Monday, May 12, 2014

ভারতের লোকসভা নির্বাচন- ৩০ আসনে নজর মমতার by রজত রায়

আজ সোমবার শেষ হচ্ছে ভারতের নয় পর্বের ভোটযজ্ঞ৷ পশ্চিমবঙ্গে আজ হবে পঞ্চম দফা ভোট৷ রাজ্যের ৪২টি লোকসভা আসনের মধ্যে ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে ২৫টি আসনের ভোট গ্রহণ। আজ শেষ পর্বে ভোট হচ্ছে বািক ১৭টি আসনে। রাজ্যে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য শেষ দফার নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এই পর্বের সবগুলো আসনই দক্ষিণবঙ্গে, যেখানে তৃণমূলের আধিপত্য তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। ২০০৯ সালের নির্বাচনে এই ১৭টি আসনের ১৪টিতেই জিতেছিল দলটি৷ এ ছাড়া, আরও একটি করে আসন পেয়েছিল তৃণমূলের তখনকার জোটসঙ্গী কংগ্রেস (বহরমপুর) এবং সোশ্যালিস্ট ইউনিটি সেন্টার (জয়নগর)। বামফ্রন্ট মাত্র একটি আসন (ঘাটাল) জিতেছিল। এবার অবশ্য তৃণমূল একাই লড়ছে, ফলে ক্ষমতাসীন দলের লড়াইটা আগের তুলনায় কিছুটা হলেও কঠিন। কিন্তু তৃণমূল নেত্রী এবং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সর্বভারতীয় রাজনীতিতে নিজের গুরুত্ব বাড়াতে উদগ্রীব৷ ভোটের প্রচারেও মমতা বারবার দাবি করছেন, এবার কেন্দ্রে সরকার গঠনের ক্ষেত্রে তাঁর দল নিয়ন্ত্রকের ভূমিকা নেবে। অর্থাৎ, তাঁর হিসাবে, বিজেপি বা কংগ্রেস তাদের জোট সহযোগীদের নিয়েও এবারের ভোটে সরকার গড়ার জন্য প্রয়োজনীয়সংখ্যক আসন (ন্যূনতম ২৭২) পাবে না। ফলে, সরকার গঠনে আঞ্চলিক দলগুলোর সমর্থন দরকার হবে৷ যদি জয়ললিতা, মায়াবতী, িনতীশ কুমার বা নবীন পট্টনায়কের দলগুলো মিলিতভাবে সেই সরকার করতে পারে, সে ক্ষেত্রে তাদের কংগ্রেসের সমর্থন নিতে হতে পারে। আবার, যদি নরেন্দ্র মোদির বিজেপির নেতৃত্বে এনডিএ জোট এগিয়ে যায়, তা হলেও আঞ্চলিক দলগুলোর সমর্থন দরকার হলে, তারা বিজেপির ওপর অনেক শর্ত চাপাতে পারে সমর্থনের বিনিময়ে। এই দড়ি টানাটানির খেলায় যেসব আঞ্চলিক দলের হাতে ৩০ বা ৩৫ আসন থাকবে, তারাই ভালো দর-কষাকষি করতে পারবে। এটা বুঝেই মমতা এবার নিজের রাজ্য থেকে অন্তত ৩০টি আসন জিততে চান৷ শেষ দফার ১৭টি আসনের মধ্যে যত বেশি সম্ভব আসন জিততে মরিয়া তৃণমূল।
আর এ কারণেই ভোটের আগের ৭২ ঘণ্টায় ওই সব এলাকা থেকে হিংসাত্মক ঘটনার খবর আসছে। বেশির ভাগ এলাকায় বিরোধীদের কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা, বিরোধী দলের কর্মীদের মারধর করা, এমনকি পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুকে সিপিএম প্রার্থীকে এবং দমদমে বিজেপি প্রার্থীকে পিটিয়ে গুরুতর জখম করার ঘটনাও ঘটেছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই অভিযোগের তিরটা শাসক দল তৃণমূলের দিকে। আজ ভোটের দিন এই ধরনের ঘটনা আরও বাড়বে বলেই রাজনৈতিক মহলের আশঙ্কা। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে অবশ্য কলকাতাসহ উত্তেজনাপ্রবণ এলাকাগুলোতে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী শনিবার থেকেই টহল দিতে শুরু করেছে। কিন্তু সহিংসতার আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি সন্নিহিত গ্রামাঞ্চলে। অথচ সেখানকার অনেক জায়গাতেই নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি নেই বললেই চলে। আর বীরভূমে যেমন পেশিশক্তি প্রদর্শনের জন্য তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডল কুখ্যাত হয়েছেন, তেমনি দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার ভাঙ্গড়ের সাবেক তৃণমূল বিধায়ক আরাবুল ইসলামও গুন্ডামি, কলেজশিক্ষিকাকে আক্রমণ এবং সাবেক সিপিএম মন্ত্রী ও বর্তমান বিধায়ক রেজ্জাক মোল্লাকে গুরুতর আহত করে কুখ্যাত হয়েছেন। যাদবপুর আসনে তৃণমূল প্রার্থী ও নেতাজি সুভাষের পরিবারের সদস্য সুগত বসুকেও এখন এই আরাবুলের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে ভোটের জন্য। সিপিএম আমলের সাবেক অর্থমন্ত্রী অসীম দাশগুপ্ত এবার দমদমে ভোটে লড়ছেন গতবারের বিজয়ী ও সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সৌগত রায়ের বিরুদ্ধে। উত্তর কলকাতায় তৃণমূলের গতবারের বিজয়ী প্রার্থী সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় এবার চতুর্মুখী লড়াইয়ে পড়েছেন। অবাঙালি ব্যবসায়ীপ্রধান এই আসনে বিজেপি হাওয়ায় ভর করে দলের রাজ্য সভাপতি রাহুল সিংহ লড়াইয়ের ময়দানে জাঁকিয়ে বসেছেন। এ ছাড়া, রয়েছেন কংগ্রেসের সোমেন মিত্র ও সিপিএমের রূপা বাগচী। সোমেন মিত্র উত্তর কলকাতারই দীর্ঘদিনের কংগ্রেস বিধায়ক থাকার পরে গতবার দল ছেড়ে ডায়মন্ড হারবার থেকে তৃণমূল প্রার্থী হিসেবে লোকসভায় যান। এবার তিনি কংগ্রেসে ফিরে নিজে জেতার চাইতে সুদীপের পথের কাঁটা হতেই বেশি আগ্রহী। একই ভাবে জয়নগরে সোশ্যালিস্ট ইউনিটি সেন্টারের (এসইউসি) নিজস্ব ভোট ধরে রাখতে পারলে এবার সেখানেও লড়াই হাড্ডাহাড্ডি হওয়ার সম্ভাবনা।
পশ্চিমবঙ্গে এবারের নির্বাচনের বড় বিশেষত্ব হলো, ক্ষমতাসীন তৃণমূল ও বিরোধী বামপন্থীদের রাজনৈতিক লড়াইকে দূরে ঠেলে দিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রস্থলে বিজেপির উপস্থিতি। ফলে, কম-বেশি সব আসনেই বিজেপির ভোট বাড়ার সম্ভাবনা প্রবল। এরই জেরে বেশ কয়েকটি আসনের ফলাফল এবার অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। তার মধ্যে আগে ভোট হয়ে যাওয়া আসন যেমন, হাওড়া, দার্জিলিং, আলিপুরদুয়ার, জঙ্গিপুর, রায়গঞ্জ, আসানসোল, শ্রীরামপুর, বাঁকুড়া প্রভৃতি রয়েছে, তেমনই সোমবার শেষ পর্বে যেসব জায়গায় ভোট হবে তার মধ্যে কৃষ্ণনগর, রানাঘাট, দমদম, বারাসাত, ব্যারাকপুর ও উত্তর কলকাতা রয়েছে। দার্জিলিং, আসানসোল, শ্রীরামপুরের মতোই উত্তর কলকাতা ও কৃষ্ণনগরে বিজেপি এখন রীতিমতো সমানে সমানে টক্কর দিচ্ছে তৃণমূল ও বামপন্থীদের সঙ্গে। এ ছাড়া, জঙ্গিপুর, হাওড়া, রানাঘাট, বাঁকুড়ার মতো আধা ডজন আসনে বিজেপির প্রবল উপস্থিতি ভোটের ফলকে অনিশ্চিত করে দিয়েছে।বিজেপির এই বাড়বাড়ন্তের মধ্যে নিজেদের ভোট ধরে রাখতে পারাটাই এখন তৃণমূল ও বামপন্থীদের জন্য বিরাট চ্যালেঞ্জের।
দক্ষিণবঙ্গে নির্বাচনী প্রচারণার শুরুতে বামপন্থীরা, বিশেষ করে সিপিএম অনেকটাই পিছিয়ে ছিল। ২০০৯ সালের লোকসভা নির্বাচন, ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচন ও ২০১৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচন—প্রতিটি নির্বাচনেই বামপন্থীদের ভোট কমেছিল। বিশেষ করে, দক্ষিণবঙ্গে তাদের তৃণমূল পর্যায়ের অনেক কর্মীই ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেসের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। এই অবস্থায় শুরুতে তৃণমূল অন্যদের চাইতে এগিয়ে থাকলেও পশ্চিমবঙ্গে প্রচারে এসে নরেন্দ্র মোদি সারদা কেলেঙ্কারির সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর নামকে জড়িয়ে দিয়ে যেমন তৃণমূলকে প্রচণ্ড অস্বস্তিতে ফেলেছেন, তেমনি মোদির 'তথাকথিত বাংলাদেশিদের' জোর করে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর হুমকি আবার রাজ্যের ক্ষমতাসীন নেতাদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে। কৃষ্ণনগর, রানাঘাট, বনগাঁ প্রভৃতি বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী লোকসভা আসনে রাতারাতি মোদির এই হুমকিসংবলিত হাজার হাজার ফেস্টুন টাঙাচ্ছে তৃণমূল। যার বক্তব্য, মোদি ক্ষমতায় এলে ১৯৪৭ সাল থেকে যাঁরা (একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের মানুষ) সীমান্ত পেরিয়ে এ দেশে এসেছেন, তাঁদের দেশ ছাড়তে হবে। তৃণমূলের এক নেতার দাবি, মোদির ওই কথায় দক্ষিণবঙ্গের সংখ্যালঘু ভোটের বেশিটাই তাঁদের ঝুলিতে পড়বে। বামপন্থীরা অবশ্য এটা মানতে রাজি নন।তাঁদের মতে, সংখ্যালঘুরা বিজেপিকে ঠেকাতে শুধু তৃণমূলকেই বেছে নেবেন, সেটা ভাবা ভুল। তাঁরা বেশ কয়েক জায়গায় বামপন্থীদের সঙ্গে রয়েছেন, আর কোনো কোনো জায়গায় কংগ্রেসের দিকেও ঝুঁকছেন।

