Sunday, December 5, 2010

যুক্তি তর্ক গল্পালোচনা- 'আগ্নেয়গিরির ওপরে পিকনিক' by আবুল মোমেন

ড় দুই দলের টানাপোড়েনে দেশের রাজনীতি যে মসৃণভাবে চলবে, এমনটা কেউ সম্ভবত ভাবে না। মানুষ ভয় পায় অচলাবস্থাকে, বেশি পায় দুই দলের সংঘাতকে। তবে এই সংঘাত যা সময় সময় অচলাবস্থা তৈরি করে, তা নিছক ক্ষমতার দ্বন্দ্ব ভাবলে ভুল হবে। এ সংঘাতের পেছনে ইতিহাস এবং আদর্শও কাজ করে। আর সে কারণেই সরাসরি ক্ষমতার সঙ্গে জড়িত না হয়েও সমাজের অনেক মানুষ বড় দুই দলের দ্বন্দ্বে পক্ষভুক্ত হয়ে পড়েন।

আলোচনা- 'হিমালয়ের কোলে এক টুকরো দক্ষিণ এশিয়া' by মশিউল আলম

ড় নির্দয় শীত; কিন্তু বড় হলঘরটির ভেতরে মানুষের উষ্ণতা। এখানে মিলেছে শ দেড়েক মানুষ। আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, ভুটান আর মালদ্বীপ—এই ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক ভূখণ্ড মিলিয়ে তাঁদের অভিন্ন হার্দিক ও মানবিক পরিচয়: দক্ষিণ এশিয়া। ‘সাউথ এশিয়ানস ফর হিউম্যান রাইটস’ (এসএএইচআর) নামের এক আঞ্চলিক সংগঠনের উদ্যোগে কাঠমান্ডু উপত্যকার ললিতপুর এলাকায় গোদাবরি ভিলেজ রিসোর্টে গত ২৭ থেকে ২৯ নভেম্বর চলল আটটি দেশের শ দেড়েক মানুষের আলাপ-আলোচনা,

স্মরণ- 'মানুষের জন্য যিনি জেগে থাকতেন' by সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম

ননেতা নুরুল ইসলাম এবং তাঁর ছেলে তমোহর ইসলাম লালমাটিয়ায় তাঁদের ফ্ল্যাটে আগুনে পুড়ে মারা গিয়েছিলেন। দুই বছর আগের এই দিনে। তমোহর ঘর থেকে বের হতে পারেননি, নুরুল ইসলামকে হাসপাতাল পর্যন্ত নেওয়া হয়েছিল। সেখানে তিনি দু-একটি কথাও বলতে পেরেছিলেন। এবং তাঁর কথাবার্তা থেকে এটি স্পষ্ট ছিল, আগুনটা কোনো দুর্ঘটনা থেকে ঘটেনি। আগুন লাগানো হয়েছিল।

রাজনৈতিক আলোচনা- 'আবার আসিব ফিরে!' by মামুন রশীদ

থা হচ্ছিল একটি সামাজিক ক্লাবের ‘বাষ্প-স্নানঘরে’। অগ্রজপ্রতিম শাহীন খন্দকার (প্রকৃত নাম নয়) বলেই বসলেন, যতই সামরিক আইন বা সংবিধানবহির্ভূত হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে উদ্যোগ নেওয়া হোক না কেন, পরিস্থিতির বাধ্যবাধকতায় আবারও আসবে ‘বিশেষ ধরনের সরকার’। হয়তো বা নতুনরূপে, নতুন আদলে। বিশ্বের খুব কম জাতিই অভ্যন্তরীণ সমস্যাবলি চিহ্নিত করে তা সমাধান করার এবং মৌলিক মূল্যবোধ জাগিয়ে তোলার সুযোগ পায়।

আলোচনা- 'রাজকীয় সম্মেলন' by মিজানুর রহমান খান

বিচার বিভাগ যতটা পৃথক হয়েছে, বিচারকদের মনমানসিকতা ততটা পৃথক হয়নি। বিচার বিভাগ পৃথক্করণের পর এই প্রথম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে আজ। আর সম্মেলনের রাজকীয় আয়োজনটাই বলে দেয় ক্ষমতার কাছাকাছি থাকতে বিচারকেরাও কম যান না। সে কারণে সরকারপ্রধানই প্রধান অতিথি। অনেক বিচারকের কাছে মাসদার হোসেন মামলা একটি বিলাসিতা। ধ্যানে জ্ঞানে তাঁরা ‘পাবলিক সার্ভেন্ট’। বুক ফুলিয়ে তাঁরা তা উচ্চারণে শরমিন্দা বোধ করেন না। অন্য দিকে নির্বাহী বিভাগের চরিত্রও বদলায়নি। সার্বিক বিচারে চরিত্র বদলায়নি আইন বিভাগেরও।

যুক্তি তর্ক গল্পালোচনা- 'অসারের তর্জন-গর্জন' by দেবব্রত চক্রবর্তী বিষ্ণু

'অজাযুদ্ধে, ঋষিশ্রাদ্ধে, মেঘডম্বরে, দাম্পত্য কলহে, বহ্বারম্ভে লঘুক্রিয়া'_সংস্কৃত এ শ্লোকটির মর্মার্থ হচ্ছে_ছাগলের লড়াই, কোনো ঋষিশ্রাদ্ধে, কিংবা মেঘের তর্জনে-গর্জনে এবং স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়াঝাঁটিতে অনেক হৈচৈ হয়, তুলকালাম কাণ্ড ঘটে, উত্তাপও সৃষ্টি হয়; কিন্তু শেষ পর্যন্ত যোগফল শূন্যই থেকে যায়। এ সংস্কৃত শ্লোকের মর্মার্থের সঙ্গে সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও বাজার নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত দায়িত্বশীলদের অমিল খুঁজে পাওয়া ভার। ২৯ নভেম্বর বাণিজ্যমন্ত্রী কর্তৃক বাজারসংক্রান্ত বিষয়ে, বিশেষ করে ভোজ্য তেলের তেলেসমাতি নিয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এক বৈঠকে পুনর্বার উচ্চারিত হুঁশিয়ারি (?) শ্লোকটির যথার্থতা নতুন করে আবারও সামনে এনেছে।

আলোচনা- 'একজন নোবেল বিজয়ী, বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ও ক্ষুদ্রঋণের ফাঁদ' by শহিদুল ইসলাম

ক. ২০০৬ সালের ১৩ অক্টোবর ড. মুহাম্মদ ইউনূস শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পান। স্বাভাবিকভাবেই বাংলাদেশের মানুষ সেদিন গৌরববোধ করেছিল। স্বতঃস্ফূর্ত আনন্দ প্রকাশ করেছিল। কিন্তু স্বয়ং ড. ইউনূসের কথা শুনে সেদিন দেশের সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন মানুষ আশ্চর্যবোধ করেছিল। নোবেল শান্তি পুরস্কার বিশ্বের একটি শ্রেষ্ঠ পুরস্কার। শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিদেরই সে পুরস্কার পাওয়ার কথা। কিন্তু বহু আগেই নোবেল শান্তি পুরস্কারের সে সম্মান ভূলুণ্ঠিত হয়েছে, যেদিন হিংস্র কিসিঞ্জার, খুনি বেনিনের মতো মানুষ শান্তি পুরস্কার পান।

