Wednesday, April 27, 2011

আগামী অর্থবছর সহজ নয়: অর্থমন্ত্রী

দেশের উন্নয়নের ধারা বজায় রাখতে গেলে সামষ্টিক অর্থনীতি স্থিতিশীল রাখতে হবে। কিন্তু সমস্যা হলো দ্রব্যমূল্য, ব্যাংকের উচ্চ সুদের হার ও বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার। আগামী অর্থবছরটা তাই সহজ নয়, বরং বিপৎসংকুল হবে। তবে সতর্ক থাকতে হবে যে অর্থনীতির গতিটা যাতে সুপথে থাকে।
বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশন (এফবিসিসিআই) এবং বেসরকারি টিভি চ্যানেল এনটিভির যৌথ আয়োজনে ‘কেমন বাজেট চাই ২০১১-১২’ শীর্ষক আলোচনায় গত রোববার রাতে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এসব কথা বলেছেন।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ‘মূল্যস্ফীতি এ বছরও আছে, আগামী দিনেও থাকবে। কারণ এখনো জানি না জ্বালানি তেলের দাম কত দূর যাবে। আর সুদের হার ও বিনিময় হার বাড়ার কারণে সংগত কারণেই বাড়বে আমদানি খরচ।’
রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত এই বাজেট আলোচনায় অন্যান্যের মধ্যে বাণিজ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ ফারুক খান, প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানিবিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক মন্ত্রী ওসমান ফারুক, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা তপন চৌধুরী, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য ও ওপেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান সিনহা অংশ নেন।
সরাসরি সম্প্রচার করা এ আলোচনায় চট্টগ্রাম থেকে অংশ নেন চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (সিসিসিআই) সভাপতি মোর্শেদ মুরাদ ইব্রাহীম ও বিশিষ্ট খাদ্যপণ্য আমদানিকারক আবুল বশর চৌধুরী। আর নাটোর থেকে কয়েকজন ধান, পাট ও আলুচাষি অংশ নেন। গোটা অনুষ্ঠানটির সঞ্চালক ছিলেন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি এ কে আজাদ।
অর্থমন্ত্রী বলেন, কেউ কেউ বলছেন, ‘ব্যাংক খাতে তারল্য সংকট চলছে। ব্যাপারটি মোটেও তা নয়। কিছু ব্যাংকের তারল্য সংকট থাকতে পারে। তবে গোটা ব্যাংক খাতে কোনো সংকট নেই।’
আমদানি ব্যয় জাতীয় আয়ের ৩০ শতাংশ হতে পারে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, এটি তেমন কোনো সমস্যা তৈরি করবে না। কারণ, প্রবাসী-আয় (রেমিট্যান্স) ও রপ্তানি আয় মিলে এর চেয়েও বেশি হবে।
বাণিজ্যমন্ত্রী ফারুক খান বলেন, ‘বিশ্বের ২০০ দেশের মধ্যে বাংলাদেশ একটি। আমরা আলাদা কোনো গ্রহে বসবাস করছি না। সব দেশেই পণ্যমূল্য বেড়েছে, বাংলাদেশেও বেড়েছে। নানা পদক্ষেপ নেওয়ার কারণে বরং বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় বাংলাদেশে পণ্যমূল্য কম বেড়েছে।’
তবে বাণিজ্যমন্ত্রী এ-ও বলেন, ‘আমি বলছি না যে, যে দাম আছে তা ঠিক আছে। বাংলাদেশে অনেক গরিব মানুষ। তাদের জন্য কম দামে খাদ্যপণ্য কেনার ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার।’
দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, টাকার মান কমেছে। শঙ্কা হলো, আগামী দিনে খাদ্যে মূল্যস্ফীতি ঘটবে। সরকারের দিক থেকে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের কোনো আশ্বাসও পাওয়া যাচ্ছে না।
ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে কম ঋণ গ্রহণ, টাকার অতি দরপতন ঠেকানো এবং বিনিয়োগকে আঘাত না করার পরামর্শ দিয়ে দেবপ্রিয় বলেন, সরকারকে খেয়াল রাখতে হবে যে বৈদেশিক লেনদেনের ঘাটতিতে নতুন ধরনের উৎকণ্ঠা শুরু হয়েছে।
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, শেয়ারবাজারের কারণে অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব পড়েছে। মুদ্রাবাজারেও মারাত্মক সংকট চলছে। অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে অন্য একটি খেলাপি সংস্কৃতি শুরু হওয়ার আশঙ্কা করছেন তিনি।
তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বলেন, কেতাবি অর্থনীতিবিদেরা প্রায়ই ভর্তুকি উঠিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দেন। তাঁদের মাটিতে পা নেই। ভর্তুকি যেসব খাতে দেওয়া হয়, সেগুলো অনুৎপাদনশীল খাত নয়।
তপন চৌধুরী বলেন, নতুন করদাতার সন্ধান করতে হবে। দুর্ভাগ্যজনক হলো, যাঁরা কর দেন, তাঁদেরই আরও বেশি চাপ দেওয়া হয়।
আনিসুর রহমান সিনহা বলেন, কয়লানীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের বড় প্রকল্প হাতে নিতে হবে।

পুঁজিবাজারে সূচক ও লেনদেন কমেছে

দেশের পুঁজিবাজারে আজ মঙ্গলবার বেশিরভাগ শেয়ারের দাম কমেছে। এর ফলে কমেছে সাধারণ সূচক। দুই স্টক এক্সচেঞ্জে আজ লেনদেনও আগের দিনের চেয়ে কম হয়েছে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শেয়ারবাজার তদন্ত রিপোর্ট নিয়ে বাজারে বেশ অস্থিরতার সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে বিনিয়োগকারীরা সক্রিয় হচ্ছেন না। তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। যার ফলে বাজারে নিম্নমুখী প্রবণতা বিরাজ করছে।
ডিএসই সূত্রে জানা যায়, আজ লেনদেনের ২৫ মিনিটের মাথায় ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচক ১০০ পয়েন্ট বেড়ে যায়। এরপর থেকে সূচক নিম্নগামী হতে থাকে, যা সারাদিনই অব্যাহত থাকে। দিন শেষে সূচক ৫৭.৬৬ পয়েন্ট কমে ৫৮০৬.৩১ পয়েন্টে দাঁড়ায়।
ডিএসইতে হাত বদল হওয়া ২৫৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বেড়েছে ৮৮টির, কমেছে ১৫৪টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১১টি প্রতিষ্ঠানের দাম।
এ ছাড়া ডিএসইতে আজ লেনদেনের পরিমাণ ৪৪৬ কোটি টাকা, যা গতকালের চেয়ে ১৮৫ কোটি টাকা কম।
ডিএসইতে আজ লেনদেনে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে বেক্সিমকো, ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ, বেক্সটেক্স, মালেক স্পিনিং, বিএসআরএম স্টিল, আফতাব অটো, তিতাস গ্যাস, কনফিডেন্স সিমেন্ট, ডেসকো ও অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ।
আজ সবচেয়ে বেশি বেড়েছে প্রাইম ফিন্যান্স প্রথম মিউচুয়াল ফান্ডের শেয়ারের দাম। এ ছাড়া ষষ্ঠ আইসিবি, যমুনা অয়েল, স্ট্যান্ডার্ড সিরামিক, গ্রামীণ স্কীম-১, অরিয়ন ইনফিউশন, রিপাবলিক ইনস্যুরেন্স, সায়হাম টেক্সটাইল, প্রাইম ব্যাংক ও এনবিএল দাম বৃদ্ধিতে শীর্ষ ১০ এর তালিকায় রয়েছে।
আজ ডিএসইতে দাম কমে যাওয়া শীর্ষ ১০ এর তালিকায় রয়েছে নিটল ইনস্যুরেন্স, ন্যাশনাল হাউজিং ফিন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, আইপিডিসি, কনফিডেন্স সিমেন্ট, আজিজ পাইপ, ইউনাইটেড ইনস্যুরেন্স, পূরবী জেনারেল ইনস্যুরেন্স, আরামিট সিমেন্ট, সিটি জেনারেল ইনস্যুরেন্স ও সাভার রিফ্রাক্টরিজ ।
অন্যদিকে আজ চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক ১২৯.৬৫ পয়েন্ট কমে ১৬৩০৪ পয়েন্টে দাঁড়ায়। সিএসইতে লেনদেন হওয়া ১৯১টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বেড়েছে ৫০টির, কমেছে ১৩০টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১১টি প্রতিষ্ঠানের দাম। আজ স্টক এক্সচেঞ্জটিতে ৬৬ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে , যা গতকালের চেয়ে ১৮ কোটি টাকা কম।

ব্যাংকের উচ্চ সুদের জন্য পুনর্বিনিয়োগ করা যাচ্ছে না

ঢাকা চেম্বারের সভাপতি আসিফ ইব্রাহীম বলেছেন, বাংলাদেশের সব ব্যবসায়ীই ঋণখেলাপি নন, যাঁরা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে নিয়মিত পরিশোধ করেন। কিন্তু ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদের কারণেই অনেকে পুনর্বিনিয়োগ করতে পারছেন না।
আসিফ ইব্রাহীম বাংলাদেশের ৬০-৭০টি প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করে তাদের ৬-৭ শতাংশ সুদে ঋণ দেওয়ার জন্য এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) প্রতি আহ্বান জানান। ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নয়নের স্বার্থে এ মুহূর্তে ব্যাংক ঋণের সুদের হার বাড়ানো যৌক্তিক হবে না বলে মন্তব্য করেন।
গতকাল সোমবার ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) এবং কিস্টোন বিজনেস সাপোর্ট কোম্পানি লিমিটেডের যৌথ আয়োজনে ‘বেসরকারি খাতের মূল্যায়ন সমীক্ষা’ শীর্ষক এক আলোচনায় ঢাকা চেম্বারের সভাপতি এসব কথা বলেন।
ঢাকা চেম্বার মিলনায়তনে আয়োজিত এ আলোচনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব বিজনেসের অধ্যাপক এম ফওজুল কবির খান। মুক্ত আলোচনায় ঢাকা চেম্বারের পরিচালক এম আবু হোরায়রা, সাবেক পরিচালক আর আই খান, এফসিএ, এম এস সিদ্দিকী, শোয়েব চৌধুরী, উইমেন চেম্বারের ভাইস প্রেসিডেন্ট সেলিনা কাদের, মোস্তাফিজুর রহমান ও শহীদুল হাসান অংশ নেন।
মূল প্রবন্ধে এম ফওজুল কবির খান বলেন, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারি (পিপিপি) দক্ষতার সঙ্গে কাজ করতে পারছে না। তিনি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্বার্থে পিপিপিকে সক্রিয় করার জন্য কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
এডিবির সিনিয়র ফিনানশিয়াল সেক্টর অফিসার এম এম জিল্লুর রহমান বলেন, বেসরকারি খাত এবং বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়নে নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে এডিবি।
ডিসিসিআইয়ের ঊর্ধ্বতন সহসভাপতি টি আই এম নূরুল কবীর বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি খাতে দক্ষতা উন্নয়নে পিপিপির আওতায় এডিবিকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
আলোচনায় বক্তারা ঋণের সুদের হার ও কৃষি খাতের উন্নয়নের জন্য এডিবিকে এগিয়ে আসার এবং বিনিয়োগ-সহায়ক নীতিমালা প্রণয়নের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