ভারতের লোকসভা নির্বাচন- ৩০ আসনে নজর মমতার by রজত রায়

আজ সোমবার শেষ হচ্ছে ভারতের নয় পর্বের ভোটযজ্ঞ৷ পশ্চিমবঙ্গে আজ হবে পঞ্চম দফা ভোট৷ রাজ্যের ৪২টি লোকসভা আসনের মধ্যে ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে ২৫টি আসনের ভোট গ্রহণ। আজ শেষ পর্বে ভোট হচ্ছে বািক ১৭টি আসনে। রাজ্যে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য শেষ দফার নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এই পর্বের সবগুলো আসনই দক্ষিণবঙ্গে, যেখানে তৃণমূলের আধিপত্য তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। ২০০৯ সালের নির্বাচনে এই ১৭টি আসনের ১৪টিতেই জিতেছিল দলটি৷ এ ছাড়া, আরও একটি করে আসন পেয়েছিল তৃণমূলের তখনকার জোটসঙ্গী কংগ্রেস (বহরমপুর) এবং সোশ্যালিস্ট ইউনিটি সেন্টার (জয়নগর)। বামফ্রন্ট মাত্র একটি আসন (ঘাটাল) জিতেছিল। এবার অবশ্য তৃণমূল একাই লড়ছে, ফলে ক্ষমতাসীন দলের লড়াইটা আগের তুলনায় কিছুটা হলেও কঠিন।

হঠাৎ কেন এই মহা আবিষ্কার? by আবদুল মান্নান

৪ মে খালেদা জিয়া জাতীয় প্রেসক্লাবে গিয়েছিলেন নারায়ণগঞ্জের নৃশংস সাত হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ডাকা দলীয় নেতা-কর্মীদের দিনব্যাপী ‘অনশন’ ভাঙাতে। এদিন তিনি শেষ আধা ঘণ্টা আগে এই ‘অনশনে’ যোগ দেন আর দলীয় নেতা-কর্মীদের শরবত খাইয়ে ‘অনশন’ ভাঙান। শেষে বেগম জিয়া একটি বক্তৃতায় সরকারের তুমুল সমালোচনা করেন, কিন্তু কিছু সময় পর হঠাৎ তিনি তাঁর প্রয়াত স্বামী জেনারেল জিয়ার হত্যাকােণ্ডর বিষয়ে চলে যান এবং বলেন, এরশাদই তাঁর স্বামী ও জেনারেল মঞ্জুরকে হত্যা করেছেন।

নয় পর্বের ভোট শেষ হচ্ছে আজ- কঠিন পরীক্ষায় মমতা, মুলায়ম

ভারতের লোকসভা নির্বাচন শেষ হচ্ছে আজ সোমবার৷ নবম ও শেষ পর্বে আজ তিন রাজ্যের ৪১ আসনে ভোট গ্রহণ হবে৷ শেষ দফার নির্বাচনে কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং উত্তর প্রদেশে সমাজবাদী পার্টির (এসপি) নেতা মুলায়ম সিং যাদব৷ মমতা-মুলায়মের সামনে আজ যদি থাকে কঠিন পরীক্ষা, তাহলে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী নরেন্দ্র মোদি ও আম আদমি পার্টির (এএপি) অরবিন্দ কেজরিওয়াল আজ কঠিন লড়াইয়ের মুখোমুখি৷ কেউই কারও কাছে হারতে চান না৷ উত্তর প্রদেশের বারানসি আসনে আজ দুজন সর্বশক্তি নিয়ে লড়াইয়ে নামছেন৷ তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই দ্বৈরথে কে হাসবেন শেষ হাসি, তা ঠিক করে দেবেন বারানসির মানুষ৷ লোকসভার এবারের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো এক মাসের বেশি সময় ধরে৷ শুরু হয়েছিল ৭ এপ্রিল, শেষ হচ্ছে আজ৷ ফলাফল ঘোষণা করা হবে ১৬ মে৷
মমতার দল তৃণমূল এবং মুলায়মের সমাজবাদী পার্টি তাদের নিজ নিজ রাজ্যে ক্ষমতায়৷ রাজ্যের বাইরে তাদের কোনো উপস্থিতি নেই বললেই চলে৷ তাদের দুই রাজ্যে এবার বড় করে ভাগ বসাতে চাইছে মোদির বিজেপি৷ পশ্চিমবঙ্গে হয়তো খুব ভালো করতে পারবে না, কিন্তু উত্তর প্রদেশে থাবা বসাতে চেষ্টার কোনো কমতি রাখেনি বিজেপি৷ নির্বাচনের আগের সব জনমত জরিপে আভাস পাওয়া যাচ্ছে, বিজেপিই সরকার গড়বে৷ এ জন্য উত্তর প্রদেশে তাদের ভালো করতেই হবে৷ পশ্চিমবঙ্গে লোকসভার আসন মোট ৪২টি৷ শেষ দফায় আজ ভোট হচ্ছে ১৭টি আসনে৷ এই ১৭ আসনের মধ্যে ১৬টি গতবার পেয়েছিল তৃণমূল৷ আর মুলায়মের রাজ্য উত্তর প্রদেশের ৮০ আসনের মধ্যে আজ ভোট ১৮ আসনে৷ এ ছাড়া বিহারে ছয়টি আসনে ভোট হচ্ছে৷ এবারই প্রথম কোনো দলের সঙ্গে গাঁটছড়া ছাড়াই নির্বাচন করছে মমতার তৃণমূল৷ ফলে পশ্চিমবঙ্গের ৪২টি আসনের সব কটিতে প্রার্থী দিয়েছে দলটি৷ এই রাজ্যে আগাগোড়াই কংগ্রেস বা বিজেপির অবস্থা খুব একটা শক্ত ছিল না৷ বামফ্রন্টের দীর্ঘ শাসনের শেষ পর্যায়ে তাদের সঙ্গে টক্কর দিয়েছে তৃণমূল৷ বামদের দুর্গ ভেঙে দেওয়ার পাশাপাশি তাদের তছনছ করে দিতেও সক্ষম হয়েছেন মমতা৷ তাই গতবার ১৯টি আসন পেলেও এবার তিনি বলছেন, সবগুলো আসনই তৃণমূলের হবে৷ এতটা না হলেও দলের নেতারা আশা করছেন, তাঁদের আসনসংখ্যা ৩০ এর ওপরে থাকবেই৷
পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেস নেই, বামফ্রন্ট তছনছ৷ তাই বলে সবটা একা তৃণমূলকে ছাড়তে রাজি নয় বিজেপি৷ এমনিতে এবার সারা দেশে বইছে মোদি হাওয়া৷ তার ওপর ক্ষমতায় থেকে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে তৃণমূলের তেমন কিছু করতে না পারা এবং শেষবেলায় সারদা কেলেঙ্কারিতে জেরবার মমতা৷ এসব সুযোগ কাজে লাগিয়ে এবার তূণমূলের ভাগে কামড় বসাতে উদ্যত বিজেপি৷ পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিজেপির সভাপতি রাহুল সিনহা তাই আশা করছেন, 'আগের কোনো হিসাবনিকাশ এখন কাজ করবে না৷ পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির হাওয়া এবার ভিন্নদিকে বইছে৷ আমি নিশ্চিত, তৃণমূল যতটা আশা করছে, তাদের জন্য তা ততটা সহজ হবে না৷'
উত্তর প্রদেশের বারানসিতে বিজেপির মোদি, এএপির কেজরিওয়াল ও কংগ্রেসের অজয় রায়ের মধ্যে ত্রিমুখী লড়াইটা হতে যাচ্ছে৷ কিন্তু পুরো রাজ্যের লড়াইটা চতুর্মুখী হবে বলেই মনে হচ্ছে৷ এতে কংগ্রেস ও বিজেপির পাশাপাশি থাকছে রাজ্যের ক্ষমতাসীন সমাজবাদী পার্টি (এসপি) ও বিরোধী দল মায়াবতীর বহুজন সমাজবাদী পার্টি (বিএসপি)৷ তবে মূল লড়াইটা হতে পারে বিজেপি ও বিএসপির মধ্যে৷ এসপির প্রধান মুলায়ম লড়ছেন বারানসির পাশের আসন আজমগড় থেকে৷ সেখানেও আজ ভোট৷ তিনি হয়তো জিতে যাবেন৷ কিন্তু তাঁর দল এসপির অবস্থা গতবারের মতো অতটা সংহত নয়৷ বিহারে নির্বাচন আজ ছয়টি আসনে৷ এই রাজ্যে নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে উন্নয়নের বিষয়টি পাশে সরিয়ে জাতপাতের বিষয়টি সামনে নিয়ে এসেছেন নরেন্দ্র মোদি৷ এই অনুভূতির ওপর ভর দিয়ে টক্কর দিতে চাইছেন সাবেক মুখ্যমন্ত্রী লালু প্রসাদ যাদবের রাষ্ট্রীয় জনতা দলের (আরজেডি) সঙ্গে৷ একই অস্ত্রে কাবু করতে চাইছেন রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমারের জনতা দলকে (সংযুক্ত)৷ সিএনএন-আইবিএন৷