অনুমোদন পেতে ২০০ বিমা কোম্পানির আবেদন

দেশের বিমা খাত এখনো চলছে ১৯৩৮ সালের পুরোনো বিমা আইনের আওতায়। নতুন আইন পাস হয়েছে নয় মাস আগে, কিন্তু তার প্রয়োগ নেই। সরকার বলছে, প্রয়োগ না হওয়ার কারণ হলো, বিধিমালা এখনো তৈরি হয়নি।
বিধিমালা তৈরি হয়নি কেন? কারণ, বিমা নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ গঠিত হয়নি এখনো। কর্তৃপক্ষ এসে বিধিমালা তৈরি করবে, তারপর হবে নতুন আইনের প্রয়োগ।তাহলে তো আগে জরুরি বিমা নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ গঠন করা। জানা গেছে, কর্তৃপক্ষ গঠনের যাবতীয় প্রস্তুতির ফাইল অর্থ মন্ত্রণালয়ে পড়ে রয়েছে কয়েক মাস ধরে। কিন্তু অনুমোদন হচ্ছে না।
এমন বাস্তবতায় বিমা কোম্পানির নিবন্ধন পেতে ইচ্ছুক, এমন ২০০ আবেদনপত্রের একটি তালিকা প্রস্তুত করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে প্রস্তাবিত ৮০টি জীবন বিমা কোম্পানি ও ১২০টি সাধারণ বিমা কোম্পানি।
নানামুখী তদবির: সূত্র জানায়, এসব বিমা কোম্পানির নিবন্ধন পেতে উপজেলা পর্যায় থেকে কেন্দ্রীয় পর্যায়ের রাজনীতিবিদ, শিল্পপতি, ব্যবসায়ী নেতা ও ব্যবসায়ীরা সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছেন।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে একের পর এক আবেদন করে যাচ্ছেন তাঁরা। আর এসবআবেদনপত্রে সুপারিশ করছেন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীরা।জানা গেছে, আর কোনো বাণিজ্যিক ব্যাংকের নিবন্ধন দেওয়া হবে না, সরকারের এমন দৃঢ় মনোভাবের কারণে বিমা কোম্পানির দিকেই তাঁদের ঝোঁক এখন।দেশে বর্তমানে বেসরকারি খাতে ৪৩টি সাধারণ বিমা কোম্পানি আর ১৭টি জীবন বিমা কোম্পানি রয়েছে। এর বাইরে রাষ্ট্রীয় খাতে রয়েছে সাধারণ বীমা করপোরেশন ও জীবন বীমা করপোরেশন।১৯৯৬-২০০১ সময়ের আওয়ামী লীগ সরকার ২১টি বিমা কোম্পানির নিবন্ধন দিয়েছিল, যার মধ্যে ১৯টি ছিল সাধারণ বিমা ও দুটি জীবন বিমা কোম্পানি।
যোগ্যতা ও দক্ষতা বিবেচনায় না নিয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতা, তাঁদের আত্মীয়স্বজন এবং আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে কোনো না-কোনোভাবে যুক্ত ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের বিমা কোম্পানি খোলার অনুমোদন দেওয়ায় সরকার ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছিল।তবে এবারের প্রস্তাবিত ২০০টি বিমা কোম্পানির তালিকা প্রসঙ্গে গত মাসের মাঝামাঝি সময় যোগাযোগ করা হয় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সঙ্গে। তিনি তখন প্রথম আলোকে বলেছিলেন, ‘তালিকা তৈরি হতেই পারে। তবে বিমা কোম্পানির নিবন্ধন দেওয়া হবেই—এমন কোনো সিদ্ধান্ত এখনো নেওয়া হয়নি।’জানা গেছে, আবেদনকারীদের কারও কারও বর্তমানে সাধারণ ও জীবন—দুই ধরনেরই বিমা কোম্পানির মালিকানা রয়েছে। যাঁদের জীবন বিমা কোম্পানি রয়েছে তাঁরা সাধারণ বিমা, আর যাঁদের সাধারণ বিমা কোম্পানি রয়েছে তাঁরা জীবন বিমা কোম্পানির নিবন্ধন পেতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।সূত্র জানায়, উদ্যোক্তারা নিয়ম মেনে বিমা কোম্পানির নিবন্ধনের জন্য প্রথমে যৌথ মূলধনি কোম্পানি ও ফার্মগুলোর নিবন্ধকের পরিদপ্তর (আরজেএসসি) থেকে নামের ছাড়পত্র নিয়েছেন। তারপর প্রস্তাবিত আবেদনপত্রগুলো দাখিল করেছেন বিলুপ্তির পথে যাওয়া বীমা অধিদপ্তরে। বীমা অধিদপ্তর সেগুলো পাঠিয়ে দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ে।অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বিমা কোম্পানির নিবন্ধন পেতে আবেদনকারীদের মধ্যে রয়েছে এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক গাজী বেলায়েত হোসেন, আরেক পরিচালক ও শরীফ মেলামাইন কোম্পানির অন্যতম মালিক রজ্জব শরীফ, সাংসদ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ, বিএনএস গ্রুপের চেয়ারম্যান এম এন এইচ বুলু, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বোর্ড অব গভর্নরসের গভর্নর শায়খ খন্দকার গোলাম মাওলা, বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি মোস্তফা গোলাম কুদ্দুস, ফিনিক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান দীন মোহাম্মদ, কেডিএস গ্রুপের পরিচালক এস এম শামীম ইকবাল, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সদস্য কামাল মোস্তফা চৌধুরী প্রমুখ।যোগাযোগ করলে বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিআইএ) সভাপতি এ কে এম রফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, বিমা খাতে বর্তমানে দক্ষ লোকের অভাব রয়েছে। বর্তমানে অনেক কোম্পানিরই অবস্থা ভালো নয়। এ অবস্থায় আরও বিমা কোম্পানির নিবন্ধন সুবিবেচনাপ্রসূত হবে বলে তিনি মনে করেন না।রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে যদি নিবন্ধন দেওয়া হয়ও, তাহলে মূলধনের পর্যাপ্ততা, পুনরায় বিমা-ব্যবস্থা, বিমা ব্যবসার জ্ঞানকে পূর্বশর্ত দেওয়ার পরামর্শ দেন এ কে এম রফিকুল ইসলাম। নইলে দেশের বিমা খাত কতিপয় দুষ্টলোকের খপ্পরে পড়ে যাবে বলে আশঙ্কা করেন তিনি।সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে ৬২টি বিমা কোম্পানির মধ্যে ৪৩টি সাধারণ বিমা ও ১৮টি জীবন বিমা থাকলেও লক্ষণীয় বিষয় হলো, সাম্প্রতিক বছরগুলোয় দেশে ইসলামি বিমা কার্যক্রম ব্যাপক হারে বেড়েছে।বিআইএর পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, বিমা খাতের বার্ষিক গড় প্রবৃদ্ধির হার ২০ শতাংশ। বিমা কোম্পানিগুলোর প্রিমিয়াম আয়ের ভিত্তিতে বিমা খাতের বিকাশের এই প্রবণতা নির্ণয় করা হয়।বিআইএর পরিসংখ্যান অনুসারে, ২০০৯ সালে দেশে বেসরকারি জীবন বিমা খাতের প্রিমিয়াম আয়ের পরিমাণ ছিল চার হাজার ৫৯৫ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। অবশ্য এর মধ্যে রাষ্ট্রীয় খাতের জীবন বিমা করপোরেশনের প্রিমিয়াম আয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। কেননা, এখন পর্যন্ত তা পাওয়া যায়নি। আর গত বছর সাধারণ বিমা খাতে প্রিমিয়াম আয়ের পরিমাণ ছিল এক হাজার ৩৮৯ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। অবশ্য এর মধ্যে রাষ্ট্রীয় খাতের সাধারণ বিমা করপোরেশনের প্রিমিয়াম আয় বাদ দিলে বেসরকারি খাতের সাধারণ বিমার প্রিমিয়াম আয় দাঁড়ায় এক হাজার ২২৮ কোটি ৪২ লাখ টাকা।
সুতরাং দেখা যাচ্ছে, গত বছর দেশে বিমা খাতের প্রিমিয়াম আয় ছয় হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। যেখানে ২০০৮ সালে এই আয় ছিল পাঁচ হাজার ১৬৩ কোটি টাকা।
২০০৮ সালে দেশে বেসরকারি জীবন বিমা খাতের প্রিমিয়াম আয়ের পরিমাণ ছিল তিন হাজার ৫৯৭ কোটি টাকা। আর সাধারণ বিমা খাতে প্রিমিয়াম আয়ের পরিমাণ ছিল এক হাজার ২৫৮ কোটি টাকা।
পরিসংখ্যান থেকে আরও দেখা যায়, ২০০৭ সালে জীবন বিমা খাতের প্রিমিয়াম আয় ছিল দুই হাজার ৯১৬ কোটি ৫১ লাখ টাকা, যেখানে ২০০৬ সালে এর পরিমাণ ছিল দুই হাজার ৪৫৭ কোটি ৬১ লাখ টাকা। অর্থাৎ প্রবৃদ্ধির হার ছিল সাড়ে ১৮ শতাংশের বেশি।আবার ২০০৭ সালে সাধারণ বিমা খাতের প্রিমিয়াম আয় ছিল ৯৩৮ কোটি ৭২ লাখ, যা ২০০৬ সালে ছিল ৭৯৭ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। প্রবৃদ্ধির হার ছিল ১৭ দশমিক ৭০ শতাংশ।
গত বিএনপি সরকারের সময়ও নতুন বিমা কোম্পানির নিবন্ধন দেওয়ার জন্য নানা ধরনের তোড়জোড় চলেছিল। অন্তত ৫০টি কোম্পানির নামসহ আবেদনও সে সময় জমা পড়েছিল তখনকার দায়িত্বপ্রাপ্ত বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে। কিন্তু আর্থিক খাতে বিশৃঙ্খলার আশঙ্কায় এবং তখনকার অর্থমন্ত্রী এম. সাইফুর রহমানের দৃঢ় মনোভাবের কারণে শেষ পর্যন্ত কোনো নতুন বিমা কোম্পানির নিবন্ধন দেওয়া হয়নি।যোগাযোগ করলে বেসরকারি কর্ণফুলী ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, দেশে আরও বেশি বিমা কোম্পানির নিবন্ধন দেওয়ার বাস্তবতা নেই। উন্নত দেশ বাদ দিলেও প্রতিবেশী ভারতের উদাহরণই সামনে দাঁড় করানো যেতে পারে। ভারতে সাধারণ ও জীবন বিমা মিলিয়েও
৩০টির বেশি কোম্পানি নেই। অথচ বাংলাদেশে রয়েছে ৬২টি।
এক হাজার কোটি টাকার প্রিমিয়াম আয়ের জন্য ৪৩টি সাধারণ বিমা কোম্পানি বর্তমানে কাজ করার কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, কোনো কারণে সরকার যদি এমন সিদ্ধান্ত নেয়ও যে আরও বিমা কোম্পানির নিবন্ধন দেওয়া হবে, কোনোভাবেই তা যেন সাধারণ বিমা কোম্পানি না হয়। প্রথম আলোকে একই কথা বলেন ইসলামী জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল কাশেম চৌধুরী। তিনি বলেন, সাধারণ বিমা কোম্পানির আর দরকার নেই। তবে জীবন বিমা হতে পারে। দেশের বিমা খাত এখনো অবহেলার শিকার বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আইন অকার্যকর: এদিকে চলতি বছরের মার্চে বিমা-সংক্রান্ত দুটি আইন পাস হয়েছে। বিমা আইন ও বিমা নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ আইন। কিন্তু আইন দুটি অকার্যকর পড়ে রয়েছে। আইন পাস হওয়ার নয় মাস পার হলেও এখনো গঠিত হয়নি বিমা নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ।অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, কর্তৃপক্ষ গঠিত না হওয়ার কারণে বিমা বিধিমালা তৈরি করা যাচ্ছে না। আর বিধিমালা তৈরি না হওয়াতে কার্যকর করা যাচ্ছে না নতুন আইনও। সংগত কারণেই প্রচলিত ১৯৩৮ সালের বিমা আইন অনুযায়ীই পরিচালনা করতে হচ্ছে দেশের বিমা খাত।এ বিষয়ে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব শফিকুর রহমান পাটোয়ারী গতকাল বৃহস্পতিবার প্রথম আলোকে বলেন, বিমা নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ গঠনের আর বেশি দিন বাকি নেই। গঠনের পরেই কর্তৃপক্ষ বিধিমালা তৈরিতে হাত দেবে।উল্লেখ্য, বিমা খাতের দেখভালের দায়িত্ব দীর্ঘদিন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে ছিল। ২০০৮ সালের নভেম্বরে নতুন বিমা আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়ার সময় বিমা খাতের দেখভালের দায়িত্ব অর্থ মন্ত্রণালয়ের ওপর ন্যস্ত করা হয়।এখন নতুন আইন কার্যকর হলে বিদ্যমান বীমা অধিদপ্তরও অবলুপ্ত হবে।

চট্টগ্রাম চেম্বারের নির্বাচন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত

চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির নির্বাচন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। ৭ ডিসেম্বর এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। ভোটার তালিকায় অনিয়মের অভিযোগে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাণিজ্য সংগঠন বিভাগের এক আদেশে আজ শনিবার এই নির্দেশ দেওয়া হয়।
এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম চেম্বারের নির্বাচন বোর্ডের সদস্য আহসানুল হক চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে নির্বাচন স্থগিত করার কথা শুনেছি। তবে অফিস বন্ধ থাকায় কোনো চিঠি পাইনি। আগামীকাল রোববার চিঠি পাওয়ার পর নির্বাচন স্থগিতের আদেশ জারি করা হবে।’
গত বৃহস্পতিবার বাণিজ্য সংগঠনের পরিচালক মো. আবুল কালামের স্বাক্ষর করা ওই আদেশে বলা হয়, ‘বাণিজ্য সংগঠন অধ্যাদেশ ১৯৬১-এর ধারা ৯ (চ) এবং ৮ (ক)-এর আলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নির্বাচন স্থগিত করা হলো।’ সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের স্বার্থে এবং বিদ্যমান অনিয়ম নিরসন করে একটি সঠিক ভোটার তালিকা প্রণয়নের জন্য নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে বলে চিঠিতে বলা হয়।
এদিকে ভোটার তালিকা ও নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট অভিযোগ নিরসনের জন্য বিভাগীয় কমিশনারকে ১৫ দিনের মধ্যে একটি কমিটির মাধ্যমে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ৬১টি পরিবারকে ট্রাস্ট ব্যাংকের ভাতা প্রদান

শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার কাকরকান্দি ইউনিয়নের সোহাগপুর বিধবাপল্লিতে ১৯৭১ সালের গণহত্যায় শহীদ ৬১টি পরিবারের মধ্যে ট্রাস্ট ব্যাংকের পক্ষ থেকে আজ শনিবার এককালীন ভাতা দেওয়া হয়েছে। এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমান, কৃষি ব্যাংকের চেয়ারম্যান খন্দকার ইব্রাহিম খালেদ ও ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহ আলম সরোয়ার।
অনুষ্ঠানে মতিয়া চৌধুরী বলেন, বর্তমান সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের ভাগ্যের উন্নয়নের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে যাঁরা শহীদ এবং বিধবা হয়েছেন, তাঁদের পরিবারের সদস্যদের পুনর্বাসনের জন্য সরকার বিভিন্ন প্রকল্প নিয়েছে। ইতিমধ্যে মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক ভাতা বাড়ানো হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের জন্য সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে কোটা সংরক্ষিত করা হয়েছে। এ ছাড়া সরকার বয়স্ক ভাতা ও বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে মাসিক ভাতারও ব্যবস্থা করেছে। এরই অংশ হিসেবে আজ ট্রাস্ট ব্যাংকের সামাজিক দায়বদ্ধ কর্মসূচির আওতায় সোহাগপুর গণহত্যার শিকার ৬১টি শহীদ পরিবারের প্রতিটিকে এককালীন সাত হাজার এবং প্রতি মাসে এক হাজার টাকা করে ভাতা দেওয়ার কর্মসূচি শুরু করা হলো। এই আর্থিক সহায়তা শহীদ পরিবারের সদস্যরা সরাসরি কৃষি ব্যাংকের হিসাব থেকে ওঠাতে পারবেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমান বলেন, ‘আজ ট্রাস্ট ব্যাংকের মাধ্যমে শহীদ পরিবারগুলোকে যে সহায়তা দেওয়া হলো, তা কিছুটা হলেও এসব পরিবারের সদস্যদের জীবিকা নির্বাহে সহায়তা করবে।’ তিনি আরও বলেন, দেশের প্রত্যন্ত গ্রামীণ জনপদে ব্যাংকিং সেবা পৌঁছানোর মাধ্যমে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীকে আর্থিক অন্তর্ভুক্তির জন্য সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহ আলম সরোয়ার জানান, ট্রাস্ট ব্যাংকের দেওয়া মাসিক ভাতা শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের বিধবা স্ত্রী ও মাকে আজীবন এবং সন্তান বা ভাইবোনদের জন্য পাঁচ বছর পর্যন্ত দেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শেরপুরের জেলা প্রশাসক মো. নাসিরুজ্জামান।