সিপিআইএম পশ্চিমবঙ্গকে ‘হত্যাপুরী’ বানিয়ে রেখেছে

ক্ষমতাসীন সিপিআইএমের ক্যাডার বাহিনী গোটা পশ্চিমবঙ্গকে ‘হত্যাপুরী’ বানিয়ে রেখেছে। বামপন্থী সরকারের ব্যর্থতায় এ রাজ্যের অর্থনীতি সংকটের মুখে পড়েছে। গতকাল সোমবার কলকাতায় কংগ্রেস-তৃণমূল কংগ্রেস জোটের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর সময় ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পি চিদাম্বরম সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গ সবচেয়ে নিকৃষ্ট সরকারশাসিত রাজ্য।
সাংবাদিকদের চিদাম্বরম বলেন, ‘এই রাজ্যে অনেক দিন ধরে এমন একটি সরকার আমাদের সঙ্গে রয়েছে, যারা পুরো প্রশাসন-প্রক্রিয়াকে অবহেলা করেছে। এ দেশের সবচেয়ে নিকৃষ্ট সরকার দ্বারা প্রশাসিত রাজ্য হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ। এ মুহূর্তে আমাদের কাছে সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘দুই থেকে চার মাস ধরে আমি মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য এবং তাঁর সহকর্মীদের বলে আসছি যে পশ্চিমবঙ্গের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী বরাবরই সে কথা উড়িয়ে দিয়েছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘অবৈধ অস্ত্র আমদানি করে এবং সহিংসতা ছড়িয়ে গোটা রাজ্যকে হত্যাপুরীতে পরিণত করার জন্য আমি ন্যায়সম্মতভাবেই সিপিআইএম ও তার ক্যাডারদের দায়ী করছি।’
চিদাম্বরম বলেন, ‘আমার দৃঢ় বিশ্বাস, নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তিত হলে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার এসব হত্যাকাণ্ড বন্ধে একজোট হয়ে কাজ করবে।’
তৃতীয় দফা ভোট গ্রহণের অংশ হিসেবে আগামীকাল বুধবার রাজ্যের ৭৫টি আসনে ভোট হবে। কংগ্রেস-তৃণমূল কংগ্রেস জোটের জয়ের ক্ষেত্রে এ আসনগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
চিদাম্বরম বলেন, ২০০৪ সাল থেকে একমাত্র পশ্চিমবঙ্গ ছাড়া ভারতের অন্য সব রাজ্যের রাজস্ব আয় বেড়েছে। গত চার-পাঁচ বছরে একমাত্র পশ্চিমবঙ্গ ছাড়া অন্য কোনো রাজ্য কেন্দ্রের তহবিল থেকে ওভারড্রাফট (গচ্ছিত অর্থের চেয়ে বেশি অর্থ নেওয়া) নেয়নি। এ রাজ্যের অর্থনীতিকে ‘সংকটাপন্ন’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০১০-১১ অর্থবছরে পশ্চিমবঙ্গ সাতবার কেন্দ্র থেকে ওভারড্রাফট নিয়েছে। ২০১১-১২ অর্থবছর শুরু হতে না হতেই একবার ওভারড্রাফট নিয়ে ফেলেছে তারা।
মন্ত্রী বলেন, পশ্চিমবঙ্গ সবচেয়ে দেনায় ডুবে থাকা রাজ্যগুলোর একটি। অন্য রাজগুলোর তুলনায় এ রাজ্যের করের গড় প্রবৃদ্ধির অনুপাত সবচেয়ে কম।
চিদাম্বরম বলেন, এই এপ্রিলে পশ্চিমবঙ্গ তিন হাজার ১৭৩ কোটি রুপি ধার করার প্রক্রিয়া শেষ করেছে। এই অর্থের বিপরীতে চড়া সুদ পরিশোধ করতে হবে। এতে রাজস্ব ঘাটতি ‘ভয়ানক’ অবস্থানে চলে যাচ্ছে। তিনি বলেন, এই সরকারের মাধ্যমে রাজ্যের অবনতি ছাড়া উন্নতি সম্ভব নয়। একমাত্র নতুন সরকারের সৃজনশীল নতুন চিন্তা রাজ্যকে এ অবস্থা থেকে রক্ষা করতে পারে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পশ্চিমবঙ্গের মানুষ স্পষ্টতই পরিবর্তনের দিকে যাচ্ছে। রাজ্যে পরিবর্তনের হাওয়া বইছে, এ জন্য তিনি পশ্চিমবঙ্গের মানুষকে আগাম শুভেচ্ছা জানাতে তাদের রাজ্যে এসেছেন বলে জানান।

কংগ্রেস নেতা সুরেশ কালমাদি গ্রেপ্তার

ভারতের ক্ষমতাসীন কংগ্রেস পার্টির সাংসদ ও কমনওয়েলথ গেমস আয়োজক কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান সুরেশ কালমাদিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে ভারতের কেন্দ্রীয় পুলিশ গতকাল সোমবার তাঁকে গ্রেপ্তার করে। দেশটির কর্মকর্তারা এ কথা জানিয়েছেন।
গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কালমাদিকে ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরোর (সিবিআই) নয়াদিল্লির কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সিবিআইয়ের মুখপাত্র আর কে গৌর জানান, ‘কালমাদির জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।’ এর আগে চলতি বছর কমনওয়েলথ গেমস আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যানের পদ থেকে কালমাদিকে অপসারণ করা হয়।
একই অভিযোগে গত ফেব্রুয়ারিতে কালমাদির দুই প্রধান সহযোগী কমনওয়েলথ গেমস আয়োজক কমিটির মহাসচিব ললিত ভানোত ও মহাপরিচালক ভি কে ভার্মাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
কমনওয়েলথ গেমস উপলক্ষে ২০০৯ সালে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে কুইন্স ব্যাটন রিলের উদ্বোধন হয়। ওই অনুষ্ঠানে লন্ডনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এএম ফিল্মস ট্যাক্সি ও বড় পর্দার টেলিভিশন মনিটরসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম সরবরাহ করে। অভিযোগ রয়েছে, কালমাদি কোনো ধরনের চুক্তি ছাড়াই এএম ফিল্মস ও এর মালিক আশিস প্যাটেলের জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থ অনুমোদন করেন।
তখন কারণ হিসেবে কালমাদি এনডিটিভিকে বলেন, লন্ডনের কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানের শেষ মুহূর্তে ওই সরঞ্জাম জোগাড় করার জন্য তাঁকে অনুরোধ করেন। আর হাতে সময় না থাকায় কোনো চুক্তি করা সম্ভব হয়নি। তবে অর্থ লেনদেনের হিসাব পরীক্ষার পর প্যাটেলের ব্যাপারে সন্দেহ হয় কর্মকর্তাদের। এর পরই কালমাদির ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের আদান-প্রদান করা ই-মেইল পরীক্ষা করে দেখা যায়, সরঞ্জামের চড়া মূল্য আদায়ের ব্যাপারে তাঁরা প্যাটেলকে প্রভাবিত করেছেন।
জানুয়ারিতে সিবিআই আর্থিক অনিয়মের বিষয়ে কালমাদিকে প্রথমবারের মতো জিজ্ঞাসাবাদ করে।

কান্দাহারের কারাগার থেকে সুড়ঙ্গপথে ৫০০ বন্দীর পলায়ন

আফগানিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলীয় কান্দাহার প্রদেশের প্রধান কারাগার থেকে একটি গুপ্ত সুড়ঙ্গ দিয়ে প্রায় ৫০০ বন্দী পালিয়েছে। তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন তালেবান নেতাও রয়েছেন। গতকাল দিবাগত রাতে এ ঘটনা ঘটে। সুড়ঙ্গ খুঁড়ে এভাবে বন্দীদের পলায়নে সহায়তা করার দায়িত্ব স্বীকার করেছে তালেবান।
প্রদেশের গভর্নর তরিয়ালাই ওয়েসা জানান, মোট ৪৭৮ জন বন্দী পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে। কারাগারের নিরাপত্তায় নিয়োজিত রক্ষীদের দায়িত্বে অবহেলাই এ জন্য দায়ী। বন্দীরা যে সুড়ঙ্গ দিয়ে পালিয়ে যায়, এর উৎসমুখ কর্তৃপক্ষ খুঁজে পেয়েছে। গভর্নর জানান, কারাগারের পার্শ্ববর্তী একটি বাড়ি থেকে সুড়ঙ্গটি খোঁড়া হয়।
তালেবানদের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, কয়েক মাস ধরে খুব সতর্কতার সঙ্গে খোঁড়া ওই সুড়ঙ্গপথে ৫৪১ জন বন্দী পালাতে সক্ষম হয়। সুড়ঙ্গ দিয়ে বেরিয়ে এসে বন্দীরা নিরাপদ স্থানে সরে যায়। গত রোববার রাতে খোঁড়ার কাজ শেষ হয়েছিল।