প্রিয়াংকার জয় রাহুলের ভয়

দাদা রাহুলের নামের ওপরে নিজের সুখ্যাতির ছায়া ফেলেছেন প্রিয়াংকা গান্ধী- প্রচারণার ষোলআনা খ্যাতিটুকুই তিনি কড়ায়-গণ্ডায় ছিনিয়ে নিয়েছেন। ভারতীয় গণমাধ্যমে খুব কম মানুষই আছে যারা বিষয়টিকে স্বীকার করবেন না। আর বিদেশী সংবাদ মাধ্যমেও গুটিকয়েক আছেন যারা এটি অস্বীকার করবেন। গত তিন সপ্তাহ ধরে, যখন থেকে তিনি কথা বলতে শুরু করেছেন, তখন থেকে সংবাদপত্রের শিরোনাম এবং টিভির পর্দাজুড়ে কেবল প্রিয়ংকারই আধিপত্য। অন্যদিকে রাহুল গান্ধী যেন খবর থেকে উধাও হয়ে গেছেন। কেবল খবরের সময়ে তাকে ছিটেফোঁটা চোখে পড়ে। স্বভাবতই প্রশ্ন উঠে, প্রিয়াংকা এমন কি করছেন যে নির্বাচনী প্রচারণা থেকে একেবারে উধাও হয়ে গেলেন রাহুল। ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম প্রিয়াংকার মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকে খুঁজে পেয়েছে। দেশের অধিকাংশ জনগণ সংবাদ মাধ্যমের এ দাবিকে মেনেও নিয়েছে। প্রিয়াংকা যখন খালি পায়ে গরম বালির ওপর দিয়ে হেঁটে যান জনতা তার মধ্যে চারিত্রিক দৃঢ়তা আর আত্মবিশ্বাস দেখতে পায়। তিনি যখন কথা বলেন, তার চোখের তারায় দ্যুতি ঠিকরায়। তার হাসি বা রাগ সবই যেন স্বতঃস্ফূর্ত। তাই সহজেই সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন প্রিয়াংকা। অন্যদিকে রাহুলের প্রতি অবহেলা না করলেও খানিকটা যেন উদাসীন হয়ে পড়েছে ভারতের মানুষ। বারবার হিন্দুস্থান টাইমসের কংগ্রেসের দুই উত্তরসূরির বর্তমান অবস্থান ও রাজনৈতিক ভবিষ্যতের আলোকে এ বিশেষ প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়েছে। এ প্রসঙ্গে একটা উদাহরণ দেয়া যাক।
রাহুল যখন সংবাদপত্রের সঙ্গে কথা বলেন, তখন তাকে দেখায় নির্লিপ্ত। আর সাক্ষাৎকার দেয়ার সময় পুরোপুরি নিমগ্ন হয়ে যান নিজের মধ্যে। বিপরীতে প্রিয়াংকা সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে এক বা দুমিনিট কথা বললেও তা নিয়ে আলোড়ন তৈরি হয়। আর প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপি হয়ে পড়ে কোণঠাসা। তিনি জানেন, কীভাবে ঘা তৈরি করে তাতে আঘাত করতে হয়। কিন্তু রাহুল তা জানেন না। পণ্ডিতব্যক্তিরা বলে থাকেন, রাজনীতি হল গণযোগাযোগের এক শৈল্পিক মাধ্যম। আপনি যদি জনতাকে প্রভাবিত করতে পারেন তাহলে তারা আপনার ডাকে সাড়া দেবে। প্রকৃতিগতভাবেই এই গুণটির অধিকারী প্রিয়াংকা। জনগণ তার কথা শোনে। রাহুলও জনতাকে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছেন, কিন্তু তিনি যেন সঠিক শব্দ খুঁজে পাচ্ছেন না। তাই কেবল মুষ্ঠিমেয়রাই তার কথা বুঝতে পারে। টেলিভিশনের টকশোগুলোতে তাই এখন দুই ভাইবোনকে নিয়ে শুরু হয়েছে তুলনা। দুটি প্রশ্নই বারবার ঘুরে ফিরে আসছে। প্রথমত, প্রিয়াংকা কি নির্বাচনী প্রচারণায় রাহুলের চাইতেও বেশি কার্যকর? তাকে দলে বড় ভূমিকা পালন করতে না দিয়ে কংগ্রেস কি তবে ভুল করেছে? এগুলোর উত্তর যাই হোক না কেন, এসব প্রশ্নই দলে রাহুলের অবস্থান এবং ভাবমূর্তিকে ছোট করে ফেলছে। কংগ্রেস রাহুলকে সোনিয়া গান্ধীর উত্তরাধিকার এবং দলের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেখতে চাইছে। অন্যদিকে ভারতের সংবাদ মাধ্যম এবং জনতার ধারণা, প্রিয়াংকা রাহুলের চেয়ে বেশি যোগ্য। আর এ কারণেই প্রিয়াংকার জনপ্রিয়তা এবং সফলতা একটি সমস্যা হয়ে দাঁড়াতে পারে, যদিও তার পরিবার এবং দল এখনও এটি অনুধাবন করতে পারছে না। প্রিয়াংকা ইচ্ছাকৃতভাবে এবং সচেতনভাবেই যে নিজেকে উন্নত করছেন এতে কোনো সন্দেহ নেই।