ওবামার কাটা স্থানের সেলাই খোলা হয়েছে

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার মুখের কেটে যাওয়া স্থানের সেলাই খোলা হয়েছে। সেলাই কাটার পর অবশ্য ওই ক্ষত আর দেখা যাচ্ছে না। গত সপ্তাহে বাস্কেটবল খেলার সময় একজন খেলোয়াড়ের কনুইয়ের গুঁতোয় মুখে আঘাত পান ওবামা। এরপর তাঁর মুখের কেটে যাওয়া স্থানে ১২টি সেলাই করা হয়।
সেলাই কাটার সত্যতা নিশ্চিত করে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের ওবামা বলেন, ‘এখন আমার ঠোঁটে কোনো সমস্যা নেই।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি সেরে উঠেছি। এখন আমি মালিয়া ও সাশার সঙ্গে খেলতে পারব।

নীতিমালা বাস্তবায়ন ও বিচারের বাধাগুলো by নাসরিন খন্দকার

আমরা মেয়ে হয়ে জন্মেছি, পুরুষের কুদৃষ্টি একপাশে সরিয়ে রেখে আমাদের পথ চলতে শিখতে হবে; আমরা মেয়ে, আমাদের শরীর চলমান যৌনবস্তু, পুরুষের লোভাতুর দৃষ্টি তো পড়বেই; আমরা মেয়ে, আমাদের দেখে রাস্তার বখাটেরা শিস দেবে, বাসের ভিড়ে পুরুষেরা গায়ে হাত দেবে, স্কুলে যাওয়া-আসার পথে তাই আমাদের বাবা-মা সতর্ক-উদ্বিগ্ন; আমরা মেয়ে, আমাদের প্রাপ্তি, আমাদের অর্জন আমাদের শরীরী মূল্যায়ন মাত্র; আমরা নারী, তাই নিপীড়ন আমাদের নিয়তি।’ এভাবেই নারীর বেড়ে ওঠার প্রতিটি স্তরে নিপীড়নকে স্বাভাবিক হিসেবে উপস্থাপিত হয়। কীভাবে একে মানিয়ে নিতে হবে তা শিখিয়ে দেয় সমাজ। কিন্তু এত শিখেও শেষ রক্ষা হয় না, হতে পারে না। এর প্রমাণ পত্রিকার পাতায় প্রকাশিত যৌন নিপীড়নের অজস্র ঘটনা। পরিণতিতে হত্যা-আত্মহত্যা, সাম্প্রতিক সময়ে যা বিকট আকার ধারণ করেছে। নারীর প্রতি এই দৈনন্দিন নিপীড়নের ঘটনার ওপর থেকে স্বাভাবিকীকরণের মিষ্টি প্রলেপ সরালেই ভেতরের নৃশংসতাকে দেখা যাবে। এবং বোঝা যাবে প্রতিবাদী হয়ে ওঠা ছাড়া প্রতিকার হতে পারে না।
বিদ্যমান এই পরিস্থিতিতে প্রতিষ্ঠানে যৌন নিপীড়নবিরোধী নীতিমালা বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরতে চাই। ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় বরাবরই সরব। আন্দোলনের দীর্ঘ ইতিহাসে এই ক্যাম্পাস থেকে বিতাড়িত হয়েছে ক্ষমতাশালী ছাত্রসংগঠনের ধর্ষক গ্রুপ, বরখাস্ত হয়েছেন নিপীড়ক শিক্ষক, প্রথম দাবি উঠেছে যৌন নিপীড়নবিরোধী নীতিমালা ও অভিযোগ সেলের। এই নীতিমালার খসড়া প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের তাগিদও এখান থেকেই উঠে এসেছে। সম্প্রতি সব প্রতিষ্ঠানে যৌন নিপীড়নবিরোধী নীতিমালা প্রণয়ন প্রসঙ্গে হাইকোর্টের নির্দেশনা এই আন্দোলনের বড় অর্জন।
হাইকোর্টের রায়ে সব প্রতিষ্ঠানে এবং কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন প্রতিরোধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। সে অনুসারে সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগের তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এর আগে নাটক ও নাট্যতত্ত্বের এক শিক্ষকের বিচার পুনঃ তদন্তের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে। উভয় ক্ষেত্রেই হাইকোর্টের দেওয়া রায় অনুসারে বিচার-প্রক্রিয়া চলার কথা থাকলেও প্রশাসন ক্ষমতার ছত্রচ্ছায়ায় থাকা অভিযুক্তকে রক্ষায় মরিয়া হয়েছে। আইনের ফাঁক গলিয়ে হাইকোর্টের নির্দেশনাকে পক্ষপাতদুষ্ট পদ্ধতিতে ব্যবহার করা হয়েছে এবং অভিযুক্তদের ‘গুরু পাপে লঘু দণ্ড’ হয়েছে। তাই হাইকোর্টের রায় বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতার পর্যালোচনা প্রয়োজন।
প্রথমত, হাইকোর্টের রায়ে যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধে এর সংজ্ঞায়ন ও অপরাধ হিসেবে এর গুরুত্ব স্পষ্ট করা হয় এবং জনসচেতনতার জন্য একে ব্যাপকভাবে প্রচারের নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠান নির্দেশনাটি অগ্রাহ্য করে। নিপীড়ন-সহায়ক পরিস্থিতি টিকিয়ে রাখার সহায়ক এই মানসিকতা। আন্দোলনের চাপে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় রায় বাস্তবায়নের উদ্যোগ কিছুমাত্রায় নিলেও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে তা দেখা যায়নি। আমরা তাই সব প্রতিষ্ঠানে এই নীতিমালার বাস্তবায়ন ও প্রচারের দাবি জানাচ্ছি।
দ্বিতীয়ত, হাইকোর্টের দেওয়া নীতিমালায় নিপীড়নের অভিযোগ গ্রহণ ও তদন্তের জন্য অভিযোগ সেল গঠন এবং স্বচ্ছতার ভিত্তিতে এর কর্মকাণ্ড পরিচালিত হওয়ার কথা। অভিযোগ সেল যন্ত্র নয়, তাই যেসব ব্যক্তিদের নিয়ে তা গঠিত হবে, তাদের মানসিকতা ও দৃষ্টিভঙ্গি আইনের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ হওয়া এবং লিঙ্গ রাজনীতি বিষয়ে তাদের সচেতন থাকা বাঞ্ছনীয়। এটি নিশ্চিত করতেই অভিযোগ সেলে নারী সদস্যের সংখ্যাগরিষ্ঠতার কথা বলা হয়েছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে নিপীড়নের বিরুদ্ধে আন্দোলনরত মঞ্চ থেকে প্রস্তাবিত নীতিমালায় অভিযোগ বিবেচনার জন্য গঠিত কমিটিতে তাই অভিযোগকারীর প্রতিনিধির অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব করা হয়। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের সদস্যের অন্তর্ভুক্তির বেলায় নারী ইস্যুতে কাজের অভিজ্ঞতা আছে, এমন ব্যক্তিকে নেওয়ার প্রয়োজনও তুলে ধরা হয়। কিন্তু হয়েছে উল্টোটা। অভিযোগ সেলে নারীর প্রতি সংবেদনশীলতার বদলে প্রশাসনপন্থী হওয়াই প্রধান বিবেচ্য হয়ে উঠেছে। সেই সঙ্গে সেলের মেয়াদ ও পুনর্গঠন বিষয়ে রায়ে সুস্পষ্ট কোনো নির্দেশ না থাকায়, পক্ষপাতদুষ্ট সেলের পরিবর্তনও কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রভাবশালী প্রশাসন যখন পক্ষপাত করে তখন সুবিচার অসম্ভব। হাইকোর্টের রায়কে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ব্যবহার করে উল্টো অভিযোগকারীকেই আসামির কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে তার চরিত্রহনন করা হতে দেখি। অথচ হাইকোর্টের রায়ে তদন্ত চলাকালে অভিযোগকারীকে কোনোভাবেই হয়রানি না করার বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া ছিল! কিন্তু এটি নিশ্চিত করার কোনো ব্যবস্থা নেই। আমরা তাই অভিযোগ সেলের কাজের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য তদন্ত চলাকালে অভিযোগকারীর সঙ্গে তার আইনজীবীর উপস্থিতি জরুরি মনে করি। বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য কমিটির মতো অভিযোগ সেলও প্রশ্নের ঊর্ধ্বে নয়। এর কর্মপদ্ধতিও জবাবদিহির মুখে রাখা জরুরি।
তৃতীয়ত, বিচারপতি গোলাম রাব্বানী প্রদত্ত একটি রায়ে যৌন নিপীড়নের বিচারে প্রত্যক্ষ প্রমাণ ছাড়াও সম্পন্ন করার নজির থাকা সত্ত্বেও প্রত্যক্ষ প্রমাণের অভাব বিচারে সমস্যা তৈরি করে। যৌন নিপীড়নের সংজ্ঞা ও ধরন থেকে আমরা স্পষ্ট যে এই অপরাধের ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ প্রমাণ বা সাক্ষ্য হাজির করা বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই কঠিন। এ কারণেই যৌন নিপীড়নের বিচারে নিপীড়িতের বয়ান ও পারিপার্শ্বিক প্রমাণাদির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কার্যত আমরা নিপীড়িতকেই জেরার মুখে পড়তে দেখি। পারিপার্শ্বিক প্রমাণাদির সংজ্ঞা ও সীমানা সুনির্দিষ্ট না থাকায় এরও যথার্থ ব্যবহার হয় না। প্রতিষ্ঠানে যৌন নিপীড়নের বিচারের ক্ষেত্রে ঠিক কোন ধরনের অভিযোগ গ্রহণ করা হবে, তারও সুস্পষ্ট রূপরেখা থাকা প্রয়োজন।
চতুর্থত, বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরিবিধির শৃঙ্খলা অধ্যাদেশ অনুযায়ী যেকোনো অভিযোগের সত্যাসত্য যাচাই কমিটি যাচাইয়ের পরে তদন্ত কমিটি গঠিত হয় এবং সেই তদন্ত কমিটি তদন্ত সাপেক্ষে বিচার-প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। কিন্তু হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী অভিযোগ সেল অভিযোগের সত্যতার প্রমাণ পেলে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে তা তুলে ধরবে এবং এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা অধ্যাদেশ অনুযায়ী ‘অসদাচরণ’ হিসেবে গণ্য হবে। উল্লেখ্য, এই অধ্যাদেশে ‘নৈতিক অসচ্চরিত্রতা, অসদাচরণ ও অদক্ষতা’—এই তিনটিই কেবল অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত। এগুলোর জন্য লঘু শাস্তি হিসেবে সতর্কীকরণ ও তিরস্কার থেকে শুরু করে চাকরি থেকে বরখাস্তের মতো বিধান রয়েছে। কিন্তু তিনটি অপরাধের মাত্রা ও ধরন যেহেতু এক নয়, সেহেতু একই অপরাধে লঘু থেকে গুরু শাস্তির মধ্যে ব্যাপক ব্যবধান থাকা সমস্যাজনক। এ ক্ষেত্রে ‘গুরু পাপে লঘু দণ্ড’ হওয়ার সুযোগ অবারিত থাকে এবং সেই সুযোগ নেওয়াও হচ্ছে। যৌন নিপীড়নকে ‘অসদাচরণ’ বললে এর গুরুত্ব ও ভয়াবহতাকে খাটো করা হয়। যৌন নিপীড়ন বিশেষ ধরনের অপরাধ হওয়ায় স্বতন্ত্র অনুচ্ছেদে আলাদা করে নিপীড়নের বিভিন্ন ধরন এবং শাস্তির মাত্রা সুস্পষ্ট করে দিতে হবে, যাতে অস্পষ্টতা ও শিথিলতার সুযোগ না থাকে। একইসঙ্গে রাষ্ট্রীয় আইনে যৌন নিপীড়নকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বিশেষ ধরনের বিচার-প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে প্রতিকারের রূপরেখা স্পষ্ট করে দিতে হবে। একে পারিবারিক সহিংসতা ও নারী নির্যাতনের বিস্তৃত ক্ষেত্রের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা চলবে না। সেই সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে সুবিচার না পেলে যে কারও পক্ষে যাতে আদালতের আশ্রয় নেওয়ার পথ খোলা থাকে, তারও বন্দোবস্ত করতে হবে।
যৌন নিপীড়নের মতো অপরাধকে সঠিক নামে, সঠিক গুরুত্ব দিয়ে চিহ্নিত করা এবং নারীর অসম্মতি-অনিচ্ছা ও নিপীড়িত হওয়ার অনুভূতিকে গুরুত্ব দিয়ে বুঝতে পারা নিপীড়ন প্রতিরোধের প্রাথমিক ও গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সেখানে যারপরনাই ব্যর্থ। ‘ইভ টিজিং’, ‘অপারেশন রোমিও-হান্ট’ ইত্যাদি নামকরণ নিপীড়নের ভয়াবহতাকে হালকা করে একে তামাশায় পরিণত করে। নিপীড়ন আর ‘টিজিং’-এর মধ্যে হাজার মাইল ব্যবধান, তেমনি নির্যাতকদের ‘রোমিও’ বলে নির্যাতিতদের ‘জুলিয়েট’-এর ভাবমূর্তি দেওয়া এক নিষ্ঠুর রসিকতা। নিপীড়ন প্রতিরোধ করতে হলে প্রথমে এই তামাশাকরণ বন্ধ করতে হবে, সচেতনতা তৈরি করতে হবে এবং শক্তিশালী আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে।
গত ২৭ নভেম্বর ‘নিপীড়নের বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ আয়োজিত মতবিনিময় সভায় পঠিত নিবন্ধ
নাসরিন খন্দকার: সহকারী অধ্যাপক, নৃবিজ্ঞান বিভাগ, জা.বি।
nasrin.khandoker@gmail.com

