Monday, May 15, 2017

‘উ. কোরিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করতে পারবেন না ট্রাম্প’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উত্তর কোরিয়ার সাথে চরম উত্তেজনা সত্ত্বেও দেশটির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করতে পারবেন না। কোরিয় দ্বীপে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা ছাড়া তার সামনে অন্য কোনো পথ খোলা নেই। ইরানের ইংরেজি ভাষার স্যাটেলাইট চ্যানেল প্রেস টিভিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেছেন নিউইয়র্ক-ভিত্তিক রেডিও সঞ্চালক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ডন ডেবার। উত্তর কোরিয়ার সর্বশেষ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার পর আমেরিকা যে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে সে সম্পর্কে প্রেস টিভি ডন ডেবারের সক্ষাৎকার নেয়। মার্কিন এ বিশ্লেষক বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন কঠোর ও নমনীয় দৃষ্টিভঙ্গির মাঝামাঝি অবস্থান করছে। তারা প্রকাশ্যে কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে, কিন্তু পর্দার আড়ালে তারা নমনীয় দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করতে বাধ্য হচ্ছে। তিনি বলেন, ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার পর হোয়াইট হাউজ প্রকাশ্যে নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা বলেছেন এবং মার্কিন গণমাধ্যমগুলো ১৯৯০ সালের যুদ্ধের মতো যুদ্ধ চাইছে। কিন্তু দক্ষিণ কোরিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট মুন জে-ইন তা হতে দেবেন না। দক্ষিণ কোরিয়ার সহযোগিতা ছাড়া এ ধরনের যুদ্ধ করা আমেরিকার পক্ষে সম্ভব নয় বলেও ডেনবার মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, দক্ষিণ কোরিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট সম্পূর্ণ ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন বলে মনে হচ্ছে।

ক্ষমতা গ্রহণের প্রথম দিনই প্রধানমন্ত্রীর নাম ঘোষণা করতে যাচ্ছেন ম্যাক্রোঁ

ফরাসি প্রেসিডেন্ট হিসেবে ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ তার প্রথম দিন শুরু করেছেন। সোমবার প্রথম দিনের দায়িত্ব পালনকালে ম্যাক্রোঁর প্রধানমন্ত্রীর নাম ঘোষণা এবং জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মের্কেলের সাথে সাক্ষাতের কথা রয়েছে। এই নিয়োগ ম্যাক্রোঁর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেননা, তার পরিকল্পিত অর্থনৈতিক সংস্কারকে এগিয়ে নিতে আগামী মাসের পার্লামেন্ট নির্বাচনে তার ভালো করা প্রয়োজন। এদিকে দিনের শেষভাগে চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মের্কেলের সঙ্গে সাক্ষাত করতে ম্যাক্রোঁ জামার্নি সফর করবেন। ৩৯ বছর বয়সী সাবেক ব্যাংকার ও অর্থমন্ত্রী গতকাল এলিসি প্রাসাদে এক অনুষ্ঠানে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ইউরোপপন্থী ম্যাক্রোঁর জার্মানি সফর অনেক গুরুত্বপূর্ণ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিতে আঘাত হানতে পারবে উ. কোরিয়ার এই ক্ষেপণাস্ত্র

উত্তর কোরিয়া সর্বশেষ ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের এ সময়ে নতুন ধরনের রকেটের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে। সোমবার পিয়ংইয়ং একথা জানায়। বিশ্লেষকরা জানান, এটি নজিরবিহীন দূরত্ব অতিক্রমে সক্ষম। এমনকি এটি প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিতেও আঘাত হানতে পারবে। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কোরিয়া সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি ( কেসিএনএ) জানায়, দেশটি রোববার হুয়াসং-১২ নামের ভূমি থেকে ভূমিতে নিক্ষেপণযোগ্য নতুন একটি মাঝারি দূর-পাল্লার ব্যালাস্টিক রকেট উৎক্ষেপণ করেছে। কেসিএনএ আরো জানায়, উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং-উন ব্যক্তিগতভাবে পরীক্ষাটির তদারকি করেছেন। পরীক্ষা চালানোর পর তিনি সেখানে উপস্থিত কর্মকর্তাদের জড়িয়ে ধরেন এবং বলেন, ‘তারা বিরাট এ অর্জনের জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন।’
কেসিএনএ জানায়, অস্বাভাবিক উচ্চতা থেকে ক্ষেপণাস্ত্রটি উৎক্ষেপণ করা হয়। এটি ২ হাজার ১১১ দশমিক ৫ কিলোমিটার উঁচু দিয়ে ৭৮৭ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে জাপান সাগরে পড়ে। বিশ্লেষকরা জানান, ক্ষেপণাস্ত্রটি এর ধারণক্ষমতা অনুযায়ী চার হাজার ৫শ’ কিলোমিটার বা তার বেশি পথ অতিক্রম করতে সক্ষম। যুক্তরাষ্ট্রের মিডলবারি ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ এর জেফরি লুইস বলেন, ‘ উত্তর কোরিয়া এ যাবত যতো পরীক্ষা চালিয়েছে এটি সবচেয়ে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র।’ ৩৮ নর্থ ওয়েবসাইটে মহাকাশ প্রকৌশল বিশেষজ্ঞ জন স্খিলিং বলেন, ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত ‘গুয়ামে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিতে আঘাত হানতে’ সক্ষম। তিনি আরো বলেন, ‘এক্ষেত্রে আরো যে জিনিসটি সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ তা হচ্ছে এটা আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের একটি অত্যাধুনিক সংস্করণ।’

শেরপুরে আঁধার ঘরে মুক্তার আলো খালা-ভাগ্নি

শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার রাঙ্গামাটিয়া গ্রামের মোক্তারা পারভীন ও কামরুন্নাহার পরস্পর খালা-ভাগ্নি। অভাব-অনটনের সংসারে লড়াই করে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে আঁধার ঘরে মুক্তার আলো ছড়িয়েছে তারা। ঢাকা বোর্ডের অধীন ঝিনাইগাতী উপজেলার মালিঝিকান্দা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এ ফল অর্জন করেছে তারা। মোক্তারা উপজেলার রাঙ্গামাটিয়া গ্রামের মকবুল হোসেনের মেয়ে। আর কামরুন্নাহার একই গ্রামের আব্দুল কুদ্দুছের মেয়ে। মোক্তারা খালা আর কামরুন্নাহার ভাগ্নি। সমবয়সী এই খালা-ভাগ্নি ভবিষ্যতে চিকিৎসক হতে চায়। কিন্তু বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দারিদ্রতা। মোক্তারার বাবা মকবুল পেশায় দিনমজুর। মা মমেলা বেগম গ্রামে নকশীকাঁথা সেলাইয়ের কাজ করেন। অপরদিকে কামরুন্নাহারের বাবা আব্দুল কুদ্দুছ রিকশাচালক। মা মনিকা বেগম দর্জির (টেইলারিং) কাজ করেন। গরীব ঘরে জন্ম নেওয়া এ দুই মেধাবী শিক্ষার্থীর চোখে-মুখে এখন নতুন যুদ্ধক্ষেত্রে যাওয়ার প্রতিচ্ছবি ভেসে ওঠছে। মাধ্যমিকে ভালো ফল করায় আত্মীয়-স্বজন সবাই খুশি হয়েছেন। কিন্তু দুঃশ্চিন্তা তাদের পিছু ছাড়ছে না। উচ্চ মাধ্যমিকে ভালো কলেজে ভর্তি, পড়াশোনার খরচ জোগানো ইত্যাদি নিয়ে চিন্তিত এ দুই মেধাবী শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকেরা। মোক্তারার মা মমেলা বেগম বলেন, মোক্তারার বাবা দিনমজুরের কাজ করে অনেক কষ্টে সংসার চালান। অনেকটা দিন এনে দিন খাওয়ার অবস্থা। অভাব-অনটনের সংসার তাঁদের। মেয়েকে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করতে চান তিনি। তবে তাঁদের তেমন সামর্থ নেই। একই অবস্থা তাঁর মেয়ের জামাই আব্দুল কুদ্দুছেরও।
তাঁদের কারোরই বসতভিটা ছাড়া কোন ধানী জমি নেই। কায়িক পরিশ্রমের ওপরই সংসার চলে। দুটি পরিবারই চরম আর্থিক কষ্টের মধ্য দিয়ে চলছে। তাই সমাজের সহৃদয়বান ব্যক্তিরা তাঁর মেয়ে মোক্তারা ও নাতনি কামরুন্নাহারের পড়াশোনার জন্য এগিয়ে আসলে উপকৃত হবেন তাঁরা। মোক্তারা পারভীন ও কামরুন্নাহার জানায়, তাদের দুজনের বাবাই গরীব। তাঁদের আয় দিয়ে সংসারই চলে না। তাই খালা আর ভাগ্নি মিলে গ্রামের নারীদের দেওয়া নকশীকাঁথা সেলাইয়ের কাজ করে কিছু বাড়তি উপার্জন করেছে। সে টাকা দিয়েই তারা দশের সহযোগিতায় এসএসসি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছে। দুজনেরই আশা ভবিষ্যতে চিকিৎসক হয়ে দেশের গরীব মানুষের সেবা করার। কিন্তু তাদের স্বপ্ন পূরণে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দারিদ্রতা। তাই তাদের পড়াশোনা অব্যাহত রাখার জন্য সকলের সহযোগিতা চায় তারা । ঝিনাইগাতীর মালিঝিকান্দা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. রবিউল ইসলাম বলেন, গরীব অথচ মেধাবী মোক্তারা ও কামরুন্নাহারকে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হয়েছে। তারা প্রত্যাশিত ফল অর্জন করে আমাদের গর্বিত করেছে। খালা-ভাগ্নি দুজনেই খুব মেধাবী। সমাজের সহৃদয়বান ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে তাদেরকে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করা হলে তারা তাদের স্বপ্ন পূরণ করতে সক্ষম হবে।

এফবিসিসিআই নির্বাচনে জয়ী হলেন যারা

এফবিসিসিআই নির্বাচনে চেম্বার গ্রুপে বিনা প্রতিদ্বদ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার পর অ্যাসোসিয়েশন গ্রুপে ভোটেও জয় পেয়েছে সম্মিলিত গণতান্ত্রিক পরিষদ। গতকাল সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে শুধু অ্যাসোসিয়েশন গ্রুপের ভোটগ্রহণ চলে।  রাতে ফল প্রকাশের পর দেখা যায়, গণতান্ত্রিক পরিষদের ১৬ জন বিজয়ী হয়েছেন। ব্যবসায়ী ঐক্য ফোরাম থেকে জয়ী হয়েছেন দুইজন। গণতান্ত্রিক পরিষদ থেকে বিজয়ীরা হলেন খন্দকার মঈনুর রহমান জুয়েল, এসএম জাহাঙ্গীর হোসাইন, সাফকাত হায়দার, আবুল আয়েস খান, মুনতাকিম আশরাফ, নিজামুদ্দিন আহমেদ, আমজাদ হোসাইন, শফিকুল ইসলাম ভরসা, আবু মোতালেব, হাবিবুল্লাহ ডন, খন্দকার রুহুল আমিন, নিজামুদ্দিন রাজেশ, হাফেজ হারুন, শমী কায়সার, আবু নাছের ও রাশেদুল হোসাইন চৌধুরী রনি। ব্যবসায়ী ঐক্য ফোরাম থেকে বিজয়ীরা হলেন কাজী এরতেজা হাসান ও হেলেনা জাহাঙ্গীর।

খালেদা জিয়ার আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি পেছাল

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি পিছিয়ে পরবর্তী তারিখ ২৩ মে নির্ধারণ করা হয়েছে। খালেদা জিয়ার পক্ষে আজ সোমবার সময় চেয়ে আবেদন করা হলে ঢাকার জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ কামরুল হোসেন মোল্লা শুনানির এই নতুন তারিখ ধার্য করেন। আজ এই মামলায় খালেদা জিয়ার আত্মপক্ষ সমর্থন করে বক্তব্য উপস্থাপনের দিন ধার্য ছিল। শুনানির ধার্য দিনে আদালতে সময় চেয়ে আবেদন করেন খালেদা জিয়া। বিএনপি চেয়ারপারসনের আইনজীবীরা আদালতে বলেন, আদালত বদল চেয়ে তাঁরা হাইকোর্টে আবেদন করেছেন। আবেদনের নিষ্পত্তি করেছেন হাইকোর্ট। কিন্তু আদালত বদলসংক্রান্ত আদেশের অনুলিপি এখনো পাওয়া যায়নি। তাই সময় প্রয়োজন।

ফেঁসে যাচ্ছেন সরকার দলীয় এমপিপুত্র মাহির

বনানী হোটেল রেইনট্রি কেলেঙ্কারিতে ফেঁসে যাচ্ছেন সরকারদলীয় এমপিপুত্র মাহির বিন হারুন। তিনি ঝালকাঠীর-১ আসনের সংসদ সদস্য বি এইচ হারুনের ছেলে। ওই হোটেলের একজন ডিরেক্টর তিনি। ধর্ষণে সহযোগিতার ব্যাপারে ইতোমধ্যে পুলিশ গোয়েন্দারা মাহিরের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেয়েছেন। ধর্ষণের বিষয়টি ধামাচাপা দিতে এবং আলামত নষ্ট করতেও তার হাত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ দিকে হোটেলটিতে গতকাল শুল্ক ও গোয়েন্দা বিভাগের কর্মকর্তারা তল্লাশি চালিয়ে বিপুল বিদেশী মদ উদ্ধার করেছে। এ মামলাতেও মালিক পক্ষের লোকজন আসামি হবেন বলে শুল্ক ও গোয়েন্দা বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেছেন। ঢাকা বনানীর হোটেলে দুই ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় সহযোগী হিসেবে ঝালকাঠি-১ আসনের সংসদ সদস্য বজলুল হক হারুনের (বি এইচ হারুন) ছেলে মাহির হারুনের নাম উঠে এসেছে। দ্য রেইন ট্রি নামে যে হোটেলটিতে এ ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে তার মালিক বি এইচ হারুন বলে জানা গেছে। যদিও তিনি গণমাধ্যমের কাছে এ হোটেলের মালিকানার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তবে তার এক ছেলে যে এটার পরিচালক ওই বিষয়টি তিনি গণমাধ্যমের কাছে স্বীকার করেছেন। হোটেলের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বলেছেন, এ হোটেলের মূল মালিক সংসদ সদস্য বি এইচ হারুন। তার বড় ছেলে নাহিয়ান বিন হারুন হোটেলটির চেয়ারম্যান, মেজ ছেলে আদনান হারুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক। ছোট ছেলে মাহির হারুন এ হোটেলের একজন পরিচালক। এ মাহির হারুন দুই তরুণী ধর্ষণের মূল হোতা সাফাতের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। পুলিশ ও গোয়েন্দারা জানতে পেরেছে, ঘটনার দিন হোটেল রেইন ট্রিতে সাফাতের জন্মদিনের যে সাজানো অনুষ্ঠানটি হয়েছিল তার আয়োজক ছিলেন মাহির হারুন। ধর্ষিতা তরুণীদের একজন অভিযোগ করেছেন, সাফাতের জন্য জন্মদিনের কেক নিয়ে এসেছিলেন এ মাহির হারুন। তবে তিনি সেখানে এসে বেশিক্ষণ থাকেননি। এ দিকে গতকাল অভিযান চালিয়ে ওই হোটেলের একটি কক্ষ থেকে ১০ বোতল বিদেশী মদ উদ্ধার করেছে শুল্ক ও গোয়েন্দা বিভাগ। এর আগের দিন গত শনিবার হোটেলের এক্সিকিউটিভ ইন্টারনাল অপারেটর ফারজান আরা রিমি সাংবাদিকদের বলেছিলেন, হোটেলে মদ বিক্রির কোনো লাইসেন্স নেই। আগের দিন মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর সেখানে অভিযান চালালেও তারা কোনো মাদকদ্রব্য উদ্ধার করতে পারেনি। হোটেলে অভিযান চালানোর পর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের পরিদর্শক ওবায়দুল কবির বলেন, হোটেলের বিরুদ্ধে মাদক বিক্রি ও বার পরিচালনার অভিযোগ ছিল। ওই কারণেই আমরা পরিদর্শনে এসেছি। তল্লাশি চালিয়ে আমরা হোটেলটিতে অ্যালকোহল জাতীয় কিছু পাইনি।
যেহেতু অভিযোগ উঠেছে সে কারণে আমরা হোটেলটির ওপর নজরদারি রাখব। মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তল্লাশির পর ২৪ ঘণ্টা পার না হতেই সেখান থেকে শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগের মদ উদ্ধারের ঘটনায় আগের দিনের অভিযান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ দিকে গতকাল মদ উদ্ধারের পর হোটেলের এক কর্মকর্তা বলেন, ওগুলো মদ নয়, জুস। কিন্তু বোতলগুলোর গায়ে স্পষ্ট মদের লেবেল লাগানো আছে। ধর্ষিতা তরুণীদের একজন বলেছেন, তাদের ওই হোটেলে নিয়ে যে ধর্ষণ করা হবে তা আগে থেকেই হয়তো প্লান করা ছিল। যে কারণে রাতে তারা রুমের মধ্যে আর্তনাদ করলেও হোটেলের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী সেখানে যাননি। সকালে তাদের যখন বের করে দেয়া হয় তখনো তারা কাঁদতে কাঁদতে হোটেল থেকে নামছিলেন। কিন্তু তখনো হোটেলের কেউ জিজ্ঞেস করেননি কী হয়েছে। ধর্ষিতা ওই তরুণী বলেন, তখনোই মনে হয়েছিল তাদের ধর্ষণের বিষয়টি হোটেল কর্তৃপক্ষও জানে। যে কারণে তারা সবকিছুই এড়িয়ে যায়। গত ২৮ মার্চ বনানীর হোটেল রেইনট্রিতে দুই তরুণীকে গণধর্ষণের ঘটনা ঘটে। আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদারের ছেলে সাফাত এবং তার বন্ধু নাঈম আশরাফ মিলে দুই তরুণীকে ধর্ষণ করে। এতে সহায়তা করে সাফাতের অপর বন্ধু সাদমান সাকিব। ঘটনার ব্যাপারে পুলিশ ও গোয়েন্দাদের তদন্তে মাহিরেরও নাম বেরিয়ে এসেছে। ইতোমধ্যে পুলিশ সাফাত ও সাদমানকে গ্রেফতার করেছে। নাঈম আশরাফকে এখনো গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। গ্রেফতারকৃত দুইজনকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। রেইনট্রি হোটেলের বিরুদ্ধে ৩টি মামলা হচ্ছে : এ দিকে দুই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় আলোচিত হোটেল রেইনট্রিতে অভিযান চালানোর পর তিনটি মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শুল্ক গোয়েন্দা অধিদফতর। ভ্যাট ফাঁকি, শুল্ক ফাঁকি এবং মুদ্রা পাচার অভিযোগে মামলাগুলো হবে বলে জানিয়েছেন শুল্ক গোয়েন্দা অধিদফতরের এক কর্মকর্তা। গত ৬ মে মামলা হওয়ার পর দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যে গতকাল রোববার সকালে ঘটনাস্থল রেইনট্রি হোটেলে অভিযান শুরু করে শুল্ক গোয়েন্দারা। তারা হোটেল থেকে বেশ কয়েক বোতল বিদেশী মদ এবং নথিপত্র জব্দ করেন। শুল্ক গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানান, হোটেলটি গত জানুয়ারি মাসের মাঝামাঝিতে ভ্যাট নিবন্ধন নিলেও কোনো অর্থ পরিশোধ না করে এই পর্যন্ত ৮ লাখ ১৫ হাজার টাকা ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে। মদ উদ্ধারের বিষয়ে গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, লিকারগুলো কেনাবেচার জন্য শুল্ক দিতে হয়, কিন্তু এগুলো তারা কোথা থেকে কিভাবে কিনেছে, তার কোনো জবাব দিতে পারেনি। এ ছাড়া নথিপত্রে মুদ্রা পাচারের আলামত পাওয়া গেছে বলে জানান গোয়েন্দা কর্মকর্তা।