র‌্যাবের আর প্রয়োজন নেইঃ খালেদা জিয়া

গুম, খুন ও অপহরণের মতো মারাত্মক অপরাধের সঙ্গে জড়িত হয়ে পড়ায় র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)-এর আর প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তিনি বলেছেন, এটি এখন মানুষের দাবি। গত রাতে ঢাকা মহানগর বিএনপির ৩৮নং ওয়ার্ড সাধারণ সম্পাদক সাজেদুল ইসলাম সুমনসহ নিখোঁজ ৭ জনের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে তিনি এ দাবি জানান। খালেদা জিয়া বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় দেশে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও জনগণের নিরাপত্তার জন্য প্রশিক্ষিত বাহিনী র‌্যাব গঠন করা হয়েছিল। কিন্তু যে উদ্দেশ্যে র‌্যাব গঠন করা হয়েছিল তারা সে কর্তব্য পালন করতে পারছে না। বর্তমান অবৈধ সরকার র‌্যাবকে বিরোধী দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষকে দমনের জন্য অপহরণ-খুনসহ নৃশংস কাজে ব্যবহার করছে। তারা এখন গুম-খুনে জড়িয়ে পড়েছে। বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের বাড়ির ভেতর থেকে ধরে নিয়ে খুন-গুম করছে। সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে র‌্যাবের অবস্থান দাঁড়িয়ে গেছে। এ কারণে এ বাহিনীর আর প্রয়োজন নেই। তাই অবিলম্বে এ বাহিনী বন্ধের দাবি জানাচ্ছি। খালেদা জিয়া সরকারের উদ্দেশে বলেন, আর কত মায়ের বুক খালি করবেন, এবার র‌্যাবকে বিলুপ্ত করুন। দেশে র‌্যাবের কোন প্রয়োজন নেই। খালেদা জিয়া অভিযোগ করে বলেন, সুমনসহ বিএনপি নেতাকর্মীদের যারা বাড়িতে এসে ধরে নিয়ে গেছে তাদের পরনে ছিল র‌্যাবের কালো পোশাক। এরা র‌্যাব ১-এর লোক। যেভাবে রাতের আঁধারে তাদের টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে তা র‌্যাবের লোক ছাড়া আর কারও পক্ষে সম্ভব নয়। তিনি বলেন, আমাদের দেশে পুলিশ বাহিনী রয়েছে। পুলিশকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সুশিক্ষিত করতে হবে। মানুষের বন্ধু হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। খালেদা জিয়া বলেন, যারা নিখোঁজ হয়েছে তাদের পরিবার এখনও মনে করেন তারা জীবিত আছেন। তাই সরকারের উচিত তাদের (নিখোঁজদের) পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেয়া। ফিরিয়ে দিতে তাদের (র‌্যাবকে) নির্দেশ দেয়া। তা না হলে এ অবৈধ সরকার ও র‌্যাবকে আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে। তাদের বিচার করা হবে। নারায়ণগঞ্জের ঘটনার উদাহরণ তুলে ধরে খালেদা জিয়া এ সময় হত্যা, গুম ও অপহরণের সঙ্গে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানান। এ সময় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান, তরিকুল ইসলাম, ঢাকা মহানগরের আহ্বায়ক সাদেক হোসেন খোকা, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবদুস সালাম, বিএনপির সহ-ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, ৩৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আইনুল ইসলাম চঞ্চল, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক কুতুব উদ্দিনসহ মহানগর বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে গতরাত ৮টায় রাজধানীর নাখালপাড়ার শাহীনবাগে সুমনের বাসায় যান বিএনপি চেয়ারপারসন। খালেদা জিয়াকে কাছে পেয়ে সাজেদুল ইসলাম সুমনের মাসহ কান্নায় ভেঙে পড়েন নিখোঁজ নেতাকর্মীদের পরিবারের সদস্যরা। সেখানে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। সেখানে খালেদা জিয়া নিখোঁজ নেতাকর্মীদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কিছুক্ষণ সময় কাটান এবং তাদের সান্ত্বনা জানান। এ সময় নিখোঁজ সুমন ছাড়াও জাহিদুল করিম তানভীর, কাউসার, আবদুল কাদের ভূঁইয়া মাসুম, মাজহারুল ইসলাম রাসেল, আসাদুজ্জামান রানা, আল আমিন, এএম আদনান চৌধুরীর স্বজনদের সান্ত্বনা দেন তিনি। উল্লেখ্য, গত বছরের ৪ঠা ডিসেম্বর রাত সাড়ে ৮টায় রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে অপহৃত হন। সুমনকে অপহরণের সময় সঙ্গে থাকা তার খালাতো ভাই জাহেদুল করিম তানভীর, আবদুল কাদের ভূঁঁইয়া, মাজহারুল ইসলাম রাসেল, আসাদুজ্জামান রানা, আল আমিন নামে আরও ৫ জন অপহরণের শিকার হন। এর কয়েক ঘণ্টা পর রাত ২টায় সুমনের শাহিনবাগের বাসা থেকে আদনান চৌধুরী ও কাউসারকে তুলে নেয়া হয়। ওদিকে গুমের পর খুনের শিকার সাতজনের পরিবারকে সান্ত্বনা জানাতে ১৪ই মে’র পরিবর্তে আগামী ১৩ই মে নারায়ণগঞ্জ যাবেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ১৪ই মে নিহতদের পরিবারকে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে আমন্ত্রণ জানানোর পর পূর্বনির্ধারিত সফরটি একদিন এগিয়ে আনে বিএনপি। নারায়ণগঞ্জ সফর ও সেখানকার সার্বিক পরিস্থিতি জানতে আজ রাতে জেলা বিএনপি নেতাদের গুলশান রাজনৈতিক কার্যালয়ে ডাকা হয়েছে। গত রাতে বিএনপি চেয়ারপারসন কার্যালয় সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। এদিকে শুভ বুদ্ধপূর্ণিমা উপলক্ষে আজ রাত সাড়ে ৮টায় গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বৌদ্ধ সমপ্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন খালেদা জিয়া।

বিচারপতির নেতৃত্বে তদন্ত কমিটির দাবি বিএনপির
নারায়ণগঞ্জের ৭ খুনের ঘটনা একজন সাবেক প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে একটি বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছে বিএনপি। দলের ভারপ্রাপ্ত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, একজন সাবেক প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করার প্রস্তাব করছে বিএনপি। সে সঙ্গে নিহতদের পরিবারকে সান্ত্বনা জানাতে খালেদা জিয়ার নারায়ণগঞ্জ যাওয়ার পূর্বনির্ধারিত দিনে তাদের প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে আমন্ত্রণ জানানোর সমালোচনা করেন তিনি। গতকাল সকালে স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি হাবিব-উন-নবী খান সোহেলের কারামুক্তি উপলক্ষে দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাজারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পর সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ সমালোচনা করেন। খালেদা জিয়ার নির্ধারিত সফরের দিন নিহতদের পরিবারকে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে আমন্ত্রণ জানানোর সমালোচনা করে মির্জা আলমগীর বলেন, এটাই আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক সংস্কৃতি। তারা বিরোধী দলকে কর্মকা- করতে দিতে চায় না। বিএনপি চেয়ারপারসনের কর্মসূচি পূর্বনির্ধারিত। একই দিন প্রধানমন্ত্রী নিহতদের স্বজনদের ডেকেছেন। এটি কোন রাজনৈতিক শিষ্টাচারের মধ্যে পড়ে বলে মনে করি না। আসলে আওয়ামী লীগের এ আচরণে সহনশীলতার লেশমাত্র নেই। র‌্যাবের প্রয়োজন নিয়ে প্রশ্ন তুলে মির্জা আলমগীর বলেন, দেশে অপহরণ, খুন-গুমে সরকার র‌্যাবকে ব্যবহার করছে। র‌্যাবকে ব্যবহার করে মানুষের জান-মাল রক্ষা না করে জনগণের জীবন হরণ করা হচ্ছে। ফলে এখন আর র‌্যাবের প্রয়োজন আছে কিনা- জনগণের মধ্যে তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। মির্জা আলমগীর বলেন, নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের ঘটনায় কারা জড়িত তা এখন পরিষ্কার। সারা দেশে খুন, গুম ও অপহরণ সরকারের প্রশ্রয়ে হচ্ছে। কিন্তু সরকার মূল বিষয় ধামাচাপা দিতে চাইছে। জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে সরানোর চেষ্টা করছে। এদিকে বিএনপি সূত্র জানায়, একজন সাবেক প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি গঠনের ব্যাপারে বিএনপির প্রস্তাবটি শনিবার রাতে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে। এদিকে সকালে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ একই দাবি জানিয়ে বলেন, সাবেক একজন প্রধান বিচারপতি, সাবেক একজন মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও একজন মানবাধিকারকর্মীর সমন্বয়ে তিন সদস্যের ওই তদন্ত কমিটি করতে হবে। এসময় স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, সাধারণ সম্পাদক সরাফত আলী সপুসহ সংগঠনের অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