বাদশাহ আবদুল্লাহর দেহে আরও অস্ত্রোপচার হবে

৮৬ বছর বয়সী সৌদি বাদশাহ আবদুল্লাহর শরীরে আরও অস্ত্রোপচার করা হবে। যুক্তরাষ্ট্রের একটি হাসপাতালে হার্নিয়া চিকিৎসায় অস্ত্রোপচারের নয় দিন পর গতকাল শুক্রবার রাজপরিবারের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়।
ওই অস্ত্রোপচার পরবর্তী সময় চিকিৎসার জন্য তিনি আবার যুক্তরাষ্ট্রে যাবেন। সেখানে তাঁর মেরুদণ্ডে অস্ত্রোপচার করা হবে। সংবাদ সংস্থা এসপিএ রাজপরিবারের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানায়।
খবরে বলা হয়, অস্ত্রোপচারের আগে আবদুল্লাহ ধীরে ধীরে নিস্তেজ হয়ে যাচ্ছিলেন। অস্ত্রোপচার সফল হওয়ায় তিনি এখন হাঁটতে পারেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের যৌথ সামরিক মহড়া শুরু

কোরীয় উপদ্বীপে বিরাজমান উত্তেজনার মধ্যে গতকাল শুক্রবার থেকে যৌথ সামরিক মহড়া শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান। আট দিনের এই মহড়ায় দুই দেশের হাজার হাজার সেনা, শত শত বিমান ও ৬০টি যুদ্ধজাহাজ অংশ নিচ্ছে। দুই দেশের যৌথ সামরিক মহড়ার ইতিহাসে এটাই সবচেয়ে বড় বলে জানা গেছে।
উত্তর কোরিয়া আবার দক্ষিণ কোরিয়ায় হামলা চালালে বিমান হামলা চালিয়ে এর পাল্টা জবাব দেওয়া হবে। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী কিম কান জিন গতকাল শুক্রবার এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
গত ২৩ নভেম্বর দুই কোরিয়ার মধ্যে গোলাবিনিময়ের ঘটনায় দক্ষিণ কোরিয়ার ইয়নপিয়ং দ্বীপে দুই মেরিন সেনাসহ অন্তত চারজন নিহত হন। বিষয়টি নিয়ে কোরীয় উপদ্বীপে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এর মধ্যেই গত বুধবার পীতসাগরে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে চার দিনব্যাপী যৌথ সামরিক মহড়া শেষ করে যুক্তরাষ্ট্র। এর এক দিন পর যুক্তরাষ্ট্র গতকাল জাপানের সঙ্গে যৌথ মহড়া শুরু করে। এই মহড়া যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়ার চার দিনের ওই মহড়ার চেয়েও বড় হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র-জাপানের যৌথ মহড়ায় এবারই প্রথমবারের মতো পর্যবেক্ষক পাঠিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া।
জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তিতে এই যৌথ মহড়ার আয়োজন করা হয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার উপকূলের কাছে পূর্ব সাগরে ওই যৌথ মহড়ায় দুই দেশের ৪৪ হাজার সেনা, ৪০০ বিমান ও ৬০টি যুদ্ধজাহাজ অংশ নিচ্ছে। মহড়ার প্রথম দিনে গতকাল ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো বাতাসের মধ্যেও পরমাণু শক্তিসমৃদ্ধ মার্কিন বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন অংশ নেয়। জর্জ ওয়াশিংটন দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ মহড়ায়ও অংশ নেয়। ওই জাহাজে ৭৫টি যুদ্ধবিমান ও ছয় হাজার ক্রু রয়েছেন।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী কিম কান জিন উত্তর কোরিয়ার প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ‘এবার পিয়ংইয়ং যেকোনো ধরনের হামলা চালালে আমরা অবশ্যই বিমান হামলা চালিয়ে এর কঠোর জবাব দেব।’ তবে তিনি সর্বাত্মক যুদ্ধের সম্ভাবনা নাকচ করে দেন।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন বলেছেন, উত্তর কোরিয়া ওই অঞ্চল, বিশেষ করে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের জন্য হুমকি হয়ে উঠেছে। দেশটি চীনের জন্যও হুমকি বটে।
কোরীয় উপদ্বীপের উত্তেজনা কমাতে ছয় জাতির আলোচনার আহ্বান জানানোয় চীনের সমালোচনা করা হয়। ওয়াশিংটন, সিউল ও টোকিও এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। এর জবাবে চীন বলেছে, সামরিক মহড়ার চেয়ে আলোচনার মাধ্যমে কোরীয়-সংকট সমাধানের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া অনেক বেশি ইতিবাচক পদক্ষেপ।
আগামী সোমবার হিলারি ক্লিনটনের রাশিয়া, জাপান ও কোরিয়ার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে। ওই বৈঠক প্রসঙ্গে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জিয়াং ইউ এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আমরা বৈঠকের বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি।

ফল নিয়ে উত্তেজনা সীমান্ত বন্ধ করেছে সেনাবাহিনী

আইভরি কোস্টে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দ্বিতীয় দফা ভোটের ফল নিয়ে অব্যাহত উত্তেজনার মুখে সে দেশের সব সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছে সেনাবাহিনী। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রবেশও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
গত রোববার আইভরি কোস্টে দ্বিতীয় দফা ভোট হয়। কিন্তু ফল ঘোষণায় দেরি হওয়ায় সরকার ও বিরোধীদলীয় সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। গত বৃহস্পতিবার সে দেশের নির্বাচন কমিশন বিরোধীদলীয় প্রার্থী আলাসানে ওয়াতারাকে জয়ী ঘোষণা করে। কিন্তু দেশটির সাংবিধানিক পরিষদ এ ফলকে অবৈধ ঘোষণা করে তা প্রত্যাখ্যান করে। এর জের ধরে সম্ভাব্য সহিংসতা এড়াতে সেনাবাহিনী সীমান্ত বন্ধ করার ঘোষণা দেয়।

মিউনিখে স্ত্রীকে প্রহারের অভিযোগে ইমাম গ্রেপ্তার

জার্মানির মিউনিখের দারুল কোরআন মসজিদের ইমাম শেখ আবু আদাম তাঁর এক স্ত্রীকে পিটিয়ে আহত করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ অভিযোগে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে। পরে তাঁকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
মিসরীয় বংশোদ্ভূত শেখ আবু আদাম ১০ বছর ধরে মিউনিখে ইমামতি করছেন। তাঁর তিন স্ত্রী। গত সপ্তাহে তাঁর ২০ বছর বয়সী সিরীয় বংশোদ্ভূত স্ত্রীকে পিটিয়ে হাড় ভেঙে দেন।
পরে টেলিফোনে এ ঘটনা জানালে পুলিশ আহত স্ত্রীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায় এবং আদামকে গ্রেপ্তার করে। এর আগেও তাঁর বিরুদ্ধে তিন স্ত্রীকে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে।
আদাম মিউনিখ শহর কর্তৃপক্ষসহ নানা সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত। তাঁর আল-কায়েদা ও তালেবানবিরোধী অবস্থানের জন্য তিনি বেশ বিখ্যাত।
জঙ্গিবিরোধী বক্তব্যের জেরে আদামের ওপর জঙ্গি হামলা হতে পারে এমন আশঙ্কায় বেশ কয়েকবার শহর কর্তৃপক্ষ তাঁকে দেহরক্ষী দেয়।

যেকোনো মুহূর্তে গ্রেপ্তার হতে পারেন জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ

যেকোনো মুহূর্তে গ্রেপ্তার হতে পারেন উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ। সুইডেনের কৌঁসুলিরা ব্রিটেন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে গত বৃহস্পতিবার নতুন করে একটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। এতে অ্যাসাঞ্জের গ্রেপ্তার হওয়ার বিষয়টি প্রায় নিশ্চিত হয়ে গেছে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন। অন্যদিকে অ্যাসাঞ্জের মা ক্রিস্টিন অ্যাসাঞ্জ তাঁর ছেলেকে হত্যা করা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, সুইডেনের দুজন নারী জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ আনার পর অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে মামলা হয়। তাঁদের অভিযোগ, সুইডেন সফরের সময় তিনি তাঁদের ওপর যৌন নির্যাতন চালান। অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে গত ১৮ নভেম্বর এ মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন স্টকহোমের জেলা আদালত।
অ্যাসাঞ্জের আইনজীবীরা এ মামলার বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করলে সুইডেনের সুপ্রিম কোর্ট সে আপিল খারিজ করে তাঁকে গ্রেপ্তার করার নির্দেশ দেন। কিন্তু তত দিনে আত্মগোপনে চলে যান অ্যাসাঞ্জ। সুইডেন ব্রিটেনের কাছে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা হস্তান্তর করলে ব্রিটেন ওই পরোয়ানায় আইনি কার্যপ্রণালিগত ত্রুটি রয়েছে দাবি করে সুইডেনকে নতুন করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করার অনুরোধ জানায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সুইডেনের গোয়েথেনবার্গের পুলিশ নতুন করে একটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। সেটি ব্রিটেনের সিরিয়াস অর্গানাইজড ক্রাইম এজেন্সির কাছে হস্তান্তর করে।

গোয়েন্দা ফ্লাইট পরিচালনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্য বিরোধ ছিল