সিরিয়ায় সেনা অভিযানে আরও ২৫ জন নিহত

সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের অনুগত বাহিনীর অভিযানে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর দারায় কমপক্ষে ২৫ জন নিহত হয়েছে। গত রোববার দিবাগত রাতে ট্যাংক নিয়ে তারা এ অভিযান চালায়। ভোরে দামেস্কের শহরতলী দুমাত ও আল-মুয়াদ্দেমায়ও অভিযান চালায় তারা। এতেও বেশ কয়েকজন আহত হয়। এদিকে দারায় আসাদের অনুগত বাহিনীর তাণ্ডবের পর জর্ডানের সঙ্গে দেশটির সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
দারার একজন মানবাধিকারকর্মী আবদুল্লাহ আবাজিদ জানান, নিরাপত্তা বাহিনীর লোকজন শহরে বোমা বিস্ফোরণ ঘটাতে থাকে। এতে কমপক্ষে ২৫ জন প্রাণ হারায়।
প্রত্যক্ষদর্শী লোকজন জানান, বন্দুক নিয়ে ট্যাংকে করে নিরাপত্তা বাহিনীর সেনারা শহর চষে বেড়ায়। তারা বাড়িতে বাড়িতে ঢুকে বেসামরিক লোকজনের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। এ সময় তাদের হাত থেকে বাঁচতে যারা ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাচ্ছিল, কারফিউ ভঙ্গের দায়ে তাদের গুলি করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী মোহসেন টেলিফোনে আল-জাজিরা টেলিভিশনকে জানান, অভিযানে অন্তত ২৫ জন নিহত হয়। এ সময় মসজিদগুলো থেকে মাইকে সাহায্যের আবেদন জানানো হচ্ছিল।
মানবাধিকারকর্মীরা জানিয়েছেন, গতকাল ভোররাতের দিকে তিন হাজার সেনা শহরে ঢুকে পড়ে। অভিযানের পর শহরের রাস্তায় রাস্তায় হতাহত লোকজনকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। তবে সেনারা স্নাইপার রাইফেল নিয়ে বাড়িঘরের ছাদে অবস্থান নেওয়ায় তাঁদের পক্ষে হতাহত লোকজনের সংখ্যা নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি। এদিকে দামেস্ক থেকে একজন মানবাধিকারকর্মী জানান, নিরাপত্তা বাহিনী ভোরে দুমা শহরে ঢুকে পড়ে। তারা শহরে ব্যাপক ধরপাকড় চালায়। এ সময় বেসামরিক বহু মানুষ আহত হয়। অভিযানের আগে শহরের সব টেলিযোগাযোগ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়।
এর আগে দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর জাবলায় নিরাপত্তা বাহিনী গত রোববার কমপক্ষে ১৩ এবং শুক্রবার ৯০ জন বিক্ষোভকারীকে হত্যা করে।

হোসনি মোবারককে সামরিক হাসপাতালে সরানোর নির্দেশ

মিসরের সাবেক প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারককে কায়রোর একটি সামরিক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হবে। মোবারককে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া সম্ভব বলে একজন চিকিৎসক নিশ্চিত করার পর গত রোববার দেশটির রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি এ নির্দেশ দিয়েছেন। মিসরের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা মিনার বরাত দিয়ে একটি সূত্র জানায়, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মোবারককে স্থানান্তর করা হতে পারে।
মোবারককে কায়রোর কারা হাসপাতালে রাখার জন্য যাবতীয় প্রস্তুতি চলছে। এর আগ পর্যন্ত সাময়িকভাবে তাঁকে সামরিক হাসপাতালে রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তিনি বর্তমানে শারম আল শেখের রেড সি রিসর্ট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আটক রয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও বিদ্রোহীদের মৃত্যুর ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
মোবারককে কোন সামরিক হাসপাতালে রাখা হবে, তা নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি। তবে সেটি কায়রো শহরের প্রান্তে অবস্থিত ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল সেন্টার হতে পারে বলে একটি সূত্র জানিয়েছে। সেখানে মোবারককে দুর্নীতির বিভিন্ন অভিযোগের ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি আবদেল মাগিদ মাহমুদের কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, শারম আল শেখের হাসপাতালে মোবারকের স্বাস্থ্যের অবস্থা নির্ধারণের জন্য একটি চিকিৎসক দল পাঠানো হয়েছিল। এখন তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে বলে জানা গেছে।

ক্ষমতায় এলে বন্ধ করা হবে বন্ধ্: মমতা

ক্ষমতায় এলে পশ্চিমবঙ্গে আইন করে বন্ধ্ ও অবরোধ বন্ধ করা হবে। যেখানে-সেখানে মিছিল-সমাবেশ করতে দেওয়া হবে না। গত রোববার রাতে কলকাতার বেসরকারি টিভি চ্যানেল স্টার আনন্দকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী রেলমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
মমতা বলেন, কলকাতার জনসভা করার ব্যবস্থা করা হবে শহীদ মিনার ময়দানে। সভা-সমাবেশ ছুটির দিনে করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। যদিও মমতা সিঙ্গুর বা নন্দীগ্রাম আন্দোলন করেছিলেন এই সড়ক অবরোধ, অবস্থান ধর্মঘট, বিক্ষোভ-মিছিল আর বন্ধ্ করে।
সাক্ষাৎকারে তৃণমূল নেত্রী বলেন, নির্বাচনে সিপিএম ৫০টি আসন পাবে কি না সন্দেহ। তিনি মন্তব্য করেন, যাদবপুর আসনে মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য হেরে যেতে পারেন।
মমতা বলেন, ‘১০ বছর ঘরে বসে থাকুক সিপিএম। আমরা ক্ষমতায় আসব, কাজ করব। কাজের জন্য আমাদের ১০ বছর সময় দিতে হবে।’
কবির সুমনের সহযোগিতা চান ছত্রধর: পশ্চিমবঙ্গের জঙ্গলমহলের পুলিশি সন্ত্রাসবিরোধী জনগণের কমিটির নেতা ছত্রধর মাহাত এবার সংগীতশিল্পী ও সাংসদ কবির সুমন ও প্রখ্যাত লেখিকা মহাশ্বেতা দেবীর সহযোগিতা কামনা করেছেন। কারাবন্দী ছত্রধর মাহাত এবার জঙ্গলমহলের ঝাড়গ্রাম আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ১০ মে এই আসনের নির্বাচন। ‘সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনবিরোধী মঞ্চ’ নামের একটি গণসংগঠনের পক্ষ থেকে ছত্রধর ঝাড়গ্রাম আসনে লড়ছেন।

সাঁই বাবার প্রতি শেষশ্রদ্ধা জানাতে লাখো ভক্তের ঢল

ভারতের প্রভাবশালী আধ্যাত্মিক গুরু সত্য সাঁই বাবার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে গতকাল সোমবার অন্ধ্রপ্রদেশের পুত্তাপারথিতে সমবেত হয়েছেন দেশ-বিদেশের লাখো ভক্ত-অনুরাগী।
সাঁই বাবার মরদেহ পুত্তাপারথিতে তাঁর আশ্রমে রাখা হয়। মরদেহ রাখা হয় একটি স্বচ্ছ শবাধারে। গত রোববার সাঁই বাবা মারা যান।
এই আধ্যাত্মিক গুরুর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে অনেক ভক্ত-অনুরাগী কান্নায় ভেঙে পড়েন।
সাঁই বাবাকে শেষবারের মতো দেখতে ভক্তদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করতে হয়। কিন্তু অনেক উচ্চপদস্থ ব্যক্তি লাইনে না দাঁড়িয়েও সাঁই বাবার মরদেহ দেখার সুযোগ পান। এতে অনেক ভক্ত ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।
সাঁই বাবার প্রতি যাঁরা শেষ শ্রদ্ধা জানিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে আছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বিলাসরাও দেশমুখ ও প্রফুল প্যাটেল, ক্রিকেট তারকা শচীন টেন্ডুলকার এবং তাঁর স্ত্রী অঞ্জলি।

কার্টারসহ চার বিশ্বনেতা তিন দিনের সফরে যাচ্ছেন উ. কোরিয়া

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারসহ চারজন বিশ্বনেতা চলতি সপ্তাহে তিন দিনের সফরে পিয়ংইয়ং যাচ্ছেন। তাঁরা কোরীয় উপদ্বীপের উত্তেজনা প্রশমন, পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ ও খাদ্যসংকট নিয়ে কমিউনিস্ট রাষ্ট্রটির শীর্ষনেতাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন।
সংলাপের নামে উত্তর কোরিয়া প্রতারণা করছে বলে অভিযোগ করেছে দক্ষিণ কোরিয়া। সিউল বলেছে, নিরস্ত্রীকরণ আলোচনা আবার শুরুর লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অব্যাহত চেষ্টার পরও পিয়ংইয়ং তার পারমাণবিক অস্ত্রের ব্যাপারে অনড় অবস্থানে রয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার একত্রীকরণ বিষয়ক মন্ত্রী হায়্যুন ইন-তায়িক গতকাল সোমবার বলেছেন, শুধু তাই- নয়, রাজনৈতিক কারণে পিয়ংইয়ং তাদের খাদ্যসংকটের বিষয়টিও অতিরঞ্জিত করছে। তিনি বলেন, শান্তি প্রক্রিয়ার নামে উত্তর কোরিয়া বারবার আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে।

