচার করিয়েছেন গত রোববার। এর ফলে ছয় সপ্তাহ মাঠের বাইরে থাকতে হবে তাঁকে। অর্থাৎ, ক্লাবের হয়ে এই মৌসুমের শেষটা আর খেলা হচ্ছে না লিভারপুলের সর্বোচ্চ গোলদাতার।
এ কারণেই ক্লাবের একটা অংশের অভিযোগ, এই মুহূর্তে অস্ত্রোপচার না করিয়ে মৌসুম শেষে করলেও চলত। কিন্তু বিশ্বকাপ খেলতে চান বলেই ডাক্তারের ছুরির নিচে তোরেস আগেভাগেই গেছেন। ক্লাবের চেয়ে দেশই যে বড় তাঁর কাছে। তবে ২৬ বছর বয়সী তোরেস বললেন, ‘চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সম্ভাব্য সব বিকল্প নিয়েই আমরা আলোচনা করেছি। কিন্তু স্ক্যানের ফলাফল দেখেই ডাক্তাররা বলেছেন অস্ত্রোপচারের বিকল্প নেই। বেনফিকার বিপক্ষে ২ মিনিটেই আমি ইনজুরিতে পড়েছিলাম, তার পরও ৮৫ মিনিট খেলে গেছি। স্পেনের কথা ভাবলে আমি আগেই মাঠ ছাড়তাম।’
এই কথা শুনে আবার স্পেন সমর্থকেরা না মন খারাপ করেন! তোরেস আশ্বস্ত করছেন তাঁদেরও, ‘বিশ্বকাপটাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। চার সপ্তাহের মতো সময় এখনো আছে। সবকিছু পরিকল্পনামতো হলে এর আগেই আমি সেরে উঠব।

বেঁচে থাকল লিভারপুলের আশা

শিরোপার স্বপ্ন তারা ছেড়ে দিয়েছে আগেই। দুই বা তিনের সম্ভাবনা নিয়েও মাথা ঘামানোটা রাফায়েল বেনিতেজের জন্য বিলাসিতা। চারে থেকে লিগ শেষ করলেই খুশি লিভারপুল কোচ। আগামী চ্যাম্পিয়নস লিগে যে তাতে জায়গা হয় সরাসরি। সেই চারে থাকার আশাটা খানিকটা উজ্জ্বল হলো পরশু ওয়েস্টহামকে ৩-০ গোলে হারানোয়। ৩৫ ম্যাচ শেষে ৫৯ পয়েন্ট নিয়ে ছয়ে লিভারপুল। ৬৪ পয়েন্ট নিয়ে চারে টটেনহাম, ৬২ পয়েন্ট নিয়ে পাঁচে ম্যানচেস্টার সিটি। এই দুটো দলই লিভারপুলের চেয়ে এক ম্যাচ কম খেলেছে।

মহিলা ক্লাব কাপ ক্রিকেট

সালমা আক্তারের দারুণ বোলিংয়ে মহিলা ক্লাব কাপ ক্রিকেটে কাল ইন্দিরা রোড ক্রীড়াচক্র ৪ উইকেটে হারিয়েছে ঢাকা ওয়ান্ডারার্সকে। ম্যাচসেরা সালমার ১৫ রানে ৪ উইকেটে ধানমন্ডি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ওয়ান্ডারার্স ৩৬.৪ ওভারে ১০৮ রানে অলআউট হওয়ার পর ১৮.৩ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে এই রান টপকে যায় ইন্দিরা রোড। সর্বোচ্চ ৪০ রান করেছেন পূজা দাস।