মুক্তি না দিয়ে আল্লামা সাঈদীর উপর জুলুম করা হয়েছে : ছাত্রশিবির

এক যৌথ প্রতিক্রিয়া বার্তায় বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি ইয়াছিন আরাফাত ও সেক্রেটারি জেনারেল মোবারক হোসাইন বলেছেন, মুক্তি না দিয়ে আল্লামা সাঈদীর উপর জুলুম করা হয়েছে। বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্য প্রতারণার মাধ্যমে দেলোয়ার সিকদারের অপকর্মের দায় আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর উপর চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। আল্লামা সাঈদীর সাথে যুদ্ধাপরাধের সম্পর্ক নেই উল্লেখ করে একজন সেক্টর কমান্ডারসহ একাধিক মুক্তিযোদ্ধা সাক্ষী দিয়েছেন। বিবৃতিতে দাবি করা হয়, আল্লামা সাঈদীকে আমৃত্যু কারাদণ্ড তো দূরে থাক এক মিনিটের দণ্ড দেয়ারও যৌক্তিক কোনো কারণ নেই। নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশবাসী আশা করেছিল যে, উচ্চ আদালতে আল্লামা সাঈদী ন্যায়বিচার পাবেন। কিন্তু জাতিকে আরেকবার আরেকটি অবিচার দেখতে হলো।

নানা প্রলোভনে নারীদের ফাঁদে ফেলতো সাফাত by রুদ্র মিজান

টার্গেট করা হতো সুন্দরীদের। সেলিব্রেটি হতে স্বপ্ন দেখেন এমন মেয়েদের সহজেই ডেকে আনা হতো। দেয়া হতো নানা প্রলোভন। প্রলোভনে পা দিয়ে সম্ভ্রম হারাতে হয়েছে অনেককে। এ বিষয়ে তারা কোনো অভিযোগ না করলেও বিষয়টি জানতেন সাফাত আহমেদের ঘনিষ্ঠরা। পরিচিত মডেল, অভিনেত্রী, নায়িকাদের অনেকে ডাকলেই সাড়া দিতেন। তাদের মূল্যবান গিফট ও কাজের সুযোগ দিতেন সাফাত। আবার দুই-একজন মডেল সাফাতের ডাকে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেও ফিরে গেছেন। তাদের অভিযোগ রক্ষিতার মতোই তাদের ব্যবহার করতে চেয়েছিলেন সাফাত। সাফাতের বেপরোয়া জীবন-যাপনের কারণেই প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদ ঘটে। এতকিছু জানার পরও সাফাতকে ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন বলে জানান মডেল পিয়াসা। মানবজমিনের সঙ্গে এ বিষয়ে বিস্তারিত কথা বলেছেন তিনি। বিয়ের পরপরই এক প্রভাবশালী নেতার ছেলে পিয়াসাকে জানিয়েছিল, সাফাত ইয়াবা সেবন করে। তাকে বিয়ে করা তোমার ঠিক হয়নি। অবশ্য তার আগেই পিয়াসা জানতে পারেন সাফাতের বেপরোয়া জীবনযাপন সম্পর্কে। পিয়াসা বলেন, স্ত্রী হিসেবে আমি তার মর্যাদা বৃদ্ধির চেষ্টা করেছি। তাকে আমি টেলিভিশনে টকশোতে নিয়ে গেছি। ২০১৫ সালে শ্রেয়া ঘোষালের প্রোগ্রামে তাকে মঞ্চে বসার সুযোগ করে দিয়েছি। আমার কারণে ক্রিকেট তারকাসহ অনেকের সঙ্গে তার বন্ধুতা হয়েছে। আমি তাকে বেপরোয়া জীবন থেকে ফিরিয়ে এনেছিলাম। আমার সঙ্গে বিচ্ছেদের পরপরই সাফাত আবার বিপদগামী হয়েছে। এ জন্য সাফাতের বাবা দিলদার আহমেদ সেলিম ও তার বন্ধু নাঈম আশরাফ ওরফে হালিমকে দায়ী করেন পিয়াসা।
পিয়াসা বলেন, সাফাত বিয়ের আগেই মেয়ে নিয়ে ঘুরতো। ওর ফ্রেন্ড সার্কেল ছিল বাজে। গত বছরের মার্চে অরিজিৎ সিংয়ের অনুষ্ঠানে নাঈম আশরাফের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধি পায় সাফাতের। নাঈম হয়ে যায় তার বেস্ট ফ্রেন্ড। ওর মতো একটা বাজে ছেলে কিভাবে তার বেস্ট ফ্রেন্ড হয়। নাঈম আশরাফ মূলত একজন সাপ্লায়ার। নারী ও মদ সাপ্লাই দেয় সে। অনেক চেষ্টা করে নাঈমের সঙ্গ ছাড়াতে পারিনি। সাফাতের বাবা দিলদার আহমেদ চাইতেন  নাঈমের সঙ্গেই চলাফেরা করুক তার ছেলে। কারণ নাঈমের সঙ্গে দিলদার আহমেদেরও ভালো সম্পর্ক ছিল। এই নাঈম কাজ করতো ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট ফার্ম ইমেকার্সে। এতে কাজ করতে গিয়েই মডেল, অভিনেত্রীদের সঙ্গে তার পরিচয়, সম্পর্ক। এই সুবাধেই  সাপ্লায়ার হিসেবে ভূমিকা রাখতো নাঈম আশরাফ। বনানীর-১১ এর একটি হোটেল ছিল তাদের আড্ডার মূলকেন্দ্র। সর্বশেষ আস্তানা গড়ে রেইনট্রি হোটেলে। পিয়াসা বলেন, একজন মডেল আমার কাছে অভিযোগ করেছিলেন যে তাকে আপন জুয়েলার্সের এম্বাসেডর বানানোর প্রস্তাব দিয়ে কথা বলার জন্য একান্তে ডাকা হয়েছিলো। কিন্তু একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে সময় কাটানোর ওই প্রস্তাবে তিনি সম্মত হননি। তবে অনেকেই সাড়া দিতেন। বিনিময়ে কাজের সুযোগ পেতেন। গিফট পেতেন। পিয়াসা বলেন, গত মার্চের ৮ তারিখের পরপরই ভারতে যায় সাফাত। সেখানে তার সঙ্গে এক মডেল ছিল। অর্থের কারণে এসব মডেলরা স্বেচ্ছায় সাফাতের সঙ্গে অন্তরঙ্গ সময় কাটাতেন। সাফাত-নাঈমের টার্গেট থাকতো পরিচিত সুন্দরী মডেল ও উদীয়মান সুন্দরীরা। তাদের সহজে বশ করতো নাঈম। পরিচিতদের গিফট ও কাজ দেয়ার কথা বলে ডেকে আনা হতো। আর নতুনদের প্রতিষ্ঠিত করার প্রলোভন দেখাতো। কখনো কখনো বন্ধুতা করেও বিছানা পর্যন্ত নিয়ে যেতো তারা। বনানীর-১১ এর যে হোটেলে নিয়মিত আড্ডা দিতো সাফাত, সাকিফ ও নাঈম। ওই হোটেলে বার না থাকলেও গাঁজা, মদ ও নারী ছিল তাদের জন্য ওপেন। তাদের আড্ডায় ঢাকার একজন এমপি পুত্র, ঢাকার বাইরের আরেক এমপি পুত্র ও একজন ক্রিকেটারও অংশ নিতো। আড্ডায় মাতাল হয়ে মডেল ও আইটেম গার্লদের সঙ্গে নাচ করতো তারা। হোটেলের কক্ষেই রাত্রি যাপন করতো সাফাত, নাঈমরা। তবে যতদিন সাফাতের স্ত্রী হিসেবে ছিলেন ততদিন তাকে এসব আড্ডা থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করেছেন বলে দাবি করেন পিয়াসা। পিয়াসার দাবি, তার সঙ্গে ডিভোর্সের পরপরই বেপরোয়া হয়ে উঠেন সাফাত। যার ফলে ঘটে ধর্ষণের ঘটনাটি। পিয়াসা বলেন, ধর্ষণের ঘটনাটি পরিকল্পিত। গত ৭ই মার্চ গুলশানের আমরি রেস্তরাঁয় এক অনুষ্ঠানে সাফাতের সঙ্গে ওই দুই তরুণীকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলো সাদমান সাকিফ। সেখানে পিয়াসাও ছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে ওই সময় থেকেই দুই তরুণীকে টার্গেট করা হয়েছিলো। এর পরদিন বিশেষ কোনো কারণ ছাড়াই পিয়াসাকে ডিভোর্স লেটার পাঠিয়ে ভারতে চলে যায় সাফাত আহমেদ। পরবর্তীতে দুই তরুণীর সঙ্গে একাধিকবার সাক্ষাৎ হয়েছে। পরিচয় হয়েছে নাঈম আশরাফের সঙ্গেও। নাঈমের পরামর্শেই দুই তরুণীকে গত ২৮শে মার্চ জন্মদিনের অনুষ্ঠানে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে মনে করেন পিয়াসা।
পিয়াসা বলেন, দুই তরুণী আমাকে জানতো সাফাতের গার্লফ্রেন্ড হিসেবে। ধর্ষণের ঘটনাটি নির্যাতিতা দুই তরুণী বলার আগেই গুঞ্জন ছিল। সম্ভবত এপ্রিলের ২৫ তারিখের দিকে আমার মেসেঞ্জারে কল করেন এক তরুণী। তিনি জানান, সাফাত ও নাঈম তাকে ও তার বান্ধবীকে রাতভর হোটেলে আটকে রেখে ধর্ষণ করেছে। বিষয়টি আমি শুনতে চাইনি। যেহেতু সাফাতের সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই।  মেয়েটি বললো- আপনি তার গার্লফ্রেন্ড তাই আপনাকে বললাম। আমি তখন তাদের জানাই, আমি গার্লফ্রেন্ড না। তার বউ ছিলাম। আমাদের ডিভোর্স হয়ে গেছে। তারা তখন আমার সহযোগিতা চায়। আমি তাদের কোনো সহযোগিতা করতে রাজি হইনি।
মামলা করার সময় তরুণীদের সঙ্গে গুলশান থানায় যাওয়া প্রসঙ্গে পিয়াসা বলেন, ওরা অনেক অনুরোধ করেছিলো তবু রাজি হইনি। আমি চাইনি এ বিষয়ে আমি আলোচনায় আসি। ওরা বললো এজাহারে আমার কথা উল্লেখ করবে। আমি নিষেধ করেছি। এজাহারে যাতে আমার নাম না আসে। এ জন্য থানায় যাই। তারপরও ফেরাতে পারিনি। এজাহারে আমার নাম দিয়ে দিছে।
নির্যাতিতাদের নানাভাবে পটাতে চেষ্টা করেছিলো সাফাত। নির্যাতিতাদের বরাত দিয়ে পিয়াসা বলেন, সাফাত তাদের ডেকে নিজের একাকিত্ব, কষ্টের কথা বলতো। ঘটনার দিন ফোন দিয়ে বলেছিলো, তোমরা আমার কাছের বন্ধু। তোমরা না এলে আমি জন্মদিনের কেক কাটবো না। পরে গানম্যান, গাড়ি পাঠিয়ে তাদের নিয়ে যায়। ধর্ষণের পর এক মাস পর মামলা করার পেছনে তার কোনো ষড়যন্ত্র নেই দাবি করে পিয়াসা বলেন, আমি এসবে জড়াতে চাইনি। ওর বাবা নিজের ও নিজের ছেলের দোষ ঢাকতে আমাকে টেনে এনেছে। বলছে এটা আমার ষড়যন্ত্র। আমি চাই না তাদের অপকর্ম নিয়ে কথা বলতে। বললে আরো অনেক কিছুই বের হয়ে আসবে।
পিয়াসা জানান, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়েই এক তরুণীকে বিয়ে করেছিলো সাফাত। ওই বিয়ে টিকেনি। ওই তরুণী এখন আমেরিকায় রয়েছেন। ভালোবেসেই সাফাতকে বিয়ে করেছিলেন চট্টগ্রামের মেয়ে পিয়াসা। ২০১৫ সালের ১লা জানুয়ারি এক টাকা দেনমোহরে তাদের বিয়ে হয়। কিন্তু সাফাতের পিতা শুরু থেকেই পিয়াসাকে পুত্রবধূ হিসেবে মেনে নেননি। যে কারণে বাবা-ছেলের মধ্যে অনেক দূরত্ব সৃষ্টি হয়। পিয়াসা বলেন, ২০১৫ সালে পিয়াসাকে বিয়ে করার কারণে দিলদার আহমেদ তার ছেলেকে পিস্তল দিয়ে গুলি করেছিলেন। ঘটনাটি ঘটেছিলো তাদের বাসায়। এমনকি সন্ত্রাসী ভাড়া করে আমাকে হত্যা করতে চেয়েছিলেন দিলদার আহমেদ। তার কারণেই সাফাত আমাকে ডিভোর্স দিয়েছে। আজ তার কারণেই সাফাত বিপদগামী। সে ধর্ষণ মামলার আসামি হয়েছে। এসবের জন্য সাফাতের পিতা ও তার কয়েক বন্ধুকে দায়ী করেন তার সাবেক স্ত্রী পিয়াসা।

এবার ‘নতুন ধরনের’ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা উত্তর কোরিয়ার

উত্তর কোরিয়া এবার ‘নতুন ধরনের’ একটি ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ায় নতুন প্রেসিডেন্ট ক্ষমতা গ্রহণের কয়েক দিনের মাথায় এমন উত্তেজনা ছড়াল দেশটি। রোববার রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের শহর কুসং থেকে ক্ষেপণাস্ত্রটি উৎক্ষেপ করা হয় বলে জানান দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা। ক্ষেপণাস্ত্রটি দুই হাজার কিলোমিটারের বেশি উচ্চতায় পৌঁছায় এবং ৭০০ কিলোমিটার উড়ে গিয়ে উত্তর কোরিয়ার পূর্ব উপকূল এবং জাপানের মধ্যবর্তী সাগরে গিয়ে পড়ে। ক্ষেপণাস্ত্রটি উৎক্ষেপণের পর সেটি ৩০ মিনিট উড়ে গিয়ে সাগরে পড়ে বলে জানিয়েছে জাপান। উত্তর কোরিয়ার এ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার পর দেশটির বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করতে সব রাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। খবর রয়টার্স ও বিবিসির। গত ফেব্রুয়ারিতে কুসং থেকে একটি ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছিল উত্তর কোরিয়া। গতবারের চেয়ে এবারের ক্ষেপণাস্ত্রটি বেশি দূরত্বে এবং বেশি উচ্চতায় পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে। জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী টমমি ইনাডা বলেন, খুব সম্ভবত ক্ষেপণাস্ত্রটি ‘নতুন ধরনের’। নতুন এ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে রাশিয়া ও চীন। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মুখপাত্র বলেন, ‘কোরিয়া উপদ্বীপের উত্তেজনা নিয়ে বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক ফোরামের বৈঠকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে কথা বলেছেন প্রেসিডেন্ট পুতিন। এ সময় উত্তর কোরিয়ার এমন উস্কানিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দুই নেতা।’
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এ ঘটনার নিন্দা প্রকাশ করেছেন। হোয়াইট হাউস এক বিবৃতিতে জানায়, ‘ক্ষেপণাস্ত্রটি রাশিয়ার ভূখণ্ডের খুব কাছে গিয়ে পড়েছে- বাস্তবে জাপানের চাইতে রাশিয়া কাছে। তাই রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন এতে খুব একটা খুশি হতে পারছেন না। যুক্তরাষ্ট্রে হামলা চালাতে সক্ষম আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্রের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে উত্তর কোরিয়া। রয়টার্স জানায়, এর আগে উত্তর কোরিয়া যেসব ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে, রোববারের ক্ষেপণাস্ত্র সেগুলো থেকে বেশি দূরত্ব অতিক্রম করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটা ক্ষেপণাস্ত্রের উন্নয়নে উত্তর কোরিয়ার সফল হওয়ার লক্ষণ। হার্ভার্ডের অ্যাস্ট্রোফিজিক্সের অধ্যাপক জনাথন ম্যাকডোওয়েল বলেন, ‘যদি ওই প্রতিবেদন সঠিক হয় তবে এ পরীক্ষা নতুন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রের কথাই বলছে, যেটা অধিক দূরত্বে আঘাত হানতে সক্ষম। নিশ্চিতভাবেই এটা উদ্বেগজনক।’ দক্ষিণ কোরিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে-ইন শপথ গ্রহণের পরপরই উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনায় বসে কোরীয় উপদ্বীপের সমস্যা সমাধানের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এজন্য প্রয়োজনে তিনি পিয়ংইয়ং যাওয়ার ইচ্ছার কথাও জানান। এর মাত্র সপ্তাহখানেকের মধ্যেই উত্তর কোরিয়ার নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা স্বাভাবিকভাবেই তাকে চাপে ফেলে দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট মুন নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাকে ‘উস্কানি’ বলে বর্ণনা করেছেন। মুনের মুখপাত্র বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট বলেছেন, যদিও উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সম্ভাব্য আলোচনার জন্য দক্ষিণ কোরিয়ার দরজা খোলা আছে। তবে এজন্য উত্তর কোরিয়াকে তাদের আচরণে পরিবর্তন আনতে হবে। সেটা হলেই কেবল আলোচনা সম্ভব।’ নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষার পর দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা প্রধান কিম ওয়ান জিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এইচআর ম্যাকমাস্টারের সঙ্গে কথা বলেছেন। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে বলা হয়, তারা উত্তর কোরিয়ার পরমাণু অস্ত্র কার্যক্রম আটকাতে প্রয়োজনে সহযোগিতার সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করবে।

সেনানিবাস এলাকায় মাতলামি করলে ২০ হাজার টাকা জরিমানা

সেনানিবাস এলাকায় মাতলামি, ভিক্ষাবৃত্তি ও মলমূত্র ত্যাগ করলে ২০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রেখে সেনানিবাস আইনের সংশোধনী অনুমোদন করা হয়েছে। সোমবার দুপুরে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় প্রস্তাবটি উপস্থাপন করেছিল। সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদের সম্মেলন কক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. শফিউল আলম সাংবাদিকদের এ বিষয়ে ব্রিফ করেন। তিনি বলেন, ১৯২৪ সালের আইন দ্বারা সেনানিবাস ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড পরিচালিত হয়ে আসছে। দীর্ঘ ৯০ বছর পর আইনটি হালনাগাদ করা হচ্ছে। আইনের ৪৩টি ধারা সংশোধন করে সাজার মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। শফিউল আলম বলেন, ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অধীন এলাকায় ট্রাফিক আইন ভাঙলে আগে ৫০ টাকা জরিমানা হতো।
সংশোধনীতে তা বাড়িয়ে দুই থেকে পাঁচ হাজার টাকা করা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, এ আইনে সেনানিবাস এলাকায় কেউ মাতলামি, ভিক্ষাবৃত্তি ও মলমূত্র ত্যাগ করলে ২০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া ওই এলাকায় স্থাপনা নির্মাণকাজে বিলম্ব করলে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ছাড়াও কেউ যদি খোলা মাংস বহন করে, তবে শাস্তি হিসেবে তার ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডের কথা বলা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব আরও জানান, আগের আইন অনুযায়ী সেনানিবাস এলাকায় কেউ আতশবাজি করলে ৫০ টাকা জরিমানা করা হতো। বর্তমানে তা তিন হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। তিনি জানান, বৈঠকে বাংলাদেশ ও সানমেরিনোর সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের লক্ষ্যে একটি চুক্তির খসড়া অনুমোদন করা হয়েছে।