দু’বছর খোঁজ নেই ওদের by জহুরুল ইসলাম

দরজায় কেউ শব্দ করলেই মনে হয় এই বুঝি আমার মোকাদ্দাস এসেছে। কেউ ফোন করলে বড় আশা নিয়ে ফোন ধরি মোকাদ্দাসের খবর শোনার জন্য। কেউ কোথায়ও থেকে এলে মনের মধ্যে তোলপাড় শুরু হয়। ছুটে যাই তার কাছে মোকাদ্দাসের সংবাদ জানার জন্য। কিন্তু আড়াই বছরেও কেউ আমার প্রিয় সন্তানের সংবাদ এনে দিতে পারেনি।’

আত্মঘাতী আওয়ামী লীগ ও ক্ষমতার মোহ

সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম, আইনজীবী চন্দন সরকারসহ সাত ব্যক্তিকে অপহরণের কয়েক দিন পর শীতলক্ষ্যা নদী থেকে তাঁদের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় সারা দেশে ক্ষোভ-বিক্ষোভ-প্রতিবাদের ঝড় বয়ে চলেছে। প্রকাশ্য রাজপথে এই অপহরণ চালানো হয়েছিল দিনদুপুরে কমান্ডো স্টাইলে, অনেক প্রত্যক্ষদর্শীর সামনে। অপহৃত ব্যক্তিদের যে যানবাহনগুলোতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, তার মধ্যে একটির গায়ে নারায়ণগঞ্জে কর্তব্য পালনে নিয়োজিত এলিট ফোর্স র‌্যাব-১১-এর স্টিকার ও সাইনবোর্ড লাগানো ছিল৷ প্রত্যক্ষদর্শীদের অনেকে সেটা স্বচক্ষে দেখেছেন। অপহরণ ঘটনার পরপরই এ জন্য সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর নূর হোসেনকে অভিযুক্ত করে নারায়ণগঞ্জে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হলেও প্রায় দুই দিন নূর হোসেন নারায়ণগঞ্জে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর নাকের ডগায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়িয়েছেন বলে খবর ছাপা হয়েছে। অথচ, ওই দুই দিন তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের বা গ্রেপ্তারের কোনো প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেনি কোনো সংস্থাই, যা খুবই রহস্যজনক। জনমনে ধারণা জন্মেছে যে নূর হোসেন গা ঢাকা দেওয়ার পরই তাঁকে ধরপাকড়ের লোক দেখানো তোড়জোড় শুরু করা হয় এবং জনমনে সন্দেহ যে তাঁকে দেশের বাইরে পাঠিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা সম্পন্ন হওয়ার পরেই এসব নাটকের অবতারণা করা হয়েছে। শুধু নূর হোসেনকে এই সাতজনের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের একমাত্র হোতা সাজানো নাটকের মঞ্চায়ন এখন জোরেশোরে এগিয়ে চলেছে। জনমনে সন্দেহটা দৃঢ়মূল হওয়ার প্রধান কারণ হলো, স্থানীয় সাংসদ শামীম ওসমান স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে সরাসরি নূর হোসেনকে হত্যাকাণ্ডের মূল নায়ক হিসেবে চিহ্নিত করে বেশ কিছু কথিত প্রমাণ উপস্থাপন করেছেন। তঁার এ ধরনের পদক্ষেপ নেপথ্যের আসািমদের আড়াল করার অপপ্রয়াস কি না, সেটাও ভেবে দেখার বিষয়৷
এটা অত্যন্ত দুঃখজনক যে নারায়ণগঞ্জের একসময়ের নামী রাজনীতিবিদ এবং আওয়ামী লীগের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা খান সাহেব ওসমান আলীর বংশধরদের রাজনৈতিক অধঃপতনের মূর্ত প্রতীক হয়ে দঁাড়িয়েছেন শামীম ওসমান। এখন এ দেশের রাজনীতির দুর্বৃত্তায়নের ক্ল্যাসিক উদাহরণও বটে। জনমনে বিভীষিকা সৃষ্টিকারী পলিটিক্যাল গডফাদারের প্রসঙ্গ উঠলে সবার আগে নাম আসবে তঁারই। এই একটি পরিবারের কাছে পুরো নারায়ণগঞ্জবাসী ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকে কয়েক বছর ধরে আক্ষরিক অর্থেই জিিম্ম। কোনো অজ্ঞাত কারণে প্রধানমন্ত্রীর স্নেহসুধা অব্যাহত রয়েছে শামীম ওসমানের ওপর, এ ধরনের ভয়ংকর গডফাদার ইমেজ সত্ত্বেও। প্রধানমন্ত্রীর স্নেহ দিন দিন আরও বেপরোয়া করে তুলছে শামীম ওসমান ও তাঁর মাস্তান বাহিনীকে। গত বছর ত্বকী হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তাঁর ভাইপো আজমেরী ওসমানের সংশ্লিষ্টতার নানা বিশ্বাসযোগ্য আলামত পাওয়ার পরও মামলাটিকে যেভাবে ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে, তাতে নারায়ণগঞ্জবাসীর মনে দৃঢ়মূল বিশ্বাস জন্মেছে যে আওয়ামী লীগ যত দিন ক্ষমতায় আসীন থাকবে, তত দিন শামীম ওসমানের জোর-জুলুম, দখলবাজি, চাঁদাবাজি ও মাস্তানি থেকে তাদের পরিত্রাণ নেই।
অথচ, এটা খুবই আশ্চর্যজনক যে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী আওয়ামী লীগের একনিষ্ঠ সমর্থক হওয়া সত্ত্বেও সরকারের অবজ্ঞা ও অবহেলার শিকার হয়ে চলেছেন। কোনো এক অজ্ঞাত কারণে সেলিনা হায়াৎ আইভীকে যেন তিনি সহ্যই করতে পারছেন না! গত মেয়র নির্বাচনেই নারায়ণগঞ্জের ভোটাররা শেখ হাসিনাকে ব্যালটের মাধ্যমে তাঁদের সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছিলেন যে তাঁরা শামীম ওসমানকে নয়, সেলিনা হায়াৎ আইভীকে চান তাঁদের মেয়র হিসেবে। এক লাখেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে শামীম ওসমানকে হারিয়েছিলেন আইভী, শামীম ওসমানকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রদান সত্ত্বেও। বলা প্রয়োজন, ভোটারদের এই বিপুল প্রত্যাখ্যান সত্ত্বেও ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির সংসদ নির্বাচনে শামীম ওসমানকেই আবার মহাজোটের প্রার্থী করাটা নেতৃত্বের একগুঁয়েমির পরিচায়ক ছিল। কিন্তু, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে যাওয়ায় শামীম ওসমানকে দ্বিতীয়বার প্রত্যাখ্যানের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন নারায়ণগঞ্জবাসী, সেটা নির্দ্বিধায় বলা যায়। তা সত্ত্বেও এটি যে