গার্দিওলার বিশ্বসেরা মরিনহো

এই মুহূর্তে বিশ্বের সেরা কোচ কে? উত্তরটা নিয়ে দ্বিমত থাকতে পারে। কিন্তু হোসে মরিনহোকে নিয়ে বিশ্বের সেরা ক্লাবগুলো যেভাবে টানাটানি করছে, পর্তুগিজ কোচ আবারও সদম্ভে ঘোষণা করতেই পারেন, ‘আমিই স্পেশাল ওয়ান!’
মরিনহোকে সেরা মেনে নিতে কোনো আপত্তি নেই পেপ গার্দিওলার। গতকালই দুজনের দল মুখোমুখি হয়েছিল চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালের প্রথম লেগে। ম্যাচ শুরুর আগে অলিখিত রেওয়াজ অনুযায়ী কথার তোপ না দাগিয়ে বার্সা কোচ ব্যতিক্রম কাজই করেছেন। প্রতিপক্ষ কোচকে বসিয়ে দিয়েছেন ‘বিশ্বসেরা’র আসনে।
১৪ ঘণ্টার বাস-যাত্রা শেষে পরশু ইতালি পৌঁছেছে গার্দিওলার দল। ইতালি পৌঁছে সংবাদ সম্মেলনে গার্দিওলা বলেছেন, ‘আমরা ইন্টারের মতো বড় মাপের একটা দলের বিপক্ষে খেলব। যে দলের কোচ কোনো বিতর্ক ছাড়াই বিশ্বসেরা। সে পর্তুগাল, ইংল্যান্ড আর ইতালিতে শিরোপা জিতেছে। তার মুখোমুখি হওয়াটা সম্মানেরই।’
ইন্টার মিলানকে যেভাবে বদলে দিয়েছেন, তাতে মরিনহোর প্রশংসা অনেকেই করছেন। তিনটি ভিন্ন লিগের শিরোপা জিতেছেন। প্রথম কোচ হিসেবে তিনটি ভিন্ন ভিন্ন দলকে তুলে নিয়ে গেছেন চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালেও। ইতালির প্রথম দল হিসেবে এক মৌসুমে ‘ট্রেবল’ জেতার সামনে দাঁড়িয়ে এখন ইন্টার।
মরিনহোকে নিয়ে টানাটানি তাই হবেই। রিয়াল মাদ্রিদে যেতে পারেন—এমন গুঞ্জন মিলিয়ে না যেতেই শোনা যাচ্ছে, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডও চায় তাঁকে। ইংল্যান্ডের প্রথম সারির দৈনিকগুলোর খবর, আগামী মৌসুমের শেষে অবসরে যাবেন অ্যালেক্স ফার্গুসন। তাঁর উত্তরসূরি হিসেবে চেলসির সাবেক কোচকেই পছন্দ ম্যানইউয়ের।
বাতাসে অনেক খবর। এসবে কান দেওয়ার সময় নেই বলেই জানালেন মরিনহো, ‘ইন্টারের সঙ্গে চুক্তি শেষ হয়নি আমার। আমার দল তিনটি ভিন্ন টুর্নামেন্টে শিরোপার জন্য লড়ছে। ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবার সময় এখন নেই আমার।

বিয়ের পর শোয়েব-সানিয়া

বিয়ের ‘উপহার’ হিসেবে টেনিস-বিশ্ব কী দিল সানিয়া মির্জাকে? র্যাঙ্কিংয়ে চার ধাপ অবনমন! বিয়ে করে র্যাঙ্কিংয়ের উন্নতি হয় না। সানিয়া সেটা আশাও করেননি নিশ্চয়ই। চার ধাপ নেমে ৯৩-এ চলে গেছেন ভারতীয় টেনিস তারকা। মেহেদি রাঙা হাতে আবার র্যাকেট কবে উঠবে কে জানে। দ্রুত কোর্টে না ফিরলে র্যাঙ্কিংয়ের ১০০-এর বাইরে চলে যেতে পারেন এই ২২ বছর বয়সী।
বিয়ের পর একটা সুখবরও অবশ্য শুনেছেন সানিয়া। তাঁর বর শোয়েব মালিককে ফেরত দেওয়া হয়েছে পাসপোর্ট। ৫ এপ্রিল থেকে সেটি হায়দরাবাদ পুলিশের জিম্বায় ছিল। মালিকের প্রথম স্ত্রী আয়েশার প্রতারণা মামলার কারণে সেটি জব্দ করেছিল পুলিশ। মামলা শেষ হয়ে গেলেও লালফিতার জটিলতার কারণে এত দিন পাসপোর্টটি হাতে পাচ্ছিলেন না পাকিস্তানি অলরাউন্ডার।
সুখবর আরেকটি আছে। মালিক আর সানিয়াকে পাকিস্তানের জনকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের শুভেচ্ছাদূত বানানো হচ্ছে। পাকিস্তানের দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধি রোধে সচেতনতা বাড়াতে কাজ করবেন ‘শোয়েনিয়া’ জুটি। এ ব্যাপারে অবশ্য ‘প্রথম উদ্যোগ’টা নিজেদের সংসার থেকেই নিতে পারেন এই দুজন! তাতে শুধু পাকিস্তান নয়, ভারতের জনসংখ্যার ওপরও একটু চাপ কমে।
দ্বৈত নাগরিকত্বের প্রশ্ন যখন এলই, সেখানেও একটি খবর আছে। বিয়ের পর সানিয়া কখনো তাঁর শ্বশুরালয়ের হয়ে, মানে পাকিস্তানের হয়ে খেলবেন কি না সেই প্রশ্নটা আবারও উঠেছে। দুবাইয়ে গিয়ে থিতু হলেও সানিয়া অবশ্য ভারতের হয়েই খেলতে চান বলে জানিয়েছিলেন আগে।
শ্বশুরবাড়িতে সানিয়াকে আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করে নেওয়া হবে ২৫ এপ্রিল। এদিন শিয়ালকোটে সানিয়ার বৌভাত