ফ্রান্সে ম্যাক্রোঁ যুগের শুরু

ফ্রান্সের ২৫তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে রোববার শপথ নিয়েছেন এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। এর মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো দেশটির ইতিহাসে মূলধারার রাজনৈতিক দলের বাইরে থেকে প্রেসিডেন্ট হয়েছেন তিনি। রাজধানী প্যারিসের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত প্রেসিডেন্ট ভবন এলিসি প্রাসাদে তিনি বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলান্দের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক শাসনভার গ্রহণ করেন। দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ। তার এ শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে প্যারিসজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। খবর বিবিসি ও এএফপির আনুষ্ঠানিক ক্ষমতা গ্রহণের পর নতুন প্রেসিডেন্ট ঐতিহাসিক স্মৃতিস্তম্ভ আর্ক দে ট্রিয়োমফে পরিদর্শন করেন। সেখানে নিহত সেনাদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন ম্যাক্রোঁ। ২০১৫ সালের সন্ত্রাসী হামলার পর থেকে ফ্রান্সে জারি হওয়া জরুরি অবস্থা এখনও বহাল রয়েছে। শপথগ্রহণের পর প্রথম কার্যদিবস সোমবারই (আজ) ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দেবেন নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ। আগামীকাল মঙ্গলবার গঠিত হবে নতুন সরকার। দায়িত্ব নিয়ে প্রথম সপ্তাহটি খুব ব্যস্ত থাকবেন নতুন প্রেসিডেন্ট। ক্ষমতার প্রথম দিন সোমবার জার্মানি সফর করবেন ইউরোপপন্থী এ প্রেসিডেন্ট। এদিন বার্লিনে জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেলের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলবেন তিনি। নির্বাচনী প্রচারণায় ইইউয়ের সঙ্গে সুসম্পর্কের মধ্য দিয়েই ফ্রান্সকে এগিয়ে নেয়ার অঙ্গীকার করেছিলেন ম্যাক্রোঁ। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সন্ত্রাসবাদ ও জলবায়ু পরিবর্তনের হুমকি মোকাবেলায় কাজ করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন তিনি। ১৯৫৮ সালের পর ফ্রান্সের রাজনীতিতে বাম ও ডানপন্থী রাজনৈতিক প্রধান দুটি ধারার বাইরে ম্যাক্রোঁই প্রথম ব্যক্তি, যিনি দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।
ব্যর্থ ওলান্দের বিদায় : পাঁচ বছর ক্ষমতার কঠিন সময় পার করে রোববার বিদায় নিয়েছেন ফ্রাঁসোয়া ওলান্দ। কর্মসংস্থানের অভাব, অর্থনৈতিক বিশৃঙ্খলা ও বারবার সন্ত্রাসী হামলার মুখোমুখি হতে হয়েছে সমাজতান্ত্রিক এ প্রেসিডেন্টকে। চার্লি হেব্দো থেকে শুরু করে প্যারিস হামলা, নিস হামলার মতো ভয়াবহ সন্ত্রাসী আক্রোশের শিকার হয় ফ্রান্স। ২০১২ সালে দেশটির ২৪তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে দ্বায়িত্ব গ্রহণ করেন ওলান্দ। তিনি তার ক্ষমতার এ সময়কে ‘স্বাভাবিক’ বলে উল্লেখ করেছেন। সন্ত্রাসবাদ দমনের কোনো পদক্ষেপ না নেয়ার কারণে মূলত সমালোচিত হয়েছেন তিনি। প্যারিসে সন্ত্রাসী হামলার পর ওলান্দ বলেছিলেন, যখন সন্ত্রাসীরা এ ধরনের জঘন্য ঘটনা ঘটায় তখন তাদের এটা জেনে রাখা ভাল যে, একটি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ও ঐক্যবদ্ধ ফ্রান্সের মুখোমুখি হতে হবে তাদের। এরপর থেকে এখনও পর্যন্ত জরুরি অবস্থা জারি রয়েছে দেশটিতে। ওলান্দের ক্ষমতার সময়ে ঐতিহাসিক প্যারিস জলবায়ু চুক্তিকে সবচেয়ে বড় বিজয় হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। তবে দেশের মধ্যেই বেশি সমালোচিত তিনি। ১০ লাখ ইউরোর বেশি আয়ের ওপর ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত করারোপ করায় ব্যবসায়িক, ক্রিড়া মহলসহ সব স্তরের মানুষ বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এর কর আইন পুরোপুরিভাবে এখনও আরোপিত হয়নি এবং চূড়ান্তভাবে আবার পরিত্যাগও করা হয়নি। কিন্তু এতে আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক মহলে ফ্রান্সের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হয়েছে। ক্ষমতা গ্রহণের পর ওলান্দ ফরাসি মডেল জুলি গায়েটের সঙ্গে প্রেম শুরু করেন। প্যারিসে মোটরবাইকে করে ওই তরুণীর অ্যাপার্টমেন্টে যাওয়ার সময় এক ট্যাবলয়েড পত্রিকার ক্যামেরায় ধরা পড়েন ওলান্দ। প্রেমের কোনো ঘটনায় একজন প্রেসিডেন্ট রাস্তায় মোটরবাইক দাবড়ে বেড়াচ্ছেন, ভাবা যায়! এর আগে তিনি প্রেসিডেন্ট ভবনে বান্ধবী ভ্যালেরিয়ে থ্রিয়েরউয়েলার সঙ্গে থাকতে শুরু করেন। তবে ওলান্দের চার সন্তান দেশটির পরিবেশমন্ত্রী সেজোলেন রয়ালের গর্ভে জন্ম নেয়া। ২০১৪ সালে তাদের বিচ্ছেদ হয়।

এমপি হারুন-পুত্রদের নিয়ে এলাকায় আলোড়ন

বনানীর অভিজাত রেইনট্রি হোটেলে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া দুই তরুণী ধর্ষণের সমালোচনার ঢেউ আছড়ে পড়েছে বরিশালের ঝালকাঠিতেও। প্রশ্ন উঠেছে, স্থানীয় এমপি আলহাজ আল্লামা বিএইচ হারুনের পুত্ররা বনানীর মতো অভিজাত এলাকায় বিলাসবহুল এ হোটেল করার টাকা পেলেন কোথায়? স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, এমপি হারুণ এলাকায় ধর্মীয় লেবাসে নিজেকে অন্যরকম মানুষ হিসেবে পরিচয় দিতেন, কিন্তু তার যে অন্য একটি রূপও রয়েছে বনানীর ঘটনায় তা সামনে এলো। সামনেই সাধারণ নির্বাচন, এ অবস্থায় তার এ কর্মকাণ্ডে আওয়ামী লীগ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এমপি হারুন তার গ্রামের বাড়ি কানুদাসকাঠিতে ইসলামী কমপ্লেক্স পর্যন্ত গড়েছেন। মসজিদ-মাদ্রাসা থেকে শুরু করে ধর্মীয় পাঠাগার এবং লিল্লাহ বোর্ডিংও গড়ে তুলেছেন। যতবার এলাকায় গেছেন ততবারই তিনি প্রকাশ্যে তার তিন পুত্রকে ইসলামী অনুশাসনে শাসন করেছেন। শোনাতেন ধর্মের কথা। স্থানীয়রা বলছেন, এমপি সাহেবের নামের আগে যদি কখনো কেউ আল্লামা শব্দটি ব্যবহার না করেন তা হলে তিনি ক্ষেপে যান। মুক্তিযুদ্ধের সময় বুলবুলে পাকিস্তান খেতাবপ্রাপ্ত এমপির বাবা মাওলানা আবদুল রব ও এমপি হারুণের নিজের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। রাজাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জিয়া হায়দার খান লিটন এ প্রসঙ্গে বলেন, এমপি সাহেবের বাবা মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীনতার বিপক্ষে ছিলেন। খোদ বিএইচ হারুনের ভূমিকাও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ছিল না। ধর্ম ব্যবসায়ীরা যে সব সময়েই ভেতরে এক আর বাইরে আরেক হয় তা ফের প্রমাণিত হল। নাম প্রকাশ না করার শর্তে অনেকের সঙ্গেই কথা হয় যুগান্তরের এ প্রতিনিধির। তারা বলেছেন, ধর্ম মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আল্লামা বিএইচ হারুনের বাবা আ. রব এলাকায় মাওলানা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। পাকিস্তান আমলে সুবক্তা হিসেবে তিনি বুলবুলে পাকিস্তান খেতাব পান। স্বাধীন হওয়ার পর তাকে বলা হতো বুলবুলে বাংলাদেশ। বিএইচ হারুনের নানা ছিলেন বরিশালের গৌরনদী উপজেলার কাসেমাবাদ দরবার শরিফের প্রতিষ্ঠাতা। এলাকায় কঠোরভাবে মুসলিম অনুশাসনে পরিচালিত হিসেবে পরিচিত বিএইচ হারুনের পরিবার। কিন্তু এমপিপুত্রের বিলাসবহুল হোটেলে দুই তরুণী ধর্ষণের ঘটনা এবং হোটেলটির পক্ষ থেকে ধর্ষকদের রক্ষার নানা তৎপরতা, একই সঙ্গে প্রধান আসামি সাফাতের সঙ্গে যোগাযোগ এবং হোটেল কক্ষ ভাড়া দেয়ায় এমপিপুত্রের নাম জানাজানি হওয়ার পর এ নিয়ে রাজাপুরে নানা মুখরোচক আলোচনা চলছে। কথা হয় কাঁঠালিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক তরুন সিকদারের সঙ্গে। তিনি যুগান্তরকে বলেন, ‘আজ সবাই বিএইচ হারুন এবং তার পরিবারের ভেতরের রূপটা দেখছে। অথচ এ রূপটা আমরা অনেক আগে থেকেই চিনি। বাইরে ধর্মের কথা বললেও প্রকৃতপক্ষে পুরো পরিবারটিই ধর্ম ব্যবসায়ী। মুখে ধর্মের কথা বলার আড়ালে তারা এভাবে অনৈতিক এবং অবৈধ কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে টাকার পাহাড় গড়ে তুলছে।’ তিনি বলেন, ‘হারুন সাহেব এমপি হওয়ার আগে কাঁঠালিয়া উপজেলায় মাদকের কোনো চিহ্ন ছিল না। কিন্তু এখন এখানে মাদকের ভয়াবহ বিস্তার ঘটেছে। আর যারা মাদকের ব্যবসা করে তারা সবাই এমপি সাহেবের লোক।’ রাজাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জিয়া হায়দার খান লিটন বলেন, ‘এতবড় হোটেল! তাদের আয়ের উৎস কি? পত্র-পত্রিকায় দেখেছি ঘটনার রাতে নাকি ওই দুই কক্ষে এমপি সাহেবের ছোট ছেলেও গিয়েছিল।
মালিকপক্ষ হিসেবে সেই নাকি ফোন করে ধর্ষকদের জন্য হোটেল কক্ষ ভাড়া করে দেয়। কথায় কথায় সৌদি আরবসহ বিভিন্ন মুসলিম দেশের রাষ্ট্রপ্রধানসহ ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে সখ্যের প্রচার চালান। অথচ তার ছেলে এটা কি করল? তিনি যেভাবে ধর্মের কথা বলেন তাতে তো তার হোটেলে নামাজ-রোজার ব্যবস্থা থাকার কথা। আছে মদ কেনাবেচার হাট। অবশ্য এটাও ঠিক যে কলাগাছে কলাই হয় আম নয়।' রাজাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ সাংগঠনিক সম্পাদক গিয়াসউদ্দিন মাতুব্বর বলেন, ‘উনি কখনোই আওয়ামী লীগের ছিলেন না। উড়ে এসে জুড়ে বসেছেন। স্বাধীনতাবিরোধী হওয়ায় শুরু থেকেই আমরা তার মনোনয়নের বিরুদ্ধে ছিলাম। তারপরও তাকে আমাদের ওপর চাপিয়ে দেয়া হয়। আজ লজ্জায় মাথা কাটা যাচ্ছে আমাদের। সামনে নির্বাচন। এরকম একটি সময়ে তিনি এবং তার পরিবারের কারণে রাজাপুরে দল একটি বড় ধরনের ধাক্কা খেল। তাকে নিয়ে ছি ছি চলছে।' কথা বলার জন্য সংসদ সদস্য বিএইচ হারুনের মোবাইল ফোনে টানা ৩ দিন ধরে অসংখ্যবার ফোন এবং বেশ কয়েকটি ক্ষুদে বার্তা দিলেও তিনি ফোন ধরেননি বা কল ব্যাক করেননি। হারুনের ভাই ঝালকাঠি জেলা পরিষদ সদস্য আজাদ হোসেন আরজুর সঙ্গে যোগযোগ করা হলে তিনি বলেন, 'সৌদির স্পিকার এসেছেন। এমপি সাহেব তাকে নিয়ে ব্যস্ত। যে কারণে কথা বলতে পারছেন না।’ রেইনট্রিকে ঘিরে সাম্প্রতিক ঘটনাবলী ও এমপি হারুনের ছেলে মাহির হারুনের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে জানতে চাইলে আজাদ বলেন, ‘হোটেলের মালিক এমপি সাহেবের পরিবার এটা ঠিক। তবে ঘটনার সঙ্গে মাহিরের সংশ্লিষ্টতা বা অন্য কোনো বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। যতদূর জানি বেতনভুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরাই এটি পরিচালনা করেন। এমপি সাহেবের কাছে সবকিছুর খবরও থাকে না। সেখানে কি হয়েছে বা হয়নি তা কর্মকর্তা-কর্মচারীরাই ভালো বলতে পারবেন। আমি কিছুই বলতে পারব না।’

দিল্লিতে ফের চলন্ত গাড়িতে তরুণী ধর্ষণ

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ফের চলন্ত গাড়িতে গণধর্ষণ এবং পরে নির্যাতিতাকে গাড়ি থেকে ছুঁড়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। রোববার দিল্লির গুরুগ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বাইশ বছর বয়সী ওই নির্যাতিতার স্থায়ী নিবাস সিকিমে। পুলিশ জানায়, ভোররাতে মধ্য দিল্লির কন্নট প্লেস থেকে বাড়ি ফিরছিলেন ওই তরুণী। যখন প্রায় বাড়ির কাছাকাছি, ঠিক সেই সময় তার উপর চড়াও হয় দুষ্কৃতীকারিরা। তাকে জোর করে একটি ছোট গাড়িতে তুলে নেয়া হয়। অপরাধীরা চলন্ত গাড়িতেই তরুণীকে ধর্ষণ করে। পরে গুরুগ্রাম থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে নজফগড়ের রাস্তায় তরুণীকে গাড়ি থেকে ছুঁড়ে ফেলে দেয়া হয়। এদিকে অভিযুক্তদের মধ্যে এক জনের নাম দীপক বলে জানিয়েছেন নির্যাতিতা তরুণী। তার উপর অত্যাচার চালানোর সময় বাকি দু’‌জন নাকি তাকে ওই নামেই ডাকছিল। অন্যদিকে রাস্তার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে অভিযুক্তদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছে পুলিশ। এর আগে ২০১২ সালের ১৬ ডিসেম্বর নির্ভয়া নামের এক তরুণীকে চলন্ত বাসের মধ্যে গণধর্ষণ করে একদল দুষ্কৃতীকারি। প্রায় চার বছর পর, চলতি মাসের শুরুতে অপরাধীদের মধ্যে চার জনকে ফাঁসির সাজা শুনিয়েছে আদালত।

হিন্দু প্রেমিকাকে চারবার বিয়ে মুসলিম যুবকের!

প্রেম আর ভালোবাসায় ঘর ছেড়েছেন অনেকেই। অনেকে হয়েছেন ধর্মান্তরিত। তবে এসবের বাইরেও নিজ নিজ ধর্ম পালনের মাধ্যমে বিয়ের পিঁড়িতে বসেছেন অনেকেই। ভারতের এমনই এক ঘটনার জন্ম দিলেন এক প্রেমিক যুগল। এ জন্য হিন্দু প্রেমিকা অঙ্কিতা আগরওয়ালকে চারবার বিয়ে করেছেন মুসলিম প্রেমিক ফয়েজ রহমান। জানা যায়, কলেজে প্রথম দেখাতেই একে অপরের প্রেমে পড়েছিলেন অঙ্কিতা ও ফয়েজ। তবে ধর্ম ও সমাজের কথা ভেবে পরস্পরের থেকে দূরে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তারা। কিন্তু বিচ্ছেদের পর বুঝলেন, পরস্পরের থেকে দূরে থাকা সম্ভব না। তারপর এক-দু’বার নয় পাক্কা চারবার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন অঙ্কিতা ও ফয়েজ। কারণ অঙ্কিতার পরিবারের ভাবনা ছিল,
ফয়েজের পরিবার অঙ্কিতাকে জোর করে ধর্মান্তরিত করাতে পারে। তাছাড়া মুসলিম ধর্মমতে বিবাহিত ব্যক্তি চারবার বিয়েও করতে পারেন। এ অবস্থায় অঙ্কিতার বাবা-মায়ের দুশ্চিন্তা দূর করতে দারুণ এক কাজ করেন ফয়েজ। আর তাতেই মুসলিম যুবককে জামাই হিসেবে পছন্দ হয়ে যায় অঙ্কিতার বাবা-মায়ের। অঙ্কিতাকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পেলে ফয়েজ যে আর বিয়ে করবেন না, তা বিশ্বাস করানোর জন্য চারবার চারটি আলাদা অনুষ্ঠান করে অঙ্কিতাকেই বিয়ে করেন তিনি। প্রথমে ফেব্রুয়ারির ১৭ তারিখ মহালক্ষ্মী মন্দিরে। তারপর আদালতে বিশেষ বিবাহ আইন অনুযায়ী। যে আইন মুসলিমদের চারবার বিয়ের অনুমতি দেয় না। এবং শেষমেশ বন্ধু ও আত্মীয় স্বজন ডেকে ধুমধাম করে নিকাহ ও সাত পাকে বাঁধা পড়েন অঙ্কিতা ও ফয়েজ।

হরিয়ানায় ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা দশ বছরের শিশু

ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের রোহতাক শহরে ১০ বছরের এক শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। বর্তমানে সে পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। শিশুটি এ ঘটনার জন্য তার সৎবাবাকে দায়ী করেছে। শুক্রবার ওই শিশুকে রোহতাক শহরের একটি হাসপাতালে নেয়া হলে ধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত হন চিকিৎসকরা। খবর এনডিটিভির। ধর্ষণের শিকার ওই শিশুর মা একজন প্রবাসী শ্রমিক। মেয়ের শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন হলে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান তিনি। সেখানে গিয়েই ধরা পড়ে বিষয়টি। শিশুটি জানায়, অনেক দিন ধরেই তাকে যৌন নিপীড়ন করছে সৎবাবা। একথা কাউকে না বলার জন্য হুমকিও দেয়া হয়েছে। এদিকে শিশুটির শারীরিক অবস্থা নিরীক্ষণ ও সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নেয়ার জন্য একটি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় থানায় একটি মামলা করেছেন শিশুটির মা। চলতি সপ্তাহেই রোহতাক শহরে এক তরুণীকে গণধর্ষণ করা হয়। পরে তার মাথা ইট দিয়ে থেঁতলে দেয়া হয়। ওই তরুণীর লাশ চার দিন পড়ে ছিল। পরে খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাটি ভারতজুড়ে বেশ সাড়া ফেলে।