প্রাচীন মন্দির গুঁড়িয়ে দিয়েছে থাই সেনারা

থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার বিরোধপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় গতকাল সোমবার চতুর্থ দিনের মতো দুই দেশের সেনাদের মধ্যে গুলি বিনিময় হয়েছে। কম্বোডিয়া অভিযোগ করেছে, সংঘাতপূর্ণ এলাকায় ঐতিহ্যবাহী পুরোনো ওই দুটি মন্দির গুঁড়িয়ে দিয়েছে থাইল্যান্ডের সেনারা। এ ব্যাপারে থাইল্যান্ড কোনো মন্তব্য করেনি। দুই দেশের সেনাদের মধ্যে গত চার দিনের লড়াইয়ে এ পর্যন্ত ১২ সেনা নিহত হয়েছেন।
গত শুক্রবার ভোরে থাইল্যান্ডের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সুরিন প্রদেশের বিতর্কিত সীমান্তে তা মোয়ান ও তা ক্রাবেই মন্দিরসংলগ্ন জঙ্গল এলাকায় দুই দেশের সেনাদের মধ্যে গুলি বিনিময় শুরু হয়। গতকাল পর্যন্ত দুই পক্ষের সংঘর্ষে কম্বোডিয়ার সাত সেনা ও থাইল্যান্ডের পাঁচ সেনা নিহত হন। কম্বোডিয়ার এক সেনা নিখোঁজ রয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, সাময়িক যুদ্ধবিরতির পর গতকাল বিকেলে আবার দুই পক্ষের সেনাদের মধ্যে কামানের গোলা বিনিময় হয়। দুই দেশই প্রথম হামলা চালানোর জন্য পরস্পরকে দায়ী করে আসছে। কম্বোডিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গতকাল থাই সেনাদের ছোড়া গোলার আঘাতে তাদের মন্দির দুটি ধ্বংস হয়েছে। এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ছাম সোচিত বলেন, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। এ অভিযোগের ব্যাপারে থাইল্যান্ডের প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
গত শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া দুই দেশের এই সীমান্তের সংঘর্ষে থাইল্যান্ডের অন্তত ২০ হাজার গ্রামবাসীকে ১৬টি অস্থায়ী উদ্বাস্তু শিবিরে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া কম্বোডিয়ার অন্তত ১৭ হাজার গ্রামবাসীকেও নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়।
তা ক্রাবেই এলাকার প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে হিন্দুধর্মাবলম্বীদের ৯০০ বছরের পুরোনো প্রিয়া বিহার মন্দির অবস্থিত। গত ফেব্রুয়ারিতে সেখানে দুই দেশের সেনাদের সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন নিহত হন। এরপর এবারই বড় ধরনের সংঘর্ষ চলছে।
দুই পক্ষের সমঝোতার ব্যাপারে আলোচনার জন্য ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও অ্যাসোসিয়েশন অব সাউথ ইস্ট এশিয়ান নেশনসের (আসিয়ান) চেয়ারম্যান মারতি নাতালেগাওয়ার গতকাল থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ায় সফর করার কথা ছিল। কিন্তু তাঁর এ সফর বাতিল করা হয়েছে। থাই সরকারের মুখপাত্র পানিতান ওয়াতানাওয়াগরন বলেন, থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া এখন পর্যন্ত ইন্দোনেশিয়ার পর্যবেক্ষকদের দেওয়া শর্তের ব্যাপারে সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি। তাই মারতির এ সফর বাতিল করা হয়েছে।
থাইল্যান্ডের দাবি, ১৯৪৭ সালের মানচিত্র অনুযায়ী প্রিয়া বিহার, তা মোয়ান ও তা ক্রাবেই মন্দির তাদের সুরিন প্রদেশে পড়েছে। এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে কম্বোডিয়া পাল্টা দাবি করছে, মন্দিরগুলো তাদের ওদার মিনশেই প্রদেশে অবস্থিত। ২০০৮ সালে থাইল্যান্ড অভিযোগ করে, কম্বোডিয়া ওই মন্দিরগুলোকে সেনাঘাঁটিতে পরিণত করছে।

গাদ্দাফির কার্যালয়ে ন্যাটোর বিমান হামলা, আহত ৪৫

লিবিয়ার নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির কার্যালয় এবং তাঁর প্রধান সামরিক ঘাঁটি বাব আল-আজিজিয়ায় রোববার রাতে বিমান হামলা চালিয়েছে ন্যাটো বাহিনী। এতে ৪৫ জন আহত হয় বলে জানিয়েছেন দেশটির কর্মকর্তারা। এদের মধ্যে ১৫ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
রোববার মধ্যরাতে ত্রিপোলির ওপর দিয়ে ন্যাটোর জঙ্গি বিমান উড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাব আল-আজিজিয়ার মধ্যে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটে। সেখান থেকে ধোঁয়া উড়তে দেখা যায়। গাদ্দাফির কার্যালয়ের একটি বৈঠক কক্ষ বিধ্বস্ত হয়।
গতকাল সোমবার সকালে দেশটির একজন কর্মকর্তা সাংবাদিকদের নিয়ে সেখানে যান। তিনি জানান, রাতের ওই হামলায় ৪৫ জন আহত হয়েছে। তবে ধ্বংসাবশেষের নিচে এখনো কেউ আটকা পড়ে আছে কি না, সেটা বলা যাচ্ছে না। ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘কর্নেল গাদ্দাফিকে হত্যার লক্ষ্যে এই হামলা চালানো হয়েছে।’
গাদ্দাফির ছেলে সাইফ আল-ইসলাম ন্যাটো বাহিনীর এই হামলাকে ‘কাপুরুষোচিত’ অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘গাদ্দাফির কার্যালয়ে এমন কাপুরুষোচিত হামলায় হয়তো শিশুরা ভয় পেতে পারে, কিন্তু এতে আমাদের ভয় পাওয়ার কিছু নেই। আমাদের যুদ্ধ চলবেই।’
বাব আল-আজিজিয়া ত্রিপোলিতে গাদ্দাফির প্রধান সামরিক ঘাঁটি। প্রায় ছয় বর্গকিলোমিটার এলাকা নিয়ে অবস্থিত এই ঘাঁটির মধ্যে রয়েছে গাদ্দাফির বাসভবন। এটিই তাঁর ক্ষমতার মূল কেন্দ্র। এখান থেকে তিনি সামরিক নির্দেশনা দিয়ে থাকেন।
পশ্চিমাঞ্চলীয় মিসরাতা শহরে যুদ্ধে বিদ্রোহীরা সাফল্য পেতে শুরু করেছে। এই শহরের বাসিন্দারা ৫০ দিন ধরে অবরুদ্ধ হয়ে আছে। গাদ্দাফি বাহিনী শহরটি দখল করে রেখেছে। বেপরোয়া গোলাবর্ষণ করছে তারা। বিদ্রোহীরাও শহরটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার জন্য জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
শহরের বাসিন্দা মুফতাহ ইমিতিক বলেন, ‘পরিবারের লোকজন নিয়ে গত ৫০ দিন পুরোপুরি অবরুদ্ধ ছিলাম। ঘর থেকে বেরই হতে পারিনি। অবশেষে বিদ্রোহীরা এগিয়ে এসেছে। আমরা মুক্তি পেয়েছি।’
তবে গত রোববার ও গতকাল সকালেও মিসরাতায় গোলাবর্ষণ হয়েছে। বিদ্রোহী নেতা তাহের বাসগা বলেন, ‘আমার মনে হয়, পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও কিছুটা সময় লাগবে। আল্লাহ চাইলে, মিসরাতার বাসিন্দারা পুরোপুরি মুক্তি পাবে।’
বিদ্রোহীদের হাতে গ্রেপ্তার গাদ্দাফি বাহিনীর দুই সেনা বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, মিসরাতায় যুদ্ধে গাদ্দাফি বাহিনী পিছিয়ে পড়ছে। লিলি মোহাম্মদ নামের এক সেনা বলেন, ‘সেনাবাহিনীর অনেক সদস্যই আত্মসমর্পণ করতে চাইছেন। তবে তাঁরা ভয় পাচ্ছেন, বিদ্রোহীরা তাঁদের হত্যা করতে পারে।’
লিবিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী খালেদ কাইম জানান, সামরিক নয়, শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমস্যা সমাধানের জন্য স্থানীয় লোকজনকে সুযোগ করে দিতে সেনাবাহিনী মিসরাতায় বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে অভিযান স্থগিত রেখেছে। তবে তারা শহর ছেড়ে আসেনি।

অন্য রকম উপহার

ব্রিটিশ সিংহাসনের ভবিষ্যৎ উত্তরাধিকার প্রিন্স উইলিয়াম ও তাঁর বাগদত্তা কেট মিডলটনের জন্য অন্য রকম উপহার দিচ্ছে ভারতের একটি প্রাণী অধিকার সংরক্ষণ গোষ্ঠী। কেটের জন্য একটি রেশমি শাড়ি ও উইলিয়ামের জন্য শেরওয়ানির আদলে একটি জ্যাকেট পাঠাচ্ছে তারা। কৃত্রিম রেশম সুতা দিয়ে তৈরি হবে এসব পোশাক। গতকাল সোমবার প্রাণী অধিকার সংরক্ষণ গোষ্ঠী এথিক্যাল ট্রিটমেন্টস অব অ্যানিমেলসের (পেটা) ভারতীয় শাখা এ কথা জানায়।
প্রাণীর প্রতি নির্মমতা রোধে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে এই উপহার দিচ্ছে পেটা।
পেটার ভারতীয় শাখার প্রধান কর্মকর্তা পূর্বা যোশিপুরা বলেন, ‘আমরা আশা করছি, কেট ও উইলিয়াম আমাদের নির্মমতামুক্ত এই উপহার পেয়ে খুশি হবেন। তাঁদের বিয়ের ওই বিশেষ দিনে সব প্রাণীর প্রতি সহানুভূতির প্রতীক হিসেবে এই উপহার দিচ্ছি।’
পেটা জানায়, ১০০ গ্রাম রেশম সুতা পেতে প্রায় এক হাজার ৫০০ রেশমপোকা মেরে ফেলতে হয়। কাজেই ওই রেশম সুতা আহরণে নির্মমতা রয়েছে। কিন্তু কৃত্রিম রেশম সুতায় তা নেই। এটি তৈরি হয় পলিয়েস্টার, রেয়ন ও অন্যান্য পদার্থের মিশ্রণে। কাজেই এ সুতা দিয়ে তৈরি উপহার পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় তারা।

আগেই ফিরতে চান দিলশান

অধিনায়ক হিসেবে দলের প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতা অন্যদের চেয়ে বেশি। সেই দায়বদ্ধতা থেকেই আইপিএল ছেড়ে আগেভাগে দেশে ফিরতে চাইছেন তিলকরত্নে দিলশান। ইংল্যান্ড সফরের শুরু থেকেই দলের সঙ্গী হতে চাইছেন শ্রীলঙ্কার নতুন অধিনায়ক।
আগামী ১০ মে ইংল্যান্ডে রওনা হবে শ্রীলঙ্কা দল। এর মানে আইপিএল শেষ হওয়ার তিন সপ্তাহ আগেই রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু ছেড়ে যেতে চান গত পাঁচ ম্যাচে ১০৫ রান করা গত বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ রানের মালিক। সফরে তিনটি টেস্ট, পাঁচটি ওয়ানডে ও একটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে শ্রীলঙ্কা।
‘দিলশান দলের সঙ্গেই যেতে আগ্রহী, যেহেতু অনেক সিনিয়র খেলোয়াড় কিছুটা পরে যোগ দিচ্ছে। তাই দলের সঙ্গে যোগাযোগটা দৃঢ় করার জন্য এটা চান তিনি’—বলেছেন দিলশানের ম্যানেজার রোশান আবেসিংহে।
প্রথমে ২০ মে পর্যন্ত শ্রীলঙ্কান খেলোয়াড়দের আইপিএলে খেলতে দিতে রাজি থাকলেও পরে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট (এসএলসি) তাদের ৫ মের মধ্যে দেশে ফেরার নির্দেশ দেয়। তবে পরে ভারতীয় বোর্ডের অনুরোধে, আসলে ক্রিকেট-বিশ্বের শক্তিশালী বোর্ডের রোষানল এড়াতেই ১৮ মে পর্যন্ত ভারতে থাকার অনুমতি দেওয়া হয়। কুমার সাঙ্গাকারা, মাহেলা জয়াবর্ধনেদের তাই ইংল্যান্ডে উড়ে যাওয়ার কথা ১৯ মে।
ওদিকে আইপিএল-বিতর্কে শ্রীলঙ্কার সাবেক ও বর্তমান ক্রীড়ামন্ত্রীর মধ্যে লড়াই শুরু হয়ে গেছে। বর্তমান ক্রীড়ামন্ত্রী মাহিন্দানন্দা আলুথগামাগে অভিযোগ করেছিলেন, সাবেক মন্ত্রী গামিনি লোকুগে বিসিসিআইয়ের সঙ্গে শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটারদের আইপিএলে খেলার ব্যাপারে ১০ বছরের চুক্তি করেছেন। কিন্তু সে অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন সাবেক ক্রীড়ামন্ত্রী।