রহমতগঞ্জে আটকাল শেখ রাসেল

শেষ বাঁশি বাজতেই রহমতগঞ্জের ডাগআউট থেকে ছুটে এলেন সাইড বেঞ্চে বসে থাকা অতিরিক্ত খেলোয়াড় ও কর্মকর্তারা। আনন্দে জড়িয়ে ধরলেন মাঠের খেলোয়াড়দের। এক পাশে তখন অভিনন্দন নিতে ব্যস্ত কোচ কামাল বাবু। তাঁর চোখের কোণে চিকচিক করছিল আনন্দাশ্রু। না, জেতেনি রহমতগঞ্জ। তবে শেখ রাসেলের সঙ্গে ড্র-ই (১-১) যে তাদের কাছে জয়ের সমান।
বক্সের মধ্যে রাজনের পাস থেকে মরক্কান স্ট্রাইকার সালাহ মাসলুর গোলে ১৬ মিনিটে এগিয়ে গিয়েছিল রাসেল। ৬৬ মিনিটে নাঈমুরের গোলে সমতা এনেছিল রহমতগঞ্জ। ৮৭ মিনিটের সময় দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে এই নাঈমুরই মাঠ ছাড়লে শেষ কয়েক মিনিট ১০ জনকে নিয়েই খেলতে হয়েছে রহমতগঞ্জকে।
কাল বিকেলে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের এই ম্যাচে অন্য একটা লড়াইও ছিল। বাংলাদেশ লিগের প্রথম পর্বে তিন ম্যাচ পর শেখ রাসেল থেকে বরখাস্ত হয়েছিলেন কোচ কামাল বাবু। দ্বিতীয় পর্বে তুলনামূলকভাবে অনেক শক্তিশালী শেখ রাসেলকে আটকে দেওয়াটা তাই তাঁর কাছে একটু বেশিই মধুর লাগার কথা। কামাল বাবু অবশ্য ব্যাপারটাকে বড় করে দেখাতে চাইলেন না, ‘বিশ্বের সব কোচই পেশাদার। আমি শুধু আমার দায়িত্ব পালন করেছি। এখানে প্রতিশোধের কিছু নেই। তবে শেখ রাসেলের সঙ্গে ড্র করে অবশ্যই খুশি আমি।’ শেখ রাসেলের কোচ মাহমুদুল হক খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সে খুবই হতাশ, ‘আজ ছেলেরা অনেক সুযোগ মিস করেছে। এই ম্যাচে আমাদের জেতা উচিত ছিল। বাজে একটা দিন গেল আমাদের।’
কামাল দায়িত্ব নেওয়ার সময় রহমতগঞ্জের পয়েন্ট ছিল ৭ খেলায় ২। দায়িত্ব নেওয়ার পর ৯ ম্যাচে ১৭ পয়েন্ট। দলকে তুলে এনেছেন চতুর্থ স্থানে। কালকের ড্রয়ের পরও অবশ্য ১৭ ম্যাচে ৪০ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানেই থাকল শেখ রাসেল। ১৯ পয়েন্ট নিয়ে তাদের পরই পুরোনো ঢাকার ক্লাব রহমতগঞ্জ।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নেই শেবাগ