আলোচনায় ট্রাম্পের অভিশংসন

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ গ্রহণের পর কয়েক মাস না যেতেই প্রেসিডেন্ট ডোনান্ড ট্রাম্পের অভিশংসনের ব্যাপারে জোর আলোচনা চলছে। তবে প্রশ্ন হচ্ছে ট্রাম্প কি অভিশংসিত হওয়ার মতো অপরাধ করেছেন? অনেকের মতে, মার্কিন নির্বাচন ব্যবস্থা ও জাতীয় নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ঝুঁকি তৈরি করে ট্রাম্প সংবিধান লঙ্ঘনের মতো অপরাধ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সাংবিধানিক ব্যবস্থা সুরক্ষার শেষ কৌশল হিসেবে অভিশংসনের সুযোগ রাখা হয়েছে। এ ব্যবস্থায় নির্বাহী বিভাগের কোনো কর্মকর্তা ক্ষমতার অপব্যবহার করলে তাকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেয়া হয়। ক্ষমতার অপব্যবহারকে মার্কিন সংবিধান প্রণেতারা ‘বড় অপরাধ ও সংবিধান অবমাননাকারী’ হিসেবে অভিহিত করে বলেছেন, দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তাদের আর বিশ্বাস করা যায় না। ওয়াশিংটন পোস্টে লেখা এক নিবন্ধে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবিধানিক আইনের অধ্যাপক লরেন্স এইচ ট্রাইব লিখেছেন, ট্রাম্পকে অবশ্যই অভিশংসন করা উচিত। ন্যায়বিচারের পথে অন্তরায় সৃষ্টির কারণে এ ব্যাপারে কংগ্রেসের তদন্ত করার সময় হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রকে এখন এমন একজন প্রেসিডেন্ট শাসন করছেন, যার আচরণই বলে দিচ্ছে যে, তিনি দেশটির সরকার ব্যবস্থার প্রতি হুমকি। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ব্যাপারে উদ্বিগ্ন হওয়ার এবং তাকে অভিশংসন করার মতো অনেকগুলো কারণ রয়েছে। রাশিয়ার সঙ্গে ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণা দলের অবৈধ যোগসাজশের ব্যাপারে তদন্ত জোরদার করার কারণে এফবিআই পরিচালক জেমস কোমিকে চাকরিচ্যুত করার আগেই এটা করা যেত। এরপর জাতীয় টিভিতে সাক্ষাৎকার দিয়ে তিনি সেটা স্বীকারও করেছেন। এনবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, রাশিয়া ইস্যুতে তদন্তের ব্যাপারে তিনি কোমির কাছ থেকে নিশ্চয়তা চেয়েছিলেন যে, এ ব্যাপারে তার তদন্ত করা হচ্ছে কিনা। এরপর তিনি এক টুইট বার্তায় বলেন, তার বিরুদ্ধে তদন্ত করছে না এফবিআই।
এফবিআই প্রধান থাকার বিনিময়ে কোমির কাছ থেকে আনুগত্যও দাবি করেন ট্রাম্প। কিন্তু কোমি বলেন, আমার কাছ থেকে ‘সততা’ পাবেন। আর এ কারণেই কোমিকে চাকরিচ্যুত করা হয়। এসব বিষয়ে এখনই তদন্ত শুরু হওয়া উচিত বলে মনে করছেন অনেক বিশ্লেষক। তাদের মতে, এসব বিষয়ে চলমান বহু তদন্তের ফলের জন্য আরও অপেক্ষা করার অর্থ হচ্ছে একজন একনায়ক নেতার কাছে জাতির ভাগ্য সপে দেয়া। জাতীয় নিরাপত্তার মতো বিষয়ে চলমান তদন্তের ওপর হস্তক্ষেপ স্পষ্টত বড় ধরনের অপরাধ। একইভাবে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন চেষ্টা করেছিলেন যা ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারি হিসেবে পরিচিত। তবে তাকে অভিশংসন করা করা হয়নি। তার আগেই পদত্যাগ করেছিলেন তিনি। ২০১৬ সালের মার্কিন নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ এবং রাশিয়ার সঙ্গে ট্রাম্পের নির্বাচনী দলের যোগসাজশ মার্কিন সরকার ব্যবস্থার গভীরে প্রবেশ করে এবং তা একটি অবাধ ও স্বচ্ছ নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সক্ষমতা প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। এছাড়া রাশিয়া ইস্যু তদন্তের সঙ্গে জড়িত থাকার ব্যাপারে অ্যাটর্নি জেনারেল জেফ সেশন্সের অস্বীকৃতি সত্ত্বেও সেশন্সকে এবং ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল রড রোজেনস্টেইনকে চরম হেনস্থা করেন ট্রাম্প। এছাড়া নির্ভেজাল কিছু অসত্য প্রচার-প্রচারণার জন্য তিনি ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স ও হোয়াইট হাউস কর্মকর্তাদের ব্যবহার করেছেন। এসব বিষয় বিবেচনায় স্পষ্টতই দেখা যায়, ট্রাম্প মার্কিন সরকার ব্যবস্থা ও জাতীয় নিরাপত্তার মতো বিষয়গুলোতে ঝুঁকি তৈরি করে সংবিধান লঙ্ঘনের মতো অপরাধ করেছেন।

অবশেষে বৈঠকে বসছেন মোদি-নওয়াজ?

নিয়ন্ত্রণরেখা (লাইন অব কন্ট্রোল) ঘিরে অশান্তি, পাকিস্তানে ভারতীয় নাগরিক কুলভূষণ যাদবের ফাঁসি নিয়ে টানাপড়েনের মধ্যেই মুখোমুখি হতে পারেন ভারত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ। আগামী মাসে কাজাখস্তানে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) সম্মেলনের ফাঁকে দুই নেতার বৈঠক হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে ইসলামাবাদ। বছরদেড়েক আগে ঠিক এভাবেই প্যারিসে জলবায়ু চুক্তিসংক্রান্ত সম্মেলনের ফাঁকে আচমকাই সংক্ষিপ্ত আলোচনা সেরে নিয়েছিলেন দুই প্রধানমন্ত্রী। খবর বিজনেস ইনসাইডারের। জুনে কাজাখস্তানের রাজধানী আস্তানায় একটি বৈঠকের ফাঁকে দু’নেতার মধ্যে সাক্ষাৎ হতে পারে বলে জানান নওয়াজ শরিফের পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক উপদেষ্টা সরতাজ আজিজ। তিনি বলেছেন, ‘ভারতের পক্ষ থেকে আগ্রহ দেখানো হলে পাকিস্তানও বৈঠকের বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা করবে।’ পাকিস্তানের এমন মন্তব্যে দু’দেশের সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে আলোচনায় বসার জন্য চাপ বাড়ছে মোদি সরকারের ওপর। দু’দেশের মধ্যে আলোচনার পক্ষে মার্কিন প্রশাসনও। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন চায় না দক্ষিণ এশিয়ায় ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্কের আরও অবনতি হোক। সেক্ষেত্রে উপমহাদেশে ভারসাম্য বিঘিœত হতে পারে।
কারণ মার্কিন প্রশাসনের ধারণা, ভারতের ওপরে ফের যে কোনো সময়ে বড়সড় হামলা চালাতে পারে পাক জঙ্গিরা। ফলে চলতি বছরে দু’দেশের মধ্যে তিক্ততা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার পরিচালক ড্যানিয়েল কোটস। দুই সরকার প্রধানের মধ্যে আলোচনায় বসার প্রশ্নে ক্ষীণ সম্ভাবনা যখন তৈরি হচ্ছে, তখন কুলভূষণ কাণ্ডে কোনোভাবেই ছাড় দিতে রাজি নয় ইসলামাবাদ। সম্প্রতি চরবৃত্তির অভিযোগে গ্রেফতার কুলভূষণের ফাঁসির আদেশে আন্তর্জাতিক আদালত স্থগিতাদেশ দেয়ায় কিছুটা ব্যাকফুটে পাক প্রশাসন। পরবর্তী রণকৌশল ঠিক করতে আইন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে পাকিস্তানের অ্যাটর্নি জেনারেল আসতার আউসফ আলি বৈঠক করেন। তারপর নিজেদের সুপারিশ তিনি পাঠিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর দফতরে। সূত্রের খবর, সুপারিশে আন্তর্জাতিক আদালতের পরামর্শ না মানার পক্ষেই মত দেন অ্যাটর্নি জেনারেল। পাক সূত্রের দাবি, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থেই এ ক্ষেত্রে আপস করা উচিত নয়। কারণ ১৯৯৯ সালে পাকিস্তানের একটি নৌ-বিমানকে গুলি করে নামিয়েছিল ভারত। ইসালামাবাদ বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ জানায় আন্তর্জাতিক আদালতে। তখন ভারত নিরাপত্তার যুক্তি দেখালে তা মেনে নেয় আন্তর্জাতিক আদালত। এখন জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে ভারতের দেখানো সেই পথেই এগোতে চাইছে ইসলামাবাদ।

সাবেক প্রেমিকাকে তুলে নিয়ে ধর্ষণের পর হত্যা

ভারতে সাবেক প্রেমিকাকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ওই ব্যক্তি তার সাবেক প্রেমিকাকে অপহরণের পর ধর্ষণ এবং ইট দিয়ে মাথা থেঁতলে ও গাড়িচাপা দিয়ে হত্যা করে। রোববার উত্তরাঞ্চলীয় রাজ্য হারিয়ানার পুলিশ জানিয়েছে, ২৩ বছর বয়সী ওই নারীকে তার বন্ধুদের সহায়তায় অপহরণ করে সাবেক প্রেমিক। এরপর তাকে ধর্ষণ শেষে নির্মমভাবে হত্যা করে। এরপর দুর্বৃত্তরা দূরবর্তী একটি শিল্প এলাকায় ওই তরুণীর লাশ ফেলে আসে। ঘটনার চার দিন পর শুক্রবার স্থানীয় এক বাসিন্দা লাশটি দেখতে পায়। হরিয়ানার সোনিপাত নগর পুলিশের মুখপাত্র জগজিৎ সিং বলেন, 'আমরা বিভিন্ন ধারায় দুজনকে গ্রেফতার করেছি। তাদের বিরুদ্ধে হত্যা ও ধর্ষণের অভিযোগও আনা হয়েছে।' তিনি জানান, এই মামলার প্রধান আসামি সুমিত ও ওই নারীর মধ্যে সম্পর্ক ছিল। কিন্তু মেয়েটি তাকে বিয়ে করতে চায়নি, সে সম্পর্কটি ভেঙে দেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সুমিত প্রতিশোধ নেয়।

পরীক্ষার ফল খারাপ হওয়ায় ১২ শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা

ভারতের মধ্যপ্রদেশ রাজ্যে পরীক্ষায় খারাপ ফলাফল আসায় শুক্রবার পর্যন্ত কমপক্ষে ১২ শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। সিনিয়র একজন পুলিশ কর্মকর্তা রোববার সংবাদ মাধ্যমকে এ তথ্য জানান। খবর বাসস'র। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা বলেন, মধ্যপ্রদেশ শিক্ষা বোর্ড পরিচালিত দশম ও দ্বাদশ শ্রেণীর পরীক্ষায় ফল খারাপ করার পর শিক্ষার্থীরা বিষাদগ্রস্ত হয়ে আত্মহত্যা করে। এদের মধ্যে মধ্যপ্রদেশের সাতনা জেলায় ভাই-বোনসহ তিন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করে। এছাড়া ছত্তরপুর, গুনা, ইন্দোর, বালঘাট, গোয়ালিওর, তিকমগড়, ভিন্দ, জাবালপুর ও ভূপাল জেলায় অন্যরা আত্মহত্যা করে। ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, 'কেউ কেউ তাদের বাড়িতে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে, বিষাক্ত পদার্থ পান করে এবং অন্যরা ইনজেকশনের মাধ্যমে আত্মহত্যা করে।'

শপথ নিলেন ফ্রান্সের নতুন প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ

ফ্রান্সের ২৫তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিলেন এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। খবর বিবিসির। স্থানীয় সময় রোববার বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে ফ্রান্সের সাংবিধানিক পরিষদের প্রেসিডেন্ট লরা ফ্যাবিয়াস নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ম্যাক্রোঁর নাম ঘোষণা করেন। এর মধ্য দিয়ে এখন থেকে আগামী পাঁচ বছরের জন্য এলিসি প্রাসাদের অধিপতি হলেন ৩৯ বছর বয়সী ম্যাক্রোঁ। নেপোলিয়নের পর ফ্রান্সের সর্বকনিষ্ঠ শাসক হলেন তিনি। খবরে বলা হয়, প্যারিসে প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন এলিসি প্রাসাদে নতুন প্রেসিডেন্টের অভিষেক অনুষ্ঠিত হয়। ম্যাক্রোঁ দায়িত্ব নেয়ার পরপরই বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদ এলিসি প্রাসাদ ত্যাগ করেন। গত সপ্তাহে দ্বিতীয় দফার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রায় ৬৬ শতাংশ ভোট পেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী ন্যাশনাল ফ্রন্টের (এনএফ) প্রার্থী মারি লি পেনকে পরাজিত করেন ম্যাক্রোঁ। প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর এবার আসন্ন পার্লামেন্ট নির্বাচনে জয়ের জন্য জোর প্রস্তুতি শুরু করেছেন ফ্রান্সের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। এজন্য পার্লামেন্টের ৫৭৭ আসনের বিপরীতে এখন পর্যন্ত ৪২৮টি আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে তার উদারপন্থী রাজনৈতিক দল লা রিপাবলিক এন মার্চ। এ প্রার্থী তালিকার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হচ্ছে, ম্যাক্রোঁর দলের এই প্রার্থীদের অর্ধেকই নারী এবং এদের ৫২ শতাংশই নতুন মুখ।

আপন জুয়েলার্স ও রেইনট্রির মালিককে তলব

অবৈধভাবে স্বর্ণ ও ডায়মন্ড রাখায় আপন জুয়েলার্সের মালিক ও বিদেশী মদ রাখায় বনানীর হোটেল রেইন ট্রির মালিককে তলব করেছে শুল্ক গোয়েন্দা। আগামী ১৭ মে সংস্থাটির কাকরাইল সদর দফতরের তাদের প্রয়োজনীয় নথিপত্রসহ তাদের হাজির হতে বলা হয়েছে। রোববার আপন জুয়েলার্সের বিভিন্ন শোরুমে ও রেইনট্রি হোটেলে অভিযান চালায় শুল্ক গোয়েন্দারা। গতকাল রোববার বেলা ১১টার দিকে আপন জুয়েলার্সের মৌচাক, উত্তরা, জিগাতলার সীমান্ত স্কয়ার এবং গুলশানের দুটি বিক্রয় কেন্দ্রে একযোগে অভিযান শুরু করে তারা। এসময় তারা প্রায় তিনশ’ কেজি সোনা ও হীরার গহনা জব্দ করে। আপন জুয়েলার্সের দলিলাদির সঙ্গে স্বর্ণালঙ্কারের গরমিল রয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রমাণ পেয়েছে সংস্থাটি। ফলে রাতে অভিযান শেষে পাঁচটি শোরুম সিলগালা করে দেয় শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর। এসব স্বর্ণালংকার রাখার বৈধতা নিয়ে আপন জুয়েলাসের্র মালিক দিলদার হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এছাড়া বিদেশী মদ রাখার দায়ে রেইনট্রির হোটেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে সমন দেয়া হয়েছে। তাকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

গেজেট প্রকাশে ফের সময় আবেদনে লজ্জিত আপিল বিভাগ

অধস্তন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃংখলা বিধিমালার গেজেট প্রকাশ করতে ফের দুই সপ্তাহের সময় পেল সরকার। তবে গেজেট প্রকাশে সরকার পক্ষের বারবার সময় আবেদনে লজ্জিত আপিল বিভাগ। সোমবার সরকারের পক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম গেজেট প্রকাশে আবারো সময় আবেদন করেন। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বেধীন আপিল বেঞ্চ আবেদন গ্রহণ করে দুই সপ্তাহ সময় দেন। একই সঙ্গে সরকার পক্ষের বারবার সময় আবেদনে লজ্জা প্রকাশ করেন আদালত। জানা যায়, ১৯৯৯ সালের ২ ডিসেম্বর মাসদার হোসেন মামলায় ১২ দফা নির্দেশনাসহ রায় দেয়া হয়। ওই রায়ের ৭ম দফায় অধস্তন আদালতের বিচারকদের শৃংখলা বিধানের জন্য আলাদা শৃংখলাবিধি প্রণয়নের নির্দেশনা ছিল। কিন্তু সেটি আজও প্রণয়ন হয়নি।