জয়ের পথে পাকিস্তান

ক্রিকেট অনিশ্চয়তার খেলা বলে আগেভাগেই শেষটা বলে দেওয়া যায় না। তবু পাকিস্তান-ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধের ২৬তম ওভার শেষে পরিস্থিতি যা, তাতে ম্যাচের সম্ভাব্য বিজয়ী ধরা যায় পাকিস্তানকেই। জয়ের ২২১ রানের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাটিংয়ে এসে পাকিস্তান ২৬ ওভারে ১ উইকেটে করেছে ৮৫ রান। অর্থাৎ জয়ের জন্য ২৪ ওভারে সফরকারীদের তুলতে হবে আরও ১৩৬। ওপেনিংয়ে আহমেদ শেহজাদের সঙ্গে ৬৬ রানের জুটি গড়ে ব্যক্তিগত ৩২ রানে দেবেন্দ্র বিশুর শিকার মোহাম্মদ হাফিজ। শেহজাদ ৪০ ও আসাদ শফিক ১০ রানে ব্যাট করছিলেন।
‘আনপ্রেডিক্টেবল’ পাকিস্তান দলের ব্যাটসম্যানরা শেষ পর্যন্ত কী করেন কে জানে! তবে জয়ের ভালো একটা ভিতই দলের বোলাররা গড়ে দিয়ে যান স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ২২০ রানে অলআউট করে। পাকিস্তানের স্পিনারদের বিপক্ষে ক্যারিবীয় কোনো ব্যাটসম্যানকেই স্বাচ্ছন্দ্য দেখা যায়নি। বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল এবং চলতি সিরিজের প্রথম ওয়ানডের পর গতকালও ডেভন স্মিথকে আউট করেছেন হাফিজ। তিনি ছাড়াও দুটি করে উইকেট নিয়েছেন আরও দুই স্পিনার সাঈদ আজমল ও শহীদ আফ্রিদি। ৪৮ বলে ৪টি চার ও ২টি ছয়ে ইনিংস-সর্বোচ্চ ৫১ রান করেন সিমন্স।

দেশে ফিরলেন জুলকারনাইন

একটু বিরতি দিয়ে দিয়ে তাঁর বেশ কয়েকটা ছবি দেখা গেল ক্রিকইনফোতে। গড়নটা এমনিতেই হালকা-পাতলা। মনে হলো গত সাড়ে পাঁচ মাসে আরও শুকিয়ে গেছেন। প্রথম ছবিটায় চোখে-মুখে কেমন একটা শঙ্কা আর ভয়ের ছাপ। পরেরটায় কয়েকজন তাঁকে জাপটে ধরে আছেন। না, মারামারি বাধাননি, তাঁরা নিরাপত্তাকর্মী। নিরাপত্তাবাহিনীর গাড়িতে বসেও চেহারায় শঙ্কা। কিছুক্ষণ পর তাঁর মুখেই প্রাণখোলা হাসি। পাশে স্ত্রী সাজিয়া আর ছোট মেয়ে ফিজা। এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ, পাশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী!
এই হলো জুলকারনাইন হায়দারের সর্বশেষ খবর। ‘মৃত্যুভয়ে’ গত ৮ নভেম্বর ভোরে দুবাইয়ে দলকে ছেড়ে লন্ডন পাড়ি জমিয়েছিলেন। কাল সকালে ইসলামাবাদ বিমানবন্দরে পা রাখলেন অন্য রকম এক ভয় নিয়ে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আশ্বাস পেয়েছিলেন, কিন্তু তবু শঙ্কা খানিকটা ছিল। কিন্তু নিরাপত্তাব্যবস্থায় খুব সন্তুষ্ট গত শনিবার ২৫ পূর্ণ করা সাবেক উইকেটরক্ষক, ‘দেশে ফিরে আমি খুশি। আমাকে পূর্ণ নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে। বিমানবন্দরে নামার পর সবকিছু ছিল দারুণ। প্রতিশ্রুতিমতো নিরাপত্তাই আমি পেয়েছি।’
ম্যাচ পাতানোয় রাজি না হওয়ায় মৃত্যুর হুমকি পেয়েছিলেন দাবি করে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের পঞ্চম ম্যাচের দিন সকালে চুপিচুপি দল ছেড়ে যান জুলকারনাইন। পরে জানা যায় গেছেন লন্ডন। সেখানে রাজনৈতিক আশ্রয় দাবি করেন। যুক্তরাজ্য সফরে গিয়ে গত সপ্তাহে লন্ডনে জুলকারনাইনের সঙ্গে দেখা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। দেশে ফিরলে তাঁকে পূর্ণ নিরাপত্তা দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়। আশ্বাস পেয়ে গত ১৭ এপ্রিল জুলকারনাইন জানান, তিনি রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন তুলে নিয়েছেন, ফিরতে চান দেশে। এর পরই পাকিস্তানের কয়েকটি টিভি চ্যানেল জানায়, দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় জুলকারনাইনকে নতুন করে হুমকি দেওয়া হয়েছে। দেশে ফেরা নিয়ে সংশয় দেখা দেওয়া আবার। রোববার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টেলিফোনে আবার আশ্বাস দেওয়ার পর কাল ফিরলেন দেশে। বিমানবন্দর থেকে সরাসরি গেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও ক্রীড়ামন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে, এরপর বাড়িতে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও ক্রীড়ামন্ত্রীকে নাকি দল ছেড়ে চলে যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন জুলকারনাইন। কিন্তু ব্যাখ্যাটা যে আরও অনেকেই জানতে চায়! অন্যদের কথা না হয় বাদ দেওয়া গেল, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডও (পিসিবি) তো খুঁজে ফিরছে এর ব্যাখ্যা! জুলকারনাইনের ঘটনায় একটা ‘সত্য অনুসন্ধান কমিটি’ গঠন করেছিল পিসিবি, যারা আসলে কোনো সত্যই বের করতে পারেনি। চূড়ান্ত প্রতিবেদনে তারা জুলকারনাইনকে বলেছিলেন, ‘দুর্বল স্নায়ু আর সহজেই যেকোনো কথা বিশ্বাস করানো যায় এমন একজন।’
‘ইজাজ বাটের (পিসিবি চেয়ারম্যান) সঙ্গে যখন দেখা হবে, তাঁকেও কারণগুলো বলব। সবার মনে রাখা উচিত, নিজের ভবিষ্যৎকে সংশয়ে ফেলে এমনি এমনি আমি ব্রিটেনে যাইনি। কারণ অবশ্যই আছে’—জুলকারনাইনের কথায় যুক্তি আছে। চাইলে যুক্তিতে ফাঁকও ধরা যায় অনেক। হয়তো আগামী কয়েক দিনেই তা পরিষ্কার হবে, অথবা কখনোই হবে না। পাকিস্তান ক্রিকেটে কি আর অসম্ভব বলে কিছু আছে?

রাজশাহীর জয়, রাজশাহীতে ড্র

ঢাকাকে ইনিংস ও ১৫৭ রানে হারিয়ে এবারের জাতীয় লিগের সবচেয়ে বড় জয়টি পেল বর্তমান চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী। গতকাল বগুড়ায় ঢাকাকে ৮১ রানে অলআউট করে দিয়ে বিশাল জয়ের সঙ্গে ৯৬ পয়েন্ট নিয়ে রাজশাহী পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থেকেই শেষ করল লিগ পর্ব। ঢাকার ইনিংসটি এবারের লিগের দ্বিতীয় সর্বনিম্ন ইনিংস। সবচেয়ে ছোট ৭২ রানের ইনিংসটিও রাজশাহীর বিপক্ষে, এ মাসের শুরুতে এই বগুড়াতেই সে লজ্জায় ডুবেছিল চট্টগ্রাম। রাজশাহী বিভাগীয় স্টেডিয়ামে সিলেট-বরিশাল ম্যাচটি হয়েছে ড্র।
কাল ম্যাচের শেষ দিনে মাত্র ১৭ ওভার খেলে আগের দিনের সঙ্গে আরও ৪৮ রান যোগ করেই শেষ হয় ঢাকার ইনিংস। মাত্র তিন ব্যাটসম্যান পেয়েছেন দুই অঙ্কের রান। সর্বোচ্চ ৩৫ রান মেহরাব হোসেন জুনিয়রের। চোটের কারণে ব্যাট করতে পারেননি মোহাম্মদ সেন্টু। রাজশাহীর পেসার দেলোয়ার ও শাহাজাদা ৩টি করে এবং বাঁহাতি স্পিনার সাকলাইন সজীব ২টি উইকেট নিয়েছেন। প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে প্রথম সেঞ্চুরি করে মিজানুর রহমান হয়েছেন ম্যান অব দ্য ম্যাচ।
রাজশাহীতে ব্যাটে-বলে অসাধারণ একটি ম্যাচ খেললেন সিলেটের অধিনায়ক অলক কাপালি। ৮ রানের জন্য সেঞ্চুরিবঞ্চিত হলেও দলকে হারের হাত থেকে বাঁচিয়েছেন প্রথম ইনিংসেও ৮৬ রান করা জাতীয় দলের এই খেলোয়াড়। জয়ের জন্য ৮২ ওভারে ৩১২ রানের লক্ষ্য পাওয়া সিলেট ৫৩ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলে। পাঁচ নম্বরে নামা অলক রাজিনকে নিয়ে চতুর্থ উইকেটে ৬৮ রান করার পর পঞ্চম উইকেটে তাসামুল হককে নিয়ে যোগ করেন আরও ৮৪। তাসামুল অপরাজিত ছিলেন ৩৯ রানে।
বরিশালের আরাফাত সালাউদ্দিন ২৯ রানে ২ উইকেট পেয়েছেন। গতকালের ১ উইকেটসহ মোট ৪১টি উইকেট নিয়ে সবার ওপরে থেকেই লিগ শেষ করলেন অফ স্পিনার সোহাগ গাজী। এর আগে আগের দিনের ২৭২ রানের সঙ্গে আর ৩৪ রান যোগ করে ৩০৬ রানে ইনিংস ঘোষণা করে বরিশাল। উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান শাহীন করেছেন ৬৭ রান। ম্যাচে মোট ১৭৮ রান ও ৭ উইকেট নিয়ে ম্যান অব দ্য ম্যাচ হয়েছেন অলক কাপালি।