সাইপ্রাসে একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থেকে গোয়েন্দা ফ্লাইট পরিচালনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে মতবিরোধ ছিল। উইকিলিকস ওয়েবসাইটে ফাঁস করা গোপন মার্কিন বার্তা থেকে গত বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানা গেছে। যুক্তরাজ্যের আপত্তির জায়গাটি ছিল মানবাধিকার লঙ্ঘন-সম্পর্কিত।
প্রভাবশালী ব্রিটিশ পত্রিকা গার্ডিয়ান-এ প্রকাশিত ওই বার্তা থেকে জানা গেছে, তুরস্ক, লেবানন ও উত্তর ইরাকে জঙ্গিদের অনুসন্ধান ও তাদের গতিবিধির ওপর নজরদারির জন্য মার্কিন কর্তৃপক্ষ ইউ টু বিমানের মাধ্যমে যে গুপ্তচরবৃত্তি করেছে, তা নিয়ে যুক্তরাজ্য সুনির্দিষ্টভাবে আপত্তি করে। অবশ্য ওই গোয়েন্দা ফ্লাইট পরিচালনার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র যে তথ্য সংগ্রহ করেছে, তা তুরস্ক ও লেবাননের কর্তৃপক্ষকেও জানিয়েছে।
উইকিলিকসের এই বার্তা ফাঁসের মাধ্যমে ঘনিষ্ঠ দুই মিত্র দেশের মধ্যে বিরোধের সাম্প্রতিক তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। গত সপ্তাহে আড়াই লাখ মার্কিন গোপন কূটনৈতিক নথি ফাঁস করে বিশ্বে হইচই ফেলে দেয় উইকিলিকস।
২০০৮ সালের ওই বার্তা থেকে আরও জানা গেছে, ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ সাইপ্রাসের আক্রোতিরি বিমান ঘাঁটি থেকে পরিচালিত গোয়েন্দা ফ্লাইট সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য জানানোর দাবি করে। তারা জানতে চায়, এই কার্যক্রম সম্পর্কে অন্য কোনো দেশের সরকার অবহিত কি না। কারণ ব্রিটিশরা নিশ্চিত হতে চাইছিল, এ ধরনের কার্যক্রমের মাধ্যমে কোনো ধরনের আইনি ঝামেলা বা অন্য কোনো ঝুঁকি দেখা দেবে কি না।
তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের সময় লেখা ওই বার্তায় মার্কিন কূটনীতিক লেখেন, ঐতিহ্যগতভাবে মিত্রতার বন্ধনে আবদ্ধ দুই দেশের সম্পর্কে অনাস্থার মেঘ জমছে। ব্রিটেনের ওই ধরনের অনুরোধ মার্কিন প্রশাসনকে ক্ষুব্ধ করে। মার্কিন কর্তৃপক্ষের বার্তায় বলা হয়, মানবাধিকার রক্ষার বিষয়ে ব্রিটিশদের উদ্বেগকে যুক্তরাষ্ট্রও গুরুত্ব দেয়। কিন্তু মানবাধিকার লঙ্ঘনের ভয়ে লেবাননে সন্ত্রাসবাদের বিস্তার ঘটতে দিতে পারি না আমরা।
ব্রাউনকে অযোগ্য ভাবত যুক্তরাষ্ট্র: ব্রিটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউন সম্পর্কে মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা ছিল, তাঁর ‘ট্র্যাক রেকর্ড খুব বাজে’ এবং তিনি রাজনীতিতে ভুলের পর ভুল করে যাচ্ছেন। উইকিলিকসের ফাঁস করা মার্কিন কূটনৈতিক বার্তা থেকে এ তথ্য জানা গেছে। গতকাল শুক্রবার গার্ডিয়ান-এ ওই বার্তার খবর প্রকাশ করা হয়। ওই বার্তায় দেখা গেছে, মার্কিন কর্মকর্তারা ব্রিটেনের লেবার পার্টির দিশেহারা অবস্থায় ব্রাউনের নেতৃত্বে পথ খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করেছেন।
২০০৮ সালের ৩১ জুলাই ব্রিটেনে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন রাষ্ট্রদূত রবার্ট টিউটেলের লেখা ওই বার্তায় ভবিষ্যদ্বাণী ছিল, ব্রাউনকে নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দিতে বিদ্রোহ করতে পারেন লেবার নেতারা। সেখানে আরও বলা হয়, লেবার পার্টির ভবিষ্যৎ নেতা হিসেবে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড মিলিব্যান্ডের সম্ভাবনা সবচেয়ে উজ্জ্বল। যদিও এ বছর লেবার পার্টির নেতা নির্বাচনে ছোট ভাই এড মিলিব্যান্ডের কাছে পরাজিত হন ডেভিড।

আফগান যুদ্ধে ব্রিটিশ সেনাদের ভূমিকার সমালোচনায় যুক্তরাষ্ট্র

উইকিলিকসের সদ্য ফাঁস করা নথির তথ্য অনুযায়ী, আফগানিস্তানে ব্রিটিশ সেনাদের কর্মকাণ্ডের কঠোর সমালোচনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তথ্য অনুযায়ী, আফগানিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের মতে, ২০০৭ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত ব্রিটিশ সেনারা হেলমান্দ প্রদেশে এককভাবে দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থতার পরিচয় দেয়। কাবুলে নিযুক্ত একজন মার্কিন প্রতিনিধি আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাইকে ‘দিশেহারা’ ও ‘দুর্বল’ নেতা বলে অভিহিত করেন বলেও এসব নথিতে উল্লেখ রয়েছে। গতকাল শুক্রবার আফগান সরকার এসব তথ্যের সত্যতা ‘অবান্তর’ বলে নাকচ করেন।
নথির তথ্য অনুযায়ী, হেলমান্দ প্রদেশের শান্তি রক্ষা এবং সেখানে মাদক চোরাচালান রোধে নিয়োজিত ব্রিটিশ সেনাদের ভূমিকা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও আফগানিস্তান উভয় দেশ উদ্বেগ প্রকাশ করে। ব্রিটিশ সেনাদের সহায়তা করতে মার্কিন সেনারা যোগ দেয়। মার্কিন সেনারা ওই প্রদেশে পৌঁছার পর হামিদ কারজাই আশ্বস্ত হন। একটি নথিতে ২০০৭ সালে আফগানিস্তানে ন্যাটো বাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী মার্কিন সেনা কর্মকর্তা জেনারেল ড্যান ম্যাকনিল ব্রিটিশ সেনাদের ব্যাপারে হতাশা প্রকাশ করেছিলেন বলে তথ্য রয়েছে। এতে বলা হয়েছে, আফগানিস্তানে মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে তৎপরতা চালানোর বিষয়ে ব্রিটিশ সেনাদের তৎপরতায় হতাশ হয়ে পড়েছিলেন ম্যাকনিল। তিনি বলেছিলেন, ভুল কৌশল অবলম্বন করে পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে ব্রিটিশ সেনারা হেলমান্দে ‘জগাখিচুড়ি পাকিয়ে’ ফেলেছিল।
২০০৮ সালে কাবুলের মার্কিন দূতাবাস থেকে পাঠানো এক চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ‘আমরা ও প্রেসিডেন্ট কারজাই এ ব্যাপারে একমত, মার্কিন সেনাদের সমর্থন ছাড়া হেলমান্দে ব্রিটিশ সেনাদের একার পক্ষে পরিস্থিতি সামলানো সম্ভব নয়।’
অন্য নথিতে দেখা গেছে, কাবুলে মার্কিন প্রতিনিধি কার্ল একেনবেরি প্রেসিডেন্ট কারজাইকে ‘দিশেহারা’ ও ‘দুর্বল’ রাষ্ট্রনায়ক বলে আখ্যা দেন। সম্প্রতি মার্কিন প্রশাসনের কাছে তাঁর জমা দেওয়া এক প্রতিবেদনে তিনি বলেন, তিনি মনে করেন যে রাষ্ট্র গঠনের প্রাথমিক ও মৌলিক নীতি অনুসরণের জন্য যে সক্ষমতা ও আদর্শিক শক্তি থাকা দরকার, কারজাইয়ের তা নেই। একেনবেরি বলেন, স্বয়ং প্রেসিডেন্টের সৎভাই ও কান্দাহারের প্রাদেশিক পরিষদের নেতা আহমাদ ওয়ালি কারজাই দুর্নীতি ও মাদক ব্যবসায় জড়িত। তাঁর মতো সরকারের বহু শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা এসব কাজে জড়িত জেনেও কারজাই তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেননি। তিনি বলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার মতো নৈতিক মনোবল কারজাইয়ের নেই।
২০০৯ সালের জুলাইয়ের ওই নথির তথ্য অনুযায়ী একেনবেরি বলেন, সম্প্রতি চারবার কারজাইয়ের সঙ্গে তাঁর একান্ত বৈঠক হয়েছে। এসব বৈঠক থেকে তিনি বুঝতে পেরেছেন যে ২০০৯ সালের সেপ্টেম্বরের নির্বাচনে ইরানের মতো যুক্তরাষ্ট্রও কারজাইয়ের বিরোধীদের সমর্থন দেবে বলে তিনি মনে করছিলেন।
একেনবেরি বলেন, তাঁর মনে হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে কারজাইয়ের বর্তমানে যে ধারণা রয়েছে, তা যুক্তরাষ্ট্র ও আফগানিস্তানের সম্পর্ককে একটি উদ্বেগজনক অবস্থানে নিয়ে যেতে পারে। তবে গতকাল কারজাই সরকারের কর্মকর্তা হামেদ এলমি একেনবেরির এসব কথাকে ‘অবান্তর’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
কারজাই সরকারের অপর কর্মকর্তা সিমাক হিরাবি বলেছেন, এ বিষয়ে স্বয়ং প্রেসিডেন্ট কারজাই শনিবার (আজ) সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেবেন।

ব্রিটেনে দক্ষ ও বেশি দক্ষ শ্রেণীতে ভিসা দেওয়া সীমিত হচ্ছে

ব্রিটেনের ক্ষমতাসীন জোট সরকার অভিবাসন আইনে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রস্তাবিত নতুন অভিবাসন নীতিমালা অনুযায়ী দক্ষ ও বেশি দক্ষ শ্রেণীতে বার্ষিক ভিসা ২১ হাজার ৭০০-এর মধ্যে সীমিত রাখা হবে। আগামী এপ্রিল থেকে নতুন এই নীতি কার্যকর করার কথা ভাবছে ব্রিটিশ সরকার।
ব্রিটেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থেরেসা মের প্রস্তাবিত রূপরেখা অনুযায়ী অভিবাসন নীতি বাস্তবায়িত হলে টায়ার-১-এর আওতায় দক্ষ কর্মজীবী এবং স্নাতক পর্যায়ের নিচে পড়তে আসা শিক্ষার্থীরা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাইরের দেশগুলোর অভিবাসীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন সবচেয়ে বেশি।
ব্রিটেনের স্বরাষ্ট্র দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ক্যামেরন সরকারের এই নীতিমালা কার্যকর হলে ইইউ-বহির্ভূত দেশগুলোর নাগরিকদের জন্য বছরে ২১ হাজার ৭০০ ভিসা বরাদ্দ করা হবে, যার মধ্যে দক্ষ কর্মজীবীরা পাবেন ২০ হাজার ভিসা আর অতি দক্ষ শ্রেণীতে বাকি এক হাজার ৭০০ ভিসা দেওয়া হবে।
প্রচলিত অভিবাসন আইন অনুযায়ী, বর্তমানে চালু পয়েন্ট-ভিত্তিক পদ্ধতির টায়ার-১-এর (সাধারণ বিভাগ) অধীনে দক্ষ কর্মীরা ব্রিটেনে অভিবাসনের জন্য আবেদন করতে পারছেন। কিন্তু নতুন নীতিমালায় টায়ার-১ ধাপে শুধু উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী ও বিশেষ দক্ষ ব্যক্তিরা ভিসা পাওয়ার জন্য বিবেচিত হবেন।
টায়ার-২ শ্রেণীতে ২০১১ ও ২০১২ সালে ২১ হাজার ৭০০ ভিসা দেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে প্রার্থীদের ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবে যাঁরা বর্তমানে ব্রিটেনে অবস্থান করে এই শ্রেণীতে আবেদন করবেন, তাঁদের ক্ষেত্রে নতুন এই কোটা-পদ্ধতি প্রভাব ফেলবে না।