আপন জুয়েলার্সের তিনশ’ কেজি স্বর্ণালঙ্কার জব্দ

রাজধানীর বনানীতে দুই তরুণী ধর্ষণের ঘটনার পর আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদের অবৈধ সম্পদের খোঁজে মাঠে নেমেছে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা। এরই অংশ হিসেবে রোববার আপন জুয়েলার্সে অভিযান চালিয়ে প্রায় তিনশ’ কেজি সোনা ও হীরার গহনা জব্দ করেছেন শুল্ক গোয়েন্দারা। তাদের দলিলাদির সঙ্গে স্বর্ণালঙ্কারের গরমিল রয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রমাণ পেয়েছে সংস্থাটি। বেলা ১১টার দিকে দেশের শীর্ষস্থানীয় এ অলঙ্কার ব্র্যান্ড আপন জুয়েলার্সের মৌচাক, উত্তরা, জিগাতলার সীমান্ত স্কয়ার এবং গুলশানের দুটি বিক্রয় কেন্দ্রে একযোগে অভিযান শুরু হয়। রাতে অভিযান শেষে পাঁচটি শোরুম সিলগালা করে দেয় শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর। শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের মহাপরিচালক মইনুল খান যুগান্তরকে জানান, স্বর্ণ ও রতœ সংগ্রহের তথ্যে অস্বচ্ছতা এবং মালিকের ‘অবৈধ সম্পদ’ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবেই রোববার এ অভিযান চালানো হয়। এ অভিযানে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ শাখার ভ্যাট ও র্যাব কর্মকর্তারা অংশ নেন। এর আগে ১১ মে  আপন জুয়েলার্সের মালিকের যাবতীয় আর্থিক লেনদেনের তথ্যাদি চেয়ে বিএফআইইউ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকে চিঠি দিয়েছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর। অভিযান শেষে রাতে শুল্ক গোয়েন্দা অধিদফতরের সহকারী পরিচালক দীপা রানী হালদার স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়,
পাঁচটি শাখার চারটি থেকে ২৮৬ কেজি স্বর্ণালঙ্কার এবং ৬১ গ্রাম হীরা ‘আটক’ করা হয়েছে। এর মূল্য ৮৫ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। জব্দ স্বর্ণালঙ্কার শুল্ক আইনের বিধান অনুসারে প্রতিষ্ঠানগুলোর জিম্মায় রাখা হয়েছে বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। শুল্ক গোয়েন্দারা জানান, এ সোনার গহনা এখন তাদের কাছে থাকবে, তবে তারা বিক্রি করতে পারবেন না। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এসব পণ্যের কাগজপত্র গভীরভাবে যাচাই করা হবে, অনুসন্ধানে কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হলে প্রতিষ্ঠান ও প্রতিষ্ঠান মালিকের বিরুদ্ধে চোরাচালান ও মানি লন্ডারিং আইনে ব্যবস্থা নেয়া হবে। অভিযানকারী দলের প্রাথমিক অনুসন্ধানে আপন জুয়েলার্সের সব শাখা কর্তৃক উপস্থাপিত দলিলাদির সঙ্গে পাওয়া সোনার গরমিল পাওয়া গেছে বলে শুল্ক গোয়েন্দারা জানান। রোববারের অভিযানে আপন জুয়েলার্স মৌচাক মার্কেট শাখায় সাড়ে ৫৩ কেজি স্বর্ণালঙ্কার পাওয়া যায়। যার বাজার মূল্য ১৯ কোটি ১১ লাখ ৯০ হাজার টাকা। এ শাখায় ডায়মন্ডের অলঙ্কার পাওয়া যায় ১৭.৩৫ গ্রাম। যার বাজার মূল্য আনুমানিক দুই কোটি ৩৭ লাখ টাকা। সীমান্ত শাখায় ৮১ কেজি ৬৮৮ গ্রাম স্বর্ণালঙ্কার পাওয়া যায়। যার বাজার মূল্য ৩২ কোটি ১৪ লাখ টাকা। এ শাখায় ডায়মন্ডের অলঙ্কার পাওয়া গেছে ৩৩.৪৪ গ্রাম। যার বাজার মূল্য এক কোটি ৩৩ লাখ টাকা। উত্তরা শাখা থেকে আটক করা হয় ৮২ কেজি স্বর্ণালঙ্কার, যার বাজার মূল্য ৩২ কোটি ২৪ লাখ টাকা। এ শাখায় ডায়মন্ডের অলঙ্কার পাওয়া যায় ৯.৭ গ্রাম, যার বাজার মূল্য এক কোটি ৩৩ লাখ টাকা।
ডিসিসি মার্কেট শাখায় ৬৮ কেজি ৪৬২ গ্রাম স্বর্ণালঙ্কার পাওয়া যায়, যার বাজার মূল্য ২৫ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। দুপুরে অভিযানের পর গুলশানের সুবাস্তু টাওয়ারে আপন জুয়েলার্সের শোরুমটি ছুটি থাকায় সেখানে অভিযান চালাতে পারেনি শুল্ক গোয়েন্দা। সংস্থাটির যুগ্ম কমিশনার শাফিউর রহমান যুগান্তরকে জানান, চারটি শোরুমে অভিযান শেষে এগুলো সিলগালা করে দেয়া হয়েছে। আর সুবাস্তু টাওয়ারের শোরুমটি বন্ধ থাকায় সেখানে অভিযান চালানো সম্ভব হয়নি। সোমবার (আজ) সবার উপস্থিতিতে সেখানে অভিযান চালানো হবে। তিনি বলেন, আমরা এটা সিলগালা করেছি। এখন এটা খুলতে হলে তাদের প্রতিনিধি আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করবে। শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের মহাপরিচালক মইনুল খান যুগান্তরকে বলেন, দেশে তো স্বর্ণের আমদানি নেই। তারপরও তারা এগুলো কোথা থেকে কিভাবে এনেছে বৈধ উপায়ে আনলে ভালো, না হলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব। সীমান্ত স্কয়ারে আপনের শোরুমে অভিযানে থাকা শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগের উপ-পরিচালক জাকির হোসেন বলেন, ‘ওদের কাছে ডায়মন্ডের যে অর্নামেন্টসগুলো পেয়েছি সেগুলোর তথ্য-উপাত্ত চেয়েছি। কিন্তু তারা পূর্ণাঙ্গভাবে দাখিল করতে পারেননি, সেখানে কিছুটা অস্বচ্ছতা রয়েছে।’
অভিযানের বিষয়ে বনানীতে দুই তরুণী ধর্ষণের প্রধান আসামি সাফাতের বাবা আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, আমরা ৪০ বছরের পুরনো প্রতিষ্ঠান। এর সঙ্গে প্রায় পাঁচ লাখ লোক সংশ্লিষ্ট আছেন। শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগ আমাদের কাছে যে যে কাগজপত্র চেয়েছে, তা আমরা আগেই দিয়েছি। সুবাস্তু টাওয়ারের শোরুমের বিষয়ে তিনি বলেন,  সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় এটি খোলা হয়নি। সোমবার আমরা নিজেরাই এটি খুলব। তিনি আরও বলেন, চোরাচালান নয়, পুরনো স্বর্ণ রিফাইন করে বিক্রি করি। দিলদারের বড় ছেলে সাফাত আহমেদের জš§দিনের পার্টির কথা বলে ২৮ মার্চ ঢাকার বনানীর একটি বিলাসবহুল হোটেলে নিয়ে দুই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীকে ধর্ষণ করা হয় বলে বনানী থানায় একটি মামলা হয় এক সপ্তাহ আগে। ওই মামলার অপর আসামিদের মধ্যে দু’জন সাফাতের বন্ধু, বাকি দু’জন তার দেহরক্ষী ও গাড়িচালক। বৃহস্পতিবার সাফাত ও তার বন্ধু সাদমান সাকিফকে সিলেট থেকে গ্রেফতার করার পর পুলিশ তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।

হিজড়াদের চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ যাত্রীরা

রাজধানীর গণপরিবহনে হিজড়াদের উৎপাতে অতিষ্ঠ হয়ে উঠছেন যাত্রীরা। দাবিকৃত টাকা দিতে রাজি না হলেই নেমে আসে খক্ষ। নানা কায়দায় যাত্রীদের নাজেহাল করা শুরু হয়। গালাগালির পাশাপাশি চলে নানা অঙ্গভঙ্গি। হিজড়াদের এমন আচরণে নারী ও শিশু যাত্রীরা রীতিমতো আঁতকে ওঠেন। অনেকেই ভয়ে কুঁকড়ে যান। গত দুই সপ্তাহ সরেজমিনে রাজধানীর বিভিন্ন রুটে এমনই চিত্রই দেখা গেছে। রাজধানীতে হিজড়াদের অন্তত ৫০ জন গুরু রয়েছে। এরাই শিষ্যদের দিয়ে বাসে বাসে চাঁদাবাজি করাচ্ছে। আর এভাবে গুরুদের প্রত্যেকেই কোটিপতি বনে গেছে। এদিকে হিজড়াদের এই উৎপাতের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। যদিও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, ‘কেউ অভিযোগ করলে ব্যবস্থা নেয়া হয়। তবে হিজড়াদের গ্রেফতার করতে গেলে রীতিমতো ঝামেলায় পড়তে হয়।’ গত বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে শ্যামলী থেকে ঠিকানা পরিবহনে ওঠে দুই হিজড়া। উঠেই একজন বলতে শুরু করে আমরা হিজড়া, আপনারা আমাদের সাহায্য করেন। এরপর এক যাত্রীর কাছে গিয়ে বলে- ‘এই ভাই ১০ টেহা দে।’ ওই যাত্রী অনীহা প্রকাশ করতেই তার গায়ে হাত দিয়ে কর্কশ কণ্ঠে ওই হিজড়া বলতে শুরু করলে ‘এই ভাই এমন করিস কেন? শুক্রবারে ছুটির দিনে তো ঠিকই প্রেমিকাকে নিয়ে পার্কে কিংবা বাসায় গিয়ে হাজার টেহা নষ্ট করবি। আর আমাই ১০ টেহা দেওয়ার মুরদ নেই তোর। তুই কেমন পুরুষ হে?’ এরই মধ্যে আরেকজন বলল, ‘এই তোর পাশের সিটের মেয়েটা কে-রে? তোর বোন না বউ? ও তো হেব্বি সুন্দরী। ও তো দেখছি লজ্জা পাচ্ছে। তোর কোনো লজ্জা নেই? তোরা পারিস বটে?’ দুই হিজড়া ওই যাত্রীকে এভাবেই হেনস্তা করছিল। আর তার পাশে বসা ওই নারীর দুচোখে জল টলমল করছিল। তিনি অনেকটা ভয়ে কুঁকড়ে ছিলেন। এভাবেই ওই যাত্রীর কাছ থেকে ১০ টাকা আদায় করে হিজড়ারা।
এরপর অন্য যাত্রীদের কাছে যায়। অবস্থা বেগতিক দেখে অন্য যাত্রীরা আপসে ৫-১০ টাকা করে দিয়ে দেন। শুক্রবার রাত ৮টার দিকে ফুলবাড়িয়া থেকে আবদুল্লাহপুরগামী ৩নং সিটিং সার্ভিসে ওঠে তিন হিজড়া। এরপর তারা যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা তুলতে শুরু করে। যাত্রীদের মধ্যে একজন টাকা দিতে না চাইলে এক হিজড়া বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গি করে তার কোলে বসে পড়ে। পরে বাধ্য হয়ে ওই যাত্রী টাকা দিয়ে পরিত্রাণ পান। এভাবেই রাজধানীর প্রত্যেক রুটের পাবলিক পরিবহনে চলছে হিজড়াদের উৎপাত-অত্যাচার। মিরপুর ১, ২, ১০; আসাদগেট, ফার্মগেট, আগারগাঁও, বাংলামোটর, শাহবাগ, এলিফ্যান্ট রোড, নিউমার্কেটসহ বিভিন্ন স্থানে হিজড়াদের নিয়মিত চাঁদাবাজি চলছে। রাজধানীতে অন্তত ১৫ হাজার হিজড়া (সমাজসেবা অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী) বসবাস করে। তাদের গুরুর সংখ্যা ৫০ জনের বেশি। এসব গুরুই শিষ্যদের দিয়ে বাসে বাসে চাঁদাবাজিসহ নানা অনৈতিক কাজ করাচ্ছে। এলাকা ভাগ করে শিষ্যরা। তারা একাধিক গ্রুপে বিভক্ত। এসব গ্রুপের নেতৃত্বে থাকাদের মধ্যে রাহেলা, স্বপ্না, সুইটি, কচি, নাজমা, কল্পনার বাড়ি রয়েছে। রাহেলা হিজড়ার দক্ষিণখানে একটি পাঁচ তলা বাড়ি আছে। কচির আছে দুটি বাড়ি। সুইটির আদাবরে রয়েছে একটি বাড়ি। নাজমার রয়েছে ৩টি বাড়ি ও একাধিক প্লট। ধলপুর এলাকার আবুল হিজড়ার দুটি বাড়ি আছে। গোলাপবাগ এলাকার ১৩/বি/১ নম্বর পাঁচ তলা ও ধলপুর লিচুবাগানে একটি চার তলা ভবনের মালিক তিনি। জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের উপকমিশনার মাসুদুর রহমান বলেন, মানবিক দিক বিবেচনা করে ছোটখাটো অপরাধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নিলেও কেউ ভয়ঙ্কর ধরনের অপরাধ করলে তাকে ছাড় দেয়া হয় না।

সাফাতের বন্ধুদের নাম শুনেই হতবাক গোয়েন্দারা

বিত্তশালী পিতার সন্তান সাফাত আহমেদ। টাকা খরচ করেন দু’হাতে। চড়েন নামিদামি ব্র্যান্ডের গাড়িতে। সার্বক্ষণিক সশস্ত্র দেহরক্ষীবেষ্টিত সাফাত যখন যা চেয়েছেন তাই পেয়েছেন। ভালো লাগার অনেককেই তিনি বাহুবন্দি করেছেন। এ তালিকায় হাইপ্রোফাইল বান্ধবীদের কেউ বাদ যাননি। ঘনিষ্ঠ কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে প্রায় প্রতি রাতেই তিনি রুমপার্টিতে মেতে থাকতেন। সাফাতের বন্ধুদের তালিকায় দেশের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী, শিল্পপতি, রাজনৈতিক নেতা, সংসদ সদস্য এবং উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তার সন্তানও রয়েছেন। বনানীর হোটেল রেইনট্রিতে দুই তরুণী ধর্ষণের ঘটনায় রিমান্ডে থাকা সাফাত আহমেদ এভাবে মুখ খুলছেন। তবে তার বন্ধুদের নাম শুনে হতবাক গোয়েন্দারা। এমনকি কয়েকজনের নাম শুনে কিছুটা বিব্রতবোধ করছেন তারা। এছাড়া গোয়েন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদে তার বাবা আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদের সোনা চোরাচালানের নানা চাঞ্চল্যকর তথ্যও দিচ্ছেন তিনি। তবে সাফাত আহমেদ ও সাদমান সাকিফের কাছ থেকে যেসব তথ্য মিলছে তা নিয়ে শেষ পর্যন্ত কতদূর এগোতে পারবেন সেটি নিয়েও সংশয়ে আছেন গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের কেউ কেউ। এদিকে সূত্র বলছে, ধর্ষণের মামলায় প্রাথমিকভাবে যেসব তথ্য পাওয়া যাচ্ছে তাতে রেইনট্রি হোটেলের মালিকপক্ষও দায় এড়াতে পারছে না। এই অপরাধের সহযোগী হিসেবে তাদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে।
বিষয়টি আঁচ করতে পেরে অজ্ঞাত স্থানে চলে গেছেন বনানীর রেইনট্রি হোটেলের মালিক ঝালকাঠি-১ আসনের সরকারদলীয় সংসদ সদস্য বিএইচ হারুনের চার ছেলে। শনিবার থেকে তাদের মোবাইল ফোনও বন্ধ রয়েছে।   দুই তরুণী ধর্ষণ মামলার তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা রোববার যুগান্তরকে বলেন, রিমান্ডের দ্বিতীয় দিনে জিজ্ঞাসাবাদে সাফাত আহমেদ চাঞ্চল্যকর অনেক তথ্য দিয়েছেন। তিনি গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের জানান, এ ধরনের পার্টি তাদের প্রথম নয়। আর এসব পার্টিতে কী হয় তা জেনেশুনেই তাদের বান্ধবীরা উপস্থিত থাকতেন। কিন্তু রেইনট্রি হোটেলের ঘটনায় কেন তারা (দুই তরুণী) অভিযোগ করল সে বিষয়টি তিনি নাকি বুঝতে পারছেন না (!) তবে এ ঘটনার জন্য নাঈম আশরাফের (আবদুল হালিম) বাড়াবাড়িকে বেশি দায়ী করেন সাফাত। এছাড়া জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার রাতে দুই তরুণীর সঙ্গে দৈহিক সম্পর্ক স্থাপনের বিষয়টি সাফাত অনেকটা স্বাভাবিক বিষয়ের মতো স্বীকার করেন। বরং সেটিকে কেন ধর্ষণ বলা হচ্ছে তা নিয়ে রীতিমতো তিনি গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের পাল্টা প্রশ্ন করছেন। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে ঘটনার সরল স্বীকারোক্তি দিতে গিয়ে সাফাত আহমেদ বলেন, গুলশান-বনানী ছাড়াও রাজধানীর বিভিন্ন তারকা হোটেল কিংবা অভিজাত গেস্ট হাউসগুলোর কোনো না কোনোটিতে তারা রাত কাটিয়ে থাকেন। নির্ধারিত হোটেলগুলোতে তাদের জন্য বিশেষ রুম কিংবা ভিআইপি স্যুট বুক করা থাকে। জন্মদিন ছাড়াও বিভিন্ন অনুষ্ঠানের কথা বলে তারা রুমপার্টির আয়োজন করেন। নামিদামি ব্র্যান্ডের বিদেশি মদ ছাড়াও ইয়াবা ও সিসার ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন থাকে তাদের এসব নিশুতি পার্টি। এছাড়া এসব পার্টিতে তারা প্রকাশ্যে পছন্দের বান্ধবীদের বেছে নেন। সাফাত গোয়েন্দাদের জানান, মূলত নাঈম আশরাফের মাধ্যমেই তিনি মডেলসহ সুন্দরী তরুণীদের সংগ্রহ করতেন। পার্টি চলত গভীর রাত পর্যন্ত।
কখনও কখনও ভোরের আলোয় ভাঙত তাদের মিলনমেলা। প্রথম সারির সুন্দরী মডেল-আইটেম গার্লরা ছাড়াও মাঝে মধ্যে এ সারির বিদেশি অতিথিদের আনা হয় এসব জলসায়। গোয়েন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদে সাফাত বলেন, ২০১৫ সালে একটি অনুষ্ঠানে নাঈম আশারেফর সঙ্গে তার পরিচয় হলেও ২০১৬ সালের মার্চ মাস থেকে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। এক পর্যায়ে নাঈম আশারফ (আবদুল হালিম) তার বেস্ট ফ্রেন্ড হয়ে যায়। এমনকি তার বাবা আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদও তাকে (নাঈম আশরাফ) খুব পছন্দ করতেন। গুলশান ও বনানীর কয়েকটি রেস্টুরেন্টে ছিল তাদের নিয়মিত আড্ডা। বনানীর সেরিনা, সুইট ড্রিমসহ ১১ নম্বর সড়কের একটি রেস্টুরেন্টে সন্ধ্যার পর বসত তাদের নিয়মিত গাঁজা ও ইয়াবার আড্ডা। এসব রেস্টুরেন্টে মদের বার না থাকলেও সবই থাকত সেখানে। প্রসঙ্গত, ২৮ মার্চ বন্ধুর সঙ্গে জন্মদিনের অনুষ্ঠানে গিয়ে বনানীর ‘দ্য রেইনট্রি’ হোটেলে ধর্ষণের শিকার হন বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া দুই তরুণী। এ ঘটনায় ৬ মে রাজধানীর বনানী থানায় আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদের ছেলে সাফাত আহমেদ, ছেলের বন্ধু নাঈম আশরাফ (সিরাজগঞ্জের আবদুল হালিম) ও সাদমান সাকিফসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন দুই ভিকটিম। মামলার অপর আসামি পলাতক মোহাম্মদ হালিম ওরফে নাঈম আশরাফ, ড্রাইভার বেলাল ও দেহরক্ষী আবুল কালাম আজাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। এছাড়া এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রোববার তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা রেইনট্রি হোটেলের অপারেশন ইন্টারন্যাল এক্সিকিউটিভ ফারজান আরা রিমিসহ চার কর্মচারীকে তাদের হেফাজতে নিয়েছেন।