আইপিএলে অনেক কিছুই অন্য রকম

মাত্র আধা ঘণ্টার মধ্যে সব পাল্টে গেল। এক দিন আগেও আমরা ছিলাম প্রতিপক্ষ। কিন্তু ঢাকা থেকে কলকাতায় এসে নামার পরই হয়ে গেলাম সতীর্থ!
বলছিলাম ব্রেট লি আর ব্র্যাড হাডিনের কথা। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শেষ ওয়ানডের পরদিন আমরা তিনজন একই বিমানে ঢাকা থেকে কলকাতায় আসি কলকাতা নাইট রাইডার্সের (কেকেআর) হয়ে আইপিএল খেলতে। ঢাকায় বিমানবন্দরেই আমাদের দেখা হয়েছিল। তবে কাকভোরে সবারই রাত জাগার ক্লান্তি ছিল বলে বলতে গেলে কথাই হয়নি। কলকাতায় নামার পরই ওদের সঙ্গে সতীর্থের মতো আলাপচারিতা শুরু হয়ে গেল। আইপিএল ব্যাপারটাই আসলে এ রকম—আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের প্রবল প্রতিপক্ষও এখানে এসে হয়ে যাচ্ছে সতীর্থ, কখনো কখনো বন্ধু।
লি-হাডিনের সঙ্গে তবু তো আমি একই দলে খেলি, আরেক অস্ট্রেলিয়ান শেন ওয়াটসন এখানেও প্রতিপক্ষ। ও খেলছে রাজস্থান রয়্যালসে। কিন্তু এই ওয়াটসনও আইপিএলে এসে দারুণ দিলখোলা! একই ফ্লাইটে জয়পুরে খেলতে গিয়েছিলাম আমরা। বিমানে ওর সঙ্গে আড্ডাটা খুব জমেছিল। যদিও ক্রিকেট নিয়ে কোনো কথাই হয়নি। এমনকি আমাদের বিপক্ষে যে কদিন আগেই ও রকম দানবীয় ব্যাটিং করে গেল, সেসব নিয়েও না। সবই ব্যক্তিগত আলোচনা...খেলার বাইরে কে কী করি, কই থাকি, পরিবারে কে কে আছে এসব। ওয়াটসনের সঙ্গে ভালোই খাতির হয়ে গেছে আমার।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সঙ্গে তো বটেই, আমার ধারণা বিশ্বের অন্যান্য নামী-দামি ঘরোয়া টুর্নামেন্টের সঙ্গেও আইপিএলের বিস্তর ফারাক। আমি ইংলিশ কাউন্টি খেলেছি, সেখানকার পরিবেশের সঙ্গে আইপিএলের দিন-রাত্রি মেলানো যাবে না। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট বা অন্যান্য ক্লাব ক্রিকেটের মতো এখানে অনুশীলনের চাপ নেই। অনুশীলন মানে এখানে এই নয় যে, সবকিছু দলের সঙ্গে রুটিন মাফিক করতে হবে। অনুশীলনটা আইপিএলে অনেক বেশি ব্যক্তিগত ব্যাপার। যার যেখানে সমস্যা মাঠে গিয়ে সে সেটা নিয়েই কাজ করছে। প্রয়োজনে কোচের সাহায্য নিচ্ছে। তবে বাধ্যবাধকতা না থাকলেও কেউ অনুশীলন না করে বসে থাকে না। এই জায়গায় সবাই সিরিয়াস। যতটুকুই সুযোগ পাওয়া যায়, একবিন্দু ছাড় দেয় না কেউ। তবে হ্যাঁ, অন্য অনেক জায়গার চেয়ে আইপিএলে মানসিক চাপটা বেশি মনে হচ্ছে আমার কাছে। এই কদিনের অভিজ্ঞতায় আরেকটা ব্যাপার আমার কাছে পরিষ্কার, বাংলাদেশের জাতীয় দলের চেয়েও কেকেআরের অনুশীলনে সুযোগ-সুবিধা বেশি।
কেকেআরে আমার খুব পরিচিত একজনকে আবারও কোচ হিসেবে পেয়েছি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আমার প্রথম কোচ ডেভ হোয়াটমোর। আমার কেকেআরে আসাতেও মুখ্য ভূমিকা ছিল তাঁর। তবে পেশাদার ক্রিকেটে যা হয় আরকি...আগেও যে আমাদের মধ্যে চেনা-জানা ছিল, সেটা আইপিএলে এসে বোঝার উপায় নেই। এখানে সবকিছুই আইপিএল এবং কেকেআর-কেন্দ্রিক।
নানা জাতের, নানা বর্ণের ক্রিকেটারকে এক করে দিচ্ছে আইপিএল। ভিন্ন একটা দেশ, এই দেশের সংস্কৃতি আর মানুষকেও কাছ থেকে জানার সুযোগ এটা। যখন যেখানে খেলা হয়, হোটেল-মাঠ করে সে জায়গাটা ভালোই চেনা হচ্ছে। তবে খেলা বা অনুশীলনের বাইরে বেশির ভাগ সময়ই আমি হোটেলরুমে টিভি দেখে কাটাই।
একই ড্রেসিংরুমে বসে দেখছি গৌতম গম্ভীর ব্যাটিংয়ে যাওয়ার সময় কী করে বা জ্যাক ক্যালিসের দিনের রুটিনটা কেমন—এই অভিজ্ঞতাগুলোও অসাধারণ। একেক ক্রিকেটারের আচরণ একেক রকম। ক্যালিস যেমন চুপচাপ থাকতেই বেশি পছন্দ করে। কেউ কথা বললে উত্তর দেয়, টুকটাক কিছু বলে। নিজে থেকে কথা বলে কম। আবার হাডিন-মরগান খুবই মজার মানুষ। ইয়ার্কি-ফাজলামির ওস্তাদ বলতে পারেন। সব মিলিয়ে বহুজাতিক ড্রেসিংরুমে সময়টা ভালোই কাটছে। লি-ক্যালিসদের মতো বড় খেলোয়াড়দের কাছ থেকে দেখে অনেক কিছু শেখারও আছে।
বলিউড কিং শাহরুখ খানকে কাছ থেকে দেখাটাও একটা বড় অভিজ্ঞতা। তাঁর মতো ক্রিকেট-পাগল মানুষ বোধহয় কমই আছে। প্রতিটি ম্যাচের আগে-পরে আমাদের সঙ্গে দেখা করেন। জিতলে খুশি হন, অভিনন্দন জানান। হারলে পরের ম্যাচে ভালো খেলার জন্য সাপোর্ট দেন। আমার সঙ্গে সরাসরি খুব বেশি কথা অবশ্য হয়নি শাহরুখের। শুধু রাজস্থান রয়্যালসের বিপক্ষে পর পর দুই উইকেট পাওয়ার পর ম্যাচ শেষে বলেছিলেন, হ্যাটট্রিকটা পরের ম্যাচে হবে। হ্যাটট্রিক না হলেও পরের ম্যাচেই কিন্তু আমি ৩ উইকেট পেয়েছি!
গেইলের তাণ্ডবের কারণে গত ম্যাচটা একটু খারাপ গেলেও আইপিএলে এখন পর্যন্ত বোলিং ভালোই করছি। যা করতে চাচ্ছি, তাই হচ্ছে। অন্তত আমি এখন পর্যন্ত পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট। ব্যাটিংয়ের সুযোগটা ভালোভাবে পাচ্ছি না, এই যা। একটা ম্যাচেই সুযোগ পেয়েছিলাম, ভালো করতে পারিনি। তবে মনে বিশ্বাস আছে, বোলিংয়ের মতো ব্যাটিংয়েও আমার দিন আসবে।

দ্বিতীয় ওয়ানডেতেও জয় পাকিস্তানের

সফরের দ্বিতীয় ওয়ানডেতেও জয় পেয়েছে পাকিস্তান। উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান আহমেদ শেহজাদের ব্যাট কাল অনেকদিন পর জ্বলে ওঠায় জয়টা সহজই হয়েছে পাকিস্তানের। শেহজাদ ১৪৮ বল খেলে ধীরস্থিরভাবে ১০২ রানের ইনিংস খেলেন। এই সেঞ্চুরির ওপর ভর করে পাকিস্তান ওয়েস্ট ইন্ডিজের ছুড়ে দেওয়া ২২১ রানের লক্ষ্যমাত্রা উতরে যায় মাত্র ৩ উইকেটের খরচায়। এই জয়ে পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে পাকিস্তান এগিয়ে থাকল ২-০ ব্যবধানে।
টসে জিতে পাকিস্তান বেছে নিয়েছিল ফিল্ডিং। তিন স্পিনার মোহাম্মদ হাফিজ, সাঈদ আজমল ও অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদির নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারেননি ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটসম্যানরা। আগের ওয়ানডের মতোই রান তোলার ধীরগতির কারণে দলীয় স্কোরটাকে বেশি দূর টেনে নিয়ে যেতে পারেনি ক্যারিবীয়রা। ৮৫ বল খেলে ৫০-র কোটা পার হতে পেরেছেন কেবল উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান সিমন্স। সিমন্সের পাশাপাশি অনেকেই তাঁদের ইনিংসের শুরুটা করলেও সেটাকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেননি। পাকিস্তানের পক্ষে হাফিজ, ওয়াহাব রিয়াজ, আজমল ও আফ্রিদি প্রত্যেকেই ২টি করে উইকেট দখল করেন। ডেব্যুট্যান্ট হাম্মাদ আজম নেন ১টি উইকেট।
জবাবে পাকিস্তান শেহজাদের ১০২ ও মিসবাহ-উল-হকের ৪৩ রানের কল্যাণে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ ২২০ রান পেরিয়ে যায় ৪৮তম ওভারে। এই রান তাড়া করার পথে কোনো ঝুঁকি না নিয়ে ধীরগতিতে খেলেই জয় তুলে নেয় শহীদ আফ্রিদির দল।
ক্যারিবীয় বোলারদের মধ্যে সফল ছিলেন সেই বিশু। তাঁর চমত্কার লেগস্পিন দিয়ে তিনি ২ জন পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানকে সাজঘরে ফেরান। স্মিথ-মার্টিন যুগলবন্দীতে রান আউট হয়ে প্যাভেলিয়নে ফেরেন আসাদ শফিক।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২২০ (৫০ ওভার)
সিমন্স ৫১
আজমল ২/২৩, হাফিজ ২/৩৮, রিয়াজ ২/৩৮, আফ্রিদি ২/৪১, আজম ১/২৬
পাকিস্তান ২২৩/৩ (৪৮ ওভার)
আহমেদ শেহজাদ ১০২, মিসবাহ-উল-হক ৪৩
বিশু ২/৩৬
পাকিস্তান ৭ উইকেটে জয়ী।