কাঁধের ইনজুরির কারণে ইংল্যান্ডে গিয়েও গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলা হয়নি একটি ম্যাচও। হচ্ছে না এবারও। সেই একই কাঁধের ইনজুরি টুর্নামেন্ট শুরুর দশ দিন আগেই ছিটকে ফেলল বীরেন্দর শেবাগকে। শেবাগের পরিবর্তে ওয়েস্ট ইন্ডিজ যাচ্ছেন এবারের আইপিএলে নিজেকে নতুন করে চেনানো মুরালি বিজয়। আর মহেন্দ্র সিং ধোনির ডেপুটি হবেন গৌতম গম্ভীর।
কাঁধে চোটটা কবে পেয়েছেন, এটা পরিষ্কার নয়। তবে সেটা যে আইপিএলেই, তা নিশ্চিত। পুরোপুরি ফিট ছিলেন বলেই তাঁকে রাখা হয়েছিল চূড়ান্ত দলে। দিল্লি ডেয়ারডেভিলসের হয়ে এবার খেলেছেন ১৪ ম্যাচের সব কটিতেই, সর্বশেষটি গত ১৮ এপ্রিল ডেকান চার্জার্সের বিপক্ষে।
গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপটাও ছিল আইপিএলের পরপর। গতবারও আইপিএলের শেষ দিকে কাঁধের ইনজুরিতে পড়েন শেবাগ। দলের সঙ্গে ইংল্যান্ড গেলেও মাঠে নামতে পারেননি। ভারত দ্বিতীয় রাউন্ড থেকে বিদায় নেওয়ার আগেই দেশে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হয় তাঁকে। প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত চ্যাম্পিয়ন হলেও ৬ ম্যাচে মাত্র একটি ফিফটি করতে পেরেছিলেন শেবাগ। সব মিলিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপটা তাঁর কাছে দুঃস্বপ্ন হয়েই থাকছে। এমনিতেও অবশ্য টি-টোয়েন্টিতে তাঁর রেকর্ড ঠিক ‘শেবাগসুলভ’ নয়, ১৪ ম্যাচে ২ ফিফটিতে রান ৩১৩, গড় ২৪.০৭।
অন্যদিকে মুরালি বিজয় এবারের আইপিএলের অন্যতম বিস্ময়। যাকে মনে করা হয় টেস্টের জন্যই বেশি মানানসই, সেই ব্যাটসম্যান ১৩ ম্যাচে করেছেন ৪১৭ রান, স্ট্রাইক রেট ১৫৮.৫৫। ছক্কা মেরেছেন ২৩টি, এখনো পর্যন্ত তাঁর চেয়ে বেশি ছক্কা মেরেছেন শুধু ইউসুফ পাঠান (২৫) ও রবিন উথাপ্পা (২৪)।

বার্সাকে ৩-১ গোলে হারাল ইন্টার

গত ২০ বছরে হয়নি। চ্যাম্পিয়নস লিগ নামে শুরু হওয়ার পর তো একবারও নয়। কী হয়নি? উত্তরটা বার্সেলোনা শিবিরে কান পাতলেই শুনতে পাবেন। গত দুই দশকে চ্যাম্পিয়নস লিগে টানা দুবার শিরোপা জেতেনি কোনো দলই। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বার্সেলোনা এখন সেই শঙ্কার মুখে। সেমিফাইনালের ফিরতি লেগ বাকি আছে। কিন্তু কাল ইন্টার মিলানের মাঠে গিয়ে ৩-১ গোলে হেরে যাওয়ায় কাজটা কঠিন হয়ে গেল পেপ গার্দিওলার দলের জন্য। ফাইনালে যেতে হলে আগামী বুধবার রাতে নিজেদের মাঠে ২-০ গোলে জিততে হবে বার্সেলোনাকে।
অথচ শুরুটা বার্সেলোনাই করেছিল পেদ্রোকে দিয়ে। ইন্টারের সুযোগ হাতছাড়ার মহড়ার ফাঁকে ১৯ মিনিটে দলকে এগিয়ে দেন পেদ্রো। ১১ মিনিটের মধ্যেই স্বাগতিকদের সমতায় ফেরান ওয়েসলি স্নাইডার। এর পর থেকেই ম্যাচের লাগাম হোসে মরিনহোর দলের হাতে চলে যেতে থাকে। দ্বিতীয়ার্ধের তৃতীয় মিনিটেই ইন্টারকে ২-১ গোলে এগিয়ে নেন মেইকন। ৬১ মিনিটে ডিয়েগো মিলিতোর তৃতীয় গোল।
এই ইন্টারের প্রতিবেশী এসি মিলানই সর্বশেষ দল, যারা পর পর দুবার ইউরোপ সেরার ট্রফিটি জিতেছিল। সেটাও ১৯৮৯ আর ১৯৯০ সালে।