ঢাকায় এক হাজার এসি বাস নামানো হবে

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আনিসুল হক বলেছেন, নগরবাসীর চলাচল নিশ্চিত করতে রাজধানীতে এক হাজার এসি বাস নামানো হবে। একই সঙ্গে মহিলাদের জন্য আলাদা বাস নামানোর চিন্তাভাবনা চলছে। দায়িত্ব পালনের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে রোববার ফেসবুকে সোহেল আরমান নামের এক নাগরিকের প্রশ্নের জবাবে ডিএনসিসি মেয়র বলেন, আগামী ৫-৬ মাসের মধ্যে রাজধানীর গণপরিবহন খাতে শৃঙ্খলার অনেক কিছুই দৃশ্যমান হবে। চার হাজার বাস নামানোর প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে। রুট, কোম্পানির সংখ্যা চূড়ান্ত হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে মেয়র বলেন, সড়ক, ফুটপাত এবং অবৈধ দখলদারদের নিয়ন্ত্রণ করতে ডিএনসিসির নিজস্ব পুলিশ ফোর্স দরকার। এজন্য সরকারের কাছে আমরা ১০০ পুলিশ চেয়েছি। এটা দেয়া হলে বিদ্যমান অনেক সমস্যার সমাধান হবে। আমার ও দক্ষিণের মেয়রের এই দাবি সমর্থন করেছেন সরকারের সংশ্লিষ্টরা। তবে আমরা শুধু আমাদের কাজ করব, পুলিশের কোনো কাজ করব না। নগর সরকার সম্পর্কে বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় এটা অলীক কল্পনা। কেননা রাজনৈতিক অবস্থা এমন পর্যায়ে আসেনি যে, মেয়রের হাতে পুলিশসহ অন্যান্য সেবা সংস্থার নিয়ন্ত্রণ দেয়া হবে। নগর সরকার চাই না, কাজ করতে পুলিশ দেয়া হলে অনেক সমস্যার সমাধান হবে। মিরপুরের বাসিন্দা নাছির চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে আনিসুল হক বলেন, সড়ক, ফুটপাত দখলমুক্ত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি আমরা। তবে এটার বাস্তবায়ন করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এজন্য আমাদের কঠোর অবস্থান রয়েছে। ইতিমধ্যে আমরা অনেক উল্লেখযোগ্য সড়ক, ফুটপাতের অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করেছি। এটা অব্যাহত থাকবে বলে জানান মেয়র। বাসা ভাড়ার দৌরাÍ্য সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে মেয়র বলেন, এটা নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব মেয়রের নয়। খিলক্ষেতের বাসিন্দা ফারহান তাদের এলাকার বেশ কিছু সমস্যা তুলে ধরলে মেয়র তাকে আশ্বস্ত করেন। বলেন, ওই এলাকার উন্নয়ন প্রকল্পের সময় এসব সমস্যার সমাধান করা হবে।
এ ব্যাপারে কাউন্সিলরদের বলা আছে। ধ্র“ব হাসান নামের এক নগরবাসীর প্রশ্নের জবাবে আনিসুল হক বলেন, কোন সড়কে বর্জ্য ফেলে রাখা হয় বলে তার জানা নেই। সড়কে যত্রতত্র বর্জ্যবাহী গাড়ি পরিষ্কার করা হয় এটাও তার নলেজে নেই। খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন তিনি। মেয়র বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ইতিমধ্যে ৬৩টি সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস) করা হয়েছে। আরও কিছু করার পরিকল্পনা রয়েছে। নগরীর পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের আরও কিছু সুবিধা দেয়ার ইচ্ছে রয়েছে বলে জানান মেয়র। অবৈধ দখল সম্পর্কে বলেন, ডিএনসিসির এলাকার সড়ক ও ফুটপাতের ব্যাপারে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। এজন্য কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এটা অব্যাহত থাকবে। বৃক্ষনিধন সম্পর্কে আনিসুল হক বলেন, খুব জরুরি প্রয়োজন ছাড়া, নগরীর কোনো এলাকার গাছ নিধন করা হচ্ছে না। তবে একটি গাছ কাটলেও আমরা একাধিক গাছ লাগানোর চেষ্টা করছি। এটা চলতি বছরে আরও বৃদ্ধি করা হবে। রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় মেয়র আনিসুল হকের ফেসবুক লাইভ শুরু করার কথা থাকলেও যান্ত্রিক ক্রুটির কারণে কিছুটা দেরিতে শুরু হয় ফেসবুক লাইভ অনুষ্ঠান। চলে রাত প্রায় ১০টা পর্যন্ত। তবে অনুষ্ঠান শুরুর পর হাজার হাজার নগরবাসী মেয়রকে নানাবিধ প্রশ্ন করেন। মেয়র অনেকের প্রশ্নের জবাব দেন। অনেকে ভালো কাজ করার জন্য মেয়রকে সাধুবাদও জানান।

ছোট কর্মচারীদের বড় দুর্নীতি

সুপ্রিমকোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের এমএলএসএস মো. ফারুক উদ্দিন সুমন। ১২ এপ্রিল তাকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সে দুটি রিট মামলার আদেশ জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত বলে স্বীকার করেছে। এখন তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত চলছে। শুধু সুমন নয়, দুর্নীতি-অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকার দায়ে সুপ্রিমকোর্ট প্রশাসন গত বছর অর্ধডজনেরও বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে। আরও তিনজন স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত হয়েছে। এছাড়া চলতি বছরের প্রথম চার মাসেই অন্তত আটজনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের হয়েছে। অন্যদিকে গত এক বছরে অধস্তন আদালতের ১৬৮ কর্মচারীর বিরুদ্ধে সুপ্রিমকোর্টের কাছে অভিযোগ এসেছে। এর মধ্যে অর্ধেকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। কোনো কোনো অভিযোগের তদন্ত চলছে। অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় কাউকে তাৎক্ষণিকভাবে বরখাস্তও করা হয়েছে। বাকিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সুনির্দিষ্ট না হওয়ায় সেগুলো আমলে নেয়া হয়নি। উচ্চ ও নিন্ম আদালতের অনেক কর্মচারীই বড় বড় দুর্নীতি-অনিয়মের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জাল-জালিয়াতি,
ফাইল গায়েব করা, টাকার বিনিময়ে রায় পক্ষে পাইয়ে দেয়া, মামলা করে দেয়ার নামে টাকা নিয়ে টালবাহানাসহ নানা ধরনের অভিযোগ উঠছে এসব কর্মচারীর বিরুদ্ধে। এসব প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সুপ্রিমকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল সৈয়দ আমিনুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, ‘দুর্নীতি-অনিয়মের বিরুদ্ধে আমরা কঠোর অবস্থানে আছি। যখন যে অভিযোগ পাচ্ছি আমরা তাৎক্ষণিকভাবে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি। অনেক ক্ষেত্রে ফৌজদারি ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে অনেকে চাকরিচ্যুতও হয়েছেন।’ জানা গেছে,  ১৩ এপ্রিল সুপ্রিমকোর্ট প্রশাসন থেকে এমএলএসএস সুমনকে বরখাস্তের আদেশ জারি করা হয়েছে। সুমনের নামে জারিকৃত বরখাস্তের আদেশে বলা হয়েছে, ‘আপনি অত্র কোর্টের এমএলএসএস মো. ফারুক উদ্দিন সুমন। বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে দায়েরকৃত রিট পিটিশন মামলা নং-৯৭৬/২০১৭-এর ২৩ জানুয়ারির আদেশ এবং রিট পিটিশন মামলা নং-৯৭৫৩/২০১৪-এর ২১ মার্চের আদেশ জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত। আপনার উপরোক্ত কার্যকলাপ হাইকোর্ট বিভাগের কর্মচারী বিধিমালা ১৯৮৩-এর ২(২) ধারা মোতাবেক অসদাচরণের শামিল এবং বিধিমালার ৩(বি) বিধি মোতাবেক শাস্তিযোগ্য অপরাধ। বিধায় অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় ১২ এপ্রিল থেকে উক্ত বিধিমালার ১০(১)বিধি অনুযায়ী আপনাকে অত্র কোর্টের চাকরি হতে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হল।’ সূত্র জানিয়েছে, জালিয়াতির মাধ্যমে আদালতের আদেশ পরিবর্তন করে বাদীপক্ষে রায় পাইয়ে দেয়া হয়। আর এ কাজে মোটা অঙ্কের টাকার লেনদেন হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের বিচারপতিদের নজরে এলে ওই বেঞ্চের এক কর্মকর্তাকে দিয়ে সুমনের বিরুদ্ধে সুপ্রিমকোর্ট প্রশাসনের কাছে জালিয়াতির অভিযোগ দাখিল করা হয়। পরে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে সুপ্রিমকোর্ট প্রশাসন।
এর আগে গত বছরের আগস্টে হাইকোর্টের বিচারপতি একেএম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি জাফর আহমেদের স্বাক্ষর জাল করে সাড়ে ২৯ কেজি স্বর্ণের মামলায় স্থগিতাদেশ নেয়া এবং প্রায় ১৮ হাজার পিস ইয়াবার মামলার আসামির জামিন নেয়ার ঘটনা ঘটে। নিখুঁতভাবে এ জালিয়াতির কাজটি সম্পন্ন হয়। সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট সেকশন থেকে জাল আদেশের কপি দুটি নিন্ম আদালতেও পৌঁছায়। এ অবস্থায় বিষয় দুটি সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের নজরে আসে। এরপরই আদেশ দুটি প্রত্যাহার করে নেন ওই বেঞ্চ। জাল আদেশ প্রত্যাহারের নির্দেশে বিচারপতিরা বলেন, ‘বিশাল একটি চক্র বড় ধরনের জালিয়াতির ঘটনা ঘটিয়েছে। যা তদন্তের প্রয়োজন। পাশাপাশি জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।’ আদালত সুপ্রিমকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে এ ব্যাপারে ফৌজদারি মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন। এরপর সুপ্রিমকোর্ট প্রশাসন এ ঘটনায় বিভাগীয় তদন্ত করেন। সম্প্রতি আপিল বিভাগের অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার অরুনাভ চক্রবর্তী তদন্ত করে এ জালিয়াতির জন্য ১২ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে দায়ী করেছেন। এর মধ্যে সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের নিন্মস্তরের দু’জনসহ মোট চার কর্মচারী এ জালিয়াতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত বলে প্রতিবেদন দিয়েছেন। বাকিদের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়া এ ঘটনায় দায়ের করা ফৌজদারি মামলার তদন্ত এখনও শেষ হয়নি বলে জানা গেছে। নিন্ম আদালতের কর্মচারীরাও একইভাবে দুর্নীতি-অনিয়মের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছেন। শুধু এক বছরে সুপ্রিমকোর্টের কাছে অধস্তন আদালতের প্রায় দেড় শতাধিক কর্মচারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে। এগুলো জমা পড়ে অভিযোগ বক্সে।এসব অভিযোগের প্রায় অর্ধেকই আমলে নেয়া সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন সুপ্রিমকোর্ট প্রশাসনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা বলেন, অভিযোগকারীর নাম-ঠিকানা, মোবাইল নম্বর এগুলো সুনির্দিষ্ট না থাকায় প্রায় অর্ধেক অভিযোগই আমলে নেয়া সম্ভব হয়নি। বাকিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
জানা গেছে, সুপ্রিমকোর্টের অভিযোগ বক্সে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে, তাদের মধ্যে একজন হচ্ছেন চট্টগ্রাম প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের সাবেক বেঞ্চ সহকারী দীপংকর দাস (বর্তমানে সাময়িক বরখাস্ত)। তার বিরুদ্ধে মিজানুর রহমান চৌধুরী নামের এক ব্যক্তি ঘুষ-দুর্নীতিসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ দাখিল করেন। এই অভিযোগের প্রাথমিক তদন্তে দেখা যায়, দীপংকরের সোনালি ব্যাংকের চট্টগ্রাম কোর্টহিল শাখার ১০০০১২৬৭৯ নম্বর হিসাবে সন্দেহজনক লেনদেন হয়েছে। ওই হিসাবে নগদ টাকা জমার বিবরণীতে দেখা যায়, ২০১৩ সালের ১০ মার্চ ৬০ হাজার, ২০১৪ সালের ২৮ আগস্ট ১ লাখ ২০ হাজার, ২০১৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি ৬০ হাজার, একই বছরের ২ ফেব্রুয়ারি ৬০ হাজার, একই বছরের ২৭ এপ্রিল ৪৮ হাজার, ২৬ জুন ৬০ হাজার, ৫ আগস্ট ৩০ হাজার, ২০১৬ সালের ১৪ মার্চ দেড় লাখ এবং ১৬ এপ্রিল ২ লাখ টাকা জমা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তার বেতন-ভাতার চেয়েও বহুগুণ বেশি টাকা অসাধু লেনদেনে জড়িত, যা ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগের সত্যতা প্রতিষ্ঠিত করে। এছাড়া ওই প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের একটি মামলার রায়ের নথি নিজ হেফাজতে রেখে রায় বিলম্বিত করেছেন। পাশাপাশি বিচারাধীন মামলায় ট্রাইব্যুনালের বিচারকের কাছে তদ্বির করেন। এ দুটি কারণে, অসৎ উদ্দেশ্য ও দুর্নীতির অভিযোগে দীপংকর দাসকে ২০১২ সালে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়। কিন্তু ওই নোটিশের কোনো জবাব তিনি দেননি। পাশাপাশি দীপংকর দাস ওই প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের স্টেনোগ্রাফার মোহাম্মদ সেলিমকে গত বছরের ৬ মার্চ ট্রাইব্যুনালের এজলাস কক্ষে প্রকাশ্যে ধারালো বস্তু দিয়ে দু’চোখের মাঝখানে আঘাতের মাধ্যমে রক্তাক্ত জখম করে। এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে পুলিশ। এসব অভিযোগের কারণে তাকে কেন স্থায়ীভাবে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হবে না তার কারণ জানতে চেয়ে নোটিশ দেয়া হয়েছে। এখনও তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শেষ হয়নি। আদালতের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এসব দুর্নীতি অনিয়ম রোধে সুপ্রিমকোর্ট প্রশাসন থেকে একাধিক উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে যে কোনো ধরনের অভিযোগ জানানোর জন্য সুপ্রিমকোর্টে রেজিস্ট্রার জেনারেল কার্যালয়ে স্থাপন করা হয়েছে ‘অভিযোগ বক্স’। এছাড়া অনলাইনে সুপ্রিমকোর্টের ওয়েবসাইটে ঢুকেও অভিযোগ দাখিলের সুযোগ রয়েছে।
পাশাপাশি দুর্নীতি-অনিয়মের তথ্য জানাতে চালু করেছে হটলাইন সেবা। সেকশনগুলোতে বসানো হয়েছে সিসি (ক্লোজ সার্কিট) ক্যামেরা। কিন্তু তারপরও নিন্মশ্রেণীর কর্মচারীদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ বিশেষ করে জাল-জালিয়াতি, ফাইল গায়েব করার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠছে। সম্প্রতি উচ্চ আদালতে একাধিক বড় বড় জালিয়াতি এবং দুর্নীতি-অনিয়মের ঘটনা ধরা পড়েছে। বিকাশের মাধ্যমে বিচারপ্রার্থীর কাছ থেকে টাকা নেয়া, বিচারপতির ক্রেডিট কার্ড চুরি করে টাকা উত্তোলনসহ নানা ধরনের অভিযোগ জমা পড়েছে সুপ্রিমকোর্ট প্রশাসনের কাছে। সাম্প্রতিককালের একাধিক ঘটনায় প্রচণ্ড হতাশ রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। তিনি যুগান্তরকে বলেন, ‘অধস্তন কর্মচারীদের নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের বিচারকের। কিন্তু বিচারকরা যদি তার অধস্তন কর্মচারীদের নিয়ন্ত্রণ করতে না পারেন  এটা তাদের ব্যর্থতা।’ অদক্ষতার কারণে এসব জাল-জালিয়াতি হচ্ছে উল্লেখ করে অ্যাটর্নি জেনারেল আরও বলেন, একজন বিচারক একটা মামলা শুনে সঙ্গে সঙ্গে যদি রায় দেন তাহলে এই জালিয়াতির সুযোগ থাকে না। একটি মামলায় কী আদেশ হয় সে ব্যাপারে কার্যতালিকায়, স্যুট রেজিস্ট্রার ও কম্পিউটারে তথ্য থাকে। সেগুলোর সঙ্গে মিলিয়ে যদি আদেশ দিয়ে সেকশনে নথি পাঠানো হয়, তাহলে তো দুষ্কৃতকারীরা জালিয়াতি করার সুযোগ পায় না। কিন্তু তা না করে যদি একসঙ্গে ২৫টি মামলা ‘পার্ট-হার্ট’ রাখেন, তারপর পূর্ণাঙ্গ রায় না দিয়ে শুধু সংক্ষিপ্ত রায়টা উচ্চারণ করেন, সেক্ষেত্রে অধস্তন কর্মচারীরা তো সুযোগ নেবেই। পার্টির সঙ্গে যোগাযোগ করবে, বলবে টাকা দেন জিতিয়ে দেব। আগে এ ধরনের ঘটনা ঘটত না। এখন অহরহ ঘটছে। আসলে কোর্ট ব্যবস্থাপনা জানা দরকার।

আতিয়া মহলের ২ মামলায় পিবিআই'র তদন্ত শুরু

সিলেটের দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ীর জঙ্গি আস্তানা আতিয়া মহল থেকে বিস্ফোরক উদ্ধার ও অভিযান চলাকালে বোমা বিস্ফোরণে হতাহতের ঘটনায় দায়ের করা দুটি মামলার আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। সোমবার সকালে পিবিআইয়ের তদন্ত দল আতিয়া মহল পরিদর্শনে যান। এসময় তারা জঙ্গি আস্তানা ও আশপাশের কক্ষগুলো পরিদর্শন করেন। এর আগে মামলা দু’টি তদন্ত করেছে মহানগর পুলিশের মোগলাবাজার থানা পুলিশ। গত ৯ মে পুলিশ সদর দফতরের নির্দেশে মামলা দুটি পিবিআই’র কাছে হস্তান্তর করা হয়। ১৩ মে মামলার আলামত ও ডকেট গ্রহণ করে কাজ শুরু করে পিবিআই। দ্রুত মামলা তদন্ত করে অভিযোগপত্র দেয়া হবে বলে জানিয়েছে পিবিআইয়ের বিশেষ পুলিশ সুপার রেজাউল করিম মল্লিক। এছাড়া দেশে জঙ্গিবাদের মুলুৎপাটন করতেই এ তদন্ত কাজ এগিয়ে নেয়া হবে বলে জানান তিনি। গত ২৪ মার্চ ভোরে আতিয়া মহলে জঙ্গি আস্তানার সন্ধান পায় আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। ২৫ মার্চ সকাল থেকে ২৮ মার্চ সন্ধ্যা পর্যন্ত আতিয়া মহলে সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডো দল ‘অপারেশন টুয়াইলাইট’ পরিচালনা করে। ২৫ মার্চ সন্ধ্যায় ভবন সংলগ্ন পাঠানপাড়া দাখিল মাদ্রাসার পশ্চিমে পর পর দু’দফা বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় র‌্যাবের গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান লে. কর্নেল আবুল কালাম আজাদসহ সাত জন নিহত হন। এ ঘটনায় আহত হন আরো অন্তত অর্ধশত।

খুনের হুমকি দিয়ে উঠানে কবর খুড়লেন সহোদর

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে জমি সংক্রান্ত বিরোধে আপন ছোট ভাইকে খুনের হুমকি দিয়ে তাকে দাফন করার জন্য নিজ বাড়ির উঠানেই কবর খুড়লেন বড় ভাই। নবীগঞ্জ পৌর এলাকার পূর্ব তিমিরপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে দু'সহোদর সালাম ও ফারুককে আটক করে জেল হাজতে পাঠিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় মানুষের মাঝে ব্যাপক মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কবর দেখার জন্য ওই বাড়ির উঠানে জনতার উপচে পড়া ভীড় দেখা গেছে। জানা যায়, সালাম ও ফারুক ওই গ্রামের মৃত উকিল উল্লার ছেলে। বড় ভাই আব্দুস সালাম ও ছোট ভাই ফারুকের মধ্যে বাবার রেখে যাওয়া বাড়ির জমি ভাগ-ভাটোয়ারা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এ নিয়ে এলাকায় একাধিক সালিশ বৈঠকও হয়।
কিন্তু দুই ভাইয়ের মধ্যে কোনো সমঝোতা করা যায়নি। একের পর এক সালিশে কোনো সুরাহা না পেয়ে রাগে-ক্ষোভে বড় ভাই আব্দুস সালাম ছোট ভাই ফারুককে খুন করার হুমকি দিয়ে বাড়ির উঠানে দাফনের জন্য কবর খোড়ে। এ অবস্থায় প্রতিবেশীরা সালামকে শান্ত করার চেষ্টা করে বিফল হন। বরং সে বাড়ির উঠানে আরো একটি কবর খুড়ে। সালাম ও ফারুকের মা মাসুক বিবি ছেলেদের এ অবস্থা দেখে স্থানীয়দের মাধ্যমে নিবৃত করতে চেষ্টা করে তিনিও ব্যর্থ হন। পরে তিনি দুই ছেলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পুলিশের দ্বারস্থ হন। পুলিশ রোববার ওই বাড়িতে হানা দিয়ে দুই ভাইকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে তাদের জেল হাজতে পাঠানো হয়। নবীগঞ্জ থানার ওসি এস এম আতাউর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এলাকাবাসী জানায়, পুলিশ ওই দুই ভাইকে আটক না করলে তাদের জিদাজিদিতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশংকা ছিল।