আইপিএল দারুণ উন্মুক্ত, জমজমাট: গিলক্রিস্ট

দারুণ জমে উঠেছে আইপিএলের চতুর্থ আসর। মুম্বাই ইন্ডিয়ানস, রাজস্থান রয়েলস, কলকাতা নাইট রাইডার্স, কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব। এই চারটি ফ্র্যাঞ্চাইজই একে অপরের কাঁধে নিঃশ্বাস ফেলে এগিয়ে চলেছে। শচীন টেন্ডুলকারের মুম্বাই এই মুহূর্তে নিজেদের ছয়টি খেলায় পাঁচটি জয় নিয়ে শীর্ষে থাকলেও কলকাতা, পাঞ্জাব, রাজস্থান বাকি তিনটি দলের যে কেউই উঠে আসতে পারে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে। সেদিক দিয়ে এবারের আইপিএলকে জমজমাট ও উন্মুক্ত একটি আসর বলেই মনে হচ্ছে পাঞ্জাব অধিনায়ক অ্যাডাম গিলক্রিস্টের।
তিনি এই আসরে মুম্বাইকে সেরা দল উল্লেখ করে বলেন, ‘সন্দেহ নেই মুম্বাই এবারের আসরের সেরা দল। তবে কলকাতা, রাজস্থান, পাঞ্জাব এই তিনটি দলের যেকোনো একটিই মুম্বাইয়ের অবস্থান টলিয়ে দিতে সক্ষম।
গিলক্রিস্টের মতে, ‘এখন থেকে প্রতিটি দলের প্রতিটি ম্যাচই গুরুত্বপূর্ণ। এই ম্যাচগুলোতে কোনো ভুলই পিছিয়ে দিতে পারে যেকোনো দলকে।’
নিজের দল সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আগামী দুটো ম্যাচ আমরা জিততে চাই। এই দুটো ম্যাচ জিতলে কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের অবস্থান সুসংহত হবে।’
দিল্লি ডেয়ারডেভিলসের বিপক্ষে পরাজয়টিকে দুঃখজনক আখ্যা দিয়ে গিলক্রিস্ট বলেন, ‘আমরা প্রতিটি ম্যাচই জিততে চাই। তবে বাস্তবতা হলো আপনি সব সময়ই একই গতিতে জিতে যেতে পারবেন না। কিন্তু নিজেদের সেরাটা দিয়ে যেতে হবে। আমরা মাঠে সেটারই প্রয়াস চালাচ্ছি।’
কলকাতা নাইট রাইডার্সকে দারুণ একটি দল উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের পরবর্তী ম্যাচ এই দলটির বিপক্ষেই। আমরা সেই ম্যাচটিতে জিততে চাই।

সানজামুলদের পাল্টা জবাব

সবারই জেদ চেপে গিয়েছিল। আমাদের দেশে এসে আমাদের এভাবে হারাবে? আমরা তো এতটা বাজে দল নই! নিজেদের প্রমাণ করার দায় ছিল, ছিল ওদের জবাব দেওয়ার প্রতিজ্ঞা। খুব ভালো লাগছে, আমরা পেরেছি’—সানজামুল ইসলাম চাইলে ‘আমরা’ না বলে বলতে পারতেন ‘আমি’ পেরেছি! বাঁহাতি এই স্পিনার তো ফতুল্লায় হারা ম্যাচটাতে একাদশেই ছিলেন না! সেই ইনিংস হারের পাল্টা জবাব জিপি-বিসিবি একাডেমি দিল ইনিংস ব্যবধানে হারিয়েই। আর সানজামুল নিজেকে প্রমাণ করলেন মাত্র ৯২ রানে ১১ উইকেট নিয়ে।
দলটার নাম হয়তো জিপি-বিসিবি একাডেমি, কিন্তু প্রতিনিধিত্ব করছে তো দেশকেই। প্রথম ম্যাচে ইনিংস ও ৫৮ রানে হেরে তাই আঁতে যথেষ্টই ঘা লেগেছিল মিঠুন, মমিনুলদের। দক্ষিণ আফ্রিকা একাডেমিকে লজ্জাটা ফিরিয়ে দিয়েছে তারা দ্বিতীয় চারদিনের ম্যাচে ইনিংস ও ১২৫ রানে হারিয়ে।
সফরকারীদের ইনিংস পরাজয় নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল তৃতীয় দিনই। ৮ উইকেটে ১৪১ রান নিয়ে কাল দিনের শুরু, ইনিংস পরাজয় এড়াতেই প্রয়োজন ছিল ১৩৯ রান। শেষ দুটি উইকেট নিতে জিপি-বিসিবির কাল লেগেছে মাত্র ১৯ বল। দুটিই নিয়েছেন সানজামুল। দিনের দ্বিতীয় ওভারে বল করতে এসে নিজের প্রথম বলেই বোল্ড করেছেন হারডাস ভিলিওনকে। পরের ওভারের প্রথম বলে এলবিডব্লু মার্চেন্ট ডি ল্যাঙ্গে। আগের দিন ৫ উইকেট পাওয়া শাকের আহমেদ কাল বল হাতে নেওয়ারই সুযোগ পাননি।
সানজামুল আর শাকের—দুই বাঁহাতি স্পিনার মিলেই নিয়েছেন ম্যাচে ১৭ উইকেট। পার্টটাইম অফ স্পিনার শুভাগত হোম চৌধুরী দুটি। ২০ উইকেটের একটি গেছে কেবল পেসারের (আলাউদ্দিন বাবু) পকেটে। ফতুল্লার ঘাসের উইকেট থেকে মিরপুরের মন্থর উইকেটে আসতেই কি বদলে গেল জিপি-বিসিবি একাডেমিও? অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুন মানতে চাইলেন না, ‘শুধু উইকেটই আপনাকে জেতাবে না, নিজেদের মেলে ধরাটাও জরুরি। প্রথম ম্যাচের ভুলগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে, সবার কাজই আলাদা করে দেওয়া হয়েছিল। সেগুলো ঠিকভাবে করতে পেরেছি বলেই এই জয়।’ কোচ রস টার্নারও উইকেট নয়, জয়ের কৃতিত্ব বেশি দিলেন নতুন শিষ্যদের।
তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ শুরু হচ্ছে আগামী পরশু, চট্টগ্রামে। সিরিজের শেষ ওয়ানডে ও দুটি টি-টোয়েন্টি হবে আবার ঢাকায়।

রাজশাহীর জয়, রাজশাহীতে ড্র

ঢাকাকে ইনিংস ও ১৫৭ রানে হারিয়ে এবারের জাতীয় লিগের সবচেয়ে বড় জয়টি পেল বর্তমান চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী। গতকাল বগুড়ায় ঢাকাকে ৮১ রানে অলআউট করে দিয়ে বিশাল জয়ের সঙ্গে ৯৬ পয়েন্ট নিয়ে রাজশাহী পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থেকেই শেষ করল লিগ পর্ব। ঢাকার ইনিংসটি এবারের লিগের দ্বিতীয় সর্বনিম্ন ইনিংস। সবচেয়ে ছোট ৭২ রানের ইনিংসটিও রাজশাহীর বিপক্ষে, এ মাসের শুরুতে এই বগুড়াতেই সে লজ্জায় ডুবেছিল চট্টগ্রাম। রাজশাহী বিভাগীয় স্টেডিয়ামে সিলেট-বরিশাল ম্যাচটি হয়েছে ড্র।
কাল ম্যাচের শেষ দিনে মাত্র ১৭ ওভার খেলে আগের দিনের সঙ্গে আরও ৪৮ রান যোগ করেই শেষ হয় ঢাকার ইনিংস। মাত্র তিন ব্যাটসম্যান পেয়েছেন দুই অঙ্কের রান। সর্বোচ্চ ৩৫ রান মেহরাব হোসেন জুনিয়রের। চোটের কারণে ব্যাট করতে পারেননি মোহাম্মদ সেন্টু। রাজশাহীর পেসার দেলোয়ার ও শাহাজাদা ৩টি করে এবং বাঁহাতি স্পিনার সাকলাইন সজীব ২টি উইকেট নিয়েছেন। প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে প্রথম সেঞ্চুরি করে মিজানুর রহমান হয়েছেন ম্যান অব দ্য ম্যাচ।
রাজশাহীতে ব্যাটে-বলে অসাধারণ একটি ম্যাচ খেললেন সিলেটের অধিনায়ক অলক কাপালি। ৮ রানের জন্য সেঞ্চুরিবঞ্চিত হলেও দলকে হারের হাত থেকে বাঁচিয়েছেন প্রথম ইনিংসেও ৮৬ রান করা জাতীয় দলের এই খেলোয়াড়। জয়ের জন্য ৮২ ওভারে ৩১২ রানের লক্ষ্য পাওয়া সিলেট ৫৩ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলে। পাঁচ নম্বরে নামা অলক রাজিনকে নিয়ে চতুর্থ উইকেটে ৬৮ রান করার পর পঞ্চম উইকেটে তাসামুল হককে নিয়ে যোগ করেন আরও ৮৪। তাসামুল অপরাজিত ছিলেন ৩৯ রানে।
বরিশালের আরাফাত সালাউদ্দিন ২৯ রানে ২ উইকেট পেয়েছেন। গতকালের ১ উইকেটসহ মোট ৪১টি উইকেট নিয়ে সবার ওপরে থেকেই লিগ শেষ করলেন অফ স্পিনার সোহাগ গাজী। এর আগে আগের দিনের ২৭২ রানের সঙ্গে আর ৩৪ রান যোগ করে ৩০৬ রানে ইনিংস ঘোষণা করে বরিশাল। উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান শাহীন করেছেন ৬৭ রান। ম্যাচে মোট ১৭৮ রান ও ৭ উইকেট নিয়ে ম্যান অব দ্য ম্যাচ হয়েছেন অলক কাপালি।