নকআউট পর্বে লিভারপুল

পোস্টের নিচে পেপে রেইনার দুঃসময় শেষই হচ্ছে না। লিগে একাধিক ম্যাচে রেইনার হাত ফসকে বেরিয়ে গেছে বল। এই স্প্যানিশ গোলরক্ষকের ভুলের মাশুল লিভারপুলকে দিতে হয়েছে পয়েন্ট খুইয়ে। কিন্তু নিজেকে শোধরানো দূরে থাক, ভুলের মহড়াই দিয়ে চলেছেন রেইনা। পেপে রেইনার ভুলে লিভারপুল গোল হজম করল পরশু রাতেও। তবে রক্ষা, দল জয়বঞ্চিত হলেও সর্বনাশ হয়নি।
রোমানিয়ান ক্লাব স্টুয়া বুখারেস্টের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেও ইউরোপা লিগের নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে লিভারপুল। আগের ৪ ম্যাচে লিভারপুলের সংগ্রহ ছিল ৮ পয়েন্ট। এই ম্যাচে ড্র করলেই জায়গা নিশ্চিত হতো ৩২-এ। তবে ড্র নয় বুখারেস্টের মাঠে জয়ের নেশাতেই খেলতে থাকে লিভারপুল। রায়ান বাবেলের ক্রসে হেড করে ১৯ মিনিটেই অলরেডদের এগিয়ে দেন মিলান জোভানোভিচ।
এই অগ্রগামিতা ছিল ৬১ মিনিট পর্যন্ত। হয়তো জোভানোভিচের এই গোল জয়ের নিয়ামকও হতে পারত, কিন্তু হয়নি রেইনার ভুলে। রয় হজসনের দলের ক্ষতি তেমন না হলেও রেইনার ভুলে বুখারেস্টের লাভ হয়েছে অনেক। মূল্যবান ১টি পয়েন্ট পাওয়ায় জোরালো হয়েছে তাদের নকআউট পর্বে যাওয়ার সম্ভাবনা।
নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে ফরাসি ক্লাব প্যারিস সেন্ট জার্মেইও। গত পরশু তারা ৪-২ গোলে হারিয়েছে গতবারের চ্যাম্পিয়ন ডিয়েগো ফোরলানের অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদকে। নকআউট পর্বের আশা বাঁচিয়ে রাখতে জুভেন্টাসকে জিততেই হতো। কিন্তু ১-১ গোলে ড্র করে তাদের সেই আশা শেষ করে শেষ ৩২-এ জায়গা করে নিয়েছে পোলিশ ক্লাব লেচ পোজনান।

স্বস্তির জয়ে সিরিজে ফেরা

নিউজিল্যান্ড বধ-কাব্যের পর এই সিরিজ অনেকটা ফুটবলে পেনাল্টি মারার মতো! বাংলাদেশ জিতলে সবাই বলবে, ‘ও, জিম্বাবুয়ে! এ আর এমন কী!’ হারলে সর্বনাশ!
শুধু নিউজিল্যান্ড-বীরত্বই বা কারণ হবে কেন! সর্বশেষ ২৫ ম্যাচের ২০টিতেই জয়, সর্বশেষ ১২ ম্যাচের ১০টিতে—জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে জয় তো অনেক দিনই বাংলাদেশকে এমন কোনো আনন্দে ভাসানোর উপলক্ষ নয়। তার পরও কাল ৬ উইকেটের যে জয়ে বাংলাদেশ সিরিজে সমতা ফেরাল, সেটির মহিমা বলে শেষ করা যাবে না।
সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে মাঠে হেরেছিল বাংলাদেশ। সাকিবের ম্যাচ-উত্তর সংবাদ সম্মেলন ও পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহে মাঠের বাইরে হারতে বসেছিল বাংলাদেশের ক্রিকেটই। সাকিব যতই উল্টো দাবি করুন, ড্রেসিংরুমেও এর ঝাপটা না লেগে পারেই না। আরেকটি পরাজয় ঝোড়ো হাওয়া হয়ে এলোমেলো করে দিতে পারত সব। এই জয় তাই যত না আনন্দের, তার চেয়ে বেশি স্বস্তির। ছন্নছাড়া দলকে একতাবদ্ধ করতে জয়ের চেয়ে ধন্বন্তরি বটিকা যে আর নেই!
সাকিব আল হাসানের মূল অনুযোগটা যদি আপনার মনে থেকে থাকে, তাহলে বুঝবেন, দ্বিতীয় ম্যাচে নিজের পছন্দের একাদশ নিয়েই মাঠে নেমেছিলেন অধিনায়ক। এটা এমন কিছু নয়, অধিনায়কের অধিকারের মধ্যেই পড়ে। সাকিব তো চাইলে ১৫ জনের বাইরের কাউকেও ডেকে বসতে পারতেন! ম্যাচের আগের দিন বোর্ড সভাপতি তো ‘নতুন ইতিহাস’ সৃষ্টি করে সেই অধিকারও দিয়ে দিয়েছেন তাঁকে!
সাকিব ১৫ জনের মধ্যেই থেকেছেন। শুধু তাঁর দৃষ্টিতে দলের সেরা দুই ফিল্ডার রকিবুল ও নাঈমকে ফিরিয়েছেন দলে। তার পরও হারলে তাঁর মুখে প্রায় সব সময় লেগে থাকা দুষ্টুমির হাসিটা উধাও-ই হয়ে যেত। কিন্তু অধিনায়ক সাকিব এমনই পয়মন্ত যে, যা ছুঁয়ে দেন, তা-ই সোনা হয়ে যায়! বাংলাদেশ তাই শুধু জিতলই না; নিউজিল্যান্ড সিরিজের চার ম্যাচে ৫১ রান ও অশেষ যন্ত্রণা উপহার দেওয়া রকিবুল হাসান পর্যন্ত মন ভরিয়ে দিলেন। গত কিছুদিন রকিবুলের ব্যাটিং যাঁরা দেখেছেন, ‘মন ভরিয়ে দেওয়া’ কত বড় প্রশংসা, সেটি তাঁদের সহজেই বুঝতে পারার কথা। শুরু থেকেই স্বচ্ছন্দ, স্পিনারদের বিপক্ষে দুর্দান্ত পায়ের কাজ—৭৮ বলে ৬৫ রকিবুলের সেরা ওয়ানডে ইনিংসগুলোর একটি। ছক্কা মেরে হাফ সেঞ্চুরিতে পৌঁছানোর মতো কাণ্ড যেটির হাইলাইটস।
ওয়ানডেতে উইকেট নেওয়ার চেয়ে রান দেওয়ায় কিপটেমির মূল্য খুব কম নয়। সে হিসেবে সাকিবের দ্বিতীয় নির্বাচন নাঈমও সফল। উইকেট পাননি, তাতে কী! ১০ ওভারে দিয়েছেন মাত্র ২৭ রান। উইকেট যে সব দুই বাঁহাতি স্পিনারের জন্যই বরাদ্দ ছিল কাল। সব বলা ঠিক হলো না, কারণ জিম্বাবুয়েকে শুরুর ধাক্কাটা দিয়েছিলেন শফিউল। সেটি তাঁর প্রথম ওভারেই। এর পর আর ৪ ওভারই বোলিং করেছেন, মাশরাফি এলোমেলো ৩ ওভার। এই ৮ ওভারেই পেস-অধ্যায়ের সমাপ্তি। বাকিটুকু স্পিন আর স্পিন। বলতে পারেন, সাকিব আল হাসান ও আবদুর রাজ্জাকের ‘টু ম্যান শো’!
যা এই ম্যাচের সীমানা ছাড়িয়েও বৃহত্তর মাত্রা পেল। কালকের ৪ উইকেট অস্ট্রেলিয়ার রায়ান হ্যারিসকে টপকে ওয়ানডেতে এ বছর সবচেয়ে বেশি উইকেটশিকারিদের তালিকার শীর্ষে তুলে নিল সাকিবকে। বছর শেষেও নামটি সেখানেই থাকছে নিশ্চিত। কারণ সাকিব যেখানে আরও ৩টি ম্যাচ পাচ্ছেন, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীদের কারও এ বছর আর ওয়ানডে খেলারই সুযোগ নেই।
তার পরও সাকিব আড়াল হয়ে গেলেন আবদুর রাজ্জাকের ছায়ায়। একজন বোলারের আজন্ম আরাধ্য স্বপ্ন হ্যাটট্রিক যে বাহুপাশে বেঁধেছে রাজ্জাককে! দুই ওভারে বিস্তৃত রাজ্জাকের হ্যাটট্রিকেই শেষ জিম্বাবুয়ের ইনিংস, মাত্র ২ রানে শেষ ৪ উইকেট হারিয়ে!
৩০৭৩ ম্যাচের ওয়ানডে ইতিহাসে মাত্র ২৭তম হ্যাটট্রিক। রাজ্জাককে নিয়ে মাত্র ২৪ জন বোলার পেয়েছেন এই ক্রিকেট অমরত্বের সার্টিফিকেট। তাঁদের মধ্যেও রাজ্জাক অনন্য। হ্যাটট্রিক-বীরদের দলে বাঁহাতি স্পিনার যে তিনি একাই।
ক্রিকেট অমরত্বই তো! নইলে জালাল-উদ-দিনের নামটা কেউ মনে রাখত নাকি! ওয়ানডেতে প্রথম হ্যাটট্রিক এই পাকিস্তানি পেসারের। খেলেছেন মাত্র ৬টি টেস্ট ও ৮টি ওয়ানডে। এ নিয়ে আক্ষেপ জাগলেই রোমন্থন করেন ওই হ্যাটট্রিকের স্মৃতি। বছর দুয়েক আগে করাচিতে এক অনুষ্ঠানে দেখা হওয়ার পর সাক্ষাৎকার চাওয়ামাত্রই বলেছিলেন, ‘কী, হ্যাটট্রিকের কথা শুনতে চান তো?’ কীভাবে বুঝলেন? জালাল-উদ-উদ্দিন হেসে বলেছিলেন, ‘আমার তো বলার মতো ওই একটাই জিনিস।’
রাজ্জাকের আরও কিছু আছে। ওয়ানডেতে বাংলাদেশের সফলতম বোলার। তৃতীয়বারের মতো ৫ উইকেট পেলেন কাল। বাংলাদেশের আর কোনো বোলারের যেখানে একবারের বেশি এই কৃতিত্ব নেই।
জেমি সিডন্স সংবাদ সম্মেলনে আসেননি। এলে জানা যেত, রাজ্জাক-সাকিবের বোলিংয়ের চেয়েও রকিবুল-জুনায়েদের ব্যাটিংকে তিনি এই ম্যাচের বড় প্রাপ্তি মনে করছেন কি না! বাংলাদেশ দলের আশপাশে থাকলেই যে কেউ জেনে যাবেন, দুজনই সিডন্সের খুব পছন্দের ব্যাটসম্যান। দুজনই হাফ সেঞ্চুরি পেয়েছেন। প্রথম ম্যাচের মতো কোনো দুর্ঘটনার আশঙ্কাও উড়ে গেছে তাঁদের ৭২ রানের জুটিতেই। সিডন্স তো খুশি হবেনই। তার চেয়েও বেশি খুশি হওয়ার কথা, বাংলাদেশের ৩ ও ৪ নম্বরের রান করা সম্ভব কি না, এই সংশয়ের অবসান হওয়ায়!
জুনায়েদের জন্য তো বড় একটা লাইফ লাইনও ৫৩ রানের এই ইনিংস। সে জন্য চিগুম্বুরার কাছে তাঁর অসীম কৃতজ্ঞতা। মিড অফে সহজ ক্যাচ ফেলে দিয়েছেন জিম্বাবুইয়ান অধিনায়ক। ১ রানে ভাগ্যের এই ছোঁয়া না পেলে জুনায়েদের তৃতীয় ম্যাচে খেলা বড় একটা সংশয়ের আবর্তেই পড়ে যেত।
গত জুলাইয়ে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সেঞ্চুরির পর ৭ ইনিংসে সর্বোচ্চ ৩১। দলে ফিরে একটি ব্যর্থতাতেই যদি আশরাফুলকে আবার বসিয়ে দেওয়া হয়, তা হলে শুধুই ব্যাটিংসর্বস্ব জুনায়েদের ক্ষেত্রে কেন অন্য বিচার—এই প্রশ্ন কিন্তু উঠেই গিয়েছিল।
দ্বিতীয় ওয়ানডে শুধু জয়ই দিল না, দিল এমন অনেক প্রশ্নের উত্তরও। শুধু যে একটি প্রশ্নের উত্তর পাওয়া গেল না, সেটিকেও রাখতে পারেন প্রাপ্তির খাতায়। ‘আজ কি আপনার একাদশ খেলেছে’—প্রশ্নে সাকিব আল হাসান মৃদু হেসে বললেন, ‘নেক্সট কোয়েশ্চেন প্লিজ’।
অধিনায়ককে যে কখনো কখনো কূটনৈতিকও হতে হয়, সাকিব তা হলে বুঝছেন!