বগুড়ায় দু'ট্রাকের ধাক্কায় নিহত ২

বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলায় আলু বোঝাই ছোট্ট ট্রাকের পিছনে আরেক ট্রাকের ধাক্কায় দুই ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। এসময় আহত হয়েছেন আরও দুইজন। সোমবার সকালে উত্তরবঙ্গের মহাসড়কে মহাস্থানের হাতিবান্ধা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- বগুড়া সদরের বিরুলিয়া গ্রামের ইজার আলী ছেলে রায়হান (৩৫) ও রংপুর জেলার বাসিন্দা জহুরুল ইসলাম (৫০)। তারা পেশায় চানাচুর ব্যবসায়ী। শিবগঞ্জ থানার ওসি শাহীদ মাহামুদ খান জানান, সকালে রংপুর থেকে আলু বোঝাই মিনি ট্রাকটি বগুড়া শহরের দিকে যাচ্ছিল। পথে মহাস্থানের হাতিবান্ধা এলাকায় একই দিক থেকে আসা ওপর একটি দ্রুতগতির ট্রাক ওই মিনি ট্রাকের পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই দুই ব্যবসায়ী নিহত হন। এসময় আহত হয়েছেন মিনি ট্রাকের চালক ও হেলপার। তাদের শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহতদের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য একই হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। গাড়ি দুটি আটক করা হলেও ঘাতক ট্রাকের চালক ও হেলপার পালিয়ে গেছে বলে জানান ওসি।

রিভিউ খারিজ : সাঈদীর আমৃত্যু কারাদণ্ড বহাল

যুদ্ধাপরাধের দায়ে আমৃত্যু কারাদণ্ডে দণ্ডিত জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) দুটি আবেদনই খারিজ করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ। এর ফলে তাকে দেয়া আমৃত্যু কারাদণ্ডের সাজা বহাল রইলো। সোমবার প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার নেতৃত্বাধীন ৫ সদস্যের আপিল বেঞ্চ শুনানি নিয়ে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের দু'টি রিভিউ খারিজ করে দেন। রিভিউ আবেদনে সাঈদীর সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দিয়ে ট্রাইব্যুনালের রায় পুনর্বহাল চেয়েছিল রাষ্ট্রপক্ষ। অপরদিকে খালাস চেয়ে রিভিউ আবেদন করেছিলেন দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী। এর আগে রোববার শুনানি হয়। পরে তা আজ পর্যন্ত মুলতবি করেন আপিল বেঞ্চ। আজ শুনানি শেষে আমৃত্যু কারাদণ্ডের সাজা বহাল রাখেন আপিল বেঞ্চ। বেঞ্চের অন্য বিচারপতিরা হচ্ছেন- বিচারপতি মোঃ আবদুল ওয়াহ্হাব মিয়া, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি মির্জা হুসেইন হায়দার। গত ৪ এপ্রিল আপিল বিভাগ রিভিউ মামলাটি শুনানির জন্য ১৪ মে দিন ধার্য করে আদেশ দিয়েছিলেন। একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের দায়ে ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি সাঈদীকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এরপর ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে সাঈদী আপিল করেন। ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগের পাঁচ সদস্যের বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সাঈদীর ফাঁসির সাজা কমিয়ে আমৃত্যু কারাদণ্ডের আদেশ দেন। এর দীর্ঘদিন পর এ রায়ের কপি প্রকাশ পেলে গত বছরের ১২ জানুয়ারি তা পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) চেয়ে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। ওই আবেদনে সাঈদীর সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দিয়ে ট্রাইব্যুনালের রায় পুনর্বহাল চাওয়া হয়। অপরদিকে খালাস চেয়ে রিভিউ আবেদন করেন দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী।

সাঈদীর রিভিউ শুনানি চলছে

যুদ্ধাপরাধের দায়ে আমৃত্যু কারাদণ্ডে দণ্ডিত জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন শুনানি দ্বিতীয় দিনের মতো চলছে। সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার নেতৃত্বাধীন ৫ সদস্যের আপিল বেঞ্চে এ শুনানি শুরু হয়। এর আগে রোববার শুনানি হয়। পরে তা আজ পর্যন্ত মুলতুবি করেন আপিল বেঞ্চ। বেঞ্চের অন্য বিচারপতিরা হচ্ছেন- বিচারপতি মোঃ আবদুল ওয়াহ্হাব মিয়া, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি মির্জা হুসেইন হায়দার। গত ৪ এপ্রিল আপিল বিভাগ রিভিউ মামলাটি শুনানির জন্য ১৪ মে দিন ধার্য করে আদেশ দিয়েছিলেন।
একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের দায়ে ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি সাঈদীকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এরপর ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে সাঈদী আপিল করেন। ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগের পাঁচ সদস্যের বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সাঈদীর ফাঁসির সাজা কমিয়ে আমৃত্যু কারাদণ্ডের আদেশ দেন। এর দীর্ঘদিন পর এ রায়ের কপি প্রকাশ পেলে গত বছরের ১২ জানুয়ারি তা পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) চেয়ে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। ওই আবেদনে সাঈদীর সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দিয়ে ট্রাইব্যুনালের রায় পুনর্বহাল চাওয়া হয়। অপরদিকে খালাস চেয়ে রিভিউ আবেদন করেন দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী।

সরকারের দাবি ৭.২৪ শতাংশ বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস ৬.৮

চলতি অর্থবছর মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি হবে ৭ দশমিক ২৪ শতাংশ। পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল দাবি করেছেন, বিশ্বের মাত্র দুটি দেশ ৭ শতাংশের উপরে প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। তার মধ্যে একটি ভারত, অপরটি বাংলাদেশ। যদিও চলতি বছরের বাজেটে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ছিল ৭ দশমিক ২ শতাংশ। অপরদিকে বহুজাতিক দাতা সংস্থা বিশ্বব্যাংক পূর্বাভাস দিয়েছে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে ৬ দশমিক ৮ শতাংশ। এর ফলে সরকারের ঘোষণার সঙ্গে বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাসে বড় গরমিল দেখা দিয়েছে। রোববার প্রকাশিত সংস্থাটির বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট শীর্ষক প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, চলতি বছরের তুলনায় আগামী বছরেও প্রবৃদ্ধি কমবে। যা হতে পারে ৬ দশমিক ৪ শতাংশ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী চলতি অর্থবছর দেশে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৭ দশমিক ২৪ শতাংশ, যা গত অর্থবছরে ছিল ৭ দশমিক ১১ শতাংশ। সেই সঙ্গে দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬০২ মার্কিন ডলার। গত অর্থবছরে এ আয় ছিল ১ হাজার ৪৬৫ মার্কিন ডলার। এ হিসাবে এক বছরে আয় বেড়েছে ১৩৭ মার্কিন ডলার। রোববার এনইসি পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী এসব তথ্য প্রকাশ করেন। তবে বিশ্বব্যাংক বলেছে,
বিনিয়োগ পরিবেশে অবনতি, প্রবাসী আয়ে বড় ধরনের পতন ও রফতানি আয়ের বৃদ্ধি মন্থর হয়ে আসায় এবার সার্বিক প্রবৃদ্ধি তুলনামূলক কম হবে। ডলার, ইউরোসহ অন্যান্য মুদ্রার তুলনায় দেশীয় মুদ্রা টাকার মান বেড়ে যাওয়ায় প্রবৃদ্ধি আগের মতো বাড়বে না। রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট শীর্ষক প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। এ সময় বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর চিমিয়াও ফান, সিনিয়র ডাইরেক্টর কার্লোস ফিলিপে হ্যারমিলো বক্তব্য রাখেন। মূল প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন সংস্থার লিড ইকোনমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন। প্রতিবেদনে ২০১৯ সালের জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে সম্ভাব্য রাজনৈতিক অস্থিরতাকে বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অর্থনীতির জন্য দেশের অভ্যন্তরে ও বাইরের ছয়টি বিষয়কে ঝুঁকি হিসেবে দেখা হয়েছে। তবে সরকারি বিনিয়োগ দক্ষতা, কর্মবাজারে নারীদের অন্তর্ভুক্তি ও সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে জিডিপি প্রবৃদ্ধি বর্তমান অবস্থা থেকে আগামী ১০-১২ বছরে আরও ৩ শতাংশ যোগ করা সম্ভব। অপরদিকে জিডিপি প্রবৃদ্ধির বিষয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী গত কয়েক বছরের প্রবৃদ্ধির তথ্যও তুলে ধরেন। এক প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, বিশ্বব্যাংক সব সময় কম প্রক্ষেপণ করলেও এবারেই প্রথম ৬ দশমিক ৮ শতাংশ বলেছে। এটি উদারতার বিষয়। প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে কোনোরকম ইঞ্জিনিয়ারিং করা হয় না। রেমিটেন্স সংক্রান্ত অপর এক প্রশ্নের উত্তরে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, রেমিটেন্স কমেনি বরং বেড়েছে। আমরা না বুঝে হিসাব করি বলেই কম মনে হয়।
হিসাবের সময় শুধু বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব ধরা হয়। কিন্তু বিকাশসহ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচুর রেমিটেন্স দেশে আসছে। এ দেশেই তো খরচ হচ্ছে। কিন্তু সেটি হিসাবে আসছে না। এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে মূলধনী যন্ত্রপাতি ও শিল্পের কাঁচামাল আমদানি বাড়লেও এসব আমদানি পণ্যের সঠিক মূল্য ও শিল্প খাতে এ সবের সঠিক ব্যবহার নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন বিশ্বব্যাংকের লিড ইকোনমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন। তিনি বলেন, আর্থিক ও কর্পোরেট খাতে আগামীতে স্থিতিশীলতার আরও অবনতি হতে পারে। আর্থিক সংস্কার কার্যক্রমেও ঘাটতি দেখা দিতে পারে। ২০১৯ সালের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। দেশীয় এ তিন চ্যালেঞ্জের বাইরে বিশ্ব অর্থনীতির তিন চ্যালেঞ্জ বাংলাদেশের জন্য বড় বাধা হয়ে দেখা দিতে পারে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য নীতি নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। এর ফলে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় এ বাজারে ক্ষতির সম্মুখীন হবে বাংলাদেশি পণ্য। এ অঞ্চল থেকে রফতানি আয়ের পাশাপাশি প্রবাসী আয়ও কমবে। তা ছাড়া জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি ও বিশ্বব্যাপী আর্থিক মন্দার কারণেও বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হতে পারে। এ ছাড়া সামষ্টিক অর্থনীতিতেও সাম্প্রতিক সময়ে স্থিতিশীলতা দেখা যাচ্ছে বলে মনে করেন ড. জাহিদ হোসেন। তবে মুদ্রার বিনিময় হার, রাজস্ব আহরণ ও তারল্য ব্যবস্থাপনায় কিছুটা ঝুঁকি রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। জাহিদ হোসেন বলেন, গত অর্থবছরে ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগ ১ শতাংশ বেড়েছে।
এর আগের কয়েক বছরে বেসরকারি খাতে এত বিনিয়োগ বৃদ্ধির নজির নেই। বিনিয়োগ পরিবেশের অবনতি সত্ত্বেও বেসরকারি খাতের এ বিনিয়োগ বৃদ্ধিকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছেন তিনি। তবে বিনিয়োগের মান ও প্রকৃত পরিমাণ নিয়ে সংশয়ও প্রকাশ করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে চিমিয়াও ফান বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশের চেয়ে জিডিপির তুলনায় রাজস্ব আদায়ের হার বাংলাদেশে অত্যন্ত কম। সেদিক থেকে নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন হলে রাজস্ব আয় বাড়বে এবং রাজস্ব প্রশাসনের দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পাবে। অপরদিকে বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছর কৃষি খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩ দশমিক ৪০ শতাংশ, শিল্প খাতে ১০ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং সেবা খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬ দশমিক ৫০ শতাংশ। জিডিপির আকার হচ্ছে ১৯ লাখ ৫৬ হাজার ৫৬ কোটি টাকা, যা গত অর্থবছরে ছিল ১৭ লাখ ৩২ হাজার ৮৬৪ কোটি টাকা। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে সার্বিক মূল্যস্ফীতির কথা বলা হয়েছে, সার্বিকভাবে মূল্যস্ফীতি স্থিতিশীল ও স্বস্তিদায়ক হলেও চালের দাম বাড়ায় খাদ্য মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। যা কিছুটা অস্বস্তি সৃষ্টি করেছে। রির্জাভের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, রির্জাভে স্বস্তি আছে কিন্তু তুষ্টির কোনো কারণ নেই।

নতুন এডিপিতে মেয়াদ উত্তীর্ণ ১৫১ প্রকল্প নিয়ে প্রশ্ন

নীতিমালা ভেঙে মেয়াদ উত্তীর্ণ ১৫১টি প্রকল্পের বোঝা চাপানো হচ্ছে আগামী অর্থবছরের নতুন বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি)। এসব প্রকল্পের অনুকূলে বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে ১২ হাজার ২২১ কোটি টাকা। এতে করে নতুন প্রকল্পে অর্থায়নের সুযোগ কমে গেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। যদিও এডিপি তৈরির নীতিমালায় বলা হয়েছিল, মেয়াদোত্তীর্ণ প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি ছাড়া ২০১৭-১৮ অর্থবছরের এডিপিতে অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব করা যাবে না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ৩০ জুন মেয়াদ শেষ হবে এমন প্রকল্পগুলোকে তারকা চিহ্ন দিয়ে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে নতুন এডিপিতে। এ পদক্ষেপের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ প্রসঙ্গে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল রোববার যুগান্তরকে বলেন, আমরা ইতিমধ্যেই মেয়াদ উত্তীর্ণ প্রকল্পগুলোর বিষয়ে তাগাদা দিয়েছি। এরই মধ্যে বেশ কিছু প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ে মেয়াদ বৃদ্ধি বা সংশোধন করা না হলে অর্থছাড় কিংবা ব্যয় করা সম্ভব হবে না। সূত্র জানায়, গত বছরের ৭ আগস্ট পরিকল্পনামন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এডিপি পর্যালোচনা সভায় মেয়াদ উত্তীর্ণ কোনো প্রকল্প আগামী অর্থবছরের এডিপিতে অন্তর্ভুক্ত না করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সেই সঙ্গে প্রকল্প প্রক্রিয়াকরণ সংক্রান্ত পরিপত্রে বেঁধে দেয়া নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মেয়াদ বৃদ্ধির সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে নির্দেশ দেয়া হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত ১৮৫টি প্রকল্পের মধ্যে মাত্র ৩৪টি প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি বা সংশোধনের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। ফলে একেবারেই কোনো উদ্যোগ না নেয়া ১৫১টিসহ মেয়াদোত্তীর্ণ প্রকল্পই এডিপিতে যুক্ত করা হয়েছে। এর পেছনে প্রথম পর্যায় পরিকল্পনা কমিশন কঠোর অবস্থানে থাকলেও শেষ পর্যন্ত মন্ত্রণালয় ও বিভাগের চাপ এবং প্রকল্পগুলোর ভবিষ্যতের কথা ভেবে শিথিলতা দেখানো হয়েছে বলে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে। পরিকল্পনা কমিশন বলেছে, অতীত অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায়, মেয়াদ বৃদ্ধি যথাসময়ে না হওয়ায় অর্থবছরের প্রথম ৪ থেকে ৫ মাস এ ধরনের প্রকল্পের অনুকূলে অর্থ ছাড় বা ব্যয় করা সম্ভব হয় না। ফলে এডিপির বরাদ্দ ব্যবহার কমে যায় এবং সার্বিক এডিপি বাস্তবায়নে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এ পরিপ্রেক্ষিতে আগামী ৩০ জুনের মধ্যেই এসব মেয়াদোত্তীর্ণ প্রকল্প সংশোধনের তাগিদ দেয়া হয়েছে। যাতে করে আগামী অর্থবছরের শুরু থেকেই অর্থাৎ জুলাই মাস থেকেই এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে অর্থ ব্যয় করা যায়। কেননা এর আগে গত ১ মে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশনের বর্ধিত সভায় মেয়াদ বৃদ্ধি ছাড়া এসব প্রকল্পের বরাদ্দ করা অর্থ ছাড় ও ব্যয় করা যাবে না বলে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। মেয়াদোত্তীর্ণ প্রকল্পের মধ্যে অন্যতম কয়েকটি হচ্ছে, শিকলবাহা ২২৫ মেগাওয়াট ডুয়েল ফুয়েল কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্লান্ট প্রজেক্ট। এটির বাস্তবায়ন শুরু হয়েছিল ২০১২ সালে। প্রকল্পের মোট ব্যয় ২ হাজার ২২ কোটি ৪২ লাখ টাকা ধরা হলেও প্রায় ৫ বছরে গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে মাত্র ১ হাজার ১৩৩ কোটি ২১ লাখ টাকা। আগামী অর্থবছরের এডিপিতে আবারও নতুন করে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ১৬৫ কোটি টাকা। এছাড়া কনভারশন অব শাহজীবাজার ৭০ মেগাওয়াট পাওয়ার প্লান্ট টু ১০৫ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্লান্ট প্রকল্পটি ২০১৩ সালে শুরু হয়ে ২০১৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বাস্তবায়নের কথা ছিল। প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয় ৩৪২ কোটি টাকা। কিন্তু গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ৮৯ লাখ টাকা। এখন নতুন করে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ৩২ কোটি টাকা। কনভারশন অব বাঘাবাড়ী ১০০ মেগাওয়াট পাওয়ার প্লান্ট টু ১৫০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্লান্ট প্রকল্পটি ৫১৩ কোটি ৭৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০১৩ সালে বাস্তবায়ন শুরু হয়। ২০১৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বাস্তবায়নের কথা ছিল। কিন্তু গত ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত এ প্রকল্পের অনুকূলে ব্যয় হয়েছে মাত্র ৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা। এ অবস্থায় আগামী অর্থবছরে ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। মেয়াদোত্তীর্ণের তালিকায় আরও রয়েছে, উপজেলা পর্যায়ে অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল নেটওয়ার্ক উন্নয়ন, ডিজিটাল বাংলাদেশের জন্য ব্রডব্যান্ড ওয়্যারলেস নেটওয়ার্ক স্থাপন, আঞ্চলিক সাবমেরিন টেলিযোগাযোগ প্রকল্প, বাংলাদেশ, জাতীয় সংসদ ভবনের পূর্ত কাজ-বৈদ্যুতিক ও যান্ত্রিক সিস্টেমের উন্নয়ন, সব জেলায় মুক্তিযোদ্ধা কমপেক্স ভবন নির্মাণ (প্রথম পর্যায়), ভূমিহীন ও অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বাসস্থান নির্মাণ, মাধ্যমিক শিক্ষা উপবৃত্তি প্রকল্প এবং উচ্চ মাধ্যমিক উপবৃত্তি প্রকল্প।