আইপিএলে অনেক কিছুই অন্য রকম

মাত্র আধা ঘণ্টার মধ্যে সব পাল্টে গেল। এক দিন আগেও আমরা ছিলাম প্রতিপক্ষ। কিন্তু ঢাকা থেকে কলকাতায় এসে নামার পরই হয়ে গেলাম সতীর্থ!
বলছিলাম ব্রেট লি আর ব্র্যাড হাডিনের কথা। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শেষ ওয়ানডের পরদিন আমরা তিনজন একই বিমানে ঢাকা থেকে কলকাতায় আসি কলকাতা নাইট রাইডার্সের (কেকেআর) হয়ে আইপিএল খেলতে। ঢাকায় বিমানবন্দরেই আমাদের দেখা হয়েছিল। তবে কাকভোরে সবারই রাত জাগার ক্লান্তি ছিল বলে বলতে গেলে কথাই হয়নি। কলকাতায় নামার পরই ওদের সঙ্গে সতীর্থের মতো আলাপচারিতা শুরু হয়ে গেল। আইপিএল ব্যাপারটাই আসলে এ রকম—আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের প্রবল প্রতিপক্ষও এখানে এসে হয়ে যাচ্ছে সতীর্থ, কখনো কখনো বন্ধু।
লি-হাডিনের সঙ্গে তবু তো আমি একই দলে খেলি, আরেক অস্ট্রেলিয়ান শেন ওয়াটসন এখানেও প্রতিপক্ষ। ও খেলছে রাজস্থান রয়্যালসে। কিন্তু এই ওয়াটসনও আইপিএলে এসে দারুণ দিলখোলা! একই ফ্লাইটে জয়পুরে খেলতে গিয়েছিলাম আমরা। বিমানে ওর সঙ্গে আড্ডাটা খুব জমেছিল। যদিও ক্রিকেট নিয়ে কোনো কথাই হয়নি। এমনকি আমাদের বিপক্ষে যে কদিন আগেই ও রকম দানবীয় ব্যাটিং করে গেল, সেসব নিয়েও না। সবই ব্যক্তিগত আলোচনা...খেলার বাইরে কে কী করি, কই থাকি, পরিবারে কে কে আছে এসব। ওয়াটসনের সঙ্গে ভালোই খাতির হয়ে গেছে আমার।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সঙ্গে তো বটেই, আমার ধারণা বিশ্বের অন্যান্য নামী-দামি ঘরোয়া টুর্নামেন্টের সঙ্গেও আইপিএলের বিস্তর ফারাক। আমি ইংলিশ কাউন্টি খেলেছি, সেখানকার পরিবেশের সঙ্গে আইপিএলের দিন-রাত্রি মেলানো যাবে না। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট বা অন্যান্য ক্লাব ক্রিকেটের মতো এখানে অনুশীলনের চাপ নেই। অনুশীলন মানে এখানে এই নয় যে, সবকিছু দলের সঙ্গে রুটিন মাফিক করতে হবে। অনুশীলনটা আইপিএলে অনেক বেশি ব্যক্তিগত ব্যাপার। যার যেখানে সমস্যা মাঠে গিয়ে সে সেটা নিয়েই কাজ করছে। প্রয়োজনে কোচের সাহায্য নিচ্ছে। তবে বাধ্যবাধকতা না থাকলেও কেউ অনুশীলন না করে বসে থাকে না। এই জায়গায় সবাই সিরিয়াস। যতটুকুই সুযোগ পাওয়া যায়, একবিন্দু ছাড় দেয় না কেউ। তবে হ্যাঁ, অন্য অনেক জায়গার চেয়ে আইপিএলে মানসিক চাপটা বেশি মনে হচ্ছে আমার কাছে। এই কদিনের অভিজ্ঞতায় আরেকটা ব্যাপার আমার কাছে পরিষ্কার, বাংলাদেশের জাতীয় দলের চেয়েও কেকেআরের অনুশীলনে সুযোগ-সুবিধা বেশি।
কেকেআরে আমার খুব পরিচিত একজনকে আবারও কোচ হিসেবে পেয়েছি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আমার প্রথম কোচ ডেভ হোয়াটমোর। আমার কেকেআরে আসাতেও মুখ্য ভূমিকা ছিল তাঁর। তবে পেশাদার ক্রিকেটে যা হয় আরকি...আগেও যে আমাদের মধ্যে চেনা-জানা ছিল, সেটা আইপিএলে এসে বোঝার উপায় নেই। এখানে সবকিছুই আইপিএল এবং কেকেআর-কেন্দ্রিক।
নানা জাতের, নানা বর্ণের ক্রিকেটারকে এক করে দিচ্ছে আইপিএল। ভিন্ন একটা দেশ, এই দেশের সংস্কৃতি আর মানুষকেও কাছ থেকে জানার সুযোগ এটা। যখন যেখানে খেলা হয়, হোটেল-মাঠ করে সে জায়গাটা ভালোই চেনা হচ্ছে। তবে খেলা বা অনুশীলনের বাইরে বেশির ভাগ সময়ই আমি হোটেলরুমে টিভি দেখে কাটাই।
একই ড্রেসিংরুমে বসে দেখছি গৌতম গম্ভীর ব্যাটিংয়ে যাওয়ার সময় কী করে বা জ্যাক ক্যালিসের দিনের রুটিনটা কেমন—এই অভিজ্ঞতাগুলোও অসাধারণ। একেক ক্রিকেটারের আচরণ একেক রকম। ক্যালিস যেমন চুপচাপ থাকতেই বেশি পছন্দ করে। কেউ কথা বললে উত্তর দেয়, টুকটাক কিছু বলে। নিজে থেকে কথা বলে কম। আবার হাডিন-মরগান খুবই মজার মানুষ। ইয়ার্কি-ফাজলামির ওস্তাদ বলতে পারেন। সব মিলিয়ে বহুজাতিক ড্রেসিংরুমে সময়টা ভালোই কাটছে। লি-ক্যালিসদের মতো বড় খেলোয়াড়দের কাছ থেকে দেখে অনেক কিছু শেখারও আছে।
বলিউড কিং শাহরুখ খানকে কাছ থেকে দেখাটাও একটা বড় অভিজ্ঞতা। তাঁর মতো ক্রিকেট-পাগল মানুষ বোধহয় কমই আছে। প্রতিটি ম্যাচের আগে-পরে আমাদের সঙ্গে দেখা করেন। জিতলে খুশি হন, অভিনন্দন জানান। হারলে পরের ম্যাচে ভালো খেলার জন্য সাপোর্ট দেন। আমার সঙ্গে সরাসরি খুব বেশি কথা অবশ্য হয়নি শাহরুখের। শুধু রাজস্থান রয়্যালসের বিপক্ষে পর পর দুই উইকেট পাওয়ার পর ম্যাচ শেষে বলেছিলেন, হ্যাটট্রিকটা পরের ম্যাচে হবে। হ্যাটট্রিক না হলেও পরের ম্যাচেই কিন্তু আমি ৩ উইকেট পেয়েছি!
গেইলের তাণ্ডবের কারণে গত ম্যাচটা একটু খারাপ গেলেও আইপিএলে এখন পর্যন্ত বোলিং ভালোই করছি। যা করতে চাচ্ছি, তাই হচ্ছে। অন্তত আমি এখন পর্যন্ত পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট। ব্যাটিংয়ের সুযোগটা ভালোভাবে পাচ্ছি না, এই যা। একটা ম্যাচেই সুযোগ পেয়েছিলাম, ভালো করতে পারিনি। তবে মনে বিশ্বাস আছে, বোলিংয়ের মতো ব্যাটিংয়েও আমার দিন আসবে।

দ্বিতীয় ওয়ানডেতেও জয় পাকিস্তানের

সফরের দ্বিতীয় ওয়ানডেতেও জয় পেয়েছে পাকিস্তান। উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান আহমেদ শেহজাদের ব্যাট কাল অনেকদিন পর জ্বলে ওঠায় জয়টা সহজই হয়েছে পাকিস্তানের। শেহজাদ ১৪৮ বল খেলে ধীরস্থিরভাবে ১০২ রানের ইনিংস খেলেন। এই সেঞ্চুরির ওপর ভর করে পাকিস্তান ওয়েস্ট ইন্ডিজের ছুড়ে দেওয়া ২২১ রানের লক্ষ্যমাত্রা উতরে যায় মাত্র ৩ উইকেটের খরচায়। এই জয়ে পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে পাকিস্তান এগিয়ে থাকল ২-০ ব্যবধানে।
টসে জিতে পাকিস্তান বেছে নিয়েছিল ফিল্ডিং। তিন স্পিনার মোহাম্মদ হাফিজ, সাঈদ আজমল ও অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদির নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারেননি ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটসম্যানরা। আগের ওয়ানডের মতোই রান তোলার ধীরগতির কারণে দলীয় স্কোরটাকে বেশি দূর টেনে নিয়ে যেতে পারেনি ক্যারিবীয়রা। ৮৫ বল খেলে ৫০-র কোটা পার হতে পেরেছেন কেবল উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান সিমন্স। সিমন্সের পাশাপাশি অনেকেই তাঁদের ইনিংসের শুরুটা করলেও সেটাকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেননি। পাকিস্তানের পক্ষে হাফিজ, ওয়াহাব রিয়াজ, আজমল ও আফ্রিদি প্রত্যেকেই ২টি করে উইকেট দখল করেন। ডেব্যুট্যান্ট হাম্মাদ আজম নেন ১টি উইকেট।
জবাবে পাকিস্তান শেহজাদের ১০২ ও মিসবাহ-উল-হকের ৪৩ রানের কল্যাণে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ ২২০ রান পেরিয়ে যায় ৪৮তম ওভারে। এই রান তাড়া করার পথে কোনো ঝুঁকি না নিয়ে ধীরগতিতে খেলেই জয় তুলে নেয় শহীদ আফ্রিদির দল।
ক্যারিবীয় বোলারদের মধ্যে সফল ছিলেন সেই বিশু। তাঁর চমত্কার লেগস্পিন দিয়ে তিনি ২ জন পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানকে সাজঘরে ফেরান। স্মিথ-মার্টিন যুগলবন্দীতে রান আউট হয়ে প্যাভেলিয়নে ফেরেন আসাদ শফিক।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২২০ (৫০ ওভার)
সিমন্স ৫১
আজমল ২/২৩, হাফিজ ২/৩৮, রিয়াজ ২/৩৮, আফ্রিদি ২/৪১, আজম ১/২৬
পাকিস্তান ২২৩/৩ (৪৮ ওভার)
আহমেদ শেহজাদ ১০২, মিসবাহ-উল-হক ৪৩
বিশু ২/৩৬
পাকিস্তান ৭ উইকেটে জয়ী।