উৎসব আর অবিশ্বাস

রাশিয়া আর কাতারের মধ্যে অনেক দূরত্ব। দুই দেশের আবহাওয়াও পরশু ছিল একেবারেই বিপরীত। রাশিয়ার রাজধানী মস্কো মাইনাস ২৫ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায় কাঁপছিল, আর ২৮ ডিগ্রি তাপমাত্রায় ঘামছিল কাতারের রাজধানী দোহা।
তবে একটা জায়গায় এই দুটি দেশ এদিন মিলে গেল। পাওয়ার আনন্দে। রাশিয়া ও কাতারের এই আনন্দ, বিশ্বকাপের আয়োজক হতে পারার গৌরবের। ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ২০১৮ বিশ্বকাপ আয়োজনের সনদ পেয়েছে রাশিয়া। আর ২০২২ সালের বিশ্বকাপ আয়োজক হওয়ার নির্বাচনে কাতার হারিয়েছে ক্ষমতাধর যুক্তরাষ্ট্রকে।
২০১৮ বিশ্বকাপ আয়োজনের যে চারটি প্রার্থিতা ছিল, ভোট শুরুর আগ পর্যন্ত এর মধ্যে সম্ভাবনায় সবচেয়ে এগিয়ে ছিল ইংল্যান্ড। পর্যবেক্ষকেরা তো সপ্তাহ খানেক আগেও দেখছিল ইংল্যান্ডের নিরঙ্কুশ জয়। তবে হয়েছে ঠিক এর উল্টো। নিরঙ্কুশ পরাজয় মেনে নিয়ে ভোটাভুটির প্রাথমিক পর্ব থেকেই বিদায় হয়েছে ইংল্যান্ডের।
হিসাব-নিকাশে অনেক পিছিয়ে থাকা রাশিয়া সর্বোচ্চ ৯ ভোট পেয়ে ওঠে দ্বিতীয় রাউন্ডে। দ্বিতীয় রাউন্ডে তাদের প্রতিপক্ষ ছিল হল্যান্ড-বেলজিয়াম আর স্পেন-পর্তুগালের যৌথ প্রার্থিতা। তবে ১৩ ভোট পেয়ে শেষ হাসি হাসে রুশরা। স্পেন-পর্তুগাল পায় ৭ ভোট, হল্যান্ড-বেলজিয়াম ২।
২০২২ বিশ্বকাপ আয়োজক হওয়ার লড়াইটা হয়েছে হাড্ডাহাড্ডি। চার পর্ব পর্যন্ত হয়েছে ভোটাভুটি। প্রথম পর্বে অস্ট্রেলিয়া, দ্বিতীয় পর্বে জাপান ও তৃতীয় পর্বে কোরিয়া বাদ পড়ে এখানে। কাতার ও যুক্তরাষ্ট্রকে নিয়ে শুরু হয় চতুর্থ পর্বের ভোট। ১৪-৮ ভোটে কাতারের জয়ে বিশ্বকাপ প্রথম মধ্যপ্রাচ্যে যাওয়ার ঘোষণা দেয়।
ভোট শেষে ফিফা সভাপতি সেপ ব্ল্যাটার ফল ঘোষণা করেন। উৎসবে মেতে ওঠে মস্কো আর দোহা। ব্ল্যাটারের ঘোষণা আসার পরপরই সংবাদ সম্মেলনে রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমির পুতিন বলেন, ‘এই দেশে (রাশিয়ায়) যারা ফুটবলকে ভালোবাসে, তাদের সবাইকে আমি শুভেচ্ছা জানাই। শুভেচ্ছা জানাই এর সঙ্গে যুক্ত সবাইকে। আমাদের জন্য দারুণ এক উৎসবের উপলক্ষ এটা।’
‘হুররে! জিতে গেছি’—‘টুইটারে’ লিখেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ। কিন্তু তিনি ঘোষণা দিলেই কি আর বাইরে নেমে সবার উৎসবে মেতে ওঠা সম্ভব ছিল! মস্কোতে যে তখন মাইনাস ২৫ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রা। উৎসব চলল তাই ঘরে ঘরে। তবে তীব্র শীত উপেক্ষা করেও কিছু মানুষ রাস্তায় নেমেছে।
এই আবহাওয়াই ছিল কাতারের প্রার্থিতার দুর্বলতম দিক। জুন-জুলাইয়ে কাতারের তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রিও ছাড়িয়ে যায়। কেউ কেউ আবার সেখানে মেয়েদের বঞ্চনার কথাও তুলেছিল।
বিশ্বকাপের আয়োজনভার পাওয়ার পর কাতারের বিড প্রধান হামাদ আল থানি বলেছেন এসবের বিরুদ্ধে তাঁদের লড়াইয়ের কথা, ‘আমাদের বিরুদ্ধে অনেক অপপ্রচার ছিল। এগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই করে শেষ পর্যন্ত আমাদের জয় হয়েছে। আমাদের ইতিহাসে অন্যরকম একটা বছরের জন্ম হলো, সেটা ২০২২। আমাদের জন্য বড় এক উৎসবের উপলক্ষ এটা।’
কাতার ও রাশিয়ার জন্য যা উৎসবের, যুক্তরাষ্ট্র আর ইংল্যান্ডের জন্য সেটাই শোকের! এমন পরাজয়ের পর বেকহাম শুধু বলেছেন, ‘আমাদের এর চেয়ে বেশি কিছু করা সম্ভব ছিল না।’ আর ‘জয়’ রব ওঠার পরও হেরে যাওয়াটাকে ইংল্যান্ডের সাবেক কোচ গ্রাহাম টেলর দেখছেন এভাবে, ‘আমরা কী আশা করেছিলাম? আমার মনে হয় ফিফাতে এমন অনেকে আছে যারা মুখে হ্যাঁ বলেছে আর পেছনে না!’
কাতারের কাছে হেরে যাওয়ার প্রতিক্রিয়া সংক্ষেপেই জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, ‘কাতারকে বিশ্বকাপ আয়োজন করতে দেওয়াটা ভুল সিদ্ধান্ত।’ ফ্রান্সের ফুটবল মহাতারকা জিনেদিন জিদান অবশ্য পড়ে গেছেন দোটানায়, ‘স্পেন বিশ্বকাপ পায়নি, এটা আমাকে একটু হতাশ করেছে। তবে কাতারে বিশ্বকাপ যাচ্ছে দেখে আমি খুশিও। আরব বিশ্ব বিকশিত হচ্ছে।

অস্ট্রেলিয়ার দুঃস্বপ্নের সকাল

যেন দুঃস্বপ্ন! কাল অ্যাডিলেডে একটু দেরিতে ঢুকেছেন যেসব দর্শক, চোখ কচলে দুবার তাকিয়েছেন স্কোর বোর্ডে। সেখানে যে দেখাচ্ছিল অস্ট্রেলিয়া ২/৩! মাত্রই ১৩ বল খেলা হয়েছে। এরই মধ্যে ২ রান তুলতে অস্ট্রেলিয়া হারিয়ে ফেলেছে তিন উইকেট!
গত ৬০ বছরে নিজেদের সবচেয়ে বাজে শুরুর এই ধাক্কা সামলে উঠতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া। ৯৩ রানের আরেকটি হাসি-সুলভ ইনিংস খেলে প্রতিরোধের চেষ্টা করেছেন মাইক হাসি। ফিফটি এসেছে ব্র্যাড হাডিনের ব্যাট থেকেও। কিন্তু জেমস অ্যান্ডারসনের দুর্দান্ত বোলিং (৪/৫১), গ্রায়েম সোয়ান, স্টুয়ার্ট ব্রড, স্টিভেন ফিনদের যোগ্য সাহচর্য অস্ট্রেলিয়াকে প্রথম ইনিংসে অলআউট করে দিয়েছে মাত্র ২৪৫ রানে।
১৯৯২-৯৩ সালের পর অ্যাডিলেডে স্বাগতিকদের সবচেয়ে বাজে প্রথম ইনিংস। জবাবে ইংল্যান্ড তাদের প্রথম ইনিংসে যে একটি ওভার পেয়েছে, তাতে অতিরিক্ত খাত থেকে একটি রান নিয়ে শেষ করেছে দিন। অনেক তৃপ্তিতে মোড়ানো প্রথম দিন। চার বছর আগের অ্যাডিলেড-দুঃস্বপ্নের কবর খোঁড়ার প্রত্যয়ে উদ্ভাসিত অ্যান্ড্রু স্ট্রাউসের দল।
টস জিতে ব্যাটিং নিয়েছিলেন ১৫০তম টেস্ট খেলতে নামা রিকি পন্টিং। নেওয়ারই কথা। অ্যাডিলেড মানেই রান। কিন্তু অস্ট্রেলীয় অধিনায়ক তখন দুঃস্বপ্নেও ভাবেননি, কী ঝড়টাই না আসছে।
দিনের চতুর্থ বলেই শুরু। ওয়াটসনের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝিতে রানআউট সাইমন ক্যাটিচ। একটা বলও খেলা হয়নি। ডায়মন্ড ডাক! পরের বলটাই পন্টিংয়ের ব্যাট ছুঁয়ে পৌঁছে গেল দ্বিতীয় স্লিপে সোয়ানের হাতে। ক্যারিয়ারে পঞ্চমবারের মতো গোল্ডেন ডাকের শিকার পন্টিং, এর চারটাই গত দুই বছরে!
পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে যায় অ্যান্ডারসনের দ্বিতীয় ও ইনিংসের তৃতীয় বলে। অধিনায়ককে অনুসরণ করে সহ-অধিনায়কও তালুবন্দী হলেন সোয়ানের হাতে। অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট ইতিহাসেই এর চেয়ে কম রানে প্রথম তিন উইকেট পড়েছে মাত্র দুবার। অ্যাডিলেডে দর্শক তখনো মাঠে ঢুকছে। এবং এই ক্ষণিকের বিলম্বই তাদের বঞ্চিত করল দিনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অংশ থেকে।
মার্কাস নর্থ ও হাডিনের সকালের আলস্য বোধ হয় কাটেনি। দ্রুতই তাঁদের ছুটতে হলো ব্যাট-প্যাডের সন্ধানে। এক্ষুনি মাঠে নেমে পড়তে হয় কিনা, কে জানে!
ওয়াটসনের সঙ্গে হাসির ৯৪ রানের জুটি আতঙ্কের মেঘ কিছুটা সরিয়ে দেয়। কিন্তু নির্ভরতার সূর্য পুরোপুরি উঁকি দেওয়ার আগেই আবারও অ্যান্ডারসনের আঘাত। ৩ উইকেটে ৯৪ রান নিয়ে লাঞ্চে যায় অস্ট্রেলিয়া। ফিফটি পেয়ে যান ওয়াটসনও। কিন্তু লাঞ্চের পর দ্বিতীয় ওভারে অ্যান্ডারসনের আউট সুইংগার ওয়াটসনকে গালিতে ক্যাচ দিতে বাধ্য করে পিটারসেনের হাতে।
হাসি-ওয়াটসনের চতুর্থ উইকেট জুটি ভাঙার পর পঞ্চম ও ষষ্ঠ উইকেটে হাসি আরও দুটো ফিফটি পার্টনারশিপ গড়েন। প্রথমে নর্থ, পরে হাডিনের সঙ্গে। এরপর অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসে আর কিছুই নেই। ৩৮ রানের মধ্যে শেষ ৫ উইকেট হারিয়ে অস্ট্রেলিয়া অলআউট আড়াই শ পেরোনোর আগেই। হাডিন অবশ্য শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হওয়ার আগে চেষ্টা করেছেন।
সব মিলে একটা বাজে দিন কাটানো অস্ট্রেলিয়া দিন শেষে তাতিয়ে দিয়েছে স্ট্রাউসকেও। সাজঘরে ফেরার সময় পন্টিং কী যেন বলেছেন প্রতিপক্ষ অধিনায়ককে। পাল্টা জবাবও দিয়েছেন স্ট্রাউস। ইংল্যান্ডের আজ মাঠেই জবাব দেওয়ার পালা।