বাড়ছে করমুক্ত আয়ের সীমা, কমছে কর্পোরেট ট্যাক্স

দুই লাখ ৮১ হাজার কোটি টাকা ধরে মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা চূড়ান্ত করা হয়েছে। রোববার রাতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অর্থমন্ত্রীর বাজেট বৈঠকে এটি চূড়ান্ত করা হয়। রাতে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ভ্যাটের হার ১২ বা ১৩ শতাংশ রাখার বিষয়টি চূড়ান্ত হয়নি। তবে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে ভ্যাট হার ১২ বা ১৩ যে কোনো একটি রাখার প্রস্তাব করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। ওই বৈঠকে করমুক্ত আয়ের সীমা এবং টার্নওভার ট্যাক্স বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। পাশাপাশি পুঁজিবাজারকে উৎসাহিত করতে কমানো হচ্ছে কর্পোরেট ট্যাক্সও। নতুন ভ্যাট হারসহ উল্লিখিত বিষয়ে ঘোষণা দেয়া হবে আগামী ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেটে। বৈঠকের একটি সূত্র থেকে পাওয়া গেছে এসব তথ্য। রাত ১০টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বৈঠক চলছিল। জানা গেছে, ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে আনলে কী পরিমাণ রাজস্ব ক্ষতি হবে, এর একটি পর্যালোচনা বৈঠকে উপস্থাপন করে এনবিআর। সেখানে বলা হয়, এক শতাংশ মূসক কমানো হলে ৪ হাজার কোটি টাকার মতো ভ্যাট কমে যাবে। সেক্ষেত্রে ১২ শতাংশ ভ্যাট নির্ধারণ করা হলে আগামী অর্থবছরে ১০ থেকে ১২ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব কমে যেতে পারে। সূত্র জানায়, বৈঠকের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী ভ্যাট হার নিয়ে আলোচনা করেন। এরপর ব্যবসায়ীদের দাবির বিষয়টি এনবিআরের কর্মকর্তারা তুলে ধরেন। সূত্র জানায়, ভ্যাট হার নিয়ে আলোচনার পর আয়কর ও শুল্ক খাতের আলোচনা হয়। এ সময় করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়ানো ও কর্পোরেট ট্যাক্স যৌক্তিক হারে কমানোর সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকে ভ্যাট কমানোর ফলে যে রাজস্ব ক্ষতি হবে তা কীভাবে পুষিয়ে নেয়া হবে, তা নিয়েও আলোচনা হয়।
এনবিআরের প্রস্তাবে বলা হয়, ব্যবসায়ীরা যাতে সহজে হিসাব রাখতে পারেন, এজন্য বিশেষ সফটওয়্যার সংবলিত ৫০ হাজার ইলেকট্রুনিক ক্যাশ রেজিস্ট্রার (ইসিআর) বা পয়েন্ট অব সেল (পিওএস) মেশিন কেনা দামে দেয়া হবে। জানা গেছে, বৈঠকে আগামী অর্থবছরের বাজেটের আকার ৪ লাখ ২৫০ কোটি টাকা নির্ধারণ করার সিদ্ধান্ত হয়। এনবিআরের রাজস্বের সম্ভাব্য লক্ষ্যমাত্রা ২ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হচ্ছে। ফলে প্রস্তাবিত বাজেটে ঘাটতির পরিমাণ জিডিপির ৫ শতাংশের বেশি নির্ধারণ করা হচ্ছে। এছাড়া জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ৭ দশমিক ৪ শতাংশ ও গড় মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৮ শতাংশের মধ্যে রাখার লক্ষ্য ধরা হয়েছে। এনবিআর সূত্র জানায়, তেল ও গ্যাস, সিগারেট, সিমেন্ট, মোবাইল ফোন সেবা- চারটি খাত থেকেই মোট মূসকের প্রায় ২০ শতাংশ আসে। এ চারটি খাতেই ১৫ শতাংশ হারে মূসক আছে। গত অর্থবছর এ চারটি খাত থেকে ১০ হাজার কোটি টাকার বেশি মূসক আদায় হয়েছে। মূসক হার কমিয়ে দেয়া হলে এ খাতগুলো থেকে আদায় কম হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, অর্থ প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান। এছাড়া অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন আয়কর নীতির সদস্য পারভেজ ইকবাল, প্রথম সচিব সব্বির আহমেদ, ভ্যাট নীতির সদস্য ব্যারিস্টার জাহাঙ্গীর হোসেন, প্রথম সচিব ফায়জুর রহমান, শুল্ক নীতির সদস্য লুৎফর রহমান, প্রথম সচিব ফখরুল আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

নেইমার ম্যাজিকে শিরোপার দৌড়ে রইল বার্সা

লক্ষ্য ছিল একটাই, শুধু জয়। নেইমারের দুর্দান্ত এক হ্যাট্রিকে সেই জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে লুইস এনরিকের বার্সেলোনা। রোববার রাতে লাস পালমাসের বিরুদ্ধে ৪-১ গোলে জয় তুলে নেয় মেসিরা। এজয়ের ফলে শেষ ম্যাচ অবধি বেচে রইলো তাদের শিরোপা জয়ের আশা। বার্সার পয়েন্ট এখন ৮৭। একম্যাচ কম খেলে শিরোপার অন্য প্রতিদ্বন্ধী রিয়েল মাদ্রিদের পয়েন্টও ৮৭। তাই জিদানের দলের হাতেই এখনো শিরোপা ভাগ্য। লাস পালমাসের মাঠে ওই খেলায় অপর গোলটি করেন উরুগুয়েন স্টাইকার লুইস সুয়ারেস। খেলার ২৫তম মিনিটে সুয়ারেজের পাস থেকে নেইমারের গোলে এগিয়ে যায় বার্সা।
এর ঠিক দুই মিনিট পরেই সুয়ারেজের গোল। এবারে সহায়ক ভূমিকায় ছিলেন নেইমার। প্রথমার্ধ ২ গোলে এগিয়ে থেকেই শেষ করে বার্সা। বিরতির পর স্বাগতিকরা বেশ কয়েকটি সুযোগ তৈরি করে। কয়েকটি সুযোগ নষ্ট করলেও ৬৩তম মিনিটে গোলের দেখা পায় পালমোস। ডান দিক থেকে বোয়েটাংয়ের ক্রসে পা বাড়িয়ে বল জালে পাঠান পেদ্রো বিগাস। এরপরেই ৬৭তম মিনিটে রাকিতিচের ক্রসে নেইমারের হেডে ব্যবধান বাড়ায় বার্সেলোনা। চার মিনিট পর আবারও বল জালে পাঠিয়ে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন নেইমার।

রোনাল্ডোর নৈপূণ্যে শিরোপার কাছাকাছি রিয়াল

ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর জোড়া গোলে লা লিগার শিরোপা জয়ের পথে আরও এগিয়ে গেল রিয়াল মাদ্রিদ। রোববার রাতে নিজেদের মাঠ সান্টিয়াগো বার্নাব্যুতে অতিথি সেভিয়াকে ৪-১ গোলের ব্যবধানে হারায় জিদান শিষ্যরা। রিয়ালের অন্য দুই গোলদাতার মধ্যে রয়েছেন নাচো ফের্নান্দেস ও টনি ক্রুস। আর সেভিয়ার হয়ে একমাত্র গোল করেন স্তেভান ইয়োভেতিচ। আক্রমণাত্মক শুরুর পর দশম মিনিটে বিতর্কিত গোলে এগিয়ে যায় রিয়াল। ডি-বক্সের কিছুটা বাইরে মার্কো আসেনসিও ফাউলের শিকার হলে ফ্রি-কিক পায় রিয়াল। সিদ্ধান্তটি নিয়েই রেফারির সঙ্গে কথা বলছিল সেভিয়ার খেলোয়াড়রা। কিন্তু এরই মাঝে বল বসিয়ে ফাঁকা জালে পাঠিয়ে দেন রিয়াল ডিফেন্ডার নাচো ফের্নান্দেস। রেফারিও বাজিয়ে দেন গোলের বাঁশি। ২৩তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন রোনাল্ডো। আর দ্বিতীয়ার্ধের চতুর্থ মিনিটে গোলের দেখা পান সেভিয়ার ইয়োভেতিচ। ভিতোলোর পাস পেয়ে ডি-বক্সের বাইরে থেকে ডান পায়ের শটে বল জালে জড়ালে ম্যাচে ফেরে সেভিয়া।
তবে ৭৮তম মিনিটে চমৎকার গোলে দলকে জয়ের পথ দেখান রোনাল্ডো। টনি ক্রুসের পাস থেকে বল পেয়ে তা জালে জড়ান সিআর সেভেন। এবারের লিগে রোনাল্ডো ২২টি গোল করেছেন। ৩৫ গোল করে গোলদাতার তালিকায় শীর্ষে আছেন লিওনেল মেসি। শেষ পর্যন্ত ৮৪তম মিনিটে ব্যবধান আরও বাড়িয়ে সব অনিশ্চয়তার ইতি টানেন ক্রুস। নাচোর পাস থেকে বল পেয়ে গোল করেন তিনি। এই সেভিয়ার কাছেই চলতি মৌসুমের প্রথমে হারের স্বাদ পেয়েছিল রিয়াল। গত ১৫ জানুয়ারি ম্যাচটিতে ২-১ গোলে হেরেছিল জিদানের দল। এদিকে বুধবার সেল্তা ভিগোর মাঠে খেলার পর আগামী রোববার শেষ রাউন্ডে মালাগার মাঠে নামবে রিয়াল। রোববার একই সময়ে শেষ রাউন্ডের ম্যাচে এইবারের বিপক্ষে ঘরের মাঠে খেলবে বার্সেলোনা। দুই দলেরই বর্তমানে পয়েন্ট ৮৭। মুখোমুখি লড়াইয়ে এগিয়ে শীর্ষে বার্সেলোনা। তবে এক ম্যাচ কম খেলায় শিরোপা ভাগ্য এখনো জিনেদিন জিদানের দলের হাতেই। বার্সেলোনা নিজেদের শেষ ম্যাচ জিতলেও রিয়াল দুই ম্যাচে ৪ পয়েন্ট পেলেই ২০১২ সালের পর প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হবে।

ইতিহাস গড়ে বিদায় মিসবাহ-ইউনুসের

৫৯ বছরের ব্যর্থতার বলয় ভেঙে ক্যারিবীয় মাটিতে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে পাকিস্তান। পাক বোলার ইয়াসির শাহর দুর্দান্ত বোলিংয়ে ডোমিনিকা টেস্টে নাটকীয় জয় পেয়েছে মিসবাহ-উল-হকের দল। তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজের শেষ ম্যাচটি উভয় দলের জন্য ছিল গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ম্যাচের প্রথম দিন বৃষ্টিতে ভেসে গেলে খেলা অনেকটাই ড্রয়ের দিকে এগুচ্ছিল। এ অবস্থায় চতুর্থ দিনে উভয় দলের বোলারদের কল্যাণে শেষ দিনটি হয়ে উঠে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আর দায়িত্বশীল বোলিংয়ে নিজেদের কাজটি ঠিক মতোই করেন বোলাররা। ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ১০১ রানে হারিয়ে মিসবাহ-উল-হক ও ইউনুস খানকে দারুণ এক উপহার দেন সতীর্থরা। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইতিহাস ভিন্ন হতে পারতো। মাত্র এক ওভার বাকি থাকতে ২০২ রানে অলআউট হয়ে ম্যাচটি ড্র করতে ব্যর্থ হয় ক্যারিবীয়রা। ড্র করতে পারলে ক্যারিবীয় মাটি মিসবাহ-ইউনুসদের কাছে অপরাজেয়ই থেকে যেত। জয়ের জন্য রোববার তৃতীয় ও শেষ টেস্টের পঞ্চম দিনে পাকিস্তানের দরকার ছিল ৯ উইকেট, ওয়েস্ট ইন্ডিজের ২৯৭ রান। সিরিজে ইয়াসিরের তৃতীয় পাঁচ উইকেটে সেই লক্ষ্যে পৌঁছায় পাকিস্তান। তবে শেষ দিন বীরোচিত ইনিংসের কল্যাণে শেষ পর্যন্ত ম্যাচ জমিয়ে রাখেন ক্যারিবীয় ব্যাটসম্যান রোস্টন চেইস। চেইসের হার না মানা ২৩৯ বলে ১০১ রান ম্যাচ শেষে যে কেবল তার আক্ষেপই বাড়িয়েছে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। খেলার শেষের দিকে আগের ওভারে দারুণ বোলিংয়ে মোহাম্মদ আমির নিশ্চিত করেন পরের ওভারে স্ট্রাইকে থাকবেন শ্যানন গ্যাব্রিয়েল। ইয়াসিরের সেই ওভারের চার নম্বর বলে আম্পায়ার আউট দিলেও রিভিউ নিয়ে বাঁচেন গ্যাব্রিয়েল। পরের বলে সুযোগ এসেছিল সিঙ্গেল নেয়ার, শেষ ওভারটি নিজে খেলে দিবেন ভেবেই হয়তো রান নেননি রোস্টন চেইস। লেগ স্পিনারের শেষ বলটায় পাকিস্তানের সব ফিল্ডার ঘিরে ধরে গ্যাব্রিয়েলকে। চাপ কাটাতেই হয়তো সজোরো হাঁকাতে গিয়ে টেনে আনেন স্টাম্পে। বোল্ড স্বাগতিকদের ১১ নম্বর ব্যাটসম্যান। হতভম্ব হয়ে যান গ্যাব্রিয়েল, বিশ্বাস হচ্ছিল না চেইসের। সেই রানটা না নেয়ার জন্যই হয়তো আক্ষেপ করছিলেন। ম্যাচ বাঁচানোর খুব কাছে গিয়ে হারতে হয় ক্যারিবীয়দের। আর শেষ পর্যন্ত সতীর্থদের কাঁধে চড়ে শেষবারের মতো মাঠ ছাড়েন ইউনুস-মিসবাহ। ৯২ রানে ৫ উইকেট নিয়ে পাকিস্তানের সেরা বোলার হন ইয়াসির। তরুণ পেসার হাসান ৩ উইকেট নেন ৩৩ রানে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
পাকিস্তান ১ম ইনিংস: ৩৭৬
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১ম ইনিংস: ২৪৭
পাকিস্তান ২য় ইনিংস: ১৭৪/৮ ইনিংস ঘোষণা
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২য় ইনিংস: ৯৬ ওভারে ২০২
ফল: পাকিস্তান ১০১ রানে জয়ী
সিরিজ: ৩ ম্যাচের সিরিজে ২-১ ব্যবধানে জয়ী পাকিস্তান
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: রোস্টন চেইস
ম্যান অব দ্য সিরিজ: ইয়াসির শাহ

সাইবার আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে করণীয়

ইউরোপের নিরাপত্তা সংস্থা ইউরোপোল বলছে, শুক্রবার সারা পৃথিবীতে হ্যাকাররা যে সাইবার আক্রমণ চালিয়েছে, তাতে ১৫০টি দেশের ২ লক্ষ কম্পিউটার আক্রান্ত হয়েছে। আরো আক্রমণের আশংকা করছেন বিশেষজ্ঞরা। বাংলাদেশেরও বেশ কিছু ব্যক্তি ও বড় প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার এই হামলার শিকার হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে খবর পাওয়া গেছে। যদিও 'গ্রাহকদের মধ্যে আতংক সৃষ্টির ভয়ে' বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এ কথা গোপন রাখার চেষ্টা করছে। আক্রান্ত কম্পিউটারে ব্যবহারকারীরা কোন ফাইল খুলতে পারছেন না, এবং সেগুলো আটকে দিয়ে কমপিউটারের পর্দায় একটি বার্তার মাধ্যমে 'মুক্তিপণ' হিসেবে টাকা দাবি করা হচ্ছে। এ আক্রমণ থেকে কিভাবে রক্ষা পাওয়া সম্ভব? বিবিসির ক্রিস ফক্স এ ব্যাপারে পরামর্শ দিচ্ছেন, সাধারণ কম্পিউটার ব্যবহারকারীরা তিনটি জিনিস করতে পারেন। "একটি হচ্ছে, আপনার কম্পিউটার , ল্যাপটপ, আইপ্যাড, ট্যাবলেট বা মোবাইল ফোনে এর প্রস্তুতকারকরা যে সব সফটওয়্যার আপডেট করতে বলেন,
তা ঝুলিয়ে রাখবেন না। সঙ্গে সঙ্গে করে ফেলুন।" "অচেনা বা অপ্রত্যাশিত কোন ই-মেল খুলবেন না, কোন এ্যাটাচমেন্ট ডাউনলোড করবেন না। কোন অচেনা লিংকের ওপর ক্লিক করবেন না।" "তিন নম্বর: আপনার কম্পিউটার যদি এখনো পুরানো অপারেটিং সিস্টেম যেমন 'উইনডোজ এক্সপি' দিয়ে চলে - যার এখন আর কোন টেকনিক্যাল সাপোর্ট পাওয়া যায় না - সেগুলো ব্যবহার করা অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ । এগুলো আপগ্রেড করুন, নতুন অপারের্টিং সিস্টেম ব্যবহার করুন - যেগুলোর নিরাপত্তার জন্য এর নির্মাতারা নিয়মিত আপডেট দিয়ে থাকেন।" সোমবার পশ্চিমা বিশ্বের দেশগুলোতে সাপ্তাহিক ছুটি শেষের পর অফিস-আদালত খুললে আরো আক্রমণ হতে পারে - এমন আশংকা করছেন বিশেষজ্ঞরা। ইউরোপোলের প্রধান রব ওয়েইনরাইট বলেছেন, যেসব প্রতিষ্ঠান তাদের সিস্টেমের সবশেষ নিরাপত্তা প্যাচ আপডেট করে নি, তাদের উচিৎ হবে সোমবার সকালের আগেই তা করে নেয়া। সূত্র: বিবিসি

আজ ফের সাইবার হামলার আশঙ্কা

বিশ্বজুড়ে সাইবার হামলার হুমকি বেড়ে চলেছে। আজ এ হামলার শিকার হওয়া মানুষের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। ইউরোপের পুলিশ সংস্থা ইউরোপোলের নির্বাহী পরিচালক রব ওয়েইনরাইট এ কথা বলেছেন। কম্পিউটার ব্যবস্থায় অচলাবস্থা সৃষ্টি করা শুক্রবারের সাইবার হামলার ব্যাপকতা রোববার পর্যন্ত আরও বেড়েছে। রব ওয়েইনরাইট রোববার বলেছেন, শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত অন্তত ১৫০টি দেশ আক্রান্ত হয়েছে। হামলার শিকারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখের বেশি। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া সাইবার হামলাকে ‘নজিরবিহীন’ আখ্যা দিয়ে বিবিসিকে ওয়েইনরাইট বলেন, সোমবার সকালে কাজে ফিরে আরও অনেক মানুষই হয়তো দেখবেন যে তারা ক্ষতির শিকার হয়েছেন।
শুক্রবারের সাইবার হামলায় বিশ্বের ১৫০টি দেশের দুই লাখের বেশি কম্পিউটার নেটওয়ার্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হ্যাকারদের ছড়িয়ে দেয়া ক্ষতিকর সফটওয়্যারে শুক্রবার বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের হাজারও স্থানের কম্পিউটার ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ে। আক্রান্ত দেশগুলোর তালিকায় আছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, রাশিয়া, স্পেন ও ইতালি। হ্যাকাররা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির ওয়েবসাইট অচল করে দিয়ে বিনিময়ে ৩০০ মার্কিন ডলার দাবি করে, যা বিটকয়েনের মাধ্যমে পরিশোধ করতে বলা হয় আক্রান্ত কম্পিউটারের স্ক্রিনে আরও বলা হয়, এ ‘মুক্তিপণ’ ৩ দিনের মধ্যে পরিশোধ না করলে এর পরিমাণ দ্বিগুণ হয়ে যাবে, আর ৭ দিনের মধ্যে না দিলে ‘জিম্মি’ ফাইলগুলো মুছে ফেলা হবে।