গুম-হত্যা-সন্ত্রাস এবং আমাদের শিশুরা

খুব ছোটবেলা বলা যায় না, তখন সবে ক্লাস সিক্স কিংবা সেভেনে পড়ি৷ হঠাৎ ছেলেধরা আতঙ্ক। ছেলেধরাদের (শিশু পাচারকারী) নৃশংসতার নানা লোমহর্ষক কাহিিন শিশুমনে এমন আতঙ্ক ছড়াত যে একা স্কুলে যেতে সাহস হতো না। পড়াশোনায় মন দেওয়া দূরে থাক, বাড়ির আিঙনায় অপরিচিত ব্যক্তির আনাগোনা দেখলে শিশুমনে কেমন প্রভাব পড়ত, তা বোধ হয় এখন যাঁরা বড়, তাঁদের অজানা নয়। যে চঞ্চল শিশুটি বন্ধুদের সঙ্গে কীভাবে বিকেল কাটাবে, সে ভাবনায় অস্থির থাকত, তার ঘরের বাইরে বেরোনোর সাহস হতো না, সঙ্গে মা-বাবার বিশেষ সতর্কতা। সময় এগোচ্ছে, আমরা প্রবেশ করছি ডিজিটাল যুগে। শিশুদের একটি নিরাপদ বাসযোগ্য পৃথিবী উপহার দেওয়া আমাদের সামাজিক দায়িত্ব আর রাষ্ট্রের জন্য তা অবশ্যকর্তব্য। অগ্রগতিও লক্ষণীয়৷ যেমন শিশুমৃত্যুর হার হ্রাস পাচ্ছে। উন্নত প্রযুক্তি শিশুদের বিনোদনের পাশাপাশি ভবিষ্যতের দক্ষ মানবশক্তিতে রূপান্তরে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। শিক্ষার আধুনিকায়ন হচ্ছে, কমছে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়ার হারও। কিন্তু আমরা বড়রা কি শিশুর স্বাভাবিক মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করতে পারছি? নানা ঘাত-প্রতিঘাত ও বয়সের সঙ্গে সঙ্গে বৃদ্ধি পাওয়া সহ্যক্ষমতা নাহয় আমাদের ইস্পাতকঠিন করে তুলেছে কিন্তু কোমলমতি শিশুদের কী হবে? গুম-খুন-হত্যা-ধর্ষণ আমাদের শিশুদের মনে চরম নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। নারায়ণগঞ্জের মেধাবী ছাত্র তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যা শিশুদের মনে কী বিরূপ প্রভাব ফেলেছে, তা বোধ হয় বোঝানোর জন্য কোনো শিক্ষকের প্রয়োজন নেই। সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনির একমাত্র সন্তান শিশু মেঘের মানসিক প্রতিক্রিয়া বোঝা অসাধ্য কিছু নয়। অন্য শিশুরাও এতে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়ছে। স্কুল থেকে ফেরার পথে যে শিশুটি দেখে, তাদের প্রিয় গাড়িটি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, তার মানসিক অবস্থা কী? যে শিশুরা সকালবেলা স্কুলে গিয়ে দেখে, কেবল ভোটকেন্দ্র হওয়ার কারণে তাদের প্রিয় ক্লাসরুমে তাণ্ডব চালানো হয়েছে, তাদের মনের অবস্থা বোঝার জন্য কোনো যন্ত্রের সাহায্য প্রয়োজন হয় না। ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার অপরাধে তার মা-বাবাকে মারধর করার পর তাদের ঘরটিও জ্বালিয়ে দেওয়া হচ্ছে কিংবা তার প্রিয় পাঠ্যপুস্তক যখন পুড়ে ছাই হয়ে গেছে,
তার মানসিক অবস্থা বোঝার ক্ষমতা কি আমাদের কারও নেই? বাসায় পত্রিকা তো আর লুকিয়ে পড়তে পারি না। শিশুরা আজকাল নিজেরাই রিমোট কন্ট্রোলে চাপ দিয়ে চ্যানেল ঘোরাতে পারে। তাই মহামািরর মতো ছড়িয়ে পড়া গুম-খুন-সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস, চলন্ত বাসে আগুন দেওয়া এবং অগ্নিদগ্ধ লাশ—এসব খবর থেকে শিশুদের দূরে রাখা সম্ভব নয়। আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছে আমাদের শিশুরা। তাদের কোমল মনে দাগ কাটছে নেতিবাচক সব সংবাদ। রাস্তায় বেরোতে ভয় পাচ্ছে। ভয় পাচ্ছে তাদের প্রিয় বাবা-মা-ভাইবোনসহ স্বজনদের নিয়ে। একটু বড় হওয়া শিশুরা ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত হচ্ছে। হত্যা-গুম-খুন তাদের মানসিক বিকাশকে কখনো কখনো ভিন্ন দিকে প্রবাহিত করছে। সরাসরি ভুক্তভোগী শিশুরা মানসিক ভারসাম্যও হারিয়ে ফেলছে। এর দায় কি রাষ্ট্র বা সমাজ এড়াতে পারে কিংবা আমরা যারা নাগরিক, তারা কি অব্যাহতি পাই? শিশুদের জন্য আতঙ্কমুক্ত, শঙ্কামুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা কি আমাদের পবিত্র কর্তব্য নয়? সরকারও এই অবস্থায় স্বস্তিতে আছে বলা যায় না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এ মহামাির আকারে ছড়িয়ে পড়া অপরাধ দমনে একক ভূমিকায় কতটা এগিয়ে যেতে পারবে? তাই প্রয়োজন জনসম্পৃক্ততা, সামাজিক আন্দোলনের সঙ্গে প্রয়োজন সামাজিক প্রতিরোধও। প্রতিরোধ শুরু হোক পারিবারিক অবস্থান থেকে রাস্তাঘাট—যেখানেই অপরাধ সংঘিটত হোক, জনপ্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। আমার নিজের জন্য আমার সন্তানের জন্য, কোটি শিশুর বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার জন্য প্রতিরোধ শুরু হোক আজ-এখনই। অপরাধীদের সংখ্যা মোট জনসংখ্যার তুলনায় অনেক কম, তাই দৃষ্টান্তমূলক প্রতিরোধ অপরাধ নির্মূলে অবশ্যই সফল হবে। আর কারও মায়ের বুক খালি না হোক, আর কোনো শিশুর অন্ধকার ভবিষ্যৎ আমরা দেখতে চাই না। শিশুদের জন্য একটি ভীতিমুক্ত নিরাপদ বাংলাদেশ গঠন হোক আমাদের অঙ্গীকার। মোহাম্মদ তানভীর কায়ছার: সহকারী অধ্যাপক, ইংরেজি বিভাগ, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়৷