প্রথম দুই ম্যাচের দলে মেন্ডিস-হেরাথ

পাঁচ ম্যাচ সিরিজের প্রথম দুটিতে মুত্তিয়া মুরালিধরন বিশ্রামে। আর কপাল খুলেছে রঙ্গানা হেরাথের। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ভালো পারফর্ম করায় মুরালিধরনের জায়গায় শ্রীলঙ্কার নির্বাচকেরা দলে এনেছেন এই বাঁ-হাতি স্পিনারকে।
অস্ট্রেলিয়া সফরের ওয়ানডে সিরিজে সফল হলেও দলে রাখা হয়নি দিনেশ চান্ডিমাল ও দামিকা প্রসাদকে। ব্যাটিংয়ে চান্ডিমালের জায়গায় নেওয়া হয়েছে থিলান সামারাবীরাকে। অতিরিক্ত স্পিনার হিসেবে রাখা হয়েছে অজন্তা মেন্ডিসকে। —ক্রিকইনফো
স্কোয়াড: কুমার সাঙ্গাকারা (অধিনায়ক), মাহেলা জয়াবর্ধনে, তিলকারত্নে দিলশান, উপুল থারাঙ্গা, অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস, থিলান সামারাবীরা, চামারা কাপুগেদারা, সুরাজ রণদিভ, অজন্তা মেন্ডিস, রঙ্গানা হেরাথ, লাসিথ মালিঙ্গা, নোয়ান কুলাসেকারা, থিসারা পেরেরা, দিলহারা ফার্নান্দো, চামারা সিলভা ও জিভান মেন্ডিস।

জয়ের পথে ‘বৃষ্টি’

প্রথম দিন ৪০ ওভার। দ্বিতীয় দিন ৪১ ওভার। প্রথম দুই দিনের খেলায় বিঘ্ন ঘটানোর পর গতকাল তৃতীয় দিনের পুরো খেলাই কেড়ে নেয় বৃষ্টি। চতুর্থ দিনে অবশ্য একটু সদয় হয়েছে বৃষ্টি! বিঘ্ন ঘটালেও এদিন খেলা হয়েছে ২২ ওভার। দিন শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ ৮ উইকেটে ৩০৩ রান।
পাল্লেকেলে টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজ বা শ্রীলঙ্কা নয়, জয়ী হতে চলেছে বৃষ্টি। টেস্টের বাকি আর মাত্র এক দিন। অথচ প্রথমে ব্যাট করা ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংসই এখন পর্যন্ত শেষ হয়নি! চার দিনে খেলা হয়েছে মাত্র ১০৩.৩ ওভার।

স্মৃতি ও গল্প- সেই আমি এই আমি by আতিকুল হক চৌধুরী

ত দূর মনে করতে পারছি, ১৯৩৫ সালে বোধ হয় আমি প্রথম আমার জন্মস্থান বাটামারা গিয়েছিলাম। অস্পষ্ট ছবি। তবু মনে পড়ে, সেই শৈশবের দেখা আমার জন্মস্থান। ঘরের ফ্লোর সিমেন্টের, কিন্তু টিনের ঘর। চৌচালা। বারান্দার সামনে লাল সিমেন্ট বাঁধানো বসার জায়গা। তারপর লাল রঙের সিঁড়ি_নিচে নামার জন্য। এসব ছবি নাটকের আউট অব ফোকাসের মতো। আবার তার কিছু কিছু ফোকাস ইন।

গল্প- 'ঘুঁটি' by শরীফ আতিক-উজ-জামান

কেবারে দাবার ছক পেতে বসেছে যেন। সামনে তিনটে বড়ে আর পেছনে রাজা-রানি। রানির বগলের তলা দিয়ে মাথা ঠেলে নাক দিয়ে ঝোলপড়া আরেকটা মাই চেটে যাচ্ছে, আর থেকে থেকে জায়গাটা মুতে ভাসাচ্ছে। মুখের নালবিজলে আর হলুদ-হলুদ শিকনিতে বেরিয়ে থাকা কুঁচকানো মাইয়ের বোঁটায় মাখামাখি হয়ে আছে। ওটা স্ট্যান্ডবাই। দরকার পড়লে এসতেমাল হবে। ফুটপাতের অর্ধেকটা দখল করে নিজেদের সাম্রাজ্য বিস্তার করে বসেছে যেন। সামনে যে তিনটি বসে আছে, তাদের বয়স তিন থেকে ছয়ের মধ্যে, দুটি ছেলে, একটি মেয়ে।

আন্তর্জাতিক- অং সান সু চির মুক্তি : মিয়ানমারে কি গণতন্ত্র আসছে? by সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী

সুদীর্ঘ ১৫ বছর গৃহবন্দি থাকার পর অং সান সু চি সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছেন। এ দীর্ঘ সময়ে তিনি তাঁর স্বামী হারিয়েছেন_শেষ দেখাও করতে পারেননি। ছোট ছেলের সঙ্গেও দেখা করতে পারেননি। কিন্তু তাঁর মনোবল কেউ ভাঙতে পারেনি। আজও তিনি গণতন্ত্রের মানসকন্যা। জনগণের ভোটের ও মানবাধিকারের জন্য যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন। সামরিক সরকার তাঁকে তাঁর জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন করার সর্বাত্মক চেষ্টা করে গেছে। তারা তাদের রাষ্ট্রক্ষমতা আরো সুসংহত করেছে। নতুন পার্লামেন্ট গঠন করেছে।

শিল্পি- শিল্পগুরু সফিউদ্দীন আহমেদের সৃষ্টিসমগ্র by মোবাশ্বির আলম মজুমদার

বাংলাদেশের প্রথম সারির প্রবীণ চারুশিল্পীদের অন্যতম সফিউদ্দীন আহমেদ। তাঁকে এ দেশের আধুনিক ছাপচিত্রের জনকও বলা হয়। বিশ শতকের প্রথমার্ধ থেকে আধুনিক ছাপচিত্র নিয়ে সর্বভারতীয় পর্যায়ে যে কয়জন শিল্পী পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে উৎকর্ষ সাধন করেছেন, সফিউদ্দীন আহমেদ তাঁদের অন্যতম। ছাপচিত্রের বাইরে তৈলচিত্র ও রেখাচিত্র নিয়ে সমান দক্ষতায় কাজ করেছেন তিনি।

সাহিত্যালোচনা- তান তুয়ান এঙের উপন্যাস দ্য গিফট অব রেইন by শ্যারন বেকার

ন্ডনের স্থানীয় পাঠকদের মাঝেমধ্যে বিপাকে পড়তে হয় এশীয়, বিশেষ করে মালয়েশীয় এবং সিঙ্গাপুরী লেখকদের মধ্যে নিজেদের এলাকার পটভূমির অনেক কিছুকে ক্যাপিটাল লেটারে লেখার কারণে। লন্ডনের কেউ কেউ এ বিষয়টিকে অভিযোগের মতো করে উপস্থাপন করে থাকেন। মালয়েশিয়ার ঔপন্যাসিক তান তুয়ান এঙের ব্যাপারেও এ রকম কথা বলা যেতে পারে। তার এ উপন্যাসের পটভূমি ঔপনিবেশিক পেনাঙ। তবে এঙ এ রকমের অভিযোগ বেশ সাহসের সঙ্গেই মোকাবিলা করতে প্রস্তুত।

খবর- বন্ধ তাবানীতে লোক নিয়োগ by আপেল মাহমুদ

ড়াই বছর ধরে বন্ধ রয়েছে মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের মালিকানাধীন তাবানী বেভারেজ কম্পানি লিমিটেডের কারখানা। অদূর ভবিষ্যতে কারখানাটি চালু হওয়ারও সম্ভাবনা নেই। অথচ চলছে লোক নিয়োগ। কারখানা বন্ধ থাকায় এমনিতেই ২০০ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বসিয়ে বসিয়ে বেতন-ভাতা বাবদ প্রতি মাসে প্রায় ২০ লাখ টাকা দিতে হচ্ছে। এর মধ্যে আরো ২৯ জন কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

ইতিহাস- আমাদের ভাববিশ্ব ও বৌদ্ধবিহার by পাবলো শাহি

কালের কণ্ঠের শিলালিপির পত্রসাহিত্য আমাকে ভীষণভাবে আকৃষ্ট করেছে। উহ্যত, সেই ভালোবাসার স্বরূপ হিসেবে ভিন্ন একটি বিষয় উপস্থাপনার অবতারণা করছি, বিশেষ করে বাংলা ভাবসম্পদবিষয়ে আমার মতামত জানাতে চাচ্ছি পাঠকদের। প্রথমে বলে রাখা ভালো, এই চিন্তাগুলোর উৎস আমার কাছে তাৎপর্যপূর্ণ, আপনাদেরও ভালোলাগবে আশা করছি, বিশেষ করে 'বৌদ্ধবিহার' সম্পর্কিত আলোচনা।

স্মৃতি ও ইতিহাস- ঢাকায় আমার প্রথম তিন দিনের স্মৃতিরোমন্থন by আবদুশ শাকুর

ঢাকায় এ পর্যন্ত বাস আমার সাকুল্যে পঞ্চাশ বছরের। এর সবটুকুই ঢাকা শহরে। শহরটিকে প্রথমবার দেখেছি আমি বড়জোর ছবছর বয়সে, ১৯৪৫ সালে। সে-দেখার সূত্রটি কিন্তু সাধারণ ছিল না, ছিল বিশেষ তো বটেই বরং বিরল_খোলা কথায় বলতে গেলে আমার স্বভাবগত গৃহাকুলতাপ্রসূত। ব্যাপারটা ঈষৎ লজ্জার হলেও গ্রামীণ শিশু শাকুরের নাগরিক আবদুশ শাকুর হওয়ার সূচনাটিকে তো হারিয়ে যেতে দেওয়া যায় না।

আলোচনা- একমাত্র প্রবাল দ্বীপটি কি হারিয়ে যাবে by ফরহাদ মাহমুদ

'হিমালয় থেকে সুন্দরবন হঠাৎ বাংলাদেশ' কিংবা 'হায় সেলুকাস, কী বিচিত্র এই দেশ!'_এমনই সব উক্তি যে দেশটিকে নিয়ে, আকৃতিতে সেই দেশটি খুবই ছোট।

'ধনধান্যে পুষ্পে ভরা' এ দেশটির অধিকাংশ মানুষই অত্যন্ত দরিদ্র। তা সত্ত্বেও প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যের দিক থেকে দেশটি মোটেও দরিদ্র নয়। বলা যায়, পৃথিবীর অনেক দেশের তুলনায় অনেক বেশি সমৃদ্ধ এবং অনেক বেশি ঈর্ষণীয়। তাই এই দেশের একজন অধিবাসী হিসেবে আমাদের গর্ব করা, অহংকার করাটা মোটেও অযৌক্তিক নয়।

আলোচনা- বাংলাদেশের সমাজ : মধ্যবিত্ত সমাচার by আহমদ রফিক

ধ্যবিত্ত, বিশেষ করে শিক্ষিত মধ্যবিত্ত সমাজের দোদুল্যমান শ্রেণী হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে। অন্তত সমাজবিজ্ঞানের বিশেষ কোনো ধারার বিচারে তো বটেই। কয়েক দশক ধরে বাঙালি মধ্যবিত্ত বিশেষ করে মুসলমান মধ্যবিত্তের বিকাশ। তবে স্বাধীন বাংলাদেশে অতি দ্রুত এই বিকাশ শিখর ছুঁতে চলেছে_যেমন শিক্ষিত পেশাজীবী, তেমনি ব্যবসায়ী-শিল্পপতি শ্রেণী। রাজধানীসহ বড় শহরগুলো ঢুঁড়ে পরিসংখ্যান-জরিপ চালানো উচিত, যাতে তুলনামূলক অবস্থাটা বোঝা যায়।