মোদি-মমতা বাগযুদ্ধ

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও নরেন্দ্র মোদি
১২ মে শেষ পর্বের ভোট গ্রহণ হবে, তারপর ১৬ মে ভোটের ফল ঘোষণা। এত দিন লোকসভা নির্বাচনে নজর থাকত উত্তর প্রদেশ, বিহারসহ হিন্দিবলয়ের বড় রাজ্যগুলোর ওপর। কারণ, লোকসভা আসনের সংখ্যার নিরিখে তারাই এগিয়ে। দুটি কারণে পশ্চিমবঙ্গের প্রতি নজর থাকত খুবই কম। উত্তর প্রদেশের মোট আসনসংখ্যা ৮০, বিহারের ৪০, মহারাষ্ট্রের ৪৮, তুলনায় পশ্চিমবঙ্গের মোট আসনসংখ্যা ৪২। তার ওপর দীর্ঘদিন ধরে, পশ্চিমবঙ্গে দেশের দুই প্রধান রাজনৈতিক দল কংগ্রেস এবং বিজেপির শক্তি খুবই সীমিত। nকংগ্রেস সেই ১৯৭৭ থেকে পশ্চিমবঙ্গে অনেক দুর্বল,
হাতে গোনা কয়েকটি আসন তারা পায়। ভারতীয় জনসংঘ, যা ১৯৭৯ সাল থেকে বিজেপি নামে রূপান্তরিত, তাদের এ রাজ্যে সবচেয়ে বড় সাফল্য ১৯৯৯ সালে, মাত্র দুটি আসন, তাও তৃণমূল কংগ্রেসের হাত ধরে। বামপন্থীরাই এখানে এত দিন দাপট দেখিয়েছে। কিন্তু ক্ষমতা হারিয়ে গত কয়েক বছরে পশ্চিমবঙ্গে বামপন্থীরা এতটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে যে এ রাজ্যে বিরোধী রাজনীতির জায়গায় একটা বড় শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে। আর সেই শূন্যতা ভরাট করতে মোদি হাওয়ায় ভর করে বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে বিরাট চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে তৃণমূল কগ্রেস, সিপিএম নেতৃত্বাধীন বামফ্রন্ট ও কংগ্রেসকে। ফলে, এত দিন জাতীয় রাজনীতিতে মোটামুটিভাবে প্রান্তিক অবস্থানে থাকা পশ্চিমবঙ্গের ওপর এখন গোটা দেশের নজর। বিজেপি এতটাই উজ্জীবিত যে নরেন্দ্র মোদি চার-চারবার পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনী প্রচার করে গেলেন। প্রথমবার তিনি কলকাতার ব্রিগেড ময়দানে জনসভা করেন। তখন রাজ্যে ক্ষমতাসীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে আক্রমণ করেননি। কিন্তু ভোটের হাওয়া জোরালো হতে শুরু করতেই মোদি মমতা ও তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক হতে লাগলেন। শিলিগুড়িতে, তারপরে দক্ষিণবঙ্গের আসানসোল বাঁকুড়াতেই মোদির সুর চড়তে শুরু করে। শেষে কৃষ্ণনগর, বারাসাত ও কলকাতায় তা তীব্র মমতাবিরোধী আক্রমণে পরিণত হয়। মোদি মমতাকে প্রধানত তিনটি বিষয়ে আক্রমণ করেছেন। বাম শাসনের পরিবর্তন চেয়ে রাজ্যের মানুষের যে দাবি জোরালো হচ্ছিল, তা সম্বল করে তিনি ক্ষমতায় এলেও মানুষের অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি।
সারদা চিটফান্ড কেলেঙ্কারিতে তিনি ও তঁার দল জড়িত বলেই তঁার সরকার এত দিন ধরে সিবিআই তদন্তের বিরোধিতা করেছে। এ ছাড়া বামপন্থীদের মতোই মমতাও ভোটব্যাংকের কথা মাথায় রেখে বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রবেশকারীদের অবাধে ঢুকতে ও এ রাজ্যে বসবাস করতে সাহায্য করছেন। প্রথম দুই অভিযোগ পশ্চিমবঙ্গের ভোটদাতাদের মনে সাড়া জাগালেও এই তৃতীয় প্রসঙ্গে মোদি যে নিজেও বিজেপির ঘোষিত নীতি অনুযায়ী বাংলাদেশ থেকে আসা আশ্রয়প্রার্থীদের মধ্যে ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে সংকীর্ণ রাজনীতি করছেন, তা নিয়ে বিতর্কের ঝড় উঠেছে। মমতাও এই সুযোগে প্রথম দুই অভিযোগের উত্তর এড়িয়ে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার প্রশ্নে মোদি তথা বিজেপির বিরুদ্ধে প্রচারণার সুযোগ নিয়েছেন। তাঁরও লক্ষ্য, মোদি যেমন বিভেদের রাজনীতি করে হিন্দুদের ভোট বিজেপির দিকে টানতে চেষ্টা করছেন, তিনিও তেমনই মোদির জুজু দেখিয়ে সংখ্যালঘুদের ভোট তৃণমূলের দিকে এককাট্টা করা। এই অবস্থায় লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে এখন রাজনীতির লড়াইটা আর শাসক তূণমূল কংগ্রেস এবং প্রধান বিরোধী বামফ্রন্টের মধ্যে সীমিত নেই। লড়াই এখন বিজেপির সঙ্গে তৃণমূলের, বিজেপির সঙ্গে বামপন্থীদের, বিজেপির সঙ্গে কংগ্রেসের। এককথায় মোদি ও তাঁর দল বিজেপি এবার সাফল্যের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক লড়াইয়ের আঙিনায় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিপক্ষ হয়ে উঠেছেন। মমতা নির্বাচনী প্রচারের প্রথম পর্বে প্রকাশ্যে দাবি করছিলেন, এবার ৪২ আসনের ৪২টিই তাঁরা জিতবেন। মমতাঘনিষ্ঠ মুকুল রায় প্রমুখ তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা অবশ্য ঘরোয়া আলোচনায় বলতেন, ৩০-৩২ আসন তাঁরা পাবেন। কিন্তু এখন সব হিসাব গোলমাল হয়ে গেছে। বিজেপির দিকে ভোটের টান বাড়ছে বুঝতে পেরে তাঁরা দৃশ্যতই উদ্বিগ্ন। এপ্রিলের গোড়ায়ও মমতা রাজ্যে নির্বাচনী জনসভায় কখনো মোদির নাম করতেন না। বিজেপিকে আক্রমণও করতেন নরম সুরে। তুলনায় তাঁর আক্রমণ বেশি করে থাকত দিল্লির প্রতি৷
রজত রায়: ভারতীয় সাংবাদিক।

নওয়াজ, জারদারিকে নোটিশ

নওয়াজ শরিফ, আসিফ আলী জারদারি,
বিলাওয়াল ভুট্টো, ইমরান খান
বিদেশে গচ্ছিত সম্পদ ফিরিয়ে আনার আবেদন জানিয়ে দায়ের করা একটি পিটিশনের পরিপ্রেক্ষিতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফসহ অন্তত ৬৪ জন রাজনীতিককে নোটিশ দিয়েছেন আদালত৷ আইনজীবীদের এ-সংক্রান্ত একটি পিটিশনের পরিপ্রেক্ষিতে লাহোর হাইকোর্ট গত শুক্রবার এই নোটিশ জারি করেন৷ নওয়াজ ছাড়াও যেসব রাজনীতিককে নোটিশ দেওয়া হয়েছে তাঁদের মধ্য রয়েছেন নওয়াজের ভাই ও পাঞ্জাব প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) দলের চেয়ারম্যান ও সাবেক ক্রিকেট তারকা ইমরান খান, পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো ও কো-চেয়ারম্যান সাবেক প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি৷ পাকিস্তানের ১১তম প্রেিসডেন্ট জারদারির বিরুদ্ধে আগে থেকেই বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ রয়েছে৷ যদিও কখনোই তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়নি৷ যে পিটিশনের পরিপ্রেক্ষিতে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার ও রাজনীতিকদের নোটিশ দেওয়া হলো, সেটি প্রকৃতপক্ষে দায়ের করা হয়েছিল ১৯৯৬ সালে৷ সে সময় ২৬ জন রাজনীতিকের বিদেশে থাকা সম্পদ দেশে ফিরিয়ে আনার নির্দেশনা চেয়ে পিটিশনটি করেছিলেন আইনজীবী জাভেদ ইকবাল জাফরি৷ পরে তাতে সংশধোনী এনে আরও রাজনীতিকের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়৷ আইনজীবী জাফরি আদালতে বলেন, পিটিশনে নাম থাকা ওই রাজনীতিকেরা অন্তত তিন লাখ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মানি লন্ডারিংয়ের (অবৈধভাবে অর্থ পাচার) মাধ্যমে পাকিস্তান থেকে বিভিন্ন দেশে পাচার করেছেন৷ এই অর্থ পাচার দেশের জাতীয় কোষাগারের জন্য বিপুল ক্ষতি বয়ে এনেছে৷ অবৈধভাবে অর্থ পাচারের অভিযোগের বিষয়ে আদালত বারবার নির্দেশ দিলেও ওই রাজনীতিকেরা আজ পর্যন্ত অভিযোগের ব্যাপারে তাঁদের বক্তব্য আদালতে দাখিল করেননি৷ শুনানিকালে আইনজীবী জাফরি যুক্তি দেন, ওই রাজনীতিকদের সম্পদ বিদেশ থেকে ফিরিয়ে আনা গেলে পাকিস্তানের জন্য কোনো বিদেশি ঋণ লাগবে না৷ বর্তমানে পাকিস্তানের যেসব আন্তর্জাতিক ঋণ রয়েছে, তা শোধ দেওয়া যাবে৷
এরপর তিনি ওই রাজনীতিকদের সম্পদ ফিরিয়ে আনার নির্দেশনা দিয়ে নোটিশ দিতে আদালতের প্রতি আবেদন জানান৷ আদালতের বিচারপতি খালিদ মাহমুদ খান পরে ওই রাজনীতিকদের কাছ থেকে অভিযোগের বিষয়ে জবাব চেয়ে নোটিশ জারি করেন এবং ২৯ মে পর্যন্ত শুনানি মুলতবি করেন৷ পাকিস্তানের রাজনীতিকদের বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগের বিষয়টি খুবই স্পর্শকাতর৷ বিশেষ করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেনজির ভুট্টো ও তাঁর স্বামী সাবেক প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারির বিরুদ্ধে সুইজারল্যান্ডের সুইস ব্যাংকে দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ গচ্ছিত রাখার অভিযোগ নিয়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়৷ ১৯৯৭ সালে চতুর্থ সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যম পাকিস্তান মুসলিম লিগের (পিএমএল-এন) নেতা নওয়াজ শরিফ ক্ষমতায় আসার পর বেনজির ও জারদারির বিরুদ্ধে অবৈধভাবে অর্থ পাচারের বিষয়টিসহ বিভিন্ন অভিযোগের তদন্ত গতি পায়৷ জারদারিকে এ ঘটনায় কখনো দোষী সাব্যস্ত না করা হলেও, তাঁকে একই ধরনের অন্য দুর্নীতির অভিযোগে আট বছর কারাগারে কাটাতে হয়েছে৷ ২০০৪ সালে তিনি মুক্তি পান৷ ২০০৮ সালে তিনি দেশের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন৷ প্রেসিডেন্ট থাকাকালেও তাঁর বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের মামলাটি নিয়ে অনেক জল ঘোলা হয়েছে৷ পাকিস্তানের প্রভাবশালী বিচার বিভাগ বিভিন্ন সময় জারদারির বিরুদ্ধে ওই মামলাটি পুনরুজ্জীবিত করতে সুইজারল্যান্ডের কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিতে সরকারকে নির্দেশ দিয়েছেন৷ তবে জারদারির পিপিপি সরকার তখন প্রেসিডেন্টের দায়মুক্তি রক্ষাকবচ রয়েছে, এমন বক্তব্য তুলে ধরে তা করতে বারবার অস্বীকৃতি জানায়৷ এ ঘটনায় তখন দেশটির তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানির বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা হয়, যাতে তিনি দোষী সাব্যস্ত হয়ে প্রধানমিন্ত্রত্ব হারান৷ ডন৷

রাহুলকে ইসির নোটিশ

বারানসিতে গতকাল কংগ্রেসের সহসভাপতি রাহুল গান্ধীর
রোড শোতে বিপুলসংখ্যক মানুষ যোগ দেন। ছবি: রয়টার্স
ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) বিরুদ্ধে আপত্তিকর মন্তব্য করায় কংগ্রেসের ভাইস প্রেসিডেন্ট রাহুল গান্ধীকে নোটিশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)৷ কাল ১২ মে সকালের মধ্যে তাঁকে নোটিশের জবাব দিতে বলা হয়েছে৷ হিমাচল প্রদেশের সোলানে ১ মে এক নির্বাচনী জনসভায় বিজেপির প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী নরেন্দ্র মোদিকে আক্রমণ করে রাহুল বলেছিলেন, ‘জাপান থেকে লোকজন আমাকে বলে, তারা দেখেছে যে, আমরা একটি বিষয়ে ভীত৷ এই ভীতি আমাদের জীবন নিয়েও৷ বিজেপি ক্ষমতায় এলে সহিংসতা হবে৷ সহিসংতায় ২২ হাজার মানুষ মারা পড়বে৷ কারণ, দলটি আতঙ্ক ছড়িয়েছে৷’ রাহুলের এই মন্তব্যের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ করে বিজেপি৷ একই সঙ্গে আমেথিতে ভোট গ্রহণের দিন কেন্দ্রে ইভিএম এলাকায় ঢুকে রাহুল আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন কি না, সেটি তদন্ত করতেও নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন৷ কাল সোমবারের মধ্যে এই প্রতিবেদনও নির্বাচন কমিশনের হাতে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে৷
‘সানাই বাজানোর অর্থ সমর্থন নয়’: ভারতের উত্তর প্রদেশ রাজ্যের বারানসিতে গতকাল শনিবার কংগ্রেসের সহসভাপতি রাহুল গান্ধীকে স্বাগত জানিয়ে সানাই বাজিয়েছেন কিংবদন্তি সানাইবাদক ওস্তাদ বিসমিল্লাহ খানের পরিবারের সদস্যরা৷ সেখানে গতকাল রোড শো করেছেন রাহুল৷ প্রয়াত বিসমিল্লাহ খানের নাতি আফাক হায়দার বলেন, ‘আমরা রাহুলের জন্য সানাই বাজালেও এটিকে রাজনৈতিক সমর্থন হিসেবে দেখা উচিত নয়৷ প্রস্তাব দেওয়া হলে আমরা হয়তো নরেন্দ্র মোদি বা কেজরিওয়ালের জন্যও বাজাতাম৷ এনডিটিভি ও সিএনএন-আইবিএন৷

তাপস পালের জয় নিয়ে শঙ্কা

কৃষ্ণনগর আসনে নির্বাচনী প্রচারণায়
তাপস পাল। প্রথম আলো
বাংলা চলচ্চিত্রের খ্যাতিমান তারকা তাপস পালের সঙ্গে যখন প্রথম আলো থেকে কথা হচ্ছিল, তখন জোরের সঙ্গেই বললেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আশীর্বাদ নিয়ে মাঠে নেমেছি। কোনো শঙ্কা নেই, জিতছি। নিশ্চিত থাকুন, কৃষ্ণনগর আসন এবারও আমাদের।’ তাপস পাল জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী হলেও লোকসভা নির্বাচনে কৃষ্ণনগর আসনের মাঠের হিসাব কিন্তু সেটি বলছে না৷ এই আসনের অধিকাংশ মানুষ বলছেন, তাপস পাল এবার জিতবেন কি না, বলা মুশকিল। কারণ, এবার এখানে ‘মোদি-হাওয়া’ প্রবল। বিজেপির প্রার্থীও বেশ শক্তিশালী। বিজেপির হয়ে এই আসনে লড়ছেন সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সত্যব্রত মুখোপাধ্যায়। ১৯৯৯ সালে এই আসনে বিজেপির টিকিটে জিতেছিলেন সত্যব্রত। হয়েছিলেন বাজপেয়ির মিন্ত্রসভার সদস্য৷
এবারও তিনি প্রার্থী। বিজেপির অন্দরমহলের খবর, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি অন্তত দুটি আসন জিতলে একটি হবে দার্জিলিং, অন্যটি এই কৃষ্ণনগর৷ সত্যব্রত বলছেন, তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, মোদি-হাওয়া এবং প্রতিষ্ঠানবিরোধী বিষয় এবার তাঁর জয়ের পথ প্রশস্ত করে তুলেছে। তৃণমূল, বিজেপির পাশাপাশি এই আসনের সিপিএমের প্রার্থী কৃষিবিজ্ঞানী অধ্যাপক শান্তনু ঝা ও কংগ্রেসের রাজিয়া আহমেদও জয়ের স্বপ্ন দেখছেন। এই আসনের ৩০ শতাংশ ভোটারই মুসলিম৷ এই ভোটের কম-বেশি দাবিদার তৃণমূল, বামফ্রন্ট ও কংগ্রেস। এই অঙ্ক মাথায় রেখে কংগ্রেস প্রার্থী করেছে মুসলিম মহিলাকে। ২০০৯ সালের নির্বাচনে এই আসনে তাপস পাল ৭৭ হাজার ৩৮৬ ভোটের ব্যবধানে জিতেছেন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী বামফ্রন্টের জ্যোতির্ময়ী শিকদার পেয়েছিলেন তিন লাখ ৬৬ হাজার ২৯৩ ভোট। বিজেপির প্রার্থী সত্যব্রত পেয়েছিলেন এক লাখ ৭৫ হাজার ২৮৩ ভোট। কৃষ্ণনগরের পলাশীপাড়ার ভোটার নিরুপম দাস বলেন, তাপস পালের জয়ের সম্ভাবনা এবার কম৷ জিততে পারেন সত্যব্রত৷ তিনি না পারলে জয়ের মালা পরতে পারেন বামফ্রন্টের প্রার্থী। কারণ, বামফ্রন্ট বা সিপিএমের এই আসনে নির্দিষ্ট ভোটব্যাংক আছে। তাই তাপস পালের জয় নিয়ে ভয় আছে, আছে সংশয়।

মিশেলের আহ্বান

মিশেল ওবামা
যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামা বলেছেন, বিশ্বব্যাপী নারী শিক্ষার্থীরা ভয়ভীতি ও প্রতিবন্ধকতার বড় নমুনা হচ্ছে নাইজেরিয়ায় স্কুলশিক্ষার্থী অপহরণ৷ এই অপহরণ তাঁকে তাঁর দুই মেয়ের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়৷
মা দিবসের আগেই এক বক্তৃতায় মিশেল ওবামা এসব কথা বলেন৷ নাইজেরিয়ায় গত ১৪ এপ্রিল ইসলামপন্থী জঙ্গিরা দুই শতাধিক নারী শিক্ষার্থীকে অপহরণ করে৷ মিশেল ওবামা ছাত্রীদের উদ্ধারে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান